সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
২০ আশ্বিন ১৪৩৩

সুন্দরবনে আবার সক্রিয় দস্যু আসাবুর বাহিনী

সুন্দরবন। ফাইল ছবি
আওয়াল শেখ, খুলনা
প্রকাশিত
আওয়াল শেখ, খুলনা
প্রকাশিত : ১২ অক্টোবর, ২০২৪ ২১:২২

একাধিকবার গ্রেপ্তার, কারাবরণেও থেমে নেই কুখ্যাত দস্যু আসাবুর বাহিনী। দীর্ঘদিন বিরত থাকার পর গোপনে শক্তি বৃদ্ধি করে আবার তারা সুন্দরবনের গভীরে দস্যু কার্যক্রমে সক্রিয় হয়েছে।

সম্প্রতি এই বাহিনী বেশ কয়েকটি জেলেদের নৌকায় হামলা চালিয়ে অপহরণের পর মুক্তিপণও আদায় করেছে। বনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২ মাস ধরে সুন্দরবনের পশ্চিমাংশে বিশেষ করে খুলনা রেঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় তাদের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

৪৪ বছর বয়সি এই দস্যুর পুরো নাম আসাবুর সানা। সে দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়নের কালাবগি গ্রামের আয়নাল সানার ছেলে। ওই এলাকার ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে শুনেছি গত ৭ আগস্ট থেকে আসাবুরের বাহিনী বনে দস্যুতা করতে নেমেছে। তারা জেলেদের জিম্মি করে অর্থ আদায় করছে।

জেলেরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনে জেলেদের প্রবেশের জন্য আসাবুর বাহিনী টোকেন বাণিজ্য শুরু করেছে। যার প্রতি টোকেনের মূল্য ২০ হাজার টাকা। সঙ্গে ৪০০ টাকা মোবাইল ব্যাংকিং খরচও দিতে হচ্ছে। এই টোকেন প্রথম বার নিলে, মাসিক আবার ২ হাজার টাকা পরিশোধ করে নবায়ন করতে হচ্ছে।

তবে যদি কেউ টোকেন না নিয়ে বনে প্রবেশ করে তাহলে তাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, গত কয়কেদিনে আমার এলাকার অন্তত ৪০ জন জেলে এই দস্যু বাহিনীর হাতে অপহৃত হয়েছিলেন। পরে তাদের দেওয়া একটি বিকাশ নাম্বারে খরচসহ ২০ হাজার ৪০০ টাকা পাঠাতে হয়েছে। তারপর তাদের মুক্তি মিলেছে।

কয়েকদিন আগে এই বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিলেন কালাবগি গ্রামের অহিদুল শেখ। তিনি বলেন, আমাকে সুন্দরবনের শরবত খালীর খাল এলাকা থেকে অপহরণের পর বেদম মারপিটে রক্তাক্ত জখম করে। পরে আমার নৌকা লোহার শিকল দিয়ে তাদের ট্রলারে বেঁধে রাখে। এরপর আমার পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপন হিসেবে দাবি করে। তবে অনেক অনুনয়-মিনতি করে ১০ হাজার ২০০ টাকা দিয়ে মুক্তি পেয়েছি।

আসাবুর জেলেদের অপহরণ করার পর তার পরিবারের সঙ্গে যে নাম্বার দিয়ে যোগাযোগ করেন, ওই নাম্বারদুটিও সংগ্রহ করেছেন এই প্রতিবেদক। আইন শঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে পাওয়া তথ্য জানা গেছে, যার একটিতে মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের হিসাব রয়েছে। ওই হিসাবটি মো. হবি নামের এক ব্যক্তির নামে রেজিস্ট্রেশন করা।

জেলেরা জনিয়েছেন, আসাবুর বাহিনীর বেশিরভাগ সময়ে অবস্থান করছে সুন্দরবনে কালাবগি, ভদ্রা, শরবত খালী, হড্রা, আদাচাই ও পাটকোষ্টা সংলগ্ন এলাকায়। তাই ওই এলাকায় বর্তমানে জেলেরা মাছ আহরণ করতেও কম যাচ্ছেন। কালাবগি ফরেস্ট স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময়ে কালাবগী স্টেশন থেকে অন্তত ৪০০ থেকে ৫০০ জন জেলে বনে যাওয়ার অনুমতি নিতেন। তবে সর্বশেষ পূর্ণিমায় মাত্র ৩০ জন জেলে বনে যাওয়ার অনুমতি নিয়েছেন। তবে খুলনাঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো এই বিষয়টি নিয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সুন্দরবন সংলগ্ন দাকোপ উপজেলার সুতারখালী ইউনিয়ন পরিষদের আওতাভুক্ত এলাকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা কোন না কোন ভাবে সুন্দরবনের সঙ্গে জড়িত। আর এলাকার মানুষের যেসব অঞ্চলে মাছ বা কাঁকড়া আহরণ করেন, সেইসব এলাকাতেই আসাবুরের বিচরণ বেশি রয়েছে।

সুতারখালী ইউপি চেয়ারম্যান মাসুম আলী ফকির বলেন, জঙ্গলের গহীনে বনজীবীদের নৌকা আটকে রেখে তাদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ঘটনা শুনছি। বিষয়টি আমি প্রশাসনের একধিক ইউনিটকে জানিয়েছি। সরকার যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে তো এই এলাকা আবারও দস্যুদের হাতে চলে যাবে। আসাবুর সর্বশেষ গ্রেপ্তার হয়েছিল ২০২৩ সালের ২৩ আগস্ট। ডাকাতির সময়ে অস্ত্র গোলাবারুসহ র‌্যাবের কাছেগ্রেপ্তারের পরে দীর্ঘদিন কারাবরণ করেন। পরে মুক্তি পেয়ে কিছুদিন এলাকায় ছিল।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ২০০৩ সালে সুন্দরবনে মৃত্যুঞ্জয় বাহিনীর প্রধান আকাশ বাবু ওরফে মৃত্যুঞ্জয়ের সঙ্গে আসাবুর ডাকাতি শুরু করেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত তিনি ওই দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরে মৃত্যুঞ্জয় দল ছেড়ে পার্শ্ববর্তী দেশে ভারতে চলে গেলে আসাবুর বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে বেড়াতেন ও বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে মিলে দস্যুতা করতেন। এক পর্যায়ে দস্যুতা করতে গিয়ে একটি ডাবল বেরেল বন্দুকসহ কোষ্টগার্ডের কাছে আটক হন। ওই অস্ত্র মামলায় তিন বছর কারাভোগ করে ২০১৫ সালে জামিনে মুক্তি পান।

পরবর্তীতে সে ২০১৬ হতে ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর উপপ্রধান হিসেবে যোগদান করেন। ২০১৬ সাল থেকে ২০১৮ সালের অক্টোবর পর্যন্ত সুন্দরবন অঞ্চলের ৩২টি দস্যু বাহিনীর ৩২৮ জন জলদস্যু, ৪৬২টি অস্ত্র ও ২২ হাজার ৫০৪ রাউন্ড গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করেছিল। পরে ২০১৮ সালের ১ নভেম্বর সুন্দরবনকে ‘দস্যুমুক্ত সুন্দরবন’ ঘোষণা করা হয়। সেই সময়ে ছোট জাহাঙ্গীর আত্মসমর্পণ করেলেও আসাবুর আত্মসমর্পন করেনি। তখন থেকে নানান উপায়ে তিনি নিজ নামে বাহিনী গঠন করে জেলেদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন।

এই প্রসঙ্গে দাকোপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, জেলারা যে স্থানে মাছ ধরতে যায়, তা স্থল ভাগ থেকে কমপক্ষে ৩০ কিলোমিটার দূরে। ওই এলাকাটি নৌ-পুলিশ ও কোর্স্ট গার্ডের। এছাড়া জেলেরা কেউ বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগও দিতে চাই না। ওই এলাকার আওতাভুক্ত নলিয়ান নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তারক বিশ্বাস বলেন, জেলেদের কাছে থেকে আসাবুর বাহিনীর অপহরণের তথ্য জানতে পেরেছিলাম। পরে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানায়। তাদের অনুমতি নিয়ে গত ৫ ও ৬ অক্টোবর আমরা সুন্দরবনে অভিযান চালিয়েছি। তবে আসাবুর বাহিনীকে ধরতে পারিনি। আমাদের সোর্স ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত আছে, সুযোগমতো আবারও অভিযান চালানো হবে।

বিষয়:

নির্বাচিত

পাবনায় ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে পুলিশের মতবিনিময়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তাদের ৮১তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের সঙ্গে পাবনা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা পুলিশের উদ্যোগে এ সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. সাখাওয়াত হোসেন।

সভায় পাবনা জেলা পুলিশের সাংগঠনিক কাঠামো, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জনবান্ধব পুলিশিং এবং সাম্প্রতিক বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।

সভাপতির বক্তব্যে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন জনবান্ধব, পেশাদার ও সেবামুখী পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন।

তিনি বলেন, ‘মাঠপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য জনসেবা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের বিভিন্ন ক্যাডার ও পুলিশের সমন্বিত ভূমিকার বিকল্প নেই।’ অনুষ্ঠানে সহকারী পুলিশ সুপার (এসএএফ) আরজুমা আক্তারসহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ছাগলে সিমগাছ খাওয়া নিয়ে বিরোধ, আত্রাইয়ে কিল-ঘুষিতে বৃদ্ধ নিহত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর আত্রাইয়ে ছাগলে সিমগাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মিম হোসেন (১৯) নামে এক যুবকের কিল-ঘুষিতে ইয়াছিন আলী (৮০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মধুগুড়নই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ইয়াছিন আলী ওই গ্রামের গরিবুল্লা মণ্ডলের ছেলে। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহতের ছেলে সারোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনার সময় পরিবারের সবাই আহসানগঞ্জ বাজারে ছিলেন। সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই গ্রামের রহিদুল ইসলামের ছেলে মিম হোসেনের ছাগল তাদের লাগানো সিমগাছের পাতা খাচ্ছিল। এ নিয়ে তার বাবার সঙ্গে মিমের কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে মিম তার বাবাকে কিল-ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেন। পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ইয়াছিন আলীকে উদ্ধার করে আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সারোয়ার হোসেনের অভিযোগ, মিম তার বাবার বুকে জোরে আঘাত করে কিল-ঘুষি মারায় তার মৃত্যু হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

আত্রাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ খায়রুল আলম বলেন, ‘বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়। তাকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রাথমিকভাবে তার শরীরে আঘাতের দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি।’

আত্রাই থানার ওসি মাহাবুব আলম বলেন, ‘খবর পেয়ে দুপুরে মরদেহের সুরতহাল করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।’


নির্বাচিত

নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ায় খুলনায় ৪৯ কোটি টাকার টেন্ডার বর্জনের হুঁশিয়ারি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সরকারি প্রাক্কলিত দর সমন্বয় না করায় খুলনায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রায় ৪৯ কোটি টাকার উন্নয়নকাজের টেন্ডার বর্জনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঠিকাদাররা। তাদের দাবি, বর্তমান বাজারদর বহাল রেখে এসব কাজ করলে লাভ তো দূরের কথা, বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে খুলনা জেলা এলজিইডি ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সদস্য সচিব শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু এ ঘোষণা দেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে এলজিইডির ঠিকাদাররা সরাসরি যুক্ত। কিন্তু মাঝারি পর্যায়ের ঠিকাদারদের জন্য ব্যাংক ঋণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। এর মধ্যে নির্মাণসামগ্রীর দাম ব্যাপক বেড়েছে। অথচ সরকারি এস্টিমেটে সেই বাস্তবতার প্রতিফলন নেই।’

সমিতির তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর খুলনা অঞ্চলের বিভিন্ন স্থাপনা ও সড়ক সংস্কারে প্রায় ৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এসব কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে আগামীকাল ৭ অক্টোবর।

ঠিকাদারদের দাবি, সরকারি এস্টিমেটে এক ব্যারেল বিটুমিনের দাম ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে ১৩ হাজার টাকা। ভ্যাট-ট্যাক্স বাদে ঠিকাদারের হিসাবে এর মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১২ হাজার টাকা। অথচ বর্তমানে ১৫০ কেজির এক ব্যারেল বিটুমিনের বাজারদর প্রায় ১৯ হাজার টাকা।

একইভাবে পাথরের দাম গত বছর টনপ্রতি প্রায় ৪ হাজার ২০০ টাকা থাকলেও বর্তমানে পরিবহন খরচ বাদেই তা ৪ হাজার ৭০০ টাকা। ইটের দাম প্রতি হাজারে ৯-১০ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ১২-১৩ হাজার টাকা হয়েছে। কয়লার দাম টনপ্রতি ১৭ হাজার থেকে বেড়ে ২৫ হাজার টাকা এবং বালুর দাম প্রতি ঘনফুট ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-৮৫ টাকা হয়েছে।

শেখ বদরুদ্দোজা বাবলু বলেন, ‘জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে নির্মাণসামগ্রী ও পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। অথচ সরকারি দর নির্ধারণের সময় এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান এস্টিমেটে কাজ করলে ঠিকাদারদের বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রতিটি উন্নয়নকাজের এস্টিমেট রেট পুনর্নির্ধারণ করতে হবে।’ তা না হলে আগামীকাল ৭ অক্টোবরের টেন্ডার বর্জন করতে বাধ্য হবেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর কবির বিশ্বাস, সিনিয়র সহসভাপতি আজগর আলী খান, সহসভাপতি আমির হোসেন খানসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রাম সরকারি রোটারী কলেজে তীব্র শিক্ষকসংকট, অনিশ্চয়তায় ১,৫০০ শিক্ষার্থী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ

হাওর জনপদের উচ্চশিক্ষার অন্যতম পুরোনো প্রতিষ্ঠান কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম সরকারি রোটারী ডিগ্রি কলেজে তীব্র শিক্ষকসংকট দেখা দিয়েছে। প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষার্থীর এই কলেজে স্থায়ী শিক্ষক রয়েছেন মাত্র কয়েকজন। আগামী জানুয়ারির মধ্যে আরও দুজন শিক্ষক অবসরে গেলে স্থায়ী শিক্ষক সংখ্যা মাত্র তিনজনে নেমে আসবে।

১৯৯১ সালে হাওর অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে রোটারিয়ান প্রকৌশলী ইমদাদুল হক কলেজটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০১৮ সালের ৮ আগস্ট প্রতিষ্ঠানটি সরকারি গেজেটভুক্ত হয়। সরকারিকরণের পর শিক্ষার্থীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হলেও শিক্ষকসংকটের কারণে সেই প্রত্যাশা এখন অনেকটাই ম্লান।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, সরকারিকরণের পর অধ্যক্ষসহ বিভিন্ন বিষয়ে মোট নয়টি শিক্ষক পদ সৃজন করা হয়। এর মধ্যে বাংলা বিষয়ে দুজন প্রভাষক, ইংরেজিতে একজন, ইতিহাসে একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক এবং দর্শনে একজন সহকারী অধ্যাপক ও একজন প্রভাষক রয়েছেন।

তবে অধ্যক্ষসহ পাঁচজন শিক্ষক ইতোমধ্যে অবসরে গেছেন। মৃত্যুজনিত কারণে ইংরেজি বিষয়ের স্থায়ী পদও দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। কর্মরত শিক্ষকদের মধ্যে আরও দুজন আগামী জানুয়ারির মধ্যে অবসরে যাবেন।

ফলে এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর পাঠদান কার্যক্রম কীভাবে চালু রাখা হবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে উদ্বেগ। স্থায়ী শিক্ষক না থাকায় কলেজ কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে খণ্ডকালীন ও অতিথি শিক্ষক দিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালাচ্ছে। তাদের সম্মানীসহ অন্যান্য খরচ মেটাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ফি নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

অভিভাবকদের অভিযোগ, হাওর অঞ্চলের নিম্নবিত্ত ও সাধারণ পরিবারের সন্তানদের জন্য এই বাড়তি খরচ বহন করা কঠিন। দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ না হলে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হবে।

শিক্ষা জাতীয়করণের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের স্বল্প খরচে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা। কিন্তু অষ্টগ্রাম সরকারি রোটারী ডিগ্রি কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল ও অভিভাবকরা দ্রুত শূন্য পদে শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিশ্চিত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।


নির্বাচিত

এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান গাজিউল হক আর নেই

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এমজিএইচ গ্রুপের চেয়ারম্যান এম গাজিউল হক মারা গেছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। বাদ মাগরিব রাজধানীর গুলশানের আজাদ মসজিদে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এমজিএইচ গ্রুপের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাঁর মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়। ১৯৩৪ সালে জন্ম নেওয়া এম গাজিউল হক দেশের নৌপরিবহন অবকাঠামোর বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। একই সঙ্গে স্থানীয় ব্যবসা ও আন্তর্জাতিক কোম্পানির মধ্যে অংশীদারত্ব ও যৌথ উদ্যোগ গড়ে তুলতেও তিনি কাজ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ব্রিটিশ প্রতিষ্ঠান বার্ড অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেডে কর্মজীবন শুরু করেন এম গাজিউল হক। প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭৬ সালে তিনি ব্যবস্থাপনা পরিচালক হন। সে সময় প্রতিষ্ঠানটি বার্ডস বাংলাদেশ লিমিটেড নামে পরিচালিত হতো।

১৯৮০ সালে বার্ডস বাংলাদেশ ছেড়ে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি। চট্টগ্রামভিত্তিক নৌপরিবহন কোম্পানি অ্যাকোয়ামেরিন লিমিটেডে অংশীদার হিসেবে যোগ দেন।

প্রায় এক দশক পর অংশীদারের সঙ্গে মিলে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনভিত্তিক নৌপরিবহন প্রতিষ্ঠান মার্স্ক লাইনের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে মার্স্ক বাংলাদেশ লিমিটেড গঠন করেন। ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

নৌপরিবহনের পাশাপাশি ফ্রেইট ফরওয়ার্ডিং, আমদানি-রপ্তানি, বিপণন, ব্যাংকিং, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব ও যৌথ উদ্যোগসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা ছিল এম গাজিউল হকের।

১৯৯৩ সালে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির পরিচালনা পর্ষদে যোগ দেন তিনি। এরপর দীর্ঘ সময় ব্যাংকটির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০০ থেকে ২০০৬ সাল এবং ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দুই মেয়াদে ইস্টার্ন ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।

১৯৯২ সালে তাঁর ছেলে আনিস আহমেদ এমজিএইচ গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন। এম গাজিউল হকের নামের আদ্যক্ষর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয়। বাংলাদেশভিত্তিক ব্যবসা হিসেবে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী সময়ে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক ব্যবসায়িক গ্রুপে পরিণত হয়।

বর্তমানে ২৬টি দেশে এমজিএইচ গ্রুপের কার্যক্রম রয়েছে। লজিস্টিকস, এভিয়েশন, ভ্রমণ, ভোগ্যপণ্য, স্বাস্থ্যসেবা, মোবিলিটি, আতিথেয়তা, অর্থায়ন ও বিমাসহ বিভিন্ন খাতে ব্যবসা পরিচালনা করছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্যবসায়িক জীবনে নৌপরিবহন ও আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার পাশাপাশি ব্যাংকিংসহ বিভিন্ন খাতে দীর্ঘ সময় নেতৃত্ব দেওয়া এম গাজিউল হকের মৃত্যুতে ব্যবসায়ী অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।


নির্বাচিত

শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হবে: ববি হাজ্জাজ

ছবি: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, শিক্ষকদের যথাযথ মর্যাদা, মূল্যায়ন ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। কারণ, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ছাড়া দেশ ও জাতির কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। আর শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন শিক্ষকরা। আমি নিজেও ১৭ বছর শিক্ষকতা করেছি। তাই শিক্ষকতার সঙ্গে আমার একটি আত্মিক সম্পর্ক রয়েছে।

সোমবার (অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ববি হাজ্জাজ বলেন, আমরা দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ ও জাতি গঠনে শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হলে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষকদের। তাদের সঠিকভাবে তৈরি করা, তাদের যথাযথ মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ শুরু করেছে। আগামী দিনগুলোতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর দায়িত্ব সরকার নিয়েছে। শিক্ষকদের জন্য নীতিমালা প্রণয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরগুলো কাজ করছে। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারে সাড়ে ছয় লাখের বেশি শিক্ষক রয়েছেন। এর বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানেও কয়েক লাখ শিক্ষক প্রাথমিক শিক্ষায় যুক্ত আছেন। তাদের সঠিক অবস্থান, মর্যাদা, বেতন কাঠামো থেকে শুরু করে সামাজিক সম্মানসহ সবকিছু সঠিক জায়গায় নিতে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।


নির্বাচিত

শাহজালাল বিমানবন্দরে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার মহড়া

ছবি: মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ‘এয়ারপোর্ট ইমারজেন্সি এক্সারসাইজ (ফায়ার)-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) এ মহড়ায় উড়োজাহাজ দুর্ঘটনার পর অগ্নিনির্বাপণ, যাত্রী উদ্ধার ও নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম অনুশীলন করা হয়।

মহড়ায় বিমানবন্দরের ফায়ার ক্রুদের দক্ষতা, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামের কার্যকারিতা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত ও দ্রুত প্রতিক্রিয়ার সক্ষমতা যাচাই করা হয়।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) নির্দেশনা এবং ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি প্রোগরামের ধারা ১৬.২.৫.২ অনুযায়ী নির্ধারিত সময় অন্তর বিমানবন্দরে এ ধরনের পূর্ণাঙ্গ জরুরি মহড়া আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি ও সমন্বিত কার্যক্রমের সক্ষমতা মূল্যায়ন করা হয়।

মহড়ায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী, এপিবিএন, ট্রাফিক উত্তরা বিভাগ, আনসার, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, কুর্মিটোলা মাল্টিকেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ফর উইমেন, জাহানারা ক্লিনিক, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা অংশ নেয়।

মহড়ার কল্পিত দৃশ্যপটে দেখানো হয়, ব্যাংকক থেকে ঢাকাগামী ৯৮ যাত্রী ও পাঁচ ক্রুবাহী একটি উড়োজাহাজ অবতরণের ঠিক আগে ডান পাশের ইঞ্জিনে আগুন লাগার বিষয়টি এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলকে (এটিসি) জানায়। এরপর এটিসি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক ও সংশ্লিষ্ট জরুরি সেবা সংস্থাগুলোকে অবহিত করে।

জরুরি অবতরণের সময় উড়োজাহাজটি রানওয়ের কেন্দ্রীয় লাইন অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়ে নির্ধারিত অংশ অতিক্রম করে। পরে এটি রানওয়ের বাম দিকে ছিটকে ট্যাক্সিওয়ে সিয়েরা অতিক্রম করে রানওয়ের দক্ষিণ পাশে থেমে যায়। দুর্ঘটনার পর উড়োজাহাজটির নিচের অংশে আগুন ধরে যায় এবং তা দ্রুত পুরো উড়োজাহাজে ছড়িয়ে পড়ে।

এ সময় বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস, উদ্ধারকারী দল, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য সংস্থা সমন্বিতভাবে আগুন নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করে।

মহড়ায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত মহড়া সফলভাবে সম্পন্ন করায় বেবিচক ও অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, আধুনিক ও নিরাপদ এভিয়েশন হাব প্রতিষ্ঠার অন্যতম ভিত্তি হলো অগ্নিনিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার সক্ষমতা।

বিমানবন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বিমান খাতের নিরাপত্তা আরও সুসংহত করতে ন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। আসন্ন আইকাও অডিটকে গুরুত্ব দিয়ে সম্ভাব্য পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্স নিশ্চিত করার নির্দেশনাও দেন তিনি।

এ ছাড়া ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা প্রটোকল সমানভাবে অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। বিমানবন্দর এলাকায় অনুমোদনহীন ড্রোন উড্ডয়নকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। পাশাপাশি নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্ক্যানারের পর্যাপ্ত মজুত নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি যাচাইয়ে এ ধরনের বাস্তবভিত্তিক মহড়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


নির্বাচিত

ডিএমপির অভিযানে ৪১৪ জন গ্রেপ্তার, মামলা দায়ের ৫৯

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অভিযানে ৪১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। একই সময়ে ৫৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (৫ অক্টোবর) এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২৮ জন, লালবাগ বিভাগে ৩৫ জন, ওয়ারী বিভাগে ৬৬ জন, মতিঝিল বিভাগে ৫৪ জন, তেজগাঁও বিভাগে ৬১ জন, মিরপুর বিভাগে ৮১ জন, গুলশান বিভাগে ২৫ জন, উত্তরা বিভাগে ৪৮ জন ও গোয়েন্দা বিভাগে ১৬ জন রয়েছে।

অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তল, ১টি ম্যাগাজিন, ৫ রাউন্ড গুলি, ১টি বিদেশি রিভলভার, ৪ রাউন্ড রিভলভারের গুলি, ২১ হাজার ৬৭২ পিস ইয়াবা, ২ কেজি ৭৩৫ গ্রাম গাঁজা, ২০ গ্রাম ৩০ পুরিয়া হেরোইন, ৩২৪টি মোবাইলফোন, ৯টি মোবাইল ট্যাব, ৬টি ট্রাঙ্ক, ৯,৫৭০ টাকা জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া একজন ভিকটিমকে উদ্ধার করা হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্যসহ তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করছেন: বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের সঙ্গে আলাপকালে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজ করছেন। তিনি বলেন, গত ২ অক্টোবর চণ্ডিবের গ্রামে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের ঘটনায় ১৩টি পরিবারের বাড়িঘর ও মালামাল পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে খবর পেয়ে কিছু সহায়তা নিয়ে এসেছি। তবে এ সহায়তায় ক্ষয়ক্ষতি পূরণ সম্ভব নয়। পর্যায়ক্রমে ক্ষতিগ্রস্তদের আরও সহযোগিতা করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের অবস্থা সম্পর্কে ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে অবহিত করব। ত্রাণ মন্ত্রণালয় অথবা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে সহায়তার মাধ্যমে তাদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

ক্ষতিগ্রস্তদের উদ্দেশে মো. শরীফুল আলম বলেন, জাতীয়তাবাদী দল জনগণের দল, এই সরকার জনগণের সরকার। তাই এই দলের প্রতি আস্থা রাখুন।

পরে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩টি পরিবারের প্রত্যেককে ৩০ কেজি চাল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা, দুই বান টিন এবং ১০ হাজার টাকা মূল্যের খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক কে এম মামুনুর রশীদ, ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক মেয়র হাজী শাহিন, সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক ভিপি মুজিবুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হক, মো. নুরুজ্জামান ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর মাহিন সিদ্দিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

এর আগে, বেলা ১১টায় স্থানীয় সরকার বিভাগের নগর পরিচালন ও উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চণ্ডিবের জেলেপাড়ার নিম্নআয়ের এলাকার উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।


নির্বাচিত

করিমগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

করিমগঞ্জে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র্যালি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ (করিমগঞ্জ-তাড়াইল) প্রতিনিধি

‘শিক্ষকতা একটি মহান পেশা, শিক্ষকই জাতি গঠনের কারিগর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র‍্যালি বের হয়। র‍্যালিটি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন করিমগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উম্মে মুসলিমা।

সভাপতির বক্তব্যে ইউএনও উম্মে মুসলিমা বলেন, একটি সুন্দর, সমৃদ্ধ ও মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই দেন না, বরং শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা ও মানবিক গুণাবলি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তাই শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদা সমুন্নত রাখার পাশাপাশি শিক্ষার মানোন্নয়নে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষায় শিক্ষিত করে দেশ ও সমাজের কল্যাণে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান শিক্ষকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। এ সময় শিক্ষকরা শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

প্রধান ফটকে বন্দর রক্ষা কমিটির অবস্থান কর্মসূচি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা চুক্তির প্রক্রিয়া বাতিলের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে বন্দর রক্ষা কমিটি। সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম বন্দররক্ষা কমিটির অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়।

এ সময় মিছিল নিয়ে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন। শ্রমিকদের উপস্থিতি বাড়ার পর একপর্যায়ে সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সভাপতি তপন দত্ত, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, টিইউসি চট্টগ্রাম জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক ইফতেখার কামাল খান প্রমুখ। বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী ডক শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ শ্রমিকনেতারা।

বক্তারা বলেন, ‘বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি এনসিটি সবচেয়ে লাভজনক টার্মিনাল। এটি বিদেশিদের হাতে দেওয়া অযৌক্তিক।

দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের মূল স্থাপনা যদি বিদেশিদের হাতে চলে যায় শ্রমিকরা বেকার হওয়া ছাড়াও রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশি হ্যান্ডলিং ও আয় করার সক্ষমতা বন্দরের রয়েছে।


নির্বাচিত

তালায় ভুল অপারেশনে এক সপ্তাহে দুই রোগীর মৃত্যু

# সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফারুক সাগর, তালা (সাতক্ষীরা)

সাতক্ষীরার তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভুল অপারেশনে দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, প্রথম রোগী সাধন বিশ্বাসের মৃত্যুর পর ভুল রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচারের অভিযোগ ওঠে। এর পরপরই স্বাস্থ্য বিভাগ ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।


মৃত দুই রোগীর একজন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মাহামুদকাটি গ্রামের সাধন বিশ্বাস। অন্যজন তালার খানপুর এলাকার জয়া দাশ। দুই পরিবারের অভিযোগ—চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাদের স্বজনদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত দুজনেরই মৃত্যু হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, পেটে ব্যথা নিয়ে সাধন বিশ্বাস তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে পরীক্ষার পর তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এরপর ডা. আব্দুর রহমান সজলের মাধ্যমে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।


অস্ত্রোপচারের পর সাধনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে দ্বিতীয়বার ক্লিনিকে নেওয়া দ্বিতীয় দফায়ও অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে খুলনায় হাসপাতালে নিলে সেখানেও তৃতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসা অবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাধনের স্বজন ও স্থানীয়রা ক্লিনিকের সামনে বিক্ষোভ করলে পরদিন স্বাস্থ্য বিভাগ ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।


সাধন বিশ্বাসের মৃত্যুর এক সপ্তাহের ব্যবধানে মারা যান জয়া দাশ। তিনি তালার খানপুর এলাকার অজয় সেনের স্ত্রী।
পরিবারের অভিযোগ, জয়া দাশের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা ও ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসা অবস্থায় ২৫ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।


স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ডা. আব্দুর রহমান সজলের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছে। শিশু রোগীর মৃত্যু এবং রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে ডা. আব্দুর রহমান সজল বলেন, ‘আমি অপারেশন করি না, দাঁড়িয়ে থাকি। যা করার ক্লিনিক মালিক করে।’


অন্যদিকে সাধন বিশ্বাসের স্বজনদের দাবি, তার প্রথম অস্ত্রোপচার ডা. আব্দুর রহমানই করেছিলেন। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন এলাকাবাসী।


নির্বাচিত

সাত বছরেও শেষ হয়নি চকরিয়া মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ

# অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে ওয়েল্ডিং ও মিটার জব্দ #ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ বিন হোছাইন, চকরিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় সাত বছর আগে। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে জুমার নামাজের পর মসজিদটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সাত বছরেও নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।


গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রতি উপজেলা মডেল মসজিদের জন্য ১৩ থেকে ১৬ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ রয়েছে। চকরিয়া মডেল মসজিদটিও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন তিন তলা ভবন হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন প্রায় ১ হাজার ৬৮০ বর্গমিটার।


নকশা অনুযায়ী ভবনের নিচ তলায় গাড়ি পার্কিং, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অটিজম কর্নার, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র এবং মৃতদেহ গোসল ও জানাজার ব্যবস্থা থাকার কথা। দ্বিতীয় তলায় পুরুষদের মূল নামাজ কক্ষ, ইসলামিক লাইব্রেরি, প্রাক-প্রাথমিক ও কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা এবং গবেষণা কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তৃতীয় তলায় নারীদের জন্য পৃথক নামাজ কক্ষ, দূরপাল্লার হজযাত্রীদের ডিজিটাল নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কনফারেন্স রুম এবং দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য বোর্ডিং বা আবাসন সুবিধা রাখার কথা রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধীরগতি, গাফিলতি ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ সময়েও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


এরই মধ্যে সম্প্রতি নির্মাণকাজে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ওয়েল্ডিং করার ঘটনা ধরা পড়েছে। গত মঙ্গলবার চকরিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নির্মাণকাজের জন্য নেওয়া মিটার এবং মেইন লাইন থেকে অবৈধভাবে নেওয়া সংযোগের তার জব্দ করা হয়।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার মোহাম্মদ সামি জানান, ঠিকাদারের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য তিনি ওই সংযোগ নিয়েছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির সাইট ইঞ্জিনিয়ার রাকিব হোসেন বলেন, মিটার সংযুক্ত লাইনে পর্যাপ্ত পাওয়ার না পাওয়ায় মেইন লাইন থেকে সাময়িকভাবে ওই সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। এটি তাদের ভুল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রতিবেদকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।


চকরিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মডেল মসজিদ নির্মাণকাজে অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া মিটার জব্দ এবং অবৈধ সংযোগের তার কেটে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ আইনে মেসার্স আঁখি এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, জব্দ করা মিটার ও সংযোগ পুনরায় নেওয়ার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে তদবির করা হচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও মডেল মসজিদটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় এর সুফল থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে মসজিদটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আঁখি এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার আজম খাঁনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোমেন উল্লাহ বলেন, আমরা দ্রুত মিটার পুন সংযোগ নিয়ে মসজিদ নির্মাণ কাজের অবশিষ্ট কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।


চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, আমি চকরিয়া উপজেলায় যোগদান করেছি ১০ মাস হয়ে গেছে। এই মসজিদের কাজের অগ্রগতি তেমন চোখে পড়েনি। অবৈধ সংযোগ নিয়ে কাজ অনৈতিক। বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের আইনে ব্যবস্থা নেবেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী জানান, ২০১৯ সালে কাজ শুরুর কিছুদিন পরে ওই ঠিকাদার কাজ রেখে উধাও হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পান চট্টগ্রামের সেলিম আজম খাঁন।

কয়েক দফায় সময় বৃদ্ধি করা হলেও কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। সর্বশেষ আগামী বছরের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে কাজ বাতিলসহ জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না বলে জানান।


নির্বাচিত

banner close