বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

পদ্মা নদীতে পাওয়া গেল মৃত ডলফিন

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে জেলেদের পেতে রাখা অবৈধ কারেন্ট জালে সোমবার ধরা পরে একটি মৃত ডলফিন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৪ অক্টোবর, ২০২৪ ২০:২৭
মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
মাদারীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪ অক্টোবর, ২০২৪ ১৯:৪৮

মাদারীপুরের শিবচরে পদ্মা নদীতে একটি মৃত ডলফিন পেয়েছেন জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। জানা গেছে, ডলফিনটির ওজন প্রায় ২৫ কেজি, লম্বায় প্রায় আড়াই ফুট ও প্রায় ৩ মাস বয়সী।

নদীতে ইলিশ রক্ষা অভিযান চলাকালে জেলেদের পেতে রাখা অবৈধ কারেন্ট জালে আটকে থাকা অবস্থায় ডলফিনটিকে আজ সোমবার উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া অভিযান চালিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ৬০ হাজার মিটার অবৈধ জাল জব্দ করে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করে দেয় জেলা প্রশাসন।

শিবচর উপজেলার মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, মা ও ডিমওয়ালা ইলিশ মাছ রক্ষায় প্রতিদিনের ন্যায় আজও পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অফিস ও নৌপুলিশ দল।

শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌস ইবনে রহিম বলেন, আমরা ৬০ হাজার মিটার জাল জব্দ করে ধ্বংস করেছি। জেলেদের নিষিদ্ধ জালে আটকা পড়ে একটি ডলফিন মারা গেছে। আমাদের টিম জব্দকৃত জালে মৃত অবস্থায় ডলফিনটিকে উদ্ধার করেছে।

বিষয়:

ভোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ কোস্ট গার্ডের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভোলার চর মানিকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের ব্যবস্থাপনায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলাধীন কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট চর মানিকায় মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই মেডিকেল ক্যাম্পেইনে ২৬৫ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী প্রদান করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’


অগ্রণী ব্যাংকে চুরির চেষ্টা ব্যর্থ, আনসারের অভিযানে আটক ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফরিদপুর সদর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় গভীর রাতে সংঘটিত চুরির চেষ্টা নস্যাৎ করে চুরিকৃত মালামালসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ডিউটিরত সদস্যদের সতর্কতা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত অভিযানের ফলে ব্যাংকের সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ব্যাংকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিসি মো. আবু বক্কর ও এপিসি মো. শহিদ খানের নেতৃত্বে আনসার সদস্য মো. শাহ আলম এবং মো. রাশেদ মিয়া নিয়মিত নিরাপত্তা টহলে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় তারা ব্যাংকের ভবনের এসির বৈদ্যুতিক তার কাটার শব্দ শুনে এবং সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে দ্রুত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পে খবর পাঠানো হয়। সংবাদ পেয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ পিসি মো. আবু বক্কর অতিরিক্ত আনসার সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করেন। চারদিক ঘিরে ফেলে কৌশলী অভিযানের মাধ্যমে চুরিকৃত মালামালসহ মো. রাকিব মণ্ডল (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটক রাকিব মণ্ডলের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হামদহ গ্রামে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, আনসার সদস্যদের সময়োপযোগী পদক্ষেপ না থাকলে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। তাদের পেশাদারিত্ব ও দ্রুত অভিযানের কারণেই চুরির ঘটনা সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা, জনসম্পদের সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ফরিদপুরের এই ঘটনায় বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও সাহসিকতা আবারও প্রমাণ করেছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আনসার সদস্যরা সবসময়ই নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে চলেছেন।


অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের মিল নেই: ডিএমপি কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনের সাথে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিজস্ব তথ্য-উপাত্তের মিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই মাসের পরিসংখ্যানে শহরে অপরাধ প্রবণতা কমেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে শাহবাগ থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘টিআইবির প্রতিবেদনে রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা পুলিশের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ পুলিশের নিয়মিত অপরাধ পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, নগরের অপরাধপ্রবণ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সংখ্যা। পোশাক ছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশও দায়িত্ব পালন করছেন ২৪ ঘণ্টা। এতে কমেছে চুরি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘অপরাধ দমনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ ও মানসিক সুস্থতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের চাপ কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ পুলিশ সদস্যদের কেউ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে মানসিক চাপে থাকলে তা গোপন না রেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে গ্রেপ্তার ৩ জন রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রক্সি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়ে যোগদানপত্র দাখিল করতে এসে ফেস ভেরিফিকেশনে ধরা পড়া চার আসামির মধ্যে তিনজনকে শাহবাগ থানার প্রতারণার মামলায় একদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার দুই নম্বর আসামি মো. আলিমকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে গত সোমবার তাদের ভিন্ন আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রিমান্ডে পাঠানো তিন আসামি হলেন- মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলী হায়দার (২৯) এবং মো. মাসুদ ফকির (৩১)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আবদুল গাফফার (হিমেল) আসামিদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেককে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।


রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়নে বিআইডব্লিউটিএ’র কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নৌপরিবহন খাতে সেবার মান বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নির্দেশনা দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, এমপি এবং মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জাকারিয়া। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের ৬ষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভার শুরুতে সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম কর্তৃপক্ষের আয়-রাজস্ব বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।

উপস্থাপনায় ড্রেজিং কার্যক্রম, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, নদী বন্দর ব্যবস্থাপনা, ইজারা কার্যক্রম, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সেবার ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।

সভায় প্রতিমন্ত্রী ও সম্মানিত সচিব কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে একাধিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— এক. ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যয়-সাশ্রয়ীভাবে পরিচালনা করে অধিক প্রয়োজনীয় নৌপথে অগ্রাধিকারভিত্তিতে খনন নিশ্চিত করা; দুই. নৌপথে চলাচলের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বয়া, বাতি, বিকন এবং বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত নৌ-চিহ্ন (মার্কার) আরও দৃশ্যমান করতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ; তিন. বন্দর বিভাগের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৭ম দফা পর্যন্ত ইজারায় অনিষ্পন্ন ঘাটগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করা; চার. ফোরশোর ও তীরভূমি ব্যবহার ফি যুগোপযোগী করার মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ঘাট পয়েন্টসংক্রান্ত দেওয়ানী মোকদ্দমাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ; পাঁচ. নদী বন্দর এলাকায় মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করা; ছয়. নৌপথে চলাচলকারী বিভিন্ন নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং সাত. বন্দর বিভাগের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিআইডব্লিউটিএকে আরও দক্ষ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি এবং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।’

সভায় সদস্য (অর্থ) (গ্রেড-২) ক্যাপ্টেন (অব.) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) ও যুগ্ম সচিব মো. সাজেদুর রহমান, সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার এবং প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) সেলিম আহমদসহ বিআইডব্লিউটিএ’র সকল বিভাগীয় প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ও সম্মানিত সচিব প্রদত্ত নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএ’র সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারণ, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


সংগ্রামী ইকনের সংবাদ প্রকাশের পর চারিদিক থেকে আসছে সহায়তার আশ্বাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাচ্চু মল্লিক, বাগেরহাট

সংবাদ প্রকাশের পর বাগেরহাটের সংগ্রামী এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের পাশে দাঁড়াতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী এগিয়ে এসেছেন। তার লেখাপড়া অব্যাহত রাখা এবং পরিবারের দুর্দিন কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আর্থিক ও মানবিক সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

‎ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ইকনের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।এ সময় জেলা প্রশাসক ইকনের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউদ্দিন, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন এবং ইকনের বড় মামা।

‎এর আগে গত ২১ তারিখ মঙ্গলবার পিতার আকষ্মিক মৃত্যুর পর বাবার দাফন সম্পন্ন করে সেদিন রাতেই জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ইকনের সংগ্রামী জীবনের খবর প্রকাশিত হলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এরপর থেকেই দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীরা তার পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ইকনের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।


ডুমুরিয়ায় চড়া মাছের দাম, সবজি ও মাংসে স্বস্তি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​ ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে সবজি ও ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ডুমুরিয়ার পাইকারি ও কয়েকটি খুচরা কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্রই লক্ষ্য করা গেছে।

​জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২০০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, শসা ৫৫-৬০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০ টাকা, ওল ৮০ টাকা, ঝিঙে ৪০-৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা এবং লেবুর হালি ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও ইজারা খরচের কারণে দাম কিছুটা বেশি পড়ছে।

​এদিকে মাংসের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা, লেয়ার ৩০০-৩১০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

​তবে মাছের বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের বেশ বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুই মাছ কেজিপ্রতি ২৫০-৪০০ টাকা, কাতল ৩৫০-৫৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১২০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৬০ টাকা এবং পাঙাশ ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ১০-১৫ কেজি ওজনের বড় পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে।

​​​কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ​‘পাইকারি বাজার থেকে কাঁচামাল কিনে এনে লেবার খরচ, ভ্যান ভাড়া, বাজারের ইজারা ও বিদ্যুৎ বিল মেটাতে হয়। যে কারণে পাইকারি দরের চেয়ে খুচরা বাজারে দাম একটু বেশি রাখতে হয়। তবুও বর্তমানে সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই দাম রয়েছে।’

​​মুরগির ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, ​‘মাছ কিনতে গেলে বাজেট পার হয়ে যায়। তাই প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ব্রয়লার মুরগির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে দাম একই জায়গায় স্থির থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা কিছুটা সহজ হয়েছে।’


মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির সুযোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

স্বপ্নের পথে কোনো বাধা যে অজেয় নয়, তা প্রমাণ করে দেখালেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পালি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নীলাওয়ান রাখাইন। রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই অদম্য তরুণী যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার গৌরব অর্জন করেছেন।

ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটন এবং কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তিনি পিএইচডি করার সুযোগ পান। এর মধ্যে ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি ও ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটন—এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সম্পূর্ণ অর্থায়নসহ ফুল ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পেয়েছেন তিনি।

নীলাওয়ান রাখাইন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের পালি বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ে জন্ম নেওয়া নিলাওয়ান রাখাইন বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত শিক্ষাবিদ, শিক্ষক প্রশিক্ষক এবং সমাজকর্মী। তিনি বর্তমানে ইউনিসেফ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে শিক্ষক প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ ছাড়া তিনি ‘চালুং একাডেমি’ নামক একটি অ্যাডুকেশনাল প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করেন।

নীলাওয়ান রাখাইনের এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। তিনি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে শিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত। অনার্সে পড়ার সময় অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করতেন। অনেকে বলতেন পালি বিষয়ে পড়ে কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাকে বৈষম্যেরও শিকার হতে হয়েছে। একজন মেয়ে হিসেবেও শুনতে হয়েছে নানা সীমাবদ্ধতার কথা। কিন্তু নীলাওয়ান দমে যাননি। এই সমালোচনা ও বাধাকেই তিনি নিজের এগিয়ে যাওয়ার শক্তিতে রূপান্তর করেছেন।

রাখাইন জাতি থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সুযোগ পাওয়াকে নিজের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করেন নীলাওয়ান। রাখাইন জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দীর্ঘদিন ধরে খুবই সীমিত। নীলাওয়ান আশা করেন, তার এই সাফল্য অন্যদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

​নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে নীলাওয়ান বলেন, ‘আজ আমি গর্বিত যে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে। সবচেয়ে বেশি গর্বিত রাখাইন জাতি থেকে উঠে এসে আমি এই সুযোগটি অর্জন করেছি।’ তিনি অন্যদের বিশ্বাস করতে অনুপ্রাণিত করেন, স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। তিনি বলেন, ‘কখনোই অন্য কাউকে আপনার সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে দেবেন না। বড় স্বপ্ন দেখুন, কঠোর পরিশ্রম করুন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।’

নীলাওয়ানের এই সাফল্যের পেছনে তার স্বামীর অটুট সমর্থন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রতিটি কঠিন সময়ে তার পাশে ছিলেন এবং তাকে সাহস দিয়েছেন। এ ছাড়া তার বাবার অনুপ্রেরণা তার জন্য সবসময় আশীর্বাদ হিসেবে ছিল।

তার পরিবার, শিক্ষক এবং বন্ধুরা তাকে সবসময় এই দীর্ঘ যাত্রায় সমর্থন করেছেন বলে তিনি জানান।

নীলাওয়ান বিশ্বাস করেন যে তিনি একজন যোদ্ধা। জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ তাকে শক্তিশালী করেছে এবং দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায় নিয়ে লড়াই করতে শিখিয়েছে। তিনি মনে করেন যে এটি তার যাত্রার কেবল শুরু। আগামী দিনে তার অভিজ্ঞতা, শেখা এবং পথচলার গল্প অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।


তিস্তা নদীর ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় বিলীন ৮ বাড়ি, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপসহ পুনর্বাসনের দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচাড়িপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের তীব্র ভাঙনে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি শত বিঘা আবাদি জমিও তিস্তার গর্ভে হারিয়ে গেছে। পানি কমতে শুরু করার পর থেকেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে কাচাড়িপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার প্রবল স্রোতে নদীর তীরের বিশাল অংশ মুহূর্তেই ধসে পড়ছে। কোথাও ভাঙন বসতঘরের একেবারে গা ঘেঁষে চলে এসেছে। শেষ সম্বল রক্ষায় কেউ ঘরের টিন খুলে নিচ্ছেন, কেউ ইট, কাঠ ও আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে গৃহস্থালির মালামাল নিয়ে অসহায়ভাবে বসে আছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগেও তাদের দুশ্চিন্তা ছিল বন্যা নিয়ে। কিন্তু পানি নামতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে নদীর ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তীব্র স্রোতের কারণে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে পুরো জনপদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনে আলহাজ মোত্তালিব, সুরুজ মিয়া ও আনোয়ার হোসেনসহ অন্তত আটটি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া শত বিঘা আবাদি জমি তিস্তার গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অনেক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।

ক্ষতিগ্রস্ত আলহাজ মোত্তালিব বলেন, ‘চোখের সামনে আমার বসতবাড়ি নদীতে চলে গেল। সারাজীবনের কষ্টের অর্জন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’ সুরুজ মিয়া বলেন, ‘ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। দ্রুত সরকারি সহযোগিতা না পেলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হবে।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নদী আমার ঘর, জমি সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব, সেই চিন্তায় দিন কাটছে।’

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, ‘ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙনের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং তিস্তা নদীর স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কাচাড়িপাড়াসহ আশপাশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা, অসংখ্য বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তিস্তার ভয়াল গ্রাসে হারিয়ে যাবে।


ফরিদপুরে ইউসুফ ফকির হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

চরাঞ্চলবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুর সদর উপজেলার মমিন খাঁর হাটের বিশিষ্ট ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে চরাঞ্চলবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ অংশ নিয়ে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, এবি সিদ্দিকী মিতুল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সেলিম শাহরিয়ার, মো. নাজমুল বেপারী, মির্জা প্রিন্স আলী, রেজাউল করিম বেপারী, মো. রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল মোল্লা, নিহত ইউসুফ ফকিরের স্ত্রী বেদেনা বেগম ও ছেলে শাহাদাত হোসেনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, ‘ইউসুফ ফকিরকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন।’ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বক্তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি তোলেন তারা।

মানববন্ধন শেষে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের উদ্দেশে যায়। পরে জেলা প্রশাসক -ডিসি ও পুলিশ সুপার -এসপি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে ইউসুফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দ্রুত বিচার কার্যকরের দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখার হাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরকে (৪৫) নিখোঁজের দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


বগুড়ায় সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা, চাচি আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়া সদর উপজেলায় পূর্বশত্রুতার জেরে আতিকুর রহমান সাগর (২৬) নামের এক সাবেক ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার (২২ জুলাই) রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার চালিতাবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তার চাচি শাপলাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।

নিহত সাগর শাখারিয়া ইউনিয়নের পাঁচবারিয়া গ্রামের শাহাদাত মণ্ডলের ছেলে। তিনি শাখারিয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক এবং সেচ্ছাসেবক দলের কর্মী ছিলেন।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সাগরের বিরোধ চলছিল। গত বুধবার (২২ জুলাই) রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা ঘরে খাবার খাচ্ছিলেন। এ সময় সাগর বাড়ির উঠানে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ বাইরে হট্টগোল শুনে তার স্ত্রী মারজিয়া খাতুন ঘর থেকে বের হন।

মারজিয়া খাতুন বলেন, ‘সাগরের জ্যাঠাতো ভাইয়ের নেতৃত্বে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি দল টিনের গেট ভেঙে বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে। তারা সাগরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপাতে থাকে। একপর্যায়ে সাগর দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে রাস্তায় পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।’

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পূর্বশত্রুতার জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহত সাগরের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা রয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে রয়েছে।


সুনামগঞ্জ শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিভিন্ন দাবিতে নাগরিক সমাবেশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জাহাঙ্গীর আলম, সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জ শহরের জলাবদ্ধতা, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, খাল দখল, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অব্যবস্থাপনা ও নাগরিক দুর্ভোগ নিরসনের দাবিতে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে নাগরিক সংগঠন সুনামগঞ্জ জনউদ্যোগ শহরের আলফাত স্কয়ারে এই সমাবেশের আয়োজন করে। সমাবেশ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক মতিউর রহমান খানের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। একই দাবিতে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমানের কাছেও স্মারকলিপির অনুলিপি প্রদান করা হয়।

সমাবেশে সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জেলা সদর একটি জেলার আয়না হলেও সুনামগঞ্জ শহর বর্তমানে জঞ্জাল ও জলাবদ্ধতায় জর্জরিত একটি অপরিচ্ছন্ন নগরীতে পরিণত হয়েছে। অল্প বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় পানি জমে জনজীবন দুর্বিষহ হয়ে পড়ে।’

হাওর বাঁচাও আন্দোলন জেলা কমিটির সভাপতি ইয়াকুব বখত বহলুল বলেন, ‘শহরের ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশ দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। উকিলপাড়া, ষোলঘর, পূর্ব বাজার, আলফাত স্কয়ার থেকে জেল রোড পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখলের কারণে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।’

সংগঠনের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য বিজন সেন রায় বলেন, ‘শহরের কাজীর পয়েন্ট, ষোলঘর, বনানীপাড়া, বিলপাড়, জামাইপাড়া, পশ্চিম তেঘরিয়া, ওয়েজখালি, মল্লিকপুর ও নতুন হাছননগরসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতার কারণে বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।’

সংগঠনের আহ্বায়ক সুখেন্দু সেন বলেন, ‘শহরের বুক চিরে প্রবাহিত পাঁচটি খাল দখল ও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।’ এ সময় তিনি পৌরসভার পাশাপাশি নাগরিকদের দায়িত্ব পালনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

সমাবেশে বক্তব্য দেন জনউদ্যোগের সদস্য শামস শামীম, সনাক সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম মজনু এবং হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল হক মিলনসহ অন্যরা।

পরে শহরের খাল উদ্ধার, সংস্কার ও সচল করা, ভাঙাচোরা সড়ক দ্রুত সংস্কার, জলাবদ্ধ এলাকাগুলোতে নতুন ড্রেন নির্মাণ ও পুরোনো ড্রেন সংস্কার এবং নিয়মিত পরিষ্কার করে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা, রাস্তা উঁচু করার ফলে সৃষ্ট নতুন জলাবদ্ধতা দূর করতে পানি প্রবাহের ভারসাম্য রক্ষাসহ ১০ দফা দাবি তুলে ধরে সংগঠনের পক্ষ থেকে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। রক্ষণাবেক্ষণ, মশকনিধন কার্যক্রম জোরদার এবং পৌর এলাকায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।


যশোরে অর্ধকোটি টাকার স্বর্ণের বারসহ সাতক্ষীরার সুমন আটক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

যশোরে অভিযান চালিয়ে প্রায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের দুটি স্বর্ণের বারসহ সাদিকুর রহমান সুমন নামে সাতক্ষীরার এক যুবককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত বুধবার (২২ জুলাই) ভোরে যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটককৃত সাদিকুর রহমান সুমন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের নলকুড়া গ্রামের মো. মিজানুর রহমান খোকনের ছেলে।

বিজিবি জানায়, গত বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর একটি বিশেষ টহল দল যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ ব্রিজ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্দেহভাজন সাদিকুর রহমান সুমনের দেহ তল্লাশি করে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা দুটি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার করা স্বর্ণের বার দুটির মোট ওজন ২৪৯ দশমিক ২০ গ্রাম, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪৬ লাখ ৬৩ হাজার টাকা। এ ছাড়া তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৫ হাজার ২৮৫ টাকা জব্দ করা হয়েছে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক সুমন বিজিবিকে জানান, তিনি ঢাকা থেকে স্বর্ণের বার দুটি নিয়ে যশোর হয়ে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন।

যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মুহাম্মদ সাইফুল আলম খান (পিএসসি) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা লক্ষ করা যাচ্ছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও পাচার রোধে বিজিবির কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’

তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


banner close