সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৪ ফাল্গুন ১৪৩২

আয়েশি নয়, কল্যাণমুখী প্রকল্পে জোর দিতে বললেন প্রধানমন্ত্রী

আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড
৮ নভেম্বর, ২০২২ ১৮:২১
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৮ নভেম্বর, ২০২২ ১৮:২০

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরবর্তী চাপে থাকা অর্থনীতিকে টেনে তুলতে বিলাসী প্রকল্পে হাত না দিয়ে উৎপাদনমুখী প্রকল্পে জোর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে সব পতিত জমিতে চাষ করার তাগাদা দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া নতুন হুমকি হয়ে আসা ডেঙ্গুর বিষয়ে সতর্ক হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে সরকারপ্রধান এসব নির্দেশনা দেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

মন্ত্রী বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের আরও সাবধানী হতে বলেছেন। প্রকল্প যাচাই বাছাই ও অনুমোদন দুটোতেই। অপ্রয়োজনীয় অথবা আয়েশি এসব আইটেমের দিকে আমাদের সতর্ক হতে হবে। এ ধরনের প্রকল্প এখন অনুমোদন দেয়া যাবে না। আমরা এই প্রক্রিয়া গত কয়েক মাস ধরেই করে আসছি। এখন বিষয়টিতে আরও জোর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’

‘তবে একটি শর্ত ছোট প্রকল্প, গ্রামীণ প্রকল্প, কল্যাণমুখী প্রকল্প—এগুলোতে আমরা কোনো আপস করব না। এগুলোকে আমরা আগে যেভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছি এখনো সেভাবে অগ্রাধিকার দেব। শুধু বড় বড় প্রকল্প সেগুলো আমরা না করছি, সেগুলোর আরও গভীর চিন্তাভাবনা করে অনুমোদন দিতে হবে’, বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

বিলাসদ্রব্য কমিয়ে কৃষিতে জোর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমাদের কাজে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন আপনারা ভালো করছেন, আরও করতে হবে। দুনিয়াব্যাপী টালমাটাল অবস্থায়ও আমরা টেকসই থাকতে চাই। শুধু অপচয় কমানো নয়, নিজেদের সম্পদ বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। বিলাসদ্রব্য আমাদের অফিসে হোক, বাস ভবনে হোক, এভয়েড করতে হবে। কোনো বিলাসদ্রব্য আমরা ব্যবহার করব না। কৃষির ওপরে তিনি বেশি জোর দিয়েছেন। তার কথা হলো, স্বাবলম্বী হতে হবে। আমাদের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কোনো কারণে যদি দুনিয়ার পতন হয়েই যায়, আমরা যেন খেয়ে-পরে বাঁচতে পারি।’

‘সুতরাং চাল, ডাল, সবজি, মাছ, মুরগি পোলট্রি—এগুলো আমাদের বড় শিল্পের মধ্যে আছে। এগুলোকে আমরা সহায়তা দিয়ে যাব’, বলেনএম এ মান্নান।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: ফোকাস বাংলা

জমি খালি রাখা যাবে না
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এক ইঞ্চি জমিও খালি রাখা যাবে না। আপনারা শুনেছেন বারবার। আজকেও আবার তিনি বলেছেন, আমরা যে যেখানে পারি, যে যা চাষ করবে তার ইচ্ছা। যার যা ইচ্ছা চাষ করুক। কিন্তু কোনো জমি ফেলে রাখা যাবে না।’

‘জেলা প্রশাসনকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছেন তারা যেন খুঁজে খুঁজে অনাবাদি জমি বের করেন। সরকারপ্রধানের বার্তাটা পৌঁছে দেয়া হবে। তাদের কিছু ছোটখাটো সহায়তা লাগলে সেগুলো দেওয়া হবে আমলাতন্ত্রকে এড়িয়ে।’

ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন হতে হবে
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘কোভিডের সুড়ঙ্গ থেকে আমরা প্রায় বের হয়ে এসেছি। সুতরাং ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য সরকারপ্রধান আমাদের বলেছেন।’

এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক আছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে বেশি ক্ষতি হয়নি।’

‘আজকে আমরা তার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছি। আমরা একটি কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। সারা বিশ্ব একটি কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। সেটা আমরা আমাদের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছি। এই কঠিন সময় কোন দেশের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে জানি না। আমরা উদীয়মান দেশ। আমাদের মোটামুটি একটি উল্লম্ফন ঘটে গিয়েছিল। সেটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এটা আমাদের বিশেষ ক্ষতি।’

‘এত কিছুর মধ্যেও আমরা আমাদের গতিধারা ধরে রাখতে পেরেছি। ইতিবাচক ধারায় আমরা আছি। আমাদের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক অবস্থায় আছে। সেটা সামনে আরও সংহত হবে। বিশেষ করে সিত্রাংয়ের পর আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম, সে রকম ক্ষতি হয়নি। এখন আমরা আশা করছি আগামী ফসলটা মাঠে... আশা করি উঠে যাবে, কোনো বড় ঝড় যদি না হয়, তাহলে বড় একটি সুবিধা হবে’, বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

৩৯৮১ কোটি টাকার ৭ প্রকল্প অনুমোদন
একনেক আজ প্রায় তিন হাজার ৯৮১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত সাতটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন তিন হাজার ৩৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক অর্থায়ন ৩২২ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

প্রধানমন্ত্রী এবং একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।


ঝিনাইগাতী সার গুদাম ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সারের গুদামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার ট্রেডার্সের মনোনীত প্রতিনিধি মেহেদী হাসান হালিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেছে। এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ট্রাক চালকরা। অভিযোগে জানানো হয়, সারের গুদামে প্রতিটি ট্রাক লোডের জন্য আগে ২৫০ টাকা এবং বর্তমানে ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মেসার্স সরকার ট্রেডার্স, এবং ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ২ (দুই) বছর মেয়াদি চুক্তিনামায় প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর আনছার আলী স্বাক্ষর করে মেহেদী হাসান হালিমকে প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেন। এরপর থেকেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর আনছার আলীর ছত্রছায়ায় নিয়মিতভাবে চাঁদাবাজি শুরু করেন হালিম।

ট্রাকচালকরা জানান, পূর্বে এ ধরনের টাকা দিতে হতো না, তবে বর্তমান ঠিকাদারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। টাকা না দিলে গুদামে ট্রাক লোড বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং দ্রুত প্রতিকার চান।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসান হালিম বলেছেন, ‘আমি কোনো টাকা নেই না। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে গুদামে গোলযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। টাকা নেওয়ার কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারবে না। আমি গুদামের কার্যক্রম নিয়ম মেনে পরিচালনা করছি।’

গুদামের ইনচার্জ আদিলুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে জানান, এই বিষয়টি প্রশাসনের আওতায় না থাকলেও তিনি পরিস্থিতি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছেন। তিনি আরও জানান, আজ থেকে ট্রাক চালকদের কোনো টাকা নেওয়া হবে না। তবে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।

এ ঘটনায় ট্রাকচালকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, এবং তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


মৌলভীবাজারে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সোনাটিকি গ্রামে ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিবেশী সৈয়দ নানখার আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ইতোমধ্যে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ৩নং মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি এলাকায় গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির উঠানে একা থাকা পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রতিবেশী সৈয়দ নানখার আলী শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি সোনাটিকি গ্রামের মৃত আকদছ আলীর ছেলে সৈয়দ নানখার আলী (৪০)।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার জানায়, ঘটনাটি ঘটে সম্প্রতি গ্রামের একটি নির্জন স্থানে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। শিশুর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ঘাটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজনগর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মোবারক হোসেন জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত সৈয়দ নানখার আলীকে আটক করেছে পুলিশ।


রূপগঞ্জ যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যৌথ বাহীনির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। রূপগঞ্জের মাছিমপুর এলাকায় রূপগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের মেজর রিয়াদ (৫১ এমএলআরএস আর্টির) যৌথ অভিযানে ২টি ওয়ান শুটার পাইপগান ও ৩টি কার্তুজ শিসা গুলিসহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাছিমপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

যৌথ বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা জানতে পারেন পারভেজ ও তার সহযোগী শাহীন মাছিমপুর এলাকায় অবৈধ অস্ত্রসহ অবস্থান করছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকাটি ঘিরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে তাৎক্ষণিক তল্লাশি চালিয়ে ভবনটি থেকে দুটি অস্ত্র ও তিনটি কার্তুজ শিসা গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাবজেল হোসেন বলেন, ‘উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানায় সেনাবাহিনী।


মাগুরা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপিপন্থি সভাপতি, সম্পাদক নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে মিজানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পুনরায় শাহেদ হাসান টগর নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতরা দুজনই জেলা বিএনপির নেতা। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ২৮২ জন ভোটারের মধ্যে ২২৬ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

প্রত্যক্ষ ভোটেসহ সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মেহেদি হাসান লিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ফৌজদারি শাখা) পদে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দেওয়ানি শাখা) পদে আমেনা খাতুন লাবনী, ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে তাসলিমা আক্তার পপি।

কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সঞ্জয় রায় চৌধুরী, আ.ন.ম. ওবায়দা শহীদ ওবা, অসীম কুমার শিকদার, এনামুল হক (২), জাকির হোসেন মণ্ডল ও ফারহানা বিউটি। এ ছাড়া হিসাব রক্ষক পদে অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম, গ্রন্থাগারিক পদে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন বিশ্বাস এবং কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এবারের বার্ষিক নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট শিবপ্রসাদ ভট্টাচার্য।


জীবননগরের আলমসাধু উল্টে নিহত-১, আহত-১৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলীতে শিয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি আলমসাধু উল্টে যায়। এ ঘটনায় সন্ধ্যা রানি নামে ১ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৫ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রামনগর গ্রামের বাগদী পাড়ার বাসিন্দা। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের মালোপাড়ার নিকট এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সন্ধ্যা রানি (৬৩) দর্শনা রামনগর বাগদিপাড়ার দুলালের স্ত্রী। আহতরা হলেন- দুলালের মেয়ে বাদোলি রা‌নি (৩০), কুমার মণ্ডলের ছেলে বিকা‌শ মণ্ডল (৪৫),‌ বিকাশ মণ্ডলের স্ত্রী রিকা রা‌নি (৪০), খোকনের স্ত্রী শেফালী (৪৫), গোপালের স্ত্রী সন্ধ্যা (৫০), ঠাকুর বিশ্বাসের স্ত্রী জোসনা (৫০), চিত্তের স্ত্রী চায়না (৩০), কোমলের ছেলে টুকুল (৩০), সু‌নিলের ছেলে অশোক (৪০), আব্দুল জ‌লিলের ছেলে আলমসাধুচালক মিলন (৩০)। আহতদের উদ্ধার করে বি‌ভিন্ন ক্লি‌নিকে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, তারা বিভিন্ন হাট-বাজারে ঝুড়ি-ঝাপি বিক্রি শেষে আলমসাধুযোগে খালিশপুর থেকে দর্শনাতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে উথলী মালোপাড়ার নিকট পৌঁছালে দুটি শিয়াল সামনে চলে আসে। এ সময় দ্রুতগতির আলমসাধুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে আলমসাধুতে থাকা নারী-পুরুষরা রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং সন্ধ্যা রানি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দর্শনার বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করে। উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু জানান, উথলী মালোপাড়ায় আলমসাধু উল্টে ১ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


নির্মাই শিববাড়িতে দুই দিনব্যাপী শিব চতুর্দশী উৎসবের সূচনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান নির্মাই শিববাড়িতে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী শিব চতুর্দশী উৎসব। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

উৎসব উপলক্ষে শিববাড়ি প্রাঙ্গণ সেজেছে বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও নান্দনিক আলোকসজ্জায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা দলে দলে এসে সমবেত হচ্ছেন। পূজা-অর্চনা, আরতি, প্রার্থনা এবং বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ভক্তরা পালন করছেন শিব চতুর্দশীর পবিত্র আচার।

নির্মাই শিববাড়ির সেবাইত ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী জানান, এটি দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান। প্রতি বছরের মতো এবারও শিব চতুর্দশী উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভক্তদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজক কমিটি প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ঐতিহাসিক এ তীর্থস্থানে শিবমন্দিরের পাশেই রয়েছে কালীমন্দির এবং প্রায় ৯ একর জায়গাজুড়ে একটি বিশাল দিঘী। দিঘীর চারপাশে বিস্তৃত সবুজ বৃক্ষরাজি স্থানটিকে দিয়েছে অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ তীর্থস্থান প্রতি বছর শিব চতুর্দশী উপলক্ষে ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা অঞ্চলে একসময় ত্রিপুরার মহারাজা রাজত্ব করতেন। সে সময় কুকি সামন্তরাজার বিদ্রোহ দমনে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে কুকিরা পরাজিত হলেও মহারাজার প্রধান সেনাপতি যিনি রাজার জামাতা ছিলেন রণক্ষেত্রে নিহত হন। এতে মহারাজার কন্যা নির্মাই স্বামীহারা হন।

তৎকালীন ভারতবর্ষে সহমরণ প্রথা প্রচলিত থাকলেও রাজকন্যা নির্মাই সহমরণে সম্মত হননি। বরং স্বামীর মৃত্যুস্থলে এসে তিনি শিবের আরাধনায় নিমগ্ন হন এবং আধ্যাত্মিক সিদ্ধি লাভ করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। পরবর্তীতে তার নামানুসারে ১৪৫৪ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা পরগণার শঙ্করসেনা গ্রামে নির্মাই শিববাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে আয়োজিত এ উৎসব শ্রীমঙ্গলের সংস্কৃতি, ঐক্য ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, আয়োজক কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছেন। উৎসবকে ঘিরে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।


ঝিনাইগাতীতে সারের গুদামের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেটেড ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৭
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সারের গুদামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার ট্রেডার্স এর মনোনীত প্রতিনিধি মেহেদী হাসান হালিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ট্রাক চালকরা। সেখানে দাবি করা হয়, সারের গুদামে প্রতিটি ট্রাক লোডের জন্য আগে ২৫০ টাকা এবং বর্তমানে ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

ট্রাক চালকরা জানান, পূর্বে এমন কোন টাকা দিতে হতো না, কিন্তু বর্তমানে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। টাকা না দিলে, গুদামে ট্রাক লোড বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তারা আরও জানান, এর ফলে তাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং তারা এর প্রতিকার চান।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসান হালিম বলেছেন, "আমি কোন টাকা নিই না। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে গুদামে গোলযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছে। টাকা নেওয়ার কোন প্রমাণ তারা দিতে পারবে না। আমি গুদামের কার্যক্রম নিয়ম মেনে পরিচালনা করছি।"

গুদামের ইনচার্জ আদিলুজ্জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের আওতায় না থাকলেও তিনি পরিস্থিতি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছেন। তিনি আরো জানান, "আজ থেকে ট্রাক চালকদের কোন টাকা নেওয়া হবে না। তবে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ শুধুমাত্র উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।"

এ ঘটনায় ট্রাক চালকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, এবং তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


ধানমন্ডি ৩২ থেকে ঢাবি শিক্ষকসহ আটক ৫

আপডেটেড ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। এ সময় হট্টগোলের সৃষ্টি হলে তাকে আটক করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। এ সময় কুমিল্লা থেকে আসা আরো এক নারীসহ আরও ৪ জনকে আটক করা হয়। আটক চারজনের নাম জানা যায়নি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কেউ কথা বলতে চাননি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে আজ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ঢাবির এই অধ্যাপক। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব আজ বিকেল ৪টায়। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি।

পরে এদিন বিকেলে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে যান আ ক ম জামাল উদ্দীন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দীন ওই এলাকায় গেলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে নিয়ে যান।


কুমিল্লা সীমান্তে ৬০ লাখ টাকার ভারতীয় শাড়ি-সিগারেট জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

কুমিল্লার সীমান্ত এলাকায় চোরাচালানবিরোধী বিশেষ অভিযানে প্রায় ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকার অবৈধ ভারতীয় শাড়ি ও সিগারেট জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) পরিচালিত এ অভিযানে বিপুল পরিমাণ এসব পণ্য উদ্ধার করা হলেও জড়িত কাউকে আটক করা যায়নি।

একই দিন বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুমিল্লা ব্যাটালিয়নের (১০ বিজিবি) কম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মীর আলী এজাজ।

তিনি জানান, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার বিবিরবাজার বিওপির আওতাধীন কটকবাজার পোস্টের একটি বিশেষ টহল দল ভোরে সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালায়।

এ সময় সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০০ গজ ভেতরে বাগবেড় এলাকায় কয়েকটি বস্তা ও কার্টন সন্দেহজনক অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে তল্লাশি চালিয়ে সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি ও সিগারেট উদ্ধার করা হয়।

বিজিবি জানায়, তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা দ্রুত মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। ফলে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত পণ্যের আনুমানিক বাজারমূল্য ৫৯ লাখ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


ডেঙ্গুতে একদিনে আক্রান্ত আরো ৩১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে কারো মৃত্যু হয়নি। একই সময়ে ৩১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো ডেঙ্গুবিষয়ক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) সাতজন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৯ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ছয়জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে চারজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে দুজন, খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) একজন এবং রাজশাহী বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) দুজন রয়েছেন।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩২ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরে এ পর্যন্ত মোট এক হাজার ২২৫ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৩০৯ জন। এর মধ্যে ৬৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৬ শতাংশ নারী।

গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। চলতি বছরে ডেঙ্গুতে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন এক লাখ দুই হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।


দেশ ছেড়েছেন ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমেদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব দেশ ছেড়েছেন। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) তিনি নেদারল্যান্ডের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। তবে প্রথমে জার্মানি যাবেন। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিলেন ফয়েজ আহমদ। দেশ ছাড়ার পরে কারণ উল্লেখ করে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্টে দিয়েছেন তিনি।

বিশেষ সহকারীর ঘনিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শনিবার সকালে তিনি দেশ ছাড়েন। দেশ ছাড়ার কারণ সম্পর্কে জানতে চাইলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, তিনি নেদারল্যান্ডের নাগরিক। জাতীয় নির্বাচনের আগে গত ৯ ও ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের কর্মকর্তাদের কাছে বিদায় নেন। কর্মকর্তারা তাকে শুভেচ্ছা উপহারও দিয়েছেন।

নেদারল্যান্ডের নাগরিক হিসেবে তার পাসপোর্ট আছে। তিনি সেই পাসপোর্ট নিয়ে চলে গেছেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবকে বিশেষ সহকারী নিয়োগ দেওয়া হয়। বিশেষ সহকারী হিসেবে তিনি ডাক ও টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেন। এসব সংস্কার করতে গিয়ে বেশ আলোচিত এবং সমালোচিত হন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।

দেশ ছাড়ার পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের পোস্টে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব লেখেন, ফেব্রুয়ারির ৮, ৯, ১০ তারিখে আনুষ্ঠানিক বিদায় নিয়েছি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে। এরপরে নির্বাচনের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছি। প্রযুক্তি নির্ভর নির্বাচনী আয়োজনে আমার কিছু কন্ট্রিবিউশন ছিল। কলিগদের থেকেও ঠিকঠাক বিদায় নিয়েছি। ১০ ফেব্রুয়ারি অফিসিয়ালি শেষ কর্মদিবস ছিল।

সেদিন কর্মকর্তা কর্মচারী সবার সাথে একসাথে ফেয়ারওয়েল ডিনার করেছি। গান গেয়ে বিদায় দিয়েছেন আমার সহকর্মীরা, ওয়ালে পাবেন।

তিনি বলেন, একজন আত্মমর্যাদা সম্পন্ন এবং সৎ ব্যক্তিকে দুটো অসম্মানজনক কটু কথা শোনানোর আগে, তথ্য যাচাই-বাছাই করে নেবেন, চাওয়াটা খুব বেশি বড় না। বিদায় সময় এক সহকর্মী জিজ্ঞেস করেছিল পরে কি করবেন? বলেছি একটা চাকরি খুঁজতে হবে দ্রুত। দেশের জন্য কাজ করতে এসে ফাইনান্সিয়ালি অনেক লোকসান হয়েছে। সেভিংস যা ছিল সব শেষ হয়েছে।

ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, ছেলের স্কুলে প্যারেন্টস মিটিং আছে প্লাস স্ত্রীর মেডিক্যাল ইমার্জেন্সি আছে। ছুটি চেয়ে যথাযথভাবেই পরিবারের কাছে যাচ্ছি। একটা দীর্ঘ সময় সন্তান ও পরিবারকে সময় দিতে পারেনি, পরিবারকে কিছুটা সময় দিতে হবে। প্লাস আজকে ভ্যালেন্টাইন ডে।

অনেকগুলো বই উপহার পেয়েছি, বইগুলো সাথে নিয়ে এসেছি। দীর্ঘ ক্লান্তির পরে একটু লম্বা বিশ্রাম প্রয়োজন। স্লিপিং সাইকেল ডিসরাপট হওয়ায় বিগত এক বছর নিয়মিত ঘুমাতে পারিনি। বিশ্রামের পাশাপাশি উপহার পাওয়া বইগুলো পড়ব। পত্রিকার কলাম নিয়মিত পড়তাম, বিগত সময়ে আমার সহ-লেখকরা যেসব মৌলিক লেখা লিখেছেন সেগুলোও পড়তে হবে।

তিনি আরো বলেন, পুনশ্চ, আমি অল্প সময়ে জীবনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি, এটুকু বলতে পারি। একটা শীর্ষ দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ে নতুন ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রযুক্তি এবং স্বচ্ছতা এনেছি। সবগুলো পুরোনো আইন ও পলিসি পরিবর্তন করতে পাগলের মত খেটেছি। এগুলো প্রায় ৫ বছরের কাজ। বিশ্বাস না হলে কোনো পেশাদার গবেষণা সংস্থা এবং অডিট ফার্ম দিয়ে যাচাই-বাছাই করে নিয়েন।

আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলতে পারি আমি ১ টাকাও দুর্নীতি করিনি। আমি বাই ভার্চু সৎ লোক। টাকা মারছি এটা নিতে পারি না। মোবাইল ব্যবসায়ীরা, টেলিকম মাফিয়ারা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা করেছে। আমি তাদের কাছে মাথানত করিনি।

দ্রুত একটা চাকরি খুঁজব। আমার স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাব। আমার স্ত্রী সন্তানকে ডিপ্রাইভ করে, নিরাপদ জীবন ফেলে দেশে এসেছি, কিছু মানুষ আমাকে যে যেভাবে পেরেছে অপমান, অপদস্থ করতে কাজ করেছে। মাঝে মাঝে মনে হয় এই দেশের উল্লেখযোগ্য মানুষ সৎ লোক এবং নলেজ ড্রিভেন লিডারশিপ ডিজার্ভ করে না। এই কষ্ট আমাকে তীব্রভাবে আঘাত করেছে।

আমি সাধারণ মানুষ, সাধারণ পানাহার করি, সাধারণ চলাফেরা করি। নিজের কাছে সৎ ও স্বচ্ছ আছি। ভালো থাকবেন, দোয়া করবেন।


হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলায় হত্যা মামলার আসামিদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে স্থানীয় এলাকাবাসী। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে সদর উপজেলার সুলতানপুর এলাকায় এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে নিহতের চাচা জাকির হোসেন, নানা চারু মিয়া ও সৌরভ মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জানান, ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মান্নান মিয়ার ছেলে মো. রাহিম মিয়া (৩৫) পেশায় একজন ওয়েল্ডিং মিস্ত্রি ছিলেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৮ হাজার টাকার বিরোধকে কেন্দ্র করে রাফসান, লোকমান ও ইয়াসিনসহ তাদের সহযোগীরা তাকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে বাড়ির অদূরে তার মরদেহ ফেলে রাখা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি-ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানান তারা। মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের সুলতানপুর এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এ সময় কিছুক্ষণ যান চলাচল বন্ধ থাকে।


যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে দেড় হাজার পিস ইয়াবাসহ ৩ জন আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের দেড় হাজার পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে শম্ভুগঞ্জ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে আটক করেছে নেত্রকোনা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।

উদ্ধারকৃত মাদক ইয়াবার মোট ওজন ১৫০ গ্রাম, যার আনুমানিক অবৈধ বাজার মূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা। এছাড়া মাদক বিক্রির নগদ আড়াই হাজার টাকাও জব্দ করা হয়েছে। আটককৃতদের দুজন নেত্রকোনার এবং আরেকজন ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা।

মাদক কারবারিরা হলেন- নেত্রকোনা বারহাট্টা উপজেলার বরহাটি গ্রামের মৃত. জজ মিয়ার ছেলে মো. রুহল আমিন (৩৫) ও পূর্বধলা উপজেলার মানিকদীর গ্রামের মানিকদীর গ্রামের মৃত মাহতাব উদ্দিনের ছেলে মো. খোরশেদ আলম ওরফে আলম (৩২) এবং ময়মনসিংহের গৌরীপুর থানাধীন শ্যামগঞ্জ এলাকার মো. শাহজাহানের ছেলে অলিউল্লাহ (২৪)।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কার্যালয় থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসেব তথ্য জানানো হয়েছে। গত শনিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ গোলচত্বর সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. নাজমুল হক-এর নেতৃত্বে একটি রেইডিং টিম শম্ভুগঞ্জ গোলচত্বরের তনুশ্রী হোমিও হলের পূর্ব পাশে অবস্থান নেয়। এ সময় নেত্রকোনাগামী ‘রফরফ এন্টারপ্রাইজ’ নামক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস থামিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিকালে বাসে থাকা তিন যাত্রীর হেফাজত থেকে আকাশি, সাদা ও কালো রংয়ের পলিথিনে মোড়ানো জিপারযুক্ত প্যাকেটে লুকানো অবস্থায় মোট ১ হাজার ৫ শত পিস কমলা বর্ণের অ্যামফিটামিনযুক্ত ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. আল-আমিন বাদী হয়ে গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে ময়মনসিংহের কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি নিয়মিত মাদক মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন জানানো হয়েছে প্রেরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে।


banner close