রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরবর্তী চাপে থাকা অর্থনীতিকে টেনে তুলতে বিলাসী প্রকল্পে হাত না দিয়ে উৎপাদনমুখী প্রকল্পে জোর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পাশাপাশি উৎপাদন বাড়াতে সব পতিত জমিতে চাষ করার তাগাদা দিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া নতুন হুমকি হয়ে আসা ডেঙ্গুর বিষয়ে সতর্ক হতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
আজ মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে সরকারপ্রধান এসব নির্দেশনা দেন। পরে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।
মন্ত্রী বলেন,‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের আরও সাবধানী হতে বলেছেন। প্রকল্প যাচাই বাছাই ও অনুমোদন দুটোতেই। অপ্রয়োজনীয় অথবা আয়েশি এসব আইটেমের দিকে আমাদের সতর্ক হতে হবে। এ ধরনের প্রকল্প এখন অনুমোদন দেয়া যাবে না। আমরা এই প্রক্রিয়া গত কয়েক মাস ধরেই করে আসছি। এখন বিষয়টিতে আরও জোর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।’
‘তবে একটি শর্ত ছোট প্রকল্প, গ্রামীণ প্রকল্প, কল্যাণমুখী প্রকল্প—এগুলোতে আমরা কোনো আপস করব না। এগুলোকে আমরা আগে যেভাবে অগ্রাধিকার দিয়েছি এখনো সেভাবে অগ্রাধিকার দেব। শুধু বড় বড় প্রকল্প সেগুলো আমরা না করছি, সেগুলোর আরও গভীর চিন্তাভাবনা করে অনুমোদন দিতে হবে’, বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
বিলাসদ্রব্য কমিয়ে কৃষিতে জোর দিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আমাদের কাজে তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন আপনারা ভালো করছেন, আরও করতে হবে। দুনিয়াব্যাপী টালমাটাল অবস্থায়ও আমরা টেকসই থাকতে চাই। শুধু অপচয় কমানো নয়, নিজেদের সম্পদ বাড়ানোর চেষ্টা করতে হবে। বিলাসদ্রব্য আমাদের অফিসে হোক, বাস ভবনে হোক, এভয়েড করতে হবে। কোনো বিলাসদ্রব্য আমরা ব্যবহার করব না। কৃষির ওপরে তিনি বেশি জোর দিয়েছেন। তার কথা হলো, স্বাবলম্বী হতে হবে। আমাদের নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কোনো কারণে যদি দুনিয়ার পতন হয়েই যায়, আমরা যেন খেয়ে-পরে বাঁচতে পারি।’
‘সুতরাং চাল, ডাল, সবজি, মাছ, মুরগি পোলট্রি—এগুলো আমাদের বড় শিল্পের মধ্যে আছে। এগুলোকে আমরা সহায়তা দিয়ে যাব’, বলেনএম এ মান্নান।
জমি খালি রাখা যাবে না
পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন এক ইঞ্চি জমিও খালি রাখা যাবে না। আপনারা শুনেছেন বারবার। আজকেও আবার তিনি বলেছেন, আমরা যে যেখানে পারি, যে যা চাষ করবে তার ইচ্ছা। যার যা ইচ্ছা চাষ করুক। কিন্তু কোনো জমি ফেলে রাখা যাবে না।’
‘জেলা প্রশাসনকে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেছেন তারা যেন খুঁজে খুঁজে অনাবাদি জমি বের করেন। সরকারপ্রধানের বার্তাটা পৌঁছে দেয়া হবে। তাদের কিছু ছোটখাটো সহায়তা লাগলে সেগুলো দেওয়া হবে আমলাতন্ত্রকে এড়িয়ে।’
ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন হতে হবে
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘কোভিডের সুড়ঙ্গ থেকে আমরা প্রায় বের হয়ে এসেছি। সুতরাং ডেঙ্গু সম্পর্কে সচেতন হওয়ার জন্য সরকারপ্রধান আমাদের বলেছেন।’
এ সময় পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি। তবে আমাদের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক আছে। ঘূর্ণিঝড় সিত্রাংয়ে বেশি ক্ষতি হয়নি।’
‘আজকে আমরা তার কাছে সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেছি। আমরা একটি কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি। সারা বিশ্ব একটি কঠিন সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। সেটা আমরা আমাদের প্রতিবেদনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করেছি। এই কঠিন সময় কোন দেশের কতটুকু ক্ষতি হয়েছে জানি না। আমরা উদীয়মান দেশ। আমাদের মোটামুটি একটি উল্লম্ফন ঘটে গিয়েছিল। সেটা বাধাগ্রস্ত হয়েছে। এটা আমাদের বিশেষ ক্ষতি।’
‘এত কিছুর মধ্যেও আমরা আমাদের গতিধারা ধরে রাখতে পেরেছি। ইতিবাচক ধারায় আমরা আছি। আমাদের প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক অবস্থায় আছে। সেটা সামনে আরও সংহত হবে। বিশেষ করে সিত্রাংয়ের পর আমরা যে আশঙ্কা করেছিলাম, সে রকম ক্ষতি হয়নি। এখন আমরা আশা করছি আগামী ফসলটা মাঠে... আশা করি উঠে যাবে, কোনো বড় ঝড় যদি না হয়, তাহলে বড় একটি সুবিধা হবে’, বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী।
৩৯৮১ কোটি টাকার ৭ প্রকল্প অনুমোদন
একনেক আজ প্রায় তিন হাজার ৯৮১ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত সাতটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন তিন হাজার ৩৯২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, বৈদেশিক অর্থায়ন ৩২২ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২৬৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।
প্রধানমন্ত্রী এবং একনেকের চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে শেরে বাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক, হানিফ এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী কফিল উদ্দিন আর নেই। ভারতের দিল্লির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (৩১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
দেশের পরিবহন খাতের পরিচিত এই ব্যক্তিত্বের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মো. জোবায়ের মাসুদ।
কফিল উদ্দিনের আকস্মিক মৃত্যুতে দেশের পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর এই চলে যাওয়ায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি কফিল উদ্দিন আহমেদ, কার্যকরী সভাপতি এম এ বাতেন এবং মহাসচিব মো. সাইফুল আলম গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করার পাশাপাশি তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
মেহেরপুরের সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের মাঠের ৪টি এবং মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালি মাঠ থেকে ৩ টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি হয়েছে।
এতে করে এই দুই উপজেলার প্রায় ৫০০ বিঘা জমির সেচকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। গেল রাতের কোন এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, চকশ্যামনগর মাঠে মেহেরপুর সদর ফিডারের আওতায় চারটি এবং একই মাঠের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী অংশে বটতলা সংলগ্ন মুজিবনগর ফিডারের আওতায় আরো তিনটি ট্রান্সফর্মারের কয়েল চুরি হয়েছে।
রাতের আধারে অজ্ঞাত চোরেরা বৈদ্যুতিক পোল থেকে ট্রান্সফরমার খুলে ফেলে। ট্রান্সফরমারের উপরের কভার ভেঙ্গে ভেতরে থাকা কয়েল নিয়ে যায়।
এতে প্রায় ৫শতাধিক বিঘা জমির সেচ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুত সমিতির নিয়মানুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের সব খরচ গ্রাহককে বহন করতে হবে।এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সেচ পাম্প মালিকগণ।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির সদর সার্কেলের ডিজিএম শ্যামল কুমার মল্লিক জানান, এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া নিয়ম তান্ত্রিক উপায়ে আবেদন করলে নতুন ট্রান্সফর্মার লাগানো সম্ভব।
আর এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে চোর চক্রকে ধরার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় হালিমা আক্তার (১৯) নামের এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পিবিআই মুন্সীগঞ্জ। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ এবং সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায় এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনায় জড়িত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন: আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আল আমিন প্রধান (৫০)। তারা সবাই গজারিয়ার বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা।
গত শুক্রবার (২৯ মে) সকালে গজারিয়ার ফুলদী নদী থেকে হালিমা আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। মরদেহটি পচন ধরায় প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পিবিআই মুন্সীগঞ্জের একটি ক্রাইম সিন টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় ভিকটিমের পরিচয় শনাক্ত করে। নিহত হালিমা গজারিয়ার হোসেন্দী ইউনিয়নের জামালদী গ্রামের মহাসিন বেপারীর মেয়ে। এ ঘটনায় ভিকটিমের বোন হোসনেয়ারা আক্তার বৃষ্টি বাদী হয়ে গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পিবিআই সূত্রে জানা যায়, ভিকটিম হালিমা অভিযুক্ত আবু কালামের কাছে ২৫ হাজার টাকা এবং রাসেলের কাছে ১০ হাজার টাকা পেতেন। এছাড়াও অভিযুক্ত জামালের সাথে হালিমার শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তাদের অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জামালের এক আত্মীয় দেখে ফেলেছিলেন। এই বিষয়টি ফাঁস হয়ে এলাকায় সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় অভিযুক্তরা হালিমাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।
রবিবার বিকেলে মুন্সীগঞ্জের কোর্ট ইন্সপেক্টর সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন এবং আমলী আদালত-৫ এর বিজ্ঞ বিচারক জিনিয়া ইসলামের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন।
রবিবার সন্ধ্যায় প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসমা আরা জাহান জানান, ঘটনার ১৫ দিন আগেই অভিযুক্তরা হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে হালিমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যায় কৌশলে হালিমাকে বড় ভাটেরচর নদীর তীরে ডেকে আনা হয়। পরে নৌকায় করে নদীর ওপারে একটি ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে হালিমার পরনের প্যান্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে।
পবিত্র ঈদুল আজহার টানা ছুটিতে উপচে পড়া পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়ে উঠেছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে অবস্থিত দেশের অন্যতম প্রধান চিরসবুজ বন 'লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান'। ঈদের দিন থেকে শুরু করে আজ রবিবার (৩১ মে) পর্যন্ত মাত্র চার দিনে উদ্যানটিতে রেকর্ডসংখ্যক পর্যটকের সমাগম ঘটেছে। এর মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় করেছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ঈদের দিন থেকে আজ রবিবার পর্যন্ত চার দিনে লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে দেশি-বিদেশি মিলিয়ে মোট ৪ হাজার ১৮১ জন পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। এর মধ্যে ২৭ জন বিদেশি পর্যটকও ছিলেন। পর্যটকদের প্রবেশ টিকিট বাবদ সরকারের মোট রাজস্ব আয় হয়েছে ৪ লাখ ৯৭ হাজার ৮৫২ টাকা, যা এই স্বল্প সময়ে অন্যতম একটি রেকর্ড।
যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি দূর করতে এবং প্রকৃতির সান্নিধ্য পেতে ঈদের ছুটিতে হাজারো মানুষ ছুটে এসেছেন এই চিরসবুজ বনে। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের ভিড়ে মুখরিত ছিল পুরো উদ্যান এলাকা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঈদের দিন থেকেই লাউয়াছড়ায় পর্যটকদের সমাগম ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে। বনের ভেতরের সুউচ্চ গাছপালা, চারপাশের সবুজ প্রকৃতি আর বন্যপ্রাণীর অবাধ বিচরণ দেখতে উদ্যানের ভেতরে ভিড় জমান দর্শনার্থীরা। বিশেষ করে বনের বানর, বিরল প্রজাতির উল্লুক আর চশমা পরা হনুমানের দেখা পেয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন নানা বয়সী মানুষ।
উদ্যান কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতি বছরই ঈদের ছুটিতে লাউয়াছড়ায় মানুষের ঢল নামে। তবে এবার পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বনের পরিবেশ রক্ষায় বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা হয়েছে। ঈদের শুরুর দিকে পর্যটকের দেখা কিছুটা কম পাওয়া গেলেও, সময়ের সাথে সাথে তা অনেকাংশেই বেড়েছে। আজ রবিবার ছুটির শেষ দিন পর্যন্ত পর্যটকদের এই আনন্দঘন ও উপচে পড়া উপস্থিতি বজায় ছিল।
মেহেরপুরের সদর উপজেলার চকশ্যামনগর গ্রামের মাঠের ৪টি এবং মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালি মাঠ থেকে ৩ টি বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের কয়েল চুরি হয়েছে।
এতে করে এই দুই উপজেলার প্রায় ৫০০ বিঘা জমির সেচকাজ বন্ধ হয়ে গেছে। গেল রাতের কোন এক সময় এ চুরির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, চকশ্যামনগর মাঠে মেহেরপুর সদর ফিডারের আওতায় চারটি এবং একই মাঠের মুজিবনগর উপজেলার মোনাখালী অংশে বটতলা সংলগ্ন মুজিবনগর ফিডারের আওতায় আরো তিনটি ট্রান্সফর্মারের কয়েল চুরি হয়েছে।
রাতের আধারে অজ্ঞাত চোরেরা বৈদ্যুতিক পোল থেকে ট্রান্সফরমার খুলে ফেলে। ট্রান্সফরমারের উপরের কভার ভেঙ্গে ভেতরে থাকা কয়েল নিয়ে যায়।
এতে প্রায় ৫শতাধিক বিঘা জমির সেচ কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। পল্লী বিদ্যুত সমিতির নিয়মানুযায়ী ট্রান্সফরমার চুরি হলে নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপনের সব খরচ গ্রাহককে বহন করতে হবে।এতে চরম বিপাকে পড়েছেন সেচ পাম্প মালিকগণ।
মেহেরপুর পল্লী বিদ্যুত সমিতির সদর সার্কেলের ডিজিএম শ্যামল কুমার মল্লিক জানান, এ বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া নিয়ম তান্ত্রিক উপায়ে আবেদন করলে নতুন ট্রান্সফর্মার লাগানো সম্ভব।
আর এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে চোর চক্রকে ধরার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে গৃহবধুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধুর নাম তৃষা (২১)। নিহতের স্বজনদের দাবি, তাকে পারিবারিক কলহে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে তার স্বামী ও তার পরিবার। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছে।
রোববার দুপুরে উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের ভাদুড়িকান্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। নিহত তৃষা ওই এলাকার মৃত নুরুল ইসলামের মেয়ে।
অভিযুক্ত পরিবারের দাবি, তৃষার বোনকে আনতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে গতকাল রোববার সকালে শ্বশুরের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পারিবারিক বিরোধের সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে তৃষা নিজ ঘরে গলায় ফাঁস দেয়। দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে পরিবারের সদস্যরা তৃষাকে ঘরের চালার কাঠের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে স্বামী সোহাগ ও স্বজনরা তাকে নামিয়ে আনলে তিনি আর জীবিত ছিলেন না।
ঘটনার পর খবর পেয়ে সোনারগাঁ তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত তৃষার মামা জামাল হোসেনের দাবি, ৬ বছর আগে সোহাগের সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের সংসারে সন্তান হয়নি। এ নিয়ে পরিবারে মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়। গতকাল রোববার ঝগড়ার এক পর্যায়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখে। তবে আত্মহত্যার কোন চিহ্ন নাই। ঘটনার পর স্বামী পালিয়ে যায়।
সোনারগাঁ তালতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
যে জাতি তার গর্বিত সন্তানদের স্বীকৃতি দিতে জানে না, সে জাতি কখনো উন্নতি করতে পারে না বলে মন্তব্য করেছেন ভূমি মন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু। তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আমাদেরকে অহংকারী না হয়ে বিনয়ী হতে শিক্ষা দেয়। ভাষা শহীদদের স্মরণে প্রথম শহীদ মিনার নির্মাণের মাধ্যমে রাজশাহী কলেজ তাদের যে স্বীকৃতি দিয়েছিল, তা একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত।
আজ রবিবার (৩১ মে) রাজশাহী কলেজ মিলনায়তনে আয়োজিত ‘রাজশাহী কলেজ অ্যালামনাই ও কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী কলেজ ও রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দৃষ্টি রয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে জ্ঞান অর্জন করে এই মেধাবীরাই আগামী দিনে দেশ পরিচালনা করবে।"
রাজশাহী কলেজের ঐতিহ্যবাহী মাঠের কথা স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, "এখান থেকে অনেক জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনে এই মাঠটি সংস্কার করে আরও সুন্দর ও আধুনিক করার ব্যবস্থা করা হবে। যারা রাজশাহী কলেজে পড়ালেখা করেছেন, তারা সত্যিই সৌভাগ্যবান। রাজশাহী কলেজসহ সমগ্র রাজশাহীকে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমাদের সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।"
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. ইব্রাহিম আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর আবু ইউনুছ আলী,রাজশাহী কলেজের শিক্ষক পরিষদের সম্পাদক,প্রফেসর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান,রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই এসোসিয়েশনের সভাপতি চৌধুরী সাইদুর রহমান কোয়েল, রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই এসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক ডাঃ তাহাসিনা শামীম তাসু প্রমূখ।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাওয়া মোট ৩৪২ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এর মধ্যে রয়েছে মেডিকেল কলেজ, ৮১ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট, রুয়েট, কুয়েট, চুয়েট) ৬৬ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ২০ জন,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ১১ জন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ৯ জন, অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫৫ জন।
সংবর্ধনা প্রদান ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগত অতিথি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আনন্দঘন পরিবেশে এক ফটোসেশনে মিলিত হন।
নৌপথে যাতায়াতকারী জনগণের নিরাপত্তা ও ভোগান্তি নিরসনে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান। তিনি বলেছেন, দেশের কোনো অঞ্চলের নাগরিক যেন নৌপথে ভোগান্তির শিকার না হন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে এবং নৌযান চলাচল ও ঘাট ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) বিকেল ৩টার দিকে আকস্মিক সফরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঈদ ও ছুটিকে কেন্দ্র করে যেসব নৌপথে যাত্রীচাপ বেশি থাকে, সেসব এলাকার পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে চাঁদপুর, বরিশাল, মজুচৌধুরীঘাট, ইলিশাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাট পরিদর্শন করা হয়েছে। এছাড়া হাতিয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন নৌপথ ও ঘাটের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “আমাদের দায়িত্ব হলো মানুষকে নিরাপদে তাদের প্রিয়জনের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং ছুটি শেষে নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনা। আমরা সেই লক্ষ্যেই কাজ করছি। ঘাটগুলো পরিদর্শনের সময় ছোটখাটো কিছু ত্রুটি ও সীমাবদ্ধতা আমাদের নজরে আসে। সেগুলো দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
মো. রাজিব আহসান আরও বলেন, জনগণের নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক নৌযাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবা উন্নয়ন, নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং ঘাট ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়নের মাধ্যমে নৌখাতে সেবার মান আরও উন্নত করা হবে।
ভোলার ইলিশা নদী বন্দরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ইলিশা নদী বন্দরকে একটি আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও কার্যকর নদী বন্দর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং সেবার মানোন্নয়নে কার্যক্রম হাতে নেওয়া হবে।
অবৈধ নৌযান নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে সরকারি নিবন্ধনবিহীন নৌযানগুলোকে চিহ্নিত করতে দেশব্যাপী শুমারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। নৌযানের ইঞ্জিনের ধারণক্ষমতা ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় এনে সেগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে। শুমারি কার্যক্রম সম্পন্ন হলে অবৈধ নৌযানের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও জানান, যেসব রুটে যাত্রীসংখ্যা ও পরিবহন চাহিদা বেশি, সেখানে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে নতুন জাহাজ ও নৌযান সংযোজনের পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের সামর্থ্য অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে যাত্রীদের যাতায়াতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন আরিফ আহমেদ মোস্তফা, ডা. শামীম রহমান এবং শহিদুল্লাহ কাওছারসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তাদের উপস্থিতিতে ঘাটের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী।
সফর শেষে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নৌপথে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সরকারের চলমান উদ্যোগগুলো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার ২নং মুন্সীরহাট ইউনিয়নের গতিয়া খাল থেকে সিলোনিয়া খাল পর্যন্ত দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে।
রবিবার (৩১ মে) দুপুরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু।
সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পটির মাধ্যমে গতিয়া খাল থেকে সিলোনিয়া খাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হবে। প্রকল্পের প্রস্থ নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫-৪৫ ফুট। খাল খননে প্রায় ৫১ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। খাল পুনঃখনন সম্পন্ন হলে এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসন, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এছাড়া বর্ষা মৌসুমে বন্যা ও জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমিয়ে স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সহায়ক হবে।
পরে সংসদ সদস্য মুন্সী রফিকুল আলম মজনু স্থানীয় নোয়াপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে গাছের চারা রোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহরিয়া ইসলাম, উপজেলা ভুমি কর্মকর্তা সোহেলী নওশীন প্রত্যাশা, উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ফখরুল আলম স্বপন, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজীব আহম্মেদ, মুন্সি হাট ইউনিয়নের প্রশাসক ও গতিয়া খাল খনন প্রকল্পের সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার টাঙ্গুয়ার হাওর ভ্রমণ শেষে ট্রলার থেকে পানিতে পড়ে নিখোঁজ হওয়া তামিম (১৫) নামের এক কিশোরের মরদেহ ২৪ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের শ্রীপুর বাজারের উত্তর পাশে পাটলাই নদীতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তামিম সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলা-এর গোল্লা গ্রামের মজিবুর মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তামিম তার পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে প্রায় ৫০-৬০ জনের একটি পর্যটক দলের সদস্য হিসেবে ‘মা-বাবার দোয়া’ নামের একটি নৌযানে করে টাঙ্গুয়ার হাওর ও টেকেরঘাট ভ্রমণে আসেন। ভ্রমণ শেষে ফেরার পথে অসাবধানতাবশত তিনি ট্রলার থেকে পাটলাই নদীতে পড়ে যান। এরপর তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালানোর পর রবিবার (৩১ মে) তামিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। টানা অনুসন্ধানের একপর্যায়ে কিশোর তামিমের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ঈদুল আযহার আনন্দ উদযাপন শেষে রাজধানী ও তার আশপাশের এলাকায় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথ পাড়ি দিয়ে মানুষ তাদের গন্তব্য যাচ্ছে।
রবিবার (৩১ মে) সকাল থেকেই দৌলতদিয়া ঘাটে দুর দুরান্ত থেকে মানুষ যাত্রীবাহী বাস, মাইক্রোবাস, মাহিন্দ্র, মোটরসাইকেল যোগে ঘাটে এসে লঞ্চ ও ফেরিতে নদী পাড়ি দিচ্ছে। আবার অনেক বিভিন্ন জেলা থেকে সরাসরি পরিবহন যোগে নদী পারি দিয়ে কর্মস্থলে ফিরছে। এতেকরে ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে ছোট গাড়ির মধ্যে মোটরসাইকেল ও মাইক্রোবাসের সংখ্যা ছিল চোখে পড়ার মতো।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ঘাট এলাকায় সকল প্রস্তুতি গ্রহন করেছে ঘাট কর্তৃপক্ষ। ঘাটে আসা প্রতিটি বাসে থাকা যাত্রীদের নামিয়ে ফাঁকা বাস ফেরিতে উঠছে। তবে প্রতিটি ঘাটেই নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে নৌ পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, আনসা সদস্য সহ ঘাট-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা।
মেহেরপুর থেকে আসা গাজীপুরগামী যাত্রী মাহফুজুর রহমান বলেন, ঈদের আগে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষা বা যানজটের মুখে পড়তে হয়নি, তেমনি ফেরার পথেও কোন ভোগান্তি হয়নি। এবারের ঈদযাত্রা ছিল স্বস্তির।
ঘাটে আসা আরেক যাত্রী ছালমা আক্তার বলেন, ঈদের দীর্ঘ ছুটি শেষে আজ মাদারীপুর থেকে বাসযোগে ঘাটে এসে সরাসরি ফেরিতে উঠেছি। তবে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যানবাহনে ভাড়া তুলনামূলক ভাড়া একটু বাড়তি।
এদিকে ঢাকা সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে এখনো নদী পাড়ি দিয়ে বাড়ি ফিরছে মানুষ।
লঞ্চঘাটে ঢাকা থেকে আসা যাত্রী আঃ কাদের বলেন, আমি ঢাকায় ব্যবসা করি। ঈদের মধ্যে বাড়ি যেতে পারিনি, গরু কোরবানি ঢাকাতেই দিয়েছি এখন মাংস নিয়ে গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়া যাচ্ছি।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহা ব্যবস্থাপক মো. সালাহউদ্দিন জানান, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা ঢাকামুখী মানুষ ও যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে। তবে দৌলতদিয়া প্রান্তে কোন ভোগান্তি নেই। বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় ১৫টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে চলাচল করছে।
নাটোর-৩ সিংড়া আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু এমপির হস্তক্ষেপে নাটোরের সিংড়া উপজেলার কলম ইউনিয়নের পুন্ডরি গ্রামে আবাদি জমিতে পুকুর খনন বন্ধ করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসন পুকুর খননের অপরাধে জমির মালিক হামিদ মণ্ডলকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
সিংড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিশাত আনজুম রোববার দুপুরে অভিযান পরিচালনা করে এ জরিমানা করেন।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার গভীর রাত থেকে ধানী জমিতে অসাধু ভেকু ব্যবসায়ী আরিফুল ও আলী হাসানের যোগসাজশে পুকুর খনন শুরু করা হয়।
পরে স্থানীয়রা বিষয়টি গণমাধ্যম ও স্থানীয় সংসদ সদস্য আনোয়ারুল ইসলাম আনুকে জানালে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে নির্দেশনা দেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের তৎপরতারও প্রশংসা জানানো হয়।
মাগুরায় আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের একজন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে মোটরসাইকেল চুরি প্রতিরোধ এবং চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন (পিপিএম-সেবা)-এর নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যাপস), খন্দকার খায়রুল হাসান (পিপিএম-সেবা)-এর নেতৃত্বে মাগুরা সদর থানা পুলিশ ও সিসিআইসি’র যৌথ একটি দল শনিবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষীকান্দর গ্রামের একটি মুরগির খামারে অভিযান চালায়।
অভিযানে আন্তঃজেলা মোটরসাইকেল চোর চক্রের সদস্য মো. পলাশ (৩৬)কে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মাগুরা পৌরসভার মীরপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং পেশায় মোটরসাইকেল মেকানিক। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে খামারের একটি টিনশেড ঘরে অভিযান চালিয়ে ৫টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, সংঘবদ্ধ এই চক্রের আরও কয়েকজন সদস্য বিভিন্ন জেলায় সক্রিয় রয়েছে। তারা মোটরসাইকেল চুরি, লক পরিবর্তন, ক্রেতা সংগ্রহ এবং চোরাই মোটরসাইকেল সরবরাহের কাজে জড়িত। গ্রেফতারকৃত পলাশ চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, যা যাচাই-বাছাই করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, পলাতক সদস্যদের গ্রেফতার এবং চক্রটির সম্পূর্ণ নেটওয়ার্ক শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাগুরা জেলা পুলিশ জানায়, জেলার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। খুন, ডাকাতি, মাদক, অনলাইন প্রতারণা ও চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধারের পাশাপাশি হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রেও সাফল্য অর্জন করেছে পুলিশ।
এছাড়া সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং দাঙ্গা-হাঙ্গামা প্রতিরোধে জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সমন্বিতভাবে কাজ করছে মাগুরা জেলা পুলিশ।
জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধ দমনে সাধারণ জনগণকে সচেতন থাকার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।