প্রজনন মৌসুমে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধভাবে কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা চলছেই। মৎস্য অধিদপ্তরের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও থামানো যাচ্ছে না মা ইলিশ নিধন। বিস্তারিত প্রতিবেদকদের পাঠানো প্রতিবেদনে।
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে মা ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে ৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল ধ্বংস করা হয়েছে।
সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভারপ্রাপ্ত ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার উপজেলার কুঠিবয়ড়া এলাকায় এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অফিসার সুদীপ ভট্টাচার্য।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যমুনা নদীতে মা ইলিশ শিকার বন্ধে অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। নির্দেশনা অনুযায়ী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
শিবচর (মাদারীপুর):
মাদারীপুর জেলার শিবচরের পদ্মা নদীতে অভিযান চালিয়ে ১৫ জেলেকে আটক করেছে পুলিশ। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে পাঁচজনকে পাঁচ হাজার করে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ১০ জনকে আট দিনের কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পদ্মা নদীর বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা মৎস্য অফিস। এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে পাঁচ জেলেকে আটকসহ ৪০ হাজার মিটার জাল জব্দ করে তারা।
মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, ইলিশ রক্ষায় রোববার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পদ্মা নদীতে অভিযান চালায় মৎস্য অফিস ও উপজেলা প্রশাসন ও নৌপুলিশ। দুপুর পর্যন্ত অভিযানে পাঁচ জেলেকে আটক করা হয়। এসময় ৩০ কেজি ইলিশ ও ৪০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়।
এরপর দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত অভিযানে ১৫ জন জেলেকে আটক এবং ১ লাখ ৩০ হাজার মিটার কারেন্ট জাল ও ৩০ কেজি ইলিশ জব্দ করা হয়।
পরে উদ্ধারকৃত ইলিশ স্থানীয় ২টি এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ১৫ জেলের ১০ জনকে ৮ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পাঁচজনকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
পৃথকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল মামুন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল মালেক আটক জেলেদের এ সাজা দেন। শিবচর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ফেরদৌস ইবনে রহিম বলেন, ইলিশ রক্ষায় আমাদের অভিযান চলমান রয়েছে। নদীতে অভিযানের পাশাপাশি পদ্মার পাড়ে গড়ে ওঠা অস্থায়ী ইলিশের হাটেও অভিযান চালানো হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে। বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। সরকার স্পষ্টভাবে জানাচ্ছে যে, এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।
জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেছেন।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সরকার সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছে। দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন।
সরকার দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনী সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
রোজার বাকি আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকটা দিন; এর মধ্যেই ইফতারের অন্যতম অনুসঙ্গ লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মুরগি ও কাঁচামরিচের দামও। তবে কিছুটা স্বস্তি মিলছে সবজি ও পেঁয়াজের বাজারে। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারসহ আশপাশের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানে বেশি চাহিদা থাকা লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকার ওপরে।
ক্রেতারা বলছেন, রোজার আগে এমন দাম বাড়ায় চাপ বাড়ছে পকেটে। কারওয়ান বাজারে বাজার করতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রোজা শুরুই হয়নি, এর মধ্যেই লেবুর দাম বাড়তি। রোজায় যদি আরও বাড়ে, তাহলে অন্যান্য পণ্যের দামসহ খরচ সামলানো কঠিন হয়ে যাবে।’
খুচরা বিক্রেতারা জানান, শবে বরাতের দুদিন আগে থেকেই লেবুর দাম বাড়তে শুরু করেছে। প্রতি বছরই রোজার আগে লেবুর চাহিদা বাড়ে, তাই দামও বেড়ে যায়। কারওয়ান বাজারের এক লেবু বিক্রেতা বলেন, এ সময় চাহিদা বেশি থাকে, সরবরাহও কমে যায়। তাই দাম একটু বাড়তি।
এদিকে, তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে সবজির বাজারে। প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৬০ টাকা, শসা ৮০ টাকা, শিম ৫০-৬০ টাকা, করলা ১০০-১২০ টাকা, মূলা ৩০-৪০ টাকা, ফুলকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, বাঁধাকপি প্রতিপিস (সাইজভেদে) ৩০-৪০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, টমেটো ৪০-৫০ টাকা, বরবটি ১২০ টাকা এবং আলু ২৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে দাম বেড়েছে কাঁচা মরিচের। কেজি প্রতি বিক্রি হচ্ছে ১০০-১২০ টাকায়।
পেঁয়াজের বাজারে তুলনামূলক স্বস্তি দেখা গেছে। নতুন মৌসুমের পেঁয়াজ বাজারে আসতে শুরু করায় দামও সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। প্রতি কেজি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়। বাজার করতে আসা গৃহিণী নাজমা আক্তার বলেন, পেঁয়াজের দাম এখন মোটামুটি ঠিক আছে। যদি এমন থাকে, তাহলে কিছুটা হলেও স্বস্তি।
তবে মুরগির বাজারে বাড়তি চাপ দেখা গেছে। ব্রয়লার মুরগির কেজিতে ১০ টাকা এবং সোনালি মুরগির কেজিতে ২০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি, সোনালি মুরগি ৩০০-৩২০ টাকা এবং লাল লেয়ার ৩০০ টাকা কেজি দরে।
বিক্রেতারা বলছেন, বিয়ে-শাদি ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানের কারণে চাহিদা বেড়েছে, তাই দামও বাড়ছে। এক মুরগি বিক্রেতা বলেন, এ সময় অনুষ্ঠান বেশি থাকে, চাহিদা বেড়ে যায়। তাই দাম একটু বেশি।
রাজধানীর কাওরানবাজার, নয়াবাজার, মালিবাগ কাঁচাবাজার, জিনজিরা বাজার ঘুরে খুচরা বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার প্রতি কেজি ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ৯৫ টাকা-যা গত বছর একই সময় ১১৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ভরা মৌসুমে প্রতি কেজি দেশি পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬৫ টাকা। যা গত বছর একই সময়ে বিক্রি হয়েছে ৫৫ টাকা। বোতলজাত সয়াবিন তেল প্রতি লিটার বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৭৬ টাকা ছিল। আর প্রতি লিটার খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ১৮৫ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৭৬ টাকা ছিল।
পাশাপাশি প্রতি কেজি সরু মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৬০ টাকা। যা গত বছর রোজার আগে ১৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সঙ্গে প্রতি কেজি মাঝারি আকারের মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা এবং মোটা দানার মসুর ডাল ১০৫ টাকা। তবে গত বছরের তুলনায় চিনি কিনতে ক্রেতার কেজি প্রতি ২০ টাকা কম ব্যয় হচ্ছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি খোলা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১০৫ টাকা। যা গত বছর একই সময় বিক্রি হয়েছে ১২৫ টাকা। আর গুঁড়া প্যাকেটজাত দুধের মধ্যে প্রতি কেজি ডিপ্লোমা দুধ ৯২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা গত বছর রোজার আগে ৮৪০ টাকা ছিল।
রাজধানীর কাওরানবাজারে নিত্যপণ্য কিনতে আসা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এবার শবেবরাতের আগে ও পরের দিন বাজারে পণ্যের দাম বাড়েনি। বাজারে পণ্যের সরবরাহ পর্যাপ্ত আছে। তবে গত বছর রোজার আগের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। তাই মনে শঙ্কা হচ্ছে সামনে কী হয়।
কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এসএম নাজের হোসাইন বলেন, রমজানে ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হলো অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের আইন প্রয়োগের বড় দুর্বলতা। এবার বাজারে যে পরিমাণ পণ্য সরবরাহ আছে, তাতে রোজায় দাম বাড়ার কথা নয়। আর গত বছরের তুলনায় কেন বেশি দাম, সে বিষয়ে তদারকি করতে হবে। অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় আনতে হবে।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, রমজানে কিছু পণ্যের দাম কমবে। গত বছরের চেয়ে এবার নিত্যপণ্যের গড় আমদানি ৪০ শতাংশ বেশি। এই সরবরাহ পরিস্থিতি ও পণ্যমূল্যের স্থিতি বিবেচনায় গতবারের চেয়ে এ বছরের রমজান স্বস্তিদায়ক হবে। কেউ অনিয়ম করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে প্রতিপক্ষের হামলায় একজন গুলিবিদ্ধসহ দুইজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহতের একজন গুয়াগাছিয়ায় অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য বাড়ি ভাড়া দিয়েছিলেন। শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাড়ে চারটার দিকে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে এই হামলার ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন, জামালপুর গ্রামের মৃত আহমেদ দেওয়ানের ছেলে কাইয়ুম দেওয়ান (৪২) এবং তার আত্মীয় ও বাউশিয়া ইউনিয়নের পুড়াচক বাউশিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম প্রধানের ছেলে শরীফ প্রধান (৪১)। আহতদের মধ্যে কাইয়ুম দেওয়ানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও আহত কাইয়ুমের ছোট ভাই মাইনুদ্দিন দেওয়ান জানান, কাইয়ুম দেওয়ান নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা করেন। শুক্রবার একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসেছিলেন। আসর নামাজ শেষে বাবার কবর জিয়ারত করতে যাওয়ার পথে চিহ্নিত নৌ-ডাকাত নয়ন, পিয়াস ও শাহাদাতসহ তাদের সহযোগীরা কাইয়ুমের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। মাইনুদ্দিনের দেওয়ান অভিযোগ করে বলেন, ‘গুয়াগাছিয়ায় একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য আমার বড় ভাই কাইয়ুম দেওয়ান বাড়ি ভাড়া দিয়েছেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে নৌ-ডাকাত বাহিনীর সদস্যরা এই হামলা চালিয়েছে। প্রশাসনের গাফিলতির কারণেই সন্ত্রাসীরা এলাকায় নির্বিঘ্নে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং হামলার সাহস পাচ্ছে।’
আহত শরীফ প্রধান অভিযোগ করে বলেন, "হামলার সময় পাশেই পুলিশ ক্যাম্প ছিল, কিন্তু তারা এগিয়ে আসেনি। মসজিদের মাইকে সাহায্য চাইলেও ডাকাতদের ভয়ে কেউ আমাদের বাঁচাতে আসেনি।"
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. কামরুন নাহার জানান, বিকেল ৫টা ২০ মিনিটের দিকে আহত দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়। কাইয়ুম দেওয়ানের পায়ে গুলি জাতীয় কিছুর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত ঢাকা পাঠানো হয়েছে। অন্য আহত শরীফকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।'
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নয়ন-পিয়াস গ্রুপের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তাদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাসান আলী বলেন, "ঘটনাটি শোনার পরপরই আমি নিজে ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। বিস্তারিত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ফেনী-২ আসনের গণঅধিকার পরিষদের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া দীর্ঘ ৩২ ঘণ্টা অনশনে থাকার পর তাঁর দাবি আদায় করতে সক্ষম হয়েছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি অনশন ভাঙার ঘোষণা দেন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেনী সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নেয় রিটার্নিং কর্মকর্তা। এই ঘোষণার পর ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকারিয়া নিজে পানি খাইয়ে তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার অনশন ভাঙান।
জেলা প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জাকারিয়া নিশ্চিত করেছেন যে, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিনকে নির্বাচনসংক্রান্ত সকল দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন, পক্ষপাতমূলক আচরণ এবং প্রার্থীকে হুমকির অভিযোগ তুলে গত বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে আমরণ অনশনে বসেছিলেন তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া। তাঁর অভিযোগ ছিল, নির্বাচনী মাঠ সবার জন্য সমান নয় এবং প্রশাসনের নির্দিষ্ট কিছু কর্মকর্তা একটি বিশেষ পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রার্থীদের হয়রানি করছেন।
দাবি আদায়ের পর এক প্রতিক্রিয়ায় তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, ‘এটি কোনো একক ব্যক্তির বিজয় নয়—এটি গণমাধ্যমকর্মী ও সাধারণ মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রম, সাহসী ভূমিকা এবং সত্যের পক্ষে অবস্থানের সম্মিলিত বিজয়।’ এই অর্জনের জন্য তিনি ফেনী জেলার সচেতন নাগরিক এবং দেশবাসীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি পালনে সহযোগিতা করার জন্য তিনি পুলিশ প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে জনগণের অধিকার রক্ষায় এই লড়াই অব্যাহত রাখার হুঁশিয়ারি দেন।
গাইবান্ধার একটি চরাঞ্চলে মুহূর্তের ব্যবধানে পাঁচটি গরু মারা যাওয়ার ঘটনায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। চোখের সামনে একের পর এক গরুর মৃত্যু দেখে হতবাক হয়ে পড়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও তার পরিবার।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি মোবাইল ফোনে দৈনিক বাংলাকে নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুন কুমার দত্ত।
এরআগে ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গাইবান্ধা সদর উপজেলার মোল্লার চর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামে ওই গ্রামের কৃষক মোস্তাক মিয়ার গোয়ালঘরে বাঁধা পাঁচটি গরু হঠাৎ ছটফট করতে শুরু করে এবং মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মারা যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার ও গাইবান্ধার প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা জানান, ওই গ্রামের কৃষক মোস্তাক মিয়ার গরুগুলোকে প্রতিদিনের মতো সেদিনও গরুগুলোকে ভুট্টার ঘাস খাওয়ানো হয়েছিল। এরপর গোয়ালঘরে বেঁধে রাখা হলে আচমকাই একটি গরু অসুস্থ হয়ে পড়ে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই একে একে আরও চারটি গরু ছটফট করতে থাকে। পরিবারের লোকজন পানি খাওয়ানোসহ বিভিন্নভাবে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত সব গরুই মারা যায়।
কৃষক মোস্তাক জানান, ‘আমার ঘরে নয়টি গরু ছিল। গরুর বাছুরগুলো অন্য জায়গায় বাঁধা ছিল বলে বেঁচে গেছে। কিন্তু চোখের সামনে পাঁচটি গরু মারা যাওয়া সহ্য করার মতো নয়। এতে তার আনুমানিক সাড়ে তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার পর থেকেই গোপালপুর চরজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। এলাকার অনেক খামারি জানান, তারাও নিয়মিত ভুট্টার ঘাস গরুকে খাওয়ান। ফলে খাদ্যজনিত কোনো বিষক্রিয়া হলে আরও বড় ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তরুন কুমার দত্ত বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে একজন প্রতিনিধি পাঠানো হয়েছে। তিনি সেখানে এখনও অবস্থান করছেন। গরুগুলোর মুখ দিয়ে ফেনা এবং পেট ফুলে গেছে।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাড়ন্ত কাঁচা ভুট্টার ঘাস খাওয়ার কারণে গরুগুলো ‘নাইট্রেট পয়জনিং’-এ আক্রান্ত হয়েছে। ভুট্টা গাছের নরম ডাঁটা ও পাতায় কখনো কখনো অতিরিক্ত নাইট্রেট জমে যায়, যা গবাদিপশুর জন্য মারাত্মক হতে পারে।
এসময় চরবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি ভুট্টার টগবগে কাঁচা ঘাস খাওয়ানো থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেন তিনি। একই সাথে ইউরিয়া সারের ব্যবহার হয়েছে এমন জমির ঘাস কিছুটা রোদে শুকিয়ে খাওয়ানোরও পরামর্শ দেন।
নারায়ণগঞ্জ শহরের আমলাপাড়া এলাকায় কামরুন নাহার ইতি নামে এক নারী উদ্যোক্তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি ‘পরী বিউটি পার্লার’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন এবং এনায়েতনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন।
আজ শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ওই পার্লারের টয়লেটের ভেতর থেকে পুলিশ তাঁর মৃতদেহটি উদ্ধার করে। মৃত কামরুন নাহার ইতি গত ২৭ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন এবং এ ঘটনায় তাঁর ভাই ফতুল্লা মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন।
বিউটি পার্লারের ভেতর থেকে তীব্র দুর্গন্ধ পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে সংবাদ দিলে দরজা ভেঙে মরদেহটি বের করা হয়। সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল হালিম এ প্রসঙ্গে বলেন, “ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে হচ্ছে না।” নিহতের শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে এবং অধিকতর নিশ্চিত হতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতির স্বামী আনোয়ার হোসেন সেন্টুকে থানায় আনা হয়েছে এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনার আমতলী উপজেলার আড়পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ঘোপখালী এলাকা থেকে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে এক চিহ্নিত মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার বাড়ি থেকে ইয়াবা ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়। গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট এ জেড এম জহুরুল ইসলামের নেতৃত্বে আমতলী থানা পুলিশের সমন্বয়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে আড়পাঙ্গাসিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ঘোপখালী এলাকার নিজ বসতঘর থেকে মনির শরীফ (৪৫) নামের ওই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার মৃত সাত্তার শরীফের ছেলে। এ সময় তার বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে ৩ পিস ইয়াবা ও ২০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, আটক মনির শরীফের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় পূর্বেও একাধিক মাদক মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত।
পরবর্তীতে আটক আসামি ও উদ্ধার আলামতসমূহ রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে আমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ বিষয়ে থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সিলেট রেঞ্জের চার জেলার অফিসারদের মধ্যে শ্রেষ্ঠত্বের স্বীকৃতি পেলেন মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ার দুই পুলিশ কর্মকর্তা। জানুয়ারি মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ সার্কেল অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজমল হোসেন ও রেঞ্জের শ্রেষ্ঠ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নির্বাচিত হয়েছেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মোল্লা।
গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সিলেট রেঞ্জ পুলিশ কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় রেঞ্জ ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান দুই কর্মকর্তার হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
এ সময় মৌলভীবাজার জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মামলা রুজু ও নিষ্পত্তি, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিল, মাদক ও চোরাচালান উদ্ধার, ক্লুলেস মামলা উদঘাটনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সন্তোষজনক কর্মদক্ষতা বিবেচনায় বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়ায় ফেরির পন্টুন হতে পড়ে পদ্মা নদীতে নিখোঁজ যুবক রেজাউল শিকদারের (৩৫) সন্ধান মেলেনি শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত গত ৪ দিনেও।
সে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের বাহিরচর শাহাদাৎ মেম্বার পাড়ার মৃত মহিউদ্দিন শিকদারের ছেলে। রেজাউলের বিরুদ্ধে গোয়ালন্দ ঘাট থানায় ৪ টি মাদক, ২টি ছিনতাই ও ১টি জুয়ার মামলা রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে দৌলতদিয়া ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পল্টুনের উপর থেকে রেজাউল ফেরির অজ্ঞাত এক যাত্রীর মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনতাই করে পালানোর চেষ্টা করে। তখন ভুক্তভোগী যাত্রী তাকে জাপটে ধরেন। এ সময় ধ্বস্তাধস্তির এক পর্যায়ে দুজনেই নদীতে পড়ে যায়। পরে ওই যাত্রী সাঁতরে উপরে উঠতে পারলেও রেজাউল পারেনি। সে পানিতেই ডুবে যায়।
তবে রেজাউলের পরিবারের দাবি তাকে নদীতে ফেলে দিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
রেজাউলের বড় ভাই মোস্তফা শিকদার ও রবিউল শিকদার অভিযোগ করে বলেন, প্রতিবেশী আনু খা, আইয়ুব খা, ফারুক খা, তোতা খা, সোহেল খা, ইউনুস খা গংদের সাথে জমিজমা নিয়ে তাদের দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ দ্বন্দ্বের জের ধরে তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ছোট ভাই রেজাউলকে ফেরির পন্টুন হতে পানিতে ফেলে দিয়ে মাথায় ইট দিয়ে আঘাত করে ডুবিয়ে দেয়। এটা পরিকল্পিত হত্যা। আমরা এর বিচার চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আনু খা ও তার ছোটভাই ফারুক খা বলেন, আমরা এলাকায় সুনামের সাথে ব্যবসা-বানিজ্য করে খাই। কোন অন্যায় অপরাধের সাথে জড়িত নই। রেজাউল একজন চিহ্নিত মাদক সেবী, ছিনতাইকারী ও ফেরিতে তিনতাস নামক জুয়ারী চক্রের সদস্য। তার অত্যাচারে সাধারণ যাত্রীসহ এলাকার মানুষও অতিষ্ঠ। আমরা যতটুকু জেনেছি ফেরির এক যাত্রীর মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করে সে পালানোর সময় পন্টুন হতে নদীতে পড়ে যায়। কিন্তু নেশাগ্রস্ত থাকায় আর উপরে উঠতে পারেনি। এ সময় ছিনতাইকারী বলে বিক্ষুব্ধ যাত্রীরাও তাকে উঠানোর চেষ্টা করেনি। অথচ এ বিষয়ে আমাদেরকে জড়িয়ে রেজাউলের ভাইয়েরা মিথ্যা কথা বলে চলেছে। তাদের সাথে আমাদের জমিজমা নিয়ে আদালতে মামলা ছিল। মামলায় তারা হেরেও গেছে। এতে উত্তেজিত হয়ে তারা কিছুদিন আগে অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে সংঘবদ্ধভাবে আমাদের বাড়িঘরে হামলা চালায়। সে বিষয়ে আমরা থানায় অভিযোগ দেই। কিন্তু রেজাউলের এ মর্মান্তিক পরিস্হিতির সাথে তারা কোনভাবেই জড়িত নই।
এ বিষয়ে দৌলতদিয়া নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ত্রিনাথ সাহা জানান, পদ্মায় নিখোঁজ যুবক রেজাউলকে উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসের সাথে তারাও অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী নিখোঁজ রেজাউলের বিরুদ্ধে ৪ টি মাদক, ২টি ছিনতাই ও ১টি জুয়ার মামলা রয়েছে। এক যাত্রীর সাথে ধ্বস্তাধস্তি করে তার নদীতে পড়ে যাওয়া কথা জেনেছি। তবে প্রকৃত কারন জানতে আমরা কাজ করছি।
বরগুনা-২(বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা একমাত্র বিএনপিই বলে। অতীতে আমি বামনার উন্নয়নের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম। ভবিষ্যতেও থাকব। দল সরকারে এলে মানুষ যাতে ভালো থাকে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার বামনার শের-ই-বাংলা সমবায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনী জনসভায় এ কথা বলেন তিনি।
জনসভায় মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। কানায় কানায় পরিপূর্ণ সভাস্থল নবীন-প্রবীণের আনন্দ -উল্লাসে ‘মনি ভাই- ধানের শীষ’ স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠে।
মনি বলেন, তরুণ বেকারদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে প্রবাসগামীদের জন্য প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা দিয়ে দক্ষ কর্মী হিসেবে বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বলেছেন। কাজেই দেশ গড়ার পরিকল্পনার কথা একমাত্র বিএনপিই বলে।
তিনি জনসভায় উপস্থিত হাজারো জনতার কাছে প্রশ্ন রাখেন-এসব উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা কি আপনারা অন্য কারো কাছ থেকে শুনেছেন? এসময় জনতার কণ্ঠে ‘না’ ‘না’ আওয়াজে প্রকম্পিত হয় বিদ্যালয় মাঠ।
বিএনপির এই ভাইস চেয়ারম্যান আরো বলেন, জামায়াতের কাছে উন্নয়নের কোনো প্রোগ্রাম নাই। সে জন্য তারা নিয়ে আসছে বেহেস্তে যাওয়ার প্রোগ্রাম। তিনি বলেন, তারা মা-বোনদের বোঝাচ্ছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেস্ত পেয়ে যাবে। আসলে তারা ইসলামের কথা বলে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে। তারা উন্নয়নের কথা বলছে না। আমি এলাকার বিদ্যালয় বলেন, মাদ্রাসা বলেন, রাস্তা-ঘাট, বিদ্যুৎ-সব উন্নয়নেই ছিলাম, আছি এবং থাকব ইনশাআল্লাহ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির (চরমোনাই পীর) মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেছেন, আমরা নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছি এবং এতে শরিয়তকে প্রাধান্য দিয়ে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। জামায়াতসহ অন্যান্য দলও ইশতেহার প্রকাশ করেছে। জামায়াত কিন্তু কোথাও ইসলামের কথা বলেনি। এরপরও যারা জামায়াতকে ইসলামী দল বলে, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঝালকাঠি ঈদগাহ মাঠে ইসলামী আন্দোলনের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, গত ৫৪ বছরে যারা দেশ পরিচালনা করেছেন, তাদের সময়েই বাংলাদেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে এবং বিদেশে গড়ে উঠেছে কুখ্যাত ‘বেগম পাড়া’।
তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ইসলামী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল, কিন্তু ক্ষমতার মোহে একটি দল ঐক্য থেকে সরে গেছে।
চরমোনাই পীর জামায়াতকে সমালোচনা করে বলেন, জামায়াতের মতো এত বড় জানোয়ার, এত বড় শুয়োর এবং এত বড় মিথ্যাবাদী দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি নেই। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ইসলাম বিষয়ক কোনো স্পষ্ট বক্তব্য নেই। তাই প্রকৃত অর্থে তারা ইসলামী দল নয়।
জনসভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম সিরাজী এবং ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মাওলানা ইব্রাহিম আল হাদী।
ইসলামী আন্দোলন ঝালকাঠি জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারাও বক্তব্য দেন। নির্বাচনী জনসভায় দলের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।
কুষ্টিয়া সদর আসনে আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মুফতি আমির হামজার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজটি ‘কপিরাইট স্ট্রাইক’ ও সাইবার হামলার মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কুষ্টিয়া শহর শাখার আমির এনামুল হক এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় যে, মুফতি আমির হামজার অফিশিয়াল ফেসবুক পেজটি গত কয়েকদিন ধরেই একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তির পরিকল্পিত ভুয়া কপিরাইট স্ট্রাইক ও সাইবার আক্রমণের শিকার হয়ে আসছিল যার ধারাবাহিকতায় ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা (Meta) কর্তৃপক্ষ সাময়িকভাবে পেজটি অপসারণ করেছে। জামায়াত নেতাদের দাবি, এটি কোনো নীতিমালা লঙ্ঘনের কারণে নয়, বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা অভিযোগ ও ভুয়া রিপোর্টিংয়ের ফল।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনামুল হক বলেন, “আমাদের সকল অনুসারী, শুভানুধ্যায়ী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, মুফতি আমির হামজার অফিসিয়াল ফেসবুক পেইজ গত কয়েকদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ অপশক্তির পরিকল্পিত ভুয়া কপিরাইট স্ট্রাইক ও সাইবার আক্রমণের শিকার হয়ে আসছিল।” ওই বিজ্ঞপ্তিতে এই ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক হিসেবে আখ্যা দিয়ে তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, মানুষের ভালোবাসা, সমর্থন ও ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি চিহ্নিত মহল এই ন্যাক্কারজনক কাজটি করেছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই- ফেসবুক থেকে একটি পেইজ সরিয়ে দিলেও মানুষের হৃদয় থেকে আমির হামজাকে সরানো যাবে না।”
দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে যে, পেজটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে মেটা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই সংকটে সমর্থকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে যেন তারা কোনো ভুয়া আইডি, গুজব বা বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় পা না দিয়ে ধৈর্য ও সচেতনতা বজায় রাখেন। এনামুল হক জানান যে, বৃহস্পতিবার জোহরের নামাজের পর পেজটি উধাও হয়ে যায় এবং এই বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। মুফতি আমির হামজার অনুসারীরা যাতে বিভ্রান্ত না হন, সে লক্ষ্যে আইনি ও কারিগরি সকল পদক্ষেপ দ্রুততম সময়ের মধ্যে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার একটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসি ক্যামেরা চুরির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কুশাখালি ইউনিয়নের দক্ষিণ ছিলাদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এই চুরির ঘটনা ঘটে। ওই কেন্দ্র থেকে দুটি সিসি ক্যামেরা খুলে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা। নির্বাচনী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে কেন্দ্রের নিরাপত্তা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই ক্যামেরাগুলো স্থাপন করা হয়েছিল। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই ঘটনায় ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ও সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসাম্মদ মমতাজ বেগম জানান, গত ২৯ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার বিকেলে নির্ধারিত সময়ে বিদ্যালয় ছুটি দিয়ে শিক্ষকরা বাড়িতে চলে যান। এরপর টানা তিন দিন বিদ্যালয় বন্ধ ছিল। সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিদ্যালয়ে ফিরে শিক্ষকরা দেখতে পান যে, নিচতলায় স্থাপিত তিনটি সিসি ক্যামেরার মধ্যে দুটি ক্যামেরা যথাস্থানে নেই। দুর্বৃত্তরা সুকৌশলে ক্যামেরা দুটি খুলে নিয়ে গেছে। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং বুধবার সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। প্রশাসনের কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমান হাসিব এই চুরির ঘটনাকে পরিকল্পিত নাশকতার অংশ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, যারা নির্বাচনে কারচুপি করতে চায় কিংবা ভোটকেন্দ্রে গোলযোগ সৃষ্টির পরিকল্পনা করছে, এটি তাদেরই অপকর্ম হতে পারে। অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য সিসি ক্যামেরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম। যারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করতে চায়, কেবল তারাই এমন অসৎ উদ্দেশ্যে ক্যামেরা সরিয়ে ফেলেছে বলে তিনি দাবি করেন।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। লক্ষ্মীপুর জেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইতিমধ্যে সদর থানায় এ সংক্রান্ত অভিযোগ করা হয়েছে এবং পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে। নির্বাচনের আগে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। ভোটারদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে এবং কেন্দ্রের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনরায় জোরদার করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। মূলত নির্বাচনের ঠিক আগ মুহূর্তে এ ধরণের ঘটনা নির্বাচনী এলাকায় এক ধরণের রহস্য ও উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে।