সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
২ ভাদ্র ১৪৩৩

নওগাঁয় ভটভটি উল্টে প্রাণ গেল গরু ব্যবসায়ীর

নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
নওগাঁ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২ নভেম্বর, ২০২৪ ১৭:১৬

নওগাঁয় গরু বোঝাই একটি শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটি উল্টে গিয়ে ভটভটির নিচে চাপা পড়ে রেজাউল ইসলাম (৪২) নামে এক গরু ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে আত্রাই উপজেলার বজ্রপুর তাতীপুকুর ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত রেজাউল ইসলাম বজ্রপুর গ্রামের কিয়ামত আলীর ছেলে।

দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাহাবুদ্দিন জানান, নিহত রেজাউল ইসলাম গরু কেনা-বেচার ব্যবসা করতেন। শনিবার সকালে গরু বিক্রি করার উদ্দেশ্যে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত ভটভটি করে পাশ্ববর্তী হাটে নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হলে বজ্রপুর তাতীপুকুর এলাকায় গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে খাদে পড়ে যায়। এতে রেজাউল ইসলাম ভটভটির নিচে চাপা পড়ে বুকে ও পিঠে মারাত্মক আঘাত পায়।

তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় পথে তাঁর মৃত্যু হয় বলেও জানান তিনি।

আত্রাই থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাহাবুদ্দিন আরও বলেন, ‘বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। তবে ঘটনার বিষয়ে থানায় কোন অভিযোগ করা হয়নি।'


নির্বাচিত

ভোলায় বিনামূল্যে কোস্ট গার্ডের চিকিৎসাসেবা ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্ট গার্ড। সোমবার (১৭ আগস্ট) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড বেইস ভোলার ব্যবস্থাপনায় ভোলার সদর থানাধীন ১১নং ভেদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই মেডিকেল ক্যাম্পেইনে ২৯৬ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী প্রদান করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’


নির্বাচিত

মৎস্য উৎপাদনে মান নিশ্চিত করে রপ্তানি বাড়াতে হবে: মৎস্যমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘বিশ্বে এখন খাদ্যের অভাবের চেয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যের চাহিদাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশেও নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য মৎস্য উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে রপ্তানি বাড়াতে হবে।’

সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) কর্তৃক আয়োজিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মৎস্যসম্পদ: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎকরণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘মাছ বর্তমানে কী সমস্যায় আছে, আগামী দিনে কী সম্ভাবনা রয়েছে, মানুষের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারে মানসম্মত মাছের চাহিদা-এসব বিষয়কে সামনে রেখে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করতে পারলে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের জন্য পর্যাপ্ত অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং মাছ সংরক্ষণে কাজ শুরু করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত চাপ মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ও প্রজননকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবেশসম্মত ও আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতির দিকে যেতে হবে। সীমিত জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক মাছ উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’

আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মৎস্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মিঠাপানির মাছের বড় বাজার রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে হলে শুধু বাংলাদেশিরা যে মাছ খায় তা নয়, যে দেশে মাছ রপ্তানি করা হবে সে দেশের মানুষের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী মাছ উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে।’

চিংড়ি, কাঁকড়া, কুচিয়াসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর রপ্তানি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে উৎপাদনের পাশাপাশি পোনা ও প্রজনন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদন ও লালন-পালন করা গেলে এ খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।’

মৎস্য উৎপাদনে গুণগত মান, নিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক ও পেশাজীবীদের কার্যকর পরামর্শ সরকারকে সহযোগিতা করবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ‘মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের বেড়ে ওঠা ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, নদী-নালা দখল, নাব্যতা সংকট ও শিল্পকারখানার বর্জ্যে পানিদূষণের কারণে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাছের আবাসস্থল ফিরিয়ে আনতে নদী ও খালের নাব্যতা বজায় রাখা এবং নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন জরুরি। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবার খাল ও নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় খননকাজ হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখননের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মাছের প্রজনন ও বিচরণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে।’

মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। এ বিষয়ে খামারিদের সচেতন করতে জেলাভিত্তিক সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

বিএফআরআইর মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসস্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিএফআরআইর বিজ্ঞানীরা ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআইর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মশিউর রহমান।


নির্বাচিত

৮ মাসে ৮৩০ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ ও অস্ত্র-বিস্ফোরক উদ্ধার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারে সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার ঠেকানোর পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের আওতাধীন ৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৩০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।

ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় চারটি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ইউনিটের ২১১টি বিওপির মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করছে বিজিবি। মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচার রোধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি পিস্তল, ছয়টি এয়ারগান, পাঁচটি পাইপগান ও একটি ওয়ান শুটার গান। এ ছাড়া ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮ দশমিক ৩৩ কেজি উচ্চবিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করা হয়েছে।

সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।

ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, চোরাচালান ও অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচার প্রতিরোধ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’


নির্বাচিত

খুলনায় ডেঙ্গুতে আরও ১ জনের মৃত্যু

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো 

খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত লিয়াকত (৫৩) নগরীর গগনবাবু রোডের নিবাসী। এ নিয়ে খুলনা বিভাগে মৃত্যু ১৩-তে উন্নীত হলো। নতুন করে আরও ১৫৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪৪৮ জনে উন্নীত হয়েছে।

সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বিভাগে নতুন ভর্তি ১৫৩ জন রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১২০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৩ জন ভর্তি হয়েছেন।

জেলাভিত্তিক নতুন ভর্তির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খুলনার সরকারি হাসপাতালে ৩১ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ৩৩ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জন, বাগেরহাটে ১৫ জন, সাতক্ষীরায় ১ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ০ জন, যশোরে ২০ জন, ঝিনাইদহে ০ জন, মাগুরায় ০ জন, নড়াইলে ৪ জন, কুষ্টিয়ায় ৮ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ১ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমে গত ১৩ আগস্ট প্রথম ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়। সোমবার আরও ৪ জন ভর্তি হলো।

এদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ৩ হাজার ৫৫৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৫৬ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৪৮ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ছাড়া এ পর্যন্ত অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে ৩৮ জনকে। চলতি বছর এ বিভাগে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। এর মধ্যে ১০ জন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও খুলনা জেলায় ২ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া বাগেরহাটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর ১০ জনের মধ্যে ৪ জন রয়েছে খুলনার।

বিভাগের হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ভর্তির মধ্যে রয়েছে খুলনায় ১৭২ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৭ জন, বাগেরহাটে ৬৮ জন, সাতক্ষীরায় ৫ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন, যশোরে ৩৫ জন, ঝিনাইদহে ৫ জন, মাগুরায় ৭ জন, নড়াইলে ৮ জন, কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ২ জন।

জানতে চাইলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘মৃত লিয়াকত ১৬ আগস্ট ভর্তি হয়েছিলেন। তার ডেঙ্গুসহ কিডনি জটিলতা ও নানা উপসর্গ ছিল।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোগী বেশি হলেও চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। ওষুধ, কিট পর্যাপ্ত। রোগীর চাপ আরও বাড়লে পৃথক ইউনিট খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।’


নির্বাচিত

চলনবিলে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চলনবিল এলাকায় জলপথে নৌকা চালিয়ে যাওয়ার সময় বৈদ্যুতিক তারে লগির স্পর্শ লেগে মো. ফরহাদ আলী (৪৫) নামের এক খড় ব্যবসায়ীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল পৌনে ৯টার দিকে উপজেলার ডাহিয়া ইউনিয়নের শওড়াবাড়ি গ্রামসংলগ্ন চলনবিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত ফরহাদ আলী সিংড়া উপজেলার কাউয়াটিকড়ী গ্রামের বাসিন্দা আতাহার আলীর ছেলে। তিনি পেশায় একজন মৌসুমি খড় (স্থানীয় ভাষায় ‘পোয়াল’) ব্যবসায়ী ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে চলনবিল অঞ্চলের কৃষকরা তাদের সংরক্ষিত বোরো ধানের খড় বিক্রি করেন। এ সময় ফরহাদ আলীর মতো ব্যবসায়ীরা বিলের বিভিন্ন গ্রাম থেকে খড় কিনে নৌকায় করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করতেন।

প্রতিদিনের মতো সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালেও ফরহাদ আলী শওড়াবাড়ি এলাকা থেকে বোরো ধানের খড় কিনে নৌকায় বোঝাই করে নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন। পথে বিলে জমে থাকা পানির ওপর দিয়ে টানানো বৈদ্যুতিক তারের নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় তার হাতে থাকা নৌকা চালনার লগিটির (বাঁশের লাঠি) সাথে ঝুলন্ত বৈদ্যুতিক তারের স্পর্শ লাগে। এতে মুহূর্তের মধ্যেই তিনি বিদ্যুতায়িত হয়ে নৌকার ওপর গড়িয়ে পড়েন এবং ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

সিংড়া থানার ওসি মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সংবাদ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

তাহিরপুরে দুর্নীতিবিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা  

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ তাহিরপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সহযোগিতায় উপজেলা মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতর্ক প্রতিযোগিতা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) উপজেলার আনোয়ারপুর উচ্চবিদ্যালয়ে দুর্নীতির কারণ ও প্রতিরোধ নিয়ে যুক্তিতর্কে অংশ নেয় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। এবারের বিতর্কের বিষয় ছিল ‘প্রতিরোধ নয়, দমনই দুর্নীতি নির্মূলের কার্যকর উপায়।

বিষয়টি নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। প্রতিযোগিতায় উপজেলার মোট ১৪টি দল অংশগ্রহণ করে।

প্রতিযোগিতায় আনোয়ারপুর উচ্চবিদ্যালয় চ্যাম্পিয়ন এবং বালিজুরী হাজি এলাহীবক্স উচ্চবিদ্যালয় রানার্স-আপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে। এ ছাড়া পক্ষে ও বিপক্ষে দুজন শিক্ষার্থীকে সেরা বক্তা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি রমেন্দ্র নারায়ণ বৈশাখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।

বিতর্কের প্রতিযোগিতায় মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন রমেন্দ্র নারায়ণ বৈশাখ, বিচারকের দায়িত্ব পালন করেন রতন মিশ্রি সুপ্তি রানী সরকার জাহানারা বেগম নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পিংকি তালুকদার, সহকারী শিক্ষক দক্ষিণ কুল এসই এস ডি পি মডেল উচ্চবিদ্যালয় নুরুল আমিন সহকারী শিক্ষক বালিজুরী হাজি এলাহীবক্স উচ্চবিদ্যালয় ।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সুবেল আহমেদ, উপপরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট।

বিশেষ অতিথি ছিলেন নিঝুম রায় প্রান্ত, উপসহকারী পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন, সমন্বিত জেলা কার্যালয়।

আনোয়ারপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিমল চন্দ্র দে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের প্রতিনিধি অনন্ত দেবনাথ।

বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ও মিডিয়াকর্মী বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারা।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ‘দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই করে না, এটি সমাজের নৈতিক ভিত্তি দুর্বল করে এবং রাষ্ট্রের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করে। দুর্নীতি প্রতিরোধে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেমের চর্চা বাড়াতে হবে। বিতর্কের মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে দুর্নীতির কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে সচেতন করার পাশাপাশি তাদের যুক্তিনির্ভর চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটানো সম্ভব।

পরে অতিথিরা আনোয়ারপুর উচ্চবিদ্যালয় সততা স্টোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং চ্যাম্পিয়ন ও রানার্স-আপ দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।


নির্বাচিত

ভারতে চিকিৎসাধীন গাজীপুরের দুই বন্ধুর মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

উন্নত চিকিৎসার জন্য ভারতে গিয়ে ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে মারা গেছেন গাজীপুরের দুই বন্ধু। চিকিৎসা অবস্থায় মৃত্যুর পর তাদের মরদেহ গ্রহণ করে দেশে ফিরিয়ে আনেন ভারতে থাকা আরেক বন্ধু। গত রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে আনা হয়।

দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট সূত্রে জানা যায়, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া এলাকার মো. হাবিবুর রহমান (৫৮) ও কালীগঞ্জের কাপাসিয়া এলাকার বিল্লাল মাঝি (৫০) গত ১৫ জুন উন্নত চিকিৎসার জন্য দর্শনা ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে যান। পরে তারা কলকাতার এমআর বাঙ্গুর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সূত্র জানায়, বিল্লাল মাঝি গত ৯ আগস্ট রাত ৯টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসা অবস্থায় মারা যান। এর পরদিন ১০ আগস্ট রাত ৭টা ৪৭ মিনিটে মারা যান মো. হাবিবুর রহমান। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, হাবিবুর রহমান স্ট্রোকজনিত জটিলতায় এবং বিল্লাল মাঝি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

দুজনের মৃত্যুর পর ভারতে প্রয়োজনীয় ইমিগ্রেশন ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। পরে তাদের বন্ধু মো. আবু নাহিদ (৪৫) মরদেহ দুটি গ্রহণ করে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন।

গত রোববার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে বিল্লাল মাঝির মরদেহ এবং ৭টা ৩০ মিনিটে হাবিবুর রহমানের মরদেহ দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে পৌঁছায়। পরে ভারতীয় বিএসএফ ও বাংলাদেশ বিজিবির সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

একসঙ্গে চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়া দুই বন্ধুর মরদেহ শেষ পর্যন্ত আরেক বন্ধুর হাত ধরে দেশে ফেরার ঘটনায় স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

দর্শনা আন্তর্জাতিক ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের এসআই মো. তারিখ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘দুজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’


নির্বাচিত

নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার্থী হত্যায় তিন যুবকের মৃত্যুদণ্ড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মো. ওয়াজেদ সীমান্ত হত্যা দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- মো. অনিক (২৭), মো. আকাশ খান ওরফে সাইদুর রহমান (৩৬) ও বাবু ওরফে চান্দি বাবু (৪৫)।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, ‘হত্যা মামলায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।’

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ নাজিবুল্লাহ বিপু বলেন, ‘এ মামলার ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক তিনজন আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছেন। এ ছাড়া ছিনতাইয়ের ঘটনায় তাদের ৭ বছরের কারাদণ্ডসহ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।’

প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর সকাল ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয়ে যাওয়ার সময় নগরীর দেওভোগের মিন্নত আলী শাহ্ মাজারের সামনে শিক্ষার্থী ওয়াজেদ সীমান্তকে ছুরিকাঘাত করে ছিনতাইকারীরা। এ সময় তার কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ১ হাজার ৮০০ টাকা নিয়ে যায় তারা। গুরুতর আহত অবস্থায় সীমান্তকে প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ১৪ ডিসেম্বর রাত ১১টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

পরে এ ঘটনায় নিহত সীমান্তের বাবা মো. আলম পারভেজ বাদী হয়ে ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এতে পুলিশ তিনজন আসামিকে শনাক্ত করে ও গ্রেপ্তার করে। নিহত ওয়াজেদ সীমান্ত দেওভোগের মো. আলম পারভেজের ছেলে এবং আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ছাত্র ছিল।


নির্বাচিত

দাউদকান্দিতে বাসে আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন যাত্রীরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার ইলিয়টগঞ্জে চলন্ত এক যাত্রীবাহী দ্বিতল স্লিপার কোচে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে বাসটি পুড়ে সম্পূর্ণ ছাই হয়ে গেলেও যাত্রীদের দ্রুত তৎপরতায় অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন সবাই। ​সোমবার (১৭ আগস্ট) ভোরে ইলিয়টগঞ্জ রিলায়েবল সিএনজি ফিলিং স্টেশনের কাছে ঢাকাগামী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কক্সবাজার থেকে ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করা ‘রয়েল কক্স পরিবহন’-এর একটি বিলাসবহুল স্লিপার কোচ ইলিয়টগঞ্জ এলাকা অতিক্রম করার সময় সামনে থাকা একটি গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটির সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

এর কিছুক্ষণ পর হঠাৎ করেই বাসে আগুনের সূত্রপাত ঘটে এবং দ্রুত তা পুরো যানবাহনে ছড়িয়ে পড়ে। বাসের ভেতরে থাকা যাত্রীরা বিপদ টের পেয়ে কালবিলম্ব না করে দ্রুত নেমে যান। হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কয়েকজন যাত্রী সামান্য ছিলে যাওয়া বা কেটে যাওয়ার মতো আঘাত পেলেও বড় ধরনের কোনো প্রাণহানি বা মারাত্মক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

​সংবাদ পেয়ে দাউদকান্দি ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে পুরো বাসটি ভস্মীভূত হয়ে যায়। তবে আশপাশে অন্য কোনো যানবাহন বা স্থাপনা না থাকায় আগুন ছড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা পায়।

​ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইলিয়টগঞ্জ হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক মো. ফারুক ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর বাসের চালক ও সহকারীরা পালিয়ে গেছেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে ধারণা করা হচ্ছে, ধাক্কা লাগার পর জ্বালানি বা তেল চুয়ে পড়ার কারণেই হয়তো এ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি মহাসড়ক থেকে সরিয়ে হাইওয়ে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

দেবীগঞ্জে মাদক ও স্মার্টফোন আসক্তিকে ‘লাল কার্ড’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের উন্নত চরিত্র গঠন, কিশোর অপরাধ রোধ এবং মাদক ও স্মার্টফোনের অপব্যবহার থেকে দূরে রাখার লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভা ও শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। টিফিনের টাকায় পরিচালিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘ’-এর উদ্যোগে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়।

সোমবার (১৭ আগস্ট) দেবীগঞ্জ উপজেলার নৃপেন্দ্র নারায়ণ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজীত সাহা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।

অনুষ্ঠানে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্মার্টফোনের অপব্যবহার, মাদক গ্রহণ ও সব ধরনের কিশোর অপরাধ থেকে দূরে থাকার উদ্দেশ্যে লাল কার্ড প্রদর্শন এবং শপথ পাঠ করানো হয়। শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধান অতিথি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজীত সাহা।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, দেবীগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর সরকার, লাল সবুজ উন্নয়ন সংঘের প্রতিষ্ঠাতা ও কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল।

কাওসার আলম সোহেল জানান, বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের টিফিনের টাকা সাশ্রয় করে পরিচালিত এই সংগঠনটি বিগত ১৫ বছর ধরে দেশের ৬৪টি জেলায় সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। এ পর্যন্ত সংগঠনটি দেশের প্রায় ৪৫ লাখ শিক্ষার্থীকে মাদক, ইভটিজিং, বাল্যবিয়ে ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সচেতন করতে সক্ষম হয়েছে।

অনুষ্ঠান শেষে শিক্ষার্থীরা মাদক ও আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহারকে ‘না’ বলে উন্নত ও আদর্শ জীবন গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে।


নির্বাচিত

পাকুন্দিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে অটোরিকশার ধাক্কা, নিহত ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর বাইপাসে দাঁড়িয়ে থাকা পৌরসভার ময়লার ট্রাকে যাত্রীবাহী অটোরিকশার ধাক্কায় নজরুল ইসলাম (৩৮) নামের একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও চারজন।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মির্জাপুর বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নজরুল করিমগঞ্জ উপজেলার আশুতিয়াপাড়া এলাকার আব্দুর রহমানের ছেলে।

আহতরা হলেন, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চর মারিয়া এলাকার কাজল মিয়ার স্ত্রী জোসনা (৪৫) তার শিশু পুত্র আয়ফান। তাড়াইল উপজেলার কাজলা এলাকার রাবিয়া (৫৩)। এ ছাড়া সিএনজিচালকও আহত হয়েছেন। তবে তার পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজীপুর থেকে আসা একটি অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পাকুন্দিয়া পৌরসভার ময়লার ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে সিএনজিতে থাকা পাঁচজন গুরুতর আহত হন।

পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক নজরুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জে রেফার্ড করা হয়েছে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।

পাকুন্দিয়া থানার ওসি এসএম আরিফ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

মাধবপুরে পরিত্যক্ত ভবন থেকে ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পেছনে একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মরদেহটি এতটাই পচে গেছে যে, চেহারা দেখে পরিচয় শনাক্ত করার কোনো উপায় নেই। সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে হাসপাতালের পেছনের পরিত্যক্ত মেডিকেল অফিসার্স কোয়ার্টার পরিষ্কার করতে গিয়ে মরদেহটি দেখতে পান সংশ্লিষ্টরা। পরে খবর দেওয়া হলে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

উপজেলা হাসপাতালের পেছনের পরিত্যক্ত ভবনটি পরিষ্কার করতে গিয়ে ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক মাস আগে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় মরদেহের চেহারা বিকৃত হয়ে গেছে এবং হাড় বের হয়ে গেছে। এটি আত্মহত্যা নাকি হত্যার পর মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

মাধবপুর থানার ওসি সোহেল রানা বলেন, ‘ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় এক মাস আগে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গেছে এবং মরদেহ উদ্ধারের প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে।’

মরদেহ উদ্ধারের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


নির্বাচিত

শিবচরে আড়িয়াল খাঁ নদের গ্রাসে ভিটেমাটি, নেপথ্যে অবৈধ ড্রেজার সিন্ডিকেট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় আড়িয়াল খাঁ নদের তীব্র ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় নদীপাড়ের মানুষ। সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল থেকে ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করায় বহেরাতলা ও কলাতলা গ্রামের বিশাল এলাকা এখন বিলীন হওয়ার পথে। দীর্ঘ প্রায় ১০ বছর ধরে ভাঙন আতঙ্কে থাকা এই জনপদে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধের কারণে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, চলতি বছরে অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে নতুন করে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বিপর্যয়।

যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত: বহেরাতলা বাজার থেকে কলাতলা যাওয়ার একমাত্র পাকা সড়কটির বেশ কিছু অংশ ইতোমধ্যে নদীগর্ভে চলে গেছে। ফলে দুটি গ্রামের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

জন দুর্ভোগ: এই সড়কটি দিয়েই প্রতিদিন শত শত মানুষ হাটবাজার, স্কুল-কলেজে যাতায়াত করেন। এমনকি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে যাওয়া রোগীদের একমাত্র ভরসাও এই রাস্তাটি।

বেড়িবাঁধের ক্ষতি: পানি উন্নয়ন বোর্ডের আওতাধীন নির্মিত বেড়িবাঁধের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভাঙনে ধসে গেছে।

ঝুঁকিতে প্রশাসনিক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা: নদীর তীর থেকে মাত্র কয়েক মিটার দূরত্বে অবস্থান করছে বহেরাতলা দক্ষিণ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের স্থায়ী ভোটকেন্দ্রটি। যেকোনো সময় পুরো কেন্দ্রটি নদে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃতির খামখেয়ালিপনা নয়—বরং চরম মানবসৃষ্ট কারণেই এই অকাল ও তীব্র ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।

রাতের আঁধারে বালু খেকো সিন্ডিকেট: স্থানীয় একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী আইনের তোয়াক্কা না করে রাতের আঁধারে নদী তীরবর্তী তলদেশ থেকে শক্তিশালী ড্রেজার বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে।

তলদেশ ধসে পড়া: নদীর তীর ঘেঁষে অপরিকল্পিতভাবে গভীর থেকে বালু তোলায় নদীর পাড়ের তলদেশ ফাঁপা হয়ে ধসে পড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বেড়িবাঁধ ও জনপদের ওপর।

দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত ভিটেমাটি, ফসলি জমি ও রাস্তাঘাট হারিয়ে ওই এলাকার মানুষ এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা অবিলম্বে সরকারি হস্তক্ষেপের জোর দাবি জানিয়েছেন। যার মধ্যে রয়েছে রাতের আঁধারে সক্রিয় থাকা অবৈধ ড্রেজার সিন্ডিকেটের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করা, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ এবং মাদারীপুর জেলা প্রশাসন, শিবচর উপজেলা প্রশাসন ও মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) যৌথ সমন্বয়ে দ্রুত সময়ে অস্থায়ী জিও ব্যাগ ফেলা এবং স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণের কাজ শুরু করা।


নির্বাচিত

banner close