শরীয়তপুরের জাজিরা পদ্মা সেতু টোল প্লাজা এলাকায় দ্রুতগতির দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৪ মোটরসাইকেল আরোহী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। গতকাল রোববার রাত ১০টার দিকে পদ্মা সেতু টোলপ্লাজা এলাকার দক্ষিণ থানার পাশে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- নাবিল ফরাজী (১৮), পিতা রুবেল ফরাজী, সায়েম (১৯) পিতা এস্কেন্দার আলী মাদবর, আরমান (১৮) পিতা দাদন ঢালী ও খিদির (২০) পিতা-আলিম মাতবর।
নিহতদের সবার বাড়ি জেলার পদ্মা সেতু দক্ষিণ এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টোলপ্লাজা এলাকায় থানার সামনে দিয়ে দুটি মোটর সাইকেল খুব দ্রুতগতিতে যাচ্ছিল। থানা রোডে প্রবেশ করলে ওই দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় মোটরসাইকেলে থাকা চালকসহ ৪ আরোহী ছিটকে রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন। স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করে।
শরীয়তপুর হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে আনার আগেই চারজনই মারা যান।
উদ্ধারকারীরা জানান, তিনজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। বাকি একজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। নিহতরা সবাই উঠতি বয়সি, তারা বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিল।
পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আকরাম হোসেন জানান, পদ্মা সেতু টোলপ্লাজা এলাকার দক্ষিণ থানার পাশে বেপরোয়া দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় মোটরসাইকেলে থাকা ৪ আরোহীই নিহত হয়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তার দরবার প্রাঙ্গণে নতুন করে দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।
স্বজনদের অভিযোগ, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার স্থানীয় একটি কবরস্থান থেকে শামিমের মরদেহ তুলে শামিমি বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত স্থানে নতুন করে দাফন করা হয়েছে।
খবর পেয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান।
নিহত শামিমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে তারা কবরস্থানে গিয়ে দেখেন, কবরটি খোঁড়া হয়েছে। মরদেহ তুলে নেওয়ার আলামতও পাওয়া গেছে। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে একটি নতুন কবর খোঁড়া এবং খাপাচি দিয়ে মাটি চাপা অবস্থায় দেখতে পান তারা।
দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। নতুন কবরের ভেতরে কঙ্কালসদৃশ বস্তু দেখা যাচ্ছে। তবে সেটি শামিমের মরদেহের অংশ কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামিমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।
শামিম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মরদেহ কবরস্থান থেকে সরিয়ে দরবার প্রাঙ্গণে দাফনের অভিযোগে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আখ ক্ষেতের চারপাশে পেতে রাখা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নবীরন নেছা (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু ও লাশ গুম চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার বেপারিপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে র্যাব-১০-এর একটি আভিযানিক দল।
এ বিষয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র্যাব-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সিপিসি-৩, এডি মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা।
এর আগে গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় রফিকুলকে প্রধান এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন নিহত নারীর বড় মেয়ে জুলেখা আক্তার। মামলার নং৩। ধারা ৩০৪/ এ এবং ২০১।
তবে ঘটনাটি ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। থানার ওসি জানিয়েছেন, বাদী এ বিষয়ে অভিযোগ না দিলে তার কিছুই করার নেই।
র্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দিন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার আখ ক্ষেতের পাশ থেকে নবীরন নেছার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। এর আগে নারীর মৃত্যুর বিষয়টি টের পেয়ে রফিকুল ও তার কয়েকজন সহযোগী লাশটি গুম করার জন্য আখ ক্ষেতের পাশের পুকুর পাড়ে গর্ত খুড়ে সেখানে পুতে রাখার চেষ্টা করে। নিহত নারী স্থানীয় দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী।
এদিকে এ মৃত্যু নিয়ে এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতা ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হয়ে গেলে পুলিশ লাশটি কবর দেওয়ার আগ মুহূর্তে তাদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।
তবে নারীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং লাশ গুম চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নেটিজেনরা এর সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
নবিরন বেগমের মৃত্যু ও লাশ গুমের ঘটনায় তার বড় মেয়ে গত শুক্রবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করলে র্যাব-১০-এর একটি দল রাতেই প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধাকে ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে।
মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মুজদিয়া গ্রামস্থ শ্রীপুর প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২টি রিকশা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ রিকশা প্রদান করেন।
এ সময় শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভূমি আসমাউল হুসনা পিংকী, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার হোসেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সদস্য বদরুল আলম হিরো, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খন্দকার আব্বাস উদ্দিন, জেলা কৃষকদলের সভাপতি রুবাইয়াত হোসেন খান, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ড. মুসাফির নজরুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্যা খলিলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মজুমদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মুন্সি জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শাহ আলম তুফান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুন্সি ইয়াছিন আলী, সদস্য সচিব হেমায়েত হোসেন, শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক সদস্য সচিব আবু রায়হান রিংকু, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুমন মজুমদারসহ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারী ও প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।
জামালপুরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মন্ত্রী এমপিরা হাসপাতালের উন্নয়নে কাজ করেনি। জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল হলেও রোগী ভর্তি থাকে প্রায় নয়শ। এতে করে রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মেডিকেল কলেজ হয়েছে কিন্তু পাঁচশ শয্যার হাসপাতালের টেন্ডার হলেও কাজ শুরু হয়নি।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন।
মিল্লাত বলেন, বিগত সরকারের প্রতিমন্ত্রী, এমপির নির্ধারিত ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে বিনিময় নিয়ে সমঝোতা হয়নি সে কারণে হাসপাতালের ভবন নির্মাণ হয়নি। কত নিকৃষ্ট হলে এমন কাজ করতে পারে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রায় তিন যুগ আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নিত করেছিলেন তার পরে আর কোনো কাজ হয়নি। খুব শীঘ্রই হাসপাতাল ভবনের কাজ শুরু হবে।
এ ছাড়া হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ ঝাড়েন মন্ত্রী। অপর প্রশ্নে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ও ইন্টেরিম সরকার দায়ী। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন, সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান উপস্থিত ছিলেন।
১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচি জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, জ্বালানি সংকটের সময়ে লংমার্চের নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যয় করে জাতীয় সম্পদের অপচয় করা হচ্ছে।
শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।
এই লংমার্চ কর্মসূচি অযথাই জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে এবং জাতীয় সম্পদ নষ্ট করবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লংমার্চের জন্য প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি তেল ব্যয় হবে বলে হিসাব করা হচ্ছে। অথচ এটি এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। প্রথমদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে লংমার্চের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।’
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই সংস্কার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এজন্য সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধীদলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।’
দ্বিতীয় শপথ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এমপি হিসেবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী শপথ নেওয়ার পর যে অতিরিক্ত শপথের কাগজ দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে মনে করি। তবে এ বিষয়ে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামত থাকলেও সে বিতর্কে আমি যেতে চাই না।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার হিসেবে সফল বা ব্যর্থতার মূল্যায়নের পাশাপাশি গত ছয় মাসে বিরোধীদল হিসেবে তারা কতটুকু সফল হয়েছে, সেটিও জনগণের পর্যালোচনা করা উচিত।’
পরে প্রতিমন্ত্রী খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান ও খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেন প্রমুখ।
বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৬ জন সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) বদলিপূর্বক পদায়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করেছে সরকার।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ সংক্রান্ত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে জসিম উদ্দিনকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, তৌহিদ রেজাকে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. মাসুদ রানাকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া মো. আশরাফুল ইসলামকে বরগুনার আমতলী থেকে ঢাকা বিভাগে, সোহাগ মিলুকে পটুয়াখালীর বাউফল থেকে খুলনা বিভাগে, মো. সাইফুল ইসলামকে পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং প্রত্যয় হাশেমকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়াও মহেশ্বর মন্ডলকে বরিশালের উজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে, রওশান কবিরকে নীলফামারীর ডিমলা থেকে রাজশাহী বিভাগে, রাফিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. শাহরুখ আলম শান্তুতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন-মাহামুদ হুসাইন রাজু। তাকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। নুসরাত জাহান অনন্যাকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং এস এম আকাশকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এস এম নাজমুস সালেহীনকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে রংপুর বিভাগে, আব্দুল আহাদকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে খুলনা বিভাগে এবং তানভীর আহম্মেদকে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ওমর শরীফ খানকে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে খুলনা বিভাগে, আসিফ রায়হানকে পাবনার সাঁথিয়া থেকে ঢাকা বিভাগে, চৌধুরী আল মামুনকে সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং সামিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। মীর আল মনসুর শোয়াইবকে লালমনিরহাট সদর থেকে রাজশাহী বিভাগে, মো. শামীম রেজা সজীবকে ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, মজিবুর রহমানকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং জাকারিয়া হোসেনকে সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। সৈকত মন্ডলকে বরগুনার তালতলী থেকে খুলনা বিভাগে এবং রিজভী আহমেদ সবুজকে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের আরেক অংশে আরও ৯ জন সহকারী কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. ইফতেখার আহমেদকে নীলফামারীর জলঢাকা থেকে খুলনা বিভাগে, আব্দুল্লাহ বিন জিয়াকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মাহমুদুর রহমানকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। পলাশ উদ্দিনকে নওগাঁর বদলগাছী থেকে ঢাকা বিভাগে, শপথ বৈরাগীকে পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে এবং মো. বদরুজ্জামান রিশাদকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া আসমাউল হুসনা পিংকিকে মাগুরার শ্রীপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, আমিনুল হক তারেককে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
এক হাতে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ পুরস্কারের ক্রেস্ট, অন্য হাতে জীবিকার জন্য সেলাইয়ের কাজ। ১৩ বছরের জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া ক্রেস্ট ও সনদটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন সুমী বেগম। কিন্তু তার নিজেরই নেই থাকার মতো একটি ঘর। একমাত্র ছেলে সৌরভকে নিয়ে এখনো বাবার সংসারেই দিন কাটছে তার।
সুমীর জীবনের গল্প শুরু হয়েছিল ১৩ বছর আগে। তখন তার কোলে ছিল মাত্র তিন মাসের শিশু। নেশাগ্রস্ত স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিশুসন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন তিনি। পরে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করলেও সুমী আর বিয়ে করেননি। ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন একের পর এক বছর।
সেই তিন মাসের শিশু সৌরভ এখন ১৩ বছরের কিশোর। শেরপুরের নকলা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে সে। ছেলের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবেই নিজের জীবনকে নতুন করে সাজিয়েছেন সুমী।
নকলা পৌর শহরের জালালপুর এলাকার বাসিন্দা সুমী এখন বাবার ঘরেই ছেলেকে নিয়ে থাকেন। তার বাবা ফারুক মিয়া অটো চালান। নিজের সংসার চালাতেই তার আয় শেষ হয়ে যায়। নতুন করে একটি ঘর নির্মাণ করার সামর্থ্য নেই তার।
ফারুক মিয়ার সংসারে স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ, মেয়ে সুমী ও নাতি সৌরভ—সব মিলিয়ে ছয়জন। সংসারে অভাবের কারণে সুমীর নিজের ও ছেলের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা হয়নি।
অভাবের সংসারে বাবার ওপর চাপ কমাতে কয়েক বছর আগে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন সুমী। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। এই সামান্য আয় দিয়ে নিজের খরচ, ছেলের পড়াশোনা ও সংসারে সহযোগিতা করতে হয় তাকে। ফলে নিজের একটি ঘর নির্মাণের কথা ভাবার সুযোগও হয়ে ওঠে না।
তবে নিজের অর্জন নিয়ে হতাশ নন সুমী। পুরস্কারের ক্রেস্ট ও সনদটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার ১৩ বছরের জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতি। কষ্টের দিনগুলোর মধ্যে এই স্বীকৃতিই আমাকে সাহস দেয়। ছেলের স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই করার শক্তি পাই।’
সুমীর কাছে ছেলের ভবিষ্যৎই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা। সীমিত আয় দিয়ে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কিন্তু নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সেই স্বপ্নের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
জানা গেছে, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস-২০২৫ উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ কার্যক্রমে ‘নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবনসংগ্রামে’ ক্যাটাগরিতে নকলা উপজেলায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী নির্বাচিত হন সুমী বেগম।
পুরস্কারটি তার ১৩ বছরের সংগ্রামের স্বীকৃতি। কিন্তু স্বীকৃতি পাওয়ার পরও তার জীবনের মৌলিক চাহিদা—একটি নিরাপদ ঘর—অপূর্ণই রয়ে গেছে।
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলে ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি, ২০২৫ সালে ১৭টি এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৬টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। এছাড়া সম্প্রতি প্রায় ৬০ ফুট লম্বা চারটি তিমির মরদেহও ভেসে এসেছে। এর মধ্যে ঝাউবন, ৩৩ কানি এলাকা ও ফরেস্টারের ঢালা এলাকায় তিমির মরদেহ পাওয়া যায়। অপর একটি তিমির মরদেহ বসুধা আইল্যান্ড এলাকায় পাওয়া যায়।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যরা জানান, গত তিন বছরে তারা প্রায় ৪ থেকে ৫টি অসুস্থ ডলফিন জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সাগরে অবমুক্ত করেছেন। এছাড়া কুয়াকাটা উপকূলে অসংখ্য মৃত কচ্ছপ ও রাজকাঁকড়াও পাওয়া গেছে।
ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ডলফিন ও কচ্ছপ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের সংখ্যা কমে গেলে পুরো খাদ্যচক্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত সমন্বিত গবেষণা, নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।
এদিকে, গতকাল শনিবার সমুদ্রসৈকতের পূর্ব পাশে চর গঙ্গামতি এলাকায় জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসে প্রায় ৬ ফুট লম্বা একটি মৃত বোতলনোজ ডলফিন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য আব্দুল জলিল ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি ডলফিন রক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) ও বন বিভাগের সদস্যদের বিষয়টি জানান।
খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবক, ডলফিন রক্ষা কমিটি, বন বিভাগ ও বিবিসিএফের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করেন। এ সময় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে ডলফিনটির শরীরের অধিকাংশ চামড়া উঠে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এছাড়া লেজে দড়ি বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জীবিত কিংবা মৃত ডলফিন, কচ্ছপ, রাজকাঁকড়া বা অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী উদ্ধারের সময় প্রায়ই তাদের মুখ বা লেজে জালের টুকরো কিংবা দড়ি বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে মৃত সামুদ্রিক প্রাণীর দেহে দ্রুত পচন ধরে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় ডলফিনটির মরদেহ নির্ধারিত স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, খবর পাওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে গবেষণার স্বার্থে মৃত সামুদ্রিক প্রাণীর দেহ থেকে নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।
বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সহসাংগঠনিক সম্পাদক কেএম বাচ্চু জানান, উদ্ধার হওয়া ডলফিনটি একটি পুরুষ বোতলনোজ ডলফিন। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় কুয়াকাটা এলাকায় মাঝেমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মৃত সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসে। গত কয়েক বছরে শুশুক, ইরাবতী ডলফিন, বোতলনোজ ডলফিন, স্পিনার ডলফিন, তিমি ও কচ্ছপসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর মরদেহ পাওয়া গেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ উপকূলে সাধারণত ৫ থেকে ৬ প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে অলিভ রিডলি, সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ, হকসবিল, লগারহেড ও লেদারব্যাক কচ্ছপ। সাম্প্রতিক সময়ে ডলফিন ও কচ্ছপের মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক। জলদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মাছ ধরার জালে আটকা পড়াকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।
শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ট্রলার ও জেলেদের জালে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার কারণে অনেক সময় ডলফিন ও কচ্ছপ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। এছাড়া নৌযানের আঘাত, শিল্পবর্জ্য, তেল ও রাসায়নিক দূষণও সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
তিনি আরও বলেন, কচ্ছপ ও ডলফিনের মৃত্যু সমুদ্রের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তাই সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, উপকূলীয় এলাকায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। মৃত ডলফিন বা কচ্ছপের খবর পেলে বন বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
রাজশাহী আইএইচটির সম্মেলন কক্ষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, তোমাদের আগে নিজেদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। এরপর সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত হাল ছাড়া যাবে না। আমরা জানি যে তোমরা সবাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হবে। জনগণের যে প্রত্যাশা একটি সুন্দর চিকিৎসা ব্যবস্থা। সেটি তোমাদের হাত দিয়েই গড়ে উঠবে। তোমরাই আগামী দিনের ভবিষৎ।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আমাদের সেই মা যিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। মায়ের মূর্ত প্রতীকই হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া। আজকে আমাদের নেতা দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছিবি। জনগণ তার হাতে দেশের দায়িত্বভার তুলে দিয়েছেন। তিনি এই দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এখন অনেক প্রতিকূল অবস্থা, অনেক ষড়যন্ত্র, তারপরও তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আমরা সেই জাতি, আমরা আমাদের মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি। আমরা সেই জাতি আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়েও তিনি স্বাধীনতার যুদ্ধের ঘোষণার ডাক দিয়েছিলেন। আমরা হাতিয়ার তুলে নিয়ে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করেছিলাম। এরপর দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল।
রাজশাহী আইএইচটি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। প্রধান বক্তা ছিলেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, রাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. মো. মির্জা ওয়াসি পারভেজ, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিনসহ অন্যান্য নেতারা।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল উৎপাদনে পাল্টে দিয়েছে অনেক কৃষকের ভাগ্য। বদলে দিয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র। এক সময় শুধু ইরি-বোরো ও আমন চাষের পাশাপাশি প্রচলিত কিছু শাক-সবজি চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষিকাজ। কিন্তু এখন আধুনিক পদ্ধতিতে নানা জাতের বিদেশি ফলের আবাদ করে কৃষকরা লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। ধানের জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য এখানকার কৃষকদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে। কৃষকদের কাছে বিদেশি ফল উৎপাদন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। উপজেলার কৃষকরা এখন চাষ করছেন অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, লংগান, মাল্টা, আনারকলি ও আঙুরের মতো ভিনদেশি ফল।
১৫ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা এই আবাদ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এক সময় মনে করা হতো, বাংলাদেশের মাটিতে আঙুর চাষ প্রায় অসম্ভব। কারণ আঙুর মানেই ছিল বিদেশি ফল, যা আমাদের দেশে শুধু আমদানি করেই পাওয়া যায়। কিন্তু সময় বদলেছে। উন্নত জাত, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষকদের আগ্রহের কারণে এখন জীবননগর উপজেলায় সফলভাবে আঙুরসহ বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, উর্বর পলিমাটিতে এই ফলগুলোর চাষে খরচ কম, আবার ফলনও ভালো। ফলে চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারেও মিলছে ভালো দাম। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের ফলের দোকানগুলোতে সরবরাহ হচ্ছে জীবননগরের উৎপাদিত ফল।
জীবননগরে পরীক্ষামূলকভাবে আনারকলি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অনন্তপুর গ্রামের আকশেদ আলী। গাছে গাছে ঝুলছে ফুল আর কাঁচা-পাকা সবুজ ফল। অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অন্য কৃষকরা।
আকশেদ আলী জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি ড্রাগন ও মাল্টার চাষ করেছেন। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউটিউবে ভিডিও দেখে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের আদি ফল আনারকলির চারা সিরাজগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করেন। জমি প্রস্তুত করে চারাগুলো রোপণ করেন। এরপর জমিতে সেচ, সার, কীটনাশকসহ নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকেন। মাত্র ছয় মাসের মাথায় থোকায় থোকায় ফুল আসতে শুরু করে। ফলগুলোকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে এবং পচন থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়। বর্তমানে মাচায় মাচায় ঝুলছে কাঁচা ও পাঁকা আনারকলি ফল। আগস্টের শুরু থেকে পাঁকা ফল তোলা শুরু হয়েছে। এসব ফল ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ ২০১৪ সালে মাত্র ৯ বিঘা পেয়ারা বাগান থেকে শুরু করে বর্তমানে তিনি প্রায় ১৪০ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। তার বাগানে বর্তমানে মরোক্কো, পাকিস্তান, আফ্রিকা ও ভিয়েতনাম জাতের মাল্টা ৪০ বিঘা, বিভিন্ন প্রজাতির আম ৩৫ বিঘা, এছাড়া ড্রাগন, কমলা, আঙুর, অ্যাভোকাডোসহ ২০ রকমের বিদেশি ফল রয়েছে। সজল আহমেদ বলেন, পেয়ারা চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে তিনি ২০১৪ সালে মাল্টা চাষে মনোনিবেশ করেন। শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে তার বাগানের পরিধি ও ফলন বাড়তে থাকে।
বর্তমানে সাধারণ সবুজ মাল্টার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ‘ইয়েলো কিং’সহ (হলুদ জাতের মাল্টা) প্রায় ১০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি মাল্টা চাষ করে তিনি বাজিমাত করেছেন। তার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ‘বিসমিল্লাহ নার্সারি ও ফলের বাগান’ নামের একটি কৃষি প্রকল্প গড়ে উঠেছে। সজলের এই বাগান দেখতে এবং চাষ পদ্ধতি শিখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী ও নতুন উদ্যোক্তারা ভিড় করেন।
উপজেলার উথলী গ্রামের আশরাফুজ্জামান মিলু ২০১০ সাল থেকে ড্রাগন ও মাল্টা চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ২২ বিঘা জমিতে ড্রাগন ও ৬ বিঘা জমিতে মাল্টা এবং ১০ বিঘা জমিতে পেয়ারার চাষ রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রাকৃতিকভাবে ফল চাষ করছি। এসব বাগানে ফল বড় করতে কোনো মেসিডিন ব্যবহার করি না। এতে ফলের আকার ছোট হচ্ছে, দামও কম পাচ্ছি।
তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করলে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।
উপজেলার হাসাদাহ গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা দুই ভাই আশরাফুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম। তারা সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে প্রায় ৭৫০টি পার্পেল ও বাইকুনুর জাতের আঙুর গাছ লাগিয়েছেন। বাগান থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভের মুখ দেখছেন তারা।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জীবননগরে ড্রাগন ৬৮৮ হেক্টর, মাল্টা ৩১২ হেক্টর, কমলা ১২০ হেক্টর, শরিফা ১ হেক্টর, আঙুর ৯ হেক্টর, রকমেলন ৬ হেক্টর, আনারকলী ২ হেক্টর, অ্যাভোকাডো ৪ হেক্টর, রাম্বুটান শূন্য দশমিক ১৩ হেক্টর, পেয়ারা ৭৪৮ হেক্টর, আনার শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর ও বারোমাসি কাঁঠাল শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর চাষ হয়েছে।
মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড পুনর্গঠন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি মেয়াদ শেষ কথা থাকলেও সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ বোর্ড বিলুপ্ত করে নতুন বোর্ড গঠনের অনুমোদন পাস করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বোর্ড।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮ তম সিন্ডিকেট সভা বসে, সেখানে শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড পুর্নগঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সিন্ডিকেট সভায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রর মো. হাছান মিয়া বলেন, নিয়োগ বোর্ড গঠনের জন্য আগের সিন্ডিকেটগুলো থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতাই এ সভায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগে নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
এদিন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠনের জন্য গত ১১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৭তম সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক চবি উপাচার্যকে অর্পিত ক্ষমতাবলে পুনর্গঠিত নির্বাচনী বোর্ড অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী, প্রতিটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হবে। এ ক্ষেত্রে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি নির্বাচনী বোর্ড এবং সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য আরেকটি নির্বাচনী বোর্ড থাকবে। তবে চবি প্রশাসন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নিয়োগ বোর্ড পুনর্গঠন করেছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫৮তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের প্রত্যেকটিতে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়।
২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত নিয়োগ বোর্ডের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি সেই দুই বছর পূর্ণ হবে। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনী বোর্ড ভেঙে দিল চবি প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ডের মেয়াদ এখন প্রায় ৪ মাসের মতো সময় আছে। পূর্বের প্রশাসনও মেয়াদ শেষের পর বোর্ড গঠন করেছিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কাব স্কাউটারদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কার্যক্রম গতিশীল করতে দিনব্যাপী ‘স্কাউটার্স গ্যাদারিং ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট’কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জেলা স্কাউটসের স্কাউটার গোলাম রশীদ কনফারেন্স হলে এ আয়োজন করা হয়।
সকালে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্কাউটস এর সহকারী কমিশনার আসরাফুল আম্বিয়া সাগর, নুরুল ইসলাম, সম্পাদক মারুফুল হক, জেলা স্কাউটস লিডার খসরু পারভেজ, জেলা কাব লিডার রাকিব উদ্দিন আহমেদ, সহকারী লিডার ট্রেনার কে এ এম মাহফুজুর রহমান, সদর উপজেলা স্কাউট সম্পাদক মাইনুল ইসলাম, নাচোল উপজেলা স্কাউটসের কমিশনার মোহা. সাজেমান আলীসহ অনান্যরা।
দিনব্যাপী কর্মশালায় প্যাক মিটিং বাস্তবায়ন, ব্যাজ প্রদান ও দীক্ষা অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর হয়। এছাড়া বিভিন্ন রেজিস্টার হালনাগাদ, ‘মাই প্রগ্রেস বুক’, বার্ষিক পরিসংখ্যান ফরম, পরিদর্শন ফরম ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড ফরম পূরণ ও সংরক্ষণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
জেলা কাব লিডার রাকিব উদ্দিন আহমেদ জানান, স্কাউটারদের নিজস্ব অর্থায়নে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছরই আমদানির প্রয়োজন হচ্ছে। সংরক্ষণকালে পচন, ওজন কমে যাওয়া, অঙ্কুরোদগম ও গুণগত মানের অবনতিতে উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি বদলাতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) প্রযুক্তিনির্ভর একটি আধুনিক ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রযুক্তিটি ব্যবহারে পেঁয়াজের সংরক্ষণকালীন ক্ষতি প্রায় ১৫–১৬ শতাংশ কমানোর সম্ভাবনা দেখা গেছে।
গবেষণাটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাকৃবির আইসিটি সেলের পরিচালক এবং কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী। তাঁর সঙ্গে গবেষক দলে রয়েছেন সহকারী গবেষক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নাফিস সাদিক সায়েম এবং স্নাতক শিক্ষার্থী রাহাত মিয়া। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে ২০২৫ সালের মার্চে শুরু হওয়া গবেষণাটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক ও ফলাফল বিশ্লেষণ পর্যায়ে রয়েছে।
গবেষণার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে অধ্যাপক ড. রোস্তম আলী বলেন, তুলনামূলকভাবে কম খরচে এমন একটি আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য, যেখানে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। দীর্ঘসময় পেঁয়াজ ভালো রাখতে তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব পরিবেশগত পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে পচন, ওজন হ্রাসসহ অন্যান্য সংরক্ষণকালীন ক্ষতি কমানোই এ প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, এ জন্য গবেষণায় সংরক্ষিত পেঁয়াজের ভেতরে সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। সেন্সরের মাধ্যমে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংরক্ষিত পেঁয়াজের ভিতরের পরিবেশে প্রয়োজনের তুলনায় পরিবর্তন দেখা দিলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। প্রযুক্তিটির নকশায় এয়ারফ্লো ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যানের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য উপযোগী পরিবেশ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
গবেষণায় পেঁয়াজ কতদিন সংরক্ষণ করা যাচ্ছে, তার পাশাপাশি সংরক্ষণকালীন ওজন হ্রাস, পচন ও গুণগত মানের পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিভিন্ন সংরক্ষণ পরিস্থিতিতে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ ও তুলনা করে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করছেন গবেষকরা। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলকে আশাব্যঞ্জক বলছেন তারা। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আইওটি-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারে পেঁয়াজের সংরক্ষণকালীন ক্ষতি প্রায় ১৫–১৬ শতাংশ কমানোর সম্ভাবনা দেখা গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২৫ এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪২ দশমিক ৬৪ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৫–৩৬ লাখ টন। এরপরও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রায় ৮৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হওয়ার পরও সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে বাজারে ঘাটতি তৈরি হওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ড. রোস্তম আলী বলেন, সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে কৃষককে অনেক সময় ফসল তোলার পরপরই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়। এতে মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে কম দামে বিক্রির ঝুঁকি তৈরি হয়। উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা চালু করা গেলে কৃষক পেঁয়াজ কিছুদিন ধরে রেখে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং বছরজুড়ে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য ফলন বাড়ানো নয়, বরং উৎপাদনের পরবর্তী অপচয় কমিয়ে কৃষকের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
অধ্যাপক বলেন, গবেষণাটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পরীক্ষামূলক ফলাফল বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রযুক্তির কার্যকারিতা আরও উন্নত করার কাজ চলছে। পরবর্তী ধাপে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তব সংরক্ষণ পরিবেশে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে কৃষক ও বাণিজ্যিক সংরক্ষণকেন্দ্রে পাইলট পর্যায়ে প্রযুক্তিটির প্রয়োগ শুরু করা হবে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, আধুনিক সেন্সর, ডেটা মনিটরিং ব্যবস্থা ও কারিগরি সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের উপযোগী একটি পাইলট মডেল তৈরি করা সম্ভব হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা মিললে পরবর্তী সময়ে সফল মডেলটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
বৃহত্তর পরিসরের পরীক্ষায় প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা নিশ্চিত হলে কম খরচে কার্যকর পেঁয়াজ সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এতে সংরক্ষণকালীন ক্ষতি কমার পাশাপাশি কৃষক উপযুক্ত সময়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন। দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান গবেষকরা।