মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
১৬ চৈত্র ১৪৩২

ধরে নিয়ে যাওয়া ২০ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত আনল বিজিবি

বাংলাদেশি ২০ জেলে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠি আরাকান আর্মি। ছবি: দৈনিক বাংলা
কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি 
প্রকাশিত
কক্সবাজার ও টেকনাফ প্রতিনিধি 
প্রকাশিত : ৭ নভেম্বর, ২০২৪ ১৮:০১

কক্সবাজারের টেকনাফের নাফ নদীতে মাছ ধরার সময় নৌকাসহ ধরে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশি ২০ জেলে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠি আরাকান আর্মি।

আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে এসব জেলেদের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ জেটি ঘাটে নিয়ে আসা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ।

এর আগে মঙ্গলবার বিকালে টেকনাফে নাফ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনা সংলগ্ন নাইক্ষ্যংদিয়ার কাছাকাছি এলাকা থেকে এসব জেলেকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

ধরে নিয়ে যাওয়া জেলেরা হলেন, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের আলী আহমদের ছেলে শাহ আলম (২৮), শফি উল্লাহর ছেলে আসমত উল্লাহ (১৮), নুরুল আলমের ছেলে আবদুস শুক্কুর (৩২), মৃত নজু মিয়ার ছেলে আবুল হোছন (৪৫), মৃত নাজির হোছনের ছেলে আয়ুব খান (৪৮), মৃত মোঃ ইউসুফের ছেলে নুর হোছন (৪৫), মৃত বশির আহমদের ছেলে মোঃ বেলাল (২৯), মৃত নুর আমিনের ছেলে সলিম (৩৫), মৃত জাকারিয়ার ছেলে আবদুল কাদের (২৫), মৃত সোলতান আহমদের ছেলে মোঃ হাশিম (৩৫), মোঃ আলমের ছেলে মোঃ হোছেন (২৮), ইলিয়াছের ছেলে মহি উদ্দিন (২৬), মোঃ ইউনুছের ছেলে এনায়েত উল্লাহ (৩০), মৃত মোঃ ইউনুছের ছেলে নুর হাফেজ (৪০), মৃত মছন আলীর ছেলে মোঃ ইয়াছিন (৩৫), আমির সাদুর ছেলে আবদু রহিম (৪৪), মৃত বাচা মিয়ার ছেলে হাছান আলী (৫৩), আবদু শুক্কুরের ছেলে ওসমান গণি (৩০), মহেষখালী উপজেলার নাছির উদ্দিনের ছেলে ইন্নামিন (২৭) এবং উখিয়া উপজেলার হাছন শরীফের ছেলে আবদু শুক্কুর (৪৬)।

বিজিবি টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ ট্রলারঘাট এলাকা থেকে ২০ জন বাংলাদেশি জেলে ১৫টি হস্তচালিত এবং ২টি ইঞ্জিন চালিত নৌকাযোগে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে গমন করে। জেলেরা মাছ ধরতে ধরতে একসময় ভূলবশতঃ বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের শুন্য লাইন অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমার নাইক্ষ্যংদিয়া নামক স্থানে ঢুকে পড়ে। এসময় মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি অবৈধ অনুপ্রবেশের দায়ে নৌকাসহ ২০ বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে বিজিবি’র ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও আরাকান আর্মির সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের মাধ্যমে ২০ বাংলাদেশি জেলেকে ফেরত আনা হলো।

তিনি জানান, ২০ বাংলাদেশি নাগরিককে নিকটতম আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ সাপেক্ষে তাদের পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।


যত তাড়াতাড়ি সম্ভব টিকা আনব: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

টিকার ঘাটতি দূর করতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকা আনা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। কত দিনের মধ্যে টিকা আনা হবে, এমন প্রশ্নে সুনির্দিষ্ট কোনো তারিখ বলতে না পারলেও স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমরা আনব। হাম হচ্ছে, আমরা মোকাবিলা করছি। সে জন্য আরও ২০টি ভেন্টিলেটর দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আরও বেশি চিকিৎসক ও নার্সকে চিকিৎসায় যুক্ত করার কথাও বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

গতকাল সোমবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

সরকার সফলভাবে হাম মোকাবিলা করে যাচ্ছে দাবি করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী দেশের মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। দ্রুততম সময়ের মধ্যে টিকাদান বাড়ানো সরকারের লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

টিকা কেনার ক্ষেত্রে জটিলতার কারণে দেশে টিকার সংকট চলছে। কেন্দ্রীয় গুদামে ১০টি রোগের টিকার মজুত শূন্যে নেমেছে। এদিকে চলতি মাসে হামে দেশে ৪১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

শিশুদের টিকা প্রদান নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘২০১৮ সালে একটা ক্যাম্পেইন হয়েছে, এরপরে কোনো ক্যাম্পেইন হয়নি। এখন যে মিজেলসগুলো (হাম) হচ্ছে, ওদের মধ্যে যে আউটব্রেক (প্রাদুর্ভাব) হয়েছে, যারা ভ্যাকসিনেটেড না তাদের মধ্যে বেশি করে, মারাত্মকভাবে মিজেলসটা দেখা দিয়েছে।’

এর আগে গত রোববার দেশে বিদ্যমান টিকার ঘাটতি মোকাবিলায় বিভিন্ন টিকা কিনতে সরকার ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।


সারাদেশে অভিযানে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার তেল উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি মজুতদারি ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে সরকার। মোবাইল কোর্ট পরিচালনাসহ নানামুখী পদক্ষেপে বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে মজুত করা জ্বালানি তেল উদ্ধার করেছে। সারাদেশে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা ২ লাখ ৮ হাজার ৬৫০ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে। রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। অন্যদিকে, অবৈধভাবে তেল মজুতকারীদের ধরতে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় পাঠানো বিবৃতিতে এ তথ্য জানা গেছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেছ সামগ্রিক জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়েও কথা জ্বালানি বিভাগের যুগ্মসচিব মনির হোসেন চৌধুরী, সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল কেনার প্রবণতা রয়েছে। অনেকেই বাড়তি তেল কিনে বাসাবাড়িতে মজুত করছেন, যার ফলে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, চাহিদার তুলনায় দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, দেশে বড় আকারে জ্বালানি তেলের মজুতদারি হচ্ছে, যা পরিস্থিতিকে অযথা জটিল করে তুলছে।

সরকারের আমদানির পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও দুই কার্গো জ্বালানি তেল আসছে। পাশাপাশি রাশিয়া থেকে ৬ লাখ টন পরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিষেধাজ্ঞা শিথিল (সাংশন ওয়েভার) চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ঈদের পরদিন ওয়াশিংটনে এ চিঠি পাঠানো হয়েছে এবং এখন এর জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে সরকার।

তিনি বলেন, রাশিয়া থেকে ছয় লাখ টন ডিজেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। ভারতকে জ্বালানি তেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্র একটা স্যাংশন ওয়েভার দিয়েছে। ঈদের আগের দিন রাতে আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে এক বৈঠক করেছি। ওই বৈঠকে ভারতের মতো বাংলাদেশ যাতে স্যাংশন ওয়েভার পায়, সেই বিষয় তুলে ধরা হয়।

তিনি আরো জানান, ওই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, রাশিয়া থেকে দুই মাসের অথবা অন্তত ৬ লাখ টনের ডিজেল আমদানির অনুমতি (স্যাংশন ওয়েভার) দেয়া হয়। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) আমাদেরকে একটা চিঠি দিতে বলেছিল, আমরা চিঠি দিয়েছি। এখন অনুমতির অপেক্ষায় রয়েছি।

পাচার ও অবৈধ মজুতকারীদের তথ্য দিলে লাখ টাকা পুরস্কার :

অবৈধভাবে তেল মজুতকারীদের ধরতে লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যারা তেল অবৈধভাবে মজুতকারীদের বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে সঠিক ও নির্ভরযোগ্য তথ্য দেবেন, তাদের এই পুরস্কার দেওয়া হবে। গতকাল সোমবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী ও চক্র অবৈধভাবে তেল মজুত ও পাচারের মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট তৈরি করার চেষ্টা করছে। এর ফলে সাধারণ জনগণকে ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে এবং বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দিচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে সরকার সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধ করতে চায়। নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারবে এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পুরস্কারের অর্থ প্রদান প্রক্রিয়াসংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। ফলে তথ্য যাচাই ও প্রশাসনিক অনুমোদনের পর দ্রুত অর্থপ্রাপ্তির সুযোগ থাকবে।

পুরস্কারের বিষয়ে মূল বিষয়গুলো হলো: তথ্য দাতা সহায়তাকারীকে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সম্মানী দেওয়া হবে; তথ্য প্রদানকারী ব্যক্তির যাবতীয় পরিচয় সম্পূর্ণ গোপন রাখা হবে যাতে তাদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়; সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক (ডিসি) তথ্য প্রদানকারীর পুরস্কারের অর্থ প্রাপ্তি নিশ্চিত করবেন; এই আর্থিক সম্মানী দেশের সকল ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।


আগামী সপ্তাহে দিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আগামী ৭ এপ্রিল দুই দিনের সফরে দি‌ল্লি যাচ্ছেন। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার গঠনের পর প্রথম বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রী দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। সোমবার (৩০ মার্চ) গণমাধ্যমকে ঢাকার এক‌টি কূট‌নৈ‌তিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, মরিশাসের রাজধানী পোর্ট লুইসে অনুষ্ঠেয় ইন্ডিয়ান ওশান কনফারেন্সে (ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন) যোগ দে‌বেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

তি‌নি দি‌ল্লি হ‌য়ে মরিশাসে যাবেন। প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হওয়ার কথা র‌য়ে‌ছে।

কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, দিল্লি সফরের প্রথম দিনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের আলোচনা হতে পারে। এর পাশাপাশি ভারত সরকারের আরো কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধির সঙ্গে খলিলুর রহমানের সাক্ষাতের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে যোগাযোগ চলছে।


পাবনায় হামের ভয়াবহ প্রকোপ: হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই, মেঝেতে চলছে চিকিৎসা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনায় সংক্রামক ব্যাধি ‘হামের’ প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে শুরু করেছে। গত তিন মাসে জেলায় এই রোগে আক্রান্ত হয়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বর্তমানে ২৫০ শয্যার পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ২৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন থাকলেও প্রতিদিন বাড়ছে নতুন আক্রান্তের সংখ্যা। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই ভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় অভিভাবক মহলে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় ভয়াবহ চিত্র। ৩৮ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ২০০-এর বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। ওয়ার্ডের ভেতরে তিল ধারণের জায়গা নেই; শয্যা না পেয়ে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বারান্দার একটি কাঁচঘেরা ছোট কক্ষে হাম আক্রান্তদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। সেখানেও একটি বিছানায় দুই-তিনজন করে শিশুকে গাদাগাদি করে থাকতে দেখা যায়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮ জন হাম আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ২৫ জনের মধ্যে বেশিরভাগই শিশু হলেও ২২ ও ৩৬ বছর বয়সী দুজন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও রয়েছেন। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, এ বছর এখন পর্যন্ত ১০৪টি সন্দেহভাজন নমুনার মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় ৩৩ জনের শরীরে হাম পজিটিভ পাওয়া গেছে।

সদর উপজেলার আশুতোষপুর গ্রাম থেকে আসা স্মৃতি খাতুন জানান, তার চার মাস বয়সী মেয়ে চারদিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। প্রথমে জ্বর ও ঠাণ্ডা থাকলেও পরে শরীরে লাল গুটি দেখা দেয়। তিনি বলেন, ‘অসহ্য যন্ত্রণায় শিশুটি ছটফট করছে, ঠিকমতো ঘুমাতেও পারছে না।’ তবে হাসপাতালের চিকিৎসা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক স্বজন। হারিয়াবাড়িয়া গ্রাম থেকে আসা সুফিয়া বেগম অভিযোগ করেন, সংকটময় মুহূর্তেও নার্সদের ডাকলে পাওয়া যাচ্ছে না এবং ঘরগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে না।

এ বিষয়ে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বলেন, ‘হাম একটি ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ। আমাদের ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি রোগী সামলাতে হচ্ছে। ৩৮ শয্যার ওষুধ দিয়ে ২০০ রোগীর সেবা দিতে গিয়ে কিছু সংকট তৈরি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি সামাল দিতে হামের জন্য আলাদা ওয়ার্ড চালুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

এদিকে জেলায় হাম পরীক্ষার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। সংগৃহীত নমুনা ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত ল্যাবে পাঠাতে হয়, যার ফলাফল আসতে অন্তত সাত দিন সময় লাগে। এই দীর্ঘ সময়ে সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. আবুল কালাম আজাদ বলেন, এ বছর সংক্রমণের হার গত বছরের তুলনায় বেশি। জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ইতোমধ্যে আইসোলেশন সেন্টার খোলা হয়েছে। তবে ৯ মাস বা তার কম বয়সী শিশুদের মধ্যে বেশি সংক্রমণ দেখা দিচ্ছে, যারা সাধারণত টিকার আওতাভুক্ত। কেন টিকা দেওয়ার পরও আক্রান্ত হচ্ছে, তা নিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগের তদন্ত করা প্রয়োজন।


‘মানুষখেকো ফাঁদে’ ৫ বছরে প্রাণ গেছে ৪ শতাধিক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা জেলায় রেলপথজুড়ে দেড় শতাধিক লেভেল ক্রসিং যেন এখন ‘মানুষখেকো ফাঁদে’ পরিণত হয়েছে। প্রতিনিয়ত এসব ক্রসিংয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ। গত পাঁচ বছরে রেল দুর্ঘটনা ও ট্রেনে কাটা পড়ে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন হাজারেরও বেশি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার প্রায় ১০২ কিলোমিটার রেলপথে বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে দেড় শতাধিক লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এর মধ্যে অনেকগুলোতেই নেই গেটম্যান, নেই নিরাপত্তাব্যবস্থা। ফলে প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

দুর্ঘটনার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে—রেললাইনের পাশেই বাজার ও ঘনবসতি, মানুষের অসতর্ক চলাচল, যানবাহন চালকদের বেপরোয়া গতি এবং গেটম্যানদের দায়িত্বে অবহেলা।

সর্বশেষ গত ২১ মার্চ রাতে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় একটি বৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নারী ও শিশুসহ ১২ জন নিহত হন। আহত হন অন্তত ১৫ জন। এটি কুমিল্লা অঞ্চলের সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এ ছাড়া পূর্ববর্তী বছরগুলোতে একাধিক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটেছ।

২০১১ সালে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল রেলস্টেশন-সংলগ্ন অবৈধ লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেন-বাস সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হন।

২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর বুড়িচং উপজেলার কালিকাপুর এলাকায় ট্রেনের ধাক্কায় অটোরিকশার ৭ যাত্রী নিহত হন।

২০২৩ সালে মনোহরগঞ্জ উপজেলার তুগুরিয়া এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ট্রেনের ধাক্কায় ৫ জন মারা যান।

২০২২ সালের ৯ মার্চ সদর দক্ষিণ উপজেলার বিজয়পুরে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩ স্কুলছাত্রী নিহত হয়।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, কুমিল্লার লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের ২২ কিলোমিটারে ১৪টি বৈধ ও ১৭টি অবৈধ, লাকসাম-চাঁদপুর রেলপথের ১৪ কিলোমিটারে ৪টি বৈধ ও ১৩টি অবৈধ এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের কুমিল্লা অংশে ৬৬টি বৈধ ও ৭৪টি অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে।

গত পাঁচ বছরে কুমিল্লা অঞ্চলে ট্রেনে কাটা পড়া, ট্রেনের ধাক্কা এবং অসতর্ক পারাপারের সময় সংঘর্ষে অন্তত ৩৪৭ জন নিহত হয়েছেন। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে, কারণ অনেক ঘটনা থানায় লিপিবদ্ধ হয় না।

কুমিল্লা বাঁচাও মঞ্চ, দক্ষিণ জেলার সাধারণ সম্পাদক আবদুল হালিম মজুমদার বলেন, ‘জনসচেতনতা বাড়ানো ছাড়া রেল দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। অবৈধ লেভেল ক্রসিং বন্ধ করতে হবে এবং যেখানে সম্ভব গেট স্থাপন করতে হবে।’ তিনি পদুয়ার বাজার এলাকায় রেলওভারপাস সম্প্রসারণ এবং লাকসাম-নোয়াখালী আঞ্চলিক সড়কে নতুন ওভারপাস নির্মাণের দাবি জানান।

লাকসাম রেলওয়ে থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, ‘ঢাকা-চট্টগ্রাম, লাকসাম-নোয়াখালী ও লাকসাম-চাঁদপুর রুটে বেশ কিছু অবৈধ লেভেল ক্রসিং রয়েছে। এসব স্থানে দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে। জনসচেতনতা বাড়ানোই এখন সবচেয়ে জরুরি।

এদিকে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন উপসহকারী প্রকৌশলী (পথ) মো. আনিসুজ্জামান ও গোলাম সারোয়ার জানান, অবৈধ লেভেল ক্রসিং কমাতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি গেটম্যানদের দায়িত্বশীলতা নিশ্চিত করতেও তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


মাদক ও কিশোর গ্যাংমুক্ত আত্মনির্ভরশীল সমাজ গড়ার আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরে শিশু-কিশোরদের নিয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এক আলোচনা সভায় নতুন প্রজন্মকে আত্মনির্ভরশীল হয়ে গড়ে ওঠার পাশাপাশি মাদক ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
সোমবার (৩০ মার্চ) পিরোজপুরে '২৫শে মার্চ গণহত্যা ও ঐতিহাসিক মহান মুক্তিযুদ্ধ' শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সদর উপজেলার কদমতলা জর্জ হাই স্কুলে জেলা তথ্য অফিসের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মামুনুর রশিদ বলেন, “দেশভাগের পর থেকে পশ্চিম পাকিস্তান আমাদের ওপর চরম বৈষম্য চাপিয়ে দিয়েছিল। আজকের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অবকাঠামো এবং সরকারি দপ্তরে বাঙালিদের যে পদায়ন আমরা দেখছি, তা স্বাধীন দেশ না হলে কল্পনা করা যেত না।তাই আজকের শিশু কিশোর ও তরুণ সমাজকে দেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে পর্যাপ্ত পড়াশোনা করে আত্মশক্তিতে বলীয়ান হতে হবে।” তিনি আরও বলেন, আজকের এই উন্নয়ন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মহান আত্মত্যাগের ফসল।

মূল আলোচক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন মুক্তিযুদ্ধের সময়কার ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মে মাসের শুরুতে পাক বাহিনী জাহাজযোগে পিরোজপুরের হুলারহাটে এসে পৌঁছায়। বীরাঙ্গনা ভাগীরথীকে মোটরসাইকেলের পেছনে বেঁধে শহরজুড়ে টেনে নিয়ে হত্যার নির্মম ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সময়ের কিশোর গ্যাং ও মাদকের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “কিশোর গ্যাং মানেই ধ্বংস। এটি পরিবার, শিক্ষা, সম্পদ ও দেশ সবকিছু ধ্বংস করে দেয়।”

সভাপতির বক্তব্যে জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিত চৌধুরী বলেন, “ইতিহাস নিজে থেকে বানানো যায় না, এটি ধারণ করতে হয়। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেননি, তাদেরকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকেই সঠিক ইতিহাস জেনে নিতে হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, সঠিক জ্ঞান থাকলে কোনো অপশক্তির কাছে মাথা নত করতে হয় না।

এর আগে জেলা তথ্য অফিসার সাইফুদ্দিন আল মাদানী স্বাগত বক্তব্য দেন। সহকারী তথ্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল মাসুদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. রেজাউল করিম খান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। শেষে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।


৪ প্রতিবন্ধী মেয়ে নিয়ে বৃদ্ধের কষ্টের জীবন, চাইলেন সরকারের সহায়তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা রেলওয়ে স্টেশন-সংলগ্ন রেলের সরকারি জায়গায় একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছেন মোহাম্মদ গোলাপ মিয়া ও ফিরোজা বেগম দম্পতি। চার প্রতিবন্ধী মেয়েকে নিয়ে তাদের দিন কাটছে চরম কষ্ট ও অনিশ্চয়তার মধ্যে।

ঘরের ভেতরে ঢুকলেই চোখে পড়ে হৃদয়বিদারক এক দৃশ্য। টলমলিয়ে তাকিয়ে থাকে বাবার চার রাজকন্যা। একজন অকারণে হাসে, আরেকজনের হাত-পা সিকলে বাঁধা। কেউই স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারে না। অন্যসব শিশুর মতো তাদের বেড়ে ওঠা হয়নি জন্ম থেকেই তারা প্রতিবন্ধী।

প্রায় ৪৫ বছর আগে শুরু হওয়া এই দাম্পত্য জীবনে জন্ম নেয় চার কন্যা ফেরদৌসি, সুমি, পেয়ারা ও ছামিদা। কিন্তু সুখের সেই সংসার আজ দুঃখের ভারে ন্যুব্জ। মাথার ওপর থাকা টিনের ছাউনিও এখন আর নিরাপদ নয়। বৃষ্টি নামলেই চুপচুপ করে পানি পড়ে ঘরের ভেতরে, ভিজে যায় বিছানা, কাপড় আর সেই সঙ্গে ভিজে যায় তাদের স্বপ্ন।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি গোলাপ মিয়া এখন শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগে আক্রান্ত। কাজ করার মতো শক্তি নেই তার। একসময় রিকশা চালানো, মাটির কাজ করা কিংবা মৌসুমি ফল বিক্রি করে সংসার চালালেও এখন তিনি প্রায় কর্মক্ষমতাহীন।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে গোলাপ মিয়া বলেন, ‘আমি রেলের জায়গায় থাকি, আমার শ্বাসকষ্ট, হার্টের সমস্যা। কোনো কাজ করতে পারি না, ৫ কেজি মাল নিয়ে হাটতে পারি না। দম বন্ধ হয়ে যায়। আমার ৪টা প্রতিবন্ধী মেয়ে, ওদের নিয়ে যে কী করি। মানুষের হায়াত মওতের কথা বলা যায় না আমার কিছু হলে ওদের কী হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানুষকে সাহায্য করতেছে আমার পরিবারকেও যদি সাহায্য করে তাহলে আমি একটু চলতে পারমু।’

মা ফিরোজা বেগম বলেন, ‘তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমার একটা আবেদন—আমি ৪টা মেয়ে লইয়া চলতে পারি না। আমারে যদি সাহায্য করে তাহলে আমি ওদের নিয়ে চলতে পারমু।’

স্থানীয় বাসিন্দা খোদেজা খাতুন বলেন, ‘গোলাপ ভাই আগে সব কাজ করতে পারত আখ বেচত, পেয়ারা বেচত, বরই বেচত। এখন শ্বাসকষ্টের কারণে কিছুই করতে পারে না। তার ৪টা মেয়ে প্রতিবন্ধী একবার ভাবেন, তারা দুজন মারা গেলে মেয়েগুলোর কী হবে?’

এ বিষয়ে রায়পুরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘তাদের বিষয়ে আমরা অবগত রয়েছি। সরকারিভাবে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম রয়েছে। ভিক্ষুক পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় দোকানপাট করে দেওয়া হচ্ছে, ৫০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’

এ ছাড়া জটিল রোগে আক্রান্তদেরও ৫০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়। গোলাপ মিয়ার পরিবার আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

চার প্রতিবন্ধী কন্যাকে নিয়ে এই অসহায় দম্পতির জীবন এখন অনিশ্চয়তার দোলাচলে। সমাজ ও রাষ্ট্রের সামান্য সহানুভূতি ও সহায়তাই পারে তাদের জীবনে স্বস্তির পরশ বয়ে আনতে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।


গাজীপুরে রেলক্রসিং দখলমুক্ত, জনমনে স্বস্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধ 

গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলক্রসিং এলাকায় আবারও উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে দখলমুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (৩০ মার্চ) সকালে গাজীপুর সিটি করপোরেশন প্রশাসন ও রেলওয়ের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এ অভিযানে রেলক্রসিং ঘিরে গড়ে ওঠা অবৈধ দোকানপাট, অস্থায়ী স্থাপনা ও হকারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখল, হকার ও অটোরিকশার বিশৃঙ্খলায় এ এলাকা নগরবাসীর জন্য এক বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিষয়টি গুরুত্বসহকারে প্রকাশিত হওয়ার পর সিটি প্রশাসন ধারাবাহিকভাবে এ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করছে।

উচ্ছেদ অভিযানে নেতৃত্ব দেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট জেসমিন আক্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

অভিযান চলাকালে প্রশাসক শওকত হোসেন সরকার বলেন, ‘গাজীপুরকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ‘গ্রীন সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে নগরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হচ্ছে। এই উচ্ছেদ অভিযান একদিনের নয়-এটি চলমান প্রক্রিয়া।

তিনি আরও বলেন, ‘উচ্ছেদের পর যেন পুনরায় দখল না হয়, সে জন্য নিয়মিত তদারকি করা হবে। প্রতিদিন মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পাশাপাশি দখল প্রতিরোধে আরও কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে, যাতে কোনোভাবেই অবৈধ দখল পুনরায় মাথাচাড়া দিতে না পারে এবং কোনো চাঁদাবাজির ঘটনা আমরা কঠোর হস্তে দমন দমন করব।’

একই সঙ্গে তিনি ব্যবসায়ীদের দিকটিও বিবেচনায় নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘আমরা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি দেখছি। আলোচনা ও পরামর্শের ভিত্তিতে ব্যবসায়ীদের জন্য স্থায়ী পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে, যাতে তারা সুশৃঙ্খল পরিবেশে জীবিকা নির্বাহ করতে পারেন।’

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসান বলেন, ‘জয়দেবপুর রেলক্রসিং গাজীপুরের প্রাণকেন্দ্র-এখানে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ চলাচল করে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে আমরা সমন্বিতভাবে কাজ করছি। এই উচ্ছেদ অভিযান নগর ব্যবস্থাপনায় একটি নতুন শৃঙ্খলার সূচনা।’

তিনি আরও জানান, রেলক্রসিং এলাকা ও আশপাশকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার আওতায় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন, ফুটপাত সংস্কার এবং নাগরিক চলাচল সহজীকরণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে।

অভিযানের পর স্থানীয় বাসিন্দারা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর রেলক্রসিং এলাকা কিছুটা স্বাভাবিক রূপ ফিরে পাচ্ছে। তবে তারা এ ধরনের অভিযান নিয়মিত চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান, যাতে পুনরায় দখলদাররা জায়গা দখল করতে না পারে।

অন্যদিকে উচ্ছেদ হওয়া ভাসমান ব্যবসায়ীরা জীবিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়া হঠাৎ উচ্ছেদে তারা আর্থিক সংকটে পড়বেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নগরকে দখলমুক্ত ও চলাচলযোগ্য রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আইনানুগ উপায়ে পুনর্বাসনের মাধ্যমে একটি সুশৃঙ্খল নগর ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

জয়দেবপুর রেলক্রসিং, যা একসময় গাজীপুরবাসীর ‘গলার কাঁটা’ হিসেবে পরিচিত ছিল, সেই এলাকাকে পুনরুদ্ধারে প্রশাসনের এ ধারাবাহিক উদ্যোগ কতটা স্থায়ী সমাধান দিতে পারে-সেটিই এখন দেখার বিষয়।


১২ বছর ভাঙা সেতু, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ৪০ হাজার মানুষের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী বাজার-সংলগ্ন সোনাখালী খালের ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ লোহার সেতু দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝখানের অংশ ধসে যাওয়ায় স্থানীয়দের বসানো নড়বড়ে কাঠের পাটাতনের ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ছয়টি গ্রামের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ।

সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মাঝ বরাবর বড় একটি অংশ ভেঙে খালে পড়ে আছে। সেখানে অস্থায়ীভাবে কাঠের পাটাতন বসানো হলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর উত্তর পাশও আংশিক ডেবে গেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ, শিক্ষার্থী ও হালকা যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লোহার কাঠামোর ওপর ঢালাই দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। তবে ২০১৪ সালে সেতুর মাঝখান ভেঙে পড়ে একটি পণ্যবাহী ট্রলি খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সেতুটি সংস্কারে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গেরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পূর্ব সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাহবুব আলম মোল্লা মাদ্রাসার শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন ভয়ে ভয়ে সেতু পার হই। কখন যে ভেঙে পড়ে, সেই আশঙ্কা সবসময় থাকে। একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র রাকিব জানায়, বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতে হচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. কবির খান বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে আছে। দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।’

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পরপরই উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজেরাই কাঠের পাটাতন বসিয়েছে।’

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস বলেন, ‘সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার সম্ভব হয়নি। সেখানে একটি নতুন গার্ডার সেতু নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’


কেশবপুরে বিনামূল্যে বীজ-সার পেয়ে স্বস্তিতে কৃষকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন ও প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় খরিপ মৌসুমে গ্রীষ্মকালীন মুগ, তিল, পাট ও উফশী আউশ ধানের আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে কেশবপুরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কেশবপুর, যশোর। কর্মসূচির আওতায় মোট ১,৩৯০ জন কৃষকের মাঝে বিভিন্ন ফসলের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। এর মধ্যে পাট বীজ পেয়েছেন ৬০০ জন, মুগ বীজ ৩০ জন, তিল বীজ ৬০ জন এবং উফশী আউশ ধানের বীজ পেয়েছেন ৭০০ জন কৃষক। এই কর্মসূচি কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন। বিনামূল্যে উন্নত মানের বীজ ও সার সরবরাহের ফলে কৃষকরা সহজেই খরিপ মৌসুমে আবাদ সম্প্রসারণে উৎসাহিত হবেন এবং ফসলের উৎপাদনও বাড়বে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের সরকারি প্রণোদনা কর্মসূচি গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করার পাশাপাশি কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারে আগ্রহী করে তোলে, যা দেশের সামগ্রিক কৃষি উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অলোকেশ কুমার সরকার, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. আব্দুর রাজ্জাক, কেশবপুর নিউজ ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আলমগীর হোসেন বিশ্বাস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পৌর শাখার আমীর প্রভাষক মো. জাকির হোসেন এবং এনসিপির সমন্বয়ক সম্রাট হোসেন প্রমুখ।


সংবাদপত্রের ফেরিওয়ালা, কোনো ঋতুতেই দমে না যাওয়া এক সংগ্রামী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ভোরবেলা যখন চারপাশ নিস্তব্ধ থাকে, তখন থেকেই শুরু হয় তার কর্মযজ্ঞ। রোদ কিংবা হাড়কাঁপানো শীত কোনো কিছুই তাকে দমাতে পারে না। তিনি ফরহাদ হোসেন, ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার এক সংবাদপত্র বিক্রেতা। দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে এভাবেই মানুষের দোরগোড়ায় খবর পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

ফরহাদ হোসেনের বাড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দূরে রামপুর ইউনিয়নের শেখ বাজার এলাকায়। প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষ করেই তিনি ছুটে চলেন দরিরামপুর বাসস্ট্যান্ডের দিকে। ঢাকা থেকে আসা বাসের জন্য চলে দীর্ঘ অপেক্ষা। বাস এলে পত্রিকা নামিয়ে একে একে প্যাকেট খুলে তা সাজিয়ে নেন। এরপর শুরু হয় তাঁর মূল কর্মব্যস্ততা। সকাল সাতটা বাজতে না বাজতেই গ্রাহকদের ফোনের ভিড় জমে। "পত্রিকা কখন আসবে?" এমন সব প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতেই তিনি পায়ে হেঁটে ছুটে চলেন পৌর শহরের বিভিন্ন অফিস ও বাসা বাড়িতে। যান্ত্রিক যানবাহনের যুগেও মূলত পায়ে হেঁটেই তিনি পত্রিকা বিলি করেন।

পত্রিকা শিল্পের বর্তমান নাজুক অবস্থার কথা তুলে ধরে স্থানীয় পত্রিকা এজেন্ট বাদশা মিয়া জানান, "এক সময় পত্রিকা বিক্রি হতো প্রচুর। কিন্তু এখন অনলাইনের প্রভাবে মানুষ মুঠোফোনেই খবর পড়ে নেয়। ফলে আগের তুলনায় গ্রাহক অনেক কমে গেছে। একদিকে বিক্রি কম, অন্যদিকে আমাদের কমিশনও এখন অনেক নগণ্য। ফলে এই পেশার সাথে জড়িতদের টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।" ত্রিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুররহমান নোমান বলেন,"ফরহাদ হোসেনের মতো সংবাদপত্রের হকাররা মূলত আমাদের সংবাদ শিল্পের প্রাণভোমরা। রোদ-বৃষ্টি বা কনকনে শীত উপেক্ষা করে প্রতিদিন মানুষের দুয়ারে খবর পৌঁছে দেওয়া এক অন্যরকম লড়াই। আধুনিক প্রযুক্তির দাপটে পত্রিকা পড়ার অভ্যাস কমলেও ফরহাদদের গুরুত্ব কমেনি। ত্রিশালের সিনিয়র সাংবাদিক মোখলেছুর রহমান সবুজ বলেন, দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে তার সামান্য লাভে জীবন চালানো সত্যিই কষ্টসাধ্য। এই পেশার মানুষদের প্রতি সমাজের বিত্তবান ও প্রশাসনের সুদৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন যাতে তাদের এই নিরলস সেবা অব্যাহত থাকে। এই পেশায় টিকে থাকাটা এখন ফরহাদ হোসেনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। পাঁচ সদস্যের সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। মাস শেষে যে সামান্য টাকা আসে, তাতেই কোনোমতে দিন পার করেন তিনি। তবুও সংবাদপত্রের প্রতি এক গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এই কাজ আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। অন্যান্য পেশার মানুষেরা ঈদে বোনাস বা বাড়তি আয়ের সুযোগ পেলেও ফরহাদের কপালে তা জোটে না। পত্রিকা বিলি করে যাদের জ্ঞানপিপাসা মেটান, তাদের কাছ থেকে ঈদ সালামি বা বিশেষ কোনো সহযোগিতাও তেমন একটা মেলে না তাঁর। তবুও তার কোনো অভিযোগ নেই, হাসিমুখেই বিলিয়ে যান প্রতিদিনের টাটকা খবর।


তেল সংকট: নওগাঁয় কমেছে মোটরসাইকেল বিক্রি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ইরান-ইসরাইল সংঘাত দেশের অর্থনীতি ও জ্বালানি বাজারে প্রভাব ফেলেছে। দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে নওগাঁর মোটরসাইকেল বিক্রিতেও। আগের মতো নেই কোন বেচাকেনা। চলমান যুদ্ধের ফলে জেলায় মোটরসাইকেল বিক্রি কমে এসেছে প্রায় কয়েকগুন। এছাড়া তেল সংকটের কারণে অনেকেই কিনছেন না এই মূহুর্তে মোটরসাইকেল।

মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের দাবি, যুদ্ধ পরিস্থিতির আগে দিনে ৭-৮টি মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন তা নেমে এসেছে শূন্যে। সারাদেশে তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় সেভাবে বিক্রি হচ্ছে না কোন মোটরসাইকেল। আবার কিছু পাম্পে মোটরসাইকেলের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া তেল দিচ্ছে না। যার কারণে অনেকেই সার্ভিসিংয়ের জন্য গাড়ি বের করছেন না। চলমান এই পরিস্থিতিতে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) নওগাঁ শহরের বিভিন্ন মোটরসাইকেল শোরুম ঘুরে দেখা যায়, শোরুমগুলোতে নেই কোন ক্রেতা। আবার সার্ভিসিং সেন্টারগুলোতেও সেভাবে আসছে না কোন মোটরসাইকেল। ফলে অবসর সময় পার করছেন এখানে কর্মরতরা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিএ) নওগাঁ কার্যালয়ের তথ্য মতে, জেলায় মোট নিবন্ধনকৃত মোটরসাইকেল রয়েছে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার। এছাড়া আরও প্রায় ১ লাখ মোটরসাইকেল অনিবন্ধিত রয়েছে। জেলার ১১ টি উপজেলায় প্রায় শতাধিক মোটরসাইকেল বিক্রয়ের দোকান রয়েছে।

নওগাঁর তালতলী এলাকার স্কুল শিক্ষক নাসির হায়দার বলেন, দীর্ঘদিন টাকা জমিয়ে রেখে ঈদের আগে একটি মোটরসাইকেল কিনতে চেয়েছিলাম। কিন্তু এখন যে পরিস্থিতি তাতে আর মোটরসাইকেল কেনার সাহস পাচ্ছি না। তেলের পাম্প গুলোতে দীর্ঘ লাইন দেখে মোটরসাইকেল কেনার চিন্তা আপাতত স্থগিত রেখেছি। জানিনা এ পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে।

হিরো মোটরসাইকেলের ডিলার ও নওগাঁ পল্লী এন্টার প্রাইজের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ঈদের তৃতীয় দিনের পর থেকে একজন কাস্টমার ও দোকানে আসেনি। চলমান পরিস্থিতির আগে দিনে ৫-৭টা মোটরসাইকেল বিক্রি হলেও এখন কোন মোটরসাইকেল বিক্রি নেই। অন্যান্য বছর ঈদে ৩০০-৪০০ পিস মোটরসাইকেল বিক্রি হয়। কিন্তু এ বছর তেলের সরবরাহ ঠিক না থাকায় মাত্র ১০০টি মোটরসাইকেল বিক্রি হয়েছে। আমার এখানে ২৮ জন লোক কর্মরত রয়েছে। শোরুম পরিচালনা থেকে তাদের বেতনসহ প্রতিদিন গড়ে ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়ে থাকে। এখন কোন মোটরসাইকেল বিক্রি নাই। খরচ উঠানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।

নওগাঁ আরিস মোটরস এর স্বত্বাধিকারী মোতাহার হোসেন বলেন, আমরা এসিআই ইয়ামাহা মোটরসাইকেল বিক্রি করি। ৯ বছরের ব্যবসায় জীবনে এ বছর সবচেয়ে খারাপ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি। এবার ঈদে টার্গেট ছিল ২৫০ টা মোটরসাইকেল বিক্রি হবে। কিন্তু চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে মাত্র ১১০ টা মোটরসাইকেল বিক্রি করতে পেরেছি। সার্ভিসিং এর জন্য কোন গাড়ি আসছে না। সার্ভিসিং এর জন্য কাউকে ফোন দেওয়া হলে বলে তেল কিনে দেন আমরা গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইনের কারণে অনেক মোটরসাইকেল চালক মোটরসাইকেল বাড়ি থেকে বের করছেন না। এমন অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের মোটরসাইকেল বিক্রেতাদের চরম লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে।

নওগাঁ টিভিএস বাইক ওয়ার্ল্ডের সেলস এক্সিকিউটিভ সাদনান আনসারী বলেন, চলমান এই পরিস্থিতির পর থেকে সার্ভিসিংয়ে কোন গাড়িই আসছে না। আগে দিনে ২৫-৩০ টা গাড়ি আসলেও এখন দিনে এক থেকে দুইটার বেশি আসেনা। মানুষ ঠিকমতো তেল পাচ্ছে না, গাড়ি নিয়ে কিভাবে আসবে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিএ) নওগাঁর মোটরযান পরিদর্শক মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন,আমরা সচরাচর তিন মাস পরপর ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য পরীক্ষা নিয়ে থাকি। আমরা একসাথে ২০০-৩০০ জনের ড্রাইভিংয়ের পরীক্ষা নেই। বিভিন্ন জেলাতে ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মোটরসাইকেল রেজিস্ট্রেশন ছাড়া তেল না দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ড্রাইভিং লাইসেন্সে এখনো সেভাবে কোন চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। তবে মাস খানেক গেলে সেটি হয়তো বুঝা যাবে।


আমির হামজার নামে শত কোটি টাকার মানহানি মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি

সিরাজগঞ্জে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী বলে মন্তব্য করার অভিযোগে কুষ্টিয়ার সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মুফতি আমির হামজার নামে শত কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. এস এম নাজমুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় শত কোটি টাকার মানহানির অভিযোগটি আদালতের বিচারক সুমন কুমার কর্মকার মামলাটি আমলে নিয়ে আদেশের অপেক্ষায় রেখেছেন।

মামলার বাদী অ্যাড. এস এম নাজমুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, মুফতি আমির হামজা বিদ্যুৎমন্ত্রীকে নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করে তার সম্মানহানি করেছেন। তাই আমি আদালতে মানহানির মামলা করেছি।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুম্মার নামাজের খুতবা-পূর্ব আলোচনায় কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ‘নাস্তিক ও ইসলাম বিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করেন।


banner close