বর্তমান ছাত্র সমাজের গণঅভূত্থানের বাংলাদেশে সকল বৈষম্য নিরসনমূলক দাবি সমুহের মধ্যে অন্যতম যৌক্তিক দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে- আউটসোর্সিং- এ কর্মরতদের জন্য প্রণিত আউটসোসিং আইন-২০১৮ বাতিল করে কর্মরত সকলকে বয়স শিথিল করে স্ব-স্ব পদে জাতীয়করণ করা। তাদের এই দাবি নিয়ে সংগঠিত বিভিন্ন মানববন্ধন, গোলটেবিল বৈঠক ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে দেশের অনেক সাংবাদিক, কলামিস্ট, বুদ্ধিজীবী ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি এই জাতীয় দাবির গভীরতা না বুঝে এই ন্যায্য দাবিকে ভুলুণ্ঠিত করতে চায়। এই দাবিকে জাতীয় দাবি বলার কারণ হলো- এখানে দেশের প্রত্যেক দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরে নিয়োজিতদের একটি বৃহৎ অংশ জড়িত। তাই এই জাতীয় সমস্যার নিরসন জাতীয়ভাবেই করতে হবে।
এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলায় এলজিইডিতে প্রকল্পে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, মানুষের ৫টি মৌলিক চাহিদা হলো- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। এই চাহিদা সমুহের উপর বিবেচনা করেই বাংলাদেশের সংবিধানে সাজানো হয়েছে সকল মন্ত্রনালয়ের দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরকে। আর এ সকল দপ্তরে আউটসোর্সিং- এর মাধ্যমে নিয়োজিত সকলে এদেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা সেবা নিশ্চিতকরণ ও বাস্তবায়নে নিরলসভাবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে তারা প্রত্যেকে স্ব-স্ব কাজে সুনিপুন কলা-কৌশল ও দক্ষতা অর্জন করেছে সেইসঙ্গে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বর্তমান সরকারী চাকুরীর প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৮ অনুযায়ী রয়েছে। এত দক্ষতার সঙ্গে দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা সেবা বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেও আউটসোর্সিং-এ কর্মরতরা পারছে না নিজেদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে। উল্লেখ করে বলতে গেলে বলা যায়- নেই তাদের নিয়মিত বেতন, নেই বোনাস, নেই শিক্ষা ভাতা, নেই ঝুঁকি ভাতা, নেই মাতৃত্বকালীন ছুটি, নেই নিদিষ্ট কর্ম ঘন্টা সহ নেই অন্যান্য সুবিধা। আছে শুধু চাকুরী হারানোর ভয় আর মানসিক হয়রানি। তবুও সব কিছু উপেক্ষা করে দেশের মানুষের জন্য নিজেদের বিলিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা কি তাদের দাবির সাথে একমত হয়ে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এতটুকু করতে পারি না?
এলজিইডি আউটসোর্সিং পরিবারের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুর রাকিব সনেট জানান, আউটসোর্সিং- এ কর্মরতদের নিয়োগ দেয়া হয় আউটসোর্সিং আইন-২০১৮ বিধিমালা অনুসরণ করে। যা স্বৈরাচার সরকার কর্তৃক প্রণিত একটি বর্বর অন্ধকার আইন। যেখানে ইংরেজদের রেখে যাওয়া কৃতদাস প্রথার প্রতিফলন ঘটেছে। এই কালো আইন স্বৈরশাসকের দোসরেরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রণয়ন করেছে। যার সুবিধা গণঅভূত্থানের পরেও যদি দোসররা ভোগ করতে পারে তাহলে সারাদেশ লজ্জিত হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সকল বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এই জাতীয় দাবি মেনে নিয়ে অনতিবিলম্বে আউটসোর্সিং আইন-২০১৮ বাতিল করে কর্মরতদের বয়স শিথিল করে স্ব-স্ব পদে জাতীয়করণ করতে হবে। তবেই জাতি এই বিশাল বৈষম্য থেকে মুক্তি পাবে।
আউটসোর্সিং আইন-২০১৮ বাতিল করে কর্মরতদের রাজস্ব করতে গেলে অনেক অর্থের প্রয়োজন ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়তো বিলম্ব হচ্ছে, কিন্তু একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে- বাংলাদেশের সকল দপ্তর, অধিপ্তর ও পরিদপ্তরে যত জনবল ঠিকাদার কর্তৃক টেন্ডারের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছে তাদের নিজ গ্রেডের বেতন ভাতার পরেও সরকার ঠিকাদারদের জনবল সরবরাহ কমিশন বাবদ প্রতিমাসে প্রায় ১০০ কোটি টাকা প্রদান করছে। যা সরকারী কোষাগার হতে অপচয় হচ্ছে তথা দেশের মানুষের অর্থ স্বৈরাচারের দোসররা কৌশলে আত্মসাৎ করছে। এই কালো আইন বাতিল হলে সরকারের কোষাগারে বিশাল অঙ্কের টাকা জমা থাকবে। সে টাকার মূলধন ও লভ্যাংশ মিলে প্রতি বছর সরকারী কোষাগারে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার অধিক জমা হবে। এই বিশাল অঙ্কের টাকাই অবহেলিত আউটসোর্সিং এ কর্মরতদের জাতীয়করণে অর্থনৈতিক ভূমিকা রাখবে। শুধু সৎ ইচ্ছা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা হলেই এই বৈষম্যের নিরসন সম্ভব।
পরিশেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সকল বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, স্বৈরশাসক প্রণিত ঘনকালো অন্ধকার ও ঘৃণিত আউটসোর্সিং আইন-২০১৮ বাতিল করে কর্মরত সকলকে জাতীয়করণ করা বর্তমান সময়ের অত্যন্ত যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হবে। আউটসোর্সিং- এ কর্মরতদের জাতীয় দাবি বাস্তবায়িত হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সকলের কাছে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর প্রধান প্রকৌশলী মো. আলি আখতার হোসেন জানান, উপর্যুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং এর ভিত্তিতে নিয়োগকৃত কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের প্রেরিত স্মারকলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব মহোদয় বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছি।
কক্সবাজারের টেকনাফে পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেধড়ক বেত্রাঘাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় এক সহকারী শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া।
অভিযুক্ত শিক্ষক আশিস মল্লিক টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা পানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ তদন্তে সত্যতা পাওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহীন মিয়া বলেন, অভিযোগ যাচাই করে দেখা গেছে, ওই শিক্ষক পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রকে বেত্রাঘাত করেছেন। এ ঘটনায় তাকে সাময়িক বরখাস্তসহ বিভাগীয় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই— সরকার শিক্ষকদের পড়ানোর জন্য বেতন দেয়, শাস্তি দেওয়ার জন্য নয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান আরজু জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখেছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ‘শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিশু শিক্ষার্থীকে ১৫ বার বেত্রাঘাতের অভিযোগ’ শিরোনামে দৈনিক বাংলায় সংবাদ প্রকাশ হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল বৃহস্পতিবার সে শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
গত ১৯ এপ্রিল বাড়ির কাজ না করায় মাহমুদুর রহমান নামের ওই শিক্ষার্থীকে প্রায় ১৫ থেকে ২০ বার বেত্রাঘাত করা হয়। পরে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
শিক্ষার্থীর মা নাজমা বেগম অভিযোগ করেন, অতিরিক্ত মারধরের কারণে তার ছেলে বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছে না। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, এর আগেও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল, তবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন, অভিযোগগুলো আগে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হলে এমন ঘটনা ঘটত না।
এ বিষয়ে অপরাধ বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তৌহিদুল হক বলেন, শিক্ষার্থীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের জন্য দায়ীদের শুধু সাময়িক বরখাস্ত, বদলি বা বেতন স্থগিত রাখলে সমাধান হবে না। কঠোর শাস্তি না দিলে তারা একই আচরণ পুনরাবৃত্তি করতে পারে। শাস্তির মাধ্যমে তাদের আচরণে পরিবর্তন আসবে এবং অন্যরাও এমন নির্যাতন থেকে বিরত থাকবে।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে মাদারীপুরে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে দোকানপাট, শপিংমল, বিপণী বিতান ও শোরুম বন্ধ করা না হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মাদারীপুর বিদ্যুৎ অফিস (ওজোপাডিকো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান।
গত বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে এসব খবর প্রকাশের পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাদারীপুরের প্রধান বাণিজ্যকেন্দ্র পুরান বাজারসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে উল্লিখিত দোকানপাটের মধ্যে শপিংমল ও বিপণী বিতান বন্ধ হতে দেখা গেলেও বেশীরভাগ দোকানপাট ৮টা পর্যন্ত খোলা দেখা গেছে।
এ প্রসঙ্গে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) ওই দপ্তরের উপবিভাগীয় প্রকোশলী মো. ফেরদাউস হাসানের কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আমরা সচেষ্ট রয়েছি। প্রথম দিনের দু-একটি অনিয়ম হয়ে থাকতে পারে, যা আমাদের নজরে আসেনি।
এ ব্যাপারে জোরালো মনিটরিং করে আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনার আমতলী পৌর শহরে শারমিন আক্তার রুবা (২৭) নামের এক নারীর রহস্যজনক মৃত্যুকে ঘিরে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। এদিকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের বাধার অভিযোগ ওঠেছে আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেনের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌর শহরের মহিলা কলেজ সড়কের একটি ভাড়া বাসায় প্রায় এক বছর ধরে মা জাহানারা বেগমকে নিয়ে বসবাস করছিলেন শারমিন আক্তার রুবা। ওই বাসায় নিয়মিত যাতায়াত করতেন আমতলী উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জালাল উদ্দিন ফকিরের ছেলে রাহাত ফকির। তাদের সম্পর্ক নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা থাকলেও ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পাননি। কখনো তারা নিজেদের স্বামী-স্ত্রী, আবার কখনো প্রেমিক-প্রেমিকা হিসেবে পরিচয় দিতেন বলে স্থানীয়দের দাবি।
গত বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে রুবা ও রাহাতের মধ্যে ঝগড়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বাসা থেকে কান্নার শব্দ শোনার কথা জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা। পরে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাহাত ফকির একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে রুবাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রাহাত ফকিরের দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে- রুবা গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তবে এ নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, প্রকৃত ঘটনা এখনো অজানা।
ঘটনার পর আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ ও নিহতের মাকে একটি কক্ষে নিয়ে যান। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাদের প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়। পরে মরদেহ ও নিহতের মাকে থানায় নেওয়া হলেও সেখানেও সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। নিহতের মাকে রাতভর থানায় রাখা হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে মৃত্যুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রুবা একটি স্ট্যাটাসে লেখেছিলেন, ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না। আমার জীবন যাহারা নষ্ট করেছে, আল্লাহ যেন তাদের ধ্বংস করে দেন।’ তবে মৃত্যুর পর ওই স্ট্যাটাস ও রাহাত ফকিরের সঙ্গে তার একাধিক ছবি মুছে ফেলা হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘গত এক বছর ধরে রাহাত ফকির রুবার সঙ্গে বসবাস করছিলেন। ঘটনার দিন সকালে তাদের মধ্যে ঝগড়া হয় এবং রুবাকে কাঁদতে দেখা যায়। এরপরই তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’
রাহাত ফকিরের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, ‘মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।’
বরগুনার পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই খুদা বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে, প্রভাবশালী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। বিষয়টি আলাদাভাবে তদন্ত করা হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহে বাধার অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে।’
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প (২য় সংশোধিত)-এর আওতায় ইলিশ অভয়াশ্রমে মার্চ ও এপ্রিল দুই মাস মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা ১ হাজার ৮০০ জেলের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলা সম্প্রসারিত ভবনের দ্বিতীয় তলার হলরুমে এ উপলক্ষে আলোচনা সভা ও খাদ্যসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জেলেদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাফরুজা সুলতানা।
উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ৯টি ইউনিয়নের ১ হাজার ৮০০ সুফলভোগী জেলেকে মাসিক ভিত্তিতে ৬ কেজি আটা, ৪ কেজি ডাল, ৫ লিটার তেল, ৮ কেজি আলু, ২ কেজি চিনি ও ২কেজি লবণ প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে বোরহানউদ্দিন পৌরসভায় ৪০ জন, হাসাননগরে ৩০০, গঙ্গাপুরে ২২০, দেউলায় ৩০, কুতুবায় ৫০, বড়মানিকায় ৩০০, পক্ষিয়ায় ২৫০, সাচড়ায় ৩০০, টবগীতে ২৭০ এবং কাচিয়ায় ৪০ জন জেলে এ সহায়তা পাচ্ছেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ। এই সম্পদ রক্ষায় জেলেদের সাময়িক ত্যাগের মূল্য সরকার দিচ্ছে। জেলেরা যাতে নিষেধাজ্ঞার সময় কষ্টে না থাকে, সেজন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম চালু রেখেছে। জেলেদের কল্যাণ ও ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে। নদীতে মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণে জেলেদের সহযোগিতা ভবিষ্যতে দেশের অর্থনীতিকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’
বিশেষ অতিথি মাফরুজা সুলতানা বলেন, ‘জেলেদের জীবন-জীবিকা সুরক্ষা এবং নদীর সম্পদ রক্ষায় এ ধরনের সহায়তা কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। খাদ্য সহায়তা শুধু সাময়িক সহযোগিতা নয়, এটি জেলেদের মধ্যে সরকারি উদ্যোগের প্রতি আস্থা বাড়ায়। ইলিশ রক্ষায় জেলেরা নিয়ম মেনে নিষেধাজ্ঞা পালন করলে আগামী দিনে তাদের আয়ও বাড়বে।’
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রকৃত জেলেদের মাঝে এই খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। কেউ যাতে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে প্রশাসন তদারকি করছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ গোবিন্দ মন্ডল, উপজেলা বিএনপির নেতরাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
আলোচনা সভা শেষে জেলেদের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, ইলিশ অভয়াশ্রমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার ফলে নদীতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল মিলবে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে একদিকে যেমন জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত হচ্ছে, অন্যদিকে ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমও আরও বেগবান হবে।
দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবকটি ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি সর্বশেষ বন্ধ হয়ে যায়। ৫২৫ মেগাওয়াট মোট উৎপাদন ক্ষমতার এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অন্য দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ থাকায় বর্তমানে এখান থেকে জাতীয় গ্রিডে কোনো বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানিয়েছেন, কয়লার সঙ্গে পাথর আসায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যাওয়ায় এই বিপত্তি ঘটেছে। বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কাজ শুরু হয়েছে এবং পুনরায় উৎপাদন শুরু করতে অন্তত ৪ থেকে ৫ দিন সময় লাগতে পারে। উল্লেখ্য, ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩ নম্বর ইউনিটটি ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এবং ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকেই দীর্ঘমেয়াদী যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অচল হয়ে রয়েছে।
এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের আটটি জেলায় চরম বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ওই অঞ্চলে ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছে এবং তীব্র ভ্যাপসা গরমে জনজীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে। একদিকে স্থানীয় বড়পুকুরিয়া কেন্দ্রটি বন্ধ এবং অন্যদিকে জাতীয় গ্রিড থেকেও চাহিদামাফিক বিদ্যুৎ না পাওয়ায় গ্রাম ও মফস্বল এলাকাগুলোতে গভীর রাত পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
এদিকে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ নতুন এক সংকটে পড়েছে। খনির উৎপাদিত কয়লার একমাত্র ক্রেতা এই তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি হওয়ায় বর্তমানে উত্তোলিত কয়লা সংরক্ষণের জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। খনি কর্তৃপক্ষের ইয়ার্ডে কয়লা রাখার ধারণক্ষমতা ২ লাখ ২০ হাজার টন হলেও বর্তমানে সেখানে সাড়ে ৫ লাখ টনেরও বেশি কয়লা জমা হয়ে আছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্র সচল না হলে দৈনিক উত্তোলিত ২ হাজার ৭০০ টন কয়লা রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে খনি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বর্তমানে কয়লা খনি কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে বিকল্প স্থানে কয়লা রাখার পরিকল্পনা করছে। তবে উত্তরাঞ্চলের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা পূরণ এবং কয়লা উত্তোলন স্বাভাবিক রাখতে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির যান্ত্রিক ত্রুটি দ্রুত সারিয়ে তোলা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় শিল্প ও আবাসিক গ্রাহকরা আশা করছেন, কারিগরি সক্ষমতা বাড়িয়ে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রটি উৎপাদনে ফিরবে।
আমির হোসেন-রোকেয়া বেগম দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে শিশুসন্তানদের স্ত্রীর কাছে রেখে আমির হোসেন পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। প্রথম তিন বছর যোগাযোগ থাকলেও পরে ২৭ বছর ধরে ছিলেন নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা কোনো খবর পাচ্ছিলেন না। ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখে রোকেয়া শনাক্ত করেন, এটি তার স্বামীর ছবি। এরপর ভিডিও পোস্ট করা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আমির হোসেনের পরিবার। দীর্ঘ ছয় মাসের প্রচেষ্টার পর গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাতে আমির হোসেন পা রাখেন বাংলাদেশের মাটিতে। ৩০ বছর পর আমির হোসেনকে কাছে পেয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানরা আপ্লুত হয়ে পড়েছেন।
আমির হোসেনের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের দিনারা গ্রামে। পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রী ও ছয় সন্তান নিয়ে আমির হোসেনের সংসার। অভাব–অনটন লেগেই থাকত। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে পারিবারিকভাবে পাওয়া কৃষিজমি বিক্রি করে ১৯৯৬ সালে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান আমির হোসেন। সেখানে গিয়ে রংমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। মালয়েশিয়া যাওয়ার পর তিন বছর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সংসার খরচের টাকাও পাঠাতেন প্রতি মাসে। তিন বছর পর হঠাৎ করেই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরাও তার কোনো সন্ধান পাচ্ছিল না। আমির হোসেন কোথায়, কীভাবে আছেন, আদৌ বেঁচে আছেন কি না; তাও জানতেন না পরিবারের সদস্যরা।
ছয় মাস আগে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের একটি জঙ্গলে গিয়ে একটা ছোট্ট টিনের ঘরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় আমির হোসেনকে দেখতে পান দীপু নামের এক প্রবাসী এবং প্রবাসী সংবাদকর্মী বাপ্পি কুমার দাস। সেখান থেকে তারা তাকে উদ্ধার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিও দেখে আমির হোসেনকে তার পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন। এরপর তারা ভিডিও পোস্টকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা ভিডিও কলে আমির হোসেনের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেন। এরপর তাকে দেশে ফেরানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আমির হোসেনের ছবি ও তার দেওয়া তথ্য পাঠায় নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে। তার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় চামটা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমির হোসেনের জন্মনিবন্ধন করা হয়। ওই জন্মনিবন্ধন ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ডকুমেন্ট পাঠানো হয় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে। এরপর তাকে সেখান থেকে ট্রাভেল পাস প্রদান করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। গত মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছান তিনি।
বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) ও প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও পরিবারের সদস্যরা আমির হোসেনকে গ্রহণ করেন। বিমানবন্দরের কার্যক্রম শেষ করে পরিবারের সদস্যরা আমির হোসেনকে নিয়ে যান ঢাকার কেরানীগঞ্জে তার ছোট ছেলে শহীদুল ইসলামের বাসায়। সেখানে তিনি বর্তমানে বিশ্রামে রয়েছেন।
দীর্ঘ ৩০ বছর পর স্বামী ফিরছেন, এমন খবর পেয়ে ঢাকায় ছেলেদের কাছে ছুটে যান রোকেয়া বেগম। বিমানবন্দরে স্বামীকে কাছে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
রোকেয়া বেগম বলেন, ‘ছয় শিশুসন্তান রেখে তিনি (আমির হোসেন) মালয়েশিয়ায় যান। তিন বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে কমবেশি টাকা পাঠিয়েছেন সংসার খরচের জন্য। হঠাৎ করে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ২৭ বছর ধরে তাকে বিভিন্নভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছি। কোনো সন্ধান পাচ্ছিলাম না। মানুষটা বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন, তাও বুঝতে পারছিলাম না। ছোট ছোট ছেলে–মেয়েদের নিয়ে বিপাকে পড়ে যাই। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মানুষের সহায়তায় খেয়ে না–খেয়ে ছেলে–মেয়েদের নিয়ে বেঁচে ছিলাম। ছয় মাস আগে আমার এক ভাই মোবাইলে একটি ভিডিও দেখান, ওই ভিডিও দেখে আমরা তাকে চিনতে পারি। এরপর তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য আমাদের আকুতি বেড়ে যায়। আমার সন্তানরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। এভাবে ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখে তাকে ফিরে পাব, তা কখনো ভাবতে পারিনি। স্বামীকে এত বছর পর ফিরে পাওয়া আমার জীবনের একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা।
আমির হোসেনের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে তিন বছর আগে মারা গেছেন। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, তারা শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। আর বেঁচে থাকা দুই ছেলে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। তারা ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় ভাড়া করা একটি বাসায় থাকেন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, ৩০ বছর ধরে একজন প্রবাসে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ২৭ বছর ধরে যোগাযোগ না থাকার ঘটনা ভীষণ বেদনাদায়ক। এমন একজনকে পরিবার খুঁজে পেতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন। এই ফিরে আসা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি।
শরিফুল হাসান বলেন, ‘এই ঘটনা প্রবাসজীবনের অনিশ্চয়তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। একজন মানসিক ভারসাম্যহী; কিন্তু কেউ তার খোঁজ জানেন না। অতীতেও আমরা এমন ঘটনা দেখেছি। এমন সংকটে আরও কতজন আছেন, তাও আমরা জানি না। অথচ প্রত্যেক প্রবাসীর খোঁজ রাখা জরুরি। এই প্রযুক্তির যুগে প্রত্যেক প্রবাসীর ডেটাবেজ করা অসম্ভব নয়, বরং জরুরি। কারণ, তারা এই দেশের মানুষ এবং আমাদের অর্থনীতি সচল রাখেন।’
নড়িয়ার ইউএনও আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘আমরা ওই ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্যগুলো যাচাই শেষে আবার মালয়েশিয়া দূতাবাসে পাঠিয়েছি। এখান থেকে তার কিছু ডকুমেন্ট পাঠানোর পরে দূতাবাস থেকে তাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি দেশে ফিরে এসেছেন, পরিবারের কাছে আছেন। ওই ব্যক্তির যেকোনো সমস্যায় উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।’
সম্পত্তির লোভেই নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত হাবিবুরের আপন দুই ভাগনে ও দুলাভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৩০মিনিটের দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম (৩০), তার ছেলে শাহিন হোসেন ও ভাগনে সবুজ রানা (২০)। তিনজনেরই বাড়ি উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। হাবিবুরের বাবা তার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে তার সম্পত্তি লেখে দেন। তিনি তার ১৭ বিঘা সম্পত্তির মধ্যে বসতবাড়িসহ ১৩ বিঘা সম্পত্তি ছেলে হাবিবুর রহমানকে লেখে দেন। বাকি সম্পত্তি তার মেয়েদের লেখে দেন। হাবিবুরকে বেশি সম্পত্তি লেখে দেওয়ায় বোন, ভগনীপতি ও ভাগনেদের সাথে হাবিবুরের ঝামেলা শুরু হয়। কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হাবিবুরের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম, তার ছেলে শাহিন ও হাবিবুরের আরেক বোন হালিমা খাতুনের ছেলে সবুজ রানা হাবিবুরকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। গত সোমবার বিকেলে হাবিবুর তার ভাগনে সবুজ রানাকে নিয়ে উপজেলার ছাতড়া বাজারে গরু কিনতে যান। হাবিবুর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গরু কিনতে গিয়েছিলেন। পরে গরু না কিনেই বাড়িতে ফিরে আসেন। বাজার থেকে ফিরে আসার পর গ্রামের একটি মাঠে গিয়ে সবুজ রানা, শহিদুল, শাহিনসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জন পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত সোমবার রাত ৮টার দিকে হাবিবুরের বাড়িতে যায়। তিনি তার মামা-মামি ও মামাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে একসাথে খাবার খায়। ওই সময় সবার অগোচরে হাবিবুরের আরেক ভাগনে বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির একটি ঘরে লুকিয়ে থাকে। সবুজ খাবার খেয়ে বের হয়ে যায়। বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে শাহিন বাড়ির মূল দরজা খুলে দিলে সবুজ, শহিদুলসহ আরও পাঁচজন বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিনের ঘরে বাইরে থেকে শিকল তুলে দেয়। এরপর হাবিবুরের ঘরে ঢোকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা দুই সন্তানকে নিয়ে পাশের ঘরে ছিল। হাবিবুরকে হত্যা করার সময় পপি বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়। বাড়ির আঙিনায় বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পপির মাথায় হাসুয়া দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকেও গলা কেটে হত্যা করে। পরে হাবিবুরের পুরো পরিবারকে শেষ করার উদ্দেশে তার দুই সন্তান পারভেজ রহমান ও সাদিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে।’
এসপি তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে নেমে গত মঙ্গলবার নিহত হাবিবুরের ভাগনে সবুজ, তার বাবা নমির উদ্দিন, দুই বোন ডালিমা বেগম ও হালিমাসহ ছয়-সাতজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সবুজ পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রামের একটি খড়ের পালায় লুকানো অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে গতকাল বুধবার আরও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের সবাইকে হত্যার কারণ হিসেবে শহিদুল ও সবুজ পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, তাদের সবাইকে হত্যা করলে হাবিবুরের নামে থাকা সম্পত্তির ভাগিদার তারা হবে। এই ভাবনা থেকেই তারা পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও জয়ব্রত পাল, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আল মামুন শাওন, পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিব, নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের রাউজানে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন মোহাম্মদ আজগর (৫৫) নামের এক পথচারী। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ বজলুর রহমান সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজগর ওই এলাকার হাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজগর বড় মৌলানা শাহ (রাহ.) মাজারের সামনে দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহীও আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রাউজান থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জহিরুল ইসলাম সরকার নামের এক জমি ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে দেবিদ্বার পৌর এলাকার বালিবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত জহিরুল ইসলাম (৫০) মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেবিদ্বার পৌর এলাকার মোহনা আবাসিক এলাকায় জমি কেনা-বেচা করতেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি কেনা-বেচার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে বালিবাড়ী গ্রামের মোবারক ও শাহীনসহ কয়েকজন যুবক জহিরুল ইসলামকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে ভিরাল্লা বাস স্টেশন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় সন্ধ্যায় মোবারকের বাড়ি নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে একটি অটোরিকশাযোগে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক জহিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মরদেহ নিয়ে আসা তিন লোক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিহতের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, বিকেলে মোবাইল ফোনে কল পেয়ে তার স্বামী বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। রাতে হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। পাওনা টাকার জন্য তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, নিহত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় জাল দলিল ও জমি কেনা-বেচায় প্রতারণার একাধিক অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আয়োজিত একটি নাগরিক সমাবেশেও তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছিলেন। সে সময় সংসদ সদস্য অভিযুক্ত জহিরুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেবিদ্বার থানার ওসিকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে গতকাল বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নীলফামারী জেলায় যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলো থেকে যানবাহন মালিকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।
এ সময় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউসুফ আলীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী দিনে ২০ জন যানবাহন মালিকের হাতে ফুয়েল কার্ড তুলে দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, গত ১৫ এপ্রিল থেকে কার্ডের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৫২৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, মোটরসাইকেলের জন্য মাসে ২০ লিটার এবং কার ও মাইক্রোবাসের জন্য মাসে ৫০ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জ্বালানি মজুত রোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার ৩৮টি পেট্রল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না বলেও তিনি জানান।
এ ছাড়া, ফিলিং স্টেশনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর রাজবাড়ীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে ভোগান্তির চিত্র ছিল চরমে-সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে চালকদের। আগের দিনের তুলনায় অপেক্ষার সময় কমেছে এবং তুলনামূলক দ্রুত তেল পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। দাম বৃদ্ধির পরপরই কিছুটা স্বস্তির খবর মিলছে রাজবাড়ীর বিভিন্ন পাম্পে।
সরজমিনে বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১২ টার দিকে রাজবাড়ী শ্রীপুর সংলগ্ন পলাশ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, আগের তুলনায় তেলের লাইনে ভিড় কমেছে এবং অপেক্ষার সময়ও কিছুটা কমে এসেছে। আগে যেখানে হাফ কিলোমিটার জুড়ে মোটরসাইকেলের লাইন তৈরি হতো সেখানে এখন ৩০-৪০ টি মোটরসাইকেল তেল নিতে দাঁড়িয়ে আছে।
কল্যাণপুর থেকে পলাশ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক সুমন শেখ জানান, আগে তেল পেতে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন দেড়-দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। দাম বাড়ানোর পর ভিড় কিছুটা কমেছে।
প্রাইভেটকার চালক বাচ্চু বলেন, আগের তুলনায় এখন অনেক কম সময় লাগছে। এখন অল্প সময়ের মধ্যেই লাইনে থেকে তেল পাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে চাহিদা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় লাইনের চাপ কমেছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অকটেনের একটু ঘাটতি রয়েছে। তবে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছেনা।
সমন্বিত সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত অভিবাসীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী শক্তিশালীকরণ, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবের শহিদ হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে কারিতাস বাংলাদেশ খুলনা আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক।
সভায় অতিথিরা বলেন, জলবায়ু পরির্বতনের কারণে ভিটামাটি হারিয়ে শুধু একটি পরিবার নয় একটি সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবন-জীবিকাকে ক্রমাগতভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। ফলে উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা থেকে মানুষ বাধ্য হয়ে শহরমুখী হচ্ছে বিশেষ করে খুলনার মতো শহরে।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের সুবিধা থাকলে তারা শহরে আসবে কম। যেহেতু গণমাধ্যম জনমত গঠন ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাই গণমাধ্যম জলবায়ু অভিবাসীদের বাস্তবতা তুলে ধরে অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো সমর্থন গড়ে তুলবে বক্তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের (কুয়েট) সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প সমন্বয়কারী পবিত্র কুমার মন্ডল।
সভায় সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম, গণমাধ্যমকর্মী ও খুলনা সিটি করপোরেশনের চারটি ওয়ার্ডের কমিউনিটি লিডাররা অংশ নেন।
সভার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানানো হয়, জলবায়ু অভিবাসীদের সমস্যা ও অধিকার সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা, বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতি তুলে ধরা, তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল প্রতিবেদন তৈরিতে গণমাধ্যমকে উৎসাহিত করা এবং গণমাধ্যম, সরকার ও সুশীল সমাজের মধ্যে সংলাপের সুযোগ সৃষ্টি করা।
অবহেলিত ঝিনাইদহ জেলাকে উন্নয়নের শেখরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবাগত জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন। যোগদানের পর জেলার সুশিল সমাজ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
এরমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করতে জেলার আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেন। মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, মাদকের সাথে জড়িতরা যত শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে পায়রা চত্তর, আরাপপুর, হামদহ, মর্ডান মোড়, ট্রাক টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল, শহীদ মিনার এলাকা, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, ‘ট’ বাজারসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও অলিগলি দখলমুক্ত করা হবে। এ ছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নারী ও পুরুষদের জন্য অবিলম্বে গণসৌচাগার নির্মাণ করে দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।
এ ছাড়াও আদালত চত্বর, সদর হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্টার কার্যালয় সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দালালচক্র দমন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।
তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে আবাদি জমির মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন রোধ, ইটভাটায় মাটি বিক্রি বন্ধ, সরকারি গাছ কর্তন প্রতিরোধ, সরকারি অফিসে দুর্নীতি কমানো এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম গতিশীল করাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলাকে ঢেলে সাজাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন।
স্থানীয়দের মতে,এসব উদ্যোগে গ্রহণ করা হলে ঝিনাইদহ শহর ধীরে ধীরে একটি পরিকল্পিত ও মডেল শহরের রূপ নেবে।