বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি ২০২৬
৮ মাঘ ১৪৩২

আউটসোর্সিং- এ কর্মরতরা দেশের মানুষের সেবা নিশ্চিতকরণে কাজ করে যাচ্ছে

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত
পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ১৬:৫৮

বর্তমান ছাত্র সমাজের গণঅভূত্থানের বাংলাদেশে সকল বৈষম্য নিরসনমূলক দাবি সমুহের মধ্যে অন্যতম যৌক্তিক দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে- আউটসোর্সিং- এ কর্মরতদের জন্য প্রণিত আউটসোসিং আইন-২০১৮ বাতিল করে কর্মরত সকলকে বয়স শিথিল করে স্ব-স্ব পদে জাতীয়করণ করা। তাদের এই দাবি নিয়ে সংগঠিত বিভিন্ন মানববন্ধন, গোলটেবিল বৈঠক ও অবস্থান কর্মসূচি থেকে দেশের অনেক সাংবাদিক, কলামিস্ট, বুদ্ধিজীবী ও আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণীর মানুষ তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেছেন। কিন্তু কতিপয় ব্যক্তি এই জাতীয় দাবির গভীরতা না বুঝে এই ন্যায্য দাবিকে ভুলুণ্ঠিত করতে চায়। এই দাবিকে জাতীয় দাবি বলার কারণ হলো- এখানে দেশের প্রত্যেক দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরে নিয়োজিতদের একটি বৃহৎ অংশ জড়িত। তাই এই জাতীয় সমস্যার নিরসন জাতীয়ভাবেই করতে হবে।

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলায় এলজিইডিতে প্রকল্পে কর্মরত উপসহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলাম জানান, মানুষের ৫টি মৌলিক চাহিদা হলো- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। এই চাহিদা সমুহের উপর বিবেচনা করেই বাংলাদেশের সংবিধানে সাজানো হয়েছে সকল মন্ত্রনালয়ের দপ্তর, অধিদপ্তর ও পরিদপ্তরকে। আর এ সকল দপ্তরে আউটসোর্সিং- এর মাধ্যমে নিয়োজিত সকলে এদেশের প্রতিটি মানুষের মৌলিক চাহিদা সেবা নিশ্চিতকরণ ও বাস্তবায়নে নিরলসভাবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে তারা প্রত্যেকে স্ব-স্ব কাজে সুনিপুন কলা-কৌশল ও দক্ষতা অর্জন করেছে সেইসঙ্গে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতা বর্তমান সরকারী চাকুরীর প্রকিউরমেন্ট আইন-২০০৮ অনুযায়ী রয়েছে। এত দক্ষতার সঙ্গে দেশের মানুষের মৌলিক চাহিদা সেবা বাস্তবায়নের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেও আউটসোর্সিং-এ কর্মরতরা পারছে না নিজেদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে। উল্লেখ করে বলতে গেলে বলা যায়- নেই তাদের নিয়মিত বেতন, নেই বোনাস, নেই শিক্ষা ভাতা, নেই ঝুঁকি ভাতা, নেই মাতৃত্বকালীন ছুটি, নেই নিদিষ্ট কর্ম ঘন্টা সহ নেই অন্যান্য সুবিধা। আছে শুধু চাকুরী হারানোর ভয় আর মানসিক হয়রানি। তবুও সব কিছু উপেক্ষা করে দেশের মানুষের জন্য নিজেদের বিলিয়ে যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আমরা কি তাদের দাবির সাথে একমত হয়ে তাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য এতটুকু করতে পারি না?

এলজিইডি আউটসোর্সিং পরিবারের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক আব্দুর রাকিব সনেট জানান, আউটসোর্সিং- এ কর্মরতদের নিয়োগ দেয়া হয় আউটসোর্সিং আইন-২০১৮ বিধিমালা অনুসরণ করে। যা স্বৈরাচার সরকার কর্তৃক প্রণিত একটি বর্বর অন্ধকার আইন। যেখানে ইংরেজদের রেখে যাওয়া কৃতদাস প্রথার প্রতিফলন ঘটেছে। এই কালো আইন স্বৈরশাসকের দোসরেরা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রণয়ন করেছে। যার সুবিধা গণঅভূত্থানের পরেও যদি দোসররা ভোগ করতে পারে তাহলে সারাদেশ লজ্জিত হবে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সকল বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতির ধারাবাহিকতায় এই জাতীয় দাবি মেনে নিয়ে অনতিবিলম্বে আউটসোর্সিং আইন-২০১৮ বাতিল করে কর্মরতদের বয়স শিথিল করে স্ব-স্ব পদে জাতীয়করণ করতে হবে। তবেই জাতি এই বিশাল বৈষম্য থেকে মুক্তি পাবে।

আউটসোর্সিং আইন-২০১৮ বাতিল করে কর্মরতদের রাজস্ব করতে গেলে অনেক অর্থের প্রয়োজন ভেবে সিদ্ধান্ত নিতে হয়তো বিলম্ব হচ্ছে, কিন্তু একটি পরিসংখ্যান থেকে জানা যায় যে- বাংলাদেশের সকল দপ্তর, অধিপ্তর ও পরিদপ্তরে যত জনবল ঠিকাদার কর্তৃক টেন্ডারের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছে তাদের নিজ গ্রেডের বেতন ভাতার পরেও সরকার ঠিকাদারদের জনবল সরবরাহ কমিশন বাবদ প্রতিমাসে প্রায় ১০০ কোটি টাকা প্রদান করছে। যা সরকারী কোষাগার হতে অপচয় হচ্ছে তথা দেশের মানুষের অর্থ স্বৈরাচারের দোসররা কৌশলে আত্মসাৎ করছে। এই কালো আইন বাতিল হলে সরকারের কোষাগারে বিশাল অঙ্কের টাকা জমা থাকবে। সে টাকার মূলধন ও লভ্যাংশ মিলে প্রতি বছর সরকারী কোষাগারে প্রায় ১২০০ কোটি টাকার অধিক জমা হবে। এই বিশাল অঙ্কের টাকাই অবহেলিত আউটসোর্সিং এ কর্মরতদের জাতীয়করণে অর্থনৈতিক ভূমিকা রাখবে। শুধু সৎ ইচ্ছা ও সুষ্ঠু পরিকল্পনা হলেই এই বৈষম্যের নিরসন সম্ভব।

পরিশেষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সকল বৈষম্য নিরসনের প্রতিশ্রুতিকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বলতে চাই, স্বৈরশাসক প্রণিত ঘনকালো অন্ধকার ও ঘৃণিত আউটসোর্সিং আইন-২০১৮ বাতিল করে কর্মরত সকলকে জাতীয়করণ করা বর্তমান সময়ের অত্যন্ত যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত হবে। আউটসোর্সিং- এ কর্মরতদের জাতীয় দাবি বাস্তবায়িত হলে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের সকলের কাছে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর প্রধান প্রকৌশলী মো. আলি আখতার হোসেন জানান, উপর্যুক্ত বিষয়ের প্রেক্ষিতে রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের জন্য স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে আউটসোর্সিং এর ভিত্তিতে নিয়োগকৃত কর্মকর্তা/ কর্মচারীদের প্রেরিত স্মারকলিপি স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব মহোদয় বরাবর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিতভাবে জানিয়েছি।


জাতিসংঘের ৮০তম বার্ষিকীতে সহ-আয়োজক সোনাইমুড়ীর মোস্তফা-হাজেরা ফাউন্ডেশন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনাইমুড়ী (নোয়াখালী) প্রতিনিধি

গণতন্ত্রের প্রাণকেন্দ্র সেন্ট্রাল হল, ওয়েস্টমিনস্টারে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মানবিক নেতৃত্বের এক অনন্য ও গৌরবোজ্জ্বল স্বীকৃতি হিসেবে জাতিসংঘের ৮০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সহ-আয়োজকের মর্যাদা অর্জন করেছে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন। মানবতা, শান্তি ও বৈশ্বিক সহযোগিতার প্রতি অবিচল অঙ্গীকারের স্বীকৃতিস্বরূপ এই ঐতিহাসিক অংশগ্রহণ বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ও মানবিক নেতৃত্বের মানচিত্রে আরও দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

জানা যায়, জাতিসংঘের প্রতিষ্ঠার ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এ আন্তর্জাতিক আয়োজন বিশ্বব্যাপী শান্তি, মানবাধিকার, টেকসই উন্নয়ন ও বৈশ্বিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই আয়োজনে সহ-আয়োজক হিসেবে ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের মানবিক কার্যক্রম ও আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতার প্রতি বিশ্বসম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন।

ড. মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবিক সহায়তা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় নিরলসভাবে কাজ করে আসছে। জাতিসংঘের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ফাউন্ডেশনটি বৈশ্বিক মানবিক উদ্যোগে বাংলাদেশের সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অবস্থানকে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরেছে।

ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা এম এইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ক্যেপ্টেন গোলাম কিবরিয়া জানানো হয়, এই স্বীকৃতি কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের অর্জন নয়; এটি বাংলাদেশের মানবিক মূল্যবোধ, শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার প্রতি অঙ্গীকারের সম্মিলিত স্বীকৃতি।

এই ঐতিহাসিক অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিশ্বব্যাপী মানবতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের ভূমিকা আরও বিস্তৃত ও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।

এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং ব্রিটিশ রাজপরিবারের সম্মানিত সদস্য ডাচেস অব এডিনবরো।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন- জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি আনালেনা বেয়ারবক, যুক্তরাজ্য পার্লামেন্টের সিনিয়র সদস্যরা, হাউস অব লর্ডসের প্রতিনিধিরা এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা এবং বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন ডাক্তার মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা এবং এম এইচ গ্লোবাল গ্রুপের চেয়ারম্যান ক্যেপ্টেন গোলাম কিবরিয়া (CIP) এবং ফাউন্ডেশনের যুব প্রতিনিধি ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়ার সুযোগ্য দুই কন্যা জান্নাতুন নূর এবং জান্নাতুন নাঈম। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, এই আয়োজনে ৫৩টি দেশের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন—যা অনুষ্ঠানটির বৈশ্বিক গুরুত্ব ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতাকে আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।

প্রায় ৮০ বছর আগে, এই সেন্ট্রাল হল, ওয়েস্টমিনস্টার থেকেই জাতিসংঘ তার ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু করেছিল।

ঠিক সেই একই স্থানে জাতিসংঘের ৮০তম বার্ষিকী উদযাপন আজ নতুন করে বিশ্বশান্তি, মানবতা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতার প্রতি বিশ্বের সম্মিলিত আশার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

এই ঐতিহাসিক আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য ইউএনএ–ইউকে (UNA-UK)-এর পক্ষ থেকে বিশেষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা জেন কিনিনমন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ক্যাপ্টেন এ. কে. এম. গোলাম কিবরিয়া এবং Dr. Mostafa Hazera Foundation-কে—এই স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের অংশ হওয়ার জন্য। ডাক্তার মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশন দেশের গন্ডি পেরিয়ে বেশকিছু দিন থেকে জাতিসংঘের সাথে যৌথ ভাবে বিশ্বব্যাপী পাঁচশূন্যের অভিযান নিয়ে দেশে-বিদেশে মানুষের জীবন মান উন্নয়নের জন্য কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ ছাড়াও ১৫ দেশে ডাক্তার মোস্তফা হাজেরা ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, ফাউন্ডেশনের মানোবিক কাজের মূলয়ায়ন হিসেবে সাম্প্রতিক অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্লোবাল হিউম্যানটিরিয়ান অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেছেন ফাউন্ডেশনের প্রধান উপদেষ্টা ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া আন্তজার্তিক অঙ্গনে মানোবিকতা চড়িয়ে দিতে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন ক্যাপ্টেন গোলাম কিবরিয়া।


সীমান্ত ও ভোটকেন্দ্রে আরও কঠোর নজরদারিতে থাকবে বিজিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার, চোরাচালান দমন এবং আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিজিবির যশোর রিজিয়নের গত এক বছরের সাফল্য এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যশোর রিজিয়নের আওতাধীন কুষ্টিয়া থেকে সাতক্ষীরা সীমান্ত পর্যন্ত এলাকায় গত ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত চোরাচালানবিরোধী অভিযানে ৩৭৭ কোটি ৪৬ লাখ ৭৫ হাজার ৬২০ টাকা মূল্যের বিভিন্ন পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৫৮ কেজি স্বর্ণ, ১২৪ কেজি রৌপ্য, ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১৫২ রাউন্ড গুলি। এ সময় ৩৮০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এর মধ্যে এককভাবে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) ১০৩ কোটি ২৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদক ও চোরাচালানি পণ্য জব্দসহ ১৩৯ জন আসামিকে আটক করেছে। উল্লেখযোগ্য জব্দের তালিকায় রয়েছে ২৩ কেজি হেরোয়িন, ৭০ হাজার পিস ইয়াবা এবং ১৫টি আগ্নেয়াস্ত্র।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর রিজিয়নের অধীনে ১৫টি জেলার ৫১টি সংসদীয় আসনে বিজিবি মোতায়েন করা হবে। এ লক্ষ্যে ১৮০ প্লাটুন বিজিবি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন এবং ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৭৯টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে।

এ ছাড়া সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করবে বিজিবি।

এর মধ্যে কুষ্টিয়া ও রাজবাড়ী জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে অন্তত ১৪ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে। বিশেষ নজরদারির অংশ হিসেবে এই প্রথম ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি ১০টি অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প এবং গুরুত্বপূর্ণ ২২টি স্থানে চেকপোস্ট স্থাপন করা হবে। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী দৌলতপুর উপজেলায় গ্রহণ করা হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা।

সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়নের (৪৭ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, ইতোমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ও এলাকা চিহ্নিত করে বিস্তারিত নিরাপত্তা পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত সুরক্ষিত থাকলে দেশ সুরক্ষিত থাকবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি সর্বদা দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখা এবং যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ জনগণের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ।’


ঝালকাঠিতে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার সাংবাদিকদের নিয়ে ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতাবিষয়ক’ দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর উদ্যোগে বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঝালকাঠি সার্কিট হাউসের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত প্রশিক্ষণে দুই জেলার মোট ৫০ জন সাংবাদিক অংশগ্রহণ করছেন। আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সহায়তা করা এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।

প্রশিক্ষণের প্রথম দিনে ‘নির্বাচনের অংশীজন’ হিসেবে রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজ, প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এরপর ‘গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: সরকার, প্রশাসন ও সাংবাদিকতা বিষয়ে আলোকপাত করা হয়।

এ ছাড়া নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন, অনিয়ম ও অপরাধ প্রতিরোধের উপায়সহ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশু ১৯৭২ এবং এর সাম্প্রতিক সংস্কারগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।

নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় সাংবাদিকদের দায়িত্ব এবং ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা-২০২৫’ বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন জাতীয় দৈনিকের ডেপুটি এডিটর সুলতান মাহমুদ।

এর আগে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন। ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেটের আককাস সিকদার, পিআইবির ট্রেইনার গোলাম মোর্শেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুই দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জ, রিপোর্টিং কৌশল এবং সাংবাদিকদের শারীরিক ও ডিজিটাল নিরাপত্তার মতো সমসাময়িক ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।


ক্ষমতার ভারসাম্য ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অঙ্গীকার উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেনের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নৌপরিবহন এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন দেশে স্বৈরাচারী ব্যবস্থা রোধে প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা কমিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ক্ষমতার ভারসাম্যের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের মির্জা রুহুল আমিন মিলনায়তনে আসন্ন গণভোট ও সংসদ নির্বাচন বিষয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই সংস্কারের প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা নয়, ক্ষমতা হবে কেবিনেট, ক্ষমতা ভাগাভাগি হবে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে। এখন রাষ্ট্রপতির কাছে হাজার ধরনা দিলেও তিনি কিছু করতে পারেন না। কারণ ওনার কোনো ক্ষমতা নেই, ওনার ক্ষমতা শুধু বিভিন্ন দিবসে ফুল দেওয়া। রাষ্ট্রপতির কোনো ক্ষমতা নেই, ক্ষমতা দেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রী স্বৈরাচারী হতো না।”

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সীমাবদ্ধতা এবং একটি নির্বাচিত কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “নির্বাচিত সরকার যেভাবে দেশ পরিচালনা করে, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দ্বারা সেভাবে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। আমাদের কোনো এমপি নেই, কোনো উপজেলা চেয়ারম্যান নেই। যা কাজ করছি তা আমাদের সরাসরি করতে হচ্ছে। দেশ পরিচালনা করার জন্য যেসব কাঠামো দরকার তার জন্য এই নির্বাচন করা।” তিনি আরও দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন যে, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত এই নতুন বাংলাদেশে আর কোনো কলঙ্কিত নির্বাচন হবে না। উপদেষ্টার ভাষায়, “আমরা চাই একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। কারণ, এই নির্বাচনের জন্য অসংখ্য মানুষ জীবন দিয়েছে। আমরা আগের মতো কোনো নির্বাচন এ দেশে হতে দেবো না।”

বিগত সরকারের দমনমূলক শাসনব্যবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “স্বৈরাচারীর থেকেও এক ধাপ উপরে ছিল, আমরা যেটিকে ফ্যাসিবাদ বলছি। পার্লামেন্ট, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, নির্বাহী বিভাগ সবকিছুকে কুক্ষিগত করা হয়েছিল। দ্বিমত হলে আয়নাঘর আর গুম, খুন করা হতো। ইয়াং জেনারেশনর বুকের রক্ত দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একটাই কারণ, এই অবস্থা থেকে পরিবর্তনের জন্য।” দেশের স্থায়ী পরিবর্তন এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে তিনি নাগরিকদের সচেতন হয়ে আসন্ন গণভোটে “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি জনগণকে সতর্ক করে বলেন, “এই এরকম সুযোগ সবসময় পাবেন না। গণভোটের বিষয়ে যারা অপপ্রচার চালাচ্ছে, তাদের প্রতিবাদ করবেন।” উক্ত মতবিনিময় সভায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ারা বেগমসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সুনামগঞ্জে যৌথ অভিযানে অস্ত্র-গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার, গ্রেফতার ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ইউনিট মঙ্গলবার থেকে বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল পর্যন্ত জগন্নাথপুর, দোয়ারাবাজার, ছাতক, শান্তিগঞ্জ, বিশ্বম্ভরপুর ও সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় এ অভিযান পরিচালনা করে।

অভিযানটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ১৭ পদাতিক ডিভিশনের অধীনস্থ ইউনিটের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সালেহ আল হেলাল।

অভিযানকালে চারজন চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় একটি বিদেশি পিস্তল, রাইফেল, পাইপ গান, স্টান গান, কার্তুজ, সাউন্ড বোমাসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় ও বিদেশি মদ, গাঁজা এবং ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।


ডিজিটাল মিডিয়া ফোরামের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও অনলাইন গণমাধ্যমের পেশাগত উন্নয়ন এবং সাংবাদিকদের অধিকার সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠন ডিজিটাল মিডিয়া ফোরাম (ডিএমএফ)–এর নতুন দুই বছরের কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

উপস্থিত সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে কমিটিতে সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তিনি এশিয়ান টেলিভিশনের সিনিয়র ম্যানেজার (ডিজিটাল বিজনেস) হিসেবে কর্মরত। সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন এনপিবি নিউজের হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট আরিফুল ইসলাম। সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন টাইগার মিডিয়ার ডিরেক্টর অব কমিউনিকেশন তানজিল রিফাত।

সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন গ্রীন টিভির সিনিয়র প্রেজেন্টার ডা. তৃণা ইসলাম। সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন চিফ মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার ফখরুল ইসলাম। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন গ্লোবাল টেলিভিশনের ডেপুটি ম্যানেজার মহিউদ্দিন মানিক।

কমিটির অন্যান্য পদে রয়েছেন—সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দৈনিক রুপালী বাংলাদেশের হেড অব ডিজিটাল জনি রায়হান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে জাগোনিউজের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ব্রডকাস্ট পরাণ মাঝি, আইন বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে এডভোকেট আলাউদ্দিন আল আজাদ, প্রচার সম্পাদক হিসেবে ৭১ টেলিভিশনের ম্যানেজার নাজিম উদ্দীন রাফায়েল, অর্থ সম্পাদক হিসেবে দীপ্ত টিভির অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার মইন উদ্দিন রাতুল এবং সহ-অর্থ সম্পাদক হিসেবে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ম্যানেজার (ডিজিটাল মার্কেটিং) রায়হান উদ্দিন রবিন।

এ ছাড়া দপ্তর সম্পাদক হিসেবে ডিবিসি টেলিভিশনের সহকারী ম্যানেজার আরেসুল ইসলাম রাসেল, উপ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে সদ্য সংবাদের হেড অব ডিজিটাল মিঠুন, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে গ্লোবাল টেলিভিশনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ব্রডকাস্ট আকলিমা আক্তার, নারী বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে বিটিভির রিপোর্টার মিম আক্তার, আইসিটি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দৈনিক রুপালী বাংলাদেশের সিনিয়র রিপোর্টার সোলায়মান শাওন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে নেক্সাস টেলিভিশনের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রডিউসার মোস্তফা সজল এবং ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে ক্রিকেট ৯৭-এর পাবলিশার মাহমুদুর রহমান দায়িত্ব পেয়েছেন।

কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মনোনীত হয়েছেন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের চিফ রিপোর্টার আব্বাস উদ্দিন নয়ন, প্রতিদিনের বাংলাদেশের নিউজরুম এডিটর তানাজা আফরিন, বাংলাভিশন ডিজিটাল এর, কনটেন্ট ক্রিয়েটর মোরশেদ আলম, যুগান্তরের সিনিয়র ভিডিও এডিটর রুহুল আমিন, একাত্তর টিভির সিনিয়র মাল্টিমিডিয়া রিপোর্টার মোঃ ইলিয়াস আকন এবং বাংলা ট্রিবিউনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ আনোয়ার হোসেন।

কমিটি ঘোষণার সময় ডিএমএফ-এর উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কালবেলার অনলাইন এডিটর মিজানুর রহমান সোহেল এবং দীপ্ত টিভির নিউজ এডিটর (অনলাইন ইনচার্জ) মাসউদ বিন আব্দুর রাজ্জাক।

নবমনোনীত এই কমিটি আগামী দুই বছর ডিজিটাল সাংবাদিকদের পেশাগত মানোন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে কাজ করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।


কালীগঞ্জে জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত হুসাইন আহমেদের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার ছালাভরা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে হুসাইন আহমেদ বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ছালাভরা এলাকায় পৌঁছালে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এ সময় হুসাইন আহমেদের আত্মচিৎকার শুনে আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রেজা সেকেন্ডার আহতের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, হুসাইন আহমেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও জখম রয়েছে। হাসপাতালে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একটি দল হাসপাতাল এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তবে এখন পর্যন্ত হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।


কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে বিজিবির পৃথক অভিযান: কোটি টাকার অবৈধ সিগারেট ও গাঁজা উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া অবৈধ সিগারেট এবং মালিকবিহীন গাঁজা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি)। উদ্ধারকৃত এসব মালামালের মোট বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি ২২ লাখ ৫০০ টাকা।

গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিনভর জেলা দুটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে মেহেরপুর–কুষ্টিয়া মহাসড়কে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদরের ২ নম্বর জিপি গেট সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়া ৪৫ হাজার প্যাকেট ‘মনস্টার’ এবং ৪৭ হাজার প্যাকেট ‘সিজার’ ব্র্যান্ডের সিগারেট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মোট ৯২ হাজার প্যাকেট সিগারেট ও কাভার্ড ভ্যানটির আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ২১ লাখ ২০ হাজার টাকা।

পরে একই দিন বিকেলে মেহেরপুর জেলার গাংনী সীমান্তের মথুরাপুর বিওপির একটি টহল দল মথুরাপুর মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৬ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করে। এছাড়া, দিবাগত রাতে গাংনির ধলা বিওপির সদস্যরা বকুলতলা মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত মোট ২৩ কেজি গাঁজার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বুধবার সকালে কুষ্টিয়ায় ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, জব্দকৃত কাভার্ড ভ্যান ও অবৈধ সিগারেট বিধি মোতাবেক কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। আর উদ্ধারকৃত গাঁজাগুলো ধ্বংসের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাটালিয়ন সদরের মাদক স্টোরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


উখিয়ায় আশ্রয়শিবিরে আগুন, ঠাঁই হারালেন ২,২০০ রোহিঙ্গা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটেছে। এতে অন্তত দুই হাজার ২০০ রোহিঙ্গা তাদের মথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছেন। পুড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৩টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে বলে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জানিয়েছেন এপিবিএন-৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ।

এদিকে শরণার্থী কমিশন থেকে পাঠানো এক তথ্যে জানানো হয়, ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে রাতে রান্নাঘরে চুলায় পানি গরম করতে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এতে চুলার ওপর রাখা পাত্র শুকিয়ে আকস্মিকভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়।

মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী ডি-১, ২ ও ৩ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে যায়। এতে ৪৮১টি শেল্টারসহ ১০টি লার্নিং সেন্টার, একটি মকতব ও দুটি মসজিদ পুড়ে গেছে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, UNHCR ও অন্যান্য এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অস্থায়ী আশ্রয়, জরুরি খাদ্য ও সহায়তা দেওয়া শুরু করা হয়েছে।’

আগুনে ঘর হারানোদের জন্য অস্থায়ী ছাউনিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং খাদ্য নিরাপদভাবে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

ডি-৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে উঠে দেখি চারদিকে আগুন। কোনোরকম প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি।’ আমার ব্লকের একটি ঘরও আর অবশিষ্ট নেই, সব পুড়ে গেছে।

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আহমেদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য সাতজন। এমনিতেই শীতের কষ্ট, তার ওপর ঘর হারালাম। এখন কোথায় যাব, কীভাবে থাকব কিছুই বুঝতে পারছি না।’

উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়।’

এপিবিএন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।’

ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন নতুন ঘটনা নয়। অস্থায়ী ঘরবাড়ি, ঘনবসতি ও সীমিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই বড় ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটছে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এর আগের দিন রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও আগুনে অন্তত ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।


সলিমপুরের সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম ভাঙতে আরও কঠোর হচ্ছে র‌্যাব

* ২০০৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত র‌্যাবের ৭৬ জন সদস্য শহীদ হয়েছেন * নিহত সদস্যের জানাজায় অংশ নিলেন র‌্যাব মহাপরিচালক
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্যকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীরা ‘রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী নন’ উল্লেখ করে বাহিনীর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম যেকোনোমূল্যে নির্মূল করা হবে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা আমরা ভেঙেচুরে গুড়িয়ে দেব।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর পতেঙ্গায় র‌্যাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক এ কথা বলেন। সেখানে নিহত র‌্যাব সদস্যের নামাজের জানাজা শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।

এর আগে, গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে যাওয়া র‌্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এতে র‌্যাব সদস্য বিজিবির নায়েক সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (৪৮) নিহত হন। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। একই হামলায় আরও তিনজন র‌্যাব সদস্য আহত হন। তারা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

র‌্যাবের ভাষ্য, ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী’ অবস্থানের খবর পেয়ে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানে গিয়েছিল র‌্যাবের একটি টিম। এ সময় র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী র‌্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এ ঘটনায় হত্যা মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে ব্রিফিংয়ে র‌্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের একটা আড্ডাখানা, একটা ডেনে (আখডা) পরিণত হয়েছে। এটি আমরা খুব শিঘ্রই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, এখানে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছে, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আছে, তাদের আমরা নির্মূল করব। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা আমরা ভেঙেচুরে গুড়িয়ে দেব। এটুকু আমরা আপনাদের কথা দিতে পারি।’

নিহত মোতালেবের স্ত্রী এবং ছেলে ও দুই মেয়ে র‌্যাব মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন।

উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর পাহাড়ে ৫টি মৌজায় প্রায় ৩,১০০ একর সরকারি খাসজমি আছে। চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদসহ আরও বিভিন্ন সংগঠনের নামে সেই খাসজমি দখল করে প্রায় তিন দশক ধরে সেখানে পাহাড় কেটে ও জঙ্গল সাফ করে প্লট বিক্রি করা হয়। নিম্ন আয়ের লোকজন সেই প্লট কিনে সেখানে বসতি ও দোকানপাট গড়ে তোলে, যার মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাও আছে। জেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও সেখান থেকে তাদের সরাতে পারেনি। সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী ওই এলাকায় প্রায় ১৯ হাজার মানুষ বসবাস করে।

২০২২ সালে এ খাস জমি দখলমুক্ত করার জোরালো উদ্যোগ নিয়ে জেলা প্রশাসন সেখানে ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা ক্যাম্প ও চেকপোস্ট’ স্থাপন করে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুর আবারও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর ভোরে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় ইয়াছিন ও রোকন-গফুর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে রোকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন এবং আহত হন বেশ কয়েকজন।

ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব মহাপরিচালক যৌথবাহিনী গঠন করে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানো হবে জানিয়ে বলেন, ‘আমরা এবার চেষ্টা করব, দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যতগুলো বাহিনী আছে সেনাবাহিনীসহ, আপানারা জানেন সেনাবাহিনী এখন মাঠে দায়িত্বরত আছে। সুতরাং সকল বাহিনী-সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র‌্যাব, এপিবিএন, জেলা পুলিশ সবাই মিলে… আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে অলরেডি যোগাযোগ করেছি, এখানে এই যে একটা অভয়াশ্রম তৈরি হয়েছে সন্ত্রাসীদের, এই জায়গাগুলো যদি সরকারি জায়গা হয়, সরকার যেন তার এই জায়গা উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’

তিনি আরও বলেন ‘সেখানে যত সময় লাগে এবং যতদিন লাগে, এই সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম সেটাকে আমরা নির্মূল করব। এ জন্য আমাদের যতদিন যে প্রক্রিয়া লাগে, যা কিছু লাগে…। কারণ তারা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী না, এটা আমাদের বুঝতে হবে। এতদিন এটা করা হয়নি, বাট এবার ইনশাআল্লাহ এই সন্ত্রাসীদের যে অভয়াশ্রম এটা আমরা নির্মূল করব ইনশাআল্লাহ।’

স্বল্প জনবল নিয়ে অভিযানে যাওয়া এবং কৌশলগত কোনো ভুলত্রুটি ছিল কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের জনবল একেবারে কম ছিল না। পঞ্চাশ জনের ওপরে সদস্য ছিল এবং আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, তাতে ওখানে আমাদের অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করা যাবে, এ ধরনের একটি ধারণার বশবর্তী হয়েই কিন্তু অভিযানটা পরিচালনা করা হয়েছিল। একটা তদন্ত পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখবে যে অভিযানে কোনো ভুলত্রুটি ছিল কী না। যদি কোনো ভুলত্রুটি পাওয়া যায় তাহলে সেটা কারেকশন করে ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালোভাবে, আরও দৃঢ়ভাবে, আরও সফলতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করব।’

‘রাইট অব প্রাইভেট ডিফেন্সে আমাদের অধিকার ছিল সন্ত্রাসীদের গুলি করা। কিন্তু আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সেখানে হয়তো আরও ক্যাজুয়ালিটির আশঙ্কা ছিল, আমাদের সদস্যরা সন্ত্রাসীদের দিকে গুলি ছুঁড়লে সাধারণ জনগণও আহত-নিহত হওয়ার আশঙ্কার কারণে হতো তারা গুলি করেনি। তবে আমরা পুরো অভিযানটি একটি এনকোয়ারি করে দেখব যে এখানে আমাদের কোনো ভুলত্রুটি আছে কী না। ভুলত্রুটি থাকলে সেগুলো সংশোধন করে ভবিষ্যতে আমরা আরও সফলতার সঙ্গে এই অভিযানগুলো পরিচালনা করব।’

জানাজার আগে, নিহত মোতালেবের স্ত্রী এবং এক ছেলে ও দুই মেয়ে র‌্যাব মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাদের সান্ত্বনা দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন মোতালেবের স্ত্রী-সন্তানরা। তারা হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন।


ফটিকছড়ির চা-বাগানে দুই বস্তায় মিলল ৯ বন্দুক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একটি চা-বাগান থেকে দুটি বস্তা ভর্তি দেশে তৈরি ৯টি একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোরে অভিযান চালিয়ে জেলা ও থানা-পুলিশ ভুজপুর থানার সুয়াবিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বারোমাসিয়া চা-বাগানের জঙ্গল থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।

পরে পুলিশের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টি কে গ্রুপের মালিকানাধীন বারোমাসিয়া চা-বাগানের পেছনের জঙ্গলের ভেতর সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া দুটি বস্তা থেকে দেশে তৈরি ৯টি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। ওই স্থানে সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়েছে, এমন তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। তবে অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ ও ভুজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে।

ভুজপুর থানার ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাশকতা সৃষ্টি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা এসব আগ্নেয়াস্ত্র সেখানে মজুত করে রেখেছিল। এ ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ভুজপুর ও ফটিকছড়ি থানার বিভিন্ন এলাকায় এর আগেও পুলিশের অভিযানে আগেও নানা স্থান থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।


গাকৃবিতে দুধের গুণগত মান যাচাইকরণে খামারি প্রশিক্ষণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাকৃবি প্রতিনিধি

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) কর্তৃক ‘উদ্ভাবিত ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খামারির দোরগোড়ায় দুধের গুণগত মান যাচাইকরণ’ শীর্ষক এক খামারি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খামারির পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য আর ভোক্তার জন্য নিরাপদ দুধ এই দুয়ের সেতুবন্ধন গড়তে ভ্রাম্যমান দুধ পরীক্ষাগারের ব্যবহার ও হাতে-কলমে শিখে বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের আয়োজনে এ খামারি প্রশিক্ষণটি মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাকৃবির বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন।

প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ডেইরি ও পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এবং ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগার প্রযুক্তির উদ্ভাবক ড. মো. মোর্শেদুর রহমান। গাজীপুর জেলার কাউলতিয়া থেকে ২০ জন এবং গাজীপুরের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ২০ জনসহ মোট ৪০ জন খামারি এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির বিভিন্ন অনুষদীয় ডিনরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের সহযোগী পরিচালক এবং অনুষ্ঠানের সঞ্চালক প্রফেসর ড. মো. মামুনুর রহমান। পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, দেশে প্রথমবারের মতো গাকৃবি উদ্ভাবিত ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগারটি পুষ্টিমান নির্ণয়, ভেজাল নির্ণয়, অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি, ম্যাস্টাইটিস পরীক্ষা, জীবাণুর সংখ্যা নির্ণয়সহ নাগরিক সচেতনতা, পরীক্ষণ, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে আসছে।


নিহত র‍্যাব কর্মকর্তার গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেবের স্ত্রী শামসুন্নাহারের আহাজারি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার নিজ জন্মস্থান কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অলিপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রিয় মানুষকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।

ভোর থেকেই আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ মোতালেব হোসেনের বাড়িতে ছুটে আসেন। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। স্বজনদের আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে শোকে।

নিহত মোতালেব হোসেন ছিলেন ১১ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই ভাইবোনদের আদর-স্নেহে বড় হলেও সাহসী মানুষ হিসেবেই নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন তিনি। এলাকায় তিনি ছিলেন- একজন নম্র, ভদ্র, পরোপকারী ও মিশুক মানুষ হিসেবে সুপরিচিত। মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার গুণে তিনি সবার প্রিয় ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই মো. মুজিবুর রহমান ভুইয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘প্রথমে ফোনে জানানো হয় আমার ভাই একটি বড় অপারেশনে গেছে, সে অসুস্থ। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ফোনে জানানো হয়—আমার ভাই আর নেই।’ তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য আমার ভাই জীবন দিয়েছে। সে আমাদের গর্ব। কিন্তু যারা এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘(গত) শুক্রবার আমার ভাই বাড়িতে এসেছিল। চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় তার বড় মেয়ে বারবার বলছিল—‘‘আব্বু আজ যেয় না।’’ মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে মোতালেব বলেছিল, সরকারি কাজ, যেতেই হবে। মেয়েটি কান্না বুকে জমা রেখেই বাবাকে বিদায় দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে, আমরা তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র দুই দিন আগে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যান মোতালেব হোসেন। যাওয়ার সময় বড় মেয়ে তাকে কর্মস্থলে যেতে বাধা দিয়েছিল বলেও পরিবার জানায়। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।

চাকরি থেকে অবসরের পর গ্রামের বাড়িতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রায় দুই বছর আগে বাড়িতে একটি ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন, যা এখনো অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, মোতালেব হোসেন ছিলেন- অত্যন্ত শান্ত, নম্র ও সৎ স্বভাবের মানুষ। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।

১ নম্বর কালিরবাজার ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মোতালেব হোসেন ছিলেন- এলাকার গর্ব। তার মতো একজন সৎ ও সাহসী মানুষকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

এদিকে কুমিল্লা সদরের অলিপুরের নিজ বাড়ির সামনে মসজিদের পাশেই তাকে দাফন করা হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় র‍্যাবের একটি দল সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়ে। হামলায় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। আহত হন আরও তিন র‍্যাব সদস্য। মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গিয়ে র‍্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আহত তিনজন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল চট্টগ্রামের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আকস্মিক এমন সংবাদ শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না মোতালেবের স্বজনেরা। গত সোমবার সংবাদটা পাওয়ার পর থেকে মুহূর্তের জন্য শোকের লাগাম আলগা করতে পারেননি তারা। মোতালেবের স্ত্রী শামসুন্নাহার একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল।’ আর কিছু বলতে পারলেন না তিনি। সন্তানদের জড়িয়ে ধরে নিজের পড়ে যাওয়া ঠেকিয়ে রাখছিলেন কেবল।

পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া সিদরাতুল মুনতাহা কান্না থামাতে পারছিল না। সে বলে, ‘আব্বু আব্বু ডাকছি, আমার আব্বু কথা বলছে না। আমার আব্বুকে কেন খুন করা হলো।’

বাবা হত্যার বিচার চায় মোতালেবের বড় মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া শামিমা জান্নাত। সে বলেন, ‘এভাবে আমার বাবাকে কেউ মেরে ফেলবে কেন। বাবা তো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গিয়েছিল। কেন তাকে মরতে হলো।’

মোতালেবের স্নাতকপড়ুয়া বড় ছেলে মেহেদী হাসান একেবারে স্তব্ধ, চুপচাপ। কাছে গিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বাবার স্মৃতিচারণা করলেন। বললেন, ‘বাবার সঙ্গে আমার খুব মধুর সম্পর্ক ছিল। সব সময় মা ও বোনদের দেখে রাখার জন্য বলতেন। ভালোভাবে যাতে পড়াশোনা করি পরামর্শ দিতেন। বাবাকে হারিয়ে এখন আমরা দিশাহারা। আমাদের কী হবে, জানি না।’

মোতালেব এর মৃত্যুর খবর শুনে কুমিল্লা থেকে ছুটে আসেন তার দুই ভাই আমির হোসেন ভূঁইয়া ও আবদুস সালাম ভূঁইয়া। তারা মোট আট ভাই। বড় ভাই আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার ভাই খুব অমায়িক ছিলেন। আমাদের পরিবারে তার শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না।’

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র‌্যাব, সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত একটি যৌথ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।


banner close