রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

শিশু মুনতাহাকে হত্যা করেন তার গৃহশিক্ষিকা!

সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত
সিলেট ব্যুরো
প্রকাশিত : ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ১৮:৫৮

কানাইঘাটের শিশু মুনতাহা আক্তার জেরিন (৬) কে হত্যা করেছে তার সাবেক গৃগশিক্ষিকা মার্জিয়া আক্তার সুমি। এতে সুমিক সহযোগীতা করেন তার মা।

আজ রোববার ভোরে সুমির মা মুনতাহার মরদেহ অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন। এমনটি জানিয়েছেন কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আওয়াল।

তিনি জানান, এ ঘটনায় গৃ্‌হশিক্ষিকা সুমি এবং তার মা আলিফজান বিবি ও তার আরেক মেয়েকে আটক করা হয়েছে। তারা মুনতাহাদের পাশের বাসারই বাসিন্দা।

৮ দিন নিখোঁজ থাকার পর রোববার (১০ নভেম্বর) ভোর চারটার দিকে মুনতাহার নিজ বাড়ির পুকুরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পুলিশের ধারণা, পূর্ব শত্রুতার জেরে মুনতাহার সাবেক প্রাইভেট শিক্ষিকা তাকে অপহরণ করে হত্যা করেন। প্রতিবেশি ও মুনতাহার শিক্ষক সুমিকে শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষোভ ছিল তার পরিবারের উপর। এছাড়া সুমির উপর চুরির অপবাদ দেওয়ার ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে।

এর আগে গত ৩ নভম্বের দুপুর থেকে নিখোঁজ ছিলো সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার এই শিশু। মুনতাহা উপজেলার সদর ইউনিয়নের বীরদলের ভাড়ারিফৌদ গ্রামের শামীম আহমদের মেয়ে। মুনতাহার নিখোঁজের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক তোলপাড় হয়। তার সন্ধান চেয়ে দেশ-বিদেশে অনেকে পুরষ্কারও ঘোষণা করেন তার পরিবার।

কানাইঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল আওয়াল বলেন, শনিবার রাতেই সন্দেহবশত আমরা মুনতাহার হাউস টিউটর সুমিকে ধরে নিয়ে আসি। তার কথাবার্তা অসংলগ্ন মনে হচ্ছিল। তখন হাউস টিউটরের বাড়ির দিকে নজর রাখার জন্য রাতেই আমরা মুনতাহার পরিবারের সদস্যদের বলি।

তিনি বলেন, ভোরের দিকে মুনতাহার পরিবারের সদস্যরা দেখতে পান বাড়ির পাশের একটি ছড়ার মাটি খুঁড়ে মুনতাহার মরদের পাশের পুকুরে ফেলে দেন ওই হাউস টিউটরের মা আলিফজান বিবি। সঙ্গে সঙ্গিই স্থানীয়রা আলিফজান বিবিকে আটক করে আমাদের খবর দেন। আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করি এবং হাউস টিউটরের মা ও তার নাতনীকে ধরে নিয়ে আসি।

মরদেহের গলায় রশি পেঁচানো ছিল ও শরীরে ক্ষত চিহ্ন রয়েছে জানিয়ে ওসি বলেন, আমাদের জিজ্ঞাসাবাদে হাউস টিউটর ও তার মা মুনতাহাকে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। পূর্ব বিরোধের কারণে এটি হয়ে থাকতে পারে।

মুনতাহা চাচা কায়সার আহমেদ জানান, মুনতাহার সাবেক গৃহশিক্ষিকা সুমি পুর্ব শত্রুতার জেরে অপহরণ ও তাকে হত্যা করে। পরে, বাড়ির পাশে ডোবায় কাঁদার নিচে পুঁতে রাখে। ভোরের দিকে সুমির মা আলিফজান বিবি সেই লাশ সরিয়ে নিতে গেলে জনতার হাতে আটক হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।

সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) মো রফিকুল ইসলাম জানান, সুমির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী ৩ নভেম্বর রাতেই মুনতাহাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর ডোবায় ফেলে রাখা হয়। সুমিকে শিক্ষকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় ক্ষোভ থেকে এই হত্যাকাণ্ড ঘটাতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গত ৩ নভেম্বর সকালে বাবার সঙ্গে স্থানীয় একটি ওয়াজ মাহফিল থেকে বাড়ি ফিরে মুনতাহা। পরে প্রতিদিনের মতো আশপাশের বাড়িতে শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করতে যায়। কিন্তু বিকেলে হলে বাড়ি না ফিরলে খোঁজাখুঁজি শুরু হয়। তারপর তাকে আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এদিকে এ ঘটনার পর ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ভোরেই সুমির ঘরে আগুন লাগিয়ে দেন। আর দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে মুনতাহার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।


কুষ্টিয়ায় যুবক খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে জনি ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবককে খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির মা হাসু খাতুন বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় গত শনিবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেন। এর আগে শনিবার উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকার একটি কবরস্থানের পাশ থেকে পুলিশ জনির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত জনি ওই ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি জামালপুর গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, জনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মাদক কারবারি সোহানের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সোহানের লোকজন জনিকে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার পিঠে একাধিক সেলাই দিতে হয়। হামলার ভয়ে জনি শুক্রবার রাতে মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অবস্থান করেন। শনিবার দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


পিরোজপুরে সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎‎পিরোজপুর প্রতিনিধি

‎‎পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ‎‎শনিবার পিরোজপুর সদর উপজেলার শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে বিকেল তিনটায় উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎‎সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলাউদ্দিন ভূইয়া জনি।

‎‎বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.দা.) এস এম আল আমিন, পিরোজপুর সদর থানা উপপুলিশ পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মো. জহিরুল হক, পিরোজপুর প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক এস এম তানভীর আহমেদ প্রমুখ।

‎‎উক্ত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদ (১১-২০ গ্রেড) এর সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা।


অবশেষে সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেল বাকসু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেয়েছে। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় বাকসু গঠনতন্ত্রের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ইংরেজি নাম হবে –‘Barishal University Central Students’ Union (BUCSU) এবং এর বাংলা নাম হবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে বাকসুর খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের কালক্ষেপণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাকসুর খসড়া গঠনতন্ত্র সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলে পাস করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট অনুমোদিত গঠনতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষামন্ত্রালয়ে পাঠানো হবে। তারপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।


শ্রীবরদীতে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় শেরপুরের শ্রীবরদীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার রাতে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ওসহযোগী সংগঠন এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রহিম দুলালের আহ্বানে এ দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল। শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলালসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কোরআনখানি, মিলাদ ও বাংলাদেশের অভিভাবক গনতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন করে সফল সিংড়ার জাহিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামে নতুন এক সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন। এই জাতের হাঁসের প্রতিটির ওজন হয় গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত। স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অনন্য এই হাঁসের ডিম ও মাংসের বাজারে এখন ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। আর এই হাঁস পালন করেই সিংড়ার দুই যুবক সালা-দুলাভাই জাহিদ মাহমুদ ও আবু হাসান গড়ে তুলেছেন চলনবিল হেচারি সিংড়া নামে সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামের তরুণ খামারি জাহিদ মাহমুদ কয়েক বছর আগেও ছিলেন ঋণগ্রস্ত। জীবনের নানা সংকটে জর্জরিত অবস্থায় একসময় তার মাথায় আসে হাঁস পালনের চিন্তা। সে ভাবনাটিই তার জীবনে ঘুরে দেয় সফলতার চাকা।

খামারি জাহিদ জানান, তখন আমার প্রায় ৮ লাখ টাকার ঋণ ছিল। একদিন প্রবাসী দুলাভাই হাসান আলীর সঙ্গে কথা বলি। তিনি উৎসাহ দেন এবং তিনি টাকা দিয়ে ১০০টি বেলজিয়াম হাঁস কিনে দেন। সেখান থেকেই শুরু।

চার বছর আগের সেই ছোট উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক খামারে। বর্তমানে তাদের খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০টি। হাঁসের পাশাপাশি এখন তারা বাচ্চা উৎপাদনও শুরু করেছেন। বছরে তাদের মোট আয় ২৪ লাখ টাকারও বেশি।

জাহিদ আরও বলেন, আমরা এখন প্রতিমাসে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করি। ডিম, বাচ্চা ও হাঁস বিক্রি করেই এ আয় হয়। আমি হাঁস পালন করে সব ঋণ শোধ করেছি, এখন নিজেই অনেকের কর্মসংস্থান তৈরি করেছি।

এ খামারে প্রতিটি হাঁস ৪৫ দিনের মধ্যেই ৩ কেজি ওজনের হয়। ফলে স্বল্প সময়েই বিক্রিযোগ্য হয়ে ওঠে। তারা জানায়, একটি হাঁসের ডিমের দাম ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত, আর একটি বাচ্চা বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়।

খামারটিতে এখন কাজ করছেন ৪জন স্থানীয় যুবকও। এতে শুধু জাহিদ ও হাসান নন, আশপাশের অনেক বেকার তরুণও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন হাঁস পালনে।

খামারি আবু হাসান জানান, স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন শুরু করা যায়। নিয়মিত যত্ন, সঠিক খাবার ও ভ্যাকসিন প্রয়োগে ভালো ফল পাওয়া যায়। হাঁসগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে, ফলে খুব অল্প সময়েই লাভ পাওয়া সম্ভব।

জাহিদ বলেন, একসময় মানুষ বলত হাঁস পালনে ভবিষ্যৎ নেই, এখন তারা নিজেরাই জানতে আসে হাঁস পালন কেমন লাভজনক ব্যবসা। আমরা চাই, আরও তরুণ এগিয়ে আসুক এই খাতে। আমরা প্রথমে ভাবিনি এত দ্রুত উন্নতি হবে। কিন্তু হাঁসের ডিম ও মাংসের চাহিদা এখন অনেক। অনেকেই আমাদের কাছ থেকে হাঁসের জাত সংগ্রহ করে পালন শুরু করেছেন।

সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. তাশরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের আমরা সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। হাঁস পালনের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহায়তা, পরামর্শ ও ভ্যাকসিন আমরা বিনামূল্যে প্রদান করি। উপজেলায় বর্তমানে বেলজিয়াম জাতের একটি বড় খামার রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।


সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপনে মানতে হবে যে সব নির্দেশনা

আপডেটেড ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৫:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। মনোমুগ্ধকর দ্বীপটির স্ফটিক-স্বচ্ছ নীল জলরাশি, জীবন্ত প্রবাল প্রাচীর, নারকেল গাছের সারি আর সামুদ্রিক জীবনের প্রাচুর্য পর্যটকদের সব সময় কাছে টানলেও, সেখানে ভ্রমণে বিধি-নিষেধ আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। বন্ধ করা হয় দ্বীপটিকে রাত্রিযাপন। অবশেষে সেখানে রাত্রিযাপনের সুযোগ মিলছে।
স্থানীয়ভাবে ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ নামেও পরিচিত দ্বীপটি শান্ত সৈকত এবং ডুবো জগতের সৌন্দর্য এটিকে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে, যেখানে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পর্যটকরা প্রকৃতির এই অনন্য সৃষ্টি উপভোগ করতে আসেন। সেই সময়টি আবারও আগত।
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। পর্যটকদের জন্য থাকছে রাত্রিযাপনের সুযোগও। তবে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের সীমা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। পালন করতে হবে ১২টি কঠোর নির্দেশনা।
কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সোমবার সকাল সাতটায় জাহাজ ছেড়ে যাবে। পরের দিন বেলা তিনটায় সেন্টমার্টিন থেকে সেই জাহাজ কক্সবাজারে ফিরে আসবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দুই মাস ভ্রমণ করতে পারবে পর্যটকরা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন নামের চারটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি পেয়েছে।
শাহিদুল আলম আরও বলেন, সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন। আগে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করলেও নিরাপত্তার কারণে এখন কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করবে। তার জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, পর্যটক পারাপারের সময় জাহাজগুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে দেওয়া হবে না। এ জন্য নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ও সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ব্যাপারে গত ২২ অক্টোবর ১২টি নির্দেশনাসহ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। সেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন। রাত্রিযাপন করা যাবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।


‘বিজয় মশাল রোড শো’ করবে বিএনপি, ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে সাড়ম্বরে গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী রোড শো করবে দলটি। এছাড়া ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি।
গতকাল শনিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশ এবং জনগণের বিজয়ের এই আনন্দঘন উপলক্ষ আরও বর্ণিল আনন্দময় এবং অর্থবহ করতে এবারও বিএনপি সারাদেশে সাড়ম্বরে গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে আলোচনা সভা, বিজয়ের রোড শো-সহ মাসব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির উদ্যোগে ১ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ কর্মসূচি ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুরুতেই বাংলাদেশের গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আপনাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকেও জানাই পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির অভিনন্দন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে গণতান্ত্রিক অধিকারহারা জনগণ ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণে অত্যাচারিত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের জেরে শেষ পর্যন্ত হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীর কাছে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বিজয়ের আনন্দ ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।
ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। সুতরাং, কালুরঘাট আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য অংশ। এই ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকেই শুরু হবে এবারে বিএনপির ‘বিজয় মাস’ উদযাপন কর্মসূচি। ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বিজয় মশালযাত্রা শুরু করবে। মশাল মিছিল কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিন চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে পৌঁছবে। বিজয় মিছিলের মশাল বহন করবেন ১৯৭১ সালের একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০১৪ সালের একজন জুলাই যোদ্ধা। আমরা মনে করি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের আর ২০২৪ হলো দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুরে বিজয় মশাল রোড শো এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিভাগে মশাল বহন করবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাই যোদ্ধা।
মির্জা ফখরুল বলেন, দুই সপ্তাহের এই বিশেষ ‘রোড শো’ উদযাপনের সময় বিভিন্ন বিভাগের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধের গান, দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ প্রচার, জাসাসের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ডকুমেন্টারী প্রদর্শিত হবে। একইসঙ্গে জনগনে সামনে তুলে ধরা হবে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি। এই পুরো আয়োজনে বিএনপির থিম সং, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
দেশের সকল বিভাগ ঘুরে বিজয় মশাল সবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছবে। একই দিন ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’। বিজয় মাস উপলক্ষে এই বিশেষ কর্মসূচি ছাড়াও পাশাপাশি আরও অন্যান্য কর্মসূচি উদযাপিত হতে থাকবে।


হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদের হাসপাতালে মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তানভীর মাহমুদ (৫৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি-উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে হলমার্ক গ্রুপের (এমডি) মো. তানভীর মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি হাসপাতালের ৬ তলা ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে এক্সট্রা ১৯ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন।

তানভীর মাহমুদ হলমার্ক কেলেঙ্কারির মামলায় কারাভোগ করছিলেন। রাজধানীর রমনা থানার একটি মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।সূত্র : বাসস


খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় দেশজুড়ে প্রার্থনা

আপডেটেড ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:২৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় দেশজুড়ে প্রার্থনা। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আপসহীন খেতাব পাওয়া দেশনেত্রী এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শয্যাশায়ী। ভুগছেন বার্ধক্যজনিত নানা ব্যাধিতে। গত ৬ দিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে তাকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।

এদিকে দেশের জনপ্রিয় এই নেত্রীর অসুস্থতায় দেশের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু সর্বস্তরের মানুষ দোয়া কামনা করেছেন। মিলাদ-মাহফিলসহ মসজিদ-মাদ্রাসায় চলছে আরোগ্য কামনা। শনিবার উপদেষ্টা পরিষদে খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসির কাছে দোয়া কামনা করা হয়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে গত শুক্রবার নয়াপল্টনে দোয়া মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের পরপরই দলের নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হাসপাতালে যান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। রাতে একে একে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মির্জা আব্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, ম্যাডামকে দেখে মনে হয়েছে, উনি স্ট্যাবল নন। ম্যাডামের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি। রাতে হাসপাতালে ছুটে যান বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দলিব রহমান পার্থ। তিনিও হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের কাছে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উৎকণ্ঠার কথা জানান। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

এদিকে মায়ের অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে আবেগঘন বার্তা দেন জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশবাসীর কাছে মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়ে তিনি লিখেন, এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।

ওদিকে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নানা মন্তব্য লিখেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনেকে স্বৈরাচার আমলের খালেদা জিয়ার আপসহীন নানা বক্তব্য ফেসবুক শেয়ার করে তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়ার আহ্বান জানাই।

মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী ফেসবুকে লিখেন, সেরে উঠুন বাংলাদেশ…। একজন অভিভাবক হিসেবে, যার সুস্থতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দীপ্ত শক্তি, ভাগ্যাহত মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের মসৃণ যাত্রা। ম্যাডাম জিয়া সুস্থ হোন—হৃদস্পন্দনে ফিরুক বাংলাদেশ। মহান আল্লাহ তার ওপর অপার করুণা বর্ষণ করুন। আমিন।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে একটি দীর্ঘ মন্তব্য ফেসবুকে শেয়ার করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহও।

টকশোর আলোচক ডা. জাহেদ উর রহমান ফেসবুকে লিখেন, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা। ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনীম জারা নিজের ফেসবুক পেজে লিখেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা করে রাজধানীতে দোয়া মাহফিল করেছে জামায়াত নেতারা। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জন্য আজ ফজরের নামাজের পর মসজিদে মসজিদে দোয়া করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও শনিবারও দেশেব্যাপী বিভিন্ন জেলা উপজেলার মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। সর্বশেষ গত ১৫ই অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসিনার আমলে ২০১৮ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি থেকে টানা দুই বছর কারাগারে থাকাকালে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। এরপর মুক্তি দিলেও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেয়া হয়নি। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় লন্ডনের ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।


মাধবপুর ইউনিয়ন ওয়ার্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়ন ওয়ার্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের শুভ উদ্বোধন। শনিবার মাধবপুর ইউনিয়নের পদ্ধছড়া চা-বাগান মাঠে ইউনিয়ন ওয়ার্ডকাপ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৫ আয়োজন করা হয়েছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সভাপতি খাঁন মোহাম্মদ হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট ক্রীড়া অনুরাগী ও ক্রীড়া সংগঠক জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপক মো. সালাহ্ উদ্দিন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনা কমিটির সম্পাদক মো. সুমেল আহমেদের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শিবনারায়ণ শীল, ইউপি সদস্য মোতাহের আলি, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন, কমলগঞ্জ উপজেলা কোয়াব কমিটির সভাপতি মো. মামদ আলী, অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য জয়নাল আবেদীন, সমাজসেবক মোসাহিদ আলি, ভানুগাছ সিএনজি গ্রুপ কমিটির সহসভাপতি রাজা মিয়া, যুবদল নেতা সাজমান আহমেদ রিপন প্রমুখ।

অতিথিরা বক্তব্যে বলেন, যুবসমাজকে সঠিক পথে রাখতে ক্রীড়া কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেলাধুলা শুধু বিনোদন নয়; এটি ভ্রাতৃত্ব, শৃঙ্খলা, নেতৃত্বগুণ ও ইতিবাচক মনোভাব তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আমরা চাই, আমাদের তরুণরা মাঠমুখী হোক, সুস্থ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নিজেদের প্রতিভা বিকশিত করুক।

বক্তারা আরও বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে এমন উদ্যোগ গ্রহণ করায় সমাজে সৌহার্দ্য ও ঐক্যের পরিবেশ সৃষ্টি করে, যা একটি সুন্দর সমাজ গঠনে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

আয়োজক কমিটি জানায়, তরুণ সমাজকে মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে রেখে খেলাধুলার মাধ্যমে সুস্থ ধারায় ফিরিয়ে আনা এবং প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। মাধবপুর ইউনিয়নের মোট আটটি ওয়ার্ডের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে লীগ পদ্ধতিতে প্রতিযোগিতা পরিচালিত হবে।

আলোচনা পর্ব শেষে প্রথম ম্যাচের টসের মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। শুরুতেই স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে খেলাধুলার প্রতি স্থানীয় তরুণদের আগ্রহ ও উচ্ছ্বাসকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।


নেত্রকোনায় দক্ষতা উন্নয়ন ডিজিটাল প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় স্থানীয় পাবলিক হলে নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সভাপতি ও ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী বিশিষ্ট অর্থোপেডিক্স চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এই প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেন। যুব সমাজের মধ্যে ডিজিটাল উদ্বোধনী বক্তব্যে আনোয়ারুল হক বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কর্তৃক ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে যুব সমাজকে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা। তারেক রহমানের নির্দেশেই আমি নেত্রকোনায় ডিজিটাল দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করেছি। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, ডাক্তার আনোয়ারুল হকের সহধর্মিণী ডাক্তার লুৎফা হোক, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নুরুজ্জামান নুরু, সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তাজউদ্দীন ফারাস সেন্টু, জেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহাবুদ্দিন রিপন, পৌর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি কামরুল হক, বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মেহেরুল আলম রাজুসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। কর্মশালা পরিচালনা করেন, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর অঙ্কন পুরকায়স্থ, ট্রেইনার দ্বীপ দে, তৌফিকুল আরাফাত। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রায় ৫ শতাধিক বেকার যুবক-যুবতী অংশগ্রহণ করেন। দক্ষতা অর্জন ও আত্মনির্ভর হওয়ার লক্ষ্যে ‘ডিজিটাল দক্ষতাবিষয়ক প্রশিক্ষণ’ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।


দিনাজপুরে প্রক্সি দিতে গিয়ে ছাত্র, ডিভাইসসহ ছাত্রী আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

দিনাজপুরে সহকারী খাদ্য পরিদর্শক পদে পরীক্ষা চলাকালীন সময় দুজনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এদের মধ্যে প্রক্সি দিতে এসে মিফতাহুল জান্নাত নামে এক শিক্ষার্থী ও ডিভাইসসহ শিরিন আক্তার নামে আরেকজনকে আটক করা হয়। শনিবার সকালে দিনাজপুর কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও সদর উপজেলার পরাজপুর ফাসিলাডাঙ্গা হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়।

মিফতাহুল রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ছোট রসুলপুর গ্রামের রেজাউল করীমের ছেলে ও রংপুর কারমাইকেল কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি দিনাজপুরের ওমর ফারুক নামের একজনের হয়ে (প্রক্সি) পরীক্ষায় অংশ নিতে এসেছিলেন। তাকে মাতা সাগর দিনাজপুর কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্র (টিটিসি) থেকে আটক করা হয়।

এদিকে ডিভাইস নিয়ে পরীক্ষা দিতে এসে পুলিশের হাতে আটক হয়েছেন শিরিন আক্তার নামের এক চাকরিপ্রত্যাশী। তিনি দিনাজপুর সদর উপজেলার পরাজপুর ফাসিলাডাঙ্গা হাইস্কুল কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন। তার বাড়ি পঞ্চগড় জেলায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সকালে দিনাজপুর কারিগরি শিক্ষাকেন্দ্রে (টিটিসি) সহকারি খাদ্য পরিদর্শক পদে নিয়োগ পরীক্ষা ছিল। মিফতাহুলের কক্ষ ছিল ভবনের নিচতলায় অটোমেটিক ট্রেড কক্ষে। কক্ষ পরিদর্শক উত্তরপত্রে স্বাক্ষর করতে গিয়ে ছবির মিল না পাওয়ায় সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সব কথা স্বীকার করেন মিফতাহুল। পরে তাকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিফতাহুল স্বীকার করেন, রংপুর শহরের নজরুল চত্বর এলাকায় মেসে থাকেন। সেখানে বাসা ভাড়া ও খাবার বাবদ বকেয়া পড়েছিল আট হাজার টাকা। দুই মাস ধরে সেটি পরিশোধ করতে পারছিলেন না। দুদিন আগে মেস মালিক শরীফ বাবু তাকে প্রস্তাব দেন খাদ্য বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিলে মেসের বকেয়া টাকা দিতে হবে না।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এসএম হাবিবুল হাসান বলেন, ‘কিছুদিন আগে ডিভাইস নিয়ে নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার ঘটনায় একটি চক্রের তিন সদস্যকে আমরা আটক করেছিলাম। এ ধরনের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় আরও একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছি। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। চক্রের অন্য সদস্যদের ধরতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও কাজ করছে। আজকের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষাকেন্দ্র সচিবকে মামলা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


নানা আয়োজনে পঞ্চগড় মুক্ত দিবস পালিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

পঞ্চগড়ে নানা আয়োজনে মুক্তদিবস পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের স্মরণে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভার আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

দিবসটি পালনে শনিবার সকালে শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি ফলকে জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠন শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত শেষে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বধ্যভূমি স্মৃতি ফলক চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখান শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলোচনা সভা হয়।

এতে জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেন, সিভিলে সার্জন ডা. মিজানুর রহমান, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা সায়খুল ইসলাম, পিপি অ্যাডভোকেট আদম সুফি, জিপি আব্দুল বারী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বী বক্তব্য দেন।

বীর মুক্তিযোদ্ধারা এম. আলাউদ্দিন প্রধান জানান, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর পাকবাহিনী সারাদেশে আক্রমণ শুরু করলেও ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত পঞ্চগড় মুক্ত থাকে। পাকবাহিনী সড়ক পথে এসে ১৭ এপ্রিল সকাল সাড়ে ১০টায় পঞ্চগড় দখল করে নেয়। তবে তেঁতুলিয়া সড়কের অমরখানায় চাওয়াই নদীর ওপর একটি ব্রিজ ভেঙে দেওয়ায় পাকসেনারা তেঁতুলিয়া ঢুকতে পারেনি। মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়কাল তেঁতুলিয়া ছিল পাক হানাদার মুক্ত। মুক্ত অঞ্চল হিসেবে তেঁতুলিয়া সব কর্মকাণ্ডের তীর্থ ভূমিতে পরিণত হয়। অস্থায়ী সরকারের অনেক গুরুত্বপূর্ণ সভা তেঁতুলিয়াতেই অনুষ্ঠিত হয়েছিল।


banner close