২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে নির্বিচার গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী নানা অপরাধ শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। সে বর্বরতায় টিকতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে একসঙ্গে ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সময়ের পরিক্রমায় সেখানে জান্তাবাহিনীর আক্রমণ আরও বাড়ায় এদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। ১২ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ায় ও দেশটিতে তাদের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় ২০২২ সালে আর রোহিঙ্গাকে আশ্রয় না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু, এ বছর মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর যুদ্ধ ও বাংলাদেশে সরকার পতনসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে এদেশে ঢুকে পড়েছে আরও লাখখানেক রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালের আগেও এদেশে দেড় লাখ রোহিঙ্গা বসতি গেড়েছিল। তাই সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছে সাড়ে চৌদ্দ লাখ রোহিঙ্গা। শুরুতে মানবিকতা দেখালেও এখন এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের। অবস্থা এমনই যে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় এখন স্থানীয়রাই পড়েছেন হুমকির মুখে। এই দুই উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারাই রোহিঙ্গাদের কারণে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। ওই এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তো বটেই আশপাশের সব জায়গায় এমনকি কক্সবাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা দেশে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়া-টেকনাফসহ কক্সবাজারে এখন তাদের কাজ পাওয়াই কষ্টকর, তাদের চেয়ে কম মজুরিতে রোহিঙ্গারা কাজ করে বলে শ্রমবাজারের বড় অংশই এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। তাদের অভিযোগ,
উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কাজের খোঁজেই প্রতিদিন দুই শতাধিক রোহিঙ্গা বের হয় বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে। বিজিবি চেকপোস্টে কার্ড দেখিয়ে কৌশলে পার হয়ে বিভিন্ন কাজে যোগ দেন দুই শতাধিক রোহিঙ্গা।
এমনকি ক্যাম্পের বসতি ছেড়ে টেকনাফের ভাড়া বাসাগুলোতেও থাকছেন রোহিঙ্গারা।
উখিয়া ও টেকনাফ ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাটারিচালিত টমটম, মাহিন্দ্র গাড়ির চালক, খাবার হোটেল, আবাসিক হোটেল, গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে, জেলেদের ফিশিং বোটে ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য কাজ এরইমধ্যে দখল করে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ টেকনাফের স্থলবন্দরে ও রোহিঙ্গারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয় শ্রমবাজার চলে গেছে তাদের দখলে। এতে উখিয়া ও টেকনাফসহ আশপাশের স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
টেকনাফের জেলে আব্দুল হামিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের উখিয়া টেকনাফের শ্রমিকদের আগে কাজের অভাব ছিল না। এখন কাজে নেয় না আমাদের। রোহিঙ্গাদের মজুরি সস্তা তাই সব কাজ তাদের দখলে এ রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে যত বিপত্তি আমাদের। এ রোহিঙ্গা অপহরণে জড়িত। তাদের চলাফেরা দেখলে মনে হয় তারা এ দেশের নাগরিক আমরা অধিবাসী। সর্বত্রই আজও রোহিঙ্গাদের রাজত্ব ও বিচরণ চলছে।
টেকনাফ ও শাহপরীরদ্বীপ জেলে নেতা মো. করিম ও মোহাম্মদ আবদুল গণি জানান, ২০১৭ সালে নাফ নদীতে মাছ ধরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় সরকার। ওই সব বোটের মালিকরা স্থানীয় জেলেদের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা মাঝি-মাল্লাদের দিয়ে মাছ শিকার করছে। এই রোহিঙ্গা মাঝি-মাল্লারা মাছ শিকারের নামে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এবং চোরাচালান ও রোহিঙ্গা এদেশে অনুপ্রবেশ করাই আর স্থানীয় জেলেদের অগ্রিম টাকা দিতে হয় বোট মালিকদের। তাই এ কারণে ফিশিং ট্রলার চলছে রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা দিয়ে। আগে সব ফিশিং ট্রলারে মাঝিমাল্লাদের আইডি কার্ড থাকত। এখন এসব তদারকি করে না কোস্টগার্ড ও বিজিবি। তার কারণে রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা বেড়ে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রাই এখন বিপাকে। আমরা ভবিষ্যতের শঙ্কায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে আসার কোনো সুযোগ নেই। ঠিকই তারা বাইরে বের হচ্ছে, নানা কাজে জড়িয়ে পড়ছে। আজ আমরা রোহিঙ্গাদের কারণে বড় বিপদে আছি। পথে-ঘাটে, দোকানে-বাজারে, গাড়িতে সর্বত্রই তাদের দেখা মেলে। শ্রম বাজার দখল করে এখন উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়া। রোহিঙ্গারা বিচরণের ক্ষেত্রে চেকপোস্ট যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে তাদের গাফিলতি আছে।
টেকনাফ বাজারে দেখা হয় একজন রোহিঙ্গা জেলের সঙ্গে তার নাম মো. তৈয়ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিশিং ট্রলারে মাছ শিকার করে আসছেন। সপ্তাহ পর আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরে যান। কীভাবে চেকপোস্ট পার হয়ে আসা যায় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা যুবক টেকনাফ ফিশিং ট্রলারে মাছ শিকার করে। তাদের মধ্যে অনেক রোহিঙ্গা ভুয়া কার্ড তৈরি করে চেকপোস্ট পার হয়। কিন্তু কার্ড যে ভুয়া তা বোঝা যায় না।
টেকনাফ শাপলা চত্বরে দেখা মেলে রোহিঙ্গা টমটমচালক তার আবু ছৈয়দ। তিনি লেদা ক্যাম্পে থাকেন। টমটমচালক রোহিঙ্গা সৈয়দ আলম বলেন, আমি পাঁচ মাস হয়েছে টেকনাফে টমটম চালাই। টমটম মালিককে দিনে ৭০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। আমার মতো শতাধিক রোহিঙ্গা টমটম চালায়। রাতে মালিককে গাড়ি বুঝিয়ে দিয়ে ক্যাম্পে চলে যায়। মাঝেমধ্যে পুলিশ আটক করলে মালিককে ফোন দিই। মালিক এসে আমাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। টমটম লাইসেন্স মালিকের নামে। পুলিশের কড়াকড়ি হলে সেদিন মালিক না চালাতে নিষেধ করে আমাদের।
টেকনাফের বাসিন্দা মো. আবু তালহার দাবি, দুই-তিনমাস ধরেই টেকনাফে প্রতিটি ভাড়া বাসায় রোহিঙ্গা রয়েছে। প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না এদের বিরুদ্ধে। নতুন-পুরাতন মিলিয়ে রোহিঙ্গারা নির্বিঘ্নে ঘুরছে। কিন্তু স্থানীয় হলেও আমাদের সবখানে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। সস্তা শ্রম দিয়ে শুধু টেকনাফ নয়- পুরো কক্সবাজারের শ্রমবাজারে রোহিঙ্গারা। এ সুযোগও নিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মাসিক চার-পাঁচ হাজার টাকায় ওরা কাজ করে। যেখানে এক দিনে স্থানীয়দের দিতে হয় ১৫০০ টাকা। আর রোহিঙ্গাদের দিতে ১০০০ টাকা। মিয়ানমারের মুদ্রায় হিসাব করলে দিনে এর পরিমাণ হবে ৫০ হাজার টাকা। তাও রোহিঙ্গাদের জন্য বেশি। এদের কারণে স্থানীয়দের কাজের পথও রুদ্ধ করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গারা আর ফিরবে না, এটা এক রকম স্পষ্ট। শান্ত টেকনাফ আজ অশান্ত-বিশৃঙ্খল হয়েছে রোহিঙ্গাদের কারণে। শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেই স্থানীয় প্রশাসনের। ‘আমাদের অনুরোধ, টেকনাফবাসীর জন্য কিছু করুক প্রশাসন। যাতে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারি। তা না হলে টেকনাফ কেন, এক সময় পুরো কক্সবাজার চলে যাবে রোহিঙ্গাদের কবজায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. সালা উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গাদের বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিচরণের ক্ষেত্রে বিজিবি চেকপোস্ট ছাড়া যৌথবাহিনীর চেকপোস্ট ও বসানো হয়েছে। টমটম, সিএনজিচালকসহ ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বিভিন্ন কর্মে জড়িত রোহিঙ্গাদের আটক করে সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেসব ভাড়া বাসার মালিকরা রোহিঙ্গাদের ঘর ভাড়া দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
নারী ফুটবলের উচ্ছ্বাসে মুখরিত টাঙ্গাইলের গোপালপুর। হেমনগর জমিদার বাড়ি মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে মরহুম ফরহাদ হোসেন তালুকদার স্মৃতি ফুটবল একাডেমী ও ময়মনসিংহের কলসিন্দুর নারী ফুটবল দলের প্রীতি ম্যাচ।
হেমনগর স্পোর্টিং ক্লাব ও হক পল্লী ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেল ৪টায় এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত প্রথমার্ধের খেলায় মরহুম ফরহাদ হোসেন তালুকদার স্মৃতি ফুটবল একাডেমীর পক্ষে ১টি গোল করেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক স্ট্রাইকার কৃষ্ণা রাণী সরকার। এবং দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ময়মনসিংহের কলসিন্দুর নারী দলের আকলিমার গোলে সমতা ফেরান। খেলার উদ্বোধন করেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও টাঙ্গাইল-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম পিন্টু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. মাহাফুজুল আলম খান, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মঞ্জুরুল মোর্শেদ, জাতীয় নারী ফুটবল দলের সাবেক কোচ গোলাম রব্বানী ছোটন, সূতী ভিএম পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শরীরচর্চা শিক্ষক গোলাম রায়হান বাপন এবং গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি কাজী লিয়াকত, হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রোজ তালুকদার।
প্রমিলা ফুটবলের এই আকর্ষণীয় ম্যাচ উপভোগ করতে গোপালপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ২০ হাজার দর্শকের সমাগম ঘটে। দর্শকদের উচ্ছ্বাস ও উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় চার মাদক কারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) ৪ বিজিবির আওতাধীন টেকনাফের হোয়াইক্যং চেকপোস্ট ও উলুবনিয়া সীমান্তে পৃথক অভিযান চালানো হয়।
আটকরা হলেন- টেকনাফের হোয়াইক্যং কাটাখালির বক্কর আহমেদের ছেলে শাকিল (২২), মৃত কাদেরের ছেলে রাসেল (২৩), চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার গোসাইলভাঙা গ্রামের মো. নুরুল ইসলামের ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম (৩১) এবং উখিয়ার ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত সিদ্দিকের ছেলে খায়রুল আমিন (২৪)।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন উখিয়া ব্যাটালিয়ন ৬৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জহিরুল ইসলাম। তিনি জানান, এসব অভিযানে ১৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ৪ লাখ ৬০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ চার মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, প্রথম অভিযানে একটি ডাবল কেবিন পিকআপ আটক করা হয়। গাড়িটি মৌলভীবাজার থেকে টেকনাফ হয়ে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাচ্ছিল। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পিকআপটি হোয়াইক্যং বিজিবি চেকপোস্টে পৌঁছালে কর্তব্যরত বিজিবি সদস্যদের সন্দেহ হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে পিকআপের পেছনের সিট কভারের নিচে বিশেষ কায়দায় লুকানো ১ লাখ ২০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় একজনকে আটক করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযানে রাত ৯টার দিকে পালংখালী বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার হোয়াইক্যং উলুবনিয়া নামক স্থানে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অ্যাম্বুশ করে বিজিবির একটি টহল দল। এ সময় ৩ লাখ ৪০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। অভিযানে শাকিলসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকির হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে কর্মরত সাংবাদিকদের আয়োজনে উপজেলার বাদাঘাট বাজারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিকরা ছাড়াও স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের নেতা ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে গুলি করে হত্যা ও দোয়ারাবাজারে সাংবাদিক আব্দুল মোতালিব ভূঁইয়ার ওপর হামলার ঘটনা সাংবাদিক সমাজকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে।’ এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের উপযুক্ত শাস্তি এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান।
এতে বক্তব্য রাখেন কালের কণ্ঠ মাল্টিমিডিয়া তাহিরপুর প্রতিনিধি আবির হাসান-মানিক, দৈনিক খোলা কাগজের উপজেলা প্রতিনিধি রোকন উদ্দিন, দৈনিক মানবজমিনের সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি এমএ রাজ্জাক, দৈনিক ইত্তেফাকের তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আলম সাব্বির সমাজসেবক ও সংগঠক আবুল হোসেন, বাদাঘাট বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ ও গণকল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি সারোয়ার ইবনে গিয়াস।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক সংবাদের উপজেলা প্রতিনিধি কামাল হোসেন রাফি, দৈনিক বাংলা তাহিরপুর প্রতিনিধি আবুল কাশেম, এনটিভি মাল্টিমিডিয়ার উপজেলা প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া, দৈনিক আলোর সকাল অনলাইন নিউজ পোর্টালের পরিচালক মো. আ. মান্নান, দৈনিক নিউজ বাংলা তাহিরপুর প্রতিনিধি মো. বাবুল মিয়া, দৈনিক এদিনের তাহিরপুর প্রতিনিধি সামায়ুন এবং দৈনিক হাওর বাংলার তাহিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি আজহারুল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ককের ভুলতা-গাউছিয়া সড়ক থেকে হকার উচ্ছেদের পর পাল্টে গেছে এলাকার চিত্র। আগে চার লেনের সড়কের তিল লেন ও ফুটপাত দখল করে কাঁচা বাজার সহ নিত্যপণ্যের দোকান পাট বসতো। এখন আর সেই দোকানগুলো নেই। নেই কোন কোলাহল। ফুটপাত ওসড়ক থেকে হকার উচ্ছেদের পর রূপগঞ্জের ভুলতা-গাউছিয়া, রূপসী, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন এলাকার চিত্রও পাল্টে গেছে। সড়কের পাশে সিএনজি, রিকশা ও অটোরিকশা দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। যেখানে সেখানে ময়লা আবর্জনার স্তুপও নেই।
তবে এলাকাবাসী বলছে, কঠোর নজরদারি না থাকলে হয়তো আবারো ফটপাত দখল করে বসতে পারে দোকান। এ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে সচেতন মহল।
জানা গেছে, সড়কটি ঢাকা সিলেট মহাসড়ক জন্য গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ঐতিহ্যবাহী গাউছিয়া মার্কেট। প্রায় ২ বছর ধরেই গোলাকান্দাইল মজিদ প্লাজা থেকে ভুলতার রেদোয়ান টাওয়ার পর্যন্ত ১ কিলোমিটার সড়কের ফুটপাত ও মূলসড়কের ওপর গড়ে উঠা অবৈধ দোকান পাটের কারনে পথচারীদের সড়ক দিয়ে চলাচল করতে কষ্ট হইতো।
গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার ভুলতা-গাউছিয়া সহ আশপাশের এলাকায় অবৈধ স্হাপনা ও হকারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এর ফলে দীর্ঘদিনের দখলে থাকা সড়ক ও ফুটপাত দখল মুক্ত হয়েছে। পকেট মার,মলমপার্টি ও ছিনতাই কারী নেই। ভুলতা ইউনিয়নের যুবদলের কর্মীরা ও প্রশাসনের লোকজনের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে ভুলতা ফ্লাইওভারের আসা যাওয়ার এলাকা সাওঘাট, এশিয়ান হাইওয়ে সড়ক, রূপসী, মুড়াপাড়া ও কাঞ্চনসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উভয় পশের ফুটপাত ও সড়কে গড়ে উঠা ৫ শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও স্হাপনা সরিয়ে দেয়া হয়েছে। অস্থায়ী দোকান উচ্ছেদ হওয়ার ফলে চিরচেনা তীব্র যানজট ও জনজটও কিছুটা কমে এসেছে এবং পথচারী ও যানবাহন চলাচলে স্বস্তি ফিরেছে।
ফুটপাথ দখল ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের উদ্যোগে রূপগঞ্জ থানা ও ট্রাফিক বিভাগ এবং নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
অভিযান চলাকালে সড়ক ও ফুটপাথ দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ দোকান ও স্থাপনা অপসারণ করা হয়। ১৪ অক্টোবর বুধবার গোলাকান্দাইলের সাওঘাট এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। মূল সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন অবৈধ ভাসমান দোকানপাট গড়ে উঠেছিল এবং বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অবৈধভাবে তাদের মালামাল রাস্তায় ও ফুটপাথে ফেলে রেখেছিল, যার ফলে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটছিল।
কাঞ্চন বাজারে ও স্থানীয় বিএনপি যৌথ উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে ফুটপাথ দখলমুক্ত করেছে। গত ১৭ অক্টোবর সকালে কাঞ্চনপৌরসভার নেতৃত্বে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এসময় স্থানীয় বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সহ দল ও অঙ্গ -সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
রূপগঞ্জ থানার বিএনপির সভাপতি এডভোকেট মাহফুজুর রহমান হুমায়ুন বলেন, ‘যারা চাঁদাবাজির সাথে জড়িত, তাদের পরিচয় একটাই- তারা চাঁদাবাজ। কারো নাম, পরিচয় বা প্রভাব ব্যবহার করে কোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুযোগ নেই।’ তিনি আরো বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ও এশিয়ান হাইওয়ে সড়কের ভুলতা-গাউছিয়া, এলাকায় অবৈধ দখল উচ্ছেদ কার্যক্রমের পর আমরা কয়েক দফা সরজমিনে পরিদর্শন ও মনিটরিং করেছি।
জনস্বার্থে প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন স্থানে নিজ উদ্যোগে উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়েছে। পাশাপাশি এলাকার পরিবেশ সুন্দর ও সবুজ রাখতে ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও গ্রহণ করা হয়েছে।’
আরিফুল ইসলাম আরিফ ভুলতা ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কিছু ক্ষেত্রে রাস্তার পাশে থাকা ভবন বা জায়গার মালিকদের একটি অংশ অবৈধভাবে হকার বসানোর ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। অবৈধ হকারদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা বা অগ্রিম অর্থ নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। আবার কোথাও কোথাও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নাম ব্যবহার করে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়।’
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, হকার ও ভাসমান অপরাধীদের জন্য এই এলাকা চলাচলের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছিল, যা থেকে অনেকটাই রেহাই মিলেছে উচ্ছেদের কারণে। এখন দেখতে হবে এই সুন্দর পরিবেশ কত দিন টিকে।
মঞ্জু নামের এক পথচারী বলেন, হকাররা রাস্তা পর্যন্ত দখল করে রেখেছিল। যা থেকে উদ্ধার পেয়েছে পথচারীরা। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনের সদিচ্ছা থাকলে পুরো রূপগঞ্জ উপজেলাকে সুন্দর করা সম্ভব হবে।
নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান ভুইয়া দিপুর উদ্যোগে ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ হওয়া হকারদের কথা বিবেচনা করে গাউছিয়া মার্কেটের পশ্চিম পাশে সিংলাব সড়কের বালুর মাঠে দোকান বসার স্থান করে দিয়েছেন। এখন থেকে যে কোন মানুষ উন্মুক্ত জায়গায় ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। কোন প্রকার টাকা দিতে হবে না।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে সেখানে পৌঁছানোর পর তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
এর আগে রাত ৮টা ১৫ মিনিটে জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। চট্টগ্রাম ভ্রমণের অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে তিনি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং সেখান থেকে সরাসরি পূজামণ্ডপের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পূজামণ্ডপে পৌঁছালে তাকে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগরের নেতৃবৃন্দ ও সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রতিনিধিরা উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে সরকারের উচ্চপর্যায়ের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও যুক্ত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন সহ স্থানীয় বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় উপাসনালয়, পূজামণ্ডপ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ উপলক্ষে কোস্ট গার্ডের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে মোংলা উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।
তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণের জানমাল নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ড নিয়মিত কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
মহাপরিচালক জানান, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এলাকায় ১৪৪টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বিসর্জনস্থলগুলোতে বিশেষ ডুবুরি দল প্রস্তুত থাকবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগেরও আহ্বান জানান তিনি।
মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে।
সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রূপকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভেদাভেদ ভুলে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত এলসিএস (LCS) শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ জেলার পরিচালন বাজেটের আওতায় গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (Off Pavement) প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের মাঝে এসব চেক বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এলজিইডি কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নীতি বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হলো মাঠ প্রশাসন। সরকারের অর্জন ও সফলতা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনকল্যাণে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা যার যার অবস্থান থেকে জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, বলেন তিনি।
এর আগে সকাল থেকে কুলিয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সকাল ১০টায় ফরিদপুর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এরপর বেলা ১১টায় ছয়সূতীতে জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
এরপর কুলিয়ারচর কালী নদীতে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করার কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এলসিএস শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চেকপ্রাপ্ত এলসিএস শ্রমিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শ্রমিকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চেকের অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় সালুয়া এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ডুমরাকান্দা ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সড়কে গাছ ফেলে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানসহ চারটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের ৮ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনসহ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. শাকিল সরকার (২৬), মো. রুহুল আমিন (৩৫), মো. রাশেদ মিয়া (৩০), মো. রবিউল প্রধান (৩৫), মো. সাজ্জু মিয়া (৫৩), মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে চেয়ারম্যান (৪২), মো. শাহিন মিয়া (৩০) ও মো. মিরাজ মিয়া (২৬)। তাদের বাড়ি গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সোয়া ১টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় একদল ডাকাত সড়কে চলাচলরত যানবাহনে ডাকাতি করে। এ সময় চালক, সহকারী ও যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে মালামাল লুট করা হয়।
ঘটনার পর সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অভিযানে ডাকাত দলের আট সদস্যকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে- দুটি এইচপি ল্যাপটপ, ইনফিনিক্স, অপো, ভিভো, অনার ও স্যামসাং ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন, একটি ম্যাক্সটেল বাটন ফোন, একটি চাপাতি ও একটি ছুরি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, এই ডাকাতির ঘটনায় যদি আরও কোনো ডাকাত জড়িত থাকে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান- সব ধর্মের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশকে সুন্দর ও শান্তির দেশে পরিণত করতে সবাইকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ত্রিনয়নী শিববাড়ী মন্দিরের দুর্গাপূজা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্গাপূজা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ও নির্বাচনী এলাকায় পূজার আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করছেন।’
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) সিলেটের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছি এবং আজ (মঙ্গলবার) মৌলভীবাজারে এসেছি। এবারের দুর্গাপূজা আগের বছরের তুলনায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এবার পূজা উদ্যাপনে আরও বেশি সহযোগিতা করেছেন, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন।’ বাংলাদেশি হিসেবে সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্দির পরিদর্শনকালে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্যসচিব আবদুর রহমান রিপন ও সিনিয়র সদস্য এম এ মুকিত এবং ত্রিনয়নী শিববাড়ী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য, দর্শনার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী মৌলভীবাজার সদরের শ্রী শ্রী নতুন কালীবাড়ি মন্দির ও মহেশ্বরী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
প্রকল্পের শুরুতে ৫০টি বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে ৩৩০টি বাড়ি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮০টিতে। তবে প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ বাড়েনি। ফলে পুরো কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদার গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও নিরাপদ পানি পাচ্ছেন না উপকারভোগীরা। প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এই ঘটনা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরআমখাওয়া ইউনিয়নের চরমাদার গ্রামের।
জানা গেছে, চরমাদার গ্রামের ৫০টি বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ নেয় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল। দেড় বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে পাঁচ মাস দেরি করে বিএম ট্রেড নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে চরআমখাওয়ার চরমাদার গ্রামে। চরমাদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে বসানো হয়েছে ওভারহেড ট্যাংক বা উচ্চ জলাধার। দেখা যায়, উচ্চ জলাধার থেকে চারপাশের ৩৮০টি বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য পাইপ সংযোগ ও প্লাটফর্ম স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। অসমাপ্ত রয়েছে মটর বা পাম্প বসানোসহ কারিগরি কাজ। ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রকল্পটি চালু হলে আয়রণমুক্ত নিরাপদ পানি পাবে তারা । প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকারভোগীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে কমিটি করা হবে। এই কমিটির অধীনে পরিচালিত হবে প্রকল্পটি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটির চুক্তি মোতাবেক ওই এলাকার ৫০টি বাড়িতে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ৩৩০টি বাড়ি বৃদ্ধি করে ৩৮০টি বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য সংযোগ দেওয়া হয়। এতে ব্যয় বেড়ে গেলেও বাড়তি ৩৩০ বাড়িতে সংযোগ স্থাপন বাবদ প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ সমন্বয় করা হয়নি। সে কারণে প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন করে ৩০ শতাংশ কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির বাকি ৩০ শতাংশের কাজ সমাপ্ত করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দিয়ে ইতোমধ্যে চার থেকে পাঁচটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের ৬ অক্টোবর। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা আমলে নিচ্ছে না। প্রকল্পের অতিরিক্ত কাজের ব্যয় বরাদ্দ সমন্বয় না করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অসমাপ্ত কাজ করবে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
চরমাদার গ্রামের উপকারভোগী আক্কাস আলী বলেন, ‘পানির লাইনের কাজ মেলা দিন থেকে বন্ধ হইছে। কাজ বাকি আছে কিন্তু করছে না। চালু হলে আমরা নিরাপদ পানি পাইতাম। রোগবালাই হইতো না। আমাগোর দাবি, পানির লাইনডা যেন তাড়াতাড়ি হয়।’
উপকারভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজি মো. শাসছুল হক জানান, এলাকায় একটা পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি তা চালু হচ্ছে না। পানির লাইন চালু হলে গ্রামবাসী আয়রণমুক্ত নিরাপদ পানি পেত। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানান তিনি।
উপকারভোগী নুর নাহারের ভাষ্য, গিরামে (গ্রামে) পানির লাইন হইল কিন্তু আমরা সুবিধা পাইলাম না। আমাগো কলের পানিতে আয়রণ আছে। পানির লাইন চালু হইলে আমরা আয়রণমুক্ত পানি পাইতাম। আমরা ফ্রেশ পানির জন্য লাইন নিছি। কিন্তু তিন বছর পার হইলেও আমরা আয়রণমুক্ত পানি পাইলাম না।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিএম ট্রেডের প্রকৌশলী শহিদ মিয়া জানান, তাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অন্য একটি প্রকল্পের কাজে ব্যস্ত ছিল। এখন সে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। ওই প্রকল্পটির অসমাপ্ত কাজ চলতি মাসেই শুরু করা হবে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বাবলু মিয়া বলেন, ‘তারা ওই প্রকল্পে অতিরিক্ত কাজ করেছেন। ৫০টির পরিবর্তে চাহিদা অনুযায়ী ৩৮০টি পরিবারে পানি সরবরাহের সংযোগ দিয়েছেন। এ জন্য রিভাইজ বাজেট করা হয়েছে। বাজেটটি নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস থেকে পাস হয়েছে। এখন সেটি প্রকল্প পরিচালকের অফিসে রয়েছে। সেখান থেকে বাজেটটি অনুমোদিত হবে। তবে তারা বলেছে, কাজ শেষ করতে বাড়তি কাজের ব্যয় সমন্বয় করবেন। আশা করা যাচ্ছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মাজেদুর রহমানের ভাষ্য, অতিরিক্ত কাজের জন্য রিভাইজ বাজেট করা হয়েছে। তাতে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। বাজেটটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ খুব শিগগির শুরু করবে বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইলের সখিপুরে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সবুজ (১৪) নামে এক কিশোর চালককে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৪। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সখিপুরের বহেরাতৈল ইউনিয়নের আন্দিগ্রাম এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে ওই কিশোরের মাথার খুলি, চুল ও হাড়সহ মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার পরিহিত শার্ট ও স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, মামলার মূলহোতা শাহীন (৩০) ও হাবিব (৩৫)। তাদের মধ্যে হাবিবকে ১৯ অক্টোবর বিকেলে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শাহীনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী ভিকটিমের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য জানায় অতিরিক্ত ডিআইজি, এসআরবি ১৪ এর অধিনায়ক মো: মাসুদ রানা।
তিনি জানান, সখিপুর উপজেলার মিলপুর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে সবুজ জীবিকার তাগিদে ভাড়ায় অটোভ্যান চালাত। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সখিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তারপরই গত ২৭ সেপ্টেম্বর গোপালপুর থানার সুতী পলাশ এলাকায় চোরাই অটোভ্যানসহ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয় লোকজন আব্দুল করিম ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও দুই সহযোগী হাবিব ও শাহীন পালিয়ে যান বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পরে সবুজের বাবা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় গত ১৫অক্টোবর একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, কিশোর সবুজ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই এসআরবি-১৪-এর টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে হাবিবকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে মূলহোতা শাহীনের অবস্থান শনাক্ত ও ভিকটিমের মরদেহ উদ্ধারে সখিপুরের বহেরাতৈল এলাকার আন্দিগ্রামের গভীর জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। তবে রাতের অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের কারণে প্রথম দফায় অভিযান সফল হয়নি।
সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মূলহোতা শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী একই এলাকার গভীর জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে সবুজের মরদেহের অবশিষ্টাংশ, মাথার খুলি, চুল, হাড়, পরিহিত শার্ট ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিকটিমের অটোভ্যান ছিনতাই করতেই তাকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত হাবিবকে সখিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মূলহোতা শাহীনকে গ্রেপ্তার এবং মামলার আলামত উদ্ধারের পর তাকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও উদযাপনের শান্তিময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসনের গঠিত বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম (টিম নং-০৫)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিনব্যাপী হাওরাঞ্চলের দুর্গোৎসবের বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন তদারকি দলটির সদস্যরা। পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপনের বিষয়ে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় করেন। একই সাথে মণ্ডপে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে কাজ করার জন্য পূজা পরিচালনা কমিটিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ এরশাদুল আহমেদের আহ্বায়কে গঠিত এই বিশেষ ভিজিল্যান্স টিমে সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ড্যান্ট মোঃ আব্দুল আলীম, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুবার রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ বদরুদ্দোজা, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম এবং জেলা হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক।
পরিদর্শনকালে ভিজিল্যান্স টিমের সাথে সার্বিকভাবে যুক্ত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ মজনু মিয়া, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা তৌহিদ মিয়া, সহকারী প্রোগ্রামার আনোয়ার হোসেন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
এসময় স্থানীয় বিএনপি ও এর অংগ সংগঠনের নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও পুণ্যার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে আহবায়ক, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ সেলিমকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে।
উক্ত কমিটিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয়ন কান্তি রক্ষিত, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী সেন্টু মজুমদার, জেলা জজ আদালতের অফিস সহকারী মো. শাফায়াত হোসাইনকে যুগ্ম আহবায়ক এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয় এর উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর হোসেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ফেনীর সহকারী স্টেশন মাস্টার শাহিদ হাসান, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের রিডার সহকারী রবিন চন্দ্র সাহা, পুলিশ হাসপাতালের কম্পাউন্ডার বেলায়েত হোসেন, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফেনীর সিএইচসিপি মো. আব্দুস সাত্তার, গণপূর্ত বিভাগ, ফেনীর অফিস সহকারী আরশাদ হোসেনকে সদস্য মনোনীত করা হয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটি ফেনী জেলা আহবান কমিটির অনুমোদন প্রদান করে।
নবগঠিত আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব বলেন, আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন এবং সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সুখে দুখে পাশে থাকবো। এ জন্য ফেনী জেলার সকল সম্মানিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।