২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে নির্বিচার গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী নানা অপরাধ শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। সে বর্বরতায় টিকতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে একসঙ্গে ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সময়ের পরিক্রমায় সেখানে জান্তাবাহিনীর আক্রমণ আরও বাড়ায় এদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। ১২ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ায় ও দেশটিতে তাদের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় ২০২২ সালে আর রোহিঙ্গাকে আশ্রয় না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু, এ বছর মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর যুদ্ধ ও বাংলাদেশে সরকার পতনসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে এদেশে ঢুকে পড়েছে আরও লাখখানেক রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালের আগেও এদেশে দেড় লাখ রোহিঙ্গা বসতি গেড়েছিল। তাই সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছে সাড়ে চৌদ্দ লাখ রোহিঙ্গা। শুরুতে মানবিকতা দেখালেও এখন এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের। অবস্থা এমনই যে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় এখন স্থানীয়রাই পড়েছেন হুমকির মুখে। এই দুই উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারাই রোহিঙ্গাদের কারণে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। ওই এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তো বটেই আশপাশের সব জায়গায় এমনকি কক্সবাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা দেশে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়া-টেকনাফসহ কক্সবাজারে এখন তাদের কাজ পাওয়াই কষ্টকর, তাদের চেয়ে কম মজুরিতে রোহিঙ্গারা কাজ করে বলে শ্রমবাজারের বড় অংশই এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। তাদের অভিযোগ,
উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কাজের খোঁজেই প্রতিদিন দুই শতাধিক রোহিঙ্গা বের হয় বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে। বিজিবি চেকপোস্টে কার্ড দেখিয়ে কৌশলে পার হয়ে বিভিন্ন কাজে যোগ দেন দুই শতাধিক রোহিঙ্গা।
এমনকি ক্যাম্পের বসতি ছেড়ে টেকনাফের ভাড়া বাসাগুলোতেও থাকছেন রোহিঙ্গারা।
উখিয়া ও টেকনাফ ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাটারিচালিত টমটম, মাহিন্দ্র গাড়ির চালক, খাবার হোটেল, আবাসিক হোটেল, গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে, জেলেদের ফিশিং বোটে ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য কাজ এরইমধ্যে দখল করে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ টেকনাফের স্থলবন্দরে ও রোহিঙ্গারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয় শ্রমবাজার চলে গেছে তাদের দখলে। এতে উখিয়া ও টেকনাফসহ আশপাশের স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
টেকনাফের জেলে আব্দুল হামিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের উখিয়া টেকনাফের শ্রমিকদের আগে কাজের অভাব ছিল না। এখন কাজে নেয় না আমাদের। রোহিঙ্গাদের মজুরি সস্তা তাই সব কাজ তাদের দখলে এ রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে যত বিপত্তি আমাদের। এ রোহিঙ্গা অপহরণে জড়িত। তাদের চলাফেরা দেখলে মনে হয় তারা এ দেশের নাগরিক আমরা অধিবাসী। সর্বত্রই আজও রোহিঙ্গাদের রাজত্ব ও বিচরণ চলছে।
টেকনাফ ও শাহপরীরদ্বীপ জেলে নেতা মো. করিম ও মোহাম্মদ আবদুল গণি জানান, ২০১৭ সালে নাফ নদীতে মাছ ধরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় সরকার। ওই সব বোটের মালিকরা স্থানীয় জেলেদের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা মাঝি-মাল্লাদের দিয়ে মাছ শিকার করছে। এই রোহিঙ্গা মাঝি-মাল্লারা মাছ শিকারের নামে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এবং চোরাচালান ও রোহিঙ্গা এদেশে অনুপ্রবেশ করাই আর স্থানীয় জেলেদের অগ্রিম টাকা দিতে হয় বোট মালিকদের। তাই এ কারণে ফিশিং ট্রলার চলছে রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা দিয়ে। আগে সব ফিশিং ট্রলারে মাঝিমাল্লাদের আইডি কার্ড থাকত। এখন এসব তদারকি করে না কোস্টগার্ড ও বিজিবি। তার কারণে রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা বেড়ে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রাই এখন বিপাকে। আমরা ভবিষ্যতের শঙ্কায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে আসার কোনো সুযোগ নেই। ঠিকই তারা বাইরে বের হচ্ছে, নানা কাজে জড়িয়ে পড়ছে। আজ আমরা রোহিঙ্গাদের কারণে বড় বিপদে আছি। পথে-ঘাটে, দোকানে-বাজারে, গাড়িতে সর্বত্রই তাদের দেখা মেলে। শ্রম বাজার দখল করে এখন উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়া। রোহিঙ্গারা বিচরণের ক্ষেত্রে চেকপোস্ট যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে তাদের গাফিলতি আছে।
টেকনাফ বাজারে দেখা হয় একজন রোহিঙ্গা জেলের সঙ্গে তার নাম মো. তৈয়ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিশিং ট্রলারে মাছ শিকার করে আসছেন। সপ্তাহ পর আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরে যান। কীভাবে চেকপোস্ট পার হয়ে আসা যায় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা যুবক টেকনাফ ফিশিং ট্রলারে মাছ শিকার করে। তাদের মধ্যে অনেক রোহিঙ্গা ভুয়া কার্ড তৈরি করে চেকপোস্ট পার হয়। কিন্তু কার্ড যে ভুয়া তা বোঝা যায় না।
টেকনাফ শাপলা চত্বরে দেখা মেলে রোহিঙ্গা টমটমচালক তার আবু ছৈয়দ। তিনি লেদা ক্যাম্পে থাকেন। টমটমচালক রোহিঙ্গা সৈয়দ আলম বলেন, আমি পাঁচ মাস হয়েছে টেকনাফে টমটম চালাই। টমটম মালিককে দিনে ৭০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। আমার মতো শতাধিক রোহিঙ্গা টমটম চালায়। রাতে মালিককে গাড়ি বুঝিয়ে দিয়ে ক্যাম্পে চলে যায়। মাঝেমধ্যে পুলিশ আটক করলে মালিককে ফোন দিই। মালিক এসে আমাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। টমটম লাইসেন্স মালিকের নামে। পুলিশের কড়াকড়ি হলে সেদিন মালিক না চালাতে নিষেধ করে আমাদের।
টেকনাফের বাসিন্দা মো. আবু তালহার দাবি, দুই-তিনমাস ধরেই টেকনাফে প্রতিটি ভাড়া বাসায় রোহিঙ্গা রয়েছে। প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না এদের বিরুদ্ধে। নতুন-পুরাতন মিলিয়ে রোহিঙ্গারা নির্বিঘ্নে ঘুরছে। কিন্তু স্থানীয় হলেও আমাদের সবখানে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। সস্তা শ্রম দিয়ে শুধু টেকনাফ নয়- পুরো কক্সবাজারের শ্রমবাজারে রোহিঙ্গারা। এ সুযোগও নিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মাসিক চার-পাঁচ হাজার টাকায় ওরা কাজ করে। যেখানে এক দিনে স্থানীয়দের দিতে হয় ১৫০০ টাকা। আর রোহিঙ্গাদের দিতে ১০০০ টাকা। মিয়ানমারের মুদ্রায় হিসাব করলে দিনে এর পরিমাণ হবে ৫০ হাজার টাকা। তাও রোহিঙ্গাদের জন্য বেশি। এদের কারণে স্থানীয়দের কাজের পথও রুদ্ধ করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গারা আর ফিরবে না, এটা এক রকম স্পষ্ট। শান্ত টেকনাফ আজ অশান্ত-বিশৃঙ্খল হয়েছে রোহিঙ্গাদের কারণে। শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেই স্থানীয় প্রশাসনের। ‘আমাদের অনুরোধ, টেকনাফবাসীর জন্য কিছু করুক প্রশাসন। যাতে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারি। তা না হলে টেকনাফ কেন, এক সময় পুরো কক্সবাজার চলে যাবে রোহিঙ্গাদের কবজায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. সালা উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গাদের বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিচরণের ক্ষেত্রে বিজিবি চেকপোস্ট ছাড়া যৌথবাহিনীর চেকপোস্ট ও বসানো হয়েছে। টমটম, সিএনজিচালকসহ ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বিভিন্ন কর্মে জড়িত রোহিঙ্গাদের আটক করে সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেসব ভাড়া বাসার মালিকরা রোহিঙ্গাদের ঘর ভাড়া দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
ঢাকা থেকে রোগীর চাপ কমাতে জেলা-উপজেলার হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গ্রাম থেকে অধিক সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসার জন্য যেন ঢাকায় আসতে না হয়, সেজন্য সরকার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। শনিবার (১১ জুলাই) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ৮০ বছর পূর্তি ও ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ডিএমসি-ডে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে এ কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রশ্নোত্তর পর্ব হয়। এ পর্বে চিকিৎসকরা স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যা এবং চলমান নানা বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন। এ সময় সরকারের স্বাস্ব্যসেবা উন্নয়নে নেওয়া বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ এমন এক মহৎ প্রতিষ্ঠান যেটি আমাদের সামনে এক জীবন্ত ইতিহাস ‘কালের সাক্ষী’। শুধুমাত্র চিকিৎসা ক্ষেত্রেই নয়, ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে, ১৯৭১ সালের দেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন কিংবা দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষায় ২০২৪ সালের বীর ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান, প্রতিটি ক্ষেত্রেই এই প্রতিষ্ঠানের রয়েছে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা।
ঢামেকের অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই ক্যাম্পাসে শুধুমাত্র দেশ-বিদেশের সেরা চিকিৎসকই তৈরি হয়নি, শিক্ষক, গবেষক, সমাজনেতা কিংবা মুক্তিযোদ্ধাসহ এই প্রতিষ্ঠান থেকে এমন মহৎ মানুষ তৈরি হয়েছেন, যারা অন্যের জীবন রক্ষায় নিজেদের জীবন ও স্বার্থ বিলিয়ে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি।
চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা চিকিৎসাপেশায় নিয়োজিত রয়েছেন কিংবা যারা একজন চিকিৎসক হওয়ার জন্য অধ্যয়নরত, প্রতিটি মানুষের মনোজগতে আপনাদের অবস্থান কিন্তু তাদের সুস্থ জীবনের রক্ষক হিসেবে বিবেচিত। এ উপলব্ধি থেকেই সম্প্রতি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের একটি অনুষ্ঠানে আমি বলেছিলাম, চিকিসকরাই সত্যিকার অর্থে মানুষের বিপদের বন্ধু। চিকিৎসকরা রোগে শোকে কাতর মানুষটির পরম বন্ধু হয়ে ওঠেন।
তার মতে, একজনের চিকিৎসকের উপদেশ আন্তরিক ব্যবহারও একজন রোগীর কাছে ওষুধের মতো কার্যকরী হয়ে ওঠে। তাই একজন চিকিৎসকের জন্য পেশাগত উৎকর্ষতার পাশাপাশি মানবিক মানুষ হয়ে ওঠাও জরুরি।
হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বা চিকিৎসক, নার্স এবং সব স্বাস্থ্যকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, এরই অংশ হিসেবে এর মধ্যেই হাসপাতালগুলোতে ১০ জন করে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপরদিকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও পাঁচ হাজার এমবিবিএস চিকিৎসক নিয়োগের কার্যক্রম এর মধ্যে শুরু হয়েছে।
একই সঙ্গে চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, মিডওয়াইফ এবং অন্যান্য স্বাস্থ্য পেশাজীবীর বিদ্যমান শূন্যপদ দ্রুত পূরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
চট্টগ্রাম বিভাগের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং কর্মহীন মানুষের মুখে খাবার পৌঁছে দেওয়াই এখন সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেছেন, বন্যার তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবিলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন এবং কর্মহীন পরিবারের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ।
শনিবার (১১ জুলাই) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে বন্যাজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম সমন্বয় এবং তদারকি বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ, পুনর্বাসন এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে প্রতিমন্ত্রীকে।
সভায় চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি ও অনলাইনে অংশ নেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিকল্পিত, সমন্বিত ও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবায়নের নির্দেশনা দিয়েছেন। তিনি জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, শুধু আশ্রয় দেওয়াই যথেষ্ট নয়; খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসাসেবা, ওষুধ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়মিত পৌঁছে দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসককে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশনা দেন। এই সেলের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম, আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের সংখ্যা, ত্রাণ বিতরণ, চিকিৎসাসেবা, নতুন প্লাবিত এলাকা, বিদ্যুৎ সরবরাহ, যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতির দৈনিক তথ্য সংগ্রহ ও হালনাগাদ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তার মতে, বাস্তব তথ্যের ভিত্তিতেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সময়মতো কার্যকর সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ‘সরকারি সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং বন্যাদুর্গত মানুষের দুর্ভোগ লাঘব করা সম্ভব হবে।’
সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনলাইনে কথা বলে বন্যা পরিস্থিতি এবং ত্রাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
কৃষি ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশের যেসব এলাকার কৃষকরা সাম্প্রতিক সময়ের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, সেসব এলাকার ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তালিকা শেষে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। শনিবার (১১ জুলাই) কুমিল্লা টাউন হল মাঠে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের তিনি এ সব কথা বলেন।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়ম নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অসন্তোষ প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরের লুটপাটের অভ্যাস অনেকের এখনো যায়নি। তবে সবাইকে জেনে রাখতে হবে, সরকার বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর প্রধানমন্ত্রী নিজেই নিয়মিত তদারকি করছেন। তাই এ কর্মসূচিতে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই।
কুমিল্লা সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন বলেছেন, কুমিল্লার পরিবেশ সংরক্ষণ রক্ষা এবং সবুজায়ন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলার এ কর্মসূচিতে সবার স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ জরুরি। আমরা আশা করছি মেলার সর্বস্তরের মানুষ আসবেন এবং তাদের পছন্দের বৃক্ষ ক্রয় করবেন।
এর আগে তিনি মেলার উদ্বোধনী উপলক্ষে একটি বর্ণাঢ্য রেলিতে অংশ নেন এবং শেষে কুমিল্লা টাউনহল মাঠে বিভিন্ন মেলার ফলজ ও বনজ স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, জেলা পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
পরিকল্পনার চেয়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে ঢাকা। আর এই অবস্থা চলছে দীর্ঘদিন ধরেই। জলাভূমি ভরাট করা হয়েছে; নিচু জমিতে গড়ে উঠেছে স্থাপনা; আর নির্মাণ করা হয়েছে এমন সব বহুতল ভবন, যেগুলো বড় ধরনের ভূমিকম্প সহ্য করতে না-ও পারে।
জানা গেছে, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের আওতায় ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের ৪২টি ভবনকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে তিন মাসের মধ্যে ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়ার আড়াই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। অথচ এখন পর্যন্ত ভাঙা হয়েছে মাত্র দুটি ভবন।
বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও থানা সচল থাকবে—এমনটাই প্রত্যাশিত। কারণ এসব স্থাপনা উদ্ধার কার্যক্রম, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ত্রাণ তৎপরতার মূল ভিত্তি। তবে এসব স্থাপনার অনেকগুলোই কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ফলে মাঝারি থেকে বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর দেশের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে বলে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, ঝুঁকিপূর্ণ সরকারি ভবনগুলো দ্রুত মূল্যায়ন করে রেট্রোফিটিংয়ের মাধ্যমে শক্তিশালী করা না হলে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বিপর্যয় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত, স্বাস্থ্যসেবা বিঘ্নিত ও বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ ঢাকায় জরুরি জনসেবা অচল করে দিতে পারে।
বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্ডিওলজি বিভাগটি ১৭ তলা ভবনের দোতলায় অবস্থিত। ভবনটি ২০২৩ সালের শুরুর দিকেই কাঠামোগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়। বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও ভবনটিতে কার্যক্রম চলছে। রাজধানীর আরও ৪১টি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেও একইভাবে কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের সাবেক পরিচালক আবদুল লতিফ হেলালী বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের পর হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, থানা, বিদ্যুৎ স্থাপনা ও টেলিযোগাযোগ ভবন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ২০২০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় রাজউক ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের তিন হাজার ২৫২টি সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত ভবনের র্যাপিড ভিজুয়াল অ্যাসেসমেন্ট বা দ্রুত দৃশ্যমান মূল্যায়ন করে।
ওই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতে তুলনামূলকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ৫৭৯টি ভবনের প্রাথমিক প্রকৌশল মূল্যায়ন ও পরে ২২৯টির বিস্তারিত প্রকৌশল মূল্যায়ন করা হয়। এর মধ্যে ৪২টি ভবন ভেঙে ফেলা ও ১৮৭টি ভবন রেট্রোফিটিংয়ের সুপারিশ করা হয়।
হেলালী বলেন, ‘থানাগুলোকে শুধু প্রাথমিক যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছিল। প্রক্রিয়াটি স্থবির হয়ে থাকায় আমরা বিস্তারিত মূল্যায়ন করতে পারিনি।’ এ ধরনের স্থাপনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলেও মত দেন তিনি।
সর্বোচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৪২টি ভবনের অধিকাংশই আটটি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। আর তিনটি ভবন সাবেক পিজি হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে অবস্থিত।
রাজউক ২০২৩ সালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোকে সাত দিনের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন খালি করতে ও তিন মাসের মধ্যে সেগুলো ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেয়। তবে এখন পর্যন্ত পুরান ঢাকার পাটুয়াটুলীর ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের একটি ভবনসহ মাত্র দুটি ভবন ভাঙা হয়েছে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপত্তার বিষয়টি তদারক করে। রাজউকের এক প্রতিবেদন অনুসারে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৪২টি ভবনের অনেকগুলো এই অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে রয়েছে।
রাজউকের প্রধান নগর পরিকল্পনাবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, মূল্যায়নের পর উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ৪২টি ভবনের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল।
অনেক মালিক আর্থিক সীমাবদ্ধতার কথা জানিয়ে বলেছেন, ভবন ভেঙে ফেলা হলে নতুন করে নির্মাণের মতো আর্থিক সামর্থ্য তাদের নেই। এ কারণে অগ্রগতি ধীর হয়েছে।
তিনি জানান, কিছু ভবনে এখনো স্কুল বা বাজারের কার্যক্রম চলছে। আবার কিছু বাজারের মালিক আদালতের আদেশে অতিরিক্ত সময় পেয়েছেন। এই সমস্যা এককভাবে সমাধান করা রাজউকের পক্ষে সম্ভব না।
আশরাফুল মনে করেন, প্রতিটি উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের ক্ষেত্রে যথাযথ করণীয় নির্ধারণে রাজউক, সিটি করপোরেশন, ফায়ার সার্ভিস ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় উদ্যোগ প্রয়োজন।
এদিকে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, সারাদেশে ৫৩৭টি ফায়ার স্টেশনের মধ্যে ১১৯টি ঝুঁকিপূর্ণ বিবেচনা করা হয়। এর অনেকগুলো পাকিস্তান আমলে নির্মিত।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল বলেন, ঢাকায় ১৮টি ফায়ার স্টেশনে প্রায় ৭০০ জন কর্মী রয়েছেন।
তিনি জানান, পোস্তগোলা, মিরপুর ও মোহাম্মদপুরের পুরনো ফায়ার স্টেশনগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া বারিধারা, সূত্রাপুর, পল্লবী, হাজারীবাগ, কল্যাণপুর ও উত্তরায় নতুন ফায়ার স্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে।
কাজী আলাউদ্দিন রোডের সদর দপ্তর এবং কুর্মিটোলা ও তেজগাঁও ফায়ার স্টেশন রেট্রোফিটিং করা হয়েছে। আরও কয়েকটি পুরোনো স্টেশন সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে। সদরঘাট ও মিরপুর-১০ ফায়ার স্টেশনেও নতুন স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে, জানান তিনি।
‘ভূমিকম্পের ঝুঁকি বিবেচনায় ফায়ার সার্ভিস তাদের পরিচালক (অপারেশন ও মেইনটেন্যান্স) এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো মিরপুরের নতুন জরুরি পরিচালন কেন্দ্রে (ইওসি) স্থানান্তর করেছে।’
জাহেদ বলেন, নতুন ভূমিকম্প-সহনশীল বহুতল সদর দপ্তরের নির্মাণকাজও চলছে। পাশাপাশি প্রশিক্ষণ কমপ্লেক্স পূর্বাচলে স্থানান্তরের পরিকল্পনাও এগিয়ে চলছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন শনাক্ত ও ঝুঁকি প্রশমনে ব্যবস্থা নেওয়া একটি চলমান প্রক্রিয়া।
জাহেদ বলেন, বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে জরুরি পরিকল্পনার আওতায় সারাদেশের আরও ১২০টি ফায়ার স্টেশনের কর্মীদের উদ্ধার সরঞ্জামসহ ঢাকায় মোতায়েন করা হবে। পাশাপাশি প্রশিক্ষিত কমিউনিটি স্বেচ্ছাসেবকেরাও কাজ করবেন।
বিশেষজ্ঞরা যা বলছেন: বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের সাবেক সভাপতি আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, ভূমিকম্পের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে হাসপাতাল, ফায়ার স্টেশন, স্কুল ও থানা বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘হাসপাতাল ধসে পড়লে আহতদের চিকিৎসা দেওয়া যাবে না। এমনকি ভবন দাঁড়িয়ে থাকলেও অভ্যন্তরীণ ক্ষয়ক্ষতির কারণে সেগুলো স্বাস্থ্যসেবার অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে।’
জরুরি আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রায়ই ব্যবহৃত স্কুল ও কলেজ ব্যবহৃত হয়। সেগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়তে পারে, যোগ করেন তিনি।
হাসপাতালগুলোর ঝুঁকি নিয়ে সমন্বিত মূল্যায়ন ও ঝুঁকি প্রশমনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আদিল বলেন, অনেক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালও ঝুঁকিতে রয়েছে।
বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদী আহমেদ আনসারী বলেন, ঝুঁকি মূল্যায়নের পরই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর রেট্রোফিটিং শুরু করা উচিত। রেট্রোফিট নকশা তৈরির আগে আমাদের দ্রুত একটি মৌলিক যাচাই দরকার। কম খরচের র্যাপিড ভিজুয়াল স্ক্রিনিং (আরভিএস) পদ্ধতিতে এটি করা যেতে পারে।
ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে জমে থাকা বর্জ্যের স্তূপ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসার পর অবশেষে তা অপসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম শনিবার (১১ জুলাই) সকালে সাভারের বলিয়ারপুর এলাকায় এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের এই কথা জানান।
তিনি জানান, কেবল সাময়িকভাবে বর্জ্য অপসারণ নয়, ভবিষ্যতে কেউ যেন সড়কের পাশে আর ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য সেখানে তারের বেড়া (ফেন্সিং) দিয়ে নিমগাছের চারা রোপণ করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমিনবাজারের পর থেকে হেমায়েতপুর পর্যন্ত এই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরে একটি ময়লার ভাগাড় হয়ে ছিল। এই এলাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নাকি সাভার পৌরসভার অধীনে পড়বে তা নিয়ে একটা অভিভাবকহীন অবস্থা ছিল। এর ফলে যে যার ইচ্ছামতো এখানে ময়লা ফেলে যেত। এটি পরিষ্কার করা বা রোধ করার কেউ ছিল না।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে আসে। এ ছাড়া আপনারা জানেন, চার দিন আগে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই সড়ক দিয়ে সিঙ্গাইরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর গ্রীষ্মকালীন মহড়া পরিদর্শনে যান, তখন তার নজরেও বিষয়টি আসে। এরপর তিনি আমাকে নির্দেশনা দেন। আমরা সভা করে সিদ্ধান্ত নিই যে ১ দশমিক ৮ কিলোমিটার রাস্তার সব ময়লা যৌথভাবে পরিষ্কার করবে কেরানীগঞ্জ উপজেলা, সাভার উপজেলা ও জেলা প্রশাসন। এখানে বালু ফেলে নেটিং করে নিমগাছ লাগানো হবে।’
এ সময় সাভার পৌরসভার জন্য একটি নির্দিষ্ট ডাম্পিং স্টেশন (বর্জ্য ফেলার স্থান) নির্মাণের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেখানে ময়লা ফেলার অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা আগের সরকারের মতো বলব না যে বাংলাদেশকে সিঙ্গাপুর বা কানাডা বানাব। আমরা তা পারব না। তবে বাংলাদেশকে বসবাসযোগ্য এবং মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের উপযোগী একটি পরিবেশ হিসেবে গড়ে তুলতে রাষ্ট্রের যা করা প্রয়োজন, তা আমরা করব।’
বর্ষা মৌসুমে বিভিন্ন অঞ্চলে জলাবদ্ধতা এবং সড়ক মেরামতে মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগ জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতি বছর বর্ষাকালেই এমন সমস্যা দেখা দেয়। সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের সড়ক মেরামতের জন্য বরাদ্দ রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমরা দ্রুত সড়কগুলো সংস্কার করব। আমরা ক্ষমতায় আসার পর থেকেই জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পানি নিষ্কাশনের ড্রেন বা মুখগুলো পরিষ্কার করার বিষয়ে কাজ করছি।’
চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে দেশে ৩২০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৬০ শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০৯ জন। বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি শনিবার (১১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। মিরসরাই ট্র্যাজেডির ১৫ বছর উপলক্ষে বিজ্ঞপ্তিটি পাঠানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতন করা গেলে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি সুশৃঙ্খল জাতি গঠন সম্ভব; কিন্তু মিরসরাই ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের নিয়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক নিয়মিত কোনো কর্মসূচি নেই। এর ফলে প্রতি বছর অসংখ্য শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে, আহত হচ্ছে এবং অনেকে স্থায়ীভাবে পঙ্গুত্ব বরণ করছে।
২০১১ সালের ১১ জুলাই চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে শিক্ষার্থী বহনকারী একটি মিনিট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। এতে ৪৫ জন নিহত হন। দেশের ইতিহাসে একক কোনো সড়ক দুর্ঘটনায় এটি অন্যতম বড় প্রাণহানির ঘটনা।
মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ওই ঘটনার পরও শিক্ষার্থীদের সড়ক নিরাপত্তায় কার্যকর সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি অব্যাহত রয়েছে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৫৭টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫৭ শিক্ষার্থী নিহত ও ২২ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ৩৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৪৭ জন, আহত হন ১১ জন। মার্চে ৫৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৬৭ জন এবং আহত হন ১ জন। এপ্রিলে ৫১টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৫৬ জন, আহত হন ২৫ জন। মে মাসে ৬১টি দুর্ঘটনায় ৭৩ জন নিহত ও ২৩ জন আহত হন; আর জুনে ৫৩টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৬০ জন এবং আহত হয়েছেন ২৭ জন।
শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি কমাতে পাঁচটি সুপারিশ তুলে ধরেছে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। এগুলো হলো পাঠ্যবইয়ে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা; প্রতি মাসে অন্তত একবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক নিরাপত্তাবিষয়ক সচেতনতামূলক সভার আয়োজন; জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে, বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামনে, জেব্রা ক্রসিং ও সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন; শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পারাপারে ‘রোড সেফটি গার্ড’ নিয়োগ এবং প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সড়ক নিরাপত্তা কমিটি গঠন।
নওগাঁর বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) সমতা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড এর বিরুদ্ধে ১৮০কোটি টাকার আমানত আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে আমানতের টাকা ও লভ্যাংশ ফেরত না পাওয়ায় শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শত শত গ্রাহক। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অভিযান চালিয়ে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান শাহিনকে আটক করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
শনিবার (১১ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের খলিশাকুড়ি এলাকায় অবস্থিত সমতা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ের সামনে গ্রাহকরা সমবেত হয়ে আমানতের টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভের একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে দুপুরে সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান শাহিনকে আটক করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই দশক আগে প্রতিষ্ঠিত সমতা বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড সঞ্চয়, ডিপিএস ও বিভিন্ন ধরনের আমানত সংগ্রহের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। গ্রাহকদের প্রতি লাখ টাকায় মাসে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ আমানত সংগ্রহ করা হয়। গ্রামের সহজ-সরল মানুষ, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যরা মেয়ের বিয়ে, সন্তানের লেখাপড়া, বাড়ি নির্মাণ কিংবা ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা ভেবে নিজেদের আজীবনের সঞ্চয় এ প্রতিষ্ঠানে জমা রাখেন।
অভিযোগ রয়েছে, করোনা মহামারির পর থেকেই সংস্থাটির আর্থিক সংকট শুরু হয়। ধীরে ধীরে গ্রাহকদের লভ্যাংশ প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। এরপর আমানত ফেরত চাইতে গিয়ে গ্রাহকরা বারবার অফিসে এসে কর্তৃপক্ষকে না পেয়ে ফিরে যান। ২০২৪ সালের শেষদিকে সংস্থার কার্যক্রম প্রায় গুটিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান পরিচালক সাইদুর রহমান শাহিন।
পরে তিনি ফিরে এসে গ্রাহকদের আশ্বাস দেন, সংস্থার কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে পারলে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে পর্যায়ক্রমে সব টাকা পরিশোধ করা হবে। এর আগেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হলে তিনি গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যান। জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বকেয়া লভ্যাংশের অর্ধেক পরিশোধের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না করে আবার ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় চান। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো অর্থ পরিশোধ না করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন গ্রাহকরা।
বিক্ষোভ চলাকালে নওগাঁ সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নূরে আলম সিদ্দিকী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বিষয়টি আইনগতভাবে নিষ্পত্তির আশ্বাস দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
ভুক্তভোগীরা জানান, সমতা এনজিওতে আমানত রেখে অনেক পরিবার আজ চরম দুর্দশার মধ্যে পড়েছে। কেউ মেয়ের বিয়ে দিতে পারছেন না, কেউ বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা বাতিল করেছেন, আবার কেউ চিকিৎসা ও সংসার চালাতেও হিমশিম খাচ্ছেন।
ভুক্তভোগী আমেনা বেগম বলেন, জীবনের সব সঞ্চয় সাড়ে তিন লাখ টাকা তিন বছর আগে সমতায় জমা রেখেছিলাম। প্রথম কয়েক মাস লভ্যাংশ পেলেও পরে আর কোনো টাকা পাইনি। এনজিওর টাকা আটকে যাওয়ার দুশ্চিন্তায় আমার স্বামী স্ট্রোক করে তিন মাস আগে মারা গেছেন। এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। আমি আমার কষ্টের টাকা ফেরত চাই।
আরেক গ্রাহক জহুরা বেগম বলেন, তিন বছর আগে ছয় লাখ টাকা জমা রেখেছিলাম। ঢাকায় পোশাক কারখানায় চাকরি করা মেয়ের পাঠানো টাকা দিয়ে গত বছর একটি পাকা বাড়ি করার স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন ভেঙে গেছে। টাকার চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।
নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। নিরাপত্তার স্বার্থে সাইদুর রহমান শাহিনকে আটক করে থানায় আনা হয়। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা সমতা এনজিওর নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান শাহিনকে জনসাধারণের সহায়তায় জেলা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। তিনি মোট আটটি গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি। এর মধ্যে দুটি জিআর, চারটি সিআর এবং দুটি সাজা পরোয়ানা রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের বরইতলা এলাকায় একটি বাসায় গ্যাস লাইনের কাজ করার সময় পাইপলাইনে বিস্ফোরণে তিন শ্রমিক দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধরা হলেন রাকিব (১৪), রাজন (২৫) ও সুমন (২৭)। শনিবার (১১ জুলাই) ভোর পাঁচটার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়।
দগ্ধদের সহকর্মী সজীব জানান, শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে বরইতলা এলাকার আরিফ মিয়ার বাসায় গ্যাস লাইনের কাজ করছিলেন তারা। কাজের একপর্যায়ে পাইপলাইনে হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটলে তিন শ্রমিক দগ্ধ হন। পরে দ্রুত তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারী ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক ডা. শাওন বিন রহমান জানান, আহতদের মধ্যে কিশোর রাকিবের শরীরের প্রায় ১৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। বাকি দুজনের দগ্ধের পরিমাণ তুলনামূলক কম। তাদের শরীরে ড্রেসিং করার কাজ চলছে, তাই এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্ট পরিমাণ বলা সম্ভব নয়। তবে বর্তমানে তিনজনই শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আহতদের কাছ থেকে জানা গেছে যে গ্যাস লাইনের কাজ করার সময়ই এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে অবগত করা হয়েছে।
উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে ডিমের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ এবং পোলট্রি খামারিদের ডিজিটাল ডেটাবেইস চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন (বিপিআইএ)। এ ছাড়া পোলট্রি খামারিদের ডিজিটাল ডেটাবেইস চালুর দাবি জানিয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর আহমেদ চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী। এর আগে একই দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেন পোলট্রি খামারিরা।
বিপিআইএ সভাপতি মোশাররফ হোসেন চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে বলেন, দেশের হাজার হাজার ডিম উৎপাদনকারী খামারি দীর্ঘদিন ধরে উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। প্রতিদিন তারা লোকসান গুনছেন, ক্রমে ঋণগ্রস্ত হচ্ছেন। অনেকেই লোকসানের বোঝা টানতে না পেরে খামার বন্ধ করে দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে দেশের ডিম উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
পোলট্রি খাতে যৌক্তিক মূল্য (ফেয়ার প্রাইস) নির্ধারণের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বিবেচনা করে এমন একটি মূল্য নির্ধারণ করতে হবে, যাতে খামারিরা অন্তত ন্যায্য মুনাফা পান এবং উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পারেন।
সারাদেশের পোলট্রি খামারিদের একটি ডিজিটাল ডেটাবেইস তৈরির আহ্বান জানিয়ে বিপিআইএ সভাপতি বলেন, সারা দেশের খামারিদের একটি জাতীয় ডিজিটাল ডেটাবেইস চালু হলে প্রকৃত খামারিদের সহজে শনাক্ত করা এবং খামারিদের ঝরে পড়া সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে। উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতি বাস্তব সময়ে পর্যবেক্ষণ করা যাবে। সরকারি প্রণোদনা, ভর্তুকি ও স্বল্পসুদে ঋণ সরাসরি প্রকৃত খামারিদের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
সংবাদ সম্মেলনে বিপিআইএ মহাসচিব এম. সাফির রহমান বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় গুলোর সমন্বয়ের অভাবে পোলট্রি খাতে সুফল পাওয়া যায় না। সবাইকে নিয়ে জাতীয় পোলট্রি বোর্ড গঠন করা হোক। উৎপাদন খরচ কমাতে পারলে আগামী এক দশকে পোলট্রি খাত সফল শিল্প খাতে পরিণত হবে।
দেশের পূর্বাঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যায় পোলট্রি খাতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কৃষিবিদ অঞ্জন মজুমদার বলেন, বিপুলসংখ্যক মুরগি ও গবাদিপশু মারা যাওয়ায় অনেক খামারি সর্বস্ব হারিয়েছেন, যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে। এই দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বাজারে এক ধরনের অদৃশ্য সিন্ডিকেট বা মধ্যস্বত্বভোগী চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে।
অঞ্জন মজুমদার আরও বলেন, যখন খামারিরা লোকসান দিয়ে সাড়ে চার টাকায় ডিম বিক্রি করতে বাধ্য হন, তখনো ভোক্তাকে সাড়ে দশ টাকায় ডিম কিনতে হয়। ডিম পচনশীল পণ্য হওয়ায় খামারিরা তা মজুত করতে পারেন না, আর এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে মধ্যস্থতাকারীরা মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিপিআইএ’র উপদেষ্টা এন সি বণিক, সহসভাপতি মেজবাউর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন, প্রচার সম্পাদক সফিকুর রহমান, সমাজকল্যাণ সম্পাদক গাজী নূর হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মুন্না মুন্সী।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ গবেষণা, বৃক্ষরোপণ এবং পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ব্র্যাক ব্যাংক ও তরুপল্লব যৌথভাবে ৬ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক ২০২৫’ প্রদান করেছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) ঢাকার বাংলা একাডেমিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু। বিশেষ অতিথি ছিলেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক।
বাংলাদেশের প্রখ্যাত উদ্ভিদবিজ্ঞানী ও প্রকৃতিবিদ প্রয়াত অধ্যাপক দ্বিজেন শর্মার স্মরণে প্রবর্তিত এই পদক প্রকৃতি সংরক্ষণে নিবেদিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করে, যাঁদের কাজ পরিবেশ রক্ষায় মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছে।
বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ সংরক্ষণ, প্রায় ১,৮০০ প্রজাতির উদ্ভিদ সংরক্ষণ এবং ১২০টিরও বেশি গবেষণাপত্রের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ‘নিসর্গ পুরস্কার’ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুজ্জামান।
প্রাকৃতিক কৃষি চর্চা, দেশীয় বীজ সংরক্ষণ, কৃষি ঐতিহ্য রক্ষা এবং টেকসই কৃষি ও কৃষিভিত্তিক পর্যটনের সফল মডেল গড়ে তোলার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘জীববৈচিত্র্য পুরস্কার’ পেয়েছে প্রাণ বৈচিত্র্য খামার।
দুই দশক ধরে ৩০ হাজারেরও বেশি ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ রোপণ এবং রংপুর অঞ্চলে তৃণমূল পর্যায়ে বৃক্ষরোপণ আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য ‘বৃক্ষসখা সম্মাননা’ পেয়েছেন মো. বাদশা মিয়া।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে টেকসই কৃষি, ছাদবাগান, নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও পরিবেশ সচেতনতা ছড়িয়ে দিয়ে বাংলাদেশের প্রথম নারী অ্যাগ্রো-ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে লাখো মানুষের কাছে পৌঁছে যাওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘সবুজ সারথী সম্মাননা’ পেয়েছেন উম্মে কুলসুম পপি।
বিজ্ঞান ও ডিজিটাল প্রযুক্তির উদ্ভাবনী ব্যবহারের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে অবদান এবং বিশেষ করে ‘ট্রি সেনসাস ২০২৫’ প্রকল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য ‘নবীন নিসর্গী সম্মাননা’ পেয়েছেন সুমাইয়া মারিয়ম।
সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, প্রবালপ্রাচীর গবেষণা এবং বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমি বিকাশে অগ্রণী অবদানের পাশাপাশি দেশের নথিভুক্ত সামুদ্রিক মাছের প্রজাতির সংখ্যা ৪৭৫ থেকে ৭৪০-এ উন্নীত করার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘পরিবেশ কীর্তিমান সম্মাননা’ পেয়েছেন অধ্যাপক ড. কাজী আহসান হাবিব।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘প্রকৃতি সংরক্ষণ এখন আর কোনো বিকল্প নয়; এটি আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। আজকের সম্মাননাপ্রাপ্তরা প্রমাণ করেছেন, একজন মানুষের নিষ্ঠা ও উদ্যোগও পরিবেশে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতে পারে। প্রকৃতি রক্ষার এই প্রচেষ্টা সমাজজুড়ে ছড়িয়ে দিতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নাজমা মোবারেক বলেন, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বেসরকারি খাত ও নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই। আজকের সম্মাননাপ্রাপ্তরা দেখিয়েছেন, স্থানীয় পর্যায়ের উদ্যোগও জাতীয় উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, দায়িত্বশীল ব্যাংকিং আমাদের কাছে শুধু আর্থিক সেবা প্রদানের বিষয় নয়; এটি মানুষ, সমাজ ও পরিবেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টি করার অঙ্গীকার। ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক’-এর মাধ্যমে আমরা সেই মানুষদের সম্মান জানাচ্ছি, যারা তাদের কাজের মাধ্যমে একটি সবুজ, টেকসই ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে অনন্য অবদান রেখে চলেছেন।
তরুপল্লবের সাধারণ সম্পাদক মোকাররম হোসেন বলেন, দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক শুধু একটি সম্মাননা নয়; এটি পরিবেশ সংরক্ষণে নিবেদিত মানুষের প্রতি জাতির কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। একই সঙ্গে এটি নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আরও সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করবে।
২০২৫ সালে প্রবর্তিত ব্র্যাক ব্যাংক-তরুপল্লবের ‘দ্বিজেন শর্মা পরিবেশ পদক’ পরিবেশ সংরক্ষণে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্মানিত করে। গত বছর এই দুই প্রতিষ্ঠান প্রকৃতি সংরক্ষণে বিশেষ অবদানের জন্য চারজন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এ সম্মাননা প্রদান করেছিল।
বাগেরহাটে শুরু হয়েছে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম প্রাঙ্গণে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে মেলার উদ্বোধন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
উদ্বোধনের আগে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মেলা প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। পরে প্রতিমন্ত্রী মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন।
এরপর জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বৃক্ষমেলা উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অক্সিজেন গ্রহণ করি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড ত্যাগ করি। গাছ ঠিক উল্টো কাজটি করে। তাই মানুষের জীবন ও গাছের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। গাছ ভালো থাকলে, আমরাও ভালো থাকব। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সৌদি আরবে নিমগাছ রোপণ করেছিলেন। হজে যাওয়া মানুষ জানেন, তীব্র রোদ ও ৪০ থেকে ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যেও নিমগাছ স্বস্তি দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘একজন পণ্ডিত ব্যক্তি বলেছিলেন, যার বাড়িতে নিমগাছ আছে, তার বাড়িতে ডাক্তারের প্রয়োজন কম হয়।’
গাছ ও পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার ঔষধি, ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নদী-খাল খনন, কর্মসংস্থান ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে নিয়মিত কাজ করছে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর যথাযথ পরিচর্যা ও সংরক্ষণও নিশ্চিত করতে হবে।’ কোনো প্রতিষ্ঠানের অবহেলায় গাছ নষ্ট হলে বা মারা গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন। আরও বক্তব্য রাখেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মাদ নাছের রিকাবদার, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা শাহিন কবির এবং জেলা বিএনপির আহ্বায়ক এটিএম আকরাম হোসেন তালিম।
সামাজিক বন বিভাগের তথ্যানুযায়ী, মেলায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা নিয়ে ১৯টি স্টল অংশ নিয়েছে। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত এসব স্টলে চারা প্রদর্শন ও বিক্রি চলবে। আগামী ১৭ জুলাই সমাপনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সপ্তাহব্যাপী এ বৃক্ষমেলার পর্দা নামবে।’
মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়ন কাজীরটেক পুরাতন ফেরিঘাটের বাহেরচর কাতলায় ভাঙনকবলিত অংশে বালুভর্তি ‘জিওব্যাগ’ নিক্ষেপ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) কাজের উদ্বোধন করেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও জজকোর্টের জিপি অ্যাডভোকেট গুলজার আহম্মেদ চিশতী মস্তফা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক (সদর উপজেলা) মর্তুজা আলম ঢালীসহ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের অন্যান্য নেতা-কর্মী সমর্থক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উল্লেখ্য, এবার বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার পর থেকে মাদারীপুর শহরের পার্শ্ববর্তী ঘেষা আড়িয়ালখাঁ নদীর অববাহিকায় অবস্থিত কাজিরটেক পুরাতন ফেরিঘাট বাহেরচর কাতলা এলাকায় ভাঙন দেখা দেয়। এতে নদীর পাড়ের বহু বাসিন্দাদের আবাদী জমিজমা নদীগর্ভে চলে যায়, এ ছাড়া ঘরবাড়ি, স্থাপনা- বসতি ভাঙনের মুখে পড়ে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জরুরি ভাঙন রোধে মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ‘জিওব্যাগ’ ফেলা কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনকালে এমপি জাহান্দার আলী মিয়া বলেন,‘ কৃষিজমি রক্ষাসহ মানুষের বসতবাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনা রক্ষা করা বর্তমান জনবান্ধব সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে জনদুর্ভোগ লাঘব করা, কাজগুলো বাস্তবায়ন করা আমার নৈতিক দায়িত্ব।’
মাদারীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী (এসডি-১) মো. হাসান কবীর জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ভাঙনকবলিত অংশে ৮ হাজার ও অবস্থা বিবেচনায় পরবর্তীতে আরও ৮ হাজারসহ মোট ১৬ হাজার ‘জিওব্যাগ’ ওই ভাঙনকবলিত অংশে ফেলা হবে- যাতে ভাঙনের তীব্রতা কমে গিয়ে কৃষিজমি, বসত বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনা রক্ষা পায়।
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মোহনা টেলিভিশনের সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজীবের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল দুপুরে ফেনী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে কর্মরত সকল সাংবাদিকের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের।
সাপ্তাহিক স্বদেশ পত্র সম্পাদক এন এন জীবন এবং দৈনিক ডিজিটাল সময়ের সহযোগী সম্পাদক এবিএম নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, সাংবাদিক রবিউল হক রবি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএমএসএফের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধরণ সম্পাদক জসিম মাহমুদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল, বিএমইউজে ফেনীর সভাপতি মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও সিনিয়র সাংবাদিক এম এ সাঈদ খান, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনির, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ফেনীর সাধারণ সম্পাদক দুলাল তালুকদার, ছাগলনাইয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ কামাল, একাত্তর টেলিভিশন ও দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি নুরুজ্জামান সুমন, দৈনিক বণিক বার্তা প্রতিনিধি নুরুল্লাহ কায়সার, গ্রীন টিভি প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম, দৈনিক যায়যায় দিন প্রতিনিধি আবু ইউসুফ মিন্টু, দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, দৈনিক দেশ রূপান্তর প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম রাজু, আমাদের সময় প্রতিনিধি কবির আহমেদ নাছির এবং সরেজমিন প্রতিনিধি চুমকি আক্তারসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
বক্তারা সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজীবের ওপর সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা অভিযোগ করেন, তাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে এবং নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস পরিকল্পনা ছিল, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর গুরুতর আঘাত।
বক্তারা এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামি ও হামলার নেপথ্যের নির্দেশদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘অতীতেও সাংবাদিকদের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার টিকে থাকতে পারেনি।’ স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।