সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক ১৪৩৩

উখিয়া টেকনাফের শ্রমবাজার রোহিঙ্গাদের দখলে 

রোহিঙ্গা বিচরণ ঠেকাতে তৎপরতা নেই স্থানীয় প্রশাসনের # অটোরিকশা চালনা থেকে ফিশিং ট্রলারেও রোহিঙ্গা # টেকনাফে বাসা ভাড়া নিচ্ছে নতুন আসা রোহিঙ্গারা
ক্যাম্পের বাইরে নানা ধরণের কাজ করছেন রোহিঙ্গারা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১১ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:১২
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত
রহমত উল্লাহ, টেকনাফ (কক্সবাজার)
প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:১২

২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে নির্বিচার গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী নানা অপরাধ শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। সে বর্বরতায় টিকতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে একসঙ্গে ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সময়ের পরিক্রমায় সেখানে জান্তাবাহিনীর আক্রমণ আরও বাড়ায় এদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। ১২ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ায় ও দেশটিতে তাদের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় ২০২২ সালে আর রোহিঙ্গাকে আশ্রয় না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু, এ বছর মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর যুদ্ধ ও বাংলাদেশে সরকার পতনসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে এদেশে ঢুকে পড়েছে আরও লাখখানেক রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালের আগেও এদেশে দেড় লাখ রোহিঙ্গা বসতি গেড়েছিল। তাই সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছে সাড়ে চৌদ্দ লাখ রোহিঙ্গা। শুরুতে মানবিকতা দেখালেও এখন এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের। অবস্থা এমনই যে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় এখন স্থানীয়রাই পড়েছেন হুমকির মুখে। এই দুই উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারাই রোহিঙ্গাদের কারণে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। ওই এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তো বটেই আশপাশের সব জায়গায় এমনকি কক্সবাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা দেশে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়া-টেকনাফসহ কক্সবাজারে এখন তাদের কাজ পাওয়াই কষ্টকর, তাদের চেয়ে কম মজুরিতে রোহিঙ্গারা কাজ করে বলে শ্রমবাজারের বড় অংশই এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। তাদের অভিযোগ,

উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কাজের খোঁজেই প্রতিদিন দুই শতাধিক রোহিঙ্গা বের হয় বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে। বিজিবি চেকপোস্টে কার্ড দেখিয়ে কৌশলে পার হয়ে বিভিন্ন কাজে যোগ দেন দুই শতাধিক রোহিঙ্গা।

এমনকি ক্যাম্পের বসতি ছেড়ে টেকনাফের ভাড়া বাসাগুলোতেও থাকছেন রোহিঙ্গারা।

উখিয়া ও টেকনাফ ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাটারিচালিত টমটম, মাহিন্দ্র গাড়ির চালক, খাবার হোটেল, আবাসিক হোটেল, গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে, জেলেদের ফিশিং বোটে ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য কাজ এরইমধ্যে দখল করে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ টেকনাফের স্থলবন্দরে ও রোহিঙ্গারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয় শ্রমবাজার চলে গেছে তাদের দখলে। এতে উখিয়া ও টেকনাফসহ আশপাশের স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।

টেকনাফের জেলে আব্দুল হামিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের উখিয়া টেকনাফের শ্রমিকদের আগে কাজের অভাব ছিল না। এখন কাজে নেয় না আমাদের। রোহিঙ্গাদের মজুরি সস্তা তাই সব কাজ তাদের দখলে এ রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে যত বিপত্তি আমাদের। এ রোহিঙ্গা অপহরণে জড়িত। তাদের চলাফেরা দেখলে মনে হয় তারা এ দেশের নাগরিক আমরা অধিবাসী। সর্বত্রই আজও রোহিঙ্গাদের রাজত্ব ও বিচরণ চলছে।

টেকনাফ ও শাহপরীরদ্বীপ জেলে নেতা মো. করিম ও মোহাম্মদ আবদুল গণি জানান, ২০১৭ সালে নাফ নদীতে মাছ ধরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় সরকার। ওই সব বোটের মালিকরা স্থানীয় জেলেদের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা মাঝি-মাল্লাদের দিয়ে মাছ শিকার করছে। এই রোহিঙ্গা মাঝি-মাল্লারা মাছ শিকারের নামে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এবং চোরাচালান ও রোহিঙ্গা এদেশে অনুপ্রবেশ করাই আর স্থানীয় জেলেদের অগ্রিম টাকা দিতে হয় বোট মালিকদের। তাই এ কারণে ফিশিং ট্রলার চলছে রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা দিয়ে। আগে সব ফিশিং ট্রলারে মাঝিমাল্লাদের আইডি কার্ড থাকত। এখন এসব তদারকি করে না কোস্টগার্ড ও বিজিবি। তার কারণে রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা বেড়ে যাচ্ছে।

রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রাই এখন বিপাকে। আমরা ভবিষ্যতের শঙ্কায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে আসার কোনো সুযোগ নেই। ঠিকই তারা বাইরে বের হচ্ছে, নানা কাজে জড়িয়ে পড়ছে। আজ আমরা রোহিঙ্গাদের কারণে বড় বিপদে আছি। পথে-ঘাটে, দোকানে-বাজারে, গাড়িতে সর্বত্রই তাদের দেখা মেলে। শ্রম বাজার দখল করে এখন উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়া। রোহিঙ্গারা বিচরণের ক্ষেত্রে চেকপোস্ট যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে তাদের গাফিলতি আছে।

টেকনাফ বাজারে দেখা হয় একজন রোহিঙ্গা জেলের সঙ্গে তার নাম মো. তৈয়ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিশিং ট্রলারে মাছ শিকার করে আসছেন। সপ্তাহ পর আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরে যান। কীভাবে চেকপোস্ট পার হয়ে আসা যায় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা যুবক টেকনাফ ফিশিং ট্রলারে মাছ শিকার করে। তাদের মধ্যে অনেক রোহিঙ্গা ভুয়া কার্ড তৈরি করে চেকপোস্ট পার হয়। কিন্তু কার্ড যে ভুয়া তা বোঝা যায় না।

টেকনাফ শাপলা চত্বরে দেখা মেলে রোহিঙ্গা টমটমচালক তার আবু ছৈয়দ। তিনি লেদা ক্যাম্পে থাকেন। টমটমচালক রোহিঙ্গা সৈয়দ আলম বলেন, আমি পাঁচ মাস হয়েছে টেকনাফে টমটম চালাই। টমটম মালিককে দিনে ৭০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। আমার মতো শতাধিক রোহিঙ্গা টমটম চালায়। রাতে মালিককে গাড়ি বুঝিয়ে দিয়ে ক্যাম্পে চলে যায়। মাঝেমধ্যে পুলিশ আটক করলে মালিককে ফোন দিই। মালিক এসে আমাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। টমটম লাইসেন্স মালিকের নামে। পুলিশের কড়াকড়ি হলে সেদিন মালিক না চালাতে নিষেধ করে আমাদের।

টেকনাফের বাসিন্দা মো. আবু তালহার দাবি, দুই-তিনমাস ধরেই টেকনাফে প্রতিটি ভাড়া বাসায় রোহিঙ্গা রয়েছে। প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না এদের বিরুদ্ধে। নতুন-পুরাতন মিলিয়ে রোহিঙ্গারা নির্বিঘ্নে ঘুরছে। কিন্তু স্থানীয় হলেও আমাদের সবখানে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। সস্তা শ্রম দিয়ে শুধু টেকনাফ নয়- পুরো কক্সবাজারের শ্রমবাজারে রোহিঙ্গারা। এ সুযোগও নিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মাসিক চার-পাঁচ হাজার টাকায় ওরা কাজ করে। যেখানে এক দিনে স্থানীয়দের দিতে হয় ১৫০০ টাকা। আর রোহিঙ্গাদের দিতে ১০০০ টাকা। মিয়ানমারের মুদ্রায় হিসাব করলে দিনে এর পরিমাণ হবে ৫০ হাজার টাকা। তাও রোহিঙ্গাদের জন্য বেশি। এদের কারণে স্থানীয়দের কাজের পথও রুদ্ধ করা হয়েছে।

জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গারা আর ফিরবে না, এটা এক রকম স্পষ্ট। শান্ত টেকনাফ আজ অশান্ত-বিশৃঙ্খল হয়েছে রোহিঙ্গাদের কারণে। শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেই স্থানীয় প্রশাসনের। ‘আমাদের অনুরোধ, টেকনাফবাসীর জন্য কিছু করুক প্রশাসন। যাতে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারি। তা না হলে টেকনাফ কেন, এক সময় পুরো কক্সবাজার চলে যাবে রোহিঙ্গাদের কবজায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. সালা উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গাদের বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিচরণের ক্ষেত্রে বিজিবি চেকপোস্ট ছাড়া যৌথবাহিনীর চেকপোস্ট ও বসানো হয়েছে। টমটম, সিএনজিচালকসহ ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বিভিন্ন কর্মে জড়িত রোহিঙ্গাদের আটক করে সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেসব ভাড়া বাসার মালিকরা রোহিঙ্গাদের ঘর ভাড়া দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ভাঙা ঘরে বসেই ২৫ জাতের ধান উদ্ভাবন, ২১ বছরেও মেলেনি স্বীকৃতি

 * প্রক্ল দেখলেন জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমানুল্লাহ আসিফ, নালিতাবাড়ী (শেরপুর)

কোনো আধুনিক গবেষণাগার নেই, নেই উন্নত যন্ত্রপাতি কিংবা বড় কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা। আছে শুধু কৃষির প্রতি গভীর অনুরাগ, নিজস্ব অভিজ্ঞতা আর ব্যর্থতার পর আবারও শুরু করার অদম্য মানসিকতা। গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা ৫৫ বছর বয়সী সেন্টু কুমার হাজং উদ্ভাবন করেছেন ২৫ টি দেশী ধানের জাত। এসএসসি পাসের পর অর্থাভাবে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারলেও নতুন কিছু করার আগ্রহ থেমে থাকেনি তার। সেই আগ্রহ থেকেই দেশি ধানের জাত সংরক্ষণ ও নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজে হাতেখড়ি।

সেন্টু কুমার হাজং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোলঘেঁষা শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাটকিয়া গ্রামের অতি সাধারণ পরিবারের একজন কৃষক। বড় ডিগ্রি অর্জন না করলেও ২১ বছরের নিজস্ব গবেষণায় ২৫ টি ধানের জাত উদ্ভাবন করে সাড়া ফেলেছেন তিনি। এছাড়াও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও প্রায় দুই শতাধিক ধানের জাত। নিজের মাত্র ১২ কাঠা জমিতে তৈরি করেছেন ৪৪০টি পরীক্ষামূলক প্লট। বছরের বিভিন্ন সময়ে সেখানে চলছে নানা জাতের ধান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তার উদ্ভাবিত ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এলাকার অনেক কৃষক। তবে এসব জাতের সরকারি স্বীকৃতি এখনো মেলেনি। এমনকি বীজ প্রত্যয়ন বোর্ডের প্রত্যয়ন না পাওয়ায় তার আবিষ্কৃত বীজধান প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না।

সুত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে স্থানীয় একটি এনজিওর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেন সেন্টু হাজং। এরপর ধানের জাত নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করেন। ধানের জাত উদ্ভাবনে তিনি ব্যবহার করেন ব্রিডিং বা সংকরায়ণ পদ্ধতি। একটি নতুন জাত তৈরি করে সেটি যাচাই করতে তার সময় লেগেছে সাত থেকে আট বছর। সফলতার পর থেকেই তার নিজ নামেই বাজারে চলছে এসব ধান। তার প্রথম সফল উদ্ভাবন ‘সেন্টু শাইল’ ধান। দীর্ঘ সাত বছরের চেষ্টার পর এই জাতটি উদ্ভাবন করেন। এরপর আবিষ্কার করেন ‘সেন্টু পাইজাম’ ধান। সেন্টু পাইজাম ধানটি এলকার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চলতি আমন মৌসুমে শতশত কৃষক সেন্টু পাইজাম ও সেন্টু শাইল ধান আবাদ করেছেন।

ফলন ভালো হওয়ায় বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ ধানের ভালো চাহিদা রয়েছে। এরপর থেকে আরও নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সেন্টু। যা সেন্টু- ১ থেকে সেন্টু- ২৫ পর্যন্ত তার নামেই রয়েছে। তবে এরমধ্যে উদ্ভাবিত সেন্টু শাইল, পাঁচ ধরনের সেন্টু পাইজাম, তিন ধরণের চিনি শাইল ও তুলশিমালা অন্যতম। স্থানীয় কৃষি বিভাগ সেন্টু হাজংয়ের দীর্ঘদিনের এই গবেষণার বিষয়ে অবগত রয়েছেন। তবে এতদিনেও তার কাছে কোনো সরকারি প্রণোদনা বা বিশেষ সহায়তা পৌঁছায়নি।

গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সেন্টু হাজংয়ের এই ব্যতিক্রমী কৃষি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় তিনি সেন্টুর উদ্ভাবনী উদ্যোগ, কৃষি অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবিত ধানের বিভিন্ন জাত সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। সঙ্গে ছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

সেন্টু হাজং শুধু নতুন জাত উদ্ভাবন নয়, হারিয়ে যেতে বসা দেশি ধানের জাত সংরক্ষণেও কাজ করছেন। তিনি এরই মধ্যে বগি, হালই, গোলাপী, মালঞ্চি, ময়নাগিড়ি, মালসিরা, অনামিয়া, পারিজাত, আপচি, কাইশাবিন্নি, মারাক্কাবিন্নি, শংবিন্নি, দুধবিন্নি, বিরই, চাপাল ও খাসিয়াবিন্নিসহ বিভিন্ন দেশি জাতের ধান প্রতিবছর নিজের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করছেন। বর্তমানে ঢেপা, চাপাল, পুরাবিন্নি ও নেদরাবিন্নিসহ বিভিন্ন জাত নিয়ে পরীক্ষা করছেন তিনি। এসব ধান চাষে তিনি গোবর ও নিজস্বভাবে তৈরি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করেন।

কৃষক সেন্টু হাজং বলেন, দেশি ধানের অনেক জাতই এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। অথচ এসব ধানের আলাদা স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব জাতের ধানে পোকার আক্রমণও তুলনামূলক কম। তাই দেশি ধানের জাতগুলো আমি সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি এখনো কোনো সরকারি স্বীকৃতি পাইনি। এছাড়া আমার কোনো পরীক্ষাগার কিংবা ল্যাবও নেই এমন কি আবিষ্কৃত বীজ ধানের প্রত্যয়নও পাইনি। আমি আমার ভাঙা ঘরে থেকেই এসব নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করে যাচ্ছি।

তিনি আরো বলেন, সরকারিভাবে যদি আমাকে একটি ল্যাব বানিয়ে দেয়, তাহলে বীজধান আবিষ্কারের অনেক কিছু সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে আমার।

এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, কৃষক সেন্টু হাজং দেশি জাতের ধান আবিষ্কার করে একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। আমরা তাকে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকমের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।


নির্বাচিত

ফেনীতে মাকে বটির দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করল মেয়ে

ঘটনাস্থল থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় অভিযুক্ত মেয়ে রানুকে আটক করা হয়
অভিযুক্ত মেয়ে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী জেলা প্রতিনিধি

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে রানু আক্তারের ধারালো বটির কোপে সেতারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা মা নিহত হয়েছেন।

রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ডেউলিয়া গ্রামের বড় বাড়ির হোসেন মিয়ার ঘরে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর ও নির্মম এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

খবর পেয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ও অভিযুক্ত মেয়ে রানু আক্তারকে (৪২) আটক করে। নিহত সেতারা বেগম ওই গ্রামের হোসেন মিয়ার স্ত্রী ও অভিযুক্ত রানু আক্তার তাদের মেয়ে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কিছুদিন ধরে রানু আক্তার অসংলগ্ন আচরণ করতে শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি তার স্বামীকেও মারধর করেন। এ ঘটনার পর পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং মানসিক চিকিৎসাসহ বিভিন্ন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। রবিবার রাতে হঠাৎ রানু ঘরের অন্যদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ধারালো বটি দিয়ে তার মা সেতারা বেগমকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে রানু বটি হাতে নিয়ে ঘরের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে দৌড়াতে থাকেন ও দরজা ভেতর থেকে আটকে রাখেন।

খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর পুলিশ বসতঘরের লোহার দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় অভিযুক্ত মেয়ে রানুকে আটক করা হয়।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, মানসিক অসুস্থ মেয়ের হাতে মা খুন হয়েছেন। মেয়ে রানু আক্তার পূর্বের থেকে মানসিক অসুস্থ ছিল। কিছুদিন পূর্বে তিনি স্ট্রোক করেন। মানসিক অসুস্থতার কারনে তার স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যান। চিকিৎসার জন্য তাকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা ছিল। রানু তার স্বামীর বাড়িতে ভালোই ছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।

দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙ্গে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বটিসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানালেও বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

গ্যাস সংকটে ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

গ্যাস সংকটের কারণে জামালপুরের সারিষাবাড়ীতে অবস্থিত ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় সার উৎপাদন আবারও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার ভোর থেকে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।

সার কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ১৭শ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানা গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ আট মাস বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে শুরু হয় উৎপাদন। এরপর ৭ অক্টোবর কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দিলে সাময়িকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বয়লার প্ল্যান্টের যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে ১৬ দিন পর গত ২৩ অক্টোবর আবারও উৎপাদনে ফিরে কারখানাটি। কিন্তু উৎপাদনে ফেরার দুই দিনের মাথায় গ্যাস সংকটে আবারও বন্ধ হয়ে গেল যমুনা সার কারখানা। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করে থাকে।

যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক জানান, নিরবিচ্ছিন্নভাবে সার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদামত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় আজ ভোর ৫টা থেকে কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও উৎপাদন শুরু হবে।

গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। পরে গ্যসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে আবারো যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় কারখানায় বিভিন্ন যান্ত্রিক ও কারগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এতে করে উৎপাদনের কাঙ্খিত লক্ষমাত্রা অর্জন ব্যাহত হয়।

যমুনা সার কারখানা বিসিআইসির তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯শ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ও কারখানাটি সচল থাকলে প্রতি মাসে প্রায় দুইশ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়। এতে কারখানাটির লাভ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কারখানা বন্ধ থাকলে অন্যান্য খরচ ছাড়াও শুধু প্ল্যান্ট সচল রাখতে গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ থাকলে প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সার সংকট দেখা দিতে পারে। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।


নির্বাচিত

পাঙাশের ৪০ শতাংশ নমুনায় মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি

# বাকৃবির গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য # ত্রিশালের সব নমুনা পুকুরের পলিতে মিলেছে মাইক্রোপ্লাস্টিক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ

ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ২৫টি বাণিজ্যিক মাছের পুকুরের তলদেশের পলি এবং চাষের মাছের পরিপাকতন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। দেশের বাণিজ্যিক মাছ চাষের পুকুরেও শনাক্ত হয়েছে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খানের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন’-এ প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণার অংশ হিসেবে ত্রিশালের ২৫টি খামার থেকে পুকুরের তলদেশের পলি এবং ৬ প্রজাতির মোট ১৫০টি মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রজাতিগুলো হলো রুই, কাতলা, পাঙাশ, মৃগেল, কমন কার্প ও সরপুঁটি। প্রতিটি প্রজাতি থেকে ২৫টি করে মাছ নিয়ে রাসায়নিক ও অণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণ করা হয়।

বিশ্লেষণে ১৫০টি মাছের পরিপাকতন্ত্রে মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। গড়ে প্রতি মাছে ০.৬০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। প্রজাতিভেদে সরপুঁটিতে গড়ে সবচেয়ে বেশি ১.২০টি কণা পাওয়া গেছে। রুই ও কালিবাউশে গড়ে ০.৬৮টি করে।

শতকরা হারে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে পাঙাশ মাছে, ৪০ শতাংশ। রুই মাছে ৩৬ শতাংশ, কাতলা ও মৃগেলে ২০ শতাংশ করে এবং কমন কার্প ও সরপুঁটিতে ১৬ শতাংশ হারে পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া পরীক্ষা করা ২৫টি পুকুরের প্রতিটির তলদেশের পলিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। প্রতি কেজি পলিতে গড়ে ১১.০৪টি কণা শনাক্ত হয়েছে। পলিউশন লোড ইনডেক্স (পিএলআই) অনুযায়ী দূষণের মাত্রা ১ থেকে ৪.৫ পর্যন্ত, যা কয়েকটি নমুনায় অত্যন্ত উচ্চ।

গবেষণায় দেখা গেছে, পুকুরের তলদেশে বসবাসকারী মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের হার ৫২ শতাংশ। মধ্যস্তরে ৩৫ শতাংশ এবং উপরিভাগে ১৩ শতাংশ। মাছের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ এবং তৃণভোজী মাছের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ।

গবেষকদের বিশ্লেষণে মাছের খাদ্যের প্লাস্টিক ব্যাগ ও প্যাকেজিং, মাছ ধরার নাইলন ও পলিয়েস্টারের জাল, পুকুরের পাড়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ত্রিপল এবং সেচকাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপের ক্ষয়কে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খান বলেন, ‘এই গবেষণায় আমরা মাছের পরিপাকতন্ত্র পরীক্ষা করেছি। মানুষের খাওয়ার উপযোগী মাছের পেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমার পরিমাণ সরাসরি পরিমাপ করা হয়নি। ফলে এসব মাছ খাওয়ার মাধ্যমে মানবদেহে কতটা প্রবেশ করতে পারে তা এই গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যৎ গবেষণায় মাছের পেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং ভারী ধাতুর সঙ্গে এর সম্মিলিত প্রভাব পরীক্ষা করা জরুরি।’ পাশাপাশি খামারে প্লাস্টিকসামগ্রীর যথাযথ পুনর্ব্যবহার, পুকুরে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।


নির্বাচিত

টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে নারীকে ধর্ষণ, চালকসহ ৩ জনের যাবজ্জীবন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চলন্ত বাসে নারী যাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে চালক ও সহকারীসহ তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রোববার দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আ.ন.ম. ইলিয়াস এই রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, বাসের চালক মো. আলতাফ (২৫)। তিনি দিনাজপুরের চিরির বন্দর উপজেলার নান্দেরাই গ্রামের আব্দুর রবের ছেলে। অপর দুই দণ্ডপ্রাপ্ত হলেন চালকের সহকারী মো. রাব্বি (২১) এবং বাসের কন্ট্রাকটর সাগর ওরফে সজিব মাতাব্বর (২৪)। রাব্বি সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার শিবপুর গ্রামের খোকন মিয়ার ছেলে। সাগর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার চাঁদর হাট বাজারের চুন্নু মাতাব্বরের ছেলে।

দণ্ডিত তিনজনকেই ২ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক বছর করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারী কৌঁসুলি (পিপি) ওমরাও খান দিপু বলেন, ধর্ষণের শিকার ওই নারী গত ১৪ জানুয়ারি রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার গাবতলী থেকে আশুলিয়া যাওয়ার জন্য সাভার পরিবহনের একটি বাসে ওঠে। পথে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে অন্য যাত্রীরা নেমে যায়। পরে চলন্ত বাসে ওই নারীকে তারা পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় ভয় দেখিয়ে ওই নারী যাত্রীর কানের দুল, নগদ ৩৬ হাজার টাকা ও মুঠোফোন ছিনতাই করে নেয়। পরে বাস নিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে চক্কর দিতে থাকে।

পর দিন টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া আন্ডারপাস এলাকায় বাসটি থামায়। এ সময় ধর্ষণের শিকার নারী ওই এলাকায় টহলে থাকা হাইওয়ে পুলিশের কাছে ঘটনা খুলে বলেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ বাসসহ দণ্ডিতদের টাঙ্গাইল সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

ওই দিনই টাঙ্গাইল সদর থানায় ওই নারী বাদী হয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন।

টাঙ্গাইল সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ভীক্টর ব্যানার্জী তদন্ত শেষে গত ২৯ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত রায় দেন। পরে আসামিদের টাঙ্গাইল জেলহাজতে পাঠানো হয়।


নির্বাচিত

তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের উদ্যোগ, আত্মহত্যার হুমকি ২৪ পরিবারের

# জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার দাবি # প্রধানমন্ত্রীর সহযোগীতা কামনা করে সংবাদ সম্মেলন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের প্রাথমিক উদ্যোগের প্রতিবাদে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ২৪টি কৃষক পরিবারের সদস্যরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রস্তাবিত জমি অধিগ্রহণ করা হলে পরিবারগুলো একমাত্র জীবিকার উৎস হারিয়ে ভূমিহীন ও অসহায় হয়ে পড়বে। তাই নিজেদের ফসলি জমি রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তারা। এ পরিস্থিতিতে জমি অধিগ্রহণের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে বিকল্প জমিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারগুলো। রোববার বুড়িচং প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন হরিপুর গ্রামের কৃষক পরিবারের সদস্যরা। সংবাদ সম্মেলনে তারা নিজেদের জমি রক্ষা ও পরিবারগুলোর ভবিষ্যৎ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে গ্রামবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মোহাম্মদ রবিউল হাসান। এ সময় নেহারা খাতুন, আলমগীর হোসেন, ফরিদ মিয়াসহ হরিপুর গ্রামের আরও কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত বক্তব্যে বলেন, বুড়িচং উপজেলার হরিপুর গ্রামে একটি কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ নির্মাণের লক্ষ্যে যে জমিগুলো অধিগ্রহণের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে, সেগুলো সম্পূর্ণ তিন ফসলি জমি। এসব জমিতে বছরে একাধিকবার ফসল উৎপাদন করে এলাকার বহু দরিদ্র ও অসহায় পরিবার জীবিকা নির্বাহ করে। কৃষিকাজের সঙ্গে তাদের সংসারের আয়-রোজগার, সন্তানদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সরাসরি জড়িত।

কৃষকদের দাবি, প্রস্তাবিত জমিগুলো তাদের কাছে শুধু কৃষিজমি নয়, বরং বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। জমির মালিকদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাদের কেউ অটোচালক, কেউ রিকশাচালক কিংবা সাধারণ পেশার সঙ্গে যুক্ত।

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, প্রস্তাবিত অধিগ্রহণের কারণে ২৪টি পরিবার সম্পূর্ণ ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। জমি হারালে তাদের কৃষিকাজ বন্ধ হয়ে যাবে, কমে যাবে আয়ের সুযোগ। এতে পরিবারগুলোর খাদ্য, চিকিৎসা, সন্তানদের শিক্ষা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা পূরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারগুলোর সামনে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।

কৃষক পরিবারগুলোর দাবি, হরিপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের জন্য তিন ফসলি জমি অধিগ্রহণের পরিবর্তে এলাকায় থাকা পতিত ও অনাবাদি জমি বিবেচনা করা যেতে পারে। তাদের ভাষ্য, এসব বিকল্প জমি ব্যবহার করা হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পাশাপাশি দরিদ্র কৃষক পরিবারগুলোর জীবিকা ও বসতভিটা রক্ষা করা সম্ভব হবে।

তাদের অভিযোগ, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে অসহায় কৃষক পরিবারগুলোকে ভূমিহীন করার উদ্দেশ্যে এসব জমি নির্বাচন করেছে।

এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক, ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা, বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং বুড়িচং প্রেসক্লাব বরাবর স্মারকলিপি দেন।


নির্বাচিত

ফুটপাত দখলমুক্ত করার পাশাপাশি পুর্নবাসনও করা হবে: রাসিক প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন বলেছেন, রাজশাহী মহানগরীকে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে। নাগরিকদের স্বাচ্ছ্যন্দে ও নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিতকরণে ফুটপাত দখলমুক্ত করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে ভদ্রা, মহিলা কলেজ রোড ও মেডিকেলের সামনের একাংশে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়েছে। লক্ষ্মীপুর,জিরোপয়েন্ট,সোনাদিঘি মোড়, রেলগেট, গণকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলে রয়েছে। এসব ফুটপাত দখলমুক্ত করতে যা যা করা প্রয়োজন তাই করবো। দখলমুক্ত করার পাশাপাশি ফুটপাতের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পর্যায়ক্রমে পুর্নবাসন করা হবে।

ফুটপাত দখলমুক্তকরণ কার্যক্রমে উচ্ছেদ হওয়া ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের লক্ষ্যে রোববার রাজশাহী মহানগরীর সাহেব বাজারস্থ সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন মার্কেট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন সিটি করপোরেশনের মার্কেটের সাহেব বাজার কাঁচাবাজার, মাছপট্টি, মাংসপট্টি, কসাইখানা এবং উক্ত মার্কেটের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত বিভিন্ন পরিত্যক্ত দোকান পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও হকারদের পুনর্বাসনের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

পরিদর্শন শেষে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহী মহানগরীকে শুধু নামেই নয়, বাস্তব অর্থেই ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিণত করতে চাই। মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার শুধু কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। প্রধানমন্ত্রীর একজন কর্মী হয়ে আমিও কথা নয়, কাজে বিশ্বাসী। রাজশাহী মহানগরীকে নতুনভাবে ঢেলে সাজাতে চাই।

রাসিক প্রশাসক আরো বলেন, সাহেব বাজার কাঁচাবাজার ও মাছপট্টির দ্বিতীয় তলায় ৮৯টি দোকান অবহেলিত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এসব দোকান ও সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনা করে সেগুলোকে কার্যকরভাবে ব্যবহার উপযোগী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

পরিদর্শনকালে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা আবু সালেহ মো. নূর-ঈ সাঈদ, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান ইমন, নির্বাহী প্রকৌশলী (উন্নয়ন) নিলুফার ইয়াসমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী (পরিকল্পনা) জসীম উদ্দীন আরজু, রাজস্ব কর্মকর্তা সারোয়ার হোসেন খোকন এবং উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা সেলিম রেজা রঞ্জু সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাজবাড়ীতে ড্রাগন চাষে সাফল্য দিন দিন বাড়ছে নতুন উদ্যোক্তা

# দিনে সংগ্রহ হচ্ছে ২ হাজার কেজি ড্রাগন ফল
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাজী আব্দুল কুদ্দুস, রাজবাড়ী

রঙিন ফলের সমারোহে এখন মুখরিত রাজবাড়ীর মাটি। জেলার কৃষি খাতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে অত্যন্ত লাভজনক বিদেশি ফল ‘ড্রাগন’। কম খরচে অধিক মুনাফা অর্জিত হওয়ায় এবং বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকায় রাজবাড়ীতে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফলের আবাদ।

​জানা গেছে, রাজবাড়ী সদর উপজেলার বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামেই গড়ে উঠেছে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগান। প্রায় দুই একর জমির ওপর বিস্তৃত এই বিশাল বাগানে বর্তমানে শোভা পাচ্ছে প্রায় চার হাজার ড্রাগন গাছ। প্রতিটি গাছে লাল ও গোলাপি রঙের পাকা ড্রাগনের ঝুলন্ত দৃশ্য চোখ জুড়িয়ে দেয়।

বাগান মালিক ও কর্মচারীদের মতে, প্রতিটি গাছে গড়ে ১০ থেকে ১২ কেজি পর্যন্ত ফল ধরেছে। বর্তমানে ভরা মৌসুমে বাগানটি থেকে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৫০ মণ (২,০০০ কেজি) তাজা ড্রাগন ফল সংগ্রহ করা হচ্ছে।

​বর্তমানে স্থানীয় পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ড্রাগন বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা দরে। কেবল স্থানীয় চাহিদার গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ নেই এই বাগান। রাজবাড়ীর রসালো, মিষ্টি ও সুস্বাদু ড্রাগন ফল এখন সরবরাহ হচ্ছে পার্শ্ববর্তী ফরিদপুর, কুষ্টিয়া এবং রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন বড় বড় পাইকারি বাজারে। তাজা ও রাসায়নিকমুক্ত ফল কিনতে স্থানীয় ক্রেতা ও পাইকাররা এখন প্রতিদিন বাগান প্রাঙ্গণেই ভিড় জমাচ্ছেন।

বাগানের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও ফলন সম্পর্কে বাগানের ম্যানেজার জমাদি উল আলম বলেন, ‘এখানকার মাটির উর্বরতা ও আবহাওয়া ড্রাগন চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা প্রথম থেকেই নিয়ম মেনে সুষম সার প্রয়োগ, সঠিক সময়ে সেচ প্রদান এবং আধুনিক উপায়ে গাছের পরিচর্যা নিশ্চিত করেছি। নিয়মিত যত্ন ও কঠোর তদারকির ফলেই এবার গাছে আশাতীত ফলন এসেছে। প্রতিটি গাছে যেভাবে ফল ধরেছে, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। আমরা কেবল ফলনের পরিমাণের দিকেই নজর দিচ্ছি না, বরং রাসায়নিকের অপব্যবহার রোধ করে সম্পূর্ণ বিষমুক্ত ও মানসম্মত ড্রাগন ফল উৎপাদনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আমাদের লক্ষ্য হলো দেশের মানুষের হাতে পুষ্টিকর ও নিরাপদ ফল পৌঁছে দেওয়া।’

বাগান থেকে সরাসরি ড্রাগন ফল কিনতে আসা বাজিতপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাজার থেকে ফল কিনলে অনেক সময় বাসি বা কেমিক্যালযুক্ত হওয়ার ভয় থাকে। কিন্তু এই বাগানে এসে একদম গাছ থেকে নিজেদের সামনে তাজা ও রক্তিম ড্রাগন পেড়ে কিনতে পারছি—এই অনুভূতিটাই দারুণ! এখানকার ফলগুলো বেশ বড়, মিষ্টি ও রসালো। পরিবারের পুষ্টির কথা চিন্তা করে বাগান থেকেই সরাসরি ফল কিনতে এসেছি।’

ফরিদপুর থেকে আসা ফলের পাইকারি ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘রাজবাড়ীর এই বাগানের ড্রাগন ফলের সাইজ ও গুণগত মান অত্যন্ত চমৎকার। বাজারে এই এলাকার ড্রাগন ফলের চাহিদা খুব বেশি। গ্রাহকরা রাজবাড়ীর মিষ্টি ড্রাগন ফল বেশ পছন্দ করছেন। তাই আমি নিয়মিত এখান থেকেই পাইকারি দরে ফল কিনে ফরিদপুরের বাজারে নিয়ে বিক্রি করি। বাগান থেকে ফ্রেশ ফল পাওয়ায় আমাদের বিক্রিও খুব ভালো হয়।’

​রাজবাড়ী সদর শহর থেকে পরিবার নিয়ে বাগানে আসা দর্শনার্থী ও ক্রেতা ফারহানা ইয়াসমিন বলেন, ‘বাগানজুড়ে সারিবদ্ধ গাছে ঝুলন্ত ড্রাগন ফল দেখতে দারুণ লাগে, যেন এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্য! বাচ্চারা খুব আনন্দের সাথে বাগানে ঘুরে লাল-গোলাপি ফলগুলো দেখছে। আমরা যেমন ছুটির দিনে ঘুরে আনন্দ পেলাম, তেমনই কোনো ভেজাল ছাড়া গাছপাকা পুষ্টিকর ফল কিনে ঘরে ফিরছি।’

​কৃষকদের এই অভাবনীয় সাফল্যে সার্বক্ষণিক ছায়া হয়ে পাশে রয়েছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ। মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত বাগান পরিদর্শন করছেন এবং উদ্যোক্তাদের গাছের পুষ্টি ব্যবস্থাপনা, রোগবালাই দমন ও আধুনিক পরিচর্যার নানা দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন।

​এ বিষয়ে স্থানীয় উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মোস্তাক খান বলেন, ‘ড্রাগন চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আমরা মাঠপর্যায়ে নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, সুষম সার ব্যবহার এবং রোগবালাই প্রতিরোধে সরাসরি পরামর্শ দিচ্ছি। সঠিক পরামর্শের ফলে কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত সাফল্য পাচ্ছেন।’

​কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বিক প্রযুক্তিগত সহায়তা ও নিয়মিত তদারকি প্রদান করায় রাজবাড়ী জেলা খুব দ্রুত ড্রাগন উৎপাদনে একটি ‘মডেল জেলা’য় পরিণত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জনি খান। তিনি জানান, উদ্যোক্তাদের সব ধরনের প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে যাতে ভবিষ্যতে আরও নতুন নতুন উদ্যোক্তা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ড্রাগন চাষে এগিয়ে আসেন।

​বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারি সহায়তা ও কৃষি বিভাগের সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনায় রাজবাড়ীর এই ড্রাগন বিপ্লব কেবল স্থানীয় উদ্যোক্তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বীই করছে না, বরং সমগ্র জেলার কৃষি অর্থনীতিতে যুক্ত করছে এক নতুন ও সম্ভাবনাময় মাত্রা।


নির্বাচিত

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মীর আব্দুল আওয়াল মাস্টারের ইন্তেকাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার খাস মথুরাপুর গ্রামের বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, শিক্ষানুরাগী ও রাজনীতিবিদ মীর আব্দুল আওয়াল মাস্টার আর নেই। গত ২৫ অক্টোবর ভোর ৫টায় বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর।

মীর আব্দুল আওয়াল মাস্টার ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষাবিদ ও আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষা বিস্তার এবং সমাজের উন্নয়নে তিনি আজীবন নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে গেছেন।

তিনি ১৯৬১ সালে নবাব সিরাজউদ্দৌলা (এনএস) কলেজ থেকে অত্যন্ত কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিও লাভ করেন। কর্মজীবনে তিনি কুষ্টিয়া জেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাগোয়ান কেসিভিএন হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক হিসেবে তিন দশকেরও বেশি সময় অত্যন্ত নিষ্ঠা, দক্ষতা ও সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ শিক্ষকতা জীবনে তিনি অসংখ্য শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে গড়ে তুলেছেন। তাঁর হাতে গড়া অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছেন। একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে তাঁর কর্মনিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও শিক্ষার প্রতি গভীর অনুরাগ বহু মানুষের জীবনে অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। শিক্ষা ও সমাজের অগ্রযাত্রায় তাঁর অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

উল্লেখ্য, কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের মিডিয়া ও জনসংযোগ (পিআর) বিভাগের প্রধান মাহফুজুর রহমান মরহুমের সুযোগ্য নাতি।

মীর আব্দুল আওয়াল মাস্টারের মৃত্যুতে তাঁর পরিবার, আত্মীয়স্বজন, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর মৃত্যুতে আমরা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।


নির্বাচিত

গোপালগঞ্জে পিকআপচাপায় বাবা-মেয়ের মৃত্যু

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় মাছবাহী একটি পিকআপের চাপায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের দুই যাত্রী বাবা ও তাঁর ছয় বছর বয়সী শিশুকন্যা নিহত হয়েছেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলায় মাছবাহী একটি পিকআপের চাপায় ব্যাটারিচালিত ভ্যানের দুই যাত্রী বাবা ও তাঁর ছয় বছর বয়সী শিশুকন্যা নিহত হয়েছেন। রবিবার সকালে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের গ্যাড়াখোলা সেতু এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ফরিদপুর জেলার আলফাডাঙ্গা উপজেলার পবন বেগ গ্রামের হেমায়েত মোল্লার ছেলে সাইফুল ইসলাম রঞ্জু (৪৫) এবং তাঁর মেয়ে সামিরা আক্তার (৬)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মুকসুদপুরের দিকে যাওয়া একটি যাত্রীবাহী অটোভ্যান মহাসড়কের গ্যাড়াখোলা ব্রিজের ওপর পৌঁছালে গোপালগঞ্জগামী একটি মাছের পিকআপ সেটিকে সজোরে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। এতে ভ্যানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চালকসহ যাত্রীরা ছিটকে পড়েন। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় বাবা ও মেয়েকে উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন।

দুর্ঘটনায় প্রাণহানির বিষয়টি নিশ্চিত করে মুকসুদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে।’


নির্বাচিত

অটোরিকশা চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে নিহত ২

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চুরির অভিযোগে উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। রবিবার ভোরে উপজেলার বড়বিল ইউনিয়নের বাগপুর বাগেরহাট গ্রামের পুকুর খুড়ির দোলা ক্যানেল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তিরা হলেন কচুয়া সরদারপাড়া এলাকার এজারুল ওরফে রেজাউল কানা (৪৫) এবং কোলকোন্দ ইউনিয়নের বাসিন্দা সাদিকুল ইসলাম (২৫)।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, ভোরে স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল মিয়ার বসতবাড়ি থেকে একটি অটোরিকশা নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি টের পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নিকটস্থ মসজিদের মাইক থেকে ‘চোর, চোর’ বলে প্রচার করা হলে ফজরের নামাজে আসা মুসল্লিসহ এলাকাবাসী জড়ো হয়ে অভিযুক্তদের ধাওয়া দেন। একপর্যায়ে অটোরিকশাটি রাস্তায় ফেলে পালানোর চেষ্টা করলে সোহেল মিয়ার বাড়ি থেকে প্রায় আধা কিলোমিটার পশ্চিমে উত্তর পানাপুকুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে দুজনকে আটক করা হয়। সেখানে উপস্থিত জনতা তাঁদের এলোপাতাড়ি মারধর করলে ঘটনাস্থলেই দুজনের মৃত্যু হয়।

গঙ্গাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুস সবুর জানান, চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের পিটুনিতে দুজনের মৃত্যুর প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর অভিযোগকারীদের সঙ্গে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিষয়:

নির্বাচিত

ক্যান্সারের সঙ্গে যুদ্ধে হার মানলেন ফেনীর ক্রিকেটার হৃদয়,  বিসিবির শোক

বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী জেলা প্রতিনিধি
জাতীয় ক্রিকেট দলের হয়ে খেলার স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ফেনীর তরুণ ক্রিকেটার মেহেদী হাসান হৃদয়। চট্টগ্রাম বিভাগ অনূর্ধ্ব-১৮ দলের এই ক্রিকেটার অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) নামের রক্তের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে মারা গেছেন তিনি। এদিন রাত সাড়ে ৯টায় নিজ গ্রাম মধুয়াই চৌধুরী হাট ঈদগাহ ময়দানে জানাজা শেষে তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
হৃদয় ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের মধুয়াই গ্রামের আবুল কাশেমের একমাত্র ছেলে। পরিবারের বড় সন্তান হৃদয়ের এক ছোট বোন রয়েছে। বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে জাতীয় পর্যায়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখছিলেন তিনি।
অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া রক্ত ও অস্থিমজ্জার এক ধরনের ক্যানসার। এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর হৃদয়ের চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। তার চিকিৎসায় সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল বিসিবি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
গত ২ জুলাই বিসিবি কার্যালয়ে হৃদয়ের বাবা আবুল কাশেমের হাতে চিকিৎসার জন্য পাঁচ লাখ টাকার চেক তুলে দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই পরিমাণ অর্থ সহায়তা দেয় বিসিবিও। দুই প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি ফেনীর স্থানীয় ক্রীড়া সংগঠকদের আর্থিক সহায়তায় তাঁর চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত বাঁচানো যায়নি এই তরুণ ক্রিকেটারকে। হৃদয়ের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে ফেনীর ক্রীড়াঙ্গনে। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বিসিবি।
সম্ভাবনাময় এই ক্রিকেটারের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ফেনী জেলা কাউন্সিলর শরিফুল ইসলাম অপু। তিনি বলেন, মেহেদী হাসান হৃদয়ের মৃত্যু জেলা ও দেশের ক্রিকেটের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। সে ছিল সম্ভাবনাময় একজন তরুণ ক্রিকেটার। তাঁর স্বপ্ন ছিল জাতীয় দলের হয়ে খেলা। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই তাঁকে চলে যেতে হলো। হৃদয়ের এই অকালমৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক।

বিষয়:

নির্বাচিত

ময়মনসিংহ মেডিকেলের অব্যবস্থাপনায় ক্ষুব্ধ স্বাস্থ্যমন্ত্রী, তদন্তের নির্দেশ

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন অব্যবস্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল। হাসপাতালটি আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি ময়লার ভাগাড়ে চিকিৎসাসামগ্রী পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় অনিয়মের বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
শনিবার দুপুরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় তিনি রোগীদের চিকিৎসাসেবা, হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ ও ব্যবস্থাপনার খোঁজখবর নেন। পরিদর্শনকালে হাসপাতালের ময়লার ভাগাড়ে চিকিৎসাসামগ্রী পড়ে থাকা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে অব্যবস্থাপনার চিত্র তাঁর নজরে আসে। এসব দেখে তিনি অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং সংশ্লিষ্ট অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ দেন।
এর আগে মন্ত্রী ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসাসেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি ওয়ার্ডে ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া পুরোনো কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি ওয়েলবিং সেন্টারে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার লক্ষ্য রয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকার দরপত্র আহ্বায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ক্যানসার চিকিৎসায় রেডিওথেরাপি সুবিধা সম্প্রসারণ, পাঁচটি রোবটিক সার্জারি ব্যবস্থা স্থাপন এবং পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিদর্শনকালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাকির হোসেনসহ স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close