২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে নির্বিচার গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী নানা অপরাধ শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। সে বর্বরতায় টিকতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে একসঙ্গে ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সময়ের পরিক্রমায় সেখানে জান্তাবাহিনীর আক্রমণ আরও বাড়ায় এদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। ১২ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ায় ও দেশটিতে তাদের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় ২০২২ সালে আর রোহিঙ্গাকে আশ্রয় না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু, এ বছর মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর যুদ্ধ ও বাংলাদেশে সরকার পতনসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে এদেশে ঢুকে পড়েছে আরও লাখখানেক রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালের আগেও এদেশে দেড় লাখ রোহিঙ্গা বসতি গেড়েছিল। তাই সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছে সাড়ে চৌদ্দ লাখ রোহিঙ্গা। শুরুতে মানবিকতা দেখালেও এখন এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের। অবস্থা এমনই যে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় এখন স্থানীয়রাই পড়েছেন হুমকির মুখে। এই দুই উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারাই রোহিঙ্গাদের কারণে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। ওই এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তো বটেই আশপাশের সব জায়গায় এমনকি কক্সবাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা দেশে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়া-টেকনাফসহ কক্সবাজারে এখন তাদের কাজ পাওয়াই কষ্টকর, তাদের চেয়ে কম মজুরিতে রোহিঙ্গারা কাজ করে বলে শ্রমবাজারের বড় অংশই এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। তাদের অভিযোগ,
উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কাজের খোঁজেই প্রতিদিন দুই শতাধিক রোহিঙ্গা বের হয় বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে। বিজিবি চেকপোস্টে কার্ড দেখিয়ে কৌশলে পার হয়ে বিভিন্ন কাজে যোগ দেন দুই শতাধিক রোহিঙ্গা।
এমনকি ক্যাম্পের বসতি ছেড়ে টেকনাফের ভাড়া বাসাগুলোতেও থাকছেন রোহিঙ্গারা।
উখিয়া ও টেকনাফ ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাটারিচালিত টমটম, মাহিন্দ্র গাড়ির চালক, খাবার হোটেল, আবাসিক হোটেল, গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে, জেলেদের ফিশিং বোটে ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য কাজ এরইমধ্যে দখল করে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ টেকনাফের স্থলবন্দরে ও রোহিঙ্গারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয় শ্রমবাজার চলে গেছে তাদের দখলে। এতে উখিয়া ও টেকনাফসহ আশপাশের স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
টেকনাফের জেলে আব্দুল হামিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের উখিয়া টেকনাফের শ্রমিকদের আগে কাজের অভাব ছিল না। এখন কাজে নেয় না আমাদের। রোহিঙ্গাদের মজুরি সস্তা তাই সব কাজ তাদের দখলে এ রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে যত বিপত্তি আমাদের। এ রোহিঙ্গা অপহরণে জড়িত। তাদের চলাফেরা দেখলে মনে হয় তারা এ দেশের নাগরিক আমরা অধিবাসী। সর্বত্রই আজও রোহিঙ্গাদের রাজত্ব ও বিচরণ চলছে।
টেকনাফ ও শাহপরীরদ্বীপ জেলে নেতা মো. করিম ও মোহাম্মদ আবদুল গণি জানান, ২০১৭ সালে নাফ নদীতে মাছ ধরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় সরকার। ওই সব বোটের মালিকরা স্থানীয় জেলেদের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা মাঝি-মাল্লাদের দিয়ে মাছ শিকার করছে। এই রোহিঙ্গা মাঝি-মাল্লারা মাছ শিকারের নামে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এবং চোরাচালান ও রোহিঙ্গা এদেশে অনুপ্রবেশ করাই আর স্থানীয় জেলেদের অগ্রিম টাকা দিতে হয় বোট মালিকদের। তাই এ কারণে ফিশিং ট্রলার চলছে রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা দিয়ে। আগে সব ফিশিং ট্রলারে মাঝিমাল্লাদের আইডি কার্ড থাকত। এখন এসব তদারকি করে না কোস্টগার্ড ও বিজিবি। তার কারণে রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা বেড়ে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রাই এখন বিপাকে। আমরা ভবিষ্যতের শঙ্কায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে আসার কোনো সুযোগ নেই। ঠিকই তারা বাইরে বের হচ্ছে, নানা কাজে জড়িয়ে পড়ছে। আজ আমরা রোহিঙ্গাদের কারণে বড় বিপদে আছি। পথে-ঘাটে, দোকানে-বাজারে, গাড়িতে সর্বত্রই তাদের দেখা মেলে। শ্রম বাজার দখল করে এখন উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়া। রোহিঙ্গারা বিচরণের ক্ষেত্রে চেকপোস্ট যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে তাদের গাফিলতি আছে।
টেকনাফ বাজারে দেখা হয় একজন রোহিঙ্গা জেলের সঙ্গে তার নাম মো. তৈয়ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিশিং ট্রলারে মাছ শিকার করে আসছেন। সপ্তাহ পর আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরে যান। কীভাবে চেকপোস্ট পার হয়ে আসা যায় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা যুবক টেকনাফ ফিশিং ট্রলারে মাছ শিকার করে। তাদের মধ্যে অনেক রোহিঙ্গা ভুয়া কার্ড তৈরি করে চেকপোস্ট পার হয়। কিন্তু কার্ড যে ভুয়া তা বোঝা যায় না।
টেকনাফ শাপলা চত্বরে দেখা মেলে রোহিঙ্গা টমটমচালক তার আবু ছৈয়দ। তিনি লেদা ক্যাম্পে থাকেন। টমটমচালক রোহিঙ্গা সৈয়দ আলম বলেন, আমি পাঁচ মাস হয়েছে টেকনাফে টমটম চালাই। টমটম মালিককে দিনে ৭০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। আমার মতো শতাধিক রোহিঙ্গা টমটম চালায়। রাতে মালিককে গাড়ি বুঝিয়ে দিয়ে ক্যাম্পে চলে যায়। মাঝেমধ্যে পুলিশ আটক করলে মালিককে ফোন দিই। মালিক এসে আমাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। টমটম লাইসেন্স মালিকের নামে। পুলিশের কড়াকড়ি হলে সেদিন মালিক না চালাতে নিষেধ করে আমাদের।
টেকনাফের বাসিন্দা মো. আবু তালহার দাবি, দুই-তিনমাস ধরেই টেকনাফে প্রতিটি ভাড়া বাসায় রোহিঙ্গা রয়েছে। প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না এদের বিরুদ্ধে। নতুন-পুরাতন মিলিয়ে রোহিঙ্গারা নির্বিঘ্নে ঘুরছে। কিন্তু স্থানীয় হলেও আমাদের সবখানে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। সস্তা শ্রম দিয়ে শুধু টেকনাফ নয়- পুরো কক্সবাজারের শ্রমবাজারে রোহিঙ্গারা। এ সুযোগও নিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মাসিক চার-পাঁচ হাজার টাকায় ওরা কাজ করে। যেখানে এক দিনে স্থানীয়দের দিতে হয় ১৫০০ টাকা। আর রোহিঙ্গাদের দিতে ১০০০ টাকা। মিয়ানমারের মুদ্রায় হিসাব করলে দিনে এর পরিমাণ হবে ৫০ হাজার টাকা। তাও রোহিঙ্গাদের জন্য বেশি। এদের কারণে স্থানীয়দের কাজের পথও রুদ্ধ করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গারা আর ফিরবে না, এটা এক রকম স্পষ্ট। শান্ত টেকনাফ আজ অশান্ত-বিশৃঙ্খল হয়েছে রোহিঙ্গাদের কারণে। শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেই স্থানীয় প্রশাসনের। ‘আমাদের অনুরোধ, টেকনাফবাসীর জন্য কিছু করুক প্রশাসন। যাতে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারি। তা না হলে টেকনাফ কেন, এক সময় পুরো কক্সবাজার চলে যাবে রোহিঙ্গাদের কবজায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. সালা উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গাদের বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিচরণের ক্ষেত্রে বিজিবি চেকপোস্ট ছাড়া যৌথবাহিনীর চেকপোস্ট ও বসানো হয়েছে। টমটম, সিএনজিচালকসহ ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বিভিন্ন কর্মে জড়িত রোহিঙ্গাদের আটক করে সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেসব ভাড়া বাসার মালিকরা রোহিঙ্গাদের ঘর ভাড়া দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
নীলফামারীতে নবাগত জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সাংবাদিকদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় জেলার বিভিন্ন সমস্যা, সম্ভাবনা, জনদুর্ভোগ ও চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে সাংবাদিকরা জেলা প্রশাসকের কাছে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। একই সঙ্গে জনস্বার্থে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সাংবাদিকরা জেলার বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। জেলা প্রশাসক মো. হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বিভিন্ন বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সভায় নীলফামারী প্রেসক্লাবের সভাপতি মঞ্জুরুল আলম সিয়াম,সহ সভাপতি হেকিম মোস্তাফিজুর রহমান সবুজ,শীশ রহমান। ,আনোয়ারুল আলম প্রধান, সাধারণ সম্পাদক মিল্লাদুর রহমান মামুন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দিন শাহ মিলন,অর্থ সম্পাদক আবুল হোসেন শাহ,রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিনসহ জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় কাফনের কাপড় পরে সড়কে নেমে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করেছেন একদল যুবক। বেপরোয়া গতির অভিযোগে রাজিব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল এবং সড়কে সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে মুক্তাগাছা পৌরসভা সিএনজি স্টেশন এলাকায় এ কর্মসূচি দেখা যায়। এ সময় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া যুবকদের হাতে খাতা-কলম নিয়ে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে গিয়ে তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করতে দেখা যায়।
কর্মসূচির আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত রোববার (৪ অক্টোবর) থেকে এ গণস্বাক্ষর কর্মসূচি শুরু হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এ কর্মসূচি চলবে। পরে সংগৃহীত গণস্বাক্ষরসহ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হবে।
মুক্তাগাছা উপজেলা এনসিপির সদস্য সচিব শেখ তুহিন বলেন, ‘বেপরোয়া গতির রাজিব পরিবহনের রুট পারমিট বাতিল এবং সড়কে জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করার দাবিতে আমাদের এ গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতেই কাফনের কাপড় পরে কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘একদিনেই প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি মানুষের স্বাক্ষর পাওয়া গেছে।’ তার দাবি, রাজিব বাসের বেপরোয়া গতি ও দুর্ঘটনার বিষয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে এবং গণস্বাক্ষর কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাধ্যমে সেটিই প্রকাশ পেয়েছে।
শেখ তুহিনের দাবি, রাজিব পরিবহনের রুট পারমিট জামালপুর থেকে টাঙ্গাইল হয়ে ঢাকা মহাসড়কের জন্য থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে সেটি জামালপুর-মুক্তাগাছা-ঢাকা রুটে চলাচল করছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে মুক্তাগাছা থানার ওসি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তাগাছার সড়কে জনসাধারণের নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ট্রাফিক বিভাগ ও থানা পুলিশ কাজ করছে।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির বিষয়টি তিনি দেখেছেন উল্লেখ করে বলেন, ‘নাগরিকরা তাদের দাবি জানাতে পারেন। তবে দাবির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে।’
মুক্তাগাছা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কৃষ্ণ চন্দ্র বলেন, ‘লিখিত আবেদন পেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) ময়মনসিংহ নগরীর বাইপাস পূর্ব গন্ড্রপা এলাকায় রাজিব পরিবহনের একটি বাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের চারজনসহ সাতজন নিহত হন। ওই দুর্ঘটনার পর রাজিব পরিবহনের চলাচল, বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ করে কৃষক আসিফ আওয়াল উৎসের ভাগ্যের চাকা অনেকখানি বদলে গেছে। স্বল্প খরচ আর প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় এবং কলা চাষ লাভজনক হওয়ায় সদ্য সময়ে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় কলা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। উৎপাদিত নেপালি সাগর জাতের কলার চাহিদা ও খ্যাতি এখন সর্বত্রই। টাঙ্গাইলের মধুপুর থেকে চারা সংগ্রহ করে বাণিজ্যিকভাবে ২৫ বিঘা জমিতে নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ ও বিকিকিনির সঙ্গে জড়িয়ে সচ্ছলতা ফিরেছে ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা গ্রামের আব্দুল আওয়ালের পুত্র তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. আসিফ আওয়াল উৎস। গত বছর প্রথমবারেই ভালো ফলন, বড় আকারের ছড়ি এবং কলার আকর্ষণীয় গড়নের কারণে নেপালি সাগর জাতের কলা ব্যবসায়ী ও ব্যাপারীদের প্রবল দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ গাছে কলা ধরেছে। সে কারণে কৃষক উৎসের মুখে তৃপ্তির হাসি। প্রতিনিয়ত বাগান এলাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকা থেকে প্রচুর উৎসুকজনতা কলা বাগান দেখতে ভিড় জমায়। অনেক কৃষক উৎসের নিকট থেকে কলা চাষাবাদ সম্পর্কে পরামর্শও নিচ্ছেন। নিয়মিত গাছে সার ও কীটনাশক প্রয়োগসহ সঠিকভাবে গাছের যত্ন ও পরিচর্যা করেন কৃষক উৎস।
আসিফ আওয়াল উৎসের এমন সাফল্য দেখে এলাকার অন্য যুবকরাও নেপালি সাগর জাতের কলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন এবং আসিফ আওয়াল উৎস নিজেও তার কলা বাগানের আকার বৃদ্ধি করেছেন। মাটি ও আবহাওয়া নেপালি সাগর জাতের কলা চাষের উপযোগী হওয়ায় একবার চারা রোপণ করে বছরে তিনবার কলা বিক্রি করতে পেরে লাভবান হচ্ছেন এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা। নেপালি সাগর ছাড়াও তিনি সবরি, চাঁপা, চিনি চম্পা ও জি নাইনসহ বিভিন্ন ধরনের কলার আবাদও করে থাকেন।
আসিফ আওয়াল উৎস জানান, একবার চারা রোপণ করে তিনবার কলার ফলন পাওয়া যায়। খরচ কম অথচ লাভ বেশি, তাই আমি অনেক দিন ধরে এই নেপালি সাগর জাতের কলার আবাদ করে থাকি। এ বছর আমি ২৫ বিঘা জমিতে এই নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করেছি। এ জাতের কলা বড়, সুস্বাদু এবং রং সুন্দর হওয়ায় দেশের সব জেলাতেই এই জাতের কলার চাহিদা অনেক বেশি। প্রথমবারেই খরচের টাকা বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে দ্বিগুণ। ওই জমি থেকে এখনো দুইবার কলা পাওয়া যাবে।
স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, ধান চাষে লাভ খুব কম; কিন্তু কলা চাষে খরচের দ্বিগুণ আয় হয়। এখন অনেকেই এই চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছে, এ ছাড়া কলা বাগানে অনেকের জীবিকার অন্বেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
কলা বাগান পরিচর্যাকারী জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমি আসিফ ভাইয়ের কলাবাগান নিয়মিত পরিচর্যা করি। কলার কাঁদি বা থোড় যখন বড় হতে শুরু করে, তখন বাতাসের কারণে বা ওজনের চাপে গাছ যেন হেলে বা ভেঙে না পড়ে, সে জন্য বাঁশ বা লাঠি দিয়ে শক্ত খুঁটি বা সাপোর্ট দেওয়ার কাজের দিকে আমার বেশি লক্ষ্য রাখতে হয়।
স্থানীয় তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা স্বজল ইসলাম জানান, কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত থাকলেও কলা গাছের আবাদ কখনো করিনি। তাই আসিফ আওয়াল উৎস ভাইয়ের কাছে এসেছি প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও তার ২৫ বিঘার নেপালি সাগর জাতের কলার বাগান দেখতে।
উপসহকারী কৃষি অফিসার মো. সদরুল ইসলাম জানান, বর্তমানে ভেড়ামারায় কলার চাষ বেড়েছে। কলা চাষে লাভ হওয়ায় চাষিরা বেশি ঝুঁকছেন এতে। কাজীহাটা ব্লকে আসিফ আওয়াল উৎস ২৫ বিঘাতে নেপালি সাগর জাতের কলা আবাদ করছেন। উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে তার সাথে সব সময় যোগাযোগ করা হয়। নানা পরামর্শও দেওয়া হয়। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে তিনি রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলায় কলা সরবরাহ করে থাকেন।
ভেড়ামারা উপজেলা কৃষি অফিসার মোছা. মাহমুদা সুলতানা পলি জানান, কলা চাষিদের বিভিন্ন সমস্যা ও সমাধানে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা সারাদিন মাঠে থাকছেন। আসিফ আওয়াল উৎস এবার ২৫ বিঘা নেপালি সাগর জাতের কলা চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। তাকে কলা চাষে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে থাকি অন্যদিকে কলাতে কার্বাইড ও বিষ স্প্রে না করার জন্যও পরামর্শও দিয়ে থাকি।
ঢাকার মানিকগঞ্জ জেলার বেউথা কালিগঙ্গা নদীতে অনুষ্ঠিত গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার অংশ নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়া কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচর গ্রামের মায়ের দোয়া নৌকাটিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে রৌমারী উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্না দেবনাথের নির্দেশে রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহবুবুল হাসান এ সংবর্ধনা প্রদান করেন।
মানিকগঞ্জের বেউথা কালীগঙ্গা নদীতে গত শনিবার উৎসবমুখর পরিবেশে গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নৌকা বাইচের উদ্বোধন করেন।
এই প্রতিযোগিতায় দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ২২টি নৌকা অংশ নেয়। এর মধ্যে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার বাগুয়ারচর গ্রামের মায়ের দোয়া নামের নৌকাটি ১ কিলোমিটার ব্যবধানে প্রতিযোগিতার অন্যান্য নৌকাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
প্রতিযোগিতা শেষে খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম বিজয়ী মায়ের দোয়া নৌকাকে চ্যাম্পিয়ন ট্রফি ও একটি মোটর সাইকেল পুরস্কার দেন। প্রথমবারের মতো নৌাকাবাইচে মায়ের দোয়া নৌকাটি প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে নৈপুণ্য দেখিয়ে গৌরব অর্জন করে। এতে রংপুর বিভাগের তথা কুড়িগ্রাম জেলার গৌরব উজ্জ্বল করায় এর পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক অন্নপূর্না দেবনাথের নির্দেশে রৌমারী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়।
এতে নৌকাবাইচে অংশগ্রহণ করা প্রত্যেক সদস্য ও পরিচালকদের রজনীগন্ধা ফুলের স্টিক দিয়ে সংবর্ধিত করা হয়। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বন্দবেড় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ আব্দুল কাদের সরকার, উপজেলা জামায়াতে আমির সাবেক অধ্যক্ষ হায়দার আলী, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুর আলম খান হিরোসহ সাংবাদিকরা।
ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়কে যেন থামছেই না মৃত্যুর মিছিল। প্রতিদিনই জেলার কোনো না কোনো সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। কখনো বেপরোয়া গতি, কখনো চালকের অসতর্কতা, আবার কখনো ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে প্রতিযোগিতামূলক ওভারটেকিং, মহাসড়কে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা। এসব কারণে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
বিআরটিএর তথ্য মতে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২১ মাসে ময়মনসিংহের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কে ৩৭৪টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৩৭০ জন নিহত এবং ৪১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের অনেকেই দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক জটিলতা ও কর্মক্ষমতা হারানোর মতো সমস্যায় পড়েছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, সড়ক দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানিই ঘটাচ্ছে না, বরং অসংখ্য পরিবারকে নিঃস্ব করে দিচ্ছে। কোনো পরিবার হারাচ্ছে উপার্জনক্ষম সদস্য, কোনো পরিবারকে সারাজীবন বয়ে বেড়াতে হচ্ছে স্বজন হারানোর বেদনা। দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ও অনেক পরিবারের জন্য হয়ে উঠছে বড় ধরনের আর্থিক বোঝা।
চলতি বছরের নয় মাসেই নিহত ১৫১ :
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়কে ১৫০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ১৫১ জন নিহত এবং ১৪২ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে গড়ে প্রতি দুই দিনে প্রায় একজন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ঝুঁকিপূর্ণ ত্রিশাল-ভালুকা অংশ :
ময়মনসিংহের অন্যতম ব্যস্ত সড়ক ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক। রাজধানী ঢাকার সঙ্গে ময়মনসিংহসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, সিএনজি ও অন্যান্য যানবাহন চলাচল করে।
বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ত্রিশাল ও ভালুকা উপজেলা অংশে ৭০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। ব্যস্ত এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ, অতিরিক্ত গতি এবং ওভারটেকিংয়ের প্রবণতার কারণে বিভিন্ন স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
বিশেষ করে মহাসড়কে নির্ধারিত গতিসীমা না মেনে দ্রুতগতিতে যান চালানো এবং সামনে থাকা যানবাহনকে অতিক্রম করার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহনের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
ফুলপুর-তারাকান্দা সড়কেও বাড়ছে দুর্ঘটনা :
ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের ফুলপুর ও তারাকান্দা উপজেলা অংশেও দুর্ঘটনার চিত্র উদ্বেগজনক। বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে এই দুই উপজেলা অংশে ৮০টি দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন অংশে অতিরিক্ত গতি, ওভারটেকিং, সড়কের পাশে অবৈধভাবে যানবাহন দাঁড় করিয়ে রাখা এবং ছোট যানবাহনের অবাধ চলাচলের কারণে ঝুঁকি বাড়ছে।
নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলার নিয়েও প্রশ্ন:
মহাসড়কে নিষিদ্ধ থ্রি-হুইলারের অবাধ চলাচল নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য ভারী যানবাহনের সঙ্গে ধীরগতির থ্রি-হুইলার একই সড়কে চলাচল করায় তৈরি হচ্ছে গতি-বৈষম্য। অনেক সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির যান এসে ধীরগতির যানকে ওভারটেক করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ছে।
এ ছাড়া যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন ছোট যানবাহন সড়কের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে সামান্য অসতর্কতাতেই ঘটছে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।
এদিকে, সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে আসছে চালকের অসতর্কতা ও বেপরোয়া গতি। দীর্ঘ সময় গাড়ি চালানোর কারণে চালকের ক্লান্তি, মোবাইল ফোন ব্যবহার, ট্রাফিক আইন অমান্য, ঝুঁকি নিয়ে ওভারটেকিং এবং অতিরিক্ত গতি দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমা মানছেন না। একই সঙ্গে মহাসড়কে একে অপরকে পেছনে ফেলার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন।
প্রয়োজন কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগ :
সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু চালকদের সচেতন করাই যথেষ্ট নয়—সড়কের অবকাঠামো, যানবাহনের ফিটনেস, চালকের দক্ষতা এবং ট্রাফিক আইন বাস্তবায়নেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক ও দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, স্পিড ব্রেকার বা প্রয়োজনীয় সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে মহাসড়কে নিষিদ্ধ যানবাহনের চলাচল বন্ধ, ফিটনেসবিহীন যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান এবং লাইসেন্সবিহীন বা অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত ট্রাফিক নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত গতির যানবাহন শনাক্তে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে চালকদের প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও জোর দেওয়া প্রয়োজন।
ময়মনসিংহের সড়ক-মহাসড়কে ২১ মাসে ৩৭০ জনের প্রাণহানি এবং চলতি বছরের মাত্র নয় মাসে ১৫১ জনের মৃত্যু দেখিয়ে দিচ্ছে, সড়ক নিরাপত্তার বিষয়টি আর অবহেলার সুযোগ নেই। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির এই মিছিল আরও দীর্ঘ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এখনই সমন্বিত ও কঠোর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নে পাগলা কুকুরের কামড়ে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। গত সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউনিয়নের দামচাইল, খোলাপাড়া, সাদেকপুর ও হাংমাড়া মসজিদসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন তারিফ (২০), সালমান (৪), বায়জিদ (১১), তারিন (১৬), আশরাফুল (১২), তসিবা (৯), রবিউল্লাহ (৪০), জামাল (৪৫), আব্দুল বাসার (৭০), নুর আলম (৪০), ইয়াসমিন (৩৫), তোফাজ্জল (১৭) ও সাফিয়া (৩২)। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে একটি পাগলা কুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়ে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ওপর আক্রমণ চালাতে থাকে। একপর্যায়ে কুকুরটি নারী, পুরুষ ও শিশুদের কামড়াতে শুরু করলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন হাংমাড়া মসজিদের সামনে কুকুরটিকে ঘেরাও করে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।
ঘটনার পর আহতদের দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টার দিকে জরুরি ভিত্তিতে ওআরটিসি বিভাগ চালু করে। সেখানে আহতদের জলাতঙ্ক প্রতিরোধী র্যাবিক্স-ভিসি ও র্যাভিক্স-আইজি ভ্যাকসিন দেওয়া হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের ওআরটিসি বিভাগের ইনচার্জ ফেরদৌসী বেগম বলেন, ঘটনার খবর পাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে বিভাগ খোলা হয় এবং আহতদের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু করা হয়। অন্য আক্রান্তরা হাসপাতালে এলে তাদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হবে।
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি কামরুল হাসান জানান, সাদেকপুর থেকে ফোনে একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০ জনকে কুকুরে কামড়ানোর খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালে পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে। কুকুরে কামড়ালে বা আঁচড় দিলে আতঙ্কিত না হয়ে ক্ষতস্থান সাবান ও পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে দ্রুত হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাফা (৩) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন শিশুটির বাবা ও মোটরসাইকেলের চালক মো. সোহেল (৪০)। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কুঞ্জেরহাট সংলগ্ন বৈদ্যেরপুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালমোহন উপজেলা শহরের ব্যবসায়ী মো. সোহেল তার শিশু কন্যা রাফাকে মোটরসাইকেলে নিয়ে বোরহানউদ্দিন থেকে লালমোহনের দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বৈদ্যেরপুল এলাকায় পৌঁছালে তিনি মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এতে মোটরসাইকেলটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে এবং বাবা-মেয়ে দুজনই গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রাফাকে মৃত ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আহত সোহেলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশ্রাব আলী মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পরিদর্শন করেছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
নওগাঁর দুই সীমান্তে সাতজনকে পুশইনের চেষ্টা চালিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বিজিবির তৎপরতায় তাদের পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমানে সাতজনই সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। তাদের মধ্যে একজন নারী ও ছয়জন পুরুষ রয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে জেলার পত্নীতলা উপজেলার কড়িয়া এবং সাপাহার উপজেলার সোনাডাঙা সীমান্ত এলাকায় পৃথকভাবে এ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সকালে পত্নীতলা উপজেলার কড়িয়া সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিজিবির একটি টহল দল। বিজিবির তৎপরতায় পুশইনের চেষ্টা প্রতিহত হয়। পরে ওই তিনজনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে দেখা যায়।
একই সময়ে সাপাহার উপজেলার সোনাডাঙা সীমান্ত এলাকাতেও চারজনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা চালানো হয়। বিজিবি বিষয়টি জানতে পেরে সীমান্তে সতর্ক অবস্থান নেয়। প্রাথমিকভাবে বিজিবি জানতে পেরেছে, ওই চারজন একই পরিবারের সদস্য।
দুই সীমান্তে সাতজন অবস্থান নেওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিজিবির টহল ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তাদের বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানিয়েছে বিজিবি।
পত্নীতলা ১৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এহসান হাবিব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকালে পত্নীতলার কড়িয়া সীমান্ত এলাকায় তিনজনকে পুশইনের চেষ্টা চালায় বিএসএফ। খবর পেয়ে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তা প্রতিহত করে। একইভাবে সাপাহারের সোনাডাঙা সীমান্তে আরও চারজনকে পুশইনের চেষ্টা করা হয়। ওই চারজন একই পরিবারের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সাতজনই সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন। সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তাদের বিষয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
এদিকে একই দিনে জেলার দুই সীমান্তে একসঙ্গে সাতজনকে পুশইনের চেষ্টার ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
গ্যাস সংকটে প্রায় আট মাস বন্ধ থাকার পর আবারও উৎপাদনে ফিরেছে যমুনা সার কারখানা। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ভোররাত ৩টার দিকে সার উৎপাদন শুরু হয়েছে।
এর আগে গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ২৩ মাস কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ ছিল। এরপর চালু হলেও চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি গ্যাস সংকটে আবারও কারখানাটি বন্ধ হয়ে যায়। গত ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি, বলেন ফজলুল হক।
কারখানার ডিজিএম (অ্যাডমিন) দেলোয়ার হোসেন জানান, নিরবচ্ছিন্ন ইউরিয়া উৎপাদনে গ্যাসের আদর্শ চাপ প্রয়োজন ৪৬ এমএমসিএফ। তবে ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ থাকলেও উৎপাদন চালানো যায়।
‘এতদিন তিতাস কর্তৃপক্ষ ২৭ থেকে ২৮ এমএমসিএফ চাপে গ্যাস সরবরাহ করছিল। চাপ কম থাকায় প্রস্তুতি নিয়েও কারখানা চালু করা যায়নি,’ যোগ করেন তিনি।
দীর্ঘদিন পর সচল হওয়ায় জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে কারখানার আশপাশের এলাকায় কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে।
যমুনা সার কারখানার শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মোরশেদ আলম তালুকদার বলেন, দীর্ঘদিন কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিক-কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন।
বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯০০ ডিলারের মাধ্যমে যমুনা সার কারখানা জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে থাকে।
দেলোয়ার হোসেন জানান, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে প্রতি মাসে কারখানাটিতে প্রায় ২০০ কোটি টাকার সার উৎপাদিত হয়। মুনাফা হয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে উৎপাদন বন্ধ থাকলেও যন্ত্রপাতি সচল রাখতে প্রতি মাসে প্রায় ৬ কোটি টাকার গ্যাস বিল পরিশোধ করতে হয়।
যমুনা সার কারখানার অ্যামোনিয়া অ্যান্ড ইউটিলিটি বিভাগের প্রধান ফজলুল হক বলেন, ‘বর্তমানে কারখানার সব কিছু সচল রয়েছে। আশা করছি, প্রতিদিন এক হাজার ২০০ থেকে ৪০০ টন সার উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’
পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি নাঈমুজ্জামান ভূঁইয়া মুক্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সকালে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের কাজীপাড়া মিলনবাজার এলাকায় অবস্থিত নিজ বাসভবন থেকে সদর থানা পুলিশের একটি দল তাকে হেফাজতে নেয়।
আটকের পর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তাকে পঞ্চগড় আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আদালত প্রাঙ্গণজুড়ে বিশেষ নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাঈমুজ্জামান মুক্তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলন চলাকালীন ইজিবাইক চালক আল আমিনকে গুম ও হত্যা এবং স্থানীয় বিএনপি কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাসহ মোট ১২টি মামলা রয়েছে। পঞ্চগড় সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আশীষ কুমার শীল মঙ্গলবার সকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির পরিধি বাড়াতে বাগেরহাটের রামপালে ৪৪২ মেগাওয়াট পিক (ডিসি) ক্ষমতার দেশের সর্ববৃহৎ সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) কর্তৃক প্রস্তাবিত এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বুধবার (৭ অক্টোবর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপন করা হবে। প্রকল্পটি ২০২৯ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন ও বিউবো সূত্রে জানা গেছে, প্রস্তাবিত এই সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০২ কোটি ৩৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে বিদ্যুৎ উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ হাজার ১২৭ কোটি টাকা জোগান দেওয়া হবে এবং অবশিষ্ট ৩ হাজার ৭৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা বিউবোর নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে। প্রকল্প প্রস্তাবে প্রস্তাবিত বিদ্যুতের ট্যারিফ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ইউনিট ৬.১৮ টাকা।
বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের লক্ষ্যে ২০১২ সালে বাগেরহাট জেলার রামপালে মোট ১ হাজার ৮৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করে বিপিডিবি। জমিটি দু’টি ব্লকে বিভক্ত—ব্লক-এ ও ব্লক-বি। এর মধ্যে ব্লক-এ অংশে বাংলাদেশ-ভারত কয়লাভিত্তিক মৈত্রী সুপার থার্মাল বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হয়েছে। ব্লক-বি অংশটি বর্তমানে বিপিডিবির অধীনে রয়েছে, যেখানে ভূমি উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
বিউবো জানায়, ‘ব্লক-বি’-এর ৯১৮.৫০ একর জমির মধ্যে ৭৬.৬৩ একর গ্রিন বেল্ট উন্নয়নের জন্য, ৩২.৮৭ একর বন্যা প্রতিরোধ বাঁধ নির্মাণে, ৯৪ একর নিচু জমি এবং উত্তর-পশ্চিম পাশের প্রায় ৩০ একর জমি লেক হিসেবে রয়েছে। ফলে সম্ভাব্যতা যাচাই প্রতিবেদন অনুযায়ী ৪৪২ মেগাওয়াট (ডিসি) সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য ব্যবহারযোগ্য জমির পরিমাণ ৬৮৫ একর।
প্রাথমিকভাবে যৌথ উদ্যোগে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা থাকলেও, বিদ্যুতের বিশেষ বিধান আইন ২০১০ (সংশোধিত ২০২১) বাতিল হওয়ায় সেই প্রক্রিয়া স্থগিত হয়। পরবর্তীতে মে ২০২৫-এ তৃতীয় পক্ষ পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ফ্যাসিলিটেশন কোম্পানি সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শেষ করে ৬৮৫ একর জমিতে এই গ্রিড-সংযুক্ত কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, জমিতে অতিরিক্ত ভূমি উন্নয়নের প্রয়োজন না থাকায় নির্মাণ ব্যয় কম হবে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদ্যুতের ইউনিট খরচে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে এটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
এদিকে গত ডিসেম্বরে ফেনীর সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াটের একটি সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। ১ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে।
বিপিডিবির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, রামপাল প্রকল্পের তুলনায় সোনাগাজী প্রকল্পটি বিদ্যুৎ উৎপাদনে বেশি দক্ষ হলেও এর নির্মাণ ব্যয় ও ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেশি। সোনাগাজী প্রকল্পের ক্যাপাসিটি ইউটিলাইজেশন ফ্যাক্টর নির্ধারণ করা হয়েছে ২১ শতাংশ, যা রামপাল প্রকল্পের ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ।
রামপাল প্রকল্পে প্রতি মেগাওয়াটে নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৫.৬৬ কোটি টাকা। সোনাগাজী প্রকল্পে এই খরচ ৬.২৭ কোটি টাকা। অবকাঠামো নির্মাণ খাতে সোনাগাজীতে ব্যয় রামপাল প্রকল্পের দ্বিগুণেরও বেশি। এ ছাড়া ডিজাইন, ইঞ্জিনিয়ারিং ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণেও সোনাগাজী প্রকল্পের ব্যয় অনেক বেশি পরিলক্ষিত হয়েছে।
ব্যয়বহুল নির্মাণ খরচের সরাসরি প্রভাব পড়েছে বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্যের ওপর। রামপাল প্রকল্প থেকে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ৬.১৮ টাকায় কেনার প্রস্তাব থাকলেও সোনাগাজী প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই ট্যারিফ ধরা হয়েছে ৮.৮৭ টাকা। অর্থাৎ সোনাগাজীর বিদ্যুতের দাম রামপালের তুলনায় প্রায় ৪৩ শতাংশ বেশি। সোনাগাজী প্রকল্প থেকে বার্ষিক ৩৮১.৫৪ কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। রামপালে এ লক্ষ্যমাত্রা ৩৫২.৪১ কোটি টাকা।
অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সম্প্রসারণ, শিল্পায়ন, রপ্তানিমুখী ডিজিটাল শিল্প প্রতিষ্ঠানের বিকাশ, আইসিটি খাতে অগ্রগতি ও জীবনযাত্রার মানের উন্নয়নের ফলে দেশে বিদ্যুতের চাহিদা প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে।
ইন্টিগ্রেটেড এনার্জি অ্যান্ড পাওয়ার মাস্টারপ্ল্যান ২০২৩ অনুযায়ী, ২০৩০, ২০৪১ ও ২০৫০ সালে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা যথাক্রমে ২৯ হাজার ২৫৭ মেগাওয়াট, ৫৮ হাজার ৫৯৭ মেগাওয়াট ও ৯৬ হাজার ৭৬৭ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে। অথচ এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজার ৭৯৪ মেগাওয়াট (২৩ জুলাই ২০২৫)।
দেশের শতভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এলেও উৎপাদন সক্ষমতা ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
প্যারিস জলবায়ু চুক্তির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর লক্ষ্যে সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতিমালা-২০২৫ প্রণয়ন করেছে, যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে ২০ শতাংশ ও ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিমাণ মোট উৎপাদনের তুলনায় এখনও খুবই সীমিত। ফলে এই খাতে দ্রুত বিনিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়ন অত্যন্ত জরুরি।
বিদ্যুৎ বিভাগের পরিকল্পনা উইং-এর অতিরিক্ত সচিব নূর আহমেদ বলেন, ‘রামপাল এলাকায় প্রস্তাবিত ৪৪২ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পটি একটি অত্যন্ত ইতিবাচক ও সময়োপযোগী উদ্যোগ। এটি নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।’
প্রকল্পটির প্রস্তাব ইতোমধ্যে ডিপিপি আকারে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে এবং এ বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
নূর আহমেদ বলেন, ‘সোনাগাজীতে ২২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। সেই তুলনায় ৪৪২ মেগাওয়াট ক্ষমতার এই প্রকল্পটি প্রায় দ্বিগুণ বড়, যা দেশের সৌরবিদ্যুৎ খাতে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নির্দেশ করে। এই প্রকল্পের ইউনিটপ্রতি বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ অন্য প্রকল্পের তুলনায় কম, যা এটিকে অর্থনৈতিকভাবে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।’
ঢাকার আদালত থেকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে ফেরার পথে পুলিশের প্রিজন ভ্যান থেকে আসামি ‘পিচ্চি রাজা’ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য পেয়েছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, ভ্যানের তালা খুলে পিচ্চি রাজাকে একটি প্রাইভেটকারে তুলে দিয়ে পালানোর সুযোগ করে দেন উপপরিদর্শক (এসআই) প্রবীর কুমার বিশ্বাস। পরে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নিতে আসামি পালিয়ে যাওয়ার ‘নাটক’ সাজানো হয়।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মো. ইসরাইল হাওলাদার এসব তথ্য জানান।
ঘটনায় সহযোগিতার অভিযোগে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন এবং পলাতক আসামি পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক পিচ্চি রাজা ও অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
পুলিশ কমিশনার জানান, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা জজকোর্ট থেকে ২৯ জন আসামিকে প্রিজন ভ্যানে করে কাশিমপুর কারাগারে নেওয়া হচ্ছিল। পথে ঢাকার তাঁতিবাজার এলাকার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে ভ্যানটি থামানো হয়।
এ সময় প্রিজন ভ্যানের ইনচার্জ এএসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালকের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নিয়ে পিচ্চি রাজা ও আরেক হাজতি খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে নামিয়ে আনেন। পরে খাইরুল বাশারকে পুনরায় ভ্যানে তোলা হলেও পিচ্চি রাজা ও প্রবীর কুমার আর ভ্যানে ওঠেননি।
পুলিশের ভাষ্য, পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনাস্থলে অপেক্ষমাণ একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে উঠে পিচ্চি রাজা পালিয়ে যান। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে প্রবীর কুমার ঘটনাস্থলে ফিরে এসে স্কোয়াড পার্টির সদস্যদের নিয়ে আসামি পালিয়ে যাওয়ার একটি সাজানো ঘটনা তৈরি করেন।
সাক্ষ্যপ্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ ও তদন্তের ভিত্তিতে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় প্রিজন ভ্যানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, মো. সাকিব ও শাকিল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তারা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রবীন্দ্র কলা ভবনের সামনে এই মানববন্ধন হয়।
মানববন্ধনে সহযোগী অধ্যাপক কাজী মামুন হায়দার বলেন, ‘আমরা গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এরপরই দেখছি, গণমাধ্যমের ওপর বড় ধরনের হামলা শুরু হয়েছে। গণমাধ্যম সংস্কারের বদলে সেটাকে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছে। গণমাধ্যম ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।’
গত রোববারের (৪ অক্টোবর) হামলার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ভিডিও দেখলেই বোঝা যায়, কোনো কারণ ছাড়াই তাদের মারধর করা হয়েছে। সাংবাদিকরা তাদের দায়িত্ব পালন করতেই সেখানে গিয়েছিলেন। তাদের নির্মমভাবে পেটানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘দুদিন আগে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা থেকেই গত রোববারের পরিস্থিতির সূত্রপাত।’ এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মামুন।