২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইনে নির্বিচার গণহত্যাসহ মানবতাবিরোধী নানা অপরাধ শুরু করে দেশটির সামরিক বাহিনী। সে বর্বরতায় টিকতে না পেরে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে একসঙ্গে ১০ লাখ রোহিঙ্গা। সময়ের পরিক্রমায় সেখানে জান্তাবাহিনীর আক্রমণ আরও বাড়ায় এদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গার সংখ্যা আরও বেড়ে যায়। ১২ লাখ রোহিঙ্গা ঢুকে পড়ায় ও দেশটিতে তাদের প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে যাওয়ায় ২০২২ সালে আর রোহিঙ্গাকে আশ্রয় না দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ সরকার। কিন্তু, এ বছর মিয়ানমারে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিভিন্ন বিদ্রোহী সশস্ত্র গোষ্ঠীর যুদ্ধ ও বাংলাদেশে সরকার পতনসহ রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগ নিয়ে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর চোখে ধুলো দিয়ে এদেশে ঢুকে পড়েছে আরও লাখখানেক রোহিঙ্গা। ২০১৭ সালের আগেও এদেশে দেড় লাখ রোহিঙ্গা বসতি গেড়েছিল। তাই সব মিলিয়ে বর্তমানে বাংলাদেশে বসবাস করছে সাড়ে চৌদ্দ লাখ রোহিঙ্গা। শুরুতে মানবিকতা দেখালেও এখন এত বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা গলার কাঁটা হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের। অবস্থা এমনই যে উখিয়া-টেকনাফ এলাকায় এখন স্থানীয়রাই পড়েছেন হুমকির মুখে। এই দুই উপজেলার স্থানীয় বাসিন্দারাই রোহিঙ্গাদের কারণে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও অস্তিত্ব নিয়ে উদ্বিগ্ন। ওই এলাকার রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে তো বটেই আশপাশের সব জায়গায় এমনকি কক্সবাজারেও ছড়িয়ে পড়েছে রোহিঙ্গারা। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে তারা ছড়িয়ে যাচ্ছে সারা দেশে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উখিয়া-টেকনাফসহ কক্সবাজারে এখন তাদের কাজ পাওয়াই কষ্টকর, তাদের চেয়ে কম মজুরিতে রোহিঙ্গারা কাজ করে বলে শ্রমবাজারের বড় অংশই এখন রোহিঙ্গাদের দখলে। তাদের অভিযোগ,
উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে কাজের খোঁজেই প্রতিদিন দুই শতাধিক রোহিঙ্গা বের হয় বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে। বিজিবি চেকপোস্টে কার্ড দেখিয়ে কৌশলে পার হয়ে বিভিন্ন কাজে যোগ দেন দুই শতাধিক রোহিঙ্গা।
এমনকি ক্যাম্পের বসতি ছেড়ে টেকনাফের ভাড়া বাসাগুলোতেও থাকছেন রোহিঙ্গারা।
উখিয়া ও টেকনাফ ঘুরে দেখা গেছে, ব্যাটারিচালিত টমটম, মাহিন্দ্র গাড়ির চালক, খাবার হোটেল, আবাসিক হোটেল, গ্রামীণ অবকাঠামোগত উন্নয়ন কাজে, জেলেদের ফিশিং বোটে ও ব্যবসা-বাণিজ্যের উল্লেখযোগ্য কাজ এরইমধ্যে দখল করে নিয়েছে রোহিঙ্গারা। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ টেকনাফের স্থলবন্দরে ও রোহিঙ্গারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে। স্থানীয় শ্রমবাজার চলে গেছে তাদের দখলে। এতে উখিয়া ও টেকনাফসহ আশপাশের স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে।
টেকনাফের জেলে আব্দুল হামিদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমাদের উখিয়া টেকনাফের শ্রমিকদের আগে কাজের অভাব ছিল না। এখন কাজে নেয় না আমাদের। রোহিঙ্গাদের মজুরি সস্তা তাই সব কাজ তাদের দখলে এ রোহিঙ্গারা আসার পর থেকে যত বিপত্তি আমাদের। এ রোহিঙ্গা অপহরণে জড়িত। তাদের চলাফেরা দেখলে মনে হয় তারা এ দেশের নাগরিক আমরা অধিবাসী। সর্বত্রই আজও রোহিঙ্গাদের রাজত্ব ও বিচরণ চলছে।
টেকনাফ ও শাহপরীরদ্বীপ জেলে নেতা মো. করিম ও মোহাম্মদ আবদুল গণি জানান, ২০১৭ সালে নাফ নদীতে মাছ ধরা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেয় সরকার। ওই সব বোটের মালিকরা স্থানীয় জেলেদের বাদ দিয়ে রোহিঙ্গা মাঝি-মাল্লাদের দিয়ে মাছ শিকার করছে। এই রোহিঙ্গা মাঝি-মাল্লারা মাছ শিকারের নামে মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এবং চোরাচালান ও রোহিঙ্গা এদেশে অনুপ্রবেশ করাই আর স্থানীয় জেলেদের অগ্রিম টাকা দিতে হয় বোট মালিকদের। তাই এ কারণে ফিশিং ট্রলার চলছে রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা দিয়ে। আগে সব ফিশিং ট্রলারে মাঝিমাল্লাদের আইডি কার্ড থাকত। এখন এসব তদারকি করে না কোস্টগার্ড ও বিজিবি। তার কারণে রোহিঙ্গা মাঝিমাল্লা বেড়ে যাচ্ছে।
রোহিঙ্গা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি মোজাম্মেল হক বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয়রাই এখন বিপাকে। আমরা ভবিষ্যতের শঙ্কায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনে প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। রোহিঙ্গারা ক্যাম্পের বাইরে আসার কোনো সুযোগ নেই। ঠিকই তারা বাইরে বের হচ্ছে, নানা কাজে জড়িয়ে পড়ছে। আজ আমরা রোহিঙ্গাদের কারণে বড় বিপদে আছি। পথে-ঘাটে, দোকানে-বাজারে, গাড়িতে সর্বত্রই তাদের দেখা মেলে। শ্রম বাজার দখল করে এখন উখিয়া টেকনাফ রোহিঙ্গাদের জন্য মালয়েশিয়া। রোহিঙ্গারা বিচরণের ক্ষেত্রে চেকপোস্ট যেসব আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে তাদের গাফিলতি আছে।
টেকনাফ বাজারে দেখা হয় একজন রোহিঙ্গা জেলের সঙ্গে তার নাম মো. তৈয়ব। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফিশিং ট্রলারে মাছ শিকার করে আসছেন। সপ্তাহ পর আবার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরে যান। কীভাবে চেকপোস্ট পার হয়ে আসা যায় প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, আমাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পাঁচ শতাধিক রোহিঙ্গা যুবক টেকনাফ ফিশিং ট্রলারে মাছ শিকার করে। তাদের মধ্যে অনেক রোহিঙ্গা ভুয়া কার্ড তৈরি করে চেকপোস্ট পার হয়। কিন্তু কার্ড যে ভুয়া তা বোঝা যায় না।
টেকনাফ শাপলা চত্বরে দেখা মেলে রোহিঙ্গা টমটমচালক তার আবু ছৈয়দ। তিনি লেদা ক্যাম্পে থাকেন। টমটমচালক রোহিঙ্গা সৈয়দ আলম বলেন, আমি পাঁচ মাস হয়েছে টেকনাফে টমটম চালাই। টমটম মালিককে দিনে ৭০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়। আমার মতো শতাধিক রোহিঙ্গা টমটম চালায়। রাতে মালিককে গাড়ি বুঝিয়ে দিয়ে ক্যাম্পে চলে যায়। মাঝেমধ্যে পুলিশ আটক করলে মালিককে ফোন দিই। মালিক এসে আমাদের ছাড়িয়ে নিয়ে যায়। টমটম লাইসেন্স মালিকের নামে। পুলিশের কড়াকড়ি হলে সেদিন মালিক না চালাতে নিষেধ করে আমাদের।
টেকনাফের বাসিন্দা মো. আবু তালহার দাবি, দুই-তিনমাস ধরেই টেকনাফে প্রতিটি ভাড়া বাসায় রোহিঙ্গা রয়েছে। প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না এদের বিরুদ্ধে। নতুন-পুরাতন মিলিয়ে রোহিঙ্গারা নির্বিঘ্নে ঘুরছে। কিন্তু স্থানীয় হলেও আমাদের সবখানে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। সস্তা শ্রম দিয়ে শুধু টেকনাফ নয়- পুরো কক্সবাজারের শ্রমবাজারে রোহিঙ্গারা। এ সুযোগও নিয়েছে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। মাসিক চার-পাঁচ হাজার টাকায় ওরা কাজ করে। যেখানে এক দিনে স্থানীয়দের দিতে হয় ১৫০০ টাকা। আর রোহিঙ্গাদের দিতে ১০০০ টাকা। মিয়ানমারের মুদ্রায় হিসাব করলে দিনে এর পরিমাণ হবে ৫০ হাজার টাকা। তাও রোহিঙ্গাদের জন্য বেশি। এদের কারণে স্থানীয়দের কাজের পথও রুদ্ধ করা হয়েছে।
জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক আব্দুল্লাহ বলেন, রোহিঙ্গারা আর ফিরবে না, এটা এক রকম স্পষ্ট। শান্ত টেকনাফ আজ অশান্ত-বিশৃঙ্খল হয়েছে রোহিঙ্গাদের কারণে। শৃঙ্খলা ফেরানোর কোনো উদ্যোগ নেই স্থানীয় প্রশাসনের। ‘আমাদের অনুরোধ, টেকনাফবাসীর জন্য কিছু করুক প্রশাসন। যাতে আমরা শান্তিতে বসবাস করতে পারি। তা না হলে টেকনাফ কেন, এক সময় পুরো কক্সবাজার চলে যাবে রোহিঙ্গাদের কবজায়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. সালা উদ্দিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, আইনশৃঙ্খলা মিটিংয়ে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গাদের বিষয়ে অবগত করা হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিচরণের ক্ষেত্রে বিজিবি চেকপোস্ট ছাড়া যৌথবাহিনীর চেকপোস্ট ও বসানো হয়েছে। টমটম, সিএনজিচালকসহ ক্যাম্প থেকে বের হয়ে বিভিন্ন কর্মে জড়িত রোহিঙ্গাদের আটক করে সংশ্লিষ্টদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। যেসব ভাড়া বাসার মালিকরা রোহিঙ্গাদের ঘর ভাড়া দিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার আগে বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে কাজ করছেন। আমরা চাই এই দেশটি উন্নত হোক, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হোক। দেশের উন্নয়ন হলে সবার উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরেই আমরা দেশের উন্নয়ন করব, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাব।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে সচেতনতা সভা ও জেলে পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিবচর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো মূল্যেই হোক নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময়ে কেউ যাতে নদীতে ইলিশ ধরতে না পারে, সেজন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘মাদারীপুর ইলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এই পদ্মা নদীতে সুস্বাদু রূপালি ইলিশ পাওয়া যায়। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে এর সুফল সবচেয়ে বেশি পাবেন জেলেরাই। তাই মাত্র ২২ দিনের এই কষ্টকে ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং এর মাধ্যমে জেলেদের আয় ও সম্পদের পরিমাণও বাড়বে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জলাশয় উন্মুক্ত থাকবে, ‘জাল যার, জলা তার’। আমরা জেলেদের পাশে আছি এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারগুলোর খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ভিজিএফের চাল বিতরণ করছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবেন।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা।
বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাবীব খান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার। এ সময় শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজান, বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ জেলে ও ভিজিএফের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে ১৫১ জেলে পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে সরকারি সহায়তার ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়।
গ্যাস সংকটে আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফেরার দুই দিনের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বয়লারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল থেকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও চাপ কম থাকায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে গ্যাসের চাপ বাড়লে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। এর দুই দিনের মাথায় বুধবার (৭ অক্টোবর) বয়লারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
যমুনা সার কারখানার উপমহাব্যাবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানান, বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামতে কাজ চলছে। ত্রুটি সারিয়ে দুই দিনের মধ্যে উৎপাদন শুরু হতে পারে।
কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কারখানা চালু হওয়ায় শুরুতে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। বয়লারের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। শুক্রবারের মধ্যে মেরামত করে উৎপাদন শুরুর চেষ্টা চলছে।’
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানায় ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। গ্যাসসংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। পরে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে আবারও যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দৈনিক ১৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে গ্যাসসংযোগ দেওয়া হয় সার কারখানায়। সকল প্রস্তুতি শেষে গত সোমবার ভোররাতে আবারও সার উৎপাদন শুরু করেছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ।
একসময় সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের চেহারা বদলে দিতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দুর্গম পাহাড়ি এ এলাকায় এবার রাজশাহীর সারদার আদলে আধুনিক পুলিশ একাডেমি গড়ে তোলা হবে। প্রায় ৩০০ একর জায়গায় একাডেমি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ৭২ একর জমিতে স্থানান্তর করা হবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার। একই সঙ্গে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য, একসময়ের ‘সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরকে আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন ও পরিকল্পিত উন্নয়নের স্থায়ী কাঠামোর আওতায় আনা। সরকারি খাসজমি উদ্ধার, অবৈধ বসতি পুনর্বাসন, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি—সবকিছুকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব পরিকল্পনার কথা জানান।
৩০০ একরে পুলিশ একাডেমি: সরকারের অন্যতম বড় পরিকল্পনা প্রায় ৩০০ একর জায়গায় সারদার আদলে একটি আধুনিক পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা। সেখানে পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।
এর পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন ও এসআরবির জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে। এসব জায়গায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীর স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে সুশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’
৭২ একরে যাবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার: জঙ্গল সলিমপুরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ইতোমধ্যে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান কারাগারের পরিবর্তে নতুন স্থানে আধুনিক কারা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশ একাডেমি, কারাগার এবং একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা একই এলাকায় গড়ে উঠলে জঙ্গল সলিমপুরের প্রশাসনিক ও কৌশলগত গুরুত্বও বাড়বে।
সরকারি জমি উদ্ধারে জোর: জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন মৌজায় থাকা সরকারি পাহাড় ও খাসজমি সুশাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
দীর্ঘদিন ধরে সেখানে যারা অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘কীভাবে এসব মানুষকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’
দুর্গমতা কাটাতে সড়ক নির্মাণ: জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম ভূপ্রকৃতি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন বড় বাধা ছিল। সেই বাধা কাটাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে।
নির্মাণাধীন সড়কগুলো বায়েজিদ লিংক রোড, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে। ফলে ওই এলাকায় মানুষের চলাচলের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে দুই সেনাক্যাম্প: এদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঠেকাতেও নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপন করা হবে। রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে ক্যাম্প দুটি পরিচালিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধ বন্ধে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ অনুযায়ী দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ক্যাম্পে বাড়বে নজরদারি: রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি সোলার লাইট স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে ক্যাম্পের প্রবেশপথ, আশপাশের পাহাড়ি এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হবে।
অপরাধ দমনে যৌথ অভিযান: ক্যাম্পের ভেতরে মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে এপিবিএনের নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪০০ উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে। সরকারের মতে, এর ফলে ক্যাম্পের অপরাধ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে গতি আসবে।
তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় নিরাপত্তা জোরদারের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী প্রয়োজন হলে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ ও পর্যটন: জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা শুধু নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটনের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। প্রায় ৪০ একর জায়গায় নাইট সাফারি পার্ক ও পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সরকারি জমি উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকাটিকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে জায়গা একসময় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল, সেটিকে সুশাসন ও শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। আর সেই লক্ষ্যেই জঙ্গল সলিমপুরে একদিকে তৈরি হচ্ছে পুলিশ একাডেমি, কারাগার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থায়ী অবকাঠামো, অন্যদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে জোরদার করা হচ্ছে সেনা ও পুলিশের নিরাপত্তা কাঠামো।’
কচুরিপানায় ঢাকা রূপগঞ্জের খাল বিল। পুকুরগুলোতে সারা বছর পানি থাকত, সেই পানিতে ঘুরে বেড়াত বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলাসহ দেশি নানা প্রজাতির মাছ। আবাসন কোম্পানি বালি ফেলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র খাল বিল পুকুরগুলো ভরাট করে ফেলেছে। রূপগঞ্জের মাছের সুখ্যাতি ছিল মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরা, মাদারটেক, বাসাবো, নন্দীপাড়া, ডেমড়া, স্টাফ কোয়ার্টারসহ রাজধানীর আশপাশের এলাকাগুলোতে।
সরেজমিনে উপজেলার নগরপাড়া বিলে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বিল কচুরিপানায় ঢাকা। একসময় বিলটি ছিল দেশি মাছের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল। রূপগঞ্জের মাছ ছড়িয়ে পড়ত বিস্তীর্ণ এলাকায়। একই সঙ্গে এটি ছিল জেলেদের জীবিকার অন্যতম উৎস। দখল ও ভরাটে সেই জলাধার হারিয়ে গেছে। নদী শুকালেও এসব বিলে পানি থাকত।
আগরপাড়ার বাসিন্দা ছমিরুন খাতুনের (৬৫) স্মৃতিতেও ভেসে আছে সেসব দিন। তিনি বলেন, ‘আশপাশের মানুষ বিলের পানি ব্যবহার করতেন।’ ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পানিতে এসে পূজা করতেন।
স্থানীয় আবুল হোসেন (৬৫) ও সঞ্জিবন সরকার (৬৬) বলেন, ‘খাল-বিলগুলোতে এখন বালু আর কচুরিপানার বিস্তার। পানির সেই গভীরতা নেই, নেই মাছের ঝাঁক ও জেলেদের ব্যস্ততা।’
বিলের ওপর বাঁধ দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। ফুরিয়েছে মাছ, ফুরিয়েছে আয়। একসময় জেলেরা মাছ ধরে জীবন-জীবিকা চালাতেন জানিয়ে ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান (৫৭) বলেন, ‘ভরাট আর দখলে দেশি প্রজাতির মাছও আর আগের মতো দেখা যায় না।’
মশুরী এলাকায় বসবাস করে কয়েকটি জেলে পরিবার। তাদের একজন মানিক সরকার (৫০)। একসময় মাছ ছিল তাদের আয়-রোজগারের বড় উৎস। তিনি বলেন, ‘নদীর পশ্চিম পাশে বালু ফেলে সব ভরাট করে ফেলেছে। এখন পানিও নেই, মাছও নেই, জেলেদের সেই আয়ও নেই।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি বিল হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু একটি জলাধার হারিয়ে যাওয়া নয়, এর সঙ্গে হারিয়েছে দেশি মাছের প্রজনন ও আবাসস্থল, জেলেদের জীবিকার একটি উৎস এবং এলাকার পুরোনো সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অংশ। বিল ও জলাভূমি রক্ষা করা গেলে জীববৈচিত্র্যও ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।
এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মৃধার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খাল-বিল ভরাট করে ফেললে তো মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবেই। মাছের উৎপাদন কমে যাবে। জেলেদের আয় রোজগার কমে যাবে। মৎসজীবীরা বেকার হবে। জলাশয় রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একসময় রূপগঞ্জ থেকে দেশি জাতের মাছ হারিয়েই যাবে।’
‘কাজটি কঠিন, তবে আমার মনে হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।’ নাটোর রেলস্টেশন থেকে চুরি যাওয়া নিজের ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরার খোঁজে রাজশাহীতে এসে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত তার চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।
ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ‘গত বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন তিনি। তখন নিজের জিনিসপত্র একজনের কাছে রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে ট্রেনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, তিনি রেলওয়ের কর্মকর্তা নন। টাকা তুলে ফিরে এসে দেখেন, ওই ব্যক্তি ও তার জিনিসপত্র—দুটিই নেই। ব্যাগে তার ম্যাকবুক ও ক্যামেরা ছিল।’
ঘটনার পর নাটোরে থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান তিনি। ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন। ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ‘সর্বশেষ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে আমরা নিশ্চিত কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারিনি। তবে আশা করছি, আমরা আমার জিনিসপত্রের অবস্থান খুঁজে পাব।’
ল্যাপটপে কোনো পাসপোর্ট ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার পাসপোর্ট ও মুঠোফোন তার কাছেই আছে। তবে ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। বাংলাদেশে এটাই তার প্রথম সফর।’ পুলিশ তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত রাজশাহী রেলওয়ে থানায় ছিলেন ক্রিল ল্যান্ডার। গত বুধবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের একটি হোটেলে তার থাকার ব্যবস্থা করে পুলিশ। তাকে খাবারও সরবরাহ করছে পুলিশ।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত বুধবার নাটোর রেলস্টেশনে ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় জিডি করেন ওই পর্যটক। বিষয়টি নিয়ে নাটোর জেলা পুলিশ ও সান্তাহার জিআরপি কাজ শুরু করে। পরে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।’
ওসি বলেন, ‘প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় দেখা যায়। পরে রাত ১১টার দিকে পর্যটক রাজশাহীতে আসেন। তখন ল্যাপটপটির অবস্থান মহিলা কলেজের আশপাশে দেখা যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, আরএমপির বোয়ালিয়া থানা, ডিবি ও র্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান।’
তিনি জানান, তবে ল্যাপটপটিতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হয়। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার হয়নি।
গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নাটোর রেলস্টেশনের প্রথম শ্রেণির বিশ্রামকক্ষ থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের ব্যাগ চুরি হয়। বগুড়া ঘুরে সান্তাহার থেকে ট্রেনে দর্শনার উদ্দেশে যাওয়ার পথে ভুল করে নাটোরে নেমেছিলেন তিনি।
দেওয়ালে ফাটল, ভাঙা পিলার, খসে পড়ছে পলেস্তারা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে পরিত্যক্ত কোনো ভবন। অথচ এই ভবনেই প্রতিদিন চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। চট্টগ্রামের রাউজানের ৪১নং সুলতানপুর প্রসন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। ১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বর্তমান ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯২ সালে। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩৬ বছর। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি এখন বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।
ভবনের দেওয়াল ও পিলারের এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আটজন নারী শিক্ষকসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ভবনেই পাঠদান করছে। বিদ্যালয়ে নেই মানসম্মত ওয়াশব্লক। পুরোনো ওয়াশব্লক ব্যবহার করেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন সারতে হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। বিদ্যালয়ের পরিবেশগত সমস্যাও রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হয় স্বাভাবিক পাঠদান।
শিক্ষার্থী জয়ন্তী বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবন অনেক পুরোনো। দেওয়ালে ফাটল ও পিলারের ক্ষতি দেখে মাঝেমধ্যে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে যায়। আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবনে ক্লাস করতে চাই। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’ প্রধান শিক্ষিকা শামীম আরা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিদ্যালয়ের ভবনটি বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি পিলার। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে।
সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যায়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো আমাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালীতে আক্তার মাঝি, তানভীর ও রুকন উদ্দিন নামে তিন নিরীহ মানুষকে রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) চকরিয়া আদালত চত্বর ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে ওই তিনজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তিনজনের মধ্যে রুকন উদ্দিন একজন ভ্যানচালক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, আক্তার আহমদও প্রতিবন্ধী এবং তানভীর বদরখালী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।
মানববন্ধনে রুকন উদ্দিনের তিন শিশুকন্যাও উপস্থিত ছিল। তারা তাদের বাবাকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তির দাবি জানায়।
বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির পরিচালক অধ্যাপক বিএম কায়সার বলেন, ‘এ ধরনের লোকজনকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হলে পুরো বদরখালীবাসী লজ্জিত হয়।’ তিনি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।
বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সমিতির পরিচালক জিয়া উদ্দিন এবং এমইউপি এছাম উদ্দিন বলেন, ‘একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রুকন উদ্দিন, প্রতিবন্ধী আক্তার আহমদ ও কলেজছাত্র তানভীরকে জড়িয়ে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’
এদিকে বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির ২৪ শেয়ারভুক্ত সাতডালিয়া লটারি ঘোনা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজেম উদ্দিন ও সম্পাদক মনজুর আলম তাদের সদস্যদের মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা ভূমিদস্যু হিসেবে উল্লেখ করা ‘কালু বাহিনীর’ বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা বুলবুল সিকদার এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মহেশখালী কোস্ট গার্ডের একটি ইউনিট বদরখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আটক তিনজনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।
অষ্টগ্রামের হাওরপারের লোকালয়ে একসময় ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হতো মাটির টুংটাং শব্দ। থালা-বাসন, কলসি, হাঁড়ি-পাতিল, সানকি আর মটকার নিখুঁত কারুকাজে মুখরিত থাকত কুমোরপাড়ার প্রতিটি আঙিনা। সে এক সোনালি সময়, যখন দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে প্রদীপ জ্বেলে গভীর রাত পর্যন্ত চলত মাটির তৈজসপত্র তৈরির কাজ। কিন্তু আধুনিকতার তীব্র হাওয়া, প্রযুক্তির বিস্তার এবং প্লাস্টিক-অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ায় আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পথে হাওরাঞ্চলের মৃৎশিল্প।
জানা যায়, একসময় রান্নাঘর থেকে শুরু করে গৃহস্থালির প্রায় সব কাজেই মাটির তৈরি পাত্রের কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু সময়ের পালাবদলে মানুষ এখন টেকসই ও কম দামি প্লাস্টিক, মেলামাইন এবং স্টেইনলেস স্টিলের পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। ফলে স্থানীয় বাজারে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের চাহিদা আজ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।
চাহিদা কমার পাশাপাশি আকাশছোঁয়া হয়েছে কাঁচামালের দাম ও উৎপাদন খরচ। মৃৎশিল্পের প্রধান প্রাণ হলো এঁটেল মাটি। সেই মাটি সংগ্রহ করতেই এখন কারিগরদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাটি পোড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় খড়ি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। সবমিলিয়ে যে পরিমাণ খরচ করে পণ্য তৈরি করতে হয়, বাজারে তা বিক্রি করে সেই উৎপাদন খরচই ওঠে না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনরাত পরিশ্রম করলেও দিন শেষে অর্থাভাব আর অনিশ্চয়তাই কেবল সঙ্গী হয়।
পেটের টানে বাপ-দাদার পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বহু কারিগর। অনেকে জীবিকার তাগিদে দিনমজুরি, রিকশা চালানো কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। হবিগঞ্জের মাধবপুর বাজারে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবসা শুরু করা অষ্টগ্রামের প্রদীপ রুদ্রপাল বুকভরা আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘পূর্বপুরুষের এই পেশায় আর ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছিলাম না; লোকসান গুনে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছিল। তাই বাধ্য হয়ে পৈতৃক কাজ ছেড়ে সংসারের চাকা ঘোরাতে ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছি।’ প্রবীণ শিল্পীদের শঙ্কা, জীবিকার এই নির্মম বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মও আর কোনোদিন এই অনিশ্চিত ও কষ্টের পেশায় পা বাড়াবে না।
স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের মতে, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, আর্থিক অনুদান কিংবা সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে হয়তো আর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে অষ্টগ্রাম থেকে মাটির এই শিল্পচর্চার শেষ নিশানাটুকুও চিরতরে মুছে যাবে।
ঐতিহ্যবাহী এই লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ দিলেন সংশ্লিষ্টরা। ‘হাওরাঞ্চলবাসী’ (পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠন)-এর সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বাবু বলেন, ‘সময়ের পরিবর্তনে মানুষের চাহিদায় বৈচিত্র্য এসেছে, আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে মৃৎশিল্পেও। তবে গ্রাম ও মফস্বলে মৃৎশিল্পের আধুনিকায়ন ঘটেনি এবং স্থানীয় বাজারেও এর চাহিদা কমে গেছে। মৃৎশিল্পীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় পুঁজি সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে স্থানীয়ভাবে এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।’
হাওরের বুক চিরে বয়ে চলা বাতাসের সঙ্গে মিশে আছে শত বছরের মৃৎশিল্পের ঘ্রাণ। সেই ঘ্রাণ হারিয়ে যাওয়ার আগেই নীতিনির্ধারক ও সমাজের সচেতন মহলের আন্তরিক উদ্যোগই পারে অষ্টগ্রামের এই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনের প্রস্তুতি সব সময়ই থাকে। স্থানীয় হোক কিংবা জাতীয়—বিএনপির মতো বড় দলে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকেন। সামনের স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রার্থীরা নিজ নিজ জায়গা থেকে ঘোষণা দিয়েছেন এবং প্রচারণা চালাচ্ছেন।
তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একাধিক প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ দলের নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে দল যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এই নির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
রাশেদ খাঁন বলেন, ‘শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন না। তার ফেরারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চালিয়েছে, তার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। একটা মানুষ এত বোকা হতে পারেন না যে, তার জন্য ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে, আর তিনি দেশে ফিরে সেই দড়িতে ঝুলবেন।’
তিনি বলেন, ‘আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী ছিলেন শিশির মনির, যিনি জামায়াতের একজন বিখ্যাত আইনজীবী। তিনি যখন ফাহাদের আইনজীবী হন, তখন শিবির কোন লজ্জায় রাজপথে কর্মসূচি করে? জুলাইয়ের সময় শিশির মনিররা রাজপথে নামেননি। আমার প্রশ্ন, শিশির মনির ফাহাদের হত্যার আসামিদের আইনজীবী হলেন— এ ব্যাপারে জামায়াত কী ব্যবস্থা নিয়েছিল?’
তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিচারী রাজনীতি জামায়াত-শিবিরের স্বভাব। জামায়াতকে বলব, যদি আবরার ফাহাদকে ধারণ করেন, তাহলে শিশির মনিরকে ধারণ করতে পারেন না। তাকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের দাবি করছি।’
এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী মিলেমিশে বসবাস করছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দপ্তরে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) অন বাংলাদেশ’-এর তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, বহুমাত্রিক সংস্কৃতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং দুই দেশের পার্লামেন্টারি সহযোগিতা জোরদারের নানা দিক নিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ওই বিশেষ প্রতিনিধিদল।
ব্রিটেন পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগমের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন মিস্টার শকাত আদম ও লর্ড কুরবান হোসেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যে পার্লামেন্ট-টু-পার্লামেন্ট সম্পর্ক উন্নয়ন, ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের কল্যাণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের হাজার বছরের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে পাহাড় ও সমতলের ৫০টিরও বেশি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী নিজস্ব ভাষা ও স্বকীয়তা বজায় রেখে মিলেমিশে বসবাস করছে। আমাদের রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু বলে কোনো বিভাজন নেই; আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান সুযোগ ও অধিকার ভোগ করেন।’
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় এক নতুন যাত্রার সূচনা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদের পতনের পর যেকোনো অস্থিতিশীলতা রোধে এবং বিশেষ করে দুর্গাপূজাসহ সকল ধর্মীয় উৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি মাঠে থেকে সহায়তা করেছে।’
বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার নিদর্শন হিসেবে দুর্গাপূজার ব্যাপ্তি তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী জানান, গত বছর সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হলেও চলতি বছর মণ্ডপের সংখ্যা আরও প্রায় ৫ হাজার বাড়তে পারে।
বৈঠকে উপস্থিত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন যে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত ৪ কোটি টাকা চাহিদার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুবিধার্থে দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি একদিন বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উচ্চপর্যায়ের এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম ও যুগ্ম সচিব ইলিয়াস সুমনা উপস্থিত ছিলেন।
চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক এবং বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ১৯৭৯ ব্যাচের কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা সনৎ কুমার বিশ্বাস গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচায় তার নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
তার মৃত্যুতে ডিএফপির মহাপরিচালক খালেদা বেগম গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তার মৃত্যুতে ডিএফপি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।
উল্লেখ্য, সনৎ কুমার বিশ্বাস ১৯৫১ সালে নড়াইলের চারিখাদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
ভ্রাম্যমাণ দোকান বলতেই সাধারণত চোখে ভেসে ওঠে চা, জুস, ফাস্টফুড কিংবা কাপড়ের পসরা। কিন্তু কখনো শুনেছেন ভ্রাম্যমাণ ফটোকপি-কম্পিউটারের দোকান? হয়তো না। তবে এটা হয়। আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সামনের চিত্রটা একটু এই রকমই। এখানে ভ্রাম্যমাণ কয়েকটি দোকান বসে কম্পিউটার ও ফটোকপির মেশিন নিয়ে।
সকাল ৯টায় দোকান বসে। সঙ্গে আসে কম্পিউটার, ফটোকপির মেশিন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। সরকারি অফিসের কর্মঘণ্টা শেষ হলে আবার সব গুটিয়ে নিয়ে চলে যান দোকানিরা। পরদিন সকালে ফিরে আসেন একই জায়গায়।
আশপাশে ঘুরে এখানে দেখা মিলল ৬-৭টি ভ্রাম্যমাণ দোকানের। ছয়টি পাশাপাশি, আরেকটি কিছুটা দূরে। ঠিক কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সামনে। আশপাশে রয়েছে বাংলাদেশের বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বেশ কয়েকটি সরকারি কার্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাসপোর্টপ্রত্যাশীসহ নানা মানুষের প্রয়োজন মেটাতেই গড়ে উঠেছে এসব দোকান।
মো. সাব্বির। যদিও ব্যবসাটি তার বাবার। তবে তার অনুপস্থিতিতে বুধবার কথা বলেন সাব্বির। তাদের শুরুটা অবশ্য কম্পিউটার বা ফটোকপি দিয়ে নয়। প্রথমে এখানে ফলের জুস বিক্রি করতেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস জুসের দোকান চালানোর পর শুরু করেন চায়ের ব্যবসা। পরে সেই দোকানের সঙ্গে যোগ করেন ফটোকপির কাজ। এখন একই দোকানে চা ও ফটোকপি—এই দুই সেবাই দিচ্ছেন সাব্বির ও তার বাবা।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন কাজে আসা মানুষের প্রয়োজনের কথা ভেবেই এই জায়গায় দোকান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। আশপাশে সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফটোকপি ও অন্যান্য সেবার চাহিদাও রয়েছে। ব্যবসা ভালোই চলছে বলে জানান তিনি।
সব মিলিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে এই এলাকায় ব্যবসা করেন সাব্বির। তিনি বলেন, ‘এই ঠেলাগাড়িতে করে প্রতিদিন কাজের শুরুতে ফটোকপির মেশিনটা নিয়ে আসি এবং নিয়ে যাই। তবে চায়ের দোকানের টেবিলটা এখানেই থেকে যায়।’
একটু দূরেই বসেছেন আরেক দোকানি নিজামউদ্দিন। তার ব্যবসার বয়স এক বছরের বেশি। তার দোকানে কম্পিউটারের কাজ ও ফটোকপি করা হয়। পাসপোর্ট করতে আসা মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ তার সেবা নেন।
নিজামউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন সকালে কম্পিউটার ও ফটোকপির মেশিন নিয়ে আসেন তিনি। অফিসের সময় শেষ হলে আবার সেগুলো নিয়ে চলে যান। পরদিন ফের মেশিন নিয়ে হাজির হন। এভাবেই চলছে তার ব্যবসা।
নিজামউদ্দিনের পাশের দোকানির সঙ্গে কথা হয়। তবে তিনি নাম বলেননি। আবার প্রথম দিকে সাংবাদিক পরিচয় শুনেও ভয় পান। বলেন, ‘পুলিশ এখন ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ করছে। যদি কিছু হয়, তাহলে এই ব্যবসা চলে যাবে।’
পরে আশ্বস্ত করলে তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে আপাতত এই ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়া পর্যন্ত এই কাজকেই জীবিকার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছি। মোটামুটি ভালোই চলছে সবকিছু।’
প্রতিদিন মেশিন কোথায় রাখেন এবং কীভাবে নিয়ে আসেন এই প্রশ্নের জবাবে দোকানি মো. সাব্বির বলেন, ‘ফটোকপির মেশিনটি যে ঠেলাগাড়ির ওপর আছে ওটাতেই নিয়ে আসি এবং নিয়ে যাই। শুধু চায়ের দোকানের টেবিলটা এখানে থাকে।’
নাজিমুদ্দিন বলেন, ‘টেবিলটা রেখে যাই। তবে, কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ যে যন্ত্রগুলো আছে সেগুলো রিকশায় নিয়ে যেতে হয়। আবার নিয়ে আসি।’
দোকানি শরিফুল, নাজিমুদ্দিন ও সাব্বির বলেন, ‘পাশের দোকানের মিটার থেকে লাইন নিয়েছি। এ জন্য প্রতি মাসে টাকা দেওয়া লাগে। অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করি না।’
দোকানে দৈনিক গড়ে কতজন গ্রাহক আসে এবং আয় কত? এটা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেননি। তবে, প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৮০০ টাকা ইনকাম করেন বলে জানিয়েছেন তারা।
এখানে দোকান বসানোর কোনো অনুমতি আছে কি না আর কখনো উচ্ছেদ করা হয়েছে বা উচ্ছেদের নোটিশ এসেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দোকানি শরিফুল বলেন, ‘দোকান বসানোর কোনো অনুমতি নেই। হঠাৎ হঠাৎ পুলিশ এসে সরিয়ে দেয়। আবার এসে বসি। আমরা তো অফিস শেষ হলে চলে যাই। অন্য দোকানের মতো রাত পর্যন্ত থাকি না। পরিবেশও নষ্ট করি না।’
এই এলাকায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে কথা হয় নাসিফ আহমেদ নামের এক গ্রাহকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি খিলক্ষেত থেকে এসেছি। ব্যাংকে একটা চালান দিতে হবে। জরুরি কিছু কাগজ ফটোকপি করার প্রয়োজন ছিল। এখানে ফটোকপির দোকান পেয়ে ভালোই হয়েছে। তবে, অন্য জায়গার থেকে খরচ একটু বেশি।’
শাহাদাত হোসেন নামের আরেক গ্রাহক বলেন, ‘একটা অফিসে এসেছি কাজের জন্য। সেই অফিস থেকে কিছু কাগজ জমা দিতে বলল। যেগুলোর কপি আমার কাছে ছিল না। তাই এখান থেকে কাজটা করিয়ে নিলাম।’
তবে ব্যস্ততম এই অফিস এলাকায় এমন দোকান প্রয়োজনীয় হলেও এসব দোকানের অনুমোদন আছে কি না সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি ও বিভিন্ন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, ‘রাজনীতি থাকবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও থাকবে। তবে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে উদ্ভট পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না।
পেশিশক্তি নয়, জ্ঞান দিয়ে নিজেদের নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা নগরীর সরকারি ব্রজলাল কলেজ প্রাঙ্গণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর খুলনা বিভাগীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৬ আসনের এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং খুলনা-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।
অনুষ্ঠানে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সরকারি ব্রজলাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলামসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।