মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

আলোচিত জিয়াউল আহসানের অবৈধ মার্কেট গুড়িয়ে দিল সড়ক বিভাগ

# অবৈধ মার্কেটের ম্যানেজার ছিলেন র‌্যাব-৮ এর ডিএডি কামরুল # পরিশোধ করা হয়নি মার্কেটের ব্যবসায়ীদের জামানতের অর্ধ কোটি টাকা
বরিশালের রূপাতলী এলাকায় সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। ছবি: দৈনিক বাংলা
খান রুবেল, বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশিত
খান রুবেল, বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশিত : ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ১৭:১২

বরিশালে সড়ক বিভাগের জমি লিজের নামে অবৈধভাবে দখল করে বিশাল মার্কেট গড়ে তুলেছিলেন দেশের আলোচিত আয়না ঘরের রূপকার চাকরিচ্যুত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান।

এমনকি লিজ বাতিলের পরও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখা এতিমখানা মার্কেট নামক সেই অবৈধ মার্কেটটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে সড়ক বিভাগ।

আজ সোমবার সকালে বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এসময় জিয়াউল আহসানের নিয়ন্ত্রণে থাকা মার্কেটের ২৬টি দোকানসহ রূপাতলী জিরো পয়েন্ট থেকে সাগরদী ব্রিজ পর্যন্ত বরিশাল-ঢাকা সড়কের দুই পাশে অর্ধ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম। এসময় জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট তাকে সহযোগিতা করেন।

স্থানীয়রা জানান, ইতিপূর্বে র‌্যাব-৮ এর সদর দপ্তর ছিল রূপাতলী এলাকায়। বর্তমান সমাজসেবা ভবনে অস্থায়ীভাবে চলতো র‌্যাব-৮ এর কার্যক্রম। তখন র‌্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান।

তার ক্ষমতার আমলে তৎকালীন র‌্যাব-৮ সদর দপ্তরের সামনে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমি দখল করে জিয়াউল আহসান গড়ে তোলেন একটি মার্কেট। যার নাম দেয়া হয় এতিমখানা মার্কেট। মার্কেটের ২৬টি স্টল ভাড়া দেয়া হয় চড়া দামে। নেয়া হয় মোটা অংকের জামানত।

মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জিয়াউল আহসানের বড় ভাই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হকের নামে ছিল মার্কেটটি। তবে ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন র‌্যাব-৮ এর ডিএডি কামরুল সিকদার। আর ভাড়ার টাকা জমা নিতেন জিয়ার ছোট ভাই বরিশাল সিটি করপোরেশনের সদ্য সাবেক প্যানেল মেয়র জিয়াউর রহমান বিপ্লব।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হন চাকরিচ্যুত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান। সেই সঙ্গে আত্মগোপনে চলে যান জিয়াউল হক, জিয়াউর রহমান বিপ্লব এবং র‌্যাবের ডিএডি কামরুল সিকদার।

তাদের অবর্তমানে অবৈধ মার্কেটটি দেখভাল করছেন তাদেরই বোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পাখি আক্তার। তবে মার্কেট ভাড়া নেয়ার সময় ব্যবসায়ীদের কাছে রাখা অর্ধ কোটি টাকা জামানত ফেরত দেয়নি জিয়া পরিবার।

এদিকে দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিয়াউল আহসানের বোন পাখি আক্তার। তিনি জানিয়েছেন, সড়ক বিভাগের কাছ থেকে নাসির উদ্দিন এতিমখানা নামক একটি মাদ্রাসার নামে জমিটি লিজ নিয়েছিলেন তার বড় ভাই। লিজের মেয়াদ শেষে পূণরায় নবায়নের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের গত মে মাসে সেই আবেদন বাতিল করে দেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ।

তিনি বলেন, মার্কেটে ২১টি দোকান ছিল। দোকানের প্রত্যেক ভাগাটিয়াকে লিজ বাতিলের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তাদের দোকান ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা ছাড়েনি। আর উচ্ছেদের বিষয়টিও আমরা তাদের আগেই জানিয়ে দিয়েছিলাম।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রীম বাবদ প্রায় ৪০-৪২ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। যেটা মাদ্রাসার ব্যাংক একাউন্টে জমা রয়েছে। ভাই গ্রেপ্তারের পর সেই একাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। যে কারণে টাকা দিতে পারছি না। সেই টাকা পরিশোধের জন্যই আমাকে বিষয়টিতে যুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে কোনভাবেই আমি বিষয়টির সঙ্গে জড়িত নই।

বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, নগরীর রূপাতলী জিরো পয়েন্ট থেকে সাগরদী ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে নির্মাণ করা বিভিন্ন দোকানপাট, স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। এগুলো উচ্ছেদের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও মাইকিং করা হয়েছে। অনেকে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে। যারা সরিয়ে নেয়নি তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। চলমান এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।


সাতবাড়িয়ায় স্বাস্থ্য উপসেবা কেন্দ্রটি  নিজেই অসুস্থ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভেড়ামারা (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্য যে প্রতিষ্ঠানের জন্ম, সেই প্রতিষ্ঠানই যেন আজ বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে। একসময় যে উপস্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ছিল হাজারো মানুষের চিকিৎসার জন্য নির্ভরতার ঠিকানা, সময়ের পরিবর্তনে অবহেলা ও অযত্নে সেই সেবাকেন্দ্রের ভবন এখন পরিণত হয়েছে ঝুঁকির প্রতীকে। প্রতিদিন অসুস্থ মানুষ সুস্থতার আশায় এখানে আসেন, কিন্তু জরাজীর্ণ ভবন তাদের মনে তৈরি করে অজানা আতঙ্ক। ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়ীয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভাঙা দেয়াল-ছাদের ইট- সুরকি খুলে পড়ছে। ফলে সেবাগ্রহীতারা চরম আতঙ্ক রয়েছে। এটি দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার সাতবাড়ীয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটির বর্তমান চিত্র এমনই করুণ। শতবর্ষের পুরোনো এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ধীরে ধীরে নাজুক হয়ে পড়েছে। ভবনের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, প্রতিদিন সকাল থেকে এই উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে রোগীদের ভিড় জমে থাকে। এলাকার সাধারণ মানুষ, নারী, শিশু ও বয়স্করা চিকিৎসাসেবা নিতে ছুটে আসেন এখানে। কিন্তু তাদের অনেককেই চিকিৎসার পাশাপাশি ভবনের নিরাপত্তা নিয়েও চিন্তিত থাকতে হয়।

চিকিৎসা নিতে রোগীর অভিভাবক মনোয়ার হোসেন বলেন, চিকিৎসার ঠিকানা এখন নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সাতবাড়ীয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ঝুঁকির ছায়া আমরা দেখতে পায়।

স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম হোসেন বলেন, এখানে অনেক রোগী আসে জায়গা সংকুলান হয়না। যে ভবনটি রয়েছে তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে ভবনটির অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছে। দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চারপাশ অরক্ষিত থাকায় সন্ধ্যার পর সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত লোকজনের আনাগোনা বাড়ে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

চিকিৎসা নিতে রোগীরা বলেন, সাতবাড়ীয়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রটি শুধু সংস্কার নয়, আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন নিরাপদ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে রূপান্তর করা হোক। কারণ এই কেন্দ্রের সঙ্গে জড়িয়ে আছে হাজারো মানুষের জীবন ও সুস্থতার প্রত্যাশা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা। তাদের আশা, প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে হাজারো মানুষের শেষ ভরসা শতবর্ষের এই সেবাকেন্দ্র আবারও হয়ে উঠবে মানুষের আস্থা ও নিরাপদ চিকিৎসার ঠিকানা।

এবিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ইতিপূর্বে বিষয়টি জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে কয়েক দফা চাহিদা পত্র পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ গত ৪ জুলাই পুনরায় চিঠি দিয়ে অধিদপ্তরের উর্ধতন কর্তৃপক্ষ কে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে জানানো হয়েছে।


কুড়িগ্রামে উপকারভোগীদেরকে নিয়ে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

কুড়িগ্রামে জলবায়ু, অভিযোজন ও ব্যবস্থাপনা, খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি ও আয়বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্য ও নিরাপদ পানি ও পয়:নিষ্কাশন বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী এবং প্রকল্পের উপকারভোগীদেরকে নিয়ে প্রকল্প অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ১১টায় শহরের এএফএডি কনফারেন্স কক্ষে অবহিতকরণ সভায় এএফএডি’র নির্বাহী প্রধান সাইদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাবিবুর রহমান, কুড়িগ্রাম সদর থানার অফিসার ইনচার্জ কামাল হোসেন, সাবেক সিভিল সার্জন ডা. এসএম আমিনুল ইসলাম, সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম, মাল্টিজার ইন্টারন্যাশনালের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর শহিদুল ইসলাম, ফিন্যান্স কো-অর্ডিনেটর মোস্তফা এহসান, ঘোগাদহ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক সরকার, পাঁচগাছী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল বাতেন সরকার প্রমুখ।

জার্মানভিত্তিক মাল্টিজার ইন্টরন্যাশনাল বিএমজেড-পিটি প্রকল্পের অর্থায়নে এবং স্থানীয় বেসরকারি সংগঠন এসোসিয়েশন ফর অল্টারনেটিভ (এএফএডি) সহযোগিতায় ‘স্ট্রেনদেনিং রেজিলেন্স এন্ড ইম্প্রুভিং লিভিং কনডিশনস অব ভালনারেবল কমিউনিটিজ ইন কুড়িগ্রাম এন্ড সাতক্ষীরা’ প্রকল্পের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঘোগাদহ ও পাঁচগাছী ইউনিয়নে ৫৪০জন উপকারভোগীর জীবনমান উন্নয়নে ৪ বছর মেয়াদে কাজ বাস্তবায়ন করছে।

প্রকল্পের সুবিধাভোগীর মধ্যে রয়েছে দুর্যোগপ্রবণ এলাকার নারী, গর্ভবতী ও দুগ্ধদানকারী মা, অতিদরিদ্র ও নৃ-তাত্মিক সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী এবং প্রতিবন্ধী ব্যাক্তি ও তাদের পরিবার।


চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৩ বিজিবির উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের পদ্মা নদী তীরবর্তী সীমান্ত এলাকায় অসহায় ও দুস্থ মানুষের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ বিতরণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে সদর উপজেলার নারায়ণপুর এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাকা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের জন্য এ বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়।

সদর উপজেলার নারায়ণপুর মাহমুদা মতিউল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই মেডিকেল ক্যাম্পে দুই ইউনিয়নের অন্তত ১০টি গ্রামের প্রায় দুই হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা নূরে বানু বলেন, আমাদের বাড়ি পদ্মা নদীর একেবারে ধারে। সারাক্ষণ ভাঙনের আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করতে হয়। কখন যে নদী ঘরবাড়ি, জমিজমা গিলে খাবে, সেই ভয় সবসময় থাকে। এখানে কোনো হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্র নেই। কেউ অসুস্থ হলে নৌকায় করে অনেক দূরে হাসপাতালে যেতে হয়। জরুরি সময়ে রোগী নিয়ে যাওয়া খুবই কষ্টকর।

তিনি আরও বলেন, অনেক সময় সময়মতো চিকিৎসাও পাওয়া যায় না। বিজিবি এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধের ব্যবস্থা করায় খুব উপকৃত হয়েছি। ভবিষ্যতেও এ ধরনের চিকিৎসা ক্যাম্প নিয়মিত হলে সীমান্ত এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।

বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা নদীর ভাঙনে এলাকার স্বাস্থ্যকেন্দ্র বিলীন হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারি চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সীমান্তবর্তী জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে এ মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।

ক্যাম্পে আটজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত মানুষের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবা দেন। পাশাপাশি, সব রোগীকে বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় ওষুধও বিতরণ করা হয়।

চিকিৎসা কার্যক্রমের সার্বিক তত্ত্বাবধান করেন বিজিবির ৫৩ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান এবং উপঅধিনায়ক সাজ্জাদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


ফরিদপুরে কবি বাবু ফরিদীর মৃত্যুবার্ষিকীতে স্মরণ সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুরের বরেণ্য গল্পকার ও দ্রোহের কবি বাবু ফরিদীর ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে পালিত হয়েছে। এই উপলক্ষে গত সোমবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের ‘সাহিত্য ভবন’-এক স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলনের সঞ্চালনায় স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. তপন বাগচী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. তপন বাগচী কবি বাবু ফরিদীর লেখনীর বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বলেন, বাবু ফরিদী শুধু একজন সাধারণ লেখক ছিলেন না, তিনি ছিলেন সমাজ পরিবর্তনের কারিগর। তার গল্প ও কবিতা যুগে যুগে শোষিত মানুষের পক্ষে কথা বলেছে এবং অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে দ্রোহের আগুন জ্বালিয়েছে। বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের সুস্থ মানসিকতা গঠনে এবং বাংলা সাহিত্যের সমৃদ্ধিতে তার ক্ষুরধার লেখনীর গুরুত্ব অপরিসীম। তরুণদের মাঝে তাঁর সৃষ্টিকে আরও বেশি করে ছড়িয়ে দিতে হবে।

স্মরণ সভায় কবি বাবু ফরিদীর একমাত্র সন্তান অধ্যাপক দেবব্রত গুহ দেবু তার বক্তব্যে কবির সৃষ্টি ও আদর্শকে তুলে ধরার তাগিদ দিয়ে ‘বাবু ফরিদী স্মৃতি সংসদ’গড়ে তোলার আহবান জানান।

স্মরণ সভায় প্রবীণ সাংবাদিক ও লেখক বদিউজ্জামান চৌধুরী ভাদু, রাজনীতিবিদ এ এফ কাইয়ুম জঙ্গি, ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মামুন, ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সহ-সভাপতি প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা, কবি বাবু ফরিদীর সহধর্মীনি কৃষ্ণা গুহ, কবি শফিক ইসলাম, কবি রেহেনা আক্তার পিয়া, কবি আব্দুস সামাদ, কবি আব্দুর রাজ্জাক রাজা নাট্যকার ম.আহমেদ নিজাম- কবিতা পাঠ ও আলোচনায় অংশ নেন।

স্মরণ সভাটি কবি, লেখক, সাংবাদিক, সাহিত্যপ্রেমী ও গুণীজনদের অংশগ্রহনে একটি সাহিত্য মিলনমেলায় পরিণত হয়।


বগুড়ার নন্দীগ্রামে ফিরেছে দুর্লভ শামুকখোল পাখির ঝাঁক

* প্রকৃতিতে ফিরেছে প্রাণ, ভিড় বাড়ছে দর্শনার্থীদের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠ ও জলাভূমিতে আবারও দেখা মিলেছে দুর্লভ প্রজাতির শামুকখোল পাখির আগমন। শত শত শামুকখোল পাখির কলরবে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মুখর হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। ধান কাটা ফাঁকা মাঠে ঝাঁকে ঝাঁকে নেমে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যাচ্ছে পাখিগুলোকে। এ মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।

গত রোববার (১৯ জুলাই) সকালে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের রিধইল-সিধইল মাঠে প্রায় দুই থেকে তিনশত শামুকখোল পাখি একসঙ্গে খাবার সংগ্রহ করতে দেখা যায়। দিনের আলোয় আশপাশের জলাশয় ও কৃষি জমি থেকে শামুক, ব্যাঙ, ছোট মাছ, কাঁকড়া ও বিভিন্ন জলজপ্রাণী খেয়ে সন্ধ্যা নামতেই তারা ফিরে যায় নিজেদের আবাসস্থলে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রিধইল-সিধইল গ্রামের চারপাশের বাঁশবাগান, বট, পাকুড়, তেঁতুল ও অন্যান্য বড় গাছে বাসা বেঁধেছে পাখিগুলো। এ ছাড়াও নন্দীগ্রাম, ফোকপাল ও কালিকাপুর মাঠসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব পাখিগুলোর পদচারণা দেখা যাচ্ছে। বিকেলের পর গাছের উঁচু ডালে শত শত পাখিকে পাশাপাশি বসে বিশ্রাম নিতে দেখা যায়। গ্রামবাসীরা জানান, ধূসর-সাদা রঙের এই শামুকখোল পাখির ডানা বড়, ঠোঁট লম্বা এবং মাঝখানে ফাঁকাযুক্ত হওয়ায় সহজেই শামুকের খোল ভেঙে ভেতরের অংশ খেতে পারে। লেজ ও পাখার শেষভাগ কালো রঙের হওয়ায় দূর থেকেই শামুকখোল পাখিগুলোকে আলাদা করে চেনা যায়। দেখতে অনেকটা বক পাখির মতো হলেও আচরণ ও খাদ্যাভ্যাসে রয়েছে ভিন্নরকম বৈশিষ্ট্য।

পাখি বিশেষজ্ঞদের তথ্যমতে, শুকনো ডাল, কাঠি, লতাপাতা ঘাস দিয়ে স্ত্রী ও পুরুষ শামুকখোল পাখি মিলে প্রায় ১০ থেকে ১২দিনে বাসা তৈরি করে। জুলাই-আগস্ট মাসে তিন থেকে পাঁচটি ডিম দেয় এবং প্রায় ২৫দিনে ডিম ফুটে ছানা বের হয়। এক মাসের কিছু বেশি সময়ের মধ্যেই ছানাগুলো উড়তে সক্ষম হয়। প্রায় ৮১ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের এই পাখির ডানার বিস্তার প্রায় ৪০ সেন্টিমিটার। ঠোঁটের দৈর্ঘ্য প্রায় ১৫ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার এবং পা প্রায় ১৪ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার। প্রজনন মৌসুমে এদের দেহ আরও উজ্জ্বল সাদা রঙ ধারণ করে। বর্ষা মৌসুমে দেশের উত্তরাঞ্চলের জলাভূমি এলাকায় শামুকখোল পাখির উপস্থিতি তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। পর্যাপ্ত খাদ্য ও নিরাপদ পরিবেশ পেলে তারা দীর্ঘ সময় একই এলাকায় অবস্থান করে। খাদ্যের সংকট দেখা দিলে আবার অন্যত্র চলে যায় এবং অনুকূল পরিবেশ ফিরে এলে পুনরায় একই এলাকায় ফিরে আসে শামুকখোল পাখি। প্রকৃতির এই মনোমুগ্ধকর অতিথিদের নিরাপদ আবাস ও খাদ্যসংস্থানের জন্য স্থানীয়রা সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন। পরিবেশবিদদের মতে, শামুকখোল পাখির আগমন কোনো এলাকার জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের সুস্থতার একটি ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

বনবিভাগ বগুড়ার নন্দীগ্রামে কর্মরত সাইফুল ইসলাম জানান, পরিযায়ী পাখিরা বিভিন্ন মৌসুমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে ভ্রমণ করে। সাধারণত যেখানে তারা নিরাপদ আশ্রয় ও পর্যাপ্ত খাবার পায়, সেখানেই কয়েক মাস পর্যন্ত অবস্থান করে। তিনি আরও বলেন, রিধইল-সিধইল গ্রামে আশ্রয় নেওয়া এই অতিথি পাখিদের কেউ যেনো কোনোভাবে বিরক্ত না করে বা শিকার করতে না পারে, সেজন্য এলাকাটি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একই পরিবারের তিন নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় এক পরিবারের তিন সদস্য বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল ৭টার দিকে উপজেলার বারোঘরিয়া ইউনিয়নের বাদুরতলা এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন ওই এলাকার বাসিন্দা ভিকুর স্ত্রী হাসিনা বেগম (৫২), তার ভাতিজি আশা খাতুন (২৬) এবং আশার কন্যা মিম আক্তার (১৩)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এদিন সকালে হাসিনা বেগম একটি লোহার মই ব্যবহার করে ছাদে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। মইটি আগে থেকেই কোনোভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে থাকায় তিনি সেটির সংস্পর্শে আসা মাত্রই তড়িৎদাহের শিকার হন। এই সময় তাকে বিপদ থেকে বাঁচাতে গিয়ে একে একে আশা খাতুন ও মিম আক্তারও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এসে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন গণমাধ্যমকে বলেন, "বারোঘরিয়াতে বিদ্যুৎস্পষ্ট হয়ে তিনজন মারা গেছেন। খবর পেয়ে পুলিশের একটা টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত আছে। প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।" হঠাৎ একই পরিবারের তিন সদস্যের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া বিরাজ করছে।


হাম-ডেঙ্গুতে একদিনেই মৃত্যু ৮, বাড়ছে উদ্বেগ

* হাম ও হামের উপসর্গে মোট প্রাণহানি ৭৯৩, ডেঙ্গুতে ৩৭
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে একের পর এক থাবা বসাচ্ছে মশাবাহিত রোগ ও সংক্রামক ব্যাধি। একদিকে হাম ও এর উপসর্গে বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যু। অন্যদিকে ডেঙ্গুর সংক্রমণও দিন দিন রূপ নিচ্ছে নতুন উদ্বেগে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সারাদেশে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিন জন—যা এ বছর ডেঙ্গুতে এক দিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। প্রতিদিন শত শত মানুষ আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভিড় জমাস্ফোট তৈরি করায় পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি হচ্ছে।

হাম: হামের উপসর্গ নিয়ে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে সিলেট বিভাগে। তবে এ সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যু নেই। সোমবার (২০ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার (২০ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গ দেখা গেছে ৯২২ জনের আর নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৪৭ জনের।

সরকারের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৬৯৮ জনের। আর হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। অর্থাৎ, হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৯৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ মারা যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে সিলেট ছাড়া ঢাকা ও চট্টগ্রামে একজন করে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ১৫ মার্চ থেকে সোমবার (২০ জুলাই) পর্যন্ত হাম উপসর্গের রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ১৮ হাজার ৫৭০ আর নিশ্চিত হামের ১৪ হাজার ৫৭৮। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ২৬ জন, যাদের মধ্যে ৯৭ হাজার ৫৩২ জন ছাড়পত্র পেয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

ডেঙ্গু: মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে ভুগে ২৪ ঘণ্টায় দেশে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে, যা চলতি বছরে একদিনে সর্বোচ্চ। এই সময়ের মধ্যে নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে আরও ৩৭২ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে রোগটিতে মারা গেলেন মোট ৩৭ জন। অন্যদিকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হয়ে গেল ১০ হাজার ৮৫৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে ৬৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৪ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০৩ জন। ঢাকা উত্তর সিটিতে ২২ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ৫২ জন, খুলনা বিভাগে ৪৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২১ জন, রাজশাহী বিভাগে চারজন এবং রংপুর বিভাগে ছয়জন রোগী রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি বছরে মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৬০ দশমিক ৯ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ১ শতাংশ নারী। এই সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন মোট ৯ হাজার ৭৮৬ জন।


লিবিয়ায় জিম্মি কুমিল্লার ছয় যুবক, দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

ইউরোপের দেশ ইতালিতে পৌঁছানোর প্রলোভনে পড়ে লিবিয়ায় গিয়ে দালালের খপ্পরে পড়েছেন কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের ছয় যুবক। জিম্মি তরুণদের পরিবারের কাছে এখন দাবি করা হচ্ছে মোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ।

এদিকে দাবিকৃত অর্থ না পাওয়ায় জিম্মি যুবকদের ওপর প্রতিনিয়ত চালানো হচ্ছে অমানুষিক নির্যাতন। এ পরিস্থিতিতে স্বজনদের অক্ষত অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।

দালালচক্রের হাতে জিম্মি হওয়া যুবকরা হলেন মনোহরগঞ্জ উপজেলার খিলা ইউনিয়নের দিশাবন্দ গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে শাহাদাত হোসেন (২০), মাহবুবুর রহমানের ছেলে মানিকুল ইসলাম (২০), হারুন রশিদের ছেলে মো. সোহেল (২৭), ছবু মিয়ার ছেলে তাজ মোহাম্মদ (২৫), সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে ফয়সাল (২০) এবং লক্ষণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের শাহ আলমের ছেলে মেহেদী হাসান (২১)।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, ভালো উপার্জন ও উন্নত ভবিষ্যতের আশায় তারা ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে অবৈধ পথে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। কিন্তু লিবিয়া পৌঁছানোর পরই স্থানীয় ও দেশীয় মানব পাচারকারী চক্রের হাতে তারা জিম্মি হয়ে পড়েন।

ভুক্তভোগী মানিকুল ইসলামের বাবা মাহবুবুর রহমান জানান, তার নিজ গ্রামের বেলাল হোসেনের ছেলে মানিকের মাধ্যমে নিজের ছেলে মানিকুলকে ইতালি নেওয়ার কথা পাকাপোক্ত হয়। সেজন্য প্রায় ৯ মাস আগে মানিকের ভাই সামছুল আলমকে ২০ লাখ টাকা দেওয়া হয়। টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মানিকুলকে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়া নেওয়া হলেও সেখানে তাকে একটি দালালচক্রের হাতে তুলে দেন মানিক। বর্তমানে তার ছেলে ওই চক্রের হাতে জিম্মি এবং মুক্তিপণের জন্য তার ওপর তীব্র নির্যাতন চালানো হচ্ছে।

একই অভিযোগ করেন লক্ষণপুর ইউনিয়নের বেতিয়াপাড়া গ্রামের মেহেদী হাসানের বাবা শাহআলম। তিনি জানান, প্রায় ৮ মাস আগে একই দালাল সামছুল আলমের মাধ্যমে নগদ ১৮ লাখ টাকা পরিশোধ করে ছেলেকে ইতালি পাঠানোর উদ্দেশে লিবিয়া পাঠান। বর্তমানে তার ছেলেও লিবিয়ায় দালালের খপ্পরে পড়ে মুক্তিপণের দাবিতে নির্মম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, চক্রটি সর্বমোট দেড় কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করছে। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় প্রতিনিয়ত তাদের শারীরিক নির্যাতন করা হচ্ছে এবং সেই নির্যাতনের অডিও-ভিডিও পাঠিয়ে পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।

এদিকে, যুবকদের জিম্মি ও নির্যাতনের ভিডিও এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে গত ১০-১২ দিন ধরে অভিযুক্ত দালাল সামছুল আলমসহ তার পরিবারের অন্য সদস্যরা ঘরবাড়ি ছেড়ে পলাতক রয়েছেন। লিবিয়ায় অবস্থানরত মূল দালাল মানিকও এখন ভুক্তভোগী পরিবারের ফোন ধরছেন না। এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সন্তানদের জীবিত ফিরে পেতে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ প্রধানমন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীদের মা-বাবারা।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মনোহরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকসুদ আহমেদ বলেন, অবৈধ পথে কে, কিভাবে, কোন দালালের মাধ্যমে বিদেশে গিয়েছেন—এ সংক্রান্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা লিখিত অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


ফুলবাড়িয়ায় বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শনে জেলা প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) তিনি ফুলবাড়িয়ায় পৌঁছলে তাঁকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।

এদিন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান উপজেলা ভূমি সংলগ্ন পুকুর খনন,ঘাটলা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও মাছের পোনা অবমুক্তরন করেন। পরে পুকুর পাড়ে নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ভূমি সংক্রান্ত সেবার মান উন্নতকরন, নামজারি, মিসকেইছ ও উপজেলার খাস জমির সঠিক তথ্য পরিমাপ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট করতে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।

জানাগেছে, জেলা প্রশাসক দিনব্যাপী এ ভ্রমনে উপজেলা পরিষদ,উপজেলা ভূমি অফিস,কালাদহ ইউনিয়ন পরিষদসহ ইউনিয়নটির ডিজিটাল সেন্টার, ইউনিয়ন ভূমি অফিস,ফুলবাড়িয়া থানা পরিদর্শন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন।

পরে বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে সেলাই মেশিন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, সাইকেল বিতরণ, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ

ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।

এর আগে পরিষদ মিলনায়তনে মাদক, জুয়া,বাল্যবিবাহ ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম সোহাগ,সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার, ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান প্রমূখ ।


২ কোটি টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের সাহেদ কারাগারে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে এর আগে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫ এর বিচারক সাদিক আহম্মেদ এই আদেশ দিয়েছেন।

সাহেদের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের মামলাটি যখন হয় তখন তিনি সাড়ে চার বছর জেলে ছিলেন। তখন মামলাটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। ২০২৫ সালের ৪ মে আদালত তাকে এই মামলায় এক বছরের সাজা দেয় এবং সমপরিমাণ টাকা (২ কোটি ১৬ লাখ) অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এখন যেহেতু উনি কারাগারে গেছেন, আমরা আপিল করব।’

মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ব্যবসার উদ্দেশ্যে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের কাছ থেকে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণ নেন সাহেদ। ওই ব্যাংকে ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ মূল্যের একটি চেক জমা দেন তিনি। পরবর্তীতে সেই ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার করে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এরপর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।

মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৪ মে আদালত তাকে এই মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড এবং সমপরিমাণ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।

এর আগে, রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পল্লবী থানা পুলিশের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পল্লবী থানায় সোপর্দ করা হয়।


অতিরিক্ত ডিআইজি মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসর

পুলিশের সাবেক অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পুলিশের ইউনিফর্ম পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। সোমবার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তার ছোট ভাই মো. ওয়াহিদুজ্জামান ঢাকার ধানমন্ডিতে দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে মো. মনিরুজ্জামান পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

পরদিন ৩০ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানে তার ইউনিফর্ম পরিহিত উপস্থিতির ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ, উপনির্বাচনে বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তারের কৌশল অবলম্বন এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

তিনি লিখিত জবাব দিলেও ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তিন সদস্যের তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে বোর্ড অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয়।


নওগাঁয় গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১৬ হাজার ৬১ বোতল ফেনসিডিল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিল) ধ্বংস করেছে প্রশাসন। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যলায় চত্বরে রোলার দিয়ে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট (মালখানা) আরেফিন রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) মনিরুল ইসলামসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।

জানা যায়, গত ৬ বছরে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মাদককারবারিদের কাছে থেকে এসব মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিল) মাদক জব্দ করা হয়েছিল। মামলার পর এসব মাদক মালখানায় রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে এসব ধ্বংস করা হয়। এ সময় জেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম সহযোগিতা করে।

নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট (মালখানা) আরেফিন রহমান বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত (৬ বছর) ১৫১টি মামলায় এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছিল। যার পরিমাণ ১৬ হাজার ৬১ পিস। পরে সকলের উপস্থিতিতে এসব ধ্বংস করা হয়।’


কুমিল্লায় আরও এক শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হলেও কুমিল্লায় হামের প্রকোপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে কুমিল্লায় হাম সন্দেহে ও পরীক্ষায় নিশ্চিত মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।

মারা যাওয়া শিশুটির নাম রায়হান (১৮ মাস)। তার বাবার নাম ইমাম হোসেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। হামের উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, নতুন করে ১৫ জন সন্দেহজনক হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে ১৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ১৮ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

চলতি বছরের ১৯ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট ৩ হাজার ১৯ জন সন্দেহজনক হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৪৮২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে হাম সন্দেহে ১৩ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। একই সময়ে মোট ২ হাজার ৫৬৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ৫০২ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’ পাশাপাশি শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

এদিকে টিকাদান ক্যাম্পেইনের পরও কেন হাম ও হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু পুরোপুরি কমছে না—এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, ‘যেসব শিশু মারা গেছে, তারা টিকা পেয়েছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। তবে আগের তুলনায় জেলায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।’


banner close