বরিশালে সড়ক বিভাগের জমি লিজের নামে অবৈধভাবে দখল করে বিশাল মার্কেট গড়ে তুলেছিলেন দেশের আলোচিত আয়না ঘরের রূপকার চাকরিচ্যুত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান।
এমনকি লিজ বাতিলের পরও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দখলে রাখা এতিমখানা মার্কেট নামক সেই অবৈধ মার্কেটটি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুড়িয়ে দিয়েছে সড়ক বিভাগ।
আজ সোমবার সকালে বরিশাল নগরীর রূপাতলী এলাকায় সমাজসেবা কার্যালয়ের সামনে এ উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। এসময় জিয়াউল আহসানের নিয়ন্ত্রণে থাকা মার্কেটের ২৬টি দোকানসহ রূপাতলী জিরো পয়েন্ট থেকে সাগরদী ব্রিজ পর্যন্ত বরিশাল-ঢাকা সড়কের দুই পাশে অর্ধ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।
অভিযানের নেতৃত্ব দিয়েছেন বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম। এসময় জেলা প্রশাসনের একজন নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট, পুলিশ প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট তাকে সহযোগিতা করেন।
স্থানীয়রা জানান, ইতিপূর্বে র্যাব-৮ এর সদর দপ্তর ছিল রূপাতলী এলাকায়। বর্তমান সমাজসেবা ভবনে অস্থায়ীভাবে চলতো র্যাব-৮ এর কার্যক্রম। তখন র্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক ছিলেন সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান।
তার ক্ষমতার আমলে তৎকালীন র্যাব-৮ সদর দপ্তরের সামনে সড়ক ও জনপদ বিভাগের জমি দখল করে জিয়াউল আহসান গড়ে তোলেন একটি মার্কেট। যার নাম দেয়া হয় এতিমখানা মার্কেট। মার্কেটের ২৬টি স্টল ভাড়া দেয়া হয় চড়া দামে। নেয়া হয় মোটা অংকের জামানত।
মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, জিয়াউল আহসানের বড় ভাই ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হকের নামে ছিল মার্কেটটি। তবে ম্যানেজারের দায়িত্বে ছিলেন র্যাব-৮ এর ডিএডি কামরুল সিকদার। আর ভাড়ার টাকা জমা নিতেন জিয়ার ছোট ভাই বরিশাল সিটি করপোরেশনের সদ্য সাবেক প্যানেল মেয়র জিয়াউর রহমান বিপ্লব।
গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যূত্থানে আওয়ামী সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হন চাকরিচ্যুত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জিয়াউল আহসান। সেই সঙ্গে আত্মগোপনে চলে যান জিয়াউল হক, জিয়াউর রহমান বিপ্লব এবং র্যাবের ডিএডি কামরুল সিকদার।
তাদের অবর্তমানে অবৈধ মার্কেটটি দেখভাল করছেন তাদেরই বোন একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পাখি আক্তার। তবে মার্কেট ভাড়া নেয়ার সময় ব্যবসায়ীদের কাছে রাখা অর্ধ কোটি টাকা জামানত ফেরত দেয়নি জিয়া পরিবার।
এদিকে দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জিয়াউল আহসানের বোন পাখি আক্তার। তিনি জানিয়েছেন, সড়ক বিভাগের কাছ থেকে নাসির উদ্দিন এতিমখানা নামক একটি মাদ্রাসার নামে জমিটি লিজ নিয়েছিলেন তার বড় ভাই। লিজের মেয়াদ শেষে পূণরায় নবায়নের আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু চলতি বছরের গত মে মাসে সেই আবেদন বাতিল করে দেয় সড়ক ও জনপদ বিভাগ।
তিনি বলেন, মার্কেটে ২১টি দোকান ছিল। দোকানের প্রত্যেক ভাগাটিয়াকে লিজ বাতিলের বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তাদের দোকান ছেড়ে দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা ছাড়েনি। আর উচ্ছেদের বিষয়টিও আমরা তাদের আগেই জানিয়ে দিয়েছিলাম।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অগ্রীম বাবদ প্রায় ৪০-৪২ লাখ টাকা নেয়া হয়েছে। যেটা মাদ্রাসার ব্যাংক একাউন্টে জমা রয়েছে। ভাই গ্রেপ্তারের পর সেই একাউন্টও ফ্রিজ করা হয়েছে। যে কারণে টাকা দিতে পারছি না। সেই টাকা পরিশোধের জন্যই আমাকে বিষয়টিতে যুক্ত করা হয়েছে। এর বাইরে কোনভাবেই আমি বিষয়টির সঙ্গে জড়িত নই।
বরিশাল সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম বলেন, নগরীর রূপাতলী জিরো পয়েন্ট থেকে সাগরদী ব্রিজ পর্যন্ত সড়কের দুই পাশে অবৈধভাবে নির্মাণ করা বিভিন্ন দোকানপাট, স্থাপনা গড়ে তোলা হয়। এগুলো উচ্ছেদের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন ও মাইকিং করা হয়েছে। অনেকে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নিয়েছে। যারা সরিয়ে নেয়নি তাদের স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। চলমান এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
শেরপুরের নালিতাবাড়ীতে নিখোঁজের এক দিন পর প্রতিবেশীর টয়লেট থেকে সানজিদা আক্তার নামে ১১ বছর বয়সী এক কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া গ্রামে এঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় তিনজনকে আটক করে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার নালিতাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, বাবা–মা হারানো সানজিদা ছোটবেলা থেকেই নানি চাঁন ভানুর কাছে বড় হচ্ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে সে প্রতিবেশী চাঁন মিয়া পাগলার বাড়িতে খেলতে গিয়ে বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা রাতে এবং শুক্রবার দিনভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন।
একপর্যায়ে সানজিদার স্বজনেরা প্রতিবেশী তহুরন নেছার কাছে তাঁর ছেলে বিল্লাল হোসেনের মোবাইল নম্বর নিয়ে ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি সানজিদাকে হত্যা করে নিজেদের টয়লেটে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেন। শুক্রবার সন্ধ্যায় স্থানীয় লোকজন টয়লেটে গিয়ে শিশুটির মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে নালিতাবাড়ী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। একই সময় এলাকাবাসীর হাতে আটক বিল্লালের বাবা চাঁন মিয়া, মা তহুরন নেছা ও বোন রাবিয়াকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। অভিযুক্ত বিল্লাল পলাতক রয়েছেন। ধারনা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় আজিজুল ইসলাম (৩৮) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ওই যুবককে উপজেলার রাঙ্গেমারী তন্ময়ের প্লট থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
রাতে সিআইডি’র ক্রইমসিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। তবে অভ্যন্তরীন ক্রোন্দলে এ হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে বলে পুলিশের ধারনা।
নিহত যুবক বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ উপজেলার (বিজয়পুর) গ্রামের বাসিন্দা হবিবুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যার কিছুক্ষণ পর ৩-৪টি মোটরসাইকেল যোগে ৬-৭জন যুবক এক যুবকে উপজেলার রাঙ্গেমারী এলাকায় তন্ময়ের প্লটে নিয়ে আসে। সেখানে তাকে কুপিয়ে ফেলে যায় তারা। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে তারা উপস্থিত হয়।
বটিয়াঘাটা থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান জানান,স্থানীয়দের মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে আসি। সুরাতহাল রিপোর্টের সময়ে দেখা গেছে তার গলার ডান পাশে কানের নীচে ও পিঠের ডান পাশে গভীর ক্ষত চিহ্ন রয়েছে।
অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল একটি নির্জন জায়গা। তারা আজিজুলকে অন্যস্থান থেকে তুলে এখানে হত্যা করে।
নিহত যুবকের বিরুদ্ধে ডাকাতি, হত্যাসহ ৭টি মামলার খবর এ পর্যন্ত পাওয়া গেছে। তবে কোন্দলের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডটি সংগঠিত হয়েছে বলে প্রথমিকভাবে তিনি ধারনা করছেন।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় এক পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিজ গৃহের ভেতর গলা কেটে হত্যা করার এক রোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার দিবাগত রাতের কোনো এক সময় উপজেলার রাউতকোনা গ্রামের ফোরকান মিয়ার (প্রবাসী হিসেবে পরিচিত) বাড়িতে এই নৃশংসতা চালানো হয়। নিহতদের মধ্যে ফোরকান মিয়ার স্ত্রী, তাঁদের তিন কন্যাসন্তান এবং গৃহকর্তার শ্যালক রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আজ শনিবার ভোরে বসতঘরের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় নারী, শিশু ও এক যুবকের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়লে শত শত মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহগুলো উদ্ধার করে এবং এলাকাটি ঘিরে রাখে।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, প্রবাসীর স্ত্রী ও সন্তানসহ মোট পাঁচজনকে হত্যা করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
অন্যদিকে, গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কাপাসিয়া-কালীগঞ্জ সার্কেল) আসাদুজ্জামান জানান যে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে গৃহকর্তা ফোরকান মিয়া নিজেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি তাঁর স্ত্রী, তিন সন্তান এবং শ্যালককে নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যার পর থেকে পলাতক রয়েছেন। পুলিশ বর্তমানে অভিযুক্তকে আটক করতে এবং ঘটনার রহস্য উদঘাটনে জোরালো তদন্ত শুরু করেছে।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) অভিযান চালানোর সক্ষমতা বাড়াতে ১২২ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৬৩টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করেছে সরকার। এর মধ্যে রয়েছে ৩টি জিপ, ১০০টি টহল পিকআপ এবং ৬০টি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত মাইক্রোবাস।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া এই প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
জানা গেছে, সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এসব গাড়ি কেনা হবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড গাড়িগুলো সরবরাহ করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৩টি জিপের প্রতিটির ইঞ্জিনক্ষমতা হবে ২ হাজার ৫০০ সিসি। এগুলোর প্রতিটির আনুমানিক বাজারমূল্য হতে পারে দেড় কোটি টাকা। এ ছাড়া প্রতিটি টহল পিকআপের বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৪ লাখ টাকা এবং প্রতিটি মাইক্রোবাসের দাম পড়বে ৪৮ লাখ টাকার মতো।
প্রসঙ্গত, সরকারি খরচ কমানোর অংশ হিসেবে গত ৫ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ এক পরিপত্র জারি করে সব ধরনের যানবাহন কেনা স্থগিত করেছিল।
‘র্যাব ফোর্সেসের আভিযানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি (প্রথম সংশোধিত)’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এই গাড়িগুলোর খরচ বহন করা হবে।
বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১৮ সালে এই প্রকল্পটি প্রথম অনুমোদন পায়। শুরুতে এর প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৩৪ কোটি টাকা। পরে প্রকল্পের ব্যয় ২০৭ কোটি টাকা কমিয়ে ৮২৭ কোটি টাকা করা হয় এবং এর মেয়াদ ২০২৬ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এ প্রকল্পের আওতায় র্যাবের জন্য মোট ১ হাজার ৫৭০টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং ১৩১টি সরঞ্জাম কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল। ইতোমধ্যে ৮০৯টি যানবাহন এবং ১০১টি সরঞ্জাম কেনা সম্পন্ন হয়েছে।
আঞ্চলিক সামুদ্রিক সহযোগিতা বৃদ্ধি ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ভারতীয় নৌবাহিনীর জাহাজ ‘আইওএস সাগর’।
শুক্রবার (৮ মে) সকালে জাহাজটি বন্দর জেটিতে নোঙর করেছে। বহুজাতিক নৌ মোতায়েন কর্মসূচি ‘আইওএস সাগর ২০২৬’-এর অংশ হিসেবে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাহাজটি বাংলাদেশের জলসীমায় পৌঁছালে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বিএনএস আলী হায়দার’ সেটিকে অভ্যর্থনা জানিয়ে বন্দরে নিয়ে আসে। বন্দরে পৌঁছানোর পর ভারতীয় জাহাজটিকে ঐতিহ্যবাহী রীতিতে স্বাগত জানানো হয়।
সফরকালে ‘আইওএস সাগর’-এর অধিনায়ক বাংলাদেশ নৌবাহিনীর চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চলের কমান্ডার, নৌবহর কমান্ডার এবং ডকইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এসব বৈঠকে দুই দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা ও কৌশলগত সম্পর্ক আরো শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হবে।
যৌথ ইতিহাস ও আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রামের কমনওয়েলথ ওয়ার সেমেট্রিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন ভারতীয় নৌ সদস্যরা।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের সঙ্গে সামুদ্রিক লজিস্টিকস ও বন্দর নিরাপত্তা বিষয়ে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। দুই দেশের নৌ সদস্যদের মধ্যে পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়, জাহাজ পরিদর্শন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে। দুই বাহিনীর মধ্যে সৌহার্দ্য বাড়াতে একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম নৌ অঞ্চল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা এবং ভারতীয় জাহাজে একটি ডেক রিসেপশনের আয়োজন করা হবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভারতীয় নৌবাহিনীর এই সফর ভারত সরকারের ‘নেবারহুড ফার্স্ট’ (প্রতিবেশী প্রথম) নীতির একটি প্রতিফলন। এটি বঙ্গোপসাগর অঞ্চলে সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দুই প্রতিবেশী দেশের নৌবাহিনীর মধ্যে পেশাদারির মেলবন্ধন আরো দৃঢ় করতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। সফরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে জাহাজটি পুনরায় সমুদ্রযাত্রায় অংশ নেবে।
উপকূলবর্তী খুলনার কয়রায় বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘট পালন করেছেন স্থানীয় তরুণ ও পরিবেশকর্মীরা। শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১০টায় ইয়ুথ ল্যাব ও ইয়ুথ ফর সুন্দরবন কয়রার যৌথ উদ্যোগে কাটকাটা গ্রামের নিকটবর্তী নদীর চর ও জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় এই মানববন্ধন হয়।
কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা প্ল্যাকার্ড হাতে ‘জলবায়ুর সুবিচার, উপকূলবাসীর অধিকার, জীবাশ্ম জ্বালানি রোধ করি, সৌর ও বায়ু শক্তিতে ভবিষ্যৎ গড়ি,’ সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের মূল দাবি ছিল—বাংলাদেশে জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করে নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর বিদ্যুৎ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
ইয়ুথ ল্যাবের কয়রা প্রতিনিধি রাসেল আহাম্মেদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উপকূলের মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এ অঞ্চলে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে, যা পরিবেশের জন্য হুমকি।
ইয়ুথ ফর সুন্দরবনের প্রতিনিধি নিরাপদ মুন্ডা বলেন, ‘জলবায়ুর সুবিচার উপকূলবাসীর অধিকার। তিনি সংকট মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।’
এ সময় সুব্রত মুন্ডা, মনিরুল ইসলাম, সবুজ, সঞ্জয় বাইন, জাকি, আমিনুর ইসলাম ও নয়ন মন্ডলসহ অনেকে বক্তব্য দেন।
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় সরকারের গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বাস্তবায়িত আশ্রয়ণ প্রকল্প নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ডেরায় পরিণত হয়েছে। কাগজে-কলমে প্রকৃত অসহায়দের নামে বরাদ্দ দেওয়া হলেও বাস্তবে অধিকাংশ ঘর ভাড়াটে, দখলকারী ও মাদক কারবারীদের দখলে চলে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জনপ্রতিনিধিরা তাদের স্বজন, সচ্ছল ও প্রবাসী পরিবারকে ঘর বরাদ্দ দেয়। ১৫৯টি পরিবারের বসবাসের কথা থাকলেও গত ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর আওয়ামী লীগ-সমর্থিত অনেক উপকারভোগী এলাকা ছাড়লে তাদের ঘরগুলো প্রতিপক্ষরা দখল করে নেয়।
বর্তমানে অনেক ঘর ভাড়া দেওয়া, তালাবদ্ধ রাখা কিংবা টাকার বিনিময়ে মাদক কারবারীদের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এতে আশ্রয়ণ প্রকল্পগুলো ধীরে ধীরে মাদক ও অসামাজিক কর্মকাণ্ডের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে জানা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দুটি প্রকল্পে মোট ১৫৯টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ১১৯টি সেমিপাকা ও ৪০টি টিনশেড। মাত্রাই ইউনিয়নের কাঁটাহার আশ্রয়ণ প্রকল্পের ৫৮টি ঘর বর্তমানে এক প্রভাবশালী ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
প্রকল্পটি এখন মাদক কারবারীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত, যেখানে বহিরাগতদের দখলে থাকা ঘরগুলোতে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও সেবন চলছে। একই প্রকল্পে বরাদ্দপ্রাপ্ত রোকেয়া বেগম, রজ্জব আলী ও ছাইদুর রহমান অভিযোগ করেন, মাদকসেবী ও তাদের সহযোগীরা অনেক ঘর জবর-দখল করে রেখেছে।
এ ছাড়া ৫৫ নম্বর ঘরের উপকারভোগী নুরনবী-কুলসুম দম্পতিকে ৬০ হাজার টাকার বিনিময়ে উচ্ছেদ করার অভিযোগ রয়েছে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে।
উদয়পুর ইউনিয়নের বিনইল ও উত্তরপাড়ায় আশ্রয়ণ ঘরগুলোতেও বহিরাগতদের আড্ডা, মাদকসেবন ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়রা জানান, বিনইলে দুটি ঘর ৮০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। শ্রীপুর আশ্রয়ণে স্বচ্ছল প্রবাসী পরিবারের বসবাস এবং অনেক ঘর তালাবদ্ধ থাকার চিত্রও পাওয়া গেছে। এ ছাড়া জিন্দারপুর, ঘাটুরিয়া ও বাদাউচ্চ আশ্রয়ণে থাকা ৬৩টি ঘরের অধিকাংশ ভাড়া বা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
পাইকপাড়া ও লকইর আশ্রয়ণের প্রায় ২২টি ঘরের মধ্যে অন্তত ১০টি ঘরের উপকারভোগীরা জেলা শহরে বসবাস করছেন, আর বাকিগুলো প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই চিত্র দেখা গেছে কালাই উপজেলার তালোড়া বাইগুনী পীরপুকুর আশ্রয়ণ প্রকল্পেও। এখানে ১৫৯টি ঘরের মধ্যে প্রায় ৮০টি ভাড়াটিয়াদের দখলে। কর্মসংস্থানের অভাবে উপকারভোগীরা অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে ঘরগুলো খালি পড়ে থেকে মাদকসেবীদের আস্তানায় পরিণত হচ্ছে। আর প্রকৃত মালিকরা দীর্ঘদিন অনুপস্থিত। ঘুষের মাধ্যমে ঘর বরাদ্দের অভিযোগও রয়েছে।
আশ্রয়ণের বাসিন্দা আবুল হোসেন জানান, অনেক স্থানে যাতায়াতের রাস্তা না থাকায় ক্ষেতের আইল দিয়ে চলাচল করতে হয়। বর্ষায় পানি জমে, দেয়াল ফেটে যায় এবং রাতে মাদক কারবারীদের উৎপাত বেড়ে যায়।
আরেক বাসিন্দা জিল্লুর রহমান বলেন, ‘অনেক ঘরের দেয়ালে ফাটল, ছাউনি চুঁইয়ে পানি পড়ে, আবার সুপেয় পানির সংকট ও নিরাপত্তাহীনতার অভাবে আশ্রয়ণের ঘরগুলোতে এখন বসবাসের পরিবেশ নেই।’
বলায় চন্দ্র রবিদাসের ভাষ্য, কাজ না থাকায় না খেয়ে থাকতে হয়। আশরাফ আলী বলেন, ‘এখানে থাকলে জীবিকা নেই, না থাকলে ঘর নেই, সব মিলিয়ে বাসিন্দারা চরম অনিশ্চয়তা ও দুর্ভোগে রয়েছেন।’
পানির সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। বেশ কিছু নলকূপ চুরি হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের দূর থেকে পানি আনতে হচ্ছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা জানান, স্থাপিত নলকূপগুলোর বেশিরভাগই চুরি হয়ে গেছে, অবশিষ্ট পানিতেও আয়রনের আধিক্য থাকায় ব্যবহার অনুপযোগী হয়েছে। নতুন করে নলকূপ স্থাপন করে ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের চুরি না ঘটে, সেজন্য স্থানীয়দের সম্পৃক্ত করে নজরদারি জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কালাই থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীম আরা বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে জবর-দখল, ভাড়া ও বিক্রির অভিযোগের বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়া মাদকসহ অসামাজিক কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মাহনা এলাকায় বড় বিল- কাত্রা খাল পুন খননের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে স্থানীয় কৃষকরা। শুক্রবার (৮ মে) বিকেলে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের মাহনা এলাকায় এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন, স্থানীয় কৃষক মো. মনির হোসেন, জাকির মোল্লা, রমজান মোল্লা, আব্দুল হাই, আব্দুল হক, রফিকুল মোল্লা, মোতালিব ভূইয়া, শহিদুল্লাহ মোল্লা, রুস্তুম আলী, কিরণ মিয়া, মনিরুজ্জামানসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাহনা গ্রামের পাশ দিয়ে বড় বিল হতে কাত্রা পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার লম্বা একটি খাল আছে। খালটি ফকির ফ্যাশন সহ অন্তত ৮-১০টি কোম্পানী বালু দিয়ে খালটি ভরাট করে ফেলেছে। খালটি ভরাট থাকার কারনে পানি নামতে পারতেছে না। যার ফলে কয়েক বছর যাবৎ কৃষকেরা জমি চাষ করতে পারছে না।
খাল ভরাট থাকার কারনে এলাকার প্রায় ২ হাজার একর জমিতে পানি না নামার কারণে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া সামান্য বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যেয়ে এলাকায় জলাবদ্ধতার মানুষের ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে। খালটি পুনরুদ্ধার করে খননের দাবিতে ইতোপূর্বে উপজেলা প্রশাসনের কাছে গ্রামবাসীর পক্ষ থেকে গণস্বাক্ষরিত অভিযোগ দায়ের করা হয়ছে।
কিন্তু এতেও কাজ না হওয়ায় এলাকার কৃষকেরা মিলে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান করা না হলে আরও বৃহৎ আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসের জিরো পয়েন্টে পোষা প্রাণীদের জন্য বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শুক্রবার (৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয়ের জিরো পয়েন্টে চাকসু এজিএস আইয়ুবুর রহমান তৌফিকের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়েছে।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, ক্যাম্পাসে পোষা প্রাণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং র্যাবিস প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা তাদের পোষা প্রাণী নিয়ে এসে বিনামূল্যে ভ্যাকসিন নিয়ে যান।
চাকসু এজিএস বলেন, ‘ইদানিং ক্যাম্পাসে পাগলা কুকুরের আক্রমণ বেড়ে গেছে। বেশ কয়েকজন আহতও হয়েছেন। তাই ক্যাম্পাসের কুকুর ও বিড়ালদের ফ্রি ভ্যাকসিনেশনের এই উদ্যোগ।’ এ কাজে সহযোগিতা করেছেন ওয়ান হেলথ ইয়ং ভয়েস, বাংলাদেশ।
উদ্যোক্তারা বলেন, ‘নিয়মিত টিকাদানের মাধ্যমে র্যাবিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব এবং প্রাণী ও মানুষের নিরাপদ সহাবস্থান নিশ্চিত করা যায়।’
১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের সুস্পষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণার দাবিতে ইয়ুথনেট গ্লোবালের আয়োজনে বরগুনায় জলবায়ু ধর্মঘট ও পদযাত্রা করেছেন শতাধিক তরুণ জলবায়ু কর্মী। শুক্রবার (৮ মে) সকাল ১০টায় প্রেসক্লাবের সামনে শুরু হওয়া এ কর্মসূচি জেলা শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। কর্মসূচির প্রতিপাদ্য ছিল ন্যায্যতা ও নবায়নযোগ্য শক্তির পথে জীবাশ্ম জ্বালানি মুক্ত ভবিষ্যৎ গড়ি একসাথে।
সমাবেশে রঙিন ব্যানার ও পোস্টার হাতে তরুণদের স্লোগানে মুখর ছিল পুরো এলাকা। ‘ভুয়া সমাধান নয়, নবায়নযোগ্য শক্তি চাই’, ‘জীবাশ্ম মুক্ত বাংলাদেশ চাই’, ‘সৌর শক্তি বাড়াও, দূষণ কমাও’, ‘আমার ভবিষ্যৎ, আমার অধিকার’ ইত্যাদি স্লোগান দেন তারা।
বক্তারা বলেন, ‘জ্বালানি নীতিতে নবায়নযোগ্য শক্তিকে অগ্রাধিকার না দিলে দেশের ভবিষ্যৎ হুমকির মুখে পড়বে। তারা জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও অর্থায়ন বন্ধের পাশাপাশি জলবায়ু ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণের দাবি জানান।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে, যা জ্বালানি সার্বভৌমত্বের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন তরুণ জলবায়ু কর্মীরা। তবে এই লক্ষ্য অর্জনে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।
তাদের দাবি, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে আমদানি নির্ভরতা এখনো বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল, ডিজেল ও কয়লার দাম বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে লোডশেডিং বেড়েছে, যার প্রভাব পড়ছে শিল্প, কৃষি ও পরিবহন খাতে।
এই প্রেক্ষাপটে বক্তারা নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে একমাত্র টেকসই সমাধান হিসেবে তুলে ধরেন। তারা বলেন, ‘সৌর, বায়ু ও বায়োগ্যাসের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এ খাতে দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত বিনিয়োগ হয়নি।’
তাদের মতে, ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হলে বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ থেকে ২ বিলিয়ন ডলার জ্বালানি আমদানি সাশ্রয় করা সম্ভব।
ইয়ুথনেট গ্লোবাল-বরগুনা জেলার জেলা সমন্বয়কারী বনি আমিন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক জলবায়ু প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে উন্নত দেশগুলোকে বাংলাদেশকে অর্থ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ‘জলবায়ু ঋণ’ মওকুফের দাবি জানান তিনি।
ইয়ুথনেট গ্লোবালের বিভাগীয় সমন্বয়কারী সাজিদ মাহামুদ বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চলসহ পুরো দেশ আজ ঝুঁকির মুখে। বিশেষ করে নিম্ন-আয়ের মানুষ ও শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে বেশি অনিশ্চয়তা ও শঙ্কার মধ্যে রয়েছে। এই সংকট মোকাবিলায় এখনই জীবাশ্ম জ্বালানি নির্ভরতা থেকে সরে এসে নবায়নযোগ্য শক্তিতে ন্যায্য ও দ্রুত রূপান্তর নিশ্চিত করা জরুরি। আমাদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় বাস্তবসম্মত ও টেকসই পদক্ষেপ গ্রহণের আর কোনো বিকল্প নেই।’
ইয়ুথনেট গ্লোবালের নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, ‘সরকারের ঘোষিত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ লক্ষ্যমাত্রা সময়োপযোগী হলেও এর বাস্তবায়নে স্পষ্ট ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রোডম্যাপ জরুরি।’
তিনি বলেন, ‘আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে দেশের অর্থনীতি চাপের মুখে পড়ছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে দ্রুত রূপান্তর ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নেই।
বক্তারা রুফটপ সোলার সম্প্রসারণ, ব্যাটারি স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহন, স্মার্ট গ্রিড, সোলার সেচে প্রণোদনা এবং নবায়নযোগ্য প্রকল্পে সরকারি জমি ব্যবহারে পিপিপি মডেল চালুর আহ্বান জানান।
তরুণরা জানান, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে কৃষি নির্ভর মেহেরপুরে আর্থিক মুনাফার আসায় জেলায় ব্যস্ত সময় পার করছেন গবাদিপশু পালনকারি খামারিরা।
প্রতি বছরের ন্যায় এবারো স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত গবাদিপশু রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানোর লক্ষ্যে দিনরাত গবাদিপশুর যত্ন ও স্বাস্থ্য রক্ষায় নিয়োজিত রয়েছেন তারা ।
গো-খাদ্যের দাম বাড়ায় অতিতের চেয়ে এবছর পশুর বাড়তি দাম না পেলে লোকশানে পড়তে হবে তাদের।
আর সেই সাথে ভারতীয় পশু এদেশে প্রবেশ করলেতো কোনো কথায় নেই। একেবারে লোকশানের বোঝাই চাপা পড়তে হবে তাদের। তাই ভারতীয় পশু যাতে দেশে না প্রবেশ করে সে দাবি তাদের প্রশাসনের কাছে।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ছোট বড় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর মেহেরপুর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু।
এর মধ্যে ষাঁড় গরু রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি, বলদ চার হাজার ৮৪৪টি এবং গাভি আট হাজার ৫০৯।
এছাড়া মহিষ রয়েছে ৪৮২টি, ছাগল এক লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া দুই হাজার ৭২০টি।
জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশু। সেই হিসেবে প্রায় ৮২ হাজার ৩৩৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকছে, যা রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করার প্রস্ততি নিচ্ছেন খামারিরা।
ইতোমধ্যে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে ক্রেতারা খামারগুলোতে ভিড় করতে শুরু করেছেন।
খামারিরা জানান, প্রাকৃতিক পরিবেশে খৈল, ভূষি ও সবুজ ঘাস খাইয়ে পশু লালন-পালন করা হচ্ছে। যদিও গো-খাদ্যের দাম বেড়েছে, তবুও ভালো দামের আশায় তারা আশাবাদী।
খামারগুলোতে দেড় লাখ থেকে শুরু করে ১০-১২ লাখ টাকা মূল্যের গরুও রয়েছে। বাণিজ্যিক খামারের পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারগুলোও পারিবারিকভাবে গরু লালন-পালনে ব্যস্ত সময় পার করছে।
জেলার খামারগুলোতে নেপালী, অস্ট্রেলিয়ান, ফিজিয়ান, পাকিস্তানি ও হরিয়ানা জাতের উন্নত গরু দেখা যাচ্ছে। খামারিদের দাবি, ভারত থেকে গরু আমদানি বন্ধ রাখা হলে দেশের উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির চাহিদা পূরণ সম্ভব।
গরু চাষি হোসনেয়ারা বলেন,আমার বাড়িতে দশটি গরু রয়েছে। যেগুলো এবার কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য তুলবো। বছরজুড়ে ধারদেনা করে তাদের লালনপালন করেছি। তাদের ঘিরেই আমাদের সকল স্বপ্ন। আর এই স্বপ্ন তখনই বাস্তবায়ন হবে যখন তাদের ন্যায্য মূল্য পাবো। এখনো দুশ্চিন্তায় আছি যদি ভারত থেকে গরু আসে। আর আমরা যদি দাম না পাই। তাহলে সব শেষ।
আরেক গরু চাষি বাওট রাজধানী পাড়ার সাহেব আলী জানান, বিগত কয়েক বছর এমনিই গরুতে লোকশান হয়েছে। তারপর এবছরো আটটি গরু লালনপালন করেছি। আর এবারও যদি লোকশানের মুখ দেখি তাহলে সব শেষ। আমাদের এক-একটি গরুর ঔজন হিসেবে বলতে গেলে মন প্রতি খরচ হয়েছে ২৮ হাজার টাকা করে। তা যদি ৩২ হাজার টাকার নিচে বিক্রি করি তাহলে খাটা খাটনি লস হবে। তাই ভালো দাম পেতে হলে দেশে উৎপাদিত গরুর উপর নির্ভরতা বাড়াতে হবে। দেশের বাহির থেকে গরু আমদানি হলেই সব শেষ।
গরু খামারি আসলাম হোসেন বলেন,আমরা বাজার থেকে যেসকল গো খাদ্য কিনতে পাই তার প্রতিদিন দাম বাড়ছে। তা দেখার কেউ নেই। আবার বাজারে বিক্রি করতে গেলেও খরচের বিপরীতে দাম মেলে না। আমরা পুরো বছরজুড়ে অপেক্ষা করি এই কোরবানির ঈদের জন্য। বছর জুড়ে কোন খোঁজ না থাকলেও কোরবানির ঈদ সামনে আসলেই ভারত থেকে গরু আসে, এটা আমাদের মাথায় ঢুকে না। কারন ভারত থেকে গরু আসা মানেই আমাদের লস।
মেহেরপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডাক্তার তোফাজ্জল হোসেন বলেন, মেহেরপুর প্রাণিসম্পদে ভরপুর একটি জেলা। এ জেলায় প্রায় সাত লাভ গরু ছাগলসহ বিভিন্ন পশু রয়েছে।
এখানে ছোট-বড় এক হাজার খামারির পাশাপাশি প্রতিটি বাড়িতে কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে গরু ছাগল পালন করা হয়। জেলায় এবছর প্রায় পৌনে দুই লাখ পশু কোরবান উপযোগী করে প্রস্তুত করেছেন খামারিরা।
এর মধ্যে জেলার চাহিদা রয়েছে প্রায় নব্বই হাজার পশু। বাকী ৮০ হাজার পশু দেশের বিভিন্ন জেলায় যাবে। মেহেরপুর একটি সীমান্তবর্তী জেলা। তাই চোরাকারবারিরা যেনো গরু আনতে না পারে সেজন্য প্রশাসনসহ প্রাণিসম্পদ বিভাগ সজাগ রয়েছে।
আজ ৯ মে। মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কময় ও রক্তভেজা দিন। ৫৬ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের স্থানীয় দোসররা মিলে গজারিয়ায় চালিয়েছিল এক পরিকল্পিত ও বর্বরতম হত্যাযজ্ঞ।
১৯৭১ সালের এই দিন ভোর ৪টা ৩০ মিনিটে যখন মসজিদের মিনারে ফজরের আজান ধ্বনিত হচ্ছিল ঠিক তখনই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বেলুচ রেজিমেন্টের প্রায় ১০০ জনের একটি দল অতর্কিত হামলা চালায় গজারিয়ার ১০টি গ্রামে। রাজধানী ঢাকা থেকে মাত্র ৩৮ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই জনপদে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নির্বিচারে হত্যা করা হয় প্রায় ৩৬০ জন নিরীহ মানুষকে। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের ভাষ্যমতে, আগের দিন ছিল পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী। মিলাদ ও ইবাদত শেষে ভোরের তন্দ্রাচ্ছন্ন গজারিয়াবাসী তখন গভীর ঘুমে।
রণাঙ্গনের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালেক আলো জানান, এই গণহত্যার পেছনে ছিল স্থানীয় রাজাকারদের নীল নকশা। এর আগে গজারিয়া হাই স্কুলে ৫৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ সভা হয়েছিল। সেই খবর রাজাকার খোকা চৌধুরী, সাম চৌধুরী ও গফুর চৌধুরীদের মাধ্যমে পৌঁছে যায় পাক বাহিনীর কাছে। রাজাকার ফালু বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঘর চিনিয়ে দিলে শুরু হয় নির্বিচার গুলিবর্ষণ। সেদিনের সেই বর্বরতায় গোসাইরচর, নয়নগর, বালুরচর, বাঁশগাঁও জেলেপাড়া, ফুলদী, নাগের চর, কলসেরকান্দি, দড়িকান্দি ও গজারিয়া গ্রামে কান্নার রোল পড়ে যায়। পাকিস্তানি ক্যাপ্টেন ও তার বাহিনীর হাতে প্রাণ হারান নারী-শিশুসহ অসংখ্য মানুষ।
পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে নিহতদের দাফন করার মতো পুরুষ মানুষও গ্রামগুলোতে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শী ওমর ফারুক আখন্দ স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, ‘মানুষের আর্তচিৎকার আর রক্তে চারপাশ এক বীভৎস রূপ নিয়েছিল। লাশের জাতপাত না খুঁজে তলাপাতা, পুরোনো শাড়ি বা চাদর পেঁচিয়ে এক গর্তে অনেককে মাটিচাপা দিতে হয়েছিল সেদিন।’
বহু লাশ ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছিল ফুলদী ও মেঘনা নদীতে যা পরে শকুন আর কাকের খাদ্যে পরিণত হয়। এই গণহত্যার পৈশাচিকতা স্থান পেয়েছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক গ্রন্থেও। হাসান হাফিজুর রহমান সম্পাদিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র’ (অষ্টম খণ্ড) এবং মুনতাসীর মামুনের ‘মুক্তিযুদ্ধ কোষ’-এ গজারিয়ার এই বিভীষিকাময় ঘটনার উল্লেখ রয়েছে।
সাংবাদিক ও গবেষক শাহাদাত পারভেজ জানান, ১২ মে ১৯৭১-এ ব্রিটিশ কূটনীতিক কে. ডব্লিউ. হ্যাজেলের পাঠানো এক গোপন টেলিগ্রাম বার্তায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, পাকিস্তানি বাহিনী গজারিয়ার গ্রামগুলো মাটিতে গুঁড়িয়ে দিয়েছে এবং সেখানে নিহতের সংখ্যা ৫০০-এর বেশি হতে পারে। যুবকদের টার্গেট করে হত্যার নির্দেশের কথা বলা হয়েছিল সে টেলিগ্রাম বার্তায়।
স্বাধীনতার ৫৬ বছরেও গজারিয়ার সেই বধ্যভূমিগুলো আজও রয়ে গেছে অরক্ষিত। নিহত ৩৬০ জনের মধ্যে মাত্র ১৩০ জনের পরিচয় নথিভুক্ত করা সম্ভব হয়েছে। শহীদ পরিবারগুলোর অবস্থা আরও করুণ।
নয়নগর গ্রামের শহীদ পরিবারের সদস্য কমলা বেগম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘বাবা আর ভাইকে চোখের সামনে মরতে দেখেছি। মা তখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। আজ পর্যন্ত সরকারের কোনো সহায়তা আমাদের ভাগ্যে জোটেনি।’