শেরপুরের নকলায় পিকআপ-সিএনজি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী। এ ঘটনায় সিএনজির চালকসহ আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের নকলা উপজেলার পাইস্কা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার লাউদানা এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের কন্যা তায়েবা (১০), শেরপুর সদর উপজেলার পালাশিয়া এলাকার সুলতান মিয়ার পুত্র তাজেন মিয়া (১৫) ও ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার কাজিয়া কান্দা এলাকার সুলতান মিয়ার স্ত্রী সুবিনা বেগম (২০) ও ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সাহাপুর এলাকার আবুল কাসেমের পুত্র আলাল উদ্দিন (৩৫)।
আহতরা হলেন নিহত তায়েবার বড় বোন তোয়া (১৬), ছোট ভাই আদনান ছাবিদ (৩) ও মা উম্মে সালমা (৪০)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লাউদানা এলাকার উম্মে সালমা তার দুই মেয়ে ও শিশুপুত্রকে নিয়ে দুদিন আগে শেরপুরের এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন। গতকাল বুধবার ময়মনসিংহের উদ্দেশে তারা সিএনজিযোগে রওনা হন। এ সময় সিএসজিতে আরও যাত্রী ওঠেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নকলার গড়েরগাও থেকে পাইস্কা বাইপাস হয়ে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কে ওঠেন সিএনজি চালক। সেখানেই বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগামী একটি পিকআপ সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিন চাকার গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তায়েবা ও তাজেন নামের দুই শিশু নিহত হয়। অন্যরা গুরুতর আহত হন।
তারা জানান, স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। যাওয়ার পথেই সুবিনা বেগম ও আলাল উদ্দিন নামে অন্য দুজনও প্রাণ হারান। বাকি তিনজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবর রহমান বলেন, বুধবার দুপুরে নকলার পাইস্কা বাইপাসে সিএনজি-পিকআপের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। এতে আরও ৫ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে আরও ২জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। বাকিরা সেখানে চিকিৎসাধীন। পিকআপের চালক পলাতক রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সিএনজি ও পিকআপটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
দেশের চার শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনগুলোর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) ৭০ জনেরও বেশি, আলিয়া মাদ্রাসায় অধ্যক্ষসহ অন্তত ৭ জন, ঢাকা কলেজে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী এবং রংপরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ৭ জন মারাত্মকভাবে আঘাত পেয়েছেন। সব মিলিয়ে একদিনে চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, সাংবাদিক, জকসুর শীর্ষ প্রতিনিধি ও ছাত্রনেতাসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের ফলে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতা ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি): জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি ডকুমেন্টারি প্রদর্শনী অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় জকসুর কয়েকজন প্রতিনিধি ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যবৃন্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসাসেবা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দাবি সংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের চেষ্টা করেন।
এতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দিলে বাগবিতণ্ডা শুরু হয় এবং একপর্যায়ে তা ব্যাপক সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, জিএস ও জবি শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল আলীম আরিফ, জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া, ছাত্রদল নেতা ইয়াসিন সাইফ এবং কয়েকজন সাংবাদিকসহ ৭০ জনেরও বেশি আহত হন। সংঘর্ষটি ক্যাম্পাস থেকে ঢাকা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পর্যন্ত গড়ায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারেও ভাঙচুর চালানো হয়।
জকসু জিএস ও ছাত্রশিবির সভাপতি আব্দুল আলীম আরিফ বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে দাবি তুলে ধরতে গেলে আমাদের বাধা দেওয়া হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায় এবং মেডিকেল সেন্টারে ভাঙচুর করে। এ হামলার পেছনে কয়েকজন শিক্ষকেরও মদদ ছিল। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিচার ও প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ দাবি করছি; অন্যথায় আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জবি শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব শামসুল আরেফিন বলেন, জকসুর ব্যর্থতা ও সারাদেশে জামায়াত-শিবিরের অপকর্ম ঢাকার জন্য তারা এসব করছে। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো তারা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও মব করার চেষ্টা করছে। ৫ই আগস্ট-পরবর্তী সময়ে তারা মব কালচার চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিরোধ করেছে, কারণ তারা আবাসন সুবিধা থেকে শিক্ষার্থীদের বঞ্চিত করতে চেয়েছিল।’
জবি ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহীন মিয়া বলেন, হামলায় অন্তত ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন। আমার মুখে, নাকে, পায়ে ও হাতে লাথি মারা হয়েছে। তারা নির্বিচারে আমাদের ওপর হামলা চালিয়ে সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখসহ কয়েকজন সদস্যকে আহত করেছে।
সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি ইভান তাহসীভ বলেন, প্ল্যাকার্ড নিয়ে ইউজিসি চেয়ারম্যানের অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের প্রবেশে বাধা দেওয়া সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিক। প্রশাসনের নীরব ভূমিকার কারণেই ক্যাম্পাসে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এই দখলদারত্বের রাজনীতি বন্ধে প্রশাসনকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, অডিটোরিয়ামে জুলাইয়ের একটি প্রোগ্রাম চলাকালে বাইরে একটি গোষ্ঠী বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে। আমরা ধারণা করছি, জুলাইবিরোধী শক্তি এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। এতে ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হবে।’
ঢামেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. মো. মকবুল হোসেন বলেন, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ৭০ জনেরও বেশি আহত ব্যক্তি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন এবং আরও আহত রোগী আসছেন।
সূত্রাপুর থানার ওসি মতিউর রহমান বলেন, সংঘর্ষের পর ক্যাম্পাস ও এর আশপাশের পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে।
ঢাকা কলেজ: মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা কলেজ ক্যাম্পাসের গ্যালারি-২ এলাকায় ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষ হয়। পরবর্তীতে বেলা দেড়টার দিকে ছাত্রদল ক্যাম্পাসে মিছিল ও মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে।
ঢাকা কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ মামুন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে কলেজের গ্যালারি-২-এ শহীদ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছিল। অফিস সম্পাদক আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে ৫ ও ৬ নম্বর গ্যালারিতে সাজসজ্জার কাজ চলছিল। এ সময় ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য পারভেজ মোশারফের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন এসে মারধর করে। এতে আব্দুল মালেক মাথায় গুরুতর আঘাত পান এবং তাকে পপুলার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ছাত্রদল কর্মী রাসেল বলেন, সকালে শিবিরের একটি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বহিরাগত শিবির কর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হয়ে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলে এবং ছাত্রদলের এক কর্মীকে মারধর করে। খবরটি ছড়িয়ে পড়লে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে। পরে শিবিরের নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়ে ধাওয়া দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া (আলিয়া মাদ্রাসা): মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বকশীবাজারে সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া চত্বরে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে সামনের সড়কে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এতে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাহমুদ ওবায়দুল হকের মাথায় আঘাত লাগে এবং সাংবাদিকসহ অন্তত ৭ জন আহত হন।
আহত ছাত্রদল নেতা নিছার উদ্দিন রাব্বি বলেন, আমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নই। বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে মাদ্রাসা চত্বরে বসে থাকাকালে শিবিরের নেতাকর্মীরা অতর্কিত লাঠিসোটা ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালায়।
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় (বেরোবি): গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘাত চলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকে শিবির এবং পার্ক মোড়-সংলগ্ন সড়কে ছাত্রদল অবস্থান নিলে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় ছাত্রদলের সহসভাপতি আশিকুর রহমান রক্তাক্ত হওয়াসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের দপ্তর সম্পাদক শিবলী সাদিক বলেন, আমাদের ‘জুলাই জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ প্রদর্শনীতে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার কয়েকজন নেতার ছবি ছিল। ছাত্রদল জোর করে ব্যানার নামিয়ে ফেলতে চাপ দেয়। আমরা প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নিতে বললেও তারা তা না মেনে হামলা চালায়। পরে প্রক্টর এলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়, কিন্তু তারা আবার বহিরাগত মহানগর ছাত্রদল নিয়ে এসে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলা হলে আমরা প্রতিহত করব, নতুবা বহিরাগতরা চলে গেলে আমরাও প্রশাসনের মধ্যস্থতায় ক্যাম্পাস ত্যাগ করব।
বেরোবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. ইয়ামিন বলেন, শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিবিজড়িত ক্যাম্পাসে শিবিরের প্রদর্শনীতে খালেদা জিয়ার ছবির পাশে গোলাম আজম, কাদের মোল্লা ও মতিউর রহমান নিজামীর মতো মুক্তিযুদ্ধবিরোধী ও যুদ্ধাপরাধীদের ছবি টাঙানো হয়েছিল। সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীকেও বিচারিক হত্যাকাণ্ডের শিকার বলা হয়। ছবিগুলো সরাতে বললে তারা চেয়ার নিক্ষেপ ও হামলা চালিয়ে আমাদের সহসভাপতি আশিককে রক্তাক্ত করে। পরবর্তীতে কারমাইকেল কলেজ থেকে বহিরাগত শিবির এনে হামলা চালানো হয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই নিয়ে কোনো আপস করব না।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান বলেন, সংঘর্ষে জড়িতদের ভিডিও ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হবে এবং তদন্ত কমিটি গঠন করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তাজহাট থানার ওসি রফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ দ্রুত ক্যাম্পাসে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি, তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দুই পক্ষের নেতাদের নিয়ে উপাচার্য বৈঠক করছেন।
ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের শুভাঢ্যা এলাকায় দুই তরুণীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের দায়ে ছয় যুবককে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এ রায় ঘোষণা করেছেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) বলেন, আমৃত্যু কারাদণ্ড হলো সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের বাকি জীবন কারাগারে কাটাতে হবে।
কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন রাহুল মো. ডায়মন্ড, আফসার উদ্দিন অনিম, পারভেজ হক পলাশ, মিনহাজ ওরফে মিনহাজ আবেদীন এবং মিনহাজ ওরফে বাবু ওরফে মিনহাজ বাবু। তাদের সবার বয়স ২৫ এর নিচে।
দণ্ডের পাশাপাশি প্রত্যেক আসামিকে এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তদের স্থাবর/অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে অর্থদণ্ডের টাকা আদায় করে ভুক্তভোগী বা তার পরিবারকে দেওয়ার জন্য ঢাকার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট বা কালেক্টরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল রায়ে বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষীরা আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ ও অপরাধের ধরন বিবেচনায় আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। এ কারণে তাদের আমৃত্যু কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হলো।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের মধ্যে রাহুল পলাতক রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। রায় শেষে অপর আসামিদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, দুই তরুণীসহ তাদের কয়েকজন বন্ধু ২০২২ সালের ২৫ জুন বিকেলে এক বন্ধুর জন্মদিন উদ্যাপন করতে ঘুরতে বের হন। রাত পৌনে ১০টার দিকে কেরানীগঞ্জের পানকৌড়ি রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়া শেষে বাসায় ফিরতে শুভাঢ্যা এলাকায় অটোরিকশা খুঁজছিলেন তারা। এ সময় একটি অটোমিশুক নিয়ে আসামিরা তাদের পথরোধ করে। আসামিরা তাদের মারতে মারতে রতনের খামার নামক স্থানে নিয়ে দুই তরুণীর বন্ধুদের মারধর করে টাকা-পয়সা, মোবাইল ফোন কেড়ে নেন। এরপর ওই দুই তরুণীকে ধর্ষণ করে আসামিরা। ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে তারা। এদিকে দুই তরুণীর বন্ধুরা দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় গিয়ে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ গিয়ে দুই তরুণীকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এক তরুণীর বাবা ২০২২ সালের ২৯ জুন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলার পর মিনহাজ আবেদীনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। তার কাছ থেকে এক তরুণীর মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। মোবাইলে ভুক্তভোগী দুই তরুণীর ধর্ষণের ভিডিও পাওয়া যায়।
মামলার তদন্ত শেষে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক শরজিৎ কুমার ঘোষ ৬ যুবকের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। এরপর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে ১২ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার রাড়িপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম চান্দেরখোলা গ্রামে নিজ বসতঘর থেকে একই পরিবারের তিনজনের গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। কচুয়া থানার ওসি হারুন আর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন- আহাত হাওলাদার (২২), তার মা মনিরা বেগম (৫৫) এবং নানি রাশিদা বেগম (৮৫)। আহাত কচুয়া উপজেলার বাসিন্দা আব্দার হাওলাদারের ছেলে। মনিরা বেগম মৃত রশিদ শেখের মেয়ে এবং রাশিদা বেগম মৃত রশিদ শেখের স্ত্রী।
স্থানীয় বাসিন্দা বুলু বেগম জানান, বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হতে দেখে তার সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি খোঁজ নিয়ে ঘরের ভেতরে গলিত মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি হারুন আর রশিদ বলেন, মরদেহগুলোর মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাটি দুই থেকে তিন দিন আগে ঘটেছে বলেও ধারণা করছি। বাড়িতে লোকজনের আনাগোনা না থাকায় বিষয়টি এতদিন কারও নজরে আসেনি।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- খুলনা মহানগরীর মহেশ্বরপাশা মধ্যপাড়ার মো. জিহাদ আলী লস্কর এবং তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তার। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) তাদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআই জানায়, জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘদিন কম্বোডিয়ায় অবস্থান করে স্থানীয় কয়েকজনকে মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দেন। তার কথায় বিশ্বাস করে প্রতিবেশী মোসতাকীম হাসান কাজী ও শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুল জনপ্রতি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা জিহাদ ও তার স্ত্রীর কাছে দেন।
পরবর্তীতে তাদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিয়ে ভুক্তভোগীদের মেয়েদের পরিচয়ে কণ্ঠ পরিবর্তন করে বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে অনলাইনে প্রতারণামূলক কথোপকথনসহ বিভিন্ন অবৈধ কাজে বাধ্য করা হয়। এ সময় তাদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি এবং অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়।
একপর্যায়ে কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে ভুক্তভোগীরা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে স্বজনদের সহায়তায় দেশে ফিরে এসে তারা পৃথকভাবে খুলনার দৌলতপুর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৭/২২ ধারায় দুটি মামলা দায়ের করেন। মামলাগুলোর তদন্তভার পায় পিবিআই খুলনা।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে হেমায়েতপুর থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। পরে আদালতেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পিবিআইয়ের তদন্তে আরও জানা গেছে, একই কৌশলে এলাকার আরও কয়েকজনকে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় একই এলাকার আরও দুই ব্যক্তি পৃথক দুটি মামলা করেছেন।
পিবিআই খুলনার বিশেষ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, ‘বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারে জড়িত চক্রের বিরুদ্ধে পিবিআই ‘‘জিরো টলারেন্স’’ নীতিতে কাজ করছে। এ ধরনের অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।’ তিনি জানান, মামলার অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ও বিকালে পৃথকভাবে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত হলেও অপরজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।
নৌপুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওয়াশপুর ঝাউচর খেয়াঘাটসংলগ্ন এলাকা থেকে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করে বসিলা নৌপুলিশ ফাঁড়ি। পরে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। নিহতের নাম হৃদয (৩৪)। তিনি বসিলা উত্তর মোড়া এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। হৃদয় স্টেট ফাস্ট কুরিয়ার প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
বসিলা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক ওমর আলী জানান, মরদেহটি প্রথমে অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের সিম কার্ডের সূত্র ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা মর্গে এসে হৃদয়ের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
মরদেহ উদ্ধারকারী বসিলা নৌপুলিশের এএসআই আজহার আলী জানান, নিহতের ছোট ভাই আকাশের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদয় দুই দিন আগে কাজের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
অন্যদিকে মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার কোন্ডা ইউনিয়নের কান্দাপাড়া খেয়াঘাটসংলগ্ন বুড়িগঙ্গা নদীর মাঝখান থেকে ভাসমান অবস্থায় এক অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পাগলা নৌপুলিশ ফাঁড়ি।
পাগলা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত ইনচার্জ মালেক বিশ্বাস জানান, স্থানীয়দের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর।
সুরতহাল প্রতিবেদনে দেখা যায়, নিহতের ডান পা বিচ্ছিন্ন, বাম পা ও ডান হাত ভাঙা ছিল। এ ছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উদ্ধারের সময় মরদেহে কোনো পোশাক ছিল না।
নৌপুলিশ জানায়, দুটি মরদেহই ময়নাতদন্তের জন্য স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় বসিলা ও পাগলা নৌপুলিশ বাদী হয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।
ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচলের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে নদী দূষণ প্রতিরোধ ও পরিবেশ সংরক্ষণে পরিবেশ অধিদপ্তর আজ নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন এবং তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চল কার্যালয়ের উদ্যোগে নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা, নামাপাড়া, সস্তাপুর ও কুতুবপুর এলাকায় অবস্থিত ছয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করা হয়।
প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—ইউরোটেক্স নিটওয়্যার লিমিটেড, কর্ণফুলী টেক্সটাইল মিল, ঢাকা টেক্সটাইল মিলস, এম এম ডাইং, মেসার্স শাহীন টেক্সটাইল মিল এবং আই এফ এস টেক্সওয়্যার। পরিদর্শনকালে প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্গত তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষার জন্য পরিবেশ অধিদপ্তরের পরীক্ষাগারে পাঠানো হবে। পরীক্ষায় দূষণের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, পরিবেশ অধিদপ্তরের ঢাকা অঞ্চলের অধীন ঢাকা জেলা কার্যালয়ের একটি পরিদর্শন দল দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জে অবস্থিত আজান ওয়াশিং ও আল আমিন ওয়াশিং নামের দুটি কারখানা পরিদর্শন করে। পরিদর্শনে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠান দুটি পরিবেশগত ছাড়পত্র গ্রহণ এবং ইটিপি স্থাপন ছাড়াই ওয়াশিং কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রতিষ্ঠান দুটি থেকে তরল বর্জ্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। একই এলাকার অন্যান্য ওয়াশিং কারখানা পরিদর্শনের সময় বন্ধ পাওয়া যায়।
পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, নদী ও জলাশয় দূষণ রোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এ ধরনের পরিদর্শন, নজরদারি ও আইনগত কার্যক্রম নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।
সুপ্রিম কোর্টে সরকার বা রাষ্ট্রের পক্ষে মামলা লড়তে নতুন নিয়োগ দেওয়া আইন কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর শেরে বাংলা নগরের সমাধি কমপ্লেক্সে গিয়ে এই কর্মসূচি পালন করেন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা। কবর জিয়ারত, ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি তারা দোয়া-মোনাজাতও করেন।
এ সময় অ্যাটর্নি জেনারেলের সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ আরশাদুর রউফ ও মোহাম্মদ অনীক রুশদ হকও।
দোয়া-মোনাজাত শেষে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইন, সংবিধান, দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকারকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে ভূমিকা, সেটি আমরা যারা আইনজীবী তারা প্রতিদিন লক্ষ্য করি। স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বেগম খালেদা জিয়ার অবদান সবচেয়ে বেশি।
তিনি বলেন, ‘তারা যে নীতি-আদর্শ মেনে জীবন কাটিয়ে গেছেন, আমরা আমাদের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সেই নীতি-আদর্শ অনুসরণ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকার ও পেশাদারি বজায় রাখব। দেশের প্রত্যেকটা নাগরিক যেন তার আইনানুগ অধিকার পান, সেটি প্রতিষ্ঠা করা আমাদের দায়িত্ব।’অপতথ্য মোকাবেলায় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ভূমিকা তুলে ধরে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ এই আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘গণতন্ত্রের পথে নানামুখী ষড়যন্ত্র মোকাবেলার ক্ষেত্রে সাংবাদিক ও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। সুতরাং, যে কোনো ঠুনকো অপতথ্য, মিথ্যা তথ্য বা খণ্ডিত তথ্য দিয়ে যেন আগামী দিনের বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে না পারে, সে ব্যাপারে গণমাধ্যমের প্রতি আমার আহ্বান থাকবে।
এর আগে, আগের সব নিয়োগ বাতিল করে গত ৩০ জুলাই পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ৮৬ জন আইনজীবীকে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল (ডিএজি) পদে এবং ১৭৯ জন আইনজীবীকে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল (এএজি) পদে নিয়োগ দেয় সরকার। নিয়োগপ্রাপ্ত এসব কর্মকর্তাদের নিয়ে গতকাল সমাধি কমপ্লেক্সে ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করতে যান অ্যাটর্নি জেনারেল।
নাগরিকদের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি সরবরাহ, জলাবদ্ধতা নিরসন, মশক নিয়ন্ত্রণ এবং সড়ক অবকাঠামোর সার্বিক উন্নয়নে সেবা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় রেখে কাজ করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ঢাকা-১৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মানিকদি ও উত্তর মানিকদি এলাকায় বিভিন্ন সড়কসহ সার্বিক উন্নয়নকাজের উদ্বোধনকালে ডিএনসিসি প্রশাসক এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ‘দেশে পরিবর্তনের ধারা শুরু হয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে আমাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। নগরবাসীর দোরগোড়ায় সঠিক সেবা পৌঁছে দিতে ডিএনসিসি নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
রাজধানীকে বাসযোগ্য ও সবুজ নগরীতে পরিণত করার ওপর জোর দিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, বৃক্ষরোপণ, জলাবদ্ধতা নিরসন ও মশক নিয়ন্ত্রণে একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত জনসংখ্যার কারণে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির ওপর চাপ বেড়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অতীতের অপরিকল্পিত নীতির কারণেই আজকের গ্যাস সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার এই পরিস্থিতির টেকসই সমাধানে কাজ করছে, যেখানে নগরবাসীর সহযোগিতাও কাম্য।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে প্রশাসক নির্দেশ দেন, বাসাবাড়ি বা ছাদবাগানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি যেন নিয়মিত ফেলে দেওয়া হয়।
পাশাপাশি ডিএনসিসির আওতাধীন দখল হওয়া খালগুলো পর্যায়ক্রমে উদ্ধার করে খনন ও খালের দুই পাড়ে ওয়াকওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে ঠিকাদারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজের মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার তাগিদ দেন এবং নাগরিকদের নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের আহ্বান জানান।
ডিএনসিসির জোন-২-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা জুলকারনাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে সংস্থার প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রাকিবুল হাসান, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ কাস্টম হাউস আইসিডি কমলাপুর শাখার সিপাহী আবু রায়হান তালুকদারকে নৃশংস হত্যা ঘটনায় এজাহার নামীয় দুইজনসহ অজ্ঞাত আসামি করে ফুলবাড়িয়া থানায় মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে তার বড় ভাই নুরুল ইসলাম তালুকদার বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।
ফুলবাড়িয়া উপজেলার এনায়েতপুর ইউনিয়নের সোয়াইতপুর গ্রামের মৃত আবু সিদ্দিকের কনিষ্ঠ ছেলে আবু রায়হান তালুকদার। বাংলদেশ কাস্টমস হাউস আইসিডি কমলাপুরে সিপাহী পদে কর্মরত ছিল। নিখোঁজের ১০ দিন পর গত রোববার (২ আগস্ট) বিকালে তার বাড়ির পাশে পুকুর থেকে তিনটি ট্রাভেল ব্যাগে ১৫ টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘাতকরা আবু রায়হানকে হত্যার পর দুই হাত ও দুই পা ১২ টুকরো, মস্তক ও বুক এবং পেট তিন টুকরো করে। নিখোঁজের পর তার বাড়ির কেয়ারটেকার পার্শ্ববর্তী অনন্তপুর গ্রামে গ্রামের ফজলু মির্জার ছেলে রাজু ও একই গ্রামের সুরুজ মির্জার ছেলে তার বন্ধু সোহেল মির্জা জিতুল গ্রাম ছেড়ে পালিয়েছে। তারা দুই বন্ধু সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। উভয়েই মাদকাসক্ত।
প্রায় ১০ বছর আগে উপজেলার আছিম পাটুলী ইউনিয়নের পাটুলী গ্রামে সুরাইয়া আক্তার সাথীকে বিয়ে করেন আবু রায়হান। এক কন্যাসন্তান থাকা অবস্থায় গত ৫ বছর আগে তাদের সংসার ভেঙে যায়। বৃদ্ধ মা রাহেলা খাতুন, বড় বোন হাসিনা খাতুনসহ বাড়ি ও জমিজমা দেখার জন্য পার্শ্ববর্তী অনন্তপুর গ্রামে রাজু নামের এক কিশোরকে বাড়ির কেয়ারটেকার রাখেন। গত ২৩ জুলাই রাতে আবু রায়হান কর্মস্থল থেকে গ্রামে আসেন। রাতে নিজ ঘরে অবস্থান করেন রায়হান ও রাজু। পরের দিন আবু রায়হানকে বাড়িতে দেখতে না পেয়ে বড় ভাই রাজুর কাছে তার সম্পর্কে জানতে চাইলে সে জানায় মোটরসাইকেলে করে কাহালগাঁও বাজারে দিয়ে আসছে, সেখান থেকে একটি গাড়িতে করে ঢাকায় চলেগেছে। ২৬ জুলাই অফিস থেকে এক সহকর্মী বেদেনা খাতুন তার বাড়িতে ফোন করে জানায় আবু রায়হান অফিসে আসেনি। তার নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়লে ওই দিন রাজু ও জিতুল গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে যায়। লাশ উদ্ধারের তিন দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ এখানো কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। নিখোঁজের পর চারবার আবু রায়হানের এটিএম কার্ড ব্যবহার করে তার অ্যাকাউন্ট থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়।
অনন্তপুর গ্রামের যুবক অপুর ভাষ্য, গত শনিবার সকালে বাজুয়া নদীসংলগ্ন জমিতে ৫ জন বেগুন উত্তোলন করার সময় দেখতে পায় জিতুল মির্জা একটি চাবির ছড়া নদীতে ছুড়ে ফেলে। এ ছাড়া দুটি এটিএম কার্ড ভেঙে টুকরো টুকরো করে বাজুয়া নদীতে ফেলে।
মামলার বাদী মো. নুরুল ইসলাম তালুকদার জানিয়েছেন, আবু রায়হান সহজ-সরল ও মা ভক্ত ছিল। বৃদ্ধ মা ও জমিজমা দেখাশোনা করার জন্য দশম শ্রেণির ছাত্র রাজুকে পরিচার্যক হিসেবে রেখেছিলেন। সেই রাজু ও তার বন্ধু জিতুলসহ অজ্ঞাত আসামিরা পরিকল্পিতভাবে ছোট ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করে টুকরো টুকরো করে। লাশ উদ্ধারের তিন হলেও এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান জানিয়েছেন, আবু রায়হান হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই থানায় মামলা করেছেন। বাড়ির কেয়ারটেকার, তার বন্ধুসহ অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। কেয়ারটেকার ও তার বন্ধুকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।
মাধবদী থানা পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল ও ৩ রাউন্ড গুলিসহ দুই ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গত সোমবার (৩ আগস্ট) রাতে নরসিংদী সদর থানার পাঁচদোনাস্থ নলুয়া নামক স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) মাধবদী থানায় এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস) মো. আশিকুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. কামাল হোসেন জানান, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক আড়াইটার সময় উল্লেখিত স্থানে এক ট্রাক চালক ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে।
এ সময় ছিনতাইকারীরা পিস্তলের ভয় দেখিয়ে ট্রাক চালকের নিকট থেকে ১০ হাজার পাঁচশত টাকা ও একটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
খবর পেয়ে মাধবদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ট্রাক চালকের নিকট থেকে বিস্তারিত জেনে বিষয়টি নরসিংদী পুলিশ সুপারকে অবহিত করলে পুলিশ সুপার মো. আব্দুল্লাহ-আল ফারুক এর দিকনির্দেশনায় মাধবদী থানার এসআই আবু ইউসুফের নেতৃত্বে একটি চৌকস পুলিশ দল এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে শুভ (২২) পিতামৃত. মিজান ও ফাহিম (২৬) পিতা. হালিম মিয়া সর্ব সাং-পাঁচভাগ শ্রীনগর থানা মাধবদী জেলা নরসিংদীকে গ্রেপ্তার করে এবং তাদের নিকট থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, ৩ রাউন্ড তাজা গুলি ও নগদ ২ হাজার টাকা উদ্ধার করে। এ ব্যাপারে মাধবদী থানায় পৃথক দুটি মামলা রুজু করা হয়েছে।
জাতীয় মৎস্য পক্ষ ২০২৬ বাস্তবায়ন উপলক্ষে মাগুরা জেলা পর্যায়ে প্রস্তুতিমূলক সভা মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসক সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন মাগুরা জেলা প্রশাসক মো. মোতাকাব্বীর আহমেদ।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাধব চন্দ্র সরকার মূল বিষয় সভায় উপস্থাপন করেন। সভায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক ফিরোজ আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার নিশাত আল নাহিয়ান, মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেরুন্নাহার বক্তব্য রাখেন। উপপরিচালক সমাজ সেবা অধিদপ্তর মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক আব্দুল আওয়ালসহ জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ বলেন, ‘মাছ চাষের সাথে সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে এবং জাতীয় উন্নয়নে সবাইকে একসাথে কাজ করতে হবে।’
আউশ ধানের উন্নত ও স্বল্পমেয়াদি জাত বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ এর চাষাবাদ সম্প্রসারণে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। হাওরের কান্দা ও বোরো-পরবর্তী অনাবাদি জমিতে আউশ ধানের আবাদ বাড়াতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এ আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ১২টায় সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের বাদে সাদকপুর এলাকায় এ মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়।
‘কৃষিই সমৃদ্ধি’ স্লোগানে সুনামগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র এর আয়োজনে এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সদরের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। বিসিসিটিএফের ‘পরমাণু কৌশলের মাধ্যমে হাওর ও চরাঞ্চল অভিযোজন’ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়।
মাঠ দিবসে কৃষকরা বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ এর চাষাবাদ, ফলন ও বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ধারণা নেন। এ সময় কৃষকদের চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে মাঠ পর্যায়ে উৎপাদনের অভিজ্ঞতাও তুলে ধরা হয়।
কৃষক আব্দুল আকলিস বলেন, ‘আমি ভাবিনি আউশ ধানের ফলন এত ভালো হবে। বোরো ধান ডুবার পরে বিনা অফিসে যোগাযোগ করলে তারা আমাকে বিনাধানের বীজ দেন। পরে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী চাষ করি। আল্লাহর রহমতে ফলন ভালো হয়েছে।’
জেলা বিনা উপকেন্দ্রের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মাহমুদুল হাসান মানিক বলেন, ‘বিনাধান-১৯ ও বিনাধান-২১ আউশ মৌসুমের উপযোগী স্বল্পমেয়াদি জাত। সুনামগঞ্জে আউশের আবাদ কম হলেও হাওরের কান্দা এলাকার জমিতে এ বছর কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে জাত দুটি চাষ করানো হয়েছে। কৃষকদের বিনামূল্যে বীজ ও প্রয়োজনীয় উপকরণ দেওয়া হয়। এতে ভালো ফলন পাওয়া গেছে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘যেখানে ধান চাষের সুযোগ রয়েছে, সেখানে আবাদ বাড়াতে হবে। শুধু নিজেদের উৎপাদনের কথা না ভেবে দেশের খাদ্য চাহিদার কথাও বিবেচনা করতে হবে।’ কৃষকদের চাষাবাদে কোনো সমস্যা হলে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাদের জানানোর আহ্বান জানান তিনি।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহাদৎ হোসেন বলেন, ‘হাওরের যেসব জমিতে পানি ওঠেনি এবং বোরো ধান কাটার পর খালি থাকে, সেসব জমিতে আউশ ধান চাষের সুযোগ রয়েছে। স্বল্পমেয়াদি জাত হওয়ায় ১০০-১২০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব।
কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কৃষকদের সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সাতক্ষীরা সদরে পার্টনার ফিল্ড স্কুল কংগ্রেস-২০২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিকালে সদরের এল্লারচর চিংড়ি প্রদর্শনী খামারের হলরুমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টারপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ পার্টনার’ প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সাতক্ষীরা সদর এ কংগ্রেসের আয়োজন করে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষিবিদ মো. রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত পরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খুলনা অঞ্চল। তিনি বলেন, ‘আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রসারে মাঠপর্যায়ে কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফিল্ড স্কুল কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষকরা আধুনিক প্রযুক্তি, পুষ্টিসম্মত কৃষি চর্চা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘সারা দেশে প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষককে কৃষক কার্ড প্রদান করা হবে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা জেলায় ২০ হাজার ১৮১ জন কৃষককে কৃষক কার্ড দেওয়া হয়েছে, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৯ হাজার ৫৪২ জন।’ পর্যায়ক্রমে কৃষক কার্ডের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্লাবনি সরকার।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক জামাল উদ্দীন, আকবর আলী ফাউন্ডেশনের পরিচালক আবু সাঈদ এবং পার্টনার প্রকল্পের পরিচালক মোছাদ্দেক।
অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে আগত কৃষাণ-কৃষাণী, কৃষি কর্মকর্তা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এ সময় কৃষকদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, সফল উদ্যোগ উপস্থাপন এবং আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করা হয়।
আয়োজকরা জানান, কৃষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পুষ্টিনির্ভর কৃষি সম্প্রসারণ, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং টেকসই কৃষি উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।