শেরপুরের নকলায় পিকআপ-সিএনজি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন নারী। এ ঘটনায় সিএনজির চালকসহ আরও ৩ জন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কের নকলা উপজেলার পাইস্কা বাইপাস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলার লাউদানা এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের কন্যা তায়েবা (১০), শেরপুর সদর উপজেলার পালাশিয়া এলাকার সুলতান মিয়ার পুত্র তাজেন মিয়া (১৫) ও ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার কাজিয়া কান্দা এলাকার সুলতান মিয়ার স্ত্রী সুবিনা বেগম (২০) ও ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার সাহাপুর এলাকার আবুল কাসেমের পুত্র আলাল উদ্দিন (৩৫)।
আহতরা হলেন নিহত তায়েবার বড় বোন তোয়া (১৬), ছোট ভাই আদনান ছাবিদ (৩) ও মা উম্মে সালমা (৪০)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার লাউদানা এলাকার উম্মে সালমা তার দুই মেয়ে ও শিশুপুত্রকে নিয়ে দুদিন আগে শেরপুরের এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন। গতকাল বুধবার ময়মনসিংহের উদ্দেশে তারা সিএনজিযোগে রওনা হন। এ সময় সিএসজিতে আরও যাত্রী ওঠেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নকলার গড়েরগাও থেকে পাইস্কা বাইপাস হয়ে ময়মনসিংহ-শেরপুর আঞ্চলিক সড়কে ওঠেন সিএনজি চালক। সেখানেই বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগামী একটি পিকআপ সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে তিন চাকার গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তায়েবা ও তাজেন নামের দুই শিশু নিহত হয়। অন্যরা গুরুতর আহত হন।
তারা জানান, স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে নকলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক অবস্থা দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। যাওয়ার পথেই সুবিনা বেগম ও আলাল উদ্দিন নামে অন্য দুজনও প্রাণ হারান। বাকি তিনজন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হাবিবর রহমান বলেন, বুধবার দুপুরে নকলার পাইস্কা বাইপাসে সিএনজি-পিকআপের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান। এতে আরও ৫ জন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে আরও ২জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান। বাকিরা সেখানে চিকিৎসাধীন। পিকআপের চালক পলাতক রয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে সিএনজি ও পিকআপটি উদ্ধার করে থানা হেফাজতে আনা হয়েছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি পদে সৈয়দ ওয়াদুদ করিম বাবু ও সাধারণ সম্পাদক পদে মামুনুর রশিদ সুইট নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ভোট প্রাপ্তির শেষে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক বোরহান উদ্দিন নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করেন।
বিজয়ী কমিটির সহসভাপতি হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন জাহাঙ্গীর আলম, সহসাধারণ সম্পাদক আবু জাহিদ মো. সায়েম, অর্থ সম্পাদক হেলাল উদ্দিন চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাসুম আলী এবং ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিকবিষয়ক সম্পাদক পদে মো. আব্দুর রফিক নির্বাচিত হয়েছেন।
সভাপতি পদে দুইজন, সহসভাপতি পদে তিনজন, সাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন, সহসাধারণ সম্পাদক পদে দুইজন ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। দিনাজপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মচারী ইউনিয়নের ৯৭ জন ভোটারের মধ্যে ৯৫ জন ভোটার তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
নেত্রকোনা সদর উপজেলার ভূটিয়ারবাড়ি গ্রামে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক প্রতিবন্ধী পরিবারের ওপর দফায় দফায় হামলা, চাঁদা দাবি ও ফসল নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে। একই গ্রামের নজরুল ইসলাম, আবু তাহের ও তাদের লোকজনের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী বিলকিছ আক্তার।
জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে তাদের পৈতৃক ২৩ শতাংশ জমি নিয়ে নজরুল ইসলামের সঙ্গে বিরোধ চলছে। গত বছরের ৩০ আগস্ট এ বিরোধের জেরে মারামারিতে সাইদুল ইসলাম গুরুতর আহত হন এবং তার একটি হাত ভেঙে যায়। পরে ওই জমি দখলের পাশাপাশি আরও ৩৮ শতাংশ জমিতে চাষাবাদে বাধা দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে নজরুল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে।
এ ছাড়া প্রতিবেশী আবু তাহেরের বিরুদ্ধেও ২০ কাঠা জমি চাষাবাদে বাধা দিয়ে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ৭০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও সম্প্রতি রোপা আমন চাষ করতে গেলে ফের চাঁদা দাবি এবং নানা হুমকি দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, গত ২০ আগস্ট রাতে তাদের আবাদ করা প্রায় ৪৫ শতাংশ জমির রোপা আমন নষ্ট করে দেয় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় গত শুক্রবার (২৯ আগস্ট) নেত্রকোনা সদর থানায় অভিযোগ দেয় বিলকিছ আক্তার। পরে শনিবার নেত্রকোনা প্রেসক্লাবে সাংবাদিকদের কাছে বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, সম্প্রতি তাদের বাড়িতে হামলা করা হয়। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করায় তাদের আত্মীয় ও নেত্রকোনা আঞ্জুমান আদর্শ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল মাস্টারকে মামলায় হয়রানি করা হয়। পরে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তিনি মামলা থেকে অব্যাহতি পান।
স্থানীয় কৃষক জয়নাল আবেদীন বলেন, সাইদুলদের রোপণ করা জমির ফসল রাতের আঁধারে উপড়ে নষ্ট করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তিনি জানেন না।
অভিযোগের বিষয়ে আবু তাহেরের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তার স্ত্রী ললিতা বেগম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।
নেত্রকোনা সদর থানার ইন্সপেক্টর (অপারেশন) দেলোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য দুই পক্ষকে একাধিকবার ডাকা হলেও আবু তাহের সাড়া দেননি।
টাঙ্গাইলে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে জব ফেয়ার। জেলা প্রশাসক শরীফা হকের উদ্যোগে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে জনসেবা চত্বরে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়। দিনব্যাপী চলে এ মেলা।
দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে জব ফেয়ারে রয়েছে ৫১টি স্টল। এসব প্রতিষ্ঠানে চাকরির জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে রেজিস্ট্রেশনের মাধ্যমে সিভি সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থী বাছাই করবে।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, চাকরিপ্রত্যাশী অনেক শিক্ষিত তরুণ বিভিন্ন সময় কর্মসংস্থানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তাদের কথা বিবেচনা করেই এই জব ফেয়ারের আয়োজন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে চাকরিপ্রত্যাশীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানগুলোও প্রয়োজন অনুযায়ী দক্ষ জনবল বেছে নিতে পারবে।
তরুণ প্রজন্মকে কর্মমুখী করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জব ফেয়ার আয়োজনের কথা জানান জেলা প্রশাসক।
সরেজমিন দেখা যায়, চাকরির আশায় জব ফেয়ারে উপচে পড়া ভিড়। সকাল থেকেই সিভি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে মেলায় হাজির হন বিভিন্ন বয়স ও শিক্ষাগত যোগ্যতার চাকরি প্রার্থীরা। কাঙ্ক্ষিত একটি চাকরি পেতে কেউ লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন, আবার কেউ এক প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য প্রতিষ্ঠানের স্টলে ঘুরে নিজের যোগ্যতা তুলে ধরছেন।
জব ফেয়ারে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে সদ্য পাস করা তরুণ-তরুণীদের পাশাপাশি অভিজ্ঞ চাকরি প্রার্থীদেরও ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়ায় এমন আয়োজনকে সম্ভাবনাময় ক্যারিয়ারের সুযোগ হিসেবে দেখছেন প্রার্থীরা।
মেলার বিভিন্ন স্টলে চাকরির পদ, যোগ্যতা, বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কে খোঁজ নিতে দেখা যায় প্রার্থীদের। অনেকেই ঘটনাস্থলেই জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) জমা দেন এবং নিয়োগদাতাদের সঙ্গে প্রাথমিক সাক্ষাৎকারে অংশ নেন।
জানা যায়, জব ফেয়ারে অংশ নিতে ৩ হাজারের অধিক প্রার্থী অনলাইনে রেজিষ্টেশন করেছেন। এছাড়াও মঙ্গলবার সকাল থেকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে রেজিষ্টেশন করে অনেকে। জেলা প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতায় ৫১টি সুনামধন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক মানুষকে চাকরি প্রদান করা হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মাহবুব হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেলিম মিঞা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুমাইয়া মমিন এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়াসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
ভালো দামের আশায় হিমাগারে আলু রেখেছিলেন জয়পুরহাটের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। এখন সেই আলু বিক্রি করতে গিয়ে উল্টো লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। ৬০ কেজির এক বস্তা আলু হিমাগার ভাড়াসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা। অথচ বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা দরে। অর্থাৎ প্রতি বস্তায় লোকসান হচ্ছে ৫০০ টাকা।
জেলার ২২টি হিমাগারে এবার প্রায় ২ লাখ টন বীজ ও খাবার আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে যে আলু বিক্রি হয়েছে, তাতেই কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লোকসানে পড়েছেন। অবশিষ্ট আলু আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে হিমাগার থেকে খালাস করতে হবে। ফলে সামনে বাজারদর কী হয়, তার ওপর নির্ভর করছে তাদের ক্ষতির পরিমাণ।
আলু উৎপাদনের মৌসুমে দাম কম থাকায় পরে দাম বাড়বে এই আশায় অনেকে আলু হিমাগারে রেখেছিলেন। কিন্তু সংরক্ষণ খরচ যোগ করার পরও এখন কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, সামনে নতুন আগাম জাতের আলু বাজারে উঠলে পুরোনো আলুর দাম আরও কমতে পারে।
কালাই উপজেলার পুনট এলাকার কৃষক তোতা মিয়া জানান, মৌসুমে ভালো দাম না পাওয়ায় তিনি আলু সংরক্ষণ করেছিলেন। আশা ছিল পরে দাম বাড়বে। কিন্তু এখন পর্যন্ত লোকসানেই আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে ২০ বস্তা আলু বিক্রি করে তার ১০ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।
কালাই উপজেলার উদয়পুরের দুর্গাপুর গ্রামের কৃষক জয়নাল হোসেন এবার আলু সংরক্ষণ করে লোকসানের মুখে পড়েছেন। তারপরও আগামী মৌসুমে ১০ বিঘা জমিতে আলু চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। ক্ষোভ প্রকাশ করে জামাল হোসেন বলেন, ‘লোকসান হলেও আলুর আবাদ ও সংরক্ষণ ছাড়ার সুযোগ নেই কৃষকের।’
আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার কৃষক ইসমাইল হোসেন দুটি হিমাগারে ৭০ বস্তা আলু রেখেছেন। তিনি বলেন, ‘লোকসানের কারণে হিমাগার থেকে আলু উত্তোলন করব না।’
কালাই পৌরসভার বাসিন্দা আলু ব্যবসায়ী আবু ইউসুফ মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘হিমাগারে সংরক্ষণ করা আলুতে প্রতি বস্তায় গড়ে ৫০০ টাকা লোকসান হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘এখন যে দামে আলু বিক্রি হচ্ছে, তাতে সংরক্ষণ খরচই উঠছে না। সামনে দাম বাড়বে এমন কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।’ তার দাবি, গতবার লোকসানের পর এবারও আলু সংরক্ষণে তিনি এক কোটি টাকারও বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২২টি হিমাগারের মধ্যে কালাইয়ে ১৪টি, ক্ষেতলালে ৪টি, পাঁচবিবিতে ২টি এবং আক্কেলপুরে ২টি। এসব হিমাগারে প্রায় ২ লাখ টন আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে।
৬০ কেজির এক বস্তা হিসাবে ২ লাখ টন আলুতে বস্তার সংখ্যা প্রায় ৩৩ লাখ ৩৩ হাজার। প্রতি বস্তায় ৪০০ টাকা লোকসান হলে সম্ভাব্য মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৩৩ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। তবে এটি সম্ভাব্য হিসাব। আলুর ক্রয়মূল্য, সংরক্ষণ খরচ ও বিক্রয়মূল্য হিমাগারভেদে ভিন্ন হওয়ায় প্রকৃত লোকসানের পরিমাণ কমবেশি হতে পারে। সামনে দাম বাড়লে লোকসানও কমে আসবে।
কালাই পৌরসভার সড়াইলে অবস্থিত এম ইসরাত হিমাগারে এবার ২ লাখ ৩০ হাজার বস্তা আলু সংরক্ষণ করা হয়েছে। প্রতি বস্তায় আলু ৬০ কেজি। হিমাগার ভাড়া বাবদ ৩৮০ টাকা এবং অন্যান্য খরচসহ প্রতি বস্তার দাম পড়েছে প্রায় ১ হাজার ৩৫০ টাকা। বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ টাকা দরে।
হিমাগারের ব্যবস্থাপক রায়হান আলম বলেন, ‘জুন মাস থেকে এ পর্যন্ত ৬০ হাজার ৬০০ বস্তা আলু বিক্রি হয়েছে, যা মোট সংরক্ষিত আলুর প্রায় ২৬ শতাংশ। আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে সব আলু খালাস করতে হবে। বর্তমান দরে আলু বিক্রি করলে সংরক্ষণ খরচই উঠছে না। অবশিষ্ট আলু বিক্রির সময় বাজারদর কেমন থাকে, তার ওপর লোকসানের পরিমাণ নির্ভর করবে।’
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজু আলম সরকার বলেন, ‘গত মৌসুমে জেলায় ব্যাপক আলু চাষ হয়েছে এবং ফলনও ভালো হয়েছে। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আলু সংরক্ষণ করেছেন। বর্তমানে সেই আলু খরচের চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে।’ ফলে তারা লোকসানে পড়েছেন। মনজু আলম সরকার বলেন, ‘সামনে বাজারদর বাড়লে লোকসানের পরিমাণ কমতে পারে। তবে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতি পুষিয়ে নিতে না পারলে আগামী মৌসুমে জেলায় আলুর আবাদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নতুন করে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ১ হাজার ১৫৯ শিশুর শরীরে। পাশাপাশি নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ জন। সব মিলিয়ে গত এক দিনে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩১ জনে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত হামের পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ই মার্চ থেকে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঘটনা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। এ সময়ের মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৮০ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে আরও ৯৯ শিশু। অর্থাৎ গত ১৫ই মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম দুই হিসাব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৯ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৭২ শিশু। এর ফলে গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৩৮৪ জনে। এর পাশাপাশি একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ১৫০ শিশু। গত ১৫ই মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫১৯ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। চিকিৎসা শেষে তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৪ হাজার ৪৫৮ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে।
মাদক চালানসহ জামাই-শ্বাশুড়ি গ্রেপ্তার হয়েছে। মাদকের মধ্যে রয়েছে এক কেজি গাজা ও ১০১ পিস ইয়াবা। গত সোমবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলা পাচুড়িয়া গ্রাম থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। মঙ্গলবার (১ সেপ্টম্বর) আদালতের মাধ্যমে দুজনকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পাচুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখের স্ত্রী সীমা বেগম(৩৮)ও মেয়ে জামাই একই উপজেলার নলদী ইউনিয়নের নোয়াপাড়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ছেলে রাসেল শেখ (২১)।
ইউসুফ শেখের প্রতিবেশি ছালাম শেখ,রমজান আলী, হায়দার আলী বলেন, ওদের পরিবার ধরেই মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।মেয়ে বিয়ে দিয়েছে যার সঙ্গে সেও একজন মাদক কারবারী। ইউসূফ শেখ ও তার পরিবার এর আগে মাদক মামলায় বেশ কয়েকবার জেল খাটা আসামি। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মাদক নিয়ে প্রতিটি উপজেলার ইউনিয়নে এমনকি গ্রামেও মিছিল মিটিং হয়েছে এবং এখনো চলমান রয়েছে। কিন্তু মাদক কেনাবেচাকে নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইল অফিসের পরিদর্শক আব্দুল মান্নান বাদী হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে লোহাগড়া থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইলের উপপরিচালক গোলক মজুমদার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার পড়ন্ত বিকেলে পাচুড়িয়া গ্রামের ইউসুফ শেখের বাড়ীতে অভিযান চালানো হয়। তাদের বসত ঘরে তল্লাশি চালিয়ে এক কেজি গাজা ও ১০২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ সীমা বেগম ও মেয়ে জামাই রাসেল শেখকে আটক করা হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রায় ছয় বছর ধরে তারা মাদক বেচাকেনার সঙ্গে জড়িত। বেশ কয়েকবার জেলও খেটেছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। এ জন্য পাড়া-মহল্লা, গ্রাম-গঞ্জের মানুষদের সহযোগিতার হাত প্রসারিত করার আহবান জানান।
‘ক্রীড়া নৈপুণ্যে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অষ্টগ্রামে শুরু হয়েছে ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অষ্টগ্রাম হেলিপ্যাড ময়দানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস।
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আবদুল লতিফের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, অষ্টগ্রাম হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. নূরুল আবছার, হক সাহেব উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান, অষ্টগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবেশ চন্দ্র দাস, উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, সহসভাপতি অজিত দত্ত এবং সাধারণ সম্পাদক আলী রহমান প্রমুখ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সপ্তাহব্যাপী এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
"ক্রীড়া নৈপুণ্যে গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে অষ্টগ্রামে শুরু হয়েছে ৫৩তম বাংলাদেশ জাতীয় স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা গ্রীষ্মকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) অষ্টগ্রাম হেলিপ্যাড ময়দানে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে এই প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস।
উপেজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. আবদুল লতিফের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম, অষ্টগ্রাম হোসাইনিয়া ফাযিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাও. নূরুল আবছার, হক সাহেব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. হাবিবুর রহমান, অষ্টগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবেশ চন্দ্র দাস, উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, সহ-সভাপতি অজিত দত্ত এবং সাধারণ সম্পাদক আলী রহমান প্রমুখ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার বিকল্প নেই বলে উল্লেখ করেন। উপজেলার বিভিন্ন স্কুল, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সপ্তাহব্যাপী এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার বিভিন্ন ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
সারের মূল্যবৃদ্ধির অভিযোগ নাকচ করে দিয়ে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন জানিয়েছেন যে, একটি বিশেষ সিন্ডিকেটের কারসাজিতে বাজারে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে। যারা এই চক্রান্তের সাথে জড়িত, তাদের ধরতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন। মঙ্গলবার দুপুরে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে কুমিল্লা মহানগর বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে চার-পাঁচ মাসের চাহিদার চেয়েও বেশি সার সরকারের কাছে সংরক্ষিত আছে। সারের অবৈধ মজুত সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আপনার দেখেছেন চালের গুদামে সার, ঘরের ভেতরে সার, তুষের গুদামে সার; কিন্তু ওখানে থাকার কথা নয়। একটি গোত্র, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায় পরিকল্পনা করে দেশে সারের সংকট দেখানোর চেষ্টা করেছে। একটি সরকারের কাছে অগ্রিম চার-পাঁচ মাসের সার মজুত থাকে, কিন্তু আমাদের সরকারের কাছে তার থেকেও বেশি সার মজুত রয়েছে।’ তিনি বিশ্বাস করেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে চলমান পুলিশি তৎপরতার কারণে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
ভবিষ্যৎ কৃষি উৎপাদন ও রপ্তানি পরিকল্পনা নিয়ে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আগামী তিন বছরের মধ্যে আমদানিনির্ভর মসলা চাষে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করবে। পেঁয়াজ আমদানির প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে এসেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত কোনো পেঁয়াজ আমদানি করতে হয়নি এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পেঁয়াজ রপ্তানি করতে পারবে। এছাড়া আদা, মরিচ ও টমেটোর উৎপাদন বাড়িয়ে আগামী দুই বছরের মধ্যে আমদানি বন্ধ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমিন উর রশিদ ইয়াছিন বলেন, আগামী দিনে কৃষিপণ্যই হবে দেশের প্রধান রপ্তানিযোগ্য পণ্য। বর্ষা মৌসুমে সবজির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে এটি হয়, তবে সরকার কৃষকদের প্রয়োজনীয় প্রণোদনা দেওয়ার চেষ্টা করছে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত দলীয় নেতা-কর্মীদের জনকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়ে কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের ভালোবাসার জন্য কাজ করুন। মানুষের ভালোবাসার কোনো বিকল্প নেই। জনগণের কাছে ফিরে যেতেই হবে। মঞ্চে দাঁড়িয়ে বলি, আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি। মুখের কথা, অন্তরের কথা ও মাথার চিন্তা যেন এক হয়।’ জনসম্পৃক্ত রাজনীতিই প্রকৃত লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।
উক্ত সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন দলের চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভূঁইয়া এমপি। কুমিল্লা মহানগর বিএনপির সভাপতি উৎবাতুল বারী আবুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রশাসক হাজী মোস্তাক মিয়া ও মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক রাজিউর রহমান রাজিবসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। সভার সঞ্চালনায় ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
ডিজিটাল বাংলাদেশে ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে দেশের স্থানীয় পর্যায়ের সরকারি সেবায় অনলাইন ব্যবস্থা এখনো বাস্তবতা হয়ে ওঠেনি। বাস্তবচিত্র উল্টো। অনলাইনে আবেদন করার পরও কাগজপত্র জমা, স্বাক্ষর, অর্থ পরিশোধ কিংবা সনদ সংগ্রহের জন্য নাগরিককে সরকারি দপ্তরে যেতে হচ্ছে। ফলে ‘ই-সেবা’ চালু হলেও এর বড় একটি অংশে রয়ে গেছে পুরোনো পদ্ধতির সরাসরি যোগাযোগ ও কাগজপত্রের নির্ভরতা। ফলে ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে নাগরিকরা ই-সেবা নিতে গিয়ে উল্টো নানামুখী হয়রানি, ডেটা ফাঁসের আতঙ্ক এবং তীব্র ম্যানুয়াল নির্ভরতার মুখোমুখি হচ্ছেন।
সেন্ট্রাল ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) এক গবেষণায় সরকারি ডিজিটাল সেবার এমন চিত্র উঠে এসেছে। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘এস্টাবলিশিং ইফেক্টিভ অ্যান্ড অ্যাকাউন্টাবল ই-গভর্নেন্স টু স্ট্রেন্থেন লোকাল গভর্নমেন্ট ইনস্টিটিউশনস বাই ফুলফিলিং দ্য নিডস অব ইউথ, জেন্ডার, অ্যান্ড মার্জিনালাইজড কমিউনিটিস’ শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে এ বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়েছে।
সিপিডির রিসার্চ ফেলো তামিম আহমেদ ও গবেষণা সহকারী সাবিনা শারমিন প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। গবেষণাপত্রটিতে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার পর্যায়ে ই-গভর্ন্যান্সের বর্তমান অবস্থা, নাগরিক ও সরকারি অফিসগুলোর অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা এবং সুপারিশগুলো বিশ্লেষণ করা হয়েছে।ভৌগোলিক ম্যাপ ও গাইড অন্বেষণ করা
গবেষণায় বলা হয়, স্থানীয় সরকার পর্যায়েই-গভর্নেন্সে ডিজিটাল ফরম্যাট আছে কিন্তু কাজ হয় ম্যানুয়াল প্রক্রিয়ায়। প্রকৃত পক্ষে অনলাইনে সেবার আবেদন চালু করা হলেও ম্যানুয়াল কাগজপত্রের হাত থেকে নিস্তার মেলেনি সাধারণ মানুষের। গবেষণায় দেখা যায়, নারীদের মাত্র ৩১.৯ শতাংশ এবং যুবদের ১৭.৮ শতাংশ শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত পুরোপুরি অনলাইনে সেবা সম্পন্ন করতে পেরেছেন। ডিজিটাল আবেদনের পরও ৫৪.৩ শতাংশ নারী ও ৪৭.৭ শতাংশ যুবকে সশরীরে সরকারি দপ্তরে গিয়ে কাগজের নথি জমা দিতে হয়।
গবেষণায় অবকাঠামোর চরম সংকট উঠে এসেছে। ই-গভর্নেন্স বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার অফিসগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি স্কোর ১০০-এর মধ্যে মাত্র ৩৮.৯, যার মধ্যে অবকাঠামোগত প্রস্তুতির হার আরও করুণ, মাত্র ২৪.১।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন কৃষি অফিসগুলোতে গড়ে সচল কম্পিউটার রয়েছে মাত্র ০.১৫টি, যার ৪৪ শতাংশই নষ্ট। বিদ্যুৎ না থাকলে সেবা বন্ধ হয়ে যায়, কারণ ইউনিয়ন পরিষদের ৬৭ শতাংশ এবং ইউনিয়ন কৃষি অফিসের ৯৭ শতাংশ কার্যালয়ে কোনো আইপিএস বা জেনারেটর ব্যাকআপ নেই। ই-গভর্নেন্স প্রস্তুতিতে ময়মনসিংহের স্কোর ৫৭.৩ হলেও রংপুরের অবস্থা সবচেয়ে শোচনীয়, মাত্র ৮.৮।
গবেষণায় ডিজিটাল সেবার জন্য নিজস্ব তথ্য জমা দেওয়ার পর বড় ধরনের নিরাপত্তার ঝুঁকিতে পড়ছেন নাগরিকরা, বিশেষ করে নারীরা। সেবায় তথ্য দিতে গিয়ে ৫৮ শতাংশ নারী অনিরাপদ বোধ করেন এবং ৭৩.২ শতাংশ নারী ডেটা লিক বা তথ্য হ্যাক হওয়ার ভয়ে থাকেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ই-সেবা নেওয়ার পর অপব্যবহারের শিকার হয়েছেন ৬১.০ শতাংশ নারী। সেবা নিতে গিয়ে দেওয়া ফোন নম্বরে অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপ্রয়োজনীয় কল এবং মেসেজ পাওয়ার অভিযোগ করেছেন তারা। সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে ভোগান্তি, অতিরিক্ত টাকা দাবি বা অনিয়ম হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায় না। কোনো অফিসিয়াল অভিযোগ দায়ের করার ব্যবস্থা বা সঠিক মাধ্যম না থাকায় ৮৩.৩ শতাংশ নারী এবং ৭৮.৯ শতাংশ যুব কখনো কোনো অভিযোগই জমা দেননি।
অনুষ্ঠানে সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে নাগরিকরা তাদের সেবা পাওয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার যদি সুযোগ বাড়াতে পারে, তাহলে সেটাকে কার্যকর ডিজিটালাইজেশন কিংবা ই-গভর্নেন্স আমরা বলতে পারবো। কিন্তু মানুষকে সেবা পেতে বারবার সরকারি অফিসে-দপ্তরে যায়, বারবার যাতায়াত করে। এতে সময় নষ্ট হয়; অনেক সময় হয়রানি এবং দুর্নীতিও থাকে।
তিনি বলেন, আরেকটি বিষয় হচ্ছে ডিজিটাল সুশাসনে কারা কারা এর সুবিধাভোগী হতে পারে। একটি জনগোষ্ঠী হচ্ছে তরুণরা এবং ডিজিটাল সুশাসনে তরুণদের চাহিদাকে কিন্তু বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। স্থানীয় সরকার অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তরুণদের যে কর্মসংস্থান, সেই কর্মসংস্থানের চাহিদা মেটানো, দক্ষতা উন্নয়ন। অংশগ্রহণমূলক বাজেট প্রণয়ন এবং স্থানীয় পরিকল্পনায় তরুণদের মতামত নেওয়ার প্রয়োজন, কারণ তারা জনগোষ্ঠীর একটা অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তিনি আরো বলেন, নারীদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে এখানে প্রযুক্তির প্রবেশের সুযোগের সঙ্গে সঙ্গে স্মার্টফোন, আর্থিক সেবা এবং ডিজিটাল দক্ষতায় নারীর সুবিধা ও সুযোগ সুবিধা এবং অনলাইন হয়রানি, তথ্যের নিরাপত্তার বিষয়গুলো বিবেচনায় নিতে হবে। ই-গভর্নেন্স ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং এটার তদারকিতেও নারী জনপ্রতিনিধি ও নারী সংগঠনকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তারপরে হচ্ছে, যারা সমাজের মার্জিনালাইজড জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, জাতিগত সংখ্যালঘু, নিম্ন আয়ের পরিবার, দুর্গম অঞ্চলের বাসিন্দা ও সীমিত শিক্ষার মানুষ তারাও যেন বাদ না পড়ে এই ই-গভর্ন্যান্সের সেবার মধ্যে তারা যেন অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। এই সেবাটা বাংলা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় স্থানীয় ভাষাতেও দিতে হবে। তাছাড়া কণ্ঠনির্ভর সেবা, প্রতিবন্ধীবান্ধব ব্যবস্থা এবং ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে সহায়তাপ্রাপ্ত সেবারও সুযোগ থাকতে হবে। অনলাইন অনুবাদ টুল ব্যবহার করা ফাহমিদা বলেন, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হলে স্থানীয় বাজেট, প্রকল্প ব্যয়, সুবিধাভোগীদের তালিকা, সরকারি ক্রয় এবং সেবা দেওয়ার সময়সীমা উন্মুক্ত করতে হবে, সবাই যাতে অংশগ্রহণ করতে পারে। তাছাড়া নাগরিকদের অভিযোগ, অভিযোগ ট্র্যাকিং, তার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের কার্যকর ডিজিটাল ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। শুধুমাত্র প্রযুক্তি দিলেই যে সুশাসন অটোমেটিক্যালি হয়ে যাবে সেরকম না। নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ, প্রশিক্ষিত কর্মকর্তা, তথ্যভাণ্ডারের সমন্বয়, সাইবার নিরাপত্তা, ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সুস্পষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব নিশ্চিত করতে হবে। ই-গভর্ন্যান্সকে নাগরিক এবং স্থানীয় সরকারের মধ্যে একটা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক হতে হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন অ্যাস্পায়ার-টু ইনোভেট এর সিনিয়র কনসালটেন্ট ফজলুল জাহেদ পাভেল, এমআইএস বিশেষজ্ঞ আমিনুল মহাইমেন ও আইসোশ্যাল-এর চেয়ারপারস ড. অনন্যা রায়হান প্রমুখ।
আগস্ট মাসজুড়ে দেশে একসঙ্গে ভয়াবহ হয়ে উঠেছে হাম ও ডেঙ্গুর পরিস্থিতি। একদিকে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যাও দ্রুত বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, শুধু আগস্ট মাসেই হাম ও হামের উপসর্গে অন্তত ১৩৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মারা গেছে ৪৩ জন। অর্থাৎ আগস্টে দুই রোগে প্রাণ হারিয়েছে অন্তত ১৭৬ জন।
মাসের শেষ দিনেও পরিস্থিতির উন্নতির স্পষ্ট লক্ষণ দেখা যায়নি। সোমবার (৩১ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৫৬ শিশু। অন্যদিকে ডেঙ্গুতে এক দিনে আরও চারজনের মৃত্যু এবং ১ হাজার ১৬৩ জনের হাসপাতালে ভর্তির তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
আগস্টে হামে নতুন আক্রান্ত ৩২ হাজারের বেশি: গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৮ হাজার ৩১০। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ছিল ১৬ হাজার ৫৯। ওই সময় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার ৯৮৭ জন।
আগস্টের শেষ দিনে এসে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ এবং পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগীর সংখ্যা ১৯ হাজার ৩১২। হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫।
অর্থাৎ আগস্টে সন্দেহজনক হাম রোগী বেড়েছে প্রায় ২৮ হাজার ৯০০। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত রোগী বেড়েছে ৩ হাজার ২৫৩। আর হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছে প্রায় ২৭ হাজার ৪৫৮ জন।
১৫ মার্চ থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত হিসাব করলে দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১। পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগী ১৯ হাজার ৩১২। এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫ জন। চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৪ জন।
মৃত্যুর বড় বোঝা শিশুদের ওপর: হামের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হয়ে উঠেছে শিশুমৃত্যু। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৭৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষাগারে হাম নিশ্চিত হওয়ার পর মৃত্যু হয়েছে আরও ৯৯ শিশুর। সব মিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গে প্রাণহানি দাঁড়িয়েছে ৯৭৩।
আগস্টের শুরুতেও পরিস্থিতি ছিল উদ্বেগজনক। ১ আগস্ট পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৯ হাজার ৬১, নিশ্চিত রোগী ১৬ হাজার ১৮০ এবং হাসপাতালে ভর্তি ছিল ১ লাখ ১১ হাজার ৬৭৪ জন। ওই দিন পর্যন্ত সম্মিলিত মৃত্যু ছিল ৮৪০।
পরবর্তী সময়ে মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ১৯ আগস্ট পর্যন্ত সম্মিলিত মৃত্যু ৯১৮-এ পৌঁছায়। ২৮ আগস্ট পর্যন্ত তা বেড়ে দাঁড়ায় ৯৬০। ওই ২৪ ঘণ্টায় আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছিল। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় আরও ছয় শিশুর মৃত্যু হওয়ায় হামের উপসর্গজনিত মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৮৭৪ এবং নিশ্চিত হামজনিত মৃত্যু ৯৯।
টিকাদানের ঘাটতিতে ঝুঁকি বেড়েছে: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের বড় একটি অংশের মতে, বর্তমান হাম পরিস্থিতির পেছনে শিশুদের টিকাদানে তৈরি হওয়া ঘাটতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আগস্টে প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বিশেষজ্ঞরা জানান, ২০২৪ সালে হাম-রুবেলার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি না হওয়া, নিয়মিত টিকাদানে দুর্বলতা এবং পরবর্তী সময়ে পরিচালিত জাতীয় টিকাদান কর্মসূচিতে বিপুলসংখ্যক শিশু বাদ পড়ে যাওয়ার কারণে ঝুঁকি জমতে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃত তথ্য অনুযায়ী, হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৯২ শতাংশ কোনো হাম টিকা পায়নি। ফলে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানের আওতায় শিশুদের রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম জানিয়েছেন, হাম নিয়ে ভর্তি হওয়া অনেক শিশুর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা দেখা যাচ্ছে। এসব জটিলতা মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশে চলমান হাম পরিস্থিতি সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে আন্তর্জাতিকভাবে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আরশাদ মাহমুদ চৌধুরীর মতে, হাম প্রতিরোধে শুধু টিকার প্রাপ্যতা নিশ্চিত করলেই হবে না; কার্যকরভাবে তা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া এবং কমিউনিটির মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের বিশেষজ্ঞরা আরও দেখছেন, আক্রান্ত শিশুদের একটি অংশ অপুষ্টি ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতায় ভুগছে। ফলে হাম তাদের জন্য আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
আগস্টে ডেঙ্গুর চাপও বেড়েছে: হামের পাশাপাশি আগস্টে ডেঙ্গুর প্রকোপও দ্রুত বেড়েছে। জুলাইয়ের শেষে ডেঙ্গুতে চলতি বছরের মোট মৃত্যু ছিল ৫৪। এর মধ্যে শুধু জুলাই মাসেই মারা যায় ৩৬ জন। ওই মাসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ৯ হাজার ২০০-এর বেশি রোগী।
আগস্টে আরও ৪৩ জনের মৃত্যু হওয়ায় চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ৯৭। একই সময়ে মোট হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫ হাজার ৮৪৬।
২২ আগস্টের মধ্যেই আগস্টে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা জুলাইয়ের পুরো মাসের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেশি হয়ে যায়। তখনও মাস শেষ হতে ১০ দিন বাকি ছিল। ২৯ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৫৮৬ এবং মৃত্যু হয়েছিল ৯০ জনের।
ডেঙ্গু আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের অংশ ছিল বেশি। ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর ৫৭ দশমিক ৩ শতাংশ নারী।
আগস্টের মাঝামাঝি সময়েই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছিলেন, মাসটি ডেঙ্গুর মৌসুমি সর্বোচ্চ সংক্রমণের সময় হয়ে উঠতে পারে। বর্ষার বৃষ্টিপাত, জমে থাকা পানি এবং এডিস মশার প্রজননস্থল বৃদ্ধি ডেঙ্গুর বিস্তারের বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন তারা।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ তাজুল এ বারী বলেছেন, ডেঙ্গুর প্রকোপ নির্ধারণে শুধু মশা নয়, মৌসুমি পরিস্থিতি, তাপমাত্রা এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের বৈশিষ্ট্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের আরেকটি সতর্কতা হলো, শুধু নিয়মিত ফগিং করে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে লার্ভা ধ্বংস এবং তথ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
দুই রোগে একই সঙ্গে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি: হাম ও ডেঙ্গুর প্রকৃতি আলাদা হলেও একই সময়ে দুই রোগের প্রকোপ বাড়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ আরও বেড়েছে। হাম অত্যন্ত সংক্রামক এবং শিশুদের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে ডেঙ্গু ছড়ায় এডিস মশার মাধ্যমে এবং আক্রান্তদের একটি বড় অংশের হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হচ্ছে।
হামে আক্রান্ত শিশুদের গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। ডেঙ্গুতে প্রতিদিন শত শত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় মেডিসিন ও শিশু বিভাগসহ বিভিন্ন হাসপাতালের ওপরও বাড়ছে রোগীর চাপ।
আগস্ট শেষ হলেও দুই রোগের ঝুঁকি শেষ হয়নি। ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সেপ্টেম্বর ও পরবর্তী মাসগুলো নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ডেঙ্গুর সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে ঘনীভূত হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন।
হামের ক্ষেত্রে টিকাবঞ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের শনাক্ত করে দ্রুত টিকার আওতায় আনা এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস ও তথ্যভিত্তিক মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
দুটি রোগের পরিস্থিতিই এখন একটি বিষয় স্পষ্ট করে দিচ্ছে—হাম নিয়ন্ত্রণে টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করা এবং ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি আগাম ও সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া জনস্বাস্থ্যের ওপর বাড়তে থাকা চাপ কমানো কঠিন।
গণতান্ত্রিক সরকারের প্রতি জনগণের যে প্রত্যাশা রয়েছে, তা পূরণে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক সমাজকে নিজ নিজ দায়িত্ব নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি। তিনি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং একটি সুস্থ সমাজ গঠনে সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি।’
ঢাকা জেলা আইনশৃঙ্খলা ও উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
মাদককে দেশের অন্যতম বড় সামাজিক সংকট উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাদকের বিস্তারের সঙ্গে অপরাধও বাড়ছে। তাই মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।
কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্টদের সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঘটেছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সমাজের বিভিন্ন স্তরে বিদ্যমান। তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জনগণের কল্যাণ ও সুশাসন নিশ্চিত করাই তাদের মূল দায়িত্ব। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ‘‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’’ দর্শন ধারণ করে সততা, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে।’
পরিবেশ সংরক্ষণের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় সমান গুরুত্ব দিতে হবে। নদী দূষণ, শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক মিজ্ ফরিদা খানম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধি, স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের দায়িত্বশীল ভূমিকায় নিজের হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ ফিরে পেয়েছেন এক সৌদি প্রবাসী। গত রোববার (৩০ আগস্ট) বিকেলে বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় অসাবধানতাবশত ট্রলির উপর ল্যাপটপটি ফেলে রেখেই বাইরে চলে যান তিনি।
রিয়াদ থেকে এসভি-৭৯৮ ফ্লাইটে আসা ওই প্রবাসীর নাম মো. হযরত আলী। ক্যানোপি এলাকায় পরিত্যক্ত ল্যাপটপটি দেখতে পেয়ে নিরাপদে হেফাজতে নেন দায়িত্বরত এপিসি মো. গোলাম রব্বানী। বিষয়টি তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কর্তব্যরত পিসি মো. নিজাম উদ্দিনকে অবহিত করেন।
পরে এভসেক কর্তৃপক্ষের সহায়তায় বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে মাইকিং করে প্রবাসীর সন্ধান করা হয়। একপর্যায়ে প্রকৃত মালিক প্রবাসী হযরত আলীকে খুঁজে পেলে ডিএসও অফিসে আনা হয়। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে ল্যাপটপটি তার কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
ল্যাপটপটি ফেরত পেয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানান হযরত আলী। দায়িত্ব পালনে আনসার সদস্যদের এমন সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি।