মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

নির্বিচারে পাথর লুটে বিবর্ণ প্রকৃতির লীলাভূমি

৫ আগস্টের পর জাফলং ও সাদাপাথর এলাকা থেকে ২০০ কোটি টাকার পাথর লুট
পাথর উত্তোলনের ফলে দিন দিন সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:৩৫
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:৩৪

দেশের অন্যতম পর্যটক আকর্ষণীয় এলাকা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিখ্যাত জাফলংয়ে সারা বছরই ভিড় করেন পর্যটকরা। তবে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলে দিন দিন সৌন্দর্য হারিয়ে মলিন হয়ে পড়ে জাফলং। কেবল জাফলিই নয়, একই অবস্থা পাথর কোয়ারি হিসেবে পরিচিত সিলেটের পর্যটন আকর্ষণীয় আরও পাঁচটি এলাকারও। ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকে এসব এলাকা থেকে চলছে নির্বিচারে পাথর লুট। কেবল জাফলং আর সাদাপাথর থেকেই লুট হয়েছে দুইশ কোটি টাকার পাথর। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও পাথর লুট থামানো যাচ্ছে না।

যদিও এলাকার পরিবেশের সুরক্ষা এবং পর্যটক আকর্ষণ ধরে রাখতে ২০১৬ সালে পাথর উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা জারি করে খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। তারও আগে ২০১২ সালে জাফলংয়ের পিয়াইন নদীসহ ১৫ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ-সংক্রান্ত গেজেটে বলা হয়, ‘অপরিকল্পিতভাবে যেখানে সেখানে পাথর উত্তোলন ও নানা কার্যকলাপের ফলে সিলেটের জাফলং-ডাউকি নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থা সংকটাপন্ন, যা ভবিষ্যতে আরো সংকটাপন্ন হবে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ইসিএভুক্ত এলাকায় যান্ত্রিক বা ম্যানুয়াল কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে পাথরসহ অন্য যেকোনো খনিজসম্পদ উত্তোলন নিষিদ্ধ।’

জানা যায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম কিছুদিন প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে কেবল জাফলং ও সাদাপাথর পর্যটন এলাকা থেকেই প্রায় দুইশ’ কোটি টাকার পাথর লুটে নিয়েছে লুটপাটকারীরা। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনার পরও থেমে না থেকে জাফলং-সাদাপাথরসহ সব কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আন্দোলনে নেমেছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এ জন্য নতুন সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে চলছেন তারা। অপরদিকে, পরিবেশকর্মীদের পক্ষ থেকে পাথর লুটপাট বন্ধ ও লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিবেশ ও পর্যটন সুরক্ষার দাবি উঠেছে। ফলে সরকার পরিবর্তনের পর আরবারও প্রশ্ন উঠেছে- পাথর উত্তোলন নাকি পরিবেশ ও পর্যটনের সুরক্ষা- কোনো পথে হাঁটবে সরকার।

মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েকবছর বন্ধ ছিলো পাথর উত্তোলন। ফলে জাফলংয়ের পিয়াইন ও কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীর উৎসমুখে (সাদাপাথর) বিপুল পরিমাণ পাথর মজুদ হয়। স্রোতের তোড়ে উজান থেকে আসা পাথর স্তরে স্তরে মজুদ হয় দুই নদীর উৎসমুখে। এসব পাথরের কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে জাফলং ও সাদাপাথরে পর্যটক সমাগম বাড়ছিলো।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, সরকার পতনের পর প্রথম তিনদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেকটা নিস্ত্রিয় ছিল। এই সুযোগে জাফলং থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। আর কোম্পানিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সুলতানার ভাষ্যমতে, সাদাপাথর থেকে লুট হয়েছে ২০ কোটি টাকার পাথর। যদিও স্থানীয়দের দাবি, দুই কোয়ারি থেকে ১৪০ কোটি নয়, দুইশ কোটি টাকার ওপরে পাথর লুট হয়েছে। কোয়ারি থেকে পাথর ও বালু লুটের ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় ৩টি ও কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১টি মামলা দায়ের হলেও মূলহোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই কোয়ারিতে বালু ও পাথর লুটের সাথে জড়িত প্রভাবশালীদের বেশিরভাগ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। জাফলংয়ের পিয়াইন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের প্রমাণ পেয়ে দলীয় পদ হারান জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম শাহপরাণ। এছাড়া পাথর লুটের সাথে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সদ্য অপসারিত চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম স্বপন, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বক্সের নাম জড়িয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, মামলা আর অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ- কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না পাথর লুট। গত ৬ নভেম্বর সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনেও এমন অভিযোগ করা হয়। মো. ইসমাইল হোসেন নামে জাফলংয়ের এক ব্যক্তি ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের মদদে চলছে পাখর লুট।

এদিকে পাথর উত্তোলনের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জাফলং ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সামাজিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন খাঁন আনু বলেন, জাফলংসহ সকল পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন, সংগ্রহ ও সরবরাহ করে দেশের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এই পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। বেকার হয়ে পড়েছে পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক। তিনি বলেন, প্রতি বছরই ঢলের সাথে প্রচুর পাথর ভারত থেকে এই এলাকায় এসে জমা হয়। এসব পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় নদীর উৎসমুখ বন্ধ হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ঘনঘন বন্যা দেখা দিচ্ছে। তাই পরিবেরে স্বার্থেই পাথর উত্তোলন করা প্রয়োজন।

জাফলং স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বখত বলেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় প্রতি বছরই ভারত থেকে প্রচুর পরিমান পাথর আমদানি করতে হচ্ছে। এতে ডলার সংকট আরও বাড়ছে। বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে লুটপাট করে জাফলং ও সাদপাথরকে পাথরশূন্য করে ফেলা হয়েছে। এখন আবার পাথর উত্তোলনের দাবিতে মাঠে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের এই দাবি মানা হলে এসব পর্যটন এলাকা আবার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক আশারুল কবির বলেন, দেশে চাহিদার খুব সল্প সংখ্যক পাথর সিলেটের কোয়ারিগুলোতে পাওয়া যায়। ফলে বড় অংশই ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। তাই পাথর কোয়ারি খুলে দিলে আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে এমন দাবি সত্য নয়। কোয়ারি সচল হলে কিছু মানুষ আর্থিকভাবে লাভভান হতে পারেন কিন্তু দেশের বিরাট ক্ষতি হবে। এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহমুদ মুরাদ জানিয়েছেন, পাথর কোয়ারি সচল করা হবে কি না এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত সরকার থেকে এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ফলে যারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একটি গোষ্ঠী বালু পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে জাফলংয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।


মৌলভীবাজারে ১৫৫০ দরিদ্র পরিবার পেল খাদ্যসামগ্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে ১ হাজার ৫৫০ অসহায় ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সামাজিক সংগঠন ‘হৃদয়ে শ্রীমঙ্গল’-এর উদ্যোগে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন টিটুর সভাপতিত্বে এবং নির্বাহী সদস্য দেলোয়ার হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন রমজানের খাদ্যসামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের প্রধান সমন্বয়ক হারুনুর রশিদ।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন হৃদয়ে শ্রীমঙ্গলের সভাপতি আব্দুর রকিব রাজু, প্রধান নির্বাহী আজিজুল হক কায়েস, সাবেক সভাপতি জহির উদ্দিন চৌধুরী বাবলু, সরফরাজ আহমেদ সরফু, মো. মোবারক হোসেন, একরামুল কবীর, মসদ্দর আলী, মাওলানা নোমানী ও মকসুদ আলী।

সংগঠনের নির্বাহী সদস্য দেলোয়ার হোসেন জানান, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও রমজান মাসে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ বছর উপজেলার ১ হাজার ৫৫০ জন অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি চাল, ৩ কেজি আলু, ১ লিটার সয়াবিন তেল, ১ কেজি পেঁয়াজ, ১ কেজি লবণ, ১ প্যাকেট সেমাই ও ১ কেজি ডাল দেওয়া হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘হৃদয়ে শ্রীমঙ্গল’ গত আট বছর ধরে উপজেলাজুড়ে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এর মধ্যে রয়েছে অসুস্থদের চিকিৎসা সহায়তা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বিনামূল্যে কম্পিউটার ও আইটি প্রশিক্ষণ, রিকশা ও সেলাই মেশিন বিতরণ, বিশুদ্ধ পানির জন্য গভীর নলকূপ স্থাপন, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় খাদ্যসামগ্রী বিতরণসহ নানা মানবিক উদ্যোগ।


ভাঙ্গুড়ায় আনসার-ভিডিপি সদস্যদের ইফতার মাহফিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলার ভাতাভোগী সদস্যদের সঙ্গে কর্মকর্তাদের ইফতার ও দোয়া মাহফিল হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) ভাঙ্গুড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কার্যালয়ে এ ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ইফতারের পূর্ব মুহূর্তে দেশ ও বাহিনীর সার্বিক কল্যাণ, অগ্রগতি এবং শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

এ সময় ভাঙ্গুড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি‍র উপজেলা প্রশিক্ষক (টিআই) নিখিল চন্দ্র, প্রশিক্ষিকা মোছা. আফরোজা খাতুন, ভাঙ্গুড়া উপজেলা আনসার কোম্পানি কমান্ডার সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলার মন্ডতোষ ইউনিয়ন দলনেতা মো. সবুজ হোসেন, দিলপাশার ইউনিয়ন দলনেত্রী আজমিনা খাতুন, ওয়ার্ড দলনেতা আছাদুল হক, ওয়ার্ড দলনেত্রী রেশমা খাতুন, ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার আলতাব হোসেন, অষ্টমনিষা ইউনিয়ন সহকারী আনসার প্লাটুন কমান্ডার হাফিজুর রহমান, বিভিন্ন ইউনিয়ন দলনেতা-দলনেত্রী, ওয়ার্ড দলনেতা-দলনেত্রী, ইউনিয়ন আনসার প্লাটুন কমান্ডার ও সহকারী আনসার প্লাটুন কমান্ডাররা উপস্থিত ছিলেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ জানান, দেশের বিভিন্ন ক্রান্তিকালে আনসার-ভিডিপির সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি তারা দেশের মানবকল্যাণেও নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের আবহে আয়োজিত এই ইফতার মাহফিল বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি এবং ঐক্য আরও জোরদার করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


ভোলায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকের কুফল ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভা ও র‍্যালি হয়েছে। ‎সোমবার (৯ মার্চ) বেলা সাড়ে ১১টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে এ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মাদক বিরোধী গণস্বাক্ষর ও র‍্যালি হয়। র‍্যালিটি উপজেলা প্রশাসন চত্বর থেকে শুরু হয়ে কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকা গুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। সচেতনতার বার্তা নিয়ে বের করা র‍্যালিতে ফেস্টুনের মাধ্যমে মাদককে ‘না’ বলার বিভিন্ন বার্তা লিখে আহ্বান জানানো হয়।

‎সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ও যুবদের উদ্দেশ্যে মাদকের কুফলতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোরঞ্জন বর্মন।

‎তিনি বলেন, মাদকের নীল দংশন থেকে বাঁচতে হলে সবার প্রথমে নিজেকে সচেতন হতে হবে। আপনারা এখানে যারা উপস্থিত আছেন এখান থেকে যাওয়ার পর আপনারা মাদকের বিরুদ্ধে এম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন, মাদকের কুফলতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাবেন তাদের সচেতন করবেন। স্কুল কলেজ পাড়া মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক প্রচার প্রচারনা বাড়াতে হবে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। মাদক গ্রহীতা মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের কোনো তথ্য থাকলে আপনারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

‎‎বোরহানউদ্দিন থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আইনি বক্তব্য প্রদান করেন এছাড়া তার যোগদানের পর মাদক উদ্ধার ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।

‎‎এই সময় উপস্থিত ছিলেন, হাফিজ ইব্রাহিম কলেজের অধ্যক্ষ জাকারিয়া আজম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক রোকন উদ্দিন ভূঞা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খবির হোসেন চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, রিজওয়ানুল ইসলাম, বিভিন্ন যুব সংগনের প্রতিনিধি, হাফিজ ইব্রাহিম কলেজের শিক্ষার্থী, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও সাংবাদিকবৃন্দ।


বাঁধের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ হয়নি ৯ মাসেও

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে দেওয়া ‘সাত দিনের’ আলটিমেটাম নয় মাসেও কার্যকর হয়নি। উচ্ছেদের চূড়ান্ত নোটিশ জারি করে কর্তৃপক্ষ নীরব হয়ে যাওয়ায় দখলদাররা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে। বর্তমানে বাঁধের ওপর সারিবদ্ধ পাকা ও আধাপাকা দোকানঘর নির্মাণ করে স্থায়ীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে, যা বাঁধের স্থায়িত্ব ও জননিরাপত্তাকে চরম ঝুঁকিতে ফেলেছে।

পাউবোর ডেমরা পানি উন্নয়ন শাখা থেকে গত বছরের ২৯ মে একটি দাপ্তরিক নোটিশ (স্মারক নং- ডি/এসএই/১০২/১(৩) জারি করা হয়েছিল। ওই নোটিশে রাউত মিরধাপাড়া এলাকার ১৫ জন দখলদারকে সাত দিনের মধ্যে তাদের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ১৯৭০ সালের ভূমি ও ইমারত (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ অনুযায়ী জারিকৃত ওই নোটিশে বলা হয়েছিল, বাঁধের ওপর অবৈধ ঘরবাড়ির কারণে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গতকাল সোমবার ফরিদপুর উপজেলার ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পাউবোর নির্দেশ অমান্য করে দখলদাররা আরও জাকিয়ে বসেছে। ছবিগুলোতে দেখা যায়, বাঁধের ওপর অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে পাকা দেওয়াল ও স্টিলের শাটল গেট লাগিয়ে সারিবদ্ধ দোকানঘর তৈরি করা হয়েছে। কোথাও কোথাও মুদি দোকান ও ফ্ল্যাক্সিলোডের দোকানের পাশাপাশি রাস্তার ওপরই রাখা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঠ ও নির্মাণসামগ্রী।

মূল সড়কের একদম গাঘেঁষে এসব স্থাপনা গড়ে ওঠায় গুরুত্বপূর্ণ এই আঞ্চলিক সড়কটি অত্যন্ত সরু হয়ে গেছে। ফলে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে এবং যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অথচ নোটিশ অনুযায়ী, এসব স্থাপনা অনেক আগেই গুঁড়িয়ে দেওয়ার কথা ছিল।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের রহস্যজনক ঢিলেঢালা ভাবের কারণে উচ্ছেদ প্রক্রিয়া থমকে আছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন বাসিন্দা বলেন, ‘কর্তৃপক্ষ শুধু কাগজে-কলমে নোটিশ দিয়ে দায় সারে। দখলদাররা প্রভাবশালী হওয়ায় ৯ মাসেও কেউ তাদের স্পর্শ করার সাহস পায়নি।’

উচ্ছেদ অভিযান বিলম্বিত হওয়ার বিষয়ে জানতে পাবনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হলে কর্মকর্তারা জানান, উচ্ছেদ অভিযান প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে কেন নয় মাসেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি, সে বিষয়ে তারা কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় কোনো প্রকার কালক্ষেপণ না করে দ্রুত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা জরুরি।


সিংগাইরে তিন কালভার্টের নির্মাণকাজ বন্ধ, ঠিকাদার উধাও

* ভোগান্তিতে স্থানীয় বাসিন্দারা * দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন তিনটি কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উধাও হয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দ্রুত কাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়া, জয়মন্টপ ইউনিয়নের নীলটেক বেপারীপাড়া এবং চান্দহর ইউনিয়নের রিফায়েতপুর চকে—এই তিনটি কালভার্ট নির্মাণের কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনিস এন্টারপ্রাইজ।

সরেজমিন দেখা গেছে, ধল্লা ইউনিয়নের ফোর্ডনগর মোল্লাপাড়ায় ১১ মিটার দীর্ঘ একটি কালভার্টের নির্মাণ ব্যয় ধরা হয় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২০২৪ সালের ১৬ মে কাজ শুরু হয়ে একই বছরের ১৬ নভেম্বর শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কেবল বেইজ ঢালাই করে কাজ বন্ধ করে দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক বছর আগে কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আর কোনো অগ্রগতি হয়নি। ফলে চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। গ্রামের বাসিন্দা ও দলিল লেখক আইয়ুব মোল্লা বলেন, ‘দ্রুত কালভার্টের কাজ শেষ না হলে আগামী বর্ষা মৌসুমে মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছাবে।’

জয়মন্টপ ইউনিয়নের নীলটেক বেপারীপাড়ায় ২৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৬ মিটার দীর্ঘ একটি কালভার্ট প্রায় এক বছর আগে সম্পন্ন হলেও দুই পাশের সংযোগস্থলে মাটি ভরাট না করায় সেটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে আছে। ফলে পূর্ব ও পশ্চিম পাশের গ্রামবাসী যাতায়াতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়রা দ্রুত সংযোগ সড়ক ভরাটের দাবি জানিয়েছেন।

চান্দহর ইউনিয়নের রিফায়েতপুর চকে ডালিপাড়া–রিফায়েতপুর সড়কে ১১ মিটার দীর্ঘ আরেকটি কালভার্ট নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ৪০ লাখ ৫০ হাজার টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হয়েছে এক বছর আগে। অভিযোগ রয়েছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে প্রায় ২০ লাখ টাকার বিল উত্তোলন করেছে। অথচ কালভার্টের দুই পাশের সংযোগস্থলে মাটি ভরাট না করায় এটি কার্যত অচল হয়ে রয়েছে।

রিফায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা ও ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কলিমুদ্দিন সিকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘ঠিকাদার আমাদের কোনো গুরুত্ব দিচ্ছে না। দ্রুত কালভার্টের দুই পাশে মাটি ভরাট করে চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানাচ্ছি।’

তিন কালভার্টের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আনিস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী অভিযুক্ত আনিসুর রহমান বলেন, জনবল সংকটের কারণে কাজগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। আগামী সপ্তাহ থেকে পুরোদমে কাজ চলবে। আশা করি আগামী জুনের মধ্যে সম্পূর্ণ কাজ শেষ হবে।

সিংগাইর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আহাদী হোসেন বলেন, ঠিকাদারকে বারবার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। লিখিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে। কাজ সম্পনের আগেই বিল দাবি করা নিয়মবহির্ভূত। দ্রুত কাজ শেষ না করলে তার লাইসেন্স বাতিলের সুপারিশ করা হবে।


নেত্রকোনায় শহীদ জিয়ার স্মৃতিবিজড়িত খাল খনন উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত তিলকখালি খালের খনন কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মো. আনোয়ারুল হক এই খনন কাজের উদ্বোধন করেন।

সদর উপজেলার মেদনি ইউনিয়নের কৃষ্ণাখালিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ‘সারাদেশে পুকুর ও খাল উন্নয়ন (২য় সংশোধিত) প্রকল্পের’ আওতায় খালটি খনন করা হচ্ছে।

খালটি পুনঃখননের ফলে এলাকার কৃষিজমি সেচ সুবিধা পাবে এবং জলাবদ্ধতা দূর হবে।

উদ্বোধন শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন নেত্রকোনা জেলা জাতীয় ইমাম সমিতির সভাপতি মাওলানা মো. আলাউদ্দিন।

এ উপলক্ষে আলোচনায় সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. মজিবুর রহমান খান। সঞ্চলনা করেন সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন ফারাস সেন্টু। প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সংসদ সদস্য মো. আনোয়ারুল হক।

উপস্থিত ছিলেন এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নুরুজ্জামান নুরু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শফিকুল কাদের সুজা, নেত্রকোনা জেলা ছাত্রদলের সভাপতি অনীক মাহবুব চৌধুরী, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বজলুর রহমান পাঠান, মনিরুজ্জামান দুদু এবং পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক গাজী তোফায়েল হোসেন প্রমুখ।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী ওয়াহিদুজ্জামান জানান, ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই খালটি খনন করা হচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরের মধ্যেই খনন কাজ সম্পন্ন হবে।


লিচুর মুকুলে সেজেছে প্রকৃতি, ভালো ফলনের আশা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

উপকূলীয় জনপদ বাগেরহাটের শরণখোলায় বিভিন্ন বাড়ির আঙিনায় লিচু গাছজুড়ে দেখা যাচ্ছে হলদে রঙের মুকুল। এতে প্রকৃতির সৌন্দর্য যেমন বেড়েছে, তেমনি ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা।

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বছরের মতো এ সময় লিচু গাছে মুকুল আসে। তবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং ঝড়-বৃষ্টি না হলে এ বছরও ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে মুকুলে ভরে ওঠেছে উপজেলার অনেক লিচু গাছ। মুকুলের মিষ্টি গন্ধে বাগানে মৌমাছির আনাগোনাও বেড়েছে।

উপজেলার কয়েকজন লিচু চাষি বলেন, ‘গাছে মুকুল ভালো এসেছে। এখন যদি আবহাওয়া ভালো থাকে এবং পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হয়, তাহলে এ বছর লিচুর ফলন ভালো হওয়ার আশা করছি।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার বলেন, ‘মুকুলের সময় গাছের বিশেষ যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিচর্যা ও কীটনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।’


তাহিরপুরে বিয়ে বাড়ির বৈদ্যুতিক তারে প্রাণ গেল শিশুর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় বিয়ে বাড়ির আলোকসজ্জার বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সুজিত বর্মন (৭) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৯ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৭টার দিকে উপজেলার তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের মধ্য তাহিরপুর গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সুজিত বর্মন ওই গ্রামের সত্যময় বর্মনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্য তাহিরপুর গ্রামের অনিল বর্মনের বাড়িতে তার শ্যালিকা প্রিয়া বর্মনের বিয়ে উপলক্ষে গত রোববার (৮ মার্চ) রাতে গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বাড়ির চারপাশে বৈদ্যুতিক আলোকসজ্জা করা হয়েছিল।

সোমবার (৯ মার্চ) সকালে বাড়ির আঙিনায় টানানো আলোকসজ্জার একটি বৈদ্যুতিক তারে অসাবধানতাবশত স্পর্শ করলে সুজিত বর্মন বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ সময় বিদ্যুতের শকে তার শরীরের কিছু অংশ পুড়ে যায় বলেও জানা গেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় বিয়ে বাড়িসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আনন্দের আয়োজন মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকে।

তাহিরপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নাজমুল হক জানান, বিয়ে বাড়ির আলোকসজ্জার বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে শিশুটির মৃত্যুর ঘটনা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কুমিল্লায় মন্দিরে রাখা বোমা নিষ্ক্রিয়, থানায় মামলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়া কালীগাছতলা মন্দির থেকে উদ্ধার করা বোমা নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করেছে বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট। গত রোববার (৮ মার্চ) রাত ১১টার দিকে লালমাই পাহাড় এলাকায় নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে বোমাটি ধ্বংস করা হয়।

পুলিশ জানায়, এর আগে গত শনিবার (৭ মার্চ) রাতে নগরীর বাগানবাড়ি এলাকায় দুর্বৃত্তরা তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। এতে মন্দিরের পূজারী কেশব চক্রবর্তীসহ তিনজন আহত হন। তবে বর্তমানে আহতরা আশঙ্কামুক্ত আছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার সময় দুর্বৃত্তরা একটি ব্যাগ ফেলে রেখে যায়। পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ব্যাগটি উদ্ধার করে কোতোয়ালি থানায় বিশেষ নিরাপত্তায় সংরক্ষণ করেন। গত রোববার (৮ মার্চ) সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল টিম ব্যাগটি নিজেদের হেফাজতে নিয়ে লালমাই পাহাড়ে নিয়ে যায় এবং সেখানে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে সেটি নিষ্ক্রিয় করে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম জানিয়েছে, উদ্ধার করা বোমাটি শক্তিশালী ছিল।

এ ঘটনায় কুমিল্লার ঠাকুরপাড়া কালীগাছতলা মন্দির ও বাগানবাড়ি জামে মসজিদের সামনে মুসল্লিদের ওপর ককটেল নিক্ষেপে তিনজন আহত হওয়ার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে।

গত রোববার (৮ মার্চ) রাতে মন্দিরের পুরোহিত কেশব চক্রবর্তী বাদী হয়ে পরিচয় না জানা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলাটি করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল আনোয়ার।

তিনি জানান, ঠাকুরপাড়া মন্দির থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যাগে একটি ককটেল বোমা ছিল। ঢাকা থেকে আসা বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সেটি লালমাই পাহাড়ের পুলিশের ফায়ারিং স্কোয়াড এলাকায় নিয়ে নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণের মাধ্যমে নিষ্ক্রিয় করেছে।


পাম্প ভাঙচুর-বাসে আগুনের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ৭ নেতা গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি

ঝিনাইদহে একটি তেলের পাম্পে ভাঙচুর এবং তিনটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের অভিযোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সাত নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সোমবার (৯ মার্চ) দুপুরে ঝিনাইদহ সদর থানায় বাস মালিক পক্ষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষের দায়ের করা পৃথক দুটি মামলায় তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়। জেলা পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল এক প্রেসনোটের মাধ্যমে এই গ্রেফতারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি সাইদুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমান জীবন। এছাড়া এই তালিকায় আছেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক এজাজ হাসান অন্তর মাহমুদ, ‘দ্য রেড জুলাই’-এর আহ্বায়ক আবু হাসনাত তানাঈম এবং জেলা কমিটির সাবেক নেতা হুমায়ন কবির, তাশদিদ হাসান ও রাসেল। পুলিশের দাবি, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, মোবাইল ট্র্যাকিং এবং উন্নত তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে নাশকতায় জড়িতদের শনাক্ত করার পর এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গত ৭ মার্চ ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল সংলগ্ন তাজ ফিলিং স্টেশনে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে বিতণ্ডার জেরে পাম্পকর্মীদের পিটুনিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মী ফারদিন আহম্মেদ নীরব নিহত হন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার পর আন্দোলনকারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পুলিশের প্রেসনোটে উল্লেখ করা হয়েছে, ছাত্ররা প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদের মালিকানাধীন তাজ ফিলিং স্টেশনে হামলার চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তারা শহরের আরাপপুর এলাকার সৃজনী ফিলিং স্টেশনে ব্যাপক ভাঙচুর চালান এবং গভীর রাতে বাস টার্মিনালে থাকা রয়েল পরিবহন ও জে-লাইন পরিবহনের তিনটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেন।

নীরব হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই ঝিনাইদহে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছিল। বাসে আগুনের ঘটনার প্রতিবাদে বাস শ্রমিকরা ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করলেও জড়িতদের গ্রেফতারের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়। হত্যাকাণ্ডের মূল মামলার প্রধান আসামি ও আওয়ামী লীগ নেতা হারুন অর রশিদ বর্তমানে পলাতক থাকলেও তাঁর তিন কর্মচারীকে ইতিমধেই গ্রেফতার করেছে র‍্যাব ও পুলিশ।

ছাত্র আন্দোলনের বর্তমান পরিস্থিতির বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের সাবেক কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক তারেক রেজা। তিনি বলেন, প্রতিটি অপরাধেরই বিচার হওয়া উচিত, তবে একটি হত্যাকাণ্ডের প্রতিক্রিয়ায় সৃষ্ট পরিস্থিতির জন্য নির্বিচারে গণগ্রেফতার কাম্য নয়। তিনি দাবি করেন, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে অনেকে নিরপরাধ থাকতে পারেন। অন্যদিকে, পলাতক পাম্প মালিক হারুন অর রশিদ ফোনে খুনের ঘটনার নিন্দা জানালেও তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলার বিষয়টি ঠিক হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন। বর্তমানে শহরে পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এবং যেকোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।


বোরহানউদ্দিনে শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা প্রতিনিধি

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের মাঝে মাদকের কুফল ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে মাদক বিরোধী সচেতনতামূলক সভা ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

‎সোমবার (০৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসনের সভাকক্ষে এ সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মাদক বিরোধী গনস্বাক্ষর ও র‍্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‍্যালিটি উপজেলা প্রশাসন চত্বর থেকে শুরু হয়ে কুতুবা মাধ্যমিক বিদ্যালয় এলাকা গুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। সচেতনতার বার্তা নিয়ে বের করা র‍্যালিতে ফেস্টুনের মাধ্যমে মাদককে 'না' বলার বিভিন্ন বার্তা লিখে আহ্বান জানানো হয়।

‎সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থী ও যুবদের উদ্দেশ্যে মাদকের কুফলতা তুলে ধরে বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোরঞ্জন বর্মন।

‎তিনি বলেন, মাদকের নীল দংশন থেকে বাঁচতে হলে সবার প্রথমে নিজেকে সচেতন হতে হবে। আপনারা এখানে যারা উপস্থিত আছেন এখান থেকে যাওয়ার পর আপনারা মাদকের বিরুদ্ধে এম্বাসেডর হিসেবে কাজ করবেন, মাদকের কুফলতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের জানাবেন তাদের সচেতন করবেন। স্কুল কলেজ পাড়া মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে জনসচেতনতামূলক প্রচার প্রচারনা বাড়াতে হবে। বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছে। মাদক গ্রহীতা মাদক বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের কোনো তথ্য থাকলে আপনারা আমাদের তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করবেন।

‎বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মনিরুজ্জামান মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আইনি বক্তব্য প্রদান করেন এছাড়া তার যোগদানের পর মাদক উদ্ধার ও আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরেন।

‎এই সময় উপস্থিত ছিলেন , হাফিজ ইব্রাহিম কলেজের অধ্যক্ষ জাকারিয়া আজম, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক রোকন উদ্দিন ভূঞা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা খবির হোসেন চৌধুরী, উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার, রিজওয়ানুল ইসলাম, বিভিন্ন যুব সংগনের প্রতিনিধি, হাফিজ ইব্রাহিম কলেজের শিক্ষার্থী, উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ও সাংবাদিকবৃন্দ।


বান্দরবানে ১০ মার্চ ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন: প্রথম ধাপে সুবিধা পাচ্ছে ১০৯৭ পরিবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি

সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির অংশ হিসেবে বান্দরবানের লামা উপজেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। আগামী ১০ মার্চ উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে এই পাইলট প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ওই এলাকার ১ হাজার ৯৭টি হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত পরিবার সরকারের সরাসরি আর্থিক ও খাদ্য সহায়তার আওতায় আসবে। বান্দরবান জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি গত রোববার এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, দেশব্যাপী ১০টি জেলায় শুরু হওয়া এই পাইলট প্রকল্পের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে দুই হাজার ৫০০ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা অথবা সমমূল্যের নিত্যপ্রয়োজনীয় টিসিবি পণ্য পাবেন। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সহায়তার অর্থ সরাসরি পরিবারের নারী প্রধানের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। বিশেষ করে ভূমিহীন, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী এবং প্রান্তিক কৃষকদের এই তালিকায় অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মঈন উদ্দিন জানিয়েছেন, ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডে জরিপের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ২৭৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের সময় ১৩৮টি পরিবারের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) না থাকায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১ হাজার ৯৭টি পরিবারকে যোগ্য হিসেবে বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটির কাছে তালিকা পাঠানো হয়েছে এবং উদ্বোধনের দিন তাদের হাতে এই বিশেষ কার্ড তুলে দেওয়া হবে।

বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পার্বত্য জেলার ১২টি জাতিগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে কেবলমাত্র স্বচ্ছতা ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে এই তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দুর্গম পাহাড়ের দরিদ্র পরিবারগুলো জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে সক্ষম হবে। ১০ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে জেলার অন্যান্য এলাকাতেও সম্প্রসারিত করা হবে বলে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ফ্যামিলি কার্ড চালুর এই সিদ্ধান্ত বান্দরবানের দুর্গম জনপদের মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


গ্রামের নারীদের অনুপ্রেরণা মুর্শিদা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লালপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের লালপুর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের মুর্শিদা খাতুনের জীবনে একসময় নেমে এসেছিল অনিশ্চয়তা আর অভাবের দিন। স্বামী নুরুল ইসলাম তখন বেকার। সংসার চালানোর দায় এসে পড়ে তার কাঁধে। সেলাই মেশিনে দর্জির কাজ করে কোনো রকমে সংসার চলত তার। কিন্তু দমে যাননি তিনি। অদম্য পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসে ধীরে ধীরে বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য। আজ এই মুর্শিদায় এখন গ্রামের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম।

২০১০ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা ঋণ পান মুর্শিদা। সেই টাকা দিয়ে একটি গাভী কিনে শুরু করেন গরু পালন। ছোট সেই উদ্যোগই সময়ের সঙ্গে বড় খামারে রূপ নেয়। বর্তমানে তার নিজস্ব খামার ‘গ্রামীণ এন্ড ডেইরি এগ্রো ফার্ম’ এ রয়েছে প্রায় ২০টি গরু। এসব গরুর বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। খামার থেকে বছরে প্রায় ৪ লাখ টাকার আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সরেজমিনে জানা গেছে, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বিয়ে হয় মুর্শিদার। অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় তাকে। তবে প্রতিকূলতা তাকে থামাতে পারেনি। ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা বাড়িয়ে গড়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের খামার।

খামারকে কেন্দ্র করে তিনি গড়ে তুলেছেন বহুমুখী উদ্যোগ। গরুর গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করে পাশের কয়েকটি বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করছেন। সেই বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উৎপন্ন জৈব সারও ব্যবহার হচ্ছে কৃষিকাজে। পাশাপাশি বাড়ির পাশের বড় পুকুরে করছেন মাছ চাষ এবং বাড়ির উঠানেই পালন করছেন হাঁস-মুরগি। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

গ্রামে এখন মুর্শিদার সাফল্যের গল্প অনেকের মুখে মুখে। তার খামার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক নারী গরু পালন শুরু করেছেন। কেউ কেউ তার কাছ থেকেই পরামর্শ নিচ্ছেন।

একই গ্রামের জরিনা বেগমও তেমনই একজন। সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় মুর্শিদা খাতুনের পরামর্শ নিয়ে তিনি গরু পালন শুরু করেছেন। জরিনা বেগম বলেন, মুর্শিদা আপার খামার দেখে সাহস পেয়েছি। আগে ভাবতাম গরু পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব না, কিন্তু উনার পরামর্শে এখন আমিও শুরু করেছি।

আরেক নারী সমতাও মুর্শিদার অনুপ্রেরণায় গড়ে তুলেছেন নিজের খামার। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৪টি গরু। সমতা বলেন, ‘মুর্শিদা আপা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেন। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে গরু পালন শুরু করেছি। এখন ধীরে ধীরে খামার বড় করার স্বপ্ন দেখছি।

এবিষয়ে মুর্শিদা খাতুন বলেন, যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০ হাজার টাকা ঋণ পাই। সেই টাকায় একটি গাভী কিনেছিলাম। পরে ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা বাড়াতে থাকি। এখন নিজের বহুমুখী খামার আছে, সংসারও ভালোভাবে চলছে।

লালপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সবুর বলেন, মুর্শিদা খাতুন আমাদের সফল নারী উদ্যোক্তাদের একজন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের জীবন বদলে দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, গ্রামের অনেক নারী এখন মুর্শিদার পথ অনুসরণ করছেন। তার সাফল্য প্রমাণ করে, সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে মুর্শিদা খাতুনের এই সাফল্যের গল্প গ্রামীণ নারীদের জন্য হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।


banner close