মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
২২ বৈশাখ ১৪৩৩

নির্বিচারে পাথর লুটে বিবর্ণ প্রকৃতির লীলাভূমি

৫ আগস্টের পর জাফলং ও সাদাপাথর এলাকা থেকে ২০০ কোটি টাকার পাথর লুট
পাথর উত্তোলনের ফলে দিন দিন সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:৩৫
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:৩৪

দেশের অন্যতম পর্যটক আকর্ষণীয় এলাকা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিখ্যাত জাফলংয়ে সারা বছরই ভিড় করেন পর্যটকরা। তবে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলে দিন দিন সৌন্দর্য হারিয়ে মলিন হয়ে পড়ে জাফলং। কেবল জাফলিই নয়, একই অবস্থা পাথর কোয়ারি হিসেবে পরিচিত সিলেটের পর্যটন আকর্ষণীয় আরও পাঁচটি এলাকারও। ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকে এসব এলাকা থেকে চলছে নির্বিচারে পাথর লুট। কেবল জাফলং আর সাদাপাথর থেকেই লুট হয়েছে দুইশ কোটি টাকার পাথর। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও পাথর লুট থামানো যাচ্ছে না।

যদিও এলাকার পরিবেশের সুরক্ষা এবং পর্যটক আকর্ষণ ধরে রাখতে ২০১৬ সালে পাথর উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা জারি করে খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। তারও আগে ২০১২ সালে জাফলংয়ের পিয়াইন নদীসহ ১৫ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ-সংক্রান্ত গেজেটে বলা হয়, ‘অপরিকল্পিতভাবে যেখানে সেখানে পাথর উত্তোলন ও নানা কার্যকলাপের ফলে সিলেটের জাফলং-ডাউকি নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থা সংকটাপন্ন, যা ভবিষ্যতে আরো সংকটাপন্ন হবে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ইসিএভুক্ত এলাকায় যান্ত্রিক বা ম্যানুয়াল কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে পাথরসহ অন্য যেকোনো খনিজসম্পদ উত্তোলন নিষিদ্ধ।’

জানা যায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম কিছুদিন প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে কেবল জাফলং ও সাদাপাথর পর্যটন এলাকা থেকেই প্রায় দুইশ’ কোটি টাকার পাথর লুটে নিয়েছে লুটপাটকারীরা। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনার পরও থেমে না থেকে জাফলং-সাদাপাথরসহ সব কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আন্দোলনে নেমেছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এ জন্য নতুন সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে চলছেন তারা। অপরদিকে, পরিবেশকর্মীদের পক্ষ থেকে পাথর লুটপাট বন্ধ ও লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিবেশ ও পর্যটন সুরক্ষার দাবি উঠেছে। ফলে সরকার পরিবর্তনের পর আরবারও প্রশ্ন উঠেছে- পাথর উত্তোলন নাকি পরিবেশ ও পর্যটনের সুরক্ষা- কোনো পথে হাঁটবে সরকার।

মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েকবছর বন্ধ ছিলো পাথর উত্তোলন। ফলে জাফলংয়ের পিয়াইন ও কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীর উৎসমুখে (সাদাপাথর) বিপুল পরিমাণ পাথর মজুদ হয়। স্রোতের তোড়ে উজান থেকে আসা পাথর স্তরে স্তরে মজুদ হয় দুই নদীর উৎসমুখে। এসব পাথরের কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে জাফলং ও সাদাপাথরে পর্যটক সমাগম বাড়ছিলো।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, সরকার পতনের পর প্রথম তিনদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেকটা নিস্ত্রিয় ছিল। এই সুযোগে জাফলং থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। আর কোম্পানিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সুলতানার ভাষ্যমতে, সাদাপাথর থেকে লুট হয়েছে ২০ কোটি টাকার পাথর। যদিও স্থানীয়দের দাবি, দুই কোয়ারি থেকে ১৪০ কোটি নয়, দুইশ কোটি টাকার ওপরে পাথর লুট হয়েছে। কোয়ারি থেকে পাথর ও বালু লুটের ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় ৩টি ও কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১টি মামলা দায়ের হলেও মূলহোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই কোয়ারিতে বালু ও পাথর লুটের সাথে জড়িত প্রভাবশালীদের বেশিরভাগ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। জাফলংয়ের পিয়াইন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের প্রমাণ পেয়ে দলীয় পদ হারান জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম শাহপরাণ। এছাড়া পাথর লুটের সাথে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সদ্য অপসারিত চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম স্বপন, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বক্সের নাম জড়িয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, মামলা আর অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ- কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না পাথর লুট। গত ৬ নভেম্বর সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনেও এমন অভিযোগ করা হয়। মো. ইসমাইল হোসেন নামে জাফলংয়ের এক ব্যক্তি ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের মদদে চলছে পাখর লুট।

এদিকে পাথর উত্তোলনের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জাফলং ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সামাজিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন খাঁন আনু বলেন, জাফলংসহ সকল পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন, সংগ্রহ ও সরবরাহ করে দেশের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এই পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। বেকার হয়ে পড়েছে পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক। তিনি বলেন, প্রতি বছরই ঢলের সাথে প্রচুর পাথর ভারত থেকে এই এলাকায় এসে জমা হয়। এসব পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় নদীর উৎসমুখ বন্ধ হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ঘনঘন বন্যা দেখা দিচ্ছে। তাই পরিবেরে স্বার্থেই পাথর উত্তোলন করা প্রয়োজন।

জাফলং স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বখত বলেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় প্রতি বছরই ভারত থেকে প্রচুর পরিমান পাথর আমদানি করতে হচ্ছে। এতে ডলার সংকট আরও বাড়ছে। বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে লুটপাট করে জাফলং ও সাদপাথরকে পাথরশূন্য করে ফেলা হয়েছে। এখন আবার পাথর উত্তোলনের দাবিতে মাঠে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের এই দাবি মানা হলে এসব পর্যটন এলাকা আবার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক আশারুল কবির বলেন, দেশে চাহিদার খুব সল্প সংখ্যক পাথর সিলেটের কোয়ারিগুলোতে পাওয়া যায়। ফলে বড় অংশই ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। তাই পাথর কোয়ারি খুলে দিলে আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে এমন দাবি সত্য নয়। কোয়ারি সচল হলে কিছু মানুষ আর্থিকভাবে লাভভান হতে পারেন কিন্তু দেশের বিরাট ক্ষতি হবে। এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহমুদ মুরাদ জানিয়েছেন, পাথর কোয়ারি সচল করা হবে কি না এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত সরকার থেকে এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ফলে যারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একটি গোষ্ঠী বালু পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে জাফলংয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।


মাগুরায় পুলিশের অভিযানে ১৬ জুয়াড়ি আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার বালিদিয়া ইউনিয়নের বালিদিয়া বাজারে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে জুয়ার আসর থেকে ১৬ জনকে আটক করেছে মহম্মদপুর থানা পুলিশ। গত সোমবার (৪ মে) গভীর রাতে কামালের একটি মুদি দোকানের ভেতরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে গোপনে জুয়ার আসর বসছিল। খবর পেয়ে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলার সময় হাতেনাতে তাদের আটক করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে নগদ টাকা ও জুয়ার বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

আটকরা হলেন—ইরান আলী (৩৫), জামাল মিয়া (৩০), রাজ্জাক বিশ্বাস (২৮), জিনজির মিয়া (৪৫), এরশাদ শেখ (৩০), রাজ্জাক মোল্যা (৩৫), মানিক মিয়া (৩২), মতিয়ার রহমান (৪৫), সালাউদ্দিন মোল্যা (১৮), রাজ্জাক মিয়া (৩৭), তবিবার (৪০), আরব আলী (২৮), ওহাব মৃধা (৪৫), বিল্লাল হোসেন (৩০), সাগর মিয়া (১৮) ও এরশাদ মোল্যা (২২)।

মহম্মদপুর থানার ওসি মো. আশরাফুজ্জামান জানান, জুয়ার সময় তাস ও নগদ অর্থসহ তাদের আটক করা হয়েছে। মাদক ও জুয়াসহ সকল সামাজিক অপরাধ দমনে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আটকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করে মাগুরা আদালতে পাঠানো হয়েছে।


বগুড়ায় অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় অভ্যন্তরীণ বোরো সংগ্রহ-২০২৬ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (৫ মে) বগুড়া সদর এলএসডিতে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বগুড়া-৬ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা।

জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) রাজিয়া সুলনাতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াজেদ, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইসমত জাহান, সদর এলএসডির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) আতিকুল ইসলাম ফরিদ, জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মামুন, কোষাধ্যক্ষ শাহাদত হোসেনসহ খাদ্য ও কৃষি বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হারুন-উর-রশিদ অনিষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।

জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে জেলায় ১৭ হাজার ৭৮১ মেট্রিক টন ধান, ৭২ হাজার ৬০২মেট্রিক টন চাল এবং ৩ হাজার ৮১১ মেট্রিক টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে সিদ্ধ চালের পাশাপাশি আতপ চালও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। সরকার নির্ধারিত সংগ্রহ মূল্য অনুযায়ী ধান প্রতি কেজি ৩৬ টাকা, সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা এবং আতপ চাল ৪৮ টাকায় সংগ্রহ করা হবে।


চবিতে প্রথমবারের মতো চালু হলো গবেষণায় বৃত্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) প্রথমবারের মতো পিএইচডি, এমফিল ও মাস্টার্স (থিসিস) গবেষকদের জন্য গবেষণা বৃত্তি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত সোমবার (৪ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাকসুর গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন।

চাকসু সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে এই প্রথম চালু হওয়া এ বৃত্তির আওতায় ৪ বছর মেয়াদি পিএইচডি গবেষকরা পাবেন ৪০,০০০ টাকা, ২ বছর মেয়াদি এমফিল গবেষকরা ২০,০০০ টাকা এবং ৬ মাস মেয়াদি মাস্টার্স (থিসিস) গবেষকরা ১৫,০০০ টাকা।

পিএইচডি ও এমফিল গবেষকদের প্রতি বছর বৃত্তি নবায়নের জন্য নির্ধারিত শর্ত পূরণ করে আবেদন করতে হবে। নবায়নের ক্ষেত্রে সুপারভাইজারের সন্তোষজনক মতামত ও একাডেমিক কমিটির সুপারিশ বাধ্যতামূলক। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন না করলে বৃত্তি নবায়ন করা হবে না।

২০২৪-২৫ এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভর্তিকৃত পিএইচডি, এমফিল ও মাস্টার্স (থিসিস) গবেষকরা এই বৃত্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন। শিক্ষাবর্ষ জুলাই-জুন বিবেচনায় বৃত্তি প্রদান করা হবে এবং শুধু পূর্ণকালীন (ফুল-টাইম) শিক্ষার্থীরাই আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া পিএইচডি গবেষকদের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে কমপক্ষে একটি করে এবং এমফিল গবেষকদের অন্তত একটি পিয়ার-রিভিউড প্রকাশনা থাকতে হবে। অন্যথায় প্রাপ্ত বৃত্তির অর্থ ফেরত দিতে হবে। গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশনা দপ্তর কর্তৃক গঠিত বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে আবেদনগুলো অনুমোদন করা হবে।

নীতিমালা অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিগ্রি সম্পন্ন করতে না পারলে বৃত্তির অর্থ ফেরত দিতে হবে। তবে অসুস্থতা, দুর্ঘটনা, দুর্যোগ বা মহামারির মতো গ্রহণযোগ্য কারণে সর্বোচ্চ এক বছর সময় বৃদ্ধি নেওয়ার সুযোগ থাকবে। বৃত্তির অর্থ শুধু গবেষণা কাজে ব্যয় করা যাবে অন্য কোনো খাতে ব্যয় করা যাবে না।

এ বিষয়ে চাকসুর গবেষণা ও উদ্ভাবনবিষয়ক সম্পাদক তানভীর আঞ্জুম শোভন বলেন, ‘প্রথমবারের মতো এ উদ্যোগটি চালু করা হয়েছে। মাস্টার্স থিসিসের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ে শীর্ষস্থান অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের এই বৃত্তির আওতায় আনা হবে। যদিও, বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের পরবর্তীতে কোন খাতে কত অর্থ ব্যয় করা হয়েছে তার বিস্তারিত হিসাবও জমা দিতে হবে।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, ‘আবেদন অনুমোদন করা প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে এ বৃত্তি দেওয়া হবে। তবে, একজন শিক্ষার্থী যদি অন্য কোনো একাধিক বৃত্তি পেয়ে থাকে তাহলে এটি গ্রহণযোগ্য হবে না।


তরুণ উদ্যোক্তার সাফল্যে আঙুর চাষে নতুন সম্ভাবনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারিয়াকান্দি (বগুড়া) প্রতিনিধি

ফল চাষে নতুন সম্ভাবনার দিগন্ত উন্মোচন করছেন দেশের তরুণ উদ্যোক্তারা। তারই উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার জোড়গাছা পূর্বপাড়া গ্রামের তরুণ আবু নাসের। প্রচলিত ধারা ভেঙে তিনি আঙুর চাষে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন, যা ওই এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

সাফল্যের পেছনের গল্প: কৃষিনির্ভর পরিবারের সন্তান আবু নাসের ইউটিউব থেকে ধারণা নিয়ে শুরুতে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার বাগানে বাইকুনুর, জয়, সিলভা, অ্যাকোলো ও কিংসনসহ বিভিন্ন জাতের আঙুর ফলছে। থোকায় থোকায় ঝুলছে পাকা আঙুর।

শুরুতে মাত্র ২টি চারা দিয়ে শুরু করলেও ফলন টক হওয়ায় অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। তবে তিনি ও তার মালয়েশিয়া ফেরত বাবা সামিউল ইসলাম হাল না ছেড়ে পুনরায় ৮টি চারা কেনেন। বর্তমানে তাদের বাগানে ৩০টি গাছ রয়েছে। এ পর্যন্ত তারা প্রায় ৫০ কেজি ফল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন এবং প্রতি মণ ১৬ হাজার থেকে ২০ হাজার টাকা পাইকারি দরে বিক্রি করছেন।

ফলন ও দাম ভালো পাওয়ায় আগামীতে তারা আরও ১৪০ শতাংশ জমিতে আঙুর চাষের পরিকল্পনা করছেন।

আবু নাসের জানান, শুরুতে অনেকেই নিরুৎসাহিত করেছিলেন। কিন্তু আমরা বিশ্বাস রেখেছিলাম, সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করলে দেশে আঙুর চাষ সম্ভব। এখন সফল হতে পেরে আমরা খুবই আনন্দিত।

বাগান দেখতে আসা রাশেদ মণ্ডল জানান, দেশের মাটিতে বিদেশি ফলের সফল উৎপাদন হওয়ায় এলাকাবাসী আনন্দিত। এতে দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আঙুর আমদানির নির্ভরতা কমবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, ‘দেশের আবহাওয়া এখন অনেক নতুন ফল চাষের উপযোগী হয়ে ওঠছে। সঠিক পরিকল্পনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে আঙুর চাষে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।’ তিনি এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে অন্য উদ্যোক্তাদেরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।


২০০ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে ফ্যাসিস্ট সরকার: হুইপ আশরাফ

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান জানিয়েছেন যে, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার দেশ থেকে প্রায় দুইশ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করেছে। বড় বাজেট প্রণয়নে বর্তমান সরকারের প্রতিকূলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত টাকা পাচার হয়ে গেলে আমরা বড় বাজেট কীভাবে করব? এ কথাটা ইতিমধ্যে অর্থমন্ত্রীও বলেছেন। এখন আমাদের সরকারকে সবকিছু নতুন করে শুরু করতে হবে।

আজ মঙ্গলবার (৫ মে) দুপুরে কমলনগর উপজেলার তোরাবগন্জ ইউনিয়নের ইসলামগন্জ বাজার এলাকায় খাল খনন পরিদর্শন উপলক্ষ্যে এক দোয়া অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে হুইপ নিজান উল্লেখ করেন, “আমি আমার রামগতি-কমলনগরের মানুষকে বলতে চাই, শূন্য থেকে আমরা শুরু করতে চাই। আমি তো জাতীয় সংসদের হুইপ। আমার রুম থেকে (আগের সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি) ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। সব পালাই চলে গেছে।” তিনি বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলেন, “আজকে সারা বিশ্বে একধরনের যুদ্ধ চলছে। এ যুদ্ধ তো আমরা লাগাইনি। হাওরে পানি উঠছে। এ পানিও তো আমরা দেইনি।” প্রতিকূলতা সত্ত্বেও জনগণের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার করে তিনি জানান যে, বর্তমান সরকার সাধ্যমতো সহায়তা চালিয়ে যাচ্ছে।

নিজ রাজনৈতিক আদর্শের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি এমপি হই বা না হই, আমাকে হুইপ রাখুক বা না রাখুক, আমি কিন্তু হকের কথা বলব, ইনসাফের কথা বলব। আমি এ কথা সংসদেও বলেছি। আমি কারো চোখের দিকে তাকাই কথা বলি না। আমরা যুদ্ধ করে ফ্যাসিস্ট তাড়িয়েছি। রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে আগেও ঠেকায়নি, ভবিষ্যতেও ঠেকাবেনা, কারণ এটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল, বেগম খালেদ জিয়া ও তারেক রহমানের দল।” দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, চাঁদাবাজি বা মাস্তানি করলে তিনি তাদের পাশে থাকবেন না।

নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “আপনার চাকরির জন্য আমি ইউএনও-সচিবের পা ধরব। ব্যবসা করার জন্য ব্যাংক লোনের প্রয়োজন হলে আমি সে ব্যবস্থাও করব। কিন্তু আপনি দুর্নীতি করবেন, ঘুষ খাবেন, এলাকায় মাস্তানি করবেন, গুণ্ডামি করবেন, মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন, চাঁদাবাজি করবেন—তাহলে আপনার সঙ্গে আমি নেই।” জনগণের প্রতি বিনয়ী হওয়ার নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, মানুষ যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন ও ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছে এবং সরকার পুনরায় ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম হবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাদাসিধা জীবনযাপনের প্রশংসা করে হুইপ নিজান দোয়া চেয়ে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রীরা দেখা করতেও কষ্ট হয়। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আমাকে এমন যায়গায় বসাইছে, সকাল বিকাল সবসময় দেখা হয়। উনি প্রটোকল চায়না, সাদাসিধা চলাফিরা করেন। উনি প্রধানমন্ত্রী হয়েও ক্যান্টিনের ভাত খান। প্রটোকল চাড়া চলাফিরা করেন। কোন প্রটোকল নেই। হিংসা অহংকার নেই। আল্লাহ তায়ালা তাকে হায়াত বাড়িয়ে দেক। প্রয়োজনে আমার হায়াতও আল্লাহ তায়ালা তাকে দিয়ে দেক। আমি মন থেকে দোয়া করছি। আল্লাহ তায়ালাকে হাজির নাজির জেনে বলতেছি।” উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাহাত-উজ-জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


রাউজানে ৫ সড়ক নিয়ে বিপাকে এলজিইডি

* ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শেষ মেয়াদ * প্রকল্প বন্ধ, ঠিকাদার উধাও * ভোগান্তিতে সাধারণ মানুষ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাউজানের উন্নয়নকাজ ফেলে অনেক ঠিকাদার পালিয়ে যান। এতে প্রায় শতকোটি টাকার নির্মাণকাজ স্থবির হয়ে পড়ে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় ও উপজেলা প্রকৌশলীর বিশেষ প্রচেষ্টায় উপঠিকাদার নিয়োগ করে অর্ধেকের বেশি কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা পাঁচটি সড়ক নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে কর্তৃপক্ষ। চূড়ান্ত নোটিশের পরও পলাতক ঠিকাদাররা কাজে না ফেরায় স্থানীয় মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন এবং নষ্ট হচ্ছে সরকারি সম্পদ।

অসমাপ্ত পাঁচটি সড়কের পরিস্থিতি: ব্রাহ্মণ হাট-পাঁচখাইন সড়ক (বাগোয়ান ইউনিয়ন) বরাদ্দ: ১ কোটি ২০ লাখ টাকা।

ঠিকাদার: প্রমিতা কনসেন্ট্রেশন (শওকত হোসেন)।

বর্তমান অবস্থা: ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কাজ শেষ করার সময়সীমা থাকলেও ঠিকাদার আত্মগোপনে চলে যান। চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ার পরও কাজ শুরু না করায় চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। শিগগিরই পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হবে।

হলদিয়া ভিক্ষুভানুপুর সড়ক: বরাদ্দ: ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।

ঠিকাদার: কাসেম এন্টারপ্রাইজ (সারজু মোহাম্মদ নাছের)।

বর্তমান অবস্থা: উপঠিকাদার হিসেবে খোরশেদ আলম জিকুকে (উত্তর জেলা যুবদলের সহসম্পাদক) দায়িত্ব দেওয়া হলেও চার মাস আগে তিনি কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। কার্পেটিংয়ের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

কান্দি পাড় সড়ক (ডাবুয়া ইউনিয়ন): বরাদ্দ: ৭৩ লাখ টাকা।

ঠিকাদার: তাসফিয়া এন্টারপ্রাইজ (সাজ্জাদ হোসেন)।

বর্তমান অবস্থা: কংক্রিট-বালুর ঢালাই দিয়ে কার্পেটিংয়ের কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ঠিকাদার উধাও।

ধর বাড়ি দরগা সড়ক (ডাবুয়া ইউনিয়ন): বরাদ্দ: ১ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

ঠিকাদার: বায়েজিদ বোস্তামী এন্টারপ্রাইজ (পৌরসভার মেয়র জমির উদ্দিন পারভেজ)।

বর্তমান অবস্থা: কার্পেটিংয়ের কাজ ফেলে দিয়ে ঠিকাদার পলাতক।

রোস্তম শাহা সড়ক (হলদিয়া ইউনিয়ন): বরাদ্দ: ৭৩ লাখ টাকা।

ঠিকাদার: সালাউদ্দিন।

বর্তমান অবস্থা: ঠিকাদার উধাও হওয়ায় উপঠিকাদার নিয়োগ করা হয়, তবে তিনিও এখন উধাও বলে জানান স্থানীয়রা।

অন্য প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা: রাউলী সড়ক (উনসত্তরপাড়া থেকে রঘুনন্দনহাট): ২০২৪-২৬ অর্থবছরের ১৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা বরাদ্দের এই ৬ কিলোমিটার সড়কে ঠিকাদার শাহাব উদ্দীন আত্মগোপনে থাকায় কাজ পরিচালনা করছেন উপঠিকাদার জুয়েল চৌধুরী। তবে কাজের ধীরগতির কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ রয়েছে।

চিকদাইর আকবর শাহ সড়ক (সেকশন-২): ৩৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার ৫০০ ফুট কাজ অসমাপ্ত রেখেই পালিয়েছেন ঠিকাদার।

এলজিইডি কর্তৃপক্ষের পদক্ষেপ ও বক্তব্য: এলজিইডি জানিয়েছে, যেসব ঠিকাদার চূড়ান্ত নোটিশ পেয়েও ফিরছেন না, তাদের চুক্তি বাতিল করে নতুন চুক্তির পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে একটি সড়কের চুক্তিপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ ছাড়া আত্মগোপনে থাকা মেয়রের আরও দুটি সড়কের কাজ উপঠিকাদার বিএনপি নেতা বদিউল আলমের মাধ্যমে শেষ করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কালাম জানান, এলাকার মানুষের সহযোগিতায় ঠিকাদারের ফেলে যাওয়া অর্ধশত সড়ক, সেতু ও কালভার্টের কাজ শেষ করা হয়েছে। সময় বাড়িয়ে দিয়ে অনেক উপঠিকাদারকে কাজ করতে সহযোগিতা করা হয়েছে। বাকি ৫-৬টির কাজ চলমান আছে। তবে বিটুমিন সংকট ও দাম বৃদ্ধির কারণে এসব কাজ কিছুটা ধীরগতিতে হচ্ছে।


দর্শনায় ডজন মামলার পলাতক আসামি গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানায় দীর্ঘদিন ধরে একাধিক গুরুতর মামলায় পলাতক থাকা শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী মো. রাশেদুজ্জামান রাসেদ (২৭) অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জালে ধরা পড়েছে।

মঙ্গলবার (৫ মে) ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এক চিরুনি অভিযানে তাকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে দর্শনা থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রাসেদ দর্শনা থানার ঈশ্বরচন্দ্রপুর (বড় মসজিদ পাড়া) এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাদক, বিস্ফোরক, মারামারি, পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা প্রদান, গুরুতর আঘাত এবং বাড়িতে অগ্নিসংযোগসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলায় তিনি দীর্ঘ সময় ধরে পলাতক থেকে এলাকায় অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই গ্রেপ্তার স্থানীয় পর্যায়ে মাদক ও সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে। ইতোমধ্যে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ চলমান রয়েছে।’

এদিকে রাসেদের গ্রেপ্তারে এলাকায় স্বস্তির পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে তার দাপটে সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ছিল। এই অভিযানের ফলে এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং মানুষ স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারবে বলে আশা করছেন তারা।

দর্শনা থানার ওসি (তদন্ত) হিমেল রানা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মাদক ও সন্ত্রাস দমনে পুলিশের এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি যেকোনো অপরাধ-সংক্রান্ত তথ্য দ্রুত পুলিশকে জানাতে স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


সুন্দরবনে পর্যটকদের ওপর হামলায় দুই দুষ্কৃতিকারী আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

সুন্দরবনে পর্যটকদের উপর হামলা ও ডাকাতির চেষ্টা কালে রাজন সরদার (২৫) এবং রতন সরদার (১৪) নামের দুই দুষ্কৃতিকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড। মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত সোমবার (৪ মে) ভোর ৪টার দিকে একদল দুষ্কৃতিকারী চক্র খুলনার দাকোপ থানাধীন ঢাংমারী খাল সংলগ্ন সুন্দরী ইকো রিসোর্টে আগত পর্যটকদের উপর হামলা ও লুটপাটের উদ্দেশ্যে রিসোর্ট এর জানালার গ্রিল ভেঙে ভিতরে প্রবেশ করে। এ সময় রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি টের পেয়ে ধাওয়া করলে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি কোস্ট গার্ডকে অবগত করে।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে সোমবার (৪ মে) বিকাল ৫টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা কর্তৃক উক্ত এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালে ঢাংমারী খাল সংলগ্ন এলাকা হতে ডাকাতি চেষ্টায় জড়িত থাকায় ২ জন দুষ্কৃতিকারী রাজন সরদার এবং রতন সরদারকে আটক করা হয়। তারা উভয়ই খুলনা জেলার দাকোপ উপজেলার বাসিন্দা।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা দীর্ঘদিন যাবৎ চুরি ও ছিনতাইয়ের সাথে জড়িত ছিল। আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাকোপ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে সর্বদা তৎপর রয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


রূপগঞ্জে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত সোমবার (৪ মে) গভীর রাতে উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার গভীর রাতে ওই বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল মাদক কারবারি জাহিদ হাসান জনি বিপুল পরিমাণ মাদক টয়লেটে ফেলে পালিয়ে যান। পরে জনির মা জোসনা বেগমের কক্ষে তল্লাশি চালিয়ে ৩ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- জোসনা বেগম (জাহিদ হাসান জনির মা) তালহা (জনির সহযোগী)।

ওসি এ এইচ এম সালাউদ্দিন জানান, মূল মাদক কারবারি জাহিদ হাসান জনিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।


অদম্য জুঁইয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে এলেন পলাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি   

জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে জয় করে স্বপ্নপূরণের পথে দৃঢ় পদক্ষেপে এগিয়ে চলেছে জুঁই মনি। ২০১২ সালে বাবাকে এবং ২০২১ সালে মাকে দুরারোগ্য ক্যান্সারে হারিয়েও থেমে থাকেনি তার পথচলা। অদম্য মনোবল, কঠোর পরিশ্রম এবং অটল ইচ্ছাশক্তির মাধ্যমে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে কুষ্টিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ অর্জন করেছে সে।

শিক্ষাবৃত্তি প্রদান: মঙ্গলবার (৫ মে) সকাল ১১টায় শেরপুর জেলা পরিষদের হলরুমে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে তার হাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য ১০,০০০ টাকার শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন জেলা পরিষদের সম্মানিত প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ।

এসময় তিনি বলেন, জুঁই মনি আমাদের শেরপুর তথা দেশের সম্পদ। তার সংগ্রাম, একাগ্রতা ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি সকল শিক্ষার্থীর জন্য অনুকরণীয়। আমি বিশ্বাস করি, সে ভবিষ্যতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়ে সমাজে একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।

জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দীপঙ্কর রায় বলেন, জুঁই মনির স্বপ্নপূরণের পথে পাশে থাকতে পেরে আমরা গর্বিত। আমরা চাই, সে সাফল্যের শিখরে পৌঁছে শেরপুরসহ সারাদেশের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠুক।

জুঁই মনির ভাই রিপন মিয়া জুঁইয়ের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


সড়কে ম্লান জয়ের আনন্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস প্রতিযোগিতায় জয়ের আনন্দ ম্লান হয়ে গেল সড়ক দুর্ঘটনায়। গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলা বালিকা ফুটবল দল গাজীপুর সদর দলকে হারিয়ে বিজয় নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। গত সোমবার (৪ মে) বিকেলে কালীগঞ্জ-টঙ্গী সড়কের পিপুলিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে অটোরিরকশা চালকসহ মোট ৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে ৪ জনই কালীগঞ্জ উপজেলা বালিকা ফুটবল দলের খেলোয়াড়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুর্ঘটনার পর আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়া হয়। আহত দুই ফুটবলারের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে অটোরিরকশাচালককে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এছাড়া আহত অপর দুই বালিকা ফুটবলার প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে গেছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেছেন এবং সড়ক নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।


৫ মাসেও তদন্তে নেই অগ্রগতি, অধরা হোতা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

২০২৫ সালের ৩০ নভেম্বর। দুপুর ১টার কাছাকাছি। খুলনার আদালত পাড়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে ঘটে যায় এক চাঞ্চল্যকর ডাবল হত্যাকাণ্ড। মোটরসাইকেলে থাকা এবং দাঁড়িয়ে থাকা দুই যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ঘটনার ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও মূল পরিকল্পনাকারী ও নির্দেশদাতাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত ও পরিকল্পনা: তদন্ত সংশ্লিষ্টদের মতে, ঘটনার আগের দিন, ২৯ নভেম্বর রাত ৮টার দিকে রূপসা উপজেলার রাজাপুর আইচগাতি ইউনিয়নের একটি অফিসে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়।

মূল পরিকল্পনাকারী: খুলনার একটি বিশেষ বাহিনীর প্রধানের আস্থাভাজন ইমরানের নেতৃত্বে এই মিশন সাজানো হয়।

ভাড়াটে খুনি: ওই রাতেই ভাড়া করা খুনিদের একত্রিত করা হয়, তবে কাকে হত্যা করা হবে তা সম্পূর্ণ গোপন রাখা হয়েছিল।

হত্যাকাণ্ডের দিন যা ঘটেছিল: সোনাডাঙ্গা মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি অস্ত্র মামলায় হাজিরা দিতে আসে ফজলে রাব্বি রাজন ও হাসিব হাওলাদার। বেলা ১১টায় তাদের আসার খবর ঘাতকদের কাছে পৌঁছায়। দুপুর সাড়ে ১২টার কিছুক্ষণ পর তারা সার্কিট হাউসের সামনে আদালত চত্বরের প্রবেশমুখের ডান পাশে অবস্থানকালে সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।

হামলার ধরন: দুজনকে লক্ষ্য করে পরপর ৬টি গুলি ছোড়া হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে পরে তাদের চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী চা বিক্রেতা জানান, ৮-৯ জনের একটি দক্ষ দল মাত্র তিন মিনিটের মধ্যে এই মিশন সম্পন্ন করে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও খুলনার থানার ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমান জানান, এ পর্যন্ত রিপন, এজাজ, চিংড়ি পলাশ, হৃদয় ও আলিফ হোসেন নামের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাইফি নামের আরেকজনকেও গ্রেপ্তারের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।

উদ্দেশ্য ও দ্বন্দ্ব: নিহত দুই যুবক খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের পুরস্কার ঘোষিত সন্ত্রাসী পলাশের সহযোগী ছিলেন। আধিপত্য বিস্তার ও মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে খুলনার একটি বিশেষ বাহিনীর সাথে তাদের দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার: বিস্ফোরিত চারটি গুলির খোসা, একটি চাপাতি, চাপাতির ভাঙ্গা অংশ এবং দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে।

ওসি (তদন্ত) মিজানুর রহমানের বক্তব্য : ঘটনার পরপর নিহতদের পরিবার ভয়ে মামলা করতে না চাইলে পুলিশ বাদী হয়ে নামপরিচয় না জানা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। সাক্ষীদের নিরাপত্তার অভাব এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের এগিয়ে না আসার কারণে তদন্তে কিছুটা ধীরগতি হয়েছে, তবে আমাদের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।"

নাগরিক সমাজের প্রতিক্রিয়া: খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, শহরের অলিগলিতে একের পর এক খুন হচ্ছে, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীরাও রক্ষা পাচ্ছেন না। দিনের আলোয় আদালতের সামনে প্রকাশ্য হত্যা এবং ৫ মাসেও তদন্তের অগ্রগতি না হওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত খুনিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।


বনের জমি দখল করে ইটভাটা, হুমকির মুখে পরিবেশ-জীববৈচিত্র্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ বিন হোছাইন (চকরিয়া- পেকুয়া) কক্সবাজার

কক্সবাজারের চকরিয়ায় সংরক্ষিত বনভূমি ও পাহাড় দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ ইটভাটায় হুমকির মুখে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে সংরক্ষিত বন এলাকায় শতাধিক অবৈধ ইটভাটা গড়ে উঠায় নষ্ট হচ্ছে বনাঞ্চল ও পরিবেশ।

জানা গেছে, উপজেলার ফাঁসিয়াখালী, লক্ষ্যারচর এবং সুরাজপুর-মানিকপুর সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকায় বনের জমি দখল করে গড়ে উঠেছে অন্তত ৩৬টি ইটভাটা। এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে সংরক্ষিত বনের গাছ। ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইন তোয়াক্কা না করেই লোকালয় ও বনের ভেতরে এসব কার্যক্রম চালাচ্ছে প্রভাবশালী চক্র।

স্থানীয়দের তথ্যমতে, প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদ করতে গেলে যৌথ বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এসব কারণে অনেক ক্ষেত্রে উচ্ছেদ অভিযান পূর্ণতা পাচ্ছে না। চকরিয়া ও ফাইতং সীমান্তবর্তী এলাকার অধিকাংশ ভাটারই পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বা বৈধ লাইসেন্স নেই।

এদিকে পাহাড় কাটা এবং বনের ভেতর ইটভাটা স্থাপনের ফলে বন্যহাতির বিচরণ পথ সংকুচিত হয়ে পড়েছে। ধোঁয়া ও উচ্চশব্দের কারণে প্রায়ই হাতিসহ অনেক বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। এতে আতংকিত হয়ে সাধারণ মানুষরা বন্য হাতির উপর হামলা ও হত্যার মতো ঘটনাও ঘটছে ।

সুরাজপুর-মানিকপুর এলাকার কৃষক আবদুল করিম বলেন, ‘আগে এখানকার পাহাড়গুলোতে সারা বছর সবুজ গাছপালা থাকত। এখন সকালে উঠলে শুধু কালো ধোঁয়া দেখি। ভাটায় কাঠ পোড়ানোর গন্ধে ঘরে থাকা দায় হয়ে পড়েছে। আমাদের ফসলি জমিগুলোতেও এখন আর আগের মতো ফলন হয় না, সব ধুলোবালিতে শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

ফাসিয়াখালী রেঞ্জসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, ‘ভাটাওয়ালারা যেভাবে পাহাড় কাটছে আর বনের গাছ পুড়ছে, তাতে বন্য হাতিগুলোর থাকার জায়গা নেই। মাঝেমধ্যেই রাতে হাতি লোকালয়ে নেমে আসে। আমরা সন্তানদের নিয়ে সবসময় আতঙ্কে থাকি। বন শেষ হলে তো আমরাও বাঁচব না।’

পরিবেশ অধিদপ্তরের কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে সম্প্রতি চকরিয়া উপজেলায় পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি কোর্ট মোবাইল পরিচালনা করা হয়। এ সময় উপজেলার উত্তর হারবাং এলাকার এসবিএম ব্রিকস নামে একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। এছাড়া এএমবি-১, এএমবি-২ ও এএমবি-৩ নামের তিনটি ইটভাটার কিলন ও চিমনি সম্পূর্ণভাবে ভেঙ্গে ফেলা হয়।

বন অধিদপ্তরও এ বিষয়ে সজাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি। আমাদের অঞ্চল নিয়ন্ত্রণে আছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা হয়েছে।’

স্থানীয়রা বলছেন, স্থায়ীভাবে এসব অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে বনভূমি রক্ষা করা হোক। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে চকরিয়া অঞ্চলের প্রাকৃতিক ভারসাম্য সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে।


banner close