দেশের অন্যতম পর্যটক আকর্ষণীয় এলাকা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিখ্যাত জাফলংয়ে সারা বছরই ভিড় করেন পর্যটকরা। তবে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলে দিন দিন সৌন্দর্য হারিয়ে মলিন হয়ে পড়ে জাফলং। কেবল জাফলিই নয়, একই অবস্থা পাথর কোয়ারি হিসেবে পরিচিত সিলেটের পর্যটন আকর্ষণীয় আরও পাঁচটি এলাকারও। ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকে এসব এলাকা থেকে চলছে নির্বিচারে পাথর লুট। কেবল জাফলং আর সাদাপাথর থেকেই লুট হয়েছে দুইশ কোটি টাকার পাথর। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও পাথর লুট থামানো যাচ্ছে না।
যদিও এলাকার পরিবেশের সুরক্ষা এবং পর্যটক আকর্ষণ ধরে রাখতে ২০১৬ সালে পাথর উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা জারি করে খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। তারও আগে ২০১২ সালে জাফলংয়ের পিয়াইন নদীসহ ১৫ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ-সংক্রান্ত গেজেটে বলা হয়, ‘অপরিকল্পিতভাবে যেখানে সেখানে পাথর উত্তোলন ও নানা কার্যকলাপের ফলে সিলেটের জাফলং-ডাউকি নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থা সংকটাপন্ন, যা ভবিষ্যতে আরো সংকটাপন্ন হবে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ইসিএভুক্ত এলাকায় যান্ত্রিক বা ম্যানুয়াল কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে পাথরসহ অন্য যেকোনো খনিজসম্পদ উত্তোলন নিষিদ্ধ।’
জানা যায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম কিছুদিন প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে কেবল জাফলং ও সাদাপাথর পর্যটন এলাকা থেকেই প্রায় দুইশ’ কোটি টাকার পাথর লুটে নিয়েছে লুটপাটকারীরা। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনার পরও থেমে না থেকে জাফলং-সাদাপাথরসহ সব কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আন্দোলনে নেমেছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এ জন্য নতুন সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে চলছেন তারা। অপরদিকে, পরিবেশকর্মীদের পক্ষ থেকে পাথর লুটপাট বন্ধ ও লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিবেশ ও পর্যটন সুরক্ষার দাবি উঠেছে। ফলে সরকার পরিবর্তনের পর আরবারও প্রশ্ন উঠেছে- পাথর উত্তোলন নাকি পরিবেশ ও পর্যটনের সুরক্ষা- কোনো পথে হাঁটবে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েকবছর বন্ধ ছিলো পাথর উত্তোলন। ফলে জাফলংয়ের পিয়াইন ও কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীর উৎসমুখে (সাদাপাথর) বিপুল পরিমাণ পাথর মজুদ হয়। স্রোতের তোড়ে উজান থেকে আসা পাথর স্তরে স্তরে মজুদ হয় দুই নদীর উৎসমুখে। এসব পাথরের কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে জাফলং ও সাদাপাথরে পর্যটক সমাগম বাড়ছিলো।
এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, সরকার পতনের পর প্রথম তিনদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেকটা নিস্ত্রিয় ছিল। এই সুযোগে জাফলং থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। আর কোম্পানিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সুলতানার ভাষ্যমতে, সাদাপাথর থেকে লুট হয়েছে ২০ কোটি টাকার পাথর। যদিও স্থানীয়দের দাবি, দুই কোয়ারি থেকে ১৪০ কোটি নয়, দুইশ কোটি টাকার ওপরে পাথর লুট হয়েছে। কোয়ারি থেকে পাথর ও বালু লুটের ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় ৩টি ও কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১টি মামলা দায়ের হলেও মূলহোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই কোয়ারিতে বালু ও পাথর লুটের সাথে জড়িত প্রভাবশালীদের বেশিরভাগ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। জাফলংয়ের পিয়াইন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের প্রমাণ পেয়ে দলীয় পদ হারান জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম শাহপরাণ। এছাড়া পাথর লুটের সাথে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সদ্য অপসারিত চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম স্বপন, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বক্সের নাম জড়িয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, মামলা আর অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ- কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না পাথর লুট। গত ৬ নভেম্বর সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনেও এমন অভিযোগ করা হয়। মো. ইসমাইল হোসেন নামে জাফলংয়ের এক ব্যক্তি ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের মদদে চলছে পাখর লুট।
এদিকে পাথর উত্তোলনের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জাফলং ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সামাজিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন খাঁন আনু বলেন, জাফলংসহ সকল পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন, সংগ্রহ ও সরবরাহ করে দেশের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এই পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। বেকার হয়ে পড়েছে পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক। তিনি বলেন, প্রতি বছরই ঢলের সাথে প্রচুর পাথর ভারত থেকে এই এলাকায় এসে জমা হয়। এসব পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় নদীর উৎসমুখ বন্ধ হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ঘনঘন বন্যা দেখা দিচ্ছে। তাই পরিবেরে স্বার্থেই পাথর উত্তোলন করা প্রয়োজন।
জাফলং স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বখত বলেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় প্রতি বছরই ভারত থেকে প্রচুর পরিমান পাথর আমদানি করতে হচ্ছে। এতে ডলার সংকট আরও বাড়ছে। বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে লুটপাট করে জাফলং ও সাদপাথরকে পাথরশূন্য করে ফেলা হয়েছে। এখন আবার পাথর উত্তোলনের দাবিতে মাঠে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের এই দাবি মানা হলে এসব পর্যটন এলাকা আবার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।
পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক আশারুল কবির বলেন, দেশে চাহিদার খুব সল্প সংখ্যক পাথর সিলেটের কোয়ারিগুলোতে পাওয়া যায়। ফলে বড় অংশই ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। তাই পাথর কোয়ারি খুলে দিলে আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে এমন দাবি সত্য নয়। কোয়ারি সচল হলে কিছু মানুষ আর্থিকভাবে লাভভান হতে পারেন কিন্তু দেশের বিরাট ক্ষতি হবে। এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহমুদ মুরাদ জানিয়েছেন, পাথর কোয়ারি সচল করা হবে কি না এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত সরকার থেকে এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ফলে যারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একটি গোষ্ঠী বালু পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে জাফলংয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।
সীতাকুণ্ডে সড়ক দুর্ঘটনায় ১ নারী নিহত হয়েছে আহত হয়েছে ২৫ জন । গত রবিবার রাত নয়টা চল্লিশে যাত্রীবাহী বাস, ডাম্প ট্রাক, মাইক্রোবাস ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মধ্যে চতুর্মুখী সংঘর্ষ হয় ।
গত রবিবার (৩১ মে) রাত নয়টা চল্লিশে সীতাকুণ্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকায় চট্টগ্রামমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
দূর্ঘটনায় নিহত নারীর নাম জারিয়া বেগম (৪৫)। তিনি উপজেলার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের স্হানীয় মিয়ারজীপাড়া এলাকার জহুরুল আলমের স্ত্রী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্হানীয় সূত্রে জানাগেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামমুখী সৌদিয়া পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস দ্রুত গতিতে বাড়বকুণ্ড বাজার এলাকা অতিক্রমকালে মহাসড়কে ওঠা একটি যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসকে পেছন থেকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এ সময় সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা জারিয়া বেগম বাসের চাপায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন।
দুর্ঘটনার পর বাসটি মহাসড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে যায় । সাথে সাথে একইমুখী একটি ডাম্প ট্রাক বাসটির পেছনে ধাক্কা দেয়। পরে ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পূর্ব পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে চাপা দেয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ট্রাকটি রাস্তার পাশের মোহাম্মদীয়া বেকারির ভেতরে আংশিক ঢুকে পড়ে।
এতে বাস, মাইক্রোবাস ও অটোরিকশার যাত্রী, পথচারীসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে । এই ঘটনায় ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে দীর্ঘক্ষন যানযটের সৃষ্টি হয়।
বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম হক বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর সীতাকুণ্ড এবং কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সীতাকুণ্ড সাস্হ্য কমপ্লেক্স সহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত বাস, মাইক্রোবাস, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও ডাম্প ট্রাক সরিয়ে যান চলাচলে স্বাভাবিক করা হয়েছে। রাতেই পলাতক চালকদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে ।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এটিএম আমিনুর রহমান টুটুলের বাসায় সংঘটিত দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় জড়িত মূল চোর রনি মির্জাকে (২৮) গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার কাছ থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
আজ সোমবার (১ জুন) বিকেলে গ্রেফতারকৃত আসামিকে সিরাজগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত রনি মির্জা তাড়াশ থানা পাড়া এলাকার মৃত সুলতান মির্জার ছেলে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বিএনপি নেতা এটিএম আমিনুর রহমান টুটুলের বাসায় একটি দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটে। চোর চক্র বাসা থেকে মূল্যবান মালামাল ও জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর থেকেই তাড়াশ থানা পুলিশ চোর শনাক্তকরণ ও মালামাল উদ্ধারে জোরালো অভিযানে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ রনি মির্জাকে গ্রেফতার করে এবং তার হেফাজত থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
এই বিষয়ে তাড়াশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো হাবিবুর রহমান বলেন, "বিএনপি নেতা টুটুল সাহেবের বাসায় চুরির ঘটনাটি জানার পরপরই আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করি। আমাদের চৌকস টিম দ্রুততম সময়ের মধ্যে চুরির রহস্য উদঘাটন করে মূল আসামিকে গ্রেফতার করেছে এবং চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অপরাধী যেই হোক, তাকে ছাড় দেওয়া হবে না। আজ বিকেলেই আসামিকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে চুরির রহস্য উদঘাটন এবং দ্রুততম সময়ে চোর গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার হওয়ায় তাড়াশ থানা পুলিশকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
দক্ষিণ আফ্রিকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্তের গুলিতে ঝুমুর কর্মকার নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গত শনিবার (৩০ মে) স্থানীয় সময় রাত ৯টার দিকে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ঝুমুর কর্মকার নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার বজরা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো ঘটনার সময়ও ঝুমুর কর্মকার কোয়াজুলু-নাটাল প্রদেশে অবস্থিত তার নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। দোকান বন্ধ করার ঠিক আগমুহূর্তে একদল সশস্ত্র ডাকাত সেখানে অতর্কিতে প্রবেশ করে। দুর্বৃত্তরা দোকানে থাকা নগদ টাকা ও মূল্যবান মালামাল লুটে নেওয়ার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে ডাকাত দল ঝুমুর কর্মকারকে লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়লে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর দেশে পৌঁছানোর পর নিহতের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনার একটি সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন এবং এর সাথে জড়িত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
এই মর্মান্তিক ঘটনার বিষয়ে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আকতার গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনাটিকে অত্যন্ত বেদনাদায়ক উল্লেখ করে তিনি নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। একই সাথে প্রবাসীর মরদেহ দ্রুত ও সসম্মানে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারিভাবে প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
ঈদের আনন্দ শেষে আবারও কর্মব্যস্ত জীবনে ফেরার পালা। প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন শেষে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে লাখো মানুষ। আর সেই প্রভাব পড়েছে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট ও ফেরিঘাটে।
সোমবার (১ জুন) সকাল থেকেই ঘাট এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়তে দেখা যায়। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেলের সংখ্যাও ছিল উল্লেখযোগ্য। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই চাপ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটেও যাত্রীদের চাপ দেখা গেছে। ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে ঘাট কর্তৃপক্ষ বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে। যানজট ও পারাপারের সময় কমাতে বাসের যাত্রীদের আগে নামিয়ে আলাদা করে পারাপারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং খালি বাস ফেরিতে তোলা হচ্ছে। নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে নৌপুলিশ এবং ঘাট-সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থা।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় দৌলতদিয়া ঘাট দিয়ে ৪৯২টি যাত্রীবাহী বাস, ১৮১টি ট্রাক, ২৩৮৪টি মোটরসাইকেল ও ১২৪৪টি ছোট গাড়ি (মাইক্রোবাস) নদী পার হয়ে পাটুরিয়া ঘাটে গিয়েছে।
বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ১৫টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে নিয়োজিত রয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত কোন ধরনের কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি।
ঘাটে আসা যাত্রী ও চালকদের অনেকেই জানিয়েছেন, ঈদের আগে যেমন দীর্ঘ অপেক্ষা বা যানজটের মুখে পড়তে হয়নি, তেমনি ফেরার পথেও এখন পর্যন্ত যাত্রা স্বস্তিদায়ক রয়েছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন জানান, ঢাকামুখী যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কিছুটা বেড়েছে ঠিকই, তবে দৌলতদিয়া প্রান্তে পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরা মানুষের এই ধীরগতির স্রোত আগামী কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে। তবে ফেরি ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকায় আপাতত স্বস্তিতেই যাত্রা করছেন ঘরমুখো থেকে কর্মমুখী হওয়া মানুষজন।
মানিকগঞ্জে ডাকাত সর্দার ও চাঁদাবাজ সজিব হোসেন হত্যা মামলায় জড়িত সন্দেহে গ্রেফতার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আলীমকে মুক্তির দাবীতে থানা ঘেরাও ও শহরের বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।
রোববার (৩১ মে) দিবাগত রাতে সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের বালিয়াবিল এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃত আব্দুল আলীম সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য এবং পুটাইল ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি।
এরপর সোমবার (০১ জুন) সকালে গ্রেফতারের বিষয়টি জানতে পেরে বেলা ১২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর থানা ঘেরাও করে থানার সামনে অবস্থান নেন বালিয়াবিল এলাকার শতাধিক নারী-পুরুষসহ এলাকাবাসী। তারপর দুপুরে তার মুক্তির দাবীতে মানিকগঞ্জ শহরের শহীদ রফিক সড়কের বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব চত্ত্বরে ঘন্টাব্যাপী অবস্থান কর্মসূচী পালন শেষে আদালত চত্ত্বরে অবস্থান নেন তারা। এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে থানাসহ বিভিন্ন জায়গায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে গত শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পুটাইল ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর এলাকায় সজিব হোসেনের বাড়ি ঘেরাও করে স্থানীয় বিভিন্ন এলাকার কয়েকশ এলাবাকাসী। এরপর ঘরে ঢুকে সজিবকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করে। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়। পরে এঘটনায় রোববার সন্ধায় নিহতের ভাই নাঈমুর রহমান রাজিব বাদি হয়ে ১০০ থেকে ১৫০জনকে অজ্ঞাত আসামী করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পরে ওই মামলায় জড়িত সন্দেহে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল আলীমকে গ্রেফতার করে সদর থানা পুলিশ।
বালিয়াবিল এলাকার মোক্তার হোসেন ও নুরজাহান বেগম বলেন, নিহত সবিজ হোসেনের কারণে পুটাইল ইউনিয়নের মানুষ খুব অশান্তিতে ও বিপদে ছিল। সে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা করতো। এছাড়া বিভিন্ন সময় ডাকাতি করতে গিয়ে ধরাও খেয়েছে সজিব হোসেন। এলাকার ছোট থেকে বড় সবাই তাকে ভয় করে চলতো।
একই এলাকার শাহাজুদ্দিন বলেন, সজিবের কারণে ওর বাবা-মাও বিপদে ছিল। মাঝেমধ্যেই ওর বাবা-মাকে মারধর করতো। যে দিন এলাকাবাসী বাড়ি ঘেরাও করে, সেদিন ওর বাবা-মা সজিবের ঘরের তালা খুলে দিয়েছিল। যখন সজিবকে মারধর করে, তখন ওর বাবা-মাও বাঁধা দেয়নি।
এবিষয়ে মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো.ইকবাম হোসেন জানান, মামলার পর প্রাথমিক তদন্তে আব্দুল আলীম জড়িত থাকায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এরপর আইনগত প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে তাকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আব্দুল আলীমের মুক্তির দাবীতে এলাকাবাসী থানার সামনে বিক্ষোভ মিছিল করেন বলেও তিনি জানান।
প্রসঙ্গত, নিহত সবিজ হোসেনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ অপরাধমূলক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা আছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম। তিনি বলেন, এলাকার সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরতে সাংবাদিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বস্তুনিষ্ঠ ও গঠনমূলক সংবাদ উন্নয়নকে আরও গতিশীল করতে সহায়তা করে।
সোমবার (১ জুন) দুপুরে বোরহানউদ্দিন উপজেলা বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাফরুজা সুলতানার উপস্থিতিতে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় উপজেলার প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক, উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সরোয়ার আলম খান অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন। এ সময় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব কাজী মো. আজম, যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মঞ্জুরুল আলম ফিরোজ, কাজী শহীদুল আলম নাসিমসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় এমপি হাফিজ ইব্রাহিম বোরহানউদ্দিনের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, উপজেলার বিদ্যমান গ্যাস সম্পদকে কাজে লাগিয়ে গ্যাসভিত্তিক শিল্প-কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। পাশাপাশি এলাকায় আরও একটি গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।
তিনি বলেন, যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে বোরহানউদ্দিনে একটি আধুনিক স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন।
পৌর বাজারের দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন সংসদ সদস্য। তিনি জানান, অতীতে উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিভিন্ন কারণে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। নতুন পরিকল্পনার মাধ্যমে এ কাজ এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপজেলার ৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সাংবাদিকদের সহযোগিতা কামনা করে এমপি হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, “গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। আমি সবসময় সাংবাদিকদের মতামতকে গুরুত্ব দিতে চাই এবং জনগণের কল্যাণে একসঙ্গে কাজ করতে চাই।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও দৈনিক খবরপত্রের সম্পাদক মাফরুজা সুলতানা বলেন, “সাংবাদিকতার মূল শক্তি সত্য ও নিরপেক্ষতা। কোনো ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।” তিনি সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে সততা ও নৈতিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি। সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে ও স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ ও সংবাদ প্রকাশ করতে পারেন, সে পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতাও জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানের শেষে উপস্থিত সাংবাদিকরা জানান, বোরহানউদ্দিনে এই প্রথম কোনো সংসদ সদস্য সাংবাদিকদের নিয়ে আনুষ্ঠানিক ‘মিট দ্য প্রেস’ আয়োজন করেছেন। এ উদ্যোগকে তারা ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করে ভবিষ্যতেও এমন মতবিনিময় সভা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় নানিবাড়ি বেড়াতে এসে ডাহুক নদীতে গোসল করতে গিয়ে,জলে ডুবে কিশোর মুন্নাফ (১৪) নামে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) সকালে তেতুলিয়া উপজেলার ৪ নং শালবাহান ইউনিয়নের সানু বালবাড়ি গ্রামে ঘটে এ ঘটনাটি । নিহত কিশোর মোঃ মুন্নাফ তিরনইহাট ইউনিয়নের রওশনপুর এলাকার তজিমুল হকের ছেলে।
স্বজনরা জানান, মুন্নাফ তার বাবার সাথে ঢাকায় থাকতো। ঈদুল আজহা উপলক্ষে সানু বালবাড়ি গ্রামে নানির বাড়িতে বেড়াতে আসে, সকালে বন্ধুদের সাথে নদীতে গোসল করতে করতে যান। সে কিশোর সাঁতার না জানায় তলিয়ে যায় গভীর পানিতে।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি লাইছুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
এ ঘটনায় ওই এলাকাজুড়ে বইছে শোকের ছায়া । ঈদের আনন্দের মাঝে এই শোক যেন পাথর হয়ে নেমেছে পরিবারটির ওপর।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে উপজেলার নিশ্চিন্তা-চাঁনপাড়া আঞ্চলিক সড়কের খড়িকাটা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, কালাই উপজেলার সরাইল গ্রামের তাজুল ইসলাম খন্দকারের ছেলে ইমন সরকার (৩০) ও তার শ্যালক হারুঞ্জা গ্রামের সামছুল ইসলামের ছেলে ফেরদৌস হোসেন (১২)। আহত হয়েছেন ইমনের স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদ উপলক্ষে আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে করে রওনা হন ইমন সরকার, তার স্ত্রী ও শ্যালক ফেরদৌস। পথে খড়িকাটা এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে ছিঁটকে পড়ে যায়। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ ভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইমন সরকার ও ফেরদৌস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত হন ইমনের স্ত্রী।
স্থানীয়রা জানান, ধান কাটার মৌসুমে ওই আঞ্চলিক সড়কের বিভিন্ন স্থানে খড় ও ধান শুকানোর জন্য রাস্তার ওপর ছড়িয়ে রাখা হয়। সড়কে ছড়িয়ে থাকা খড়ের কারণে মোটরসাইকেলটি পিছলে নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ক্ষেতলাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোক্তাদুল ইসলাম বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে এবং ভালোভাবে জীবনযাপনের আশায় গত ৭ মে রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আমিনুল ইসলাম (৩০), পবিত্র চন্দ্র (৩৫) ও নজরুল ইসলাম (৪০)। রাশিয়ায় পৌঁছানোর পরপরই শেষবারের মতো পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করার সুযোগ পান তারা। এরপর তাদের মোবাইল ফোন নিয়ে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে বলে ঈদের রাতে কৌশলে পরিবারকে জানান মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি আরও জানান, দ্রুত তাদের উদ্ধার না করা হলে যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
জানা যায়, রাজধানীর নিকুঞ্জ-২ এলাকায় অবস্থিত জাবাল-ই-নূর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড (রিক্রুটিং লাইসেন্স নং: ২৫০৫) এজেন্সির মাধ্যমে কনস্ট্রাকশন ভিসায় রাশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার দক্ষিণ পাথালিয়া গ্রামের মৃত কছর উদ্দিনের ছেলে মো. আমিনুল ইসলাম। তার পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিনটি ছোট সন্তান।
একই দিনে মজিদপুর গ্রামের পরেশ চন্দ্র সূত্রধরের একমাত্র ছেলে পবিত্র চন্দ্র তার বৃদ্ধ বাবা-মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে রেখে যান। এছাড়া বীর নলহরা গ্রামের মৃত ইসমাইলের ছেলে নজরুল ইসলাম তার বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও চার সন্তানকে রেখে যান।
তারা সবাই নিজেদের শেষ সম্বল বিক্রি করে, সুদে টাকা নিয়ে এবং ঋণ করে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা এজেন্সিকে প্রদান করেছেন।
অভিযোগ রয়েছে, জুলিয়া নামের এক নারীর মাধ্যমে ওই দিন ৩০ জনকে রাশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে একটি হলরুমে রাশিয়ান আর্মির পক্ষ থেকে তাদের ব্রিফ করার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া গেছে। ওই ভিডিওতে সেই নারীকে ব্রিফিংয়ে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
সরেজমিনে তিনটি পরিবারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের দিনেও প্রতিটি বাড়িতে কান্নার রোল পড়েছে। সব পরিবারের একই প্রশ্ন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তির কোনো ক্ষতি হলে তাদের সংসার কীভাবে চলবে, সন্তানদের দেখাশোনা করবে কে?
পরিবারগুলোর দাবি, সরকার দ্রুত উদ্যোগ নিয়ে তাদের উদ্ধার করুক এবং প্রতিশ্রুত সঠিক কর্মস্থলে পাঠানোর ব্যবস্থা করুক।
এ ঘটনার পর থেকে এজেন্সিটির অফিস বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে এজেন্সির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান তাদের আর্মিতে দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে প্রতিবেদককে বলেন, আগামী মঙ্গলবারের মধ্যেই তাদের আর্মি থেকে ফিরিয়ে আনা হবে। এরপর তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারবেন। তিনি পরিবারগুলোকে উদ্বিগ্ন না হওয়ার অনুরোধ জানান।
এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের ওয়েলফেয়ার সেন্টারের দায়িত্বরত কর্মকর্তা সাকিব মাহমুদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ৩০ জনকে উদ্ধারের বিষয়ে কাজ চলছে।
হবিগঞ্জের মাধবপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১২০ কেজি গাঁজাসহ একটি পিকআপ ভ্যান আটক করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনের অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মাধবপুর থানার এসআই প্রদীপের নেতৃত্বে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাধবপুর ডাকবাংলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে একটি পিকআপ ভ্যান তল্লাশি করে পানির ফিল্টারের ভেতরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা ১২০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলার রাইচরণ দাশের ছেলে রিপন দাশ (৩২)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাধবপুর উপজেলার পূর্বাঞ্চলের সৈয়দ মিয়ার বাড়ি এলাকা থেকে গাঁজার চালানটি পিকআপ ভ্যানে তোলা হয়েছিল। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদকসহ গাড়িটি আটক করা হয়।
মাধবপুর ওসি তদন্ত গোলাম মোস্তফা বলেন, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে । মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”
এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
খুলনা জেলা পরিষদের উদ্যোগে ফুলতলা, ডুমুরিয়া, বটিয়াঘাটা ও কয়রা উপজেলার ৩০ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর মাঝে সাইকেল বিতরণ করা হয়েছে।
আজ সোমবার (০১ জুন)সকাল ১১:০০ টায় নিজস্ব অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজগর লবি। প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসক এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পি।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আরও মনোযোগী হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান। তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে জেলা পরিষদের এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠান শেষে চার উপজেলার নির্বাচিত ৩০ জন মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সাইকেলের চাবি ও সাইকেল তুলে দেন অতিথিরা। এ সময় শিক্ষার্থী, অভিভাবক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
এই সাইকেল বিতরণ কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত সহজ করার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা কার্যক্রমে আরও উৎসাহ যোগাবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।
জীবননগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন মামলার ৪ আসামীকে গ্রেফতার করেছে। রোববার দিনগত রাতে জীবননগর উপজেলার পৌর এলাকায় পৃথক জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন, জীবননগর পৌরসভার গোপালনগর গ্রামের তাহাজ্জের হোসেনের ছেলে ফিরোজ হোসেন (২৯), একই গ্রামের আবু বক্করের ছেলে সাজ্জাদুল ইসলাম (৩৬), মৃত মাহাতাব উদ্দিনের ছেলে মশিয়ার রহমান (৪৫) ও কালীগঞ্জ থানার কাশিপুর গ্রামের মোজেয়ার চৌধুরীর ছেলে মিন্টুকে (৪২) জীবননগর হাসপাতাল পাড়া থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, জীবননগরে মাদক নির্মুল করতে নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযানের অংশ হিসেবে গতরাতে ৪ আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে। সোমবার সকালে আসামীদেরকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলা অবস্থিত দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্র দীর্ঘদিন ধরে যান্ত্রিক ত্রুটি, অগ্নিকাণ্ড ও প্রযুক্তিগত জটিলতায় ভুগছে। কেন্দ্রটির একাধিক ইউনিট আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকায় পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। এতে সরকারের সম্ভাব্য আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৪০ হাজার কোটি টাকারও বেশি ছাড়িয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি।
তথ্য অনুযায়ী, কেন্দ্রটির দুটি প্রধান ইউনিটের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় প্রতিদিন প্রায় ১৮ কোটি টাকার সম্ভাব্য ক্ষতি হচ্ছে। দীর্ঘ ছয় বছরের অচলাবস্থা, উৎপাদন ঘাটতি ও মেরামত ব্যয় মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে।
২০১৭ সালে প্রায় ৮৯০ কোটি টাকা ব্যয়ে শাহজীবাজারে ১০০ মেগাওয়াট গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০২০ সালে উৎপাদনে যাওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন হয়নি। পরে পরীক্ষামূলক উৎপাদনের সময় টারবাইনের ব্লেড ভেঙে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। একাধিকবার মেরামতের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান হয়নি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের এপ্রিলে একই ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে কেন্দ্রটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কেন্দ্রটি নিয়মিত চালু থাকলে প্রতিদিন প্রায় ২ কোটি টাকার বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হতো। কিন্তু গত ছয় বছরে এটি মাত্র ৬৭ দিন চালু ছিল। ফলে শুধু এই ইউনিট থেকেই সম্ভাব্য ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে।
১০০ মেগাওয়াট কেন্দ্রের প্রকল্প ব্যবস্থাপক এ কে মফিজউদ্দিন আহমেদ জানান, প্রকল্পের মোট বিলের প্রায় ৭০ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬০০ কোটি টাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে। তবে কাজ সম্পূর্ণ না হওয়ায় প্রায় ৯০ কোটি টাকা আটকে রাখা হয়েছে।
তার ভাষ্য, ব্যবহৃত টারবাইনটি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হলেও এখানে কেন বারবার ত্রুটি দেখা দিচ্ছে, তা বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে দেখছেন।
তিনি জানান, যান্ত্রিক ত্রুটি নিরসনের কাজ চলছে। আগামী ২৭ জুনের মধ্যে কেন্দ্রটি পুনরায় চালুর আশা করা হচ্ছে। চালু হলে জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
অন্যদিকে প্রায় ২ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৩৩০ মেগাওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রও বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। উদ্বোধনের আগেই একটি ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যায়। পরে ২০২২ সালের ২৯ মে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে আরও দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে গেলে কেন্দ্রটির উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
বর্তমানে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট থেকে ১০০ থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে প্রতিদিন প্রায় ৮ কোটি টাকার সাশ্রয় হচ্ছে। তবে বাকি ইউনিটগুলো বন্ধ থাকায় সম্ভাব্য আরও ১৬ কোটি টাকার সাশ্রয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।
শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান জানান, গত এক মাস ধরে একটি ইউনিট চালু রাখা সম্ভব হয়েছে। বাকি ইউনিটগুলো সচল করা গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে।
বর্তমানে শাহজীবাজার বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৪৯০ মেগাওয়াট উৎপাদন সক্ষমতার মধ্যে তিনটি ইউনিট আংশিকভাবে চালু রয়েছে। এসব ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে প্রায় ১৮৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রটির সব ইউনিট দ্রুত সচল করা না গেলে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। একই সঙ্গে জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর চাপও অব্যাহত থাকবে।