বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২২ মাঘ ১৪৩২

নির্বিচারে পাথর লুটে বিবর্ণ প্রকৃতির লীলাভূমি

৫ আগস্টের পর জাফলং ও সাদাপাথর এলাকা থেকে ২০০ কোটি টাকার পাথর লুট
পাথর উত্তোলনের ফলে দিন দিন সৌন্দর্য হারিয়ে যাচ্ছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:৩৫
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত
দেবাশীষ দেবু, সিলেট
প্রকাশিত : ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১১:৩৪

দেশের অন্যতম পর্যটক আকর্ষণীয় এলাকা সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলং। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমিখ্যাত জাফলংয়ে সারা বছরই ভিড় করেন পর্যটকরা। তবে নির্বিচারে পাথর উত্তোলনের ফলে দিন দিন সৌন্দর্য হারিয়ে মলিন হয়ে পড়ে জাফলং। কেবল জাফলিই নয়, একই অবস্থা পাথর কোয়ারি হিসেবে পরিচিত সিলেটের পর্যটন আকর্ষণীয় আরও পাঁচটি এলাকারও। ৫ আগস্ট ক্ষমতার পালাবদলের পর থেকে এসব এলাকা থেকে চলছে নির্বিচারে পাথর লুট। কেবল জাফলং আর সাদাপাথর থেকেই লুট হয়েছে দুইশ কোটি টাকার পাথর। প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান সত্ত্বেও পাথর লুট থামানো যাচ্ছে না।

যদিও এলাকার পরিবেশের সুরক্ষা এবং পর্যটক আকর্ষণ ধরে রাখতে ২০১৬ সালে পাথর উত্তোলন বন্ধের নির্দেশনা জারি করে খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। তারও আগে ২০১২ সালে জাফলংয়ের পিয়াইন নদীসহ ১৫ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এ-সংক্রান্ত গেজেটে বলা হয়, ‘অপরিকল্পিতভাবে যেখানে সেখানে পাথর উত্তোলন ও নানা কার্যকলাপের ফলে সিলেটের জাফলং-ডাউকি নদীর প্রতিবেশ ব্যবস্থা সংকটাপন্ন, যা ভবিষ্যতে আরো সংকটাপন্ন হবে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। ইসিএভুক্ত এলাকায় যান্ত্রিক বা ম্যানুয়াল কিংবা অন্য কোনো পদ্ধতিতে পাথরসহ অন্য যেকোনো খনিজসম্পদ উত্তোলন নিষিদ্ধ।’

জানা যায়, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম কিছুদিন প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে কেবল জাফলং ও সাদাপাথর পর্যটন এলাকা থেকেই প্রায় দুইশ’ কোটি টাকার পাথর লুটে নিয়েছে লুটপাটকারীরা। এতে স্থানীয় বিএনপি নেতারা জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনার পরও থেমে না থেকে জাফলং-সাদাপাথরসহ সব কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে আন্দোলনে নেমেছেন ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এ জন্য নতুন সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে চলছেন তারা। অপরদিকে, পরিবেশকর্মীদের পক্ষ থেকে পাথর লুটপাট বন্ধ ও লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করে পরিবেশ ও পর্যটন সুরক্ষার দাবি উঠেছে। ফলে সরকার পরিবর্তনের পর আরবারও প্রশ্ন উঠেছে- পাথর উত্তোলন নাকি পরিবেশ ও পর্যটনের সুরক্ষা- কোনো পথে হাঁটবে সরকার।

মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞার কারণে গত কয়েকবছর বন্ধ ছিলো পাথর উত্তোলন। ফলে জাফলংয়ের পিয়াইন ও কোম্পানীগঞ্জের ধলাই নদীর উৎসমুখে (সাদাপাথর) বিপুল পরিমাণ পাথর মজুদ হয়। স্রোতের তোড়ে উজান থেকে আসা পাথর স্তরে স্তরে মজুদ হয় দুই নদীর উৎসমুখে। এসব পাথরের কারণেই সাম্প্রতিক সময়ে জাফলং ও সাদাপাথরে পর্যটক সমাগম বাড়ছিলো।

এ ব্যাপারে গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদুল ইসলাম জানান, সরকার পতনের পর প্রথম তিনদিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনেকটা নিস্ত্রিয় ছিল। এই সুযোগে জাফলং থেকে প্রায় ১২০ কোটি টাকার পাথর লুট হয়েছে। আর কোম্পানিগঞ্জের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবিদা সুলতানার ভাষ্যমতে, সাদাপাথর থেকে লুট হয়েছে ২০ কোটি টাকার পাথর। যদিও স্থানীয়দের দাবি, দুই কোয়ারি থেকে ১৪০ কোটি নয়, দুইশ কোটি টাকার ওপরে পাথর লুট হয়েছে। কোয়ারি থেকে পাথর ও বালু লুটের ঘটনায় গোয়াইনঘাট থানায় ৩টি ও কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১টি মামলা দায়ের হলেও মূলহোতারা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, দুই কোয়ারিতে বালু ও পাথর লুটের সাথে জড়িত প্রভাবশালীদের বেশিরভাগ বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। জাফলংয়ের পিয়াইন নদী থেকে অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলনের প্রমাণ পেয়ে দলীয় পদ হারান জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য রফিকুল ইসলাম শাহপরাণ। এছাড়া পাথর লুটের সাথে গোয়াইনঘাট উপজেলা পরিষদের সদ্য অপসারিত চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক কোষাধ্যক্ষ শাহ আলম স্বপন, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আমজাদ বক্সের নাম জড়িয়েছে। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান, মামলা আর অভিযুক্ত বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ- কোনো কিছুতেই থামানো যাচ্ছে না পাথর লুট। গত ৬ নভেম্বর সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনেও এমন অভিযোগ করা হয়। মো. ইসমাইল হোসেন নামে জাফলংয়ের এক ব্যক্তি ওই সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতাদের মদদে চলছে পাখর লুট।

এদিকে পাথর উত্তোলনের সপক্ষে যুক্তি দিয়ে জাফলং ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও সামাজিক ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন খাঁন আনু বলেন, জাফলংসহ সকল পাথর কোয়ারি থেকে পাথর উত্তোলন, সংগ্রহ ও সরবরাহ করে দেশের কয়েক লক্ষাধিক মানুষ জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। এই পাথর কোয়ারি বন্ধ থাকায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতির সম্মুখীন হয়ে পড়েছেন। বেকার হয়ে পড়েছে পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও শ্রমিক। তিনি বলেন, প্রতি বছরই ঢলের সাথে প্রচুর পাথর ভারত থেকে এই এলাকায় এসে জমা হয়। এসব পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় নদীর উৎসমুখ বন্ধ হয়ে সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে ঘনঘন বন্যা দেখা দিচ্ছে। তাই পরিবেরে স্বার্থেই পাথর উত্তোলন করা প্রয়োজন।

জাফলং স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বখত বলেন, পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকায় প্রতি বছরই ভারত থেকে প্রচুর পরিমান পাথর আমদানি করতে হচ্ছে। এতে ডলার সংকট আরও বাড়ছে। বেলার সিলেট বিভাগীয় সমন্বয়ক শাহ সাহেদা আখতার বলেন, ৫ আগস্টের পর থেকে লুটপাট করে জাফলং ও সাদপাথরকে পাথরশূন্য করে ফেলা হয়েছে। এখন আবার পাথর উত্তোলনের দাবিতে মাঠে নেমেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের এই দাবি মানা হলে এসব পর্যটন এলাকা আবার ধ্বংসস্তূপে পরিণত হবে।

পরিবেশবাদী সংগঠন ভূমিসন্তান বাংলাদেশের সমন্বয়ক আশারুল কবির বলেন, দেশে চাহিদার খুব সল্প সংখ্যক পাথর সিলেটের কোয়ারিগুলোতে পাওয়া যায়। ফলে বড় অংশই ভারত থেকে আমদানি করতে হয়। তাই পাথর কোয়ারি খুলে দিলে আমদানি বন্ধ হয়ে যাবে এমন দাবি সত্য নয়। কোয়ারি সচল হলে কিছু মানুষ আর্থিকভাবে লাভভান হতে পারেন কিন্তু দেশের বিরাট ক্ষতি হবে। এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহমুদ মুরাদ জানিয়েছেন, পাথর কোয়ারি সচল করা হবে কি না এটি সরকারের উচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে এখন পর্যন্ত সরকার থেকে এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। ফলে যারা অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও একটি গোষ্ঠী বালু পাথর উত্তোলনের মাধ্যমে জাফলংয়ে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছি।


কালীগঞ্জে যুবক হত্যা মামলায় নারী গ্রেপ্তার, হত্যায় ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালীগঞ্জে যুবক ইমন শেখ ওরফে ইলিয়াস শেখ (২৪) হত্যা মামলায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে কালীগঞ্জ থানাধীন দক্ষিণবাগ এলাকার উত্তরপাড়া কুড়িলটেক ব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার পশ্চিম পাশে জনৈক শামিম মিয়ার ধানক্ষেতে হাঁটু পানির মধ্যে থেকে নিহত ইমন শেখ ওরফে ইলিয়াস শেখের লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত ইমন শেখ কালীগঞ্জ উপজেলার ছৈলাদী গ্রামের শরীফ শেখ ও লাইলী বেগমের ছেলে।

এ ঘটনায় কালীগঞ্জ থানায় এফআইআর নং-০৩, তারিখ ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হয়। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. মাসুদ রানা শামীম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকার উত্তরা আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত আসামি হানিফা কাজী (৫৫)কে গ্রেপ্তার করেন। তিনি কালীগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণবাগ এলাকার বাসিন্দা।

পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কালীগঞ্জ থানাধীন দোলন বাজারে তার দোকান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে গাজীপুর আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।


দৌলতপুর সীমান্তে ভারতীয় মদ ও নিষিদ্ধ ট্যাবলেট উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে বিজিবি ও জেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক মাদক কারবারিকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অপর দিকে সিমান্তে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মদ ও নিষিদ্ধ ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে দৌলতপুর আল্লার দরগাহ এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রদীপ কুমার দাশের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে শফি (৩৫) নামের এক মাদক কারবারীকে আটক করা হয়। তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ১৪ পুরিয়া গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দোষী সাব্যস্ত করে শফিকে দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত গাঁজা ঘটনাস্থলেই পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

অপরদিকে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাতে চিলমারী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী মরারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৭০ বোতল ভারতীয় মদ উদ্ধার করে, যার আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টাকা।

গত মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে চরচিলমারী বিওপির টহল দল ডিগ্রীরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৫০০ পিস ভারতীয় সিলডিনাফিল ট্যাবলেট উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত এসব ট্যাবলেটের আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক রাশেদ কামাল রনি জানান, মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ব্যাটালিয়ন সিজার স্টোরে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে তা জনসম্মুখে ধ্বংস করা হবে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান রোধে বিজিবির অভিযান জোরদার রয়েছে বলে তিনি জানান।


রায়পুরায় ২ গ্রুপের সংঘর্ষে কিশোর নিহত, গুলিবিদ্ধ ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরাঞ্চল সায়দাবাদে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ২ গ্রুপের সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। নিহত কিশোরের নাম মোস্তাকিম (১৪)। সে সায়দাবাদ গ্রামের মাসুদ মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় অন্তত ৫ জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আহতদের মধ্যে রফিকুল ইসলাম (৩৪) নামে একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সায়দাবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় হানিফ মাস্টার ও এরশাদ মিয়ার গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে দুপক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। গোলাগুলির মধ্যে পড়ে কিশোর মোস্তাকিম গুরুতর আহত হয়। পরে তাকে উদ্ধার করে রায়পুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) সুজন চন্দ্র সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আধিপত্য বিস্তারের জেরে সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও র‍্যাব দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। তিনি আরও জানান, আহতদের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ধরতে অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় বর্তমানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।


তারেক খাঁনের উদ্যোগে মানবিক ঘর পেলেন সেই নাসির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

মানবসেবা শুধু কর্তব্য নয়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও মানবিকতার গভীরতম প্রকাশ। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য তারিকুল ইসলাম খাঁন তারেক দীর্ঘ ১২ বছর ধরে খোলা আকাশের নিচে বাঁশঝাড়ের পাশে মানবেতর জীবনযাপন করা চর-চতিলা ফারাজিপাড়ার নাসির উদ্দিনের জন্য নির্মাণ করে দিয়েছেন একটি “মানবিক ঘর”, যা এলাকায় প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে দোচালা টিনের ঘরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নাসির উদ্দিনের কাছে হস্তান্তর করেন তিনি। উপস্থিত ব্যক্তিরা বলেন, সমাজের সচেতন মানুষ এগিয়ে এলে অসহায়দের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করা সম্ভব।

এর আগে “তীব্র শীতেও খোলা আকাশের নিচে ঘুমায় নাসির” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হলে গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. জিল্লুর রহমান টিন ও আর্থিক সহায়তা দেন। পাশাপাশি প্রবাসী মো. শফিকুল ইসলাম চৌকি, মশারি, তোশক ও বালিশ উপহার দেন।

তারিকুল ইসলাম খাঁন তারেক বলেন, আমার কোন কিছু চাওয়া পাওয়ার নেই, মানবিক দিক বিবেচনা করে আমি নাসির ভাইকে ঘর নির্মাণ করে দিয়েছি আল্লাহর সন্তুষ্টিরঅর্জনের জন্য। মসজিদ, মাদরাসাসহ বিভিন্ন মানবিক কাজে সহযোগিতার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে বিভিন্নস্থানে টিউবওয়েল স্থাপন করে দিয়েছি।

স্থানীয়দের মতে, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই উদ্যোগ সমাজে মানবিকতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে এবং অন্যদেরও এমন কাজে উৎসাহিত করবে। তারা আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

কিছুটা মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত দিনমজুর নাসির উদ্দিন নতুন ঘর পেয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান।


নওগাঁয় রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় জুনায়েদ সাকী (৩৭) নামে এক রাজস্ব কর্মকর্তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের সামনে থেকে বেওয়ারিশ হিসেবে মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এর আগে মরদেহটি পিকআপ থেকে ফেলে দিয়ে দ্রুত সেখান থেকে সটকে পড়েন চালক ও তার সহযোগী (হেলপার)। নিহত জুনায়েদ বরিশাল জেলার পিরোজপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি ঢাকা রাজস্ব বোর্ডে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছেন নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদ।

জানা যায়, ঢাকা থেকে ট্রেন যোগে সান্তাহার রেলওয়ে জংশনে নেমে নওগাঁর মহাদেবপুরে স্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের উদ্দ্যেশ্যে আসছিলেন জুনায়েদ। তবে ভোরে ট্রেন থেকে নামার পর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। হলুদ রঙয়ের একটি পিকআপ ভোর সাড়ে ৫টায় তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ ২৫০ শয্যা নওগাঁ হাসপাতালের সামনে এসে ফেলে রেখে পালয়ে যায়। এরপর সেখানকার কর্মচারীরা তাকে অজ্ঞাত অবস্থ্যায় উদ্ধার করে জরুরী বিভাগে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুনায়েদকে মৃত ঘোষণা করেন।

নওগাঁ কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. রাশেদ বলেন, সান্তাহার থেকে নওগাঁ আসার পথে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন বলে আমরা ধারণা করছি। বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যদের জানালে তারাও হাসপাতালে এসেছিলো। থানা পুলিশ মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে কাজ করছে।

২৫০ শয্যা নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালের জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. রেহনুমা মুনমুন বলেন, মরদেহটি আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হিসেবে প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করেছি। পরে থানা পুলিশ এবং নিহতের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানানো হয়।


ফেনীর এস.এ কুরিয়ার সার্ভিস থেকে ভারতীয় অবৈধ পণ্য জব্দ, আটক ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফেনী প্রতিনিধি

ফেনীর মহিপাল কুরিয়ার সার্ভিস এস এ পরিবহনে বিজিবি-সেনাবাহিনী-পুলিশ যৌথ অভিযান পরিচালনা করে বিপুল পরিমান ভারতীয় চোরাচালানী মালামালসহ ২ জনকে আটক করেছে। জব্দকৃত মালামালের আনুমানিক মূল্য এক কোটি দুই লক্ষ পনের হাজার আটশত টাকা। এ সময় এস.এ পরিবহন কুরিয়ার সার্ভিস থেকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি, থ্রী পিস, তেল, বডি স্প্রে, সাবান, টুথপেস্ট, ফেশওয়াশ, আতশবাজি জব্দ করে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কুরিয়ার সার্ভিসের ম্যানেজার আতিকুর রহমানকে বিজিবি ক্যাম্পে নিয়ে যায়। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লা কায়সার সড়কের এস.এ পরিবহনে বিজিবি অভিযান পরিচালনা করেন।

অভিযানের সময় ফেনী ৪ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্নেল মোশারফ হোসেন, ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চয়ন বড়ুয়া, বিজিবি সহকারী পরিচালক নজরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

পরে উদ্ধারকৃত মালামাল জব্দ করে ফেনী জায়লকরস্থ বিজিবি হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যায়।

ওখানে জব্দকৃত মালামাল সিজার লিস্ট করা হয় ।মালামাল ও আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ফেনী সদর মডেল থানার সোপর্দ করা হয়েছে।

ফেনী ৪ বিজিবি অধিনায়ক লে: কর্নেল মোশারফ হোসেন বলেন, বিজিবি বর্তমানে নির্বাচন ডিউটিতে মোতায়েন থেকেও একই সাথে সীমান্তে নিরাপত্তা রক্ষা, মাদক পাচার ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে ফেনী ব্যাটালিয়ন (৪ বিজিবি) কর্তৃক আভিযানিক কর্মকান্ড ও গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


‘ভোটের সিল’ উদ্ধারের ঘটনায় জামায়াত নেতাসহ ২ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মঙ্গলবার সিলসহ গ্রেফতারকৃত ব্যবসায়ী। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

লক্ষ্মীপুরে ভোটের অবৈধ ৬টি সিল উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতাসহ দুজনের নামে মামলা করা হয়েছে এবং সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে মঙ্গলবার রাতে এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি শহরের পুরোনো আদালত রোডের মারইয়াম প্রেসের স্বত্বাধিকারী ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে (৪০) গতকাল বিকেলে অবৈধ সিল, একটি কম্পিউটার ও মুঠোফোনসহ গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মামলার অপর আসামি হলেন পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৌরভ হোসেন ওরফে শরীফ (৩৪), যার বিরুদ্ধে ওই সিলগুলো তৈরির অর্ডার দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, সৌরভ হোসেন ছয়টি ভোটের সিল তৈরির জন্য ব্যবসায়ী সোহেল রানার দোকানে অর্ডার দেন এবং তদন্তকারী কর্মকর্তারা সৌরভের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের প্রার্থীর একাধিক ছবির সম্পৃক্ততা খুঁজে পেয়েছেন। তবে বর্তমানে সৌরভ হোসেনের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে এবং পুলিশ তাকে এখনো গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। যদিও লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুন অর রশীদ দাবি করেছেন যে, ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি সৌরভ হোসেনকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আসামি করা হয়েছে।

এদিকে, এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, “সিলসহ সোহেল রানা নামে যাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তিনি জামায়াতের কর্মী বলে জানতে পেরেছি। হয়তো তাঁর পদ-পদবিও রয়েছে। একটি কম্পিউটারসহ ছয়টা সিল জব্দ করা হয়েছে। সিলগুলো যিনি বা যাঁরা বানিয়েছেন, নিশ্চয়ই এর পেছনে অনেক কলকবজা রয়েছে, একটা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের হিসাব-নিকাশ রয়েছে।” তিনি এই জালিয়াতির নেপথ্যে থাকা ইন্ধনদাতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং সিলের পাশাপাশি ব্যালট ছাপানোর কোনো পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

বিএনপির এই সংবাদ সম্মেলনের পরপরই লক্ষ্মীপুর প্রেসক্লাবে পাল্টা সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী এবং সেখানে দলের প্রার্থী রেজাউল করিম বলেন, “ভোটের সিলসহ গ্রেপ্তার ব্যক্তির সঙ্গে জামায়াতকে জড়িয়ে বিএনপি মিথ্যাচার করছে।” তিনি আরও যোগ করেন, “যেকোনো ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, অতীতের মতোই আরেকটি দলের মুদ্রাদোষে পরিণত হয়েছে। গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল জামায়াতের কেউ নন। এ ঘটনার সঙ্গে যে বা যারা জড়িত রয়েছে, প্রশাসন তদন্ত করে বের করবে। এ রকম একটি ঘৃণিত ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।”

লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহেদ পারভেজ জানিয়েছেন যে, গ্রেপ্তার হওয়া সোহেল রানা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন সৌরভ হোসেনের অর্ডার অনুযায়ী তিনি এসব সিল তৈরি করছিলেন। উদ্ধার হওয়া সিলগুলো ভোটারদের প্রশিক্ষণ বা মহড়া দেওয়ার জন্য নাকি নির্বাচনের দিন ভোট কারচুপির উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছিল, পুলিশ তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। সিল তৈরির প্রকৃত উদ্দেশ্য এবং এই ঘটনার সঙ্গে অন্য কোনো প্রভাবশালী মহলের সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিশ্চিতে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


দাউদকান্দিতে চুরির অপবাদ দিয়ে যুবককে পিটিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলায় হাঁস চুরির অভিযোগ তুলে এক যুবককে কৌশলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে উপজেলার মালিগাঁও গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। নিহত যুবকের নাম সাঈদ ভূইয়া (২৩)। তিনি একই গ্রামের বাসিন্দা এবং পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন।

জানা গেছে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মালিগাঁও গ্রামের আব্দুর রাজ্জাক মিয়া সাঈদের বাবার কাছে অভিযোগ করেন, তার ছেলে রাজ্জাকের হাঁস চুরি করেছে। এ সময় সাঈদের বাবা আলাউদ্দিন ভূইয়া জানান, তার ছেলে দোষী হলে বাড়িতে ফিরলে তিনি বিচার করে হাঁসের ক্ষতিপূরণ দেবেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজ্জাক মিয়া সেখান থেকে চলে যান।

পরবর্তীতে রাত আনুমানিক ১১টার দিকে রাজ্জাক মিয়া পরিবারের কাউকে না জানিয়ে কৌশলে সাঈদকে তার বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে রাজ্জাক মিয়া, তার ছেলে রাব্বি ও জাহিদ, ভাতিজা শাওনসহ আরও কয়েকজন মিলে হাঁস চুরির অপবাদ দিয়ে সাঈদকে মারধর করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে গ্রামের আলমের মুদি দোকানের সামনে ফেলে রাখা হয়।

খবর পেয়ে রাত প্রায় ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাঈদের বাবা ছেলেকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মালিগাঁও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোরে সাঈদের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আলাউদ্দিন ভূইয়া দাউদকান্দি মডেল থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

দাউদকান্দি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম আব্দুল হালিম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মালিগাঁও গ্রামের মো. জসিম মিয়া (৩৫) ও মো. ওমর সানি (৩০) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


প্যারোলে মুক্তি মেলেনি হাজতির, বাবার মরদেহ আনা হলো কারাগারে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, কিশোরগঞ্জ

বাবার জানাজায় অংশ নিতে প্যারোলে মুক্তির আবেদন নামঞ্জুর হওয়ায় এক হাজতির বাবার মরদেহই আনা হয়েছে কারাগারে।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। এমন দৃশ্য দেখে হতবাক হয়ে পড়েন উপস্থিত অনেকে।

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার পানাউল্লারচর এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া (৪৫) বর্তমানে রাজনৈতিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। প্যারোলে মুক্তি না পাওয়ায় শেষ পর্যন্ত বাবার মরদেহ কারাগারে এনে তাকে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ দেওয়া হয়। মিলন মিয়ার বাবা ফুল মিয়া (৭০) দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ভৈরবের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পরিবার ও আইনজীবী সূত্রে জানা যায়, বাবার জানাজায় অংশ নিতে মিলন মিয়ার প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করা হয়। তবে আবেদন নামঞ্জুর করে মরদেহ কারাগারে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

মিলন মিয়ার চাচা মতিউর রহমান বলেন, “কারাগারের ভেতরে বাবার মরদেহ দেখে মিলন বারবার লুটিয়ে পড়েছে। প্যারোলে মুক্তির অনেক চেষ্টা করেছি, কিন্তু ব্যর্থ হয়ে শেষ পর্যন্ত মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। জীবনে এমন ঘটনা আর দেখিনি।”

স্বজনরা জানান, সকাল ১০টার দিকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স জেলা কারাগারে পৌঁছায়। মিলনের এক চাচাকে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও অন্য স্বজনরা পান সাধারণ সাক্ষাতের সুযোগ।

চাচাতো ভাই সালাম মিয়া বলেন, “৬০ কিলোমিটার দূর থেকে মরদেহ কারাগারে আনতে হয়েছে। এই সময় দাফন-কাফনে থাকার কথা ছিল, অথচ আমাদের ছুটতে হচ্ছে আদালত আর কারাগারে।”

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল মোমেন ভূইয়া তুহিন বলেন, “মিলন মিয়া কোনো মামলার এজাহারভুক্ত আসামি নন। তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগও নেই। একটি মামলায় জামিন পাওয়ার পর আবার নতুন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।”

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার রিতেশ চাকমা জানান, “জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে পাঠানো নির্দেশনা অনুযায়ী কারাগারের গেটে মরদেহ দেখার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে।”


বোয়ালখালীতে ঘর ফাঁকা পেয়ে আলমিরা ভেঙে নগদ ও স্বর্ণালংকার চুরি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে একটি বসতঘর থেকে নগদ টাকাসহ স্বর্ণের গয়না চুরি হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার শাকপুরা ইউনিয়নের ৪ নাম্বার ওয়ার্ডের মধ্যম শাকপুরা গ্রামের বৈদ্য বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় লাভলী বড়ুয়া বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯টার দিকে ঘরের দরজা তালাবদ্ধ করে সারোয়াতলীতে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বিকেলে ডাক্তার দেখাতে নগরে যাই। রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফিরে ঘরের তালা খুলে দেখি পেছনের দরজা খোলা। সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো। ২টি আলমিরা লক ভেঙে নগদ ৩ লাখ টাকা ও ১৪ লাখ টাকা মূল্যমানের ৬ ভরি স্বর্ণের গয়না নিয়ে গেছে।

লাভলী বড়ুয়ার স্বামী শিমুল বিকাশ বড়ুয়া জানান, তিনি স্থানীয় ধম্মানন্দ বিহারের কোষাধ্যক্ষ। বিহারটি উন্নয়ন কাজের নগদ টাকা এবং তার চাকুরি থেকে পাওয়া মাসের বেতন আলমিরা ড্রায়ারে রেখেছিলেন।

বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


পবিপ্রবি―তে রিসার্চ মেথোডোলজি ও ননইনভেসিভ সীফুড অ্যানালাইসিস বিষয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পবিপ্রবি প্রতিনিধি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে HEAT-ATF এর একটি সাব প্রজেক্টের সহযোগিতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের আয়োজনে ‘রিসার্চ মেথোডোলজি, ননইনভেসিভ টেকনোলজি ফর সীফুড অ্যানালাইসিস অ্যান্ড সায়েন্টিফিক রাইটিং’ বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

২ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) পবিপ্রবির ছাত্রশিক্ষক কেন্দ্রের কনফারেন্স কক্ষে সকাল ৯ টা ৩০ মিনিটে পবিপ্রবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ- উপাচার্য প্রফেসর ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান, ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আব্দুল লতিফ, ওশানোগ্রাফি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদ, ফিশারিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোঃ সাজেদুল হক।

প্রশিক্ষণ সমন্বয়কারী হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ লোকমান আলী, প্রশিক্ষণ পরিচালক হিসেবে ছিলেন মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান, মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরা কর্মশালায় অংশগ্রহণ করে।

প্রথম অধিবেশনে সকাল ১০.০০-১১.৩০ পর্যন্ত গবেষণা পদ্ধতি ও ফিসারিজ সাইন্স বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোহাম্মদ লোকমান আলী। দ্বিতীয় অধিবেশনে দুপুর ১২.০০- ১.০০ পর্যন্ত সামুদ্রিক খাবার বিশ্লেষণের জন্য ননইনভেসিভ টেকনোলজি বিষয়ে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।

তৃতীয় অধিবেশন দুপুর ২:০০-৩:৩০ টা পর্যন্ত দেশে এবং বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কারিগরি ফেলোশিপ/বৃত্তি বিষয়ে সেশন পরিচালনা করেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান ডিন, পোস্ট গ্রাজুয়েট স্টাডিজ (পিজিএস), পবিপ্রবি। চতুর্থ অধিবেশনে বিকাল ৩:৪০-বিকাল ৪:৩০ সাইন্টিফিক রাইটিং বিষয়ে সেশন নেয় অধ্যাপক ডঃ মোঃ মিজানুর রহমান।

পরবর্তীতে প্রশ্নোত্তর পর্ব ও অংশগ্রহণকারী দের সার্টিফিকেট প্রদান ও পবিপ্রবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এসএম হেমায়েত জাহান এর সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে বিকাল ৫ টায় অনুষ্ঠানটির সমাপ্ত হয়।

প্রশিক্ষণ পরিচালক ও মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের ফিসারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান বলেন, "ইউজিসি ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে HEAT পরিচালিত একটি সাব-প্রজেক্টের আওতায় মাৎস্য বিজ্ঞান অনুষদের বিভিন্ন বর্ষের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে সীফুড অ্যানালাইসিস ও সায়েন্টিফিক রাইটিং বিষয়ক একটি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সীফুডের গুণগত মান বজায় রাখা, সীফুড উৎপাদনে ব্যবহৃত আধুনিক ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জন করতে পারছে এবং বাস্তবভিত্তিক এক্সপেরিমেন্ট করার সুযোগ পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে তাদের গবেষণামুখী হতে উৎসাহিত করবে।"

তিনি আরও বলেন, "নিরাপদ সামুদ্রিক খাদ্য ভোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বিশ্বে নতুনভাবে উদ্ভাবিত বিভিন্ন প্রযুক্তি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের অবহিত করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিশেষভাবে ‘ফ্লোরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্টিং’ প্রযুক্তি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে, যা খুব সহজে ও অল্প সময়ে সীফুডের নিরাপত্তা ও মান যাচাই করতে সহায়তা করে। পৃথিবীর সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের মৎস্য ও সামুদ্রিক খাদ্য খাতে নিরাপত্তা ও গুণগত মান নিশ্চিত করতে এসব আধুনিক প্রযুক্তি কীভাবে প্রয়োগ করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা ভবিষ্যতে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখতে পারে এবং বাংলাদেশের মাৎস্য ও মাৎস্যজাত পন্য উৎপাদন ব্যবস্থাকে আরও সমৃদ্ধ করতে সক্ষম হয়।

পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, "রিসার্চ ভ্যালিডেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ যেকোনো গবেষণার ক্ষেত্রেই ত্রুটি থাকা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ব্যাসিক রিসার্চের ক্ষেত্রে হয়তো ৫ থেকে ১০ শতাংশ ত্রুটি নেগলিজিবল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে, তবে ভ্যালিডেশনের ক্ষেত্রে এই পার্থক্য স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়। এ সময় তিনি গবেষণা পদ্ধতি (রিসার্চ মেথডোলজি) অনুসরণে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং গবেষণা বিষয়ক এমন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজনের জন্য সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ ধরনের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।"


সিরাজগঞ্জে নার্স ও মিডওয়াইফারিদের কর্মসংস্থানের লক্ষে ‘জব ফেয়ার’মেলা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি

শিক্ষাজীবন শেষে নার্স ও মিডওয়াইফারিদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ‘জব ফেয়ার‘ বা চাকরি মেলার আয়োজন করেছে সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি ) সকাল ১১ টায় সিরাজগঞ্জে সদরে নার্সিং ইনস্টিটিউটের হল রুমে দাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন অ্যাসেট প্রকল্পের আওতায় এ মেলার আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।

সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুনের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: আকিকুর নাহার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন–ডেপুটি সিভিলে সার্জন রিয়াজুল ইসলাম ,নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ( সমন্বয় ও প্রশিক্ষক) ফরিদা ইয়াসমিন ও এসেক্ট প্রজেক্টের, মেন্টর, কাওসার আলম। এছাড়াও এসময় নার্সিং ইনস্টিটিউটের শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও মেলায় আসা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা–কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভা অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আকিকুর নাহার বলেন, ‘জব ফেয়ার‘ হলো এক ধরণের প্ল্যাটফর্ম। যেখানে সুনির্দিষ্ট কোনো জবের ক্ষেত্রে যারা নিয়োগ কর্তা, নিয়োগদাতা তাদের মধ্যে একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা। এটা খুবই চমৎকার উদ্যোগ। এজন্য জব ফেয়ারকে অনেক সময় বলা হয় ক্যারিয়ার এক্সপোর্ট। কাজেই এই জব ফেয়ার খুবই চমৎকার একটা প্ল্যাটফর্ম, যা কাজের সুযোগ তৈরি করে।

সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউটের নার্সিং ইনস্ট্রাক্টর ইনচার্জ রেহানা খাতুন বলেন, আমরা প্রথমবারের মতো এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছি। যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি, সবার থেকেই সাড়া পেয়েছি। জব ফেয়ারের স্টেকহোল্ডারদের কাছে আমরা স্টুডেন্টসদের সিভি দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানগুলো চাকরিপ্রার্থী উপযুক্ত নার্স ও মিডওয়াইফারিদের বাচাই করে কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে পারবেন।

অনুষ্ঠানের শেষদিকে মেলায় স্টল দেয়া ও উপস্থিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা স্মারক হিসেবে ক্রেস্ট দেয়া হয়। সিরাজগঞ্জ নার্সিং ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষ সিরাজগঞ্জে প্রথমবারের মতো আয়োজিত এ ‘জব ফেয়ারে‘ সিরাজগঞ্জ জেলায় অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিলো। যাদের মধ্যে ১০টি প্রতিষ্ঠান মেলায় স্টলও দিয়েছে।


সিংড়ায় অস্ত্র তৈরীর কারখানায় অভিযান, আটক -১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়ায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেশীয় অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির কাচা মাল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) রাত ১ টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার বামিহাল বাজারে পুলিশ ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজে অস্ত্র তৈরির তথ্য পেয়ে অভিযান পরিচালনা করে। এতে আব্দুল্লাহ (২৯) নামে একজনকে আটক করা হয় ও মোটরসাইকেল গ্যারেজ থেকে একটি দেশি অস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র তৈরির মালামাল উদ্ধার করে। পরে তাকে সিংড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।

আটককৃত আব্দুল্লাহ ঈশ্বরদী উপজেলার রুপপুর গ্রামের বকুলের পুত্র। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিংড়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি আব্দুন নূর।


banner close