বান্দরবানের রুমা উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) আস্তানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী। অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। গোয়েন্দা তথ্যে আজ বৃহস্পতিবার ভোরে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বিকেলে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) থেকে সহকারি পরিচালক রাশেদুল আলম খান এ তথ্য জানান।
তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনীর একটি অপারেশন দল বান্দরবানের রুমা উপজেলার মুনলাই পাড়া নামক এলাকায় কেএনএ'র বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। বৃহস্পতিবার ভোররাতে অপারেশন দলটি মুনলাই পাড়ার উত্তর পশ্চিমে রুমা খালের পার্শ্ববর্তী লাইচেংয়াই নামক আমবাগানে কেএনএ'র অবস্থানের উপর অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাদের অস্ত্র-সরঞ্জামাদি ফেলে পালিয়ে যায়।
পরে ওই এলাকা তল্লাশি করে ১টি এসএমজি (ম্যাগাজিনসহ), ২টি গাঁদা বন্দুক (১৫৯ রাউন্ড কার্তুজ ও ১টি কার্তুজ ভর্তি বেল্ট), ১টি বাইনোকুলার, ২টি ওয়াকিটকি সেট, ৩ জোড়া কেএনএ ইউনিফর্ম, ১ জোড়া বুট, ১টি হ্যান্ডকাফ, ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আই ই ডি) তৈরিতে ব্যবহৃত স্প্লিন্টার ও ৫টি স্মার্ট ফোন উদ্ধার করা হয়।
ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক এবং জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত হুসাইন আহমেদের ওপর বর্বরোচিত সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। তিনি সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতির দায়িত্বও পালন করছেন। মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে উপজেলার ছালাভরা এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে হুসাইন আহমেদ বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ছালাভরা এলাকায় পৌঁছালে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তার গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করতে থাকে। এ সময় হুসাইন আহমেদের আত্মচিৎকার শুনে আশপাশের স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে রক্তাক্ত ও জখম অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. রেজা সেকেন্ডার আহতের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, হুসাইন আহমেদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ও জখম রয়েছে। হাসপাতালে তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে এবং বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন জানান, হামলার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের একটি দল হাসপাতাল এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে এলাকায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন। তবে এখন পর্যন্ত হামলার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি।
কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরে পৃথক অভিযানে বিপুল পরিমাণ শুল্ক ফাঁকি দেওয়া অবৈধ সিগারেট এবং মালিকবিহীন গাঁজা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৭ বিজিবি)। উদ্ধারকৃত এসব মালামালের মোট বাজারমূল্য আনুমানিক ১ কোটি ২২ লাখ ৫০০ টাকা।
গত মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিনভর জেলা দুটির বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব মালামাল জব্দ করা হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল সোয়া ৬টার দিকে মেহেরপুর–কুষ্টিয়া মহাসড়কে ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদরের ২ নম্বর জিপি গেট সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে শুল্ক ও কর ফাঁকি দেওয়া ৪৫ হাজার প্যাকেট ‘মনস্টার’ এবং ৪৭ হাজার প্যাকেট ‘সিজার’ ব্র্যান্ডের সিগারেট জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মোট ৯২ হাজার প্যাকেট সিগারেট ও কাভার্ড ভ্যানটির আনুমানিক মূল্য ১ কোটি ২১ লাখ ২০ হাজার টাকা।
পরে একই দিন বিকেলে মেহেরপুর জেলার গাংনী সীমান্তের মথুরাপুর বিওপির একটি টহল দল মথুরাপুর মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ১৬ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করে। এছাড়া, দিবাগত রাতে গাংনির ধলা বিওপির সদস্যরা বকুলতলা মাঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৭ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেন। উদ্ধারকৃত মোট ২৩ কেজি গাঁজার বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।
বুধবার সকালে কুষ্টিয়ায় ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি জানান, জব্দকৃত কাভার্ড ভ্যান ও অবৈধ সিগারেট বিধি মোতাবেক কাস্টমস অফিসে জমা দেওয়া হয়েছে। আর উদ্ধারকৃত গাঁজাগুলো ধ্বংসের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ব্যাটালিয়ন সদরের মাদক স্টোরে সংরক্ষণ করা হয়েছে।
বিজিবি জানায়, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে মধ্যরাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ঘটেছে। এতে অন্তত দুই হাজার ২০০ রোহিঙ্গা তাদের মথা গোঁজার ঠাঁই হারিয়েছেন। পুড়েছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়। গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাত ৩টার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের শফিউল্লাহ কাটা এলাকার ১৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এ ঘটনা ঘটে বলে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) জানিয়েছেন এপিবিএন-৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমদ।
এদিকে শরণার্থী কমিশন থেকে পাঠানো এক তথ্যে জানানো হয়, ক্যাম্পের ডি-৪ ব্লকে রাতে রান্নাঘরে চুলায় পানি গরম করতে দিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এতে চুলার ওপর রাখা পাত্র শুকিয়ে আকস্মিকভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়।
মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং পার্শ্ববর্তী ডি-১, ২ ও ৩ নম্বর ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে যায়। এতে ৪৮১টি শেল্টারসহ ১০টি লার্নিং সেন্টার, একটি মকতব ও দুটি মসজিদ পুড়ে গেছে।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমান বলেন, ‘স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, UNHCR ও অন্যান্য এনজিওগুলোর সঙ্গে সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের অস্থায়ী আশ্রয়, জরুরি খাদ্য ও সহায়তা দেওয়া শুরু করা হয়েছে।’
আগুনে ঘর হারানোদের জন্য অস্থায়ী ছাউনিসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং খাদ্য নিরাপদভাবে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
ডি-৪ ব্লকের মাঝি মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘রাতে সবাই ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকার শুনে উঠে দেখি চারদিকে আগুন। কোনোরকম প্রাণ নিয়ে বের হয়েছি।’ আমার ব্লকের একটি ঘরও আর অবশিষ্ট নেই, সব পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গা আহমেদ উল্লাহ বলেন, ‘আমার পরিবারের সদস্য সাতজন। এমনিতেই শীতের কষ্ট, তার ওপর ঘর হারালাম। এখন কোথায় যাব, কীভাবে থাকব কিছুই বুঝতে পারছি না।’
উখিয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা ডলার ত্রিপুরা বলেন, ‘খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে নেয়।’
এপিবিএন কর্মকর্তা রিয়াজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।’
ক্ষতিগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া এবং এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আগুন নতুন ঘটনা নয়। অস্থায়ী ঘরবাড়ি, ঘনবসতি ও সীমিত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে প্রায়ই বড় ধরনের আগুনের ঘটনা ঘটছে। গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ৪ নম্বর ক্যাম্পে অগ্নিকাণ্ডে একটি হাসপাতাল পুড়ে যায়। এর আগের দিন রাতে কুতুপালং নিবন্ধিত ক্যাম্পেও আগুনে অন্তত ১০টির বেশি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব সদস্যকে হত্যাকারী সন্ত্রাসীরা ‘রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী নন’ উল্লেখ করে বাহিনীর মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেছেন, জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম যেকোনোমূল্যে নির্মূল করা হবে। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা আমরা ভেঙেচুরে গুড়িয়ে দেব।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর পতেঙ্গায় র্যাবের চট্টগ্রাম অঞ্চলের সদর দপ্তরে প্রেস ব্রিফিংয়ে র্যাব মহাপরিচালক এ কথা বলেন। সেখানে নিহত র্যাব সদস্যের নামাজের জানাজা শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন।
এর আগে, গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযানে যাওয়া র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিতে হামলা চালায় একদল সন্ত্রাসী। এতে র্যাব সদস্য বিজিবির নায়েক সুবেদার মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া (৪৮) নিহত হন। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলায়। একই হামলায় আরও তিনজন র্যাব সদস্য আহত হন। তারা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
র্যাবের ভাষ্য, ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী’ অবস্থানের খবর পেয়ে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযানে গিয়েছিল র্যাবের একটি টিম। এ সময় র্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে মাইকে ঘোষণা দিয়ে আনুমানিক ৪০০ থেকে ৫০০ জন দুষ্কৃতকারী র্যাব সদস্যদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
এ ঘটনায় হত্যা মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে জানিয়ে ব্রিফিংয়ে র্যাব মহাপরিচালক একেএম শহিদুর রহমান বলেন, ‘জঙ্গল সলিমপুর সন্ত্রাসীদের একটা আড্ডাখানা, একটা ডেনে (আখডা) পরিণত হয়েছে। এটি আমরা খুব শিঘ্রই আইনানুগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে, এখানে যারা অবৈধভাবে বসবাস করছে, অবৈধ অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আছে, তাদের আমরা নির্মূল করব। এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের আস্তানা আমরা ভেঙেচুরে গুড়িয়ে দেব। এটুকু আমরা আপনাদের কথা দিতে পারি।’
নিহত মোতালেবের স্ত্রী এবং ছেলে ও দুই মেয়ে র্যাব মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন।
উল্লেখ্য, সীতাকুণ্ডের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা জঙ্গল সলিমপুর পাহাড়ে ৫টি মৌজায় প্রায় ৩,১০০ একর সরকারি খাসজমি আছে। চট্টগ্রাম মহানগর ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদসহ আরও বিভিন্ন সংগঠনের নামে সেই খাসজমি দখল করে প্রায় তিন দশক ধরে সেখানে পাহাড় কেটে ও জঙ্গল সাফ করে প্লট বিক্রি করা হয়। নিম্ন আয়ের লোকজন সেই প্লট কিনে সেখানে বসতি ও দোকানপাট গড়ে তোলে, যার মধ্যে মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গাও আছে। জেলা প্রশাসন বেশ কয়েকবার উদ্যোগ নিয়েও সেখান থেকে তাদের সরাতে পারেনি। সর্বশেষ জনশুমারি অনুযায়ী ওই এলাকায় প্রায় ১৯ হাজার মানুষ বসবাস করে।
২০২২ সালে এ খাস জমি দখলমুক্ত করার জোরালো উদ্যোগ নিয়ে জেলা প্রশাসন সেখানে ‘পাহাড় ব্যবস্থাপনা ক্যাম্প ও চেকপোস্ট’ স্থাপন করে। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জঙ্গল সলিমপুর আবারও সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের ৪ অক্টোবর ভোরে জঙ্গল সলিমপুরের আলিনগর এলাকায় ইয়াছিন ও রোকন-গফুর বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষে ব্যাপক গোলাগুলি হয়। তখন গুলিবিদ্ধ হয়ে রোকন বাহিনীর এক সদস্য নিহত হন এবং আহত হন বেশ কয়েকজন।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে র্যাব মহাপরিচালক যৌথবাহিনী গঠন করে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানো হবে জানিয়ে বলেন, ‘আমরা এবার চেষ্টা করব, দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার যতগুলো বাহিনী আছে সেনাবাহিনীসহ, আপানারা জানেন সেনাবাহিনী এখন মাঠে দায়িত্বরত আছে। সুতরাং সকল বাহিনী-সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, র্যাব, এপিবিএন, জেলা পুলিশ সবাই মিলে… আমরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে অলরেডি যোগাযোগ করেছি, এখানে এই যে একটা অভয়াশ্রম তৈরি হয়েছে সন্ত্রাসীদের, এই জায়গাগুলো যদি সরকারি জায়গা হয়, সরকার যেন তার এই জায়গা উদ্ধারের ব্যবস্থা গ্রহণ করে।’
তিনি আরও বলেন ‘সেখানে যত সময় লাগে এবং যতদিন লাগে, এই সন্ত্রাসীদের অভয়াশ্রম সেটাকে আমরা নির্মূল করব। এ জন্য আমাদের যতদিন যে প্রক্রিয়া লাগে, যা কিছু লাগে…। কারণ তারা কোনোভাবেই রাষ্ট্রের চেয়ে শক্তিশালী না, এটা আমাদের বুঝতে হবে। এতদিন এটা করা হয়নি, বাট এবার ইনশাআল্লাহ এই সন্ত্রাসীদের যে অভয়াশ্রম এটা আমরা নির্মূল করব ইনশাআল্লাহ।’
স্বল্প জনবল নিয়ে অভিযানে যাওয়া এবং কৌশলগত কোনো ভুলত্রুটি ছিল কী না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমাদের জনবল একেবারে কম ছিল না। পঞ্চাশ জনের ওপরে সদস্য ছিল এবং আমাদের যে পরিকল্পনা ছিল, তাতে ওখানে আমাদের অপারেশন সফলভাবে সম্পন্ন করা যাবে, এ ধরনের একটি ধারণার বশবর্তী হয়েই কিন্তু অভিযানটা পরিচালনা করা হয়েছিল। একটা তদন্ত পর্ষদ গঠন করা হয়েছে। তারা তদন্ত করে দেখবে যে অভিযানে কোনো ভুলত্রুটি ছিল কী না। যদি কোনো ভুলত্রুটি পাওয়া যায় তাহলে সেটা কারেকশন করে ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালোভাবে, আরও দৃঢ়ভাবে, আরও সফলতার সঙ্গে অভিযান পরিচালনা করব।’
‘রাইট অব প্রাইভেট ডিফেন্সে আমাদের অধিকার ছিল সন্ত্রাসীদের গুলি করা। কিন্তু আমরা তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং সেখানে হয়তো আরও ক্যাজুয়ালিটির আশঙ্কা ছিল, আমাদের সদস্যরা সন্ত্রাসীদের দিকে গুলি ছুঁড়লে সাধারণ জনগণও আহত-নিহত হওয়ার আশঙ্কার কারণে হতো তারা গুলি করেনি। তবে আমরা পুরো অভিযানটি একটি এনকোয়ারি করে দেখব যে এখানে আমাদের কোনো ভুলত্রুটি আছে কী না। ভুলত্রুটি থাকলে সেগুলো সংশোধন করে ভবিষ্যতে আমরা আরও সফলতার সঙ্গে এই অভিযানগুলো পরিচালনা করব।’
জানাজার আগে, নিহত মোতালেবের স্ত্রী এবং এক ছেলে ও দুই মেয়ে র্যাব মহাপরিচালকের সঙ্গে দেখা করেন। তিনি তাদের সান্ত্বনা দেন। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন মোতালেবের স্ত্রী-সন্তানরা। তারা হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবি করেন।
চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির একটি চা-বাগান থেকে দুটি বস্তা ভর্তি দেশে তৈরি ৯টি একনলা বন্দুক উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোরে অভিযান চালিয়ে জেলা ও থানা-পুলিশ ভুজপুর থানার সুয়াবিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বারোমাসিয়া চা-বাগানের জঙ্গল থেকে অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়।
পরে পুলিশের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টি কে গ্রুপের মালিকানাধীন বারোমাসিয়া চা-বাগানের পেছনের জঙ্গলের ভেতর সন্ত্রাসীদের ফেলে যাওয়া দুটি বস্তা থেকে দেশে তৈরি ৯টি একনলা বন্দুক উদ্ধার করা হয়। ওই স্থানে সন্ত্রাসীরা জড়ো হয়েছে, এমন তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। তবে অভিযানে কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মো. তারেক আজিজ ও ভুজপুর থানার ওসি বিপুল চন্দ্র দে।
ভুজপুর থানার ওসি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, নাশকতা সৃষ্টি, আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা এসব আগ্নেয়াস্ত্র সেখানে মজুত করে রেখেছিল। এ ঘটনায় দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ভুজপুর ও ফটিকছড়ি থানার বিভিন্ন এলাকায় এর আগেও পুলিশের অভিযানে আগেও নানা স্থান থেকে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে।
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (গাকৃবি) কর্তৃক ‘উদ্ভাবিত ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগারের মাধ্যমে খামারির দোরগোড়ায় দুধের গুণগত মান যাচাইকরণ’ শীর্ষক এক খামারি প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খামারির পরিশ্রমের ন্যায্য মূল্য আর ভোক্তার জন্য নিরাপদ দুধ এই দুয়ের সেতুবন্ধন গড়তে ভ্রাম্যমান দুধ পরীক্ষাগারের ব্যবহার ও হাতে-কলমে শিখে বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করাই এ প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের আয়োজনে এ খামারি প্রশিক্ষণটি মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এম. ময়নুল হক এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন গাকৃবির বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন।
প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির ডেইরি ও পোল্ট্রি বিজ্ঞান বিভাগের প্রফেসর এবং ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগার প্রযুক্তির উদ্ভাবক ড. মো. মোর্শেদুর রহমান। গাজীপুর জেলার কাউলতিয়া থেকে ২০ জন এবং গাজীপুরের অন্যান্য অঞ্চল থেকে ২০ জনসহ মোট ৪০ জন খামারি এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাকৃবির বিভিন্ন অনুষদীয় ডিনরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের সহযোগী পরিচালক এবং অনুষ্ঠানের সঞ্চালক প্রফেসর ড. মো. মামুনুর রহমান। পরে আমন্ত্রিত অতিথিরা বক্তব্য প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, দেশে প্রথমবারের মতো গাকৃবি উদ্ভাবিত ভ্রাম্যমাণ দুধ পরীক্ষাগারটি পুষ্টিমান নির্ণয়, ভেজাল নির্ণয়, অ্যান্টিবায়োটিকের উপস্থিতি, ম্যাস্টাইটিস পরীক্ষা, জীবাণুর সংখ্যা নির্ণয়সহ নাগরিক সচেতনতা, পরীক্ষণ, প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত সেবা প্রদান করে আসছে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত র্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেনের কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। তার নিজ জন্মস্থান কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অলিপুর গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। প্রিয় মানুষকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী।
ভোর থেকেই আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশী ও বিভিন্ন এলাকার মানুষ মোতালেব হোসেনের বাড়িতে ছুটে আসেন। কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। স্বজনদের আর্তনাদে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে শোকে।
নিহত মোতালেব হোসেন ছিলেন ১১ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। ছোটবেলা থেকেই ভাইবোনদের আদর-স্নেহে বড় হলেও সাহসী মানুষ হিসেবেই নিজেকে গড়ে তুলেছিলেন তিনি। এলাকায় তিনি ছিলেন- একজন নম্র, ভদ্র, পরোপকারী ও মিশুক মানুষ হিসেবে সুপরিচিত। মানুষের সঙ্গে সহজে মিশে যাওয়ার গুণে তিনি সবার প্রিয় ছিলেন।
নিহতের বড় ভাই মো. মুজিবুর রহমান ভুইয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘প্রথমে ফোনে জানানো হয় আমার ভাই একটি বড় অপারেশনে গেছে, সে অসুস্থ। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ফোনে জানানো হয়—আমার ভাই আর নেই।’ তিনি বলেন, ‘দেশের জন্য আমার ভাই জীবন দিয়েছে। সে আমাদের গর্ব। কিন্তু যারা এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না। আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
ছোট ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বড় বোন মঞ্জুয়ারা বেগম। তিনি বলেন, ‘(গত) শুক্রবার আমার ভাই বাড়িতে এসেছিল। চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় তার বড় মেয়ে বারবার বলছিল—‘‘আব্বু আজ যেয় না।’’ মেয়েকে সান্ত্বনা দিয়ে মোতালেব বলেছিল, সরকারি কাজ, যেতেই হবে। মেয়েটি কান্না বুকে জমা রেখেই বাবাকে বিদায় দেয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আজ যারা আমার ভাইকে হত্যা করেছে, আমরা তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাত্র দুই দিন আগে ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরে যান মোতালেব হোসেন। যাওয়ার সময় বড় মেয়ে তাকে কর্মস্থলে যেতে বাধা দিয়েছিল বলেও পরিবার জানায়। তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।
চাকরি থেকে অবসরের পর গ্রামের বাড়িতেই স্থায়ীভাবে বসবাস করার ইচ্ছা ছিল তার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রায় দুই বছর আগে বাড়িতে একটি ভবন নির্মাণকাজ শুরু করেছিলেন, যা এখনো অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, মোতালেব হোসেন ছিলেন- অত্যন্ত শান্ত, নম্র ও সৎ স্বভাবের মানুষ। তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দ্রুত বিচারের দাবি জানান।
১ নম্বর কালিরবাজার ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘মোতালেব হোসেন ছিলেন- এলাকার গর্ব। তার মতো একজন সৎ ও সাহসী মানুষকে হারিয়ে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’
এদিকে কুমিল্লা সদরের অলিপুরের নিজ বাড়ির সামনে মসজিদের পাশেই তাকে দাফন করা হয় বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় র্যাবের একটি দল সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়ে। হামলায় মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। আহত হন আরও তিন র্যাব সদস্য। মাইকে ঘোষণা দিয়ে তাদের ওপর হামলা করা হয়। পরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল গিয়ে র্যাব সদস্যদের উদ্ধার করে নিয়ে আসে। আহত তিনজন সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল চট্টগ্রামের চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আকস্মিক এমন সংবাদ শোনার জন্য প্রস্তুত ছিলেন না মোতালেবের স্বজনেরা। গত সোমবার সংবাদটা পাওয়ার পর থেকে মুহূর্তের জন্য শোকের লাগাম আলগা করতে পারেননি তারা। মোতালেবের স্ত্রী শামসুন্নাহার একেবারেই ভেঙে পড়েছিলেন। কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল।’ আর কিছু বলতে পারলেন না তিনি। সন্তানদের জড়িয়ে ধরে নিজের পড়ে যাওয়া ঠেকিয়ে রাখছিলেন কেবল।
পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া সিদরাতুল মুনতাহা কান্না থামাতে পারছিল না। সে বলে, ‘আব্বু আব্বু ডাকছি, আমার আব্বু কথা বলছে না। আমার আব্বুকে কেন খুন করা হলো।’
বাবা হত্যার বিচার চায় মোতালেবের বড় মেয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া শামিমা জান্নাত। সে বলেন, ‘এভাবে আমার বাবাকে কেউ মেরে ফেলবে কেন। বাবা তো, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে গিয়েছিল। কেন তাকে মরতে হলো।’
মোতালেবের স্নাতকপড়ুয়া বড় ছেলে মেহেদী হাসান একেবারে স্তব্ধ, চুপচাপ। কাছে গিয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি বাবার স্মৃতিচারণা করলেন। বললেন, ‘বাবার সঙ্গে আমার খুব মধুর সম্পর্ক ছিল। সব সময় মা ও বোনদের দেখে রাখার জন্য বলতেন। ভালোভাবে যাতে পড়াশোনা করি পরামর্শ দিতেন। বাবাকে হারিয়ে এখন আমরা দিশাহারা। আমাদের কী হবে, জানি না।’
মোতালেব এর মৃত্যুর খবর শুনে কুমিল্লা থেকে ছুটে আসেন তার দুই ভাই আমির হোসেন ভূঁইয়া ও আবদুস সালাম ভূঁইয়া। তারা মোট আট ভাই। বড় ভাই আমির হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ‘আমার ভাই খুব অমায়িক ছিলেন। আমাদের পরিবারে তার শূন্যতা কখনো পূরণ হবে না।’
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ, র্যাব, সেনাবাহিনীসহ সব বাহিনীর সমন্বয়ে দ্রুত একটি যৌথ অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতরা গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, সরকার হিসেবে আমরা যখন জাতীয় সংসদ নির্বাচন করছি তখন আমরা দল নিরপেক্ষ। এখানে আমাদের নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করা ছাড়া ভিন্ন কোন কাজ নেই। কিন্তু যখন আমরা গণভোট করছি সে ক্ষেত্রে আমরা নিরপেক্ষ না। কারন আমরা চাচ্ছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাগুলো গণমানুষের দ্বারা সমর্থিত হোক। মানুষের আন্দোলনে এই জুলাই অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে। সুতরাং মানুষের দ্বারাই আইনগতভাবে তা সমর্থিত হোক। সে কারণে আমরা একটি পক্ষ, আমরা চাচ্ছি ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হোক। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) নওগাঁ সদর উপজেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে জেলা প্রশাসন আয়োজিত গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং গণভোটের বিষয়ে ভোটারদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, একটি প্রশ্ন বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে উত্থাপিত হয়, কেনো সরকার ভোটের প্রচারে নামল? তাতে কী সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুন্ন হচ্ছে না? এই প্রশ্নের উত্তরে আমি বলতে চাই, আমাদের এই সরকার বিশেষ রকম সরকার। ২৪ এর ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান হয়ে গেল তার ফসল এই সরকার। ফলে সেই গণঅভ্যুত্থানে মানুষের যে আকাঙ্ক্ষার প্রকাশ ঘটেছে, যে ইচ্ছার প্রকাশ ঘটেছে তা বাস্তবায়ন করায় এই সরকারের দায়িত্ব। সরকার সংস্কার করছে, বিচার করছে এবং সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। আমরা অনেক আইন অধ্যাদেশ আকারে গ্রহণ করেছি যা সংস্কারের অংশ। এই আইনগুলো পরবর্তী জাতীয় সংসদে পাস হতে হবে। তা যদি না হয় তাহলে এই পরিবর্তনগুলো এমনিতেই বাদ হয়ে যাবে। সংস্কারের জন্য সংবিধানেও কিছু পরিবর্তন করা দরকার যা আদেশের মাধ্যমে অনেক সময় করা যায় না। সেজন্য সবার সম্মতির প্রয়োজন পড়ে এবং সেটিও পরবর্তী সংসদের দায়িত্ব হয়ে দাঁড়ায়।
নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় নগর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।
সাতক্ষীরা ৩০ আনসার ব্যাটালিয়ন (বিএন) ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন পালিত হয়েছে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে পুরাতন জমিদার বাড়ি ওই ব্যাটালিয়নের মাঠে জাকজামক পূর্ণ পরিবেশে কেক কাটা ও শান্তির প্রতীক পায়রা ও বেলুন উড়িয়ে অনুষ্ঠানের শুভ উদ্ধোধন করেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিচালক মো. নুরুল হাসান ফরিদী। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ফজর নামাজের পর ইউনিট ও বাহিনীর উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত, সূর্যোদয় এর সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় ও ইউনিট পতাকা উত্তোলন করেন।
পরে দুপুরে ৩০ আনসার ব্যাটালিয়ন এর সাতক্ষীরা জমিদার বাড়ি পরিচালক মো. এফতেখারুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি থেকে মো. নুরুল হাসান ফরিদী বিএএম, খুলনা রেঞ্জের উপমহাপরিচালক আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা এবং প্রীতিভোজ সভায় প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন ধরনের সেবাই নিয়োজিত আছে। এই বাহিনীর কোনো সদস্য অপরাধ এর সাথ যুক্ত নয়, এই বাহিনীর আছে দেশত্ববোধ নিরলস ভালোবাসা। এই বাহিনী ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া আর সেই অবধী দেশপ্রেম নিয়ে আজ মাথা উচু করে আছে। অন্যান্য বাহিনীর চেয়ে আনসার বাহিনীর অনেক সুনাম ও গৌরব আছে দেশের মাটিতে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা আনসার ৩ ব্যাটালিয়ন ইলাইপুর পরিচালক মোল্যা আবু সাইদ, যশোর ৩০ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক তরাফদার আলমগীর হোসেন, খুলনা রেজ্ঞ পরিচালক এএস এম আজিম উদ্দিন, সাতক্ষীরা জেলা আনসার অফিসের সহকারী জেলা কমান্ড্যান্ট মো. রুবেল হোসেন, যশোর জেলা আনসার কমান্ড্যান্ট মো. সেফাউল হোসেন, সাতক্ষীরা ৩০ আনসার ব্যাটালিয়ন এর সহকারী পরিচালক মো. আলমগীর হোসেন সরদার, সাবেক জেলা কমান্ড্যান্ট একে এম আনিসুর রহমান, আব্দুস সামাদ ও আতাউর রহমান প্রমুখ। প্রীতিভোজের পর খেলাধুলা ও সন্ধ্যায় সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান র্যাফেল ড্র এবং পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্তি হয়।
বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের জন্মদিন ১০ আগস্ট ১৯২৪ সালের এই দিনে তিনি নড়াইল পৌরসভার মাছিমদিয়া গ্রামের বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। কীংবদন্তী এই শিল্পী বেঁচে থাকলে আজ তার বয়স হতো ১০২ বছর। শিল্পীর জন্মদিনকে স্মরণীয় ও বরণীয় করে রাখতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) নড়াইলে ‘জেষ্ঠ্য এবং সতুন’ ৮৫ জন শিল্পীর সমন্বয়ে শীতকালীণ আউটডোর আর্ট ক্যাম্পের আয়োজন করে নড়াইলের চারুকানন। এস, এম সুলতান ফ্যান আর্টিন্ট বাংলাদেশ নামের সংগঠন ক্যাম্প পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করে।
আর্টক্যাম্প উদ্বোধন করেন বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস, এম সুলতানের হাতে গড়া শিষ্য, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড্রইং ও পেইন্ট বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান চিত্রশিল্পী বিমানেষ বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন, নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম। অতিথি ছিলেন, সাহিত্যিক কবি সুবাস বিশ্বাস, আব্দুল হাই ডিগ্রি কলেজের সহকারি অধ্যাপক মাহাবুবুর রহমান লিটু। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন,চারুকাননের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিত্রশিল্পী সমীর কুমার বৈরাগী।
চারুকাননের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চিত্রশিল্পী সমীর বৈরাগী বলেন, শিল্পগুরু এস,এম সুলতানের জন্মদিনকে স্মরণীয় ও বরণীয় করে রাখার পাশাপাশি গুরুর শিল্পকর্ম,শিল্পদর্শন,শিল্পচেতনা এ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে চারুকাননের এই আয়োজন। তিনি মনে করেন,এই আর্ট ক্যাম্প থেকে শিল্পলব্ধ জ্ঞান আহরণ করে এ প্রজন্মের শিল্পীরা এগিয়ে যাবে সামনের দিকে। তারা নড়াইলের শিল্পভান্ডার আরো এগিয়ে নেবে।
সুলতানের জীবন দর্শন ও চিত্রকলার ওপর আলোকপাত করতে গিয়ে অধ্যাপক মো.রবিউল ইসলাম বলেন,একজন শিল্পীর কথনো মৃত্যু হয় না। তার চিত্রকর্মই বার বার তাকে মানুষের সামনে নিয়ে আসে। মানুষকে মনে করিয়ে দেয় আমি মরিনি বেচে আছি তোমাদেরই মাঝে।
চিত্রশিল্পী বিমানেশ বিশ্বাস বলেন,এস এম সুলতান এমনই একজন শিল্পী যার চিত্রকর্ম বিশ্বের বিখ্যাত শিল্পীদের গ্যালারিতে শোভা পেত । জীবনে অনেক পুরস্কৃত হয়েছেন তিনি । আগামি কয়েক বছরের মধ্যে নড়াইলে উন্নতমানের নতুন নতুন শিল্পী জন্ম নেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন । এ লক্ষে তিনিসহ বেশ কয়েকজন শিল্পী কাজ করে যাচ্ছেন।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নীলফামারী সদর উপজেলার ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সহ ৯ জন ইউপি সদস্য বিএনপিতে যোগদান করেছেন। এর মধ্যে মধ্যে তিনজন নারী ইউপি সদস্যও রয়েছে। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা বিএনপিতে যোগদান করেন।
এসময় জনপ্রতিনিধিরা নীলফামারী-২ (সদর) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আওয়ামী লীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। যোগদানকারীরা হলেন- ইটাখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক হেদায়েত আলী শাহ্ ফকির, ইউপি সদস্য মশিউর রহমান, মজিবুল হক, বিজয় চন্দ্র, আহাদ আলী, মনি বেগম, আঞ্জু আরা বেগম, মমতা বেগম ও মহম্মদ মজনু।
অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মীর সেলিম ফারুকের সভাপতিত্বে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক সোহেল পারভেজ, যুগ্ম আহবায়ক মোস্তফা প্রধান বাচ্চু, সদস্য সচিব এ এইচ এম সাইফুল্লাহ রুবেল, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহুরুল আলম, সদস্য সেফাউল জাহাঙ্গীর সেপু, মুক্তার হোসেন, প্রবীর গুহ রিন্টু, আনিসুর রহমান কোকো সহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তুহিন বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় বিএনপিকে শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। জনপ্রতিনিধিদের এই যোগদান তৃণমূলে দলকে আরও সুসংগঠিত করবে।
বিএনপিতে যোগদানকারীরা জানান, বিগত দিনে যে প্রত্যাশা নিয়ে যাদের পক্ষে কাজ করেছি তারা আমাদের এ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। তাই জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ ও এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতেই বিএনপিতে যোগ দিলাম আমরা।
উল্লেখ্য, এর আগে গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে নীলফামারী জেলা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয় পার্টি ছেড়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন জেলা সদরের তিন জন সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান। তারা হলেন কুন্দপুকুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহাজাহান আলী চৌধুরী, চড়াইখোলা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মানিক বসুনিয়া এবং খোকশাবাড়ী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আশাফউদ্দৌলা সিদ্দিকী খোকন।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) এর আয়োজনে ২ দিনব্যাপি প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী দিনে মাগুরা ও রাজবাড়ী জেলার ৫০ জন সাংবাদিকের মাঝে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে মাগুরা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাহামুদ প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ সনদপত্র বিতরণ করেন।
বক্তব্যকালে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচন অবাধ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ করতে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে মাঠ পর্যায়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
গণভোটের ব্যাপারে সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে সরকারি বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চলছে।
তিনি আরো বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষক হিসাবে সাংবাদিকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন। এজন্য সাংবাদিকদের নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা দিয়ে সঠিক তথ্য জনগণের সামনে তুলে ধরতে আহ্বান করেন।
উল্লেখ্য গত সোমবার সকাল ৯ টা থেকে দুদিন ব্যাপী এ কর্মসূচি শুরু হয়। প্রথম দিনের কর্মসূচিতে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬, সরকার, প্রশাসন ও সাংবাদিকতা বিষয়ক আলোচনায়আসন্ন জাতীয় নির্বাচন জনগণের ভোটাধিকার নির্বাচনকালীন প্রশাসনিক প্রস্তুতি ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে বিষদ আলোচনা করেন নির্বাচন রিপোর্টিং বিশেষজ্ঞ ও ইআরএফ-এর সাবেক সভাপতি শারমীন রিনভী।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, পিআইবির প্রশিক্ষক মোহাম্মদ শাহ আলম সৈকত, সিনিয়র সাংবাদিক জিয়াউর রহমান, তথ্য কর্মকর্তা মো: জাহাঙ্গীর হোসেন সজীব, প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ সাইদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক প্রমূখ।
নির্বাচনকে সামনে রেখে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলায় ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরির ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। এতে পৌরশহরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি পৌরশহরের সমেশপুর মহল্লায় এক শিক্ষকের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। পুলিশ মামলা গ্রহণ করলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এ ছাড়া প্রায় প্রতিরাতেই গরু চুরি, বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে চুরির ঘটনা ঘটছে। মোটরসাইকেল, সাইকেলসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী চুরি হচ্ছে নিয়মিত।
চোরেরা বৈদ্যুতিক মোটর, হস্তচালিত নলকূপের হ্যান্ডেল, স্কুল, মাদ্রাসা ও মসজিদের ফ্যান পর্যন্ত খুলে নিয়ে যাচ্ছে। সেচ স্কিমের বৈদ্যুতিক মিটারও প্রতিরাতে চুরির শিকার হচ্ছে। নাগরিকদের অভিযোগ, এসব অপরাধের সঙ্গে সংঘবদ্ধ দুর্বৃত্ত ও মাদকসেবীরা জড়িত। তাদের উপদ্রবে সন্ধ্যার পর বাসাবাড়ির দরজা-জানালা খোলা রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
ঘটিবাটি, জামা-কাপড়, জুতো, বালতি থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় নানা সামগ্রী চুরি যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর উপজেলা শহরের পাশাপাশি বিভিন্ন ইউনিয়ন পর্যায়েও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরি প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে, তার কার্যালয়ে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান।
সভায় বক্তব্য দেন গোপালপুর সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর হারুন, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নবাব আলী, থানার ওসি (তদন্ত) সালাউদ্দীন আহমেদ, উপজেলা জামায়াতের আমীর হাবিবুর রহমান, প্রেসক্লাব সভাপতি জয়নাল আবেদীন, ঝাওয়াইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানসহ অন্যরা।
সভায় সেনা ক্যাম্প কমান্ডার মেজর হারুন বলেন, নির্বাচনের আগে আইনশৃঙ্খলা অবনতির যেকোনো চেষ্টা কঠোর হাতে দমন করা হবে। ওসি (তদন্ত) সালাউদ্দীন আহমেদ জানান, থানা পুলিশ পরিস্থিতি উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং দুষ্কৃতকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং ডাকাতি, ছিনতাই ও চুরি বন্ধে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে কাজ করছে। তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান।