শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬
১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ঘুরে আসুন ‘দ্বিতীয় সাজেক’ বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি

এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড় ও মেঘের অসাধারণ লুকোচুরি খেলা। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ২০:৪৩

পর্বত, অরণ্য ও সমুদ্রপ্রেমী এই তিন শ্রেণির পরিব্রাজকদের জন্য সেরা গন্তব্য হচ্ছে বান্দরবান। অতিকায় উচ্চতার নিঃসীম শূন্যতা উপভোগ করতে করতে সবুজ বনে ঢাকা পাহাড়ি রাস্তা ট্রেকিং করা নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। এরই মাঝে দু-একটি সুদৃশ্য ঝর্ণা যেন বিস্ময়ের অববাহিকায় দিয়ে যায় রোমাঞ্চকর পরশ। চূড়ায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেই অনন্ত শূন্যতার সঙ্গে আলিঙ্গনটা যেন এত কষ্টের স্বার্থকতা এনে দেয়। এর সঙ্গে দৃষ্টিসীমানায় ফেনিল সাগরের দৃশ্য জুড়ে দিলেই তা মিলে যাবে মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে। দ্বিতীয় সাজেক নামে পরিচিত এই জায়গাটি ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে পর্যটকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে।

মিরিঞ্জা ভ্যালির অবস্থান

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা বান্দরবানের অন্তর্গত লামা উপজেলা। অপরদিকে,কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আলীকদম সড়কে লামার অবস্থান। এই উপজেলারই অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর মিরিঞ্জা ভ্যালি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভ্যালির অবস্থান প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে।

মিরিঞ্জা ভ্যালির ইতিহাস ও বিশেষত্ব

সরাসরি ভ্যালির ইতিহাস বা এর নামকরণের উৎপত্তি নিয়ে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের গোড়াপত্তন হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৬ একর পাহাড়ি ভূমিকে ঘিরে। এর আগেও কতিপয় ট্রেকারদের আনাগোনা থাকলেও এই কমপ্লেক্সই মূলত স্থানটির জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করে। মিরিঞ্জা পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের চূড়ায় ইট পাথরে নির্মাণ করা হয় বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজের ভাস্কর্য, যার উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল।

এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড় ও মেঘের অসাধারণ মিথস্ক্রিয়া। এই কারণে পর্যটনকেন্দ্রটিকে বর্তমানে দ্বিতীয় সাজেক ভ্যালি হিসেবে অভিহিত করা হয়।

ঢাকা থেকে বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার উপায়

মিরিঞ্জা যাওয়ার জন্য প্রথমত রাজধানী ঢাকার রাজারবাগ, ফকিরাপুল বা সায়েদাবাদ থেকে কক্সবাজারের বাস ধরতে হবে। অতঃপর গন্তব্যের আগেই নেমে যেতে হবে চকরিয়া বা চিরিঙ্গা বাস টার্মিনালে।

এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রেলপথে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাওয়া যায়। অতঃপর বাসে করে সরাসরি চকরিয়া বাস টার্মিনাল। দ্রুত সময়ে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের ফ্লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। তারপর কক্সবাজার থেকে বাসে করে চকরিয়া পৌঁছাতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে।

চকরিয়া থেকে লামা-আলীকদম সড়ক ধরে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে যাওয়ার সিএনজি, জিপগাড়ি বা লোকাল বাস পাওয়া যায়। এই পরিবহনগুলো লামা-আলীকদম পথে মিরিঞ্জা পাহাড়ের পাশে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে ১০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে ভ্যালির অবস্থান।

যারা ট্রেকিং করতে ইচ্ছুক তাদের চকরিয়া থেকে চান্দের গাড়িতে করে মুরুম পাড়া পর্যন্ত আসতে হবে। এখান থেকে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে ভ্যালি পর্যন্ত ২০ মিনিটের একটি সহজ ট্রেকিং পথ আছে।

চান্দের গাড়িগুলো মিরিঞ্জা পাড়া পর্যন্তও যায়,যেখানে মেইন রোড থেকে ভ্যালি মাত্র ১০ মিনিট হাঁটা পথ।

মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণে কী কী দেখবেন

পাহাড়ি রাস্তা বা ঝিরিপথ পেরিয়ে চূড়ায় আরহণের পর দূরে দেখা যায় মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স এবং সাঙ্গু নদীসহ বিশাল পাহাড়জুড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য এই চূড়া উপযুক্ত একটি স্থান। এখান থেকে দিগন্তরেখায় কক্সবাজার অংশের বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি চোখে পড়ে। সেই সঙ্গে দৃশ্যমান হয় লাইট হাউস,যার ক্ষীণ আলোয় সরু রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত। মুগ্ধতার পরিসর আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে কখনো কখনো সেই রেখায় ভেসে ওঠে একটি দুটি জাহাজ। পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের টাইটানিক জাহাজের কাঠামোটিও এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পর্যটনকেন্দ্রের কাছেই উপজেলা শহরে ম্রো, ত্রিপুরা, ও মারমাসহ মোট ১১ জনগোষ্ঠির বসবাস।

মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণের সেরা সময়

বর্ষাকালের শেষ থেকে শরৎকাল পর্যন্ত প্রায় সারাদিনই পরিষ্কার আকাশে শুভ্র মেঘের খেলা দেখা যায়। পাহাড়ের চূড়া থেকে এই দৃশ্য দেখার অনুভূতির কোনো বিকল্প হয় না। তবে এ সময়টাতে পাহাড়ি পথ বেশ পিচ্ছিল থাকে। ট্রেকিং পথ খুব একটা দুর্গম না হলেও উষ্ণ মৌসুমের ফলে পুরো যাত্রাটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই এখানে আসার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে শীতের শুরু, তথা নভেম্বর মাস। এ সময় কুয়াশার ঘনঘটা তেমন থাকে না, বিধায় পাহাড়ের উপরের দৃশ্যগুলো ভালোভাবে দেখা যায়।

মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা

পাহাড়ের উপরের বাঁশ ও খড়ের মাচাং এবং জুম ঘরগুলো যথেষ্ট পরিবেশবান্ধব। এগুলো যাত্রাবিরতিতে বসবাসের জন্য উপযোগী। এছাড়া পর্যটন কমপ্লেক্সের ভেতর খোলা আকাশের নিচে রয়েছে বেশ কয়েকটি তাঁবু ঘর। তাই রাতে ক্যাম্পিং নিয়ে ঝামেলা নেই।

এই ছোট বাসস্থানগুলোকে ঘিরে আশপাশে রয়েছে চিকেন ফ্রাই ও বিরিয়ানিসহ নানা পদের খাবারের ব্যবস্থা। তবে কমপ্লেক্স বা রিসোর্টের বাইরে থাকার এবং খাবারের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। সুতরাং, ট্রেকিং বা আশপাশ ঘুরে দেখার সময় শুকনো খাবার বা পানীয় সঙ্গে রাখা উচিত।

ভ্রমণকালীন সতর্কতা

# এই ভ্যালিতে ঘুরতে গেলে অবশ্যই দল বেঁধে যাওয়া উত্তম

# সার্বিক নিরাপত্তার প্রয়োজনে কিছু জায়গায় চেকিং হতে পারে। তাই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পেশাগত বা ইউনিভার্সিটির পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত।

# পাহাড়ের ওপর নির্বিঘ্নে চলাফেরা করার জন্য ভালো গ্রিপসহ মজবুত জুতা পরে যাওয়া জরুরি

# খাবার পানি, শুকনো খাবার, টর্চলাইট ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম সঙ্গে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখা উচিত যে,কাঁধের ব্যাগ যেন খুব বেশি ভারী হয়ে না যায়।

# নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন ও হাসপাতালের যোগাযোগের নম্বর সংগ্রহে রাখতে হবে

# পরিবেশ ময়লা বা দূষিত করা এড়িয়ে চলতে হবে। সঙ্গে খাবার নিয়ে গেলে সমস্ত উচ্ছিষ্ট এবং মোড়ক যেখানে-সেখানে না ফেলে যথাস্থানে ফেলা উচিত।

# আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, কোনো অবস্থাতেই যেন তাদের সংস্কৃতির প্রতি কোনো অযাচিত মনোভাব প্রদর্শন না হয়।

শেষ কথা

বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালির মেঘ ও পাহাড়ের নিবিড় আলিঙ্গন ভ্রমণপিপাসুদের বারবার মনে করিয়ে দেয় সাজেকের কথা। এখানকার জুমঘরগুলোর যে কোনোটিতে একটি রাত কাটানো সারা জীবনের জন্য অবিস্মরণীয় এক স্মৃতি হয়ে থাকবে। সবুজ বনে আচ্ছাদিত সুবিশাল পাহাড় আর সীমান্তরেখায় সমুদ্রের উত্তাল জলরাশি ট্রেকিংয়ের ক্লান্তিকে নিমেষে ভুলিয়ে দেয়। এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় দল নিয়ে ভ্রমণ করা আবশ্যক। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগের নাম্বার সংগ্রহে রাখা জরুরি। ( সূত্র: ইউএনবি)


বরগুনায় চুরি শেষে বসতঘরে অগ্নিসংযোগ, নিঃস্ব এক পরিবার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

সিঁধ কেটে ঘরে ঢুকে সঞ্চয় করা অর্থ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেওয়ার পর বসতঘরে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায় সংঘবদ্ধ চোর চক্র। মুহূর্তেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে দোতলা কাঠের ঘরটি। আগুনের লেলিহান শিখায় রাতারাতি ছাই হয়ে যায় একটি পরিবারের আজীবনের সব স্বপ্ন, সম্পদ। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত আনুমানিক ২টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের আমতলী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আগুনে ভস্মীভূত হওয়া বাড়ির মালিক আব্দুল লতিফ রাঢ়ি পেশায় একজন এতিমখানার সেবক।

পরিবারের সদস্যরা জানান, রাত আনুমানিক ২ টার দিকে হঠাৎ আগুনের তাপ আর ধোঁয়ার গন্ধে ঘুম ভাঙে তাদের। এসময় তড়িঘড়ি করে পরিবারের সব সদস্য বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও ঘরের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র, ফ্রিজ, টিভি, কাপড়চোপড়, চাল-ডাল, কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। মুহূর্তের মধ্যে দোতলা কাঠের ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়।

এদিকে রাতে আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে চুরির ঘটনাটি পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বুঝতে না পারলেও রাতের আঁধার কেটে গেলে দেখা যায় ঘরের সিঁধ কাটা।

স্থানীয় বাসিন্দা অপূর্ব মাঝি বলেন, আগুনে পরিবারটির সহায় সম্বল ও মাথাগোজার ঠাঁই সবকিছু ভস্মীভূত হয়েছে। সবার ধারণা, চোর চক্র চুরি করার পরে ঘরটিতে পরিকল্পিতভাবে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া দরকার।

বাড়ির মালিক লতিফ রাঢ়ি বলেন, আমি দিন আনি দিন খাই। একটি এতিমখানায় বাচ্চাদের দেখাশোনার কাজ করে যা পাই তাই দিয়ে তিলে তিলে জমি, ঘর তৈরি করেছি। ঘরে যা ছিল, সবই শেষ। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় থাকব, কী খাব কিছুই বুঝতে পারছি না।

আমতলী গ্রামের ইউপি সদস্য মানিক রায় বলেন, আমরা রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। তবে তখন চুরির ঘটনাটি সামনে আসেনি। সকালে আমরা সিঁধকাটা দেখে ধারণা করছি, চোর চুরি করার পরে ঘরটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডে লতিফ রাঢ়ি নিঃস্ব হয়ে গেছেন। ঘরের কিছুই রক্ষা করতে পারেননি।

বরগুনা সদর থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল আলীম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পরিবারের পক্ষে কেউ থানায় অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মোকামে হিমসাগর, সাতক্ষীরায় ভিড়ছেন পাইকাররা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার হিমসাগর আম বাজারে উঠতে শুরু করেছে। সরকারি আম সংগ্রহ ক্যালেন্ডার অনুযায়ী শুক্রবার (১৫ মে) জেলায় শুরু হয়েছে হিমসাগর আম সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ। প্রথম দিনেই জেলার সবচেয়ে বড় আমের মোকাম সুলতানপুর বড় বাজার ভরে গেছে হিমসাগর আমে।

সকাল আটটার দিকে সুলতানপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শত শত ইঞ্জিনচালিত ভ্যানে আমভর্তি ক্রেট নিয়ে দীর্ঘ সারি। বাজারের ভেতরে ঢোকারও যেন জায়গা নেই। পাইকারি ক্রেতাদের পাশাপাশি স্থানীয় ক্রেতাদের ভিড়ও ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ পরিবারের জন্য, কেউ দূরের আত্মীয়স্বজনের কাছে পাঠানোর জন্য মৌসুমের প্রথম হিমসাগর কিনতে ব্যস্ত।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় করে গত ২৬ এপ্রিল জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যৌথভাবে আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ করে। সেই ক্যালেন্ডার অনুযায়ী গত ৫ মে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাসসহ দেশি জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়। শুক্রবার (১৫ মে) শুরু হলো সবচেয়ে প্রতীক্ষিত হিমসাগর আম সংগ্রহ।

গাজীপুর থেকে আসা পাইকার লুৎফর রহমান বলেন, ‘সাতক্ষীরার হিমসাগর আমের আলাদা কদর আছে। রং, ঘ্রাণ আর স্বাদের জন্য ঢাকায় এই আমের চাহিদা অনেক বেশি। প্রথম দিনেই ভালো মানের আম পাওয়া যাচ্ছে, তাই বেশি করে কিনছি।’ তিনি জানান, আগে বাজারে আসা গোবিন্দভোগ, গোপালভোগ ও গোলাপখাস আম তুলনামূলক কম দামে বিক্রি হয়েছে। তবে হিমসাগরের চাহিদা সব সময়ই বেশি। এবার প্রথম দিনেই বাজারে প্রচুর আম উঠেছে। প্রতি মণ হিমসাগর বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ৩ হাজার টাকায়। কয়েক দিনের মধ্যে দাম আরও কিছুটা কমতে পারে বলেও ধারণা তার।

নাটোর থেকে আসা আরেক পাইকার আবদুর রহমান মিয়া বলেন, ‘এক যুগ ধরে সাতক্ষীরার আম কিনছি। বিশেষ করে হিমসাগরের জন্যই এখানে আসা। এখানকার আমের স্বাদ আলাদা।’

স্থানীয় ক্রেতা দিলীপ মণ্ডল বলেন, ‘বাজারে হিমসাগর উঠলেই বোঝা যায়, গ্রীষ্মকাল সত্যিই এসে গেছে। এই আমের স্বাদ আর ঘ্রাণ অন্য আমের মতো নয়।’ জেলার বাইরের আত্মীয়স্বজনের জন্য আম পাঠাতে তিনি বাজারে এসেছেন।

সাতক্ষীরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, এ বছর জেলায় ৪ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৯টি বাগানে প্রায় ৪৫ হাজার ৭৫০ জন কৃষক আম চাষ করেছেন। চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৭০ হাজার ৯০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৩৮ শতাংশই হিমসাগর। বিদেশে রপ্তানি হওয়া আমের বড় অংশও এই জাতের। চলতি মৌসুমে ১০০ মেট্রিক টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার আম বিক্রি হতে পারে।

অধিদপ্তরের উপপরিচালক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘আমের গুণগত মান ঠিক রাখতে এবং অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে ধাপে ধাপে আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ (গতকাল) হিমসাগর আম সংগ্রহ ও বাজারজাত শুরু হলো। ল্যাংড়া আম সংগ্রহ শুরু হবে আগামী ২৭ মে। আর ৫ জুন থেকে বাজারে আসবে আম্রপালি ও মল্লিকা।


চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সহযোগিতায় বাড়ি ফিরল হাসপাতালে আটকে রাখা শিশুটি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 

হামে আক্রান্ত পাঁচ মাসের শিশু জয়া দাসের চিকিৎসার বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাকে বাড়ি নিতে পারছিলেন না বাবা সুমন জলদাস। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সংবাদ প্রকাশের পর এগিয়ে আসেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। শুক্রবার (১৫ মে) হাসপাতালের সব বকেয়া বিল মওকুফ করে শিশুটিকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের কাঠগড় এলাকার বাসিন্দা সুমন জলদাস ২০ দিন ধরে অসুস্থ কন্যা জয়াকে নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটেছেন। অবস্থার অবনতি হলে গত ৩০ এপ্রিল নগরের জিইসি এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয় তাকে। দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হলেও বকেয়া বিল পরিশোধ করতে না পারায় মেয়েকে বাড়ি নিতে পারছিলেন না সুমন।

এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) ‘আমরা গরিব মানুষ, ৮০ হাজার দিয়েছি, তবু হাসপাতাল থেকে মেয়েকে ছাড়ছে না’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের পর রাতেই সুমন জলদাসের সঙ্গে যোগাযোগ করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে হাসপাতালে গিয়ে তিনি সব বকেয়া বিল মওকুফের ব্যবস্থা করেন এবং শিশুটিকে পরিবারের কাছে তুলে দেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, ‘সংবাদটি দেখার পর রাতেই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করি। আমি প্রিন্ট মিডিয়াকে ধন্যবাদ জানাই, বিশেষ করে প্রথম আলোকে, যারা সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রতিবেদন করেছে। এই প্রতিবেদন না হলে অনেক কিছু অজ্ঞাত থেকে যেত। সবচেয়ে বড় কথা, জয়া দাসকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছে।’


লামায় মাটি চাপায় শ্রমিকের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লামা (বান্দরবান)  প্রতিনিধি

বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় একটি ইটভাটায় মাটি চাপায় মো. সাইফুল ইসলাম নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে উপজেলার ফাইতং ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি রাম্যাখোলা এলাকার এসবিএম ইট ভাটায় ঘটনাটি ঘটে। মৃত সাইফুল ইসলাম রাম্যাখোলা গ্রামের বাসিন্দা মাহাবুব আলমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সাইফুল ইসলাম এসবিএম ইটভাটায় শ্রমিকের কাজ করতেন। প্রতিদিনের মত শুক্রবার (১৫ মে) সকালে সাইফুল ইসলাম ইটভাটার কাজে পাহাড়ের মাটি কেটে গাড়ি বোঝাই করছিলেন।

এ সময় আচমকা উপর থেকে ধেয়ে আসা মাটি চাপা পড়েন সাইফুল ইসলাম। পরে সঙ্গীয় শ্রমিকরা দ্রুত উদ্ধার করে কাছাকাছি চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে দায়িত্বরত চিকিৎসক সাইফুল ইসলামকে মৃত ঘোষণা করেন।

লামা থানা পুলিশের অফিসার ইনচার্জ মুহাম্মদ শাহজাহান কামাল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের দাবিতে ফরিদপুরে বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি  

ফরিদপুরে অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কথিত অবৈধ চুক্তি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম। শুক্রবার (১৫ মে) জুম্মার নামাজের পর ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা সমাবেশ করেন। এর আগে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।

বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না। এ সময় তারা মুসলিম বিশ্বকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ারও আহ্বান জানান।

সমাবেশে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইসমাইল হুসাইন, ইমাম কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাওলানা মুনসুর আহমেদ, ছাত্র জমিয়তের জেলা শাখার সভাপতি মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম এবং যুব জমিয়তের অর্থ সম্পাদক এনায়েত তালুকদার সহস্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে দোয়া ও মোনাজাত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের জেলা সভাপতি মুফতি কামরুজ্জামান।


শিবচরে ইয়াবাসহ আটক নারীসহ ৩ জনের কারাদণ্ড

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

মাদারীপুরের শিবচরে মাদকবিরোধী অভিযানে ইয়াবাসহ নারীসহ তিনজনকে আটকের পর তাদের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে উপজেলার বহেরাতলা দক্ষিণ এলাকার সীমানাবর্তী বাটেরচর এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা। এ সময় শিবচর থানা পুলিশের একটি টিম উপস্থিত ছিল।

জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাত আড়াইটার দিকে বহেরাতলা ইউনিয়নের শেষ প্রান্ত শিরুয়াইল ইউনিয়নের পূর্বকাকৈর বাটেরচর এলাকার কালাম মাদবরের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে বাড়ি থেকে ইয়াবা ও ইয়াবা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

এ সময় কালাম মাদবরের স্ত্রী সালমা (৪৫), ছেলে সাকিব আল হাসান (২৬) এবং ক্রেতা সরাব উদ্দিনকে (৪০) আটক করা হয়। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত কালাম মাদবর পালিয়ে যায়। স্থানীয়দের কাছে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ‘ইয়াবা কালাম’ নামে পরিচিত বলে জানা গেছে।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সরাব উদ্দিনকে ২ বছরের কারাদণ্ড এবং সালমা ও সাকিব আল হাসানকে ১ বছর করে কারাদণ্ড দেন।

শিবচর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাইখা সুলতানা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমরা কঠোর অবস্থানে রয়েছি। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


মনপুরায় সাবমেরিন ক্যাবলে পৌঁছবে বিদ্যুৎ, প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এমপি নয়ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে। সাবমেরিন ক্যাবলের মাধ্যমে ভোলার মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তাল মেঘনা নদীর তলদেশ দিয়ে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ পৌঁছাবে এই নিভৃত দ্বীপে। স্থানীয় সংসদ সদস্য (ভোলা-৪) মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়নের বিশেষ উদ্যোগে এবংতার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই মেগা প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।

ইতোমধ্যেই ‘মনপুরা দ্বীপে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ’ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (ওজোপডিকো)।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ৯০ হাজার দ্বীপবাসীর ভাগ্য বদলে যাবে।
নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই মনপুরাময় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ শুরু করেন মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন। বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংকটে থাকা দ্বীপবাসীকে দেওয়া তার প্রতিশ্রুতি পূরণে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে নিরলস তদ্বির চালিয়ে যান। তার এই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিদ্যুৎ বিভাগ প্রকল্পটি দ্রুত অনুমোদন দেয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, ‘নির্বাচনের সময় আমি মনপুরায় আধুনিক ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার যে অঙ্গীকার করেছিলাম, এটি তারই প্রতিফলন। মেঘনার তলদেশ দিয়ে ক্যাবল আসা একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, যা আমরা জয় করতে যাচ্ছি। এই বিদ্যুৎ শুধু বাতি জ্বালাবে না, এটি মনপুরার সামগ্রিক অর্থনীতিতে বিপ্লব ঘটাবে।’

ওজোপডিকো সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কেভি সাবমেরিন ক্যাবলের নকশা, সরবরাহ, স্থাপন ও কমিশনিং করা হবে। প্রতিটি ৭ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের ৪টি রানসহ মোট ২৮ কিলোমিটার ক্যাবল মেঘনার তলদেশ দিয়ে স্থাপন করা হবে। সেই সঙ্গে নির্মাণ করা হবে অত্যাধুনিক ল্যান্ডিং স্টেশন। বর্তমানের ডিজেল চালিত জেনারেটরের ওপর নির্ভরশীলতা কাটিয়ে দ্বীপবাসী পাবে স্থিতিশীল বিদ্যুৎ।

আগামী ২৫ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো দরপত্র জমা দিতে পারবে। স্থানীয়দের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে মনপুরার হিমায়িত মৎস্য শিল্প, পর্যটন ও স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্পে নতুন গতির সঞ্চার হবে। বিশেষ করে চরাঞ্চলের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় আমূল পরিবর্তন আসবে।

সংসদ সদস্যের এই উন্নয়নমুখী পদক্ষেপে দ্বীপের সাধারণ মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বইছে। তারা বলছেন, যুগ যুগ ধরে অন্ধকারে থাকা মনপুরা এবার আলোর পথে যাত্রা শুরু করছে কেবল সঠিক নেতৃত্বের কারণে।


বাঁধনের কার্যক্রমে নতুন মাত্রা, ডোনার ট্র্যাকিং অ্যাপ চালু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন বাঁধনের হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী হল ইউনিটের কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে নতুন প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ। সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও সহজতর করতে চালু করা হয়েছে অ্যাপভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম ‘Blood Donor Tracker’।

বাঁধন, বাকৃবি জোনের অধীনে প্রতিষ্ঠার পর গত ২৫ বছর ধরে থ্যালাসেমিয়াপ্রবণ ময়মনসিংহ অঞ্চলের অসংখ্য রোগীর পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে হোসেন শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী হল ইউনিট। সময়ের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কার্যক্রমকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউনিটের কার্যকরী পরিষদ-২০২৬।

শুক্রবার (১৫ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেন হল ইউনিটের সভাপতি লিমন মিয়া। তিনি জানান, অ্যাপটির স্বত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছেন অ্যাপটির ডেভেলপার ও ইউনিটের তথ্য ও শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মো. মুশফিকুর রহমান সিফাত। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাঁধন, বাকৃবি জোনের সাধারণ সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম শিমুল, হল ইউনিটের উপদেষ্টা বকুল আলীসহ কার্যকরী পরিষদের সকল বাঁধন কর্মী বৃন্দ।

সংগঠন সূত্রে জানা যায়, অ্যাপটিতে প্রাথমিকভাবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফিচার সংযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘Hand-to-Hand Editable System’, যার মাধ্যমে প্রতিদিন মোবাইল ফোন থেকেই সহজে রক্তদাতাদের তথ্য ইনপুট ও হালনাগাদ করা যাবে। ফলে ডোনারদের তথ্য সবসময় আপডেট থাকবে। এ ছাড়া ‘One-Click Available Donor List’ ফিচারের মাধ্যমে গ্রুপ ও সেশনভিত্তিক এভেইলেবল ডোনারদের তালিকা এক ক্লিকেই পাওয়া যাবে। জরুরি মুহূর্তে দ্রুত রক্তদাতা খুঁজে পেতে এটি সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অ্যাপটিতে আরও রয়েছে ‘Monthly Report Generator’ সুবিধা। এর মাধ্যমে খুব সহজেই মাসিক রক্তদান কার্যক্রমের রিপোর্ট তৈরি করা সম্ভব হবে। এতে সময় ও শ্রম দুটোই কমবে।

এ ছাড়া ‘Availability Reminder/Comment Section’ ফিচারের মাধ্যমে কোনো রক্তদাতা ভবিষ্যতে কবে আবার রক্ত দিতে পারবেন, সেই তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। ফলে নির্দিষ্ট সময় পর তার সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করা সহজ হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, হল ইউনিটের যে কেউ অ্যাপে তথ্য যুক্ত করলে তা সংশ্লিষ্ট সবাই দেখতে পারবেন।

হল ইউনিটটির সভাপতি মো. লিমন মিয়া জানান, ‘অ্যাপটির কিছু কাজ এখনো চলমান রয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন কিছু ফিচার সংযোজন করে এক মাসের ট্রায়াল পরিচালনা করা হবে। পরবর্তীতে এটি আরও বড় পরিসরে ব্যবহার উপযোগী করা যায় কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’


তালতলীতে কিশোর হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার তালতলী উপজেলার এতিম কিশোর হযরত আলীর হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরপাড়া বাজারে হরিণখোলা ও চরপাড়া এলাকাবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। এতে কয়েকশ নারী-পুরুষ অংশ নেন। এসময় বিচার দাবির স্লোগানে পুরো এলাকা উত্তাল হয়ে ওঠে।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, প্রভাবশালী একটি মহল টাকার জোরে হত্যাকাণ্ডটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে। তারা দাবি করেন, মামলার ২ নম্বর আসামি বশির হত্যাকাণ্ডের আগেই দম্ভোক্তি করে বলেছিলেন, হাসপাতালের চাকরির প্রভাব ব্যবহার করে ময়নাতদন্তের রিপোর্টও নিজেদের ইচ্ছামতো পরিবর্তন করা সম্ভব।

এ বক্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে তীব্র উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান বক্তারা। তারা আরও বলেন, হযরত আলী এতিম হওয়ায় তার পরিবারকে দুর্বল ভেবে একটি চক্র বিচার প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তবে এলাকাবাসী স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন, কোনো প্রভাব বা অর্থের বিনিময়ে এ হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দিতে দেওয়া হবে না।
মানববন্ধনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান মুসল্লি বলেন, আমার ভাতিজা এতিম ছিল। ওর বাবা নেই বলেই কি ওর হত্যার বিচার হবে না? আমরা খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এসময় ‘খুনিদের ফাঁসি চাই’, ‘এতিম হযরত আলীর হত্যার বিচার চাই’, ‘টাকার কাছে মানবো না হার—চাই সুষ্ঠু বিচার’সহ নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে চরপাড়া বাজার।

বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী দ্রুত সকল আসামির গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অন্যথায় আরও কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

উল্লেখ্য, গত ২৫ এপ্রিল ফুটবল খেলার সময় একটি গরুর বাছুরের ওপর বল পড়ে। এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে গরুর মালিক মুছা নামে এক ব্যক্তি এতিম কিশোর হযরত আলীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরদিন ২৬ এপ্রিল চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে প্রথমে তালতলী থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়। পরে নিহতের ১৭ দিন পর, গত ১২ মে বরগুনা আদালতে নিহতের চাচা হাবিবুর রহমান মুসল্লি বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। আদালতের বিচারক মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের জন্য তালতলী থানার ওসিকে নির্দেশ দেন।

এ বিষয়ে তালতলী থানার ওসি মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার সঙ্গে জড়িত যেই হোক কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। সত্য ঘটনা উদঘাটন করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।


মেহেরপুরে সাড়ে ৪০০ কোটি টাকার পশু ‍বিক্রির আশা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেরপুর প্রতিনিধি

আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কয়েক সপ্তাহ ধরে বিভাগের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী শত বছরের পুরানো মেহেরপুর জেলার বামন্দী পশু হাট জমে উঠেছে। হাটটিতে বিপুল সংখ্যক দেশি গরু উঠতে শুরু করায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিও চোখে পড়ার মতো।

প্রতি হাটেরদিন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীরা এখান থেকে পশু কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। কয়েক বছরের চেয়ে এবার বাজারে পশুর উপস্থিতি বেশি, দাম নিয়ে ক্রেতা বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

ঈদুল আজহা আসতে এখনো সপ্তাহ দুয়েক বাকি। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহত মেহেরপুর গাংনীর বামন্দী-নিশিপুর পশুর হাটে সপ্তাহে দুদিন (শুক্রবার-সোমবার) চলে বেচাকেনা। আর বছরে হিসেব করলে কিছু মাসে ৯ টি হাট ও পড়ে। হাট দুটিতে বিপুল সংখ্যক গরু-ছাগল উঠছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে বেচাকেনা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা আসছে গরু কিনতে ।

বতর্মানে কোরবানি দিতে ইচ্ছুক ক্রেতাদের সংখ্যা কম দেখা মিল্লেও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। হাটে ৭০ হাজার থেকে শুরু করে ৬ লাখের বেশি টাকার গরু কেনাবেচা হচ্ছে। আর ছাগলের ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ৭০ হাজার টাকা পযর্ন্ত। গরু বেচা কেনা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে রয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।

হাট ইজারাদারদের তথ‍্যমতে, চলতি মাসে কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কমপক্ষে ৪০০ কোটি থেকে ৪২০ কোটি টাকার পশু কেনা-বেচার সম্ভবনা রয়েছে।

তথ‍্যমতে, জেলায় ছোট বড় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর মেহেরপুর জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত রয়েছে প্রায় এক লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু। এর মধ্যে ষাঁড় গরু রয়েছে ৪০ হাজার ৩৪৯টি, বলদ চার হাজার ৮৪৪টি এবং গাভি আট হাজার ৫০৯। এছাড়া মহিষ রয়েছে ৪৮২টি, ছাগল এক লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া দুই হাজার ৭২০টি। জেলায় কোরবানির চাহিদা রয়েছে ৯০ হাজার ২৩৪টি পশু। ১৭ হাজার খামারে দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে ৬ লাখ ১৭ হাজার ৭২৩টি গবাদিপশু। এর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২ লাখ ষাঁড়। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যানুযায়ী, এসব পশুর সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা।

কুমিল্লা থেকে আসা গরু ব‍্যাবসায়ী আকবর আলী বলেন, বামন্দী বাজারে গরু সরবরাহ ভালো, এছাড়া মেহেরপুরের গরুর পষম দেখতে মশৃন হওয়ায় বাইরের বাজারে এর চাহিদা বেশি। তাই প্রতি বছরই মেরেপুরের গরু কিনে দেশের বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করি। তবে এবছর গরুর দাম একটু বেশি হওয়ায় এবার হইতো টার্গেট মিস হবে।

প্রন্তিক খামারি মোশারফ আলী বলেন,বামন্দী বাজারে বিক্রির জন্য গরু নিয়ে এসেছি। খড়,ভুষিস গো খাদ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে গরু লালন পালনে যে টাকা খরচ হয়েছে তার অর্ধেক দাম বলছেন ব্যাপারীরা। তবে আমিও আমার টার্গেট অনুযায়ী দাম না পেলে আমিও গরু বিক্রি করছিনি। ঢাকার পার্টি আসলে আমার গরুর দাম ঠিকই পাবো। এছাড়া দালালদের উৎপাত বেড়েছে। স্থানীয় ব্যাপারীরা সিন্ডিকেট করে গরু কিনছেন। যে কারণে গরুর ন্যায্য মূল্য পাচ্ছি না।

হাট-ইজারাদার হারুন অর রশিদ বাচ্চু বলেন,জাল টাকার ব্যবহার রোধে নেয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। এছাড়া পুলিশের টহল রয়েছে সার্বিক্ষণিক। তিনি বলেন, সরকারি নিয়ম মানলে খাজনা আরও বাড়বে। তাই প্রতি হাজারে টাকা না নিয়ে প্রতিটি পশু হিসেব করে আমরা ৬শ থেকে ৭শ টাকা নিচ্ছি। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ই লাভবান হচ্ছেন। আমাদের এই শুক্রবারের হাটে ৪৫"শ থেকে ৫ হাজার পিস গরু বিক্রি হবে। আর জাগলের সংখ্যাও প্রায় ৩৫০০ পিস। সব মিলিয়ে আমাদের চলতি মাসে এই হাট থেকে ৪শ থেকে সাড়ে ৪শ কোটি টাকার পশু বিক্রি হবে।

আরেক হাট ইজারাদার রাশিদুল ইসলাম সোহাগ বলেন,আমাদের মেহেরপুর জেলার হৃদপিণ্ড বলা হয়ে থাকে এই বামন্দী পশু হাটকে। এই হাটকে কেন্দ্র করে এই জেলার মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড। এই হাটে আশেপাশের দশটি জেলার খামারী ও ব‍্যাপারীরা আশে পশু কেনাবেচা করতে। আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে যে হাটগুলো বসবে,তাতে গড়ে ৫ হাজার করে গরু-ছাগল বিক্রি হবে। মাস হিসেবে তার আনুমানিক কেনা-বেচা হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে প্রায় সাড়ে চারশ কোটি টাকার মতো।

গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস বলেন,জেলা পুলিশের নির্দেশনায় এই হাটটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রতিনিয়তই কাজ করে যাচ্ছে। এবং পুলিশের একাধিক টিম হাটের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করে যাচ্ছে।


গজারিয়ায় ১৩ কিলোমিটারজুড়ে যানজট, ভোগান্তি চরমে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি​

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় কুমিল্লামুখী লেনে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৫ মে) ভোর থেকে শুরু হওয়া এই যানজটে দীর্ঘ সময় আটকে থেকে চরম দুর্ভোগ পোহান যাত্রী ও চালকরা।

হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল শুক্রবার ভোরে মেঘনা-গোমতী সেতুর ঢালে কুমিল্লামুখী লেনে একাধিক কাভার্ড ভ্যানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো সড়কের ওপর আড়াআড়িভাবে আটকে গেলে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর প্রভাবে মুহূর্তেই মহাসড়কের গজারিয়া অংশে প্রায় ১৩ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, তপ্ত গরমে বাসের ভেতর নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা নিদারুণ কষ্টে সময় পার করছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা একই স্থানে দাঁড়িয়ে আছে শত শত যানবাহন।

ভুক্তভোগী ট্রাকচালক উজ্জ্বল জানান, ‘সকাল ৭টায় মেঘনা সেতু পার হওয়ার পরই জ্যামে পড়েছি। এখন সকাল সাড়ে ৯টা বাজে, এখনো ভবেরচর পৌঁছাতে পারিনি।’

প্রাইভেটকারচালক আতাউর বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে মেঘনা সেতু থেকে দাউদকান্দি যেতে ১০ মিনিট সময় লাগে অথচ আজ (গতকাল) আড়াই ঘণ্টা ধরে জ্যামে বসে আছি। এখনো দাউদকান্দি সেতু পার হতে পারিনি।’

গজারিয়া হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মো. শাহ কামাল আকন্দ জানান, দাউদকান্দি সেতুর ঢালে সড়ক দুর্ঘটনার ফলে কাভার্ড ভ্যানগুলো সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দিয়েছে। ​তিনি বলেন, ‘সাপ্তাহিক ছুটির দিনে গাড়ির চাপ অতিরিক্ত হওয়ায় যানজট পুরোপুরি কমতে কিছুটা সময় লাগছে। আশা করছি, দ্রুতই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে আসবে।’


ফতুল্লায় ডিশ ব্যবসায়ীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নাছির (৬০) নামে এক ডিশ লাইন ও ক্যাবল ব্যবসায়ীকে তার নিজ প্রতিষ্ঠানে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে চানমারী মাউড়াপট্টি এলাকায় ‘ফ্রেন্ডস ক্যাবল’ নামের অফিসে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাছির ফতুল্লার চানমারী মাউড়াপট্টি এলাকার মৃত সাইজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি ‘ফ্রেন্ডস ক্যাবল’ নামে একটি ডিশ ও ক্যাবল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো নাছির তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে একা অবস্থান করছিলেন। দুপুর ১টার দিকে হঠাৎ তার চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে গিয়ে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাকে উদ্ধার করে শহরের ৩শ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে কালো হাতলযুক্ত রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী আলাউদ্দিন নামে এক অটোরিকশাচালক বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি সড়কে রিকশা নিয়ে অবস্থান করছিলাম। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা ছুরি হাতে কালো পাঞ্জাবি পরিহিত একজনকে দৌড়ে মাইক্রোস্ট্যান্ডের দিকে চলে যেতে দেখেছি। এর বেশি কিছু জানা নেই।’

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহাবুব আলম বলেন, ‘ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কাভারসহ একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের বুকে ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় সিসি ক্যামেরা পর্যালোচনা করে জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কেশবপুরে ধান কেনা শুরু, কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতই লক্ষ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুরে চলতি বোরো মৌসুমে সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে উপজেলা খাদ্যগুদামে আনুষ্ঠানিকভাবে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।

এসময় তিনি বলেন, ‘কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকার সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছে। এতে মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমবে এবং কৃষক তার উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য পাবেন।’

উদ্বোধনী দিনে কৃষক মো. জিহাদ হাসানের কাছ থেকে ৩ হাজার কেজি বোরো ধান ৩৬ টাকা কেজি দরে সংগ্রহের মাধ্যমে কার্যক্রমের সূচনা করা হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি মৌসুমে প্রতি মণ ধানের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ৪৪০ টাকা। এ বছর কেশবপুর উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩৫১ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ধান বিক্রির জন্য উপজেলার কৃষকদের অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে মোট ১ হাজার ৭১০ জন কৃষক আবেদন করেন। পরে উপজেলা খাদ্যগুদাম ক্রয় কমিটির সভাপতি রেকসোনা খাতুনের উপস্থিতিতে লটারির মাধ্যমে ৪৫৩ জন কৃষককে ধান বিক্রির জন্য মনোনীত করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক হুমায়ুন কবির জানান, সরকার নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু প্রক্রিয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। তিনি বলেন, ‘চলতি মৌসুমে কেশবপুর উপজেলায় ১ হাজার ৩৫১ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।’


banner close