বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬
১০ আষাঢ় ১৪৩৩

ঘুরে আসুন ‘দ্বিতীয় সাজেক’ বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি

এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড় ও মেঘের অসাধারণ লুকোচুরি খেলা। ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৪ নভেম্বর, ২০২৪ ২০:৪৩

পর্বত, অরণ্য ও সমুদ্রপ্রেমী এই তিন শ্রেণির পরিব্রাজকদের জন্য সেরা গন্তব্য হচ্ছে বান্দরবান। অতিকায় উচ্চতার নিঃসীম শূন্যতা উপভোগ করতে করতে সবুজ বনে ঢাকা পাহাড়ি রাস্তা ট্রেকিং করা নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। এরই মাঝে দু-একটি সুদৃশ্য ঝর্ণা যেন বিস্ময়ের অববাহিকায় দিয়ে যায় রোমাঞ্চকর পরশ। চূড়ায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেই অনন্ত শূন্যতার সঙ্গে আলিঙ্গনটা যেন এত কষ্টের স্বার্থকতা এনে দেয়। এর সঙ্গে দৃষ্টিসীমানায় ফেনিল সাগরের দৃশ্য জুড়ে দিলেই তা মিলে যাবে মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে। দ্বিতীয় সাজেক নামে পরিচিত এই জায়গাটি ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে পর্যটকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে।

মিরিঞ্জা ভ্যালির অবস্থান

বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা বান্দরবানের অন্তর্গত লামা উপজেলা। অপরদিকে,কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আলীকদম সড়কে লামার অবস্থান। এই উপজেলারই অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর মিরিঞ্জা ভ্যালি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভ্যালির অবস্থান প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে।

মিরিঞ্জা ভ্যালির ইতিহাস ও বিশেষত্ব

সরাসরি ভ্যালির ইতিহাস বা এর নামকরণের উৎপত্তি নিয়ে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের গোড়াপত্তন হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৬ একর পাহাড়ি ভূমিকে ঘিরে। এর আগেও কতিপয় ট্রেকারদের আনাগোনা থাকলেও এই কমপ্লেক্সই মূলত স্থানটির জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করে। মিরিঞ্জা পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের চূড়ায় ইট পাথরে নির্মাণ করা হয় বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজের ভাস্কর্য, যার উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল।

এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড় ও মেঘের অসাধারণ মিথস্ক্রিয়া। এই কারণে পর্যটনকেন্দ্রটিকে বর্তমানে দ্বিতীয় সাজেক ভ্যালি হিসেবে অভিহিত করা হয়।

ঢাকা থেকে বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার উপায়

মিরিঞ্জা যাওয়ার জন্য প্রথমত রাজধানী ঢাকার রাজারবাগ, ফকিরাপুল বা সায়েদাবাদ থেকে কক্সবাজারের বাস ধরতে হবে। অতঃপর গন্তব্যের আগেই নেমে যেতে হবে চকরিয়া বা চিরিঙ্গা বাস টার্মিনালে।

এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রেলপথে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাওয়া যায়। অতঃপর বাসে করে সরাসরি চকরিয়া বাস টার্মিনাল। দ্রুত সময়ে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের ফ্লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। তারপর কক্সবাজার থেকে বাসে করে চকরিয়া পৌঁছাতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে।

চকরিয়া থেকে লামা-আলীকদম সড়ক ধরে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে যাওয়ার সিএনজি, জিপগাড়ি বা লোকাল বাস পাওয়া যায়। এই পরিবহনগুলো লামা-আলীকদম পথে মিরিঞ্জা পাহাড়ের পাশে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে ১০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে ভ্যালির অবস্থান।

যারা ট্রেকিং করতে ইচ্ছুক তাদের চকরিয়া থেকে চান্দের গাড়িতে করে মুরুম পাড়া পর্যন্ত আসতে হবে। এখান থেকে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে ভ্যালি পর্যন্ত ২০ মিনিটের একটি সহজ ট্রেকিং পথ আছে।

চান্দের গাড়িগুলো মিরিঞ্জা পাড়া পর্যন্তও যায়,যেখানে মেইন রোড থেকে ভ্যালি মাত্র ১০ মিনিট হাঁটা পথ।

মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণে কী কী দেখবেন

পাহাড়ি রাস্তা বা ঝিরিপথ পেরিয়ে চূড়ায় আরহণের পর দূরে দেখা যায় মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স এবং সাঙ্গু নদীসহ বিশাল পাহাড়জুড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য এই চূড়া উপযুক্ত একটি স্থান। এখান থেকে দিগন্তরেখায় কক্সবাজার অংশের বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি চোখে পড়ে। সেই সঙ্গে দৃশ্যমান হয় লাইট হাউস,যার ক্ষীণ আলোয় সরু রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত। মুগ্ধতার পরিসর আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে কখনো কখনো সেই রেখায় ভেসে ওঠে একটি দুটি জাহাজ। পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের টাইটানিক জাহাজের কাঠামোটিও এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পর্যটনকেন্দ্রের কাছেই উপজেলা শহরে ম্রো, ত্রিপুরা, ও মারমাসহ মোট ১১ জনগোষ্ঠির বসবাস।

মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণের সেরা সময়

বর্ষাকালের শেষ থেকে শরৎকাল পর্যন্ত প্রায় সারাদিনই পরিষ্কার আকাশে শুভ্র মেঘের খেলা দেখা যায়। পাহাড়ের চূড়া থেকে এই দৃশ্য দেখার অনুভূতির কোনো বিকল্প হয় না। তবে এ সময়টাতে পাহাড়ি পথ বেশ পিচ্ছিল থাকে। ট্রেকিং পথ খুব একটা দুর্গম না হলেও উষ্ণ মৌসুমের ফলে পুরো যাত্রাটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই এখানে আসার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে শীতের শুরু, তথা নভেম্বর মাস। এ সময় কুয়াশার ঘনঘটা তেমন থাকে না, বিধায় পাহাড়ের উপরের দৃশ্যগুলো ভালোভাবে দেখা যায়।

মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা

পাহাড়ের উপরের বাঁশ ও খড়ের মাচাং এবং জুম ঘরগুলো যথেষ্ট পরিবেশবান্ধব। এগুলো যাত্রাবিরতিতে বসবাসের জন্য উপযোগী। এছাড়া পর্যটন কমপ্লেক্সের ভেতর খোলা আকাশের নিচে রয়েছে বেশ কয়েকটি তাঁবু ঘর। তাই রাতে ক্যাম্পিং নিয়ে ঝামেলা নেই।

এই ছোট বাসস্থানগুলোকে ঘিরে আশপাশে রয়েছে চিকেন ফ্রাই ও বিরিয়ানিসহ নানা পদের খাবারের ব্যবস্থা। তবে কমপ্লেক্স বা রিসোর্টের বাইরে থাকার এবং খাবারের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। সুতরাং, ট্রেকিং বা আশপাশ ঘুরে দেখার সময় শুকনো খাবার বা পানীয় সঙ্গে রাখা উচিত।

ভ্রমণকালীন সতর্কতা

# এই ভ্যালিতে ঘুরতে গেলে অবশ্যই দল বেঁধে যাওয়া উত্তম

# সার্বিক নিরাপত্তার প্রয়োজনে কিছু জায়গায় চেকিং হতে পারে। তাই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পেশাগত বা ইউনিভার্সিটির পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত।

# পাহাড়ের ওপর নির্বিঘ্নে চলাফেরা করার জন্য ভালো গ্রিপসহ মজবুত জুতা পরে যাওয়া জরুরি

# খাবার পানি, শুকনো খাবার, টর্চলাইট ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম সঙ্গে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখা উচিত যে,কাঁধের ব্যাগ যেন খুব বেশি ভারী হয়ে না যায়।

# নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন ও হাসপাতালের যোগাযোগের নম্বর সংগ্রহে রাখতে হবে

# পরিবেশ ময়লা বা দূষিত করা এড়িয়ে চলতে হবে। সঙ্গে খাবার নিয়ে গেলে সমস্ত উচ্ছিষ্ট এবং মোড়ক যেখানে-সেখানে না ফেলে যথাস্থানে ফেলা উচিত।

# আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, কোনো অবস্থাতেই যেন তাদের সংস্কৃতির প্রতি কোনো অযাচিত মনোভাব প্রদর্শন না হয়।

শেষ কথা

বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালির মেঘ ও পাহাড়ের নিবিড় আলিঙ্গন ভ্রমণপিপাসুদের বারবার মনে করিয়ে দেয় সাজেকের কথা। এখানকার জুমঘরগুলোর যে কোনোটিতে একটি রাত কাটানো সারা জীবনের জন্য অবিস্মরণীয় এক স্মৃতি হয়ে থাকবে। সবুজ বনে আচ্ছাদিত সুবিশাল পাহাড় আর সীমান্তরেখায় সমুদ্রের উত্তাল জলরাশি ট্রেকিংয়ের ক্লান্তিকে নিমেষে ভুলিয়ে দেয়। এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় দল নিয়ে ভ্রমণ করা আবশ্যক। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগের নাম্বার সংগ্রহে রাখা জরুরি। ( সূত্র: ইউএনবি)


নির্বাচিত

খাগড়াছড়িতে গোলাগুলিতে দুই ইউপিডিএফ সদস্য নিহত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

খাগড়াছড়িতে গোলাগুলিতে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ-প্রসিত) দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৪ জুন) দীঘিনালা ও রামগর ইউনিয়নের পৃথক দুই জায়গায় এ ঘটনা ঘটে। দুই নেতার একজন নিরাপত্তাবাহিনী ও আরেকজন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির গুলিতে নিহত হয়েছেন বলে দাবি ইউপিডিএফের।

পুলিশ, স্থানীয় ও দলীয় সূত্র জানায়, বুধবার (২৪ জুন) সকাল ১০টার দিকে রামগড় উপজেলার প্রেমতলা এলাকায় নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের গোলাগুলি হয়। এতে ইউপিডিএফ সদস্য ববিন ত্রিপুরা (৩২) নিহত হন। তিনি রামগড় উপজেলার মাজারা টিলা গ্রামের বাসিন্দা। একই ঘটনায় মংসানু মারমা ওরফে জীবন (২৯) নামের একজন আহত হয়েছেন বলে দাবি ইউপিডিএফের। তার বাড়ি উপজেলার দাতারাম পাড়ায়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করে নিরাপত্তাবাহিনী।

ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি দাবি করেন, প্রেমতলা এলাকায় আগে থেকে অবস্থান নেওয়া নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা ইউপিডিএফ কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এতে ববিন ত্রিপুরা নিহত হন। এ ঘটনায় মংসানু মারমা নিখোঁজ রয়েছেন। তাকে আহত অবস্থায় আটক করা হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা।

নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফের গোলাগুলির বিষয়টি নিশ্চিত করেন রামগড় থানার ওসি মো. নাজির আলম। তিনি বলেন, ঘটনাস্থলটি দুর্গম এলাকায় হওয়ায় নিরাপত্তা বাহিনী এখনো নিহতের মরদেহ কিংবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেনি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া চলমান।

অন্যদিকে দুপুরে দীঘিনালা উপজেলার বাবুছড়ার মুড়োপাড়া এলাকায় গুলিতে সুজন চাকমা (৪৮) নামের এক ইউপিডিএফ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জেএসএসকে দায়ী করেছে ইউপিডিএফ। তবে এ বিষয়ে জেএসএসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিকেল পাঁচটায় এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে ইউপিডিএফ। সংগঠনের মুখপাত্র অংগ্য মারমার সই করা এ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, জেএসএসের অস্ত্রধারী কয়েকজন তাদের কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা করেছে। এ সময় সাংগঠনিক কাজে বাবুছড়ার মুড়োপাড়ায় অবস্থানরত তাদের সদস্য সুজন চাকমাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

দীঘিনালা থানার ওসি ইকবাল বাহার বলেন, সুজন চাকমা বাবুছড়া মুরোপাড়ায় একটি দোকানে বসে ছিল। এ সময় পাঁচজন মুখোশধারী কিছু লোক মোটরসাইকেলে এসে গুলি করে চলে যায়। লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লাশের শরীরে তিনটি গুলি লেগেছে।


নির্বাচিত

ঢাকাকে ভূমিকম্প সহনশীল করতে ‘মেগা প্ল্যান’

নিয়োগ পাবেন ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

রাজধানী ঢাকাকে ভূমিকম্পের ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে এবং দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা বা ‘মেগা প্ল্যান’ নিয়ে কাজ করছে সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ১ লাখ প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগ এবং ৪৫০টি নির্দিষ্ট ‘অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট’ বা সমবেত হওয়ার স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়াতে ফায়ার সার্ভিস ও আবহাওয়া অধিদপ্তরকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে আনার প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) রাজধানীর গুলশানে একটি হোটেলে আয়োজিত নবম আরবান ডায়ালগ-২০২৬ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এ তথ্য তুলে ধরেন। ডায়ালগ আয়োজন করে আরবান আইএনজিও ফোরাম বাংলাদেশ।

সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানান, প্রধানমন্ত্রীর তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঢাকা শহরে ভূমিকম্প মোকাবিলায় ১ লাখ স্বেচ্ছাসেবী নিয়োগের কাজ চলছে, যারা দুর্যোগের সময় ‘ফার্স্ট রেসপন্ডার’ হিসেবে কাজ করবে। পূর্বে ১ লাখ ৪৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবীর একটি ডেটাবেইস থাকলেও সেটি হালনাগাদ না থাকায় এখন ১৮ বছরের বেশি বয়সী তরুণদের নিয়ে নতুন করে প্রায় ৫০ হাজার ৫০০ জনের তালিকা তৈরি করা হয়েছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব আরও বলেন, ‘আমরা এই তরুণ জনগোষ্ঠীকে পুঁজি করে ভলান্টিয়ার (স্বেচ্ছাসেবী) নিয়োগ করতে চাই এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও মানসিক স্বাস্থ্যসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।’

৪৫০ অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট ও ভারী যন্ত্রপাতি: সচিব বলেন, ভূমিকম্পের পর মানুষ কোথায় সমবেত হবে বা সরকারি সাহায্য কোথায় পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত করতে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের সঙ্গে সমন্বয় করে ৪৫০টি জায়গা ‘অ্যাসেম্বলি পয়েন্ট’ হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে। এই তালিকা অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া দুর্যোগ পরবর্তী উদ্ধারকাজের জন্য সশস্ত্র বাহিনী, ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন সংস্থার কাছ থেকে ৫২ থেকে ৫৪ ধরনের ভারী যন্ত্রপাতির তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। বেসরকারি খাতের কাছে থাকা হেলিকপ্টার ও হাসপাতালের বেড সক্ষমতার তথ্যও সংগ্রহের কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান। বাংলাদেশের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের প্রেক্ষাপটে নগর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, বিদ্যমান অবকাঠামোগত ঘাটতি ও ব্যাপক আর্থসামাজিক বৈষম্য নিরসনে সুপরিকল্পিত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।

আরবান ডায়ালগে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের কান্ট্রি ডিরেক্টর কবিতা ঘোষ নগরায়ণের বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক চিন্তা না করে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত নগরায়ণ নিয়ে ভাবতে হবে, যাতে মানুষের শহরমুখী হওয়ার প্রবণতা বা মাইগ্রেশন কমে।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো মানসম্মত শিক্ষা বা স্বাস্থ্যসেবা বিভাগীয় পর্যায়ে থাকত, তবে মানুষ কেন এত দূরে আসত?’

জনবান্ধব নগরনীতি বাস্তবায়নের দাবিতে অনুষ্ঠানে ১৬ দফা ঘোষণা করা হয়। ঘোষণাপত্রের উল্লেখযোগ্য দফার মধ্যে রয়েছে—ভূমি মালিকানার আইনি জটিলতা নির্বিশেষে বস্তিবাসীসহ সব নাগরিকের নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা পাওয়া মৌলিক অধিকার। পাশাপাশি শহর এলাকায় ক্রমবর্ধমান দাবদাহ মোকাবিলায় একটি ন্যাশনাল হিট অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি, কর্মজীবী মায়েদের সহায়তায় এলাকাভিত্তিক চাইল্ড-কেয়ার হাব প্রতিষ্ঠা এবং বর্জ্য ও স্যানিটেশন কর্মীদের পৌর ব্যবস্থাপনার মূল কাঠামোর অন্তর্ভুক্ত করে তাদের ন্যায্য মজুরি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা ইত্যাদি।


নির্বাচিত

ডিসি সারওয়ার আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন: প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সিলেটের সদ্য প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের প্রশংসা করে বলেছেন, তিনি আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। এ সময় হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে সরকার কাজ করবে বলে জানান মন্ত্রী।

বুধবার (২৪ জুন) বিকেলে চার দিনের সফরে সিলেট পৌঁছালে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

সিলেট আসার পর বিমানবন্দরে সাম্প্রতিক মাজার ইস্যু ও জেলা প্রশাসক প্রত্যাহার নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, উনি (সারওয়ার আলম) আমাদের চোখ খুলে দিয়েছেন। আমরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো।

মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের (মাজারের দানের টাকা প্রকাশ্যে গণনা) স্বচ্ছতার পদক্ষেপে আমাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো এবং সবাইকে নিয়ে মাজারের স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবো। এ বিষয়ে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।

তিনি বলেন, আমি দেশের বাইরে ছিলাম। দেশে আসার পর গতকাল সংসদে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ হয়েছে। আমরা সবাই একমত। মাজার নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো। খুব তাড়াতাড়ি মাজারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।

ডিসি সারওয়ার আলমের বদলি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বদলির বিষয়টা রুটিন ওয়ার্ক। এটা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিষয়।

সম্প্রতি কাতারে নিহত বাংলাদেশিদের বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ দেশে আনা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিবেচনা করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

ঝিনাইদহে ওয়ালটনের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা পেলেন শতাধিক মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে ঝিনাইদহে বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করেছে ওয়ালটন প্লাজা। বুধবার (২৪ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত শহরের অগ্নিবীণা সড়কে অবস্থিত ওয়ালটন প্লাজায় এ স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।

ক্যাম্পে শহরের বিভিন্ন এলাকার প্রায় ১০০ জন গ্রাহক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান করা হয়। স্বাস্থ্যসেবা দেন কালীগঞ্জ ডায়াবেটিস হাসপাতালের চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মো. আলী রেজা তপু।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ওয়ালটনের রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার রিফাত হাসান খান, চুয়াডাঙ্গা মোড় শাখার ম্যানেজার সাদিক-ই-নুর, ঝিনাইদহ প্লাজার ম্যানেজার তোতা মিয়া, হেলথ কেয়ার অ্যান্ড হ্যাপিনেস অফিসার আলী মুরাদ খান শুভ, জাকারিয়া হোসেনসহ প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য কর্মকর্তারা।

বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ পেয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় মানুষরা। তারা জানান, এ ধরনের উদ্যোগ সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আয়োজকরা জানান, ওয়ালটন প্লাজা শুধু ব্যবসায়িক কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ নয়; সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে নিয়মিত বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় সারাদেশের মতো ঝিনাইদহেও এই বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ঝালকাঠি জেলায় ৮২ হাজার শিশু পাচ্ছে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

টিকা সংকটে প্রায় ১৪ মাস বন্ধ থাকার পর দেশব্যাপী ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ২৮ জুন ঝালকাঠি জেলায় ৮২ হাজার ৫০১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানোর প্রস্তুতি নিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের নিয়ে আয়োজিত একটি সভায় বুধবার (২৪ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের দেয়া তথ্য বলছে, আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত চলবে ক্যাম্পেইন। এদিন ঝালকাঠির চারটি উপজেলার সকল ইউনিয়ন এবং দুটি পৌরসভার সকল ওয়ার্ডে একযোগে ৮২ হাজার ৫০১ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। এর মধ্যে ৬-১১ মাস বয়সি ১০ হাজার ১১ জন শিশুকে নীল রঙের এবং ১২-৫৯ মাস বয়সি ৭২ হাজার ৪৯০ জন শিশুকে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।

জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের কার্মকর্তারা জানিয়েছেন, নিয়ম অনুসারে বছরে দুইবার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা। তবে ক্যাপসুলসংকটে গত বছরের মার্চ মাসের পর থেকে তা আর হয়নি। দীর্ঘ ১৪ মাস পর আগামী ২৮ জুন এই ক্যাম্পেইন হচ্ছে।


নির্বাচিত

কুড়িগ্রামে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার ও উদ্ভাবনী পরিদর্শন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

‘বদলে যাচ্ছে কৃষিটা রোজ, নতুন প্রযুক্তিতেই সাফল্যের খোঁজ’ এই স্লোগানে সফল কৃষকদের আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার উদ্ভাবনী পরিদর্শন করানো হয়েছে।

কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় বুধবার (২৪ জুন) সকালে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় আরডিআরএস বাংলাদেশ কৃষকদের এই সফরের আয়োজন করে।

উপজেলার বিএডিসি, খামার, সমন্বিত আদর্শ খামার, আধুনিক কৃষি নার্সারি পরিদর্শন করানো হয়। এ সময় কুড়িগ্রামের ৩৫ জন লিড কৃষকদের আধুনিক নার্সারি, সমন্বিত কৃষি খামার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উদ্ভাবনী পদ্ধতি সরাসরি প্রদর্শনের জন্য সফল ও আদর্শ কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সুযোগ তৈরি করে আরডিআরএস বাংলাদেশের স্পেশাল প্রোগ্রাম ডেভেলপমেন্ট কৃষি ইউনিট।

আরডিআরএস-এর টেকনিক্যাল অফিসার কৃষিবিদ সজিব আহমেদ জানান, লিড ফার্মারদের এক্সপোজার ভিজিট বা অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর হলো কৃষকদের জন্য একটি প্রায়োগিক শিক্ষা কার্যক্রম, যার মূল উদ্দেশ্য ‘দেখা এবং বিশ্বাস করা’ এর মাধ্যমে নির্বাচিত মডেল ও সফল খামারিদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে আধুনিক ও টেকসই কৃষি প্রযুক্তি সম্পর্কে হাতে-কলমে জ্ঞান অর্জন করা হয়।

‎উক্ত আয়োজনে সমন্বিত কৃষি খামারের পাশাপাশি কৃষকরা বিএডিসি পরিদর্শন করে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএডিসি’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ মিজানুর রহমান ও কৃষিবিদ জলিল উদ্দিন।

এ সময় বিএডিসি’র কার্যক্রম, আধুনিক বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং বিপণন বিষয়ে পরামর্শ প্রদান, কীভাবে কৃষক বিএডিসি থেকে উপকৃত হতে পারে সার্বিক বিষয়ে আলোচনা করা হয়।‎


নির্বাচিত

খুলনায় নবীন আইনজীবীদের পরিচিতি সভা ও সংবর্ধনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে ২০২৬ সালে তালিকাভুক্ত নবীন আইনজীবীদের নিয়ে পরিচিতি সভা ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকালে সমিতির লাইব্রেরি মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন আইনজীবীদের ফুল ও আইডি কার্ড প্রদান করে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. মাসুম রশিদ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোল্লা মশিয়ুর রহমান নান্নু। বক্তারা নবীন আইনজীবীদের আইনপেশার মর্যাদা, দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা ও পেশাগত দক্ষতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

তারা বলেন, ‘আইনপেশা কেবল জীবিকা অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার এক মহান দায়িত্ব। তাই পেশাগত জীবনের শুরু থেকেই সততা, শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও নৈতিকতার চর্চাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক, অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু, শেখ আব্দুল আজিজ ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউনুস। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট তৌহিদুর রহমান চৌধুরী তুষার, মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি এ কে এম শহিদুল আলম, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আসাদুল আলম, ফোরামের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোল্লা গোলাম মাওলা, সিনিয়র আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস এম মুজিবুর রহমান, অ্যাডভোকেট শরিফুল ইসলাম জোয়ার্দার (খোকন), মাহফুজুর রহমান, অ্যাডভোকেট হালিমা আক্তার খানম এবং অ্যাডভোকেট জিল্লুর রহমান খানসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ আইনজীবীরা।

সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মোল্লা মো. মাসুম রশিদ নবীন আইনজীবীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘আইনপেশা শুধু জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্র নয়, এটি ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠার এক মহান দায়িত্ব। একজন আইনজীবীর পেশাগত সাফল্যের পাশাপাশি সততা, দক্ষতা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।’

অনুষ্ঠানে সমিতির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মহসিন চৌধুরী ও অ্যাডভোকেট মো. মোশারফ হোসেন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম এম তহিদুজ্জামান, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট নুরুন্নাহার নাজমুন্নেছা জেবা, কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যরা এবং সমিতির বিপুলসংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ভাত না খেয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন ১৩ বছরের কিশোর বাঁধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

যেখানে আর দশজন ভাত খেয়ে বেঁচে আছে, সেখানে জন্মের পর থেকে আজ পর্যন্ত ভাত না খেয়েই স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন কিশোর বাঁধন।

নাটোরের সিংড়া উপজেলার দুর্গম পল্লী চলনবিল অধ্যুষিত গ্রাম বেড়াবাড়ি। এই গ্রামের কৃষক বুদ্দু মোল্লার পুত্র বাঁধন (১৩)। ২ বোনের ১ ভাই বাঁধন।

বড় বোন বর্ষা, ছোট বোন রুবি। বাঁধনের বাবা একজন দিনমজুর। বর্ষাকালে শ্যালো নৌকা চালিয়ে সংসার চালান। বাবা অসুস্থ হলে বাঁধন ও নৌকার হাল ধরেন। সে ও বাবার কাজে সহযোগিতা করেন। বাঁধন বিয়াশ উচ্চবিদ্যালয়ে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

আর সবার মতো সুস্থ এবং স্বাভাবিকভাবেই তার জন্ম। জন্মের পর তার কোনো সমস্যাই ছিল না। সমস্যা শুরু হয় ‘মুখে ভাত’ খাওয়া নিয়ে। সবাই যখন তার মুখে প্রথমবার ভাত দিতে যায়, তখন সে মুখে ভাত দিলেই কান্নাকাটি শুরু করে দেয় এবং বমি করে ফেলে। এতে করে বিব্রত হয়ে পড়ে তার পরিবার।

পরিবারের লোকজন ভাবে আরেকটু বড় হোক তখন ভাত খাওয়ানো যাবে। দুই বছর পর্যন্ত শুধু মায়ের বুকের দুধ খেয়েই বড় হয় সে। এরপর তাকে আবার ভাত খাওয়ানোর চেষ্টা শুরু করে পরিবারের লোকজন। কিন্তু তখনো সে ভাত খেতে চায় না। জোর করে ভাত খাওয়াতে গেলেই বমি করে দেয়। যদিও পরিবারের কেউ তাকে ভাত খাওয়ানোর আর চেষ্টা করেনি। তবে ডাক্তার আর কবিরাজের কাছে গিয়েছেন কয়েকবার। কিন্তু কোনো চিকিৎসায় কাজ হয়নি।

বাঁধনের মা বলেন, ‘আমরা ভাত খাই তখন সে রুটি, মুড়ি কিংবা শুধু সবজি খেয়ে থাকে। আমাদের সাথে ভাত খেতে বসে না। সকালে মুড়ি, দুপুরে সবজি দিয়ে রুটি, রাতে মুড়ি খেয়ে থাকে। মুড়ি না থাকলে না খেয়ে থাকতে হয়। তবুও সে ভাত খাবে না।’

বাঁধনের বাবা বুদ্দু জানান, তার ছেলে ছোট থেকেই এই সমস্যা। শুকনো খাবার খেয়ে থাকে। ভেজা খাবারে চাহিদা নাই। ভাতের আশেপাশে থাকে না।

হয় তাকে আগে খেতে দিতে হয়। কোনো অনুষ্ঠানে গেলে সে শুধু মাংস খায়।

বাঁধন বলেন, ‘আমি ছোট থেকেই শুকনা খাবারে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছি। ভাত খেতে পারি না। ভাত খেলেই বমি হয়। কেন হয় বলতে পারি না। বাবা, মা ভাত খাওয়ার সময় দূরে দূরে থাকি। আমি তাদের আগে কিংবা পরে মুড়ি, রুটি খেয়ে নিই।’

বিয়াশ উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি আমি শোনেছি। সে আমার স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ালেখা করে। বিদ্যালয়ে তার উপস্থিতি কম। তার ভর্তি রোল ৬১, স্কুলে নিয়মিত হলে তার বিষয়ে আমাদের আলাদা কেয়ার থাকবে।’


নির্বাচিত

সুগন্ধায় সেতু নির্মাণের সম্ভাবনা, স্থান পরিদর্শনে সেতু কর্তৃপক্ষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

ঝালকাঠি ও নলছিটি উপজেলার মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে সুগন্ধা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল। স্থানীয় উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আনতে প্রস্তাবিত এ সেতুকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো হিসেবে বিবেচনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (২৪ জুন) সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য জীবা আমীনা আল গাজীর প্রস্তাবিত ঝালকাঠি-নলছিটি সংযোগ সেতুর সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদল।

সফরের অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন (পিএন্ডডি) বিভাগের উপপরিচালক মো. নুর ইয়াসিনের নেতৃত্বে গঠিত প্রতিনিধিদল সভায় অংশ নেয়। পরে তারা জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সুগন্ধা নদীর ওপর প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবিত সেতুটি নির্মিত হলে ঝালকাঠি ও নলছিটিসহ কয়েকটি আশপাশের জেলার সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। এতে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।

তারা আরও বলেন, ‘সেতুটি দীর্ঘমেয়াদে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে গতিশীল করবে এবং স্থানীয় উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’


নির্বাচিত

পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচে মাটি কাটার অভিযোগ, প্রকল্প কর্তৃপক্ষের ভিন্ন কথা

* এক পক্ষ বলছে বৈধ, অন্য পক্ষ উদ্বিগ্ন * ঝুঁকি নিয়ে প্রশ্ন সেতুর নিরাপত্তায়
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে মাটি কেটে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এ নিয়ে চারদিকে আলোচনা সমালোচনা শুরু হলে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, একটি মহল সেতুর নিচের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করে দিচ্ছে। এতে সেতুটি ঝুঁকির মুখে পড়বে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে সেতুর আশেপাশের মাটি কাটার অনুমতি রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জানিয়েছেন।

ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, পদ্মা সেতুর নিচে ও পাশে থেকে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে নেওয়া হচ্ছে। তবে কে বা কারা এই মাটি নিয়ে যাচ্ছে তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, আলীগঞ্জে অবস্থিত পদ্মা রেলসেতুটির পিলারের নিচে ও একপাশের মাটি কেটে নেওয়া চিহ্ন দেখা গেছে। সেতুটির ৮৫, ৮৬ ও ৮৭ নম্বর পিলারের আশপাশের মাটি কেটে নেওয়া হয়েছে। এতে বিশাল বড় গর্ত তৈরি হয়ে পানি জমেছে। তবে আপাদত মাটি কাটার কাজ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুতুবপুর ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবুবক্কর ও তাঁর অনুসারীরা সেতুর পিলারের গোড়া থেকে মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে।

তবে বিষয়টি অস্বীকার করে কুতুবপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক মেম্বার আবুবক্কর বলেন, আমি সেখান থেকে মাটি কেটে নেইনি। এটা ফতুল্লার কিছু লোকজন করছে। তবে আমার জানা মতে, মাটি কাটার অনুমতি আছে।

তিনি আরও বলেন, সেতুর নিচের মাটি কাটার জন্য চায়নার এক কোম্পানি টেন্ডার দিলে ঢাকার এক ব্যক্তি টেন্ডার পেয়েছিল। পরে তার সাথে মিলে কাজ শুরু করলে এলাকার লোকজন অনেক আগে বাধা দিয়েছিল। তখন আর মাটি কাটিনি। এটা প্রায় দুই বছর আগের ঘটনা। এখন নতুন করে ফের ফতুল্লার সাগর সিদ্দির ও তার লোকজন মাটি কাটছে।

সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফয়েজ উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের টিম সেখানে গিয়ে কথা বলেছে। পরে ওরা জেলা প্রশাসকের সাথে দেখা করেছে। রেলওয়ের লোকজন, মাটি কাটার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশ আর্মির ইঞ্জিনিয়ারিং কোর এই তিনটা প্রতিষ্ঠান ডিসি স্যারের সাথে দেখা করেছে। এ বিষয়ে তিনি বলতে পারবেন।

মাটি কাটার কাজ চলছে কিনা-এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমার জানা নেই। এছাড়া অভিযুক্ত ওই ব্যক্তির বিষয়েও আমার জানা নেই।

ফতুল্লার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর বলেন, রেলওয়ে প্রকল্পের অধীনে এ কাজ করেছে, এ বিষয়ে ওনারা জানে। প্রথম দিকে আমরা গিয়ে সেখানে মাটি কাটার কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। পরে তারা এটা নিয়ে ডিসি স্যারের সাথে মিটিং করেছে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ থেকে মাটি কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে এমন কোন অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে প্রজেক্টের পক্ষ থেকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।

পদ্মা রেলিং প্রজেক্টের ব্রিজ অ্যান্ড ভায়াডাক্ট ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল করিম বলেন, নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার আলীগঞ্জে পদ্মা রেলসেতুর পিলারের নিচ থেকে অনুমতি নিয়েই মাটি কাটা হয়েছে। পিলার নম্বর ৭৬ থেকে ৯০ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের স্থানে কাটা হচ্ছে, যা আগে জলাশয় ছিল। চায়না রেলওয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (CREC) কন্ট্রাক্টার মাটি ও বালু দ্বারা ভরাট করে ভায়াডাক্ট নির্মাণ কাজ শেষ করে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ওই অঞ্চলে পূবের মতো জলাশয় খনন করা হচ্ছিল। এটা এই প্রকল্পের একটা গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশবান্ধব নির্দেশিকা। এক কথায়, কাজের সুবিধার জন্য এখানে মাটি ভরাট করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে কেটে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তবে সম্প্রতি মাটি কাটার ঘটনাটিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা মোটেও ঠিক নয়। কিছু স্বার্থন্বেষী মহল নিজেদের লাভের জন্য অপপ্রচার চালাচ্ছে। এখানে জলাশয় থাকবে সেই অনুসারে ডিজাইন করা হইয়াছে এবং কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। যেহেতু ভূমির গভীরতা বিবেচনায় স্ট্রাকচারাল ডিজাইন অনুসারে পাইল, পাইল ক্যাপ এর ভিত্তির উপর অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে যা পিলারের কোন প্রকার ক্ষতি করবে না।


নির্বাচিত

অসহায় সোনালীর পরিবারে স্বস্তি, স্বামীর হাতে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার কধুরখীল কৈবর্ত্যপাড়ার বাসিন্দা সোনালী দাসের পরিবারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে দীর্ঘদিন কষ্টে থাকার পর সরকারি সহায়তার আওতায় এসেছেন তারা।

বুধবার (২৪ জুন) উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে সোনালী দাসের স্বামী নির্মল চন্দ্র দাসকে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এক বছরের সরকারি ভাতা বাবদ ১০ হাজার ৮০০ টাকা হস্তান্তর করা হয়।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা পিপুল চন্দ্র নাথ বলেন, ‘সোনালী দাসের পরিবারের অসহায় অবস্থার খবর জানার পর তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিস্থিতি দেখা হয়। পরে স্থানীয় একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।’

তিনি বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সহায়তায় নির্মল চন্দ্র দাসকে বিশেষ সক্ষম ব্যক্তি হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এরপর তাকে সুবর্ণ নাগরিক কার্ডের আওতায় এনে সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’

কার্ড ও ভাতার অর্থ গ্রহণের পর সোনালী দাস বলেন, ‘অসুস্থ স্বামীর চিকিৎসা চালিয়ে নেওয়া নিয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি অসুস্থ হয়ে পড়ার পর তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন।’

উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় জানিয়েছে, পরিবারটির পাশে থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখা হবে।


নির্বাচিত

মাগুরায় মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কর্মশালা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

"কারিগরি শিক্ষা দিলে দেশ-বিদেশ কর্ম মেলে " এ প্রতিপাদ্য নিয়ে মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ ও ইন্ডাস্ট্রি লিংকেজ বৃদ্ধির লক্ষ্যে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে মাগুরা জেলা অডিটরিয়ামে মাগুরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ এ কর্মশালার আয়োজন করে।

এ কর্মশালায় মাগুরা সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোহাঃ সাজেদুল ইসলামের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক আব্দুল কাদের।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মোহাম্মদ আবু সাঈদ মোল্লা, মাগুরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ মনির হোসেন , মাগুরা শিক্ষা প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হারুন অর রশিদ। অনুষ্ঠানের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড.মোহাম্মদ আনিসুর রহমান মৃধা ।

প্রধান আলোচক হিসেবে ছিলেন মোহাম্মদপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ বনবাসী বর্মন। কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকার ASSET প্রকল্পের সংযুক্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মিরাজুল ইসলাম।

ওয়ার্কশপে জানানো হয়, কারিগরি শিক্ষার মান বৃদ্ধিতে বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। কারিগরি শিক্ষার্থীদের আরো দক্ষ,কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও সৃজনশীল করতে সরকার নানা ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। শুধু সরকারি কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় বাংলাদেশের বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো দক্ষ করতে নানা ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদানের ব্যবস্থা করছে সরকার।

আগামী দিনে কারিগরি শিক্ষার্থীরায় হবে দেশের উন্নয়নের চাবিকাটি। দিন ব্যাপী এ প্রশিক্ষণে জেলার সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠান প্রধান ও বিভিন্ন বে সরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ১২০ প্রধান, সুধীজন ও সাংবাদিক অংশ নয়।


নির্বাচিত

ঢাকায় সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে নড়াইল প্রেসক্লাবের মানববন্ধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

ঢাকার ধানমন্ডি ৩২শে জামাতের সমাবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে জামায়াতের নেতাকর্মীদের দ্বারা মঙ্গলবার (২৩ জুন) সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও নির্যাতনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নড়াইলে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

নড়াইল প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বুধবার (২৪ জুন) বুধবার শহরের আদালত সড়কে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন,পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে প্রতিনিয়ত সাংবাদিকরা হামলার শিকার হচ্ছেন।যা স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য বড় হুমকিস্বরূপ। সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের

ন্যক্কারজনক হামলা ও হয়রানির ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।গণমাধ্যমকর্মীদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হামলাকারীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

নড়াইল প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গণমাধ্যমকর্মীরা জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে মাঠপর্যায়ে কাজ করেন।তাদের ওপর হামলা মানে শুধু একজন ব্যক্তির ওপর আঘাত নয়, বরং এটি স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন আঘাত।

অনতিবিলম্বে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানান তারা ।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে নড়াইল প্রেসক্লাবের সভাপতি এডভোকেট এস এম আব্দুল হক, ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুর রশিদ লাবলু, সিনিয়র সাংবাদিক খায়রুল আরেফিন রানা, সিনিয়র সাংবাদিক কাজী

হাফিজুর রহমান,আল আমিনসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও অনেকে বক্তব্য দেন। জেলার কর্মরত সাংবাদিকবৃন্দ,বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি,মানবাধিকারকর্মী এবং স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা অংশ নিয়ে সাংবাদিকদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

banner close