পর্বত, অরণ্য ও সমুদ্রপ্রেমী এই তিন শ্রেণির পরিব্রাজকদের জন্য সেরা গন্তব্য হচ্ছে বান্দরবান। অতিকায় উচ্চতার নিঃসীম শূন্যতা উপভোগ করতে করতে সবুজ বনে ঢাকা পাহাড়ি রাস্তা ট্রেকিং করা নিঃসন্দেহে কষ্টসাধ্য। এরই মাঝে দু-একটি সুদৃশ্য ঝর্ণা যেন বিস্ময়ের অববাহিকায় দিয়ে যায় রোমাঞ্চকর পরশ। চূড়ায় ওঠার সঙ্গে সঙ্গেই সেই অনন্ত শূন্যতার সঙ্গে আলিঙ্গনটা যেন এত কষ্টের স্বার্থকতা এনে দেয়। এর সঙ্গে দৃষ্টিসীমানায় ফেনিল সাগরের দৃশ্য জুড়ে দিলেই তা মিলে যাবে মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ অভিজ্ঞতার সঙ্গে। দ্বিতীয় সাজেক নামে পরিচিত এই জায়গাটি ইতোমধ্যেই দেশজুড়ে পর্যটকদের মধ্যে যথেষ্ট সাড়া ফেলেছে।
মিরিঞ্জা ভ্যালির অবস্থান
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জেলা বান্দরবানের অন্তর্গত লামা উপজেলা। অপরদিকে,কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আলীকদম সড়কে লামার অবস্থান। এই উপজেলারই অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্র নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যে ভরপুর মিরিঞ্জা ভ্যালি। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ভ্যালির অবস্থান প্রায় ১ হাজার ৫০০ ফুট উঁচুতে।
মিরিঞ্জা ভ্যালির ইতিহাস ও বিশেষত্ব
সরাসরি ভ্যালির ইতিহাস বা এর নামকরণের উৎপত্তি নিয়ে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। তবে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্সের গোড়াপত্তন হয়েছিল ২০০৩ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রায় ১৬ একর পাহাড়ি ভূমিকে ঘিরে। এর আগেও কতিপয় ট্রেকারদের আনাগোনা থাকলেও এই কমপ্লেক্সই মূলত স্থানটির জনপ্রিয়তা সৃষ্টি করে। মিরিঞ্জা পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের চূড়ায় ইট পাথরে নির্মাণ করা হয় বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজের ভাস্কর্য, যার উদ্বোধন হয় ২০০৫ সালের ১৯ এপ্রিল।
এখানকার প্রধান আকর্ষণ হলো পাহাড় ও মেঘের অসাধারণ মিথস্ক্রিয়া। এই কারণে পর্যটনকেন্দ্রটিকে বর্তমানে দ্বিতীয় সাজেক ভ্যালি হিসেবে অভিহিত করা হয়।
ঢাকা থেকে বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি যাওয়ার উপায়
মিরিঞ্জা যাওয়ার জন্য প্রথমত রাজধানী ঢাকার রাজারবাগ, ফকিরাপুল বা সায়েদাবাদ থেকে কক্সবাজারের বাস ধরতে হবে। অতঃপর গন্তব্যের আগেই নেমে যেতে হবে চকরিয়া বা চিরিঙ্গা বাস টার্মিনালে।
এছাড়া কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে রেলপথে চট্টগ্রাম পর্যন্ত যাওয়া যায়। অতঃপর বাসে করে সরাসরি চকরিয়া বাস টার্মিনাল। দ্রুত সময়ে যাওয়ার জন্য ঢাকা থেকে সরাসরি কক্সবাজারের ফ্লাইট ব্যবহার করা যেতে পারে। তারপর কক্সবাজার থেকে বাসে করে চকরিয়া পৌঁছাতে ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে।
চকরিয়া থেকে লামা-আলীকদম সড়ক ধরে মিরিঞ্জা ভ্যালিতে যাওয়ার সিএনজি, জিপগাড়ি বা লোকাল বাস পাওয়া যায়। এই পরিবহনগুলো লামা-আলীকদম পথে মিরিঞ্জা পাহাড়ের পাশে নামিয়ে দেয়। সেখান থেকে ১০ মিনিট হাঁটার দূরত্বে ভ্যালির অবস্থান।
যারা ট্রেকিং করতে ইচ্ছুক তাদের চকরিয়া থেকে চান্দের গাড়িতে করে মুরুম পাড়া পর্যন্ত আসতে হবে। এখান থেকে পাহাড়ি রাস্তা দিয়ে ভ্যালি পর্যন্ত ২০ মিনিটের একটি সহজ ট্রেকিং পথ আছে।
চান্দের গাড়িগুলো মিরিঞ্জা পাড়া পর্যন্তও যায়,যেখানে মেইন রোড থেকে ভ্যালি মাত্র ১০ মিনিট হাঁটা পথ।
মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণে কী কী দেখবেন
পাহাড়ি রাস্তা বা ঝিরিপথ পেরিয়ে চূড়ায় আরহণের পর দূরে দেখা যায় মেঘলা পর্যটন কমপ্লেক্স এবং সাঙ্গু নদীসহ বিশাল পাহাড়জুড়ে বিস্তীর্ণ সবুজ বনভূমি। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য এই চূড়া উপযুক্ত একটি স্থান। এখান থেকে দিগন্তরেখায় কক্সবাজার অংশের বঙ্গোপসাগরের উত্তাল জলরাশি চোখে পড়ে। সেই সঙ্গে দৃশ্যমান হয় লাইট হাউস,যার ক্ষীণ আলোয় সরু রেখায় আলোকিত হয়ে ওঠে পৃথিবীর দীর্ঘতম সৈকত। মুগ্ধতার পরিসর আরও একটু বাড়িয়ে দিয়ে কখনো কখনো সেই রেখায় ভেসে ওঠে একটি দুটি জাহাজ। পাহাড়ের দক্ষিণ প্রান্তের টাইটানিক জাহাজের কাঠামোটিও এখানকার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। পর্যটনকেন্দ্রের কাছেই উপজেলা শহরে ম্রো, ত্রিপুরা, ও মারমাসহ মোট ১১ জনগোষ্ঠির বসবাস।
মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণের সেরা সময়
বর্ষাকালের শেষ থেকে শরৎকাল পর্যন্ত প্রায় সারাদিনই পরিষ্কার আকাশে শুভ্র মেঘের খেলা দেখা যায়। পাহাড়ের চূড়া থেকে এই দৃশ্য দেখার অনুভূতির কোনো বিকল্প হয় না। তবে এ সময়টাতে পাহাড়ি পথ বেশ পিচ্ছিল থাকে। ট্রেকিং পথ খুব একটা দুর্গম না হলেও উষ্ণ মৌসুমের ফলে পুরো যাত্রাটা বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। তাই এখানে আসার সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হচ্ছে শীতের শুরু, তথা নভেম্বর মাস। এ সময় কুয়াশার ঘনঘটা তেমন থাকে না, বিধায় পাহাড়ের উপরের দৃশ্যগুলো ভালোভাবে দেখা যায়।
মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা
পাহাড়ের উপরের বাঁশ ও খড়ের মাচাং এবং জুম ঘরগুলো যথেষ্ট পরিবেশবান্ধব। এগুলো যাত্রাবিরতিতে বসবাসের জন্য উপযোগী। এছাড়া পর্যটন কমপ্লেক্সের ভেতর খোলা আকাশের নিচে রয়েছে বেশ কয়েকটি তাঁবু ঘর। তাই রাতে ক্যাম্পিং নিয়ে ঝামেলা নেই।
এই ছোট বাসস্থানগুলোকে ঘিরে আশপাশে রয়েছে চিকেন ফ্রাই ও বিরিয়ানিসহ নানা পদের খাবারের ব্যবস্থা। তবে কমপ্লেক্স বা রিসোর্টের বাইরে থাকার এবং খাবারের তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। সুতরাং, ট্রেকিং বা আশপাশ ঘুরে দেখার সময় শুকনো খাবার বা পানীয় সঙ্গে রাখা উচিত।
ভ্রমণকালীন সতর্কতা
# এই ভ্যালিতে ঘুরতে গেলে অবশ্যই দল বেঁধে যাওয়া উত্তম
# সার্বিক নিরাপত্তার প্রয়োজনে কিছু জায়গায় চেকিং হতে পারে। তাই সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্র বা পেশাগত বা ইউনিভার্সিটির পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা উচিত।
# পাহাড়ের ওপর নির্বিঘ্নে চলাফেরা করার জন্য ভালো গ্রিপসহ মজবুত জুতা পরে যাওয়া জরুরি
# খাবার পানি, শুকনো খাবার, টর্চলাইট ও প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম সঙ্গে নিতে হবে। তবে খেয়াল রাখা উচিত যে,কাঁধের ব্যাগ যেন খুব বেশি ভারী হয়ে না যায়।
# নিকটস্থ পুলিশ স্টেশন ও হাসপাতালের যোগাযোগের নম্বর সংগ্রহে রাখতে হবে
# পরিবেশ ময়লা বা দূষিত করা এড়িয়ে চলতে হবে। সঙ্গে খাবার নিয়ে গেলে সমস্ত উচ্ছিষ্ট এবং মোড়ক যেখানে-সেখানে না ফেলে যথাস্থানে ফেলা উচিত।
# আদিবাসী সম্প্রদায়ের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, কোনো অবস্থাতেই যেন তাদের সংস্কৃতির প্রতি কোনো অযাচিত মনোভাব প্রদর্শন না হয়।
শেষ কথা
বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালির মেঘ ও পাহাড়ের নিবিড় আলিঙ্গন ভ্রমণপিপাসুদের বারবার মনে করিয়ে দেয় সাজেকের কথা। এখানকার জুমঘরগুলোর যে কোনোটিতে একটি রাত কাটানো সারা জীবনের জন্য অবিস্মরণীয় এক স্মৃতি হয়ে থাকবে। সবুজ বনে আচ্ছাদিত সুবিশাল পাহাড় আর সীমান্তরেখায় সমুদ্রের উত্তাল জলরাশি ট্রেকিংয়ের ক্লান্তিকে নিমেষে ভুলিয়ে দেয়। এই অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে এবং সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য বড় দল নিয়ে ভ্রমণ করা আবশ্যক। সেই সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগের নাম্বার সংগ্রহে রাখা জরুরি। ( সূত্র: ইউএনবি)
নাটোরের লালপুর উপজেলার সন্তোষপুর গ্রামের মুর্শিদা খাতুনের জীবনে একসময় নেমে এসেছিল অনিশ্চয়তা আর অভাবের দিন। স্বামী নুরুল ইসলাম তখন বেকার। সংসার চালানোর দায় এসে পড়ে তার কাঁধে। সেলাই মেশিনে দর্জির কাজ করে কোনো রকমে সংসার চলত তার। কিন্তু দমে যাননি তিনি। অদম্য পরিশ্রম আর আত্মবিশ্বাসে ধীরে ধীরে বদলে দিয়েছেন নিজের ভাগ্য। আজ এই মুর্শিদায় এখন গ্রামের নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার নাম।
২০১০ সালে উপজেলা যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে মাত্র ১০ হাজার টাকা ঋণ পান মুর্শিদা। সেই টাকা দিয়ে একটি গাভী কিনে শুরু করেন গরু পালন। ছোট সেই উদ্যোগই সময়ের সঙ্গে বড় খামারে রূপ নেয়। বর্তমানে তার নিজস্ব খামার ‘গ্রামীণ এন্ড ডেইরি এগ্রো ফার্ম’ এ রয়েছে প্রায় ২০টি গরু। এসব গরুর বাজারমূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা। খামার থেকে বছরে প্রায় ৪ লাখ টাকার আয় হচ্ছে বলে জানান তিনি।
সরেজমিনে জানা গেছে, নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়ই বিয়ে হয় মুর্শিদার। অল্প বয়সেই সংসারের দায়িত্ব কাঁধে নিতে হয় তাকে। তবে প্রতিকূলতা তাকে থামাতে পারেনি। ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা বাড়িয়ে গড়ে তুলেছেন নিজের স্বপ্নের খামার।
খামারকে কেন্দ্র করে তিনি গড়ে তুলেছেন বহুমুখী উদ্যোগ। গরুর গোবর দিয়ে বায়োগ্যাস তৈরি করে পাশের কয়েকটি বাড়িতে গ্যাস সরবরাহ করছেন। সেই বায়োগ্যাস প্লান্ট থেকে উৎপন্ন জৈব সারও ব্যবহার হচ্ছে কৃষিকাজে। পাশাপাশি বাড়ির পাশের বড় পুকুরে করছেন মাছ চাষ এবং বাড়ির উঠানেই পালন করছেন হাঁস-মুরগি। তার এই উদ্যোগ এখন এলাকায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
গ্রামে এখন মুর্শিদার সাফল্যের গল্প অনেকের মুখে মুখে। তার খামার দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক নারী গরু পালন শুরু করেছেন। কেউ কেউ তার কাছ থেকেই পরামর্শ নিচ্ছেন।
একই গ্রামের জরিনা বেগমও তেমনই একজন। সংসারে বাড়তি আয়ের আশায় মুর্শিদা খাতুনের পরামর্শ নিয়ে তিনি গরু পালন শুরু করেছেন। জরিনা বেগম বলেন, মুর্শিদা আপার খামার দেখে সাহস পেয়েছি। আগে ভাবতাম গরু পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব না, কিন্তু উনার পরামর্শে এখন আমিও শুরু করেছি।
আরেক নারী সমতাও মুর্শিদার অনুপ্রেরণায় গড়ে তুলেছেন নিজের খামার। বর্তমানে তার খামারে রয়েছে ৪টি গরু। সমতা বলেন, ‘মুর্শিদা আপা আমাদের অনেক সহযোগিতা করেন। তার কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে গরু পালন শুরু করেছি। এখন ধীরে ধীরে খামার বড় করার স্বপ্ন দেখছি।
এবিষয়ে মুর্শিদা খাতুন বলেন, যুব উন্নয়ন অফিস থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে ১০ হাজার টাকা ঋণ পাই। সেই টাকায় একটি গাভী কিনেছিলাম। পরে ধীরে ধীরে গরুর সংখ্যা বাড়াতে থাকি। এখন নিজের বহুমুখী খামার আছে, সংসারও ভালোভাবে চলছে।
লালপুর উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুস সবুর বলেন, মুর্শিদা খাতুন আমাদের সফল নারী উদ্যোক্তাদের একজন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ ও ক্ষুদ্র ঋণকে কাজে লাগিয়ে তিনি নিজের জীবন বদলে দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, গ্রামের অনেক নারী এখন মুর্শিদার পথ অনুসরণ করছেন। তার সাফল্য প্রমাণ করে, সুযোগ ও প্রশিক্ষণ পেলে নারীরাও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রেক্ষাপটে মুর্শিদা খাতুনের এই সাফল্যের গল্প গ্রামীণ নারীদের জন্য হয়ে উঠেছে অনুপ্রেরণার প্রতীক।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বসতবাড়ি ও ফসলি জমি ঘেঁষে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর অবৈধভাবে এই বালু উত্তোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মো. শাকোয়াত আলী নামের এক বালু ব্যবসায়ী।
এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া (৪৭) নামের এক ভুক্তভোগী। এতে কোনো প্রতিকার পাননি তিনি। উল্টো এখন হুমকিতে আছে তার পরিবার।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের (চর চরিতা বাড়ি) গুচ্ছগ্রাম থেকে আনুমানিক ১ হাজার ৫ শত গজ পশ্চিমে তিস্তার শাখা নদীতে বসানো হয়েছে ড্রেজার মেশিন।
গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে মেশিন বন্ধ করে সরে যান লোকজন। বালু উত্তোলনের জায়গার চারপাশ ভেঙে যাচ্ছে। আশপাশে বসতবাড়ি এবং ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলি জমি দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় ১ মাস ধরে সেখান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। বালু উত্তোলনের কারণে ফসলি জমি ভেঙে যাচ্ছে নদীতে। হুমকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি এবং ভুট্টা, বাদামসহ বিভিন্ন ফসলি জমি। এ ঘটনায় কেউ কথা বলতে রাজি হননি বালু ব্যবসায়ীদের ভয়ে।
জানতে চাইলে মো. সিদ্দিকুর রহমান ফুল মিয়া বলেন, ‘অভিযোগ দিয়েছি। এখন পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখিনি কাউকে। উল্টো অভিযোগ করার কারণে বালু ব্যবসায়ীরা আমাকে হুমকি দিচ্ছেন। তারা বলছেন, জমি তো দূরের কথা, ঈদে বাড়ি আসলে আমার অবস্থা নাকি খারাপ করে দেবেন। এছাড়া নানা ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন। এখন দেখছি বসতবাড়ি ও ফসলি জমির পাশাপাশি আমার জীবনটাও হুমকির মুখে।
এ বিষয়ে কথা বলতে ধুপনী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. সেলিম রেজার সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে সাড়া না দেওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি মো. তাজুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি এমপি মহোদয় আমাকে জানিয়েছেন। এ নিয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা হয়েছে। এত দিনে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা। অভিযোগের কপিটা দেন বিষয়টি আমরা দেখছি।
ইউএনও ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার পরে বালু উত্তোলন বন্ধ হওয়ার কথা। সেখানে আরও বেড়েছে, এটা হওয়ার কথা নয়। বাদীকে হুমকির বিষয়ে ইউএনও বলেন, বাদীকে থানায় অভিযোগ দিতে বলেন। আমি ওসিকে বলে দিচ্ছি।
সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলী, গীতাপাঠ, স্মরণ সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, শিশুদের চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা, আলোকসজ্জাসহ নানা আয়োজনে চিত্রশিল্পী সমীর মজুমদারের জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। দুইটি পর্বে অনুষ্ঠানটি সাজানো হয়। রোববার (৮ মার্চ) সকালে প্রথম পর্ব ছিল নিজ বাড়ির আঙ্গিনার সমাধি চত্বরে। দ্বিতীয় পর্ব ছিল জেলা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির হল রুমে। চিত্রশিল্পী সমীর মজুমদার স্মৃতি ও শিল্পচর্চ্চা পরিষদ এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
১৯৬৯ সালের ৬ মার্চ তিনি নড়াইল সদর উপজেলার আউড়িয়া ইউনিয়নের পঙ্কবিলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সুবোধ মজুমদার মাতা বিদ্যুৎ রানী মজুমদারের ঘর আলো করে আসা এই মানুষটি ছিলেন বিশ্বখ্যাত চিত্রশিল্পী এস,এম সুলতানের একনিষ্ঠ শিষ্য। তিনি ২০২৫ সালে ৩১ মে রাজধানীর একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
বাল্য-শৈশব-কৈশোর কেটেছে বরেণ্য চিত্রশিল্পী এস.এম সুলতানের সান্নিধ্যে থেকে। চিত্রকলা বিদ্যা অর্জনসহ গুরুর বিভিন্ন কর্মকান্ডের আমৃত্যু সঙ্গী ছিলেন তিনি।
মৃত্যুর আগে তিনি তার নিজ বাড়ীতে ব্যতিক্রমী শিশুস্বর্গ প্রতিষ্ঠা করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন জামদানি কারিগর ও শিল্পীরা শাড়ি তৈরি কাজে। উপজেলার বিভিন্ন এলাকার এখন শাড়ি তৈরির কাজ চলছে জামদানি শিল্পীদের ঘরে ঘরে কর্মযজ্ঞ। কেউ কাপড়ে সুতা তোলা, সুতা রং করা আবার কেউ শাড়ি বুনন ও নকশার কাজে সময় কাটছে। ঈদ ছাড়াও জামদানির কদর অন্যান্য কাপড়ের তুলনায় বেশি। ঈদ কাছাকাছি আসায় বেশি আয়ের আশায় বিভিন্ন জামদানি শিল্পীরা কেউ সুতা কাটছে, কেউ ব্যস্ত হাতে তাঁত টানছে, সুতা ভরছে, কেউবা সহযোগিতা করছে অন্যজনকে। নানা ডিজাইনের জামদানি শাড়ি তৈরি হচ্ছে। বাজারে এ শাড়ি ঢাকাই জামদানি নামে পরিচিত।
জানা যায়, সোনারগাঁয়ে প্রায় ৪টি ইউনিয়নের প্রায় চার সহস্রাধিক জামদানি তাঁত রয়েছে। এর মধ্যে মালিপাড়া, সাদিপুর, বাহ্মণবাওগাঁ, খেজুরতলা, তিলাব, বস্তল, কলতাপাড়া, কাহেনা, গনকবাড়ি, ওটমা, রাউৎগাঁও, নয়াপুর, কাজিপাড়া, চৌরাপাড়া, মুছারচর, শেকেরহাট, বাসাবো, উত্তর কাজিপাড়া, চেঙ্গাইন, খালপাড় চেঙ্গাইন, ভারগাঁও, কান্ধাপাড়া, ফিরিপাড়া, গণকবাড়ি, বাইশটেকি, আদমপুর, বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কারুপল্লী এলাকায় উল্লেখযোগ্য। এখন ঈদকে সামনে রেখে এসব গ্রামের তাঁতি পরিবাররা সবাই জামদানি তৈরিতে ব্যস্ত। একটু ফিরে তাকানোর যেন সময় নেই তাঁতিদের। এখানকার জামদানি তাঁতিদের অধিকাংশ শিশু থেকে মধ্য বয়স্ক। তবে কম বয়সি তাঁতিরাই জামদানি শিল্পের সাথে বেশি জড়িত। জামদানিশিল্পীদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি রয়েছে নারী। এ নারীদের হাতের নিখুঁত শৈল্পিকতায় তৈরি হয় জামদানি।
বাংলাদেশ বিশ্বে জামদানিশিল্পের একমাত্র দেশ হিসেবে ব্যাপক পরিচিতি। তবে জামদানিশিল্পের সোনালি দিন এখন আর নেই। সম্ভাবনা যতটুকু আছে তাও যেন হয়ে আসছে সংকুচিত। তবুও দিন দিন এ শিল্পে ধস নামতে শুরু করেছে। জামদানি উৎপাদনকারী শিল্পীরা হতাশাগ্রস্ত। তারা দাম পাচ্ছে না। জামদানিশিল্পীদের লাভের গুড় এখন খাচ্ছে পিঁপড়ায়। অধিকাংশ তাঁতিই মহাজনদের কাছে দেনার দায়ে বাধা। মহাজনদের দাদন গুণছে, পাচ্ছে শুধু মজুরি। সরাসরি তারা শাড়ি বাজারে নামাতে পারছে না। তাঁতিরা মহাজনদের কাছ থেকে সুতা নিয়ে যায়, তাদের দেওয়া নকশা অনুযায়ী শাড়ি তৈরি করে আনে। শাড়ি প্রতি মজুরি হিসেবে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে হাড়ভাঙা খাটুনির পর মজুরি পায় কম। ফলে শিল্পীরা উৎসাহ হারিয়ে ফেলেছে জামদানি তৈরিতে।
সূত্র জানায়, জামদানিই হচ্ছে বাংলার হারিয়ে যাওয়া মসলিনের বিকল্প প্রতিরূপ। অতীতের মসলিনের মতই, আজকের জামদানি শাড়ির শিল্প সৌন্দর্যের খ্যাতি বিশ্বজোড়া। কেবল দেশের বাজারেই নয় বিশ্ব বাজারেও জামদানির ব্যাপক চাহিদা গড়ে উঠেছে।
এদিকে আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে সোনারগাঁয়ে বিভিন্ন এলাকায় জামদানিশিল্পী ও কারিগরদের বাড়িতে গেলে দেখা মেলে জামদানি তৈরির কাজের গতি। তারা এখন সবাই ব্যস্ত। কারিগরদের আয়ও বেড়েছে। ঈদকে সামনে রেখে জামদানি শাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। এ কারণে কারিগরদের রাতদিন কাজ করতে হচ্ছে। এসব শাড়ি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অভিজাত দোকানে সরবরাহ করা হচ্ছে। কেউ সরাসরি কাপড় উৎপাদন করে, কেউ তাঁতি, কেউ সুতা বিক্রেতা, আবার কেউ কাপড় রপ্তানির কাজে জড়িত। তাঁতিরা সবাই যে যার কাজে ব্যস্ত। ঈদ উপলক্ষে বিপুল পরিমাণ বিক্রির লক্ষ্য নিয়ে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও শাড়ি বুনার কাজ করছেন।
জামদানি কারখানার মালিকরা জানান, আগে জামদানিশিল্পীরা শুধু শাড়ি তৈরিতেই সীমাবদ্ধ ছিলেন। তবে বর্তমানে জামদানিশিল্পে এসেছে নতুনত্ব। বর্তমানে শাড়ি তৈরির পাশাপাশি থ্রি-পিস, ওড়না, পাঞ্জাবি, পর্দার কাপড়ও তৈরি হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে জামদানি শাড়ির চাহিদা বেড়ে গেছে আগের তুলনায় অনেক বেশি। এ ছাড়া ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী এবার আরও উন্নত এবং নতুন নতুন ডিজাইনের শাড়ি তৈরি করছেন এখানকার কারিগররা।
জামপুর ইউনিয়নের মালিপাড়া এলাকার জামদানি কারখানার মালিক শুক্কুর আলী জানান, নানা প্রতিকুলতার মাঝেও তাঁতিরা জামদানি উৎপাদন বন্ধ করেনি। তারা বিভিন্ন ডিজাইনের জামদানির ইঞ্চি পাইড়ে, করলা পাইড়, চালতা পাইড়, ইন্দুরা পাইড়, কচু পাইড়, বেলপাতা, কলকা, দুবলাডং এ ডিজাইনের জামদানি তৈরি করছে। এসব ডিজিইন বিভিন্ন দামে বিক্রি করে থাকে। তারা জানিয়েছেন এখানে ১,৮০০ টাকার নিচে কোনো জামদানি শাড়ি তৈরি হয় না। সর্বোচ্চ ৪৫ হাজার টাকা দামের শাড়িও এখানে তৈরি হয়। তবে এখন এ দামে অর্ডার পাওয়া যায় না। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে জামদানিশিল্প দেশের রপ্তানি খাতে বিশেষ অবদান রাখতে পারতেন।
বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের কারুপল্লীতে জামদানি কারিগর আবু তাহের বলেন, ‘এখন আর জামদানি কারিগররা ভালো নেই। সমস্যা জামদানি কারিগরগো। আমাগো যেই যেই সমস্যা আছে, সেই সমস্যাগুলাইন দূর কইরা সরকার সহযোগিতা করলে জামদানিশিল্প বাঁইচ্যা থাকব।’
জামদানি তাঁত মালিক ওয়াহিদুর রহমান বলেন, ‘পুঁজির অভাবে চাহিদা অনুযায়ী শাড়ি তৈরি করতে পারছে না। তবে পাইকারি ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিগতভাবে সৌখিন ক্রেতাদের অর্ডার পাওয়ায় কারণে ব্যবসা টিকে রাখতে পারছেন। এ শিল্পের প্রসারের জন্য স্বল্প সুদে ঋণ প্রয়োজন।’
জামদানি কারিগর সুইটি ও আসাদুল ইসলাম জানান, একটি শাড়ি তৈরিতে এক সপ্তাহ থেকে দুই তিন মাস পর্যন্ত সময় লেগে যায়। সময় আর কাজের ওপর দাম নির্ভর করে। এ বস্ত্রের জমিন একাধিক রঙের হয়ে থাকে। জামদানি তাঁতিদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তাদের রয়েছে বংশানুক্রমিক হাতে-কলমে অর্জিত জ্ঞান। এ শাড়ি যে কেউ তৈরি করতে পারে না। ভারতসহ পার্শ্ববর্তী দু-একটি দেশ বহুবার চেষ্টার পরও এ শিল্প রপ্ত করতে পরেনি। দিন দিন জামদানি শিল্পীদের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে শাড়িগুলো তৈরি করে তাদের নিজের শরীরে কখনো জড়াতে পারে না এ জামদানি। আমরা স্বপ্ন দেখি একদিন এ শিল্প একদিন সমৃদ্ধ হবে।
সোনারগাঁ জামদানি তাঁতি সমিতির সভাপতি মো. সালাউদ্দিন বলেন, ‘বর্তমানে জামদানিশিল্পীদের খারাপ সময় যাচ্ছে। ভারতে জামদানি শাড়ি রপ্তানি করতাম। রাজনৈতিক কারণে বর্তমানের সম্ভব হচ্ছে না। জামদানিশিল্পে লাভের গুড় পিঁপড়ায় খাচ্ছে। সহজ-সরল নারী, অসচ্ছল ও নিরীহ প্রকৃত জামদানি তাঁতিদের আর্থিক দুর্বলতার সুযোগকে ষোল আনাই কাজে লাগাচ্ছেন এক শ্রেণির দাদন ব্যবসায়ী মহাজনরা। এ শিল্পকে সরকার ইইএফ ফান্ডের আওতায় আনতে পারলে দাদন ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য থাকবে না। সরকার জামদানিশিল্পে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা দিলে এ শিল্পটিকে বাঁচানো সম্ভব।’
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত জানান, জামদানি সোনারগাঁয়ের ঐতিহ্য। মসলিনের পরেই তার অবস্থান। ঐতিহ্যবাহী জামদানিশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর-চুনারুঘাট) আসনের সংসদ সদস্য এবং সায়হাম গ্রুপের চেয়ারম্যান সৈয়দ মো. ফয়সলের নির্দেশনায় মাধবপুর ও চুনারুঘাট উপজেলায় ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। এবার রমজান মাসে প্রায় ৪৫ হাজার অসচ্ছল ও নিম্নআয়ের পরিবারের মাঝে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়।
রোববার (৮ মার্চ) সকালে মাধবপুর উপজেলার বাঘাসুরা ইউনিয়নে আনুষ্ঠানিকভাবে ইফতার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সায়হাম গ্রুপের পরিচালক সৈয়দ মো. সেলিম, মাধবপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল বাবুল, বিএনপি নেতা সহিদ মেম্বার, গিয়াসউদ্দিন তালুকদার, আব্দাল আহমেদ, ছাত্রদল নেতা মারুফ আহমেদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
ইফতার সামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। বাঘাসুরা গ্রামের সুফিয়া বিবি নামে এক নারী বলেন, আমরা অনেকেই আছি যারা কষ্ট করে সংসার চালাই। রমজান মাসে ইফতারির জিনিস কেনাও কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু এবার সংসদ সদস্য সৈয়দ মো. ফয়সল আমাদের হাতে ইফতার সামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন। এতে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে। আমরা খুব খুশি।
সায়হাম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ বলেন, মানুষের কল্যাণে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য। আমরা চাই সমাজে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়ুক। মাদকমুক্ত, সুস্থ ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে সবাই যেন শান্তিতে বসবাস করতে পারে—এই লক্ষ্য নিয়েই আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ এলাকায় ‘মায়ের দোয়া রিয়েল এস্টেট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। গত শনিবার (৭ মার্চ) রাত আটটার দিকে দুর্বৃত্তরা ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের খোঁজ জানতে চেয়ে নিরাপত্তাকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং যাওয়ার সময় তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও অফিসের গেটে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী নান্টু জানান, শনিবার (৭ মার্চ) রাতে দুইজন ব্যক্তি হঠাৎ অফিসের সামনে এসে তাকে ডেকে পাশের একটি অন্ধকার স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তারা প্রতিষ্ঠানের মালিক কামরুল ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন আপত্তিকর ও সন্দেহজনক প্রশ্ন করতে থাকে।
নান্টু আরো বলেন, “তাদের কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় আমি প্রতিবাদ করি। আমি বলি, একজন সম্মানিত ব্যক্তির নাম নিয়ে এভাবে কথা বলা ঠিক নয়। এতেই তারা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং কোমর থেকে পিস্তল বের করে পরপর তিন রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে।”
গুলির শব্দ শুনে স্থানীয় লোকজন ও ব্যবসায়ীরা ছুটে এসে দুর্বৃত্তদের ধাওয়া দেয়। তবে ভিড়ের সুযোগ নিয়ে তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।
ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি আরিফুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখান থেকে আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে। ঠিক কী কারণে বা কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ।
ওসি আরও জানান, এ ঘটনায় তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
এদিকে জনবহুল এলাকায় এমন গুলিবর্ষণের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী খালের ওপর নির্মিত একটি গার্ডার সেতু সংযোগ সড়ক না থাকায় প্রায় দুই বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে গুলিশাখালী, কুকুয়া ও চাওড়া ইউনিয়নের অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ৪০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
আমতলী উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিনটি ইউনিয়নের সংযোগস্থল আমড়াগাছিয়া বাজারের পশ্চিম পাশে গুলিশাখালী খালের ওপর ৬৬ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৬ দশমিক ৭৭ মিটার প্রস্থের একটি গার্ডার সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২৩ সালে বরগুনা এলজিইডি কার্যালয় এ সেতু নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করলে কাজটি পায় বরিশালের মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ অ্যান্ড ত্রিপুরা জেভি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। একই বছরের ১৯ মে কার্যাদেশ পেয়ে সেতুর নির্মাণকাজ শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকল্প অনুযায়ী ৬ কোটি ২২ লাখ ৫৮ হাজার ৩২৩ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের চুক্তি করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ের আগেই ২০২৪ সালের জুন মাসে মূল সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। তবে বিপত্তি দেখা দেয় সংযোগ সড়ক নির্মাণ নিয়ে। সেতুর পশ্চিম পাশের ঢালের মাত্র পাঁচ ফুট দূরেই রয়েছে পূর্ব খেকুয়ানি গুচ্ছগ্রামের একটি কার্পেটিং সড়ক। সেতুর নির্ধারিত উচ্চতা অনুযায়ী সংযোগ সড়ক নির্মাণ করলে ওই সড়কটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ জটিলতার কারণে প্রায় ১১ মাস ধরে সেতুটি সংযোগ সড়ক ছাড়াই পড়ে আছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়ক না থাকায় স্থানীয় গ্রামবাসী গাছ দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী মই বানিয়ে পারাপার করছেন। সেই মই বেয়ে নারী, শিশু ও বৃদ্ধরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতু পার হচ্ছেন। ফলে প্রতিদিনই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে স্থানীয়দের। এই সেতুর ওপর দিয়ে গুলিশাখালী ইউনিয়নের পূর্ব খেকুয়ানি, গুলিশাখালী, ডালাচারা, বাইবুনিয়া ও কলাগাছিয়া গ্রামের শত শত মানুষ আমতলী সদরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন। একইভাবে চাওড়া ও কুকুয়া ইউনিয়নের মানুষও এই সেতু ব্যবহার করে গুলিশাখালী ইউনিয়নে যাতায়াত করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের সময় খালের মাঝখানে যে পাইলিং করা হয়েছিল তা এখনো অপসারণ করা হয়নি। এতে খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং নৌযান চলাচলেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মো. কাওছার মিয়া বলেন, নির্ধারিত সময়ের আগেই মূল সেতুর নির্মাণকাজ শেষ করা হয়েছে। সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য আলাদা দরপত্র আহ্বান করা হবে। ডিজাইন পরিবর্তনের কারণে কাজ বিলম্বিত হচ্ছে।
বরগুনা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান বলেন, জনভোগান্তির বিষয়টি আমরা জানি। আগের ঠিকাদারকে বাতিল করে নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগের জন্য প্রস্তাব ঢাকা কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হলে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হবে।
পাবনার বেড়া উপজেলায় জ্বালানি তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালিত হয়েছে। রোববার (৮ মার্চ) উপজেলার নাকালিয়া বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে তেল বিক্রি করার অপরাধে নূর আলম নামের এক ব্যবসায়ীকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে জ্বালানি তেল বিক্রি করছেন—এমন সংবাদের ভিত্তিতে নাকালিয়া বাজারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন নূর আলম নামের এক খুচরা বিক্রেতা প্রতি লিটার তেল ১৩০ টাকা দরে বিক্রি করছিলেন, যা সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি। পরে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ এর ৪০ ধারায় তাকে ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানটি পরিচালনা করেন বেড়া উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান।
অভিযান চলাকালীন প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে বাজারের অন্যান্য জ্বালানি তেলের দোকানগুলো বন্ধ করে ব্যবসায়ীরা সটকে পড়েন। ফলে অন্য দোকানগুলোতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি। তবে ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত জনসাধারণের সাথে কথা বলেন এবং জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নুরেন মায়িশা খান বলেন, "জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে আমরা নিয়মিত কাজ করছি। কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে জনস্বার্থ বিঘ্নিত করতে দেওয়া হবে না। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে উপজেলার প্রতিটি বাজারে এ ধরনের অভিযান চালানো হবে। উপজেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষের যেকোনো সমস্যায় সবসময় পাশে আছে।"
বগুড়ার নন্দীগ্রামে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেছেন।
পবিত্র মাহে রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে রবিবার (৮ মার্চ) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার নন্দীগ্রাম উপজেলার কুন্দারহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নির্ধারিত মূল্যের অধিক দামে পণ্য বিক্রয় না করার বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করে দেন। পরবর্তীতে নন্দীগ্রাম উপজেলার বুড়ইল ইউনিয়নের আইলপুনিয়ায় গ্রামে একটি বিস্কুট ও চানাচুর তৈরির কারখানায় নোংরা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বিএসটিআই অনুমোদন ব্যতীত খাবার সামগ্রী উৎপাদন করায় সেখানে তিনি ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে আইলপুনিয়া গ্রামের মৃত হারুনুর রশিদের স্ত্রী রেনুকা বেগম (৫০) কে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
এরপর জ্বালানী তেলের মজুদ, বিক্রয় ও ব্যবস্থাপনা মনিটরিংয়ের উদ্দেশ্যে নন্দীগ্রাম উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন পরিদর্শন করেন তিনি। পরিদর্শনকালে জ্বালানী তেলের মজুদের হিসাব সঠিকভাবে সংরক্ষণ, গ্রাহকদের নিকট বিক্রয়ের রশিদ প্রদান করা, অতিরিক্ত দামে জ্বালানী তেল বিক্রয় না করা, বিক্রয়ের ক্ষেত্রে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সীমা বজায় রাখাসহ প্রযোজনীয় নির্দেশনা দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রসিকিউটর ছিলেন খাদ্য পরিদর্শক আবু মুসা সরকার। সেসময় সহযোগিতা করেন নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ।
এতথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার। তিনি বলেন, প্রত্যেক ব্যবসায়ীর আইন মেনে ব্যবসা করতে হবে। অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
টেকসই উন্নয়নে নারী, সুরক্ষিত হবে পৃথিবী এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ পালিত হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নারীর ভূমিকা জোরদার করার লক্ষ্যে রবিবার (৮ মার্চ) সকালে বিভিন্ন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ব ব্যাংক ও পিকেএসএফ-এর অর্থায়নে এবং বাসা ফাউন্ডেশনের বাস্তবায়নে ‘স্মার্ট’ প্রকল্পের আওতায় ইকো ইয়ুথ মডেল পরিবেশ ক্লাবের উদ্যোগে ত্রিশাল ফিশারী রোড এলাকায় একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের করে। র্যালিটি এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পরিবেশ রক্ষায় নারীর অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে।
র্যালি শেষে টেকসই উন্নয়নে নারীর নেতৃত্ব ও জলবায়ু চ্যালেঞ্জ নিয়ে একবিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাসা ফাউন্ডেশনের এজিএম মো: জাকির হোসেন বলেন পরিবার ও সমাজে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং কৃষি উৎপাদনে নারীরাই মূল কারিগর। তাদের বাদ দিয়ে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়।"স্মার্ট প্রকল্পের কর্মকর্তা মো: শহিদুল ইসলাম বাপ্পি নারী নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব নারীদের ওপর সরাসরি পড়ে। তাই পরিবেশ রক্ষা পরিকল্পনায় নারীদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।" স্মার্ট প্রকল্প ব্যবস্থাপক মো: সাথীল তালুকদার বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়ন একে অপরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশ রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ সম্ভব হবে।
পরিশেষে, আলোচনা সভায় অংশগ্রহণকারীরা পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন ও টেকসই কৃষিতে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। দিবসের কর্মসূচিতে পরিবেশকর্মী ও বিপুল সংখ্যক নারী উদ্যোক্তা উপস্থিত ছিলেন।
জয়পুরহাট জেলায় বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এতে করে অনেক পাম্পে তেল বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানা গেছে। ফলে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চালকরা ও সাধারণ মানুষরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, রোববার (৮ মার্চ) সকাল থেকে জেলা সদর ও উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ কমে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি পাম্পে তেল শেষ হয়ে যায়। এতে তেল বিক্রি বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। আবার অনেক চালক তেল নিতে এসে না পেয়ে খালি হাতে ফিরে যাচ্ছেন।
মোটরসাইকেল চালক মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, প্রতিদিন প্রায় ৫০ কিলোমিটার মোটরসাইকেল চালাতে হয়। তেল রিজার্ভে গেছে। তাই স্বাভাবিক ভাবেই অন্য দিনের মতো ২০০ টাকার অকটেন তুলতে গেলাম কিন্তু পাম্পে তেল নেই । নিশ্চিন্তা, বটতলী, জয়পুরহাট কোনো পাম্পে তেল নেই। আমার মোটরসাইকেল আর ২০ কিলোমিটারের মতো চলবে, তারপর বন্ধ হবে। তখন আমার কাজ ও বন্ধ করে ঘরে বসে থাকা ছাড়া আর কোন উপায় নেই।
আরেক মোটরসাইকেল চালক সাব্বির হোসেন বলেন, যদি পেট্রোল ও অকটেনের প্রায় পুরোটাই দেশে উৎপাদন হয় তাহলে পাম্পে তেল পাচ্ছি না কেন? যে পাম্পে যায় সেই পাম্পে বলে তেল নেই। এদিকে নিউজে দেখছি তেলের কোন সংকট নেই। মন্ত্রী সাহেবও বলছেন, তেলের কোন সংকট নেই।
ফিলিং স্টেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, তেল সরবরাহ আজ বন্ধ থাকার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান অস্থিরতার কারণে সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এমন আশঙ্কা থেকেই এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে তেলের সংকটের কারণে মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চলাচল কমে গেছে। এতে করে কর্মজীবী মানুষ, যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ ও ভোগান্তি বাড়ছে।
তবে কিছু ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ দাবি করছেন, তাদের কাছে তেল নেই বলেই বিক্রি বন্ধ রাখা হয়েছে। যদিও স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, প্রকৃতপক্ষে পর্যাপ্ত তেল থাকা সত্ত্বেও আতঙ্ক সৃষ্টি হওয়ার কারণে কিছু পাম্প তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‘সমঅধিকার ও সমমর্যাদাসহ নারীমুক্তির আন্দোলনকে সমাজব্যবস্থার সামগ্রিক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে অগ্রসর করুন’—এই আহ্বানে মৌলভীবাজারে পালিত হয়েছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ও গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির ৩২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী।
রোববার (৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ১১টায় কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগরস্থ চা-শ্রমিক সংঘের কার্যালয়ে গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতি মৌলভীবাজার জেলা শাখার উদ্যোগে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ১১৬তম আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন নারী চা-শ্রমিক নেত্রী লক্ষীমনি বাক্তি।
আলোচনা সভায় বক্তারা বর্তমান সমাজে নারী শ্রমিকদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরে বলেন, উৎপাদন ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে নারীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও তারা আজও ন্যায্য অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা থেকে বঞ্চিত। বিশেষ করে চা-বাগান, গার্মেন্টস, নির্মাণ ও কৃষিখাতে নিয়োজিত নারী শ্রমিকরা কঠোর পরিশ্রমের বিনিময়ে সমমজুরি পাচ্ছেন না।
সভায় বক্তব্য রাখেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্ট, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রজত বিশ্বাস, বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সভাপতি, মো. নুরুল মোহাইমীন, চা-শ্রমিক সংঘ, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হরিনারায় হাজারা।
এছাড়াও বক্তব্য দেন নারী নেত্রী স্বপ্না গোয়ালা, কাজলী হাজরা, শেফালী রেলী এবং চা-শ্রমিক নেতা সুভাষ গৌড় ও সমীরণ রবিদাসসহ আরও অনেকে।
বক্তারা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, পরিবহন ও বাড়িভাড়া বৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এর ফলে শ্রমজীবী নারীরা চরম জীবন সংকটে পড়েছেন। একইসাথে ক্রমবর্ধমান নারী নির্যাতন, ধর্ষণ ও পাচারের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তারা কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও মজুরি বৈষম্য দূর করার দাবি জানান।
পরিশেষে, বক্তারা নারী-পুরুষের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মাধ্যমে একটি শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছিনতাইয়ের চেষ্টার সময় গণপিটুনিতে এক অজ্ঞাতপরিচয় তরুণ (২৬) নিহত হয়েছেন। রোববার (৮ মার্চ) সকাল ৬টার দিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জালকুড়ি কড়ইতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেলও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। তবে নিহত তরুণের সঙ্গে থাকা আরও দুই সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, একটি মোটরসাইকেলে করে তিনজন ছিনতাইকারী এসে এক পথচারীর গতিরোধ করে এবং তাঁর মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। ওই পথচারীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ছিনতাইকারীদের ধরার চেষ্টা করে। এ সময় ছিনতাইকারী দলের দুজন দৌড়ে পালিয়ে যেতে পারলেও একজন জনতার হাতে ধরা পড়েন। উত্তেজিত জনতা তাঁকে গণধোলাই দিলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর জনতা ছিনতাইকারীদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়।
সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহম্মদ আব্দুল বারিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই গণপিটুনিতে ওই যুবকের মৃত্যু হয়। নিহত তরুণের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি; তাঁর পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। বর্তমানে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য দুই ছিনতাইকারীকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হবে বলেও তিনি জানান।