কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলে এবার পাওয়া গেছে ২৯ বস্তা টাকা। ৩ মাস ১৩ দিনে মিলল ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার ৩০৪ টাকা। এ ছাড়াও পাওয়া গেছে বৈদেশিক মুদ্রা, সোনা ও রুপা।
শনিবার সারা দিন গণনা শেষে এই পরিমাণ টাকা পাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও দানবাক্স খোলা বাক্স কমিটির আহ্বায়ক মিজাবে রহমত।
এর আগে চলতি বছরের ১৭ আগষ্ট মসজিদের ৯টি দানবাক্স খুলে পাওয়া গিয়েছিল ২৮ বস্তা টাকা। তখন দিনভর টাকা গণনা শেষে পাওয়া গেছে ৭ কোটি ২২ লাখ ১৩ হাজার ৪৬ টাকা। টাকা-পয়সা, স্বর্ণালংকার, বৈদেশিক মুদ্রা ছাড়াও প্রচুর পরিমাণ হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগলও দান করেন অনেকে।
জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শনিবার সকাল ৭ টায় দানবাক্সগুলো খোলা হয়। পরে দানবাক্সের টাকা বস্তায় ভরা হয়। সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বস্তা থেকে টাকাগুলো মসজিদের দ্বিতীয় তলায় মেঝেতে ঢেলে শুরু হয় গণনা। গণনা চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।
পাগলা মসজিদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. শওকত উদ্দীন ভূইয়া বলেন, টাকা গণনায় অংশ নেয় পাগলা মসজিদ মাদ্রাসার ১৩০ জন ও আল-জামিয়াতুল ইমদাদিয়া মাদ্রাসার ১৫৫ জন ছাত্র, পাগলা মসজিদের ৩৬ জন স্টাফ, রূপালী ব্যাংকের ৭৫ জন কর্মকর্তা, সেনাবাহিনীর ১০ জন সদস্য, ১০ জন আনসার সদস্য, ২০ জন পুলিশ, ৫ জন র্যাব ও জেলা প্রশাসন থেকে ২০ জন কাজ করছেন। এবার দানবাক্স খোলার সময় পার হয়ে যাওয়ার অতিরিক্ত একটি টিনের ট্রাঙ্ক বাড়ানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মসজিদটিতে আগে ৯ টি দানবাক্স থাকলেও এখন দুটি বাড়ানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ফৌজিয়া খান বলেন, পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্সের খরচ চালিয়ে দানের বাকি টাকা ব্যাংকে জমা রাখা হয়। এ থেকে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি অসহায় এবং জটিল রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সহায়তা করা হয়।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাছান চৌধুরী বলেন, দানবাক্স খোলা থেকে শুরু করে বস্তায় ভরা এবং গণনা শেষে ব্যাংক পর্যন্ত সব টাকা নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত সার্বিক নিরাপত্তার কাজে তিনিসহ তাঁর পুলিশ সদস্যরা যথাযথ দায়িত্ব পালন করেন।
মসজিদ কমিটি সূত্রে জানা যায়, ছয়তলাবিশিষ্ট দৃষ্টিনন্দন পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য একটি মেগা প্রকল্প করা হবে। এতে মসজিদ, মাদ্রাসাসহ অর্ধলাখ মুসল্লি যাতে একত্রে নামাজ আদায় করতে পারেন, এ রকম আকর্ষণীয় একটি ইসলামি কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে একসঙ্গে পাঁচ হাজার নারীর আলাদাভাবে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। এ প্রকল্পের পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা যাচাই-বাছাই করে নকশা চূড়ান্ত করে দিলেই দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে। এতে প্রাথমিক খরচ ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা।
মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি খলিলুর রহমান জানান, প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ এসে দান করছেন এই মসজিদে। মনের আশা পূরণের জন্য তারা এই দান করেন।
দানবাক্স খোলার পর থেকেই গণনা দেখতে মসজিদের আশপাশে ভিড় জমান উৎসুক মানুষ। বাজিতপুর উপজেলার বাসিন্দা বোরহান বলেন, ‘মানুষের মুখে আর বিভিন্ন টেলিভিশন ও পত্রিকায় পাগলা মসজিদের দানবাক্সে জমা পড়া টাকার কথা শুনি। গতবারও দেখতে এসেছিলাম। এবার আবারও নিজ চোখে দেখতে এসেছি। সত্যিই এত পরিমাণ টাকা একসঙ্গে কখনও দেখিনি।’
কিশোরগঞ্জের হারুয়া এলাকায় নরসুন্দার তীরে প্রায় ১০ শতাংশ জমির ওপর অবস্থিত ঐতিহাসিক এই পাগলা মসজিদ।
ফেনীর ছাগলনাইয়ায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে মোহনা টেলিভিশনের সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজীবের ওপর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল দুপুরে ফেনী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে কর্মরত সকল সাংবাদিকের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহের।
সাপ্তাহিক স্বদেশ পত্র সম্পাদক এন এন জীবন এবং দৈনিক ডিজিটাল সময়ের সহযোগী সম্পাদক এবিএম নিজাম উদ্দিনের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন ফেনী রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাহাদাত হোসেন, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও ডিবিসি নিউজের জেলা প্রতিনিধি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূঁইয়া, সাংবাদিক রবিউল হক রবি, বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম বিএমএসএফের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধরণ সম্পাদক জসিম মাহমুদ, সাংবাদিক ইউনিয়ন ফেনীর সভাপতি সিদ্দিক আল মামুন, টেলিভিশন জার্নালিস্ট ক্লাবের সভাপতি আতিয়ার সজল, বিএমইউজে ফেনীর সভাপতি মাসুম বিল্লাহ ভূঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, সাবেক সভাপতি কামাল উদ্দিন ভূঁইয়া ও সিনিয়র সাংবাদিক এম এ সাঈদ খান, ফেনী সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মনির, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন ফেনীর সাধারণ সম্পাদক দুলাল তালুকদার, ছাগলনাইয়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি শেখ কামাল, একাত্তর টেলিভিশন ও দৈনিক যুগান্তর প্রতিনিধি নুরুজ্জামান সুমন, দৈনিক বণিক বার্তা প্রতিনিধি নুরুল্লাহ কায়সার, গ্রীন টিভি প্রতিনিধি ফখরুল ইসলাম, দৈনিক যায়যায় দিন প্রতিনিধি আবু ইউসুফ মিন্টু, দৈনিক সমকাল প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম জাহাঙ্গীর, দৈনিক দেশ রূপান্তর প্রতিনিধি জহিরুল ইসলাম রাজু, আমাদের সময় প্রতিনিধি কবির আহমেদ নাছির এবং সরেজমিন প্রতিনিধি চুমকি আক্তারসহ অন্যান্য সাংবাদিকরা।
বক্তারা সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন সজীবের ওপর সংঘটিত হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তারা অভিযোগ করেন, তাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে এবং নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার মতো নৃশংস পরিকল্পনা ছিল, যা স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর গুরুতর আঘাত।
বক্তারা এ ঘটনায় ইতোমধ্যে দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত আসামি ও হামলার নেপথ্যের নির্দেশদাতাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘অতীতেও সাংবাদিকদের ওপর দমনপীড়ন চালিয়ে কোনো ফ্যাসিবাদী সরকার টিকে থাকতে পারেনি।’ স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ থাকবে বলেও তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সুনামগঞ্জে অতি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে তাহিরপুর বড়ছড়া, টেকেরঘাট, যাদুকাটা নদী প্রবাহ, চলতি ও খাসিয়ামারা নদী দিয়ে উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামছে। পাহাড়ি ঢল আর থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হচ্ছে। নিম্নাঞ্চলের কিছু কিছু গ্রাম প্লাবিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি জরুরি সভা করে প্রতিটি উপজেলায় দুর্যোগ মোকাবিলার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে কন্ট্রলরুম চালু করেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার শক্তিয়ারখলায় অতিবৃষ্টি এবং পাহাড়ি ঢলের পানিতে তলিয়ে যাওয়া সাবমার্জিবল সড়ক পরিদর্শন করেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
এ সময় তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো রকম বিপদের আশঙ্কা নেই। উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানি সাবমার্জিবল সড়কের উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে করচার হাওরে গিয়ে পতিত হচ্ছে। বৃষ্টি থেমে যাওয়ায় রাস্তায় পানি অনেক কমেছে। ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জের সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তরগুলো দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। স্থানীয়দের সাথে কথা বলে ভবিষ্যতে এ রাস্তাটিতে প্রয়োজনীয়সংখ্যক কালভার্ট নির্মাণ এবং রাস্তার দুইপাশে সীমানা চিহ্নিতকরণের জন্য জেলা প্রশাসক নির্দেশনা দেন।’
এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান, বিশ্বম্ভরপুরের ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান ও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের (নকল) সুবিধা না পেয়ে একটি পরীক্ষাকেন্দ্রে ব্যাপক হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীরা। হামলায় কলেজের শিক্ষক, গভর্নিং বডির সভাপতি ও পথচারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কয়েক রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করেছে।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয় কেন্দ্রে এই সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, দুপুর ১টার দিকে পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা হল থেকে বের হয়ে কলেজের মূল ফটকে অবস্থান নেয়। পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কলেজের গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা অধ্যক্ষের কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফাতেমা মতিন মহিলা মহাবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, তার কেন্দ্রে মোট ৯০০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৮৮৪ জন নিয়মিত পরীক্ষা দিচ্ছেন, যাদের সবাই চরফ্যাশন সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী।
তাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) পরীক্ষা ছিল। সকালে এমসিকিউ পরীক্ষার প্রশ্ন কমন না পড়ায় পরীক্ষার্থীরা অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করে। কক্ষ পরিদর্শকরা এতে বাধা দিলে পরীক্ষার্থীরা শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ শুরু করে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কক্ষে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে সৃজনশীল প্রশ্ন দেওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা আবারও পরিদর্শকদের সাথে চরম শৃঙ্খলা পরিপন্থি আচরণ শুরু করে।
অধ্যক্ষ আরও জানান, উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, থানার ওসি এবং বরিশাল বোর্ডের চেয়ারম্যানকে অবহিত করলে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
দুপুর ১টায় পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর পরীক্ষার্থীরা কলেজের প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তারা পেছনের গেট ভেঙে এবং দেওয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করে বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্র (খাতা) ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে শিক্ষকরা তা প্রতিহত করেন। এতে কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ ৪-৫ জন শিক্ষক আহত হন। এ ছাড়া হামলাকারীদের ইটপাটকেলের আঘাতে বেশ কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন। আহত শিক্ষকরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। এই বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের আলোকে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান অধ্যক্ষ।
চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া জানান, পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান জানান, পরীক্ষার হলে অসদুপায় অবলম্বন করতে না দেওয়ায় চরফ্যাশনের ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার ফুলশ্রী গ্রাম এখন অনেকটাই জনশূন্য হয়ে পরেছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামি ওই গ্রামের রিয়াজ ফকিরের (২৬) পুলিশের নির্যাতনে মৃত্যুর গুজবে তার স্বজন ও এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধর করে আহত করেন। এ ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পর গ্রেপ্তার আতঙ্কে গ্রামের অধিকাংশ নারী ও পুরুষ বাড়িঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ফলে গ্রামের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। অধিকাংশ পরিবারের নারী-পুরুষ সদস্যরা সম্ভাব্য গ্রেপ্তার এড়াতে বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। অপরদিকে থানা পুলিশের দায়ের করা মামলায় ৪৩ জনের নামোল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও তিন শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত ২২ জন নারী ও পুরুষকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে নামোল্লেখ করা আসামি নিয়েও জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী মিছিল নিয়ে থানায় ঢুকে হামলা, ভাঙচুর ও পুলিশ সদস্যদের মারধরের পুরো ঘটনার ভিডিও ফুটেজ থাকা সত্ত্বেও এজাহারে যাদের আসামি করা হয়েছে তা নিয়ে পুরো উপজেলাজুড়ে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, হামলার ঘটনার সাথে থানাসংলগ্ন বাকাল ইউনিয়নের ফুলশ্রী গ্রামের নারী ও পুরুষরা জড়িত থাকলেও মামলার এজাহারে রাজিহার ও গৈলা ইউনিয়নের বাসিন্দাদের আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তর প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির বরিশাল প্রতিনিধি এফএম নাজমুল রিপনকে মামলার আসামি করা হয়েছে। একইসাথে দীর্ঘদিন পর্যন্ত নিজ এলাকা গৈলা ইউনিয়নের সেরাল গ্রাম থেকে আত্মগোপনে থাকা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী যুবলীগের আগৈলঝাড়া উপজেলা শাখার সভাপতি কামরুজ্জামান আজাদ সেরনিয়াবাত ও জেলা যুবলীগ নেতা সাগর সেরনিয়াবাতকে আসামি করা হয়েছে।
দুইজন সাংবাদিক নেতাকে আলোচিত এ মামলায় আসামি করার বিষয়টি সম্পূর্ণ রহস্যজনক দাবি করে শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের নেতারা স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তথ্যমন্ত্রী এম জহির উদ্দিন স্বপনকে পুরো বিষয়টি অবহিত করেন। প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে তথ্যমন্ত্রীর মতবিনিময় সভায় বিষয়টি জানানো হয়।
পরবর্তীতে থানার ওসির উপস্থিতিতে তথ্যমন্ত্রী সঠিক তদন্ত করে ও পুরো ঘটনার ভিডিওচিত্র পর্যালোচনা করে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তিদের মামলায় যেন হয়রানি করা না হয়, সে ব্যাপারে ভূমিকা নেওয়ার জন্য ওসিকে নির্দেশ প্রদান করেন। পাশাপাশি তথ্যমন্ত্রী পুরো ঘটনার সাথে জড়িত প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারপূর্বক আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করার জন্য সকলের প্রতি আহ্বান করেন।
অপরদিকে বরিশালের পুলিশ সুপার এজেডএম মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, থানায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিওচিত্র এবং অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হামলায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হচ্ছে। অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পাশাপাশি পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘যদি কারও নাম ভুলবশত এজাহারে অর্ন্তভুক্ত হয়ে থাকে, আর তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হয়, তাহলে তাদের কোনো ধরনের হয়রানি বা গ্রেপ্তার করা হবে না। আপাতত ভিডিও ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
সূত্রমতে, আলোচিত এ মামলায় গ্রেপ্তারের পর জেলহাজতে প্রেরণ করা ব্যক্তিরা হলেন, রিয়াজ ফকিরের বাবা সিদ্দিক ফকির, বোন শারমিন আক্তার, গিয়াস ফকির, সবুজ ফকির, মান্নান ফকির, রিফাত ফকির, নাঈম ফকির, হাবিবুর রহমান, রাজু হাওলাদার, তাহমিনা বেগম, মনোয়ারা বেগম, আসমা আক্তার, মমতাজ বেগম, ঝুমুর বেগম, নাজমা আক্তার, তানজিলা আক্তারসহ মোট ২২ জন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ১২ জন নারী ও ১০ জন পুরুষ।
স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানিয়েছেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ টহল অব্যাহত রয়েছে। যে কারণে পুলিশের চলমান অভিযানের কারণে গ্রামের অধিকাংশ পরিবারের নারী ও পুরুষ সদস্যরা অনেকটাই আত্মগোপনে রয়েছেন।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে চুরি মামলার সন্ধিগ্ধ আসামি ফুলশ্রী গ্রামের রিয়াজ ফকিরকে একটি চুরির মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। থানা হাজতে থাকার সময় রিয়াজ লোহার দরজার সাথে নিজের মাথায় নিজে আঘাত করে জ্ঞান শূন্য হয়ে পরে। পরে ওইদিন রাত ১১টার দিকে তাকে প্রথমে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও পরে গভীর রাতে বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে রিয়াজ ফকিরের মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিকেলে কয়েকশ মানুষ মিছিল নিয়ে আগৈলঝাড়া থানায় হামলা চালায়। এ সময় থানার বিভিন্ন স্থাপনা ভাঙচুরসহ কর্তব্যরত ডিউটি অফিসার এএসআই আব্দুল হালিমকে মারধর করা হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিপেটা করলে উভয়পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে পুলিশের ছয় সদস্যসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়।
এ ঘটনায় আগৈলঝাড়া থানার এসআই ওমর ফারুক বাদী হয়ে মামলা করে।
খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) একটি আয়োজন বর্জন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। ঐ মতবিনিময় সভার মূল ব্যানারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই সংসদ সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত না করার অভিযোগে এনে এই আয়োজন বর্জন করে তারা।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনা বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ের অডিটোরিয়ামে ‘আগামীর খুলনা বিনির্মাণে কেডিএ ও জনগণের ভাবনা’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুন খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনাকে কেডিএর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয় সরকার এবং খুলনার সামগ্রিক উন্নয়নে অংশীজনদের মতামত ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণের উদ্দেশ্যেই এই সভার আয়োজন করা হয়েছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম বকুলের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও তিনি শেষ পর্যন্ত সভায় যোগ দেননি।
কেডিএর প্রধান কার্যালয়টি মূলত খুলনা-২ আসনের সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় অবস্থিত, যে আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য খুলনা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল। অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণপত্রে বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনার মোট ৬ জন সংসদ সদস্যের নাম থাকলেও মূল মঞ্চের ব্যানারে বিএনপির ৪ জন এমপির নাম স্থান পায় এবং জামায়াতের দুই সংসদ সদস্যের নাম রহস্যজনকভাবে বাদ পড়ে।
এই ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে সভা থেকে দলবলসহ বের হয়ে যাওয়ার সময় খুলনা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মো. জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করেন, এটি প্রশাসনের নির্লজ্জ দলীয়করণের একটি স্পষ্ট উদাহরণ। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, বর্তমানে বিদেশে অবস্থানরত এমপিদের নাম ব্যানারে জ্বলজ্বল করলেও যে আসনে অনুষ্ঠানটি হচ্ছে সেই খুলনা-২ আসন এবং খুলনা-৬ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপিদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে কেডিএ কর্মকর্তাদের নজরে আনা হলে তারা ব্যানার পরিবর্তনের আশ্বাস দিলেও এক ঘণ্টারও বেশি সময় কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় তারা সভা বর্জন করতে বাধ্য হন। জামায়াত নেতা আরও যোগ করেন, সবাইকে সাথে নিয়ে খুলনার উন্নয়নে তারা আন্তরিক এবং তাদের সংসদ সদস্যরা সংসদে নিয়মিত খুলনার সমস্যা নিয়ে কথা বলছেন; এমনকি এই সভার প্রথম আমন্ত্রণপত্রেও তাদের নাম ছিল না, যা প্রতিবাদের পর সংশোধন করা হলেও ব্যানারে আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানো হয়েছে।
অবশ্য উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনা জানান, কর্মকর্তারা ভুলবশত নাম দুটি বাদ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান বিষয়টি উত্থাপন করার পর তিনি নিজে উদ্যোগী হয়ে নাম দুটি যুক্ত করার নির্দেশ দেন এবং জামায়াত নেতাদের বসার অনুরোধ জানান, কিন্তু ততক্ষণে তারা সভাস্থল ত্যাগ করেন এবং পরে আর ফিরে আসেননি।
জামায়াত নেতাকর্মীদের এই বয়কটের পরও অবশ্য কেডিএ চেয়ারম্যান শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে সভাটি স্বাভাবিক নিয়মেই সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম, বিভাগীয় কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ্ হারুন, রেঞ্জ ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী, বিসিবি’র পরিচালক মো. শফিকুল আলম তুহিন এবং খুলনা মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বক্তব্য রাখেন।
সভায় বক্তারা আগামীর খুলনাকে জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উন্নত যোগাযোগ, পরিকল্পিত আবাসন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসমৃদ্ধ একটি আধুনিক ও টেকসই গ্রিন-সিটি হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন এলাকায় অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এই ছয় মাসে মেট্রোপলিটন এলাকায় ৮৪২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে মাদকের মামলার সংখ্যাই সর্বোচ্চ ৩৯৭টি।
এক সংবাদ সম্মেলনে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (জিএমপি) অপরাধ দক্ষিণ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মহিউদ্দিন আহমেদ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানায়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গত ছয় মাসে পুলিশ ১০টি হত্যা, ২০টি ডাকাতি, ২০টি ছিনতাই, ৬৬টি নারী ও শিশু নির্যাতন এবং ২৮টি অস্ত্র মামলা রেকর্ড করেছে। অভিযানে ১টি বিদেশি পিস্তলসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেই ৮৮২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তিনি জানান, সম্প্রতি গাজীপুরা জ্বিলানি মার্কেট এলাকায় সংঘটিত ছিনতাইয়ের ঘটনা চিহ্নিত দুই ছিনতাইকারী জাহিদ দেওয়ান (২৬) ও কামাল হোসেনকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে দুইটি ধারালো দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, মহানগর এলাকায় নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিলের চেষ্টায় ৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে তিনি বলেন, মাজার বস্তি, কেরানীর টেক, ব্যাংকের মাঠ ও এরশাদ নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। সম্প্রতি টঙ্গী পূর্ব এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও মহড়ার ঘটনায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অপরাধ দমনে তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের এ কার্যক্রমে নাগরিকদের সচেতনতা ও সহায়তা কামনা করা হয়েছে।
অবশেষে দুই পাশে সংযোগ সড়ক হলো জামালপুরের সরিষাবাড়ীর ঘুইঞ্চার চরের কোটি টাকার ব্রিজে। নির্মাণের ২ বছরেও রাস্তা না থাকায় ব্রিজটি কোনো কাজেই আসছিল না চরাঞ্চলের মানুষের। ফলে ব্রিজ হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলাচলে পোহাতে হতো নানা দুর্ভোগ ও ভোগান্তি। বর্তমানে ব্রিজের দুইপাশে সংযোগ সড়ক হওয়ায় খুশি এ চরাঞ্চলের মানুষ।
জানা যায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের উদ্যোগে ‘গ্রামীণ রাস্তায় সেতু কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ২০২৩-২৪ অর্থবছরে উপজেলার আওনা ইউনিয়নের দুর্গম চরাঞ্চল ঘুইঞ্চার চরে যমুনা নদীর শাখা অংশের উপর ১ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৫ মিটার দৈর্ঘ্যের গার্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের ২ বছর হলেও দুই পাশে কোনো সংযোগ সড়ক না থাকার কারণে স্থানীয়দের কোনো কাজেই আসছিল না ব্রিজটি। ফলে চলাচলে নানা দুর্ভোগ ও ভোগান্তি পোহাতে হতো। বিশেষ করে কৃষিপণ্য সরবরাহ ও স্কুল কলেজগামী শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হতো। এ ছাড়া বন্যা মৌসুমে গামছা পড়ে নদী সাঁতরে পার হতে হতো বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
বিষয়টি জানার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপির নির্দেশনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শওকত জামিলের তত্ত্বাবধানে ব্রিজের দুই পাশে করা হয় ১ হাজার ৮০০ ফুট সংযোগ সড়ক। ফলে দীর্ঘদিনের চলাচলের চরম ভোগান্তি ও দুর্ভোগ থেকে রক্ষা পেল স্থানীয়রা।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর সরেজমিনে তদন্ত করে এমপি মহোদয়ের সাথে কথা বলে রাস্তা করে দেওয়া হয়। এখন মানুষ ওই ব্রিজ দিয়ে চলাচল করতে পারে।’
খুলনা নগরীর চাঞ্চল্যকর আরফানা হোসেন নির্জনা হত্যাকাণ্ডের রহস্য ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে উদঘাটন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)। শনিবার (১১ জুলাই) সকালে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, ঘটনার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের একটি আভিযানিক দল নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তিনি স্বীকার করেন যে, মেয়ের সাথে বিভিন্ন ছেলেদের প্রেমের সম্পর্ক থাকার কারণে পারিবারিক কলহের সৃষ্টি হয় এবং এই কলহকে কেন্দ্র করেই তাদের একমাত্র মেয়েকে হত্যা করা হয়।
মা এর জবানবন্দি থেকে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকেলে পরিবারের সাথে নির্জনার বাকবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে মা তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মারেন। ঘরের ভেতর শোরগোল শুনে বাবা আলীম হোসেন আকাশ সেখানে এসে তাদের চুপ করতে বলেন। কিন্তু মেয়ে শান্ত না হওয়ায় একটি কাঠের চলা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করা হয়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই নির্জনার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ডের পর বাবা ও মা মিলে মেয়ের লাশ একটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে এবং ছেঁড়া লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে বাবা মোটরসাইকেলে করে নিরালার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নিরিবিলি রাস্তায় ফেলে রেখে আসে।
মায়ের জবানবন্দি থেকে জানা যায়, পরিবারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তেরখাদা আজগড়া এলাকায় একটি ছেলের সাথে তার বিয়ে করায় তারা ক্ষুব্ধ ছিল। শ্বশুর বাড়িতে যাওয়ার জন্য ওই দিন সকালে মেয়েটি বাড়ি থেকে বের হয়। পরবর্তীতে তাকে বুঝিয়ে বাড়িতে ফিরে আনা হয়। বিকেলে এঘটনা ঘটে।
গত ৮ জুলাই রাতে ওই স্থান থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় নির্জনার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহালকারী পুলিশ কর্মকর্তা এসআই লাভলী পাল জানান, নির্জনার মাথার ডান ও বাম পাশে আঘাতের গভীর ক্ষত ছিল এবং গলায় কালো দাগ পাওয়া গিয়েছিল। মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ গত শুক্রবার সদর থানায় মামলা দায়ের করে। গত শুক্রবার মহানগর হাকিম ইব্রাহীম খলিল মুহিমের আদালতে নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমা দায় স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করেন এবং এরপর তাকে জেলহাজতে পাঠানো হয়।
তদন্তকারী কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, নিহতের বাবা মো. আলীম হোসেন আকাশ ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সংবাদ পেয়ে নির্জনার মা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে মেয়ের লাশ শনাক্ত করেন। ওই সময় তিনি দাবি করেছিলেন, বাড়ি ছাড়ার আগে তার মেয়ে একটি চিঠি লিখেছিল, যাতে লেখা ছিল—‘আমার কোনো খোঁজখবর তোমরা নিও না’।
এদিকে, বাবা আলীম হোসেন আকাশ পলাতক থাকলেও ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছেন। তিনি একটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে প্রমাণ করতে চেয়েছেন যে তার মেয়ে স্বেচ্ছায় ঘর থেকে চলে গিয়েছিল এবং এর সপক্ষে একটি চিঠিও প্রকাশ করেন। তবে পুলিশ জানায়, চিঠির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। যেদিন রাতে নির্জনার লাশ পাওয়া যায়, ঠিক সেই সময়েই তার বাবার ফেসবুক আইডি থেকে একটি স্ট্যাটাস দেওয়া হয়, যেখানে লেখা ছিল—‘নিশ্চয়ই আল্লাহর কোনো পরিকল্পনা আছে, সকল কষ্ট এবং দুঃখে আলহামদুলিল্লাহ’।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলীম হোসেন আকাশের প্রোফাইল ঘেঁটে দেখা যায়, তিনি নিয়মিত টিকটকার হিসেবে সক্রিয় ছিলেন এবং স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে বিভিন্ন টিকটক ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতেন। তিনি নিজেকে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার ও ব্যবসায়ী হিসেবে দাবি করলেও তার পেশার বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান জানান, প্রাথমিক তদন্তে তাদের ধারণা নির্জনার বাবা একজন মাদকাসক্ত। বর্তমানে পলাতক বাবাকে খুঁজে বের করতে পুলিশ বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালাচ্ছে।
এদিকে খুলনায় এমন চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জনমনে তৈরি হয়েছে বিভিন্ন প্রশ্ন ও রহস্য। বিশেষ করে বাবা-মায়ের একমাত্র সন্তান হিসেবে কি করে তারা তাদের সন্তানকে হত্যা করতে পারে এমন প্রশ্ন করছেন অনেকে। খুলনায় এমন ঘটনা এই প্রথম বলেও মনে করছেন অনেকে।
টানা কয়েকদিনের অবিরাম বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার ধারারগাঁও-মাইজবাড়ী সড়কের বিভিন্ন অংশ তলিয়ে গেছে। সড়কের একাধিক স্থানে ভাঙন, দেবে যাওয়া ও মাটি সরে যাওয়ার ঘটনায় এলাকার হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, শ্রমজীবী ও ব্যবসায়ীদের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
জানা যায়, প্রায় দুই কিলোমিটার দীর্ঘ ধারারগাঁও-মাইজবাড়ী সড়কটি এলাকার মানুষের সুনামগঞ্জ শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র স্থলপথ। এর মধ্যে প্রায় আধা কিলোমিটার এখনো কাঁচা রয়েছে। সম্প্রতি ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানির চাপে সড়কের পাঁচটি স্থানে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে গেছে। কোথাও কোথাও পাকা অংশ দেবে গেছে, আবার অনেক স্থানে ভাঙন ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন অংশ পানিতে ডুবে থাকায় মানুষ পায়ে হেঁটে কাদা ও পানি মাড়িয়ে শহরমুখী হচ্ছেন। কেউ কেউ নৌকায় যাতায়াত করছেন। অনেক শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না। সড়কের দুপাশের বাড়িঘরের বারান্দা পর্যন্ত পানি উঠে গেছে।
অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মো. মুনায়েম বলেন, ‘এটি আমাদের এলাকার মানুষের একমাত্র সড়কপথ। বছরে প্রায় ১০ মাস আমরা এই রাস্তা ব্যবহার করি। কিন্তু কয়েকদিনের বৃষ্টিতেই সড়কের উপর হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি উঠেছে। অনেক জায়গায় রাস্তা দেবে গেছে ও ভেঙে পড়েছে। ধোপাখালি খাল, নদী এবং আশপাশের বিল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি দ্রুত নামতে পারছে না। খাল ও জলাধার খনন এবং সড়ক সংস্কার জরুরি।
ধারারগাঁও গ্রামের মরিয়ম বেগম বলেন, ‘রাস্তার উপর পানি থাকায় চলাচল করতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বাচ্চারা স্কুলে যেতে পারছে না। চারদিকের পানি এসে ঘরের বারান্দা পর্যন্ত উঠেছে।’
স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস আলী বলেন, ‘ধোপাখালি খাল দিয়ে আসা পানি বিল-হাওরে জমে উপচে সড়কের উপর উঠছে। সড়কটি অনেক নিচু হয়ে গেছে। ভাঙনও রয়েছে। আমরা কার্যত পানিবন্দি অবস্থায় আছি।’
আবহাওয়া অধিদপ্তর ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও স্বল্পমেয়াদি বন্যার ঝুঁকি রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, শুধু জরুরি সংস্কার নয়, ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সড়কটির উঁচু করে চলাচলের উপযোগী করে দিতে হবে।
ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মাগুরা প্রেসক্লাবের পৃষ্ঠপোষকতায় শহরের নোমানী ময়দানে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকালে প্রেসক্লাব মার্কেটের উত্তর ও দক্ষিণ ফুটবল দলের এক প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। খেলায় অংশগ্রহণ করেছেন প্রেসক্লাব মার্কেটের সকল দোকান মালিক ও কর্মচারীরা।
খেলার প্রথমার্ধে উভয় দল আক্রমণ পাল্টা আক্রমণ চালাতে থাকে। খেলার প্রথমার্ধের ১৬ মিনিটে উত্তর ফুটবল দলের চৌকস খেলোয়াড় হামিম একটি গোল করে দলকে এগিয়ে নিয়ে যায়। পরে একই দলের খেলোয়াড় জিতু পরপর দুটি গোল করে। গোলের পর দক্ষিণ ফুটবল দলের খেলোয়াড় বিপক্ষ দলের দিকে চরম আক্রমণ করতে থাকে। এই মুহূর্তে দক্ষিণ ফুটবল দলের খেলোয়াড় নাঈম পরপর দুই গোল করে দলকে আরও এগিয়ে নিয়ে যায়। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে উভয় দল কোনো গোল করতে সক্ষম হয়নি। নির্ধারিত খেলার শেষে প্রেসক্লাব উত্তর ফুটবল দল ৩-২ গোলের ব্যবধানে বিজয়ী হয়।
খেলা শেষে মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক বিজয়ী ও রানার্স আপ দলের হাতে ট্রফি তুলে দেন। এ সময় প্রেসক্লাব মার্কেটের সভাপতি মো. কবির হোসেন, মাগুরা প্রেসক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ কলিন্স, দপ্তর সম্পাদক শেখ ইলিয়াস মিথুন, ক্রীড়া সম্পাদক শাহিন আলম তুহিন, সিনিয়র সাংবাদিক ওয়ালিয়র রহমান, মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ, সঞ্জয় রায় চৌধুরী, আলিমুজ্জামান উজ্জ্বল, আবু সেলিম প্রমুখ।
খেলায় ধারাভাষ্য প্রদান করেন মাগুরা প্রেসক্লাবের সাংবাদিক মিনারুল ইসলাম জুয়েল।
খেলার আয়োজকরা বলেন, ‘শরীর সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা মানসিক প্রবৃত্তিগুলোকে জাগ্রত করে। ব্যবসা বা অন্যান্য কাজের ফাঁকে একটু বিনোদনের প্রয়োজন আছে। যেকোনো কাজের পাশাপাশি খেলাধুলা বা বিনোদনের আয়োজন থাকলে কাজে উৎসাহ উদ্দীপনা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তা ছাড়া এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন দোকান মালিক এবং কর্মচারীদের মধ্যে একটি হৃদ্রতার বন্ধন তৈরি হয়। তাই বিভিন্ন সময় খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে। আগামীতে এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।’
প্রেসক্লাবের এই আয়োজন স্থানীয় ব্যবসায়িকদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
ইসলামী ফাউন্ডেশন ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত ‘দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও সুসংহতকরণ’ শীর্ষক প্রকল্প এবং নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ উন্নয়নে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের আওতায় শিক্ষকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) ফরিদপুর জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের মিলনায়তনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
ইসলামী ফাউন্ডেশন ফরিদপুরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ইয়াছিন মোল্যার সভাপতিত্বে এ সময় যশোর শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ও জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক প্রফেসর এ বি এম সাত্তার, প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক এম এ সামাদ, ময়েজ মঞ্জিল জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা কবির আহমাদ, ফরিদপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তানভীর চৌধুরী রুবেল, ‘মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিনান, শহর বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. রেজাউল ইসলাম, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হারুনর রশিদ সিদ্দিকীসহ ইসলামী ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দারুল আরকাম ইসলামী শিক্ষা পরিচালনা ও মসজিদভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশ এবং আধুনিক ও কার্যকর শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, ‘ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা বিস্তারে শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের মতবিনিময় সভা শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ করতে সহায়ক হবে।’
সভা শেষে এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন জেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের খতিব হাফেজ মাওলানা মো. তবীরুর রহমান।
দুই বছর আগে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে এমন অভিযোগে করা মামলার ‘নিহত’ যুবককে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাটি কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম মোস্তফা কামাল (২৮)। তিনি শেরপুর জেলার বাসিন্দা। তবে দীর্ঘদিন ধরে কুলিয়ারচরে তার নানাবাড়িতে বসবাস করতেন।
জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে মোস্তফা কামাল নিখোঁজ হন। পরে তার মা মনোয়ারা বেগম অভিযোগ করেন, ছেলেকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ গুম করা হয়েছে। এ অভিযোগে তিনি আদালতে একটি মামলা করেন। মামলায় বাজিতপুরের ঠিকাদার জামান মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। অভিযোগ ছিল, মোস্তফা কামালের সঙ্গে তার কয়েক লাখ টাকার আর্থিক লেনদেন ছিল। ওই মামলায় জামান মিয়া প্রায় চার মাস কারাগারে ছিলেন।
তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশের সন্দেহ হলে তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে গত ৯ জুলাই রাতে গাজীপুরের গাছা থানার ডেগেরচালা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাসা থেকে মোস্তফা কামালকে জীবিত উদ্ধার করে। পুলিশ জানায়, তিনি সেখানে রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন। এ সময় তিনি বিয়ে করে নতুন সংসারও গড়ে তুলেছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মঞ্জরুল হক বলেন, ‘মোস্তফা কামালের আত্মগোপনের বিষয়টি তার পরিবারের সদস্যরা জানতেন। তবে গত দুই বছরে তারা এ তথ্য পুলিশকে জানাননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘মোবাইল কললিস্ট পর্যালোচনায় তার পরিবার ও স্বজনদের সাথে যোগাযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হতে পেরেছেন’ তিনি।
ঠিকাদার জামান মিয়া বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ না করেও চার মাস জেল খেটেছি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয় মোস্তফা কামালের পরিবারের সদস্যরা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
কুলিয়ারচর থানার ওসি কাজী আরিফ উদ্দীন বলেন, ‘ঘটনাটি তদন্তাধীন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে সার্ভিস রোডে ব্যারিকেড দিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যান থামিয়ে চালক ও সহকারীকে জিম্মি করে সয়াবিন তেল লুটের ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত ১১ হাজার ৭৪৪ লিটার সয়াবিন তেল, একটি কাভার্ড ভ্যান ও ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১১ জুলাই) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম জানান, গত শুক্রবার গভীল রাতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ের মেঘনাঘাট থেকে যশোরের উদ্দেশে একটি কাভার্ড ভ্যানে ৬৬৫ কার্টনে ১১ হাজার ৯৭০ লিটার সয়াবিন তেল পাঠানো হচ্ছিল। তেলের বাজারমূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা।
পথে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের শ্রীনগর উপজেলার উমপাড়া ওভারব্রিজের উত্তর পাশে সার্ভিস রোডে পৌঁছালে একটি মিনি পিকআপ দিয়ে কাভার্ড ভ্যানটির গতিরোধ করে ৭ থেকে ৮ সদস্যের একটি ডাকাত দল। তারা চালক আকিব হাসান জয় ও তার সহকারী নাহিদ হাসানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নিজেদের পিকআপে তুলে নেয়। পরে তাদের হাত, মুখ ও চোখ বেঁধে কেয়টখালী এলাকায় ফেলে রেখে তেলবোঝাই কাভার্ড ভ্যানটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
এ ঘটনায় তেলের মালিকপক্ষের প্রতিনিধি মো. আফছার উদ্দিন শ্রীনগর থানায় মামলা করেন। এরপর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও শ্রীনগর থানা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে।
তদন্তের একপর্যায়ে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকা থেকে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য আ. গনি মিয়া (২৮) ও অভি রহমানকে (২৮) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লুণ্ঠিত কাভার্ড ভ্যান, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত একটি পিকআপ এবং ৯ কার্টন সয়াবিন তেল উদ্ধার করা হয়।
পরে আসামিদের তথ্যের ভিত্তিতে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বেলঘড়িয়া বাজারের একটি ভাড়া করা গোডাউনে অভিযান চালিয়ে আরও ৫৮৫ কার্টন এবং অপর একটি গোডাউন থেকে ৫৮ কার্টন তেল উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে ৬৫২ কার্টন বা ১১ হাজার ৭৪৪ লিটার সয়াবিন তেল উদ্ধার করেছে পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, ডাকাত দলের সদস্যরা লুণ্ঠিত তেল রাখার উদ্দেশ্যে ঘটনার কয়েকদিন আগেই ওই গোডাউন ভাড়া নিয়েছিল।