বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
৩১ বৈশাখ ১৪৩৩

গুলি করে নারীকে হত্যা: মামলার পর প্রেমিককে খুঁজছে পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:১৬
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২১:৪২

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের দোগাছি এলাকার সার্ভিস সড়কে গুলি করে সাহিদা ইসলাম রাফা (২৪) নামে এক তরুণীকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা দায়ের করেছেন নিহতের মা। হত্যা মামলাটিতে ওই নারীর কথিত প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে (২৮) প্রধান আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই ওই যুবককে খুঁজছে পুলিশ। শ্রীনগর থানার ওসি কাইয়ুম উদ্দিন চৌধুরী এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

শ্রীনগর থানা সূত্র জানায়, রোববার সকাল ১০টায় শ্রীনগর থানায় নিহত তরুণীর মা জরিনা খাতুন বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় ওই নারীর কথিত প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি অজ্ঞাত একাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে নিহত সাহিদা ইসলাম সাফার সঙ্গে তৌহিদ শেখ তন্ময় নামে ওই যুবকের প্রেম ও দ্বন্দ্বের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, এদিন দুপুরে ওই নারীর মরদেহ ২৫০ শয্যা মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়েছে। পরে সেটি নিয়ে যাওয়া হয় ময়মনসিংহের বেগুনবাড়িতে। গতকাল শনিবার ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের দোগাছি এলাকায় শরীরে ৫ জায়গায় গুলিবিদ্ধ অবস্থায় ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহের পাশ থেকে পাওয়া যায় ৫ রাউন্ড গুলির খোসা।

স্থানীয় কয়েকজন জানান, ভোরে ওই নারীকে পদ্মা সেতু উত্তর থানা সংলগ্ন খান বাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকা থেকে মুখে দাড়িওয়ালা এক যুবকের সঙ্গে মহাসড়কের সার্ভিস লেনে হেঁটে যেতে দেখা যায়। এর আগে সেখানে তর্কে জড়ান তারা। সে সময় চড়-থাপ্পড় দিতে দেখা যায় নারীকে। তবে গুলি করতে দেখেননি কেউ।

থানা সূত্র জানায়, বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে এসে মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট সংগ্রহ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সদস্যরা পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। বিকালে নিহত নারীর সঙ্গে থাকা মোবাইলের সিমের সূত্র ধরে ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করে থানা পুলিশ। পরে খবর পেয়ে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা।

পরিবার সদস্যরা জানান, নিহত সাহিদা রাজধানী ঢাকার ওয়ারিতে পরিবারের সঙ্গে থাকতেন ও নারিন্দা এলাকার বলধা গার্ডেন সংলগ্ন জনৈক কামাল মিয়ার বাড়িতে তার শিশুদের দেখাশোনার (ডে-কেয়ার) কাজ করতেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের মৃত মো. মোতালেবের মেয়ে তিনি। তারা ২ ভাই ও ৩ বোন। তাছাড়া ৭-৮ বছর আগে সাহিদার বিয়েও হয়েছিল। পরে সেই সম্পর্ক টেকেনি।

নিহতের মা জরিনা খাতুন বলেন, ‘মুখে দাড়িওয়ালা তৌহিদ নামের এক যুবকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে বিভিন্ন জায়গায় ঘোরাফেরা করত সাহিদা। তবে তাদের মধ্যে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়ই মারামারি হতো। এমনকি আমি নিজেও ওই যুবকের হাতে মারধরের শিকার হয়েছি বেশ কয়েকবার।’

তিনি বলেন, ‘একপর্যায়ে আমি তাদের প্রেমের বিষয়টি মেনেও নিই। কিন্তু ছেলের পরিবার মানতে চাইত না। আমার কাছে ছেলের মা বিয়ে বাবদ ১০ লাখ টাকাও চায়। আমি বাসা-বাড়ির কাজ করে খাই। ১০ লাখ টাকা কোথা থেকে দেব! কয়েক মাস আগে চাঁদপুরে গিয়ে আপত্তিকর অবস্থায় তৌহিদ-সাহিদা পুলিশের হাতে ধরা পড়ে। থানা থেকে আমাকে খবর দেওয়া হলে আমি রাগে-ক্ষোভে যাইনি। পরে ছেলের পরিবারের সদস্যরা গিয়ে ছাড়িয়ে নিয়ে আসে দুজনকে। তবে আমার ছেলেটাকে সুবিধার মনে হতো না। শুনেছি সে গাঁজার ব্যবসা করে। আমি প্রায়ই আমার মেয়েকে বলতাম, এই ছেলের সঙ্গে এভাবে যেখানে-সেখানে ঘোরাঘুরি না করতে। কিন্তু আমার কথা শুনত না আমার মেয়ে রাফা।’

নিহতের মা জরিনা আরও বলেন, ‘গতকাল শুক্রবার রাত ১১টার দিকে সাহিদা আমাদের সঙ্গে বাসায়ই ছিল। এমন সময় ফোনে ডেকে নেওয়া হয় সাহিদাকে। পরে শনিবার দুপুরে আমার মেয়েকে গুলি করে হত্যার খবর পাই পুলিশের কাছ থেকে। আমি শুনেছিলাম ছেলের বাড়ি বিক্রমপুর। মনে হয় ওই ছেলেই আমার মেয়েকে এখানে নিয়ে এসে হত্যা করেছে।’

মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ ফিরোজ কবির বলেন, ‘কথিত প্রেমিকের সঙ্গে দ্বন্দ্বের বিষয়গুলো সামনে রেখে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে কাজ করছে পুলিশ। শিগগিরই ঘটনা উদ্ঘাটন হবে ও খুনি ধরা পড়বে।’


ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ডিএনসিসি

আপডেটেড ১৪ মে, ২০২৬ ২১:২০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষ্যে কোরবানির পশু জবাই, মাংস প্রস্তুতকরণ, চামড়া সংরক্ষণ এবং কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ইমাম ও মাংস প্রস্তুতকারীগণকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর মিরপুরে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, এই প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীরা যে পদ্ধতি শিখবেন, সেই নিয়ম অনুসরণ করেই সবাইকে কোরবানি সম্পন্ন করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, কোরবানির পশুর চামড়া দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াজাত করতে হবে। চামড়া সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় পরিমাণ লবণ বিনামূল্যে বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ।

তিনি আরও বলেন, মৌসুমি শ্রমিকদেরও সঠিক নিয়ম জানাতে হবে, যাতে তারা স্বাস্থ্যসম্মতভাবে কাজ করতে পারেন। কোরবানির সঙ্গে সঙ্গেই রক্ত পানি দিয়ে পরিষ্কার করলে দুর্গন্ধ থেকে মুক্ত থাকা সম্ভব হবে। কোরবানির বর্জ্য নির্ধারিত ব্যাগে ভরে বাসার সামনে রেখে দিলে সিটি কর্পোরেশনের কর্মীরা তা দ্রুত অপসারণ করবে।

প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় দ্রুততম সময়ের মধ্যে পুরো শহর পরিষ্কার করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশন শুধু আমার নয়, সবার। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা দ্রুত কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে পারবো।

স্বাগত বক্তব্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন-এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী বলেন, এবার সারা দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা ১ কোটি ১ লক্ষ ৬ হাজার। কোরবানির ঈদে উৎপন্ন বিপুল পরিমান চামড়া ও মাংসের গুণগত মান অক্ষুণ্ণ রাখতে এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। পশু কোরবানির ক্ষেত্রে কী কী পদক্ষেপ নিলে মাংশের মান ঠিক থাকে এবং চামড়ার গুণগত মান বজায় রাখতে কী করতে হবে, তা হাতে-কলমে দেখানো হবে। ঈদের আগে জুমার খুতবায় কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মুসল্লিদের সচেতন করতে তিনি ইমামদের অনুরোধ করেন।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ-এর ইমাম এবং প্রশিক্ষণের প্রশিক্ষণার্থী মুফতি হাবিবুল্লাহ বলেন, হালাল পদ্ধতিতে ও সহিহভাবে পশু কুরবানি করতে হবে। জবাইয়ের পর পর্যাপ্ত সময় দিতে হবে যাতে রক্ত সম্পূর্ণ বের হয়ে যায়। এরপর পানি ঢেলে পরিষ্কার করলে রক্ত জমাট বাঁধবে না।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা জানান, এই প্রশিক্ষণ কোরবানির সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ, চামড়ার গুণগত মান রক্ষা এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


গ্যাস বিস্ফোরণে বাবার পর একে একে মারা গেল ৩ ভাইবোন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে একই পরিবারের ৫ জন দগ্ধের ঘটনায় বাবার পর একে একে মারা গেল ছোট ছোট ৩ ভাইবোন। হাসপাতালে এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তাদের মা সালমা আক্তার।

সবশেষ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টার মুন্না (১২) আর দুপুর ১টার দিকে মারা যায় মুন্নি (৭)। এর আগে গত বুধবার (১৩ মে) তাদের বোন কথা (৪) এবং সোমবার মারা যান তাদের বাবা আবুল কালাম (৩৫)।

মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান। তিনি জানান, মুন্নার শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪০ শতাংশ এবং মুন্নির ৩৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। তাদের মা সালমা আক্তার ৬০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় এখনো ভর্তি আছেন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

গত রোববার (১০ মে) সকাল ৭টার দিকে ফতুল্লা গিরিধারা এলাকার গ্রাম বাংলা টাওয়ারের সামনের বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে দগ্ধ হন সবজি বিক্রেতা মো. আবুল কালাম, তার স্ত্রী সালমা আক্তার। তাদের ছেলে মুন্না, দুই মেয়ে কথা ও মুন্নি।


হৃদরোগ হাসপাতালের পরিচালকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা, তদন্তের নির্দেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চিকিৎসাধীন অবস্থায় জিন্নাত আলী নামে এক ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরীসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অভিযোগ বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইসমাইলের আদালতে নিহতের ছেলে আবু হুরায়রা বাদী হয়ে মামলাটির আবেদন দায়ের করেন। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। পরে বিকালে মামলাটি আমলে নিয়ে শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তদন্ত করে আগামী ১৬ জুনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোকছেদুল হাসান মন্ডল এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সকালে মামলাটি দায়ের করা হলে বিকালে আদালত আমলে নেন। এরপর মামলাটি তদন্ত করে শেরেবাংলা নগর থাকার ওসিকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার অন্যান্য আসামিরা হলেন— হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক ডা. এস.এম.এফ নিরব হোসেন, ডা. সিরাজুল, ওয়ার্ডবয় শহিদ, আশিক, সামিউল এবং মশিউর রহমান লাভলু, হৃদয় জেনারেল হাসপাতালের ম্যানেজার, সহকারী ম্যানেজার জুনায়েদ।


মাগুরায় আরইউটিডিপির কর্মশালায় পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী গড়ায় গুরুত্বারোপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা পৌরসভার আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে রিজিলিয়েন্ট আরবান অ্যান্ড টেরিটরিয়াল ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের (আরইউটিডিপি) আওতায় দিনব্যাপী এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১০টায় মাগুরা পৌরসভা মিলনায়তনে এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পৌর প্রশাসক ইমতিয়াজ হুসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিনিয়োগ পরিকল্পনা, পৌরসভার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন রূপরেখা এবং সিআরএপিবিষয়ক বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানের শুরুতেই স্বাগত বক্তব্য দেন পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী আহসান বারী।

প্রকল্পের নগর পরিকল্পনাবিদ সাইফুর রহমানের সঞ্চালনায় কর্মশালায় প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে করণীয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন, মাগুরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক তাজুল ইসলাম, সামাজিক ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ জাহিদুল ইসলাম, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ মো. আল আমিন, স্থপতি আজমিরা আক্তার ও ফারহানা ইসলাম।

কর্মশালায় স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিরা তাদের মতামত তুলে ধরেন। এতে উপস্থিত ছিলেন জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রদ্যুত কুমার দাস, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফিক।

এ ছাড়াও রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিনিধিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সদর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন, জামায়াতের পৌর আমীর আশরাফ আলী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আব্দুর রহিম, এনজিও প্রতিনিধি জেসমিন আরা মেরী এবং টিএলসিসির সদস্যরা।

বক্তারা মাগুরা পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।


ধোবাউড়ায় মরা মুরগি বিক্রির দায়ে জেল-জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ধোবাউড়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় বাজারে মরা মুরগি জবাই করে বিক্রির দায়ে একজনকে এক মাসের জেল এবং দোকান মালিক সুলতান মিয়াকে ২০ হাজার টাকা ও তার ছেলে নাজমুল হককে ১ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪) দুপুরে এ অভিযান পরিচালনা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোশারফ হোসাইন।

অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতায় ছিল ধোবাউড়া থানা পুলিশ।


দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে এমপি. অধ্যাপক ডা.আনোয়ারুল হক

ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এমপি অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) বারহাট্টা উপজেলা পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ সহায়তা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-২ (সদর-বারহাট্টা) আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. মোঃ আনোয়ারুল হক। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে ঢেউটিন ও আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো বর্তমান সরকারের মানবিক দায়িত্ব ও অঙ্গীকারের অংশ। সরকার সবসময় অসহায় ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলায় সবাইকে সচেতন থাকতে হবে এবং যেকোনো দুর্যোগে সম্মিলিতভাবে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। মানবিক সহায়তা পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।


ভোক্তা অধিকার বিরোধী অপরাধে প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিউলি আফরোজ সাথী, মাগুরা

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয় কর্তৃক সদর উপজেলার জামরুলতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিকার বিরোধী বিভিন্ন অপরাধে একটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুরে পরিচালিত অভিযানে তেল শিশুখাদ্যের দোকান বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়।

এসময় পূর্বে সতর্ক করা স্বত্তেও নিম্নমানের অননুমোদিত শিশুখাদ্য বিক্রয়, মোড়কীকরণ বিধি বহির্ভূত শিশু খাদ্য বিক্রয়, নিম্নমানের শিশুখাদ্যে বিভিন্ন খেলনা দিয়ে শিশুদের আকৃষ্ট করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ পণ্য বিক্রয় ইত্যাদি অপরাধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৩৭ ও ৫১ ধারায় জামরুলতলার মেসার্স মেসার্স সুভাষ স্টোরকে ১,০০,০০০/- টাকা জরিমানা করা হয়।

এসময় ভবিষ্যতে এধরণের আইন অমান্যকারী কার্যকলাপ না করার ব্যাপারে পুনরায় সতর্ক করা হয়।

পরবর্তীতে অন্যান্য পণ্যের প্রতিষ্ঠান তদারকি করা হয়। এসময় সবাইকে নকল ভেজাল পণ্য বিক্রয় না করা, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে ও আইন মেনে ব্যবসা পরিচালনা, মুল্যতালিকা যথাযথভাবে প্রদর্শন করা, পণ্যের ক্রয়-বিক্রয় ভাউচার যথাযথভাবে প্রদান ও সংরক্ষণ করা, মেয়াদ উত্তীর্ণ ও ড্যামেজ পণ্য বিক্রয় না করা, পণ্যের মোড়কীকরণ বিধি বহির্ভূত পণ্য বিক্রয় না করা, অতিরিক্ত মুনাফা না করা ইত্যাদি ব্যাপারে নির্দেশনা দেয়া হয়।

অভিযান পরিচালনা করেন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, মাগুরা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সজল আহম্মেদ।

সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন মো: ফয়েজুল কবীর, ডি এস আই, মাগুরা ও মাগুরা জেলা পুলিশের একটি টিম।


হালুয়াঘাটে গারো পাহাড়ের ঢলে কৃষকের স্বপ্নভঙ্গ: পানিবন্দি হাজারো মানুষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হালুয়াঘাট (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

সীমান্তের ওপার থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর গত দুই দিনের অঝোর ধারায় বৃষ্টিতে ভাসছে ময়মনসিংহের হালুয়াঘাট। ভারত সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় থেকে আসা আকস্মিক এই ঢলে উপজেলার নিম্নাঞ্চল ও কৃষি ভূমি তলিয়ে গিয়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নদীর বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় হাজার হাজার মানুষ এখন পানিবন্দি। বিঘ্নিত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা, আর চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকের বোরো ধানের স্বপ্ন এখন দুশ্চিন্তার কালো মেঘে ঢাকা।

মুহূর্তেই বদলে গেল দৃশ্যপট: দু’দিনের বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে আকস্মিকভাবে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিশেষ করে উপজেলার ভুবনকুড়া, গাজিরভিটা, হালুয়াঘাট সদর, কালিয়ানি কান্দা ও বোয়ালমারা এলাকায় পানির তোড় সবচেয়ে বেশি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বোরাঘাট নদীসহ আশপাশের খালগুলোর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। এক পর্যায়ে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়ে। এতে করে বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এখন পানির নিচে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে থাকা পরিবারগুলোর দুর্ভোগ এখন চরমে।

কৃষকের হাহাকার: চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হালুয়াঘাটের প্রান্তিক কৃষকেরা বাম্পার ফলনের আশা করেছিলেন। মাঠজুড়ে ছিল সোনালি বোরো ধানের সমারোহ। কিন্তু সেই আনন্দ বিষাদে রূপ নিয়েছে আকস্মিক এই বন্যায়। ফসল ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে বিস্তীর্ণ ফসলি জমি এখন পানির নিচে। স্থানীয় একজন কৃষক আক্ষেপ করে বলেন, ‘সারা বছরের খোরাকি এই ধানটুকু নিয়ে স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এক রাতেই সব শেষ হয়ে গেল। এখন ধান কাটা তো দূরের কথা, জান বাঁচানোই দায়।’ ধান কাটার আগেই ফসল তলিয়ে যাওয়ায় শত শত কৃষক বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।

যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ও জনদুর্ভোগ: পাহাড়ি ঢলের তীব্রতায় অনেক কাঁচা রাস্তা ধসে পড়েছে। নদী ও খালের পাড় ঘেঁষে থাকা বাড়িগুলোতে পানি প্রবেশ করায় রান্নাবান্না থেকে শুরু করে দৈনন্দিন কাজকর্ম বন্ধ হয়ে গেছে। গবাদিপশু ও ঘরের আসবাবপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় জনমনে ভীতি আরও বেড়েছে।

প্রশাসনের আশ্বাস: সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে হালুয়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফয়সাল আহমেদ জানান, গাজীরভিটা ও ভুবনকুড়া এলাকার দুটি পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে পানি প্রবেশের সংবাদ পাওয়া গেছে। ঢলের পানির চাপে দুটি কাঁচা রাস্তা ইতোমধ্যে ভেঙে গেছে। তিনি বলেন, ‘আমরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের তালিকা প্রস্তুত করে সরকারি ত্রাণ ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে।’

হালুয়াঘাটের এই সংকটময় মুহূর্তে বোরো ধান রক্ষায় পানি নিষ্কাশন এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে দ্রুত খাদ্য সহায়তা প্রদান এখন সময়ের দাবি। প্রকৃতি শান্ত না হওয়া পর্যন্ত এই উৎকণ্ঠা কাটছে না সীমান্তবর্তী এই জনপদের মানুষের।


সবুজের ছোঁয়ায় শৈল্পিক অবসর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

শহুরে যান্ত্রিকতার মাঝে এক চিলতে প্রশান্তি। যেখানে কংক্রিটের ছাদে ডানা মেলেছে শত প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুল। সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মাঝদক্ষিণা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা লায়লা খলিল তার সৃজনশীল ছোঁয়ায় গড়ে তুলেছেন এক দৃষ্টিনন্দন স্বর্গরাজ্য।

সবুজের গালিচায় হরেক আয়োজন: বাগানে পা রাখলেই চোখে পড়ে থরে থরে সাজানো গোলাপ, টগর, কামিনী আর জবার মেলা। শুধু দেশি ফুলই নয়, নজর কাড়ছে বিদেশি অর্কিড আর বাহারি বাগানবিলাসও। দিনের আলোয় যেমন রঙের ছটা চোখ জুড়ায়, রাতের স্নিগ্ধতায় চারপাশ মৌ মৌ গন্ধে হয়ে ওঠে মায়াবী।

সন্তানসম যত্নে গড়ে তোলা স্বপ্ন: শিক্ষকতা জীবনে মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে সুনাম কুড়ানো এই বিদ্যাসূর্য অবসরের একঘেয়েমিকে জয় করেছেন প্রকৃতির সেবায়। লায়লা খলিল বলেন, ‘এই গাছগুলো আমার সন্তানের মতো। প্রতিদিন সকালে যখন নতুন ফুল ফোটে, তখন মনের সব ক্লান্তি নিমেষেই দূর হয়ে যায়।’

অনুপ্রেরণার এক অনন্য বাতিঘর: বর্তমান সময়ে যখন সবুজ কমছে, তখন তার এই বাগান পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। এলাকাবাসী জানান, এই বাগানটি কেবল সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, বরং অবসর জীবনকে কীভাবে সৃষ্টিশীল ও আনন্দময় করে তোলা যায়, তার এক অনন্য শিক্ষা। অনেক প্রতিবেশীই এখন তার বাগান দেখে উদ্বুদ্ধ হয়ে নিজেদের বাড়ির ছাদে সবুজের ছোঁয়া লাগানোর স্বপ্ন দেখছেন।


সাগর না নদীর, দাপ্তরিক দ্বন্দ্বে ‘বিলীন’ কোটি টাকার ইলিশ!

আপডেটেড ১৪ মে, ২০২৬ ১৭:৩১
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার (১২ মে) রাত ১০টা। ভোলা সদর উপজেলার পানপট্টি বাজারসংলগ্ন এলাকায় তিনটি ট্রাক ঘিরে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলছিল। একপক্ষে কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা, অন্যপক্ষে ট্রাকের চালক ও মাছ ব্যবসায়ীরা। যৌথ বাহিনীর দাবি—ট্রাকগুলোতে থাকা ১০ হাজার ১৪০ কেজি ইলিশ নিষিদ্ধ সময়ে সাগর থেকে ধরা। আর ব্যবসায়ীদের দাবি—এগুলো নদীর বৈধ মাছ, যার সরকারি কাগজপত্র তাদের হাতেই রয়েছে।

শেষ পর্যন্ত ব্যবসায়ীদের দাবি টেকেনি। ১ কোটি ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এই বিশাল মাছের চালান জব্দ করে পরদিন সকালেই বিলিয়ে দেওয়া হয় স্থানীয় এতিমখানা ও দুস্থদের মাঝে। কিন্তু মাছ বিতরণের পর থেকেই শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। প্রশ্ন উঠেছে, জব্দ হওয়া মাছ কি আসলেই সাগরের ছিল, নাকি নদীর বৈধ মাছকে সাগরের তকমা দিয়ে বলির পাঁঠা বানানো হলো?

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, গত ১৫ এপ্রিল থেকে আগামী ১১ জুন পর্যন্ত সাগরে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকলেও নদ-নদীতে ইলিশ আহরণে কোনো বাধা নেই। ব্যবসায়ীরা মৎস্য বিভাগ থেকে প্রাপ্ত নির্দিষ্ট ‘অনুমতিপত্র’ দেখিয়ে দাবি করেন, এই ইলিশগুলো মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে নতুন স্লুইস মৎস্যঘাটের একজন ব্যবসায়ী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের কাছে মৎস্য অফিসের দেওয়া ক্লিয়ারেন্স আছে। নদী থেকে মাছ ধরে আমরা দেশের অন্য প্রান্তে পাঠাচ্ছিলাম। কিন্তু কোস্ট গার্ড কোনো কথা না শুনেই আমাদের মাছগুলো ‘সাগরের’ বলে নিয়ে গেল। মৎস্য অফিসের সরকারি কাগজের কি তবে কোনো দাম নেই?”

এই ঘটনার সবচেয়ে রহস্যজনক দিক হলো মৎস্য বিভাগের অভ্যন্তরীণ স্ববিরোধিতা। ভোলা সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ভূঁইয়ার উপস্থিতিতে মাছ জব্দ ও বিতরণ করা হলেও, চরফ্যাশন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু দিয়েছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন তথ্য।

জয়ন্ত কুমার অপু বলেন, ‘মাছগুলো যে নদী থেকে আহরিত, তার সত্যতা যাচাই করেই আমি অনুমতিপত্র দিয়েছি। তবে ভোলা সদরে অভিযানটি যখন চলে, তখন আমি সেখানে ছিলাম না। আমার দেওয়া সরকারি কাগজের কেন মূল্যায়ন হলো না, সেটা বড় প্রশ্ন।’

একই দপ্তরের এক কর্মকর্তার দেওয়া বৈধ কাগজ অন্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ‘অবৈধ’ গণ্য হওয়া নিয়ে খোদ মৎস্য বিভাগের ভেতরেই সমন্বয়হীনতা প্রকট হয়ে উঠেছে।
পুরো ঘটনার পরতে পরতে এখন হাজারো প্রশ্ন দানা বেঁধেছে। প্রথমত, সাগরের ইলিশ আর নদীর ইলিশের পার্থক্য করার কোনো স্বীকৃত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি তাৎক্ষণিক অভিযানে ব্যবহার করা হয়নি। কেবল অভিজ্ঞতালব্ধ অনুমান বা ‘সন্দেহের’ ওপর ভিত্তি করে কোটি টাকার সম্পদ এভাবে বিতরণ করে দেওয়া আইনি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

দ্বিতীয়ত, যদি ব্যবসায়ীরা জালিয়াতির মাধ্যমে কাগজ সংগ্রহ করে থাকেন, তবে সেই উৎস শনাক্ত না করে তড়িঘড়ি মাছ বিতরণ কেন শেষ সমাধান হবে? এই অস্পষ্টতা অভিযানকে কেবল একটি সংখ্যাগত সাফল্য হিসেবে দেখাচ্ছে, কিন্তু আইনি ও পদ্ধতিগত ত্রুটিগুলো আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তারা নিশ্চিত হয়েছেন এগুলো সাগরের মাছ। সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সরকার যে ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে, তা বাস্তবায়নে তারা বদ্ধপরিকর। জব্দকৃত মাছ সদর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই বিতরণ করা হয়েছে।

সাগর ও নদীর মাছের এই ‘আইনি চোর-পুলিশ খেলা’য় ভোলার মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রগুলোতে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অভিযান চলাকালীন মাছের উৎস নিশ্চিত করার জন্য বিশেষজ্ঞ দল এবং ল্যাবরেটরি টেস্টের সুযোগ থাকা প্রয়োজন, অন্যথায় এমন বিতর্ক সরকারি পদক্ষেপের নৈতিক উদ্দেশ্যকেই প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

জব্দ হওয়া মাছ পেটে গেছে দুস্থদের, কিন্তু কোটি টাকার লোকসানে পড়া ব্যবসায়ীদের দাবি আর প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পাহাড়—এই দুইয়ের মাঝে চাপা পড়ে গেছে প্রকৃত সত্য।


সাবেক মন্ত্রী মোশাররফ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ঢল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

সাবেক মন্ত্রী ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেনকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে চট্টগ্রামে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল ১১টার দিকে নগরের জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদ প্রাঙ্গণে নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার পর তাকে মিরসরাইয়ে নেওয়া হয়।

সেখানে বাদ আসর ফজলুর রহমান স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে তৃতীয় নামাজের জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

জানাজায় অংশ নেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। পাশাপাশি আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ছাড়াও সাধারণ জনগণকে জানাজায় অংশ নিতে দেখা যায়।

এ সময় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ছিলেন দেশের রাজনীতির এক অভিজ্ঞ ও সজ্জন ব্যক্তিত্ব। মহান মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান এবং চট্টগ্রামের উন্নয়নে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ভূমিকা মানুষ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।


বাউবির ওপেন স্কুল পরিচালিত এসএসসি প্রোগ্রামে সনদবিহীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এর ওপেন স্কুল পরিচালিত এসএসসি প্রোগ্রামে ২০২৬ ব্যাচে ভর্তিচ্ছু সনদবিহীন শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফল বুধবার প্রকাশ করা হয়েছে। পরীক্ষা কমিটির সভাপতি ফলাফল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান-এর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেন। এ সময় ভর্তি পরীক্ষা কমিটির অন্যান্য সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

মাননীয় উপাচার্যের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত এ ভর্তি পরীক্ষায় কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন ওপেন স্কুলের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাফর আহাম্মদ।

প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, মোট ৬৮২৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে ৫২১৭ জন ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে ৫০৯৬ জন শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। পরীক্ষায় পাশের হার ৯৭.৬৭ শতাংশ।

ওপেন স্কুল সূত্রে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার সকল কার্যক্রম অত্যন্ত সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও স্বচ্ছ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতায় ফলাফল প্রণয়ন ও প্রকাশ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপেন স্কুল দীর্ঘদিন ধরে দেশের শিক্ষা থেকে ঝরে পড়া, সুবিধাবঞ্চিত ও বিকল্প শিক্ষায় আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।

ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আগামী ১৫ মে ২০২৬ থেকে ১৫ জুন ২০২৬ তারিখের মধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।


বর্তমান সরকারের নির্বাচনে ইশতেহার বাস্তবায়নে নরসিংদীতে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও প্রচার কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষে গতকাল দুপুরে নরসিংদী জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আবু তাহের মোঃ শামসুজ্জামান এর সভাপতিত্বে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী জেলা তথ্য অফিসার ওবায়দুল কবির মোল্লা, নরসিংদী জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ আউয়াল, সি, সহ সভাপতি সফিকুল ইসলাম মতি, সহ সভাপতি রফিকুল ইসলাম, আশিকুর রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুর রহমান মিঠুন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিদয় এস সরকার, কোষাধ্যক্ষ মাইন উদ্দিন সরকার, ফাহিমা খানম, কার্যনির্বাহী সদস্য এবিএম আজরাফ টিপু,খাদেমুল ইসলাম আল আমিন, ফরিদুজ্জামান সহ প্রমুখ। সভায় জেলা তথ্য অফিসার ওবায়দুল কবির মোল্লা বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের প্রচার কার্যক্রমে সাংবাদিকদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী ইতিমধ্যে সরকার ফ্যামেলী কার্ড, কৃষক কার্ড, নারী সমাবেশ, ওঠান বৈঠক সংগীতের মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি সহ বিভিন্ন প্রচার কার্যক্রম ইতিমধ্যে জনগণের কাছে তোলে ধরতে সক্ষম হয়েছি।এছাড়াও চলচ্চিত্র প্রদশর্নী, পোষ্টার বিতরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বর্তমান সরকার গত তিন মাসে সরকারের ইশতেহার বাস্তবায়নে অনেকাংশেই সফলতার সহিত পরিচালনা করে যাচ্ছে।


banner close