রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২১ ভাদ্র ১৪৩৩
সেই তন্ময় গ্রেপ্তার

থানা থেকে লুট করা অস্ত্র দিয়েই প্রেমিকাকে খুন

শিহাব আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত
শিহাব আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২২:২৫

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের প্রকাশ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে প্রেমিকা সাহিদা ইসলাম রাফাকে হত্যার পর ভোলার মনপুরা দ্বীপে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় (২৩)। সোমবার ভোরে ভোলার তারানগর ইউনিয়নের ইলিশঘাটে ঢাকা-মনপুরা রুটের লঞ্চ থেকে তন্ময়কে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পরে তার দেয়া তথ্যে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বটতলী বেইলি ব্রিজের নিচে পানি থেকে হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির সূত্রটি ওই যুবককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলটি ৫ আগস্ট রাজধানীর ওয়ারি থানা থেকে লুটকৃত। ইউটিউবে ভিডিও দেখে পিস্তল চালানো আয়ত্ত করে ওই যুবক। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়ে ম্যাগজিনে থাকা ৬ রাউন্ড গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবক।

তবে তন্ময় জানিয়েছে, তার ছোড়া একটি গুলি রাফার শরীরে লাগেনি।

ডিবির সূত্রটি জানায়, নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার (২৪) একাধিক সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ শেখ তন্ময়ের (২৩) সাথে দ্বন্দ্ব ছিল। ঘটনার আগের দিন রাতে (২৯ নভেম্বর, শুক্রবার) সাহিদাকে ফোন করে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হতে বলেন তৌহিদ। পরে লোকাল বাসে করে দুজনেই চলে আসেন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটে। রাতভর সেখানে ঘোরাঘুরির পর গত শনিবার ভোরে খানবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় আসেন তারা। সেখানে প্রেমিকা সাহিদা নিজেকে গর্ভবতী দাবি করে প্রেমিক তৌহিদকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। আশপাশের লোকজন তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসতে থাকলে তৌহিদ ওই নারীকে নিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্ভিস লেন ধরে পদ্মা সেতু উত্তর টোল প্লাজা থেকে ২০০ মিটার অদূরে দোগাছি ফুটওভার ব্রিজ পার করে। পথে কয়েক দফায় সাহিদাকে চড়থাপ্পড় মারে তৌহিদ। একপর্যায়ে আর রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাথে থাকা থানা থেকে লুটকৃত পিস্তল দিয়ে প্রথমে এক রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরপরই আরও ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেগুলো সাহিদার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্ধ হয়। মুহুর্তেই সড়কে উপুড় হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় সাহিদার। রক্তাক্ত প্রেমিকার লাশ ফেলে পেছন দিকে দৌড়ে পালায় তৌহিদ। এরপর খানবাড়ি এলাকায় গিয়ে লোকাল বাসে চড়ে রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, মাঝপথে পিস্তলটি ফেলে দেয় কেরাণীগঞ্জ বেইলি ব্রিজের নিচে। ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করে তৌহিদ। একপর্যায়ে আঁটিবাজার এলাকায় নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে ওঠে সে। ওই বাড়িতে বোন জামাই, বোন ও তৌহিদের মা লঞ্চে করে মনপুরা দ্বীপে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয় তৌহিদকে। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় ওই ৩ জন সদরঘাট গিয়ে পৌঁছে দেয় তাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-ভোলা-মনপুরা রুটের লঞ্চে উঠে পড়ে তৌহিদ।

এদিকে সাহিদা হত্যার বিষয়টি সারা দেশে আলোড়ন তৈরি করলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে ডিবি। তৌহিদকে প্রধান সন্দেহভাজন চিহ্নিত করে তার মোবাইল নাম্বারের সর্বশেষ লোকেশন নিশ্চিত হয় তারা। তখন দেখা যায়, তৌহিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি শুক্রবার রাতে সবশেষ ঢাকার ওয়ারি এলাকায় চালু ছিল। এরপর থেকে সেটি বন্ধ আছে। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে তাহলে ডিবির সন্দেহ কি ভুল! এরইমাঝে আরেকটি সূত্র খুঁজে পায় ডিবি। তৌহিদের মোবাইল কলের সূত্র ধরে উদঘাটন হয় পরিবারের সকল সদস্যের নম্বর।

রোববার ডিবির দলটি যখন ঢাকার আঁটিবাজারে তৌহিদের বোনের বাড়িতে অভিযানে যায় তখন তারা একসাথে তৌহিদের মা, বোন ও বোন জামাইয়ের মোবাইলের লোকেশন সদরঘাটে দেখতে পায়। এরপরে অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করে ডিবি। চৌকস টিমটি ছুটে যায় সদরঘাটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় তৌহিদের লঞ্চে উঠার দৃশ্য শনাক্ত করে তারা।

গ্রেপ্তারের পর ডিবির কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তন্ময় জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশলের অংশ হিসাবে মাওয়া আসার আগে ঢাকার ওয়ারিতে থাকতেই মোবাইলটি বন্ধ করে দেয় সে। যাতে হত্যার পর লুকালেও পুলিশ কোন ক্লু বের করতে না পারে।

এদিকে, সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের ৫ সদস্যের ওই টিমটি অবস্থান নেয় ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। টার্গেট করা লঞ্চে অনুসন্ধানে ডিবির হাতে ধরা পড়ে তৌহিদ।

এর আগে গত রোববার সকালে নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার মা জরিনা খাতুন শ্রীনগর থানায় প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে প্রধান অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর রাতে ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ি এলাকায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় সাহিদার। আলোচিত এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের খোঁজে মাঠে নামে ডিবি।

নিহত সাহিদা রাজধানী ঢাকার ওয়ারিতে পরিবারের সাথে থাকতেন ও নারিন্দা এলাকার বলধা গার্ডেন সংলগ্ন জনৈক কামাল মিয়ার বাড়িতে দেখাশোনার (ডে-কেয়ার) কাজ করতেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের মৃত মো. মোতালেবের মেয়ে তিনি। তারা ২ ভাই ও ৩ বোন। তাছাড়া ৭-৮ বছর আগে সাহিদার একটি বিয়েও হয়েছিলো। পরে সেই সম্পর্ক টিকেনি। গ্রেপ্তারকৃত তৌহিদ শেখ তন্ময় রাজধানী ঢাকার ওয়ারী থানার মৃত শফিক শাহের পুত্র।

এদিকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, দায়েরকৃত মামলায় উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।


গাজীপুরে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় মা-ছেলেসহ নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে সিএনজি চালিত অটোরিকশার সঙ্গে কাভার্ড ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই সিএনজিতে থাকা ২ আরোহী নিহত হয়েছেন। এঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুইজন মারা যায়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সাড়ে ১১টার দিকে কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিক ভাবে হতাহতদের নাম পরিচয় জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে কালিয়াকৈর থেকে ৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি সিএনজি শ্রীপুরের মাওনা চৌরাস্তার দিকে যাচ্ছিল। সিএনজি অটোরিকশাটি কালিয়াকৈর-ফুলবাড়িয়া-মাওনা আঞ্চলিক সড়কের কাঞ্চনপুর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসার একটি কভার্ডভ্যানে সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যান।

গুরুতর আহত তিনজনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কালিয়াকৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই জন মারা যায় । এদের মধ্যে দুইজন মা ও ছেলে।

কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। দুইজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুই জন মারা যান। নিহত ও আহতের পরিচয় শনাক্তে কাজ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।


বর্জ্য জমা দিলেই মিলবে ভাত-মাছ-চালসহ নিত্যপণ্য

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সরাসরি সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, বর্জ্যের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রায় সহায়তার লক্ষ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ কর্মসূচিতে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কামরাঙ্গীরচরের আশরাফাবাদ উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অস্থায়ী বাজারে এলাকার হাজারো নাগরিক বাসাবাড়ির প্লাস্টিক বর্জ্য জমা দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য সংগ্রহ করেন।

কর্মসূচির উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। ‘বর্জ্যের বিনিময়ে বাজার’ সেই অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মডেল। ড্রেন ও নালা-নর্দমায় প্লাস্টিকসহ অন্যান্য বর্জ্য ফেলার কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। নাগরিকরা নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য জমা দিলে জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ সুরক্ষা—দুটোই নিশ্চিত হবে।

এই কর্মসূচি পুরো নগরীতে ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, শিগগিরই গুলিস্তানে ডিএসসিসির উদ্যোগে একটি স্থায়ী স্টল স্থাপন করা হবে। পর্যায়ক্রমে ডিএসসিসির প্রতিটি ওয়ার্ডেও কর্মসূচিটি সম্প্রসারণ করা হবে।

এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য স্থানান্তর কেন্দ্রের (এসটিএস) সুবিধাজনক স্থানে পথশিশুদের জন্য চেয়ার-টেবিল ও বইসহ ‘বইপড়ার বিনিময়ে খাবার’ কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

বক্তব্যের শেষে কামরাঙ্গীরচরবাসীকে বুড়িগঙ্গা নদী রক্ষা, দখলমুক্ত রাখা এবং যত্রতত্র বর্জ্য না ফেলার আহ্বান জানান প্রশাসক।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে কেবল সহায়তা না দিয়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযানের অংশীদার করছি। গত দুই বছরে সংগৃহীত প্লাস্টিক বর্জ্য বিক্রি করে প্রায় ১ কোটি টাকা আয় হয়েছে, যা দিয়ে প্রায় ৪ লাখ মানুষকে আহার করানো সম্ভব হয়েছে।

এই প্রকল্পের আওতায় আগামী এক বছরে ১০০টি ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে প্রায় ১ লাখ কেজি প্লাস্টিক বর্জ্য সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহবুবুর রহমান তালুকদার, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা উপস্থিত ছিলেন।


চিনিকলের সংকট নিরসনে পণ্য বহুমুখীকরণ, কৃষিভিত্তিক শিল্পায়ন চালুর বিষয়ে তাগিদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের (বিএসএফআইসি) মিলসমূহের বিদ্যমান সংকট নিরসন ও তা থেকে উত্তরণের উপায় শীর্ষক এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার গত ২ সেপ্টেম্বর বিএসএফআইসি-এর চিনিশিল্প ভবনের বোর্ডরুমে জিয়া পরিষদের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফআইসি-র চেয়ারম্যান মো. শামছুজ্জামান সুরুজ, সম্মানিত যুগ্মসচিব ও সংস্থার পরিচালক (ইক্ষু উন্নয়ন ও গবেষণা) ড. আব্দুল আলীম খান, বিএসএফআইসি-র জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম রব্বানী ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আশরাফ সরকার (জুয়েল)সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

এছাড়াও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে (জুম) যুক্ত ছিলেন সংস্থার পরিচালকবৃন্দ, সচিব, বিভিন্ন দপ্তরের প্রধান, বিএসএফআইসি’র জিয়া পরিষদের সভাপতি মো. আবু রায়হান, সহ-সভাপতি মো. হাসানুজ্জামান সহ করপোরেশনের আওতাধীন সকল চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ। সেমিনারে চিনিকলগুলোর বিদ্যমান নানা সমস্যা, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সংকট উত্তরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান শামছুজ্জামান সুরুজ বলেন, ‘জননায়ক ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশে বন্ধ কলকারখানা পুনরায় চালু করা, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যে চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের বন্ধ চিনিকলগুলো পুনরায় উজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, লোকসান কমিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলোকে লাভের ধারায় ফেরাতে মিলগুলোর বাই-প্রোডাক্ট (উপজাত) দক্ষতার সাথে ব্যবহার করে পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পায়নেরমাধ্যমে করপোরেশনের লাভজনক সংস্থায় রূপান্তর করার নানা পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

সমাপনী বক্তব্যে চেয়ারম্যান করপোরেশনের গতিশীলতা ফেরাতে এবং গৃহীত উদ্যোগসমূহ সফল করতে উপস্থিত সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ আন্তরিকতা, নিষ্ঠা ও সততার সাথে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের নির্দেশ প্রদান করেন।


মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ আটক ১২

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ডের অভিযানে মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ১২ জন পাচারকারী আটক। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়া থানাধীন মেঘনা নদীতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়া কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ২টি বোটে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশে বহনকৃত প্রায় ২ লক্ষ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের ৫৯৫ বস্তা (২৯ হাজার ৭৫০ কেজি) সিমেন্ট ও পাচারকাজে ব্যবহৃত ২টি বোটসহ ১২ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়। জব্দকৃত আলামত ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।


শ্রমজীবী মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করবে টেকসই অগ্রগতি: মাহদী আমিন

ছবি: প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শ্রমজীবী মানুষকে জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে তাদের টেকসই নিরাপত্তা, মর্যাদা ও দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) সম্মেলন ও সাধারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘মর্যাদা, অধিকার, ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিতে এগিয়ে যাবার প্রত্যয়’ শীর্ষক এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মাহ্দী আমিন বলেন, শ্রমিক শুধু শ্রম দেন না, তারাই দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখেন। শ্রমের মর্যাদা নিশ্চিত করা মানে দেশের মর্যাদা নিশ্চিত করা। ন্যায্য মজুরি কোনো অনুগ্রহ নয়, এটি শ্রমিকের ন্যায্য প্রাপ্য। নিরাপদ কর্মপরিবেশ প্রতিটি শ্রমিকের মৌলিক অধিকার।

তিনি বলেন, শ্রমিকের কল্যাণ মানে শুধু একজন কর্মীর কল্যাণ নয়, একটি পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। দক্ষ শ্রমিক দেশের অন্যতম বড় উৎপাদনশীল সম্পদ। শ্রমিকের দক্ষতা বাড়লে শিল্পের সক্ষমতা ও দেশের প্রতিযোগিতার শক্তি বাড়ে। প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে শ্রমিকের দক্ষতাকেও এগিয়ে নিতে হবে।

আগামী প্রজন্মের শ্রমশক্তিকে নতুন শিল্প ও নতুন কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত করার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে শ্রমিকের দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতায় বিনিয়োগের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

শিল্পখাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, শিল্পের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে মালিক ও শ্রমিককে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে এক হয়ে কাজ করতে হবে। সরকারের ‘ত্রিপক্ষীয় পরামর্শ ব্যবস্থা’র (ট্রাইপারটাইট কনসালটেশন)-মাধ্যমেই শিল্পখাতকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, মালিক ও শ্রমিকের মধ্যকার সম্পর্ক কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; এটি হতে হবে আস্থা, পারস্পরিক নির্ভরতা ও গভীর ভালোবাসার। একটি টেকসই শিল্পব্যবস্থা গড়ে তুলতে উভয় পক্ষের মধ্যে নিয়মিত কার্যকর যোগাযোগ, দায়িত্বশীলতা ও পারস্পরিক বিশ্বাস প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, কর্মক্ষেত্রে ন্যায়বিচার থাকলে আস্থা তৈরি হয়, আর আস্থা থাকলে উৎপাদন বাড়ে। নারী শ্রমিকের নিরাপত্তা ও সমান সুযোগের নিশ্চয়তা অর্থনীতির সক্ষমতাও বাড়ায়। কর্মসংস্থানের সংখ্যা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সেই কর্মসংস্থানের মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, শ্রমিকের সন্তান যেন আরো ভালো শিক্ষা ও বড় স্বপ্নের সুযোগ পায়, এটিও শ্রমিক কল্যাণের অংশ। আজকের শ্রমশক্তিকে আগামী দিনের পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত করাই হবে আমাদের অন্যতম বড় বিনিয়োগ। শ্রমের শক্তি, শিল্পের সক্ষমতা এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব— এই তিনের সমন্বয়েই গড়ে উঠবে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করে মাহ্দী আমিন বলেন, দক্ষ শ্রমিকই দেশের প্রধান উৎপাদনশীল সম্পদ। প্রযুক্তি ও বৈশ্বিক চাহিদার পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে শ্রমিকের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে হবে, যাতে শিল্পের সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার শক্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

আগামী প্রজন্মের জন্য নতুন নতুন শিল্প ও মানসম্মত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে এখন থেকেই আধুনিক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে তিনি কর্মসংস্থানের পরিমাণের পাশাপাশি কাজের মান (ডিসেন্ট জব) ও সামাজিক অন্তর্ভুক্তির ওপর জোর দেন।

দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক অর্জনে শ্রমিকের ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক পথযাত্রায় শ্রমজীবী মানুষ বারবার রাজপথে নেমে এসেছেন। নিজেদের স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণ, জনগণের অধিকার এবং সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে তাদের এই সাহসী অবস্থান জাতীয় ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায়।


পীর শামিমের মরদেহ নিয়ে রহস্য, কবরস্থানে নেই দেহ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে আলোচিত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামিমের মরদেহ স্থানীয় কবরস্থান থেকে তুলে তার দরবার প্রাঙ্গণে নতুন করে দাফন করার অভিযোগ উঠেছে তার ভক্তদের বিরুদ্ধে।

স্বজনদের অভিযোগ, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো একসময় উপজেলার ফিলিপনগর দারোগার মোড় এলাকার স্থানীয় একটি কবরস্থান থেকে শামিমের মরদেহ তুলে শামিমি বাবার দরবার শরিফ’ নামে পরিচিত স্থানে নতুন করে দাফন করা হয়েছে।

খবর পেয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান।

নিহত শামিমের বড় ভাই ফজলুর রহমান বলেন, সকালে খবর পেয়ে তারা কবরস্থানে গিয়ে দেখেন, কবরটি খোঁড়া হয়েছে। মরদেহ তুলে নেওয়ার আলামতও পাওয়া গেছে। পরে দরবার প্রাঙ্গণে গিয়ে একটি নতুন কবর খোঁড়া এবং খাপাচি দিয়ে মাটি চাপা অবস্থায় দেখতে পান তারা।

দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ সরিয়ে নেওয়ার আলামত পাওয়া গেছে। নতুন কবরের ভেতরে কঙ্কালসদৃশ বস্তু দেখা যাচ্ছে। তবে সেটি শামিমের মরদেহের অংশ কি না, তা নিশ্চিত হতে আরও প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১১ এপ্রিল দুপুরে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে শামিমের দরবারে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাকে মারধর করে হত্যার অভিযোগ করা হয়। পরদিন ১২ এপ্রিল ময়নাতদন্ত শেষে স্থানীয় একটি কবরস্থানে তার মরদেহ দাফন করা হয়।

শামিম হত্যার ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় মামলা করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি ও খেলাফত মজলিসের এক নেতাসহ চারজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয়ে আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মরদেহ কবরস্থান থেকে সরিয়ে দরবার প্রাঙ্গণে দাফনের অভিযোগে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়েছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে তা জানা যায়নি।


বিদ্যুতের তারে নারীর মৃত্যু, লাশ গুমের চেষ্টায় গ্রেপ্তার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আখ ক্ষেতের চারপাশে পেতে রাখা বিদ্যুতের তারে জড়িয়ে নবীরন নেছা (৫৫) নামে এক নারীর মৃত্যু ও লাশ গুম চেষ্টা মামলার প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার বেপারিপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করে র‌্যাব-১০-এর একটি আভিযানিক দল।

এ বিষয়ে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে র‌্যাব-১০-এর ফরিদপুর ক্যাম্প থেকে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিস্তারিত তুলে ধরেন ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার সিপিসি-৩, এডি মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা।

এর আগে গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় গোয়ালন্দ ঘাট থানায় রফিকুলকে প্রধান এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন নিহত নারীর বড় মেয়ে জুলেখা আক্তার। মামলার নং৩। ধারা ৩০৪/ এ এবং ২০১।

তবে ঘটনাটি ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টাকারীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। থানার ওসি জানিয়েছেন, বাদী এ বিষয়ে অভিযোগ না দিলে তার কিছুই করার নেই।

র‌্যাবের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আইনদ্দিন প্রামাণিক পাড়ায় রফিকুল মৃধার আখ ক্ষেতের পাশ থেকে নবীরন নেছার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা। এর আগে নারীর মৃত্যুর বিষয়টি টের পেয়ে রফিকুল ও তার কয়েকজন সহযোগী লাশটি গুম করার জন্য আখ ক্ষেতের পাশের পুকুর পাড়ে গর্ত খুড়ে সেখানে পুতে রাখার চেষ্টা করে। নিহত নারী স্থানীয় দুলাল বেপারী পাড়ার আব্দুর রহিম শেখের স্ত্রী।

এদিকে এ মৃত্যু নিয়ে এলাকার কয়েকজন বিএনপি নেতা ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। তবে বিষয়টি পরবর্তীতে জানাজানি হয়ে গেলে পুলিশ লাশটি কবর দেওয়ার আগ মুহূর্তে তাদের হেফাজতে নিয়ে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠান।

তবে নারীর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং লাশ গুম চেষ্টার ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নিন্দা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। নেটিজেনরা এর সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।

নবিরন বেগমের মৃত্যু ও লাশ গুমের ঘটনায় তার বড় মেয়ে গত শুক্রবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করলে র‌্যাব-১০-এর একটি দল রাতেই প্রধান আসামি রফিকুল ইসলাম মৃধাকে ফরিদপুর থেকে গ্রেপ্তার করে।


মাগুরায় অটিজম শিক্ষার্থীদের মাঝে রিকশা বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার মুজদিয়া গ্রামস্থ শ্রীপুর প্রতিবন্ধী ও অটিজম বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য ২টি রিকশা প্রদান করা হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকালে মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনোয়ার হোসেন খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ রিকশা প্রদান করেন।

এ সময় শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার ভূমি আসমাউল হুসনা পিংকী, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আকতার হোসেন, উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি সদস্য বদরুল আলম হিরো, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য খন্দকার আব্বাস উদ্দিন, জেলা কৃষকদলের সভাপতি রুবাইয়াত হোসেন খান, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি ড. মুসাফির নজরুল, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মোল্যা খলিলুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ মজুমদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মুন্সি জাহাঙ্গীর হোসেন, উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব শাহ আলম তুফান, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মুন্সি ইয়াছিন আলী, সদস্য সচিব হেমায়েত হোসেন, শ্রীপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজের সাবেক সদস্য সচিব আবু রায়হান রিংকু, প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি সুমন মজুমদারসহ প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক-কর্মচারী ও প্রতিবন্ধী ও অটিজম শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে একটি ফলজ বৃক্ষের চারা রোপণ করা হয়।


জামালপুর হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে ক্ষোভ ঝাড়লেন বিমানমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মন্ত্রী এমপিরা হাসপাতালের উন্নয়নে কাজ করেনি। জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল হলেও রোগী ভর্তি থাকে প্রায় নয়শ। এতে করে রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। মেডিকেল কলেজ হয়েছে কিন্তু পাঁচশ শয্যার হাসপাতালের টেন্ডার হলেও কাজ শুরু হয়নি।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জামালপুর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল পরিদর্শনে এসে এসব কথা বলেন।

মিল্লাত বলেন, বিগত সরকারের প্রতিমন্ত্রী, এমপির নির্ধারিত ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দিয়ে বিনিময় নিয়ে সমঝোতা হয়নি সে কারণে হাসপাতালের ভবন নির্মাণ হয়নি। কত নিকৃষ্ট হলে এমন কাজ করতে পারে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, প্রায় তিন যুগ আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১০০ শয্যা থেকে ২৫০ শয্যায় উন্নিত করেছিলেন তার পরে আর কোনো কাজ হয়নি। খুব শীঘ্রই হাসপাতাল ভবনের কাজ শুরু হবে।

এ ছাড়া হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা নিয়েও ক্ষোভ ঝাড়েন মন্ত্রী। অপর প্রশ্নে মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমান সময়ে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের জন্য বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ও ইন্টেরিম সরকার দায়ী। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সব সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।

এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল হক, পুলিশ সুপার ফারহানা ইয়াসমিন, সিভিল সার্জন ডা. আজিজুল হক, হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মাহফুজুর রহমান সোহান উপস্থিত ছিলেন।


১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ জ্বালানির অপচয়, জনগণের ভোগান্তি: প্রতিমন্ত্রী ইশরাক

কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ কর্মসূচি জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে উল্লেখ করে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বলেছেন, জ্বালানি সংকটের সময়ে লংমার্চের নামে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যয় করে জাতীয় সম্পদের অপচয় করা হচ্ছে।

শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন ও স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময়ে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন তিনি।

এই লংমার্চ কর্মসূচি অযথাই জনগণের ভোগান্তি সৃষ্টি করবে এবং জাতীয় সম্পদ নষ্ট করবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘লংমার্চের জন্য প্রায় এক লাখ লিটার জ্বালানি তেল ব্যয় হবে বলে হিসাব করা হচ্ছে। অথচ এটি এমন একটি সময়ে হচ্ছে, যখন দেশে জ্বালানি সংকট রয়েছে। প্রথমদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে লংমার্চের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে গণরায় বাস্তবায়নের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে।’

জুলাই সনদ বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছে। সেই সংস্কার সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এজন্য সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধীদলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।’

দ্বিতীয় শপথ প্রসঙ্গে ইশরাক হোসেন বলেন, ‘এমপি হিসেবে সংবিধান ও আইন অনুযায়ী শপথ নেওয়ার পর যে অতিরিক্ত শপথের কাগজ দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে অসাংবিধানিক ও অবৈধ বলে মনে করি। তবে এ বিষয়ে আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের বিভিন্ন মতামত থাকলেও সে বিতর্কে আমি যেতে চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার হিসেবে সফল বা ব্যর্থতার মূল্যায়নের পাশাপাশি গত ছয় মাসে বিরোধীদল হিসেবে তারা কতটুকু সফল হয়েছে, সেটিও জনগণের পর্যালোচনা করা উচিত।’

পরে প্রতিমন্ত্রী খোকসা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স পরিদর্শন এবং স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এরপর খোকসা জানিপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, খোকসা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান ও খোকসা পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রিপন হোসেন প্রমুখ।


৩৬ এসিল্যান্ডকে বদলি ও পদায়ন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৬ জন সহকারী কমিশনার ভূমি (এসিল্যান্ড) বদলিপূর্বক পদায়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করেছে সরকার।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ সংক্রান্ত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে জসিম উদ্দিনকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, তৌহিদ রেজাকে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. মাসুদ রানাকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এছাড়া মো. আশরাফুল ইসলামকে বরগুনার আমতলী থেকে ঢাকা বিভাগে, সোহাগ মিলুকে পটুয়াখালীর বাউফল থেকে খুলনা বিভাগে, মো. সাইফুল ইসলামকে পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং প্রত্যয় হাশেমকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও মহেশ্বর মন্ডলকে বরিশালের উজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে, রওশান কবিরকে নীলফামারীর ডিমলা থেকে রাজশাহী বিভাগে, রাফিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. শাহরুখ আলম শান্তুতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

দ্বিতীয় দফায় বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন-মাহামুদ হুসাইন রাজু। তাকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। নুসরাত জাহান অনন্যাকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং এস এম আকাশকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এস এম নাজমুস সালেহীনকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে রংপুর বিভাগে, আব্দুল আহাদকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে খুলনা বিভাগে এবং তানভীর আহম্মেদকে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া ওমর শরীফ খানকে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে খুলনা বিভাগে, আসিফ রায়হানকে পাবনার সাঁথিয়া থেকে ঢাকা বিভাগে, চৌধুরী আল মামুনকে সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং সামিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। মীর আল মনসুর শোয়াইবকে লালমনিরহাট সদর থেকে রাজশাহী বিভাগে, মো. শামীম রেজা সজীবকে ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, মজিবুর রহমানকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং জাকারিয়া হোসেনকে সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। সৈকত মন্ডলকে বরগুনার তালতলী থেকে খুলনা বিভাগে এবং রিজভী আহমেদ সবুজকে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনের আরেক অংশে আরও ৯ জন সহকারী কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. ইফতেখার আহমেদকে নীলফামারীর জলঢাকা থেকে খুলনা বিভাগে, আব্দুল্লাহ বিন জিয়াকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মাহমুদুর রহমানকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। পলাশ উদ্দিনকে নওগাঁর বদলগাছী থেকে ঢাকা বিভাগে, শপথ বৈরাগীকে পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে এবং মো. বদরুজ্জামান রিশাদকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া আসমাউল হুসনা পিংকিকে মাগুরার শ্রীপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, আমিনুল হক তারেককে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।


১৩ বছরের সংগ্রামে পুরস্কার পেলেও ঘর মেলেনি সুমীর

ছবি: সুমী বেগম।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি

এক হাতে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ পুরস্কারের ক্রেস্ট, অন্য হাতে জীবিকার জন্য সেলাইয়ের কাজ। ১৩ বছরের জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতি হিসেবে পাওয়া ক্রেস্ট ও সনদটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন সুমী বেগম। কিন্তু তার নিজেরই নেই থাকার মতো একটি ঘর। একমাত্র ছেলে সৌরভকে নিয়ে এখনো বাবার সংসারেই দিন কাটছে তার।

সুমীর জীবনের গল্প শুরু হয়েছিল ১৩ বছর আগে। তখন তার কোলে ছিল মাত্র তিন মাসের শিশু। নেশাগ্রস্ত স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে শিশুসন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন তিনি। পরে স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদ হয়। স্বামী অন্যত্র বিয়ে করে নতুন সংসার শুরু করলেও সুমী আর বিয়ে করেননি। ছেলেকে মানুষ করার স্বপ্ন নিয়েই কাটিয়ে দিয়েছেন একের পর এক বছর।

সেই তিন মাসের শিশু সৌরভ এখন ১৩ বছরের কিশোর। শেরপুরের নকলা পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে সে। ছেলের পড়াশোনা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবেই নিজের জীবনকে নতুন করে সাজিয়েছেন সুমী।

নকলা পৌর শহরের জালালপুর এলাকার বাসিন্দা সুমী এখন বাবার ঘরেই ছেলেকে নিয়ে থাকেন। তার বাবা ফারুক মিয়া অটো চালান। নিজের সংসার চালাতেই তার আয় শেষ হয়ে যায়। নতুন করে একটি ঘর নির্মাণ করার সামর্থ্য নেই তার।

ফারুক মিয়ার সংসারে স্ত্রী, ছেলে, ছেলের বউ, মেয়ে সুমী ও নাতি সৌরভ—সব মিলিয়ে ছয়জন। সংসারে অভাবের কারণে সুমীর নিজের ও ছেলের জন্য আলাদা ঘরের ব্যবস্থা হয়নি।

অভাবের সংসারে বাবার ওপর চাপ কমাতে কয়েক বছর আগে সেলাইয়ের কাজ শুরু করেন সুমী। প্রতিদিন গড়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা আয় হয়। এই সামান্য আয় দিয়ে নিজের খরচ, ছেলের পড়াশোনা ও সংসারে সহযোগিতা করতে হয় তাকে। ফলে নিজের একটি ঘর নির্মাণের কথা ভাবার সুযোগও হয়ে ওঠে না।

তবে নিজের অর্জন নিয়ে হতাশ নন সুমী। পুরস্কারের ক্রেস্ট ও সনদটি যত্ন করে রেখে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এই পুরস্কার আমার ১৩ বছরের জীবনসংগ্রামের স্বীকৃতি। কষ্টের দিনগুলোর মধ্যে এই স্বীকৃতিই আমাকে সাহস দেয়। ছেলের স্বপ্ন পূরণের জন্য লড়াই করার শক্তি পাই।’

সুমীর কাছে ছেলের ভবিষ্যৎই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা। সীমিত আয় দিয়ে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেন তিনি। কিন্তু নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা না থাকায় সেই স্বপ্নের পথ আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

জানা গেছে, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বেগম রোকেয়া দিবস-২০২৫ উপলক্ষে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের বাস্তবায়িত ‘অদম্য নারী পুরস্কার’ কার্যক্রমে ‘নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবনসংগ্রামে’ ক্যাটাগরিতে নকলা উপজেলায় শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী নির্বাচিত হন সুমী বেগম।

পুরস্কারটি তার ১৩ বছরের সংগ্রামের স্বীকৃতি। কিন্তু স্বীকৃতি পাওয়ার পরও তার জীবনের মৌলিক চাহিদা—একটি নিরাপদ ঘর—অপূর্ণই রয়ে গেছে।

শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


কুয়াকাটার উপকূলে বাড়ছে ডলফিন-কচ্ছপের মৃত্যু

চার বছরে ৫৮টি মৃত ডলফিন উদ্ধার
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা উপকূলে ২০২৩ সালে ১৫টি, ২০২৪ সালে ১০টি, ২০২৫ সালে ১৭টি এবং ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত ১৬টি মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। এছাড়া সম্প্রতি প্রায় ৬০ ফুট লম্বা চারটি তিমির মরদেহও ভেসে এসেছে। এর মধ্যে ঝাউবন, ৩৩ কানি এলাকা ও ফরেস্টারের ঢালা এলাকায় তিমির মরদেহ পাওয়া যায়। অপর একটি তিমির মরদেহ বসুধা আইল্যান্ড এলাকায় পাওয়া যায়।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) কুয়াকাটা ডলফিন রক্ষা কমিটি এসব তথ্য জানিয়েছেন।

ডলফিন রক্ষা কমিটির সদস্যরা জানান, গত তিন বছরে তারা প্রায় ৪ থেকে ৫টি অসুস্থ ডলফিন জীবিত উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর সাগরে অবমুক্ত করেছেন। এছাড়া কুয়াকাটা উপকূলে অসংখ্য মৃত কচ্ছপ ও রাজকাঁকড়াও পাওয়া গেছে।

ডলফিন রক্ষা কমিটির টিম লিডার রুমান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, উপকূলীয় এলাকায় একের পর এক সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যু আমাদের জন্য বড় সতর্কবার্তা। ডলফিন ও কচ্ছপ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এদের সংখ্যা কমে গেলে পুরো খাদ্যচক্রের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই দ্রুত সমন্বিত গবেষণা, নজরদারি ও সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি।

এদিকে, গতকাল শনিবার সমুদ্রসৈকতের পূর্ব পাশে চর গঙ্গামতি এলাকায় জোয়ারের পানির সঙ্গে ভেসে আসে প্রায় ৬ ফুট লম্বা একটি মৃত বোতলনোজ ডলফিন। গতকাল শনিবার সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় পরিবেশবাদী সংগঠন উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্য আব্দুল জলিল ডলফিনটির মরদেহ দেখতে পান। পরে তিনি ডলফিন রক্ষা কমিটি, বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশন (বিবিসিএফ) ও বন বিভাগের সদস্যদের বিষয়টি জানান।

খবর পেয়ে উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের স্বেচ্ছাসেবক, ডলফিন রক্ষা কমিটি, বন বিভাগ ও বিবিসিএফের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করেন। এ সময় দেখা যায়, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে ডলফিনটির শরীরের অধিকাংশ চামড়া উঠে গেছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। এছাড়া লেজে দড়ি বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন রাজু বলেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ডলফিনটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। জীবিত কিংবা মৃত ডলফিন, কচ্ছপ, রাজকাঁকড়া বা অন্যান্য সামুদ্রিক প্রাণী উদ্ধারের সময় প্রায়ই তাদের মুখ বা লেজে জালের টুকরো কিংবা দড়ি বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়। বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকার কারণে মৃত সামুদ্রিক প্রাণীর দেহে দ্রুত পচন ধরে। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় ডলফিনটির মরদেহ নির্ধারিত স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সদস্যসচিব আসাদুজ্জামান মিরাজ বলেন, খবর পাওয়ার পর স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে গবেষণার স্বার্থে মৃত সামুদ্রিক প্রাণীর দেহ থেকে নমুনাও সংগ্রহ করা হয়।

বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ফেডারেশনের (বিবিসিএফ) সহসাংগঠনিক সম্পাদক কেএম বাচ্চু জানান, উদ্ধার হওয়া ডলফিনটি একটি পুরুষ বোতলনোজ ডলফিন। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় কুয়াকাটা এলাকায় মাঝেমধ্যে বিভিন্ন প্রজাতির মৃত সামুদ্রিক প্রাণী ভেসে আসে। গত কয়েক বছরে শুশুক, ইরাবতী ডলফিন, বোতলনোজ ডলফিন, স্পিনার ডলফিন, তিমি ও কচ্ছপসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক প্রাণীর মরদেহ পাওয়া গেছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ উপকূলে সাধারণত ৫ থেকে ৬ প্রজাতির সামুদ্রিক কচ্ছপ দেখা যায়। এর মধ্যে রয়েছে অলিভ রিডলি, সবুজ সামুদ্রিক কচ্ছপ, হকসবিল, লগারহেড ও লেদারব্যাক কচ্ছপ। সাম্প্রতিক সময়ে ডলফিন ও কচ্ছপের মৃত্যুর ঘটনা উদ্বেগজনক। জলদূষণ, প্লাস্টিক বর্জ্য, জলবায়ু পরিবর্তন এবং মাছ ধরার জালে আটকা পড়াকে সম্ভাব্য কারণ হিসেবে ধারণা করা হলেও মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ণয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা প্রয়োজন।

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ, অ্যাকুয়াকালচার অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, ট্রলার ও জেলেদের জালে আটকা পড়ে দীর্ঘ সময় পানির নিচে থাকার কারণে অনেক সময় ডলফিন ও কচ্ছপ শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যায়। এছাড়া নৌযানের আঘাত, শিল্পবর্জ্য, তেল ও রাসায়নিক দূষণও সামুদ্রিক প্রাণীর মৃত্যুর অন্যতম কারণ।

তিনি আরও বলেন, কচ্ছপ ও ডলফিনের মৃত্যু সমুদ্রের পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। তাই সামুদ্রিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গবেষণাভিত্তিক কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।

মহিপুর রেঞ্জের বন কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, উপকূলীয় এলাকায় মাঝেমধ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটে। মৃত ডলফিন বা কচ্ছপের খবর পেলে বন বিভাগ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।


banner close