ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের প্রকাশ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে প্রেমিকা সাহিদা ইসলাম রাফাকে হত্যার পর ভোলার মনপুরা দ্বীপে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় (২৩)। সোমবার ভোরে ভোলার তারানগর ইউনিয়নের ইলিশঘাটে ঢাকা-মনপুরা রুটের লঞ্চ থেকে তন্ময়কে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পরে তার দেয়া তথ্যে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বটতলী বেইলি ব্রিজের নিচে পানি থেকে হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির সূত্রটি ওই যুবককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলটি ৫ আগস্ট রাজধানীর ওয়ারি থানা থেকে লুটকৃত। ইউটিউবে ভিডিও দেখে পিস্তল চালানো আয়ত্ত করে ওই যুবক। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়ে ম্যাগজিনে থাকা ৬ রাউন্ড গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবক।
তবে তন্ময় জানিয়েছে, তার ছোড়া একটি গুলি রাফার শরীরে লাগেনি।
ডিবির সূত্রটি জানায়, নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার (২৪) একাধিক সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ শেখ তন্ময়ের (২৩) সাথে দ্বন্দ্ব ছিল। ঘটনার আগের দিন রাতে (২৯ নভেম্বর, শুক্রবার) সাহিদাকে ফোন করে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হতে বলেন তৌহিদ। পরে লোকাল বাসে করে দুজনেই চলে আসেন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটে। রাতভর সেখানে ঘোরাঘুরির পর গত শনিবার ভোরে খানবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় আসেন তারা। সেখানে প্রেমিকা সাহিদা নিজেকে গর্ভবতী দাবি করে প্রেমিক তৌহিদকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। আশপাশের লোকজন তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসতে থাকলে তৌহিদ ওই নারীকে নিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্ভিস লেন ধরে পদ্মা সেতু উত্তর টোল প্লাজা থেকে ২০০ মিটার অদূরে দোগাছি ফুটওভার ব্রিজ পার করে। পথে কয়েক দফায় সাহিদাকে চড়থাপ্পড় মারে তৌহিদ। একপর্যায়ে আর রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাথে থাকা থানা থেকে লুটকৃত পিস্তল দিয়ে প্রথমে এক রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরপরই আরও ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেগুলো সাহিদার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্ধ হয়। মুহুর্তেই সড়কে উপুড় হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় সাহিদার। রক্তাক্ত প্রেমিকার লাশ ফেলে পেছন দিকে দৌড়ে পালায় তৌহিদ। এরপর খানবাড়ি এলাকায় গিয়ে লোকাল বাসে চড়ে রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, মাঝপথে পিস্তলটি ফেলে দেয় কেরাণীগঞ্জ বেইলি ব্রিজের নিচে। ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করে তৌহিদ। একপর্যায়ে আঁটিবাজার এলাকায় নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে ওঠে সে। ওই বাড়িতে বোন জামাই, বোন ও তৌহিদের মা লঞ্চে করে মনপুরা দ্বীপে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয় তৌহিদকে। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় ওই ৩ জন সদরঘাট গিয়ে পৌঁছে দেয় তাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-ভোলা-মনপুরা রুটের লঞ্চে উঠে পড়ে তৌহিদ।
এদিকে সাহিদা হত্যার বিষয়টি সারা দেশে আলোড়ন তৈরি করলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে ডিবি। তৌহিদকে প্রধান সন্দেহভাজন চিহ্নিত করে তার মোবাইল নাম্বারের সর্বশেষ লোকেশন নিশ্চিত হয় তারা। তখন দেখা যায়, তৌহিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি শুক্রবার রাতে সবশেষ ঢাকার ওয়ারি এলাকায় চালু ছিল। এরপর থেকে সেটি বন্ধ আছে। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে তাহলে ডিবির সন্দেহ কি ভুল! এরইমাঝে আরেকটি সূত্র খুঁজে পায় ডিবি। তৌহিদের মোবাইল কলের সূত্র ধরে উদঘাটন হয় পরিবারের সকল সদস্যের নম্বর।
রোববার ডিবির দলটি যখন ঢাকার আঁটিবাজারে তৌহিদের বোনের বাড়িতে অভিযানে যায় তখন তারা একসাথে তৌহিদের মা, বোন ও বোন জামাইয়ের মোবাইলের লোকেশন সদরঘাটে দেখতে পায়। এরপরে অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করে ডিবি। চৌকস টিমটি ছুটে যায় সদরঘাটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় তৌহিদের লঞ্চে উঠার দৃশ্য শনাক্ত করে তারা।
গ্রেপ্তারের পর ডিবির কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তন্ময় জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশলের অংশ হিসাবে মাওয়া আসার আগে ঢাকার ওয়ারিতে থাকতেই মোবাইলটি বন্ধ করে দেয় সে। যাতে হত্যার পর লুকালেও পুলিশ কোন ক্লু বের করতে না পারে।
এদিকে, সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের ৫ সদস্যের ওই টিমটি অবস্থান নেয় ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। টার্গেট করা লঞ্চে অনুসন্ধানে ডিবির হাতে ধরা পড়ে তৌহিদ।
এর আগে গত রোববার সকালে নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার মা জরিনা খাতুন শ্রীনগর থানায় প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে প্রধান অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর রাতে ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ি এলাকায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় সাহিদার। আলোচিত এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের খোঁজে মাঠে নামে ডিবি।
নিহত সাহিদা রাজধানী ঢাকার ওয়ারিতে পরিবারের সাথে থাকতেন ও নারিন্দা এলাকার বলধা গার্ডেন সংলগ্ন জনৈক কামাল মিয়ার বাড়িতে দেখাশোনার (ডে-কেয়ার) কাজ করতেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের মৃত মো. মোতালেবের মেয়ে তিনি। তারা ২ ভাই ও ৩ বোন। তাছাড়া ৭-৮ বছর আগে সাহিদার একটি বিয়েও হয়েছিলো। পরে সেই সম্পর্ক টিকেনি। গ্রেপ্তারকৃত তৌহিদ শেখ তন্ময় রাজধানী ঢাকার ওয়ারী থানার মৃত শফিক শাহের পুত্র।
এদিকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, দায়েরকৃত মামলায় উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
যেখানে সাধারণ সাপ দেখলেই মানুষ আতঙ্কে শিউরে ওঠেন এবং মেরে ফেলার চেষ্টা করেন, সেখানে বিভিন্ন বিষধর সাপের সঙ্গেই নিত্য বসবাস তরুণ বন্যপ্রাণী প্রেমী নজরুল ইসলাম অয়নের। ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামসহ দেশের যেকোনো প্রান্তে লোকালয়ে সাপ ঢোকার খবর পেলেই পরম মমতায় ছুটে যান তিনি। সঠিক পূর্ব-প্রশিক্ষণ ও নিরাপদ কৌশলে প্রাণীটি উদ্ধার করে ফিরিয়ে দেন প্রকৃতির নিরাপদ আবাসে।
অয়ন কোনো ওঝা বা সাপুড়ে নন; সাপ নিয়ে কোনো বাণিজ্যও করেন না। শুধুমাত্র প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি ভালোবাসা থেকে গত ১৫ বছর ধরে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে এই কঠিন কাজ করে চলেছেন। অয়ন বর্তমানে ফেনী ইউনিভার্সিটির ইংরেজি সাহিত্য বিভাগের শেষ বর্ষের ছাত্র।
বিপুল পরিমাণ প্রাণী উদ্ধার ও সামাজিক সচেতনতা: ছোটবেলা থেকেই প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগী অয়ন এ পর্যন্ত শঙ্খিনী, রাসেলস ভাইপার, কোবরা (গোখরো), কালনাগিনী ও দাঁড়াশসহ ১০ প্রজাতির সাড়ে ৭০০টিরও বেশি বিষধর ও নির্বিষ সাপ উদ্ধার করেছেন।
এছাড়া বনবিড়াল, চিতাবিড়াল, গন্ধগোকুল ও শঙ্খচিলসহ ৩,০০০-এরও বেশি বন্যপ্রাণী উদ্ধার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন করেছেন।
শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ে উদ্ধারকাজেই সীমাবদ্ধ নন অয়ন; জনসচেতনতা তৈরিতেও তিনি সমান সক্রিয়। তিনি বর্তমানে এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ সংগঠন ‘Wildlife and Snake Rescue Team in Bangladesh’-এর সাধারণ সম্পাদক ও ফিল্ড ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের প্রায় ৬০টি জেলায় বিস্তৃত অয়নের এই সংগঠনটি বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ইতোমধ্যে অর্জন করেছে মর্যাদাপূর্ণ জাতীয় পুরস্কার।
অয়ন বিশ্বাস করেন, সাপের আতঙ্ক দূর করতে বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের প্রসার জরুরি। তাই তিনি বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মশালা পরিচালনা করে ওঝা দিয়ে বিষ নামানো বা সাপে কাটার স্থানে বাঁধার মতো মারাত্মক সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়ে তুলছেন। সাপে কাটা রোগীকে ঝাড়ফুঁক না করে দ্রুততম সময়ে চিকিৎসালয়ে পৌঁছানোই যে জীবন বাঁচানোর একমাত্র উপায়, সে বার্তা তিনি ছড়িয়ে দিচ্ছেন। পাশাপাশি, সাপের বিষ থেকে জীবনরক্ষাকারী অ্যান্টিভেনম তৈরি এবং ক্ষতিকর ইঁদুর দমনের মাধ্যমে কৃষিতে সাপের অপরিহার্য ভূমিকার কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রকৃতি রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
নজরুল ইসলাম অয়ন ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার জিএম হাট ইউনিয়নের পশ্চিম বশিকপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম মাহবুবুল আলম এবং মা পারভীন আক্তার। শিক্ষক ও প্রশাসনের প্রশংসাঅয়নের এই মহতী কার্যক্রমের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তার শিক্ষক ও স্থানীয় বন বিভাগ।
ফেনী ইউনিভার্সিটির ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক রেজোয়ান হোসেন বলেন, নজরুলের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সংরক্ষণে নিবেদিত কাজ আমাদের গর্বিত করে। তার মতো তরুণদের নিষ্ঠাই সমাজে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও মানবিক মূল্যবোধকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।
বিভাগের শিক্ষক সুদ্বীপ দাশ ও প্রধান সাদিয়া তাবাসসুম নোশিন অয়নের কাজের সাহসিকতা ও আন্তরিকতার প্রশংসা করে বলেন, সম্পূর্ণ নিজস্ব উদ্যোগে ও অর্থায়নে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অয়ন যেভাবে বন্যপ্রাণী রক্ষা করছেন, তা সত্যি প্রশংসনীয় এবং তিনি এজন্য যথাযথ রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ডিজার্ভ করেন।
একই সুর মিলিয়ে সামাজিক বন বিভাগ ফেনীর বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, অয়ন একজন ভলেন্টিয়ার রেস্কিউয়ার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বন বিভাগের সাথে ওতপ্রোতভাবে কাজ করে আসছেন। নজরুল ইসলাম অয়নের মূল স্বপ্ন—একটি নিরাপদ, সচেতন ও প্রকৃতিবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মানুষ ভয়ের পরিবর্তে জ্ঞান ও সহমর্মিতা দিয়ে বন্যপ্রাণী তথা পরিবেশকে রক্ষা করবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘আগামী বছর থেকে দেশের ১ কোটি ১০ লাখ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে পুষ্টিকর খাবারের আওতায় আনা হবে। আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝড়ে পড়ার হার শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে চাই। ঝড়ে পড়া শিশু আর আমাদের দেশে থাকবে না।’
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে দিনাজপুর শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পের কার্যক্রম সম্পর্কে ওরিয়েন্টেশন কর্মমালা ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, ‘স্কুল ফিডিংয়ে যারা নিম্ন মানের খাবার পরিবেশন করবে ও কোনো অনিয়ম করবে তাদের খাবার সরবরাহের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।’
দিনাজপুর জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ কামরুল হাসান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ফিডিং কর্মসূচির প্রকল্প পরিচালক (যুগ্ম সচিব) আবুল আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (বাজেট ও অডিট) মিজ ইসরাত জাহান, দিনাজপুর পুলিশ সুপার জেদান আল মুসা ও দিনাজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক মোফাজ্জল হোসেন দুলাল প্রশাসক।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে ‘নজরুল বর্ষ’ উপলক্ষে দেশব্যাপী সকল পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) সকালে উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের পর পরই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আতিকুর রহমানের সঞ্চালনায় শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়।
এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল আহাদ, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সহ-সভাপতি শাহআলম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নিজামুল হক নজরুল, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার গিয়াস উদ্দিন আশরাফি, একাডেমিক সুপারভাইজার আব্দুল লতিফ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া জামায়াতে ইসলামীর আমির আশরাফুল আলম, অষ্টগ্রাম সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দেবেশ চন্দ্র দাস, বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নাসিমা আক্তার, হক সাহেব উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাবিবুর রহমান চৌধুরী, অষ্টগ্রাম হোসাইনিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নুরুল আফসার, অষ্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি দেবপদ চক্রবর্তী এবং উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগরসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে নজরুল বর্ষের অংশ হিসেবে সোমবার (৩১ আগস্ট ২০২৬) বিকেলে অষ্টগ্রামের স্বপ্নীল গণগ্রন্থাগার তাদের নিজস্ব কার্যালয়ে গণগ্রন্থাগারের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগরের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও কবিতা আবৃত্তির আয়েজন করে। উক্ত অনুষ্ঠানে ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষক, স্থানীয় সাহিত্যপ্রেমী ও পাঠকরা উপস্থিত ছিলেন।
রংপুরে শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীসহ তার পরিবারের ৪ সদস্যকে হত্যার ঘটনায় স্বল্প সময়ের মধ্যে অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু । রোববার দুপুরে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ি পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে আদালতে চার্জশিট দাখিল করবে পুলিশ। জনগণ ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া মাদক নির্মূল সম্ভব নয় মন্তব্য করে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, আমি এখানে এসে জানতে পারলাম মাদকাসক্তরা গণপতি স্যারকে অনেক ডিস্টার্ব করতো। মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলায় স্যারসহ তার পরিবারকে হত্যা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পুলিশ বাহিনী দুই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এসব হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। রামিশা হত্যা মামলায় দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। তার বিচারকার্য শেষ হয়েছে। আমরা এলাকায় নন্দিনী নামে একটি বাচ্চা মেয়েকে হত্যার ঘটনায় ১৫ দিনের মধ্যে বিচারকার্য শেষ হয়েছে। অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে চার্জশিট দাখিল করে স্বল্প সময়ের মধ্যে জঘন্যতম এ হত্যাকাণ্ডের মামলায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।
হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে মাদক রয়েছে। আমাদের সরকার মাদকের বিষয়ে সবো©চ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করেছে। আমরা আশা করছি জনগণের মধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। জনগণ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যৌথভাবে কাজ না করলে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করা যাবে না। পাড়া-মহল্লায় মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মাদক ব্যবসায়ী, পরিবহনকারী ও সেবনকারীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, জেলা প্রশাসক ইসরাত জাহান, জেলা পরিষদ প্রশাসক সাইফুল ইসলামসহ অন্যরা।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে একটি পরিত্যক্ত বাড়িতে ১০টি ঘোড়া জবাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে জবাইকৃত তিনটি ঘোড়া ও সাতটি ঘোড়ার মাথা উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাসাইল পৌরসভার বর্ণীকিশোরী এলাকায় পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গত শনিবার রাতের কোনো এক সময় ১০টি ঘোড়া জবাই করা হয়। দুর্বৃত্তরা সাতটি ঘোড়ার মাংস নিতে পারলেও জবাই করা তিনটি ঘোড়ার মাংস নিতে পারেনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ও পৌর কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
তিনটি জবাইকৃত ঘোড়া, সাতটি ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি সেখান থেকে এনে অন্যত্র পুঁতে রাখা হয়েছে। আর ঘটনাস্থল পরিষ্কার করা হয়েছে।
আবদুর রাজ্জাক, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা, বাসাইল পৌরসভা
বাসাইল পৌরসভার পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক বলেন, তিনটি জবাইকৃত ঘোড়া, সাতটি ঘোড়ার মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি সেখান থেকে এনে অন্যত্র পুঁতে রাখা হয়েছে। আর ঘটনাস্থল পরিষ্কার করা হয়েছে।
স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, বাসাইল বা আশপাশের এলাকায় খুব বেশি ঘোড়া লালনপালন করা হয় না। অন্য কোথাও থেকে ঘোড়াগুলো এনে নির্জন পরিত্যক্ত বাড়িটিতে জবাই করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল থেকে মফিজ মিয়া নামের একজন বলেন, ‘বিষয়টি জানতে পেরে দেখতে এসেছি। এখানে ১০টি ঘোড়া জবাই করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতটির মাংস নিয়ে গেছে আর তিনটি রেখে গেছে। তারা হয়তো কোনো হোটেলে বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে গেছে। এর আগেও উপজেলার নাইকানীবাড়ী ও গাজীর ভাঙ্গা এলাকায় ঘোড়া মাথা, হাড়, চামড়া ও নাড়িভুঁড়ি ফেলে গিয়েছিল।’
বাসাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আলমগীর কবিরের ধারণা, রাত একটা থেকে চারটার মধ্যে ঘোড়াগুলো জবাই করা হয়েছে। ভোর হয়ে যাওয়ায় সাতটি ঘোড়ার মাংস নিয়ে তিনটি জবাইকৃত ঘোড়া ফেলে রেখে চলে গেছে। ওই বাড়িতে কেউ থাকে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
পটুয়াখালীতে যৌথ অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে মজুদকৃত বিপুল পরিমাণ নকল সিগারেট জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। রবিবার ৩০ আগস্ট ২০২৬ সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, পটুয়াখালীর সদর থানাধীন সবুজবাগ সংলগ্ন এলাকায় গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ রাত ২ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পটুয়াখালী কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ৩ টি গোডাউন তল্লাশি করে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে বাজারজাতকরণের উদ্দেশ্যে মজুদকৃত প্রায় ১ লক্ষ ৭৩ হাজার ৩০০ টাকা মূল্যের ১৮ হাজার ৪০০ শলাকা নকল সিগারেট, ২ হাজার ৮২০ শলাকা বিদেশি সিগারেট ও ৭৪ প্যাকেট রোলিং পেপার এবং ৬০ বোতল নিষিদ্ধ যৌন উত্তেজক সিরাপ জব্দ করা হয়। এসময়, অসাধু ব্যবসায়ীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
জব্দকৃত আলামতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।
তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলীয় পাঁচ জেলায় তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে নীলফামারীর ডালিয়ায় অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজ এলাকা পরিদর্শন করেছেন নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। রোববার দুপুরে তিনি এই বিশেষ পরিদর্শনে যান বলে নিশ্চিত করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড রংপুর উত্তরাঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহা. সরফরাজ বান্দা।
এই সফরে রাষ্ট্রদূতের সাথে ছিলেন তার সহধর্মিণী মিসেস ডিয়ান ডাও এবং মার্কিন দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন মেগান বোল্ডিনসহ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল। ওইদিন সকালে আকাশপথে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণের পর তিনি রংপুরের গঙ্গাচড়ায় অবস্থিত ‘প্যারাগন ডেইরি’ পরিদর্শন করেন এবং পরবর্তীতে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় পৌঁছান। পরিদর্শনকালে সেখানে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের আহ্বায়ক শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক প্রকৌশলী রুহুল আমিনসহ রংপুর ও নীলফামারী অঞ্চলের উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক ও প্রকৌশল কর্মকর্তাবৃন্দ। তিস্তা ব্যারাজের চারপাশের সবুজ প্রকৃতি ও নান্দনিক পরিবেশে মুগ্ধ হয়ে রাষ্ট্রদূত ও তার স্ত্রী সেখানে কিছু সময় অতিবাহিত করেন এবং আলোকচিত্র ধারণ করেন।
পাউবোর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহা. সরফরাজ বান্দা জানান, রাষ্ট্রদূত তিস্তা নদীর বর্তমান গতিপ্রকৃতি, নাব্য সংকট এবং সেচ প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন। পরিদর্শন শেষে স্থানীয় কর্মকর্তাদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি অংশগ্রহণ করেন, যেখানে তাকে তিস্তা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা, নদী সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাবে স্থানীয় কৃষকদের সংকটের বিষয়ে অবহিত করা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত আঞ্চলিক পানি ব্যবস্থাপনা এবং তিস্তা পাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেন।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সফরের প্রথম দিন শেষে তিনি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন। সফরের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ সোমবার রাষ্ট্রদূতের মহানন্দা নদী, বাংলাবান্ধা জিরো পয়েন্ট, পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং রকস মিউজিয়াম পরিদর্শনের কথা রয়েছে। এরপর মঙ্গলবার সফরের শেষ দিনে তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের ঐতিহ্যবাহী সূর্যপুরী আম গাছ, দিনাজপুরের কান্তজির মন্দির এবং পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমোটিভ কারখানা পরিদর্শন করবেন। ওইদিন বিকেলেই সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা ও ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো পরিদর্শন শেষে আকাশপথে তার ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।
মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই দীর্ঘ সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরাঞ্চলের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে নিবিড় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁন গণমাধ্যমকে জানান, “মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সফরকে কেন্দ্র করে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তার সফরসূচি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।”
যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলায় আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের সময়োপযোগী ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপে এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিবাহ সফলভাবে প্রতিরোধ করা হয়েছে। গত ২৯ আগস্ট ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ তারিখে সন্ধ্যার দিকে মনিরামপুর উপজেলার কুলটিয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গামহিষদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আনসার ও ভিডিপি সূত্রে জানা যায়, ডাঙ্গামহিষদিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমানের ১৫ বছর বয়সী অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলপড়ুয়া কন্যার সঙ্গে ঝিকরগাছা উপজেলার দৌলতপুর গ্রামের কাদের আলীর পুত্র প্রবাসী মো. হাসান আলীর বিয়ের সব আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছিল। এই অনৈতিক ও বেআইনি আয়োজনের সংবাদ পেয়ে ১৫নং কুলটিয়া ইউনিয়ন দলনেতা মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে ৮-১০ জন নিবেদিতপ্রাণ আনসার-ভিডিপি সদস্য তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং দ্রুত সেখানে পৌঁছান।
ঘটনাস্থলে পৌঁছে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা উভয় পক্ষের অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বাল্যবিবাহের আইনি পরিণতিসহ অপ্রাপ্তবয়স্ক বয়সে বিয়ের ফলে কিশোরীর শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর এর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে তাদের বিস্তারিত বোঝান। তাদের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল প্রচেষ্টায় উভয় পক্ষ বাল্যবিবাহের আইনগত ঝুঁকি অনুধাবন করে বিয়ের আয়োজন বন্ধ করতে সম্মত হয়।
পরবর্তীতে কন্যার পরিবারের পক্ষ থেকে মেয়ের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কোনো অবস্থাতেই বিবাহ দেওয়া হবে না মর্মে মুচলেকা ও লিখিত অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। এর মাধ্যমে একজন সম্ভাবনাময় মেধাবী স্কুলছাত্রীকে বাল্যবিবাহের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করা হলে তিনি আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ, তাৎক্ষণিক তৎপরতা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে তাদের কার্যকর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের এ ধরনের কার্যক্রম দেশব্যাপী ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করছে। জনগণের সঙ্গে সমন্বয় করে সামাজিক অনাচার প্রতিরোধ ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত তারা নিরাপদ, সচেতন ও বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।
বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন পুনর্নির্মাণ কাজের সময় পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩৩৪ রাউন্ড এসএমজি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে শহরের জিলা স্কুলের প্রাচীর সংলগ্ন এলাকায় ড্রেনের তলদেশ থেকে মাটি খননকালে শ্রমিকরা এই গুলিগুলো দেখতে পান।
নির্মাণকাজের সাথে সংশ্লিষ্টরা জানান, সকালে শ্রমিকরা যখন জিলা স্কুলের প্রাচীরঘেঁষে ড্রেন নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়ছিলেন, তখন হঠাৎ করে মাটির নিচ থেকে বেশ কিছু গুলি বেরিয়ে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি নির্মাণ কাজের উপ-ঠিকাদার সিরাজকে জানানো হলে তিনি দ্রুত পুলিশকে খবর দেন। সংবাদ পেয়ে বগুড়া সদর থানার একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং গুলিগুলো উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পরবর্তীতে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং উদ্ধারকৃত গুলির সঠিক সংখ্যা নিশ্চিত করেন। গণনায় দেখা যায়, উদ্ধার হওয়া গুলিগুলো এসএমজি রাইফেলের এবং সেখানে মোট ৩৩৪ রাউন্ড গুলি ছিল। ড্রেন নির্মাণকাজের উপ-ঠিকাদার সিরাজ বলেন, “শ্রমিকরা মাটি কাটার সময় গুলিগুলো দেখতে পেয়ে আমাকে জানায়। আমি সাথে সাথেই পুলিশকে বিষয়টি জানাই।”
এই উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে ওসি ইব্রাহীম আলী জানান, উদ্ধার করা ৩৩৪ রাউন্ড গুলি সদর থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে এবং এ নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালের আন্দোলনের সময় বগুড়া সদর থানা থেকে লুণ্ঠিত হওয়া এসএমজি রাইফেলের গুলির সাথে এগুলোর মিল থাকতে পারে। তবে উদ্ধারকৃত গুলিগুলো কতদিনের পুরনো এবং সেগুলো বর্তমানে কার্যকর বা সচল কি না, তা বিস্তারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
টানা দুই সপ্তাহের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় আজ রোববার সকাল ৭টা থেকে বাঁধের ১৬টি স্পিলওয়ের গেট দুই ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানিয়েছেন, এর মাধ্যমে ১৬টি গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে। এর আগে গতকাল শনিবার রাত ৮টা থেকে পর্যায়ক্রমে গেটগুলো খোলার প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রথমে ৬ ইঞ্চি এবং পরে ১ ফুট করে গেট খুলে পানি ছাড়া হলেও আজ সকালে তা বাড়িয়ে ২ ফুট করা হয়।
বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, ১০৮ ফুট এমএসএল ধারণক্ষমতার এই হ্রদে আজ সকাল ৮টায় পানির উচ্চতা দাঁড়িয়েছে ১০৬ দশমিক ২ ফুট এমএসএল। হ্রদ এলাকার ওপর পানির ক্রমবর্ধমান চাপ কমাতে এবং উজান থেকে আসা পানির প্রবাহ সামাল দিতেই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হ্রদের পাঁচটি বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটের মাধ্যমে আরও ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে নদীতে পানির প্রবাহ এখন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
হ্রদের পানি ধারণক্ষমতার কাছাকাছি চলে আসায় বাঁধের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও কাপ্তাই-রাঙামাটি এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য জলবদ্ধতা বা পানি বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নদীর পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মক্কা চুক্তির বিষয়ে সব কিছু বিবেচনা করে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করবে। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।
শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। এ সময় জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান উপস্থিত ছিলেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সরকার সন্তুষ্ট কিনা সেটি বিষয় না, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এ সময় তিনি ই-জুডিশিয়ারি (বিচকর বিভাগের ডিজিটালাইজেশন) নিয়ে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় কাজ করছে জানান তিনি।
এর আগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি এমএ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস, শৈলকুপা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন বাবর ফিরোজ সহ বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কৃষি ও মৎস্য মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, দেশে সারের কোনো সংকট নেই, কিছু দুষ্কৃতিকারী সংকট তৈরি করছে। পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও কেউ কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তা সহ্য করা হবে না।
শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফরিদপুরে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন জেলার কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সময়মতো সার ও কৃষি উপকরণ বিতরণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
মন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে কৃষি পণ্য আমদানি নয়, দেশ থেকে কৃষি পণ্য রপ্তানি করা হবে। ফরিদপুর জেলায় দেশীয় মাছ উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পরিকল্পিত ও সঠিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ফরিদপুর অঞ্চলের মাটির বৈশিষ্ট্য অত্যন্ত ভালো। এ কারণে অন্যান্য অনেক এলাকার তুলনায় এখানে চাষাবাদে তুলনামূলক কম পরিমাণে সার ব্যবহার করেই ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। আর এ কারণে এই এলাকায় পেঁয়াজ ও পাটের চাষ খুব ভালো হয়।
এরপর তিনি ফরিদপুর সদর উপজেলার হলরুমে ফরিদপুর জেলার পেঁয়াজ ও পাট চাষিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি, শহিদুল ইসলাম বাবুল এমপি, মো. ইলিয়াস আলী মোল্লা এমপি।
অন্যদের মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফাতেমা ইসলাম সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মো. মাজহারুল ইসলাম। পৃথক মতবিনিময় সভায় কৃষি ও কৃষকসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় এবং জেলার কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতের কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়।
গাজীপুরে একদিনে পৃথক ঘটনায় চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার পাবুর দক্ষিণ পাড়া এলাকায় শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গরুর ঘাস কাটা নিয়ে বিবাদে চাচাতো ভাই রাসেলের হামলায় নিলয় সরকার (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহত নিলয় ওই এলাকার মনির সরকারের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকালে ঘাস কাটা নিয়ে চাচাতো ভাই রাসেলের সাথে নিলয়ের কথা-কাটাকাটি ও ঝগড়া হয়। ঝগড়ার জেরে বাজার থেকে ফেরার পথে নিলয়ের ওপর ওত পেতে হামলা চালায় রাসেল। আব্দুর রশিদ এতিমখানার পাশে পাকা রাস্তায় পৌঁছামাত্রই নিলয়ের মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে অতর্কিত কোপ দেয় ঘাতক রাসেল। পরবর্তীতে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কাপাসিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাছির আহমেদ জানান, অভিযুক্ত রাসেলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে কাপাসিয়ায় নিখোঁজের তিন দিন পর জাহিদ হাসান (৫) নামের এক শিশুর মরদেহ ব্রহ্মপুত্র নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ৮টার দিকে শিশুটির বাড়ি থেকে প্রায় ৪০০ মিটার দূরে ব্রহ্মপুত্র নদীর ঘাটে ভাসমান অবস্থায় স্থানীয়রা মরদেহটি দেখতে পান। নিহত জাহিদ হাসান কাপাসিয়া উপজেলার ঘাগটিয়া ইউনিয়নের খিরাটি গ্রামের মিজানুর রহমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট দুপুর থেকে শিশু জাহিদ হাসানকে পরিবারের সদস্যরা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে কাপাসিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। শনিবার (২৯ আগস্ট) সকালে ব্রহ্মপুত্র নদীর ঘাটে ভাসমান অবস্থায় মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা খবর দিলে কাপাসিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
অপরদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার গলাচিপা এলাকায় গজারী বন থেকে অর্ধগলিত এক কারখানা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত মশিউর রহমান রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার রাজবল্লভপুর এলাকার আব্দুল মজিদের ছেলে এবং স্থানীয় ‘জেএমই গার্মেন্টস’-এ চাকরি করতেন। তিনি গত বুধবার থেকে নিখোঁজ ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরের দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার গলাচিপা এলাকায় গহীন গজারী বনের ভেতর থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকে। এ সময় এলাকাবাসীর সন্দেহ হলে তারা বনের ভেতর গিয়ে দেখতে পান এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ গজারী গাছের ডালে ঝুলে রয়েছে।
কালিয়াকৈর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) রবিউল ইসলাম বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কয়েক দিন আগে ওই ব্যক্তিকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে সেখানে ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।
এছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ট্রেনে কাটা পড়ে আবু বক্কর (৩৫) নামের এক বাক্ ও শ্রবণপ্রতিবন্ধীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার বরাব পশ্চিমপাড়া এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী রেললাইনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আবু বক্কর বরাব পশ্চিমপাড়া এলাকার সাহেব আলীর ছেলে। তিনি রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. ফারুক হোসেন বলেন, এ বিষয়ে আমাদের কেউ জানায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।