ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের প্রকাশ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে প্রেমিকা সাহিদা ইসলাম রাফাকে হত্যার পর ভোলার মনপুরা দ্বীপে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় (২৩)। সোমবার ভোরে ভোলার তারানগর ইউনিয়নের ইলিশঘাটে ঢাকা-মনপুরা রুটের লঞ্চ থেকে তন্ময়কে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পরে তার দেয়া তথ্যে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বটতলী বেইলি ব্রিজের নিচে পানি থেকে হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির সূত্রটি ওই যুবককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলটি ৫ আগস্ট রাজধানীর ওয়ারি থানা থেকে লুটকৃত। ইউটিউবে ভিডিও দেখে পিস্তল চালানো আয়ত্ত করে ওই যুবক। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়ে ম্যাগজিনে থাকা ৬ রাউন্ড গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবক।
তবে তন্ময় জানিয়েছে, তার ছোড়া একটি গুলি রাফার শরীরে লাগেনি।
ডিবির সূত্রটি জানায়, নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার (২৪) একাধিক সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ শেখ তন্ময়ের (২৩) সাথে দ্বন্দ্ব ছিল। ঘটনার আগের দিন রাতে (২৯ নভেম্বর, শুক্রবার) সাহিদাকে ফোন করে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হতে বলেন তৌহিদ। পরে লোকাল বাসে করে দুজনেই চলে আসেন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটে। রাতভর সেখানে ঘোরাঘুরির পর গত শনিবার ভোরে খানবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় আসেন তারা। সেখানে প্রেমিকা সাহিদা নিজেকে গর্ভবতী দাবি করে প্রেমিক তৌহিদকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। আশপাশের লোকজন তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসতে থাকলে তৌহিদ ওই নারীকে নিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্ভিস লেন ধরে পদ্মা সেতু উত্তর টোল প্লাজা থেকে ২০০ মিটার অদূরে দোগাছি ফুটওভার ব্রিজ পার করে। পথে কয়েক দফায় সাহিদাকে চড়থাপ্পড় মারে তৌহিদ। একপর্যায়ে আর রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাথে থাকা থানা থেকে লুটকৃত পিস্তল দিয়ে প্রথমে এক রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরপরই আরও ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেগুলো সাহিদার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্ধ হয়। মুহুর্তেই সড়কে উপুড় হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় সাহিদার। রক্তাক্ত প্রেমিকার লাশ ফেলে পেছন দিকে দৌড়ে পালায় তৌহিদ। এরপর খানবাড়ি এলাকায় গিয়ে লোকাল বাসে চড়ে রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, মাঝপথে পিস্তলটি ফেলে দেয় কেরাণীগঞ্জ বেইলি ব্রিজের নিচে। ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করে তৌহিদ। একপর্যায়ে আঁটিবাজার এলাকায় নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে ওঠে সে। ওই বাড়িতে বোন জামাই, বোন ও তৌহিদের মা লঞ্চে করে মনপুরা দ্বীপে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয় তৌহিদকে। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় ওই ৩ জন সদরঘাট গিয়ে পৌঁছে দেয় তাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-ভোলা-মনপুরা রুটের লঞ্চে উঠে পড়ে তৌহিদ।
এদিকে সাহিদা হত্যার বিষয়টি সারা দেশে আলোড়ন তৈরি করলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে ডিবি। তৌহিদকে প্রধান সন্দেহভাজন চিহ্নিত করে তার মোবাইল নাম্বারের সর্বশেষ লোকেশন নিশ্চিত হয় তারা। তখন দেখা যায়, তৌহিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি শুক্রবার রাতে সবশেষ ঢাকার ওয়ারি এলাকায় চালু ছিল। এরপর থেকে সেটি বন্ধ আছে। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে তাহলে ডিবির সন্দেহ কি ভুল! এরইমাঝে আরেকটি সূত্র খুঁজে পায় ডিবি। তৌহিদের মোবাইল কলের সূত্র ধরে উদঘাটন হয় পরিবারের সকল সদস্যের নম্বর।
রোববার ডিবির দলটি যখন ঢাকার আঁটিবাজারে তৌহিদের বোনের বাড়িতে অভিযানে যায় তখন তারা একসাথে তৌহিদের মা, বোন ও বোন জামাইয়ের মোবাইলের লোকেশন সদরঘাটে দেখতে পায়। এরপরে অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করে ডিবি। চৌকস টিমটি ছুটে যায় সদরঘাটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় তৌহিদের লঞ্চে উঠার দৃশ্য শনাক্ত করে তারা।
গ্রেপ্তারের পর ডিবির কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তন্ময় জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশলের অংশ হিসাবে মাওয়া আসার আগে ঢাকার ওয়ারিতে থাকতেই মোবাইলটি বন্ধ করে দেয় সে। যাতে হত্যার পর লুকালেও পুলিশ কোন ক্লু বের করতে না পারে।
এদিকে, সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের ৫ সদস্যের ওই টিমটি অবস্থান নেয় ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। টার্গেট করা লঞ্চে অনুসন্ধানে ডিবির হাতে ধরা পড়ে তৌহিদ।
এর আগে গত রোববার সকালে নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার মা জরিনা খাতুন শ্রীনগর থানায় প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে প্রধান অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর রাতে ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ি এলাকায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় সাহিদার। আলোচিত এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের খোঁজে মাঠে নামে ডিবি।
নিহত সাহিদা রাজধানী ঢাকার ওয়ারিতে পরিবারের সাথে থাকতেন ও নারিন্দা এলাকার বলধা গার্ডেন সংলগ্ন জনৈক কামাল মিয়ার বাড়িতে দেখাশোনার (ডে-কেয়ার) কাজ করতেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের মৃত মো. মোতালেবের মেয়ে তিনি। তারা ২ ভাই ও ৩ বোন। তাছাড়া ৭-৮ বছর আগে সাহিদার একটি বিয়েও হয়েছিলো। পরে সেই সম্পর্ক টিকেনি। গ্রেপ্তারকৃত তৌহিদ শেখ তন্ময় রাজধানী ঢাকার ওয়ারী থানার মৃত শফিক শাহের পুত্র।
এদিকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, দায়েরকৃত মামলায় উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও দুটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ৯৭৯ জন শিশু আক্রান্ত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দুই শিশুর প্রাণহানি ঘটলেও নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১১ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৭৮২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম আক্রান্ত হয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৯৮টি শিশু।
সব মিলিয়ে গত পৌনে পাঁচ মাসে দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৮৮০টি শিশুর মৃত্যু হলো। প্রতিদিন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু নতুন করে আক্রান্ত হতে থাকায় সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।
দেশের শিল্পখাতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে উদ্যোক্তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও নগদ প্রবাহে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে উল্লেখ করে ব্যবসায়ীরা যাতে ব্যাংকের ‘লাল খাতায়’ (খেলাপি তালিকা) না ওঠেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা ক্লাবে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ আয়োজিত ‘জ্বালানি খাতের সংকট: সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, ব্যাংকের খেলাপি তালিকায় নাম উঠলে একজন উদ্যোক্তাকে যে ধরনের কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়, সেই অভিজ্ঞতা তার নিজেরও রয়েছে। তাই কোনো ব্যবসায়ী যেন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সংকটের কারণে এই বিপদে না পড়েন, সরকার সে বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক।
শিল্পখাতের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বিগত সরকারের অবকাঠামোগত ঘাটতিকে দায়ী করে তিনি বলেন, আগের সরকার টেকসই উন্নয়নের প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি না করে কেবল সুবিধাজনক জায়গায় কাজ করেছে, যার ফলে আজ সারা দেশে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। তবে এ সংকট কাটিয়ে উঠতে দ্রুতই একটি বয়লার চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা চালু হলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৭০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
শিল্প উদ্যোক্তাদের সংকট নিরসনে সরকারের আন্তরিকতার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী উদ্যোক্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন।
শিল্প খাতের বর্তমান সমস্যা ও সমাধান নিয়ে উদ্যোক্তা, বুদ্ধিজীবী ও বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আরেকটি বৈঠকের প্রস্তাব দেবেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া দেশের শিল্পায়নে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়কার বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধির নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সরকারও একটি পুরোপুরি শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে এবং উদ্যোক্তাদের কম ঝুঁকির মধ্যে রেখে দেশের উৎপাদন ও বিনিয়োগ ব্যবস্থা সচল রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে তীব্র যানজটে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা। ভোরে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেওয়া বাস, ট্রাক ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন ঢাকামূখী লেনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে মহাসড়কে আটকে রয়েছে। এতে অবর্ণনীয় ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সাধারণ যাত্রীরা।
মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে চলমান সংস্কারকাজ, ভাঙাচোরা সড়ক ও খানাখন্দের কারণে যানবাহন স্বাভাবিক গতিতে চলতে পারছে না। এর সঙ্গে বৃষ্টি হওয়ায় সড়কের বিভিন্ন অংশে পানি জমে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও সংস্কারকাজের কারণে সড়ক সরু হয়ে যাওয়ায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে।
ট্রাকচালক আরফান হোসেন বলেন, ভোরে চট্টগ্রাম থেকে রওনা দিয়েছি। স্বাভাবিক সময়ে এই পথ অনেক আগেই পার হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু কুমিল্লায় এসে দীর্ঘ সময় ধরে আটকে আছি। সামনে গাড়ির লম্বা সারি, একটুও ঠিকমতো এগোতে পারছি না। সড়কের অবস্থা খারাপ, আবার বিভিন্ন জায়গায় সংস্কারকাজ চলছে। এতে সময় ও জ্বালানি দুটোই নষ্ট হচ্ছে।
বাসচালক ইয়াসির আরাফাত বলেন, “চট্টগ্রাম থেকে যাত্রী নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছি। ভোরে রওনা হয়েছি, কিন্তু কুমিল্লা পার হতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। যাত্রীরা বারবার জানতে চাইছেন কখন গন্তব্যে পৌঁছাবেন। কিন্তু চালক হিসেবে আমাদেরও কিছু করার নেই। রাস্তার অবস্থা ও যানজটের কারণে গাড়ি চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।
পিকআপচালক মনির হোসেন বলেন, মহাসড়কের অনেক জায়গায় ভাঙাচোরা। কোথাও গর্ত, কোথাও আবার সংস্কারকাজের কারণে রাস্তা সরু হয়ে গেছে। একটি গাড়ি একটু ধীরে চললেই পেছনে লাইন লেগে যাচ্ছে। এভাবে প্রতিদিন চলাচল করা খুব কষ্টকর। দ্রুত সড়ক সংস্কার করে যান চলাচলের উপযোগী করা দরকার।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী বাসের যাত্রী সাজনজিদা বলেন, “ভোরে বাসে উঠেছি। ভেবেছিলাম সময়মতো ঢাকায় পৌঁছাব। কিন্তু কুমিল্লায় এসে দীর্ঘ সময় ধরে বসে আছি। বাসের মধ্যে গরমে শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা খুব কষ্ট পাচ্ছেন। কখন যানজট ছাড়বে, সেটিও কেউ বলতে পারছেন না।
আরেক যাত্রী রুবাইয়া বেগম বলেন, চট্টগ্রাম থেকে রওনা হওয়ার পর এতটা দুর্ভোগ হবে ভাবিনি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাসের মধ্যে বসে থাকতে হচ্ছে। রাস্তার অবস্থা খারাপ, আবার যানজটও রয়েছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের জন্য এই দীর্ঘ সময় বাসে আটকে থাকা খুবই কষ্টকর।
চালক ও যাত্রীরা বলছেন, মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুত শেষ করা গেলে যানজট অনেকটাই কমে আসবে। একই সঙ্গে ভাঙাচোরা ও খানাখন্দে ভরা অংশগুলো দ্রুত মেরামত করা প্রয়োজন। তা না হলে গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কে চলাচলকারী মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, মহাসড়কের সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী তিন দিনের মধ্যে সংস্কারকাজ শেষ হবে। তবে এর মধ্যে বৃষ্টি হলে হয়তো সময়টা আরও বাড়তে পারে।
রাঙ্গামাটি জেলার অতি দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ৩৮৯টি বিদ্যুৎবিহীন বিদ্যালয় রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৩০০টি বিদ্যালয় অতি দুর্গম এলাকায়। বিদ্যুৎবিহীন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রদানের একটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নবায়নযোগ্য জ্বালানি অধিশাখা এবং জেলা প্রশাসনের সমন্বিত এই উদ্যোগের ফলে পাহাড়ের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের মানসম্মত ও আধুনিক শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, রাঙ্গামাটির ১০টি উপজেলার এই ৩৮৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ৩০০টি বিদ্যালয় অত্যন্ত দুর্গম ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন এলাকায় অবস্থিত। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা মাল্টিমিডিয়া ক্লাস কিংবা ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এই বাস্তবতায় চলতি বছরের জেলা প্রশাসক সম্মেলনে রাঙ্গামাটির জেলা প্রশাসক এই সোলার প্রকল্প গ্রহণের প্রস্তাব করেন, যার প্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ বিভাগ নীতিগতভাবে কাজ করতে সম্মত হয়েছে।
প্রকল্পের প্রক্রিয়া সম্পর্কে কর্মকর্তারা জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের তালিকা তৈরির পর তা বিদ্যুৎ বিভাগে জমা দেওয়া হবে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে প্রকল্পের আর্থিক সক্ষমতা যাচাই করে সরকার পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, ২০২৬ সাল থেকে ২০৩১ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছর মেয়াদি এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। বর্তমানে এটি ‘সবুজ পাতা প্রকল্প’ বা প্রাথমিক তালিকায় নথিভুক্ত হয়েছে, যা পরবর্তীতে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) স্থান পাবে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটির ৫৫০টি বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে মাল্টিমিডিয়া ও টিভি সংযোগ রয়েছে এবং ১৪৯টি বিদ্যালয় ই-লার্নিং প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের হওয়ায় এই সোলার প্রকল্পের মাধ্যমে তারা আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে পারবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একইসাথে এই উদ্যোগ পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও বিশেষ অবদান রাখবে। বিদ্যুৎ বিভাগ ও পার্বত্য মন্ত্রণালয় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পাহাড়ের শিক্ষার পরিবেশ ত্বরান্বিত করতে বদ্ধপরিকর।
চাঁদপুর-কুমিল্লা মহাসড়কের শাহরাস্তি বানিয়াচোঁ এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের মধ্যে ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ মঙ্গলবার সকালে সংঘটিত এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৩ জন যাত্রী প্রাণ হারিয়েছেন এবং অন্তত ১৫ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, শাহরাস্তির বানিয়াচোঁ পাটোয়ারী বাড়ির সামনে ঢাকাগামী আল-আরাফাহ পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে বালুভর্তি একটি হাইড্রোলিক ট্রাকের সংঘর্ষ হয়। একটি যান অন্যটিকে ওভারটেক করতে গেলে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
দুর্ঘটনার সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, হতাহতের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। দুর্ঘটনার বিষয়ে শাহরাস্তি থানার অফিসার ইনচার্জ মীর মাহবুবুর রহমান নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আহতদের উদ্ধার করে তাদেরকে শাহরাস্তি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পাঠানো হয়। ওভারটেক করতে গিয়ে বাস ও ট্রাক সড়কের উপর ছিটকে পড়েছে।’ বর্তমানে আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
টেস্ট পরীক্ষার গণ্ডি পেরিয়ে তিন মাসের দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে একবুক প্রত্যাশা নিয়ে এসএসসির লড়াইয়ে নেমেছিল ১৮ লাখেরও বেশি প্রাণ। কিন্তু চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর সেই সব প্রস্তুতি আর স্বপ্নের বিপরীত এক বিবর্ণ ছবি ফুটে উঠল দেশজুড়ে। উল্লাসের বদলে ছড়িয়ে পড়ল গভীর হতাশা; সবচেয়ে বেশি ধস নেমেছে ইংরেজি ও গণিতে। বিগত প্রায় দুই দশকের সব রেকর্ড ভেঙে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষা খাত মুখ থুবড়ে পড়ল এবার। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের যে চিত্র উঠে এসেছে, তা অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়ায়নি, বরং পুরো দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের জরাজীর্ণ কঙ্কালটিকে আবার উন্মোচিত করে দিয়েছে।
সোমবার (১০ আগস্ট) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার এই ফলাফল প্রকাশ করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
এসময় তিনি বলেন, এবার উত্তরপত্র পুনঃপরীক্ষা বা পুনর্মূল্যায়নের সুযোগ রাখা হয়েছে। এত দিন ফলাফল প্রত্যাশিত না হলে পুনর্নিরীক্ষণ করা হতো, যেখানে কেবল উত্তরপত্রে প্রাপ্ত নম্বরের যোগ-বিয়োগে কোনো ভুল বা কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুতর কোনো ভুল ছিল নাকি সেটা দেখা হতো। নতুন করে উত্তরপত্র পুনর্মূল্যায়ন করা হতো না।
শিক্ষা বোর্ডগুলোর দেওয়া তথ্যে দেখা যায়, ২০০৭ সালের পর এবারই প্রথম পাসের হার এতটা তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে। ২০০৭ সালে যেখানে পাসের হার ছিল ৫৭ দশমিক ৩৭ শতাংশ, ২০২১ সালে সেটি বেড়ে দাঁড়িয়েছিল রেকর্ড ৯৩ দশমিক ৬ শতাংশে। কিন্তু সেখান থেকে ধারাবাহিক পতনে এবার মাধ্যমিক পেরোনোর সূচক নেমে এসেছে অর্ধেকের কিছুটা ওপরে। একই সঙ্গে ধস নেমেছে সর্বোচ্চ মেধা তালিকার সূচক জিপিএ-৫ পাওয়ার ক্ষেত্রেও।
বিভাগভিত্তিক চিত্রে দেখা গেছে, বরাবরের মতোই ফলাফলে আধিপত্য বজায় রেখেছে মেয়েরা। পাসের হার ও সর্বোচ্চ নম্বর—উভয় ক্ষেত্রেই তারা ছেলেদের চেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে এগিয়ে। অন্যদিকে বোর্ডগুলোর মধ্যে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে ঢাকা, আর ফলাফলের তালিকায় সবার নিচে ঠেকেছে ময়মনসিংহ। এছাড়া সাধারণ বোর্ডের তুলনায় মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অবস্থান ছিল আরও করুণ। এমনকি শতভাগ অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা শতকের ঘর পেরিয়ে গেছে, যেখানে বিদেশে থাকা কেন্দ্র থেকেও একজনও উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিশেষ করে কারিগরি বোর্ডে আগের বছর কোনো শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান না থাকলেও এবার সেখানেও বড় ধস নেমেছে।
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার অংশ নেয় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। ১১টি বোর্ডে গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। পাস করাদের মধ্যে ছাত্র ৫ লাখ ৩০ হাজার ৯৩৮ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৭ হাজার ৯৩৯ জন।
ছাত্রীদের গড় পাসের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ এবং ছাত্রদের পাসের হার ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। এবার ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন। তাদের মধ্যে ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন এবং ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন। পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিসহ প্রায় সব ক্ষেত্রে এগিয়ে ছাত্রীরা।
১১টি বোর্ডের ফলাফলে সবার ওপরে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এবং তলানিতে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড। তবে শুধু সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের হিসাব কষলে ফলাফলে সবার নিচে ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ড।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৭১ দশমিক ৬৩ শতাংশ, রাজশাহীতে ৬৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ, কুমিল্লায় ৬৫ দশমিক ৪২ শতাংশ, যশোরে ৬৬ দশমিক ২৭ শতাংশ, চট্টগ্রামে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ, বরিশালে ৬০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, সিলেটে ৫৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ, দিনাজপুরে ৫৮ দশমিক শূন্য ৫ শতাংশ ও ময়মনসিংহে ৫৭ দশমিক ৩৯ শতাংশ।
এছাড়া বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দাখিল পরীক্ষায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৪৯ শতাংশ। আর বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি (ভোকেশনাল) ও দাখিল (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ২০ শতাংশ।
এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিতে মোট ১৮ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪৪ শিক্ষার্থী ফরম পূরণ করেছে। এর মধ্যে সাধারণ ৯টি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৪ লাখ ১৮ হাজার ৩৯৮ জন। মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীন দাখিল পরীক্ষায় ফরম পূরণ করে ৩ লাখ ৪ হাজার ২৮৬ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৪ হাজার ৬৬০ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে মোট পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। আর অকৃতকার্য হয়েছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।
ফলাফলের এই সূচক কেবল এক বছরের নম্বরপত্র নয়, বরং দেশের শিক্ষা খাতের ভিত্তি কতটা মজবুত—তা নিয়ে নতুন করে ভাবনার তাগিদ দিচ্ছে। এই চরম পর্যুদস্ত অবস্থার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ও গণিত বিষয়ে গণহারে ফেল করা। বিষয়টি নিয়ে এখন চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মধ্যে।
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের বড় অংশ এই দুটি বিষয়ে আটকে যায়। তবে উত্তরপত্র মূল্যায়নে কঠোরতা কিংবা প্রশ্নপত্রের কাঠিন্য দিয়ে এত বিশালসংখ্যক শিক্ষার্থীর ফেল করার দায় এড়ানো যাবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) সাবেক পরিচালক এবং বর্তমান সৃজনশীল কারিকুলামের অন্যতম রূপকার অধ্যাপক ড. ছিদ্দিকুর রহমান খান এই সংকটকে শিক্ষাব্যবস্থার ভেতরের দুর্বলতা হিসেবে দেখছেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে নির্বাচনি পরীক্ষা দিয়ে পাস করে ফরম পূরণ করলো। এরপর আরও তিন মাস সে প্রস্তুতি নিল। কিন্তু বোর্ড পরীক্ষায় এসে এক-দুই বা তার বেশি সাবজেক্টে ফেল করলো? কেন ফেল করলো, কীভাবে এটা সম্ভব?
তিনি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানে শিক্ষকদের অবহেলা ও প্রশিক্ষণের অভাবকে দায়ী করে আরও যোগ করেন, কারিকুলামে যেভাবে শেখানোর কথা, সেভাবে শেখালে কেউ ফেল করার কথা নয়। প্রথমত, কারিকুলাম নামমাত্র মানে; দ্বিতীয়ত, শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ব্যাপক ঘাটতি রয়েছে। তারা মানসম্মত উপায়ে ক্লাসে পড়াতে পারেন না। আর সবশেষ যে সমস্যা তা হলো শিক্ষকরা বেতন-ভাতা কম পাওয়ায় নিজ পেশায় মনোযোগ কম দেন। এতে ক্লাসে শিক্ষার্থীদের পড়াতেও তারা অবহেলা করেন। এ কারণে প্রস্তুতির ব্যাপক ঘাটতি নিয়েই এসএসসির মতো পাবলিক পরীক্ষায় বসে হোঁচট খাচ্ছে লাখ লাখ শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা ফেল করে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে। থেমে যাচ্ছে তাদের শিক্ষাজীবন।
বাস্তবতার মুখোমুখি হয়ে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গণিতের শিক্ষক আশরাফ উদ্দীন তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা থেকে তুলে ধরেন শ্রেণিভিত্তিক দুর্বলতার চিত্র। তিনি বলেন, আর্টসের শিক্ষার্থীরা বরাবরই গণিত ও ইংরেজিতে দুর্বল থাকে। এটা আমার শিক্ষকজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। তবে এবার খুব বেশি খারাপ করেছে। এর নেপথ্য কারণ ব্যাখ্যা করে এই শিক্ষক বলেন, শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার বাইরে বেশি সময় কাটাচ্ছে। বিশেষ করে মোবাইল ফোন ব্যবহারে তাদের সময় বেশি কাটছে। এ কারণে গণিত ও ইংরেজির মতো তুলনামূলক কঠিন বিষয়ে তারা মনোযোগ দিয়ে পড়ছে না। মানবিক বিভাগের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর টার্গেটই থাকে কোনোমতে এ দুটি বিষয়ে পাস করা। ভয় ও আতঙ্ক নিয়ে এ দুটি বিষয়ে প্রস্তুতি নেওয়ায় দুর্ঘটনা ঘটে গেছে। অনেকটা সেই প্রবাদের মতো, যেখানে বলা হয়েছে, পচা শামুকে পা কাটে বেশি।
সামগ্রিক এই বিপর্যয়ের বিষয়টি স্বীকার করে নিচ্ছেন শিক্ষা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরাও। আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, এবার তো মানবিকে সমস্যাটা বেশি। ব্যবসায় শিক্ষার ছাত্র-ছাত্রীদেরও সমস্যা আছে। আর সবচেয়ে বেশি সমস্যা হলো মাদ্রাসায়। যারা খারাপ করলো, তারা ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল কেন তা খতিয়ে দেখা হবে। কীভাবে মানবিকের শিক্ষার্থীদের এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়েও আলোচনা করে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে করতে একগুচ্ছ সংশোধনী এনে আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত করে ভেটিং (বৈধতা) করতে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার থাকবে না। তবে ব্যানার, ফেস্টুন, হ্যান্ডবিল আর বিলবোর্ড কোন সাইজের হবে, তা নির্ধারণ করে দিয়েছে ইসি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি), পৌরসভা, সিটি করপোরেশন, উপজেলা ও জেলা পরিষদ—এ পাঁচ আচরণবিধির খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে। সোমবার (১০ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনের সচিব আখতার আহেমদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচনের আচরণবিধি ইসির অনুমোদন হয়েছে। মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং হলে তা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হবে।’
গত জুলাই মাসে জাতীয় সংসদে নির্দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন পাসের পরে আচরণ বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেয় ইসি। এর আগে গত জুনে আচরণবিধির খসড়া ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়, এ নিয়ে মতামতও নেওয়া হয়েছে। সবকিছু পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত করা হয়েছে। ২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে স্থানীয় সরকারের সব স্তরের জন্য এবার নতুন করে নির্বাচন আচরণ বিধিমালা হচ্ছে।
সচিব আখতার আহেমদ জানান, খসড়া যেভাবে প্রকাশ হয়েছিল, প্রায় একই রকম রাখা হয়েছে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে শব্দগত পরিমার্জন-সংযোজন হয়েছে। সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধির সঙ্গে সমন্বয় রেখে পোস্টার বাদ দিয়ে প্রচারণার অন্য বিষয়গুলো রাখা হয়েছে। ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ থাকলেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অপব্যবহার রোধে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এসব নির্বাচনে পোস্টার বাদ দিয়ে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুনের পাশাপাশি প্রথমবারের মতো বিলবোর্ড ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। সিটি করপোরেশন ও ইউপি ভোটে প্রতি ওয়ার্ডে নির্ধারিত পরিমাপে একটি করে; উপজেলা ভোটে সর্বোচ্চ ২০টি ও জেলা পরিষদে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে।
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ পদের সংজ্ঞায় অন্যদের সঙ্গে মেয়রের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের সিটি, উপজেলা, পৌর, জেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের ভোটে প্রচারণায় অংশ নিতে নিষেধ করা হয়েছে। ডিজিটাল বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ রাখার পাশাপাশি এআইয়ের অপব্যবহার নিষেধ করা হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারণার খরচও দেখাতে হবে নির্বাচনী ব্যয়ে। আচরণবিধি লঙ্ঘনে জরিমানা বাড়িয়ে সবক্ষেত্রে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
মাইকে প্রচারের সময় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনেও প্রচারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
ভোটের সময় নির্বাচন পরিচালনার কাজে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সার্কিট হাউস, রেস্টহাউস ও ডাকবাংলো ব্যবহারে অগ্রাধিকারের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে সব আচরণবিধিতে।
নির্বাচনে ব্যানার, লিফলেট, ফেস্টুনের পাশাপাশি বিলবোর্ডের আকার-আয়তন নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। প্রচার সামগ্রী হবে সাদা-কালো রঙের। ভোটের প্রচারে পোস্টার নিষিদ্ধ রয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী—
ব্যানারের সর্বোচ্চ আয়তন ১০ ফুট বাই ৪ ফুট। লিফলেট, হ্যান্ডবিল এ-ফোর সাইজের (৮.২৭ ইঞ্চি বাই ১১.৬৯ ইঞ্চি)। ফেস্টুন ১৮ ইঞ্চি বাই ২৪ ইঞ্চি। বিলবোর্ডের আয়তন সর্বোচ্চ ১৬ ফুট বাই ৯ ফুটের মধ্যে হতে হবে। প্রতীকের দৈর্ঘ্য, প্রস্থ, উচ্চতা ৬ ফুটের বেশি নয়।
জীবন্ত প্রাণী প্রচারণায় ব্যবহার করা যাবে না। ফেস্টুন, হ্যান্ডবিলে মুদ্রণের তারিখবিহীন, পলিথিনের আবরণ ও পিভিসি ব্যবহার করা যাবে না। প্রার্থীর নিজের ছবি ও প্রতীক ছাড়া অন্য কিছু থাকবে না প্রচার সামগ্রীতে।
২০১৬ সালের আচরণবিধি বাদ দিয়ে এবার নতুন করে ইউপি নির্বাচন আচরণ বিধিমালা হচ্ছে। প্রচারণায় অংশ নিতে নিষেধে সরকারি অতিগুরুত্বপূর্ণ তালিকায় মেয়রের সঙ্গে মেয়রের দায়িত্বপ্রাপ্তদের (দলীয় প্রশাসক নিয়োগ হলো এবার) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান, মেয়র, প্রশাসক বা স্থানীয় সরকার পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভোটের প্রচারণায় থাকতে পারবেন না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ব্যয়ও নির্বাচনী ব্যয়সীমার মধ্যে যুক্ত হবে।
প্রচারণায় মাইকের ব্যবহার বিষয়ে দুপুর ২টার আগে ও রাত ৮টার পরে নিষেধ ছিল। ছয় ঘণ্টা মাইক বা শব্দবর্ধনকারী যন্ত্রের ব্যবহার করা যেত। এবারও ছয় ঘণ্টা রেখেছে মাইকের ব্যবহার; সে ক্ষেত্রে দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যার আগেই শেষ করতে হবে।
আগে বিলবোর্ড ব্যবহারই নিষিদ্ধ ছিল। এবার প্রতি ওয়ার্ডে বিলবোর্ডের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড নয়। প্রচারে একের বেশি মাইক্রোফোন ব্যবহার করা যাবে না।
আচরণবিধি লঙ্ঘনে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ডের পাশাপাশি জরিমানা ১০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এবার ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতার বিধানটি বিধিতে যুক্ত করা হয়েছে এবার।
উপজেলায় ব্যানার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ডের সাইজের ব্যবহার একই ১৬ ফুট বাই ৯ ফুট রয়েছে। ইউনিয়নপ্রতি একটি, পৌরসভার প্রতি ওয়ার্ডে একটি ও পুরো উপজেলায় সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। উপজেলা ভোটে কেন্দ্রীয়ভাবে একটি, প্রতি ইউনিয়নে একটি ও পৌরসভা এলাকায় প্রতি তিন ওয়ার্ডের একটির বেশি ক্যাম্প হবে না।
পৌরসভার ক্ষেত্রে প্রতি ওয়ার্ডে একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করা যাবে। মাইকে ও ক্যারাভান বা ভ্রাম্যমাণ বাহনে দুপুর ১২টা থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত প্রচারণা চালানো যাবে। সিটির প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না প্রার্থী।
নির্বাচনী ক্যাম্প আগের মতোই প্রতি থানায় একটি করে থাকতে পারবে মেয়রের। জেলা পরিষদের ক্ষেত্রে প্রতি থানা বা উপজেলায় একটি করে বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন প্রার্থী। জেলা পরিষদের নির্বাচনে মাইকের ব্যবহার বন্ধ রাখা হয়েছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেতবাড়িয়া গ্রাম থেকে ৯৬টি মাইন উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী দল। এর মধ্যে ৭৯টি এন্টি পার্সোনেল মাইন ও ১৭টি এন্টি ট্যাংক মাইন ছিল। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে ঘটনাস্থল এসব মাইন উদ্ধার করে বেতবাড়িয়া-মধুগাড়ির মাথাভাঙা নদীর পাড়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নিষ্ক্রিয় করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিটের একটি দল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার দুপুরে সেনাবাহিনীর বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী একটি দল বেতবাড়িয়া গ্রামে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় তিন ঘন্টা শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান শেষে বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ করে। পরে উদ্ধার করা এসব বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয় করতে পার্শ্ববর্তী গ্রাম।
বেতবাড়িয়া-মধুগাড়ি গ্রামে অবস্থিত মাথাভাঙা নদী পাড়ে নেওয়া হয়। পরে সেখানে সেনাবাহিনীর চৌকস দল উদ্ধার হওয়া মাইন গুলো নিষ্ক্রিয় করলে বিকট শব্দে এঅঞ্চলের এক কিলোমিটার এলাকা বিকট শব্দে কেপে উঠে।
তথ্য নিশ্চিত করে গাংনী থানার ওসি তদন্ত শিমুল বিশ্বাস বলেন, আমাদের এই উদ্ধার অভিযান আজকের মত শেষ হয়েছে।
উল্লেখ্য গত শনিবার বেতবাড়িয়া গ্রামের কালু মালিথার একটি পরিত্যক্ত জমিতে মাইনসদৃশ কয়েকটি বস্তু দেখতে পান স্থানীয়রা। বস্তুগুলোর কয়েকটিতে ইংরেজিতে MPI 1967 MINE A/PERS ND P2 MK2 লেখা রয়েছে। ওই দিন বস্তুগুলো কর্ডন করে পাহারা দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), র্যাব, পুলিশ ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট পাঠানোর জন্য শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। পুলিশ সদর দপ্তরের বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে। পরে যশোর সেনানিবাসে যোগাযোগ করে বিস্ফোরক নিষ্ক্রিয়কারী ইউনিট পাঠানোর জন্য চিঠি দেওয়া হয়।
সেনানিবাস থেকে একজন ওয়ারেন্ট অফিসারের নেতৃত্বে একটি টিম সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে মেহেরপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। সেই টিম অভিযান পরিচালনা করে।
কুড়িগ্রাম জেলার চারটি মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের অধীনে প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এই প্রতিষ্ঠানগুলোর পাসের হার একেবারেই শূন্য। জেলাটিতে এ বছর মোট ১৮ হাজার ৮৯৭ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিল, যার মধ্যে ৫৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে এবং জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৭৯ জন। সামগ্রিক ফলাফলের মাঝে এই চারটি বিদ্যালয়ের এমন হতাশাজনক চিত্র স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থার চরম দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনাকে সামনে নিয়ে এসেছে।
শূন্য পাসের তালিকায় থাকা রাজারহাট উপজেলার তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় এবং ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারই প্রথমবারের মতো শিক্ষার্থীরা এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। ১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করতে পারেনি। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষকদের মতে, ছাত্রীদের বাল্যবিবাহ, ছাত্রদের শ্রমে যুক্ত হওয়া এবং মেধাবী শিক্ষার্থীদের শহরের স্কুলে চলে যাওয়াই এই বিপর্যয়ের মূল কারণ। অন্যদিকে, ১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাত্র চারজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসেছিল এবং মাধ্যমিক পর্যায়ে কোনো নির্দিষ্ট শিক্ষক না থাকায় প্রস্তুতির ঘাটতির কারণে তাদের কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
ভুরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের চিত্রও প্রায় একই রকম। ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত পাথরডুবি বালিকা বিদ্যালয়টি ২০১২ সালে মাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদানের অনুমতি পায়। বর্তমানে সেখানে ২৪৫ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী থাকার পরও এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। একইভাবে সদর উপজেলার পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় থেকেও কোনো শিক্ষার্থী এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সফলতার মুখ দেখতে পারেনি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর এমন নজিরবিহীন ফলাফল বিপর্যয়ের পেছনে মূলত শিক্ষক সংকট, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং সামগ্রিক পাঠদানে গাফিলতিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও অবকাঠামো থাকার পরও কেন এমন শূন্য পাসের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেগুলোর বিষয়ে গভীরভাবে তদন্ত করা হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন।
আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হবে। এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
সোমবার (১০ আগস্ট) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর অফিস কক্ষে বাংলাদেশ চা অ্যাসোসিয়েশনের (বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন) একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বৈঠকে চা শিল্পের সার্বিক উন্নয়ন এবং চা শ্রমিকদের কল্যাণসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। চা শ্রমিকদের ন্যায়সঙ্গত দাবিদাওয়া নিয়ে মালিকপক্ষের সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা করেন আরিফুল হক চৌধুরী।
বৈঠকে চা শিল্পের উৎপাদন বৃদ্ধি, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং মালিক-শ্রমিক সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
বাংলাদেশ চা অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিরা চা খাতের সার্বিক অগ্রগতিতে সরকারের নিরবচ্ছিন্ন সহযোগিতার জন্য মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
সাক্ষাৎকালে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রহমান তরফদার, বাংলাদেশ চা অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান কামরান তানভিরুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক ড. কাজি মুজাফার আহমেদ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের বহিঃনোঙরে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযানে ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুইজন মাদক কারবারি আটক। সোমবার (১০ আগস্ট) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায়, চট্টগ্রামের বহিঃনোঙর সমুদ্র এলাকায় সোমবার মধ্যরাত ৩ টায় অপারেশন সমুদ্র প্রহরায় নিয়োজিত কোস্ট গার্ড জাহাজ কুতুবদিয়া ও আউটপোস্ট পতেঙ্গা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন ওই এলাকায় সন্দেহজনক একটি বোটকে থামার সংকেত প্রদান করা হলে বোটটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত গতিতে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আভিযানিক দল ধাওয়া করে বোটটিকে আটক করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে ওই বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১২ কোটি ৫০ লাখ টাকা মূল্যের ২ লাখ ৫০ হাজার পিস ইয়াবা ও পাচার কাজে ব্যবহৃত বোটসহ দুইজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাচারের চেষ্টা করছিল। কোস্ট গার্ডের দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে মাদকের এই বৃহৎ চালানটি আটক করা সম্ভব হয়েছে। ওই সংঘবদ্ধ মাদক চক্রের অন্যান্য সদস্যদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কোস্ট গার্ডের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।
জব্দকৃত ইয়াবা, বোট ও আটককৃত মাদক কারবারিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ব্র্যাক ব্যাংকের পেছনে থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি মিলন বেপারিকে দৌলতপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) রাতে দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া বিকেএস উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে ব্রাক ব্যাংকের পেছনে থেকে মিলন বেপারিকে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ গ্রেপ্তার করা হয়।
দৌলতপুর থানার ওসি স্বপন কুমার সরকার জানান, মিলনের বেপারির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা হয়েছে। আসামিকে মানিকগঞ্জ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হামলায় গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতা ইব্রাহিম আল মাসুম দীর্ঘ ৯ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে অবশেষে মারা গেছেন। সোমবার (১০ আগস্ট) সকালে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। নিহত ইব্রাহিম আল মাসুম পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের হাসনহাটা গ্রামের মমিন হাজীর ছেলে এবং তিনি ডাঙ্গা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। তার এই মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং ওই এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাশ উপজেলার ডাঙ্গা ইউনিয়নের ফকির বাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় দুটি পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে পূর্ববিরোধ চলে আসছিল। একদিকে ছিলেন বিজয়, সবুজ, ইকবাল ও সানি এবং অন্যদিকে ছিলেন মাসুম, মামুন ও জয়নাল আবেদীন। এই পূর্বশত্রুতার জেরে গত ১ আগস্ট রাতে ফকির বাড়ি এলাকার একটি মুদি দোকানে মাসুম ও তার সহযোগীরা অবস্থান করার সময় প্রতিপক্ষ বিজয় ও সবুজের নেতৃত্বে একদল লোক আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। এই সশস্ত্র হামলায় প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে ছাত্রদল নেতা মাসুম পেটে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারাত্মকভাবে আহত হন।
মুদি দোকানে চালানো এই আকস্মিক হামলায় মাসুম গুলিবিদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসা অন্যরাও গুরুতর আহত হন। হামলাকারীদের এলোপাতাড়ি কোপে ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মামুন আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনসহ অন্তত ১০ জন মারাত্মকভাবে জখম হন। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে গুলিবিদ্ধ মাসুমের অবস্থার আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করে নিবিড় চিকিৎসায় রাখা হয়েছিল, যেখানে দীর্ঘ ৯ দিন পর সোমবার সকালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
গুলিবিদ্ধ ছাত্রদল নেতার মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন জানান, হামলার ঘটনার পরপরই নিহত মাসুমের ভগ্নিপতি বাদী হয়ে ৩৭ জনের নাম উল্লেখ করে পলাশ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে এবং জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া মাসুমের মৃত্যুর খবরকে কেন্দ্র করে এলাকায় যেন নতুন করে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি না ঘটে, সে বিষয়ে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।