সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
২০ আশ্বিন ১৪৩৩
সেই তন্ময় গ্রেপ্তার

থানা থেকে লুট করা অস্ত্র দিয়েই প্রেমিকাকে খুন

শিহাব আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত
শিহাব আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২২:২৫

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের প্রকাশ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে প্রেমিকা সাহিদা ইসলাম রাফাকে হত্যার পর ভোলার মনপুরা দ্বীপে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় (২৩)। সোমবার ভোরে ভোলার তারানগর ইউনিয়নের ইলিশঘাটে ঢাকা-মনপুরা রুটের লঞ্চ থেকে তন্ময়কে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পরে তার দেয়া তথ্যে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বটতলী বেইলি ব্রিজের নিচে পানি থেকে হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির সূত্রটি ওই যুবককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলটি ৫ আগস্ট রাজধানীর ওয়ারি থানা থেকে লুটকৃত। ইউটিউবে ভিডিও দেখে পিস্তল চালানো আয়ত্ত করে ওই যুবক। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়ে ম্যাগজিনে থাকা ৬ রাউন্ড গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবক।

তবে তন্ময় জানিয়েছে, তার ছোড়া একটি গুলি রাফার শরীরে লাগেনি।

ডিবির সূত্রটি জানায়, নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার (২৪) একাধিক সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ শেখ তন্ময়ের (২৩) সাথে দ্বন্দ্ব ছিল। ঘটনার আগের দিন রাতে (২৯ নভেম্বর, শুক্রবার) সাহিদাকে ফোন করে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হতে বলেন তৌহিদ। পরে লোকাল বাসে করে দুজনেই চলে আসেন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটে। রাতভর সেখানে ঘোরাঘুরির পর গত শনিবার ভোরে খানবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় আসেন তারা। সেখানে প্রেমিকা সাহিদা নিজেকে গর্ভবতী দাবি করে প্রেমিক তৌহিদকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। আশপাশের লোকজন তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসতে থাকলে তৌহিদ ওই নারীকে নিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্ভিস লেন ধরে পদ্মা সেতু উত্তর টোল প্লাজা থেকে ২০০ মিটার অদূরে দোগাছি ফুটওভার ব্রিজ পার করে। পথে কয়েক দফায় সাহিদাকে চড়থাপ্পড় মারে তৌহিদ। একপর্যায়ে আর রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাথে থাকা থানা থেকে লুটকৃত পিস্তল দিয়ে প্রথমে এক রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরপরই আরও ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেগুলো সাহিদার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্ধ হয়। মুহুর্তেই সড়কে উপুড় হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় সাহিদার। রক্তাক্ত প্রেমিকার লাশ ফেলে পেছন দিকে দৌড়ে পালায় তৌহিদ। এরপর খানবাড়ি এলাকায় গিয়ে লোকাল বাসে চড়ে রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, মাঝপথে পিস্তলটি ফেলে দেয় কেরাণীগঞ্জ বেইলি ব্রিজের নিচে। ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করে তৌহিদ। একপর্যায়ে আঁটিবাজার এলাকায় নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে ওঠে সে। ওই বাড়িতে বোন জামাই, বোন ও তৌহিদের মা লঞ্চে করে মনপুরা দ্বীপে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয় তৌহিদকে। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় ওই ৩ জন সদরঘাট গিয়ে পৌঁছে দেয় তাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-ভোলা-মনপুরা রুটের লঞ্চে উঠে পড়ে তৌহিদ।

এদিকে সাহিদা হত্যার বিষয়টি সারা দেশে আলোড়ন তৈরি করলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে ডিবি। তৌহিদকে প্রধান সন্দেহভাজন চিহ্নিত করে তার মোবাইল নাম্বারের সর্বশেষ লোকেশন নিশ্চিত হয় তারা। তখন দেখা যায়, তৌহিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি শুক্রবার রাতে সবশেষ ঢাকার ওয়ারি এলাকায় চালু ছিল। এরপর থেকে সেটি বন্ধ আছে। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে তাহলে ডিবির সন্দেহ কি ভুল! এরইমাঝে আরেকটি সূত্র খুঁজে পায় ডিবি। তৌহিদের মোবাইল কলের সূত্র ধরে উদঘাটন হয় পরিবারের সকল সদস্যের নম্বর।

রোববার ডিবির দলটি যখন ঢাকার আঁটিবাজারে তৌহিদের বোনের বাড়িতে অভিযানে যায় তখন তারা একসাথে তৌহিদের মা, বোন ও বোন জামাইয়ের মোবাইলের লোকেশন সদরঘাটে দেখতে পায়। এরপরে অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করে ডিবি। চৌকস টিমটি ছুটে যায় সদরঘাটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় তৌহিদের লঞ্চে উঠার দৃশ্য শনাক্ত করে তারা।

গ্রেপ্তারের পর ডিবির কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তন্ময় জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশলের অংশ হিসাবে মাওয়া আসার আগে ঢাকার ওয়ারিতে থাকতেই মোবাইলটি বন্ধ করে দেয় সে। যাতে হত্যার পর লুকালেও পুলিশ কোন ক্লু বের করতে না পারে।

এদিকে, সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের ৫ সদস্যের ওই টিমটি অবস্থান নেয় ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। টার্গেট করা লঞ্চে অনুসন্ধানে ডিবির হাতে ধরা পড়ে তৌহিদ।

এর আগে গত রোববার সকালে নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার মা জরিনা খাতুন শ্রীনগর থানায় প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে প্রধান অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর রাতে ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ি এলাকায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় সাহিদার। আলোচিত এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের খোঁজে মাঠে নামে ডিবি।

নিহত সাহিদা রাজধানী ঢাকার ওয়ারিতে পরিবারের সাথে থাকতেন ও নারিন্দা এলাকার বলধা গার্ডেন সংলগ্ন জনৈক কামাল মিয়ার বাড়িতে দেখাশোনার (ডে-কেয়ার) কাজ করতেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের মৃত মো. মোতালেবের মেয়ে তিনি। তারা ২ ভাই ও ৩ বোন। তাছাড়া ৭-৮ বছর আগে সাহিদার একটি বিয়েও হয়েছিলো। পরে সেই সম্পর্ক টিকেনি। গ্রেপ্তারকৃত তৌহিদ শেখ তন্ময় রাজধানী ঢাকার ওয়ারী থানার মৃত শফিক শাহের পুত্র।

এদিকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, দায়েরকৃত মামলায় উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।


নির্বাচিত

তালায় ভুল অপারেশনে এক সপ্তাহে দুই রোগীর মৃত্যু

# সুষ্ঠু তদন্তের দাবি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফারুক সাগর, তালা (সাতক্ষীরা)

সাতক্ষীরার তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভুল অপারেশনে দুই রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ, ক্ষোভ এবং সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে।
জানা গেছে, প্রথম রোগী সাধন বিশ্বাসের মৃত্যুর পর ভুল রোগ নির্ণয় ও অস্ত্রোপচারের অভিযোগ ওঠে। এর পরপরই স্বাস্থ্য বিভাগ ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।


মৃত দুই রোগীর একজন খুলনার পাইকগাছা উপজেলার মাহামুদকাটি গ্রামের সাধন বিশ্বাস। অন্যজন তালার খানপুর এলাকার জয়া দাশ। দুই পরিবারের অভিযোগ—চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাদের স্বজনদের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত দুজনেরই মৃত্যু হয়।
স্বজনদের ভাষ্য, পেটে ব্যথা নিয়ে সাধন বিশ্বাস তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিকে গেলে পরীক্ষার পর তাকে অ্যাপেন্ডিসাইটিসের রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়। এরপর ডা. আব্দুর রহমান সজলের মাধ্যমে তার অস্ত্রোপচার করা হয়।


অস্ত্রোপচারের পর সাধনের শারীরিক অবস্থার উন্নতি না হলে দ্বিতীয়বার ক্লিনিকে নেওয়া দ্বিতীয় দফায়ও অস্ত্রোপচার করা হয়। এরপর অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে খুলনায় হাসপাতালে নিলে সেখানেও তৃতীয় দফায় অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসা অবস্থায় ১৮ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সাধনের স্বজন ও স্থানীয়রা ক্লিনিকের সামনে বিক্ষোভ করলে পরদিন স্বাস্থ্য বিভাগ ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।


সাধন বিশ্বাসের মৃত্যুর এক সপ্তাহের ব্যবধানে মারা যান জয়া দাশ। তিনি তালার খানপুর এলাকার অজয় সেনের স্ত্রী।
পরিবারের অভিযোগ, জয়া দাশের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেসথেশিয়া দেওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি শুরু হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা ও ঢাকায় নেওয়া হয়। চিকিৎসা অবস্থায় ২৫ সেপ্টেম্বর তার মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।


স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ডা. আব্দুর রহমান সজলের চিকিৎসা কার্যক্রম নিয়ে এর আগেও নানা অভিযোগ উঠেছে। শিশু রোগীর মৃত্যু এবং রোগীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের অভিযোগ রয়েছে।এ বিষয়ে ডা. আব্দুর রহমান সজল বলেন, ‘আমি অপারেশন করি না, দাঁড়িয়ে থাকি। যা করার ক্লিনিক মালিক করে।’


অন্যদিকে সাধন বিশ্বাসের স্বজনদের দাবি, তার প্রথম অস্ত্রোপচার ডা. আব্দুর রহমানই করেছিলেন। এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সচেতন এলাকাবাসী।


নির্বাচিত

সাত বছরেও শেষ হয়নি চকরিয়া মডেল মসজিদের নির্মাণ কাজ

# অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগে ওয়েল্ডিং ও মিটার জব্দ #ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ বিন হোছাইন, চকরিয়া (কক্সবাজার)

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদের কাজ শুরু হয়েছে প্রায় সাত বছর আগে। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে জুমার নামাজের পর মসজিদটির নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘ সাত বছরেও নির্মাণকাজ শেষ করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।


গণপূর্ত অধিদপ্তরের বাস্তবায়নে দেশের প্রতিটি উপজেলায় মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় প্রতি উপজেলা মডেল মসজিদের জন্য ১৩ থেকে ১৬ কোটি টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ রয়েছে। চকরিয়া মডেল মসজিদটিও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন তিন তলা ভবন হিসেবে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়। প্রতিটি ফ্লোরের আয়তন প্রায় ১ হাজার ৬৮০ বর্গমিটার।


নকশা অনুযায়ী ভবনের নিচ তলায় গাড়ি পার্কিং, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, অটিজম কর্নার, ইসলামিক বই বিক্রয় কেন্দ্র এবং মৃতদেহ গোসল ও জানাজার ব্যবস্থা থাকার কথা। দ্বিতীয় তলায় পুরুষদের মূল নামাজ কক্ষ, ইসলামিক লাইব্রেরি, প্রাক-প্রাথমিক ও কোরআন শিক্ষার ব্যবস্থা এবং গবেষণা কেন্দ্র রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। তৃতীয় তলায় নারীদের জন্য পৃথক নামাজ কক্ষ, দূরপাল্লার হজযাত্রীদের ডিজিটাল নিবন্ধন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, কনফারেন্স রুম এবং দেশি-বিদেশি অতিথিদের জন্য বোর্ডিং বা আবাসন সুবিধা রাখার কথা রয়েছে।


স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাজের ধীরগতি, গাফিলতি ও অনিয়ম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ সময়েও নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন নিয়েও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।


এরই মধ্যে সম্প্রতি নির্মাণকাজে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ওয়েল্ডিং করার ঘটনা ধরা পড়েছে। গত মঙ্গলবার চকরিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে নির্মাণকাজের জন্য নেওয়া মিটার এবং মেইন লাইন থেকে অবৈধভাবে নেওয়া সংযোগের তার জব্দ করা হয়।


ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ম্যানেজার মোহাম্মদ সামি জানান, ঠিকাদারের নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করার জন্য তিনি ওই সংযোগ নিয়েছিলেন।
প্রতিষ্ঠানটির সাইট ইঞ্জিনিয়ার রাকিব হোসেন বলেন, মিটার সংযুক্ত লাইনে পর্যাপ্ত পাওয়ার না পাওয়ায় মেইন লাইন থেকে সাময়িকভাবে ওই সংযোগ নেওয়া হয়েছিল। এটি তাদের ভুল হয়েছে উল্লেখ করে তিনি প্রতিবেদকের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।


চকরিয়া বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, মডেল মসজিদ নির্মাণকাজে অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া মিটার জব্দ এবং অবৈধ সংযোগের তার কেটে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ আইনে মেসার্স আঁখি এন্টারপ্রাইজ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।


তিনি আরও বলেন, জব্দ করা মিটার ও সংযোগ পুনরায় নেওয়ার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে বিভিন্নভাবে তদবির করা হচ্ছে।


স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ চললেও মডেল মসজিদটি এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না হওয়ায় এর সুফল থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করে মসজিদটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার পাশাপাশি প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।


আঁখি এন্টারপ্রাইজের কর্ণধার আজম খাঁনের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার মোমেন উল্লাহ বলেন, আমরা দ্রুত মিটার পুন সংযোগ নিয়ে মসজিদ নির্মাণ কাজের অবশিষ্ট কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছি।


চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ার বলেন, আমি চকরিয়া উপজেলায় যোগদান করেছি ১০ মাস হয়ে গেছে। এই মসজিদের কাজের অগ্রগতি তেমন চোখে পড়েনি। অবৈধ সংযোগ নিয়ে কাজ অনৈতিক। বিদ্যুৎ বিভাগ তাদের আইনে ব্যবস্থা নেবেন।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী অভিজিৎ চৌধুরী জানান, ২০১৯ সালে কাজ শুরুর কিছুদিন পরে ওই ঠিকাদার কাজ রেখে উধাও হয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে পুন টেন্ডারের মাধ্যমে কাজটি পান চট্টগ্রামের সেলিম আজম খাঁন।

কয়েক দফায় সময় বৃদ্ধি করা হলেও কাজ এখনো শেষ করতে পারেনি ঠিকাদার। সর্বশেষ আগামী বছরের মার্চের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারলে কাজ বাতিলসহ জরিমানা আদায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অবৈধ সংযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি তিনি অবগত ছিলেন না বলে জানান।


নির্বাচিত

পঞ্চগড়ে ভোরে শীতের আমেজ, দিনে তীব্র গরম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

আশ্বিন মাস শুরু হলেও পঞ্চগড়ে কমছে না দিনের গরমের প্রভাব। ভোর ও রাতের দিকে শীতের আমেজ অনুভূত হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা ও গরমের অনুভূতি। ফলে একই দিনে সকাল, দুপুর ও রাতের আবহাওয়ায় বেশ পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে জেলার তেঁতুলিয়ায় ভোরের দিকে কুয়াশা ও ঠাণ্ডার অনুভূতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ভোরে ঘাস ও গাছের পাতায় শিশির জমতে শুরু করেছে।

এতে শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া গেলেও দিনের বেলায় প্রচণ্ড রোদ ও গরমে অস্বস্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, গতকাল রোববার ছিল ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দে তেঁতুলিয়ায় দিনের তাপমাত্রা প্রায় সর্বোচ্চ ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের অধিক উঠতে পারে। সকাল থেকে সূর্যের তেজ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গরমের অনুভূতিও বাড়ছে। এতে বাইরে চলাচলকারী মানুষকে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভোরে বাইরে বের হলে ঠাণ্ডা অনুভূত হয়। তবে সকাল গড়িয়ে দুপুর হলেই পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে যায়। প্রচণ্ড রোদ ও গরমে স্বাভাবিক কাজকর্ম ও চলাফেরায় অস্বস্তি তৈরি হচ্ছে। সন্ধ্যার পর আবার তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় ফিরে আসে শীতের অনুভূতি। এদিকে দিন ও রাতের তাপমাত্রার এমন ওঠানামায় শিশু ও বয়স্কদের ঠাণ্ডা-গরমজনিত নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করেছেন। এ সময় প্রয়োজন ছাড়া ভোর ও রাতে বাইরে না বের হওয়া এবং আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ধীরে ধীরে দিনের তাপমাত্রা কমে উত্তরাঞ্চলে শীতের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে আসবে। তবে আপাতত পঞ্চগড়ে শরতের কুয়াশা-শিশিরের সঙ্গে দিনের গরমের এমন বৈপরীত্যই অনুভব করছেন জেলার মানুষ।

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৩ দশমিক ০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ দশমিক ০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তিনি জানান, দিনে তাপমাত্রা বেশি থাকলেও রাত্রে তাপমাত্রা কমে আসে।

পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মো. মিজানুর রহমান জানান, দিনে তাপমাত্রা বেশি ও রাতে তাপমাত্রা কম থাকায় এখন পর্যন্ত কোনো রোগী ভর্তি হয়নি অথবা হচ্ছে না তবে দীর্ঘমেয়াদে এভাবে তাপমাত্রা চলমান থাকলে রোগী বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


নির্বাচিত

বাউফলে জমিতে সার দিতে গিয়ে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর বাউফলে চাষকৃত জমিতে সার দিতে গেলে দুই ভাইকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পাকডাল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- সাবু মৃধা (৩০) ও তার ছোট ভাই মুসা মৃধা (২৫)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয় সূত্র ও আহতদের পরিবারের দাবি, সাবু ও মুসার বাবা ইব্রাহিম মৃধা প্রায় ১৫ বছর আগে মারা যান। এরপর তাদের চাচা নাসির মৃধা বাড়ি ও জমি দখল করে রেখেছেন। তাদের বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয় না এবং সেখানে গেলে মারধর ও হুমকি দেওয়া হয়। এ কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে তাদের নানাবাড়ি পাশের গ্রাম মান্দারবণে বসবাস করছেন।

পরিবারের অভিযোগ, রোববার সকালে নিজেদের চাষকৃত জমিতে সার দিতে গেলে নাসির মৃধা, তার চাচাতো ভাই শহিদুল ও রুহুলসহ কয়েকজন তাদের ওপর হামলা চালান। এ সময় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে সাবু ও মুসাকে গুরুতর জখম করা হয়।

পরে স্থানীয়রা আহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় চিকিৎসকরা বরিশাল শেরই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নাসির মৃধা, শহিদুল ও রুহুলের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

মেয়ের বিরুদ্ধে ৮০ বছরের মায়ের ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ময়মনসিংহ নগরের ভাটিকাশর এলাকায় পাঁচতলা বাড়ি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর ৮০ বছর বয়সী মাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরির বিরুদ্ধে। বাড়ির ভাড়া থেকেও তাকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বৃদ্ধা মা রহিমা খাতুন।

রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন রহিমা খাতুন। তিনি ভাটিকাশর এলাকার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও বিধবা। তার কোনো পুত্রসন্তান নেই। দুই মেয়ের মধ্যে ফারজানা সুলতানা কাবেরি একজন। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ফারজানার স্বামী সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব।

লিখিত বক্তব্যে রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, প্রায় ২৫ বছর আগে মেয়ে ফারজানা সুলতানা কাবেরি ও তার স্বামী প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে পাঁচতলা বাড়িটি নিজেদের নামে লিখে নেন। বাড়িটি লিখে নেওয়ার পর তাদের আচরণেও পরিবর্তন আসে বলে দাবি করেন তিনি।

রহিমা খাতুন বলেন, বর্তমানে তিনি ওই বাড়ির একটি অংশে বসবাস করছেন। বাড়িটির অন্য ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এসব ফ্ল্যাট থেকে পাওয়া ভাড়ার বেশির ভাগ টাকা তার মেয়ে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

বৃদ্ধা এই মা আরও বলেন, বয়সজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থের অভাবে নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারছেন না। মেয়ের কাছে ভরণপোষণ চাইলে তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়। এমনকি তার পক্ষে কেউ কথা বললেও তাকে নানাভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রহিমা খাতুন অভিযোগ করেন, মেয়ের স্বামীর প্রভাব খাটিয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়েছে। ফলে জীবনের শেষ সময়ে এসে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও আর্থিক সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন বলে জানান।

তিনি প্রতারণার মাধ্যমে তার কাছ থেকে লিখে নেওয়া বাড়ি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ভরণপোষণ আইনে মেয়ে ও মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

তবে মায়ের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারজানা সুলতানা কাবেরি। মোবাইল ফোনে তিনি বলেন, তার মায়ের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। তিনি নিয়মিত ঢাকায় বসবাস করেন।

ফারজানা বলেন, বাড়ি ভাড়া বাবদ মাসে প্রায় ৬০ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সেখান থেকে প্রতি মাসে ২৭ হাজার টাকা মাকে দেওয়া হয়। বাকি টাকা তারা দুই বোন মিলে নেন।

মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ কম হওয়ার বিষয়ে ফারজানা বলেন, তিনি ফোন করলে তার মা ভালোভাবে কথা বলেন না। এ কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও যোগাযোগ খুব কম হয়। মায়ের স্বজনদের ইন্ধনে তার বিরুদ্ধে এসব অপপ্রচার করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

রহিমা খাতুনের অভিযোগ ও ফারজানা সুলতানা কাবেরির বক্তব্যের বিষয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হয়নি।


নির্বাচিত

রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখতে চান ব্যবসায়ীরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গাপূজা সামনে রেখে দেশের সব দোকান, বিপণিবিতান ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত দোকানপাট খোলার সময় রাত ৮টার পরিবর্তে রাত ১০টা করার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।

ব্যবসায়ীদের মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঈদ ও দুর্গাপূজার মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধারণত পণ্য কেনাবেচা বেড়ে যায়। কিন্তু বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ও জ্বালানি সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে দোকানপাটে বেচাকেনা কম। এতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ঈদ ও পূজার সময়ে ব্যবসা কিছুটা বাড়লেও বর্তমানে রাত ৮টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হওয়ায় ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত সময় পাচ্ছেন না। তাই দুর্গাপূজা উপলক্ষে ৫ অক্টোবর থেকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত রাত ১০টা পর্যন্ত দোকান, মার্কেট ও বিপণিবিতান খোলা রাখার সুযোগ দেওয়া হলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবেন।

ব্যবসায়ীরা আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি সংকট ও বিদ্যুতের লোডশেডিং পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এ অবস্থায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে উৎসবের সময় দোকান খোলার সময়সীমা দুই ঘণ্টা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত ১২ আগস্ট সরকার দোকানপাট ও বিপণিবিতান রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখার নির্দেশনা জারি করে। ওই নির্দেশনায় বলা হয়, বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান ও বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে।

একই নির্দেশনায় সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ করার কথা বলা হয়। পাশাপাশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সব ধরনের আলোকসজ্জা সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছিল।

ব্যবসায়ীদের দাবি, উৎসবের মৌসুমে কেনাকাটা বাড়ায় দোকান খোলার সময়সীমা সাময়িকভাবে বাড়ানো হলে একদিকে ক্রেতারা অতিরিক্ত সময় কেনাকাটার সুযোগ পাবেন, অন্যদিকে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরাও বাড়তি বেচাকেনার মাধ্যমে আর্থিক ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নিতে পারবেন।


নির্বাচিত

৪৬ বছরের পুরোনো ভবনে ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান করছে ১০২ শিক্ষার্থী

# দেয়ালে ফাটল, ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি # প্রশাসনিক চত্বরের কাছে হলেও নজর নেই কর্তৃপক্ষের
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

সামনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, দূরত্ব মাত্র ১৫০ গজ। পেছনে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়, মাত্র ২০ গজ দূরে। কাছেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও উপজেলা পরিষদ। অথচ এসব সরকারি কার্যালয়ের মাঝখানেই ৪৬ বছর আগে নির্মিত জরাজীর্ণ ভবনে চলছে জয়পুরহাট নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঠদান। দেয়ালে ফাটল, খসে পড়ছে পলেস্তারা, বৃষ্টিতে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে শ্রেণিকক্ষে।

সরেজমিনে দেখা যায়, পাঁচ কক্ষের একতলা ভবনের একটি কক্ষ তালাবদ্ধ। সেখানে পাঠদান হয় না। আরেকটি কক্ষে শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজ চলে। ফলে বাকি তিনটি কক্ষেই বিভিন্ন শ্রেণির পাঠদান চলছে। ভবনের বিভিন্ন অংশের দেয়ালে ফাটল দেখা গেছে। কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে ইট বেরিয়ে এসেছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে মাত্র একটি ওয়াশরুম।

‎বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার সময় ভবনটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৩ সালে বিদ্যালয়টি জাতীয়করণ করা হয়। জাতীয়করণের এক যুগ পেরিয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ৮৩ শতক জায়গার ওপর বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ছয়জন শিক্ষক ও ১০২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। পর্যাপ্ত জায়গা থাকলেও শ্রেণিকক্ষের সংকট কাটেনি। আবার বিদ্যালয়ে আধুনিক স্যানিটেশন সুবিধাও নেই।

‎বিদ্যালয়ের তৃতীয় ও পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বলেন, দেয়ালে ফাটল থাকায় শ্রেণিকক্ষে বসে তাদের ভয় হয়। ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করে তারা।

‎অভিভাবক শিউলি খাতুন বলেন, ‘দেয়ালে ফাটল ও পলেস্তারা খসে পড়া ভবনে সন্তানকে পাঠিয়ে সব সময় দুশ্চিন্তায় থাকেন। কখন ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়ে দুর্ঘটনা ঘটে, সেই ভয়ও রয়েছে। জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন অবস্থা মেনে নেওয়া কঠিন। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের ব্যবস্থা করা উচিত।’

‎সহকারী শিক্ষক ইশরাত জাহান বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পরিবেশ ভালো না থাকায় দিন দিন শিক্ষার্থী কমছে। গ্রামের অনেক বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণ হলেও জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্রে থাকা এই বিদ্যালয়ে নতুন ভবন হচ্ছে না। একটি মাত্র ওয়াশরুম শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাইকে ব্যবহার করতে হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বিদ্যালয়ের সামনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, পেছনে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস এবং কাছেই জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থাকার পরও ভবনের এমন অবস্থা কাম্য নয়।’‎

জয়পুরহাট নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ‎প্রধান শিক্ষক লাইলা আকতার জাহান বলেন, ‘২০১৮ সালে বিদ্যালয়ে যোগ দেওয়ার সময় থেকেই ভবনটির খারাপ অবস্থা দেখে আসছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জানানো হয়েছে। কিন্তু এখনো নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। ভবনের দুরবস্থার কারণে অনেক অভিভাবক সন্তান ভর্তি করানোর পর অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে যান। বিদ্যালয় চলাকালে ভূমিকম্প হলে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।’

‎শিক্ষার্থী কমে যাওয়া প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক বলেন, ভবনের দুরবস্থার কারণে এ বছর ১৫ থেকে ২০ জন অভিভাবক সন্তানদের ভর্তি করাতে এসে বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখে অন্য বিদ্যালয়ে চলে গেছেন। অনেকে বিদ্যালয়ে ভর্তি থাকা সন্তানদের অন্য বিদ্যালয়ে নিয়ে গেছেন। এ ছাড়া বিদ্যালয় চলাকালে ভূমিকম্প হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচির (পিইডিপি-৫) আওতায় বিদ্যালয়টির নতুন ভবন নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কয়েক মাস আগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী ও সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল।

জয়পুরহাট সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামীম ইকবাল বলেন, ‘বিদ্যালয়টির ভবন অনেক পুরোনো এবং দেয়ালে ফাটল ধরেছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য অনেক আগেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’

‎জয়পুরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেছের আলী বলেন, ‘জেলার প্রশাসনিক চত্বরে অবস্থিত নার্সারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের অবস্থা ভালো নয়। নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।’


নির্বাচিত

বঙ্গোপসাগর থেকে উদ্ধার ৬৩, মানব পাচার মামলায় কারাগারে ১৩

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গোপসাগরে মালয়েশিয়াগামী ট্রলার থেকে উদ্ধার ৬৩ জনকে পাচারের অভিযোগে করা মামলায় ১৩ জনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন কক্সবাজারের আদালত।

শনিবার (৩ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) ও টেকনাফ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ইহসানুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিচারক।’

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সেন্ট মার্টিন লাইটহাউস থেকে প্রায় ৮১ নটিক্যাল মাইল দূরে একটি বিকল কাঠের ট্রলার থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করে নৌবাহিনী। তাদের মধ্যে পাচারের শিকার ও পাচারকারী চক্রের সন্দেহভাজন সদস্যরা ছিলেন।

উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে প্রথমে ১১ জনকে পাচারকারী হিসেবে সন্দেহ করে নৌবাহিনী। পরে তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০১২-এর অধীনে ১৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, উদ্ধার ৬৩ জনের মধ্যে চার নারীসহ ১৪ জন রোহিঙ্গা। বাকিরা বাংলাদেশের নাগরিক। গতকাল শুক্রবার রাতে তাদের সবাইকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, সাগরে নেওয়ার আগে ওই ৬৩ জনকে টেকনাফের বাহারছড়ার একটি দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আটকে রাখা হয়েছিল। মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাচারকারীরা প্রত্যেকের কাছ থেকে আড়াই লাখ টাকা করে আদায় করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ওই ৭৬ জনকে নিয়ে ‘আল্লাহর দান’ নামের কাঠের ট্রলারটি বঙ্গোপসাগরে যান্ত্রিক সমস্যায় পড়ে। ইঞ্জিন ও পানিনিষ্কাশন পাম্পে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ট্রলারে পানি ঢুকতে শুরু করে।

এসময় ‘এফভি ক্রিস্টাল-১’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার তাদের দেখে সাহায্য করতে এগিয়ে যায়। তবে আরোহীদের কয়েকজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হওয়ায় বিষয়টি বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জানায় এফভি ক্রিস্টাল-১ এর কর্মীরা।

খবর পেয়ে ওই এলাকায় টহলরত নৌবাহিনীর জাহাজ ‘বানৌজা খালিদ বিন ওয়ালিদ’ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পানি নিষ্কাশন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। ট্রলারে থাকা ৭৬ জনকেই নিরাপদে উদ্ধার করা হয় এবং তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা, খাবার ও প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

অপতথ্য রোধে তরুণদের সচেতন হতে হবে: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপতথ্য ও অসত্য তথ্য একটি ‘অশুভ সংকেত’ হিসেবে দেখা দিয়েছে, যা প্রতিরোধে তরুণদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা জরুরি।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর নটরডেম কলেজে আয়োজিত ‘২য় ন্যাশনাল মিডিয়া কার্নিভাল ২০২৬’-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছাত্রসমাজ সবসময়ই দেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। সম্প্রতি ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনেও তাদের ভূমিকা ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রবাহের যুগে সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নিরূপণ করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মিডিয়া লিটারেসি ও দায়িত্বশীল যোগাযোগ দক্ষতা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নটরডেম কলেজে নিজের শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, এই প্রতিষ্ঠানে আগেও তিনি বন্ধুদের সঙ্গে এসেছেন এবং সেই সময়ের নানা স্মৃতি এখনও তার মনে গেঁথে আছে। তিনি বলেন, ‘এই ক্যাম্পাসে এসে পুরোনো অনেক স্মৃতি ফিরে এসেছে।’

তিনি আশা করেন, এ ধরনের মিডিয়া কার্নিভাল ভবিষ্যতেও নিয়মিত আয়োজন করা হলে শিক্ষার্থীরা সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী দক্ষতা ও দায়িত্বশীল নাগরিকত্বের চর্চায় আরও এগিয়ে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এসব বিষয়ে ধারবাহিকভাবে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তরুণদের বিষয়ে অনেক আগ্রহী উল্লেখ করে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ভবিষ্যতেও এ জাতীয় আয়োজনে সরকারের সমর্থন থাকবে।0

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- নটরডেম কলেজের অধ্যক্ষ ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও, ফাদার অ্যান্টনি গোমেজ রোজারিও, নটরডেম মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের মডারেটর শাপলা বনিক, ‘দ্য বাংলাদেশ ডায়লগ’-এর চেয়ারম্যান রুবায়েত মান্নান রাফি, এনসিসি ব্যাংকের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও হেড অব ফাইন্যান্সিয়াল ডিভিশন আনিসুর রহমান মজুমদার, চায়না এডুকেশন বাংলাদেশের সিইও সাজ্জাদ হোসেন এবং ইউনিভার্সিটি অব স্কলার্সের ব্র্যান্ড অ্যান্ড কমিউনিকেশন বিভাগের সিমরান রহমান।

উল্লেখ্য, নটরডেম মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ক্লাবের উদ্যোগে ২ ও ৩ অক্টোবর অনুষ্ঠিত এ কার্নিভালে দেশজুড়ে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। মিডিয়া কার্নিভাল শিক্ষার্থীদের মিডিয়া, যোগাযোগ, গবেষণা ও সৃজনশীলতার বিকাশে একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।


নির্বাচিত

রূপপুরে পৌঁছাল প্রথম ইউনিটের ইউরেনিয়াম

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম বা পারমাণবিক জ্বালানি রূপপুরে পৌঁছেছে। গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে তিনটি লরিতে করে সড়কপথে জ্বালানির চালানটি রূপপুরের উদ্দেশে নেওয়া হয়। শনিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদীর দাশুড়িয়া মোড় হয়ে লরিগুলো রূপপুর প্রকল্পে পৌঁছায়। রূপপুর প্রকল্প-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত ১১টা ৪৪ মিনিটে ইউরেনিয়ামের চালানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা চালানটি বুঝে নেন। পরে রাতেই সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় তা রূপপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকাল সাতটার পর বিমানবন্দর থেকে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি লরি রূপপুর প্রকল্পের উদ্দেশে রওনা হয়। এ উপলক্ষে ঈশ্বরদী ও রূপপুর এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। সেনাবাহিনী, এসআরবি, পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সড়কপথে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন।

গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, জ্বালানিবাহী বিমানটি শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই রূপপুরে নেওয়ার সব প্রস্তুতি সম্পন্ন ছিল। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিরাপত্তায় ইউরেনিয়ামের চালানটি রূপপুরে পৌঁছেছে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরের মধ্যে নয়টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য আরও ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বলি দেশে আসবে। রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে এসব চালান বাংলাদেশে আসবে।

এর আগে ২০২৩ সালে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য যে জ্বালানি দেশে আনা হয়েছিল, তা চলতি বছরের মে মাসে প্রকল্পের পারমাণবিক চুল্লিতে স্থাপন করা হয়।

এদিকে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ১৬ মেগাপাসকেল (এমপিএ) উচ্চচাপে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভের (পিআরওভি) পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জায়েদুল হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, প্রধান নিয়ন্ত্রণকক্ষ ও জরুরি নিয়ন্ত্রণকক্ষ-দুই জায়গা থেকেই পরীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়। এতে কন্ট্রোল ভালভের কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। ভালভের কার্যক্রম সন্তোষজনক পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মেইন সেফটি ভালভের কার্যক্রম ও প্রতিক্রিয়াও পরীক্ষা করা হয়। এ সময় ভালভ খোলা ও বন্ধ হওয়ার কার্যক্রম, অ্যালার্ম এবং বিভিন্ন প্রক্রিয়াগত পরামিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়।

ড. জায়েদুল হাসান বলেন, পিআরওভি পরীক্ষার সফল সমাপ্তি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কমিশনিং প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কারণ, রিঅ্যাক্টরের প্রাইমারি সিস্টেমে নিরাপদ চাপ বজায় রাখার সঙ্গে এই ব্যবস্থা সরাসরি সম্পৃক্ত।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশাদুর রহমান আসাদ বলেন, ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমারসহ সেনাবাহিনী, এসআরবি, পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী গাড়িবহর রূপপুরে পৌঁছেছে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, সেফটি ভালভে ১৬ এমপিএ উচ্চচাপের পরীক্ষা সফল হওয়ার পর পরবর্তী ধাপে প্রায় ১৮ এমপিএ চাপে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে। সেটি সফল হলে ফিশন রিঅ্যাকশন শুরু করার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে। এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের জন্য পুরো অক্টোবর মাস সময় লাগতে পারে।

পাওয়ার স্টার্টআপের পর জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের ধাপে যাবে কেন্দ্রটি। সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে প্রকল্প সূত্র জানিয়েছে।


নির্বাচিত

ধ্বংস করা হচ্ছে ২৩ বছর বন্দরে পড়ে থাকা ১৫১ টন কেমিক্যাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরে ২৩ বছর পড়ে থাকার পর অবশেষে ৯টি কনটেইনারে থাকা ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন বিপজ্জনক কেমিক্যাল পরিবেশসম্মত উপায়ে ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন সালফিউরিক অ্যাসিড, ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিড, ৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন মিথানল এবং ৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন থিনার। ২০০৩ সাল থেকে বন্দরের শেডে পড়ে ছিল এগুলো।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে কেমিক্যাল ধ্বংস কমিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে বন্দর থেকে এসব বিপজ্জনক কেমিক্যাল বিশেষ যানবাহনে করে নারায়ণগঞ্জের ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ও কনটেইনার জট নিরসনে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার-অনুপযোগী অ্যাসিডজাতীয় পণ্য ধ্বংসের এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কাস্টমসের সহকারী কমিশনার রাসেল আহমেদ।

কেমিক্যাল ধ্বংস কমিটি জানায়, বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের (বিএনএসিডব্লিউসি) সুপারিশক্রমে এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের গঠিত ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে এসব বিপজ্জনক কেমিক্যাল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ায় অবস্থিত ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধ্বংসের উদ্যোগ নেয় সরকার।

এর আগে ২০২১ সালে বন্দরের ‘পি’ শেডে পড়ে থাকা ২০ বছরের পুরোনো ২৫ টন বিপজ্জনক রাসায়নিক পণ্য ধ্বংসের জন্য সুনামগঞ্জের ছাতকে লাফার্জহোলসিম সিমেন্ট কারখানায় পাঠানো হয়েছিল। সর্বশেষ গত ২৪ আগস্ট চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করা ৩৪ কনটেইনারে ৯৩৫ টন খেজুর, ৪০ কনটেইনারে ১ হাজার ২ টন মেয়াদোত্তীর্ণ সোডা অ্যাশসহ মোট ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করে কাস্টম হাউস কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে রেকর্ড ১৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে । ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে নতুন রেকর্ড গড়েছে। কেন্দ্রটির দুই ইউনিট মিলিয়ে এই প্রথম সর্বোচ্চ ১৩২১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত এই বিদ্যুৎ সরাসরি জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান মানবসম্পদ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম এ তথ্য জানান।

আনোয়ারুল আজিম জানান, শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে প্রথম ইউনিট থেকে ৬৫৬ ও দ্বিতীয় ইউনিট থেকে ৬৬৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়। এসব বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। সম্প্রতি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ ছিল। যান্ত্রিক ত্রুটি ঠিক হওয়ার পরে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রয়েছে।

রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ২০১০ সালে কেন্দ্রটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০১২ সালের ২৯ জানুয়ারি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) ও ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশনের (এনটিপিসি) মধ্যে চুক্তি সই হয়। চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ-ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল) গঠন করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার রাজনগর ও গৌরম্ভা ইউনিয়নের সাপমারী-কৈগর্দ্দাশকাঠি মৌজায় ১ হাজার ৩৪ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়। প্রায় ১৬ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন মৈত্রী সুপার থার্মাল পাওয়ার প্রকল্পের নির্মাণকাজ শুরু হয়।

দীর্ঘ নির্মাণপ্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের ২৩ ডিসেম্বর কেন্দ্রটির ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিট উৎপাদনে যায়। পরের বছর ২৪ অক্টোবর পরীক্ষামূলকভাবে দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয়।


নির্বাচিত

ছাগলে করলা গাছ খাওয়ায় কৃষক খুন, গ্রেপ্তার ৭

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর ধামইরহাটে ছাগলে জমির করলা গাছ খাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে কাশেম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহতের ঘটনায় এজাহারনামীয় ৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা-পুলিশ। এ সময় হত্যার কাজে ব্যবহৃত একটি চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলার পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতেই জয়পুরহাট জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার বিকেলে তাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, উপজেলার বড়শিবপুর (মাস্টারপাড়া) গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে রাকিবুল ইসলাম রনি (২৮), মৃত আব্দুল গফুরের দুই ছেলে আব্দুল হাকিম (৬০) ও কফিল উদ্দিন (৬৫), ফেরদৌস হোসেনের স্ত্রী আকলিমা বেগম (৩৫), মৃত ইসমাইল হোসেনের মেয়ে হামিদা বেগম (৩৮), আব্দুল হাকিমের স্ত্রী ফরিদা বেগম (৫০) এবং রাকিবুল ইসলাম রনির স্ত্রী জিয়াসমিন বেগম (২১)। তারা সকলেই একই পরিবারের মা-বাবা ও চাচা-চাচি এবং ছেলে ও ছেলের বউ।

এবং নিহত আবুল কাশেম ওই গ্রামের মৃত রাজ মাহমুদ মণ্ডলের ছেলে। আর আহতরা হলেন—নিহতের বড় ভাই মুক্তার আলী, ভাইয়ের স্ত্রী রেখা বেগম, বড় ভাই বদিউল ইসলাম এবং ছোট ভাই ইমরান আলী।

পুলিশ জানায়, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টায় একই গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. রাকিবুল ইসলাম রনির (৩৫) জমির করলা গাছ খেয়ে ফেলে একটি ছাগল। এ নিয়ে কৃষক আবুল কাশেম ও রনির পরিবারের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা মারামারিতে সংঘর্ষে রূপ নেয়। মারামারির সময় অভিযুক্ত রনি ধারালো চাকু দিয়ে আবুল কাশেমকে উপর্যুপরি আঘাত করেন। এবং কাশেমসহ মোট পাঁচজন গুরুতর জখম হয়ে জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে আহত আবুল কাশেম মৃত্যুবরণ করেন। তার স্ত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি আছে। অপর জখমরা জয়পুরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি আছে। এই ঘটনায় নিহত কাশেমের ছেলে আবু সাঈদ হোসেন বাদী হয়ে ধামইরহাট থানায় একটি একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এসপি তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ সেখানে যায় এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে। পরে হত্যা মামলা দায়ের হলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঘটনার রাতেই ৭ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’

প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে বলে জানালেন ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মিন্টু রহমান।


নির্বাচিত

banner close