বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
সেই তন্ময় গ্রেপ্তার

থানা থেকে লুট করা অস্ত্র দিয়েই প্রেমিকাকে খুন

শিহাব আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত
শিহাব আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২২:২৫

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের প্রকাশ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে প্রেমিকা সাহিদা ইসলাম রাফাকে হত্যার পর ভোলার মনপুরা দ্বীপে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় (২৩)। সোমবার ভোরে ভোলার তারানগর ইউনিয়নের ইলিশঘাটে ঢাকা-মনপুরা রুটের লঞ্চ থেকে তন্ময়কে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পরে তার দেয়া তথ্যে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বটতলী বেইলি ব্রিজের নিচে পানি থেকে হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির সূত্রটি ওই যুবককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলটি ৫ আগস্ট রাজধানীর ওয়ারি থানা থেকে লুটকৃত। ইউটিউবে ভিডিও দেখে পিস্তল চালানো আয়ত্ত করে ওই যুবক। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়ে ম্যাগজিনে থাকা ৬ রাউন্ড গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবক।

তবে তন্ময় জানিয়েছে, তার ছোড়া একটি গুলি রাফার শরীরে লাগেনি।

ডিবির সূত্রটি জানায়, নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার (২৪) একাধিক সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ শেখ তন্ময়ের (২৩) সাথে দ্বন্দ্ব ছিল। ঘটনার আগের দিন রাতে (২৯ নভেম্বর, শুক্রবার) সাহিদাকে ফোন করে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হতে বলেন তৌহিদ। পরে লোকাল বাসে করে দুজনেই চলে আসেন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটে। রাতভর সেখানে ঘোরাঘুরির পর গত শনিবার ভোরে খানবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় আসেন তারা। সেখানে প্রেমিকা সাহিদা নিজেকে গর্ভবতী দাবি করে প্রেমিক তৌহিদকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। আশপাশের লোকজন তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসতে থাকলে তৌহিদ ওই নারীকে নিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্ভিস লেন ধরে পদ্মা সেতু উত্তর টোল প্লাজা থেকে ২০০ মিটার অদূরে দোগাছি ফুটওভার ব্রিজ পার করে। পথে কয়েক দফায় সাহিদাকে চড়থাপ্পড় মারে তৌহিদ। একপর্যায়ে আর রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাথে থাকা থানা থেকে লুটকৃত পিস্তল দিয়ে প্রথমে এক রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরপরই আরও ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেগুলো সাহিদার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্ধ হয়। মুহুর্তেই সড়কে উপুড় হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় সাহিদার। রক্তাক্ত প্রেমিকার লাশ ফেলে পেছন দিকে দৌড়ে পালায় তৌহিদ। এরপর খানবাড়ি এলাকায় গিয়ে লোকাল বাসে চড়ে রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, মাঝপথে পিস্তলটি ফেলে দেয় কেরাণীগঞ্জ বেইলি ব্রিজের নিচে। ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করে তৌহিদ। একপর্যায়ে আঁটিবাজার এলাকায় নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে ওঠে সে। ওই বাড়িতে বোন জামাই, বোন ও তৌহিদের মা লঞ্চে করে মনপুরা দ্বীপে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয় তৌহিদকে। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় ওই ৩ জন সদরঘাট গিয়ে পৌঁছে দেয় তাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-ভোলা-মনপুরা রুটের লঞ্চে উঠে পড়ে তৌহিদ।

এদিকে সাহিদা হত্যার বিষয়টি সারা দেশে আলোড়ন তৈরি করলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে ডিবি। তৌহিদকে প্রধান সন্দেহভাজন চিহ্নিত করে তার মোবাইল নাম্বারের সর্বশেষ লোকেশন নিশ্চিত হয় তারা। তখন দেখা যায়, তৌহিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি শুক্রবার রাতে সবশেষ ঢাকার ওয়ারি এলাকায় চালু ছিল। এরপর থেকে সেটি বন্ধ আছে। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে তাহলে ডিবির সন্দেহ কি ভুল! এরইমাঝে আরেকটি সূত্র খুঁজে পায় ডিবি। তৌহিদের মোবাইল কলের সূত্র ধরে উদঘাটন হয় পরিবারের সকল সদস্যের নম্বর।

রোববার ডিবির দলটি যখন ঢাকার আঁটিবাজারে তৌহিদের বোনের বাড়িতে অভিযানে যায় তখন তারা একসাথে তৌহিদের মা, বোন ও বোন জামাইয়ের মোবাইলের লোকেশন সদরঘাটে দেখতে পায়। এরপরে অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করে ডিবি। চৌকস টিমটি ছুটে যায় সদরঘাটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় তৌহিদের লঞ্চে উঠার দৃশ্য শনাক্ত করে তারা।

গ্রেপ্তারের পর ডিবির কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তন্ময় জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশলের অংশ হিসাবে মাওয়া আসার আগে ঢাকার ওয়ারিতে থাকতেই মোবাইলটি বন্ধ করে দেয় সে। যাতে হত্যার পর লুকালেও পুলিশ কোন ক্লু বের করতে না পারে।

এদিকে, সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের ৫ সদস্যের ওই টিমটি অবস্থান নেয় ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। টার্গেট করা লঞ্চে অনুসন্ধানে ডিবির হাতে ধরা পড়ে তৌহিদ।

এর আগে গত রোববার সকালে নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার মা জরিনা খাতুন শ্রীনগর থানায় প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে প্রধান অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর রাতে ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ি এলাকায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় সাহিদার। আলোচিত এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের খোঁজে মাঠে নামে ডিবি।

নিহত সাহিদা রাজধানী ঢাকার ওয়ারিতে পরিবারের সাথে থাকতেন ও নারিন্দা এলাকার বলধা গার্ডেন সংলগ্ন জনৈক কামাল মিয়ার বাড়িতে দেখাশোনার (ডে-কেয়ার) কাজ করতেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের মৃত মো. মোতালেবের মেয়ে তিনি। তারা ২ ভাই ও ৩ বোন। তাছাড়া ৭-৮ বছর আগে সাহিদার একটি বিয়েও হয়েছিলো। পরে সেই সম্পর্ক টিকেনি। গ্রেপ্তারকৃত তৌহিদ শেখ তন্ময় রাজধানী ঢাকার ওয়ারী থানার মৃত শফিক শাহের পুত্র।

এদিকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, দায়েরকৃত মামলায় উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।


নির্বাচিত

চাঁদপুরে মা ইলিশ সংরক্ষণে কোস্ট গার্ডের জনসচেতনতামূলক অভিযান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দেশের সুবিশাল সমুদ্র, উপকূলীয় এবং নদী তীরবর্তী অঞ্চলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি মৎস্য সম্পদ রক্ষায় জাটকা নিধন প্রতিরোধ, মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে গুরুত্বসহকারে দায়িত্ব পালন করে আসছে।

মা ইলিশ সংরক্ষণে চাঁদপুরে নিয়মিত অভিযানসহ জনসচেতনতামূলক এই কার্যক্রম পরিচালনা করে কোস্ট গার্ড। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে ‘মা ইলিশ’ সংরক্ষণ ও নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিতকল্পে গত ০৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন সারাদেশে ইলিশ আহরণ, পরিবহণ, মজুদ, বাজারজাতকরণ ও ক্রয়-বিক্রয় সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। এ নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কোস্ট গার্ড তার দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় নিয়মিত টহল, বিশেষ অভিযান ও কঠোর নজরদারি কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

‘মা ইলিশ সংরক্ষণ-২০২৬’ সফলভাবে বাস্তবায়ন ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে কোস্ট গার্ড কর্তৃক নদী ও সমুদ্র উপকূলে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলেদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও আলোচনা সভার মাধ্যমে সকলকে আইন মেনে চলার আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সাথে জেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও মা ইলিশ সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বিতভাবে অভিযান পরিচালনা করে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি “আজকের সংরক্ষণই আগামী দিনের প্রাচুর্য”। আসুন, সবাই মিলে নিষেধাজ্ঞা মেনে চলি এবং মা ইলিশ রক্ষার মাধ্যমে সুনীল অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করি।

মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনসহ যেকোনো অনিয়মের তথ্য জানাতে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ কল করার জন্য সর্বসাধারণকে আহ্বান জানাচ্ছি।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামে পূজা মণ্ডপের অর্থ সংক্রান্ত বিরোধের অবসান, সমঝোতায় উপ-কমিটি গঠন

অষ্টগ্রামে পূজা ঘিরে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও পূজা কমিটির সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সমঝোতার মাধ্যমে একটি উপ-কমিটি গঠন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​মো. নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ (অষ্টগ্রাম-মিঠামইন) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে পূজা মণ্ডপের অর্থ সংক্রান্ত বিরোধ ও প্রকাশিত সংবাদের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতির প্রশাসনিক হস্তক্ষেপে অবসান ঘটেছে। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও পূজা কমিটির সমন্বয়ে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সমঝোতার মাধ্যমে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে।

​উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সাথী দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মজনু মিয়া, উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহীন, উপজেলা প্রেস ক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ অষ্টগ্রাম শাখার আহবায়ক দেবেশ চন্দ্র দাস, সদস্য সচিব জীবন ময় শীল, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্ট অষ্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অজিত দত্ত ও বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট অষ্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক অসীম বনিকসহ বিভিন্ন মণ্ডপের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকগণ উপস্থিত ছিলেন।

​সভায় উভয় পক্ষের বক্তব্য ও সাক্ষীদের কথা শুনে উদ্ভূত সমস্যার সৌহার্দ্যপূর্ণ সমাধান করা হয়। পূজা পরিচালনা ও অনুদানের অর্থ সুষ্ঠুভাবে ব্যয়ের লক্ষ্যে সর্বসম্মতিক্রমে জীবন ময় শীলকে আহ্বায়ক এবং অজিত দত্ত, অসীম বনিক, নজরুল ইসলাম সাগর, হেমচন্দ্র ঋষি দাস ও সুকুমার চন্দ্র দাসকে সদস্য করে ৬ সদস্যবিশিষ্ট একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়।


নির্বাচিত

নির্বাচনি পরিবেশ ভালো, ঠাকুরগাঁওয়ে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না: নির্বাচন কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করার কোনো প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সাধারণ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এই উপনির্বাচনে প্রায় তিন গুণ বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে নির্বাচনী পরিবেশ অত্যন্ত সন্তোষজনক রয়েছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পাশাপাশি পর্যাপ্ত সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে।

বুধবার সকাল ১০টায় ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সভাকক্ষে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।

সভায় নির্বাচন কমিশনার একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ উপনির্বাচন সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার কঠোর নির্দেশ দেন। এছাড়া নির্বাচনী আচরণবিধি শতভাগ প্রতিপালন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটাররা যেন কোনো ধরনের ভীতি ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।

উক্ত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। সভাপতিত্ব করেন ঠাকুরগাঁও জেলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম।

সভায় উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা, নির্বাচনী পরিবেশ সমুন্নত রাখা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যকার পারস্পরিক সমন্বয় জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের এই উপনির্বাচন সম্পূর্ণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান ‘এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড’-এর কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

আজ বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ওই ওষুধ কারখানায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে দ্রুত টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সংখ্যা আরও বাড়ানো হয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবরও পাওয়া যায়নি। আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

কিস্তি শোধেই শেষ আয়ের বড় অংশ, ঋণচক্রে দরিদ্র পরিবার

* ক্ষুদ্রঋণের প্রকৃত সুদ ২৭ শতাংশ * মহাজনি ঋণে ৫০–৬০ শতাংশ * কৃষিযন্ত্র কিনতেও বাড়ছে ঋণনির্ভরতা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে আসার আশায় ঋণ নিচ্ছেন গ্রামের অসচ্ছল মানুষ। কিন্তু সেই ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতেই ফুরিয়ে যাচ্ছে আয়ের বড় অংশ। সংসারের খাবার, সন্তানের শিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা উৎপাদনশীল কাজে ব্যয়ের জন্য হাতে থাকছে সীমিত অর্থ। ফলে ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার বদলে অনেক পরিবার জড়িয়ে পড়ছে ঋণ পরিশোধের এক অন্তহীন চক্রে। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) এক গবেষণায় উঠে এসেছে গ্রামীণ দরিদ্র পরিবারের এমন উদ্বেগজনক চিত্র।

গবেষণায় দেখা গেছে, হতদরিদ্র পরিবারের ৭৯ শতাংশ তাদের আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি ব্যয় করে বিভিন্ন ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা ও স্থানীয় মহাজনদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে। ২০১০ সালে এ ধরনের পরিবারের হার ছিল ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এক দশকের বেশি সময়ে ঋণের কিস্তির চাপে থাকা হতদরিদ্র পরিবারের অনুপাত উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গত সোমবার বিআইডিএস ও আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইএফপিআরআই) আয়োজিত এক কর্মশালায় গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। ‘দ্য স্ট্রাকচারাল ট্রান্সফরমেশন অব বাংলাদেশ’স রুরাল ক্রেডিট মার্কেট সিন্স ২০০০: এভিডেন্স ফ্রম ন্যাশনালি রিপ্রেজেন্টেটিভ সার্ভেজ’ শীর্ষক গবেষণায় গ্রামীণ ঋণবাজারের পরিবর্তন, ঋণের উৎস এবং কৃষিতে অর্থায়নের চিত্র বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক কাজী ইকবাল জানান, সব ঋণগ্রহীতার মধ্যে আয়ের ৪০ শতাংশের বেশি কিস্তি পরিশোধে ব্যয় করেন এমন মানুষের হার ২০১০ সালের ২২ শতাংশ থেকে বেড়ে বর্তমানে ৪১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে দুই বা তার বেশি ঋণ নেওয়া পরিবারের হার ২৭ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ৩৩ শতাংশ।

গবেষকের ভাষ্য, এ প্রবণতা দরিদ্র মানুষের ঋণনির্ভরতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়। তবে ঋণের বোঝা বৃদ্ধির পেছনে কোন কোন কারণ কতটা ভূমিকা রাখছে, তা এই গবেষণায় সরাসরি অনুসন্ধান করা হয়নি।

ঋণ সহজলভ্য, কিন্তু খরচ কমছে না: গ্রামীণ ঋণবাজারে ক্ষুদ্রঋণ সংস্থাগুলোর প্রভাব এখন ব্যাপক। গবেষণা অনুযায়ী, গ্রামীণ এলাকার প্রতি চারটি ঋণের তিনটিই আসে এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠান থেকে। ঋণদাতার সংখ্যা ও ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়লেও ঋণের প্রকৃত খরচ কমেনি উল্লেখযোগ্যভাবে।

গবেষণায় ক্ষুদ্রঋণের প্রকৃত সুদের হার প্রায় ২৭ শতাংশ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো কাগজে-কলমে ১৫ শতাংশ সুদের কথা বললেও ঋণের প্রকৃত খরচ হিসাব করলে হারটি বেড়ে যায়। তুলনায় ব্যাংকঋণের সুদের হার প্রায় ১০ শতাংশ। অন্যদিকে, স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে ঋণ নিলে সুদের হার ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

কাজী ইকবালের মতে, ঋণদাতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লেও ক্ষুদ্রঋণের প্রকৃত সুদ কমানোর ক্ষেত্রে তা কার্যকর হয়নি। তার ভাষ্য, উচ্চ সুদেও ঋণের চাহিদা ব্যাপক থাকায় সুদের হার কমছে না।

ঋণের খরচ কমাতে মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটিকে (এমআরএ) আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, বড় ও জাতীয় পর্যায়ের এনজিওগুলো চাইলে সুদের হার কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষিতে ঋণের ব্যবহার কমছে: গবেষণায় গ্রামীণ ঋণের ব্যবহারে পরিবর্তনের চিত্রও উঠে এসেছে। আগে গ্রামীণ ঋণের বড় অংশ কৃষিতে ব্যয় হলেও এখন এ খাতে ঋণের ব্যবহার ২৫ শতাংশ থেকে কমে ১৬ শতাংশে নেমেছে। গবেষকেরা একে অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তনের একটি লক্ষণ হিসেবে দেখছেন।

কৃষিঋণের অর্থ মূলত সার, বীজ, গবাদি পশু কেনা এবং জমি ভাড়ার খরচ মেটাতে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক কৃষিযন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে এর ব্যবহার তুলনামূলক কম। নগদ টাকায় জমি ভাড়া নিয়ে চাষ করেন এবং বর্গাচাষি—এমন কৃষকেরাই বেশি ঋণ নেন। তবে ব্যাংকঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে জমির মালিকানা এখনো গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য বিষয়।

কৃষিযন্ত্র কিনতেও ঋণের চাপ: কর্মশালায় আইএফপিআরআইয়ের আরেক গবেষণায় কৃষিযন্ত্র কেনার অর্থায়নসংকটের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে দেখা যায়, কৃষিযন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে ব্যাংক মাত্র ২ থেকে ৭ শতাংশ অর্থায়ন করে। কম্বাইন হারভেস্টর মালিকদের মাত্র ৫ শতাংশ ব্যাংকঋণ নিয়ে যন্ত্রটি কিনেছেন। অন্যদের মধ্যে ৩২ শতাংশ আত্মীয়স্বজনের কাছ থেকে, ২৭ শতাংশ এনজিও বা ক্ষুদ্রঋণ সংস্থা থেকে এবং ৮ শতাংশ স্থানীয় মহাজনদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। তবে অর্থায়নের প্রধান উৎস যন্ত্রপাতি বিক্রয়কারী ডিলাররা। তারা হারভেস্টরের মোট দামের প্রায় ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত বাকিতে কেনার সুযোগ দেন, যা ১৮ মাসের মধ্যে পরিশোধ করতে হয়। জামানত হিসেবে অনেক ক্ষেত্রে ডিলাররা সই করা ফাঁকা চেক রাখেন।

যন্ত্র মেরামতের খরচও মালিকদের জন্য বড় চাপ। হারভেস্টর মালিকদের এক-তৃতীয়াংশ মেরামতের অর্থ জোগাতে ঋণ নেন। তাদের বড় অংশ আত্মীয়স্বজন বা মহাজনদের দ্বারস্থ হন। উদ্বেগের বিষয়, এসব মেরামতসংক্রান্ত ঋণের প্রায় অর্ধেকই পরিশোধ করা সম্ভব হয় না।

এ ছাড়া হারভেস্টর মালিকদের আয়ের প্রায় ৬৪ শতাংশ আসে এপ্রিল থেকে জুন মাসে। ফলে বছরের বাকি নয় মাস তাঁদের অনেককেই অর্থসংকট সামলাতে হয়। আয় ও কিস্তি পরিশোধের সময়ের এই অসামঞ্জস্য ঋণ পরিশোধকে আরও কঠিন করে তুলতে পারে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কৃষিযন্ত্রকে জামানত হিসেবে বিবেচনা করে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা বা ‘মেশিনারি-ব্যাকড লোন’ চালুর পরামর্শ দিয়েছেন গবেষকেরা। পাশাপাশি ফসলের মৌসুমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কিস্তি নির্ধারণ এবং অন্তত তিন বছরের দীর্ঘমেয়াদি ঋণ পরিশোধের সুযোগ দেওয়ার সুপারিশ করেছেন তাঁরা। অন্যের জমিতে যন্ত্র দিয়ে কৃষিসেবা দেওয়াকেও কৃষিকাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে কৃষিঋণের প্রচলিত নিয়ম সংশোধনের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষকেরা।

ঝুঁকি ভাগাভাগিতে পশুপালনের উদ্যোগ: কর্মশালায় আইএফপিআরআই ও উইগ্রোর আরেকটি গবেষণায় গবাদি পশু পালনে ঝুঁকি ভাগাভাগির একটি মডেল পর্যালোচনা করা হয়। এ ব্যবস্থায় উইগ্রো গরু কেনার পুরো অর্থ দেয় এবং লাভের এক-তৃতীয়াংশ নেয়। বাকি দুই-তৃতীয়াংশ পান কৃষক। কোনো কারণে লাভ না হলে কৃষককে উইগ্রোকে অর্থ পরিশোধ করতে হয় না। এ ধরনের ব্যবস্থা কৃষকের প্রাথমিক পুঁজি ও লোকসানের ঝুঁকি কমাতে পারে কি না, তা গবেষণার বিষয় ছিল।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সচিব মো. সেলিম খান, এমআরএর নির্বাহী ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল কাদের। এতে সভাপতিত্ব করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক অধ্যাপক এ কে এনামুল হক।

গবেষণার তথ্য বলছে, শুধু ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়ালেই দরিদ্র মানুষের আর্থিক অবস্থার উন্নতি নিশ্চিত হয় না। ঋণের প্রকৃত খরচ, আয় ও কিস্তির সময়ের সামঞ্জস্য এবং উৎপাদনশীল খাতে অর্থায়নের সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পরিবর্তন না এলে ঋণ অনেক পরিবারের জন্য দারিদ্র্য থেকে উত্তরণের পথ না হয়ে আর্থিক চাপের স্থায়ী উৎস হয়ে থাকতে পারে।


নির্বাচিত

চাকরির প্রলোভনে মানবপাচার, এক মাসে গ্রেপ্তার ১৮

* ইতালি পাঠানোর কথা বলে লিবিয়ায় পাচার * ভুয়া ভিসায় লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ * মালয়েশিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

বিদেশে চাকরি ও উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে প্রতারণা, মানবপাচার এবং মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে সেপ্টেম্বরের শেষ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত আলোচিত পাঁচটি ঘটনায় মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়াগামী নৌযান থেকে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের ঘটনায় ১৩ জন, লিবিয়ায় পাচারের অভিযোগে দুজন এবং ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভনে প্রতারণার অভিযোগে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মালয়েশিয়ায় কাজের প্রলোভনে নিয়ে আটকে রেখে মুক্তিপণ আদায়ের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন মাসুদ করিম (৫০)।

মালয়েশিয়ায় আটকে রেখে মুক্তিপণ: মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর পল্টনের পলওয়েল মার্কেট এলাকা থেকে মাসুদ করিমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। অভিযোগ, দুই ব্যক্তিকে ওয়ার্ক পারমিট ভিসায় মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভিজিট ভিসায় নেওয়া হয়। পরে বিমানবন্দরের বাইরে তাদের আটকে রেখে স্বজনদের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে দুই লাখ টাকা আদায়ের তথ্য পেয়েছে সিআইডি। মাসুদ করিমের মালিকানাধীন তাহসিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসের বিরুদ্ধেও অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা হয়েছে।

ইতালির স্বপ্ন দেখিয়ে লিবিয়ায় পাচার: ৬ অক্টোবর সিআইডি ঢাকার আশকোনা এলাকা থেকে মো. আতিকুর রহমান থমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলালকে (৫৪) গ্রেপ্তার করে। অভিযোগ, এক যুবককে ইতালিতে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের কাছ থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে প্রায় ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। লিবিয়ায় তাকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগও করেন ভুক্তভোগী। দেশে ফিরে মামলা করার পর তদন্তে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ইউরোপে পাঠানোর নামে লাখ লাখ টাকা: ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকার বনানী থেকে মোহাম্মদ আরজুর রহমানকে (৪৭) গ্রেপ্তার করে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। ইউরোপে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ ও মানবপাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ২০ থেকে ২৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে; কোনো কোনো ক্ষেত্রে অর্থের পরিমাণ ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত। তার একটি ব্যাংক হিসাবে এক বছরে প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ ৭৫ হাজার টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। চক্রটির মাধ্যমে দুই হাজারের বেশি বাংলাদেশি প্রতারণা বা পাচারের শিকার হয়ে থাকতে পারেন বলে প্রাথমিক ধারণা দিয়েছে এসআরবি।

জাল ভিসায় ইতালি পাঠানোর অভিযোগ: গত সোমবার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কামাল হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তিনজনকে জাল ভিসায় ইতালি পাঠানোর অভিযোগে করা মামলায় এর আগে ১৬ জুন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের গ্রাউন্ড অফিসার আকলাসুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

মালয়েশিয়াগামী নৌযান থেকে উদ্ধার ৭৬ জন: ৩০ সেপ্টেম্বর সেন্ট মার্টিনের কাছাকাছি সাগরে একটি নৌযান থেকে ৭৬ জনকে উদ্ধার করে নৌবাহিনী। প্রথমে ১১ জনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হলেও পরবর্তী তদন্তে ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৩ জনকে পাচারের শিকার হিসেবে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে; তাদের মধ্যে ১৪ জন রোহিঙ্গা। জনপ্রতি আড়াই লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।


নির্বাচিত

ঢাকা-কুমিল্লায় হচ্ছে নতুন উড়াল রেলপথ

* চট্টগ্রামের দূরত্ব কমবে ৮০ কিমি * ব্যয় প্রায় ৮৪ হাজার কোটি টাকা
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক    

ঢাকার শ্যামপুর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত ৮১ কিলোমিটার দীর্ঘ নতুন ‘কর্ডলাইন’ বা বিকল্প পথ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবিত এই রেলপথের পুরোটাই হবে উড়াল (এলিভেটেড)। এটি বাস্তবায়ন হলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের রেলপথে দূরত্ব কমবে ৮০ কিলোমিটার এবং যাতায়াতের সময় কমবে দেড় থেকে দুই ঘণ্টা। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে জানাতে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান এ তথ্য জানান। লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমেও সাংবাদিকদের বিষয়টি অবহিত করা হয়।

জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৩ হাজার ৯০১ কোটি টাকা। জমি অধিগ্রহণের কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে চার বছর। তবে প্রস্তাবিত এই রেলপথটি পুরোপুরি উড়াল হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে রেলপথ মন্ত্রণালয় উড়াল রেলপথ নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। ৫ অক্টোবর এ–সংক্রান্ত প্রস্তাব মন্ত্রণালয়ে উপস্থাপন করা হয়।

তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, পুরো রেলপথ উড়াল কাঠামোয় নির্মিত হলে প্রায় ৩২২ একর জমি সাশ্রয় হবে। মাটির বাঁধ ও উড়াল কাঠামোর মিশ্রণে রেলপথটি তৈরি করা হলে ব্যয় হতো প্রায় ৭৩ হাজার ৫৭৭ কোটি টাকা। অন্যদিকে সম্পূর্ণ উড়ালপথ বেছে নেওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা।

প্রকল্পের কারিগরি দিক তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এই পথে ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক ট্রেন পরিচালনা করা সম্ভব হবে। ডাবল ট্র্যাকের ব্রডগেজ এই রেলপথ ২৫ টন ‘এক্সেল লোড’ বহনে সক্ষম হবে। এর নকশাগত সর্বোচ্চ গতি হবে ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার এবং পরিচালনগত সর্বোচ্চ গতি ধরা হয়েছে ঘণ্টায় ১৪০ কিলোমিটার।


নির্বাচিত

এলপি গ্যাসের অনিয়ম ঠেকাতে ডিসিদের কঠোর নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে এবং বাজার তদারকি করতে সারাদেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) কঠোর নির্দেশ দিয়েছে সরকার। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজির সিলিন্ডার বিক্রি করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে এলপিজির সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থার প্রতিটি ধাপের তথ্য সংগ্রহ করে অসংগতি শনাক্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে ডিসিদের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সচিবালয়ে সরকারের কার্যক্রম নিয়ে নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

উপদেষ্টা জানান, এলপিজির সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যালোচনায় জ্বালানি বিভাগ সব জেলা প্রশাসকের সঙ্গে অনলাইনে মতবিনিময় সভা করেছে। ওই সভায় বাজার তদারকি ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রত্যেক জেলা প্রশাসককে নিজ জেলার সব এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অপারেটর থেকে ফ্র্যাঞ্চাইজি, মাস্টার ফ্র্যাঞ্চাইজি, ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলার পর্যায়ে কত পরিমাণ এলপিজি সরবরাহ করা হয়েছে, সেই তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিস্তারিত পরিচয়ও সংগ্রহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

অবিলম্বে নিজ নিজ জেলার এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ও ডিলারদের সঙ্গে সভা করতে জেলা প্রশাসকদের বলা হয়েছে। সভায় জেলার সরবরাহ, বিতরণ ও বাজারজাতকরণের বাস্তব পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে হবে।

এ ছাড়া সরবরাহব্যবস্থার প্রতিটি ধাপ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এক পর্যায়ের তথ্যের সঙ্গে অন্য পর্যায়ের তথ্য মিলিয়ে দেখতে হবে। কোনো অপারেটর, ফ্র্যাঞ্চাইজি বা ডিস্ট্রিবিউটরের দেয়া তথ্যের সঙ্গে মাঠপর্যায়ে ডিলারদের পাওয়া এলপিজির পরিমাণে উল্লেখযোগ্য অমিল থাকলে তা আলাদাভাবে চিহ্নিত করতে হবে।

কোনো এলাকায় এলপিজির সরবরাহে অস্বাভাবিক ঘাটতি, সরবরাহব্যবস্থায় বিচ্যুতি কিংবা অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহের হিসাবে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে তা জ্বালানি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।

তথ্য উপদেষ্টা জানান, জেলা পর্যায় থেকে পাওয়া তথ্য সমন্বয় করে এলপিজি অপারেটর থেকে ডিলার পর্যায় পর্যন্ত সরবরাহব্যবস্থার একটি সমন্বিত তথ্যভান্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে এলপিজির সরবরাহ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং বাজারে অনিয়ম শনাক্ত করা আরো সহজ হবে।

তিনি আরও জানান, বাজারে এলপিজির সরবরাহ ও বিতরণব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বাড়ানো, নির্ধারিত দামে বিক্রি নিশ্চিত করা এবং সরবরাহে অস্বাভাবিক ঘাটতি বা অনিয়ম দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্যই এমন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার।


নির্বাচিত

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ে নতুন করে সংকট তৈরির আশঙ্কা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নিয়ে এমনিতেই চলছে নৈরাজ্য। ১২ কেজির একটি সিলিন্ডার কিনতে ক্রেতাদের নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত গুনতে হচ্ছে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। তবু ঠিক মতো মিলছে না এলপিজি সিলিন্ডার। এর মধ্যেই নিজেদের বিভিন্ন দাবি আদায়ে আগামী বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারাদেশে এলপিজি বিক্রি বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এতে নতুন করে সংকট তৈরির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, দাবি-দাওয়ার আড়ালে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে মুনাফা খুঁজছে এসব ব্যবসায়ীরা।

তাদের ভাষ্য, পরিবেশকদের কমিশন বৃদ্ধি, ব্যবসায়িক হয়রানি বন্ধসহ কিছু দাবির যৌক্তিকতা থাকতে পারে। কিন্তু সেই দাবিতে হঠাৎ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়াবে। বিশেষ করে রান্নার কাজে এলপিজির ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলোকে বিকল্প জ্বালানির ব্যবস্থা করতে গিয়ে বাড়তি খরচ ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হতে পারে।

ব্যবসায়ীদের এ সিদ্ধান্ত সাধারণ ভোক্তাকে জিম্মি করা উল্লেখ করে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘ব্যবসায়ীদের এ ঘোষণা লাখ লাখ ভোক্তাকে একধরনের জিম্মি করা। কারণ এটা এমন একটা বিষয়— যার সঙ্গে মানুষের প্রাত্যহিক জীবন ও বেঁচে থাকা যুক্ত। এভাবে দাবি আদায়ের জন্য দুদিন বন্ধ রাখা এবং সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ ধরনের সুযোগ কাউকে দেওয়া যাবে না। তাদের যৌক্তিক দাবি থাকলে তারা সরকারের সঙ্গে বসবে, কথা বলবে, স্মারকলিপি দেবে, দেন-দরবার করবে এবং আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করবে। কিন্তু হঠাৎ করে এভাবে সেবা বন্ধ করে দেওয়া সরাসরি মানুষের পেটে লাথি মারার সমান।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ সিদ্ধান্তের পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য আছে কি না, তাও অনুসন্ধান করা দরকার। বর্তমান সরকারকে বহু দিক থেকে অকার্যকর ও ব্যর্থ প্রমাণ করার নানা তৎপরতা আমরা দেখছি। এর পেছনে কোনো অন্তর্ঘাতমূলক তৎপরতা রয়েছে কি না; গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা উচিত।’

এ বিষয়ে কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, ‘এলপিজি গ্যাস একটি জরুরি সেবা। ১৮ কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবন এখন এর ওপর নির্ভরশীল। শহরের বস্তি থেকে শুরু করে গ্রামের ছোট চায়ের দোকান; সবখানেই সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করা হয়। ফলে ফায়ার সার্ভিস কিংবা বিদ্যুৎ বিভাগের মতো সংস্থাসমূহ যেমন চাইলেই ধর্মঘটে যেতে পারে না, এলপিজি পরিবেশকরাও তা পারেন না। লাইসেন্সের শর্ত লঙ্ঘন করে ধর্মঘট ডেকে পুরো দেশকে জিম্মি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার ২৫২ টাকা নতুন করে দাম নির্ধারণ করলেও ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না। তারা নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করছেন। এতে সরকার যেমন বিব্রত হচ্ছে, তেমনি সাধারণ মানুষও ভুক্তভোগী হচ্ছে। এখানে সরকারের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন। লাইসেন্সের শর্ত অমান্য করে যারা ধর্মঘট করছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মো. সেলিম খান এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সমিতির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর টানা দুই দিন সারাদেশে এলপি গ্যাসের দোকান বন্ধ থাকবে। দাবি পূরণ না হলে পরবর্তী সময়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।

ব্যবসায়ীদের দাবির মধ্যে রয়েছে পরিবেশকদের কমিশন বৃদ্ধি, কোম্পানিগুলোর ইচ্ছেমতো মাসে একাধিকবার দাম বাড়ানোর প্রবণতা বন্ধ, দাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিইআরসির নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা কোম্পানিগুলোর সিলিন্ডারে গ্যাস ভরার ব্যবস্থা চালু এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অযৌক্তিক জরিমানা আরোপ বন্ধ করা।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বর্তমান নির্ধারিত দামে এলপিজি বিক্রি করা কঠিন। এ কারণে প্রতি সিলিন্ডারে পরিবেশকদের কমিশন ৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করার দাবি জানিয়ে গত ৮ অক্টোবর বিইআরসিতে চিঠি দিয়েছেন তারা। তবে কমিশন বাড়ানোর দাবির সঙ্গে সাধারণ মানুষের জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ভোক্তারা।

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন আশিক রহমান। তিনি বলেন, বাজারে এমনিতেই সবকিছুর দাম বেশি। গ্যাস কিনতে গিয়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি টাকা দিতে হচ্ছে। এখন আবার দুই দিন বিক্রি বন্ধ রাখলে আমরা কোথা থেকে গ্যাস পাব? ব্যবসায়ীদের দাবি থাকতে পারে, কিন্তু তার জন্য সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলা কেন?

উত্তরার এক গৃহিণী বলেন, আমাদের বাসায় রান্নার জন্য এলপিজি ছাড়া বিকল্প নেই। সিলিন্ডারের গ্যাস শেষ হয়ে গেলে নতুন সিলিন্ডার কিনতেই হবে। আর ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধের ঘোষণা দিলেও, আদতে বন্ধ থাকবে না। বরং এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ কেউ আরও বেশি টাকা নেবে। এটাই হচ্ছে বাস্তবতা। সবকিছুর মূলে হচ্ছে মুনাফা। তিনি আরও বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ থাকলে দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হবে। ব্যবসায়ীদের সমস্যার সমাধান সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে হওয়া উচিত।

মিরপুরের বাসিন্দা মিজানুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্যবসায়ীদের কমিশন কম হলে তারা কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাবেন, প্রয়োজনে আলোচনায় বসবেন। কিন্তু বিক্রি বন্ধ করে দিলে ক্ষতিটা হবে সাধারণ মানুষের। আমরা তো দাম নির্ধারণ করি না, কমিশনও ঠিক করি না। তাহলে তাদের দাবির চাপ আমাদের ওপর কেন পড়বে?

এদিকে ভোক্তা-সংশ্লিষ্টদের মতে, জ্বালানির মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের বাজারে শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা জরুরি। ব্যবসায়ীদের ন্যায্য কমিশন, পরিবেশকদের ব্যয় ও বাজার পরিচালনার বাস্তবতা বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। একইসঙ্গে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা, নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রি ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার দায়িত্বও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এ ছাড়া ব্যবসায়ীদের দাবি নিয়ে বিইআরসি ও সরকারি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ রয়েছে। সেখানে সমাধান না হলে আইনসম্মত উপায়ে দাবি উত্থাপন করা যেতে পারে। কিন্তু সরবরাহ বন্ধের মতো কর্মসূচিতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হলে তার দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। এ ছাড়া বাজারে যখন নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে এলপিজি বিক্রির অভিযোগ রয়েছে, তখন বিক্রি বন্ধের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে কৃত্রিম সংকট কিংবা অতিরিক্ত দাম আদায়ের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


নির্বাচিত

মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের মানসিক অঙ্গীকার গুরুত্বপূর্ণ: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

চাঁদপুরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, মা ইলিশ রক্ষায় শুধু আইন প্রয়োগ, পুলিশ, কোস্টগার্ড মোতায়েন কিংবা সরকারি সহায়তা প্রদানই যথেষ্ট নয়- এ জন্য জেলেদের মানসিক অঙ্গীকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ) চাঁদপুর সদর উপজেলার পশ্চিম দাসাদি গ্রামের বড় খান বাড়ীর মাঠে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান- ২০২৬ উপলক্ষে নিবন্ধিত জেলেদের মধ্যে ভিজিএফের চাল বিতরণ ও সচেতনতামূলক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মা ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়তে পারলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে। আর প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ ধরা হলে আগামী বছর ইলিশের উৎপাদন ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মৎস্যজীবীদের উদ্দ্যশ্যে মন্ত্রী বলেন, “আপনারা সরাসরি ইলিশ ধরেন। তাই ইলিশের জীবনচক্র, প্রজনন ও সংরক্ষণের বিষয়ে অনেক ভালো জানেন। মা ইলিশ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে আগামী বছরও ইলিশ পাওয়া যাবে। তাই মা ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব আপনাদেরই সবচেয়ে বেশি।”

চাঁদপুরের ইলিশের অতীত ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী বলেন, একসময় এ অঞ্চলে প্রচুর ইলিশ পাওয়া যেত। ইলিশ পরিবহন ও সংরক্ষণের জন্য এখানে অনেক বরফকল ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ইলিশের প্রাপ্যতা কমে যাওয়ায় সেই কর্মচাঞ্চল্যও অনেকটা হারিয়ে গেছে। ইলিশের উৎপাদন ও প্রাপ্যতা বাড়াতে হলে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করতে হবে।

তিনি বলেন, সরকারি সহায়তা হিসেবে ২৫ কেজি চাল দেওয়া হলেও জেলেদের নিজেদের সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ ছাড়া ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়। “আপনি যদি মানসিকভাবে প্রস্তুত না হন যে মা ইলিশ ধরবেন না, তাহলে ২৫ কেজি কেন, ১০০ কেজি চাল দিলেও সমস্যার সমাধান হবে না,” বলেন তিনি।

জেলেদের আর্থিক সংকট ও বিকল্প কর্মসংস্থানের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মাছ ধরা বন্ধ থাকার সময়ে জেলেদের পরিবারকে সংসার চালাতে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। অনেককে ঋণ নিতে হয়, আবার ঋণের বোঝা তাদের জীবনকে আরও কঠিন করে তোলে। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে শুধু সাময়িক সহায়তার ওপর নির্ভর না করে জেলেদের জন্য টেকসই বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে সরকার চিন্তা করছে।

চাঁদপুরের ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য ও নদীকেন্দ্রিক জীবনযাত্রার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নদীর পানিকে সম্পদ হিসেবে ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে প্রচলিত পদ্ধতিতে পুকুরে মাছ চাষ সব সময় সহজ নয়। বর্ষায় পানি বেড়ে গেলে মাছ ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এ কারণে নদীতে খাঁচায় মাছ চাষসহ আধুনিক ও উপযোগী প্রযুক্তিনির্ভর বিকল্প কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা এবং ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সরকার ও জেলেদের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণ শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়- এটি জেলেদের নিজেদের ভবিষ্যৎ এবং পরবর্তী প্রজন্মের স্বার্থের সঙ্গেও জড়িত। ইলিশের প্রজননক্ষেত্র সুরক্ষিত রাখা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে, যার সুফল জেলে পরিবারসহ দেশের মৎস্য খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবাই ভোগ করবেন।

জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চাঁদপুর -৩ (সদর) এর সংসদ সদস্য শেখ ফরিদ আহমেদ, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মো: মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এ কে এম সেলিম উল্যা সেলিম। এসময় স্হানীয় মৎস্যজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে মন্ত্রী মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইলিশ আহরণ থেকে বিরত থাকা জেলেদের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করেন।


নির্বাচিত

গোডাউনে কোটি টাকার মালামাল, নিচে দাঁড়িয়ে উৎকণ্ঠায় ব্যবসায়ীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক

গোডাউনে কোটি টাকার মালামাল। অথচ ভেতরে কী অবস্থায় আছে, তা দেখারও সুযোগ নেই। আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে, কিন্তু কাটেনি ব্যবসায়ীদের দুশ্চিন্তা। কেউ হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ, কেউবা নিজের দোকানের মালামাল ফিরে পাওয়ার অপেক্ষায়।

আগুনে পুড়ে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা জানার উপায় নেই। কারণ, এখনো আগুন লাগা ভবনের ভেতরে প্রবেশ করতে পারছেন না তারা।

তাই নিচে দাঁড়িয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় সময় পার করছেন ব্যবসায়ী ও তাদের স্বজনরা।

রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারের মনসুর খান প্লাজায় অগ্নিকাণ্ডের পর এমন অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বিকেলে লাগা আগুন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভোর ৫টা ২০ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ভবনের ওপরের তলা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা গেছে। অন্যদিকে গোডাউন ও দোকানে থাকা মালামালের অবস্থা জানতে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, আগুন লাগা ভবনের নিচে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও তাদের স্বজনরা। সবার চোখেমুখে অনিশ্চয়তা। কারও গোডাউনে লাখ লাখ টাকার পণ্য, কারও দোকানে জমা ছিল দীর্ঘদিনের পুঁজি। কিন্তু ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় সেই মালামাল কতটা অক্ষত রয়েছে, তা কেউ নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না।

ভবনটির ছয়তলার ডান পাশে গোডাউন রয়েছে ব্যবসায়ী মো. রবিনের। সেখানে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ মজুত ছিল বলে জানান তিনি। আগুন ছয়তলায় লাগায় তার গোডাউনের মালামাল নিয়ে দুশ্চিন্তা আরও বেড়েছে।

রবিন বলেন, ভবনটি সাততলা। এর পাঁচ, ছয় ও সাততলায় কসমেটিকস পণ্য ও ব্যাগের গোডাউন রয়েছে। নিচের তলাগুলোতে ব্যাগ ও কসমেটিকসের দোকান। তাদের গোডাউন ছয়তলার ডান পাশে। আগুনও লেগেছে ছয়তলায়। ভেতরে প্রবেশ করা যাচ্ছে না, তাই মালামালের অবস্থা জানা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, গোডাউনে প্রায় ৪০ লাখ টাকার ব্যাগ ছিল। এখন যদি সব পুড়ে যায়, আমি সর্বস্বান্ত হয়ে যাব।

রবিনের ভাষ্য, পাঁচ ও ছয়তলায় গোডাউন থাকায় এসব তলায় সাধারণত কেউ থাকেন না। মালামাল নেওয়ার প্রয়োজন হলে ব্যবসায়ীরা সেখানে আসেন। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে নিচের দোকানের এক কর্মচারীর মাধ্যমে আগুন লাগার খবর পান তিনি। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত ভেতরে যেতে পারেননি।

রবিন জানান, পাঁচ, ছয় ও সাততলা মিলিয়ে ৫০টির বেশি গোডাউন রয়েছে। প্রতিটি গোডাউনে ২০ থেকে ৪০ লাখ টাকার মালামাল আছে। আগুন ছয় ও সাততলায় ছড়িয়ে পড়ায় এসব গোডাউনে থাকা পণ্য নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

ভবনটির চারতলায় কসমেটিকসের দোকান রয়েছে ব্যবসায়ী মো. আকাশের। তার দোকানে প্রায় ১৬ থেকে ২০ লাখ টাকার মালামাল ছিল। আগুন লাগার পরপরই কিছু মালামাল বের করতে পারলেও বাকি অংশ নিয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন তিনি।

আকাশ জানান, আগুন লাগার পরপরই দোকানের প্রায় অর্ধেক মালামাল বের করতে পেরেছেন। বাকি অর্ধেক পুড়ে গেছে। আগুনের ঘটনায় দোকানের মালামাল রক্ষা করতে গিয়ে তার ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে ভবনটির ছয়তলায় খোরশেদ আলমের ব্যাগের ব্যবসা রয়েছে বলে জানান আরিফ নামের এক ব্যক্তি। ওই তলায় আগুন লাগায় তারাও মালামালের অবস্থা নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সবার পরিস্থিতি এক নয়। ভবনটির দোতলায় ছাতার ব্যবসা রয়েছে জামাল হোসেনের। তিনি জানান, আগুনে তার কোনো ক্ষতি হয়নি।

জামাল হোসেনের ধারণা, ভবনের ওপরের দিকে কোনো দোকানের কর্মচারী বিড়ি বা সিগারেট খেয়ে উচ্ছিষ্ট ফেলে দিলে সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তার দাবি, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট বা অন্য কোনো কারণে আগুন লাগেনি। তবে আগুনের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

আগুন লাগা ভবনের অন্যান্য গোডাউনের মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ভেতরে প্রবেশ করতে না পারায় তারা এখনো ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুঝতে পারছেন না। গোডাউনে থাকা মালামাল আদৌ রক্ষা পেয়েছে কি না, তা জানার অপেক্ষায় রয়েছেন তারা।

দীর্ঘ সময় ধরে আগুন জ্বলতে থাকায় ছয় ও সাততলায় থাকা গোডাউনের মালামাল পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দুশ্চিন্তা, গোডাউনের দরজা খুলে ভেতরের অবস্থা দেখার আগপর্যন্ত ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়।

মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার পর নিরাপত্তার স্বার্থে আশপাশের আরও ১০ থেকে ১৫ ভবন বন্ধ করে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এসব ভবনে কসমেটিকসসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্যের অসংখ্য দোকান রয়েছে। ফলে আগুনের কারণে শুধু মনসুর খান প্লাজার ব্যবসায়ীরাই নন, আশপাশের ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

আগুন লাগা ভবনের পাশের একটি ভবনে কসমেটিকসের দোকান রয়েছে মোহাম্মদ সাইদুর রহমানের। তিনি বলেন, সোমবার বিকেল থেকে তাদের দোকান বন্ধ রয়েছে। এত দীর্ঘ সময় দোকান বন্ধ থাকায় তারা মারাত্মক ব্যবসায়িক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। সাইদুর রহমান বলেন, তারা চান দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হোক, যাতে আবার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

ফায়ার সার্ভিসের তথ্যানুযায়ী, সোমবার বিকেল ৫টা ৪ মিনিটে মনসুর খান প্লাজায় আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১০ ইউনিট কাজ করে। মঙ্গলবার ভোর ৫টা ২০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।


নির্বাচিত

রাঙামাটিতে পুলিশ বক্স উদ্বোধন, সিসিটিভির আওতায় লেক ভিউ গার্ডেন

রাঙামাটিতে সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নবনির্মিত পুলিশ বক্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 রাঙামাটি প্রতিনিধি

পর্যটন শহর রাঙামাটিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে শহরের লেক ভিউ গার্ডেন-সংলগ্ন এলাকায় আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে পুরো বাগানটিকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে। এর ফলে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অপরাধ দমন ও সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নবনির্মিত পুলিশ বক্সটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও হস্তান্তর কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। রাঙামাটি জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব এ কার্যক্রমে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমাসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধন শেষে পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে লেক ভিউ গার্ডেন অত্যন্ত পছন্দের একটি জায়গা। তবে বিভিন্ন সময়ে এখানে কিছু বখাটের উৎপাত নিয়ে পর্যটকেরা অভিযোগ করেছিলেন। তাঁদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। এরপর থেকে এ ধরনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এখানে পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হয়েছে। রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকেরা যাতে নিরাপদে ও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটাতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে লেক ভিউ গার্ডেন রাঙামাটির অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ স্থানটির নিরাপত্তা বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করে যাবে।’

রাঙামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ চাকমা বলেন, ‘আরএইচডি লেক ভিউ গার্ডেন ইতিমধ্যে পর্যটন স্পট হিসেবে সর্বসাধারণের কাছে স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানে বেড়াতে আসা অনেক পর্যটক বিভিন্ন সময়ে নিরাপত্তাহীনতা বোধ করতেন। এ ছাড়া বিভিন্ন সময় উচ্ছৃঙ্খল ব্যক্তিদের আনাগোনাও দেখা যেত। আমাদের অনুরোধে পুলিশ সুপার এখানে পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘পুলিশ সদস্যদের অবস্থান ও দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন একটি পুলিশ বক্স নির্মাণ করা হয়েছে। আজ এর হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে এখানে বেড়াতে আসা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে। পাশাপাশি পুরো বাগানটিকে সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনা হয়েছে।’

সবুজ চাকমা আরও বলেন, ‘উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। প্রতিবছরই আরএইচডি লেক ভিউ গার্ডেনকে মানুষের প্রশান্তি ও অবসর কাটানোর উপযুক্ত স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাব।’

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, আধুনিক পুলিশ বক্স স্থাপন, পুলিশি তৎপরতা বৃদ্ধি ও সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারির ফলে লেক ভিউ গার্ডেন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থার উন্নতি হবে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দেশ-বিদেশ থেকে আসা পর্যটকেরাও স্বাচ্ছন্দ্যে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।


নির্বাচিত

ফাইতোসাইন্স কোম্পানির উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী কক্সবাজার ভ্রমণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কোম্পানির নেটওয়ার্ক ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম বিস্তৃত করতে ফাইতোসাইন্স কোম্পানি গত ৮ থেকে ১০ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী কক্সবাজার ভ্রমণের আয়োজন করে।

এই ভ্রমণ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন- ফাইতোসাইন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর আব্দুর রউফ, ভাইস চেয়ারম্যান মো. কবির হোসেন, পরিচালক মীর ফরিদ তালুকদার, জিএম মো. আবু সালেক মজুমদার, চিফ মার্কেটিং এক্সিকিউটিভ মো. মাহমুদুল আলম, পান্না, ফরিদা, মামুন, খুশী, হান্নান, জেসমিন, জান্নাত, নাসির, হারুন, তৈয়ব, রিতা, যুথি ও অন্যরা।

ফাইতোসাইন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজে গতি বাড়াতে প্রায়ই কক্সবাজারসহ বিভিন্ন পর্যটন স্পটে বিশেষ ভ্রমণের আয়োজন করে প্রতিষ্ঠানটি।’


নির্বাচিত

banner close