শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সেই তন্ময় গ্রেপ্তার

থানা থেকে লুট করা অস্ত্র দিয়েই প্রেমিকাকে খুন

শিহাব আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত
শিহাব আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২২:২৫

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের প্রকাশ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে প্রেমিকা সাহিদা ইসলাম রাফাকে হত্যার পর ভোলার মনপুরা দ্বীপে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় (২৩)। সোমবার ভোরে ভোলার তারানগর ইউনিয়নের ইলিশঘাটে ঢাকা-মনপুরা রুটের লঞ্চ থেকে তন্ময়কে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পরে তার দেয়া তথ্যে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বটতলী বেইলি ব্রিজের নিচে পানি থেকে হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির সূত্রটি ওই যুবককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলটি ৫ আগস্ট রাজধানীর ওয়ারি থানা থেকে লুটকৃত। ইউটিউবে ভিডিও দেখে পিস্তল চালানো আয়ত্ত করে ওই যুবক। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়ে ম্যাগজিনে থাকা ৬ রাউন্ড গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবক।

তবে তন্ময় জানিয়েছে, তার ছোড়া একটি গুলি রাফার শরীরে লাগেনি।

ডিবির সূত্রটি জানায়, নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার (২৪) একাধিক সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ শেখ তন্ময়ের (২৩) সাথে দ্বন্দ্ব ছিল। ঘটনার আগের দিন রাতে (২৯ নভেম্বর, শুক্রবার) সাহিদাকে ফোন করে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হতে বলেন তৌহিদ। পরে লোকাল বাসে করে দুজনেই চলে আসেন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটে। রাতভর সেখানে ঘোরাঘুরির পর গত শনিবার ভোরে খানবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় আসেন তারা। সেখানে প্রেমিকা সাহিদা নিজেকে গর্ভবতী দাবি করে প্রেমিক তৌহিদকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। আশপাশের লোকজন তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসতে থাকলে তৌহিদ ওই নারীকে নিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্ভিস লেন ধরে পদ্মা সেতু উত্তর টোল প্লাজা থেকে ২০০ মিটার অদূরে দোগাছি ফুটওভার ব্রিজ পার করে। পথে কয়েক দফায় সাহিদাকে চড়থাপ্পড় মারে তৌহিদ। একপর্যায়ে আর রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাথে থাকা থানা থেকে লুটকৃত পিস্তল দিয়ে প্রথমে এক রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরপরই আরও ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেগুলো সাহিদার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্ধ হয়। মুহুর্তেই সড়কে উপুড় হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় সাহিদার। রক্তাক্ত প্রেমিকার লাশ ফেলে পেছন দিকে দৌড়ে পালায় তৌহিদ। এরপর খানবাড়ি এলাকায় গিয়ে লোকাল বাসে চড়ে রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, মাঝপথে পিস্তলটি ফেলে দেয় কেরাণীগঞ্জ বেইলি ব্রিজের নিচে। ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করে তৌহিদ। একপর্যায়ে আঁটিবাজার এলাকায় নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে ওঠে সে। ওই বাড়িতে বোন জামাই, বোন ও তৌহিদের মা লঞ্চে করে মনপুরা দ্বীপে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয় তৌহিদকে। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় ওই ৩ জন সদরঘাট গিয়ে পৌঁছে দেয় তাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-ভোলা-মনপুরা রুটের লঞ্চে উঠে পড়ে তৌহিদ।

এদিকে সাহিদা হত্যার বিষয়টি সারা দেশে আলোড়ন তৈরি করলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে ডিবি। তৌহিদকে প্রধান সন্দেহভাজন চিহ্নিত করে তার মোবাইল নাম্বারের সর্বশেষ লোকেশন নিশ্চিত হয় তারা। তখন দেখা যায়, তৌহিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি শুক্রবার রাতে সবশেষ ঢাকার ওয়ারি এলাকায় চালু ছিল। এরপর থেকে সেটি বন্ধ আছে। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে তাহলে ডিবির সন্দেহ কি ভুল! এরইমাঝে আরেকটি সূত্র খুঁজে পায় ডিবি। তৌহিদের মোবাইল কলের সূত্র ধরে উদঘাটন হয় পরিবারের সকল সদস্যের নম্বর।

রোববার ডিবির দলটি যখন ঢাকার আঁটিবাজারে তৌহিদের বোনের বাড়িতে অভিযানে যায় তখন তারা একসাথে তৌহিদের মা, বোন ও বোন জামাইয়ের মোবাইলের লোকেশন সদরঘাটে দেখতে পায়। এরপরে অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করে ডিবি। চৌকস টিমটি ছুটে যায় সদরঘাটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় তৌহিদের লঞ্চে উঠার দৃশ্য শনাক্ত করে তারা।

গ্রেপ্তারের পর ডিবির কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তন্ময় জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশলের অংশ হিসাবে মাওয়া আসার আগে ঢাকার ওয়ারিতে থাকতেই মোবাইলটি বন্ধ করে দেয় সে। যাতে হত্যার পর লুকালেও পুলিশ কোন ক্লু বের করতে না পারে।

এদিকে, সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের ৫ সদস্যের ওই টিমটি অবস্থান নেয় ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। টার্গেট করা লঞ্চে অনুসন্ধানে ডিবির হাতে ধরা পড়ে তৌহিদ।

এর আগে গত রোববার সকালে নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার মা জরিনা খাতুন শ্রীনগর থানায় প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে প্রধান অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর রাতে ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ি এলাকায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় সাহিদার। আলোচিত এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের খোঁজে মাঠে নামে ডিবি।

নিহত সাহিদা রাজধানী ঢাকার ওয়ারিতে পরিবারের সাথে থাকতেন ও নারিন্দা এলাকার বলধা গার্ডেন সংলগ্ন জনৈক কামাল মিয়ার বাড়িতে দেখাশোনার (ডে-কেয়ার) কাজ করতেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের মৃত মো. মোতালেবের মেয়ে তিনি। তারা ২ ভাই ও ৩ বোন। তাছাড়া ৭-৮ বছর আগে সাহিদার একটি বিয়েও হয়েছিলো। পরে সেই সম্পর্ক টিকেনি। গ্রেপ্তারকৃত তৌহিদ শেখ তন্ময় রাজধানী ঢাকার ওয়ারী থানার মৃত শফিক শাহের পুত্র।

এদিকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, দায়েরকৃত মামলায় উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।


নির্বাচিত

নারায়ণগঞ্জে কোস্ট গার্ডের অভিযানে ভারতীয় পণ্য জব্দ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জে কোস্ট গার্ডের অভিযানে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য জব্দ করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থানাধীন এস এইচ এস ফিলিং স্টেশনসংলগ্ন এলাকায় গত বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১১টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন পাগলা কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক একটি কাভার্ড ভ্যান তল্লাশি করে প্রায় ৪ কোটি ৮৮ লাখ ৮৯ হাজার ৫০০ টাকা মূল্যের অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ১২৯৭ পিস ভারতীয় শাড়ি, ২৭৩ পিস ভারতীয় ব্লাংকেট ও বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনীসহ কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়। এ সময় চালক ও হেলপারের মুচলেকা নিয়ে কাভার্ড ভ্যানসহ ছেড়ে দেওয়া হয়।

জব্দকৃত সকল আলামতের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কোতোয়ালি ডিভিশন সিদ্দিকবাজার কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এর নিকট হস্তান্তর করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।’


নির্বাচিত

মাগুরায় ফুটবল টুর্নামেন্টে পৌরসভা চ্যাম্পিয়ন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

গ্যালারি ভর্তি হাজার হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে মাগুরা জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর ফাইনালে মহম্মদপুর উপজেলা একাদশকে ২-১ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মাগুরা পৌরসভা একাদশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেলে মাগুরা জেলা স্টেডিয়ামে দীর্ঘদিন পর গ্যালারিতে প্রায় ৭ হাজার দর্শক টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলা উপভোগ করেছে।

জেলা প্রশাসক ও জেলা ক্রীড়া সংস্থার সভাপতি মোতাকাব্বীর আহমেদের সভাপতিত্বে ফাইনাল খেলার উদ্বোধন করেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান।

ফাইনাল খেলার প্রথমার্ধে মাগুরা পৌরসভা একাদশের পক্ষে সিফাত ও বাপ্পি একটি করে দুটি গোল করেন। অন্যদিকে মহম্মদপুর উপজেলা একাদশের পক্ষে একমাত্র গোলটি করেন তারিকুল। ফাইনাল ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয় চ্যাম্পিয়ন দলের শাহরিয়ার বাপ্পি।

খেলা শেষে চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের হাতে পুরস্কার তুলে দেন বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন। মাগুরা জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ, পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আব্দুল কাদের, পৌর প্রশাসক আরিফুল ইসলাম সরদার, ক্রিড়া সংস্থার সদস্য সচিব রুবায়েত হোসেন খানসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল্লাহ হারুন বলেন, ‘বর্তমান সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে তৃণমূল পর্যায় থেকে প্রতিভাবান খেলোয়াড় বাছাই এবং জাতীয় পর্যায়ের খেলোয়াড় গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছে। এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে।’

টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলাকে ঘিরে জেলা স্টেডিয়ামে সংস্কৃতিক পরিবেশনা উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে দর্শকদের মাঝে ১৫টি ফুটবল পুরস্কার দেওয়া হয়।


নির্বাচিত

চা পাতায় কোটি টাকার শিল্প, শ্রমিকের মজুরি ১৭৮ টাকা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

ভোরের কুয়াশা চিরে যখন পাহাড়ি টিলার বুক চিরে আলো ফোটে, তখন হাতছানি দেয় চিরহরিৎ এক মায়াবী রূপ। পিঠে ঝুড়ি আর আঙুলের নিখুঁত টানে ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’ তোলার দৃশ্য দেখে পর্যটকের ক্যামেরার ফ্রেম হয়তো মোহগ্রস্ত হয়; কিন্তু সেই সবুজের গহীন আড়ালে লুকিয়ে থাকে শতবর্ষের নীরব দীর্ঘশ্বাস আর বঞ্চনার নির্মম এক বাস্তবতা।

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ী, চাম্পারায়, পাত্রখোলা কিংবা মাধবপুর—সব বাগানের চিত্রনাট্য প্রায় একই সূত্রে গাঁথা। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বিরতিহীন শ্রম, রোদ-বৃষ্টি-কাদার সাথে লড়াই। অথচ দিনশেষে হাতে ওঠে মাত্র ১৭৮ টাকার নামমাত্র মজুরি। নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির এই যুগে ১৭৮ টাকায় একবেলার সদা মেটানোই যেখানে অসম্ভব, সেখানে পুরো পরিবারের অন্নসংস্থান চা শ্রমিকদের কাছে যেন এক অলৌকিক টিকে থাকার লড়াই।

দুপুরের চড়া রোদে যখন শরীর নুয়ে পড়ে, তখন বাগানের ছায়ায় বসে শ্রমিকদের আহারের চিত্রটি দেশের চা-শিল্পের আসল কঙ্কালসার রূপটি উন্মোচন করে। কারো পলিথিনের পুটুলিতে পান্তা ভাত, কারো মোটা আটার শুকনো রুটি। তরকারি কেনা যেখানে বিলাসিতা, সেখানে ভাতের সঙ্গী হয় চা-গাছের কচি পাতা বেটে তৈরি ঝাল মিশ্রণনস্থানীয় ভাষায় যা ‘পাতিচখা’ বা পাতা চাটনি। কচি চা পাতা, পোড়া আলু, কাঁচামরিচ ও পেঁয়াজের সাথে সামান্য চানাচুর মিশিয়ে ক্ষুধা নিবারণ করেন তারা।

শ্রমিক গীতা মাদ্রাজী বলছিলেন, ডাল-তরকারি তো দূরের স্বপ্ন, চাল জোগাড় করতেই প্রাণ যায়। রুটির সাথে গাছের পাতা আর মরিচ চটকে পেট ভরিয়ে আবার কাজে নামি। এই আমাদের জীবন।

কমলগঞ্জের ২২টি বাগানের আধুনিক চা-শিল্প দাঁড়িয়ে আছে মূলত এই শ্রমিকদের হাড়ভাঙা খাটুনির ওপর। অথচ মান্ধাতা আমলের বসতবাড়ি, ভঙ্গুর স্যানিটেশন আর নামমাত্র চিকিৎসা নিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই মাটির বুকেই আবদ্ধ হয়ে আছেন তারা।

এ বিষয়ে বাগান ব্যবস্থাপকরা শ্রমিকদের কঠোর জীবনের কথা স্বীকার করেন।

চাম্পারায় চা বাগানের ব্যবস্থাপক রাহেল রানা জানান, শ্রমিকদের জীবনযাত্রা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য এবং তাদের মানোন্নয়নে কাজ চলমান রয়েছে।

কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সন্দ্বীপ তালুকদার জানান, স্থানীয় প্রশাসন সবসময় শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং অসুস্থতাসহ জরুরি প্রয়োজনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়।

পর্যটকদের কাছে যা চোখজুড়ানো সবুজ স্বর্গ, চা শ্রমিকদের কাছে তা ঘাম আর বঞ্চনার এক অদৃশ্য খাঁচা। ‘দুটি পাতা একটি কুঁড়ি’র অর্থনীতি চাঙা থাকলেও ১৭৮ টাকার মজুরিতে আজও বদলায়নি তাদের নুন-ভাতের ভাগ্য।


নির্বাচিত

বেরোবিতে শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণকাজের উদ্বোধন

বেরোবিতে শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণকাজের উদ্বোধন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে শহীদ আবু সাঈদ গেটের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেছেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, আবু সাঈদ গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিকৃতি। তার আত্মদানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন টার্নিং পয়েন্টে পৌঁছেছিল। আবু সাঈদের পাশাপাশি সারা দেশে প্রায় এক হাজার ৪০০ জন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ আত্মদান করেছেন। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ স্বৈরশাসনের পতন হয়েছে। রংপুরের সন্তান আবু সাঈদের জন্য এ অঞ্চলের মানুষ গর্ববোধ করেন।

দুলু বলেন, আবু সাঈদের স্মৃতি ধরে রাখতে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রবেশমুখে আবু সাঈদ গেট নির্মাণের উদ্যোগ একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। ভবিষ্যতে এই পথ দিয়ে চলাচলকারী মানুষ গেটটি দেখে তার আত্মত্যাগের কথা জানতে পারবেন। জুলাইয়ে আত্মদানকারীদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে বর্তমান সরকার একটি মানবিক, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কাজ করছে।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বেরোবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলীর সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মধুপুরে ১০ মিনিটের ঝড়ে লণ্ডভণ্ড হাজার বিঘার কলা-পেঁপে বাগান

টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে আকস্মিক এই ঝড়ো হাওয়া ও ঘূর্ণিঝড়ে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসল কলা আর পেঁপে বাগান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টাঙ্গাইল ও মধুপুর প্রতিনিধি

মাত্র ১০ মিনিটের তাণ্ডব! আর তাতেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেল কয়েক হাজার বিঘা জমির শত শত কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল কলা আর পেঁপে বাগান। টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি অঞ্চলে হঠাৎ এক আকস্মিক ঝড়ো হাওয়া ও ঘূর্ণিঝড় আঘাত হেনেছে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে। তাতেই ঝড়ের তীব্র বাতাসে মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে বিঘার পর বিঘা কলা ও পেঁপের বাগান।

কৃষি বিভাগ বলছে, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় সংসদ সদস্য ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় সফরে থাকায় তার পক্ষে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকারসহ বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের সাথে দেখা করে তাদের সাথে কথা বলেছে।

সরেজমিনে শোলাকুড়ি ইউনিয়নের জয়না গাছা, হরিনধরা, গাবগাইছাসহ বিভিন্ন গ্রামে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, মধুপুর উপজেলার শোলাকুড়ি, অরণখোলা, ফুলবাগচালা ও কুড়াগাছা ইউনিয়নের প্রায় ৬০টি গ্রামে এভাবেই ১০ মিনিটের আকস্মিক ঝড়ে কলার বাগান বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। হঠাৎ তীব্র ঝড়ে প্রায় ৭০০ কৃষকের অতি কষ্টে চাষ করা কলা ও পেঁপের বাগান ধ্বংস হয়ে গেছে। ধারদেনা করে আবাদ করা ফসলের ক্ষতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে কৃষকরা।

স্থানীয়রা জানান, ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ফলন্ত কলাগাছগুলোর মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও বা পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। চাষিরা এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে মধুপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাকির হোসেন সরকার বলেন, ‘ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে থাকার কারণে তিনি আসতে পারেনি।’ তাকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে সভাপতি জাকির হোসেন সরকার তার দলের নেতা-কর্মীদের নিয়ে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিদর্শন করেন।

জাকির হোসেন সরকার আরও বলেন, ‘কয়েকটি ইউনিয়নে হঠাৎ কয়েক মিনিটের ঝড়ে অনেক ক্ষতি হয়েছে।’ এ সময় তিনি কৃষকদের সাথে কথা বলে তাদের সমবেদনা জানান।

শোলাকুড়ি ইউপি সদস্য খোকন মিয়া (৫০) জানান, প্রচুর পরিমাণে কৃষকের ক্ষতি হয়েছে। কোনো জমিতেই খাড়া গাছ নাই। কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

হরিণধরা গ্রামের কৃষক নূর মুহাম্মদ (৪৫) জানান, পেঁপে দুই বিঘা, লাউ পাঁচ বিঘা জমির ফসল একেবারে নষ্ট হয়েছে। তার অনেক টাকার ক্ষতি হয়েছে।

গাবগাইছা গ্রামের কৃষক আবেদ আলী (৫৮) জানান, তার ১৭০০ কলাগাছ ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে মাটিতে পড়ে গেছে। তার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮ লাখ টাকার মতো হবে বলে জানান এই কৃষক।

একই গ্রামের কৃষক জিয়াউল হক (৪৮) বলেন, ‘তার ৫০ বিঘা জমির কলাসহ গাছ ভেঙে গেছে।’ হঠাৎ ঝড়ে এমন ক্ষতি তিনি দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তার পেঁপে-কলা নিয়ে প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি মনে করছেন।

আরেক কৃষক আব্দুস ছাত্তার (৩৫) জানান, তার ৭ হাজার কলাগাছ, ৩ হাজার পেঁপে বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) ঝড়ে একদম ভেঙে পড়েছে। তার ক্ষতির পরিমাণ ধারণা করছে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার মতো।

শুধু নূর মোহাম্মদ, আব্দুস ছাত্তার, জিয়াউল হকই নয়, ছোট-বড় প্রায় ৭ কৃষকের আবাদি কলা-পেঁপে ঝড়ে নষ্ট হয়েছে।

কৃষকরা তাদের ধারদেনা ঋণ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। কী দিয়ে এবার ঋণ পরিশোধ করবে?

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলছে, কলাচাষিদের কাছে এই ক্ষতি শুধু কিছু গাছের মৃত্যু নয়, এর সাথে মিশে ছিল তাদের পুরো পরিবারের বেঁচে থাকার স্বপ্ন ও ধারদেনার হিসাব। ধারদেনা ও চড়া সুদে ঋণ নিয়ে করা এই চাষ মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় হাজারো কৃষক। ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের দাবি, সরকারিভাবে দ্রুত সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা হলে, এই বিপুল ক্ষতি কাটিয়ে আবার ঘুরে দাঁড়ানো তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়বে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এবিএম খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘বৃহস্পতিবার থেকে কৃষি বিভাগ ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে যাচ্ছে। কৃষকের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরুপণ করতে কাজ করে যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মধুপুরে প্রায় ১০০ কোটি টাকার কৃষি ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মমতাজ বেগম বলছে, এ ঝড়ে ৭০০ কৃষকের কলা-পেঁপেসহ অন্যান্য ফসলের ক্ষতি হয়েছে। কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে সরকারি সহযোগিতা পেলে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

এমন ক্ষতিতে সার-বীজ ও পরিচর্যা করতে গিয়ে তাদের ধারদেনা ব্যাংক ঋণ নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে। তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সুদমুক্ত ঋণ ও সরকারি সহযোগিতা চান কৃষকরা।


নির্বাচিত

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর দাফন মিরপুরে, জানাজা হবে বনানীতে

ছবি: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জানাজা ও দাফনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং এরপর মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে তাঁকে সমাহিত করা হবে।

লন্ডন থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ প্রথমে তাঁর বাসভবনে নেওয়া হবে, যেখানে পরিবারের সদস্য ও স্বজনেরা তাঁকে শেষ বিদায় জানাবেন।

পরবর্তীতে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত মরদেহ বনানীর ওল্ড ডিওএইচএস খেলার মাঠে রাখা হবে। বিকেল ৩টায় সেখানেই তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে এবং জানাজা শেষে বিকেল ৫টায় মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) পূর্ব লন্ডনের ব্রিকলেইন মসজিদে তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটি ও সাবেক সহকর্মীরা অংশ নেন। জানাজা শেষে পরিবার ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তাঁর ছেলে রাদ শারার খালিদী জানান, তাঁর বাবা সাংবাদিকতায় সবসময় সততা, সততা ও বস্তুনিষ্ঠতার নীতি বজায় রেখে চলতেন এবং পেশাগত জীবনে নানান প্রতিকূলতার মুখোমুখি হলেও আদর্শের সঙ্গে কখনো আপস করেননি।

উল্লেখ্য, ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে অবস্থানকালে গত ১ অক্টোবর রাতে তৌফিক ইমরোজ খালিদী হঠাৎ মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হন। দ্রুত লন্ডনের সেন্ট বার্থোলোমিউস হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২ অক্টোবর দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।


নির্বাচিত

দেশের ৩৪ জেলায় যাচ্ছে সমেশপুরের সবজির চারা

* এ বছর ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ্য
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুরে চারা উৎপাদনকারীদের বীজতলা । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

ময়নামতি রানীর বাংলো পেরোলেই চোখে পড়ে চারা উৎপাদনকারীদের কর্মব্যস্ততা। কাকডাকা ভোর থেকে শুরু হয় বীজতলা তৈরি, চারার পরিচর্যা, পানি দেওয়া ও বিক্রির কাজ। দুপুরে কিছুটা বিরতি থাকলেও বিকেল গড়াতেই আবার শুরু হয় ব্যস্ততা। শীতের আগমুহূর্তে চারা বিক্রির মৌসুম জমে ওঠায় এখন দিন-রাতের বেশির ভাগ সময়ই মাঠে কাটছে কৃষকদের।

এমন দৃশ্য কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার সমেশপুরের। এ গ্রামের সবজির চারা এখন যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ছয় দশকের বেশি সময় ধরে এ এলাকায় চলে আসছে সবজির চারা উৎপাদন। চলতি মৌসুমে প্রায় ১৫ থেকে ২০ একর জমিতে উৎপাদিত চারা বিক্রি করে ৫০ কোটি টাকার বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছেন চাষিরা। তবে সম্ভাবনাময় এ খাতে সেচ সংকট, বর্ষায় জলাবদ্ধতা, মানসম্মত বীজ ও মাটি পরীক্ষার সুযোগের অভাবসহ নানা সমস্যায় ভুগছেন তারা।

এই জনপদে উৎপাদিত হচ্ছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, বেগুন, মরিচ, শিম, লাউ, কুমড়া ও ব্রকলিসহ অন্তত ২৩ ধরনের সবজির চারা। এক দফা চারা বিক্রি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় নতুন করে বীজ বপনের প্রস্তুতি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, মাঠজুড়ে কেউ চারায় পানি দিচ্ছেন, কেউ চারা তুলছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ক্রেতাদের সঙ্গে দরদামে। দূরদূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের গাড়িতে চারা তুলে দিচ্ছেন চাষিরা। পলিথিনে ঢাকা ছোট ছোট তাবুর ভেতর মাচার ওপর সারিবদ্ধ ট্রেতে কোকোপিটে বেড়ে উঠছে নানা জাতের সবজির চারা।

চারা উৎপাদনকারী আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘১৯৬৬ সাল থেকে সমেশপুরে সবজির চারা উৎপাদন হয়ে আসছে। এখানকার চারা দেশের অন্তত ৩৪টি জেলায় যায়। গ্রামের প্রায় দেড়শ পরিবার চারা উৎপাদন ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত।’

আরেক চারা উৎপাদনকারী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘চলতি মৌসুমে অন্তত ৫০ কোটি টাকার চারা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চারা উৎপাদন ও বিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।’

চাষি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘বুড়িচংয়ে ধানের পর চারা উৎপাদন থেকেই কৃষকদের অন্যতম বেশি আয় হয়। কিন্তু কৃষি অফিস থেকে তারা তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা পান না। বিশেষ করে ভালো বীজ ও মাটি নিয়ে গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।’ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাওয়া গেলে চারা উৎপাদন আরও বিস্তৃত করা সম্ভব বলে জানান তিনি।

চাষিরা জানান, এখন চারা বিক্রির মূল মৌসুম। অথচ এ সময়েই দেখা দিয়েছে সেচের সংকট। আবার বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয় চারা উৎপাদন। মানসম্মত বীজ ও সার সংগ্রহের পাশাপাশি মাটি পরীক্ষা নিয়েও রয়েছে নানা জটিলতা। এসব সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগের কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা না পাওয়ার অভিযোগও তাদের।

সমেশপুরের কৃষকদের সমস্যাগুলো শুনেছেন জানিয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোছা. আফরিন আক্তার বলেন, ‘চারা উৎপাদনকারীদের সমস্যাগুলো ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।’ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও আশ্বাস দেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, বুড়িচং উপজেলায় ধানের পর কৃষকদের আয়ের অন্যতম বড় উৎস সবজির চারা উৎপাদন ও বিক্রি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে সমেশপুরের চারা উৎপাদন আরও সম্প্রসারিত হবে। এতে কৃষকদের আয় বাড়ার পাশাপাশি দেশের সবজি উৎপাদনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এ জনপদ।


নির্বাচিত

সীমান্ত সুরক্ষায় বান্দরবানে বিজিবির নতুন টিওবি উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে বিজিবির নজরদারি ও অপারেশনাল সক্ষমতা আরও জোরদারের লক্ষ্যে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় নবনির্মিত ‘ছোট আগলা টিওবি’ উদ্বোধন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী সামশের উদ্দীন নবনির্মিত এ টিওবিটির উদ্বোধন করেন।

বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়ন ও রামু সেক্টরের অধীনস্থ রামু ব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ছোট আগলা এলাকায় এই টিওবি’র নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। সীমান্তের নিকটবর্তী এ স্থাপনা থেকে চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ, সীমান্তে কার্যকর নজরদারি এবং অন্যান্য আভিযানিক কার্যক্রম আরও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

উদ্বোধনকালে রিজিয়ন কমান্ডার টিওবি’র দায়িত্বপ্রাপ্ত বিজিবি সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে বিজিবি রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মো. আনোয়ার-উল-আলম, কক্সবাজার রিজিওনের পরিচালক (অপারেশন) লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মফিজুর রহমান ভূঁইয়া, রামু বব্যাটালিয়ন (৩০ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইমরুল কায়েস মেহেদী, সহকারী পরিচালক মো. কবির হোসেন এবং বিজিবির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, সীমান্ত থেকে বিদ্যমান বিওপিগুলোর দূরত্বের কারণে এ এলাকায় নজরদারি ও আভিযানিক কার্যক্রম পরিচালনায় কিছুটা চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন টিওবি স্থাপনের ফলে সীমান্তে বিজিবির উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং দ্রুত প্রতিক্রিয়া সক্ষমতা আরও জোরদার হবে। পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা ও আস্থাও বৃদ্ধি পাবে।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পূর্ব অষ্টগ্রাম পীর সাহেব বাড়ি জামে মসজিদ, মাদ্রাসা ও খানকা শরীফের তিনতলা নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) জুমার নামাজের পর ওই মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়। ​এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অত্র দরবার শরীফের গদিনশীন পীর আলহাজ ফজলুল করিম উপস্থিত থেকে দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর সুখ, শান্তি এবং সার্বিক মঙ্গল কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। ​

ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পবিত্র আল-কোরআনের কাব্য অনুবাদকারী আলহাজ মোহাম্মদ তৈয়ব আলী ও আলহাজ শাফিউদ্দিন সরদার।

​এ সময় এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, স্থানীয় মুরুব্বি এবং ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কিশোরগঞ্জে ইটভাটার দেয়াল ধসে ২ শ্রমিক নিহত, আহত ২

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে ইটভাটার দেয়াল ধসে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও দুই শ্রমিক। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার চরপুমদী ইউনিয়নের রামপুর এলাকায় মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্সের ইটভাটায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শ্রমিকরা হলেন, দক্ষিণ চরপুমদী এলাকার মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান উৎপল (২৭) এবং একই গ্রামের মৃত ছফির উদ্দিনের ছেলে গোলাপ মিয়া (৬০)। তারা দুজনই ওই ইটভাটায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রামপুর এলাকায় অবস্থিত মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্সের ইটভাটায় কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছিলেন। কাজের একপর্যায়ে ইটের দেয়াল ধসে শ্রমিকদের ওপর পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত অপর দুই শ্রমিককে উদ্ধার করে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, ইটভাটাটিতে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটলেও কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তাঁদের দাবি, পরিবেশ অধিদপ্তর এর আগে ইটভাটাটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেছিল। এরপরও পাশের একটি বাড়ি থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে ইটভাটাটির কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

হোসেনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. মোমিন ভূঁইয়া জানান, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া মেসার্স মায়ের দোয়া ব্রিকস পরিচালনার দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ছয় লাখ টাকা জরিমানা করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। তার জানা মতে, সেখানে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার কথা নয়।


নির্বাচিত

খুলনায় জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও মতবিনিময় সভা

খুলনা জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও মতবিনিময় সভা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই ও মতবিনিময় সভা গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে নগর ভবনের শহিদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ও নগর পরিকল্পনা বিভাগের শিক্ষকসহ কেসিসি ও কেডিএ’র কর্মকর্তা এবং নাগরিক নেতারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা সিটি করপোরেশন ও খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিন যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে। সভায় জিয়া হল কমপ্লেক্সে কী ধরনের সুযোগ-সুবিধা রাখা হবে সে বিষয়ে উপস্থিত সকলের মতামত গ্রহণ করা হয় এবং মতামতের ভিত্তিতে জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়ন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।

সভায় কেসিসি প্রশাসক জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশায় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের দাবির বিষয় তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, ‘একটি আধুনিক সিনেপ্লেক্স, আধুনিক লাইব্রেরি ও টপ ফোরে ফুডকোর্ট রাখার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের দাবি রয়েছে। সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে সম্পৃক্ত বিশিষ্টজনরা আর্ট এক্সিবিশন আয়োজনের জন্য একটি আর্ট গ্যালারি, নৃত্যকলার জন্য একটি স্পেস, ওপেন নাট্যমঞ্চ রাখারও দাবি জানিয়েছেন। সবকিছুর সম্মেলন ঘটিয়ে একটি নান্দনিক স্থাপন্য নির্মাণ করাই আমাদের লক্ষ্য।’ শিববাড়ি মোড়কে নগরীর কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নাগরিকদের চাহিদা ও রুচিবোধের সাথে সমন্বয় রেখে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই চত্বরের ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিকল্পনায় রেখে জিয়া হল কমপ্লেক্সের নকশা প্রণয়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. খোন্দকার মাহফুজ উদ দারাইন, সহযোগী অধ্যাপক এস এম নাজিমউদ্দীন কেসিসির সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, কেডিএ’র প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. সাবিরুল আলম, কেসিসির প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতানা বুশরা, প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা আবির উল জব্বার, সিসভাসের স্বত্বাধিকারী এস এম নাজিমুদ্দিন পায়েল, রূপান্তরের নির্বাহী পরিচালক স্বপন গুহ, নাগরিক ফোরামের মহাসচিব এস এম ইকবাল হাসান তুহিন, নাগরিক নেতা শেখ আশরাফ উজ্জামান, বৃহত্তর আমরা খুলনাবাসীর সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান খোকন, নারী উদ্যোক্তা শামীমা সুলতানা শিলু উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে উপস্থিত সকলে জিয়া হল কমপ্লেক্স নির্মাণের স্থান সরেজমিন পরিদর্শন করেন।


নির্বাচিত

রানীনগরে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ব্যাংকের ৩ কর্মী জড়িত

* জুয়ায় হেরে ব্যাংকের টাকা ছিনতাইয়ের নাটক, গ্রেপ্তার-৬
নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সবুজ হোসেন, নওগাঁ

নওগাঁর রানীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের কর্মকর্তাদের মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ১লাখ ৪২ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল এবং ৭টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ৬-৮ অক্টোবর নওগাঁ, জয়পুরহাট দিনাজপুরে অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বিশিয়া গ্রামের আব্দুল জব্বারের ছেলে স্বপন(২৮) একই গ্রামের ওয়াজেদের ছেলে হাসান আলী (২৫), ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই কর্মকর্তা অলংকার দিঘি গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে সুজন (২৭) ও সিমলাদার গ্রামের আব্দুল ওহাবের ছেলে আবু তালেব (২২), এজেন্ট ব্যাংকের অফিস সহায়ক অলংকার দিঘি গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে রাসেল বাবু (২২) এবং মোটরসাইকেল মালিক রাব্বি আলী।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, গত ০৬ অক্টোবর দুপুরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই কর্মচারী ক্যাশিয়ার এবং অফিস সহায়ক আদিমদিঘী রেল গেট হতে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে তার মালিক ফিরোজ হোসেনের আবাদপুকুর বাজার শাখার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে রওনা দেয়। বেলা ১টার দিকে রানীনগর থানার পারইল বাজার পার হয়ে বাংলালিংক টাওয়ারের সামনে পৌছালে পিছন থেকে একটা মোটরসাইকেল তাদের পথ রোধ করে এবং লোহার স্টিক দিয়ে মারধর করে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কয়েকটি চৌকস টিম গঠন করা হয়। ওইদিন রাত ১১টার দিকে জেলা গোয়েন্দা শাখার চৌকস টীম ও রানীনগর থানার বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত, তথ্য প্রযুক্তি বিশ্লেষণ করে ঘটনার প্রাথমিক ক্ল্যু উদঘাটন করতে সক্ষম হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে দুই জন আসামি সনাক্ত করে। ঐ দিন রাতেই জেলা গোয়েন্দা শাখা ও রানীনগর থানা অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যাবহৃত রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটরসাইকেলটি জব্দ করে এবং মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

তিনি জানান, ৭ অক্টোবর পরের দিন রাতে আমার তত্ত্বাবধানে জেলা গোয়েন্দা শাখা নওগাঁর একটি স্পেশাল টীম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর ও দিনাজপুর জেলায় অভিযান পরিচালনা করে। দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে ছিনতাইয়ের ঘটানার সাথে জড়িত স্বপন (২৮) এবং হাসান আলীকে (২৫) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের দেয়া তথ্য মতে ০৮ অক্টোবর রানীনগর থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে আসামি ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের দুই কর্মকর্তা ও এক কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় আসামি ইসলামী ব্যাংক এজেন্টে ব্যাংকিংয়ের অফিস সহায়ক রাসেল, কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব কয়েক মাস যাবত অনলাইন জুয়া খেলে প্রায় ৭-৮ লাখ টাকা হেরে যায়। তখন তারা বিভিন্ন গ্রাহকদের টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে অনলাইন জুয়া খেলায় ব্যবহার করে এবং হেরে যায়। তখন তারা তিনজন গ্রেপ্তারকৃত ছিনতাইকারী স্বপন, হাসানসহ কয়েকজন মিলে এজেন্ট ব্যাংকিয়ের মালিক মোঃ ফিরোজ হোসেনের টাকা ডাকাতির পরিকল্পনা করে। তারা দীর্ঘ একমাস যাবত এই পরিকল্পনা করতে থাকে।

তিনি আরও বলেন, ঘটনার দিন অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ব্যাংকের ক্যাশিয়ার নাজমুলকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে টাকা আনতে যায়। টাকা নিয়ে অফিসের দিকে যাবার সময় আসামি রাসেল বাবু, স্বপন এবং হাসানসহ পলাতক আসামিদের তাদের অবস্থান জানাতে থাকে। ঘটনা স্থলে টাকা নিয়ে মোটরসাইকেলে নাজমুল ও আসামি রাসেল পৌছালে স্বপন এবং হাসানসহ পলাতক কয়েকজন তাদেরকে আটকিয়ে মারধর করে এবং টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। ক্যাশিয়ার নাজমুল ছিল প্রকৃত ভিকটিম, তাকে লোহার পাইপ দিয়ে বেশ মারধর করা হয়। অন্যদিকে টাকা বহনকারী অফিস সহায়ক রাসেল বাবু ছিল সাজানো এবং মিথ্যা ভিকটিম।

পুলিশ সুপার বলেন, ৩৪ লাখ টাকার মধ্যে এজেন্ট ব্যাংকের তিনজনকে ১০ লাখ টাকা এবং অন্যান্য সকল ছিনতাইকারীরা মিলে বাকি টাকা নেওয়ার কথা ছিল।এরমধ্যে ছিনতাইকারী স্বপন এবং হাসানকে প্রাথমিকভাবে দেড় লক্ষ টাকা দেওয়া হয় এবং তাদেরকে নওগাঁ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার জন্য বলা হয়। সেই মোতাবেক ছিনতাইকারী হাসান ও স্বপন জয়পুরহাট হয়ে দিনাজপুর পালিয়ে যায়। সকল আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে নওগাঁর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) জিন্নাহ আল মামুন, জেলা গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক (ওসি ডিবি) হাসিবুল্লাহ হাসিব, নওগাঁ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুজ্জামান, রানীনগর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত (ওসি) জাকারিয়া মন্ডলসহ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নড়াইল প্রতিনিধি

বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নড়াইলে শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে সুলতানের শিশুস্বর্গে চিত্রাঙ্কন অনুষ্ঠিত হয়।

গ্রামীণ পরিবেশ-প্রকৃতি, এস এম সুলতানের প্রতিকৃতি, দেশের ইতিহাস-ঐহিত্যসহ বিভিন্ন বিষয় শিশু-কিশোরদের রঙতুলিতে উঠে এসেছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন-জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আহসান মাহমুদ রাসেল, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক বিমানেশ চন্দ্র বিশ্বাস, এস এম সুলতান স্মৃতি সংগ্রহশালার কিউরেটর তন্দ্রা মুখার্জি, সহকারী কিউরেটর মেহেদী হাসান রানা, চিত্রশিল্পী নিখিল দাস, চিত্রশিল্পী সাকি, এস এম সুলতান ফাউন্ডেশনের আজীবন সদস্য নড়াইল প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সুলতান মাহমুদসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার ৩২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে সংগ্রহশালা চত্বরে সুলতানের সমাধিতে শ্রদ্ধাঞ্জলি, দোয়া মোনাজাত, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

বরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় বাবা মেছের আলী ও মা মাজু বিবির ঘরে জন্মগ্রহণ করেন।

চিত্রশিল্পের মূল্যায়ন হিসেবে এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে পেয়েছেন একুশে পদক, ১৯৯৩ সালে স্বাধীনতা পদক, ১৯৮৪ সালে রেসিডেন্ট আর্টিস্ট স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননাসহ ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’, নিউইয়র্কের বায়োগ্রাফিক্যাল সেন্টার থেকে ‘ম্যান অব অ্যাচিভমেন্ট’ এবং এশিয়া উইক পত্রিকা থেকে ‘ম্যান অব এশিয়া’ পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননা পেয়েছেন। এদিকে, ২০০১ সাল থেকে সুলতান ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে একজন গুণী চিত্রশিল্পীকে সুলতান স্বর্ণ পদক দেয়া হয়।


নির্বাচিত

banner close