ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের প্রকাশ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে প্রেমিকা সাহিদা ইসলাম রাফাকে হত্যার পর ভোলার মনপুরা দ্বীপে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় (২৩)। সোমবার ভোরে ভোলার তারানগর ইউনিয়নের ইলিশঘাটে ঢাকা-মনপুরা রুটের লঞ্চ থেকে তন্ময়কে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
পরে তার দেয়া তথ্যে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বটতলী বেইলি ব্রিজের নিচে পানি থেকে হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির সূত্রটি ওই যুবককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলটি ৫ আগস্ট রাজধানীর ওয়ারি থানা থেকে লুটকৃত। ইউটিউবে ভিডিও দেখে পিস্তল চালানো আয়ত্ত করে ওই যুবক। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়ে ম্যাগজিনে থাকা ৬ রাউন্ড গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবক।
তবে তন্ময় জানিয়েছে, তার ছোড়া একটি গুলি রাফার শরীরে লাগেনি।
ডিবির সূত্রটি জানায়, নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার (২৪) একাধিক সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ শেখ তন্ময়ের (২৩) সাথে দ্বন্দ্ব ছিল। ঘটনার আগের দিন রাতে (২৯ নভেম্বর, শুক্রবার) সাহিদাকে ফোন করে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হতে বলেন তৌহিদ। পরে লোকাল বাসে করে দুজনেই চলে আসেন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটে। রাতভর সেখানে ঘোরাঘুরির পর গত শনিবার ভোরে খানবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় আসেন তারা। সেখানে প্রেমিকা সাহিদা নিজেকে গর্ভবতী দাবি করে প্রেমিক তৌহিদকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। আশপাশের লোকজন তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসতে থাকলে তৌহিদ ওই নারীকে নিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্ভিস লেন ধরে পদ্মা সেতু উত্তর টোল প্লাজা থেকে ২০০ মিটার অদূরে দোগাছি ফুটওভার ব্রিজ পার করে। পথে কয়েক দফায় সাহিদাকে চড়থাপ্পড় মারে তৌহিদ। একপর্যায়ে আর রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাথে থাকা থানা থেকে লুটকৃত পিস্তল দিয়ে প্রথমে এক রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরপরই আরও ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেগুলো সাহিদার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্ধ হয়। মুহুর্তেই সড়কে উপুড় হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় সাহিদার। রক্তাক্ত প্রেমিকার লাশ ফেলে পেছন দিকে দৌড়ে পালায় তৌহিদ। এরপর খানবাড়ি এলাকায় গিয়ে লোকাল বাসে চড়ে রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, মাঝপথে পিস্তলটি ফেলে দেয় কেরাণীগঞ্জ বেইলি ব্রিজের নিচে। ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করে তৌহিদ। একপর্যায়ে আঁটিবাজার এলাকায় নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে ওঠে সে। ওই বাড়িতে বোন জামাই, বোন ও তৌহিদের মা লঞ্চে করে মনপুরা দ্বীপে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয় তৌহিদকে। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় ওই ৩ জন সদরঘাট গিয়ে পৌঁছে দেয় তাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-ভোলা-মনপুরা রুটের লঞ্চে উঠে পড়ে তৌহিদ।
এদিকে সাহিদা হত্যার বিষয়টি সারা দেশে আলোড়ন তৈরি করলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে ডিবি। তৌহিদকে প্রধান সন্দেহভাজন চিহ্নিত করে তার মোবাইল নাম্বারের সর্বশেষ লোকেশন নিশ্চিত হয় তারা। তখন দেখা যায়, তৌহিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি শুক্রবার রাতে সবশেষ ঢাকার ওয়ারি এলাকায় চালু ছিল। এরপর থেকে সেটি বন্ধ আছে। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে তাহলে ডিবির সন্দেহ কি ভুল! এরইমাঝে আরেকটি সূত্র খুঁজে পায় ডিবি। তৌহিদের মোবাইল কলের সূত্র ধরে উদঘাটন হয় পরিবারের সকল সদস্যের নম্বর।
রোববার ডিবির দলটি যখন ঢাকার আঁটিবাজারে তৌহিদের বোনের বাড়িতে অভিযানে যায় তখন তারা একসাথে তৌহিদের মা, বোন ও বোন জামাইয়ের মোবাইলের লোকেশন সদরঘাটে দেখতে পায়। এরপরে অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করে ডিবি। চৌকস টিমটি ছুটে যায় সদরঘাটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় তৌহিদের লঞ্চে উঠার দৃশ্য শনাক্ত করে তারা।
গ্রেপ্তারের পর ডিবির কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তন্ময় জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশলের অংশ হিসাবে মাওয়া আসার আগে ঢাকার ওয়ারিতে থাকতেই মোবাইলটি বন্ধ করে দেয় সে। যাতে হত্যার পর লুকালেও পুলিশ কোন ক্লু বের করতে না পারে।
এদিকে, সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের ৫ সদস্যের ওই টিমটি অবস্থান নেয় ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। টার্গেট করা লঞ্চে অনুসন্ধানে ডিবির হাতে ধরা পড়ে তৌহিদ।
এর আগে গত রোববার সকালে নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার মা জরিনা খাতুন শ্রীনগর থানায় প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে প্রধান অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর রাতে ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ি এলাকায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় সাহিদার। আলোচিত এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের খোঁজে মাঠে নামে ডিবি।
নিহত সাহিদা রাজধানী ঢাকার ওয়ারিতে পরিবারের সাথে থাকতেন ও নারিন্দা এলাকার বলধা গার্ডেন সংলগ্ন জনৈক কামাল মিয়ার বাড়িতে দেখাশোনার (ডে-কেয়ার) কাজ করতেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের মৃত মো. মোতালেবের মেয়ে তিনি। তারা ২ ভাই ও ৩ বোন। তাছাড়া ৭-৮ বছর আগে সাহিদার একটি বিয়েও হয়েছিলো। পরে সেই সম্পর্ক টিকেনি। গ্রেপ্তারকৃত তৌহিদ শেখ তন্ময় রাজধানী ঢাকার ওয়ারী থানার মৃত শফিক শাহের পুত্র।
এদিকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, দায়েরকৃত মামলায় উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে জাতীয়তাবাদী আদর্শের স্মারক হিসেবে পরিচিত ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ পুনর্নির্মাণের জোর দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের পক্ষ থেকে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ অষ্টগ্রামের ক্রীড়াঙ্গনের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিশেষ করে জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসীদের কাছে স্থাপনাটি ছিল আবেগ, অনুভূতি ও রাজনৈতিক চেতনার প্রতীক। অভিযোগ রয়েছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে অষ্টগ্রামের কিছু ব্যক্তি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতীক মুছে ফেলার উদ্দেশ্যে স্থাপনাটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং ইট খুলে নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল জানান, বিগত ফ্যাসিবাদের আমলে চরম রাজনৈতিক আক্রোশ ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শহীদ জিয়ার স্মৃতি মুছে ফেলার জন্য এই প্যাভিলিয়নটি ভেঙে গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘ভাঙচুরের পর থেকে এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার বিষয় ছিল। বিএনপি ক্ষমতায় এলে এই স্মৃতিচিহ্নটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হবে—এটি ছিল আমাদের দীর্ঘদিনের সংকল্প। বর্তমানে সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান সাহেবের সাথে আমাদের কথা হয়েছে। আমরা উনাকে আমাদের এই দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষার কথা জানিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘অনতিবিলম্বে জিয়া প্যাভিলিয়নটি পুনর্নির্মাণ করা হোক এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক।’
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান জানান, জিয়া প্যাভিলিয়ন প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আমি স্থানীয় নেতাদের সাথে বিস্তারিত কথা বলেছি। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে অষ্টগ্রামের ক্রীড়া, সামাজিক ও রাজনৈতিক ইতিহাসের সাথে সম্পৃক্ত ‘জিয়া প্যাভিলিয়ন’ আবারও তার পূর্বের স্বকীয়তায় ফিরে আসবে।
মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে ফের খোলা হলো কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউরিয়ায় অবস্থিত ফকির লালন সাঁইয়ের বারামখানা খ্যাত আখড়াবাড়ির মাজারের দানবাক্স। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ( রাজস্ব) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাইসুল ইসলাম, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সিলগালা ভেঙে খোলা হয় মাজারের দুটি দানবাক্স।
এরপর লালন একাডেমি ভবনের চারতলায় প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী গণনা শেষে পাওয়া গেছে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা।
এর আগে, গত ১০ অক্টোবর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে খোলা ও গণনা করা হয় দানবাক্সের টাকা। সেদিন দান বাক্স থেকে প্রায় ৬ লাখ ৪৯ হাজার ৩৪৮ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। যা পরদিন ১১ অক্টোবর লালন একাডেমির ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা করা হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাইসুল ইসলাম বলেন, ‘ফকির লালন সাঁইয়ের দুটি উৎসব ঘিরে বছরে চারবার দানবাক্স খোলা হয়ে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৩৬তম তিরোধান দিবসের সাত দিন পর দানবাক্স খুলে ৮ লাখ ২৭ হাজার ৪৫০ টাকা পাওয়া গেছে। যা সোমবার (২৬ অক্টোবর) নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা দেওয়া হবে।’
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় জেলার শ্রেষ্ঠ অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন কুমারখালী থানার ওসি মো: জামাল উদ্দিন। একই সঙ্গে সেপ্টেম্বর ২০২৬ মাসের মূল্যায়নে জেলা পুলিশের সবকটি ইভেন্টে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে কুমারখালী থানা। এ অর্জনে থানার কর্মকর্তা ও ফোর্সের মধ্যে আনন্দ ও উৎসাহের সৃষ্টি হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে জেলা পুলিশের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সেপ্টেম্বর মাসের কার্যক্রম মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
শ্রেষ্ঠ ওসি নির্বাচিত হওয়ার প্রতিক্রিয়ায় ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, “এ অর্জন আমার একার নয়; এটি কুমারখালী থানায় কর্মরত সব কর্মকর্তা ও ফোর্সের সম্মিলিত পরিশ্রমের ফল। পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সার্বিক দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতায় এ সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে।” তিনি ভবিষ্যতেও পেশাদারত্ব, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে জনগণকে পুলিশি সেবা দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় কুষ্টিয়া পুলিশ লাইন্সের সম্মেলনকক্ষে জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। সভায় পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ, বিভিন্ন সমস্যা ও তার সমাধান এবং পুলিশের কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সেপ্টেম্বর মাসে প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে সাতজন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়। পাশাপাশি সদ্য অবসরে যাওয়া দুই পুলিশ সদস্যকে সম্মাননা ও শুভেচ্ছা স্মারক দেওয়া হয়।
পরে দুপুর ১২টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদের সঞ্চালনায় মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পুলিশ সুপার মো. আমিনুল ইসলাম। সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার, বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জেলার গোবিন্দগঞ্জে ডোবার পানিতে ডুবে আব্দুল্যা আল আরাফ ও মিফতাহুল জান্নাত নামে চাচাতো-জ্যাঠাত ভাই বোনের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালের দিকে উপজেলার তালুককানুপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। মৃত আরাফ ওই গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে এবং মিফতাহুল আশরাফুলের মেয়ে। এ দুই শিশু একই দিনে জন্মগ্রহণ করেছিল। আবার একই দিনে মারা যাওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য এবং শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, আজ বেলা ১১টার দিকে পরিবারের অজান্তে খেলতে গিয়ে বাড়ি সংলগ্ন ডোবার পানিতে ডুবে যায়। পরে খোঁজাখোঁজির একপর্যায় ডোবার পানি থেকে তাদের উদ্ধার করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত্যু ঘোষণা করেন।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বিষয়টি নিশ্চিত করে বাসসকে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আসছে। পরিবারের কোন অভিযোগ না থাকায় মরদেহ দু’টি দাফনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
মাদারীপুর সদর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে প্রায় ৯ কোটি টাকার চিকিৎসাসামগ্রী কেনার ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দুই দফায় হ্যাকিংয়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী কেনা আটকে যাওয়ায় হাসপাতালে ওষুধের সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হওয়ার উদ্বেগের পাশাপাশি বিপাকে পড়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সোমবার (২৬ অক্টোবর) এ ঘটনায় মাদারীপুর সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাঁরা এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মাদারীপুর ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের চিকিৎসাসামগ্রী কেনার জন্য গত ১৫ সেপ্টেম্বর প্রথম দফায় ই-টেন্ডার আহ্বান করেন জেলা সিভিল সার্জন। কিন্তু দরপত্র আহ্বানের পরপরই ই-টেন্ডারের ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার অভিযোগ ওঠে। ফলে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে প্রথম দফার টেন্ডার বাতিল করে গত ১০ অক্টোবর দ্বিতীয় দফায় আবারও ই-টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দ্বিতীয় দফাতেও একইভাবে অনলাইন দরপত্র প্রক্রিয়া হ্যাক করা হয়।
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ ঠিকাদাররা দরপত্রে অংশ নিতে পারছেন না বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এ ঘটনার পেছনে প্রভাবশালী কোনো মহলের স্বার্থ থাকতে পারে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কাজটি পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে আসা একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এর সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সিভিল সার্জন কার্যালয় ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুন পর্যন্ত টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা চিকিৎসাসামগ্রী দিয়ে হাসপাতালের প্রয়োজন মেটানো হয়েছিল। ওই সময়ের বরাদ্দে কেনা সামগ্রীর সরবরাহ জুনেই শেষ হয়েছে। নতুন অর্থবছরের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী সংগ্রহ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ না থাকায় রোগীদের চিকিৎসাসেবা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অখিল সরকার বলেন, এ বছরের টেন্ডার প্রক্রিয়া কারিগরি ত্রুটির কারণে সম্পন্ন হয়নি। এ অবস্থায় আগামী দিনে ওষুধের সংকট দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) মাদারীপুর সদর থানার ওসি আবুল কালাম আজাদ এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ওসি আবু নাঈমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, টেন্ডার হ্যাকিংয়ের ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) বা অন্য কোনো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. খলিলুজ্জামান জানান, জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফুল আবেদীন কমল ১৫ দিনের ছুটিতে রয়েছেন। টেন্ডার প্রক্রিয়ার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন। হ্যাকিংয়ের ঘটনা সম্পর্কে তিনি অবগত থাকলেও কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা জানেন না। সিভিল সার্জন ছুটি শেষে ফিরলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানান তিনি।
প্রায় ৯ কোটি টাকার এই ক্রয়প্রক্রিয়া দুই দফায় বাধাগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগের পরও এখন পর্যন্ত দায়ীদের শনাক্ত করা যায়নি। দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। অন্যথায় হাসপাতালটিতে ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সংকট আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ঝিকুটিপাড়া গ্রামে ৩২ লাখ ৫২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি সেতু প্রায় ১০ বছরেও স্থানীয় মানুষের কাজে আসেনি। নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ভেঙে খালে বিলীন হওয়া এবং সেতুর গোড়ার মাটি সরে যাওয়ায় এটি কার্যত অকেজো হয়ে পড়েছে। ফলে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বিশেষ করে জোয়ার ও বৃষ্টির সময় চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নোয়াপাড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝিকুটিপাড়া খালের ওপর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতাধীন সেতু নির্মাণ প্রকল্পের মাধ্যমে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৪০ ফুট দীর্ঘ সেতুটি নির্মাণ করা হয়। এতে ব্যয় হয় ৩২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৩ টাকা। তবে নির্মাণের পর সংযোগ সড়ক ও খালের পাড়ের সুরক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় সেতুটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
তাঁদের ভাষ্য, জোয়ার-ভাটার পানি ও বৃষ্টির কারণে খালের এক পাশের সংযোগ সড়ক ভেঙে জলাশয়ে বিলীন হয়ে গেছে। অন্য পাশে সেতুর গোড়া থেকে মাটি সরে সড়কটি নিচু হয়ে পড়েছে। ফলে সেতু থাকলেও নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ নেই। এ ছাড়া সড়কের বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে ছোট-বড় অসংখ্য গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। খালের পাড়ে টেকসই বেড়িবাঁধ না থাকায় ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে যাতায়াতের পথের পাশাপাশি আশপাশের বসতবাড়িও হুমকির মুখে রয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষক মিলন কান্তি দাশ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের অভাবে অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। জোয়ার কিংবা বৃষ্টি হলে চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের লেখাপড়াও ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ জানায়, সড়কের খারাপ অবস্থার কারণে তারা নিয়মিত স্কুলে যেতে পারে না। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কটি পানিতে ডুবে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা নির্মল দাশ ও মো. নাছির বলেন, খালের পাড়ে বেড়িবাঁধ না থাকায় প্রতিনিয়ত বসতভিটা ও যাতায়াতের পথ খালের গর্ভে চলে যাচ্ছে। গ্রামীণ যোগাযোগব্যবস্থা সচল রাখা এবং বসতবাড়ি রক্ষায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের পাশাপাশি সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জাহেদুল করিম বাব্পী বলেন, তিনি সেতুসহ সড়কটি পরিদর্শন করেছেন। চলাচলের অনুপযোগী সড়কটি সংস্কারের জন্য সরকারের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) রাউজান উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মজুমদার বলেন, সেতুটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় নির্মিত হওয়ায় এ বিষয়ে তাঁদের সরাসরি কিছু করার নেই। সড়কটির বর্তমান অবস্থায় সংস্কারকাজ করা সম্ভব নয়। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর সেতুর সংযোগ সড়ক সংস্কার করলে পরবর্তী সময়ে সড়ক সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
রাউজান উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল কান্তি চাকমা বলেন, সেতুটি প্রায় ১০ বছর আগে নির্মিত হওয়ায় বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করবেন। তাঁদের বর্তমানে মাটি কাটা বা মাটি ভরাটের কোনো প্রকল্প নেই বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারি অর্থে নির্মিত সেতুটি সচল করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত সংযোগ সড়ক পুনর্নির্মাণ, খালের পাড়ে টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। এতে সেতুটি ব্যবহারের উপযোগী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও কমবে।
খুলনার ডুমুরিয়ায় মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে স্থানীয় জাতের ওলকচু চাষ করে ৪০০ কেজি ফলন পেয়েছেন প্রান্তিক কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল। মাত্র ৫০০ টাকা খরচে উৎপাদিত এসব ওলকচু বিক্রি করে তিনি পেয়েছেন ১০ হাজার টাকা। স্বল্প খরচে ভালো ফলন ও বাজারমূল্য পাওয়ায় খুশি এই কৃষক। তাঁর এ সাফল্য কম জমিতে কন্দজাতীয় ফসল চাষের সম্ভাবনাকে নতুন করে সামনে এনেছে।
উপজেলার ৯ নম্বর সাহস ইউনিয়নের ছোটবন্দ গ্রামের বাসিন্দা মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল এবার মাত্র ৫ শতাংশ জমিতে ওলকচুর আবাদ করেন। এতে তিনি স্থানীয় জাতের ৫০টি কচুর চারা রোপণ করেন। যথাযথ পরিচর্যার পর এসব গাছ থেকে প্রায় ৪০০ কেজি ওলকচু উৎপাদন হয়।
কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল জানান, ওলকচু চাষে তাঁর মোট খরচ হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা। উৎপাদিত কচু প্রতি কেজি ২৫ টাকা দরে বিক্রি করে মোট ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন তিনি। অল্প জমিতে সামান্য বিনিয়োগে এমন ফলন পাওয়ায় তিনি সন্তুষ্ট।
তবে বাজারে ওলকচুর দাম আরও কিছুটা বেশি হলে আয় বাড়ত বলে মনে করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারদর অনুকূলে থাকলে কৃষকের লাভ আরও বাড়ানো সম্ভব।
কৃষি বিভাগের মতে, ডুমুরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া কন্দজাতীয় ফসল চাষের জন্য উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা, পরিমিত খরচ ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ কাজে লাগাতে পারলে স্বল্প জমিতেও ভালো ফলন পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ডুমুরিয়ার মাটি ও আবহাওয়া কন্দজাতীয় ফসল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কৃষকদের লাভজনক ও কম খরচে চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে।
তিনি বলেন, মৃত্যুঞ্জয় মন্ডল প্রমাণ করেছেন, সঠিক পরিচর্যা ও পরিমিত খরচে সামান্য জমিতেও ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। এ ধরনের উদ্যোগী কৃষককে আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রয়োজনীয় কৃষি পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
কৃষক মৃত্যুঞ্জয় মন্ডলের এই সাফল্য স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ওলকচুসহ বিভিন্ন কন্দজাতীয় ফসল চাষে আগ্রহ বাড়াতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব কৃষকের জমি কম এবং চাষাবাদের জন্য পুঁজি সীমিত, তাঁদের জন্য স্বল্প খরচে লাভজনক ফসল নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
তবে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, বাজারব্যবস্থা উন্নত করা এবং কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দেওয়া গেলে এ ধরনের চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠতে পারে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও কৃষকদের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে ডুমুরিয়া অঞ্চলে কন্দজাতীয় ফসলের আবাদ সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।
মাগুরা সদরের মোল্লাপাড়া এলাকায় পুকুরের পানিতে পড়ে দুই শিশুর করুন মৃত্যু হয়েছে। মৃতরা হলেন, সদরের মোল্লাপাড়া এলাকার ইমন বিশ্বাসের ছেলে হুজাইফা ( ৯), আরেকজন একই এলাকার অন্তর বিশ্বাসের ছেলে ঈসা আলী (১০) । সম্পর্কে তারা দুজন চাচাতো ভাই। সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে সদরের মোল্লাপাড়া বালিয়ার মাঠ এলাকার একটি পুকুরে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।
হুজাইফার মা শরিফা বেগম বলেন, দুপুরে দুই ভাই শহরের মোল্লাপাড়া বালিয়ার মাঠ এলাকায় খেলতে যায়। সেখানে পুকুরের পানিতে পড়ে গিয়ে তাদের দুজনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মাগুরা ২৫০ সদর হাসপাতালে নিলে জরুরি বিভাগের ডাক্তার রশিদ বিশ্বাস। তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনা মাগুরা সদর থানার ওসি, ফারুক আহমেদ বলেন, পানিতে পড়ে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে ঘটনাটি শুনেছি। মরদহ দুটি মাগুরা সদর হাসপাতালে অস্থায়ী মর্গে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
‘শহরের পুনরুজ্জীবন: সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসন’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় বিশ্ব নগর দিবস-২০২৬ উপলক্ষে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বস্তিবাসী ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কের প্রধান ফটকের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক এবং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিম।
মানবাধিকারকর্মী মাধব চন্দ্র দত্তের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক আজাদ হোসেন বেলাল, সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, জেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব আলী নূর খান বাবুল, লেখক সিদ্দিকুর রহমান, ভূমিহীন নেতা আব্দুস সামাদ, গ্রিন কোয়ালিশনের যুগ্ম সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন, বারসিকের প্রোগ্রাম অফিসার গাজী মাহিদা মিজান, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও বৈচিত্র্য রক্ষা টিমের সদস্য জ্যোতি সরকার, ইমতি জামিল প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, নগরকে সুন্দর ও পুনরুজ্জীবিত করতে যারা নিরন্তর পরিশ্রম করেন, তাদের বস্তিবাসী হিসেবে অবহেলা না করে পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থার আওতায় আনতে হবে। নগরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অধিকার ও আবাসনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা জরুরি।
তারা আরও বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হলেও এখানকার অনেক মানুষ এখনো নগরসুবিধা থেকে বঞ্চিত। নগরকে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার পাশাপাশি বস্তিবাসীর জন্য পর্যাপ্ত আবাসন নিশ্চিত করতে হবে।
বক্তারা বলেন, সাতক্ষীরা পৌরসভাকে আরও সুন্দর, আধুনিক ও বাসযোগ্য নগর হিসেবে গড়ে তুলতে এখনই ১০০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। শহরে বসবাসের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত আবাসন ব্যবস্থার পাশাপাশি সমন্বিত নগর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
কোনো আধুনিক গবেষণাগার নেই, নেই উন্নত যন্ত্রপাতি কিংবা বড় কোনো গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা। আছে শুধু কৃষির প্রতি গভীর অনুরাগ, নিজস্ব অভিজ্ঞতা আর ব্যর্থতার পর আবারও শুরু করার অদম্য মানসিকতা। গ্রামের একটি জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করা ৫৫ বছর বয়সী সেন্টু কুমার হাজং উদ্ভাবন করেছেন ২৫ টি দেশী ধানের জাত। এসএসসি পাসের পর অর্থাভাবে আর পড়াশোনা চালিয়ে যেতে না পারলেও নতুন কিছু করার আগ্রহ থেমে থাকেনি তার। সেই আগ্রহ থেকেই দেশি ধানের জাত সংরক্ষণ ও নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজে হাতেখড়ি।
সেন্টু কুমার হাজং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের কোলঘেঁষা শেরপুরের সীমান্তবর্তী নালিতাবাড়ী উপজেলার নয়াবিল ইউনিয়নের চাটকিয়া গ্রামের অতি সাধারণ পরিবারের একজন কৃষক। বড় ডিগ্রি অর্জন না করলেও ২১ বছরের নিজস্ব গবেষণায় ২৫ টি ধানের জাত উদ্ভাবন করে সাড়া ফেলেছেন তিনি। এছাড়াও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও প্রায় দুই শতাধিক ধানের জাত। নিজের মাত্র ১২ কাঠা জমিতে তৈরি করেছেন ৪৪০টি পরীক্ষামূলক প্লট। বছরের বিভিন্ন সময়ে সেখানে চলছে নানা জাতের ধান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা। তার উদ্ভাবিত ধান চাষ করে লাভবান হচ্ছেন এলাকার অনেক কৃষক। তবে এসব জাতের সরকারি স্বীকৃতি এখনো মেলেনি। এমনকি বীজ প্রত্যয়ন বোর্ডের প্রত্যয়ন না পাওয়ায় তার আবিষ্কৃত বীজধান প্যাকেটজাত করে বাজারে বিক্রি করতে পারছেন না।
সুত্রে জানা গেছে, ২০০৫ সালে স্থানীয় একটি এনজিওর মাধ্যমে প্রশিক্ষণ নেন সেন্টু হাজং। এরপর ধানের জাত নিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে কাজ শুরু করেন। ধানের জাত উদ্ভাবনে তিনি ব্যবহার করেন ব্রিডিং বা সংকরায়ণ পদ্ধতি। একটি নতুন জাত তৈরি করে সেটি যাচাই করতে তার সময় লেগেছে সাত থেকে আট বছর। সফলতার পর থেকেই তার নিজ নামেই বাজারে চলছে এসব ধান। তার প্রথম সফল উদ্ভাবন ‘সেন্টু শাইল’ ধান। দীর্ঘ সাত বছরের চেষ্টার পর এই জাতটি উদ্ভাবন করেন। এরপর আবিষ্কার করেন ‘সেন্টু পাইজাম’ ধান। সেন্টু পাইজাম ধানটি এলকার কৃষকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। চলতি আমন মৌসুমে শতশত কৃষক সেন্টু পাইজাম ও সেন্টু শাইল ধান আবাদ করেছেন।
ফলন ভালো হওয়ায় বর্তমানে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে এ ধানের ভালো চাহিদা রয়েছে। এরপর থেকে আরও নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন সেন্টু। যা সেন্টু- ১ থেকে সেন্টু- ২৫ পর্যন্ত তার নামেই রয়েছে। তবে এরমধ্যে উদ্ভাবিত সেন্টু শাইল, পাঁচ ধরনের সেন্টু পাইজাম, তিন ধরণের চিনি শাইল ও তুলশিমালা অন্যতম। স্থানীয় কৃষি বিভাগ সেন্টু হাজংয়ের দীর্ঘদিনের এই গবেষণার বিষয়ে অবগত রয়েছেন। তবে এতদিনেও তার কাছে কোনো সরকারি প্রণোদনা বা বিশেষ সহায়তা পৌঁছায়নি।
গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সেন্টু হাজংয়ের এই ব্যতিক্রমী কৃষি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন। এ সময় তিনি সেন্টুর উদ্ভাবনী উদ্যোগ, কৃষি অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবিত ধানের বিভিন্ন জাত সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। সঙ্গে ছিলেন নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল মালেক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সেন্টু হাজং শুধু নতুন জাত উদ্ভাবন নয়, হারিয়ে যেতে বসা দেশি ধানের জাত সংরক্ষণেও কাজ করছেন। তিনি এরই মধ্যে বগি, হালই, গোলাপী, মালঞ্চি, ময়নাগিড়ি, মালসিরা, অনামিয়া, পারিজাত, আপচি, কাইশাবিন্নি, মারাক্কাবিন্নি, শংবিন্নি, দুধবিন্নি, বিরই, চাপাল ও খাসিয়াবিন্নিসহ বিভিন্ন দেশি জাতের ধান প্রতিবছর নিজের জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করছেন। বর্তমানে ঢেপা, চাপাল, পুরাবিন্নি ও নেদরাবিন্নিসহ বিভিন্ন জাত নিয়ে পরীক্ষা করছেন তিনি। এসব ধান চাষে তিনি গোবর ও নিজস্বভাবে তৈরি কেঁচো কম্পোস্ট সার ব্যবহার করেন।
কৃষক সেন্টু হাজং বলেন, দেশি ধানের অনেক জাতই এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। অথচ এসব ধানের আলাদা স্বাদ ও বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এসব জাতের ধানে পোকার আক্রমণও তুলনামূলক কম। তাই দেশি ধানের জাতগুলো আমি সংরক্ষণ করার চেষ্টা করছি। পাশাপাশি নতুন জাত উদ্ভাবনের চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি এখনো কোনো সরকারি স্বীকৃতি পাইনি। এছাড়া আমার কোনো পরীক্ষাগার কিংবা ল্যাবও নেই এমন কি আবিষ্কৃত বীজ ধানের প্রত্যয়নও পাইনি। আমি আমার ভাঙা ঘরে থেকেই এসব নতুন জাতের ধান উদ্ভাবন করে যাচ্ছি।
তিনি আরো বলেন, সরকারিভাবে যদি আমাকে একটি ল্যাব বানিয়ে দেয়, তাহলে বীজধান আবিষ্কারের অনেক কিছু সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে আমার।
এ ব্যাপারে নালিতাবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মশিউর রহমান বলেন, কৃষক সেন্টু হাজং দেশি জাতের ধান আবিষ্কার করে একটি প্রশংসনীয় কাজ করেছেন। আমরা তাকে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রকমের পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করে যাচ্ছি।
ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় মানসিক ভারসাম্যহীন মেয়ে রানু আক্তারের ধারালো বটির কোপে সেতারা বেগম (৬৫) নামের এক বৃদ্ধা মা নিহত হয়েছেন।
রবিবার (২৫ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পূর্বচন্দ্রপুর ইউনিয়নের ডেউলিয়া গ্রামের বড় বাড়ির হোসেন মিয়ার ঘরে মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। চাঞ্চল্যকর ও নির্মম এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম শোক ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
খবর পেয়ে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর রাত সাড়ে দশটার দিকে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ও অভিযুক্ত মেয়ে রানু আক্তারকে (৪২) আটক করে। নিহত সেতারা বেগম ওই গ্রামের হোসেন মিয়ার স্ত্রী ও অভিযুক্ত রানু আক্তার তাদের মেয়ে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কিছুদিন ধরে রানু আক্তার অসংলগ্ন আচরণ করতে শুরু করেন। সম্প্রতি তিনি তার স্বামীকেও মারধর করেন। এ ঘটনার পর পরিবারের লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন এবং মানসিক চিকিৎসাসহ বিভিন্ন চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। রবিবার রাতে হঠাৎ রানু ঘরের অন্যদের একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে ধারালো বটি দিয়ে তার মা সেতারা বেগমকে উপর্যুপরি কোপাতে থাকেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে রানু বটি হাতে নিয়ে ঘরের এক কক্ষ থেকে অন্য কক্ষে দৌড়াতে থাকেন ও দরজা ভেতর থেকে আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে দাগনভূঞা থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দীর্ঘক্ষণ চেষ্টার পর পুলিশ বসতঘরের লোহার দরজা ভেঙ্গে ভেতরে প্রবেশ করে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় অভিযুক্ত মেয়ে রানুকে আটক করা হয়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও স্বজনরা জানান, মানসিক অসুস্থ মেয়ের হাতে মা খুন হয়েছেন। মেয়ে রানু আক্তার পূর্বের থেকে মানসিক অসুস্থ ছিল। কিছুদিন পূর্বে তিনি স্ট্রোক করেন। মানসিক অসুস্থতার কারনে তার স্বামী তাকে বাবার বাড়িতে রেখে যান। চিকিৎসার জন্য তাকে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে পাবনা মানসিক হাসপাতালে পাঠানোর কথা ছিল। রানু তার স্বামীর বাড়িতে ভালোই ছিলেন। তবে সম্প্রতি তিনি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়েন।
দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মাদ ফয়জুল আজীম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় ঘরের দরজা ভেঙ্গে নারীর মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে বটিসহ এক নারীকে আটক করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানালেও বিষয়টি পুলিশ গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
গ্যাস সংকটের কারণে জামালপুরের সারিষাবাড়ীতে অবস্থিত ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানায় সার উৎপাদন আবারও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার ভোর থেকে উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কারখানা কর্তৃপক্ষ।
সার কারখানা সূত্রে জানা গেছে, দৈনিক ১৭শ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানা গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘ আট মাস বন্ধ ছিল। দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর চলতি বছরের ২০ সেপ্টেম্বর কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেওয়া হলে শুরু হয় উৎপাদন। এরপর ৭ অক্টোবর কারখানার বয়লার প্ল্যান্টে ত্রুটি দেখা দিলে সাময়িকভাবে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। বয়লার প্ল্যান্টের যান্ত্রিক ত্রুটি সারিয়ে ১৬ দিন পর গত ২৩ অক্টোবর আবারও উৎপাদনে ফিরে কারখানাটি। কিন্তু উৎপাদনে ফেরার দুই দিনের মাথায় গ্যাস সংকটে আবারও বন্ধ হয়ে গেল যমুনা সার কারখানা। তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহ করে থাকে।
যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বিভাগের প্রধান ফজলুল হক জানান, নিরবিচ্ছিন্নভাবে সার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে দৈনিক ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। কিন্তু চাহিদামত গ্যাস সরবরাহ না থাকায় আজ ভোর ৫টা থেকে কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে আবারও উৎপাদন শুরু হবে।
গ্যাস সংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। পরে গ্যসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে আবারো যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ আট মাস বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর সার কারখানায় গ্যাস সংযোগ দেয় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় কারখানায় বিভিন্ন যান্ত্রিক ও কারগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এতে করে উৎপাদনের কাঙ্খিত লক্ষমাত্রা অর্জন ব্যাহত হয়।
যমুনা সার কারখানা বিসিআইসির তালিকাভুক্ত এক হাজার ৯শ ডিলারের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরবঙ্গের ২১টি জেলায় সার সরবরাহ করে আসছে। স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ ও কারখানাটি সচল থাকলে প্রতি মাসে প্রায় দুইশ কোটি টাকার সার উৎপাদন হয়। এতে কারখানাটির লাভ থাকে প্রায় ৬০ কোটি টাকা। অন্যদিকে কারখানা বন্ধ থাকলে অন্যান্য খরচ ছাড়াও শুধু প্ল্যান্ট সচল রাখতে গ্যাস বিল দিতে হয় প্রায় ৬ কোটি টাকা। দীর্ঘদিন কারখানায় সার উৎপাদন বন্ধ থাকলে প্রান্তিক কৃষক পর্যায়ে সার সংকট দেখা দিতে পারে। এতে কৃষিপণ্য উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার ২৫টি বাণিজ্যিক মাছের পুকুরের তলদেশের পলি এবং চাষের মাছের পরিপাকতন্ত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পেয়েছেন গবেষকরা। দেশের বাণিজ্যিক মাছ চাষের পুকুরেও শনাক্ত হয়েছে মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর অতিক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খানের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্তর্জাতিক যৌথ গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণাটি আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান সাময়িকী ‘এনভায়রনমেন্টাল পলিউশন’-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণার অংশ হিসেবে ত্রিশালের ২৫টি খামার থেকে পুকুরের তলদেশের পলি এবং ৬ প্রজাতির মোট ১৫০টি মাছের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রজাতিগুলো হলো রুই, কাতলা, পাঙাশ, মৃগেল, কমন কার্প ও সরপুঁটি। প্রতিটি প্রজাতি থেকে ২৫টি করে মাছ নিয়ে রাসায়নিক ও অণুবীক্ষণিক বিশ্লেষণ করা হয়।
বিশ্লেষণে ১৫০টি মাছের পরিপাকতন্ত্রে মোট ৯০টি মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া যায়। গড়ে প্রতি মাছে ০.৬০টি কণা শনাক্ত হয়েছে। প্রজাতিভেদে সরপুঁটিতে গড়ে সবচেয়ে বেশি ১.২০টি কণা পাওয়া গেছে। রুই ও কালিবাউশে গড়ে ০.৬৮টি করে।
শতকরা হারে সবচেয়ে বেশি মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে পাঙাশ মাছে, ৪০ শতাংশ। রুই মাছে ৩৬ শতাংশ, কাতলা ও মৃগেলে ২০ শতাংশ করে এবং কমন কার্প ও সরপুঁটিতে ১৬ শতাংশ হারে পাওয়া গেছে।
এ ছাড়া পরীক্ষা করা ২৫টি পুকুরের প্রতিটির তলদেশের পলিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিক মিলেছে। প্রতি কেজি পলিতে গড়ে ১১.০৪টি কণা শনাক্ত হয়েছে। পলিউশন লোড ইনডেক্স (পিএলআই) অনুযায়ী দূষণের মাত্রা ১ থেকে ৪.৫ পর্যন্ত, যা কয়েকটি নমুনায় অত্যন্ত উচ্চ।
গবেষণায় দেখা গেছে, পুকুরের তলদেশে বসবাসকারী মাছের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক গ্রহণের হার ৫২ শতাংশ। মধ্যস্তরে ৩৫ শতাংশ এবং উপরিভাগে ১৩ শতাংশ। মাছের ক্ষেত্রে এই হার ৫৮ শতাংশ এবং তৃণভোজী মাছের ক্ষেত্রে ৪২ শতাংশ।
গবেষকদের বিশ্লেষণে মাছের খাদ্যের প্লাস্টিক ব্যাগ ও প্যাকেজিং, মাছ ধরার নাইলন ও পলিয়েস্টারের জাল, পুকুরের পাড়ে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের ত্রিপল এবং সেচকাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের পাইপের ক্ষয়কে মাইক্রোপ্লাস্টিকের সম্ভাব্য উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রধান গবেষক অধ্যাপক ড. মো. বদিউজ্জামান খান বলেন, ‘এই গবেষণায় আমরা মাছের পরিপাকতন্ত্র পরীক্ষা করেছি। মানুষের খাওয়ার উপযোগী মাছের পেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিক জমার পরিমাণ সরাসরি পরিমাপ করা হয়নি। ফলে এসব মাছ খাওয়ার মাধ্যমে মানবদেহে কতটা প্রবেশ করতে পারে তা এই গবেষণা থেকে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ভবিষ্যৎ গবেষণায় মাছের পেশিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি এবং ভারী ধাতুর সঙ্গে এর সম্মিলিত প্রভাব পরীক্ষা করা জরুরি।’ পাশাপাশি খামারে প্লাস্টিকসামগ্রীর যথাযথ পুনর্ব্যবহার, পুকুরে প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।