বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সেই তন্ময় গ্রেপ্তার

থানা থেকে লুট করা অস্ত্র দিয়েই প্রেমিকাকে খুন

শিহাব আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত
শিহাব আহমেদ, মুন্সীগঞ্জ
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২২:২৫

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের প্রকাশ্যে ৬ রাউন্ড গুলি ছুড়ে প্রেমিকা সাহিদা ইসলাম রাফাকে হত্যার পর ভোলার মনপুরা দ্বীপে পালাতে গিয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিযুক্ত প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময় (২৩)। সোমবার ভোরে ভোলার তারানগর ইউনিয়নের ইলিশঘাটে ঢাকা-মনপুরা রুটের লঞ্চ থেকে তন্ময়কে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

পরে তার দেয়া তথ্যে ঢাকার কেরাণীগঞ্জের বটতলী বেইলি ব্রিজের নিচে পানি থেকে হত্যকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার অভিযানে অংশ নেয়া ডিবির সূত্রটি ওই যুবককে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাতে জানায়, উদ্ধারকৃত বিদেশি পিস্তলটি ৫ আগস্ট রাজধানীর ওয়ারি থানা থেকে লুটকৃত। ইউটিউবে ভিডিও দেখে পিস্তল চালানো আয়ত্ত করে ওই যুবক। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে উদ্ধারকৃত অস্ত্র দিয়ে ম্যাগজিনে থাকা ৬ রাউন্ড গুলি করে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন অভিযুক্ত যুবক।

তবে তন্ময় জানিয়েছে, তার ছোড়া একটি গুলি রাফার শরীরে লাগেনি।

ডিবির সূত্রটি জানায়, নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার (২৪) একাধিক সম্পর্ক নিয়ে তৌহিদ শেখ তন্ময়ের (২৩) সাথে দ্বন্দ্ব ছিল। ঘটনার আগের দিন রাতে (২৯ নভেম্বর, শুক্রবার) সাহিদাকে ফোন করে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হতে বলেন তৌহিদ। পরে লোকাল বাসে করে দুজনেই চলে আসেন মুন্সীগঞ্জের মাওয়া ঘাটে। রাতভর সেখানে ঘোরাঘুরির পর গত শনিবার ভোরে খানবাড়ি সিএনজি স্ট্যান্ড এলাকায় আসেন তারা। সেখানে প্রেমিকা সাহিদা নিজেকে গর্ভবতী দাবি করে প্রেমিক তৌহিদকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। আশপাশের লোকজন তাদের চিৎকার শুনে এগিয়ে আসতে থাকলে তৌহিদ ওই নারীকে নিয়ে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের সার্ভিস লেন ধরে পদ্মা সেতু উত্তর টোল প্লাজা থেকে ২০০ মিটার অদূরে দোগাছি ফুটওভার ব্রিজ পার করে। পথে কয়েক দফায় সাহিদাকে চড়থাপ্পড় মারে তৌহিদ। একপর্যায়ে আর রাগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে সাথে থাকা থানা থেকে লুটকৃত পিস্তল দিয়ে প্রথমে এক রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরপরই আরও ৫ রাউন্ড গুলি ছুড়লে সেগুলো সাহিদার শরীরের বিভিন্ন অংশে বিদ্ধ হয়। মুহুর্তেই সড়কে উপুড় হয়ে পড়ে মৃত্যু হয় সাহিদার। রক্তাক্ত প্রেমিকার লাশ ফেলে পেছন দিকে দৌড়ে পালায় তৌহিদ। এরপর খানবাড়ি এলাকায় গিয়ে লোকাল বাসে চড়ে রওনা দেয় ঢাকার উদ্দেশ্য।

তিনি জানান, মাঝপথে পিস্তলটি ফেলে দেয় কেরাণীগঞ্জ বেইলি ব্রিজের নিচে। ঢাকায় বিভিন্ন জায়গায় আত্মগোপনে যাওয়ার চেষ্টা করে তৌহিদ। একপর্যায়ে আঁটিবাজার এলাকায় নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে ওঠে সে। ওই বাড়িতে বোন জামাই, বোন ও তৌহিদের মা লঞ্চে করে মনপুরা দ্বীপে আত্মগোপনে চলে যাওয়ার পরামর্শ দেয় তৌহিদকে। পরদিন রোববার সন্ধ্যায় ওই ৩ জন সদরঘাট গিয়ে পৌঁছে দেয় তাকে। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঢাকা-ভোলা-মনপুরা রুটের লঞ্চে উঠে পড়ে তৌহিদ।

এদিকে সাহিদা হত্যার বিষয়টি সারা দেশে আলোড়ন তৈরি করলে আটঘাট বেঁধে মাঠে নামে ডিবি। তৌহিদকে প্রধান সন্দেহভাজন চিহ্নিত করে তার মোবাইল নাম্বারের সর্বশেষ লোকেশন নিশ্চিত হয় তারা। তখন দেখা যায়, তৌহিদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি শুক্রবার রাতে সবশেষ ঢাকার ওয়ারি এলাকায় চালু ছিল। এরপর থেকে সেটি বন্ধ আছে। তখন স্বভাবতই প্রশ্ন আসে তাহলে ডিবির সন্দেহ কি ভুল! এরইমাঝে আরেকটি সূত্র খুঁজে পায় ডিবি। তৌহিদের মোবাইল কলের সূত্র ধরে উদঘাটন হয় পরিবারের সকল সদস্যের নম্বর।

রোববার ডিবির দলটি যখন ঢাকার আঁটিবাজারে তৌহিদের বোনের বাড়িতে অভিযানে যায় তখন তারা একসাথে তৌহিদের মা, বোন ও বোন জামাইয়ের মোবাইলের লোকেশন সদরঘাটে দেখতে পায়। এরপরে অভিযান কার্যক্রম আরও জোরদার করে ডিবি। চৌকস টিমটি ছুটে যায় সদরঘাটে। সিসিটিভি ক্যামেরায় তৌহিদের লঞ্চে উঠার দৃশ্য শনাক্ত করে তারা।

গ্রেপ্তারের পর ডিবির কাছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তন্ময় জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে কৌশলের অংশ হিসাবে মাওয়া আসার আগে ঢাকার ওয়ারিতে থাকতেই মোবাইলটি বন্ধ করে দেয় সে। যাতে হত্যার পর লুকালেও পুলিশ কোন ক্লু বের করতে না পারে।

এদিকে, সোমবার ভোরে মুন্সীগঞ্জ ডিবি পুলিশের ৫ সদস্যের ওই টিমটি অবস্থান নেয় ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে। টার্গেট করা লঞ্চে অনুসন্ধানে ডিবির হাতে ধরা পড়ে তৌহিদ।

এর আগে গত রোববার সকালে নিহত সাহিদা ইসলাম রাফার মা জরিনা খাতুন শ্রীনগর থানায় প্রেমিক তৌহিদ শেখ তন্ময়কে প্রধান অভিযুক্ত করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওইদিন দুপুরে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর রাতে ময়মনসিংহ সদরের বেগুনবাড়ি এলাকায় জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয় সাহিদার। আলোচিত এ ঘটনার পরপরই অভিযুক্তের খোঁজে মাঠে নামে ডিবি।

নিহত সাহিদা রাজধানী ঢাকার ওয়ারিতে পরিবারের সাথে থাকতেন ও নারিন্দা এলাকার বলধা গার্ডেন সংলগ্ন জনৈক কামাল মিয়ার বাড়িতে দেখাশোনার (ডে-কেয়ার) কাজ করতেন। ময়মনসিংহ সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি গ্রামের মৃত মো. মোতালেবের মেয়ে তিনি। তারা ২ ভাই ও ৩ বোন। তাছাড়া ৭-৮ বছর আগে সাহিদার একটি বিয়েও হয়েছিলো। পরে সেই সম্পর্ক টিকেনি। গ্রেপ্তারকৃত তৌহিদ শেখ তন্ময় রাজধানী ঢাকার ওয়ারী থানার মৃত শফিক শাহের পুত্র।

এদিকে তৌহিদকে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করে মুন্সীগঞ্জ পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার বলেন, দায়েরকৃত মামলায় উদ্ধারকৃত আলামতসহ আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এ ঘটনায় প্রেস ব্রিফিংয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হবে।


নির্বাচিত

বাজারে সিন্ডিকেট, নির্ধারিত দামেও মিলে না পণ্য

* খাদ্যপণ্য থেকে জ্বালানি—সব খাতেই সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য   * ৩০ জেলায় ভোক্তা অধিদপ্তরের ৪৪টি দলের অভিযান * ১০২ প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা  * অভিযানেও অধরা স্থায়ী সমাধান, উল্টো বাড়ছে দৌরাত্ম্য  * সিন্ডিকেটে ক্ষতিগ্রস্ত সাধারণ মানুষ: খাদ্যমন্ত্রী
নির্ধারিত দামেও মিলে না পণ্য। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক 

একদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের বাড়তি দাম, অন্যদিকে রান্নার অন্যতম প্রধান জ্বালানি এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্য—দুই দিকের চাপেই বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ। বাজারে পণ্য আছে, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত বা যৌক্তিক দামে তা মিলছে না। কোথাও সরবরাহ সংকট, কোথাও মজুতের অভিযোগ, আবার কোথাও পাইকার থেকে খুচরা পর্যায়ে একাধিক হাতবদলের অজুহাতে বাড়ছে দাম। ফলে বাজারে ‘সিন্ডিকেট’ ও কারসাজির অভিযোগ নতুন করে সামনে এসেছে।

সাম্প্রতিক সময়ে এলপিজি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ধারাবাহিক অভিযানও পরিস্থিতির চিত্র স্পষ্ট করেছে। ৪ অক্টোবর দেশের ৩০ জেলায় অধিদপ্তরের ৪৪টি দল অভিযান চালিয়ে ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করে। এসব অভিযানে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার না রাখা এবং বিশেষ পাইপ ব্যবহার করে গ্যাস স্থানান্তরের মাধ্যমে ওজনে কারসাজির মতো অনিয়ম ধরা পড়ে।

এর পরদিন, ৫ অক্টোবর, ৪২ জেলায় আবার অভিযান চালিয়ে ১১৯টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১০ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়। ঢাকার তেজগাঁওয়ে একটি প্রতিষ্ঠানে লাইসেন্স ছাড়া বিপুল পরিমাণ এলপিজি মজুত, ক্রয়রশিদ না থাকা, স্টক রেজিস্টার ও মূল্যতালিকা না রাখার মতো অনিয়মও পাওয়া যায়। মজুত করা গ্যাস নির্ধারিত দামে বিক্রির ব্যবস্থাও করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম। তিনি বলেছেন, সিন্ডিকেট কোনো সরকারই পছন্দ করে না। আমরাও চাই, সিন্ডিকেট বলে যেন কোনো শব্দই না থাকে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে সরকারি খাদ্য সংরক্ষণাগার ও বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব থাকলে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের কাছে নিরাপদ খাদ্য পৌঁছে দেওয়া। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্য মন্ত্রণালয় সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মিত বাজার পরিস্থিতি, খাদ্যের মজুত ও সরবরাহব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো সমস্যার মধ্যে পড়িনি। ভবিষ্যতেও যাতে দ্রুত যেকোনো সমস্যা সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

পুষ্টিকর চাল উৎপাদনের প্রকল্প প্রসঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী জানান, প্রকল্পটি কবে উদ্বোধন বা চালু হবে, তা এ মুহূর্তে বলা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে যত দ্রুত সম্ভব প্রকল্পটি চালু করার চেষ্টা করা হবে।

এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ঢাকার পোস্তগোলা সরকারি আধুনিক ময়দামিলে পরিদর্শন কার্যক্রম শুরু করেন খাদ্যমন্ত্রী। পরে দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সাইলোতে পৌঁছে তিনি সাইলো ও এর অভ্যন্তরে অবস্থিত নারায়ণগঞ্জ প্রিমিক্স কার্নেল মিল পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে খাদ্যমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে খাদ্যশস্য সংরক্ষণ, মজুত সক্ষমতা, মিলের কার্যক্রম ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি স্থাপনাগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।

এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্ধারিত দামেও মিলছে না গ্যাস

এলপিজি বাজারের অস্থিরতা সবচেয়ে বেশি দৃশ্যমান হয়েছে ১২ কেজির সিলিন্ডারে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন—বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়ে অনেক বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ৫৮৫ টাকা নির্ধারিত দামের সিলিন্ডার ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির তথ্য উঠে এসেছে।

ধামরাইয়ের কালামপুরের বাসিন্দা লিটন মিয়ার অভিজ্ঞতা পরিস্থিতির বাস্তব চিত্র তুলে ধরে। ১ হাজার ৫৮৫ টাকার সিলিন্ডার কিনতে ২ হাজার ২০০ টাকা নিয়ে বের হয়েও তিনি কয়েকটি দোকান ঘুরে গ্যাস পাননি। শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরতে হয় তাকে। তবে ব্যবসায়ীদের সংগঠন এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ—লোয়াব বলছে, সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ১ লাখ ৫৬ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি আমদানি হয়েছে, যা তাদের হিসাবে চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট। সংগঠনটি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকার পরও কেউ নির্ধারিত দামের বেশি নিলে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। অর্থাৎ, সরবরাহ যথেষ্ট কি না—এই প্রশ্নের পাশাপাশি বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে সরবরাহব্যবস্থার কোন পর্যায়ে গিয়ে সংকট তৈরি হচ্ছে।

খাদ্যপণ্যের বাজারেও একই চিত্র: শুধু এলপিজি নয়, চাল, ডাল, তেল, ডিম, পেঁয়াজ, রসুন, সবজি ও অন্যান্য খাদ্যপণ্যের বাজারেও ভোক্তার ওপর বাড়তি ব্যয়ের চাপ রয়েছে। কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক অনলাইন বাজারদরেও চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন পণ্যের উল্লেখযোগ্য খুচরা দাম দেখা যাচ্ছে। এখানে দাম বাড়ার সবটাই যে ‘সিন্ডিকেটের কারসাজি’, তা অবশ্য নিশ্চিত নয়। আন্তর্জাতিক বাজার, আমদানি ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার, উৎপাদন খরচ, পরিবহন ও সরবরাহ পরিস্থিতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলে। কিন্তু সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার পরও কোনো পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেলে কিংবা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে সেখানে কারসাজির বিষয়টি তদন্ত করা জরুরি।

ব্যবসায়ীদেরও ভিন্ন বক্তব্য: খুচরা ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অনেক ক্ষেত্রে তারা নিজেরাই বেশি দামে পণ্য কিনতে বাধ্য হন। ফলে পাইকারি বাজারে দাম না কমলে খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দামে বিক্রি করা কঠিন। আবার ব্যবসায়ীদের একটি অংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ—দাম বাড়ার গুজব ছড়িয়ে তারা পণ্য আটকে রাখেন এবং সংকটের সময় বাড়তি দামে বিক্রি করেন। এই দুই ধরনের বাস্তবতার মধ্যে প্রকৃত কারণ বের করতে হলে আমদানি থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহব্যবস্থার তথ্য প্রকাশ ও নজরদারি জরুরি।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি ও সাবেক সচিব এ. এইচ. এম. সফিকুজ্জামান মনে করেন, বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা বাংলাদেশের বড় সমস্যা। তার মতে, কৃষক থেকে ভোক্তার হাতে পণ্য পৌঁছাতে অনেক ধাপ থাকলেও কোথায় কত ব্যয় যুক্ত হচ্ছে, কোথায় অস্বাভাবিক মুনাফা হচ্ছে কিংবা কোথায় সরবরাহ আটকে যাচ্ছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ঘাটতি রয়েছে। তিনি সতর্ক করেছেন, কোনো পণ্যের দাম বাড়লেই শুধু ‘সিন্ডিকেট’ বললে হবে না; কারা মূল্য নির্ধারণে সমঝোতা করেছে বা অস্বাভাবিক মজুত করেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।

অন্যদিকে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম এলপিজি বাজারে বিইআরসির নির্ধারিত দাম কার্যকর না হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে বিইআরসি, প্রতিযোগিতা কমিশন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর ও বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত নজরদারির প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, শুধু জরিমানা নয়, গুরুতর অনিয়মের ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিলের মতো ব্যবস্থাও বিবেচনা করা উচিত।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সংসদে জানিয়েছেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে দেশব্যাপী নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, অভিযান শেষ হওয়ার পর বাজারের পরিস্থিতি কতটা বদলায়। কয়েক হাজার বা কয়েক লাখ টাকা জরিমানা করে যদি একই অনিয়ম আবার ফিরে আসে, তাহলে তা দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। প্রয়োজন আমদানি, উৎপাদন, মজুত, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ের তথ্যভিত্তিক নজরদারি।

বিশেষ করে এলপিজির ক্ষেত্রে বিইআরসির নির্ধারিত দাম বাস্তবে কার্যকর করতে হলে কোম্পানি, ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার প্রতিটি স্তরে সরবরাহ ও মূল্য তথ্য নজরদারির আওতায় আনতে হবে। একইভাবে খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে বাজারে পণ্য ঢোকার পর কোথায় কত মার্জিন যোগ হচ্ছে, তার স্বচ্ছ হিসাব থাকা দরকার।

সাধারণ মানুষের কাছে বাজারের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন তাই একটাই—পণ্য কি সত্যিই কম, নাকি সংকট তৈরি করে দাম বাড়ানো হচ্ছে? এই প্রশ্নের উত্তর শুধু অভিযান দিয়ে নয়, স্বচ্ছ তথ্য, প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে কঠোর ও ধারাবাহিক ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্য দিয়েই দিতে হবে। নইলে এলপিজি, খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে সিন্ডিকেটের অভিযোগ ঘুরেফিরে উঠতেই থাকবে, আর বাড়তি বিলের বোঝা বইতে হবে ভোক্তাকেই।


নির্বাচিত

ব্যাটারি রিকশার দৌরাত্ম্য, যানজটের সঙ্গে বাড়ছে রাষ্ট্রের ক্ষতি

* নিয়ন্ত্রণহীন বিস্তার, সড়কে বিশৃঙ্খলা-যানজট * অবৈধ চার্জিংয়ে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চাপ * বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি  
রাজধানীর সড়কে ব্যাটারি রিকশার স্রোত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর সড়কে এখন ব্যাটারি রিকশার স্রোত। সিগন্যাল ছাড়লেই একসঙ্গে ছুটে আসে সারি সারি তিন চাকার এই বাহন। প্রধান সড়ক, সংযোগ সড়ক কিংবা অলিগলি—কোথাও যেন তাদের থামানো যাচ্ছে না। ধীরগতির এসব যান কখনো পাশাপাশি চলে, কখনো হঠাৎ লেন বদলায়, আবার কোথাও যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য মাঝসড়কেই দাঁড়িয়ে পড়ে। ফলে কম ভাড়ায় স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জনপ্রিয় বাহনটি এখন ঢাকার যানজট, সড়ক-শৃঙ্খলা ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

শুধু সড়কে চলাচল নয়, এসব যান তৈরির ক্ষেত্রেও নেই কার্যকর নিয়ন্ত্রণ। রাজধানীর বিভিন্ন গ্যারেজ ও ওয়ার্কশপে প্রতিদিন তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন ব্যাটারি রিকশা। বসিলা, মোহাম্মদপুর, রায়েরবাজার, যাত্রাবাড়ী ও খিলগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় চাহিদা মেটাতে ব্যস্ত কারিগরেরা। অনেক ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট নকশা, মান ও অনুমোদনের তোয়াক্কা না করেই তৈরি হচ্ছে এসব যান। ফলে দেশে মোট ব্যাটারি রিকশার প্রকৃত সংখ্যা কত, তারও নির্ভরযোগ্য সরকারি হিসাব নেই।

৫০–৮০ লাখের বিশাল বহর: সেপ্টেম্বরে সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, দেশে ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজিবাইক ও অনুরূপ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যানবাহনের সংখ্যা আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ। এসব যান দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যবহার করতে পারে। কিন্তু বিদ্যুৎ ব্যবহারের এই বিশাল চাহিদার বিপরীতে বৈধ চার্জিং অবকাঠামো অত্যন্ত সীমিত। সারাদেশে বৈধ চার্জিং পয়েন্ট রয়েছে প্রায় ৩ হাজার ৩০০টি। বিপরীতে শুধু ঢাকাতেই অনানুষ্ঠানিক ও অবৈধ চার্জিং পয়েন্টের সংখ্যা ৪৮ হাজারের বেশি বলে সংসদে জানানো হয়েছে।

একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় সাধারণত চার থেকে ছয়টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে। পূর্ণ চার্জে বিদ্যুৎ লাগে গড়ে ৯০০ থেকে ১১০০ ওয়াট। ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী দিনে একাধিকবার চার্জ দিতে হয়। ফলে লাখ লাখ যান একসঙ্গে চার্জে বসলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর তৈরি হয় বড় ধরনের অতিরিক্ত চাপ।

অবৈধ চার্জে ৪ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি: সমস্যার সবচেয়ে বড় আর্থিক দিকটি লুকিয়ে আছে চার্জিং ব্যবস্থায়। বিভিন্ন এলাকায় গ্যারেজ, ওয়ার্কশপ কিংবা আবাসিক স্থাপনায় অননুমোদিতভাবে বিপুলসংখ্যক রিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হচ্ছে। কোথাও বৈধ সংযোগের অপব্যবহার, কোথাও আবার সরাসরি অবৈধ সংযোগ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অবৈধ ও অনানুষ্ঠানিকভাবে চার্জ দেওয়ার কারণে সরকার বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। অর্থাৎ যে বাহনটি যাত্রীকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে পৌঁছে দিচ্ছে, তার পেছনে বিদ্যুৎ খাত ও রাষ্ট্রীয় রাজস্বে তৈরি হচ্ছে বিপুল আর্থিক চাপ।

যানজটের নতুন বোঝা: ব্যাটারি রিকশার বিস্তারের সবচেয়ে দৃশ্যমান প্রভাব পড়ছে সড়কে। ধীরগতির যান হওয়ায় এসব রিকশা দ্রুতগতির বাস, প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলের সঙ্গে একই সড়ক ব্যবহার করলে গতির পার্থক্য তৈরি হয়। এতে একদিকে যান চলাচলের গতি কমে, অন্যদিকে লেন পরিবর্তনের প্রবণতা বাড়ে। যাত্রী ওঠানো-নামানোর সময় যেখানে-সেখানে দাঁড়িয়ে পড়া, হঠাৎ ঘুরে যাওয়া, বিপরীত দিক দিয়ে আসা কিংবা একাধিক রিকশার পাশাপাশি চলার কারণে অনেক সময় একটি লেন কার্যত অচল হয়ে পড়ে। সেই জট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে অন্য লেনেও।

বিশেষ করে বাজার, স্কুল, হাসপাতাল, বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ের আশপাশে ব্যাটারি রিকশার ঘনত্ব বাড়লে যানজট আরও তীব্র হয়। ফলে একটি ছোট সড়ক সমস্যা মুহূর্তেই বড় এলাকার যান চলাচলকে প্রভাবিত করে।

‘নিষেধাজ্ঞা নয়, নিয়ন্ত্রণ জরুরি’: নগর পরিকল্পনাবিদ তাহসিন রেজা মনে করেন, ব্যাটারি রিকশার সমস্যার সমাধান শুধু নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে করা সম্ভব নয়। কারণ এই বাহনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের যাতায়াত ও জীবিকা জড়িত।

তার মতে, ব্যাটারি রিকশাকে নির্দিষ্ট এলাকা ও রুটের আওতায় এনে নিবন্ধন, মান নিয়ন্ত্রণ ও সুশৃঙ্খল পরিচালনা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকার দীর্ঘমেয়াদি যানজট কমাতে শক্তিশালী ও নির্ভরযোগ্য গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প নেই।

তাহসিন রেজার ভাষায়, ব্যাটারি রিকশাকে শুধু যানজটের কারণ হিসেবে দেখলে সমস্যার মূল জায়গাটি ধরা পড়বে না। কোথায় চলবে, কতটি চলবে, কোথায় চার্জ হবে এবং কী মানের যান রাস্তায় নামবে—এসব বিষয়ে একটি সমন্বিত নগর পরিবহন কাঠামো প্রয়োজন।

এই পরিকল্পনাবিদ মনে করেন, হঠাৎ করে লাখ লাখ যানবাহন বন্ধ করে দিলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবও তৈরি হবে। তাই পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন, নির্দিষ্ট রুট, জোনভিত্তিক চলাচল এবং অনুমোদিত চার্জিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এগুলোকে নিয়ন্ত্রণে আনা প্রয়োজন।

দুর্ঘটনার ঝুঁকি: যানজটের পাশাপাশি সড়ক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। নিবন্ধনহীন যান, অপ্রশিক্ষিত চালক, ত্রুটিপূর্ণ নকশা, দুর্বল ব্রেক ও আলো, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং প্রধান সড়কে ধীরগতির যান চলাচল—সব মিলিয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশে ৬ হাজার ৭২৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯১১ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ৮১২ জন আহত হন। এসব দুর্ঘটনায় যুক্ত যানবাহনের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অংশ ছিল ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ নগরে ঝুঁকিটা আরও বেশি। একই সড়কে দ্রুতগতির বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ির সঙ্গে ধীরগতির রিকশা চলায় তৈরি হয় সংঘর্ষের সম্ভাবনা। তার সঙ্গে যুক্ত হয় পথচারী পারাপার ও হঠাৎ লেন পরিবর্তনের ঝুঁকি।

‘মনের মাধুরী’তে গাড়ি তৈরির সুযোগ কতটা: সমস্যার আরেকটি বড় জায়গা হলো উৎপাদন। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হাদিউজ্জামান বলেন, ওয়ার্কশপে অটোরিকশা তৈরির ক্ষেত্রে একটি কারিগরি সংস্থার অনুমোদন থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বাস্তবে অনেক জায়গায় নিজেদের মতো করে গাড়ি তৈরি করা হচ্ছে।

তার ভাষায়, কোনো গাড়ির ‘পেট মোটা’, কোনোটি ‘পেট চিকন’, কোনোটি আবার লম্বা—অর্থাৎ গাড়ি তৈরিতে নির্দিষ্ট মডেল বা মানদণ্ডের ঘাটতি রয়েছে। বিধিমালায় বুয়েটের প্রোটোটাইপকে ভিত্তি ধরে অটোরিকশা তৈরির কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কতটা অনুসরণ করা হচ্ছে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক সাইফুন নেওয়াজও ব্যাটারি রিকশার চলাচল জোনভিত্তিক করার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তার মতে, এক জোনের গাড়ি অন্য জোনে যেতে না পারা এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালুর বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এসব যান বিদ্যুৎনির্ভর থাকবে, নাকি সৌরশক্তির মতো বিকল্প ব্যবস্থায় নেওয়া হবে, তা নিয়েও আরও গবেষণা প্রয়োজন।

ব্যাটারি রিকশাকে একদিনে উচ্ছেদ করা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি কোনো নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই বাড়তে দেওয়াও নগরের জন্য টেকসই সমাধান নয়। প্রয়োজন পুরো ব্যবস্থাটিকে নিয়মের মধ্যে আনা। প্রথম ধাপে সব যান নিবন্ধনের আওতায় আনতে হবে। চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্স নিশ্চিত করতে হবে। এরপর নির্দিষ্ট রুট ও জোন ঠিক করে প্রধান সড়ক থেকে ধীরগতির যান সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে নিয়ন্ত্রিত চলাচলের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে অনুমোদিত চার্জিং স্টেশন বাড়াতে হবে। অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধের পাশাপাশি চার্জিংয়ের জন্য পৃথক বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।


নির্বাচিত

শনিবার দেশে আনা হবে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রয়াত প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মরদেহ যুক্তরাজ্য থেকে শনিবার (১০ অক্টোবর) দেশে পৌঁছাবে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লন্ডন থেকে শুক্রবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় তার কফিন দেশে পাঠানো হবে। ওই ফ্লাইট শনিবার সকালে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত লন্ডনের ব্রিক লেইন জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তার মরদেহ রাখা হবে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য। জোহরের নামাজের পর সেখানেই তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত লন্ডনে বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে কাজ করেন। তার সাবেক অনেক সহকর্মী এবং স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা ব্রিক লেইন জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত জানাজায় অংশ নেবেন বলে জানা গেছে।

মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর তার জানাজা ও দাফনের বিস্তারিত কর্মসূচি পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে।

ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে থাকা তৌফিক ইমরোজ খালিদী গত বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে সেইন্ট বার্থোলমিউ’স হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা জানান, তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয়েছে। শুক্রবার স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।


নির্বাচিত

পাওয়ার কারে ত্রুটির কারণে দেরিতে ছাড়ল এগারসিন্ধুর গোধূলি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী এগারসিন্ধুর গোধূলি ট্রেনের পাওয়ার কারে ত্রুটির কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর ট্রেনটি ছেড়েছে। এতে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ট্রেনটির কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে ছাড়ার কথা ছিল। তবে পাওয়ার কারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ে ট্রেনটি ছাড়তে পারেনি। পরে ত্রুটি মেরামত শেষে রাত সোয়া ৮টার দিকে ট্রেনটি কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

যাত্রীরা জানান, নির্ধারিত সময়ের আগেই ট্রেনের বগিগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকায় অনেকটা সময় অন্ধকার ও প্রচণ্ড গরমের মধ্যে অপেক্ষা করতে হয়েছে।

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার শিক্ষক মুক্তার উদ্দিন ছেলেকে নিয়ে কিশোরগঞ্জে যাওয়ার জন্য সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় কমলাপুর স্টেশনে আসেন। তার ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল ৬টা ৪৫ মিনিটে। তিনি বলেন, ‘১৫ মিনিট আগেই স্টেশনে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি ট্রেনের কোনো বগিতে বিদ্যুৎ নেই। পুরো ট্রেন অন্ধকার। প্রচণ্ড গরমে স্টেশনেই এক ঘণ্টার বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।’

নরসিংদী সদরের হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ট্রেন ছাড়ার সময় পেরিয়ে গেলেও ট্রেন ছাড়ছিল না। পরে এগিয়ে গিয়ে দেখি কয়েকজন লোক পাওয়ার কারে কাজ করছেন। জানতে চাইলে তারা পাওয়ার কারে সমস্যা হয়েছে বলে জানান। সমস্যা সমাধানে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে। এই সময়টা কতটা বিরক্তিতে কেটেছে, তা যারা এখানে ছিলেন তারাই বুঝতে পারবেন।’

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলার চণ্ডীবের এলাকার শ্যামলী নাহার স্বর্ণা দুই সন্তানকে নিয়ে ট্রেনটিতে ছিলেন।

তিনি বলেন, ‘দুইটা ছোট ছোট বাচ্চা নিয়ে ট্রেনে উঠেছি। সঙ্গে একাধিক ব্যাগও আছে। ট্রেনের ভেতরেও অন্ধকার ছিল। আবার ব্যাগ রেখে নিচেও যেতে পারছিলাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘ট্রেন ছাড়ার সময় এসে পাওয়ার কার ঠিক করার কথা মনে পড়েছে। অথচ এসব বিষয় নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষা করে নেওয়া যেত। এই ট্রেনে বরাবরই সমস্যা লেগে থাকে।’

নরসিংদীর শিবপুর এলাকার যাত্রী আলমাছ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, ‘ট্রেনে কী সমস্যা হয়েছে, দায়িত্বে থাকা কেউ পরিষ্কার করে বলতে পারছিলেন না।

সমাধানে কতক্ষণ সময় লাগবে, সেটা জানার জন্য স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেনের কক্ষে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এর আগেও একদিন একটি বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে তাকে স্টেশনে পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে কল করলেও অপরিচিত নম্বর থেকে কল রিসিভ করেন না।’

এ বিষয়ে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন মুঠোফোনে এ প্রতিবেদকে বলেন, ‘ট্রেনের পাওয়ার কারে সমস্যা থাকায় নির্ধারিত সময়ে ছাড়া সম্ভব হয়নি। পরে সেটি মেরামত করে গন্তব্যের উদ্দেশে ট্রেনটি ছেড়ে গেছে।’


নির্বাচিত

বরিশাল আদালত ভবন থেকে পড়ে কলেজ ক্যাশিয়ারের মৃত্যু

নিহত মো. নাজমুল হক (৩৫) । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ তলা ভবন থেকে পড়ে মো. নাজমুল হক (৩৫) নামে বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজের এক ক্যাশিয়ারের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকেল পৌনে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নাজমুল হক নগরীর কাশিপুর এলাকার এনামুল হকের ছেলে। পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পুলিশ তাঁর পরিচয় শনাক্ত করে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। কীভাবে তিনি ভবন থেকে পড়ে গেলেন, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


নির্বাচিত

টিউমার সন্দেহে পরীক্ষা, জানা গেল ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা শিশু; পলাতক নানা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে হত্যার হুমকি দিয়ে ১৪ বছর বয়সী এক শিশুকে প্রায় এক বছর ধরে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে তার সৎ নানার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি পেটে ব্যথা হলে স্বজনরা শিশুটিকে স্থানীয় এক গাইনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা যায়, শিশুটি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা।

অভিযুক্ত রইচ উদ্দিন (৫৫) উপজেলার কয়া ইউনিয়নের রায়ডাঙা গ্রামের মৃত নাদের উদ্দিনের ছেলে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। তবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই কৌশলে পালিয়ে যান তিনি।

পুলিশ ও স্বজনদের ভাষ্য, প্রায় এক যুগ আগে ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে শিশুটির মা মারা যান। পরে তার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর শিশুটির সৎ মা তাকে সৎ নানার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন। সেখানে একা পেয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে রইচ উদ্দিন শিশুটিকে প্রায় এক বছর ধরে ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ।

সম্প্রতি পেটে ব্যথা অনুভব করলে স্বজনরা শিশুটিকে স্থানীয় এক গাইনি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক জানান, শিশুটি প্রায় সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। এরপর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা অভিযুক্ত রইচ উদ্দিনকে আটক করে পুলিশে খবর দেন। কিন্তু পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই তিনি পালিয়ে যান।

ঘটনার পর শিশুটি ও তার নানী কুমারখালী থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। শিশুটিকে চিকিৎসকের মাধ্যমে পরীক্ষা করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

শিশুটির নানীর অভিযোগ, হত্যার হুমকি দিয়ে তার নাতনিকে প্রায় এক বছর ধরে ধর্ষণ করেছেন রইচ উদ্দিন। পেটে ব্যথার কথা জানালে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার পর শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

শিশুটির মামা বলেন, একাধিকবার ধর্ষণের পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হয়েছে। এ ঘটনায় সঠিক বিচার ও অভিযুক্তের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন তিনি।

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত পালিয়ে গেলেও শিশুটিকে চিকিৎসা পরীক্ষার জন্য পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানা যাবে।


নির্বাচিত

সর্বজনীন পেনশন ভবিষ্যতের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা শুধু অবসরকালীন আর্থিক সুবিধা নয়, এটি মানুষের ভবিষ্যৎকে নিরাপদ করার একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা।

তিনি জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় একজন নাগরিক কর্মক্ষম থাকা অবস্থায় নিয়মিত অবদান রাখবেন এবং জীবনের পরবর্তী সময়ে সেই সঞ্চয়ের ভিত্তিতে আর্থিক সহায়তা পাবেন। এটি একটি সুদূরপ্রসারী ও পরিকল্পিত সামাজিক বিনিয়োগ।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় আয়োজিত ময়মনসিংহ বিভাগীয় সর্বজনীন পেনশন মেলা-২০২৬ উপলক্ষে মতবিনিময় সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় চারটি স্কিম হলো-প্রবাস স্কিম, প্রগতি স্কিম, সুরক্ষা স্কিম ও সমতা স্কিম। যে যেটার জন্য প্রযোজ্য, সে অনুযায়ী স্কিম বাছাই করা সম্ভব। এসব স্কিমের মাধ্যমে শুধু নিজেদের নয়, সন্তানের ভবিষ্যৎও নিরাপদ করার সুযোগ রয়েছে।

এ সময় প্রধান অতিথি সকলের উদ্দেশে তাদের পরিবার-পরিজন ও সহকর্মীদেরও সরকারের পেনশন স্কিমে সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘পরিবারের নিরাপত্তার জন্য এটি অত্যন্ত জরুরি।’

অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে অধিকাংশ চাকরিজীবী ও বিভিন্ন পেশার মানুষের কর্মজীবন শেষে পেনশনসহ ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার জন্য তেমন কোনো ব্যবস্থা নেই। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কিছু ক্ষেত্রে কর্মী ও প্রতিষ্ঠান যৌথভাবে অংশগ্রহণ করলেও রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বজনীন পেনশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ব্যবস্থা।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আজাদ জাহান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন অর্থ বিভাগের যুগ্ম সচিব শরীফ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক ময়মনসিংহ শাখার নির্বাহী পরিচালক আরিফুজ্জামান।


নির্বাচিত

এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস করলেই ডেঙ্গুর বিস্তার রোধ করা সম্ভব: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং নগরবাসীর মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

তিনি বলেছেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সিটি করপোরেশনের কার্যক্রমের ওপর নির্ভর করলে হবে না, নাগরিকদেরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় নগরের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাহাত্তারপুল মোড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধি করাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।

প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর। সেপ্টেম্বর, অক্টোবর ও নভেম্বর—এই তিন মাসের কর্মসূচি আমাদের সফল করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। বাসাবাড়ি, ছাদ, বারান্দা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা আশপাশের যেসব স্থানে পানি জমে থাকে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। জমে থাকা পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে। তাই নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানান তিনি।

এডিস মশার আচরণ সম্পর্কে সচেতন করে মেয়র বলেন, এ মশা সাধারণত দিনের বেলায় বেশি সক্রিয় থাকে। তাই শুধু রাতে নয়, দিনের বেলাতেও মশার কামড় থেকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর ঘরের বিভিন্ন অন্ধকার ও আড়ালযুক্ত স্থান এবং আশপাশের জমে থাকা পানি পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

ডেঙ্গু নিয়ে সঠিক তথ্য প্রচারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ডেঙ্গু নিয়ে কথা বলার আগে সঠিক তথ্য ও পরিসংখ্যান জানতে হবে। ঢালাওভাবে তথ্য প্রচার করলে মানুষের মধ্যে অযথা আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। আমাদের প্রয়োজন সঠিক ও তথ্যভিত্তিক সংবাদ।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মহানগরের হাসপাতালে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া সব ডেঙ্গু রোগীকে সিটি করপোরেশন এলাকার রোগী হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। কোন এলাকায় কতজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, সে তথ্যের ভিত্তিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম পরিচালনা করা প্রয়োজন।

জ্বর হলে দ্রুত পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়ে মেয়র বলেন, ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা বিনামূল্যে করার ব্যবস্থা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

মেয়র নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নিজের ঘর, নিজের আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখুন। কোথাও পানি জমতে দেবেন না। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

কাপ্তাইয়ে প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে মো. মাহিবুর কামাল মহিবুল্লাহ নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে প্রেমিকাকে হত্যার দায়ে মো. মাহিবুর কামাল মহিবুল্লাহ নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে রাঙামাটি জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. আহসান তারেক এ রায় ঘোষণা করেন।

মামলার এজাহার, আদালত সূত্র ও সাক্ষ্য-প্রমাণে জানা যায়, কাপ্তাই নতুন বাজারে কাজের সুবাদে স্থানীয় হাসিনা বেগম সুমির (২৮) সঙ্গে মাহিবুরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সুমির সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন তিনি। একপর্যায়ে মাহিবুরের অন্যত্র বিয়ে ঠিক হলে সুমি তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।

এ নিয়ে বিরোধের জেরে ২০২২ সালের ১১ মার্চ রাতে সুমিকে কাপ্তাই বিএফআইডিসি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভেতরে নিয়ে যান মাহিবুর। সেখানে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ইট দিয়ে সুমির মাথায় আঘাত করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হত্যার পর ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে মাহিবুর সিগারেটের আগুন দিয়ে সুমির মরদেহে আগুন ধরিয়ে দেন এবং সেখান থেকে পালিয়ে যান বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

পরদিন ১২ মার্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণের একটি পরিত্যক্ত টয়লেট থেকে সুমির পোড়া মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কাপ্তাই থানায় হত্যা মামলা করেন।

মামলাটির দীর্ঘ শুনানি, সাক্ষ্যগ্রহণ ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত মাহিবুর কামাল মহিবুল্লাহকে মৃত্যুদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ডের আদেশ দেন।


নির্বাচিত

মৎস্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অপচয় বন্ধ করতে হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থের অপচয় বন্ধে যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। মৎস্য খাতের গুরুত্ব বিবেচনায় এ খাতে আরও বেশি বরাদ্দ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থের অপচয় বন্ধে যথাযথ ব্যবহার, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে মৎস্য অধিদপ্তর আয়োজিত ‘মৎস্যখাতে বাজেট ও সরকারের উন্নয়ন ভাবনা’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মৎস্য ভবনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

মন্ত্রী বলেন বলেন, ‘মাছে-ভাতে বাঙালি’-এই পরিচয়ের সাথে মৎস্যখাত গভীরভাবে যুক্ত। কিন্তু প্রাকৃতিক জলাশয় সংকুচিত হওয়া ও পরিবেশগত পরিবর্তনসহ নানা কারণে দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা কমেছে। তাই উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি মাছের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণেও গুরুত্ব দিতে হবে।

মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে অভয়াশ্রমের গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, শুধু প্রকল্প গ্রহণ ও অর্থ ব্যয় করলেই হবে না, অভয়াশ্রম বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছে, তা মাঠপর্যায়ে যাচাই করতে হবে। তিনি বলেন, মাছের প্রজনন ও বংশবিস্তারের সুযোগ তৈরি করাই অভয়াশ্রমের মূল উদ্দেশ্য। কোথায় কত টাকা ব্যয় হয়েছে, সেই অর্থে প্রকৃতপক্ষে কী কাজ হয়েছে এবং মাছের উৎপাদনে তার প্রভাব কতটা-এসব বিষয় নিয়মিত পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

মৎস্যজীবীদের তালিকা নিয়েও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, ভুয়া বা অযোগ্য ব্যক্তির নাম তালিকায় থাকলে প্রকৃত মৎস্যজীবীরা সরকারি সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন। তাই স্থানীয় পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ে কর্মকর্তাদের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক জলসীমায় বিভিন্ন দেশ বাণিজ্যিকভাবে টুনা আহরণ করছে। বাংলাদেশও এ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে। তবে শুধু জরিপ পরিচালনা ও অর্থ ব্যয় না করে জরিপের ফলাফল কীভাবে বাস্তব মৎস্য আহরণে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা প্রয়োজন। গভীর সমুদ্রের মৎস্যসম্পদ কাজে লাগাতে বাংলাদেশকে দক্ষ জনবল, উপযুক্ত জাহাজ ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী। দেশের উন্নয়নে সরকারি কর্মকর্তা, পেশাজীবী, উদ্যোক্তা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি মৎস্য খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিতে হবে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়মিত খামার পরিদর্শন ও কার্যক্রম তদারক করতে হবে। এতে দেশের মৎস্য খাত আরও এগিয়ে যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিঠাপানির মাছের উৎপাদন বাড়ানো, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং খাল-বিল, নদী-নালা ও অন্যান্য জলাশয়কে মৎস্য উৎপাদনের আওতায় আনার বিষয়ে সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মৎস্য খাতের টেকসই উন্নয়নে দূষণমুক্ত জলাশয় ও নদ-নদী এবং নদীর নাব্যতা রক্ষা জরুরি। পাশাপাশি উৎপাদনের সঙ্গে মৎস্যপণ্যের প্রক্রিয়াজাতকরণ ও রপ্তানি বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনকের সভাপতিত্বে কর্মশালায় সম্মানীয় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো: দেলোয়ার হোসেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক এ এস এম গোলাম হাফিজ। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মিঠামইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ে ছাই দেড় কোটি টাকার মালামাল

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, কিশোরগঞ্জ (অষ্টগ্রাম -মিঠামইন) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা মিঠামইনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

​মঙ্গলবার (৬ই অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে মিঠামইন সদর ইউনিয়নের গিরিশপুর গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গিরিশপুর গ্রামের নূর হোসেনের রান্নাঘরের গ্যাস সিলিন্ডারের চুলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। এতে নূর হোসেনের প্রায় ১৫টি ঘর ও একটি সারের গুদাম এবং দিলীপ চৌধুরীর টিনশেড দোতলা ঘরসহ তিনটি ঘর পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

​খবর পেয়ে মিঠামইন, অষ্টগ্রাম ও ইটনা ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৩৭ মিনিট কাজ করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং প্রায় দুই ঘণ্টা পর আগুন পুরোপুরি নির্বাপিত হয়।

​এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রায় দেড় কোটি টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মিঠামইন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ রুস্তম আলী জুয়েল ও মিঠামইনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মাযহারুল ইসলাম।

​এ বিষয়ে মিঠামইন ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ রুস্তম আলী জুয়েল বলেন, "খবর পাওয়ার পরপরই আমাদের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ৩৭ মিনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই ঘণ্টার মধ্যে তা পুরোপুরি নির্বাপন করা সম্ভব হয়। প্রাথমিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডারের চুলা থেকেই আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই আগুনে নূর হোসেনের প্রায় ১ কোটি টাকা এবং দিলীপ চৌধুরীর প্রায় ৫০ লাখ টাকাসহ মোট দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।"

​অন্যদিকে, মিঠামইনের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাযহারুল ইসলাম বলেন, "দুর্ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে খোঁজখবর নিয়েছি। আগুনে বেশ কিছু বসতঘর ও সারের গুদাম পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি সহায়তার বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করছি।"


নির্বাচিত

বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বেহাল দশা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খান বশির, বরিশাল ব্যুরো

বরিশাল সড়ক ও জনপথ বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন সড়কের কয়েকটি অংশ দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে বরিশালের রুপাতলী থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়ক হয়ে দপদপিয়া সেতু এবং বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে অসংখ্য খানাখন্দ। এতে যানবাহন চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে মাঝে মধ্যে সংস্কারকাজ করা হলেও কয়েক দিনের মধ্যেই আবার তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় ভোগান্তি কমছে না। প্রতিদিন এসব সড়ক দিয়ে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করায় দুর্ভোগ আরও প্রকট হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও চালকেরা ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো দ্রুত সংস্কার করে টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলোর সংস্কারকাজ চলছে। কিছুদিনের মধ্যেই সমস্যাগুলোর সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল

* অভিযুক্তের বাড়িতে বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের কালকিনিতে ৫ বছরের শিশুকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্তের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী। এ সময় বিক্ষুদ্ধ জনতা অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল বের করে। পরে খবর পেয়ে কালকিনি থানা-পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং পরে উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভান।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) কালকিনি থানার ওসি জহিরুল আলম জানান, সোমবার সন্ধ্যার পরে খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে এবং পরে কালকিনি উপজেলা ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা পুলিশের সাথে যোগ দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

জানা গেছে, কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর এলাকার মধ্যেরচর গ্রামের ৫ বছরের এক শিশুকে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ চেষ্টা চালায় একই গ্রামের হাবুল শিকদার (৫৭)। বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে হাবুল শিকদার গা ঢাকা দেয়। পরে হাবুল শিকদার ওই বিষয়টি নিয়ে আপস-মিমাংসা করা এবং থানায় মামলা না করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্ন লোকজনের মাধ্যমে চাপ দেন।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে ওই গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক লোকজন ভুক্তভোগী পরিবারকে সাথে নিয়ে অভিযুক্ত হাবুলের বিচারের দাবিতে ঝাড়ু মিছিল বের করেন এবং সন্ধ্যার পরে একপর্যায়ে এই মিছিল শেষে বিক্ষুদ্ধ জনতা অভিযুক্তের বসতবাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটায়। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তিনি আরও জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close