বুধবার, ২০ মে ২০২৬
৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিমানবন্দরে অভিনেত্রীসহ দুই যাত্রী থেকে ৬৯ লাখ টাকার সোনা জব্দ           

ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২১:৫৭

চট্টগ্রামে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এক অভিনেত্রীসহ দুই যাত্রীর কাছ থেকে ৭৩৩ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করেছেন কর্মকর্তারা। এসব স্বর্ণালংকারের বাজার মূল্য প্রায় ৬৮ লাখ ৯৬,৪৬২ টাকা। শনিবার সকালে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তর (এনএসআই) ও শুল্ক গোয়েন্দা কর্মকর্তারা উড়োজাহাজে তল্লাশি চালিয়ে এসব স্বর্ণালংকার জব্দ করেন।

আটক দুই যাত্রী হলেন- নাট্য অভিনেত্রী অনামিকা জুথি ও চট্টগ্রামের রাউজানের মোহাম্মদ রায়হান ইকবাল। তারা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজে করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, অনামিকা জুথি দুই হাতে স্বর্ণের চুড়ি স্কচটেপ দিয়ে আটকে কৌশলে বহন করছিলেন। এছাড়াও দুইজনই স্বর্ণের চেনগুলো গলায় সুকৌশলে লুকিয়ে রেখেছিলেন।

তাদের হাতব্যাগ থেকেও স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়েছে। বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা জানান, বাংলাদেশ বিমানের ‘বিজি-১৪৮’ ফ্লাইটে দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে দুবাই থেকে সকালে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই চট্টগ্রাম বিমানবন্দর টিম ও শুল্ক গোয়েন্দা যৌথভাবে বিমানের ভেতরে ঢুকে দুই যাত্রীকে তল্লাশি করে।

এ সময় অনামিকা ও রায়হানের কাছ থেকে ৭৩৩ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। তারা মূলত ঢাকা হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী। এ কারণে অ্যাভিয়েশন রুল অনুযায়ী তাদের একই বিমানযোগে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এনএসআই ও শুল্ক গোয়েন্দারা দুইজনকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টিমের কাছে হস্তান্তর করেন।

এদিকে এই বিষয়ে অনামিকা জুথি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আটক করার মতো ঘটনা ঘটেনি। ভুল তথ্য ছড়িয়েছে। তবে কিছু স্বর্ণ আমার সঙ্গে ছিল তবে সেটার জন্য ট্যাক্স দিতে হয়। অলরেডি আমি ট্যাক্স দিয়েছি। যেভাবে নিউজ হয়েছে তা দেখে আমি বিব্রত। পরিচিত সবাই ফোন করেছেন। কীভাবে এত বড় ভুল একটি তথ্য ছড়িয়েছে আমার বোধগম্য নয়। এটা আমার জন্য সম্মানহানিকর।’


বগুড়ায় চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে যুবকের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়ায় বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমার চুরির সময় গণপিটুনিতে মো. রাফি মণ্ডল (২৪) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জাহাঙ্গীর হোসেন (৩২) নামে আরও এক যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) রাত আড়াইটার দিকে জেলার শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের চন্ডেশ্বর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বুধবার (২০ মে) ভোর সাড়ে ৪টার দিকে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা অবস্থায় রাফি মণ্ডলের মৃত্যু হয়।

নিহত রাফি মণ্ডল ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের নাটাবাড়ী গ্রামের বুলু মণ্ডলের ছেলে ও জাহাঙ্গীর একই উপজেলার বড়বিলা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শেরপুর উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের চন্ডেশ্বর গ্রামের রমজান আলী ও আব্দুল জলিল যৌথভাবে একটি সেচ পাম্প পরিচালনা করেন। চুরির হাত থেকে রক্ষা পেতে তারা ওই পাম্পের বৈদ্যুতিক ট্রান্সফরমারের সঙ্গে একটি বিশেষ সতর্কবার্তা ডিভাইস (অ্যালার্ম) সংযুক্ত করে রেখেছিলেন।

গভীর রাতে রাফি ও জাহাঙ্গীর ট্রান্সফরমারটি চুরি করতে গেলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে রমজান আলী ও আব্দুল জলিলের মুঠোফোনে কল চলে যায়। ডিভাইসের সংকেত পেয়ে মালিকপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে চোর চোর বলে চিৎকার শুরু করেন। তাদের চিৎকারে আশপাশের গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা নিয়ে ছুটে এসে চারদিক থেকে ঘেরাও করে ওই দুই যুবককে আটক করেন। এ সময় উত্তেজিত জনতার গণপিটুনিতে দুজনই গুরুতর আহত হলে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে চিকিৎসা অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে রাফি মণ্ডল মারা যান। আহত জাহাঙ্গীর হোসেন হাসপাতালে চিকিৎসা আবস্থায় রয়েছেন।

শেরপুর থানার ওসি এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, ‘ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনির শিকার হয়ে একজন মারা গেছেন। তার মরদেহ বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।’


ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ৬ বছর: একমাত্র সাঁকো―ই সাত গ্রামের মানুষের ভরসা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা

ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডবে বিধ্বস্ত হওয়ার ৬ বছর পার হলেও মেরামত হয়নি সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগরের গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। সাত গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান এই সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় ভাঙা স্থানে নির্মিত অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজারো মানুষ। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রবল জলোচ্ছ্বাসে প্রতাপনগরের গড়ইমহল সড়কের একটি বড় অংশ ধসে যায়। এরপর দীর্ঘ কয়েক বছর স্থানীয়রা নৌকায় যাতায়াত করলেও পরে ইউনিয়ন পরিষদ ও এলাকাবাসীর উদ্যোগে একটি বাঁশের সাঁকো তৈরি করা হয়। বর্তমানে কুড়িকাহুনিয়া, সনাতনকাঠি, নাকনা, গোকুলনগর, গোয়ালকাটি ও শ্রীপুরসহ সাত গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র পথ এটি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ, বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই নড়বড়ে বাঁশ-কাঠের তৈরি সাঁকোটি ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি পিচ্ছিল হয়ে পড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা রানুফা খাতুন আক্ষেপ করে বলেন, ‘আম্পানে সব হারিয়ে ১১ মাস সাইক্লোন সেন্টারে ছিলাম। সব কষ্ট সহ্য করা যায়, কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। ভালো রাস্তা না থাকায় তারা ঠিকমতো স্কুলে যেতে পারছে না।’

আরেক বাসিন্দা খালেক গাজী জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকায় অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়া দুরূহ হয়ে পড়েছে। ছোট শিশুদের মন্তব‍্য করে বলেন, ‘স্কুলে পাঠাতেও টাকা দিয়ে নৌকা বা ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার করতে হয়।’

নাকনা গ্রামের ডা. নিহার সরকার বলেন, ‘প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদ, স্কুল-কলেজ ও বাজারে যাওয়ার এটিই প্রধান স্থলপথ। রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার করা না হলে এই জনপদ মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্নই থেকে যাবে।’

প্রতাপনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু দাউদ ঢালী জানান, কুড়িকাহুনিয়ার কাঁঠালতলা থেকে মকবুল দোকানদারের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৭০০ ফুট রাস্তা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। সেখানে কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। দ্রুত কাজ শুরু হওয়া জরুরি।

আশাশুনি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিরুল ইসলাম জানান, রাস্তাটি ওয়াশ আউট হয়ে গভীর খাদ সৃষ্টি হওয়ায় সংস্কার কাজ বেশ ব্যয়বহুল। এলজিইডির বাজেট স্বল্পতার কারণে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে জনস্বার্থে সেখানে একটি অস্থায়ী ভাসমান সাঁকো নির্মাণ করা হয়েছে। পর্যাপ্ত বরাদ্দ পেলে ভবিষ্যতে স্থায়ী সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

দীর্ঘ ছয় বছরের এই অবর্ণনীয় দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাত গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ। সাতক্ষীরা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী এ এস এম তারিকুল হাসান খান দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘অর্থ অভাবের কারণে কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। সাতক্ষীরায় অনেক রাস্তার করুণ অবস্থা, এগুলো করার জন্য অনেক অর্থের বরাদ্দ প্রয়োজন। এ বিষয়ে স্থানীয় মন্ত্রণালয়ের কাছে চাহিদা দেওয়া হয়েছে। সাতক্ষীরার জন্য বেশি বেশি বরাদ্দ খুবই প্রয়োজন তা না হলে নতুন রাস্তা তৈরি এবং পুরোনো রাস্তা পুনরায় সংস্করণ করা সম্ভব না।’


পূর্ব সুন্দরবনে ১২ জেলে অপহৃত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

সুন্দরবনে ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী। গত মঙ্গলবার (১৯ মে) গভীর রাতে পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ফুসফুসেরচর এলাকার নদী থেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী একটি ট্রলারসহ তাদের অপহরণ করে সুন্দরবনে আটকে রেখেছে।

জেলেদের মহাজন নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শরণখোলার রাজাপুর এলাকার মৎস্য ব্যবসায়ী বলেন, ‘গত মঙ্গলবার (১৯ মে) গভীর রাতে সুন্দরবনের ফুসফুসেরচরের কাছে সাগর মোহনায় মাছ ধরারত জেলেদের নৌকা ও ট্রলারে হামলা করে জেলেদের একটি ট্রলারসহ ১২ জেলেকে অপহরণ করেছে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী।’ অপহৃত জেলেরা হচ্ছেন- পাথরঘাটার রুহিতা এলাকার ইয়াসিন (২৫), মাসুম (৫৮), সেলিম (২৫), জাকির (২৮), হোসেন (৩০), তৌহিদ (২৮), ইয়াসিন (২০), মাহবুব (২৪), হানিফ (৩৫), হৃদয় (২৬), ইব্রাহিম (৪০) ও সুমন (২৭)। এ ছাড়া দস্যুদের কবজায় আরও কয়েকজন জেলে আটক রয়েছে। সশস্ত্র দস্যুরা সংখ্যায় ১৫-১৬ জন এবং বিশেষ এক ধরনের পোশাক পড়া ছিল বলে ওই মহাজন জানান।

বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘পাথরঘাটার রহিতা ও নিদ্রাসখিনা এলাকার ১২ জেলেকে বনদস্যু জাহাঙ্গীর বাহিনী সুন্দরবনে অপহরণ করে আটকে রেখেছে বলে তারা খবর পেয়েছেন।’

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের শেলারচর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরেস্টার মিজানুর রহমান বুধবার (২০ মে) দুপুরে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘ফুসফুসেরচর এলাকায় ট্রলারসহ ১২ জেলে অপহরণের খবর পেয়ে দস্যুদের ধরতে রাতেই বনরক্ষীরা সুন্দরবনে অভিযানে নেমেছেন। এ পর্যন্ত অপহৃত জেলেদের সন্ধান মেলেনি।’

শরণখোলা থানার ওসি শামিনুল হক বলেন, ‘সুন্দরবনে ১৭ জন জেলে অপহরণের খবর শুনেছি। কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


ডুমুরিয়ার চুকনগর গণহত্যা দিবসে স্মরণ‌ সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা)

বুধবার (২০ মে)‌ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে চুকনগর গণহত্যা একটি অত্যন্ত কলঙ্কজনক ও শোকার্ত অধ্যায়। ১৯৭১ সালের ২০ মে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগরে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসররা নির্বিচারে গুলি চালিয়ে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মতে, এটি ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একক বৃহত্তম ও ভয়াবহতম গণহত্যা।

গণহত্যা দিবসের পটভূমি ও নৃশংসতা শরণার্থীদের সমাগম: ১৯৭১ সালের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে খুলনা, বাগেরহাট, বরিশাল, ফরিদপুরসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের হাজার হাজার মানুষ পাকিস্তানি বাহিনীর অত্যাচার থেকে জীবন বাঁচাতে ভারতের উদ্দেশ্যে রওনা হন। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে যশোর, খুলনা ও সাতক্ষীরার সংযোগস্থল চুকনগরকে তারা ট্রানজিট বা নিরাপদ পথ হিসেবে বেছে নেন। ১৮ ও ১৯ মে চুকনগরের পাতখোলা বিল, বাজার, ফুটবল মাঠ এবং কালী মন্দির প্রাঙ্গণে লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হন।

আকস্মিক হামলা: ১৯৭১ সালের ২০ মে (দিনটি ছিল বৃহস্পতিবার) বেলা ১১টার দিকে সাতক্ষীরা থেকে আসা পাকিস্তানি সেনাদের একটি দল আকস্মিকভাবে চুকনগর বাজারের পশ্চিম পাশে ঝাউতলায় এসে অবস্থান নেয়। তারা লাইট মেশিনগান ও সেমি-অটোমেটিক রাইফেল দিয়ে নিরস্ত্র, সাধারণ মানুষের ওপর নির্বিচারে ব্রাশফায়ার শুরু করে‌ ।

উল্লেখ্য শহীদদের স্মরণে স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা আয়োজন করে এর মধ্যে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ, শোকর‍্যালি, আলোচনা সভা, এবং মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন এই দিবসটি উপলক্ষে ডুমুরিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে বুধবার সকাল ৯টায় আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ সবিতা সরকার, বক্তব্য দেন ডুমুরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি অমিত কুমার বিশ্বাস, বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নূরুল ইসলাম মানিক, চুকনগর ডিগ্রী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম, চুকনগর ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হাফিজ মাহমুদ,

চেয়ারম্যান শেখ হেলাল উদ্দিন,বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুন নবী খোকা, আবুল কালাম মহিউদ্দিন, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, চুকনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি এমএ রুহুল আমি, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সরদার দৌলত হোসেন, কবি ইব্রাহিম রেজা,

শেখ সেলিম আক্তার স্বপন, চুকনগর বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক সরদার বিল্লাল হোসেন,

চুকনগর স্মৃতিস্তম্ভ: ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর বাজারে শহীদদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। এই স্থানে হাজার হাজার নিরীহ বাঙালি প্রাণ হারান।

চুকনগর গণহত্যা দিবসটিকে 'জাতীয় শোক দিবস' বা 'জাতীয় গণহত্যা দিবস' হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি প্রদানের দাবি জানিয়ে আসছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিভিন্ন সংগঠন আলোচনা সভার পূর্বে‌ জাতীয় সংঙ্গিতের মাধ্যমে পতাকা উত্তোলন করে ১মিনিট নিরাবতা পালন করা হয়।


ভূমি সেবা অটোমেশনে হয়রানি কমবে, বাড়বে স্বচ্ছতা: নীলফামারী জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেছেন, ভূমি ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল ভূমি সেবার মাধ্যমে জনগণ ঘরে বসেই বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারবে, ফলে দালালচক্রের দৌরাত্ম্য কমে আসবে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে ‘ভূমি সেবা সপ্তাহ ও ভূমিমেলা-২০২৬’ উপলক্ষে ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন বিষয়ক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

সেমিনারে জানানো হয়, ‘ভূমি ব্যবস্থাপনা অটোমেশন সিস্টেমস’ চালুর ফলে পেপারলেস কার্যক্রম বাস্তবায়ন, সময় ও ব্যয় সাশ্রয়, দালাল নির্ভরতা হ্রাস, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, ক্যাশলেস ভূমি সেবা, রেকর্ড হালনাগাদ ব্যবস্থাপনা, রেকর্ড হোল্ডিং সমন্বয় এবং শতভাগ অনলাইন পেমেন্টের আওতায় ভূমি সেবা নিয়ে আসা সম্ভব হবে।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র এবং নীলফামারী সরকারি কলেজ-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক একেএম সিদ্দিকুর রহমান বক্তব্য দেন। সেমিনারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুধীজন উপস্থিত ছিলেন।


স্কুলের সামনে স্পিড ব্রেকার না থাকায় বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

সাইনবোর্ড শরণখোলা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে তাফালবাড়ি ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত চালরায়েন্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পাশেই তাফালবাড়ি ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা। প্রতিদিন এ দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কয়েকশ শিক্ষার্থী যাতায়াত করলেও সড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণে কোনো স্পিড ব্রেকার না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কটি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করে। ফলে রাস্তা পারাপারের সময় প্রায়ই ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয় শিক্ষার্থীদের। একই স্থানে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দা এমাদুল জোমাদ্দার বলেন, “এখানে গাড়ির গতি অনেক বেশি থাকে। ছোট ছোট শিশুরা প্রতিদিন রাস্তা পার হয়। আমরা বহুবার স্পিড ব্রেকারের দাবি তুলেছি, কিন্তু এখনও কোনো ব্যবস্থা হয়নি।"

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষিকা বলেন, স্কুল ছুটির সময় সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি তৈরি হয়। শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত স্পিড ব্রেকার স্থাপন করা প্রয়োজন।

এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক অঞ্জলি রানি বলেন, প্রতিদিন সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকি। একটি ছোট উদ্যোগ অনেক বড় দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করতে পারে।

স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।


পল্লবীতে সরকারি জমি উদ্ধারে গিয়ে হামলার শিকার পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাধে এলাকায় জাতীয় গৃহায়ণের দখল হওয়া জমি উদ্ধার অভিযানে গিয়ে পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে।

বুধবার (২০ মে) সকাল ১০টা থেকে কালসী স্টিল ব্রিজ ও সুইচ গেট এলাকায় ঢাকা-১৬ আসনের এমপি আবদুল বাতেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও বিপুল সংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়ে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। উচ্ছেদের এক পর্যায়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয়রা।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোস্তাক সরকার। তিনি জানান, জাতীয় গৃহায়নের দখল করা জায়গা উচ্ছেদ করতে যায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, যুগ্ম কমিশনারসহ পুলিশ সদস্যরা। উচ্ছেদ অভিযানের এক পর্যায়ে প্রায় ১২টার দিকে স্থানীয়রা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল মারতে থাকে। এতে কয়েকজন পুলিশ আহত হয়েছে। দুপুরের পর আবারও সেখানে উচ্ছেদ অভিযান চলছে।

এই ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে বস্তিঘর, গ্যারেজ, ভাঙারির দোকান, মাদক স্পট ও রাজনৈতিক ক্লাব গড়ে তুলে সরকারি জমি প্রায়ই ৫০ বিঘা দখল করে রাখা হয়েছিল।

উচ্ছেদ অভিযানের এক পর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে স্থানীয়রা ইট পাটকেল ছুড়তে থাকে। প্রাণ বাঁচাতে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ সদস্যদের দৌড়ে সরে যেতে দেখা যায়।


সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার সিদ্ধান্ত বিবেচনায় রয়েছে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মোঃ মাইনুল হক, সৈয়দপুর, নীলফামারী প্রতিনিধি

সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার সিদ্ধান্ত সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম।তিনি বলেছেন,দেশের যেসব বিমানবন্দরে যাত্রীসেবা ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা বেশি,সেগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন করা হবে।উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে সৈয়দপুরের কৌশলগত গুরুত্ব থাকায় এ বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক করার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে।

বুধবার (২০ মে) সকাল ৯টায় সৈয়দপুর বিমানবন্দর-এ অবতরণের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী জানান,প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন বিমানবন্দর স্থাপনের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন,তা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।একইসঙ্গে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের সম্প্রসারণে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহার পর শুরু হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

তিনি বলেন,দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিমানবন্দর উন্নয়নের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।শিল্প,বাণিজ্য ও যোগাযোগের সম্ভাবনায় সমৃদ্ধ হওয়ায় সৈয়দপুরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে গড়ে তোলার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।

এ সময় বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার,সাধারণ সম্পাদক শাহিন আক্তার শাহিন,সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এরশাদ হোসেন পাপ্পু,যুবদল আহ্বায়ক তারিক আজিজ,বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী জুবায়ের ও তারিকুল ইসলাম তারিকসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে মন্ত্রী সড়কপথে ঠাকুরগাঁওয়ের উদ্দেশ্যে রওনা দেন।


স্কুলের ক্লাসরুমে প্রধান শিক্ষকের ‘সংসার’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জায়েদ আহমেদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকার কালারাই বিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের একটি শ্রেণিকক্ষকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করে সেখানে ‘ভাতের হোটেল’ ও থাকার ঘর বানানোর অভিযোগ উঠেছে। একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন কর্মকাণ্ডে এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় সচেতন মহলকে স্তম্ভিত করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের অভিযোগ ও সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির কক্ষটিকে পুরোপুরি ব্যক্তিগত বসবাসের উপযোগী করা হয়েছে। সেখানে রান্নাবান্নার সরঞ্জাম, খাট-বিছানাসহ যাবতীয় গৃহস্থালি ও ব্যক্তিগত সামগ্রী রাখা হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেন, পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর পরিবেশের জন্য এই বিদ্যালয়টির বেশ সুনাম ছিল। কিন্তু কোমলমতি শিশুদের ক্লাসরুমকে এভাবে হোটেল আর শোয়ার ঘর বানানোয় শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে বিনষ্ট হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। আমরা দ্রুত এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছি।

শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত হওয়ার এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি নিয়ে তোলপাড় শুরু হলে মুখ খোলেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মুনমুন বনিক শ্রেণিকক্ষটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, “যা হওয়ার হয়ে গেছে। দুই-একদিনের মধ্যে সব সরঞ্জাম সরিয়ে ফেলা হবে এবং বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হবে।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এনামুর রহিম বাবর জানান, সাংবাদিকদের মাধ্যমেই তিনি প্রথম বিষয়টি জানতে পেরেছেন। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “একটি সরকারি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টি জানার পরপরই দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”

শিক্ষার আলো ছড়ানোর পবিত্র প্রাঙ্গণে এমন বাণিজ্যিক ও ব্যক্তিগত দখলদারিত্বের ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা এখন প্রশাসনের দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপের অপেক্ষায় আছেন।




মৌলভীবাজারে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদকের প্রশিক্ষণ কর্মশালা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুলাউড়া প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারে দুর্নীতি প্রতিরোধ, তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তরুণ সমাজের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী উত্তম চর্চা গড়ে তুলতে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর আয়োজনে জেলা সদরের এম. সাইফুর রহমান অডিটোরিয়ামে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় দুর্নীতি প্রতিরোধে স্কুল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের ভূমিকা, তথ্য অধিকার আইন বাস্তবায়ন, দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম এবং সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় হবিগঞ্জের উপপরিচালক মো. এরশাদ মিয়া, মৌলভীবাজার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ফজলুর রহমান, জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন ও দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. কামরুজ্জামান।

কর্মশালায় মৌলভীবাজার জেলার সকল উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সদস্যরা অংশ নেন।


বরিশালে হাম উপসর্গে আরও ২ শিশুর মৃত্যু, মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৬

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশাল বিভাগে হামের উপসর্গে শিশুমৃত্যুর সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েই চলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৬ জনে। এর মধ্যে শুধু শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে মারা গেছে ২৬ জন।

বুধবার (২০ মে) সকালে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মৃত দুই শিশু হলো পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার মনিরুজ্জামানের সাড়ে চার মাস বয়সী ছেলে আলী আজগর এবং পটুয়াখালী সদরের হাজীখালী এলাকার রাহাত গাজীর তিন মাস বয়সী ছেলে মুয়াজ। মঙ্গলবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় শেবাচিম হাসপাতালে নতুন করে ৫৫ জন হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৭ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২০৪ জন রোগী।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন ২ হাজার ৩৪১ জন রোগী।

এদিকে রোগীর চাপ সামলাতে শেবাচিম হাসপাতালের তিনটি ওয়ার্ডে হাম আক্রান্তদের চিকিৎসা চলছে। পাশাপাশি বরিশাল জেনারেল হাসপাতালেও হাম উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২৪ জন।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত বিভাগে হাম উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬ হাজার ৮৩ জন রোগী।

শেবাচিম হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (অর্থ ও ভান্ডার) ডা. আবদুল মুনয়েম সাদ জানান, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে আরও একটি হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। তিনি বলেন, রোগীর চাপ সামলাতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালে স্থান সংকুলান না হলেও চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না।


প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে ত্রিশালে ডিআইজির মাঠ ও মঞ্চ পরিদর্শন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মামুনুর রশিদ, ত্রিশাল ( ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর আগমনকে কেন্দ্র করে ময়মনসিংহের ত্রিশালে ব্যাপক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ বুধবার দুপুরে সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠ এবং ঐতিহাসিক নজরুল মঞ্চ পরিদর্শন করেছেন ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়া।

এদিন দুপুরে তিনি অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনে আসেন এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন। মাঠ ও মঞ্চ পরিদর্শন ছাড়াও তিনি অনুষ্ঠানস্থলের আশপাশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ও স্থান ঘুরে দেখেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরকে নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণ করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নেওয়া নানা পদক্ষেপের বিষয়েও তিনি দিকনির্দেশনা দেন।

পরিদর্শনকালে ডিআইজি মোহাম্মদ আতাউল কিবরিয়ার সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার (এসপি) কামরুল ইসলাম, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি, ত্রিশাল সার্কেল) ইসরাফিল হাসান,ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর আহাম্মদসহ জেলা ও থানা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


আমতলীতে জরাজীর্ণ ভবনে ভবিষ্যৎ গড়ার অনিশ্চিত পাঠশালা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাশিমুল হক রিমন, আমতলী প্রতিনিধি

বিদ্যালয় ভবনের বিম ও কলামের বিভিন্ন স্থানে ফাটল। কোথাও কোথাও পলেস্তারা খসে বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা রড। বৃষ্টি হলেই ছাদ চুইয়ে পড়ে পানি। অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে বসে থাকা শিক্ষার্থীদের গায়েও খসে পড়ে ছাদের পলেস্তারা। কম্পিউটার ল্যাবের যন্ত্রপাতি পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেই চলছে পাঠদান।

এমন বেহাল অবস্থায় রয়েছে বরগুনার আমতলী এমইউ বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছয়টি ভবন। দীর্ঘ ৬০ বছরেও ভবনগুলোর বড় ধরনের সংস্কার না হওয়ায় তিন শতাধিক শিক্ষার্থীকে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চালিয়ে যেতে হচ্ছে।

আমতলী শহরের প্রাণকেন্দ্রে থানা সড়কের পাশে শিক্ষানুরাগী সাবেক এমএলএ (এমপি) মরহুম মফিজ উদ্দিন তালুকদার ১৯৬৫ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। মাধ্যমিক পর্যায়ে নারী শিক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকায় আমতলী এমইউ বালিকা পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় নামে পরিচিত। প্রতিষ্ঠার এক বছর পর ১৯৬৬ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট একতলা মূল ভবনটি নির্মাণ করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, মূল ভবনে বর্তমানে একটি হলরুম, প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, অফিস কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন ও কম্পিউটার ল্যাব রয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভবনটিতে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার হয়নি। ছাদের বিভিন্ন অংশে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে পলেস্তারা ধসে পড়েছে। অধিকাংশ দরজা-জানালা ভাঙা ও নড়বড়ে হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় কম্পিউটার ল্যাবের যন্ত্রপাতি রক্ষায় পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়।

মূল ভবনের দক্ষিণ পাশে ১৯৭২ সালে নির্মিত দুই কক্ষের একটি টিনশেড শ্রেণিকক্ষ দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে ভবনটিতে তালা ঝুলছে। পাশের দোতলা টিনশেড বিজ্ঞানাগারটিও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। টিনের ছাউনি দিয়ে পানি পড়ায় বিজ্ঞানাগারের মালপত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ১৯৮৭ সালে নির্মিত তিন কক্ষের একটি ভবন, ২০০৪ সালে নির্মিত দুই কক্ষের আরেকটি ভবন এবং ২০০২ সালে নির্মিত দোতলা পাঁচ কক্ষের ভবনও জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভবনগুলোর দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে। কোথাও কোথাও মেঝেতে সৃষ্টি হয়েছে বড় গর্ত। দরজা-জানালা খুলে গেছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০০২ সালে নির্মিত দোতলা ভবনটিতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল। নির্মাণের অল্প সময়ের মধ্যেই ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বর্তমানে শিক্ষার্থীরা আতঙ্কে ভবনের দোতলায় উঠতে চায় না।

প্রধান শিক্ষক ও নৈশপ্রহরীর জন্য বরাদ্দ দুটি টিনশেড ঘরও জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তারা নিজেদের উদ্যোগে কোনো রকম মেরামত করে সেখানে বসবাস করলেও দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই গেছে।

বিদ্যালয়টির চারপাশে পূর্ণাঙ্গ সীমানাপ্রাচীর নেই। ফলে অবাধে গবাদিপশু বিদ্যালয় মাঠে প্রবেশ করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাতে বিদ্যালয় মাঠে মাদকসেবীদের আড্ডাও বসে। শহরের প্রধান সড়কের পাশে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে না।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী মারিয়া আক্তার ও সুমাইয়া শিমু বলে, “ভবনগুলো খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রায়ই ছাদ ও দেয়াল থেকে পলেস্তারা খসে পড়ে। কখন দুর্ঘটনা ঘটে, সেই আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করতে হয়।”

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী শাইরা বলে, “বৃষ্টির দিনে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ে। বইখাতা ও পোশাক ভিজে যায়। ঠিকমতো ক্লাস করা যায় না।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ আলম কবীর বলেন, “ছয়টি ভবনই ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। শিক্ষার্থীরা আতঙ্ক নিয়ে ক্লাস করছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার মান ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবন নির্মাণ এখন অত্যন্ত জরুরি। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

জেলা শিক্ষা অফিসার শিরিন আকতার বলেন, “বিদ্যালয়টির ভবনের বিষয়টি লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।”


banner close