বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আজগুবি অপপ্রচার করছে। তাদের উদ্দেশ্য ভয়ংকর খারাপ। তারা চট্টগ্রাম দাবি করলে, আমরা বাংলা-বিহার-ওড়িশা দাবি করব। বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে গোটা জাতি এখন ঐক্যবদ্ধ। এ ব্যাপারে কোনো আপস নেই।
মঙ্গলবার সকালে ‘দেশীয় পণ্য, কিনে হও ধন্য’ ব্যানারে রাজশাহী নগরীর ভুবন মোহন পার্কে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ায় ভারতের শাসকগোষ্ঠী মনকষ্টে আছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, মমতা ব্যানার্জি বাংলাদেশে শান্তি বাহিনী পাঠাতে বলেছে। একটি সার্বভৌমত্বের দেশে কীভাবে অন্য একটি বাহিনী পাঠায়। এ থেকে প্রমাণ হয় শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছেন, এতে ভারতের রাজ্য থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রত্যেক জনপ্রতিনিধির মন খারাপ। আদতে ভারতের রাজনীতিবিদদের গোড়া রসুনের মতো একই জায়গায়। তারা এ দেশের মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করে না; বন্ধুত্ব করে শেখ হাসিনার সঙ্গে।
রিজভী দাবি করেন, বাংলাদেশ পেঁয়াজ উৎপাদনেও স্বয়ংসম্পূর্ণ। সিন্ডিকেট করে সংকট তৈরি করা হয়েছে টাকা লুটপাট করার জন্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের চিকিৎসকরা বেশ দক্ষ। একসময় ভারত থেকে চিকিৎসা নিতে রাজশাহীতে লোক আসত।’
রিজভী বলেন, বাংলাদেশিদের ভারত থেকে শাড়ি, সাবান, বিছানা, চাদর বা অন্য কিছু কেনা উচিত নয়। বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা অবমাননা এবং আগরতলায় সহকারী হাইকমিশনে হামলার প্রতিবাদে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপি নেতা ডা. রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব বিশ্বনাথ সরকার, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ আলী এশা, সদস্য সচিব মামুনুর রশীদ, ছাত্রদলের সহসভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়াল প্রমুখ।
বক্তব্য শেষে রুহুল কবির রিজভী স্বল্প মূল্যে দেশি লুঙ্গি, শাড়ি, সাবান ও পাঞ্জাবি বিক্রি করেন প্রান্তিক মানুষের মধ্যে। পরে তিনি ভারতীয় একটি জয়পুরী বিছানার চাদর পোড়ান।
রাজধানীতে আবারও ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জনজীবনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১৮ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর—এই তিন দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ২৫টি ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে অন্তত সাতটি বাসে আগুন, সন্দেহজনক অগ্নিকাণ্ড অথবা আগুন দেওয়ার চেষ্টার খবর পাওয়া গেছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, থানা, রেলস্টেশন, গণপরিবহন এবং রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের আশপাশে এসব ঘটনায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। শুধু শুক্রবারই (১৮ সেপ্টেম্বর) সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৪টি ককটেল বিস্ফোরণের তথ্য জানিয়েছিল পুলিশ।
ধারাবাহিক এসব ঘটনার পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, উড়ালসড়ক ও কেপিআই এলাকায় দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশির পাশাপাশি মোবাইল টিম, মোটরসাইকেল পেট্রোলিং ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
এক দিনেই ১৪ বিস্ফোরণ: শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। মালিবাগ, মহাখালী, আগারগাঁও, যাত্রাবাড়ী, বাবুবাজার, মগবাজার, বিটিভি ভবনসহ অন্তত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ১৪টি বিস্ফোরণের তথ্য পাওয়া যায়। বিভিন্ন প্রতিবেদনে স্থানের সংখ্যা নিয়ে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও ১৪টি বিস্ফোরণের হিসাবটি একাধিক প্রতিবেদনে এসেছে।
যাত্রাবাড়ীতে থানার সামনে ও আশপাশে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণে একজন রিকশাচালক আহত হন। একই রাতে কাফরুল থানার সামনে জব্দ করে রাখা একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ বেতার ভবনের সামনেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়। তবে সেখানে ককটেলের আলামত না পাওয়ায় মামলা না করে সাধারণ ডায়েরি করা হয়।
১৯ সেপ্টেম্বর: আরও ৮ বিস্ফোরণ: শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর, পল্টন ও শাহবাগে অন্তত আটটি ককটেল বা হাতবোমা বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যায়।
সন্ধ্যা ৭টা ৩৫ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী চৌরাস্তা এলাকায় পরপর একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ইবাদুর রহমান নামে এক অটোরিকশাচালক আহত হন। রাতে কমলাপুর রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে একটি হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর রাত পৌনে ১১টার দিকে পল্টনে সচিবালয় মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন সড়কে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। রাত সাড়ে ১১টা থেকে পৌনে ১২টার মধ্যে শাহবাগের তিন নেতার মাজারসংলগ্ন এলাকায় আরও একটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
একই রাতে মিরপুর, মধ্য বাড্ডা ও দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে বাস ও পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মিরপুর-১১, মিরপুর-১ ও বাড্ডায় তিনটি বাসে আগুন বা আগুন দেওয়ার চেষ্টার খবর আসে। তবে মিরপুর-১১-এর একটি বাসের আগুন যান্ত্রিক ত্রুটি থেকেও হতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়। মধ্য বাড্ডার ঘটনায়ও আগুনের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত ছিল না।
দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে জব্দ করে রাখা একটি পিকআপে রাত সাড়ে ৯টার দিকে আগুন দেওয়া হয়। পরে মাতুয়াইলে একটি বাসে আগুন এবং আজিমপুরে একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টার খবর পাওয়া যায়।
গুরুত্বপূর্ণ তিন স্থানে বিস্ফোরণ: রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রায় একই সময়ে রাজধানীর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান ফটক, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রবেশপথের কাছে এসব বিস্ফোরণ হয়। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় চারজন গ্রেপ্তার: যাত্রাবাড়ীর ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে ডিএমপির গোয়েন্দা ওয়ারী বিভাগ। তাদের মধ্যে রায়হান উদ্দিন নামে একজনকে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে শনাক্ত করা হয়। পরে বংশাল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালবাগের একটি ভবনের পার্কিং এলাকা থেকে চারটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধারের দাবি করেছে ডিবি। এরপর আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার মোল্লা মো. শাহীন বলেন, রায়হান বংশালের একটি ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক। পুলিশের দাবি, সাম্প্রতিক ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুনের ঘটনায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ আরও দাবি করেছে, এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক নির্দেশনা রয়েছে।
তবে এগুলো পুলিশের তদন্তাধীন অভিযোগ। রাজধানীর সব কটি বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের সঙ্গে একই দল বা নেটওয়ার্কের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো প্রমাণিত নয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
৫৫ মামলায় গ্রেপ্তার ৫২৭: গতকাল ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে নিয়মিত অভিযানে ৫২৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং ৫৫টি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মিরপুর বিভাগে ১৪৬, তেজগাঁওয়ে ৭৯, মতিঝিলে ৬৩, ওয়ারীতে ৫৭, রমনায় ৫২, উত্তরা ৪৫, লালবাগ ৪৩, গুলশানে ৪১ এবং গোয়েন্দা বিভাগে একজন রয়েছেন।
অভিযানে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল, ৫০০ গ্রাম গানপাউডার, ২৫০ গ্রাম পেট্রোল, বিস্ফোরিত ককটেলের পেরেক ও টিনের অংশ, কসটেপসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি অস্ত্র, মাদক, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধারের তথ্যও দেওয়া হয়েছে।
দুই শতাধিক চেকপোস্ট, বাড়ানো হয়েছে নজরদারি: ধারাবাহিক বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের পর রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, মোড়, প্রবেশপথ ও কেপিআই এলাকায় দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশির পাশাপাশি পিকেট ডিউটি, মোবাইল টিম ও মোটরসাইকেল পেট্রোলিং বাড়ানো হয়েছে। ডিবি, সিটিটিসি ও এপিবিএনের সদস্যদেরও বিভিন্ন এলাকায় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক ওমর ফারুকের মতে, এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ শুধু থানার পুলিশের দায়িত্ব নয়; বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাও এর সঙ্গে যুক্ত। তাই কোনো একটি থানার কর্মকর্তা বা ওসির ওপর পুরো দায় চাপালে সমস্যার মূল কারণ চিহ্নিত হবে না। তার মতে, গোয়েন্দা তৎপরতা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।
এদিকে, রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় বাসের নিরাপত্তায় মালিক-শ্রমিকদের সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রতিটি বাসে ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিবহন মালিক সমিতির সভাকক্ষে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের মতবিনিময় সভায় এ আহ্বান জানানো হয়।
ডিএমপির ট্রাফিক-উত্তর বিভাগের যুগ্ম পুলিশ কমিশনার আ স ম শামসুর রহমান ভূঁঞা বলেন, অলস সময়ে বাসগুলো সম্ভব হলে টার্মিনালের ভেতরে রাখতে হবে। বাইরে রাখলে চালক-হেলপারসহ সংশ্লিষ্টদের সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। চলন্ত বাসে সন্দেহজনক যাত্রী, ব্যাগ বা বিস্ফোরকের আলামত দেখলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি যেকোনো সন্দেহজনক কার্যক্রমে ৯৯৯-এ ফোন করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় পরিবহন নেতারা বলেন, মহাখালী টার্মিনালের শৃঙ্খলা ফেরাতে ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বাস পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখানে চালক-শ্রমিকদের থাকা, বিশ্রাম ও নিরাপত্তার ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। এতে মহাখালী টার্মিনাল যানজটমুক্ত রাখতে সহায়ক হবে।
মতবিনিময় সভায় ট্রাফিক গুলশান বিভাগের এডিসি মো. জিয়াউর রহমান, মহাখালী বাস টার্মিনাল সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি মো. সিরাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম বাবুলসহ অন্য নেতারা।
দেশে একসঙ্গে ডেঙ্গু ও হামের প্রাদুর্ভাবে চাপে পড়েছে স্বাস্থ্যব্যবস্থা। ডেঙ্গুতে নতুন করে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৪ জনে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৬১ হাজার ৯৭২ জন। এ সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৬১০ জন। অন্যদিকে, হামের উপসর্গ নিয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হামের উপসর্গে মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৭ জনে। একই সময়ে ৮৮ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে এবং ১ হাজার ১৪৮ জনের শরীরে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে। সব মিলিয়ে সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪ এবং নিশ্চিত রোগী ২০ হাজার ৫৬২ জন। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন।
রোগীর এই বাড়তি চাপ সামলাতে রাজধানীর একাধিক হাসপাতালে নির্ধারিত শয্যার বাইরে রোগী ভর্তি করতে হচ্ছে। কোথাও সাধারণ ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে রূপান্তর করা হয়েছে, কোথাও মেঝেতে বিছানা পেতে চলছে চিকিৎসা। শিশুদের একটি অংশ একই সঙ্গে জ্বর, ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ডেঙ্গুর পরিস্থিতি সেপ্টেম্বরেই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ৬০ হাজার ৩৭৯ জন হাসপাতালে ভর্তি এবং ১৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। মাত্র একদিন পরই নতুন করে ছয়জনের মৃত্যু ও ১ হাজার ৫৯৩ জন হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় মৃত্যু ও ভর্তি দুটিই আরও বেড়েছে।
এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন ৫৮ হাজার ৪০০ জন এবং মৃত্যু হয়েছিল ১৭৬ জনের। ওই সময়ের ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৪৮৪ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন, মারা যান পাঁচজন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন ১ হাজার ৫১৩ জন। সেপ্টেম্বরে প্রথম ১৭ দিনেই ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হন ২২ হাজার ৫৫৪ জন, মৃত্যু হয় ৭৯ জনের—যা তখন পর্যন্ত যেকোনো মাসের তুলনায় সর্বোচ্চ ছিল।
এরপরও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত শুধু সেপ্টেম্বরেই ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৬ হাজার ১২৬ জন এবং মারা গেছেন ৮৭ জন। অর্থাৎ মাস শেষ হওয়ার আগেই সেপ্টেম্বর ডেঙ্গুর সবচেয়ে ভয়াবহ মাসে পরিণত হয়েছে।
ডেঙ্গুর পাশাপাশি হামের বিস্তারও স্বাস্থ্য খাতে বড় চাপ তৈরি করছে। ১৫ মার্চ থেকে ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হামের সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮১৪ জন। এর মধ্যে ২০ হাজার ৫৬২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৮ হাজার ৫৮৯ জন এবং সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ২২৫ জন।
হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ১ হাজার ৫৭ জন। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ১০১ জনের এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯৫৬ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে চারজনের মৃত্যু পরিস্থিতির উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যাচ্ছে রোগীর চাপের বাস্তব চিত্র। পাঁচ বছর বয়সি নাফিয়া পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তার বাবা নূর আলম জানান, শিশুটির একই সঙ্গে হাম ও ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। পরীক্ষা করে হৃদযন্ত্রে ছিদ্রও ধরা পড়েছে। নাফিয়ার মা মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘ডাক্তার সকালে দেখে বলছে পজিশন খারাপ।’
শিশু ওয়ার্ডে দেখা যায়, অনেক শিশুর শরীরে ক্যানুলা, চলছে স্যালাইন। কেউ শয্যায়, কেউ আবার মেঝেতে অবস্থান করছে। নয় বছর বয়সি শারিনার এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু। বৃহস্পতিবার তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার প্লাটিলেট কমে ৩৪ হাজারে নেমে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা রক্তদাতা প্রস্তুত রাখতে বলেছেন। তার রক্তচাপও ওঠানামা করছে।
এদিকে ১১ বছর বয়সি আয়েশা তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি। ডেঙ্গু নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে অসুস্থ শিশুটির জন্য মেঝেতে বিছানা পাতা হয়েছে। তার বাবা সাজিব জানান, পরীক্ষার ফল মোটামুটি ঠিক থাকলেও মেয়ের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে না।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট শয্যা ১ হাজার ৩৫০টি। এর মধ্যে ডেঙ্গুরোগীদের জন্য নির্ধারিত ১৯১টি শয্যার বিপরীতে একসময় ভর্তি ছিলেন ২৪৭ জন। ফলে সাধারণ মেডিসিন ওয়ার্ড, এমনকি মেঝেতেও রোগী রাখতে হয়েছে। ৪২০ নম্বর ওয়ার্ড, যা আগে পুরুষ সার্জারি ওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহৃত হতো, সেটিও ডেঙ্গুরোগীদের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত জনবল এখনো পুরোপুরি পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন হাসপাতালটির পরিচালক নন্দ দুলাল সাহা।
মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিত্রও একই। ৫০০ শয্যার হাসপাতালটিতে রোগীর চাপ সামলাতে চলতি বছর আরও ৫০০ শয্যার অনুমোদন দেওয়া হলেও অবকাঠামো ও জনবল পুরোপুরি প্রস্তুত হয়নি। ডেঙ্গুরোগীদের জন্য অতিরিক্ত তিনটি তলা ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে প্রায় ২০০ প্রাপ্তবয়স্ক ও ১০০ শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। একপর্যায়ে হাসপাতালটিতে মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩১৪ ছাড়িয়ে যায়। এর মধ্যে ২১৮ জন ডেঙ্গু ও ৫৩ জন হাম আক্রান্ত ছিলেন।
ঝালকাঠিতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত জেলায় ১ হাজার ৬৬৯ জন ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়েছে। ১০০ শয্যার জেলা হাসপাতালে রোগীর চাপ সামলাতে অস্থায়ী শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। পাশাপাশি ১৫০ শয্যার নতুন ভবনের নির্মাণকাজ চলছে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের বড় একটি অংশ তরুণ। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী ৮ হাজার ৭৫১ জন এবং ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সি ৮ হাজার ৬৩১ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ১৬ থেকে ২০ বছর বয়সি রোগী ছিলেন ৮ হাজার ২২৪ জন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দিনের বেলায় এডিস মশার কামড় এবং বাইরে চলাফেরার কারণে তরুণদের ঝুঁকি বেশি। স্কুল-কলেজ, অফিস, নির্মাণকাজসহ বিভিন্ন কাজে দিনের বড় সময় বাইরে থাকায় তাদের সংক্রমণের সুযোগ বাড়ছে।
তবে মৃত্যুর চিত্রে নারীদের অংশও উদ্বেগজনক। ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মৃত ১৭৮ জনের মধ্যে ৯২ জন নারী এবং ৮৫ জন পুরুষ। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাসপাতালে দেরিতে আসা, গর্ভাবস্থা, রক্তক্ষরণ, রক্তস্বল্পতা ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতা নারীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি বাড়াতে পারে।
রোগীর চাপ সামলাতে হাসপাতালগুলোতে অতিরিক্ত শয্যা ও জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১০০টির বেশি শয্যা বাড়ানো হয়েছে। গত দুই-তিন দিনে ১৩ জন অতিরিক্ত চিকিৎসক যুক্ত করা হয়েছে এবং আরও নার্স ও অন্যান্য কর্মী দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন, ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে পারে—এমন পূর্বাভাস ছিল। সে অনুযায়ী হাসপাতালগুলোকে অতিরিক্ত জায়গা প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোগীর চাপ আরও বাড়লে মাঠ হাসপাতাল বা অস্থায়ী হাসপাতাল চালুর বিষয়ও বিবেচনায় রয়েছে।
অন্যদিকে হাম নিয়ন্ত্রণে দ্রুত রোগী শনাক্ত, আক্রান্তদের আলাদা রাখা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা জরুরি হয়ে উঠেছে। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি রোগীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পটুয়াখালী-কুয়াকাটা মহাসড়কের বসাক বাজার ধলুগাজীর মোড়ে যাত্রীবাহী বাস ও ইজিবাইকের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের সকলে ইজিবাইকের চালকসহ যাত্রী ছিলেন। এদের মধ্যে ইজিবাইক চালকসহ তিনজন ঘটনাস্থলে এবং অপরজন হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান।
ঘটনাস্থলে নিহতরা হলেন ইজিবাইক চালক কাইউম উদ্দিন (৫০), যাত্রী শিল্পী রানী (৪০) ও তিথী রানী (২৩)। হাসপাতালে নেয়ার পরে মারা যান ইজিবাইক চালকের শ্যালক মো. জাহাঙ্গির। এদের সকলের বাড়ি গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়নের বাউরিয়া-বৌ বাজার এলাকায়।
এতে আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন। এর মধ্যে দুজন পটুয়াখালী মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় ইজি বাইকটি দুমরে মুচরে রাস্তার পাশের মাছের ঘেরের মধ্যে পড়ে যায়। বাসটিও নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একই স্থানে পড়ে যায়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস রেকার দিয়ে পানি থেকে বাসটি উদ্ধারের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।
জানা যায়, গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত সোয়া ১১টায় পটুয়াখালী সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বসাকবাজারের ধলুগাজীর মোড়ে বরগুনার তালতলী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইমরান পরিবহন যাত্রীবাহী বাস ও বিপরীত দিক পটুয়াখালী থেকে গলাচিপার আমখোলার উদ্দেশে যাওয়া ইজি বাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যে বেপরোয়া গতির কারণে বাসের চালক মোড়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইজিবাইকে মেরে দেয়। উভয় যানবাহনই রাস্তার পাশের মাছের ঘেরে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ইজি বাইকের চালক ও ডাক্তার দেখাতে পটুয়াখালীতে আসা দুই নারী যাত্রী নিহত হন। গুরুতর আহত ইজিবাইক চালকের শ্যালক জাহাঙ্গীরকে পটুয়াখালী আড়াইশ হাসপাতালে ভর্তি করার পরে মারা যায়।
পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস এন্ড ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. রেজোয়ান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসে তারা উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তাস্তর করেন। নিহতদের একজনের পা বিচ্ছিন্ন হয়ে পানির মধ্যে নিখোঁজ ছিল। ডুবুরিদল খুঁজে তা উদ্ধার করে। বর্তমানে খাদে পড়া বাসটি উদ্ধারের তৎপরতা চলছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয় এবং ঘটনাস্থল থেকেই তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। বর্তমানে রেকার দিয়ে বাসটি উদ্ধারের কার্যক্রম চলছে।
পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানান, ঘটনাস্থলে তিন জনের এবং হাসপাতালে আরেকজন মোট ৪ জনের মৃত্যু নিশ্চত হওয়া গেছে। দুর্ঘটনার পর বাসের চালক পলাতক রয়েছে।
পটুয়াখালী আড়াইশ বেড মেডিকেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেলে অফিসার মশিউর রহমান জানান, প্রথমে জাহাঙ্গীর নামে গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে ভর্তির পর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। পরে তিনজনের মরদেহ হাসপাতালে আনা হয়, যাদের মৃত্যু ঘটনাস্থলেই হয়েছে।
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে খেলতে গিয়ে সাপের কামড়ে ইকরা নামে দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের খরঞ্জপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ইকরা ওই এলাকার প্রবাসী বাবলুর মেয়ে। দুই মেয়ের মধ্যে সে ছোট। পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাড়ির রান্নাঘরের পেছনে খেলছিল ইকরা। এ সময় একটি সাপ তার বাম পায়ের পাতায় কামড় দেয়। পরে সে মাকে গিয়ে বলে, ‘আম্মু, সাপে কামড় দিছে।’
পরিবারের সদস্যরা তার পায়ে তিনটি বাঁধন দিয়ে দ্রুত বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ইকরার বড় চাচি মাজেদা বেগম বলেন, সাপে কামড় দেওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে তাকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রিজওয়ান বলেন, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে সাপে কামড়ের এক শিশুকে হাসপাতালে আনা হয়। তখন তার অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল। তার মুখ দিয়ে ফেনা বের হচ্ছিল এবং সে অচেতন ছিল।
তিনি বলেন, ‘তাকে সাপে কামড়ের ওষুধ, অক্সিজেন ও প্রয়োজনীয় ইনজেকশন-মেডিসিন দেওয়া হয়েছিল। সাপটি দেখা যায়নি। তবে লক্ষণ দেখে এটি সাপে কামড়ের ঘটনা বলেই মনে হয়েছে।’
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও সুসমন্বয়ের জন্য ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শহীদুল ইসলাম কে ডিসি’স অ্যাওয়ার্ড ফর ক্লিনলিনেস’ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক সভায় জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান এ ক্রেস্ট প্রদান করেন।
জানা গেছে, পরিচ্ছন্ন ময়মনসিংহ গড়তে যেখানে আমি, সেখানেই পরিচ্ছনতা এই প্রতিপাদ্যের আলোকে জেলা প্রশাসক কর্তৃক ময়মনসিংহে ক্লিন সানডে ও ক্লিন ময়মনসিংহ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
এ কার্যক্রমে নেতৃত্ব ও সুসমন্বয়ে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ক্লিন সানডেসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নে বিশেষ অবদানের জন্য ইউএনও শহীদুল ইসলামকে পুরস্কৃত করা হয়।
ইউএনও শহীদুল ইসলাম ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসনসহ এই কাজে সহায়তা প্রদানকারী, অংশগ্রহণকারী সকলের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আরও বলেন, এই কার্যক্রমের সাথে প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাধ্যমিক বিদ্যালয়, উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা এবং সকল ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান যুক্ত হয়েছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রতি রোববার ছাত্র-শিক্ষকের অংশগ্রহণে স্বতঃস্ফূর্তভাবে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা করে। এতে করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশবিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ও পূর্বের চেয়ে স্বাস্থ্যকর হয়েছে।
এদিন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের স্বীকৃতিস্বরূপ ফুলবাড়িয়া উপজেলার খাদেমুল ইসলাম কামিল মাদ্রাসাকে উপহারস্বরূপ ডাস্টবিন, বেলচাসহ প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা সরঞ্জামাদি প্রদান করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে বাঞ্ছারামপুরের কড়ইকান্দি ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় ৩৮ কিলোমিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে রয়েছে ১৩৫টি ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক। কোথাও সড়ক সরু, কোথাও খানাখন্দ ও ভাঙাচোরা অংশ। অনেক স্থানে দুটি যানবাহন পাশাপাশি চলাচল করাও কঠিন। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে এ পথে যাতায়াতকারী মানুষ ও যানবাহনকে।
নবীনগর, বাঞ্ছারামপুর, মুরাদনগর ও কসবা উপজেলার মানুষের একটি বড় অংশ এই সড়ক ব্যবহার করে কড়ইকান্দি ফেরিঘাটে পৌঁছান। এরপর মেঘনা নদী ফেরিতে পার হয়ে আড়াইহাজার হয়ে তারা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের সংকীর্ণতা, অসংখ্য বাঁক এবং ফেরিঘাটে অপেক্ষা—এই তিন কারণে তাদের যাতায়াতে দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকামুখী যাত্রায় নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হয় না।
দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি কমাতে ২০২৩ সালের ৪ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রায় ১ হাজার ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় সড়কটি প্রশস্ত ও টেকসইভাবে পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলো সরলীকরণ করার কথা রয়েছে।
প্রকল্পের কাজ শেষ হলে নতুন অ্যালাইনমেন্ট ও বাঁক সরলীকরণের ফলে বর্তমানে প্রায় ৩৮ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি কমে প্রায় সাড়ে ৩২ থেকে ৩৩ কিলোমিটারে নেমে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এতে একদিকে পথের দূরত্ব কমবে, অন্যদিকে যাতায়াত আরও দ্রুত ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে সড়ক উন্নয়নের পাশাপাশি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আরেকটি দাবি মেঘনা নদীর ওপর কড়ইকান্দি-বিশনন্দী সেতু নির্মাণ। প্রায় ৩ দশমিক ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত এই সেতু নির্মিত হলে ফেরিনির্ভরতা কমবে এবং ঢাকা ও আশপাশের জেলার সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে মনে করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউনুস আলী বলেন, ‘ভুলতা-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কের প্রকল্পটি মোট পাঁচটি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে চারটি প্যাকেজের কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। আরেকটি প্যাকেজের কম্পারেটিভ স্টেটমেন্ট (সিএস) প্রস্তুত করে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে।’
এদিকে আড়াইহাজার-বিশনন্দী-বাঞ্ছারামপুর-নবীনগর সড়কের দুরবস্থার বিষয়টি জাতীয় সংসদেও তুলে ধরেছেন নবীনগর আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নান।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু সড়ক নির্মাণ বা সংস্কার নয়, প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করা, ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতা নিরসন এবং মেঘনা নদীর ওপর প্রস্তাবিত কড়ইকান্দি-বিশনন্দী সেতু নির্মাণের উদ্যোগ—সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের মতে, এসব কাজ বাস্তবায়িত হলে নবীনগরসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে।
কিশোরগঞ্জে অনলাইনে জুয়া খেলা ও প্রতারণার অভিযোগে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) অভিযানে ২১ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মোবাইল ফোনে থাকা অ্যাপ ও আর্থিক লেনদেনের তথ্য যাচাই করছে পুলিশ।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকালে কিশোরগঞ্জ মডেল থানা চত্বরে সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এ তথ্য জানান। এর আগে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতে জেলা শহর ও আশপাশের এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘বিভিন্ন লোভনীয় অফারের মাধ্যমে পরিচালিত কিছু অ্যাপ ব্যবহার করে অদৃশ্যভাবে অনলাইনে জুয়া ও প্রতারণা করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে তরুণরা নিজেরাও বুঝতে পারে না যে, তারা প্রতারণার ফাঁদে জড়িয়ে পড়ছে, অভিভাবকরাও বিষয়টি টের পান না।’
তিনি আরও বলেন, ‘এসব অ্যাপে ১০০ টাকা দিয়ে ১০ পয়েন্ট কিনে ১ হাজার টাকা আয়ের প্রলোভন দেখানো হয়। এভাবে তরুণদের যুক্ত করে একটি চক্র গড়ে তোলা হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ করতেই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।’
মিজানুর রহমান জানান, আটক ব্যক্তিদের অ্যাপ ও লেনদেনের তথ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্দোষ প্রমাণিত হলে ছেড়ে দেওয়া হবে, আর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে জুয়া ও প্রতারণাসংক্রান্ত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) নাজমুস সাকিব খান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল হক এবং কিশোরগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কালাম ভূঞা উপস্থিত ছিলেন।
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে গোসলে নেমে পানিতে ডুবে তিন স্কুলশিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। গতকাল রোববার বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে মেঘনা নদীর পিরোজপুরের ভাটিবন্দর এলাকা থেকে দুই স্কুলছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। অপর শিক্ষার্থীর আবিদ হোসেনের মরদেহ সোয়া ৫টায় একই এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়।
এর আগে দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মেঘনা নদীর ভাটিবন্দর এলাকায়ই গোসলে নেমে তারা নিখোঁজ হয়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
নিহতরা হলেন মোগরাপাড়া ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস এলাকার মো. ফারুক আহমেদের দুই জমজ ছেলে আরিফিন আহমেদ (১৫) ও আশিকিন আহমেদ (১৫) ও একই এলাকার আব্দুল আলিমের ছেলে আবিদ হোসেন (১৪)।
এদিকে শিক্ষার্থীরা নিখোঁজের পর থেকে মেঘনা নদীর তীরবর্তী এলাকায় উৎসুক জনতা ভিড় করেছেন। পাশাপাশি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ওই এলাকার বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। তিন শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছেন পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোগরাপাড়া এইচ.জি.জি.এস. স্মৃতি সরকারি বিদ্যায়তনের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জমজ দুই ভাই আশিকিন আহমেদ ও আরিফিন আহমেদ। অপর শিক্ষার্থী আবিদ হোসেন একই স্কুলের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে এবং ৬ষ্ঠ শ্রেণির পড়ে আরেক শিক্ষার্থী আদিয়ান ফারিজ। গতকাল রোববার সকালে স্কুল যাওয়ার কথা বলে তারা বাসা থেকে বের হয়। স্কুল না গিয়ে চারজন একত্র হয়ে মেঘনা নদীর ভাটিবন্দর এলাকায় গোসলের উদ্দেশে নদীতে নামে। নদীতে নামার কিছুক্ষণের মধ্যে ৬ষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিয়ান ফারিজ পানি থেকে উঠলেও বাকি তিনজন তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পরও তাদের সন্ধান মেলেনি।
পরবর্তীতে ঢাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩ ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দুই শিক্ষার্থী আশিকিন আহমেদ ও আরিফিন আহমেদের লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে বিকেল সোয়া ৫টার দিকে আবিদ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুই শিক্ষার্থী আশিকিন আহমেদ ও আরিফিন আহমেদের বাবা ফারুক আহমেদ বলেন, ‘সকালে তারা স্কুলের কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ফোনে জানতে পারি তারা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ রয়েছে। আমার এখন বুক খালি হয়ে গেল। কি নিয়ে এখন বাচঁব।’ মৃত্যুর কারণ উদঘাটনের জন্য তিনি দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মেঘনা নদী ভাটিবন্দর এলাকায় কয়েকটি বাল্কহেড নোঙর করা ছিল। নোঙর করা বাল্কহেডের পাশে শিক্ষার্থীরা গোসলে নামে। এ সময় একটি বাল্কহেডের ইঞ্জিন চালু করে চলে যাওয়ার সময় ধাক্কায় শিক্ষার্থীরা তলিয়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, বাল্কহেডের পাখার সঙ্গে আঘাত পেয়ে তারা পানিতে তলিয়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন বলেন, ‘ইতোমধ্যে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে। নৌপুলিশ পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।’
বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুব আলম জানান, ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। শিক্ষার্থীদের মরদেহ রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে। লাশ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের পর মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।
সোনারগাঁ থানার ওসি মহাম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, ‘নিখোঁজ শিক্ষার্থীদের উদ্ধারের জন্য নৌপুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে সহযোগিতা করেছেন। নিখোঁজ তিনজনের লাশ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। সকল প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করতে চাইলে মামলা গ্রহণ করা হবে।’
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানিতে স্বস্তি ফিরেছে লক্ষাধিক মানুষের। এক কলস সুপেয় পানির জন্য কয়েক কিলো উঁচুনিচু পাহাড়িপথ পাড়ি দিতে হতো। সেখানে জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরতরা ঘরের কাছেই পাচ্ছেন নিরাপদ পানি।
একসময় পানি সংগ্রহ করা ছিল পাহাড়ের মানুষের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সংগ্রামগুলোর একটি। পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসকারী এসব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর হাতের কাছে ছিল না নিরাপদ পানির কোনো উৎস। খাবার পানি, রান্না, গোসল কিংবা গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহারের জন্য প্রতিদিন দুর্গম পাহাড়িপথ বেয়ে এক থেকে তিন কিলোমিটার পর্যন্ত পথ পাড়ি দিতে হতো তাদের। কোথাও কোথাও পানি সংগ্রহের জন্য পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নামতে হতো হাজার ফুট নিচে। সেখানে ঝিরি, ঝরনা কিংবা পাহাড়ি ছড়ার অনিরাপদ পানিই ছিল এসব দুর্গম জনপদে বসবাসকারী পাহাড়ি-বাঙালি মানুষের একমাত্র ভরসা। প্রতিদিনের এই পানির সংগ্রাম ছিল তাদের জীবনের এক নির্মম বাস্তবতা। যেখানে এক কলস নিরাপদ পানির জন্যও লড়াই করতে হতো দুর্গম পাহাড়িপথ আর প্রকৃতির প্রতিকূলতার সঙ্গে।
আবার বর্ষাকালে পাহাড়ি ছড়ায় পানি থাকলেও তা থাকত মাটি, কাদা ও ময়লায় ভরা। আর শুষ্ক মৌসুম এলেই পানির সংকট হয়ে উঠত আরও ভয়াবহ। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দিনের বড় একটি অংশ ব্যয় হতো শুধু পানি সংগ্রহে। দুর্গম পাহাড়িপথ বেয়ে ভারী কলসি কাঁধে পানি বহন করতে গিয়ে শারীরিক কষ্টের পাশাপাশি নিতে হতো নানা ঝুঁকিও।
বছরের পর বছর ধরে চলা সেই দুর্ভোগের চিত্র এখন বদলাতে শুরু করেছে বান্দরবানের প্রত্যন্ত পাহাড়ি জনপদে।
জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের মাধ্যমে এখন পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরত মানুষও ঘরের কাছেই পাচ্ছেন নিরাপদ পানি। গভীর নলকূপ, গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস), রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংসহ বিভিন্ন প্রযুক্তির সমন্বয়ে দুর্গম এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে টেকসই পানি সরবরাহব্যবস্থা।
ফলে বান্দরবানের অন্তত ৫০টি প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়ার লক্ষাধিক পিছিয়ে পড়া পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর জীবনে এসেছে স্বস্তি। দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট ভুলে এখন তাদের মুখে ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
সম্প্রতি সরেজমিনে বান্দরবান সদর উপজেলার কয়েকটি দুর্গম ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পাহাড়ের চূড়ায় বসবাসরত বিভিন্ন পাড়ার মানুষ এখন বাড়ির পাশেই স্থাপিত পানির কল থেকে সুপেয় পানি সংগ্রহের চিত্র। সেই পানি দিয়ে কেউ রান্নার কাজ সারছেন, কেউ গোসল করছেন, কাপড় ধুচ্ছেন কিংবা গৃহস্থালির অন্যান্য কাজে ব্যবহার করছেন। কোনো কোনো এলাকায় পানির সহজলভ্যতা বাড়ায় কৃষি ও সেচ কাজেও পানি ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘বিভিন্ন প্রযুক্তির মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পের’ আওতায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় গভীর নলকূপ, জিএফএস, রিংওয়েল ও রেইন ওয়াটার হারভেস্টিংসহ বিভিন্ন পানি সরবরাহব্যবস্থায় পাল্টে দিয়েছে কষ্ট ও সংকটের চিত্র।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু একটি পানি প্রকল্প নয়, এটি পাহাড়ের মানুষের দীর্ঘদিনের জীবনসংগ্রামে একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা।
জেলা শহর থেকে প্রায় চার কিলোমিটার দূরে পাহাড়ি গ্রাম টিএনটি মারমাপাড়া। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৬০বছর বয়সি বৃদ্ধা মাচিং মারমা বাড়ির পাশের পানির কল থেকে গোসল ও কাপড় ধোয়া শেষে কলসিতে পানি নিয়ে ঘরে ফিরছেন। এক বছর আগেও এই দৃশ্য ছিল তার কাছে কল্পনার বাইরে।
তিনি বলেন, ‘আগে খাবার পানি, গোসল কিংবা কাপড় ধোয়ার জন্য পাড়া থেকে প্রায় ৮০০ ফুট নিচে পাহাড়ি পথে যেতে হতো।’ এখন বাড়ির পাশেই পানি পাচ্ছেন তিনি।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগ জানায়, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় বিএডিসি ও ডিপিএইচইর অর্থায়নে-‘স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্পের মাধ্যমে ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলা পরিষদ ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের উদ্যোগে বিভিন্ন প্রযুক্তি মাধ্যমে সুপেয় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্পে ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বান্দরবানে ১২টি গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম (জিএফএস) মেরামত, নতুন করে আরও ১০টি জিএফএস নির্মাণ, ৫৮৩টি রিংওয়েল নির্মাণ, ১৪০টি রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম স্থাপন, ৫০টি গভীর নলকূপ নির্মাণ, পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে ৫০টি প্রোডাকশন টিউবওয়েল স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া স্যানিটেশন সুবিধা সম্প্রসারণে বিভিন্ন এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত ৩০টি টয়লেট নির্মাণ করা হয়েছে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী সাইদুল ইসলাম জানান, স্থানীয় লোকজনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে জেলার অন্তত ৫০টি পাড়ায় নিরাপদ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।
বান্দরবান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী অনুপম দে বলেন, ‘ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহে একই ধরনের প্রযুক্তি সব জায়গায় ব্যবহার করা সম্ভব নয়। ভিন্ন ভিন্ন প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হয়।’
ফলে সম্প্রতি, ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে জেলার দুর্গম এলাকায় পুরোনো গ্র্যাভিটি ফ্লো সিস্টেম মেরামতের পাশাপাশি নতুন জিএফএস, রিংওয়েল, রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং সিস্টেম, গভীর নলকূপ এবং পাড়াভিত্তিক পানি সরবরাহব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।
সাভারের আশুলিয়ায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট। তবে যানজটের কারণে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে আশুলিয়ার জামগড়া এলাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানা থেকে অগ্নিকাণ্ডের খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়।
আশুলিয়া ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে কারখানাটিতে আগুন লাগার খবর পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে বয়লার বিস্ফোরণ থেকে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে বাইপাইল সড়কে তীব্র যানজট থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো এখনো ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে আগুনের প্রকৃত অবস্থা, কতটুকু এলাকায় ছড়িয়েছে কিংবা কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর আগুনের পরিস্থিতি এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
খুলনায় সন্ত্রাস দমনে বিলুপ্ত হওয়া র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৬-এর সাফল্য থাকলেও নতুন রূপে আসা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) সামনে রয়েছে বড় চ্যালেঞ্চ। গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) থেকে এসআরবি খুলনাঞ্চলে তাদের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন অভিযানের মাধ্যমে র্যাব-৬ সুন্দরবনের বিভিন্ন ডাকাত দলকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ আত্মসমর্পণ করাতে সক্ষম হয়েছে; ফলে পর্যটক, জেলে এবং বনজীবীদের জন্য সুন্দরবনে প্রবেশ ও বিচরণ করা আরও সহজ ও নিরাপদ হয়ে উঠেছে। এ ছাড়া গ্রেপ্তার হয়েছে তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর প্রধানরা।
এসআরবি সূত্রে জানা গেছে অপরাধ ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স বা কঠোর অবস্থানের নীতির আলোকে, এলিট ফোর্স এসআরবি দেশজুড়ে অপরাধী, অবৈধ অস্ত্র ও মাদকবিরোধী অভিযান এবং গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত রেখেছে।
র্যাব-৬ গত ৮ মাসের অভিযানে ৬৩৪ জন সন্দেহভাজন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করেছে এবং বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া এই সময়ে বিভিন্ন অভিযানে তারা ৩৫ জন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করেছে।
খুলনাস্থ র্যাব-৬-এর মিডিয়া উইংয়ের তথ্যমতে, এই অভিযানগুলো ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
অভিযানকালে এলিট ফোর্সটি ৪৬টি অবৈধ অস্ত্র, ১৯৫ রাউন্ড গুলি, ১৩টি ম্যাগাজিন এবং ৮৪টি বোমা ও ককটেল জব্দ করে।
এ ছাড়া তারা ১,৯৫৬ বোতল নিষিদ্ধ ফেনসিডিল, ৪২,০১৯টি ইয়াবা ট্যাবলেট, ৩২৩ দশমিক ২ কেজি গাঁজা, ২৩৮ দশমিক ৮৪ লিটার দেশি মদ, ১,২৩৯ বোতল নিষিদ্ধ ফেয়াড্রিল, ১ দশমিক ৫১ কেজি ক্রিস্টাল মেথ বা আইস, ৬,৯৯৫ বোতল নিষিদ্ধ ইসকাফ সিরাপ, ২২,৮২৪টি নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ১৫,২৯৮ বোতল নিষিদ্ধ উইংকারিক্স এবং ৯৬,০০০টি ভারতীয় পাতা বিড়ি জব্দ করেছে।
সাম্প্রতিক উল্লেখযোগ্য অভিযানগুলোর মধ্যে, গত জুন মাসে বাগেরহাটের রামপালে পরিচালিত একটি অভিযানে এই এলিট বাহিনী ছোট জাহাঙ্গীর জলদস্যু দলের অস্ত্র, খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহকারী ৫১ বছর বয়সি ছাবুর শেখকে গ্রেপ্তার করে। তার কাছ থেকে তিনটি ওয়ান-শট গান’ উদ্ধার করা হয়।
খুলনার কয়রা থানার অন্তর্গত বেতকাশি এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে নিরাপত্তা বাহিনী ৪০ বছর বয়সি সশস্ত্র জলদস্যু আজহারুল ওরফে খানজাকান আলীকে গ্রেপ্তার করেছে; তার বিরুদ্ধে ডাকাতির একাধিক মামলা রয়েছে। তার কাছ থেকে দুটি ওয়ান-শট গান এবং ৩৬ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলনার র্যাবের (বর্তমান এসআরবি-৬) -এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ জানান, খুলনা অঞ্চল ও সুন্দরবনের সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং জলদস্যু ও বনদস্যুদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড দমনে নিরাপত্তা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আসছে।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত অভিযান এবং বর্তমান এসআরবি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারাবাহিক জলদস্যুবিরোধী কার্যক্রমের ফলে গত ৩১ আগস্ট সুন্দরবনের পাঁচটি সক্রিয় জলদস্যু দলের ৫৯ জন সদস্য আত্মসমর্পণ করে।
আত্মসমর্পণের পর বনাঞ্চলে বিশেষ অভিযান চালানো হয়; ফলে জলদস্যুতার কাজে ব্যবহৃত ৫৯টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।’
এসআরবি-৬-এর কমান্ডার আশা প্রকাশ করেন যে, কর্তৃপক্ষের কাছে এই ৫৯ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণের ফলে বননির্ভর মানুষের নিরাপদ জীবিকা, পর্যটকদের নিরাপদ চলাচল এবং সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
তিনি বলেন, ৫৯ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণ সুন্দরবনের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে; কারণ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারী প্রায় ২৫ লাখ মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস হলো এই সুন্দরবন।
জামালপুরে বিচারক দম্পতির বাসায় জানালার গ্রিল কেটে চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। চোর চক্রের ৩ সদস্য ও চোরাই অলংকার কেনার অভিযোগে ২ জনসহ মোট ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে চুরি হওয়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকার। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পিবিআই জামালপুর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে। এ ঘটনায় আগে থেকে গ্রেপ্তার আরও ৫ জন কারাগারে রয়েছে।
পিবিআই জানায়, চলতি বছরের ৩০ জুন সন্ধ্যায় শহরের আমলাপাড়ায় স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের ভবনে বিচারক দম্পতি আহমাদুল কবির শাকিল ও নুসরাত জেরিন জেনির ভাড়া বাসায় চুরির ঘটনা ঘটে। ভবনের তিনতলার ওই ফ্ল্যাটের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে চোরচক্রের সদস্যরা নগদ ১ লাখ টাকাসহ প্রায় ১৯ লাখ ১৭ হাজার টাকার স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায়। ঘটনার পরের দিন আদালতের ভারপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তা এ.কে.এম ছরোয়ার জাহান সিদ্দিকী বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করলে আদালতের নির্দেশে পিবিআই মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায়। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গত ২৫ আগস্ট চুরির সঙ্গে সরাসরি জড়িত জামালপুর পৌর শহরের বাগেরহাটা এলাকার হাবু মিয়ার দুই ছেলে রাহুল (২৪) ও বিশাল (২১) কে গ্রেপ্তার করে পিবিআই। পরে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর গত ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার করা হয় চোরচক্রের আরেক সদস্য ডাকপাড়া এলাকার দুখু মিয়া (২৪) কে। চোরচক্রকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৩ সেপ্টেম্বর পৌর শহরের বানিয়াবাজার এলাকা থেকে চোরাই স্বর্ণালংকার ক্রেতা মাসুদ রানা (৪২) ও মাদারগঞ্জ উপজেলার মিলন বাজার থেকে মোশারফ হোসেন (৩৮) কে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চুরির পর রূপান্তর করা ২৩.১৯ গ্রাম স্বর্ণ, রূপান্তর করা স্বর্ণালংকার এবং প্রায় ২৬ ভরি রুপার অলংকার জব্দ করে পুলিশ।
এদিকে, চুরির ঘটনায় সদর থানায় মামলা দায়েরের পর তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনার কয়েকদিন পর তদন্তের সূত্র ধরে প্রথমে একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটের গৃহকর্মী নিলুফাকে আটক করে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিচারক দম্পতির বাসার গৃহকর্মী হাওয়া বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে পরে আরও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, জেলা শহরের গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা সুমন মিয়া (৩৯), কলেজ রোড এলাকার বাসিন্দা নাজমুল ইবনে হোসেন ওরফে বিপ্লব, শহরের আমলাপাড়া এলাকার চান মিয়া ওরফে কালাচান, মেলান্দহ উপজেলার চরপলিশা গ্রামের নিলুফা ও সদর উপজেলার তিতপল্লা সরদারপাড়ার হাওয়া বেগম। এরপর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত ৫ জুলাই অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুর রহমানের আদালতে রিমান্ড আবেদন করলে তা মঞ্জুর করা হয়। বর্তমানে তারা এখনো কারাগারে রয়েছে।
তৎকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক শাহিনুর রহমান বলেন, ‘আমি ব্যস্ত আছি।’ থানায় এসে ফোন দিয়েন- এই কথা বলে তিনি ফোন কেটে দেন।
ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার এক মসজিদের ইমাম নিজের উদ্যোগে টানা ৩৪ বছর ধরে বৃক্ষরোপণ করে বদলে দিয়েছেন একটি গ্রামের চিত্র। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সবুজ আবাস গড়ে তোলা এবং সদকায়ে জারিয়ার উদ্দেশে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে নার্সারি প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টায় গ্রামের বিভিন্ন সড়কের দুই পাশ আজ সবুজ বৃক্ষরাজিতে সুশোভিত।
এই ব্যতিক্রমী মানুষটি হলেন ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার ওমরপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা রেজাউল কিবরিয়া বাবুল (৬০)। তিনি স্থানীয় কালাপানিয়া বাইতুল মামুর জামে মসজিদের ইমাম হিসেবে প্রায় দুই যুগ ধরে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায়, ওমরপুর গ্রামের বাউল সড়কের দুই পাশে সারি সারি তালগাছ লাগিয়ে সড়কটিকে নতুন রূপ দিয়েছেন তিনি। শুধু তালগাছই নয়, ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছও রোপণ করেছেন বিভিন্ন এলাকায়। বর্তমানে বাউল সড়কসহ অন্তত পাঁচটি সড়কের দুই পাশে তার লাগানো গাছ সবুজ ছায়া ছড়িয়ে পথচারীদের দিচ্ছে স্বস্তি।
স্থানীয়দের ভাষ্য, একসময় সাধারণ গ্রামীণ সড়ক হিসেবে পরিচিত এই পথ এখন জেলার অন্যতম আকর্ষণীয় সবুজ সড়কে পরিণত হয়েছে। গাছের ছায়ায় কৃষক ও পথচারীরা বিশ্রাম নেন, আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকেও মানুষ এখানে আসেন। অনেকেই ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন এ দৃশ্য।
রেজাউল কিবরিয়া বাবুল জানান, ১৯৯৩-৯৪ সালে প্রায় ৮ লাখ টাকায় পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে স্থানীয় ভূইয়ারহাট এলাকায় একটি নার্সারি গড়ে তোলেন। সেখান থেকে মানুষকে বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ এবং বৃক্ষরোপণে উৎসাহিত করার মাধ্যমে তার সবুজ অভিযাত্রার শুরু।
তিনি বলেন, ‘এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ থেকে ৬০ হাজার গাছের চারা রোপণ করেছি। এর মধ্যে শুধু তালগাছের বীজই রয়েছে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার। সব গাছ টিকিয়ে রাখা সম্ভব না হলেও বৃক্ষরোপণের কাজ এখনো অব্যাহত আছে।
বজ্রপাতের ঝুঁকি বিবেচনায় সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তালগাছ রোপণে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বন বিভাগের পরামর্শও নেন নিয়মিত।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহজাহান, লিটন, আলমগীর ও তুহিন বলেন, ‘হুজুরের লাগানো তালগাছ এখন ফল দিচ্ছে। রাস্তার দুই পাশে সারি সারি গাছ দেখে মনে হয় যেন সবুজ কোনো প্রবেশদ্বার দিয়ে চলাচল করছি। এই সৌন্দর্য দেখতে অনেক দূর থেকেও মানুষ আসে। তার উদ্যোগ আমাদেরও গাছ লাগাতে অনুপ্রাণিত করেছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুমানা আফরোজ বলেন, ‘তার উদ্যোগের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।