সকালবেলা পত্রিকার পাতা, টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- দৃষ্টি পড়লেই সামনে আসে দেশের কোনো না কোনো স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি আর আহতের খবর। এ খবরে কারও পরিবারে শুরু হয় শোকের মাতম আবার কারও কাছে তা খুবই সাধারণ। যে পরিবার হারায়, তার স্বজন ও সে পরিবারের সদস্যরাই কেবল বুঝতে পারে সে যন্ত্রণার ভার কতটা দুঃসহ, বদলে যাওয়া জীবনের পথ কতটা কঠিন।
দেশের বিভিন্ন জেলার মতো নওগাঁ জেলায়ও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আর নিহতের তালিকা বেশ লম্বা। নওগাঁর পুলিশ কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত ৩৫ মাসে নওগাঁ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১৩০, আহত ১১২। এ সবের মধ্যে মামলা হয়েছে ১০৮টি।
এর মধ্যে ২০২২ সালে নিহতের সংখ্যা ১৫, আহত ১৩। রুজুকৃত মামলা ৯টি। ২০২৩ সালে নিহত ৬৪, আহত ৬৭। মামলা ৫২টি। চলতি বছরে নিহত ৫১, আহত ৩২। রুজুকৃত মামলা ৪৭টি।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে জরিপ করলে দেখা যায়, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের চেয়ে ২০২৩ সালে মৃত্যুর হার বেশি (৬৪) জন আর ২০২২ সালে মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম ১৫ জন। তবে নিহত এবং আহত তুলনা করলে প্রায় সমপরিমাণ হলেও ২০২২ এবং ২০২৩ সালে নিহতের চেয়ে আহতের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। নিহত এবং আহতের ঘটনায় রুজুকৃত মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৮ আটটি। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৯৫, ৯৮, ৯৯ ও ১০৫-এর বিভিন্ন ধারায় এসব মামলা রুজু হয়েছে। এসব মামলা থেকে কিছু আসামি জেল-জরিমানার মধ্য দিয়ে মুক্ত হয়েছে আবার কিছু মামলা এখনো চলমান।
বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা উওরের জেলা নওগাঁ। এ জেলার মোট ১১টি উপজেলায় ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৫ মাসে সড়কে যারা প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত অবস্থায় আজও হাসপাতালের বেডে রয়েছে, আবার অনেকে পঙ্গুত্বের অভিশাপে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন।
কথা হয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক কলেজ ছাত্রের বাবার সঙ্গে। ২০২২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় শহরের দয়ালের মোড় এলাকার পলাশ হোসেনের। তার বাবা আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমি ফুটপাতে ব্যবসা করলেও আমার অনেক স্বপ্ন ছিল আমার ছেলে পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি করবে। আমার সেই স্বপ্ন আর পূর্ণ হলো না। আল্লাহ! যেন আর কোনো বাবাকে সন্তানের এমন লাশ দেখতে না হয়।’
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া শহরের কাজীর মোড় এলাকার বাসিন্দা দুলাল হোসেন বলেন, ‘২০২৩ সালে চৌমাশিয়া মোড় এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে আমার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘদিন হাসপাতাল আর বাসায় কেটেছে। আমি পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় পুরো পরিবারটাই অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।’
পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পুনর্বিবরণে কারণ হিসেবে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের পরিবহন দুর্ঘটনা কবলিত হলেও অধিকাংশ দুর্ঘটনা মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক। তার পরেই রয়েছে ট্রাক, বাস, সিএনজি, ইজিবাইকসহ অন্যান্য পরিবহন। সেই সঙ্গে জেলার সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ কিছু এলাকা রয়েছে, যেগুলোতে বেশি দুর্ঘটনা হয় তার মধ্যে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের জলিল চত্বর থেকে হাঁপানিয়া, চকগৌরী, নওহাটা চৌমাশিয়া মোড় উল্লেখযোগ্য।
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন ছাত্র, যুবক, বৃদ্ধ এমনকি বাদ নেই মায়ের কোলের নিষ্পাপ শিশুটিও।
নওগাঁর পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে যদি মোটা অঙ্কে বলি, বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, স্কুল, কলেজ, বাজার, রাস্তার বাঁক এমন ধরনের জায়গায় গাড়ির গতি না কমানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করা। ফিডার রোড থেকে মেইন রোডে অসতর্কভাবে বিভিন্ন যানবাহনের প্রবেশ। অধিক আয়ের আশায় বিশ্রাম ছাড়াই বাস-ট্রাক চালকের বিরতিহীন গাড়ি চালানোসহ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়া।’
তিনি আরও বলেন, প্রতিকার হিসেবে প্রথমেই উল্লেখিত কারণগুলো থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দেওয়াসহ হাইওয়ে সড়কের বাঁকে ২০ ডিগ্রির বেশি কৌণিক অবস্থানে থাকবে না এমনটা নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা আইন ও ট্রাফিক আইনের বিধিবিধান অমান্যকারীকে জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের সচেতনতা প্রোগ্রাম ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। যেকোনো পরিবহনের চালক বিশেষ করে বাস বা ট্রাকের চালকদের গাড়ি চালানোর আগে পর্যাপ্ত বিশ্রামসহ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিআরটিএ নওগাঁ সার্কেলের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আফতাবুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনা এড়াতে চাইলে অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক হতে হবে, ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সেই সঙ্গে গাড়ির ফিটনেসসহ নানামুখী জনসচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। আমি নওগাঁতে নতুন, তবে বিআরটিএর সব বিধিমালা অনুযায়ী আমার কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং থাকবে।’
নওগাঁ জেলা বাস-ট্রাক শ্রমিকের সাধারণ সম্পাদক এস এম মতিউজ্জামান মতি বলেন, ‘আমাদের বড় গাড়ির সব চালক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তবে অনেক অল্প শিক্ষিত আছে। কিন্তু বর্তমানে ইজিবাইক (চার্জার) তথা ছোট গাড়িগুলোর চালকদের কোনো প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে বড় গাড়িগুলোর সঙ্গে দুর্ঘটনা হয়।’
‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর নওগাঁ জেলা সভাপতি এ এস এম রায়হান আলম বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনারোধে চালক-পথচারী থেকে শুরু করে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে হাইওয়ে সড়কে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির ভিন্ন গতিবিধি দুর্ঘটনার একটা কারণ। আমাদের সবাইকে ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে কিছুটা হলেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।’
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার (১২ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত) থেকে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে দেশে মোট ৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে এবং ৬ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে সর্বোচ্চ ২ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে ১ হাজার ১০৫ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং ৮৭ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫১ হাজার ৫৬৭ জনে। এর মধ্যে ৭ হাজার ২৪ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ পর্যন্ত সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত মিলিয়ে ৩৬ হাজার ৮৮১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
অপরদিকে ৩২ হাজার ৮৭৭ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ৬৮ জন মারা গেছেন। আর হামের উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৩৫৬ জন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৪২৪ জনের।
জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর নওজোর মাটাগরি গ্রামের মাঠে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে মরদেহ মাটি চাপা দিয়ে রেখেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার (১২ মে) বিকালে মাঠের ক্ষেত থেকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর নওজোর মাটাগরি গ্রামের মাঠে ঘাস কাটতে গিয়ে একটি ক্ষেতে মাটি চাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাত ওই ব্যক্তির হাত দেখতে পান স্থানীয় এক ব্যক্তি।
এ সময় তিনি চিৎকার করে বিষয়টি অন্য কৃষকদের জানালে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
আক্কেলপুর থানার ওসি শাহীন রেজা জানান, স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশ অনেকটা পচে গেছে। নিহতের গলায় আঘাতের চিহ্নের মতো বোঝা যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। লাশের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে কারা জড়িত সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
খুলনায় কিশোর গ্যাংয়ের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১টি কালো রঙের চাইনিজ কুড়াল, সিলভার রঙের একটি ধাতব পাঞ্চ, একটি কালো রঙের স্কুলব্যাগ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- আকাশ আহম্মেদ জনি (১৯), শাহরিয়ার ইমন (১৯) ও নাফিজুল ইসলাম (১৯)।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (১২ মে) সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সোনাডাঙ্গার বানিয়াখামার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই ফারুক আলম জানান, গত সোমবার রাতে ডিউটি পালন করার সময় বসুপাড়া মেইন রোড়ের বসুপাড়া নার্সারির ভেতরে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
বান্দরবানের থানচি উপজেলার অত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকা তিন্দু। যেখানে প্রকৃতির রুক্ষতাকে জয় করে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বামং খিয়াং মিংলেন। তবে তার গল্পটি অন্য দশজন শিক্ষকের চেয়ে আলাদা। সহকর্মীদের বেতন জোগাতে কলম ছেড়ে তিনি হাতে তুলে নিয়েছেন নৌকার হাল।
শিক্ষার জন্য এক অনন্য ত্যাগ: ২০২০ সালে স্থানীয় শিক্ষানুরাগীদের প্রচেষ্টায় তিন্দু নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। কক্সবাজার সিটি কলেজ থেকে এমবিএ এবং টিচার্স ট্রেনিং কলেজ থেকে বিএড শেষ করে এই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন মিংলেন। কিন্তু শুরু থেকেই বিদ্যালয়ের বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় চরম অর্থসংকট। শিক্ষার্থীদের বড় অংশই হতদরিদ্র পরিবারের হওয়ায় নিয়মিত বেতন পাওয়া সম্ভব হয় না।
বেতন জোগাতে ইঞ্জিন বোট চালক: সহকর্মী শিক্ষকদের কথা ভেবে এবং বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে তিনি এক অভিনব উপায় বেছে নেন। উপজেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া একটি ইঞ্জিন চালিত বোট নিয়ে প্রতি শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে তিনি বেরিয়ে পড়েন। সাঙ্গু নদীর বুকে থানচি-তিন্দু-রেমাক্রী রুটে পর্যটক ও যাত্রী পরিবহন করেন তিনি।
কেন তিনি নিজেই বোট চালান: প্রধান শিক্ষকের ভাষায়— ‘অন্য চালক রাখলে মজুরি দিতে হয়, আবার অনেক সময় সঠিক আয়ের হিসাব পাওয়া যায় না। আমি নিজে চালালে সেই টাকাটা বেঁচে যায়, যা দিয়ে সহকর্মীদের সামান্য হলেও বেতন দেওয়া সম্ভব হয়।’
সংগ্রামের ফল: গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে বোট চালিয়ে তিনি ৪৯,১০০ টাকা আয় করেছেন। এর মধ্যে ৩০,০০০ টাকা সরাসরি শিক্ষকদের বেতন হিসেবে দেওয়া হয়েছে। শুধু বেতনই নয়, শিক্ষার্থীদের নদী পার করে স্কুলে নিয়ে আসার দায়িত্বও তিনি নিজ কাঁধে তুলে নিয়েছেন।
বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ স্বপ্ন: বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণি পর্যন্ত ৫৬ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে সংকট এখনো কাটেনি, আর্থিক অভাবে ২ জন শিক্ষককে এখনো অবৈতনিক (নন-পেমেন্ট) হিসেবে কাজ করতে হচ্ছে।
ছাত্রাবাসে খাবারের সঠিক ব্যবস্থা করতে পারলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।
উপজেলা প্রশাসন ও পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকে কিছু সহযোগিতা পাওয়া গেলেও বিদ্যালয়টি এখনো পুরোপুরি স্বাবলম্বী নয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয়ের প্রতিষ্টাতা সভাপতি মংপ্রু অং মারমা বলেন, তিনি চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের টোল-টেক্সের অর্থ বিদ্যালয় তহবিলে দিয়ে শিক্ষকদের বেতন দেওয়া হতো। বর্তমানে উপজেলা প্রশাসনের দেওয়া বোটে আয় থেকেই বিদ্যালয়টি কোনোনমতে চলছে।
থানচি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান থোয়াই হ্লা মং মারমা বলেন, দুর্গম প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে উচ্চবিদ্যালয় থাকা উচিত বিবেচনায় বিদ্যালয়টির ভূমিকা রাখা হয়েছিল। এখন তেমন ভুমিকা রাখতে পারছেন না।
থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল ফয়সাল বলেন দুর্গম এলাকার শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই দরিদ্র হওয়ায় বিদ্যালয়ের নিয়মিত আয় নেই। তাই টেকসই সমাধান হিসেবে তিন্দু ও রেমাক্রি এলাকায় দুটি বিদ্যালয়কে দুটি ইঞ্জিন চালিত বোট দেওয়া হয়েছিল, যাতে পর্যটক পরিবহন করে যা আয় হয় তা দিয়ে শিক্ষকদের ন্যূনতম বেতন দেওয়া যায় ।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের ছাত্রাবাস সংস্কার করা হয়েছে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর মাধ্যমে ভবন নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। পাশাপাশি বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ থেকেও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যালয়টি টিকিয়ে রাখতে উপজেলা পরিষদ থেকে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।
বামং খিয়াং মিংলেন দেখিয়ে দিয়েছেন, শিক্ষকতা কেবল ক্লাসরুমের চার দেয়ালে সীমাবদ্ধ নয়। তিন্দু পাহাড়ের শিশুদের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য তার এই হাড়ভাঙা খাটুনি আর ত্যাগ আমাদের সমাজের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।
ফেনীতে বাসচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাফেজিয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের নুরুল হুদার ছেলে নুর আলম ও তার ছেলে নিরব। নুর আলম পেশায় অ্যাম্বুলেন্স চালক ছিলেন। এ ঘটনায় আহত আফজাল মিঠু নামে নুর আলমের ভাগিনাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, ছেলে ও ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে বোনের বাড়ি ভাঙার তাকিয়া থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফেনীতে ফিরছিলেন নুর আলম। পথে একটি দ্রুতগতির বাস তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই নুর আলমের মৃত্যু হয়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত ছেলে ও ভাগিনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে নিরবের মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর চালক বাসটি থামিয়ে পালিয়ে যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি মো. আসাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। বাসচালক পালিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার আসামির সঙ্গে বাদীর বিয়ে হয়েছে। মঙ্গলবার (১২ মে) সন্ধ্যায় তাদের স্বজনের উপস্থিতিতে এ বিয়ে সম্পন্ন হয়। কারাসূত্র জানায়, বিয়ের কাগজপত্র আদালতে দাখিলের পর জামিন পাবেন মামলার আসামি ও বর তরিকুল ইসলাম (২৬)।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী মহাপরিদর্শক জান্নাত-উল ফরহাদ গণমাধ্যমকে জানান, যাত্রাবাড়ী থানার একটি মামলায় কারাগারে রয়েছেন তরিকুল ইসলাম। তার আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার ভুক্তভোগীর সঙ্গে কারাগারে বিয়ের আদেশ দেন। বিয়ে সম্পাদনের শর্তে তার জামিনও মঞ্জুর করেন।
আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী, বর-কনের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে কাজী ডেকে রেজিস্ট্রি করে ধর্মীয় রীতিতে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। জ্যেষ্ঠ কারা কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
কারাসূত্র জানায়, তরিকুল দোকানে কাজ করেন। আর কনে (৩৫) স্থানীয় এক দন্ত চিকিৎসকের চেম্বারের সহকারী। দুজনেরই আলাদা সংসার রয়েছে। তারপরও তারা প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে তরিকুল আপত্তি জানান। এ নিয়ে সম্পর্কের অবনতি হলে তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন ওই নারী। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় অভিযোগের সত্যতা মেলে। একপর্যায়ে দুপক্ষ বিয়ে করার মাধ্যমে সমঝোতায় পৌঁছাতে সম্মত হন। তখন আইনজীবী বিষয়টি আদালতকে অবহিত করলে বিচারক তাদের বিয়ের আদেশ দেন। আর বিয়ে সম্পাদনের কাগজপত্র আদালতে দাখিলের শর্তে তরিকুলের জামিনও মঞ্জুর করেন।
গাউছে পাক বিপণিবিতান পরিচালনায় মতিঝিল হকার্স ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কার্যকরী কমিটিকে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার (১২ মে) ফুল দিয়ে বরণ করে নিয়েছেন মতিঝিল কম্পিউটার সোসাইটি। সভায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, মতিঝিল কম্পিউটার সোসাইটির সভাপতি জনাব মশিউর রহমান খান দিদার, সাধারণ সম্পাদক মো. দেলোয়ার হোসেন, সহসভাপতি মো. সোহেল হাসান ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক জনাব সাজ্জাদ হোসেন রুবেল, যুগ্ম সম্পাদক গোলাম সারওয়ার আবিদ, মো. মিজানুর রহমান, সাবেক সভাপতি খন্দকার আমিনুল হক লোটন প্রমুখ।
গাউছে পাক বিপণিবিতান পরিচালনায় মতিঝিল হকার্স ইউনিয়নের নবনির্বাচিত কমিটির পক্ষে বক্তব্য রাখেন, সভাপতি এস এম নূরুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল হক, সিনিয়র সহসভাপতি সাহাব উদ্দিন। সভায় উভয়পক্ষ সহযোগিতার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা ও সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করতে ৬টি শিশু বিকাশ কেন্দ্র বা ‘লার্নিং রুটস’ চালু করেছে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ। এই উদ্যোগের আওতায় উপজেলার ৪ থেকে ৫ বছর বয়সি প্রায় ১৩৮ জন শিশু প্রাক-শৈশব যত্ন, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশমূলক কার্যক্রমে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে।
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ তাহিরপুর অফিস সূত্রে জানা যায়, চালু হওয়া ৬টি কেন্দ্রে বর্তমানে ১৩৮ জন শিশু নিয়মিত ক্লাস করছে। এর মধ্যে ৬৩ জন ছেলে ও ৭৫ জন মেয়ে শিশু রয়েছে। আরসি পরিবারভুক্ত স্পন্সর শিশু রয়েছে ৪২ জন এবং নন-আরসি পরিবারের ৯৬ জন শিশু এই কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। এ ছাড়া ৩ জন প্রতিবন্ধী শিশুকেও এই উদ্যোগের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
শিশুদের খেলাধুলা, আনন্দমুখর শিক্ষা ও সৃজনশীল কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশে সহায়তা করছে এসব কেন্দ্র। শিশুদের সুন্দর, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে শিশু প্রাক-শৈশব বিকাশ ও শিখন কেন্দ্র। স্থানীয় কমিউনিটির নেতৃত্ব ও কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, তাহিরপুর এপির কমিউনিটি লেড লার্নিং রুটস সেন্টার কার্যক্রম শিশুদের শারীরিক, মানসিক, বুদ্ধিবৃত্তীয়, ভাষাগত ও মনোসামাজিক বিকাশে অনন্য অবদান রাখছে।
প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী তানহা বেগমের মা বলেন, ‘আগে আমার মেয়ে চুপচাপ থাকত। এখন সে প্রতিদিন স্কুলে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে। তার হাসি দেখলে আমাদের মন ভরে যায়। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও সে প্রতিদিন আনন্দ নিয়ে কেন্দ্রে আসে। শুরুতে কিছুটা সংকোচ থাকলেও বর্তমানে সে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে গল্প শোনা, ছবি আঁকা ও খেলাধুলায় অংশ নিচ্ছে। ধীরে ধীরে তার ভাষাগত ও সামাজিক দক্ষতারও উন্নতি ঘটছে।’
লক্ষ্মীপুর গ্রাম উন্নয়ন কমিটির কমিটির সভাপতি সুরমা আক্তার বলেন, ‘এই কেন্দ্র আমাদের এলাকার শিশুদের জন্য একটি আশীর্বাদ। শিশুরা এখন আনন্দের মধ্য দিয়ে শেখছে, যা তাদের ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করবে।’
জয়নগর গ্রামের শিশুর অভিভাবক রুপা বেগম বলেন, ‘আমাদের সন্তানরা আগে ঘরে বসে সময় নষ্ট করত। এখন তারা নিয়মিত শিখন কেন্দ্রে যায়। এতে তাদের আচরণ, শেখার আগ্রহ এবং সামাজিকতা অনেক উন্নত হয়েছে।’
প্রোগ্রাম অফিসার মহসিন খান বলেন, ‘জয়নগর, বীরনগর, মধ্য তাহিরপুর, লক্ষ্মীপুর, চিকসা ও ধুতমা গ্রামে পরিচালিত এই ৬টি শিশু বিকাশ কেন্দ্রে শিশুদের আনন্দমুখর পরিবেশে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। আমি প্রতিদিন নিজে কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করি, যেন শিশুরা সঠিকভাবে শিক্ষা, যত্ন ও মানসিক বিকাশের সুযোগ পায়। আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আনন্দদায়ক ও মানসম্মত শিখন পরিবেশ নিশ্চিত করা।’
ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের তাহিরপুর এপির ম্যানেজার সজল ইগ্নেসিয়াস গমেজ বলেন, ‘শিশুদের জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর তাদের ভবিষ্যৎ গঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়টাতে সঠিক যত্ন, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে শিশুরা আত্মবিশ্বাসী ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে ওঠতে পারে। তাহিরপুরে চালু হওয়া এই শিশু বিকাশ কেন্দ্রগুলো শুধু শিক্ষা নয়, শিশুদের আনন্দময় ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতেও কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।’
তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী বলেন, ‘শিশুদের প্রাক-শৈশব বিকাশ নিশ্চিত করতে এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছোটবেলা থেকেই শিশুরা যদি সঠিক পরিচর্যা, শিক্ষা ও মানসিক বিকাশের সুযোগ পায়, তাহলে ভবিষ্যতে তারা দেশ ও সমাজের জন্য সম্পদ হয়ে গড়ে উঠবে। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, তাহিরপুর এপির এই কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। আমরা স্থানীয়ভাবে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’
কুমিল্লার তিতাসে হত্যা মামলার এক আসামিকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গত সোমবার (১১ মে) রাতে উপজেলার মানিককান্দি গ্রামে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতের কাছ থেকে পুলিশ একটি পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে। মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে তিতাস থানার ওসি মো. মমিরুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত আব্দুল লতিফ ভূইয়া (৪৫) তিতাস উপজেলার ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি গ্রামের মৃত ধনু ভুঁইয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ভিটিকান্দি ইউনিয়নের মানিককান্দি এলাকার সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লার সঙ্গে সাইফুল মেম্বারের লোকজনের আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ২০২২ সালের ৬ ডিসেম্বর দুপক্ষের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আবুল হোসেন মোল্লার ছেলে ভিটিকান্দি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি মো. জহিরুল ইসলাম মোল্লাকে (৩০) কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় লতিফ আসামি ছিলেন। জামিনে মুক্ত হয়ে তিন দিন আগে তিনি এলাকায় ফেরেন।
গত সোমবার (১১ মে) রাত সাড়ে ৯টায় আব্দুল লতিফ ভূঁইয়া নিজবাড়ির পাশেই দুর্বৃত্তদের হামলার শিকার হন। তাকে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ বিষয়ে ওসি মো. মমিরুল হক বলেন, ‘ঘটনা জানতে পুলিশের একাধিক সংস্থা মাঠে কাজ করছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো থানায় মামলা করা হয়নি।’
'সবাই মিলে দেব কর, সিটি কর্পোরেশন হবে স্বনির্ভর' এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে মঙ্গলবার (১২ মে) মহানগরের আটটি জোনে একযোগে কর মেলা শুরু হয়েছে। নগরবাসীকে কর প্রদানে উৎসাহিত করা, বকেয়া কর আদায় বৃদ্ধি এবং সিটি কর্পোরেশনের আর্থিক সক্ষমতা জোরদার করতেই এই আয়োজন করা হয়েছে।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৪ এর আঞ্চলিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কর মেলার উদ্বোধন করেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সোহেল হাসান, অঞ্চল-৪ এর কর নির্ধারণ কর্মকর্তা, মোঃ আতাউর রসূল ভূঁইয়া, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ইলিশাই রিছীল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের লাইসেন্স কর্মকর্তা মোঃ আব্দুর রশিদসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
কর মেলায় আবাসিক হোল্ডিং মালিকদের জন্য বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করা হয়েছে। বকেয়াসহ চলতি বছরের কর একসঙ্গে পরিশোধ করলে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কর মওকুফ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে নগরবাসীর মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রশাসক মোঃ শওকত হোসেন সরকার বলেন, জনগণের রাজস্ব আয় নগরের উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি, ,'একটি আধুনিক, পরিকল্পিত ও স্বনির্ভর নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদের কর প্রদানের বিকল্প নেই।
নগরবাসীর করের অর্থ দিয়েই রাস্তা, ড্রেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, আলোকায়ন ও নাগরিক সেবার উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তাই কর প্রদান শুধু দায়িত্ব নয়, এটি নগর উন্নয়নে প্রত্যেক নাগরিকের অংশগ্রহণ।'
তিনি আরও বলেন, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনকে একটি আধুনিক ও সেবাবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে আমরা কাজ করছি। কর মেলার মাধ্যমে নাগরিকদের হয়রানিমুক্ত পরিবেশে সহজে কর পরিশোধের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে।
জনগণের সহযোগিতা ও সচেতন অংশগ্রহণের মাধ্যমে গাজীপুরকে একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন ও স্বনির্ভর নগরীতে রূপান্তর করা সম্ভব হবে।'
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মোঃ সোহেল হাসান বলেন, 'কর আদায় বৃদ্ধি পেলে সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। নগরবাসীর সুবিধার্থে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কর ব্যবস্থাপনা সহজীকরণ এবং সেবার মানোন্নয়নে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করছি।'
কর মেলায় আগত নাগরিকরা জানান, একসঙ্গে কর পরিশোধে বড় অঙ্কের মওকুফ সুবিধা পাওয়ায় তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি সহজ ও দ্রুত সেবা পাওয়ায় তারা এ উদ্যোগকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন।
গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কর মেলা চলাকালে নগরবাসীকে দ্রুত ও সহজ সেবা প্রদানের জন্য বিশেষ বুথ, তথ্য সহায়তা কেন্দ্র এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োজিত রাখা হয়েছে। আগামী একমাস এই কর মেলা চলবে।
“আমাদের নার্স, আমাদের ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আন্তর্জাতিক নার্স দিবস ২০২৬ উপলক্ষে মাগুরায় ইউনিল্যাব নার্সিং ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে বর্ণাঢ্য র্যালি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে আয়োজিত এ র্যালিটি শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রতিষ্ঠানে এসে শেষ হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পুরো আয়োজন উৎসবমুখর পরিবেশে পরিণত হয়।
মানবতার সেবায় নিবেদিত বর্তমান ও আগামীর নার্সদের প্রতি শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা ও উৎসাহ জানানোর উদ্দেশ্যে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। র্যালিটি পরিচালনা করেন সুবাস চন্দ্র বিশ্বাস।
অনুষ্ঠানে ইউনিল্যাব নার্সিং ইনস্টিটিউটের সকল শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। দিবসটি ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্দীপনা ও উচ্ছ্বাস।
আসন্ন ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে কোরবানির পশুবাহী যানবাহনে যেকোনো ধরনের ছিনতাই বা চাঁদাবাজির অভিযোগ পাওয়ামাত্রই কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (১২ মে) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, সড়কে পশুবাহী ট্রাকের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ব্যবসায়ীদের হয়রানি মুক্ত রাখতে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ হটলাইন সেবা চালু করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে ঈদের আগে ও পরে মোট ১৪ দিন পুলিশ সদর দপ্তরে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল কার্যকর থাকবে।
তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি পশুর চামড়া সংরক্ষণের বিষয়েও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এ উদ্দেশ্যে লবণ বিতরণের জন্য ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
কোরবানির ঈদে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এছাড়া সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঈদের আগেই দেশের সকল গার্মেন্টস শ্রমিকের বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
ফেনীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল আরোহী বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। নিহতরা হলেন নুর আলম ও তার ছেলে নিরব। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) সকালে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের হাফেজিয়া নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, সোনাগাজী উপজেলার মঙ্গলকান্দি ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের সী-ম্যান সফিউল উল্যাহর বাড়ির নুরুল হুদার ছেলে নুর আলম ও তার ছেলে নিরব।
নুর আলম পেশায় ফেনী ডায়াবেটিক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক ছিলেন।
আহত ভাগিনা আফজাল মিঠুকে মুমূর্ষ অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, ছেলে ও ভাগিনাকে সঙ্গে নিয়ে বোনের বাড়ি ভাঙার তাকিয়া থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে ফেনীতে ফিরছিলেন নুর আলম। পথে একটি দ্রুতগতির বাস তাদের মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিলে মোটরসাইকেল সড়কের ছিটকে পড়ে। ঘটনাস্থলেই নুর আলম মারা যান। স্থানীয়রা গুরুতর আহত ছেলে ও ভাগিনাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে ছেলের মৃত্যু হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য আহত আফজাল মিঠুকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার পর বাসটি থামিয়ে পালিয়ে সটকে পড়ে চালক। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ফেনী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। জব্দ করে বাস ও মোটরসাইকেল।
মহিপাল হাইওয়ে থানার ওসি মো: আসাদুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়েছে। পলাতক রয়েছেন বাস চালক। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।