সকালবেলা পত্রিকার পাতা, টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- দৃষ্টি পড়লেই সামনে আসে দেশের কোনো না কোনো স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি আর আহতের খবর। এ খবরে কারও পরিবারে শুরু হয় শোকের মাতম আবার কারও কাছে তা খুবই সাধারণ। যে পরিবার হারায়, তার স্বজন ও সে পরিবারের সদস্যরাই কেবল বুঝতে পারে সে যন্ত্রণার ভার কতটা দুঃসহ, বদলে যাওয়া জীবনের পথ কতটা কঠিন।
দেশের বিভিন্ন জেলার মতো নওগাঁ জেলায়ও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আর নিহতের তালিকা বেশ লম্বা। নওগাঁর পুলিশ কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত ৩৫ মাসে নওগাঁ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১৩০, আহত ১১২। এ সবের মধ্যে মামলা হয়েছে ১০৮টি।
এর মধ্যে ২০২২ সালে নিহতের সংখ্যা ১৫, আহত ১৩। রুজুকৃত মামলা ৯টি। ২০২৩ সালে নিহত ৬৪, আহত ৬৭। মামলা ৫২টি। চলতি বছরে নিহত ৫১, আহত ৩২। রুজুকৃত মামলা ৪৭টি।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে জরিপ করলে দেখা যায়, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের চেয়ে ২০২৩ সালে মৃত্যুর হার বেশি (৬৪) জন আর ২০২২ সালে মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম ১৫ জন। তবে নিহত এবং আহত তুলনা করলে প্রায় সমপরিমাণ হলেও ২০২২ এবং ২০২৩ সালে নিহতের চেয়ে আহতের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। নিহত এবং আহতের ঘটনায় রুজুকৃত মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৮ আটটি। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৯৫, ৯৮, ৯৯ ও ১০৫-এর বিভিন্ন ধারায় এসব মামলা রুজু হয়েছে। এসব মামলা থেকে কিছু আসামি জেল-জরিমানার মধ্য দিয়ে মুক্ত হয়েছে আবার কিছু মামলা এখনো চলমান।
বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা উওরের জেলা নওগাঁ। এ জেলার মোট ১১টি উপজেলায় ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৫ মাসে সড়কে যারা প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত অবস্থায় আজও হাসপাতালের বেডে রয়েছে, আবার অনেকে পঙ্গুত্বের অভিশাপে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন।
কথা হয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক কলেজ ছাত্রের বাবার সঙ্গে। ২০২২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় শহরের দয়ালের মোড় এলাকার পলাশ হোসেনের। তার বাবা আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমি ফুটপাতে ব্যবসা করলেও আমার অনেক স্বপ্ন ছিল আমার ছেলে পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি করবে। আমার সেই স্বপ্ন আর পূর্ণ হলো না। আল্লাহ! যেন আর কোনো বাবাকে সন্তানের এমন লাশ দেখতে না হয়।’
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া শহরের কাজীর মোড় এলাকার বাসিন্দা দুলাল হোসেন বলেন, ‘২০২৩ সালে চৌমাশিয়া মোড় এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে আমার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘদিন হাসপাতাল আর বাসায় কেটেছে। আমি পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় পুরো পরিবারটাই অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।’
পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পুনর্বিবরণে কারণ হিসেবে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের পরিবহন দুর্ঘটনা কবলিত হলেও অধিকাংশ দুর্ঘটনা মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক। তার পরেই রয়েছে ট্রাক, বাস, সিএনজি, ইজিবাইকসহ অন্যান্য পরিবহন। সেই সঙ্গে জেলার সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ কিছু এলাকা রয়েছে, যেগুলোতে বেশি দুর্ঘটনা হয় তার মধ্যে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের জলিল চত্বর থেকে হাঁপানিয়া, চকগৌরী, নওহাটা চৌমাশিয়া মোড় উল্লেখযোগ্য।
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন ছাত্র, যুবক, বৃদ্ধ এমনকি বাদ নেই মায়ের কোলের নিষ্পাপ শিশুটিও।
নওগাঁর পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে যদি মোটা অঙ্কে বলি, বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, স্কুল, কলেজ, বাজার, রাস্তার বাঁক এমন ধরনের জায়গায় গাড়ির গতি না কমানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করা। ফিডার রোড থেকে মেইন রোডে অসতর্কভাবে বিভিন্ন যানবাহনের প্রবেশ। অধিক আয়ের আশায় বিশ্রাম ছাড়াই বাস-ট্রাক চালকের বিরতিহীন গাড়ি চালানোসহ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়া।’
তিনি আরও বলেন, প্রতিকার হিসেবে প্রথমেই উল্লেখিত কারণগুলো থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দেওয়াসহ হাইওয়ে সড়কের বাঁকে ২০ ডিগ্রির বেশি কৌণিক অবস্থানে থাকবে না এমনটা নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা আইন ও ট্রাফিক আইনের বিধিবিধান অমান্যকারীকে জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের সচেতনতা প্রোগ্রাম ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। যেকোনো পরিবহনের চালক বিশেষ করে বাস বা ট্রাকের চালকদের গাড়ি চালানোর আগে পর্যাপ্ত বিশ্রামসহ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিআরটিএ নওগাঁ সার্কেলের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আফতাবুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনা এড়াতে চাইলে অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক হতে হবে, ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সেই সঙ্গে গাড়ির ফিটনেসসহ নানামুখী জনসচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। আমি নওগাঁতে নতুন, তবে বিআরটিএর সব বিধিমালা অনুযায়ী আমার কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং থাকবে।’
নওগাঁ জেলা বাস-ট্রাক শ্রমিকের সাধারণ সম্পাদক এস এম মতিউজ্জামান মতি বলেন, ‘আমাদের বড় গাড়ির সব চালক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তবে অনেক অল্প শিক্ষিত আছে। কিন্তু বর্তমানে ইজিবাইক (চার্জার) তথা ছোট গাড়িগুলোর চালকদের কোনো প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে বড় গাড়িগুলোর সঙ্গে দুর্ঘটনা হয়।’
‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর নওগাঁ জেলা সভাপতি এ এস এম রায়হান আলম বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনারোধে চালক-পথচারী থেকে শুরু করে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে হাইওয়ে সড়কে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির ভিন্ন গতিবিধি দুর্ঘটনার একটা কারণ। আমাদের সবাইকে ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে কিছুটা হলেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।’
৪ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। তবে এখনও বন্ধ রয়েছে আরও দুটি ইউনিট।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার রাত ৯টা ৩ মিনিট থেকে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে এই ইউনিটের ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এর আগে গত রোববার সকালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যায়। এতে এই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই ইউনিট বন্ধের মাধ্যমে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, কেন্দ্রের অপর দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে।
পরে প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা করে মেরামত শুরু করে কর্তৃপক্ষ। অবশেষে গত বুধবার রাত থেকে ইউনিটটি সম্পূর্ণভাবে মেরামত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। এর আগে কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন চালুর ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে না পারলেও নূন্যতম ১ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছিল।
কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু হলেও বাকি দুটি ইউনিটের উৎপাদন এখনও বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। আর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। তৃতীয় ইউনিট চালু করতে চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আসছে। ফলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চালু হতে পারে তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদন– এমনটি বলছে কর্তৃপক্ষ। আর প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করতে এখনও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হয়নি।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘প্রথম ইউনিট ও তৃতীয় ইউনিট নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে নভেম্বর থেকেই কাজ চলছে। আগামী ইরি-বোরো মৌসুম এবং নির্বাচনে যাতে বিদ্যুতের সমস্যা না হয় সেই টার্গেট রয়েছে। তবে যন্ত্রাংশের জটিলতার কারণে প্রথম ইউনিটে সমস্যা হয়েছিল। তৃতীয় ইউনিট ফেব্রুয়ারি মাসে চালু করতে দিন-রাত কাজ চলছে। আর দ্বিতীয় ইউনিট চালু করতে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হওয়ায় সেটির ব্যাপারে এখনও চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
গাজীপুর কৃষিকে আরও আধুনিক, টেকসই ও উৎপাদনমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলা থেকে নারী ও পুরুষসহ মোট ৪০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. ময়নুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাফিউল ইসলাম আফ্রাদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এক্সটেনশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন। বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণের শুরুতে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা নিজেদের ফসল উৎপাদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে কম সময়ে অধিক ফলন পাওয়া যায় সে বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষকরাই হচ্ছেন সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে কৃষকের হাতে পৌছালেই তার প্রকৃত সার্থকতা আসে।
দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্বিতীয় পর্বে কৃষিযন্ত্র ও প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহিদুজ্জামান এবং অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজার রহমান আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে হাতে-কলমে ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দেন।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিজ নিজ জমিতে প্রয়োগের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান। কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন এক্সটেনশন সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রহমান। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি
দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাঙামাটি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ সব রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এর আগে সকাল ৬টা থেকে সৌদিয়া পরিবহন ও রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির টোকেন দ্বন্দ্বে রাঙামাটির সঙ্গে সব জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি। সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। অবশেষে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মালিক সমিতির নেতারা সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত দেন।
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. সৈয়দ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসনের অনুরোধসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব আমরা।’
চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, সৌদিয়া পরিবহন তাদের একটি বাস রাঙামাটি-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করে। কিন্তু চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মালিক সমিতিতে টোকেন ফি জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা তারা দেয়নি। এতে গত বুধবার সমিতির নেতারা সৌদিয়া কাউন্টার বন্ধ করে দেয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা চালু করা হয়। এর প্রতিবাদে কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক সমিতি।
পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। এ সময় যাত্রীরা মোটর মালিক সমিতির সিন্ডিকেটকে দায়ী করে এটি ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলার বিভিন্ন গণমাধ্যমের ৫০ জন রিপোর্টারদের ‘নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতাবিষয়ক’ দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর উদ্যোগে গত বুধবার থেকে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুদিন ঝালকাঠি সার্কিট হাউসের অডিটোরিয়ামে দুই জেলার গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রশিক্ষণের শেষ দিন বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকেলে প্রশিক্ষণ গ্রহণকারী ৫০ জনের হাতে সনদ তুলে দেন কর্মশালার সমাপনি অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. কাওছার হোসেন।
ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. আককাস সিকদারের সঞ্চালনায় সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. তৌহিদুল ইসলাম।
প্রশিক্ষণে অতিথি, প্রশিক্ষক ছাড়াও অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে সমাপনী পর্বে বক্তব্য দিয়েছেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আ.স.ম মাহামুদুর রহমান পারভেজ এবং পিরোজপুর প্রেসক্লাবের সহসভাপতি খেলাফত হোসেন খশরু।
আয়োজকরা জানিয়েছেন আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সাংবাদিকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে সহায়তা করা এই প্রশিক্ষণের মূল উদ্দেশ্য।
দুদিনের কর্মশালায় নির্বাচনী ব্যবস্থাপনায় সাংবাদিকদের দায়িত্ব, রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ, নির্বাচনকালে গণমাধ্যমকর্মীর শারীরীক ও ডিজিটাল নিরাপত্তা, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং শিকারি সাংবাদিকতা এবং ভুয়া তথ্য, অপতথ্য, গুজব মোকাবিলা, তথ্য ও ছবি যাচাই-বাছাই বিষয়ের উপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
এই কর্মশালায় বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন, জতীয় দৈনিকের ডেপুটি এডিটর সুলতান মাহমুদ, এনটিভির সিনিয়র রিপোর্টার নাইমুল আজিজ সাদেক এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ- পিআইবির জ্যেষ্ঠ প্রশিক্ষক গোলাম মুর্শেদ পৃথকভাবে প্রশিক্ষণ দেন।
বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভলান্টিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন ফর বাংলাদেশ (ভাব)-এর উদ্যোগে শ্যামনগরে ভাবভুক্ত ৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২টি মাদ্রাসার মোট ২৭০ জন দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় শ্যামনগরে জেসি কমপ্লেক্সে শ্যামনগর ভাব টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে ৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের কম্বল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ৯টি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হাতে ওই কম্বল তুলে দেন উপজেলা মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার মীনা হাবিবুর রহমান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, রমজাননগর ইউনিয়ন তোফাজ্জেল বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক শেখ মতিউর রহমান, ভেটখালী আব্দুল করিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গাজী নজরুল ইসলাম, চিংড়াখালী মাধ্যমিক বিদ্যানিকেতনের প্রধান শিক্ষক জয়দেব বিশ্বাস, বনশ্রী শিক্ষা নিকেতন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল করিম, হেঞ্চি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ, বি,এম, লুৎফুল আলম, কাঁঠালবাড়িয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক ইকবল হোসেন, নওয়াবেঁকী বিড়ালাক্ষী কাদেরিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মো. অহিদুজ্জামান, ছফিরুন্নেছা মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক টি এম জিলহাজ রহমান, চালিতাঘাটা সিদ্দিকীয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসার সুপারেনটেনডেন্ট আবু জাফর মো. আব্দুর রহিম, শ্যামনগর ভাব টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কো-অডিনেটর রনি বালা বিশ্বাস, প্রশিক্ষক ও সহকারী ম্যানেজার মাকছুদুর রহমান, প্রশিক্ষক আব্দুল আলিম, মাহফুজুর রহমান, আসমা উল হুসনা, উম্মে উনাইজা প্রমুখ।
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গ্যাসের চাপ কমার কারণে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়েছে যমুনা সার কারখানার। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ করে কারখানা কর্তৃপক্ষ। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যমুনা সার কারখানার উপপ্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক।
কারখানা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯১ সালে তারাকান্দি এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় এশিয়া মহাদেশের সর্ববৃহৎ দানাদার ইউরিয়া উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানা। কারখানার সঠিক উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন গড়ে ৪২ থেকে ৪৩ পিএসআই গ্যাসের প্রয়োজন হয়। গত দুদিন ধরেই বিভিন্ন সময় গ্যাসের প্রেসার কম আসছিল। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে তিতাস কোম্পাণি গ্যাসের প্রেসার কমিয়ে দেওয়ার কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
এ ব্যাপারে যমুনা সার কারখানার উপপ্রধান প্রকৌশলী (রসায়ন) মো. ফজলুল হক বলেন, ‘কয়েকদিন ধরেই গ্যাসের চাপ কম আসছিল। এটা নিয়ে বিসিআইসির কার্যালয় ও তিতাস কর্তৃপক্ষের সাথে কথাও হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর থেকে গ্যাসের প্রেসার কমার কারণে ইউরিয়া উৎপাদন বন্ধ করা হয়।
ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও যথাযথ মর্যাদায় দত্ত উচ্চবিদ্যালয়ে বার্ষিক সিরাতুন্নবী (সা.) মাহফিল-২০২৬ উদযাপিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুনমুন জাহান লিজা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ মজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে মূল্যবান বয়ান পেশ করেন এন. আকন্দ কামিল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ও কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আব্দুল মতিন। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা, অভিভাবক ও কর্মচারীরা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।
মাহফিলে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোকপাত করে বক্তারা বলেন, ‘বর্তমান সময়ে নৈতিক সমাজ গঠনে প্রিয় নবীর সুন্নাহ অনুসরণের কোনো বিকল্প নেই। আলোচনা সভা শেষে শিক্ষার্থীরা মনোজ্ঞ হামদ, নাত ও ইসলামী সংগীত পরিবেশন করে। পরে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মো. জোবায়েদ হোসেন ও মাহমুদুল হাসান। অনুষ্ঠান বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন, শিক্ষক মাওলানা ওয়াদুদ আলম, মো. রেজাউল কবীর, নাজমুল হাসান খান শুভ এবং মাহমুদা আক্তার।
এ ছাড়া শরীফ উদ্দিন খান পাঠান কিরণসহ বিদ্যালয়ের অফিস স্টাফরা বিভিন্ন দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। সবশেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত এবং উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে দুস্থ, অসহায় ও প্রতিবন্ধী প্রায় পাঁচ শতাধিক শীতার্ত চা-শ্রমিকদের মাঝে শীতবস্ত্র কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় উপজেলার মাধবপুর উচ্চবিদ্যালয় হল রুমে বিভিন্ন চা-বাগানের প্রায় পাঁচ শতাধিক চা -শ্রমিকদের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।
চা জনগোষ্ঠী প্রতিবন্ধী উন্নয়ন পরিষদের আয়োজনে সংগঠনটির সভাপতি উত্তম যাদবের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, মাধবপুর চা-বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক দিপন সিনহা। চা মজুত পত্রিকার সম্পাদক সিতারাম বীনের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথি ছিলেন, মাধবপুর উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুস সোবহান, কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসহাবুজ্জামান শাওন, মাধবপুর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব সমরেন্দ্র কুমার সিংহ, ইউপি সদস্য ছাবিদ আলী ও মহিলা সদস্য মালতী বুনার্জী প্রমুখ। প্রতিবন্ধীদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সিতারাম ভর, ফারুক আহমেদ ও চাম্পালাল রবিদাস।
অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, শীত মৌসুম আমাদের অনেকের জন্য আরামের হলেও সমাজের দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য এটি কষ্টের সময়। একটি কম্বল আমাদের কাছে তুচ্ছ মনে হলেও শীতার্ত মানুষের জন্য তা জীবন বাঁচানোর সমান। মানবতার পাশে থাকার লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকের এমন মহৎ উদ্যোগে আজকের এই প্রতিবন্ধীদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচিটি প্রশংসনীয়। বক্তারা আরও বলেন, সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের সম্মানের সঙ্গে বেঁচে থাকার সুযোগ করে দেওয়া হয়। বিশেষ করে প্রতিবন্ধী ও অসহায় মানুষদের প্রতি আমাদের দায়িত্ব আরও বেশি। শুধু আজ নয়, ভবিষ্যতেও তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের উদ্যোগে সমাজের বিত্তবানরা এগিয়ে আসতে হবে।
যশোরের কেশবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর এখন রঙিন ফুলের সমারোহে এক মোহনীয় রূপ ধারণ করেছে। উপজেলা প্রশাসনের সময়োপযোগী ও পরিকল্পিত উদ্যোগে পুরো প্রশাসনিক এলাকাটি এখন নজরকাড়া সৌন্দর্যের আঁধার। পরিষদের সবুজ চত্বরে ফুটে থাকা নানা রকমের ফুল দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ ও দর্শনার্থীরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রতিটি কোণ এখন যেন একেকটি শিল্পকর্ম। বিশেষ করে সবুজ ঘাসের বুকে গাঁদা ফুল দিয়ে তৈরি করা দৃষ্টিনন্দন নকশা সবার নজর কাড়ছে। শুধু গাঁদা নয়, বিন্যাস অনুযায়ী বিভিন্ন প্রজাতির ফুলের চারা রোপণ করায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে এক স্নিগ্ধ আমেজ। নিয়মিত পরিচর্যা ও সুষম রক্ষণাবেক্ষণের ফলে ফুলগুলোর সৌন্দর্য পূর্ণরূপে বিকশিত হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগ কেবল সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, বরং তৈরি করেছে একটি পরিবেশবান্ধব ও স্বস্তিদায়ক কর্মপরিবেশ। পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি প্রতিদিন শত শত মানুষ বিভিন্ন কাজে এখানে আসেন। তাদের অনেকের মতে, ফুলের এই বাগান কাজের ক্লান্তি দূর করে মনে প্রশান্তি এনে দেয়।
উপজেলা পরিষদে আসা কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, ‘আগে প্রশাসনিক এলাকাগুলো কেবল ইটের দেওয়াল আর ফাইলের স্তূপ মনে হতো। কিন্তু কেশবপুরের এই ফুলের বাগান এলাকাটির চেহারা বদলে দিয়েছে। এমন নান্দনিক পরিবেশ সত্যিই প্রশংসনীয়।’
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সরকারি দপ্তরে আসা সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার লক্ষ্যেই এই বাগান সাজানো হয়েছে। নিয়মিত মালিদের তদারকিতে এই সৌন্দর্য ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। ফুলের এই স্নিগ্ধতা কেশবপুর উপজেলা পরিষদকে যশোরের অন্যতম দৃষ্টিনন্দন প্রশাসনিক চত্বর হিসেবে পরিচিত করে তুলেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘একটি সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ মানুষের কাজের গতি বাড়ায় এবং মানসিক প্রশান্তি দেয়। আমরা চেয়েছি কেশবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বরকে কেবল একটি প্রশাসনিক কেন্দ্র নয়, বরং একটি পরিবেশবান্ধব ও নান্দনিক স্থান হিসেবে গড়ে তুলতে।’
আমাদের এই ছোট উদ্যোগে সবুজ ঘাসের বুকে গাঁদা ফুলসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফুলের যে নকশা করা হয়েছে, তা পরিষদের দৃশ্যপট বদলে দিয়েছে। এখানে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যেন বিষণ্ণতা ভুলে এক চিলতে প্রশান্তি পান, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।
গ্রামবাংলার পরিচিত ফুল গাঁদা দিয়ে সাজানো হয়েছে কেশবপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর। সবুজ ঘাসের ওপর ফুটে থাকা হলুদ-কমলা গাঁদা ফুলে প্রশাসনিক এলাকাটি এখন গ্রামের বাগানবাড়ির মতোই মনোরম। পরিকল্পিতভাবে ফুলের চারা রোপণ ও নিয়মিত পরিচর্যার ফলে উপজেলা পরিষদ চত্বর হয়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন। গ্রাম থেকে সেবা নিতে আসা মানুষ এই ফুলের বাগান দেখে খুশি প্রকাশ করছেন।
গ্রামবাংলার স্বাভাবিক সৌন্দর্যকে প্রশাসনিক পরিবেশে তুলে ধরাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।
স্থানীয়দের মতে, গ্রামীণ এলাকায় সকল প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এমনভাবে সাজানো হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা ও সৌন্দর্যবোধ আরও বাড়বে।
আমরা নিয়মিতভাবে এই বাগানের পরিচর্যা করছি এবং ভবিষ্যতে এই সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা রয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, সুন্দর কর্মপরিবেশ সেবা প্রদানকারী ও সেবাগ্রহীতা উভয় পক্ষকেই ইতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত করবে।
কুষ্টিয়ায় ফাঁদ পেতে ধরা একটি মেছো বিড়াল (মেছো বাঘ) উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোরে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন মনোহারদিয়া ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের নিশানের বাড়ি থেকে বাঁশের তৈরি ফাঁদে আটক একটি বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী মেছো বিড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বন বিভাগ।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) থানাধীন মনোহারদিয়া ইউনিয়নের রাধানগর গ্রামের নিশানের বাড়ি থেকে বাঁশের তৈরি ফাঁদে আটক একটি বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী মেছো বিড়াল উদ্ধার করেছে পুলিশ ও বন বিভাগ।
স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) ভোর রাতে নিশানের বাড়িতে বাঁশ দিয়ে তৈরি ফাঁদে একটি বন্যপ্রাণী আটকা পড়তে দেখে এলাকাবাসী প্রথমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পরে বন্যপ্রাণীটি মেছো বিড়াল বলে শনাক্ত হলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে মনোহারদিয়া পুলিশ ক্যাম্পের একটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফাঁদে আটকে থাকা মেছো বিড়ালটিকে উদ্ধার করে নিরাপদে পুলিশ ক্যাম্পে নিয়ে যায়। এ সময় প্রাণীটিকে উদ্ধারে স্থানীয়রা পুলিশকে সহযোগিতা করেন।
পরবর্তীতে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বিভাগীয় বন বিভাগ কুষ্টিয়ার একটি বিশেষ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশের কাছ থেকে মেছো বিড়ালটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেয় এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসে। সেখানে প্রাথমিকভাবে তার শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করা হয়।
এ বিষয়ে বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল আলম বলেন, ‘উদ্ধারকৃত মেছো বিড়ালটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে। প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে আজ রাতেই তাকে নিরাপদ প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মেছো বিড়াল বাংলাদেশে সংরক্ষিত বন্যপ্রাণীর তালিকাভুক্ত। বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী মেছো বিড়াল শিকার, আটক বা ফাঁদ পাতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ ধরনের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
পরিবেশকর্মী শাহাবউদ্দিন মিলন বলেন, ‘মেছো বিড়াল একটি বিরল প্রজাতির প্রাণী। এসব প্রাণী সাধারণত বড় জলাশয়, পুকুর ও হাওর অঞ্চলে বসবাস করে। এদের মূল খাবারই হলো মাছ। তবে বিভিন্ন সময় খাদ্যের সন্ধানে কিংবা প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে পড়ায় মেছো বিড়াল প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে। এতে অনেক সময় অসচেতন মানুষ ফাঁদ পেতে এসব প্রাণী শিকারের চেষ্টা করে থাকে, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বন বিভাগ ও প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা ছাড়া বন্যপ্রাণী রক্ষা সম্ভব নয়।’
বন্যপ্রাণী গবেষক সূত্রে জানা গেছে, আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থাগুলোর সংগঠন আইইউসিএন মেছো বিড়ালকে সংকটাপন্ন প্রাণী হিসেবে লাল তালিকাভুক্ত করেছে। প্রাণীটি বাংলাদেশেও বিপন্ন। এগুলো আকারে গৃহপালিত বিড়ালের চেয়ে অনেকটা বড়। শরীর ঘন, পুরু লোমে আবৃত। গায়ের রং ধূসর, সঙ্গে বাদামি আভা আছে। পেটের নিচের রং সাদাটে। শরীরজুড়ে ছোপ ছোপ কালো দাগ আছে। চোখের ওপরে কপাল থেকে কানের দিকে কালো দুটি রেখা উঠে গেছে। গাল দুটি হালকা সাদাটে। এগুলোর নাক কিছুটা চওড়া, দাঁত বড়, কান গোলাকার ও অপেক্ষাকৃত ছোট। মেছো বিড়াল জলে-স্থলে সমান শিকারি। সাধারণত খাল, বিল, নদী, পুকুর ও জলাভূমিসংলগ্ন স্থানে বসবাস করে। এগুলো মাছ, সাপ, ব্যাঙ, ইঁদুর, পাখি, খরগোশ, গুইসাপসহ মাঝারি আকারের অনেক প্রাণী শিকার করে। পানিসংলগ্ন ঝোঁপ, কচুরিপানার ভেতরে এগুলো ঘণ্টার পর ঘণ্টা চুপ করে শিকারের আশায় বসে থাকতে পারে।
এদিকে ১৫ জানুয়ারি দিনব্যাপী সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী রক্ষায় বন বিভাগের অভিযানে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন কলাগাছিয়া, চুনকুড়ি ও মুন্সীগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির বিভিন্ন এলাকা থেকে হরিণ শিকারের জন্য রাখা ২৪৬টি অবৈধ ফাঁদ জব্দ করা হয়।
পরদিন ১৬ জানুয়ারি বন বিভাগ থেকে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বনরক্ষীরা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে বিশেষ অভিযান চালান। অভিযানে হরিণ শিকারের উদ্দেশ্যে পাতা দড়ির তৈরি ফাঁদগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে শিকারিরা আগেই পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
উদ্ধার করা ফাঁদের মধ্যে কলাগাছিয়া বন টহল ফাঁড়ির ফুলখালী খাল এলাকা থেকে ২০০টি, চুনকুড়ি বন টহল ফাঁড়ির চালতেবাড়ি খাল এলাকা থেকে ১৭টি এবং মুন্সীগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির ভুতোশিং ও কলুখালী এলাকা থেকে ২৯টি ফাঁদ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট উদ্ধার ফাঁদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৪৬টি।
২০২৩ সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় মিধিলি―র সময় বঙ্গোপসাগরে নিখোঁজ হওয়া বরগুনার ১৭ জেলের সন্ধান মিলেছে ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে। দুই বছর আগে যাদের মৃত ভেবে শোক পালন করেছিলেন স্বজনরা, সেই জেলেরা জীবিত আছেন এই খবরে উপকূলজুড়ে বইছে আনন্দের জোয়ার। একই সঙ্গে তাদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন পরিবারগুলো।
জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রলয়ঙ্করী প্রভাবে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে এফবি এলাহী ভরসা নামের একটি ট্রলারসহ নিখোঁজ হন বরগুনার ১৭ জন জেলে। দীর্ঘ সময় কোনো খোঁজ না পাওয়ায় একপর্যায়ে স্বজনরা আশা ছেড়ে দেন এবং তাদের মৃত্যু হয়েছে বলেই ধরে নেন।
দীর্ঘ দুই বছর পর সম্প্রতি জানা যায়, নিখোঁজ ওই জেলেরা জীবিত রয়েছেন এবং ভারতের গুজরাটের একটি কারাগারে বন্দি অবস্থায় আছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই জেলেদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ও আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে।
জেলেদের স্বজনরা আবেগভরে জানান,আল্লাহ যেন ওদের দিল নরম করে দেয়। আমাদের তো এত টাকা নেই যে নিজেরা খুঁজে গিয়ে এনে ফেলবো। সরকার যেন বিষয়টা গুরুত্ব দিয়ে দেখে। তারা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে প্রিয়জনদের দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
তবে বরগুনা জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত অভিযোগ বা আবেদন জমা দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করা হলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দ্রুত তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান জেলা মৎস্য কর্মকর্তা।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, সঠিক প্রক্রিয়ায় আবেদন না পাওয়ায় আমরা সরাসরি কাজ শুরু করতে পারিনি। পরিবারগুলো যদি জিডির কপি, জাতীয় পরিচয়পত্র ও এফআইডি কার্ডসহ আবেদন করে, তাহলে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি দ্রুত এগিয়ে নিতে পারবো।
সম্প্রতি মৎস্য অধিদপ্তরের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প থেকে বরগুনা জেলা পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) তথ্য আসে যে, নিখোঁজ জেলেরা গুজরাটের একটি কারাগারে আটক রয়েছেন। পরে তালিকা অনুযায়ী জেলেদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়।
বরগুনা জেলা পুলিশ সুপার মো. কুদরত-ই-খুদা জানান, বিষয়টি জানার পর এসবির মাধ্যমে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গুজরাটের একটি কারাগারে ১৭ জন জেলে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। বিস্তারিত যাচাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন,জেলেরা যেন দ্রুত দেশে ফিরতে পারেন, সে জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে। কাগজপত্র ও আইনি জটিলতার কারণে অনেক সময় বিষয়গুলো দীর্ঘসূত্রতা পায়, তবে সরকার দ্রুত সমাধানে কাজ করছে।
উল্লেখ্য, ইলিশ মৌসুম এলেই উপকূলীয় এলাকায় নিম্নচাপ ও ঘূর্ণিঝড়ের ঝুঁকি বেড়ে যায়। প্রতিবছর উত্তাল সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বহু জেলে নিখোঁজ হন। উপার্জনক্ষম মানুষ হারিয়ে দারিদ্র্য ও অনিশ্চয়তায় পড়ে উপকূলের অসংখ্য জেলে পরিবার। বরগুনার ১৭ জেলের জীবিত থাকার খবরে সেই দুঃসহ অপেক্ষার অবসান হলেও এখন সবার একটাই প্রত্যাশা প্রিয়জনদের নিরাপদে দেশে ফিরে পাওয়া।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ময়মনসিংহে রাজনৈতিক সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপিত হয়েছে। ‘সহিংসতা নয়, শান্তিই মানুষের দাবি’—এই স্লোগানকে ধারণ করে ময়মনসিংহ-৪ আসনে শুরু হয়েছে চার দিনব্যাপী বহুদলীয় শান্তি ও সম্প্রীতি প্রচারণা। মাল্টিপার্টি এডভোকেসি ফোরাম, সম্প্রীতি টিম এবং ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে এক মঞ্চে উপস্থিত হয়ে শান্তির পক্ষে নিজেদের অবস্থান ঘোষণা করেছেন বিবদমান বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি, গণঅধিকার পরিষদ, গণসংহতি আন্দোলন এবং গণফোরামের নেতৃবৃন্দ ও প্রার্থীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই ময়মনসিংহ-১, ময়মনসিংহ-৮ এবং ময়মনসিংহ-৯ সহ আশপাশের বেশ কয়েকটি আসনে নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে উদ্বেগজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকায় ভাঙচুর, সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির মতো ঘটনা সাধারণ ভোটারদের মনে গভীর আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ভোটাররা নিরাপত্তার অভাবে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভোটারদের আস্থা ফেরাতে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে এই বহুদলীয় প্রচারণার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী চার দিন ধরে জেলার ১১টি আসনেই এই সম্প্রীতি ক্যাম্পেইন পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ময়মনসিংহের মানুষ রাজনীতি সচেতন এবং তারা ভোটের গুরুত্ব বোঝেন, কিন্তু তারা আতঙ্কের রাজনীতি চান না। ভিন্ন ভিন্ন মত ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকলেও তা যেন কোনোভাবেই প্রতিহিংসা বা সহিংসতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে প্রার্থীরা একমত পোষণ করেছেন। ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে ময়মনসিংহ-৪ আসনের প্রার্থী ও রাজনৈতিক নেতারা জনগণের উদ্দেশ্যে ছয়টি সুনির্দিষ্ট অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনী সময়ে কোনো প্রকার সহিংসতা বা উসকানিমূলক আচরণ না করা, পারস্পরিক সম্মান ও রাজনৈতিক সৌজন্য বজায় রাখা, সংঘাতের ঝুঁকি দেখা দিলে দ্রুত যোগাযোগের মাধ্যমে তা প্রশমিত করা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সব ক্ষেত্রে শান্তি ও ঐক্যের বার্তা প্রচার করা। এছাড়া নারীদের প্রতি অনলাইন ও অফলাইন সহিংসতা প্রতিরোধ এবং নির্বাচনী আইন মেনে চলার বিষয়েও তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হন।
এই প্রচারণা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পাড়া-মহল্লা, চায়ের দোকান এবং তৃণমূল পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি নিরপেক্ষ এবং দৃশ্যমান ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে মানুষের মনে আস্থা ফিরে আসে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ময়মনসিংহ যেন সহিংসতার জন্য নয়, বরং একটি শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দৃষ্টান্ত হিসেবে পরিচিতি পায়, সেই লক্ষ্যেই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয় এই সম্প্রীতি সমাবেশ থেকে।
বরগুনার আমতলী উপজেলায় পুকুরে ডুবে জামিলা (২) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত জামিলা আমতলী উপজেলার শারিকখালী গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. জাহিদুল প্যাদার মেয়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা বাড়ির সামনের একটি পুকুরে শিশুটিকে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। পরে দ্রুত উদ্ধার করে তাকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আমতলী থানার পুলিশ জানায়, নিহত শিশুর মরদেহ বর্তমানে পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। এ ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কারো বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করা হয়নি।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, পরিবারের অগোচরে খেলতে গিয়ে শিশুটি পুকুরে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যায়।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।