সকালবেলা পত্রিকার পাতা, টেলিভিশন কিংবা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম- দৃষ্টি পড়লেই সামনে আসে দেশের কোনো না কোনো স্থানে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি আর আহতের খবর। এ খবরে কারও পরিবারে শুরু হয় শোকের মাতম আবার কারও কাছে তা খুবই সাধারণ। যে পরিবার হারায়, তার স্বজন ও সে পরিবারের সদস্যরাই কেবল বুঝতে পারে সে যন্ত্রণার ভার কতটা দুঃসহ, বদলে যাওয়া জীবনের পথ কতটা কঠিন।
দেশের বিভিন্ন জেলার মতো নওগাঁ জেলায়ও সড়ক দুর্ঘটনায় আহত আর নিহতের তালিকা বেশ লম্বা। নওগাঁর পুলিশ কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য মতে, গত ৩৫ মাসে নওগাঁ জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১৩০, আহত ১১২। এ সবের মধ্যে মামলা হয়েছে ১০৮টি।
এর মধ্যে ২০২২ সালে নিহতের সংখ্যা ১৫, আহত ১৩। রুজুকৃত মামলা ৯টি। ২০২৩ সালে নিহত ৬৪, আহত ৬৭। মামলা ৫২টি। চলতি বছরে নিহত ৫১, আহত ৩২। রুজুকৃত মামলা ৪৭টি।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে জরিপ করলে দেখা যায়, ২০২২ এবং ২০২৪ সালের চেয়ে ২০২৩ সালে মৃত্যুর হার বেশি (৬৪) জন আর ২০২২ সালে মৃত্যুর হার সবচেয়ে কম ১৫ জন। তবে নিহত এবং আহত তুলনা করলে প্রায় সমপরিমাণ হলেও ২০২২ এবং ২০২৩ সালে নিহতের চেয়ে আহতের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। নিহত এবং আহতের ঘটনায় রুজুকৃত মামলার সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৮ আটটি। ২০১৮ সালের সড়ক পরিবহন আইনের ৯৫, ৯৮, ৯৯ ও ১০৫-এর বিভিন্ন ধারায় এসব মামলা রুজু হয়েছে। এসব মামলা থেকে কিছু আসামি জেল-জরিমানার মধ্য দিয়ে মুক্ত হয়েছে আবার কিছু মামলা এখনো চলমান।
বাংলাদেশের সীমান্ত ঘেঁষা উওরের জেলা নওগাঁ। এ জেলার মোট ১১টি উপজেলায় ২০২২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত মোট ৩৫ মাসে সড়কে যারা প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত অবস্থায় আজও হাসপাতালের বেডে রয়েছে, আবার অনেকে পঙ্গুত্বের অভিশাপে ধুঁকে ধুঁকে মরছেন।
কথা হয় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত এক কলেজ ছাত্রের বাবার সঙ্গে। ২০২২ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় শহরের দয়ালের মোড় এলাকার পলাশ হোসেনের। তার বাবা আইয়ুব আলী বলেন, ‘আমি ফুটপাতে ব্যবসা করলেও আমার অনেক স্বপ্ন ছিল আমার ছেলে পড়াশোনা শেষ করে ভালো চাকরি করবে। আমার সেই স্বপ্ন আর পূর্ণ হলো না। আল্লাহ! যেন আর কোনো বাবাকে সন্তানের এমন লাশ দেখতে না হয়।’
সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া শহরের কাজীর মোড় এলাকার বাসিন্দা দুলাল হোসেন বলেন, ‘২০২৩ সালে চৌমাশিয়া মোড় এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে আমার মোটরসাইকেলের ধাক্কা লাগে। সে যাত্রায় প্রাণে বেঁচে গেলেও দীর্ঘদিন হাসপাতাল আর বাসায় কেটেছে। আমি পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় পুরো পরিবারটাই অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।’
পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পুনর্বিবরণে কারণ হিসেবে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরনের পরিবহন দুর্ঘটনা কবলিত হলেও অধিকাংশ দুর্ঘটনা মোটরসাইকেলকেন্দ্রিক। তার পরেই রয়েছে ট্রাক, বাস, সিএনজি, ইজিবাইকসহ অন্যান্য পরিবহন। সেই সঙ্গে জেলার সড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ কিছু এলাকা রয়েছে, যেগুলোতে বেশি দুর্ঘটনা হয় তার মধ্যে নওগাঁ-রাজশাহী মহাসড়কের জলিল চত্বর থেকে হাঁপানিয়া, চকগৌরী, নওহাটা চৌমাশিয়া মোড় উল্লেখযোগ্য।
সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মিছিলে প্রতিদিন ছাত্র, যুবক, বৃদ্ধ এমনকি বাদ নেই মায়ের কোলের নিষ্পাপ শিশুটিও।
নওগাঁর পুলিশ সুপার (অতিরিক্ত ডিআইজি পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. কুতুব উদ্দিন বলেন, ‘সড়কে দুর্ঘটনার অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে যদি মোটা অঙ্কে বলি, বেশি গতিতে গাড়ি চালানো, স্কুল, কলেজ, বাজার, রাস্তার বাঁক এমন ধরনের জায়গায় গাড়ির গতি না কমানো, ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করে বিপজ্জনকভাবে ওভারটেক করা। ফিডার রোড থেকে মেইন রোডে অসতর্কভাবে বিভিন্ন যানবাহনের প্রবেশ। অধিক আয়ের আশায় বিশ্রাম ছাড়াই বাস-ট্রাক চালকের বিরতিহীন গাড়ি চালানোসহ আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল না হওয়া।’
তিনি আরও বলেন, প্রতিকার হিসেবে প্রথমেই উল্লেখিত কারণগুলো থেকে আমাদের বিরত থাকতে হবে। সেই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলোকে চিহ্নিত করে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড দেওয়াসহ হাইওয়ে সড়কের বাঁকে ২০ ডিগ্রির বেশি কৌণিক অবস্থানে থাকবে না এমনটা নিশ্চিত করতে হবে। সড়ক নিরাপত্তা আইন ও ট্রাফিক আইনের বিধিবিধান অমান্যকারীকে জরিমানাসহ বিভিন্ন ধরনের সচেতনতা প্রোগ্রাম ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করতে হবে। যেকোনো পরিবহনের চালক বিশেষ করে বাস বা ট্রাকের চালকদের গাড়ি চালানোর আগে পর্যাপ্ত বিশ্রামসহ শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে।
বিআরটিএ নওগাঁ সার্কেলের ভারপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক আফতাবুল ইসলাম বলেন, ‘দুর্ঘটনা এড়াতে চাইলে অবশ্যই প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত চালক হতে হবে, ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হতে হবে। সেই সঙ্গে গাড়ির ফিটনেসসহ নানামুখী জনসচেতনতা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। আমি নওগাঁতে নতুন, তবে বিআরটিএর সব বিধিমালা অনুযায়ী আমার কার্যক্রম অব্যাহত আছে এবং থাকবে।’
নওগাঁ জেলা বাস-ট্রাক শ্রমিকের সাধারণ সম্পাদক এস এম মতিউজ্জামান মতি বলেন, ‘আমাদের বড় গাড়ির সব চালক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। তবে অনেক অল্প শিক্ষিত আছে। কিন্তু বর্তমানে ইজিবাইক (চার্জার) তথা ছোট গাড়িগুলোর চালকদের কোনো প্রশিক্ষণ না থাকার কারণে বড় গাড়িগুলোর সঙ্গে দুর্ঘটনা হয়।’
‘নিরাপদ সড়ক চাই’-এর নওগাঁ জেলা সভাপতি এ এস এম রায়হান আলম বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনারোধে চালক-পথচারী থেকে শুরু করে সবাইকে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে হাইওয়ে সড়কে বিভিন্ন ধরনের গাড়ির ভিন্ন গতিবিধি দুর্ঘটনার একটা কারণ। আমাদের সবাইকে ট্রাফিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হলে কিছুটা হলেও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে।’
শর্তহীনভাবে কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণ দাবিতে দৌলতপুর জুটপ্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তারা খুলনা যশোর মহাসড়কের রেলিগেট থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেন তারা। তারা সড়কে কাঠের গুঁড়ি এবং বাঁশ ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। সড়কের দু’পাশে আটকে পড়ে যানবাহনের চালক এবং পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, ‘গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। সেই থেকে বিদেশে পাট রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে খুলনা এবং নারায়ণগঞ্জের লক্ষাধিক প্রেস এবং বেলিং শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। কাজ বন্ধ থাকায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে দারুণ অর্থাভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’
তারা বলেন, ‘খুলনার দৌলতপুর হচ্ছে পাট রপ্তানিকারক জোন। এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য শ্রমিকের বাসস্থান। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় গত ১৭ মে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়ায় কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি দেওয়া সম্ভব নয়। এরই প্রতিবাদে আমরা দৌলতপুর জুট প্রেস ও বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
আদর করে নাম রাখা হয়েছিল ‘ভোলা’। শান্ত স্বভাব আর সরল আচরণে পরিবারের সদস্যের মতোই জায়গা করে নিয়েছে সে। দেখতে দেখতে খামারের ছোট্ট বাছুরটি এখন প্রায় ৪০ মণ ওজনের বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের যত্ন আর ভালোবাসায় বেড়ে ওঠা হলিস্টান ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির জন্য প্রস্তুত। দাম হাঁকা হয়েছে ৮ লাখ টাকা।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার তিলাবুদুরী গ্রামের খামারি জাহাঙ্গীর আলমের গোয়াল ঘরেই জন্ম হয়েছিল ভোলার। জন্মের পর থেকেই পরম মমতা আর যত্নে তাকে বড় করে তুলেছেন জাহাঙ্গীর আলম ও তার দুই ছেলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যের মতোই সবার আপন হয়ে ওঠে ভোলা। গত বছরের কোরবানির ঈদে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় এবার নতুন আশায় ভোলাকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভোলার দেখভালেই ব্যস্ত থাকেন পরিবারের সদস্যরা।
খামারি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ভোলাকে বড় করে তুলতে কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি খামারি পরিবারকে।’ জাহাঙ্গীর আলম জানান, গরুটির খাবার ও পরিচর্যায় ব্যয় হয়েছে বিপুল অর্থ। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার খাবার খায় ভোলা। ভুষি, খৈল, ফিড ও খড়ের পাশাপাশি প্রতিদিন কলাও খেতে হয় তাকে। নিজের শখ আর ভালোবাসা থেকে খামারের পাশের বাগান থেকেই কলা এনে খাওয়ানো হয় ভোলাকে।
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘গত বছর ঈদের জন্য হাটে তুলেছিলাম দাম ভালো পাইনি তাই এবার আবার বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ৬ থেকে ৭ লাখ পর্যন্ত দাম বলছে অনেকে তবে ৮ লাখ হলে বিক্রি করব।’
ভোলার বিশাল আকৃতি দেখতে প্রতিদিনই জাহাঙ্গীর আলমের খামারে ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, এত বড় গরু এর আগে খুব কমই দেখেছেন তারা। স্থানীয় মুসছুর রহমান ও জয়নাল হোসেন বলেন, ‘এত বড় ষাঁড় আমরা আগে কখনো দেখিনি। দীর্ঘদিনের শ্রম, মমতা আর ব্যয়ের যথাযথ মূল্য যেন পাক খামারি সেই প্রত্যাশাই আমাদের।’
আত্রাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু আনাস বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে অতিরিক্ত বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলক কম। কোরবানির ঈদে সাধারণ ক্রেতারা এত বড় গরু কিনতে অনেক সময় আগ্রহ দেখান না। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে গরু বিক্রির উপযুক্ত বয়স ও ওজন হলেই দ্রুত বাজারজাত করতে। এতে দীর্ঘমেয়াদে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে। পাশাপাশি খামারিদের লাভজনক ও আধুনিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালনে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত কাজ করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।’
সাতক্ষীরার সুন্দরবন ঘেঁষা উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের গাবুরায় সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিদ্যুতের খুঁটি। আপাতদৃষ্টিতে এটি কেবলই একটি খুঁটি মনে হলেও, স্থানীয় হাজারো মানুষের জন্য এটি এখন এক চরম আতঙ্কের নাম। গাবুরা ১০ নং সোরা সড়কের ঠিক মাঝ বরাবর এই খুঁটির অবস্থান হওয়ায় প্রতিনিয়ত চরম অস্বস্তি ও ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহনচালকরা। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাইছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সমন্বয়হীনতা নাকি অবহেলা: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক আগে থেকেই খুঁটিটি সরিয়ে রাস্তার পাশে স্থাপন করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। তবে এই সংকটের পেছনে উঠে এসেছে সরকারি দুই দপ্তরের চরম সমন্বয়হীনতার চিত্র।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি নেতা মাসুদ আলম জানান, মূল সমস্যাটি তৈরি হয়েছে রাস্তা ও খাল সংস্কারের পর। তিনি বলেন, ‘খাল খননের পূর্বে খুঁটিটি রাস্তার মাঝখানে ছিল না, পাশেই ছিল। কিন্তু খাল খনন করার ফলে খাল ও রাস্তা উভয়ই প্রশস্ত হয়। যার কারণে খুঁটিটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রাস্তার মাঝ বরাবর চলে আসে। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানাই এবং এটি স্থানান্তরের অনুরোধ করি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তখন বিষয়টি কোনো গুরুত্বই পায়নি।’
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে সাধারণ জনগণ এই ভুলের খেসারত দিচ্ছে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত খুঁটিটি স্থানান্তরের জন্য তিনি পুনরায় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পথচারী রফিক গাইন নিজের ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, ‘রাতে এই রাস্তায় চলাচল করতে প্রচণ্ড ভয় লাগে। কারণ চলতে চলতে সামান্য বেখেয়াল হলেই বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লাগবে, নতুবা বাঁচার জন্য ডানে-বামে সরতে গেলে খালের মধ্যে পড়তে হবে। বিশেষ করে কুয়াশাচ্ছন্ন রাত বা ঝড়-বৃষ্টির দিনে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
দাপ্তরিক নিয়মের বেড়াজাল: জনগণের এই চরম ভোগান্তি ও জীবনঝুঁকির বিষয়ে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাপ্তরিক নিয়মের দোহাই দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে, আমরা সেই নিয়ম অনুসারেই কাজ করি। আমরা যখন বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করেছিলাম, তখন ওখানে কোনো রাস্তা ছিল না। তবে সড়ক বিভাগ যদি আমাদের কাছে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানায়, তাহলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি: একটি খুঁটি সরানোর মতো সাধারণ বিষয় যখন দাপ্তরিক চিঠির অপেক্ষায় ঝুলে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। বড় কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও স্থানীয় সড়ক বিভাগের উচিত যৌথ উদ্যোগে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা। জনস্বার্থে এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত খুঁটিটি রাস্তার পাশে সরিয়ে নেওয়াই এখন গাবুরাবাসীর একমাত্র দাবি।
ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাসহ দেশজুড়ে চলমান নারী ও শিশুদের প্রতি হওয়া সহিংসতা, নিপীড়ন প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) মানববন্ধন হয়েছে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই নিপীড়ন বন্ধে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এই মানববন্ধন হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. গাজী সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী চিত্রই এখন বিলুপ্তপ্রায়। তবে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় এখনো দেখা মেলে গ্রামীণ জীবনের সেই চিরচেনা ও মনকাড়া রূপ। সম্প্রতি উপজেলার তালম ইউনিয়নের বেরখালি এলাকায় দেখা গেছে তেমনই এক নজরকাড়া দৃশ্য— মাঠের কাজ শেষ করে এক কৃষক আপন মনে মহিষের পিঠে চড়ে বাড়ির পথ ধরেছেন।
আজকাল গ্রামীণ কৃষিতে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলারসহ নানা আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়েছে। ফলে আগের মতো লাঙল-জোয়াল বা গবাদিপশুর ব্যবহার অনেকটাই কমে এসেছে। কিন্তু বেরখালি এলাকার এই চিত্রটি যেন মুহূর্তের জন্য সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় পুরোনো দিনে।
বিকেলের সোনাঝরা রোদে মাঠের সবুজ প্রান্তর পেরিয়ে যখন ওই কৃষক তার শান্ত মহিষটির পিঠে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন চারপাশের পরিবেশজুড়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি বিরাজ করছিল। স্থানীয় পথচারী ও গ্রামবাসীদের অনেকেরই নজর কাড়ে এই দৃশ্যটি।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এখনকার দিনে এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল। একসময় আমাদের এলাকায় প্রায় প্রতি ঘরেই মহিষ ও গরু পালন করা হতো। মাঠের ফসল আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে যাতায়াতের মাধ্যমও ছিল এগুলো। যান্ত্রিকতার যুগে বেরখালি এলাকায় এই দৃশ্যটি দেখে শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল।
গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই খণ্ডচিত্রটি যেমন শান্ত-স্নিগ্ধ বাংলার রূপকে মনে করিয়ে দেয়, তেমনই প্রমাণ করে— শত আধুনিকতার ভিড়েও বুক চিরে বেঁচে আছে আমাদের শেকড়ের সংস্কৃতি।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।
জনসাধারণের যাতায়াত নিশ্চিতকল্পে রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাভারের নবীনগর ও বাইপাইল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আসন্ন পরিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা, মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণের পরিচালিত মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ঈদের ০৭ দিন পূর্ব হতে ঈদের পরবর্তী ০৩ দিন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।
টানা ছয় মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট পুনরায় চালু করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে ইউনিটটি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এ ইউনিট থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে উৎপাদন বেড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
জানা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষে এসে তৃতীয় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। এতদিন শুধু ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি চালু ছিল।
২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লার ওপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে ১২৫ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিট যুক্ত হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতায় কেন্দ্রটি কখনোই একসঙ্গে তিনটি ইউনিট চালিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘তৃতীয় ইউনিট চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। আশা করছি, কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে এ ইউনিটে ২৫০-২৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।’
তিনি আরও জানান, প্রথম ইউনিট থেকে বর্তমানে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুটি ইউনিট থেকে গড়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা লোডশেডিং কমাতে সহায়ক হবে।
প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘দুটি ইউনিট সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন কয়লা প্রয়োজন হয়। বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিটটি মেরামতের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সেটিও দ্রুত চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ পদ্মা ব্যারেজ করা হবে। অনেকে সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু বর্তমান সরকার আবারও অঙ্গীকার করছে, পদ্মা ব্যারেজ শুধু নয় তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পও হাতে নেবে সরকার।’ বুধবার (২০ মে) বিকালে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে এ অঙ্গীকার করেন তিনি।
ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার বিপজ্জনক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এর সঙ্গে দুর্যোগও জড়িত। ভূগর্ভস্থ পানি শূন্য হচ্ছে, মাটির নিচে পানি থাকছে না, কৃষক পানি পাচ্ছে না। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বাসস্থানের জন্য অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে, গাছপালা কাটা যাচ্ছে। ফসলি জমি থাকছে না। যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ হতে যাচ্ছে, সেখানে অনেকে দুর্যোগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘গরিব দেশ আমরা, সম্পদ কম। সম্পদকে রক্ষা করতে পারলে উন্নত দেশে উন্নীত করতে পারব। প্রকৃতিকে ঠিক রাখতে হবে।’
এদিকে, গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ ধরপাড়া এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেছেন, খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবিলা করতে হবে। কারণ, খাল ও নদীর সঙ্গে ভূমিকম্প জড়িত। আমাদের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ যে পরিমাণ পানি নিচে থেকে টেনে ওপরে তুলা হয়েছে, খাল ও নদী খনন করে এবং বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি যদি আমরা ছড়িয়েও দিই, তবু আগামী ২০ বছরে তা রিচার্জ হবে না। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যাচ্ছে। সবার জন্য পানি পেতে পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি বিএনপি তিস্তা ব্যারেজেও হাত দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি-ঘর, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। খাল খনন কৃষি ও খাদ্যের চাহিদা পূরণ করবে। খাল খনন শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমাদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।’
অনুষ্ঠানে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইনসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচনের পর পুকুরে মাছ অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়াও গতকাল বুধবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি ভবিষ্যতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক ও সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো দেশেই যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ডিসিপ্লিন’ মেনে চলা অনিবার্য ও অবশ্য পালনীয় নীতি। এই দুইটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা থাকলে কোনো বাহিনী প্রকৃত অর্থে সুশৃঙ্খল বাহিনী হয়ে উঠতে পারে না। আপনাদের এ বিষয়টি গভীরভাবে মনে রাখতে হবে। কোনো বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিলে সেই বাহিনী সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়।’
তিনি বলেন, ‘পেশাদারিত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি একটি বহুমাত্রিক ও জনমুখী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি, এই প্রতিটি শক্তি সমন্বিতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। আমি মনে করি, এই কাঠামোই বাহিনীটিকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আনসার-ভিডিপি মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সিক্স জি ওয়েল্ডিংসহ বহুমাত্রিক চাহিদাভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। আমি মনে করি, এ ধরনের উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতা দেশে-বিদেশে আনসার ও ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আরও জোরদার করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপি বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য ‘ফাস্ট রেসপোন্ডার’ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে এই বাহিনীর সাহসিকতা, দ্রুততা ও মানবিক দায়বদ্ধতা দৃষ্টান্তমূলক। একই সঙ্গে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা টেকসই উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনসার-ভিডিপির সাফল্যও প্রশংসনীয়। ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম বাংলাদেশ গেমসে পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০০৪ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জন করে। আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
ক্রীড়াকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্টে যেসব খেলোয়াড় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছেন, একটি বেতন কাঠামোর আওতায় এনে বর্তমান সরকার তাদেরকে স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে। আপনারা নিঃসন্দেহে জেনেছেন, আনসার-ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদকেও বর্তমান সরকার স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে।’
মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ৪০ হাজার আনসার সদস্য রাইফেল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং আল্লাহর দরবারে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানসহ সংসদ সদস্য ও সরকারি ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দেন। তিনি শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করে কর্মসূচি শুরু করেন।
এর আগে সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষক্রিয়ায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সরাইলের কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামের আলি মিয়ার নির্মাণাধীন একতলা বাড়ির সেপটিক ট্যাংকিতে কাজ করতে নেমে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একে একে মারা যান ওই ৪ নির্মাণশ্রমিক।
তারা হলেন কালিকচ্ছ ও ধর্মতীর্থ গ্রামের আরমান, ইমাম হোসেন, মেহেদী ও হৃদয়।
কালিকচ্ছ ইউপি চেয়ারম্যান মো. সায়ীদ হোসেন জানান, বেলা ১১টার দিকে প্রথম কাজ করতে নামে এক শ্রমিক। এরপর তার সাড়াশব্দ না পাওয়ায় আরেকজন শ্রমিককে নামানো হয়। এভাবে একে একে ৪ শ্রমিক সেপটিক ট্যাংকিতে নেমে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। দুপুর ২টার দিকে ৪ শ্রমিকের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সেখানে গিয়ে সেপটি ট্যাংকির ভেতর থেকে ৪ মরদেহ উদ্ধার করে।
সরাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার রিয়াজ মোহাম্মদ জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে সরাইল দমকল বাহিনীর সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকে গ্যাস জমে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত ছাড়া কিছু এখনই বলা যাচ্ছে না।
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুর কাদের ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল, খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে বিনামূল্যে ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প হয়েছে। ক্যাম্পিংয়ে ২৫২ গৃহপালিত পশু-পাখি ও পোষা প্রাণীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হয়। এমন অনুষ্ঠান আয়োজনে খুশি প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষেরা।
বুধবার (২০ মে) দিনব্যাপী চলে এই ফ্রি ভেটেরিনারি মেডিকেল ক্যাম্প। দৌলতপুরের দেয়ানায় খুকৃবির অস্থায়ী ক্যাম্পাস-১ এ এই আয়োজন করা হয়। সেখানে গবাদি পশুর ফ্রি চিকিৎসা, স্বাস্থ্যসেবা পরামর্শ প্রদান এবং কৃমিমুক্তকরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর পাশাপাশি বিনামূল্যে কৃষকদের গবাদি পশুর রুচিবর্ধক ওষুধ, ভিটামিন ট্যাবলেট ও ইনজেকশন স্যালাইন প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে ক্যাম্প উদ্বোধন করেন খুলনা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. নাজমুল আহসান। তিনি বলেন, ‘গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাণিসম্পদের উন্নয়ন ও খামারিদের সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।’
ভেটেরিনারি টিচিং হাসপাতাল কর্তৃক পরিচালিত এই ক্যাম্পের পরিচালনায় ছিলেন পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের প্রভাষক সোলেমা আক্তার শান্তা।
মানিকগঞ্জে উচ্চশিক্ষার সহযোগিতায় মেধাবী অস্বচ্ছল কৃতি শিক্ষার্থীদের মাঝে এককালীন শিক্ষাবৃত্তি ও উপহার সামগ্রী দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের রাজস্ব তহবিল থেকে ২০২৪ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করা ৮৬ জনকে ৮ হাজার এবং এইচএসসি পাস করা ৫৬ জনকে ১০ হাজার মেধাবী অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীকে ১২ লাখ ৪৮ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়। পরে শিক্ষার্থীদের মাঝে মেডেল বিতরণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাছানের সভাপতিত্বে জেলা পরিষদ প্রশাসক জামিলুর রশিদ খান, নির্বাহী কর্মকর্তা সুহৃদ সালেহীন ও অধ্যাপক নাসিমুল ইসলাম মনু উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা বলেন, ‘সরকার শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল এবং থাকবে। যারা অস্বচ্ছল ও দরিদ্র শিক্ষার্থী আছে, তাদের লেখাপড়া চালিয়ে নিতে সরকার কাজ করছে। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা লাভের জন্য সাধ্য অনুযায়ী জেলা পরিষদ সহযোগিতা করছে। মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে মেধাবীদের পাশে আমরা আছি।’
‘সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে একটি কুচক্রী মহল প্রতিনিয়ত গুজব ও অপতথ্য ছড়াচ্ছে। এই অপতৎপরতা রুখতে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের ‘ওয়াচডগ’ বা প্রহরী হিসেবে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।’ পিরোজপুরে জেলা প্রশাসন ও জেলা তথ্য অফিসের যৌথ প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তারা এই আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (২০ মে) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক-সাইফ মিজান স্মৃতি সভাকক্ষে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। এতে জানানো হয়, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পিরোজপুরে দ্রুতই একটি শক্তিশালী ‘গুজব প্রতিরোধ সেল’ গঠন করা হচ্ছে। যেকোনো সন্দেহজনক বা বিতর্কিত তথ্য প্রকাশের আগে তা অন্তত দুই-তিনবার সঠিকভাবে যাচাই (Fact Check) করার জন্য স্থানীয় সাংবাদিকদের বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধান অতিথি ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলাউদ্দীন ভূঞা জনী। জেলা তথ্য অফিসের উপপরিচালক পরীক্ষিত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য ও সঞ্চালনা করেন সহকারী পরিচালক সাইফুদ্দীন আল মাদানী।
ব্রিফিংয়ে পিরোজপুর জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
ব্রিফিংয়ে বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচির প্রচারে পিরোজপুর জেলা তথ্য অফিসের অভাবনীয় সাফল্যের চিত্র তুলে ধরা হয়। বিগত তিন মাসের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই দপ্তর তাদের নির্ধারিত শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করেছে।
বিগত ৩ মাসের প্রচারণামূলক কার্যক্রম: কমিউনিটি সভা, ১১টি উঠান বৈঠক বা কমিউনিটি সভা এবং ২টি নারী সমাবেশ।
সমাবেশ ও প্রতিযোগিতা: ১টি ফ্যামিলি সমাবেশ, ১টি কৃষক সমাবেশ ও ১টি কুইজ প্রতিযোগিতা।
প্রদর্শনী: গ্রামীণ জনপদে ১০টি প্রামাণ্যচিত্র লাইভ প্রচার এবং ৮০টি চলচ্চিত্র ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।
অনলাইন প্রচার: ৫০টি অনলাইন প্রচার কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন।
দরিদ্র নারীদের আর্থিক সহায়তা: এই বিশেষ কর্মসূচি পিরোজপুরে দ্রুতই পাইলট প্রকল্প হিসেবে মাঠপর্যায়ে শুরু হতে যাচ্ছে।
স্মার্ট কৃষি কার্ড: জেলার নেছারাবাদ উপজেলায় ২,১১২ জন কৃষক এই ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি সরকারি সুবিধার আওতায় এসেছেন। এ ছাড়া ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই শুরু করেছে স্থানীয় কৃষি ব্যাংক।
পরিবেশ ও অবকাঠামো উন্নয়ন: জেলার ভাণ্ডারিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ১২টি খালের পুনঃখনন কাজ চলমান রয়েছে। পরিবেশ সুরক্ষায় ৮৯৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় ১৭ হাজার বৃক্ষের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
সারিয়াকান্দিতে অভ্যন্তরীণ বোরো ধান-চাল সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকাল ৩টায় উপজেলা খাদ্যগুদামে ধান-চাল সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
জানা গেছে, এই মৌসুমে বোরো ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১,৪০৩ মেট্রিক টন। ৩ টন করে ৪৬৮ জন কৃষকের নিকট থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে। ধানের দাম কেজিপ্রতি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১,৩১২ মেট্রিক টন। চালের দাম কেজিপ্রতি ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া ফেরদৌসের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য কাজী রফিকুল ইসলামের অনুপস্থিতিতে প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি কাজী এরফানুর রহমান রেন্টু। আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আবু সম্রাট খান, উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি মোজাম্মেল হক প্রমুখ।