মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র ১৪৩৩

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে বেহাল দশা

বাংলাদেশের প্রায় ৮০% আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এই রুট (ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক) দিয়ে পরিচালিত হয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১৫:২২
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ১২ ডিসেম্বর, ২০২৪ ১৫:২০

দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে খানা-খন্দকের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত ১০৫ কিলোমিটারের রাস্তাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নোয়াপাড়াসহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশেরও একই হাল।

এছাড়া আদর্শ সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর থেকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পর্যন্ত দুই লেনের সড়কের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সড়কের এই বেহাল অবস্থায় বিশেষ করে পণ্য বোঝাই বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। যার ফলে যানবাহনের গতি কমেছে এবং ঘন ঘন যানযটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যে যানজটের ভোগান্তি এবং ধুলো দূষণ যাত্রীদের জন্য প্রতিদিনের অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

এদিকে চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। মহাসড়কের বাইরে কুমিল্লার অন্যান্য আঞ্চলিক সড়কও বেহাল অবস্থায় রয়েছে।

৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক খানা-খন্দ ও সরু হওয়ায় চালক ও যাত্রী উভয়ের জন্য ভ্রমণকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।

যাত্রী ও চালকদের ওপর প্রভাব

কুমিল্লা মোটর অ্যাসোসিয়েশনের (বাস মালিক সমিতি) সভাপতি জামিল আহমেদ খন্দকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, 'কুমিল্লায় মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চালক-যাত্রী উভয়কেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের মিনিবাস চালক আবুল হোসেন প্রতিদিনের ভোগান্তির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘সরু রাস্তা, ভারী যানবাহন এবং গর্ত সব মিলিয়ে চালকদের জন্য একটি নিয়মিত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মুদাফফরগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী আব্দুল্লাহ আল মারুফ জানান, কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লা অংশটি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চাঁদপুর অংশে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরকারের প্রতিক্রিয়া

সাম্প্রতিক বন্যা ও ভারী বর্ষণে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, 'আমরা ১৫ দিনের মধ্যে মেরামতের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছি।’

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অর্থনৈতিক গুরুত্ব

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের বৃহত্তম বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার সংযোগকারী প্রধান সড়ক হিসেবে কাজ করে।

এই মহাসড়কটি গার্মেন্টস, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং কৃষির মতো শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনকে সহজতর করে, যা আমদানি-রপ্তানির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এই রুট দিয়ে পরিচালিত হয়। যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য এর গুরুত্ব তুলে ধরে।

যানজট নিরসন ও বাণিজ্য করিডোর হিসেবে মহাসড়কটির সক্ষমতা সংরক্ষণের জন্য এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বেহাল দশা শুধু সড়ক নিরাপত্তাই নয়, দেশের অর্থনৈতিক গতিকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।


নির্বাচিত

বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবিতে ৫ জেলের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: মৃত জেলেরা হলেন, মো. নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইফুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কবলে পড়ে মাছ ধরার ট্রলার ‘এফবি বরকত’ ডুবে যাওয়ার ঘটনায় নিখোঁজ ৫ জেলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজের ২২ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে তাদের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রলার মালিক ও মাঝি বাদল মোল্লা। এর আগে গত সোমবার দুপুরের দিকে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন। দুর্ঘটনার পর ৮ জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও বাকিরা নিখোঁজ ছিলেন।

মৃত জেলেরা হলেন, মো. নুর আলম (৩৭), কাওসার (৩০), সাইফুল (৩৩), ইব্রাহিম (২৮) ও বেল্লাল (২২)। তাদের বাড়ি পাথরঘাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নে। পাঁচ জেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পাথরঘাটায় তাদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

‘এফবি বরকত’ ট্রলারের মালিক বাদল মোল্লা জানান, গভীর সমুদ্র থেকে ৫ জেলের মরদেহ উদ্ধার করে একটি ট্রলার উপকূলের দিকে ফিরছে। পাথরঘাটায় পৌঁছাতে তাদের প্রায় তিন ঘণ্টা সময় লাগতে পারে। উদ্ধার হওয়া জেলে ও ট্রলারের বাবুর্চি ইউনুস মোল্লা জানান, সাগরে তখন প্রচণ্ড ঝড় ও তুফান চলছিল। জাল ফেলার প্রস্তুতির মধ্যে ক্লান্ত হয়ে কয়েকজন জেলে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে ঘুমিয়েছিলেন।

হঠাৎ ঢেউয়ের আঘাতে ট্রলারটি উল্টে যায়। ৮ জন জেলে প্রায় দুঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য ট্রলারে উঠে প্রাণ বাঁচান। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির পক্ষ থেকে সমুদ্রে একটি ট্রলার পাঠানো হয়।

অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত ৫ জেলের মরদেহের সন্ধান পাওয়া যায়। বরগুনা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, ঘটনা শোনার পর সোমবারেই (২৪ আগস্ট) মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারের সন্ধানে সাগরে ট্রলার পাঠানো হয়।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) ডুবে যাওয়া ট্রলারটির সন্ধান পেলে, তার ভেতর থেকেই জেলেদের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, মরদেহ নৌ পুলিশ ও কোস্ট গার্ড এর সহযোগিতায় সাগর থেকে পাথরঘাটায় নিয়ে আসা হচ্ছে।


নির্বাচিত

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিনামূল্যে কারিগরি প্রশিক্ষণ উদ্বোধন 

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সাধারণ জনগোষ্ঠীর কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উদ্যোগে খাগড়াছড়ি জোনের ব্যবস্থাপনায় আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেণিং সেন্টারের সহায়তায় দুইটি কারিগরি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন খাগড়াছড়ি জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল আমিনুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার সকালে খাগড়াছড়ি সদরের আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেনিং সেন্টারে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব আনন্দ ভোকেশনাল ট্রেণিং সেন্টারে আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক শ্যামল আগষ্টিন রোজারিও। এসময় খাগড়াছড়ি জোনের উপ অধিনায়ক মেজর আশ্রাফুল কবিরসহ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

মূলত দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বেকার যুবক-যুবতী ও আগ্রহী স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে বাস্তবমুখী কারিগরি দক্ষতায় দক্ষ করে তোলার লক্ষ্যে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ৫০ জনের অংশগ্রহণকারীদের বৈদ্যুতিক সংযোগ স্থাপন, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামত এবং মোবাইল ফোনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ শনাক্তকরণ, ত্রুটি নির্ণয় ও মেরামতের বিষয়ে বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।


নির্বাচিত

পুলিশের বয়ান নিয়ে বিতর্ক, তদন্তভার ডিবির হাতে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তান হত্যাকাণ্ডের মামলাটি মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার নতুন তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন ডিবির পরিদর্শক জিন্নাত আলী।

সোমবার রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে রংপুর মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। তদন্তভার হস্তান্তরের পর সোমবার বিকেলেই মামলার আগের তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিলন চ্যাটার্জি ডিবির নতুন তদন্ত কর্মকর্তার কাছে মামলার প্রয়োজনীয় নথিপত্র বুঝিয়ে দেন।

পরে নতুন তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় আগের তদন্ত কর্মকর্তা তাকে মামলার ঘটনা ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে যে ঘটনা উঠে এসেছে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতেও আসামিরা একই ধরনের তথ্য দিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।

গত শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে মাছুয়াপাড়ার দোতলা বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫০), মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তে চারজনকেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।

এর আগে রংপুর মহানগর পুলিশ কমিশনার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছিলেন, বাড়ির ছাদে মাদক সেবনের সময় গণপতি চক্রবর্তী সেখানে গেলে তাকে হত্যা করা হয়। পরে একে একে তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।

তবে পুলিশের এই বক্তব্যের পর হত্যাকাণ্ডের কারণ ও ঘটনার ধারাবাহিকতা নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। নিহত পরিবারের স্বজন, স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা অধিকতর তদন্তের দাবি জানান। এ ঘটনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুই তরুণের পরিবারের পক্ষ থেকেও প্রশ্ন তোলা হয়েছে, মাত্র দুজন ব্যক্তি কীভাবে একই পরিবারের চার সদস্যকে হত্যা করতে পারে। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কেউ জড়িত কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে বের করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ ছাড়া ঘটনার সময় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, অভিযুক্তদের বাড়ির ছাদে যাওয়ার কারণ, ১২ বছর বয়সী প্রিয়মকে হত্যার উদ্দেশ্য এবং হত্যার পর অভিযুক্তরা দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করেছিল কি না, এসব বিষয় নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

নিহত চারজনের শেষকৃত্য গত রোববার রাতে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ডিবি পুলিশ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে অন্য কোনো কারণ বা ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে।


নির্বাচিত

ফাঁসি বহাল ২ জনের, ৪ আসামির যাবজ্জীবন

* ১০ জনকে খালাস * রায়ে সন্তুষ্ট মা, চান পরিবারের নিরাপত্তা
ছবি: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলাকে আদালতে হাজির করা হয়।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক ও ফেনী প্রতিনিধি 

সাত বছর আগে ফেনীর সোনাগাজীতে আগুনে পুড়িয়ে মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ জনের মধ্যে দুজনের সাজা বহাল রেখেছে হাইকোর্ট। এ ছাড়া চারজনকে যাবজ্জীবন এবং বাকি ১০ জনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের শুনানি শেষে সোমবার (২৪ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়।

নুসরাতের মাদ্রাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ এস এম সিরাজ-উদ-দৌলা ও তার সহযোগী শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয়েছে।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নূর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ জোবায়ের, উম্মে সুলতানা ওরফে পপি ও জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন।

খালাস প্রাপ্তরা হলেন—সোনাগাজীর সাবেক পৌর কাউন্সিলর মাকসুদ আলম, হাফেজ আব্দুল কাদের, আবছার উদ্দিন, কামরুন নাহার মনি, আব্দুর রহিম শরীফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন ওরফে মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মাদ্রাসার গভর্নিং বডির তৎকালীন সহসভাপতি রুহুল আমীন ও মহিউদ্দিন শাকিল।

এদিকে নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টে আপিলের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার।

রায় ঘোষণার পর এক প্রতিক্রিয়ায় নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বলেন, ‘আদালতের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। হাইকোর্ট যে রায় দিয়েছে, আমরা তাতে সন্তুষ্ট। আদালত হত্যার কথা বলেছে, তাকে হত্যা করা হইছে, তাতেই আমরা সন্তুষ্ট। আমার পরিবারকে হুমকিধমকি দিচ্ছে। এখন শুধু আমাদের নিরাপত্তার প্রয়োজন।’

২০১৯ সালে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা থেকে আলিম পরীক্ষা দিচ্ছিলেন নুসরাত। এর আগে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ দৌলার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। ওই ঘটনায় নুসরাতের মা মামলা করার পর সে বছরের ২৭ মার্চ পুলিশ গ্রেপ্তার করে অধ্যক্ষ সিরাজকে।

সিরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার পক্ষে নামে স্থানীয় প্রভাবশালীরা। তার মুক্তি দাবিতে মানববন্ধনেও সক্রিয় ছিল মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থী। মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকিও দেওয়া হচ্ছিল বলে নুসরাতের পরিবারের অভিযোগ।

এর মধ্যেই ৬ এপ্রিল পরীক্ষা শুরুর আগে পরীক্ষাকেন্দ্র সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নুসরাতকে কৌশলে ডেকে নিয়ে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।

অগ্নিদগ্ধ নুসরাতকে ঢাকায় এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছিল; টানা পাঁচ দিন যন্ত্রণা সহ্য করে ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার দুদিন পর তার ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। নুসরাতের মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় পরিণত নেয়।

নুসরাতকে যখন ঢাকা মেডিকেলে আনা হয়েছিল, তখনো তিনি বলছিলেন, ‘তিনি প্রতিবাদ করে যাবেন।’ প্রতিবাদী এই তরুণীর জন্য প্রতিবাদে ফেটে পড়েছিল দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। বিচারের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয় গোটা দেশজুড়ে।

প্রথমে সোনাগাজী থানার পরিদর্শক কামাল হোসেন মামলাটি তদন্ত করলেও পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ ওঠায় পরে তদন্তভার পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই বছরের ২৯ মে পিবিআইয়ের পরিদর্শক শাহ আলম ১৬ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেন।

মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা শাহাদাত হোসেন শামীমের বিষয়ে অভিযোগপত্রে বলা হয়, নুসরাতকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় ক্ষোভ ছিল শামীমের। নুসরাতকে মেরে ফেলতে কার কী ভূমিকা হবে, সেই পরিকল্পনা সাজান শামীম। কাউন্সিলর মাকসুদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি তার বোরখা ও কেরোসিন কেনার ব্যবস্থা করেন।

নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার সময় বোরখা পরিহিত শামীম হাত দিয়ে নুসরাতের মুখ চেপে ধরেন। তার জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বোরখা ও কেরোসিন ঢালতে ব্যবহৃত গ্লাসটি উদ্ধার করে পিবিআই।

হত্যাকাণ্ডের সাত মাসের মাথায় ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশীদ আলোচিত এ মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পাশাপাশি এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেন।

২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ডেথ রেফারেন্সের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। চাঞ্চল্যকর মামলা হিসেবে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডেথ রেফারেন্সের জন্য পেপারবুক তৈরি করা হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও পৃথক আপিল ও জেল আপিল করেন।

অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও বিবিধ বিষয় শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য গত ১০ জুন হাইকোর্টের এই বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী।

১৪ জুন বেঞ্চের কার্যক্রম শুরু হয়। এ হত্যা মামলার শুনানি শুরু হয় ২৮ জুলাই। টানা ১৭ কার্যদিবস শুনানি শেষে গত বৃহস্পতিবার রায় দেওয়া হলো।

এদিকে যৌন হয়রানির ঘটনায় নুসরাতকে থানায় ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিডিও ধারণ করে তা প্রচারের ঘটনায় সোনাগাজী মডেল থানার সাবেক ওসি মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধে ব্যারিস্টার ছায়েদুল হক সুমন আইসিটি আইনে একটি মামলা করেন।

এই মামলায় ২০১৯ সালের ২৮ নভেম্বর আদালত ওসি মোয়াজ্জেমকে আট বছরের কারাদণ্ড ও ১০ লাখ টাকা জরিমানা করে।


নির্বাচিত

দেশের অধিকাংশ গাড়িচালক ‘ফিটনেসবিহীন’: সড়কমন্ত্রী

ছবি: সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, দেশের অধিকাংশ চালক ‘ফিটনেসবিহীন’, তারা উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ছাড়াই হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার অঙ্গীকার হবে যে, ২০৩০ সালের মধ্যে যেন সড়ক দুর্ঘটনা অর্ধেকে নামিয়ে আনতে পারি। আমার কাছে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান পাঁচটি কারণ মনে হয়েছে। এত গবেষণার প্রয়োজন নেই। এর মধ্যে আছে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, ফিটনেসবিহীন ড্রাইভার। দেশের অধিকাংশ ড্রাইভার ফিটনেসবিহীন, কারণ তারা হেলপার থেকে ড্রাইভার হয়েছেন। আর হচ্ছে সচেতনতার অভাব। এ ছাড়া রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত গতি।’

সোমবার (২৪ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে সড়ক ভবনে জরুরি চিকিৎসায় অ্যাম্বুলেন্স, মোটরসাইকেল সার্ভিসের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়কমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতি বছর ৫ হাজারের কাছাকাছি মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যাচ্ছেন। এ সংখ্যাটি হ্রাস করতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে কাজ করছে সরকার।’

তিনি বলেন, ‘হাইওয়ের পাশের হাসপাতালগুলোতে আলাদা ইউনিট গঠন ও ১০ কিলোমিটারের মধ্যে যাতে অ্যাম্বুলেন্স থাকে তা নিশ্চিত করা হবে।’ এ সময় ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন নিরাপদ সড়ক আইন প্রণয়নের কথাও জানান তিনি।

পরে দুর্ঘটনা-পরবর্তী চিকিৎসাসেবায় ৬০টি বেসিক লাইফ সাপোর্ট অ্যাম্বুলেন্স, ৪০টি মোটরসাইকেল অ্যাম্বুলেন্স ও হাইওয়ে পুলিশের জন্য ৮০টি পেট্রল মোটরসাইকেল উদ্বোধন করা হয়।


নির্বাচিত

কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্বোধন অক্টোবরে: বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের অক্টোবরে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর উদ্বোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিমানবন্দরটি উদ্বোধন করবেন বলে জানান তিনি।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সচিবালয়ে এভিয়েশন ও পর্যটন খাতের সাংবাদিকদের সংগঠন এভিয়েশন অ্যান্ড ট্যুরিজম জার্নালিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশের (এটিজেএফবি) সদস্যদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কাজ এগিয়ে চলছে। আগামী অক্টোবরে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সও ফ্লাইট পরিচালনা করবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি বিদেশি এয়ারলাইন্স কক্সবাজার থেকে ফ্লাইট পরিচালনায় আগ্রহ প্রকাশ করেছে।’

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ‘আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয়ের মাধ্যমে কক্সবাজার থেকে সরাসরি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের প্রক্রিয়া চলছে।’

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘টার্মিনালটি আগামী ডিসেম্বর মাসে চালু করার লক্ষ্যে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি চলছে। আগামী মাসে (সেপ্টেম্বর) জাপানি কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হবে।’

তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে বিমানবন্দরের সক্ষমতা ও যাত্রীসেবার মান আরও বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক মানের সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে জানান মন্ত্রী।

এ সময় এটিজেএফবির সভাপতি তানজিম আনোয়ার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় এম রশিদুজ্জামান মিল্লাতকে সংগঠনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশের এভিয়েশন ও পর্যটন খাত আরও এগিয়ে যাবে। এ সময় এটিজেএফবির সাধারণ সম্পাদক বাতেন বিপ্লবসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর প্রথমবার ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন মির্জা ফখরুল

ছবি: রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী রোববার (৩০ আগস্ট) দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সফর শেষে পরদিন সোমবার (৩১ আগস্ট) ঢাকায় ফিরবেন।

রাষ্ট্রপতির সফরকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রস্তুতিও শুরু করেছে জেলা প্রশাসন। এছাড়া প্রশাসনিক, আবাসন ও যানবাহনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ রফিকুল হক।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বিকেলে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের আপন বিভাগের প্রটোকল শাখা থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসকের কাছে এ-সংক্রান্ত একটি চিঠি পাঠানো হয়।

প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফর রহমান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট ঠাকুরগাঁও জেলা সফর করবেন। সফর শেষে ৩১ আগস্ট তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করবেন।

চিঠিতে রাষ্ট্রপতি ও তার সফরসঙ্গীদের গমনাগমনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা, আবাসন ও যানবাহনের ব্যবস্থা করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি রাষ্ট্রপতির সফরের বিস্তারিত সূচি ও সফরসঙ্গীদের অনুমোদিত তালিকা পরবর্তী সময়ে পাঠানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে মির্জা ফখরুলের এ সফর ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে আগ্রহ। সফরকে কেন্দ্র করে প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি দপ্তরেও প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

এর আগে গত ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তিনি জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করেন।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিজয়ী হন। পরদিন ২১ আগস্ট সন্ধ্যায় বঙ্গভবনের ঐতিহাসিক দরবার হলে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন তিনি।


নির্বাচিত

ময়নাতদন্তের রিপোর্টের সঙ্গে পুলিশের বক্তব্যের কিছু অংশ অমিল: ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক

ছবি: হত্যাকাণ্ডের শিকার রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ১২ বছরের শিশুসন্তান প্রিয়ম চক্রবর্তী।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রংপুরে মাদকসেবনে বাধা দেয়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী ও স্ত্রী-সন্তানসহ ৪ জনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের বক্তব্য ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের কিছু অংশ মিলছে না।

সোমবার (২৪ আগস্ট) সাংবাদিকদের এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে ময়নাতদন্তকারী ডা. বাবলু কিশোর বিশ্বাস জানিয়েছেন বিভিন্ন তথ্য।

তিনি বলেন, ‘ভিকটিম চারজনকেই শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। তবে চোয়াল ভাঙার কোনো প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। অনেকেই গুজব রটিয়েছে যে এসিড ব্যবহার করে লাশগুলোর চেহারা নষ্ট করা হয়েছে। তবে এর প্রমাণ ময়নাতদন্তে পাওয়া যায়নি। মূলত লাশগুলোর কয়েকদিন ধরে পড়ে থাকার কারণে চেহারাগুলো ঝলসে যাওয়ার মতো হয়েছে।’

বাবলু কিশোর বিশ্বাস আরও বলেন, ‘ময়নাতদন্তে বিভিন্ন স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে, সেগুলো সিআইডি ল্যাবে পাঠানো হবে।’

এদিকে গতকাল সংবাদ সম্মেলন করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মাবুদ জানিয়েছিলেন, হত্যাকাণ্ডের শিকার আগামী চক্রবর্তীর গলা ও মুখে রশি পেঁচিয়ে এমনভাবে টানা হয়েছিল যে, আগামীর চোখগুলো বেরিয়ে আসে এবং দাঁতের চোয়াল ভেঙে যায়।

উল্লেখ্য, রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার বাসিন্দা রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে তার স্বজনরা সাড়াশব্দ না পাওয়ায় শনিবার সন্ধ্যায় পুলিশে খবর দেয়। রাত সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাড়ির তালা ভেঙ্গে চিলেকোঠায় গণপতি চক্রবর্তী (৬৫), সিঁড়িতে স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী (৫২) ও মেয়ে আগামী চক্রবর্তী (২৫) এবং দোতলায় শোবার ঘরে রংপুর জিলা স্কুলে পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া প্রিয়ম চক্রবর্তীর (১২) লাশ দেখতে পায় পুলিশ। এমন মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় রংপুরসহ দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃত নগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকার কানুদাসের ছেলে মুগ্ধ দাস (২৩) সিটি বাজারে মাছে দোকানের কর্মচারী এবং সিদ্ধার্থ দাস (১৯) স্বর্ণের দোকানে কারিগর হিসেবে কাজ করতো। তারা সম্পর্কে মামাতো ভাই।


নির্বাচিত

নরসিংদীতে বিধবার জমি দখলের চেষ্টা, বাড়িতে হামলা

নরসিংদীর একটি রেস্তোরাঁয় ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর রায়পুরায় জোহরা বেগম নামে এক বিধবার বসতবাড়িতে হামলা এবং সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের অপচেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হয়েছে। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে নরসিংদী শহরের একটি রেস্তোরাঁয় ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী জোহরা বেগমের মেয়ে আরিফা আক্তার মুন্নি লিখিত বক্তব্যে জানান, তাদের নিজ গ্রাম বাঙালীনগরের মৌজা আর.এস ৩২৯ খতিয়ানে এস.এ-৪১৩ ও আর.এস-২১০৫ দাগের ১১ শতাংশ জমি তার মা দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।

অভিযোগ করা হয়, ওই জমির ওপর নজর পড়ে একই গ্রামের মৃত ফজলুর রহমানের ছেলে সানজারুল কবির জহির, আশরাফুল ইসলাম আসাদুল, হুমায়ুন কবির, ছাত্তার মিয়ার ছেলে নাজমুল আলম পারভেজ, টুটুল মিয়ার ছেলে সাজেদুল ইসলাম অনন এবং ফজলুর রহমানের মেয়ে পারভীন বেগমের।

মুন্নি জানান, জমিটি কবজা করতে ব্যক্তিরা নানা ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে আসামিরা জোরপূর্বক জমি দখলের চেষ্টা চালায়। এতে জোহরা বেগমের বাড়ির লোকজন বাধা দিলে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে বসতবাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় জমি না ছাড়লে তাদের পরিবারকে জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়। বর্তমানে আসামিদের ভয়ভীতি ও হুমকির মুখে জোহরা বেগম ও তার পরিবারের সদস্যরা তীব্র নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ ঘটনায় বিচার চেয়ে গত রোববার (২৩ আগস্ট) জোহরা বেগম বাদী হয়ে সানজারুল কবির জহিরসহ ৬ জনকে আসামি করে নরসিংদী জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের খবর ছড়িয়ে পড়লে আসামিরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে তাদের পুনরায় প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সুশীল সমাজ।


নির্বাচিত

লোডশেডিং নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ইবি প্রশাসনের

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) চলমান তীব্র লোডশেডিংয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। ল্যাব, লাইব্রেরি এবং আবাসিক হলগুলোর পাশাপাশি ক্যাম্পাস সংলগ্ন মেস এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সংকটে স্বাভাবিক পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিরসনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ স্বল্পমেয়াদী আশ্বাসের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী কিছু বিকল্প পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে।

সম্প্রতিকালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতির কারণে চাহিদার তুলনায় তিনভাগের একভাগ বিদ্যুৎ পাচ্ছে বলে জানা যায় বিদ্যুৎ কতৃপক্ষের বরাতে। লোডশেডিংয়ের মূল কারণ জানতে চাইলে পল্লী বিদ্যুতের স্বস্তিপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, স্থানীয় সাব-স্টেশন বা লাইনে কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা ওভারলোড সমস্যা নেই।

তিনি বলেন, জাতীয় গ্রিডে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে আমাদের উপকেন্দ্রে প্রকৃত ২০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে গড়ে মাত্র ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাচ্ছি। তবে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে চাহিদা আরও বেড়ে গেছে।

ক্যাম্পাসের তুলনায় ক্যাম্পাস সংলগ্ন এলাকায় লোডশেডিং ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এ সংকটের ব্যাখ্যা দিয়ে ডিজিএম জানান, ক্যাম্পাস সংলগ্ন আবাসিক ও মেস এলাকাগুলো সাধারণ গ্রামীণ ফিডারের আওতাভুক্ত। ফলে মেস এলাকাগুলোতে আলাদা অগ্রাধিকার বা বিশেষ সুবিধা দেওয়ার কারিগরি সুযোগ নেই। তবে, ক্যাম্পাসে আলাদা 'এক্সপ্রেস ফিডারে' বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান সংকট নিরসনে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ইবির প্রধান প্রকৌশলী আব্দুল মালেক জানান, বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের হাতে নেই। তবে উপ-উপাচার্য'সহ প্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ ও সমন্বয় রাখছে।

চলমান এই সংকট নিরসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিকল্প উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। প্রকৌশল দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে ইনডোর টাইপ ১০/১৪ এমভিএ ৩৩/১১ কেভি বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র নির্মাণে কুষ্টিয়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সঙ্গে ২০২৫ সালে মে মাসে বিগত প্রশাসন চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি মোতাবেক, বিশ্ববিদ্যালয়ের চাহিদা অনুযায়ী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পার্শ্ববর্তী এলাকায় জনস্বার্থে সরবরাহ করতে পারবে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইবি প্রধান প্রকৌশলী তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় চলমান ইনডোর সাব-স্টেশনের কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই ইনডোর সাব-স্টেশনের কাজ শেষ হবে বলে আশা করা যায়। সম্প্রতি পরিবেশ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের পর এ বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দিয়েছে।

এ বিষয়ে প্রধান প্রকৌশলী বলেন, সাধারণত দূরবর্তী লাইন থেকে বিদ্যুৎ আনার কারণে যে কারিগরি ত্রুটি ও ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়, এটি চালু হলে তা আর থাকবে না। সাব-স্টেশনটি চালু হলে কারিগরি সমস্যাজনিত লোডশেডিং বন্ধ হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় শতভাগ অগ্রাধিকার পাবে। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকা সাপেক্ষে এটি পুরোপুরি কার্যকর হবে।

এই প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে ডিজিএম খালিদ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ। ইনডোর সাব-স্টেশনের কাজ চলমান এবং কাজের অগ্রগতি দৃশ্যমান। আশা করি, আগামী জুনের মধ্যে এটি চালু হতে পারে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়'সহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থা উন্নত হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলেন ইবি প্রধান প্রকৌশলী বলেন, প্রতিবছর তৈরি হওয়া এই সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ হিসেবে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একটি সরকারি প্রকল্পের অধীনে সোলার প্যানেল স্থাপনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে শিক্ষক প্রতিনিধি'সহ একটি দল খুব শীঘ্রই উপাচার্য স্যারের সাথে বৈঠকে বসবেন। উপাচার্যের অনুমোদন মিললে দ্রুতই প্রকল্পটি তৈরি করে চূড়ান্ত সাবমিট করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান বলেন, ইউজিসি ও সরকারের উদ্যোগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সোলার প্যানেল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে টেকসই স্থানে সোলার প্যানেল বসানোর জন্য ইউজিসির প্রতিনিধি দলকে সরজমিনে পরিদর্শনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সহায়তার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। একইসাথে জাতীয় বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলা ও ক্যাম্পাসে অপচয় রোধে অপ্রয়োজনীয় এসি, ফ্যান এবং হলের হিটার ব্যবহার বন্ধে জরুরি নোটিশ জারি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

মাদারীপুরে মাকে ধর্ষণের পর হত্যা, বাঁচলনা অবুঝ শিশু আবিরও

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

নদীর পানি বইছিল আপন গতিতেই। আর সেই ভাসমান জলের বুকেই ভেসে ছিল এক বছরের এক নিষ্পাপ প্রাণের নিথর শরীর। সোমবার (২৪ আগস্ট) সকালে মাদারীপুরের শিবচরের আড়িয়াল খাঁ নদীর নিলখী মাদ্রাসা ঘাটে যখন ছোট্ট আবিরের অর্ধগলিত মরদেহটি তীরে আনা হলো, তখন সেখানে উপস্থিত কোনো মানুষের চোখই শুকনো ছিল না। শিশু-তরুণ থেকে শুরু করে বৃদ্ধ—পুরো জনপদ কেঁদে উঠেছে এক অবুঝ সন্তানের এই করুণ পরিণতিতে।

ধর্ষণের শিকার হয়ে পাঁচ দিন আগে প্রাণ হারিয়েছিলেন মা শম্পা খাতুন। আর সেদিনই মায়ের কোল কেড়ে নিয়ে ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল ফুটফুটে শিশু আবিরকে। জল্লাদের নিষ্ঠুরতার কাছে হেরে যাওয়া এই মায়ের আকুতি আর সন্তানের শেষ অবুঝ আর্তনাদ হয়তো মিশে গিয়েছিল নদীর তীব্র স্রোতে।

গত ১৯ আগস্ট শিবচরের এক ঝোপের পাশ থেকে অজ্ঞাত হিসেবে শম্পা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। পরে জানা যায়, লালপুরের ছামরুল ইসলামের মেয়ে শম্পা নিজের সন্তানের এক উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় হয়তো লড়ছিলেন। কিন্তু লম্পট ফারুকের নজরে পড়ে শেষ হয়ে যায় তাঁর জীবনের সব স্বপ্ন।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তারের পর ফারুক নিজেই স্বীকার করে সেই লোমহর্ষক কাহিনি। শম্পাকে ধর্ষণের পর হত্যা করার পর, তার এক বছরের অবুঝ শিশু আবিরকে ব্রিজের ওপর থেকে স্রেফ ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিল আড়িয়াল খাঁ নদীতে।

ঘাতকের স্বীকারোক্তির পর সবাই মনে মনে হয়তো একটা অলৌকিক কিছুর আশায় ছিলেন—যদি আবির বেঁচে থাকে! কিন্তু নিষ্ঠুর বাস্তবতা সামনে এলো পাঁচ দিন পর। নদীর পানিতে ভেসে উঠলো শিশুটির নিথর দেহ।

মরদেহ উদ্ধারের পর নিলখী এলাকার বাতাস ভারী হয়ে ওঠে সাধারণ মানুষের কান্না ও ক্ষোভে। উপস্থিত এক বৃদ্ধ শিউরে উঠে বললেন, মায়ের লাশ তো পেলাম, এখন এই দুধের শিশুর গলিত লাশও দেখতে হলো? একটা মানুষ কতটা পৈশাচিক হলে এমন দুধের শিশুকে ব্রিজের ওপর থেকে নদীতে ফেলে দিতে পারে?

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুততম সময়ে এই ক্লুলেস হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করলেও, এলাকার মানুষের মনে জমেছে গভীর ক্ষত। শম্পা ও আবিরের এই নিঃশব্দ প্রস্থান কেবল দুটি প্রাণের মৃত্যু নয়, যেন পুরো মানবতা ও বিবেকের পরাজয়।

এখন মাদারীপুরবাসী একটাই দাবি নিয়ে তাকিয়ে আছেন সুবিচারের দিকে—পাষণ্ড ফারুকের যেন এমন দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তি হয়, যাতে আর কোনো মায়ের কোল এভাবে খালি না হয়, কোনো অবুঝ শিশুকে আড়িয়াল খাঁ নদীর ঠাণ্ডা পানিতে অকালে প্রাণ দিতে না হয়।


নির্বাচিত

দুবৃর্ত্তদের হামলায় প্রাণ গেল সাবেক কাউন্সিলরের

ছবি: ভৈরব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সৈকত।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও পৌর যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আল আমিন সৈকত (৪০) দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছে। গত রোববার (২৩ আগস্ট) রাত পৌনে ১২টার দিকে ভৈরব বাজার ট্রিনপট্রি রমজান মিয়ার হাউলি এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে।

তিনি ভৈরব বাজারে ব্যবসাও করত। পৌর শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার আড়াই বেপারীর বংশের মৃত জসীম উদ্দিনের ছেলে।

পরিবার সুত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতই আল আমিন সৈকত তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আবাসিক হোটেলের অফিস থেকে মোটরসাইকেলযোগে বাসায় যাওয়ার পথে টিনপট্রির সোস্যাল ইসলামী ব্যাংকের নিকটে রমজান মিয়া হাউলির সড়কে কয়েকজন দুবৃর্ত্তরা তার মোটরসাইকেল থামিয়ে প্রথমে মাথায়, চোখ, হাত ও পায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক আঘাত করে। এসময় খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তার অবস্থা খারাপ দেখে তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে। তারপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত্যু ঘোষণা করে৷

নিহতের স্ত্রী তানিয়া খানম বলেন, রাত সাড়ে ১১টার দিকে আমার স্বামীকে কল দিলে তিনি আমাকে জানান কাজ শেষ করে বাসায় ফিরবে৷ এর কিছুক্ষণ পরে আবার ফোন দিলে তিনি বলেন আমি বের হচ্ছি তুমি ভাত রেডি কর। এর কিছুক্ষণ পরেই দৌড়ে এসে বললো ভাইকে তো কে জানি কুপিয়ে মেরে ফেলেছে। দৌড়ে গিয়ে দেখি রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে মৃত্যুবরণ করে। আমার স্বামীর হত্যার বিচার চাই। এইভাবে যেন কেউ আমার মত স্বামী হারা না হয়।

তার বন্ধু তমাল আহমেদ জানান, রোববার (২৩ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত আমরা একসাথে বসে তার আবাসিক হোটেলে আড্ডা গল্প দিচ্ছিলাম। পরে আমি বাসায় চলে যায় এবং সে তার বাসায় মোটরসাইকেলে চলে যায়। বাসায় গিয়েই আমি দূর্ঘটনার খবর পায়।

নিহতের চাচাত ভাই আরাফাত জানান, আমরা কয়েকজনে মিলে ঢাকায় নেয়ার পথেই সে গাড়ীতে মারা যায়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এবিষয়ে ভৈরব শহর ফাঁড়ির ইনচার্জ নুরুল হুদা জানান, আল আমিন সৈকতের ঘটনাটি খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এই ঘটনার সাথে জড়িতদের সনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। তবে নিহতের মরদেহ তার এখনও ভৈরবে পৌঁছেনি জানতে পারি। তার পরিবারের সাথে কথা বলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে বাকৃবি উপাচার্যের অভিনন্দন

ছবি: রাষ্ট্রপতি এবং বাকৃবির চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও বাকৃবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

২৩তম রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) চ্যান্সেলর হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া।

সোমবার (২৪ আগস্ট) বাকৃবি উপাচার্যের দপ্তর থেকে পাঠানো এক অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পক্ষ থেকে এই শুভেচ্ছা জানানো হয়।

অভিনন্দন বার্তায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. ফজলুল হক ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের সততা, নিষ্ঠা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেমের কারণেই তিনি দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হয়েছেন, যা অত্যন্ত যুগোপযোগী ও গৌরবময়। তাঁর আপসহীন পথচলা ও দীর্ঘ সংগ্রামের রাজনৈতিক জীবন নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় ও শিক্ষণীয়। মহামান্য রাষ্ট্রপতির সুদীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা দেশের গণতন্ত্র সুসংহতকরণ, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, জাতীয় ঐক্য এবং জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বাকৃবি পরিবার দৃঢ়ভাবে আশা প্রকাশ করে।

বার্তায় বাকৃবির অবদানের কথা তুলে ধরে উপাচার্য জানান, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও সম্প্রসারণের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬১ হাজার ৬৯৯ জন গ্র্যাজুয়েট দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কৃষি খাতের উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছেন। রাষ্ট্রপতির সুদৃঢ় ও অভিভাবকসুলভ দিক-নির্দেশনায় ঐতিহ্যবাহী এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি কৃষি শিক্ষা, গবেষণা ও প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনে আরও অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।

বার্তার শেষাংশে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার মেয়াদকালের সর্বাঙ্গীন সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।


নির্বাচিত

banner close