দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের লাইফলাইন ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশে খানা-খন্দকের সৃষ্টি হওয়ায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটছে এবং সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত ১০৫ কিলোমিটারের রাস্তাটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। নোয়াপাড়াসহ চৌদ্দগ্রাম উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অংশেরও একই হাল।
এছাড়া আদর্শ সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর থেকে ক্যান্টনমেন্ট এলাকা পর্যন্ত দুই লেনের সড়কের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সড়কের এই বেহাল অবস্থায় বিশেষ করে পণ্য বোঝাই বিভিন্ন যানবাহনের চালকরা সতর্কতার সঙ্গে গাড়ি চালাতে বাধ্য হচ্ছেন। যার ফলে যানবাহনের গতি কমেছে এবং ঘন ঘন যানযটের সৃষ্টি হয়।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যে যানজটের ভোগান্তি এবং ধুলো দূষণ যাত্রীদের জন্য প্রতিদিনের অগ্নিপরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।
এদিকে চান্দিনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তার একটি বড় অংশ ভেঙে যাওয়ায় যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে। মহাসড়কের বাইরে কুমিল্লার অন্যান্য আঞ্চলিক সড়কও বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক খানা-খন্দ ও সরু হওয়ায় চালক ও যাত্রী উভয়ের জন্য ভ্রমণকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।
যাত্রী ও চালকদের ওপর প্রভাব
কুমিল্লা মোটর অ্যাসোসিয়েশনের (বাস মালিক সমিতি) সভাপতি জামিল আহমেদ খন্দকার পরিস্থিতির ভয়াবহতা তুলে ধরে বলেন, 'কুমিল্লায় মহাসড়কের বেশ কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চালক-যাত্রী উভয়কেই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।’দ্রুত মেরামতের কাজ শুরু করার আহ্বান জানান তিনি।
কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের মিনিবাস চালক আবুল হোসেন প্রতিদিনের ভোগান্তির বর্ণনা দিয়ে বলেন, ‘সরু রাস্তা, ভারী যানবাহন এবং গর্ত সব মিলিয়ে চালকদের জন্য একটি নিয়মিত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মুদাফফরগঞ্জ থেকে আসা যাত্রী আব্দুল্লাহ আল মারুফ জানান, কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লা অংশটি তুলনামূলকভাবে কম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও চাঁদপুর অংশে যাতায়াত অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
সরকারের প্রতিক্রিয়া
সাম্প্রতিক বন্যা ও ভারী বর্ষণে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্বীকার করেছেন কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা। তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, 'আমরা ১৫ দিনের মধ্যে মেরামতের কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছি।’
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের অর্থনৈতিক গুরুত্ব
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দেশের বৃহত্তম বন্দর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র চট্টগ্রামের সঙ্গে ঢাকার সংযোগকারী প্রধান সড়ক হিসেবে কাজ করে।
এই মহাসড়কটি গার্মেন্টস, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং কৃষির মতো শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনকে সহজতর করে, যা আমদানি-রপ্তানির জন্য চট্টগ্রাম বন্দরের উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।
বাংলাদেশের প্রায় ৮০ শতাংশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এই রুট দিয়ে পরিচালিত হয়। যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার জন্য এর গুরুত্ব তুলে ধরে।
যানজট নিরসন ও বাণিজ্য করিডোর হিসেবে মহাসড়কটির সক্ষমতা সংরক্ষণের জন্য এর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে বেহাল দশা শুধু সড়ক নিরাপত্তাই নয়, দেশের অর্থনৈতিক গতিকেও হুমকির মুখে ফেলেছে।
শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ, অডিটোরিয়াম প্রতিষ্ঠা ও যাতায়াতের জন্য নতুন বাস চালুর আশ্বাস দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। রাজশাহী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব আশ্বাস দেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রতিষ্ঠানটির ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম পর্বের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট দেশের অন্যতম সেরা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নবীন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।
ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের দায়িত্ব ও পরিচয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ এবং মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ এ. জে. এম. মাসুদুর রহমান। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রান্তিক পর্যায়ের পূজামণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং পূজারীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সুদৃঢ় করতে পূর্ব চান্দরা শ্রী শ্রী কালী ও দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্বশীলতা, সতর্কতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনকালে মহাপরিচালক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজারেরও বেশি আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা মোতায়েন রয়েছেন। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় ১০৪টি স্ট্রাইকিং টিম সারাদেশে কাজ করছে। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার আওতায় তথ্য প্রদানকারী, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে সংযুক্ত রয়েছেন ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপসে’। এর ফলে মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান, পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল পর্যন্ত আনসার- ভিডিপির প্রতিটি সদস্য নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো সংকট ও প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ সর্বদা আনসার-ভিডিপিকে পাশে পাবে। একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্যাপন কমিটি এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত প্রয়াস অপরিহার্য।
মহাপরিচালক বলেন, কোনো গোষ্ঠী যাতে গুজব, উসকানি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ধৈর্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সব ধরনের বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে উৎসবের স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশ্বাস করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সচেতনতা এবং সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজায় বাহিনীর সদস্য-সদস্যারা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, লাগেজের নিরাপত্তা জোরদার এবং লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ উদ্যোগের আওতায় বিমানবন্দরের ৮টি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৬৫ ইঞ্চি আকারের ১৮টি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।
নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্মানিত যাত্রীরা লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে পরিবহন, বাছাই এবং লাগেজ বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার দৃশ্য স্থাপিত মনিটরে সরাসরি (লাইভ) দেখার সুযোগ পাবেন। ফলে, যাত্রীরা তাদের লাগেজ পরিবহনের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা লাভ করবেন এবং লাগেজ সংগ্রহের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি আরও বাড়বে।
বেবিচক যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষা, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে প্রবাসীসহ দেশি-বিদেশি সব যাত্রী যেন ভ্রমণ শেষে নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে তাদের লাগেজ সংগ্রহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব সেবার সম্প্রসারণে বেবিচকের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ উদ্যোগ দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেছেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল। রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সও ছিল না।
তিনি বলেন, গত জুনে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করে নোটিশ করেছিল ফায়ার সার্ভিস। এরপরও রিসোর্টটির অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আজ রিসোর্টটিতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন নিহত ও ১০ জনের বেশি আহত হন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরে আয়োজিত ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক’ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক বলেন, তিনতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ। সেখানে খাবার তৈরি করা হতো। দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের তদারকির আওতায় প্রয়োজনীয় সনদ ছিল না।
তিনি জানান, সকালে সাড়ে ৭টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থল থেকে নিকটতম ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। এরইমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
রিসোর্টটির লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং সতর্ক করার পরও কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রিসোর্টটি চালাচ্ছিল না।
কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা এবং অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নোটিশের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।
সামনে শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।
কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, এমন প্রশ্নে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে আগুনের কারণ নির্ধারণ করা সঠিক হবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে জানা যাবে।
নোটিশ দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু থাকা এবং সারাদেশে এ ধরনের রিসোর্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের করণীয় পর্যালোচনা করা হবে। বিদ্যমান আইন ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শহরের পথে পথে রঙের ছোঁয়া, সড়ক বিভাজকে নতুন প্রলেপ আর পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত কর্মীরা। কোথাও পুরোনো স্থাপনায় লাগছে নতুন রঙ, কোথাও চলছে সড়ক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে এভাবেই নতুন সাজে সেজে উঠছে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগরী। নগরীর সৌন্দর্য বাড়ানোর এই কর্মযজ্ঞে মিশে আছে রাজশাহীবাসীর আবেগ, ভালোবাসা ও প্রত্যাশা। আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর উপলক্ষে নগরীজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নগরীর বিমান চত্বর এলাকায় দেখা যায়, রঙমিস্ত্রিরা তুলির আঁচড়ে বিভিন্ন স্থাপনা রাঙিয়ে তুলছেন। হাতে রঙের পাত্র, চোখেমুখে কাজ শেষ করার তাগিদ। তাদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরীকে আরও পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে।
রঙমিস্ত্রি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীতে আসবেন। তাকে স্বাগত জানানোর জন্য নগরীকে মনের মাধুরী মিশিয়ে তুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে তুলছি। কাজটি করতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী এসে আমাদের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী দেখুন।’
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) পক্ষ থেকে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সড়ক বিভাজকের আইল্যান্ডে রঙ করা, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার, বিভিন্ন স্থাপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই রাজশাহীতে প্রথম সফর। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ, আবেগ ও গৌরবের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে রাজশাহীবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করছি, তার এই সফর রাজশাহীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীতে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ জোরদার করা হয়েছে। বিপুল জনসমাগম ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে রাজশাহীবাসীর ভালোবাসা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে চাই।’
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহীতে আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আবেগ ও অনুভূতির বিষয়। তাকে এক নজর দেখার জন্য রাজশালীবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সড়ক বিভাজকের আইল্যান্ডে রঙ করা, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার এবং পরিবেশ উন্নয়নের কাজ চলছে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা সফিপুরে অবস্থিত ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কারখানাটির হারবাল সেকশনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী জানান, আগুনের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে। পরে আরো তিনটি ইউনিট যোগ দেয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুণ লাগার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী ফায়ার স্টেশনের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।
পরিস্থিতি বিবেচনায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে গাজীপুর চৌরাস্তা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ২টি ইউনিট যুক্ত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর অর্থাৎ সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।
দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষায় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’ দেশের প্রতিটি প্রান্তে প্রহরীর মতো প্রস্তুত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’ পিরোজপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান শুভ্রর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) ইঞ্জিনিয়ার মো. জুয়েল খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মো. জুয়েল খান বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে সংগঠনকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে দেশব্যাপী এই সাংগঠনিক সফর পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের যেকোনো সংকটে মুক্তিযুদ্ধের সন্তানেরা রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধের সন্তানদের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক তরুণ সমাজকে একত্রিত করে আগামী দিনে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মেদ শহীদুল হক চান, পিরোজপুর জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. সালাম বাতেন এবং পিরোজপুর জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুল আলম (পাশা)। এছাড়াও সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম মুক্তাদির মুরাদ, খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক এইচ এম খলিলুর রহমান, বরিশাল মহানগরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমানুজ্জামান খান এবং বরিশাল জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম ভুট্টো।
সভায় বক্তারা জানান, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বরিশালে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে পিরোজপুরের প্রতিটি উপজেলায় শিগগিরই কর্মী সভা সম্পন্ন করে নতুন নেতৃত্ব ও প্রস্তাবিত কমিটি গঠন করা হবে। অনুষ্ঠানটিতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পরিবারের সদস্যরা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
খাগড়াছড়ির পানছড়ি সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি সাবমেশিনগান (এসএমজি), ১০০ রাউন্ড গুলি ও দুটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধীন বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির একটি নিয়মিত টহল দল কচুছড়িমুখ পাড়া এলাকায় এ অভিযান চালায়।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বৌদ্ধমনিপাড়া বিওপির নায়েব সুবেদার মো. এমদাদুল হকের নেতৃত্বে টহল দলটি সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আনুমানিক ১২০ থেকে ১৫০ গজ দূরে অন্ধকারাচ্ছন্ন স্থানে কয়েকজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির উপস্থিতি দেখতে পায় টহল দল।
পরে কৌশলগতভাবে সামনে অগ্রসর হলে সীমান্তসংলগ্ন পাহাড় থেকে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দলকে সীমান্ত সড়কে নেমে আসতে দেখা যায়। বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করে থামতে বললে সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় টহল দল ধাওয়া করলে তারা সীমান্ত সড়ক থেকে আশপাশের ঘন পাহাড়ি জঙ্গলে পালিয়ে যায়।
পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় একটি ৭.৬২ মিলিমিটার এসএমজি, ১০০ রাউন্ড গুলি এবং দুটি বাটন মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ পানছড়ি থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে বিজিবি সূত্র জানিয়েছে।
পানছড়ি ব্যাটালিয়ন (৩ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ রবিউল ইসলাম জানান, সীমান্ত এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বাহিনীর ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। সীমান্তে অস্ত্র ও বিস্ফোরক পাচার প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান ও নজরদারি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের ইনানীতে রিসোর্টে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) রসায়ন বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাবিলার মৃত্যু হয়েছে। নাবিলার মৃত্যুর বিষয়টি তার মা নিশ্চিত করেছেন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে মেরিন ড্রাইভ সড়কসংলগ্ন পাটোয়ারটেক সৈকত এলাকার টুপটুপ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আব্দুল আহাদ সরকারের পরিবারের সদস্যদেরও মৃত্যু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে আহাদ প্রথমে পরিবারের ছয় সদস্যের মৃত্যুর কথা জানান। পরে আরও একজনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে মোট সাতজনের প্রাণহানির খবর দেন।
উল্লেখ্য, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কাঠের তৈরি রিসোর্টটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডে আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফেরার গুঞ্জন অবান্তর ও হাস্যকর। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের সুযোগ সৃষ্টি না হলে দেশের অস্তিত্ব সংকটে পড়ত এবং অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যই আজ বাস্তবে প্রমাণিত হয়েছে।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে জামালপুর জেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে মন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিগত শাসনামলে সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের জমি ও বাড়িঘর দখলের অধিকাংশ ঘটনা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরাই ঘটিয়েছে। অথচ এই সমস্ত অপকর্মের দায় অন্যের ওপর চাপিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে ‘জঙ্গি রাষ্ট্র’ হিসেবে তুলে ধরার চক্রান্ত করা হয়েছিল।
বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট প্রসঙ্গে বিমানমন্ত্রী বলেন, তৎকালীন সরকারের কোনো ধরনের দূরদর্শী পরিকল্পনা কিংবা নতুন গ্যাস কূপ খননের প্রস্তুতি ছিল না। তাদের সেই নীতিহীনতার মাশুলই আজ পুরো দেশবাসীকে গুনতে হচ্ছে।
জেলা পরিষদ প্রশাসক সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবু, মোস্তাফিজুর রহমান বাবুল, ফরিদুল কবির শামীম তালুকদার এবং নিলুফার চৌধুরী মনি। আলোচনা সভা শেষে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়।
মাগুরায় প্রতিবন্ধী,অসহায় ও গৃহহীন ৭৫ জন ব্যক্তির মাঝে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করেছে জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদ। প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে এ অনুদান দেওয়া হয়। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপকারভোগীদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেন খান।
অনুষ্ঠানে মাগুরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেরুন্নাহার, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন, মাগুরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আক্তার হোসেন, মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, সদর থানা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সমাজকল্যাণ পরিষদের এ অনুদানের মাধ্যমে অসহায়, প্রতিবন্ধী ও গৃহহীন ব্যক্তিরা আর্থিকভাবে কিছুটা স্বস্তি পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট (এসডব্লিউই) ডিসিপ্লিনের রজতজয়ন্তী ও অ্যালামনাই পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ আয়োজনে প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা, র্যালি, আলোচনা সভা, সম্মাননা প্রদান ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচির শুরুতে বেলা ১১টায় দ্বিতীয় একাডেমিক ভবনের সামনে থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়। র্যালিটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে হাদি চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে অদম্য বাংলা প্রাঙ্গণে কেক কাটা হয়। দুপুর ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, একটি ডিসিপ্লিনের ২৫ বছরের পথচলা কেবল সময়ের হিসাব নয়; এটি অসংখ্য মানুষের শ্রম, মেধা, স্বপ্ন, ত্যাগ ও সাফল্যের সম্মিলিত ইতিহাস। এ আয়োজন শেকড়ের টানে ফিরে আসা, স্মৃতিচারণ এবং পারস্পরিক বন্ধন সুদৃঢ় করার এক অনন্য উপলক্ষ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জীব বিজ্ঞান স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. গোলাম হোসেন এবং সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন অব খুলনা ইউনিভার্সিটির (সাকু) সাবেক সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির ও সভাপতি মো. সাফায়েত হোসেন। সংশ্লিষ্ট ডিসিপ্লিন প্রধান প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জাবের হোসেনের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সাকুর সহ-সভাপতি মো. হুমায়ুন কবির।
অনুষ্ঠানে সয়েল, ওয়াটার এন্ড এনভায়রনমেন্ট ডিসিপ্লিন প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রয়াত শিক্ষক প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান ভূঁইয়াকে আজীবন সম্মাননা প্রদান করা হয়। এছাড়া শিক্ষা, গবেষণা, খেলাধুলা ও কর্মজীবনে বিশেষ অবদানের জন্য প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের সম্মাননা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডিসিপ্লিনের সহযোগী অধ্যাপক নিপা অধিকারী ও সহকারী অধ্যাপক এস. এম. শাহরিয়ার জামান।
এ ছাড়া বাদ জুমা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে প্রয়াত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ৩টায় শিশুদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং বিকেলে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে নীলফামারীর ৮১২টি মন্দির ও পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন-১৩ (এসআরবি-১৩)। নাশকতা ও অপ্রীতিকর ঘটনা প্রতিরোধে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল কার্যক্রম। শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নীলফামারী শহরের শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালীমাতা দুর্গাপূজা মন্দিরে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান রংপুরের এসআরবি-১৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মনজুর করিম।
তিনি জানান, পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পর্যাপ্তসংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে। পাশাপাশি সাদাপোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব প্রতিরোধে সাইবার মনিটরিং কার্যক্রম চলবে আগামী ২২ অক্টোবর পর্যন্ত।
এ ছাড়া প্রতিমা বিসর্জনের দিন নেওয়া হবে অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা। গুজব ও উসকানিমূলক তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি সন্দেহজনক কোনো তথ্য পেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর আহ্বান জানিয়েছে এসআরবি-১৩।