মিয়ানমারের রাখাইনে মংডু শহর বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ) দখল করে নেওয়ার পর তিন দিন সেখান থেকে এপারে গোলার শব্দ ভেসে আসেনি। তবে আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে বাংলাদেশ সীমান্তের ওপারের জনপদ। ভেসে আসছে গোলার বিকট শব্দ।
নতুন করে গোলার শব্দ ভেসে আসার ঘটনায় কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারা নতুন করে কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থায় বাংলাদেশ সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি ও কোস্টগার্ড।
এ ছাড়া বঙ্গোপসাগর হয়ে শাহপরীর দ্বীপ বদর মোকাম এলাকায় বিকল্প পথ ‘গোলাচর’ ও কক্সবাজার-সেন্টমার্টিন নৌপথ দিয়ে পর্যটকবাহী জাহাজসহ নৌযান চলাচল করছে। তবে কোনো নৌযান যাতে বাংলাদেশ জলসীমা অতিক্রম না করে, সে জন্য সব নৌযানকে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, ‘টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে নৌযান চলাচলসহ মাছ ধরার ট্রলার সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছে। তবে নৌযানগুলো যাতে কোনোভাবে বাংলাদেশ জলসীমা অতিক্রম না করে সেজন্য বারবার বলা হয়েছে। আর জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে শাহপরীর দ্বীপ-গোলাচর রুট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে তাদের। সে ক্ষেত্রে আমাদের বিজিবির পাশাপাশি কোস্টগার্ড নাফ নদ-সাগরে টহল অব্যাহত রেখেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাখাইনে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যাতে নতুন করে কোনো অবৈধ অনুপ্রবেশ না ঘটে তা নিশ্চিত করতে সীমান্তে আমাদের বিজিবি ও কোস্টগার্ডের জোরদার টহল রয়েছে।’
এদিকে শাহপরীর দ্বীপের জেটি ঘাট, মিস্ত্রি পাড়া ঘাট, দক্ষিণ পাড়া ঘাট ও পশ্চিম পাড়া ঘাট থেকে ২০টির বেশি মাছ ধরার ট্রলার নাফ নদের বিকল্প রুট গোলারচর হয়ে সাগরে মাছ শিকারে বের হয়েছে। শাহপরীর দ্বীপের জেটি ঘাটের জেলে মোহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, ‘সীমান্তের ওপারে গোলাগুলির শব্দ ভেসে আসার কারণে মাঝখানে নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। আমরা বেশ কয়েকটা মাছ ধরার ট্রলার সাগরে মাছ শিকারে যাচ্ছি। তবে আমরা যেন কোনোভাবেই বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম না করি সে জন্য বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে।’
টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ ঘাটে ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর গফুর আলম বলেন, ‘আমার ঘাটে ২৫-৩০টি মাছ ধরার ট্রলার রয়েছে। আজকে আটটি ট্রলার মাছ ধরার জন্য বের হয়েছে। অন্য ঘাট থেকেও বেশ কয়েকটি ট্রলার মাছ শিকারে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘জেলেদের বলে দেওয়া হয়েছে, যাতে ওপারে সীমানার দিকে না যায়। তবে সাগরে জলসীমায় বয়া না থাকার কারণে জোয়ার-ভাটায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার জলসীমা বুঝতে কষ্ট হয় জেলেদের। অনেক সময় জেলেরা বুঝতে না পেরে মিয়ানমারের জলসীমায় ঢুকে পড়ে। তাই নাফ নদ ও সাগরে জেলেদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে সীমানা বয়া দেওয়া খুবই জরুরি।’
ওদিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে গত রোববার মংডুতে সামরিক জান্তার বর্ডার গার্ড পুলিশ ডিভিশন (নাখাখা-৫)-এর শেষ পোস্টটিও দখল করে নেয় আরাকান আর্মি। এরপর থেকে তিন দিন সীমান্তের ওপার থেকে গোলার শব্দ ভেসে আসেনি।
তবে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে শুক্রবার ভোরে গোলার বিকট শব্দ শুনেছেন বলে জানিয়েছেন সীমান্তের বাসিন্দারা। এমন পরিস্থিতিতে সীমান্তে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের শঙ্কাও দেখা দিয়েছে।
সীমান্তের বাসিন্দা নুরুল আলম বলেন, ‘বেশ কয়েক দিন পর ভোরে ওপার থেকে গোলার শব্দ পাওয়া গেছে। তবে এর তীব্রতা তুলনামূলক কিছুটা কম। শুনেছি ওপারে মংডু পুরোপুরি আরাকান আর্মির দখলে। তাই সেখানকার রোহিঙ্গারা পালানোর চেষ্টা করছে। ফলে তারা এপারে প্রবেশের চেষ্টা চালাতে পারে। তবে আমাদের সীমান্তে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন।’
বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের চট্টগ্রাম মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সোয়াইব বিকাশ বলেন, ‘নাফ নদে আমাদের টহল জোরদার রয়েছে। পাশাপাশি টেকনাফ-সেন্টমার্টিন রুটে নৌযানগুলো যাতে নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে সে বিষয়ে আমরা কাজ করছি। পাশাপাশি অনুপ্রবেশ রোধেও আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।’
স্বামী-স্ত্রী একসঙ্গে কাজে বেরিয়েছিলেন। ঘরে রেখে গিয়েছিলেন চার শিশুকে। কিন্তু কর্মস্থলে যাওয়ার পথেই সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান স্বামী। একই দুর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন স্ত্রী, যিনি এখনো জানেন না, তার স্বামী আর বেঁচে নেই। কিছু বুঝে উঠতে পারছে না ওই দম্পতির চার শিশুসন্তান, নির্বাক হয়ে পড়েছে তারা। গতকাল বোববার সকাল ছয়টার দিকে সিলেটের তেলিবাজার এলাকায় ট্রাক ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে আটজন নিহত হন, যাদের মধ্যে ওই স্বামী-স্ত্রীও ছিলেন। এছাড়া একইদিন নোয়াখালীতে মায়ের সামনে ড্রামট্রাকের চাপায় শিশু, কুমিল্লায় বাবার মোটরসাইকেল থেকে ছিঁটকে পড়ে ছেলে এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে শ্যালক ও দুলাভাই নিহত হয়েছেন। তবে শুধু একদিন নয়;
দিন যত যাচ্ছে দীর্ঘ হচ্ছে সড়কে মৃত্যুর মিছিল। থেমে যাচ্ছে সম্ভাবনাময় আগামীর স্বপ্ন। কেউ যেন দেখছে না, শুনছে না স্বজনদের আহাজারি। এত নিয়ম ও আইন তবুও থামানো যাচ্ছে না এই মৃত্যুর যাত্রা। সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু এখন প্রতিদিনের সংবাদ শিরোনাম। প্রতিদিনই সারাদেশে সড়কে প্রাণ যাচ্ছে মানুষের।
সিলেট: নিহত ব্যক্তিদের সবাই নির্মাণশ্রমিক। আহত হয়েছেন অন্তত ১২ জন। নিহত ব্যক্তিরা হলেন– সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার সরিষা নার্গিস (৪৫), দিরাইয়ের সেচনী গ্রামের মোছা. মুন্নি বেগম (৩৫), দিরাইয়ের ভাটিপাড়া গ্রামের নুরুজ আলী (৬০), ভাটিপাড়া নূর নগরের ফরিদুল (৩৫), বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২); সিলেটের কোম্পানীগঞ্জের শিবপুর গ্রামের পান্ডব বিশ্বাস (২০) ও পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামান (৪৫)।
আহত কয়েকজন জানান, ভবনে ঢালাইয়ের কাজের জন্য সিলেটের আম্বরখানা থেকে একটি পিকআপে করে দক্ষিণ সুরমার লালাবাজারের দিকে যাচ্ছিলেন তারা। পিকআপে ২০ জন ছিলেন। সঙ্গে ছিল ঢালাই মেশিন। পিকআপটি তেলিবাজার এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক আসা কাঁঠালবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় পিকআপে থাকা সবাই ছিটকে পড়েন। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পুটামারা গ্রামের বদরুজ্জামানের স্ত্রী হাফিজা বেগম (২৮) আহত হয়েছেন তার । তিনি সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
দুর্ঘটনার বিষয়ে হাফিজা জানান, পিকআপে করে কাজে যাচ্ছিলেন। পথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষ হয়। এতে তিনি মাথায় আঘাত পান। এরপর আর কিছু মনে নেই। হাসপাতালে জ্ঞান ফেরার পর জানতে পারেন, তিনি চিকিৎসাধীন। তার ধারণা স্বামীও বেঁচে আছেন, একই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বেলা পৌনে দুইটার দিকে হাফিজাকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য ক্যাজুয়ালটি বিভাগ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় হাসপাতালের শয্যায় বসে ছিল তার চার সন্তান।
আর নিহত আটজনের মরদেহের সঙ্গে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে বদরুজ্জামানের মরদেহও। মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন বদরুজ্জামানের চাচাতো ভাই সালেহ আহমদ। তিনি বলেন, বদরুজ্জামান চার শিশুসন্তান রেখে গেছে। তিন ছেলে, এক মেয়ে। কাজের জন্য সকালে স্বামী-স্ত্রী বেরিয়েছিল। পথে একজন (বদরুজ্জামান) মারা গেছে, আরেকজন হাসপাতালে। তাদের চারটি সন্তান আছে। এখন বাচ্চাগুলোর ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা চিন্তিত।
নিহত দুই ভাই: নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মুক্তিখলা গ্রামের দুই ভাই আজির উদ্দিন (৩৫) ও আমির উদ্দিন (২২) রয়েছেন। প্রায় ১০ বছর ধরে সিলেট নগরের সুবিদবাজার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে নির্মাণশ্রমিকের কাজ করতেন। বেলা একটার দিকে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে গিয়ে নিহত দুই ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করেন তাদের খালাতো ভাই শামীম আহমদ। তিনি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দুর্ঘটনার খবর ও নিহত ব্যক্তিদের ছবি দেখে সন্দেহ হলে তিনি হাসপাতালে আসেন। পরে মরদেহ দেখে দুই ভাইকে শনাক্ত করেন। বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানানো হয়েছে। তারা সিলেটের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। একসঙ্গে দুই ভাইকে হারিয়ে পরিবারে মাতম চলছে।
নোয়াখালী: সুবর্ণচরে মায়ের সামনে ড্রামট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মো. ইয়ামিন (৮) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে সোনাপুর–চেয়ারম্যানঘাট মহাসড়কের পরিষ্কার রাস্তার মাথা এলাকার ডাক্তার মসজিদের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত ইয়ামিন উপজেলার চরক্লার্ক ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরবায়োজিদ গ্রামের শাহাদাত হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে বাড়ি থেকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশে বের হন ইয়ামিন ও তার মা বকুল আক্তার। পরে পরিষ্কার বাজার এলাকার রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে তারা যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় মাইজদী থেকে চেয়ারম্যানঘাটগামী একটি বেপরোয়া ড্রামট্রাক অটোরিকশাকে ওভারটেক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উঠে যায় এবং ইয়ামিনকে চাপা দেয়। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই শিশুটির মৃত্যু হয়।
চরজব্বর থানার ওসি মোহাম্মদ লুৎফর রহমান বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ট্রাকটি জব্দ করে থানায় নিয়ে এসেছে। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
দেবিদ্বার(কুমিল্লা): দেবিদ্বারে বাবার মোটরসাইকেল থেকে ছিঁটকে পড়ে এক মাদরাসার ছাত্রের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
গতকাল সকাল ১০টার দিকে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌরসভার বানিয়াপাড়া আজগর আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত মো. খালিদ হোসেন (৮) দেবিদ্বার উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের গোপালনগর গ্রামের সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন স্বপনের ছেলে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই শিশু তার বাবার সঙ্গে দেবিদ্বারের পৌর এলাকার বাবুস সালাম নামে একটি হাফিজিয়া মাদরাসা থেকে বাড়ির দিকে যাচ্ছিল। এ সময় পৌর এলাকার আজগর আলী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে এসে পৌছালে ভাঙাচোরা সড়কের ঝাঁকুনিতে মোটরসাইকেল থেকে ছিঁটকে পড়ে পরে পিছন থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই শিশুটি মারা যায়। পরে তারা বাবা শিশুটির রক্তাত্ব দেহ নিয়ে বাড়ির দিকে চলে যায়।
দেবিদ্বার থানার ওসি মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, শিশুটি ঘটনাস্থলে মারা গেছে। ঘটনা শোনার পর পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ: নাচোল উপজেলার নাচোল-আড্ড সড়কের বেনিপুর মোড়ে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই শ্যালক ও দুলাভাই নিহত হয়েছে। এরা হলেন সোহাগ (১৭) এবং রবিউল আউয়াল (২২)। গতকাল সকাল ছয়টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নাচোল থানার ওসি সুকোমল চন্দ্র দেবনাথ জানান, সোহাগ ও রবিউল আওয়াল সম্পর্কে শ্যালক ও দুলাভাই। তারা মোটরসাইকেলযোগে নওগাঁর দিকে যাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে নাচোল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
তিনি জানান, সোহাগের বাড়ি নাচোল ও তার দুলাভাই রবিউল আওয়ালের বাড়ি শিবগঞ্জ উপজেলায়। লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহায়তা করেছেন সিলেট, নোয়াখালী, দেবিদ্বার (কুমিল্লা) ও চাপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে কক্সবাজারের মহেশখালীতে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্র বন্দর মাতারবাড়ির মূল অবকাঠামো নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। রোববার (৩ মে) থেকে বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ জেটি ও টার্মিনাল নির্মাণের এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু হয়। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম এই তথ্য নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার এক বছর পর মাঠপর্যায়ে এই কাজ শুরু হওয়া প্রকল্পের জন্য একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (জাইকা) আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতায় বাস্তবায়িত এই মেগা প্রকল্পের প্রথম প্যাকেজের কাজ করছে জাপানের দুই স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান পেন্টা ওশান এবং টোয়া কর্পোরেশন। প্রায় ৬ হাজার ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই প্যাকেজের আওতায় বন্দরের মূল জেটি ও টার্মিনাল কাঠামো তৈরি করা হবে। গত বছরের এপ্রিলে এই প্রতিষ্ঠান দুটির সাথে চুক্তি সই হলেও কারিগরি প্রস্তুতি ও মালামাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া শেষে এখন প্রকল্প এলাকায় পুরোদমে দৃশ্যমান কাজ শুরু হলো।
নির্মাণকাজের প্রাথমিক পর্যায়ে জাপান থেকে আনা একটি বিশেষায়িত বিশালাকার ড্রেজার দিয়ে ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় সমুদ্র থেকে প্রায় ২৫ কোটি ঘনফুটের বেশি মাটি ও বালি উত্তোলন করা হবে, যা দিয়ে প্রকল্প এলাকা ভরাট করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্প্রসারণ কাজের জন্য মাটি সংরক্ষণ করা হবে। এই প্যাকেজের অধীনে আগামী চার বছরের মধ্যে ৪৬০ মিটার দীর্ঘ একটি আধুনিক কন্টেনার জেটি এবং ৩০০ মিটার দীর্ঘ একটি মাল্টিপারপাস জেটিসহ আনুষঙ্গিক ব্যাকইয়ার্ড সুবিধাদি গড়ে তোলা হবে।
মহেশখালীর ১ হাজার ৩০ একর জায়গায় গড়ে ওঠা এই প্রকল্পের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ২৪ হাজার ৩৮১ কোটি টাকা। মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরটি চালু হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যে আমূল পরিবর্তন আসবে এবং বড় আকৃতির মাদার ভেসেল বা গভীর সমুদ্রগামী জাহাজ সরাসরি বন্দরে ভিড়তে পারবে। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৯ সালের মধ্যে জেটি ও টার্মিনালের নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ করা হবে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে ২০৩০ সাল থেকে বন্দরটির বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রাক্কলন অনুযায়ী, মাতারবাড়ি বন্দরটি ২০২৯ সালে চালু হওয়ার পর বছরে অন্তত ১১ লাখ টিইইউএস কন্টেনার হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হবে। দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৪১ সাল নাগাদ এই হ্যান্ডলিং ক্ষমতা ২৬ লাখ টিইইউএসে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এই বন্দরটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হলে বাংলাদেশের সমুদ্র অর্থনীতি যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি এটি দক্ষিণ এশিয়ায় একটি অন্যতম প্রধান পরিবহণ ও বাণিজ্যিক হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।
অতিবৃষ্টি ও উজানের পাহাড়ি ঢলে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর জনপদে বোরো ধানের মহাবিপর্যয় নেমে এসেছে। গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষণ ও সীমান্ত নদী দিয়ে নেমে আসা পানির তোড়ে সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমির আধপাকা ও পাকা ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। প্রাথমিক হিসাবে এই দুই জেলায় অন্তত ৫০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ। চোখের সামনে সোনালি ফসল পচে নষ্ট হতে দেখে ১ লাখ ১২ হাজারের বেশি কৃষক পরিবার এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও হাহাকারের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
সুনামগঞ্জ জেলায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সবচেয়ে ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন হাওরের প্রায় ১৬ হাজার হেক্টর জমির ধান সম্পূর্ণ নিমজ্জিত হয়েছে, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০০ কোটি টাকা। এখানকার ৮০ হাজারের বেশি কৃষক সরাসরি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। কৃষকদের অভিযোগ, ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণে বিভিন্ন অনিয়মের কারণে কাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে, যা পাহাড়ি ঢলের চাপ সামলাতে পারছে না। শ্রমিক সংকট এবং কোমর সমান পানিতে হারভেস্টার মেশিন চালাতে না পারায় কৃষকরা কাঙ্ক্ষিত গতিতে ধান কাটতে পারছেন না, ফলে পানিতে থাকা অবশিষ্ট ধানগুলো দ্রুত পচে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জ জেলার হাওরাঞ্চলেও পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় ইটনা ও অষ্টগ্রাম উপজেলার প্রায় ৯ হাজার ৪৫ হেক্টর জমির বোরো ধান পানির নিচে চলে গেছে। এতে ৩২ হাজারের বেশি কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০০ কোটি টাকায়। বৈরী আবহাওয়ার কারণে জীবনঝুঁকি নিয়ে কৃষকরা কিছু ধান কাটার চেষ্টা করলেও বারবার বজ্রপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ের কারণে কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, ধনু ও মেঘনা নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও উজানের পানির প্রবাহ অব্যাহত থাকায় নিম্নাঞ্চলগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে।
প্রকৃতির এমন রুদ্রমূর্তিতে হাওরজুড়ে এখন লাখো কৃষকের নিঃস্ব হওয়ার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। ধান কাটার শ্রমিকরা জানিয়েছেন, ঝোড়ো বাতাস ও বজ্রপাতের মধ্যে দীর্ঘক্ষণ শীতল পানিতে দাঁড়িয়ে কাজ করা অসম্ভব হয়ে পড়ছে, যা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তুলছে। অনেক এলাকায় পাকা ধান কাটার সুযোগ না পাওয়ায় ঋণগ্রস্ত কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কৃষি যন্ত্রপাতির অভাব এবং বৈরী আবহাওয়ার এই দ্বিমুখী চাপে ফসলের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা এখন প্রায় অসম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আগামী এক সপ্তাহ আবহাওয়া পরিস্থিতি উন্নতির কোনো লক্ষণ না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। ভারতের চেরাপুঞ্জিতে অতিবৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় পাহাড়ি ঢল আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে। এমতাবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহায়তায় বিশেষ ত্রাণ ও প্রণোদনা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শুরু হলেও মাঠের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সহায়তা কতটা কৃষকের দুর্ভোগ লাঘব করবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সামগ্রিকভাবে, হাওর জনপদে এখন শুধুই কষ্টের ফসল হারানোর বেদনা আর কান্নার রোল।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে টানা বৃষ্টিপাতে জমির ধান তলিয়ে যেতে দেখে আহাদ মিয়া (৫৫) নামে এক কৃষক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। শনিবার (০২ মে) সকালে উপজেলার গোয়ালনগর ইউনিয়নের রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত আহাদ ওই গ্রামের হরমুজ আলীর ছেলে।
মৃতের স্বজনরা জানান, সকাল সাড়ে ৮টায় কৃষক আহাদ মিয়া শ্রমিক নিয়ে হাওরে তার জমির পাকা ধান কাটতে যান। তবে জমিতে গিয়ে দেখেন তার জমি পানিতে তলিয়ে গেছে দেখে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে একপর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন কৃষক আহাদ মিয়া।
মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত আহাদ মিয়ার ভাই ও ইউপি সদস্য আহামেদ আলী জানান, চোখের সামনে নিজের ৬ বিঘা জমির পাকা ধান পানিতে তলিয়ে যেতে দেখে সহ্য করতে পারেনি কৃষক আহাদ। জমিতেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইএনও) শাহীনা নাছরিন বলেন, টানা বৃষ্টিপাতের কারণে অনেক কৃষকের জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। একজন কৃষক ধান কাটতে গিয়ে জমিতে মারা গেছেন বলে জানতে পেরেছি।
নতুন প্রজন্মের নেতেৃত্বেই আগামীর বাংলাদেশ সৃষ্টি হবে জানিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমি চাই তোমরা খেলাধুলার মাধ্যমে বাংলাদেশের হয়ে সারা পৃথিবীতে প্রতিনিধিত্ব করবে। তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। তোমাদের মধ্য থেকেই ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিকমানের খেলোয়াড় তৈরি হবে। পড়ালেখার পাশাপাশি সবাইকে খেলাধুলা করতে হবে। রাষ্ট্র ও সরকার তোমাদের পাশে আছে। ভবিষ্যৎ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে তোমরাই। আমাদের সময় প্রায় শেষ। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব, তোমাদেরকেই এগিয়ে নিতে হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন বড় খেলোয়াড় হবে, বড় মানুষ হবে, নেতা হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে। খুদে ক্রীড়াবিদদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের... আজকের এই নতুন কুড়ি স্পোর্টস অনুষ্ঠানের... চিফ গেস্ট কারা? এই যে গ্যালারিতে ছোট বন্ধুরা বসে আছো তোমরা হচ্ছে আজকের অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট।
গতকাল শনিবার বিকালে সিলেট স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষার্থীদের প্রতি এ আহ্বান জানিয়েছেন। সিলেট স্টেডিয়ামে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এই অনুষ্ঠান হয়। এতে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস এর প্রামাণ্য চিত্র দেখানো হয়। এরপর ‘আমরা নতুন, আমরা কুঁড়ি’ থিম সং প্রচার করা হয়।
এর আগে, বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটে সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে উপস্থিত হন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরপর বিকেলে ৫টা ৮ মিনিটে ক্রীড়াঙ্গনের প্রতিভা অন্বেষণের এই প্রতিযোগিতার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। একই সঙ্গে সারাদেশের জেলা স্টেডিয়ামগুলোতেও ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন খুদে ক্রীড়াবিদরা।
শিশু-কিশোরদের প্রতিভা অন্বেষণে ১৯৭৬ সালে যাত্রা শুরু হয়েছিল নতুন কুঁড়ির। বাংলাদেশ টেলিভিশনের আশির দশকের জনপ্রিয় এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অনেক প্রতিভা উঠে এসে শিল্প অঙ্গনে। বহু বছর পর সেই পরিচিত নাম আবার ফিরে এসেছে, তবে এবার মঞ্চ নয়, সবুজ মাঠ-গালিচায়। যাত্রা শুরু হলো নতুন এক স্বপ্ন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাদের মধ্য থেকেই দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে। সারাদেশে ৩০ লক্ষ বাচ্চা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে। এসব বাচ্চাদের ভেতর থেকে প্রতিভাবানরা একদিন আমাদের দেশের জন্য বিদেশ থেকে স্বর্ণপদক জয় করবে, সুনাম বয়ে আনবে।
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের প্রধান অতিথি হিসেবে সম্বোধন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজকে এই গ্যালারিতে বসে থাকা ক্ষুদে শিক্ষার্থীসহ সারাদেশের ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা, তোমরাই এই অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি। ছোট বন্ধুরা, আমাদের সময় প্রায় শেষ। এখন বাংলাদেশ তাকিয়ে আছে তোমাদের দিকে। আমরা শুরু করে দিয়ে যাব। বাংলাদেশকে তোমাদের সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তোমরা কী পারবে?’
এই সময়ে পুরো গ্যালারিতে অবস্থানকারী শিক্ষার্থীরা উচ্চ কন্ঠে বলেছে, ‘হ্যাঁ পারবো।’ জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি জানি তোমরা অবশ্যই সবাই পারবে ইনশাল্লাহ।’
ছোট্ট শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে তোমরা নেতৃত্ব দেবে, তোমরা সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। এই বাংলাদেশে তোমাদের মধ্য থেকে এমপি হবে, মন্ত্রী হবে, প্রধানমন্ত্রী হবে, প্রেসিডেন্ট হবে ইনশাল্লাহ।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তোমাদের প্রত্যেককে গড়ে উঠতে হবে। তাহলেই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। আগামীর বাংলাদেশ সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে তোমাদের উপরে। তোমরা যত ভালোভাবে সুন্দরভাবে গড়ে উঠবে, বাংলাদেশ তত সুন্দরভাবে শক্তিশালী ভিত্তির উপরে গড়ে উঠবে।’
নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চিন্তা কীভাবে আসলো সেই গল্প তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের আইডিয়াটা কেমন করে আসলো সেই গল্পটা আমি বলব। আজকে থেকে সাড়ে চার বছর হবে আগের কথা, আমিনুল গিয়েছিল লন্ডনে। একদিন আমরা বসে আড্ডা দিচ্ছিলাম, আমিনুল স্পোর্টসের মানুষ, আমি স্পোর্টস নিয়ে আলাপ শুরু করলাম, স্পোর্টস নিয়ে আমরা কি কি করব? বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ করলাম। আলাপ করতে করতে এক পর্যায়ে আমরা খাবার টেবিলে বসে ঠিক করলাম যে আমরা নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস চালু করবো বাংলাদেশে।’
বক্তব্য শুরুর আগে স্টেডিয়ামের উন্মুক্ত মাঠে বিকেএসপির শিক্ষার্থীরা ক্রিকেট, কাবাড়ি, ফুটবল, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার ও মার্শাল আটর্স সহ মোট ৮টি ইভেন্টে অ্যাক্রোব্যাট প্রদর্শন করে। প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের ক্রীড়া শৈলী দেখেন এবং করতালির মাধ্যমে তাদের উৎসাহিত করেন।
বক্তব্যের শেষে সিলেটসহ ৬৪ জেলায় একযোগে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের ট্রফি ও লগো উন্মোচন করেন। এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিণী জুবাইদা রহমানও ছিলেন। অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল আলম বক্তব্য রাখেন।
সিলেটের বাসিয়া খালের পুনঃখনন উদ্বোধন:
বাবা শহীদ প্রেডিসেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত সিলেটের বাসিয়া নদীর খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে কোদাল হাতে নিয়ে মাটি কেটে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সিলেট শহর থেকে প্রায় ৭ কিলোমিটার দূরে কাশিপুর ইউনিয়নের এই বাসিয়া নদী সুরমা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত।
পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনে উপস্থিত এলাকাবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই যে বাসিয়ায় যে নদীটা আছে, এখানে যে খালটা— এটা সেই ৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। তারপরে আবার এই খাল চলতে চলতে এখন বন্ধ হয়ে গেছে। এই খালটা আমরা আবারো কাটতে চাই।
বাসিয়া নদীর এই খাল আবারো কাটার কারণ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই খাল যদি আমরা কাটি, প্রায় ৮০ হাজার কৃষক প্রথমত সরাসরি উপকার পাবে। এর বাইরে দেড় লাখ কৃষক পরোক্ষভাবে উপকৃত হবে। যাদের জমি-জমা আছে এই খালের দুই পাশে, ফসল যে উৎপাদন হয়— প্রায় ৭ হাজার মেট্রিক টন ফসল বেশি উৎপাদন হবে।
তিনি আরো বলেন, শুধু এই খাল না, সারা বাংলাদেশে এরকম অনেক বাসিয়া খাল আমরা খনন করব। কারণ, আমরা যদি খালগুলো খনন করতে পারি, কৃষক ভাইদের জন্য সুবিধা হবে।
বিএনপির সরকার কৃষকবান্ধব উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের সময় যখন এসেছিলাম, তখন আমি বক্তব্যে বলেছিলাম— বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে, আমরা কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড প্রদান করব। এই কাজ শুরু করেছি টাঙ্গাইল থেকে। গত মাসের ১৪ তারিখে আমি কৃষক কার্ডের উদ্বোধন করেছি। তারপর এখন ধীরে ধীরে বাংলাদেশের কৃষক ভাইদেরকে আমরা কৃষক কার্ড পৌঁছে দেব।
কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা সুদসহ ঋণ মওকুফ করা হয়েছে জানিয়ে প্রধানন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই এ দেশের কৃষক ভাইয়েরা ভালো থাকুক, আমরা চাই গ্রামের মানুষরা ভালো থাকুক। গ্রামসহ সব মানুষই ভালো থাকুক। কিন্তু যেহেতু বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে। মেজরিটি মানুষ গ্রামে বসবাস করে, এজন্য এই মেজরিটি মানুষ যাতে দেশে ভালো থাকতে পারে সেটিই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য, সেটিই হচ্ছে আমাদের উদ্দেশ্য। দেশের ৬০টি জায়গায় ইতোমধ্যে খাল খনন শুরু হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, এই এলাকায় আমরা এই বাসিয়া খাল পুনঃখননের মাধ্যমে খাল খননের কাজ শুরু করলাম। এর মধ্যে দেশের অনেকগুলো জায়গায় প্রায় ৬০ টার মতো জেলায় এর মধ্যে খাল খনন শুরু হয়ে গেছে। এই খাল খনন এবারই শেষ হবে না। এটা প্রায় ৪০ কিলোমিটার। তার মধ্যে ২৩ কিলোমিটার খাল আমরা পুনঃখনন করব।
তিনি বলেন, এই ২৩ কিলোমিটার খাল খনন করতে আমাদের দুটো শুকনো মৌসুম লাগবে। এই এখন শুরু হলো, কিন্তু এখন তো বর্ষা শুরু হয়ে গেছে। এ বছর তো আর শেষ হবে না। কিন্তু এই বছর নভেম্বর থেকে আবার আমরা খাল খনন শুরু করবো। শুকনো মৌসুমটা শুরু হলে এবং ইনশাআল্লাহ আগামী বছর আমরা চেষ্টা করব এই ২৩ কিলোমিটার খাল সম্পূর্ণভাবে পুনঃখনন করতে। এর ফলে কৃষক ভাইয়েরা পানির সুবিধা পাবে। একইভাবে এলাকার মানুষরা পানির সুবিধা পাবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শুধু খাল খনন নয়, এই খালের দুই পাশে ২৩ কিলোমিটারে আমরা ৫০ হাজার বৃক্ষরোপণ করব। এর ফলে আমরা খালটাকেও ধরে রাখতে পারব। এলাকার মানুষরাও বসার জায়গা পাবে গাছের তলায়। পাশাপাশি আমরা চেষ্টা করব সেখানে বিভিন্ন ফলাদি গাছও রোপণ করতে, যাতে এলাকার মানুষ ফল-ফলাদি খেতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, ‘এখন বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি সরকারকে ১২ তারিখে নির্বাচনে ভোট দিয়ে নির্বাচন করেছে, যেই সরকার জনগণের জন্য কাজ করবে। কারণ, আমাদের একমাত্র জবাবদিহিতা হচ্ছে এই দেশের মানুষের কাছে, এই দেশের জনগণের কাছে। সেজন্যই আমরা সেই সকল কর্মসূচি পালন করতে চাই, সেই সকল কাজ আমরা করতে চাই— যেগুলোতে জনগণের উপকার হবে।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের স্বার্থ দেখা। এই সরকারের এক নম্বর দায়িত্ব হচ্ছে, এই দেশের মানুষের সমস্যার সমাধান করা।’
দেশের বন্ধ কলকারখানা চালু হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কথা কম কাজ বেশি। এখন কাজ হচ্ছে, দেশ গড়ার কাজ করতে হবে। আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে, দেশে যে সকল কল-কারখানা বন্ধ আছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই কল-কারখানাগুলো আমরা চালু করব।’
এ সময়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, সিলেটের বাসিয়া নদীর এই খাল ১৯৭৭ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খনন করেছিলেন। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর সংযোগকারী এই বাসিয়া নদীটি দীর্ঘদিন ধরে নাব্যতা হারিয়ে মৃতপ্রায় অবস্থায় পড়ে আছে।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী জুবাইদা রহমান, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদির লুনা, এম এ মালেক, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীসহ সরকারি ঊধ্ব©তন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকা-সিলেট রুটে ‘সড়ক ও রেল’ যোগাযোগ উন্নত করা হচ্ছে:
গতকাল সিলেট সিটি করপোরেশনের নগর ভবন প্রাঙ্গণে এক সুধী সমাবেশে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘ঢাকা-সিলেট রুটে সড়কের অবস্থা এতোটাই খারাপ যে প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙাচোরা থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়। আমি নির্বাচনী প্রচারের সময় এসে বলেছিলাম, আমরা সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে সিলেট-ঢাকা সড়ক নির্মাণের কাজে হাত দেব।’
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকার গঠনের পরে এ বিষয়ে সড়কের দায়িত্বে যে মন্ত্রণালয় আছে আমি তাদের সাথে কথা বলে জানতে পারলাম, কাজটি যখন শুরু হয়, বিভিন্ন জায়গায় তাদের কোম্পানিগুলোর যে সাইট অফিস থাকে সেখানে ১১টিতে জমি অধিগ্রহণে সমস্যা রয়ে গেছে। এছাড়াও প্রশাসনিকও নানা জটিলতা রয়েছে।’
তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আশা করছি দ্রুততম সময়ে আমরা এই কাজটি শুরু করতে পারব। দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে তা শেষও করা হবে। ফলে ঢাকা টু সিলেট, সিলেট টু ঢাকা বাই রোডে যাতায়াতে মানুষকে আর এত কষ্ট ভোগ করতে হবে না।
সিলেট সিটি করপোরেশন এলাকায় সুরমা নদীর দুই পাড়ে সৌন্দর্যবর্ধনসহ বন্যা প্রতিরোধী অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে এই সুধী সমাবেশ হয়। বেলা সাড়ে ১১টায় চাঁদনী ঘাট এলাকায় এ সমাবেশ শুরু হয়।
সড়কপথের চেয়ে রেলপথের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাস্তা যতই বাড়াতে থাকি তত বেশি গাড়ি নামবে। ট্রাফিক বাড়বেই। এছাড়াও রাস্তা সম্প্রসারণের কারণে ফসলের জমিও নষ্ট হয়। তবে অবশ্যই রাস্তার উন্নয়ন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন আমরা করব। কিন্তু মূলত রেলটাকে আমরা বেশি গুরুত্ব দিতে চাই।’
সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সিলেট-ঢাকা রুটে রেল যোগাযোগ উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ শুরু হবে এবং সিলেট-ঢাকা রেলপথে ডাবল লাইন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে আমরা কম খরচে যাতায়াত করতে পারব। একই সাথে ব্যবসায়ীরাও কম খরচে তাদের ব্যবসায়িক মালামাল আনা-নেয়া করতে পারবেন।
গ্রামাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এবং যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)-এর আদলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরের মানুষ স্বাস্থ্য সেবা পেলেও, গ্রামের মামুষ পরিপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। তবে আমরা সচেতনতার মাধমে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনতে পারি। এ লক্ষ্যে সারাদেশে ১ লক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। যার প্রায় ৮০ শতাংশই নারী। এ সকল স্বাস্থ্যকর্মী সারাদেশের প্রান্তিক মানুষের কাছে গিয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক পরামর্শ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, সিলেট মেডিকেল কলেজের অধীনে ২৫০ শয্যার হাসপাতাল দ্রুত চালুর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যা পরবর্তীতে ১২০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। সিলেটে শিল্প-কারখানা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি আইটি খাতেও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বিশ্বাস করি, পরিশ্রম দিয়ে আমরা উন্নত দেশের মতো বাংলাদেশকেও গড়ে তুলতে পারব। এই আত্মবিশ্বাস নিয়েই সরকার দেশ পরিচালনা শুরু করেছে। তাইতো এ দেশকে এগিয়ে নিতে আমাদের সকলের কাছে একটাই প্রত্যয়, একটাই স্লোগান ধারণ করতে হবে, তা হলো- ‘করব কাজ, গড়ব দেশ’ সবার আগে বাংলাদেশ’।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, সংসদের হুইপ জি কে গউছ এবং সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে অতিথি সারিতে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা, সংরক্ষিত নারী আসনে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শাম্মী আখতার, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এনামুল হক চৌধুরী।
গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ ও উজানের ভারতীয় পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৫শ হেক্টরের বোরো ফসল এবং প্রায় ৫০ হেক্টরের মতো সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় বোরো ফসলের আরও ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। আগামী ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বর্ষণের পূবার্ভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। উঠতি আধাপাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে না পেরে ঋণের জালে আটকা কৃষকরা হতাশ হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার শমশেরনগর, পতনঊষার ও মুন্সিবাজার ইউনিয়নের ব্যাপক এলাকায় উঠতি বোরো ধান নিমজ্জিত রয়েছে। পানি কিছুটা নামতে শুরু করলেও ফের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় উজান থেকে ঢলে আবারও জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে পতনঊষারের কেওলার হাওরসহ নিম্নাঞ্চল এলাকায় বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এছাড়া চারদিন ধরে অনেক স্থানে সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত থাকায় বিনষ্ট হয়ে পড়ছে।
কৃষক ফজলু মিয়া, আনোয়ার খাঁন, আকতার মিয়া ও ফটিকুল ইসলাম বলেন, বন্যা ও জলাবদ্ধতায় গত পাঁচদিন ধরে কেওলার হাওর এলাকাসহ বিস্তীর্ণ বোরো ফসল পানির নিচে থাকায় সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শমশেরনগর, পতনঊষার, আলীনগর, মুন্সিবাজার ও রহিমপুর ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার হেক্টর বোরো ধান সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং আরও এক হাজার হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। এছাড়া এসব এলাকার প্রায় শতাধিক হেক্টরের সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণরূপে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করেন তারা। আরও বৃষ্টিপাত হলে ক্ষতির পরিমাণ দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।
কৃষকরা বলেন, কৃষি অফিস ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য উপস্থাপন করছে না। তারা সবসময় প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এড়িয়ে যায়। অনেকেই মহাজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আবার কেউ কেউ এনজিওর কাছ থেকে ঋণ নিয়ে চাষাবাদ করেছেন। ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে এসব কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মওসুমে কমলগঞ্জে ৫ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। বন্যা ও জলাবদ্ধতায় এ পর্যন্ত ২৮০ হেক্টর সম্পূর্ণ এবং ৩০৫ হেক্টরের বোরো ফসল আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া চলতি মওসুমে ৯৫০ হেক্টর সবজি ক্ষেতের মধ্যে ৩৫ হেক্টর সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও কিছুটা আংশিক ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে শ্রীমঙ্গলস্থ আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, আগামী ৪৮ ঘণ্টার আবহওয়া পূবার্ভাসে বলা হয়েছে সিলেট বিভাগসহ দেশের কয়েকটি বিভাগের কিছু কিছু স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণ হতে পারে। এপ্রিল মাসে এখানে বৃষ্টিপাত হয় ৪৮৩ মিলিমিটার এবং ২৫ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত ৩১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় বলেন, বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় শনিবার দুপুর পর্যন্ত ২৮০ হেক্টর বোরো ফসল সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত এবং ৩০৫ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া ৩৫ হেক্টরের সবজি ক্ষেত সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে অবস্থিত একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের সাবস্টেশনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে ৩৫০ মেগাওয়াট ইলেকট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ (ইজিসিবি) পাওয়ার প্ল্যান্টের ২৩০/১৩২ কেভি ট্রান্সফরমারে এই আগুন লাগে।
খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আধা ঘণ্টার প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। স্বস্তির বিষয় হলো, এই দুর্ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে গ্রিড উপকেন্দ্রের ভেতর হঠাৎ বিকট শব্দ শোনা যায় এবং এরপরই ট্রান্সফরমার থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়লে কেন্দ্রে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তারা দ্রুত ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে আদমজী ইপিজেড ফায়ার স্টেশনের সদস্যরা এসে কাজ শুরু করেন এবং বড় ধরনের বিপদ ঘটার আগেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অগ্নিকাণ্ডের পর পর বিদ্যুৎকেন্দ্র ও গ্রিড উপকেন্দ্র এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে কারিগরি ত্রুটি বা অতিরিক্ত তাপের কারণে ট্রান্সফরমারে আগুন লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আগুনের সঠিক কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানতে তদন্ত চলছে।
নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরিফিন জানান, তদন্ত শেষেই এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
ময়মনসিংহ নগরীতে চলন্ত নাগরদোলা ভেঙে পড়ে ৫ শিশু-কিশোর আহত হয়েছে। শুক্রবার (১ মে) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে নগরীর জয়নুল আবেদীন উদ্যানে এই ঘটনা ঘটে।
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবাইদুল ইসলাম ৫ জন হাসপাতালে ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় সুত্র জানায়, বেশ কয়েকজনকে নিয়ে নাগরদোল ঘুরছিলো। হঠাৎ নাগরদোলাটি ভেঙ্গে নিচে পড়ে যায়। এসব বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হলে তাদেরকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পার্কে অবৈধ ভাবে এসব নাগরদোলা বসে ব্যবসা করে আসছিলো। কর্তৃপক্ষকে এগুলো অপসারন করার বারবার তাগিদ দিলেও দৈনিক চাঁদার কারনে সেগুলো অপসারন করেনি। যার কারনেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসময় পার্ক জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শিবিরুল ইসলাম বলেন, নগরীর জয়নুল উদ্যানে নাগরদোলা ভেঙে পড়ে ৫ শিশু-কিশোর আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের একজনোর অবস্থা গুরুতর। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।
পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) জবাইদুল ইসলাম বলেন, আহতরা সবার বয়স ৮ থেকে ১৫ বছরের মাঝে হবে। তবে, আহদের পরিচয় জানাতে পারেননি তিনি।
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে চাচাতো ভাই আবু বকর সিদ্দিককে (৩৫) বসত বাড়ির সিঁড়ি থেকে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগে মামলা হয়েছে চাচাতো ভাই ইয়াসিন আরাফাত সুজন ও তার শ্যালক রাহাতের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে রাহাতকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
নিহত সিদ্দিক উপজেলার ছয়ানী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খোয়াজপুর গ্রামের চাপরাশি বাড়ির মৃত হাজি আমিন উল্লাহর ছেলে।
শুক্রবার (১ মে) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন র্যাব-১১ সিপিসি-৩ এর কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে রংপুর মহানগরীর হাজিরহাট থানার ১ নম্বর ওয়ার্ডের গংগাহারী এলাকা থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি মো. রাহাত (২২)-কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি একই এলাকার চিত্তনী বাড়ির মো. সোলোমানের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিদ্দিক ঢাকার গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বড় ভাইয়ের খাবারের দোকানে কাজ করতেন। কিছুদিন আগে তিনি বাড়িতে আসেন। গত ২১ এপ্রিল দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বসত ঘরের সিঁড়িতে বসে মোবাইল দেখছিল রাহাত। ওই সময় পূর্ব শক্রতা ও ওমান প্রবাসী সুজনের স্ত্রী নিয়ে বিরোধের জেরে সুজন ও তার শ্যালক রাহাতসহ ৪-৫ জনের একটি দল সিঁড়ি থেকে তাকে তুলে নিয়ে যায়। পরে বাড়ির পাশের একটি পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে মুখে গামছা পেঁচিয়ে লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। পরে তাকে মৃত ভেবে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়রা উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৫ এপ্রিল দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই নিজাম উদ্দিন বাদী হয়ে ২৭ এপ্রিল সুজন ও রাহাতের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি হানিফ চৌধুরীর ছেলে ইয়াসিন আরাফাত সুজন (৩৫) সিদ্দিকের মৃত্যুর পরপরই বিদেশে পালিয়ে গেছেন বলে জানা গেছে।
র্যাব-১১ সিপিসি-৩ কোম্পানির কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুহিত কবীর আরও বলেন, আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য রংপুর মহানগরীরর কোতয়ালি থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
মহান শ্রমিক দিবসে কুমিল্লার শাসন–বুড়িচং–মীরপুর সড়কে সিএনজি চালকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত ‘জিবি’ (টোকেন ফি) আদায়ের প্রতিবাদে শুক্রবার (১ মে) সকালে ভরাসার বাজার, নানুয়ার বাজার ও বুড়িচং উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেন শত শত চালক।
চালকদের অভিযোগ, শাসন গাছা সিএনজি স্টেশনে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে। সকালে হলুদ রঙের টোকেনের নামে ১৫ টাকার বিপরীতে ৩০ টাকা এবং দুপুরের পর লাল টোকেনের ক্ষেত্রেও একইভাবে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়। রাত ৮টার পর আরও বেশি হারে ‘জিবি’ আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ সময় আন্দোলনরত চালকরা কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মো. জসিম উদ্দিন জসিমের গাড়ি ভরাসার বাজার এলাকায় থামিয়ে তাদের দাবি-দাওয়ার বিষয় তুলে ধরেন। তারা জানান, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।
বুড়িচং উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কাসেম বলেন, “চালকরা বিষয়টি আমাকে জানালে আমি ঘটনাস্থলে যাই। তাদের দাবিগুলো যৌক্তিক, এবং দীর্ঘদিন ধরে তারা এই অনিয়মের শিকার হচ্ছেন।”
পরবর্তীতে সংসদ সদস্য বিষয়টি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর নজরে আনেন। দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চালকদের সঙ্গে আলোচনা করেন। তারা ‘জিবি’ আগের হারে নির্ধারণ, অতিরিক্ত আদায় বন্ধ এবং ভাড়ার অনিয়ম দূর করার আশ্বাস দিলে চালকরা তাদের আন্দোলন স্থগিত করেন।
এ ঘটনায় এলাকায় সাময়িক যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরিস্থিতি বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। এবিষয়ে বিএনপির নেতৃবৃন্দ বলেন জিবি যারা তুলে তারা বিএনপির কেউ না,জেলা পরিষদের নাম ভাঙ্গিয়ে এসব অপকর্ম করে যাচ্ছে, এগুলো করতে দেওয়া হবে না।
মাশরুম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন ও দারিদ্র হ্রাসকরণ প্রকল্পের আওতায় অঞ্চল পর্যায়ে খুলনা বিভাগে প্রথমবারের মতো আয়োজিত তিন দিনব্যাপী মাশরুম মেলার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শুক্রবার (১ মে) খুলনা শহিদ হাদিস পার্কে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে অতিথিরা বলেন, সুস্থ থাকতে হলে মাশরুম খাওয়ার কোন বিকল্প নেই। মাশরুমে অনেক গুণাবালী রয়েছে। মাশরুম চাষ করে অনেকে সংসারের খরচ জোগাচ্ছে। এই মেলার মাধ্যমে মাশরুম চাষে অনেকের মধ্যে আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে। অল্প জায়গায় মাশরুমের চাষ করা যায়, খরচ সামান্য এবং এতে ভিটামিন রয়েছে। মাশরুম চাষ করে নিজে উদ্যোক্তা হওয়া সম্ভব।
তারা আরও বলেন, মাশরুম চাষ আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে অমিয় সম্ভাবনার হাতছানি। বেকারত্ব, পুষ্টিহীনতা, মাথাপিছু আয়ের স্বল্পতা, নারী ও বেকার যুবকদের আত্মকর্মসংস্থান, দারিদ্র বিমোচনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় মাশরুম একটি সম্ভাবনাময় ফসল। এ থেকে বোঝা যাচ্ছে মাশরুম জাদুকরী। আপনি মাশরুম চাষ করেন বা নাই করেন, নিজের বাড়িতে খাবার হিসেবে ব্যবহার করেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) আবু সায়েদ মোঃ মনজুর আলম ও আঞ্চলিক বীজ প্রত্যয়ন অফিসার বিভাস চন্দ্র সাহা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তৃতা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোঃ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জেলা কৃষক দলের সভাপতি মোল্যা কবীর হোসেন, ফুলতলা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা সালমা সুলতানা, মাশরুম উদ্যোক্তা মোঃ আজিজুল ইসলাম ও রিপন কুমার রায় বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠান শেষে মাশরুম মেলায় খুলনার বিভিন্ন জেলা থেকে অংশগ্রহণকারী ২২টি স্টলের প্রতিনিধিদের মাঝে সনদপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়া প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারী স্টল প্রতিনিধিদের মাঝে পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, সুপারিশপ্রাপ্ত ১৪ হাজার ৩০০ সহকারী শিক্ষককে খুব শিগগিরই শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়া হবে। শুক্রবার (১ মে) বিকেলে চাঁদপুরের কচুয়া সরকারি পাইলট হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক ফুটবল টুর্নামেন্টের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি সরকারের এই ইতিবাচক অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
শিক্ষামন্ত্রী নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে স্বীকার করেন যে, দ্রুততম সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার কারণে কিছু ক্ষেত্রে প্রশ্ন ও সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। তবে সাধারণ মানুষের কনফিউশন দূর করতে এবং শিক্ষার মান বজায় রাখতে সরকার সবদিক খতিয়ে দেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার কাজ করছে।
এই পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষক সংকট দ্রুত কেটে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নিয়োগের পাশাপাশি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি বদলি প্রক্রিয়া নিয়েও আশার বাণী শুনিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি জানান, শুধু প্রাথমিক নয়, এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমও শিগগিরই শুরু হতে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাদ্দেক হোসেন উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই ঘোষণায় দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা চাকরিপ্রার্থী ও শিক্ষকদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর অবশেষে সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালু হল। শুক্রবার দুপুরে মিয়ানমার থেকে একটি কাঠ বোঝাই ট্রলার টেকনাফ স্থল বন্দরে পৌঁছার মধ্যে দিয়ে বনএরর কার্যক্রম সচল হয়েছে।
শুক্রবার (১ মে) সকালে আরাকান আর্মি নিয়ন্ত্রিত মিয়ানমারের মংডু এলাকা ট্রলারটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে রওনা হয় এবং দুপুর দেড় টার দিকে ট্রলারটি টেকনাফ স্থলবন্দরের ঘাটে এসে পৌঁছে বলে নিশ্চিত করেন বন্দরের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেড-এর টেকনাফ শাখার মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন চৌধুরী।তিনি জানান,“একটি কাঠের বোট বন্দরে পৌঁছেছে।”
এর আগে গত ১৪ এপ্রিল কক্সবাজারের টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ওই সময় তিনি বন্দরের কার্যক্রম সচল করার ঘোষণা দেন।
ঘোষণার প্রেক্ষিতে বন্দর চালু হয়েছে জানিয়ে টেকনাফ স্থলবন্দরের শ্রমিকদের নেতা (মাঝি) শামসুল আলম বলেন,“দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় পর একটি কাঠের বোট বন্দরে এসেছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম ফের চালু হওয়ায় শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।”
জানা যায়, শুক্রবার (১ মে) সকালে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণাধীন মিয়ানমারের মংডুর হায়েনখালী খাল থেকে বোটটি টেকনাফের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। টেকনাফের ব্যবসায়ী মো. ফারুকের কাছে বোটটি এসেছে।
উল্লেখ্য, দেড় বছর ধরে চলমান সংঘাতের কারণে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের প্রায় ২৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা বর্তমানে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এর ফলে নাফ নদী-এর মিয়ানমার অংশে নৌযান চলাচলও তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।
গত বছরের এপ্রিল মাসের শুরুতে পণ্যবাহী জাহাজ থেকে কমিশন (চাঁদা) দাবিকে কেন্দ্র করে আরাকান আর্মির বাধার মুখে মিয়ানমারের জান্তা সরকার সীমান্ত বাণিজ্য কার্যত বন্ধ ঘোষণা করে। এতে শতাধিক আমদানি-রপ্তানিকারক বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন। পাশাপাশি প্রায় ৫০০ কোটি টাকার রাজস্ব হারায় বাংলাদেশ সরকার। তবে দীর্ঘ অচলাবস্থার পর এই কাঠের বোটের আগমন সীমান্ত বাণিজ্য পুনরায় চালুর সম্ভাবনার একটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।