শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬
১০ মাঘ ১৪৩২

বান্ধবীর পর একই স্থান থেকে বন্ধুর লাশ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ২০:৩৮

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে পূর্বাচলের ২ নম্বর সেক্টরের লেক থেকে এবার সাইনুর রশিদ ওরফে কাব্য (১৬) নামে এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহত সাইনুর কাফরুল থানার কচুক্ষেত বউবাজার এলাকার হারুনুর রশিদের ছেলে। সে রাজধানীর আদমজী ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

এর আগে একই স্থান থেকে শিক্ষার্থী সুজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, উচ্চগতিতে মোটরসাইকেল চালানোয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে লেকের পানিতে পড়ে তাদের মৃত্যু হয়। লেকের পানি থেকে মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়।

তাদের মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না তা তদন্তের দাবি নিহতদের পরিবারের।

নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার ‘গ’ সার্কেল মেহেদী ইসলাম নিহতদের পরিবারের বরাত দিয়ে বলেন, সুজানা ও কাব্য ভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী হলেও একসঙ্গে কোচিং করার সুবাদে তাদের মাঝে বন্ধুত্ব হয়। গত সোমবার বিকেলে সুজানা বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়ে কাব্যর সঙ্গে পূর্বাচলে মোটরসাইকেলে করে বেড়াতে আসে। পরে সুজানা আর কাব্য বাড়িতে না ফিরলে পরিবারের লোকজন তাদের বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে থাকে। মঙ্গলবার সকালে পূর্বাচলের ২ নং সেক্টরের ৪ নং ব্রিজের লেক থেকে শিক্ষার্থী সুজানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন সকালে একই স্থান থেকে মোটরসাইকেলসহ কাব্যের লাশ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পূর্বাচলে বেড়াতে এসে রাতের যেকোনো সময় অতিরিক্ত গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পূর্বাচলের লেকে পড়ে গিয়ে তাদের মৃত্যু হয়। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।

কাব্যের বাবা হারুনুর রশীদ বলেন, ‘গত সোমবার বাড়ি থেকে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে বের হওয়ার পর থেকেই কাব্য নিখোঁজ ছিল। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পর তার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মঙ্গলবার সকালে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সুজানার লাশ উদ্ধারের সংবাদ প্রচার হওয়ার পর জানতে পারি কাব্য সুজানার সঙ্গে পূর্বাচলে বেড়াতে গিয়েছিল। বুধবার সকালে একই জায়গা থেকে মোটরসাইকেলসহ কাব্যের লাশ উদ্ধার করা হয়। এটিকে প্রাথমিকভাবে দুর্ঘটনা বলে মনে হচ্ছে। বাকিটা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এলে বলা যাবে। এ ঘটনার পেছনে অন্য কোনো রহস্য আছে কি না তা পুলিশকে খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।’


রূপপুর প্রকল্পে ব্যয় সমন্বয়, জিওবি খাতে সাশ্রয় ১৬৬ কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি

ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় পুনঃনির্ধারণ করা হলেও এতে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) খাতে প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। সেসময় প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ধরা হয় ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের উর্ধ্বতন তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।

সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। যদিও সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- জিওবি খাতে ব্যয় ১৬৬ কোটি টাকা কমেছে, ফলে জাতীয় বাজেটের ওপর সরকারের সরাসরি চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।

প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রতি মার্কিন ডলার ৮০ টাকা ধরে ব্যয় হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু গত ৯ বছরে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে প্রায় ১২২.৪০ টাকা হওয়ায় বৈদেশিক ঋণের অংশ টাকায় রূপান্তরিত হয়ে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় সংশোধিত ডিপিপিতে বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

সংশোধিত প্রস্তাবে ৩৪টি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং ৪৯টি খাতে বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে। জনবল ব্যয়, ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ, বিদ্যুৎ বিল ও পরামর্শক খাতে সাশ্রয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত প্রয়োজন মেটাতে ১০টি নতুন খাত সংযোজন করা হয়েছে।

দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা নিশ্চিত করতে অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ (O&M) সংক্রান্ত সেবা চুক্তি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ চুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে। এছাড়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি জনবলের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার অসমাপ্ত ভবন সম্পন্ন এবং নতুন অধিগ্রহণকৃত প্রায় ৬.০৬ একর জমিতে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাও সংশোধিত প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কোভিড-১৯ মহামারী, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সরবরাহ চেইনের সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি বিবেচনায় Joint Coordination Committee (JCC) ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২-এর প্রভিশনাল টেকওভার সময়সীমা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, একই VVER-1200 প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাঙ্গেরিতে দুই ইউনিটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মিশরে ৪ ইউনিটে ৩০ বিলিয়ন ডলার, তুরস্কে রাশিয়ার মালিকানাধীন ৪ ইউনিটে ২০ বিলিয়ন ডলার এবং বেলারুশে ২ ইউনিটে ১১ বিলিয়ন ডলার। এসব প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় আন্তর্জাতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন।

অন্যদিকে, ভারতের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে VVER-1000 প্রযুক্তির পঞ্চম ও ষষ্ঠ ইউনিটের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি সরবরাহেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের পারমাণবিক শক্তিতে পূর্ব অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর কারণে তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর কমিশনিং কার্যক্রম বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুই ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।


বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিদ্যাদেবী সরস্বতীর পূজা উদযাপন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যাদেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন, বাণী অর্চনা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীসহ সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে শ্বেতশুভ্র কল্যাণময়ী এই দেবীর বন্দনা করা হয়, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘বসন্ত পঞ্চমী’ হিসেবে পরিচিত। জ্ঞান, বিদ্যা, সুর ও শক্তির আধার হিসেবে দেবী সরস্বতীর এই আরাধনাকে ঘিরে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরগুলোতে ছিল উৎসবের আমেজ। ঢাক-ঢোল-কাঁসর, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে প্রতিটি পূজা মণ্ডপ মুখরিত হয়ে ওঠে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল ছিল এই উৎসবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বিশাল সব সরস্বতী প্রতিমা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। এবার জগন্নাথ হলের খেলার মাঠে ৭৬টিরও বেশি মণ্ডপে দেবী সরস্বতীর আরাধনা করা হয়। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পূজার কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তীতে পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। জগন্নাথ হলের পাশাপাশি রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল ও কবি সুফিয়া কামাল হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতেও পৃথকভাবে পূজার আয়োজন ছিল। এই ধর্মীয় উৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়, যেখানে ২৩টি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছিল। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, বনানী পূজা মণ্ডপ এবং শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারের মণ্ডপগুলোতেও ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। জাতীয় প্রেস ক্লাবে সনাতন ধর্মাবলম্বী সাংবাদিকরা বাণী অর্চনার আয়োজন করেন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছোট শিশুদের নিয়ে সরস্বতীর আরাধনায় মেতে ওঠেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। আজ সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো, যা পুরো আয়োজনকে একটি সার্বজনীন রূপ দান করেছে।


টঙ্গীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে হাত বোমাসহ আটক ৩৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক দুইটি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা সহ ৩৫ জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। ‎শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর চারটার দিকে যৌথবাহিনীর দুইটি দল টঙ্গীর এরশাদ নগর ও হাজী মাজার বস্তিতে এ অভিযান চালায়।

এসময় ৫শত গ্রাম হেরোইন, ৩শত ৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি দেশীয় অস্ত্র ও ৩টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে।

অভিযান শেষে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে সাড়ে আটটার দিকে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে যৌথবাহিনীর পৃথক দুইটি অভিযানে টঙ্গীর এরশাদনগর ও হাজী মাজার বস্তি থেকে হেরোইন, ইয়াবা, দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমাসহ ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।

আটককৃতদের টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে মামলা শেষে আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে।


শেরপুরের ধানের শীষের প্রার্থীর জনসভায় মানুষের ঢল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শিডিউল অনুযায়ি প্রচারনী সভা শুরু হয়েছে। প্রকাশ্যে নির্বাচনী সভায় শুরুর প্রথম দিনেই শেরপুরে বিএনপি প্রার্থীর জনসভায় মানুষের ঢল নামে। জন ভোগান্তি এড়াতে শেরপুর জেলা বিএনপি শহরের একপ্রান্তে শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্কের এই জনসভায় দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে চলে আসেন।

জেলা বিএনপির সভাপতি এড.সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শেরপুর সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ হযরত আলী, শহর বিএনপির আহ্বায়ক এড.আব্দুল মান্নান পিপি, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান রুপন ও কামরুল ইসলামসহ আরো অনেকে।

বিএনপি মনোনীত সারা দেশে বিএনপির সর্ব কনিষ্ঠ প্রার্থী ডাঃসানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, আগামি ১২ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে আমি প্রিয়াংকা আপনাদের স্নেহ ধন্য বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছি। এই মনোনয়নের দেওয়ার মধ্য দিয়ে দল ও দলের চেয়ারম্যান, আগামির সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে মুখিয়ে আছেন। তারক রহমান যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন তা মাথা পেতে নিয়েছি। কোন বক্তব্য দিতে আজ আসিনি। শাসক বা প্রশাসক নয়, সেবক হিসেবে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে আজ এই জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, যারা আগামি ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে তাদের সেবক নির্বাচিত করবেন। তিনি বলেন, জনাব তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ গড়তে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছেন। ওই মহানায়কের পরিকল্পনার সাথে শেরপুরের জন্য আপনাদের মতামত নিয়ে একটি সুশৃংখল,সমতা ও ন্যায় ভিত্তিক অর্থনৈতিক মুক্তির একটি পরিকল্পনা আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো।

বক্তব্য নয়, পূর্বে অনেক ভুল থাকতে পারে তার জন্য ক্ষমা চাইতে দাঁড়িয়েছি। আমি প্রুতশ্রুতি দিচ্ছি নির্বাচিত হতে পারলে একটি শান্তির শেরপুর গড়ে তুলবো। কোন অপরাধি, চাঁদাবাজ, জুলুমকারিকে আশ্রয় প্রশ্রয় নয়। অপরাধি আমার দলের, মতের, পথের, স্বজন হলেও কোন ক্ষমা নয়। শত বাঁধার মুখে সত্য,সুন্দরটা ও নির্মোহটা বলে যাবো। তাতে কি হবে সেটা নিয়ে আমি বিন্দু মাত্র ভাববো না। আপনাদের সাথে নিয়েই অপরাধিদের প্রতিহত করা হবে ইনশাআল্লাহ।

আজ থেকে প্রচারণা শুরু হলো। আমি অনেক স্থানে যেতে পারবো আবার অনেক স্থানে যাওয় সম্ভব হবে না। আজ যারা এখানে এসেছেন তারা আমার হয়ে দলের হয়ে আমার আবেদন নিবেদন পৌছে দিবেন।

ইতিহাসের উপেক্ষিত সীমান্ত কন্যা শেরপুরের যাতে কোন জালেম, অত্যাচারি, দখলবাজ সৃষ্টি না হয়। কোন মজলুম যাতে না থাকে ও উন্নয়নে সমতার শেরপুর গড়তে চলুন আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করি। যারা এখনও বিভ্রান্তিতে আছেন তাদের প্রতি অনুরোধ দল ও দেশকে ভালবেসে আসুন ধানের শীষের হয়ে কাজ করি।

প্রিয়াংকার বক্তব্যের সময় সারা মাঠে ধানের শীষে মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত যায়।


মাগুরায় পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় পানির অপচয়, বাড়ছে জনদুর্ভোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

পানির অপর নাম জীবন হলেও কখনো কখনো পানিই আবার মানুষের বিপত্তির কারণ হয়ে ওঠে। মাগুরা সদরের পশু হাসপাতাল রোডে পৌরসভার পানি সরবরাহের পাইপ ছিদ্র হয়ে দিনের পর দিন অপচয় হচ্ছে পানি। নানা সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।

পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ।পশু হাসপাতাল রোডে বউবাজার নামে খ্যাত একটি বাজার রয়েছে। তাই সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সড়কটি লোকে লোকারণ্য থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কটি পানিতে ভেসে যাওয়ায় চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানালে পানির পাইপের ছিদ্র সাড়তে মিস্ত্রি পাঠানো হয়। পাইপ সারার মিস্ত্রি এসে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে আরো বেশি করে গর্ত খুঁড়ে লাল পতাকা টানিয়ে রেখে চলে যান। যাওয়ার সময় বলে যান আগামীকাল পানি যখন বন্ধ থাকে তখন এসে সেড়ে দিয়ে যাব। কিন্তু দুর্ভাগ্য দীর্ঘ ১৫ দিন কেটে গেলেও সেই আগামীকাল আর আসে না। ফলে সব সময় পানি পড়তে থাকা রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় জনগণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।

এব্যাপারে ডিম ব্যবসায়ী মফিজ বলেন, ১৫-১৬ দিন আগে আমার দোকানের সামনে এভাবে গর্ত খুঁড়ে চলে গেছে।বলেছে কাল আসবে এখনো আসে নাই। এতে আমার দোকানের বেঁচাকেনা কমে গেছে লোকজন এসে দাঁড়াতে পারছে না।আমরা ঠিকমত চলাফেরা করতেও পারছি না। আমাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।

বাজার করতে আসা পথচারী বলেন, এটা আমাদের জন্য একটা মরণ ফাঁদ। আমরা কাঁদা পানি ভেঙ্গে চলতে পারছি না। তাছাড়া রাতে প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকেনা এই সড়ক দিয়ে সব সময় লোকজন এবং যানবাহন চলাচল করে,ফলে অন্ধকারে যেকোন সময় একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি খুব দ্রুত যেন এর একটা সমাধান করা হয়।

পানি সরবরাহের পৌর শাখার হারুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি। খুব শীঘ্রই এটা সমাধানের চেষ্টা করব।


ময়মনসিংহে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে চক্ষু চিকিৎসা ও কম্বল বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় এসব সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশন ও ঘটাইল অঞ্চল।

সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মুক্তাগাছার হাজী কাশেম আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে চক্ষু চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করা হয়। সকালে এ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসবার কমান্ডিং ও ঘাটাইল এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। পরে মুক্তাগাছার শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে দরিদ্রদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন তিনি। সেনা প্রধানের দিকনির্দেশনায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।

সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচালিত বিনামূল্যে চক্ষু সেবা কার্যক্রমে ২৫০ জন দরিদ্র মানুষকে চোখের চিকিৎিসা ও বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। কম্বল বিতরণ করা হয় ৫০০ জন দরিদ্র মানুষের মধ্যে।

সেনাবাহিনীর এসব সেবা গ্রহন করা দরিদ্র মানুষেরা আনন্দ প্রকাশ করেন। প্রতি বছর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এসব সেবা গ্রহন করে মানুষ উপকৃত হয়।

এ সময় ৭৭ পদাতিক ডিভিশনের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মালিক সামস উদ্দীন মুহাম্মদ মঈন, এসজিপি, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসিসহ ঘটাইল অঞ্চলের অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।


তালতলীতে আওয়ামীলীগ নেতার বিরুদ্ধে জমি দখলের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরগুনা প্রতিনিধি

বরগুনার তালতলী উপজেলার লোকমান হোসেন হাওলাদারের ওয়াকফা স্টেটের জমির রোপন কৃত ধানের চারা উপড়ে ফেলে চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীলীগ নেতা ভূমিদস্যু আব্দুল ওহাব তালুকদার ও আব্দুল সত্তারের বিরুদ্ধে। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টায় পঁচাকোরালিয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামে।

জানাগেছে, উপজেলার পঁচাকোরলিয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামের লোকমান হোসেন তার ১৭ একর জমি ১৯৯২ সালে ওয়াকফা দলিল করে যান। ওই সময়ে ওয়াকফা স্টেটের মোতায়ালি নিযুক্ত হন মোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার। ৩৪ বছর ধরে ওই জমি মোতায়ালি ভোগদখল করে আসছেন। শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরফে কালু, সহ সভাপতি আব্দুল সত্তার, হামেজ মৃধা, নাসির মৃধা, জসিম মৃধা, রফিজ প্যাদা, নাসির মাষ্টার ও জুয়েলসহ ৩০/৪০ জন ভুমিদস্যু ওয়াকফা ষ্টেটের ওই জমিতে হাইব্রিড ধানের রোপনকৃত চারা উপরে ফেলে ফের চাষাবাদ করেন।

রোপনকৃত জমিতে চাষাবাদে বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা মোজাম্মেল হোসেন হাওলাদার ও তার পরিবারের লোকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করে। এসময় রেশমা বেগম নামের এক নারী আহত হয়। প্রাণ ভয়ে তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। আহত রেশমা বেগমকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ।

জমির মোতায়ালি মোজাম্মেল হোসেন হাওলাদার বলেন, লোকমান হোসেন হাওলাদার ওয়াকফা স্টেটের আমি মোতায়ালি। ওই জমি আমি গত ৩৪ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু ভূমিদস্যু আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরেফে কালু ও আব্দুল সত্তারের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ভোগদখলে থাকা জমির রোপনকৃত হাইব্রিড ধানের চারা উপরে ফেলে চাষাবাদ করেছে। আমি এতে বাধা দিলে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করেছে। আমাকে রক্ষায় আমার স্বজন রেশমা এগিয়ে গেলে তারা তাকে মারধর করে।

আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরফে (কালু) বলেন, কবলা দলিল মূলে আমরা ওই জমির মালিক। আমাদের জমির ধানের চারা রোপন করেছে আমরা ধানের চারা উপরে ফেলেছি।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি জেনে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মহাদেবপুর মহাসড়কের ওপর বসে ধানের বাজার, চরম জনদুর্ভোগ

ইজারা আছে, জায়গা নেই বলছেন ইজারাদার
হাটের নির্ধারিত জায়গা না থাকায় উপজেলার পশু হাসপাতালের সামনে প্রধান সড়কে ধানের বেঁচা কেনা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর মহাদেবপুর হাট ইজারা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কামাল হোসেন নামের এক ইজারাদার। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহাদেবপুর হাটের নির্ধারিত জায়গা বুঝে না পাওয়ায় বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগীর ধারণা, লোকসানের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।

জানা যায়, মহাদেবপুর হাট সপ্তাহে দু’দিন বুধবার ও শনিবার বসে। এর মধ্যে গরুর হাট বসে সপ্তাহে একদিন শনিবার। হাটটি ১৪৩২ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের জন্য ২ কোটি ৫১ লাখ ২৯ হাজার টাকায় ইজারা নেন কামাল হোসেন। ইজারা নেওয়ার পর থেকেই হাটের জায়গা বুঝে পাওয়ার জন্য একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন তিনি। কিন্তু ইজারার মেয়াদ প্রায় শেষ হলেও তাকে অফিসিয়ালভাবে হাটের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।

কাজেই এই হাট ইজারা নেওয়ার পরপরই লোকসানের আশঙ্কা শুরু হয় ইজারাদার কামাল হোসেনের। প্রায় এক যুগ ধরে যেখানে ছাগলের হাট বসত, সেই সরকারি জায়গায় নতুন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ শুরু হওয়ায় ছাগলের হাট বসানো নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অপরদিকে, পূর্বে ব্যবহৃত গরুর হাটের জায়গাও ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি ঘিরে নেওয়ার কারণে। ফলে বর্তমানে বড় আকারের গরুর হাটটি কোনো রকমে টিকে আছে। সরেজমিনে জানা যায়, ধানের অন্যতম বড় মোকাম হিসেবে পরিচিত মহাদেবপুর উপজেলা। এখানে বেশ কয়েকটি বড় ধানের হাট রয়েছে, তার মধ্যে মহাদেবপুর হাট অন্যতম। সপ্তাহে বুধবার ও শনিবার এখানে ধানের হাট বসে। তবে নির্ধারিত জায়গা না থাকায় আঞ্চলিক প্রধান সড়কের ওপরই বসে ধানের বাজার, যা চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে।

আর ধানের বাজারের জন্য নির্ধারিত জায়গা না থাকায় টোল আদায় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন ইজারাদার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংক ঋণের সুদের চাপ। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। যার কারণে একাধিকবার আবেদন করে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ইজারাদার।

আরও জানা যায়, ইজারার চুক্তি সম্পন্ন হয় চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি। অথচ চুক্তি হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ১৩ এপ্রিল। আবার হাটের জায়গা বুঝে নিতে ইজারাদার গত বছরের ২৫ মে ও ১৫ সেপ্টেম্বর লিখিত আবেদন করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পায়নি। উল্টো, ছাগলের হাট বসা জায়গায় নতুন করে ভূমি অফিসের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। যদিও জায়গাটি ভূমি অফিসের। অথচ গত এক যুগ থেকে এই জায়গায় ছাগলের হাট বসতো বলে জানালেন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা ও বিপ্লব দাস নামের স্থানীয় বাসিন্দা।

এদিকে, সংকুচিত হওয়া গরুর হাটের জায়গায় ব্যবসা করতে এসে চরম ভোগান্তির কথা জানান পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফয়জুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি ৩৭ বছর ধরে মহাদেবপুর হাটে ব্যবসা করছি। বর্তমানে গরুর হাটের জায়গায় আমরা ১৭ জন ব্যবসা করছি। জায়গা এতটাই কম যে হাটের দিন গরু, ছাগল, দোকান আর গাড়ির ভিড়ে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে।” আগে অন্য জায়গায় ছিলাম। এই জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও কষ্ট করে ব্যবসা করতে হচ্ছে।

ইজারাদার কামাল হোসেন বলেন, সরকার চাইলে সহজেই হাটের জায়গা বাড়াতে পারে। আশপাশে অনেক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে, যেগুলো অধিগ্রহণ করা সম্ভব। যুগের পর যুগ এই এলাকায় বড় গরুর হাট বসে আসছে এবং ঐতিহ্যবাহী এই হাট থেকে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। হাটের জায়গা বাড়ানো হলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ইজারাদারদের নির্ধারিত টোল আদায়ও স্বাভাবিক হবে। অন্যথায় ইজারাদারদের লোকসানে পথে বসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, এই হাট ইজারা দেওয়ার সময় আইনে "তোহা বাজার" মানে তরকারি ও ধানেরসহ একাধিক বাজারের কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু বাস্তবে "তোহা" বাজারে (ধানের বাজারের) কোনো জায়গা নেই। তারপরও উপজেলার পশু হাসপাতালের সামনে প্রধান সড়কে বসে ধানের বাজার। যা আইনসম্মত নয়। কারণ জনদুর্ভোগ হয় এমন কোনো জায়গায় হাট বসানো যাবে না। বর্তমানে এই হাটে কোটি টাকার উপরে লোকসান হবে। এছাড়া ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া আছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, ধানের হাট রাস্তায় বসে। রাস্তায় বসানোর নিয়ম আছে। আগে থেকেই বসছে। আর রাস্তায় বসে এরকম এক'শ টি হাট দেখাতে পারবো। তারপরও এখানে রাস্তা সুন্দর হওয়ার কারণে হাটের দিন একদিকে বন্ধ রাখা হয়।

ইউএনও বলেন, হাট ডাকের সময় চিন্তা করা উচিৎ ছিল ইজারাদারের। আর গরুর হাটের জায়গা কমে যায়নি। তবে ছাগলের হাটে ভূমি অফিস হচ্ছে। যেটা আগে থেকেই জানতো তিনি। এছাড়া জামানত না দেওয়ার কারণে হয়তোবা চুক্তিটা দেরিতে করা হয়েছে।


মাগুরায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতীপূজা অনুষ্ঠিত 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

ফুল বেলপাতা আর পবিত্র মন্ত্র পাঠের মধ্য দিয়ে মাগুরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরানো ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দেবী সরস্বতীকে সুরের দেবী, জ্ঞানের দেবী বিদ্যার দেবী বলে আনা হয়। সরস্বতীর পায়ে অঞ্জলি প্রদানের মধ্য দিয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উৎসবটি পালন করে।

শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে মেডিকেল কলেজ, সরকারী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মাগুরা সরকারি বালক বিদ্যালয়, মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় সহ চার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এ সময় অঞ্জলি প্রদান শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। দিনটিকে ঘিরে প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

মাগুরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তমা বলেন, প্রতিবছর এই দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষা করি। এই দিনে আমরা বন্ধু-বান্ধবীরা মিলে একে অপরকে রং দিয়ে দিনটি উদযাপন করি। এবং দেবী মায়ের আশীর্বাদ নেই যেন সারা বছর আমরা লেখাপড়া ভালোভাবে করতে পারি।


সাবেক তত্ত্বাবধায়ক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খানের দাফন সম্পন্ন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সচিব এম হাফিজ উদ্দিন খানের জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাদ জুমা সিরাজগঞ্জ শহরের রহমতগঞ্জ কবরস্থান মাঠে জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর ৮৯ বছর বয়সী এই গুণী ব্যক্তিত্বকে দাফন করা হয়। শেষ বিদায়ের এই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার উত্তরায় নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মামাতো ভাই লিয়াকত আলী জানান, ‘গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার উত্তরায় ১ নম্বর সেক্টরের নিজ বাড়িতে বাধ্যর্কজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়।’

এম হাফিজ উদ্দিন খান ছিলেন কর্মজীবনে একজন অত্যন্ত দক্ষ ও নীতিবান কর্মকর্তা। তিনি ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। আর্থিক খাতেও তাঁর পদচারণা ছিল উল্লেখ করার মতো; তিনি অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং বেসিক ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিরাজগঞ্জ শহরের সমাজকল্যাণ মোড় এলাকার প্রয়াত শিক্ষক কোব্বাদ আলী খানের এই সন্তান ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও কানাডায় বসবাসরত দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।


বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দিনাজপুর প্রতিনিধি

৪ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। তবে এখনও বন্ধ রয়েছে আরও দুটি ইউনিট।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার রাত ৯টা ৩ মিনিট থেকে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে এই ইউনিটের ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।

এর আগে গত রোববার সকালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যায়। এতে এই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই ইউনিট বন্ধের মাধ্যমে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, কেন্দ্রের অপর দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে।

পরে প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা করে মেরামত শুরু করে কর্তৃপক্ষ। অবশেষে গত বুধবার রাত থেকে ইউনিটটি সম্পূর্ণভাবে মেরামত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। এর আগে কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন চালুর ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে না পারলেও নূন্যতম ১ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছিল।

কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু হলেও বাকি দুটি ইউনিটের উৎপাদন এখনও বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। আর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। তৃতীয় ইউনিট চালু করতে চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আসছে। ফলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চালু হতে পারে তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদন– এমনটি বলছে কর্তৃপক্ষ। আর প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করতে এখনও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হয়নি।

বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘প্রথম ইউনিট ও তৃতীয় ইউনিট নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে নভেম্বর থেকেই কাজ চলছে। আগামী ইরি-বোরো মৌসুম এবং নির্বাচনে যাতে বিদ্যুতের সমস্যা না হয় সেই টার্গেট রয়েছে। তবে যন্ত্রাংশের জটিলতার কারণে প্রথম ইউনিটে সমস্যা হয়েছিল। তৃতীয় ইউনিট ফেব্রুয়ারি মাসে চালু করতে দিন-রাত কাজ চলছে। আর দ্বিতীয় ইউনিট চালু করতে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হওয়ায় সেটির ব্যাপারে এখনও চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।


গাজীপুরে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারে কৃষকদের প্রশিক্ষণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজীপুর কৃষিকে আরও আধুনিক, টেকসই ও উৎপাদনমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।

প্রশিক্ষণে গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলা থেকে নারী ও পুরুষসহ মোট ৪০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।

কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. ময়নুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাফিউল ইসলাম আফ্রাদ।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এক্সটেনশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন। বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণের শুরুতে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা নিজেদের ফসল উৎপাদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে কম সময়ে অধিক ফলন পাওয়া যায় সে বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষকরাই হচ্ছেন সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে কৃষকের হাতে পৌছালেই তার প্রকৃত সার্থকতা আসে।

দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্বিতীয় পর্বে কৃষিযন্ত্র ও প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহিদুজ্জামান এবং অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজার রহমান আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে হাতে-কলমে ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দেন।

সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিজ নিজ জমিতে প্রয়োগের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান। কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন এক্সটেনশন সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রহমান। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি


১২ ঘণ্টা পর রাঙামাটি থেকে ঢাকা-চট্টগ্রামে বাস চলাচল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর রাঙামাটি থেকে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবানসহ সব রুটে বাস চলাচল শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) বিকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা সভা শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাস চলাচল শুরু হয়। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সেনাবাহিনী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে সকাল ৬টা থেকে সৌদিয়া পরিবহন ও রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির টোকেন দ্বন্দ্বে রাঙামাটির সঙ্গে সব জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি। সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা। অবশেষে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মালিক সমিতির নেতারা সন্ধ্যা ৬টা থেকে বাস চালানোর সিদ্ধান্ত দেন।

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতির সভাপতি মো. সৈয়দ হোসেন বলেন, ‘নির্বাচনকালীন পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রশাসনের অনুরোধসহ সার্বিক বিষয় পর্যালোচনা করে সন্ধ্যা ৬টা থেকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। এই বিষয়ে পরবর্তীতে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করব আমরা।’

চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মোটর মালিক সমিতি সূত্রে জানা যায়, সৌদিয়া পরিবহন তাদের একটি বাস রাঙামাটি-ঢাকা রুটে যাত্রী পরিবহন শুরু করে। কিন্তু চট্টগ্রাম-রাঙামাটি মালিক সমিতিতে টোকেন ফি জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সেটা তারা দেয়নি। এতে গত বুধবার সমিতির নেতারা সৌদিয়া কাউন্টার বন্ধ করে দেয়। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তা চালু করা হয়। এর প্রতিবাদে কোনো প্রকার ঘোষণা ছাড়াই সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় মালিক সমিতি।

পূর্বঘোষণা ছাড়া হঠাৎ করে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন যাত্রীরা। এ সময় যাত্রীরা মোটর মালিক সমিতির সিন্ডিকেটকে দায়ী করে এটি ভেঙে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।


banner close