চাঁদপুরের হাইমচরে মেঘনা নদীতে সারবহনকারী এমভি আল বাখেরা জাহাজে ৭ জন খুনের ঘটনায় তদন্তের ৪৮ ঘন্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কর্নেল মুনীম ফেরদৌস।
এ ঘটনায় আকাশ মন্ডল ওরফে ইরফান (২৬) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি সুকানির সঙ্গে ইঞ্জিন রুমে কাজ করতেন। গতকাল মঙ্গলবার বাগেরহাটের চিতলমারি এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
তার কাছ থেকে ১টি হ্যান্ড গ্লাভস, ১টি লোটো ব্যাগ, ঘুমের ঔষধের খালি পাতা, নিহতদের ব্যবহৃত ৫টি ও আকাশের নিজের ২টিসহ ৭টি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন জায়গায় রক্ত মাখানো নীল রংয়ের ১টি জিন্স প্যান্ট উদ্ধার করা হয়।
কর্নেল মুনীম ফেরদৌস জানান, দীর্ঘ ৮ মাস ধরে বেতন ভাতা না পাওয়া ও দুর্ব্যবহারের ক্ষোভ থেকে গ্রেপ্তার আকাশ মন্ডল ওরফে ইরফান প্রথমে জাহাজের মাস্টার গোলাম কিবরিয়াকে কুপিয়ে হত্যা করেন। পরে ধরা পড়ার ভয়ে একে একে সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করেন তিনি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বরাতে তিনি জানান, আকাশ প্রায় ৮ মাস ধরে এমভি-আল বাখেরা জাহাজে চাকরি করছে। জাহাজের কর্মচারীরা ছুটি ও বেতন-বোনাস সময় মতো পেতো না এবং বিভিন্ন ধরনের বিল কর্মচারীদের না দিয়ে জাহাজের মাস্টার একাই ভোগ করতেন বলে জানিয়েছেন গ্রেপ্তার আকাশ।
আকাশ আরও জানায়, জাহাজের মাস্টার সব কর্মচারীর উপর বিনা কারণে রাগারাগি করতো এবং কারোর উপর নাখোশ হলে তাকে কোন বিচার বিবেচনা ছাড়াই জাহাজ থেকে নামিয়ে দিতো। এমনকি তাদের বকেয়া বেতনও দিতো না। এ বিষয়ে গ্রেপ্তার আকাশ জাহাজের সবাইকে প্রতিবাদ করতে বললে কেউ ভয়ে প্রতিবাদ করতো না। মাস্টারের এসব কার্যকলাপের কারণে আকাশের মধ্যে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এই ক্ষোভ থেকে তাকে উচিত শিক্ষা দেয়ার পরিকল্পনা করেন তিনি।
গত ১৮ ডিসেম্বর জাহাজের বাজার করার জন্য ইরফান পাবনার একটি বাজারে নেমেছিলেন। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনি সেখান থেকে তিন পাতা ঘুমের ওষুধ কিনে নিজের কাছে রাখেন। এছাড়া যে চাইনিজ কুড়াল দিয়ে সবাইকে কুপিয়ে হত্যা করা হয় সেটি নিরাপত্তার জন্য আগেই জাহাজে রাখা ছিল। আগের দিন রাতের খাবার রান্নার সময় আকাশ জাহাজের বাবুর্চির অগোচরে খাবারের মধ্যে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে দেয়। সুকানি জুয়েল এবং গ্রেপ্তার আকাশ ছাড়া সবাই রাতের খাবার খেয়ে নিজেদের কেবিনে ঘুমিয়ে পড়েন। রাত ২টার দিকে সাহারা বিকন এলাকায় আরও ৮-১০টি জাহাজের সঙ্গে সুকানি জুয়েল এবং গ্রেপ্তার আকাশ তাদের জাহাজটি নোঙ্গর করেন। পরবর্তীতে সুকানি জুয়েল রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরিকল্পনা অনুযায়ী আকাশ রাত ৩টার দিকে প্রথমে মাস্টার কিবরিয়াকে চাইনিজ কোড়াল দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনা যাতে জানাজানি না হয় সে জন্য তিনি একে একে সবাইকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন।
পরবর্তীতে আনুমানিক ভোর সাড়ে ৫টার দিকে সব জাহাজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেলে আকাশ নিজে জাহাজ চালাতে থাকেন। এক পর্যায়ে মাঝিরচর নামক এলাকায় জাহাজটি আটকা পড়লে পাশ দিয়ে যাওয়া ট্রলারে বাজার করার কথা বলে উঠে পালিয়ে যান। তিনি গ্রেপ্তার এড়াতে বাগেরহাটে চিতলমারি এলাকায় আত্মগোপনে চলে যান।
এর আগে গত সোমবার চাঁদপুরের মেঘনা নদীর হাইমচর এলাকায় সারবাহী জাহাজ এমভি আল-বাখেরা থেকে ৫ জনকে মৃত ও ৩ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে ২ জন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এমভি-আল বাখেরা জাহাজে খুন হওয়া ব্যক্তিরা হলেন, কিবরিয়া (৫৬), সবুজ (২৭), সজীবুল ইসলাম (২৯), মাজেদুল ইসলাম মজিব (১৬), আমিনুর মুন্সি (৪২), সালাউদ্দিন মিয়া (৪১), ও রানা। আর জুয়েল নামে একজন গুরুতর জখম হয়ে চিকিৎসাধীন আছেন।
এদিকে এমভি আল বাখেরা জাহাজে ৭ জন খুনের ঘটনায় জাহাজের মালিক মাহাবুব মুর্শেদ মঙ্গলবার রাতে হাইমচর থানায় মামলা করেন। অজ্ঞাতনামা ডাকাত দলকে মামলায় আসামি করা হয়।
ইতোমধ্যে জাহাজে হতাহতের ঘটনা তদন্তে শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে আলাদা কমিটি করা হয়েছে। আর খুন ও ডাকাতির অভিযোগে ১০ জনকে আসামি করে মঙ্গলবার রাতে মামলা করেন মালিকপক্ষের মাহাবুব মুর্শেদ।
প্রসঙ্গত, মেসার্স বৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের জাহাজ এমভি আল বাখেরা গত রোববার সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রামের কাফকো সার কারখানার ঘাট থেকে যাত্রা শুরু করে। পরে কোম্পানির মালিক শিপন জাহাজে ফোন করে কাউকে পায়নি। এতে সন্দেহ হলে মালিকপক্ষ জাহাজের অবস্থান এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনে কোম্পানির অন্য জাহাজ মুগনি-৩ কে যোগাযোগ করতে বলে। মুগনি-৩ জাহাজটি মাওয়া থেকে যাওয়ার সময় ঘটনাস্থলে এম ভি আল বাখেরা জাহাজটিকে ইঞ্জিন বন্ধ অবস্থায় দেখতে পায়। পরে তারা জাহাজে উঠে সবাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল দেন। খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা জাহাজ থেকে নিহত ও আহতদের উদ্ধার করে।
'স্মৃতির টানে প্রিয় প্রাঙ্গণে, এসো মিলি প্রাণের বন্ধনে' - এই স্লোগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ১৯৯৬–৯৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে পুনর্মিলনীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এই মিলনমেলা। এরপর ক্যাম্পাসজুড়ে বের হয় বর্ণাঢ্য র্যালি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে শুরু হয়ে পরিচিত সড়ক ঘুরে র্যালিটি গিয়ে শেষ হয় হেলিপ্যাডে।
র্যালি শেষে অ্যালামনাই ও তাদের সন্তানদের নিয়ে শুরু হয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা। এরপর বিকেল ৪টায় একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধ্যায় পিঠা উৎসব, অ্যালামনাইদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, র্যাফেল ড্র, আতশবাজি এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা এবং সবশেষে গালা ডিনারের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে আজকের অনুষ্ঠান।
আজ শনিবার অ্যালামনাইরা তাদের নিজ নিজ হলগুলো ঘুরে স্মৃতিচারণ করবেন। এরপর সকাল ১১টায় ১৯৯৬-৯৭ ব্যাচের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে একটি উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
পুনর্মিলনীর আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্যা বলেন, আমাদের ব্যাচ ১৯৯৬-৯৭ সেশনের পুনর্মিলনী-২০২৬ অনুষ্ঠানে দূর-দূরান্ত থেকে বন্ধু ও তাদের পরিবার-পরিজনের উপস্থিতি বন্ধুত্বের দৃঢ়তা ও অঙ্গীকারের উজ্জ্বল প্রমাণ। এই পুনর্মিলনী অতীতের স্মৃতি, বর্তমানের আনন্দ এবং ভবিষ্যতের প্রত্যাশাকে একসূত্রে বেঁধেছে।
তিনি বলেন, রিইউনিয়ন-২০২৬ উপলক্ষে প্রকাশিত স্মারক 'সতীর্থ ৯৬-৯৭' স্মারক প্রকাশনাটি হোক এই পুনর্মিলনের স্থায়ী দলিল এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান আর্কাইভ। প্রয়াত বন্ধুদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে তিনি তাদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
পুনর্মিলনীর আয়োজক কমিটির সদস্য সচিব এস. এম. মুসা তালুকদার চমক বলেন, রি-ইউনিয়ন কেবল মিলনমেলা নয়, এটি পারস্পরিক সহযোগিতা, স্মৃতি সংরক্ষণ এবং সম্মিলিত লক্ষ্য নির্ধারণের নাম। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত, প্রতিটি সম্পর্ক এবং প্রতিটি অভিজ্ঞতা আমাদের আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তাই এসব স্মৃতি লিপিবদ্ধ করে 'সতীর্থ ৯৬-৯৭' এ সংরক্ষণ করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ।
ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের ব্যয় পুনঃনির্ধারণ করা হলেও এতে বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন (জিওবি) খাতে প্রায় ১৬৬ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বাস্তবায়নাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৬ ডিসেম্বর একনেক সভায় অনুমোদিত হয়। সেসময় প্রকল্পটির মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা এবং মেয়াদ ধরা হয় ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। তবে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়নের বাস্তবতা বিবেচনায় প্রথম সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পের উর্ধ্বতন তথ্য কর্মকর্তা সৈকত আহমেদ এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বর্তমানে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) সংশোধনের কাজ চলমান রয়েছে।
সংশোধিত প্রস্তাব অনুযায়ী প্রকল্পটির মোট প্রাক্কলিত ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি টাকা। যদিও সামগ্রিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- জিওবি খাতে ব্যয় ১৬৬ কোটি টাকা কমেছে, ফলে জাতীয় বাজেটের ওপর সরকারের সরাসরি চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে।
প্রকল্প অনুমোদনের সময় প্রতি মার্কিন ডলার ৮০ টাকা ধরে ব্যয় হিসাব করা হয়েছিল। কিন্তু গত ৯ বছরে ডলারের বিনিময় হার বেড়ে প্রায় ১২২.৪০ টাকা হওয়ায় বৈদেশিক ঋণের অংশ টাকায় রূপান্তরিত হয়ে প্রকল্প ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। এ বাস্তবতায় সংশোধিত ডিপিপিতে বিভিন্ন খাতে ব্যয় পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।
সংশোধিত প্রস্তাবে ৩৪টি খাতে ব্যয় বৃদ্ধি এবং ৪৯টি খাতে বরাদ্দ হ্রাস করা হয়েছে। জনবল ব্যয়, ভূমি অধিগ্রহণ ক্ষতিপূরণ, বিদ্যুৎ বিল ও পরামর্শক খাতে সাশ্রয়ের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য অর্থ সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি, প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা থেকে উদ্ভূত প্রয়োজন মেটাতে ১০টি নতুন খাত সংযোজন করা হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদি পরিচালনা নিশ্চিত করতে অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ (O&M) সংক্রান্ত সেবা চুক্তি এবং খুচরা যন্ত্রাংশ সরবরাহ চুক্তির বিষয়েও আলোচনা চলমান রয়েছে। এছাড়া আন্তঃরাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় রাশিয়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিদেশি জনবলের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে গ্রিনসিটি আবাসিক এলাকার অসমাপ্ত ভবন সম্পন্ন এবং নতুন অধিগ্রহণকৃত প্রায় ৬.০৬ একর জমিতে প্রয়োজনীয় স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনাও সংশোধিত প্রস্তাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
কোভিড-১৯ মহামারী, রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধজনিত বৈশ্বিক পরিস্থিতি, সরবরাহ চেইনের সীমাবদ্ধতা এবং প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি বিবেচনায় Joint Coordination Committee (JCC) ঋণচুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সুপারিশ করে। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-২-এর প্রভিশনাল টেকওভার সময়সীমা ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা যায়, একই VVER-1200 প্রযুক্তি ব্যবহার করে হাঙ্গেরিতে দুই ইউনিটের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৩.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, মিশরে ৪ ইউনিটে ৩০ বিলিয়ন ডলার, তুরস্কে রাশিয়ার মালিকানাধীন ৪ ইউনিটে ২০ বিলিয়ন ডলার এবং বেলারুশে ২ ইউনিটে ১১ বিলিয়ন ডলার। এসব প্রকল্পের সঙ্গে তুলনা করলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ ব্যয় আন্তর্জাতিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করছে কমিশন।
অন্যদিকে, ভারতের কুদানকুলাম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে VVER-1000 প্রযুক্তির পঞ্চম ও ষষ্ঠ ইউনিটের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র যন্ত্রপাতি সরবরাহেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। ভারতের পারমাণবিক শক্তিতে পূর্ব অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষিত জনবল এবং বিদ্যমান অবকাঠামোর কারণে তুলনামূলক কম ব্যয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ইউনিট-১-এর কমিশনিং কার্যক্রম বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, যা দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির দুই ইউনিট চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যুক্ত হবে।
বিদ্যাদেবী সরস্বতীর চরণে পুষ্পাঞ্জলি নিবেদন, বাণী অর্চনা ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীসহ সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে সরস্বতী পূজা উদযাপিত হয়েছে। প্রতিবছর মাঘ মাসের শুক্ল পক্ষের পঞ্চমী তিথিতে শ্বেতশুভ্র কল্যাণময়ী এই দেবীর বন্দনা করা হয়, যা সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে ‘বসন্ত পঞ্চমী’ হিসেবে পরিচিত। জ্ঞান, বিদ্যা, সুর ও শক্তির আধার হিসেবে দেবী সরস্বতীর এই আরাধনাকে ঘিরে সারাদেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মন্দিরগুলোতে ছিল উৎসবের আমেজ। ঢাক-ঢোল-কাঁসর, শঙ্খ আর উলুধ্বনিতে প্রতিটি পূজা মণ্ডপ মুখরিত হয়ে ওঠে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হল ছিল এই উৎসবের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। সেখানে চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীদের নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বিশাল সব সরস্বতী প্রতিমা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করেছে। এবার জগন্নাথ হলের খেলার মাঠে ৭৬টিরও বেশি মণ্ডপে দেবী সরস্বতীর আরাধনা করা হয়। শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে প্রতিমা স্থাপনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে পূজার কার্যক্রম শুরু হয় এবং পরবর্তীতে পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণ করা হয়। জগন্নাথ হলের পাশাপাশি রোকেয়া হল, শামসুন্নাহার হল ও কবি সুফিয়া কামাল হলসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলগুলোতেও পৃথকভাবে পূজার আয়োজন ছিল। এই ধর্মীয় উৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েও বড় পরিসরে পূজার আয়োজন করা হয়, যেখানে ২৩টি প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছিল। রাজধানীর রামকৃষ্ণ মঠ ও মিশন, সিদ্ধেশ্বরী মন্দির, বনানী পূজা মণ্ডপ এবং শাঁখারীবাজার ও তাঁতীবাজারের মণ্ডপগুলোতেও ছিল ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়। জাতীয় প্রেস ক্লাবে সনাতন ধর্মাবলম্বী সাংবাদিকরা বাণী অর্চনার আয়োজন করেন। এছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছোট শিশুদের নিয়ে সরস্বতীর আরাধনায় মেতে ওঠেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা। আজ সরকারি ছুটির দিন হওয়ায় অন্যান্য বছরের তুলনায় মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো, যা পুরো আয়োজনকে একটি সার্বজনীন রূপ দান করেছে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে পৃথক দুইটি বস্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদকদ্রব্য, দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমা সহ ৩৫ জনকে আটক করেছে যৌথবাহিনী। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) ভোর চারটার দিকে যৌথবাহিনীর দুইটি দল টঙ্গীর এরশাদ নগর ও হাজী মাজার বস্তিতে এ অভিযান চালায়।
এসময় ৫শত গ্রাম হেরোইন, ৩শত ৪৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২টি দেশীয় অস্ত্র ও ৩টি হাতবোমা উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযান শেষে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে সাড়ে আটটার দিকে টঙ্গীর হাজী মাজার বস্তিতে এক সংবাদ সম্মেলন এ তথ্য নিশ্চিত করেন গাজীপুর জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবু বক্কর সিদ্দিক।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশৃঙ্খলা এড়াতে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার ভোরে যৌথবাহিনীর পৃথক দুইটি অভিযানে টঙ্গীর এরশাদনগর ও হাজী মাজার বস্তি থেকে হেরোইন, ইয়াবা, দেশীয় অস্ত্র ও হাতবোমাসহ ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে।
আটককৃতদের টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে মামলা শেষে আটককৃতদের গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শিডিউল অনুযায়ি প্রচারনী সভা শুরু হয়েছে। প্রকাশ্যে নির্বাচনী সভায় শুরুর প্রথম দিনেই শেরপুরে বিএনপি প্রার্থীর জনসভায় মানুষের ঢল নামে। জন ভোগান্তি এড়াতে শেরপুর জেলা বিএনপি শহরের একপ্রান্তে শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্কের এই জনসভায় দুপুর থেকেই বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে মাঠে চলে আসেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি এড.সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এবিএম মামুনুর রশীদ পলাশের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শেরপুর সদর আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা। অন্যানের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মোঃ হযরত আলী, শহর বিএনপির আহ্বায়ক এড.আব্দুল মান্নান পিপি, সদর উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবু রায়হান রুপন ও কামরুল ইসলামসহ আরো অনেকে।
বিএনপি মনোনীত সারা দেশে বিএনপির সর্ব কনিষ্ঠ প্রার্থী ডাঃসানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা বলেন, আগামি ১২ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠিতব্য সাধারণ নির্বাচনে আমি প্রিয়াংকা আপনাদের স্নেহ ধন্য বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছি। এই মনোনয়নের দেওয়ার মধ্য দিয়ে দল ও দলের চেয়ারম্যান, আগামির সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে মুখিয়ে আছেন। তারক রহমান যে দায়িত্ব আমাকে দিয়েছেন তা মাথা পেতে নিয়েছি। কোন বক্তব্য দিতে আজ আসিনি। শাসক বা প্রশাসক নয়, সেবক হিসেবে থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে আজ এই জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি, যারা আগামি ১২ তারিখ ভোটের মাধ্যমে তাদের সেবক নির্বাচিত করবেন। তিনি বলেন, জনাব তারেক রহমান নতুন বাংলাদেশ গড়তে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে আগাচ্ছেন। ওই মহানায়কের পরিকল্পনার সাথে শেরপুরের জন্য আপনাদের মতামত নিয়ে একটি সুশৃংখল,সমতা ও ন্যায় ভিত্তিক অর্থনৈতিক মুক্তির একটি পরিকল্পনা আমরা আপনাদের সামনে উপস্থাপন করবো।
বক্তব্য নয়, পূর্বে অনেক ভুল থাকতে পারে তার জন্য ক্ষমা চাইতে দাঁড়িয়েছি। আমি প্রুতশ্রুতি দিচ্ছি নির্বাচিত হতে পারলে একটি শান্তির শেরপুর গড়ে তুলবো। কোন অপরাধি, চাঁদাবাজ, জুলুমকারিকে আশ্রয় প্রশ্রয় নয়। অপরাধি আমার দলের, মতের, পথের, স্বজন হলেও কোন ক্ষমা নয়। শত বাঁধার মুখে সত্য,সুন্দরটা ও নির্মোহটা বলে যাবো। তাতে কি হবে সেটা নিয়ে আমি বিন্দু মাত্র ভাববো না। আপনাদের সাথে নিয়েই অপরাধিদের প্রতিহত করা হবে ইনশাআল্লাহ।
আজ থেকে প্রচারণা শুরু হলো। আমি অনেক স্থানে যেতে পারবো আবার অনেক স্থানে যাওয় সম্ভব হবে না। আজ যারা এখানে এসেছেন তারা আমার হয়ে দলের হয়ে আমার আবেদন নিবেদন পৌছে দিবেন।
ইতিহাসের উপেক্ষিত সীমান্ত কন্যা শেরপুরের যাতে কোন জালেম, অত্যাচারি, দখলবাজ সৃষ্টি না হয়। কোন মজলুম যাতে না থাকে ও উন্নয়নে সমতার শেরপুর গড়তে চলুন আমরা সবাই এক হয়ে কাজ করি। যারা এখনও বিভ্রান্তিতে আছেন তাদের প্রতি অনুরোধ দল ও দেশকে ভালবেসে আসুন ধানের শীষের হয়ে কাজ করি।
প্রিয়াংকার বক্তব্যের সময় সারা মাঠে ধানের শীষে মুহুর্মুহু স্লোগানে মুখরিত যায়।
পানির অপর নাম জীবন হলেও কখনো কখনো পানিই আবার মানুষের বিপত্তির কারণ হয়ে ওঠে। মাগুরা সদরের পশু হাসপাতাল রোডে পৌরসভার পানি সরবরাহের পাইপ ছিদ্র হয়ে দিনের পর দিন অপচয় হচ্ছে পানি। নানা সমস্যায় ভুগতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে।
পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় দিন দিন বাড়ছে জনদুর্ভোগ।পশু হাসপাতাল রোডে বউবাজার নামে খ্যাত একটি বাজার রয়েছে। তাই সকাল থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সড়কটি লোকে লোকারণ্য থাকে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সড়কটি পানিতে ভেসে যাওয়ায় চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে বলে জানান স্থানীয়রা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানালে পানির পাইপের ছিদ্র সাড়তে মিস্ত্রি পাঠানো হয়। পাইপ সারার মিস্ত্রি এসে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ৫০০ টাকা নিয়ে আরো বেশি করে গর্ত খুঁড়ে লাল পতাকা টানিয়ে রেখে চলে যান। যাওয়ার সময় বলে যান আগামীকাল পানি যখন বন্ধ থাকে তখন এসে সেড়ে দিয়ে যাব। কিন্তু দুর্ভাগ্য দীর্ঘ ১৫ দিন কেটে গেলেও সেই আগামীকাল আর আসে না। ফলে সব সময় পানি পড়তে থাকা রাস্তাটি কর্দমাক্ত হয়ে যাওয়ায় জনগণের চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে পৌর কর্তৃপক্ষের উদাসীনতাকে দায়ী করছেন এলাকাবাসী এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।
এব্যাপারে ডিম ব্যবসায়ী মফিজ বলেন, ১৫-১৬ দিন আগে আমার দোকানের সামনে এভাবে গর্ত খুঁড়ে চলে গেছে।বলেছে কাল আসবে এখনো আসে নাই। এতে আমার দোকানের বেঁচাকেনা কমে গেছে লোকজন এসে দাঁড়াতে পারছে না।আমরা ঠিকমত চলাফেরা করতেও পারছি না। আমাদের ব্যবসার অনেক ক্ষতি হচ্ছে।
বাজার করতে আসা পথচারী বলেন, এটা আমাদের জন্য একটা মরণ ফাঁদ। আমরা কাঁদা পানি ভেঙ্গে চলতে পারছি না। তাছাড়া রাতে প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকেনা এই সড়ক দিয়ে সব সময় লোকজন এবং যানবাহন চলাচল করে,ফলে অন্ধকারে যেকোন সময় একটা বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে। তাই আমরা কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি খুব দ্রুত যেন এর একটা সমাধান করা হয়।
পানি সরবরাহের পৌর শাখার হারুন অর রশিদ জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি। খুব শীঘ্রই এটা সমাধানের চেষ্টা করব।
ময়মনসিংহে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে দরিদ্র মানুষের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলায় এসব সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৯ পদাতিক ডিভিশন ও ঘটাইল অঞ্চল।
সেনাবাহিনীর সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের পক্ষ থেকে দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তির সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) মুক্তাগাছার হাজী কাশেম আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ মাঠে চক্ষু চিকিৎসা সেবা পরিচালনা করা হয়। সকালে এ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসবার কমান্ডিং ও ঘাটাইল এরিয়ার এরিয়া কমান্ডার মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ। পরে মুক্তাগাছার শারীরিক শিক্ষা কলেজ মাঠে দরিদ্রদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেন তিনি। সেনা প্রধানের দিকনির্দেশনায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
সেনাবাহিনীর উদ্যোগে পরিচালিত বিনামূল্যে চক্ষু সেবা কার্যক্রমে ২৫০ জন দরিদ্র মানুষকে চোখের চিকিৎিসা ও বিনামূল্যে চশমা প্রদান করা হয়। কম্বল বিতরণ করা হয় ৫০০ জন দরিদ্র মানুষের মধ্যে।
সেনাবাহিনীর এসব সেবা গ্রহন করা দরিদ্র মানুষেরা আনন্দ প্রকাশ করেন। প্রতি বছর সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এসব সেবা গ্রহন করে মানুষ উপকৃত হয়।
এ সময় ৭৭ পদাতিক ডিভিশনের ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মালিক সামস উদ্দীন মুহাম্মদ মঈন, এসজিপি, এসপিপি, এএফডব্লিউসি, পিএসসিসহ ঘটাইল অঞ্চলের অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
বরগুনার তালতলী উপজেলার লোকমান হোসেন হাওলাদারের ওয়াকফা স্টেটের জমির রোপন কৃত ধানের চারা উপড়ে ফেলে চাষাবাদের অভিযোগ উঠেছে আওয়ামীলীগ নেতা ভূমিদস্যু আব্দুল ওহাব তালুকদার ও আব্দুল সত্তারের বিরুদ্ধে। ঘটনা ঘটেছে শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১ টায় পঁচাকোরালিয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামে।
জানাগেছে, উপজেলার পঁচাকোরলিয়া ইউনিয়নের হুলাটানা গ্রামের লোকমান হোসেন তার ১৭ একর জমি ১৯৯২ সালে ওয়াকফা দলিল করে যান। ওই সময়ে ওয়াকফা স্টেটের মোতায়ালি নিযুক্ত হন মোফাজ্জল হোসেন হাওলাদার। ৩৪ বছর ধরে ওই জমি মোতায়ালি ভোগদখল করে আসছেন। শুক্রবার বেলা ১১ টার দিকে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরফে কালু, সহ সভাপতি আব্দুল সত্তার, হামেজ মৃধা, নাসির মৃধা, জসিম মৃধা, রফিজ প্যাদা, নাসির মাষ্টার ও জুয়েলসহ ৩০/৪০ জন ভুমিদস্যু ওয়াকফা ষ্টেটের ওই জমিতে হাইব্রিড ধানের রোপনকৃত চারা উপরে ফেলে ফের চাষাবাদ করেন।
রোপনকৃত জমিতে চাষাবাদে বাধা দিতে গেলে সন্ত্রাসীরা মোজাম্মেল হোসেন হাওলাদার ও তার পরিবারের লোকজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করে। এসময় রেশমা বেগম নামের এক নারী আহত হয়। প্রাণ ভয়ে তারা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেয় বলে জানান ভুক্তভোগীরা। আহত রেশমা বেগমকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্রেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন ।
জমির মোতায়ালি মোজাম্মেল হোসেন হাওলাদার বলেন, লোকমান হোসেন হাওলাদার ওয়াকফা স্টেটের আমি মোতায়ালি। ওই জমি আমি গত ৩৪ বছর ধরে ভোগদখল করে আসছি। কিন্তু ভূমিদস্যু আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরেফে কালু ও আব্দুল সত্তারের নেতৃত্বে ৩০/৪০ জনের একটি সন্ত্রাসী বাহিনী আমার ভোগদখলে থাকা জমির রোপনকৃত হাইব্রিড ধানের চারা উপরে ফেলে চাষাবাদ করেছে। আমি এতে বাধা দিলে আমাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করেছে। আমাকে রক্ষায় আমার স্বজন রেশমা এগিয়ে গেলে তারা তাকে মারধর করে।
আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল ওহাব তালুকদার ওরফে (কালু) বলেন, কবলা দলিল মূলে আমরা ওই জমির মালিক। আমাদের জমির ধানের চারা রোপন করেছে আমরা ধানের চারা উপরে ফেলেছি।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, বিষয়টি আমি জেনে তাৎক্ষনিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নওগাঁর মহাদেবপুর হাট ইজারা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন কামাল হোসেন নামের এক ইজারাদার। উপজেলার ঐতিহ্যবাহী মহাদেবপুর হাটের নির্ধারিত জায়গা বুঝে না পাওয়ায় বড় অঙ্কের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তিনি। ভুক্তভোগীর ধারণা, লোকসানের পরিমাণ প্রায় দেড় কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে।
জানা যায়, মহাদেবপুর হাট সপ্তাহে দু’দিন বুধবার ও শনিবার বসে। এর মধ্যে গরুর হাট বসে সপ্তাহে একদিন শনিবার। হাটটি ১৪৩২ বঙ্গাব্দের ১লা বৈশাখ থেকে ৩০ চৈত্র পর্যন্ত এক বছরের জন্য ২ কোটি ৫১ লাখ ২৯ হাজার টাকায় ইজারা নেন কামাল হোসেন। ইজারা নেওয়ার পর থেকেই হাটের জায়গা বুঝে পাওয়ার জন্য একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করেন তিনি। কিন্তু ইজারার মেয়াদ প্রায় শেষ হলেও তাকে অফিসিয়ালভাবে হাটের জায়গা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
কাজেই এই হাট ইজারা নেওয়ার পরপরই লোকসানের আশঙ্কা শুরু হয় ইজারাদার কামাল হোসেনের। প্রায় এক যুগ ধরে যেখানে ছাগলের হাট বসত, সেই সরকারি জায়গায় নতুন ভূমি অফিসের ভবন নির্মাণ শুরু হওয়ায় ছাগলের হাট বসানো নিয়েই অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। অপরদিকে, পূর্বে ব্যবহৃত গরুর হাটের জায়গাও ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে পড়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের জমি ঘিরে নেওয়ার কারণে। ফলে বর্তমানে বড় আকারের গরুর হাটটি কোনো রকমে টিকে আছে। সরেজমিনে জানা যায়, ধানের অন্যতম বড় মোকাম হিসেবে পরিচিত মহাদেবপুর উপজেলা। এখানে বেশ কয়েকটি বড় ধানের হাট রয়েছে, তার মধ্যে মহাদেবপুর হাট অন্যতম। সপ্তাহে বুধবার ও শনিবার এখানে ধানের হাট বসে। তবে নির্ধারিত জায়গা না থাকায় আঞ্চলিক প্রধান সড়কের ওপরই বসে ধানের বাজার, যা চরম জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে।
আর ধানের বাজারের জন্য নির্ধারিত জায়গা না থাকায় টোল আদায় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন ইজারাদার। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাংক ঋণের সুদের চাপ। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি। যার কারণে একাধিকবার আবেদন করে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ইজারাদার।
আরও জানা যায়, ইজারার চুক্তি সম্পন্ন হয় চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি। অথচ চুক্তি হওয়ার কথা ছিল গত বছরের ১৩ এপ্রিল। আবার হাটের জায়গা বুঝে নিতে ইজারাদার গত বছরের ২৫ মে ও ১৫ সেপ্টেম্বর লিখিত আবেদন করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে পায়নি। উল্টো, ছাগলের হাট বসা জায়গায় নতুন করে ভূমি অফিসের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। যদিও জায়গাটি ভূমি অফিসের। অথচ গত এক যুগ থেকে এই জায়গায় ছাগলের হাট বসতো বলে জানালেন ভূমি অফিসের এক কর্মকর্তা ও বিপ্লব দাস নামের স্থানীয় বাসিন্দা।
এদিকে, সংকুচিত হওয়া গরুর হাটের জায়গায় ব্যবসা করতে এসে চরম ভোগান্তির কথা জানান পেঁয়াজ ব্যবসায়ী ফয়জুল ইসলাম। তিনি বলেন, “আমি ৩৭ বছর ধরে মহাদেবপুর হাটে ব্যবসা করছি। বর্তমানে গরুর হাটের জায়গায় আমরা ১৭ জন ব্যবসা করছি। জায়গা এতটাই কম যে হাটের দিন গরু, ছাগল, দোকান আর গাড়ির ভিড়ে টিকে থাকাই কঠিন হয়ে পড়ে।” আগে অন্য জায়গায় ছিলাম। এই জায়গায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও কষ্ট করে ব্যবসা করতে হচ্ছে।
ইজারাদার কামাল হোসেন বলেন, সরকার চাইলে সহজেই হাটের জায়গা বাড়াতে পারে। আশপাশে অনেক ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি রয়েছে, যেগুলো অধিগ্রহণ করা সম্ভব। যুগের পর যুগ এই এলাকায় বড় গরুর হাট বসে আসছে এবং ঐতিহ্যবাহী এই হাট থেকে সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করে। হাটের জায়গা বাড়ানো হলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি ইজারাদারদের নির্ধারিত টোল আদায়ও স্বাভাবিক হবে। অন্যথায় ইজারাদারদের লোকসানে পথে বসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই হাট ইজারা দেওয়ার সময় আইনে "তোহা বাজার" মানে তরকারি ও ধানেরসহ একাধিক বাজারের কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু বাস্তবে "তোহা" বাজারে (ধানের বাজারের) কোনো জায়গা নেই। তারপরও উপজেলার পশু হাসপাতালের সামনে প্রধান সড়কে বসে ধানের বাজার। যা আইনসম্মত নয়। কারণ জনদুর্ভোগ হয় এমন কোনো জায়গায় হাট বসানো যাবে না। বর্তমানে এই হাটে কোটি টাকার উপরে লোকসান হবে। এছাড়া ব্যাংক থেকে লোন নেওয়া আছে। এমন পরিস্থিতিতে তিনি সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো: আরিফুজ্জামান মুঠোফোনে বলেন, ধানের হাট রাস্তায় বসে। রাস্তায় বসানোর নিয়ম আছে। আগে থেকেই বসছে। আর রাস্তায় বসে এরকম এক'শ টি হাট দেখাতে পারবো। তারপরও এখানে রাস্তা সুন্দর হওয়ার কারণে হাটের দিন একদিকে বন্ধ রাখা হয়।
ইউএনও বলেন, হাট ডাকের সময় চিন্তা করা উচিৎ ছিল ইজারাদারের। আর গরুর হাটের জায়গা কমে যায়নি। তবে ছাগলের হাটে ভূমি অফিস হচ্ছে। যেটা আগে থেকেই জানতো তিনি। এছাড়া জামানত না দেওয়ার কারণে হয়তোবা চুক্তিটা দেরিতে করা হয়েছে।
ফুল বেলপাতা আর পবিত্র মন্ত্র পাঠের মধ্য দিয়ে মাগুরার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুরানো ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী দেবী সরস্বতীকে সুরের দেবী, জ্ঞানের দেবী বিদ্যার দেবী বলে আনা হয়। সরস্বতীর পায়ে অঞ্জলি প্রদানের মধ্য দিয়ে মাগুরা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উৎসবটি পালন করে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে মেডিকেল কলেজ, সরকারী হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, মাগুরা সরকারি বালক বিদ্যালয়, মাগুরা সরকারি বালিকা বিদ্যালয় সহ চার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এ সময় অঞ্জলি প্রদান শেষে ভক্তদের মাঝে প্রসাদ বিতরণ করা হয়। দিনটিকে ঘিরে প্রতিটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মাগুরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী তমা বলেন, প্রতিবছর এই দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষা করি। এই দিনে আমরা বন্ধু-বান্ধবীরা মিলে একে অপরকে রং দিয়ে দিনটি উদযাপন করি। এবং দেবী মায়ের আশীর্বাদ নেই যেন সারা বছর আমরা লেখাপড়া ভালোভাবে করতে পারি।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ও বিশিষ্ট সচিব এম হাফিজ উদ্দিন খানের জানাজা শেষে তাঁকে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বাদ জুমা সিরাজগঞ্জ শহরের রহমতগঞ্জ কবরস্থান মাঠে জানাজা সম্পন্ন হওয়ার পর ৮৯ বছর বয়সী এই গুণী ব্যক্তিত্বকে দাফন করা হয়। শেষ বিদায়ের এই অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা উপস্থিত ছিলেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার উত্তরায় নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মামাতো ভাই লিয়াকত আলী জানান, ‘গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার উত্তরায় ১ নম্বর সেক্টরের নিজ বাড়িতে বাধ্যর্কজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জের গ্রামের বাড়িতে তার মরদেহ নিয়ে আসা হয়।’
এম হাফিজ উদ্দিন খান ছিলেন কর্মজীবনে একজন অত্যন্ত দক্ষ ও নীতিবান কর্মকর্তা। তিনি ডাক, তার ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনাসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ছিলেন। এ ছাড়াও তিনি সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে সুশাসন ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় বিশেষ অবদান রেখেছেন। আর্থিক খাতেও তাঁর পদচারণা ছিল উল্লেখ করার মতো; তিনি অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান এবং বেসিক ও রূপালী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সিরাজগঞ্জ শহরের সমাজকল্যাণ মোড় এলাকার প্রয়াত শিক্ষক কোব্বাদ আলী খানের এই সন্তান ব্যক্তিগত জীবনে অত্যন্ত সৎ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী ও কানাডায় বসবাসরত দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
৪ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের একটি ইউনিটের উৎপাদন শুরু করা হয়েছে। তবে এখনও বন্ধ রয়েছে আরও দুটি ইউনিট।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, গত বুধবার রাত ৯টা ৩ মিনিট থেকে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন প্রথম ইউনিটের উৎপাদন শুরু হয়। বর্তমানে এই ইউনিটের ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
এর আগে গত রোববার সকালে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১২৫ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম ইউনিটের বয়লারের টিউব ফেটে যায়। এতে এই ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই ইউনিট বন্ধের মাধ্যমে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, কেন্দ্রের অপর দুটি ইউনিট আগে থেকেই বন্ধ রয়েছে।
পরে প্রায় ১ হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার বয়লারটি ঠান্ডা করে মেরামত শুরু করে কর্তৃপক্ষ। অবশেষে গত বুধবার রাত থেকে ইউনিটটি সম্পূর্ণভাবে মেরামত হয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করে। এর আগে কর্তৃপক্ষ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির উৎপাদন চালুর ব্যাপারে সুনির্দিষ্টভাবে জানাতে না পারলেও নূন্যতম ১ সপ্তাহ সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছিল।
কেন্দ্রের প্রথম ইউনিট চালু হলেও বাকি দুটি ইউনিটের উৎপাদন এখনও বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিটটি যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত বছরের ১ নভেম্বর থেকে বন্ধ আছে। আর ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। তৃতীয় ইউনিট চালু করতে চীন থেকে প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ আসছে। ফলে আগামী ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চালু হতে পারে তৃতীয় ইউনিটের উৎপাদন– এমনটি বলছে কর্তৃপক্ষ। আর প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হওয়ায় দ্বিতীয় ইউনিটটি চালু করতে এখনও মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত হয়নি।
বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘প্রথম ইউনিট ও তৃতীয় ইউনিট নিরবিচ্ছিন্নভাবে চালু রাখতে নভেম্বর থেকেই কাজ চলছে। আগামী ইরি-বোরো মৌসুম এবং নির্বাচনে যাতে বিদ্যুতের সমস্যা না হয় সেই টার্গেট রয়েছে। তবে যন্ত্রাংশের জটিলতার কারণে প্রথম ইউনিটে সমস্যা হয়েছিল। তৃতীয় ইউনিট ফেব্রুয়ারি মাসে চালু করতে দিন-রাত কাজ চলছে। আর দ্বিতীয় ইউনিট চালু করতে অতিরিক্ত অর্থ প্রয়োজন হওয়ায় সেটির ব্যাপারে এখনও চীনা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে।
গাজীপুর কৃষিকে আরও আধুনিক, টেকসই ও উৎপাদনমুখী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আধুনিক কৃষিযন্ত্র ও প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি বিষয়ে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের সেমিনার হলে অনুষ্ঠিত হয়।
প্রশিক্ষণে গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলা থেকে নারী ও পুরুষসহ মোট ৪০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. ময়নুল হক এবং কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. সাফিউল ইসলাম আফ্রাদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এক্সটেনশন সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন। বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। প্রশিক্ষণের শুরুতে অংশগ্রহণকারী কৃষকরা নিজেদের ফসল উৎপাদনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কীভাবে কম সময়ে অধিক ফলন পাওয়া যায় সে বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. জি কে এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, কৃষকরাই হচ্ছেন সবচেয়ে বড় বিজ্ঞানী। গবেষণাগারে উদ্ভাবিত প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে কৃষকের হাতে পৌছালেই তার প্রকৃত সার্থকতা আসে।
দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্য চাহিদা পূরণে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভাবিত প্রযুক্তিগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। দ্বিতীয় পর্বে কৃষিযন্ত্র ও প্রিসিশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আহিদুজ্জামান এবং অধ্যাপক ড. মো. মোস্তাফিজার রহমান আধুনিক কৃষিযন্ত্রের ব্যবহার ও কার্যকারিতা নিয়ে হাতে-কলমে ও ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা দেন।
সমাপনী বক্তব্যে অধ্যাপক ড. ফারহানা ইয়াসমিন প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান নিজ নিজ জমিতে প্রয়োগের পাশাপাশি অন্যান্য কৃষকের সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার আহ্বান জানান। কর্মসূচির সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন এক্সটেনশন সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মামুনুর রহমান। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি