চট্টগ্রাম আদালতের ১ হাজার ৯১১টি মামলার নথির (কেস ডকেট বা সিডি) খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। হত্যা, মাদক, চোরাচালান, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন মামলার এসব নথি বিচারিক কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান আইনজীবীরা।
এদিকে নথিগুলোর খোঁজ না পাওয়া যাওয়ায় গতকাল রোববার (৫ জানুয়ারি) নগরের কোতয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভুঁইয়া।
জিডিতে উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম মহানগর পিপি কার্যালয়ে ২৮ থেকে ৩০টি আদালতের কেস ডকেট রক্ষিত ছিল। পিপি কার্যালয়ে জায়গা-স্বল্পতার কারণে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে পিপি কার্যালয়ের সামনের বারান্দায় প্লাস্টিকের বস্তায় ১ হাজার ৯১১টি মামলার কেস ডকেট পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় রাখা ছিল।
আদালতের অবকাশকালীন ছুটির সময় অফিস বন্ধ থাকায় গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নথিগুলো হারিয়ে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি থানায় ডায়েরিভুক্ত করে রাখার জন্য আবেদন করা হলো।
তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কে বা কারা এক হাজার ৯১১ মামলার সিডি নিয়ে গেল বুঝতে পারছেন না। গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথিগুলো এতদিন অফিসের বারান্দায় কেন রাখা হয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। নথিগুলো রাখার জন্য কক্ষ পাওয়া যাচ্ছে না। কক্ষ চাওয়া হয়েছিল। আমার কক্ষটি নথিতে পরিপূর্ণ ছিল। সেগুলো রাখার আর কোনো জায়গা পাচ্ছিলাম না।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, মহানগর পিপির কার্যালয়ের সামনে রাখা ১ হাজার ৯১১ মামলার নথি হারানোর ঘটনায় করা জিডির বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্ত করে জানা যাবে মূল রহস্য।
আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় মহানগর পিপির কার্যালয়। এটির পাশেই মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস ও খাস কামরা। আশপাশে অন্য বিচারকদের এজলাস।
এখানে সব সময় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ভিড থাকে। আইনানুসারে সন্ধ্যার পর থেকে আদালত ভবনে নিরাপত্তা জোরদার থাকার কথা থাকলেও তা করা হয় না। পিপির কার্যালয়ের সামনে আদালতের বারান্দা থেকে ১ হাজার ৯১১ মামলার নথি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত আইনজীবীরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছেন তারা।
এ ঘটনায় আদালতপাড়ায় তোলপাড় চলছে বলেও জানান কেউ কেউ। তীব্র সমালোচনাও হচ্ছে চেম্বারগুলোতে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিচারিক কাজে মামলার সিডি (ডকেট) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগপত্রের সঙ্গে আদালতে সিডি জমা দিতে হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিডিতে মামলার ধারাবাহিক অগ্রগতির বিবরণ লিখে রাখেন। তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন হলে নতুন কর্মকর্তাও একই সিডিতে বিবরণ লেখেন। সে অনুযায়ী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সিডি সংরক্ষিত থাকলে ৫-১০ বছর পরও সাক্ষ্য দিতে সুবিধা হয়। অন্যথায় মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে মামলার নথি হারিয়ে যাওয়া ছোটখাটো কোনো ঘটনা নয়। এগুলো গায়েব করার পেছনে কে বা কারা জড়িত, তা বের করতে হবে। আসামিরা মামলা থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য এ কাজ করতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।
চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত পণ্যবাহী জাহাজে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে গম অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা জাহাজকে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা ঠেকাতে যৌথ অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
বুধবার (১২ আগস্ট) কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় এ বিশেষ যৌথ অভিযানে ৫০টির অধিক ফিশিং বোট তল্লাশি করা হয়। এসময় অবৈধ জাল ফেলানোর অভিযোগে ২৪ জনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, দেশের সমুদ্র বন্দর, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গরে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে কোস্ট গার্ডের টহলরত জাহাজ বিসিজিএস সোনাদিয়া, উচ্চগতিসম্পন্ন একাধিক বোট এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দিশারী-৭ অংশগ্রহণ করে। এসময় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর আভিযানিক দল এবং বন্দর ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।
অভিযানকালে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গর ও কর্ণফুলী চ্যানেলে বাণিজ্যিক জাহাজ ও লাইটারের নিরাপদ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং বাণিজ্যিক জাহাজে ছিঁচকে চুরি প্রতিরোধে বহিঃনোঙ্গরে অবস্থানরত ফিশিং বোট ও অবৈধভাবে স্থাপন করা বিভিন্ন ধরনের জাল শনাক্ত করে অপসারণ করা হয়। এসব অবৈধ জালের কারণে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এসময় বহিঃনোঙ্গরে অবৈধভাবে অবস্থানরত ৫০টির অধিক ফিশিং বোট তল্লাশি করে সর্বমোট ২৪ জন জেলেকে আটক করা হয় এবং আটককৃত ব্যক্তিদের বন্দর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ৩০ দিন করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও এর বহিঃনোঙ্গরে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও লাইটারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌপথ সচল রাখা এবং ছিঁচকে চুরি ও অবৈধ জাল স্থাপনসহ যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
কুমিল্লায় তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। গত এক সপ্তাহ ধরে রাতে স্বল্প সময়ের জন্য গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও বুধবার (১২ আগস্ট) দিনভর অনেক এলাকায় গ্যাসের দেখা মেলেনি। এতে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ খোলা জায়গায় ইট দিয়ে চুলা বানিয়ে রান্না করেছেন, আবার কেউ খাবারের জন্য ছুটেছেন হোটেলে। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও।
নগরীর ঝাউতলা এলাকার গৃহিণী সুরাইয়া সুলতানা বলেন, ‘গেল এক সপ্তাহ ধরে রাতে গ্যাস আসত। রাত জেগে রান্নাবান্নার কাজ করতাম। আজ সারাদিন গ্যাস ছিল না। বাধ্য হয়ে বাসার পাশে খোলা জায়গায় ইট দিয়ে চুলা বানিয়ে রান্না করেছি। অথচ আমাদের কোনো নোটিশও করা হয়নি।’
ব্যাংকার ইফফাতুল চৌধুরী বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় সকালে হোটেল থেকে পরোটা-সবজি এনে সবাই খেয়েছি। দুপুরে বাসায় ফিরতে পারিনি। সন্ধ্যার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মাটির চুলায় রান্না করতে হবে। দুপুরে হোটেলে দীর্ঘ লাইন থাকায় খাবার কিনে আনাও সম্ভব হয়নি।’
গ্যাস সংকটের কারণে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও বেড়েছে চাপ। ফৌজদারি এলাকার খাবার হোটেলের মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় আজ গ্রাহক বেড়েছে। বিশেষ করে ভাত ও রান্না করা তরকারি বেশি বিক্রি হয়েছে।’
এদিকে গ্যাস সংকটের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
বিজিডিসিএলের আওতাধীন কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এ সংকটের প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের সাময়িক স্বল্পতার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ।
গ্যাস সরবরাহ ও অভিযোগের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের হটলাইন ১৬৫১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পরিবারে রান্নার দায়িত্বে থাকা মানুষ। অনেকেই বিকল্প জ্বালানি দিয়ে রান্না করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও বিড়ম্বনায় পড়ছেন। দীর্ঘস্থায়ী এ সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে রেললাইনে গিয়ে ঘুমানোর সময় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার মহেশপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন রেললাইনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত যুবকেরা হলেন— কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বায়ৈখোলা গ্রামের শাহ আলম গাজীর ছেলে হাসিব গাজী (২০) এবং নোয়াপাড়া গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে মেহেদী শেখ (২৫)।
রাজবাড়ি রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, ওই রাতে এলাকায় তীব্র তাপদাহের মধ্যে বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ওই দুই যুবক ঘর থেকে বের হয়ে মহেশপুর রেলস্টেশনের কাছে নির্জন রেললাইনের উপর ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।
তিনি জানান, ক্লান্তিতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় তাঁরা ট্রেনের আসার শব্দ বুঝতে পারেননি। হঠাৎ খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেন জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ওই এলাকায় পৌঁছালে ঘুমন্ত দুই যুবকের উপর দিয়ে চলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তাদের দুজনের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে ওসি জানান।
গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং প্রেক্ষিতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের তথ্য তুলে ধরে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।
বুধবার (১২ আগস্ট) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি পুলিশের মহাপরিদর্শক-আইজিপির কাছে পাঠানো হয়। পল্লী বিদ্যুতের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে চিঠিটি পাঠানোর কথা বলেছেন।
পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়, জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে সরবরাহ কমেছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে এসব এলাকায় ‘জনরোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে’।
কিছু এলাকায় বিদ্যুতের উপকেন্দ্র ও কার্যালয় হামলার শিকার হচ্ছে বলেও চিঠিতে বলা হয়েছে।
গত কয়েক দিনে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সম্মিলিত গড় চাহিদা ছিল প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।
এর ফলে কোনো কোনো এলাকায় দিনে ৮ ঘণ্টা, ১০ ঘণ্টা এমনকি ১২ ঘণ্টাও লোডশেডিং হচ্ছে। এতে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর করছে।
এতে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে আইজিপিকে।
চলমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য গ্যাসের ঘাটতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়া গেলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারে না।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরের বৈরী পরিস্থিতির কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর এক্সেলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালও এখনও পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, এক্সেলারেট টার্মিনাল থেকে আমরা এখনো ফুল ক্যাপাসিটিতে কাজ করতে পারছি না। দেশি উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব না। এটা আপনারা জানেন। একটা দীর্ঘমেয়াদি একটা ব্যাপার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘সমকামিতার’অভিযোগ ওঠার পর তাদের আবাসিক হলের সিট বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তারা ওই দুই শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেটি এখন পর্যালোচনা করছে বলেও জানা গেছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় বিধিমালায় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নেই বলে কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিককালে আরও দুটি হলে দুজন অতিথির বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিল।
এর মধ্যে একটি হলে একজন শিক্ষার্থী সমকামিতার জন্য বহিরাগত এনেছেন- এমন অভিযোগ ওঠে। আর অন্য ঘটনায় হল ছাত্র সংসদের একজন নেতা ও একজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সমকামিতায় জড়ানোর অভিযোগ ওঠেছিল। পরে হল প্রশাসন হল সংসদের নেতার সিট সাময়িক বাতিল করেছিল। যদিও তিনি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।
সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের পাঁচ কর্মচারীকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে এক বেঞ্চ অফিসারের বেতন স্থগিত করা হয়েছে।
সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন পৃথক পৃথক অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করে।
অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর থেকে টানা অনুপস্থিত থাকার দায়ে প্রথম আপিল শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
গত রোববার ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
এদিকে, বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার এমএলএসএস মো. আসাদুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. ফিরোজ মিয়া ও মোছা. রুক্ষুন নিশাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে সংশ্লিষ্ট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।
এ ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমিত ব্যতিরেখে কর্মস্থলের অনুপস্থিত থাকার কারণে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বেঞ্চ অফিসার মো. জামাল হোসেন প্রধানের বেতন বন্ধের অফিস আদেশ জারি করা হয়। গত ২৬ জুলাই এ আদেশ জারি করা হয়।
দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে তরুণ সমাজই নতুন সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি। এ কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আবির্ভাবসহ চলমান নতুন ইকোসিস্টেমে প্রতিদিন যে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, পুরোনো দিনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় তা মোকাবিলা করা কঠিন। তাই তরুণদের হাতে সঠিক জ্ঞান ও দক্ষতা তুলে দেওয়া প্রতিটি রাষ্ট্রের কর্তব্য।’
বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
‘২০২৬- ডিফরেন্ট কনটেক্সটস, কমন অ্যাসপিরেশনস’প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন মানব সভ্যতার জন্য যেমন এক বড় আশীর্বাদ, তেমনি এটি নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তি ও জ্ঞানের বিবর্তন এত দ্রুত ঘটছে যে আগামীকালের পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা আগে থেকে ধারণা করা মুশকিল।’
তিনি বলেন, ‘জ্ঞান এখন আর নির্দিষ্ট বা স্থির কোনো বিষয় নয়, তা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। পুরনো প্রজন্মকে অনুধাবন করতে হবে— এই নতুন ইকোসিস্টেমে মানিয়ে নেওয়ার জৈবিক ও সহজাত সক্ষমতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি।’
তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো পুরোনো সমস্যার সাথে প্রযুক্তিভিত্তিক নানা নতুন সংকট যুক্ত হচ্ছে। তবে তরুণদের এই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান দেওয়ার উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এখনো বৈশ্বিকভাবে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তরুণদের কেন্দ্র করে এই নতুন জ্ঞানের রূপান্তর ও দক্ষতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় মূল নজর দিতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে প্রমাণ করেছেন যে তিনি তরুণ সমাজের সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। ক্রীড়ার প্রসার, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করতে সরকার ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।’
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদেশি অতিথিবৃন্দ এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার যুব প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং আলোকসজ্জা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।
এতে বলা হয়, ১২ আগস্ট থেকে দেশের বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এর আগে গত ১১ জুন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত ছিল।
বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মো. মামুন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান ও অনুষ্ঠেয় মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও একই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে। এসব অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে।
তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।
নির্দেশনায় দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকোসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের আগের নির্দেশনায় শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হলো। পাশাপাশি বিলবোর্ড ও আলোকসজ্জা বন্ধের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তরের (সওজ) প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মনিরুজ্জামান। এই পদায়নের মধ্য দিয়ে তিনি সৈয়দ মঈনুল হাসানের স্থলাভিষিক্ত হলেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) এ নিয়োগ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
মনিরুজ্জামান সওজের ১৮তম ব্যাচের কর্মকর্তা এবং পরিকল্পনা ও রক্ষণাবেক্ষণ উইংয়ের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) (গ্রেড-৩) সৈয়দ মঈনুল হাসানকে পরবর্তী পদায়নের জন্য (স্ব-বেতনে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারিকৃত এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকীকে সিলেট পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সিলেট ওয়াসা) বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর ধারা ৭(১) অনুযায়ী মিফতাহ সিদ্দিকীকে সিলেট ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান পদে তিন বছরের জন্য নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. আক্তারুন নেছা স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনটি গত রোববার (৯ আগস্ট) তারিখে জারি করা হয়। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিয়োগের পর আগামী তিন বছর সিলেট ওয়াসা বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মিফতাহ সিদ্দিকী। সিলেট নগরীর পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, নাগরিকদের জন্য নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং ওয়াসার সামগ্রিক সেবার মানোন্নয়নে তিনি নেতৃত্ব দেবেন।
মিফতাহ সিদ্দিকী বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডেও তিনি সক্রিয়। সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার মধ্য দিয়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সেবা খাতের নেতৃত্বে যুক্ত হলেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন নেতৃত্বে সিলেট ওয়াসার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে এবং নগরবাসীর পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশনসংক্রান্ত সেবার পরিধি ও মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নোয়াখালীর হাতিয়া মৌলভী চর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৩ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হাতিয়া কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১ টি স্টিল বডি ট্রলারে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১ হাজার ৩৬০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচারকাজে ব্যবহৃত স্টিল বডি ট্রলারসহ তিনজন পাচারকারীকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত মালামাল, পাচারকাজে ব্যবহৃত ট্রলার ও আটককৃত পাচারকারীদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
সাম্প্রতিক সময়ে এশিয়ায় একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্প এবং দেশে ঘনঘন মৃদু কম্পনের প্রেক্ষাপটে বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে মোট ৪৪৫টি ‘নিরাপদ আশ্রয়স্থল’ চিহ্নিত করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদে বিষয়টি জানিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ২৫৬টি এবং উত্তর সিটিতে ১৮৯টি স্থানকে ভূমিকম্পে সাময়িক আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। এর পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকাজ ও সহায়তা নিশ্চিত করতে ১ লাখ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্বেচ্ছাসেবকের একটি সমন্বিত ডাটাবেজ তৈরির কাজও দ্রুত এগিয়ে চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা অঞ্চলে ৬ থেকে ৭.৫ মাত্রার কোনো শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানলে দুর্বল অবকাঠামোর কারণে কয়েক লাখ মানুষের প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। বুয়েটের অধ্যাপক ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ মেহেদী আহমেদ আনসারী জানান, ১৫০ থেকে ২০০ বছরের ভূমিকম্প চক্র অনুযায়ী বাংলাদেশে আবারও একটি বড় ধরনের কম্পনের সম্ভাবনা রয়েছে। অতীতে ১৮৬৯ সালের কাছাড়, ১৮৮৫ সালের বেঙ্গল, ১৯১৮ সালের শ্রীমঙ্গল এবং ১৯৩০ সালের ধুবড়ির ভূমিকম্পগুলোর ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, দীর্ঘদিন বড় কোনো দুর্যোগ না হওয়ায় এই ঝুঁকি আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
চিহ্নিত ৪৪৫টি আশ্রয়স্থলের সুনির্দিষ্ট তালিকা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তবে সরকারের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস পরিকল্পনা ও ফায়ার সার্ভিসের নির্দেশিকা অনুযায়ী মূলত নিচের স্থানগুলোকে সম্ভাব্য আশ্রয়স্থল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে:
* উন্মুক্ত খেলার মাঠ: এলাকাভিত্তিক সরকারি বা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বড় খোলা মাঠ।
* পাবলিক পার্ক: গাছপালা ঘেরা বড় উন্মুক্ত উদ্যান বা পার্ক।
* শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বুয়েট কিংবা বড় সরকারি স্কুল ও কলেজের বিশাল মাঠ।
* বিস্তীর্ণ খালি জায়গা: বহুতল ভবন বা ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো থেকে দূরবর্তী যেকোনো ফাঁকা স্থান।
‘খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু-জনিত অভ্যন্তরীণ স্থানচ্যুতি ব্যবস্থাপনার কৌশল’ শীর্ষক একটি সমন্বিত কৌশল পত্র খুলনা সিটি করপোরেশনের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জুর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে কৌশলপত্রটি হস্তান্তর করেন কারিতাস-খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। কেসিসির সহযোগিতায় ‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন (ডিআরআর এন্ড সিসিএ)’ প্রকল্পের আওতায কারিতাস-খুলনা অঞ্চল এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
খুলনা মহানগরীতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুত ও অভিবাসী জনগোষ্ঠীর ক্রমবর্ধমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের লক্ষে এই কৌশল পত্রটি প্রণয়ন করা হয়েছে। খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট (আইডিএম) এবং কারিতাস বাংলাদেশ যৌথভাবে কৌশলপত্রটি প্রণয়ন করেছে। কৌশলপত্রটি প্রণয়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা, সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম এবং কমিউনিটিভিত্তিক বিভিন্ন নেটওয়ার্কের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মতামত গ্রহণ করা হয়েছে।
কৌশলপত্র হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক কারিতাস কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে বাস্তুচ্যুতি জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমবর্ধমান হারে বাড়ছে এবং জীবিকার তাগিদে তারা মহানগর ও মহানগর সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় মানবেতর জীবন যাপন করছে। উদ্বাস্তু এ সকল জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নে কেসিসির পরিকল্পনা গ্রহণের ক্ষেত্রে এ কৌশলপত্রটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য পর্যাপ্ত ও উপযুক্ত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সাথে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সেবা প্রদান এবং সম্পদ বরাদ্দ আরও সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর একটি সমন্বিত ও নির্ভরযোগ্য ডাটাবেজ প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন।
প্রণীত কৌশলপত্র খুলনা সিটি করপোরেশনের ভবিষ্যৎ নগর পরিকল্পনা, সেবাপ্রদান, সমন্বয় এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠী সংক্রান্ত নীতি ও উদ্যোগ গ্রহণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশনা হিসেবে কাজ করবে বলে অনুষ্ঠানে জানানো হয়। একই সঙ্গে এটি সরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, এনজিও, সুশীল সমাজ এবং কমিউনিটি প্রতিনিধিদের মধ্যে সমন্বয় ও সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, সহনশীল ও টেকসই নগর উন্নয়ন নিশ্চিত করার একটি কাঠামো প্রদান করবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় নগর সেবা, জীবিকার সুযোগ, সামাজিক সুরা এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে সমান ও ন্যায্য সুযোগ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের যৌথ অঙ্গীকার আরও সুদৃঢ় করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে নগর সেবাদান ও উন্নয়ন কার্যক্রমে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কেসিসির ভূমিকা তুলে ধরে বক্তৃতা করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, জলবায়ু অভিবাসী কৌশলপত্র প্রণয়নের যাত্রা, বিভিন্ন ধাপ এবং অংশীজনদের পরামর্শ ও তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের প্রক্রিয়া তুলে ধরে বক্তৃতা করেন কুয়েটের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্টের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসাইন, কেসিসির পরিকল্পনা কাঠামোর সঙ্গে কৌশলপত্রের উদ্দেশ্য ও প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরে বক্তৃতা করেন কেসিসির চিফ প্লানিং অফিসার আবির-উল-জব্বার এবং জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ ও বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর পাশে দাঁড়াতে কারিতাস বাংলাদেশের অঙ্গীকার তুলে ধরে বক্তৃতা করেন কারিতাস-খুলনা অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। ইউনিসেফ, এ্যাডামস, এ্যাডব, ওয়ার্ল্ড ভিশন, নবলোক, জেজেএস, ব্রাক, রূপান্তর, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, উত্তরণ, সুশীলন-সহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধি, কেসিসির ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।