চট্টগ্রাম আদালতের ১ হাজার ৯১১টি মামলার নথির (কেস ডকেট বা সিডি) খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। হত্যা, মাদক, চোরাচালান, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন মামলার এসব নথি বিচারিক কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান আইনজীবীরা।
এদিকে নথিগুলোর খোঁজ না পাওয়া যাওয়ায় গতকাল রোববার (৫ জানুয়ারি) নগরের কোতয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভুঁইয়া।
জিডিতে উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম মহানগর পিপি কার্যালয়ে ২৮ থেকে ৩০টি আদালতের কেস ডকেট রক্ষিত ছিল। পিপি কার্যালয়ে জায়গা-স্বল্পতার কারণে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে পিপি কার্যালয়ের সামনের বারান্দায় প্লাস্টিকের বস্তায় ১ হাজার ৯১১টি মামলার কেস ডকেট পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় রাখা ছিল।
আদালতের অবকাশকালীন ছুটির সময় অফিস বন্ধ থাকায় গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নথিগুলো হারিয়ে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি থানায় ডায়েরিভুক্ত করে রাখার জন্য আবেদন করা হলো।
তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কে বা কারা এক হাজার ৯১১ মামলার সিডি নিয়ে গেল বুঝতে পারছেন না। গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথিগুলো এতদিন অফিসের বারান্দায় কেন রাখা হয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। নথিগুলো রাখার জন্য কক্ষ পাওয়া যাচ্ছে না। কক্ষ চাওয়া হয়েছিল। আমার কক্ষটি নথিতে পরিপূর্ণ ছিল। সেগুলো রাখার আর কোনো জায়গা পাচ্ছিলাম না।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, মহানগর পিপির কার্যালয়ের সামনে রাখা ১ হাজার ৯১১ মামলার নথি হারানোর ঘটনায় করা জিডির বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্ত করে জানা যাবে মূল রহস্য।
আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় মহানগর পিপির কার্যালয়। এটির পাশেই মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস ও খাস কামরা। আশপাশে অন্য বিচারকদের এজলাস।
এখানে সব সময় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ভিড থাকে। আইনানুসারে সন্ধ্যার পর থেকে আদালত ভবনে নিরাপত্তা জোরদার থাকার কথা থাকলেও তা করা হয় না। পিপির কার্যালয়ের সামনে আদালতের বারান্দা থেকে ১ হাজার ৯১১ মামলার নথি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত আইনজীবীরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছেন তারা।
এ ঘটনায় আদালতপাড়ায় তোলপাড় চলছে বলেও জানান কেউ কেউ। তীব্র সমালোচনাও হচ্ছে চেম্বারগুলোতে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিচারিক কাজে মামলার সিডি (ডকেট) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগপত্রের সঙ্গে আদালতে সিডি জমা দিতে হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিডিতে মামলার ধারাবাহিক অগ্রগতির বিবরণ লিখে রাখেন। তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন হলে নতুন কর্মকর্তাও একই সিডিতে বিবরণ লেখেন। সে অনুযায়ী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সিডি সংরক্ষিত থাকলে ৫-১০ বছর পরও সাক্ষ্য দিতে সুবিধা হয়। অন্যথায় মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে মামলার নথি হারিয়ে যাওয়া ছোটখাটো কোনো ঘটনা নয়। এগুলো গায়েব করার পেছনে কে বা কারা জড়িত, তা বের করতে হবে। আসামিরা মামলা থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য এ কাজ করতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।
পাবনার আতাইকুলার পুষ্পপাড়া বাজারে দুর্বৃত্তের গুলিতে এক ব্যবসায়ীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বাজারের একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- পুষ্পপাড়া এলাকার ধর্মগ্রামের আরজ আলীর ছেলে আব্দুস সালাম (৫৪) ও একই গ্রামের ওমেদ আলী মেম্বারের ছেলে রিপন (৩০)। আব্দুস সালাম পুষ্পপাড়া বাজারের ইজারাদার ছিলেন। রিপন তার সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যায় পুষ্পপাড়া বাজারে আব্দুস সালামের ব্যবসায়িক কার্যালয়ে বসে ছিলেন সালাম ও রিপন। এ সময় ৫-৭ জনের একটি দল সেখানে ঢুকে তাদের লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। পরে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
গুলিতে আহত সালাম ও রিপনকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
আতাইকুলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) প্রদীপ কুমার সাহা বলেন, ৫-৭ জনের একটি দল গুলি করতে করতে সালামের কার্যালয়ে ঢোকে। পরে তারা পালিয়ে যায় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। কারা এবং কী কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে এবং হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনে কাজ করছে।
চট্টগ্রামে সন্দ্বীপের উড়িরচরে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্ট গার্ড। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপনায় চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ থানাধীন উড়িরচর ইউনিয়নের এ এইচ নব দিগন্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়।
ওই মেডিকেল ক্যাম্পেইন-এ ৪৪৫ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ঐতিহ্যবাহী ধলেশ্বরী নদী খনন করার মাত্র এক বছরের মাথায় পুনরায় ভরাট হয়ে তলদেশে পলি ও বালু জমে নাব্য হারিয়ে ফেলেছে। নদীর খননকৃত মাটি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া সত্ত্বেও এভাবে দ্রুত ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্তম্ভিত স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
নদীটি দ্রুত ভরাট হওয়ার নেপথ্যের কারণ সম্পর্কে জানতে কথা হয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর উপসহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ শরিফুল ইসলামের সঙ্গে। সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, উজান থেকে বাংলাবাজারের দিক থেকে আসা বিভিন্ন খাল বেয়ে ধেয়ে আসা পাহাড়ি ঢল ও প্রবল স্রোতের সঙ্গে প্রচুর পলি ও বালু এসে নদীর মুখে জমা হয়।
কনসালটেন্ট দিয়ে স্টাডি করে দেখা গেছে, এখানে পলি জমার (সিলট্রেশন) হার বা প্রবণতা প্রায় ৩০০ শতাংশ! বিগত এক-দুই বছর যাবত দেখা যাচ্ছে, নদী খনন করার পর এক মাসও তা টেকে না; ওপর থেকে আসা পলিতে তা দ্রুত ভরাট হয়ে যায়। নদীগুলোর এই ভৌগোলিক ও অববাহিকাভিত্তিক বাস্তবতায় কেবল একবার ড্রেজিং করে স্থায়ী সমাধান পাওয়া কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্থায়ী বলতে এ ধরনের নদী এভাবে সারা বছর ড্রেজিং করে রাখা লাগে। তবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের এই প্রক্রিয়াটি বাস্তবে জনবল ও বিপুল খরচের কারণে বেশ জটিল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাওরের নদীগুলোর ওপর এই অনিয়মিত ড্রেজিংয়ের নেতিবাচক প্রভাব ও টেকসই সমাধান নিয়ে কথা বলেন সামাজিক ও পরিবেশবিষয়ক সংগঠন ‘হাওরাঞ্চলবাসী ঢাকা’-র সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বাবু। তিনি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে বলেন, হাওর অঞ্চল এবং এর নদীগুলোকে একক সত্তা হিসেবে না দেখে সামগ্রিক ও সমন্বিত দৃষ্টিভঙ্গিতে বিবেচনা করতে হবে। ভৌগোলিক ও অনন্য বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে এই অঞ্চলের নদীগুলো পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে হাওর পেরিয়ে সাগরে মিশেছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক গবেষণা বা সমীক্ষা ছাড়াই যত্রতত্র নদী ও শাখা-উপশাখা ড্রেজিং করা হচ্ছে এবং ইচ্ছেমতো নদীর গতিপথ পরিবর্তন বা ভরাট করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে নদীগুলোর ওপর এক ধরনের নির্মম অত্যাচার চলছে, যার ব্যতিক্রম নয় আমাদের ধলেশ্বরী নদীটিও।
তিনি আরও বলেন, হাওরাঞ্চলবাসীর পক্ষ থেকে আমরা স্পষ্টভাবে মনে করি, বিচ্ছিন্নভাবে খণ্ড খণ্ড ড্রেজিং না করে পুরো হাওর অঞ্চলকে একসঙ্গে নিয়ে একটি ব্যাপকভিত্তিক বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সমীক্ষা চালানো দরকার। কোথায় প্রকৃত ড্রেজিং প্রয়োজন, কোথায় গতিপথ পরিবর্তন করতে হবে কিংবা কোথায় তা করা যাবে না—তা বৈজ্ঞানিক তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করতে হবে। যত্রতত্র অপরিকল্পিত ড্রেজিং অবিলম্বে বন্ধ করে পরিকল্পিত ও টেকসই পদক্ষেপে নদীগুলোকে রক্ষা করার এখনই উপযুক্ত সময়।
এদিকে সামনেই হাওরের একমাত্র প্রধান ফসল বোরো ধান আবাদের ধুম পড়বে। হাওরঞ্চলের হাজার হাজার একর ফসলি জমি এই ধলেশ্বরী নদীর পানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভর করে। সেচ মৌসুমের ঠিক মুখে নদীটি শুকিয়ে চর জেগে ওঠায় কৃষকরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। নদীর পানিপ্রবাহ না থাকলে নদীভিত্তিক সেচপাম্পগুলো অকেজো হয়ে পড়বে, যার ফলে হাজার হাজার একর জমির বোরো আবাদ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এছাড়া নদী ভরাট হওয়ার কারণে দেশীয় প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম ও স্বাভাবিক প্রজননক্ষেত্রও ধ্বংসের মুখে পড়েছে, যা স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকায় চরম আঘাত হানছে।
অন্যদিকে, শুধু কৃষিতেই নয়, অষ্টগ্রাম উপজেলার সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগব্যবস্থাও এই নদীপথের ওপর প্রত্যক্ষভাবে নির্ভরশীল। সংলগ্ন বাণিজ্যিক হাব ভৈরব থেকে অষ্টগ্রাম বাজার, কাস্তুল বাজারসহ আশপাশের বিভিন্ন হাটে স্বল্প খরচে নিত্যপ্রয়োজনীয় মালামাল ও পণ্যদ্রব্য পরিবহনের একমাত্র অর্থনৈতিক মাধ্যম হলো এই ধলেশ্বরী নদী। নাব্য সংকটের কারণে পলি জমে নদীর নদীর বিভিন্ন অংশ ডুবোচরে পরিণত হওয়ায় ভৈরব থেকে আসা পণ্যবাহী বড় বড় ট্রলার ও নৌকাগুলো আর ঘাটে ভিড়তে পারছে না। এতে পণ্য খালাস ও পরিবহনে সময় যেমন বেশি লাগছে, তেমনি খরচও বহুগুণ বেড়ে যাচ্ছে—যার প্রভাব পড়ছে স্থানীয় বাজার ও সাধারণ ভোক্তার ওপর। পাশাপাশি ঘাটগুলোতে যাত্রী চলাচলেও পোহাতে হচ্ছে মারাত্মক দুর্ভোগ।
স্থানীয় প্রবীণ কৃষক, ব্যবসায়ী ও সচেতন নাগরিক সমাজ ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, হাওর এলাকার মানুষের জীবন-জীবিকা সম্পূর্ণভাবে নদীর ওপর নির্ভরশীল। নদী না বাঁচলে হাওরের কৃষি ও অর্থনীতি দুটোই থমকে যাবে। ধলেশ্বরী নদীকে সচল রাখতে এবং হাজার হাজার একর ফসলি জমি ও কোটি টাকার বাণিজ্য রক্ষায় অপরিকল্পিত ড্রেজিং বন্ধ করে দীর্ঘমেয়াদি ও পরিবেশবান্ধব সমন্বিত পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হাসাদহ ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে অনুমোদনহীনভাবে জৈব সার কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। ‘তাকওয়া এগ্রো এন্টারপ্রাইজ’ নামে ওই কারখানাটি গড়ে ওঠায় তীব্র পরিবেশ দূষণ ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে মারাত্মক উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবৈধ এ কারখানাটির কার্যক্রম দ্রুত তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, করিমপুর গ্রামের প্রধান সড়কের পাশেই গড়ে তোলা হয়েছে ‘তাকওয়া এগ্রো এন্টারপ্রাইজ’ নামের কারখানাটি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কারখানার পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো ছাড়পত্র নেই, এমনকি কৃষি বিভাগ থেকেও প্রয়োজনীয় কোনো অনুমোদন নেওয়া হয়নি। রাতের আঁধারে কারখানায় উৎপাদিত সার বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে সারের গুণগত মান ও বাজারজাতকরণের বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অননুমোদিত কারখানা গড়ে তোলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জনবসতিপূর্ণ এলাকায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া কীভাবে একটি জৈব সার কারখানা গড়ে উঠল, তা আমাদের বোধগম্য নয়। কারখানার মালিকের বাড়ি ঢাকার মুন্সীগঞ্জে। তিনি এখানে এসে পরিবেশ নষ্ট করে ব্যবসা করছেন। এতে আমাদের মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় বিভিন্ন জটিল রোগব্যাধি ছড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে, অভিযোগ অস্বীকার করে কারখানাটির মালিক মো. নাসির দাবি করেন, তার সার কারখানার কোনো অনুমোদনের প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, ‘আমি যে সার তৈরি করি, সেটির কোনো অনুমোদন লাগে না। তা ছাড়া আমি স্থানীয় বাজারে সার বিক্রি করি না। এখান থেকে বস্তায় ভরে সরাসরি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করি, তারাই এসে নিয়ে যায়।’
এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘করিমপুর গ্রামে অবৈধভাবে জৈব সার কারখানা গড়ে তোলার বিষয়টি আমরা জেনেছি। সেখানে কয়েকবার অভিযান চালানো হলেও ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে অননুমোদিতভাবে কারখানা পরিচালনা করা হলে তদন্তসাপেক্ষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির দুই শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরের একাডেমি এলাকায় ১ ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শহরের একাডেমি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষার্থীরা হলেন- ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাহিমা আক্তার উন্নি ও মোহাম্মদ ফিরোজ। ওই সময় সড়ক দুর্ঘটনায় আরও দুই পথচারী আহত হয়। আহতদের উদ্ধার করে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা হাসপাতাল মোড় এলাকা থেকে ট্রাংক রোডের দিকে যাওয়ার সময় একাডেমি এলাকায় হঠাৎ ব্রেক করলে অটোরিকশাটি উল্টে যায়। এ সময় অটোরিকশাটি উল্টে গড়িয়ে সড়কের পাশে শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে তারা গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। আহতদের মধ্যে শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফিরোজের অবস্থা গুরুতর। পথচারী ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে হাসপাতালে।
এ খবর প্রচার হলে ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির শিক্ষার্থীরা একাডেমি সড়কে নেমে আসে। তারা ফেনী-পরশুরাম-ছাগলনাইয়া সড়কের একাডেমি এলাকায় ১ ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে। সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিষয়টি সঠিক ব্যবস্থা নেবেন বলে আশ্বস্ত করলে শিক্ষার্থীরা ১ ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেন।
ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির শিক্ষার্থী মোসাম্মৎ সানজিদাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, ‘ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমি আসার পথে দুইজন শিক্ষার্থীকে একাডেমি এলাকায় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চাপা দিলে দুর্ঘটনার শিকার হন। আমরা এর বিচার চাই। একাডেমি এলাকায় স্কুলের সামনের সড়কে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ এবং একাডেমি এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড সরিয়া নিতে হবে।’
প্রত্যক্ষদর্শী ইসমাইল মজুমদার পিন্টু বলেন, ‘সদর হাসপাতাল মোড় থেকে ছেড়ে আসা একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ট্রাংক রোডের দিকে যাওয়ার সময় একাডেমি এলাকায় হঠাৎ ব্রেক করলে উল্টে গিয়ে গড়িয়ে সড়কের পাশে শিক্ষার্থীদের চাপা দিলে গুরুতর আহত হয়। ঘটনাটি দেখে উপস্থিত লোকজন দ্রুত সিএনজিচালিত অটোরিকশাটি সরিয়ে আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির সহকারী শিক্ষক শহিদুল ইসলাম ও শহিদুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা রোধে ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির সামনে সড়কে স্পিড ব্রেকার নির্মাণ করতে হবে। একাডেমি এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশার স্ট্যান্ড সরিয়া নিতে হবে।’
সড়ক দুর্ঘটনার কারণে অবরোধের খবর পেয়ে ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুলতানা নাসরিন কান্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কমিটির সদস্যদের সাথে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ফেনী গিরিশ অক্ষয় একাডেমির সামনের সড়কে স্পিড ব্রেকার দেওয়ার বিষয় সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাথে আলাপ করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি বলেছেন, আইন শিক্ষার প্রসার, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে আইন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষ, সৎ, নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে এসব প্রতিষ্ঠান একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) হবিগঞ্জ জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে হবিগঞ্জ ল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মতিন খানের স্মরণসভা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, মরহুম অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল মতিন খান ছিলেন শিক্ষা বিস্তার ও আইন পেশার উন্নয়নে একজন দূরদর্শী, কর্মনিষ্ঠ ও নিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিত্ব। বিশেষ করে হবিগঞ্জ অঞ্চলে আইন শিক্ষার প্রসার এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের আইন বিষয়ে শিক্ষিত হয়ে আইন পেশায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টিতে তাঁর অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আইন শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং দক্ষ ও যোগ্য আইনজীবী তৈরিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর ভূমিকা অপরিহার্য। হবিগঞ্জ ল কলেজ ভবিষ্যতেও সৎ, দক্ষ ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আইনজীবী তৈরির মাধ্যমে দেশের বিচারব্যবস্থার উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ডেপুটি স্পীকার বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আইনজীবীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁদের সামাজিক দায়বদ্ধতাও রয়েছে। সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, মানুষের অধিকার সুরক্ষা এবং আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে আইনজীবীদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারের পতন ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়েছেন, প্রাণ দিয়েছেন। তাঁদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। আমরা বিভিন্ন মত ও পথের অনুসারী হতে পারি, কিন্তু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করতে হবে। জনগণ যাঁদের ওপর দায়িত্ব অর্পণ করেছে, তাঁদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা হলো ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা। ক্ষমতার লোভে নয়, বরং ন্যায়বিচার, জনস্বার্থ ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে ন্যায়বিচার, সাম্য, আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠিত হবে।
স্মরণসভায় অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুল হান্নান চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপ ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব মোঃ জি কে গউছ এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোঃ আমিনুল ইসলাম।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হবিগঞ্জ ল কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ সাখাওয়াত হোসেন খান, আমন্ত্রিত অতিথি ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রতিনিধিবৃন্দ এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ।
ভাসমান ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (হকার) পুনর্বাসনের লক্ষ্যে ১১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করেছে কেসিসি। প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কিত এক পর্যালোচনা সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে নগর ভবনের শহীদ আলতাফ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসির সকল বিভাগ ও শাখা প্রধানসহ ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
সভার শুরুতে প্রশাসক বলেন, ‘অবৈধভাবে সড়ক ও ফুটপাথ দখলে রেখে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের অপসারণে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া আছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ কাজের প্রতি ব্যাপক সমর্থন আছে, আবার ক্ষতিগ্রস্তদের পক্ষে কিছু মানুষের সহানুভূতি আছে। সকল মন্তব্যই আমাদের আমলে আনতে হবে।’ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে কেসিসির মালিকানাধীন ১২নং ওয়ার্ড অফিসের বর্ধিত অংশসহ অনেক স্থাপনাও অপসারণ করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রশাসক বলেন, ‘নাগরিকরা যেন মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়, কর্মহীন না হয়ে পড়েন, সেটি নিশ্চিত করা রাষ্ট্র তথা সরকারের দায়িত্ব। আবার নগরবাসীও যাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলাচল করতে পারে, সেটিও আমাদের নিশ্চিত করতে হবে। প্রধানমন্ত্রীরও এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা রয়েছে।’ সেই নির্দেশনার আলোকে সড়ক ও ফুটপাথ থেকে অপসারণকৃত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায় সে বিষয়ে মতামত উপস্থাপনের তিনি উপস্থিত সকলের প্রতি অনুরোধ জানান।
এ ছাড়া প্রশাসক প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফর উপলক্ষে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সভা থেকে কেসিসিকে দেওয়া দায়িত্বের অগ্রগতিসহ নগরীর সড়ক ও ফুটপাথ মেরামত, পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের অগ্রগতি এবং আরও কী কী প্রয়োজন সে সম্পর্কেও তিনি উপস্থিত সকলকে মতামত প্রদানের অনুরোধ জানান।
সভায় উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে সড়ক ও ফুটপাথ থেকে অপসারণ করা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের (হকার) ৫টি থানা এলাকায় বিদ্যমান উন্মুক্ত জমিতে অথবা যে সড়কগুলোতে যান চলাচল কম সেখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রণয়নের জন্য কেসিসির সচিবকে আহ্বায়ক করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়।
সভায় প্রশাসক অবৈধ স্থাপনা অপসারণের পর উন্মুক্ত জায়গা সংরক্ষণ, কচুরিপানা অপসারণকৃত পুকুরে পুনরায় যাতে কচুরিপানা না জমে সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া এবং ডেঙ্গু সংক্রমণ হ্রাসে আগামী এক মাস চলমান পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একইসাথে প্রধানমন্ত্রীর খুলনায় শুভ আগমন ও এ সম্পর্কিত সকল অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য কেসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। বিদ্যমান সৌন্দর্যবর্ধন কাজগুলো স্থায়ীভাবে ধরে রাখতে তিনি নগরবাসীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এ ছাড়া সভায় ৯নং ওয়ার্ডের বাস্তুহারায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপনসহ পরিচ্ছন্ন কার্যক্রম ও মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারকরণ, হামের টিকাদানের বিষয়ে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন এবং আক্রান্ত এলাকার বাড়ি বাড়ি ঘুরে শিশুদের হামের টিকার আওতায় আনা এবং জরায়ু ক্যান্সার প্রতিরোধে আগামী ১ নভেম্বর থেকে স্কুলভিত্তিক কিশোরীদের এইচপিভি টিকা প্রদান কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশীদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা রহিমা সুলতনা বুশরা, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লাহ আল ইমরান, বাজেট কাম অ্যাকাউন্টস অফিসার মো. মনিরুজ্জামানসহ সকল বিভাগ ও শাখাপ্রধান এবং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র গড়ে তুলতে হলে শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পেয়ে দক্ষ ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে ময়মনসিংহ নগরীর টাউনহলের তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ জাতীয় শিক্ষক সমিতি ময়মনসিংহ জেলা শাখার সংবর্ধনা ও ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনি শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ। শিক্ষকদের শুধু শ্রেণিকক্ষে পাঠদানেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাল্যবিবাহ, মাদক, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং শিশুশ্রম প্রতিরোধেও তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।
ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘শিক্ষকদের সরকারিকরণ, এমপিওভুক্তি বা জাতীয়করণ গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু এগুলো করলেই হবে না। শিক্ষকদের ভালো রাখতে হবে, শিক্ষার্থীদের ভালো পরিবেশ দিতে হবে এবং স্কুল-কলেজ থেকে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে হবে। এ জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের পেছনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষকদের সামাজিক দায়িত্বের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘গ্রাম, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও উপজেলা পর্যায়ে শিক্ষকরা সমাজের অত্যন্ত সম্মানিত ব্যক্তি। সাধারণ মানুষ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও সিদ্ধান্তের বিষয়ে তাদের পরামর্শ নিতে আসেন। তাই শিক্ষকদের ইতিবাচক পরামর্শ ও সক্রিয় অংশগ্রহণ সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী ও শিশু নির্যাতন বন্ধ, শিশুশ্রম নির্মূল এবং মাদকের বিস্তার রোধে শিক্ষকদের এগিয়ে আসতে হবে। এসব সমস্যা সমাধানে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; সামাজিক সচেতনতা ও জনগণের অংশগ্রহণও প্রয়োজন।’
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এসব শিশুর জন্য শুধু শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করলেই চলবে না, তাদের অভিভাবকদের প্রয়োজন ও কষ্টের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। একটি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর যত্নে অনেক ক্ষেত্রে একাধিক সহায়তাকারীর প্রয়োজন হয়। তাই শিক্ষার পরিকল্পনা করতে হবে সামগ্রিক বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে।’
রাজধানীতে মাদকবিরোধী পৃথক চারটি অভিযানে তিন হাজার ১০ পিস ইয়াবা ও ১২০ গ্রাম গাঁজাসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ডিএনসির ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আনোয়ার হোসেন এ তথ্য জানান। এর আগে, গত মঙ্গলবার ঢাকা মহানগরের খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী ও মতিঝিল এলাকায় এসব অভিযান চালানো হয়।
আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘খিলগাঁও দক্ষিণ গোড়ানের মদিনা সড়কের ৬১৯ নম্বর বাড়িতে কাজী স্টোর নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে কাজী ছানা উল্লাহ (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় দোকানের ক্যাশ বাক্সের ড্রয়ার থেকে দুই হাজার ৯০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।’
অন্যদিকে, যাত্রাবাড়ী মাছের আড়তসংলগ্ন আলী মার্কেটের পশ্চিম পাশে অভিযান চালিয়ে মো. শহিদুল ইসলাম (৪৩) নামের একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
আরামবাগ ক্লাব মার্কেটের আল ফালাক ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের সামনে অভিযান চালিয়ে লাভলু রহমান (৪৫), গিয়াস উদ্দিন (৪০) ও মো. হানিফকে (৪২) গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ৫০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
এ ছাড়া যাত্রাবাড়ীর দক্ষিণ যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার এলাকায় মেসার্স ফাহিম বাণিজ্যালয়ের সামনে অভিযান চালিয়ে হনুফা (২৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার কাছ থেকে ১০ পিস ইয়াবা ও ১২০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
ডিএনসি জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় চারটি নিয়মিত মামলা করা হয়েছে। তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
২০ দেশের পর্যটন সংস্থা ও প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ার (বিটিটিএফ) ২০২৬। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার আগারগাঁওয়ের একটি সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী এ মেলার উদ্বোধন করেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।
ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) আয়োজনে এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘এআই পাওয়ার্ড ট্যুরিজম, সাসটেইনেবল ডেসটিনেশন’। পর্যটন খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো, পরিবেশবান্ধব পর্যটন উৎসাহিত করা এবং আন্তর্জাতিক সংযোগ জোরদার করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের মেলায় ২০০টির বেশি বুথ ও স্টলে ২২০টির বেশি প্রদর্শক অংশ নিচ্ছেন। পাশাপাশি ২৫০ জনের বেশি সম্ভাব্য ক্রেতা ও ২ হাজার ৫০০-এর বেশি ট্রেড ভিজিটরের অংশগ্রহণের প্রত্যাশা রয়েছে। মেলায় ৬০ হাজারের বেশি দর্শনার্থীর সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।
এবারের আয়োজনে অংশ নিচ্ছে- নেপাল, ভারত, সিঙ্গাপুর, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, চীন, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান, থাইল্যান্ড, ব্রুনাই, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া ও আজারবাইজানসহ ২০টি দেশের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থা এবং প্রতিনিধিরা। চারটি থিমভিত্তিক প্রদর্শনী হলে বিমান সংস্থা, হোটেল ও ট্যুর অপারেটররা নিজেদের সেবা ও পণ্য তুলে ধরছেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী বলেন, ‘আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ে বাংলাদেশের পর্যটন খাত নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বিটিটিএফের মতো আয়োজন দেশের পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পর্যটনের চর্চা বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। এ খাতের বিকাশে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জিএম আজিজুর রহমান, বাংলাদেশে নিযুক্ত ফিলিপাইনের রাষ্ট্রদূত নিনা পি. কেইংলেট, পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার, নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারী এবং টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ।
টোয়াব সভাপতি মোহাম্মদ হানিফ বলেন, ‘টানা ১৩টি সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় বিটিটিএফ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম পর্যটন প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। এ মেলা দেশীয় পর্যটনকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি বিদেশি অংশীজনদের সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক জোরদার এবং নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা তৈরিতে ভূমিকা রাখবে।’
এবারের মেলার টাইটেল স্পনসর ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স। এয়ারলাইন্স পার্টনার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স এবং প্লাটিনাম হসপিটালিটি পার্টনার ক্রাউন প্লাজা ঢাকা এয়ারপোর্ট।
মেলার আয়োজনে সহযোগিতা করছে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়, জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ ও এফবিসিসিআই।
উল্লেখ্য, মেলা আগামী শুক্রবার ও শনিবার প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা পূরণে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের সততা, দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি উল্লেখ করেন, সকল প্রকার ভয়-ভীতি ও পক্ষপাতমূলক আচরণ দূরে ঠেলে সমাজের অসহায় ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আইনি সুরক্ষার মাধ্যমে জনগণের বিশ্বাস অর্জন করতে হবে এবং সত্যিকার অর্থেই ‘জনগণের পুলিশ’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে হবে। বৃহস্পতিবার সকালে রাজশাহীর সারদায় অবস্থিত বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সারদার প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অভিবাদন গ্রহণ ও সুসজ্জিত প্যারেড পরিদর্শন করেন। এই কুচকাওয়াজে দীর্ঘ ছয় মাসের মৌলিক প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচের ৮৪ জন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচের ১৬২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।
প্রশিক্ষণের বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ দক্ষতা ও সাফল্যের স্বীকৃতিস্বরূপ নির্বাচিত ক্যাডেটদের হাতে পদক ও স্মারক তুলে দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এর মধ্যে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ব্যাচে সামগ্রিকভাবে শ্রেষ্ঠ সার্জেন্ট নির্বাচিত হন ওমর ফারুক, মেধাভিত্তিক মূল্যায়নে বেস্ট অ্যাকাডেমিক হন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, মাঠের দক্ষতায় শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন সাইফুল ইসলাম এবং লক্ষ্যভেদে পারদর্শিতার জন্য বেস্ট শুটার পুরস্কার লাভ করেন মো. আসাদুজ্জামান। অন্যদিকে ৪৩তম ক্যাডেট এসআই ব্যাচে সামগ্রিকভাবে শ্রেষ্ঠ ক্যাডেট হওয়ার গৌরব অর্জন করেন মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, একাডেমিক শাখায় শীর্ষস্থান পেয়ে বেস্ট অ্যাকাডেমিক হন মো. বোরহানুল ইসলাম, শারীরিক ও মাঠের দক্ষতায় সেরা হন দেওয়ান গোলাম রসুল এবং নিশানাভেদে বেস্ট শুটার পুরস্কার পান মো. কামাল গনি।
ছয় মাসের কঠোর মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী নবীন কর্মকর্তারা এখন মাঠপর্যায়ে সরাসরি দায়িত্ব পালনে যাচ্ছেন। এর মধ্যে শিক্ষানবিশ সার্জেন্টরা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট ইউনিটে যোগ দেবেন এবং ৪৩তম ক্যাডেট এসআইরা দেশের বিভিন্ন জেলায় শিক্ষানবিশ এসআই (নিরস্ত্র) হিসেবে সরাসরি আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত হবেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির অধ্যক্ষ (অতিরিক্ত আইজিপি) মো. মাইনুল হাসান, বিপিএম, পিপিএম, এনডিসি। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ, বিশিষ্ট নাগরিক এবং সদ্য উত্তীর্ণ কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
চাঁদপুরের বাবুরহাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধিগ্রহণ করা জমি এবং ফুটপাত দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে স্বপ্রণোদিত হয়ে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আগামী ১২ নভেম্বরের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে অবৈধ স্থাপনা ও দখলদারদের পরিচয় উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। চাঁদপুর জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মুজাহিদুর রহমান স্বাক্ষরিত আদেশে জেলা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে এ নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার এসব তথ্য নিশ্চিত করেন চাঁদপুরের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন আহমেদ।
আদালতের আদেশে বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট চাঁদপুর পৌরসভার বাবুরহাট এলাকায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধিগ্রহণ করা জমিতে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছিল। তবে চাঁদপুর-মতলব সড়কের বাবুরহাট বাজারসংলগ্ন পশ্চিম পাশে সড়ক বিভাগের জমি ও জনসাধারণের চলাচলের ফুটপাত দখল করে পুনরায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা বাবুরহাটে সড়ক সংকুচিত হয়ে নিয়মিত যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। এতে যানবাহন ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি জনদুর্ভোগ বাড়ছে।সরকারি জমি উচ্ছেদের পর পুনরায় দখল এবং সড়ক-ফুটপাত দখল করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে বলেও আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সরকারি জমি দখলমুক্ত রাখা এবং যানবাহন ও পথচারীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত। আদেশ অনুযায়ী, আগামী ১২ নভেম্বরের মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় থাকা অবৈধ স্থাপনাগুলো চিহ্নিত করতে হবে। পাশাপাশি দখলদারদের নাম-ঠিকানাসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য চাঁদপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে নির্দেশ দেওয়া হলো।
ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচনে ডাব প্রতীকের প্রার্থীর পোলিং এজেন্টরা মূলত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন। বৃহস্পতিবার সকাল সোয়া ৯টার দিকে ঠাকুরগাঁও সরকারি মহিলা কলেজ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ দাবি করেন। মির্জা ফয়সল অভিযোগ করে বলেন, ডাব মার্কার এজেন্টরা সবাই জামায়াতের এজেন্ট হয়ে গেছে। জামায়াতের এজেন্টরা ডাব মার্কার কাগজ নিয়ে ঢুকে গেছে।
এর আগে নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বড় ব্যবধানে নিরঙ্কুশ বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই নির্বাচন সম্পন্ন হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন এবং ভোটারদের মাঝে কোনো শঙ্কা দেখছেন না। প্রশাসন তাদের পর্যালোচনায় কোনো কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। সকালের দিকে আবহাওয়া কিছুটা বৈরী থাকলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলোতে সাধারণ ভোটারদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি পাবে বলে প্রত্যাশা প্রকাশ করেন এই প্রার্থী।
স্থানীয় নির্বাচন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিনটি প্রশাসনিক এলাকায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্রে ব্যালটের মাধ্যমে ভোট নেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
আসনটিতে মোট ভোটারের সংখ্যা ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ এবং নারী ভোটার রয়েছেন ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন। এ ছাড়া চারজন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন। পাশাপাশি ডাকযোগে ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য ২৪৯ জন পুরুষ ও ৩৮ জন নারীসহ মোট ২৮৭ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন।