চট্টগ্রাম আদালতের ১ হাজার ৯১১টি মামলার নথির (কেস ডকেট বা সিডি) খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা গেছে। হত্যা, মাদক, চোরাচালান, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন মামলার এসব নথি বিচারিক কাজের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান আইনজীবীরা।
এদিকে নথিগুলোর খোঁজ না পাওয়া যাওয়ায় গতকাল রোববার (৫ জানুয়ারি) নগরের কোতয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মফিজুল হক ভুঁইয়া।
জিডিতে উল্লেখ করেন, চট্টগ্রাম মহানগর পিপি কার্যালয়ে ২৮ থেকে ৩০টি আদালতের কেস ডকেট রক্ষিত ছিল। পিপি কার্যালয়ে জায়গা-স্বল্পতার কারণে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে পিপি কার্যালয়ের সামনের বারান্দায় প্লাস্টিকের বস্তায় ১ হাজার ৯১১টি মামলার কেস ডকেট পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় রাখা ছিল।
আদালতের অবকাশকালীন ছুটির সময় অফিস বন্ধ থাকায় গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নথিগুলো হারিয়ে গেছে। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও পাওয়া যায়নি। বিষয়টি থানায় ডায়েরিভুক্ত করে রাখার জন্য আবেদন করা হলো।
তিনি গণমাধ্যমকে জানান, কে বা কারা এক হাজার ৯১১ মামলার সিডি নিয়ে গেল বুঝতে পারছেন না। গুরুত্বপূর্ণ মামলার নথিগুলো এতদিন অফিসের বারান্দায় কেন রাখা হয়েছিল এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি কিছুদিন হলো দায়িত্ব নিয়েছি। নথিগুলো রাখার জন্য কক্ষ পাওয়া যাচ্ছে না। কক্ষ চাওয়া হয়েছিল। আমার কক্ষটি নথিতে পরিপূর্ণ ছিল। সেগুলো রাখার আর কোনো জায়গা পাচ্ছিলাম না।
এ বিষয়ে কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম বলেন, মহানগর পিপির কার্যালয়ের সামনে রাখা ১ হাজার ৯১১ মামলার নথি হারানোর ঘটনায় করা জিডির বিষয়ে তদন্ত করছে পুলিশ। তদন্ত করে জানা যাবে মূল রহস্য।
আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় মহানগর পিপির কার্যালয়। এটির পাশেই মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস ও খাস কামরা। আশপাশে অন্য বিচারকদের এজলাস।
এখানে সব সময় আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের ভিড থাকে। আইনানুসারে সন্ধ্যার পর থেকে আদালত ভবনে নিরাপত্তা জোরদার থাকার কথা থাকলেও তা করা হয় না। পিপির কার্যালয়ের সামনে আদালতের বারান্দা থেকে ১ হাজার ৯১১ মামলার নথি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত আইনজীবীরা। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি করছেন তারা।
এ ঘটনায় আদালতপাড়ায় তোলপাড় চলছে বলেও জানান কেউ কেউ। তীব্র সমালোচনাও হচ্ছে চেম্বারগুলোতে।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, বিচারিক কাজে মামলার সিডি (ডকেট) খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অভিযোগপত্রের সঙ্গে আদালতে সিডি জমা দিতে হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিডিতে মামলার ধারাবাহিক অগ্রগতির বিবরণ লিখে রাখেন। তদন্ত কর্মকর্তার পরিবর্তন হলে নতুন কর্মকর্তাও একই সিডিতে বিবরণ লেখেন। সে অনুযায়ী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সিডি সংরক্ষিত থাকলে ৫-১০ বছর পরও সাক্ষ্য দিতে সুবিধা হয়। অন্যথায় মামলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি আরও বলেন, আদালতের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থান থেকে মামলার নথি হারিয়ে যাওয়া ছোটখাটো কোনো ঘটনা নয়। এগুলো গায়েব করার পেছনে কে বা কারা জড়িত, তা বের করতে হবে। আসামিরা মামলা থেকে সুবিধা নেওয়ার জন্য এ কাজ করতে পারেন বলে তিনি মনে করেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়ম খাতুনের মরদেহ দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চৌদ্দরশি গ্রামে তাঁর বাবার পৈতৃক বাড়ির কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। এর আগে ঢাকা থেকে রওয়ানা হওয়া মরদেহবাহী গাড়ি রাত ১১টার দিকে স্বজনদের বাড়িতে পৌঁছায়।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার দুপুরে স্বজনরা মরদেহ নিয়ে সাতক্ষীরার উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাত সাড়ে ১০টার দিকে অ্যাম্বুলেন্সটি শ্যামনগরের নীলডুমুর খেয়াঘাটে পৌঁছানোর পর নদীপথে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে মরদেহ গ্রামে নিয়ে যাওয়া হয়।
দাফনের আগে অনুষ্ঠিত জানাজায় স্থানীয় মসজিদের ইমাম নুরুল হুদা ইমামতি করেন। মরিয়মের বাবা মাসুম বিল্লাহ, পরিবারের ঘনিষ্ঠ স্বজন ও স্থানীয় ২০-২৫ জন ব্যক্তি জানাজায় অংশ নেন। তবে এ সময় এমপি গাজী নজরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে কাউকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি। জানাজা ও দাফন চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিতে শ্যামনগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অনিরুদ্ধসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত রবিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শেরেবাংলা নগরস্থ ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র ২০ দিনের মাথায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের মুখে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যাকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রথমে তাঁকে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হলেও পরবর্তীতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁর পূর্বের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে বিতর্কিত তথ্য ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে প্রশাসনিকভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করে গৌরীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন বলেন, ‘রোববার সকালে মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যাকে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। আদেশে সরকারি জনস্বার্থের কথা বলা হয়েছে। প্রথম আদেশে তাকে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছিল। পরে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার আদেশ হয়েছে বলে জেনেছি। গতকাল সন্ধ্যায় এসিল্যান্ড কর্মস্থল ত্যাগ করেছেন।’ ইউএনও আরও জানান, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া পোস্টের ব্যাপারে নিয়ামত উল্ল্যা দাবি করেছেন যে তিনি কর্মজীবনে নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তাঁর কর্ম এলাকায় বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন। এছাড়া টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি রাষ্ট্রীয় সফরের সময়েও তিনি খাদ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘গৌরীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও পোস্ট প্রকাশিত হয়েছে। এসব বিষয় কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর তাকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।’ তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের মাত্রা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের বিষয়। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষই জানাবে।’
উল্লেখ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোহাম্মদ নিয়ামত উল্ল্যার বিরুদ্ধে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাথে সম্পৃক্ততা, ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং অতীতে ছদ্মনামে ব্লগে লেখালেখি করার বিষয়ে বিভিন্ন পোস্ট দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি সরকারি চাকরিতে প্রবেশ করে খুলনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মজীবন শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ১ মে টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এবং চলতি ২০২৬ সালের ১ জুন ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে বদলি হন। সর্বশেষ গত ১ সেপ্টেম্বর তিনি গৌরীপুর উপজেলায় এসিল্যান্ড হিসেবে যোগদান করেছিলেন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জাতীয় বেতনস্কেলের আওতাভুক্ত গ্রেড-১০ থেকে গ্রেড-২০ পর্যায়ের কর্মচারীদের মাসিক ঝুঁকি ভাতা বাড়িয়েছে সরকার। চাকরির বয়স ও গ্রেডভিত্তিক নতুন হারে এ ভাতা আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের প্রবিধি অনুবিভাগের প্রবিধি-৩ শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশিত হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আদেশক্রমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম এ প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন।
নতুন প্রজ্ঞাপনের সঙ্গে ২০১৮ সালের ২০ আগস্ট জারি করা আগের আদেশের তুলনা করে দেখা যায়, বিদ্যমান ঝুঁকি ভাতার হার বাড়িয়ে নতুন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। গ্রেড ও চাকরির বয়স অনুযায়ী এ বৃদ্ধির পরিমাণ ভিন্ন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, প্রেষণে নিয়োজিত কোনো কর্মচারী নতুন নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা গ্রহণ করলে তিনি স্ব-স্ব বাহিনীর জন্য নির্ধারিত ঝুঁকি ভাতা, বিশেষ ভাতা কিংবা প্রতিরক্ষা সার্ভিস ভাতা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পাবেন না।
নতুন হার অনুযায়ী, গ্রেড-১০-এর কর্মচারীরা চাকরির বয়স পাঁচ বছর বা তার কম হলে মাসিক ৩ হাজার ২৪০ টাকা ঝুঁকি ভাতা পাবেন। ২০১৮ সালের হারে এ ভাতা ছিল ২ হাজার ৭০০ টাকা। অর্থাৎ মাসে ৫৪০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাঁচ বছরের বেশি থেকে ১০ বছর পর্যন্ত চাকরির বয়সে ভাতা ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৮৪০ টাকা, ১০ বছরের বেশি থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৫৮০ টাকা, ১৫ বছরের বেশি থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ৪ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৪০০ টাকা ও ২০ বছরের বেশি চাকরির বয়সে ৫ হাজার ৪০০ টাকা থেকে বেড়ে ৬ হাজার ৪৮০ টাকা হয়েছে।
গ্রেড-১১-এর কর্মচারীদের ক্ষেত্রেও একইভাবে ভাতা বেড়েছে। পাঁচ বছর বা তার কম চাকরির বয়সে ভাতা ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬৪০ টাকা হয়েছে। পাঁচ বছরের বেশি থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ২৪০ টাকা, ১০ বছরের বেশি থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৮৪০ টাকা, ১৫ বছরের বেশি থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ৩ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৪ হাজার ৫৬০ টাকা এবং ২০ বছরের বেশি হলে ৪ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৫২০ টাকা হয়েছে।
গ্রেড-১২-এর কর্মচারীদের পাঁচ বছর বা তার কম চাকরির বয়সে ঝুঁকি ভাতা ২ হাজার ১০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫২০ টাকা হয়েছে। অন্য বয়স ধাপগুলোতে ২ হাজার ৫০০ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা, ৩ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা, ৩ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৩২০ টাকা ও ৪ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৫ হাজার ২৮০ টাকা করা হয়েছে।
গ্রেড-১৩-এর কর্মচারীদের ক্ষেত্রে চাকরির বয়সভেদে ভাতা ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ২৮০ টাকা, ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭৬০ টাকা, ২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৩৬০ টাকা, ৩ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০ টাকা এবং ৪ হাজার টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা হয়েছে।
গ্রেড-১৯-এর কর্মচারীদের পাঁচ বছর বা তার কম চাকরির বয়সে ভাতা ১ হাজার ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৫৬০ টাকা হয়েছে। পরবর্তী চার বয়স ধাপে তা যথাক্রমে ১ হাজার ৬০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৯২০ টাকা, ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার ২৮০ টাকা, ২ হাজার ৩০০ টাকা থেকে ২ হাজার ৭৬০ টাকা এবং ২ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ২৪০ টাকা হয়েছে।
গ্রেড-২০-এর কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পাঁচ বছর বা তার কম চাকরির বয়সে ভাতা ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৪৪০ টাকা হয়েছে। পাঁচ বছরের বেশি থেকে ১০ বছর পর্যন্ত ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৮০০ টাকা, ১০ বছরের বেশি থেকে ১৫ বছর পর্যন্ত ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ১৬০ টাকা, ১৫ বছরের বেশি থেকে ২০ বছর পর্যন্ত ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৬৪০ টাকা এবং ২০ বছরের বেশি চাকরির বয়সে ২ হাজার ৬০০ টাকা থেকে বেড়ে ৩ হাজার ১২০ টাকা হয়েছে।
নতুন প্রজ্ঞাপনে গ্রেড-১৪ থেকে গ্রেড-১৮ পর্যন্ত কর্মচারীদের জন্যও চাকরির বয়সভিত্তিক ঝুঁকি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেড-১৪-তে সর্বনিম্ন ২ হাজার ১৬০ টাকা ও সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৫৬০ টাকা, গ্রেড-১৫-তে ২ হাজার ৪০ টাকা থেকে ৪ হাজার ৮০ টাকা, গ্রেড-১৬-তে ১ হাজার ৯২০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৮৪০ টাকা, গ্রেড-১৭-তে ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৬০০ টাকা এবং গ্রেড-১৮-তে ১ হাজার ৬৮০ টাকা থেকে ৩ হাজার ৩৬০ টাকা পর্যন্ত ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চাকরির বয়সকে পাঁচটি ধাপে ভাগ করে ঝুঁকি ভাতা নির্ধারণ করা হয়েছে। ধাপগুলো হলো— পাঁচ বছর ও তদপেক্ষা কম, পাঁচ বছরের বেশি থেকে ১০ বছর, ১০ বছরের বেশি থেকে ১৫ বছর, ১৫ বছরের বেশি থেকে ২০ বছর এবং ২০ বছরের বেশি। তবে নতুন হার ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হবে। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা ২০১৮ সালের ২০ আগস্টের অর্থ বিভাগের আদেশ অনুযায়ী ঝুঁকি ভাতা পাবেন।
ঢাকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুরে অস্ত্রের মুখে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও তাঁর ভাইকে গুলি এবং হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রায় ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত। সোমবার সন্ধ্যায় ঘটে যাওয়া এই দুর্ধর্ষ হামলায় গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী অন্তর সরকার (২৫) ও তাঁর ফুফাতো ভাই রাজিব সরকারকে (২০) রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহত অন্তর সরকার কেরানীগঞ্জের হযরতপুর বাজারে দীর্ঘদিন ধরে জুয়েলারির ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার সন্ধ্যায় দোকান বন্ধ করে অন্তর সরকার, তাঁর বাবা মিতাই সরকার এবং ফুফাতো ভাই রাজিব সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা নিয়ে একটি অটোরিকশায় ওঠেন। তাঁরা কেরানীগঞ্জ থেকে নিজেদের বাড়ি মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার আটিপাড়ার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন।
পথিমধ্যে রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে অটোরিকশাটি হযরতপুর এলাকার নির্জন স্থানে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা নয়জন এবং একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় থাকা আরও কয়েকজন সশস্ত্র দুর্বৃত্ত তাঁদের গতিরোধ করে। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি হামলা শুরু করে এবং অন্তর ও রাজিবের পায়ে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এরপর তারা সঙ্গে থাকা স্বর্ণালংকারভর্তি টিফিনবক্সটি ছিনিয়ে নেয়। ছিনতাই শেষে এলাকায় চরম আতঙ্ক তৈরি করে নির্বিঘ্নে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা ৫ থেকে ৬টি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ভুক্তভোগী অন্তর সরকার জানান, খোয়া যাওয়া ওই টিফিনবক্সে আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ ভরি স্বর্ণালংকার ছিল।
গুলির শব্দ ও বোমার বিস্ফোরণে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সেলিম হোসেন জানান, পায়ে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে এবং বর্তমানে তাঁরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি আরও জানান, ছিনতাই ও হামলার এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট থানাকে অবহিত করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১৪) পাঁচ দিন আটকে রেখে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও এক আসামি পলাতক রয়েছেন।
সোমবার সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কমলগঞ্জ থানায় মামলা করেন। পরে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. জাহেদ আহমেদ (২৪), রাজু আহমেদ (২২) ও জুবেল মিয়া (৩০)। মামলার অপর আসামি কবির (৩০) পলাতক রয়েছেন।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কমর উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমীন এজাহারের বরাত দিয়ে জানান, গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রধান অভিযুক্ত জাহেদ ওই শিক্ষার্থীকে তার বাড়ি থেকে নিয়ে যান। পরে তাকে জুবেলের বাসায় নেওয়া হয়। সেখানে আসামিরা তাকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, এরপর ১৩ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীকে জাহেদের বাড়িতে আটকে রাখা হয়। ওই সময়ও তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, কয়েক দিন পর অসুস্থ হয়ে পড়লে ১৭ সেপ্টেম্বর সকালে কমলগঞ্জের রহিমপুর ইউনিয়নের একটি সড়কের পাশে শিক্ষার্থীকে ফেলে আসামিরা পালিয়ে যান বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, মামলার পর অভিযানে নামে কমলগঞ্জ থানা পুলিশ। মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কলিমাবাদ, গিয়াসনগর এবং রাজনগর উপজেলার গাঙপার এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহেদ, রাজু ও জুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার তিনজনকে সোমবার আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামি কবিরকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর চিকিৎসার পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন একটি ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। রাতের আঁধারে করা এই অনিয়মের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।
এ ঘটনায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন।
স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই বেশিরভাগ কাজ করা হচ্ছিল রাতের আঁধারে। এতে স্থানীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাতের বেলায় নির্মাণকাজ পর্যবেক্ষণ করে তারা দেখতে পান, সেতুর ঢালাইয়ে রডের পরিবর্তে সরাসরি বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে।
বাসাইল উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্রে জানা যায়, ‘বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস’ সড়কে ৯০ দশমিক ৬ মিটার দীর্ঘ এ গার্ডার ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের কাজ পায় যৌথ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির’। ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই ব্রিজের কাজ ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে শুরু হয়ে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে সময় বাড়ানো হলেও এ পর্যন্ত সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে এবং ২০ শতাংশ কাজ এখনো বাকি।
স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর বলেন, আমাদের এই মাইজখাড়ার ভেতরে যে ব্রিজটি হচ্ছে, এই ব্রিজে বাঁশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। সরকার যে টাকা দিল, সেই টাকাগুলো তাহলে কোথায় গেল? এই ব্রিজে এত বড় দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক ও বিচার চাই।
স্থানীয় বাসিন্দা আজিজ মিয়া বলেন, ব্রিজটির কাজ দিনে না করে রাতে করেছে। রাতে এলাকার ছেলেরা ব্রিজে গিয়ে দেখে রডের বদলে বাঁশ দিয়ে ঢালাই দেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম এশিয়া পোস্টকে বলেন, শাটারিং বের করার সুযোগ না থাকায় এবং কাঠামোগত ফাঁক সামাল দিতে বাঁশের স্ল্যাব বানিয়ে ঢালাই দেওয়া হয়েছে। আর এই বাঁশের স্লাবের ওপরে সিমেন্টের বস্তা দিয়ে খাঁচা বানিয়ে ঢালাই করেছি।
বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান বলেন, ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টির সত্যতা পেয়েছি। তবে এ কাজের দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর নেবে না। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ। বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি অবগত হয়ে সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করি। সেখানে রডের পরিবর্তে বাঁশের ব্যবহার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত হয়েছি। এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বয়স মাত্র সাত মাস। পৃথিবীটা এখনো তার কাছে মায়ের বুক আর একটু দুধের উষ্ণতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু অসুস্থ মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় সেই স্বাভাবিক অধিকারটুকুও যেন হারিয়ে ফেলেছে খুলনার কয়রা উপজেলার শ্রীফলতলা গ্রামের শিশু হুসাইন। ক্ষুধায় কাতর শিশুটির জন্য দুধ কেনার সামর্থ্য ছিল না পরিবারের। অসুস্থ শরীর নিয়ে শিশুটি যখন কাঁদছিল, তখন অসহায় দাদি শুধু চোখের পানি ফেলছিলেন।
সুন্দরবনের কাছাকাছি বাগালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের এই পরিবারটির একমাত্র ভরসা বৃদ্ধ দাদি। ভিক্ষা করে কোনোভাবে সংসার চালান তিনি। পরিবারের সদস্যদের দুবেলা খাবার জোগাড় করাই যেখানে কঠিন, সেখানে নাতির দুধ ও চিকিৎসার খরচ বহন করা তার কাছে ছিল প্রায় অসম্ভব।
এই অসহায়ত্বের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানের। শিশুটির দুরবস্থার কথা জানতে পেরে তিনি হুসাইনের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। ফাউন্ডেশনের ডিরেক্টর (প্রোগ্রাম) অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে শিশুটি ও তার পরিবারের প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার নির্দেশনা দেন তিনি। জুবাইদা রহমান প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী।
দুধের বদলে লবণ পানি: পরিবারের ভাষ্য, অসুস্থ মায়ের বুকের দুধ না পাওয়ায় শিশুটিকে একপর্যায়ে অনুপযুক্তভাবে লবণ পানি খাওয়ানো হচ্ছিল। পর্যাপ্ত পুষ্টি না পাওয়ায় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে হুসাইন। পরে তার শরীরে গুরুতর অপুষ্টির পাশাপাশি ত্বকের সমস্যা ও মুখে ক্যান্ডিডিয়াসিসের উপসর্গ দেখা দেয় বলে পরিবার জানায়।
হুসাইনের বাবা হারুণ ও মা দুজনই শারীরিকভাবে অসুস্থ। ফলে শিশুটির দেখভাল ও সংসারের দায়িত্ব কার্যত এসে পড়ে বৃদ্ধ দাদির ওপর। কিন্তু নিজের খাবারের নিশ্চয়তাই যেখানে নেই, সেখানে নাতির জন্য নিয়মিত দুধ ও ওষুধ কেনা ছিল তার কাছে দুঃসাধ্য।
হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা: হুসাইনের অসুস্থতার খবর পাওয়ার পর জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এবং ফাউন্ডেশনের সদস্য ডা. এম. আর. হাসানের তত্ত্বাবধানে শিশুটিকে ও তার পরিবারকে কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে হুসাইনের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দুধের ব্যবস্থা করা হয়েছে। পরিবারের সদস্যদেরও প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
শিশুটির দাদি কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমি ভিক্ষা করে সংসার চালাই। নাতিটার দুধ কেনার সামর্থ্য আমার নেই। আমি আমার নাতিটাকে বাঁচাতে চাই। তার এই আকুতি যেন ছুঁয়ে যায় অনেকের হৃদয়। অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
সংশ্লিষ্টরা জানান, হুসাইনের শারীরিক অবস্থা ও পরিবারের পরিস্থিতির বিষয়টি কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকেও অবহিত করা হয়েছে।
একটি অসহায় পরিবারের জন্য সামান্য সহায়তাই কখনো কখনো হয়ে ওঠে বেঁচে থাকার অবলম্বন। হুসাইনের ক্ষেত্রেও দুধ, চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা যেন নতুন করে আশার আলো দেখিয়েছে পরিবারটিকে।
‘শান্তিতে বিনিয়োগ করুন, সকলের জন্য, সর্বত্র ও প্রতিদিন’ এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব শান্তি দিবসে ফেনীতে পিস ফ্যাসিলিটেটর গ্রুপ (পিএফজি) ফেনী সদরের আয়োজনে সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে সম্প্রীতির মঞ্চে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন সকল রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় নেতারা। এ সময় শান্তির ফেনী গড়তে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার করেন সর্বদলীয় নেতারা।
শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পিএফজি আঞ্চলিক কো-অর্ডিনেটর ও দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, জেলা জামায়াতের আমীর মুফতি আবদুল হান্নান, এনসিপির সদস্য সচিব শাহ ওয়ালী উল্লাহ মানিক, ডায়াবেটিকস হাসপাতালের সহসভাপতি আ.ন.ম আবদুর রহিম, সমাজতান্ত্রিক দলের জেলা শাখার সাধারণ-সম্পাদক মালেক মনসুর, ভাসানী ন্যাপ জেলা সভাপতি গিয়াস উদ্দিন মাস্টার, এবি পার্টির নেত্রী জাহানারা আক্তার মনি, ফেনী প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মুহাম্মদ আবু তাহের ভূইয়া, নারী নেত্রী নূর তানজিলা রহমান, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, ও ছাত্রশিবিরের জেলা সভাপতি ইমাম হোসেন আরমান।
পিএফজি ফেনী সদর উপজেলা কো-অর্ডিনেটর মোরশেদ হোসেনের পরিচালনায় উপস্থিত ছিলেন, জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী, এবি পার্টির সদস্য সচিব ফজলুল হক, জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি ও প্রচার সম্পাদক অ্যাডভোকেট জামাল উদ্দিন, পৌর জামায়াতের আমির ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, জেলা জাসদের সভাপতি অ্যাডভোকেট শামসুদ্দিন সাচ্চু, জেলা ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফেজ জাকির হোসেন, পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সমির কর ও হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শুকদেব নাথ তপন, হিন্দুধর্মীয় পূরোহীত নারায়ন চক্রবর্তী ও খ্রিষ্টান ধর্মের প্রতিনিধি সুধির সরকার প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, ‘এ জনপদকে শান্তির জনপদে রূপ দিতে চাই। আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি তাহলে দেশের যে প্রান্তে যাই হোক না কেন ফেনীকে সন্ত্রাসমুক্ত রাখতে পারব, দুর্বৃত্তায়নমুক্ত রাখতে পারব, তাহলে আমরা সহিংসতা মুক্ত রাখতে পারব। মূলত রাজনীতিবিদদের তথা সরকারি দল ও বিরোধী দলের সদিচ্ছা থাকলে এ ফেনীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব। সবার একটা শপথ হোক, আমরা একটা শান্তির ফেনী গড়তে চাই। সুন্দর একটা ফেনী গড়তে সব সময় ঐক্যবদ্ধ থাকতে চাই।’
মাঠজুড়ে সবুজের সমারোহ। কোথাও ফুলকপি-বাঁধাকপি, কোথাও টমেটো, শিম, মুলা ও গাজরের চারা। ভোরের আলো ফুটতেই পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন কৃষকরা। কেউ জমিতে নিড়ানি দিচ্ছেন, কেউ দিচ্ছেন সেচ ও কীটনাশক। দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন আগাম শীতকালীন সবজির আবাদ ঘিরে কৃষকদের ব্যস্ততা বেড়েছে। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় আগাম সবজি চাষে ঝুঁকেছেন তারা।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফুলবাড়ীতে ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম শীতকালীন সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব জমি থেকে প্রায় ৩ হাজার ৩৭৫ টন সবজি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, মুলা, শসা, গাজর, পালং, বরবটি ও বেগুনসহ বিভিন্ন ধরনের সবজির চাষ হয়েছে। অনেক জমিতে ইতোমধ্যে গাছ বেড়ে উঠেছে। আবার কোথাও চলছে চারা রোপণের কাজ।
কৃষকরা জানান, আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে সাধারণ মৌসুমের তুলনায় দাম বেশি পাওয়া যায়। চাহিদাও থাকে বেশি। ফলে স্বল্প সময়ে ফসল বাজারজাত করে তুলনামূলক ভালো লাভ করা সম্ভব। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বিভিন্ন ধরনের সবজি বাজারে আসতে শুরু করবে।
শিবনগর ইউনিয়নের বুজরুক শমসেরনগর গ্রামের কৃষক রহিদুল ইসলাম দেড় বিঘা জমিতে ট্রপিক্যাল কুইন জাতের বাঁধাকপি এবং মাস্টার ৪৫ ও ক্যাপ্টেন জাতের ফুলকপি চাষ করেছেন। পাশাপাশি কিছু জমিতে শিমের আবাদও করেছেন। এতে তার প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। সবজি বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ টাকা লাভের আশা করছেন তিনি।
রহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আগাম সবজি বাজারে তুলতে পারলে দাম ভালো পাওয়া যায়। আর ২০-২৫ দিনের মধ্যেই আমার জমির ফসল উঠতে শুরু করবে। আবহাওয়া ভালো থাকলে এবার ভালো লাভ হবে বলে আশা করছি।’
পৌর এলাকার উত্তর কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক রহমত আলীও আগাম শীতকালীন সবজি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, ‘সারা বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপাদন করেন। শীতকালীন আগাম জাতের মধ্যে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, পালংশাক ও ধনেপাতা চাষ করেন। বাজারে এসব সবজির চাহিদা ও দাম দুটিই ভালো থাকায় তিনি প্রতি বছর আগাম সবজি চাষ করেন।’
কৃষকদের মতে, আগাম সবজি চাষে উৎপাদন খরচ তুলনামূলক বেশি হলেও বাজারে ভালো দাম পাওয়া গেলে তা সহজেই উঠে আসে। একই সঙ্গে দ্রুত ফসল বাজারজাত করা যায়। এ কারণে অনেক কৃষক ধান বা অন্যান্য প্রচলিত ফসলের পাশাপাশি আগাম সবজি চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফ আব্দুল্লাহ মোস্তাফিন বলেন, ‘আগাম জাতের শীতকালীন সবজি চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক হওয়ায় দিন দিন এর আবাদ বাড়ছে। আগাম সবজি উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষকরা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন। উৎপাদন বাড়াতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।’
চেনা নওগাঁকে ক্যামেরার ভিন্ন দৃষ্টিতে তুলে ধরতে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতা ২০২৬’ শেষ হয়েছে। প্রকৃতি, মানুষ, জীবনযাত্রা, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও সম্ভাবনার নানা চিত্র ধারণ করে এ প্রতিযোগিতায় জেলার প্রায় ১৫০ জন আলোকচিত্রী অংশ নেন। জমা পড়ে ৯০০টির বেশি আলোকচিত্র। প্রতিযোগিতার সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে ১৩ জন বিজয়ীকে সম্মাননা সনদ, ক্রেস্ট ও প্রাইজমানি দেওয়া হয়।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম, সিভিল সার্জন ডা. মো. আমিনুল ইসলামসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা ও আমন্ত্রিত অতিথিরা। এর আগে প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী।
জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার উদ্দেশ্য ছিল শুধু নওগাঁর পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র বা ঐতিহাসিক স্থাপনার ছবি সংগ্রহ করা নয়। বরং জেলার মানুষের প্রতিদিনের জীবন, কৃষকের কর্মব্যস্ততা, গ্রামীণ জনপদ, নদী-বিল, জলাভূমি, লোকজ সংস্কৃতি, প্রকৃতি ও পরিবেশের বৈচিত্র্য আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরাই ছিল মূল লক্ষ্য।
প্রতিযোগিতায় প্রকৃতি ও পরিবেশ, মানুষ ও জীবনযাত্রা, ইতিহাস ও ঐতিহ্য, গ্রামীণ জীবন ও লোকজ সংস্কৃতি, নওগাঁর স্থাপনা ও দর্শনীয় স্থান এবং নদী, বিল ও জলাভূমিসহ বিভিন্ন বিভাগে ছবি জমা নেওয়া হয়। পাশাপাশি উন্মুক্ত বিভাগেও অংশগ্রহণের সুযোগ ছিল। জেলার প্রায় ১৩টি উপজেলা ও বিভিন্ন এলাকা থেকে আলোকচিত্রীরা অংশ নেওয়ায় নওগাঁর ভিন্ন ভিন্ন ভূপ্রকৃতি, জীবনধারা ও সংস্কৃতির বহুমাত্রিক চিত্র উঠে আসে।
গত ২০ মে প্রতিযোগিতার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৩০ জুন পর্যন্ত ছবি জমা নেওয়া হয়। জুলাইয়ে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই শেষে ২ আগস্ট বিচারকমণ্ডলী চূড়ান্ত মূল্যায়ন করেন। এ সময় আলোকচিত্রের সৃজনশীলতা, নান্দনিকতা, কম্পোজিশন, কারিগরি দক্ষতা, মুহূর্ত ধারণের সক্ষমতা, মৌলিকত্ব, বিষয়বস্তুর প্রাসঙ্গিকতা এবং ছবির মাধ্যমে গল্প বা বার্তা তুলে ধরার ক্ষমতাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
প্রায় দেড়শ আলোকচিত্রীর ৯০০টির বেশি ছবি জমা পড়ায় এ আয়োজন নওগাঁর আলোকচর্চার বিস্তৃত পরিসরও তুলে ধরেছে। পেশাদার আলোকচিত্রীর পাশাপাশি শখের ও উদীয়মান আলোকচিত্রীরাও এতে অংশ নেন। ফলে একই জেলার একই দৃশ্য কিংবা বিষয়ও ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি, কম্পোজিশন ও গল্পে উঠে আসে।
আয়োজকদের মতে, প্রতিযোগিতায় জমা পড়া ছবিগুলো নওগাঁর একটি সমৃদ্ধ ভিজ্যুয়াল সংগ্রহ হিসেবে সংরক্ষণ করা যেতে পারে। ভবিষ্যতে জেলার পর্যটন প্রচার, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরা এবং জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের কাজে এসব ছবি ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের আয়োজন স্থানীয় আলোকচর্চাকে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তরুণ ও নতুন আলোকচিত্রীদের সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নওগাঁকে শুধু একটি প্রশাসনিক জেলা হিসেবে নয়, এর প্রকৃতি, মানুষ, সংস্কৃতি, ইতিহাস ও সম্ভাবনাকে সমন্বিতভাবে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরতে আলোকচিত্র কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই একটি সূচনা হয়েছে।’
পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হওয়া এ আয়োজন নওগাঁর দৃশ্যমান সৌন্দর্যের পাশাপাশি জেলার মানুষের জীবন, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকেও নতুন দৃষ্টিতে সামনে এনেছে। ক্যামেরার ফ্রেমে ধরা পড়েছে চেনা নওগাঁর অচেনা অনেক গল্প।
গাইবান্ধায় মাদকের টাকা জোগাতে নিজের ১৩ মাস বয়সি কন্যাসন্তানকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রির অভিযোগে বাবা হামিদুল ইসলামসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিক্রির প্রায় দুই মাস পর শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাইবান্ধা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার জসিম উদ্দীন। পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যৌথ দল রোববার গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার অন্যরা হলেন—গাইবান্ধা সদর উপজেলার আব্দুল মজিদ সরকার, ফুলছড়ি উপজেলার মোর্শেদা খাতুন ও জেসমিন আক্তার।
পুলিশ জানায়, গত ১৭ জুলাই হামিদুল ইসলাম বিস্কুট কিনে দেওয়ার কথা বলে স্ত্রী রোমানা খাতুনের কাছ থেকে ১৩ মাস বয়সি মেয়ে ফাতেমা আক্তার জান্নাতকে নিয়ে যান। পরে আব্দুল মজিদ ও মোর্শেদা খাতুনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে জেসমিন আক্তারের কাছে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
সন্তান ফিরে পেতে শিশুটির মা আদালতে আবেদন করলে ২৭ আগস্ট হামিদুলের বিরুদ্ধে তল্লাশি পরোয়ানা জারি হয়। পরে রোববার সাদুল্লাপুরের সাহারাবাজার থেকে হামিদুলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে আব্দুল মজিদ এবং পরে ফুলছড়ি থেকে মোর্শেদা ও জেসমিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। জেসমিনের কাছ থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার জানান, হামিদুল মাদকাসক্ত। জিজ্ঞাসাবাদে সে মাদকের টাকা জোগাতেই সন্তান বিক্রির কথা জানিয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ১৭তম মাসিক সভা হয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগর ভবনের শহীদ শাহাবুদ্দিন মিলনায়তনে এ সভা হয়।
ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের আয়োজনে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৪ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী গঠিত কমিটির নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন।
সভায় সিটি করপোরেশনের নির্বাহী কর্মকর্তা সুমনা আল মজিদ, দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলররা এবং বিভিন্ন বিভাগের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন ও প্রশাসনিক কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পাশাপাশি নগরবাসীর নাগরিকসেবা আরও কার্যকর ও গতিশীল করা, চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি, সিটি করপোরেশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করা হয়।
নগরবাসীর প্রত্যাশা অনুযায়ী নাগরিকসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের আরও দায়িত্বশীল ও সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে চলমান কার্যক্রম যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।
সভা শেষে আলোচিত বিষয়গুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং পরবর্তী কার্যক্রম বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়।
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার কাস্তুল ইউনিয়নে ছয় মাস ধরে পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অর্ধশতাধিক পরিবারের শতাধিক মানুষ। বসতঘর, রান্নাঘর, টয়লেট ও উঠানে হাঁটুপানি জমে থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। দীর্ঘদিনের পচা পানিতে ছড়াচ্ছে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ নানা রোগ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি নিষ্কাশনের একমাত্র সরকারি খালটি স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি লিজ নিয়ে ভরাট করে বাড়িঘর নির্মাণ ও জমি বিক্রি করায় এ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত খালটি দখলমুক্ত করে পানি চলাচলের পথ পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কাস্তুল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের উত্তর পাশে হাজীপাড়া, মৈশানপাড়া ও মুসলিমপাড়ার অনেক বাড়ির আঙিনা থেকে বসতঘরের ভেতর পর্যন্ত হাঁটুপানি। পানির নিচে তলিয়ে গেছে নলকূপ ও টয়লেট। এতে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। অনেক পরিবার রান্নাবান্না ও দৈনন্দিন কাজেও চরম ভোগান্তিতে রয়েছে।
হাজীপাড়ার আব্দুল হামিদ বলেন, ‘ছয় মাস ধরে তার নলকূপ, টয়লেট ও রান্নাঘর পানির নিচে। পরিবারের সদস্যরা ঠাণ্ডা-কাশিসহ নানা রোগে ভুগছেন।’ রাকিব মিয়া বলেন, ‘দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় তার বাড়ির একটি দেওয়াল হেলে পড়েছে।’
ভুক্তভোগীরা জানান, স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের দাবিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি ইউএনও সাথী দাস ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) এলাকা পরিদর্শন করেন।
ইউএনও সাথী দাস বলেন, ‘আমি জলাবদ্ধ এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। জনস্বার্থে দ্রুত পানি নিষ্কাশনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু সাময়িকভাবে পানি সরিয়ে নয়, সরকারি খালটি দখলমুক্ত করে স্থায়ীভাবে পানি চলাচলের পথ খুলে দিতে হবে।