ভারতে আটক থাকা ৯০ বাংলাদেশি জেলেকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড তাদের হস্তান্তর করে।
পাশাপাশি ভারত থেকে ফেরত আনা দুটি ফিশিং জাহাজ ‘এফভি লায়লা-২’ ও ‘এফভি মেঘনা-৫’ মালিকদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. জহিরুল হক ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক মনোয়ার মোকারমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাপ্টেন মো. জহিরুল হক বলেন, ‘বাংলাদেশের জলসীমায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণ করতে এলে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দুটি এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনী চারটি ভারতীয় ফিশিং বোটসহ ৯৫ জেলেকে আটক করে। অন্যদিকে ভারতীয় জলসীমায় মৎস্য আহরণের অভিযোগে বাংলাদেশের দুটি বোটের ৭৮ জেলেকে এবং আরেকটি বোটের ১২ জেলেকে বৈরী আবহাওয়ায় উদ্ধার করে নিয়ে যায় কোস্ট গার্ড।’
তিনি বলেন, ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার মাধ্যমে আটক জেলেদের বিনিময় সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত ৫ জানুয়ারি বিকেল ৫টায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে ভারতের ৯৫ জেলেকে ছয়টি ফিশিং বোটসহ ভারতের কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি ভারতে আটক বাংলাদেশি ৯০ জেলেকে দুটি ফিশিং বোটসহ গ্রহণ করে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।’
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র সাইপ্রাসে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী শাহরুয়ার আহমেদ ইমনের (২২) মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির পুলিশ। এ ঘটনায় আরেক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে সময় গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি ইমনকে অপহরণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেশটির কোফিনু এলাকার তল্লাশি চালিয়ে গাছের নিচ থেকে ঘাসঢাকা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সময় রোববার (২১ জুন) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম সাইপ্রাস টাইমস।
প্রতিবেদন অনুসারে, গত ১২ জুন নিখোঁজ হন ইমন। ওই দিন দেশটির লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকার বাসা থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি। সর্বশেষ তাকে সাইপ্রাসের কোফিনু এলাকায় দেখা গিয়েছিল। তার বাবা সাইপ্রাসের পুলিশকে বলেছেন, ছেলে নিখোঁজ হওয়ার পর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা ফোনে যোগাযোগ করে ‘মুক্তিপণ’ চেয়েছে।
মরদেহটি উদ্ধারের পর সাইপ্রাস পুলিশ জোরালো তদন্ত শুরু করেছে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে অপহরণ হিসেবে তদন্ত করছে। এ ঘটনায় ইমনের মোবাইল ফোনটিও উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তার মোবাইল ফোন থেকে মেসেজ পাঠিয়ে পরিবার কাজ থেকে মুক্তিপণ চাওয়া হয়েছিল।
পুলিশ প্রযুক্তির সহায়তায় কোফিনু এলাকায় ইমনের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করে। পরে মোবাইল ট্র্যাক করে অবস্থান শনাক্তের মাধ্যমে অভিযুক্ত আরেক বাংলাদেশি ২২ বছর বয়সি যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক ইমনকে অপহরণ ও হত্যা করে মরদেহ ঘাস চাপা দিয়ে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি পুলিশকে কোফিনু এলকার একটি গাছের কথাও জানান। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সেখান থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তির তথ্য ও পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, সেটি নিখোঁজ ইমনের মরদেহ।
পুলিশ জানায়, মরদেহটি একটি গাছের নিছে ঘাসঢাকা অবস্থায় লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। রোববার বিকেল ৩টার দিকে কোফিনু এলাকার একটি রেস্টহাউসের কাছ থেকে ফুলে-ফেঁপে ওঠা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। ইমনের মোবাইল ফোনের সর্বশেষ অবস্থানও ওই এলাকাতেই শনাক্ত হয়েছিল।
প্রাথমিকভাবে মরদেহে পাওয়া আঘাতের চিহ্ন দেখে ধারণা করা হচ্ছে, তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ইমন নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে এবং কয়েক দিন ধরে মরদেহটি ঘটনাস্থলে পড়ে ছিল।
স্বীকারোক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে লার্নাকা অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান জর্জ চারালাম্বুস বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ঘটনার পেছনে আর্থিক উদ্দেশ্য ছিল। বর্তমানে তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণ অনুযায়ী, অভিযুক্ত যুবক একাই এ অপরাধ সংঘটিত করেছে বলে মনে হচ্ছে।
তিনি বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থল ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রের অবস্থান চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে তিনি তার ব্যক্তিগত জিনিসপত্র যেখানে পাওয়া গিয়েছিল সেই স্থানটিও পুলিশকে জানিয়েছেন। মরদেহটি পচনশীল অবস্থায় থাকায় মৃত্যুর সঠিক সময়কাল ময়নাতদন্তের পরেই জানা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভুক্তভোগীকে নিখোঁজের রাতেই হত্যা করা হয়েছিল।
চারালাম্বুস আরও বলেন, পুলিশ বর্তমানে একটি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করছে এবং ঘটনাটি সমাধানের কাছাকাছি রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তবে সন্দেহভাজনের সন্ধান পাওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় অভিযান, প্রযুক্তিগত তথ্য ও যোগাযোগ বিশ্লেষণের মাধ্যমে তদন্ত এগিয়েছে।
এদিকে সাইপ্রাসের আরেক সংবাদমাধ্যম ফাইলনিউজ ইংলিশ বলছে, লারনাকা জেলার ওরেক্লিনি এলাকায় বসবাসকারী ইমন গত ১২ জুন একটি স্থানীয় কারখানায় কাজে যোগ দেওয়ার জন্য বাসা থেকে বের হন। পরে তিনি তার এক বন্ধুকে নিজের অবস্থান লিখে একটি বার্তা পাঠান। এছাড়া গ্রিসে থাকা তার বাবার কাছে সাহায্য চেয়ে আরেকটি বার্তা পাঠানোর পরই ইমনের সঙ্গে সব যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
কুমিল্লা নগরীর ছোটরায় ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাবে পড়ে পানিতে ডুবে নিহত ৮ বছর বয়সী মাহফুজা আক্তার স্মৃতির পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সোমবার (২২ জুন) রাতে নগরীর মফিজাবাদ কলোনীতে গিয়ে স্মৃতির বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি।
শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রশাসক। তিনি বলেন, “গতকাল রাতটা আমি ঘুমাতে পারিনি। বারবার স্মৃতির মুখটা চোখে ভেসে উঠেছে। আমার নিজের মেয়ের কথাও মনে হয়েছে। একটি শিশুর এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, “এ ঘটনায় আমারও দায় আছে। দুর্ঘটনার পর থেকেই নগরীর বিভিন্ন সড়কে থাকা ভাঙা স্ল্যাব চিহ্নিত করে অপসারণের কাজ শুরু করেছি। আমি চাই না আর কোনো পরিবারকে স্মৃতির পরিবারের মতো এমন শোক বয়ে বেড়াতে হোক। কুমিল্লা নগরীতে আর কোনো ভাঙা স্ল্যাব থাকবে না।”
এ সময় নগরীর দীর্ঘদিনের অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “বিগত সময়ে যেসব ভুল হয়েছে, তার খেসারত আজ আমাদের দিতে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে যেন এমন মর্মান্তিক ঘটনা না ঘটে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছি।
স্মৃতির বাবা-মায়ের হাতে হাত রেখে তিনি যেকোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন। পরে নিহত শিশুর বাবা বিল্লাল হোসেনের হাতে ১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।
উল্লেখ্য, রোববার (২১ জুন) রাতে কুমিল্লা নগরীর ছোটরা এলাকায় বৃষ্টির পানিতে ঢেকে থাকা একটি ভাঙা ড্রেনের স্ল্যাবে পড়ে পানিতে ডুবে মারা যায় শিশু মাহফুজা আক্তার স্মৃতি। মায়ের হাত থেকে ছিটকে পড়ে মুহূর্তেই নিভে যায় তার ছোট্ট জীবনের প্রদীপ। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় কুমিল্লাজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।
কুড়িগ্রামে নারী ও কন্যাশশিুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করার লক্ষ্যে অ্যাডভোকেসি ডায়ালগ হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) সকালে জামান হোটেল মিলনায়তনে জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসিটি কর্মসূচি, কুড়িগ্রাম আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার (ভারপ্রাপ্ত) নিবার্হী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘নারীর প্রতি সহিংসতা কেবলই একটি আইনি সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। সমাজ থেকে এই অন্ধকার দূর করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ যথষ্টে নয়; প্রয়োজন তৃণমূল পর্যায় থেকে ব্যাপক সামাজিক সচতেনতা।
উপজেলা উশাসনের পক্ষ থেকে আমরা নারী ও শিশু নির্যাতন রোধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকারি হেল্পলাইন নম্বরগুলো ১০৯, ৯৯৯ এবং ১০৯৮-এর প্রচার ও বিস্তৃত করা হবে। যাতে ভুক্তভোগী নারীরা দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা পেতে পারেন।’ তিনি ভুক্তভোগীদের সর্বোচ্চ গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠনগুলোকে এ বিষয়ে আরও গুরুত্ব দিয়ে এবং একেবারে তৃণমূল পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
সভায় আরও জানানো হয়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ২০২৪ সালের তথ্যানুযায়ী দেশে ৭৬ শতাংশ নারী জীবনে একবার নির্যাতনের, ৪৯ শতাংশ নারী শারিরিক ও মানসিক সহিংসতা, গড়ে ৩ জনের মধ্যে একজন নারী বিবাহিত জীবনে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। এ ছাড়া ৬৪ শতাংশ নারী সহিংসতার ঘটনা কাউকে বলে না, ৭ দশমিক ২ ভাগ গর্ভবতী নারী শারিরিক সহিংসতার শিকার এবং ৫০ শতাংশ নারী জানে না কোথায় রিপোর্ট করতে হয়।
নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে বাল্যবিয়ে বন্ধ, মাদক নির্মূল এবং নারীদের পারিবারিক কাজ শেষে দক্ষতা বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক কাজে সম্পৃক্ত করার উপর গুরুত্ব দেন। এ ছাড়া অভিভাবক, সন্তানদের নিয়ে সচেনতা বৃদ্ধির জন্য মাঠ সমাবেশ করার আহ্বান জানান আলোচকরা।
জেন্ডার জাস্টিস অ্যান্ড ডাইভারসটি কর্মসূচির আঞ্চলকি ব্যবস্থাপক মহসীনের সঞ্চালনায় ডায়ালগে প্রধানের দায়িত্ব পালন করেন ব্র্যাক ডিস্ট্রিক্ট কো-অর্ডিনেটের সৈয়দ ফাহিদ হাসান।
ডায়ালগে আরও ছিলেন মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক জয়ন্তি রানি, সদর মৎস্য কর্মকর্তা ইসমত আরা, সদর সমাজসেবা কর্মকর্তা মশিউর রহমান, কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি সফি খানসহ সরকারি-বেসরসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, নারী নেতা এবং গণমাধ্যমকর্মীরা।
নওগাঁর দিগন্তজোড়া মাঠজুড়ে এখন পাকা ধানের সোনালি আভা। চারদিকে ম ম গন্ধ আর মাড়াইয়ের উৎসবে মুখর গ্রামীণ জনপদ। দেশের অন্যতম প্রধান শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত এই জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ধানের ফলনও হয়েছে নজরকাড়া। কিন্তু এই দৃশ্যমান আনন্দের আড়ালে লুকিয়ে আছে কৃষকের এক বুকচাপা কান্না। মাঠের সোনালি হাসি বাজারের নির্মম বাস্তবতার কাছে ম্লান হয়ে গেছে। ফসলের ন্যায্য দাম না পেয়ে নওগাঁর প্রান্তিক চাষিরা এখন উৎপাদন খরচের খাতা মেলাতেই চরম হিমশিম খাচ্ছেন।
খরচের পাহাড় বনাম বাজারের নির্মমতা: চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ১ লাখ ৯২ হাজার ৪৭৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের বিপরীতে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ৭০ হাজার টন ধান। কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রমে বিঘাপ্রতি ২২ থেকে ২৪ মণ ধান ঘরে উঠলেও, এই বাম্পার ফলন তাদের ঘরে আনন্দের বদলে দুশ্চিন্তা বয়ে এনেছে।
কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বর্তমান বাজারে সার, সেচ, উন্নত বীজ, কীটনাশক এবং বিশেষ করে কৃষি শ্রমিকের চড়া দামের কারণে উৎপাদন ব্যয় আকাশচুম্বী হয়েছে। এবার প্রতি বিঘা জমিতে বোরো আবাদে কৃষকদের পকেট থেকে খরচ করতে হয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। অথচ ভরা মৌসুমে বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি প্রায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা কমে গেছে।
বর্ষাইল গ্রামের কৃষক রুবেল হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, ‘সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘায় মাত্র ৭-৮ হাজার টাকা লাভ থাকে। বর্তমান দুর্মূল্যের বাজারে এই সামান্য টাকা দিয়ে পরিবার চালানো এবং পরবর্তী চাষের খরচ জোগানো অসম্ভব।’
একই চিত্র দেখা গেছে মান্দা উপজেলার হামিদুর রহমানের ক্ষেত্রেও। তিনি ৫ বিঘা জমিতে ‘স্বর্ণা-৫’ জাতের ধান চাষ করে বিঘাপ্রতি ২৬ হাজার ৬২০ টাকার ধান বিক্রি করলেও, খরচ বাদে তার নিট লাভ দাঁড়িয়েছে মাত্র সাড়ে ৮ হাজার টাকা।
প্রান্তিক চাষিদের মতে, বাজারে ধানের দাম মণপ্রতি অন্তত ১,৮০০ থেকে ২,০০০ টাকা না হলে এই লোকসান ও ঋণের বোঝা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য ও সরকারি বক্তব্য: কৃষকের ঘামে ভেজা সোনালি ধান যখন মধ্যস্বত্বভোগী আর চালকল মালিকদের গুদাম সমৃদ্ধ করছে, তখন মাঠের প্রকৃত কারিগররা থাকছেন দেনার দায়ে জর্জরিত। তবে বাজার পরিস্থিতির এই আকস্মিক পতনের পেছনে কৃষকদের তাড়াহুড়োকেও অন্যতম কারণ মনে করছে কৃষি বিভাগ। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মনজুর রহমান জানান, অনেক কৃষক ধান কাটার পরপরই বাজারে বিক্রি করে দেন। ফলে বাজারে হঠাৎ সরবরাহ বা আমদানি বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে যায়। ধান কিছুদিন ঘরে সংরক্ষণ করে বিক্রি করতে পারলে ভালো দাম পাওয়া সম্ভব।
ভবিষ্যৎ খাদ্য সংকটের গভীর আশঙ্কা: কৃষক ও শ্রমিক নেতাদের মতে, নওগাঁর মতো কৃষিপ্রধান অঞ্চলে কৃষকদের এই অর্থনৈতিক অবহেলা দেশের সার্বিক খাদ্য নিরাপত্তার জন্য এক বিরাট হুমকি। বাসদ জেলা কমিটির আহ্বায়ক কমরেড জয়নাল আবেদীন মুকুল সতর্ক করে বলেন, ‘ধান বিক্রি করে যা লাভ হচ্ছে, তা দিয়ে পরবর্তী আবাদের ব্যয়ের সংকুলান মিলছে না। কৃষকরা এভাবে ক্রমাগত ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হতে থাকলে একসময় তারা ধান চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। ফলে দেশের আমদানিনির্ভরতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করতে পারে।’
নওগাঁর কৃষকদের বাঁচাতে হলে কেবল আশ্বাসের বাণী যথেষ্ট নয়। উৎপাদন খরচের সাথে সামঞ্জস্য রেখে সরাসরি প্রকৃত কৃষকের কাছ থেকে সরকারিভাবে ধান ক্রয়ের কার্যকর ও স্বচ্ছ উদ্যোগ নেওয়া এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, আগামী দিনে মাঠের এই সোনালি হাসি এবং দেশের খাদ্য স্বয়ম্ভরতা চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে বর্ণাঢ্য র্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে 'বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস, ২০২৬' উদযাপিত হয়েছে। এ উপলক্ষ্যে সোমবার (২২ জুন) সকালে উপজেলা সম্প্রসারিত প্রশাসনিক ভবন মিলনায়তনে র্যালি ও এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সিলভিয়া স্নিগ্ধার সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আমিনুল ইসলাম। এসময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অভিজিৎ সরকার, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মজনু মিয়া, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা আনিচুর রহমান, বাঙালপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামান রুস্তম উপজেলা প্রেসক্লাব সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর সহ উপজেলার বিভিন্ন স্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা তামাকের ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরেন এবং তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সরকারি-বেসরকারি সকল স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।
সিলেটের আধ্যাত্মিক রাজধানী হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে দীর্ঘ ৭০০ বছরের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে দানের টাকা গণনা করার এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সোমবার (২২ জুন) দুপুর আড়াইটা থেকে মাজার প্রাঙ্গণে রক্ষিত সিল করা ডেকচিগুলোর ঢাকনা খুলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অর্থ গণনা প্রক্রিয়া উদ্বোধন করা হয়।
সিলেট জেলা প্রশাসনের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ঐতিহাসিক উদ্যোগে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষার্থীরা। টাকা গণনার সময় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্যকে মাজার এলাকায় সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে। নজিরবিহীন এই দৃশ্য দেখার জন্য মাজার প্রাঙ্গণে উৎসুক জনতা ও ভক্তদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
প্রত্যাহারকৃত জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের এমন স্বচ্ছ ও সাহসী পদক্ষেপকে সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন। গণনার খবরে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি অনেকেই সারওয়ার আলমকে সিলেটের জেলা প্রশাসক পদে বহাল রাখার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, সোমবার দুপুরে দরগাহ মসজিদে নামাজ আদায়ের পর জেলা প্রশাসক মাজারের জামেয়া ও এতিমখানা অফিসে অবস্থান নেন এবং তাঁর উপস্থিতিতেই এই স্বচ্ছতার কার্যক্রম শুরু হয়।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানিয়েছে, গণনা শেষে সংগৃহীত দানের মোট অর্থের পরিমাণ আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এরপর সেই অর্থ ব্যবস্থাপনা ও সংরক্ষণের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। স্থানীয়রা মনে করছেন, এই উদ্যোগের ফলে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে। এই ঘটনাটি সিলেটের ধর্মীয় ও প্রশাসনিক ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে খুলনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী 'বি' কোম্পানির পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।
এ সময় তাদের স্বীকারোক্তি ও দেখানো মতে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
আজ সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপ পুলিশ কমিশনার (ডিবি মোঃ আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, খুলনা মহানগরীতে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছিল। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং চিহ্নিত সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী অপরাধী ও মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কেএমপির উদ্যোগে গত ১ থেকে ২০ তারিখ পর্যন্ত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্য, গোয়েন্দা নজরদারি এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আত্মগোপনে থাকা সন্ত্রাসীদের অবস্থান শনাক্ত করে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে গ্রেপ্তার হলো মো. আবরার ফয়সাল ওরফে বাদিন (২৪), মো. আল-আমিন (২৯), মো. তুষার শিকদার (৩৮), মো. আসিফ (২৫) এবং মো. সাজ্জাদ হোসেন সাব্বির (১৮)।
ডিবির দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা খুলনার চিহ্নিত ‘বি কোম্পানি’সহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, মাদক, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধের একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে আসামিদের দেখানো ও স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার এবং ৭ দশমিক ৬৫ বোরের দুই রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে খুলনায় সক্রিয় অন্যান্য সন্ত্রাসী গোষ্ঠী, তাদের সহযোগী এবং অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংবাদ সম্মেলনে কেএমপির ডিবি ডিসি বলেন, “খুলনা মহানগরীতে কোনো অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, মাদক কারবারি কিংবা চিহ্নিত অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদুরগাছা গ্রামের পাঁচ বছরের শিশু তাবাসসুম ধর্ষণ ও হত্যা মামলার একমাত্র আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার দুপুরে ঝিনাইদহ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সালেহুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং লাশ গুমের অপরাধে পৃথক ধারায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডপ্রাপ্ত আবু তাহের কালীগঞ্জ উপজেলার বাদেডিহি গ্রামের রফিউদ্দিনের ছেলে। তিনি বাদুরগাছা গ্রামে ভাড়া বাসায় থাকতেন এবং নিহত শিশুর পরিবারের পাশের বাড়িতে বসবাস করতেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, চলতি বছরের ২৫ ফেব্রুয়ারি তাবাসসুম নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরদিন সকালে পাশের একটি বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংক থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পরে ২৭ ফেব্রুয়ারি পুলিশ কুষ্টিয়া থেকে প্রতিবেশী যুবক আবু তাহেরকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। আদালতে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে গত ২৬ মে পুলিশ তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে।
মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করে ঘটনার চার মাসের মধ্যেই মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায়ে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ড, পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা এবং লাশ গুমের অপরাধে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আকিদুল ইসলাম বলেন, অল্প সময়ের মধ্যে বিচারকাজ শেষ হয়েছে এবং আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির রায় দিয়েছেন। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তুষ্ট। তিনি দ্রুত রায় কার্যকরের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান।
কুমিল্লা নগরীতে ভারী বর্ষণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার মধ্যে মায়ের হাত থেকে ছিটকে ড্রেনে পড়ে স্মৃতি (৮) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২১ জুন) রাত ৯টার দিকে নগরীর ছোটরা পশ্চিমপাড়া ঈদগাহ এলাকায় ঘটে হৃদয়বিদারক এ দুর্ঘটনা।
নিহত স্মৃতি কালিয়াজুড়ি বদরপুর এলাকার বিল্লাল হোসেনের মেয়ে। প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের দাওয়াত শেষে রাতে মায়ের সঙ্গে ফুটপাত দিয়ে বাসায় ফিরছিল স্মৃতি।
চারদিকে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় সড়ক ও ড্রেনের পার্থক্য বোঝার উপায় ছিল না। হঠাৎ মায়ের হাত থেকে ছিটকে গিয়ে পানিতে ডুবে থাকা ভাঙা স্ল্যাবের ফাঁক দিয়ে ড্রেনে পড়ে যায় সে। মুহূর্তেই মেয়েকে চোখের সামনে হারিয়ে ফেলেন অসহায় মা।
শিশুটির চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিনিটের প্রাণপণ চেষ্টার পর কিছুটা সামনে ড্রেনের ভেতরে আটকে থাকা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাস্থলে স্বজনদের আহাজারি ও কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারের কাজ চলছিল। কয়েকটি স্থানে ড্রেনের ঢাকনা খোলা ছিল এবং অনেক স্ল্যাব ভাঙা অবস্থায় পড়ে ছিল। টানা বৃষ্টিতে সৃষ্ট জলাবদ্ধতার কারণে এসব ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে যে কেউ অসাবধানতাবশত খোলা ড্রেনে পড়ে প্রাণ হারাতে পারে।
এলাকাবাসী জানান, নগরীর বিভিন্ন সড়কের পাশে থাকা ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। কোথাও স্ল্যাব ভাঙা, কোথাও আবার সম্পূর্ণ খোলা। বারবার অভিযোগ জানিয়েও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় এসব ড্রেন এখন পথচারীদের জন্য ‘মৃত্যুফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঝুঁকিপূর্ণ ড্রেনগুলো দ্রুত সংস্কার, নিরাপত্তা বেষ্টনী স্থাপন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম গেছে। এটি একটি দুর্ঘটনা।
দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের ১১টি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ সোমবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে গণমাধ্যম।
আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই সময়ে এসব এলাকায় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ওই অঞ্চলের নদী অববাহিকায় চলাচলকারী সকল নৌযান ও অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
এর আগে সকালের পূর্বাভাসে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছিল, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য বিভাগের কিছু কিছু স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিজলি চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। এই সময়ে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা হ্রাস পেতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর।
মৌলভীবাজারের শেরপুরে পৃথক দুটি সফল অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্যসহ আটজন চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত একটি ট্রাক ও একটি যাত্রীবাহী বাস জব্দ করা হয়েছে। জব্দকৃত মালামাল ও গাড়ির আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ লক্ষাধিক টাকা বলে জানা গেছে।
আজ সোমবার (২২ জুন) সকালে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের মিডিয়া সেল থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২০ জুন) রাত ১১টার দিকে শেরপুর চত্বর এলাকায় এসআই ওবায়দুল্লাহর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন একটি ট্রাক (যশোর-ট-১১-৫৬৩৭) থামিয়ে তল্লাশি করা হয়। তল্লাশিকালে ট্রাকটি থেকে আনুমানিক ৮ লাখ ৬৫ হাজার ৮২২ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চকোলেট ও মেনটোস উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। অবৈধ পণ্য পরিবহন করায় ট্রাকটিও জব্দ করা হয়েছে। এ বিষয়ে মৌলভীবাজার সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
এদিকে, গতকাল রবিবার (২১ জুন) সকাল ৮টার দিকে একই এলাকায় জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে একটি বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়। সিলেট থেকে ঢাকাগামী ‘কাফি ট্রাভেলস’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসে (ঢাকা মেট্রো-ব-১২-৫০৯৫) তল্লাশি চালিয়ে অভিনব উপায়ে লুকিয়ে রাখা ৩৭২টি ভারতীয় কম্বল জব্দ করে পুলিশ। এ সময় চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বাসে থাকা ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং বাসটি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায়ও সদর থানায় পৃথক আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম জানান, জব্দকৃত চোরাই পণ্য এবং গাড়িগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য ২০ লক্ষ টাকারও বেশি। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সীমান্ত জেলা হিসেবে মৌলভীবাজারকে চোরাচালানমুক্ত করতে জেলা পুলিশের এমন কঠোর ও নিয়মিত অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।
নরসিংদীর রায়পুরায় পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মোস্তাফা মিয়া (৪০) মারা গেছেন। রোববার দুপুরে ঢাকার সিটি কেয়ার জেনারেল হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। এ নিয়ে ১৬ জুনের ওই সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে চারজনে দাঁড়িয়েছে। ঘটনার পাঁচ দিন পরও বুলবুল মিয়া নামে একজন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিহত মোস্তাফা মিয়া নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর গ্রামের অহিদ মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় একটি ওয়ার্কশপের কর্মচারী ছিলেন। তিনি নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পূর্ববিরোধ ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ১৬ জুন ভোরে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নের হরিপুর, দড়িগাঁ ও আশপাশের এলাকায় স্থানীয় নাজিম উদ্দিন ও আলাল মুন্সি গ্রুপের অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন এলাকা ছাড়া থাকা আলাল মুন্সি ও জবা মেম্বারের অনুসারীরা স্পিডবোটে এলাকায় প্রবেশ করে ভাড়াটিয়া অস্ত্রধারীদের সহযোগিতায় নাজিম উদ্দিনের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। জবাবে নাজিম উদ্দিনের অনুসারীরাও সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন।
সংঘর্ষে উভয় পক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র, দেশীয় অস্ত্র ও বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ব্যবহার করে। ভোর ৪টা থেকে শুরু হওয়া সংঘর্ষ কয়েক দফায় সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষের সময় মাথায় গুলিবিদ্ধ হন মোস্তাফা মিয়া। প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হলে আজ সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এর আগে সংঘর্ষের দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন নাজিম উদ্দিন গ্রুপের সমর্থক অনিক মিয়া (২০)। ঘটনার পরদিন ১৭ জুন নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদী থানার চরদিঘলদী ইউনিয়নের জিৎরামপুর এলাকার মেঘনা নদী থেকে টেঁটাবিদ্ধ অবস্থায় কাউছার মিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৮ জুন সকালে নিলক্ষার গোবিনাথপুর এলাকার মেঘনা নদীর পাড় থেকে পুলিশের ভেস্ট পরিহিত প্রবাসফেরত আব্দুল লতিফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে সংঘর্ষের পর থেকেই নিখোঁজ স্থানীয় মোটরসাইকেল মেকানিক বুলবুল মিয়া। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলেও বুলবুল মিয়ার কোনো সন্ধান মেলেনি। তাকে জীবিত বা মৃত উদ্ধারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তার স্বজনরা।
সংঘর্ষের পর এলাকায় উভয় পক্ষের বাড়িঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও আতঙ্কের ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এখনও অনেক পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও তারা দাবি করেছেন।
রায়পুরা থানায় অনিক হত্যা ঘটনায় নিহতের মা ৩০ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। বাকি তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় এখন পর্যন্ত পৃথক কোনো মামলা হয়নি।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবুর রহমান বলেন, গুলিবিদ্ধ মোস্তাফা মিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। এ নিয়ে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা চারজনে দাঁড়িয়েছে। অনিক হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। অন্য তিনটি মৃত্যুর ঘটনায় এখনো কোনো মামলা দায়ের হয়নি।
ওসি আরও বলেন, এ পর্যন্ত সংঘর্ষ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। তবে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।
চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানাধীন বিসিক শিল্প এলাকায় আবারও একদল সশস্ত্র যুবকের মহড়া ও ফাঁকা গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনার পর এক যুবদল নেতাকে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার দুপুরে বিসিক শিল্প এলাকার একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সামনে পাঁচজনের একটি সশস্ত্র দল অবস্থান নেয়। প্রতিষ্ঠানে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় তারা দুটি ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এতে আশপাশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা নিরাপদ স্থানে সরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, গুলির ঘটনার কিছুক্ষণ পর ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সম্ভাব্য কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ও এক যুবদল নেতাকে মোবাইল ফোনে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বিসিক শিল্প এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন কারখানার নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে ‘বোরহান বাহিনী’ নামে একটি গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। দলটির প্রধান বোরহান বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তার অনুসারীদের দৌরাত্ম্য আরও বেড়েছে। বোরহানের বিরুদ্ধে কয়েকটি হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব বিষয়ে বোরহানের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে চান্দগাঁও বিসিক শিল্প এলাকায় বেশ কয়েক দফা গুলির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
চান্দগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জসিম উদ্দিন বলেন, বিসিক এলাকায় গুলির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। ভুক্তভোগীদের থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে।
ওসি বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তদন্তে বেশ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। পুলিশ জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।