বাগেরহাটের বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের কুলিয়াদাইড় গ্রামে বিএনপির দুপক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ৮টি বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুপক্ষের নারী-শিশুসহ ২০ জন আহত হয়েছেন। আগুনে ৬টি মোটরসাইকেল, আসাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
বুধবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এর আগে বিকালে উভয়পক্ষের মধ্যে একাধিকবার হামলা পাল্টা-হামলার ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বিষ্ণুপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিনের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয়রা জানায়, ৫ আগস্টের পর বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান ও রুহুল আমিনের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। এ নিয়ে তাদের মধ্যে একাধিকবার সংঘর্ষ ঘটে। সম্প্রতি ইউনিয়ন বিএনপির কমিটি গঠন নিয়ে তাদের বিরোধ চরমে পৌঁছায়।
এর আগে সোমবার রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে মারপিট ও মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। তখন উভয় পক্ষের ৫ জন আহত হয়। ওই ঘটনার জেরে বুধবার দুপুরে ও বিকালে উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।
এক পর্যায়ে সন্ধ্যার দিকে রুহুল আমিন ও তার ভাইদের ৮টি বাড়িতে হামলা, লুটপাট অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় নারী-শিশুসহ ২০ জন আহত হন। আগুনে ৬টি মোটরসাইকেল, আসাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রুহুল আমিন ওরফে রুহুল মেম্বরের পরিবার অভিযোগ করে বলেন, মোস্তাফিজুর রহমানের লোকজন কয়েকদিন ধরে তাদের লোকজনদের ওপর হামলা চালাচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যার দিকে তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। স্বর্ণালংকারসহ মুল্যমান মালামাল লুটপাট করে নিয়ে গেছে। এমনকি আগুন দিয়ে তাদের ৮ ভাইয়ের বাড়িঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। রুহল আমিনের পরিবারের দাবি, তিনি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হতে চায় এ জন্য তাদের বাড়িঘরে হামলা-লুট-পাট, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রুহুলের ভাই রেজার নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। ওই হামলায় ১৫ থেকে ২০ জন আহত হয়।
বাগেরহাটের পুলিশ সুপার মো. তৌহিদুল আরিফ জানান, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও ইউনিয়ন বিএনপির কাউন্সিল নিয়ে মোস্তাফিজুর রহমান ও রুহুল আমিন ওরফে রুহুল মেম্বরের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। ওই বিরোধের জের ধরে দুপক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি আরও বলেন, এখন পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এখনও কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি।
বরিশাল বিভাগে হামের প্রাদুর্ভাব উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় নতুন করে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশু দুটির মৃত্যু হয়।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, মৃত শিশুদের একজন পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার দুর্গাপুর এলাকার সোহাগ খানের দুই বছর বয়সী ছেলে জিহাদ এবং অন্যজন ভোলার চরফ্যাশনের উত্তর চর আইচা গ্রামের হাসানের সাত মাস বয়সী কন্যাশিশু হাবিবা।
চিকিৎসকদের তথ্য অনুযায়ী, হামজনিত জটিলতা থেকে মারাত্মক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মশিউল মুনীর জানান, হাম থেকে সৃষ্ট শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার কারণে শিশু দুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে।
হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, হাবিবা গত ১৩ মে হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং কয়েকদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১৮ মে সকালে মারা যায়। অন্যদিকে জিহাদকে ১৯ মে ভোরে হাসপাতালে আনার কিছু সময় পরই তার মৃত্যু হয়।
চলতি বছরে শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত শিশুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ জনে। একই সময়ে হাসপাতালে মোট ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ২৮৬ জন রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ৫২ জন এবং ছাড়পত্র পেয়েছে ৪৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ১৯৮ জন রোগী।
এদিকে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, বিভাগজুড়ে হামের সংক্রমণ এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ লোকমান হাকিম জানান, বরিশাল বিভাগে এ পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে ৩৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হাম রোগে মারা গেছে আরও তিনজন।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগে নতুন করে ১৪৭ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৪০ জন রোগী।
চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বরিশাল বিভাগে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৫০ জনে। এর মধ্যে ১৭৫ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে।
জেলাভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, পটুয়াখালীতে সবচেয়ে বেশি ১ হাজার ২৮৮ জন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া ভোলায় ৪৫৮ জন, বরিশালে ৩৬৭ জন, বরগুনায় ৫৩১ জন, পিরোজপুরে ৩৩৭ জন এবং ঝালকাঠিতে ২৫৫ জন রোগী পাওয়া গেছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি শিশুদের জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি বা শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।
জীবননগরে সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুসংহত ও কার্যকর করতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য রুহুল আমিন। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে দশটায় থেকে উপজেলা সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় উপজেলার আইন-শৃঙ্খলা কমিটির পাশাপাশি আদালত সহায়তা, সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ, মানব পাচার প্রতিরোধ, চোরাচালান নিরোধ সমন্বয় কমিটি, অনিষ্পন্ন চোরাচালান মামলাসমূহ বিষয়ে মনিটরিং সেল, জেলা সড়ক নিরাপত্তা কমিটি এবং সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের নির্ভুল ও সমন্বিত পরিসংখ্যান প্রণয়ন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল। এসময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার সৈয়দ আব্দুল জব্বার, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফাহমিদা আক্তার রুনা, উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জুয়েল শেখ, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ইসমাইল হোসেন, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জাকির উদ্দিন মোড়ল, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হোসেন খান খোকন, সাধারণ সম্পাদক শাহাজাহান খান, উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, থানার এস আই খুরশিদ আলমসহ স্থানীয় সাংবাদিকবৃন্দ।
এ সময় বক্তারা সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিয়মিত মনিটরিং এবং আন্তঃদপ্তর সমন্বয় জোরদারের নির্দেশনা প্রদান করেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে “জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ভূমি সেবা মেলা ২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সকাল ১০টায় কালীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে এ সভার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কালীগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যস্ত থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তাঁর অনুপস্থিতিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোঃ হুমায়ুন কবির মাস্টার।
সভায় বক্তারা বলেন, দেশে ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা দীর্ঘদিনের সমস্যা। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনায় অনলাইন সেবা চালু করেছে। ডিজিটাল ভূমি সেবার মাধ্যমে জনগণ এখন ঘরে বসেই বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে পারছে, ফলে সময় ও হয়রানি দুটোই কমছে।
বক্তারা আরও বলেন, ভূমি সপ্তাহ উপলক্ষে জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে যদি সাধারণ মানুষের একটি অংশও উপকৃত হয়, তাহলেই এ আয়োজন সফল ও সার্থক হবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
‘জনবান্ধব অটোমেটেড ভূমি ব্যবস্থাপনা’ প্রতিপাদ্যে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলায় তিনদিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা-২০২৬ উপলক্ষে র্যালি ও জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে সারাদেশে একযোগে আয়োজিত ‘ভূমিসেবা মেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধন করা হয়। এ উপলক্ষে উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। পরে পরিষদ মিলনায়তনে জনসচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল পদ্ধতিতে নামজারি, খতিয়ান উত্তোলন, ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধসহ নাগরিক সেবা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা বলেন, ভূমি ব্যবস্থাপনাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও জনবান্ধব করতে সরকারের অটোমেশন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়েছে।
সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেবাশীষ বসাক, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ড. রবীন্দ্রনাথ রায়, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস. এম. মাহমুদুল হাসান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মোশারফ হোসেন এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন ইউপি চেয়ারম্যান, দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, গণমাধ্যমকর্মী, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি)-এ এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের ৫ম ব্যাচের গবেষকদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগের রিসার্চ ডিগ্রি ইউনিটের উদ্যোগে সোমবার সকাল ১০:০০টায় কেন্দ্রীয় সম্মেলন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের লেকচার গ্যালারিতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান। উপাচার্য বলেন, “বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় দেশের প্রান্তিক, শ্রমজীবী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য শিক্ষা বিস্তারের মহান লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে দূরশিক্ষণের মাধ্যমে সেই দায়িত্ব সফলভাবে পালন করে যাচ্ছে। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়টি শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণাকেও সমান গুরুত্ব দিচ্ছে এবং ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষ থেকে এমফিল ও পিএইচডি কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে নতুন জ্ঞান সৃষ্টির পথে অগ্রসর হয়েছে। তিনি বলেন, গবেষণা কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং জ্ঞানভান্ডারে নতুন সংযোজন, মানবকল্যাণ ও রাষ্ট্রের উন্নয়নে অবদান রাখাই গবেষণার মূল উদ্দেশ্য। গবেষকদের নিষ্ঠা, সৃজনশীলতা ও নৈতিকতার সঙ্গে গবেষণা পরিচালনার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্লেজিয়ারিজম ও গবেষণায় অনৈতিক চর্চা থেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন”।
উপাচার্য আরও বলেন, ‘গবেষণার মানোন্নয়নে গবেষণা পদ্ধতি বিষয়ে নিয়মিত কর্মশালা, গবেষক ফেলোশিপ, গবেষণাবান্ধব পরিবেশ, পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ এবং আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিকে আরও সমৃদ্ধ ও গবেষকবান্ধব করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, বাউবিকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে তুলতে গবেষণার বিকল্প নেই। এজন্য শিক্ষক, তত্ত্বাবধায়ক ও গবেষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গবেষণানির্ভর প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তিনি গবেষকদের মানসম্পন্ন গবেষণা প্রবন্ধ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জার্নালে প্রকাশের আহ্বান জানান এবং গবেষকদের বাউবির “ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর” হিসেবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন’।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাননীয় প্রো-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. দিল রওশন জিন্নাত আরা নাজনীন। সভাপতি তাঁর বক্তব্যে বাউবিকে গবেষণার জন্য একটি অনন্য বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব গবেষণা পরিবেশ, সুপারভাইজারদের আন্তরিক সহযোগিতা, প্লেজারিজম চেক ব্যবস্থা চালু এবং সহজ নীতিমালা প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সফলভাবে ডিগ্রি সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. সাঈদ ফেরদৌস। বিশেষ অতিথি তাঁর বক্তব্যে গবেষণাকে শুধু ডিগ্রি বা পদোন্নতির মাধ্যম হিসেবে নয়, বরং মৌলিক জ্ঞান সৃষ্টির দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি মানসম্মত গবেষণার জন্য গবেষক ও সুপারভাইজারদের আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা এবং পরিশ্রমের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি বাউবিতে গবেষণার মানোন্নয়নে শক্তিশালী গবেষণা কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন।
ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, স্কুল অব বিজনেস এর ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ মঈনুল ইসলাম, সামাজিক বিজ্ঞান, মানবিক ও ভাষা স্কুল এর ডিন অধ্যাপক তানভীর আহসান, ওপেন স্কুলের ডিন অধ্যাপক ড. মোছাঃ শিরিন সুলতানা, স্কুল অব এডুকেশ এর ডিন অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুল এর ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ সিরাজুল ইসলাম, স্কুল অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির ডিন অধ্যাপক ড. মোঃ আব্দুল মজিদ মন্ডল ও স্কুল অব ল এর ডিন অধ্যাপক ড. নাহিদ ফেরদৌসী। এছাড়াও বিভিন্ন স্কুলের ৫ম ব্যাচের পিএইচডি গবেষকদের মধ্য থেকে ৩ জন গবেষক বক্তব্য রাখেন।
বক্তারা গবেষণার গুণগত মান উন্নয়ন, মৌলিক গবেষণা পরিচালনা এবং উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে গবেষকদের দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা গবেষকদের নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাউবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম আহমেদ হুসেইন।
ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইকিউএসির পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং ৫ম ব্যাচের এমফিল ও পিএইচডি প্রোগ্রামের ৪১ জন গবেষক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন প্রশাসন বিভাগের রিসার্চ ডিগ্রি ইউনিটের যুগ্ম-পরিচালক এমএস তাসলিমা খানম।
নড়াইলে বোরো ধানের ভালো ফলন হলেও বাজারে ন্যায্যমূল্য না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলেও সে অনুপাতে ধানের দাম না পাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন তারা।
জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, এবার নড়াইলে ৫০ হাজার ২৯৭ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬২৩ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত জেলার প্রায় ৯০ শতাংশ জমির ধান কাটা শেষ হয়েছে।
সোমবার (১৯ মে) নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ও মাইজপাড়া হাট ঘুরে দেখা গেছে, কৃষকরা ভ্যান, ট্রলি ও গরুর গাড়িতে করে উৎপাদিত ধান হাটে নিয়ে আসছেন। কৃষক ও ধান ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার বৃহত্তম পাইকারি ধানের মোকামে এবার মোটা, মাঝারি ও চিকন জাতের ধানের ব্যাপক আমদানি হয়েছে।
মোটা জাতের মধ্যে হাইব্রিড হীরা, ব্রি ধান-৭৪ ও রড মিনিকেট, মাঝারি জাতের মধ্যে সুবর্ণালতা, ছক্কা ও এসএল-৮এইচ এবং চিকন জাতের মধ্যে ব্রি ধান-৫০, ৮৯ ও তেজগোল্ড ধান বেশি এসেছে।
বর্তমানে মোটা ধান প্রতি মণ ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং চিকন ধান ১ হাজার ১৭০ থেকে ১ হাজার ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত সপ্তাহেও এসব ধান প্রতি মণে প্রায় ১০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হয়েছিল।
ফসল ঘরে তুলতেই ধানের বাজারদর কমে যাওয়ায় হতাশ কৃষকরা। চলতি মৌসুমে বোরো ধানের দাম মণপ্রতি ৪০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। কৃষকদের অভিযোগ, ডিজেল, সার, সেচ, শ্রমিক ও কীটনাশকের দাম বাড়ায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়েছে। কিন্তু ধানের বাজারদর সেই অনুযায়ী বাড়েনি।
সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের সীতারামপুর গ্রামের কৃষক গনেশ বিশ্বাস বলেন, “এবার বোরো আবাদ করতে গিয়ে অনেক বেশি খরচ হয়েছে। ডিজেল, সার, শ্রমিক ও কীটনাশকের দাম সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। কিন্তু সেই তুলনায় ধানের দাম বাড়েনি।”
কৃষক পাগল বিশ্বাস ও রসময় বিশ্বাস ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ধান চাষ করতে ধার-দেনা ও বিভিন্ন সমিতি থেকে চড়া সুদে ঋণ নিতে হয়েছে। ফলন ভালো হলেও ধানের দাম কম থাকায় লাভ তো দূরের কথা, ঋণ শোধ করাই কঠিন হয়ে পড়বে।”
লোহাগড়া উপজেলার লাহুড়িয়া ইউনিয়নের কৃষক দাউদ মোল্যা বলেন, “পাকা ধান ঘরে তোলার সময় বৃষ্টিতে কিছু ধানের ক্ষতি হয়েছে। জমিতে কাদা-পানি থাকায় ট্রলি বা গরুর গাড়িতে ধান আনা যাচ্ছে না। এজন্য অতিরিক্ত শ্রমিক নিতে হচ্ছে, ফলে খরচ আরও বেড়ে গেছে।”
কালিয়া উপজেলার হামিদপুর ইউনিয়নের বিঞ্চুপুর গ্রামের কৃষক মো. ফুল মিয়া শেখ বলেন, “আমাদের মতো নিম্নবিত্ত কৃষক পরিবার সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামের অনেকেই সুদে টাকা এনে ধান চাষ করেছে। এখন শুনছি হাটে ধানের দাম কম, এতে আমরা আরও বিপাকে পড়েছি।”
তুলারামপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. জিল্লুর রহমান বিশ্বাস বলেন, “কৃষকের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হবে। কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপজেলা কৃষি অফিসার মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, “ফসলের উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজারদর নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে কৃষি বিভাগ কাজ করে যাচ্ছে।”
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘ভূমিসেবা মেলা ২০২৬’। মঙ্গলবার সকাল থেকে উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে আগামী ২১ মে পর্যন্ত। ভূমি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় নাগরিকরা এক ছাদের নিচে বিভিন্ন ধরনের ডিজিটাল ভূমিসেবা গ্রহণের সুযোগ পাচ্ছেন।
সকালে মেলার উদ্বোধন করেন বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস। উদ্বোধন শেষে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। পরে অনুষ্ঠিত হয় জনসচেতনতামূলক আলোচনা সভা।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, “সরকার ভূমি ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে কাজ করছে। ভূমিসেবা মেলার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই কীভাবে দ্রুত ও সহজে ভূমিসেবা গ্রহণ করতে পারবেন, সে বিষয়ে সরাসরি ধারণা পাচ্ছেন। এতে হয়রানি ও ভোগান্তি কমবে এবং সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়বে।”
সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস বলেন, “ভূমি সংক্রান্ত সেবা নিয়ে মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতা ও ভীতি ছিল। এখন ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে অনেক সেবা স্বচ্ছ ও সহজ হয়েছে। এই মেলার মাধ্যমে জনগণকে প্রযুক্তিনির্ভর ভূমিসেবার সঙ্গে পরিচিত করানো হচ্ছে। পাশাপাশি তাৎক্ষণিক সমস্যা সমাধান ও আবেদন গ্রহণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।”
উদ্বোধনের পর অতিথিরা ভূমি অফিসের নিচতলায় স্থাপিত বিভিন্ন সেবা স্টল পরিদর্শন করেন। মেলায় ই-নামজারি, অনলাইনে ভূমি উন্নয়ন কর পরিশোধ, খতিয়ান ও মৌজাম্যাপ সংগ্রহ, নামজারি আবেদন যাচাইসহ বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা প্রদান করা হচ্ছে। ভূমি উন্নয়ন করের বকেয়া ও হালনাগাদ পরিশোধের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
মেলায় আগত সেবাগ্রহীতারা জানান, এক জায়গায় বিভিন্ন ধরনের ভূমিসেবা পাওয়ায় তারা উপকৃত হচ্ছেন। অনেকেই সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সেবা গ্রহণ করছেন। কেউ কেউ তাৎক্ষণিকভাবে অনলাইনে আবেদনও সম্পন্ন করছেন।
সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় ভূমিসেবা পৌঁছে দেওয়া, সেবাপ্রক্রিয়াকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা এবং ডিজিটাল সেবার প্রতি জনগণের আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। মেলায় ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক উপস্থিত থেকে বিভিন্ন আবেদন গ্রহণ, পরামর্শ প্রদান এবং সমস্যার দ্রুত সমাধান করছেন।
তিন দিনব্যাপী এ ভূমিসেবা মেলায় প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত সেবাগ্রহীতাদের জন্য বিভিন্ন সেবা কার্যক্রম চালু থাকবে বলে জানিয়েছে উপজেলা ভূমি অফিস।
বাসচালকে মারধরের জেরে নওগাঁ থেকে বগুড়া-ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেটসহ দূরপাল্লার সব রুটের বাস চলাচল বন্ধ করে। কোনো ঘোষণা ছাড়াই হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৯টার পর থেকে শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সড়কে ব্যারিকেড দিয়ে চলাচল বন্ধ করে দেন শ্রমিকরা।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা একতা পরিবহনের একটি বাস রাত দেড়টার দিকে ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছায়। বাসটির ড্রাইভার যাত্রী নেমে দিয়ে বাসটি ঘুরানোর সময় চায়ের দোকানে বসে থাকা কয়েকজন যুবক কোন কথা ছাড়াই ড্রাইভারকে মারধর করে। পরবর্তীতে বাসটি কাউন্টারে আসলে সেখানে গিয়েও কাউন্টার ভাংচুরের চেষ্টা করেন তারা। এই মারধরের প্রতিবাদে বাস চলাচল বন্ধ রেখেছে শ্রমিকরা। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত অবরোধ চলবে।
গাইবান্ধা যাওয়ার জন্য কাউন্টারের সামনে অপেক্ষায় থাকা যাত্রী হাবিবুর রহমান বলেন, ‘ঈদের জন্য বাড়ি যাব। একটু আগে আগেই ছুটি নিয়েছি। এসে দেখছি বাস বন্ধ। নওগাঁতে মাঝেমাঝেই শ্রমিকেরা এমন কর্মসূচি দিয়ে আমাদের ভোগান্তিতে ফেলে।’
মুনিরা আক্তার নামে আরেক যাত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘জরুরি কাজে ঢাকা যাবো। কাউন্টারে এসে শুনি বাস চলবে না। সময়মতো পৌঁছানো দরকার ছিল, এখন কীভাবে যাব বুঝতে পারছি না।’
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘একতা বাস কাউন্টারের স্টাফদেরকে কে বা কাহারা মারধর করেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দূরপাল্লার বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে কি হয়েছে জেনে পরবর্তীতে বিস্তারিত জানাতে পারব।’
নওগাঁ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘বাস চলাচল স্বাভাবিক করতে বৈঠক চলছে।’
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জনগণের দোরগোড়ায় ভূমি সংক্রান্ত সেবা পৌঁছে দিতে “ভূমি সেবা মেলা”র শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অটো অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মিজানুর রহমান, উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান, এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রোমানা আক্তার রোমিও, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার আরিফুল, মাধ্যমিক কর্মকর্তা আতিকুজ্জামান, ভাঙ্গুড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মাহবুবুল আলম বাবলু,সহ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন, নামজারি, খতিয়ান, ভূমি উন্নয়ন করসহ বিভিন্ন সেবা সহজ ও দ্রুত প্রদান করতেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে।
মেলায় আগত সেবাগ্রহীতাদের বিভিন্ন তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। পাশাপাশি অনলাইনে ভূমি সেবা গ্রহণের পদ্ধতি সম্পর্কেও সচেতনতা তৈরি করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা ফিতা কেটে মেলার কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের আয়োজন সাধারণ মানুষের ভূমি সেবা প্রাপ্তি আরও সহজ ও কার্যকর করবে।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে 'স্বচ্ছ ও হয়রানিমুক্ত সেবা'র প্রত্যয় নিয়ে তিন দিনব্যাপী ভূমি সেবা মেলার শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে উপজেলা ভূমি অফিস চত্বরে ফিতা কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে এ মেলার উদ্বোধন করা হয়।
উপজেলা ভূমি অফিসের আয়োজনে ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জেড এম নাহিদ হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন— উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি খন্দকার সেলিম জাহাঙ্গীর, স. ম আফছার আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম টুটুল, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক তপন গোস্বামী, আব্দুল বারিক খন্দকার, তাড়াশ প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ ও ছাত্রদলের সদস্য সচিব শাহাদত হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, "ভূমি সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান এই আধুনিক ও ডিজিটালাইজড সেবার উদ্যোগ নিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় তাড়াশে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ভূমির সাথে মানুষের সম্পর্ক জন্ম-জন্মান্তরের। তাই ভূমি সেবায় শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে, যেন কোনো নাগরিক হয়রানির শিকার না হন। তাড়াশ উপজেলা ভূমি অফিস সাধারণ মানুষকে দ্রুত ও স্বচ্ছ সেবা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।"
অনুষ্ঠান শেষে এক বর্ণাঢ্য র্যালী বের হয়ে পৌরসভার প্রধান প্রধান সড়ক পদক্ষিণ করে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার তিতাস নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়েছে ১৯ কেজি ওজনের একটি বিশাল আকৃতির বিগহেড মাছ। গতকাল সোমবার (১৮ মে ২০২৬) বিকেলে উপজেলার চিত্রী গ্রামের লঞ্চঘাটের দক্ষিণ পাশে তিতাস নদীতে মাছটি ধরা পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গোপীনাথপুর (মনতলা) গ্রামের জেলে সুধীর বর্মনসহ কয়েকজন জেলে প্রতিদিনের মতো নৌকায় করে তিতাস-মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে যান। তারা “বছুরি” নামে পরিচিত ৫০ থেকে ৬০ হাত লম্বা ঝাকি বা খেপলা ধরনের জাল ব্যবহার করে নদীতে মাছ ধরছিলেন। সকাল প্রায় ১১টার দিকে তাদের জালে ধরা পড়ে ১৯ কেজি ওজনের বিশাল এই বিগহেড মাছটি।
পরে স্থানীয় এক মাছ ব্যবসায়ীর কাছে মাছটি প্রতি কেজি ৮৫০ টাকা দরে মোট ১৬ হাজার ১৫০ টাকায় বিক্রি করা হয়। বড় মাছটি পেয়ে জেলেদের মাঝে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
জেলে সুধীর বর্মন বলেন, সৌভাগ্যক্রমে এত বড় মাছটি আমাদের জালে ধরা পড়েছে। সাধারণত এতো বড় মাছ খুব কমই ধরা পড়ে। এতে আমরা খুবই আনন্দিত।
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় মাদক ব্যবসার ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে হিজরাদের অন্তর্কোন্দলের জেরে এনামুল হক শিশির ওরফে মাহী নামে এক যুবককে পেট্রল ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার চার দিন পর রবিবার (১৭ মে) বিকেলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় প্রধান আসামি জহিরুল ইসলাম ওরফে আপন ওরফে জহির হিজরাকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১ সিপিসি-২। সোমবার এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব-১১ সিপিসি-২ এর ভারপ্রাপ্ত কোম্পানি অধিনায়ক সিনিয়র এএসপি মিঠুন কুমার কুন্ডু বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, গত ১৮ মে সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা এলাকা থেকে র্যাব-৬ এর সহযোগিতায় জহির হিজরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে মাহী হিজরাকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ঘটনায় দোলা হিজরা নামে আরও একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত এনামুল হক শিশির ওরফে মাহী হিজরা বুড়িচং উপজেলার সদর ইউনিয়নের পূর্ণমতি গ্রামের কামরুল হক ফরহাদের ছেলে। গত ১৩ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বুড়িচং পৌরসভার মধ্যবাজার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
মামলার বরাতে বুড়িচং থানার ওসি লুৎফর রহমান জানান, বুড়িচং সদর ইউনিয়নের সরকারি একটি জায়গায় কয়েকজন হিজরা দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করে আসছিলেন। সেখানে এনামুল হক শিশির হিজরা না হয়েও ‘মাহী’ পরিচয়ে তাদের সঙ্গে বসবাস করতেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ ও অন্তর্কোন্দল চলছিল।
ঘটনার দিন সকালে এনামুল হক শিশিরের সঙ্গে কয়েকজন হিজরার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তার শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে প্রথমে কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বিকেলে তিনি মারা যান।
ওসি লুৎফর রহমান আরও জানান, এ ঘটনায় নিহতের বাবা কামরুল হক ফরহাদ বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় তিনজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৭-৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পর দোলা নামে এক হিজরাকে আটক করা হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় যানজট নিরসন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ, চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধ ও পশুর হাটে জাল টাকা ঠেকাতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলাম।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আনিসুল ইসলাম, থানার ওসি মনিরুজ্জামান মোল্যা, কুলাউড়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ একেএম শাহজালাল, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান সজল, সাবেক আহবায়ক মো. রেদওয়ান খান, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সুফিয়ান, কমিউনিস্ট পার্টির নেতা আব্দুল লতিফ, জমিয়তে উলামা ইসলামের মো. নেজাম উদ্দিনসহ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা।
সভায় সিদ্ধান্ত হয়, কুলাউড়া শহরের যানজট প্রতিরোধে সড়কের পাশে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া বাজার এলাকায় মালামাল লোডিং-আনলোডিংয়ের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হবে। ঈদের পর অবৈধ স্থাপনা ও অস্থায়ী দোকানপাট উচ্ছেদে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথাও জানানো হয়।
এ ছাড়া ঈদের বাজারকে কেন্দ্র করে চুরি ও ছিনতাই প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানির পশুর হাটে জাল টাকা শনাক্তে বিশেষ ব্যবস্থা হিসেবে জাল টাকা সনাক্তকরণ মেশিন স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।