চট্টগ্রাম আদালতের হত্যা, মাদক, চোরাচালান, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন মামলার গায়েব হওয়া ১ হাজার ৯১১টি নথির (কেস ডকেট) খোঁজ পাওয়া গেছে ভাঙারির দোকানে। এ সময় ৯ বস্তা মামলার নথি উদ্ধারসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে হারিয়ে যাওয়া এসব নথি উদ্ধার করা হয়। নথিগুলো পাথরঘাটা এলাকার একটি ভাঙারির দোকানে ১৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। আটক ব্যক্তি আদালত চত্বরে চা বিক্রি করতেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাকিলা সোলতানা বলেন, চট্টগ্রাম আদালতের বিভিন্ন মামলার ১ হাজার ৯১১টি নথির গায়েবের ঘটনায় ১ জনকে আটক করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তি মতে ৯ বস্তা নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম আদালতের হত্যা, মাদক, চোরাচালান, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন মামলার ১,৯১১টি সিডি গায়েবের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ৯ বস্তা সিডি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। অভিযান এখনো চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে আদালত থেকে গায়েব হওয়া নথিগুলো উদ্ধারে আমরা কাজ করছিলাম। প্রথমে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই নথিগুলো সে চুরি করে বলে স্বীকার করে। আদালত চত্বরেই চা বিক্রি করে রাসেল। চুরির পরে ভাঙারির দোকানে ১৬ টাকা কেজি দরে নথিগুলো বিক্রি করে দেয়।’ এর আগে চট্টগ্রাম আদালতের বিভিন্ন মামলার ১ হাজার ৯১১টি নথির খোঁজ না পাওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া। আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় মহানগর পিপির কার্যালয়ের পাশে মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস ও খাসকামরা। দিনভর আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের পদচারণে মুখর থাকে আদালত ভবন। সন্ধ্যার পর থেকে আদালত ভবনে নিরাপত্তা জোরদার থাকার কথা। পিপির কার্যালয়ের সামনে আদালতের বারান্দা থেকে ১ হাজার ৯১১ মামলার নথি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান আইনজীবীরা।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম মহানগর পিপি কার্যালয়ে ২৮ থেকে ৩০টি আদালতের কেস ডকেট রক্ষিত ছিল। পিপি কার্যালয়ে জায়গা-স্বল্পতার কারণে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে কার্যালয়ের সামনের বারান্দায় প্লাস্টিকের বস্তায় ১ হাজার ৯১১টি মামলার কেস ডকেট পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় রাখা ছিল। আদালতের অবকাশকালীন ছুটির সময় অফিস বন্ধ থাকায় গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নথিগুলো হারিয়ে যায়।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার সিরাজগঞ্জ বগুড়া রেললাইন নির্মাণের উদ্যোগ সরকার নিলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হতে যাচ্ছে রেল সিটি খ্যাত সিরাজগঞ্জ। এতে সিরাজগঞ্জবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। রেল নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করা একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ‘জমি শহরে, রেলপথ বাইরে; চারশ একর জমির রমরমা বাণিজ্য করছে অসাধু কিছু জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মকর্তা এবং স্বয়ং রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তা।’
সূত্র বলছে, যদি রেল সিরাজগঞ্জ শহর হয়ে যায়, তাহলে জেলা প্রশাসকের জোরপূর্বক রিয়োজুম করা সম্পত্তি হাত ছাড়া হয়ে যাবে, ফলে নামে-বেনামে ইজারা হাত ছাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া রেলওয়ের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তাও চায়না শহরকেন্দ্রিক রেললাইন স্থাপন করা হোক, মাঝ শহরের ভালো ভালো জায়গা নামে-বেনামে ইজারা দিয়ে ক্ষতি পূরণ আদায় করছে।
একটি চক্র, নামমাত্র কৃষি লিজ, কোথাও মৌখিকভাবে দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এ ছাড়া নতুন লাইন স্থাপন করা হলে, নতুন জমি অধিগ্রহণ, নতুন বাণিজ্যের ভিত্তি বাস্তবায়নের চেষ্টা।
তথ্য বলছে, জেলা প্রশাসকের রিয়োজুমকৃত সম্পত্তি ফেরতের জন্য রেল মন্ত্রণালয় থেকে একাধিকবার নির্দেশনা দিলেও আজও তা কর্ণপাত করেনি সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক।
এ বিষয়ে রেলওয়ের ভূসম্পত্তি কর্মকর্তা নিযুক্ত আইনজীবী জুলফিকার জানান, রেলওয়ের জায়গা নিয়ে বেশ কিছু জেলায় রিট দায়ের করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জেও হয়েছে, তবে আমি নতুন এসেছি। এ বিষয়ে আপনি উল্লাপাড়া কানুনগো সাথে যোগাযোগ করেন।
উল্লাপাড়া কানুনগো আবু বক্কর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আইনজীবী ভালো জানে, কোথায় মামলা হয়েছে কি না।
এ বিষয়ে চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু জানান, আমরা শহরকেন্দ্রিক রেলওয়ে স্টেশন চাই। এজন্য আগামী আরও বড় আকারের মানববন্ধন করা হবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ২০১১ সালে রিয়োজুমকৃত সম্পত্তি ফেরত চেয়েছে রেল মন্ত্রণালয়, এমন কোনো তথ্য আমার কাছে নেই।
এ সময় তিনি আরও বলেন, ‘রেল লাইন শহরকেন্দ্রিক চাওয়া, অনেক দেরি হয়ে গেছে। এখন যদি ডিপিপি পরিবর্তন করে নতুনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে সম্ভব হবে।’
প্রকল্পের আওতায় বগুড়া থেকে সিরাজগঞ্জ পর্যন্ত সরাসরি প্রায় ৭৬ কিলোমিটার নতুন ডুয়েলগেজ রেলপথ নির্মাণ করা হবে। বগুড়া সদর, কাহালু, শাজাহানপুর, শেরপুর, রায়গঞ্জ, কামারখন্দ ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।
বর্তমানে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ পথে ট্রেন চলাচলের জন্য প্রায় ১৯০ কিলোমিটার ঘুরে যেতে হয়। ট্রেনগুলোকে সান্তাহার, নাটোর ও পাবনার ঈশ্বরদী হয়ে অতিরিক্ত পথ অতিক্রম করতে হয়। এতে সময় বেশি লাগে, পরিচালন ব্যয়ও বেশি হয়। নতুন রেললাইন চালু হলে এ পথে দূরত্ব ১১৪ কিলোমিটার কমবে এবং যাত্রার সময় প্রায় তিন ঘণ্টা সাশ্রয় হবে। একই সঙ্গে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরাঞ্চলের দ্রুত, নিরাপদ ও সাশ্রয়ী রেল যোগাযোগ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে বলে আশা করছে রেলওয়ে।
প্রকল্পের আওতায় ৮৬ দশমিক ৫১ কিলোমিটার মূল রেললাইন এবং ৩৭ কিলোমিটার লুপলাইন নির্মাণ করা হবে। করতোয়া নদীর ওপর ২৪৬ মিটার এবং ইছামতী নদীর ওপর ২০৫ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি বড় সেতুসহ মোট ১২১টি ছোট-বড় সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের ওপর একটি রেল ওভারপাস এবং ঢাকা-নাটোর মহাসড়কের ওপর একটি রোড ওভারপাস নির্মাণ করা হবে।
এই পথে মোট ১১টি স্টেশন থাকবে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ জংশন, কৃষ্ণদিয়া, রায়গঞ্জ, চান্দাইকোনা, সনকা, শেরপুর, আরিয়া বাজার ও রাণীরহাটে নতুন আটটি স্টেশন নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে বগুড়া, কাহালু ও সদানন্দপুর স্টেশন পুনর্নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া রাণীরহাট এলাকায় একটি ‘ওয়াই’ আকৃতির রেললাইন নির্মাণ করা হবে, যার একটি শাখা বগুড়ার দিকে এবং অন্যটি কাহালুর দিকে যাবে।
ভারতের লাইন অব ক্রেডিটের পরিবর্তে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক (AIIB) এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ রেলওয়ের প্রায় ৪শ একর জায়গা। কিন্তু খাজনা আসে অল্প কিছু অংশ থেকে। রেলওয়ের ইয়ার্ড ও দোকান অল্প, অন্যান্য থেকে ২৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়। বাণিজ্যিক হারে ৪৫ টাকা করে ১ একর জায়গার রাজস্ব মাত্র। অথচ সম্পূর্ণ জায়গা যদি সরকার নিয়ন্ত্রণে আনতে পারত তাহলে শত কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হতো।
ব্রিটিশ শাসনামলে ব্যবসা-বাণিজ্যের সুবিধার্থে জেলা শহরে গড়ে তোলা হয় ৪টি রেলস্টেশন। একসময়ে তকমা পাওয়া রেলসিটি খ্যাত সিরাজগঞ্জ শহরটি উত্তর, দক্ষিণ এবং শহরের পূর্ব পাশ দিয়ে যমুনার ঘাটে গিয়ে পৌঁছাত ট্রেন। ভুল পরিকল্পনায় হারিয়ে যেতে বসেছে সেই রেলসিটি। সিরাজগঞ্জ শহরও হতে পারত লন্ডন সিটির মতো।
শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প, অ্যাগ্রো বিজনেস ও উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য নতুন ভর্তিকৃত শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের কৃষি খাতে অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, কৃষিতে পড়াশোনা করলেই সবাইকে শুধু সরকারি চাকরিতে যেতে হবে—এমন নয়। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা, শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কৃষির উন্নয়নে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি গবেষণায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শেকৃবির উপাচার্য ড. মোঃ আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে নগর ভবনের মিলনায়তনে আয়োজিত বাজেট সভায় ৫ হাজার ১০২ কোটি ৩৫ লাখ ৮ হাজার টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট পেশ করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন সরকার। সভায় নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ তিন জিলা খানমের সভাপতিত্বে রাখেন সিটি করপোরেশনের সচিব, হিসাবে রক্ষণ কর্মকর্তা গোলাম কিবরিয়া প্রমুখ।
সভায় জানানো হয়, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২০২৬-২৭ অর্থবছরে এবার ৫ হাজার ১০২ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ৩ হাজার ৪৬৩ কোটি ৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকার সংশোধিত বাজেটও উপস্থাপন করা হয়। প্রস্তাবিত বাজেট অনুযায়ী, মোট আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫১০২ কোটি ৩৫ লাখ ৮ হাজার টাকা, ব্যয় ২ হাজার ৪৮০ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রারম্ভিক স্থিতি ২৪৩৭ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা, রাজস্ব (সাধারণ তহবিল) থেকে ৪৪৩ কোটি ৩৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পানি সরবরাহ তহবিল থেকে ৭০ কোটি ৮০ লাখ ৭৫ হাজার টাকা, সরকারি উন্নয়ন খাতে ১৪০ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট ও ডিপিপি ভিত্তিক প্রকল্প থেকে ২০১০ কোটি ৯১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে, ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪৮০ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব (সাধারণ তহবিল) খাতে ৪১৭ কোটি ৬৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা, পানি সরবরাহ খাতে ৭৮ কোটি ৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা, সরকারি অনুদানে উন্নয়ন খাতে ১৩৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকা, নিজস্ব রাজস্বভিত্তিক উন্নয়ন প্রকল্পে ২৩৬ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তাপুষ্ট ও ডিপিপি ভিত্তিক প্রকল্পে ১ হাজার ৬০৮ কোটি ৭৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থবছর শেষে সমাপনী স্থিতি দাঁড়াবে ২ হাজার ৬২১ কোটি ৮৭ লাখ ৫৮ হাজার টাকা।
এদিকে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে মোট আয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৪৬৩ কোটি ৬ লাখ ৯৭ হাজার টাকা এবং মোট ব্যয় ১ হাজার ২৫ কোটি ৮০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা। সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী সমাপনী স্থিতি রয়েছে ২ হাজার ৪৩৭ কোটি ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা।
ওপারে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলা আর এপারে গারো পাহাড় অধ্যুষিত বাংলাদেশের শেরপুর জেলা। শেরপুরের গারো পাহাড়ে দাঁড়ালেই দেখা মিলে প্রতিবেশী দেশ ভারতের বিভিন্ন চিত্র। জেলার নালিতাবাড়ী, ঝিনাইগাতী ও শ্রীবরদী তিন উপজেলার গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য দেখতে প্রতিনিয়তই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পর্যটকরা ছুটে আসেন। বলতে গেলে সারাদেশের পর্যটককে শেরপুরে টেনে আনে গারো পাহাড়ের সৌন্দর্য।
গারো পাহাড়ের উঁচু ও ঢালে মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্রগুলো হলো, মধুটিলা ইকোপার্ক, গজনী অবকাশ, পানিহাঁটা তারানী পাহাড়, হাড়িয়াকোনা পাহাড়, ভাইরাল আগর বাগান, বারোমারি মিশন, দাওধারা কাটাবাড়ি পর্যটন কেন্দ্র ইত্যাদি। এসব স্থানে সারাদেশ এমনকি দেশের বাইরে থেকেও ঘুরতে আসেন ভ্রমণপিপাসুরা। বিশেষ করে শীত মৌসুমে বা ঈদের ছুটিতে ঢল নামে পর্যটকদের।
এসব পর্যটন কেন্দ্রের পাশাপাশি গারো পাহাড়ের বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে বন্যহাতি। এখানকার পাহাড়গুলোতে ৫০-৬০টি হাতির বিচরণ সবসময়ই থাকে। পুরো গারো পাহাড় অঞ্চলে বর্তমানে প্রায় দুই শতাধিক ছোট-বড় বন্যহাতি রয়েছে। হাতি দেখতেও ভিড় করেন দর্শনার্থীরা। তবে এসব বন্যহাতি স্থানীয় লোকজনের ফসল ও বাড়িঘরে প্রায়ই তান্ডব চালায়। হাতির আক্রমণে মারা যায় মানুষ, ফসল রক্ষায় কৃষকদের দেওয়া বৈদ্যুতিক ফাঁদে মৃত্যু হয় হাতিরও।
এ অঞ্চলে বসবাসকারী গারো, কোচসহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, পোশাক, সংস্কৃতি, ঐতিহ্যবাহী খাবার ও জীবনযাত্রাও পর্যটকদের কাছে আলাদা আকর্ষণ তৈরি করেছে। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আনারস, কলা, কমলা, আদা, হলুদ, লটকন ও অন্যান্য পাহাড়ি কৃষিপণ্যও দর্শনার্থীদের নজর কাড়ে।
তবে পর্যটন খাতের সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও বেশ কিছু সমস্যা রয়ে গেছে। অনেক সড়ক এখনো সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ। উন্নত মানের আবাসন, পর্যটক তথ্যকেন্দ্র, পর্যাপ্ত শৌচাগার, নিরাপদ পার্কিং, আধুনিক রেস্তোরাঁ এবং জরুরি চিকিৎসাসেবার ঘাটতি রয়েছে। ফলে অনেক পর্যটক এক দিনের মধ্যেই ফিরে যেতে বাধ্য হন।
পর্যটন সংশ্লিষ্টরা জানান, গারো পাহাড়কে কেন্দ্র করে আধুনিক পর্যটন মাস্টারপ্ল্যান, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, মানসম্মত আবাসন, ডিজিটাল প্রচারণা, নিরাপত্তা জোরদার এবং স্থানীয় সংস্কৃতিভিত্তিক উৎসবের আয়োজন করা গেলে শেরপুর দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।
মধুটিলা ইকোপার্ক: মধুটিলা ইকোপার্ক শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নে সীমান্তবর্তী গারো পাহাড় এলাকায় অবস্থিত একটি জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র। ১৯৯৯ সালে এই বনকে পরিবেশ-উদ্যান বা ইকোপার্ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। প্রায় ৩৮৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে রয়েছে কৃত্রিম লেক, ওয়াচ টাওয়ার, মিনি চিড়িয়াখানা, বিভিন্ন প্রাণীর ভাস্কর্য, পিকনিক স্পট এবং শিশুদের খেলার জায়গা।
বনবিভাগের মধুটিলা রেঞ্জ কর্মকর্তা বলেন, ‘মধুটিলা ইকোপার্ক শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্র নয়, এটি জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশ শিক্ষা এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অনন্য মিলনস্থল। পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে বন বিভাগ নিয়মিত কাজ করছে। আমরা সবাই যদি বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সচেতন হই, তাহলে এই ইকোপার্ক ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও সমৃদ্ধ সম্পদ হিসেবে টিকে থাকবে। ইকোপার্কে যেসকল সমস্যা রয়েছে এগুলো আমরা স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সমাধানের চেষ্টা করে যাচ্ছি। পার্কের ভিতরে কিছু সংস্কার হয়েছে আরো সংস্কারের জন্য আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি।
গজনী অবকাশ: গজনী অবকাশ কেন্দ্র ঝিনাইগাতী উপজেলার গারো পাহাড়ের পাদদেশে ভারতের মেঘালয় সীমান্ত ঘেঁষা একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পর্যটন কেন্দ্র। শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ২৮-৩০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই অবকাশ কেন্দ্রটিতে ছোট-বড় টিলা, পাহাড়ি ঝরনা, লেক ও কৃত্রিম জলপ্রপাত রয়েছে। ১৯৯৩ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গড়ে ওঠা ৯০ একরের এই পর্যটন স্পটটিতে দর্শনার্থীদের জন্য রয়েছে প্যাডেল বোট, ঝুলন্ত ব্রিজ, ওয়াচ টাওয়ার এবং শিশু পার্ক, মিনি চিড়িয়াখানা ইত্যাদি। গজনী অবকাশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও নিয়মিত সংস্কারের ফলে এখানে দর্শনার্থীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। গজনী অবকাশ কেন্দ্রের ভেতরের হোটেলগুলোতে পাহাড়ি রান্নার বিশেষ স্বাদের বুনো মুরগির মাংস এবং গারো পাহাড় এলাকার ঐতিহ্যবাহী শুটকি ভর্তা ও পিঠা পাওয়া যায়। এছাড়া সাদা ভাত, দেশি মুরগি, এবং বিভিন্ন পদের দেশীয় ভর্তার সুব্যবস্থা রয়েছে। প্রকৃতির কাছাকাছি থাকতে চাইলে গজনী পার্কের ঠিক পাশেই রয়েছে বনরাণী ফরেস্ট রিসোর্ট।
দর্শনার্থী হাসান মিয়া, কাওসার, হাবিবুল্লাহ, আনিছুর রহমানসহ আরো কয়েকজন জানান, গজনী অবকাশের সৌন্দর্য দেখে ভালোই লাগলো। এখানে এলে মন ভালো হয়ে যায়। আমরা প্রায়ই আসি।’
শেরপুরের জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘পর্যটকদের নজর কাড়ার মতো গারো পাহাড়ঘেরা শেরপুর জেলায় অনেক সুন্দর প্রাকৃতিক স্থান রয়েছে। এর মধ্যে জেলা প্রশাসনের আওতাধীন অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র গজনী অবকাশ। গজনী অবকাশকে আধুনিকায়ন করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছি।
নতুন সংসার ঘিরে বুকভরা হাজারো স্বপ্ন আর একরাশ আশা নিয়ে স্বামী ও আট বছরের ছোট্ট ভাগনীকে সাথে করে রাজধানীতে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফাহিমা আক্তার। ভেবেছিলেন, ইট-পাথরের শহরে নিজেদের মেধা ও পরিশ্রমে গড়ে তুলবেন ভালোবাসার সুন্দর একটি নীড়। কিন্তু বিধাতা হয়তো লিখেছিলেন অন্য এক করুণ ইতিহাস! একটি অবহেলা আর গ্যাস লাইনের বিষাক্ত লিকেজ মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সব স্বপ্ন পুড়িয়ে ছাই করে দিল।
দগ্ধ হয়ে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে জীবনের সাথে তীব্র পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবারে সন্ধ্যায় না ফেরার দেশে চলে গেলেন কুমিল্লার দেবিদ্বারের মেয়ে ফাহিমা।
একই দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাতে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তার স্বামী আনোয়ার হোসেন শাহিন এবং শুক্রবারে (২৪ জুলাই) মারা যান প্রিয় ভাগনী হাফসা। একই পরিবারের তিনজনের এমন মর্মান্তিক বিদায়ে দেবিদ্বারে এখন বইছে শোকের মাতম, স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে।
নিহত ফাহিমা আক্তার দেবিদ্বার উপজেলার গোমতী আবাসিক এলাকার গোলাম হোসেনের ছোট মেয়ে। তিনি জাফরগঞ্জ মীর আব্দুল গফুর ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছিলেন। পড়াশোনার পাশাপাশি কেক তৈরি ও পোশাক বিক্রিসহ নানা পণ্যের অনলাইন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের একটা শক্ত অবস্থান তৈরি করতে চেয়েছিলেন। স্বপ্ন ছিল নিজের ব্যবসাকে অনেক দূর এগিয়ে নেওয়ার। সেই লক্ষ্যেই স্বামী শাহিনের হাত ধরে উঠে এসেছিলেন রাজধানীর বাড্ডার ভাড়া বাসায়। পরম মমতা আর মায়ের স্নেহে বড় করে তুলবেন—এই আশায় সাথে করে নিয়ে এসেছিলেন বড় বোনের আট বছরের শিশুকন্যা হাফসাকে।
পরিবার জানায়, গত বছরের ১৯ সেপ্টেম্বর দেবিদ্বারের ৯ নং গুনাইঘর উত্তর ইউনিয়নের বাঙ্গুরী গ্রামের মীর্জা আলী ব্যাপারী বাড়ির শাহিনের সাথে বিয়ে হয় ফাহিমার। দেড় মাস আগে তারা রাজধানীর উত্তর বাড্ডা এলাকার একটি ভবনের নিচতলায় বাসা ভাড়া নেন। তাদের সাথে ঢাকায় পড়তে এসেছিল ফাহিমার ভাগনী হাফসা। গত ২১ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হঠাৎ বাসাটায় গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে বিকট শব্দে ঘটে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণ। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে দুটি কক্ষে।
আগুনের জ্বলন্ত দাহে আশঙ্কাজনকভাবে দগ্ধ হন ফাহিমা, তার স্বামী শাহিন ও শিশু হাফসা। উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। সেখানে শরীরের ৭০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ফাহিমা কয়েক দিন মৃত্যুর সাথে লড়ে শনিবার সন্ধ্যায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার আগেই পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যায় তার স্বামী ও সাথে থাকা ভাগনী হাফসা।
দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর শুক্রবার (২৪ জুলাই) বাদ মাগরিব শিশু হাফসাকে দাফন করা হয় তার বাবার বাড়ি দেবিদ্বারের সুলতানপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে। আর শাহিনকে দাফন করা হয় বাঙ্গুরী গ্রামে তার পারিবারিক কবরস্থানে। রোববার সকাল সাড়ে ৯টায় দেবিদ্বার পৌর সদরের গোমতী আবাসিক এলাকার চানমিয়া মার্কেট মাঠে ফাহিমার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় বাঙ্গুরী গ্রামে শাহিনের পারিবারিক কবরস্থানে স্বামীর পাশেই দাফন হয় ফাহিমার।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কুষ্টিয়া-১ (দৌলতপুর) আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা। ভাঙনের তীব্রতা দেখে তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলে জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন প্রতিরোধে অতিরিক্ত ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের দাবি জানান। গত শনিবার (২৫ জুলাই) উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের কোলদিয়াড় এলাকায় ভাঙন পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলে সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা বলেন, এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষায় তিনি জাতীয় সংসদে একাধিকবার পদ্মা নদীর স্থায়ী নদীশাসনের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। এরই মধ্যে অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে ২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং সেই অর্থে পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলে কাজ করছে। তবে ভাঙন অব্যাহত থাকায় আরও ৩ কোটি টাকা বরাদ্দের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে পদ্মা, মাথাভাঙ্গা ও হিসনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর প্রভাবে দৌলতপুর উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের মাজদিয়াড়, কোলদিয়াড়, ফয়জুল্লাহপুর ও হাটখোলাপাড়াসহ অন্তত চারটি স্থানে পদ্মা নদীতে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে।
গত ১৫ থেকে ২০ দিনে শতাধিক একর আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাটসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফসল হারিয়ে কয়েকশ কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ভাঙন অব্যাহত থাকায় আবাদি জমির পাশাপাশি বসতভিটাও হারানোর শঙ্কায় রয়েছেন নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা।
কুষ্টিয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জাহিদুল ইসলাম জানান, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি অতিরিক্ত জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এদিকে নদীপাড়ের বাসিন্দারা জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও পানি বৃদ্ধির সঙ্গে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমি হারিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে। তাই সাময়িকভাবে জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের পরিবর্তে স্থায়ী নদীশাসন ও টেকসই প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান তারা।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত দক্ষ দৈনিক মজুরিভিত্তিক ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের বিনা কারণে চাকরিচ্যুত এবং আউটসোর্সিং প্রক্রিয়ায় হস্তান্তরের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী সমিতি নীলফামারী জেলা শাখা।
রোববার (২৬ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে সংগঠনের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সরকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ দৈনিক মজুরিভিত্তিক কর্মচারী সমিতির রংপুর বিভাগীয় যুগ্ম আহ্বায়ক তহমিনা বেগম, জেলা আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদার রহমান ও জাহেনুর রহমান।
বক্তারা বলেন, সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও মাস্টাররোল কর্মচারীদের বিনা কারণে চাকরিচ্যুত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের পরিবর্তে আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যা দীর্ঘদিনের কর্মীদের প্রতি অবিচার।
তারা আরও বলেন, দৈনিক ভিত্তিক সাময়িক শ্রমিক নিয়োজিতকরণ নীতিমালা-২০২৫ বাতিল করে দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কর্মচারীদের বয়স শিথিলের মাধ্যমে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন তারা। দাবি পূরণে সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন বক্তারা।
বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে গেট কারপাস জটিলতায় বেনাপোল ভারত–বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে। বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা গেট কারপাস না করার কারণে শনিবার (২৫ জুলাই) থেকে আমদানি বানিজ্য বন্ধ রয়েছে। আমদানি বানিজ্য বন্ধ থাকার কারনে ভারতের পেট্রাপোল বন্দরে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী ট্রাক। যার অিধকাংশই বাংলাদেশের শতভাগ রপ্তানি মুখি গার্মেন্টস শিল্পের কাচামাল রয়েছে।
গত শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে সিএন্ডএফ এজেন্টের সদস্যরা আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রেখেছে। বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমস কার্গো শাখার রাজস্ব কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বদরুজ্জামান বনি জানান, এত দিন ধরে আমরা কোনো অবৈধ মালামালের দায়ভার না নিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাকের কারপাস (গেটপাস) দিয়ে গ্রহন করে আসছি। গতকাল শনিবার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হঠাৎ নির্দেশনা জারি করেন, স্ব-স্ব সিএন্ডএফ এজেন্টের কর্মচারীদের দায়িত্ব নিয়ে ভারতীয় আমদানিকৃত পণ্যবাহী ট্রাক গ্রহণ করতে হবে। ওই ট্রাকে কোন অবৈধ মালামাল থাকলে সিএন্ডএফ প্রতিনিধিকে দায়ভার নিতে হবে। এ সংক্রান্ত কোন দায়ভার কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নেবেনা। এ সংক্রান্ত কোন দায়ভার না নেওয়ার শর্তে সিএন্ডএফ এর পক্ষ থেকে আমরা কোন গেটপাশ ইস্যু করছি না। যার কারণে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রয়েছে।
বেনাপোল আমদানি কারক সমিতির সাধারন সম্পাকদ জিয়াউর রহমান জিয়া জানান, ভারতীয় ব্যাবসায়ীরা বাংলাদেশে মালামাল রপ্তানি করেন। তারাই ভালো জানেন পণ্যের ভেতরে কি আছে? ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভাররা পথিমধ্যে কোন অবৈধ মালামাল তুললে তার দ্বায়ভার কোন সিএন্ডএফ এজেন্ট বা স্টাফরা নিতে পারেনা। কাস্টমসের এ ধরনের স্দ্ধিান্তের কারনে বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানী বানিজ্য বন্ধ রয়েছে।
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক, শামিম হোসেন জানান, কারপাশ জটিলতার কারনে শনিবার থেকে বেনাপোল পেট্রাপোল বন্দরের মধ্যে আমদানি বাণিজ্য বন্ধ রযেছে। তবে রপ্তানি ও চেকপোষ্ট দিয়ে পাসপোর্ট যাত্রী পারপার স্বাভাবিক রয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, আওয়ামী লীগ আমলের ভঙ্গুর অর্থনীতি থেকে দেশকে টেনে তুলছে বর্তমান সরকার। একইসঙ্গে বিদ্যুৎ ঘাটতি দূর করতে আগামী পাঁচ বছরে দেশে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
শনিবার (২৫ জুলাই) বগুড়ার মম ইন কনভেনশন সেন্টারে ‘উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি জেলার উন্নয়ন প্রেক্ষিত: সমস্যা, সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী। বগুড়া ইতিহাস চর্চা ও গবেষণা কল্যাণ সংস্থা এই সেমিনারের আয়োজন করে।
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, ইতিহাস বিকৃতি ও ফ্যাসিবাদের কারণে দীর্ঘ দুই দশক ধরে পিছিয়ে থাকা উত্তরাঞ্চলকে দেশের অর্থনৈতিক মূলধারায় ফেরাতে সুষম ও সমন্বিত উন্নয়নের বিশেষ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সরকার।
মন্ত্রী বলেন, ইতিহাসকে বিকৃত করার একমাত্র দল কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। তারা নিজেদের মতো ইতিহাস তৈরি করে। সব ইতিহাস ভুলে গিয়ে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার ঈর্ষান্বিতভাবে উত্তরাঞ্চলকে উন্নয়ন বঞ্চিত করেছে। আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তোলার জন্য কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সেমিনারে মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল বৈষম্যের বিরুদ্ধে। তবে মুক্তিযুদ্ধের পর ক্ষমতায় এসেই আওয়ামী লীগ সম্পদ কুক্ষিগত করে আরও বড় বৈষম্য তৈরি করেছিল।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, বর্তমান সরকারের শাসনামলে দুর্নীতি ও অর্থপাচার বন্ধ হয়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়ায় একটি পক্ষ অপপ্রচার চালাচ্ছে। দীর্ঘ ২০ বছর অবহেলার শিকার হওয়া উত্তরাঞ্চলের পাঁচ জেলার পরিকল্পিত উন্নয়নে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক বঞ্চনা ও বৈষম্য দূর করে সারা দেশে সুষম উন্নয়ন পৌঁছে দিতে সরকার অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
বগুড়ার প্রবীণ বুদ্ধিজীবী ডা. সিএম ইদরিসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশেষ আলোচনা তুলে ধরেন গাইবান্ধা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজেদুর রহমান। তিনি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ ও নাগরিক সেবা ত্বরান্বিত করতে অবিলম্বে ‘বগুড়া বিভাগ’ গঠনের জোর দাবি জানান।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডা. মতিউর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সরকারি মুজিবুর রহমান ভান্ডারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ড. বেলাল হোসাইন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আয়োজক সংস্থার উপদেষ্টা ডা. মশিউর রহমান। পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও সাংবাদিক সৈয়দ ফজলে রাব্বী ডলার।
অনুষ্ঠানে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা (বগুড়া-৬), আব্দুল মুহিত তালুকদার (বগুড়া-৩), ইকরামুল বারী টিপু (নওগাঁ-৪), জাহিদুল ইসলাম ধলু (নওগাঁ-৫), শেখ মো. রেজাউল ইসলাম (নওগাঁ-৬), মো. আব্দুল করিম (গাইবান্ধা-২), আবুল কাওছার নজরুল ইসলাম (গাইবান্ধা-৩), আব্দুল ওয়ারেস (গাইবান্ধা-৫), ফজলুর রহমান সাইদ (জয়পুরহাট-১), আইনুল হক (সিরাজগঞ্জ-৩), সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনিসহ বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, বগুড়া জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম আহসানুল হক তৈয়ব জাকির, জয়পুরহাট জেলা পরিষদ প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, টিএমএসএসের নির্বাহী পরিচালক ড. হোসনে আরা বেগম এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ২৫ জন অধ্যাপক ও গবেষক উপস্থিত ছিলেন।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে। কোনো শিক্ষার্থী যাতে মাদকাসক্ত না হয়ে পড়ে, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। মাদক নিউ জেনারেশনকে শেষ করে দিতে পারে। একজন ব্যক্তির পক্ষে, সরকারের পক্ষে একা কখনো এটা রোধ করা সম্ভব নয়। এটা রোধ করতে পারে গোটা জাতি ও আমাদের দেশের জনগণ। এতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারেন শিক্ষক সমাজ।
শনিবার (২৫ জুলাই) রাজশাহী সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ অডিটোরিয়ামে ২০২৬-শিক্ষাবর্ষের ছাত্রকল্যাণ পরিষদের অভিষেক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আপনারা চেষ্টা করবেন এই মাদক থেকে ছাত্ররা, বাচ্চারা যেন দূরে থাকে। ভালো ছাত্ররাই অনেক সময় ইফেক্টেড হয়। যদি জানতে পারেন তাহলে বাসায় চলে যাবেন। নিজ সন্তানের মতো বাবা-মাকে সাথে নিয়ে বসে আলোচনা করুন, তাকে উপদেশ দেবেন। এই কঠিন বিপদ থেকে জাতিকে রক্ষা করার জন্য তাকে আসক্তিমুক্ত করবেন। ঘৃণা করে আইনের হাতে ঠেলে দিলে সে আরো খারাপের পথে যাবে। তাকে ভালোবাসা, মমতা, শিক্ষা দিয়ে ভালো পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা চেষ্টা করছি ১৮ বছর এর না হলে কেউ মোবাইল ব্যবহার করতে পারবে না। আমি আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি এটাতে আমরা যাব।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমি জানি আপনারা আমার চেয়ে অনেক বেশি ভালো জানেন। আমি খুবই আনন্দবোধ করছি, যেই প্রতিষ্ঠানে আজকে আমার ছাত্র-ছাত্রী, ভাই বোনেরা নির্বাচিত হয়ে শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে শপথ নিয়েছে। এই শপথটাই আমাকে সেই দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। এরকম শপথ আমিও নিয়েছিলাম। এটি ক্ষমতা নয়, এটি দায়িত্ব। অল্প বয়সের অনেকের অনেক লোভ হয়, কিন্তু আমরা যেন কেউ লোভে না পড়ি। আজকে যারা নেতৃত্ব দিয়েছে, আমি তাদের সফলতা চাই।
শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী টিচার্স ট্রেনিং কলেজ শুধু রাজশাহী নয়, বাংলাদেশ নয়, এই পুরো মহাদেশে, সারাবিশ্বে অনেক বরেণ্য শিক্ষাবিদ সৃষ্টি করেছে। আপনারা এই প্রতিষ্ঠানের রাষ্ট্রদূত। আপনাদের কথাবার্তা, আপনাদের চলাচল, আপনাদের অনেক শিক্ষা আর সবকিছুই অন্যরা দেখবে। রাজশাহী, রাজশাহীর টিচার্স ট্রেনিং কলেজ যেটা আজকে চিন্তা করে, সারা দেশই তার পরে চিন্তা করে। আপনারা সেই গর্বিত প্রতিষ্ঠানের ট্রেনিং, শিক্ষা এবং ডিগ্রি অর্জন করতে এসেছেন। আপনাদের অনেক সমস্যা আছে। সরকার বাজেটে শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অর্থ বরাদ্দ করেছে। আমরা একটা হোস্টেলের কথা লিখেছিলাম। কিন্তু এখন দেখি ছাত্র-ছাত্রী ভাইদের মনে দুঃখ হবে, সেই জন্য দু’টি নতুন হোস্টেল যেন হয় তার ব্যবস্থা করা হবে।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় একমাত্র ছেলের এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাতে মা-বাবার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনার পর নিজের ঘর থেকে ঘাতক ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পূর্ব গুজরা এলাকার চৈতন্য মহাজন বাড়িতে এ হত্যার ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন ওই এলাকার স্থানীয় মৃত রেবতি দাশ গুপ্তার ছেলে স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) এবং তার স্ত্রী কল্পনা দাশ (৫৫)। ঘাতক হলেন তাদের একমাত্র ছেলে রিমন দাশ গুপ্ত (৪২)।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহত কল্পনা দাশের ছোটো জা তিথি দাশ বলেন, ‘ছেলেটি দীর্ঘদিন মাদকাসক্ত ছিল। কয়েকবার মাদক নিরাময় কেন্দ্রেও ছিল। আজ সকালে তারা মা-বাবা-ছেলে বাইরে গিয়ে পৌন ১২টার দিকে বাড়ি পৌঁছে। এর কিছুক্ষণ পরই ছেলেটি ছুরিজাতীয় জিনিস দিয়ে তার মাকে আঘাত করতেছিল। মাকে বাঁচাতে তার বাবা এগিয়ে গেলে ছেলে তার বাবাকেও আঘাত করে। এ সময় আমরা দৌড়ে আশপাশের মানুষ ডাকতে যাই। এসে দেখি তার মা ঘটনাস্থলে মারা গেছে। আর বাবাকে আনোয়ারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
বাবার মৃত্যুর বিষয়ে আনোয়ারা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহাতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, গুরুতর আহত অবস্থায় স্বপন দাশ গুপ্তকে হাসপাতালে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চমেক হাসপাতালে প্রেরণের সময় তার মৃত্যু হয়। আমরা পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি।
এ বিষয়ে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘাতক ছেলেকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। হাসপাতালেও আরেকটি মরদেহের খবর পাওয়া গেছে। মরদেহগুলোকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে এবং এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় পৃথক ঘটনায় দুই দিনে পানিতে ডুবে শিশুসহ নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল থেকে শনিবার (২৫ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত ইটনা, মিঠামইন, নিকলী, বাজিতপুর, কটিয়াদী, ভৈরব ও কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে পাঁচ বছর বয়সী চার শিশু, দুই কিশোর, এক যুবক ও একজন ফিজিওথেরাপিস্ট রয়েছেন।
নিহত ব্যক্তিরা হলেন বাজিতপুর পৌরসভার মীরারবন্দ এলাকার সুজন মিয়ার ছেলে মো. তাসিন (৫) ও শাওন মিয়ার মেয়ে জান্নাতুল মাওয়া (৫), ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচকাহনীয়া গ্রামের নাঈম মিয়ার মেয়ে ফাইজা আক্তার (৫), নিকলী উপজেলার কারপাশা ইউনিয়নের নানশ্রী গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ হাকিম (৫), গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগর এলাকার মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন (১২), কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের মজলু মিয়ার ছেলে নাঈম মিয়া (১১), ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার সোহেল মিয়ার ছেলে শুভ ইসলাম স্মরণ (১২), কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার লতিবাবাদ ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে মোহাম্মদ ফয়সাল (২২) এবং একই উপজেলার গাইটাল এলাকার ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন (৩৮)।
পুকুরে ডুবে শিশুর মৃত্যু:
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকাল আটটার দিকে নিকলী উপজেলার নানশ্রী গ্রামে বাড়ির পাশে বড় ভাই ও অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলছিল হাকিম। খেলার একপর্যায়ে অসাবধানতাবশত সে বাড়ির পাশের পুকুরে পড়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে নিকলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। নিকলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
হাওরে গোসল করতে নেমে মাদ্রাসাছাত্রের মৃত্যু:
একই দিন সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগরের বাইতুল কোরআন কওমি মাদ্রাসার এক শিক্ষক ও প্রায় ৪০ জন শিক্ষার্থী শিক্ষা সফরে মিঠামইনের হাওর এলাকায় আসেন। হাওর ভ্রমণ শেষে ইসলামপুর ঘাট এলাকায় গোসল করতে নামলে পানির তীব্র স্রোতে ভেসে যায় মাদ্রাসাছাত্র আরিফ হোসেন। পরে সহপাঠী, শিক্ষক ও স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বোতল আনতে গিয়ে বিলে ডুবে মৃত্যু:
দুপুর দুইটার দিকে কটিয়াদী উপজেলার দক্ষিণ লোহাজুরি গ্রামের নাঈম মিয়া কয়েকজন সহপাঠীর সঙ্গে গ্রামের বিলে গোসল করতে যায়। সাঁতার না জানায় সে প্লাস্টিকের একটি বোতল ভাসমান সহায়তা হিসেবে ব্যবহার করছিল। গোসল শেষে বাড়ি ফেরার পথে বোতলটি বিলে ফেলে আসার কথা মনে পড়ে। পরে একা সেটি আনতে ফিরে গেলে পা পিছলে গভীর পানিতে পড়ে যায় সে। দীর্ঘ সময় বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে কটিয়াদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কটিয়াদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নদীতে ভেসে ওঠে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ:
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বাড়ি থেকে গোসল করতে বের হয়ে নিখোঁজ হয় ভৈরব উপজেলার জগন্নাথপুর মধ্যপাড়া এলাকার শুভ ইসলাম স্মরণ। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পরে বিকেলে জগন্নাথপুর এলাকার নদীতে তার মরদেহ ভেসে ওঠে। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। ভৈরব থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) লিটন বোস এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মেয়েকে বাঁচিয়ে প্রাণ দিলেন বাবা:
শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার গাইটাল এলাকার বাসিন্দা ফিজিওথেরাপিস্ট মো. বাছির উদ্দিন মিলন পরিবার নিয়ে হাওরে বেড়াতে যান। নৌকায় ভ্রমণের সময় মিঠামইন উপজেলার হাসানপুর ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় তার ছোট মেয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে যায়। মেয়েকে বাঁচাতে সঙ্গে সঙ্গে হাওরের পানিতে ঝাঁপ দেন মিলন। তিনি মেয়েকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও নিজে তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান।
পরে স্থানীয় নৌকাচালক ও এলাকাবাসী দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজি করে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেয়েকে বাঁচাতে নিজের জীবনের কথা না ভেবেই পানিতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন মিলন। তাঁর আত্মত্যাগে মেয়েটি প্রাণে বেঁচে গেলেও তিনি আর ফিরে আসেননি। করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
খালে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু:
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে বাজিতপুর পৌরসভার মীরারবন্দ এলাকায় খালের পানিতে ডুবে মারা যায় দুই শিশু তাসিন ও জান্নাতুল মাওয়া। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে তারা বাড়ির পাশে খেলছিল। একপর্যায়ে দুজনই পাশের খালে পড়ে যায়। দীর্ঘ সময় বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে স্বজনেরা খালে নেমে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেন। বাজিতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল্লাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তাবলিগ জামাতে গিয়ে নদীতে ডুবে যুবকের মৃত্যু:
শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার নীলগঞ্জ বাজার নদীর ঘাটে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন মোহাম্মদ ফয়সাল (২২)। তিনি লতিবাবাদ ইউনিয়নের ডুবাইল গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে। ফয়সাল কয়েকজন মুসল্লির সঙ্গে নীলগঞ্জ বাজার জামে মসজিদে তাবলিগ জামাতে গিয়েছিলেন।
কিশোরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মোমেন মুর্শেদ জানান, গোসল করতে নেমে ফয়সাল পানিতে তলিয়ে যান। সঙ্গে থাকা লোকজন আশপাশে খোঁজাখুঁজি করে তার সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় তিন ঘণ্টা পর বেলা পৌনে চারটার দিকে ঘটনাস্থলের কাছাকাছি এলাকা থেকে ফয়সালের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
হাওরের পানিতে ডুবে শিশুর মৃত্যু:
এ ছাড়া ইটনা উপজেলার বড়িবাড়ী ইউনিয়নের পাঁচকাহনীয়া গ্রামের নাঈম মিয়ার মেয়ে ফাইজা আক্তার (৫) পানিতে ডুবে মারা গেছে।
ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাবিবুল্লাহ খান জানান, শুক্রবার দুপুরে বাড়ির পাশে হাওরের পানিতে বড় বোন রৌজা আক্তারের সঙ্গে গোসল করতে নামে ফাইজা। গোসলের একপর্যায়ে সে পানিতে তলিয়ে যায়। পরে শনিবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ পুলিশে প্রথমবারের মতো নারী সদস্য নিয়োগের পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পর দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীতে নারীরা নেতৃত্বের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছেন।
এক সময় সহায়ক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ থাকা নারী পুলিশ সদস্যরা এখন বাহিনীর প্রতিটি স্তরে দায়িত্ব পালন করছেন। কমিউনিটিতে টহলরত কনস্টেবল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) পদমর্যাদার কর্মকর্তা পর্যন্ত সব পর্যায়েই তাদের সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে।
শিল্প পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক গাজী জসিম উদ্দিন বাসসকে বলেন, কঠোর পরিশ্রম, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজি পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে নারীরা অর্পিত দায়িত্ব সফলভাবে পালন করছেন। এটি অত্যন্ত ইতিবাচক একটি অগ্রগতি। কর্মদক্ষতার দিক থেকে তারা কোনো অংশেই পিছিয়ে নেই।’
শিল্প পুলিশের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতে অধিকাংশ শ্রমিক নারী হওয়ায় শ্রম অসন্তোষ নিরসনে নারী পুলিশ সদস্যরা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। নারী পুলিশ সদস্যদের অবদান ছাড়া শিল্পাঞ্চলে শ্রম অসন্তোষ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করা কঠিন হতো।
শিল্প পুলিশ ইউনিট-৩, চট্টগ্রামে কর্মরত পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম ১৬ বছরের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, বাহিনীর নারী সদস্যদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠা তাকে অনুপ্রাণিত করে।
তিনি বলেন, পেশাগত দক্ষতার মাধ্যমে নারী কর্মকর্তারা অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকের মতো উচ্চ পদে পৌঁছেছেন, যা আরও বেশি নারীকে পুলিশে যোগদানে উৎসাহিত করছে।
অপরাধ বিভাগে দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে মাহমুদা বলেন, ধর্ষণ বা পারিবারিক সহিংসতার শিকার নারীরা আমাদের কাছে এলে অনেক বেশি খোলামেলা কথা বলেন, কারণ তারা মনে করেন আমরা তাদের অনুভূতি বুঝতে পারি।
তিনি বলেন, অনেক নারী ও শিশু ভুক্তভোগী পুরুষ কর্মকর্তাদের সামনে তাদের ট্রমার অভিজ্ঞতা বলতে সংকোচ বোধ করেন। নারী তদন্তকারী হিসেবে দ্রুত আস্থা অর্জন করা সম্ভব হয়, যা তদন্তে প্রমাণ সংগ্রহের মান উন্নত করতে সহায়তা করে।
পুলিশ সুপার মাহমুদা বেগম বলেন, আগের প্রজন্মের তুলনায় বর্তমানে নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত সুযোগ-সুবিধা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তার ভাষায়, ‘জ্যেষ্ঠ নারী কর্মকর্তারা যখন নবীন সহকর্মীদের দিকনির্দেশনা দেন, তখন তা পুরো বাহিনীর মধ্যে আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। এখন বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেওয়া তরুণীরা জানেন, নিষ্ঠা ও পেশাগত উৎকর্ষের মাধ্যমে নেতৃত্বের উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব।’
শিল্প পুলিশে কাজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মাহমুদা বলেন, নারী পোশাক শ্রমিকরা নারী কর্মকর্তাদের কাছে নিজেদের সমস্যার কথা বলতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন এবং তিনি সবসময় তাদের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করেন।
তিনি জরুরি পরিস্থিতিতে বা পুলিশি সহায়তার প্রয়োজন হলে নারী শ্রমিকদের জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করার পরামর্শ দেন।
যদিও নারী সদস্যদের সংখ্যা ও দায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, তবুও নেতৃত্ব, তদন্ত ও অপারেশনাল পুলিশিংয়ে সমান প্রতিনিধিত্ব অর্জনের পথ এখনও অনেক বাকি বলে মনে করেন নারী কর্মকর্তারা।
সম্প্রতি রাজারবাগ বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্কের (বিপিডব্লিউএন) ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নবিষয়ক ঢাকা বিভাগীয় পরামর্শ কর্মশালায় এ বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে আসে।
বাংলাদেশ পুলিশে ১৯৭৪ সালে প্রথম নারী সদস্য নিয়োগের মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হয়। সে সময় তাদের দায়িত্ব মূলত প্রশাসনিক ও সীমিত পরিসরের ছিল।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে নারীরা প্রাতিষ্ঠানিক নানা বাধা অতিক্রম করে আজ কনস্টেবল, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই), উপপরিদর্শক (এসআই), পরিদর্শক, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, পুলিশ সুপার (এসপি), উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি), অতিরিক্ত ডিআইজি এবং অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার বিভিন্ন দায়িত্বে কর্মরত রয়েছেন।
বাংলাদেশ পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাহিনীতে ১৭ হাজার ৯৭০ জন নারী সদস্য কর্মরত রয়েছেন, যা মোট জনবলের ৯ দশমিক ০৭ শতাংশ।
নারী সদস্যরা বর্তমানে মহানগর পুলিশ, জেলা পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), ট্যুরিস্ট পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, নৌ পুলিশ, পুলিশ সদর দপ্তর এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনেও দায়িত্ব পালন করছেন।
এছাড়া জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে সর্বনারী ফর্মড পুলিশ ইউনিট মোতায়েনের মাধ্যমে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক পর্যায়েও প্রশংসা অর্জন করেছে।
২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে বাংলাদেশ পুলিশ উইমেন নেটওয়ার্ক (বিপিডব্লিউএন) নারী পুলিশ সদস্যদের পেশাগত উন্নয়নের প্রধান প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।
সংগঠনটির পাঁচটি কৌশলগত অগ্রাধিকার হলো— সব পর্যায়ে নারী সদস্যদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি, নেতৃত্ব ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পদে উন্নীত করা, পেশাগত ও তদন্ত দক্ষতা বাড়ানো, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জেন্ডার-সংবেদনশীল পুলিশিং জোরদার করা।
কর্মশালায় বিপিডব্লিউএনের সাধারণ সম্পাদক ও পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (প্রশিক্ষণ-২) মোছা. শাহালা পারভীন নারী কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব বিকাশ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
কর্মশালায় সাইবার অপরাধ তদন্ত, সাইবার সচেতনতা, মানসিক সুস্থতা, কর্মস্থলের নিরাপত্তা এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়ন সম্পর্কেও বিভিন্ন অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
ইউএন উইমেনের প্রতিনিধিরা ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক পুলিশিং বিষয়ে কারিগরি অধিবেশন পরিচালনা করেন এবং তদন্তে জেন্ডার-সংবেদনশীল পদ্ধতি অনুসরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বিপিডব্লিউএন ও ইউএন উইমেনের প্রশিক্ষণে ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক তদন্ত, ট্রমা-সচেতন সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং নারী ও শিশুদের জন্য সমন্বিত সহায়তা সেবার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
মহানগর পুলিশ ইউনিটে কর্মরত একজন নারী উপপরিদর্শক বলেন, নারী কর্মকর্তারা বড় ধরনের অপারেশন পরিচালনায়ও সক্ষমতার পরিচয় দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সময়ের সঙ্গে আমাদের দায়িত্ব বেড়েছে। তবে গোয়েন্দা কার্যক্রম, অপরাধ তদন্ত ও অপারেশনাল নেতৃত্বের সুযোগও একইভাবে বাড়ানো উচিত। নারী কর্মকর্তারা বারবার প্রমাণ করেছেন যে আমরা পেশাদারিত্বের সঙ্গে জটিল অভিযান পরিচালনা করতে সক্ষম।
ঢাকা বিভাগীয় কর্মশালায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদলের পক্ষে এনরিকো লরেনজোন বলেন, বিপিডব্লিউএনের কৌশলগত পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন নির্ভর করবে টেকসই প্রাতিষ্ঠানিক অঙ্গীকার এবং জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের ওপর।
এদিকে ইউএন উইমেনের এন্ডিং ভায়োলেন্স অ্যাগেইনস্ট উইমেন ইউনিট-এর ব্যবস্থাপক শ্রাবণা দত্ত নারী কর্মকর্তাদের পেশাগত সক্ষমতার ঘাটতি চিহ্নিত করার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যৎ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায়।
বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকায়ন কার্যক্রমে নারীদের ক্রমেই কেন্দ্রীয় ভূমিকায় আনা হচ্ছে। সাইবার অপরাধ তদন্ত জোরদার করা, ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক পুলিশিং সম্প্রসারণ এবং নেতৃত্বে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে বাহিনী ধীরে ধীরে তার কার্যক্রমে নতুন রূপ দিচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের মোট সদস্যের মাত্র ৯ শতাংশের কিছু বেশি নারী হলেও অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণের ধারা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ নেতৃত্ব, উন্নয়ন সহযোগী এবং নারী কর্মকর্তারা মনে করেন, নিয়োগ বৃদ্ধি, নেতৃত্বের সুযোগ সম্প্রসারণ, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ এবং অপারেশনাল দায়িত্ব বাড়ানো হলে কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে নারীরা আরও কার্যকর অবদান রাখতে পারবেন।
বিপিডব্লিউএনের ২০২৪-২০২৭ কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নারী পুলিশ সদস্যরা আশা করছেন, তাদের অগ্রযাত্রার আগামী অধ্যায় শুধু সংখ্যাগত বৃদ্ধি নয়, বরং সমান সুযোগ, আরও শক্তিশালী নেতৃত্ব এবং জনগণের বৈচিত্র্য প্রতিফলিত করে এমন একটি আধুনিক পুলিশ ব্যবস্থা গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে চিহ্নিত হবে।