চট্টগ্রাম আদালতের হত্যা, মাদক, চোরাচালান, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন মামলার গায়েব হওয়া ১ হাজার ৯১১টি নথির (কেস ডকেট) খোঁজ পাওয়া গেছে ভাঙারির দোকানে। এ সময় ৯ বস্তা মামলার নথি উদ্ধারসহ একজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, আদালতের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে হারিয়ে যাওয়া এসব নথি উদ্ধার করা হয়। নথিগুলো পাথরঘাটা এলাকার একটি ভাঙারির দোকানে ১৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। আটক ব্যক্তি আদালত চত্বরে চা বিক্রি করতেন। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপকমিশনার (দক্ষিণ) শাকিলা সোলতানা বলেন, চট্টগ্রাম আদালতের বিভিন্ন মামলার ১ হাজার ৯১১টি নথির গায়েবের ঘটনায় ১ জনকে আটক করা হয়েছে। তার স্বীকারোক্তি মতে ৯ বস্তা নথি উদ্ধার করা হয়েছে।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল করিম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘চট্টগ্রাম আদালতের হত্যা, মাদক, চোরাচালান, বিস্ফোরণসহ বিভিন্ন মামলার ১,৯১১টি সিডি গায়েবের ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। তার কাছ থেকে ৯ বস্তা সিডি উদ্ধার করা হয়েছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে। অভিযান এখনো চলছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে আদালত থেকে গায়েব হওয়া নথিগুলো উদ্ধারে আমরা কাজ করছিলাম। প্রথমে সিসিটিভির ফুটেজ দেখে রাসেল নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ওই নথিগুলো সে চুরি করে বলে স্বীকার করে। আদালত চত্বরেই চা বিক্রি করে রাসেল। চুরির পরে ভাঙারির দোকানে ১৬ টাকা কেজি দরে নথিগুলো বিক্রি করে দেয়।’ এর আগে চট্টগ্রাম আদালতের বিভিন্ন মামলার ১ হাজার ৯১১টি নথির খোঁজ না পাওয়ায় গত ৫ জানুয়ারি কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মফিজুল হক ভূঁইয়া। আদালত ভবনের তৃতীয় তলায় মহানগর পিপির কার্যালয়ের পাশে মহানগর দায়রা জজ আদালতের এজলাস ও খাসকামরা। দিনভর আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের পদচারণে মুখর থাকে আদালত ভবন। সন্ধ্যার পর থেকে আদালত ভবনে নিরাপত্তা জোরদার থাকার কথা। পিপির কার্যালয়ের সামনে আদালতের বারান্দা থেকে ১ হাজার ৯১১ মামলার নথি হারিয়ে যাওয়ার ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান আইনজীবীরা।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম মহানগর পিপি কার্যালয়ে ২৮ থেকে ৩০টি আদালতের কেস ডকেট রক্ষিত ছিল। পিপি কার্যালয়ে জায়গা-স্বল্পতার কারণে ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল থেকে কার্যালয়ের সামনের বারান্দায় প্লাস্টিকের বস্তায় ১ হাজার ৯১১টি মামলার কেস ডকেট পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় রাখা ছিল। আদালতের অবকাশকালীন ছুটির সময় অফিস বন্ধ থাকায় গত ১৩ ডিসেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নথিগুলো হারিয়ে যায়।
রাজশাহী আইএইচটির সম্মেলন কক্ষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে নবীনবরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, তোমাদের আগে নিজেদের লক্ষ্য স্থির করতে হবে। এরপর সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর জন্য অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে না পৌঁছানো পর্যন্ত হাল ছাড়া যাবে না। আমরা জানি যে তোমরা সবাই স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হবে। জনগণের যে প্রত্যাশা একটি সুন্দর চিকিৎসা ব্যবস্থা। সেটি তোমাদের হাত দিয়েই গড়ে উঠবে। তোমরাই আগামী দিনের ভবিষৎ।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আমাদের সেই মা যিনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে জীবন উৎসর্গ করে আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। মায়ের মূর্ত প্রতীকই হচ্ছে বেগম খালেদা জিয়া। আজকে আমাদের নেতা দলের চেয়ারম্যান এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার প্রতিচ্ছিবি। জনগণ তার হাতে দেশের দায়িত্বভার তুলে দিয়েছেন। তিনি এই দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। এখন অনেক প্রতিকূল অবস্থা, অনেক ষড়যন্ত্র, তারপরও তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
মিজানুর রহমান মিনু বলেন, আমরা সেই জাতি, আমরা আমাদের মাতৃভাষার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছি। আমরা সেই জাতি আমাদের প্রিয় নেতা শহীদ জিয়াউর রহমান প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়েও তিনি স্বাধীনতার যুদ্ধের ঘোষণার ডাক দিয়েছিলেন। আমরা হাতিয়ার তুলে নিয়ে হানাদার পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করেছিলাম। এরপর দেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছিল।
রাজশাহী আইএইচটি ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাদ্দাম হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। প্রধান বক্তা ছিলেন, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুনুর রশীদ মামুন। আরও উপস্থিত ছিলেন, রাজশাহী মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম জনি, রাজশাহী আইএইচটির অধ্যক্ষ ডা. মো. মির্জা ওয়াসি পারভেজ, মহানগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক রাকিন রায়হান রবিনসহ অন্যান্য নেতারা।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল উৎপাদনে পাল্টে দিয়েছে অনেক কৃষকের ভাগ্য। বদলে দিয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র। এক সময় শুধু ইরি-বোরো ও আমন চাষের পাশাপাশি প্রচলিত কিছু শাক-সবজি চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষিকাজ। কিন্তু এখন আধুনিক পদ্ধতিতে নানা জাতের বিদেশি ফলের আবাদ করে কৃষকরা লাখ লাখ টাকা আয় করছেন। ধানের জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য এখানকার কৃষকদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে। কৃষকদের কাছে বিদেশি ফল উৎপাদন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। উপজেলার কৃষকরা এখন চাষ করছেন অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, লংগান, মাল্টা, আনারকলি ও আঙুরের মতো ভিনদেশি ফল।
১৫ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা এই আবাদ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এক সময় মনে করা হতো, বাংলাদেশের মাটিতে আঙুর চাষ প্রায় অসম্ভব। কারণ আঙুর মানেই ছিল বিদেশি ফল, যা আমাদের দেশে শুধু আমদানি করেই পাওয়া যায়। কিন্তু সময় বদলেছে। উন্নত জাত, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষকদের আগ্রহের কারণে এখন জীবননগর উপজেলায় সফলভাবে আঙুরসহ বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের মতে, উর্বর পলিমাটিতে এই ফলগুলোর চাষে খরচ কম, আবার ফলনও ভালো। ফলে চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারেও মিলছে ভালো দাম। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের ফলের দোকানগুলোতে সরবরাহ হচ্ছে জীবননগরের উৎপাদিত ফল।
জীবননগরে পরীক্ষামূলকভাবে আনারকলি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অনন্তপুর গ্রামের আকশেদ আলী। গাছে গাছে ঝুলছে ফুল আর কাঁচা-পাকা সবুজ ফল। অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অন্য কৃষকরা।
আকশেদ আলী জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি ড্রাগন ও মাল্টার চাষ করেছেন। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউটিউবে ভিডিও দেখে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের আদি ফল আনারকলির চারা সিরাজগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করেন। জমি প্রস্তুত করে চারাগুলো রোপণ করেন। এরপর জমিতে সেচ, সার, কীটনাশকসহ নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকেন। মাত্র ছয় মাসের মাথায় থোকায় থোকায় ফুল আসতে শুরু করে। ফলগুলোকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে এবং পচন থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়। বর্তমানে মাচায় মাচায় ঝুলছে কাঁচা ও পাঁকা আনারকলি ফল। আগস্টের শুরু থেকে পাঁকা ফল তোলা শুরু হয়েছে। এসব ফল ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে।
জীবননগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ ২০১৪ সালে মাত্র ৯ বিঘা পেয়ারা বাগান থেকে শুরু করে বর্তমানে তিনি প্রায় ১৪০ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। তার বাগানে বর্তমানে মরোক্কো, পাকিস্তান, আফ্রিকা ও ভিয়েতনাম জাতের মাল্টা ৪০ বিঘা, বিভিন্ন প্রজাতির আম ৩৫ বিঘা, এছাড়া ড্রাগন, কমলা, আঙুর, অ্যাভোকাডোসহ ২০ রকমের বিদেশি ফল রয়েছে। সজল আহমেদ বলেন, পেয়ারা চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে তিনি ২০১৪ সালে মাল্টা চাষে মনোনিবেশ করেন। শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে তার বাগানের পরিধি ও ফলন বাড়তে থাকে।
বর্তমানে সাধারণ সবুজ মাল্টার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত ‘ইয়েলো কিং’সহ (হলুদ জাতের মাল্টা) প্রায় ১০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি মাল্টা চাষ করে তিনি বাজিমাত করেছেন। তার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ‘বিসমিল্লাহ নার্সারি ও ফলের বাগান’ নামের একটি কৃষি প্রকল্প গড়ে উঠেছে। সজলের এই বাগান দেখতে এবং চাষ পদ্ধতি শিখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী ও নতুন উদ্যোক্তারা ভিড় করেন।
উপজেলার উথলী গ্রামের আশরাফুজ্জামান মিলু ২০১০ সাল থেকে ড্রাগন ও মাল্টা চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ২২ বিঘা জমিতে ড্রাগন ও ৬ বিঘা জমিতে মাল্টা এবং ১০ বিঘা জমিতে পেয়ারার চাষ রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রাকৃতিকভাবে ফল চাষ করছি। এসব বাগানে ফল বড় করতে কোনো মেসিডিন ব্যবহার করি না। এতে ফলের আকার ছোট হচ্ছে, দামও কম পাচ্ছি।
তিনি বলেন, এক বিঘা জমিতে থাই পেয়ারা চাষ করলে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা যায়।
উপজেলার হাসাদাহ গ্রামে বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষ করে দারুণ সাফল্য পেয়েছেন তরুণ উদ্যোক্তা দুই ভাই আশরাফুল ইসলাম ও তরিকুল ইসলাম। তারা সাড়ে ৩ বিঘা জমিতে প্রায় ৭৫০টি পার্পেল ও বাইকুনুর জাতের আঙুর গাছ লাগিয়েছেন। বাগান থেকে অর্থনৈতিকভাবে লাভের মুখ দেখছেন তারা।
জীবননগর উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জীবননগরে ড্রাগন ৬৮৮ হেক্টর, মাল্টা ৩১২ হেক্টর, কমলা ১২০ হেক্টর, শরিফা ১ হেক্টর, আঙুর ৯ হেক্টর, রকমেলন ৬ হেক্টর, আনারকলী ২ হেক্টর, অ্যাভোকাডো ৪ হেক্টর, রাম্বুটান শূন্য দশমিক ১৩ হেক্টর, পেয়ারা ৭৪৮ হেক্টর, আনার শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর ও বারোমাসি কাঁঠাল শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর চাষ হয়েছে।
মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই শিক্ষক নিয়োগ বোর্ড পুনর্গঠন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি মেয়াদ শেষ কথা থাকলেও সিন্ডিকেট সভায় নিয়োগ বোর্ড বিলুপ্ত করে নতুন বোর্ড গঠনের অনুমোদন পাস করেছে বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট বোর্ড।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৮ তম সিন্ডিকেট সভা বসে, সেখানে শিক্ষক নিয়োগের বোর্ড পুর্নগঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়। সিন্ডিকেট সভায় সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রর মো. হাছান মিয়া বলেন, নিয়োগ বোর্ড গঠনের জন্য আগের সিন্ডিকেটগুলো থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতাই এ সভায় সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগে নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়েছে।
এদিন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড পুনর্গঠনের জন্য গত ১১ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৭তম সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এই সিদ্ধান্ত মোতাবেক চবি উপাচার্যকে অর্পিত ক্ষমতাবলে পুনর্গঠিত নির্বাচনী বোর্ড অনুমোদন করা হয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৭৩ অনুযায়ী, প্রতিটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হবে। এ ক্ষেত্রে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপক ক্যাটাগরিতে শিক্ষক নিয়োগের জন্য একটি নির্বাচনী বোর্ড এবং সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য আরেকটি নির্বাচনী বোর্ড থাকবে। তবে চবি প্রশাসন সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নিয়োগ বোর্ড পুনর্গঠন করেছে।
এর আগে, ২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৫৮তম সিন্ডিকেট সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুষদ, বিভাগ ও ইনস্টিটিউটের প্রত্যেকটিতে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষক পদে শিক্ষক নিয়োগের নির্বাচনী বোর্ড গঠন করা হয়।
২০২৫ সালের ৪ জানুয়ারি গঠিত নিয়োগ বোর্ডের মেয়াদ ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারি সেই দুই বছর পূর্ণ হবে। মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই নির্বাচনী বোর্ড ভেঙে দিল চবি প্রশাসন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী নিয়োগ বোর্ডের মেয়াদ এখন প্রায় ৪ মাসের মতো সময় আছে। পূর্বের প্রশাসনও মেয়াদ শেষের পর বোর্ড গঠন করেছিল।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে কাব স্কাউটারদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কার্যক্রম গতিশীল করতে দিনব্যাপী ‘স্কাউটার্স গ্যাদারিং ফর স্কিল ডেভেলপমেন্ট’কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) জেলা স্কাউটসের স্কাউটার গোলাম রশীদ কনফারেন্স হলে এ আয়োজন করা হয়।
সকালে কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্কাউটস এর সহকারী কমিশনার আসরাফুল আম্বিয়া সাগর, নুরুল ইসলাম, সম্পাদক মারুফুল হক, জেলা স্কাউটস লিডার খসরু পারভেজ, জেলা কাব লিডার রাকিব উদ্দিন আহমেদ, সহকারী লিডার ট্রেনার কে এ এম মাহফুজুর রহমান, সদর উপজেলা স্কাউট সম্পাদক মাইনুল ইসলাম, নাচোল উপজেলা স্কাউটসের কমিশনার মোহা. সাজেমান আলীসহ অনান্যরা।
দিনব্যাপী কর্মশালায় প্যাক মিটিং বাস্তবায়ন, ব্যাজ প্রদান ও দীক্ষা অনুষ্ঠান পরিচালনা নিয়ে আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর হয়। এছাড়া বিভিন্ন রেজিস্টার হালনাগাদ, ‘মাই প্রগ্রেস বুক’, বার্ষিক পরিসংখ্যান ফরম, পরিদর্শন ফরম ও শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড ফরম পূরণ ও সংরক্ষণ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
জেলা কাব লিডার রাকিব উদ্দিন আহমেদ জানান, স্কাউটারদের নিজস্ব অর্থায়নে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
দেশে পেঁয়াজের উৎপাদন চাহিদার তুলনায় বেশি হলেও পর্যাপ্ত সংরক্ষণব্যবস্থার অভাবে প্রতিবছরই আমদানির প্রয়োজন হচ্ছে। সংরক্ষণকালে পচন, ওজন কমে যাওয়া, অঙ্কুরোদগম ও গুণগত মানের অবনতিতে উৎপাদিত পেঁয়াজের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নষ্ট হয়। এ পরিস্থিতি বদলাতে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য আইওটি (ইন্টারনেট অব থিংস) প্রযুক্তিনির্ভর একটি আধুনিক ব্যবস্থা নিয়ে গবেষণা করছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকরা। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে প্রযুক্তিটি ব্যবহারে পেঁয়াজের সংরক্ষণকালীন ক্ষতি প্রায় ১৫–১৬ শতাংশ কমানোর সম্ভাবনা দেখা গেছে।
গবেষণাটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাকৃবির আইসিটি সেলের পরিচালক এবং কৃষি শক্তি ও যন্ত্র বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রোস্তম আলী। তাঁর সঙ্গে গবেষক দলে রয়েছেন সহকারী গবেষক ও স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী নাফিস সাদিক সায়েম এবং স্নাতক শিক্ষার্থী রাহাত মিয়া। বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থায়নে ২০২৫ সালের মার্চে শুরু হওয়া গবেষণাটি বর্তমানে পরীক্ষামূলক ও ফলাফল বিশ্লেষণ পর্যায়ে রয়েছে।
গবেষণার মূল উদ্দেশ্য সম্পর্কে অধ্যাপক ড. রোস্তম আলী বলেন, তুলনামূলকভাবে কম খরচে এমন একটি আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থা তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য, যেখানে পেঁয়াজ সংরক্ষণের পরিবেশ নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী তা নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। দীর্ঘসময় পেঁয়াজ ভালো রাখতে তাপমাত্রা ও আপেক্ষিক আর্দ্রতা গুরুত্বপূর্ণ। এসব পরিবেশগত পরিবর্তন দ্রুত শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার মাধ্যমে পচন, ওজন হ্রাসসহ অন্যান্য সংরক্ষণকালীন ক্ষতি কমানোই এ প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য।
তিনি বলেন, এ জন্য গবেষণায় সংরক্ষিত পেঁয়াজের ভেতরে সেন্সর ব্যবহার করা হচ্ছে। সেন্সরের মাধ্যমে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার তথ্য সংগ্রহ ও পর্যবেক্ষণ করা হবে। সংরক্ষিত পেঁয়াজের ভিতরের পরিবেশে প্রয়োজনের তুলনায় পরিবর্তন দেখা দিলে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। প্রযুক্তিটির নকশায় এয়ারফ্লো ব্যবস্থাপনাকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যানের কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য উপযোগী পরিবেশ রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।
গবেষণায় পেঁয়াজ কতদিন সংরক্ষণ করা যাচ্ছে, তার পাশাপাশি সংরক্ষণকালীন ওজন হ্রাস, পচন ও গুণগত মানের পরিবর্তনও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। বিভিন্ন সংরক্ষণ পরিস্থিতিতে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ ও তুলনা করে প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা যাচাই করছেন গবেষকরা। এখন পর্যন্ত পাওয়া ফলাফলকে আশাব্যঞ্জক বলছেন তারা। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে আইওটি-ভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারে পেঁয়াজের সংরক্ষণকালীন ক্ষতি প্রায় ১৫–১৬ শতাংশ কমানোর সম্ভাবনা দেখা গেছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২৫ এপ্রিল ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে প্রায় ৪২ দশমিক ৬৪ লাখ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হয়। বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৫–৩৬ লাখ টন। এরপরও ২০২৫–২৬ অর্থবছরে প্রায় ৮৬ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি হয়েছে। উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হওয়ার পরও সংরক্ষণ ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে বছরের বিভিন্ন সময়ে বাজারে ঘাটতি তৈরি হওয়াকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ড. রোস্তম আলী বলেন, সংরক্ষণ সুবিধার অভাবে কৃষককে অনেক সময় ফসল তোলার পরপরই পেঁয়াজ বিক্রি করতে হয়। এতে মৌসুমে বাজারে সরবরাহ বেড়ে গেলে কম দামে বিক্রির ঝুঁকি তৈরি হয়। উন্নত সংরক্ষণব্যবস্থা চালু করা গেলে কৃষক পেঁয়াজ কিছুদিন ধরে রেখে বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী বিক্রির সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন এবং বছরজুড়ে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য ফলন বাড়ানো নয়, বরং উৎপাদনের পরবর্তী অপচয় কমিয়ে কৃষকের আর্থিক সুবিধা নিশ্চিত করা।
অধ্যাপক বলেন, গবেষণাটি এখনো চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। পরীক্ষামূলক ফলাফল বিশ্লেষণের পাশাপাশি প্রযুক্তির কার্যকারিতা আরও উন্নত করার কাজ চলছে। পরবর্তী ধাপে বৃহত্তর পরিসরে বাস্তব সংরক্ষণ পরিবেশে এর কার্যকারিতা যাচাই করা হবে। ফলাফল সন্তোষজনক হলে কৃষক ও বাণিজ্যিক সংরক্ষণকেন্দ্রে পাইলট পর্যায়ে প্রযুক্তিটির প্রয়োগ শুরু করা হবে। প্রয়োজনীয় অর্থায়ন, আধুনিক সেন্সর, ডেটা মনিটরিং ব্যবস্থা ও কারিগরি সহায়তা পাওয়া গেলে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে মাঠপর্যায়ে ব্যবহারের উপযোগী একটি পাইলট মডেল তৈরি করা সম্ভব হবে। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিল্প উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা মিললে পরবর্তী সময়ে সফল মডেলটি বাণিজ্যিকভাবে সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
বৃহত্তর পরিসরের পরীক্ষায় প্রযুক্তিটির কার্যকারিতা নিশ্চিত হলে কম খরচে কার্যকর পেঁয়াজ সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এতে সংরক্ষণকালীন ক্ষতি কমার পাশাপাশি কৃষক উপযুক্ত সময়ে পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারবেন। দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ স্থিতিশীল রাখা ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান গবেষকরা।
শহরের কাটিয়া লস্করপাড়া এলাকার গৃহবধূ ইনা পারভীন চন্দনা (৩৫) গুমের প্রধান আসামি তার স্বামী শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি, সন্ত্রাসী রবিউল ইসলাম রবি ওরফে ভেন্ডার রবিকে আটক করেছে পুলিশ। গত
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে সদর থানা পুলিশ তাকে আটক করে আদালতে পাঠয়। গুমের শিকার গৃহবধু চন্দনা সাতক্ষীরা শহরের শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি রবিউল ইসলাম রবি'র দ্বিতীয় স্ত্রী। ও তালার শিবপুর গ্রামের মহিউদ্দীন শেখের কন্যা।
উল্লেখ, গত দু'মাস পূর্বে সাতক্ষীরা শহরের কাটিয়া লস্কর পাড়া এলাকায় তার নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন গৃহবধূ চন্দনা।
চন্দনার স্বজনদের দাবি তাকে গুম করেছে তারি মাদকাসক্ত স্বামী শীর্ষ মাদক চোরাকারবারি সন্ত্রাসী রবিউল ইসলাম রবি।
এবিষয়ে গুম হওয়া গৃহবধূর পিতা মহিউদ্দীন শেখ ওই সময় সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করেন। পরবর্তীতে চন্দনা গুমের অভিযোগ থেকে রক্ষা পেতে সদর থানার ততকালীন অফিসার ইনচার্জ ওসি মাসুদুর রহমানকে ম্যানেজ করে উল্টো গুমের শিকার গৃহবধু ও তার পিতা মহিউদ্দীন শেখ এর নামে প্রতারণা মামলা দেয় ভেন্ডার রবি। মামলার আসামি হওয়ায় থানায় মামলা করতে না পেরে ভেন্ডার রবি'কে প্রধান ও আরও কয়েক জনকে আসামি করে সাতক্ষীরা আদালতে অভিযোগ দায়ের করেব চন্দনার পিতা। অভিযোগ আমলে নিয়ে মামলাটি নথিভুক্ত করে আসামিদের আটকের আদেশ দেয় আদালত।
এবিষয়ে সাতক্ষীরা সদর থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মাহমুদুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে গৃহবধূ চন্দনা গুম মামলার প্রধান আসামি আলোচিত রবিউল ইসলাম রবিকে আটক করাহয়। পরবর্তীতে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করলে চন্দনা গুমের সাথে তার স্বামী রবিউল ইসলাম রবি জড়িত কিনা সেটা জানা যাবে।
নারায়ণগঞ্জে আব্দুল মান্নান নামে সদর নৌ থানার এক উপ-পরিদর্শকের (এসআই) মদ্যপ অবস্থায় অস্বাভাবিক আচরণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার গভীর রাতে শহরের সেন্ট্রাল খেয়াঘাট এলাকায় এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার সময় আব্দুল মান্নানের অসংলগ্ন আচরণ ও মাতলামি দেখে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুজ্জামান।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই পুলিশ কর্মকর্তা নেশাগ্রস্ত হয়ে মাটিতে বসে কখনো গান গাইছেন, আবার কখনো নাচছেন। এক পর্যায়ে তাঁকে বিলাপ করতেও দেখা যায়। উৎসুক জনতা তাঁর এই অবস্থার কারণ জানতে চাইলে তিনি অভিযোগ করেন যে, স্ত্রীর কাছে মার খেয়ে তিনি অতিরিক্ত মদ পান করেছেন। জনসমাগমের মধ্যে একজন পুলিশ কর্মকর্তার এমন কাণ্ডজ্ঞানহীন আচরণ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
তবে সদর নৌ থানার ওসি রকিবুজ্জামান দাবি করেছেন, এসআই আব্দুল মান্নান পারিবারিক কলহের জেরে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক অস্থিরতায় ভুগছেন। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে চিকিৎসার নথিপত্রও জমা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। ওসি আরও যোগ করেন যে, ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর এবং বিষয়টি পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নজরে আসার পর আব্দুল মান্নানকে কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুকুর, জলাশয় ও বৃষ্টির পানি ব্যবহারে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ভূগর্ভস্থ পানি যত কম ব্যবহার করা যাবে, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তা ততই ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের পানিহারা গ্রামে অংশগ্রহণমূলক ওয়ার্ড বিপন্নতা বিশ্লেষণ বিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি ও ইএসডিও যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, ভূগর্ভস্থ পানি যত কম ব্যবহার করা যায়, পরিবেশের জন্য ততই ভালো হবে। আমাদের আশপাশে থাকা পুকুর, জলাশয় এবং বৃষ্টির পানিকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করতে হবে। এতে একদিকে যেমন ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, অন্যদিকে পরিবেশের ভারসাম্যও রক্ষা হবে।
তিনি বলেন, পরিবেশ রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও অংশগ্রহণও জরুরি। পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং স্থানীয়ভাবে যে পানির উৎসগুলো রয়েছে, সেগুলোর সংরক্ষণ ও যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
পরিবেশ দূষণের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য বর্তমানে পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্লাস্টিকের পাশাপাশি মাইক্রোপ্লাস্টিকও পরিবেশের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়ছে। এসব দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। যত্রতত্র প্লাস্টিক ফেলা বন্ধ করতে হবে এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে হবে।
ইটভাটার ধোঁয়ার কারণে পরিবেশ দূষণের বিষয়টিও তুলে ধরেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইটভাটা থেকে নির্গত ধোঁয়া ও দূষিত বায়ু মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। এর প্রভাবে ক্যান্সারসহ বিভিন্ন রোগব্যাধির ঝুঁকি বাড়ছে।
মতবিনিময় সভায় নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, নিয়ামতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুরশিদা খাতুন, ইএসডিও ইনচার্জ কলি ইয়াসমিনসহ সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ওয়ার্ড দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য এবং ইএসডিওর বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
টাঙ্গাইলের শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী চমচমকে বিদেশে রপ্তানির পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে টাঙ্গাইল শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে তিন দিনব্যাপী ‘মিষ্টি উৎসব-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘টাঙ্গাইলের চমচম সারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বের অনেক মানুষই কমবেশি চেনে। টাঙ্গাইলের শাড়ি যেমন বাংলাদেশের গর্ব ও ঐতিহ্য, তেমনি চমচমও আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এই পণ্যকে কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায়, সেটি আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের যে ঐতিহ্য রয়েছে, সেটিকে মানুষের মাঝে তুলে ধরার জন্যই এ আয়োজন। টাঙ্গাইলে যে ঐতিহ্য ও অর্জন রয়েছে, তা বাংলাদেশের মানুষের জন্যও গর্বের বিষয়। এই ঐতিহ্যকে ধারণ করে আগামী দিনে ঐতিহাসিক ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ে তুলতে চাই। এ ব্যাপারে সবার সার্বিক সহযোগিতা প্রয়োজন।’
মিষ্টি উৎসবের উদ্দেশ্য তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এই ফেস্টিভ্যালের কয়েকটি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, টাঙ্গাইলের পণ্য মানুষের মাঝে তুলে ধরা এবং এগুলো নিয়ে মানুষকে অবহিত করা। একই সঙ্গে সারাদেশের মানুষের কাছে আমাদের ঐতিহ্যকে প্রতিষ্ঠিত করা।’
টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনা ও শতবর্ষের মিষ্টি তৈরির ঐতিহ্য দেশ-বিদেশে তুলে ধরতে এবং স্থানীয় পণ্যের প্রসারে প্রথমবারের মতো ৪ থেকে ৬ সেপ্টেম্বর তিন দিনব্যাপী ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’ আয়োজন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ উৎসবে জেলার ১২ উপজেলা থেকে ২৩টি স্টল অংশ নিয়েছে; এর মধ্যে ২০টি স্টলে ঐতিহ্যবাহী মিষ্টি এবং তিনটি স্টলে টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি প্রদর্শন করা হচ্ছে।
এর আগে বিকেলে ফিতা কেটে ও বেলুন উড়িয়ে ‘সুইট ফেস্টিভ্যাল-২০২৬’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শরীফা হক, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, বিভিন্ন উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
জেলা প্রশাসক শরীফা হক বলেন, ‘টাঙ্গাইলের জিআই পণ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, এগুলো বাংলাদেশের গর্ব’- এই বার্তা ছড়িয়ে দেওয়াই উৎসবের অন্যতম লক্ষ্য। এর মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি টাঙ্গাইলের পর্যটন সম্ভাবনাকেও এগিয়ে নেওয়া হবে।
দেশের পাঁচটি বিভাগের অধিকাংশ অঞ্চল এবং অন্য তিনটি বিভাগের কিছু এলাকায় দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সাথে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই সময়ে সারা দেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থা সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, বর্তমানে মধ্যপ্রদেশ ও এর আশপাশের এলাকায় একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ অবস্থান করছে। এটি ক্রমশ দুর্বল হয়ে মৌসুমি বায়ুর অক্ষের সাথে মিলিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌসুমি বায়ুর অক্ষের একটি অংশ রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, লঘুচাপের কেন্দ্রস্থল, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে। বর্তমানে মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় আবহাওয়ার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ৩৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সিলেটে ২৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত নথিভুক্ত করা হয়েছে ফেনীতে ৬১ মিলিমিটার। আজ ভোর ৬টায় ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ এবং রাজধানীতে বাতাসের গতিবেগ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৫টা ৪২ মিনিটে।
সাভারের আশুলিয়ায় একটি ভাড়া বাসা থেকে একই পরিবারের তিন সদস্যের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে আশুলিয়ার মধ্য জামগড়া এলাকার হযরত আলীর মালিকানাধীন একটি বাড়ি থেকে এই মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়। নিহতরা স্বামী-স্ত্রী ও তাঁদের শিশু সন্তান বলে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেলেও তাঁদের পূর্ণাঙ্গ নাম-পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ওই পরিবারের স্বামী-স্ত্রী পরিচয় দিয়ে মাসখানেক আগে বাসাটি ভাড়া নিয়েছিলেন। তবে বাসাটির দরজা-জানালা সবসময় বন্ধ থাকত। শুক্রবার রাতে ওই কক্ষ থেকে উৎকট পচা দুর্গন্ধ বের হতে থাকলে এলাকাবাসী আতঙ্কিত হয়ে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘরের ভেতর থেকে তিনটি মরদেহ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে সিআইডির ফরেনসিক টিম ভোরে ঘটনাস্থলে এসে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে।
আশুলিয়া থানার ডিউটি অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালায়। মরদেহগুলোর অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে বেশ কিছুদিন আগে তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। তিনি আরও জানান, নিহত ব্যক্তির গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল, যা মৃত্যুর পেছনে কোনো রহস্যের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে পুলিশি তদন্ত চলছে এবং মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে বরযাত্রীর গাড়ি আটকে মিষ্টি খাওয়ার জন্য টাকা দাবি করাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে বরসহ অন্তত অর্ধশতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার বারঘড়িয়া ইউনিয়নের গাবতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নোয়াবাদ ইউনিয়নের ঝাউতলা এলাকায় কনের বাড়ির উদ্দেশে বরযাত্রী নিয়ে একটি গাড়ি যাচ্ছিল। গাবতলী বাজারে পৌঁছালে ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার কয়েকজন যুবক গাড়ি থামিয়ে মিষ্টির টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বরপক্ষের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষের সময় ইট-পাটকেল ও ঢিল ছোড়াছুড়িতে বর মো. হানিফ, তার বাবা হবি মিয়াসহ অন্তত ৫০ জন আহত হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে করিমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। পরে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে সংঘর্ষের কারণ নিয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে।
ধীতপুর বড়বাড়ি এলাকার মোহাম্মদ কাজল বলেন, বরযাত্রীর গাড়ির কারণে বাজারে যানজট সৃষ্টি হয়। পরে একটি অটোরিকশার চালকের সঙ্গে বরপক্ষের কথা-কাটাকাটি হলে তাদের লোকজন ঝগড়া থামাতে গেলে মারামারি বাধে। এতে তাদের পক্ষের ১৫/১৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে বরপক্ষের হেলাল উদ্দিন বলেন, কাজলের ভাই-ভাতিজারা বরযাত্রীর গাড়ি আটকে মিষ্টির টাকা দাবি করেছিলেন। এ নিয়েই প্রথমে বাগ্বিতণ্ডা, পরে সংঘর্ষ হয়। তাদের পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেব খান বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একদিকে বাজারে পণ্যের অভাব অন্যদিকে বাড়তি দাম। বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ৫ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণের পরও রাজধানীর খুচরা বাজারে সংকট কাটেনি। অনেক দোকানে এক লিটারের বোতল মিলছে না; কোথাও আবার পুরোনো দামের তেলও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে ডিম, মুরগি, মাছ-মাংস, চিনি, আটা ও ময়দার চড়া দামে সংসারের হিসাব মেলাতে হিমশিম খাচ্ছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, কারওয়ান বাজার, মিরপুর, মহাখালী, খিলক্ষেত ও আশপাশের বাজারের চিত্রে এমন অস্বস্তিই উঠে এসেছে। বাজারে সবজির কিছুটা সরবরাহ বাড়ায় কয়েকটি পণ্যের দাম কমলেও নিত্যপণ্যের সামগ্রিক চাপে সেই স্বস্তি যেন চাপা পড়ে গেছে।
দাম বাড়ল, তবু তেলের দেখা নেই: ভোজ্যতেলের বাজারই এখন সবচেয়ে বেশি আলোচনায়। আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয়ের কথা বিবেচনায় নিয়ে বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০৪ টাকা করা হয়েছে। খোলা সয়াবিন ও পাম তেলের দাম অবশ্য অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কিন্তু নতুন দাম নির্ধারণের পরও সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে অধিকাংশ দোকানে এক লিটারের বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। দুই ও পাঁচ লিটারের বোতল তুলনামূলকভাবে মিললেও ছোট বোতলের সংকট বেশি।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। একাধিকবার অর্ডার দিয়েও অল্প পরিমাণ পণ্য পাওয়া যাচ্ছে। নতুন দামের তেল বাজারে পর্যাপ্ত না আসায় কোম্পানিগুলোও স্বাভাবিকভাবে অর্ডার নিচ্ছে না বলে অভিযোগ খুচরা ব্যবসায়ীদের।
ফলে ভোক্তার প্রশ্ন—দাম বাড়ানোর পর যদি পণ্যই না মেলে, তাহলে বাজার ব্যবস্থাপনায় সমস্যাটা কোথায়?
ডিম-মুরগিতে বাড়তি চাপ: নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তুলনামূলক সাশ্রয়ী প্রোটিনের অন্যতম উৎস ডিম। কিন্তু এই পণ্যের দামও দীর্ঘদিন ধরে চড়া। রাজধানীর বাজারে প্রতি ডজন ডিম প্রায় ১৫০ টাকা, অর্থাৎ হালি ৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কয়েক সপ্তাহ ধরেই এই দামে ডিম বিক্রির খবর পাওয়া যাচ্ছে।
মুরগির বাজারেও স্বস্তি নেই। ব্রয়লার মুরগি বাজারভেদে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ফের কেজিতে ২০০ টাকার ঘরে উঠেছে দাম। সোনালি মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩৪০ টাকা পর্যন্ত। ফলে কম দামে পরিবারের আমিষের চাহিদা মেটানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়ছে।
মাছ-মাংসও নাগালের বাইরে: মাছের বাজারেও বড় ধরনের পরিবর্তন নেই। তেলাপিয়া ২২০-২৬০ টাকা, পাঙাশ ২৩০–২৫০ টাকা এবং রুই-কাতল ৩৫০–৪২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ির দাম আকার ও মানভেদে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। ইলিশের দামও আকারভেদে ২ হাজার টাকার ওপরে উঠেছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংস ৭৫০–৮৫০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১৫০–১ হাজার ৩০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফলে সীমিত আয়ের মানুষের খাবারের তালিকা থেকে মাছ-মাংস বাদ পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে।
সবজিতে কিছুটা স্বস্তি, পুরো বাজারে নয়: সবজির বাজারে অবশ্য কিছুটা স্বস্তির খবর আছে। সরবরাহ বাড়ায় পটল, ঢেঁড়স, চিচিঙ্গা, ঝিঙে, পেঁপে, শসাসহ কয়েকটি সবজির দাম কমেছে। পেঁপে ৩০–৪০ টাকা, পটল ও ঢেঁড়স ৫০–৬০ টাকা, শসা ৫০–৬০ টাকা, ঝিঙে ৭০–৮০ টাকা এবং করলা প্রায় ৭০–৮০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।
তবে সবজির বাজার পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। বেগুন ৮০–১২০ টাকা, টমেটো ১০০–১৫০ টাকা এবং শিম ১৮০–২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। কাঁচামরিচও মানভেদে ৮০–১৬০ টাকা কেজি। অর্থাৎ কয়েকটি সবজির দাম কমলেও বাজারের বড় অংশে এখনো বাড়তি চাপ রয়েছে।
চিনি-আটা-ময়দাতেও অস্বস্তি: শুধু কাঁচাবাজার নয়, মুদি পণ্যের বাজারেও চাপ বাড়ছে। প্যাকেটজাত আটা প্রতি কেজি প্রায় ৬৫ টাকা, যা কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় বেশি। খোলা ময়দা ৬৫–৭০ টাকা এবং প্যাকেটজাত ময়দা ৭০–৭৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
চিনির দামও বেড়েছে। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০–১২৫ টাকা। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়ার প্রভাব খুচরা বাজারে পড়ছে। কিছু বাজারে সরবরাহ কমার কথাও জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
ক্রেতার বাজেটেই সবচেয়ে বড় ধাক্কা: বাজারে এসে ক্রেতাদের অনেকেই বলেন, ‘আয় না বাড়লেও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পেছনে ব্যয় বাড়ছে। চাল, ডাল, তেল, ডিম, সবজি—সব মিলিয়ে মাসের বাজেট ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। মাছ-মাংসের দাম বাড়তি থাকায় অনেক পরিবার এসব পণ্য কেনার পরিমাণ কমিয়ে দিচ্ছে।’
অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে পণ্য কিনতে হচ্ছে। এর সঙ্গে পরিবহন ও অন্যান্য খরচ যোগ হওয়ায় কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা কেনাকাটা কমিয়ে দেওয়ায় বিক্রেতাদেরও বিক্রি ও মুনাফা কমছে।
সংকটের মূল জায়গায় নজরদারি: বাজারের এই মিশ্র চিত্র বলছে, শুধু কোনো একটি পণ্যের দাম কমলেই স্বস্তি ফিরবে না। কোথাও সরবরাহ সংকট, কোথাও আমদানি ব্যয়, কোথাও পাইকারি-খুচরা দামের ব্যবধান—সব মিলিয়ে বাজারে এক ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রে দাম সমন্বয়ের পাশাপাশি সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে পাইকারি থেকে খুচরা পর্যায়ে মূল্যতালিকা কার্যকর করা, অস্বাভাবিক মুনাফা ও কৃত্রিম সংকটের অভিযোগ তদন্ত করা এবং নিয়মিত বাজার তদারকি বাড়ানোর দাবি ক্রেতাদের। কারণ বাজারে এখন শুধু প্রশ্ন ‘দাম কত?’ নয়—আরও বড় প্রশ্ন, ‘দাম দিয়েও পণ্যটি পাওয়া যাবে তো?’