সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
২৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আজ থেকে ৯ মাসের জন্য সেন্ট মার্টিন ভ্রমণ বন্ধ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০৬

আজ থেকে ৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে দেশের একমাত্র প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে, যা বহাল থাকবে চলতি বছরের ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত।

সাধারণত প্রতিবছর ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬ মাস সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকে। তবে এ বছর এই নিষেধাজ্ঞা আরও তিন মাস বর্ধিত করেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। যার ফলে ১ এপ্রিলের পরিবর্তে ১ ফেব্রুয়ারি থেকেই শুরু হচ্ছে এই ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা। আর ৩০ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত।

ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা প্রসঙ্গে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা বলছেন, সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত পর্যটক যাতায়াত করে থাকেন। কিন্তু এ বছর ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত পর্যটক ভ্রমণের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। দ্বীপে ভ্রমণের সময় অন্তত ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো উচিত বলে দাবি তাদের।

সেন্ট মার্টিন হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এম এ আবদুর রহিম জিহাদী বলেন, ‘অতীতে এ রকম কোনো সংকট দ্বীপে তৈরি হয়নি। এখন যদি দ্বীপে পর্যটক আসা বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে নানামুখী সংকটে পড়বেন বাসিন্দারা। দ্বীপে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত শত শত মানুষ। তাই মানবিক দিক বিবেচনায় পর্যটকদের জন্য ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট মার্টিন দ্বীপ উন্মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’

এ বিষয়ে সেন্ট মার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান বলেন, ‘দ্বীপের সাড়ে ১০ হাজার মানুষের জীবিকা পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত। পর্যটন মৌসুমে ব্যবসা করে তারা সারা বছর সংসার চালান। জাহাজ চলাচল ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো গেলে বাসিন্দারা এতে উপকৃত হতেন।’

ভ্রমণের সময়সীমা বাড়ানো প্রসঙ্গে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন বলেন, ‘৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সেন্ট মার্টিনগামী জাহাজগুলো চলাচল করতে পারবে। এরপর আর পর্যটকবাহী জাহাজ সেন্ট মার্টিনে চলাচল করতে দেওয়া হবে না। যদি সরকার ভ্রমণের সময় বাড়ায়, তখন নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে সেন্ট মার্টিনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় কয়েক মাস আগে পর্যটকদের যাতায়াত সীমিত করার মতো কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়।

সেই অনুযায়ী প্রতিবছর ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে প্রতি রাতে গড়ে দুই হাজার করে পর্যটক থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এই প্রবাল দ্বীপটিতে। নভেম্বরে পর্যটকদের সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ করা হয়। ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ২ হাজার পর্যটক যাওয়া এবং রাত্রিযাপনের সুযোগ রাখা হয়। তবে ফেব্রুয়ারি থেকে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

গত বছরের অক্টোবর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সভায় সেন্ট মার্টিনে পর্যটকদের যাতায়াত ও অবস্থান সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

তবে অক্টোবরে ওই সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছিলেন, ‘আমরা দ্বীপটি বাঁচাতে চাই। এটি সবার সম্পদ। পর্যটকরা দায়িত্বশীল আচরণ করলে দেশের ওই সম্পদ রক্ষা পাবে।’

সরকার তখন সেন্ট মার্টিন ভ্রমণের ব্যাপারে নানা শর্ত জুড়ে দেয়। যেমন- তখন বলা হয় যে সেখানে কোনো আলোকসজ্জাসহ বারবিকিউ পার্টি করা যাবে না। আট কিলোমিটার দীর্ঘ এই দ্বীপের প্রবালসহ সামুদ্রিক প্রাণী সংগ্রহ করার উপরেও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের আদেশে বলা হয়, পর্যটকদের মাধ্যমে বা অনুমোদিত জাহাজে করে নিষিদ্ধ ঘোষিত পলিথিন ব্যাগ ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পরিবহন করা যাবে না।

এগুলোর বাইরে আরও বলা হয়, পর্যটকরা কোন হোটেলে অবস্থান করবে তার রেজিস্টার সংরক্ষণ করতে হবে। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের অ্যাপ থেকে সংগ্রহ করা ট্রাভেল পাসধারী পর্যটকদের অনুমোদিত জাহাজে ভ্রমণ নিশ্চিত করতে হবে।


গজারিয়ায় পাঁচ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টা, গণধোলাই দিয়ে অভিযুক্তকে পুলিশে সোপর্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া ( মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে পাঁচ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মঞ্জু (৩৩) নামে এক লম্পটকে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছে স্থানীয় জনতা।

সোমবার সকাল দশটায় এ ঘটনা ঘটে। ​অভিযুক্ত মঞ্জু স্থানীয় আলিফ কাচ্চি রেস্টুরেন্টে কর্মরত ছিলেন বলে জানা গেছে। তার বাবার নাম দেলোয়ার হোসেন। তার পৈতৃক নিবাস গজারিয়া উপজেলার ইমামপুর ইউনিয়নের করিমখাঁ গ্রামে হলেও তার পরিবার নারায়ণগঞ্জে বসবাস করে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে ভবেরচর ইউনিয়নের নয়াকান্দি গ্রামে নিজ বাসার পাশের একটি নলকূপের সামনে দাঁড়িয়ে ছিল শিশুটি। এ সময় ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় মঞ্জু পানি খাওয়ার অজুহাতে শিশুটির কাছে গিয়ে তাকে জাপটে ধরে শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দেয়। শিশুটির মা বিষয়টি দেখে ফেলে চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত মঞ্জুকে আটক করে গণধোলাই দেয় এবং পরে পুলিশে সোপর্দ করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মঞ্জু দাবি করেন, তিনি প্রায় দুই মাস ধরে ভবেরচর ঈদগাহ এলাকার আলিফ কাচ্চি রেস্টুরেন্টে কাজ করছেন। সোমবার সকালে ডিউটি শেষে তিনি নয়াকান্দি গ্রামে হাঁটতে বের হয়েছিলেন। নলকূপের পাশে শিশুটিকে একা পেয়ে নাম জিজ্ঞেস করতেই স্থানীয়রা তাকে মারধর শুরু করে। তিনি কোনো অনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই এবং স্থানীয়দের হেফাজতে থাকা অভিযুক্তকে উদ্ধার করি। তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


উন্নয়নের চার মহাপরিকল্পনা ঘিরে বাজেটের দিকে তাকিয়ে দক্ষিণাঞ্চল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

জাতীয় বাজেটকে ঘিরে নতুন করে আশায় বুক বেঁধেছেন দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ। দীর্ঘদিনের অবহেলা ও বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক, কুয়াকাটার সমন্বিত উন্নয়ন, ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ এবং বরিশালে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।

স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার এসব প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। ফলে দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় বরিশাল অঞ্চল এখনো অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে পিছিয়ে রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। ঢাকা থেকে বরিশালের দূরত্ব মাত্র ১৭০ কিলোমিটার হলেও ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত সড়কের সীমাবদ্ধতার কারণে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসেনি। পদ্মা সেতু চালুর পর ভাঙ্গা-কুয়াকাটা মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এখনো প্রকল্পটির বাস্তবায়ন শুরু হয়নি। ২০১৮ সালে জমি অধিগ্রহণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও আট বছর পেরিয়ে গেলেও সেই কার্যক্রম সম্পূর্ণ হয়নি। বর্তমানে মাত্র ২৪ ফুট প্রশস্ত এই মহাসড়ক ব্যবহার করছে দক্ষিণাঞ্চলের ১০ জেলার মানুষ। একই সড়ক দিয়ে পায়রা সমুদ্রবন্দর ও পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় যাতায়াত করতে হয়।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান এবায়েদুল হক চান বলেন,পদ্মা সেতু চালুর পর বরিশালে শিল্পায়নের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সড়কের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক বিনিয়োগকারী পিছিয়ে যাচ্ছেন। ছয় লেন মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে বরিশাল থেকে ঢাকায় পৌঁছাতে সময় লাগবে মাত্র দুই ঘণ্টা। এতে পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দ্বিতীয় বড় দাবি পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটার সমন্বিত উন্নয়ন। দেশের একমাত্র সমুদ্রসৈকত যেখানে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়, সেই কুয়াকাটা দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও ভাঙনের শিকার।

গত প্রায় তিন দশক ধরে উপকূলীয় ভাঙনে সৈকতসংলগ্ন ঘরবাড়ি, দোকানপাট ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড একাধিক প্রকল্প প্রস্তাব পাঠালেও পরিকল্পনা কমিশন তা অনুমোদন দেয়নি। সর্বশেষ প্রায় ৮০০ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের ভবিষ্যতও অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে।

পটুয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, কুয়াকাটার উন্নয়ন শুধু একটি পর্যটন কেন্দ্রের উন্নয়ন নয়, এটি পুরো দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতির সঙ্গে জড়িত। চলতি বাজেটে কুয়াকাটার জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।

দীর্ঘদিন ধরে ভোলা জেলার মানুষের অন্যতম দাবি ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও ভোলার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। গ্যাসসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ ভোলা জেলার মানুষ এখনো নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। সন্ধ্যা নামলেই অনেক ক্ষেত্রে বিচ্ছিন্নতার বাস্তবতায় পড়তে হয় তাদের।
ভোলা জেলা পরিষদের প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর বলেন,একটি সেতুর অভাবে পুরো ভোলা পিছিয়ে রয়েছে। দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখলেও যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে আমরা বঞ্চিত। বর্তমান বাজেটে ভোলা-বরিশাল সেতুর জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকবে বলে আমরা আশা করছি।

বরিশাল বিভাগের সবচেয়ে বড় সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হলেও এখনো এখানে পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত চিকিৎসা সুবিধা গড়ে ওঠেনি। হার্ট অ্যাটাক, ব্রেইন হেমারেজ, জটিল অর্থোপেডিক সার্জারি, ওপেন হার্ট সার্জারি কিংবা হৃদরোগের রিং পরানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসার জন্য রোগীদের ঢাকার ওপর নির্ভর করতে হয়।

বরিশাল নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান বলেন,বরিশাল সম্ভবত দেশের একমাত্র বিভাগীয় শহর যেখানে এখনও একটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত হাসপাতাল নেই। একটি আধুনিক বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা গেলে দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষ উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবে।

সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা মনে করছেন, ভাঙ্গা-কুয়াকাটা ছয় লেন মহাসড়ক, কুয়াকাটার টেকসই উন্নয়ন, ভোলা-বরিশাল সেতু এবং বরিশালে বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ—এই চারটি প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটিয়ে উন্নয়নের মূল স্রোতে যুক্ত হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে এখন জাতীয় বাজেটের দিকে তাকিয়ে রয়েছে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের কোটি মানুষ। তাদের প্রত্যাশা, এবার আর প্রতিশ্রুতি নয়—বাস্তবায়নের পথেই হাঁটবে বহুল প্রতীক্ষিত এই চার প্রকল্প।


ভারতে আটক হওয়া ৯১ বাংলাদেশি জেলেকে ৪টি ফিশিং বোটসহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 খুলনা প্রতিনিধি

বাংলাদেশ ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে ভারতে আটককৃত বাংলাদেশি জেলেদের গ্রহণ ও পরিবারের নিকট হস্তান্তর। সোমবার (৮ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা সংলগ্ন ভারতীয় জলসীমায় অবৈধভাবে মৎস্য আহরণের অভিযোগে গত ১৬ ও ১৭ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং ২০ জানুয়ারি ও ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভারতীয় কোস্ট গার্ড ৪ টি বাংলাদেশি ফিশিং বোটসহ ৯১ জন বাংলাদেশি জেলেকে আটক করে।

পরবর্তীতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে আটক জেলে ও ফিশিং বোটসমূহ বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রবিবার (৭ জুন) বাংলাদেশ-ভারত আন্তর্জাতিক মেরিটাইম বাউন্ডারি লাইন (IMBL)-এ বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের তত্ত্বাবধানে ভারতীয় কোস্ট গার্ডের নিকট হতে ৯১ জন বাংলাদেশি জেলেকে ৪টি ফিশিং বোটসহ গ্রহণ করা হয়।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতীয় কোস্ট গার্ডের মধ্যে বিদ্যমান সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বয়ের ফলে এ ধরনের প্রত্যাবর্তন কার্যক্রম অধিকতর গতিশীল ও সহজতর হয়েছে।

পরবর্তীতে সোমবার (৮ জুন) বেলা ১২টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলায় জেলেদের তাদের ফিশিং বোটসহ পরিবারের সদস্যদের নিকট হস্তান্তর করা হয়।

কোস্ট গার্ড কর্মকর্তাকমান্ডার শাহ্ কামরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও দেশের জেলেদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।


গজারিয়ায় মেঘনা নদী থেকে অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদী থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।

সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কোস্ট গার্ড ডকইয়ার্ড ও বেজসংলগ্ন মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

​স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে স্থানীয়রা নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে নৌপুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।

​লাশটি অর্ধগলিত অবস্থায় থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে শারীরিক গঠন দেখে পুলিশের ধারণা মৃত ব্যক্তির বয়স আনুমানিক ৩৫ বছর হতে পারে।

​এ বিষয়ে গজারিয়া নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শরজিৎ কুমার ঘোষ বলেন, ‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহটি উদ্ধার করেছি। মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্টা চলছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’ ​এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


জীবননগরে গলায় ফাঁস দিয়ে কিশোরীর আত্মহত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় সোহানা খাতুন (১৪) নামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে। সোমবার (৮ জুন) দিনগত রাতে উপজেলার মনোহরপুর ইউনিয়নের পেয়ারাতলা গ্রামের ফুলতলার মসজিদের সন্নিকটে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত সোহানা খাতুন জীবননগর উপজেলার বেনীপুর গ্রামের মোল্লা আব্দুর জব্বারের মেয়ে। পেয়ারাতলা গ্রামে তারা একটি বাসায় ভাড়া থাকতেন।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রোববার (৭ জুন) রাত ১০টার দিকে রাতের খাবার শেষে সোহানা নিজ শয়নকক্ষে প্রবেশ করে দরজা বন্ধ করে দেয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা ধারণা করেছিলেন যে সে ঘুমিয়ে পড়েছে। পরদিন সোমবার (৮ জুন) ভোরে তাকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তার মা ও পরিবারের লোকজন দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের আড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পান।

পরে বিষয়টি জীবননগর থানা পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম শেষে মরাদেহ চুয়াডাঙ্গা মর্গে প্রেরণ করে। আত্মহত্যার পেছনের প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান শেখ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান আছে।


সাভারে বাড়ছে চুরি-ডাকাতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাভার প্রতিনিধি

ঢাকার সাভার পৌর এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তরপাড়ায় চোর ও ডাকাতের উপদ্রব বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রায় প্রতি রাতেই কোনো না কোনো বাড়িতে চুরি কিংবা ডাকাতির ঘটনা ঘটছে। এসব ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিয়েও কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার না পাওয়ার অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।

রোববার (৭ জুন) গভীর রাতে উত্তরপাড়ার নৈশপ্রহরীরা সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবর দেন। পরে এলাকাবাসী তাদের জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মারধর করে। খবর পেয়ে সাভার থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) এনামুল হক ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। চিকিৎসা শেষে অভিযোগ না থাকায় তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দুর্বৃত্তরা সাধারণত বাড়ির বারান্দা বা রান্নাঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর আলমারি ও শোকেসের ড্রয়ার ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে বাসার সদস্যরা জেগে উঠলে অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নেয়।

উত্তরপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, গত শনিবার (৬ জুন) রাতে দুর্বৃত্তরা তাদের বাড়ির নিচ তলার রান্নাঘরের গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে তার মা মনোয়ারা বেগমের শয়নকক্ষ থেকে এক লাখ টাকা, দুটি সোনার কানের দুল ও একটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায়। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘থানায় অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। তাই এবার বিষয়টি পুলিশকে জানাইনি এবং কোনো অভিযোগও করিনি।’

একই রাতে পাশের বাড়ির বাসিন্দা আজিজুর রহমানের দ্বিতীয় তলার ভাড়াটিয়া ফরহাদ হোসাইনের বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ফরহাদ জানান, চার থেকে পাঁচজন দুর্বৃত্ত রান্নাঘরের জানালার গ্রিল কেটে বাসায় প্রবেশ করে। পরে তারা তার মামাতো বোন রুমির কক্ষের দরজা ভেঙে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে এবং পাঁচ হাজার টাকা ও একটি মোবাইল ফোন লুট করে।

তিনি আরও জানান, এরপর ডাকাতরা তার কক্ষে ঢুকে প্রায় এক ভরি স্বর্ণালঙ্কার, তিন ভরি রুপা, দুটি মোবাইল ফোন এবং নগদ ১২ হাজার টাকা নিয়ে যায়। ফরহাদ হোসাইন বলেন, ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। কিন্তু সোমবার (৮ জুন) পর্যন্ত মামলা রুজুসহ কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে সাভার থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম বলেন, ‘অভিযোগটির তদন্তের দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জানা গেছে, গত শনিবার রাতে উত্তরপাড়ার মসজিদের পাশের হাবিবুর রহমানের বাড়িতেও গ্রিল কেটে প্রবেশ করে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার চুরি করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

এদিকে সাভার লাইব্রেরির মালিক হোসেন আলীর বাড়ির দ্বিতীয় তলার ভাড়াটে নেপাল চন্দ্র সাহা জানান, গত বৃহস্পতিবার ভোররাতে তার বাসার বারান্দার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পাঁচ হাজার টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।

নেপাল চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ঘটনার সময় আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। সকালে উঠে দেখি বারান্দার গ্রিল কাটা এবং টাকা ও মোবাইল ফোন নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দা রিপন জানান, প্রায় ১৫ দিন আগে সাত থেকে আটজন দুর্বৃত্ত গ্রিল কেটে তাদের বাড়িতে ঢুকে তার মা জাহানারা বেগমকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। পরে ১০ ভরি স্বর্ণালংকার ও ২৫ হাজার টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

রিপনের অভিযোগ, ‘ঘটনার পর থানায় অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু আজ পর্যন্ত পুলিশ তদন্তে আসেনি।’

সন্দেহভাজন চারজনকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়ে এএসআই এনামুল হক জানান, চোর সন্দেহে আটক করার পর এলাকাবাসী তাদের মারধর করে। এতে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, বিষয়গুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


আত্মকর্মসংস্থানে আনসারের ‘সঞ্জীবন’ প্রকল্প

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে গাজীপুরের সফিপুরস্থ আনসার ও ভিডিপি একাডেমিতে সোমবার (৮ জুন) ‘সঞ্জীবন প্রকল্প’ বিষয়ক একটি দিনব্যাপী কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রকল্পের বাস্তবায়ন কৌশল, সদস্য অন্তর্ভুক্তি, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির বিভিন্ন দিক নিয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্যে মহাপরিচালক বলেন, সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে সদস্যরা আর্থিক স্বাবলম্বিতা অর্জনের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

তিনি চাকরিনির্ভর মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সময়ে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির অন্যতম কার্যকর উপায় হলো উদ্যোক্তা উন্নয়ন। সঞ্জীবন প্রকল্পের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যরা নিজ নিজ এলাকায় সম্ভাবনাময় উদ্যোগ গ্রহণ করে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারবেন এবং অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি করতে সক্ষম হবেন।

তিনি প্রকল্পের সফল বাস্তবায়নে সকল পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের আন্তরিকতা, সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম প্রকল্প বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তিনি প্রকল্প কার্যক্রমের সূচনা, বাস্তবায়ন পদ্ধতি, এলাকা-ভিত্তিক সম্ভাবনাময় উদ্যোগ নির্বাচন, সদস্যদের অংশগ্রহণ ও শ্রমের মূল্যায়ন, লভ্যাংশ বণ্টন, ঋণের কিস্তি পরিশোধ, সদস্যপদ ত্যাগ অথবা সদস্যের মৃত্যুর ক্ষেত্রে অনুসরণীয় প্রক্রিয়া এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির নীতিমালা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন।

আনসার ও ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের পরিচালক এনামুল খাঁন সঞ্জীবন প্রকল্পের সদস্যপদ, সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া, প্রকল্প পরিচালনা কাঠামো, ঋণ গ্রহণ ও পরিশোধ পদ্ধতি এবং আনসার ও ভিডিপি ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট ও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের সমন্বিত কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন।

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে টিএমএসএস-এর পরিচালক মো. রেজাউল করিম বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি তার উপস্থাপনার মাধ্যমে প্রান্তিক পর্যায়ে উদ্যোক্তা সৃষ্টির বিভিন্ন সফল উদাহরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সঙ্গে টিএমএসএস-এর চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতামূলক উদ্যোগ সম্পর্কে আলোকপাত করেন।

এছাড়াও আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সঞ্জীবন প্রকল্পে ব্যাংকের সম্পৃক্ততা, সদস্যদের মধ্যে ঋণ বিতরণ, কিস্তি আদায় এবং অন্যান্য ব্যাংকিং সহায়তা সম্পর্কিত বিষয়সমূহ উপস্থাপন করেন। তার উপস্থাপনা প্রকল্পের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম সম্পর্কে অংশগ্রহণকারীদের সম্যক ধারণা প্রদান করে।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা সঞ্জীবন প্রকল্পকে সদস্যদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উদ্যোক্তা বিকাশ এবং টেকসই আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি যুগোপযোগী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে অভিহিত করেন। তারা মত প্রকাশ করেন যে, প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাহিনীর সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। একই সঙ্গে প্রকল্পকে একটি টেকসই ও জনকল্যাণমুখী মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার প্রত্যয়ও পুনর্ব্যক্ত করা হয়।


সাভারে অবৈধ লাইনে গ্যাস চুরি, তিতাসের অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারে চামড়া শিল্প নগরীতে গ্যাস চুরির ঘটনায় একটি কারখানার গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাসের আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স টিম। চোরাই বাইপাস লাইন করে বৈধ সংযোগের আড়ালে অবৈধভাবে বাইপাস গ্যাস লাইন ব্যবহারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি কোটি টাকা মূল্যের গ্যাস চুরি করে আসছিল বলে জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি। অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন তিতাসের গাজীপুর আঞ্চলিক ভিজিল্যান্স বিভাগের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আলীম রাসেল।

দীর্ঘ অনুসন্ধান শেষে সোমবার (৮ জুন) হাইটেক ট্যানারি নামক প্রতিষ্ঠানে অভিযান শুরুর পর অবৈধ চোরাই বাইপাস লাইন শনাক্ত হয়।

অভিযান পরিচালনার একপর্যায়ে দেখা যায় প্রস্তাবিত নতুন বৈধ শিল্প সংযোগের আড়ালে অবৈধ বাইপাস গ্যাস লাইনটি চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। বাইপাস গ্যাস লাইনটি ভূগর্ভস্থ আরসিসি ঢালাইয়ের নিচ থেকে অবৈধ সংযোগ নেওয়া হয়।

যোগাযোগ করা হলে কারখানার স্বত্বাধিকারী মুজাফফর হোসেন এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।

ভিজিল্যান্স শাখার কারিগরি টিমের ব্যবস্থাপক মো. আব্দুল আলিম রাসেল জানান, এ ঘটনায় শিল্প মালিকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

তিতাসের ভিজিল্যান্স শাখার কারিগরি টিমের সহযোগী প্রকৌশলী আহসান হাবিব জানান, দীর্ঘ এক ঘন্টা ধরে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অবৈধ সংযোগ নিয়ে কারখানাটিতে বয়লারসহ বিভিন্ন ড্রায়ার, লেদার স্প্রে প্রিন্টিং মেশিন ব্যবহার করা হতো‌। বৈধ গ্যাস লাইনের আড়ালে রাইজারের গোড়ার প্রায় চার ফুট গভীরে আরসিসি ঢালাইয়ের নিচ থেকে বিভিন্ন সাইজের জিআই ও এমএস পাইপ দিয়ে সংযোগ স্থাপনের মাধ্যমেই বাইপাস করে গ্যাস ব্যবহার করা হতো এই চামড়া প্রক্রিয়াজাত কারখানায়। এর মাধ্যমে প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫ লাখ টাকার গ্যাস চুরি হতো বলে জানান তিনি।


রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দুপুর ১২টায় খুলে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি। সোমবার (৮ জুন) সংগঠনটির সভাপতি নাজমুল হাসান এ তথ্য জানিয়েছেন।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির পক্ষ থেকে দেশের কোটি কোটি ভোক্তা এবং প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী, কর্মচারী ও তাদের পরিবারের জীবিকা নির্বাহের স্বার্থে এই আবেদন।’

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের খুচরা ব্যবসা দেশের অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। দেশের শহর, মফস্বল ও গ্রামাঞ্চলের অসংখ্য দোকান, মার্কেট ও শপিংমলকে কেন্দ্র করে লখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বর্তমান সময়ে ব্যাবসায়িক ব্যয়, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, ব্যাংক ঋণের কিস্তি, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং অন্যান্য খরচ ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত সংকটের মধ্যে রয়েছেন।

সন্ধ্যা ৭টার পর দোকান বন্ধ রাখার বর্তমান সিদ্ধান্ত দেশের খুচরা ব্যবসার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

‘অনেক ক্রেতা কর্মব্যস্ততার কারণে দিনের বেলায় কেনাকাটা করতে পারেন না এবং বিকেল বা সন্ধ্যার পর বাজারে আসেন। ফলে দোকান ও শপিংমল রাত ১০টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ না থাকলে ব্যবসায়ীরা তাদের প্রত্যাশিত বিক্রয় থেকে বঞ্চিত হন। এতে ব্যবসার পরিমাণ কমে যায়, কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ে এবং দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতির চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, ‘দেশের অর্থনীতি সচল রাখা, ব্যবসায়ীদের জীবিকা রক্ষা করা এবং সাধারণ জনগণের কেনাকাটার সুবিধার কথা বিবেচনা করে আমরা বিনীতভাবে আবেদন জানাচ্ছি যে, সরকারের বিবেচনায় নির্ধারিত সময় অনুযায়ী প্রতিদিন দুপুর ১২টা বা সরকারের উপযুক্ত মনে হওয়া যেকোনো সময় থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দেশের সকল দোকান, শপিং মল, মার্কেট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার অনুমোদন প্রদান করা হোক।’

চিঠিতে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে প্রায় ৭০ লাখ দোকান ব্যবসায়ী ও কর্মচারীর জীবিকা সুরক্ষিত হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত হবে; সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি পাবে; সাধারণ জনগণ সুবিধাজনক সময়ে কেনাকাটার সুযোগ পাবেন; দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল ও শক্তিশালী হবে।

চিঠিতে আরো বলা হয়, অন্যথায় বিপুল সংখ্যক ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় ব্যবসায়ী আর্থিক সংকটে পড়ে ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারেন, যার নেতিবাচক প্রভাব জাতীয় অর্থনীতির ওপর পড়বে।


অষ্টগ্রামে ‘বৃক্ষ ও বই’ কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ৮ জুন, ২০২৬ ১৮:৫৬
মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ)

পরিবেশ রক্ষা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের এক অভিনব উদ্যোগ সর্বত্র ব্যপক সাড়া জাগিয়েছে। কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে পুলিশ সুপারের উদ্যোগে এবং অষ্টগ্রাম থানার পক্ষ থেকে ‘বৃক্ষ ও বই’ শীর্ষক এক ব্যতিক্রমী কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে পুরষ্কার হিসেবে বই বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (০৮ জুন) দপুরে উপজেলার আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে এই কর্মসূচির আওতায় এ বই বিতরণ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই কর্মসূচির মূল আকর্ষণ ছিল শিক্ষার্থীদের মাঝে পরিবেশ বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি। যে সকল ছাত্র-ছাত্রী নিজ উদ্যোগে অন্তত ৫টি করে গাছ রোপণ ও সেগুলোর পরিচর্যা করেছে, তাদের সেই পরিবেশবান্ধব কাজের উপহারস্বরূপ ২টি করে বই উপহার দেওয়া হয়।

শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেওয়া বইগুলো ছিল পুলিশ সুপার, কিশোরগঞ্জ এর নিজের রচিত। তাঁর এই অনন্য উপহার পেয়ে শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দিত। পুলিশের এমন ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ স্থানীয় ছাত্র-ছাত্রী এবং অভিভাবকদের মাঝে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।

শিক্ষার্থীরা জানান, গাছ লাগানোর মতো একটি ভালো কাজের জন্য সরাসরি পুলিশ সুপারের লেখা বই উপহার পাওয়া তাদের জন্য অত্যন্ত গৌরব ও অনুপ্রেরণার।

অভিভাবকরা বলেন, এই উদ্যোগ একদিকে যেমন নতুন প্রজন্মকে বৃক্ষরোপণে উদ্বুদ্ধ করে পরিবেশ রক্ষা করবে, অন্যদিকে বই পড়ার মাধ্যমে তাদের মেধার বিকাশ ঘটাবে। তারা বলেন, পুলিশের এই মানবিক ও সামাজিক কার্যক্রম সত্যিই প্রশংসনীয়।

এসময় থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রুকনুজ্জামান, অষ্টগ্রাম থানা পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দ, আব্দুল ওয়াদুদ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। উপস্থিত সকলেই পুলিশ সুপারের এই ‘বৃক্ষ ও বই’ মডেলটি জেলার সর্বত্র ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।


কংসনগর বাজারে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনে সংঘবদ্ধ ডাকাতির অভিযোগ

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি

কুমিল্লা-টু-কোম্পানীগঞ্জ রুটে চলাচলকারী রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল সন্ধ্যার পূর্বে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কংসনগর বাজার সংলগ্ন সড়কে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতদের হামলায় কয়েকজন যাত্রী আহত হন এবং নগদ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুটের অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিকেলে আশু ফকিরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় কালো রঙের একটি হাইএস (Hiace) মাইক্রোবাস বিপরীত দিক থেকে এসে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের বাসটির গতিরোধ করে। এ সময় বাসের চালক সুজন ও হেলপার সাওন গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ করলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। যাত্রীরা চালককে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে বলে, “কংসনগর বাজারে আয়।”

পরে সন্ধ্যার আগ মুহূর্তে বাসটি কংসনগর বাজারে পৌঁছালে হাইএস মাইক্রোবাসে থাকা ১০ থেকে ১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জোরপূর্বক বাসে উঠে যাত্রীদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা যাত্রীদের মারধর করে এবং তাদের কাছ থেকে নগদ অর্থ ও মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, ডাকাতরা মোট ৫১ হাজার ৩০০ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এর মধ্যে একজন সংবাদকর্মীর কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আফসারের কাছ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা, মানিব্যাগ ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার পরনের জামাকাপড় টানাহেঁচড়া করা হয়। ঘটনার পর ডাকাতরা দ্রুত স্থান ত্যাগ করে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন বাদী হয়ে বুড়িচং থানায় মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিষয়ে বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, “ঘটনার সময় আমরা হাইওয়ে ডিউটির কাজে দেবপুর ফাঁড়িতে ছিলাম। অভিযোগ বা মামলা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ডাকাত দলের নেতৃত্বে ছিলেন বলে অভিযোগ উঠেছে বুড়িচং উপজেলার উত্তর ভারেল্লা ইউনিয়নের পশ্চিম সিং গ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে সাকিল মিয়ার বিরুদ্ধে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তার নেতৃত্বে পরিচালিত একটি মাদক ব্যবসায়ী চক্র এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এলাকার সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, “ভুক্তভোগীরা মামলা করেছেন। তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ডাকাতির ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। আহত যাত্রীরা রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের শাসনগাছা কাউন্টারে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জানালেও সংবাদ লেখা পর্যন্ত কোম্পানির পক্ষ থেকে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে রয়েল ক্লাসিক পরিবহনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী যাত্রীদের দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। একই সঙ্গে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও বাস মালিক সমিতির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।


নতুন ট্রান্সফরমার চালুর পর লোডশেডিং থেকে স্বস্তিতে পর্যটন শহর কক্সবাজার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

পর্যটন নগরী কক্সবাজারে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন নতুন একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হওয়ার পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। গত ২৮ মে ঈদুল আজহার দিন শহরের প্রধান একটি উপকেন্দ্রের ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে যাওয়ায় টানা আট দিন পুরো শহরজুড়ে তীব্র লোডশেডিং চলছিল। বর্তমানে নতুন ট্রান্সফরমারটি সচল হওয়ায় দীর্ঘদিনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট অনেকটা কমে এসেছে। এতে পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী, সাধারণ গ্রাহক এবং ছুটিতে আসা দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্রে জানা গেছে, কলাতলী বাইপাস সড়কের উপকেন্দ্রে ১০/১৩ এমভিএ ক্ষমতার একটি ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ার পর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিদিন থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছিল। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ওই একই উপকেন্দ্রে ১৬/২০ এমভিএ ক্ষমতার অধিক শক্তিশালী একটি নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নতুন এই ইউনিটটি পুরোদমে চালু হওয়ায় শহরের বিদ্যুৎ ঘাটতি এখন প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং বিতরণ ব্যবস্থা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্থিতিশীল হয়েছে।

ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে এমন ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটের কারণে কক্সবাজারের পর্যটন খাতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। তীব্র গরমের মধ্যে এসি লিফট বন্ধ থাকায় হোটেলে অবস্থানরত পর্যটকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হন। হোটেল-রিসোর্ট মালিকদের দাবি অনুযায়ী, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ না থাকায় এবং সেবার মান বিঘ্নিত হওয়ায় অন্তত ৩০ হাজার পর্যটক নির্ধারিত সময়ের আগেই কক্সবাজার ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। তবে নতুন ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর বর্তমানে লোডশেডিং প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে এবং তা এখন দিনে এক থেকে তিন ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।

এই বিশেষ ট্রান্সফরমারটি স্থাপনের প্রক্রিয়াটি ছিল বেশ সময়সাপেক্ষ চ্যালেঞ্জিং। পর্যটন শহরের গুরুত্ব বিবেচনা করে গত ২৯ মে গাজীপুরের টঙ্গী থেকে ৪০ মেট্রিক টন ওজনের এই বিশালাকার ট্রান্সফরমারটি আনা হয়। এটি উপকেন্দ্রে নিতে সড়ক বিভাগের সহায়তায় ডিভাইডারের অংশ অপসারণ করতে হয়েছিল। এরপর প্রকৌশলী কারিগরি দলের কয়েক দিনের নিরলস পরিশ্রমে ওয়েল সেন্ট্রিফিউজিং, কমিশনিং সুরক্ষা পরীক্ষা শেষে গত শুক্রবার বিকেলে এটি চালু করা হয়। ওই সময় প্রচণ্ড তাপদাহ পর্যটকের আধিক্যের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা ৪৫ মেগাওয়াট থেকে বেড়ে ৫০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা সামাল দিতে হিমশিম খেতে হয়েছে কর্তৃপক্ষকে।

কক্সবাজার বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল কাদের গণী জানিয়েছেন, বর্তমানে শহরে বিদ্যুতের কোনো সুনির্দিষ্ট ঘাটতি নেই। তবে জেলা শহরে মাত্র একটি গ্রিড উপকেন্দ্র থাকায় সঞ্চালন লাইনে কোনো কারিগরি ত্রুটি দেখা দিলে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ বন্ধ রাখতে হয়। পর্যটকদের সুবিধার্থে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ প্রবাহ নিশ্চিত করতে বর্তমানে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগ আশা করছে, নতুন এই ট্রান্সফরমার স্থাপনের ফলে নিকট ভবিষ্যতে শহরে বড় ধরনের কোনো লোডশেডিং হওয়ার সম্ভাবনা নেই।


দামুড়হুদা ৯ লক্ষাধিক টাকার মাদক ও অবৈধ মালামাল জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো: মনিরুজ্জামান, দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

দামুড়হুদা সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৯ লাখ ২ হাজার ৬৫০ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ও চোরাচালানী মালামাল জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। গত ৬ ও ৭ জুন চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) অধীনস্থ দামুড়হুদার বড়বলদিয়া, সুলতানপুর ও বারাদী বিওপির টহল দল সীমান্তবর্তী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে এসব মালামাল আটক করে।

রবিবার (৭ জুন) দুপুরে বিজিবির পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আটককৃত অবৈধ মালামালের মধ্যে রয়েছে ৯ দশমিক ৯ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ১৯ বোতল ভারতীয় মদ, ৪০৫ পিস ভারতীয় সিলডেনাফিল ট্যাবলেট, ১ হাজার ৮০০ পিস ভারতীয় ডেক্সামেথাসন ট্যাবলেট, ১৪ পিস ভারতীয় শাড়ি এবং ১টি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক।

চুয়াডাঙ্গা-৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাজমুল হাসান জানান, দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। সীমান্ত এলাকায় সকল ধরনের অবৈধ কার্যক্রম দমনে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও আরও জোরদারভাবে অব্যাহত থাকবে।

তিনি আরও জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সীমান্ত এলাকায় মাদক, চোরাচালান এবং অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


banner close