ভোলার ইলিশায় বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা ও প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন।
আজ বৃহস্পতিবার কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূল/নদী তীরবর্তী চরঅঞ্চলের সুবিধা বঞ্চিত মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনে সবসময় এগিয়ে এসেছে। দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষদের বিভিন্ন সময় মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করে আসছে কোস্ট গার্ড। এরই ধারাবাহিকতায় আজ ৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখ বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টা হতে দুপুর ১ টা পর্যন্ত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন কর্তৃক ভোলার সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের ১৯ নং মৌলভীর হাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করে ৩৯০ জন অসহায়, গরীব, দুস্থ ও শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা এবং প্রয়োজনীয় ঔষধ সামগ্রী প্রদান করা হয়। উক্ত মেডিক্যাল ক্যাম্পেইনের নেতৃত্ব দিয়েছেন কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার সার্জন লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ইয়াসমিন আক্তার, এএমসি। এছাড়াও উপকূলীয়/নদী তীরবর্তী এলাকার জনসাধারণের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌযান ও নৌপথে জানমালের নিরাপত্তা, অবৈধ মৎস্য সম্পদ আহরণ রোধ, মাদকদ্রব্য পাচার নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান ও মানব পাচার রোধে জনসচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক ভবিষ্যতেও সুবিধা বঞ্চিত মানুষের চিকিৎসা সেবাসহ বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা গোমড়া গ্রাম ইতোমধ্যেই ‘সবজি গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রামের প্রায় শতভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতির মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন।
এ গ্রামের প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে শিম, কাঁকরোল, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, ধুন্দল, করলাসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত এসব সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়।
তবে কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামটি নানা অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। শুকনো মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে ফসলি জমি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া নদীভাঙনের কারণে কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘কৃষিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করতে হলে গোমড়া গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ভাঙনরোধ এবং প্রয়োজনীয় সেতু-কালভার্ট নির্মাণ জরুরি।’
গোমড়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বসতভিটার আঙিনা ছাড়া প্রায় সব জমিই চাষাবাদের আওতায়। তাই ভাঙনরোধ ও রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।’
কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার কৃষিবান্ধব হলেও আমাদের এলাকার কৃষিজমি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত তাই সামগ্রিক উন্নয়নের উদ্যোগ প্রয়োজন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গোমড়া গ্রামের সর্বত্র কৃষির বিস্তার রয়েছে। রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, ভাঙনরোধ এবং প্রয়োজনীয় সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা গেলে এ এলাকার কৃষকরা জাতীয় কৃষি উৎপাদনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।’
কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইথান আহমেদ প্রেম নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৪ জুন) রাত থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।
রাতের ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালেও দুই গ্রুপ আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ প্রেম।
স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের একটি মাছ চাষের পুকুরের ২০ লক্ষাধিক টাকার মাছ মারা গেছে। পুর্বশত্রুতার জের ধরে অজ্ঞাত কেউ বিষ ঢেলে মাছ নিধন করেছে বলে অভিযোগ মাছ চাষী কামরুজ্জামানের।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে মাছ মরে ভেসে উঠলে বিষয়টি তার নজরে আসে।
জানা গেছে, কামরুজ্জামান ৩ বিঘা পুকুরে মাছ চাষ করেছেন। দুই বছর ধরে পাঙ্গাস জাতীয় মাছ চাষ করছেন । একেকটি মাছ ৭-১২ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে। কয়েকদিন পরেই মাছ বিক্রি করতেন তিনি।
অথচ আজ সকালে স্থানীয়রা পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখেন। পুকুর মালিক লোকজন নিয়ে মাছ তুলে বিক্রির চেষ্টা করেছেন। তবে বিষে আক্রান্ত নেই বেশিরভাগ মাছে পচন ধরেছে। এতে তার ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান মাছ চাষী কামরুজক্জামান।
দ্রুততম সময়ে বিষয়টির তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গত বুধবার (২৪ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের সার্বিক প্রস্তুতি, শিশুদের মাঝে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণের কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিবার পরিকল্পনা টিএইচ এ ডা হালিমা খানম লিমা, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মিজানুর রহমান এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.সাব্বির রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁর পাতাড়ী সীমান্তে পুশইন চেষ্টার শিকার হওয়া ৯ নারী-শিশুকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ফিরিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) নওগাঁ-১৬ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম এক প্রেস নোটের মাধ্যমে এ তথ্য জানায়। প্রেস নোটে বলা হয়, গতকাল সারাদিন সীমান্তের শূন্য লাইন থেকে প্রায় ১০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছিল ওই ৯ জন।
তবে বর্তমানে তাদের কোনো অবস্থান বা চলাচল দেখা যাচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো এক সময়ে বিএসএফ তাদের ভারতে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে।
এ ঘটনায় নওগাঁর সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা বাড়িয়েছে বিজিবি। জেলার প্রতিটি সীমান্ত চৌকিতে (বিওপি) টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
আষাঢ় মাসের বর্ষণমুখর প্রকৃতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে চালিতা ফুল। উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের শরণখোলার গ্রামের রাস্তার ধারে, খালের পাড়ে এবং বসতভিটার আশপাশে ফুটে থাকা সাদা রঙের এই ফুল প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। বর্ষার আগমনী বার্তার সঙ্গে প্রকৃতিকে স্নিগ্ধ ও মনোমুগ্ধকর করে তুলেছে চালিতা ফুলের অপরূপ সৌন্দর্য।
স্থানীয়রা জানান, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে চালিতা গাছে ফুল ফোটে। ফুলের মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক আবহ পরিবেশকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। বিশেষ করে সকাল ও বিকেলে ফুলের সৌন্দর্য বেশি উপভোগ করা যায়।
প্রকৃতিপ্রেমী টিকেন্দ্রনাথ মাঝি বলেন, ‘বর্ষা এলেই চালিতা ফুলের জন্য অপেক্ষা করি। সাদা রঙের ফুলগুলো প্রকৃতির মাঝে এক অন্যরকম সৌন্দর্য সৃষ্টি করে। ফুলগুলো দেখলে মন ভালো হয়ে যায়।’
ষাটোর্ধ্বো তাফালবাড়ি বাজারের স্থানীয় বাসিন্দা মন্নান হাওলাদার বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই চালিতা ফুল দেখে আসছি। বর্ষাকালে গাছে যখন অসংখ্য ফুল ফোটে, তখন চারপাশের পরিবেশ অনেক সুন্দর লাগে।’
এদিকে প্রকৃতিপ্রেমীরা বলছেন, অপরিকল্পিতভাবে গাছ কাটা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের কারণে অনেক দেশীয় গাছ হারিয়ে যাচ্ছে। তাই চালিতাসহ দেশীয় বৃক্ষ সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
খুলনা নগরীর বড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুটি গোডাউন থেকে ২ হাজার ৫৪২ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর। গত বুধবার (২৪ জুন) দুপুরে উত্তম এন্টারপ্রাইজ প্রতিষ্ঠানের দুটি গোডাউনে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মমতাজ বেগম বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানের দুটি গোডাউনে অভিযান চলাকালে মালিক পক্ষের কাউকে পাওয়া যায়নি। ফলে আশপাশের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের উপস্থিতিতে গোডাউন দুটির তালা ভেঙ্গে ২ হাজার ৫৪২ কেজি নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়।
তিনি বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের দায়ে উত্তম এন্টারপ্রাইজ নামক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অভিযানে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনা জেলা কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক মোঃ হারুন-অর-রশীদ ও পরিদর্শক মোঃ আসিফ আলম এবং পরিবেশ অধিদপ্তর, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের সিনিয়র কেমিস্ট তানভীর হায়দার, পরিদর্শক মারুফ বিল্লাহ।
"যুব সমাজ জাগো, মাদককে না বলো" প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট উপজেলার ধারা বাজারে মাদক, জুয়া ও অসামাজিক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর আড়াইটায় ধারা বাজার মাদকমুক্ত যুব সমাজ সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ধারা বাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হওয়া মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচিতে স্থানীয় যুবসমাজ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মাদক ও জুয়া বর্তমানে সমাজের অন্যতম বড় ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্ম মাদকের ছোবলে বিপথগামী হচ্ছে, যা পরিবার ও সমাজের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
বক্তারা আরও বলেন, “মাদক ও জুয়া পরিহার করুন, নিজে বাঁচুন এবং আগামী প্রজন্মকে বাঁচতে দিন।” তারা যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় অভিভাবক, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান।
‘চল যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা মাদকের কুফল সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি সমাজ থেকে মাদক, জুয়া ও অন্যান্য অসামাজিক কর্মকাণ্ড নির্মূলে সামাজিক আন্দোলন আরও জোরদার করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
অপহরণের পর ধর্ষণের দায়ে মাদারীপুর নারী ও শিশু অপরাধ দমন ট্রাইবুনাল আদালতের বিজ্ঞ বিচারক আ.স.ম শহীদুল্লাহ কায়সার নাফিজ মোল্লা নামে এক যুবক-কে ১৪ বছর কারাদন্ডাদেশের পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে উক্ত আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শরীফ মোঃ সাইফুল কবীর বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই রায়ে মামলার বাদী ন্যায়বিচার পেয়েছেন এবং আমরা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসাবে অকাট্য প্রমাণ আদালতে পেশ করতে পারায় মাননীয় আদালত সুবিচার করেছেন।
জানা যায়, মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার পু্র্ব শাখারপাড় গ্রামের মতিয়ার মোল্লার ছেলে নাফিজ মোল্লা ও তার সহযোগীরা ২০২৩ সালের ২১ মার্চ ভোরে নবম শ্রেণীর এক ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যাবার সময় অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে ধর্ষণ করে।
পরে তার মা রাজৈর থানায় মামলা করলে পুলিশ ঐ কিশোরীকে উদ্ধার ও প্রধান আসামী নাফিজ মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে।
রৌমারীতে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বুধবার (২৪ জুন) ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে আমন ধান বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় উপজেলার কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত এই বিতরণ অনুষ্ঠানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা কৃষকদের মাঝে চার ধরনের উন্নত জাতের আমন ধান বীজ ও রাসায়নিক সার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলাউদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা শামসুদ্দিন, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী তরিকুল ইসলামসহ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা। সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বসুনিয়া।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, এ মৌসুমে আবাদ ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উপজেলায় ১ হাজার ৫শ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে এসব বীজ ও রাসায়নিক সার পর্যায়ক্রমে বিতরণ করা হবে। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ৫ কেজি করে ধান বীজ, ১০ কেজি বিএডিসি সার এবং ১০ কেজি এমওপি সার বিতরণ করা হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বসুনিয়া বলেন, ‘এই প্রণোদনা ক্রয় ও বিক্রয় সম্পূর্ণ নিষেধ। যদি কেউ বিক্রয় করে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় কমিয়ে ফসলের আবাদ বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কর্মকর্তারা।
গাজীপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে জেলার ৩৫০ জন দুঃস্থ, অসহায় ও অতিবৃষ্টি ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে মানবিক সহায়তা ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ড. চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী।
অনুষ্ঠানে মূখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন মো. নজরুল ইসলাম। এসময় জেলার বিভিন্ন এলাকার অসহায় ও নিম্নআয়ের মানুষের হাতে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. চৌধুরী ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, “সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো জেলা পরিষদের অন্যতম দায়িত্ব। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি জেলা পরিষদও মানবিক সহায়তার মাধ্যমে মানুষের দুঃসময়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে এ ধরনের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, “দেশের উন্নয়নের সুফল যেন সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের কাছে পৌঁছে যায়, সে লক্ষ্যেই জেলা পরিষদ কাজ করছে। অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে এবং তাদের কষ্ট কিছুটা লাঘব করতে এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও সচেতন মানুষদেরও মানবিক কাজে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন কালিয়াকৈর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম সিকদার, সদস্য সচিব আলহাজ্ব এম আনোয়ার হোসেন, কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মামুদ সরকার, গাজীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মোনায়েম কবির, কালিয়াকৈর পৌর বিএনপি নেতা আশরাফ সিদ্দিকি এবং পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজভি আহমেদ দুলাল।
বক্তারা বলেন, সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াতে গাজীপুর জেলা পরিষদের এ উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। তারা মনে করেন, এ ধরনের মানবিক কর্মসূচি সামাজিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করবে।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন। ত্রাণ ও সহায়তা পেয়ে সুবিধাভোগীরা গাজীপুর জেলা পরিষদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এ উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
চায়ের রাজ্যখ্যাত মৌলভীবাজারের পাহাড়ি টিলাজুড়ে এখন রসালো ফল আনারসের সুবাস। অনুকূল আবহাওয়া, উর্বর মাটি আর স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতায় চলতি মৌসুমে জেলায় আনারসের বাম্পার ফলন হয়েছে। এবার মৌলভীবাজারের আনারস ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ফিলিপাইন থেকে আমদানিকৃত উচ্চফলনশীল ও আন্তর্জাতিক মানের ‘এমডি-২’ জাত, যা স্থানীয় চাষিদের মাঝে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে জেলার শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া ও বড়লেখার পাহাড়ি টিলায় মোট ১ হাজার ২২৩ হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এমডি-২, হানিকুইন (জলচুপি) ও জায়েন্ট কিউ জাতের প্রায় ২২ হাজার ৭৭৪ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদিত হয়েছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৬৮ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার পাহাড়ি ও সমতল মিলিয়ে মোট ১,২২৩ হেক্টর জমিতে এবার আনারসের আবাদ করা হয়েছে। মৌসুম শেষে জেলাজুড়ে উৎপাদিত আনারসের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২২,৭৭৪ মেট্রিক টন। উৎপাদিত এই বিশাল পরিমাণ আনারসের বর্তমান বাজারমূল্য ধরা হয়েছে প্রায় ৬৮ কোটি ৩২ লাখ ২০ হাজার টাকা।
জেলায় মোট উৎপাদনের একটি বড় অংশই এসেছে শ্রীমঙ্গল উপজেলা থেকে। দেশের আনারস উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই উপজেলায়
৪২৫ হেক্টর জমি থেকে মোট ৬,৮২১ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদিত হয়েছে। শুধু শ্রীমঙ্গল থেকেই উৎপাদিত এই ফলের সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ১২ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
দেশের ‘আনারস উৎপাদনের রাজধানী’ হিসেবে পরিচিত শ্রীমঙ্গল উপজেলায় এবার ৪২৫ হেক্টর জমিতে আনারস চাষ হয়েছে। উপজেলার আশিদ্রোন ইউনিয়নের রাধানগর, ডলুছড়া, মহাজিরাবাদ, বালিশিরা, সাতগাঁও, রাজঘাট, কালিঘাট ও মির্জাপুরসহ বিস্তীর্ণ পাহাড়ি টিলাজুড়ে এখন পাকা আনারসের সমারোহ। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন ট্রাক ও পিকআপ ভর্তি আনারস চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।
বিশ্বজুড়ে ‘গোল্ডেন সুইট’ বা ‘এক্সট্রা সুইট পাইনআপেল’ নামে পরিচিত ফিলিপাইনের এই এমডি-২ জাতটি দেশের ৭টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করা হয়েছিল। এর মধ্যে শ্রীমঙ্গলে উৎপাদিত আনারস গুণে, মানে ও স্বাদে অন্য সব জেলাকে ছাড়িয়ে গেছে।
মহাজিরাবাদ গ্রামের সফল চাষি রাজু আহমেদ জানান, তিনি ২২ শতাংশ জমিতে ২,২৫০টি এমডি-২ জাতের চারা রোপণ করে ইতোমধ্যে প্রায় এক লাখ টাকার আনারস বিক্রি করেছেন। তার মতে, "এই আনারস দেশীয় জাতের চেয়ে অনেক বেশি সুস্বাদু। পাকার পরও ১০-১৫ দিন ভালো থাকে এবং এক মাসেরও বেশি সময় সংরক্ষণ করা সম্ভব।" একই আশার কথা শোনান মহাজিরাবাদ গ্রামের চাষি শফিক মিয়াও। ৩০ শতাংশ জমিতে ২,৫০০টি চারা রোপণ করে তিনিও দারুণ লাভের মুখ দেখছেন।
শ্রীমঙ্গল কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান বলেন, "শ্রীমঙ্গলের আনারস বাগান এই অঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণ। ফিলিপাইনের এমডি-২ জাতের চারাগুলোর বৃদ্ধি ও ফলের আকৃতি, রং ও স্বাদ সম্পূর্ণ আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন জানান, এই অঞ্চলে হেক্টর প্রতি ১৫ থেকে ১৬ টন এমডি-২ আনারস উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় জাতের চেয়ে অনেক বেশি লাভজনক। ফলন ভালো হওয়ায় আগামীতে এটি ব্যাপকহারে চাষের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মৌলভীবাজার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. জালাল উদ্দিন বলেন, এমডি-২ জাতের আনারস সহজে নষ্ট হয় না এবং এটি আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত চাহিদাসম্পন্ন। এই জাতের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিদেশে আনারস রপ্তানি করে দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখা সম্ভব।
ষাটের দশকে শ্রীমঙ্গলে বাণিজ্যিকভাবে শুরু হওয়া আনারস চাষ ফিলিপাইনের এই নতুন জাতেৎর হাত ধরে এবার বিশ্ববাজারে রপ্তানির নতুন স্বপ্ন দেখাবে এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় এক বিশেষ অভিযান চালিয়ে তিনটি বিদেশি পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরের দিকে উপজেলার বড়লেখা সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ‘মিশন’ নামক স্থানে এ অভিযান পরিচালিত হয়। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি সূত্র জানায়, বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়ন (৫২ বিজিবি) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে যে, সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অস্ত্র ও উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্যের একটি বড় চালান বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে যাচ্ছে। প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজনের নেতৃত্বে বিওসিটিলা বিওপির একটি বিশেষ আভিযানিক দল সীমান্তে অবস্থান নেয়।
পরবর্তীতে বিজিবি টহল দল সীমান্ত পিলার ১৩৮৫/এম হতে আনুমানিক ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মিশন নামক স্থানে ব্যাপক তল্লাশি চালায়। ভোরের দিকে বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে চোরাকারবারিরা মালামাল ফেলে পালিয়ে যায়। পরে সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়, বিদেশি পিস্তল ৩টি, উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক (পাওয়ারজেল নাইনটি) ৩ কেজি (২৩টি টিউব), ডেটোনেটর ২৪টি, ডেটোনেটর তৈরির তার ১৫ মিটার, ২টি কুকরি চাপাতি।
বিয়ানীবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আতাউর রহমান সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অত্যন্ত তৎপরতার সাথে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলো অত্যন্ত শক্তিশালী ও মারাত্মক। দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষা এবং সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবির এমন কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ ঘটনায় বড়লেখা থানায় মামলা দায়েরসহ উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য হস্তান্তরের আইনানুগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে বিজিবি নিশ্চিত করেছে।