ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পূর্তি ছিল গত বুধবার। সেদিনই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে বুধবার রাতে প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গুঁড়িয়ে দেয় তারা। সে রাতে ভাষণও দেন ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। এতে ক্ষোভের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ধানমণ্ডিতে শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি ‘সুধা সদন’ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর এই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার কারণে সারা দেশে আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকে। গত বুধবার রাতেই ভোলায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে, বরিশালে দলটির আরেক বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর বাড়িতে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে, নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়াও নওগাঁয় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদারের বাড়ি, রাজশাহীতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতেও হামলা, বাঙচুর ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন এবং দলটির অনেক নেতার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তোফায়েল আহমেদের ভোলার বাসায় ভাঙচুর, আগুন
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভোলার দোতলা বাসভবনে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার রাতে শহরের গাজীপুর রোডের ‘প্রিয় কুটির’ নামের বাসভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
এ সময় তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে একটি ক্রেন ও একটি এক্সকাভেটর আনা হয়। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ফায়ার সার্ভিসের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১টার দিকে দুই-তিন শ বিক্ষুব্ধ জনতা তোফায়েল আহমেদের বাসায় ভাঙচুর চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বাসায় দোতলা ও নিচতলায় আগুন দেয় তারা। পরে তাদের মধ্য থেকে একটি দল সড়কে হ্যান্ডমাইকে জয়বাংলার গান বাজিয়ে নাচতে থাকে ও গানের তালে তালে জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর আর ভোলায় আসেননি অসুস্থ তোফায়েল। বাসাটিতে তার ছেলে থাকতেন বলে জানা গেছে।
ভোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তারা কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পাননি।
বরিশালে আমুর বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে আগুন
বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে জনতা। গত বুধবার রাত ২টার দিকে সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দিয়ে নগরীর বগুড়া রোডের বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করা হয়। রাত ৩টার দিকে ভাঙচুর শেষে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও জনতা নগরীর কালীবাড়ী রোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাড়িটিও বুলডোজার চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়। তারপর সেখানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে কালীবাড়ী রোডে এসে পুলিশ অবস্থান নেয়। রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনীরি সদস্যরাও সেখানে আসেন। একই সময় ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে কালীবাড়ি রোডের ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ এর দিকে এগোয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়কের দুইপাশ থেকেই প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে ভবনের ভেতর প্রবেশ করে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনেও এ ভবনটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।
নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর গ্রামের বাড়িটিতে এ হামলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি বসুরহাট বাসস্ট্যান্ড হয়ে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে থাকা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার দোতালা ভবন হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙা হয়। পরে ভাঙচুর করা হয় তার ছোট ভাই শাহাদাত মির্জার ভবনও।
এর আগে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের দিন বিকালে ওই বাড়ির পাঁচটি বসতঘর এবং দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সেদিন বাড়িটির বেশ কিছু আসবাব লুটপাটও হয়।
নাজিম উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ৫ আগস্টের কিছুদিন পর কাদের মির্জা ভবনটি সংস্কার করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় কাদেরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হল। তবে হামলা-ভাঙচুরের সময় তাদের পরিবারের কেউ ছিলেন না। কাদেরের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম।
গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি
নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। তার আগে বহু লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। ভবনটি ভাঙার কাজ চলার সময় সেখানে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির একটি মিছিল বের হয়। তাতে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মিছিলটি শহরের চাষাঢ়ায় বায়তুল আমানের সামনে এসে পৌঁছালে শুরুতে বড় আকারের হাতুড়ি দিয়ে ভবনটির দেয়াল ভাঙতে শুরু করেন লোকজন। পরে একটি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ভবনটির ভেতরের একটি অংশেও দেওয়া হয় আগুন।
ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাংবাদিকদের বলেন, “খুনি হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বছরের পর বছর মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। শামীম ওসমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অসংখ্য গুম, খুন করেছে। ওসমান বাহিনীর প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ, এই ভবনটি ভাঙার মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷”
এর আগে বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কয়েকটি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময়ও নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির ওই দুই নেতা। সেখানেই দুপুরে ঘোষণা দেওয়া হয় সন্ধ্যার পর বায়তুল আমান ভবনটিও ভেঙে ফেলার।
খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ এখন ধ্বংসস্তূপ
খুলনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ চাচাতো ভাইয়ের ‘শেখ বাড়িতে’ গত বুধবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাড়ির ইট ও রড খুলে নিয়ে গেছে লোকজন। প্রায় দেড় দশক খুলনায় ‘ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু’ থাকা ভাঙা বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।
এদিন দুপুরে নগরীর শেরে বাংলা রোডে গিয়ে দেখা যায়, ‘শেখ বাড়ি’ এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ। অসংখ্য মানুষ হাতুড়ি দিয়ে ইট খুলে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকে করে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ যন্ত্রপাতি দিয়ে রড কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ইট ও রড খুলে ওই বাড়ির সামনে বিক্রি করছে। ভোর থেকে এই কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। বিকেলে বাড়িটির সামনে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র।
বাড়ির চত্বরে ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে রড কিনছিলেন শেখপাড়া এলাকার এক ভাঙাড়ির দোকানি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানি বলেন, এখানে সস্তায় কিনতে পারছি, সে কারণে এখানে এসেছি।
রিকশায় করে ইট নিয়ে যাওয়ার সময় চালক সোলায়মান হোসেন বলেন, ‘১৫ বছর আওয়ামী লীগের লোকজন লুট করেছে। সে কারণে এখন তাদের ইট-রড খুলে নিয়ে যাচ্ছি। এই বাড়ির লোকজন খুলনার মানুষের ওপর অনেক নিপীড়ন চালিয়েছে।’
এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শেখ বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় ছাত্র-জনতা স্লোগান দিতে থাকে ‘শেখ বাড়ির আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, স্বৈরাচারের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’। রাত ৯টা থেকে ৩টি বুলডোজার দিয়ে বাড়ির গেট ও দোতলা বাড়ির অর্ধেক অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় করেন।
বাড়িটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বাবুর। এই বাড়ি থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি, ব্যবসা, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অনেক কিছু। এর আগে ৪ ও ৫ আগস্ট এই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান বিক্ষুব্ধ লোকজন। তবে সেদিন শেখ পরিবারের কেউ বাড়িটিতে ছিলেন না।
খুবিতে মুর্যালসহ ৫ স্থানে ভাঙচুর
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুরসহ পাঁচটি স্থানে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগরীর দৌলতপুরে সরকারি বিএল কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল ভাঙচুর করে। বেলা ১১টার দিকে নগরীর গল্লামারী এলাকায় লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল ভাঙচুর করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কালজয়ী মুজিব’ ম্যুরাল ভাঙচুর করে। রাতে নগরীর দোলখোলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলোর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ভেঙে দেওয়া হয় তার বিলাসবহুল গাড়ি। আগুন দেওয়ার পর ৫ তলা বাড়ির লোকজন আতঙ্কে ছাদে উঠে যায়। পরে ফায়ারা সার্ভিসের দু’টি গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর বাড়ি ভাঙচুর করে লোকজন।
সারা দেশে হামলা ভাঙচুরের আরও কিছু ঘটনা
সিলেটে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ম্যুরাল। গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত ম্যুরালটির অবশিষ্ট অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মুসলিম জনতার ব্যানারে ম্যুরালটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে চট্টগ্রামে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পরে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গিয়ে পুরোনো একাডেমিক ভবনের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। পরে সেখান থেকে তারা জামালখান মোড়ের দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এর আগে বিক্ষুব্ধরা একটি মশাল মিছিল বের করেন।
কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল-আলম হানিফের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে একটি দল। গতকাল রাত ১০টার দিকে এক্সক্যাভেটর নিয়ে তারা বাড়ির সামনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দলটি চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় চার নেতার একজনের নামে থাকা সব স্থাপনার নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত ৯টার দিকে বিক্ষোভ শেষে মিছিল নিয়ে চারটি আবাসিক হল ও একটি স্কুলের নামফলক ভেঙে নতুন নাম দেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান হল’, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ‘ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘নবাব ফয়জুন নেসা চৌধুরানী’ ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়া গোপ মডেল স্কুল’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে শেখ হাসিনার ঘৃণাসূচক ছবি টানিয়ে গণজুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে তাঁর ফেসবুক লাইভে আসার প্রতিবাদ জানান।
নাটোরে সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের পোড়া বাড়ি আলোচিত ‘জান্নাতি প্যালেসে’ আবারও আগুন দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা শহরের কান্দিভিটা এলাকায় সাবেক আগুন দেন। এসময় মাইক বাজিয়ে মিছিল নিয়ে কান্দিভিটাস্থ শিমুলের জান্নাতি প্যালেসে যান এবং আগুন দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পোড়া বাড়ির ভেতরে ছিলেন ছাত্ররা।
‘সবার জন্য সুস্থ কিডনি-মানুষের যত্নে বাঁচাও ধনণী’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে পালিত হয়েছে বিশ্ব কিডনি দিবস। দিবসটি উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকা থেকে ক্যাম্পস কিডনি ও ডায়ালাইসিস সেন্টারের পক্ষ থেকে একটি র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক ঘুরে একই স্থানে এসে শেষ হয়। পরে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে এতে সংস্থাটির মেডিকেল অফিসার ডা. রিফাত বিন শরিফ, ম্যানেজার রাকিবুল ইসলামসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
কিডনি রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, পরিমিত খাদ্যাভ্যাস এবং সুস্থ জীবনযাপন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখকরে বক্তারা কিডনি রোগ প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
বগুড়ার নন্দীগ্রামে আইন অমান্য করায় ভেকু মেশিনের ব্যাটারিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ জব্দ ও দুই দোকান মালিককে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নন্দীগ্রাম উপজেলার ভাটগ্রাম ইউনিয়নের কাথম দক্ষিণপাড়া এলাকায় কৃষিজমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের ঘটনাস্থলে পাওয়া না যাওয়ায় ভেকু মেশিনের ব্যাটারিসহ অন্যান্য যন্ত্রাংশ জব্দ করেছেন।
পরবর্তীতে তিনি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে নন্দীগ্রাম বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে প্যাকেটজাতকরণ ব্যতীত খোলা অবস্থায় লাচ্ছা-সেমাই বিক্রয়ের অপরাধে ফটিক কনফেকশনারি ও সোহাগ ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের মালিককে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ৩ হাজার টাকা করে মোট ৬ হাজার টাকা জরিমানা করেন। এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় প্রসিকিউটর ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্যানিটারি ইন্সপেক্টর জামিল উদ্দিন। সহযোগিতা করেন নন্দীগ্রাম থানা পুলিশ।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রোহান সরকার। তিনি বলেন, ‘আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।’
বান্দরবানে নির্ধারিত অফিস সময়েও স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে দিনের পর দিন তালা ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ ওঠেছে। এতে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাস্থ্য খাত উন্নয়নমূলক কাজের বিষয়ে তথ্য ও সেবা নিতে প্রায়ই মানুষ স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কার্যালয়ে আসেন। কিন্তু অধিকাংশ সময় অফিসে এসে গেইটে তালা ঝুলতে দেখে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে সেবাপ্রত্যাশীদের। জনসেবা নিশ্চিত করতে বিষয়টি তদন্ত করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন ও হেলাল উদ্দীন বলেন, ‘প্রয়োজনীয় কাজ নিয়ে বান্দরবান স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে বেশ কয়েকবার গিয়েছিলাম। কিন্তু অফিস কার্যালয়ের মূল ফটকে প্রতিবারই তালাবদ্ধ ও যোগাযোগেরমাধ্যম না পেয়ে বাধ্য হয়ে ফিরে যেতে হয়েছে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পার্শ্ববর্তী অপর অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বান্দরবান স্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসের কর্মচারী -কর্মকর্তারা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থাকায় তাদের দপ্তরের নামে আসা অধিকাংশ চিঠি এখানে দিয়ে যায় বাহকরা।’
বান্দরবান স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. আব্দুর রৌফ কার্যালয়ের মুল ফটকে তালা বদ্ধ করে রাখার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘তাদের কার্যালয়ে জনবল সংকটের কারণে এমনটা করেছেন।’
প্রশ্নের জবাবে জনবল বৃদ্ধির জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং মূলফটকে যোগাযোগের নম্বর স্থাপনের জন্য দোকানে প্রিন্ট করতে দিয়েছেন। তবে তার দালিলিক প্রমাণ দেখাতে পারেননি তিনি।
চা-বাগানের সবুজ ঢেউ, পাহাড়ের ভাঁজে ভাঁজে মেঘের ছোঁয়া আর ঝরনার গর্জন—প্রকৃতির এমন অপার সৌন্দর্যে ঘেরা মৌলভীবাজার এখন দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য। চায়ের রাজধানী হিসেবে পরিচিত এই জেলায় প্রতি বছর দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক ছুটে আসেন সবুজ প্রকৃতির কাছাকাছি কিছুটা সময় কাটাতে। পাহাড়, চা-বাগান, হাওর-বিল, জলপ্রপাত ও ঐতিহাসিক নিদর্শনের সমন্বয়ে মৌলভীবাজার হয়ে উঠেছে প্রকৃতিপ্রেমীদের এক অনন্য স্বর্গরাজ্য।
জেলার ৯২টি চা-বাগানের সবুজ সমারোহ, জীববৈচিত্র্যে ভরপুর লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, গর্জনধ্বনিময় মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত, নয়নাভিরাম মাধবপুর লেকসহ অসংখ্য প্রাকৃতিক ও ঐতিহাসিক স্থাপনা মিলিয়ে মৌলভীবাজার এখন ভ্রমণপিপাসুদের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।
নৈসর্গিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই চায়ের রাজ্যে একবার এলে মন চায় বারবার ফিরে আসতে। চারদিকে ছড়িয়ে থাকা সবুজ প্রকৃতি, পাহাড়-টিলা আর চা-বাগানের সতেজ সবুজ পাতার মায়া যেকোনো ভ্রমণপ্রেমীকে সহজেই আকৃষ্ট করে। এখানে এসে পর্যটকেরা খুঁজে পান মানসিক প্রশান্তি ও স্বস্তি।
জেলার শতাধিক পর্যটনস্থলের মধ্যে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের প্রথম পছন্দ শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ ও বড়লেখা।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে মাথাভাঙ্গা নদী থেকে মলেজান বেগম (৬৫) নামে এক মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত মলেজান বেগম উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের মৃত এলাহী হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মলেজান বেগম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। তিনি প্রায়ই পরিবারের অগোচরে বাড়ির বাইরে ঘোরাফেরা করতেন। গত তিন দিন আগে তিনি হঠাৎ নিখোঁজ হন। পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। নিখোঁজের বিষয়টি জানিয়ে এলাকায় মাইকিংও করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) দুপুরে বিলগাথুয়া এলাকার মাথাভাঙ্গা নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে দৌলতপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নদী থেকে বৃদ্ধার মরদেহটি উদ্ধার করে। প্রাথমিক অবস্থায় ধারণা করা হচ্ছে, নদী পার হতে গিয়ে বা অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ওসি আরিফুর রহমান জানান, স্থানীয়দের সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ নদী থেকে বৃদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে।
বরগুনার উপকূলীয় উপজেলা আমতলীতে শীতের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গেই জমে উঠেছে তরমুজের বাজার। প্রখর গরম আর মাহে রমজানের কারণে ইফতারির টেবিলে তরমুজের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় কৃষক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি উচ্ছ্বাস। ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দামের কারণে এবার লাভের আশা করছেন স্থানীয় চাষিরা।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে আমতলীতে প্রায় ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এতে ১০ লাখ ৭ হাজার ৭২৫ টন উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকায় কৃষি বিভাগ মনে করছে, উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইতোমধ্যে প্রতিদিন আমতলী থেকে ট্রাক ও ট্রলিভর্তি তরমুজ ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে ঘুরে দেখা গেছে, তরমুজের ভালো ফলনে কৃষকদের মুখে স্বস্তির হাসি। উপজেলার কুকুয়া এলাকার কৃষক মো. নাসির উদ্দিন জানান, কয়েকজন সঙ্গীকে নিয়ে তিনি প্রায় ৮০ বিঘা জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করেছেন। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি প্রায় ১৮ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন। ক্ষেতে থাকা ফল বিক্রি হলে মোট বিক্রি ৫০ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে আশা করছেন তিনি।
একই উপজেলার চাওড়া এলাকার কৃষক রফিকুল ইসলাম বলেন, তিনি ১২ বিঘা
জমিতে তরমুজ চাষ করেছেন। এখন পর্যন্ত বাজারে যে দাম রয়েছে, তাতে খরচ বাদ দিয়ে ৮-১০ লাখ টাকা লাভ হওয়ার আশা করছেন। আবার গুলিশাখালী ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল করিম জানান, অল্প জমিতে তরমুজ চাষ করেও ভালো লাভের সম্ভাবনা দেখছেন তিনি।
আমতলীর নতুন বাজার ও চৌরাস্তা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, দোকান ও আড়তজুড়ে তরমুজের স্তূপ। স্থানীয় আড়তদার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আকারভেদে ছোট ও মাঝারি তরমুজ ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং বড় তরমুজ ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ক্রেতাদের মধ্যেও তরমুজের চাহিদা চোখে পড়ার মতো।
দিনমজুর মিজানুর রহমান বলেন, রমজানে ইফতারে তরমুজ না থাকলে যেন তৃপ্তি আসে না। দামও মোটামুটি সহনীয়, তাই মাঝে মাঝে কিনে নিচ্ছি।
পুষ্টিবিদদের মতে, গরমের সময়ে তরমুজ শরীরের জন্য বেশ উপকারী। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিয়া রহমান বলেন, তরমুজে প্রচুর পানি, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান থাকে। রোজা রাখার পর শরীরের পানিশূন্যতা দ্রুত পূরণ করতে এ ফল বেশ কার্যকর।
আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. রাসেল বলেন, ধানের পর এই অঞ্চলে তরমুজ এখন গুরুত্বপূর্ণ ফসল হয়ে উঠেছে। রমজানের কারণে বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকেরা এবার ভালো লাভ করবেন বলে আশা করছি।
রমজানের বাজারে তরমুজের এমন জমজমাট বেচাকেনা শুধু কৃষকের অর্থনীতিতেই নয়, স্থানীয় বাজার ব্যবস্থাতেও এনে দিয়েছে নতুন প্রাণচাঞ্চল্য।
টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল জীবিকা উন্নয়নের লক্ষ্যে পাথরঘাটা উপজেলায় কাঁকড়া চাষিদের মাঝে উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে গ্রীন ক্লাইমেট ফান্ডের (জিসিএফ)- অর্থায়নে এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) সহযোগিতায় বাস্তবায়িত (আরএইচএল) প্রকল্পের আওতায় কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (কোডেক) কাঁকড়া চাষিদের মধ্যে বিভিন্ন উৎপাদন সহায়ক উপকরণ বিতরণ করেছে।
প্রতি উপকারভোগী সদস্য ১৮০ হাত সুপারির গড়া, একটি ডিজিটাল মিটার স্কেল, একটি পিএইচ ও অ্যামোনিয়া টেস্ট কিট, ২০০ গজ বেষ্টনি জাল, ৬টি কাঁকড়ার খাঁচা, একটি ফিড ট্রেসহ ৯টি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।
এই উপকরণগুলো কাঁকড়া চাষিদের টেকসই ও বিজ্ঞানভিত্তিক কাঁকড়া চাষে সহায়তা করবে। স্থানীয় জলবায়ুগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাঁকড়া চাষ একটি সম্ভাবনাময় বিকল্প জীবিকা হিসেবে কাজ করছে। এই সহায়তা উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি জলবায়ু সহনশীল জীবিকা গড়ে তুলতে অবদান রাখবে যা আরএইচএল প্রকল্পের অন্যতম মূল লক্ষ্য।
এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পাথরঘাটা উপজেলা উপ-সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, প্রকল্প সমন্বয়কারী, কোডেক জিসিএফ-আরএইচএল প্রজেক্টের আবু বকর ছিদ্দিক, এরিয়া ম্যানেজার আসাদুজ্জামান শেখ, পাথরঘাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অমল তালুকদার ও শফিকুল ইসলাম খোকন।
২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস, ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে কাপাসিয়া উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে প্রস্তুতিমূলক সভা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আয়োজিত সভায় নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তামান্না তাসনীম সভাপতিত্ব করেন ।
অনুষ্ঠিত সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাহিদুল হক, থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) যোবায়ের হোসেন, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব খন্দকার আজিজুর রহমান পেরা, বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল উদ্দিন আহমেদ নান্নু, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের আহ্বায়ক মো. সামসুদ্দীন খান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ গণি, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সদস্য সচিব মো. মফিজ উদ্দিন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আউলিয়া খাতুন, উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) বেলাল হোসেন সরকার, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা একেএম আতিকুর রহমান, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল আরিফ সরকার, উপজেলা শিক্ষা অফিসার রমিতা ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
বাগেরহাটের রামপালে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ১১ সদস্যসহ মোট ১২ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকেলে রামপাল উপজেলার বেলাই ব্রিজ এলাকায় নৌবাহিনীর একটি বাস এবং যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, নৌবাহিনীর বাসটি মোংলা থেকে আসছিল এবং মাইক্রোবাসটি খুলনা থেকে মোংলার দিকে যাচ্ছিল। প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই তিন নারীসহ চারজন প্রাণ হারান।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু করেন এবং স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন। রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জনের মরদেহ রাখা হয়েছে এবং খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৮ জনের মরদেহ নেওয়া হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগ নিশ্চিত করেছে, নিহতদের মধ্যে ৩ জন শিশু, ৩ জন নারী এবং ২ জন পুরুষ রয়েছেন। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও একজনের অবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাফর আহমেদ এবং স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, উদ্ধার কাজ শেষে বর্তমানে হতাহতদের পরিবারকে সহায়তার প্রক্রিয়া চলছে। এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফল চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে আবেদন করেছেন পাবনা-৩ (ভাঙ্গুড়া,ফরিদপুর ও চাটমোহর) আসনের ধানের শীষ প্রতীকের পরাজিত প্রার্থী ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি হাসান জাফির তুহিন। গত বুধবার (১১ মার্চ) তিনি সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের নির্বাচনী স্পেশাল বেঞ্চে ফলাফল বাতিল এবং ভোট পুনর্গণনার দাবিতে আবেদন করেন।
নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও জেলা জামায়াতের (তরবিয়াত) সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আলী আছগারের নিকট ৩ হাজার ২৬৯ ভোটে পরাজিত হন ওই কৃষকদল নেতা।
নির্বাচনী স্পেশাল বেঞ্চের একক বিচারক বিচারপতি মো. জাকির হোসেন শুনানি শেষে আবেদনটি গ্রহণ করেন।
আদালত আগামী ১৪ জুন পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আসনের ব্যালট পেপারসহ প্রয়োজনীয় সকল নির্বাচন সামগ্রী সংরক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়ক ধরে বাড়ি ফিরবেন লাখো মানুষ। কিন্তু এই মহাসড়কে যানজটমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় প্রশাসনের প্রস্তুতি কতটা—তা নিয়ে চালকদের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।
যানজট কমাতে কেউ সড়কে চলমান সংস্কার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার দাবি জানাচ্ছেন, আবার কেউ প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, ঈদের আগে নির্বিঘ্নে বাড়ি পৌঁছানো এবং ঈদ শেষে স্বস্তিতে কর্মস্থলে ফিরতে কার্যকর উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের প্রায় ১০০ কিলোমিটার অংশ কুমিল্লা জেলার ওপর দিয়ে গেছে। মহাসড়কের কুমিল্লা সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকা, কুমিল্লা–সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বারসহ বেশ কয়েকটি স্থানে চলছে সংস্কার কাজ। চালকদের আশঙ্কা, ঈদের আগে এসব কাজ বন্ধ না রাখলে সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হতে পারে।
দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর এলাকায় দুই লেনের মহাসড়কের ওপরই প্রায়ই গাড়ি পার্কিং করা হয়। একই চিত্র দেখা যায় দাউদকান্দির ইলিয়গঞ্জ, চান্দিনার মাধাইয়া, কুটুম্বপুর, চান্দিনা সদর, বুড়িচংয়ের নিমসার, সদর দক্ষিণের পদুয়ার বাজার, সুয়াগাজী, চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে।
পদুয়ার বাজার, মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে ফুটপাত দখল করে দোকানপাট বসানো হয়েছে। নিমসার, মিয়াবাজার ও চৌদ্দগ্রাম সদরে মহাসড়কের ওপরই বসে বাজার। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এর মধ্যে পদুয়ার বাজার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। এখানে মহাসড়কের ওপর দিয়ে ক্রস করেছে কুমিল্লা–নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়ক। এই সড়ক দিয়ে লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুরগামী পরিবহন চলাচল করে। কিন্তু চট্টগ্রামমুখী লেনে ফুটওভারব্রিজের নিচে এলোপাতাড়িভাবে বাস পার্কিং করায় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এর প্রভাব পড়ে সামনের ইউ-টার্ন পর্যন্ত।
এছাড়া ফুটপাত ও সড়কে বসা ভ্রাম্যমাণ হকারদের কারণেও যানজট বাড়ছে। নোয়াখালী সড়কের মাথায় ফুটওভারব্রিজের নিচে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হয়। পাশেই মসজিদের সামনে একটি বাস কাউন্টার থাকায় প্রায়ই বাস সড়কে দাঁড়িয়ে থাকে। ফলে এই এলাকায় প্রায় সময়ই যানজট লেগে থাকে।
চালকরা বলছেন, মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে থ্রি-হুইলার চলাচল বন্ধ করা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশি টহল জোরদার করা জরুরি।
চট্টগ্রাম থেকে তেলবাহী লরি চালক আসাদ উল্লাহ বলেন, শুধু কুমিল্লা অংশেই চার-পাঁচটা বাজার আছে। এসব বাজারের ভেতর দিয়ে যেতে হলে অনেক সময় লাগে। এখন আবার রাস্তার সংস্কার কাজও চলছে। এগুলো পরিষ্কার না করলে বা কাজ শেষ না হলে এবারের ঈদ আমাদের রাস্তার মধ্যেই কাটাতে হবে।
বাস চালক আবদুল মজিদ বলেন, “এখন আর সড়কে সংস্কার দরকার নেই। বরং রাতে বেশি পুলিশ দরকার, যাতে ছিনতাই বা ডাকাতির ঘটনা না ঘটে।
মাইক্রোবাস চালক অপু হোসেন বলেন, “ঈদের সময় বাড়ি যাওয়া এবং আবার কর্মস্থলে ফেরার সময় পুলিশি টহল বাড়ানো দরকার। টহল বাড়লে চুরি-ডাকাতির ভয় কমবে।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানিয়েছেন, ঈদের আগে মহাসড়কে চলমান সংস্কার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। পাশাপাশি যানজট এড়াতে মহাসড়ক দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ বাজার উচ্ছেদের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ২০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা–চট্টগ্রাম হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার শাহিনুর আলম খান।
ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ সামাল দিতে প্রশাসনের নানা উদ্যোগের কথা জানানো হলেও চালকদের প্রত্যাশা—সংস্কার কাজের সঠিক সমন্বয়, কঠোর নজরদারি এবং কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই নিশ্চিত হবে ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্বস্তির যাত্রা।
বগুড়ার আদমদীঘিতে পরিবেশবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে চারটি ইটভাটাকে মোট ৯ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। গত বুধবার (১১ মার্চ) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এ জরিমানা করেন উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদা সুলতানা।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র ছাড়া ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগে এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মেসার্স ডিজিএম ব্রিকসকে ৩ লাখ টাকা, মেসার্স ডলার ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা, মেসার্স আরোয়া ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা এবং মেসার্স এন অ্যান্ড এস ব্রিকসকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ইটভাটা মালিকদের দ্রুত পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবেশ রক্ষা এবং অবৈধ ইটভাটা নিয়ন্ত্রণে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। অভিযানের সময় জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহথীর বিন মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, বগুড়া জেলার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার–তিলোকপুর আঞ্চলিক সড়কের পাশে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে প্রকাশ্যে পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করে অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে আরোয়া, বাবলু ও ডিজিএমসহ পাঁচটি ইটভাটা। সম্পূর্ণ গ্রামীণ পরিবেশ ও ফসলি জমির একেবারে সন্নিকটে এসব ভাটা স্থাপন ও পরিচালনা করা হয়েছে।
জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, সংশ্লিষ্ট ইটভাটাগুলোর কোনো বৈধ অনুমোদন, লাইসেন্স কিংবা পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। অর্থাৎ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে প্রকাশ্যে উপেক্ষা করেই চলছে এসব ভাটার কার্যক্রম। ইটভাটা থেকে নির্গত ঘন ও বিষাক্ত ধোঁয়ায় মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে আশপাশের পরিবেশ। শুধু তাই নয় ধোঁয়ার কারণে পথচারীদের চোখে তীব্র জ্বালা-পোড়া, শ্বাসকষ্টসহ নানা জটিল রোগ দেখা দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। ফলে এলাকাবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছে। এ সংক্রান্ত অভিযোগের ভিত্তিতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন জাতীয়, আঞ্চলিক ও অনলাইন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের ১ মাস পর বুধবার প্রশাসনের উদ্যোগে ওইসব ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে অবৈধভাবে পরিচালিত ভাটাগুলোকে জরিমানা করা হয় এবং ভবিষ্যতে আইন মেনে চলার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।
বরগুনার আমতলী উপজেলার গাজীপুর বন্দরের বাঁধঘাট এলাকায় আগুনে পুড়ে ৭টি দোকান ছাই হয়ে গেছে। এতে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা শেষ সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ক্ষতি পুষিয়ে নিতে তারা সরকারি আর্থিক সহায়তা দাবি করেছেন।
জানা গেছে, বুধবার (১১ মার্চ) সন্ধ্যায় গাজীপুর বন্দরের বাঁধঘাট এলাকায় একটি চায়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে আমতলী ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় এক ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় হাসান, দুলাল, আমির, আব্দুর রাজ্জাক, হালিম ও হানিফের দোকানসহ মোট ৭টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায় এবং আরও চারটি দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অন্তত ২০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী নুরুজ্জামান মিয়া বলেন, চায়ের দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় লোকজন মিলে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এই দোকানের আয়ের ওপর নির্ভর করে সংসার চালাতেন। এখন তারা নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ফোরকান বলেন, মোর আর কিছুই রইল না। মুই এহন কেমনে সংসার চালামু, হেইডা কইতে পারি না। আল্লায় মোর এমন ক্ষতি ক্যান করল।
আমতলী ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর মো. হানিফ মিয়া বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পুলিশ ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়দের সঙ্গে আগুন নেভাতে সহায়তা করেছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। তারা আবেদন করলে সরকারি সহায়তা দেওয়া হবে।
বরগুনা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হোসাইন অলী উল্লাহ বলেন, ঢাকায় থাকায় ঘটনাস্থলে যেতে পারিনি। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের সহায়তা করা হবে।