ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পূর্তি ছিল গত বুধবার। সেদিনই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে বুধবার রাতে প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গুঁড়িয়ে দেয় তারা। সে রাতে ভাষণও দেন ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। এতে ক্ষোভের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ধানমণ্ডিতে শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি ‘সুধা সদন’ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর এই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার কারণে সারা দেশে আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকে। গত বুধবার রাতেই ভোলায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে, বরিশালে দলটির আরেক বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর বাড়িতে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে, নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়াও নওগাঁয় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদারের বাড়ি, রাজশাহীতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতেও হামলা, বাঙচুর ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন এবং দলটির অনেক নেতার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তোফায়েল আহমেদের ভোলার বাসায় ভাঙচুর, আগুন
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভোলার দোতলা বাসভবনে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার রাতে শহরের গাজীপুর রোডের ‘প্রিয় কুটির’ নামের বাসভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
এ সময় তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে একটি ক্রেন ও একটি এক্সকাভেটর আনা হয়। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ফায়ার সার্ভিসের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১টার দিকে দুই-তিন শ বিক্ষুব্ধ জনতা তোফায়েল আহমেদের বাসায় ভাঙচুর চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বাসায় দোতলা ও নিচতলায় আগুন দেয় তারা। পরে তাদের মধ্য থেকে একটি দল সড়কে হ্যান্ডমাইকে জয়বাংলার গান বাজিয়ে নাচতে থাকে ও গানের তালে তালে জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর আর ভোলায় আসেননি অসুস্থ তোফায়েল। বাসাটিতে তার ছেলে থাকতেন বলে জানা গেছে।
ভোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তারা কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পাননি।
বরিশালে আমুর বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে আগুন
বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে জনতা। গত বুধবার রাত ২টার দিকে সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দিয়ে নগরীর বগুড়া রোডের বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করা হয়। রাত ৩টার দিকে ভাঙচুর শেষে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও জনতা নগরীর কালীবাড়ী রোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাড়িটিও বুলডোজার চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়। তারপর সেখানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে কালীবাড়ী রোডে এসে পুলিশ অবস্থান নেয়। রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনীরি সদস্যরাও সেখানে আসেন। একই সময় ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে কালীবাড়ি রোডের ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ এর দিকে এগোয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়কের দুইপাশ থেকেই প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে ভবনের ভেতর প্রবেশ করে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনেও এ ভবনটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।
নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর গ্রামের বাড়িটিতে এ হামলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি বসুরহাট বাসস্ট্যান্ড হয়ে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে থাকা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার দোতালা ভবন হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙা হয়। পরে ভাঙচুর করা হয় তার ছোট ভাই শাহাদাত মির্জার ভবনও।
এর আগে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের দিন বিকালে ওই বাড়ির পাঁচটি বসতঘর এবং দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সেদিন বাড়িটির বেশ কিছু আসবাব লুটপাটও হয়।
নাজিম উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ৫ আগস্টের কিছুদিন পর কাদের মির্জা ভবনটি সংস্কার করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় কাদেরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হল। তবে হামলা-ভাঙচুরের সময় তাদের পরিবারের কেউ ছিলেন না। কাদেরের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম।
গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি
নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। তার আগে বহু লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। ভবনটি ভাঙার কাজ চলার সময় সেখানে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির একটি মিছিল বের হয়। তাতে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মিছিলটি শহরের চাষাঢ়ায় বায়তুল আমানের সামনে এসে পৌঁছালে শুরুতে বড় আকারের হাতুড়ি দিয়ে ভবনটির দেয়াল ভাঙতে শুরু করেন লোকজন। পরে একটি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ভবনটির ভেতরের একটি অংশেও দেওয়া হয় আগুন।
ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাংবাদিকদের বলেন, “খুনি হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বছরের পর বছর মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। শামীম ওসমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অসংখ্য গুম, খুন করেছে। ওসমান বাহিনীর প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ, এই ভবনটি ভাঙার মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷”
এর আগে বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কয়েকটি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময়ও নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির ওই দুই নেতা। সেখানেই দুপুরে ঘোষণা দেওয়া হয় সন্ধ্যার পর বায়তুল আমান ভবনটিও ভেঙে ফেলার।
খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ এখন ধ্বংসস্তূপ
খুলনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ চাচাতো ভাইয়ের ‘শেখ বাড়িতে’ গত বুধবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাড়ির ইট ও রড খুলে নিয়ে গেছে লোকজন। প্রায় দেড় দশক খুলনায় ‘ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু’ থাকা ভাঙা বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।
এদিন দুপুরে নগরীর শেরে বাংলা রোডে গিয়ে দেখা যায়, ‘শেখ বাড়ি’ এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ। অসংখ্য মানুষ হাতুড়ি দিয়ে ইট খুলে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকে করে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ যন্ত্রপাতি দিয়ে রড কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ইট ও রড খুলে ওই বাড়ির সামনে বিক্রি করছে। ভোর থেকে এই কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। বিকেলে বাড়িটির সামনে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র।
বাড়ির চত্বরে ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে রড কিনছিলেন শেখপাড়া এলাকার এক ভাঙাড়ির দোকানি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানি বলেন, এখানে সস্তায় কিনতে পারছি, সে কারণে এখানে এসেছি।
রিকশায় করে ইট নিয়ে যাওয়ার সময় চালক সোলায়মান হোসেন বলেন, ‘১৫ বছর আওয়ামী লীগের লোকজন লুট করেছে। সে কারণে এখন তাদের ইট-রড খুলে নিয়ে যাচ্ছি। এই বাড়ির লোকজন খুলনার মানুষের ওপর অনেক নিপীড়ন চালিয়েছে।’
এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শেখ বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় ছাত্র-জনতা স্লোগান দিতে থাকে ‘শেখ বাড়ির আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, স্বৈরাচারের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’। রাত ৯টা থেকে ৩টি বুলডোজার দিয়ে বাড়ির গেট ও দোতলা বাড়ির অর্ধেক অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় করেন।
বাড়িটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বাবুর। এই বাড়ি থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি, ব্যবসা, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অনেক কিছু। এর আগে ৪ ও ৫ আগস্ট এই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান বিক্ষুব্ধ লোকজন। তবে সেদিন শেখ পরিবারের কেউ বাড়িটিতে ছিলেন না।
খুবিতে মুর্যালসহ ৫ স্থানে ভাঙচুর
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুরসহ পাঁচটি স্থানে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগরীর দৌলতপুরে সরকারি বিএল কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল ভাঙচুর করে। বেলা ১১টার দিকে নগরীর গল্লামারী এলাকায় লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল ভাঙচুর করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কালজয়ী মুজিব’ ম্যুরাল ভাঙচুর করে। রাতে নগরীর দোলখোলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলোর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ভেঙে দেওয়া হয় তার বিলাসবহুল গাড়ি। আগুন দেওয়ার পর ৫ তলা বাড়ির লোকজন আতঙ্কে ছাদে উঠে যায়। পরে ফায়ারা সার্ভিসের দু’টি গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর বাড়ি ভাঙচুর করে লোকজন।
সারা দেশে হামলা ভাঙচুরের আরও কিছু ঘটনা
সিলেটে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ম্যুরাল। গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত ম্যুরালটির অবশিষ্ট অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মুসলিম জনতার ব্যানারে ম্যুরালটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে চট্টগ্রামে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পরে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গিয়ে পুরোনো একাডেমিক ভবনের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। পরে সেখান থেকে তারা জামালখান মোড়ের দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এর আগে বিক্ষুব্ধরা একটি মশাল মিছিল বের করেন।
কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল-আলম হানিফের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে একটি দল। গতকাল রাত ১০টার দিকে এক্সক্যাভেটর নিয়ে তারা বাড়ির সামনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দলটি চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় চার নেতার একজনের নামে থাকা সব স্থাপনার নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত ৯টার দিকে বিক্ষোভ শেষে মিছিল নিয়ে চারটি আবাসিক হল ও একটি স্কুলের নামফলক ভেঙে নতুন নাম দেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান হল’, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ‘ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘নবাব ফয়জুন নেসা চৌধুরানী’ ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়া গোপ মডেল স্কুল’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে শেখ হাসিনার ঘৃণাসূচক ছবি টানিয়ে গণজুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে তাঁর ফেসবুক লাইভে আসার প্রতিবাদ জানান।
নাটোরে সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের পোড়া বাড়ি আলোচিত ‘জান্নাতি প্যালেসে’ আবারও আগুন দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা শহরের কান্দিভিটা এলাকায় সাবেক আগুন দেন। এসময় মাইক বাজিয়ে মিছিল নিয়ে কান্দিভিটাস্থ শিমুলের জান্নাতি প্যালেসে যান এবং আগুন দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পোড়া বাড়ির ভেতরে ছিলেন ছাত্ররা।
প্রতিদিন সকাল হলেই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে যশোরের কেশবপুর উপজেলার পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তবে পাঠ্যবই হাতে শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলেও তাদের মাথার ওপর ঝুলে থাকে এক অজানা শঙ্কা। কারণ, যে ভবনে তারা পড়াশোনা করছে, সেটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—তবুও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সেই ভবনেই প্রতিদিন চলছে পাঠদান।
১৯৯১ সালে প্রতিষ্ঠিত পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার অন্যতম ভরসার কেন্দ্র। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১০৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৬ জন শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু শিক্ষার্থীর তুলনায় শ্রেণিকক্ষের সংকট ও ভবনের নাজুক অবস্থা শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশকে ব্যাহত করছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৯ সালে নির্মিত একাডেমিক ভবনটিই এখন ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় তিন দশকের ব্যবহারে ভবনের অবকাঠামো দুর্বল হয়ে পড়েছে। ভবনে মোট তিনটি কক্ষ রয়েছে। এর একটি অফিস কক্ষ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। মাঝখানের সিঁড়িঘরটিকেও শ্রেণিকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করতে হচ্ছে। সরকারি ক্ষুদ্র মেরামত খাতের অর্থ দিয়ে একটি ছোট টিনশেড নির্মাণ করা হলেও সেটি প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল এবং স্থায়ী সমাধান নয়।
বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, সীমিত জায়গায় একাধিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করতে গিয়ে শিক্ষকরা হিমশিম খাচ্ছেন। শ্রেণিকক্ষের সংকটের কারণে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাদের ভাষ্য, সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানোর সময় প্রতিদিনই দুশ্চিন্তা কাজ করে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বহুদিন ধরেই নতুন ভবনের প্রয়োজনীয়তার কথা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে ঝুঁকি নিয়েই শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমির হোসেন বলেন, বর্তমান ভবনটি দীর্ঘদিনের পুরোনো এবং বিভিন্ন স্থানে ফাটল ও অবকাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি আমাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছি। আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার নতুন ভবনের আবেদন করেছি। দ্রুত নতুন ভবনের অনুমোদন ও নির্মাণকাজ শুরু হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদ (এসএমসি) সভাপতি মো. আব্দুর জলিল বলেন, এই বিদ্যালয়টি এলাকার শতাধিক শিক্ষার্থীর শিক্ষার একমাত্র ভরসা। অথচ তারা প্রতিদিন ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা স্থানীয় জনগণ ও অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনা ঘটার আগেই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিরাপদ অবকাঠামোর অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা বলছেন, শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি নিরাপদ শিক্ষা পরিবেশ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে কেশবপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলাম বলেন, পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবনের বিষয়টি আমাদের জানা আছে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। সরকারি বরাদ্দ পাওয়া সাপেক্ষে নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ইতোমধ্যে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে পাঠদান পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এদিকে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একটাই দাবি—আর কোনো দুর্ঘটনার অপেক্ষা নয়। তারা চান, দ্রুত নতুন ভবনের বরাদ্দ দিয়ে নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হোক। তাদের মতে, একটি দুর্ঘটনা ঘটার পর নয়, তার আগেই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই হবে দায়িত্বশীল প্রশাসনের পরিচয়।
শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে হলে শুধু পাঠ্যক্রম নয়, নিরাপদ ও মানসম্মত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পাত্রপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সেই বাস্তবতারই একটি স্পষ্ট উদাহরণ।
ডেঙ্গু, হাম ও চিকুনগুনিয়াসহ বিভিন্ন রোগ প্রতিরোধ এবং পরিবেশ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে পিরোজপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগে শুরু হয়েছে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা, বৃক্ষরোপণ ও মাদকবিরোধী কর্মসূচি-২০২৬। আজ ৫ জুলাই সকালে পিরোজপুরের পালপাড়া এলাকা থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে পিরোজপুর টাউন ক্লাবের সামনে এসে শেষ হয়।
কর্মসূচির উদ্বোধক হিসেবে নেতৃত্ব দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন। র্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্কাউট সদস্য, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে এলাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, ড্রেনে বা রাস্তার মোড়ে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত ডাস্টবিন ব্যবহারের বিকল্প নেই।
প্রতিটি মহল্লায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য জেলা পরিষদ ও পৌরসভা কর্তৃক পরিচ্ছন্নতা কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে।
বাড়ি বাড়ি গিয়ে গৃহস্থালির বর্জ্য সংগ্রহের জন্য মাসিক নামমাত্র ১০০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়েছে, যাতে প্রতিটি এলাকা নিয়মিত পরিষ্কার থাকে।
এই কার্যক্রমকে টেকসই করতে তরুণ ও যুবকদের সমন্বয়ে এলাকাভিত্তিক তদারকি কমিটি গঠন করা হবে।
পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে গতিশীল করতে জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে পিরোজপুরবাসীকে একটি বিশেষ গাড়ি উপহার দেওয়া হবে।
অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন তার বক্তব্যে দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা যদি ডাস্টবিনে ময়লা না ফেলি, তবে রাস্তাঘাট কখনোই পরিষ্কার থাকবে না। নিজেদের ও সন্তানদের সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগ জরুরি”।
কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে পিরোজপুর পৌরসভা ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো জেলা পরিষদকে সহযোগিতা প্রদান করছে। অভিযানে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন সরাসরি ড্রেনের ময়লা পরিষ্কার করেন , যা স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও সচেতনতা সৃষ্টি করেছে। মাসব্যাপী এই কর্মসূচির মাধ্যমে পিরোজপুর শহরকে একটি আদর্শ ও মডেল হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়।
দেশজুড়ে বিরাজমান গুমোট গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়া থেকে অবশেষে জনজীবনে স্বস্তি ফেরার সুখবর দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আজ রোববার (৫ জুলাই) থেকে পরবর্তী পাঁচ দিন দেশের প্রায় সব বিভাগেই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি কিছু কিছু এলাকায় অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুকের দেওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টিপাতের প্রভাবে আজই সারা দেশের দিনের তাপমাত্রা সর্বোচ্চ ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে, যা চলমান মৃদু তাপপ্রবাহকে অনেকাংশে প্রশমিত করবে।
আগামী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার চিত্র বিশ্লেষণ করে অধিদপ্তর জানিয়েছে, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অধিকাংশ জনপদ এবং রংপুর, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অনেক স্থানে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে দেশের উপকূলীয় ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় বিভাগগুলোর কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে রংপুর বিভাগসহ রাজশাহী, পাবনা, ঢাকা, সিলেট এবং উপকূলীয় জেলাগুলোর ওপর দিয়ে যে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে, বৃষ্টিপাতের প্রভাবে তা ধীরে ধীরে কেটে যাবে। একই সময়ে সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমার পাশাপাশি রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমতে পারে।
সপ্তাহের পরবর্তী দিনগুলোর পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, সোমবারও বৃষ্টির এই প্রবণতা অপরিবর্তিত থাকবে এবং দেশের অধিকাংশ স্থানে মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। মঙ্গলবার থেকে বৃষ্টির তীব্রতা আরও বৃদ্ধি পেয়ে সারা দেশের আটটি বিভাগেরই অধিকাংশ জায়গায় ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যার ফলে দিনের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমবে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারও একই আবহাওয়াজনিক পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দপ্তরের এই প্রাক্কলন অনুযায়ী, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির ফলে জনজীবনে যেমন প্রশান্তি আসবে, তেমনি অতি ভারী বর্ষণের ফলে পাহাড়ি অঞ্চল বা নিচু এলাকায় বিশেষ সতর্কতার প্রয়োজন হতে পারে। সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবেই আবহাওয়া এই পরিবর্তনের দিকে মোড় নিয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো জানিয়েছে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত এই বৃষ্টিপাত জনস্বাস্থ্যের অস্বস্তি কমিয়ে শীতল পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান বিশ্ব এক গভীর ও বহুমাত্রিক সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। জাতিগত, ধর্মীয়, ভাষাগত, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক পরিচয়কে ঘিরে সৃষ্ট নানা সংঘাতের স্থায়ী সমাধান আধিপত্যে নয়; বরং পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সংলাপ ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মধ্যেই নিহিত। মানবসভ্যতার টেকসই অগ্রযাত্রার জন্য বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অভিন্ন মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
শনিবার (৪ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের ওয়েবসাইট ও ‘আল উম্মাহ জার্নাল’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী বিদ্যমান অস্থিরতা ও বিভাজনের প্রেক্ষাপটে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সময়োপযোগী। বিভিন্ন দর্শন, মতাদর্শ ও চিন্তার মানুষের জন্য একটি উন্মুক্ত বুদ্ধিবিনিময়ের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এ উদ্যোগ সভ্যতার চলমান সংকট মোকাবিলায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ভাষা, জাতিসত্তা, ধর্মীয় পরিচয়, সংস্কৃতি ও ভৌগোলিক অবস্থান মানবসভ্যতার স্বাভাবিক বৈচিত্র্যের অংশ। মহান আল্লাহ মানুষকে বৈচিত্র্যের মধ্যেই সৃষ্টি করেছেন। ফলে কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী, জাতি বা মতাদর্শের পক্ষে সমগ্র বিশ্বে আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা যেমন বাস্তবসম্মত নয়, তেমনি তা মানবসভ্যতার কল্যাণও বয়ে আনতে পারে না।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বর্তমান বিশ্বের বহু সংঘাত পরিচয়ের সংকটকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে। কখনো জাতিগত, কখনো ধর্মীয়, কখনো ভাষাগত কিংবা সাংস্কৃতিক বিভাজন সংঘর্ষের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব সংকট উত্তরণে গবেষক, চিন্তাবিদ ও বিভিন্ন মতাদর্শের প্রতিনিধিদের একটি অভিন্ন মানবিক অবস্থান গড়ে তুলতে হবে, যেখানে সংলাপ ও পারস্পরিক বোঝাপড়াই হবে প্রধান ভিত্তি।
তিনি বলেন, ইতিহাস প্রমাণ করে, যুদ্ধ, শক্তির প্রদর্শন কিংবা আধিপত্য কখনো সভ্যতার স্থায়ী সমাধান দিতে পারেনি। বরং মুক্ত চিন্তার বিনিময়, জ্ঞানচর্চা ও পারস্পরিক সম্মানই মানবসভ্যতাকে এগিয়ে নিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতি - শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান, সম্প্রীতি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে। আমরা এমন একটি পৃথিবী চাই, যেখানে সব জাতি, ধর্ম, ভাষা ও সংস্কৃতি নিজ নিজ মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে একসঙ্গে এগিয়ে যাবে এবং মানবসভ্যতার সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে অংশীদার হবে।
তিনি তুরস্ক সফরের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে তিনি উপলব্ধি করেছেন যে ইসলামের প্রকৃত শক্তি কেবল আনুষ্ঠানিক ধর্মীয় আচারে নয়; বরং এর মানবিক চেতনা, নৈতিক মূল্যবোধ ও আত্মিক দর্শনের মধ্যেই নিহিত।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, আল উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট বিভিন্ন দেশ, সংস্কৃতি ও চিন্তার মানুষের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া, জ্ঞানচর্চা এবং সভ্যতার সংলাপকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তুরস্কের জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির সাবেক ডেপুটি চেয়ারম্যান প্রফেসর ইয়াসিন আকতে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, যেখানে অবহেলা ও দুর্নীতি, সেখানেই চাকরিচ্যুত। আমি বদলিতে বিশ্বাস করি না। সততার সঙ্গে কাজ করতে হবে। দুর্নীতি ও ঘুষ-বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। এ ধরনের কোনো অনিয়মকে সরকার প্রশ্রয় দেবে না। শনিবার (৪ জুলাই) নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির ৩১তম বার্ষিক সাধারণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০ শয্যার ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হবে। ইউনিয়নের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সংস্কার করে নতুনভাবে সাজানো হবে এবং সেখানে আরও চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোও আধুনিকায়ন করা হবে।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, স্বাস্থ্য খাতে চলতি বছরই একটি বিপ্লবের সূচনা করতে চায় সরকার। প্রতিটি ক্ষেত্রে নতুন নতুন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে, যাতে জনগণের জীবনমান উন্নত হয় এবং বাংলাদেশ বিশ্ব মানচিত্রে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এবারের বাজেট শুধু টাকার বাজেট নয়, এটি আদর্শের বাজেট। প্রতিটি আদর্শ দুর্নীতিমুক্তভাবে বাস্তবায়ন করা হবে।
নরসিংদীর জেলা প্রশাসক ও নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ইসরাত জাহান কেয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন নরসিংদী সদর আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নরসিংদী-৩ (শিবপুর) আসনের সংসদ সদস্য মঞ্জুর এলাহী, নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনের সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বকুল, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেনসহ অনেকে। অনুষ্ঠানে নরসিংদী ডায়াবেটিক সমিতির সদস্যরাও অংশগ্রহণ করেন।
পিরোজপুরে তিন দিনব্যাপী ‘নজরুল বর্ষ’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে সমাপনী অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) বিকেল ৫টায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে পিরোজপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামের শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে এই সমাপনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন “জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও মানবতার চেতনা নতুন প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তরুণ সমাজকে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক, সাম্য ও মানবিক আদর্শ ধারণ করে দেশ গঠনে এগিয়ে আসতে হবে।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আলাউদ্দীন ভূঞা জনী, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন,সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামুনুর রশীদ ও সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক রহিমা খাতুন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিবৃন্দ।
পুরস্কার বিতরণী শেষে একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে স্থানীয় শিল্পীদের আবৃত্তি, নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার মাধ্যমে জাতীয় কবির সাহিত্য, সংগীত ও চেতনার বিভিন্ন দিক ফুটিয়ে তোলা হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
বাসাবাড়ির বর্জ্য অপসারণে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও অনিয়ম করলে ঠিকাদারদের টেন্ডার বাতিলের হুঁশিয়ারি দিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, বাসাবাড়ি থেকে নিয়মিত বর্জ্য অপসারণ না করা এবং অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভবিষ্যতে তাদের টেন্ডার দেওয়া হবে না। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানীর শান্তিনগর বাজারে ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচিতে এ কথা বলেন তিনি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আরও বলেন, ‘মার্কেট ও হকারদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলতে হবে। নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।’
ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে প্রশাসক জানান, দক্ষিণ সিটির বিভিন্ন ওয়ার্ডে পরিচালিত জরিপে প্রায় ৬৫ শতাংশ বাসাবাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। তাই মশক নিয়ন্ত্রণে নতুন ওষুধ ও লার্ভানাশক ট্যাবলেট ব্যবহার করা হচ্ছে, বিশেষ করে যেসব স্থানে নিয়মিত পৌঁছানো কঠিন।
এ সময় পরিবেশ রক্ষায় বেশি বেশি গাছ লাগানো এবং পরিচ্ছন্ন নগর গড়ে তুলতে নগরবাসীর প্রতি আহ্বান জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক।
বর্ষীয়ান সাংবাদিক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের খণ্ডকালীন শিক্ষক শাহেদ কামাল মারা গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল প্রায় ৮৬ বছর।
শনিবার (৪ জুলাই) সন্ধ্যায় রাজধানীর সিকদার মেডিকেল হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় লাইফ সাপোর্ট প্রত্যাহারের পর তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শাওন্তী হায়দার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘তিনি বেশ কয়েকদিন ধরে অসুস্থ অবস্থায় সিকদার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শনিবার (৪ জুলাই) তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।’
কবি সুফিয়া কামালের ছেলে শাহেদ কামাল ১৯৫৭ সাল থেকে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত হন। ১৯৭৬ সাল থেকে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মৃত্যুর ১৫ দিন পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে শনিবার (৪ জুলাই) সৌদি আরব থেকে একটি বিমানে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসী শফিউল আলমের মরদেহ পৌঁছায়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা কফিন গ্রহণ করেন।
শফিউল আলম সীতাকুণ্ড উপজেলার ভাটিয়ারী ইউনিয়নের মাদামবিবির হাট খাদেমপাড়া গ্রামের মৃত আরিফুর রহমানের ছেলে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ জুন সৌদি আরব সময় রাত প্রায় ২টার দিকে হঠাৎ করে তার বুকে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। সহকর্মীরা দ্রুত তাকে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল মাত্র ৫৫ বছর।
তার মৃত্যুতে স্ত্রী, তিন কন্যা ও একমাত্র পুত্র সন্তানসহ স্বজনরা ভেঙে পড়েছেন। যে মানুষটি বছরের পর বছর প্রিয়জনদের মুখে হাসি ফোটাতে প্রবাসে কঠোর পরিশ্রম করেছেন, সেই মানুষটির নিথর দেহ দেশে ফিরবে— এমন বাস্তবতা মেনে নিতে প্রস্তুত ছিলেন না পরিবারের সদস্যরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শফিউল আলম ছিলেন অত্যন্ত সৎ, পরিশ্রমী ও বিনয়ী একজন মানুষ। এলাকার বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডেও তার অবদান ছিল। প্রবাসে থেকেও তিনি গ্রামের মানুষের খোঁজখবর নিতেন এবং অসহায়দের সহযোগিতা করতেন।
এলাকাবাসী বলেন, ‘শফিউল ভাই আগামী মাসে দেশে আসবেন বলে পরিবারের সবাই অপেক্ষায় ছিল। সন্তানরা বাবাকে বরণ করে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছিল। কিন্তু সেই অপেক্ষা আজ পরিণত হয়েছে শোকে।’
নিহত শফিউল আলমের মেয়ের জামাই মামুনুর রশিদ বলেন, ‘আমার শ্বশুর সৌদি আরবে মারা যান। দূতাবাসের মাধ্যমে তার মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুরে জোহরের নামাজের পর উপজেলার মাদাম বিবির হাট খাদেম পাড়ায় মরহুম শফিউল আলমের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রথম শ্রেণির মাদারীপুর পৌরসভায় দীর্ঘদিনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সড়কের পাশে দুর্গন্ধ ছড়ানো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে আধুনিক ও টেকসই ডাম্পিং ষ্টেশনের উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সকালে মাদারীপুর পৌরসভা প্রশাসক (উপসচিব) জেসমিন আক্তার বানুকে সাথে নিয়ে এর উদ্বোধন করেন মাদারীপুর সদর-২ আসনের সংসদ সদস্য জাহান্দার আলী মিয়া।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াদিয়া শাবাব, পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আবু আহম্মেদ মো. ফিরোজ ইলিয়াস, জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক (সাবেক) নজরুল ইসলাম লিটু, যুগ্ম-আহবায়ক মিজানুর রহমান মুরাদ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট গুলজার আহম্মেদ চিশতী, কৃষকদল নেতা অহিদ খান, স্বেচ্ছাসেকদল নেতা শাহাদাত হোসেন সহ গণমাধ্যম কর্মী এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
মাদারীপুরের সদরের ঝাউদি ইউনিয়নের চরব্রাম্মন্দিতে মাদারীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে পৌরসভার অনুকূলে হস্তানকৃত প্রায় তিন একর জায়গায় ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে আধুনিক এই ডাম্পিং ষ্টেশনটির কাজ উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথি এমপি জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন যাবত মাদারীপুর পৌরবাসী জনাকীর্ণ জায়গায় সড়কের পাশে অপরিকল্পিতভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় কষ্ট পাচ্ছিলেন, তার থেকে পৌরবাসিকে পরিত্রাণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের গৃহীত অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি আধুনিক ও টেকসই এই ডাম্পিং ষ্টেশনের কাজটি উদ্বোধন করা হলো, এটির নির্মান কাজ সম্পন্ন হলে মানুষের আর দূর্গন্ধ সহ্য করতে হবে না ও নানাবিধ রোগবালাই থেকে পরিত্রাণ পাবে।
পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু তার বক্তব্যে বলেন, সরকারের গৃহীত উন্নয়ন কর্মসূচির সুফল যাতে মানুষ ভোগ করতে পারে সেজন্য মাদারীপুর পৌরসভা সম্পূর্ণ আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি এসময় প্রধান অতিথি এমপি জাহান্দার আলী মিয়াসহ উপস্থিত সবাইকে এমন উন্নয়ন কাজের সহযোগিতা করার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।
কক্সবাজারের টেকনাফের পাহাড়ঘেঁষা বাহারছড়া এলাকায় অপহরণ, মুক্তিপণ, মাদক ও মানবপাচার দমনে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর পাহাড়ে পরিচালিত অভিযানের আদলে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অপহরণপ্রবণ এলাকায় স্থায়ী পুলিশ চৌকি স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে চিরুনি অভিযান এবং রোহিঙ্গাদের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
শনিবার (৪ জুলাই) কক্সবাজারের টেকনাফে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কক্সবাজার জেলা প্রশাসক আবদুল মান্নান। প্রধান অতিথি ছিলেন কক্সবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। এ ছাড়া পুলিশ, বিজিবি, উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বাহারছড়ার বর্তমান পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দিয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা এলাকাটিকে সন্ত্রাসী ও অপহরণকারী চক্রের দখলমুক্ত করতে দ্রুত সমন্বিত যৌথ অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে অপহরণপ্রবণ এলাকায় পুলিশ টহল ও নজরদারি বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
সভা শেষে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করে সংঘটিত অপহরণ, মাদক ও অন্যান্য অপরাধ দমনে দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হবে। অপরাধীরা যাতে সহজে জামিনে বের হয়ে পুনরায় অপরাধে জড়াতে না পারে, সে জন্য কার্যকর আইনগত উদ্যোগও নেওয়া হবে।’
এদিকে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের অবৈধ জাতীয় পরিচয়পত্র শনাক্ত, মোবাইল আর্থিক সেবার অপব্যবহার বন্ধ এবং অপহরণকারী ও মানবপাচারকারী চক্রের তালিকা তৈরি করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। সভায় টেকনাফকে অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
খুলনার ডুমুরিয়া অঞ্চলে মাদকদ্রব্যের ভয়াবহ বিস্তার রোধ, তরুণ সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা এবং একটি সুস্থ-সুন্দর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে এক বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৪ জুলাই) সামাজিক সংগঠন ‘নিরাপদ খুলনা চাই’ ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির উদ্যোগে ডুমুরিয়া বাসস্ট্যান্ড চত্বরে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
নিরাপদ খুলনা চাই ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির সদস্য সচিব শেখ ফরহাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশিষ্ট সমাজসেবক এবং সংগঠনের উপজেলা আহ্বায়ক মো. শাহজাহান জোমাদ্দার, মাদক নির্মূলে একাট্টা জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসন।
সমাবেশে প্রধান অতিথি সাবেক উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান গাজী আব্দুল হালিম বলেন, ‘মাদক একটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে নীরবে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচাতে হলে দল-মত নির্বিশেষে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। ডুমুরিয়াকে যেকোনো মূল্যে মাদকমুক্ত করতে প্রশাসনকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ‘নিরাপদ খুলনা চাই’-এর খুলনা জেলা সভাপতি সরদার বাদশা বলেন, ‘মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা প্রশাসনিক অভিযানের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি।’
অনুষ্ঠানের এবং নিরাপদ সড়ক চাই’র সভাপতি মো. শাহজান জমাদার তার বক্তব্যে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, ‘মাদকের অভয়ারণ্য ডুমুরিয়াতে হতে দেওয়া হবে না। যারা এই ব্যবসার সঙ্গে জড়িত, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।’ এ সময় পুলিশকে সঠিক তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি। আরও বক্তব্য রাখেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মান্নান, নিরাপদ খুলনা চাই’র জেলা সভাপতি সরদার বাদশা, সাধারণ সম্পাদক শেখ মো. ওলিয়ার রহমান, ডুমুরিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাহতাব হোসেন, খুলনা জেলা ঠিকাদার কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক শেখ বদরুজ্জামান বাবলু, রঞ্জন সরদার মো. ওলিয়ার রহমান, অ্যাড. মমিনুর রহমান নয়ন, বিএনপি নেতা শেখ শাহিনুর রহমান, আজিজুর রহমান মোড়ল, ডুমুরিয়া বাজার কমিটির সভাপতি শেখ মাহাবুবুর রহমান, হাফেজ মতিয়ার রহমান, মাওলানা তৌফিকুল রহমান, নুর মোহাম্মদ শেখ ও মো. ফারুক শেখসহ প্রমুখ।
মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার উৎরাইল-শিবচর সড়কে আড়িয়াল খাঁ নদের ওপর নির্মিত ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ‘লিটন চৌধুরী’ সেতুর পশ্চিম প্রান্তে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সেতুর একটি পিলার ও সংযোগ সড়কের অতি কাছ পর্যন্ত ভাঙন পৌঁছে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
শিবচর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ৫৫০ মিটার দীর্ঘ দৃষ্টিনন্দন সেতুটি ২০২৩ সালে সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। তবে নির্মাণের মাত্র কয়েক বছরের মধ্যেই আড়িয়াল খাঁ নদের ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে এ গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো।
বর্তমানে সেতুর পশ্চিম প্রান্তের দক্ষিণ পাশে নয়াবাজার এলাকায় নদীতে তীব্র ঘূর্ণিস্রোতের সৃষ্টি হয়েছে। সেই স্রোতের আঘাতে নদীতীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বর্ষা মৌসুমেও একই এলাকায় প্রায় ২০০ মিটার নদীতীর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছিল। চলতি বর্ষার শুরুতেই পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আবারও ভাঙন শুরু হয়েছে। এখন ভাঙন সেতুর একটি মূল পিলারের ১০০ ফুটেরও কম দূরত্বে পৌঁছে যাওয়ায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম সরদার বলেন, ‘গত বছর বর্ষার শুরুতেই সেতুর নিচের অনেক জায়গা ভেঙে যায়। এবারও একইভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পুরো সেতুই নদীগর্ভে চলে যেতে পারে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতু নির্মাণের আগে কিংবা পরে প্রয়োজনীয় নদীশাসন (রিভার ট্রেনিং) এবং স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণ না করায় প্রতিবছর বর্ষা এলেই নদীভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। তাদের মতে, সময়মতো কার্যকর নদীশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া হলে বর্তমান পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হতো।
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ভাঙনরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে শুধু কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত লিটন চৌধুরী সেতুই নয়, এর সংযোগ সড়ক এবং নয়াবাজারের একাংশও নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে। তাই সেতু রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে স্থায়ী তীররক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় নদীশাসনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ এম ইবনে মিজান বলেন, ‘বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ভাঙনের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে ইতোমধ্যে অবহিত করা হয়েছে।’