মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬
২৮ বৈশাখ ১৪৩৩

তোফায়েল-আমু-কাদের-শামীম ওসমানের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর-আগুন

তোফায়েল আহমেদের ভোলার গাজিপুর রোডের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০৩

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পূর্তি ছিল গত বুধবার। সেদিনই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে বুধবার রাতে প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গুঁড়িয়ে দেয় তারা। সে রাতে ভাষণও দেন ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। এতে ক্ষোভের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ধানমণ্ডিতে শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি ‘সুধা সদন’ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর এই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার কারণে সারা দেশে আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকে। গত বুধবার রাতেই ভোলায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে, বরিশালে দলটির আরেক বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর বাড়িতে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে, নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়াও নওগাঁয় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদারের বাড়ি, রাজশাহীতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতেও হামলা, বাঙচুর ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন এবং দলটির অনেক নেতার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

তোফায়েল আহমেদের ভোলার বাসায় ভাঙচুর, আগুন

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভোলার দোতলা বাসভবনে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার রাতে শহরের গাজীপুর রোডের ‘প্রিয় কুটির’ নামের বাসভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।

এ সময় তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে একটি ক্রেন ও একটি এক্সকাভেটর আনা হয়। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ফায়ার সার্ভিসের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১টার দিকে দুই-তিন শ বিক্ষুব্ধ জনতা তোফায়েল আহমেদের বাসায় ভাঙচুর চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বাসায় দোতলা ও নিচতলায় আগুন দেয় তারা। পরে তাদের মধ্য থেকে একটি দল সড়কে হ্যান্ডমাইকে জয়বাংলার গান বাজিয়ে নাচতে থাকে ও গানের তালে তালে জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর আর ভোলায় আসেননি অসুস্থ তোফায়েল। বাসাটিতে তার ছেলে থাকতেন বলে জানা গেছে।

ভোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তারা কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পাননি।

বরিশালে আমুর বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে আগুন

বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে জনতা। গত বুধবার রাত ২টার দিকে সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দিয়ে নগরীর বগুড়া রোডের বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করা হয়। রাত ৩টার দিকে ভাঙচুর শেষে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও জনতা নগরীর কালীবাড়ী রোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাড়িটিও বুলডোজার চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়। তারপর সেখানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে কালীবাড়ী রোডে এসে পুলিশ অবস্থান নেয়। রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনীরি সদস্যরাও সেখানে আসেন। একই সময় ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে কালীবাড়ি রোডের ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ এর দিকে এগোয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়কের দুইপাশ থেকেই প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে ভবনের ভেতর প্রবেশ করে।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনেও এ ভবনটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর গ্রামের বাড়িটিতে এ হামলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি বসুরহাট বাসস্ট্যান্ড হয়ে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে থাকা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার দোতালা ভবন হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙা হয়। পরে ভাঙচুর করা হয় তার ছোট ভাই শাহাদাত মির্জার ভবনও।

এর আগে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের দিন বিকালে ওই বাড়ির পাঁচটি বসতঘর এবং দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সেদিন বাড়িটির বেশ কিছু আসবাব লুটপাটও হয়।

নাজিম উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ৫ আগস্টের কিছুদিন পর কাদের মির্জা ভবনটি সংস্কার করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় কাদেরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হল। তবে হামলা-ভাঙচুরের সময় তাদের পরিবারের কেউ ছিলেন না। কাদেরের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম।

গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি

নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। তার আগে বহু লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। ভবনটি ভাঙার কাজ চলার সময় সেখানে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়৷

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির একটি মিছিল বের হয়। তাতে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মিছিলটি শহরের চাষাঢ়ায় বায়তুল আমানের সামনে এসে পৌঁছালে শুরুতে বড় আকারের হাতুড়ি দিয়ে ভবনটির দেয়াল ভাঙতে শুরু করেন লোকজন। পরে একটি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ভবনটির ভেতরের একটি অংশেও দেওয়া হয় আগুন।

ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাংবাদিকদের বলেন, “খুনি হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বছরের পর বছর মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। শামীম ওসমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অসংখ্য গুম, খুন করেছে। ওসমান বাহিনীর প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ, এই ভবনটি ভাঙার মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷”

এর আগে বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কয়েকটি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময়ও নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির ওই দুই নেতা। সেখানেই দুপুরে ঘোষণা দেওয়া হয় সন্ধ্যার পর বায়তুল আমান ভবনটিও ভেঙে ফেলার।

খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ এখন ধ্বংসস্তূপ

খুলনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ চাচাতো ভাইয়ের ‘শেখ বাড়িতে’ গত বুধবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাড়ির ইট ও রড খুলে নিয়ে গেছে লোকজন। প্রায় দেড় দশক খুলনায় ‘ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু’ থাকা ভাঙা বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।

এদিন দুপুরে নগরীর শেরে বাংলা রোডে গিয়ে দেখা যায়, ‘শেখ বাড়ি’ এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ। অসংখ্য মানুষ হাতুড়ি দিয়ে ইট খুলে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকে করে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ যন্ত্রপাতি দিয়ে রড কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ইট ও রড খুলে ওই বাড়ির সামনে বিক্রি করছে। ভোর থেকে এই কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। বিকেলে বাড়িটির সামনে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র।

বাড়ির চত্বরে ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে রড কিনছিলেন শেখপাড়া এলাকার এক ভাঙাড়ির দোকানি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানি বলেন, এখানে সস্তায় কিনতে পারছি, সে কারণে এখানে এসেছি।

রিকশায় করে ইট নিয়ে যাওয়ার সময় চালক সোলায়মান হোসেন বলেন, ‌‘১৫ বছর আওয়ামী লীগের লোকজন লুট করেছে। সে কারণে এখন তাদের ইট-রড খুলে নিয়ে যাচ্ছি। এই বাড়ির লোকজন খুলনার মানুষের ওপর অনেক নিপীড়ন চালিয়েছে।’

এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শেখ বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় ছাত্র-জনতা স্লোগান দিতে থাকে ‘শেখ বাড়ির আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, স্বৈরাচারের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’। রাত ৯টা থেকে ৩টি বুলডোজার দিয়ে বাড়ির গেট ও দোতলা বাড়ির অর্ধেক অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় করেন।

বাড়িটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বাবুর। এই বাড়ি থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি, ব্যবসা, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অনেক কিছু। এর আগে ৪ ও ৫ আগস্ট এই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান বিক্ষুব্ধ লোকজন। তবে সেদিন শেখ পরিবারের কেউ বাড়িটিতে ছিলেন না।

খুবিতে মুর‌্যালসহ ৫ স্থানে ভাঙচুর

এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুরসহ পাঁচটি স্থানে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগরীর দৌলতপুরে সরকারি বিএল কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল ভাঙচুর করে। বেলা ১১টার দিকে নগরীর গল্লামারী এলাকায় লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল ভাঙচুর করা হয়।

এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কালজয়ী মুজিব’ ম্যুরাল ভাঙচুর করে। রাতে নগরীর দোলখোলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলোর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ভেঙে দেওয়া হয় তার বিলাসবহুল গাড়ি। আগুন দেওয়ার পর ৫ তলা বাড়ির লোকজন আতঙ্কে ছাদে উঠে যায়। পরে ফায়ারা সার্ভিসের দু’টি গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর বাড়ি ভাঙচুর করে লোকজন।

সারা দেশে হামলা ভাঙচুরের আরও কিছু ঘটনা

সিলেটে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ম্যুরাল। গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত ম্যুরালটির অবশিষ্ট অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মুসলিম জনতার ব্যানারে ম্যুরালটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে চট্টগ্রামে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পরে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গিয়ে পুরোনো একাডেমিক ভবনের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। পরে সেখান থেকে তারা জামালখান মোড়ের দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এর আগে বিক্ষুব্ধরা একটি মশাল মিছিল বের করেন।

কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল-আলম হানিফের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে একটি দল। গতকাল রাত ১০টার দিকে এক্সক্যাভেটর নিয়ে তারা বাড়ির সামনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দলটি চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় চার নেতার একজনের নামে থাকা সব স্থাপনার নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত ৯টার দিকে বিক্ষোভ শেষে মিছিল নিয়ে চারটি আবাসিক হল ও একটি স্কুলের নামফলক ভেঙে নতুন নাম দেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান হল’, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ‘ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘নবাব ফয়জুন নেসা চৌধুরানী’ ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়া গোপ মডেল স্কুল’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে শেখ হাসিনার ঘৃণাসূচক ছবি টানিয়ে গণজুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে তাঁর ফেসবুক লাইভে আসার প্রতিবাদ জানান।

নাটোরে সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের পোড়া বাড়ি আলোচিত ‘জান্নাতি প্যালেসে’ আবারও আগুন দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা শহরের কান্দিভিটা এলাকায় সাবেক আগুন দেন। এসময় মাইক বাজিয়ে মিছিল নিয়ে কান্দিভিটাস্থ শিমুলের জান্নাতি প্যালেসে যান এবং আগুন দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পোড়া বাড়ির ভেতরে ছিলেন ছাত্ররা।


সিগারেটের দাম সর্বোচ্চ ৩৫ সর্বনিম্ন ১৭ টাকা করার প্রস্তাব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তরুণ সমাজকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা, অকাল মৃত্যু রোধ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিটি সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১৭ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাব দেয় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো।

সংবাদ সম্মেলনে প্রিমিয়াম, উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন— এই চারটি মূল্যস্তর নির্ধারণ করে সিগারেটের দাম বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রিমিয়াম স্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য ২০০ টাকা এবং এর সঙ্গে ৬৭ শতাংশ এক্সাইজ বা আবগারি শুল্ক ও প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই হিসাবে প্রতিটি সিগারেটের খুচরা মূল্য দাঁড়ায় ৩৫ টাকা।

উচ্চ মূল্যস্তরের প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য আগের তুলনায় ১০ টাকা বাড়িয়ে ১৫০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে ৬৭ শতাংশ এক্সাইজ শুল্ক ও প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর যুক্ত হলে প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম দাঁড়াবে ২৫ টাকা ৪৫ পয়সা, যা আগের তুলনায় প্রতি শলাকায় প্রায় ২ টাকা বেশি।

মধ্যম ও নিম্নস্তরের ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ৮০ ও ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সঙ্গে ৬৭ শতাংশ এক্সাইজ শুল্ক ও প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর সংযুক্ত হলে, প্রতিটি সিগারেটের দাম দাঁড়াবে ১৭ টাকা ১ পয়সা।

সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হলে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। দীর্ঘমেয়াদে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৫ জন তরুণের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে তামাক ব্যবহারের হার প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমবে এবং ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তামাক কর রাজস্ব আদায় হবে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।

সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সবধরনের দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু সিগারেটের দাম কেন বাড়বে না? আমরা সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি, যাতে অর্থনৈতিক কারণেই তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ ধূমপান থেকে নিরুৎসাহিত হয়। কারণ, ধূমপানের ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও তরুণরা ক্যান্সার, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।

তিনি আরও বলেন, সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সরকার অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। এই অর্থ জনস্বাস্থ্য খাতে, বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ব্যয় করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।

এনবিআরের প্রতি প্রশ্ন রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সুফিয়ান নাহিন শিমুল বলেন, দেশে সব পণ্যের দাম বাড়ে, কিন্তু সিগারেটের দাম বাড়াতে এনবিআরের এত আপত্তি কেন? আমরা মূলত নিম্ন ও মধ্যমস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি। কারণ, সিগারেটের প্রায় ৯০ শতাংশ বাজার এই দুই স্তরের দখলে।

এই শ্রেণির ভোক্তারা দামের বিষয়ে খুব সংবেদনশীল। একইভাবে যারা নতুন করে ধূমপান শুরু করে, তাদের কাছেও দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে দাম বাড়লে তারা ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে বলেও তিনি মনে করেন।

জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, দেশে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রে ধূমপান প্রধান কারণ। একটি সিগারেটে প্রায় ৭ হাজার রাসায়নিক উপাদান থাকে, যার মধ্যে অন্তত ৭০টি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর প্রায় ১২ হাজার মানুষ শুধু ফুসফুস ক্যান্সারে মারা যায়। তাই মানুষকে ধূমপান থেকে দূরে রাখতে না পারলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বড়ো চাপ তৈরি হবে।


ধেয়ে আসছে নতুন বৃষ্টিবলয়, ৯ দিন বজ্রবৃষ্টির শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের দিকে ধেয়ে আসছে নতুন বৃষ্টি বলয়। আজ ১২ বা ১৩ মে দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষক দল (বিডব্লিউওটি)।

সংস্থাটি জানিয়েছে, বৃষ্টিবলয়ের প্রভাবে টানা ৯ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

বিডব্লিউওটি আরও জানায়, ১২ বা ১৩ মে দেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে এ বৃষ্টি বলয় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এরপর ১২ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত এটি সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি টানা না হয়ে বিরতি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি বলয়টি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে। একই সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে তীব্র বজ্রপাতের প্রবল আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।

এছাড়া রাজশাহী বিভাগ, ঢাকা বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হতে পারে। যদিও এসব অঞ্চলে বড় পরিসরে বা দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষ করে খুলনা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ-এ এ বৃষ্টি বলয়ের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকতে পারে। সেখানে আবহাওয়া প্রায় স্বাভাবিক থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বিচ্ছিন্নভাবে দুয়েক দিন হালকা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে, তবে তা বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না।


মাটিকাটা গর্তের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নে মাটি কাটা গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে নিহা ও জান্নাত নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আতিক উল্লাহ হাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো, ওই বাড়ির জোবায়েদের মেয়ে নিহা আক্তার (৩) ও একই বাড়ির ইউসুফের মেয়ে জান্নাত (৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ওই বাড়ির পাশ থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছিল। ফলে ওই কাটা অংশগুলোতে গর্তের সৃষ্টি হয়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সেই গর্তে পানি জমে যায়। দুপুরে দুই শিশু একসাথে বাড়ির আঙ্গিনায় খেলতে খেলতে গর্তের কাছে চলে যায়। এক সময় সেখানে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায় তারা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাদের খুঁজতে শুরু করলে কিছুক্ষণ পর গর্তের পানিতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, নরোত্তমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। এ মাটি কাটার ফলে একদিকে যেমন ফসলের জমি নষ্ট হচ্ছে, তেমনি যে সড়কগুলো দিয়ে মাটি পরিবহন করা হয় সেগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ। আর মাটি কাটার ফলে সৃষ্টি হওয়া গর্তগুলো শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিবারের কোনও অভিযোগ নেই। ঘরের জন্য মাটি কাটার ওই গর্তে পড়ে তারা মারা যায়।


পবিপ্রবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস-পরীক্ষা স্থগিত

আপডেটেড ১১ মে, ২০২৬ ২২:২৭
পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকেরা। হামলার বিচার দাবি করে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা সোয়া ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষকেরা বলেন, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় উপাচার্যের নির্দেশে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।

শিক্ষকদের দাবি, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সংঘটিত ওই হামলায় ডিন, অধ্যাপক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের অনেককে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম, ড. আবদুল মালেক, ড. মো. আতিকুর রহমান, ড. নিজাম উদ্দীন, ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ননী গোপাল, ড. রিপন চন্দ্র পাল, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. জসিম উদ্দিন ও কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার।

সংবাদ সম্মেলনে হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত গতকাল সোমবার বেলা ১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, পরীক্ষা এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাসার, সহযোগী অধ্যাপক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম, কৃষিবিদ ড. হাসিব মোহাম্মদ তুষার, টিএসসি পরিচালক আবুবকর সিদ্দিক, পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম রাতুল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনিসহ অনেকে।


নওগাঁয় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজে ধাক্কা, নিহত ২ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর পত্নীতলায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। গত রোববার (১১ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আমবাটি ডাবল ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে মতিউর (৪৫) এবং একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল (৪৫)।

পত্নীতলা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মতিউর এবং নাজমুল বাড়ি থেক একটি প্রাইভেটকারে করে হিলির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রাইভেটকারটি নজিপুর-ধামুইরহাট আঞ্চলিক সড়কের আমবাটি ডাবল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মতিউর ও নাজমুল গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।

পত্নীতলা থানার ওসি মোহাম্মদ নিয়ামুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’


প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে বহিরাগত কাউকে নিয়োগ না দেয়ার  আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে বহিরাগত কাউকে নিয়োগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (গাকৃবিশিস)। এ লক্ষে গত রোববার (১০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছেন সংগঠনের নেতারা।

মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, সম্প্রতি বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রো-ভিসি নিয়োগের গুঞ্জন শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বহু সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সিনিয়র অধ্যাপক রয়েছেন, যারা প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। এমন বাস্তবতায় বহিরাগত কাউকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ, গবেষণা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিক্ষকরা উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা, বিভাজন ও অরাজক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, যা একটি অনন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ শিক্ষক সমিতির অন্যান্য সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষকবৃন্দ।

মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের কৃষি শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গবেষণার এক গর্বিত আলোকবর্তিকা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র‌্যাঙ্কিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি বৈশ্বিক অঙ্গনেও নিজেদের অনন্য সক্ষমতা ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও পরীক্ষিত শিক্ষকগণের মূল্যায়ন হওয়াটাই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক প্রত্যাশা।


নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের সম্মেলন শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ‘নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের (এনআইওএইচসি) ২৫তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌপ্রধান (অপারেশন্স ) এবং ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটি ও নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি বিশ্বের অন্য মেরিটাইম রাষ্ট্রসমূহের ন্যায় জাতীয় পর্যায়ে একটি স্বতন্ত্র হাইড্রোগ্রাফিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে 'ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফার' প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফার বাংলাদেশের সামগ্রিক হাইড্রোগ্রাফিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন ও জবাবদিহিমূলক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবেন। এ ধরনের উদ্যোগ বাণিজ্যিক ও অন্য সমুদ্রগামী জাহাজসমূহের নিরাপদ নেভিগেশন এবং সাগরে চলাচল নিশ্চিতের মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে। সেই সাথে সুনীল অর্থনীতি কার্যক্রম ও উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশ বিভিন্ন হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের অগ্রগতি, অর্জিত সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপিত হয়। পাশাপাশি উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমে পারস্পরিক সমন্বয়, কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ সহায়তা বিষয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ১৫টি আঞ্চলিক কমিশনের মধ্যে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন’ অন্যতম। আন্দামান সাগর থেকে এডেন উপসাগর পর্যন্ত উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই সম্মেলনে কমিশনের সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ, মিশর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডসহ সহযোগী রাষ্ট্র অস্ট্রোলিয়া, ফ্রান্স, ওমান, মরিশাস, সেশেলস, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে।

এছাড়াও পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সুদানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং হাইড্রোগ্রাফিক সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা যোগদান করে।

জানা গেছে, বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের জন্য নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফি কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।

সম্মেলনে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার (আইএইচও) পরিচালক এবং নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক, সামরিক ও অসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


শিকারীদের কবল থেকে হরিণ উদ্ধার, বনে অবমুক্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

চোরাশিকারীদের কবল থেকে চরদুয়ানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইটি জীবিত হরিণ উদ্ধার করেছেন বনরক্ষীরা। হরিণ দুটি সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়া বিশেষ ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার সুরজিত চৌধুরীর নেতৃত্বে বনরক্ষীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১১ মে) সকালে পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের গাববাড়ীয়া এলাকায় অভিযান চালায়।

বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারীরা হাজীবাড়ী মসজিদের কাছে পুকুরে হরিণটিকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। অপর হরিণটি উদ্ধার হয়েছে একই দিন বেলা দুইটার দিকে কালিয়ারখাল এলাকায়। বনরক্ষীদের দেখে শিকারীরা পালিয়ে যায়।বনরক্ষীরা হরিণটি দুটিকে উদ্ধার করে জ্ঞানপাড়া টহল ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। একটি হরিণ কিছুটা আহত থাকায় সেটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শরীফুল ইসলাম বলেন, চরদুয়ানী এলাকায় উদ্ধার করা হরিণ দুইটি শিকারীরা সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো। পায়ে কিছুটা আহত একটি হরিণকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দুইটি হরিণ সোমবার বেলা তিনটার দিকে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


ফরিদপুরে অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগ অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সকালে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এইঅনদান বিতরণ করেন ফরিদপুর সদর -৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।

তিনি বলেন, আমাদের চারপাশে অনেক হতদরিদ্র মানুষ আছে যারা সামান্য সহযোগিতা পায়না। দুস্থ, দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। আমরা ৫ বছর সময় পেয়েছি জনগণের সেবা করার। ইনশাআল্লাহ কাউকে আমাদের কাছে আসতে হবে না। আমরা সবাই মিলে জনগণের সেবা করবো।

ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্টানে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, ফরিদপুর জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানাসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, আমি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।


১০০ টাকার বেশি বিল নিলে ঠিকাদারি লাইসেন্স বাতিল: ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১০০ টাকার অতিরিক্ত বিল আদায় এবং নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (পিসিএসপি) উদ্দেশ্যে এই বার্তা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি লাঘব এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।

প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বিদ্যমান বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে এবং প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করছে না। এ বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা বিল নিতে হবে এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে এবং লাইসেন্স বাতিল করা হবে।

আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতির বিষয়েও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের স্বার্থে ঈদের তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের মাঠে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। 'দিনের বর্জ্য দিনেই' অপসারণ নিশ্চিত করাকে এই সভার অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিবেশগত দিকের ওপর জোর দিয়ে জানানো হয়েছে যে, কোনোভাবেই রাস্তা বা খালে ময়লা ফেলা যাবে না। যদি কোনো বাসা থেকে নির্ধারিত স্থানে ময়লা না রেখে যত্রতত্র ফেলা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বাড়ির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পোশাকের পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিকদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার জন্যও সভায় আহ্বান জানানো হয়। প্রশাসক স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল একটি ব্যবসায়িক সেবা নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে ডিএসসিসি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো দ্বিধা করবে না বলেও তিনি সর্তক করেন।

পরিশেষে সভায় জানানো হয় যে, একটি পরিচ্ছন্ন ও উন্নত নগরী গড়তে ডিএসসিসি সব সময় বদ্ধপরিকর। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে এবং জনস্বার্থে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে প্রশাসকের এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।


ঝিনাইদহে জমিতে পানি দেয়া নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৮

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্ধি ইউনিয়নের দহকোলা গ্রামে ধানের জমির পানি এক জমি থেকে অন্য জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, দহকোলা গ্রামে আলিমদ্দি ও জাহিদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পৃথক দুটি সামাজিক দল রয়েছে। গত শুক্রবার (৮ মে) জাহিদ বিশ্বাসের সমর্থক সঞ্জয়ের ধানের জমির পানি আলিমউদ্দিন সমর্থক রবেন মণ্ডলের জমিতে প্রবেশ করলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনার জেরে শনিবার (৯) সন্ধ্যায় সঞ্জয়কে মারধরের অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১১ মে) সকালে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়|

ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই আবুল বাসার জানান, জমির পানি অন্য জমিতে যাওয়া নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে| পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে| অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে|


বিলুপ্তির পথে ভাগ্যবদলের ‘লতিরাজ’   

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাটের লতিরাজ কচুর লতি একসময় কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক বা 'ভাগ্যবদলকারী' ফসল হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। একসময় এটি বিদেশেও রপ্তানি হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। বিলুপ্তির পথে রয়েছে এটি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উন্নত জাতের চারা সরবরাহ না করলে এই ঐতিহ্যবাহী ফসলটি পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা।

জানা যায়, সকাল হলেই পাঁচবিবি উপজেলার বটতলীতে জমে উঠে লতির হাট। এই লতির হাটের জন্য এই স্থানের নাম হয়ে উঠেছে লতিহাটি। তবে বাজারের সঠিক ব্যবস্থা ও পণ্য সংরক্ষণের সঠিক জায়গা না থাকায় এখন এই বাজার হারাচ্ছে তার গৌরব। এর সাথে হারিয়ে যাচ্ছে জয়পুরহাটের গর্ব লতিরাজ কচু।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে কচুর লতি চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে সারের দাম বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রণোদনা না পাওয়ায় অনেকেই এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন বাজারে কচুর লতির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাজারে স্থিতিশীলতা নেই। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং পণ্য সংরক্ষণেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কচুর লতি চাষে এখনই কার্যকর কোন উদ্যোগ না নিলে জয়পুরহাটের এই ঐতিহ্যবাহী ‘লতিরাজ’ একসময় শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হবে।

এ বিষয়ে কৃষিবিদ ও সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে কচুর লতি আবারও জয়পুরহাটের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য হিসেবে ফিরে আসতে পারে। এজন্য প্রয়োজন কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান। এছাড়া একটি সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পাঁচবিবি উপজেলায় তিন মৌসুমে কচুর লতি চাষ হয়। আমাদের এ বছরের লক্ষ্য মাত্রা ৯৩০ সেক্টর জমি। কচুর লতি চাষে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আর বাজার সংক্রান্ত যে সমস্যাটি রয়েছে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


কালিয়াকৈরে তিনজনকে হত্যায় গ্রামজুড়ে গ্রেপ্তার আতঙ্ক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে পিটুনিতে ৩জন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে গ্রামজুড়ে। এখন গরু চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহাড়া দিবেন নাকি গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে থাকবেন-এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ভুগছেন গ্রামের মানুষ।

ঘটনাস্থল ঘুরে এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নিয়মিত খামার ও বাড়ি বাড়ি থেকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। চোরচক্রের হানায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন পশু খামারিসহ অসহায় কৃষক পরিবার।

এই অবস্থার মধ্যেই গত শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি গরু চোর চক্র পিকআপ ভ্যান নিয়ে উপজেলার ইউনিয়নের বাগচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাক দিলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করেন। আর ধাওয়া খেয়ে চোরচক্র পিকআপ ভ্যান যোগে পালিয়ে যাওয়া চেষ্টা করলে রাস্তায় গতি রোধ করেন এলাকাবাসী। একপর্যায়ে তারা রোববার (১০ মে) ভোর ৪টার দিকে রাস্তায় গাছ ফেলে দুই চোরকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।

চোরচক্রের বাকি সদস্যরা দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এসময় তারা ওই পিকঅ্যাপ ভ্যান থেকে তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দাস উদ্ধার করেন। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চোরচক্রের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে আগুনে ওই পিকঅ্যাপ ভ্যানটির অধিকাংশ পুড়ে যায়। অপরদিকে পাশের তালচালা এলাকা থেকে এক গরু চোরকে আটক করে পিটুনি দেয় এলাকাবাসী।

খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা ও ফুলবাড়িয়া ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুত্ব আহত তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিম হোসেন, আজাহারুল ইসলাম ও কৃষ্ণ বর্মণ নামে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় ওইদিন রাতে কালিয়াকৈর থানার ফুলবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০০ জনের নামে মামলা করেন। গতকাল সোমবার সকালে ওই মামলার বিষয়টি জানাজানি হলে গরু চুরি আতঙ্কের সঙ্গে চোর সন্দেহে তিনজনকে হত্যা মামলায় শুরু নতুন করে যুক্ত হয় গ্রেপ্তার আতঙ্ক।

এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ৩জনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।


banner close