শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

তোফায়েল-আমু-কাদের-শামীম ওসমানের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর-আগুন

তোফায়েল আহমেদের ভোলার গাজিপুর রোডের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০৩

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পূর্তি ছিল গত বুধবার। সেদিনই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে বুধবার রাতে প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গুঁড়িয়ে দেয় তারা। সে রাতে ভাষণও দেন ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। এতে ক্ষোভের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ধানমণ্ডিতে শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি ‘সুধা সদন’ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর এই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার কারণে সারা দেশে আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকে। গত বুধবার রাতেই ভোলায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে, বরিশালে দলটির আরেক বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর বাড়িতে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে, নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়াও নওগাঁয় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদারের বাড়ি, রাজশাহীতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতেও হামলা, বাঙচুর ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন এবং দলটির অনেক নেতার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

তোফায়েল আহমেদের ভোলার বাসায় ভাঙচুর, আগুন

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভোলার দোতলা বাসভবনে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার রাতে শহরের গাজীপুর রোডের ‘প্রিয় কুটির’ নামের বাসভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।

এ সময় তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে একটি ক্রেন ও একটি এক্সকাভেটর আনা হয়। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ফায়ার সার্ভিসের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১টার দিকে দুই-তিন শ বিক্ষুব্ধ জনতা তোফায়েল আহমেদের বাসায় ভাঙচুর চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বাসায় দোতলা ও নিচতলায় আগুন দেয় তারা। পরে তাদের মধ্য থেকে একটি দল সড়কে হ্যান্ডমাইকে জয়বাংলার গান বাজিয়ে নাচতে থাকে ও গানের তালে তালে জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর আর ভোলায় আসেননি অসুস্থ তোফায়েল। বাসাটিতে তার ছেলে থাকতেন বলে জানা গেছে।

ভোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তারা কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পাননি।

বরিশালে আমুর বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে আগুন

বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে জনতা। গত বুধবার রাত ২টার দিকে সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দিয়ে নগরীর বগুড়া রোডের বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করা হয়। রাত ৩টার দিকে ভাঙচুর শেষে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও জনতা নগরীর কালীবাড়ী রোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাড়িটিও বুলডোজার চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়। তারপর সেখানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে কালীবাড়ী রোডে এসে পুলিশ অবস্থান নেয়। রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনীরি সদস্যরাও সেখানে আসেন। একই সময় ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে কালীবাড়ি রোডের ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ এর দিকে এগোয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়কের দুইপাশ থেকেই প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে ভবনের ভেতর প্রবেশ করে।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনেও এ ভবনটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর গ্রামের বাড়িটিতে এ হামলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি বসুরহাট বাসস্ট্যান্ড হয়ে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে থাকা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার দোতালা ভবন হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙা হয়। পরে ভাঙচুর করা হয় তার ছোট ভাই শাহাদাত মির্জার ভবনও।

এর আগে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের দিন বিকালে ওই বাড়ির পাঁচটি বসতঘর এবং দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সেদিন বাড়িটির বেশ কিছু আসবাব লুটপাটও হয়।

নাজিম উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ৫ আগস্টের কিছুদিন পর কাদের মির্জা ভবনটি সংস্কার করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় কাদেরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হল। তবে হামলা-ভাঙচুরের সময় তাদের পরিবারের কেউ ছিলেন না। কাদেরের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম।

গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি

নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। তার আগে বহু লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। ভবনটি ভাঙার কাজ চলার সময় সেখানে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়৷

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির একটি মিছিল বের হয়। তাতে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মিছিলটি শহরের চাষাঢ়ায় বায়তুল আমানের সামনে এসে পৌঁছালে শুরুতে বড় আকারের হাতুড়ি দিয়ে ভবনটির দেয়াল ভাঙতে শুরু করেন লোকজন। পরে একটি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ভবনটির ভেতরের একটি অংশেও দেওয়া হয় আগুন।

ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাংবাদিকদের বলেন, “খুনি হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বছরের পর বছর মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। শামীম ওসমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অসংখ্য গুম, খুন করেছে। ওসমান বাহিনীর প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ, এই ভবনটি ভাঙার মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷”

এর আগে বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কয়েকটি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময়ও নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির ওই দুই নেতা। সেখানেই দুপুরে ঘোষণা দেওয়া হয় সন্ধ্যার পর বায়তুল আমান ভবনটিও ভেঙে ফেলার।

খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ এখন ধ্বংসস্তূপ

খুলনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ চাচাতো ভাইয়ের ‘শেখ বাড়িতে’ গত বুধবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাড়ির ইট ও রড খুলে নিয়ে গেছে লোকজন। প্রায় দেড় দশক খুলনায় ‘ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু’ থাকা ভাঙা বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।

এদিন দুপুরে নগরীর শেরে বাংলা রোডে গিয়ে দেখা যায়, ‘শেখ বাড়ি’ এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ। অসংখ্য মানুষ হাতুড়ি দিয়ে ইট খুলে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকে করে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ যন্ত্রপাতি দিয়ে রড কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ইট ও রড খুলে ওই বাড়ির সামনে বিক্রি করছে। ভোর থেকে এই কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। বিকেলে বাড়িটির সামনে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র।

বাড়ির চত্বরে ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে রড কিনছিলেন শেখপাড়া এলাকার এক ভাঙাড়ির দোকানি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানি বলেন, এখানে সস্তায় কিনতে পারছি, সে কারণে এখানে এসেছি।

রিকশায় করে ইট নিয়ে যাওয়ার সময় চালক সোলায়মান হোসেন বলেন, ‌‘১৫ বছর আওয়ামী লীগের লোকজন লুট করেছে। সে কারণে এখন তাদের ইট-রড খুলে নিয়ে যাচ্ছি। এই বাড়ির লোকজন খুলনার মানুষের ওপর অনেক নিপীড়ন চালিয়েছে।’

এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শেখ বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় ছাত্র-জনতা স্লোগান দিতে থাকে ‘শেখ বাড়ির আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, স্বৈরাচারের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’। রাত ৯টা থেকে ৩টি বুলডোজার দিয়ে বাড়ির গেট ও দোতলা বাড়ির অর্ধেক অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় করেন।

বাড়িটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বাবুর। এই বাড়ি থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি, ব্যবসা, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অনেক কিছু। এর আগে ৪ ও ৫ আগস্ট এই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান বিক্ষুব্ধ লোকজন। তবে সেদিন শেখ পরিবারের কেউ বাড়িটিতে ছিলেন না।

খুবিতে মুর‌্যালসহ ৫ স্থানে ভাঙচুর

এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুরসহ পাঁচটি স্থানে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগরীর দৌলতপুরে সরকারি বিএল কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল ভাঙচুর করে। বেলা ১১টার দিকে নগরীর গল্লামারী এলাকায় লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল ভাঙচুর করা হয়।

এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কালজয়ী মুজিব’ ম্যুরাল ভাঙচুর করে। রাতে নগরীর দোলখোলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলোর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ভেঙে দেওয়া হয় তার বিলাসবহুল গাড়ি। আগুন দেওয়ার পর ৫ তলা বাড়ির লোকজন আতঙ্কে ছাদে উঠে যায়। পরে ফায়ারা সার্ভিসের দু’টি গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর বাড়ি ভাঙচুর করে লোকজন।

সারা দেশে হামলা ভাঙচুরের আরও কিছু ঘটনা

সিলেটে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ম্যুরাল। গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত ম্যুরালটির অবশিষ্ট অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মুসলিম জনতার ব্যানারে ম্যুরালটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে চট্টগ্রামে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পরে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গিয়ে পুরোনো একাডেমিক ভবনের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। পরে সেখান থেকে তারা জামালখান মোড়ের দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এর আগে বিক্ষুব্ধরা একটি মশাল মিছিল বের করেন।

কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল-আলম হানিফের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে একটি দল। গতকাল রাত ১০টার দিকে এক্সক্যাভেটর নিয়ে তারা বাড়ির সামনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দলটি চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় চার নেতার একজনের নামে থাকা সব স্থাপনার নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত ৯টার দিকে বিক্ষোভ শেষে মিছিল নিয়ে চারটি আবাসিক হল ও একটি স্কুলের নামফলক ভেঙে নতুন নাম দেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান হল’, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ‘ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘নবাব ফয়জুন নেসা চৌধুরানী’ ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়া গোপ মডেল স্কুল’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে শেখ হাসিনার ঘৃণাসূচক ছবি টানিয়ে গণজুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে তাঁর ফেসবুক লাইভে আসার প্রতিবাদ জানান।

নাটোরে সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের পোড়া বাড়ি আলোচিত ‘জান্নাতি প্যালেসে’ আবারও আগুন দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা শহরের কান্দিভিটা এলাকায় সাবেক আগুন দেন। এসময় মাইক বাজিয়ে মিছিল নিয়ে কান্দিভিটাস্থ শিমুলের জান্নাতি প্যালেসে যান এবং আগুন দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পোড়া বাড়ির ভেতরে ছিলেন ছাত্ররা।


নির্বাচিত

প্রকৃত সাংবাদিক নির্ধারণে যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা জরুরি: তথ্যমন্ত্রী

সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কে সাংবাদিক, আর কে সাংবাদিক নয় তা নির্ধারণ করার জন্য একটি যথাযথ কর্তৃপক্ষ থাকা অত্যন্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির ৩৪তম এবং নবগঠিত কমিটির প্রথম সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির সদস্যদের প্রতিটি সিদ্ধান্তে দেশের সংবিধান, প্রচলিত আইন ও বিধি-বিধানের যথাযথ প্রতিফলন নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে তিনি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা এবং সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার মানসিকতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। পাশাপাশি সরকারের গৃহীত সিদ্ধান্তগুলো যাতে সবার কাছে সর্বজনগ্রাহ্য হয়, সে বিষয়টিও কমিটিকে স্মরণ করিয়ে দেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক দল হিসেবে নয়, বরং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসেবে সকল নাগরিকের প্রতি সমান দায়বদ্ধতা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

গণমাধ্যমকে একটি বহুপক্ষীয় ক্ষেত্র উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘এখানে বিভিন্ন মত, দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার মানুষের সহাবস্থানের কোনো বিকল্প নেই। তাই কোনো সংকীর্ণ বা পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্ত নয়; বরং অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ধারণ করার নীতি অনুসরণ করতে হবে। কঠিন ও সংবেদনশীল পরিস্থিতিতেও গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত গ্রহণেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রকৃত সক্ষমতা প্রকাশ পায়।’

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে রাষ্ট্রের অন্যতম কৌশলগত ও রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল মন্ত্রণালয় হিসেবে অভিহিত করে তিনি আরও বলেন, ‘এখানে সামান্য ভুল সিদ্ধান্তও ভবিষ্যতে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই তাৎক্ষণিক চিন্তার বাইরে গিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কমিটির সদস্যদের প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার ওপরই সিদ্ধান্তের সামগ্রিক গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করবে।’

প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় তথ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. শাহ আলম, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং প্রেস অ্যাক্রিডিটেশন কমিটির নবগঠিত সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

চট্টগ্রামে কারখানায় বিস্ফোরণ, দগ্ধ পাঁচজনের কেউই বাঁচল না

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে একটি লবণ কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত শ্রমিকের নাম মাহমুদুল হক (৪০)। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

মাহমুদুল পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়নের গোরনখাইন এলাকার বাসিন্দা। এ নিয়ে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল পাঁচে।

এর আগে ১৬ জুলাই সকাল ১০টার দিকে বোয়ালখালী পৌরসভার পশ্চিম গোমদণ্ডী এলাকায় কনফিডেন্স সল্ট কোম্পানির কারখানায় আগুন লাগে। এ ঘটনায় ১০ জন আহত হন, তাদের মধ্যে গুরুতর দগ্ধ ৫ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করা হয়। আর তিনজনকে ঢাকা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। চমেকে ভর্তি হওয়া পাঁচজনের সবারই মৃত্যু হয়েছে।

চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, দুর্ঘটনার দিন রাতে গুরুতর দগ্ধ মোহাম্মদ নুরুল আলম (৪৫) ও দিদারুল আলম (৩২) মারা যান। ১৯ জুলাই মারা যান রাঙ্গুনিয়ার পোমরা এলাকার উজ্জ্বল দাশ (৫৩) এবং বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী এলাকার নুর নবী (২৫)। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) মারা যান মাহমুদুল হক।

চমেক হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার রাশেদ উল ইসলাম বলেন, ‘বিস্ফোরণে মাহমুদুল হকের শরীরের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ পুড়ে যায়। গুরুতর অবস্থায় তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ চিকিৎসা থাকার পর তিনি মারা যান।


নির্বাচিত

২০ জেলায় ডিসি, ১৯১ উপজেলায় ইউএনও

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের মাঠ প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় ও গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে বর্তমানে নারী কর্মকর্তাদের উপস্থিতি স্মরণকালের সর্বোচ্চ। বর্তমানে ৬৪ জেলার ২০টিতে নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং ৪৯৯ উপজেলার ১৯১টিতে নারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজ করছেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি প্রশাসনে নারীর সক্ষমতা ও নেতৃত্বের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির প্রতিফলন।

আটটি বিভাগের মধ্যে ঢাকা বিভাগে নারী ডিসির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বিভাগের ১৩ জেলার মধ্যে নয়টিতেই নারী ডিসি রয়েছেন।

এ ছাড়া খুলনা বিভাগে চারজন, চট্টগ্রাম বিভাগে তিনজন, রংপুর বিভাগে দুজন এবং রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগে একজন করে নারী ডিসি দায়িত্ব পালন করছেন।

ডিসিদের পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পদেও নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে।

দেশের ৪৯৯ উপজেলার মধ্যে ১৯১টিতে প্রশাসন ক্যাডারের নারী কর্মকর্তারা ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অর্থাৎ মোট ইউএনও পদের প্রায় ৩৯ শতাংশই নারীদের দখলে।

একইভাবে ভূমি ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর দায়িত্বে থাকা ৪৭৮ জন সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসিল্যান্ডের মধ্যে ১১৬ জন নারী। এটি মোট কর্মকর্তার ২৪ শতাংশের বেশি।

মাঠ প্রশাসন তদারককারী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা নারীদের এই অগ্রগতিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) পালিত হলো জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একজন যুগ্ম সচিব বলেন, ‘১০ বছর আগেও রাঙামাটির বাঘাইছড়ির মতো উপজেলায় কোনো নারী ইউএনও দায়িত্ব পালন করবেন—এটি কল্পনাও করা যেত না। মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নারী কর্মকর্তাদের পদায়নের ক্ষেত্রে আমাদের আগে দুবার ভাবতে হতো। অনেক নারী কর্মকর্তাও দুর্গম এলাকায় যেতে অনীহা প্রকাশ করতেন। এখন দুই দিক থেকেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নারী কর্মকর্তারা নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছেন। তাই তাদের মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ দিতে এখন আর দ্বিধা থাকে না। মাঠপর্যায় থেকেও ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, ‘মাঠ প্রশাসনে নারী ডিসি ও ইউএনওর সংখ্যা বেড়ে যাওয়া শুধু সংখ্যাগত পরিবর্তন নয়। এটি রাষ্ট্রীয় প্রশাসনে নারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নেতৃত্বের বাস্তব প্রতিফলন। প্রশাসনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়লে সিদ্ধান্ত গ্রহণে বৈচিত্র্য আসে, সেবার মান উন্নত হয় এবং জনগণের আস্থা আরও শক্তিশালী হয়।’

এর একটি উদাহরণ শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়। শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার বাসিন্দা আজাফার আলী জানান, বর্তমান জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সহযোগিতায় তার অভিজ্ঞতা ইতিবাচক।

তিনি বলেন, ‘আমার মায়ের নামে অধিগ্রহণ করা জমির ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রায় ২০ লাখ টাকা পেয়েছি। শুনেছিলাম, সব কাগজপত্র ঠিক থাকলেও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ পেতে অনেক ভোগান্তি হয়। কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসক আন্তরিকতার সঙ্গে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করেছেন। এতে আমরা খুবই সন্তুষ্ট।’

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে কর্মরত ১ হাজার ৮৫ জন কর্মকর্তার মধ্যে ৩৩২ জন নারী। অর্থাৎ মোট কর্মকর্তার ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।

মাঠ প্রশাসনের সর্বোচ্চ স্তর বিভাগীয় পর্যায়ে বর্তমানে ১৮ জন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারের মধ্যে পাঁচজন নারী। এটি মোট পদের প্রায় ২৮ শতাংশ।

তবে বিভাগীয় কমিশনারের পদে বর্তমানে কোনো নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন না।

সব মিলিয়ে মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় ৩০ শতাংশ পদে নারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।

কেন্দ্রীয় প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও নারীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি রয়েছে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ৮৮টি সচিব বা সচিব-সমমর্যাদার পদের মধ্যে ১৫টিতে নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।

এ ছাড়া প্রশাসনে ৩৬১ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে ৭৩ জন, ১ হাজার ৫১ জন যুগ্ম সচিবের মধ্যে ২৪৯ জন নারী।

অন্যদিকে ১ হাজার ৬৪৩ জন উপসচিবের মধ্যে ৪০৪ জন এবং ৩ হাজার ৩৫০ জন সহকারী ও জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিবের মধ্যে ৯৮৬ জন নারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করছেন।


নির্বাচিত

ভোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধসামগ্রী বিতরণ কোস্ট গার্ডের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভোলার চর মানিকায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের ব্যবস্থাপনায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলাধীন কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট চর মানিকায় মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই মেডিকেল ক্যাম্পেইনে ২৬৫ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী প্রদান করা হয়।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’


নির্বাচিত

অগ্রণী ব্যাংকে চুরির চেষ্টা ব্যর্থ, আনসারের অভিযানে আটক ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফরিদপুর সদর উপজেলার অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান শাখায় গভীর রাতে সংঘটিত চুরির চেষ্টা নস্যাৎ করে চুরিকৃত মালামালসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। ডিউটিরত সদস্যদের সতর্কতা, তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত ও সমন্বিত অভিযানের ফলে ব্যাংকের সম্ভাব্য বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে ব্যাংকের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পিসি মো. আবু বক্কর ও এপিসি মো. শহিদ খানের নেতৃত্বে আনসার সদস্য মো. শাহ আলম এবং মো. রাশেদ মিয়া নিয়মিত নিরাপত্তা টহলে নিয়োজিত ছিলেন। এ সময় তারা ব্যাংকের ভবনের এসির বৈদ্যুতিক তার কাটার শব্দ শুনে এবং সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে দ্রুত সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করেন।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পে খবর পাঠানো হয়। সংবাদ পেয়ে ক্যাম্প ইনচার্জ পিসি মো. আবু বক্কর অতিরিক্ত আনসার সদস্যদের নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান পরিচালনা করেন। চারদিক ঘিরে ফেলে কৌশলী অভিযানের মাধ্যমে চুরিকৃত মালামালসহ মো. রাকিব মণ্ডল (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

আটক রাকিব মণ্ডলের বাড়ি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হামদহ গ্রামে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে তাকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়েছে।

ব্যাংক সূত্র জানায়, আনসার সদস্যদের সময়োপযোগী পদক্ষেপ না থাকলে ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা ছিল। তাদের পেশাদারিত্ব ও দ্রুত অভিযানের কারণেই চুরির ঘটনা সফলভাবে প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা, জনসম্পদের সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছে। ফরিদপুরের এই ঘটনায় বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, সতর্কতা ও সাহসিকতা আবারও প্রমাণ করেছে, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে আনসার সদস্যরা সবসময়ই নির্ভরযোগ্য ও কার্যকর ভূমিকা পালন করে চলেছেন।


নির্বাচিত

অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে টিআইবির প্রতিবেদনের সঙ্গে পুলিশের তথ্যের মিল নেই: ডিএমপি কমিশনার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধি নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) সাম্প্রতিক প্রকাশিত প্রতিবেদনের সাথে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) নিজস্ব তথ্য-উপাত্তের মিল নেই বলে মন্তব্য করেছেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ। দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই মাসের পরিসংখ্যানে শহরে অপরাধ প্রবণতা কমেছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দুপুরে শাহবাগ থানা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘টিআইবির প্রতিবেদনে রাজধানীতে অপরাধ বৃদ্ধির যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা পুলিশের তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।’ পুলিশের নিয়মিত অপরাধ পরিসংখ্যান ও মাঠপর্যায়ের পর্যবেক্ষণে ভিন্ন চিত্র পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি জানান, নগরের অপরাধপ্রবণ এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশের সংখ্যা। পোশাক ছাড়াও সাদা পোশাকে পুলিশও দায়িত্ব পালন করছেন ২৪ ঘণ্টা। এতে কমেছে চুরি ছিনতাইয়ের মতো ঘটনা।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘অপরাধ দমনের পাশাপাশি পুলিশ সদস্যদের কর্মপরিবেশ ও মানসিক সুস্থতার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দায়িত্ব পালনের চাপ কমাতে এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’ পুলিশ সদস্যদের কেউ ব্যক্তিগত বা পারিবারিক কারণে মানসিক চাপে থাকলে তা গোপন না রেখে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মাধ্যমে সহায়তা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


নির্বাচিত

মন্ত্রণালয়ে চাকরিতে যোগ দিতে এসে গ্রেপ্তার ৩ জন রিমান্ডে

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রক্সি পরীক্ষার্থীদের সহায়তায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পেয়ে যোগদানপত্র দাখিল করতে এসে ফেস ভেরিফিকেশনে ধরা পড়া চার আসামির মধ্যে তিনজনকে শাহবাগ থানার প্রতারণার মামলায় একদিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে মামলার দুই নম্বর আসামি মো. আলিমকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদ তদন্ত কর্মকর্তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। এর আগে গত সোমবার তাদের ভিন্ন আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হয়।

রিমান্ডে পাঠানো তিন আসামি হলেন- মো. রাসেল রানা লিটন (৩২), মো. আলী হায়দার (২৯) এবং মো. মাসুদ ফকির (৩১)।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক মো. আবদুল গাফফার (হিমেল) আসামিদের আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেককে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।


নির্বাচিত

রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়নে বিআইডব্লিউটিএ’র কার্যক্রম আরও জোরদারের নির্দেশনা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নৌপরিবহন খাতে সেবার মান বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারণ এবং অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও দক্ষ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিআইডব্লিউটিএ’র কার্যক্রম আরও গতিশীল করার নির্দেশনা দিয়েছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, এমপি এবং মন্ত্রণালয়ের সম্মানিত সচিব জাকারিয়া। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিআইডব্লিউটিএ’র প্রধান কার্যালয়ের ৬ষ্ঠ তলার সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ‘কর্তৃপক্ষের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি ও সেবার মানোন্নয়ন’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তারা এসব নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভার শুরুতে সরকারের অতিরিক্ত সচিব এবং বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম কর্তৃপক্ষের আয়-রাজস্ব বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমের ওপর একটি পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন।

উপস্থাপনায় ড্রেজিং কার্যক্রম, নৌপথের নাব্যতা রক্ষা, নদী বন্দর ব্যবস্থাপনা, ইজারা কার্যক্রম, রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, নৌ-নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সেবার ডিজিটাল রূপান্তরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।

সভায় প্রতিমন্ত্রী ও সম্মানিত সচিব কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমকে আরও ফলপ্রসূ ও জনকল্যাণমুখী করতে একাধিক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— এক. ড্রেজিং কার্যক্রম ব্যয়-সাশ্রয়ীভাবে পরিচালনা করে অধিক প্রয়োজনীয় নৌপথে অগ্রাধিকারভিত্তিতে খনন নিশ্চিত করা; দুই. নৌপথে চলাচলের নিরাপত্তা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বয়া, বাতি, বিকন এবং বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত নৌ-চিহ্ন (মার্কার) আরও দৃশ্যমান করতে প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ; তিন. বন্দর বিভাগের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ৭ম দফা পর্যন্ত ইজারায় অনিষ্পন্ন ঘাটগুলো বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তি করা; চার. ফোরশোর ও তীরভূমি ব্যবহার ফি যুগোপযোগী করার মাধ্যমে রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ঘাট পয়েন্টসংক্রান্ত দেওয়ানী মোকদ্দমাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ; পাঁচ. নদী বন্দর এলাকায় মালামাল ওঠানামার ক্ষেত্রে পর্যায়ক্রমে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি চালু করা; ছয়. নৌপথে চলাচলকারী বিভিন্ন নৌযানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ; এবং সাত. বন্দর বিভাগের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ।

সভায় বক্তারা বলেন, ‘সরকারের স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিআইডব্লিউটিএকে আরও দক্ষ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করতে হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আহরণের নতুন ক্ষেত্র সৃষ্টি এবং বিদ্যমান সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।’

সভায় সদস্য (অর্থ) (গ্রেড-২) ক্যাপ্টেন (অব.) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য (পরিকল্পনা ও পরিচালন) ও যুগ্ম সচিব মো. সাজেদুর রহমান, সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার এবং প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) সেলিম আহমদসহ বিআইডব্লিউটিএ’র সকল বিভাগীয় প্রধান এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সভা শেষে প্রতিমন্ত্রী ও সম্মানিত সচিব প্রদত্ত নির্দেশনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিআইডব্লিউটিএ’র সেবার গুণগত মান বৃদ্ধি, রাজস্ব আহরণ সম্প্রসারণ, নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

সংগ্রামী ইকনের সংবাদ প্রকাশের পর চারিদিক থেকে আসছে সহায়তার আশ্বাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাচ্চু মল্লিক, বাগেরহাট

সংবাদ প্রকাশের পর বাগেরহাটের সংগ্রামী এইচএসসি পরীক্ষার্থী ইকনের পাশে দাঁড়াতে দেশ-বিদেশের অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী এগিয়ে এসেছেন। তার লেখাপড়া অব্যাহত রাখা এবং পরিবারের দুর্দিন কাটিয়ে উঠতে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান আর্থিক ও মানবিক সহায়তার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

‎ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকাল ১১টায় বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন ইকনের হাতে নগদ আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।এ সময় জেলা প্রশাসক ইকনের পড়ালেখা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নগদ অর্থ, খাদ্যসামগ্রীসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাউদ্দিন, বাগেরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোসা. আতিয়া খাতুন এবং ইকনের বড় মামা।

‎এর আগে গত ২১ তারিখ মঙ্গলবার পিতার আকষ্মিক মৃত্যুর পর বাবার দাফন সম্পন্ন করে সেদিন রাতেই জীবিকার তাগিদে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে দায়িত্ব পালন এবং পরদিন সকালে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ইকনের সংগ্রামী জীবনের খবর প্রকাশিত হলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

এরপর থেকেই দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীরা তার পাশে দাঁড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করছেন। বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠন ইকনের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া এবং পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন।


নির্বাচিত

ডুমুরিয়ায় চড়া মাছের দাম, সবজি ও মাংসে স্বস্তি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​ ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়া বাজারে বেশ কিছুদিন ধরে সবজি ও ব্রয়লার মুরগির দাম স্থিতিশীল থাকলেও ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সকালে ডুমুরিয়ার পাইকারি ও কয়েকটি খুচরা কাঁচাবাজার ঘুরে এমন চিত্রই লক্ষ্য করা গেছে।

​জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরেই কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ২০০ টাকা, পটল ৪০-৫০ টাকা, শসা ৫৫-৬০ টাকা, বেগুন ৮০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, পেঁপে ৩০-৪০ টাকা, প্রতি পিস লাউ ৪০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, টমেটো ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা ৩৫-৪০ টাকা, ওল ৮০ টাকা, ঝিঙে ৪০-৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০ টাকা এবং লেবুর হালি ১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে পরিবহন, বিদ্যুৎ ও ইজারা খরচের কারণে দাম কিছুটা বেশি পড়ছে।

​এদিকে মাংসের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ২৮০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা, লেয়ার ৩০০-৩১০ টাকা, গরুর মাংস ৮০০ টাকা এবং খাসির মাংস ১২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।

​তবে মাছের বাজারে গিয়ে ক্রেতাদের বেশ বিপাকে পড়তে হচ্ছে। বাজার ঘুরে দেখা যায়, আকারভেদে রুই মাছ কেজিপ্রতি ২৫০-৪০০ টাকা, কাতল ৩৫০-৫৫০ টাকা, চিংড়ি ৮০০-১২০০ টাকা, ভেটকি ৪০০-৫৫০ টাকা, পাবদা ৩৫০-৪০০ টাকা, টেংরা ৫০০-৭০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৬০ টাকা এবং পাঙাশ ১৫০-১৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া ১০-১৫ কেজি ওজনের বড় পাঙাশ বিক্রি হচ্ছে ৭৫০ টাকা কেজি দরে।

​​​কাঁচামাল ব্যবসায়ী আব্দুল জলিল বলেন, ​‘পাইকারি বাজার থেকে কাঁচামাল কিনে এনে লেবার খরচ, ভ্যান ভাড়া, বাজারের ইজারা ও বিদ্যুৎ বিল মেটাতে হয়। যে কারণে পাইকারি দরের চেয়ে খুচরা বাজারে দাম একটু বেশি রাখতে হয়। তবুও বর্তমানে সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় ক্রেতাদের নাগালের মধ্যেই দাম রয়েছে।’

​​মুরগির ক্রেতা রবিউল ইসলাম বলেন, ​‘মাছ কিনতে গেলে বাজেট পার হয়ে যায়। তাই প্রোটিনের চাহিদা মেটাতে ব্রয়লার মুরগির ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। বেশ কিছুদিন ধরে দাম একই জায়গায় স্থির থাকায় সাধারণ মানুষের জন্য বাজার করা কিছুটা সহজ হয়েছে।’


নির্বাচিত

মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির সুযোগ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি

স্বপ্নের পথে কোনো বাধা যে অজেয় নয়, তা প্রমাণ করে দেখালেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পালি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নীলাওয়ান রাখাইন। রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর এক মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই অদম্য তরুণী যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করার গৌরব অর্জন করেছেন।

ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটন এবং কেন্ট স্টেট ইউনিভার্সিটিতে তিনি পিএইচডি করার সুযোগ পান। এর মধ্যে ক্লেমসন ইউনিভার্সিটি ও ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি ব্লুমিংটন—এই দুই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই সম্পূর্ণ অর্থায়নসহ ফুল ফান্ডেড পিএইচডি স্কলারশিপ পেয়েছেন তিনি।

নীলাওয়ান রাখাইন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের পালি বিভাগের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী ছিলেন। কক্সবাজারের রাখাইন সম্প্রদায়ে জন্ম নেওয়া নিলাওয়ান রাখাইন বাংলাদেশের একজন সুপরিচিত শিক্ষাবিদ, শিক্ষক প্রশিক্ষক এবং সমাজকর্মী। তিনি বর্তমানে ইউনিসেফ ও এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে শিক্ষক প্রশিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন। এ ছাড়া তিনি ‘চালুং একাডেমি’ নামক একটি অ্যাডুকেশনাল প্ল্যাটফর্ম পরিচালনা করেন।

নীলাওয়ান রাখাইনের এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। তিনি একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, যেখানে শিক্ষার সুযোগ ছিল সীমিত। অনার্সে পড়ার সময় অনেকেই তাকে নিরুৎসাহিত করতেন। অনেকে বলতেন পালি বিষয়ে পড়ে কোনো ভবিষ্যৎ নেই, তাকে বৈষম্যেরও শিকার হতে হয়েছে। একজন মেয়ে হিসেবেও শুনতে হয়েছে নানা সীমাবদ্ধতার কথা। কিন্তু নীলাওয়ান দমে যাননি। এই সমালোচনা ও বাধাকেই তিনি নিজের এগিয়ে যাওয়ার শক্তিতে রূপান্তর করেছেন।

রাখাইন জাতি থেকে উঠে এসে যুক্তরাষ্ট্রে পিএইচডি করার সুযোগ পাওয়াকে নিজের জন্য বড় অর্জন বলে মনে করেন নীলাওয়ান। রাখাইন জনগোষ্ঠীর মধ্যে উচ্চশিক্ষার সুযোগ দীর্ঘদিন ধরে খুবই সীমিত। নীলাওয়ান আশা করেন, তার এই সাফল্য অন্যদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

​নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে নীলাওয়ান বলেন, ‘আজ আমি গর্বিত যে পিএইচডি করতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পথে। সবচেয়ে বেশি গর্বিত রাখাইন জাতি থেকে উঠে এসে আমি এই সুযোগটি অর্জন করেছি।’ তিনি অন্যদের বিশ্বাস করতে অনুপ্রাণিত করেন, স্বপ্ন পূরণ সম্ভব। তিনি বলেন, ‘কখনোই অন্য কাউকে আপনার সম্ভাবনা নির্ধারণ করতে দেবেন না। বড় স্বপ্ন দেখুন, কঠোর পরিশ্রম করুন এবং নিজের ওপর বিশ্বাস রাখুন।’

নীলাওয়ানের এই সাফল্যের পেছনে তার স্বামীর অটুট সমর্থন ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রতিটি কঠিন সময়ে তার পাশে ছিলেন এবং তাকে সাহস দিয়েছেন। এ ছাড়া তার বাবার অনুপ্রেরণা তার জন্য সবসময় আশীর্বাদ হিসেবে ছিল।

তার পরিবার, শিক্ষক এবং বন্ধুরা তাকে সবসময় এই দীর্ঘ যাত্রায় সমর্থন করেছেন বলে তিনি জানান।

নীলাওয়ান বিশ্বাস করেন যে তিনি একজন যোদ্ধা। জীবনের প্রতিটি চ্যালেঞ্জ তাকে শক্তিশালী করেছে এবং দৃঢ় সংকল্প ও অধ্যবসায় নিয়ে লড়াই করতে শিখিয়েছে। তিনি মনে করেন যে এটি তার যাত্রার কেবল শুরু। আগামী দিনে তার অভিজ্ঞতা, শেখা এবং পথচলার গল্প অন্যদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।


নির্বাচিত

তিস্তা নদীর ভাঙনে গঙ্গাচড়ায় বিলীন ৮ বাড়ি, আতঙ্কে শতাধিক পরিবার

ভাঙন রোধে জরুরি পদক্ষেপসহ পুনর্বাসনের দাবি ক্ষতিগ্রস্তদের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গঙ্গাচড়া (রংপুর) প্রতিনিধি

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের কাচাড়িপাড়া গ্রামে তিস্তা নদীর অব্যাহত ভাঙনে মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত কয়েক দিনের তীব্র ভাঙনে অন্তত আটটি বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। পাশাপাশি শত বিঘা আবাদি জমিও তিস্তার গর্ভে হারিয়ে গেছে। পানি কমতে শুরু করার পর থেকেই ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় নদীর তীরবর্তী শতাধিক পরিবার চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।

সরেজমিনে কাচাড়িপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তিস্তার প্রবল স্রোতে নদীর তীরের বিশাল অংশ মুহূর্তেই ধসে পড়ছে। কোথাও ভাঙন বসতঘরের একেবারে গা ঘেঁষে চলে এসেছে। শেষ সম্বল রক্ষায় কেউ ঘরের টিন খুলে নিচ্ছেন, কেউ ইট, কাঠ ও আসবাবপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। আবার অনেক পরিবার খোলা আকাশের নিচে গৃহস্থালির মালামাল নিয়ে অসহায়ভাবে বসে আছে।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক দিন আগেও তাদের দুশ্চিন্তা ছিল বন্যা নিয়ে। কিন্তু পানি নামতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে নদীর ভাঙন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে তিস্তার পানি বিপৎসীমার প্রায় ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও তীব্র স্রোতের কারণে নদীর তীর দ্রুত ভেঙে পড়ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় আতঙ্কে রয়েছে পুরো জনপদ।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভাঙনে আলহাজ মোত্তালিব, সুরুজ মিয়া ও আনোয়ার হোসেনসহ অন্তত আটটি পরিবারের বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এ ছাড়া শত বিঘা আবাদি জমি তিস্তার গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অনেক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি।

ক্ষতিগ্রস্ত আলহাজ মোত্তালিব বলেন, ‘চোখের সামনে আমার বসতবাড়ি নদীতে চলে গেল। সারাজীবনের কষ্টের অর্জন মুহূর্তেই শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, সেটাই বুঝতে পারছি না।’ সুরুজ মিয়া বলেন, ‘ভিটেমাটি হারিয়ে আমরা একেবারে নিঃস্ব হয়ে গেছি। দ্রুত সরকারি সহযোগিতা না পেলে পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হবে।’

আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘নদী আমার ঘর, জমি সবকিছু কেড়ে নিয়েছে। সন্তানদের নিয়ে কোথায় যাব, সেই চিন্তায় দিন কাটছে।’

নোহালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফ আলী বলেন, ‘ভাঙনের পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। ইতোমধ্যে কয়েকটি বসতবাড়ি ও বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। দ্রুত ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে।’

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘ভাঙনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, ‘ভাঙনের খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ চলমান রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে দ্রুত জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন রোধে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং তিস্তা নদীর স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে কাচাড়িপাড়াসহ আশপাশের আরও বিস্তীর্ণ এলাকা, অসংখ্য বসতবাড়ি, কৃষিজমি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা তিস্তার ভয়াল গ্রাসে হারিয়ে যাবে।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে ইউসুফ ফকির হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

চরাঞ্চলবাসীর উদ্যোগে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুর সদর উপজেলার মমিন খাঁর হাটের বিশিষ্ট ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরকে নির্মমভাবে নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে চরাঞ্চলবাসীর উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণিপেশার হাজারো মানুষ অংশ নিয়ে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্রফেসর আবদুত তাওয়াব, এবি সিদ্দিকী মিতুল, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সেলিম শাহরিয়ার, মো. নাজমুল বেপারী, মির্জা প্রিন্স আলী, রেজাউল করিম বেপারী, মো. রফিকুল ইসলাম, বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল মোল্লা, নিহত ইউসুফ ফকিরের স্ত্রী বেদেনা বেগম ও ছেলে শাহাদাত হোসেনসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, ‘ইউসুফ ফকিরকে অপহরণ করে নির্মম নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। তারা আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন।’ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আসামিদের গ্রেপ্তার করা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

বক্তারা অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পাশাপাশি নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি তোলেন তারা।

মানববন্ধন শেষে ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের উদ্দেশে যায়। পরে জেলা প্রশাসক -ডিসি ও পুলিশ সুপার -এসপি বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।

স্মারকলিপিতে ইউসুফ ফকির হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, নিহতের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং দ্রুত বিচার কার্যকরের দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিনখার হাটের বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ইউসুফ ফকিরকে (৪৫) নিখোঁজের দুই দিন পর তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


নির্বাচিত

banner close