ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পূর্তি ছিল গত বুধবার। সেদিনই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে বুধবার রাতে প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গুঁড়িয়ে দেয় তারা। সে রাতে ভাষণও দেন ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। এতে ক্ষোভের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ধানমণ্ডিতে শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি ‘সুধা সদন’ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর এই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার কারণে সারা দেশে আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকে। গত বুধবার রাতেই ভোলায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে, বরিশালে দলটির আরেক বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর বাড়িতে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে, নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়াও নওগাঁয় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদারের বাড়ি, রাজশাহীতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতেও হামলা, বাঙচুর ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন এবং দলটির অনেক নেতার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তোফায়েল আহমেদের ভোলার বাসায় ভাঙচুর, আগুন
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভোলার দোতলা বাসভবনে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার রাতে শহরের গাজীপুর রোডের ‘প্রিয় কুটির’ নামের বাসভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
এ সময় তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে একটি ক্রেন ও একটি এক্সকাভেটর আনা হয়। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ফায়ার সার্ভিসের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১টার দিকে দুই-তিন শ বিক্ষুব্ধ জনতা তোফায়েল আহমেদের বাসায় ভাঙচুর চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বাসায় দোতলা ও নিচতলায় আগুন দেয় তারা। পরে তাদের মধ্য থেকে একটি দল সড়কে হ্যান্ডমাইকে জয়বাংলার গান বাজিয়ে নাচতে থাকে ও গানের তালে তালে জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর আর ভোলায় আসেননি অসুস্থ তোফায়েল। বাসাটিতে তার ছেলে থাকতেন বলে জানা গেছে।
ভোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তারা কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পাননি।
বরিশালে আমুর বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে আগুন
বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে জনতা। গত বুধবার রাত ২টার দিকে সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দিয়ে নগরীর বগুড়া রোডের বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করা হয়। রাত ৩টার দিকে ভাঙচুর শেষে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও জনতা নগরীর কালীবাড়ী রোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাড়িটিও বুলডোজার চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়। তারপর সেখানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে কালীবাড়ী রোডে এসে পুলিশ অবস্থান নেয়। রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনীরি সদস্যরাও সেখানে আসেন। একই সময় ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে কালীবাড়ি রোডের ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ এর দিকে এগোয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়কের দুইপাশ থেকেই প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে ভবনের ভেতর প্রবেশ করে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনেও এ ভবনটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।
নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর গ্রামের বাড়িটিতে এ হামলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি বসুরহাট বাসস্ট্যান্ড হয়ে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে থাকা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার দোতালা ভবন হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙা হয়। পরে ভাঙচুর করা হয় তার ছোট ভাই শাহাদাত মির্জার ভবনও।
এর আগে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের দিন বিকালে ওই বাড়ির পাঁচটি বসতঘর এবং দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সেদিন বাড়িটির বেশ কিছু আসবাব লুটপাটও হয়।
নাজিম উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ৫ আগস্টের কিছুদিন পর কাদের মির্জা ভবনটি সংস্কার করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় কাদেরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হল। তবে হামলা-ভাঙচুরের সময় তাদের পরিবারের কেউ ছিলেন না। কাদেরের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম।
গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি
নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। তার আগে বহু লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। ভবনটি ভাঙার কাজ চলার সময় সেখানে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির একটি মিছিল বের হয়। তাতে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মিছিলটি শহরের চাষাঢ়ায় বায়তুল আমানের সামনে এসে পৌঁছালে শুরুতে বড় আকারের হাতুড়ি দিয়ে ভবনটির দেয়াল ভাঙতে শুরু করেন লোকজন। পরে একটি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ভবনটির ভেতরের একটি অংশেও দেওয়া হয় আগুন।
ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাংবাদিকদের বলেন, “খুনি হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বছরের পর বছর মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। শামীম ওসমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অসংখ্য গুম, খুন করেছে। ওসমান বাহিনীর প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ, এই ভবনটি ভাঙার মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷”
এর আগে বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কয়েকটি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময়ও নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির ওই দুই নেতা। সেখানেই দুপুরে ঘোষণা দেওয়া হয় সন্ধ্যার পর বায়তুল আমান ভবনটিও ভেঙে ফেলার।
খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ এখন ধ্বংসস্তূপ
খুলনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ চাচাতো ভাইয়ের ‘শেখ বাড়িতে’ গত বুধবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাড়ির ইট ও রড খুলে নিয়ে গেছে লোকজন। প্রায় দেড় দশক খুলনায় ‘ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু’ থাকা ভাঙা বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।
এদিন দুপুরে নগরীর শেরে বাংলা রোডে গিয়ে দেখা যায়, ‘শেখ বাড়ি’ এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ। অসংখ্য মানুষ হাতুড়ি দিয়ে ইট খুলে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকে করে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ যন্ত্রপাতি দিয়ে রড কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ইট ও রড খুলে ওই বাড়ির সামনে বিক্রি করছে। ভোর থেকে এই কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। বিকেলে বাড়িটির সামনে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র।
বাড়ির চত্বরে ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে রড কিনছিলেন শেখপাড়া এলাকার এক ভাঙাড়ির দোকানি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানি বলেন, এখানে সস্তায় কিনতে পারছি, সে কারণে এখানে এসেছি।
রিকশায় করে ইট নিয়ে যাওয়ার সময় চালক সোলায়মান হোসেন বলেন, ‘১৫ বছর আওয়ামী লীগের লোকজন লুট করেছে। সে কারণে এখন তাদের ইট-রড খুলে নিয়ে যাচ্ছি। এই বাড়ির লোকজন খুলনার মানুষের ওপর অনেক নিপীড়ন চালিয়েছে।’
এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শেখ বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় ছাত্র-জনতা স্লোগান দিতে থাকে ‘শেখ বাড়ির আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, স্বৈরাচারের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’। রাত ৯টা থেকে ৩টি বুলডোজার দিয়ে বাড়ির গেট ও দোতলা বাড়ির অর্ধেক অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় করেন।
বাড়িটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বাবুর। এই বাড়ি থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি, ব্যবসা, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অনেক কিছু। এর আগে ৪ ও ৫ আগস্ট এই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান বিক্ষুব্ধ লোকজন। তবে সেদিন শেখ পরিবারের কেউ বাড়িটিতে ছিলেন না।
খুবিতে মুর্যালসহ ৫ স্থানে ভাঙচুর
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুরসহ পাঁচটি স্থানে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগরীর দৌলতপুরে সরকারি বিএল কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল ভাঙচুর করে। বেলা ১১টার দিকে নগরীর গল্লামারী এলাকায় লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল ভাঙচুর করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কালজয়ী মুজিব’ ম্যুরাল ভাঙচুর করে। রাতে নগরীর দোলখোলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলোর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ভেঙে দেওয়া হয় তার বিলাসবহুল গাড়ি। আগুন দেওয়ার পর ৫ তলা বাড়ির লোকজন আতঙ্কে ছাদে উঠে যায়। পরে ফায়ারা সার্ভিসের দু’টি গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর বাড়ি ভাঙচুর করে লোকজন।
সারা দেশে হামলা ভাঙচুরের আরও কিছু ঘটনা
সিলেটে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ম্যুরাল। গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত ম্যুরালটির অবশিষ্ট অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মুসলিম জনতার ব্যানারে ম্যুরালটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে চট্টগ্রামে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পরে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গিয়ে পুরোনো একাডেমিক ভবনের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। পরে সেখান থেকে তারা জামালখান মোড়ের দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এর আগে বিক্ষুব্ধরা একটি মশাল মিছিল বের করেন।
কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল-আলম হানিফের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে একটি দল। গতকাল রাত ১০টার দিকে এক্সক্যাভেটর নিয়ে তারা বাড়ির সামনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দলটি চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় চার নেতার একজনের নামে থাকা সব স্থাপনার নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত ৯টার দিকে বিক্ষোভ শেষে মিছিল নিয়ে চারটি আবাসিক হল ও একটি স্কুলের নামফলক ভেঙে নতুন নাম দেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান হল’, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ‘ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘নবাব ফয়জুন নেসা চৌধুরানী’ ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়া গোপ মডেল স্কুল’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে শেখ হাসিনার ঘৃণাসূচক ছবি টানিয়ে গণজুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে তাঁর ফেসবুক লাইভে আসার প্রতিবাদ জানান।
নাটোরে সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের পোড়া বাড়ি আলোচিত ‘জান্নাতি প্যালেসে’ আবারও আগুন দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা শহরের কান্দিভিটা এলাকায় সাবেক আগুন দেন। এসময় মাইক বাজিয়ে মিছিল নিয়ে কান্দিভিটাস্থ শিমুলের জান্নাতি প্যালেসে যান এবং আগুন দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পোড়া বাড়ির ভেতরে ছিলেন ছাত্ররা।
জাটকা সংরক্ষণে সরকারের খাদ্য সহায়তা কর্মসূচির আওতায় জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠেছে কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও কয়েকজন মেম্বারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় জেলেদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ২০২৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর তারিখে জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে উপসচিব মো. নূরে আলম স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপন ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে পৌঁছেছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, জুনিয়াদহ ইউনিয়নে নিবন্ধিত ১০০ জন জেলের জন্য সরকার ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জনপ্রতি ২৫ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেয়। বরাদ্দকৃত চাল বিতরণের নির্ধারিত তারিখ ছিল ১৪ অক্টোবর ২০২৫। কিন্তু মাঠপর্যায়ের তদন্তে দেখা যায়, তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকজন জেলে তাদের প্রাপ্য চাল পাননি। বিতরণ শীটে সংশ্লিষ্ট জেলেদের স্বাক্ষর বা টিপসইও পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ রয়েছে, বরাদ্দকৃত চালের একটি অংশ চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সকাল প্রায় ১০টার দিকে ইউনিয়ন পরিষদের গুদামঘর থেকে চাল বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
যেসব জেলে চাল পাননি বলে অভিযোগ উঠেছে তাদের মধ্যে রয়েছেন—
আব্দুর রশিদ (পিতা: আব্দুস সামাদ, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০২৯), আব্দুস সামাদ (পিতা: কলিমদ্দিন মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩১), রাকিব (পিতা: আব্দুস সামাদ, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩২), মো. রাজা (পিতা: মৃত আব্দুল মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩৪), কালু মণ্ডল (পিতা: নকিম উদ্দিন মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩৭), আব্দুল মালিথা (পিতা: রহিম মালিথা, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৩৯), হাইদার (পিতা: ইউনুস মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৬৫), মিনারুল (পিতা: ফয়েজ মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০০৮৮), জাহাঙ্গীর আলম (পিতা: হেলাল সদ্দার, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১১২), নুর ইসলাম (পিতা: আজের প্রামাণিক, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১১৫), সাইদুর রহমান (পিতা: অজিত মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১৩২), কুদ্দুস মোল্লা (পিতা: রহমত মোল্লা, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১৩৯), সাজদার সরদার (পিতা: রুকচাঁদ সদ্দার, জেলে কার্ড নং ৪০৫০১৫০০৬৭০০০১৪১) এবং মিলন হোসেন (পিতা: নিজাম মণ্ডল, জেলে কার্ড নং ২৭০৯৬৩৬)। প্রত্যেক জেলের জন্য বরাদ্দ ছিল ২৫ কেজি চাল।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি আমি আগে জানতাম না। আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম। ঘটনাটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
অন্যদিকে জুনিয়াদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান আলী বলেন, ‘১৮ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে মেম্বাররা গুদাম থেকে চাল বের করেছে বলে শুনেছি। তবে তখন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না।’
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ জেলেরা সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে এক ব্যবসায়ীকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বিকেলে কালীগঞ্জ উপজেলার বক্তারপুর ইউনিয়নের আলাউদ্দির টেক এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরওয়ার লিমা।
অভিযানকালে আলাউদ্দির টেক এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন শেখ (৪৩), পিতা কুতুব উদ্দিন, সাং কলাপাটুয়া, কালীগঞ্জকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯ এর ৫১ ধারা মোতাবেক একটি মামলায় ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালতের তথ্যানুযায়ী, অভিযানে মোট ১টি মামলা দায়ের করা হয় এবং কোনো কারাদণ্ড প্রদান করা হয়নি।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে রাষ্ট্রের পক্ষে দায়িত্ব পালন করেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং বেঞ্চ সহকারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মাহবুবুল ইসলাম।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ এবং বাজারে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
নওগাঁর মহাদেবপুরে পুলিশের লাথিতে আব্দুল হামিদ ধলা (৬৬) নামে এক আসামির বাবার মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার হাতুড় ইউনিয়নের মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে মহাদেবপুর থানার এসআই আসাদুজ্জামান, এএসআই আছির উদ্দিন ফোর্সসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা মূলে নিহত আব্দুল হামিদের ছেলে এমরান হোসেনকে আটক করতে মালাহার উত্তরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এমরান হোসেন পালিয়ে যায়। কিন্তু ইমরান হোসেনকে না পেয়ে পুলিশ তার বাবা আব্দুল হামিদকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে আসার চেষ্টা করলে আব্দুল হামিদের বৃদ্ধা মা হালিমা বেওয়া তার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের পা ধরলেও পুলিশ তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেন।
নিহত আব্দুল হামিদের নাতি রিপন জানান, ‘তারা দাদা-নাতি এক ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন। মধ্যরাতে পাঁচজন পুলিশ এসে তার দাদাকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় পুলিশ তার দাদাকে লাথি মারলে পুলিশের লাথিতে তার দাদা মাটিতে পড়ে যায়। সেখানেই তিনি মারা যায়।’
নিহত আব্দুল হামিদের মা হালিমা বেওয়া জানান, তার ছেলেকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তিনি পুলিশের পা ধরলে পুলিশ তাকেও ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়।
ওই গ্রামের মৃত ধলা বক্সের ছেলে এসলাম বক্স জানান, ‘রাত ১টার দিকে কয়েকজন পুলিশ তার বাড়িতে ঢোকে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট আছে জানিয়ে তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করেন। এ সময় আইডি কার্ডের সাথে তার নামের বানানের মিল না থাকায় তাকে আদালত থেকে জামিনের পরামর্শ দেয়।’
অভিযোগের বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পুলিশ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি ধরতে অভিযান দিয়েছিল। এ সময় অভিযানে একজন আসামিকে আটক করা হয়। পরে আরেকটি বাড়িতে অভিযান দিলে সেই বাড়ি থেকে কোনো আসামি পাওয়া যায়নি। পরে ওই বাড়ির অভিভাবকের কাছ থেকে পাশের একটি বাড়ি দেখে নেওয়ার জন্য হেল্প চায়। হেল্প চাইলে নামের গরমিল থাকায় পুলিশ ওখান থেকে আরেক জায়গায় অভিযান দেয়। পরে ওখান থেকে আসার পথে স্থানীয় লোকজন বলছিল যে লোকটি সহযোগিতা করতে বাইরে গিয়েছিল ওই লোকটা স্টকে মারা যায়। পুলিশের আঘাতে মৃত্যুর ঘটনা সঠিক নয়।’
বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে দুই জেলে বহরের মধ্যে সংঘর্ষে চার জেলে আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুই জেলে সাগরে পড়ে নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বুধবার (৪ মার্চ) রাতে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর সমুদ্রের আঠারবাম এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত জেলেদের বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
নিখোঁজ জেলেরা হলেন- পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের বাসিন্দা মো. হিরু বয়াতি (৪০) ও জসিম গাজী (৩২)। সংঘর্ষে আহত হয়েছেন আমির হোসেন (৪০), কবির (৩৮), ইব্রাহিম (৪০) ও বাবু (২৩)।
জেলে ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাথরঘাটা উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের মনির আকনের মালিকানাধীন এফবি ‘মায়ের দোয়া’ ট্রলারের জেলেরা গভীর সমুদ্রে মাছ ধরছিলেন। এ সময় অপর একটি ট্রলার তাদের পাতা জালের ওপর দিয়ে ওঠে যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ট্রলার মালিক মনির আকনের অভিযোগ, জালের ওপর দিয়ে ট্রলার ওঠায় প্রতিবাদ করলে প্রতিপক্ষের জেলেরা লোহার পাইপ, শিকল ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। পরে আরও কয়েকটি ট্রলার এসে তাদের ট্রলার ঘিরে ফেলে জেলেদের ওপর মারধর শুরু করে। এ সময় লোহার টুকরা ও পাথর নিক্ষেপ করা হয়। হামলার একপর্যায়ে হিরু বয়াতি ও জসিম গাজী সাগরে পড়ে নিখোঁজ হন।
ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, হামলাকারীরা ট্রলার থেকে চার থেকে পাঁচ লাখ টাকার মাছ লুট করে নিয়ে গেছে। এ ছাড়া প্রায় সাড়ে চার হাজার ফুট জাল কেটে নিয়ে গেছে।
ফিরে আসা জেলেদের দাবি, হামলায় অংশ নেওয়া ট্রলারগুলোর মধ্যে এফবি মুন্না, এফবি মক্কা মদিনা ও এফবি জায়েন খান নামে তিনটি ট্রলার ছিল। এসব ট্রলারের মালিকদের বাড়ি বাগেরহাট জেলার রায়েন্দা এলাকায়।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মংচেনলা বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা থানায় মৌখিক অভিযোগ করেছেন। তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিখোঁজ দুই জেলেকে উদ্ধারে সাগরে থাকা অন্য ট্রলার দিয়ে খোঁজ চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জেলেরা।’
প্রকৃতি মানেই বৈচিত্র্য আর বিস্ময়। আর সেই বিস্ময়ের ডালি নিয়ে মৌলভীবাজার সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে ডানা মেলেছে এক বিরল ‘হলুদ শিমুল’। লাল শিমুলের চেনা আবহে এই হলদে আভা প্রকৃতিপ্রেমীদের মনে যেমন দোলা দিচ্ছে, তেমনি কৌতূহলী করে তুলছে সাধারণ মানুষকে। মৌলভীবাজারের বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজ এলাকায় গেলেই এখন চোখে পড়বে ১০ ফুট উচ্চতার এই পাতাঝরা গাছটি। ডালজুড়ে ফুটে আছে অসংখ্য উজ্জ্বল হলুদ ফুল। শীতের বিদায় আর ফাল্গুন-চৈত্রের আগমনে এই হলুদ শিমুল যেন পুরো এলাকাকে এক নতুন রূপ দিয়েছে।
সাধারণত শিমুল বলতেই আমাদের চোখের সামনে লাল রঙের ছবি ভেসে ওঠে। তাই হলুদ রঙের শিমুল দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন অসংখ্য মানুষ। দর্শনার্থী পায়েল আহমেদ বলেন, ‘সব সময় লাল শিমুলই দেখে আসছি। হলুদ শিমুল নিজের চোখে দেখব কখনো ভাবিনি। এটি সত্যিই এক ব্যতিক্রমী সৌন্দর্য।’ একই মুগ্ধতা প্রকাশ করেন কলেজ শিক্ষার্থী সাম্মী আক্তারও।
পার্ক কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় দুই বছর আগে সাদা, লাল ও হলুদ—এই তিন রঙের শিমুলের চারারোপণ করা হয়েছিল। পার্কের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তরুণ উদ্যোক্তা জাহেদ আহমেদ চৌধুরী জানান, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার এই গাছে ফুল ফোটে। ভবিষ্যতে এমন আরও দুর্লভ গাছ লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে তার।
এ বিষয়ে গবেষক ও লেখকদের মতে, গড়ন ও আকৃতিতে লাল শিমুলের মতো হলেও এই হলুদ রং অত্যন্ত বিরল। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, ‘এটি প্রকৃতির বৈচিত্র্যের অনন্য উদাহরণ। এই ধরনের বিরল প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে যথাযথ সংরক্ষণ ও নিয়মিত পরিচর্যা প্রয়োজন।’
শিমুল তলায় এখন শুধু ঝরা পাতার মর্মর ধ্বনি নয়, বরং হলুদ শিমুলের স্নিগ্ধতা প্রকৃতিপ্রেমীদের হৃদয়ে অন্যরকম এক প্রশান্তি বিলিয়ে দিচ্ছে।
বছরজুড়ে ঈদ মৌসুমের অপেক্ষায় থাকেন সিরাজগঞ্জের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীরা। তাই রোজার ঈদকে সামনে রেখে এবারো জমে ওঠেছে সিরাজগঞ্জের তাঁতে তৈরি কাপড়ের হাটগুলো। সারা বছরের চেয়ে ঈদের এই সময়ের জন্য অপেক্ষায় থাকেন সিরাজগঞ্জের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ীরা। ঈদকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জের তাঁতের বাজারে বেড়ে গেছে দেশের পাইকারদের আনাগোনা। তবে আগে দেশের পাইকারদের পাশাপাশি বিদেশি পাইকারদের আনাগোনাও ছিল চোখে পরার মতো। কিন্ত চলতি বছরে সিরাজগঞ্জের কাপরের হাটে দেখা নেই বিদেশি পাইকারদের। যে কারণে চাহিদা মতো তাঁতের তৈরি কাপড় বিক্রি করতে পারছেন না তাঁত মালিকরা। যদিও তারা ক্রেতাদের চাহিদার বিবেচনা করে শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিচে এনেছে নতুনত্য ডিজাইন। তাঁতিরা বলছেন দেশে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় বিদেশি পাইকাররা আসতে পারছে না। যে কারণে দেশের তৈরি তাঁতের কাপড় বিদেশে রপ্তানি করতে পারছেন না তারা। তাই এবারের ঈদে তাতের বাজারে বড় ধরনের লোকশান আসতে পারে বলে দাবি তাঁত মালিকদের। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন দেশীয় তাঁতশিল্পকে বাঁচাতে ট্রানজিটের নামে আগ্রাসনকে রুখতে না পারলে দেশীয় এ শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়বে ।
বেলকুচি তামাই গ্রামের তাঁত মালিক মোহাম্মাদ আলী বলেন, ‘রোজার ঈদকে সামনে রেখে প্রতি বছরের মতো এবারও প্রচুর পরিমাণ শাড়ি ও লুঙ্গি তৈরি করেছি। বিভিন্ন হাটে সেগুলো বিক্রির জন্য নিয়ে যাচ্ছি। ক্রেতা ও পাইকারদের আনোগোনা খুবই কম দেখতে পাচ্ছি। আগে দেশের বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরা এসে পাইকারিভাবে শাড়ি-লুঙ্গি কিনে নিয়ে যেত এ বছর তেমন সাড়া পাচ্ছি না।’
উপজেলার চালা গ্রামের তাঁত মালিক ও ব্যবসায়ী উসমান আলী বলেন, ‘সারা বছর ব্যবসা তেমন ভালো যায় না। প্রতি বছর রোজার ঈদে প্রচুর বেচাকেনা হয়ে থাকে; কিন্তু এ বছর কাপড় বেচাকেনার চাহিদা কম কারণ পাইকার কম। বিদেশি পাইকার ব্যবসায়ী হাটে আসছে না।’
বেলকুচি সোহাগপুর হাটের পুরোনো কাপড় ব্যবসায়ী আলী আকবার বলেন, ‘প্রতি বছর রোজার এক সপ্তাহের মধ্যেই তৈরিকৃত তাঁতের সকল কাপড় বিক্রি হয়ে যায়; কিন্তু এ বছর ব্যবসা তেমন ভালো যাচ্ছে না। এ বছর হাটে দেশীয় পাইকার থাকলে বিদেশি পাইকার নাই বললেই চলে। তাই কাপড় বেচাকেনাও কম হচ্ছে। ট্রানজিট সুবিধা না থাকার কারণে বাইরের পাইকাররা আসতে পারছে না।’
সোহাগপুর হাটে কাপড় কিনতে আসা পাইকার ব্যবসায়ী আতাউর রহমান বলেন, ‘কোনো ঝামেলা ছাড়াই চাহিদামতো কাপড় কিনেছি। এর আগে হাটে দেশি বিদেশি পাইকারদের ব্যাপক আনাগোনা; ছিল কিন্তু এ বছর তেমন একটা দেখা যাচ্ছে না। তাই হাটে আসা দেশীর পাইকাররা কাপড় কিনতে পেরে অনেক খুশি।’
বেলকুচি উপজেলার সোহাগপুর হাটের ইজারদার হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘ইতোমধ্যে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে পাইকাররা আসতে শুরু করেছে সোহাপুর কাপড়ে হাটে। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে তাঁতের তৈরি শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিচে আনা হয়েছে নতুনত্য ডিজাইন। তবে বর্তমানে ট্রানজিট সুবিধা না থাকায় দেশের প্রত্যান্ত অঞ্চল থেকে পাইকার আসলেও বিদেশি পাইকার না থাকায় তেমন একটা বেচাকেনা নেই।’ এ ব্যাপারে সরকারের কাছে সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তিনি।
এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, ‘তাঁত-কাপড়ের হাটে যেন কেউ হয়রানির যেন শিকার না হয় এ জন্য নজরদারি থাকবে। এ ছাড়া ঐতিহ্যবাহী এই তাঁতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সেই সাথে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও বেগবান ও সচল রাখতে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। ট্রানজিটের বিষয়ে নতুন সরকারের কাছে সুপারিশ করা হবে।’
বেলকুচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আফরিন জাহান বলেন, ‘হাটে কিছু অব্যবস্থাপনা আছে এটা অনেক আগে থেকে চলে আসছে। আমরা চেষ্টা করছি সকল অব্যবস্থাপনা কাটিয়ে ওঠে ব্যবসায়ীদের জন্য সুন্দর একটা পরিবেশ তৈরি করতে পারব। ট্রানজিটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সুপারিশ করা হবে।’
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার নোহালী ইউনিয়নের তিস্তা নদীর চর বাগডহড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ ওঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, নদীর চর থেকে ট্রাক্টরের মাধ্যমে প্রতিদিন বালু তুলে পাশের লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ উপজেলায় নিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এ কার্যক্রম চললেও এখনো দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিস্তা নদীর পানি কমে যাওয়ার পর নদীর বুকে জেগে ওঠা চর এলাকায় বালু উত্তোলনের তৎপরতা বেড়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে শুরু করে সন্ধ্যা পর্যন্ত শ্রমিক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে বালু তোলা হচ্ছে। পরে সেগুলো বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
চর বাগডহড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘প্রায় চার মাস ধরে নদীর চর থেকে বালু তোলা হচ্ছে। ভোর থেকেই কয়েকটি ট্রাক্টর এসে বালু তোলে এবং একের পর এক ট্রিপ দিয়ে বালু নিয়ে যায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা প্রায় প্রতিদিনই ট্রাক্টরে করে বালু নিয়ে যেতে দেখি। যারা বালু তোলে তাদের অনেকেই পাশের কালীগঞ্জ উপজেলার লোক।’
স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বাবু বলেন, ‘এই জায়গাটি গঙ্গাচড়া উপজেলার মধ্যে হলেও বাইরের লোক এসে এখান থেকে বালু তুলে নিয়ে যাচ্ছে। বিষয়টি আমরা উদ্বেগের সঙ্গে দেখছি।’
এলাকাবাসীর অভিযোগ, ফারুক ও বেলাল নামের দুই ব্যক্তি এই বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত। তাদের নেতৃত্বে কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে নিয়মিতভাবে নদীর চর থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এলাকার কৃষক মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন নদীর চরে ট্রাক্টর চলাচল ও বালু উত্তোলনের কারণে চর এলাকার পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘এভাবে যদি বালু তোলা চলতে থাকে তাহলে ভবিষ্যতে নদীর চর ও আশপাশের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।’
স্থানীয় বাসিন্দা মোশরেকুল ইসলাম বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ তিনি প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তার বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। কেউ অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে তিস্তা নদীর চর বাগডহড়া এলাকায় অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের ‘নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা কর্মসূচির আওতায় অসহায় ও দুস্থ নারীদের মাঝে দর্জি প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে মাগুরা সদর উপজেলার ১ নং হাজীপুর ইউনিয়ন ৩ নং ওয়ার্ড শ্রীরামপুর স্কুল মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শ্রীরামপুর গ্রামের ১১ জন অসহায় দুস্থ নারীর মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়।
বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মাগুরা জেলা কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মো. মাছুদ হাসান খান কিজিল।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ১ নং হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কাশেম টিটব, সাংগঠনিক সম্পাদক বিশ্ব মানবাধিকার ফাউন্ডেশন মাগুরা জেলা শাখার আমানত হোসেন ও ১ নং হাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফারুক হোসেন। পরিচালনায় ছিলেন ১ নং হাজিপুর ইউনিয়নের বিএনপির সদস্য সচিব আবু তালেব বিশ্বাস। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সালমা খাতুন।
মো. মাছুদ হাসান কিজিল বলেন, প্রত্যন্ত এলাকার অসহায় নারীদের মধ্যে সেলাই প্রশিক্ষণ ও মেশিন বিতরণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এই প্রশিক্ষণ ও মেশিনের মাধ্যমে তারা নিজেদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে সমাজে অবদান রাখতে পারবে। একই সঙ্গে তাদের মাধ্যমে অন্যরাও উপকৃত হবে।
কালিপদ দাস ও অনুপ দাস আপন দুইভাই। কালিপদ বড়, অনুপ ছোট। পাশাপাশি দুটি ছোট দোকান। নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি ও মেরামতের মাল-সামানায় দোকান ভর্তি। দুই ভাই নড়াইল শহরের রূপগঞ্জ মুচিপোলের বাসিন্দা। ৫৫ বছর ধরে ডুগি-তবলা, ঢাক-ঢোল-খোল জয়ঢাক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি এবং মেরামতের কাজ করছেন। বাবা কিরণ দাসের হাত ধরে এ পথে আসা। বেশ আগেই বাবা মারা গেছেন। এখন তাদের দুই ভাইয়ের হাতেই নতুন বাদ্যযন্ত্রের প্রথম বোল (তাল) ওঠে। নতুনের পাশাপাশি পুরোনো বাদ্যযন্ত্র মেরামতে নতুন করে তাল তুলে দেওয়ার কাজও দুই ভাই করে যাচ্ছেন।
কালিপদ দাস বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর থেকে ঢাক-ঢোল, ডুগি-তবলা-খোল-জয়ঢাক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র নতুন তৈরি এবং পুরোনোগুলো মেরামত করে বেচাকেনা করছি। ২০২০ সালের পর থেকেই বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতির আগে প্রতি মাসে ৮ থেকে ১০টি নতুন বাদ্যযন্ত্র বিক্রি হতো। এরপর সেটা কমে ৫ থেকে ৬টায় দাড়িয়েছিল। এখন ২ থেকে ৩টা নতুন তৈরির কাজ হয়। ৫-৬টি পুরোনো বাদ্যযন্ত্র মেরামতের কাজ হচ্ছে। মাঝে মধ্যে জয় ঢাকের মেরামত কাজ বাড়তি হয়।’
তিনি বলেন, ‘৮ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন মানের বাদ্যযন্ত্র তৈরি করে বিক্রি করেন। দাম কম বেশির সঙ্গে বোলের (তালের) কোনো হেরফের হয় না। শুধু আকারে ছোট-বড় অনুযায়ী দাম কমবেশি হয়।’
কালি দাসের দুই ছেলে এক মেয়ে। মেয়েকে বিবাহ দিয়েছেন। ছেলেরা লেখাপড়া করছে। ছোট ভাই অনুপ দাসের দুই ছেলে। তারা সকলে লেখাপড়া করে। লেখাপড়ার পাশাপাশি দুই ভায়ের ছেলেরা বাবার কাজে সহযোগিতা করে থাকে।
কার কাছ থেকে এ কাজ শেখেছেন জানতে চাইলে কালিপদ দাস বলেন, ‘বাবা কিরণ দাস ছিলেন এ অঞ্চলের বাদ্যযন্ত্র তৈরির বড় মাপের কারিগর। নড়াইলের তৎকালীণ জমিদার রতন রায় চৌধুরী বাড়ির কর্মচারী ছিলেন আমার ঠাকুরদা (বাবার বাবা)। জমিদার বাড়ির জলসাঘর (গান-বাজনা) অনুষ্ঠানে যত রকমের বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করা হতো সেগুলো মেরামত এবং নতুন তৈরির কারিগর ছিলেন আমার ঠাকুরদা। ঠাকুরদার কাছ থেকেই বাবা কাজ শিখেছিলেন। জীবদ্দশায় বাবার কাছ থেকে আমরা কাজ শিখেছি। বাবা মারা যাওয়ার পর এখন আমরা করছি।’ তিনি বলেন, ‘ভেবেছিলাম বংশ পরম্পরায় এ কাজ ধরে রাখতে পারব। কিন্তু এ প্রজন্মের সন্তানরা তা ধরে রাখতে পারবে কি না বুঝতে পারছি না। বর্তমান সময়ের সন্তানরা অন্য ধরনের।’ তিনি বলেন, ‘মেয়েকে বিবাহ দিয়েছেন। ছেলে দুটো লেখাপড়ার পাশাপাশি মাঝে মধ্যে কাজের সহযোগিতা করে থাকে।’
কবে-কখন-কোথা থেকে নড়াইলে এসেছিলেন দুইভাইয়ের কেউ বলতে পারেন না। শুধু এটুকুই বলেন, এখানেই আমাদের জন্ম। জন্মের পর থেকে এখানকার আলো-বাতাসে বেড়ে ওঠা। এই মাটিতেই তারা মরতে চান।’
তিনি বলেন, ‘বাবার সান্নিধ্যে থেকে বেড়ে ওঠা। তার কাছেই কাজ শেখা। কাজ করার পাশাপাশি বিয়ে করেন। সংসার হয়। ছেলেরা লেখাপড়ার পাশাপাশি হাতের কাজও শিখছে। তারা এই পেশায় থাকতে চাইছে না। দুই ছেলেই ইলেকট্রিক কাজ করছে। তবে মাঝে মধ্যে কাজের সহযোগিতা করে থাকে।’
অনুপ দাস বলেন, ‘আমার এখন আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। ৮ বছর বয়স থেকে বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজের সঙ্গে আছি। এখন বয়স ৪৪ বছর। প্রথমে বাবার কাছ থেকে, বাবা মারা গেলে দাদার কাছ থেকে ডুগি-তবলা, ঢোল-খোল, ঢাক-জয়ঢাক, কাঠিঢোল-ঢোলক, নাল-কঙ্গোসহ নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্র তৈরি এবং মেরামত কাজ শিখেছি। সংসার জীবনে প্রবেশের পর দুইভাইয়ের সংসার আলাদা হয়েছে। তবে ভাইয়ে ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্কের কোনো ঘাটতি হয়নি। পাশাপাশি দুই ভাইয়ের দোকান। তিনি বলেন, ‘মাটির তৈরি নতুন ডুগি-তবলা ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। খোল নতুন ৫-৬ হাজার টাকা। মেরামত দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। জয়ঢাক নতুন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। মেরামত ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা। কাঠিঢোল নতুন ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত দুই থেকে আড়াইশত টাকা। ঢোলক নতুন আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা। মেরামত আট থেকে এক হাজার টাকা। নাল নতুন ৬ হাজার থেকে সাত হাজার টাকা। পুরোনো মেরামত দুই হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা। কঙ্গো নতুন ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। পুরোনো মেরামতে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। এ ছাড়া অন্য রকমন-ফের দাম হয়ে থাকে।’
নওগাঁর মান্দায় মাদ্রাসা শিক্ষকদের মারপিটে চোর সন্দেহ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। চোর সন্দেহে নিহত ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম (৪৫) উপজেলার মান্দা সদর ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে। অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক সাব্বিরসহ অন্য শিক্ষকের মারপিটে চোর সন্দেহ ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার (৪ মার্চ) রাতে উপজেলার প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামীয়া কাওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এ ঘটনা ঘটে।
এ মৃত্যুকে নিয়ে চলছে এলাকায় ধোঁয়াশা। কিভাবে মাদ্রাসা শিক্ষকের মারপিটে চোর সন্দেহে ব্যক্তি মারা গেছে, স্থানীয়রা কেউ জানেন না। তবে শিক্ষকেরা বলছে স্থানীয়রা মেরে ফেলেছেন।
স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন আছে, ওই মাদ্রাসার শিক্ষকরাই গভীর রাতে ওই ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে মেরে ফেলেছেন। মেরে ফেলার পর প্রতিষ্ঠান প্রধান বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে পরে পুলিশকে খবর দিয়েছে। কৌশলগতভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জোর চেষ্টা চলছে বলে অনেকের ধারণা।
জানা গেছে, চোর সন্দেহ ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম পানি খাওয়ার জন্য মাদ্রাসায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তাকে চোর সন্দেহে আমগাছের সাথে বেঁধে উপর্যুপরি মারপিট ও আঘাত করা হয়। মারপিটের ঘটনায় সে মারা যায়। পরে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য প্রধান শিক্ষক মাসুদুর রহমান বিভিন্ন মহলের জোর তদবির করেন। পরে পুলিশকে খবর দিয়ে লাশ ময়না তদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
এবিষয়ে প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামীয়া কাওমী মাদরাসা ও এতিমখানার পরিচালক মাওলানা মাসুদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, চোর সন্দেহ ব্যক্তিকে মারপিটের পর ভোররাতে তিনি মারা যান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এব্যাপারে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম মাসুদ রানা বলেন, এটি কমপ্লিট মার্ডার। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কক্সবাজারের পেকুয়া থানায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ভুল তথ্যের অভিযোগে বিচারপ্রার্থী মা-মেয়েকে ১ মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে। আটক কলেজ শিক্ষার্থীর নাম জুবাইদা জন্নাত (২৩) ও তার মা রেহেনা মোস্তফা রানু (৩৮)। তারা পেকুয়া উপজেলার সাবেক গুলদি এলাকার মৃত নুরুল আবছারের কন্যা ও স্ত্রী।
জানা যায়, ভুক্তভোগী জুবাইদার পৈতৃক বসতভিটা নিয়ে চকরিয়া আদালতে একটি মামলা চলমান রয়েছে। এই মামলাটি পেকুয়া থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) পল্লবের তদন্তাধীন রয়েছে। মামলার বাদি জুবাইদাকে তার পক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বিপক্ষে তদন্ত প্রতিবেদন দেয় অভিযুক্ত এসআই পল্লব। এতে জুবাইদা ও তার মা থানায় গিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন বিপক্ষে দেওয়ার বিষয়ে জানতে চান এবং এসআই পল্লবকে দেওয়া টাকা ফেরত চান। এতেই বাধেঁ হট্টগোল। জুবাইদার ও তার মাকে বেধড়ক মারধর করতে করতে থানার গেটে নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) খবর দিলে তিনি নিজেই থানায় এসে কলেজ শিক্ষার্থী জুবাইদা ও তার মাকে একমাসের সাজা শুনিয়ে দেন।
এ ঘটনায় থানায় আসা সেবাপ্রার্থী ও আশপাশের সচেতন লোকজন ব্যপক সমালোচনা করে বলেন, থানায় আসা সেবাপ্রার্থীদের নিকট থেকে ঘুষ নিয়ে একজন পুলিশ হয়ে মহিলার গায়ে হাত দিল। আর ইউএনও এসে ভুক্তভোগীর কোনো কথা না শুনে সাজা দিয়ে দিলো এটি সত্যিই অমানবিক।
প্রত্যাক্ষদর্শী মনজিলা বেগম (৬০) বলেন, আমি জুবাইদা ও তার মায়ের সাথে পেকুয়া থানায় মামলার তদন্তের বিষয়ে যাই। থানায় গিয়ে এসআই পল্লবের সাথে তারা মা মেয়ে মামলার বিষয়ে কথা বলতে শুনতে পাওয়া যায়। এতে আরও শুনতে পাই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে দেওয়ার কথা বলে এসআই পল্লব বিশ হাজার টাকা নেন বাদী জুবাইদার কাছ থেকে। কিন্তু মামলার তদন্ত প্রতিবেদন পক্ষে না দিয়ে উল্টো বিপক্ষে দেন এসআই পল্লব। যার কারণে টাকা ফেরত চান ভুক্তভোগী বাদি জুবাইদা। এতে হঠাৎ চড়াও হন এসআই পল্লব। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে চড় থাপ্পর মারতে থাকেন তারা মা মেয়েকে। পরে মহিলা পুলিশ এসে তাদের মারতে মারতে থানার গেটে নিয়ে আসে। থানায় থাকা সকল সেবাপ্রার্থীদের বের করে দেওয়া হয়। তারা মা মেয়েকে বেধড়ক মারধর করে। পরবর্তীতে ওসি এসে ইউএনওকে খবর দিলে ভুক্তভোগীর কোনো কথা না শুনেই এক মাস করে মা মেয়েকে সাজা দিয়ে দেন।
ভুক্তভোগীর পরিবার এঘটনার খবর পেয়ে পেকুয়া থানায় গেলে তারা জুবাইদা ও তার মায়ের খবর না দিয়ে গড়িমসি করেন। ভুক্তভোগী জুবাইদার ছোট ভাই রুবেল ও তার খালা আমেনা মুন্নী সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, আমার বোনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন বিরুদ্ধে দিয়ে আবার টাকা ফেরত চাইলে অমানবিক নির্যাতন করবে ইউএনও কে ডেকে এনে এক মাসের সাজা দিবে এটা কোন ধরনের আইন আমরা জানতে চাই। আমি ও আমার পরিবার এই অমানবিকতার সঠিক বিচার চাই।
পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও ) মাহবুব আলম বলেন, থানায় সরকারি কাজে বাধা এবং একজন পুলিশ অফিসারের সাথেও হাতাহাতির ঘটনায় তদন্ত করে সাজা দিয়েছি।
এসআই পল্লবের সাথে ঘুষ লেনদেনের জেরে এঘটনা ঘটেছে এবিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও বলেন, এটি পরবর্তী তদন্তে বেরিয়ে আসবে। আমি খারাপ আচরণের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের সাজা দিয়েছি।
পেকুয়া থানার ওসি খাইরুল আলমের কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, থানায় এসে পুলিশের ওপর হামলা করছে। পেকুয়া থানার এসআই পল্লবের সাথে একটি ঘুষ লেনদেনের বিষয়ে এঘটনার সুত্রপাত হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন ,আমি এই বিষয়ে জানিনা।
ঘটনার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত এসআই পল্লবকে একাধিকবার কল করা হলে রিসিভ করেননি তিনি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউপির মনোহরপুর সীমান্তে পদ্মা নদীতে মাছ ধরার সময় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) রাবার বুলেট ও স্পিড বোটের ধাক্কায় মো. মোরশেদ নামে এক বাংলাদেশি আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় নৌকা থেকে পড়ে আরও এক বাংলাদেশি নিখোঁজ হয়েছেন। গত বুধবার সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
শিবগঞ্জের দুর্লভপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মুহা. আজম আলী ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে বিজিবি স্পিড বোটের ধাক্কায় বাংলাদেশি আহত হওয়ার কথা স্বীকার করলেও রাবার বুলেট ছোঁড়ার অভিযোগ নিশ্চিত করেনি বিজিবি।
ইউপি চেয়ারম্যান জানান, আহত মো. মোরশেদ (৩২) মনোহরপুরের মনিমুল ইসলামের ছেলে। অন্যদিকে একই বয়সি নিখোঁজ ব্যক্তি হলেন-মনোহরপুরের চান মণ্ডলের ছেলে মো. ফকির।
তিনি জানান, গত বুধবার সন্ধ্যায় মনোহরপুর সীমান্ত-সংলগ্ন পদ্মা নদীতে মাছ ধরছিলেন মোরশেদ, ফকির ও আরও কয়েকজন। এ সময় বিএসএফের সদস্যরা দূর থেকে তাদের ওপর রাবার বুলেট ছোঁড়ে। একপর্যায়ে বিএসএফের টহলের জন্য ব্যবহৃত স্পিড বোট উঠিয়ে দেওয়া হয় মোরশেদ ও ফকিরের নৌকার ওপরে। এতে তাদের নৌকাটি উল্টে যায়। পরে অন্য জেলেরা আহত অবস্থায় মোরশেদকে উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তবে ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন মো. ফকির।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আর এম ও) আব্দুস সামাদ জানান, আহত ব্যক্তির সোল্ডারে (ডানায়) ছড়রা গুলির চিহ্ন ছিল। তাকে গত বুধবার রাত ৭টার পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ৫৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আহত ও নিখোঁজ বাংলাদেশিরা বাংলাদেশের সীমানা অতিক্রম করে ভারতের ২০০ গজ অভ্যন্তরে চলে যায়। এ সময় বিএসএফের টহল দল তাদের ধাওয়া করে এবং স্পিড বোটের ধাক্কায় একজন আহত ও অপর একজন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে সেখানে কোনো গুলির ঘটনা ঘটেনি বলে আমাদের জানিয়েছে বিএসএফ। আমরা ঘটনার খোঁজ নিচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুপক্ষের মারামারিতে রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবুকে (৩৮)কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ভোরে পঞ্চবটি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ওরফে কিলার বাবু ফতুল্লার শান্তিনগর বাজার এলাকার হাফিজ উদ্দিনের ছেলে। আহত তার বন্ধু মো. লিটন (৩৮) ফতুল্লার লালপুর এলাকার কাদের মিস্ত্রির ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফতুল্লার পঞ্চবটিতে রাস্তার পাশের কিছু দোকান দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কিলার বাবু ও নাঈম গ্রুপের মধ্যে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে ভোরে উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এ সময় প্রতিপক্ষের লোকজনের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হলে বাবু ও লিটনকে শহরের নারায়ণগঞ্জ ৩শ শয্যা বিশিষ্ট খানপুর হাসপাতালে নিয়ে যায় তাদের অন্য সহযোগীরা। সেখানে চিকিৎসক বাবুকে মৃত ঘোষণা করে এবং লিটনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত রিয়াজ উদ্দিন বাবু ‘ন্যাড়া বাহিনী’ নামে একটি সন্ত্রাসী গ্রুপের নেতৃত্ব দিতেন এবং ‘কিলার বাবু’ নামে পরিচিত ছিল। তার বিরুদ্ধে হত্যা ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ফতুল্লা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান বলেন, খাস জায়গায় দোকান বসিয়ে ভাড়া উঠানো নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বাবুকে কুপিয়ে হত্যা করেছে। তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।