ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পূর্তি ছিল গত বুধবার। সেদিনই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে বুধবার রাতে প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গুঁড়িয়ে দেয় তারা। সে রাতে ভাষণও দেন ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। এতে ক্ষোভের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ধানমণ্ডিতে শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি ‘সুধা সদন’ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর এই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার কারণে সারা দেশে আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকে। গত বুধবার রাতেই ভোলায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে, বরিশালে দলটির আরেক বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর বাড়িতে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে, নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়াও নওগাঁয় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদারের বাড়ি, রাজশাহীতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতেও হামলা, বাঙচুর ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন এবং দলটির অনেক নেতার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তোফায়েল আহমেদের ভোলার বাসায় ভাঙচুর, আগুন
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভোলার দোতলা বাসভবনে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার রাতে শহরের গাজীপুর রোডের ‘প্রিয় কুটির’ নামের বাসভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
এ সময় তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে একটি ক্রেন ও একটি এক্সকাভেটর আনা হয়। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ফায়ার সার্ভিসের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১টার দিকে দুই-তিন শ বিক্ষুব্ধ জনতা তোফায়েল আহমেদের বাসায় ভাঙচুর চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বাসায় দোতলা ও নিচতলায় আগুন দেয় তারা। পরে তাদের মধ্য থেকে একটি দল সড়কে হ্যান্ডমাইকে জয়বাংলার গান বাজিয়ে নাচতে থাকে ও গানের তালে তালে জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর আর ভোলায় আসেননি অসুস্থ তোফায়েল। বাসাটিতে তার ছেলে থাকতেন বলে জানা গেছে।
ভোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তারা কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পাননি।
বরিশালে আমুর বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে আগুন
বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে জনতা। গত বুধবার রাত ২টার দিকে সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দিয়ে নগরীর বগুড়া রোডের বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করা হয়। রাত ৩টার দিকে ভাঙচুর শেষে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও জনতা নগরীর কালীবাড়ী রোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাড়িটিও বুলডোজার চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়। তারপর সেখানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে কালীবাড়ী রোডে এসে পুলিশ অবস্থান নেয়। রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনীরি সদস্যরাও সেখানে আসেন। একই সময় ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে কালীবাড়ি রোডের ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ এর দিকে এগোয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়কের দুইপাশ থেকেই প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে ভবনের ভেতর প্রবেশ করে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনেও এ ভবনটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।
নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর গ্রামের বাড়িটিতে এ হামলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি বসুরহাট বাসস্ট্যান্ড হয়ে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে থাকা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার দোতালা ভবন হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙা হয়। পরে ভাঙচুর করা হয় তার ছোট ভাই শাহাদাত মির্জার ভবনও।
এর আগে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের দিন বিকালে ওই বাড়ির পাঁচটি বসতঘর এবং দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সেদিন বাড়িটির বেশ কিছু আসবাব লুটপাটও হয়।
নাজিম উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ৫ আগস্টের কিছুদিন পর কাদের মির্জা ভবনটি সংস্কার করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় কাদেরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হল। তবে হামলা-ভাঙচুরের সময় তাদের পরিবারের কেউ ছিলেন না। কাদেরের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম।
গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি
নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। তার আগে বহু লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। ভবনটি ভাঙার কাজ চলার সময় সেখানে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির একটি মিছিল বের হয়। তাতে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মিছিলটি শহরের চাষাঢ়ায় বায়তুল আমানের সামনে এসে পৌঁছালে শুরুতে বড় আকারের হাতুড়ি দিয়ে ভবনটির দেয়াল ভাঙতে শুরু করেন লোকজন। পরে একটি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ভবনটির ভেতরের একটি অংশেও দেওয়া হয় আগুন।
ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাংবাদিকদের বলেন, “খুনি হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বছরের পর বছর মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। শামীম ওসমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অসংখ্য গুম, খুন করেছে। ওসমান বাহিনীর প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ, এই ভবনটি ভাঙার মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷”
এর আগে বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কয়েকটি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময়ও নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির ওই দুই নেতা। সেখানেই দুপুরে ঘোষণা দেওয়া হয় সন্ধ্যার পর বায়তুল আমান ভবনটিও ভেঙে ফেলার।
খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ এখন ধ্বংসস্তূপ
খুলনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ চাচাতো ভাইয়ের ‘শেখ বাড়িতে’ গত বুধবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাড়ির ইট ও রড খুলে নিয়ে গেছে লোকজন। প্রায় দেড় দশক খুলনায় ‘ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু’ থাকা ভাঙা বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।
এদিন দুপুরে নগরীর শেরে বাংলা রোডে গিয়ে দেখা যায়, ‘শেখ বাড়ি’ এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ। অসংখ্য মানুষ হাতুড়ি দিয়ে ইট খুলে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকে করে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ যন্ত্রপাতি দিয়ে রড কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ইট ও রড খুলে ওই বাড়ির সামনে বিক্রি করছে। ভোর থেকে এই কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। বিকেলে বাড়িটির সামনে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র।
বাড়ির চত্বরে ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে রড কিনছিলেন শেখপাড়া এলাকার এক ভাঙাড়ির দোকানি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানি বলেন, এখানে সস্তায় কিনতে পারছি, সে কারণে এখানে এসেছি।
রিকশায় করে ইট নিয়ে যাওয়ার সময় চালক সোলায়মান হোসেন বলেন, ‘১৫ বছর আওয়ামী লীগের লোকজন লুট করেছে। সে কারণে এখন তাদের ইট-রড খুলে নিয়ে যাচ্ছি। এই বাড়ির লোকজন খুলনার মানুষের ওপর অনেক নিপীড়ন চালিয়েছে।’
এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শেখ বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় ছাত্র-জনতা স্লোগান দিতে থাকে ‘শেখ বাড়ির আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, স্বৈরাচারের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’। রাত ৯টা থেকে ৩টি বুলডোজার দিয়ে বাড়ির গেট ও দোতলা বাড়ির অর্ধেক অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় করেন।
বাড়িটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বাবুর। এই বাড়ি থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি, ব্যবসা, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অনেক কিছু। এর আগে ৪ ও ৫ আগস্ট এই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান বিক্ষুব্ধ লোকজন। তবে সেদিন শেখ পরিবারের কেউ বাড়িটিতে ছিলেন না।
খুবিতে মুর্যালসহ ৫ স্থানে ভাঙচুর
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুরসহ পাঁচটি স্থানে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগরীর দৌলতপুরে সরকারি বিএল কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল ভাঙচুর করে। বেলা ১১টার দিকে নগরীর গল্লামারী এলাকায় লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল ভাঙচুর করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কালজয়ী মুজিব’ ম্যুরাল ভাঙচুর করে। রাতে নগরীর দোলখোলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলোর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ভেঙে দেওয়া হয় তার বিলাসবহুল গাড়ি। আগুন দেওয়ার পর ৫ তলা বাড়ির লোকজন আতঙ্কে ছাদে উঠে যায়। পরে ফায়ারা সার্ভিসের দু’টি গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর বাড়ি ভাঙচুর করে লোকজন।
সারা দেশে হামলা ভাঙচুরের আরও কিছু ঘটনা
সিলেটে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ম্যুরাল। গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত ম্যুরালটির অবশিষ্ট অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মুসলিম জনতার ব্যানারে ম্যুরালটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে চট্টগ্রামে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পরে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গিয়ে পুরোনো একাডেমিক ভবনের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। পরে সেখান থেকে তারা জামালখান মোড়ের দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এর আগে বিক্ষুব্ধরা একটি মশাল মিছিল বের করেন।
কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল-আলম হানিফের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে একটি দল। গতকাল রাত ১০টার দিকে এক্সক্যাভেটর নিয়ে তারা বাড়ির সামনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দলটি চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় চার নেতার একজনের নামে থাকা সব স্থাপনার নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত ৯টার দিকে বিক্ষোভ শেষে মিছিল নিয়ে চারটি আবাসিক হল ও একটি স্কুলের নামফলক ভেঙে নতুন নাম দেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান হল’, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ‘ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘নবাব ফয়জুন নেসা চৌধুরানী’ ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়া গোপ মডেল স্কুল’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে শেখ হাসিনার ঘৃণাসূচক ছবি টানিয়ে গণজুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে তাঁর ফেসবুক লাইভে আসার প্রতিবাদ জানান।
নাটোরে সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের পোড়া বাড়ি আলোচিত ‘জান্নাতি প্যালেসে’ আবারও আগুন দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা শহরের কান্দিভিটা এলাকায় সাবেক আগুন দেন। এসময় মাইক বাজিয়ে মিছিল নিয়ে কান্দিভিটাস্থ শিমুলের জান্নাতি প্যালেসে যান এবং আগুন দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পোড়া বাড়ির ভেতরে ছিলেন ছাত্ররা।
সরকার দেশের সব খেলাপি ঋণ আদায় করার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, জনগণের কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, এখন সেগুলো অক্ষরে অক্ষরে পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৭ মে) বিকেলে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এক ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা জানান।
তথ্যমন্ত্রী বিগত সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, গত ২০ বছরে বাংলাদেশে যত টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে, তার মধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশই খেলাপি হয়ে গেছে। এই পরিসংখ্যান থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায় যে বিগত সরকার সরাসরি ব্যাংক লুটপাটে সহযোগিতা করেছে। আর তাদের করা সেই বিপুল ঋণের বোঝা এখন পুরো জাতিকে বহন করতে হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে জোরপূর্বক একটি নির্বাচন করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জনগণের ক্ষোভের মুখে আগস্ট মাসে তাদের পালিয়ে যেতে হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে কোনো রাষ্ট্রনায়ককে এত অপমান আর অসম্মানজনকভাবে পালিয়ে যেতে হয়নি।
আগৈলঝাড়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিকদার হাফিজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
শিবপুর উপজেলার কারারচর এলাকার বাসিন্দা সুজন মিয়ার স্ত্রী সাথী বেগম (২৭) এবং তাদের ১৮ মাস বয়সী ছেলে সাফওয়ান ওরফে হাসেন বুধবার (২৭ মে) রাতে নরসিংদী রেলস্টেশন এলাকায় এক ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হন। ঈদুল আজহাকে ঘিরে নতুন জামাকাপড় কিনে বাড়ি ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় মা ও তার শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়।
স্বজনেরা জানান, সুজন মিয়া দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন। কখনো ইজিবাইক চালিয়ে, আবার কখনো রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন তিনি। ঈদ উপলক্ষে বুধবার (২৭ মে) বিকেলে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে নরসিংদী শহরে কেনাকাটা করতে আসেন।
দুই সন্তানের জন্য নতুন জামাকাপড় কেনার পর সন্ধ্যায় বাড়ি ফেরার পথে রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্ম পার হওয়ার সময় দ্রুতগতির কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় সাথী বেগম ও তার শিশু সন্তান গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে নরসিংদী জেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর হাসপাতাল ও এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে সুজন মিয়া বলেন, তার চোখের সামনেই স্ত্রী ও সন্তানকে হারাতে হয়েছে।
নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক দিলীপ চন্দ্র সরকার বলেন, স্টেশনের এক নম্বর লাইনে একটি ট্রেন দাঁড়িয়ে ছিল। এ সময় কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী কক্সবাজার এক্সপ্রেস স্টেশন অতিক্রম করছিল। ওই পরিবারটি রেললাইন পার হওয়ার সময় ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই মা ও শিশুসন্তানের মৃত্যু হয়।
তিনি আরও বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) আওতাধীন দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও জেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় পুশইন এবং অবৈধ সীমান্ত পারাপার রোধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা অপ্রীতিকর ঘটনা মোকাবিলায় অতিরিক্ত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত ঘেঁষা এলাকার বাসিন্দাদের সচেতন করতে নিয়মিত জনসচেতনতামূলক সভা ও মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
বর্তমানে ৪২ বিজিবির প্রতিটি সীমান্ত ফাঁড়ি (বিওপি) থেকে দিনরাত নিরবচ্ছিন্নভাবে টহল কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে অবৈধভাবে গরু পাচার প্রতিরোধ এবং দেশীয় খামারিদের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় সীমান্তে বিজিবির কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। দেশের অখণ্ডতা রক্ষা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধসহ অবৈধ অনুপ্রবেশ দমনে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
দিনাজপুর ব্যাটালিয়নের (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসান জানান, সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান দমন ও পুশইন প্রতিরোধে বিজিবি সবসময় আপসহীন ভূমিকা পালন করে আসছে। আসন্ন ঈদের ছুটিতেও যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সীমান্তে কড়া নজরদারির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের সজাগ থাকতে মাইকিং করা হচ্ছে এবং নিয়মিত সভার মাধ্যমে তাদের সচেতন করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
পদ্মা নদীতে গরুবোঝাই ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া গরু ব্যবসায়ী আইয়ুব আলীর (৪৫) মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। দুর্ঘটনার দুদিন পর বুধবার (২৭) বিকেলে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর এলাকা থেকে তার ভাসমান মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
এর আগে গত সোমবার (২৫ মে) দুপুরে পদ্মা সেতুর ১৫ নম্বর পিলারের কাছে ভয়াবহ ঝড়ের কবলে পড়ে ৩০টি গরুসহ ট্রলারটি ডুবে যায়। দীর্ঘ সময় নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে আজ রাতে স্বজনেরা আইয়ুব আলীর মরদেহ শনাক্ত করেছেন।
নিহত আইয়ুব আলী ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার চরহাজিগঞ্জ এলাকার আবদুল মিস্ত্রির ছেলে। পেশায় তিনি একজন গরু ব্যবসায়ী ছিলেন এবং পশুর হাটে বিক্রির উদ্দেশ্যে ট্রলারে করে গরু নিয়ে ঢাকার দিকে যাচ্ছিলেন।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, গত সোমবার (২৫ মে) দুপুরে চরভদ্রাসন থেকে একটি ট্রলারে ৩০টি গরু ও ২০ জন যাত্রী নিয়ে আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন ব্যবসায়ী ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। ট্রলারটি পদ্মা সেতু এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ তীব্র ঝড়ের কবলে পড়ে এবং সেতুর ১৫ নম্বর পিলারের কাছে নিখোঁজ হয়। ওই সময় ট্রলারে থাকা ১৯ জন যাত্রী সাঁতরে ও বিভিন্ন উপায়ে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও আইয়ুব আলী নদীর তীব্র স্রোতে তলিয়ে যান। দুর্ঘটনার পর থেকে গত দুই দিন ধরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
বুধবার বিকেলে জাজিরার কুন্ডেরচর এলাকায় নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করেন। এই খবর পেয়ে নড়িয়ার সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিকেল নাগাদ মরদেহটি নদী থেকে উদ্ধার করে। নিখোঁজের সংবাদ পেয়ে আইয়ুব আলীর স্বজনেরা জাজিরার কুন্ডেরচরে ছুটে আসেন এবং রাত আটটার দিকে তার ছোট ভাই সোহেল মিয়া মরদেহটি আইয়ুব আলীর বলে নিশ্চিত করেন।
নিহতের ছোট ভাই সোহেল মিয়া জানান, তার ভাই স্থানীয় বিভিন্ন গ্রামীণ হাট থেকে গরু সংগ্রহ করে বিক্রির জন্য ঢাকার বিভিন্ন পশুর হাটে নিয়ে যেতেন। এরই ধারাবাহিকতায় সোমবারও তিনি ট্রলারে করে গরু নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিলেন, কিন্তু পথিমধ্যে পদ্মা সেতুর কাছে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারের অন্য সবাই প্রাণে বেঁচে ফিরলেও তার ভাই নদীতে তলিয়ে যান। তিনি আরও জানান, যেহেতু এটি একটি আকস্মিক দুর্ঘটনা, তাই এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা করার ইচ্ছা নেই। ময়নাতদন্ত ছাড়াই যেন ভাইয়ের মরদেহটি দ্রুত দাফনের জন্য ফেরত পাওয়া যায়, সেই চেষ্টা করছেন তারা।
নড়িয়ার সুরেশ্বর নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আবদুল জলিল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পদ্মা নদীতে একটি মরদেহ ভেসে ওঠার খবর পেয়ে পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে সেটি উদ্ধার করেন। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, ওই ব্যক্তি পদ্মা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় তলিয়ে গিয়েই মারা গেছেন। এই মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের লিখিত অভিযোগ বা দাবি করা হয়নি। স্বজনেরা ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের জন্য একটি লিখিত আবেদন করেছেন। বিষয়টি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং সেখান থেকে ইতিবাচক সাড়া ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে মরদেহটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
লালমনিরহাটের পাটগ্রামের চার যুবককে উচ্চ বেতনে গার্মেন্টসে চাকরির কথা বলে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। জামায়াতের সহযোগী একটি সংগঠনের দুই নেতার বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি, জনপ্রতি সাড়ে ৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এই ভয়াবহ মানব পাচারের ঘটনাটি ঘটিয়েছেন সদ্য অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুব নেতা ইউনুস আলী ও মাহিন ইসলাম। বর্তমানে বিদেশের মাটিতে আটকে পড়া ওই চার যুবকের জীবন নিয়ে তাঁদের পরিবারগুলো চরম শঙ্কা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন অতিবাহিত করছে।
ভুক্তভোগীদের স্বজনরা জানিয়েছেন, রাজধানীর উত্তরার ‘আর এস ইন্টারন্যাশনাল’ নামক একটি এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় নিরাপদ কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিয়ে এই যুবকদের প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। গত ৪ মে নাজমুল হক সৌরভ, মেহেদী হাসান, আল আমিন ও আব্দুল্লাহ আল মামুনকে বাড়ি থেকে ঢাকায় নেওয়ার পর ৭ মে তাঁরা মস্কোর উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাশিয়ার বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর প্রথম দিকে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ হলেও দ্রুতই রুশ সেনারা তাঁদের পাসপোর্ট ও মোবাইল কেড়ে নিয়ে একটি হোটেলে বন্দি করে। পরে তাঁরা জানতে পারেন যে, তাঁদের চাকরির বদলে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাঝেমধ্যে অন্যের ফোন ব্যবহার করে তাঁরা স্বজনদের কাছে উদ্ধারের জন্য করুণ আকুতি জানাচ্ছেন।
এই মর্মান্তিক পরিস্থিতিতে নাজমুল হক সৌরভের বাবা দেলদার হোসেন বলেন, “আমার ছেলেকে ইউনুস সাড়ে ৯ লাখ টাকা নিয়ে রাশিয়ায় পাঠিয়েছে। এখন শুনছি সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা দিন-রাত দুশ্চিন্তায় আছি।” একইভাবে মেহেদী হাসানের বাবা রাবিউল ইসলাম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “রাশিয়ায় ভালো চাকরির কথা বলে ইউনুস আমার ছেলেকে পাঠিয়েছে। এখন ছেলের কোনো খোঁজ পাচ্ছি না। সে নিখোঁজ।” গত ২১ মে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো ঢাকায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সামনে মানববন্ধন করে সন্তানদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছে। এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে ইউনুস ও মাহিনকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে অব্যাহতি পাওয়া নেতা ইউনুস আলী নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেন, “তারা বৈধ কাগজপত্র নিয়ে গেছে। সেখানে গিয়ে প্রতারণার শিকার হয়েছে। এজেন্সির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। দুই দেশের দূতাবাসেও যোগাযোগ করা হয়েছে। সবাইকে নিরাপদ স্থানে আনার চেষ্টা চলছে।” তবে জামায়াতের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ একে ব্যক্তিগত লেনদেন উল্লেখ করে সংগঠনের কোনো দায় নেই বলে জানিয়েছেন। পাটগ্রাম থানার ওসি নাজমুল হক গণমাধ্যমকে জানান যে, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক লিখিত অভিযোগ পাননি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দিয়েছেন।
বরিশালের হিজলা উপজেলায় মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ বাবা-ছেলেসহ তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) ভোররাতে মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ভাসানচর এলাকা থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে মঙ্গলবার আরেকজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
নিহতরা হলেন,নুর ইসলাম জোমাদ্দার (৪৫), তাঁর ছেলে ইব্রাহিম জোমাদ্দার (১২) এবং একই এলাকার মো. হারুন বিশ্বাস (৪৫)।
হিজলা নৌ পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলে আলীগঞ্জ খেয়াঘাট থেকে ধুলখোলা খেয়াঘাটের উদ্দেশ্যে আটজন যাত্রী নিয়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকা রওনা হয়। নৌকাটি পুরাতন হিজলা ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে যায়।
এ সময় স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে পাঁচজনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে নুর ইসলাম জোমাদ্দার, তাঁর ছেলে ইব্রাহিম এবং হারুন বিশ্বাস নিখোঁজ হন।
পরে মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৬টার দিকে পুরাতন হিজলা এলাকা থেকে হারুন বিশ্বাসের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরপর বুধবার রাত ২টার দিকে মেহেন্দীগঞ্জের ভাসানচর এলাকায় দুটি মরদেহ ভাসতে দেখে স্থানীয় জেলেরা নৌ পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
স্বজনরা পরে মরদেহ দুটি নুর ইসলাম জোমাদ্দার ও তাঁর ছেলে ইব্রাহিম জোমাদ্দারের বলে শনাক্ত করেন।
হিজলা নৌ পুলিশের পরিদর্শক গৌতম চন্দ্র মন্ডল জানান, উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দেশে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য বিগত আওয়ামী লীগ সরকার ও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, নিয়মিত এমআর টিকাদান কর্মসূচি বন্ধ থাকায় দেশে হামের সংক্রমণ বেড়েছে।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, “গত ১৭ বছর ফ্যাসিবাদের আমলে এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময় স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দের টাকা লুটপাট হয়েছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি ও এডিবির পক্ষ থেকে পাঁচবার অনুরোধ করার পরও আন্তর্জাতিকভাবে টিকা সংগ্রহ না করে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্য বেসরকারি উৎস থেকে টিকা কেনা হয়েছে।”
তিনি বলেন, প্রতি চার বছর পরপর এমআর টিকার ক্যাম্পেইন হওয়ার কথা থাকলেও ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর তা আর হয়নি। “এর ফল এখন আমাদের ভোগ করতে হচ্ছে,” বলেন তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ডোনার দেশগুলোর সহযোগিতায় অল্প সময়ের মধ্যে হামের টিকা সংগ্রহ করা হয়েছে। গ্যাভির কাছ থেকে ধার হিসেবে টিকা এনে প্রথমে বেশি আক্রান্ত ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।
পরে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনেও কার্যক্রম চালানো হয়।
তিনি বলেন, গত ২০ তারিখে শুরু হওয়া দেশব্যাপী ক্যাম্পেইনে দুই কোটির বেশি শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ১০৩ শতাংশ। এখনো উপজেলার পর্যায়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, “যেসব মেশিন আমদানি করে বেশি টাকা মারা যাবে, সেসব রেডিওথেরাপি মেশিন কিনে বিভিন্ন হাসপাতালে ফেলে রাখা হয়েছে। অনেকগুলোই এখন অকেজো।”
জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী জুলাই থেকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশ নারী। তাদের মাধ্যমে গ্রামপর্যায়ে মিডওয়াইফ ও কেয়ারগিভার সেবা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতির কথা জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এক লাখের বেশি ডেঙ্গু স্যালাইন মজুত করা হয়েছে।
আউটসোর্সিং নিয়োগব্যবস্থার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “এই পদ্ধতিতে তিন স্তরে দুর্নীতি হয়। টেন্ডারে, নিয়োগে এবং বেতনের সময়। আমরা এটি বন্ধ করব।”
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক খালেদ সাইফুল্লাহ খান সোহেল, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের উপ-পরিচালক ডা. সাইফুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
এর আগে সকালে মন্ত্রী পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে কঠোর নজরদারির আশ্বাস দিয়েছেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, দেশের প্রান্তিক চামড়া সংগ্রহকারীরা যাতে তাদের সংগৃহীত চামড়ার সঠিক ও ন্যায্যমূল্য পান, সেটি নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ তদারকি বজায় রাখা হবে।
আজ বুধবার (২৭ মে) দুপুরে সিলেট সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী এই কথা জানান। প্রেস ব্রিফিংয়ের পর তিনি সার্কিট হাউসেই স্থানীয় চা-শ্রমিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, চামড়ার বাজারে কোনো ধরনের অনিয়ম দেখা দিলে প্রয়োজনে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করবে। যদি অভ্যন্তরীণ বাজারে চামড়া ক্রয়ের ক্ষেত্রে ধীরগতি কিংবা স্থবিরতা লক্ষ করা যায়, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার 'ওয়েট ব্লু' চামড়া বিদেশে রপ্তানির অনুমতি দেবে। এসব বাস্তবমুখী উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যই হলো কোরবানির চামড়ার সঠিক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং এই খাত থেকে দেশের রপ্তানি আয় বাড়ানো। এর পাশাপাশি তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের आगामी বাজেট ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করবে এবং দেশে নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, দেশের বাজারে দীর্ঘদিন ধরে চামড়ার কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় ক্ষোভ থেকে এ বছর চামড়া সংগ্রহ না করার ঘোষণা দিয়েছিল কওমি মাদ্রাসাগুলো। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় প্রশাসনের বিশেষ হস্তক্ষেপে ও আশ্বাসে তারা এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এলেও, চামড়ার বাজারদর ও ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে এখনো উদ্বেগ কাটেনি।
স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, রাজধানীর দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের জায়গা কোরবানির পশুর হাটের জন্য ইজারা দেওয়া হয়নি। বৃষ্টির কারণে কিছু পশুর মালিক দুইদিন এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। তবে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
বুধবার (২৭ মে) দুপুরে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে কোরবানির পশুর ‘হাট’ অপসারণের পর সেখানে পরিচ্ছনতা কার্যক্রম চালিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।
দুপুর সোয়া ২টার দিকে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা মেট্রোরেলের নিচে এসে কাজ শুরু করেন। বেলা আড়াইটার দিকে একটি পে-লোডার আনা হয়। এরপর সড়কে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ, ময়লা পরিষ্কার এবং হাটের বিভিন্ন অংশ পরিচ্ছন্ন করার কাজ চলতে থাকে।
এরপরই এই কার্যক্রম পরিদর্শনে আসেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। পরিদর্শনকালে তিনি বলেছেন, গত কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টির কারণে রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে কুরবানির পশু আশ্রয় নেয়।
তিনি আরও বলেন, দিয়াবাড়ি মেট্রো স্টেশনের নিচে উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে কোনো ইজারা দেওয়া হয়নি। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু পশুর মালিক দুদিন এখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। দুইদিনই সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা এবং প্রশাসক নিজেও এসেছেন। ম্যাজিস্ট্রেটের সহযোগিতায় তাদেরকে এখান থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। ইজারাদারকেও জরিমানা করা হয়েছে। এখানে থাকা পশুর বর্জ্য অপসারণ করা হচ্ছে।
ঊল্লেখ্য, এবার ঢাকার বড় কুরবানির পশুর হাট বসেছে উত্তরার দিয়াবাড়িতে। এই হাটে বিপুল পরিমাণ পশুর সমাগম হওয়ায় মূলত নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে প্রধান সড়ক ও মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পশু বেঁধে রেখেছিলেন বিক্রেতারা।
এতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। মেট্রোরেল স্টেশনের নিচের সড়কে অবৈধভাবে পশু বেঁধে রাখার ঘটনায় গতকাল অভিযান চালিয়ে সেগুলো সরিয়ে দেওয়ার কথা জানায় প্রশাসন। একই সঙ্গে হাটের ইজারাদারকে ঘটনাস্থলে ডেকে সতর্ক করা হয়।
কিন্তু বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে নানা সমালোচনা। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা আর না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসন সজাগ থাকবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান।
বগুড়ার কাহালু উপজেলায় একই রাতে দুটি পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (২৭ মে) সকালে কাহালু থানা পুলিশ দুই দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে বগুড়া-সান্তাহার আঞ্চলিক সড়কের নারহট্ট এবং বিবিরপুকুর বাজার এলাকায় এই দুর্ঘটনা দুটি ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত সাড়ে ১২টার দিকে নারহট্ট গ্রামের পাশে অবস্থিত নিউ হোপ ফিড মিলের সামনে। ওই মিলের নৈশকালীন ডিউটি শেষে রাস্তা পার হওয়ার সময় অজ্ঞাত একটি ভারী যানের ধাক্কায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান রবিউল আউয়াল ওরফে জিয়া (৪২) নামের এক শ্রমিক। নিহত জিয়া দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার তরতবাড়ি গ্রামের আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
অন্য দুর্ঘটনাটি ঘটে রাত পৌনে ৩টার দিকে বিবিরপুকুর বাজারের পশ্চিমে পাগলা পীর বউবাজার এলাকায়। ঢাকা থেকে আসা একটি ট্রাক বিকল হয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় মেরামত কাজ চলছিল। এ সময় অপর একটি দ্রুতগামী বাস দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসের সুপারভাইজার উত্তম মন্ডল (৩০) এবং ট্রাকের সহকারী হৃদয় (৩০) গুরুতর আহত হন। তাদের উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর সাড়ে ৪টার দিকে উত্তম এবং সকালে হৃদয় মারা যান।
কাহালু থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ব্রজেন চন্দ্র মাহাতো ও এসআই সুজল চন্দ্র দেবনাথ পৃথক এই দুটি দুর্ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ফরিদপুরের বোয়ালমারউপজেলার ১০ গ্রামের আংশিক ধর্মপ্রাণমুসল্লিরা বুধবার (২৭ মে) আগাম ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন।
সকাল ৮টায় ঈদের জামাত শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ভারী বর্ষণের কারণে নির্ধারিত সময় পিছিয়ে যায়। পরে সকাল পৌনে ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত পর্যায়ক্রমে সহস্রাইল দায়রা শরীফ সংলগ্ন জামে মসজিদে, মাইটকুমড়া জামে মসজিদসহ চারটি এলাকায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ও রূপাপাত ইউনিয়নের কাঁটাগড়, সহস্রাইল, দরিসহস্রাইল, মাইটকুমড়া, রাখালতলিসহ অন্তত ১০ গ্রামের কিছু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবের চাঁদ দেখার সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও দুই ঈদ পালন করে আসছেন। এ অঞ্চলের মুসল্লিরা মূলত চট্টগ্রামের সাতকানিয়া ও সীতাকুণ্ডের মাহমুদাবাদ মির্জাখিল দরবার শরিফের অনুসারী।
সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সহস্রাইল উত্তরপাড়া জামে মসজিদে। সেখানে ইমামতি করেন মাওলানা রাকিবুল হাসান রাকিব। স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন উপজেলা ও জেলা থেকেও কয়েকশ মুসল্লি জামাতে অংশ নেন।
তবে ভারী বৃষ্টির কারণে রাখালতলি এলাকার মুসল্লিরা নির্ধারিত জামাত আদায় করতে পারেননি বলে জানা গেছে।
নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়। এছাড়া দূর-দূরান্ত থেকে আগত মুসল্লিদের জন্য বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থাও করা হয়।
মুসল্লি জাহিদুর রহমান বলেন, আমাদের পূর্বপুরুষরা বহু বছর ধরে সৌদির সঙ্গে মিল রেখে ঈদ পালন করে আসছেন। আমরাও সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করছি।
স্থানীয় আয়োজকদের মধ্যে আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক ও কাটাগড় গ্রামের বাসিন্দা মাহিদুল হক বলেন, সারা বিশ্বের মুসলমানদের একই দিনে ঈদ পালন করা উচিত বলে আমরা মনে করি।
তাই সৌদির সঙ্গে মিল রেখে আমরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছি। দিনদিন প্রতি বছর এখানে মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে।
বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন বলেন, সহস্রাইল ও মাইটকুমড়া এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের জামাত সম্পন্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
এ ব্যাপারে এস এম রকিবুল হাসান বলেন, সৌদির সঙ্গে মিল রেখে কয়েকটি গ্রামে ঈদ উদযাপনের বিষয়টি দীর্ঘদিনের ধর্মীয় অনুশীলন। প্রতিবছর তারা এভাবেই ঈদের নামাজ আদায় করে থাকেন।
ভোলা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন বলেছেন, 'কৃষি উন্নয়নে খাল খননের বিকল্প নেই। কৃষিবান্ধব উন্নয়নের লক্ষ্যে বিএনপি সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।'
বুধবার (২৭ মে) ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার আমিনাবাদ ইউনিয়নের 'বয়াতির খাল' খনন কাজের শুভ উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি)-এর উদ্যোগে প্রায় ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন বলেন, 'খাল খননের মাধ্যমে কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন হবে ইনশাআল্লাহ। বয়াতির খাল খনন সম্পন্ন হলে কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন, জলাবদ্ধতা কমবে এবং কৃষি উৎপাদন আরও বৃদ্ধি পাবে। গ্রামীণ অবকাঠামো ও কৃষির উন্নয়নে এ ধরনের কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণ করা হবে।'
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে খালটি ভরাট হয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে ছিলেন এলাকার কৃষকেরা। বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা এবং শুষ্ক মৌসুমে তীব্র সেচ সংকটে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। দীর্ঘদিন পর খাল খনন কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরে এসেছে স্থানীয় এলাকাবাসীর মাঝে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রোমান আফরোজ, সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমদাদুল হক, উপজেলা বিএনপি নেতা গোফরান মহাজন, কাজি মনজুর হোসেন, খাইরুল ইসলাম সোহেল, মমিনুল ইসলাম ভুট্রো, কামাল গোলদারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
এর আগে পৌর এলাকার হতদরিদ্র মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় 'সুন্দরি-বোয়ালখালী খাল' খনন কাজেরও উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন।
পবিত্র ঈদুল আজহার আর মাত্র কয়েক ঘণ্টা বাকি থাকতে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের ভিড়ে মহাসড়কগুলোতে চরম স্থবিরতা নেমে এসেছে। বিশেষ করে উত্তরের পথে ঈদযাত্রার শেষ দিনে যাত্রী ও যানবাহনের তীব্র চাপের কারণে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কিছুক্ষণ পর পর নামা মুষলধারে বৃষ্টি। সড়ক ও আবহাওয়ার এই দ্বিমুখী প্রতিকূলতায় আটকে পড়া যাত্রী ও চালকদের অসহনীয় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। অনেকেই বাধ্য হয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খোলা ট্রাক কিংবা বাসের ছাদে চড়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
মহাসড়কের বর্তমান চিত্র অনুযায়ী, টাঙ্গাইলের করটিয়া থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় ৪৮ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে যানবাহন থেমে থেমে চলছে। এছাড়া মির্জাপুর ক্যাডেট কলেজ থেকে জামুর্কি পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার রাস্তায় তীব্র ধীরগতি লক্ষ্য করা গেছে। ভুক্তভোগী যাত্রীরা জানিয়েছেন, স্বাভাবিক সময়ে যে পথ পাড়ি দিতে মাত্র দুই ঘণ্টা লাগত, এখন সেখানে ছয় থেকে আট ঘণ্টা সময় ব্যয় হচ্ছে। বাড়তি সময়ের পাশাপাশি পরিবহনগুলোতে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিয়ে এই দীর্ঘ যানজটে আটকে থেকে যাত্রীরা চরম শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তির কথা জানিয়েছেন।
হাইওয়ে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই দীর্ঘ যানজটের পেছনে বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে। মহাসড়কে হঠাৎ ফিটনেসবিহীন যানবাহন বিকল হয়ে পড়া, এলেঙ্গা ফ্লাইওভারের নির্মাণকাজ চলমান থাকা এবং চার লেনের কিছু অংশের কাজ সমাপ্ত না হওয়ায় যানবাহনের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত গাড়ি চলে আসায় যমুনা সেতু দিয়ে দ্রুত পারাপার সম্ভব হচ্ছে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে উত্তরবঙ্গ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী যানবাহনগুলোকে বঙ্গবন্ধু সেতুর গোলচত্বর থেকে সরিয়ে ভূঞাপুর হয়ে বিকল্প পথে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে।
পদ্মা সেতুর মতো যমুনা সেতুতেও যানবাহনের রেকর্ড পারাপার লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এই সেতু দিয়ে মোট ৫৬ হাজার ২৩৯টি যানবাহন পারাপার হয়েছে, যা থেকে টোল আদায় করা হয়েছে ৩ কোটি ৮২ লাখ ৯৭ হাজার ৫০ টাকা। এত বিপুল সংখ্যক গাড়ি একসাথে সড়কে নামায় ট্রাফিক ব্যবস্থা সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। টাঙ্গাইল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ উদ্দিন জানিয়েছেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে যানবাহন কিছুটা ধীরগতিতে চললেও পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে তারা নিরলস কাজ করছেন। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
ঈদযাত্রার শেষ সময়ে এসে আবহাওয়া ও সড়কের এমন চিত্র প্রতিবছরের চেনা ভোগান্তির কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘরমুখো মানুষ যেন নিরাপদে বাড়ি পৌঁছাতে পারেন, সেজন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের কিছু অংশে গতি ফিরলেও বড় ধরনের যানজট পুরোপুরি নিরসন হতে আরও কিছুটা সময়ের প্রয়োজন হতে পারে। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।