ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পূর্তি ছিল গত বুধবার। সেদিনই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে বুধবার রাতে প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গুঁড়িয়ে দেয় তারা। সে রাতে ভাষণও দেন ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। এতে ক্ষোভের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ধানমণ্ডিতে শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি ‘সুধা সদন’ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর এই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার কারণে সারা দেশে আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকে। গত বুধবার রাতেই ভোলায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে, বরিশালে দলটির আরেক বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর বাড়িতে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে, নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়াও নওগাঁয় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদারের বাড়ি, রাজশাহীতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতেও হামলা, বাঙচুর ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন এবং দলটির অনেক নেতার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তোফায়েল আহমেদের ভোলার বাসায় ভাঙচুর, আগুন
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভোলার দোতলা বাসভবনে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার রাতে শহরের গাজীপুর রোডের ‘প্রিয় কুটির’ নামের বাসভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।
এ সময় তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে একটি ক্রেন ও একটি এক্সকাভেটর আনা হয়। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ফায়ার সার্ভিসের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।
স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১টার দিকে দুই-তিন শ বিক্ষুব্ধ জনতা তোফায়েল আহমেদের বাসায় ভাঙচুর চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বাসায় দোতলা ও নিচতলায় আগুন দেয় তারা। পরে তাদের মধ্য থেকে একটি দল সড়কে হ্যান্ডমাইকে জয়বাংলার গান বাজিয়ে নাচতে থাকে ও গানের তালে তালে জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর আর ভোলায় আসেননি অসুস্থ তোফায়েল। বাসাটিতে তার ছেলে থাকতেন বলে জানা গেছে।
ভোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তারা কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পাননি।
বরিশালে আমুর বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে আগুন
বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে জনতা। গত বুধবার রাত ২টার দিকে সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দিয়ে নগরীর বগুড়া রোডের বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করা হয়। রাত ৩টার দিকে ভাঙচুর শেষে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।
এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও জনতা নগরীর কালীবাড়ী রোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাড়িটিও বুলডোজার চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়। তারপর সেখানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে কালীবাড়ী রোডে এসে পুলিশ অবস্থান নেয়। রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনীরি সদস্যরাও সেখানে আসেন। একই সময় ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে কালীবাড়ি রোডের ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ এর দিকে এগোয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়কের দুইপাশ থেকেই প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে ভবনের ভেতর প্রবেশ করে।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনেও এ ভবনটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।
নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর গ্রামের বাড়িটিতে এ হামলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি বসুরহাট বাসস্ট্যান্ড হয়ে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে থাকা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার দোতালা ভবন হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙা হয়। পরে ভাঙচুর করা হয় তার ছোট ভাই শাহাদাত মির্জার ভবনও।
এর আগে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের দিন বিকালে ওই বাড়ির পাঁচটি বসতঘর এবং দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সেদিন বাড়িটির বেশ কিছু আসবাব লুটপাটও হয়।
নাজিম উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ৫ আগস্টের কিছুদিন পর কাদের মির্জা ভবনটি সংস্কার করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় কাদেরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হল। তবে হামলা-ভাঙচুরের সময় তাদের পরিবারের কেউ ছিলেন না। কাদেরের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।
ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম।
গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি
নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। তার আগে বহু লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। ভবনটি ভাঙার কাজ চলার সময় সেখানে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়৷
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির একটি মিছিল বের হয়। তাতে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মিছিলটি শহরের চাষাঢ়ায় বায়তুল আমানের সামনে এসে পৌঁছালে শুরুতে বড় আকারের হাতুড়ি দিয়ে ভবনটির দেয়াল ভাঙতে শুরু করেন লোকজন। পরে একটি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ভবনটির ভেতরের একটি অংশেও দেওয়া হয় আগুন।
ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাংবাদিকদের বলেন, “খুনি হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বছরের পর বছর মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। শামীম ওসমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অসংখ্য গুম, খুন করেছে। ওসমান বাহিনীর প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ, এই ভবনটি ভাঙার মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷”
এর আগে বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কয়েকটি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময়ও নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির ওই দুই নেতা। সেখানেই দুপুরে ঘোষণা দেওয়া হয় সন্ধ্যার পর বায়তুল আমান ভবনটিও ভেঙে ফেলার।
খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ এখন ধ্বংসস্তূপ
খুলনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ চাচাতো ভাইয়ের ‘শেখ বাড়িতে’ গত বুধবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাড়ির ইট ও রড খুলে নিয়ে গেছে লোকজন। প্রায় দেড় দশক খুলনায় ‘ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু’ থাকা ভাঙা বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।
এদিন দুপুরে নগরীর শেরে বাংলা রোডে গিয়ে দেখা যায়, ‘শেখ বাড়ি’ এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ। অসংখ্য মানুষ হাতুড়ি দিয়ে ইট খুলে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকে করে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ যন্ত্রপাতি দিয়ে রড কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ইট ও রড খুলে ওই বাড়ির সামনে বিক্রি করছে। ভোর থেকে এই কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। বিকেলে বাড়িটির সামনে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র।
বাড়ির চত্বরে ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে রড কিনছিলেন শেখপাড়া এলাকার এক ভাঙাড়ির দোকানি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানি বলেন, এখানে সস্তায় কিনতে পারছি, সে কারণে এখানে এসেছি।
রিকশায় করে ইট নিয়ে যাওয়ার সময় চালক সোলায়মান হোসেন বলেন, ‘১৫ বছর আওয়ামী লীগের লোকজন লুট করেছে। সে কারণে এখন তাদের ইট-রড খুলে নিয়ে যাচ্ছি। এই বাড়ির লোকজন খুলনার মানুষের ওপর অনেক নিপীড়ন চালিয়েছে।’
এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শেখ বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় ছাত্র-জনতা স্লোগান দিতে থাকে ‘শেখ বাড়ির আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, স্বৈরাচারের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’। রাত ৯টা থেকে ৩টি বুলডোজার দিয়ে বাড়ির গেট ও দোতলা বাড়ির অর্ধেক অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় করেন।
বাড়িটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বাবুর। এই বাড়ি থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি, ব্যবসা, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অনেক কিছু। এর আগে ৪ ও ৫ আগস্ট এই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান বিক্ষুব্ধ লোকজন। তবে সেদিন শেখ পরিবারের কেউ বাড়িটিতে ছিলেন না।
খুবিতে মুর্যালসহ ৫ স্থানে ভাঙচুর
এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুরসহ পাঁচটি স্থানে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগরীর দৌলতপুরে সরকারি বিএল কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল ভাঙচুর করে। বেলা ১১টার দিকে নগরীর গল্লামারী এলাকায় লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর্যাল ভাঙচুর করা হয়।
এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কালজয়ী মুজিব’ ম্যুরাল ভাঙচুর করে। রাতে নগরীর দোলখোলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলোর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ভেঙে দেওয়া হয় তার বিলাসবহুল গাড়ি। আগুন দেওয়ার পর ৫ তলা বাড়ির লোকজন আতঙ্কে ছাদে উঠে যায়। পরে ফায়ারা সার্ভিসের দু’টি গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর বাড়ি ভাঙচুর করে লোকজন।
সারা দেশে হামলা ভাঙচুরের আরও কিছু ঘটনা
সিলেটে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ম্যুরাল। গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত ম্যুরালটির অবশিষ্ট অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মুসলিম জনতার ব্যানারে ম্যুরালটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে চট্টগ্রামে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পরে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গিয়ে পুরোনো একাডেমিক ভবনের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। পরে সেখান থেকে তারা জামালখান মোড়ের দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এর আগে বিক্ষুব্ধরা একটি মশাল মিছিল বের করেন।
কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল-আলম হানিফের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে একটি দল। গতকাল রাত ১০টার দিকে এক্সক্যাভেটর নিয়ে তারা বাড়ির সামনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দলটি চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় চার নেতার একজনের নামে থাকা সব স্থাপনার নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত ৯টার দিকে বিক্ষোভ শেষে মিছিল নিয়ে চারটি আবাসিক হল ও একটি স্কুলের নামফলক ভেঙে নতুন নাম দেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান হল’, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ‘ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘নবাব ফয়জুন নেসা চৌধুরানী’ ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়া গোপ মডেল স্কুল’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে শেখ হাসিনার ঘৃণাসূচক ছবি টানিয়ে গণজুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে তাঁর ফেসবুক লাইভে আসার প্রতিবাদ জানান।
নাটোরে সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের পোড়া বাড়ি আলোচিত ‘জান্নাতি প্যালেসে’ আবারও আগুন দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা শহরের কান্দিভিটা এলাকায় সাবেক আগুন দেন। এসময় মাইক বাজিয়ে মিছিল নিয়ে কান্দিভিটাস্থ শিমুলের জান্নাতি প্যালেসে যান এবং আগুন দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পোড়া বাড়ির ভেতরে ছিলেন ছাত্ররা।
নওগাঁয় দাদা-নাতিসহ তিনজন, বরিশালে দুই শ্রমিক এবং নাটোরে একজনের বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) প্রতিনিধিদের পাঠানো সংবাদে এ তথ্য উঠে এসছে।
নওগাঁ : রাণীনগরে বজ্রপাতের পৃথক দুটি ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহত তিনজনের মধ্যে দুই কৃষক ফসলের মাঠে ধান কাটতে গিয়ে ও এক যুবক মাঠে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতের শিকার হয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নওগাঁর রাণীনগরে উপজেলার পারইল গ্রামের জ্যাঠা মাঠে ও গুয়াতা আটনিতাপাড়া গ্রামের মাঠে এই মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটে। নিহতরা হলেন উপজেলার পারইল ফকিরপাড়া গ্রামের মৃত আসাদ ফকিরের ছেলে আক্কাস ফকির (৫৮) ও আমিনুরের ছেলে তারেক ফকির (২৪) এবং গুয়াতা আটনিতাপাড়া গ্রামের হাশেম তালুকদারের ছেলে নয়ন তালুকদার (২৬)। কৃষক আক্কাস ফকির ও তারেক ফকির সম্পর্কে দুজন দাদা-নাতি।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সকালে উপজেলার পারইল গ্রামের জ্যাঠা মাঠে আক্কাস ফকির ও তারেক ফকির ধান কাটার কাজ করছিলেন। ধান কাটার সময় দুপুরের দিকে বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে সেখানেই তাদের দুইজনের মৃত্যু হয়।
অন্যদিকে, বৃষ্টির সময় গুয়াতা আটনিতাপাড়া গ্রামের যুবক নয়ন তাকুলদার মাঠ থেকে গরু আনতে যান। এরপর স্থানীয় লোকজন মাঠে গিয়ে দেখতে পান বজ্রপাতে যুবক নয়ন তাকুলদার মারা গেছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাণীনগর থানার ওসি মো. জাকারিয়া মন্ডল বলেন, বজ্রপাতের পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় থানায় ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা হয়েছে।
বরিশাল: জেলার গৌরনদীতে আকস্মিক বজ্রপাতে পানবরজের দুইজন শ্রমিক ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন। এসময় গুরুতর আহত হয়েছেন আরো এক শ্রমিক। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে গৌরনদী উপজেলার মাহিলাড়ার ভিমেরপাড় এলাকায়।
তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করে গৌরনদী উপজেলা হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. তৌকির হোসেন জানিয়েছেন, মৃত অবস্থায় দুইজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তারা হলেন-মাহিলাড়ার ভিমেরপাড় গ্রামের আবু তালেব হাওলাদারের ছেলে আলিম হাওলাদার (৬০) ও উজিরপুরের খাটিয়ালপাড়া গ্রামের মুকুন্দ বালার ছেলে সুকান্ত বালা (৩৮)।
একইসাথে হাসপাতালে আনা গুরুতর আহত দেওপাড়া গ্রামের জীতেন সরকারের ছেলে গোপাল সরকারকে (৪০) প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, উল্লেখিত তিনজনে ভীমেরপাড় এলাকার একটি পানবরজে শ্রমিক হিসেবে কাজ করছিলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটারদিকে বৃষ্টি শুরু হলে তারা পানবরজের পাশের একটি ছাউনীতে আশ্রয় নেয়।
এ সময় আকস্মিক বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই দুইজন মারা যায় এবং গোপাল গুরুতর আহত হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. তারিক হাসান রাসেল তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নাটোর: জেলার লালপুরে ইটভাটায় কাজ করার সময় বজ্রপাতে এসকেন আলী ভোলা (৬০) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুই নারী শ্রমিক। গতকাল বৃহস্পতিবার লালপুরের সিরাজীপুর এলাকায় সুপার ইটভাটায় এই ঘটনা ঘটে। নিহত এসকেন আলী ভোলা লালপুরের বালিতিতা গ্রামের মৃত আদুর ছেলে।
লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম বলেন, আইনগত প্রক্রিয়া শেষে নিহতের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক্সকাভেটর দিয়ে অবৈধ মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে ওসমান গনি (৪০) নামে এক বিএনপি নেতাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। গত বুধবার (২০ মে) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে উপজেলার দুপ্তারা ইউনিয়নের পাঁচগাঁও চরপাড়া এলাকার বিলসংলগ্ন কাউন্দার চক এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ওসমান গনি উপজেলার বড় বিনাইরচর এলাকার মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। ওসমান ব্রাহ্মন্দী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এছাড়া জেলা ছাত্রদলের সাবেক সদস্যসচিব জুবায়ের হোসেন জিকুর ছোট চাচা তিনি।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকালে ওসমানের স্বজন ও দলীয় নেতাকর্মীরা আড়াইহাজার-গাউছিয়া সড়ক অবরোধ করে কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর চালান। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপ্তারা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব রমজান আলীর সঙ্গে এক্সকাভেটর দিয়ে মাটি কাটা নিয়ে বিরোধের জেরে তার লোকজন ওসমানের ওপর হামলা চালিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন ওসমানকে উদ্ধার করে আড়াইহাজার জবেদ আলী মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন। তবে সেখানে নেওয়ার আগেই তার মৃত্যু হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে আড়াইহাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সড়কে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় চারজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, রাস্তায় যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে কাজ করছে পুলিশ।
সুন্দরবনের দুর্ধর্ষ বনদস্যু ‘ছোট সুমন বাহিনীর প্রধান সুমনসহ ৭ দস্যু অস্ত্র ও গুলি জমা দিয়ে কোস্ট গার্ডের কাছে আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ করেছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তর চত্বরে জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলামের কাছে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি জমা দিয়ে তারা আত্মসমর্পণ করেন।
এসময় কোস্ট গার্ড, বিজিবি, পুলিশ, বনবিভাগ, র্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ২০১৮ সালেও এই বাহিনীটি র্যাবের কাছে একবার আত্মসমর্পণ করেছিল।
কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ মেজবা উল ইসলাম জানান, সুন্দরবনে বনদস্যু নির্মূলে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের মুখে কোণঠাসা হয়ে গত ১৭ মে রাত ১১টার দিকে মোংলার নন্দবালা খাল সংলগ্ন এলাকায় কোস্ট গার্ডের কাছে অনানুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে বাহিনীটি। সে সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি দেশীয় একনলা বন্দুক, ২টি দেশীয় পাইপগান, ২৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও ৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি উদ্ধার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে তাদের আনুষ্ঠানিক আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
আত্মসমর্পণকারী দস্যুরা হলেন মোংলার বাসিন্দা বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার (৩২), রবিউল মল্লিক (২৫), রফিক শেখ (২৯), সিদ্দিক হাওলাদার (৪০), গোলাম মল্লিক (৩৮), ইসমাইল খান (৩১) ও রামপালের মাহফুজ মল্লিক (৩৪)।
বাহিনী প্রধান সুমন হাওলাদার বলেন, ২০১৮ সালে একবার আত্মসমর্পণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য করে ভালোই চলছিলাম। কিন্তু বিগত ৫ আগস্টের পর হামলা, মামলা ও জেল-জুলুমের শিকার হয়ে বাধ্য হয়ে আবারও এই পথে নামতে হয়। এবার সুযোগ পেয়ে আত্মসমর্পণ করলাম। সরকারের কাছে দাবি, আমাদের মামলাগুলো যেন সহজ করা হয় এবং নতুন করে কোনো হয়রানির শিকার না হয়ে যেন স্বাভাবিকভাবে বেঁচে থাকতে পারি।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন এখন বিরাট চ্যালেঞ্জ। রক্তপাতহীন স্থানীয় সরকার নির্বাচন দিতে চাই। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ভালো হবে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেছেন।
জাতীয় নির্বাচন সুন্দরভাবে আয়োজন করতে পারলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে চ্যালেঞ্জ দেখছেন জানিয়ে তিনি বলেন, স্থানীয় নির্বাচনে যাতে সহিংসতা না হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বর্তমান সরকার জনগণের সরকার। সরকার দেশের মঙ্গল চাইবে—আমাদের বিশ্বাস, তারা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সহায়তা করবে। চ্যালেঞ্জ তো অবশ্যই থাকবে।
এদিকে এশিয়ান নেটওয়ার্ক ফর ফ্রি ইলেকশনের চেয়ারম্যান রোহানা হেতিয়ারাসসি বলেন, কোনো নির্বাচনই পারফেক্ট হয় না। তবে বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসের তুলনায় এটি তাৎপর্যপূর্ণ ভোট ছিল। এটি ছিল অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচন, কারণ ভোটাররা তাদের ভোট দিতে পেরেছেন। গণতন্ত্র উন্নত হচ্ছে।
শর্তহীনভাবে কাঁচা পাট রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণ দাবিতে দৌলতপুর জুটপ্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল ১০টা থেকে বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত তারা খুলনা যশোর মহাসড়কের রেলিগেট থেকে দৌলতপুর পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করেন তারা। তারা সড়কে কাঠের গুঁড়ি এবং বাঁশ ফেলে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন। সড়কের দু’পাশে আটকে পড়ে যানবাহনের চালক এবং পথচারীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আন্দোলনরত শ্রমিকরা বলেন, ‘গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় কাঁচা পাট রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদান করে। সেই থেকে বিদেশে পাট রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এ কারণে খুলনা এবং নারায়ণগঞ্জের লক্ষাধিক প্রেস এবং বেলিং শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। কাজ বন্ধ থাকায় আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে দারুণ অর্থাভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’
তারা বলেন, ‘খুলনার দৌলতপুর হচ্ছে পাট রপ্তানিকারক জোন। এই এলাকায় উল্লেখযোগ্য শ্রমিকের বাসস্থান। পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয় গত ১৭ মে প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়ায় কাঁচা পাট বিদেশে রপ্তানি দেওয়া সম্ভব নয়। এরই প্রতিবাদে আমরা দৌলতপুর জুট প্রেস ও বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের শ্রমিকরা দাবি আদায়ে আন্দোলনে নেমেছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
আদর করে নাম রাখা হয়েছিল ‘ভোলা’। শান্ত স্বভাব আর সরল আচরণে পরিবারের সদস্যের মতোই জায়গা করে নিয়েছে সে। দেখতে দেখতে খামারের ছোট্ট বাছুরটি এখন প্রায় ৪০ মণ ওজনের বিশাল আকৃতির এক ষাঁড়ে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘ পাঁচ বছরের যত্ন আর ভালোবাসায় বেড়ে ওঠা হলিস্টান ফ্রিজিয়ান জাতের এই গরুটি এবার কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে বিক্রির জন্য প্রস্তুত। দাম হাঁকা হয়েছে ৮ লাখ টাকা।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার তিলাবুদুরী গ্রামের খামারি জাহাঙ্গীর আলমের গোয়াল ঘরেই জন্ম হয়েছিল ভোলার। জন্মের পর থেকেই পরম মমতা আর যত্নে তাকে বড় করে তুলেছেন জাহাঙ্গীর আলম ও তার দুই ছেলে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যের মতোই সবার আপন হয়ে ওঠে ভোলা। গত বছরের কোরবানির ঈদে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় এবার নতুন আশায় ভোলাকে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা। ভোর থেকে রাত পর্যন্ত ভোলার দেখভালেই ব্যস্ত থাকেন পরিবারের সদস্যরা।
খামারি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘ভোলাকে বড় করে তুলতে কম ত্যাগ স্বীকার করতে হয়নি খামারি পরিবারকে।’ জাহাঙ্গীর আলম জানান, গরুটির খাবার ও পরিচর্যায় ব্যয় হয়েছে বিপুল অর্থ। প্রতিদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার খাবার খায় ভোলা। ভুষি, খৈল, ফিড ও খড়ের পাশাপাশি প্রতিদিন কলাও খেতে হয় তাকে। নিজের শখ আর ভালোবাসা থেকে খামারের পাশের বাগান থেকেই কলা এনে খাওয়ানো হয় ভোলাকে।
জাহাঙ্গীর বলেন, ‘গত বছর ঈদের জন্য হাটে তুলেছিলাম দাম ভালো পাইনি তাই এবার আবার বিক্রি করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ৬ থেকে ৭ লাখ পর্যন্ত দাম বলছে অনেকে তবে ৮ লাখ হলে বিক্রি করব।’
ভোলার বিশাল আকৃতি দেখতে প্রতিদিনই জাহাঙ্গীর আলমের খামারে ভিড় করছেন আশপাশের মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, এত বড় গরু এর আগে খুব কমই দেখেছেন তারা। স্থানীয় মুসছুর রহমান ও জয়নাল হোসেন বলেন, ‘এত বড় ষাঁড় আমরা আগে কখনো দেখিনি। দীর্ঘদিনের শ্রম, মমতা আর ব্যয়ের যথাযথ মূল্য যেন পাক খামারি সেই প্রত্যাশাই আমাদের।’
আত্রাই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আবু আনাস বলেন, ‘বর্তমানে বাজারে অতিরিক্ত বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলক কম। কোরবানির ঈদে সাধারণ ক্রেতারা এত বড় গরু কিনতে অনেক সময় আগ্রহ দেখান না। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের পক্ষ থেকে খামারিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে গরু বিক্রির উপযুক্ত বয়স ও ওজন হলেই দ্রুত বাজারজাত করতে। এতে দীর্ঘমেয়াদে লোকসানের ঝুঁকি কমে আসে। পাশাপাশি খামারিদের লাভজনক ও আধুনিক পদ্ধতিতে গবাদিপশু পালনে উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত কাজ করছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।’
সাতক্ষীরার সুন্দরবন ঘেঁষা উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের গাবুরায় সড়কের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে একটি বিদ্যুতের খুঁটি। আপাতদৃষ্টিতে এটি কেবলই একটি খুঁটি মনে হলেও, স্থানীয় হাজারো মানুষের জন্য এটি এখন এক চরম আতঙ্কের নাম। গাবুরা ১০ নং সোরা সড়কের ঠিক মাঝ বরাবর এই খুঁটির অবস্থান হওয়ায় প্রতিনিয়ত চরম অস্বস্তি ও ঝুঁকির মধ্য দিয়ে চলাচল করছেন পথচারী ও যানবাহনচালকরা। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কায় দিন কাটছে এলাকাবাসীর।
স্থানীয় সচেতন মহল এবং সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরে এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি থেকে মুক্তি চাইছেন। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে আনার জন্য তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
সমন্বয়হীনতা নাকি অবহেলা: স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অনেক আগে থেকেই খুঁটিটি সরিয়ে রাস্তার পাশে স্থাপন করার জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও কোনো কাজ হয়নি। তবে এই সংকটের পেছনে উঠে এসেছে সরকারি দুই দপ্তরের চরম সমন্বয়হীনতার চিত্র।
গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি নেতা মাসুদ আলম জানান, মূল সমস্যাটি তৈরি হয়েছে রাস্তা ও খাল সংস্কারের পর। তিনি বলেন, ‘খাল খননের পূর্বে খুঁটিটি রাস্তার মাঝখানে ছিল না, পাশেই ছিল। কিন্তু খাল খনন করার ফলে খাল ও রাস্তা উভয়ই প্রশস্ত হয়। যার কারণে খুঁটিটি অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে রাস্তার মাঝ বরাবর চলে আসে। বিষয়টি বুঝতে পেরে আমি তৎক্ষণাৎ বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে জানাই এবং এটি স্থানান্তরের অনুরোধ করি। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তখন বিষয়টি কোনো গুরুত্বই পায়নি।’
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমানে সাধারণ জনগণ এই ভুলের খেসারত দিচ্ছে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত খুঁটিটি স্থানান্তরের জন্য তিনি পুনরায় বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
পথচারী রফিক গাইন নিজের ক্ষোভ ও আতঙ্ক প্রকাশ করে বলেন, ‘রাতে এই রাস্তায় চলাচল করতে প্রচণ্ড ভয় লাগে। কারণ চলতে চলতে সামান্য বেখেয়াল হলেই বিদ্যুতের খুঁটিতে ধাক্কা লাগবে, নতুবা বাঁচার জন্য ডানে-বামে সরতে গেলে খালের মধ্যে পড়তে হবে। বিশেষ করে কুয়াশাচ্ছন্ন রাত বা ঝড়-বৃষ্টির দিনে এই ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
দাপ্তরিক নিয়মের বেড়াজাল: জনগণের এই চরম ভোগান্তি ও জীবনঝুঁকির বিষয়ে সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুতের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) আজিজুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাপ্তরিক নিয়মের দোহাই দেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম আছে, আমরা সেই নিয়ম অনুসারেই কাজ করি। আমরা যখন বিদ্যুতের খুঁটি স্থাপন করেছিলাম, তখন ওখানে কোনো রাস্তা ছিল না। তবে সড়ক বিভাগ যদি আমাদের কাছে এ বিষয়ে লিখিতভাবে জানায়, তাহলে আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি: একটি খুঁটি সরানোর মতো সাধারণ বিষয় যখন দাপ্তরিক চিঠির অপেক্ষায় ঝুলে থাকে, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বড় প্রশ্নের মুখে পড়ে। বড় কোনো প্রাণহানি বা দুর্ঘটনা ঘটার আগেই সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও স্থানীয় সড়ক বিভাগের উচিত যৌথ উদ্যোগে দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা। জনস্বার্থে এই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কাটিয়ে দ্রুত খুঁটিটি রাস্তার পাশে সরিয়ে নেওয়াই এখন গাবুরাবাসীর একমাত্র দাবি।
ছোট্ট শিশু রামিসাকে ধর্ষণ পরবর্তী হত্যাসহ দেশজুড়ে চলমান নারী ও শিশুদের প্রতি হওয়া সহিংসতা, নিপীড়ন প্রতিরোধ ও ন্যায়বিচারের দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় (ববি) মানববন্ধন হয়েছে।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা দ্রুত এই নিপীড়ন বন্ধে সরকারকে যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এবং দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে এই মানববন্ধন হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. মো. গাজী সাখাওয়াত হোসেন, সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আধুনিকায়নের ছোঁয়ায় গ্রামবাংলার অনেক ঐতিহ্যবাহী চিত্রই এখন বিলুপ্তপ্রায়। তবে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় এখনো দেখা মেলে গ্রামীণ জীবনের সেই চিরচেনা ও মনকাড়া রূপ। সম্প্রতি উপজেলার তালম ইউনিয়নের বেরখালি এলাকায় দেখা গেছে তেমনই এক নজরকাড়া দৃশ্য— মাঠের কাজ শেষ করে এক কৃষক আপন মনে মহিষের পিঠে চড়ে বাড়ির পথ ধরেছেন।
আজকাল গ্রামীণ কৃষিতে ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলারসহ নানা আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়েছে। ফলে আগের মতো লাঙল-জোয়াল বা গবাদিপশুর ব্যবহার অনেকটাই কমে এসেছে। কিন্তু বেরখালি এলাকার এই চিত্রটি যেন মুহূর্তের জন্য সবাইকে ফিরিয়ে নিয়ে যায় পুরোনো দিনে।
বিকেলের সোনাঝরা রোদে মাঠের সবুজ প্রান্তর পেরিয়ে যখন ওই কৃষক তার শান্ত মহিষটির পিঠে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন চারপাশের পরিবেশজুড়ে এক অদ্ভুত প্রশান্তি বিরাজ করছিল। স্থানীয় পথচারী ও গ্রামবাসীদের অনেকেরই নজর কাড়ে এই দৃশ্যটি।
এ বিষয়ে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, এখনকার দিনে এমন দৃশ্য সত্যিই বিরল। একসময় আমাদের এলাকায় প্রায় প্রতি ঘরেই মহিষ ও গরু পালন করা হতো। মাঠের ফসল আনা-নেওয়া থেকে শুরু করে যাতায়াতের মাধ্যমও ছিল এগুলো। যান্ত্রিকতার যুগে বেরখালি এলাকায় এই দৃশ্যটি দেখে শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল।
গ্রামীণ ঐতিহ্যের এই খণ্ডচিত্রটি যেমন শান্ত-স্নিগ্ধ বাংলার রূপকে মনে করিয়ে দেয়, তেমনই প্রমাণ করে— শত আধুনিকতার ভিড়েও বুক চিরে বেঁচে আছে আমাদের শেকড়ের সংস্কৃতি।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, যানজট নিয়ন্ত্রণ ও ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মোতায়েন করা হয়েছে বিজিবি।
জনসাধারণের যাতায়াত নিশ্চিতকল্পে রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, সাভারের নবীনগর ও বাইপাইল, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় বিজিবি সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আসন্ন পরিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ টোল প্লাজা, মহাসড়ক ও যানজটপ্রবণ এলাকায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণের পরিচালিত মোবাইল কোর্ট কার্যক্রমে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ঈদের ০৭ দিন পূর্ব হতে ঈদের পরবর্তী ০৩ দিন পর্যন্ত বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবে।
টানা ছয় মাস ২০ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তৃতীয় ইউনিট পুনরায় চালু করা হয়েছে। বুধবার (২০ মে) বিকেলে ইউনিটটি চালু করা হয়েছে। বর্তমানে এ ইউনিট থেকে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার (২১ মে) থেকে উৎপাদন বেড়ে ২৫০ থেকে ২৬০ মেগাওয়াটে পৌঁছাতে পারে।
জানা গেছে, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষে এসে তৃতীয় ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২০ সাল থেকেই বন্ধ রয়েছে। এতদিন শুধু ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রথম ইউনিটটি চালু ছিল।
২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির কয়লার ওপর নির্ভর করে ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের যাত্রা শুরু হয়। প্রথমে ১২৫ মেগাওয়াটের দুটি ইউনিট নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলেও ২০১৭ সালে ২৭৫ মেগাওয়াটের তৃতীয় ইউনিট যুক্ত হয়। তবে বিভিন্ন জটিলতায় কেন্দ্রটি কখনোই একসঙ্গে তিনটি ইউনিট চালিয়ে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারেনি।
বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, ‘তৃতীয় ইউনিট চালু করা হয়েছে। বর্তমানে ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে। আশা করছি, কাল (বৃহস্পতিবার) থেকে এ ইউনিটে ২৫০-২৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।’
তিনি আরও জানান, প্রথম ইউনিট থেকে বর্তমানে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সব মিলিয়ে দুটি ইউনিট থেকে গড়ে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, যা লোডশেডিং কমাতে সহায়ক হবে।
প্রধান প্রকৌশলী আরও বলেন, ‘দুটি ইউনিট সচল রাখতে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার ২০০ টন কয়লা প্রয়োজন হয়। বন্ধ থাকা দ্বিতীয় ইউনিটটি মেরামতের জন্য চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং সেটিও দ্রুত চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প হাতে নিচ্ছে সরকার। শুষ্ক মৌসুমে কৃষি জমিতে পানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ পদ্মা ব্যারেজ করা হবে। অনেকে সস্তা জনপ্রিয়তার জন্য অনেক কথা বলতে পারেন। কিন্তু বর্তমান সরকার আবারও অঙ্গীকার করছে, পদ্মা ব্যারেজ শুধু নয় তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্পও হাতে নেবে সরকার।’ বুধবার (২০ মে) বিকালে গাজীপুরে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন উদ্বোধন শেষে সুধী সমাবেশে যোগ দিয়ে এ অঙ্গীকার করেন তিনি।
ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার বিপজ্জনক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘এর সঙ্গে দুর্যোগও জড়িত। ভূগর্ভস্থ পানি শূন্য হচ্ছে, মাটির নিচে পানি থাকছে না, কৃষক পানি পাচ্ছে না। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি হিসেবে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে সরকার।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে যা নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। বাসস্থানের জন্য অন্যান্য অবকাঠামো নির্মাণ হচ্ছে, গাছপালা কাটা যাচ্ছে। ফসলি জমি থাকছে না। যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণ হতে যাচ্ছে, সেখানে অনেকে দুর্যোগ সম্পর্কে প্রশিক্ষণ নেবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘গরিব দেশ আমরা, সম্পদ কম। সম্পদকে রক্ষা করতে পারলে উন্নত দেশে উন্নীত করতে পারব। প্রকৃতিকে ঠিক রাখতে হবে।’
এদিকে, গাজীপুরের টঙ্গীর সাতাইশ ধরপাড়া এলাকায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেছেন, খাল ও নদী খননের মাধ্যমে ভূমিকম্প মোকাবিলা করতে হবে। কারণ, খাল ও নদীর সঙ্গে ভূমিকম্প জড়িত। আমাদের দুর্যোগ মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভূগর্ভস্থ যে পরিমাণ পানি নিচে থেকে টেনে ওপরে তুলা হয়েছে, খাল ও নদী খনন করে এবং বর্ষা মৌসুমের অতিরিক্ত পানি যদি আমরা ছড়িয়েও দিই, তবু আগামী ২০ বছরে তা রিচার্জ হবে না। ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার আমাদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে যাচ্ছে। সবার জন্য পানি পেতে পদ্মা ব্যারেজের পাশাপাশি বিএনপি তিস্তা ব্যারেজেও হাত দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ি-ঘর, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। খাল খনন কৃষি ও খাদ্যের চাহিদা পূরণ করবে। খাল খনন শুধু নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি নয়, এটি আমাদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ।’
অনুষ্ঠানে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসাইনসহ মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অধিদপ্তরের মহাপরিচালক। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি গবেষণাগার ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভিত্তিপ্রস্তরের ফলক উন্মোচনের পর পুকুরে মাছ অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়াও গতকাল বুধবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথি ছিলেন।
এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর (ভিডিপি) সদস্যদের শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘নিষ্ঠা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের মাধ্যমে আনসার-ভিডিপি ভবিষ্যতে একটি প্রযুক্তিনির্ভর মানবিক ও সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যেকোনো দেশেই যেকোনো সুশৃঙ্খল বাহিনীর জন্য ‘চেইন অব কমান্ড’ ও ‘ডিসিপ্লিন’ মেনে চলা অনিবার্য ও অবশ্য পালনীয় নীতি। এই দুইটি বিষয়ে সামান্যতম অবহেলা থাকলে কোনো বাহিনী প্রকৃত অর্থে সুশৃঙ্খল বাহিনী হয়ে উঠতে পারে না। আপনাদের এ বিষয়টি গভীরভাবে মনে রাখতে হবে। কোনো বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলার অভাব দেখা দিলে সেই বাহিনী সম্পর্কে জনমনে আস্থার সংকট সৃষ্টি হয়।’
তিনি বলেন, ‘পেশাদারিত্ব, জনসম্পৃক্ততা এবং তৃণমূল পর্যায়ে নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে অবদানের মাধ্যমে আনসার ও ভিডিপি একটি বহুমাত্রিক ও জনমুখী বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা বা উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-টিডিপি, এই প্রতিটি শক্তি সমন্বিতভাবে দেশের নিরাপত্তা ও তৃণমূলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলছে। আমি মনে করি, এই কাঠামোই বাহিনীটিকে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূলভিত্তিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আনসার-ভিডিপি মানবসম্পদ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণ, ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, সিক্স জি ওয়েল্ডিংসহ বহুমাত্রিক চাহিদাভিত্তিক আধুনিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে যা নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী। আমি মনে করি, এ ধরনের উদ্যোগ ও কর্মতৎপরতা দেশে-বিদেশে আনসার ও ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতাকে আরও জোরদার করবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আনসার-ভিডিপি বর্তমানে একটি নির্ভরযোগ্য ‘ফাস্ট রেসপোন্ডার’ স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী হিসেবে জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। বন্যা, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে এই বাহিনীর সাহসিকতা, দ্রুততা ও মানবিক দায়বদ্ধতা দৃষ্টান্তমূলক। একই সঙ্গে রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সোলার প্যানেল এবং বায়োগ্যাস প্লান্ট স্থাপনের মতো পরিবেশবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে এই বাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা টেকসই উন্নয়নের পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হচ্ছেন।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনে আনসার-ভিডিপির সাফল্যও প্রশংসনীয়। ৫ম, ৬ষ্ঠ ও ৭ম বাংলাদেশ গেমসে পরপর তিনবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ২০০৪ সালে ‘স্বাধীনতা পদক’ অর্জন করে। আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া আয়োজন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন করতে বর্তমান সরকার দেশের ১০টি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ৩৭৯ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য মোতায়েনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।’
ক্রীড়াকে একটি পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘খেলাধুলার বিভিন্ন ইভেন্টে যেসব খেলোয়াড় কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে চলছেন, একটি বেতন কাঠামোর আওতায় এনে বর্তমান সরকার তাদেরকে স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে। আপনারা নিঃসন্দেহে জেনেছেন, আনসার-ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদকেও বর্তমান সরকার স্পোর্টস কার্ড প্রদান করেছে।’
মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রায় ৪০ হাজার আনসার সদস্য রাইফেল নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন এবং ৬৭০ জন সদস্য শহীদ হন। তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং আল্লাহর দরবারে তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’
অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এটিএম শামসুল ইসলাম, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানসহ সংসদ সদস্য ও সরকারি ঊধর্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে যোগ দেন। তিনি শহীদদের স্মৃতিসৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করে কর্মসূচি শুরু করেন।
এর আগে সফিপুরে আনসার-ভিডিপি একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সেপটিক ট্যাংকে নেমে বিষক্রিয়ায় চারজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সরাইলের কালিকচ্ছ ইউনিয়নের গলানিয়া গ্রামের আলি মিয়ার নির্মাণাধীন একতলা বাড়ির সেপটিক ট্যাংকিতে কাজ করতে নেমে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একে একে মারা যান ওই ৪ নির্মাণশ্রমিক।
তারা হলেন কালিকচ্ছ ও ধর্মতীর্থ গ্রামের আরমান, ইমাম হোসেন, মেহেদী ও হৃদয়।
কালিকচ্ছ ইউপি চেয়ারম্যান মো. সায়ীদ হোসেন জানান, বেলা ১১টার দিকে প্রথম কাজ করতে নামে এক শ্রমিক। এরপর তার সাড়াশব্দ না পাওয়ায় আরেকজন শ্রমিককে নামানো হয়। এভাবে একে একে ৪ শ্রমিক সেপটিক ট্যাংকিতে নেমে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে। দুপুর ২টার দিকে ৪ শ্রমিকের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সেখানে গিয়ে সেপটি ট্যাংকির ভেতর থেকে ৪ মরদেহ উদ্ধার করে।
সরাইল ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন লিডার রিয়াজ মোহাম্মদ জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে সরাইল দমকল বাহিনীর সদস্যরা। ধারণা করা হচ্ছে, সেপটিক ট্যাংকে গ্যাস জমে এ ঘটনা ঘটতে পারে। তবে তদন্ত ছাড়া কিছু এখনই বলা যাচ্ছে না।
সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনজুর কাদের ভুঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।