শনিবার, ৩০ মে ২০২৬
১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তোফায়েল-আমু-কাদের-শামীম ওসমানের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর-আগুন

তোফায়েল আহমেদের ভোলার গাজিপুর রোডের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০৩

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পূর্তি ছিল গত বুধবার। সেদিনই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে বুধবার রাতে প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গুঁড়িয়ে দেয় তারা। সে রাতে ভাষণও দেন ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। এতে ক্ষোভের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ধানমণ্ডিতে শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি ‘সুধা সদন’ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর এই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার কারণে সারা দেশে আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকে। গত বুধবার রাতেই ভোলায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে, বরিশালে দলটির আরেক বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর বাড়িতে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে, নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়াও নওগাঁয় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদারের বাড়ি, রাজশাহীতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতেও হামলা, বাঙচুর ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন এবং দলটির অনেক নেতার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

তোফায়েল আহমেদের ভোলার বাসায় ভাঙচুর, আগুন

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভোলার দোতলা বাসভবনে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার রাতে শহরের গাজীপুর রোডের ‘প্রিয় কুটির’ নামের বাসভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।

এ সময় তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে একটি ক্রেন ও একটি এক্সকাভেটর আনা হয়। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ফায়ার সার্ভিসের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১টার দিকে দুই-তিন শ বিক্ষুব্ধ জনতা তোফায়েল আহমেদের বাসায় ভাঙচুর চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বাসায় দোতলা ও নিচতলায় আগুন দেয় তারা। পরে তাদের মধ্য থেকে একটি দল সড়কে হ্যান্ডমাইকে জয়বাংলার গান বাজিয়ে নাচতে থাকে ও গানের তালে তালে জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর আর ভোলায় আসেননি অসুস্থ তোফায়েল। বাসাটিতে তার ছেলে থাকতেন বলে জানা গেছে।

ভোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তারা কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পাননি।

বরিশালে আমুর বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে আগুন

বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে জনতা। গত বুধবার রাত ২টার দিকে সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দিয়ে নগরীর বগুড়া রোডের বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করা হয়। রাত ৩টার দিকে ভাঙচুর শেষে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও জনতা নগরীর কালীবাড়ী রোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাড়িটিও বুলডোজার চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়। তারপর সেখানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে কালীবাড়ী রোডে এসে পুলিশ অবস্থান নেয়। রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনীরি সদস্যরাও সেখানে আসেন। একই সময় ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে কালীবাড়ি রোডের ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ এর দিকে এগোয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়কের দুইপাশ থেকেই প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে ভবনের ভেতর প্রবেশ করে।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনেও এ ভবনটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর গ্রামের বাড়িটিতে এ হামলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি বসুরহাট বাসস্ট্যান্ড হয়ে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে থাকা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার দোতালা ভবন হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙা হয়। পরে ভাঙচুর করা হয় তার ছোট ভাই শাহাদাত মির্জার ভবনও।

এর আগে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের দিন বিকালে ওই বাড়ির পাঁচটি বসতঘর এবং দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সেদিন বাড়িটির বেশ কিছু আসবাব লুটপাটও হয়।

নাজিম উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ৫ আগস্টের কিছুদিন পর কাদের মির্জা ভবনটি সংস্কার করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় কাদেরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হল। তবে হামলা-ভাঙচুরের সময় তাদের পরিবারের কেউ ছিলেন না। কাদেরের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম।

গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি

নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। তার আগে বহু লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। ভবনটি ভাঙার কাজ চলার সময় সেখানে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়৷

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির একটি মিছিল বের হয়। তাতে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মিছিলটি শহরের চাষাঢ়ায় বায়তুল আমানের সামনে এসে পৌঁছালে শুরুতে বড় আকারের হাতুড়ি দিয়ে ভবনটির দেয়াল ভাঙতে শুরু করেন লোকজন। পরে একটি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ভবনটির ভেতরের একটি অংশেও দেওয়া হয় আগুন।

ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাংবাদিকদের বলেন, “খুনি হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বছরের পর বছর মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। শামীম ওসমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অসংখ্য গুম, খুন করেছে। ওসমান বাহিনীর প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ, এই ভবনটি ভাঙার মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷”

এর আগে বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কয়েকটি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময়ও নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির ওই দুই নেতা। সেখানেই দুপুরে ঘোষণা দেওয়া হয় সন্ধ্যার পর বায়তুল আমান ভবনটিও ভেঙে ফেলার।

খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ এখন ধ্বংসস্তূপ

খুলনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ চাচাতো ভাইয়ের ‘শেখ বাড়িতে’ গত বুধবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাড়ির ইট ও রড খুলে নিয়ে গেছে লোকজন। প্রায় দেড় দশক খুলনায় ‘ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু’ থাকা ভাঙা বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।

এদিন দুপুরে নগরীর শেরে বাংলা রোডে গিয়ে দেখা যায়, ‘শেখ বাড়ি’ এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ। অসংখ্য মানুষ হাতুড়ি দিয়ে ইট খুলে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকে করে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ যন্ত্রপাতি দিয়ে রড কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ইট ও রড খুলে ওই বাড়ির সামনে বিক্রি করছে। ভোর থেকে এই কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। বিকেলে বাড়িটির সামনে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র।

বাড়ির চত্বরে ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে রড কিনছিলেন শেখপাড়া এলাকার এক ভাঙাড়ির দোকানি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানি বলেন, এখানে সস্তায় কিনতে পারছি, সে কারণে এখানে এসেছি।

রিকশায় করে ইট নিয়ে যাওয়ার সময় চালক সোলায়মান হোসেন বলেন, ‌‘১৫ বছর আওয়ামী লীগের লোকজন লুট করেছে। সে কারণে এখন তাদের ইট-রড খুলে নিয়ে যাচ্ছি। এই বাড়ির লোকজন খুলনার মানুষের ওপর অনেক নিপীড়ন চালিয়েছে।’

এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শেখ বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় ছাত্র-জনতা স্লোগান দিতে থাকে ‘শেখ বাড়ির আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, স্বৈরাচারের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’। রাত ৯টা থেকে ৩টি বুলডোজার দিয়ে বাড়ির গেট ও দোতলা বাড়ির অর্ধেক অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় করেন।

বাড়িটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বাবুর। এই বাড়ি থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি, ব্যবসা, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অনেক কিছু। এর আগে ৪ ও ৫ আগস্ট এই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান বিক্ষুব্ধ লোকজন। তবে সেদিন শেখ পরিবারের কেউ বাড়িটিতে ছিলেন না।

খুবিতে মুর‌্যালসহ ৫ স্থানে ভাঙচুর

এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুরসহ পাঁচটি স্থানে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগরীর দৌলতপুরে সরকারি বিএল কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল ভাঙচুর করে। বেলা ১১টার দিকে নগরীর গল্লামারী এলাকায় লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল ভাঙচুর করা হয়।

এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কালজয়ী মুজিব’ ম্যুরাল ভাঙচুর করে। রাতে নগরীর দোলখোলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলোর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ভেঙে দেওয়া হয় তার বিলাসবহুল গাড়ি। আগুন দেওয়ার পর ৫ তলা বাড়ির লোকজন আতঙ্কে ছাদে উঠে যায়। পরে ফায়ারা সার্ভিসের দু’টি গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর বাড়ি ভাঙচুর করে লোকজন।

সারা দেশে হামলা ভাঙচুরের আরও কিছু ঘটনা

সিলেটে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ম্যুরাল। গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত ম্যুরালটির অবশিষ্ট অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মুসলিম জনতার ব্যানারে ম্যুরালটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে চট্টগ্রামে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পরে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গিয়ে পুরোনো একাডেমিক ভবনের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। পরে সেখান থেকে তারা জামালখান মোড়ের দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এর আগে বিক্ষুব্ধরা একটি মশাল মিছিল বের করেন।

কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল-আলম হানিফের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে একটি দল। গতকাল রাত ১০টার দিকে এক্সক্যাভেটর নিয়ে তারা বাড়ির সামনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দলটি চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় চার নেতার একজনের নামে থাকা সব স্থাপনার নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত ৯টার দিকে বিক্ষোভ শেষে মিছিল নিয়ে চারটি আবাসিক হল ও একটি স্কুলের নামফলক ভেঙে নতুন নাম দেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান হল’, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ‘ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘নবাব ফয়জুন নেসা চৌধুরানী’ ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়া গোপ মডেল স্কুল’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে শেখ হাসিনার ঘৃণাসূচক ছবি টানিয়ে গণজুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে তাঁর ফেসবুক লাইভে আসার প্রতিবাদ জানান।

নাটোরে সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের পোড়া বাড়ি আলোচিত ‘জান্নাতি প্যালেসে’ আবারও আগুন দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা শহরের কান্দিভিটা এলাকায় সাবেক আগুন দেন। এসময় মাইক বাজিয়ে মিছিল নিয়ে কান্দিভিটাস্থ শিমুলের জান্নাতি প্যালেসে যান এবং আগুন দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পোড়া বাড়ির ভেতরে ছিলেন ছাত্ররা।


দুর্নীতি করব না, কাউকে করতে দেব না: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী 

আপডেটেড ৩০ মে, ২০২৬ ২৩:১০
বাসাইল(টাঙ্গাইল)প্রতিনিধি

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান বলেছেন, ‘ইউনিয়নের চেয়ারম্যানেরা, আপনারা কোন দল করেন আমি জানতে চাই না। কিন্তু আপনাদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড যেন জনগণের উপকারে আসে। আপনাদের পকেট যেন ভারি না হয়। তাহলে কিন্তু জেলে যেতে হবে, পরিষ্কার বলে দিচ্ছি। আপনারা যেন উন্নয়নের নামে লুটপাটে ব্যস্ত না হয়ে যান। ওই দিন শেষ হয়ে গেছে। এটা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার দল। আমাদের নেতা তারেক রহমানের দলে এখানে লুটপাটের কোনো সুযোগ নেই, দুর্নীতির কোনো সুযোগ নেই। দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি কাউকে করতে দেব না। পরিষ্কার কথা বলতে চাই।’

শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যায় টাঙ্গাইলের বাসাইলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘অল্প কিছুদিনের মধ্যেই স্থানীয় নির্বাচন আসবে। পৌরসভা, ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচন। আমি আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই, আর সিলমারার নির্বাচন হবে না। সংসদ নির্বাচনে সেটা প্রমাণ হয়েছে। আমাকে কি সিল মেরে এমপি বানিয়েছেন? না ভোটে? আমাকে ভোটে বানিয়েছেন। অতএব, স্থানীয় সরকার নির্বাচনও ভোটে হবে। কোনো সিল হবে না। তাই আপনাদের বলব, ভালো লোকদের নির্বাচিত করবেন। কোনো রকমের হুমকি-ধামকির নির্বাচন হবে না। আপনারা ভালো মানুষকে প্রত্যেকটি জায়গায় নির্বাচিত করবেন।’

তিনি বলেন, ‘দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে সাড়ে তিন বছরের মাথায় স্বনির্ভর বাংলাদেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে দাঁড় করিয়েছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে এমন সমৃদ্ধ করেছিলেন যে বাংলাদেশ থেকে চাল রপ্তানি শুরু হয়েছিল। তিনি বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে এমন সম্মানিত জাতি ও রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যে, তাকে চীন বীরোচিত সম্মান দিয়ে চীনে নিয়ে গিয়েছিল। চীন থেকে তিনি একা ফিরে আসেননি, স্বীকৃতি নিয়ে ফিরে এসেছিলেন।’

মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, ‘বাংলাদেশ যখন দুর্ভিক্ষপীড়িত ছিল, মানুষ এবং কুকুর একসঙ্গে যখন খাবার খেত, মানুষ মারা গেলে কলাপাতা দিয়ে দাফন করা হতো, কাফনের কাপড় পাওয়া যেত না, সেই দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশে রূপান্তরিত করার জন্য তিনি কোরিয়াতে লোক পাঠিয়ে প্রশিক্ষণ দিয়ে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পকে সমৃদ্ধ করেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের ইরির আবাদ এনেছিলেন। এক বিঘা (৫৬ শতাংশ) জমিতে, প্রতি শতাংশ জমিতে এক মণ ধান উৎপাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।’

মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রিয় নেতা তারেক রহমানের সরকার আজ দেশের শাসক নয়, দেশের সেবক হিসেবে দাঁড়িয়ে গেছে। দেশের সেবক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিদ্যুতের চরম সংকটের সময় প্রধানমন্ত্রী তার দপ্তরে এসি চালাননি, এসি চালাতে দেননি। আমাদের দপ্তরেও এসি চালাইনি, এসি চালাতে দেননি।’

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, সাধারণ সম্পাদক নূরনবী আবু হায়াত খান নবু, সহ-সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সোহরাব হোসেন, বাসাইল পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


ফেনীতে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান'র শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী প্রতিনিধি

সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ফেনী জেলা বিএনপির উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রধান অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু।

শনিবার (৩০ মে) বিকেল ৫টায় ফেনী শহরের ট্রাংক রোডস্থ ফেনী বড় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে সূচনা করা হয়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন ও রাজনৈতিক অবদান নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত এবং অসহায় ও দুস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ করা হয়।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু জিয়াউর রহমান এর জীবন নিয়ে আলোচনা করেন এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদিন ভিপি, ফেনী জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মশিউর রহমান বিপ্লব, জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিবউল্লাহ মানিক, আনোয়ার পাটোয়ারী, ইয়াকুব নবী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন, পৌর বিএনপির আহবায়ক দেলোয়ার হোসেন বাবুল, সদস্য সচিব এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন ভূইয়া, ফেনী শহর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুশফিকুর রহমান পিপুলসহ বিএনপি ও এর অংগসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীবৃন্দ।


গজারিয়ায় লাশবাহী গাড়ির ধাক্কায় পথচারী নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশের ভিটিকান্দি এলাকায় লাশবাহী গাড়ির ধাক্কায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন।

​শনিবার (৩০ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিটিকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চট্টগ্রামগামী লেনে এ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।

​নিহতের নাম আশরাফুল আলম ইমন (২৫)। তিনি ঢাকার মুগদা এলাকার শামসুল হক ভূঁইয়ার ছেলে। তাদের পৈতৃক নিবাস মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার রসুলপুর গ্রামে হলেও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে পরিবার নিয়ে তারা মুগদা এলাকায় থাকতেন।

​ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা ৭টার দিকে ভিটিকান্দি বাসস্ট্যান্ড এলাকা দিয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় চট্টগ্রামগামী লেনে একটি লাশবাহী গাড়ির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই ইমন মারা যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

​ভবেরচর হাইওয়ে থানার ইনচার্জ মো. শাহ কামাল আকন্দ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, 'আমরা ঘাতক গাড়িটিকে আটক করেছি তবে চালক কৌশলে পালিয়ে গেছে। নিহতের মরদেহ বর্তমানে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। স্বজনদের খবর দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


রাজস্ব তহবিল থেকে আসিফ মাহমুদ ও হাসনাতের বিরুদ্ধে ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা জেলা পরিষদের রাজস্ব তহবিল থেকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া ১৫ কোটি টাকা নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. মোস্তাক মিয়া। একইসঙ্গে কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

শনিবার (৩০ মে) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমিতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেন মোস্তাক মিয়া। তিনি বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোস্তাক মিয়া বলেন, “আমার জেলা পরিষদ থেকে মুরাদনগরের আসিফ মাহমুদ ১৫ কোটি টাকা নিয়ে গেছেন। এটি আমাদের নিজস্ব রাজস্বের অর্থ।” একই বক্তব্যে তিনি অভিযোগ করেন, “হাসনাত আবদুল্লাহও ১০ কোটি টাকা নিয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “তারা বৈষম্যবিরোধী ও সমন্বয়ের রাজনীতির কথা বললেও বাস্তবে তাদের কর্মকাণ্ডে সেই সমন্বয়ের প্রতিফলন দেখা যায়নি।”

সরকারের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মোস্তাক মিয়া বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বর্তমানে দেশ পরিচালনা করছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, পূর্ববর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতিকে পুনরায় সচল করতে সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।


কেরানীগঞ্জে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

সারা দেশের ন্যায় ঢাকার কেরানীগঞ্জে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি স্বাধীনতার ঘোষক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) দিবসটি উপলক্ষে দিনব্যাপী কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির কার্যালয়সহ উপজেলার সকল স্তরের দলীয় কার্যালয়ে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হয়। দুপুর দেড় টায় শিকারিটোলাস্থ বিএনপির কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে মডেল থানা বিএনপি ও সহযোগী অঙ্গ সংগঠন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার ইরফান ইবনে আমান অমি।

এছাড়া উপজেলার হযরতপুর, রোহিতপুর, কলাতিয়া, বাস্তাসহ বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটে অনুষ্ঠিত দোয়া মাহফিল ও দুস্থ অসহায় পরিবারের মাঝে খাবার বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশ নেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান।

এসময় কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


খুলনায় ভাড়া বাসা থেকে নানী ও দুই নাতির লাশ উদ্ধার, পুলিশ বলছে পরিকল্পিত হত্যা

আপডেটেড ৩০ মে, ২০২৬ ২২:৪৬
সৈকত মোঃ সোহাগ, খুলনা ব্যুরো 
খুলনায় ভাড়াবা‌ড়ি থে‌কে নানীসহ দুই না‌তির মর‌দেহ উদ্ধার ক‌রে‌ছে পু‌লিশ। আজ শ‌নিবার সন্ধ‌্যা ৬টার দি‌কে সোনডাঙ্গা থানার দারুল আমান মস‌জিদ রোড বিলপাড় রো‌ডের বা‌সিন্দা শরীফুল ইলা‌মের বা‌ড়ি থে‌কে তিন‌টি মর‌দেহ উদ্ধার করা হয়।
সন্ধ‌্যায়‌ নিহত শিশু দুইটির মা মেরী বেগমকে জিজ্ঞাসাবা‌দের জন‌্য হেফাজ‌তে নেয় পু‌লিশ। সংবাদ পে‌য়ে ঘটনাস্থ‌লে পু‌লি‌শের পাশাপা‌শি র‌্যাব ও সিআইডির টিম ঘটনাস্থল প‌রিদর্শন ক‌রে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে এই তিন হত্যাকে পারিবারিক কলহ ও পরিকল্পিত হত্যা হিসেবে দেখছে।
নিহতরা হ‌লেন, বেবী বেগম(৬৫), তার দুই না‌তি মোস্তাকীম(৭) ও শাশীম (১২)। নিহ‌ত‌দেন ম‌ধ্যে নানী‌কে জবাই ও দুই নানী‌তে শ্বাস‌রোধ ক‌রে হত‌্যা করা হয়।
পু‌লিশ ও স্থানীয়রা জানায়, বেবী বেগম‌কে খুজ‌তে ঘটনাস্থ‌লে আসেন তার এক নিকট আত্মীয় । এসময়ে ঘর থে‌কে দুগন্ধ বের হ‌তে থাক‌লে জাতীয় জরু‌রি সেবা ৯৯৯ এ ফোন দেয়।
এর আগে স্থ‌নিীয়রা ঘরের দরজা ভে‌ঙ্গে চৌ‌কির নীচ‌ থে‌কে নানী বেগম ও ট্রং‌কের ওপর থে‌কে শামী‌মের মর‌দেহ দেখ‌তে পান। প‌রে পু‌লিশ ছোট ছে‌লে মুস্তা‌কি‌মের লাশ খুজ‌তে থা‌কে। প‌রে সিআইডর টিম এমে ওয়ারড্রব থে‌কে মর‌দেহ উদ্ধার ক‌রে।
লাশ উদ্ধা‌রের সময় সন্ত‌ন দুইটির মা মেরী‌কে হেফাজ‌তে নেয় পু‌লিশ। তা‌কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হ‌চ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানায়, মেরী বেগ‌মের সা‌থে আগের স্বামী মাসু‌মের সা‌থে গত ৪ বছর আগে বি‌চ্ছেদ হয়। সম্প্রতিক সম‌য়ে র‌ফিক না‌মে এক ব‌্যক্তির সা‌থে তার বি‌য়ে হয়। এর পর তারা দারুল আমান মস‌জিদ রোড বিলপাড় রো‌ডের বা‌সিন্দা শরীফুল ইলা‌মের বা‌ড়ি দুইটি কক্ষ ভাড়া নি‌য়ে বসবাস করতে থা‌কে
সোনাডাঙ্গা থানার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম তিনজনের লাশ উদ্ধারের সত্যতা নিশ্চিত করেন। এঘটনায় নিহত শামীম ও মুস্তাকিমের মা ফাতেমা বেগম ওরফে মেরীকে (৩৫) আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) উপপুলিশ কমিশনার আব্দুর রাজ্জাক জানান, চার বছর আগে নগরীর লবণচরা থানার কৃষ্ণনগর এলাকার কাশেম বেপারীর ছেলে মাসুম বেপারীর সঙ্গে তার স্ত্রী ফাতেমা বেগমের ছাড়াছাড়ি (ডিভোর্স) হয়। এরপর ফাতেমা রফিকুল ইসলাম নামে আরেকজনকে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে সে আগের পক্ষের সন্তান শামীম ও মুস্তাকিম এবং মা বেবী বেগমকে নিয়ে বর্তমান স্বামী রফিকুল ইসলামের সঙ্গে বসবাস করতেন।
এ নিয়ে প্রায়ই সময় ফাতেমার সঙ্গে তার বর্তমান স্বামী রফিকুলের ঝগড়া-ফ্যাসাদ লেগেই থাকতো। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা এর জের ধরেই ওই তিনজনকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত তিনজনের মধ্যে শামীম ও মুস্তাকিমকে শ্বাসরোধে এবং বেবী বেগমকে ধারালো বস্তু দিয়ে আঘাত করে করে হত্যা করা হয়েছে।
বেবী বেবী বেগমের মুখে ও মাথায় ধারলো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে ফাতেমা বেগম সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। তার কাছ থেকে তথ্য নিয়ে ঘাতক রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।


একটি দল স্বাধীনতার জন্য তেমন কিছুই করেনি, আরেকটি দল সরাসরি বিরোধিতা করেছে: আবদুল আউয়াল মিন্টু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী প্রতিনিধি

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, আমরা যারা আমাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অনুগামী- অনুসারী। আমাদের দায়িত্ব অন্য যে কোন দলের লোকের চাইতে বেশী। একটা দল স্বাধীনতা স্বাধীনতা করতেছে, কিন্তু স্বাধীনতার জন্য তেমন কিছুই করেনি। স্বাধীনতার ঘোষণাও দেয়নি। আরেকটা দল সরাসরি স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। অতএব বাংলাদেশে কোন দল যদি উন্নয়ন করতে পারে, তারাই পারবে। যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছে, ঘোষণা দিয়েছে। যারা স্বাধীনতার বিরোধীতা করেনি। তাই দেশের উন্নয়নে আমাদেরকেই সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে।

পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলা বিএনপির আয়োজনে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে এসব কথা বলেছেন।

দাগনভূঞা আতাতুর্ক মিজান মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আকবর হোসেনের সভাপতিত্বে সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সদস্য এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন, জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক এম এ খালেক, জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, যুগ্ম আহবায়ক গাজী হাবিব উল্লাহ মানিক ও সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলাল, জেলা যুবদলের নেতা নাসির উদ্দীন খোন্দকার সহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন নেতৃবৃন্দ।

সভা পরিচালনা করেন পৌর বিএনপির সদস্য সচিব হুমায়ুন কবির বাবু। সভা শেষে প্রায় ৫ হাজার গরীব-দুঃস্থ লোকের মাঝে খাবার বিতরণ করা হয়।


মাদকাসক্ত দুই নাতীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যু 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদকাসক্ত দুই নাতীর অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে বৃদ্ধের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া যায়। খবর পেয়ে ভৈরব রেলওয়ের থানা পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে

নিহত বৃদ্ধ নারী কুলিয়ারচর উপজেলার খরকমারা এলাকার মৃত জিল্লু মিয়ার স্ত্রী মুর্তুজা বেগম (৬৫)। আজ শনিবার বেলা দুপুরের দিকে কুলিয়ারচরে খরকমারা রেলক্রসিং এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত কুলিয়ারচর পৌরসভার সাবেক মেয়র মরহুম মিল্লাত হোসেনের বাড়িতে বসবাস করছিলেন মর্তুজা বেগম। তিনি মেয়ে ও তিন নাতীদের নিয়ে থাকেন। মর্তুজা বেগম দীর্ঘদিন মানুষের বাড়িতে কাজ করেছেন। বর্তমানে বিভিন্ন জায়গায় ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। নিহতের মেয়ে জাহানারা বেগম (৩৮) ও তার দুই ছেলে রাকিব মিয়া (১৮) ও সাকিব মিয়া (১৫) টাকার জন্য প্রায় সময় তাকে অত্যাচার করত । ২৯ মে রাতেও টাকার জন্য মাদকাসক্ত দুই নাতী তাকে মারধর করেছে। এদিকে নানী নাতীদের ঝগড়া ও হট্টগোলে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসী নিহত মর্তুজা বেগম ও তারা নাতীদের বাড়ি ছেড়ে দিতে চাপ দিতে থাকে। এরই জেরে অসহায় নারী মর্তুজা বেগম কোন সুরাহা না পেয়ে ট্রেনের নিচে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার রেলওয়ে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।

এবিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার উপপরিদর্শক জহুরুল ইসলাম জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে বৃদ্ধের নিহতের খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে জানতে পারি বৃদ্ধের ভিক্ষার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে মাদকসেবন করতো দুই নাতী। যদি না দিতো তাহলে তাকে মারধোর করতো। এই ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে সত্যতা জানা যাবে বলে তিনি জানান।


ইবিতে শহীদ জিয়ার ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী পালিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাকিব আসলাম, ইবি প্রতিনিধি 

বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, স্বাধীনতার ঘোষক ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।

এরই অংশ হিসেবে শোক যাত্রা কালো ব্যাজ ধারণ, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তরে পুষ্পস্তবক অর্পণ, সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত সহ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শনিবার (৩০ মে) বেলা ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে থেকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলীর নেতৃত্বে একটি শোক যাত্রা বের হয়। শোক যাত্রায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। যাত্রাটি ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান কর্তৃক উন্মোচিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ভিত্তিপ্রস্তরের সামনে সমবেত হয়।

পরে সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রনায়কের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে দোয়া মাহফিল ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জিয়া পরিষদ ইবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ইউট্যাব ইবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তোজাম্মেল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রশিদুজ্জামান, আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নুরুন নাহার, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলাম, জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের সভাপতি ও এস্টেট অফিস প্রধান মোহাম্মদ আলাউদ্দিন, সিনিয়র অফিসার মাসুদুল হক তালুকদার, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি আব্দুল মঈদ বাবুল, ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. মো. ওয়ালিউর রহমান, ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক মো. আব্দুল মজিদ, জনসংযোগ দপ্তর পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মো. সাহেদ হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা।

এসময় অধ্যাপক ড. এম এয়াকুব আলী বলেন, “শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক, যিনি দেশের স্বাধীনতা-পরবর্তী সংকটময় সময়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।”

অডিয়ো বার্তার মাধ্যমে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। তিনি তাঁর বক্তব্যে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কর্মময় জীবন, রাষ্ট্র পরিচালনায় তাঁর অবদান এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জিয়াউর রহমান দেশের উচ্চশিক্ষার বিস্তার ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন। তাঁর আদর্শ, দেশপ্রেম ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। কর্মকর্তাদের পক্ষে জিয়া পরিষদ কর্মকর্তা ইউনিটের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মীর সিরাজুল ইসলাম রিপু ও জাতীয়তাবাদী কর্মকর্তা ইউনিট ইবির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, ছাত্রদল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ।

উল্লেখ্য, পবিত্র ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির পর সুবিধাজনক সময়ে ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক আলোচনা সভা-সহ আরও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।


জিয়াউর রহমানের প্রধান গুণ ছিল অর্থনৈতিক সততা: ফজলুর রহমান 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বলেছেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান শুধু একটি নাম নন, তিনি একটি ইতিহাস ও একটি প্রতিষ্ঠান। তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল অর্থনৈতিক সততা। এ ধরনের সৎ রাজনীতিবিদ বা রাষ্ট্রনায়ক এ দেশে খুব কমই এসেছেন।

শনিবার দুপুরে কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলা সদরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনগুলোর আয়োজিত দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, জিয়াউর রহমানের দ্বিতীয় বড় গুণ ছিল প্রশাসনিক দক্ষতা এবং তৃতীয় গুণ ছিল তাঁর দূরদর্শিতা। তিনি ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি অনুধাবন করতে পারতেন। তবে মানুষের প্রতি অতিরিক্ত আস্থাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় দুর্বলতা। মানুষের ওপর বিশ্বাস রেখেই তিনি স্বল্প নিরাপত্তায় চলাফেরা করতেন এবং শেষ পর্যন্ত সেই বিশ্বাসের মূল্য জীবন দিয়ে দিতে হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সেই সংকটময় সময়ে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, ওই ঘোষণা ছিল ঝুঁকিপূর্ণ এবং ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

ফজলুর রহমান আরও বলেন, সামরিক কর্মকর্তা হয়েও জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনি একদলীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তে রাজনৈতিক দল গঠন ও নির্বাচনী রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেন। এ কারণে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দেশ পরিচালনায় সততা ও জবাবদিহিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন , জিয়াউর রহমানের মতো নেতৃত্ব দেশের জন্য একটি আদর্শ উদাহরণ।

সভায় ফজলুর রহমান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথাও স্মরণ করেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের উন্নয়ন ও পুনর্গঠনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ইটনা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা, জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম রতন, উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি মো. মনির উদ্দিন, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পলাশ রহমান ও সাংগঠনিক সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জুয়েল।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন।


সারাদেশে বৃষ্টির পূর্বাভাস, তিন অঞ্চলে ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

দেশের সব বিভাগেই অস্থায়ী দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সঙ্গে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের তিন অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিরূপ আবহাওয়ার কারণে এসব অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচল করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে রাত ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া সতর্কবার্তায় এই তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, খুলনা, বরিশাল এবং পটুয়াখালী অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব এলাকায় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া এবং বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে ২১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে গোপালগঞ্জে। এই সময়ে ঢাকায় দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার এবং সকালে বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৮৯ শতাংশ। আজ ঢাকায় সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টা ৪১ মিনিটে এবং আগামীকাল রোববার সূর্যোদয় ভোর ৫টা ১১ মিনিটে।


আদ্-দ্বীন হাসপাতালে রুটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে একটি অননুমোদিত রুটির কারখানা বা বেকারির সন্ধান পাওয়া গেছে। শনিবার (৩০ মে) বিকেলে হাসপাতালটি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। হাসপাতাল ভবনের ভেতরে এমন কারখানার উপস্থিতি এবং সেখানকার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালটিতে কোনো ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াই দুটি বড় ইলেকট্রিক ওভেন দিয়ে ওই বেকারিটি চালানো হতো। কারখানার ভেতরে প্রচুর ময়লা-আবর্জনা পাওয়া গেছে যা অত্যন্ত অনুচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বেকারিতে হাজার হাজার শিক্ষার্থীর জন্য খাবার তৈরি করা হতো। সেখান থেকে ক্ষতিকারক কোনো গ্যাস নির্গত হয়েছিল কি না, এখন তা গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই বিষয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে শক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

মন্ত্রী আরও জানান, ঘটনার তদন্তে নিয়োজিত কমিটির সদস্য সংখ্যা আরও তিন জন বাড়ানো হয়েছে এবং আগামী ৩ জুন এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। তদন্তের অংশ হিসেবে তিনি হাসপাতালের দুজন চিকিৎসকের সাথে কথা বলেছেন এবং তাদের কাছ থেকেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পেয়েছেন।

এর আগে গত মঙ্গলবার (২৬ মে) দিবাগত রাতে হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র (এসি) বন্ধ ও চালু করাকে কেন্দ্র করে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ওয়ার্ডটিতে ১১ জন মা ও ছয় নবজাতক ভর্তি ছিল। রাতে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা লাগায় একজন মা নার্সকে এসি বন্ধ করার অনুরোধ জানান। প্রায় এক ঘণ্টা এসি বন্ধ রাখার পর পুনরায় তা চালু করা হলে, মুহূর্তের মধ্যেই নবজাতকরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের এনআইসিইউতে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি এবং বুধবার সকালে ছয় নবজাতকেরই মৃত্যু হয়।

পরবর্তীতে গত বুধবার (২৭ মে) রাতে পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ময়নাতদন্ত ছাড়াই ছয় নবজাতকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনায় রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেছে ভুক্তভোগী এক নবজাতকের পরিবার।


ভারত-পাকিস্তানের মতো টেবিলে বসে আমাদের স্বাধীনতা আসেনি: ভূমিমন্ত্রী মিনু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী ব্যুরো

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, ভারত-পাকিস্তানের মতো টেবিলে বসে আমাদের স্বাধীনতা আসেনি। সৎ ও সাহসী জাতি বাঙালির স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। শনিবার (৩০ মে) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

এ সময় ভূমিমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের বড় অলংকার হলো সততা। আওয়ামী লীগের অত্যাচার-নিপীড়নে গৃহহীন হয়ে মাসের পর মাস কাটিয়েছেন অনেকে। বহু নেতাকর্মী জেলে ছিলেন। তাই দলের অভ্যন্তরীণ সব ভেদাভেদ ভুলে জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

নগরীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে রাজশাহী জেলা বিএনপি আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সাঈদ চাঁদ এমপি, দলের বন ও পরিবেশবিষয়ক সম্পাদক মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সহ-সম্পাদক শফিকুল হক মিলন এমপি এবং নজরুল ইসলাম মণ্ডল এমপি


banner close