সোমবার, ১২ জানুয়ারি ২০২৬
২৮ পৌষ ১৪৩২

তোফায়েল-আমু-কাদের-শামীম ওসমানের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর-আগুন

তোফায়েল আহমেদের ভোলার গাজিপুর রোডের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০৩

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ছয় মাস পূর্তি ছিল গত বুধবার। সেদিনই নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচারের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছড়িয়ে পড়ায় আবারও ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। সেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে বুধবার রাতে প্রথমে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পর গুঁড়িয়ে দেয় তারা। সে রাতে ভাষণও দেন ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা। এতে ক্ষোভের মাত্রা এত বেশি ছিল যে ধানমণ্ডিতে শেখ হাসিনার স্বামীর বাড়ি ‘সুধা সদন’ হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের শিকার হয়। এরপর এই ক্ষোভ ও প্রতিহিংসার কারণে সারা দেশে আওয়ামী লীগের আলোচিত নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের বাড়িতে একের পর এক হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটতে থাকে। গত বুধবার রাতেই ভোলায় আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে, বরিশালে দলটির আরেক বর্ষীয়ান নেতা ও উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আমির হোসেন আমুর বাড়িতে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে, নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। এছাড়াও নওগাঁয় সাবেক খাদ্যমন্ত্রী সাধনচন্দ্র মজুমদারের বাড়ি, রাজশাহীতে সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতেও হামলা, বাঙচুর ও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর, আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন এবং দলটির অনেক নেতার বাসভবনে হামলা, ভাঙচুর, আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

তোফায়েল আহমেদের ভোলার বাসায় ভাঙচুর, আগুন

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদের ভোলার দোতলা বাসভবনে ভাঙচুরের পর আগুন দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বুধবার রাতে শহরের গাজীপুর রোডের ‘প্রিয় কুটির’ নামের বাসভবনে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়া হয়।

এ সময় তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে একটি ক্রেন ও একটি এক্সকাভেটর আনা হয়। তবে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা ফায়ার সার্ভিসের কোনো সদস্যকে দেখা যায়নি।

স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১টার দিকে দুই-তিন শ বিক্ষুব্ধ জনতা তোফায়েল আহমেদের বাসায় ভাঙচুর চালায়। বিক্ষুব্ধ জনতা বাসার ভেতরে থাকা বিভিন্ন আসবাবপত্র বাইরে বের করে সড়কে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। একই সঙ্গে বাসায় দোতলা ও নিচতলায় আগুন দেয় তারা। পরে তাদের মধ্য থেকে একটি দল সড়কে হ্যান্ডমাইকে জয়বাংলার গান বাজিয়ে নাচতে থাকে ও গানের তালে তালে জয়বাংলা স্লোগান দিতে থাকে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত বাসার ভেতরে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে। উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশ ত্যাগের পর আর ভোলায় আসেননি অসুস্থ তোফায়েল। বাসাটিতে তার ছেলে থাকতেন বলে জানা গেছে।

ভোলা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মো. লিটন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, তারা কোনো অগ্নিকাণ্ডের খবর পাননি।

বরিশালে আমুর বাড়ি গুড়িয়ে দিয়ে আগুন

বরিশাল নগরীতে আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আমির হোসেন আমুর বাসভবন বুলডোজার দিয়ে ভেঙে আগুন লাগিয়ে দিয়েছে জনতা। গত বুধবার রাত ২টার দিকে সিটি করপোরেশনের বুলডোজার দিয়ে নগরীর বগুড়া রোডের বাড়িটিতে ভাঙচুর শুরু করা হয়। রাত ৩টার দিকে ভাঙচুর শেষে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয় জনতা।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থী ও জনতা নগরীর কালীবাড়ী রোডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুফাত ভাই আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহর বাড়িটিও বুলডোজার চালিয়ে গুড়িয়ে দেয়। তারপর সেখানেও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, রাত ১১টার দিকে কালীবাড়ী রোডে এসে পুলিশ অবস্থান নেয়। রাত ১২টার দিকে সেনাবাহিনীরি সদস্যরাও সেখানে আসেন। একই সময় ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে কালীবাড়ি রোডের ‘সেরনিয়াবাত ভবন’ এর দিকে এগোয়। এ সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সড়কের দুইপাশ থেকেই প্রবেশে বাধা দেয়। কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলে জড়ো হয় এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বাধা উপেক্ষা করে ভবনের ভেতর প্রবেশ করে।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের দিনেও এ ভবনটিতে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় বিক্ষুব্ধ জনতা।

নোয়াখালীতে ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর-আগুন

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের গ্রামের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সোয়া ১টার দিকে উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের রাজাপুর গ্রামের বাড়িটিতে এ হামলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলার বসুরহাট বাজার থেকে মিছিল বের করে। মিছিলটি বসুরহাট বাসস্ট্যান্ড হয়ে ওবায়দুল কাদেরের বাড়িতে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে থাকা ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুল কাদের মির্জার দোতালা ভবন হাতুড়ি, শাবল দিয়ে ভাঙা হয়। পরে ভাঙচুর করা হয় তার ছোট ভাই শাহাদাত মির্জার ভবনও।

এর আগে ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের দিন বিকালে ওই বাড়ির পাঁচটি বসতঘর এবং দুটি গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। সেদিন বাড়িটির বেশ কিছু আসবাব লুটপাটও হয়।

নাজিম উদ্দিন নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ৫ আগস্টের কিছুদিন পর কাদের মির্জা ভবনটি সংস্কার করেছিলেন। দ্বিতীয় দফায় কাদেরের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুর করা হল। তবে হামলা-ভাঙচুরের সময় তাদের পরিবারের কেউ ছিলেন না। কাদেরের পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন।

ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নোয়াখালী জেলা শাখার সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম।

গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি

নারায়ণগঞ্জে সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের পৈতৃক বাড়ি ‘বায়তুল আমান’ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টায় বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলার কাজ শুরু হয়। তার আগে বহু লোকজন বাড়িতে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। ভবনটি ভাঙার কাজ চলার সময় সেখানে বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও উৎসুক জনতাকে উল্লাস করতে দেখা যায়৷

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে শহরের মিশনপাড়া এলাকা থেকে মহানগর বিএনপির একটি মিছিল বের হয়। তাতে নেতৃত্ব দেন মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন খান ও সদস্য সচিব আবু আল ইউসুফ খান টিপু। মিছিলটি শহরের চাষাঢ়ায় বায়তুল আমানের সামনে এসে পৌঁছালে শুরুতে বড় আকারের হাতুড়ি দিয়ে ভবনটির দেয়াল ভাঙতে শুরু করেন লোকজন। পরে একটি বুলডোজার দিয়ে ভবনটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়৷ ভবনটির ভেতরের একটি অংশেও দেওয়া হয় আগুন।

ঘটনাস্থলে থাকা বিএনপি নেতা আবু আল ইউসুফ খান টিপু সাংবাদিকদের বলেন, “খুনি হাসিনা ও তার ফ্যাসিস্ট দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা বছরের পর বছর মানুষের ওপর জুলুম-নির্যাতন চালিয়েছে। শামীম ওসমান ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী অসংখ্য গুম, খুন করেছে। ওসমান বাহিনীর প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ, এই ভবনটি ভাঙার মধ্য দিয়ে তার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে৷”

এর আগে বেলা ১২টার দিকে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের বেশ কয়েকটি ম্যুরাল ও ভাস্কর্য ভাঙচুর করেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা। এ সময়ও নেতৃত্বে ছিলেন বিএনপির ওই দুই নেতা। সেখানেই দুপুরে ঘোষণা দেওয়া হয় সন্ধ্যার পর বায়তুল আমান ভবনটিও ভেঙে ফেলার।

খুলনায় ‘শেখ বাড়ি’ এখন ধ্বংসস্তূপ

খুলনায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাঁচ চাচাতো ভাইয়ের ‘শেখ বাড়িতে’ গত বুধবার রাতে অগ্নিসংযোগ ও বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুরের পর গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বাড়ির ইট ও রড খুলে নিয়ে গেছে লোকজন। প্রায় দেড় দশক খুলনায় ‘ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু’ থাকা ভাঙা বাড়িটি দেখতে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা।

এদিন দুপুরে নগরীর শেরে বাংলা রোডে গিয়ে দেখা যায়, ‘শেখ বাড়ি’ এখন পুরোপুরি ধ্বংসস্তূপ। অসংখ্য মানুষ হাতুড়ি দিয়ে ইট খুলে রিকশা, ভ্যান ও ইজিবাইকে করে নিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ যন্ত্রপাতি দিয়ে রড কেটে নিয়ে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ ইট ও রড খুলে ওই বাড়ির সামনে বিক্রি করছে। ভোর থেকে এই কর্মকাণ্ড চলছে বলে জানান স্থানীয় লোকজন। বিকেলে বাড়িটির সামনে গিয়েও দেখা গেছে একই চিত্র।

বাড়ির চত্বরে ডিজিটাল দাঁড়িপাল্লা দিয়ে ওজন করে রড কিনছিলেন শেখপাড়া এলাকার এক ভাঙাড়ির দোকানি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দোকানি বলেন, এখানে সস্তায় কিনতে পারছি, সে কারণে এখানে এসেছি।

রিকশায় করে ইট নিয়ে যাওয়ার সময় চালক সোলায়মান হোসেন বলেন, ‌‘১৫ বছর আওয়ামী লীগের লোকজন লুট করেছে। সে কারণে এখন তাদের ইট-রড খুলে নিয়ে যাচ্ছি। এই বাড়ির লোকজন খুলনার মানুষের ওপর অনেক নিপীড়ন চালিয়েছে।’

এর আগে বুধবার রাত ৮টার দিকে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা শেখ বাড়ির সামনে জড়ো হয়। তারা সেখানে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এ সময় ছাত্র-জনতা স্লোগান দিতে থাকে ‘শেখ বাড়ির আস্তানা ভেঙে দাও, গুড়িয়ে দাও’, স্বৈরাচারের আস্তানা জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও’। রাত ৯টা থেকে ৩টি বুলডোজার দিয়ে বাড়ির গেট ও দোতলা বাড়ির অর্ধেক অংশ গুঁড়িয়ে দেয়। এছাড়া বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়। এ সময় উৎসুক অসংখ্য মানুষ সেখানে ভিড় করেন।

বাড়িটি ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ হেলাল উদ্দিন, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েল, যুবলীগ নেতা শেখ সোহেল, শেখ জালাল উদ্দিন রুবেল ও শেখ বাবুর। এই বাড়ি থেকে নিয়ন্ত্রিত হতো খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতি, ব্যবসা, ঠিকাদারি, নিয়োগ, বদলি, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডসহ অনেক কিছু। এর আগে ৪ ও ৫ আগস্ট এই বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও সবচেয়ে বেশি ভাঙচুর চালিয়ে ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটান বিক্ষুব্ধ লোকজন। তবে সেদিন শেখ পরিবারের কেউ বাড়িটিতে ছিলেন না।

খুবিতে মুর‌্যালসহ ৫ স্থানে ভাঙচুর

এদিকে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুরসহ পাঁচটি স্থানে ভাঙচুর করেছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে শিক্ষার্থীরা নগরীর দৌলতপুরে সরকারি বিএল কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল ভাঙচুর করে। বেলা ১১টার দিকে নগরীর গল্লামারী এলাকায় লায়ন্স স্কুল অ্যান্ড কলেজে শেখ মুজিবুর রহমানের মুর‌্যাল ভাঙচুর করা হয়।

এর আগে বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ‘কালজয়ী মুজিব’ ম্যুরাল ভাঙচুর করে। রাতে নগরীর দোলখোলা এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন দেলোর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ভেঙে দেওয়া হয় তার বিলাসবহুল গাড়ি। আগুন দেওয়ার পর ৫ তলা বাড়ির লোকজন আতঙ্কে ছাদে উঠে যায়। পরে ফায়ারা সার্ভিসের দু’টি গাড়ি গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এছাড়া নগরীর ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের মোল্লাপাড়া এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা আইয়ুব আলীর বাড়ি ভাঙচুর করে লোকজন।

সারা দেশে হামলা ভাঙচুরের আরও কিছু ঘটনা

সিলেটে বুলডোজার দিয়ে ভেঙে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ম্যুরাল। গত বুধবার রাতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপিত ম্যুরালটির অবশিষ্ট অংশ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে মুসলিম জনতার ব্যানারে ম্যুরালটিতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার বক্তৃতা প্রচারকে কেন্দ্র করে গতকাল রাতে চট্টগ্রামে মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মীরা। পরে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে গিয়ে পুরোনো একাডেমিক ভবনের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। পরে সেখান থেকে তারা জামালখান মোড়ের দেয়ালে থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙচুর করেন। এর আগে বিক্ষুব্ধরা একটি মশাল মিছিল বের করেন।

কুষ্টিয়ায় আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাহবুবউল-আলম হানিফের বাড়িতে ভাঙচুর চালিয়েছে একটি দল। গতকাল রাত ১০টার দিকে এক্সক্যাভেটর নিয়ে তারা বাড়ির সামনের কিছু অংশ ভেঙে ফেলে। প্রায় আধা ঘণ্টা পর দলটি চলে যায়। স্থানীয়রা জানান, গত ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর ওই বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছিল।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে শেখ পরিবারের সদস্য ও জাতীয় চার নেতার একজনের নামে থাকা সব স্থাপনার নামফলক, গ্রাফিতি ও দেয়াল লিখন মুছে দিতে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রাত ৯টার দিকে বিক্ষোভ শেষে মিছিল নিয়ে চারটি আবাসিক হল ও একটি স্কুলের নামফলক ভেঙে নতুন নাম দেন। শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম পরিবর্তন করে ‘বিজয়-২৪ হল’, নির্মাণাধীন শহীদ এএইচএম কামারুজ্জামান হলের পরিবর্তে ‘শহীদ আলী রায়হান হল’, শেখ হাসিনা হলের পরিবর্তে ‘ফাতিমা আল-ফাহরিয়া হল’ এবং বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা হলের পরিবর্তে ‘নবাব ফয়জুন নেসা চৌধুরানী’ ও শেখ রাসেল মডেল স্কুলের নাম পরিবর্তন করে ‘রিয়া গোপ মডেল স্কুল’ নাম দিয়ে ব্যানার ঝুলিয়ে দেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রধান ফটকে শেখ হাসিনার ঘৃণাসূচক ছবি টানিয়ে গণজুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা শেখ হাসিনার প্রতিকৃতিতে জুতা নিক্ষেপ করে তাঁর ফেসবুক লাইভে আসার প্রতিবাদ জানান।

নাটোরে সাবেক এমপি শফিকুল ইসলাম শিমুলের পোড়া বাড়ি আলোচিত ‘জান্নাতি প্যালেসে’ আবারও আগুন দিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বুধবার রাতে শিক্ষার্থীরা শহরের কান্দিভিটা এলাকায় সাবেক আগুন দেন। এসময় মাইক বাজিয়ে মিছিল নিয়ে কান্দিভিটাস্থ শিমুলের জান্নাতি প্যালেসে যান এবং আগুন দেন। প্রায় এক ঘণ্টা পোড়া বাড়ির ভেতরে ছিলেন ছাত্ররা।


মেডিকেল কলেজে শহীদ মনিরের নামে হলের দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাঙামাটি প্রতিনিধি

রাঙামাটি মেডিকেল কলেজে শহীদ মনির হোসেনের নামে একটি হলের নামকরণসহ তার পরিবারের পুনর্বাসন ও সরকারি চাকরির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাত্র পরিষদ (পিসিসিপি)। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের গেটের সামনে পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন পিসিসিপি রাঙামাটি জেলা সভাপতি তাজুল ইসলাম। এতে বক্তব্য রাখেন পিসিসিপি কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবীব আজম, রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সম্পাদক মো. হারুন, সাংগঠনিক সম্পাদক পারভেজ মোশাররফ হোসেনসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিয়ান রিয়াজ, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম রনি, পৌর শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজুল ইসলাম বাবু প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ চালুর প্রাক্কালে জেএসএসের ছাত্র সংগঠন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের হামলায় মনির হোসেন নির্মমভাবে নিহত হন। তার আত্মত্যাগের বিনিময়েই রাঙামাটিতে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও ওই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি এবং মনিরের পরিবার সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পায়নি।

সমাবেশে আরও বলা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শিক্ষা বিস্তার, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন ও পর্যটন শিল্পের বিকাশে বিভিন্ন সময় বাধা সৃষ্টি করা হয়েছে। রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সময়ও শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়।

পিসিসিপি নেতারা অবিলম্বে শহীদ মনির হোসেনের নামে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজের একটি হলের নামকরণ, তার পরিবারকে পুনর্বাসন ও সরকারি চাকরি প্রদান, একই ঘটনায় আহত জামাল হোসেনকে ক্ষতিপূরণ এবং মেডিকেল কলেজের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কার্যক্রম দ্রুত শুরু করার দাবি জানান। দাবি পূরণ না হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।


ডিএনসিসি নাগরিক পদক পেলেন ৩ ব্যক্তি, ৫ প্রতিষ্ঠান

রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত গতকাল ডিএনসিসি নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সমাজসেবা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘নাগরিক পদক-২০২৫’ বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বছর আটটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে সমাজের তিন ব্যক্তি এবং পাঁচটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনকে এই সম্মানজনক পদকে ভূষিত করা হয়।

পদকপ্রাপ্তরা হলেন- উদ্ভাবক ও স্টার্টআপ ক্যাটাগরিতে পিউপিল স্কুল বাস লিমিটেড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী আব্দুর রশিদ সোহাগ, ব্যক্তিগত উদ্যোগ ক্যাটাগরিতে শ্রুতি রানী দে এবং অ্যাডভোকেসিতে নাগরিক নেতা হাওয়া বেগম।

এছাড়া পদকপ্রাপ্ত পাঁচ প্রতিষ্ঠান হলো- স্যোশাল মিডিয়া কনটেন্ট নির্মাণে আপলিফট বাংলাদেশ, পরিবেশবান্ধব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে ভাষানটেক স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সামাজিক সংগঠন হিসেবে উত্তরা পাবলিক লাইব্রেরি, প্রাণী সুরক্ষায় ফাউন্ডেশন এবং সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) নগর ভবনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা ও পদক হস্তান্তর করা হয়।

ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জোবায়ের হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নাগরিক পদক প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। ডিএসসিসির প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নীতিনির্ধারক ও বিশিষ্টজন।

নিজ নিজ ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের মাধ্যমে যারা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের এই সম্মানে ভূষিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসিসি।

ডিএনসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পদক প্রাপ্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ে তুলে ধরা হয়েছে।


জামালপুরে শিক্ষার্থী হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে সড়ক অবরোধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জিহাদের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে স্থানীয়রা। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জামালপুর সদর উপজেলার নারিকেলী এলাকায় জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থী ও গহেরপাড়া এলাকার স্থানীয়রা। অবরোধ চলাকালে নিহত জিহাদের মা তাহমিনা আক্তার শোভা, বড় ভাই অনন্ত, চাচাতো ভাই সাকিসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন। এ সময় বক্তারা বলেন, গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় পূর্ব পরিকল্পিভাবে গহেরপাড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার মুন্না, আবুল কাশেম, সাঈদসহ ৪ থেকে ৫ জন জিহাদকে মারধর ও ধারালো চাকু দিয়ে হত্যা করে।

এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হলেও এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তারা অবিলম্বে সকল আসামিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। অবরোধের কারণে সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। অবরোধের খবর পেয়ে সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে জানান, মামলার প্রধান আসামিকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের আশ্বাস দেন। এরপর প্রায় এক ঘণ্টা পর অবরোধ তুলে নেওয়া হলে স্বাভাবিক হয় যানবাহন চলাচল।

উল্লেখ্য, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে গত ৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় গহেরপাড়া এলাকায় স্থানীয় ফিরোজ মিয়ার ছেলে জিহাদকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত জিহাদের বাবা ফিরোজ মিয়া ৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৪ থেকে ৫ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


মধুপুরে দুস্থ অসহায় শীতার্তদের মাঝে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে অসহায় দরিদ্র শীতার্তদের মাঝে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র বিতরণ। ছবি দৈনিক বাংলা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মধুপুর ও টাঙ্গাইল প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের মধুপুর গড়ে দুস্থ অসহায় শীতার্তদের মাঝে সেনাবাহিনী শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে মধুপুরে স্থাপিত বিএডিসি ক্যাম্পের মাঠে এ শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। পাহাড়িয়া এলাকার বিভিন্ন গ্রামের প্রায় দুই শতাধিক পরিবারের মাঝে কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। শীতের মধ্যে সেনাবাহিনীর শীতবস্ত্র পেয়ে সুবিধাভোগীরা খুশি বলে জানিয়েছে।

বিতরণকালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধানের দিকনির্দেশনায় ১৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার ও এরিয়া কমান্ডার ঘাটাইল এরিয়া মেজর জেনারেল মোহা. হোসাইন আল মোরশেদ দরিদ্র অসহায় শীতার্তদের মাঝে কম্বলসহ অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণের উদ্বোধন করেন।

সেনাবাহিনীর প্রেস বিজ্ঞাপিতে জানিয়েছে, প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও শীত মৌসুমে অসহায় ও দরিদ্র শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণসহ নানা জনসেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ১৯ পদাতিক ডিভিশন ও ঘাটাইল অঞ্চলের সেনাসদস্যরা।

ভবিষ্যতেও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে ১৯ পদাতিক এ ধরনের জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রাখবে বলে আশাব্যক্ত করেন জেনারেল অফিসার কমান্ডিং। এ সময় সদর দপ্তর ৩০৯ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমাদ উদ্দিন আহমেদ, এসপিপি, পিএসসিসহ ঘাটাইল অঞ্চলের অন্যান্য সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মধুপুরের কাকরাইদ সেনাক্যাম্পে শীতবস্ত্র নিতে আসা গাছাবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা রাবেয়া (৪০) জানান, তাদের এলাকায় কিছু দিন যাবত প্রচণ্ড শীত। এ সময়ে সেনাবাহিনীর এ শীতবস্ত্র পেয়ে সে খুব খুশি। শীত নিবারণে তার কাজে লাগবে।

জলছত্র গ্রামের বৃদ্ধ সুমতি দাস (৬০) বলেন, ‘এ শীতের মধ্যে কম্বলসহ প্যাকেজ উপহার পেয়ে সহায়তা পেয়ে সে আনন্দিত। সে ভাবতেই পারেনি, সেনাবাহিনীর কম্বল পাবে। তার বাড়ির পাশের মেম্বার একটি টিকেট দিছে, সেটা নিয়ে কাকারাইদ সেনাক্যাম্পে আসতে বলছে, এসে সে কম্বলসহ অন্যান্য শীতের বস্ত্র পেয়েছে।’

রামকৃষ্ণবাড়ি গ্রামের আজাহার আলী (৬০) জানান, তার বাড়ি কাকরাইদের পাশের গ্রামে। সে একটি স্লিপ পেয়ে এসেছে। এসে শীতের মধ্যে শীতবস্ত্র পেয়েছে। এ জন্য তিনি অনেক খুশি বৃদ্ধকালে এ সহায়তা পেয়ে আনন্দিত বলে জানালেন তিনি।

শুধু রাবেয়া, সুমতি আর আজাহারই নয় এমন প্রায় দুই শতাধিক অসহায় দরিদ্র পরিবারের সদস্যরা সেনাবাহিনীর দেওয়া শীতবস্ত্র পেয়েছে বলে জানা গেছে। অরণখোলা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বলেন, ‘তার এলাকাসহ আশপাশের এলাকা গ্রামের মানুষদের সেনাবাহিনীর মাধ্যমে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম অংশ নিতে পেরে সে খুশি। শীতের সময় দরিদ্র অসহায় মানুষরা শীতবস্ত্র পেয়ে খুশি তেমনি সে নিজেও খুশি হয়ে।


দেবীগঞ্জে সরিষার বাম্পার ফলন      

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পঞ্চগড় প্রতিনিধি       

চলতি মৌসুমে সরিষার বাম্পার ফলনের আশা করছেন কৃষকরা। সরিষার হলুদ ফুলে ভরে ওঠেছে একরের পর একর জমি। কোথাও খেতের পরিচর্যা করছেন কৃষকরা। আবার কোথাও দল বেঁধে সবাই দেখতে আসছেন সরিষার খেত। বিস্তীর্ণ উপজেলায়জুড়ে হলুদ ফুলের সমাহার। মৌমাছির আনাগোনায় ভরে উঠেছে সব খেত।

বোরো লাগানোর আগে কম খরচে এই অর্থকারী ফসল আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন তারা। এই কৃষকদের দেখে আশপাশের অন্যান্য কৃষকরাও সরিষার আবাদে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন। সরিষা আবাদে খরচ কম এবং একই জমিতে বোরো চাষে খরচ কম লাগে। আমন ও ইরি বোরোর মাঝের উৎপাদনকারী ফসল সরিষা। তাই কৃষক এটি চাষে বেশি ঝুঁকছেন।

উপজেলার লক্ষীর হাট এলাকার কৃষক জানান, আমরা এবার সরকারিভাবে সরিষার বীজ পেয়েছি। আবাদ ভালোই হবে মনে হয়।

এবারে উপজেলায় চলতি মৌসুমে ২০২৫-২৬ অর্থবছর এ সরিষার আবাদ- ৩,৮১০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত করা হয়েছে।

এদিকে রোগবালাই ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে প্রণোদনার বীজ ও সার বিতরণের মাধ্যমে সরিষার উৎপাদন বৃদ্ধিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। যার ফলে দেবীগঞ্জ উপজেলায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার অধিক জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. নাঈম মোর্শদ জানান, তিনটি জাত সরিষার রোপণ করা হয় এ বছরে বারি সরিষা, বিনা সরিষা, স্থানীয় সরিষা টরি, আবহাওয়া ভালো রয়েছে, মাঠপর্যায়ে রোগবালাইয়ের আক্রমণ না থাকায় ফলন বাম্পার হবে বলে আশাবাদী ৪,০০০ কৃষককে সরকারি প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। এখানকার সরিষা থেকে তেলের পাশাপাশি মধু উৎপাদিত হচ্ছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে ভোজ্যতেল ও মধুর চাহিদা পূরণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


নোয়াখালীতে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় স্ত্রীসহ চোরচক্রের প্রধান গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নোয়াখালী প্রতিনিধি

নোয়াখালী সুপার মার্কেটে স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় কুমিল্লা থেকে স্ত্রীসহ আন্তজেলা চোর চক্রের প্রধানকে গ্রেপ্তার করেছে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। একই ঘটনায় চট্টগ্রাম থেকে তাদের আরেক সহযোগীকে গ্রেপ্তারসহ চোরাই সোয়া নয় ভরি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, আন্তজেলা স্বর্ণচোরচক্রের মূলহোতা মো. মোর্শেদ ওরফে মোশারফ, তার স্ত্রী শিল্পী আক্তার ও মো. আলাউদ্দিন ওরফে পিচ্চি আলাউদ্দিন (২৬)। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে পুলিশ সুপার টি এম মোশাররফ হোসেন নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ঘটনার পরপরই চোরদের শনাক্ত ও চোরাই স্বর্ণালংকার উদ্ধারে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপনে তথ্য সংগ্রহ শুরু করে পুলিশ। সিসি টিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত শনিবার সকালে কুমিল্লা জেলার মুরাদনগর ভাঙা সড়কে অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে আন্তজেলা চোরচক্রের মূলহোতা মোর্শেদ ও তার স্ত্রী শিল্পীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই অভিযানে পিচ্চি আলাউদ্দিনকে তার বসতঘর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার বসতঘর থেকে তিন ভরি ৫ আনা ২ রতি স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে চট্রগ্রাম জেলার হাটহাজারী থানা এলাকার বড় দিঘীর পাড় এলাকায় শিল্পীর বাসা তল্লাশি করে ৫ ভরি ১৫ আনা ৭ পয়েন্ট স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়।’

পুলিশ সুপার আরও জানান, অনুসন্ধানে আসামি মোর্শেদ মহসিন ওরফে মোশারফের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় আগের আটটি মামলা এবং পিচ্চি আলাউদ্দিনের নামে সাতটি মামলার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তাদের সঠিক কোনো ঠিকানা পাওয়া যায়নি। জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে তা শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ সুপার এ.টি.এম মোশারফ হোসেন আরও বলেন, ‘আটকদের ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মীর মোশাররফ হোসেনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো করা হয়েছে। মোরশেদ ও পিচ্চি আলাউদ্দিন আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করে। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


মাগুরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসক সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভায় বক্তব্য রাখেন, মাগুরার পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, সিভিল সার্জন ডা. শামীম কবির, মাগুরা সরকারি হোসেন শহীদ সোহরাওযার্দী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আলফাজ উদ্দিন, মাগুরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ কাজী শামছুজ্জামান ,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক আব্দুল কাদের, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষা এস এম শান্তনু চৌধুরী, জেলা নির্বাচন অফিসার ফারাজী বেনজির আহম্মদ, মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মদ, জেলা জামায়াতের আমীর এমবি বাকের মাগুরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক সাইদুর রহমান, মাগুরার পিপি সাখাওয়াত হোসেন, জিপি এড মঞ্জুরুল হাসান, জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মোস্তফা কামাল প্রমুখ।

বক্তারা সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। সভায় আগামী নির্বাচন শান্তিপূর্ণ নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠানে কোন প্রতিবন্ধকতা বা যড়যন্ত্র কোন অবস্থাতেই হতে দেওয়া হবে না বলেন, জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ ও পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান সতর্ক করেন সকলকে। সভায় বিশেষ করে আগামী নির্বাচনকে গুরুত্ব এনে জেলার কোথাও কোন সন্ত্রাস, নাশকতা না হয় তার জন্য মাগুরা পুলিশ ব্যাপকভাবে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানানো হয়। এ সময় যানজট, আত্মহত্যা, ইভটিজিং, শিশুধর্ষণ বিষয়ে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, মাগুরা পুলিশ মাগুরার আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর রয়েছে। জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, মাগুরার আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। তিনি জনগণকে সহযোগিতার আহ্বান জানান। তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঠিকভাবে দ্বায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে প্রার্থীদের আচরণবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।


ঝিনাইদহে নারী খেলোয়াড় ও সংগঠকদের সংবর্ধনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ক্রীড়া ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখায় ঝিনাইদহে নারী খেলোয়াড় ও সংগঠকদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা ক্রীড়া সংস্থা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মাসউদ, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান, সরকারি নুরুন্নাহার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বিজম কুমার সরকার সিভিল সার্জন, ডা. কামরুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হোসনে আরা, ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখন, ক্রীড়া অফিসার আমানুল্লাহ আহমেদসহ ক্রীড়া সংস্থার নেতরা বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নারী ক্রিকেট দলে ডাক পাওয়া জোয়ারিয়া ফেরদৌস জয়িতা, হকি দলে ডাক পাওয়া রিয়া আক্তার, জাতীয় কাবাডি যশোর যোনের চ্যাম্পিয়ন, আন্তজেলা বয়সভিত্তিক সাঁতার প্রতিযোগিতায় রানার্স আপ ও অনূর্ধ্ব -২৩ ভলিবলে কৃতিত্ব রাখায় মোটর ৪০ জন নারী খেলোয়াড় ও সংগঠককে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়।

সেসময় বক্তারা বলেন, নারীদের খেলাধুলায় আরও বেশি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হলে তারা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দেশের সুনাম বয়ে আনতে পারবে। নারী ক্রীড়াবিদদের উৎসাহ ও পৃষ্ঠপোষকতা বাড়াতে জেলা প্রশাসন ও ক্রীড়া সংস্থা ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠান শেষে সংবর্ধিত খেলোয়াড় ও সংগঠকদের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।


সিংড়ায় ৮৩ বছরের পুরনো মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার ইটালি ইউনিয়নের শালমারা গ্রামে ইসলামি জালসা উপলক্ষে ঐতিহ্যবাহী মাছ ধরা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ৮৩ বছর ধরে চলে আসা এই উৎসবটি রবিবার (১১ জানুয়ারি) দিনব্যাপী আয়োজন করা হয়।

সকাল থেকেই শালমারা গ্রামের কয়েকটি পুকুর ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। মাছ ধরা উৎসবে অংশ নিতে গ্রামের শত শত মানুষ পুকুরে নেমে পড়েন। নৌকা, কলাগাছের ভেলা ও জাল ব্যবহার করে সৌখিন শিকারিরা সকাল থেকে মাছ ধরতে থাকেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকটি পুকুরে মাছ ধরার আনন্দে মেতে উঠেছেন অংশগ্রহণকারীরা। উৎসবকে ঘিরে শুধু গ্রামবাসীই নয়, আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম ও দূর-দূরান্ত থেকে আত্মীয়-স্বজন ও দর্শনার্থীরা পুকুরপাড়ে ভিড় জমান।

উৎসবে অংশ নেওয়া শিকারিদের অনেকেই বিভিন্ন প্রজাতির মাছ শিকার করেন। পানিতে জাল টানার সময় হইহুল্লোড়, হাসি-আনন্দ আর উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। বড় মাছ শিকার করতে পারা শিকারিদের চোখেমুখে ছিল আনন্দের স্পষ্ট ছাপ।

মাছ শিকারিরা জানান, মাছ পাওয়া এখানে মুখ্য বিষয় নয়। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবে অংশ নেওয়া এবং সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করাই তাদের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

গ্রামবাসীদের মতে, এই মাছ ধরা উৎসব শালমারা গ্রামের ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে লোকজ সংস্কৃতি ধরে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মাছ ধরা উৎসবে আসা সাকিব নামে একজন বলেন, ‘প্রতি বছর এই আয়োজন করা হয় । আমরা দেখতে আসি। মাছ ধরা দেখতে খুব ভালো লাগে। দেখে মনে হয় বাঙালির চিরচেনা সেই ঐতিহ্য ফিরে এসেছে। শিকারিদের অনেকেই রুই, কাতলা, চিতল, ফলি, তেলাপিয়া, বিভিন্ন জাতের কার্প মাছসহ বিভিন্ন দেশি প্রজাতির মাছ ধরেন। উৎসবে কেউ অনেক মাছ ধরতে পারলেও কিছু মাছ শিকারি তেমন একটা মাছ পায়নি। তবে যারা বড় আকারের মাছ শিকার করেছেন তাদের চোখে মুখে ছিল আনন্দের ছাপ।

সৌখিন মাছ শিকারি কাহার আলী বলেন, ‘মাছ ধরতে আমার ভালো লাগে। আজ অনেক মাছ পেয়েছি। তাই খুশি একটু বেশিই। তবে মাছ শিকারিরা বলেন, মাছ পাওয়া বড় বিষয় নয়; এখানে অংশ নিয়েছি এটাই আনন্দের ছিল।’

শালমারা গ্রামের মোতালেব জানায়, এবছর ৮৩তম শালমারা দাখিল মাদ্রাসার ইসলামী জালসা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। জালসার একদিন আগে গ্রামবাসী এ মাছ ধরার আয়োজন করে থাকে। সে দিক দিয়ে প্রায় ৮৩ বছর ধরে মাছ ধরার এ ঐতিহ্য ধরে রেখেছে গ্রামবাসী।

মাছ শিকারী জয়নাল আবেদীন জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে থেকে কলাগাছ কেটে ভেলা তৈরী করে রেখেছিলাম মাছ ধরার জন্য। জালসার আগের দিন মাছ ধরার এই উৎসবে আমরা বাড়তি আনন্দ উপভোগ করি।

চলনবিল পরিবেশ উন্নয়ন ও প্রকৃতি সংরক্ষণ ফোরামের সভাপতি এস.এম রাজু আহমেদ বলেন, এই মাছ ধরা উৎসব আমাদের লোকজ সংস্কৃতি ও সামাজিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে একই সঙ্গে পরিবেশ ও জলজ প্রাণী সংরক্ষণের বিষয়টিও আমাদের মাথায় রাখতে হবে। পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধবভাবে এ ধরনের উৎসব আয়োজন করা হলে ঐতিহ্য রক্ষা যেমন হবে, তেমনি চলনবিলের প্রাকৃতিক ভারসাম্যও বজায় থাকবে।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাসের দাবিতে মানববন্ধন

সড়ক-রেলপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়িতে নিরবচ্ছিন গ্যাস সরবরাহের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। আজ রোববার (১১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত শহরের কাউতলি মোড় এলাকায় সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালিত হয়। কর্মসূচিতে নারী-পুরুষসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষজন অংশ নেন।

অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন জেলা বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাছির আহমেদ, জেলা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক এ. বি. এম. মুছা, জেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ হাফিজ উল্লাহ, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মুখপাত্র আরিফ বিল্লাহ, মো: সাবের হোসেন, তরী বাংলাদেশের সদস্য সোহেল রানা ভূঁইয়া প্রমুখ।

এ সময় বক্তারা বলেন, নিয়মিত বিল পরিশোধ করেও বৈধ গ্রাহকরা পাইপলাইনের মাধ্যমে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস পাচ্ছেন না। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাস না থাকায় রান্না করতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চলছে। শীত মৌসুম শুরুর পর থেকে সংকট আরও বেড়েছে। অথচ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় তিতাস গ্যাস ফিল্ডের গ্যাস সরবরাহ হচ্ছের দেশের বিভিন্ন স্থানে। অবিলম্বে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত না করলে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কার্যালয়, সড়ক-রেলপথ অবরোধসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন বক্তারা।

পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন দে ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া এসে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। এরপর আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন।


নবীনগরে প্রবাস ফেরত সাজিদের সাফল্য, কৃষিতে সফল উদ্যোক্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের বগডহর গ্রামের প্রবাস ফেরত যুবক সাজিদ এখন কৃষিতে সফল উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত মুখ। আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করে অল্প সময়েই তিনি ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়েছেন। তার এই সাফল্য স্থানীয় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

জানা যায়, কয়েক বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবন কাটানোর পর দেশে ফিরে নিজ গ্রামের আহমেদ সিটি গার্ডেন এলাকার অনাবাদি পতিত জমিতে কৃষিকাজ শুরু করেন সাজিদ। উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শে মাত্র ৪০ শতাংশ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে জলবায়ু সহিষ্ণু ‘মহারানী হাইব্রিড করলা’ চাষ শুরু করেন তিনি।

কৃষি বিভাগের ‘ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমারজেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্ট’-এর আওতায় একটি প্রদর্শনীর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় উপকরণ সহায়তা পান সাজিদ। পাশাপাশি উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমানের সার্বক্ষণিক পরামর্শ ও প্রশিক্ষণে মালচিং, ড্রিপ ইরিগেশন এবং সুষম সার ব্যবস্থাপনার মতো আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। এতে উৎপাদন খরচ কমে আসে এবং ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, আহমেদ সিটি গার্ডেনের পতিত জমি পরিষ্কারের কাজ এখনো চলমান রয়েছে। আবাদকৃত ৪০ শতাংশ জমিতে বর্তমানে করলা উত্তোলন চলছে। এ পর্যন্ত প্রায় ৬০০ কেজি করলা উত্তোলন করা হয়েছে। বাজারে করলার পাইকারি মূল্য কেজি প্রতি ৬০ টাকা হওয়ায় ইতোমধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার টাকার করলা বিক্রি হয়েছে।

সাজিদ জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী দেড় মাসে আনুমানিক দেড় থেকে ২ টন করলা বিক্রি করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন, “প্রবাস থেকে দেশে ফিরে স্থায়ী ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে কৃষিকেই সবচেয়ে নিরাপদ মনে হয়েছে।” চলতি মৌসুমে তিনি আরও ৩ বিঘা জমিতে টমেটো, শসা ও অফ-সিজন তরমুজ চাষের পরিকল্পনার কথাও জানান।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু নোমান বলেন, সাজিদের খামার থেকে নিয়মিতভাবে স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহ হচ্ছে। এতে তার আর্থিক সচ্ছলতার পাশাপাশি কয়েকজন বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন বলেন, “সাজিদের সাফল্য প্রমাণ করে—যথাযথ উদ্যোগ, পরিশ্রম ও আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে কৃষিই হতে পারে লাভজনক ও টেকসই পেশা।” তিনি আরও বলেন, প্রবাস ফেরত যুবকদের জন্য সাজিদের এই অর্জন একটি বাস্তব উদাহরণ।

প্রবাস ফেরত সাজিদের এই সাফল্য শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং দেশের তরুণ সমাজকে কৃষিমুখী হওয়ার একটি অনুপ্রেরণামূলক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।


মেহেন্দিগঞ্জ-হিজলা মেঘনায় ট্রলারডুবি, চার জেলে নিখোঁজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ ও হিজলা উপজেলার মধ্যবর্তী মেঘনা নদীতে একটি জেলে ট্রলার ডুবে চার জেলে নিখোঁজ হয়েছেন। ট্রলারে থাকা পাঁচজনের মধ্যে একজন প্রাণে বেঁচে ফিরতে পারলেও বাকি চারজনের এখনো কোনো সন্ধান মেলেনি।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন,মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার পালপাড়া গ্রামের শাহীন মীর (১৭), আরিফ হোসেন (১৯), শাহীন (১৭) ও নয়ন (১৯)।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলে শামিম হোসেন দিদার (২৫) জানান, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক ৪টার দিকে হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়নের বাথুয়ারচর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তিনি ধুলখোলা ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামের সাজাহান দিদারের ছেলে।

দিদার বলেন,পাঁচজন মিলে একটি ছোট ট্রলারে করে রাতে মাছ ধরতে যাই। জাল পেতে ট্রলার নোঙর করে আমরা ঘুমিয়ে পড়ি। ভোররাতে হঠাৎ বিকট শব্দ ও ধাক্কায় ঘুম ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যেই ট্রলার উল্টে আমরা সবাই নদীতে ছিটকে পড়ি। সবাই তীরে ওঠার চেষ্টা করি। অন্য জেলেদের সহায়তায় আমি উঠতে পারলেও বাকিরা আর উঠতে পারেনি।

তিনি ধারণা করেন, কোনো লঞ্চের ধাক্কায় ট্রলারটি ডুবে যেতে পারে। তবে নিশ্চিতভাবে কীভাবে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে, তা বলতে পারেননি তিনি।

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন অর রশিদ মৃধা জানান, রাতেই একজনকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও চার জেলের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। নদীর প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

নৌ-পুলিশের কালীগঞ্জ স্টেশনের ইনচার্জ মো. এনামুল হক বলেন, খবর পেয়ে বিষয়টি খোঁজ নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল হিজলা উপজেলার ধুলখোলা ইউনিয়ন এলাকায় পড়েছে।

বরিশাল হিজলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস সিকদার জানান, ঘটনার পরদিন দুপুরে তিনি বিষয়টি অবগত হন। তাৎক্ষণিকভাবে নৌ-পুলিশকে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা জোরদার, অস্ত্র–মাদক উদ্ধারসহ এক মাসে গ্রেপ্তার ১,৩৮২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লা জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ তৎপরতা জোরদার করেছে জেলা পুলিশ। গত এক মাসে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গোলাবারুদ ও মাদক উদ্ধার করার পাশাপাশি বিভিন্ন মামলায় ১ হাজার ৩৮২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বর মাসজুড়ে জেলার বিভিন্ন থানা এলাকায় নির্বাচনকেন্দ্রিক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে দেশি ও বিদেশি পিস্তল, এলজি, পাইপগান, শটগানসহ বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রামদা, কিরিচ, ছুরি ও চাপাতির মতো দেশীয় অস্ত্রও জব্দ করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে গাঁজা, ফেনসিডিল, ইয়াবা, দেশি ও বিদেশি মদ, মাদকজাত ইনজেকশন, ফ্রাফ সিরাপ এবং ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য।

পুলিশের তথ্যমতে, এক মাসে মাদক মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১৮৫ জন, ‘ডেভিল হান্ট ফেজ-২’ অভিযানে আটক ৪২৬ জন, নিয়মিত মামলায় গ্রেপ্তার ৭৫০ জন এবং ডাকাতি মামলায় আটক ২১ জন। সব মিলিয়ে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৩৮২ জনে।

ডাকাতি প্রতিরোধে পরিচালিত অভিযানে ৪টি পিকআপ ও ১টি মিনি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জেলা থেকে ডাকাতির মাধ্যমে লুণ্ঠিত ৫ দশমিক ৫ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ফেনী জেলা থেকে ডাকাতি হওয়া ৮টি গরু উদ্ধার করা হয়।

নগরীতে চুরি ও ছিনতাই রোধে দৃশ্যমান উদ্যোগ হিসেবে কুমিল্লা শহরের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে ২০টি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। এসব চেকপোস্টে দিন-রাত তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজনদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, “আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কুমিল্লায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে। অপরাধী যেই হোক, কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মাদক, অস্ত্র, ডাকাতি ও চুরি-ছিনতাই দমনে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

তিনি আরও জানান, জননিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনে চেকপোস্টের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।


banner close