ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ঝালকাঠিতে নিলুফা ইয়াসমিন নামের পঞ্চাশোর্ধ এক বৃদ্ধাকে হত্যার অভিযোগে সজল খান নামের এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আটক সজল নিহত নিলুফার ছেলের বন্ধু। নিলুফার নাক ও কানে ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার লুফে নিতেই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে সজল পুলিশের কাছে শিকার করেছে।
গত রোববার রাতে সজলকে আটকের পরে তার কাছ থেকে নিহত নিলুফার নাক ও কানের স্বর্ণালংকার এবং নিলুফার ব্যাবহৃত একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিলুফা ইয়াসমিন খুনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটক সজলের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত রোববার মধ্যরাতে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেছে স্থানীয়রা।
সোমবার সকালে ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সামনের সড়কে ঘণ্টাব্যাপী মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন নিহতের পরিবার ও এলাকার নারী-পুরুষ।
উল্লেখ্য, গত ২০ জানুয়ারি সকাল ৬ টায় ঝালকাঠি পৌর খেয়াঘাট এলাকায় সুগন্ধা নদীর পাড় থেকে নিলুফা ইয়াসমিন নামের ঐ নারীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।
সুরতহাল প্রতিবেদনে নিহতের নাকে রক্তের দাগ পাওয়া যায়। কানের দুল ও নাক ফুল নেওয়ার জন্যই ওই নারীকে খুন করা হয়েছে বলে পুলিশ ও এলাকাবাসী প্রাথমিকভাবে ধারণা করে।
কুমিল্লায় রবি মৌসুমে একসময় ব্যাপকভাবে গমের আবাদ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষকরা ধীরে ধীরে এই শস্য চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। ফলে আগের মতো মাঠজুড়ে গমের সোনালি শীষ আর চোখে পড়ে না। তবে দেবিদ্বার উপজেলার খলিলপুর ইউনিয়নের জয়পুর গ্রামে আবার গম চাষের আশার আলো জ্বালিয়েছেন কৃষক ইসমাইল ফকির।
প্রতিবেশী পল্লী চিকিৎসক শওকত আলীর পরামর্শে বাড়ির পাশে দীর্ঘদিন পতিত থাকা জমিতে গম চাষ করে ইতোমধ্যে তিনি সফলতার মুখ দেখছেন। খবর পেয়ে এলাকা পরিদর্শন করে পল্লী চিকিৎসক শওকত আলী ও কৃষক ইসমাইল ফকিরের সঙ্গে কথা বলেন সাংবাদিকরা।
জানা যায়, শওকত আলী নিজেও তার অল্প জমিতে পরশ শিম, টমেটো, আলু, মিষ্টি কুমড়া, পেঁয়াজ, রসুন ও ধনেপাতা চাষ করে আসছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি ইসমাইল ফকিরকে হারিয়ে যাওয়া গম চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। পরামর্শ অনুযায়ী ইসমাইল ফকির গমের বীজ সংগ্রহ করে প্রায় ২৯ শতক জমিতে আবাদ করেন। বর্তমানে ক্ষেতের অবস্থা দেখে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
কৃষক ইসমাইল ফকির জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে আগামী মাসেই তিনি গম কাটতে পারবেন। তার এই সাফল্য দেখে গ্রামের আরও কয়েকজন কৃষক আগামী মৌসুমে গম আবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ ধান চাষ বাদ দিয়ে গম আবাদ করার কথাও ভাবছেন বলে জানান তারা।
গ্রামবাসীরা বলেন, পল্লী চিকিৎসক শওকত আলীর পরামর্শ ও উৎসাহে জয়পুর গ্রামে নতুন করে গম চাষের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়েছে, যা কৃষিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এ বিষয়ে জেলা কৃষি অফিসের এক কর্মকর্তা জানান, সরকার গম আবাদ বাড়াতে চায় এবং কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ ও প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। কুমিল্লা অঞ্চলের মাটি গম চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আগামী বছর গম আবাদ বাড়াতে চাষিদের বিভিন্ন পরামর্শ ও সহায়তা করব।
রাজধানীর সায়েদাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের এক সফল অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল ও সংলগ্ন রেললাইন এলাকায় এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসী ‘অটো সজল’ এবং তার সহযোগীদের আস্তানায় তল্লাশি চালিয়ে নারীসহ মোট ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। যদিও মূল অভিযুক্ত ‘অটো সজল’ সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়, তবে তার সহযোগী রাজু, ফারুক, জাহিদ, সজীব ও জনিসহ পরিবারের সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে পলাতক সজলকে গ্রেপ্তারে সেনাবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তল্লাশিকালে সংশ্লিষ্ট এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ২টি ৭.৬৫ মিমি বিদেশি অটোমেটিক পিস্তল, ৮ রাউন্ড তাজা গুলি, ৫,১০৮ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ২৭০ পুরিয়া হেরোইন এবং ১৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র। এছাড়া নগদ ৮,২৬,৪৩০ টাকা, ৩টি ককটেল ও ককটেল তৈরির সরঞ্জামসহ ২০টি মোবাইল ফোন এবং ২ বোতল বিদেশি মদ জব্দ করা হয়। প্রাথমিক তদন্তের তথ্যানুযায়ী, ‘অটো সজল’-এর নেতৃত্বে এই সংঘবদ্ধ চক্রটি দীর্ঘকাল ধরে সায়েদাবাদ ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় মাদক ব্যবসার পাশাপাশি অস্ত্রের মুখে সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তে অবৈধ মাদকের জোগান দেওয়াও ছিল তাদের অন্যতম প্রধান কাজ।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, সম্পূর্ণ পেশাদারিত্ব ও সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পরিচালিত এই অভিযানে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আটককৃত ব্যক্তিদের পাশাপাশি উদ্ধারকৃত মালামাল পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। দেশের সামগ্রিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং মাদক ও সন্ত্রাস নির্মূলে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ভবিষ্যতেও এ ধরনের সময়োপযোগী ও কার্যকর অভিযান অব্যাহত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলায় জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে স্থানীয় সাংবাদিকদের নতুন সংগঠন ‘পূর্বাচল প্রেসক্লাব’। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দিনব্যাপী পূর্বাচল সি শেল পার্ক রিসর্টে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংগঠনটির ৩৬ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সময় টেলিভিশনের সাংবাদিক মো. রাশেদুল ইসলামকে সভাপতি এবং দেশ টেলিভিশনের সাংবাদিক রাসেল মাহমুদকে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
নবগঠিত এই কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে এমএস ডালিম এবং সহ-সভাপতি হিসেবে জাগো নিউজ২৪-এর নাজমুল হুদা ও ডেইলি অবজারভারের শাহেল মাহমুদ দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে একুশে টিভির রবিউল ইসলাম এবং সাংগঠনিক সম্পাদক পদে বৈশাখী টিভির আতাউর রহমান সানী নির্বাচিত হয়েছেন। কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদের মধ্যে সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে বাংলা টিভির সোহেল কিরন, এটিএন বাংলার রাজু আহমেদ ও সকালের সময়ের আনিছুর রহমান; অর্থ সম্পাদক স্বপন মিয়া এবং দপ্তর সম্পাদক হিসেবে বাংলাদেশের খবরের নূরে আলম ভুঁইয়া আকাশ দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া সাহিত্য, সাংস্কৃতিক, সমাজকল্যাণ, প্রচার, ক্রীড়া ও আইনসহ বিভিন্ন সম্পাদকীয় পদে এবং কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে মোট ৩৬ জন সাংবাদিককে নিয়ে এই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি ও দৈনিক মানবকণ্ঠের সম্পাদক শহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মানবকণ্ঠের সিইও সৌরভ হাসান সজীব, জনকণ্ঠের ডেপুটি চিফ রিপোর্টার ইসরাফিল ফরাজী, সময় টিভির জ্যেষ্ঠ বার্তাকক্ষ সম্পাদক তৌফিক মাহমুদ এবং এটিএন বাংলার অনলাইন ও ডিজিটাল নিউজ এডিটর আল-ইমরান। অনুষ্ঠানে পূর্বাচল প্রেসক্লাবের উপদেষ্টা হানিফ মোল্লা, রূপগঞ্জ প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক সাত্তার আলী সোহেল ও উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এম এ মোমেনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের বিশিষ্ট সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা আশা প্রকাশ করেন যে, পূর্বাচল প্রেসক্লাব স্থানীয় সাংবাদিকদের জন্য একটি পেশাদার, নিরপেক্ষ ও ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে। সত্যনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা এবং সামাজিক উন্নয়নে এই সংগঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নবনির্বাচিত সভাপতি মো. রাশেদুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে সাংবাদিকদের ঐক্যের ওপর জোর দিয়ে পেশাদারিত্ব ও নৈতিকতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশনের অঙ্গীকার করেন। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক রাসেল মাহমুদ স্থানীয় জনস্বার্থ ও উন্নয়নমূলক বিষয়গুলো গণমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে প্রেসক্লাবের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
উৎসবমুখর এই আয়োজনে কালের কণ্ঠ, যমুনা টিভি, একাত্তর টিভি, জিটিভি ও বাংলাদেশ প্রতিদিনসহ বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নিয়ে বরগুনা জেলা জামায়াতের নেতার কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে তারা সমাবশে করেন। সমাবেশে ডাকসুর গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক সানজিদা আহমেদ তন্নি, ডাকসু সদস্য হেমা চাকমা, কবি সুফিয়া কামাল হল সংসদের সহসাধারণ সম্পাদক শিমু আক্তার, জগন্নাথ হল সংসদের ভিপি পল্লব চন্দ্র বর্মনসহ বিভিন্ন হলের ছাত্র প্রতিনিধি ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
গত শনিবার রাতে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাকচিড়া ইউনিয়নের কাটাখালী এলাকায় বরগুনা-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ডা. সুলতান আহমেদের নির্বাচনী জনসভায় বক্তব্য দেন শামীম আহসান।
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, ডাকসু নির্বাচনের পরে- যে ডাকসু মাদকের আড্ডাখানা ছিল, যে ডাকসু বেশ্যাখানা ছিল, সেটা ইসলামী ছাত্রশিবির পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। তাই এই বাংলাদেশ থেকে সব ধরনের অন্যায়, সব ধরনের চাঁদাবাজ ও দুর্নীতি উৎখাত করতে জামায়াতে ইসলামী সক্ষম।’
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, জামায়াত নেতার এই বক্তব্য শুধু ডাকসু বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে হেয় করেনি, বরং দেশের নারী সমাজের মর্যাদা ও সংগ্রামকে অস্বীকার করার শামিল।
সমাবেশে ডাকসুর বর্তমান ভিপি ও জিএসের নীরবতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করে তারা আরও বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ ও মর্যাদার প্রশ্নে ডাকসু নেতৃত্ব বারবার নীরব ভূমিকা পালন করছে। জামায়াত নেতার এই মন্তব্যের পরও ডাকসুর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ বা বিবৃতি না আসায় তারা তীব্র সমালোচনা করেন।
বিক্ষোভ থেকে শিক্ষার্থীরা শামীম আহসানকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আল্টিমেটাম দেন।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডাকসু ভবন সম্পর্কে বরগুনা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মো. শামীম আহসানের একটি বক্তব্যের প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই অশ্লীল, কুরুচিপূর্ণ, অশালীন ও অর্বাচীন বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
এতে বলা হয়, তার এই বক্তব্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমর্যাদা, সুনাম, ঐতিহ্য ও সম্মানকে চরমভাবে ক্ষুণ্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে তার এই বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছে। এ ধরনের অর্বাচীন বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সকলের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছে।
উল্লেখ্য, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিরণপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শামীম আহসান। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রণীত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিধি অনুযায়ী কোনো প্রার্থীর পক্ষে তিনি কোনো নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিতে পারেন না জানা সত্বেও তার এমন কর্মকাণ্ডের অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে অবহিত করা হয়। নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিলে শামীম আহসান কারণ দর্শানোর লিখিত জবাব দেন এবং এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার মুচলেকা দেওয়ার পরপরই তিনি ডাকসু নিয়ে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেন।
বাগেরহাটের রামপালে মৈত্রী সুপার তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মরত ৯ জন ভারতীয় কর্মকর্তা কাউকে না জানিয়ে হঠাৎ বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে গেছেন। তারা সবাই ভারতের ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) থেকে প্রেষণে রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মকর্তা ছিলেন। অনুমতি ছাড়াই গত শনিবার সকালে তারা কর্মস্থল ছেড়ে দেশে ফিরে যান।
রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের উপমহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) আনোয়ারুল আজিম বলেন, গত শনিবার সকালে নির্ধারিত সময়ে তাদের পাওয়া না যাওয়ায় তারা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেন। পরে জানতে পারেন, অনুমতি ছাড়াই ভারতীয় ওই কর্মকর্তারা চলে গেছেন। তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা জানান। যদিও বিদ্যুৎকেন্দ্রে চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে। এ ধরনের কোনো ঝুঁকি কখনোই ছিল না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
দেশ ত্যাগ করা কর্মকর্তারা হলেন তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের জেনারেল ম্যানেজার প্রতিম ভর্মন, বিশ্বজিৎ মণ্ডল ও এন সুরায়া প্রকাশ রায়; সহকারী জেনারেল ম্যানেজার কেশবা পালাকি ও পাপ্পু লাল মিনা; ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার সুরেয়া কান্ত মন্দেকার, সুরেন্দ্র লম্বা ও অনির্বাণ সাহা এবং সিএফও ইমানুয়েল পনরাজ দেবরাজ।
তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে নাশতার টেবিলে ওই কর্মকর্তাদের না পেয়ে খোঁজখবর নিতে শুরু করে কর্তৃপক্ষ। একপর্যায়ে জানা যায়, কাউকে না জানিয়ে তারা তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চলে গেছেন। পরে প্রকল্প পরিচালক রামানাথ পুজারীকে বিষয়টি জানালে তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং নিরাপত্তাহীনতার অজুহাতে তারা বাংলাদেশ ছেড়েছেন বলে নিশ্চিত করেন।
তবে তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রে সেনাবাহিনী, পুলিশ, আনসারসহ চার স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা চালু আছে। এর আগে ওই কর্মকর্তারা নিরাপত্তা নিয়ে কখনও কোনো অভিযোগ বা উদ্বেগ প্রকাশ করেননি। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ দেশ ত্যাগ করায় বিষয়টি রহস্যজনক বলে মনে করছেন তারা।
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তির আবেদন সংক্রান্ত সংবাদে ভিন্নমত প্রকাশ এবং ব্যাখ্যা দিয়েছে যশোর জেলা প্রশাসন।
রোববার জেলা প্রশাসকের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার আশীষ কুমার দাস স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সংক্রান্ত বিষয়ে ব্যাখা দেওয়া হয়।
ব্যাখ্যায় বলা হয়, বন্দি জুয়েল হাসান সাদ্দামকে বাগেরহাট জেলা কারাগার থেকে গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়। তার স্ত্রী ও সন্তান মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার কর্তৃপক্ষ বরাবর প্যারোলে মুক্তির কোনো আবেদন করা হয়নি। কিন্তু বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরিবারের বক্তব্য থেকে জানা যায়, সময় স্বল্পতার কারণে তাদের পারিবারিক সিদ্ধান্তে প্যারোলে মুক্তির আবেদন না করে জেলগেটে মরদেহ দেখানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে উল্লিখিত বন্দীর স্ত্রীকে লিখিত চিঠি, কারাগারে বন্দী অবস্থায় ছবি দেখা যাচ্ছে-যা যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয় বলে ওই বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এ ছাড়া আবেদনের পরেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি-এ ধরনের তথ্যও অসত্য। কারণ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, যশোর বরাবর প্যারোলে মুক্তি সংক্রান্ত কোনো আবেদনই করা হয়নি। বরং পরিবারের মৌখিক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কারা কর্তৃপক্ষ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে মানবিক দিক বিবেচনায় কারাফটকে লাশ দেখানোর ব্যবস্থা করে।
বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাদ্দাম হোসেন জুয়েলের স্ত্রী ও নয় মাসের শিশুসন্তানের মৃত্যুতে তাদের লাশ দেখাতে নিয়ে যাওয়া হয় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে। এই ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, সাদ্দামের প্যারোলে মুক্তি না মেলায় লাশ কারাগারে আনা হয় দেখানোর জন্য।
কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে সাদ্দামের পরিবারের ছয় সদস্যকে কারাফটকে আসতে দেওয়া হয়। স্ত্রী ও সন্তানকে শেষবারের মতো দেখতে মিনিট পাঁচেক সময় দেওয়া হয় সাদ্দামকে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি বিভিন্ন মামলায় যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই নিথর অবস্থায় পড়েছিল স্বর্ণালীর নয় মাসের সন্তান নাজিম।
ঝিনাইদহে আদালতে কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হয়েছে। গতকাল রোববার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি করেছেন বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল আলিম। আদালত পিবিআইকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরণে বাদী অভিযোগ করেছন প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর নাম বিকৃত করে বিদ্রূপমূলক ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন মুফতি আমির হামজা।
বাদী আরও অভিযোগ করেন, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কারাবাস নিয়েও মন্তব্য করেছেন আসামি আমির হামজা। তার মন্তব্যের ভিডিও ক্লিপ সমাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আরাফাত রহমান কোকো একজন জাতীয় ব্যক্তিত্ব এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া একজন সম্মানিত নাগরিক ছিলেন। তাদের নাম, পরিচয় ও মর্যাদা বিকৃত করে জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়া স্পষ্টতই শাস্তিযোগ্য ফৌজদারি অপরাধ বলে বাদী মামলার বিবরণে উল্লেখ করেছেন।
বিকৃত কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দেওয়ার মাধ্যমে খালেদা জিয়া ও তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর সম্মান, সুনাম ও মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে দাবি করেছেন বাদী। আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার আদেশ দেওয়ার জন্য আবেদন জানান মামলার বাদী আব্দুল আলিম।
শুনানি শেষে আদালত পিবিআইকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেন। ঘটনাটি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে। আদালত সূত্র জানায়, মামলার পরবর্তী তারিখ আগামী ৬ এপ্রিল।
আগামী ২৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নওগাঁ আগমন উপলক্ষে সমাবেশের স্থান পরিদর্শন করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রোববার (দুপুর ২টা) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত নওগাঁ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পরিদর্শন করেন। পরিদর্শন শেষে নওগাঁ শহরের ঐতিহ্যবাহী এটিম মাঠকে সমাবেশের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করা হয়।
পরবর্তীতে নওগাঁ শহরের একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সমাবেশের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহিন শওকত।সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে আগামী ২৯ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহী সফর করবেন। এরপর তিনি নওগাঁ এবং সবশেষে বগুড়া সফর করবেন। তার আগমনকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই সমাবেশে তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন এবং দেশের জনগণের কাছে বিএনপির রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। আমরা আশা করছি, নওগাঁর এই সমাবেশটি জনস্রোতে সফলভাবে সম্পন্ন হবে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রহমান রিপন, সাংগঠনিক সম্পাদক নুরে আলম মিঠু ও শফিউল আজম রানা, নওগাঁ-১ আসনের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-২ আসনের প্রার্থী ডা. শামসুজ্জোহা খান, নওগাঁ-৩ আসনের প্রার্থী ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের প্রার্থী ডা. ইকরামুর বারী টিপু, নওগাঁ-৫ আসনের প্রার্থী জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-৬ আসনের প্রার্থী শেখ রেজাউল ইসলামসহ জয়পুরহাট জেলার বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ও প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেছেন যে, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারী শাসনের অবসান ঘটলেও প্রকৃত গণতন্ত্র এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে সিলেটে আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র সংস্কার ও নির্বাচনী ইশতেহার’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন যে, ‘ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই এখনো শেষ হয়নি।’ তিনি আরও গুরুত্বারোপ করেন যে, গণতান্ত্রিক উত্তরণে নির্বাচনের ভূমিকা থাকলেও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ব্যতীত তা টেকসই হবে না। ড. মজুমদারের ভাষায়, ‘একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক উত্তরণের পূর্বশর্ত হলেও তা এককভাবে যথেষ্ট নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে গভীর আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার অপরিহার্য।’
গণ-অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্যগুলো স্মরণ করিয়ে দিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার নেতৃত্বে সংঘটিত গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান ঘটলেও এখনো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াই শেষ হয়নি। নির্বাচন ব্যবস্থার পরিশুদ্ধকরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার এবং রাষ্ট্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি সাম্যভিত্তিক ও ন্যায়বিচারপূর্ণ সমাজ গড়ে তোলাই গণ-অভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা।’ তিনি দেশের নির্বাচনী ও রাজনৈতিক ব্যবস্থায় বিদ্যমান কালো টাকা, দুর্বৃত্তায়ন এবং ক্ষমতার অতি-কেন্দ্রীকরণকে গণতন্ত্রের প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেন। অতীতের নির্বাচনের অভিজ্ঞতার নিরিখে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতায় প্রমাণিত হয়েছে যে, দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। এজন্য নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকারের গুরুত্ব অপরিসীম।’
সংলাপে ড. বদিউল আলম মজুমদার রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব গণতন্ত্র চর্চা ও নির্বাচন কমিশনকে প্রকৃত অর্থেই স্বাধীন ও দায়বদ্ধ করার ওপর জোর দেন। একইসঙ্গে তিনি নাগরিক সমাজকে তোষামোদি পরিহার করে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। সিলেট জেলা সুজনের সভাপতি শিরিন আক্তারের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার সুজন নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করে সংস্কার ও নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১ (দোহার-নবাবগঞ্জ) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট অন্তরা সেলিমা হুদাকে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে দোহার উপজেলার কুসুমহাটি ইউনিয়নের কাচারিঘাট আউলিয়াবাদ এলাকায় গোপনে কম্বল বিতরণকালে তাকে এই দণ্ড প্রদান করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, হরিণ প্রতীকের এই প্রার্থী জনৈক ফারুক মোল্লার বাড়িতে লোক সমাগম ঘটিয়ে কম্বল বিতরণ করছিলেন, যার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে।
খবর পেয়ে দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাসফিক সিবগাত উল্লাহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। নির্বাচনী আচরণবিধিমালা ৪ (১) ধারা লঙ্ঘনের অপরাধে তিনি এই জরিমানা কার্যকর করেন। অভিযান শেষে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘যিনি কম্বল বিতরণ করছেন তিনি এ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হরিণ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি কম্বল বিতরণ করে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। একই সঙ্গে তাকে সতর্ক করা হয়। নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী সব ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। আইন সব প্রার্থীর জন্য সমান। কোনো প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচারণা, কম্বল বিতরণ বা আর্থিক আদান প্রদানের যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিক ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এ ধরনের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
বরগুনায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশ করে জহিরুল ইসলাম নামে এক প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে ধাতব যন্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগে মো. ইব্রাহীম খলিল (৩০) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার (২৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা জেলা প্রশাসকের অনুপস্থিতিতে তাঁর কক্ষে এই অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বরগুনা সদর উপজেলার বাঁশবুনিয়া এলাকার বাসিন্দা ইব্রাহীম খলিল প্রায় ১৪-১৫ ইঞ্চির একটি সেলাই রেঞ্জ নিয়ে জেলা প্রশাসকের ফাঁকা কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় জেলা প্রশাসকের সিএ মো. জহিরুল বিষয়টি লক্ষ করে সেখানে গেলে হামলার শিকার হন। আহত মো. জহিরুল ঘটনার বিবরণ দিয়ে বলেন, "আমি আমার কক্ষে কাজ করছিলাম। সেখান থেকে বের হয়ে দেখি কেউ একজন ডিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করছেন। স্যার যেহেতু অফিসে নেই, এ কারণে স্যারের রুমে গিয়ে দেখি হামলাকারী ওই ছেলে ভেতরে আছেন। পরে কী কারণে রুমে ঢুকেছে জানতে চেয়ে তাকে রুম থেকে বের হতে বললে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমার ওপর হামলা চালায়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা সেলাই রেঞ্জটি দিয়ে আঘাত করে আমাকে আহত করে।"
হামলার শব্দ শুনে অফিসের অন্য স্টাফরা এগিয়ে এসে হামলাকারীকে আটক করেন। ঘটনার সাক্ষী গোপনীয় শাখার অফিস সহায়ক মো. জুয়েল রানা জানান, "সকালে অফিসে এসে কাজ করছিলাম। পরে রুমের বাইরে আমিনুল নামে এক স্টাফের সঙ্গে কথা বলছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তিকে যেতে দেখে জানতে চাই কী কারণে আসছেন। পরে সে আমাকে বলে ডিসি স্যারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। এ সময় স্যার অফিসে নাই জানিয়ে তাকে আগামী কালকে আসতে বলি। এরপর সে চলে যাওয়ার কীছুক্ষণ পরেই হামলার শিকার জহিরুল স্যার আমাকে ডাকতে থাকেন। পরে দ্রুত দৌড়ে গিয়ে দেখি জহিরুল স্যারের ওপর হামলা করা হচ্ছে। পরে আমরা কয়েকজন মিলে ওই ব্যক্তিকে ধরে নিয়ে আমাদের রুমে নিয়ে আসি। পরে অফিসের কর্মকর্তাদের অবহিত করলে পুলিশ সদস্যরা এসে তাকে আটক করে নিয়ে যায়।"
বিষয়টি নিশ্চিত করে বরগুনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) অনিমেষ বিশ্বাস জানান, "আজ সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার সময় একজন ব্যক্তি আনুমানিক বয়স ৩০-৩৫ হবে সে হঠাৎ ডিসি স্যারের রুমে প্রবেশ করে। তার কাছে একটি অব্যবহৃত সেলাই রেঞ্জ পাওয়া গেছে। তবে কী কারণে এবং কী উদ্দেশ্যে আসছে বিষয়টি এখন তদন্তধীন আছে। আমরা তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছি এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মামলার প্রস্তুতি চলছে।" কার্যালয়ের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন, "আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিচে ছিল। পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা ছিল। অফিসে প্রতিদিনই বিভিন্ন মানুষ আসেন। এছাড়াও গণশুনানিতে অনেক মানুষ আসেন। এ কারণেই তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে হয়তো ওই লোক ভিতরে চলে এসেছে। আমাদের আইনশৃঙ্খলার ব্যবস্থা আরও জোরদার করার প্রয়োজন এবং সে ধরনের ব্যবস্থা ইতোমধ্যে গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও নিরাপত্তার জন্য দুই তিন স্তরের ব্যবস্থা ঢেলে সাজানো হচ্ছে।" বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল আলীম জানিয়েছেন, অভিযুক্ত যুবককে বর্তমানে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে।
দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আজ রবিবার সকালে মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখ সকাল ৮টা ৩৪ মিনিটের দিকে এই কম্পন অনুভূত হয়। দিনের শুরুতে আকস্মিক এই কম্পনে স্থানীয়দের মধ্যে কিছুটা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হলেও এর মাত্রা মৃদু থাকায় বড় কোনো ভীতির সঞ্চার হয়নি।
আন্তর্জাতিক ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ সংস্থা ও অগ্ন্যুৎপাত বিষয়ক ওয়েবসাইট ভলকানো ডিসকভারির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৪। তাদের প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ঠাকুরগাঁও জেলা সদর থেকে আনুমানিক ৩৩ কিলোমিটার পূর্ব দিকে। তবে এই ভূমিকম্পের গভীরতা বা ডেপথ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষজ্ঞদের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, এটি একটি অগভীর বা স্যালো ডেপথের ভূমিকম্প ছিল।
সকালবেলার এই মৃদু প্রাকৃতিক দুর্যোগে এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি, ফাটল বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে। কম্পনটি খুব অল্প সময়ের জন্য স্থায়ী হওয়ায় এবং মাত্রা কম থাকায় অনেকেই হয়তো এটি অনুভব করতে পারেননি, তবে যারা অনুভব করেছেন তারা সামান্য দুলুনি টের পেয়েছেন বলে জানা গেছে।