সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩০ ভাদ্র ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী পুতুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২২
নাটোর প্রতিনিধি

সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিগত যে কোনও সময়ের চেয়ে একটি স্বচ্ছ নির্বাচন হবে। যে নির্বাচনে কোন দলীয় প্রতীক থাকবে না এবং আমরা চেষ্টা করবো যে স্থানীয় সরকার কার্যক্রম রয়েছে তা শতভাগ সক্রিয় করার জন্য। যোগ্য, ভালো ও শিক্ষিত- যারা ধ্বংস হওয়া স্থানীয় সরকারকে পুনরুজ্জীবিত করতে পারবে এ ধরনের মানুষ দিয়ে যাতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয়। রোববার দুপুরে নাটোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।


এসময় পুতুল আরও বলেন, বর্তমান সরকারের জনগণের সরকার তা দেশের জনগণ জানে, বিশ্বাস করে এবং আস্থা অর্জন করতে শুরু করেছে বলে আমি বিশ্বাস করি। অনেক কিছু আছে যা জনগণের চাহিদার ভেতর রয়েছে যা আমরা পৌঁছাতে পারেনি। যার ভেতর অন্যতম গ্যাসের সমস্যা, বিদ্যুতের সমস্যা, তেলের সমস্যা। যে সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দেশের মাটিতে পতিত করা হয়েছে, আমাদের পরনির্ভরশীল করা হয়েছে এই তিনটি সেক্টরে যাতে অন্যের দিকে তাকিয়ে থাকি।

এই সমস্যা গুলো আমরা বর্তমান সরকার এমনভাবে সমাধান করতে চাই, যাতে বাংলাদেশকে আর কারো উপর নির্ভরশীল হয়ে না থাকতে হয়। সমস্যা ও সমাধানের এই মধ্যবর্তী সময়টুকু আমাদের সবারই কষ্ট হচ্ছে। এই কষ্টের জন্য বর্তমান সরকার এমনকি স্বয়ং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বারংবার এবং আমরা যখন যেখানে যাই দেশের সকল মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করি। আমাদের আন্তরিকতার ও প্রচেষ্টার কোনো কমতি নেই, সকলের সহযোগিতা চাই।


জেলা প্রশাসক মোছা. সুমনী আক্তারের সভাপতিত্বে এ সময় অন্যান্যের ভেতরে উপস্থিত ছিলেন, পুলিশ সুপার শরিফুল হক, সিভিল সার্জন মশিউর রহমান, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আসাদুজ্জামান আসাদসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।


নির্বাচিত

নিখোঁজের তিন দিন পর শিশুর মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২২:৫৯
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে নিখোঁজের তিন দিন পর মরিয়ম আক্তার (০৭) নামের এক শিশুর মাটিচাপা দেওয়া মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাত ১টার দিকে উপজেলার চরলোটাবর এলাকার জামিনুর নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে মাটির নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় মরিয়মের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


শিশু মরিয়ম ওই এলাকার বাহাদুর আলীর মেয়ে। সে সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
স্থানীয়দের বরাতে ওসি স্নেহাশীষ রায় জানান, তিন দিন আগে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজ হয় মরিয়ম আক্তার। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাননি। পরে শনিবার রাতে বিদ্যালয়ের পাশের জামিনুরের বসতঘরে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় তার পরিবার মরদেহের সন্ধান পায়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ ।


মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশীষ রায় আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


নির্বাচিত

পদ্মার ধ্বংসলীলায় বিপন্ন চরাঞ্চলের মানুষ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
হরিরামপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি

গত কয়েকদিনে উজান থেকে বয়ে আসা বন্যার পানি আর তীব্র স্রোতে মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার চরাঞ্চলে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে পদ্মা নদী ভাঙন।

গত দুই সপ্তাহের ভাঙ্গনে উপজেলার লেছড়াগঞ্জ ইউনিয়নের জয়পুর, কবিরপুর, বিশরশি এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৩ শতাধিক পরিবার ফসলি জমিসহ বসতভিটা হারিয়ে ভাঙনে নিঃস্ব হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয়দের। তীব্র স্রোতে ভাঙন অব্যাহত থাকায় আতঙ্কে রয়েছেন আরও কয়েকশ পরিবার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অব্যাহত ভাঙনে ভিটেমাটি হারানো অসহায় মানুষের খোঁজ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বা জনপ্রতিনিধি। আর জরুরি ভাঙন ঠেকাতে নেওয়া হয়নি আপদকালীন জরুরি ব্যবস্থাও। এতে ক্ষোভ বিরাজ করছে চরাঞ্চলের মানুষের মাঝে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় দুই মাস পূর্বে পদ্মা যমুনার পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র স্রোত আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে ঢেউয়ের কারণে ভাঙন শুরু হয়। তবে, ভাঙনের পরিমাণ ধীর গতি হওয়ায় কেউ এর ভয়াবহতা টের না পেলেও বর্তমান সময়ে তীব্র আকার ধারণ করেছে। ফলে এরই মধ্যে জয়পুর, কবিরপুর, বিশরশি এলাকার প্রায় ৩০০ পরিবার তাদের ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

কবিরপুর এলাকার সইজুদ্দিন মণ্ডল বলেন, গত কয়েকদিনে এই এলাকার অন্তত ২৫০-৩০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছেন। ভাঙনে শুধু শফি মেম্বারের কলোনীতেই ৮০ পরিবার তাদের বাড়িঘর সরিয়ে নিয়েছেন। নদীর পাড়ে প্রচন্ড স্রোতের কারণে ভাঙন বেড়েছে।

পেশায় মোটরসাইকেলচালক জিন্নাহ বলেন, ভাঙনের কথা বলতে গেলে বুকটা ফেটে আসে। একে একে পাঁচবার ভাঙনের শিকার হয়েছি। ভাঙতে ভাঙতে আর কিছু নাই। বুকটা ফেটে আসে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, চরাঞ্চলের এই এলাকার নদীভাঙন রোধে দ্রুত একটা ব্যবস্থা নেয়।

জয়পুর এলাকার কুলছুম বেগম বলেন, প্রতিবছরই এই এলাকা নদীভাঙনের শিকার হয়। এর আগে কিছু বালুর বস্তা ফেললেও তাতে কোনো কাজেই আসেনি। সরকারের কাছে দাবি জরুরি ভিত্তিতে এই এলাকায় স্থায়ী বাঁধের ব্যবস্থা করা হোক।

লেছড়াগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, গত বছর আমার ইউনিয়নের প্রায় ১২০০ পরিবার বসতভিটা হারিয়েছে। এবছরেও গত কয়েকদিনে প্রায় ৩০০ পরিবার তাদের বসতভিটা হারিয়েছে। আমি প্রশাসনকে জানিয়েছি, তারা বলেছে যে আমরা দেখছি কি করা যায়।

হরিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তার বলেন, এ বিষয়ে সরজমিনে পরিদর্শন করে ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। ইতোমধ্যে বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আমরা সবসময় আছি। আমাদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের যতটুকু সহযোগিতা করা যায়, আমরা করব।

মানিকগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বলেন, চরাঞ্চলের এলাকার জন্য স্থায়ীভাবে কোনো কিছু করা যায় কিনা সেটা যাচাই করতে ফিজিবিলিটি স্টাডির অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। এটাতে যে রিপোর্ট আসবে তার ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

বিদেশি ফল চাষে বদলে যাচ্ছে জীবননগরের কৃষি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২১:৪৬
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল উৎপাদনে পাল্টে দিয়েছে অনেক কৃষকের ভাগ্য। বদলে দিয়েছে গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র। এক সময় শুধু ইরি-বোরো ও আমন চাষের পাশাপাশি প্রচলিত কিছু শাক-সবজি চাষের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল তাদের কৃষিকাজ। কিন্তু এখন আধুনিক পদ্ধতিতে নানা জাতের বিদেশি ফলের আবাদ করে কৃষকরা লাখ লাখ টাকা আয় করছেন।

ধানের জমিতে আধুনিক পদ্ধতিতে বিদেশি বিভিন্ন জাতের ফল উৎপাদনে ব্যাপক সাফল্য এখানকার কৃষকদের মুখে হাসি এনে দিয়েছে। কৃষকদের কাছে বিদেশি ফল উৎপাদন ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় বিদেশি ফল চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে। উপজেলার কৃষকরা এখন চাষ করছেন অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, লংগান, মাল্টা, আনারকলি ও আঙুরের মতো ভিনদেশি ফল।

১৫ বছর আগে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু করা এই আবাদ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে। এক সময় মনে করা হতো, বাংলাদেশের মাটিতে আঙুর চাষ প্রায় অসম্ভব। কারণ আঙুর মানেই ছিল বিদেশি ফল, যা আমাদের দেশে শুধু আমদানি করেই পাওয়া যায়। কিন্তু সময় বদলেছে। উন্নত জাত, আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি এবং কৃষকদের আগ্রহের কারণে এখন জীবননগর উপজেলায় সফলভাবে আঙুরসহ বিদেশি ফলের চাষ হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকদের মতে, উর্বর পলিমাটিতে এই ফলগুলোর চাষে খরচ কম, আবার ফলনও ভালো। ফলে চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারেও মিলছে ভালো দাম। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বড় শহরের ফলের দোকানগুলোতে সরবরাহ হচ্ছে জীবননগরের উৎপাদিত ফল।

জীবননগরে পরীক্ষামূলকভাবে আনারকলি চাষ করে সফলতা পেয়েছেন অনন্তপুর গ্রামের আকশেদ আলী। গাছে গাছে ঝুলছে ফুল আর কাঁচা-পাকা সবুজ ফল। অল্প খরচে লাভজনক হওয়ায় এ চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন অন্য কৃষকরা।

আকশেদ আলী জানান, দীর্ঘ ১০ বছর ধরে তিনি ড্রাগন ও মাল্টার চাষ করেছেন। এরপর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ইউটিউবে ভিডিও দেখে দক্ষিণ আমেরিকার ব্রাজিল ও প্যারাগুয়ের আদি ফল আনারকলির চারা সিরাজগঞ্জ থেকে সংগ্রহ করেন। জমি প্রস্তুত করে চারাগুলো রোপণ করেন। এরপর জমিতে সেচ, সার, কীটনাশকসহ নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকেন। মাত্র ছয় মাসের মাথায় থোকায় থোকায় ফুল আসতে শুরু করে। ফলগুলোকে সঠিকভাবে ধরে রাখতে এবং পচন থেকে রক্ষা করতে বাঁশের খুঁটি ও তার দিয়ে মাচা তৈরি করে দেওয়া হয়। বর্তমানে মাচায় মাচায় ঝুলছে কাঁচা ও পাঁকা আনারকলি ফল। আগস্টের শুরু থেকে পাঁকা ফল তোলা শুরু হয়েছে। এসব ফল ঢাকা, সিলেট, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হচ্ছে।

জীবননগর উপজেলার রাজাপুর গ্রামের তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা সজল আহমেদ ২০১৪ সালে মাত্র ৯ বিঘা পেয়ারা বাগান থেকে শুরু করে বর্তমানে তিনি প্রায় ১৪০ বিঘা জমিতে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফলের বাগান গড়ে তুলেছেন। তার বাগানে বর্তমানে মরোক্কো, পাকিস্তান, আফ্রিকা ও ভিয়েতনাম জাতের মাল্টা ৪০ বিঘা, বিভিন্ন প্রজাতির আম ৩৫ বিঘা, এছাড়া ড্রাগন, কমলা, আঙুর, অ্যাভোকাডোসহ ২০ রকমের বিদেশি ফল রয়েছে। সজল আহমেদ বলেন, পেয়ারা চাষে কাঙ্ক্ষিত লাভ না পেয়ে তিনি ২০১৪ সালে মাল্টা চাষে মনোনিবেশ করেন। শুরুতে কিছুটা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধীরে ধীরে তার বাগানের পরিধি ও ফলন বাড়তে থাকে।

বর্তমানে সাধারণ সবুজ মাল্টার পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত 'ইয়েলো কিং'সহ (হলুদ জাতের মাল্টা) প্রায় ১০ প্রজাতির দেশি-বিদেশি মাল্টা চাষ করে তিনি বাজিমাত করেছেন। তার এই বিশাল কর্মযজ্ঞে ‘বিসমিল্লাহ নার্সারি ও ফলের বাগান’ নামের একটি কৃষি প্রকল্প গড়ে উঠেছে। সজলের এই বাগান দেখতে এবং চাষ পদ্ধতি শিখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে দর্শনার্থী ও নতুন উদ্যোক্তারা ভিড় করেন।

উপজেলার উথলী গ্রামের আশরাফুজ্জামান মিলু ২০১০ সাল থেকে ড্রাগন ও মাল্টা চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তার ২২ বিঘা জমিতে ড্রাগন ও ৬ বিঘা জমিতে মাল্টা এবং ১০ বিঘা জমিতে পেয়ারার চাষ রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা প্রাকৃতিকভাবে ফল চাষ করছি। এসব বাগানে ফল বড় করতে কোনো মেসিডিন ব্যবহার করি না। এতে ফলের আকার ছোট হচ্ছে, দামও কম পাচ্ছি।

একই গ্রামের রাজু আহমেদ দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে ফল চাষ করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জীবননগরে ড্রাগন ৬৮৮ হেক্টর, মাল্টা ৩১২ হেক্টর, কমলা ১২০ হেক্টর, শরিফা ১ হেক্টর, আঙুর ৯ হেক্টর, রকমেলন ৬ হেক্টর, আনারকলী ২ হেক্টর, অ্যাভোকাডো ৪ হেক্টর, রাম্বুটান শূন্য দশমিক ১৩ হেক্টর, পেয়ারা ৭৪৮ হেক্টর, আনার শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর ও বারোমাসি কাঁঠাল শূন্য দশমিক ৫০ হেক্টর চাষ হয়েছে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলমগীর হোসেন বলেন, বিদেশি এই ফলের চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ছে। আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছি। এতে কৃষকদের নতুন আয়ের পথ খুলবে। জীবননগর উপজেলায় ধান, পাট আর ভুট্টা চাষের পাশাপাশি বিদেশি ফলের বাণিজ্যিক চাষ কৃষির নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। এতে বাড়বে লাভ আর বদলাবে গ্রামীণ অর্থনীতি।


নির্বাচিত

কিশোরগঞ্জে ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে বড় ভাই আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় এক যুবককে ছুরিকাঘাতে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার বড় ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার রাতে উপজেলার মঠখোলা চরদেওকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।


নিহত রিয়াদ মিয়া (২০) ও অভিযুক্ত হৃদয় মিয়া চরদেওকান্দি এলাকার বাসিন্দা মৃত আবুল কাশেমের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, রিয়াদ নিয়মিত মাদক সেবন করতেন। মাদকের টাকার জন্য তিনি প্রায়ই তার মাকে মারধর করতেন। ঘটনার দিন হৃদয় ঢাকা থেকে বাড়িতে আসেন। বাড়িতে এসে তিনি জানতে পারেন মাদকের টাকার জন্য তার ছোট ভাই রিয়াদ মাকে মারধর করেছেন। এ বিষয় নিয়ে রিয়াদকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে গেলে দুই ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়া শুরু হয়। এক পর্যায়ে ছোট ভাইয়ের বুকে ছুরি দিয়ে আঘাত করেন হৃদয়।


স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় রিয়াদ মিয়াকে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে অভিযুক্ত হৃদয়কে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।


নির্বাচিত

মরহুম এম এল রহমান এর চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী আগামীকাল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভাষা সৈনিক, সাবেক ডাইরেক্টর বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড, মরহুম এম এল রহমান এর চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী আজ ১৪ সেপ্টেম্বর, সোমবার, ২০২৬ইং। এই উপলক্ষে আজ হাজিপুর কামিল মাদ্রাসা ও হাজিপুর ফাউন্ডেশন (ভোলা’র) উদ্যোগে মাদ্রাসা কমপ্লেক্সে কোরানখানী, দোয়া মাহফিল ও স্বরণ সভার আয়োজন করা হবে। মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করে পরিবারের পক্ষ থেকে সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

পদ্মায় নৌকাডুবি: নবজাতকসহ ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে প্রশংসায় ভাসছে বিএসএফ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পদ্মা নদীতে আকস্মিক নৌকাডুবির ঘটনায় ভারতের জলসীমায় ভেসে যাওয়া ২০ দিন বয়সী এক নবজাতকসহ ১০ বাংলাদেশিকে উদ্ধার করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। শনিবার বিকেলে নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে যাওয়ার পর ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে বিএসএফ সদস্যরা তাঁদের জীবিত উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে রাতে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের আনুষ্ঠানিকতা শেষে উদ্ধারকৃতদের দেশে ফিরিয়ে এনে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে এ দুর্ঘটনায় এখনও এক বৃদ্ধ নিখোঁজ রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বাখেরআলী থেকে ১২ জন যাত্রী নিয়ে একটি নৌকা জোহরপুর-টেকের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। পদ্মার তীব্র স্রোত ও দমকা হাওয়ার কবলে পড়ে মাঝনদীতে নৌকাটি হঠাৎ ডুবে গেলে যাত্রীরা সবাই পানিতে ছিটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে সোহেল ও তানিয়া খাতুন দম্পতির মাত্র ২০ দিন বয়সী কন্যা তানিশাও ছিল। দুর্ঘটনার পর উত্তাল নদীর পানির তোড়ে ভেসে যেতে যেতে তানিশাসহ ১০ জন বাংলাদেশি সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের জলসীমায় পৌঁছে যান।

সীমান্তের ওপারে ভারতের মুর্শিদাবাদ জেলার লালগোলা থানার তারানগরের প্রত্যক্ষদর্শী শ্যামলাল মণ্ডলের বরাতে জানা যায়, নদীতে ভাসতে দেখে বিএসএফের খানদোহা ক্যাম্পের সদস্যরা দ্রুত অভিযান চালিয়ে তাঁদের তীরে তুলে আনেন। উদ্ধারের সময় নবজাতক তানিশা প্রায় নিস্তেজ হয়ে পড়লে বিএসএফ সদস্যরা কালবিলম্ব না করে শিশুটিকে স্থানীয় একটি চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যান, যেখানে নিবিড় চিকিৎসার পর সে সুস্থ হয়ে ওঠে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল কাজী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ঘটনার পরপরই ভারতীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ স্থাপন করা হয় এবং পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া ১০ জনকেই সুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরিয়ে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে উত্তাল পদ্মা থেকে ২০ দিনের এক নিষ্পাপ শিশুসহ ১০ বাংলাদেশিকে জীবিত উদ্ধার ও সুচিকিৎসা দেওয়ার মানবিক ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। বিএসএফের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বাবুল হোসেন নামের একজন মন্তব্য করেছেন, ‘অসংখ্য ধন্যবাদ ভারতীয় বিএসেফকে, আসলে সম্পর্ক তৈরি হয় আন্তরিকতা আর কাজের মাঝে। আশা করি প্রতিবেশী দুই দেশ মিলে মিশে থাকবে, প্রতিবেশী ভালো না থাকলে কেউ ভালো থাকে না, পৃথিবী শান্তি ও সৌহার্দ্যের।’ মানবিক মূল্যবোধকে স্বাগত জানিয়ে নাজমুল হক মন্তব্য করেছেন, ‘মানবতার জয় হোক, অনেক অনেক শুভকামনা রইল ভারতীয় বিএসএফ।’ একইসঙ্গে নায়েম ইসলাম নামের আরেকজন লিখেছেন, ‘নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয় উদ্যোগ ছিল। ভারতীয় সীমান্তরক্ষা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সবার জন্য শুভকামনা রইল।’


নির্বাচিত

চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৪

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে শিশু ও চালকসহ চারজন নিহত হয়েছেন। শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আরও অন্তত আটজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর আগ্রাবাদ এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে একটি মাইক্রোবাসে করে স্বজনেরা কক্সবাজারের ঈদগাহের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে শিকলবাহা চৌমুহনী এলাকায় পৌঁছালে ইউটার্ন নেওয়ার সময় একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির তীব্র সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে গিয়ে ঘটনাস্থলেই পাঁচ বছর বয়সী শিশু মো. ফেরদৌস আলম ও মিপতা (১৭) নামের এক কিশোরীর মৃত্যু হয়।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দারা আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মাইক্রোবাসের চালক মুন্না (৪০) এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও একজনের মৃত্যু হয়। কর্ণফুলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নুর আহমদ গণমাধ্যম-কে জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ডভ্যানটি জব্দ করলেও এর চালক ও সহকারী পালিয়ে গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

নদীবিধৌত চরাঞ্চলের সুফলভোগীদের মাঝে প্রাণিসম্পদ উপকরণ বিতরণ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেরানীগঞ্জ প্রতিনিধি

“মানিকগঞ্জ, ঢাকা, মুন্সিগঞ্জ, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, মাদারিপুর ও শরীয়তপুর জেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলে সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় আজ ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জ উপজেলার নদীবিধৌত চরাঞ্চলের নাগরিকদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও প্রাণিসম্পদ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুফলভোগী খামারিদের মাঝে বিভিন্ন প্রাণিসম্পদ উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের সার্বিক আয়োজনে বাস্তবায়িত এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-১১ (৩১১) এর মাননীয় সংসদ সদস্য এডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী। আর উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব মো. উমর ফারুক। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুস সাত্তার বেগ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তারা বলেন, দেশের নদীবিধৌত চরাঞ্চলের জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ জীবিকা নির্বাহের জন্য কৃষি ও প্রাণিসম্পদের ওপর নির্ভরশীল। তবে এসব এলাকায় উন্নত জাতের প্রাণী, প্রয়োজনীয় উপকরণ, খাদ্য, চিকিৎসা ও প্রযুক্তিগত সহায়তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সমন্বিত প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে এসব সীমাবদ্ধতা দূর করে চরাঞ্চলের মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রাণিজ আমিষের উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব।

বক্তারা এসময় আরও বলেন, সুফলভোগীদের মাঝে প্রয়োজনীয় প্রাণিসম্পদ উপকরণ বিতরণের পাশাপাশি আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক পশুপালন, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ এবং খামার ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী প্রাণিসম্পদ পালনের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাবে।

অনুষ্ঠানে ৪০জন সুফলভোগী খামারির মাঝে ০২ টি করে ছাগী হিসেবে ৮০ টি ছাগী বিতরণ করা হয়। এসময় রোগমুক্ত, স্বাস্থ্যবান ও সঠিক ওজনের ছাগল খামারিদের মাঝে বিতরণ করায় প্রধান অতিথিসহ অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিগণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। পাশাপাশি সুফলভোগী খামারিরাও এসময় স্বাস্থ্যবান ছাগল পেয়ে আনন্দিত হন। বিতরণকৃত ছাগল সরবরাহ করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স তুষার এন্টারপ্রাইজ।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের আওতাভুক্ত সুফলভোগী খামারি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।


নির্বাচিত

সামাজিক শান্তিতে রাসূলের আদর্শের বিকল্প নেই: ড. রফিকুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রাসূল (সঃ) এর আর্দশের কোনো বিকল্প কোনো আর্দশ নেই! মানুষের কাছে সর্বাধিক আরাধ্য বিষয় সামাজিক শান্তি এবং জীবনের সকল স্তরে শৃঙ্খলা। ব্যাক্তির অধিকারে যখন সব কিছু থাকে তখন সে সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা ছাড়া আর কিছুই কামনা করে না। এটি শুধু শুধু মানব জীবনের চাহিদা তা নয়,বরং মহান আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে এটা প্রতিষ্ঠা করার জন্য একটি পরিপূর্ণ ম্যাকানিজম প্রতিষ্ঠা করেছেন।

কথাগুলো বলেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবী বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক বিশিষ্ট প্রবন্ধকার ড, রফিকুল ইসলাম।

তিনি শনিবার বিকেলে মাগুরা অডিটোরিয়ামে জেলা সীরাত উদযাপন কমিটি কর্তৃক আয়োজিত সামাজিক শান্তি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় রাসূল (স.) আর্দশ শীষক সেমিনারে প্রধান প্রবন্ধকার হিসেবে বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সেমিনার বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক অধ্যাপক মাওলানা সাইদ আহমেদ বাচ্চু'র সভাপতিত্বে সেমিনার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা আমিন ট্রাস্টের চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ ঢাকা আদদ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল জামে মসজিদ প্রধান খতিব ড. মাওলানা হাবিবুর রহমান। অধ্যাপক মাওলানা মশিউর রহমানের সঞ্চালনায় এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজের কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ড, মাওলানা রবিউল ইসলাম মাগুরা আল আমিন ইয়াতিম খানার পরিচালক হাফেজ মাওলানা লিয়াকত আলী খান, বিশিষ্ট ইসলামি চিন্তাবিদ, সাবেক ছাত্র নেতা এবং আগামী মাগুরা পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী যমো. মাসুদুল আলম, বিশিষ্ট সমাজসেবক ও সাবেক ছাত্র নেতা এবং আগামী মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী বি এম এরশাদুল্লাহ অহিদ।

সেমিনারে অন্যান্য বক্তারা রাসূল (স.) এর আর্দশ অনুস্মরণ করে ব্যাক্তি, সমাজ,ও রাস্ট্রের সর্বত্রেই ইসলাম প্রতিষ্ঠার আহবান জানান।


নির্বাচিত

তেল-গ্যাস সংকট স্থায়ী সমাধানে সরকারের উদ্যোগ: শরীফুল আলম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

অনেকেই দেখবেন সরকারের পাঁচ ছয় মাসের মাথায় হঠাৎ করে এমন কি সমস্যা হয়েছে যে এই লক্ষ লিটার তেল ও গ্যাস পুড়িয়ে লং মার্চ করতে হবে। এতে কি রাষ্ট্রের সম্পদ অপচয় হয়নি। তবে এটা সত্যি দেশে তেল গ্যাসের কিছুটা সমস্যা হচ্ছে তা আমাদের সরকার দ্রুতই স্থায়ী সমাধানের জন্য কাজ করছেন। তাছাড়া জনগণের কিছুটা সাময়িক অসুবিধার জন্য দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার ভৈরব উপজেলার শিমুলকান্দি ইউনিয়নের গোছামারা এলাকার তাহমিনা মোছলেম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন চার তলা ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো.শরীফুল আলম।

এছাড়াও ভৈরবের স্টেডিয়াম সংলগ্ন হাইওয়ে থানার পিছনে একটি রাস্তার নির্মাণ কাজ উদ্বোধন করেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম। এর আগে তিনি সাড়ে ১১টায় উপজেলার গোছামারা গ্রামে তাহমিনা মোছলেহ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। তারপর দুপুর ১২টায় ভৈরব উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কৃতিত্ব অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হয়ে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার কেএম মামুনুর রশীদ, ভৈরব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফুল ইসলাম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মুজিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হক প্রমুখ।


নির্বাচিত

জামালপুরে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির দায়ে জরিমানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

জামালপুরের মাদারগঞ্জে এক কৃষকের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অপরাধে এক ডিলারকে আট হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।

শনিবার দুপুরে উপজেলার আদারভিটা ইউনিয়নের বাজিতেরপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী এ ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন।

জানা যায়, অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগে বিএডিসির ডিলার এস এন ট্রেডার্সে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে টিএসপি সার বিক্রির প্রমাণ পাওয়া যায়। পরে ডিলার প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মনতাজুর আলীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় আট হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে।

অভিযানকালে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাবিবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন চৌধুরী বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের ভোগান্তি কমাতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

শীতলক্ষ্যায় গোসলে নেমে প্রাণ গেল তিনজনের, নিখোঁজ ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নরসিংদী প্রতিনিধি

নরসিংদীর শিবপুরে বেড়াতে এসে শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হওয়া চারজনের মধ্যে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। শনিবার সকালে কিশোরগঞ্জের ভৈরব থেকে আসা ডুবুরি দল নদীতে দীর্ঘ উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার ভঙ্গাল গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ছেলে ওবায়দুল্লাহ (৩৮), কাপাসিয়া উপজেলার ফুলবাড়িয়া গ্রামের শান্তা (১৬) এবং নরসিংদীর শিবপুরের স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়ার ছেলে সৌরভ। এ মর্মান্তিক ঘটনায় টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা জুয়েলের ছেলে শান্ত (২৪) এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।

ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে উপজেলার দুলালপুর ইউনিয়নের লাখপুর গ্রামে আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে আসেন ওবায়দুল্লাহ, শান্তা ও শান্ত। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তাঁরা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে পার্শ্ববর্তী শীতলক্ষ্যা নদীতে গোসল করতে নামলে অসাবধানতাবশত তিনজন একসঙ্গে স্রোতের টানে তলিয়ে যেতে থাকেন। এ সময় তাঁদের বাঁচাতে সৌরভ নদীতে ঝাঁপ দিলে তিনিও নিখোঁজ হন। সঙ্গে থাকা স্বজনদের চিৎকারে স্থানীয়রা উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হলে ফায়ার সার্ভিসে খবর পাঠানো হয়। প্রথম দিন শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে সন্ধান না পেয়ে উদ্ধারকাজ সাময়িক স্থগিত রাখা হয়েছিল।

পরবর্তীতে শনিবার সকালে ভৈরব থেকে আসা বিশেষ ডুবুরি দল পুনরায় শীতলক্ষ্যা নদীতে তল্লাশি শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কিছুটা দূরে একে একে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শিবপুর ফায়ার সার্ভিসের টিম লিডার ইসলাম খান উদ্ধার অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘শনিবার সকালে ডুবুরিরা নদী থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি একজনকে উদ্ধারে অভিযান অব্যহত রয়েছে।’


নির্বাচিত

banner close