রোববার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


নির্বাচিত

ইরানে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

গ্রাফিক্স ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ইরানের ওপর নতুন করে বড় ধরনের সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি, বিমানবাহী রণতরিতে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা তোলা এবং ইসরায়েলের সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হওয়ার ঘটনায় নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপি ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক সরঞ্জাম ও যুদ্ধক্ষমতা মোতায়েন করছে ওয়াশিংটন। ইউএসএস থিওডোর রুজভেল্ট বিমানবাহী রণতরি এবং আরেকটি মেরিন এক্সপেডিশনারি ইউনিট মোতায়েনের পরিকল্পনাও রয়েছে। এসব পদক্ষেপকে ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর সম্ভাব্য প্রস্তুতি হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ।

মার্কিন বিশেষ দূত টম ব্যারাক বলেছেন, সপ্তাহান্তেও হামলা হতে পারে। অন্যদিকে, কয়েকজন বিশ্লেষকের ধারণা, আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে। তবে সম্ভাব্য হামলার সময় নিয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জর্জ ওয়াশিংটনে নতুন করে অস্ত্র ও গোলাবারুদ তোলা হচ্ছে। সম্ভাব্য বড় ধরনের বোমা হামলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম মজুত করা হচ্ছে।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে পত্রিকাটি জানায়, রণতরিতে দূর থেকে স্থল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র এবং ভূগর্ভস্থ স্থাপনা ধ্বংসের উপযোগী বাঙ্কারবিধ্বংসী বোমা তোলা হচ্ছে।

রণতরিতে বিরল এক সফরের সময় ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাংবাদিক শেলবি হলিডে বিপুলসংখ্যক গোলাবারুদের বাক্স স্তূপ করে রাখতে দেখেছেন। একই সময়ে মার্কিন বাহিনী অস্ত্র লোড করার পাশাপাশি সম্ভাব্য নতুন অভিযানের জন্য যুদ্ধবিমানও প্রস্তুত করছিল।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফায় হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই সামরিক বাহিনী নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে। এসব অস্ত্র ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনা এবং সুরক্ষিত সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হানার উপযোগী।

বর্তমান সংঘাতের কেন্দ্রে রয়েছে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা, ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন অবরোধ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা। সেপ্টেম্বরের শুরুর পর থেকে স্থলভিত্তিক লক্ষ্যবস্তুতে বড় ধরনের হামলা তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। তবে নতুন করে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বাড়ায় পরিস্থিতির অবনতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের প্রচলিত সামরিক স্থাপনাগুলো আগের হামলাতেই ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নতুন করে হামলা চালানো হলে তার প্রভাব ক্রমেই বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর পড়তে পারে। এতে সংঘাতের পরিধি বাড়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বাড়তে পারে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দ্রুতই সংঘাতের অবসান ঘটানো সম্ভব। তবে কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে সংকটের সমাধান হবে, নাকি নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরু হবে—তা এখনো স্পষ্ট নয়।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক প্রস্তুতি এবং রণতরিতে অস্ত্র মজুতের খবর নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে। এখন ওয়াশিংটনের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপরই নির্ভর করছে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেবে।


নির্বাচিত

উৎপাদনের অপেক্ষায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর (পাওয়ার স্টার্টআপ) লক্ষ্যে ইউনিটটি সি পর্যায়ে প্রবেশ করবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ২৫ অক্টোবরের দিকে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি চলছে।

এদিকে প্রথম ইউনিটের বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এসব পরীক্ষার প্রতিবেদন ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকীর মাহবুব আনামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উচ্চপর্যায়ের একটি রুশ প্রতিনিধিদল। এ সময় তারা রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের প্রথম ক্রিটিক্যাল পর্যায় ও সার্বিক অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রুশ দূতাবাসের এক বিজ্ঞপ্তি ও ফেসবুক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রোসাটমের প্রথম উপমহাপরিচালক ও অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করে। এ সময় বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

গত বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ঢাকায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে রুশ রাষ্ট্রীয় করপোরেশনের উচ্চপর্যায়ের একটি বৈঠক হয়। এতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি কমিশন এবং অপারেটিং সংস্থা এনপিসিবিএলের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অংশ নেন।

দূতাবাসের পোস্টে বলা হয়, বৈঠকে উভয়পক্ষ বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণকাজ ও প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করে এবং অদূর ভবিষ্যতে যৌথভাবে করণীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ করে।

নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, বি-২ ধাপের সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম সফলভাবে শেষ হয়েছে। ইউনিট-১ এর বি-২ ধাপের ফিজিক্স টেস্টও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার পরীক্ষার প্রতিবেদন বাংলাদেশ পারমাণবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, বৈঠকে উচ্চপর্যায়ের রুশ প্রতিনিধিদল ইউনিট-১-এর ক্রিটিক্যাল পর্যায়ের অগ্রগতি সম্পর্কে মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেছে। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার অনুমোদন পেলেই আমরা সি স্টেজে প্রবেশ করে পাওয়ার স্টার্টআপের দিকে যাব।

জাহেদুল হাসান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে। প্রক্রিয়ার সফল অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে তা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি করা হবে।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষ দিকে ২৫ অক্টোবর রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাওয়ার স্টার্টআপ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তবে এ কার্যক্রম নির্ভর করছে নিয়ন্ত্রণ সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদনের ওপর।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে তা জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। চলতি বছরের শেষ দিকে রূপপুর বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরুর প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে প্রতিটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করে পরবর্তী ধাপে উত্তরণের ওপরই বিষয়টি নির্ভর করছে।


নির্বাচিত

ইলিশ ধরা বন্ধ, সরকারি চাল না পেয়ে দুর্ভোগে জেলেরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লালমোহন (ভোলা) প্রতিনিধি

নির্ধারিত সময়ের সতের দিন অতিবাহিত হলেও ভোলার লালমোহনের ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ১৬ হাজার ৫৭৫ জন জেলেদের বরাদ্দকৃত মৎস্য ভিজিএফ চাল এখনো পায়নি। ৭ অক্টোবরের মধ্যে বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ২৫ কেজি চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও বিতরণ করেনি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানরা জানান, তালিকা প্রস্তুত এবং সমন্বয়হীনতার কারণে এখনো চাল বিতরণ করা হয়নি, তবে দ্রুত সমেয়র মধ্যে চাল বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।

৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের জন্য ইলিশ প্রধান প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর মৎস্য অভয়ারণ্য এলাকায় সকল ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। প্রতি বছর ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার এই বাইশ দিন সকল প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। এ সময় ইলিশ ধরা, বিক্রি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রিও আইনত দণ্ডনীয়। মৎস্যসম্পদ রক্ষায় এই উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় মনে করলেও জেলেদের জন্য সময়টি কঠিন মুহূর্ত।

জেলেরা এই বাইশ দিন জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়ে। এ সময় জেলেদের জন্য সরকার ২৫ কেজি চাল দিয়ে থাকেন। তবে এই বরাদ্দ নিয়ে জেলেদের মাঝে চরম ক্ষোভ থাকে। জেলেদের দাবি তালিকাভুক্ত হয়েও প্রকৃত জেলে হিসেবে চাল পান না তারা। লালমোহন উপজেলায় মোট ২৪ হাজারেরও বেশি জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও চাল বরাদ্দ হয়েছে ২১০০০ হাজার জেলের জনের জন্য।

উপজেলা মৎস্য অফিসার আলী আহমেদ আখন্দ জানান, চাল বিতরণের জন্য অফিস থেকে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্তদের বারবার তাগিদ দেওয়া হয়। তবে দু-একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ সম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

চাল বিতরণেও বরাবরই অসচ্ছতার অভিযোগ থাকে। তবুও নদীতে নিষিদ্ধ সমেয়র আগেই বরাদ্দকৃত চাল পাবেন এমনটাই আশা করেছিলেন জেলেরা। কিন্তু নির্ধারিত সময় শেষ প্রান্তে, তবুও জেলেদের হাতে এখনো চাল পৌঁছেনি। নির্ধারিত সময়ে চাল না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন জেলেরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এ সময় ধারদেনা করে তাদের চলতে হয়। এতে করে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে তাদের মধ্যে।

উপজেলার মেঘনা পাড়ের জেলে কামরুল মাঝি, মাকসুদ মাঝি, আব্বাস মাঝি, রুবেল মাঝিসহ কয়েকজন মাঝি জানান, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ থাকে। এ সময় সরকারি সহায়তার চালই একমাত্র ভরসা আমাদের। সঠিক সময়ে চাল না পাওয়ার কারণে আমাদের ঋণ আরও বাড়ছে এবং অনেক কস্টের মধ্যে দিন কাটছে। সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ মেটাতে পারছে না জেলে পরিবারগুলো। এদিকে এনজিও থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তির টাকা ধারদেনা করে শোধ করতে হয়।

সূত্র জানা যায়, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের সমন্বয় এবং তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক ইউনিয়নে জেলেরা এখনো সরকারি সহায়তার চাল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে দু-একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যানরা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক জানান, মৎস্য অফিস থেকে তালিকাসম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল ইউনিয়নের চাল বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য বলেছি।


নির্বাচিত

স্বাধীনতার পর প্রথমবার প্রশস্ত হচ্ছে সিংড়ার ১৬ কিমি সড়ক

সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার চৌগ্রাম থেকে কালীগঞ্জ পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের কাজ চলছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাধীনতার পর এই প্রথম সড়কটি প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। কাজ বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বরেন্দ্র কনস্ট্রাকশন লিমিটেড। সড়কটি প্রশস্ত ও উন্নত হলে স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্যে গতি আসবে বলে আশা করছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সরু সড়ক দিয়ে চলাচলে তাদের ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। কৃষিপ্রধান এ অঞ্চলে উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত এবং রোগীদের হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রে সড়কটি গুরুত্বপূর্ণ। উন্নয়নকাজ শেষ হলে এসব ক্ষেত্রে দুর্ভোগ কমবে।

চৌগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোজাফফর বলেন, ‘১৯৭১ সালের পর প্রথমবার সড়কটি প্রশস্ত হচ্ছে। কাজটি শেষ হলে মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন ও স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।’

সিংড়া উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন, ‘সড়কটির নির্মাণকাজে ওয়েট মিক্স ম্যাকাডাম (ডব্লিউএমএম) পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট অনুপাতে খোয়া, বালি ও পানি মিশিয়ে সড়কে বিছানো হয় এবং যন্ত্রের সাহায্যে চাপ দিয়ে শক্ত করা হয়। এতে কারিগরি মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন করা হলে সড়কটি টেকসই হবে।’

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, ‘অনুমোদিত নকশা ও কারিগরি নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে। নির্মাণের গুণগত মান নিশ্চিত করতে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।’

নাটোর-৩ (সিংড়া) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আনোয়ারুল ইসলাম আনু বলেন, ‘সড়কটির উন্নয়ন শেষ হলে মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমবে। পাশাপাশি কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।’


নির্বাচিত

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার উন্নতি

শারীরিকভাবে সুস্থ হয়ে ওঠেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারম্যানের অন্যতম উপদেষ্টা ও ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থা আগের চেয়ে উন্নতি হয়েছে। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থতাবোধ করছেন।

ভূমিমন্ত্রীর এপিএস নাজমুল হক জানান, ভূমিমন্ত্রী মহোদয় আগের চেয়ে কিছুটা সুস্থতাবোধ করছেন। রক্তশূন্যতার সমস্যাটা ঠিক হয়েছে। আরও কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা আছে সেগুলো আজ করা হবে। আশা করছি দ্রুত তিনি সুস্থ হয়ে ওঠবেন। ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় রক্তশূন্যতা দেখা দিয়েছিল, সেটি কেটে গেছে। এখন তিনি শারীরিকভাবে সুস্থ হয়েছেন ও কথা বলছেন।

এদিকে অসুস্থ ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনুর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির বিটু ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার নেতারা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। এ সময় তারা ভূমিমন্ত্রীর আশু রোগমুক্তি কামনা করছেন।

এ ছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতা বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাকে দেখতে হাসপাতালে যান।


নির্বাচিত

শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে দেশের মানুষ: মীর শাহে আলম

বগুড়ার এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মানুষ শেখ হাসিনার বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন। মাঝেমধ্যেই এমন হুমকি দেওয়া হয় যে শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসবেন। আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই মন্তব্য করেন তিনি।

মীর শাহে আলম বলেন, ‘ইতিহাস কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়, সত্যকেও চিরদিন আড়াল করে রাখা যায় না। আওয়ামী লীগ যতই প্রচেষ্টা চালাক না কেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক, এই ঐতিহাসিক সত্য কখনোই পরিবর্তন করা সম্ভব নয়।’

পাশাপাশি তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে বলেন, ‘তিনি সারা জীবন আপসহীন থেকেছেন।’

শেখ হাসিনার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী একটি তুলনা তুলে ধরে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেদিন দেশে ফিরেছিলেন, সেদিন ঢাকায় অসংখ্য মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমবেত হয়েছিলেন তাকে স্বাগত জানাতে। অথচ উল্টো চিত্র দেখা গেছে শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে, যাকে শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তে বাধ্য হতে হয়েছিল।

তার মতে, এই দুটি ঘটনাই স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে জনগণের প্রকৃত ভালোবাসা ও সমর্থন কোন দিকে রয়েছে।

বক্তব্যের একপর্যায়ে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘আমরা বেহেশতের নিশ্চয়তা দিতে না পারলেও উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিতে চাই। আর জামায়াত পারে বেহেশতের লোভ দেখাতে।’

জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, দলটি বড় বড় বুলি আওড়ালেও মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা কখনো বাস্তবসম্মত কোনো উদ্যোগ নেয়নি। বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেই এই ধর্মীয় কর্মীদের জন্য মাসিক সম্মানী ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।

মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস এম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল করিম এবং শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ দল ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রীর কন্যা জাইমা রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে সৈয়দপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ২ হাজার মানুষকে চক্ষু চিকিৎসাসেবা প্রদান করে মীর শাহে আলম ফাউন্ডেশন।


নির্বাচিত

‘প্রেমিকের সঙ্গে কক্সবাজারের হোটেলে উঠতে পারবে না অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েরা’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কক্সবাজারের আবাসিক হোটেলগুলোতে জাতীয় পরিচয় পত্র (এনআইডি) ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েদের প্রেমিকের সঙ্গে অবস্থানের জন্য রুম ভাড়া দেওয়ার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট হোটেলের মালিক-ম্যানেজারের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংরক্ষিত সংসদ সদস্য ও কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শামীম আরা স্বপ্না।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে কক্সবাজার জেলা প্রশাসন আয়োজিত জেলার নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে হোটেল-মোটেল-রেস্তোরাঁ মালিক, পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকালে তিনি এ কথা জানান।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে ইদানীং দেখা যায় ছোট ছোট মেয়েরা তাদের প্রেমিকদের হাত ধরে আপনাদের হোটেলে চলে আসে। তারা তো আন্ডার এজ (অপ্রাপ্ত বয়স্ক) তাদের এখনো একা হোটেলে থাকার বয়স হয়নি। আপনারা তাদেরকে এনআইডি ছাড়া অবস্থান করতে দেন, এটা আইনত অনেক বড় অপরাধ। এর ফলে নানা ধরনের অঘটন ঘটছে। কেউ পথে-ঘাটে প্রাণ হারাচ্ছেন, আবার কেউ আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছেন।

কক্সবাজারকে দেশের সবচেয়ে সুন্দর পর্যটন এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ধরনের পরিস্থিতি কক্সবাজারে হতে দেওয়া যায় না। আপনাদের প্রতি অনুরোধ, কেউ মা-বাবার সঙ্গে এলে থাকতে পারবেন। তবে প্রেমিকের সঙ্গে এলে জাতীয় পরিচয়পত্র ছাড়া হোটেলে থাকার অনুমতি দেওয়া যাবে না। এরপরও এ ধরনের ঘটনা ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট হোটেল মালিক ও ম্যানেজারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করা হলে দেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ১৩ বছর বয়সী এই শিক্ষার্থী হত্যার শিকার হওয়ার আগে কক্সবাজারে 'তানজু আক্তার' নামে তার কথিত প্রেমিক রাজুর সঙ্গে একটি হোটেলে অবস্থান করেন এবং যেখানকার নিবন্ধন খাতায় বয়স উল্লেখ করা হয় ১৮ বছর।


নির্বাচিত

বল প্রয়োগ করলে ফ্যাসিবাদী, না করলে পুলিশকে দুর্বল মনে করে মানুষ: আইজিপি

খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। ছবি সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বল প্রয়োগ করলে পুলিশকে ফ্যাসিবাদী বলা হয়, আর বল প্রয়োগ না করলে মানুষ দুর্বল মনে করে বলে মন্তব্য করেছেন, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।

তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে পুলিশ ও জনগণের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। সমাজে মাদককে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কাজ করছে পুলিশ।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনার বয়রা পুলিশ লাইনে খুলনা বিভাগের কমিউনিটি পুলিশিং বিষয়ক সুধী সমাবেশ শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এই মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কার্যকর করতে স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিং পুলিশের একটি শাখা হিসেবে কাজ করবে।

আইজিপি আরও বলেন, কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগে জনগণের অভিযোগ ছাড়াই পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করার ক্ষমতা দিতে নতুন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হতে হবে: রাজশাহী জেলা প্রশাসক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের প্রত্যেককে সচেতন হতে হবে। বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পাশাপাশি কোথাও যেন পানি জমে মশার প্রজননক্ষেত্র তৈরি না হয়, সেদিকে সবাইকে বিশেষ নজর দিতে হবে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজশাহী জেলা সুইমিং প্রাঙ্গণে রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জাতীয় ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতন হোন, সুস্থ থাকুন’।

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; এ ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে। মশার বংশবিস্তার রোধে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ডেঙ্গুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা জোরদার করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক (উপসচিব) নজরুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী কমিশনার (ভূমি অধিগ্রহণ শাখা) মো. আরিফ হোসেন, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. বোরহান উদ্দিন অন্তর এবং জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


নির্বাচিত

দেড়শ বছরেও অটুট তাড়াশের ঐতিহাসিক তিন গম্বুজ মসজিদ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোলাম মোস্তফা রুবেল, সিরাজগঞ্জ

নদীর ঢেউয়ে ভেসে আসে সময়ের গল্প, সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ভদ্রাবতী নদীর তীরে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী। তিনটি গম্বুজ, চুন-সুরকির মজবুত গাঁথুনি, পুরু দেয়াল আর দেয়ালজুড়ে সূক্ষ্ম কারুকাজ। সব মিলিয়ে মসজিদটি যেন অতীতের স্থাপত্যশৈলীর এক জীবন্ত নিদর্শন। উপজেলার বারুহাঁস গ্রামের ঐতিহাসিক চৌধুরীবাড়ি জামে মসজিদটি দেড় শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বহন করে চলেছে স্থানীয় ইতিহাস, ধর্মীয় ঐতিহ্য ও জমিদারি আমলের স্মৃতি। প্রতিদিনই এখানে নামাজ আদায় করতে আসেন মুসল্লিরা। শুক্রবার দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসেন অনেকে। এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি সংরক্ষণে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৮৭৫ সালে বারুহাঁসের জমিদার দেল মাহমুদ চৌধুরী মসজিদটি নির্মাণ করেন। তবে জমিদার পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্যে নির্মাতার নাম দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী হিসেবে উল্লেখ রয়েছে। জমিদারবাড়ির সামনে নির্মিত মসজিদটির দক্ষিণ পাশে রয়েছে পরিবারের পুরোনো বাড়ি ও পারিবারিক কবরস্থান। চারপাশে ভদ্রাবতী নদী ও খালের পরিবেশ স্থাপনাটির সৌন্দর্যে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা।

মসজিদটির বিশেষ আকর্ষণ তিনটি গম্বুজ, আটটি পিলারের ওপর নির্মিত তিনটি বড় মিনার এবং পাঁচটি ছোট মিনার। কাঠের তৈরি তিনটি দরজা পেরিয়ে ভেতরে ঢুকলে চোখে পড়ে দেয়ালের নান্দনিক অলংকরণ ও কারুকাজ। চুন-সুরকি দিয়ে নির্মিত পুরু দেয়াল এবং পুরোনো নির্মাণশৈলী মসজিদটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

প্রায় চার শতক জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটির ভেতরের আয়তন তুলনামূলক ছোট। তিন সারিতে প্রায় ৬০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন। বাইরে খোলা বারান্দায় রয়েছে আরও দুই সারিতে নামাজ পড়ার ব্যবস্থা। ইমামের জন্য আলাদা মেহরাব ও মিম্বার না থাকলেও মসজিদে সংরক্ষিত রয়েছে একটি কাঠের মিম্বার, যার ওপর দাঁড়িয়ে জুমার খুতবা দেন ইমাম। দেড় শতাব্দীর বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মূল কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন হয়নি বলে জানান জমিদার পরিবারের সদস্যরা। তবে স্থাপনাটির সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন সময়ে কিছু সংস্কারকাজ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিন মসজিদটিতে ইমামতি করেছেন বারুহাস গ্রামের মো. খলিলুর রহমান। অসুস্থতার কারণে বর্তমানে তার ছেলে আবদুস সবুর ইমামতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, এই মসজিদ আমাদের এলাকার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী। এমন মসজিদে ইমামতি করতে পারা সৌভাগ্যের।

মসজিদের মুয়াজ্জিন ৮০ বছর বয়সি আবদুল লতিফ খন্দকার। তার বাবা দৈয়ম আলী খন্দকারও এ মসজিদে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করেছেন। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ধর্মীয় কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে মসজিদটি স্থানীয় মানুষের জীবন ও ঐতিহ্যের অংশ হয়ে উঠেছে।

মসজিদের বর্তমান ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মো. খবির উদ্দিন বলেন, ৩১ বছর ধরে এই মসজিদের ইমাম হিসেবে রয়েছি। জুমার নামাজের দিন মসজিদ কানায় কানায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। প্রায় দেড়শ বছরের পুরোনো এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করতে আমি নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করি।

জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরীর নাতি মো. শাহনেওয়াজ খান চৌধুরী নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী অধ্যাপক। তিনি বলেন, মসজিদের মূল কাঠামো ঠিক রেখে পরবর্তী সময়ে সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য কিছু কাজ করা হয়েছে। মসজিদটি জমিদার পরিবারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। ইমাম ও মুয়াজ্জিনের বেতনসহ অন্যান্য খরচ নির্বাহের জন্য জমিদার দেলোয়ার হোসেন খান চৌধুরী ১০ বিঘা জমি ওয়াক্ফ করে গেছেন।

কর্মসূত্রে পরিবারের অনেক সদস্য এলাকায় থাকেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রয়োজন কিংবা বার্ষিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তারা এলাকায় আসেন। তার মতে, মসজিদের স্থাপত্যশৈলীর সঙ্গে মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর বেশ মিল রয়েছে।

জমিদার পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের সদস্য বিশাল খান চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকে মসজিদের ভবন যেভাবে দেখেছি, এখনো সেভাবেই আছে। টুকটাক সংস্কার হলেও দেড়শ বছর পরও মসজিদটির কাঠামোয় তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। প্রতিদিনই অনেকে মসজিদটি দেখতে ও নামাজ আদায় করতে আসেন। বিশেষ করে শুক্রবার অনেক দূরের মানুষও এখানে নামাজ পড়তে আসেন।

গবেষক-লেখক ও খুলনার উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক খ ম রেজাউল করিম বলেন, দেড়শ বছরের পুরোনো মসজিদটি ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে টিকে আছে। মোগল আমলে নির্মিত মসজিদগুলোর সঙ্গে এর স্থাপত্যশৈলীর বেশ মিল পাওয়া যায়। জমিদারবাড়ি ও মসজিদ ঘিরে প্রবহমান ভদ্রাবতী নদী স্থাপনাটির সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়, এগুলো পূর্বপুরুষদের শিল্পবোধ, স্থাপত্যশৈলী, সংস্কৃতি ও ঐতিহাসিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। দীর্ঘদিন ধরে এসব স্থাপনা অতীতের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বহন করে আসছে। তাই এগুলো সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।

ইউএনও আরও বলেন, বারুহাঁসের ঐতিহাসিক ইমামবাড়ী তথা তিন গম্বুজ মসজিদের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে আলোচনা করে মসজিদটির ইতিহাস, নির্মাণশৈলী ও প্রত্নতাত্ত্বিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করা হবে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয়ে প্রতারণা, নাটোরে গ্রেপ্তার ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাটোর প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিবের পরিচয় ব্যবহার করে ডিজিটাল মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আদায় করার অভিযোগে আবু হুরায়রা খালেদ নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে নাটোর জেলা পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সামনে এক প্রেসব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হক। গ্রেফতারকৃত আবু হুরায়রা খালেদ নাটোরের সিংড়া উপজেলার বালুয়া-বাসুয়া গ্রামের জিয়াদুল ইসলের ছেলে।

পুলিশ সুপার জানান, দীর্ঘদিন ধরেই প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের অফিস স্টাফ পরিচয় দিয়ে আবু হুরায়রা খালেদ তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ, বিকাশ, নগদ ও রকেটসহ বিভিন্ন ডিজিটাল মাধ্যমে রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ, সরকারি চাকরিজীবী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ করে আসছিল। এই ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সে ও তার সহযোগী চক্র সরকারি সুযোগ-সুবিধা প্রদান এবং রাজনৈতিক পদে পদায়ন বা মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করতো। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনের দৃষ্টিগোচর হয়। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ডিবি পুলিশের একটি চৌকস টিম তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। অভিযানে সিংড়া থানার বালুয়া বাসুয়া গ্রাম থেকে আবু হুরায়রা খালেদকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে সিংড়া থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইন ২০২৩ এর ধারায় মামলা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, অভিযুক্ত রাশেদ ২০১৬ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত নাটোরের সিংড়া পৌর ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিল এবং ২০১৮ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ বেতার রংপুরের টেকনিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি ব্যবহার ও প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে পূর্বেও মামলা রয়েছে। প্রতারনার জন্য আবু হুরায়রা খালেদ একাধিকবার কারাবরণও করেছেন। প্রতারক চক্রের অন্যান্য সহযোগীদের গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে প্রশাসনের ৫ সিদ্ধান্ত

মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের অংশে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে এবং সড়কে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশেষ মতবিনিময় সভা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকালে মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের আয়োজনে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এই মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক মো. খায়রুল ইসলাম, বিআরটিএ’র ঢাকা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক প্রকৌশলী মোবারক হোসেন, জেলা কৃষকদলের সভাপতি গোলাম কিবরিয়া সাইদ, মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস ও জেলা পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক লিটনসহ হাইওয়ে পুলিশ ও ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, তিন চাকার গাড়ী ও বাইক দুর্ঘটনার অন্যতমন কারন একারনে তিন চাকার গাড়ীগুলিকে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক মহাসড়কে চলতে দেওয়া হবে না। রুট পারমিট ছাড়া কোন গাড়ীকে সড়কে চলতে দেওয়া হবে না। লাইসেন্সবিহীন চালককে গাড়ী দেওয়া যাবে না। হেল্পারগণ যাতে গাড়ী চালাতে না পারে সেটা নিশ্চিত করতে হবে। একইসাথে সড়কের ত্রুটি মুক্ত করতে সড়ক ও জনপথ বিভাগকে ব্যবস্থা নিতে হবে।


নির্বাচিত

ভাগ্নের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে হামলা, বৃদ্ধ মামার মৃত্যু

ফজলে আলী হাজারী। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাগ্নের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে হামলায় বৃদ্ধ মামা ফজলে আলী হাজারীর (৬০) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফজলে আলী চরকাদিরা ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড বটতলী এলাকার বাসিন্দা।

মেঘনা নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে উপজেলার লুধুয়া ফলকন এলাকা থেকে স্থানান্তরিত হয়ে তিনি ওই এলাকায় বসতি স্থাপন করেন। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করেছেন। ঘটনার পর হামলায় অভিযুক্তরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন।

জানা গেছে, প্রেমের সম্পর্কের সূত্রধরে প্রায় দুই বছর আগে ফজলে আলীর ভাগ্নে দেলোয়ার মাহমুদের সঙ্গে বটতলী এলাকার বাসিন্দা জামাল হোসেনের মেয়ে জেরিন আক্তারের বিয়ে হয়। কিন্তু কিছু দিন পর পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। সম্প্রতি জেরিনের অন্যত্র বিয়ে হলে ফেনীতে কর্মরত সাবেক স্বামী দেলোয়ার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাকে (জেরিনকে) নিয়ে আবেগময় একটি পোস্ট দেয়। এ নিয়ে জেরিনের আত্মীয়স্বজনের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাতে জেরিনের স্বজনরা বটতলী বাজারে মামা ফজলে আলীর কাছে দেলোয়ারের ফেসবুক পোস্টের বিষয়ে অভিযোগ করেন। এ সময় ফজলে আলী বিষয়টি দেলোয়ার বাড়ি ফিরলে সমাধানের কথা জানান। কিন্তু এরই মধ্যে জেরিনের স্বজনরা ফজলে আলীর ওপর আকস্মিক হামলা করেন। তাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষির আঘাতে গুরুতর আহত হলে স্থানীয়রা ফজলে আলীকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতিতে সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে রাতেই তার মৃত্যু হয়।

নিহতের ছেলে মো. ফয়সাল জানান, সামান্য ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে জেরিনের খালাতো ভাই মো. মাহফুজের নেতৃত্বে স্বজনরা হামলা চালিয়ে তার বাবাকে মেরে ফেলেছেন। ঘটনার পর হামলাকারীরা এলাকা ছেড়ে গা-ঢাকা দিয়েছেন। একটি প্রভাবশালী মহল বিষয়টি মীমাংসা করার অপচেষ্টা করছেন।

তিনি বলেন, আমি আমার বাবার হত্যার বিচার চাই। এজন্য আইনী পদক্ষেপের লক্ষ্যে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

এদিকে অভিযুক্ত মাহফুজসহ অন্যরা আত্মগোপনে থাকায় এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদুল আলম জানান, শনিবার সকালে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। ভিকটিমের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তারসহ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

banner close