মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১২ ফাল্গুন ১৪৩২

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


চট্টগ্রাম ও ঢাকায় গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ ১২, একজনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম ও রাজধানী ঢাকায় গ্যাসের বিস্ফোরণে সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ১৩ জন দগ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে একটি বাসার বিস্ফোরণে শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। বিস্ফোরণে দগ্ধ নয়জনের মধ্যে একজনের মৃত্যু হয়েছে। তার নাম নুরজাহান বেগম রানি (৪০)।

অন্যদিকে ঢাকার রায়েরবাজার এলাকার একটি বাসায় ‘গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে’ আগুনে এক পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন।

জানা গেছে- চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে একটি বাসার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণে শিশুসহ ৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে হালিশহর এইচ ব্লকের ‘হালিমা মঞ্জিল’নামের একটি ছয়তলা ভবনের তৃতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ভোর সাড়ে চারটার দিকে হালিমা মঞ্জিল নামের একটি ছয় তলা ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পরপরই ঘরটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে তাদের পৌঁছানোর আগেই স্থানীয় বাসিন্দারা দগ্ধ ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী আলমগীর হোসেন জানান, ওই বাসায় এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো না; সেখানে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির সরবরাহকৃত গ্যাসের সংযোগ ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে যায়। পরে সেই জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণেই দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটে।

চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, ভোরে ওই বাসার রান্নাঘরে জমে থাকা গ্যাসের বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ঘরে থাকা নারী ও শিশুসহ কয়েকজন দগ্ধ হন। দগ্ধদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চমেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান চিকিৎসক রফিক উদ্দিন আহমেদ গণমাধ্যমকে জানান, দগ্ধদের সবারই শ্বাসতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং তাদের অবস্থা

বার্ন ইউনিট সূত্রে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে রানী ও পাখি নামে দুই নারী এবং সাখাওয়াত নামের এক ব্যক্তির শরীর শতভাগ পুড়ে গেছে। এছাড়া একজনের ৮০ শতাংশ, একজনের ৪৫ শতাংশ এবং বাকিদের শরীর ২০ থেকে ২৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে।

অন্যদিকে, ঢাকার রায়েরবাজার এলাকার একটি বাসায় ‘গ্যাস লাইন লিকেজ থেকে’ আগুনে এক পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধরা হলেন মো. রোমান (৪০), তার স্ত্রী পিংকি (৩৫), এই দম্পতির সন্তান মায়ান (৩) ও পিংকির ভাই অপু (২২)।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর পৌনে ৫টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান।

শাওন বিন রহমান বলেন, রোমানের শরীরের ২৫ শতাংশ, পিংকির ৭৫ শতাংশ, মায়ানের ২৪ শতাংশ ও অপু ৭ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের চিকিৎসা চলছে।

জানা গেছে, রায়েরবাজার এলাকার একটি ছয় তলার ভবনের নিচ তলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করে পরিবারটি। রাত পৌনে ৪টার দিকে হঠাৎ আগুন লেগে বাসায় থাকা চারজনই দগ্ধ হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রোমানের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণার খালিয়াজুরী থানার মোহাম্মদপুর এলাকায়।


মেঘনায় অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা, গুলিতে নারী-শিশুসহ অন্তত ১৫ জন আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার চরলাপাং এলাকায় মেঘনা নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবিতে গ্রামবাসীর বাধার মুখে হামলা ও ছররা গুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী ও কিশোরসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৭ জন গুলিবিদ্ধ বলে জানা গেছে।

গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়নের চরলাপাং-সংলগ্ন মেঘনা নদীর তীর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চরলাপাং মৌজার মেঘনা নদীতে একাধিক ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত বালু উত্তোলন চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, নাছিরাবাদ বালু মহালের সীমানা অতিক্রম করে নদীর তীরঘেঁষে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল, ফলে নদীভাঙন, ফসলি জমি বিলীন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দেয়।

এ অবস্থায় স্থানীয় গ্রামবাসী বারবার নিষেধ করলেও বালু উত্তোলন বন্ধ না হওয়ায় গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে শতাধিক এলাকাবাসী সংঘবদ্ধ হয়ে ড্রেজার এলাকায় গিয়ে বালু উত্তোলন বন্ধের চেষ্টা করেন। এ সময় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত অস্ত্রধারী দুর্বৃত্তরা গ্রামবাসীর ওপর হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি ছররা গুলি ছোড়ে।

গুলিবিদ্ধদের মধ্যে নূরুল আমীন (৪০), রূপা মিয়া (৪৫), স্বপন মিয়া (৫০), ইব্রাহীম খলিল (৩০), জুলহাস মিয়া (৫০), সাকাল মিয়া (৪০) ও সিয়াম আহমেদ (১৬) রয়েছেন। এ ছাড়া সংঘর্ষে নারীসহ আরও অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

আহত ও এলাকাবাসীর অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের নজরদারি এড়িয়ে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন করে আসছিল। প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও গুলি চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক দুই পক্ষের কিছু নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততার কথাও শোনা যাচ্ছে।

অভিযুক্তদের মধ্যে সাখাওয়াত হোসেন পায়েলের নাম স্থানীয়ভাবে উল্লেখ করা হলেও তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, গুলি চালানোর খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে পরিস্থিতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি জেলাপর্যায়ের বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয় সাংসদ অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান বলেন, ‘নবীনগরে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। অবৈধ বালু মহাল বন্ধ ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’


সিল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ৭ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাত

জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মামলা হলেও আসামিরা বহাল তবিয়তে। সাতক্ষীরা  রেকর্ড রুমের সিল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ৭ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সাতক্ষীরা জেলা রেকর্ড রুমের দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির করে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি জমি আত্মসাত। শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত মেঘনাথ গাইনের ছেলে মলয় কুমার ও কুমারেন্দ্র নাথ এবং ভোলানাথ গাইনের ছেলে অরবিন্দু নাথ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ।

ইতোমধ্যে রেকর্ডরুম শাখা কর্তৃক তদন্তে জালিয়াতির ঘটনায় প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মামলা হয়েছে। শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এসএম ফজলুল রহমান বাদী হয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারি শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলা দায়ের পর প্রায় ১৫ দিন অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি আসামিরা গ্রেপ্তার হয়নি। বরং অর্থ সম্পদের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা গ্রেপ্তার এড়ানোসহ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায় গোপালপুর মৌজার এসএ ২১, ২৪, ২৫ ও ২৬ খতিয়ানের ৪ একর ৩২ শতক জায়গা ১৯৮১ সালে জাল দলিল তৈরি করে মলয় কুমার ও তার দুই ভাই দখল করে নেয়। এ সময় তারা প্রায় তিন দশক আগে ভারতে চলে যাওয়া জনৈক ক্ষেত্র দাস দিং দের দাতা সাঁজিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা মূল্যের ওই সম্পত্তি জবর দখল করেন। পরবর্তীতে ওই জমির অনুকুলে জাল খতিয়ান তৈরিসহ সৃজনকৃত সেসব কাগজমূলে নামপত্তনসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে পরবর্তীতে অর্পিত ঐ সম্পত্তির মালিকানার দাবিতে মলয় ও তার দুই ভাই বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে (সাতক্ষীরা) ১৮/২০০৫ নং মামলা করেন। এ সময় তারা তারা দাবির সমর্থনে জেলা রেকর্ডরুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল স্বাক্ষর সম্বলিত এসএ ২১, ২৪, ২৫, ২৬ নং খতিয়ানের কপি দাখিল করেন।

জানা যায় সম্প্রতি তাদের জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। যার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রহ্মশাসন গ্রামের মো. মুজিবুল হক বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত জানান। একপর্যায়ে রেকর্ড রুমের তদন্তে প্রমানিত হয় যে মলয় কুমার দিং দের সরবরাহকৃত যাবতীয় কাগজ ভূয়া। যার প্রেক্ষিতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা এসএম ফজলুর রহমান বাদি হয়ে মলয়সহ ৩ জনের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮, ও ৪৭১ ধারায় ওই মামলা করেন।

এ বিষয়ে মলয় কুমার জানান, তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেওয়ার চেষ্টা করছেন।

শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান জানান, মামলার তদন্তদভার উপপরিদর্শক মোরছালিনের ওপর দেওয়া হয়েছে।


সমবেত প্রার্থনা ও সংগীতে শেষ হলো নিরালার ৩ দিনের ধর্মীয় সম্মেলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নিরালা পুঞ্জিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে শ্রীমঙ্গল–বড়লেখা প্রেসবিটারিয়ান মো.খ্রিস্টীয় মণ্ডলীর ৫৫তম বার্ষিক ধর্মীয় সভা। তিন দিনব্যাপী এ আধ্যাত্মিক আয়োজন গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে সমবেত প্রার্থনা ও বিদায়ী সংগীতের মধ্য দিয়ে শেষ হয়।

নিরালা পুঞ্জি এলাকায় আয়োজিত এ ধর্মীয় সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় নিরালা খাসিয়া পুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন মাঠে। এতে সহযোগিতা করে শ্রীমঙ্গল–বড়লেখা প্রেসবিটারি ও সিলেট প্রেসবিটারিয়ান সিনড। আয়োজন করে নিরালা প্রেসবিটারিয়ান মণ্ডলী।

গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) শুরু হওয়া এই ধর্মীয় সভায় সভাপতিত্ব করেন মডারেটর পালক রেভা. এবরিসন পতাম। সম্মেলনের প্রধান আকর্ষণ ছিল খাসিয়া সম্প্রদায়ের প্রায় পাঁচ হাজার ভক্তের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। প্রার্থনা, ধর্মীয় উপদেশ ও সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে পুরো এলাকা উৎসবমুখর পরিবেশে রূপ নেয়।

ধর্মীয় আলোচনায় বিশেষ অতিথি তেনজিং ঘোষ যিশুখ্রিষ্টের প্রেম, ত্যাগ ও প্রার্থনার গুরুত্ব তুলে ধরে ভক্তদের নৈতিক ও আত্মিক জীবন গঠনে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পালক রেভা. জি. রাজমুসেন, রেভা. এব্রিংটন পি. লং, মণ্ডলীর ডিকন সামুয়েল ধার, আরন মানার, শাকিল পামথেত, লবিং সাআট এবং খাসি প্রেসবিটারিয়ান ট্রাস্টের সম্পাদক লুকাস রংসাইসহ মণ্ডলীর অন্যান্য নেতারা।

ধর্মীয় আলোচনার পাশাপাশি ১০টি সাংস্কৃতিক দলের পরিবেশনায় সংগীত সভায় ভিন্নমাত্রা যোগ করে। ভক্তদের অংশগ্রহণে প্রার্থনা ও গানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো আয়োজন।

সমাপনী বক্তব্যে নিরালা পুঞ্জি প্রেসবিটারিয়ান মণ্ডলীর পক্ষ থেকে এলভিস পতাম আগত অতিথি ও ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। শেষে দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় বিশেষ প্রার্থনার মধ্য দিয়ে ৫৫তম বার্ষিক ধর্মীয় সভার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


টঙ্গীতে পূর্ব শত্রুতার জেরে হামলা, গুলি বর্ষণে আহত ৬

আপডেটেড ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:০৩
টঙ্গী (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের টঙ্গীতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিতর্কিত পোস্ট করাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি হামলায় ৬ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত থেকে রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেল পর্যন্ত এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটে।

এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৬ জন আহত হয়। একপর্যায়ে গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফাঁকা গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটলে এলাকা জুড়ে আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এ ঘটনায় আহতরা হলেন, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী শাহাদাত হোসেন (২৮), ফিরোজ মিয়া (২৭),পথচারী রোহান (২১), রবিউল ইসলাম (৩৬), নয়ন ইসলাম রাজ (৩৩) ও সাফি মিয়া (৩২)।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গত কয়েকদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি বিতর্কিত পোস্টকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তারই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় কয়েকজন যুবকের ওপর হামলা চালায় একটি পক্ষ। এতে আহত হন রবিউল, সাফি ও নয়ন নামে তিন যুবক আহত হন। এই ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের এর পর গত রোববার দুপুরে ওই দোকানে আবারও হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। এ সময় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালিয়ে দুই ব্যবসায়ীসহ অন্তত তিন জনক আহত করে দুর্বৃত্তরা। একপর্যায়ে বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছুড়ে তারা। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে। তবে হামলাকারীদের সনাক্ত করতে পারেনি ভুক্তভোগীরা।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে সংঘটিত একটি মারামারির ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। তার ধারাবাহিকতায় গত রোববার বিকেলে হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারী তদন্ত করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ প্রেরণ করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ার খবর পাওয়া গেছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।


মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় নারীসহ আহত ৪

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় নারীসহ ৪ জনকে মারধর ও কুপিয়ে আহত করার অভিযোগ ওঠেছে। আহতদের মধ্যে সবুজ মিয়া (৫০) গুরুতর আহত অবস্থায় ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার ধীতপুর ইউনিয়নের দেয়ালিয়াপাড়া এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।

আহত সবুজ মিয়া ভালুকা মডেল থানায় দায়ের করা অভিযোগে উল্লেখ করেন, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা চললেও তিনি এর প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে একই এলাকার আলাল উদ্দিন (৪৫), দুলাল মিয়া (৫০), শাকিল মিয়া (২২), রবিন মিয়া (২০) সহ অজ্ঞাত পরিচয়ে আরও কয়েকজন তার ওপর হামলা চালায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় সবুজ মিয়াকে একা পেয়ে অভিযুক্তরা তার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করে। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে হামলাকারীরা তাদেরও মারধর করে, এতে নারীসহ আরও কয়েকজন আহত হন।

পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে ভালুকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

ভালুকা মডেল থানার ওসি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


নকলায় দুই ট্রাক অবৈধ সার জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুরের নকলায় অবৈধভাবে পাচারকালে বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশন বা বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ৯৮০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ।

গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার উত্তর বাজারে পৃথক দুই স্থানে সৃজন এন্টারপ্রাইজ ও মেসার্স খন্দকার শহীদুল ইসলাম নামের ডিলার পয়েন্ট থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুই ট্রাক অবৈধ সার জব্দ করে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে খবর দেওয়া হয়।

খবর পেয়ে তাৎক্ষণাত উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহেদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। উপস্থিত হয়ে অবৈধ সার ভর্তি ট্রাক নকলা থানা পুলিশের সহায়তায় আটকের নির্দেশ দেয়।

অভিযুক্ত ডিলাররা বলেন, আমরা সার ক্রয় বাবদ ডিও করেছি, যার প্রেক্ষিতে ঝিনাইগাতী বাফার জোন সার প্রেরণ করেছে, কোথা থেকে প্রেরণ করেছে আমরা জানতাম না।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আশুগঞ্জ যমুনা সার কারখানা থেকে সার ভর্তি ট্রাক শেরপুর বাফার জোন ঝিনাইগাতী পয়েন্ট মজোত হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ঝিনাইগাতী বফার জোনের ইনচার্জ এর যুকসাজসে নকলা ডিলার পয়েন্ট সার স্থানান্তরের উদ্দ্যোগ নেয়, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। যার প্রেক্ষিতে সার ভর্তি ট্রাক নকলা থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।


ইফতারি শেষ করে স্কুল শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা গ্রামে ইফতারি শেষ করার পর ১৫ বছর বয়সী রুবাইয়া খাতুন নামের এক স্কুল শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি নিজ কক্ষে সিলিং ফ্যানে ওড়না পেচিয়ে গলায় ফাঁসি দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

নিহত রুবাইয়া খাতুন গাংনী উপজেলার কাজিপুর ইউনিয়নের হাড়াভাঙ্গা গ্রামের আবুল কালাম আজাদের মেয়ে এবং হাড়াভাঙ্গা ডিএইচএস সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণির ছাত্রী।

জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে ইফতার ও মাগরিবের নামাজের পর তিনি আত্মহত্যা করেন।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন‍্য বামন্দী ক্লিনিকে নিয়ে যান।

পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. বিডি দাস জানান, হাসপাতালে পৌছানোর আগেই রুবাইয়া খাতুনের মৃত্যু হয়।

গাংনী থানার ওসি উত্তম কুমার দাস জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং মৃত্যুর কারণ নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপনে উঠান-বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন বিষয়ক উঠান-বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সারোয়াতলি ইউনিয়নের খিতাপচর এলাকায় বৈঠকে ২০ জন কৃষাণ-কৃষাণী অংশ নেন।

উপস্থিত কৃষকদের পুষ্টি বাগান স্থাপন, সঠিক পরিচর্যা ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ দেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. শাহানুর ইসলাম। তিনি জানান, পুষ্টিকর শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং বাড়তি আয়ের সুযোগ সৃষ্টি সম্ভব। এ ধরনের সরকারি উদ্যোগ প্রান্তিক কৃষকদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলবে।

বৈঠকে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শিবু কান্তি নাথ ও লক্ষণ কুমার কারণ উপস্থিত ছিলেন।


স্বাধীনতার পর প্রধানমন্ত্রী-মন্ত্রী পেলেও এবারই প্রথম মন্ত্রীবিহীন গাজীপুরবাসী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রত্যেক মন্ত্রিসভায় মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় স্থান পেয়েছেন গাজীপুরের গর্বিত সন্তানরা। কিন্তু স্বাধীনতার পর এবারই প্রথম রাজধানীর অদূরে শিল্পঅধ্যুষিত গুরুতপূর্ণ জেলা গাজীপুর থেকে মন্ত্রিসভায় কারও স্থান হয়নি। দেশ স্বাধীন, অর্থনীতি, রাজনীতি ও শিল্প খাতে অত্যন্ত গুরুতপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী এ জেলার কারও সদ্য মন্ত্রিসভায় স্থান না থাকায় ক্ষোভ ও হতাশায় ভুগছেন বাসিন্দারা। এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও।

গাজীপুরবাসী, দলীয় নেতা-কর্মী ও জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭১ সালে ১৯ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর বর্বরতার বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতা ও বাঙালি সৈনিকরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে গাজীপুর থেকে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে ওঠে। আর স্বাধীনতা অর্জনের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন গাজীপুরের কাপাসিয়ার গর্বিত সন্তান তাজউদ্দিন আহমদ। শুধু মুক্তিযুদ্ধই নয়, রাজধানীর অদূরে শিল্পঅধ্যুষিত জেলা গাজীপুর দেশের অর্থনীতি, রাজনীতি, শিল্প খাতসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। তৈরি পোশাকশিল্প, ভারী ও মাঝারি শিল্পকারখানা, কৃষি উৎপাদন ও দ্রুত বর্ধনশীল নগরায়ণের কারণে জাতীয়ভাবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে এই জেলা। স্বাধীনতার পর সব সময় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে গাজীপুরের ৫টি আসনের কেউ না কেউ প্রতিনিধিত্ব করেছেন। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও জেলার অনেক বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় বাণিজ্যমন্ত্রী ছিলেন চৌধুরী তানভীর আহমেদ সিদ্দিকী। বেগম খালেদা জিয়ার আমলে গাজীপুর থেকে আ স ম হান্নান শাহ ও এম এ মান্নান মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ পদে ছিলেন। এমনকি বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের আমলেও মন্ত্রিসভায় স্থান ছিল এ জেলার একাধিক প্রতিনিধি। অতীতে বিভিন্ন সরকারের আমলে গাজীপুর থেকে অন্তত একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুরের পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটিতে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা। বিএনপির জয়ী প্রার্থীরা হলেন- গাজীপুর-১ (কালিয়াকৈর ও সিটির একাংশ) আসনে মেয়র মজিবুর রহমান, গাজীপুর-২ (সদর ও টঙ্গী) আসনে এম মঞ্জুরুল করিম, গাজীপুর-৩ (শ্রীপুর ও সদরের একাংশ) আসনে এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু ও গাজীপুর-৫ (কালিগঞ্জ ও সদরের একাংশ) আসনে এ কে এম ফজলুল হক মিলন। কিন্তু এবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভায় তাদের কারও স্থান হয়নি। এদের মধ্যে গাজীপুর-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মেয়র মজিবুর রহমানের নাম মন্ত্রিসভায় গুঞ্জন ওঠলেও মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী তালিকায় তারও নাম নেই। এদিকে গুরুত্বপূর্ণ জেলা গাজীপুর থেকে মন্ত্রিসভায় কারও নাম না থাকায় জেলা-উপজেলা, মহানগর, পৌর বিএনপির নেতা-কর্মী ও সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে হতাশা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শুধু তাই নয়, মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ এ জেলার কেউ না থাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনার ঝড় ওঠেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও।

তাদের ভাষ্য, মন্ত্রিসভা গঠনে আঞ্চলিক ভারসাম্য, অভিজ্ঞতা ও দলীয় কৌশল বিবেচনায় নেওয়া হয়। সে ক্ষেত্রে গাজীপুরের মতো শিল্পসমৃদ্ধ ও জনবহুল জেলা থেকে কাউকে অন্তর্ভুক্ত না করায় আলোচনা তৈরি হওয়াটা স্বাভাভিক। মন্ত্রী হওয়া শুধু রাজনৈতিক পদ নয়, এটি উন্নয়নের একটি মাধ্যম। গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলা সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় বাসিন্দারা হতাশ হয়েছেন। তাই মন্ত্রী হলে এখানকার উন্নয়ন ত্বরান্বিত হতো। তবে উন্নয়নের লক্ষ্যে গাজীপুরের কাউকে মন্ত্রিসভায় রাখার দাবি জানিয়েছেন দলীয় নেতা-কর্মীসহ এখানকার সর্বস্তরের মানুষ।

গাজীপুর জজকোর্টের সিনিয়র আইনজীবি ও কালিয়াকৈর পৌর বিএনপির সাবেক আইনবিষয়ক সম্পাদক ছানোয়ার হোসেন খাঁন বলেন, ‘গাজীপুরে পাঁচটি আসনের মধ্যে চারটি আসনে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এদের মধ্যে গাজীপুর-১ আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেন বিএনপি প্রার্থী মেয়র মজিবুর রহমান। আমরা আশা করেছিলাম, মন্ত্রিসভায় তার ডাক পড়বে। কিন্তু ঘোষিত মন্ত্রিসভায় গাজীপুর থেকে কারও নাম নেই। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে আমাদের দাবি, তিনি যেন গাজীপুরবাসীর এ প্রত্যাশা পূরণ করেন।’

এ ব্যাপারে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (ঢাকা বিভাগ) কাজী ছায়েদুল আলম বাবুল বলেন, ‘দল সরকার গঠন করেছে, এতে আমরা আনন্দিত। কিন্তু গাজীপুর থেকে কেউ মন্ত্রিসভায় না থাকায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের আক্ষেপ কাজ করছে। আমরাও করছি, ভবিষ্যতে মন্ত্রিসভা সম্প্রসারণ হলে দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিষয়টি বিবেচনায় নেবেন।’


বাবার মৃত্যুতে বাকরুদ্ধ দুই শিশুপুত্র

একদিন পরেই দুই ভাইকে নতুন পাঞ্জাবি কিনে দেওয়ার কথা ছিল
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া-পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়ায় তামাক খেত থেকে এক মাংস ব্যবসায়ীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৮টার দিকে উপজেলার কাকারা শাহ ওমর মাজার-সংলগ্ন ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো সামনে তামাক খেত থেকে এই লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে আহতদের চকরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুজিবুর রহমান নামে একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। সরেজমিনে নিহত আব্দুল মজিদের বাড়িতে পরিবার ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী ওঠার দৃশ্য দেখা যায়। এ সময় অশ্রুসিক্ত নয়নে দাড়িয়ে থাকতে দেখা যায় নিহত আব্দুল মজিদের দুই শিশুপুত্র আট বছরের আব্দুর রহমান ও ছয় বছরের মোহাম্মদ মাহিমের সাথে।

একটু এগিয়ে তাদের সাথে কথা বলতে গিয়ে তাদের চোখের কোনে জমে থাকা পানি মুছে কাছে আসল। জানতে চাইলাম তাদের পিতাকে কে মেরেছে?! কান্না জড়িতকণ্ঠে শিশুপুত্র আব্দুর রহমান বললেন, ‘ইফতারের পর আমার বাবা বের হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর খবর আসে বাবাকে মেরে ফেলেছে। কারা মেরেছে জানতে চাইলে শিশু মাহিম বলে ওঠে; জানি না। যারা মেরেছে তাদের ফাঁসি চাই, শাস্তি চাই আমার বাবা আমাদের কাল নতুন কাপড় নিয়ে দেবে বলেছিল। এখন আমার বাবা মারা গেছে নতুন পাঞ্জাবি কে নিয়ে দেবে? কে নিয়ে দিবে নতুন কাপড়? এ কথা বলতেই চোখে পানি চলে আসে তাদের।’

নিহত মাংস ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান (৪২) চকরিয়া উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের ফকির আহমদের ছেলে। তিনি সংসার জীবনে পাঁচ মেয়ে দুই সন্তানের জনক। টানাপোড়েনের এই সংসারের হাল ধরবে কে বলে বিলাপ ধরতে দেখা যায় তার স্ত্রীকে।

নিহত মুজিবের স্ত্রী আনোয়ারা জানান, প্রতিবেশী আরিফ ইফতারের আগে বাডি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে নিহত মুজিব বাড়ি ফেরার পথে ডাকাতদের কবলে পড়ে এবং তাকেসহ আরও কয়েকজনকে মারধর করে তামাক খেতে ফেলে দেয়। ঘটনায় যে জড়িত থাকুকনা কেন আমি তার শাস্তি চাই। আমার এই টানাপোড়েনের সংসার এখন কে দেখবে?

অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম (২২) ওই এলাকার জহির আহমদের ছেলে। আরিফকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চকরিয়া থানা পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। আরিফের মা শারমিনা আক্তার (৪৮) বলেন, ‘আমার ছেলে ঘটনাস্থলের পাশে স্ত্রী নিয়ে ঘর করে থাকছে কিছুদিন ধরে। সে বাড়িতে আসার পথে মুজিবসহ কয়েকজনকে হাতমুখ বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে। পরবর্তীতে তাদের পরিবারকে খবর দেয়। নিহত আব্দুল মজিদের সাথে আট বছর আগে আমাদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব ছিল। আমার ছেলে যদি হত্যাকারী হতো তাহলে সে বাড়িতে বসে থাকত না পালিয়ে যেত। আমার ছেলে তাদের উদ্ধার করেছে এখন পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার ছেলে হত্যাকারী বানানোর চেষ্টা করছে। আমি আইনের কাছে সঠিক তদন্ত অনুযায়ী বিচার চাই।’

ঘটনায় আহত মোজাম্মেল হক (৪৮) বলেন, ‘আব্দুল মজিদসহ আমরা কয়েকজন একটা দাওয়াতে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ করে তামাক খেত থেকে ওঠে এসে ১৫-২০ জন লোক আমাদের ওপর হামলা করে হাত পা বেঁধে ফেলে রাখে। প্রায় ১৫ মিনিট পর আরিফ আমাদের হাত পা খোলে দিয়ে উদ্ধার করে। আমি তাকে হত্যাকারী বলতে পারব না। তবে যেই হোক সঠিক তদন্তে আসল অপরাধীকে আইনের আওতায় আনার দাবি রইল প্রশাসনের প্রতি।’

ওসি মনির হোসেন বলেন, ‘নিহতের লাশ ময়নাতদন্তের কার্যক্রম শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’


চিংসা প্রু কেসিকে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান করার দাবি বান্দরবান সুশীল সমাজের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

পার্বত্য জেলা বান্দরবানে পাহাড়ি-বাঙালিসহ সর্বস্তরের জনসাধারণের সম্প্রীতি ও জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে চিংসা প্রু কেসিকে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নিযুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন বান্দরবানের অধিকাংশ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য এ জেলায় অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের সম্প্রসারণ এবং দুর্গম এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কার্যকর ও দূরদর্শী নেতৃত্ব প্রয়োজন। তাদের মতে, চিংসা প্রু কেসি সামাজিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা এবং পাহাড়ি-বাঙালি জনগোষ্ঠীর অধিকার নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতার কারণে এ দায়িত্ব পালনে সক্ষম হবেন।

বান্দরবানের সার্বিক উন্নয়নে এমন একজন চেয়ারম্যান প্রয়োজন, যিনি পাহাড়-সমতল সব সম্প্রদায়ের মধ্যে সমন্বয় গড়ে তুলতে পারবেন। তারা মনে করি, চিংসা প্রু কেসি সেই যোগ্যতা রাখেন।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, ‘ব্যক্তি নয়—যোগ্যতা, সততা ও উন্নয়নমুখী চিন্তাধারাই হওয়া উচিত নেতৃত্ব নির্বাচনের মূল মানদণ্ড।’ তারা আশা করছেন, বান্দরবানের উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে একটি গ্রহণযোগ্য সিদ্ধান্ত আসবে।’

দলিয় সূত্রে জানা যায়, চিংসা প্রু কেসি বান্দরবান জেলা বিএনপির একজন ত্যাগী নেতা। যিনি, ১৯৯২ সাল থেকে শহীদ জিয়াউর রহমানের আদর্শে বান্দরবান জেলা বিএনপির অবিসংবাদিত নেতা জেলা বিএনপির বর্তমান আহ্বায়ক রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরী এমপির ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থেকে জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৯ সালে সাচিং প্রু জেরীর নির্দেশনায় রোয়াংছড়ি, রুমা এবং থানছি উপজেলায় বিএনপির রাজনৈতিক ভিত্তি মজবুত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। এ সমস্ত, ত্যাগ, তিতিক্ষার করেও তাকে সদ্য ঘোষিত বান্দরবান জেলা বিএনপির ৪৬ বিশিষ্ট কমিটি হতে বঞ্চিত করা হয়েছে।

দলের ত্যাগী নেতার মূল্যায়নের দাবিতে এই নেতাকে আগামী জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নিযুক্ত করার জোর দাবি জানান তারা।

এ ছাড়া তিনি একসময় সফলভাবে জেলা পরিষদের সদস্য পদে দায়িত্ব পালন করেছে বলে জানায় স্থানীয়রা। বান্দরবান দুর্নীতি দমন কমিটির সভাপতি অং চ মং জানান, বান্দরবান জেলার সকল জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে জেলা পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ পালন করে থাকে। এই পরিষদের চেয়ারম্যান পদে বিএনপির পক্ষ থেকে চিংসা প্রু কেসিকে নির্বাচিত করা হলে জনগণ সুফল পাবেন বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

সমাজকর্মী মং ক্য শৈ নেভী বলেন, ‘জনকল্যাণে নিজেকে নিযুক্ত রাখবেন এমন চেয়ারম্যান আদিষ্ট হোক সকলেরই প্রত্যাশা। এরই পরিপ্রেক্ষীতে আগামীতে দলীয় ও সামাজিক আলোচনায় বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদে আসার সম্ভাব্য যে বা যাদের নাম শোনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে চিংসা প্রু কেসিকে নির্বাচিত করা হলে জনগণের প্রত্যাশা অনেকটাই পূরণ হবে’ বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।

এবিষয়ে চিংসা প্রু কেসি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও দলীয় সিদ্ধান্ত ও জনগণের প্রত্যাশাকে মূল্যায়ন করবেন বলে জানান তিনি।


তিস্তা নদীতে বিচ্ছিন্ন কোনো প্রকল্প নয়: ত্রাণ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রংপুর জেলা প্রতিনিধি

তিস্তা নদীর নাব্যতা রক্ষা ও পাড়ের মানুষের জানমাল রক্ষায় কোনো ধরনের বিচ্ছিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না। একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত মহাপরিকল্পনার আওতায় নদীর শাসন ও খনন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু সোমবার দুপুরে রংপুর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় এ কথা জানান। রংপুর বিভাগের আট জেলার জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন। মন্ত্রীর বক্তব্যে উঠে আসে, অতীতে তিস্তা অববাহিকায় বিক্ষিপ্তভাবে নেওয়া নানা প্রকল্পের কারণে এই অঞ্চলের মানুষ কাঙ্ক্ষিত সুফল পায়নি। তাই নতুন করে যেন কোনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে তিনি শুরু থেকেই জোরালো অবস্থান গ্রহণ করেছেন।

রংপুর অঞ্চলের উন্নয়ন ও বাজেটে বৈষম্য নিরসনে নিজের বিশেষ দায়বদ্ধতার কথা উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি জানান, বিগত সরকারের সময় এই অঞ্চলের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ করা হয়েছে। এই বৈষম্যের কারণে স্থানীয় মানুষের মনে দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। রংপুরের সন্তান হিসেবে তিনি আগামী বাজেটে এই বিভাগের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা রাখবেন। এই অঞ্চলের প্রতিটি প্রকল্প যেন ন্যায্যতার ভিত্তিতে বাস্তবায়িত হয় এবং রংপুর বিভাগ যেন উন্নয়নের মূলধারায় শামিল হতে পারে, সে বিষয়ে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করেন। সরকারি দপ্তরগুলোতে বিদ্যমান কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সংকট নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা করা হয়।

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনকে তিনটি সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দ্রব্যমূল্য কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখাই এখন প্রশাসনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। সাধারণ মানুষের জনজীবন যেন কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখতে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের নির্দেশ প্রদান করেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করার মাধ্যমে অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের চাহিদামাফিক প্রশাসনিক সেবা পৌঁছে দিতে কর্মকর্তাদের আরও বেশি আন্তরিক হওয়ার পরামর্শ দেন মন্ত্রী।

মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে বর্তমান সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি মনে করেন, সমাজ থেকে এসব ব্যাধি নির্মূল করতে না পারলে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। আজকের এই মতবিনিময় সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন পরিস্থিতি পরবর্তীতে নিয়মিত তদারকি বা ফলোআপ করা হবে। এর আগে মন্ত্রী তাঁর দুই দিনের সরকারি সফরের প্রথম দিনে লালমনিরহাটে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বর্তমান সরকারের সংস্কার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মাঠ পর্যায়ের এই প্রশাসনিক তৎপরতা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


banner close