ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সাম্প্রতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজ কক্ষে কর্মচারী খন্দকার ফজলুর রহমান কতৃক নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। এটা 'পরিকল্পিত হত্যা' ও সভাপতি দায়িত্ব থেকে সরাতে চেয়েছিল বিভাগের অন্যান্য শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এমনটা দাবি করেছেন নিহত শিক্ষিকার পরিবার।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত শিক্ষিকা যখন সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখনও তিনি চেয়ারে বসতে পারেননি। শিক্ষক শ্যাম সুন্দর সরকার দায়িত্বে না থাকলেও তিনি এবং শিক্ষিকা মমতা মোস্তারী মিলে রুনাকে প্রায় এক থেকে দেড় মাস দায়িত্ব গ্রহণ করতে দেননি।
এবং শিক্ষিকা নিহত হওয়ার আগ পর্যন্ত সভাপতি'র দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি সাবেক সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার। বিভাগের চেয়ারম্যান হিসেবে রুনাকে বিভাগের কাজে চরম অসহযোগিতা করা হয়েছে। যার ফলে রুনা সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরে আসতে চেয়েছিলেন। বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরাও তাকে মনস্তাত্ত্বিকভাবে হ্যারেজ করে সভাপতির দায়িত্ব থেকে সরাতে চেয়েছিল।
পরবর্তীতে প্রশাসনের আদেশে রুনা চেয়ারে বসেন। সাধারণত পূর্ববর্তী চেয়ারম্যান সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহিনুর রহমান সকল ভাউচার ও কাগজপত্র শিক্ষক শ্যামকে হস্তান্তর করেন কিন্তু পরবর্তীতে শিক্ষক শ্যাম রুনাকে কোন ডকুমেন্টস হস্তান্তর করেনি। তৎকালীন প্রশাসন শ্যামের পক্ষ নিয়ে সাদিয়াকে কটু কথা বলে। তাদের বক্তব্য ছিল অনেকটা এমন "সে তোমাকে হিসাব দিচ্ছে না তাতে তোমার সমস্যা কী? সেটা শ্যাম বুঝবে। তুমি যেখান থেকে দায়িত্ব পেয়েছ সেখান থেকেই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাও।"
এমতাবস্থায় নিহত শিক্ষিকা ব্যাংক থেকে বিগত ছয় বছরের স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করেন। তিনি, প্রথম চেয়ারম্যান এবং দ্বিতীয় চেয়ারম্যানের আয়-ব্যয়ের সেই হিসাবকে দুই ভাগে ভাগ করেন। বিশেষ করে তিনি দ্বিতীয় চেয়ারম্যানের সময়ের হিসাবে অনেক গরমিল খুঁজে পান। পরবর্তীতে রুনা একাডেমিক কাউন্সিলের মিটিং ডেকে সকল ভাউচার দেখতে চান। কিন্তু তখন তাঁকে দম্ভের সাথে বলা হয়, "ভাউচার ইচ্ছে হলে দেব, না হলে দেব না; আপনি কী করবেন?" এই বলে দ্বিতীয় চেয়ারম্যান শ্যাম সরকার মিটিং থেকে বের হয়ে যান।
পরিবার সূত্রে আরও জানা যায়, দীর্ঘ ৮ বছর তাদের অসহযোগিতার কথা শুনছেন তারা। হাবিবুর রহমান বিভাগের যোগদানের পর ব্যাংক স্টেটমেন্ট ও নথিপত্রগুলো তাঁকে দেওয়ার জন্য রুনাকে কয়েকবার অনুরোধ করেন। প্রকৃতপক্ষে মমতা, শ্যাম এবং বিশ্বজিৎ এই তিনজনই চরম প্রতারক। শিক্ষিকা মমতা মোস্তারী যদি আমেরিকা না যেতেন তাহলে এই মামলায় তিনি দুই নম্বর আসামি হতেন। এসব হীন চক্রান্তের মূল হোতা ছিলেন মমতা। মমতা চলে যাওয়ার পরেই শ্যাম এবং বিশ্বজিৎ এসব বিষয়ে আরও তৎপর হয়ে ওঠেন। মাঝে নিহত শিক্ষিকা সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগও করতে চেয়েছিলেন বলেও জানান তারা।
শ্যাম সুন্দরের এসব কর্মকাণ্ডের মূল সমর্থক ছিলেন মমতা। সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ সভাপতির সামনে সবসময় পায়ের ওপর পা তুলে বসে থাকতেন বলে জানা যায়। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভাগের চেয়ারম্যান হওয়া সত্ত্বেও নূন্যতম সৌজন্যবোধ দেখাত না বিশ্বজিৎ এমনটাই জানিয়েছেন পরিবারের লোকজন এবং শিক্ষার্থীবৃন্দ।
এদিকে, সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাসও বিভাগের দায়িত্ব নতুন সহকারী রেজিস্ট্রার মোজাম্মেল হককে বুঝিয়ে দিয়ে যায়নি। মোজাম্মেল বিভাগে আসার পরেও বিশ্বজিৎ তাঁর চেয়ার ছেড়ে দেননি এবং দায়িত্ব বুঝিয়ে দেননি।
নিহিত শিক্ষিকার পরিবার জানান, এই হত্যাকাণ্ডের সাথে অনেক কিছু নীলনকশা এক সাথে বাস্তবায়ন হয়েছে এবং এমন একজন ব্যক্তিকে দ্বারা হিট করা হয়েছে যার লাইফের কোন মূল্য নেই।
বাকি তিন আসামির গ্রেফতারের ব্যপারে তারা জানান, শিক্ষক শ্যাম সুন্দর ও হাবিবুর রহমান এবং সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ যদি দোষী না হয় তাহলে কেন পালাবে? তারা সরাসরি আত্মসমর্পণ করবে।
থানা সূত্রে মামলার অগ্রগতি বিষয়ে জানা গেছে, পলাতক আসামিদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দেশের সকল ইমিগ্রেশন পয়েন্টে নোটিশ পাঠানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানাগুলোতেও বার্তা পাঠানো হয়েছে। যেকোনো সময় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে এবং আদালতে তোলার মাধ্যমে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শুরু হবে।
আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ইমাম হোসাইন জানান, তাকে (প্রধান আসামি) সপ্তাহখানেক আগে রেফার করা হয়েছিল। সে এখন মোটামুটি সুস্থ অর্থাৎ বিপদ সীমার বাহিরে আছে। ঢাকা মেডিকেলে সার্জারি জন্য রেফার করা হয়েছে। এই সার্জারি হলে সে ভালোভাবে কথা বলতে পারবে বলে আশা করা যায়। তবে, ওনারা এখান থেকে নিয়ে যেতে গড়িমসি করছে।
এদিকে, প্রধান আসামির রিমান্ডের বিষয়ে পুলিশ জানায়, “আসামি এখনো পুরোপুরি সুস্থ হয়নি। মেডিকেল ছাড়পত্র পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নিতে পারব। অসুস্থ অবস্থায় রিমান্ডে নেওয়ার আইনগত এখতিয়ার আমাদের নেই, কারণ এটি মানবাধিকার লঙ্ঘন হবে।”
উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতির কক্ষে সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্বামী।
হত্যাকাণ্ডের পর গুরুতর আহত অবস্থায় ফজলুর রহমানকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং বর্তমানে তিনি পুলিশি পাহারায় চিকিৎসাধীন। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং মামলায় নাম আসায় দুই শিক্ষক ও এক কর্মকর্তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তা এখনো পলাতক রয়েছেন।
ঢাকা থেকে চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেন ভয়াবহ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছে। এতে ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এ কারনে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের কয়েক জেলার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক যাত্রী। তবে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ট্রেনটি বগুড়ার সান্তাহার জংশন ছেড়ে যাওয়ার পরপরই বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুর সোয়া ২টার দিকে লাইনচ্যুত হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বগুড়ার আদমদীঘি ও সান্তাহারের মাঝামাঝি এলাকায় লাইচ্যুত হয়। ওই স্থানে রেললাইনের মেরামত কাজ চলছিল। লাল পতাকা টানানো ছিল। তবে চালক খেয়াল না করায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় ট্রেনের ছাদে ও ভেতরে থাকা অর্ধশতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনার ফলে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালসহ নওগাঁ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উদ্ধার কাজ করছে।
সান্তাহার রেলওয়ে থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাহফুজুর রহমান বলেন, নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা থেকে ছেড়ে এসে দুপুর ২টার দিকে সান্তাহার স্টেশনে বিরতি করে। সান্তাহার স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়ার কিছু সময় পরেই ট্রেনটি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনটির ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। এখন পর্যন্ত মৃত্যুর কোনো সংবাদ পাওয়া যায়নি। বগিগুলো উদ্ধারের জন্য কাজ চলছে। ঘটনাস্থলে সিঙ্গেল লাইন হওয়ায় উত্তরবঙ্গের ৫ জেলার সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। লাইনচ্যুত বগি সরিয়ে নিতে ঈশ্বরদী জংশন থেকে ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছে উদ্ধারকারী ট্রেন।
সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশনের জুনিয়র ট্রাফিক ইন্সপেক্টর হাবিবুর রহমান বলেন, লাইনের কাজ চলছিল এবং সেখানে লাল পতাকা টাঙ্গানো ছিল কিন্তু ট্রেনের ইঞ্জিলে অতিরিক্ত যাত্রী থাকার কারনে লাল পতাকা দেখতে না পেয়ে ট্রেন চালক ট্রেন চালিয়ে যাওয়ার কারনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
আদমদীঘি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি আদমদীঘি ও সান্তাহারের মাঝামাঝি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়।
বগুড়া রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশর মাস্টার সাজেদুর রহমান সাজু জানান, ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টার মতো সময় লাগতে পারে।
ঈদুল ফিতর উপলক্ষে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে ঘরেফেরা যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াত নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলাকারী বাহিনীসহ দৌলতদিয়া বাসস্ট্যান্ড ও ঘাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট
সাথী দাস। বুধবার (১৮ মার্চ) মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডের দুই জন চালক ইউএনওকে যাত্রী ভেবে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় দুইজন মাহেন্দ্র চালককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকার মাহেন্দ্র স্ট্যান্ড, লঞ্চ ঘাট ফেরি ঘাট ও বাস টার্মিনালে দায়িত্ব পালনকালে বাসের দুজন যাত্রীর কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হলে যাত্রীদের অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয় এবং মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করায় দুইজন মাহেন্দ্র চালককে জরিমানা করা হয়।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথী দাস জানান, যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত গৃহীত অর্থ ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং মাহেন্দ্র স্ট্যান্ডে অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার অভিযোগে দুইজন চালককে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারা অনুযায়ী ৫০০ টাকা করে মোট ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তিনি আরও জানান, যাত্রীদের যাত্রা নির্বিঘ্নে ও ঘাটে কোন ভোগান্তি ছাড়া যেন সবাই বাড়ি ফিরতে পারে সেজন্য উপজেলা প্রশাসন সর্বক্ষণ নজরদারি করবে এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবে।
কৃষকদের উৎপাদিত ফসলকে প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি থেকে সুরক্ষা দিতে ফসল ইন্সুরেন্স (বীমা) চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। তিনি বলেন, বন্যা বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হলে বীমার মাধ্যমে কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে, যাতে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন না হন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার আমড়াতলী ইউনিয়নের শ্যামপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে সরকার যে প্রতিশ্রুতিগুলো দিয়েছিল, তা বাস্তবায়নে ধারাবাহিকভাবে কাজ করা হচ্ছে। অনেকেই মনে করেছিলেন এসব প্রতিশ্রুতি কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে; কিন্তু বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই সেগুলো বাস্তবায়ন করছেন। তিনি বলেন, বিএনপি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দল, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দল। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রমাণ করে যাচ্ছেন, বিএনপি যা বলে; তা বাস্তবায়ন করে।
মন্ত্রী আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ইমাম-মুয়াজ্জিনদের সম্মানীসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের উদ্যোগ ইতোমধ্যে নেওয়া হয়েছে। শুরুতে এসব উদ্যোগ নিয়ে অনেকে সমালোচনা করেছেন, কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল - বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর বাস্তবে তা কার্যকর করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, কৃষিই দেশের অর্থনীতির মূলভিত্তি। দেশের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সরাসরি কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই কৃষকের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের পাশাপাশি ফসল বীমা চালু হলে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। কৃষি খাতে প্রণোদনা, সহায়তা এবং ঋণ সুবিধা সহজীকরণের মাধ্যমে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগ আরও সম্প্রসারণ করা হবে।
খাদ্য নিরাপত্তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে এবং তা দিয়ে আগামী কয়েক মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। দেশের কোনো মানুষ খাদ্য সংকটে পড়বে না- এমন নিশ্চয়তা দিতে সরকার কাজ করছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ও জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক নিত্যানন্দ কুণ্ডু। আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির যুগ্ম- সাধারণ সম্পাদক নজরুল হক ভূইয়া স্বপন, আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম, সাধারন সম্পাদক শফিউল আলম রায়হান, মহানগর বিএনপি নেতা নিজাম উদ্দিন কায়সারসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে আমড়াতলী ইউনিয়নের এক হাজার ৮৭৯ জন উপকারভোগীর মাঝে প্রত্যেককে ৩০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়।
সৌদি আরবের আল খারিজ শহরে একটি শ্রমিক ক্যাম্পে ভয়াবহ মিসাইল হামলায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রাণ হারিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৫)। ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের ভরভরা গ্রামের শহীদ সওদাগরের সন্তান মামুন গত মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে ডাক্তার সোলাইমান আল হাবিব হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এবং বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের পিতা।
উল্লেখ্য, গত রোববার (৮ মার্চ) ইফতারের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে আল তোয়াইক বলদিয়া কোম্পানির ক্যাম্পে সংঘটিত ওই ক্ষেপণাস্ত্র বিস্ফোরণে মামুনের শরীরের প্রায় ৭২ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। এই একই মর্মান্তিক ঘটনায় ইতিপূর্বে কিশোরগঞ্জের বাচ্চু মিয়া ও টাঙ্গাইলের মোশাররফ হোসেন নিহত হন এবং মামুনসহ আরও কয়েকজন প্রবাসী বাংলাদেশি আহত হয়েছিলেন।
নিহতের মামাতো ভাই শাওন মড়ল শোক প্রকাশ করে জানান যে, "বিস্ফোরণে গুরুতর আহত হয়ে মামুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং পরে সেখানেই মারা যান।" বর্তমানে আব্দুল্লাহ আল মামুনের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে এবং তাঁর একটি পুত্র সন্তান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে মামুনের অকাল মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তাঁর পরিবার ও এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে আসে এবং শোকার্ত স্বজনরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাঁর মরদেহ স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছেন।
বগুড়ার শেরপুরে চলন্ত মাইক্রোবাসে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন শিশুসহ আরও ৯ যাত্রী দগ্ধ হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের ছোনকা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, শিউলী বেগম (৪৮), তায়েবা খাতুন (৩৫) এবং মাইক্রোবাসের চালক রিন্টু (৪৭)। আহতরা হলেন, ফাতেমা (১০), শহিদুল (৪০), তৌছিব (৩০), তাসমিয়া (২০), হেলেনা (৬০), তারিকুল (৩৬), ফাতেমা (২), আরহাম (৭) ও হামিম (৩০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের ছুটিতে বাড়ি ফেরা যাত্রীবোঝাই মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্রো চ-১৯-৩০৪১) উত্তরবঙ্গের দিকে যাচ্ছিল। পথিমধ্যে ছোনকা এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ গাড়ির গ্যাস সিলিন্ডারটি বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। মুহূর্তেই পুরো গাড়িতে আগুন ধরে যায়।
মহাসড়কের পাশে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনের তীব্রতা এত বেশি ছিল যে যাত্রীদের বের হওয়ার সুযোগ খুবই কম ছিল। চালক গাড়ির ভেতরেই দগ্ধ হয়ে মারা যান। খবর পেয়ে শেরপুর ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর বখতিয়ার উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের উদ্ধার করে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ রোকন উদ্দিন বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও দুইজনের মৃত্যু হয়। এতে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজন। দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
আধুনিকতায় ছোঁয়া লেগেছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। হাতে মোবাইল নেই, এমন পরিবার খুব কমই আছে। ঈদ এলে প্রেমিক-প্রেমিকা, প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব সবাই ঈদ কার্ডের শুভেচ্ছা বিনিময় করত। এখন মেসেঞ্জার, ফেসবুকে, টুইটারে, ইন্সটাগ্রামে, টেরিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হচ্ছে।
এখন আর পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে, অলিগলিতে বাহাড়ি ঈদ কার্ডের দোকান চোখে পড়ে না। কার্ড কেনার জন্য ছোট শিশুরাও আর বায় না ধরে না। স্কুল খরচের টাকা বাঁচিয়ে ঈদ কার্ড কেনার আনন্দ এখন স্মৃতির অতল গহীনে হারিয়ে গেছে।
মাইশা ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, ‘আগের মতো এত সময় কই, তা ছাড়া খুঁজে খুঁজে কার্ড বিতরণ করার দিন শেষ।’
ডিজিটাল যুগে কয়েক সেকেন্ডেই হাজারও মানুষের কাছে ‘কপি-পেস্ট’ করা শুভেচ্ছা পৌঁছে যায়।’ এক সময় ঈদ মানেই ছিল প্রিয়জনদের হাতে হাতে ঈদ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার এক অদ্ভুত শিহরণ। আজ তথ্যপ্রযুক্তির কারণে সবকিছু বদলে গেছে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের উৎসবগুলো হয়ে ওঠেছে যান্ত্রিক।
আমাদের বাবা-মায়েদের কিশোর বা তরুণ বয়সে রোজা শুরুর পর থেকেই শুরু হতো ঈদ কার্ড সংগ্রহের তোড়জোড়। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বসত ছোট ছোট কার্ডের দোকান। কেউ বেছে নিতেন প্রাকৃতিক দৃশ্যের কার্ড, কেউবা নিতেন গ্লিটার মাখানো ঝকঝকে কোনো নকশা। নিজের হাতে কার্ডের ভেতরে দু-এক লাইন শুভেচ্ছা বাণী লেখা আর নিচে নাম লিখে দেওয়া- সে এক অন্যরকম পাওয়া। প্রিয় বন্ধু বা আত্মীয়ের হাতে সরাসরি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে যে আন্তরিকতা ছিল, তা আজকের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার নীল টিকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে সত্য; কিন্তু কেড়ে নিয়েছে অনেক প্রাণবন্ত ঐতিহ্য। এখন ঈদের শুভেচ্ছা মানেই একটি ফরোয়ার্ড করা মেসেজ, মেসেঞ্জারের ইমোজি কিংবা ফেসবুকে আপলোড করা একটি পোস্ট। ক্লিক করলেই শুভেচ্ছা পৌঁছে যাচ্ছে হাজার মাইল দূরে; কিন্তু সেই বার্তার পেছনে সময় দেওয়ার ধৈর্য কিংবা মনের টান আজ অনেকটা ম্লান। আমরা হয়তো সময় বাঁচাচ্ছি; কিন্তু অজান্তেই হারিয়ে ফেলছি সম্পর্কের সেই ‘ব্যক্তিগত পরশ’।
দুঃখজনক হলেও সত্যি, আধুনিকতার চাকচিক্যের নিচে চাপা পড়ে গেছে আমাদের পূর্বসূরিদের সেই মায়াভরা ঈদ কার্ডের প্রচলন। আমরা অনেক কিছু উন্নত করতে পারি; কিন্তু শৈশব বা কৈশোরের সেই স্মৃতিগুলোকে তো আর আধুনিক করা যায় না। কার্ডের ভাঁজে লেগে থাকা সেই ভালোবাসা আজ কেবলই অ্যালবামের কোণে ধুলো জমা এক দীর্ঘশ্বাস। মা-বাবার কাছে যখন সেই দিনগুলোর গল্প শুনি, তখন বোঝা যায় আমরা কতটা যান্ত্রিক এক বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছি।
প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে আমরা অস্বীকার করছি না, তবে ঐতিহ্যের এই মৃত্যু আমাদের কিছুটা রিক্ত করে দেয়। ডিজিটাল শুভেচ্ছা আসুক; কিন্তু হৃদয়ের মলাটে মোড়ানো সেই পুরোনো ঈদ কার্ডের আবেদন চিরকাল অমলিন থাকুক আমাদের স্মৃতির মণিকোঠায়। হয়তো একদিন আবার কোনো নতুন প্রজন্ম এই যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে ফিরে তাকাবে সেই ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোর দিকে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত দুইটা। দক্ষিণ থেকে ধেয়ে আসা আকস্মিক ঝড় শুরু হয় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনাঘেঁষা দশটি এলাকার ওপর দিয়ে। এতে ওইসব এলাকার অর্ধশত বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই সাথে অসংখ্য গাছপালাও উপড়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
প্রতিদিনের মত ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছেন। সেহেরির সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ থেকে ধেঁয়ে আসা তীব্র গতির বাতাসে তার বসতঘরের চালা উড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে তিন দিন পরেই ঈদ। ঈদের আগেই আমাদের মাথাগোঁজার ঠাই হারিয়ে ফেলেছি। ঝড় আমাদের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। শুধু আমি না, আমার মত বহু পরিবার বসত ঘর হারিয়ে পথে বসেছে।’
একই ভাবে ঢালচরের কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম, আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার ও মো.গিয়াস উদ্দিনের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত প্রায় ২ টার দিকে হঠাৎ করেই প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। প্রথমে হালকা বাতাস থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ঝড়ের সাথে গুড়ি গুড়ি শিলা বৃষ্টিও হয়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং কাঁচা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করতে থাকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢালচর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের বেশিরভাগই কাঁচা ঘরে বসবাস করায় ঝড়ের আঘাত সহ্য করতে পারেনি। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর, কুকরি মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা, নজরুল নগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অর্ধশত বাড়িঘর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম বলেন, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী। বাতাসের প্রবল চাপে চর কচ্চপিয়া বাজারের ঘরের চালা উড়ে যায়।’
ঢালচর ইউনিয়নে প্রশাসক ও ঢালচর বন কর্মকর্তা মুইনুল মুঠোফোনে জানান, হঠাৎ ঝড়ে প্রায় ঢালচরে ত্রিশটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম জানান, চর মানিকা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিশটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
ভোজ্য তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও সরবরাহ সংকটের কথা চিন্তা করে অনেক কৃষক এখন সূর্যমুখী চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক কৃষকের কাছে সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ বছর আগের তুলনায় বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, কৃষকদের মাঝেও সৃষ্টি করছে নতুন আশার আলো। উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ি গ্রামের কৃষক সুবাস মাঝি বলেন, ‘ভোজ্যতেলের বাড়তি দাম থাকার কারণে আমরা নিজেরাই তেল উৎপাদনের কথা ভাবছি। সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং ফলনও ভালো হয়। তাই এবার এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা দেবব্রত সরকার জানান, উপকূলীয় এলাকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতি বিঘা জমিতে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা সূর্যমুখী চাষে আরও আগ্রহী হন।
কৃষি বিভাগের মতে, সূর্যমুখী বীজ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এ কারণে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১২৩৭ (১ হাজার ২ শত সাঁইত্রিশ) জন পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে অনুদানের অর্থ তুলে দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১ হাজার ২ শত ৩৭ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এবার প্রথমবারের মতো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঈদ উপহার পেলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাসিক প্রশাসক। এছাড়া তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর শহীদ আলী রায়হান ও অন্যান্য শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, সেই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ইতঃপূর্বে কোনদিন এভাবে পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ উপহার প্রদান করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের খালি হাতে আসিনি। তার উপহার নিয়েই এসেছি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক আশা করে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজশাহীকে আরো সুন্দর ও উন্নত করতে হবে। আমি সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাব ইনশাল্লাহ। রাসিক প্রশাসক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষষদের জন্য খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। যা সারাদেশের কৃষকদের উপকার হবে।
তিনি আরও বলেন, হাতের আংগুলে ভোটের কালির দাগ শুকানোর পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি মানুষকে ফ্যামিল কার্ড প্রদান করা হবে। তিনি ঈমাম, মোয়াজ্জিম, খাদেমদের সম্মানী ভাতা দিয়েছেন। যা ইতঃপূর্বে কেউ দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। তার জন্য সকলে দোয়া করবেন।
রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, সিটি করপোরেশন নাগরিক সেবার প্রতিষ্ঠান। আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার মাধ্যমে নাগরিকদের নাগরিক সেবা প্রদান করব। রাজশাহী মহানগরবাসী যা চায়, আমরা তা করব। নগরীর যেসব উন্নয়ন কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, সেগুলো সমাপ্ত করব। আগামীতে রাজশাহীকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সুন্দর, সুখী, আধুনিক ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একাজে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন। অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, রাসিকের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে খুঁশি ও উচ্ছ্বসিত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। পরিচ্ছন্ন কর্মী রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন রাজশাহী সিটি করপোরেশনে চাকরি করছি। চাকরিজীবনে কোনদিন এভাবে অনুদান পাইনি। অনুদান পেয়ে আমরা অনেক খুঁশি।
পরিচ্ছন্ন কর্মী মরিয়ম ও সুমাইয়া বলেন, ঈদে অনেক খরচ। কীভাবে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করব, এই নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। তারপর যখন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেলাম তখন চিন্তা মুক্ত হলো। এবার ভালোভাবে ঈদ করতে পারব। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি যেন এভাবেই আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারেন।
পরিচ্ছন্নকর্মী হারুনুর রশীদ বলেন, ঈদ উপহার পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত। এই অনুদান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কাজে আমাদের আরও উৎসাহ যোগাবে।
আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং অঙ্গনে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)-এর শিক্ষার্থীরা। কৃষি ও বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি ও জৈবব্যবস্থা প্রকৌশলের আন্তর্জাতিক কমিশন’ (সিআইজিআর) আয়োজিত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬-এ চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে জয়লাভ করেছে বাকৃবির চারটি পৃথক দল।
আমেরিকা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, ঘানা, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা দুটি গোল্ড (প্রথম স্থান) এবং দুটি ব্রোঞ্জ (তৃতীয় স্থান) পদক লাভের গৌরব অর্জন করেছে।
প্রতিযোগিতার ফলাফলে দেখা যায়, ‘এনার্জি ইন অ্যাগ্রিকালচার’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৪) ক্যাটাগরিতে কৃষিতে জ্বালানি ও শক্তি ব্যবহারের আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ করে প্রথম স্থান (গোল্ড) অধিকার করে বাকৃবির একটি দল। দলের সদস্যরা হলেন- মো. আবু হোরায়রা আল রেজন, আমিনা আরিফ রিয়া এবং শোয়াইব আহমেদ সতেজ।
খামার ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিকল্পনা অপ্টিমাইজেশনের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৫) বিভাগেও প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাকৃবির আরও একটি দল। স্বর্ণপদক জয়ী এই দলের সদস্যরা হলেন- তানভীর হোসেন, খৈরম অনন্ত অনি এবং নুসরাত জাহান মুমু।
সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় ব্রোঞ্জ পদক জয়েও উজ্জ্বল ছিল বাকৃবির নাম। স্থাপত্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকৌশল সমাধানের লক্ষ্যে ‘স্ট্রাকচারস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-২) ক্যাটাগরিতে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন সাবিদুর রহমান শেজান এবং নুসরাত জাহান জুঁই।
এ ছাড়া ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে আরও একটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে এম. রাহাত মিয়া এবং খন্দকার জুনায়েদ আহমেদের দল।
আন্তর্জাতিক এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ গোল্ড মেডেল জয়ী বাকৃবির দুটি দলের প্রত্যেকটি ৫০০ মার্কিন ডলার এবং ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ী বাকি দুটি দলের প্রত্যেকটি ২০০ মার্কিন ডলার করে অর্থ পুরস্কার ও সনদপত্র লাভ করবে। আগামী ২০২৬ সালের জুন মাসে ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিতব্য ‘সিআইজিআর ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মাদারীপুরে গরীব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করল বেসরকারি সামিজক সংগঠন ‘তারুণ্য পরিবার’। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে মাদারীপুর বণিক সমিতির কার্যালয়ে ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সোহাগ হাসানের পরিচালনায় ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজের সঞ্চালনা এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্তিত থেকে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার গোলাম সরোয়ার, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা শাখার সভাপতি এনায়েত নান্নু, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শরীফ মো. ফায়েজুল কবীর, সমাজকর্মী রেজাউল ইসলাম রেজা প্রমুখ।
ওই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত এসব গরীব ও অসহায়দের মাঝে এরুপ মহৎ কাজ তথা ঈদ বস্ত্র বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
এ সময় অর্ধশতাধিক শিশুদের মাঝে তাদের মায়েদের উপস্থিতিতে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। পোশাক পেয়ে শিশুদের মুখে অনেক হাসি ফোটে। তারুণ্য পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোহাগ হাসান সহ তাদের কর্মকর্তারা বলেন, সকলের ভালোবাসায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় গরিব, অসহায় ও দুঃস্থ শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক বিগ্রেডের আওতাধীন ৩০ বীর খাগড়াছড়ি সদর জোন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে জোন সদরে থেকে টহলকারী টিম ঈদ সামগ্রী নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা সদরের শাল বাগান, আদর্শপাড়া, দয়ানগর, গরু গাড়ি টিলাসহ পাশ্ববর্তী এলাকার অসহায়, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ ও বিধবাসহ শতাধিক মানুষের মাঝে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
খাগড়াছড়ি সদর জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ খাদেমুল ইসলামের নির্দেশে সদর উপজেলার দারিদ্র্য পরিবারগুলোকে চিহ্নত করে শতাধিক মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
সেনাবাহিনীর পক্ষে থেকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে। তিনি আরো জানান, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।