শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


রাউজানে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২৩:১৯
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের রাউজানে স্থানীয় একটি বাজারে প্রকাশ্যে যুবদলের এক কর্মীকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবদল কর্মীর নাম মুহাম্মদ আবদুল মজিদ (৫০)। তিনি অলিমিয়াহাট বাজার এলাকার বাসিন্দা ও পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের কর্মী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানান, সন্ধ্যায় বাজার থেকে হেঁটে বাড়ির দিকে রওনা হন আবদুল মজিদ। এ সময় বাজারেই মুখোশ পরা একদল অস্ত্রধারী যুবক মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পরে হামলাকারীরা দ্রুত সরে পড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন মজিদকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, তার চোখের ওপরে, বুকে ও কোমরে মোট তিনটি গুলি লাগে।

রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) টিবলু কান্তি দে বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


খুলনায় সাবেক এমপির জামাতার সন্ধান তিন দিনেও মেলেনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) মিজানুর রহমানের জামাতা ব্যবসায়ী কাজী নিজাম উদ্দিন ওরফে সুজন নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় পরিবার চরম উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে আছে।

কাজী নিজাম উদ্দিনকে উদ্ধারের দাবিতে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন তার বাবা ব্যবসায়ী কাজী আবদুস সোবহান। এ সময় তিনি প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী আবদুস সোবহান বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারি ইফতারের পর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তার ছেলে নগরের পুলিশ লাইনস জামে মসজিদে তারাবিহর নামাজ আদায়ের জন্য বাসা থেকে বের হন। নামাজ শেষে প্রায় আধা ঘণ্টা পর তিনি মসজিদ থেকে বের হন। মসজিদের সিসিটিভি ফুটেজে তাকে সামনে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেলেও এরপর তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নামাজে যাওয়ার সময় তিনি মুঠোফোন বাসায় রেখে যান। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগের সুযোগ ছিল না।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করে খোঁজ নেওয়া হলেও অনেকগুলো অচল থাকায় তাঁর পরবর্তী অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তারা বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে দাবি করেন।

নিখোঁজ ব্যবসায়ীর বাবা বলেন, ঘটনার পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি খুলনা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পাশাপাশি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে গুরুত্ব সহকারে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো অগ্রগতি পাওয়া যায়নি।

বাবার ভাষ্য, তার ছেলে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বাড়ি ছাড়া কোথাও যেতেন না। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খুলনার সর্বোচ্চ করদাতা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতিও পেয়েছেন তার ছেলে। এমন একজন মানুষ কোনো কারণ ছাড়াই নিখোঁজ হয়ে যাওয়াটা রহস্যজনক।

পরিবারের দাবি, কাজী নিজাম উদ্দিন কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না এবং তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তিনি পারিবারিক ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে কাজী নিজাম উদ্দিনের মা, স্ত্রী ও পাঁচ বছর বয়সী সন্তান উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের জোরালো পদক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ রাশিদুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেছি। তাকে জোর করে নিয়ে গেছে, এ রকম কিছু আমরা পাইনি। আমরা আন্তরিকতার সঙ্গে বিষয়টি দেখছি।’


গভর্নরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে বের করে দিলেন কর্মকর্তারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রাঙ্গণ থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) গভর্নরের সামনেই একদল কর্মকর্তা জড়ো হয়ে তাকে কার্যালয় ত্যাগ করতে বাধ্য করেন। পরে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক এলাকা ছেড়ে যান।

জানা যায়, এ সময় একদল কর্মকর্তা জড়ো হয়ে উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কার্যালয় ত্যাগে বাধ্য করেন। পরে তাকে গাড়িতে তুলে দেওয়ার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম।

এসময় ঘটনাস্থলে নির্বাহী পরিচালক সরোয়ার হোসেন, পরিচালক নওশাদ মোস্তফা, অতিরিক্ত পরিচালক তানভীরসহ প্রায় ৩০ জন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মকর্তাদের মব সৃষ্টি সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, নতুন সরকারের সময়ে এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে। কর্মকর্তাদের দায়িত্বশীলতা ও সংযমের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা প্রয়োজন।


মমেক হাসপাতালের ৮ তলা থেকে লাফিয়ে তরুণীর আত্মহত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলা থেকে লাফিয়ে মৌসুমী আক্তার (২৫) নামে এক তরুণী আত্মহত্যা করেছেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত মৌসুমী আক্তার তারাকান্দা উপজেলার কামারিয়া গ্রামের ওয়াজেদুল ইসলামের মেয়ে। পরিবারের দাবি, তিনি দীর্ঘ দিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন।

হাসপাতাল সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে মায়ের সঙ্গে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে আসেন মৌসুমী। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটের দিকে তিনি হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ তলায় উঠে নিচে লাফিয়ে পড়েন। বিকট শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ভাই ইউসুফ আলী জানান, মৌসুমী গত দেড় বছর ধরে মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। নিয়মিত চিকিৎসায় তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। তবে গত পাঁচ দিন ধরে তার অবস্থার আবারও অবনতি হয়। চিকিৎসার জন্যই মা তাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন। বর্তমানে লাশ হাসপাতালের মর্গে আছে।

হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, মেয়েটি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল।

মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন খান বলেন, তরুণীটি ভবন থেকে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। হাসপাতাল প্রশাসনের সবাই গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এসেছি। ভিকটিমের কিছু কাগজপত্র ঘটে জানা যায় তিনি মারাত্মকভাবে মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।


আ. লীগ নেতাদের জামিন হলেই গ্রেপ্তারের নির্দেশ দিয়ে রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজির চিঠি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

কার্যক্রম নিষিদ্ধ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ-এর নেতাকর্মীরা আদালত থেকে জামিন পেলেও তাদের পুনরায় অন্য মামলায় গ্রেপ্তার (শোন অ্যারেস্ট) দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান।

গতকাল মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ডিআইজি স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রেঞ্জের অধীন আটটি জেলার পুলিশ সুপারদের (ডিএসবি) এই নির্দেশ পালনের কথা বলা হয়েছে।

ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত আদিষ্ট হয়ে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর প্রতি আপনাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে—

১) কার্যক্রম নিষিদ্ধ/স্থগিত ফ্যাসিস্ট সংগঠনের যেসব নেতাকর্মী জামিনে মুক্তির পর দলকে শক্তিশালী ও সংগঠিত করতে এবং মাঠপর্যায়ে তৎপরতা প্রদর্শনে সক্ষম—তাদের জামিন হওয়ার পর অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে (শোন অ্যারেস্ট) হবে। তবে যারা বর্ণিত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী নন, তাঁদের ক্ষেত্রে আপাতত পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানোর প্রয়োজন নেই।

২) প্রটোকল ও প্রটেকশন প্রদানের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুসরণ করতে হবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এ বিষয়ে আগে থেকেই গ্রুপ মেসেজের মাধ্যমে পুলিশ সুপারদের অবহিত করা হয়েছিল। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অনুসরণীয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

যেসব জেলায় পাঠানো হয়েছে নির্দেশনা

রাজশাহী রেঞ্জের আওতাধীন আট জেলার পুলিশ সুপারদের কাছে এ নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। জেলাগুলো হলো— রাজশাহী জেলা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা, নওগাঁ জেলা, নাটোর জেলা, পাবনা জেলা, সিরাজগঞ্জ জেলা, বগুড়া জেলা ও জয়পুরহাট জেলা।


গারো পাহাড় সীমান্ত থেকে মাদক ও চোরাই পণ্য জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

শেরপুরের গারো পাহাড় সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী পৃথক অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদকদ্রব্য ও চোরাই পণ্য জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় এক চোরাকারবারিকে আটক করা হয়েছে।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার গোমড়া রাবার বাগান এলাকা দিয়ে অভিনব কৌশলে ভারতীয় মদ পাচারের চেষ্টা করে একটি চোরাকারবারি চক্র। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে বিজিবির একটি টহল দল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে মো লাল চাঁন (২৩) নামের একজনকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২৪ বোতল ভারতীয় মদ ও একটি ইনফিনিক্স মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালপত্রের আনুমানিক সিজার মূল্য ৫১ হাজার টাকা।

এ ঘটনায় আটক আসামিসহ পলাতক আরও চারজনের বিরুদ্ধে শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী থানায় মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে সীমান্তে কঠোর নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতার অংশ হিসেবে ২৪ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি পৃথক অভিযানে শেরপুর জেলার নালিতাবাড়ী উপজেলার পানিহাতা ও শালবাগান কুচপাড়া, ঝিনাইগাতী উপজেলার হলদিগ্রাম গাঁড়োকোনা এবং ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট উপজেলার শিমুলকুচি এলাকা থেকে পাচারকালে ভারতীয় মদ, ফেনসিডিল, ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট ও শনপাপড়ি জব্দ করা হয়। জব্দ করা মালপত্রের মোট আনুমানিক মূল্য ৯ লাখ ১০ হাজার ৭৫০ টাকা।

ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি) অধিনায়ক জানান, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার আন্তর্জাতিক সীমান্ত সুরক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ কার্যক্রম প্রতিরোধে বিজিবি দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা দায়িত্ব পালন করছে। সীমান্তে মাদক, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধে কঠোরতা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


মাদারীপুরে মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ পৌরবাসী, মশকনিধন কার্যক্রমকে গতিশীল করার আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের সর্বত্র মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ জনজীবন। বিশেষ করে দেড় শতাধিক বছরের মাদারীপুর প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিকরা এখন এই উপদ্রবে সবচেয়ে বেশি অতিষ্ঠ। এ বছর বর্ষা মৌসুম ও গরম আসতে না আসতেই গত বছরের তুলনায় মাদারীপুর পৌর শহরের পরিমাণ ও ঘনত্ব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রাতের বেলায় তো বটেই, দিনের বেলায়ও মশার উপদ্রবে কোথাও দুদণ্ড বসে কাজকর্ম করার সুযোগ নেই। এ শহরে মশারি ছাড়া বিশ্রাম কিংবা ঘুমানোর সুযোগ নেই। এ ক্ষেত্রে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থরাই বেশি ভুক্তভোগী।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মশকনিধন-সংক্রান্ত কাজের ব্যাপারে মাদারীপুর পৌরসভার বর্তমান প্রশাসক (উপসচিব) মোছা. জেসমিন আক্তার বানু বলেন, ‘আমাদের পৌরসভার এসব টিম বিভিন্ন জায়গায় স্প্রে মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটাচ্ছে এবং আজও শহরের কুলপদ্দি চৌরাস্তা, পানিছত্র এলাকায় এ কার্যক্রম চলছে এবং সামনে আরও সকল এলাকায় তা অব্যাহত থাকবে। স্প্রে মেশিনের সাহায্যে মশকনিধন ওষুধ ছিটালেও মশা তেমন মরছে না বা বিনাশ হচ্ছে না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সরকারিভাবে নির্ধারিত ব্রান্ডের ‘মসকুইটোসাইড ফর ফগিং’ তরল ওষুধ মশকনিধনে আমাদের টিম প্রয়োগ করছে। এতে মশা পুরোপুরি বিনাশ হচ্ছে না- এমন কথা আমরাও শুনছি, এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জনসাধারণের সমস্যা লাঘবে আমরা সচেষ্ট রয়েছি।’


সমঝোতার ভিত্তিতেই গোমতী নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে: অভিযোগ এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘থানা পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করেই গোমতী নদী থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।’

এমপি হাসনাত বলেন, ‘মাটিখেকোরা আগে থেকেই পুলিশকে সময় জানিয়ে দেয় কখন মাটি কাটবে। এসিল্যান্ড বা ইউএনও ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই পুলিশ তাদের সতর্ক করে দেয়, ফলে স্পটে কাউকে পাওয়া যায় না। এক-দুই লাখ টাকা জরিমানাকেও তারা বিনিয়োগ হিসেবে ধরে নেয়। তিনি দাবি করেন, সমঝোতার ভিত্তিতেই গোমতী নদী থেকে মাটি কাটা হচ্ছে এবং এতে থানার কিছু সদস্য জড়িত। অভিযানে যাওয়ার আগেই থানা থেকে তথ্য ফাঁস হয়ে যায়।’ এতে ‘চোর-পুলিশ খেলা’ চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে আমি গোমতীর বিভিন্ন স্পট পরিদর্শন করেছি, তখন কেউ সাহস করেনি মাটি কাটতে।’ তিনি প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘দেবিদ্বার অংশে পাঁচটি স্পটের একটিতেও যেন আর এক কোদাল মাটি কাটা না হয়। অন্যথায় আমি ধরে নেব আপনারা প্রশ্রয় দিচ্ছেন।’ এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সভায় দেবিদ্বার থানার ওসির সামনেই কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ‘ওসি আন্তরিক হলেও তার কিছু কর্মকর্তা ‘ফুললি করাপ্টেড’। সেকেন্ড অফিসার মতিন ও এসআই ভবতোষ টাকা ছাড়া এক কদম পা ফেলে না। আমি প্রমাণ নিয়ে বলছি। এ বিষয়ে ওসি সাহেব প্রদক্ষেপ নেবেন।’

থানায় ‘হেলাল’ নামের এক ব্যক্তির মাধ্যমে দালাল ও মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনার অভিযোগ তুলে এমপি হাসনাত ওসির উদ্দেশ্যে বলেন, ‘থানা আপনি চালান না থানা চালায় হেলাল। থানাকে হেলালগং মুক্ত করতে হবে, থানাকে দালালমুক্ত করতে হবে এবং ভুক্তভোগীরা যেন সরাসরি ওসি সঙ্গে কথা বলতে পারে সে ব্যবস্থা আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে। আপনি সকল অফিসারদের নিয়ে বসুন, এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেবেন।’ দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাকিবুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ফয়সল উদ্দিন, দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া দেবিদ্বার নিউমার্কেট এলাকার ভাসমান ব্যবসায়ীদের স্থানান্তর করে পুরোনো বাজার ও জেলা পরিষদ মার্কেটে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশও দেন এমপি, যাতে সড়কের যানজট কমানো যায়।


ফরিদপুরে আইনশৃঙ্খলা ঠিক রাখতে কঠোর হুঁশিয়ারি এমপির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি।

সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মাদক, চুরি-ডাকাতি প্রতিরোধ, যানজট নিরসন এবং জননিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া রমজানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে বাজার তদরকি বিভিন্ন জাতীয় ও ধর্মীয় উৎসব সামনে রেখে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষ্যে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও তৎপর থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এমপি বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা শুধু প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়, এ ক্ষেত্রে জনপ্রতিনিধি ও সচেতন নাগরিকদেরও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’ তিনি মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও উন্নত করতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।


কেশবপুরে জব্দ জাটকা ইলিশ এতিমখানায় বিতরণ: দুই ব্যবসায়ীকে জরিমানা 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

জাটকা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে জাটকা ইলিশ বিক্রির দায়ে যশোরের কেশবপুর উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে দুজনকে অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। একই সঙ্গে জব্দকৃত জাটকা ইলিশ স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সকালে কেশবপুর বড় মাছ বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা যায়, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জাটকা ইলিশ বিক্রির অপরাধে পৌর শহরের ভোগতি নরেন্দ্রপুর গ্রামের আফসার আলী বিশ্বাসের ছেলে কামরুজ্জামানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে কেশবপুর বড় মাছ বাজারে আইন ভঙ্গ করে জাটকা ইলিশ বিক্রির দায়ে কামরুল বিশ্বাসকেও নগদ ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

অভিযানকালে জব্দকৃত সব জাটকা ইলিশ পরবর্তীতে কেশবপুর শিশুসদন এতিমখানায় হস্তান্তর ও বিতরণ করা হয়। এ সময় উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ বিশ্বাসসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাজে সহযোগিতা করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেকসোনা খাতুন বলেন, ‘জাটকা ইলিশ দেশের গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। জাটকা সংরক্ষণ না হলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়নে আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। কেউ আইন অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তিনি আরও জানান, জব্দকৃত ইলিশ জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহারের অংশ হিসেবে এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে এবং এ ধরনের অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে।


রাণীনগরে ৪১৫ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি

রমজান মাস উপলক্ষে নওগাঁর রাণীনগরে সুবিধাবঞ্চিত ৪১৫ পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাণীনগর মহিলা কলেজ মাঠে জার্মানি দাতা সংস্থা মুসলিম হেলফেনের অর্থায়নে সোশ্যাল এইড এর আয়োজন করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেব উপস্থিত থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাকিবুল হাসান।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, রাণীনগর মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ফরহাদ হোসেন, উপাধ্যক্ষ চন্দন কুমার মহন্ত, সোশ্যাল এইড এর নির্বাহী পরিচালক বাবুল আকতার, প্রোগ্রাম সাপোর্ট অফিসার নূরে জান্নাত নিতি, সোশ্যাল এইডের জেলা সমন্বয়কারী ফজলুল হক খান, নওগাঁ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি রায়হান আলমসহ অন্যান্যরা।

খাদ্যসামগ্রীর মধ্যে ছিলো- ২৫ কেজি চাল, ২ লিটার তেল, ২ কেজি মসুর ডাল, ২ কেজি ছোলা, ১ কেজি চিনি, ১ কেজি মুড়ি ও ৩০ পিচ ডিম।


প্রথম কার্যদিবসেই নগরীর উন্নয়নে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা ঘোষণা: জিসিসি প্রশাসক শওকত হোসেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম কার্যদিবসেই নগরীর উন্নয়নে ১৮০ দিনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন শওকত হোসেন সরকার। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগর ভবনে দায়িত্ব গ্রহণের পর কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এই কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল নয়টায় নগর ভবনে পৌঁছে তিনি প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী নগর ভবনের সামনে একটি গাছের চারা রোপণ করেন। পরে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের উন্নয়ন নিয়ে স্থানীয় সরকার সচিবের সাথে ভার্চুয়াল সভা এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।

প্রশাসক জানান-নগরবাসীর যানজটের দুর্ভোগ কমাতে আগামী ছয় মাসের মধ্যে জয়দেবপুর রেলক্রসিংয়ের ওপর একটি ফ্লাইওভারের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করা হবে। এছাড়া ঢাকার সাভার ও আশুলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ সহজতর করতে কাশিমপুর এলাকায় দুটি সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। ঢাকার সাথে সংযোগকারী বিকল্প সড়কগুলোরও উন্নয়ন করা হবে বলে তিনি জানান।

নগরীর পরিবেশ রক্ষায় প্রশাসক প্রধানত দুটি বড় পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করেন। এর মধ্যে একটি খাল খনন। মহানগরীর অভ্যন্তর দিয়ে প্রবাহিত ১৯ খাল জরুরি ভিত্তিতে খনন করা হবে। এর ফলে জলাবদ্ধতা কমবে এবং মশার উপদ্রব থেকে নগরবাসী রক্ষা পাবে। অপরটি হলো গাজীপুরকে গ্রিন ও ক্লিন সিটি গড়ে তোলা। তিনি বলেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গাজীপুরকে একটি সবুজ ও পরিচ্ছন্ন নগরীতে রূপান্তর করতে ফুটপাথ অবৈধ দখলমুক্ত করা, নগরীর ব্যর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ডিশ লাইন অপসারণ, সড়ক বাতির ব্যবস্থা করার ঘোষণা করেন।

সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান শওকত হোসেন সরকার। পাশাপাশি তরুণ প্রজন্মকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে তিনি মহানগরীর ৫৭টি ওয়ার্ড একটি করে খেলার মাঠ এবং একটি শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। সুস্থ ধারার শিল্প ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকেও বেগবান করার আশ্বাস দেন তিনি।

সিটি করপোরেশনকে শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, নাগরিক সেবা সহজলভ্য করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সমন্বয় করে কাজ করা হবে। এ সময় তিনি বলেন, জনকল্যাণমুখী প্রশাসন গড়তে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

এ সময় তার সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন, সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সোহেল হাসানসহ বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তারা।


চট্টগ্রামে গ্যাস বিস্ফোরণ স্ত্রী-সন্তানের পর মারা গেলেন সাখাওয়াত, মৃত্যু বেড়ে ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের হালিশহরের এক বাসায় গ্যাস লিকেজ হয়ে বিস্ফোরণে একই পরিবারের নারী ও শিশুসহ দগ্ধ ৯ জন দগ্ধের ঘটনায় স্ত্রী-সন্তানের পর মারা গেলেন সাখাওয়াত হোসেন (৪৯)। এ নিয়ে এই ঘটনায় পাঁচজনের মৃত্যু হলো।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এর আগে, সাখাওয়াতের স্ত্রী নুরজাহান আক্তার রানী, ছেলে শাওন, ছোট ভাই সামির আহমেদ সুমন, ছোট ভাইয়ের স্ত্রী আশুরা আক্তার পাখি মারা গেছেন।

বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সাখাওয়াত হোসেনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সাখাওয়াতের শরীরের শতভাগই পুড়ে গিয়েছিল।

ডা. শাওন আরও জানান, বর্তমানে সাখাওয়াতের মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা ৩৮ শতাংশ, ভাইয়ের মেয়ে আয়েশা ৪৫ শতাংশ, ভাইয়ের ছেলে ফারহান আহমেদ আনাস ৩০ শতাংশ এবং আরেক ভাই শিপন ৮০ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তাদের সবার অবস্থাই আশংকাজনক।

এর আগে, গত সোমবার ভোরে হালিশহরের বাসায় গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওইদিন সন্ধ্যার দিকে তাদেরকে বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসে স্বজনরা।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিস ও কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি পৃথকভাবে দুটি তদন্ত কমিটি করেছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আলমগীর হোসেন বলেন, ‘কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে তদন্ত শেষ হলে এ ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


banner close