রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
২৮ চৈত্র ১৪৩২

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


ভোলা প্রেসক্লাব নির্বাচন সম্পন্ন: সভাপতি নজরুল হক, সম্পাদক নাসির লিটন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

দীর্ঘ ৬০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ভোলা প্রেসক্লাবের নির্বাচন উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। এতে সভাপতি পদে ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির ভোলা জেলা প্রতিনিধি নজরুল হক অনু এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সময় টিভির অ্যাসোসিয়েট সিনিয়র রিপোর্টার ও দৈনিক সমকালের জেলা প্রতিনিধি নাসির উদ্দীন লিটন নির্বাচিত হয়েছেন।

‎শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণভাবে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলে। পরে দুপুর ২টার দিকে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জামাল হোসেন।

‎নির্বাচনে মোট ৫টি পদে ১৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে সভাপতি পদে ৩ জন, সহসভাপতি পদে ৩ জন, সাধারণ সম্পাদক পদে ৬ জন, যুগ্ম সম্পাদক পদে ২ জন এবং কোষাধ্যক্ষ পদে ২ জন প্রার্থী ছিলেন। মোট ৪৬ জন ভোটারের মধ্যে ৪৫ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

‎অন্যান্য পদে নির্বাচিতরা হলেন—সহসভাপতি পদে দৈনিক মাতৃছায়ার প্রতিনিধি মো. সুলাইমান, যুগ্ম সম্পাদক পদে একাত্তর টিভির প্রতিনিধি মো. কামরুল ইসলাম এবং কোষাধ্যক্ষ পদে দৈনিক যায়যায়দিনের স্টাফ রিপোর্টার নুরে আলম ফয়জুল্লাহ। দপ্তর সম্পাদক পদে দেশ টিভির প্রতিনিধি ছোটন সাহা নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাহী সদস্য পদে দুইটির মধ্যে একটিতে মো. মোতাছিন বিল্লাহ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

‎তবে নির্বাহী কমিটির ১১টি পদের মধ্যে ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও পাঠাগার সম্পাদক পদে কোনো প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ না করায় পদগুলো শূন্য রয়েছে। এছাড়া নির্বাহী সদস্য পদের একটি পদে মনোনয়ন জমা দিলেও পরে তা প্রত্যাহার করায় সেটিও শূন্য থাকে।

‎নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ভোলা সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ প্রফেসর মো. জামাল হোসেন। কো-চেয়ারম্যান ছিলেন কলেজ শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি মো. এনামুল হক এবং জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ইয়ারুল আলম লিটন। নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. ইউছুফ, জেলা আইনজীবী সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তোয়াহা, সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. আরিফুর রহমান এবং সোনালী অতীত ক্লাবের সভাপতি খন্দকার আল আমিন।

‎নবনির্বাচিত সভাপতি নজরুল হক অনু ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন লিটন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং ভোটাররা তাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে আমাদের নির্বাচিত করেছেন। তারা প্রবীণ ও নবীন সাংবাদিকদের সমন্বয়ে প্রেসক্লাব পরিচালনা এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের উন্নয়নে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

‎অপরদিকে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. জামাল হোসেন ফলাফল ঘোষণার পর সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতায় একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হয়েছে।


সারাদেশে খাল দখলকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি পানিসম্পদ মন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গাসহ সারাদেশে দীর্ঘদিনের সংস্কারহীন খাল ও জলাশয়গুলোর কারণে সৃষ্ট সেচ সংকট ও জলাবদ্ধতা নিরসনে কঠোর অবস্থান ঘোষণা করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী (এ্যানি)। শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বেলগাছি ইউনিয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, যারা অবৈধভাবে খাল দখল করে জনজীবনে দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। খাল খনন ও পুনরুদ্ধারে সরকার এখন 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করবে।

​এর আগে মন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল পুনঃখনন কাজের সূচনা করেন। ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এই খালের তলদেশের গড় প্রস্থ ৭ মিটার এবং গড় গভীরতা ১.৫ মিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি সম্পন্ন হলে এলাকার প্রায় ৫,২০০ কৃষক সরাসরি সেচ সুবিধা পাবেন এবং জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি পাবেন।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, অতীতে অনেক খাল ভরাট ও লিজ দেওয়ার ফলে প্রাকৃতিক পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে এবং কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে হলে খাল পুনরুদ্ধারের কোনো বিকল্প নেই। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচিকে একটি 'যুগান্তকারী উদ্যোগ' হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে দেশের উন্নয়ন ও কৃষি অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে কাজ করছে। কৃষিবান্ধব নীতির অংশ হিসেবে সরকার ইতোমধ্যে প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকার কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করেছে।

​জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, পরিবেশ রক্ষায় সরকার আগামী ৫ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের বিশাল পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। খননকৃত খালের দুই তীরে বনায়ন করার পাশাপাশি সেখানে মাছ ও হাঁস চাষের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। এছাড়া স্থানীয়দের কর্মসংস্থানের কথা চিন্তা করে খনন কাজে যন্ত্রের পাশাপাশি নারী ও পুরুষ শ্রমিকদের সম্পৃক্ত করা হবে। মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, খাল খনন কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।

​আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার পান্না আক্তারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মাসুদ পারভেজ রাসেল, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী শাজাহান সিরাজ, জেলা প্রশাসক মিজ লুৎফন নাহার, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুজ্জামান শরীফ এবং জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


অবসর ভাতার দাবিতে বরিশালে শিক্ষক-কর্মচারীদের আন্দোলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল প্রতিনিধি

হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের বর্ধিত হারে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা দ্রুত প্রদানের দাবিতে বরিশালে মানববন্ধন বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল ১০টায় নগরীর অশ্বিনী কুমার হল চত্বরে অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারি কল্যাণ সমিতি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা বরিশাল জেলা কমিটি র উদ্যোগে আয়োজিত এসব কর্মসূচিতে জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠিত সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ (অব.) সুভাষ চন্দ্র পাল। পরে সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল নগরীর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বরিশাল সিটি কলেজ মিলনায়তনে গিয়ে শেষ হয়।

পরে সেখানে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের জেলা সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মো. আনোয়ারুল হক।

সংবাদ সম্মেলনে নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের মোট শিক্ষাব্যবস্থার প্রায় ৯৫ শতাংশ দায়িত্ব পালন করলেও বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে আর্থিক ও সামাজিক বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। কর্মজীবনের পর অবসরকালীন সময়ে এসে তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে পড়ছে।

তারা জানান, অবসর গ্রহণের পর ৪ থেকে ৫ বছর পর্যন্ত অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা না পাওয়ায় বহু শিক্ষক-কর্মচারী মানবেতর জীবনযাপন করছেন। চিকিৎসা ও খাদ্যের অভাবে অনেকের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই সমস্যার সমাধানে তাদের একজন হিতাকাঙ্ক্ষী বিপ্লব কান্তি দাস ২০১৯ সালে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে আদালত ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ তারিখে রায় প্রদান করেন। রায়ে বলা হয়, পূর্বের ৬ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত ৪ শতাংশসহ মোট ১০ শতাংশ কর্তনের ভিত্তিতে অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বর্ধিত হারে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা অবসর গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যে প্রদান করতে হবে।

কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সেই রায় বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন শিক্ষক নেতারা। তারা বলেন, হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, গত ২২ ডিসেম্বর তারিখে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে শিক্ষা উপদেষ্টার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। এছাড়া ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বরিশাল সফরকালে শিক্ষা মন্ত্রীর কাছে সরাসরি আবেদন জানানো হলে তিনি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দেন।

শিক্ষক নেতারা তাদের ৫ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখ করেন, অবসর গ্রহণের ৬ মাসের মধ্যে অবসর ভাতা ও কল্যাণ ভাতা পরিশোধ।বিলম্ব হলে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিপিএফের মতো আনুপাতিক হারে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা প্রদান।সরকারি কর্মচারীদের ন্যায় উৎসব ভাতা, বৈশাখী ভাতা ও চিকিৎসা ভাতা প্রদান। অবসরপ্রাপ্তদের জন্য ন্যায়সংগত আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমরা জীবনের সেরা সময় শিক্ষার্থীদের জন্য উৎসর্গ করেছি। কিন্তু অবসরে এসে আমাদের মৌলিক চাহিদা পূরণ করাই কঠিন হয়ে পড়েছে। এটি শুধু আর্থিক নয়, এটি গভীর মানবিক সংকট।

সংগঠনের সভাপতি অধ্যক্ষ অব. সুভাষ চন্দ্র পাল বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের জীবনের শেষ সময়টুকু সম্মানের সঙ্গে কাটানোর অধিকার রয়েছে। হাইকোর্টের রায় বাস্তবায়ন হলে তাদের দুর্ভোগ অনেকটা লাঘব হবে।

সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ অব.আনোয়ারুল হক বলেন, আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি দ্রুত কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করে এই দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধান করা হোক।

সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তাদের ৫ দফা দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন,অধ্যক্ষ মো. মিজানুর রহমান সেলিম, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, আনিসুর রহমান, সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শাহে আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. ফারুক বিন ওয়াহিদ, সহ-সভাপতি মো. শাহে আলম, অধ্যক্ষ আনিসুর রহমানসহ বিভিন্ন উপজেলা ও মহানগরের নেতৃবৃন্দ। এছাড়া কর্মচারীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন রফিকুল ইসলাম বাবুল, এবং উপস্থিত ছিলেন আমিনুর রহমান খোকন, হারুন-অর-রশিদসহ বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধিরা।


ধর্ম অবমাননার অভিযোগে পীরকে পিটিয়ে হত্যা, আস্তানা ভাঙচুর-আগুন

আপডেটেড ১১ এপ্রিল, ২০২৬ ২০:৫৮
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। উত্তেজিত জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। এ সময় সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে।

আজ শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের ফিলিপনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম শামীম রেজা ওরফে জাহাঙ্গীর। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি মৃত জেছের আলীর ছেলে। ঢাকায় পড়াশোনা শেষ করে একসময় শিক্ষকতা করতেন। পরে এলাকায় ফিরে এসে একটি আস্তানা স্থাপন করেন।

বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দীন। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই ব্যক্তির একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, তাতে ইসলাম ধর্ম নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া রয়েছে। তবে ভিডিওটি অনেক আগের হলেও সম্প্রতি নতুন করে ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং মানুষ সেখানে হামলা চালায়। তিনি আরও জানান, পুলিশ তাকে উদ্ধার করলেও বিক্ষুব্ধ জনতার তুলনায় সদস্য সংখ্যা কম থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়নি এবং তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘এলাকার পরিস্থিতি শান্ত আছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। কারা কীভাবে ভিডিওটি নতুন করে সামনে নিয়ে এল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় আমি নিজে যাচ্ছি। কয়েক মিনিটের মধ্যে পৌঁছে যাব।’

এর আগে ২০২১ সালের মে মাসে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় মামলা হয়। তখন পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর মুক্তি পেয়ে তিনি আবার একই ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রকাশ্যে পবিত্র কোরআন সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের অনুভূতিতে আঘাত করে। আজ সকাল থেকেই তার কর্মকাণ্ড ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের আগেই ক্ষুব্ধ জনতা তার আস্তানায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।


পিরোজপুর সদর উপজেলা চত্বরের ভিতরে ও বাহিরে পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ এবং সম্মুখ ভাগের প্রধান সড়ক সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও নান্দনিক রাখতে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদের বিশেষ উদ্যোগে ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে দিনব্যাপী এই কর্মসূচি পালিত হয়।

‎​উপজেলা পরিষদের মূল প্রশাসনিক ভবনের চারপাশ, কর্মকর্তাদের বাসভবন এলাকা এবং অফিসের সম্মুখস্থ বাগানে জমে থাকা দীর্ঘদিনের আগাছা ও ঝোপঝাড় পরিষ্কার করা হচ্ছে। একই সাথে পরিষদের অভ্যন্তরীণ ড্রেনগুলো পরিষ্কারের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা সচল করা হয়েছে। কেবল চত্বরের ভিতরেই নয়, পরিষদের প্রধান প্রবেশপথ এবং সীমানা প্রাচীরের বাহিরের অংশকেও এই অভিযানের আওতায় আনা হয়েছে। রাস্তার ধারের ময়লা-আবর্জনা ও ঝোপঝাড় অপসারণের ফলে পুরো এলাকায় এখন দৃষ্টিনন্দন পরিবেশ বিরাজ করছে।

‎​তদারকিকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুনুর রশীদ বলেন, “জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা একটি সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি শনিবার উপজেলার প্রতিটি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং আবাসিক এলাকায় একযোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা এবং একটি পরিচ্ছন্ন উপজেলা গড়ে তোলা।”

‎​তিনি আরও বলেন, “সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি এই লড়াইয়ে প্রতিটি নাগরিকের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে বাঁচতে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। আমি উপজেলার সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনারা প্রতি শনিবার নিজ নিজ অফিস প্রাঙ্গণ, বাসভবন এবং আশেপাশের এলাকা পরিষ্কার রাখুন। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর দিন।”

‎​ইউএনও আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ যাতে একটি স্বাস্থ্যকর ও মনোরম পরিবেশ পায়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব। এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম নিয়মিত অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি জানান।

‎​উপজেলা প্রশাসনের এই সময়োপযোগী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তাদের মতে, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ফলে চত্বরের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি মশার উপদ্রব হ্রাস পাবে এবং একটি আদর্শ কর্মপরিবেশ বজায় থাকবে।


পিআইওকে মারধর, গণঅধিকার পরিষদের নেতা গ্রেফতার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি

ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে (পিআইও) তার কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের মামলায় গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাতে দিনাজপুরের সুইহারি ড্রাইভার পাড়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

​মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাণীশংকৈল উপজেলা পরিষদে দাপ্তরিক কাজ করার সময় পিআইও নুরনবী সরকার ও তার দপ্তরের এক কর্মচারীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতেই পিআইও বাদী হয়ে মামুনুর রশিদ মামুনসহ ৫ জন এবং অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। মামলার পর ওই রাতেই জিয়াউর রহমান নামে এক আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।

​পিআইও নুরুন্নবী সরকার অভিযোগ করেন, মামুন ও তার সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে অফিসে ঢুকে তার ওপর হামলা চালান এবং অফিস তছনছ করেন। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে তিনি আইনি ব্যবস্থা নিয়েছেন।

​এদিকে ঘটনার একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, ওইদিন পিআইওর কক্ষ থেকে বের হওয়ার সময় উপজেলা ছাত্রদলের একদল নেতাকর্মী ইউএনও অফিসের সিঁড়িতে মামুনকে পথরোধ করে হামলা চালায়। এ ঘটনায় রাণীশংকৈল উপজেলা অফিসার্স ক্লাব প্রতিবাদ বিবৃতি দিয়েছে। এছাড়াও সরকারি কর্মকর্তার ওপর হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসার সমিতি এবং ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ।

​তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে ভিন্ন চিত্র। রাণীশংকৈল উপজেলা পিআইও নুরনবী সরকারের বিরুদ্ধে আগে থেকেই উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি লেহেমবা ইউনিয়নের এক ইউপি সদস্যকে ‘পুঁতে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার অডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও অশ্লীল বাক্য ব্যবহারের প্রতিবাদে এলাকায় মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

​এ বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ মামুন এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খতিজা বেগমের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। ইউএনও জানান, পিআইওর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসককে অবগত করা হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এরপরও ওই কর্মকর্তা সংযত হননি। সর্বশেষ মঙ্গলবার রাতে মামুনুর রশিদ পিআইওর কার্যালয়ে গিয়ে তাকে ‘শাসন’ করতে গেলে এই অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

রাণীশংকৈল থানার এই ​মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা রহমতুল্লাহ রনি গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দিনাজপুর কোতোয়ালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি মামুনুর রশিদ মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


সীমান্তে স্থলমাইন বিস্ফোরণে রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

কক্সবাজারের উখিয়ার বালুখালী সীমান্তের শূন্যরেখায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক রোহিঙ্গা যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার দিকে উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত যুবকের নাম মো. সাদেক (২৫)। তিনি উখিয়ার বালুখালী ১০ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ-১৩ ব্লকের বশির আহমদের ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) উখিয়া-৬৪ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম।

বিজিবি সূত্র জানায়, সাদেকসহ কয়েকজন নাফ নদের মিয়ানমার অংশে মাছ ধরতে গেলে হঠাৎ একটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে নদীর তীরে পড়ে যান। বিস্ফোরণে তার বাঁ পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুতুপালংয়ের এমএসএফ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে তাকে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এর আগে, গত ২৯ মার্চ একই সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে আব্দুল হাকিম (১৫) নামে এক রোহিঙ্গা কিশোর আহত হয়েছিল। তিনি ১৯ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, সীমান্তবর্তী মিয়ানমার অংশে স্থাপিত স্থলমাইনের কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা বেড়ে চলেছে, যা সীমান্ত এলাকার মানুষের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।


সৈয়দপুরে হঠাৎ অসুস্থ ত্রাণমন্ত্রী, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে আনা হবে ঢাকায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

দুই দিনের সফরে নিজ জেলা লালমনিরহাটে যাওয়ার পথে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তাকে আনতে ইতোমধ্যেই ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়েছে।

শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার।

তিনি বলেন, দুই দিনের সফরে লালমনিরহাট সফরে আজকে (শনিবার) সকালে ঢাকা থেকে বিমানযোগে এসে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নামেন আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি রেস্টরুমে গিয়ে বসে নেতাকর্মীদের সঙ্গে আলোচনা করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে অস্বস্তি ও অসুস্থতা বোধ করেন মন্ত্রী। পরে তাকে দ্রুত সৈয়দপুর সেনানিবাসের সিএমএইচ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

গফুর সরকার আরও বলেন, পরে নেতাকর্মীদের পরামর্শে মন্ত্রীকে দুপুর ১২টা ১০ মিনিটের বিমানে ঢাকায় পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়। তবে তার শারীরিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় বিমানে যেতে পারেননি। পরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স রওনা হয়েছে সৈয়দপুর পৌঁছালে সেটিতে মন্ত্রীকে ঢাকায় নেওয়া হবে।


চিটাগং শপিং কমপ্লেক্সে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ৫ ইউনিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের দুই নম্বর গেট এলাকার চিটাগং শপিং কমপ্লেক্সে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট কাজ করছে।

আজ (শনিবার) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত।

চট্টগ্রামের ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের অপারেটর বলেন, ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে আগুনে খবর আসে। এরপর ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।

স্থানীয়দের ধারণা, চিটাগং শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার গুদাম থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের আগুনের সূত্রপাত নিয়ে কোনো তথ্য জানায়নি।


মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিপুল বিস্ফোরক উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক অভিযানে অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন, ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) সহ বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ ঘটনায় সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। এর আগে ভোর পৌনে ৫টার দিকে সীমান্ত পিলার ৫৩ ও ৫৪-এর মধ্যবর্তী ছড়াপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসব সামগ্রী উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধার বিস্ফোরক সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে—পাঁচটি অ্যান্টি-পারসোনেল মাইন, পাঁচটি আইইডি, একটি ডেটোনেটর, একটি সোলার প্যানেল, বিস্ফোরক তৈরির বিভিন্ন উপকরণ, একটি মোবাইল ফোন, একটি পাওয়ার ব্যাংক এবং কিছু সিভিল পোশাক।

বিজিবির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভোরে নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত সড়কের ছড়াপাড়া এলাকায় একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় বিজিবি সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে সন্দেহভাজনরা ব্যাগ ফেলে গহীন পাহাড়ে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় এসব বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে গত বৃহস্পতিবার রাতে বাইশফাঁড়ী এলাকায় পৃথক আরেকটি অভিযানে সীমান্ত পিলার ৩৭/২-সংলগ্ন বাংলাদেশের অভ্যন্তরে একটি আমবাগানে মালিকানাবিহীন অবস্থায় দাহ্য পদার্থ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ৩ কেজি দাহ্য পদার্থ, মেপোক্স, নাইলন কাপড় ও দাহ্য রাসায়নিক তরল।

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, উদ্ধার হওয়া মাইন ও আইইডি তাৎক্ষণিকভাবে বালুর বস্তা দিয়ে নিরাপদ করা হয়েছে এবং লাল পতাকা দিয়ে চিহ্নিত করা হয়েছে। জননিরাপত্তার স্বার্থে ঘটনাস্থলে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে এবং অতিরিক্ত টহল জোরদার করা হয়েছে।

এদিকে ১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুল কবির বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরক সামগ্রী পরীক্ষার জন্য চট্টগ্রামের বিশেষায়িত রাসায়নিক পরীক্ষাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


কোচিং থেকে ফেরার পথে অপহরণ, নিজবুদ্ধিতে রক্ষা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে তাহরিম তাওবা নামের পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণের চেষ্টা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। পরে ওই স্কুলছাত্রী পালিয়ে একটি বাড়িতে আশ্রয় নিলে অপহরণের হাত থেকে রক্ষা পায় সে। ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থীর পরিবার আতঙ্কে দিন পার করছে। ঘটনার পর গতকাল শুক্রবার শিক্ষার্থীটির পরিবার নওগাঁ সদর মডেল থানায় এজাহার দায়ের করেছে।

গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) শহরের কেডির মোড় এলাকার ‘পাঠশালা স্ট্যাডি কেয়ার একাডেমি’ নামের একটি কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে তাহরিম তাওবাকে অপহরণ করে দুর্বৃত্তরা। তাহরিম তাওবা শহরের খাস-নওগাঁ এলাকার মোরশেদুল আলমের মেয়ে।

এবং শহরের পিটিআই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

থানায় এজাহার এবং ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল ৭টার দিকে শহরের কেডির মোড় এলাকার কোচিং সেন্টারে তাহরিম তাওবাকে রেখে আসে তার বাবা।

এরপর সকাল ৯টার দিকে মেয়েকে কোচিং থেকে নিতে আসলে মেয়ের খোঁজ পায়নি বাবা। এরপর কোচিংয়ের শিক্ষকদের জিজ্ঞেস করলে তারা জানায় আপনার মেয়ে কলম কেনার জন্য বাইরে গেছে, এরপর আর ফিরে আসেনি।

তাহরিম তাওবার বাবা মোরশেদুল আলম বলেন, ‘মেয়েকে কোচিংয়ে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি করেছি। একপর্যায়ে একটি মোবাইল ফোন থেকে জানানো হয় তার মেয়ে শহরের দয়ালের মোড় এলাকার একটি বাসায় রয়েছে। পরে সেখান থেকে তাহরিম তাওবাকে বাসায় নিয়ে আসে তার বাবা। পরবর্তীতে জানতে পারেন একটি মাইক্রোবাসে ওই শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছিল দুর্বৃত্তরা।’

এ বিষয়ে শিক্ষার্থী তাহরিম তাওবা বলেন, ‘আমার কলমের কালি শেষ হয়ে যাওয়ায় কলম কিনতে বাইরে আসি। এরপর হঠাৎ করেই আমার সামনে একটি মাইক্রোবাস এসে দাঁড়ায় এবং মাইক্রো থেকে একটি লোক বের হয়ে আছে। খাটো করে মাথায় কিছুটা টাক ছিল। পেছন দিক থেকে কয়েকজন এসে আমার চোখে রুমাল দিয়ে গাড়িতে তুলে নেয়। পরে যখন আমার জ্ঞান ফিরে তখন দেখি পরিত্যক্ত একটি বাড়িতে আমাকে নেওয়া হয়েছে। ওখানে জানালা, দরজা কিছুই ছিল না। এ সময় ওই লোকটা ফোনে কথা বলতে বলতে বাসার সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠে যাচ্ছিল। এ সুযোগে দৌড়ে পালিয়ে আসি। অনেক দৌড়ানোর পরে একটি বাড়ির গেট খোলা পেয়ে সেই বাড়িতে ঢ়োকে পড়ি। তাদের আমার বাবার ফোন নম্বর বললে তখন তারা আমার বাবাকে জানায়। এরপর বাবা ওখান থেকে আমাকে বাসায় নিয়ে আসে।’

ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে তাহরিম তাওবা দয়ালের মোড়ের যে বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছিলেন সে বাড়িটির মালিক মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, ‘বাসা থেকে আমার মেয়ে ফোন করে ঘটনার কথা বলে। এরপর বাড়ি ফিরে দেখি বেডরুমে আমার আম্মা এবং আমার স্ত্রী মেয়েটিকে বেডের ওপর ঘিরে রেখে বসে আছে। মেয়েটি আমাকে দেখে আরও ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর মেয়েটি স্বাভাবিক হয়। তখন তার সঙ্গে কথা বলি। সে আমাদের বলে কয়েকজন মিলে তাকে কোচিং সেন্টারের সামনে থেকে কিডন্যাপ করে একটি মাইক্রোতে উঠিয়ে আনে। মেয়েটিকে তখন তার বাবার নাম জিজ্ঞেস করি সে বলে মোরশেদ। তখন তার কাছ থেকে তার বাবার ফোন নম্বর নিয়ে কল করি। এরপর তার বাবা এসে মেয়েটিকে আমাদের কাছ থেকে নিয়ে যায়।’

এ বিষয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়টি সম্পর্কে শুনেছি। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। এ বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


সিরাজদিখানে সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি 

মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের মোল্লাবাজার সেতুর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি দিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিনেও সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসমহল চৌরাস্তায় এ মানববন্ধন হয়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ধলেশ্বরী শাখা নদীর ওপর নির্মাণাধীন মোল্লাবাজার সেতুর কাজ ২০১৮ সালে শুরু হলেও প্রায় আট বছরেও তা শেষ হয়নি। একাধিকবার সময়সীমা বাড়ানো হলেও বাস্তবে কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। বর্তমানে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও মূল সেতুর গুরুত্বপূর্ণ অংশ এখনো বাকি রয়েছে। গত কয়েক মাস ধরে নির্মাণকাজ প্রায় বন্ধ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৩৩ কোটি ২৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৫২ মিটার দৈর্ঘ্যের সেতুটি নির্মাণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় সম্প্রতি ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা হয়েছে। তবে নতুন করে কাজ কবে শুরু হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইটভাটার মালিকদের ফেরি চলাচল, প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ, নকশাগত জটিলতা ও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকল্পটি বারবার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নদীর মাঝখানে কাজ শুরু করলেও ইটবাহী ট্রলার চলাচলের কারণে তা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।

বক্তারা আরও বলেন, সেতুটি চালু হলে মুন্সিগঞ্জের চারটি উপজেলার মানুষের ঢাকায় যাতায়াত সহজ হবে। বর্তমানে বিকল্প সড়ক দিয়ে ঢাকায় যেতে প্রায় ৪২ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয় এবং সময় লাগে আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা। অথচ সেতুটি চালু হলে মাত্র ৩০ মিনিটেই ঢাকায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।

এদিকে সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে ট্রলার ও দেশীয় ফেরিতে নদী পারাপার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনপ্রতি পাঁচ টাকা ও মোটরসাইকেল ২০ টাকা ভাড়ায় পারাপার করতে হচ্ছে। ফেরির জন্য ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হচ্ছে বলেও জানান তারা।

মানববন্ধন থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এ ছাড়া সিরাজদিখান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কেরানীগঞ্জ এলজিইডি কর্মকর্তার কাছেও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

কর্মসূচিতে বক্তারা পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো, আগামী ছয় মাসের মধ্যে সেতুর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা, সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, নতুন সময়সীমা নির্ধারণ ও প্রকাশ করা, কাজের গুণগত মান নিশ্চিতে মনিটরিং টিম গঠন এবং বিকল্প যাতায়াতব্যবস্থা নিরাপদ করা।

বক্তারা বলেন, সেতুটি চালু হলে যোগাযোগ, শিক্ষা ও স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিন্তু দীর্ঘসূত্রতার কারণে প্রকল্পটি ঝুলে থাকায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। তাই দ্রুত সেতুর কাজ সম্পন্নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত আইসিটি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, নটর ডেম বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ জমির হোসেন, সমাজসেবক সাহাব উদ্দিন বাদল, বালুচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজি মো. আওলাদ হোসেন, সমাজসেবক আব্দুল মতিন, মো. মোশারফ হোসেন, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, রাজনৈতিক নেতারা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সহস্রাধিক মানুষ।


শতাব্দীর প্রাচীন রেলওয়ে জংশনের এখন ভগ্নদশা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি  

ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী গৌরীপুর রেলওয়ে জংশন। ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১৭ সালে ব্রহ্মপুত্রের পূর্বপাড়ে এটি গড়ে তোলা হয়। বর্তমানে জনবল সংকট, জরাজীর্ণ অবকাঠামো নিয়ে শতাব্দী প্রাচীন স্টেশনটির ভগ্নদশা। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা, ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উন্নত অবকাঠামো দিয়ে এই পুরোনো স্টেশনটিকে অত্যাধুনিক করা হোক।

জানা গেছে, ব্যস্ততম এই জংশনে প্রতিদিন তিনটি আন্তনগর ট্রেন, দুটি কমিউটার, দুটি মেইল ও একটি লোকাল ট্রেন আসা-যাওয়া করে। জংশনে প্রতিদিন পাঁচ শতাধিক যাত্রী ট্রেনে ওঠানামা করে। তবে যাত্রীদের জন্য নেই কোনো বিশ্রামাগার। পুরো স্টেশনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে ময়লা-আবর্জনা। সামান্য বৃষ্টি হলেই ছাউনি দিয়ে গড়িয়ে পড়ে পানি। স্টেশনের একমাত্র ফুটওভারব্রিজটি বহুদিন ধরে জরাজীর্ণ ও ব্যবহারে অনুপযোগী হয়ে রয়েছে। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত দালানকোঠা, যাত্রীছাউনি, প্ল্যাটফর্ম, স্লিপার ও বিভিন্ন অবকাঠামোর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেছে অনেক বছর আগে। ওয়েটিং রুমসহ টয়লেটগুলোর পানির সাপ্লাই লাইন বহুদিন ধরে নষ্ট হয়ে আছে। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বারবার পরিদর্শন করে গেলেও অবকাঠামোর কাঙ্ক্ষিত সংস্কার হয়নি আজও।

ঢাকা থেকে নেত্রকোনা জেলার মোহনগঞ্জ পর্যন্ত হাওর এক্সপ্রেস ও মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস, চট্টগ্রাম থেকে জামালপুর পর্যন্ত বিজয় এক্সপ্রেস আন্তনগর ট্রেন, চট্টগ্রাম থেকে ময়মনসিংহ হয়ে যমুনা সেতুর পূর্ব পাড় পর্যন্ত নাসিরাবাদ নামে দুটি মেইল ট্রেন, ঢাকা থেকে জারিয়া-ঝাঞ্জাই পর্যন্ত বলাকা ও ঢাকা থেকে মোহনগঞ্জ পর্যন্ত মহুয়া কমিউটার ট্রেন গৌরীপুর জংশন হয়ে যাওয়া-আসা করে। এ ছাড়া ময়মনসিংহ থেকে জারিয়া পর্যন্ত একটি লোকাল ট্রেন এই জংশন হয়ে চারবার আপ-ডাউন করে। এত ব্যস্ত জংশন হওয়ার পরও এটির ভাগ্যে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি।

গৌরীপুর পৌর শহরের নতুন বাজার মহল্লার নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন শত শত যাত্রী যাতায়াত করে এই স্টেশন হয়ে, অথচ বসার একটু জায়গা নেই, বৃষ্টিতে ছাউনি দিয়ে পানি পড়ে, যাত্রীরা চা-স্টলে বসে থাকেন ট্রেনের অপেক্ষায়। কেবল শুনি, স্টেশনের উন্নয়ন হবে, ৪০ বছর স্টেশনে কাটিয়ে দিলাম, কত সরকার এলো-গেল এই স্টেশনের উন্নয়ন আর হলো না।’

গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘স্টেশনের অবকাঠামো ব্রিটিশ আমলের। স্টেশনে আলাদা ৯টি দপ্তরে ৩৫ জনের স্থলে জনবল আছে ২৪ জন। লাইন ছয়টির স্থলে তিনটি সচল আছে। বিশেষ করে ট্রেনের সিগন্যাল ও লাইন পরিবর্তনের জন্য স্টেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে প্যানেল বোর্ডটি অনেক পুরোনো ও মেয়াদোত্তীর্ণ। এটি প্রায়ই কাজ করে না। সিগন্যালম্যান তিনজনের স্থলে আছে একজন, নিরাপত্তাকর্মী নয়জনের স্থলে পাঁচজন, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ছয়জনের স্থলে আছে একজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘স্টেশনের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সবকিছু অবহিত করা হয়েছে। তারা স্টেশনটি পরিদর্শনও করে গেছেন।’

গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের নিরাপত্তা বাহিনীর ইনচার্জ মো. মোরশেদ আলম বলেন, ‘জনবল সংকট থাকলেও আমরা ২৪ ঘণ্টা নিরাপত্তা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে সবার অতিরিক্ত ডিউটি করতে হচ্ছে।’

ময়মনসিংহ রেলওয়ের সিনিয়র সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে কিছু সংস্কারের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চাহিদা পাঠিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই বরাদ্দ পাব।’ গৌরীপুরে অত্যাধুনিক রিমডেলিং স্টেশন দাবিকে সময়োপযোগী ও যৌক্তিক উল্লেখ করে এ ক্ষেত্রে সরকারের সদিচ্ছাকে অগ্রাধিকার দেন তিনি।


banner close