ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় ১৮ কেজি স্বর্ণ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) রাতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি ৩৪৮-এর কার্গো কম্পার্টমেন্টের শৌচাগারের প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। এগুলোর মোট ওজন ১৭ কেজি ৯০১ গ্রাম এবং বাজার মূল্য প্রায় ৩৮ কোটি টাকা।
রোববার (২৯ মার্চ) বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শনিবার রাত ৯টায় দুবাই থেকে ছেড়ে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটটি ঢাকায় অবতরণ করে। গোপন খবরের ভিত্তিতে বিমানবন্দর গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা সংস্থা যৌথভাবে ফ্লাইটে তল্লাশি চালায়। এক পর্যায়ে বিমানের কার্গো হোল্ডের একটি শৌচাগারের প্যানেলের ভেতর থেকে ১৫৩টি স্বর্ণের বার জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।
জানা গেছে, বিমানের শৌচাগারের স্প্যানের ভেতর স্বর্ণ বা কোনো ধাতব জাতীয় বস্তু রাখতে হলে স্ক্রু ড্রাইভার দিয়ে স্প্যানের নাটবল্টু খুলতে হয়।
সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, শৌচারগারের নাটবল্টু খোলা কোনো যাত্রীর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ একজন যাত্রী বিমানবন্দর প্রবেশের সময় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন তল্লাশি করা হয়। এছাড়া বিমানে ওঠার আগে সর্বশেষ তল্লাশিতে তার হাত লাগেজে, শরীরে কোনো আগ্নেয়স্ত্র, দিয়াশলাই, কাঁচি, স্ক্রু ড্রাইভার, নেইল কাটার ও চাকু জাতীয় বস্তু পাওয়া গেলে তা জব্দ করে রাখেন বিমানবন্দর-সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাকর্মীরা। ফলে যাত্রীর পক্ষে বিমানের টয়েলটের স্প্যান খোলা সম্ভব নয়।
গোয়েন্দা এ কর্মকর্তা আরও জানান, জব্দ করা ১৮ কেজি স্বর্ণ পাচারের সঙ্গে বিমানের কোনো না কোনো কর্মী প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত। এ বিষয়ে সঠিকভাবে তদন্ত হলে শনাক্ত হবে এর নেপথ্যে থাকা চক্র।
এ ব্যাপারে ঢাকা কাস্টম হাউসের জয়েন্ট কমিশনার (জেসি) কামরুল হাসান সমকালকে জানান, বিমানবন্দর গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ অভিযানে এসব স্বর্ণবার জব্দ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত জড়িত কোনো ব্যক্তিকে শনাক্ত করা যায়নি।
বিমানবন্দর থানার ওসি মোবারক হোসেন জানান, ৩৮ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দের ঘটনায় থানায় মামলা হলে তদন্তে পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হবে। এখনো কোনো মামলা বা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হয়নি। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কেউ থানায় যোগাযোগও করেননি।
ঢাকা কাস্টম হাউসের অপর এক কর্মকর্তা জানান, জব্দ করা স্বর্ণের বারগুলো নিয়ম অনুযায়ী বিমানবন্দর কাস্টমসের গুদামে জমা রাখা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। বিমানবন্দর কর্তৃপকক্ষের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, চোরাচালান প্রতিরোধে নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
নওগাঁর বদলগাছীতে ফসলের মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৩২৫ রাউন্ড থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৯ মার্চ) সকালে উপজেলার আধাইপুর ইউনিয়নের দেউলিয়া উত্তরপাড়া গ্রামের পটলের খেত থেকে গুলিগুলো উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জইদুল ইসলাম নামের এক বর্গাচাষি গতকাল রোববার সকালে আনছার চৌধুরীর ওই পটলের জমিতে জাল দেওয়ার জন্য খুঁটি বসাতে যায়। এরপর বর্গাচাষি জইদুল ইসলাম মাটির প্রায় এক ফুট নিচে শক্ত কিছু অনুভব করেন। পরে কোদাল দিয়ে মাটি খুঁড়লে একটি ভাঙা কাঠের বাক্সের ভেতরে পুরোনো বুলেট দেখতে পান।
ঘটনাটি তিনি সঙ্গে সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য খোরশেদ আলমকে জানান। পরে খোরশেদ আলম ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করেন। তবে গুলিগুলো কতো আগের এবং কীভাবে সেখানে এসেছে এসব বিষয়ে কেউ কিছু বলতে পারছে না।
খবর পেয়ে বদলগাছী থানার এসআই মোতাহার হোসেন সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরবর্তীতে থানার ওসি (তদন্ত) নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সেখান থেকে ৩২৫ রাউন্ড থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করেন।
বর্গাচাষি জইদুল ইসলাম জানান, তিনি জমিটি বন্ধক নিয়ে চাষাবাদ করেন। সকালে বাঁশের খুঁটি বসানোর সময় মাটির নিচে কাঠের বাক্সে থাকা গুলি দেখতে পান। তার ধারণা, গুলোগুলো অনেক পুরোনো।
সেখানে উপস্থিত বীরমুক্তিযোদ্ধা আক্কাস চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা আইয়ুব চৌধুরী এবং মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান জানান, গুলির ধরণ ও জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে ধারণা করা হচ্ছে গুলিগুলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়কার। যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সেখানে হয়তো থেকে গেছিলো গুলিগুলো।
বদলগাছি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি নজরুল ইসলাম জানান, সকালে দেউলিয়া গ্রামের মাঠে কাজ করছিল কয়েকজন কৃষক। এ সময় কোদাল দিয়ে মাঠি খুরতেই গুলি দেখতে পান তারা। পরে থানায় খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ৩২৫ রাউন্ড থ্রি-নট-থ্রি রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। গুলির ধরণ ও জরাজীর্ণ অবস্থা দেখে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এগুলো অনেক আগের এবং পুরনো। দীর্ঘসময় মাটির নিচে থাকায় এগুলোতে মরিচা ধরেছে। উদ্ধারকৃত গুলিগুলো বর্তমানে পুলিশি হেফাজতে রয়েছে এবং পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে ঈদুল ফিতর উদযাপন ও দীর্ঘদিন ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করছে কর্মব্যস্ত ঘরমুখো মানুষ। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে দিয়ে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেও বেড়েছে যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ। এর মধ্যে গণপরিবহন বাস ছাড়াও বেশিভাগই ছিল খোলা ট্রাক, ব্যক্তিগত প্রাইভেটকার ও মোটরসাইকেল চলাচল।
এনিয়ে উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার টাঙ্গাইলের যমুনা সেতু দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ একদিনে ৪২ হাজার ৩৭৪ টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৩১ লাখ ১৫ হাজার ৫০ টাকা।
রোববার (২৯ মার্চ) সকালে যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিযাজ উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন।
যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানায়, গত শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় অর্থাৎ এক দিনে ৪২ হাজার ৩৭৪টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয় ৩ কোটি ৩১ লাখ ১৫ হাজার ৫০ টাকা।
এর মধ্যে টাঙ্গাইলের সেতু পূর্ব প্রান্তের উত্তরবঙ্গগামী লেন দিয়ে ১৮ হাজার ৩৬টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ থেকে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৬০ লাখ ২৪ হাজার ৪৫০ টাকা। অপরদিকে সিরাজগঞ্জ সেতু পশ্চিম প্রান্তের ঢাকাগামী লেনে ২৪ হাজার ৩৩৮টি যানবাহন পারাপার হয় এবং টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ ৯ হাজার ৬০০ টাকা।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিযাজ উদ্দিন বলেন, ‘ঈদের পর কয়েক দিন ধরে কর্মস্থলে যাওয়ার পথেও অতিরিক্ত যানবাহন চাপ বেড়েছে। কিন্তু সেতু পারাপার বা মহাসড়কে কোনো যানজট হয়নি। স্বাভাবিক গতিতেই যান পারাপার হচ্ছে। এ ছাড়া মহাসড়কে যানজট নিরসনে সেতু পূর্ব ও পশ্চিম উভয় অংশে মোটরসাইকেলসহ ৯টি করে ১৮টি টোল বুথ স্থাপন করা হয়েছে।’
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাস পড়ে ২৬ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় সামনে এসেছে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থার ঘাটতি ও ঘাট পরিচালনার বিশৃঙ্খলার চিত্র।
রেলিংবিহীন অরক্ষিত পন্টুন, অ্যাপ্রোচ সড়ক ঢালু ও খানাখন্দে ভরা সংযোগ সড়ক, ফেরিতে আগে উঠতে যানবাহনগুলোর প্রতিযোগিতা এবং অব্যবস্থাপনার কারণে ফেরিঘাটটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যার কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
ইতোমধ্যে রাজবাড়ী জেলা প্রশাসক থেকে ৫ সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও রাজবাড়ী অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, ‘বাস দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী জেলার ১২টি পরিবারের ১৮ জন রয়েছেন। এ ছাড়া কুষ্টিয়ার চারজন, ঝিনাইদহের একজন, গোপালগঞ্জের একজন, দিনাজপুরের একজন এবং ঢাকার আশুলিয়ার একজন। কোনো পরিবারের মা-ছেলে ও নাতির মৃত্যু হয়েছে, কোনো পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, আবার কোনো পরিবারে মা-মেয়ে, মা-ছেলের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারপ্রতি তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। আহত ব্যক্তিদের তালিকা প্রস্তুত হলে ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।’
এ ছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকেও ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। এই তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম। কমিটিতে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস জানান, গত বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে নদী পাড়ি দেওয়ার অপেক্ষায় থাকা ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায়। বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে।
সরেজমিনে ৩ নম্বর ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, অত্যন্ত পুরোনো আকারে ছোট পন্টুনটি অরক্ষিত অবস্থায় রয়েছে। লোহার রেলিং বা নিরাপত্তাবেষ্টনী নেই। এতে যাত্রী ও যানবাহনকে ফেরিতে ঝুঁকি নিয়ে ওঠানামা করতে হয়। অপর দুটি ঘাটেরও (৪ ও ৭ নম্বর ঘাট) একই চিত্র। ফেরিঘাটের মূল সড়ক থেকে পন্টুন পর্যন্ত সংযোগ (অ্যাপ্রোচ) সড়কগুলো বেশ ঢালু। তিনটি ঘাটেই সড়কগুলো খানাখন্দে ভরা। এতে যাত্রী ও মালামাল নিয়ে যানবাহনগুলোতে ফেরিতে ওঠানামা করতে প্রচণ্ড বেগ পেতে হয়। মাঝে মধ্যে এই সংযোগ সড়কে যানবাহন আটকে যাচ্ছে, কখনো দুর্ঘটনাও ঘটছে।
কুষ্টিয়া থেকে আসা গাজীপুরগামী এমআর পরিবহনের যাত্রী জিয়াউর রহমান বলেন, ‘পন্টুনে কোনো নিরাপত্তাবেষ্টনী বা রেলিং নেই; থাকলে ওই বাসটি নদীতে পড়ে ডুবে যেত না। এত মানুষের প্রাণহানিও হতো না। অথচ এদের কত বাজেট থাকে, এদের গাফিলতিতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
২৫ মার্চ বেলা ১১ টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফোরিঘাটের পন্টুনে আটকে যায় তরমুজ বোঝাই একটি ট্রাক। এতে করে অল্পের জন্য রক্ষা পায় তরমুজসহ ট্রাকে থাকা ৩ জন।
দৌলতদিয়ার ৭ নম্বর ঘাটে আসা ট্রাকচালক হামিদুর রহমান বলেন, ‘ফেরিতে ওঠানামার সড়কগুলো খাড়া ঢালু। লোড নিয়ে ফেরিতে গাড়ি ওঠানামা করতে অনেক সময় ব্রেক কন্ট্রোল (নিয়ন্ত্রণ) করতে সমস্যা হয়। ব্রেক ফেল করলেই দুর্ঘটনার শঙ্কা থাকে। ফেরিগুলোও পুরোনো।’ এগুলোর দিকে কারও নজর নেই। আমরা সব সময় এখান দিয়ে যাওয়ার সময় দুশ্চিন্তায় থাকি।’
সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি নদীতে পড়ে যাওয়ার পেছনে ঘাট কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম অনুযায়ী, ঘাট পার হতে আসা যানবাহন পন্টুনে ওঠার আগের সড়কে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াবে। এরপর ঘাটে আসা ফেরি থেকে সব যানবাহন নেমে যাওয়ার পর অপেক্ষায় থাকা যানবাহনগুলো ফেরিতে উঠবে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, গত বুধবার বিকেলে হাসনাহেনা নামের ফেরিটি ঘাটে এসে পৌঁছাতেই সংযোগ সড়ক থেকে চলতে শুরু করে বাসটি, যা সরাসরি নদীতে গিয়ে পড়ে।
সৌহার্দ্য পরিবহনের দৌলতদিয়া ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মনির হোসেন বলেন, ‘দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্টে অনেক সময় বিআইডব্লিউটিসির তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা দায়িত্বে থাকেন। ঘাটের পরিস্থিতি না বুঝেই অনেক সময় নদী পাড়ি দিতে আসা ঢাকামুখী গাড়িগুলোকে ফেরিঘাটে পাঠিয়ে দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বুধবার দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটিকেও ৩ নম্বর ঘাটে পাঠিয়ে দেন। ঘাটে এসে তারা দেখেন, একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে চলা শুরু করেছে। উপায় না পেয়ে পন্টুনের মাথায় সংযোগ সড়কে পরের ফেরির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন তারা। কিছুক্ষণ পর আরেকটি ছোট ফেরি এসে পন্টুনে ধাক্কা দিয়ে ভেড়ে। সংযোগ সড়ক ঢালু সড়ক হওয়ায় এবং পন্টুনের ধাক্কা খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। সরাসরি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যায় বাসটি।
স্ত্রী-সন্তান হারা রেজাউল করিম অভিযোগ করে বলেন, ‘ফেরি কর্তৃপক্ষের অনেক গাফিলতি আছে। ফেরিতে কতগুলো যানবাহন ধরবে সেটা তারা না দেখেই উপর থেকে বাসটিকে ডেকে নিচে নিয়ে আসে। অথচ বাসটি এসে ফেরির নাগাল পায়নি। তা ছাড়া অ্যাপ্রোচ সড়কের অবস্থা বেহাল। আমি চাই তদন্তসাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক।’
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার (বিআইডব্লিউটিসি) চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ বলেন, ‘পন্টুনগুলোতে নিরাপত্তার স্বার্থে রেলিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে, যেন ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে। যারা ফেরি ও ঘাট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে জড়িত, তাদের আধুনিক মানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।’ একই সঙ্গে ঘাটের জরাজীর্ণতা দূর করতে দ্রুত সমাধানের কথাও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাধারণত গাড়িগুলো পন্টুনে আসার আগে থামে। এরপর সুবিধামতো ফেরিতে উঠে পড়ে। কিন্তু দুর্ঘটনার সময় দেখা গেছে, হাসনাহেনা ফেরিটি প্রস্তুত ছিল না, তার আগেই চালকের ভুলে গাড়িটি পন্টুনে এসেছে। নিয়ম হলো, ফেরিতে থাকা গাড়িগুলো আগে নামবে, এরপর নতুন করে যানবাহন উঠবে।’
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন,
‘বাসটি ‘ব্রেক ফেল’ করায় দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করছেন।’ তিনি বলেন, ‘ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্টে তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীসহ অন্য কর্মীরা নির্ধারিত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। বুধবার দুর্ঘটনার আগে বাসটি ফেরিঘাটে অপেক্ষমাণ ছিল। বাসটি ব্রেক ফেইল করলে চালক নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।’
রাজবাড়ী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দায়িত্বরত সহকারী কমিশনার হাফিজুর রহমান বলেন, ‘প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক বাসযাত্রী এবং স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বাসটিতে ত্রুটি ছিল। যে কারণে চালক বাসটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি। এরপরও তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে তদন্তের কাজ শুরু করেছেন। তদন্তের পর দুর্ঘটনার কারণ নির্ণয় করা সম্ভব হবে।’
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা বলেন, ‘এখন আর নিখোঁজের খবর পাওয়া যাচ্ছে না। যদি নিখোঁজের খবর আসে, তাহলে তাৎক্ষণিক অভিযান শুরু করা হবে।’
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেন, ‘সরকার এর মধ্যে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে এবং ভবিষ্যতে ঘাট ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।’
নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান জানান, নিহতদের দাফনের জন্য প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা এবং আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে সহায়তা প্রদান করা হবে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়েও সরকার কাজ করবে।
তবে এই দুর্ঘটনা শুধু প্রাণহানির নয়, বরং ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা, নিরাপত্তা ঘাটতি এবং দায়িত্বহীনতার এক করুণ প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠেছে। স্বজন হারানোর বেদনা আর প্রশাসনিক জবাবদিহির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট। পদ্মার বুকে ডুবে যাওয়া একটি বাস যেন উন্মোচন করে দিয়েছে বহুদিনের অব্যবস্থাপনা-যার মাশুল গুণতে হলো যাত্রীদের প্রাণ দিয়ে।
এখন দেখার বিষয়-তদন্ত কমিটির রিপোর্ট কী কেবল ফাইলের ভেতরেই বন্দি থাকবে, নাকি সত্যি বদলাবে দৌলতদিয়া ঘাটের ভাগ্য। তদন্ত কমিটির রিপোর্টের পর আদৌ কী বদলাবে ঘাটের চিত্র, নাকি এই কান্না আর ক্ষোভই হয়ে থাকবে পরবর্তী দুর্ঘটনার পূর্বাভাস হিসেবে।
যশোরে জ্বালানি তেল মজুদ থাকা সত্ত্বেও সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগে একটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিকে আর্থিক জরিমানা করা হয়।
রবিবার (২৯ মার্চ) সদর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালিয়ে এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
অভিযানের সময় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের তেলের মজুদ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সরবরাহ পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয়। এ সময় শহরের মনিহার এলাকার যাত্রিক ফিলিং স্টেশন-এ ৮১৫ লিটার পেট্রল মজুদ থাকা সত্ত্বেও বিক্রি বন্ধ রাখার প্রমাণ পাওয়া যায়।
এ ঘটনাকে ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটিকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
একই অভিযানে করিম, চলন্তিকা, প্রাইম, চয়নিকা, জালালউদ্দিন, আমিন এবং মনিহার এলাকার মনির উদ্দিন ফিলিং স্টেশনেও তদারকি করা হয়। এসব প্রতিষ্ঠানে তেলের মজুদ ও বিক্রয় কার্যক্রম স্বাভাবিক পাওয়া গেলেও সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম হোসাইন।
তিনি জানান, ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হবে। কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে তেল সরবরাহ বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৬ বছরেও জোড়া লাগেনি জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার ঝিনাই নদীর ওপর নির্মিত শুয়াকৈর ব্রিজটির দুই প্রান্ত। ২০২০ সালের প্রবল বন্যায় পানির তোড়ে ভেঙে যাওয়ায় ৬ বছরেও জোড়া লাগেনি কামরাবাদ ইউনিয়নের শুয়াকৈর এলাকায় নির্মিত এ ব্রিজটির পিলার ও স্প্যান। ফলে চলাচলের নানা দুর্ভোগ নিয়েই যাতায়াত করছে দুই উপজেলার ১৭ থেকে ২০টি গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। বর্ষাকালে নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত কাঠের ব্রিজই এখন একমাত্র ভরসা স্থানীয়দের। এ ছাড়া বর্ষা মৌসুমে নৌকায় যাতায়াত করতে গিয়ে নৌকাডুবিতে প্রাণহানির মতোও ঘটনা ঘটেছে। এই দুর্ভোগ লাঘবে অতি দ্রুত ব্রিজটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০০৩-০৪ অর্থবছরে শুয়াকৈর-হুদুর মোড় এলাকায় ঝিনাই নদীর ওপর নির্মাণ করা হয় ২০০ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি। প্রায় ২ কোটি টাকায় সেতুটি নির্মাণের কার্যাদেশ পায় এম এইচ এন্টারপ্রাইজ। ২০০৬ সালে ব্রিজটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। নির্মাণের ১৪ বছরের মাথায় গত ২০২০ সালের ২১ জুলাই দুপুরে বন্যার পানির তোড়ে ব্রিজটির দুটি পিলারসহ ২০ মিটার দৈর্ঘ্যের দুটি গার্ডার প্রায় এক ফুট ঢেবে যায় এবং ওইদিন রাতেই ব্রিজের মাঝের অংশের ৭ নম্বর পিলার এবং ৬ ও ৭ নম্বর স্প্যানের ৪০ মিটার পানির তোড়ে ভেঙে নদীতে বিলীন হয়ে যায়। সেতুর মাঝামাঝি তিনটি স্প্যানসহ ৬০ মিটার ব্রিজ নদীতে এক রাতেই বিলীন হয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। নদী পারাপারে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয় এ অঞ্চলের মানুষদের। ব্রিজটি নদীতে বিলীন হওয়ায় সাধারন মানুষে দীর্ঘদিনের স্বপ্ন যেন ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বর্তমানে ভেঙে যাওয়া সেতুটির দুপাশের অংশ মূর্তিমান হিসেবে দাড়িয়ে আছে। সেতুটি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাওয়া ৬ বছর হলেও দৃশ্যমান কোনো উদ্দ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের। এতে চরম অনিশ্চিত হতাশা ও চলাচলে দুর্ভোগে পড়েন সরিষাবাড়ী উপজেলার চররৌহা, চরনান্দিনা, বড়বাড়ীয়া, বীর বড়বাড়ীয়া, হেলেঞ্চাবাড়ী, স্বাধীনা বাড়ী, চরহাটবাড়ী, সিধুলী, চুনিয়াপটল, সিংগুরিয়া, ডিগ্রি পাজবাড়ী, খন্দকারবাড়ী, চরছাতারিয়া, আদ্রা, শুয়াকৈর ও পার্শ্ববর্তী মাদারগঞ্জ উপজেলার চর লোটাবর, শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী, সদরাবাড়ী ও রায়েরছড়াসহ চরাঞ্চলের প্রায় ২০ গ্রামের লক্ষাধিক মানুষ।
শুয়াকৈর গ্রামের সামাদ মণ্ডল, আব্দুল মোতালেব, জয়তন বেওয়া, শিক্ষার্থী রবিউল ইসলাম, বরণ মিয়া, সুমাইয়াসহ একাধিক স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ‘আমাদের রাস্তা নেই, যাতায়াত করতে পারছি না। সবাই শুধু আশা দিয়ে যাচ্ছে। কেউ দুর্ভোগ লাঘবে এগিয়ে আসছে না। ব্রিজটি ভাঙার পর থেকে আমাদের আর দুঃখের শেষ নেই। নিম্নমানের কাজ করার কারণেই ব্রিজটি ভেঙে গেছে। নদী পাড়াপারে চরম বাধা হয়ে দাড়িয়েছে এলাকার মানুষের। জনবহুল এ চরাঞ্চলের নারী-পুরুষরা নদী পারাপারে বিকল্প হিসেবে নৌকায় গাদাগাদি করে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে। নৌকায় পারাপারের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় নদীর দুই পাড়ে। কৃষক তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে যেতে না পারার কারণে ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ ছাড়া চরাঞ্চলের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ারও চরম বিঘ্নতার মুখে পড়তে হচ্ছে। ব্রিজটি নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ায় বেকার হয়ে পড়ছে দুই পাড়ের শত শত দরিদ্র রিকশা, ভ্যান ও অটোরিকশা চালকরা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ছোট ছোট ব্যবসায়ীরা।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) গোলাম কিবরিয়া তমাল বলেন, ‘ব্রিজটি সংস্কার করার লক্ষ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিমের পক্ষ থেকে ও উপজেলা এলজিইডি অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে তালিকা পাঠানো হয়েছে। তালিকাটি স্বাক্ষরিত হয়ে স্থানীয় সরকার অধিদপ্তরের গিয়েছে। ব্রিজটি সংস্কার করার সকল প্রস্তুতি চলমান রয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ফরিদুল কবির তালুকদার শামিম এমপি বলেন, ‘৬ বছর ধরে ব্রিজটি ভাঙার কারণে মানুষের কষ্টের কথা বিবেচনা করে ইতোমধ্যেই শুয়াকৈর ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ বা সংস্কারের বিষয়ে আমার পক্ষ থেকে ও এলজিইডি অফিস থেকে মন্ত্রণালয়ে আবেদন পাঠানো হয়েছে। আশা করি অতি দ্রুত শুয়াকৈরবাসীসহ দুই উপজেলার একাধিক গ্রামের মানুষের দুর্ভোগ শেষ হবে।’
বাগেরহাটের মোংলায় যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযানে প্রায় ১২ হাজার ৬১৩ লিটার তেল উদ্ধার হয়।
রোববার (২৯ মার্চ) মধ্যরাতে মোংলা অয়েল ইনস্টলেশন এলাকায় অবস্থিত যমুনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড-এ এই অভিযান চালানো হয়।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ, এনএসআই এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে অভিযান পরিচালিত হয়। তেল সংরক্ষিত তিনটি ট্যাংক পরিমাপ এবং নথিপত্র যাচাই শেষে ১২ হাজার ৬১৩ লিটার অবৈধ তেল শনাক্ত করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১২ লক্ষ ১০ হাজার ৮৫০ টাকা।
অবৈধভাবে মজুতকৃত তেলের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের তত্ত্বাবধানে চলমান রয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারকে স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে বলে জানান সাব্বির আলম সুজন
এ ঘটনায় ডিপো ম্যানেজার মো. আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযান চলাকালে তিনি অনুপস্থিত থাকায় দাপ্তরিক নথি ও হিসাব উপস্থাপন করেন অস্থায়ী কম্পিউটার অপারেটর মো. ফারুক হোসাইন।
অন্যদিকে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমির মাসুদ জানান, ডিপোর তেলের হিসাবে অসঙ্গতি ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট ট্যাংকগুলো সিলগালা করা হয়েছে। আল আমিন খানকে সাময়িক বরখাস্ত করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে।
গাজীপুরের কাপাসিয়া থানার এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। গত শনিবার (২৮ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের পাপলা চামুরখী মোড় থেকে একটি প্রাইভেটকার, খেলনা অস্ত্র, চাপাতিসহ বিভিন্ন জিনিস উদ্ধার করেছে।
থানার প্রেস রিলিজ মারফত জানা যায়, গত শনিবার (২৮ মার্চ) দিবাগত রাত ২টার দিকে কাপাসিয়া থানার এএসআই নজরুল ইসলামের নেতৃত্বে থানা পুলিশ সদর ইউনিয়নের বলখেলা বাজার এলাকায় টহলরত ছিলেন। ওই সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার পরামর্শে পার্শ্ববর্তী টহলরত এসআই মো. মিলন মিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন। পরে একযোগে অতর্কিত অভিযান চালিয়ে তারা উল্লিখিত স্থান থেকে ৪ জনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটককৃতরা হলেন- শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার প্রতাপনগর গ্রামের মানিক মিয়ার পুত্র মো. সাগর (২৪), টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল থানার আইসড়া গ্রামের মৃত আ. আজিজ তালুকদারের পুত্র মশিউর রহমান জুয়েল (৩৫), জয়দেবপুর সদরের বরুদা এলাকার মৃত শহীদ জালাল উদ্দিনের পুত্র নওয়াব আলী (৬০), ময়মনসিংহ জেলার নান্দাইল উপজেলার রহিমপুর গ্রামের নুরুল ইসলামের পুত্র মো. সাব্বির (১৫)। তারা সবাই বর্তমানে গাজীপুর সদরের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করে।
আটককৃতদের নিকট থেকে একটি পিস্তল সাদৃশ্য খেলনা পিস্তল, একটি শর্টগান সাদৃশ্য খেলনা শর্টগান, একটি চাপাতি, একটি কালো রঙের এক্সারসাইজ স্টিক, একটি মাস্টার চাবি, দুটি অ্যান্ড্রয়েড ও তিনটি মোবাইল ফোন, একটি ধূসর রঙের প্রাইভেট গাড়ি (নম্বর: ঢাকা মেট্রো- গ-১২-৬৪০২. জব্দ করা হয়।
থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহীনুর রহমান জানান, ডাকাতির প্রস্তুতিকালে আটককৃতরা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়রি নং- ১৩৬৫ মোতাবেক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। গতকাল রোববার সকালে তাদের গাজীপুর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নওগাঁর মহাদেবপুরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত স্ত্রী আফসানা মিমি (২৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। গত শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যায়। এ ঘটনায় রাতেই উপজেলার বকাপুর এলাকা থেকে অভিযুক্ত স্বামী সাদ্দাম হোসেন সাগরকে (৩০) আটক করেছে পুলিশ।
আটক সাদ্দাম হোসেন উপজেলা সদর মধ্যবাজার গ্রামের জান মোহাম্মদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাদেবপুরে মধ্য বাজার এলাকার সাদ্দাম হোসেন তার স্ত্রীকে একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। গত ১৬ মার্চ পারিবারিক বিরোধের জের ধরে সাদ্দাম তার স্ত্রীকে ছুরিকাঘাত করেন। পরে গুরুতর জখম অবস্থায় স্থানীয়রা মিমিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান স্বজনরা। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক বলেন, ‘এ ঘটনায় শুক্রবার রাতেই নিহত গৃহবধূর স্বামী সাদ্দাম হোসেনকে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।
গোপালগঞ্জের পাঁচুড়িয়ায় ১৫০০ লিটার পেট্রোল অবৈধভাবে মজুদ করার অপরাধে ‘গঙ্গা মটরস’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ ২৮ মার্চ শনিবার দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারদিন খান প্রিন্স।
জানা গেছে, পাঁচুড়িয়া বাজারে অবস্থিত গঙ্গা মটরস নামের ওই প্রতিষ্ঠানে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এবং অধিক মুনাফার আশায় বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল মজুদ করে রাখা হয়েছিল। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে হানা দেয় এবং অবৈধভাবে রাখা ১৫০০ লিটার পেট্রোল জব্দ করে। আইন অমান্য করে এই বিপুল পরিমাণ তেল মজুদের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে তাৎক্ষণিকভাবে ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
জরিমানা করার পাশাপাশি জনস্বার্থ বিবেচনায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জব্দকৃত পেট্রোল সরকার নির্ধারিত মূল্যে উপস্থিত সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে বিক্রির নির্দেশ দেন। এই খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে সেখানে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘ লাইন পড়ে যায়। সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে তেল পাওয়ার সুযোগ পেয়ে প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং বাজার স্থিতিশীল রাখতে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা মটরস মালিক অর্ণব শর্মা (৫৬) জানান তিনি অসুস্থ থাকার কারনে এক সপ্তাহ দোকান খুলতে পারেননি তাই তার দোকানে এ অবিক্রীত পেট্রোল মজুদ রয়েছে। তিনি অসৎ উদ্দেশ্য বা অধিক মুনাফার আশায় মজুদ করেন নি।
তেল পরিবহনের কাজে নিয়োজিত ট্যাংকলরি চালকসহ তিন শ্রমিককে ভ্রাম্যমাণ আদালতে জেল-জরিমানার প্রতিবাদে রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছে শ্রমিক ইউনিয়ন। এতে উত্তরের ৮টি জেলায় জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।
জ্বালানি তেল পরিবহনের সময় তিন শ্রমিককে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও জরিমানা করার প্রতিবাদে এই অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। এতে পার্বতীপুরে রেলহেড অয়েল ডিপো থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহসহ সব কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। পেট্রোল পাম্প মালিকরা শ্রমিকদের কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেল নিয়ে নীলফামারীর যাওয়ার পথে তেলবাহী একটি লরির যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়। মেরামত করতে গাড়িটি দাড় করিয়ে শ্রমিকরা গাড়ির কেবিন খুলে কাজ করছিলেন। এ সময় নীলফামারী জেলার এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়া রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। তিনি লরি তল্লাশি করে কেবিনে দুটি জারকিনে ১০ লিটার পেট্রোল ও দুই লিটার ডিজেল পান। এ সময় অবৈধভাবে তেল পাচারের অভিযোগে একরামুল হক, চালক শ্রী কৃষ্ণচন্দ্র ও চালকের সহকারী রিফাতকে ছয় মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। সেই সঙ্গে তিন জনকে মোট এক লাখ টাকা জরিমানা করেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেন শ্রমিকরা। দুপুরে তারা পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর সামনে একটি সমাবেশ ও পরে বিক্ষোভ মিছিল করেন।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন, সড়কে মহাসড়কে পুলিশি হয়রানি ও অযৌক্তিকভাবে ট্যাংকলরি গাড়ির চালক, ম্যানেজার ও হেলপারকে জেল-জরিমানা করার প্রতিবাদে নিয়াজ ভূঁইয়াকে দ্রুত অপসারণ ও দণ্ডিত শ্রমিকদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই কর্মসূচি চলছে। দাবি বাস্তবায়ন বা পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আতাউর রহমান জানান, অবিলম্বে জেল হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির পাশাপাশি অভিযুক্ত এনডিসি নিয়াজ ভূঁইয়াকে অপসারণ করা না হলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় ট্যাংকলরি শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, জেল-জরিমানায় হাজতে পাঠানো শ্রমিকদের মুক্তির দাবিতে ধর্মঘট চলছে। আমরা আল্টিমেটাম দিয়েছি শ্রমিক ভাইদের নিঃশর্ত মুক্তি ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এনডিসির অপসারণ না হলে আমাদের ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে। আমাদের সঙ্গে পাম্প মালিকরাও একাত্মতা ঘোষণা করেছেন।
নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় তানভীর ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারকে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার ঘটনায় জেলার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করেছে নড়াইল পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি।
রোববার (২৯ মার্চ) দুপুরে দিকে নড়াইল পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম হিট্রু পাম্প বন্ধ ঘোষনার বিষযটি নিশ্চিত করেছেন। তিনি মুঠো ফোনে বলেন, তুলরামপুরে মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনের ম্যানেজার নাহিদ সর্দার হত্যার ঘটনায় জেলার ১০টি পাম্প এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেই সাথে প্রকৃত দোষের অতিদ্রুত আটকের ও দাবি জানান এই নেতা ৷
উলেখ্য, নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় এক পেট্রোল পাম্প ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরেক জন গুরুত্ব আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে।
রবিবার ( ২৯ মার্চ) দিবাগত রাত দুইটার দিকে সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের তুলারামপুর রেল ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ট্রাক চাপায় নিহত নাহিদ সরদার(৩৩) উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। এবং আহত জিহাদ মোল্যা(২৭) একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল সদর উপজেলার যশোর-নড়াইল মহাসড়কের পাশে তুলারামপুরে অবস্থিত মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে শনিবার রাত ১২টার দিকে ট্রাকের ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাক চালক সুজাত মোল্যা। পাম্পে তেল না থাকায় তেল দিতে পারেননি পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সরদার। তেল না পেয়ে ট্রাক চালকের সাথে বাগবিতণ্ডা হয়। বাগবিতণ্ডের এক পর্যায়ে ট্রাক চালক সুজাত ম্যানেজারকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করার হুমকি দেন।
পরে রাত দুইটার দিকে মোটরসাইকেল যোগে নিজ গ্রাম পেড়লী যাচ্ছিলেন ম্যানেজার নাহিদ ও কর্মচারী জিহাদ। পাম্প থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে পিছন দিয়ে এসে ট্রাক চালক সুজাত তার গাড়ি লক্ষ্য করে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে পাম্প ম্যানেজার নাহিদ সরদার মারা যান। মারাত্মক আহত অবস্থায় জিহাদ মোল্যাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তানভীর ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার জসীম উদ্দিন বলেন,"গতকাল রাতে সুজাত নামের এক ট্রাকচালক স্টেশনে তেল নিতে আসেন।
এ সময় তেল নেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ম্যানেজার নাহিদ সরদারের সঙ্গে ট্রাকচালকের বাগ্বিতণ্ডা হয়। তেল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে চালক প্রকাশ্যে ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন। পাম্পের কাজ শেষ করে নাহিদ তার সহযোগীকে নিয়ে যখন বাড়ি যাচ্ছিলেন, তখন পিছন দিয়ে গিয়ে তাকে ট্রাক চাপা দেয়।"
পাম্পের আরেক কর্মচারী সোহান হোসেন জানান, ম্যানেজার নাহিদ যখন মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি যাচ্ছিলেন তখন ট্রাক ড্রাইভার ও পাম্প থেকে গাড়ি চালিয়ে তার পিছন দিকে যাচ্ছিলেন। আমাদের মনে সন্দেহ হলে আমরা দ্রুত সামনের দিকে যাই। গিয়ে দেখি তাকে চাপা দিয়ে গাড়ি দ্রুত চলে যাচ্ছে।'
এ ঘটনায় নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনের হাহাজারি আর শোকোর মাতম। হত্যাকারীকে দ্রুত আটক করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি পরিবারের সদস্যরা। নিহতের নাহিদের ভাই আকতার সরদার বলেন, একই গ্রামে বাড়ি হলে ও হত্যাকারীদের সাথে আমাদের কোনো পূর্ব বিরোধ নেই। পাম্পে তেল নাই। সে কীভাবে দেবে। তেল দিতে না পারায় আমার ভাইকে সুজাত ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করেছে। আমি এ ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। এমনকি বাড়িতে তার কোনো পরিবারের সদস্য না থাকায় অভিযুক্তের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেকেন্দর আলী মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমরা সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই৷ সেখানে গিয়ে দেখি নাহিদ নামে একজন মৃত অবস্থায় রাস্তার উপর পড়ে আছে। জিহাদ মোল্যাকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হয়। পাম্প কর্তৃপক্ষের দাবি, পাম্পে তেল না পেয়ে তাকে ট্রাকে চাপা দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। এবং ট্রাক চালক ও ট্রাক আটক করার জন্য আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
যশোরের মণিরামপুরে একটি ধানের আড়ত ও গুদামে অবৈধভাবে মজুত করা প্রায় ৭০০ লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলার খেদাপাড়া বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিনের নেতৃত্বে এই অভিযান পরিচালিত হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, খেদাপাড়া বাজারের জ্বালানি তেল বিক্রেতা তবিবর রহমান ও পাশের ধান ব্যবসায়ী গোবিন্দ দাসের গুদামে প্লাস্টিকের চারটি ড্রামে এই বিপুল পরিমাণ তেল লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিকালে অভিযান চালানো হলে প্রথমে গোবিন্দের আড়তে ধানের স্তূপের নিচ থেকে এক ড্রাম তেল উদ্ধার করা হয়। পরে স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তবিবরের নিজস্ব গুদাম থেকে আরও তিন ড্রাম তেল জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে মূল অভিযুক্ত তবিবর রহমান সটকে পড়েন।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহির দায়ান আমিন জানান, জব্দ করা তেলের মধ্যে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে পরিমাপ না করা গেলেও ড্রামগুলোর ধারণক্ষমতা অনুযায়ী তেলের পরিমাণ আনুমানিক ৭০০ লিটার। জব্দ করা এই তেল মণিরামপুর বাজারের একটি ফিলিং স্টেশনের মাধ্যমে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করে প্রাপ্ত অর্থ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দেওয়া হবে।
বাজারের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তবিবর রহমান দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ক্রেতাদের কাছে তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিতেন। অথচ তিনি গোপনে ১৮০ থেকে ২০০ টাকা লিটার দরে পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করতেন। ধানের আড়তদার গোবিন্দের সাথে সখ্যের সুবাদে তবিবর তার গুদামকে অবৈধ মজুতের নিরাপদ স্থান হিসেবে ব্যবহার করে আসছিলেন। শনিবার সকালে আড়তে ধানের নিচে ড্রাম দেখতে পেয়ে স্থানীয়রাই প্রশাসনকে খবর দেয়।