ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
আধুনিকতায় ছোঁয়া লেগেছে প্রত্যন্ত গ্রামেও। হাতে মোবাইল নেই, এমন পরিবার খুব কমই আছে। ঈদ এলে প্রেমিক-প্রেমিকা, প্রিয়জন, বন্ধু-বান্ধব সবাই ঈদ কার্ডের শুভেচ্ছা বিনিময় করত। এখন মেসেঞ্জার, ফেসবুকে, টুইটারে, ইন্সটাগ্রামে, টেরিগ্রামসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হচ্ছে।
এখন আর পাড়া-মহল্লার মোড়ে মোড়ে, অলিগলিতে বাহাড়ি ঈদ কার্ডের দোকান চোখে পড়ে না। কার্ড কেনার জন্য ছোট শিশুরাও আর বায় না ধরে না। স্কুল খরচের টাকা বাঁচিয়ে ঈদ কার্ড কেনার আনন্দ এখন স্মৃতির অতল গহীনে হারিয়ে গেছে।
মাইশা ইসলাম এ ব্যাপারে বলেন, ‘আগের মতো এত সময় কই, তা ছাড়া খুঁজে খুঁজে কার্ড বিতরণ করার দিন শেষ।’
ডিজিটাল যুগে কয়েক সেকেন্ডেই হাজারও মানুষের কাছে ‘কপি-পেস্ট’ করা শুভেচ্ছা পৌঁছে যায়।’ এক সময় ঈদ মানেই ছিল প্রিয়জনদের হাতে হাতে ঈদ কার্ড পৌঁছে দেওয়ার এক অদ্ভুত শিহরণ। আজ তথ্যপ্রযুক্তির কারণে সবকিছু বদলে গেছে, আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের উৎসবগুলো হয়ে ওঠেছে যান্ত্রিক।
আমাদের বাবা-মায়েদের কিশোর বা তরুণ বয়সে রোজা শুরুর পর থেকেই শুরু হতো ঈদ কার্ড সংগ্রহের তোড়জোড়। পাড়ার মোড়ে মোড়ে বসত ছোট ছোট কার্ডের দোকান। কেউ বেছে নিতেন প্রাকৃতিক দৃশ্যের কার্ড, কেউবা নিতেন গ্লিটার মাখানো ঝকঝকে কোনো নকশা। নিজের হাতে কার্ডের ভেতরে দু-এক লাইন শুভেচ্ছা বাণী লেখা আর নিচে নাম লিখে দেওয়া- সে এক অন্যরকম পাওয়া। প্রিয় বন্ধু বা আত্মীয়ের হাতে সরাসরি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার মধ্যে যে আন্তরিকতা ছিল, তা আজকের হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার নীল টিকে খুঁজে পাওয়া অসম্ভব।
তথ্যপ্রযুক্তির দ্রুত উন্নতি আমাদের জীবনকে সহজ করেছে সত্য; কিন্তু কেড়ে নিয়েছে অনেক প্রাণবন্ত ঐতিহ্য। এখন ঈদের শুভেচ্ছা মানেই একটি ফরোয়ার্ড করা মেসেজ, মেসেঞ্জারের ইমোজি কিংবা ফেসবুকে আপলোড করা একটি পোস্ট। ক্লিক করলেই শুভেচ্ছা পৌঁছে যাচ্ছে হাজার মাইল দূরে; কিন্তু সেই বার্তার পেছনে সময় দেওয়ার ধৈর্য কিংবা মনের টান আজ অনেকটা ম্লান। আমরা হয়তো সময় বাঁচাচ্ছি; কিন্তু অজান্তেই হারিয়ে ফেলছি সম্পর্কের সেই ‘ব্যক্তিগত পরশ’।
দুঃখজনক হলেও সত্যি, আধুনিকতার চাকচিক্যের নিচে চাপা পড়ে গেছে আমাদের পূর্বসূরিদের সেই মায়াভরা ঈদ কার্ডের প্রচলন। আমরা অনেক কিছু উন্নত করতে পারি; কিন্তু শৈশব বা কৈশোরের সেই স্মৃতিগুলোকে তো আর আধুনিক করা যায় না। কার্ডের ভাঁজে লেগে থাকা সেই ভালোবাসা আজ কেবলই অ্যালবামের কোণে ধুলো জমা এক দীর্ঘশ্বাস। মা-বাবার কাছে যখন সেই দিনগুলোর গল্প শুনি, তখন বোঝা যায় আমরা কতটা যান্ত্রিক এক বৃত্তে বন্দি হয়ে পড়েছি।
প্রযুক্তির অগ্রযাত্রাকে আমরা অস্বীকার করছি না, তবে ঐতিহ্যের এই মৃত্যু আমাদের কিছুটা রিক্ত করে দেয়। ডিজিটাল শুভেচ্ছা আসুক; কিন্তু হৃদয়ের মলাটে মোড়ানো সেই পুরোনো ঈদ কার্ডের আবেদন চিরকাল অমলিন থাকুক আমাদের স্মৃতির মণিকোঠায়। হয়তো একদিন আবার কোনো নতুন প্রজন্ম এই যান্ত্রিকতা থেকে মুক্তি পেতে ফিরে তাকাবে সেই ফেলে আসা রঙিন দিনগুলোর দিকে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত দুইটা। দক্ষিণ থেকে ধেয়ে আসা আকস্মিক ঝড় শুরু হয় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনাঘেঁষা দশটি এলাকার ওপর দিয়ে। এতে ওইসব এলাকার অর্ধশত বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। সেই সাথে অসংখ্য গাছপালাও উপড়ে পড়েছে। চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো।
প্রতিদিনের মত ঢালচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মফিজ তার পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতের খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছেন। সেহেরির সময়ের দুই ঘণ্টা আগেই দক্ষিণ থেকে ধেঁয়ে আসা তীব্র গতির বাতাসে তার বসতঘরের চালা উড়ে যায়। তিনি বলেন, ‘আজ থেকে তিন দিন পরেই ঈদ। ঈদের আগেই আমাদের মাথাগোঁজার ঠাই হারিয়ে ফেলেছি। ঝড় আমাদের ঈদ আনন্দ কেড়ে নিয়েছে। শুধু আমি না, আমার মত বহু পরিবার বসত ঘর হারিয়ে পথে বসেছে।’
একই ভাবে ঢালচরের কয়েকটি ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. হাসান, মো. ইব্রাহিম, মো. জসিম, আক্তার, মো. রিয়াজ, শাহিন হাওলাদার, মো. আনোয়ার ও মো.গিয়াস উদ্দিনের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাত প্রায় ২ টার দিকে হঠাৎ করেই প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয়। প্রথমে হালকা বাতাস থাকলেও কিছুক্ষণের মধ্যেই তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। ঝড়ের সাথে গুড়ি গুড়ি শিলা বৃষ্টিও হয়। ঝড়ের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং কাঁচা ঘরবাড়ি মুহূর্তেই মাটির সঙ্গে মিশে যায়। অনেক পরিবার রাতের আঁধারেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটোছুটি করতে থাকে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঢালচর ইউনিয়নের বাসিন্দারা। তাদের বেশিরভাগই কাঁচা ঘরে বসবাস করায় ঝড়ের আঘাত সহ্য করতে পারেনি। অনেকের ঘরের আসবাবপত্র, খাদ্যসামগ্রী এবং প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বার্হী কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, চরফ্যাশন উপজেলার ঢালচর, কুকরি মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, চর ফারুকি, চর মানিকা, নজরুল নগরসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় অর্ধশত বাড়িঘর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের চর কচ্চপিয়া গ্রামের বাসিন্দা সেলিম বলেন, ‘আমি একজন ব্যবসায়ী। বাতাসের প্রবল চাপে চর কচ্চপিয়া বাজারের ঘরের চালা উড়ে যায়।’
ঢালচর ইউনিয়নে প্রশাসক ও ঢালচর বন কর্মকর্তা মুইনুল মুঠোফোনে জানান, হঠাৎ ঝড়ে প্রায় ঢালচরে ত্রিশটি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষতিগ্রস্তের বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। চর মানিকা ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মিনারা বেগম জানান, চর মানিকা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বিশটি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে।
চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এমাদুল হোসেন জানান, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
ভোজ্য তেলের ক্রমবর্ধমান দাম ও সরবরাহ সংকটের কথা চিন্তা করে অনেক কৃষক এখন সূর্যমুখী চাষের দিকে ঝুঁকছেন। কম খরচে ভালো লাভ হওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের অনেক কৃষকের কাছে সূর্যমুখী একটি সম্ভাবনাময় ফসল হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এ বছর আগের তুলনায় বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করা হয়েছে। মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্যই বাড়াচ্ছে না, কৃষকদের মাঝেও সৃষ্টি করছে নতুন আশার আলো। উপজেলার দক্ষিণ তাফালবাড়ি গ্রামের কৃষক সুবাস মাঝি বলেন, ‘ভোজ্যতেলের বাড়তি দাম থাকার কারণে আমরা নিজেরাই তেল উৎপাদনের কথা ভাবছি। সূর্যমুখী চাষে খরচ কম এবং ফলনও ভালো হয়। তাই এবার এক বিঘা জমিতে সূর্যমুখী চাষ করেছি।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা দেবব্রত সরকার জানান, উপকূলীয় এলাকার মাটি ও আবহাওয়া সূর্যমুখী চাষের জন্য বেশ উপযোগী। সঠিক পরিচর্যা করলে প্রতি বিঘা জমিতে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব। পাশাপাশি কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যাতে তারা সূর্যমুখী চাষে আরও আগ্রহী হন।
কৃষি বিভাগের মতে, সূর্যমুখী বীজ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যসম্মত এবং পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এ কারণে দেশে ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটাতে সূর্যমুখী চাষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পক্ষ থেকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) নগর ভবনের গ্রিন প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ১২৩৭ (১ হাজার ২ শত সাঁইত্রিশ) জন পরিচ্ছন্ন কর্মীদের মাঝে অনুদানের অর্থ তুলে দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ১ হাজার ২ শত ৩৭ জন পরিচ্ছন্ন কর্মীর প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা করে সর্বমোট ৬১ লাখ ৮৫ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়। এবার প্রথমবারের মতো রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পরিচ্ছন্ন কর্মীরা প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঈদ উপহার পেলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাসিক প্রশাসক। এছাড়া তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহীর শহীদ আলী রায়হান ও অন্যান্য শহীদ পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, শহর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেন, সেই পরিচ্ছন্ন কর্মীদের জন্য ঈদ উপহার হিসেবে আর্থিক অনুদান দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমি প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই। ইতঃপূর্বে কোনদিন এভাবে পরিচ্ছন্নকর্মীদের ঈদ উপহার প্রদান করা হয়নি। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমি রাজশাহী সিটি করপোরেশনের খালি হাতে আসিনি। তার উপহার নিয়েই এসেছি।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী অনেক আশা করে আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, রাজশাহীকে আরো সুন্দর ও উন্নত করতে হবে। আমি সেই লক্ষ্যে কাজ করে যাব ইনশাল্লাহ। রাসিক প্রশাসক বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি করতে কৃষষদের জন্য খাল খনন কর্মসূচি চালু করেছিলেন। এবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। যা সারাদেশের কৃষকদের উপকার হবে।
তিনি আরও বলেন, হাতের আংগুলে ভোটের কালির দাগ শুকানোর পূর্বে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইনশাল্লাহ আগামী ৫ বছরে ৫ কোটি মানুষকে ফ্যামিল কার্ড প্রদান করা হবে। তিনি ঈমাম, মোয়াজ্জিম, খাদেমদের সম্মানী ভাতা দিয়েছেন। যা ইতঃপূর্বে কেউ দেয়নি। প্রধানমন্ত্রী দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করছেন। তার জন্য সকলে দোয়া করবেন।
রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, সিটি করপোরেশন নাগরিক সেবার প্রতিষ্ঠান। আমরা অত্যন্ত আন্তরিকতার মাধ্যমে নাগরিকদের নাগরিক সেবা প্রদান করব। রাজশাহী মহানগরবাসী যা চায়, আমরা তা করব। নগরীর যেসব উন্নয়ন কাজ অসমাপ্ত রয়েছে, সেগুলো সমাপ্ত করব। আগামীতে রাজশাহীকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, সুন্দর, সুখী, আধুনিক ও তিলোত্তমা নগরী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। একাজে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা কামনা করছি। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। স্বাগত বক্তব্য দেন রাসিকের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন। অনুষ্ঠান মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশিদ, রাসিকের সচিব সোহেল রানা, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) আহমদ আল মঈন পরাগ প্রমুখ। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেয়ে খুঁশি ও উচ্ছ্বসিত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা। পরিচ্ছন্ন কর্মী রাজিবুল ইসলাম বলেন, আমি দীর্ঘদিন রাজশাহী সিটি করপোরেশনে চাকরি করছি। চাকরিজীবনে কোনদিন এভাবে অনুদান পাইনি। অনুদান পেয়ে আমরা অনেক খুঁশি।
পরিচ্ছন্ন কর্মী মরিয়ম ও সুমাইয়া বলেন, ঈদে অনেক খরচ। কীভাবে ছেলে-মেয়ে নিয়ে ভালোভাবে ঈদ করব, এই নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। তারপর যখন প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহার পেলাম তখন চিন্তা মুক্ত হলো। এবার ভালোভাবে ঈদ করতে পারব। আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। তিনি যেন এভাবেই আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারেন।
পরিচ্ছন্নকর্মী হারুনুর রশীদ বলেন, ঈদ উপহার পেয়ে আমরা অনেক আনন্দিত। এই অনুদান পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন কাজে আমাদের আরও উৎসাহ যোগাবে।
আন্তর্জাতিক ইঞ্জিনিয়ারিং অঙ্গনে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)-এর শিক্ষার্থীরা। কৃষি ও বায়োসিস্টেম ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম ‘কৃষি ও জৈবব্যবস্থা প্রকৌশলের আন্তর্জাতিক কমিশন’ (সিআইজিআর) আয়োজিত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা ২০২৫-২৬-এ চারটি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে জয়লাভ করেছে বাকৃবির চারটি পৃথক দল।
আমেরিকা, ব্রাজিল, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, থাইল্যান্ড, ঘানা, নাইজেরিয়াসহ বিভিন্ন প্রান্তের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে প্রতিযোগিতা করে বাকৃবি শিক্ষার্থীরা দুটি গোল্ড (প্রথম স্থান) এবং দুটি ব্রোঞ্জ (তৃতীয় স্থান) পদক লাভের গৌরব অর্জন করেছে।
প্রতিযোগিতার ফলাফলে দেখা যায়, ‘এনার্জি ইন অ্যাগ্রিকালচার’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৪) ক্যাটাগরিতে কৃষিতে জ্বালানি ও শক্তি ব্যবহারের আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ করে প্রথম স্থান (গোল্ড) অধিকার করে বাকৃবির একটি দল। দলের সদস্যরা হলেন- মো. আবু হোরায়রা আল রেজন, আমিনা আরিফ রিয়া এবং শোয়াইব আহমেদ সতেজ।
খামার ব্যবস্থাপনা ও কর্মপরিকল্পনা অপ্টিমাইজেশনের ওপর ভিত্তি করে আয়োজিত ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-৫) বিভাগেও প্রথম স্থান অর্জন করেছে বাকৃবির আরও একটি দল। স্বর্ণপদক জয়ী এই দলের সদস্যরা হলেন- তানভীর হোসেন, খৈরম অনন্ত অনি এবং নুসরাত জাহান মুমু।
সাফল্যের এই ধারাবাহিকতায় ব্রোঞ্জ পদক জয়েও উজ্জ্বল ছিল বাকৃবির নাম। স্থাপত্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্রকৌশল সমাধানের লক্ষ্যে ‘স্ট্রাকচারস অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট’ (টেকনিক্যাল সেকশন-২) ক্যাটাগরিতে ব্রোঞ্জ পদক অর্জন করেছেন সাবিদুর রহমান শেজান এবং নুসরাত জাহান জুঁই।
এ ছাড়া ‘সিস্টেম ম্যানেজমেন্ট’ বিভাগে আরও একটি ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছে এম. রাহাত মিয়া এবং খন্দকার জুনায়েদ আহমেদের দল।
আন্তর্জাতিক এই অর্জনের স্বীকৃতিস্বরূপ গোল্ড মেডেল জয়ী বাকৃবির দুটি দলের প্রত্যেকটি ৫০০ মার্কিন ডলার এবং ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ী বাকি দুটি দলের প্রত্যেকটি ২০০ মার্কিন ডলার করে অর্থ পুরস্কার ও সনদপত্র লাভ করবে। আগামী ২০২৬ সালের জুন মাসে ইতালির তুরিনে অনুষ্ঠিতব্য ‘সিআইজিআর ওয়ার্ল্ড কংগ্রেস’-এ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ীদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হবে।
পবিত্র ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষে মাদারীপুরে গরীব, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ বস্ত্র বিতরণ করল বেসরকারি সামিজক সংগঠন ‘তারুণ্য পরিবার’। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে মাদারীপুর বণিক সমিতির কার্যালয়ে ওই সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক সোহাগ হাসানের পরিচালনায় ও মানবাধিকার কর্মী অ্যাডভোকেট মশিউর রহমান পারভেজের সঞ্চালনা এ সময় প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্তিত থেকে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাক্তার গোলাম সরোয়ার, সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) এর জেলা শাখার সভাপতি এনায়েত নান্নু, বিশিষ্ট সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী শরীফ মো. ফায়েজুল কবীর, সমাজকর্মী রেজাউল ইসলাম রেজা প্রমুখ।
ওই অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, সমাজের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফোটাতে এবং ঈদের আনন্দ সবার সাথে ভাগাভাগি করে নিতে বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত এসব গরীব ও অসহায়দের মাঝে এরুপ মহৎ কাজ তথা ঈদ বস্ত্র বিতরণ নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে।
এ সময় অর্ধশতাধিক শিশুদের মাঝে তাদের মায়েদের উপস্থিতিতে নতুন পোশাক বিতরণ করা হয়। পোশাক পেয়ে শিশুদের মুখে অনেক হাসি ফোটে। তারুণ্য পরিবারের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সোহাগ হাসান সহ তাদের কর্মকর্তারা বলেন, সকলের ভালোবাসায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় গরিব, অসহায় ও দুঃস্থ শতাধিক পরিবারের মাঝে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ২০৩ পদাতিক বিগ্রেডের আওতাধীন ৩০ বীর খাগড়াছড়ি সদর জোন।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) সকালে জোন সদরে থেকে টহলকারী টিম ঈদ সামগ্রী নিয়ে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা সদরের শাল বাগান, আদর্শপাড়া, দয়ানগর, গরু গাড়ি টিলাসহ পাশ্ববর্তী এলাকার অসহায়, দুঃস্থ, প্রতিবন্ধী, বৃদ্ধ ও বিধবাসহ শতাধিক মানুষের মাঝে এ ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
খাগড়াছড়ি সদর জোন অধিনায়ক লে. কর্নেল মোঃ খাদেমুল ইসলামের নির্দেশে সদর উপজেলার দারিদ্র্য পরিবারগুলোকে চিহ্নত করে শতাধিক মানুষের মাঝে উপহার সামগ্রী পৌঁছে দিতে কাজ করেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরা।
সেনাবাহিনীর পক্ষে থেকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধি, এবং শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সেনাবাহিনী সবসময় জনগণের পাশে আছে। তিনি আরো জানান, দায়িত্বপূর্ণ এলাকার গরিব ও অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সবাইকে ছাপিয়ে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে জোড় আলোচনায় উঠে এসেছেন বিএনপি নেতা মোঃ রুহুল আমিন শরীফ। রবিবার দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এতে বরগুনা বাদে বরিশাল বিভাগের পাঁচটি জেলাই নতুন প্রশাসক পেয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে ইতোপূর্বে বরগুনায় যাদের নাম আলোচনায় ছিল, বর্তমানে তাদের সম্ভাবনা কম। যদি তাদের মধ্যে কেউকে প্রশাসক করা হতো, তাহলে প্রথম পর্বের তালিকায় আসতো। যেহেতু সেটা হযনি, তাই নতুন কাউকে নিয়ে ভাবা হচ্ছে এমনটাই ভবছেন তারা। এমন প্রেক্ষাপটে আলোচনায় উঠে এসেছে শিল্পপতি মোঃ রুহুল আমিন শরীফের নাম। গত দুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোরেশোরেই আলোচিত হচ্ছে বিষয়টি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মোঃ রুহুল আমিন শরীফের বাড়ি বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার রামনা ইউনিয়নে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। ছিলেন বামনা উপজেলা বিএনপির সম্মানিত সদস্য। বরগুনার বিএনপিতে একজন সৎ ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে তিনি বামনায় দলের একজন নির্ভরযোগ্য কান্ডারী ছিলেন। দলের প্রয়োজনে আর্থিক সহায়তাসহ সবধরনের সহযোগিতা করেছেন তিনি। বিশেষকরে ছাত্রদল, যুবদল, সেচ্ছাসেবক দলসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের আস্থার পাত্র তিনি। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। বর্তমানে তিনি মাইক্রোটেক্স ডিজাইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, প্রিটেক্স ফ্যাশন ও ক্রিয়েটি ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের চেয়ারম্যান, প্লাটিনাম ফ্যাশনের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে রয়েছেন। এছাড়াও তিনি বিজিএমইএ'র সদস্য এবং বিজিবিএ'র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। রাজনীতি ও ব্যবসার পাশাপাশি নির্বাচনেও তার রয়েছে ব্যাপক দক্ষতা। তিনি বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে চীফ হুইপ মোঃ নূরুল ইসলাম মণির নির্বাচন পরিচলনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এক সময়ে তিনি নূরুল ইসলাম মণির একান্ত সচিব ছিলেন এবং বর্তমানে তার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বর্তমানে বরগুনা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে তাকে নিয়েই জোড় গুঞ্জন চলছে। বিশেষভাবে তার সততা ও গ্রহনযোগ্যতা এক্ষেত্রে তাকে সবার চেয়ে এগিয়ে রেখেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোঃ রুহুল আমিন শরীফ বলেন, আমি সারা জীবন বিএনপির জন্য নিবেদিতভাবে কাজ করেছি। দলের কঠিন সময়ে নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছি। কিন্তু কখনও কিছু চাইনি। তবে দলের প্রয়োজনে যেকোনও দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত আছি।
উল্লেখ্য, জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বরগুনা জেলা বিএনপির আহবায়ক মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক ফজলুল হক মাস্টার, সদস্য সচিব এসএম হুমায়ূন হাসান শাহিন, সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এজেডএম সালেহ ফারুক অন্যতম।
ঈদ সামনে রেখে যমুনা সেতুতে গাড়ি পারাপারের চাপ বেড়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) থেকে সোমবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় টোল আদায় হয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা ।
রোববার রাত ১২টা থেকে সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত এ সেতু দিয়ে গাড়ি পারাপার করেছে ৩৫ হাজার ৬৫৮টি।
জানা গেছে, প্রতি ঈদেই যমুনা সেতুতে গাড়ি পারাপারে চাপ বাড়ে এবং টোল আদায় হয়ে থাকে দ্বিগুণ বা তার চেয়েও বেশি। এবারও একই ঘটনা ঘটেছে।
এতে পূর্ব পাড় থেকে ১ কোটি ৪৮ লাখ ১৬ হাজার ৫৫০ টাকা এবং পশ্চিম পাড় থেকে ১ কোটি ৪৬ লাখ ৬৬ হাজার ১০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে। পূর্ব পাড়ে গাড়ি পার হয়েছে ২০ হাজার ৭৫টি এবং পশ্চিম পাড়ে গাড়ি পার হয়েছে ১৫ হাজার ৫৮৩টি।
যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদ উপলক্ষে গাড়ি পারাপারের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। আগামী দুই দিন আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ভোটারদের আঙুলের কালির দাগ শুকানোর আগেই নির্বাচনের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে বর্তমান সরকার। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স এখনও এক মাসও হয়নি। ভোটারদের আঙুলের কালির দাগ এখনও শুকায়নি। এর মধ্যেই নির্বাচনের সময় দেওয়া পাঁচটি প্রতিশ্রুতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করা হয়েছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১১টায় বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের কুতুবপুর স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশে চলমান খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। কৃষক কার্ড বিতরণের প্রস্তুতি চলছে। কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ইমামদের ভাতা প্রদান শুরু হয়েছে। আজকের খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সরকারের আরেকটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু হলো।
গণমাধ্যম যত বেশি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল হবে, সরকার তত বেশি জবাবদিহিতার মধ্যে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তথ্যমন্ত্রী।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ঈদের পরপরই সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ ও কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য গণমাধ্যমকে জানানো হবে।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কৃষি বিপ্লব এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খনন কর্মসূচি বর্তমান সরকারের একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় কৃষকরা সহজে সেচ সুবিধা পাবেন এবং ভূ-পৃষ্ঠের পানির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যা জাতীয় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সঙ্গে বর্তমান নেতৃত্বের পার্থক্য হলো-তারেক রহমান যা বলেন, তা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেন। ইতোমধ্যে পাঁচটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন, সরকারের কার্যক্রম জনগণের সামনে তুলে ধরতে গণমাধ্যমকে সর্বোচ্চ স্বাধীনতা দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বরিশাল জেলার নবাগত পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান, বিএডিসি বরিশাল সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী চঞ্চল কুমার মিস্ত্রী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব এবং বিএডিসির উপসহকারী প্রকৌশলী সাহেদ আহম্মেদ চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএডিসির প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ ওয়াহিদ মুরাদ, গৌরনদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবু ছালেহ মো. আনছার উদ্দিন, জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মিজানুর রহমান খান মুকুল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বদিউজ্জামান মিন্টু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন শরীফ এবং ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব সফিকুর রহমান শরীফ স্বপনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ মোল্লা টিপু। সোমবার সকাল ১১টায় তিনি সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ শাহ আলমের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব বুঝে নেন।
দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় সাবেক প্রশাসক শাহ আলম নগরবাসীকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে না পারার ব্যর্থতা স্বীকার করে দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান। পরে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে তিনি তার দায়িত্ব পালনের সীমাবদ্ধতা ও ব্যর্থতার বিষয়টি তুলে ধরেন।
নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করার ঘোষণা দেন নবনিযুক্ত প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু। তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “আমার প্রথম কাজ হবে কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনকে দুর্নীতিমুক্ত করা। পাশাপাশি আগামীকাল থেকেই যানজট নিরসন এবং মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারে মাঠে নামব। আশা করি কুমিল্লাবাসীর প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্টের পর কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে এটি তৃতীয়বারের মতো প্রশাসক পরিবর্তন হলো।
দেশব্যাপী ‘খাল খনন কর্মসূচি ২০২৬’-এর উদ্বোধন করতে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সৈয়দপুর থেকে সড়ক পথে কর্মসূচিস্থল দিনাজপুর যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বার্তায় বলা হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার (১৬ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুরে ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে ‘খাল খনন কর্মসূচি-২০২৬’ উদ্বোধন করবেন।
এ উপলক্ষ্যে সকাল সাড়ে ৯টায় একটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ঢাকা বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেন। সৈয়দপুর পৌঁছে সেখান থেকে সড়ক পথে কর্মসূচিস্থলে যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে গতকাল পাঠানো সফরসূচি অনুযায়ী, ‘সাহাপাড়া খাল’ খননের মাধ্যমে দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টায় সেখানেই আয়োজিত এক জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
জনসভা শেষে বিকেলে জেলার শেখ ফরিদ মডেল কবরস্থানে যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখানে শায়িত তার নানা-নানি ও খালার কবর জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর বিকেল ৫টায় দিনাজপুর সার্কিট হাউস চত্বরে আয়োজিত সুধী সমাবেশ ও ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।
নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সোমবার (১৬ মার্চ) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে বিমানযোগে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পোঁছান। এ সময় নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা যায়, বিমানবন্দর থেকে তাকে বহনকারী বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাসযোগে তিনি সৈয়দপুর শহর হয়ে দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া নামকস্থানে ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একইসঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৪টি জেলার খাল খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তার নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ (চকলেট) নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আগমন ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা।
সৈয়দপুর থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, প্রধানমনন্ত্রীর আগমন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সজাগ রয়েছে। কয়েক স্তরের নিরাপত্তা গড়ে তোলা হয়েছে।