ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
তরুণ সমাজকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা, অকাল মৃত্যু রোধ এবং সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রতিটি সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১৭ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই প্রস্তাব দেয় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন এবং ইউনাইটেড ফোরাম অ্যাগেইনস্ট টোব্যাকো।
সংবাদ সম্মেলনে প্রিমিয়াম, উচ্চ, মধ্যম ও নিম্ন— এই চারটি মূল্যস্তর নির্ধারণ করে সিগারেটের দাম বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, প্রিমিয়াম স্তরের প্রতি ১০ শলাকার প্যাকেটের খুচরা মূল্য ২০০ টাকা এবং এর সঙ্গে ৬৭ শতাংশ এক্সাইজ বা আবগারি শুল্ক ও প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই হিসাবে প্রতিটি সিগারেটের খুচরা মূল্য দাঁড়ায় ৩৫ টাকা।
উচ্চ মূল্যস্তরের প্রতি প্যাকেটের খুচরা মূল্য আগের তুলনায় ১০ টাকা বাড়িয়ে ১৫০ টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এর সঙ্গে ৬৭ শতাংশ এক্সাইজ শুল্ক ও প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর যুক্ত হলে প্রতি শলাকা সিগারেটের দাম দাঁড়াবে ২৫ টাকা ৪৫ পয়সা, যা আগের তুলনায় প্রতি শলাকায় প্রায় ২ টাকা বেশি।
মধ্যম ও নিম্নস্তরের ১০ শলাকার প্রতি প্যাকেটের দাম যথাক্রমে ৮০ ও ৬০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সঙ্গে ৬৭ শতাংশ এক্সাইজ শুল্ক ও প্রতি প্যাকেটে নির্দিষ্ট ৪ টাকা কর সংযুক্ত হলে, প্রতিটি সিগারেটের দাম দাঁড়াবে ১৭ টাকা ১ পয়সা।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে প্রস্তাবিত মূল্যবৃদ্ধি কার্যকর করা হলে প্রায় পাঁচ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি ধূমপান থেকে বিরত থাকতে উৎসাহিত হবে এবং ৩ লাখ ৭২ হাজারের বেশি তরুণ ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে। দীর্ঘমেয়াদে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৪০৮ জন প্রাপ্তবয়স্ক এবং ১ লাখ ৮৫ হাজার ৩৩৫ জন তরুণের অকাল মৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।
একই সঙ্গে তামাক ব্যবহারের হার প্রায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমবে এবং ৮৫ হাজার কোটি টাকার বেশি তামাক কর রাজস্ব আদায় হবে, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকা বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, সবধরনের দ্রব্যমূল্যের দাম বাড়ছে, কিন্তু সিগারেটের দাম কেন বাড়বে না? আমরা সিগারেটের দাম বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছি, যাতে অর্থনৈতিক কারণেই তরুণ ও নিম্ন আয়ের মানুষ ধূমপান থেকে নিরুৎসাহিত হয়। কারণ, ধূমপানের ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও তরুণরা ক্যান্সার, শ্বাসকষ্টসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে অনেক পরিবার নিঃস্ব হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে সরকার অতিরিক্ত ৪৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব পাবে। এই অর্থ জনস্বাস্থ্য খাতে, বিশেষ করে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে ব্যয় করা গেলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সহজ হবে।
এনবিআরের প্রতি প্রশ্ন রেখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সুফিয়ান নাহিন শিমুল বলেন, দেশে সব পণ্যের দাম বাড়ে, কিন্তু সিগারেটের দাম বাড়াতে এনবিআরের এত আপত্তি কেন? আমরা মূলত নিম্ন ও মধ্যমস্তরের সিগারেটের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছি। কারণ, সিগারেটের প্রায় ৯০ শতাংশ বাজার এই দুই স্তরের দখলে।
এই শ্রেণির ভোক্তারা দামের বিষয়ে খুব সংবেদনশীল। একইভাবে যারা নতুন করে ধূমপান শুরু করে, তাদের কাছেও দাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ফলে দাম বাড়লে তারা ধূমপান শুরু করতে নিরুৎসাহিত হবে বলেও তিনি মনে করেন।
জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. মুহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন বলেন, দেশে ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্তদের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশের ক্ষেত্রে ধূমপান প্রধান কারণ। একটি সিগারেটে প্রায় ৭ হাজার রাসায়নিক উপাদান থাকে, যার মধ্যে অন্তত ৭০টি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে। প্রতি বছর প্রায় ১২ হাজার মানুষ শুধু ফুসফুস ক্যান্সারে মারা যায়। তাই মানুষকে ধূমপান থেকে দূরে রাখতে না পারলে ভবিষ্যতে চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বড়ো চাপ তৈরি হবে।
দেশের দিকে ধেয়ে আসছে নতুন বৃষ্টি বলয়। আজ ১২ বা ১৩ মে দেশের উত্তরাঞ্চল দিয়ে এটি বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া পর্যবেক্ষক দল (বিডব্লিউওটি)।
সংস্থাটি জানিয়েছে, বৃষ্টিবলয়ের প্রভাবে টানা ৯ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দফায় দফায় বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। বিশেষ করে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বিডব্লিউওটি আরও জানায়, ১২ বা ১৩ মে দেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে এ বৃষ্টি বলয় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে। এরপর ১২ মে থেকে ২০ মে পর্যন্ত এটি সক্রিয় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃষ্টি টানা না হয়ে বিরতি দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর বিভাগ, ময়মনসিংহ বিভাগ ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টি বলয়টি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে। একই সঙ্গে উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের জেলাগুলোতে তীব্র বজ্রপাতের প্রবল আশঙ্কার কথাও বলা হয়েছে।
এছাড়া রাজশাহী বিভাগ, ঢাকা বিভাগ ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু এলাকায় মাঝেমধ্যে বৃষ্টি হতে পারে। যদিও এসব অঞ্চলে বড় পরিসরে বা দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টির সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
অন্যদিকে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে, বিশেষ করে খুলনা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ-এ এ বৃষ্টি বলয়ের প্রভাব তুলনামূলক কম থাকতে পারে। সেখানে আবহাওয়া প্রায় স্বাভাবিক থাকতে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও বিচ্ছিন্নভাবে দুয়েক দিন হালকা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে, তবে তা বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না।
নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নে মাটি কাটা গর্তে জমে থাকা পানিতে ডুবে নিহা ও জান্নাত নামের দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল সোমবার দুপুরে নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডে আতিক উল্লাহ হাজী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলো, ওই বাড়ির জোবায়েদের মেয়ে নিহা আক্তার (৩) ও একই বাড়ির ইউসুফের মেয়ে জান্নাত (৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে ওই বাড়ির পাশ থেকে মাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছিল। ফলে ওই কাটা অংশগুলোতে গর্তের সৃষ্টি হয়। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে সেই গর্তে পানি জমে যায়। দুপুরে দুই শিশু একসাথে বাড়ির আঙ্গিনায় খেলতে খেলতে গর্তের কাছে চলে যায়। এক সময় সেখানে জমে থাকা পানিতে পড়ে যায় তারা। পরে পরিবারের সদস্যরা তাদের খুঁজতে শুরু করলে কিছুক্ষণ পর গর্তের পানিতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, নরোত্তমপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ফসলি জমিসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটা হচ্ছে। এ মাটি কাটার ফলে একদিকে যেমন ফসলের জমি নষ্ট হচ্ছে, তেমনি যে সড়কগুলো দিয়ে মাটি পরিবহন করা হয় সেগুলোর অবস্থাও ভয়াবহ। আর মাটি কাটার ফলে সৃষ্টি হওয়া গর্তগুলো শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নিজামুল উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, গতকাল সোমবার দুপুরের দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিবারের কোনও অভিযোগ নেই। ঘরের জন্য মাটি কাটার ওই গর্তে পড়ে তারা মারা যায়।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষকেরা। হামলার বিচার দাবি করে ক্লাস, পরীক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার বেলা সোয়া ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি অডিটরিয়ামে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষকেরা বলেন, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশাসনিক অস্থিতিশীলতা চলছে। এমন পরিস্থিতিতে ভিসি অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ তুলে প্রশাসনিক ভবনের সামনে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। এ সময় উপাচার্যের নির্দেশে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা হামলা চালায়।
শিক্ষকদের দাবি, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সংঘটিত ওই হামলায় ডিন, অধ্যাপক, প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা, কর্মচারী, সাংবাদিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। তাদের অনেককে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল ইসলাম, ড. আবদুল মালেক, ড. মো. আতিকুর রহমান, ড. নিজাম উদ্দীন, ড. মো. শহিদুল ইসলাম, ড. ননী গোপাল, ড. রিপন চন্দ্র পাল, পরিচালক (অর্থ ও হিসাব) মো. জসিম উদ্দিন ও কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার।
সংবাদ সম্মেলনে হামলার তীব্র নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত গতকাল সোমবার বেলা ১টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস, পরীক্ষা এবং একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন ড. আতিকুর রহমান, প্রক্টর অধ্যাপক আবুল বাসার, সহযোগী অধ্যাপক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম, কৃষিবিদ ড. হাসিব মোহাম্মদ তুষার, টিএসসি পরিচালক আবুবকর সিদ্দিক, পবিপ্রবি ছাত্রদলের সভাপতি অহিদুল ইসলাম রাতুল, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা জনিসহ অনেকে।
নওগাঁর পত্নীতলায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের সঙ্গে ধাক্কা লেগে সড়ক দুর্ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। গত রোববার (১১ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার আমবাটি ডাবল ব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, নওগাঁর মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে মতিউর (৪৫) এবং একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল (৪৫)।
পত্নীতলা থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মতিউর এবং নাজমুল বাড়ি থেক একটি প্রাইভেটকারে করে হিলির উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। এ সময় প্রাইভেটকারটি নজিপুর-ধামুইরহাট আঞ্চলিক সড়কের আমবাটি ডাবল ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ব্রিজের রেলিংয়ের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মতিউর ও নাজমুল গাড়ির ভেতরে আটকা পড়েন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
পত্নীতলা থানার ওসি মোহাম্মদ নিয়ামুল হক বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর পদে বহিরাগত কাউকে নিয়োগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (গাকৃবিশিস)। এ লক্ষে গত রোববার (১০ মে) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করেছেন সংগঠনের নেতারা।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেন, সম্প্রতি বাইরের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রো-ভিসি নিয়োগের গুঞ্জন শিক্ষক সমাজের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও অসন্তোষের সৃষ্টি করেছে। তাদের দাবি, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়েই দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত জাতীয়তাবাদী আদর্শে বিশ্বাসী বহু সৎ, যোগ্য, অভিজ্ঞ ও সিনিয়র অধ্যাপক রয়েছেন, যারা প্রশাসনিক নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন। এমন বাস্তবতায় বহিরাগত কাউকে এ পদে নিয়োগ দেওয়া হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ, গবেষণা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শিক্ষকরা উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত অস্থিরতা, বিভাজন ও অরাজক পরিস্থিতির জন্ম দিতে পারে, যা একটি অনন্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তার শিক্ষাবান্ধব পরিবেশের জন্য কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন গাকৃবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী, সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সাইফুল আলমসহ শিক্ষক সমিতির অন্যান্য সিনিয়র-জুনিয়র শিক্ষকবৃন্দ।
মানববন্ধনে শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. নাসরীন আক্তার আইভী বলেন, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শুধু একটি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান নয়, এটি দেশের কৃষি শিক্ষা, উদ্ভাবন ও গবেষণার এক গর্বিত আলোকবর্তিকা। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র্যাঙ্কিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি বৈশ্বিক অঙ্গনেও নিজেদের অনন্য সক্ষমতা ও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে প্রতিষ্ঠানটি। সুতরাং বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতৃত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে অভ্যন্তরীণ যোগ্য ও পরীক্ষিত শিক্ষকগণের মূল্যায়ন হওয়াটাই স্বাভাবিক ও যৌক্তিক প্রত্যাশা।
বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় ‘নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের (এনআইওএইচসি) ২৫তম আন্তর্জাতিক সম্মেলন শুরু হয়েছে। সোমবার (১১ মে) চট্টগ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে তিন দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনের উদ্বোধন করেন।
সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌপ্রধান (অপারেশন্স ) এবং ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফিক কমিটি ও নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি বিশ্বের অন্য মেরিটাইম রাষ্ট্রসমূহের ন্যায় জাতীয় পর্যায়ে একটি স্বতন্ত্র হাইড্রোগ্রাফিক কর্তৃপক্ষ হিসেবে 'ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফার' প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ন্যাশনাল হাইড্রোগ্রাফার বাংলাদেশের সামগ্রিক হাইড্রোগ্রাফিক কর্মকাণ্ডের সমন্বয় সাধন ও জবাবদিহিমূলক কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করবেন। এ ধরনের উদ্যোগ বাণিজ্যিক ও অন্য সমুদ্রগামী জাহাজসমূহের নিরাপদ নেভিগেশন এবং সাগরে চলাচল নিশ্চিতের মাধ্যমে সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোরদার করবে। সেই সাথে সুনীল অর্থনীতি কার্যক্রম ও উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারী দেশ বিভিন্ন হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমের অগ্রগতি, অর্জিত সাফল্য এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা উপস্থাপিত হয়। পাশাপাশি উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে হাইড্রোগ্রাফিক কার্যক্রমে পারস্পরিক সমন্বয়, কারিগরি সহযোগিতা এবং প্রশিক্ষণ সহায়তা বিষয়ে সম্মেলনে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার অন্তর্ভুক্ত ১৫টি আঞ্চলিক কমিশনের মধ্যে ২০০২ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশন’ অন্যতম। আন্দামান সাগর থেকে এডেন উপসাগর পর্যন্ত উত্তর ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চল জুড়ে এর কার্যক্রম পরিচালিত হয়। এই সম্মেলনে কমিশনের সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশ, মিশর, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ডসহ সহযোগী রাষ্ট্র অস্ট্রোলিয়া, ফ্রান্স, ওমান, মরিশাস, সেশেলস, যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করে।
এছাড়াও পর্যবেক্ষক দেশ হিসেবে রাশিয়া, মালয়েশিয়া ও সুদানসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং হাইড্রোগ্রাফিক সংশ্লিষ্ট বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা যোগদান করে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৭ মেয়াদের জন্য নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফি কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছে।
সম্মেলনে আন্তর্জাতিক হাইড্রোগ্রাফিক সংস্থার (আইএইচও) পরিচালক এবং নর্থ ইন্ডিয়ান ওশান হাইড্রোগ্রাফিক কমিশনের সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক, সামরিক ও অসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চোরাশিকারীদের কবল থেকে চরদুয়ানী এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুইটি জীবিত হরিণ উদ্ধার করেছেন বনরক্ষীরা। হরিণ দুটি সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়েছে।
বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের জ্ঞানপাড়া বিশেষ ফরেষ্ট টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডেপুটি রেঞ্জার সুরজিত চৌধুরীর নেতৃত্বে বনরক্ষীরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার (১১ মে) সকালে পাথরঘাটার চরদুয়ানী ইউনিয়নের গাববাড়ীয়া এলাকায় অভিযান চালায়।
বনরক্ষীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারীরা হাজীবাড়ী মসজিদের কাছে পুকুরে হরিণটিকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। অপর হরিণটি উদ্ধার হয়েছে একই দিন বেলা দুইটার দিকে কালিয়ারখাল এলাকায়। বনরক্ষীদের দেখে শিকারীরা পালিয়ে যায়।বনরক্ষীরা হরিণটি দুটিকে উদ্ধার করে জ্ঞানপাড়া টহল ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। একটি হরিণ কিছুটা আহত থাকায় সেটিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) শরীফুল ইসলাম বলেন, চরদুয়ানী এলাকায় উদ্ধার করা হরিণ দুইটি শিকারীরা সুন্দরবনে ফাঁদ পেতে ধরে নিয়ে যাচ্ছিলো। পায়ে কিছুটা আহত একটি হরিণকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দুইটি হরিণ সোমবার বেলা তিনটার দিকে সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের চরখালী বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের উদ্যোগ অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে আর্থিক অনুদান বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১১ মে) সকালে ফরিদপুর জেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এইঅনদান বিতরণ করেন ফরিদপুর সদর -৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ।
তিনি বলেন, আমাদের চারপাশে অনেক হতদরিদ্র মানুষ আছে যারা সামান্য সহযোগিতা পায়না। দুস্থ, দরিদ্র, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে আমরা কাজ করছি। আমরা ৫ বছর সময় পেয়েছি জনগণের সেবা করার। ইনশাআল্লাহ কাউকে আমাদের কাছে আসতে হবে না। আমরা সবাই মিলে জনগণের সেবা করবো।
ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশের সভাপতিত্বে অনুষ্টানে সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান, ফরিদপুর জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানাসহ জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভাপতির বক্তব্যে আফজাল হোসেন খান পলাশ বলেন, আমি জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর থেকেই আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার বাসাবাড়ি থেকে বর্জ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ধারিত ১০০ টাকার অতিরিক্ত বিল আদায় এবং নিয়মিত ময়লা পরিষ্কার না করলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিলের কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার রাজধানীর নগর ভবনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর (পিসিএসপি) উদ্দেশ্যে এই বার্তা প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি লাঘব এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কোনো ধরনের অনিয়ম সহ্য করা হবে না।
প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্তমানে বিদ্যমান বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযোগ আসছে যে অনেক প্রতিষ্ঠান নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে এবং প্রতিদিন ময়লা সংগ্রহ করছে না। এ বিষয়ে কড়া নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, প্রতিটি ফ্ল্যাট বা বাসাবাড়ি থেকে মাসিক সর্বোচ্চ ১০০ টাকা বিল নিতে হবে এবং তা অবশ্যই নির্ধারিত রশিদের মাধ্যমে সংগ্রহ করতে হবে। যদি কোনো প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই তাদের প্রশাসনিক ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে এবং লাইসেন্স বাতিল করা হবে।
আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ প্রস্তুতির বিষয়েও সভায় গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রশাসক নির্দেশ দিয়েছেন যে, কোরবানির বর্জ্য দ্রুত অপসারণের স্বার্থে ঈদের তিন দিন কোনো পরিচ্ছন্নতা কর্মী বা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ছুটিতে থাকতে পারবেন না। প্রতিটি ওয়ার্ড বর্জ্যমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের মাঠে উপস্থিত থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে। পিসিএসপি ঠিকাদারদের সরাসরি মাঠে উপস্থিত থেকে কাজ তদারকি করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ভ্যান ও জনবল নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। 'দিনের বর্জ্য দিনেই' অপসারণ নিশ্চিত করাকে এই সভার অন্যতম প্রধান সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পরিবেশগত দিকের ওপর জোর দিয়ে জানানো হয়েছে যে, কোনোভাবেই রাস্তা বা খালে ময়লা ফেলা যাবে না। যদি কোনো বাসা থেকে নির্ধারিত স্থানে ময়লা না রেখে যত্রতত্র ফেলা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট বাড়ির বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের পোশাকের পরিচ্ছন্নতা এবং নাগরিকদের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ বজায় রাখার জন্যও সভায় আহ্বান জানানো হয়। প্রশাসক স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেবল একটি ব্যবসায়িক সেবা নয়, এটি একটি মানবিক ও সামাজিক দায়িত্ব। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে ডিএসসিসি আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো দ্বিধা করবে না বলেও তিনি সর্তক করেন।
পরিশেষে সভায় জানানো হয় যে, একটি পরিচ্ছন্ন ও উন্নত নগরী গড়তে ডিএসসিসি সব সময় বদ্ধপরিকর। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে নিয়মিত নজরদারি চালানো হবে এবং জনস্বার্থে এই কার্যক্রম আরও গতিশীল করা হবে। সভায় ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রাথমিক বর্জ্য সংগ্রহকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে প্রশাসকের এই সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দেন।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলার ফুরসন্ধি ইউনিয়নের দহকোলা গ্রামে ধানের জমির পানি এক জমি থেকে অন্য জমিতে যাওয়াকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ৮ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (১১ মে) সকালে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, দহকোলা গ্রামে আলিমদ্দি ও জাহিদ বিশ্বাসের নেতৃত্বে পৃথক দুটি সামাজিক দল রয়েছে। গত শুক্রবার (৮ মে) জাহিদ বিশ্বাসের সমর্থক সঞ্জয়ের ধানের জমির পানি আলিমউদ্দিন সমর্থক রবেন মণ্ডলের জমিতে প্রবেশ করলে এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার জেরে শনিবার (৯) সন্ধ্যায় সঞ্জয়কে মারধরের অভিযোগ ওঠে প্রতিপক্ষের লোকজনের বিরুদ্ধে। এরপর থেকেই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১১ মে) সকালে পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৮ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত উত্তেজনা দেখা দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়|
ঝিনাইদহ সদর থানার এসআই আবুল বাসার জানান, জমির পানি অন্য জমিতে যাওয়া নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে| পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে| অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
জয়পুরহাটের লতিরাজ কচুর লতি একসময় কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক বা 'ভাগ্যবদলকারী' ফসল হিসেবে খ্যাতি পেয়েছিল। একসময় এটি বিদেশেও রপ্তানি হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। বিলুপ্তির পথে রয়েছে এটি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং উন্নত জাতের চারা সরবরাহ না করলে এই ঐতিহ্যবাহী ফসলটি পুরোপুরি হারিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কৃষিবিদরা।
জানা যায়, সকাল হলেই পাঁচবিবি উপজেলার বটতলীতে জমে উঠে লতির হাট। এই লতির হাটের জন্য এই স্থানের নাম হয়ে উঠেছে লতিহাটি। তবে বাজারের সঠিক ব্যবস্থা ও পণ্য সংরক্ষণের সঠিক জায়গা না থাকায় এখন এই বাজার হারাচ্ছে তার গৌরব। এর সাথে হারিয়ে যাচ্ছে জয়পুরহাটের গর্ব লতিরাজ কচু।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে জয়পুরহাটের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে কচুর লতি চাষ হতো। কিন্তু বর্তমানে সারের দাম বৃদ্ধি এবং কৃষি উপকরণের খরচ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা আগ্রহ হারাচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষি অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রণোদনা না পাওয়ায় অনেকেই এই চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন বাজারে কচুর লতির সরবরাহ কমে যাচ্ছে। ফলে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও বাজারে স্থিতিশীলতা নেই। সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা না থাকায় তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং পণ্য সংরক্ষণেও সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। কচুর লতি চাষে এখনই কার্যকর কোন উদ্যোগ না নিলে জয়পুরহাটের এই ঐতিহ্যবাহী ‘লতিরাজ’ একসময় শুধুই স্মৃতিতে পরিণত হবে।
এ বিষয়ে কৃষিবিদ ও সহকারী অধ্যাপক মো. জাকির হোসেন বলেন, যথাযথ পরিকল্পনা ও সরকারি সহায়তা পেলে কচুর লতি আবারও জয়পুরহাটের অন্যতম প্রধান কৃষিপণ্য হিসেবে ফিরে আসতে পারে। এজন্য প্রয়োজন কৃষকদের প্রশিক্ষণ, সহজ শর্তে ঋণ ও প্রণোদনা প্রদান। এছাড়া একটি সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জসিম উদ্দিন বলেন, পাঁচবিবি উপজেলায় তিন মৌসুমে কচুর লতি চাষ হয়। আমাদের এ বছরের লক্ষ্য মাত্রা ৯৩০ সেক্টর জমি। কচুর লতি চাষে আমরা কৃষি বিভাগ থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। আর বাজার সংক্রান্ত যে সমস্যাটি রয়েছে তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরু চোর সন্দেহে পিটুনিতে ৩জন নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্ক দেখা দিয়েছে গ্রামজুড়ে। এখন গরু চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহাড়া দিবেন নাকি গ্রেপ্তার এড়াতে পালিয়ে থাকবেন-এ নিয়ে উৎকণ্ঠায় ভুগছেন গ্রামের মানুষ।
ঘটনাস্থল ঘুরে এলাকাবাসী ও পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্প্রতি কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গরু চোরচক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তারা নিয়মিত খামার ও বাড়ি বাড়ি থেকে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। চোরচক্রের হানায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন পশু খামারিসহ অসহায় কৃষক পরিবার।
এই অবস্থার মধ্যেই গত শনিবার (৯ মে) গভীর রাতে ১০ থেকে ১২ সদস্যের একটি গরু চোর চক্র পিকআপ ভ্যান নিয়ে উপজেলার ইউনিয়নের বাগচালা এলাকার আবু বক্কর সিদ্দিকের বাড়িতে যায়। এ সময় বাড়ির মালিক বিষয়টি টের পেয়ে আশপাশের লোকজনকে ডাক দিলে স্থানীয়রা তাদের ধাওয়া করেন। আর ধাওয়া খেয়ে চোরচক্র পিকআপ ভ্যান যোগে পালিয়ে যাওয়া চেষ্টা করলে রাস্তায় গতি রোধ করেন এলাকাবাসী। একপর্যায়ে তারা রোববার (১০ মে) ভোর ৪টার দিকে রাস্তায় গাছ ফেলে দুই চোরকে আটক করে গণপিটুনি দেয়।
চোরচক্রের বাকি সদস্যরা দৌড়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এসময় তারা ওই পিকঅ্যাপ ভ্যান থেকে তালা কাটার সরঞ্জাম, চাপাতি ও দাস উদ্ধার করেন। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী চোরচক্রের ব্যবহৃত পিকআপ ভ্যানে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে মাওনা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। ততক্ষণে আগুনে ওই পিকঅ্যাপ ভ্যানটির অধিকাংশ পুড়ে যায়। অপরদিকে পাশের তালচালা এলাকা থেকে এক গরু চোরকে আটক করে পিটুনি দেয় এলাকাবাসী।
খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানা ও ফুলবাড়িয়া ক্যাম্পের পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে গুরুত্ব আহত তিনজনকে উদ্ধার করে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সেলিম হোসেন, আজাহারুল ইসলাম ও কৃষ্ণ বর্মণ নামে তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় ওইদিন রাতে কালিয়াকৈর থানার ফুলবাড়ীয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে ২০০ জনের নামে মামলা করেন। গতকাল সোমবার সকালে ওই মামলার বিষয়টি জানাজানি হলে গরু চুরি আতঙ্কের সঙ্গে চোর সন্দেহে তিনজনকে হত্যা মামলায় শুরু নতুন করে যুক্ত হয় গ্রেপ্তার আতঙ্ক।
এ ব্যাপারে কালিয়াকৈর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম জানান, ৩জনকে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কালিয়াকৈর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়াও হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনগণকে আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।