বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


খুলনায় রাশেদ হত্যা: কিলিং মিশনে থাকা তিন যুবক গ্রেপ্তার হলেও প্রধান আসামি ইমরান পলাতক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা নগরীর লবণচরা থানার এলাকার আলোচিত রাশেদ হত্যার ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করছে। গত মঙ্গলবার (০২ জুন) খুলনার বিভিন্নস্থানে রাতভর অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তবে প্রধান আসামি ইমরানকে গ্রেপ্তার করতে পারিনি পুলিশ।

এর আগে গত রাতে নিহতের বাবা আনিছুর কাজী বাদী হয়ে থানায় ৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জন ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, মন্টু হাওলাদার, মুসা গাজী ও মিরাজ।

লবণচরা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মোশারেফ হোসেন জানান, মঙ্গলবার (০২ জুন) রাতে নিহত রাশেদের বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। এতে তিনি ৭ জন আসামির নাম উল্লেখ করেন। যারা এ হত্যা মিশনে অংশ নিয়ে ছিল। বাকী ৩-৪ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

রাতে এ মামলার এজাহার নামীয় তিনজন আসামিকে খুলনার বিভিন্নস্থানে রাতভর অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এ হত্যাকান্ড সম্পর্কে অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে তা তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছেনা।

নিহতের ভাই রাইসুল কাজী বলেন, মাদক কারবারি ইমরান কারাগারে থাকা অবস্থায় তার স্ত্রীকে রাশেদ বিয়ে করে। যা নিয়ে উভয়ের দ্বন্দ্ব ছিল চরমে। এ ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই এর আগে একবার আমাদের পরিবারের ওপর হামলা চালিয়েছিল ইমরান। সে সময় পরিবারের চারজন গুলিবিদ্ধ হয়। এর পরও থেমে থাকেনি ইমরান। একের পর এক পরিকল্পনা করতে থাকে রাশেদকে হত্যার জন্য।

মঙ্গলবার (০২ জুন) সকালেও এমন একটি ফাঁদ পাতে ইমরান। সেই ফাঁদে পা দিয়ে ছোট ভাই খুন হয়।

তিনি আরও বলেন, ফার্মেসীতে দুঘর্টনায় তাদের এক বন্ধু আহত হয়েছে বলে নাটক সাজায়। যে রাস্তায় আমার ছোট ভাই রাশেদের যাওয়া নিষেধ সেই রাস্তায় রাশেদকে ডেকে নেয় তারই ছোট ভাই মুসা গাজী। সেখানে নেওয়ার পর ইমরানকে খবর দেয় উপস্থিত থাকা একটি গ্রুপ। রাশেদকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার পর শেষ সময় মিরাজ নামে এক যুবক ফোন করে রাশেদের সর্বশেষ পরিস্থিতি জানায়। ভাই আহতের ঘটনা শুনে আমি লবণচরা থানাধীন স্কুলভিটায় উপস্থিত হই।

সেখানে গিয়ে দেখি অনেক মানুষ তাকে ঘিরে রেখেছে। কিন্তু কোপানোর সময় কেউ তাকে ঠেকাতে এগিয়ে আসেনি। পুলিশ রাতে যাদের গ্রেপ্তার করেছে তারা সকলে এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত।

এদিকে বুধবার (০৩ জুন) দুপুরের পর রাশেদের ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। আছরের নামজের পর জানাযা শেষে মরদেহ স্থানীয় একটি কবরস্থানে দাফন করা হয়।


জীবননগরে পারদ ছুঁলো ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস: তীব্র গরমে ব্যাহত জনজীবন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

দেশজুড়ে গরমের তীব্রতা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় চুয়াডাঙ্গায় জীবননগরে এবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বুধবার (৩ দিন) বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এই তাপমাত্রা রেকর্ড করে। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলা জুড়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে চলায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তীব্র রোদের কারণে দুপুরের দিকে জীবননগর পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ও যানবাহন চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না।

প্রখর রোদের কারণে শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র গরমে অনেকেই একটু পরপর গাছের ছায়ায় বা ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বুধবার (৩ দিন) দুপুর ৩টায় উপজেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছায়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ওঠানামা করায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

আগামী আরও কয়েক দিন এই ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া এবং পানিশূন্যতার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন।

প্রচণ্ড রোদে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া। বাইরে বের হলেও ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা। শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করার কথা বলছেন। শিশু এবং বৃদ্ধদের বিশেষ যত্নে রাখার কথাও বলছেন চিকিৎসক।


কাপাসিয়ায় দিনব্যাপী ‘গ্রাম আদালত’ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের কাপাসিয়ায় 'গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের অংশগ্রহণে সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন' বিষয়ক অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (৩ জুন) সকালে পরিষদ সভাকক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

"অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে-চলো যাই গ্রাম আদালতে" এই শ্লোগানের উপর জোর দিয়ে বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ তয় পর্যায় প্রকল্পের আওতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ডাঃ তামান্না তাসনীম।

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ইউএনডিপির সহযোগিতায় এবং স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ পরিচালিত এ প্রকল্পের আওতায় ৬১ টি জেলার মধ্যে গাজীপুরের কালীগঞ্জ, কালিয়াকৈর ও কাপাসিয়ায় এ গ্রাম আদালত পরিচালিত হচ্ছে। মামলা নিষ্পত্তিতে কাপাসিয়া উপজেলা দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।

প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী রুবি আক্তারের পরিচালনায় কর্মশালায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নাহিদুল হক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোঃ রুহুল আমিন, থানার এসআই শুভ চন্দ্র রায়, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মোঃ শামসুল হুদা লিটন, কাপাসিয়া বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য সচিব সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার প্রতিনিধি মালা রানী দাস, ইউএনও অফিস কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার, কারিতাশ ম্যানেজার শ্যামল চন্দ্র মন্ডল, উপজেলা, সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন শামীম, আব্দুল কাইয়ুম, সফিকুল আলম সবুজ, শেখ সফিউদ্দিন জিন্নাহ, আকরাম হোসেন রিপন, জাহাঙ্গীর আলম, হাসিব খানসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় জানানো হয় গ্রাম আদালতে নিষ্পত্তিযোগ্য ফৌজদারী মামলার মধ্যে চুরি, ঝগড়া বিবাদ, কলহ বা মারামারি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ভয়ভীতি দেখানো বা হুমকি দেয়া, কোন নারীর শালীনতাকে অমর্যাদা বা অপমানের উদ্দেশ্যে কথা বলা, অঙ্গভঙ্গি করা বা অন্য কোনো কাজ করা, গচ্ছিত কোনো মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ করা, পশুহত্যা, ক্ষতি সাধন এবং দেওয়ানী মামলার মধ্যে পাওনা টাকা আদায় সংক্রান্ত, স্থাবর সম্পত্তি দখল পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত, অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার বা তার মূল্য আদায় সংক্রান্ত, কোনো অস্থাবর সম্পত্তি জবর দখল বা ক্ষতি করার জন্য ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশের কারণে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত, গবাদিপশুর মেরে ফেলা বা গবাদিপশুর ক্ষতি সংক্রান্ত, কৃষি শ্রমিকদের পরিশোধযোগ্য মজুরি ও ক্ষতিপূরণ আদায় সংক্রান্ত, স্ত্রী কর্তৃক বকেয়া খোরপোষ আদায় ইত্যাদি।

উল্লেখ্য, গ্রাম আদালত আইন, ২০০৬ অনুযায়ী দেশের প্রতিটি ইউনিয়নের এখতিয়ারাধীন এলাকায় কতিপয় দেওয়ানজী ও ফৌজদারী বিরোধ ও বিবাদের সহজ ও দ্রুত নিষ্পত্তি করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত গঠিত হয়।

বিরোধীয় পক্ষদের মনোনীত সমসংখ্যক সদস্য অর্থাৎ আবেদনকারী এবং প্রতিবাদী পক্ষ হতে ২ জন করে এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সহকারে মোট ৫ জন নিয়ে গ্রাম আদালত প্যানেল গঠন করা হয়।

দেওয়ানী মামলায় ২০ টাকা এবং ফৌজদারী মামলার ক্ষেত্রে ১০ টাকা ফি দিতে হবে। মামলার শুনানির কার্যক্রম শুরু হবার অনধিক ৯০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে হবে। উক্ত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে না পারলে অতিরিক্ত ৩৩০ দিনের মধ্যে অর্থাৎ ১'শ ২০ দিনের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা রয়েছে।


চকরিয়ায় আইনজীবীর অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধূর  পেটে বন্দুক ঠেকিয়ে ডাকাতি, স্বর্ণ-টাকা লুট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ বিন হোছাইন, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতির বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতদল তাঁর বাড়ির জানালার গ্রিল কেটে ঘরে ঢুকে আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টুর অন্তঃসত্ত্বা পুত্রবধুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

আজ বুধবার (৩ জুন) ভোর চারটার দিকে পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাবিব উদ্দিন মিন্টুর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে চকরিয়া থানার একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানাযায়, চকরিয়া পৌরসভার ভরামুহুরী উকিলপাড়ায় নিজ বাড়িতে পরিবার নিয়ে থাকেন আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টু।ডাকাতির দিন তিনি পৌরসভার বাটাখালীস্থ তাঁর নবনির্মিত বসতবাড়িতে স্ত্রী সহ অবস্থান করছিলেন। তাঁর দুই সন্তান ও ব্যবসায়িক কাজে বাড়ির বাইরে ছিলেন। সে সুবাদে ৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাতদল জানালার গ্রিল কেটে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ে । এরপর বাড়িতে থাকা অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ, তাঁর সন্তান ও গৃহকর্মীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে আলমারি ভেঙে ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২ লাখ নগদ টাকা, ৩টি মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।

আইনজীবী হাবিব উদ্দিন মিন্টু বলেন, আমি চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালীস্থ নবনির্মিত বসতবাড়িতে স্ত্রী সহ অবস্থান করছিলাম। আমর দুই পুত্রসন্তানও বাড়ির বাইরে ছিলো। বাড়িতে পুরুষ সদস্য না থাকার সুবাদে ডাকাতদল আমার বাড়িতে হানা দিয়ে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।

চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এ এসপি) অভিজিৎ দাশ বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। ডাকাতদের সনাক্ত পূর্বক দ্রুত গ্রেফতার করার আশ্বাস দেন। এবং আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানান।


পটুয়াখালীর লোহালিয়ায় গ্রামবাসীর সাথে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরীর মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর লোহালিয়া ইউনিয়নের পাজাখালী গ্রামবাসীর সাথে মতবিনিময় করেছেন আসন্ন লোহালিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২ জুন ) সন্ধ্যায় পাজাখালী গ্রামে তার নিজ বাসভবনে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন।

মতবিনিময় সভায় লোহালিয়া ইউনিয়নের অনেক সম্মানিত ও রাজনীতিক ব্যাক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মজিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সবসময় আপনাদের সুখে দুঃখে পাশে থাকবো। আমি লোহালিয়া ইউনিয়নকে একটি সুন্দর, মডেল ও মাদকমুক্ত ইউনিয়ন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে আমি সকলের সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করছি


বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবসে ঝিনাইদহে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

‘প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি’— এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ঝিনাইদহে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হয়েছে|
বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের করা হয়| র‌্যালিটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়| পরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা|
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সিভিল সার্জন ডা. মো. কামরুজ্জামান এবং ঝিনাইদহ প্রেসক্লাবের সভাপতি আসিফ ইকবাল মাখনসহ অন্যান্যরা|
সেসময় বক্তারা বলেন, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি জন¯^াস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি| বিশেষ করে তরুণ সমাজকে এ আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা| পাশাপাশি তামাকমুক্ত সমাজ গঠনে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান জানান বক্তারা|
অনুষ্ঠানে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন|



মহেশপুরে অস্ত্র ও গুলিসহ আটক ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ আটক করেছে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)| আটককৃক রফিকুল ইসলাম মহেশপুর উপজেলার নেপা বাঘাডাঙ্গা গ্রামের শামসুল মন্ডলের ছেলে|
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বাঘাডাঙ্গা বিওপির একটি নিয়মিত টহল দল সীমান্ত পিলার ৬০/৪১-আর থেকে প্রায় ৬০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বাঘাডাঙ্গা বেনাপোড়া মাঠ এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে|
অভিযানকালে মো. রফিকুল ইসলামকে তার ঘাসক্ষেত থেকে আটক করা হয়| এ সময় তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল এবং একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়|
মহেশপুর ব্যাটালিয়ন (৫৮ বিজিবি)-এর সহকারী পরিচালক মুন্সী ইমদাদুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন| তিনি জানান, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ম্যাগাজিনসহ আটক ব্যক্তিকে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মহেশপুর থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে|


প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করে জীবনযুদ্ধে আজগর আলী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সাউথখালী ইউনিয়নের বকুলতলা গ্রামের বাসিন্দা প্রতিবন্ধী আজগর আলী (৫৮) জীবনের নানা প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতাকে সঙ্গী করেই সংগ্রাম করে চলেছেন।

ছোটবেলায় টাইফয়েড জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তার দুই পা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যায়। এরপর থেকেই তাকে চলাফেরা করতে হয় বেয়ারিংয়ের তৈরি একটি গাড়িতে ভর করে। শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও জীবিকার তাগিদে তিনি কখনো থেমে থাকেননি।

আজগর আলীর মা-বাবা কেউই এখন বেঁচে নেই। চার ছেলে নিয়ে তার সংসার। দীর্ঘ ২৬ বছর তিনি একটি চায়ের দোকান চালিয়ে পরিবার পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে শারীরিক অসুবিধার কারণে সেই দোকানটি তার মেজো ছেলে পরিচালনা করছেন। নিজেও একটি ছোট সবজির দোকান দিয়ে সংসারের আয়-রোজগারে সহযোগিতা করছেন। তবে ব্যবসা সবসময় ভালো যায় না। কোনো কোনো দিন প্রায় ৫০০ টাকার মতো লাভ হয় বলে জানান তিনি।

আজগর আলী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই অনেক কষ্ট করে জীবন কাটাচ্ছি। পরিবারকে নিয়ে কোনো রকমে চলছি। একটি ব্যাটারিচালিত হুইলচেয়ার পেলে আমার চলাফেরা অনেক সহজ হতো। কিন্তু অর্থের অভাবে সেটি কিনতে পারছি না। সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষ যদি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন, তাহলে আমার অনেক উপকার হবে।"

তার চার ছেলের মধ্যে দুইজন এখনও পড়াশোনা করছে। একজন মাধ্যমিক এবং অপরজন উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে অধ্যয়নরত।

স্থানীয় বাসিন্দা ওমর সরদার বলেন, “আজগর আলী অত্যন্ত পরিশ্রমী ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন একজন মানুষ। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো অন্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে বসে থাকেননি। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করে পরিবার চালিয়ে যাচ্ছেন। আমরা চাই সমাজের বিত্তবান ও দায়িত্বশীল মানুষ তার পাশে দাঁড়াক, যাতে তার জীবনযাত্রা কিছুটা সহজ হয়।"

স্থানীয়দের মতে, কঠিন শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকা সত্ত্বেও আজগর আলীর জীবনসংগ্রাম অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উদাহরণ হয়ে থাকতে পারে। একটি ব্যাটারিচালিত হুইলচেয়ার এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেলে তার দৈনন্দিন জীবন অনেকটাই সহজ হয়ে উঠবে।


ভাঙ্গুড়ায় নিখোঁজের চারদিন পর পুকুর থেকে শিশু জিহাদের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. মেহেদী হাসান, ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার তিনদিন পর জিহাদ (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার চরভাঙ্গুড়া পূর্বপাড়া এলাকায় তার নানাবাড়ির পাশের একটি পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত জিহাদ উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের আগবহর গ্রামের জাফর ইকবালের একমাত্র ছেলে। পরিবারের সঙ্গে ঢাকার সাভারে বসবাস করলেও ঈদ উপলক্ষে গ্রামের বাড়িতে এসে পরে নানাবাড়ি চরভাঙ্গুড়া গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিল সে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকেল ৫টার দিকে বাড়ির পাশে অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল জিহাদ। এরপর থেকে তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্বজনরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। পরদিন শিশুটির বাবা ভাঙ্গুড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

নিখোঁজের পর থেকে পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসী শিশুটিকে উদ্ধারে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালায়। অবশেষে বুধবার সকালে নানাবাড়ির পাশের একটি পুকুরে তার মরদেহ ভেসে উঠলে স্থানীয়রা দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

এ মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে জিহাদের পরিবারে চলছে আহাজারি। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো পরিবেশ।

ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সাকিউল আজম বিষয়টা নিশ্চিত করেছেন।


খুলনার ডুমুরিয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাস পুকুরে, নিহত ১

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনা সাতক্ষীরা মহাসড়কের ডুমুরিয়া পিপিএফ ফিড কম্পানির সামনে পাইকগাছা থেকে ছেড়ে আসা খুলনাগামী বেপরোয়া গতির বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের পুকুরে পড়ে যায়।

বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার গুটুদিয়া পিসিএফ ফিড ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় পাইকগাছার আছাবুর সরদারের ছেলে সাইদুর সরমান সাইদ (২৫) নামের এক যাত্রী নিহত হয়েছেন। এবং ৭/৮ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।

ডুমুরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার হাফিজুর রহমান হাফিজ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, বাসটিতে পাইগাছা থেকে যাত্রী নিয়ে খুলনায় আসছিলে। পথে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দূর্ঘটনায় এক যাত্রী নিহত হন। ৭/৮ জন যাত্রী আহত হন। তাদের ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।


পাবনায় পদ্মা নদী থেকে কিশোরীর বস্তাবন্দি হাত বাঁধা লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৬ ১২:৫৭
রাউজ আলী, পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে এক কিশোরীর (১৪-১৬) হাত-বাঁধা ও বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে বলরামপুর পীরপুর-সংলগ্ন নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওই কিশোরীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে তার গলায় একটি রুপার চেইন ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পদ্মার চরে কৃষকেরা কাজ করতে যাওয়ার সময় নদীর তীরে আটকে থাকা একটি নৌকার পাশে প্লাস্টিকের মুরগির বস্তা ভাসতে দেখেন। সন্দেহ হলে এক কৃষক কাঁচি দিয়ে বস্তার মুখ কেটে ভেতরে এক কিশোরীর লাশ দেখতে পান। লাশটির হাত বাঁধা এবং গলায় বাজারের ব্যাগ জড়ানো ছিল। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় চারজন মধ্যবয়সী যুবকসহ একটি অজ্ঞাত প্রাইভেটকার ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বলরামপুরের দিকে যাওয়ার সময় গাড়িটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাড়িটি ধাক্কিয়ে বলরামপুর মুজিব বাঁধ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, "আমাদের ধারণা, মেয়েটিকে অন্য কোথাও ধর্ষণের পর হত্যা করে এই প্রাইভেটকারে করেই লাশটি মাঝরাতে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বলরামপুর স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই গাড়িটি এবং এর ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব।"

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয় এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, "এখনো ওই কিশোরীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ সব ধরনের ক্লু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


দৌলতপুরে চিহ্নিত হেরোইন  ব্যবসায়ী সুবল মোল্লা গ্রেফতার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জালাল উদ্দিন ভিকু, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি 

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় যাত্রী ছাউনির ওয়ালটন শো রুমের সামনে অভিযান চালিয়ে ২২.০৫ গ্রাম (দুইশ পুইড়া) হেরোইন মূল্য ৮০ হাজার টাকা সহ চিহ্নিত হেরোইন ব্যবসায়ী মো: সুবল হোসেন মোল্লা (৪৩)কে আটক করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।

আটককৃত মাদক ও হেরোইন ব্যবসায়ী মোঃ সুবল হোসেন মোল্লা দৌলতপুর রামচন্দ্রপুর গ্রামের আরশেদ আলী মোল্লার ছেলে।

মঙ্গলবার ২ জুন বিকালে দৌলতপুর উপজেলা সদরের যাত্রী ছাউনির পাশে ওয়ালটন শো রুমের সামনে থেকে দৌলতপুর থানা পুলিশ অভিযান ঐ হেরোইন ব্যবসায়ী কে গ্রেফতার করে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতপুর উপজেলা সদরের যাত্রী ছাউনির পাশে ওয়ালটনের শোরুমের সামনে দৌলতপুর থানার এস আই (নিঃ) মোঃ নজরুল ইসলাম ও এস আই সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় কনস্টেবল শামীম, আকরাম হোসেন নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হেরোইন ব্যবসায়ী মো : সুবল হোসেন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। এর নিকট হইতে উদ্ধারকৃত ২০০ (দুই শত পুইড়া ) হেরোইন ২২.০৫ গ্রাম, মূল্য অনুমান ৮০.০০০/- টাকা সহ উদ্ধার করা হয়।

এক বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পান, দৌলতপুর উপজেলা যাত্রী ছাউনির পার্শ্বে ওয়ালটন শোরুমে সামনে পাকা রাস্তায় একজন মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য হেরোইন বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করিতেছে। উক্ত স্থানে পৌঁছাইলে পুলিশের উপস্থিতি টের পাইয়া দৌঁড়াইয়া পালানোর চেষ্টা কালে সংগীয় অফিসার ফোর্সের সহায়তায় উক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের এস আই মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান,উপস্থিত সাক্ষীর মোকাবেলায় ধৃত আসামীর নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদ করিলে উপরে উল্লিখিত নাম ঠিকানা প্রকাশ করে। ধৃত আসামীর নিকট কোন মাদকদ্রব্য আছে কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে প্রথমে এলোমেলো কথাবার্তা বলে। অতঃপর ব্যাপকতর জিজ্ঞাসাবাদ এবং দেহ তল্লাশীকালে ধৃত আসামীর বাম পায়ে এাংলেট মধ্যে থাকা সাদা পলিথিনে মোড়ানো বিশেষভাবে রক্ষিত ২০০ (দুই শত) পুইড়া হেরোইন , যাহার ওজন-২২.০৫ গ্রাম, যাহার প্রতিটি পুইড়ার মূল্য ৪০০/-টাকা অনুমান ৮০ হাজার/- টাকা নিজ হাতে বের করে দেয়। সাক্ষী গণের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে। জব্দকৃত ২২.০৫গ্রাম ঘটনাস্থলেই সঙ্গে থাকা ডিজিটাল ওজন পরিমাপক নিক্তির সাহায্যে ওজন পরিমাপ করে এবং বর্ণিত আলামত হইতে ০ ৫ (পাচ পুইড়া) রাসায়ণিক পরীক্ষার জন্য খাকি খামের ভিতরে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)স্বপন কুমার সরকার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক ক্রয়কারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দৌলতপুর থানায় আমি যতদিন আছি মাদক ব্যবসায়ী ও ক্রয়কারী যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ীদের স্থান এক হয় জেলখানা আর নাইলে দৌলতপুর ছাড়তে হবে । দৌলতপুর থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ী মো: সুবল হোসেন মোল্লা (৪৩) বিরুদ্ধে ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১)সারণির ৮(খ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ কোটে পাঠানো হয়েছে।


হাসপাতালে লাশ ফেলে পালালো শ্বশুরবাড়ির লোকজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ঝর্না আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তবে হাসপাতালে লাশ রেখে তাদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা বসতঘরে তালা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে।

​মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের তেতৈতলা গ্রামে স্বামীর বসতঘর থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

​নিহত ঝর্না আক্তার তেতৈতলা গ্রামের সুজন দেওয়ানের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার চান্দের কীর্তি গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঝর্না নিজ কক্ষের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরিবারের লোকজন দরজা খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ঝর্নার বোনদের খবর দেয়। পরে ড্রিল মেশিন দিয়ে লোহার দরজা কেটে ঝর্নাকে উদ্ধার করা হয়। তাকে প্রথমে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতাল ও পরবর্তীতে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

​হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবরাহাম হোসেন ফাহিম বলেন, “রাত ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।”

​নিহতের বোন তাসলিমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই ঝর্নার ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝর্নাকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে কয়েকদফা আলোচনাও হয়েছে। বুধবার বিকেলে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঝর্না সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যারা ঝর্নার মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছে তারাই এ ঘটনার জন্য দায়ী।”

​নিহতের মামা মো. রফিকুল জানান, ঝর্নার বাবা-মা নেই, মামার বাড়িতেই বড় হয়েছে সে। বিচ্ছেদ হয়ে গেলে কোথায় যাবে এই দুশ্চিন্তায় ঝর্না মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী সুজন দেওয়ানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বাসায় তালা ঝুলছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি সম্পর্কে ​গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল তৈরি করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”


banner close