ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তর বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা ও কর্মশালা ফরিদপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ এন্টারপ্রাইজ ইনস্টিটিউট (বিইআই)-এর উদ্যোগে গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
সাবেক রাষ্ট্রদূত ও বিইআইর প্রেসিডেন্ট এম হূমায়ুন কবীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ফরিদপুর সদর ৩ আসনের বিএনপি মনোনীত এমপি প্রার্থী চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, জামায়াতে ইসলামের মনোনীত এমপি প্রার্থী প্রফেসর মো. আবদুত তাওয়াব, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির ফরিদপুর সদর ৩ আসনের এমপি প্রার্থী রফিকুজ্জামান লায়েক সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক বিশ্লেষক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় দেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা, গণতান্ত্রিক রূপান্তরের চ্যালেঞ্জ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের গুরুত্ব এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে শক্তিশালী করার বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা বলেন, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, সংলাপ ও সহনশীলতা অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম ও তরুণ সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে টেকসই করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে তারা মত প্রকাশ করেন এবং অংশগ্রহণকারীরা মুক্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের মতবিনিময় সভা ও কর্মশালা দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী ও শান্তিপূর্ণ করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।
মাগুরায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনায় শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাগুরা সদর উপজেলার রাঘবদাইড় ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে বাল্যবাজার মাঠে এ কর্মসূচি পালিত হয়।
শোকসভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকার কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। বক্তারা বলেন, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার ত্যাগ ও নেতৃত্ব বিএনপি নেতাকর্মীদের জন্য চিরন্তন প্রেরণা হয়ে থাকবে। আলোচনা শেষে তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন মাগুরা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলী আহম্মদ, মাগুরা-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আলহাজ মনোয়ার হোসেন খান, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আখতার হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক খান ইমাম সুজা, পিকুল খান ও আলমগীর হোসেন। এছাড়া জেলা বিএনপির সদস্য কুতুব উদ্দিন, নাজমুল হাসান লিটন, মাগুরা পৌর বিএনপির সভাপতি মাসুদ হাসান খান কিজিল, জেলা কৃষকদলের সভাপতি রুবাইয়াত হোসেন খান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম হীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ এলাকার সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শোকসভা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বড় ধরনের অগ্রগতির তথ্য জানিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। আজ মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ জানায় যে, এই চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা ও নির্দেশনার পেছনে সাবেক ওয়ার্ড কমিশনার তাইজুল ইসলাম বাপ্পীর সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মামলার তদন্ত ও আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে যে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিশেষ কোনো উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছিল। পুলিশ এই মামলার চার্জশিট প্রদানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার পাশাপাশি ঘটনার নেপথ্যে থাকা কুশীলবদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে।
হত্যাকাণ্ড পরবর্তী অভিযানে পুলিশ এখন পর্যন্ত বেশ কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সালের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া এবং তার বান্ধবী মারিয়া আক্তার। এ ছাড়া ফয়সালের শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ, রেন্ট-এ-কার ব্যবসায়ী মো. নুরুজ্জামান নোমানী এবং মোটরসাইকেল মালিক মো. কবিরকেও আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তালিকায় আরও রয়েছেন আমিনুল, সিবিয়ন দিও, সঞ্জয় চিসিম ও মো. ফয়সাল নামে আরও চার অভিযুক্ত। পুলিশ জানায়, এই চক্রটি পরিকল্পিতভাবে শরীফ ওসমান হাদিকে হত্যার নীল নকশা বাস্তবায়ন করেছিল এবং এর সাথে জড়িত বাকিদেরও দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে মৎস্য আইন বাস্তবায়নে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৩০০ কেজি জাটকা জব্দ করা হয় মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলার চুনকুটিয়া, হাসনাবাদ, জিনজিরা, আগানগর, আব্দুল্লাপুর ও হিজলতলা খুচরা মাছের বাজারে এ অভিযান পরিচালনা করেন কেরানীগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জাকসি।
জব্দকৃত জাটকা আপনঘর বৃদ্ধাশ্রম, ৯টি এতিমখানা ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জাকসি বলেন, সরকার কর্তৃক প্রতিবছর ১লা নভেম্বর হতে ৩০ জুন পর্যন্ত ১০ ইঞ্চি বা ২৫ সেঃমিঃ সাইজের নিচের ইলিশ (জাটকা) আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জাতীয় গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরতে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বিশেষ সচেতনতামূলক প্রচারণা চালিয়েছে ‘সুপার ক্যারাভান’। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) কোটালীপাড়া উপজেলা পল্লী উন্নয়ন একাডেমির সম্মুখে অবস্থান করে ক্যারাভানটি। এ সময় জনসাধারণের মাঝে ভোটাধিকার, গণভোটের প্রয়োজনীয়তা এবং নাগরিক দায়িত্ব বিষয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
প্রচারণা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক। এতে উপস্থিত ছিলেন- সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. মিরাজ হোসেন, কোটালীপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রিয়াদ মাহমুদসহ উপজেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, থানা পুলিশের সদস্য ও সাধারণ জনগণ। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, ‘সাধারণ মানুষের মাঝে ভোটাধিকার ও গণভোটের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করাই এই প্রচারণার মূল লক্ষ্য। এতে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বক্তব্য, প্রবাসীদের ভোটাধিকার এবং গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্র সংস্কারের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে।
এ সময় তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলাবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
প্রচারণার অংশ হিসেবে ভোটের গাড়ির পাশে ‘দেশের চাবি আপনার হাতে’ শীর্ষক একটি উন্মুক্ত লেখনী বোর্ড ও জনমত বাক্স স্থাপন করা হয়। সেখানে সাধারণ মানুষ তাদের নিজস্ব মতামত ও প্রত্যাশা লিখে তুলে ধরেন।
উল্লেখ্য, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে গত ২২ ডিসেম্বর থেকে দেশব্যাপী জনসচেতনতা বৃদ্ধির এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
কুড়িগ্রামে দিন দিন শীতের তীব্রতা বাড়ছে, ঠিক সেই সময় শীতার্ত প্রতিবন্ধী ও দুস্থ অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়ন-২২ বিজিবি। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে ব্যাটালিয়নের উপশাখা সীপকসের ব্যবস্থাপনায় ৫ শতাধিক শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) দুপুরে কুড়িগ্রাম ব্যাটালিয়নের অভ্যন্তরে উপশাখা সীপকস চত্বরে শীতার্ত হতদরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে এসব শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরণ করা হয়। শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ছিলেন- উপশাখা সীপকসের সাধারণ সম্পাদক ফারহানা আফরোজ মৌসুমী।
শীতবস্ত্র পেয়ে কাশেম আলী নামের এক ভিক্ষুক বলেন, ‘কুড়িগ্রামে সেই ঠাণ্ডা পড়ছে বাহে। বাড়ি থেকে বাহির হওয়া যায় না। কম্বলের অভাবে রাতে ঘুমও হয় না। আজ কম্বলটা পেয়ে উপকার হইল।’
বিজলী বেগম বলেন, ‘গরিব মানুষ খাবার জোটপার পাই না আর কম্বল কিনি কতথাকি। আজকে বিজিবি থেকে একটা মোটা কম্বল পায়া উপকার হইল। বাচ্চা নিয়ে রাতে গায়ত দিবার পামো।’
সীপকসের সাধারণ সম্পাদক ফারহানা আফরোজ মৌসুমী বলেন, ‘মানবতার সেবাই আমাদের মূল লক্ষ্য। সমাজের অসহায় ও হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো বিজিবির নৈতিক দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শীতসহ যেকোনো দুর্যোগে বিজিবি সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।
পঞ্চগড়ে সবুজ চা পাতার মূল্য বৃদ্ধি করে প্রতি কেজি ২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণী সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক পঞ্চগড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় জেলার চা শিল্প সংশ্লিষ্ট চাষি, কারখানা মালিক ও অন্যান্য অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি সবুজ চা পাতার সর্বনিম্ন মূল্য ২৫ টাকা, সর্বোচ্চ চা ২৮ টাকা করা হয়। পাশাপাশি চা চাষিদের নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা কৃষি অফিসারের মাধ্যমে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সব চা চাষিদের নিবন্ধন সম্পন্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় আরও জানানো হয়, কোনো চা চাষি নিবন্ধন না করলে তিনি সরকারি সার সুবিধা পাবেন না। একই সঙ্গে অনিবন্ধিত চাষিদের উৎপাদিত সবুজ চা পাতা কোনো কারখানা কিনতে পারবে না এবং তারা সরকারি প্রশিক্ষণ থেকেও বঞ্চিত হবেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সবুজ চা পাতার কর্তন শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে, নির্ধারিত সময়ের পর কোনো কারখানা সবুজ চা পাতা কিনতে পারবে না। নির্দেশ অমান্য করলে সংশ্লিষ্ট কারখানার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থ নেওয়া হবে বলে সভায় জানানো হয়।
এছাড়াও পঞ্চগড়ের সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণী কমিটিকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। নীতিমালায় উল্লিখিত প্রেসক্রাইবড কমিটি গঠন করে তা বাংলাদেশ চা বোর্ডে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ৫০০ কোটি টাকার পঞ্চগড়ের চা শিল্প রক্ষায় জেলা প্রশাসন কঠোর অবস্থানে থাকবে। চা চাষি, কারখানা মালিক ও শ্রমিক-সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এই শিল্প রক্ষায় কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
তবে মাঠপর্যায়ে এসব সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যদিও সবুজ চা পাতা কেনাবেচা গত ৩১ ডিসেম্বর হলেও কিছু কিছু কারখানা পাতা কিনছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানী চাষিদের দাবি, আমাদের উৎপাদিত পাতা ইতোমধ্যে শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে মুনাফা লোভীদের কাছে মজুত থাকা পাতা চুক্তি ভিত্তিকভাবে কারখানায় সরবরাহ করা হচ্ছে, যা নিয়মবহির্ভূত।
চা চাষিরা বলছেন, এই অনিয়ম বন্ধ না হলে ন্যায্যমূল্য ও নীতিমালার সুফল কৃষকদের কাছে পৌঁছাবে না। দ্রুত কার্যকর তদারকি ও সিদ্ধান্তের কঠোর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন তারা।
নর্থ বেঙ্গল চা ফ্যাক্টরীর ম্যানেজার মোঃ সোহাগ জানান ৩১ তারিখে চা পাতা কেনার শেষ সময় ছিল কিন্তু কিছু কৃষক শ্রমিক না পেয়ে চাপাতা কাটতে পারেনি। শ্রমিক সংগ্রহ করে তারা বর্তমানে চা পাতা কেটে নিয়ে আসতেছে। আমরা যদি চা পাতা গুলো না নিয়ে থাকি তাহলে কৃষকদের চা পাতা গুলো ফেলে দেওয়া ছাড়া কোন উপায় থাকবে না। কৃষকরা অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সেইদিক বিবেচনা করে চাপাতা ক্রয় করতেছি।
পঞ্চগড়ের বাংলাদেশ চা বোর্ডের উন্নয়ন কর্মকর্তা হলেন মোঃ আমির হোসেন জানান, আনঅফিশিয়াল ভাবে ক্রয় করতে পারে সেটা আমার জানা নেই, তবে অফিসিয়াল ভাবে চা পাতা ক্রয় বন্ধ করা হয়েছে।
গত ২০২৫ সালে হঠাৎ করেই চায়ের পাতার দাম উর্ধমুখি হয়ে ওঠে। শুরুর দিকে ২৬ থেকে ২৮ টাকা কেজি দরে কারখানায় চা পাতা বিক্রি হতে থাকে। এখন সেই চায়ের পাতা ৪০ টাকায় ওঠে। হতাশার চক্র থেকে প্রাণ ফিরে পায় চা চাষীরা।
এদিকে, গত ২৭ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণ সংক্রান্ত এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক পঞ্চগড়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় জেলার চা শিল্প সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বলা হয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার মাধ্যমে চা চাষিদের নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ইউনিয়ন কৃষি উপসহকারী কর্মকর্তার সহযোগিতায় আগামী দুই মাসের মধ্যে সব চা চাষির বাধ্যতামূলক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। কোনো চা চাষি নিবন্ধন না করলে তিনি সরকারি সার পাবেন না। অনিবন্ধিত চাষিদের কাছ থেকে কোনো কারখানা সবুজ চা পাতা ক্রয় করতে পারবে না। এছাড়া অনিবন্ধিত চা চাষিদের কোনো ধরনের প্রশিক্ষণও প্রদান করা হবে না। আরো বলা হয়, পঞ্চগড়ের সবুজ চা পাতার মূল্য নির্ধারণী কমিটিকে বাংলাদেশ চা বোর্ডের অনুমোদন নিতে হবে। নীতিমালায় উল্লেখিত প্রেসক্রাইবড কমিটি গঠন করে তা বাংলাদেশ চা বোর্ডে প্রেরণ করতে হবে।
মনোহরনগর গ্রামের অজিত মন্ডলের বাড়িতে দেখা যায়, উঠানে কোমর সমান পানি। এখন বিল সেচ চলছে, পানিও বাড়ছে। বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত সাত মাস তারা পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পরিবেশও নেই বাড়িতে।
আসন্ন বোরো মওসুমে যশোরের কেশবপুরের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ৩ ইউনিয়নের ২৭ বিলের পানি শতাধিক সেচ পাম্প দিয়ে নিষ্কাশন চালিয়ে যাচ্ছে ঘের মালিক ও কৃষকেরা। কিন্তু শ্রী নদীর নাব না থাকার পাশাপাশি ব্রিজ, কালভাটের মুখ বন্ধ করে অপরিকল্পত মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ করায় বিলের পানি নদীতে নিষ্কাশনে বাধা পেয়ে ঢুকে পড়ছে লোকালয়ে। পানির চাপে এরইামধ্যে ১০/১২ গ্রাম তলিয়ে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় রূপ নিচ্ছে। জলাবদ্ধতার কারণে গ্রামের মানুষের চলাচলে প্রধান মাধ্যম হয়ে উঠেছে ডিঙি নৌকা ও বাঁশের সাঁকো।এতে ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো। জানা গেছে, উপজেলার পাঁজিয়া, সুফলাকাটি ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নসহ ২৭ বিলের বর্ষার অতিরিক্ত পানি ডায়ের খাল দিয়ে শ্রী নদীতে নিষ্কাশন হয়। ৯০'র দশকে পাউবোর সুইস গেটের পাশাপাশি ২০০০ সালের দিকে এলাকার প্রভাবশালী ঘের মালিকেরা ব্রিজ, কালভাটের মুখ বন্ধ ও অপরিকল্পত মাছের ঘেরের বেড়িবাঁধ করায় বর্তমান বিলের পানি শ্রী নদীতে নিষ্কাশন হচ্ছে না। ঘের মালিকেরা প্রতি শুষ্ক মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানি তুলে বিলগুলো ভরাট করে। ফলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষাকালে যেনতেন বৃষ্টিতেই পানি মানুষের বসতবাড়িতে উঠে যায়। এলাকায় দেখা দেয় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা। প্রায় সারা বছরই বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর, নারায়নপুর, কালিচরণপুর, আড়য়া, ময়নাপুর, সানতলাসহ ১০/১২ গ্রামের মানুষের বসতভিটায় পানি থাকে। ঘেরের কারণে জেলেরা বাধ্য হয় পেশা বদল করতে। সোমবার (৫ জানুয়ারি) বাগডাঙ্গা, মনোহরনগর ও কালিচরণপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের বাড়িতে এখনো পানি থই থই করছে। আষাঢ়-শ্রাবণ মাস থেকে মানুষজনের বাড়িতে পানি। মাঝে পানি কিছুটা কমে গিয়েছিল। কিন্তু গত ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে প্রতিদিনই পানি বাড়ছে। গরু ছাগল হাঁস মুরগি নিয়ে পড়তে হচ্ছে মহাবিপাকে। জলাবদ্ধতা সমস্যার নিরসণের দাবি করা হলেও তা কেউ আমলে নিচ্ছে না।
মনোহরনগর গ্রামের অজিত মন্ডলের বাড়িতে দেখা যায়, উঠানে। উঠানে কোমর সমান পানি। । এখন বিল সেচ চলছে, পানিও বাড়ছে। বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশিত হতে না পেরে গ্রামের মধ্যে ঢুকে পড়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। গত সাত মাস তারা পানিবন্দী অবস্থায় আছেন। স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের পড়াশুনার পরিবেশও নেই বাড়িতে।
২৭ বিল বাঁচাও আন্দোলন কমিটির আহ্বায়ক বাবর আলী গোলদার বলেন, শ্রী নদীসহ তিন নদী ও সংযোগ খালের খনন কাজ চলছে। এতে সাময়িক জলাবদ্ধতার নিরসন হবে, কিন্তু স্থায়ী সমাধান হবে না। নদীর প্রবাহ ঠিক রাখতে শ্রীনদী, হরিহর, আপারভদ্রা, বুড়িভদ্রা নদী খননসহ ভবদহ অঞ্চলের যেকোনো একটি বিলে টিআরএম চালু করা না হলে এ সমস্যার সমাধান হবে না।
কেশবপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ আহমেদ বলেন, সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নদীর খনন কাজ চলছে। তারাই এটা দেখভাল করছে। আমাদের করার কিছুই নেই।
ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পর জুলাই অভ্যুত্থানের অজ্ঞাত আট শহীদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাত শহীদদের মরদেহ পরিচয় শনাক্তকরন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ।
এ সময় মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া জুলাই গণঅভ্যূত্থানের শহীদ পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন।
শনাক্তকৃত শহীদরা হলেন- ময়মনসিংহের ফুলপুর থানার ফুলপুর গ্রামের গাজী মামুদ এবং জোসনা বেগমের ছেলে মো. মাহিন মিয়া (২৫)। তিনি ১৮ জুলাই, ২০২৪ সালে মারা যান।
শেরপুরের শ্রীরবদীর আব্দুল মালেক এবং আয়েশা বেগমের ছেলে আসাদুল্লাহ। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
চাঁদপুরের মতলব থানার বারোহাতিয়া গ্রামের সবুজ বেপারী ও শামসুন্নাহারের ছেলে পারভেজ বেপারী। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
রফিকুল ইসলাম, সাতকাছিমা গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বার সিকদারের ছেলে, নাজিরপুর থানা, পিরোজপুর। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং-এর মো. লাল মিয়া ও রাশেদা বেগমের ছেলে সোহেল রানা। তিনি ২০২৪ সালের জুলাই মাসে মারা যান।
রফিকুল ইসলাম, ফেনী সদর, ফেনীর মৃত খোরশেদ আলমের ছেলে। তিনি ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই মারা যান।
ফয়সাল সরকার, কাচিমারা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে, দেবিদ্বার থানা, কুমিল্লা। তিনি ২২ জুলাই, ২০২৪ সালে মারা যান।
কাবিল হোসেন (৫৮), ঢাকার মুগদা থানা লেনের বাসিন্দা মৃত বুলু মিয়া এবং শামেনা বেগমের ছেলে। তিনি ২ আগস্ট, ২০২৪ সালে মারা যান।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে এ পর্যন্ত ১১৪ জনের অজ্ঞাত মরদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ সম্পন্ন করা হয়।
কবর শনাক্তের পর আটটি পরিবারের কাছে তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অনেক অজ্ঞাত মরদেহ দাফন করা হয়। পরিবারের সদস্যরা এতদিন জানতেন না নিহতদের কবর কোথায়।
১৮ মাস পর নিহতের কবর দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। এ সময় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে এবং আদালতের নির্দেশে পরিচালিত এই কার্যক্রমের আওতায় ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের মাধ্যমে ইতোমধ্যে ৯টি ভুক্তভোগী পরিবারের দেওয়া নমুনার ভিত্তিতে ৮ জন শহীদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। অবশিষ্ট একটি মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
এর আগে অজ্ঞাত নিহতদের শনাক্ত করার জন্য রাষ্ট্রীয় উদ্যোগের অংশ হিসেবে রায়েরবাজার কবরস্থান থেকে মৃতদেহ উত্তোলন করা হয়েছে।
সিআইডির তথ্যমতে, নয়টি পরিবারের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল, যার ফলে আটজন শহীদের শনাক্তকরণ সফলভাবে করা সম্ভব হয়েছে। বাকি মৃতদেহের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া চলছে।
সিআইডি জানিয়েছে যে পুরো অভিযানটি আইন, মানবাধিকার নীতি এবং আন্তর্জাতিক মান মেনে পরিচালিত হয়েছে, যা মর্যাদা, স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করেছে।
এ উদ্যোগ নিখোঁজ শহীদদের পরিবারের অনিশ্চয়তা দূর করতে সাহায্য এবং ভবিষ্যতের বিচারিক কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক প্রমাণ সংরক্ষণ করেছে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত বেশ কয়েকজন পুরুষ ও নারী শহীদের লাশ প্রাথমিকভাবে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। সরকারের সিদ্ধান্তের পর, তাদের পরিচয় নির্ধারণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডিকে এই কর্মসূচির সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়েছে। আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. মরিস টিডবল-বিঞ্জ দুই দিনের কর্মশালার মাধ্যমে সিআইডি ফরেনসিক, ডিএনএ এবং মেডিকেল টিমকে প্রশিক্ষণ প্রদান করেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সহায়তায় এবং মিনেসোটা প্রোটোকল অনুসারে আরেক আন্তর্জাতিক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ড. লুইস ফন্ডেব্রিডারের নেতৃত্বে মৃতদেহ উত্তোলন এবং শনাক্তকরণ প্রক্রিয়াটি পরিচালিত হয়।
মোহাম্মদপুর থানায় দায়ের করা একটি সাধারণ ডায়েরি শেষে আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর, মোট ১১৪টি মৃতদেহ উত্তোলন, ময়নাতদন্ত এবং ডিএনএ বিশ্লেষণের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রায়েরবাজার কবরস্থানে একটি অস্থায়ী মর্গ স্থাপন করা হয়। যেখানে ৭ ডিসেম্বর থেকে ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সম্ভাব্য সকল নিহতের হিসাব না পাওয়া এবং মর্যাদার সাথে তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত বাকি শহীদদের শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজারের রামুর ঈদগড়ের গহীন পাহাড়ে অস্ত্র তৈরির একটি কারখানার সন্ধান পাওয়া গেছে। সেই কারখানায় অভিযান চালিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি তৈরির বিপুল সরঞ্জাম উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজার জেলা পুলিশের জেলা পুলিশের মুখপাত্র ও বিশেষ শাখার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অলক বিশ্বাস এ তথ্য জানিয়েছেন। তবে অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যান তিন থেকে চারজন ব্যক্তি। এতে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি এয়ারগান উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)। গত রোববার রাতে উপজেলার সাতগাঁও ইউনিয়নের লছনা এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের পাশের ঝোপঝাড় থেকে এসব এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধানে ও অস্ত্র উদ্ধারে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা অবৈধ অস্ত্র কারখানার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। খবর কক্সবাজার ও শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধির।
কক্সবাজারের ঘটনায় অতিরিক্ত পলিশ সুপার অলক বিশ্বাস বলেন, সোমবার সকালে রামুর ঈদগড়ের গহীন পাহাড়ী এলাকায় সংঘবদ্ধ চক্রের কতিপয় লোকজন অবৈধ কারখানা স্থাপন করে আগ্নেয়াস্ত্র তৈরির খবর পায় পুলিশ। পরে পুলিশের একটি দল বিশেষ অভিযান চালায়। এক পর্যায়ে পুলিশ গহীন পাহাড়ের আবু আহম্মদঘোনা ফাতেমাছড়া এলাকায় গড়ে তোলা সন্দেহজনক একটি ঝুপড়ি ঘর ঘিরে ফেলে। এতে পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতি টের পেয়ে ৩/৪ জন সন্দেহজনক লোক পালিয়ে যায়। পরে ঝুপড়ি তল্লাশি চালিয়ে পাওয়া যায় ২টি রাইফেলের গুলি, ৪ টি গুলির খোসা, ২টি বন্দুকের বাট, ৩টি বন্দুকের ট্রিগার বক্স, ৬টি বন্দুকের নল, ২টি বন্দুক তৈরির যোগান, ১টি হাওয়ার মেশিন, ২টি বাটাল, ৫টি আড়িব্লেড, ১টি আড়িব্লেডের ফ্রেম, ১টি করাত, ১টি হাতুড়ী, ১টি প্লাস, ৭টি ছোট-বড় রেথ, ১টি শান দেয়ার মেশিন এবং ১টি বানান নালীসহ বেশ কিছু অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি।
অলক বিশ্বাস জানান, অভিযানে পলাতক দুর্বৃত্তদের পাশাপাশি সন্ধান পাওয়া অস্ত্রের কারখানার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে পুলিশ খোঁজ-খবর নিচ্ছে।
রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অপরাধ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে অস্ত্র উদ্ধারে গর্জনিয়া ও ঈদগড় এলাকয় অভিযান পরিচালনা করে একটি অবৈধ অস্ত্র তৈরির কারখার সংবাদ পাই এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। সরঞ্জামগুলো পরীক্ষা করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শ্রীমঙ্গলের ঘটনায় র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও মিডিয়া অফিসার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অস্ত্র উদ্ধার সংক্রান্ত বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে র্যাব-৯-এর একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁও ইউনিয়নের লছনা এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের উত্তর পাশে ঝোপঝাড়ে এয়ারগান লুকিয়ে রাখার তথ্য পায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যাপক তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে ঝোপের ভেতরে রাখা দুটি প্লাস্টিকের বস্তা থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১১টি এয়ারগান উদ্ধার করা হয়।
র্যাব জানায়, উদ্ধার করা এয়ারগানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকে তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত বা আটক করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম চলছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধার হওয়া এয়ারগানগুলো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে।
উদ্ধার এয়ারগানগুলো শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে শায়িত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা।
ডিএনএ প্রোফাইলিং এবং ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করার পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আট শহীদের নাম ও ঠিকানা প্রকাশ করে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাজধানীর রায়েরবাজার কবরস্থানে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আয়োজিত ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে অজ্ঞাতনামা শহীদদের মরদেহের পরিচয় শনাক্তকরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
এ সময় বক্তব্য রাখেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বীর প্রতীক বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত অনেক নারী ও পুরুষের মৃতদেহ অজ্ঞাত পরিচয়ে রায়েরবাজার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
শহীদদের পরিচয় উদঘাটনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুসারে সিআইডির ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়।
এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করতে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে।
আজ আমরা ঘোষণা করছি যে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ৯টি পরিবারের সংগৃহীত ডিএনএ নমুনার মাধ্যমে ইতোমধ্যে আটজন অজ্ঞাতনামা শহীদের পরিচয় সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।
এই শনাক্তকরণের ফলে শহীদের পরিবারগুলো অন্ততপক্ষে জানতে পারছে যে, তাদের প্রিয়জনের ভাগ্যে কী ঘটেছে বা তারা ঠিক কোন স্থানে শায়িত আছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, ‘উত্তাল সময়ে ঢাকার বিভিন্ন স্থানে নিহত অনেক নারী ও পুরুষের মৃতদেহ রায়েরবাজার কবরস্থানে অজ্ঞাত পরিচয়ে দাফন করা হয়েছিল। তখন তাদের পরিচয় এবং মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাকে রাষ্ট্র তার একটি নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব হিসেবে মনে করে। সেই গুরু দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবেই অজ্ঞাতনামা শহীদদের পরিচয় শনাক্তকরণে একটি পরিকল্পিত ও বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই কঠিন ও সংবেদনশীল কাজটি সম্পন্ন করতে সিআইডি ফরেনসিক, ডিএনএ ও মেডিকেল টিমগুলো অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছে।’
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান বলেন, ‘আমি মনে করি এটা রাষ্ট্রের দায়িত্ব পালনের একটি অংশ। এই শহীদ পরিবারের কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতা স্বীকার করার কোনো ভাষা নেই।’
গত ২৩ দিনে দেশব্যাপী অভিযান চালিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ১৪ হাজার ৫৬৯ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার এবং ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জব্দ করেছে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির ১৯তম সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিচালিত অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেজ-২-এর আওতায় এসব লোককে গ্রেপ্তার ও অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, এসব অভিযানে ২০১টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১৫৪১ রাউন্ড গুলি, ৫৬৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১৬৫টি দেশীয় অস্ত্র, গ্রেনেড, মর্টারের গোলা, গান পাউডার, আতশবাজি ও বোমা তৈরির উপকরণ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ সময় মামলা ও ওয়ারেন্টমূলে ১৯ হাজার ২৩৫ জনসহ ৩৩ হাজার ৮০৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, ডেভিল হান্ট ফেইজ-২-এর অংশ হিসেবে চেকপোস্ট ও টহলের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ ছাড়া দুষ্কৃতকারীরা যাতে রেহাই না পায়, সে জন্য অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার অভিযান আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, ‘দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশব্যাপী গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রম আরও জোরদার করা ও সকল বাহিনীর গোয়েন্দা তথ্য-উপাত্ত সমন্বয় করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত ডিসেম্বর মাসে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযানে ৬৫৮টি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে এবং ১,৬১৩টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামির সংখ্যা ২,৩৭৫ জন। এ সময় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ প্রতিরোধ অভিযান পরিচালনাকালে তেতুলিয়া নদীর বাগমারা এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অপরাধে তিনটি লোড ড্রেজার মেশিন সহ ৫ জনকে আটক করেছে বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রশাসন।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রনজিৎ চন্দ্র দাস জানান, রোববার (৪ জানুয়ারি) রাত ৮ টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার তেতুলিয়া নদীর বাগমারা এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সময় ৫ জনকে ৩টি লোড ড্রেজার সহ হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। পরে জব্দ ড্রেজার তিনটি ভোলা নদী বন্দরের সহকারী পরিচালকের (বন্দর ও পরিবহণ) জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আটকতরা হলেন, ভোলা সদর উপজেলার মো. মোকছেদ, মো. মনির, দুলারহাট উপজেলার মো. আলমগীর, বরগুনা সদর উপজেলার মো. মিরাজ, বরিশাল সদর উপজেলার মো. হাসান বেপারী।
এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানায় নিয়মিত মামলার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযানে সহযোগিতা করে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশ।