শুক্রবার, ৩ এপ্রিল ২০২৬
১৯ চৈত্র ১৪৩২

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


কুড়িল-রামপুরা যানজট কমাতে হচ্ছে নতুন বাইপাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কুড়িল থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কের অসহনীয় যানজট কমাতে একটি নতুন বাইপাস সড়ক সংস্কার ও নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন এই পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাজধানীর ১০০ ফিট সড়ক থেকে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি হয়ে সানভ্যালী আবাসিক প্রকল্পের ভেতর দিয়ে আফতাবনগর হয়ে রামপুরা পর্যন্ত ডাবল লেনের একটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ করতে চায় সরকার। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) প্রস্তাবিত এই সড়কপথটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) চেয়ারম্যান, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার।

প্রকল্পটির ব্যয় কমাতে এবং দ্রুত বাস্তবায়নে তিন পক্ষ মিলে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন জানান, অতিরিক্ত অর্থ খরচ কমাতে সমন্বিত উদ্যোগে কাজ করা হবে। প্রকল্পটিকে মূলত তিন ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি অংশের কাজ করবে রাজউক। দ্বিতীয় অংশের দায়িত্বে থাকবে উত্তর সিটি করপোরেশন এবং বাকি অংশের কাজ শেষ করবে সানভ্যালী হাউসিং সোসাইটি।

পরিদর্শন শেষে রাজউক চেয়ারম্যান জানান, বাইপাস সড়কে যানচলাচল স্বাভাবিক করতে প্রাথমিকভাবে একটি ব্রিজ এবং ডাবল লেনের সড়কের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এই রুটটি সচল হলে কুড়িল থেকে রামপুরা এবং বনশ্রী এলাকার ট্রাফিক চাপের বড়ো একটি অংশ এই বাইপাস দিয়ে চলে যাবে।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক বলেন. প্রধানমন্ত্রীর সব অঙ্গীকারকে আমরা বাস্তবে রূপ দিতে চাই। তাই যানজট নিরসনে আফতাবনগর বাইপাস সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রের অর্থ যেন অযথা ব্যয় না হয়, তাই সমন্বয় করে কাজটি করা হবে। প্রয়োজনীয় ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উদ্যোগও নেওয়া হবো।

সড়কটি নির্মিত হলে বাড্ডার মূল সড়কের ওপর গাড়ির চাপ উল্লেখযোগ্য হারে কমবে বলে মনে করেন ডিএমপি কমিশনার মো. সরওয়ার। পরিদর্শনকালে তিনি এই রুটের যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কারিগরি দিক ও চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন।

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এই বিকল্প সংযোগ সড়কটি চালু হলে পূর্ব ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং বিশেষ করে অফিসগামী মানুষের দীর্ঘ সময়ের যানজট ভোগান্তি লাঘব হবে।


যশোরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিধন্য খাল পুনখননের দাবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বেনাপোল (যশোর) প্রিতিনিধি

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী-যদুনাথপুর খাল, যা একসময় এ অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিল, আজ দীর্ঘদিনের অবহেলায় প্রায় মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে এই খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। প্রায় চার কিলোমিটার দীর্ঘ এই খাল খননে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা পরবর্তীতে একটি সফল গণউদ্যোগ হিসেবে পরিচিতি পায়। ভিত্তি পোস্তরে এখনো লেখা আছে "আমাদের হাত কোটি হাতিয়ার অঙ্গীকার আমাদের দেশ গড়বার " মেজর জিয়াউর রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালটি খননের আগে উত্তর শার্শার পাচটি বড় বিলের পানি ঠিকমতো নিষ্কাশন হতো না। ফলে প্রায় ২২ হাজার একর জমি বছরের বেশিরভাগ সময় পানির নিচে ডুবে থাকত এবং কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতো। খালটি চালু হওয়ার পর বিলগুলোর পানি সহজে বেতনা নদীতে নেমে যেতে শুরু করে। এতে করে জমি আবাদযোগ্য হয়ে ওঠে এবং কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পাশাপাশি খালের পানি ব্যবহার করে সেচ ব্যবস্থাও উন্নত হয়, যা এ অঞ্চলে বোরো ধানের চাষ বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে সময়ের ব্যবধানে খালটি এখন তার সেই গৌরব হারিয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খালের বিভিন্ন অংশ পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। শুষ্ক মৌসুমে খালে পানি থাকে না বললেই চলে, আর বর্ষাকালেও পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে কৃষকরা আবারও আগের মতো সমস্যার মুখে পড়ছেন। খালের পাড়ে স্থাপিত ঐতিহাসিক ফলক ও ভবনগুলোর অবস্থাও একইভাবে জরাজীর্ণ। ফলকের লেখা মলিন হয়ে গেছে, আর খালের পাশে থাকা পুরনো ভবনটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। একসময় যেখানে উন্নয়ন কার্যক্রম ও কৃষকদের সমাবেশ হতো, সেখানে এখন আগাছা আর নীরবতা।

স্থানীয় প্রবীণরা জানান, খাল খননের সময় মানুষের মধ্যে যে উদ্দীপনা ও অংশগ্রহণ ছিল, তা আজও তাদের স্মৃতিতে জ্বলজ্বল করছে। তাদের মতে, এই খাল শুধু পানি নিষ্কাশনের মাধ্যম ছিল না, এটি ছিল এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের একটি প্রতীক। ১১৪ বছর বয়সী বৃদ্ধ আব্দুল বারেক মন্ডল জানান, আমাদের দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে আমাদের এলাকায় কৃষি জমি থাকলেও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকার কারণে চাষাবাদ ঠিকমতো হত না। ফসল ঠিকমত না হওয়াযর কারণে প্রতিটা পরিবারের মধ্যে অভাব অনটন লেগেই থাকতো।

১৯৭৬ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের এলাকায় আসেন। আমাদের এখানকার মানুষের সাথে আলোচনা করেন কিভাবে ফসল ফলানো যায় এবং খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা আনা যায়। আলোচনা একপর্যায়ে উঠে আসে খাল খনন করে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করলে আমাদের এখানে ভালো ফসল ফলবে এবং খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা আসবে। সে অনুযায়ী ১ নভেম্বর থেকে উলাশি যদুনাথপুর থেকে খাল খননের কাজ শুরু হয়। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান তখন কোদাল দিয়ে নিজে মাটিতে কোপ দিয়ে খান খননের কাজ উদ্বোধন করেন। এই খাল খনন কাজ হয় স্বেচ্ছাস্রমের মাধ্যমে । সে সময় কোন পারিশ্রমিক দেয়া হয়নি । আমাদেরকে রুটি আর গুড় খেতে দিত । আমরা বিনা পারিশ্রমিকেই খাল-কাননের কাজ শুরু করি। এই খাল ৪ কিলোমিটার লম্বা। এই খাল মিশেছে শার্শার বেতনা নদীতে।

খাল খলনের পর পানি নিষ্কাশরের সুব্যবস্থা হওয়ায় আমাদের এখানে ফসলাদি ভালো হতে লাগলো এবং আমাদের এলাকার খাদ্য অভাব দূর হয়ে যায় । আমাদের এলাকায় এই খাল 'জিয়া 'খাল নামে পরিচিত। সে সময় জিয়াউর রহমান খাল খনন উদ্বোধন করার পর আমার ভাইয়ের মাথার একটি টোকাও নিয়ে যান। আজ সেই খাল শুকিয়ে গেছে। এই খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না হওয়ায় এখন প্রতিবছর আমাদের বর্ষা মৌসুমে ফসল ডুবে যায়। এজন্য পুনরায়খালটি কাটানো উচিত বলে তিনি মনে করেন। বর্ষা মৌসুমী পানির নিষ্কাশন ব্যবস্থা হলে ফসলাদই ভালো হবে।

উলাশী গ্রামের শফিকুল ইসলাম জানান, এলাকার মানুষের উপকারের জন্য তৎকালীন সরকার প্রধান প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খাল খনন করলে ও সেই খাল এখন নর্দমায় পরিণত হয়েছে। এই খাল দিয়ে এখন আর পানি নিস্কাশন হচ্ছে না। গ্রামের মানুষ তাদের ঘরবাড়ির ময়লা আবর্জনা ও বাজারের সকল ময়লা আবর্জনা এই খালেই এখন ফেলছে। ময়লা আবর্জনা খালে ফেলার কারণে খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। তাছাড়া জিয়াউর রহমান মারা যাওয়ার পরে এই খাল কোন সরকার আর সংস্কার করেনি।

যেহেতু আবারও খাল খননের কাজ শুরু করেছেন জিয়াউর রহমানের ছেলে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এজন্য আমাদের দাবি প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যখন প্রথম খাল খননের কাজ এখান থেকেই শুরু করেন তাই আমরাও চাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও যেন এখান থেকেই খাল খননের কাজ শুরু করবেন। শার্শা উপজেলা একটি কৃষি প্রধান এলাকা। এই এলাকায় জিয়ার খালটি পুনরায় খনন করলে আমরা আবারও কৃষিতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করতে পারব।

শার্শা উপজেলা যুবদল নেতা এমদাদুর রহমান ইমদা জানান, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান আমাদের দেশের এখন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবার পথেই হাঁটতে শুরু করেছেন। তিনি ইতিমধ্যে খাল খননের কাজ উদ্বোধন করেছেন। আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আমাদের এই উপজেলার উলাশী জিয়া খাল পুনরায় খননের কাজ শুরু করবেন।


আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা, সমন জারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সমন জারি করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলা আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সুমন ভূঁইয়া এই সমন জারি করেন। সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হায়দার ওরফে রফিক সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে মামলাটি করেন সিরাজগঞ্জ জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর হুমায়ুন কবির কর্নেল। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী আখ্যা দেওয়ার অভিযোগে মামলাটি করা হয়।

সিরাজগঞ্জ জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর শাকিল মোহাম্মদ শরিফুল হায়দার বলেন, ‘জ্বালানিমন্ত্রীকে নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী বলায় সকালে হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। আদালত সেই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে হাজির হতে সমন জারি করেছেন। আমি এই মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী।’

উল্লেখ্য, একই অভিযোগে মুফতি আমির হামজার বিরুদ্ধে গত ৩০ মার্চ সিরাজগঞ্জের আদালতে ১০০ কোটি টাকার মানহানির আরেকটি মামলা দায়ের হয়। ওই মামলার বাদী জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নাজমুল ইসলাম।


পাবনায় পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জ আন্তঃজেলা ক্রিকেট টুর্নামেন্টের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনা জেলা পুলিশের আয়োজনে অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে শুরু হয়েছে ‘রাজশাহী রেঞ্জ আন্তঃজেলা ক্রিকেট টুর্নামেন্ট-২০২৬’। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে পাবনা পুলিশ লাইন্স মাঠে বেলুন উড়িয়ে এই টুর্নামেন্টের জমকালো উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পাবনার পুলিশ সুপার (এসপি) আনোয়ার জাহিদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, পুলিশের পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। এই টুর্নামেন্ট জেলা পুলিশ সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন আরও সুদৃঢ় করবে।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ দল বনাম সিরাজগঞ্জ জেলা পুলিশ দল। দুই দলের খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে মাঠজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

এ সময় বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মশিউর রহমান মন্ডল এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শরিফুল ইসলাম। এছাড়াও পাবনা পুলিশ লাইন্সের আরআইসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং অংশগ্রহণকারী দলসমূহের খেলোয়াড়রা উপস্থিত ছিলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রাজশাহী রেঞ্জের বিভিন্ন জেলা পুলিশ দলের অংশগ্রহণে এই টুর্নামেন্ট কয়েক দিনব্যাপী চলবে। প্রতিযোগিতামূলক এই আয়োজনে বিজয়ী হওয়ার লক্ষ্যে দলগুলো তাদের সেরা নৈপুণ্য প্রদর্শনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।


শিক্ষক রুনা হত্যার বিচার দাবিতে ইবিতে বিক্ষোভ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে কুষ্টিয়ায় সড়ক ও রেললাইন অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে নিহতের স্বজনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০টায় শহরের মজমপুর গেটে বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। ঘণ্টাব্যাপী চলা এ কর্মসূচিতে সড়কের দুপাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়।

এ সময় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘প্রায় এক মাস হয়ে হয়ে এখনও সংশ্লিষ্ট আসামিদের গ্রেপ্তার করেনি পুলিশ। শুধু ফজলুকে (প্রধান আসামি) গ্রেফতার দেখিয়ে অন্য আসামিদের পার করে দিচ্ছে প্রশাসন। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও সহযোগিতা করছেন না। খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচার না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চলবে।’

পরবর্তীতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করে দাবিদাওয়া পেশ করেন পুলিশ সুপারকে। পুলিশ কর্মকর্তাদের আশ্বাসে এলাকা ত্যাগ করেন তারা।

নিহত রুনার স্বামী ইমতিয়াজ সুলতান ও তার বড় মেয়ে তাইবা বিক্ষোভ সমাবেশ থেকে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ সুপার কার্যালয় থেকে আলাপ শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে নিহতের স্বামী বলেন, ‘আমরা পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বলেছি, উনারা আশ্বস্ত করছেন। কিন্তু আমাদের মনে হলো বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অসহযোগিতা করছেন। দ্রুত বিচার না পেলে পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি ভবন ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হবে।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া প্রধান আসামির ৭ দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। দ্রুত জিজ্ঞেসাবাদ শেষ হলে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচিত হবে। অন্যান্য আসামিদের ব্যাপারেও তদন্ত সাপেক্ষে গ্রেপ্তারের অভিযান চলমান।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের প্রধান আসমা সাদিয়া রুনা তার নিজ অফিস কক্ষে খুন হন। এসময় ওই কক্ষ থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দিনহাজিরার কর্মচারী ফজলুর রহমানকে। আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দু’জনকে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে আসমা সাদিয়া রুনাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। এ হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফজলু রহমানের চিকিৎসা শেষে কুষ্টিয়া জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে। বাকি তিন আসামি সমাজ কল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার ও সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান এবং সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস এখনো অধরা রয়েছে।


কলাপাড়ায় ৬ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল ও পেট্রোল জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ৩ হাজার ২০০ লিটার ডিজেল ও ৩ হাজার লিটার পেট্রোল জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে নয়টায় পৌর শহরের ফেরিঘাট সংলগ্ন আন্ধারমানিক নদীতে নোঙর করা একটি ট্রলার থেকে এসব জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়।

পরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদীক ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে তেল সরবারহের দায়ে বিসমিল্লাহ ফিলিং স্টেশনের মালিককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং জব্দ তেল সরকারি কোষাগারে জমা রাখা হয়।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদীক বলেন, ফিলিং স্টেশন থেকে অবৈধভাবে তেল নিয়ে ট্রলারটি কলাপাড়া থেকে রাঙ্গাবালীর উদ্দেশে রওয়ানা দেয়। পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ট্রলার থেকে ৩১ ব্যারেল ডিজেল ও ৩০ ব্যারেল পেট্রোল জব্দ করা হয়। তেল মজুতদার ও অবৈধ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।


দ্বিতীয়বার তেল নিতে গেলেই ধরে ফেলছে অ্যাপস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরীয়তপুর প্রতিনিধি

শরীয়তপুরে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ঠেকাতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। এখন থেকে মোটরসাইকেল চালকরা দিনে মাত্র একবার জেলার একটি ফিলিং স্টেশন থেকে তেল নিতে পারবেন। দ্বিতীয়বার তেল নিতে গেলে বিশেষ একটি অ্যাপস স্বয়ংক্রিয়ভাবে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। ফলে অতিরিক্ত তেল মজুতের সুযোগ থাকছে না।

জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে চালু করা এই ডিজিটাল অ্যাপসে পাম্পে তেল নিতে গেলে আগে পূরণ করতে হচ্ছে একটি নির্দিষ্ট ফরম। সেখানে পাম্পের নাম, মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর, জ্বালানির ধরন ও পরিমাণ উল্লেখ করতে হচ্ছে। তথ্যগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে জেলার সব পেট্রোল পাম্পে শেয়ার হয়ে যাচ্ছে। ফলে একাধিক পাম্প ঘুরে ঘুরে তেল সংগ্রহ করার সুযোগ আর থাকছে না অসাধুচক্রের।

ফিলিং স্টেশন মালিক ও জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর জেলায় মোট ছয়টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। প্রতিদিন এসব স্টেশনে ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ১৫ হাজার লিটার পেট্রোল ও ১২ হাজার লিটার অকটেনের চাহিদা থাকে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে প্রয়োজন অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। এতে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির ডিপো থেকে স্টেশনগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না। সেই সুযোগে একটি অসাধু চক্র বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে ঘুরে প্রয়োজনের তুলনায় অধিক তেল সংগ্রহ করে মজুত রাখছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা প্রশাসন চালু করেছে বিশেষ অ্যাপস-ভিত্তিক নজরদারি ব্যবস্থা। যেখানে পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করতে গেলে অ্যাপসের মাধ্যমে পূরণ করতে হচ্ছে জ্বালানি তথ্য ফর্ম। আর স্বয়ংক্রিয়ভাবে এ তথ্য চলে যাচ্ছে জেলার প্রতিটি পেট্রোল পাম্পে। এতে পাম্প ঘুরে ঘুরে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ করে মজুতের সুযোগ মিলছে না অসাধু চক্রের। ফলে প্রকৃত গ্রাহকরা তেল পাচ্ছেন স্বাচ্ছন্দ্যে।

পেট্রোল পাম্পে তেল নিতে এসে বিকাশের সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ মো. ফয়সাল বলেন, আগে অনেকেই প্রয়োজন না থাকলেও বিভিন্ন পাম্পে ঘুরে ঘুরে ১০ থেকে ১৫ লিটার পর্যন্ত তেল সংগ্রহ করে মজুত করতেন। এখন অ্যাপসের কারণে সেটা সম্ভব হচ্ছে না। তেল সিন্ডিকেট ঠেকাতে এটি খুবই কার্যকর উদ্যোগ। আমরা জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।

আরেক বাইকচালক রুবেল হোসাইন বলেন, একজন বাইকার দিনে একবার তেল নিলে সারাদিন চলে যায়। কেউ যদি একাধিকবার নেয়, তাহলে অন্যরা বঞ্চিত হয়। এখন যেহেতু অ্যাপসের মাধ্যমে একবার তেল নেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, এটি ভালো উদ্যোগ। এখন আর কেউ অতিরিক্ত তেল নিতে পারবে না।

মেসার্স গ্লোরী ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মেহেদী হাসান বলেন, এটি সুন্দর একটি অ্যাপস। অ্যাপসে পাম্পের নাম, রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও জ্বালানির ধরন এন্ট্রি করা হয়। কেউ অন্য পাম্পে গিয়ে আবার তেল নিতে চাইলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি ধরা পড়ে। এই ব্যবস্থা চালু থাকলে ভবিষ্যতে আর কেউ অতিরিক্ত তেল নিয়ে মজুত করতে পারবে না।

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম বলেন, আমরা তথ্য পেয়েছি, কিছু ব্যক্তি একাধিক পাম্প থেকে তেল নিয়ে মজুত করছিল। এতে প্রকৃত গ্রাহক তেল পাচ্ছিল না। এতে করে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছিল। তাই আমরা এই সংকট ঠেকাতে গুগলের মাধ্যমে একটি বিশেষ অ্যাপস তৈরি করেছি। যেখানে সকল পাম্পের তালিকা ও তেল নেওয়ার জন্য তিনটি অপশন পূরণ করতে হবে। এতে একজন বাইকার দিনে একটি পাম্প থেকে একবার তেল সংগ্রহ করতে পারবে। কেউ আর বেশি করে তেল নিয়ে মজুত করতে পারবে না। আমরা অ্যাপসটি ট্যাগ অফিসারের মাধ্যমে সব সময় মনিটরিং করছি।

জেলা প্রশাসনের এই প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগে স্বস্তি ফিরেছে সাধারণ বাইকারদের মধ্যে। অনেকেই বলছেন, এমন ব্যবস্থা চালু থাকলে ভবিষ্যতে আর কৃত্রিম তেল সংকট তৈরি করা সহজ হবে না।


ডোবায় শাবকের মরদেহ, তিন দিন পাশে দাঁড়িয়ে শোকাতুর হাতি দম্পতি

ডোবায় পড়ে থাকা শাবকের লাশের পাশে হাতি দম্পতি। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়া থেকে তোলা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি  

ঘোলা জলের একটা অগভীর ডোবা। সেখানে একটি হাতির শাবকের মরদেহ পড়ে আছে। মরদেহের বেশির ভাগ অংশই পানিতে ডুবে আছে। তার পাশেই ডোবার জলে অর্ধেক শরীর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে আছে মা হাতি। মা হাতির অল্প দূরে ডোবার কিনারে ঠায় দাঁড়িয়ে একটি পুরুষ হাতিও। তিন দিন ধরেই হাতি দম্পতি মৃত শাবকের জন্য এভাবে শোক জানাচ্ছে। দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে অশ্রুসিক্ত হয়েছেন এলাকার সাধারণ মানুষ আর বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সোনাইছড়ি ইউনিয়নের বটতলা মুসলিমপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে। গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) থেকে এলাকার একটি টিলার পাদদেশের ডোবার মধ্যে হাতি দম্পতিকে এভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখছেন এলাকাবাসী। মৃত শাবকের পাশ থেকে নড়ছে না হাতি দুটি। পুরুষ হাতিটি রাতে খাবার খেতে জঙ্গলে ঢুকছে। ফিরে আসছে আবার। এরপর মা হাতিও খাবার খেয়ে সন্তানের পাশে এসে অপেক্ষা করছে। মঙ্গলবার থেকে তিন দিন ধরে একটিবারও হাতির দম্পতি মৃত শাবকটিকে একা রেখে যায়নি বলে জানিয়েছেন বন বিভাগের কর্মকর্তারা।

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা সদর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে নাইক্ষ্যংছড়ি-ঘুমধুম সড়কে বটতলা মুসলিমপাড়ার অবস্থান। এলাকাটির অবস্থান বান্দরবানে হলেও এখানকার বনাঞ্চলটি কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের রাজারকুল রেঞ্জের অধীনে।

তিন দিন ধরে বন বিভাগের কর্মকর্তারা হাতি দম্পতির বিষয়টিতে নজর রাখছেন। নাইক্ষ্যংছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক গতকাল বৃহস্পতিবার বলেন, আপাতত হাতি দম্পতিকে বিরক্ত করা হবে না। তারা শোকে কাতর। শোকের ধকল না কমা পর্যন্ত কিছুই করা যাবে না।

সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মিলন তঞ্চঙ্গ্যা বলেন, মঙ্গলবার বিকেল থেকে হঠাৎ হাতি দম্পতির এই করুণ দশা দেখতে পাই। হাতির শাবকটি অসুস্থ হয়ে মায়ের দুধ পান করতে না পেরে মারা গেছে বলে এলাকাবাসীর ধারণা।

কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক মনিরুল ইসলাম জানান, নাইক্ষ্যংছড়ির সোনাইছড়ি হয়ে মিয়ানমারে চলাচলের হাতির একটি রুট আছে। ওই রুটে মিয়ানমার থেকে আসার অথবা এদিক থেকে যাওয়ার সময় হাতির শাবকটি টিলা থেকে ডোবায় পড়ে মারা গেছে ধারণা করা হচ্ছে। বাচ্চাটির বয়স ছয়-সাত মাস হতে পারে। শোকাহত হাতির দম্পতির পাশে বন বিভাগের লোকজন সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। শোকে কাতর মা হাতিটি কোনোমতে বাচ্চার মরদেহ ছেড়ে যেতে চাইছে না। তাড়িয়ে দেওয়াও যাচ্ছে না। মানসিক অভিঘাত কাটিয়ে চলে গেলে শাবকের মরদেহ উদ্ধার করা হবে। অসুস্থ হয়ে নাকি পাহাড় থেকে পড়ে শাবকের মৃত্যু তা হয়েছে, ময়নাতদন্তের মাধ্যমে জানার চেষ্টা করা হবে।


মাকে হত্যার মামলায় ১০ মাস পালিয়ে থেকে গ্রেপ্তার ছেলে ও পুত্রবধূ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে এক নারীকে গলা কেটে হত্যা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। গত বুধবার (১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়ন থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার দুজনের একজন ওই নারীর ছেলে, আরেকজন পুত্রবধূ। এরা হলেন বাঁশখালী উপজেলার পূর্ব বৈলছড়ি এলাকার মোজাফফর আহমেদের ছেলে মো. কাশেম (২৮) ও তার স্ত্রী নারগিছ আক্তার(২৫। নিহত রেহেনা বেগম (৬২) কাশেমের মা।

র‍্যাব জানায়, রেহেনা বেগম বড় ছেলে প্রবাসী মো. বেলাল, ছোট ছেলে কাশেম ও তার স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করতেন। প্রবাসী ছেলে বেলাল মায়ের চিকিৎসা ও ওষুধের জন্য স্ত্রীর মাধ্যমে কাশেমের কাছে টাকা পাঠাতেন। তবে কাশেম সেই টাকা মায়ের কাছে না দিয়ে নিজেই রেখে দিতেন। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ লেগে থাকত।

এর জেরে গত বছরের ৫ জুন কাশেম ও তার স্ত্রী নারগিছ মিলে রেহেনা বেগমকে গলা কেটে হত্যা করেন। ঘটনার পর থেকে তারা আত্মগোপনে ছিলেন। এ ঘটনায় নিহত রেহেনার ভাই মো. মোক্তার আহমদ বাঁশখালী থানায় মামলা করেন। পরে র‌্যাবের একটি দল অভিযান চালিয়ে চকরিয়া থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে।

র‌্যাব-৭–এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, গ্রেপ্তার দুজনকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নিতে বাঁশখালী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


নেত্রকোনায় দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পাশে ডেপুটি স্পিকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলে তলিয়ে যাচ্ছে কৃষকের স্বপ্নের ফসল আকস্মিক পাহাড়ি ঢল ও বন্যায় । বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের নবনিযুক্ত ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছেন । বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) বিকেলে নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার বড়খাপন ইউনিয়নের কাউয়ার বাড়ি খাল ও তৎসংলগ্ন প্লাবিত এলাকা আকস্মিক পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন এবং হাওর অঞ্চলের পানিবদ্ধতা নিরসনে বিগত সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতিকে দায়ী করেছেন। পরিদর্শনকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কলমাকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মিকাইল ইসলাম, সহকারি কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান, কলমাকান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিদ্দিক হোসেন, ডেপুটি স্পিকারের একান্ত সচিব সাইফুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সাইদুর রহমান ভূইয়া, বড়খাপন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, কলমাকান্দা প্রেসক্লাব সভাপতি শেখ শামীমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী। এসময় সাধারণ কৃষকরা তাদের দুর্দশার কথা ডেপুটি স্পিকারের কাছে তুলে ধরেন।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের উদ্দেশ্যে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “এখানকার জনবসতির একমাত্র উপার্জন হচ্ছে কৃষি। হঠাৎ পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে তাদের জমির ফসল। কেউ হয়তো কিছু ফসল পাবে, কেউ পাবে না- এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা নতুন দায়িত্ব নিয়েছি। আপাতত প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাঁধের ব্যবস্থা করা হয়েছে এবং কৃষকদের জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে। আমি নিজেও একজন কৃষকের সন্তান। কৃষকের সুবিধার্থে এবং তাদের উৎপাদিত ফসল যেন ঘরে তুলতে পারে, তার জন্য যা করণীয় আমরা তা করবো ইনশাআল্লাহ।”হাওরের করুণ এই অবস্থার জন্য পূর্ববর্তী সরকারের অব্যবস্থাপনাকে কঠোরভাবে সমালোচনা করেন ডেপুটি স্পিকার।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “গত ১৫-২৫ বছর ধরে এ অঞ্চলে কোনো নদী বা খাল খনন হয়নি। উল্টো বিভিন্ন জায়গায় বাঁধ দিয়ে বিগত সরকারের দলীয় নেতাকর্মীরা মাছ চাষ করে অর্থ উপার্জন করেছে। নদীর সাথে খালের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছিল। আমরা নতুন বাংলাদেশে এমন অনিয়মের ন্যায়বিচার চাই।”

তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার সারা বাংলাদেশেই খাল ও নদী খননের বৃহৎ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় হাওর অঞ্চলের খালগুলোও খনন করা হবে বলে তিনি কৃষকদের আশ্বস্ত করেন। নেত্রকোনার হাওর অঞ্চলের ৪২ হাজার হেক্টর জমির ফসল বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের জরুরি দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

তিনি বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনেক গাফিলতি ও স্বজনপ্রীতি রয়েছে। আমি এখান থেকেই পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী, সচিব এবং সংশ্লিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, তারা যেন অনতিবিলম্বে হাওর অঞ্চলে এসে কৃষকদের সাথে কথা বলে কার্যকর ও স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সরকার যে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো একটু সক্রিয় হলেই আমরা সেই দিকে এগিয়ে যেতে পারবো।”


চিকিৎসা সহায়তা না পেয়ে অন্তঃসত্ত্বা চা শ্রমিকের মৃত্যু: কমলগঞ্জে চা বাগানে কর্মবিরতি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে অন্তঃসত্ত্বা এক নারী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। চিকিৎসা সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকাল থেকে বাগানের শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে বিক্ষোভ করেন।

নিহত রিয়া বেগম (২২) দেওড়াছড়া চা বাগানের স্থায়ী শ্রমিক ছাব্বির মিয়ার স্ত্রী। শ্রমিকদের অভিযোগ, অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে রিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে বাগান ব্যবস্থাপকের কাছে চিকিৎসা সহায়তা চাওয়া হয়। কিন্তু কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে কোনো সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে দীর্ঘ চিকিৎসার পর বুধবার (১ এপ্রিল) মধ্যরাতে সিলেটের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন বাগানের শ্রমিকরা। তারা দাবি করেন, অর্থের অভাবে ও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় রিয়া বেগমের মৃত্যু হয়েছে। এ দায় এড়াতে পারে না বাগান কর্তৃপক্ষ। এর প্রতিবাদে শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করে বাগান ব্যবস্থাপকের পদত্যাগ দাবি করেন।

বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবোধ কুর্মি, নাজির আহমদ, সঞ্জয় কানু, পলাশ কর্মকার, ছালু মিয়া, লক্ষী নারায়ন, ইব্রাহিম মিয়া, সুভাষ ভৌমিজ, বাবুলাল ভৌমিজ, অজয় ভৌমিক, সেলিম মিয়া, জসিম মিয়া, বায়না মিয়া, শুকুর মিয়াসহ অনেকে।

কর্মবিরতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান কমলগঞ্জ থানার এসআই আমির হোসেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী এবং রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার।

ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার বলেন, ‘ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে শ্রমিকরা কাজে ফিরবেন, নাকি আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।’

এ বিষয়ে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জহিরুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।


বান্দরবানে কাজ না করেই প্রকল্পের টাকা লুটপাটের অভিযোগ পিআইও―র বিরুদ্ধে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বান্দরবান প্রতিনিধি

বান্দরবানের আলীকদমে কাজ না করেই টিআর, কাবিখা ও কাবিটাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা আত্নসাতের অভিযোগ উঠেছে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, ১নম্বর আলীকদম সদর ইউনিয়নের কলার ঝিরি পাকা রাস্তা থেকে চৈক্ষ্যং খালমুখী সড়ক সংস্কার নামে একটি প্রকল্পের অনুকুলে ১০.২৫ মেট্রিক টন খাদ্যশস্য বরাদ্দ দেখানো হয়।যা

অনেক আগেই কাঠ ব্যবসায়ীদের প্রয়োজনে নিজেদের টাকায় সংস্কার করা হয়েছিল। অপরদিকে ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউপির ১৫ কিলো এলাকায় বরই গাছ থেকে তুলা পাড়া পর্যন্ত রাস্তা সংস্কার প্রকল্পেও পুরাতন রাস্তাকে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখানো হয়েছে। যা বাস্তবে করেননি। বরং এরুপ একাধিক সড়ককে নতুন প্রকল্পের আওতায় দেখিয়ে কাজ না করেই সরকারি টাকা আত্নসাৎ করেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইউপি সদস্য জানান, ইউনিয়ন পর্যায়ে সরকারি কাজের প্রতিটি বিল উত্তোলনের সময় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমিশন দিতে হয় তাকে। কমিশন না দিলে বিল হয়রানির শিকার হতে হয়।

এমনকি এক নারী ইউপি সদস্যকে প্রকল্পের সভাপতি বানিয়ে ওই প্রকল্পের কাজ নিজেই করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানান, অনিয়মের তথ্য পেয়ে এবিষয়ে পিআইও কার্যালয়ে গেলে নোটিশ বোর্ডে প্রকল্পের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ টাঙানো তালিকা দেখা যায়। প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ তালিকা চাইলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

অফিস সুত্রে জানা যায়, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার প্রকল্পের আওতায় দুর্যোগ ও ত্রাণ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় থেকে মোট ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, ৯৫.৩৯ মেট্রিক টন চাল এবং ৯৫.৩৯ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) খাতে ৮৭ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং কাবিটা খাতে ১ কোটি ৫৭ লাখ ৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল।

এবিষয়ে জানতে আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কে এম নজরুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিক বার কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়।

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম বলেন, অভিযোগ প্রাপ্ত প্রকল্প গুলোর মধ্যে প্রথম ধাপের ৩টি প্রকল্পের অনুকুলে ৭০ শতাংশ বিল দেয়া হয়েছে।তবে অভিযোগ প্রাপ্ত সকল প্রকল্প গুলো তদন্ত স্বাপেক্ষে আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।


নীলফামারী জেলা পরিষদের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি

নীলফামারী জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জেলা পরিষদ চত্বরে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাড. মিজানুর রহমান চৌধুরী ।

এসময় তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি সবুজ, বাসযোগ্য জেলা গড়তে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জেলা পরিষদ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের সভাপতি প্রফেসর ড. সৈয়দ খলিলুর রহমান, সদর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মশগুল ইসলাম এবং যুবদলের সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম মুকুলসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।


banner close