ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। ১ নম্বর লাইনে এই দুর্ঘটনা ঘটার কারণে অন্যান্য ট্রেনগুলো স্টেশনের ২ নম্বর লাইনে চলাচল করে স্বাভাবিক রয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৮টা ১৩ মিনিটে সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে এই ঘটনা ঘটে।
সেতাবগঞ্জ স্টেশন মাস্টার মজনুর রহমান জানান, পঞ্চগড় থেকে সান্তাহারগামী দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে প্রবেশের সময় ‘গ’ নম্বর বগির দুটি চাকা লাইনচ্যুত হয়। বর্তমানে উদ্ধার কাজ চলমান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যাত্রীদের সেবার কথা বিবেচনায় রেখে যে বগিটি লাইনচ্যুত হয়েছে, সেটি রেখে অন্যান্য বগি নিয়ে ট্রেনটি সান্তাহারে যাত্রা শুরু করবে।
দিনাজপুর স্টেশন সুপার এবিএম জিয়াউর রহমান বলেন, সেতাবগঞ্জ রেলস্টেশনে দোলনচাঁপা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ১ নম্বর লাইনে লাইনচ্যুত হয়েছে। তবে ২ নম্বর লাইনে অন্যান্য ট্রেনের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। সকালেই পঞ্চগড় থেকে একতা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সঠিক সময় অনুযায়ী ঠাকুরগাঁও, পীরগঞ্জ, সেতাবগঞ্জ ও দিনাজপুর স্টেশন অতিক্রম করে ঢাকা অভিমুখে রওনা দিয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে ভারত-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে চলতি বছরে চতুর্থ দফায় ডিজেল সরবরাহের পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল) থেকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর অভিমুখে এই পাম্পিং কার্যক্রম শুরু হয়।
মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ম্যানেজার (অপারেশনস) কাজী মো. রবিউল আলম জানিয়েছেন, এবারের চালানে ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসবে। পাম্পিং শুরু হওয়ার পর পাইপলাইনের মাধ্যমে এই তেল গন্তব্যে পৌঁছাতে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। আশা করা হচ্ছে, আগামী ৩১ মার্চের মধ্যে পুরো ৭ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল পার্বতীপুর রিসিপ্ট টার্মিনালে জমা হবে।
পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোর ইনচার্জ আহসান হাবিব জানান, এর আগে গত শুক্রবার ৫ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল আসার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে চার দফায় মোট ২২ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল এই পাইপলাইনের মাধ্যমে দেশে এলো। ভারত থেকে আসা এই জ্বালানি তেল ডিপোর পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা— এই তিন রাষ্ট্রীয় তেল বিপণন কোম্পানির মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে সরবরাহ করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ১৩১ দশমিক ৫৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভূ-গর্ভস্থ পাইপলাইন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়। ২০২৩ সালের ১৮ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানি শুরু হয়। আগে খুলনা ও চট্টগ্রাম থেকে রেল ওয়াগনের মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে তেল আসতে ৬ থেকে ৭ দিন সময় লাগতো, যা এখন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় সম্ভব হচ্ছে।
দুই দেশের চুক্তি অনুযায়ী, ভারত আগামী ১৫ বছর এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল সরবরাহ করবে। বর্তমানে বছরে ২ থেকে ৩ লাখ টন জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ভবিষ্যতে এর পরিমাণ ১০ লাখ মেট্রিক টন পর্যন্ত বৃদ্ধি করা সম্ভব বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি)।
নড়াইলে ট্রাকে তেল দিতে না পারায় তানভীর ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদারকে (৩৩) ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ওই ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী জিহাদ মোল্লা (২৭) গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের নড়াইল-যশোর সড়কের তুলারামপুর রেল ব্রিজের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নাহিদ সরদার সদর উপজেলার তুলারামপুর ইউনিয়নের পেড়লী গ্রামের আকরাম সরদারের ছেলে। আহত জিহাদ একই ইউনিয়নের চামরুল গ্রামের জহুর আলীর ছেলে।
ফিলিং স্টেশনের কর্মচারী আখের আলী ও ইসরাফিল জানান, শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নড়াইল সদর উপজেলার তুলারামপুরে নড়াইল-যশোর সড়কের পাশে অবস্থিত মেসার্স তানভীর ফিলিং অ্যান্ড গ্যাস স্টেশনে ট্রাকের জন্য ডিজেল নিতে আসেন পেড়লী গ্রামের ট্রাকচালক সুজাত মোল্লা। ফিলিং স্টেশনে তেল না থাকায় তেল দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদার। তেল না দেওয়ায় ট্রাকচালক সুজাতের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা হয় ব্যবস্থাপক নাহিদের। এক পর্যায়ে ট্রাকচালক সুজাত ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপককে ট্রাকচাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দেন।
পরে রাত ২টার দিকে মোটরসাইকেলে নিজ গ্রাম পেড়লী যাচ্ছিলেন ব্যবস্থাপক নাহিদ ও কর্মচারী জিহাদ। ফিলিং স্টেশন থেকে ১০০ গজ দূরে গেলে ট্রাকচালক সুজাত মোটরসাইকেলের পেছন দিক দিয়ে এসে চাপা দেন। এতে ঘটনাস্থলে ব্যবস্থাপক নাহিদ সরদার মারা যান। মারাত্মক আহত অবস্থায় জিহাদ মোল্লাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পর ট্রাকচালক সুজাত ট্রাক নিয়ে পালিয়ে যান।
তুলারামপুর হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেকেন্দার আলী বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আটকের জোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে।‘
দিনাজপুর বিরামপুরে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বালুবাহী ট্রাকের পেছনে ঢাকাগামী স্লিপার বাসের ধাক্কায় দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হয়েছে।
রোববার (২৯ মার্চ) সকাল ৬ টার দিকে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কের বিরামপুর চন্ডিপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন- মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার খবির উদ্দিনের ছেলে মোশাররফ হোসেন বাবু ও আরেকজনের নাম পরিচয় এখনো জানা যায় নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিনাজপুর শহর থেকে যাত্রী নিয়ে হেরিটেজ স্লিপার কোচ নামে একটি যাত্রীবাহী বাস ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। এ সময়ে চন্ডিপুর এলাকায় পৌঁছালে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বালুবাহী ট্রাকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের চালকের সহকারী ও এক যাত্রীর মৃত্যু হয়। সেখানে অন্তত ছয়জন যাত্রী আহত হয়। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করান।
বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতাউর রহমান বলেন, সকালে সড়ক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের একজনের নাম পাওয়া গেছে আরেকজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। আহতরা বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে প্রাণ গেছে পাঁচ জনের। এদের মধ্যে ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পাবনার ভাঙ্গুড়া ও নওগাঁর পত্নীতলায় ক্ষেতে কাজ করার সময় চারজন কৃষক এবং নোয়াখালীতে গোসল করতে যাওয়ার পথে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জেলা থেকে এসংক্রান্ত খবর পাঠিয়েছেন দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিরা।
ঝিনাইদহ: ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার উমেদপুর ইউনিয়নের খড়িবাড়িয়া গ্রামে বজ্রপাতে সমির বিশ্বাস (৪০) ও অপু বিশ্বাস (২২) নামের দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ৪ কৃষক। শনিবার বেলা ১২ টার দিকে খড়িবাড়িয়া গ্রামের দক্ষিণ মাঠে এ ঘটনা ঘটে। মৃত সমির মৃত সমির ওই গ্রামের সুশিল বিশ্বাস ও অপু ওই এলাকার প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে।
স্থানীয়রা জানায়, সমির বিশ্বাস তার বাবার সঙ্গে মাঠে পেঁয়াজ তোলার কাজ করছিলেন। একই সময়ে পাশের ক্ষেতে কাজ করছিলেন প্রকাশ বিশ্বাসের ছেলে অপু বিশ্বাসসহ আরও কয়েকজন। হঠাৎ বজ্রপাত হলে তারা গুরুতর আহত হন।
আহতদের শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক সমির বিশ্বাস ও অপু বিশ্বাসকে মৃত ঘোষণা করেন। আহতদের মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শৈলকূপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. এহেতাম শহীদ জানান, দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটের দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহতদের হাসপাতালে আনা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে সমির ও অপু মারা যান।
ভাঙ্গুড়া (পাবনা): পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বজ্রপাতে সুরুজ(৩৫) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সুরুজ উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের পরমান্দপুর গ্রামের মৃত গোলবারের ছেলে। শনিবার ভোরে মাগুরা জেলার ছাচলাপুর এলাকায় ভরে মাঠে পিয়াজ তুলতে গিয়ে ক্ষেতে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা যায় ভোরে সুরুজসহ আরো কয়েকজন কৃষক পিয়াজ তুলতে গিয়ে এ ঘটনা ঘটে অন্যরা সবাই সুস্থ আছেন বলে জানাযায়। সুরুজ কে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মৃত্যু হয়। খানমরিচ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিঠু ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ভোরে পিঁয়াজ তুলতে গিয়ে বজ্রপাতে সুরুজের মৃত্যু হয় বাকি সবাই সুস্থ আছে। তিনি আরো বলেন শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
নওগাঁ: শুক্রবার রাত থেকেই আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি ঝড়ো হাওয়া বইছিল। ঝড়-বাতাসের মধ্যেই শিহারা ইউনিয়নের তেপুকুরিয়া ফসলের মাঠে নামেন আশরাফ আলীসহ ৫ কৃষক। ওই সময়ে আকস্মিক বজ্রপাতে ৫ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিক তাদেরকে উদ্ধার করে জেলার সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে আশরাফ আলীর মৃত্যু হয়।
পত্নীতলা থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, মাঠে গম কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষক আশরাফের মৃত্যু হয়েছে। আহত বাকি চারজন পার্শ্ববর্তী সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহটি নিহতের স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
নোয়াখালী: নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়ায় বজ্রপাতে মো. জিহাদ উদ্দিন ওরফে রিয়াদ নামে (১৬) এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার বিকেলের দিকে উপজেলার হাতিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরকৈলাশ গ্রামের তাহের মিস্ত্রি বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জিহাদ উদ্দিন একই পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তাহের মিস্ত্রি বাড়ির মো. বেলাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর থেকে হাতিয়া পৌরসভা এলাকায় আকাশ কিছুটা মেঘলা ছিল। বিকেলের দিকে জিহাদ গোসল করার জন্য বসতঘর থেকে বের হয়। ওই সময় বসতঘরের পাশেরই একটি রাজকড়ই গাছের নিচে দাঁড়ানো ছিলেন তিনি। তখন আকস্মিক বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়।
তাৎক্ষণিক বাড়ির লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে হাতিয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) প্রতীক পাল বলেন, খবর পেয়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। গোসল করতে যাওয়ার পথে বজ্রপাতে ওই কিশোরের মৃত্যু হয়।
মানিকগঞ্জে নেশার টাকা জোগাতে অটোবাইক ছিনতাইয়ের উদ্দেশে এক অটোচালককে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্তে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি নিজের পরিচিত বন্ধুদের হাতেই খুন হয়েছেন।
নিহত রফিক মিয়া (২৮) ঘিওর উপজেলার রাথুরিয়া গ্রামের বাসিন্দা ও পেশায় অটোচালক ছিলেন। তিনি ২৪ মার্চ অটোবাইক নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরদিন নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে শনাক্ত করেন। ঘটনার পরপরই পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করে। প্রযুক্তির সহায়তায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রথমে রিপন মিয়াকে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান হোসেন ও সজিব মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার সকালে পিবিআই কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার জয়ীতা শিল্পী।
পুলিশ সুপার জয়িতা শিল্পী বলেন, নিহত রফিক ও নির্মাণশ্রমিক রিপন বন্ধু ছিলেন। ইজিবাইকটি ছিনিয়ে নিয়ে বিক্রি করার উদ্দেশে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রিপন। মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর গাঁজা খাওয়ার কথা বলে রফিককে ইজিবাইকে করে পাছবারইল এলাকায় কালীগঙ্গা নদীর পাড়ে নিয়ে যান রিপন এবং তার সহযোগী সজীব ও আরমান। পরে আরমান রফিকের মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর রিপন দা দিয়ে তার গলা কেটে শরীর থেকে মাথা আলাদা করেন। এ সময় আরমান রফিকের দুই হাত এবং সজীব তার দুই পা ধরে রাখেন। হত্যার পর মাথা ও শরীর নদীতে ফেলে দেন তারা। মাথা পানিতে ডুবে গেলেও শরীর ভেসে ওঠে। পরে রফিকের পেট কেটে নদীতীরে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরদিন বুধবার ভোরে রফিকের ইজিবাইক নিয়ে রিপন সাভারে চলে যান। পরে বিকেলে নদীর তীর থেকে মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রযুক্তির সহায়তায় ঢাকার ধামরাই উপজেলার কালামপুর বাজার এলাকা থেকে রিপনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআইয়ের একটি দল। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরমান ও সজীবকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের তথ্য অনুযায়ী কালামপুরের একটি গ্যারেজ থেকে ইজিবাইকটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, নিহত যুবকের মাথা উদ্ধারে ডুবুরি দল দিয়ে ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালানো হয়েছে। তবে এখনো মাথা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিরা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। ইজিবাইক ছিনিয়ে নেওয়ার জন্যই এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে তারা জানিয়েছেন।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে চিত্রা নদীতে গোসল করতে নেমে প্রতিবেশি দুই শিশু নিখোঁজের পর এক শিশুর লাশ উদ্ধার হয়েছে। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয়রা জানান, মহিষখোলা গ্রামের আবদুল্লাহ শেখের মেয়ে আরিয়া (৭) এবং এনায়েতে শেখের মেয়ে রাফিয়া (৬) বাড়ির পাশে চিত্রা নদীতে গোসল করতে যায়। একপর্যায়ে তারা পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়।
খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যসহ স্থানীয় লোকজন চিত্রা নদীতে নেমে দুজনকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে যাদবপুর খেয়াঘাট এলাকা থেকে রাফিয়ার লাশ উদ্ধার করা হয়। আরিয়াকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। কালিয়া থানার ওসি ইদ্রিস আলী জানান, গোসল করতে নেমে চিত্রা নদীতে দুই শিশু নিখোঁজের বিষয়ে অবগত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন উদ্ধার হলেও শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টা পর্যন্ত আরেকজন উদ্ধার হয়নি। নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে, ঈদের ছুটিতে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ইতনা ইউনিয়নের পাংখারচরে ‘মিনি কক্সবাজার’ হিসেবে পরিচিত মধুমতি নদীতে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে এসে নিখোঁজের দু’দিন পর শিশু তাসমিয়ার (১১) লাশ উদ্ধার করেছে নৌপুলিশ।
শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দুর্ঘটনাস্থলের প্রায় সাড়ে তিন কিলোমিটার দূরে ডিগ্রিরচর খেয়াঘাট এলাকায় তার লাশ দেখতে পান স্থানীয়রা। তাসমিয়া যশোর সদরের শাহবাজপুর গ্রামের জিন্নাহের মেয়ে। ঈদের ছুটিতে নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার কুন্দসী এলাকায় নানাবাড়িতে বেড়াতে এসে গত ২৬ মার্চ পাংখারচরে মধুমতি নদীতে পরিবারের সঙ্গে ঘুরতে যায় শিশু তাসমিয়া। দুটি ট্রলারে ঘুরতে বের হয় তাসমিয়ার পরিবার। নদীচরে ছবি তোলাসহ ঈদ আনন্দে মেতে উঠে তারা। একপর্যায়ে নদী পাড়ে এসে পরিবারের সদস্যরা তাসমিয়াকে দেখতে না পেয়ে অনেক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও তাৎক্ষণিক তাসমিয়াকে শণাক্ত করতে পারেননি। অবশেষে শনিবার সকালে নদীতে তার লাশ ভেসে উঠে। এ ঘটনায় তাসমিয়ার পরিবারসহ নানাবাড়িতে শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাসমিয়ার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন লোহাগড়া থানার ওসি আব্দুর রহমান।
ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী লড়াইয়ের সৈনিক ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শরীফ ওসমান হাদির জন্মভূমি ঝালকাঠির নলছিটিতে ওসমান হাদির বাংলার প্রকৃত সংস্কৃতি রক্ষা, ভিনদেশী আধিপত্যবাদ বিরোধী আজাদীর লড়াইকে চালু রাখতে ও শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদির হাত ধরে আত্মপ্রকাশ করল নতুন সংগঠন ‘ওসমান হাদি মঞ্চ’।
ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে শাহাদাতের ১০০ তম দিনে ঝালকাঠির নলছিটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শনিবার বিকাল চারটায় সকল শ্রেণিপেশার মানুষের উপস্থিতিতে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ হয়।
এসময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ ওসমান হাদির বোন মাসুমা হাদি,ভগ্নিপতি আমির হোসেন, শহীদ সেলিম তালুকদারের পিতা সুলতান তালুকদার, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তৌহিদ আলম মান্না, সাবেক কাউন্সিলর জিয়াউল কবির মিঠু, উপজেলা ছাত্রদল সদস্য সচিব সুজন খান, সাংবাদিক ইসমাইল মুসাফির,উপজেলা এনসিপির আহবায়ক লাভলু ব্যাপারী, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেতা শাহাদাৎ ফকির, স্থানীয় সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মহুয়া ইসলাম, সমাজকর্মী বালী তূর্য, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেত্রী সাথী আক্তার,বৈষম্য বিরোধী ছাত্র নেতা খালিদ সাইফুল্লাহ, ইমরান হোসেন, মারজান খান, আমিনুলসহ নানা শ্রেণিপেশার মানুষ।
এসময় বক্তব্য দেন উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক তৌহিদ আলম মান্না, শহীদ সেলিমের পিতা সুলতান তালুকদার, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সুজন খান, শাহাদাৎ ফকির প্রমুখ।
বক্তব্য শেষে সংগঠনের আত্মপ্রকাশে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মাসুমা হাদি।এতে তিনি বাংলাদেশের হারাতে বসা আসল সংস্কৃতি রক্ষায় শহীদ ওসমান হাদির প্রচেষ্টাকে তথা আজাদির লড়াইকে এই সংগঠনের মাধ্যমে সারাদেশে ছড়িয়ে দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি আরও বলেন, ওসমান হাদির শাহাদাতের পরে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই এবং ওসমান হাদির জন্মস্থান নলছিটি থেকে শহীদ ওসমান হাদির কন্ঠস্বরকে খুজে পাচ্ছিলেন না বলে তাকে এ সংগঠন গড়তে অনুরোধ করেছে যাতে ওসমান হাদির রক্তে বাহিত আজাদীর কন্ঠ তার বোনের গলা থেকেই ফের সারাদেশে ছড়িয়ে পরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।
এছাড়াও ওসমান হাদিকে হত্যার ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও বিচারহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তদন্তের নামে বারবার কালক্ষেপণ করে বিচারকে অনিশ্চয়তার দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে কিনা তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং ওসমান হাদির খুনিদের দ্রুত ভারত থেকে ফিরিয়ে এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি জানান।
কোরআন তিলওয়াতের মাধ্যমে শুরু করে ইসলামি সংগীত, মিলাদ ও দোয়ার মাধ্যমে এ আত্মপ্রকাশ অনুষ্ঠান সমাপ্ত করা হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কুষ্টিয়া ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাহাত আব্দুল্লাহ।
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মাখালডাঙ্গা গ্রামে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা সাতটি শক্তিশালী স্থলমাইন নিষ্ক্রিয় করেছে সেনাবাহিনী। শনিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এসব মাইন ধ্বংস করা হয়।
যশোর সেনানিবাসের ৩ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়নের একটি চৌকস বোম্ব ডিসপোজাল টিম এই নিষ্ক্রিয়করণ অভিযানে নেতৃত্ব দেয়। মাইনগুলো ধ্বংস করার সময় এলাকায় বিকট শব্দ হয় এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী তৈরি হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে এ সময় আশপাশের এলাকায় জনসাধারণের প্রবেশ সীমিত রাখা হয়েছিল।
এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মাখালডাঙ্গা গ্রামের কৃষকেরা জমিতে চাষ করতে গিয়ে ধাতব কিছু বস্তুর অস্তিত্ব পান। খবর পেয়ে দ্রুত যৌথ বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে এগুলোকে স্থলমাইন হিসেবে শনাক্ত করেন। প্রায় এক মাস এলাকাটি ঘিরে রাখার পর আজ চূড়ান্তভাবে সেগুলো ধ্বংস করা হলো।
জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মির্জা শহিদুল ইসলাম জানান, উদ্ধার মাইনগুলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের। ধারণা করা হচ্ছে, যুদ্ধের সময় পিছু হটার আগে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এই এলাকায় প্রতিরোধ গড়তে মাইনগুলো পুঁতে রেখেছিল। দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও মাইনগুলো সক্রিয় ছিল, যা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারত।
অভিযান চলাকালে চুয়াডাঙ্গা আর্মি ক্যাম্পের (৩৬ এডি) ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ রিফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, সদর থানার ওসি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং ফায়ার সার্ভিসের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকাসহ দেশের ১৯ জেলায় ৬০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। একইসঙ্গে বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেওয়া সতর্কবার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, যশোর, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও সিলেট জেলার ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির শঙ্কা রয়েছে। তাই এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে, আবহাওয়া অফিসের অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বাড়তি অংশ ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। এছাড়া, মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের সব বিভাগে আগামী কয়েক দিন অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
ফরিদপুরে বন্ধ থাকা দুটি তেলের পাম্পে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫৪ হাজার লিটার জ্বালানি তেল পেয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় হোসেন ফিলিং স্টেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং রয়েল ফিলিং স্টেশনে নামে আরেকটি প্রতিষ্ঠানকে তেল বণ্টনের শর্তে জরিমানা মওকুফ করেন আদালত। অবৈধ মজুত ঠেকাতে শনিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা সদরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
জানা গেছে, পেট্রোলিয়াম পণ্য মজুত ও ভোক্তাপর্যায়ে বিক্রি বন্ধ রয়েছে—এমন অভিযোগে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে অভিযান চালানো হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেসকাতুল জান্নাত রাবেয়ার নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার দীপ্ত চক্রবর্তী ও সাকিব রহমান আকাশ।
পরে সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কসংলগ্ন জেলা সদরের কানাইপুর এলাকায় অবস্থিত হোসেন ফিলিং স্টেশনে ভোক্তাপর্যায়ে তেল সরবরাহ বন্ধ রাখার অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পাম্পটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং সন্দেহ অনুযায়ী ট্যাংকে অভিযান চালিয়ে ২৮ হাজার লিটার জ্বালানির অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৭ হাজার লিটার পেট্রল, সাড়ে ৬ হাজার লিটার অকটেন এবং সাড়ে ১৪ হাজার লিটার ডিজেল রয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ভোক্তা অধিকার ও সংরক্ষণ আইনে ২০০৯ এর আওতায় ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং ভোক্তাপর্যায়ে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়। এ ছাড়া পেট্রল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ থাকার অভিযোগে একই মহাসড়কের রয়েল ফিলিং স্টেশনে অভিযানকালে ২৫ হাজার ৯০০ লিটার জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত পাওয়া যায়। এর মধ্যে সাড়ে ৩ হাজার পেট্রল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন ও ১৯ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। এ সময় পাম্পের মালিক ও ম্যানেজার মেশিনের সমস্যা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করায় তাঁকে অর্থদণ্ড করা হয়নি। পাম্পটি থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পেট্রল ও অকটেন সরবরাহ লাইন ওপেন করে ভোক্তাদের সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া বলেন, ভোক্তাপর্যায়ে জ্বালানি তেলের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ রাখতে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং বর্তমানে স্বাভাবিকভাবে তেল প্রদান অব্যাহত রয়েছে।
অস্বচ্ছলদের স্বাবলম্বী করতে জাকেরদের মাঝে কর্মসংস্থান সহায়তা হিসেবে পুঁজি ও মূলধন বিতরণ করেছে হযরত শাহ্ চন্দ্রপুরী জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশন।
শনিবার (২৮ মার্চ) বাদ ফজর ফরিদপুরের সদরপুরে ঐতিহ্যবাহী চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফে এ সহায়তা দেয়া হয়।
চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা পীর জামানার মোজাদ্দেদ হযরত শাহ্ সূফী সৈয়দ আবুল ফজল সুলতান আহমদ চন্দ্রপুরী (রহ.) পীর কেবলাজানের বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে এই অনুদান বিতরণ করা হয়। অনুদান প্রদান করেন চন্দ্রপাড়া দরবার শরীফের গদীনশীন পীর ও জাকের কল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাহ্ সূফী সৈয়দ কামরুজ্জামান। অস্বচ্ছলদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী করতে এককালীন আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি গরু-ছাগলসহ বিভিন্ন উৎপাদনমুখী উপকরণ প্রদান করে ফাউন্ডেশনটি।
এদিকে, বেছালত দিবস উপলক্ষ্যে শুক্রবার সকাল থেকেই দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য মুরিদ, আশেক-জাকের ও ভক্তরা দরবার শরীফে সমবেত হন। এদিন বাদ জুম ’আ থেকে পবিত্র কোরআন তেলওয়াত, মিলাদ-কিয়াম, জিকির-আজকার ও শরীয়ত-তরিকত সম্পর্কিত ওয়াজ মাহফিল হয়। শনিবার বাদ ফজর পবিত্র রওজা মোবারক জিয়ারত ও আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টির সুখ-শান্তি ও মহান আল্লাহর নৈকট্য কামনা করা হয়।
কুমিল্লা নগরীর বাড়তে থাকা যানজট নিরসনে অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু।
শনিবার নগরীর ১০ নম্বর ওয়ার্ডে মশক নিধন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম উদ্বোধন ও পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, “যানজট কমাতে অটোরিকশা কমানো হবে। এতে যদি কারো মন খারাপ হয়, তাতে আমাদের কিছুই করার নেই।
প্রশাসক জানান, নগরীর স্থায়ী বাসিন্দাদের অটোরিকশাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে যান চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং অনিয়ন্ত্রিত অটোরিকশা চলাচল কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় কুমিল্লাকে বাসযোগ্য, আধুনিক এবং ‘মশামুক্ত ও পরিচ্ছন্ন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নগর উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা এবং জনদুর্ভোগ কমাতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসক টিপু উল্লেখ করেন, প্রায় ১৫ লাখ মানুষের এই শহরে সীমিত অবকাঠামো, ফুটপাত দখল এবং অব্যবস্থাপনার কারণে যানজট, জলাবদ্ধতা ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, “সবাই একসাথে কাজ করলে কুমিল্লাকে একটি ক্লিন ও গ্রিন সিটিতে পরিণত করা সম্ভব।
এসময় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।