রোববার, ১০ মে ২০২৬
২৭ বৈশাখ ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন, সরকার আপনাদের পাশে আছে: আইনমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দায়িত্ববোধের জায়গা থেকে সঠিক সিদ্ধান্তের পথ বেছে নিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে বিচারকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, ‘সব সময় সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করবেন। আপনারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করুন; সরকার আপনাদের পাশে আছে।’

শনিবার (৯ মে) সকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট কমপ্লেক্সে আয়োজিত অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের ২০তম ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেছেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই বিচারকদের প্রতি মানুষের আস্থা আরও বাড়ুক। জনগণ আমাদেরকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। তাই আপনাদের বলতে চাই, যে বিষয়গুলো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথে অন্তরায়, সেগুলো এড়িয়ে চলে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করুন। এই কাজে সরকারকে সব সময় আপনাদের পাশে পাবেন।’

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তারেক রহমানের একটা কথা সব সময় অনুসরণের চেষ্টা করা উচিত। তিনি প্রায়ই বলেন, আমাদের কাজের জায়গাটা দায়িত্ববোধের এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার; জনপ্রিয়তার নয়। তাই সব ধরনের অবস্থায় সব সময় সঠিক পথটিই বেছে নিতে হবে।’

আসাদুজ্জামান আরও বলেন, ‘আমি প্রতিমুহূর্তে আমার সীমারেখা সম্পর্কে অবগত থাকি। যে দায়িত্ব আমাকে দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো কারণে কখনোই সঠিক সিদ্ধান্তের জায়গা থেকে পিছিয়ে আসিনি, আসবও না।’

কোনো ধরনের দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না বলেও স্পষ্ট জানিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্নীতির বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব, বিচারকদেরও সচেতন থাকতে হবে।’

মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘এটি না পারলে এই প্রতিষ্ঠানকে সামনে এগিয়ে নেওয়া ও ন্যায়বিচারের ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে দীর্ঘদিনের যে সংগ্রাম এবং আইনের শাসন ও মানবাধিকার—সবই ব্যর্থ হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দিকে তাকিয়ে সেই দায়ভার আমরা নিতে চাই না।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এবং বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (জেএটিআই) মহাপরিচালক মো. এমদাদুল হক।

আরও উপস্থিত ছিলেন আইন কমিশনের সদস্য, কর্মশালার প্রশিক্ষণার্থী, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিরা।


নিরপরাধ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হয়: পুলিশের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে; কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়- সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

রোববার (১০ মে) ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে শনিবার (৯ মে) দেওয়া এক বাণীতে পুলিশের উদ্দেশে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’- প্রতিপাদ্যে চার দিনব্যাপী (১০-১৩ মে) উদযাপিত হচ্ছে এবারের পুলিশ সপ্তাহ।

বাণীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্বের আর্দশে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের কাছে সেবা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে; ভুক্তভোগীকে তার প্রাপ্য আইনি সেবা পেতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে; কোনো নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়- সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

এদিকে পুলিশ মহাপরিদর্শক তার দেওয়া বাণীতে বলেন, পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আমরা পুলিশের কার্যক্রমকে আরও জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

এবারের পুলিশ সপ্তাহের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা জনগণের পুলিশ হিসেবে তাদের পাশে থেকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দিতে চাই।


১৮ দিন পর উৎপাদনে ফিরল ডিএপি সার কারখানা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

অ্যামোনিয়া সংকট কাটিয়ে ১৮ দিন পর উৎপাদনে ফিরল ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি (ডিএপিএফসিএল)। কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি (কাফকো) চালুর একদিন পর শনিবার (৯ মে) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত সার কারখানাটিতে পুনরায় উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক জানান, গত ২ মে বিকেল থেকে কাফকোতে উৎপাদন শুরু হওয়ায় ডিএপিএফসিএলে অ্যামোনিয়া সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে। এরপর কয়েকদিন ধরে প্রয়োজনীয় অ্যামোনিয়া মজুত এবং কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর শনিবার (৯ মে) দুপুর ২টা থেকে পুনরায় উৎপাদন চালু করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কারখানাটি সচল থাকলে বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন সম্ভব।

এর আগে অ্যামোনিয়ার ঘাটতির কারণে গত ১৮ এপ্রিল ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

প্রসঙ্গত, শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) নিয়ন্ত্রিত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর ২০০৬ সাল থেকে বাণিজ্যিকভাবে ডিএপি সার উৎপাদন শুরু করে।


সবাই মিলে কাজ করলে ছয় মাসেই ঢাকা শহর বদলে যাবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘সবাই মিলে কাজ করলে আগামী ছয় মাসেই বদলে যাবে ঢাকা শহর। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব নয়। আজ যেভাবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তি নিজ নিজ আঙিনা পরিষ্কারে এগিয়ে এসেছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে ঢাকা একটি আধুনিক ও সবুজ নগরীতে পরিণত হবে।’

শনিবার (৯ মে) সকালে ১২ নম্বর ওয়ার্ডের মালিবাগ এলাকায় আধুনিক অন্তর্বর্তীকালীন বর্জ্য হস্তান্তর কেন্দ্র (এসটিএস) ও সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেছেন।

রাজধানীর ১০ অঞ্চলে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ক্লিনিং ডে’ উদযাপিত হয়েছে। শনিবার (৯ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে তা পালিত হয়েছে।

পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত নগরী গড়তে প্রতি মাসের প্রথম শনিবারকে ‘ক্লিনিং ডে’ ঘোষণার পর আজ ছিল এর প্রথম আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম। এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ এবং নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা দিবসকে ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে এ কর্মসূচি পালন শুরু হয়েছে।

ডিএসসিসির ১০ অঞ্চলেই একযোগে পরিচালিত এই পরিচ্ছন্নতা অভিযানে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা (আনিক) সরাসরি মাঠ পর্যায়ে উপস্থিত থেকে এই কর্মসূচির নেতৃত্ব দেন। এতে সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সর্বস্তরের মানুষ অংশ নেন। আজকের এই বিশেষ কর্মসূচিতে ডিএসসিসি এলাকার সকল সরকারি ও বেসরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিগত প্লট মালিকরা নিজ নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্নতা অভিযানে শামিল হন।

ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, প্রতি মাসের প্রথম শনিবার রাজধানীর প্রতিটি বাড়ি, বাজার, আবাসিক এলাকা, মসজিদ ও মার্কেটসহ সব জায়গায় বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলবে। এ ছাড়া সরকারি অফিস, আদালত, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসমূহ প্রতি মাসের প্রথম সপ্তাহে অফিস চলাকালীন যেকোনো একদিন এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবে।

তিনি সব রাজনৈতিক দল, স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন, স্কাউট, বিএনসিসি, রেড ক্রিসেন্ট ও বিডি ক্লিনের সদস্যদের এই মহৎ কাজে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান। প্রশাসক এডিস মশার প্রজনন রোধে বাসাবাড়ির ছাদ, ফুলের টব ও আঙিনায় জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করার অনুরোধ জানান।

তিনি উল্লেখ করেন, কলাবাগান ও মালিবাগের মতো পর্যায়ক্রমে পুরো শহরের সব সেকেন্ডারি বর্জ্য হস্তান্তর কেন্দ্রগুলোকে আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক ঘোষিত সাপ্তাহিক পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ও ডিএসসিসির ‘ক্লিনিং ডে’ নাগরিকদের মধ্যে উত্তম চর্চার প্রসার ঘটাতে এবং পরিচ্ছন্ন ও ডেঙ্গুমুক্ত ঢাকা গড়তে সহায়ক হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।


চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ১৫ জন। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আজ শনিবার ১১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের হোটেল ফোর সিজনের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রামমুখী একটি বাসের সঙ্গে কক্সবাজারগামী একই পরিবহনের আরেকটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানে ঢুকে পড়ে। এতে বাস দুটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ উদ্ধার অভিযান চালায়। ঘটনাস্থল থেকে এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গুরুতর আহতদের লোহাগাড়া ট্রমা সেন্টারসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আরও চারজন মারা যান।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন পটিয়া উপজেলার পাচুরিয়া এলাকার রেহেনা বেগম (৬০), ঝিনাইদহ জেলার আবদুল্লাহ জিহাদ, মো. নাঈম এবং ভোলা জেলার মনির আহমদ। অন্য একজনের পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল্লাহ দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি সালাহ উদ্দীন চৌধুরী বলেন, দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে দুর্ঘটনাকবলিত বাস দুটি সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাস্থলে দুই বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে কক্সবাজারমুখী বাসে থাকা এক নারী ঘটনাস্থলে নিহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। মুখোমুখি সংঘর্ষের পর বাস দুটি সড়কের পাশে থাকা গাছের সাথে ধাক্কা দেয়। বাস দুটি দুমড়ে মুচড়ে গেছে।

লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্মের জরুরি বিভাগের ডা. তাসফিক আহমেদ জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহত ৮ জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। এর মধ্যে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।


জ্বালানি খাতকে সেবা খাত করার আহ্বান ক্যাবের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান ও দুর্নীতিমুক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে এ খাতকে মুনাফাভোগী নয়, সেবা খাত হিসেবে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম। শনিবার (৯ মে) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানিয়েছেন।

শামসুল আলম বলেন, বিগত সরকারের আমলে বিশেষ ও বিইআরসি আইনের সংশোধনীর মাধ্যমে জ্বালানি খাতে অসাধু ব্যবসায়ীদের উত্থান ঘটে।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ উৎপাদনের ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে করা গেলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে পরিকল্পনা নিলে, বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

ক্যাব জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘ডিআরসিতে আমরা ভোক্তারা মিলিয়ে একটা স্ট্যাটিক ৫ বছরের প্লান তৈরি করে দিয়েছিলাম। এটি কৌশলগত পরিকল্পনা, সেই পরিকল্পনায় যেসব কথা বলা হয়েছিল সেসব কিছু ফেলে দিল। ফেলে দিয়ে আমাদের টাকার ওপর কর্তৃত্ব নিয়ে নিল জ্বালানি বিভাগ। তারা আমরা যেভাবে করতে বললাম তারা করল না, বিআরসিতে তারা কোনো পরিকল্পনাও আনল না। তারা অবৈধ দখল নিল।’

এছাড়া, দেশের ভূগর্ভস্থ তেল অনুসন্ধানে সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। এ সময় তেল অনুসন্ধানে দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন বক্তারা।


নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির দায়ে আটক ৩ পরীক্ষার্থী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) সাধারণ পুলভুক্ত কর্মচারী নিয়োগের লিখিত পরীক্ষায় প্রক্সি দেওয়ার অপরাধে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) বিআইডব্লিউটিএ-এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে, গত শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর পাঁচটি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। জালিয়াতির দায়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে রাজধানীর রমনা থানায় মামলা করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংস্থার শুল্ক আদায়কারী এবং নিম্নমান সহকারী/মুদ্রাক্ষরিক পদের শূন্যপদ পূরণের জন্য এ নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। পরীক্ষা চলাকালে মগবাজারের সিদ্ধেশ্বরী কলেজ কেন্দ্রে তিন পরীক্ষার্থী নিজেদের পরিচয় গোপন করে অন্যের হয়ে পরীক্ষা দিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়েন।

পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়া অন্য কেন্দ্রগুলো হলো— সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজ, আজিমপুর গভ. গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, বুয়েট ক্যাম্পাসের ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং ধানমন্ডি গভ. বয়েজ হাই স্কুল। এ কেন্দ্রগুলোতে পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হলেও সিদ্ধেশ্বরী কলেজ কেন্দ্রে প্রক্সি দেওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি গুরুতর অনিয়ম ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে রমনা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ বিষয়ে সিদ্ধেশ্বরী কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্রসচিব সেখ জুলহাস উদ্দিন বলেন, অভিযুক্ত তিনজন আমাদের পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বরত পরিদর্শকের হাতে ধরা পরে। তারপর নিয়োগ পরীক্ষার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে মামলা করে।

রমনা থানার ওসি রাহাত খান বলেন, ‘এ বিষয়ে মামলা হয়েছে, আসামি আটক আছে এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।’


চলনবিলে মৎস প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ও গবেষনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে: প্রতিমন্ত্রী টুকু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, “তিনটি জেলা নিয়ে গঠিত চলনবিল মাছ ও প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর| বিগত সরকারের লুটপাটের কারণে চলনবিল উন্নয়ন বঞ্চিত ছিলো| এ বিলের ঐতিহ্য ফেরাতে সরকার কাজ করছে| চলনবিলাঞ্চলে মৎস প্রক্রিয়াকরণ এলাকা ও গবেষনা কেন্দ্র স্থাপন করা হবে| এ অঞ্চলে দেশীয় মাছের উৎপাদন বাড়াতে এবং ঐতিহ্য ধরে রাখতে সব ধরনের উন্নয়ন করবে সরকার|”

নাটোরের গুরুদাসপুরে মৎস্য চাষী সম্মেলন উপলক্ষে উপজেলার বৃ-পাথুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতীতের বক্তব্যকালে প্রতিমন্ত্রী টুকু এসব কথা বলেন|

শনিবার (৯ মে) বিকেলে মৎস্য মেলার উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের হুইপ অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু এমপি| মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মুহাম্মদ জিয়া হায়দার চৌধুরীর সভাপতিত্বে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আজিজ, মৎস্য ও প্রাণী সম্পদ সচিব দেলোয়ার হোসেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আরিফ হোসেন,রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের ডিন ড. মোস্তাফিজুর রহমান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন|

মৎস চাষী ও এলাকার বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন জাফর ইকবাল নয়ন, জেলা মৎস্য চাষী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ওমর আলী,সম্পাদক হাসান জাহিদ শিহাব,খামারি জাকির হোসেন প্রমুক্ত|

আয়োজকরা জানান,এ অঞ্চলে ২ হাজার পুকুর রয়েছে| যেখানে ১ হাজার ২০০ চাষি চাষ চাষের সাথে সম্পৃক্ত| এ অঞ্চলে উৎপাদিত ১ লাখ ১৫ হাজার টন জিবন্ত মাছ স্থানীয় চাহিদা পুরণ শেষে সারা দেশে রপ্তানী করা হচ্ছে| তারা বিদেশী মাছ আমদানী বন্ধ,এলাকায় অপরিকল্পিত পুকুর খননের ফলে জলাবদ্ধতার নিরশনে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন|

সকাল থেকে মৎস্য উপকরণ প্রদর্শন,দেশীয় প্রজাতীর মাছ ও আহরণ সামগ্রী এবং আধুনিক প্রযুক্তি প্রদর্শন করা হয়| এছাড়া ওই সম্মেলনে মৎস ও প্রানী সম্পদ সংশ্লিষ্ঠ ২০টি স্টল প্রতিমন্ত্রী ও অতিথিরা ঘুরে দেখেন|


জন্মের পর ছেলেকে কোলে নিতে পারেনি, ১৬ দিন পর কফিনবন্দীতে এলো মরদেহ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

আকামা শেষ করে বাড়ি ফেরার কথা ছিল মুরাদের। ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় রেখে তার স্বামী সৌদি আরব যান। ছেলের জন্মের পর বাবা তাকে কোলেও নিতে পারেননি, আহাজারি করে সেই কথাই বলছিলেন সৌদি আরবের জুবাইলে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত মুরাদ হোসেনের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা খাতুন।

কাঁদতে কাঁদতে তিনি আরও বলেন, ‘শুধু বলতো, তাড়াতাড়ি বাড়ি আসব, আমার বাবাকে কোলে তুলে নিব।’

বড় মেয়ে মাইশা খাতুন বলেন, ‘দুর্ঘটনার দুই ঘণ্টা আগে বাবার সঙ্গে তার ফোনে ভিডিও কলে কথা হয়েছিল। নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে ভালোভাবে কথা শোনা যাচ্ছিল না। বাবা বলেছিলেন, পরে ফোনে কথা বলবে। সেই কথা আর বলা হয়নি।’

নিহত মুরাদ রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ৬নং ওয়ার্ড দরাপের ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল খালেক শেখের ছেলে।

দীর্ঘ ১৬ দিন পর শনিবার (৯ মে) ভোর সাড়ে ৪টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছায় তার মরদেহ। গতকালই ১১টায় উজানচর দুদুখান পাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে তার জানাজা নামাজ শেষে স্থানীয় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে সকাল ৯টায় মুরাদের মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে বাড়িসহ চারপাশের আকাশ কান্নায় ভারী হয়ে উঠে। এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাড়িতে মুরাদের বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, দুটি শিশু কন্যা ও ১০ মাস বয়সী একজন পুত্র সন্তান রয়েছে। মুরাদের মরদেহ দেশে আনতে পরিবারের অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের অ্যাম্বেসীতে যোগাযোগ করে অবশেষে দীর্ঘ ১৬ দিন পর মরদেহ দেশে আনা সম্ভব হয়েছে।

আরও জানা যায়, সৌদি আরবে বসবাসরত গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া তোরাপ শেখের পাড়ার বাসিন্দা মোহাম্মদ হোসাইন যোগাযোগ ও অর্থনৈতিকভাবে সহযোগিতা করে মুরাদের মরদেহ দেশে পাঠান। এ ছাড়াও অনেক প্রবাসী মুরাদের মরদেহ দেশে পাঠাতে সহযোগিতা করেছেন। মুরাদের পরিবার তাদেরকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।

মুরাদের বড় ভাই গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষ ছিলেন মুরাদ। তার মৃত্যুতে স্ত্রী ও তিন সন্তান অসহায় হয়ে পড়েছে। সরকারি-বেসরকারিভাবে সকলকে সহযোগিতার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।’

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সৌদি আরবের দাম্মাম শহরের জুবাইল এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় মুরাদ শেখ (৩৬) ঘটনাস্থলেই নিহত হন।


লামায় পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

লামায় পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উদ্যোক্তা-চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে লামায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

পাহাড়ি কৃষিপণ্য রপ্তানিতে উদ্যোক্তা-চাষিদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও রপ্তানি সক্ষমতা উন্নয়নে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ‘এক জেলা, এক পণ্য’ কর্মসূচির আওতায় গতকাল শনিবার দুপুরে উপজেলার সরই ইউনিয়নের ক্যায়াজুপাড়াস্থ মেরিডিয়ান অ্যাগ্রো সম্মেলন কক্ষে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ হাসান আরিফ প্রধান অতিথি ছিলেন। মেরিডিয়ান অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান কোহিনূর কামালের সভাপতিত্বে প্রশিক্ষণের উদ্ভোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন- রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর মহাপরিচালক বেবী রানী কর্মকার, পরিচালক কুমকুম সুলতানা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সুবল চাকমা প্রমুখ।

এতে আধুনিক কৃষিপণ্য চাষ পদ্ধতি ও বাগান ব্যবস্থাপনা, ফল সংগ্রহ, গ্রেডিং, হট ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট পরিচালনা ও প্যাকেজিং পদ্ধতির ওপর বিস্তারিত ধারণা দেন, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সোহেল রানা।

এ সময় বাংলাদেশ রাবার বাগান মালিক সমিতির সভাপতি কামাল উদ্দিন ও মেরিডিয়ান অ্যাগ্রোর সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ কলিম উদ্দিন রপ্তানি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, বাজারজাতকরণ, ক্রেতার উৎস্য ও রপ্তানি বাজার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাগান উদ্যোক্তা, রপ্তানিকারক এবং কৃষকরা প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন।


মধুপুর গড়ে বাণিজ্যিক সম্ভাবনার ফসল আনারস ঘিরে শিল্পকারখানা না থাকায় ন্যায্য দাম পাচ্ছে না কৃষকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

লাল মাটির মধুপুর গড়ের নাম শুনলেই মনে হয় শালবন আর আনারসের কথা। গড় এলাকার মাটি আবহাওয়া ভূপ্রকৃতি কৃষি ফসলের জন্য বিশেষ উপযোগী। সমতল ও উঁচু স্থান হওয়ায় বন্যার পানি ওঠে না। গড়ের পুরো এলাকা বন থেকে বিস্তর এলাকাজুড়ে এঁকে বেঁকে বয়ে গেছে বাইদ ছোট ছোট নালা। যে কারণে জলাবদ্ধতাও তেমন হয় না। যে কারণে আনারস কলাসহ নানা ধরনের বৈচিত্র্যময় কৃষি ফসল চাষের অপার সম্বাবনা রয়েছে। মাটির গুণের কারণে ফসলও ভালো হয়। দেশের অন্যতম একটি ফলের নাম আনারস।

সারাদেশ ও দেশের বাইরেও রয়েছে এ ফলের সুনাম যশ খ্যাতি। সারাদেশে সমাগম ঘটে থাকে আনারসের। কিন্তু আনারসকেন্দ্রিক কোনো শিল্পকারখানা গড়ে না ওঠায় চাষিরা তাদের ন্যায্য দাম পাচ্ছে না বলে জানালেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি মধুপুর আনারসের শিল্পকারখানা হলে জুস জেলিসহ পণ্য দেশ ও বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে বলে মনে করেন তারা। কর্মসংস্থানের পাশাপাশি মধুপুরের ভাবমূর্তি সারাদেশে ছড়িয়ে পড়বে এমনটাই ধারণা স্থানীয়দের।

ঘাটাইলের আনোয়ার হোসেন জানান, মধুপুরের আনারেসর কারখানা হলে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হবে। আনারস নষ্ট হবে না। কারখানার কাঁচামালের সহজলভ্যতা হবে। পরিবহন খরচ কমে যাবে না। এতে চাষিরা তাদের উৎপাদিত আনারসের ন্যায্য দাম পাবে।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, মধুপুরে আনারস আবাদের ইতিহাস খুব বেশি পুরোনো নয়। গড় (উঁচু) এলাকার আউশনারা ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের গারো নারী ভেরেনা সাংমা ষাটের দশকের শেষ দিকে গিয়েছিলেন ভারতের মেঘালয়ে। সেখানে প্রচুর আনারস হয়। তিনি কয়েকটি জায়ান্টকিউ জাতের আনারসের চারা নিয়ে আসেন। বাড়িতে রোপণ করেন। প্রথমবারেই ভালো ফলন হয়। খেতেও সুস্বাদু ছিল। পরে আরও বেশি জমিতে আনারস আবাদ করেন। তার দেখাদেখি অন্যরাও আনারসের আবাদ করতে থাকে। এভাবে তার মাধ্যমেই আনারস চাষের যাত্রা শুরু। জায়ান্টকিউর পাশাপাশি গত কয়েক বছর জলডুগিও হচ্ছে। পার্বত্য অঞ্চলের আনারস জলডুগি।

গারো বাজারের কৃষক ছানোয়ার হোসেন জানান, আনারস যদি সারা বছর পাওয়া যায় তাহলে ভোক্তারা ক্রয় করতে চায় না। আকর্ষণ কমে যায়। আবার সারা বছর চাষ করতে গেলে কেমিক্যাল প্রয়োগ করতে হবে। তার মতে, দেশের মানুষের খাদ্যভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এ জন্য তিনি শিল্পকারখানা স্থাপনের গুরুত্ব দেন। যখন আনারস বেশি পেকে যায় তখন যেন প্রক্রিয়াজাত করা যায়, সে জন্য শিল্পকারখানা স্থাপন দরকার বলে তিনি মনে করেন।

কৃষক আরশেদ আলী জানান, আনারসের বাজার ব্যবস্থা, সিন্ডিকেট ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা না থাকাসহ নানা কারণে কৃষকরা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। গ্যাস সংযোগ থাকলে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠলে কৃষকরা তাদের উৎপাদিক আনারসের ন্যায্য দাম পেত বলে তিনি জানান, এতে করে মধুপুরের ভাবমূর্তি আরও বেড়ে যেত, হতে পারে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। সিন্ডিকেট বিপণন ব্যবস্থা ভালো হতো।

মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. জুবায়ের হোসেন জানান, মধুপুরে আনারস চাষ হচ্ছে দীর্ঘদিন ধরে। তার মতে, শিল্পকারখানা আরও আগেই হওয়ার দরকার ছিল বলে তিনি মনে করেন। কারখানা হলে জুস, জেলি, বিস্কুট, জেমসহ নানা প্রোডাক্ট তৈরি করা যাবে। শিল্পকারখানা হলে অনেক বেকার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে বলে তিনি মনে করেন। এর পাশাপাশি কৃষকরা তাদের উৎপাদিত আনারসের ন্যায্য দাম পেত বলে জানান।

মধুপুর গড়ের মধুপুর ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা, ঘাটাইল, সখিপুরসহ আশপাশের উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষ হয় রসালো ফল আনারস। খরচের তুলনায় লাভের মুখ দেখা বর্তমান সময়ে কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আনারসের ঐতিহ্যসহ চাষিদের লাভ এবং দেশ বিদেশে আনারসের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করতে পারলে কৃষকরা হবে লাভবান। আর দেশ পাবে বৈদেশিক মুদ্রা। তাই স্থানীয় কৃষকরা মধুপুরে আনারসকেন্দ্রিক শিল্পকারখানা স্থাপনের দাবি জানিয়েছে।

মধুপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রকিব আল রানা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে মধুপুরে ৬ হাজার ৪৭৯ হেক্টর জমিতে আনারস আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ৩২৪ হেক্টরে জলডুগি এবং ৬ হাজার ১২৫ হেক্টরে ক্যালেন্ডার প্রজাতির আনারস আবাদ হয়েছে। এ ছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে এমডি-টু জাতের আনারস আবাদ শুরু হয়েছে। এ বছর ৫০০ কোটি টাকার আনারসের বাণিজ্য হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পকারখানা গড়ে ওঠলে জুস, জেলি, চকোলেট নানা পণ্য তৈরি হবে।’ এতে চাহিদা বাড়বে, কৃষকরা আরও বেশি দাম পাবে এমনটাই মনে করেন তিনি।


বগুড়ায় নবজাতককে গলা কেটে হত্যা, মা-বাবা গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বগুড়া সদরে নবজাতককে গলা কেটে হত্যা করে পুকুরে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে মা ও তার বাবার বিরুদ্ধে। শনিবার (৯ মে) উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের তেলিহারা গ্রামের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে বগুড়া সদরের নারুলী এলাকার জাহিদুল ইসলামের ছেলে শুকুর আলীর সঙ্গে গাবতলী উপজেলার উঞ্চুরখী এলাকার নিপার বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য কলহের জেরে প্রায় ছয় মাস আগে তাদের বিচ্ছেদ ঘটে। পরে চলতি বছরের মার্চ মাসে বগুড়া সদর উপজেলার শেখেরকোলা ইউনিয়নের নুর আলমের ছেলে দুলালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন নিপা।

গত শুক্রবার (৮ মে) রাতে নিপা একটি ছেলে সন্তান প্রসব করেন। পরে লোকলজ্জার ভয়ে নবজাতকে হত্যা করে মরদেহ বাড়ির পাশের একটি পুকুরে ফেলে দেয়। গতকাল শনিবার দুপুরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে বগুড়া সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত নিপা ও তার বর্তমান স্বামী দুলালকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

স্থানীয়রা জানান, এমন নির্মম ঘটনা এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। নবজাতক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুরো এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, আটক দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামোর ৩৬ কোটি টাকার কাজের টেন্ডারে অনিয়ম, তদন্তের নির্দেশ প্রধান প্রকৌশলীর

আপডেটেড ৯ মে, ২০২৬ ১৯:৩৪
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের ৩৬ কোটি টাকার টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে আওয়ামী লীগ দোসর আত্মীয়-স্বজনের নামে কাজ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএনপির প্রয়াত মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের এপিএস তালতলীর বাসিন্দা ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন এমন অভিযোগ এনে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয়ে অভিযোগ করেছেন। প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ১৪ মে (বৃহস্পতিবার) তদন্ত শুরু হবে।

জানা গেছে, ২০২৪ সালে ২৩ জুন বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে নির্বাহী প্রকৌশল হিসেবে মো. মেহেদী হাসান খান যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি আওয়ামী লীগ দোসরদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পরেছেন। ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে তিনি কামিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের।

জলবায়ু প্রকল্পের খাল খননে অনিয়ম হলেও তিনি কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। উল্টো প্রকল্পের টাকা ছাড় করে দিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামোর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৩৬ কোটি দরপত্র আহ্বান করে। এ দরপত্রে ৭৭টি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। গত ২০ এপ্রিল পাঁচটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে অনিয়ম ও অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়ে ওই কাজ পাইয়ে দেয় নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খাঁনসহ তিন প্রকৌশলী এমন অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহ শাহীনের। আগামী ১৪ মে এ টেন্ডার প্রক্রিয়ার অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কাজ শুরু হবে বলে জানান এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ও তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম। তিনি তদন্ত করতে নোটিশ করেছেন। বরগুনা এলজিইডির রেস্ট হাউসে তদন্ত করবেন তিনি।

এ টেন্ডার কার্যক্রমের অনিয়মের অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। কাজ পাইয়ে দেওয়া পাঁচটি প্রতিষ্ঠানের মালিক সকলেই আওয়ামী লীগের দোসর এবং নির্বাহী প্রকৌশলীসহ তিন প্রকৌশলীর আত্মীয়-স্বজন।

নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের নিকটাত্মীয় বরিশাল এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, শেখ সেলিমের ভাগনে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আতিকুর রহমান নুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এমএস নুর কনস্ট্রাকশন, সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর নিকটাত্মীয় নড়াইল জেলার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লেলিন-দিপ (জয়েন্ট বেঞ্চার) এসএম লেলিন ট্রেডার্স, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল গাইনের নিকটাত্মীয় ঝিনাইদহ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিশিত বসু ট্রেডার্স।

এ ছাড়া আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দির সংস্কারকাজে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান ঠিকাদারদের কাছ থেকে ২৫ শতাংশ টাকা নিয়ে ঠিকাদারদের দিয়ে দায়সারা কাজ করিয়ে তাদের বরাদ্দ টাকা ছাড় দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন।

তদন্ত করলেই বের হয়ে আসবে নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল কুমার গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহের দুর্নীতির চিত্র। গুলিশাখালী গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর থেকে মসজিদ সংস্কারের জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। কিন্তু ঠিকাদার ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছেন। বিষয়টি বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসানকে জানানো হলেও তিনি কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’ খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঠিকাদার মাত্র এক লাখ টাকার কাজ করেছেন। বিষয়টি নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানিয়েছি; কিন্তু তিনি ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থাতো নেননি উল্টো ঠিকাদার যা করেছেন তাই মেনে নেওয়ার নির্দেশ দেন।’ কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মো. রেদওয়ান সরদার বলেন, ‘ঢালাই দেওয়ার পরে সড়ক থেকে পিচ ওঠে গেছে; কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জেনেও অজ্ঞাত কারণে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি।’

ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন বলেন, ‘বরগুনা জেলা স্থানীয় সরকার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান, সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী শ্যামল গাইন ও গ্রামীণ অবকাঠামোর প্রকল্পের সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহ ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজসে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আমতলী-তালতলীর ৩৬ কোটি টাকার কাজ ৫টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদের নিকটাত্মীয় ও আওয়ামী লীগ দোসরদের দিয়েছেন।’

এ দরপত্রে তারা মোটা অংকের ঘুস নিয়ে কাজ পাইয়ে দিয়েছেন। তদন্ত করলেই তাদের দুর্নীতির বাস্তব চিত্র বেড়িয়ে আসবে। তিনি আরও বলেন, ‘আগামী ১৪ মে তদন্ত কাজ শুরু হবে । তদন্ত কর্মকর্তা আমাকে নোটিশ দিয়েছেন।’ বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খাঁন বলেন, ‘কেন অভিযোগ দিয়েছেন তা যিনি অভিযোগ দিয়েছেন তিনিই বলতে পারবেন? আমি টেন্ডার প্রক্রিয়ার কোনো অনিয়ম করিনি।’ এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মোহা. নুরুল ইসলাম মুঠোফোন বলেন, ‘তদন্ত করতে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৪ মে তদন্ত কাজ শুরু হবে।’


banner close