সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
১ আষাঢ় ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


নির্বাচিত

ক্ষমতা নয়, জনগণের সেবাই বিএনপির লক্ষ্য

কক্সবাজারে প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি 

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য। সরকার দেশের ২০ কোটি মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, জনগণের সেবা। শনিবার (১৩ জুন) বেলা ১১টার দিকে নিজের হাতে মাটি কেটে পাতলী খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধন শেষে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

জনগণকে প্রশ্ন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক জনগণ। দেশের মালিক কোনো পরিবার বা কোনো দল নয়। জনগণের কাছে প্রশ্ন, যেই বাজেটে জনগণের স্বস্তি আনার ব্যবস্থা করা হয়, তাকে যারা বিরোধিতা করে তারা কি জনগণের বন্ধু হতে পারে?

দেশের চলমান উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের মতো এখন বিএনপি চেষ্টা করছে দেশ গঠনের। কিন্তু চক্রান্তকারীরা ষড়যন্ত্র করে অগ্রগতি আটকে দিয়েছিল। কিন্তু ভোটে জনগণ বিএনপিকে যে সমর্থন দিয়েছে, ততক্ষণ প্রাণ থাকবে ততক্ষণ দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। কারণ দেশই বিএনপির প্রথম ও শেষ ঠিকানা।

তিনি আরও বলেন, ভোটের দাগ শুকানোর আগেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে শুরু করেছে সরকার।

বাজেট প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাজেটে প্রতিটি ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, জনগণের সেবা।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি বাজেটের পরই জিনিসের দাম বাড়ে। কিন্তু বর্তমান সরকারের বাজেট দেওয়ার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধী দল বলছে এই বাজেট তারা মানে না। যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। এ থেকে বোঝা যায়, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।

এ সময় উপস্থিত জনতার উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘সরকার গঠন করতে সক্ষম হলে দেশের জন্য কাজ করব— এমন প্রতিশ্রুতি আমরা দিয়েছিলাম। আজ সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথেই এগিয়ে যাচ্ছি। পাতলী খাল পুনঃখনন শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি কৃষি, সেচ ও গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত।’

প্রধানমন্ত্রীর দাবি, খালটি পুনঃখনন হলে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন এবং বছরে প্রায় ১২ হাজার মেট্রিক টন কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে।

তারেক রহমান উল্লেখ করেন, সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটে কৃষি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার কৃষককে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। এসব কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের নগদ আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে।

তিনি জানান, বিএনপির রাজনীতি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর রাজনীতি। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। তাই কৃষকদের জন্য বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এবং তাদের উৎপাদন ব্যয় কমাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

নারী শিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘বাংলাদেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের শিক্ষার পথ উন্মুক্ত করেছিলেন। আমরা সেই ধারাবাহিকতায় স্নাতক ও ডিগ্রি পর্যন্ত নারীদের শিক্ষার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে করার উদ্যোগ নিয়েছি।’

তিনি আরও যোগ করেন, নারী শিক্ষার প্রসারে উপবৃত্তি কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা হবে, যাতে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েরাও উচ্চশিক্ষার সুযোগ পায়। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সরকার ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি মন্তব্য করেন, ‘গ্রামের সাধারণ মানুষ যাতে সহজে স্বাস্থ্যসেবা পায়, সেজন্য বাজেটে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। স্বল্পমূল্যে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।’

এ সময় তিনি জানান, হার্টের রিং এবং কিডনি ডায়ালাইসিসে ব্যবহৃত প্রয়োজনীয় চিকিৎসা উপকরণ ও ওষুধের ওপর আরোপিত কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। যাতে রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমে আসে।

বাজেট নিয়ে বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘এবারের বাজেট দেওয়ার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। বরং ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর কর কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেছেন, ‘কর বাড়ানো হয়েছে শুধু মদ ও সিগারেটের ওপর। কারণ এগুলো মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কিন্তু বিরোধী দল সেটি নিয়েও সমালোচনা করছে। তাদের উদ্দেশ্য জনগণ ভালোভাবেই বুঝতে পারছে।’

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ‘দেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, দেশের মালিক ২০ কোটি জনগণ। তাদের কল্যাণেই সরকারের সব পরিকল্পনা ও কর্মসূচি।’

বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খাল পুনঃখননকাজের উদ্বোধন :

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন। বেলা পৌনে ১১টার দিকে সদর উপজেলার পিএমখালী ইউনিয়নে খাল পুনঃখননকাজের তিনি উদ্বোধন করেন।

পুনঃখনন উপলক্ষে খালের পাড়ে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করেই পাতলী গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ সমবেত হন। তারা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দেখতে সকাল থেকে বৃষ্টির মধ্যেই ছাতা মাথায় অপেক্ষায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এসে পৌঁছালে খালপাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রামবাসী তাকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। তাদের চোখেমুখে ছিল উচ্ছ্বাস। এ সময় তারা স্লোগান ধরেন—‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন, শুভেচ্ছা স্বাগতম।’

খাল খননের সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, বেসরকারি বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক এবং ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান।

উল্লেখ্য, ঐতিহাসিক পাতলী খাল আট কিলোমিটার দীর্ঘ। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পিএমখালীতে এসে ৪৮ বছর আগে ১৯৭৯ সালের নভেম্বর মাসে নিজের হাতে কোদাল দিয়ে পাতলী খাল খননকাজের সূচনা করেছিলেন। সেই সময়ে প্রেসিডেন্ট খালের পাড়ে একটি খেজুরগাছও রোপণ করেন। এটি আজ ৪৮ বছর পরও কালের সাক্ষী হয়ে বেঁচে আছে।

এই খাল পুনঃখননে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ উপকৃত হবে বলে জানান পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় প্রকৌশলীরা।

২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন : পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বিএনপি সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ‘পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুরে কক্সবাজারের চকরিয়ার মালুমঘাট সংরক্ষিত বন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি অন্য অতিথিদের সঙ্গে ১১ প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন জেলা প্রশাসকসহ কর্মকর্তারা।

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং জলবায়ু সহনশীলতা জোরদারের লক্ষ্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে।

এর আগে, সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর পাতলী খাল পুনঃখনন ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথসভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। পরে সড়কপথে চকরিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়ে তিনি ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন এবং সেখানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মো. হেলাল উদ্দিন, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম এবং পরিবেশ সচিব রায়হান কাওছারসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের ৪৯ জেলার ১৪৯ উপজেলায় প্রায় দেড় কোটি গাছের চারা রোপণ করা হবে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, এ উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, বনভূমি সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এক বছরে প্রতি উপজেলায় পৌঁছবে ১০ হাজার কৃষিকার্ড : প্রস্তাবিত বাজেটে কৃষকদের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী এক বছরের মধ্যে প্রতি উপজেলায় আট থেকে ১০ হাজার কৃষি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবার বাজেটের পর নিত্যপণ্যের দাম বাড়লেও এবার বাড়েনি। প্রস্তাবিত বাজেটে ট্যাক্স কমানো ও মদ-সিগারেটের দাম বাড়ানোর পরও সেই বাজেটও বিরোধীদলের ভালো লাগে না।

তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য এবং সে জন্যই আমরা কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছি। একই সাথে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষক ভাইদের বীজ ও কীটনাশক ওষুধ কেনার জন্য এককালীন আড়াই হাজার টাকার সুবিধা দেওয়া হবে।

ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের চকরিয়ায় ডুলাহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। দেশের প্রথম সাফারি পার্ক হিসেবে পরিচিত ডুলাহাজারায় গতকাল শনিবার বেলা পৌনে ২টার দিকে তিনি পৌঁছান।

এর আগে পার্কের ‘বাংলো ঈগল’-এ যান ডা. জুবাইদা রহমান। সেখানে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন এবং মন্তব্য লিখে রাখেন। পরে পার্ক পরিদর্শনের সূচনায় প্রবেশদ্বারের পাশে নিজ হাতে একটি নাগলিঙ্গমগাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর ব্যক্তিগত গাড়িতে পার্কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তিনি। পরিদর্শনকালে বাঘ, সিংহ, হাতি, জলহস্তী, অজগর, ভালুক, হরিণ, ময়ূরসহ বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণী ও পাখির বেষ্টনী পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।

দিনব্যাপী সফরে প্রধানমন্ত্রী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন, পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, জনসভা এবং সুধী সমাবেশসহ একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। সব কর্মসূচি শেষে রাতেই ঢাকার উদ্দেশে কক্সবাজার ত্যাগ করেন তিনি।


নির্বাচিত

মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু, আহত ১

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. ইসমাইল (২৬) নামে এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মো. সবুজ (২৪) নামে এক পথচারী গুরুতর আহত হয়েছেন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

‎শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কের বোরহানউদ্দিন উপজেলার দৌলতখান রাস্তার মাথা সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎নিহত ইসমাইল উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের চকঢোষ গ্রামের চৌকিদার বাড়ির বাসিন্দা মো. মাকসুদ ও জাহানারা বেগম দম্পতির ছেলে। আহত সবুজের বাড়ি ঘটনাস্থলের পাশেই।

‎প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে বোরহানউদ্দিন পৌর ভবনের সামনে থেকে ব্রাজিল সমর্থকদের পূর্বনির্ধারিত মোটর শোভাযাত্রা বের হয়। শোভাযাত্রাটি দৌলতখান রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পর সমর্থকেরা সড়কের পাশে ব্রাজিলের জার্সি পরিহিত এক যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও দুমড়ে-মুচড়ে যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ইসমাইল শোভাযাত্রায় অংশ নিতে অথবা ব্যক্তিগত কাজে নিজ বাড়ি থেকে উপজেলা সদরের দিকে আসছিলেন।

‎ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও চিত্রগ্রাহক মো. শাকিল বলেন, “ব্রাজিল সমর্থকদের শোভাযাত্রার ড্রোন ফুটেজ ধারণের উদ্দেশ্যে আমি আগে থেকেই ঘটনাস্থলে অবস্থান করছিলাম। এ সময় কুঞ্জেরহাট দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি জিক্সার মোটরসাইকেলের চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের কংক্রিটের ব্লকের সঙ্গে ধাক্কা খান। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আঘাত পান।”

‎আহত সবুজের চাচী লাইজু বেগম বলেন, “দ্রুতগতিতে আসা মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় সবুজকে ধাক্কা দেয়। এতে দুজনই গুরুতর আহত হন।” পরে সবুজকে প্রথমে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখান থেকে ভোলা সদর হাসপাতালে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়।

‎ব্রাজিল সমর্থকদের কয়েকজন জানান, শোভাযাত্রাটি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তারা ইসমাইলকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

‎বিষয়টি নিশ্চিত করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রাফসানা বলেন, “হাসপাতালে আনার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে ইসমাইলকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।”


নির্বাচিত

দখল-দূষণ বাড়ায় হুমকিতে গাইবান্ধার আলাই নদী

দখলমুক্ত করে খননের দাবি এলাকাবাসীর
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৩ জুন, ২০২৬ ২২:৪৩
গাইবান্ধা প্রতিনিধি    

গাইবান্ধা জেলার সদর, সাঘাটা ও ফলুছড়ি উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেছে আলাই নদী। একসময় এ অঞ্চলের প্রাণরেখা ও বাণিজ্যপথের একটি মাধ্যম ছিল নদীটি। কিন্তু দখল, ভরাট ও দূষণে অনেক আগেই যৌবন হারিয়েছে আলাই। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দখল-দূষণ বাড়ায় মারাত্মক হুমকিতে নাব্যতা হারিয়ে এখন প্রাণ যায় যায় অবস্থা আলাই নদীর।

জেলার শহরের ডেভিট কোম্পানি পাড়া হয়ে পুলবন্দি ও লোহাচোরা ব্রিজ এলাকা অতিক্রম করে ফুলছড়ি উপজেলা দিয়ে প্রবেশ করেছে আলাই নদী। প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরে ফুলছড়ি উপজেলার উড়িয়া এলাকায় নদীটি দুই ভাগে বিভক্ত। এরপর প্রায় ২২ কিলোমিটার আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে আলাই নদী ফুলছড়ি উপজেলার ব্রহ্মপুত্র নদে গিয়ে মিলিত হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, নদীর দুই তীর দখল করে গড়ে উঠেছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ি। সদর উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নে নদীর প্রবাহ প্রশস্ত ও পানি চলাচল বাড়াতে একটি সেতু নির্মাণ করা হলেও তা কার্যত শুধু যোগাযোগের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। নদীর দুই পাড় মাটি দিয়ে ভরাট করায় স্বাভাবিক গতিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এছাড়া সেতুর দুই পাশে বাজারকেন্দ্রিক দোকানপাট গড়ে উঠছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নদীতীরে শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ঘরবাড়ি গড়ে উঠেছে। নদীর কোথাও কোথাও হাঁটুপানি, আবার কোথাও কিছুটা গভীরতা দেখা যায়। নদী ও আশপাশের এলাকায় স্থানে স্থানে আগাছা ও কচুরিপানা জন্মেছে। সেতুর পশ্চিম পাশে ব্যক্তি মালিকানাধীন বাড়ি, চাতাল ও বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠছে। সেতুর দক্ষিণ ও উত্তর পাশে মাংসের দোকান রয়েছে। এসব দোকান থেকে মুরগি ও গরুর রক্ত, উচ্ছিষ্ট নাড়িভুঁড়ি, হাড়, বাজারের পলিথিনসহ নানা ধরনের ময়লা-আবর্জনা সেতুর ওপর দিয়ে নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে পানির রং কালো হয়ে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এছাড়া সেতুর দুই পাশে পলিথিন, ডিমের খোসা, পচা মুরগির নাড়িভুঁড়িসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনার স্তূপ জমে রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, এক সময় এই নদীর পাশে বড় বাজার ছিল। সে সময়ে নৌকা করে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন এসে মালামাল ক্রয়-বিক্রয় করত। নদীতে সারা বছর পানি থাকতো। সেই পানি দিয়ে কৃষকরা জমি চাষাবাদ করতো। কিন্তু ধরে ধীরে নদীটি দখল-দূষণের বর্তমানে মরা খালে পরিণত হয়েছে।

তাদের অভিযোগ, গত ১৫ বছরের অনেকেই ক্ষমতার শক্তি দেখিয়ে অনেক জায়গা দখল করে বাড়ি-ঘর দোকানপাট স্থাপনা তৈরি করছেন। আলাই নদী একবারও দখলদারদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া সংস্কার ও খনন করা হয়নি। বছরের পর বছর দখল আর ময়লা আবজর্নার স্তূপে নদীটি ভরাট হয়ে গেছে। বর্ষায় উজান থেকে ঢল নামলে নদীটি পানি ধারণ করতে পারে না। এতে ডুবে যায় আশপাশ এলাকা।

স্থানীয় বাসিন্দা খালিক হাসান বলেন, নদীর জায়গা দখল করতে করতে নালায় পরিণত হয়েছে। এসব দখল উচ্ছেদ করে নদী খননের জোর দাবি জানাই।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. সুমন ইসলাম শুভ বলেন, আগে বন্ধুদের সঙ্গে এ নদীতে সাঁতার কাটতাম। তখন নদীতে প্রচুর পানি আর স্রোত ছিল। এখন নদীর পাশে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে গেছে দুর্গন্ধের কারণে। আগের সেই আলাই নদী এখন আর নেই।

বাদিয়াখালি বাজারের ব্যবসায়ী মো. গোলাম রহমান সুমন বলেন, ছোট সময়ে নদীর স্রোত দেখে ভয় পেতাম। তখন বড় নৌকা চলতো। এখন নদী ভরাট হয়ে নালায় পরিণত হয়েছে। নদীর অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হয়। নদীটির জায়গা দ্রুত দখলমুক্ত করে খননের দাবি জানান।

বাদিয়াখালী ইউনিয়নের সদস্য নুর আলম বলেন, নাব্য সংকটে আলাই নদীতে পানি নেই। নদীটি খনন করে নাব্য ফেরাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।

গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবীর তনু বলেন, নদীশাসন না হলে একসময় হয়তো নদীটি মানচিত্র থেকে মুছে যাবে। তাই অস্তিত্ব রক্ষায় এটি খনন ও সংস্কার করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আলাই শুধু একটি নদী নয়, এটি ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর উৎস। ফলে আলাই নদীটি মারা গেলে এ অঞ্চলের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।

গাইবান্ধা সদর ইউএনও মো. লোকমান হোসেন বলেন, মাত্র দুই মাস আগে এখানে জয়েন করছি। খোঁজখবর নিয়ে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক মো. মাসুদুর রহমান মোল্লা বলেন, আলাই নদী দখল করে বাসা- বাড়ি দোকানপাট নির্মাণের বিষয়টি আমার জানা নেই। দখল তো সহজেই উচ্ছেদ করা যায় না। আইনগত প্রক্রিয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী শরিফুল ইসলাম বলেন, নানান জটিলতায় দখল বন্ধ করা যাচ্ছে না। ইতোমধ্যে খননব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তালিকা পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পেলে নদী রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

মায়ের অতিরিক্ত কাজের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশুর পুষ্টি: বাকৃবি গবেষণা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

গ্রামীণ বাংলাদেশের মায়েদের অতিরিক্ত গৃহস্থালি ও শ্রমঘন কাজের চাপ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিতকরণে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, মায়েরা শিশুদের পর্যাপ্ত যত্ন নিলেও গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ ও অন্যান্য অবৈতনিক শ্রমে দীর্ঘ সময় ব্যয় করলে সেই যত্নের ইতিবাচক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। ফলে শিশুদের পুষ্টিগত উন্নয়ন প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায় না।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সাময়িকী উইমেনস স্টাডিজ ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম (ডব্লিউএসআইএফ) এ প্রকাশিত এই গবেষণাটি পরিচালনা করেছেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন। গবেষণাটিতে গ্রামীণ বাংলাদেশের শিশুদের পুষ্টিগত অবস্থার ওপর মায়েদের সময় ব্যবস্থাপনা, যত্ন এবং কাজের চাপের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে।

গবেষণায় তথ্যসূত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে আন্তর্জাতিক খাদ্যনীতি গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইএফপিআরআই) পরিচালিত বাংলাদেশ সমন্বিত পরিবার জরিপ (বিআইএইচএস)। দেশব্যাপী ৬ হাজার ৫০০ গ্রামীণ পরিবারের তথ্যের ভিত্তিতে ১ হাজার ৪৪৭ শিশুর পুষ্টিগত অবস্থা মূল্যায়ন করা হয়। শিশুদের পুষ্টির মান নির্ধারণে বয়স অনুযায়ী উচ্চতা এবং বয়স অনুযায়ী ওজনের সূচক ব্যবহার করা হয়েছে।

গবেষণাটির মূল উদ্দেশ্য ছিল মায়ের যত্ন এবং কর্মঘণ্টার পারস্পরিক সম্পর্ক শিশুদের পুষ্টির ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে তা নির্ণয় করা। দীর্ঘদিন ধরে শিশু পুষ্টি বিষয়ে পরিচালিত অধিকাংশ গবেষণায় আয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক অবস্থানের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেলেও মায়েদের সময় ব্যবহারের প্রভাব তুলনামূলকভাবে উপেক্ষিত ছিল। নতুন এই গবেষণা সেই শূন্যতা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে মনে করছেন গবেষক ড. মাহবুব।

গবেষণার ফলাফলে দেখা যায়, মাতৃস্নেহ, পরিচর্যা ও যত্ন শিশুদের পুষ্টি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে মায়েরা যখন গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ কিংবা অন্যান্য শ্রমঘন কর্মকাণ্ডে অধিক সময় ব্যয় করেন, তখন সেই যত্নের কার্যকারিতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। বিশেষ করে অবৈতনিক গৃহস্থালি কাজে অতিরিক্ত সময় ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিলে শিশুর পুষ্টিতে যত্নের ইতিবাচক প্রভাব প্রায় পুরোপুরি বিলীন হয়ে যায়। অর্থাৎ একই মাত্রার শিশুযত্ন ভিন্ন ভিন্ন কর্মঘণ্টার কারণে ভিন্ন ফলাফল তৈরি করতে পারে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে গ্রামীণ উন্নয়ন ও কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে নারীদের কাজের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে শিশু পরিচর্যা সহায়তা বা দিবাযত্ন কেন্দ্রের সুবিধা সম্প্রসারিত হয়নি। ফলে অনেক মা একই সঙ্গে গৃহস্থালি কাজ, কৃষিকাজ এবং শিশুর যত্নের দ্বৈত চাপ বহন করছেন।

সমস্যা সমাধানে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন অধ্যাপক ড. মাহবুব হোসেন। তিনি বলেন, শুধু পুষ্টি কর্মসূচি বা সচেতনতামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করলেই শিশু পুষ্টির সমস্যার সমাধান হবে না। মায়েদের অতিরিক্ত কাজের চাপ কমানোর পাশাপাশি গ্রামীণ এলাকায় শিশু পরিচর্যা সহায়তা ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, পরিবার ও সমাজভিত্তিক সহায়তা বৃদ্ধি এবং নারীদের শ্রমের ভার লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ মায়েদের সময় বাঁচাতে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি, জ্বালানি ও পানির সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা এবং গ্রামীণ পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক শিশু যত্ন কেন্দ্র গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। মায়েদের সময় ও শ্রমের বিষয়টিকে তাই নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে স্থান না দিলে শিশু পুষ্টি উন্নয়নে গৃহীত কর্মসূচিগুলোর প্রত্যাশিত সাফল্য অর্জন কঠিন হবে।


নির্বাচিত

মামলার কারণে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাজের গতি কমে যাচ্ছে : শিক্ষামন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৩ জুন, ২০২৬ ২২:২৩
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

শিক্ষা মন্ত্রী ড.আ ন ম এহছানুল হক মিলন এমপি বলেছেন, বর্তমানে আদালতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রায় ৮২ হাজার ৫শ’ মামলা চলমান রয়েছে। এ মামলা জটিলতার কারণে সুষ্ঠুভাবে কিছুই করা যাচ্ছে না। এসব মামলার কারণে কাজের গতি কমে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে আদালতের সাথে আলোচনা করা হয়েছে, যাতে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করা যায়।

শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের চারতলা বিশিষ্ট বিশ্বেশ্বর পোদ্দার ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, দেশের প্রাইমারি স্কুলগুলোতে ৩২ হাজার ৫০০ প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন যাবত শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষকের এ পদ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় এ ব্যাপারে শিক্ষক নিয়োগ করা যাচ্ছে না। দ্রুত এর সমস্যা সমাধান করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি জুলাই মাস থেকে পাইলট প্রকল্পের আওতায় সাড়ে চার লক্ষ শিক্ষার্থীকে স্কুল ড্রেস ও স্কুলের জুতা বিনামূল্যে দেয়া হবে। জুলাইয়ের পর থেকে বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে এ প্রকল্পের আওতায় আনা হবে এবং সমগ্র বাংলাদেশে প্রাইমারি স্কুলে মিড ডে মিল চালু করা হবে। আমরা চাই শিশুদের আনন্দময় শিক্ষা। শিক্ষা মানে শুধু বই পড়া নয়, শিক্ষা মানে জিপিএ পাঁচ পাওয়া নয়। সবাইকে আনন্দের সাথে প্রকৃত শিক্ষা অর্জণ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জাতীয় সংসদের হুইপ এবি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এমপি, নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সী। সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাতের সভাপতিত্বে ও পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ড. নুসরাত ফাতেমা'র ব্যবস্থাপনায় বক্তব্য রাখেন, পঞ্চমীঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি বাবু অমল পোদ্দার, নারায়ণগঞ্জ জেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক খাইরুল ইসলাম সজীব। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মোশারফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান ভূঁইয়া মাসুম প্রমূখ।

মন্ত্রী আরো বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষা খাতে বাজেট অনেক বেশি বাড়িয়েছেন আওয়ামী লীগ সরকার ৭৮ কোটি টাকার উপরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রাখেনি সেখানে তারেক রহমান শিক্ষা খাতে বরাদ্দ রেখেছেন এক লক্ষ ৩৬ হাজার কোটি টাকা।


নির্বাচিত

লামা উপজেলায় আবাসন সংকটে ব্যাহত হচ্ছে জরুরি নাগরিক সেবা

কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের দাবি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

পার্বত্য বান্দরবান জেলার সবচেয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ লামা উপজেলা। এ উপজেলার শহর থেকে গ্রামে সরকারের নানা উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করে যাচ্ছেন বিভিন্ন দপ্তরের শতশত কর্মকর্তা-কর্মচারী। কিন্তু এসব কর্মকর্তা কর্মচারীদের জন্য সরকারিভাবে আবাসিকের ব্যবস্থা না থাকার কারণে একদিকে যেমন কর্মকর্তা কর্মচারীরা চরম ভোগান্তি পোহাচ্ছেন, তেমনি ব্যাহত হচ্ছে উপজেলার জরুরি নাগরিক সেবাও।

একটি পৌরসভা, সাতটি ইউনিয়ন ও একটি থানা নিয়ে গঠিত এ উপজেলার উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে ১ হাজার ৩২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন। চরম আবাসন সংকট নিরসনে দ্রুত আবাসিক গেজেটেড কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগী কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, ১৯২০ সালের ৭ সেপ্টেম্বর লামা থানা গঠিত হয়। ১৯৭০ সালের ৯ অক্টোবর আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, বাইশারী ও গজালিয়া থানাকে নিয়ে এটি ‘লামা মহকুমা’য় উন্নীত হয়। ১৯৮৩ সালে দেশের সব মহকুমা বিলুপ্ত করে জেলা ঘোষণার সময় তৎকালীন সরকারি প্রজ্ঞাপনে লামাকে জেলা ঘোষণা করা হলেও তা মাত্র ৩ দিন স্থায়ী হয়েছিল। তবে মহকুমা ও জেলা ঘোষণার ইতিহাসের কারণে একটি জেলা শহরে সরকারের প্রশাসনিক কাজের যতগুলো দপ্তর থাকে, তার প্রায় সবই রয়ে গেছে এই উপজেলায়। বন বিভাগ ও পোস্ট অফিস বাদে বর্তমানে উপজেলায় সরকারের ৩৩টি দপ্তর রয়েছে। এসব দপ্তরে বর্তমানে ১৪২ জন কর্মকর্তা এবং ১ হাজার ১৮৩ জন কর্মচারীসহ সর্বমোট ১ হাজার ৩২৫ জন কর্মী কর্মরত রয়েছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, আবাসন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি পড়ছে দাপ্তরিক কাজে। দূরবর্তী স্থান থেকে যাতায়াত করতে গিয়ে যেমন সময় অপচয় হচ্ছে, তেমনি অতিরিক্ত মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তির কারণে ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক সেবা। বিশেষ করে জরুরী সেবার সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক অবস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলা শহরের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মেসে বা জরাজীর্ণ বাসা-বাড়িতে কয়েকজন কর্মচারী একসঙ্গে গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। আবার কেউ কেউ বাধ্য হয়ে থাকছেন অতি সাধারণ পাহাড়ি ঘরবাড়িতে, যেখানে ন্যূনতম নাগরিক সুযোগ-সুবিধাও নেই। দূর-দূরান্ত থেকে বদলি হয়ে আসা চাকরিজীবীদের কর্মস্থলে যোগ দিয়েই পড়তে হচ্ছে চরম আবাসন সংকটে। সুনির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয় এলাকায় চড়া মূল্যে বাসা ভাড়া নিতে বাধ্য হচ্ছেন সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। অনেকেই বাধ্য হয়ে পরিবার-পরিজন দূরে রেখে একাকী মেস জীবন কাটাচ্ছেন।

লামা উপজেলা প্রশাসনের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা উচিংমে চাক বলেন, নারী হিসেবে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় আবাসন সুবিধা না থাকাটা সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা সংকট। পরিবার নিয়ে থাকার মতো ভালো বাসা এখানে পাওয়াই যায় না, আর পেলেও ভাড়া আকাশচুম্বী। এদিকে সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা বামং সিং মার্মা জানায়, অফিস শেষ করে একটু শান্তিতে যে বিশ্রাম নেব, সেই পরিবেশটুকুও নেই। ভাঙাচোরা মেসবাড়িতে থাকতে হয়। ডরমিটরি থাকলে উপজেলাবাসী আরও বেশি সেবা পেত।

উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা কাঞ্চন দে বলেন, পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে যারা নিজেদের শ্রম ও মেধা উৎসর্গ করছেন, তাদের ন্যূনতম মৌলিক চাহিদা পূরণ করা সময়ের দাবি। সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি আধুনিক ডরমিটরি বা কোয়ার্টার নির্মাণ এখন আর কেবল বিলাসিতা নয়, বরং সেবার মান বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসন সংকটের সত্যতা স্বীকার করে লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মঈন উদ্দিন জানান, বান্দরবানের ৭টি উপজেলার মধ্যে ৬টিতেই অফিসার্স কোয়ার্টার ও ডরমিটরি থাকলেও, কেবলমাত্র লামা উপজেলাতেই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো আবাসন ব্যবস্থা নেই।

ইউএনও আরও জানায়, উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য আবাসিক গেজেটেড কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের নিকট ইতোমধ্যে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে প্রস্তাব আকারে সম্ভাব্য স্থানগুলোর নকশা তৈরি ও পরিচিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। আশা করি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত অনুমোদন পাওয়া গেলে উপজেলায় আবাসিক গেজেটেড কোয়ার্টার ও ডরমিটরি নির্মাণের মাধ্যমে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের আবাসন সংকট নিরসন সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

নওগাঁয় ব্যবসায়ীকে হত্যার দায়ে দুইজন গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এসম নিহত শফিকুলের ব্যবহৃত দুটি মোবাইল, একটি মটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা হয় দেশীয় অস্ত্র।

শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে সদর মডেল থানায় সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। নিহত শফিকুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার তিলেকপুর গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, নওগাঁ সদর উপজেলার ভিমপুর পাঠাকাটা এলাকার সিদ্দিকুর রহমানের ছেলে জয়নুল (৩৫) ও মান্দা উপজেলার সতীহাট শ্রীরামপুর এলাকার এরশাদ আলীর ছেলে আশরাফুল (২৬)।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, গত বৃহষ্পতিবার সদর উপজেলার বারমাসি বিলে কচুরিপানা নিচ থেকে শফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যাক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত শফিকুল পুরাতন মোবাইল ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য ব্যাবসা করতেন। লোভ এবং ব্যবসায় কিছুটা লাভবান হওয়ায় ঈর্ষান্বিত হয়ে তার পূর্বপরিচিত জয়নুল, আশরাফুলসহ তিনজন গত ৭ জুন মান্দার সুতিহাটে শফিকুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী ৮ জুন শফিকুলকে ভীমপুর কলেজ মোড়ে আসতে বললে সেখান থেকে দুইটি মোটরসাইকেলে করে বারোমাসি বিলে পার ঘাটি ব্রিজে চলে যায় তারা। সেখানে হঠাৎ করে পিছন থেকে একজন পলাতক আসামি রশি দিয়ে শফিকুলের গলায় টান দেয়। টান দেওয়ার সাথে সাথে গ্রেপ্তারকৃত আসামি জয়নুল হাত ও আশরাফুল পা চেপে ধরে। তারপর সে নিস্তেজ হয়ে গেলে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে তারা তিনজনে পানিতে ডুবিয়ে কচুরিপানা দিয়ে ঢেকে রেখে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম বলেন, লাশ উদ্ধারের পর হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনে তদন্তে নামে পুলিশের একটি টিম। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত থাকা জয়নুলকে প্রথমে শহরের একটি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

পরবর্তীতে মান্দা উপজেলা থেকে আশরাফুলকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জয়নুল এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা স্বীকার করে।

সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, জয়ব্রত পাল ও সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানসহ পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নানা বয়সি দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

দক্ষিণবাংলার অতীত ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও প্রত্নতত্ত্বের সংরক্ষণ ও উপস্থাপনায় এক অনন্য ভূমিকা রেখেছে খুলনা বিভাগীয় জাদুঘর। খুলনা শহরের প্রাণকেন্দ্র শিববাড়ী মোড়ে অবস্থিত এই জাদুঘরটি প্রতিদিনই নানা বয়সি দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত থাকে।

আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম জানান, খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরটি এক একর জমির উপর অবস্থিত। এখানে প্রতিনিয়ত দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীদের আগমন ঘটে থাকে। খুলনা বিভাগীয় জাদুঘরে রয়েছে গুপ্ত, পাল, সেন, মোঘল ও ব্রিটিশ আমলের নানা ধরনের পুরাকীর্তির নিদর্শণ, পোড়ামাটি, পাথরের মূর্তি, বিভিন্ন আমলের মুদ্রার রেপ্লিকা ও বিভিন্ন ধরনের তৈজসপত্রসহ সুন্দরবন গ্যালারি সংযোজন রয়েছে।

দর্শনার্থী নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেজ অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনার গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ফাতেমা-তুজ-জোহরা বলেন, ‘প্রতিটি প্রদর্শনীর পেছনে একটা গল্প রয়েছে। আমরা শুধু বই পড়ে ইতিহাস শিখছি না, বরং ইতিহাস ছুঁয়ে দেখছি।’ জাদুঘরের একজন কিউরেটর বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য শুধু নিদর্শন সংরক্ষণ নয়; বরং নতুন প্রজন্মকে তাদের শিকড় সম্পর্কে সচেতন করে তোলা।’

জাদুঘরের প্রদর্শনীর সূচনা হয়েছে ১নং গ্যালারি থেকে। এই গ্যালারিতে স্থান পেয়েছে খুলনার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রত্নসম্পদ। এর মধ্যে যশোরের ভরত ভায়না বৌদ্ধ মন্দির, পীরপুকুর মসজিদ, গলাকাটা মসজিদ, জোড়বাংলা মসজিদ, সাতগাছিয়া মসজিদ, জাহাজঘাটা, দমদম পীরস্থান ঢিবি, বাগেরহাটের খানজাহান আলী (র.)-এর বসতভিটায় প্রত্নতাত্ত্বিক খননে প্রাপ্ত নিদর্শন। এ ছাড়া রয়েছে খুলনা আর্ট কলেজ থেকে প্রাপ্ত ১২-১৩ শতকের মূর্তি, বাগেরহাটের কচুয়া থেকে প্রাপ্ত মারিচী মূর্তি, খুলনার কপিলমুনি ঢিবি গুচ্ছ থেকে সংগৃহীত পোড়ামাটির সামগ্রী, গুপ্ত যুগের মুদ্রা, খুলনা বিভাগের প্রশাসনিক মানচিত্র ইত্যাদি।

২নং গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে পোড়ামাটি ও শামুকের তৈরি চুড়ি, লোহার শাবল, পেরেক ও কব্জা, পশুর হাড় ও দাঁত। আদি মধ্যযুগীয় প্রত্নস্থান যশোরের ভরত ভায়না থেকে প্রাপ্ত পোড়ামাটির অলংকৃত ইট, পোড়ামাটির খেলনা, ওজন, পিরিচ ও থালা ইত্যাদি। এ ছাড়া রয়েছে খ্রিষ্টীয় ১০ম-১১শ শতকের গণেশ, বিষ্ণু, গরুড়, নন্দীসহ বিভিন্ন ধরনের প্রস্তর নির্মিত মূর্তি।

৩নং গ্যালারিতে দেখানো হচ্ছে উত্তরবঙ্গের প্রত্নস্থান মহাস্থানগড় ও মঙ্গলকাটি থেকে সংগৃহীত বিভিন্ন প্রত্ননিদর্শন। এর মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলকচিত্র, তামার তৈরি মৃৎপাত্র, স্বল্প মূল্যবান পাথরের পুতি, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, ছাপাংকিত রৌপ্যমুদ্রা ও ছাঁচে ঢালা মুদ্রা, মসৃণ কালো মৃৎপাত্র এবং পোড়ামাটির ফলকে চিত্রিত মানুষের মাথা প্রভৃতি। আরও রয়েছে আনুমানিক খ্রিষ্টীয় ১১শ-১২শ শতকের মহিষমর্দিনী দূর্গা, নন্দী ও ১০ম শতকের নকশাসহ প্যানেলের অংশ বিশেষ ইত্যাদি।

৪নং গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়েছে লালমাই ময়নামতি অঞ্চলে অবস্থিত শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ভোজ বিহার, রাণীরবাংলো, ইটাখোলা মুড়া, রূপবান মুড়া, কুটিলা মুড়া ও চারপত্র মুড়া প্রত্নস্থান থেকে সংগৃহীত প্রত্নসম্পদ। এর মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির ফলকচিত্র, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, ছাপাংকৃত মুদ্রা ও ছাঁচে ঢালা মুদ্রা, নব্য পাথর যুগের জীবাশ্ম কাঠের দ্বারা নির্মিত অস্ত্র প্রভৃতি। ৯ম-১০ম শতকের শাক্যমণি, কালো পাথরের শিল ও নোড়া যা ১০ম শতকের বলে অনুমান। রয়েছে মৌর্য, গুপ্ত, সুলতানি ও মোঘল যুগের বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা এবং ১২শ-১৫শ শতকের কালো পাথরের উপর খোদিত আররি ও ফারসি উৎকীর্ণ লিপি।

৫নং গ্যালারিতে শোভা পাচ্ছে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের প্রত্ননিদর্শন। পাহাড়পুর বৌদ্ধমন্দির থেকে সংগৃহীত জীবজন্তু, গাছপালার ছবি অংকিত বিভিন্ন ধরনের মানব প্রতিকৃতি পোড়ামাটির ফলক।

আর ৬ নং গ্যালারিতে প্রদর্শিত হচ্ছে গৌড়, লালবাগ কেল্লা, সাভার ও রোয়াইলবাড়ী থেকে সংগৃহীত প্রত্নবস্তু। যার মধ্যে রয়েছে পোড়ামাটির নকশাকৃত ইট, শিলালিপি, বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র, ছাপাংকৃত মুদ্রা ও ছাঁচে ঢালা মুদ্রা, চকচকে রঙিন প্রলেপযুক্ত টাইল্স প্রভৃতি। খ্রিষ্টীয় ১৭শ-১৯শ শতকের আরবি ও ফারসি হস্তাক্ষর লিপি, একশত বছরের পুরোনো কাঠের খাট। ১৮শ-১৯শ শতকের বিভিন্ন ধাতব ধরন ও পাথরের তৈরি তৈজসপত্র প্রভৃতি।

জাদুঘরটি সাপ্তাহিক রোববার পূর্ণ দিবস ও সোমবার অর্ধ দিবস বন্ধ থাকে। এ ছাড়া সকল সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে। তা ছাড়া অন্যান্য দিবসে খোলা থাকে।


নির্বাচিত

ঢাকাকে বাঁচাতে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় যুদ্ধ ঘোষণা ডিএসসিসি প্রশাসকের

৫ বছরে ৩ লাখ বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬ এর উদ্বোধন করেছেন ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম। শনিবার (১৩ জুন) গুলিস্তানের শহীদ মতিউর রহমান পার্কে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে তিনি ডিএসসিসির ১০টি অঞ্চলে একযোগে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ডিএসসিসি এলাকায় ২০২৬ থেকে ২০৩০ পর্যন্ত ৫ বছরে মোট তিন (৩) লক্ষ বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আজ উদ্বোধনী দিনে ডিএসসিসির ১০টি এলাকায় পাঁচশত (৫০০) বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মোঃ আবদুস সালাম বলেন, "১৯৭১ সালে আমরা যেভাবে অস্ত্র হাতে শোষণের বিরুদ্ধে লড়াই করে দেশ স্বাধীন করেছিলাম, দেশ গড়ার এই দ্বিতীয় পর্যায়ে আমাদের লড়াই জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে এবং ঢাকাকে বাঁচানোর লড়াই। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে আমাদের অধিক হারে বৃক্ষরোপণ করতে হবে এবং রোপণকৃত গাছের সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।"

৫ বছরে ২৫ কোটি জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ঘোষণা করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে প্রশাসক বলেন, "একজন দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তিনি বৃক্ষরোপণকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। কারণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় এর বিকল্প কিছুই নেই।"

ঢাকা শহরের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়া এবং মাত্রাতিরিক্ত তাপমাত্রার বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রশাসক বলেন, "কংক্রিটের আধিক্যের কারণে বৃষ্টির পানি মাটির নিচে যেতে পারছে না। তাই নতুন ভবন নির্মাণের সময় কিছু অংশ কংক্রিটমুক্ত রেখে ঘাস বা দুর্বা রাখার জন্য আমি নগরবাসীকে আহ্বান জানাচ্ছি।"

শহরের সবুজায়ন নিশ্চিত করতে ছাদ কৃষকদের জন্য বিশেষ পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে প্রশাসক জানান, "ঢাকায় যারা ছাদ কৃষি করছেন, তাদের উৎসাহিত করতে প্রতি বছর ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে প্রথম ১০ জনকে পুরস্কৃত করা হবে। পরবর্তীতে ছাদ কৃষকদের হোল্ডিং ট্যাক্স রিবেট (ট্যাক্স ছাড়) দেওয়ার বিষয়েও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।"

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ডিএসসিসির জিরো ওয়েস্ট কার্যক্রমের আওতায় ইতিমধ্যে রোড মিডিয়ান ও ট্রাফিক আইল্যান্ডে ১৮ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। এছাড়া ওসমানী উদ্যানে একটি কেন্দ্রীয় নার্সারি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখান থেকে নাগরিকদের গাছ উপহার দেওয়া হবে।

প্রশাসক নগরীর পরিবেশ রক্ষায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "যাদের পার্ক বা উন্মুক্ত স্থান ইজারা দেওয়া হয়েছে, সেখানে কোনো বাণিজ্যিক বা অস্থায়ী স্থাপনা রাখা যাবে না। শর্ত ভঙ্গ করলে লিজ বাতিল করা হবে। এছাড়া অবৈধ দখল, লাইসেন্সবিহীন ব্যবসা এবং হকার নিয়ন্ত্রণে প্রতি শনিবার ১০টি অঞ্চলেই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।"

সবশেষে তিনি ঢাকাকে একটি সুন্দর, 'গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন' মেগাসিটিতে রূপান্তর করতে সর্বস্তরের জনগণ ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ জহিরুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নারী সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে আনসার-ভিডিপিতে জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণের সুযোগ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী নতুন এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এরই অংশ হিসেবে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে বাহিনীর নারী সদস্যদের জন্য জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ (N-5) কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারী সদস্যদের ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, বিদেশে কর্মসংস্থানের উপযোগিতা অর্জন এবং আত্মনির্ভরশীলতা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে আগামী ৫ জুলাই ২০২৬ হতে ২ অক্টোবর ২০২৬ পর্যন্ত মোট ৯০ (নব্বই) দিনব্যাপী জাপানিজ ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ (N-5) পরিচালিত হবে। দেশের মোট ১৩টি কেন্দ্রে এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হবে। প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসমূহ হলো—আনসার-ভিডিপি একাডেমি, গাজীপুর; ভিটিসি, নবাবগঞ্জ, ঢাকা; এবং ১১ টি জেলা কমান্ড্যান্ট কার্যালয়: ফরিদপুর, ময়মনসিংহ, রংপুর, ঠাকুরগাঁও, কুষ্টিয়া, চট্টগ্রাম, ফেনী, নওগাঁ, হবিগঞ্জ, চাঁদপুর ও কক্সবাজার।

প্রতিটি কেন্দ্রে ৪০ জন করে মোট ৫২০ জন প্রশিক্ষণার্থী এ প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। আগ্রহী প্রার্থীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে AVMIS অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনপূর্বক আবেদন করতে হবে। আবেদনকারীদের বয়স ১৮ থেকে ২৭ বছরের মধ্যে হতে হবে এবং ন্যূনতম এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

এ উদ্যোগ দেশের নারী সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এটি নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অগ্রণী ভূমিকার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর  

ফরিদপুরে জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালি ইউনিয়নের সালামতপুর গ্রামে বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ এর স্মৃতি জাদুঘর চত্বরে এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।

এর আগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনী এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ এর সভাপতিতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর ১ আসনে সংসদ সদস্য ডঃ ইলিয়াস হুসাইন মোল্লা, সাবেক সংসদ সদস্য খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম সহ সরকারি কর্মকর্তা ছাড়াও স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

পরে প্রধান অতিথি লাঞ্চ নায়েক বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ জাদুঘর চত্বরে গাছের চারা রোপণ করে এ জেলায় বৃক্ষ রোপনের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।


নির্বাচিত

সিদ্ধিরগঞ্জের ডিএনডি লেকে গোসলে নেমে একই পরিবারের ৩ জনের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ডিএনডি লেকে গোসল করতে নেমে একই পরিবারের তিন সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরের পর বার্মা স্ট্যান্ড সংলগ্ন নাভানা সিটির সামনে দক্ষিণ কদমতলী কাশেমপাড়া এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

মৃত ব্যক্তিরা হলেন গোপালগঞ্জ জেলার দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রাশেদুজ্জামান এবং তাঁর শ্যালক গালিব ও শ্যালিকা সুরাইয়া।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এমদাদুল হক।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ডিএনডি লেকে একই পরিবারের চার সদস্য একসাথে গোসল করতে নামেন। পানিতে নামার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই একজন কোনোমতে তীরে উঠে আসতে পারলেও বাকি তিনজন চোখের পলকে পানির নিচে নিখোঁজ হয়ে যান। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজি করেও তাঁদের কোনো সন্ধান না পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা তাৎক্ষণিকভাবে আদমজী ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি অবহিত করেন।

খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের একটি চৌকস ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার অক্লান্ত চেষ্টায় ডুবুরিরা প্রথমে রাশেদুজ্জামান ও গালিবকে মৃত অবস্থায় পানি থেকে উদ্ধার করেন। এর ঠিক ৪০ মিনিট পর নিখোঁজ থাকা কিশোরী সুরাইয়াকেও মৃত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হন তাঁরা।

আদমজী ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মিরন মিয়া জানান, খবর পেয়ে তাঁদের দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে এবং পর্যায়ক্রমে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে।

অন্যদিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ এমদাদুল হক বলেন, মৃতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য। চারজন মিলে লেকে গোসল করতে নামলেও একজন বেঁচে ফেরেন এবং বাকি তিনজন পানিতে ডুবে প্রাণ হারান। বর্তমানে তাঁদের প্রত্যেকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।


নির্বাচিত

মণিরামপুরে সড়ক দূর্ঘটনায় প্রাণ গেল কলেজ শিক্ষার্থীর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মণিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি


যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মাহিম (১৫) নামের এক স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (১৩ জুন) সকাল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রাজারহাট-চুকনগর মহাসড়কের আটমাইল নামক স্থানে এ দূর্ঘটনা ঘটে।

মাহিম মণিরামপুর উপজেলার ভোজগাতী গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে এবং কুয়াদা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী।

জানা যায়, শনিবার (১৩ জুন) সকালে মাহিম তার মামার মোটরসাইকেল নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে বেগারীতলা বাজারে যায়। সেখানে কিছু সময় অবস্থান শেষে বাড়ি ফেরার পথে আটমাইল এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে সে।

এ সময় মোটরসাইকেলটি রাস্তার পাশে থাকা একটি পিলার ও গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং মাহিম ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মণিরামপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, এ ঘটনায় হাইওয়ে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। চুকনগর হাইওয়ে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর রেহানা আক্তার বলেন, পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close