রোববার, ৩০ নভেম্বর ২০২৫
১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


১৬ শতক জমির বিরোধে ঝরল ভাই-বোনসহ তিনজনের প্রাণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ১৬ শতক জমির দখলকে কেন্দ্র করে একই বংশের দুই পক্ষে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এক নারীসহ উভয় পক্ষের তিনজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত হয়েছেন নারীসহ অন্তত আটজন। রোববার বেলা ১১টার দিকে উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাইলাটারী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সংঘর্ষে জড়ানো দুই পক্ষ হলো- নূর মোহাম্মদ ও মানিক মুন্সি (আপন ভাই) এবং তাদের চাচাতো ভাই আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান (আপন ভাই)। নিহত ব্যক্তিরা হলেন- আলতাফ হোসেন (৫৫), তার চাচাতো ভাই মানিক মুন্সির ছেলে এরশাদুল হক (৪২) এবং মানিক মুন্সির বোন কুলসুম বেগম (৫০)। এ ঘটনায় নিহত আলতাফের ছেলে মোফাজ্জল হোসেনকে (২৪) আটক করেছে পুলিশ।

নিহত ব্যক্তিদের পরিবার, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হাইলাটারী গ্রামের মানিক মুন্সি ও নূর মোহাম্মদ এবং আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান প্রায় এক বছর আগে যৌথভাবে একই দাগের ১৬ শতক জমি কেনার উদ্দেশ্যে মালিককে টাকা দেন। কিন্তু কোনো পক্ষই জমির দলিল করে নেয়নি। জমিটি দখলে নেয় মানিক মুন্সি ও নূর মোহাম্মদ পক্ষ। এ নিয়ে আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান পক্ষের সঙ্গে তাদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য একাধিকবার বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি।

রোববার বেলা ১১টার দিকে আলতাফ হোসেন ও আজিজার রহমান লোকজন নিয়ে জমিটি দখল নিতে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যান মানিক মুন্সির ছেলে এরশাদুল হক ও বোন কুলসুম বেগম। গুরুতর আহত আলতাফ হোসেনকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান। আহত ব্যক্তিরা হলেন- মানিক মুন্সি (৬০), নূর মোহাম্মদ, নিহত এরশাদের স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম মঞ্জু (৩৫), জোবায়দুর (৪৫), সফিকুল ইসলাম (২৫), মর্জিনা বেগম (৪২), আজিজার রহমান (৪০) ও পারুল বেগম (৩২)। তাদের চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নাগেশ্বরী থানার ওসি বলেন, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। আর একজনকে আটক করা হয়েছে।


চাঁপাইনবাবগঞ্জে পুকুরের পাহারাদারকে চোখ উপড়ে হত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে এবং চোখ তুলে এক পুকুর পাহারাদারকে হত্যা করা হয়েছে। রোববার সকালে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ এসে উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মুসলিমপুর মাঠের একটি পুকুরের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত তোজাম্মেল হক (৬৫) উপজেলার পারদিলালপুর গ্রামের মৃত আলির ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত শনিবার দিবাগত রাতের কোনো একসময় পুকুর পাহারাদার মো. তোজ্জামেল হককে অজ্ঞাতরা হত্যা করে ফেলে রাখে।

স্থানীয়রা জানায়, গত শনিবার রাতে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তিনি পুকুরের পাশে একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন। পরদিন সকালে স্থানীয়রা পুকুরপাড়ে তার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে শিবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

জানা যায়, নিহত পুকুর পাহারাদার বিলাল হাজির মুসলিমপুর এলাকার একটি পুকুরের নাইটগার্ড হিসেবে দীর্ঘদিন কাজ করছিলেন। নিহতের শরীরে ধারালো কাটা অস্ত্রের চিহ্ন আছে এবং বাম চোখ উপড়ে ফেলেছে হত্যাকারীরা।

এ ব্যাপারে শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া জানান, হত্যাকাণ্ডের কারণ এখনো পরিষ্কার নয়। তবে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, দীর্ঘদিনের শত্রুতা বা চুরি-সংক্রান্ত কোনো ঘটনার জেরেই এ ঘটনা ঘটতে পারে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।


পূর্বগুজরা মধুমতি কেজি স্কুলের বিদায় সংবর্ধনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

‘শিক্ষা আমার অধিকার, সুযোগ নয়,’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে-রাউজান পূর্বগুজরা দক্ষিণ বড়ঠাকুর পাড়াস্থ মধুমতি কেজি স্কুলের ২০২৫ সালের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সমাপনী পাঠ, বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠান গত শনিবার বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কনক কান্তি বড়ুয়ার সভাপতিত্বে ও সিনিয়র শিক্ষক প্রদীপ দাশের সঞ্চালনায় স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিদ্যালয় পরিষদের চেয়ারম্যার শিক্ষাবিদ রেজাউল করিম চৌধুরী। প্রধান আলোচক ছিলেন, চট্টগ্রাম জেলার এডিশনাল পিপি অ্যাডভোকেট এম. তাজুল ইসলাম। সভায় বক্তব্য রাখেন, পরিচালক সাইদুল আলম, রফিকুল ইসলাম, সাংবাদিক এম. রমজান আলী, এ.কে.এম জাহাঙ্গীর আলম, আবদুল ছালাম রায়হান, সিনিয়র শিক্ষক সৌরভ বড়ুয়া, রুমানা আকতার, ফাতেমা বেগম, সুবর্ণা বড়ুয়া, নাছরিন আকতার, জাবের উদ্দীন পারভেজ, এমেলী বড়ুয়া, সুভ্রামনি বড়ুয়া, পংকজ বড়ুয়া। শিক্ষার্থী তাছিন আহমেদ ফারিয়া, আনিশা আফরিন। অনুষ্ঠান শেষে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর পরিবেশনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।


গোপালগঞ্জের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ)

গোপালগঞ্জের নবাগত জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সুষ্ঠু শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে কোটালীপাড়া উপজেলাসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। গত শনিবার বিকালে তিনি কোটালীপাড়া উপজেলার কোটালীপাড়া উপজেলার কোটালীপাড়া সরকারি আদর্শ কলেজ, উমাচরণ পূর্ণচন্দ্র সার্বজনীন উচ্চবিদ্যালয়, রাধাগঞ্জ সার্বজনীন দাখিল মাদ্রাসা, মান্দ্রা রাধাগঞ্জ ইউনাইটেড ইনস্টিটিউশন, উত্তর কোটালীপাড়া রামমোহন উচ্চবিদ্যালয়, সোনাইলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কুশলা নেছারিয়া সিনিয়র দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এস এম তারেক সুলতান, কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক, উপজেলা প্রকৌশলী শফিউল আজম, থানা অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান ও উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. জসীম উদ্দিন শেখ। উপস্থিত ছিলেন।

একই দিন সকালে পরিদর্শন করেন টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গিমাডাঙ্গা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়, ২৭নং ঘোপেরডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঘোষের ঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৩নং তারাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৯নং পাকুড়তিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৩৬নং ডুমরিয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র।

এর আগে কয়েক দফায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) ফারিয়া তানজিন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) রূলী বিশ্বাস, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এম. রকিবুল হাসান, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আতাউর রহমান, গোপালগঞ্জ সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শাহ্ আলম এবং সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার অনিমেষ কুমার বসুকে সাথে নিয়ে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান সদর উপজেলার সোনাকুড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চরবয়রা ঘোনাপাড়া উচ্চবিদ্যালয়, ১০১নং উত্তর গোপালগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, সাতপাড় দীননাথ গয়ালী চন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, ৫৮নং বড় ডোমরাশুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টুঠামান্দ্রা উচ্চবিদ্যালয়, উলপুর পূর্ণচন্দ্র উচ্চবিদ্যালয়, দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪০নং লতিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, হাজী খোরশেদ সপ্তপল্লী উচ্চবিদ্যালয়, ২২নং পুখুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৪নং বড়ফা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১১নং সুকতাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন।


কুষ্টিয়ায় যুবক খুনের ঘটনায় গ্রেপ্তার ২

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্তে জনি ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবককে খুনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির মা হাসু খাতুন বাদী হয়ে ২৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫-২০ জনকে আসামি করে দৌলতপুর থানায় গত শনিবার রাতে একটি হত্যা মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ বিশেষ অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করেন। এর আগে শনিবার উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকার একটি কবরস্থানের পাশ থেকে পুলিশ জনির মরদেহ উদ্ধার করে। নিহত জনি ওই ইউনিয়নের মহিষকুন্ডি জামালপুর গ্রামের মৃত জাকির হোসেনের ছেলে।

পুলিশ জানায়, জনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মাদক কারবারি সোহানের সহযোগী হিসেবে কাজ করতেন। সম্প্রতি পাওনা টাকা নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। এর জেরে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় সোহানের লোকজন জনিকে মারধর করে। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং তার পিঠে একাধিক সেলাই দিতে হয়। হামলার ভয়ে জনি শুক্রবার রাতে মহিষকুন্ডি মাঠপাড়া এলাকায় অবস্থান করেন। শনিবার দুপুরে বাড়ি ফেরার পথে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে দুই পায়ের রগ কেটে দেয়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

দৌলতপুর থানার ওসি সোলাইমান শেখ বলেন, রাতেই অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছি। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


পিরোজপুরে সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎‎পিরোজপুর প্রতিনিধি

‎‎পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদের বার্ষিক সাধারণ সভা-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ‎‎শনিবার পিরোজপুর সদর উপজেলার শহীদ ওমর ফারুক মিলনায়তনে বিকেল তিনটায় উক্ত সভা অনুষ্ঠিত হয়।

‎‎সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলাউদ্দিন ভূইয়া জনি।

‎‎বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের সিভিল সার্জন ডা. মতিউর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অ.দা.) এস এম আল আমিন, পিরোজপুর সদর থানা উপপুলিশ পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম, পিরোজপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. সাইদুল ইসলাম কিসমত, জেলা জামায়াত ইসলামীর সেক্রেটারী অধ্যক্ষ মো. জহিরুল হক, পিরোজপুর প্রেসক্লাব এর সাধারণ সম্পাদক এস এম তানভীর আহমেদ প্রমুখ।

‎‎উক্ত সাধারণ সভায় সভাপতিত্ব করেন পিরোজপুর জেলা সরকারি চাকরিজীবী কল্যাণ পরিষদ (১১-২০ গ্রেড) এর সভাপতি মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা।


অবশেষে সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেল বাকসু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (বাকসু) অবশেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেয়েছে। গত শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯২তম সিন্ডিকেট সভায় বাকসু গঠনতন্ত্রের অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ইংরেজি নাম হবে –‘Barishal University Central Students’ Union (BUCSU) এবং এর বাংলা নাম হবে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ।

জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার ২৭ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলে বাকসুর খসড়া গঠনতন্ত্র অনুমোদন দেয়া হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ছাত্র সংসদ নির্বাচনে প্রশাসনের কালক্ষেপণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাকসুর খসড়া গঠনতন্ত্র সিন্ডিকেট ও একাডেমিক কাউন্সিলে পাস করল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট অনুমোদিত গঠনতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষামন্ত্রালয়ে পাঠানো হবে। তারপর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।


শ্রীবরদীতে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শেরপুর প্রতিনিধি

বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় শেরপুরের শ্রীবরদীতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শনিবার রাতে শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে উপজেলা বিএনপি, অঙ্গ ওসহযোগী সংগঠন এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রহিম দুলালের আহ্বানে এ দোয়া মাহফিলে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মাহমুদুল হক রুবেল। শ্রীবরদী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুন দুলালসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে কোরআনখানি, মিলাদ ও বাংলাদেশের অভিভাবক গনতন্ত্রের মা বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন করে সফল সিংড়ার জাহিদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সিংড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

নাটোরের সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামে নতুন এক সম্ভাবনার দিগন্ত খুলে দিয়েছে বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন। এই জাতের হাঁসের প্রতিটির ওজন হয় গড়ে ৪ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত। স্বাদ ও পুষ্টিগুণে অনন্য এই হাঁসের ডিম ও মাংসের বাজারে এখন ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। আর এই হাঁস পালন করেই সিংড়ার দুই যুবক সালা-দুলাভাই জাহিদ মাহমুদ ও আবু হাসান গড়ে তুলেছেন চলনবিল হেচারি সিংড়া নামে সাফল্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

সিংড়া উপজেলার নুরপুর গ্রামের তরুণ খামারি জাহিদ মাহমুদ কয়েক বছর আগেও ছিলেন ঋণগ্রস্ত। জীবনের নানা সংকটে জর্জরিত অবস্থায় একসময় তার মাথায় আসে হাঁস পালনের চিন্তা। সে ভাবনাটিই তার জীবনে ঘুরে দেয় সফলতার চাকা।

খামারি জাহিদ জানান, তখন আমার প্রায় ৮ লাখ টাকার ঋণ ছিল। একদিন প্রবাসী দুলাভাই হাসান আলীর সঙ্গে কথা বলি। তিনি উৎসাহ দেন এবং তিনি টাকা দিয়ে ১০০টি বেলজিয়াম হাঁস কিনে দেন। সেখান থেকেই শুরু।

চার বছর আগের সেই ছোট উদ্যোগ এখন পরিণত হয়েছে বিশাল বাণিজ্যিক খামারে। বর্তমানে তাদের খামারে হাঁসের সংখ্যা প্রায় ২ হাজার ৫০০টি। হাঁসের পাশাপাশি এখন তারা বাচ্চা উৎপাদনও শুরু করেছেন। বছরে তাদের মোট আয় ২৪ লাখ টাকারও বেশি।

জাহিদ আরও বলেন, আমরা এখন প্রতিমাসে দুই লাখ টাকার বেশি আয় করি। ডিম, বাচ্চা ও হাঁস বিক্রি করেই এ আয় হয়। আমি হাঁস পালন করে সব ঋণ শোধ করেছি, এখন নিজেই অনেকের কর্মসংস্থান তৈরি করেছি।

এ খামারে প্রতিটি হাঁস ৪৫ দিনের মধ্যেই ৩ কেজি ওজনের হয়। ফলে স্বল্প সময়েই বিক্রিযোগ্য হয়ে ওঠে। তারা জানায়, একটি হাঁসের ডিমের দাম ৪০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত, আর একটি বাচ্চা বিক্রি হয় ১৫০ টাকায়।

খামারটিতে এখন কাজ করছেন ৪জন স্থানীয় যুবকও। এতে শুধু জাহিদ ও হাসান নন, আশপাশের অনেক বেকার তরুণও অনুপ্রাণিত হচ্ছেন হাঁস পালনে।

খামারি আবু হাসান জানান, স্বল্প পুঁজি বিনিয়োগ করে বেলজিয়াম জাতের হাঁস পালন শুরু করা যায়। নিয়মিত যত্ন, সঠিক খাবার ও ভ্যাকসিন প্রয়োগে ভালো ফল পাওয়া যায়। হাঁসগুলো দ্রুত বেড়ে ওঠে, ফলে খুব অল্প সময়েই লাভ পাওয়া সম্ভব।

জাহিদ বলেন, একসময় মানুষ বলত হাঁস পালনে ভবিষ্যৎ নেই, এখন তারা নিজেরাই জানতে আসে হাঁস পালন কেমন লাভজনক ব্যবসা। আমরা চাই, আরও তরুণ এগিয়ে আসুক এই খাতে। আমরা প্রথমে ভাবিনি এত দ্রুত উন্নতি হবে। কিন্তু হাঁসের ডিম ও মাংসের চাহিদা এখন অনেক। অনেকেই আমাদের কাছ থেকে হাঁসের জাত সংগ্রহ করে পালন শুরু করেছেন।

সিংড়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. তাশরিফুল ইসলাম বলেন, নতুন উদ্যোক্তাদের আমরা সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি। হাঁস পালনের জন্য প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল সহায়তা, পরামর্শ ও ভ্যাকসিন আমরা বিনামূল্যে প্রদান করি। উপজেলায় বর্তমানে বেলজিয়াম জাতের একটি বড় খামার রয়েছে। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আমরা আশাবাদী।


সেন্ট মার্টিনে রাত্রিযাপনে মানতে হবে যে সব নির্দেশনা

আপডেটেড ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ১৫:২৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেন্ট মার্টিন্স দ্বীপ দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ, যা কক্সবাজার জেলার টেকনাফ থেকে প্রায় ৯ কিলোমিটার দক্ষিণে অবস্থিত। মনোমুগ্ধকর দ্বীপটির স্ফটিক-স্বচ্ছ নীল জলরাশি, জীবন্ত প্রবাল প্রাচীর, নারকেল গাছের সারি আর সামুদ্রিক জীবনের প্রাচুর্য পর্যটকদের সব সময় কাছে টানলেও, সেখানে ভ্রমণে বিধি-নিষেধ আরোপ করে অন্তর্বর্তী সরকার। বন্ধ করা হয় দ্বীপটিকে রাত্রিযাপন। অবশেষে সেখানে রাত্রিযাপনের সুযোগ মিলছে।
স্থানীয়ভাবে ‘নারিকেল জিঞ্জিরা’ নামেও পরিচিত দ্বীপটি শান্ত সৈকত এবং ডুবো জগতের সৌন্দর্য এটিকে পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় গন্তব্যে পরিণত করেছে, যেখানে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে পর্যটকরা প্রকৃতির এই অনন্য সৃষ্টি উপভোগ করতে আসেন। সেই সময়টি আবারও আগত।
দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে ১ ডিসেম্বর থেকে পুনরায় চালু হচ্ছে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল। পর্যটকদের জন্য থাকছে রাত্রিযাপনের সুযোগও। তবে সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষায় প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটকের সীমা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন। পালন করতে হবে ১২টি কঠোর নির্দেশনা।
কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া জেটিঘাট থেকে সোমবার সকাল সাতটায় জাহাজ ছেড়ে যাবে। পরের দিন বেলা তিনটায় সেন্টমার্টিন থেকে সেই জাহাজ কক্সবাজারে ফিরে আসবে। আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত টানা দুই মাস ভ্রমণ করতে পারবে পর্যটকরা।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মো. শাহিদুল আলম বলেন, এমভি কর্ণফুলি এক্সপ্রেস, এমভি বারো আউলিয়া, কেয়ারি সিন্দাবাদ ও কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন নামের চারটি জাহাজ কক্সবাজার থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে চলাচলের জন্য জেলা প্রশাসন থেকে অনুমতি পেয়েছে।
শাহিদুল আলম আরও বলেন, সেন্ট মার্টিনের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সরকারের জারি করা ১২টি নির্দেশনা এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করবে জেলা প্রশাসন। আগে টেকনাফ থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল করলেও নিরাপত্তার কারণে এখন কক্সবাজার শহরের নুনিয়ারছড়া থেকে পর্যটকবাহী জাহাজ বঙ্গোপসাগর পাড়ি দিয়ে সেন্টমার্টিন যাতায়াত করবে। তার জন্য সব প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।
পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের পরিচালক মো. জমির উদ্দিন বলেন, পর্যটক পারাপারের সময় জাহাজগুলোকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হবে। দুই হাজারের বেশি পর্যটক যেতে দেওয়া হবে না। এ জন্য নুনিয়ারছড়ার বিআইডব্লিউটিএ জেটিঘাট ও সেন্ট মার্টিন জেটিঘাটে পৃথক তল্লাশির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সেন্টমার্টিন ভ্রমণের ব্যাপারে গত ২২ অক্টোবর ১২টি নির্দেশনাসহ এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া সেন্টমার্টিন দ্বীপে কোনো নৌযান চলাচল করতে পারবে না। পর্যটকদের অবশ্যই ট্যুরিজম বোর্ডের স্বীকৃত ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে টিকিট কিনতে হবে। সেখানে প্রতিটি টিকিটে ট্রাভেল পাস এবং কিউআর কোড সংযুক্ত থাকবে। কিউআর কোড ছাড়া টিকিট নকল হিসেবে গণ্য হবে।
দ্বীপে ভ্রমণের সময়সূচি এবং পর্যটক উপস্থিতিও এবার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত থাকবে। নভেম্বর মাসে পর্যটকেরা শুধু দিনের বেলায় ভ্রমণ করতে পারবেন। রাত্রিযাপন করা যাবে না। ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে রাত্রিযাপনের অনুমতি থাকবে। ফেব্রুয়ারি মাসে দ্বীপে পর্যটক যাতায়াত সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকবে। প্রতিদিন গড়ে দুই হাজারের বেশি পর্যটক দ্বীপে ভ্রমণ করতে পারবেন না।


‘বিজয় মশাল রোড শো’ করবে বিএনপি, ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে সাড়ম্বরে গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। এ উপলক্ষে দেশব্যাপী রোড শো করবে দলটি। এছাড়া ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি।
গতকাল শনিবার বিকেলে গুলশানে চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য জানান।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশ এবং জনগণের বিজয়ের এই আনন্দঘন উপলক্ষ আরও বর্ণিল আনন্দময় এবং অর্থবহ করতে এবারও বিএনপি সারাদেশে সাড়ম্বরে গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস উদযাপন করতে আলোচনা সভা, বিজয়ের রোড শো-সহ মাসব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিএনপির উদ্যোগে ১ ডিসেম্বর থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে বিশেষ কর্মসূচি ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’।
মির্জা ফখরুল বলেন, শুরুতেই বাংলাদেশের গৌরবের ৫৫তম মহান বিজয় দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আপনাদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই। আপনাদের মাধ্যমে দেশবাসীকেও জানাই পরাধীনতার শৃঙ্খলমুক্তির অভিনন্দন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে গণতান্ত্রিক অধিকারহারা জনগণ ফ্যাসিবাদী শাসন শোষণে অত্যাচারিত হয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের জেরে শেষ পর্যন্ত হাজারো শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। গণতন্ত্রকামী স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীর কাছে ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে বিজয়ের আনন্দ ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।
ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। সুতরাং, কালুরঘাট আমাদের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের অনিবার্য অংশ। এই ঐতিহাসিক কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকেই শুরু হবে এবারে বিএনপির ‘বিজয় মাস’ উদযাপন কর্মসূচি। ১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান চট্টগ্রামের কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বিজয় মশালযাত্রা শুরু করবে। মশাল মিছিল কালুর ঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে যাত্রা শুরু করে একই দিন চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে পৌঁছবে। বিজয় মিছিলের মশাল বহন করবেন ১৯৭১ সালের একজন বিশিষ্ট মুক্তিযোদ্ধা এবং ২০১৪ সালের একজন জুলাই যোদ্ধা। আমরা মনে করি, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দেশের স্বাধীনতা অর্জনের আর ২০২৪ হলো দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১ ডিসেম্বর চট্টগ্রাম থেকে শুরু করে পর্যায়ক্রমে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ফরিদপুরে বিজয় মশাল রোড শো এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি বিভাগে মশাল বহন করবেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের একজন প্রখ্যাত মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন জুলাই যোদ্ধা।
মির্জা ফখরুল বলেন, দুই সপ্তাহের এই বিশেষ ‘রোড শো’ উদযাপনের সময় বিভিন্ন বিভাগের স্বাধীনতা এবং মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত ঐতিহাসিক স্থান পরিদর্শন, জাতীয় সংগীত, মুক্তিযুদ্ধের গান, দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মাদার অফ ডেমোক্রেসি বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ প্রচার, জাসাসের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ডকুমেন্টারী প্রদর্শিত হবে। একইসঙ্গে জনগনে সামনে তুলে ধরা হবে একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ এবং গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচি। এই পুরো আয়োজনে বিএনপির থিম সং, ‘সবার আগে বাংলাদেশ’।
দেশের সকল বিভাগ ঘুরে বিজয় মশাল সবশেষে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় এসে পৌঁছবে। একই দিন ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউতে মহাসমাবেশ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’। বিজয় মাস উপলক্ষে এই বিশেষ কর্মসূচি ছাড়াও পাশাপাশি আরও অন্যান্য কর্মসূচি উদযাপিত হতে থাকবে।


হলমার্কের এমডি তানভীর মাহমুদের হাসপাতালে মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

হলমার্ক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. তানভীর মাহমুদ (৫৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (এআইজি-উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শনিবার দুপুরে হলমার্ক গ্রুপের (এমডি) মো. তানভীর মাহমুদ অসুস্থ হয়ে পড়লে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তিনি হাসপাতালের ৬ তলা ৬০২ নম্বর ওয়ার্ডে এক্সট্রা ১৯ নম্বর বেডে ভর্তি ছিলেন।

তানভীর মাহমুদ হলমার্ক কেলেঙ্কারির মামলায় কারাভোগ করছিলেন। রাজধানীর রমনা থানার একটি মামলায় তিনি কারাবন্দি ছিলেন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছিলেন।সূত্র : বাসস


খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় দেশজুড়ে প্রার্থনা

আপডেটেড ৩০ নভেম্বর, ২০২৫ ০০:২৮
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার অসুস্থতায় দেশজুড়ে প্রার্থনা। গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আপসহীন খেতাব পাওয়া দেশনেত্রী এখন রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শয্যাশায়ী। ভুগছেন বার্ধক্যজনিত নানা ব্যাধিতে। গত ৬ দিন ধরে হাসপাতালটিতে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন। সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে তাকে চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা।

এদিকে দেশের জনপ্রিয় এই নেত্রীর অসুস্থতায় দেশের রাজনীতিবিদ থেকে শুরু সর্বস্তরের মানুষ দোয়া কামনা করেছেন। মিলাদ-মাহফিলসহ মসজিদ-মাদ্রাসায় চলছে আরোগ্য কামনা। শনিবার উপদেষ্টা পরিষদে খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসির কাছে দোয়া কামনা করা হয়। রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা এবং তার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে গত শুক্রবার নয়াপল্টনে দোয়া মাহফিলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি বক্তব্যের পরপরই দলের নেতাকর্মীরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হাসপাতালে যান আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার। রাতে একে একে হাসপাতালে ছুটে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, ড. মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে মির্জা আব্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, ম্যাডামকে দেখে মনে হয়েছে, উনি স্ট্যাবল নন। ম্যাডামের সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চাচ্ছি। রাতে হাসপাতালে ছুটে যান বিজেপি সভাপতি ব্যারিস্টার আন্দলিব রহমান পার্থ। তিনিও হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে গণমাধ্যমের কাছে খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে উৎকণ্ঠার কথা জানান। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতায় দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।

এদিকে মায়ের অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ও এক্সে আবেগঘন বার্তা দেন জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দেশবাসীর কাছে মায়ের সুস্থতার জন্য দোয়া চেয়ে তিনি লিখেন, এমন সঙ্কটকালে মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্ক্ষা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে। কিন্তু অন্য আর সকলের মতো এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমার একক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ অবারিত ও একক নিয়ন্ত্রণাধীন নয়। স্পর্শকাতর এই বিষয়টি বিস্তারিত বর্ণনার অবকাশও সীমিত। রাজনৈতিক বাস্তবতার এই পরিস্থিতি প্রত্যাশিত পর্যায়ে উপনীত হওয়া মাত্রই স্বদেশ প্রত্যাবর্তনে আমার সুদীর্ঘ উদ্বিগ্ন প্রতিক্ষার অবসান ঘটবে বলেই আমাদের পরিবার আশাবাদী।

ওদিকে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর সুস্থতা কামনা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে নানা মন্তব্য লিখেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। অনেকে স্বৈরাচার আমলের খালেদা জিয়ার আপসহীন নানা বক্তব্য ফেসবুক শেয়ার করে তার সুস্থতার জন্য প্রার্থনা করছেন।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকী নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেন, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। দেশবাসীর কাছে তার সুস্থতার জন্য দোয়ার আহ্বান জানাই।

মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী ফেসবুকে লিখেন, সেরে উঠুন বাংলাদেশ…। একজন অভিভাবক হিসেবে, যার সুস্থতার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার দীপ্ত শক্তি, ভাগ্যাহত মানুষের প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি, গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের মসৃণ যাত্রা। ম্যাডাম জিয়া সুস্থ হোন—হৃদস্পন্দনে ফিরুক বাংলাদেশ। মহান আল্লাহ তার ওপর অপার করুণা বর্ষণ করুন। আমিন।

বিএনপি চেয়ারপারসনকে নিয়ে একটি দীর্ঘ মন্তব্য ফেসবুকে শেয়ার করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহও।

টকশোর আলোচক ডা. জাহেদ উর রহমান ফেসবুকে লিখেন, বেগম খালেদা জিয়ার জন্য প্রার্থনা। ভয়ংকর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি সুস্থ হয়ে উঠুন।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনীম জারা নিজের ফেসবুক পেজে লিখেন, বেগম খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের সুস্থতা কামনা করে রাজধানীতে দোয়া মাহফিল করেছে জামায়াত নেতারা। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জন্য আজ ফজরের নামাজের পর মসজিদে মসজিদে দোয়া করা হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকেও শনিবারও দেশেব্যাপী বিভিন্ন জেলা উপজেলার মসজিদে মসজিদে দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি পালন করা হয়।

প্রসঙ্গত, গত ২৩ নভেম্বর রাতে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা জিয়া বহু বছর ধরে আর্থ্রাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, ফুসফুস, চোখের সমস্যাসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। সর্বশেষ গত ১৫ই অক্টোবর বিএনপি চেয়ারপারসন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। হাসিনার আমলে ২০১৮ সালের ১০ই ফেব্রুয়ারি থেকে টানা দুই বছর কারাগারে থাকাকালে নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া। এরপর মুক্তি দিলেও তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেয়া হয়নি। গণঅভ্যুত্থানে হাসিনার পতনের পর গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান খালেদা জিয়া। লন্ডন ক্লিনিকে টানা ১৭ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ২৫ জানুয়ারি খালেদা জিয়া তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় লন্ডনের ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অধ্যাপক প্যাট্রিক কেনেডি ও অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন। যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে গত ৬ মে দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারপারসন।


banner close