মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


গোপালপুরে সড়কের ইট উধাও, অভিযোগের তীর ইউপি সদস্যের দিকে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের ইটের রাস্তা নির্মাণের এক বছর না পেরোতেই সেই রাস্তার ইট তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এক ইউপি সদস্য সরকারি সড়কের ইট তুলে নিজ বাড়িতে পাকা বাথরুম নির্মাণ করেছেন। অভিযুক্ত ইউপি সদস্যের নাম আয়েশা বেগম। তিনি ওই ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা সদস্য।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোপালপুর উপজেলা গ্রামীণ অবকাঠামো সংস্কার কর্মসূচি (কাবিটা) মোতাবেক (উপজেলা পরিষদ ওয়ারী) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে (১ম ও ২য় পর্যায়) পশ্চিম নুঠুরচর গ্রামের জসিম মিয়ার বাড়ি থেকে আজমত হোসেনের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই লাখ বিশ হাজার টাকা ব্যয়ে ৬শ মিটার গ্রামীণ সড়ক বা হালটে মাটি ভরাট ও ইটের সলিং করা হয়।

গ্রামের মোড়ল আব্দুল হালিম অভিযোগ করেন, পাশেই প্যারাজানি বিল। সেখানে সহস্রাধিক একরে বোরো ও রোপা আবাদ হয়। বিলে হালচাষ এবং সেখান থেকে ফসল ঘরে আনার জন্য সড়কটি একমাত্র অবলম্বন। এলাকাবাসির দাবির পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন গ্রামীণ সড়কটি মেরামত ও ইটের সলিং করে।

প্রকল্পের সভাপতি ছিলেন ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম নিজেই। আর কাজের ঠিকাদারি পান তার স্বামী তোফাজ্জ্বল হোসেন। কিন্তু দুই মাস আগে ইউপি সদস্য ও তার স্বামী দুজনে মিলে দিন দুপুরে রাস্তার সকল ইট তুলে রিকশা-ভ্যানে করে বাড়ি নিয়ে যায়। গ্রামবাসীরা ইট তোলার কারণ জানতে চাইলে বলা হয়, রাস্তা পাকা হবে। তাই ইট তুলে খোয়া বানানো হবে। পরে সেই ইট দিয়ে তারা বাড়িতে পাকা বাথরুম বানায়। এদিকে ইট তুলে নেয়ায় চলতি বর্ষায় রাস্তার মাটি ধসে পড়ছে। ফলে মাঠ থেকে কৃষকরা বোরো ধান বাড়ি নিয়ে আসতে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।

গ্রামের প্রবীণ আব্দুল জলিল জানান, স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলা সরকারি টেহায় ইচ্ছামতো ইটের রাস্তা বানাইছে। আবার তারাই দিন দুপরে রাস্তার ইট তুইলা নিয়া বাড়িতে গোছলখানা আর পাকা পায়খানা দিছে। এরা প্রভাবশালী। কিছু কইতে গেলেই মাইরতে আসে। তাই সবাই চুপচাপ হইয়া আছে।’ গত রোববার ওই ইউপি সদস্যের বাড়ি গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার কাজের সাইনবোর্ডটি বাথরুমের পাশে পড়ে রয়েছে।

এ ব্যাপারে ইউপি সদস্যের স্বামী এবং ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেন জানান, তিনি ওই অর্থবছরে ওই ইউনিয়নের ৪টি গ্রামীণ সড়ক সলিং করার কাজ পান। কাজ শেষে সাড়ে তিন হাজার ইট থেকে যায়। সেই ইট দিয়ে বাড়িতে পাকা বাথরুম বানিয়েছেন। বরাদ্দ দেওয়া বাড়তি সরকারি ইট ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যায় কি না প্রশ্নে জানান, উপজেলা প্রশাসন তো কখনও ইট ফেরত চায়নি। এখানে সাংবাদিকদের কী সমস্যা?

ইউপি সদস্য আয়েশা বেগম জানান, গ্রামের কিছু দুষ্টু লোক রাতের আধাঁরে রাস্তার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে। তাই রাস্তার ইট দিয়ে বাথরুম বানানোর প্রশ্নই আসে না। ইট চুরির ঘটনা প্রশাসনকে কেন জানানো হয়নি প্রশ্নে জানান, রাস্তাটি পুনঃসংস্কার করার জন্য নতুন প্রকল্প দাখিল করা হয়েছে। তাই হারিয়ে যাওয়া ইট নিয়ে ভাবা হচ্ছে না। গোপালপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ইউপি সদস্যকে মাত্র তিন দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে নিজের টাকায় ইট কিনে রাস্তা চলাচলের উপযোগী না করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


উপকূলজুড়ে সৌন্দর্য ছড়াচ্ছে আকন্দ ফুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি

গ্রীষ্মের আবহে উপকূলীয় উপজেলা শরণখোলার বিভিন্ন সড়ক ও বেড়িবাঁধজুড়ে ফুটতে শুরু করেছে আকন্দ ফুল। সাদা ও হালকা বেগুনি রঙের এই বুনো ফুল এখন প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ছে। বিশেষ করে বলেশ্বর নদীর তীরবর্তী বেড়িবাঁধে জন্ম নেওয়া আকন্দ গাছগুলো যেন প্রকৃতিকে নতুন সাজে সাজিয়ে তুলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের এই সময়টাতে আকন্দ গাছে বেশি ফুল ফুটে। কোনো ধরনের বিশেষ পরিচর্যা ছাড়াই বেড়ে ওঠা এই গাছ উপকূলীয় প্রকৃতিতে যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রার সৌন্দর্য। সকাল কিংবা বিকালে চলাচলের সময় পথচারীরা আকন্দ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।

চালরায়েন্দার বাসিন্দা খোকন হাওলাদার বলেন, ‘আগে এই ফুলকে তেমন গুরুত্ব দিতাম না। এখন রাস্তার ধারে এত ফুল ফুটতে দেখে খুব ভালো লাগে। মনে হয় প্রকৃতি নিজেই উপকূলকে সাজিয়ে তুলেছে।’

উদ্ভিদপ্রেমী ও স্থানীয় শিক্ষক ইলিয়াস মিলন বলেন, ‘আকন্দ শুধু সৌন্দর্যের জন্য নয়, এটি একটি ভেষজ গাছ হিসেবেও পরিচিত। গ্রামীণ এলাকায় বিভিন্ন কাজে এর ব্যবহার রয়েছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় এসব দেশীয় উদ্ভিদের গুরুত্ব অনেক।’

প্রকৃতির আপন নিয়মে বেড়ে ওঠা আকন্দ ফুল এখন উপকূলের পথঘাটে ছড়িয়ে দিচ্ছে নীরব সৌন্দর্য। গ্রীষ্মের এই সময়টাতে ফুলে ফুলে ভরে ওঠা আকন্দ গাছ যেন প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের মনে এনে দিচ্ছে এক প্রশান্ত অনুভূতি।


জনবল সংকটে কমলনগর এলজিইডি অফিস, ২১ পদে ৯ জন দিয়ে চলছে কার্যক্রম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) জনবল সংকট দেখা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় কর্মকর্তা-কর্মচারী না থাকায় অফিসের প্রশাসনিক কার্যক্রম ও চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একজন প্রকৌশলী ও ৯ জন কর্মচারী জোড়াতালি দিয়ে অফিসের কার্যক্রম চালিয়ে নিচ্ছেন। গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন, তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সেবাপ্রত্যাশী সাধারণ মানুষ, ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিরা। ফলে সীমিত জনবল দিয়ে বিপুল পরিমাণ কাজ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের।

একদিকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের তদারকি, অন্যদিকে নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নসহ সব মিলিয়ে কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট নির্মাণ ও সংস্কার কাজের মান নিয়ন্ত্রণ এবং নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ করতে নানা জটিলতা সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকির অভাবে কাজের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে।

জানা যায়, কার্যালয়টিতে অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২১টি হলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯ জন। এরমধ্যে অফিস প্রধান উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদের বদলির আদেশ হওয়ায় সংকট আরো বেড়ে গেছে। বর্তমানে অর্ধেক জনবল দিয়ে খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অফিসটি।

উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সুত্রে জানা যায়, একজন প্রকৌশলী, একজন সহকারী প্রকৌশলী, ৪ জন উপসহকারী প্রকৌশলীর স্থলে রয়েছে মাত্র ১ জন। একজন করে হিসাব রক্ষক, হিসাব সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর ও সার্ভেয়ার পদ থাকলেও একজনও নেই। কার্যসহকারী ৫ জনের স্থলে রয়েছে ২ জন। ১ জন করে অফিস সহায়ক ও অফিস সহকারীর স্থলে কেউ নেই। নেই নিরাপত্তাকর্মীও। সবমিলিয়ে এ অফিসে ২১ টি পদের স্থলে আছে মাত্র ৯ জন। এর মধ্যে সম্প্রতি উপজেলা প্রকৌশলীকে ফেনীতে বদলি করা হয়েছে। তিনি চলে গেলে অফিসের দৈনন্দিন কার্যক্রম একেবারে স্থবির হয়ে পড়বে।

স্থানীয় ৪ জনপ্রতিনিধি জানান, এলজিইডি অফিসে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় উন্নয়ন কার্যক্রম কাঙ্ক্ষিত গতিতে এগোচ্ছে না। এতে সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নেও নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

২ জন সেবাপ্রত্যাশী বলেন, ছোটখাটো কাজেও দিনের পর দিন অফিসে ঘুরতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ থাকায় অনেক আবেদন ও ফাইল নিষ্পত্তিতে বিলম্ব হচ্ছে।

অফিসটির ২ জন কর্মচারী জানান, জনবল সংকটের কারণে অফিসের কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। ঠিকাদাররা কাজের বিল নিতে দিনের পর দিন অফিসে ঘুরছেন। গণমাধ্যম কর্মীরাও বিজ্ঞাপন বিলের জন্য বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। এতে পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, কালভার্ট, সড়ক নির্মাণসহ মাঠপর্যায়ের বিভিন্ন কাজ সঠিকভাবে মনিটরিং করা সম্ভব হচ্ছে না।

উপজেলার ৩ জন ঠিকাদার জানান, জনবল সংকটের কারণে বিল নিষ্পত্তিতে দেরি হওয়ায় কাজ সমাপ্ত করতে দেরী হচ্ছে। এতে তাদের দুর্ভোগ বাড়ছে। সরকারের উন্নয়নের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। কাজের গতি একেবারে স্লো। তারা দ্রুত শূন্যপদগুলোতে জনবল নিয়োগের দাবি জানান।

কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মুজাহিদ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। শূন্যপদে জনবল নিয়োগ হলে অফিসের কার্যক্রমে গতিশীল ফিরে পাবে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেন, জনবল সংকটের বিষয়টি তিনি অধিদপ্তরকে। অবহিত করেছেন। তারা এসমস্যা সমাধানের আশ্বাসও দিয়েছেন।


মাগুরার শ্রীপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় কৃষক নিহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

সামাজিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মাগুরার শ্রীপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় এক কৃষকের নিহত হয়েছে। সোমবার (১৮ মে) সকালে উপজেলার মাশালিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওলি মিয়া জানান, মাশালিয়া গ্রামের আব্দুর রশিদ ও আকবর মণ্ডলের মধ্যে সামাজিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

তিনি জানান, ঘটনার দিন সকালে আকবর মণ্ডল গ্রামের মাঠে পাঠ নিড়াতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায়।

পরে স্থানীয়রা ও স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্খলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে বলে শ্রীপুর পুলিশ জানিয়েছে।


রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির দাবিতে পাথরঘাটায় মসজিদ ভিত্তিক শিক্ষকদের সংবাদ সম্মেলন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাথরঘাটা (বরগুনা) প্রতিনিধি

ইসলামিক ফাউন্ডেশন পরিচালিত মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পের শিক্ষকদের রাজস্বখাতে অন্তর্ভুক্তি, সরকারি গ্রেড অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান এবং চাকরির স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) সকাল ১১টায় পাথরঘাটা প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার শিক্ষকরা অংশ নেন। এসময় তারা দীর্ঘদিনের পেশাগত অনিশ্চয়তা, স্বল্প ভাতা এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের পাথরঘাটা উপজেলা সভাপতি মাওলানা আসাদুল্লাহ। তিনি বলেন, “সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উদ্যোগে ১৯৯৩ সালে চালু হওয়া এ প্রকল্পটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি। দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে এ কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা চর্চা এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “শিক্ষকরা অত্যন্ত স্বল্প ভাতায় দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি যাকাত উদ্বুদ্ধকরণ, মাদকবিরোধী প্রচারণা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং বিভিন্ন সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ডেও তারা সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। অথচ প্রকল্পভিত্তিক হওয়ায় তাদের চাকরির কোনো স্থায়িত্ব নেই। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে।”

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষকরা অবিলম্বে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পকে রাজস্বখাতে স্থানান্তর, সরকারি বেতন কাঠামোর আওতায় আনা এবং চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানান।


বাসাইলে ইয়াবাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে গত ২৪ ঘন্টায় থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১০ পিস ইয়াবাসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

রোববার (১৭ মে) রাত পৌনে আটটার দিকে উপজেলার কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পূর্ব পৌলী এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন– কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানার বাবচার চর এলাকার মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে শহিদুল ইসলাম(৩৫), বাসাইলের কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পূর্ব পৌলী এলাকার আবু সাঈদ মিয়ার ছেলে দেলোয়ার হোসেন সাঈদী (৩৪) ও আলেক মিয়ার ছেলে সিয়াম মিয়া (২০)।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বাসাইল থানা পুলিশের একটি আভিজানিক দল কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের পূর্ব পৌলী গ্রামের জনৈক সোলায়মানের বাড়ীর সামনে পাকা রাস্তায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়। এসময় তল্লাশিকালে তাদের হেফাজত থেকে ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে যথাযথ পুলিশ স্কটের মাধ্যমে আজ সোমবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

বাসাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ও নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অপরাধ দমনে পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।


কুষ্টিয়ায় পীর হত্যা: গ্রেপ্তার  আতঙ্কে স্কুলছাত্রের আত্মহত্যা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে কোরআন অবমাননার অভিযোগ এনে পীর পরিচিতি পাওয়া আব্দুর রহমান শামিম (৬৫) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার পর এবার গ্রেপ্তার আতঙ্কে এক স্কুলছাত্র আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত ওই স্কুল শিক্ষার্থী স্থানীয় পিএসএস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেনীর ছাত্র ও ওই এলাকার রবিউল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল উপজেলার ফিলিপনগরে শামিমের আস্তানায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের পর তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

নিহত লামের বড় ভাই আলিফ ইসলাম (২৩) এই মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই আতঙ্কে ছিল পরিবার। পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন লাম ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল এবং বিক্ষুব্ধ জনতার সঙ্গে দরবারে উললাশের অংশ নেয়। পরে গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে ঢাকার আশুলিয়ায় খালার বাসায় পাঠানো হয়।

শনিবার (১৬ মে) দুপুরে আশুলিয়া থানা এলাকার খালার ভাড়া বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে লাম। রোববার (১৭ মে) ময়নাতদন্ত শেষে রাত ১১টার দিকে ফিলিপনগরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

নিহতের পিতা রবিউল ইসলাম বলেন, “আমার ছেলে আলিফ পীর হত্যার ঘটনায় জড়িত না, তবুও ভিডিও ফুটেজের কথা বলে তাকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। লাম ছোট মানুষ, ঘটনার দিন সবার সঙ্গে দেখতে গিয়েছিল। ভাই গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই সে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে। ভয় ও দুশ্চিন্তা থেকেই হয়তো আত্মহত্যা করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আমি তো এক ছেলে হারিয়েছি। আরেক ছেলেকে যদি প্রশাসন নির্দোষ বিবেচনায় ছেড়ে দিত, তাহলে কৃতজ্ঞ থাকতাম। জন্মনিবন্ধন অনুযায়ী আলিফের বয়স ১৮ বছর হলেও তাকে ২৩ বছর দেখানো হয়েছে সে বাজারে সবজি বিক্রিকরতো ।”

এদিকে মামলায় গ্রেপ্তার চার আসামির মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি রাজীব মিস্ত্রিকে দুই দিনের এবং বিপ্লব হোসেন (২৬) ও আলিফ ইসলামকে একদিন করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্ত কর্মকর্তাদের ভাষ্য, হামলার মূল উদ্দেশ্য ছিল ফিলিপনগর এলাকায় শামিমের আস্তানা উচ্ছেদ ও তার কার্যক্রম বন্ধ করা। তবে হামলায় অংশ নেওয়া একটি পক্ষ শুধু ভাঙচুর ও উচ্ছেদে জড়িত থাকলেও, আরেকটি পক্ষ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেয়।

পুলিশের দাবি, ঘটনার অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকেই হামলার পরিকল্পনা করা হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পুরোনো ভিডিওর অংশ ছড়িয়ে জনসাধারণকে উসকে দেওয়া হয়েছিল। এরপর উত্তেজিত জনতা শামিমের আস্তানায় হামলা চালায়। এসময় তাকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি চলে লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ।

তদন্তের স্বার্থে অনেক তথ্য গোপন রাখা হলেও হামলায় নেতৃত্বদানকারী ও জড়িত অন্তত ৩৫ জনের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তার করা গেলে ঘটনার নেপথ্যের কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে ভেড়ামারা সার্কেলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আলিফের ছোট ভাই লামের আত্মহত্যার বিষয়টি শুনেছি। কেউ ভয় থেকে আত্মহত্যা করলে সেখানে পুলিশের কিছু করার থাকে না। তবে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় লামের সংশ্লিষ্টতা ছিল। ভিডিও ফুটেজ দেখে আলিফকেও শনাক্ত করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

উল্লেখ্য, গত ১৩ এপ্রিল নিহত শামিমের বড় ভাই ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানা হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় জেলা শিবিরের সাবেক সভাপতি খাজা আহম্মেদ ও খেলাফত মজলিসের উপজেলা সভাপতি আসাদুজ্জামানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।


কেশবপুরে রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য, আগুনরঙা উৎসবে সেজেছে গ্রামবাংলা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

গ্রীষ্মের দাবদাহ আর তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেও যশোরের কেশবপুর উপজেলা যেন প্রকৃতির এক রঙিন ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়কের ধারে এবং বসতবাড়ির আশপাশজুড়ে রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের। টুকটুকে লাল, কমলা ও হলুদ আভায় ভরা কৃষ্ণচূড়ার ফুলে চারদিক যেন আগুনরঙা সাজে সেজে উঠেছে।

দূর থেকে তাকালেই মনে হয়, সবুজের বুক চিরে আগুন জ্বলে উঠেছে প্রকৃতির বুকে। গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করেও কৃষ্ণচূড়ার এই অপরূপ রূপ যেন মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ চত্বরের বিশাল কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো এখন সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণ। ফুলে ফুলে ভরা গাছগুলোতে পাতার উপস্থিতি যেন খুঁজেই পাওয়া যায় না।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ কৃষ্ণচূড়া গাছ প্রকৃতিকে দিয়েছে নতুন মাত্রা। গ্রামের মেঠোপথ, খোলা মাঠ কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃক্ষগুলো শুধু সৌন্দর্যই ছড়াচ্ছে না, দিচ্ছে প্রশান্তির ছায়াও। তীব্র রোদের মধ্যে কৃষ্ণচূড়ার নিচে দাঁড়ালে যেন এক অন্যরকম শীতলতার অনুভূতি জাগে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে অসংখ্য কবি-সাহিত্যিক তাঁদের কবিতা ও গানে কৃষ্ণচূড়াকে প্রেম, সৌন্দর্য ও আবেগের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। বাংলার প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকা এই ফুল যেন ঋতুবৈচিত্র্যের এক অনন্য ভাষা। গ্রীষ্ম এলেই কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভা জানান দেয় ঋতুর আগমনী বার্তা।

কেশবপুর কৃষি অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও কৃষ্ণচূড়া গাছের নিচে এক ধরনের শীতলতা অনুভূত হয়। ক্লান্ত পথচারীরা এই গাছের ছায়ায় কিছুটা স্বস্তি খুঁজে পান। পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্যও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

জানা গেছে, কৃষ্ণচূড়া তুলনামূলকভাবে মাঝারি উচ্চতার বৃক্ষ হলেও এর শাখা-প্রশাখা অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। গ্রীষ্মকালে পত্রঝরা এই গাছে যখন ফুল ফোটে, তখন পুরো গাছজুড়ে সৃষ্টি হয় লাল রঙের বিশাল এক ছাউনি। প্রতিটি ফুলের চারটি বড় পাপড়ি থাকে এবং এর উজ্জ্বল লাল রঙ সহজেই মানুষের নজর কাড়ে। কৃষ্ণচূড়ার পাতাগুলো উজ্জ্বল সবুজ এবং জটিল গঠনের হওয়ায় গাছটি আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে। কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেকসোনা খাতুন বলেন, কৃষ্ণচূড়া শুধু একটি সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষ নয়, এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য রক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটার প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে প্রকৃতির ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রকৃতির রাণীখ্যাত কৃষ্ণচূড়া এখন কেশবপুরের গ্রামবাংলাকে রাঙিয়ে তুলেছে এক অপার্থিব সৌন্দর্যে। শহরের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে মানুষ খুঁজে নিচ্ছে প্রকৃতির নির্মল প্রশান্তি। রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার এই সৌন্দর্য যেন জানান দিচ্ছে প্রকৃতি এখনো তার আপন রূপে বেঁচে আছে বাংলার গ্রামে-গঞ্জে।


পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিখোঁজ বাংলাদেশি ভারসাম্যহীন যুবককে ফেরত দিল ভারত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সিমান্তের রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চড়ুইকুড়ি (মরার পাড়া) গ্রামের মানুষিক ভারসাম্যহীন যুবক বকুল মন্ডল (৩৫) বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার ১৩ দিন পর ভারত থেকে দেশে ফিরেছেন। মানসিক ভারসাম্যহীন হওয়ায় তিনি ভুলবশত সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের কলকাতায় চলে যান। তিনি ওই এলাকার লুৎফর রহমান মন্ডলের ছেলে।

বিজিবি ও পরিবার সূত্রে জানাযায়, গত ৩ মে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন বকুল। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। ১২ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কলকাতায় এক বাংলাদেশি যুবক অসুস্থ অবস্থায় পড়ে থাকার ছবি ও তথ্য ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্যরা সেই ছবি দেখে বকুলকে শনাক্ত করেন।

পরে শনিবার (১৬ মে) সন্ধ্যা ৭টার দিকে বিএসএফ তাকে আটক করে রাত ১০টা ২০ মিনিট থেকে ১০টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মেইন পিলার ১৫৭/২-এস এর নিকট বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাকে বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে পতাকা বৈঠকে নেতৃত্ব দেন বিজিবির ৪৭ ব্যাটালিয়নের চরচিলমারী কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মোশারফ হোসেন।

অন্যদিকে ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ১৪৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চরভদ্রা ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এসআই নিতিন কুমার। পরে আজ রোববার (১৭ মে) বেলা ১১ টায় বিজিবি তাকে পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেয়।

ছেলের ফিরে আসা প্রসঙ্গে বকুলের বাবা লুৎফর রহমান মন্ডল বলেন, বকুল মানসিক প্রতিবন্ধী। ছেলেটা নিখোঁজ হওয়ার পর আমরা আশা ছেড়ে দিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ওকে আর ফিরে পাব না। ফেসবুকে ওর ছবি দেখে চিনতে পারি। বিজিবি ও স্থানীয় মেম্বারের সহায়তায় আমার কলিজার টুকরোকে ফিরে পেয়েছি। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।

রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদ জানান, বকুল মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় অসাবধানতাবশত সীমান্ত পার হয়ে গিয়েছিল। বিষয়টি জানার পর থেকেই বিজিবির সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা হয়। সঠিক সমন্বয়ের মাধ্যমে তাকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

বিজিবি'র চরচিলমারি কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার মোশারফ হোসেন বলেন, দুই দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সমঝোতার মাধ্যমে তাকে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।


বোয়ালখালীতে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের প্রদর্শনী, পুকুরের উপকরণ বিতরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মৎস্যচাষ প্রযুক্তি সেবা সম্প্রসারণ প্রকল্পের (৩য় পর্যায়) আওতায় প্রদর্শনী পুকুরের উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (১৮ মে) দুপুরে উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা মৎস্য দপ্তরের উদ্যোগে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়।

প্রকল্পের আওতায় ৪টি বড় পুকুর ও ২টি গৃহস্থালি পুকুরের জন্য বিভিন্ন প্রদর্শনী উপকরণ দেওয়া হয়। এছাড়া রাজস্ব বাজেটের আওতায় আরও একটি পুকুরে উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। বিতরণ করা উপকরণের মধ্যে ছিল ৪টি পুকুরের জন্য প্যাডেল হুইল এয়ারেটর এবং ২টি গৃহস্থালি পুকুরের জন্য মাছের খাদ্য, পোনা ও বীজ।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা নাঈম হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান ফারুক।

বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা রুমন তালুকদার, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন কর্মকর্তা অলক চাকমা এবং উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম।

এসময় চেয়ারম্যান হামিদুল হক মন্নান, প্যানেল চেয়ারম্যান মো. হাসানসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।


নজরুল জয়ন্তীর উৎসব আমেজে ত্রিশাল: ২৫ মে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি 

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতিবিজড়িত ময়মনসিংহের ত্রিশালে দীর্ঘ কয়েক বছর পর এবার জাতীয় পর্যায়ে কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উদযাপিত হতে যাচ্ছে। আগামী ২৫ মে (১১ জ্যৈষ্ঠ) কবি নজরুলের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

দীর্ঘ কয়েক বছর পর ত্রিশালে জাতীয় পর্যায়ের এই অনুষ্ঠান আয়োজনের পেছনে রয়েছে স্থানীয় সংসদ সদস্য ডা. মাহবুবুর রহমান লিটনের নিরলস প্রচেষ্টা। জাতীয় সংসদে তাঁর জোরালো দাবির প্রেক্ষিতেই সরকার এবার ত্রিশালে কবির জন্মবার্ষিকী জাতীয় পর্যায়ে উদযাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এদিকে, ২৫ মে কবির মূল জন্মজয়ন্তী হলেও মে মাসের শেষের দিকে ঈদুল আজহার ছুটির কারণে এবার অনুষ্ঠানসূচিতে কিছুটা সমন্বয় আনা হয়েছে। আগামী ২১ মে থেকেই শুরু হতে যাচ্ছে পাঁচ দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানমালা। এরপর ২৫ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই জমকালো আয়োজনের আনুষ্ঠানিক মূল দিবসের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন এবং সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠের ঐতিহ্যবাহী নজরুল মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন ও জাতীয় পর্যায়ের এই উৎসবকে কেন্দ্র করে বর্তমানে ত্রিশালজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ ও মঞ্চ সাজানোর কাজ এখন পুরোদমে চলছে।

সার্বিক প্রস্তুতি প্রসঙ্গে ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভূঁইয়া বলেন, "বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ত্রিশাল উপজেলা শাখা ও এর সকল অঙ্গসংগঠনসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন অনুষ্ঠানটি সফল করতে প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে কাজ করে যাচ্ছে।"

উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়ে ত্রিশাল আসনের সংসদ সদস্য ডা, মাহবুবুর রহমান লিটনও ব্যস্ত সময় পার করছে। সার্বক্ষণিকভাবে মাঠপর্যায়ে তদারকি করছেন ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকী ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহবুবুর রহমানসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।


রাজশাহী থেকে সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী প্রতিনিধি

জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের নবকট ঘোষিত কমিটি নিয়ে দ্বন্দ্বে রাজশাহী থেকে সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। আজ সোমবার সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ করে দেয় ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
শ্রমিকরা জানিয়েছেন গতকাল রোববার কেন্দ্র থেকে রফিকুল ইসলাম পাখিকে সভাপতি এবং মমিনুল ইসলামকে সাধারণ সম্পাদক করে ২১ সদস্যের রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের কমিটি ঘোষণা করা হয়। কিন্তু এই কমিটিকে প্রত্যাখ্যান করে শ্রমিকদের একাংশ। এ নিয়ে আজ সকাল থেকে তারা সকল রুটের বাস চলাচলে বন্ধের ঘোষণা দেয়।

রাজশাহী সড়ক পরিবহন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম হেলাল জানিয়েছেন, এই কমিটির অধীনে আমরা বাস চালাতে চাই না। এজন্য সকাল থেকে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।

তবে রাজশাহী জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের নতুন কমিটির সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, স্থানীয় মন্ত্রী এবং এমপিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কেন্দ্রীয় ফেডারেশন এই কমিটি ঘোষণা করেছে। কমিটিতে কিছু শ্রমিক বাদ পড়েছে। তারাই মূলত বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে শীঘ্রই বিষয়টি সমঝোতা করা হবে।


ঠাকুরগাঁওয়ে চাকরি মেলা উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহেল রানা, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি  

একটাই লক্ষ্য হতে হবে দক্ষ কর্মে হবো যুক্ত এইস্লোগানকে সামনে রেখে বেকার সমস্যা নিরসনে ঠাকুরগাঁওয়ে চাকরি মেলা-২০২৬ উদ্বোধন হয়েছে।

সোমবার ১৮ মে সাড়ে ১২ টায় ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ক্যাম্পাসে এসেট প্রকল্পের আওতায় জেলা প্রশাসকের পক্ষে বেলুন উড়িয়ে এ চাকরি মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন অতিরিক্ত জেলা মেজিস্ট্রেট গোলাম ফেরদৌস।

মেলাতে ১৯ টি স্টলে জেলার বিভিন্ন কোম্পানি ও উদ্যোক্তারা এবং শত শত চাকরি প্রত্যাশী নারী পুরুষ অংশ গ্রহণ করে।

পরে চতুর্থ শিল্প বিপ্লব মোকাবেলায় কারিগরি শিক্ষা ভূমিকা অন্যতম এ বিষয়কে সামনে রেখে ঠাকুরগাঁও পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এর হলরুমে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মো: সহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে চাকরি মেলার গুরত্ব তাৎপর্য তুলে ধরে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।


banner close