বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


প্রধানমন্ত্রীর ‍উদ্যোগে নতুন ঘর পেল অসহায় লকাই বিশ্বাসের পরিবার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফরিদপুর প্রতিনিধি

অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও স্বাবলম্বী করে তোলার উদ্যোগের অংশ হিসেবে ফরিদপুরে একটি অসচ্ছল পরিবারকে নতুন ঘর উপহার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ফরিদপুরের চরভদ্রাসনের গাজিরটেকের চর সর্বান্দিয়া এলাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষে অসহায় লকাই বিশ্বাসের পরিবারের হাতে বাড়ির চাবি তুলে দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

একই অনুষ্ঠানে আরও ১০ অসহায় নারীর হাতে সেলাই মেশিন তুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি কয়েকটি পরিবারকে কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য আর্থিক সহায়তা এবং অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতা দেয়া হয়। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এসব সহায়তা উপকারভোগীদের দৈনন্দিন জীবনের সংকট মোকাবিলা এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পথে ভূমিকা রাখবে।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুল, ফরিদপুর-৩ আসনে সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ, ফরিদপুর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ মোরদাররেস আলী ইছা, সদস্য সচিব এ কে এম কিবরিয়া স্বপন, আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


সরকারি চাকরিতে শূন্য পদ ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২

* প্রতি ১০০ পদের মধ্যে ২৬টির বেশি পদেই নেই জনবল
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পদের মধ্যে ৫ লাখ ২১ হাজার ৯২২টি পদ শূন্য রয়েছে। যা অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। অর্থাৎ, প্রতি ১০০ পদের মধ্যে ২৬টির বেশি পদেই জনবল নেই।

সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, দেশের সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোট অনুমোদিত ১৯ লাখ ৮৬ হাজার ২৭২টি পদের বিপরীতে ১৪ লাখ ৬৪ হাজার ৩৫০ জনবল কর্মরত রয়েছেন। হিসাব অনুযায়ী, সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই সংখ্যা অনুমোদিত পদের প্রায় ২৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকের জন্য তৈরি মন্ত্রণালয়ের এক নথিতে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যপত্রের সঙ্গে নথিটি দেওয়া হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। এসব পদে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও অংশ নেন কমিটির সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী, হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান, শাহজাহান চৌধুরী, আমিরুল ইসলাম খান, ফখর উদ্দিন আহমেদ, রেহেনা আক্তার রানু ও নূরুল ইসলাম বুলবুল।

শূন্যপদ পূরণের পরিকল্পনা সম্পর্কে নথিতে বলা হয়েছে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও এর অধীন দপ্তর ও সংস্থা এবং মাঠপর্যায়ের প্রশাসনে শূন্যপদ পূরণে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। সরকারের প্রথম ১৮০ দিনে ২ হাজার ৮৭৯টি শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ২ হাজার ৬১টি পদ পূরণ করা হয়েছে।

নথিতে আরও বলা হয়েছে, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও তাদের অধীন কার্যালয়গুলোতে অনুমোদিত পদ ৪১ হাজার ৭৫৫টি। এর বিপরীতে কর্মরত জনবল ২৭ হাজার ১৭৭ জন ও শূন্যপদ ১৪ হাজার ৫৭৮টি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব জনবলের চিত্রেও শূন্যপদের তথ্য রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদিত ৬২৯টি পদের বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন ৫০৫ জন। শূন্য রয়েছে ১২৪টি পদ।

সরকারি চাকরিতে নিয়োগ, পদোন্নতি, বদলি, প্রশিক্ষণ এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও অধীন দপ্তর-সংস্থার জনবলকাঠামো হালনাগাদ করা জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অন্যতম দায়িত্ব। নথিতে জনবলকাঠামো ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা হালনাগাদের পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের মাধ্যমে তথ্য সংরক্ষণ ও হালনাগাদের কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সরকারি চাকরির মোট শূন্যপদের কতটি কোন মন্ত্রণালয় বা বিভাগে রয়েছে, এসব পদ পূরণে কতজন নিয়োগ দেওয়া হবে ও পুরো নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করার নির্দিষ্ট সময়সীমা কী—তা নথিতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ নেই।

কমিটির সদস্য রেহানা আক্তার রানু বলেন, ‘যেগুলো শূন্যপদ আছে, সেগুলো দ্রুত পূরণের জন্য কথা বলেছি। কিছু উন্নয়নমূলক কাজ ও বিভিন্ন সার্কিট হাউসের প্রকল্প ২০২৩ সালে শুরু হয়েছে। কিন্তু এখনো কোনো প্রকল্পের অগ্রগতি ১৫ শতাংশ, কোনোটি ৭ শতাংশ। এগুলো নিয়ে আমরা কথা বলেছি। এগুলো তো প্রধানমন্ত্রীর গতির সঙ্গে মিলছে না। সবাই যার যার মতো করে বলেছে।’

সূত্র জানায়, বৈঠকে সম্প্রতি নিয়োগ পাওয়া বিশেষ বিসিএস নিয়ে বিতর্কের প্রসঙ্গ তোলেন জামায়াতের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বলেন, মেধাতালিকায় ১১৯তম হয়েও শিবিরসংশ্লিষ্টতার অভিযোগে একজন প্রার্থীকে প্রথমে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কেন ও কোন মানদণ্ডে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চান তিনি। এ সময় প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই, গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন এবং দেওয়ানি ও ফৌজদারি-সংশ্লিষ্ট বিষয় বিবেচনার প্রক্রিয়া কমিটির বৈঠকে উপস্থাপনের জন্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়।

তবে আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার কোনো সুপারিশ কমিটি করেনি বলে সূত্র জানায়।

কমিটির সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদ বলেন, বিসিএসে নিয়োগে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে কী কী যাচাই-বাছাই করা হয়, তা বৈঠকে জানতে চান জামায়াতের এমপি। তবে, জামায়াতের এমপির অভিযোগের ভিত্তি নেই বলে দাবি করেন ফখর উদ্দিন আহমেদ।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর ৪৯তম বিশেষ বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে ৬১১ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সুপারিশপ্রাপ্ত ৬৬৮ জনের মধ্যে ৫৭ জনের নাম ওই প্রজ্ঞাপনে ছিল না। তাদের মধ্যে তিনজন প্রয়োজনীয় সনদ জমা দেননি ও আটজন স্বাস্থ্য পরীক্ষায় উপস্থিত হননি বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ নিয়ে বিতর্কের পর ৫ অক্টোবর ৪৬ জনের মধ্যে ৪০ জনকে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এ ছাড়া জনপ্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের কাজে অসহযোগিতাকারীদের শনাক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয় বলে সূত্রে জানা গেছে। সরকারি কাজে ক্ষতিকর ভূমিকা না থাকলে শুধু দলীয় পরিচয়ের কারণে কাউকে শাস্তি দেওয়া ঠিক হবে না বলেও আলোচনায় মত উঠে আসে। ওএসডি কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা ও অবস্থান বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও বৈঠকে আলোচনা হয়।

সংসদ সচিবালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে কমিটির সভাপতি বলেন, কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে আইনগত, প্রশাসনিক বা বাস্তব কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকলে তা স্পষ্টভাবে কমিটির সামনে তুলে ধরতে হবে। কোনো বিষয় গোপন না করে প্রয়োজনীয় তথ্য, প্রাসঙ্গিক নথি ও বাস্তব পরিস্থিতি উপস্থাপন করতে হবে। অনিয়মের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

কমিটির সভাপতি সাঈদ আহমেদ বলেন, সমস্যা সমাধানে প্রচলিত ধ্যানধারণা থেকে বেরিয়ে জবাবদিহি, স্বচ্ছতা ও সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে কাজ করতে হবে। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীরা কোনো দল, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নন। কমিটিকে প্রতিপক্ষ না ভেবে সবাইকে দেশ ও জনগণের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। বিভিন্ন জায়গা থেকে এলেও কমিটিতে সবার অভিন্ন পরিচয়—তারা জনগণের প্রতিনিধি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন যেসব প্রকল্পের কার্যক্রমে ধীরগতি রয়েছে, সেগুলোর কারণ অনুসন্ধানের সুপারিশ করে কমিটি। একই সঙ্গে ‘সবার ওপরে বাংলাদেশ’ নীতি বাস্তবায়নে সরকারের কার্যক্রমে অসহযোগিতা বা অবহেলাকারীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি।


সুন্দলপুরের গ্যাসে ঘুরে দাঁড়াতে পাড়ে জ্বালানি খাত

* সুন্দলপুর থেকে দিনে মিলতে পারে ৭০ লাখ ঘনফুট * আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ * অনুসন্ধান ও উত্তোলনে গতি বাড়ানোর তাগিদ বিশেষজ্ঞদের
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়ে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার প্রচেষ্টায় নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে নোয়াখালীর সেনবাগের সুন্দলপুর-৪ মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ। প্রাথমিক হিসাবে, কূপটি থেকে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা সম্ভব হতে পারে। কূপটির গ্যাস প্রবাহ, মজুত ও দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। পরীক্ষায় সম্ভাবনা নিশ্চিত হলে দেশের গ্যাস সরবরাহে যুক্ত হবে নতুন জোগান, যা আমদানিনির্ভরতা কমানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টায় সহায়ক হতে পারে।

দেশের গ্যাস খাতে দীর্ঘদিনের চ্যালেঞ্জের মধ্যে সুন্দলপুরের এই সম্ভাবনা গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সার কারখানা ও অন্যান্য খাতে গ্যাসের চাহিদা বাড়ছে; অন্যদিকে পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন কমে আসায় সরবরাহে চাপ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে নতুন কূপ অনুসন্ধান, বিদ্যমান ক্ষেত্রের উৎপাদনক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন মজুত শনাক্ত করার উদ্যোগ দেশীয় জ্বালানি খাতকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুন্দলপুর-৪-এর মতো উদ্যোগের সুফল বাড়াতে হলে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকটি কূপ খননের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে অনুসন্ধান জোরদার, সম্ভাবনাময় কূপ দ্রুত উৎপাদনে আনা, পুরোনো কূপের সংস্কার এবং গ্যাস পরিবহনের অবকাঠামো উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এতে দেশীয় সম্পদের ব্যবহার বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার ঝুঁকিও কমানো সম্ভব।

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের বড় চারিগাঁও গ্রামে সুন্দলপুর-৪ কূপের খননকাজ শুরু হয় গত ২৮ জুলাই। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) তথ্য অনুযায়ী, ডিরেকশনাল ওয়েল পদ্ধতিতে এমডব্লিউডি প্রযুক্তি ব্যবহার করে কূপটি ১ হাজার ৫৭৮ মিটার গভীর পর্যন্ত খনন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২০ থেকে ১ হাজার ৪৬০ মিটার গভীরতার স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

কূপটিতে বর্তমানে ড্রিল স্টেম টেস্ট (ডিএসটি) চলছে। প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, পরীক্ষা শেষ হলে গ্যাসের মজুত ও উত্তোলনযোগ্য পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

প্রাথমিক হিসাবে দৈনিক ৭০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হলে জাতীয় গ্রিডে বাড়তি জোগান যুক্ত হবে। তবে দেশের দৈনিক চাহিদা ও বিদ্যমান ঘাটতির তুলনায় এ পরিমাণ সীমিত। ফলে কূপটি উৎপাদনে গেলেও এককভাবে শিল্প, বিদ্যুৎ, সার ও আবাসিক খাতের গ্যাস সংকট দূর হবে না। এর গুরুত্ব হলো, দেশীয় উৎস থেকে সরবরাহ বাড়ানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টায় এটি একটি নতুন সংযোজন হতে পারে।

এ ক্ষেত্রে ভূগর্ভে গ্যাসের উপস্থিতি এবং বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের পরিমাণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। কূপের চাপ, গ্যাস প্রবাহের হার, ভূতাত্ত্বিক কাঠামো এবং দীর্ঘমেয়াদি উৎপাদনক্ষমতা যাচাইয়ের পরই এর প্রকৃত সম্ভাবনা নির্ধারণ করা যাবে। পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে পরবর্তী উন্নয়ন ও উৎপাদন পরিকল্পনা নির্ধারণ সহজ হবে।

অনুসন্ধান বাড়লেই খুলবে নতুন সম্ভাবনা: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম দীর্ঘদিন ধরে দেশের স্থলভাগ ও সমুদ্রাঞ্চলে গ্যাস অনুসন্ধান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।

দেশের গ্যাস পরিস্থিতি বিশ্লেষণে তার বক্তব্যের মূল দিক হলো, বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন মজুত আবিষ্কারের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। পুরোনো ক্ষেত্রের উৎপাদন কমে আসার পাশাপাশি চাহিদা বাড়ায় নতুন উৎস অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এর অর্থ, অনুসন্ধান কার্যক্রমকে সুন্দলপুর-৪ বা অন্য কোনো একটি সম্ভাবনাময় কূপের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। ভূকম্পন জরিপ, অনুসন্ধান কূপ খনন, ভূতাত্ত্বিক তথ্য বিশ্লেষণ এবং সফল কূপকে দ্রুত উৎপাদনে নেওয়ার কাজ সমান্তরালে এগিয়ে নিতে হবে। এতে নতুন গ্যাসের সন্ধান পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে এবং ভবিষ্যৎ সরবরাহ পরিকল্পনা আরও নির্ভরযোগ্য হবে।

স্থলভাগের কম অনুসন্ধান করা অঞ্চলগুলোর পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরেও অনুসন্ধানের সুযোগ রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি, নির্ভরযোগ্য জরিপ এবং প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের সমন্বয় ঘটাতে পারলে এসব সম্ভাবনার প্রকৃত চিত্র পাওয়া সহজ হবে। নতুন আবিষ্কারের পাশাপাশি আগে শনাক্ত করা সম্ভাবনাময় কাঠামোগুলো পুনর্মূল্যায়ন করাও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

দেশের গ্যাস ঘাটতি পূরণে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় এবং সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে আমদানিনির্ভর ব্যবস্থায় ঝুঁকি রয়েছে। এ কারণে দেশীয় গ্যাসের অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানো জ্বালানি নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সাবেক অধ্যাপক ও ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিমের বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একক কোনো উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। তাৎক্ষণিক সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেমের মতে, দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকট বেসরকারি বিনিয়োগ, শিল্প উৎপাদন ও রপ্তানি সক্ষমতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। শুধু এলএনজি আমদানি বাড়িয়ে সরবরাহ ঘাটতির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; দেশীয় অনুসন্ধান ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি জ্বালানির উৎস বহুমুখী করা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের এসব মূল্যায়ন থেকে স্পষ্ট, আমদানি ও দেশীয় উৎপাদনকে পরস্পরের বিকল্প হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। স্বল্পমেয়াদে আমদানি সরবরাহের ঘাটতি সামলাতে সহায়তা করে। অন্যদিকে দেশীয় গ্যাসের নতুন মজুত আবিষ্কার, বিদ্যমান ক্ষেত্রের উৎপাদন বাড়ানো এবং সরবরাহব্যবস্থা উন্নত করা দীর্ঘমেয়াদে আমদানির ওপর চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি করে।

দেশীয় উৎপাদন বাড়লে শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদনের পরিকল্পনাও সহজ হতে পারে। তবে এ সুফল নির্ভর করবে নতুন গ্যাসের প্রকৃত প্রাপ্যতা, উৎপাদন ব্যয়, পরিবহন সক্ষমতা এবং খাতভিত্তিক চাহিদা ব্যবস্থাপনার ওপর।

বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে তিতাস, বিবিয়ানা, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, কৈলাসটিলা, সিলেট ও ভোলার গ্যাসক্ষেত্র। এসব ক্ষেত্রের কয়েকটি দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। তবে পুরোনো ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদন কমে আসার ঝুঁকি মোকাবিলায় নতুন কূপ খনন, বিদ্যমান কূপের সংস্কার এবং অবশিষ্ট মজুতের কার্যকর ব্যবহার জরুরি।

নোয়াখালীর সুন্দলপুর-৪ কূপটি সুন্দলপুর গ্যাসক্ষেত্রের পরিচিত কাঠামোর অংশ। সে কারণে এটিকে সম্পূর্ণ নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার হিসেবে বিবেচনা না করে বিদ্যমান এলাকার গ্যাস সম্ভাবনা যাচাই ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখা যুক্তিযুক্ত। পরীক্ষায় প্রত্যাশিত প্রবাহ পাওয়া গেলে এ অঞ্চলের গ্যাস উৎপাদনে নতুন অবদান রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

এদিকে ভোলায় গ্যাসের সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রেও উৎপাদনের পাশাপাশি পরিবহন অবকাঠামো গুরুত্বপূর্ণ। কোনো গ্যাসক্ষেত্রে উত্তোলনযোগ্য মজুত থাকলেও প্রয়োজনীয় পাইপলাইন ও সরবরাহব্যবস্থা না থাকলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলে সেই গ্যাস পৌঁছানো কঠিন। তাই অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং জাতীয় গ্রিডে সংযোগকে একই পরিকল্পনার আওতায় আনা প্রয়োজন।

এ ক্ষেত্রে শুধু গ্যাসের মজুত শনাক্ত করাই যথেষ্ট নয়; কোথায় কত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, কী পরিমাণ উত্তোলন করা সম্ভব এবং কোন অবকাঠামোর মাধ্যমে তা ভোক্তাদের কাছে পৌঁছানো যাবে—এসব বিষয়ও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

১৫০ কূপের পরিকল্পনা কতটা গুরুত্বপূর্ণ: দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে সরকার ১৫০টি কূপ খনন ও ওয়ার্কওভার বা সংস্কারের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ২০২৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর সংসদে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, ওই কর্মসূচির আওতায় ৩০টি কূপের খনন ও সংস্কার সম্পন্ন হয়েছে। এর মাধ্যমে দৈনিক প্রায় ১০ কোটি ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। আরও সাতটি কূপের কাজ শেষ হলে অতিরিক্ত দৈনিক ৮ কোটি ৫০ লাখ ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনার কথাও তিনি জানান। এই কর্মসূচির গুরুত্ব হলো, নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের পাশাপাশি বিদ্যমান ক্ষেত্রগুলোর উৎপাদনক্ষমতা বাড়িয়েও তুলনামূলক দ্রুত সরবরাহে অবদান রাখা সম্ভব। ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে উৎপাদন কমে যাওয়া কোনো কোনো কূপের কর্মক্ষমতা পুনরুদ্ধার করা গেলে নতুন করে অনুসন্ধান ও উন্নয়নের অপেক্ষা না করেই বাড়তি গ্যাস পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিটি কূপের ফলাফল তার ভূতাত্ত্বিক অবস্থা ও কারিগরি সক্ষমতার ওপর নির্ভরশীল।

১৫০ কূপের কর্মসূচি নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন, খনন ও সংস্কারের মান নিশ্চিত করা এবং উৎপাদনে আসা গ্যাস দ্রুত জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গেলে দেশীয় সরবরাহ বাড়ানোর প্রচেষ্টা আরও গতি পেতে পারে। এ জন্য প্রকল্প বাস্তবায়নের অগ্রগতি, ব্যয়, উৎপাদন এবং সরবরাহের ফল নিয়মিত মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।


নীলফামারীতে বিচারক সংকটে থমকে আছে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিচার

* জামিনের আবেদনেও বাড়ছে ভোগান্তি * চার মাস ধরে নেই বিচারক, আলামত নষ্টের শঙ্কা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ প্রায় চার মাস ধরে বিচারক নেই। এতে আদালতটির বিচার কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক এবিএম গোলাম রসুলকে ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনায় অনীহার অভিযোগ উঠেছে। এতে নীলফামারী সদর, জলঢাকা ও সৈয়দপুর উপজেলার বিচারপ্রার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।

বিচার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ধর্ষণসহ নারী ও শিশু নির্যাতনের বিভিন্ন মামলার বিচার ও সাক্ষ্য গ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আদালত সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক জিয়াউদ্দিন মাহমুদ গত ২৩ জুন জেলা ও দায়রা জজ পদে পদোন্নতি পেয়ে বদলি হয়েছেন। এরপর নতুন বিচারক পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত নিয়ম অনুযায়ী ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক এবিএম গোলাম রসুলের ট্রাইব্যুনাল-১-এর ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্ব পালনের কথা। তবে বিচারপ্রার্থীদের অভিযোগ, ভারপ্রাপ্ত বিচারকের কাছে জামিনের আবেদনসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিকার চাইতে গিয়ে তারা ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক ক্ষেত্রে তাদের আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে।

কুড়িগ্রাম জেলা থেকে আসা বিচারপ্রার্থী মো. আখতারুল আলম বলেন, ‘আমার জামাই ও ভাতিজা দীর্ঘ পাঁচ মাস ধরে কারাগারে বন্দি জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের জামিনের আবেদনের জন্য নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এ গেলে পেশকাররা ফাইল নেন না। তারা বলেন, ট্রাইব্যুনাল-২ এর স্যার এসব জামিনের আবেদন দেখবেন না। জামিন হবে কি হবে না, সেটা পরের বিষয়। অন্তত আবেদনটি দেখার মতো কেউ নেই বলে তিনি জানান।’

নীলফামারী সদর উপজেলার সোনারায় সাতারুপাড়ার মহির উদ্দিন বলেন, ‘ওই আদালতে বিচারক না থাকায় আমার ছেলের জামিন নিয়ে অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। দায়িত্বরত ভারপ্রাপ্ত বিচারক আমাদের জামিনের ফাইল দেখতে চান না। অনেকবার চেষ্টা করার পর একদিন সবকিছু দেখে পরে তিনি জামিন দিয়ে দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরও জানা যায়, ২ থেকে ১৮ই জানুয়ারী ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক হিসেবে মো. আসাদুজ্জামান খান পদায়ন হওয়ার আগ পর্যন্ত ১৮ দিন এবং ২০২৫ সালের ২১ রমজানে ছুটিতে বাড়ি যাওয়ায় ১৩ দিন, এরপর আবার হজে যাওয়ায় টানা ৪৩ দিন আদালতটিতে কোনো বিচারক ছিলেন না বলে জানা গেছে।

জানা যায়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২৩ জুন পর্যন্ত ট্রাইব্যুনাল-১ এ তিনজন বিচারক বদলি হয়েছে। ওই সময়ও এবিএম গোলাম রসুল ভারপ্রাপ্ত বিচারকের দায়িত্বে থাকলেও ট্রাইব্যুনাল-১ এর কোনো বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে অনেক বিচারপ্রার্থীকে ইদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় বিনা বিচারে কারাগারে কাটাতে হয়েছে বলে ভুক্তভোগীদের পরিবারের অভিযোগ।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আসাদুজ্জামান খান রিনোও ভারপ্রাপ্ত বিচারকের বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অনীহার অভিযোগ করেছেন।

তিনি বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব প্রাপ্তির পর বিচারকাজ পরিচালনার জন্য আমি প্রস্তুত থাকলেও এবিএম গোলাম রসুল স্যার কোনো ফাইলিং, জামিনের আবেদন, আপসের সাক্ষী বা অন্য কোনো সাক্ষী গ্রহণ করেন না। এক কথায়, তিনি বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেন না।’

পিপি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল-১-এ বিচারপ্রার্থীরা দূরদূরান্ত থেকে এসে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছে অভিযোগও দেওয়া হয়েছে। পরে আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য আলফারুক আব্দুল লতিফ, সাধারণ সম্পাদক আল মাসুদ চৌধুরীসহ সমিতির অনেকে ভারপ্রাপ্ত বিচারককে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার অনুরোধ জানান। তবে ট্রাইব্যুনাল-২-এর বিচারক এবিএম গোলাম রসুল স্যার বিচার পরিচালনায় অপারগতা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারক এবিএম গোলাম রসুল বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে পারব না। গণমাধ্যমে কথা বলতে হলে আমার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে অনুমতি নিতে হবে।’


টঙ্গীতে ওষুধ কারখানায় আগুন, ২১ ইউনিটের চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুজন সারোয়ার, টঙ্গী(গাজীপুর)

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ইউনিট-২-এর ওষুধ উৎপাদন কারখানায় লাগা ভয়াবহ আগুন ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিট ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটসহ মোট ২১টি ইউনিটের ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ওই অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে গাজীপুর সিটি করপোরেশন, বিজিবি ও পুলিশও সহযোগিতা করে। পরে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরিন জুনাইদ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টা ১৫ মিনিটের দিকে টঙ্গীর চেরাগ আলী স্কুইব রোডসংলগ্ন কারখানাটির একটি চারতলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। কারখানায় প্রচুর দাহ্য পদার্থ ও রাসায়নিক মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের ভবনেও ছড়িয়ে যায়।

তিনি আরো জানান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পরপরই টঙ্গী ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে। পরে টঙ্গী, উত্তরা, গাজীপুর ও আশপাশের বিভিন্ন স্টেশন থেকে পর্যায়ক্রমে ২০টি ইউনিট যুক্ত হয়। পাশাপাশি সেনাবাহিনীর একটি ইউনিট অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে অংশ নেয়। আগুন নেভানোর কাজে দ্রুত পানি সরবরাহে গাজীপুর সিটি করপোরেশন সহযোগিতা করে।

আরও জানান, আগুনের খবর পাওয়ার পর সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এরপর ফায়ার সার্ভিসের পাশাপাশি পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। আগুন আর নতুন কোনো ভবনে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নেই বলেও তিনি জানান।

এদিকে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমের খোঁজখবর নেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া দুপুর একটার দিকে

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শওকত হোসেন জানান, আগুন নেভানোর কাজে সিটি করপোরেশনের ইউনিট ও কর্মীরা অংশ নেন। অগ্নিনির্বাপণ কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহসহ সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিটি করপোরেশন কাজ করেছে।

এদিকে, আগুন নেভানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তবে তার পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।

অগ্নিকাণ্ডে কারখানার কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কী কারণে আগুনের সূত্রপাত, তা নির্ধারণে পরবর্তী সময়ে তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার পর চেরাগ আলী এলাকায় যান চলাচলে সাময়িক বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।


এনজিও কার্যক্রমে সমন্বয় ও টেকসই উন্নয়নে কেশবপুরে মতবিনিময় সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

কেশবপুর উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জনমুখী করতে এনজিও সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে এক মতবিনিময় সভা গত সোমবার (১২ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় উপজেলার বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও)-এর কর্মকর্তা, প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।

সভায় জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের পক্ষে সংস্থার শাখা ব্যবস্থাপক মো. শফিকুল ইসলাম সংস্থার কার্যক্রম তুলে ধরেন। তিনি বলেন সংস্থা টি ১ জানুয়ারি ১৯৭৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।প্রতিষ্ঠানটি সমাজসেবা অধিদপ্তর, জয়েন্ট স্টক কোম্পানী, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো ও মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরী অথরিটির অনুমোদনক্রমে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ১৮টি সুনির্দিষ্ট বিধিমালা মোতাবেক সংস্থাটি পরিচালিত হয়। সংস্থাটি দেশের তৃণমূল মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছে এবং আমাদের প্রধান লক্ষ্য সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন দুঃস্থ শিশু শিক্ষা উন্নয়ন সংস্থার পরিচালক মো. হারুনার রশীদ বুলবুল।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সমাধান এনজিও’র সিনিয়র ম্যানেজার মুনছুর আলী, রিইব এনজিও’র সমন্বয়ক উজ্জ্বল, বাঁচতে শিখাও আসাদুজ্জামান, রিইব এনজিও সমন্বয়কারী লাবণী, মানবসেবা ও সামাজিক সংস্থার সহ-পরিচালক সাদেক হোসেন সুবোধ মিত্র মেমোরিয়াল অটিজম ও প্রতিবন্ধী বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলাম, এস আর যুব ও সমাজকল্যাণ সংস্থার পরিচালক গোলাম কিবরিয়া,পি এম এ গফ্ফার, পরিচালক, যশোর জেলা প্রতিবন্ধী ও যুব উন্নয়ন সংস্থা মো. মোসলেম উদ্দীন, পরিচালক, মানব উন্নয়ন সংস্থা, গড়ভাঙ্গা, কেশবপুর, যশোর। সুফিয়া পারভীন, পরিচালক, কপোতাক্ষ মহিলা ও যুব উন্নয়ন সংস্থা, কেশবপুর, যশোর। সরকার রজা রুনা, (এরিয়া কোঅর্ডিনেটর), স্পিক আপ বাংলাদেশ (জিইপি), কেশবপুর অমরেশ কুমার মন্ডল (সহকারী শাখা ব্যবস্থাপক), ব্যুরো বাংলাদেশ অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারীরা উন্নয়ন কার্যক্রমে পারস্পরিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


প্রতিমা শিল্পী সংকটের মধ্যেই ঝালকাঠিতে প্রস্তুত ১৬০ পূজামণ্ডপ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ২৩:২৩
ঝালকাঠি প্রতিনিধি

প্রতি বছরই অনেকটা জমজমাট করে দক্ষিণের জেলা ঝালকাঠিতে পালন করা হয় শারদীয় দুর্গাপূজা। নানা আয়োজনে হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা তাদের সবচেয়ে বড় উৎসবটি উদযাপন করেন। চলতি বছরও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।

পূজাকে সামনে রেখে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন প্রতিমা তৈরির কারিগররা। এবার জেলায় ১৬০ মণ্ডপে হবে দুর্গাপূজা। তবে স্থানীয় পর্যায়ে প্রতিমা তৈরির কারিগর কম থাকায় কাজের গতি অনেকটা ধীর। বাইরের জেলা থেকেও কারিগর এসে কাজ করছেন বেশকটি মণ্ডপে।

কারিগর সংকটের কথা জানিয়ে স্থানীয় প্রতিমা শিল্পী পরাণ পাল বলেন, ‘একসময় শুধু পালবংশের লোকেরা ঠাকুর তৈরি করত। বর্তমানে তাদের বংশধররা এ কাজে আসছে না। তারা যাচ্ছে অন্য পেশায়। এটি বছরের নির্ধারিত সময়ের কাজ। অন্য পেশায় প্রতি মাসেই আয় করা যায়। তা ছাড়া বাজারমূল্য অনুযায়ী মজুরি কম পাওয়ায় কারিগরদের এ কাজে এখন আর পোষাচ্ছে না।’

এ নিয়ে কথা হয় প্রতিমা তৈরির আরেক কারিগর উত্তম পালের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘৪০ বছর ধরে ঠাকুর তৈরির কাজ করছি। এখন আর পুষছে না। রং ও সরঞ্জামের দাম রেড়েছে কয়েকগুন। কিন্তু মজুরি বাড়েনি। বাপ-দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য এই পেশার সঙ্গে জড়িয়ে আছি। আমাদের সন্তানেরা অন্য পেশায় চলে গেছে।

মণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত বেশির ভাগ জায়গায় প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় ৮০ ভাগ শেষ হয়েছে। কারিগর সংকট থাকায় শহরের মন্দিরগুলোতে বেশ আগেভাগেই কাজ শুরু করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া থেকে ঝালকাঠি মদনমোহন আখড়াবাড়ী মণ্ডপে প্রতিমা তৈরি করতে আসা ভাস্কর শ্রীবাস গাইন বলেন, ‘এখন হাতে যা সময় আছে তাতে এ বছর নির্ধারিত সময়ের আগেই রং, পোশাক এবং অলংকার পরানোর কাজ শেষ করে পূজা কমিটির কাছে প্রতিমা বুঝিয়ে দিতে পারব। আমাদেরও মজুরি বাড়েনি, রং আনিয়েছি ভারত থেকে দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। বাড়েনি পারিশ্রমিক।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের ঝালকাঠি জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অলোক সাহা বলেন, ‘দূর থেকে আসা কারিগরদের নিরাপত্তার জন্য নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের সমন্বয়ে পাহারার ব্যবস্থা করতে প্রতিটি মণ্ডপ কমিটির প্রধানদের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।’

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশের মাধ্যমে এবারের শারদীয় উৎসবকে বর্ণিলভাবে পালন করার আশাবাদী তিনি।


হাসপাতালে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে নীতিমালা হচ্ছে: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

রাজধানীর শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সংবাদকর্মীদের ব্রিফিংয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুতই একটি সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, দালালদের দৌরাত্ম্য কেবল কোনো নির্দিষ্ট হাসপাতালের সমস্যা নয়; এটি সারা দেশের একটি জাতীয় ব্যাধি। অসচ্ছল ও দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের বিভ্রান্ত করে অনৈতিকভাবে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার মতো কর্মকাণ্ড স্পষ্টতই অপরাধ। এসব অপকর্ম দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহ্‌রাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সংবাদকর্মীদের এ কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালের আশপাশে যত্রতত্র প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার স্থাপন কঠিন করা এবং সরকারি চিকিৎসকদের সেসব প্রতিষ্ঠানে কাজের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল পরিষ্কার রাখা সম্ভব—যদি সঠিক নজরদারি থাকে। স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সার্বক্ষণিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পরিদর্শনের একপর্যায়ে কিছু স্থানে জমে থাকা ময়লা দেখে তা দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন তিনি। প্রতিষেধক ও সতর্কতামূলক পদক্ষেপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অক্টোবর ও নভেম্বর মাস ডেঙ্গুর জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীরা যেন এডিস মশার মাধ্যমে নতুন করে আক্রান্ত না হন, সে জন্য সর্বোচ্চ সজাগ থাকতে হবে।

প্রতিমন্ত্রী আরও যোগ করেন, আমাদের মূল লক্ষ্য হলো পর্যাপ্ত জনবল নিশ্চিত করে রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা দেওয়া এবং সেবাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা। প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার ও সাধারণ মানুষের সচেতনতার মাধ্যমে স্বাস্থ্য খাতের সব অনিয়ম দূর করে শৃঙ্খলায় ফেরানো হবে।

এদিকে হাসপাতালের প্রধান ফটকের পাশে অবস্থিত মর্গ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর বিষয়টি তুলে ধরলে প্রতিমন্ত্রী জানান, স্থান সংকুলান হলে জনস্বার্থে মর্গটি সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তরের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দেশের ২১টি মর্গের পরিবেশ উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে ইতোমধ্যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) গ্রহণ করা হয়েছে, যার কাজ চলতি বছরেই শুরু হবে।


খুলনায় ধানের শীষে সোনালী দুর্গা দেবী বরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

ধানের সোনালী শীষে সজ্জিত দুর্গার প্রতিমা শিল্প, সংস্কৃতি ও কৃষিভিত্তিক বাংলার ঐতিহ্যকে এক সুতোয় গেঁথে খুলনায় সৃষ্টি করেছে শারদীয় উৎসবের অন্যরকম আবহ। খুলনা মহানগরীর ‘বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দির’-এ প্রচলিত সাজসজ্জার বাইরে গিয়ে চিনিগুঁড়া ধানের শীষকে প্রতিমার মূল অলংকরণে ব্যবহার করায় দুর্গোৎসবে যোগ হয়েছে এক অনন্য ও ব্যতিক্রমী মাত্রা।

সোনালী ধানের নান্দনিক বিন্যাসে প্রতিমার রূপে ফুটে উঠেছে বাংলার কৃষকের শ্রম, ফসলের সমৃদ্ধি ও গ্রামীণ জীবনের চিরচেনা আবহ, যা দেখার জন্য ইতোমধ্যেই নগরজুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। খুলনা শহরের সার্বজনীন পূজা উদযাপনের ইতিহাসে এমন উদ্যোগ এটাই প্রথম।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহানগরীর বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মন্দিরটি ১৯৭২ সালে স্থাপিত হয়। এরপর প্রতি বছরই এখানে বিভিন্ন প্রজা অর্চনা হয়ে আসছে। তবে ব্যতিক্রম ছিল ১৯৯৮ ও '৯৯ সালে। ওই সময় বৈদ্যুতিক পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতিমার মধ্যে সিংহের গর্জন স্থাপন করা হয়। যা ব্যাপক সাড়া পড়ে।

এবারের পূজায় বাগমারা তেঁতুলতলা মণ্ডপ হয়ে উঠেছে দর্শনার্থীদের প্রধান আকর্ষণ কেন্দ্র। ৩০ কেজি চিনিগুঁড়া চালের ধান ব্যবহার করা হয়েছে প্রতিমা তৈরিতে। ৪০ দিন ধরে চারজন শিল্পী নিপুন হাতে প্রতিমা তৈরির কাজ সম্পন্ন করেছেন। যাতে ব্যয় হয়েছে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে তৈরি এই দৃষ্টিনন্দন প্রতিমা দর্শনার্থী ও ভক্তদের কাছে এক ভিন্নধর্মী আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক উপকরণে গড়া এই অনন্য শিল্পকর্ম দেখতে প্রতিদিন উপচেপড়া ভিড় সামলাতে হচ্ছে আয়োজকদের। বিশেষ করে তরুণ ও যুবসমাজের মধ্যে এই আয়োজন ঘিরে দারুণ উচ্ছ্বাস ও ব্যাপক কৌতূহল দেখা গেছে। এই নান্দনিক সৃষ্টি দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন দর্শনার্থীরা।

পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা জানান, খুলনা শহরে প্রায় ৭০টি পূজামণ্ডপ রয়েছে, যার মধ্যে কেবল বাগমারা তেঁতুলতলা সার্বজনীন পূজা মণ্ডপেই সম্পূর্ণ আলাদা ও ব্যতিক্রমীভাবে এই ধানের প্রতিমা নির্মাণ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পূজা পরিচালনা কমিটির একজন সদস্য বলেন, ‘আমাদের মণ্ডপে এবার চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। খুলনা শহরের প্রায় ৭০টি মণ্ডপের মধ্যে আমাদেরটাই একমাত্র ব্যতিক্রমী আয়োজন। আমাদের তরুণ প্রজন্ম, মন্দির কমিটি এবং পূজা পরিচালনার সাথে যুক্ত সবার অক্লান্ত পরিশ্রম ও সহযোগিতায় এই রূপ সম্ভব হয়েছে। এই বিশেষ আয়োজনের কারণে এবার আমাদের মণ্ডপ আরও অনেক বেশি জমজমাট ও মুখরিত হয়ে উঠেছে। আমরা সবাইকে সপরিবারে আমন্ত্রিত জানাচ্ছি।

মন্দির কমিটি ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রতিবারই চিরাচরিত প্রতিমা তৈরি করা হলেও এবার দর্শনার্থী ও এলাকাবাসীর চাহিদা মেনে সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম কিছু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য সুব্রত সরকার উচ্ছ্বাসের সাথে বলেন, ‘সবাই বলত, ‘আপনারা এবার একটু ব্যতিক্রম কিছু করেন।’ সবার মন জয় করার জন্যই আমরা এবার ধানের প্রতিমা তৈরি করেছি। আমাদের সময় লেগেছে প্রায় এক মাস দশ দিন। খুলনার সব প্রতিমার মধ্যে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ে এই প্রতিমাটি গড়া হয়েছে। দর্শনার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি হবে ধরে নিয়েই আমরা সবকিছু ব্যবস্থাপনার চেষ্টা করছি।

মন্দির পরিচালনা কমিটির প্রবীণ সদস্য পিন্টু কুমার বিশ্বাস এই মন্দিরের ঐতিহ্য ও দর্শকদের সাড়া নিয়ে বলেন, ‘আমাদের এই তেঁতুলতলার প্রাচীন মন্দিরে ১৯৯৮-’৯৯ সালে সিংহের গর্জনের প্রতিমা করেছিলাম, আর এবার করলাম ধানের প্রতিমা। এটা দেখে দর্শনার্থী থেকে শুরু করে ছোট-বড় সবাই প্রচণ্ড আনন্দিত ও উৎফুল্ল। দর্শকরা আমাদের যে অভূতপূর্ব সাড়া ও উৎসাহ দিচ্ছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।’

বাংলাদেশের অর্থনীতি ও গ্রামীণ জনজীবনে ধানের স্থান শীর্ষে। মাঠে পাকা ধানের শীষ দুলতে শুরু করলে কৃষকের ঘরে ঘরে যেমন নতুন আশার আলো জ্বলে ওঠে, তেমনি মণ্ডপে দেবী দুর্গার গায়ে সোনালী ধানের এই অলংকার বাংলার মাটি ও মানুষের আত্মিক সম্পর্ককে গভীরভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

আধুনিকতার ছোঁয়ায় কিছুটা দূরে সরে যাওয়া ঐতিহ্যকে মণ্ডপে জীবন্ত করে তোলার এই প্রয়াস নতুন প্রজন্মের কাছে কৃষিসংস্কৃতি ও লোকজ শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরার এক অনবদ্য মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সব মিলিয়ে, ধানের শীষে সজ্জিত এই সোনালি দুর্গাপ্রতিমা কেবল একটি দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্ম নয়; এটি কৃষি, ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও সৃজনশীলতার এক আনন্দময় উল্লাস।


সংকট কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়

* প্রশাসনিক জটিলতা নিরসনে নতুন গতি
ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো. তোজাম্মেল হক। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মিজানুর রহমান, পঞ্চগড়

অবকাঠামোগত সংকট, কম শিক্ষার্থী এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি কাটিয়ে নতুন উদ্যমে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়। গত ১৬ মার্চ বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. তোজাম্মেল হক। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও সময়োপযোগী উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

উদ্যমী এই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার আগে বিদ্যালয়টি ছিল নানা সমস্যায় জর্জরিত। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক ও সাংগঠনিক অগোছালো অবস্থার কারণে ব্যাহত হচ্ছিল স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম, যার ফলে আশঙ্কাজনকভাবে কমে গিয়েছিল শিক্ষার্থীর সংখ্যা। শুধু একাডেমিক ক্ষেত্রে নয়, অবকাঠামোগত দিক থেকেও পিছিয়ে ছিল প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল বিদ্যালয়ের জমির খারিজ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি কাজ।বিদ্যালয়ের একাডেমিক স্বীকৃতি, ৫ আগষ্ট ২০২৪-এর পর পরিচালনা কমিটি, উন্মুক্ত সীমানা, নামফলক বা সাইনবোর্ড না থাকা, ভাঙাচোরা চেয়ার-টেবিল, বেঞ্চ ও পরিত্যক্ত আসবাবপত্রের স্তূপের কারণে শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ ছিল অনুপস্থিত।

তবে তোজাম্মেল হক দায়িত্ব নেওয়ার পর পর্যায়ক্রমে জটিল সমস্যাগুলো সমাধানের সাহসী উদ্যোগ নেন। তিনি ইতিমধ্যে বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি, পরিচালনা কমিটি,জমির খারিজ এবং খাজনা সংক্রান্ত কাজ দ্রুত শেষ করেন।শিক্ষক সমাবেশ করেন কয়েক দফা, ২০২৭ সালের এসএসসি শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভা, নিরাপত্তার স্বার্থে সম্পূর্ণ ক্যাম্পাসকে সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত করা হয়েছে এবং তৈরি করা হয়েছে এক পার্শ্বের সীমানা প্রাচীর এবং ফুলের বাগান। একই সাথে প্রতিষ্ঠানে নতুন সাইনবোর্ড স্থাপন, ভাঙাচোরা আসবাবপত্র সংস্কার ও প্রয়োজনীয় নতুন বেঞ্চ-টেবিল, আলমিরার ব্যবস্থা করে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) তোজাম্মেল হক বলেন, ‘বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন যে অবস্থায় ছিল, তা থেকে উত্তরণ ঘটানো ছিল আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ। আমি মাত্র কাজ শুরু করেছি। বহিরাগতদের প্রবেশ ঠেকাতে একপার্শ্বের সীমানা প্রাচীর, সিসি টিভি স্থাপন এবং আসবাবপত্র সংস্কারের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। আশা করছি, খুব শিগগিরই ধকরাহাট আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় এলাকাটির অন্যতম সেরা ও আধুনিক মডেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।’


ব্যাটারি ছাড়াই বায়ুশক্তি ব্যবহারে হবে বিদ্যুৎ উৎপাদন

* নওগাঁয় ১০৬ উদ্ভাবন নিয়ে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রদর্শন
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:২৬
নওগাঁ প্রতিনিধি

বিজ্ঞানের কৌতূহল, প্রযুক্তির নতুন ভাবনা আর উদ্ভাবনের স্বপ্ন। সব মিলিয়ে নওগাঁয় অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলা। মেলায় নিজেদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছে চার শতাধিক শিক্ষার্থী। তাদের তৈরি ১০৬টি প্রকল্পে উঠে এসেছে বিজ্ঞানের নানা প্রয়োগ, প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তা এবং আগামীর সম্ভাবনার কথা। বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টায় নওগাঁর বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ মেলার উদ্বোধন করেন প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলায় প্রতিষ্ঠানটির চার শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা, গবেষণাধর্মী চিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণা কাজে লাগিয়ে তারা উপস্থাপন করে ১০৬টি প্রকল্প। উদ্বোধনের পর মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক। এ সময় তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবন সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।

মেলায় শিক্ষার্থীদের প্রকল্পগুলোর মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি করে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতেমা জান্নাতের ‘উইন্ড পাওয়ার এলইডি চার্জিং সিস্টেম’। বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা নিয়ে কাজ করেছে সে। জ্বালানির বিকল্প উৎস অনুসন্ধানের ভাবনা থেকেই তার এ উদ্যোগ।

ফাতেমা জান্নাত নামের শিক্ষার্থী বলেন, বাংলাদেশে জ্বালানি সংকট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ পরিস্থিতিতে বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চিন্তা থেকেই আমাদের এ প্রকল্প। ব্যাটারি ছাড়াই বায়ুশক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা তুলে ধরেছি আমরা। বিজ্ঞান মেলায় অংশ নিয়ে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতাকে উদ্ভাবনী কাজে লাগানোর সুযোগ পাচ্ছি।

নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আদিত্য চৌধুরী বলেন, বিজ্ঞান মেলা তাদের প্রচলিত চিন্তার বাইরে নতুন কিছু ভাবতে এবং নিজেদের ধারণা সবার সামনে তুলে ধরতে উৎসাহিত করে। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত অব্যাহত থাকলে শিক্ষার্থীরা আরও নতুন নতুন উদ্ভাবনে আগ্রহী হবে।

বিয়াম ল্যাবরেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শরিফুর রহমান বলেন, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও বিজ্ঞান মেলার আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকা সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটানো এবং তাদের চিন্তা ও উদ্ভাবনী ধারণা সবার সামনে তুলে ধরাই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য। মেলার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশের পাশাপাশি নতুন কিছু করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো এবং তাদের উদ্ভাবনী চিন্তাকে উৎসাহিত করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছি। পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানকে বাস্তবমুখী চিন্তার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দক্ষতা ও নতুন কিছু আবিষ্কারের আগ্রহও বাড়ে। নওগাঁয় আয়োজিত এ বিজ্ঞান মেলা শিক্ষার্থীদের সেই সম্ভাবনা তুলে ধরার একটি ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে বলে মনে করছি।


ভবন নির্মাণে আইনবহির্ভূত কাজ করলে আইনের আওতায় আনা হবে: গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভবন নির্মাণের সময় কেউ আইনবহির্ভূত কাজ করলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় আনা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী মহানগরীর ১ নম্বর ওয়ার্ডের সড়ক নম্বর সংবলিত পিলারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘সম্প্রতি রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় অনেকেই বাধা প্রদান করছেন। সরকারের এ ধরনের কাজে যারা বাধা দিচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

এদিন সকাল থেকে রাজশাহী নগরীতে চলমান এবং উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ঘুরে দেখেন মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। দুপুরে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের পর তিনি ‘আরডিএ প্রান্তিক আবাসিক এলাকা’র উদ্বোধন করেন এবং সেখানকার একটি পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন।

এছাড়াও নাটোর রোড (রুয়েট) থেকে রাজশাহী বাইপাস রোড পর্যন্ত সংযোগ সড়ক ও ফ্লাইওভারের উদ্বোধন শেষে সেখানে বৃক্ষরোপণ করেন মন্ত্রী। এ সময় আরডিএ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, আরডিএর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট তার বক্তব্যে বলেন, ‘উন্নত বিশ্বের শহরগুলোর মতো রাজশাহীর প্রতিটি ওয়ার্ডের প্রতিটি সড়কে নম্বর প্রদান করে নম্বর সংবলিত পিলার তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। অচিরেই পুরো নগরীতে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।’


কুমিল্লায় নিখোঁজ চার স্কুলছাত্রী উদ্ধার, মোবাইল বিক্রি করে যায় ঢাকায়

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লা থেকে নিখোঁজ হওয়া চার স্কুলছাত্রীকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছেলের সঙ্গে পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে বাড়ি ছাড়ে তারা। পরিবারের ব্যবহৃত একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন বিক্রি করে পাওয়া টাকা নিয়ে প্রথমে ঢাকায় যায়। পরে সেখান থেকে ঝুমুরের দাদাবাড়ি হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চলে যায় তারা।

উদ্ধার হওয়া চার শিক্ষার্থী হলো কুমিল্লা পুলিশ লাইন্স সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী মাহিন আক্তার (১২), ঝুমুর (১২), সোনিয়া (১৩) এবং তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত (৮)। জান্নাত মাহিনের ছোট বোন।

গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সকালে স্কুলে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তারা। তবে স্কুলে উপস্থিত হয়নি কেউই। বিকেলে বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে পুলিশকে জানানো হয়। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। গত

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

তিনি জানান, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং দেশের বিভিন্ন থানায় বার্তা পাঠানোর পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানা পুলিশের সহায়তায় চার ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, শিক্ষার্থীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিক্রি করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য আলামত উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপরিচিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তাদের যোগাযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ঘটনায় অভিভাবকদের সন্তানদের অনলাইন কার্যক্রম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।


banner close