ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পট হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বরোপ করে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বাংলাদেশের এক গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। এখানে রয়েছে প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনা। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে আমরা এই অঞ্চলকে পর্যটকদের জন্য বিশ্বমানের গন্তব্যে পরিণত করব। প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে ‘হারমোনিয়াস’ সহাবস্থান নিশ্চিত করে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সুবিধা নিশ্চিত করে সেখানে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা হবে।’
হাটহাজারীর স্থানীয় সমস্যা সমাধানে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, যেকোনো অপরাধের বিরুদ্ধে আমরা সকলে মিলে জিরো টলারেন্স গ্রহণ করেছি। অপরাধের বিরুদ্ধে এক চুল ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারি জমি ও খাল বেদখলমুক্ত করতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমি আগে যেমন সাধারণ মানুষ ছিলাম, এখনো তেমনই আছি। হাটহাজারীর সন্তান হিসেবে মানুষের সেবায় কাজ করে যেতে চাই। কৃষকদের সুবিধার্থে খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হবে। হাটহাজারী বাসস্ট্যান্ড থেকে চৌধুরীহাট, বড়দিঘীর পাড় ও অক্সিজেন এলাকা পর্যন্ত যানজট কমাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হাটহাজারী উপজেলা কার্যালয়ের সভাকক্ষে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিনের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।
আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস পবিত্র মাহে রমজান। এ মাসে যেখানে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধি পেয়ে সাধারণ মানুষকে চাপে ফেলে, সেখানে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন কুমিল্লার মুরাদনগরের এক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী।
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় দই ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া রমজান উপলক্ষে নিজ উদ্যোগে দইয়ের দাম কমিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। দোকানের সামনে ব্যানার টানিয়ে মূল্যহ্রাসের ঘোষণা দিয়ে তিনি জানান- রমজানজুড়ে কম দামেই বিক্রি করবেন তার উৎপাদিত দই।
রামচন্দ্রপুরে অধ্যাপক আবদুল মজিদ কলেজের সামনে অবস্থিত ‘আল-মামুন দধি দোকান’ এর মালিক ইউসুফ মিয়া সোনাকান্দা গ্রামের জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে। প্রায় ২৬ বছর ধরে খাঁটি দুধ থেকে তৈরি সুস্বাদু দই বিক্রি করে এলাকায় সুনাম কুড়িয়েছেন তিনি।
রমজানের আগে প্রতি কেজি দইয়ের দাম ছিল ২০০ টাকা। রমজান উপলক্ষে তিনি তা ৩০ টাকা কমিয়ে ১৭০ টাকায় বিক্রি করছেন। ২ কেজি দই ৪০০ টাকার পরিবর্তে ৩৫০ টাকায় এবং প্রতি কাপ দধি ৪০ টাকার বদলে ৩৫ টাকায় বিক্রি করছেন।
দই কিনতে এসে মেহেদি নামে এর ক্রেতা বলেন, ‘আমি নিয়মিত এই দোকান থেকেই দই কিনি। এখানকার দইয়ের স্বাদ ও মান অন্যদের চেয়ে ভালো। রমজানে দাম কমানোয় আমাদের মতো সাধারণ ক্রেতারা উপকৃত হচ্ছি।’
স্থানীয় মাওলানা খলিলুর রহমান বলেন, ‘রমজান মাসে সাধারণত পণ্যের দাম বাড়ে। দুধের দাম বৃদ্ধির পরও ইউসুফ ভাই পুরো রমজান জুড়ে দইয়ের দাম কমিয়ে বিক্রি করছেন- এটি সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। আল্লাহ তার ব্যবসায় বরকত দিন।’
ব্যবসায়ী ইউসুফ মিয়া জানান, ‘আমি প্রতিবছর রমজানে স্বাভাবিক মূল্যের চেয়ে কম দামে দই বিক্রি করি। আমার চেষ্টা থাকে, যেন এলাকার সব শ্রেণির মানুষ আমার দোকানের দই কিনে খেতে পারেন।’ তিনি সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন।
রমজানে যখন অধিক মুনাফার প্রতিযোগিতায় বাজার অস্থির হয়ে ওঠে, তখন একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর এমন মানবিক উদ্যোগ স্থানীয়দের মাঝে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছে।
নীলফামারীতে ৪ তলা বিশিষ্ট আধুনিক ডাকবাংলো ভবন নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সদর উপজেলা ডাকবাংলো প্রাঙ্গণে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। এ সময় জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সাইদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজ মোবাশ্বিরাসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদের অর্থায়নে ২ কোটি ৩০ লাখ ২ হাজার ২৪১ টাকা ব্যয়ে ভবনটি নির্মাণ করা হবে। ৪ তলা বিশিষ্ট এ আধুনিক ডাকবাংলোতে আবাসনসহ অতিথিদের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন আধুনিক সুবিধা রাখা হবে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, সরকারি অতিথি ও আগত সেবাগ্রহীতাদের জন্য মানসম্মত আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে আধুনিক ডাকবাংলো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবনটি নির্মিত হলে জেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম ও অতিথি ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাইদুল ইসলাম জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করার লক্ষ্যে নির্মাণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হবে।
‘আমার এলাকা, আমার দায়িত্ব; ক্লিন বাংলাদেশ, গ্রিন বাংলাদেশ’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলাকে একটি আদর্শ ও পরিচ্ছন্ন জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে পাবনা-১ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই অভিযানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। উদ্বোধন শেষে তিনি নিজে ঝাড়ু হাতে নিয়ে পরিষ্কারকরণ কাজে অংশ নেন এবং উপস্থিত সকলকে উৎসাহিত করেন।
উদ্বোধনকালে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘একটি সবুজ ও বাসযোগ্য সাঁথিয়া গড়ে তোলা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। সরকার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন, তবে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছাড়া এটি সফল করা সম্ভব নয়। নিজ নিজ আঙিনা ও এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার মাধ্যমে আমরা একটি রোগমুক্ত ও সুন্দর পরিবেশ উপহার দিতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, এই অভিযান কেবল একদিনের জন্য নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে এটিকে একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। এ সময় তিনি সবাইকে যত্রতত্র ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলার আহ্বান জানান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা, রাজনৈতিক নেতরার এবং বিভিন্ন পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযানের শুরুতে একটি সংক্ষিপ্ত র্যালি ও সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হয়। অনুষ্ঠান শেষে একটি পরিচ্ছন্ন ও সবুজ সাঁথিয়া গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে কাজ শুরু করেন সংশ্লিষ্ট কর্মীরা।
মসজিদ উন্নয়নে সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় খেলার মাঠ ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন ক্রীড়াপ্রেমী ও স্থানীয়রা। এ সময় (ওসি) জাফর ইমামের অপসারণ দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিয়েছেন তারা। গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বেশিরভাগ সময় মাটি পড়ে থাকে। এ কারণে মাঠের জায়গা নিয়ে কোন চাঁদাবাদজী কেউ করতে না পারে এ জন্য মসজিদ উন্নয়নে মাঠটি ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে যদি কেউ বিক্ষোভ করে আমাদের কোন কিছু করার নেই।
এরআগে, গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৭টার দিকে মিছিলটি সলঙ্গা বাজার প্রদক্ষিণ শেষে থানার প্রধান ফটকে গিয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেন স্থানীয়রা।
বিক্ষোভকারী ঘুড়কা ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন বলেন, থানার সামনের মাঠটি দুই গ্রামের ছেলেরা দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় তরুণদের খেলাধুলার একমাত্র ভরসা হিসেবে ব্যবহৃত মাঠটি ব্যবসায়ীদের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় ক্রিড়াপ্রেমীদের খেলা ধুলোয় ব্যাহত হচ্ছে। তারা দাবি করেন, প্রশাসনের নীরব সমর্থনেই এ কার্যক্রম চলছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা বলেন, খেলার মাঠ আমাদের অধিকার। এটি কোনো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় যে ইচ্ছেমতো ভাড়া দেওয়া হবে। আমরা দ্রুত এ সিদ্ধান্ত বাতিল এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোড়দাবি জানাই।
সলঙ্গা থানা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি এম দুলাল উদ্দিন বলেন, আগে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা মাঠটি ভাড়া দিতো। বর্তমান থানার মসজিদ উন্নয়নের জন্য ব্যবসায়ীদের নিকট ভাড়া দেওয়ায় স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছে।
সলঙ্গা থানার ওসি ইমাম জাফর বলেন, মাঠটি থানার দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি। সরিষা শুকানোর বিনিময়ে অনেক আগেই ব্যবসায়ীরা থানার মসজিদ উন্নয়ন ফান্ডে কিছু টাকা দিয়ে আসছে। সম্প্রতি কিছু লোক মাঠ ভাড়া বাবদ অবৈধভাবে ব্যবসায়ীদের কাছে টাকা দাবি করেছিল, কিন্তু ব্যবসায়ীরা দেয়নি।
পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নকে ঘিরে কেউ যাতে অপপ্রচার বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক রয়েছে।
ঝালকাঠির উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঝালকাঠি-১ আসনের সংসদ রফিকুল ইসলাম জামাল এবং ঝালকাঠি-২ আসনের সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টোর সাথে জেলা প্রশাসন ও সকল সরকারি দপ্তর প্রধানদের পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন সভায় সভাপতিত্ব করেছেন।
ঝালকাঠি জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের স্থবিরতা কাটানো এবং জনসেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। এছাড়াও ঝালকাঠির অবহেলিত জনপদের রাস্তাঘাট, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সরকারি প্রতিটি দপ্তরের কাজে স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং সাধারণ মানুষকে হয়রানিমুক্ত সেবা দেওয়ার নির্দেশনা দেন নবনির্বাচিত দুই সংসদ সদস্য। তারা এ জেলার অভ্যন্তরীণ শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার আহ্বান জানান।
ঝালকাঠির পুলিশ সুপার মিজানুর রহমার চার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা জেলা পর্যায়ের সকল সরকারি দপ্তর প্রধান বিএনপির স্থানীয় শীর্ষ নেতারা এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক গণমাধ্যম কর্মীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম জামাল তার বক্তব্যে বলেন, ‘জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার প্রতিদান দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। দল-মতনির্বিশেষে ঝালকাঠিকে একটি আধুনিক ও বৈষম্যহীন জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’
আরেক সংসদ সদস্য ইসরাত সুলতানা ইলেন ভুট্টো প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘সরকারি সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে। কোনো প্রকার অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন আশ্বস্ত করে বলেন, ‘নতুন সংসদ সদস্যদের দিকনির্দেশনায় জেলা প্রশাসন ঝালকাঠির সকল উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার কোনো দলীয় রাষ্ট্র বা দলীয় সরকার নয়, বরং জনগণের সত্যিকারের সরকার গঠন করতে বদ্ধপরিকর। আজ রবিবার বিকেলে বরিশালের গৌরনদী উপজেলার কান্ডাপাশা এলাকায় ‘কাপলাতলি খাল’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে জনবান্ধব করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংস্কার ও শক্তিশালী করবে যাতে তা একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। এর মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন কেবল জনগণের ভোটের মাধ্যমেই সুনিশ্চিত হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হবে।
প্রশাসনিক ও পুলিশি সংস্কার প্রসঙ্গে মন্ত্রী অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দেশের আমলাতন্ত্র ও পুলিশ বাহিনীকে এমন এক উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরি করে দিতে হবে যেখানে তারা কোনো দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে কেবল জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের দায়িত্ব পালন করতে পারে। অতীতে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে দলীয় স্বার্থে ব্যবহৃত হয়েছে, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি পেশাদার ও নিরপেক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। সরকারি কর্মকর্তাদের নির্ভয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালন এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মন্ত্রী আরো বলেন, কৃষি ও সেচ ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের একটি বিশাল মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক কেন্দ্রীয় উদ্বোধন খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে। এরই ধারাবাহিকতায় বরিশাল, ভোলা, ঝালকাঠি ও পিরোজপুর জেলা সেচ উন্নয়ন প্রকল্পের অধীনে গৌরনদীর এই খাল খনন কাজের সূচনা করা হলো। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, কেবল খাল খননই নয়, পরিবেশ রক্ষায় বনায়ন কর্মসূচির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে খননকৃত খালের পাড়ে এবং আশপাশের এলাকায় ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিও জোরদার করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে এবং সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হচ্ছে। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক ভারসাম্য বজায় রাখতেই এই সমন্বিত উন্নয়ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। খাল পুনঃখনন ও বনায়ন কর্মসূচি উদ্বোধনের এই অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। মন্ত্রীর এই উন্নয়নমূলক কর্মসূচির উদ্বোধন স্থানীয় কৃষিজীবী মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।
পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা, সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং বাজার সিন্ডিকেট ভাঙতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০ টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সভায় ব্যবসায়ীদের প্রতি এই হুঁশিয়ারি দেয়া হয়।
মত বিনিময় সভায় সভাপতিত্ত্ব করেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু সাঈদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রতিটি দোকানে বাধ্যতামূলকভাবে মূল্য তালিকা প্রদর্শন করতে হবে। তালিকার চেয়ে বেশি দাম নিলে বা তালিকা প্রদর্শন না করলে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীকে সর্বনিম্ন ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে।
বাজার মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করতে মাংস ব্যবসায়ীদের জন্য কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এখন থেকে পশু ক্রয়ের মূল রশিদ ব্যবসায়ীদের সংগ্রহে রাখতে হবে এবং মনিটরিং টিম চাইলে তা দেখাতে হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু জবাই নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উপস্থিতি ও সীল নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সভায় জেলা প্রশাসক বাজারে কারসাজির কথা স্বীকার করে বলেন, "আমাদের সীমাবদ্ধতার সুযোগ নিয়ে যারা সিন্ডিকেট ও ভেজাল দ্রব্য বিক্রি করছে, তাদের আর ছাড় দেওয়া হবে না। আইনের মধ্যে থেকে ব্যবসা না করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
ইফতারে ক্ষতিকারক রং ও রাসায়নিক মেশানো এবং অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সেমাই তৈরিকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হবে।
রমজানে পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল নিশ্চিত করতে পুলিশ সুপারকে বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
ডিজিটাল মেশিনে ওজন কারচুপি রোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ মাজহারুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) মাহমুদুর রহমান মামুন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা কবির ত্রপা এবং সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুনুর রশীদসহ জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
পবিত্র রমজান মাস জুড়ে জনস্বার্থে এই ঝটিকা অভিযান ও বাজার তদারকি অব্যাহত থাকবে বলে সভায় জানানো হয়
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি)-এ যথাযথ মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সাথে মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। মাতৃভাষার অধিকার আদায়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি যারা আত্মত্যাগ করেছিলেন, সেই অমর ভাষা শহীদদের চিরস্মরণীয় স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে এই বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
গত শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ঢাকার মিরপুর সেনানিবাসস্থ বিইউপি প্রাঙ্গণে দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে।
জাতীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি শুরু করা হয়। এরপর প্রত্যুষে ভাষা শহীদদের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদনের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন বিইউপি-র ট্রেজারার এয়ার কমোডোর মোঃ রেজা এমদাদ খান, জিইউপি, বিইউপি, এনডিসি, পিএসসি, জিডি(পি)-এর নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদল।
পরবর্তীতে বাদ জোহর এক বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়, যেখানে বিইউপি-র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ, শিক্ষক ও কর্মচারীরা অংশগ্রহণ করেন এবং ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।
দেশের গণতান্ত্রিক কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, সাংবাদিকরা যাতে নির্ভয়ে এবং স্বাধীনভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারেন, সরকার সেই নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। শনিবার রাতে বরিশালের আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী তাঁর নিজ নির্বাচনি এলাকায় সফরকালে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এই সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন তাঁর বক্তব্যে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সংবাদমাধ্যম হলো রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন। দায়িত্বশীল সংবাদ পরিবেশনার মাধ্যমে যেমন জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটে, তেমনি সরকারের কর্মকাণ্ডের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হয়। তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে বলেন, পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সরকার সাংবাদিকদের সবসময় সহযোগী হিসেবে পাশে থাকবে। অপপ্রচারের পরিবর্তে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরার মাধ্যমে দেশ গঠনে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানান।
আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় স্থানীয় সংবাদকর্মীরা তাঁদের পেশাগত বিভিন্ন সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা, মো. সাইফুল ইসলাম, এইচএম মাসুম এবং সাধারণ সম্পাদক নাজমুল রিপন। বক্তারা স্থানীয় পর্যায়ে সাংবাদিকতার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং তথ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাবেক ও বর্তমান নেতৃবৃন্দের মধ্যে কেএম আজাদ রহমান, আকাশ মাহামুদ, সাইফুল মৃধা, সবুজ সরদার ও মানিক মোল্লাসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভা শেষে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে তথ্যমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই আলোচনায় মন্ত্রী স্থানীয় সাংবাদিকতার মানোন্নয়ন এবং প্রেস ক্লাবের অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। একুশের চেতনার আলোকে একটি বৈষম্যহীন ও বাকস্বাধীনতা সম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণে গণমাধ্যমের ভূমিকা অনস্বীকার্য বলে তিনি তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।
লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের মেঘনা তীরবর্তী দুর্গম বয়ারচরে কয়েকটি দস্যুবাহিনীর তৎপরতায় স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর ‘ভোল পাল্টিয়ে’ কয়েকটি ডাকাত বাহিনী ও দস্যু গ্রুপ চরটিতে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন। দস্যুবাহিনীর একের পর এক চুরি, ডাকাতি, অপহরণ, ধর্ষণ, হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় সাধারণ মানুষ এখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। সর্বশেষ দস্যুবাহিনীর দাবিকৃত চাঁদা দিতে না পারায় হামলার ভয়ে মাইনউদ্দিন নামে এক ব্যবসায়ী পরিবার-পরিজন নিয়ে এক সপ্তাহ ধরে এলাকার বাহিরে অবস্থান করেছেন। এমতাবস্থায় ওই এলাকার বাসিন্দারা নিরাপত্তায় দুর্গম এ চরটিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জোর তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন
ভুক্তভোগী চরগাজী ইউনিয়নের দক্ষিণ টুমচর (বয়ারচর) এলাকার বাসিন্দা এবং স্থানীয় ব্রিজঘাট বাজারের মাংস ব্যবসায়ী মো. মাইন উদ্দিন জানান, প্রায় দুই মাস আগে স্থানীয় একটি চা দোকানের সামনে তার ছোট ছেলে মো. ফয়সাল আড্ডা দিচ্ছিল। এসময় কুখ্যাত দস্যুবাহিনী ‘ফরিদ বাহিনীর’ সেকেন্ড ইন কমান্ডার বাদশা ডাকাত সহযোগী ওয়ারেছ ডাকাতকে নিয়ে ফয়সালকে অপহরণ করে আস্তানায় নিয়ে যায়। পরে তার কাছে মুক্তিপণ হিসেবে ৫ লাখ টাকা দাবি করলে তিনি নিজের একটি গরু ও স্বর্ণালংকার বিক্রি করে ২ লাখ টাকা বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাতের হাতে দিয়ে ছেলেকে ছাড়িয়ে নেন। শুধু এতেই তারা থেমে যাননি। গত রোববার সকালে বাদশা, ওয়ারেছ মহিন ও মনিরসহ কয়েকজন সহযাগী নিয়ে তার বাড়িতে হানা দেন। এসময় তারা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে চাঁদা হিসেবে একটি গরু দাবি করেন। দাবিকৃত গরু না দিলে তার স্ত্রী ও ঘরে থাকা পুত্রবধূকে ধর্ষণের হুমকি দিয়ে চলে যায় তারা। এ ঘটনার পর থেকে আতঙ্কে পরিবারের সবাইকে নিয়ে তিনি বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র অবস্থান করছেন।
তিনি বলেন, আমরা ফরিদ বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাত, ওয়ারেছ ডাকাত, বাদশা ডাকাত ও তার লোকজনদের গ্রেপ্তারের জন্য সেনাবাহিনী, কোস্টগার্ড ও পুলিশ প্রশাসনের কাছে জোর দাবি করছি।
মাইন উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন বলেন, এক সাপ্তাহ ধরে আমরা এলাকা ছাড়া। আমি ব্রিজঘাট এলাকার একজন গোস্ত বিক্রেতা। ওয়ারেছ ও বাদশা ডাকাতের অত্যাচারে ঠিকমত ব্যবসা করতে পারছি না। প্রতিটি গরু থেকে তাদেরকে চাঁদা দিতে হচ্ছে।
এদিকে, সরেজমিন ঘুরে এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, বয়ারচর এলাকাটি একটি দুর্গম চরাঞ্চল। ওই এলাকাটি বিভিন্ন ডাকাত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়ে আসছে। ২০২৪ সালর ৫ আগস্ট থেকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সুযোগে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ব্রিজঘাট, তেগাছিয়া ও টাংকিরঘাট এলাকায় হামলা, ভাঙচুর, ধর্ষণ, ডাকাতি, লুটপাট, অগ্নিসংযাগ ও অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, জমি দখল, বসতবাড়ি ও পুলিশ ফাঁড়ি দখলসহ ডাকাত বাহিনী বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। এর মধ্যে ফরিদ বাহিনীর আধিপত্য সবচেয়ে বেশী। তার বাহিনীতে বাদশাহ, ওয়ারেছ, ভুট্টু, ফজলু, আলমগীর, হোসেন, আওলাদ, আইয়ুব আলী, কবির ও মাকছুদসহ অর্ধশতাধিক সদস্য রয়েছে। এসব ডাকাত সদস্যরা ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বয়ারচরের ব্রিজঘাট, দক্ষিণ টুমচর, নুরুল্লার সমাজ, তেগাছিয়া ও টাংকিরঘাট এলাকায় সক্রিয় রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাত এক সময়ে নোয়াখালীর হাতিয়ার আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিল। বর্তমানে ভোল পাল্টিয়ে সে বিএনপির নাম ভাঙিয় আগের চেয়েও বেশি তৎপরতা চালাচ্ছে। তার এসব অপকর্ম নিয়ে জহির উদ্দীন নামে এক বাসিন্দা রামগতি থানা ও সেনা ক্যাম্পে পৃথক দুটি অভিযোগও করেছেন। এসব ডাকাতদের বিরুদ্ধে রামগতি, হাতিয়া ও ভোলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় তাদের বিরুদ্ধে কয়েক ডজন মামলা থাকলেও প্রশাসন কোনো পদক্ষপ নিচ্ছে না। অন্তত ১৫ টি মামলায় এসব ডাকাতদের বিরুদ্ধে রয়েছে গ্রেফতারি পরওয়ানা।
এসব বিষয় জানতে চাইলে অভিযুক্ত ওয়ারেছ ডাকাত তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এসব কাজের সাথে জড়িত নন। তবে, এসব বিষয়ে লেখালখি না করতে তিনি এ প্রতিবেদককে বিশেষ অপার দেন।
ফরিদ বাহিনীর প্রধান ফরিদ ডাকাতের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফানে একাধিকবার কল করলেও তিনি ফোন রিসিভ করননি।
রামগতি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, বয়ারচর এলাকাটি খুবই দুর্গম। যে কারণে, অপরাধীরা সেখান বিভিন্ন ঘটনা ঘটিয়ে যাচ্ছে। তবে, বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যে চরটিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, চাঁদা দিতে না পারায় ব্যবসায়ীর পরিবার এলাকা ছাড়ার বিষয়টি আমাকে কেউ জানায়নি। ভুক্তভাগীর পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়াজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আবু তারেক বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে সংশ্লিষ্ট ওসিকে নির্দশ দেওয়া হবে।
কক্সবাজার জেলার প্রশাসনিক কাঠামোতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণ করে চকরিয়া উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন নিয়ে জেলার দশম উপজেলা হিসেবে ‘মাতামুহুরী’ গঠনের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। গত শনিবার বিকেলে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এই সংক্রান্ত প্রথম প্রশাসনিক সমন্বয় ও নিরীক্ষা সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন দেলোয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় নতুন উপজেলার সীমানা নির্ধারণ এবং প্রশাসনিক বিন্যাস নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। স্থানীয় জনমত এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
প্রস্তাবিত মাতামুহুরী উপজেলাটি মূলত চকরিয়ার সাহারবিল, ভেওলা মানিকচর, পূর্ব বড় ভেওলা, পশ্চিম বড় ভেওলা, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া ও বদরখালী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হবে। প্রায় তিন লাখ জনসংখ্যা অধ্যুষিত এই এলাকায় প্রবাহিত ২৮৭ কিলোমিটার দীর্ঘ মাতামুহুরী নদীর নামানুসারেই এই উপজেলার নামকরণ করা হয়েছে। নতুন উপজেলা গঠনের পাশাপাশি চকরিয়া উপজেলার মূল প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে আরও তিনটি নতুন ইউনিয়ন সৃষ্টির প্রস্তুতিও চলছে। হারবাং থেকে উত্তর হারবাং, বরইতলী থেকে পহরচাঁদা এবং ডুলহাজারা থেকে পৃথক করে মালুমঘাট ইউনিয়ন গঠনের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি সেবা প্রাপ্তি আরও সহজতর হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই উন্নয়ন প্রকল্পের নেপথ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে তিনি মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম সপ্তাহের মধ্যেই সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। উল্লেখ্য, ২০০১ সালে যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি বৃহত্তর চকরিয়া থেকে পেকুয়া উপজেলা পৃথক করে নতুন উপজেলা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মাতামুহুরী উপজেলার প্রস্তাবটি সরকারের প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি বা নিকার-এর (NICAR) পরবর্তী সভায় অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে পারে বলে জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
মাতামুহুরী উপজেলা বাস্তবায়িত হলে এটি হবে পর্যটন শহর কক্সবাজারের দশম উপজেলা। এর ফলে অবহেলিত ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষের প্রশাসনিক কষ্ট লাঘব হবে এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ঘটবে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন। দীর্ঘ ২৫ বছর আগে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে যে সাংগঠনিক উপজেলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, আজ তা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেতে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। প্রশাসনিক এই মহতী উদ্যোগটি সফল হলে চকরিয়া ও মাতামুহুরী উভয় অঞ্চলের নাগরিক সুযোগ-সুবিধা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। সব মিলিয়ে উপকূলীয় এই অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন এখন পূর্ণতার পথে।
সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি দমনে শিগগিরই সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হযরত খানজাহান (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলের অনেক মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। জীবিকার তাগিদে তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করেন এবং সেখানে গিয়ে দস্যুদের আক্রমণের শিকার হন। জীবিকা নির্বাহ করতে গিয়ে কেউ যেন ঝুঁকিতে না পড়েন, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি জানান, সুন্দরবনে দস্যুবৃত্তি বন্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে শিগগিরই একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভা শেষে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে দস্যুদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছে দেওয়া যায়।
সুন্দরবনের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সঙ্গে বসে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। দ্রুত অভিযান চালিয়ে দস্যুদের নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এ সময় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার হাছান চৌধুরী, জেলা বিএনপির সমন্বয়ক এম এ সালাম, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজাফফর রহমান আলমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।