বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


বোমাতঙ্কে বাড়ছে শঙ্কা

* সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭টি শক্তিশালী বোমা ও জেএমবির লিফলেট উদ্ধার * সাভারে বোমা নিষ্ক্রিয়ের সময় বিকট শব্দে কেঁপে উঠল এলাকা * বরিশালে আদালত প্রাঙ্গণে বিস্ফোরণ, আতঙ্ক
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ০০:২৭
বিশেষ প্রতিবেদক 

মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনে স্কচটেপ মোড়ানো বস্তু উদ্ধারের পর মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের মতো চরম জনবহুল পয়েন্টগুলোতে ফেলে রাখা ব্যাগ নিয়ে একের পর এক বোমাতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল রাজধানী ঢাকায়। যদিও ডগ স্কোয়াড ও সিটিটিসির পরীক্ষায় শেষ পর্যন্ত সেগুলো জর্দার কৌটা কিংবা ময়লা-আবর্জনা হিসেবে ‘ফ্লস অ্যালার্ম’ বা মিথ্যা আতঙ্ক প্রমাণিত হয়ে স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু রাজধানীর সেই উদ্বেগের আগুনে ঘি ঢালল সাভার-আশুলিয়ায় টানা ১২ দিনে ১৭টি শক্তিশালী বোমা উদ্ধার এবং বরিশালের জজ আদালতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা। সাভারে বোমার সাথে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট ও কোডেড মেসেজ উদ্ধার হওয়ায় পুরো ঢাকা জুড়ে জারি করা হয়েছে বিশেষ ‘রেড অ্যালার্ট’। একদিকে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ভীতি—সব মিলিয়ে মেগাসিটির ব্যস্ত রাজপথ থেকে শিল্পাঞ্চল জুড়ে এক অজানা শঙ্কা থমকে দিয়েছে নাগরিক জীবনকে।

এদিকে, সাভারের সাদাপুর এলাকার মসজিদের মাঠে পাওয়া কালো স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকারটিকে শক্তিশালী বোমা হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ। পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে এলাকাটি জনশূন্য করে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে আশপাশের এলাকা। এতে ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে থাকা স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৫০০ মিটার দূরে থাকা ব্যবসায়ী নিবীর হোসেন বলেন, ‘এত শক্তিশালী বোমা, তা জানা ছিল না। যখন নিষ্ক্রিয় করা হয়, তখন বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে ওঠে। আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি।’

সাভার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ বলেন, ‘বোমাটি নিষ্ক্রিয় করার সময় বিকট শব্দে এলাকা কেঁপে উঠেছে। এটা অনেক ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বোমা।

এসব ঘটনায় বোমা আতঙ্ক নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই বলে আগেই জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি গত ২ আগস্ট সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেছিলেন। তিনি বলেছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ‘সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে’ রয়েছে এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

আশুলিয়ায় একটি প্রেসার কুকারের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া বস্তু এবং মতিঝিলে পাওয়া সন্দেহজনক বস্তুটির বিষয়ে তদন্ত চলছে বলে জানান তিনি। এসব ঘটনার পেছনে কারা জড়িত কিংবা কোনো ইন্ধন রয়েছে কি-না, তা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে।

গত পাঁচ থেকে ছয় মাসের অপরাধ পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তুলনামূলক বিচারে দেশে বর্তমানে নাশকতা ও এ ধরনের অপরাধের হার অনেক কম। পরিস্থিতি কোনোভাবেই উদ্বেগজনক নয়।

আগস্ট মাসে বিশেষ সতর্কতা কেন জারি করা হয়েছে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নর উত্তরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠীর কিছু রাজনৈতিক তৎপরতার তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণেই সংশ্লিষ্ট সব বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।

রাজধানীতে সার্বিক আতঙ্কের সূচনা ঘটে গত ২৪ জুলাই মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর আইইডির (ইম্প্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস) সন্ধান পাওয়ার মধ্য দিয়ে। গত ২৪ জুলাই সন্ধ্যা সাড় ৭টার দিকে মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে জেনারেটর রুমের পাশে একটি পরিত্যক্ত বিএমডব্লিউ ছাতার ভেতরে টাইমিং সার্কিট, সালফার, বিয়ারিং বল ও তারকাঁটা যুক্ত প্রায় ১.৫ কেজি ওজনের আইইডি উদ্ধার করা হয়। ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শুরু হওয়া উল্টোরথের শোভাযাত্রা ওই এলাকা অতিক্রম করার সময় আনসার সদস্যদের সতর্কতায় মিটমিট করে আলো জ্বলতে দেখে ছাতাটি শনাক্ত হয়। খবর পেয়ে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট সফল বিস্ফোরণের মাধ্যমে এটি নিষ্ক্রিয় করে। তবে নিষ্ক্রিয়করণের স্প্লিন্টারের আঘাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী মিরাজ আহমেদ (৩৩) নামের এক পথচারী আহত হন। এ ঘটনায় মতিঝিল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়।

এরপর গত ১ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে মিরপুর-১০ ও ফার্মগেট মেট্রো স্টেশনের লিফটের পাশে পরিত্যক্ত একটি লাল ব্যাগ দেখে পথচারীদের মাঝে তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়। প্রায় ৫২ মিনিট স্টেশনের স্বাভাবিক ট্রেন ও যাত্রী চলাচল বন্ধ রাখা হয়। সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ফ্র্যাঞ্জিবল ডিসরাপ্টর ব্যবহার করে ব্যাগটি নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করার পর ভেতরে কোনো বিস্ফোরক মেলেনি, কেবল জর্দার কৌটা ও পান পাওয়া যায়। একইদিন দুপুর ১টার দিকে ফার্মগেট স্টেশনের পিলারের কাছে পরিত্যক্ত একটি চটের বস্তা কেন্দ্র করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে তেজগাঁও থানা পুলিশ এলাকাটি ঘিরে ফেলে। বোম্ব ডিসপোজাল টিম হাত দিয়ে (হ্যান্ড এন্ট্রি) পরীক্ষা করে নিশ্চিত করে বস্তায় কেবল সাধারণ বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ছিল।

পরপর এসব ঘটনার পর গত ৩ আগস্ট ফার্মগেট, আগারগাঁও ও মিরপুর-১০ মেট্রো স্টেশনে সরেজমিনে দেখা যায়, যাত্রীরা কাঁধে, হাতে কিংবা ট্রলিতে বড় ব্যাগ ও বস্তা নিয়ে তল্লাশি ছাড়াই নির্বিঘ্নে প্রবেশ করছেন। সচিবালয় স্টেশনের স্ক্যানার বন্ধ ছিল।

ফার্মগেট স্টেশনের এমআরটি পুলিশের এসআই মুশফিকুর রহমান জানান, পর্যাপ্ত হ্যান্ড ডিটেক্টর বা আর্চওয়ে না থাকায় এবং যাত্রীদের ভিড়ে দীর্ঘ লাইন এড়াতে সবাইকে নিয়মিত তল্লাশি করা সম্ভব হচ্ছে না। যাত্রী মো. সেলিম ও তুলি আক্তার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নিরাপত্তার এই ঘাটতি যেকোনো মুহূর্তে ভয়াবহ জীবনহানি ঘটাতে পারে।

সাভার-আশুলিয়ায় ১২ দিনে ১৭টি বোমা উদ্ধার: ঢাকার পরিস্থিতি যখন থমথমে, ঠিক তখনই উপকণ্ঠ সাভার ও আশুলিয়ায় টানা ১২ দিনে (৩০ জুলাই থেকে ১১ আগস্ট) ১৭টি বোমার সন্ধান মেলে। গত ৩০ জুলাই মধ্যরাতে আশুলিয়ার চারাবাগ এলাকায় ‘জয়ী জেনারেল স্টোর’-এর সামনে বেঞ্চে ফেলে রাখা একটি ট্রাভেল ব্যাগের ভেতর থেকে স্কচটেপে মোড়ানো প্রেশার কুকার আকৃতির টাইমারযুক্ত বোমা উদ্ধার করে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম খোলা মাঠে নিষ্ক্রিয় করে।

এরপর গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে সাভারের বনগাঁও ইউনিয়নের লালটেক এলাকায় বিদ্যুৎহীন অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে একটি হ্যালো বাইকে করে এসে তিন ব্যক্তি ‘জামিআ ইলমুল ইলাহ্ সোসাইটি মাদ্রাসা ও জামে মসজিদ’-এর পাশে একটি ড্রাম ফেলে সটকে পড়ে। চায়ের দোকানি আজিম উদ্দিন ও দেলোয়ার হোসেন এগোলে দুর্বৃত্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। মাদ্রাসার দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল রাফি ড্রাম খুলে কোরআন শরিফ, কাপড় ও ডায়েরির নিচে স্কচটেপে মোড়ানো একটি ১৫ কেজি ওজনের প্রেশার কুকার বোমা এবং একটি রিমোট কন্ট্রোল দেখতে পান। বোমা ও রিমোটের গায়ে লাল কালিতে ‘R1’ কোডেড সংকেত লেখা ছিল।

বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল টিম খোলা মাঠে এটি বিস্ফোরণ ঘটিয়ে নিষ্ক্রিয় করলে বিকট শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে। এর আগে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাতে তেঁতুলঝরা ইউনিয়নের শ্যামপুর ও হেমায়েতপুরে র্যাব, এনএসআই, সিটিটিসি ও পুলিশের যৌথ অভিযানে ১৪টি পাইপ বোমা ও বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জামসহ ‘নব্য জেএমবি’ সদস্য আরিফ হোসেন (২৮) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উদ্ধার সব বোমার সাথে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট মেলায় পুলিশ তদন্ত জোরদার করেছে।

বরিশাল জজ আদালতে ককটেল বিস্ফোরণ: সাভারের ঘটনার পরপরই বুধবার (১২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টায় বরিশাল জজ আদালত প্রাঙ্গণে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ভবনের মূল ফটকের কাছে ঘটিত হয় ককটেল বিস্ফোরণ। বিকট বিস্ফোরণে আদালতের বিচারপ্রার্থী ও সাধারণ মানুষ দিগ্বিদিক ছুটাছুটি শুরু করেন, সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় বিচারিক কার্যক্রম।

এ ঘটনায় জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন অভিযোগ করেন, আগামী ১৬ আগস্ট আদালতে আইনমন্ত্রীর সফর বানচাল ও সমাজে ভীতি তৈরির উদ্দেশ্যেই এ হামলা চালানো হয়েছে। সিআইডি ও ডিবি ঘটনাস্থল থেকে কাচের গুঁড়ো ও প্লাস্টিকের টুকরো আলামত হিসেবে সংগ্রহ করে। বিএমপি কমিশনার জানান, সিসিটিভি ফুটেজ দেখে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

এর আগে গত বছরের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার কেরানীগঞ্জের হাসনাবাদে একটি বাড়িতে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক, বিস্ফোরক তৈরির সরঞ্জাম ও ৯টি তাজা বোমা।

সাভার ও আশুলিয়ায় ১৭টি শক্তিশালী বোমা ও জেএমবির লিফলেট উদ্ধার, বরিশাল আদালতে ককটেল বিস্ফোরণ এবং রাজধানীতে তৈরি হওয়া একের পর এক ‘বোমাতঙ্ক’ নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মূলত তিনটি প্রধান বিষয়ের ওপর জোর দিচ্ছেন।

মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ : মতিঝিলে প্রস্তুত আইইডি উদ্ধার কিংবা মিরপুর ও ফার্মগেটে বর্জ্য ও পান-জর্দার কৌটা পড়ে থাকার ঘটনাগুলোর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে দ্রুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ছে। উগ্রবাদী বা দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীগুলো সরাসরি বড় হামলা চালাতে না পারলেও মেট্রোরেল স্টেশন বা জনবহুল এলাকাগুলোকে ‘সফট টার্গেট’ হিসেবে ব্যবহার করে মনস্তাত্ত্বিক ভয়ভীতি ছড়ানোর কৌশল গ্রহণ করতে পারে। একে তারা সমাজে অস্থিরতা তৈরি করার এক ধরনের ‘লজিস্টিক সাইকোলজিক্যাল ওয়ারফেয়ার’ বা মনস্তাত্ত্বিক কৌশল হিসেবে দেখছেন।

পুনর্গঠন ও কোডেড সংকেত: সাভারে ১৫ কেজি ওজনের প্রেশার কুকার বোমা, ১৪টি পাইপ বোমা এবং জেএমবির উগ্রবাদী লিফলেট ও বোমার গায়ে ‘R1’ কোডেড সংকেত পাওয়ার বিষয়টিকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, এটি নিষিদ্ধ সংগঠনগুলোর নতুন করে সংগঠিত হওয়া (Re-grouping) এবং নিজেদের শক্তিমত্তা জানান দেওয়ার চেষ্টা হতে পারে। ‘R1’ সম্ভবত কোনো বিশেষ সেল, কোড নাম অথবা একযোগে হামলার সংকেত (Signal) হিসেবে কাজ করছে, যা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা জরুরি।

অবকাঠামোগত ঘাটতি ও ঝিমিয়ে পড়া নজরদারি: মতিঝিলের ঘটনা এবং তৎপরবর্তী সময়ে ফার্মগেট, মিরপুর ও সচিবালয় মেট্রো স্টেশনে স্ক্যানার বিকল থাকা বা পর্যাপ্ত তল্লাশি ছাড়া মালামাল নিয়ে প্রবেশের চিত্র উঠে আসায় নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তারা বলছেন, আন্তর্জাতিক মানের গণপরিবহন মেট্রোরেলে বিমানবন্দরের মতো শতভাগ স্ক্যানিং ও আর্চওয়ে প্রোটোকল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। পুলিশি নজরদারিতে ঢিলেমি থাকলে উগ্রবাদীরা সাধারণ বস্তা বা ট্রাভেল ব্যাগে করে যে কোনো সময়ে বড় ধরনের বিস্ফোরক বহন করে বড় দুর্ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারে। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে কেবল ‘ফলস অ্যালার্ম’ বলে উড়িয়ে না দিয়ে রাজধানীর সিসিটিভি নেটওয়ার্ক জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি মেট্রোরেলসহ প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (KPI) এলাকায় আধুনিক টেকনোলজি এবং পর্যাপ্ত এমআরটি পুলিশ দিয়ে ঢেলে সাজাতে হবে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম-সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মোহাম্মদ শামসুল হক জানান, ১ আগস্টের মিরপুর-১০ ও ফার্মগেটের ব্যাগ ও বস্তায় কোনো বিস্ফোরক মেলেনি, এগুলো স্রেফ ‘ফলস অ্যালার্ম’। মতিঝিলের ২৪ জুলাইয়ের আইইডির সঙ্গে এই দুই ঘটনার সরাসরি কোনো সাংগঠনিক যোগসূত্র মেলেনি। তবে জনবহুল স্থানে নাগরিকদের সচেতনতা প্রশংসনীয়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে মতিঝিল ও অন্যান্য স্থানের নাশকতার পেছনে কারা আছে তা শনাক্ত করা হচ্ছে। নগরবাসীকে আতঙ্কিত না হয়ে যে কোনো সন্দেহজনক বস্তুর ক্ষেত্রে সরাসরি ৯৯৯ বা নিকটস্থ থানায় তথ্য দেওয়ার অনুরোধ জানানো হচ্ছে।

সাভার মডেল থানার ওসি সাইফুল আলম ও পরিদর্শক (তদন্ত) নূর মোহাম্মদ জানান, সাভারে উদ্ধার হওয়া বোমাগুলোর ধরন অত্যন্ত শক্তিশালী ও মারাত্মক। বোমার উৎস, তৈরির উদ্দেশ্য এবং উদ্ধার জেএমবির লিফলেট ও ‘R1’ সংকেতের নেপথ্য বের করতে উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা দল কাজ করছে। গ্রেপ্তার আরিফকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার গুরুকে ধরার জন্য যৌথ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি): কমিশনার আবু রায়হান মুহাম্মদ সালেহ জানান, বরিশালের জজ আদালতে ককটেল নিক্ষেপকারীদের চিহ্নিত করতে সিআইডি ও ডিবি কাজ করছে।


জরুরি গ্যাস আমদানিসহ ৪ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা মেটাতে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) আটটি কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানিসহ চারটি প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১২ আগস্ট) কমিটির ২৫তম সভায় এসব প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। সভা শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক অস্থিতিশীল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে দেশে সৃষ্ট জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের তিনটি পৃথক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে মোট আটটি কার্গো এলএনজি আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে হংকং ঝেনইউ শিপিং থেকে দুই কার্গো, মালয়েশিয়ার পেট্রোনাস থেকে দুই কার্গো, চীনের চায়না রুনজে হোল্ডিংস থেকে দুই কার্গো এবং যুক্তরাষ্ট্রের দারাব ইনকরপোরেটেড থেকে দুই কার্গো এলএনজি সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে আমদানি করা হবে।

এছাড়া নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বাস্তবায়নাধীন ‘নদী প্রবাহ পুনরুদ্ধার, নৌ-পথের উন্নয়ন ও বন্যা ব্যবস্থাপনা’ প্রকল্পের আওতায় ‘জিনাই, সুতিয়া ও কাঁচামাটিয়া নদীর খননসহ আনুষঙ্গিক কাজ’ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে সম্পাদনের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন সমাজসেবা অধিদপ্তর বাস্তবায়নাধীন ‘এসএসপিরিট’ প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের জন্য সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে অ্যানড্রয়েড ট্যাব কেনার একটি প্রস্তাবও নীতিগতভাবে অনুমোদন করেছে কমিটি।

সভায় অনুমোদিত চারটি প্রস্তাবের মধ্যে তিনটি এলএনজি আমদানিসংক্রান্ত এবং অপর দু’টি প্রস্তাব নদী খনন ও ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে ট্যাব কেনা সংক্রান্ত বলে জানানো হয়।


দেশে ১২ দিনে ১৩ লাশ উদ্ধার

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগস্ট মাসের প্রথম ১২ দিনেই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ১৩ জনের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় জনমনে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ১ আগস্ট থেকে বুধবার (১২ আগস্ট) পর্যন্ত সিলেট, ঢাকা, চট্টগ্রাম, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে এসব মরদেহ পাওয়া যায়।

এগুলোর মধ্যে সিলেটের নিজ বাড়িতে তিনজনকে গলা কেটে হত্যা, রাজধানীর সবুজবাগে নারীর খণ্ডিত মাথা এবং মাদরাসার বদ্ধ কক্ষে শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাগুলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন তুলেছে। খুন, গুম, নদী বা নর্দমায় লাশ ফেলে দেওয়া থেকে শুরু করে দুর্ঘটনার শিকার—সব মিলিয়ে গত ১২ দিনের ১৩টি মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার

সিলেট নগরীর একটি বাসায় স্বামী-স্ত্রী ও কাজের মেয়ের গলা কাটা মরদেহ পাওয়া গেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাড়ি থেকে লাশগুলো উদ্ধার করা হয় বলে সিলেট মহানগর পুলিশের (উত্তর) উপকমিশনার মোহাম্মদ সাইফুল জানিয়েছেন। নিহতরা হলেন- ওই এলাকার বাসিন্দা আব্দুস সাত্তার (৯০), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও গৃহকর্মী তাহমিনা।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সিলেট মহানগর পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাড়ি থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, কোনো ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে।

তবে ঘটনাস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। ঘরের আলমারি ও ওয়ারড্রোব খোলা অবস্থায় পাওয়া গেছে। সেখান থেকে স্বর্ণালঙ্কার বা মূল্যবান জিনিসপত্র খোয়া গিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর পৌরসভার দারুল উলুম মাদরাসা থেকে মঙ্গলবার ১১ বছর বয়সি ছাত্র হুসাইন কাজীর (১১) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দাবি, শিশুটি পড়তে না চাওয়ায় জানালার গ্রিলের সাথে গামছা পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

তবে একটি শিশুর এমন মৃত্যুর পেছনে কর্তৃপক্ষের গাফিলতি বা অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা নিয়ে ব্যাপক সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মাদরাসার কক্ষের জানালার গ্রিলের সাথে হুসাইনের ফাঁস লাগানো মরদেহ পাওয়া যায়।

রক্তাক্ত নিরাপত্তাকর্মী

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় টাটা কোম্পানির একটি সার্ভিসিং সেন্টার থেকে মো. আব্দুর রহমান (৫৫) নামের এক নিরাপত্তাকর্মীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চব্বিশ টিউবওয়েল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, রাত ৮টার দিকে সার্ভিসিং সেন্টারের ভেতরে আব্দুর রহমানকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তারা। তার মাথায় ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। রহস্যজনক এই মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নদীতে ডুবে কলেজছাত্রের মৃত্যু

বগুড়ায় করতোয়া নদীতে বন্ধুদের সাথে ফুটবল খেলার পর গোসলে নেমে নিখোঁজ হন জয়নুল আবেদীন কলেজের শিক্ষার্থী মুহিব হাসান শ্রাবণ (১৯)। মঙ্গলবার রাতে আলো স্বল্পতার কারণে ডুবুরি দলের উদ্ধারকাজ বন্ধ থাকায় বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। আধুনিক উদ্ধার সরঞ্জামের অভাব নিয়ে স্থানীয়রা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিবন্ধী নারীর লাশ উদ্ধার

নিখোঁজ হওয়ার পর সোমবার ঝিনাইদহের শৈলকুপায় খালের ব্রিজের নিচ থেকে বুদ্ধি ও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নারী রঙ্গ খাতুনের (৩৫) মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। বিস্ময়করভাবে, ‘কোনো অভিযোগ না থাকার’ কারণ দেখিয়ে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশটি পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।

কর্ণফুলীতে বস্তাবন্দী নারী

চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর তীর থেকে গত ১ আগস্ট বস্তাবন্দী এক নারীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে সোমবার জুতো, পোশাক ও কানের দুল দেখে পরিবারের সদস্যরা লাশের পরিচয় নিশ্চিত করেন। নিহত জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮) পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। দ্বিতীয় স্বামীর সাথে বিরোধের জেরেই তাকে হত্যা করে নদীতে ভাসিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের অভিযোগ।

বুকে ছুরিবিদ্ধ প্রবাসী

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বিলে টর্চলাইটের আলোয় মাছ ধরতে গিয়ে শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে খুন হন দীর্ঘ দিন পর দেশে ফেরা সৌদি প্রবাসী জাকির হোসেন (৩০)। বুকে ছুরিবিদ্ধ অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে বলে স্থানীয়দের ধারণা। তিনি একই গ্রামের শিবলু মিয়ার ছেলে। দীর্ঘ দিন সৌদি আরবে থাকার পর প্রায় ছয় মাস আগে তিনি দেশে ফিরেলেন।

বন্ধ গোডাউনে গলিত লাশ

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় দীর্ঘদিনের বন্ধ একটি গোডাউন থেকে শনিবার এক ব্যক্তির গলিত ও দুর্গন্ধযুক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, ১০-১৫ দিন আগে তার মৃত্যু হয়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় ওই গোডাউনে চুরির সন্দেহে দুজনকে আটক করেছে পুলিশ।

চারতলার সিঁড়ির নিচে স্কুলছাত্র

ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পাওয়ার হাউস রোডে নিজ ভবনের নিচ তলা থেকে শুক্রবার রাতে ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র আনিসুর রহমানের (১৩) লাশ উদ্ধার করা হয়। জমিজমা বিরোধের জেরে পূর্ববর্তী এক হত্যা মামলায় তার বাবা আসামি হওয়ায় পরিবারটি সেখানে ভাড়া থাকত। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি দুর্ঘটনা, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষা করছে পুলিশ।

নারীর খণ্ডিত মাথা ও দুই হাত

রাজধানীর সবুজবাগ এলাকার একটি নর্দমা থেকে বৃহস্পতিবার এক নারীর খণ্ডিত মাথা ও বাহু থেকে বিচ্ছিন্ন দুই হাত উদ্ধার করা হয়। নিহতের চুলে সোনালি রং, হাতে ট্যাটু এবং কানে দুল থাকা সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত তার পরিচয় বা শরীরের বাকি অংশ উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শীতলক্ষ্যায় ভাসমান যুবক

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর পশ্চিম তীরে রোববার রাতে আনুমানিক ২৭ বছর বয়সি এক অজ্ঞাত যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এখন পর্যন্ত নিহত যুবকের নাম-পরিচয় বা মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।


২৩ পুলিশ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের উপমহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) ও অতিরিক্ত ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন ২৩ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও নতুন দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। বুধবার (১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা থেকে চারটি প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি ও পদায়নের আদেশ দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষর করেন। এতে বলা হয়, বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের এসব কর্মকর্তাকে তাদের নামের পাশে উল্লেখ করা পদ ও কর্মস্থলে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে ঢাকার হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি ফরিদা ইয়াসমিনকে বরিশাল রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মীর মোদ্‌দাছ্‌ছের হোসেনকে রাজশাহীর সারদা বিপিএতে অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) মোহাম্মদ শাহিনুর আলম খানকে ঢাকা এসবির পুলিশ সুপার (সুপারনিউমারারি অতিরিক্ত ডিআইজি) করা হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিমকে এপিবিএনের পুলিশ সুপার এবং পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানকে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এ ছাড়া এপিবিএনের পুলিশ সুপার দীপক জ্যোতি খীসাকে হাইওয়ে পুলিশের পুলিশ সুপার এবং র‍্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. ছালেহ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এদিকে পৃথক একটি প্রজ্ঞাপনে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার করা হয়েছে। গাজীপুরের বর্তমান পুলিশ সুপার মো. শরিফ উদ্দিনকে হাইওয়ে পুলিশে বদলি করা হয়েছে।

সিলেট রেঞ্জ ডিআইজির কার্যালয়ের পুলিশ সুপার মো. আমিরুল ইসলামকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মুন্সীকে হাইওয়ে পুলিশে এবং খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে এপিবিএনে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকার পুলিশ স্টাফ কলেজের পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুককে খুলনা জেলার পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

এ ছাড়া পৃথক আরও দুটি প্রজ্ঞাপনে ডিআইজি, উপপুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও বিশেষ পুলিশ সুপার পদমর্যাদার আরও ১০ কর্মকর্তাকে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এসব বদলি ও পদায়নের আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।


মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইনের খসড়া নিয়ে টিআইবির উদ্বেগ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অংশীজনদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশমালার মৌলিক বিষয়গুলো উপেক্ষা করে খসড়া জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০২৬ এবং খসড়া গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬ মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক নীতিগতভাবে অনুমোদিত হওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বুধবার (১২ আগস্ট) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ উদ্বেগ জানায়।

এতে বলা হয়, পতিত কর্তৃত্ববাদী শাসনামলের গুম-খুনসহ বর্বরোচিত ও বহুমুখী মানবাধিকার লঙ্ঘনের করুণ অভিজ্ঞতা থেকে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল এক্ষেত্রে মৌলিক বিষয়গুলোতে বাস্তবে কী শিক্ষা গ্রহণ করল, এমন প্রশ্নে উদ্বেগ প্রকাশ করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত খসড়া আইন দুইটিতে বেশকিছু ইতিবাচক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে মানবাধিকার কমিশন আইনের খসড়ার ওপর অংশীজনদের পক্ষ থেকে যেসব বিধানাবলী কমিশনের স্বাধীন ও কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে বলে সতর্ক করা হয়েছিল, সেই বিষয়গুলো বহাল রাখা হয়েছে। একইভাবে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের যে খসড়াটি অনুমোদিত হয়েছে, সেখানেও অংশীজনদের মতামত উপেক্ষা করে কর্তৃত্ববাদি আমলে এ অপরাধের সিংহভাগের জন্য যেসব সংস্থার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাস্তবে তাদের দায়মুক্তি সহায়ক ধারাগুলো বহাল রাখা হয়েছে।

বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ পাওয়া যায় শৃঙ্খলাবাহিনী হিসেবে সংজ্ঞায়িত সংস্থাগুলোর বিরুদ্ধে। অথচ মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত মানবাধিকার কমিশন আইনে ২০০৯ সালের আইনের ১৮-ধারা হুবহু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে শৃঙ্খলাবাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় কমিশনকে সরকার বা বাহিনী প্রধানের প্রতিবেদনের ওপর নির্ভরশীল করা হয়েছে। ২০০৯ সালের আইনের এ ধরনের দুর্বলতার কারণেই যেমন তাদের অপরাধের জবাবদিহিতায় বা প্রতিরোধে কমিশন কোনো ভূমিকা রাখতে পারেনি, তেমনই আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন কখনোই ‘এ’ ক্যাটাগরির স্ট্যাটাস অর্জন করতে পারেনি।

তিনি আরো বলেন, চেয়ারম‍্যান ও কমিশনার নিয়োগ বাছাই কমিটির সদস্য হিসেবে স্পিকার, আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সরকারদলীয় একজন সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে রাখা হয়েছে। এর বাইরে অন‍্য যে তিনজন সদস্য রাখার বিধান করা হয়েছে, বাস্তবে তাদের মধ‍্যে অন্তত দুজনের মনোনয়নও সরকারের হাতে রাখার ফলে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নিয়োগে সরকারের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিশ্চিতের মারাত্মক ঝুঁকির সৃষ্টি হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কমিশনের পাঁচ সদস্যের মধ্যে একজন নারী সদস্য রাখা এবং বাছাই কমিটিতে নারী প্রতিনিধিত্বের কোন‍ো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি, যা পুরুষতান্ত্রিক ও বৈষম্যমূলক। একইভাবে কমিশনে সংখ্যালঘু ও অন‍্যান‍্য সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের বিষয়টিতেও বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। অথচ আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসারে মানবাধিকার সুরক্ষা ও প্রসারে সম্পৃক্ত (নাগরিক সমাজের) সামাজিক শক্তিগুলোর বহুত্ববাদী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতে এদেশের নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে কমিশনের পাঁচজনের মধ্যে অন্তত দুজন নারী সদস্য এবং একজন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্য নিশ্চিতের দাবি উথাপন করা হয়েছিল।

বিবৃতিতে তিনি আরো বলেন, অনুমোদিত খসড়ায় কমিশনকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ উল্লেখ করা হলেও, প্রতিষ্ঠানটি যে সরকারের কোনো মন্ত্রণালয় বা বিভাগের আওতায় হবে না, তা পরিষ্কার করা হয়নি। দীর্ঘদিনের লালিত রাজনৈতিক-আমলাতান্ত্রিক সংস্কৃতির আলোকে যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন‍্যদিকে ঢাকার বাইরে কার্যালয় স্থাপন ও কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক কাঠামো নির্ধারণে সরকারের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা, ৩০ শতাংশ পর্যন্ত প্রেষণে সরকারি কর্মচারী নিয়োগের বিধান ও বিশেষ করে সরকারি কর্মচারী হিসেবে কর্মরত অবস্থায় প্রেষণে কমিশনার হিসেবে নিযুক্ত হওয়ার বিধান মানবাধিকার কমিশনকে কার্যত একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবে। এমন মানবাধিকার কমিশন কী রক্তক্ষয়ী জুলাই অভ্যুত্থানের অভীষ্ট! কিংবা সরকারি দলের ৩১-দফা বা নির্বাচনী ইশতাহারের সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী নয়?

বর্তমান সরকারের সময় প্রণীত প্রথম খসড়া মানবাধিকার কমিশন আইনে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনে অজুহাত অগ্রহণযোগ্য’ শীর্ষক একটি বিধান মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত খসড়ায় বাদ দেয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘আইন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রথম খসড়ার ইতিবাচক ধারা-১৪, যেখানে ‘কেবল সরকারি বা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বা নির্দেশ মোতাবেক’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার অজুহাত অগ্রহণযোগ্য বলা হয়েছিল, অনুমোদিত খসড়ায় বিধানটি বাদ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, যে সব স্থানে ব্যক্তি স্বাধীনতা হরণ বা সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, সেসব স্থান নিয়মিত এবং পূর্ব ঘোষণা ব্যতিরেকে পরিদর্শনে কমিশনের দায়িত্ব ও এখতিয়ার থেকে ‘সামরিক আটক কেন্দ্র’ বাদ দেয়া হয়েছে। এর কারণ কী? তাহলে কী আমরা ধরে নেব, আয়নাঘর বহাল রাখার ক্ষেত্রে সরকারের সমর্থন রয়েছে?

অনুমোদিত গুম প্রতিকার ও প্রতিরোধ আইনের খসড়া প্রসঙ্গে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলছেন, গুমের মতো একটি স্পর্শকাতর ও নির্দয় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয় তদন্তের দায়িত্ব সম্পূর্ণভাবে মানবাধিকার কমিশনের আওতা-বহির্ভূত রেখে এককভাবে পুলিশের হাতে ন্যস্ত করা হয়েছে। অথচ সরকার ও আমলাতন্ত্র খুব ভালো করেই জানেন যে গুমের অধিকাংশ ঘটনায় যাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে, তারা শৃঙ্খলা বাহিনীরই সদস্য। তা ছাড়া, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুমের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগের ক্ষেত্রে অধস্তন একজন তদন্তকারী কর্মকর্তাকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন প্রতিবেদন’ প্রস্তুত ও দাখিল করার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি, অধস্তনের এ প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্তোষজনক কোনো সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া না গেলে, এখতিয়ারসম্পন্ন ম্যাজিস্ট্রেট ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিকে কার্যধারা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আদেশ দিতে পারবেন, মর্মে যে বিধান যুক্ত করা হয়েছে, তা প্রভাবমুক্ত হবে, এমন আশা করা কতটুকু বাস্তব সম্মত? বিধানটি কি আদৌ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকারে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, নাকি বাস্তবে গুমের অপরাধের বিচারহীনতা নিশ্চিত করবে?

বিবৃতিতে বলা হয়, অনুমোদিত খসড়ায় গুমের সংজ্ঞায় জনপ্রতিনিধি, মন্ত্রী বা রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গের সম্পৃক্ততাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অর্থাৎ বাংলাদেশের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গুমের সংজ্ঞায়ন হয়নি। তা ছাড়া, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় প্রণীত গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ মানবাধিকার কমিশনের কার্যাবলীর অংশ হিসেবে আটকসম্পর্কিত রক্ষাকবচসমূহের প্রতিপালন পর্যবেক্ষণ, কারাগার, হাজতখানা আটককেন্দ্রসহ যে কোনো স্থান ও স্থাপনা সরেজমিন পরিদর্শন, গোপন আটককেন্দ্র শনাক্ত করার উদ্দেশ্যে যেকোনো স্থাপনা পরিদর্শন ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রভৃতি প্রাধিকারের বিষয় উল্লেখ করা হলেও, মন্ত্রিপরিষদ অনুমোদিত খসড়ায় এ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

এতে আরো বলা হয়, সরকারি ও বিরোধীদলসহ দেশের আপামর জনগণের উল্লেখযোগ্য অংশ একটি স্বাধীন ও কার্যকর মানবাধিকার কমিশনের অভাব এবং গুম প্রতিরোধে কোনো আইনি রক্ষাকবচ না থাকার কারণে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, তার ভুক্তভোগী। তাই জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনায় মানবাধিকার, জবাবদিহি ও ন্যায়বিচার-ভিত্তিক রাষ্ট্রসংস্কারের অভীষ্ট এবং ক্ষমতাসীন দলের ৩১-দফা ও নির্বাচনী অঙ্গীকারের প্রতি শ্রদ্ধাবোধের প্রতিফলন ঘটিয়ে খসড়া আইন দুইটি সংসদে পাশের জন্য উত্থাপনের আগে পুনরায় ভুক্তভোগী ও অংশীজনদের মতামতের আলোকে ঢেলে সাজাবার দাবি জানাচ্ছে টিআইবি।


বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তায় বহিঃনোঙ্গরে কঠোর অভিযান

 অবৈধ জাল ফেলায় ২৪ জনের কারাদণ্ড
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে অবস্থানরত পণ্যবাহী জাহাজে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বিশেষ করে গম অবৈধভাবে মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা জাহাজকে ‘ভাসমান গুদাম’ হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা ঠেকাতে যৌথ অভিযান চালিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ নৌবাহিনী ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

বুধবার (১২ আগস্ট) কর্ণফুলী চ্যানেল ও বহির্নোঙর এলাকায় এ বিশেষ যৌথ অভিযানে ৫০টির অধিক ফিশিং বোট তল্লাশি করা হয়। এসময় অবৈধ জাল ফেলানোর অভিযোগে ২৪ জনের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের সমুদ্র বন্দর, উপকূলীয় ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে গতকাল সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গরে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

অভিযানে কোস্ট গার্ডের টহলরত জাহাজ বিসিজিএস সোনাদিয়া, উচ্চগতিসম্পন্ন একাধিক বোট এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের দিশারী-৭ অংশগ্রহণ করে। এসময় কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনীর আভিযানিক দল এবং বন্দর ম্যাজিস্ট্রেট উপস্থিত ছিলেন।

অভিযানকালে চট্টগ্রাম বহিঃনোঙ্গর ও কর্ণফুলী চ্যানেলে বাণিজ্যিক জাহাজ ও লাইটারের নিরাপদ চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং বাণিজ্যিক জাহাজে ছিঁচকে চুরি প্রতিরোধে বহিঃনোঙ্গরে অবস্থানরত ফিশিং বোট ও অবৈধভাবে স্থাপন করা বিভিন্ন ধরনের জাল শনাক্ত করে অপসারণ করা হয়। এসব অবৈধ জালের কারণে নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এসময় বহিঃনোঙ্গরে অবৈধভাবে অবস্থানরত ৫০টির অধিক ফিশিং বোট তল্লাশি করে সর্বমোট ২৪ জন জেলেকে আটক করা হয় এবং আটককৃত ব্যক্তিদের বন্দর ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ৩০ দিন করে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর ও এর বহিঃনোঙ্গরে দেশি-বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজ ও লাইটারের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত, সামুদ্রিক বাণিজ্য ও নৌপথ সচল রাখা এবং ছিঁচকে চুরি ও অবৈধ জাল স্থাপনসহ যেকোনো অপতৎপরতা প্রতিরোধে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।


কুমিল্লায় গ্যাস সংকটে রাত জেগে রান্না, ভোগান্তিতে আবাসিক গ্রাহকরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কুমিল্লায় তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকরা। গত এক সপ্তাহ ধরে রাতে স্বল্প সময়ের জন্য গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলেও বুধবার (১২ আগস্ট) দিনভর অনেক এলাকায় গ্যাসের দেখা মেলেনি। এতে রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ খোলা জায়গায় ইট দিয়ে চুলা বানিয়ে রান্না করেছেন, আবার কেউ খাবারের জন্য ছুটেছেন হোটেলে। গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে হোটেল-রেস্তোরাঁয়ও।

নগরীর ঝাউতলা এলাকার গৃহিণী সুরাইয়া সুলতানা বলেন, ‘গেল এক সপ্তাহ ধরে রাতে গ্যাস আসত। রাত জেগে রান্নাবান্নার কাজ করতাম। আজ সারাদিন গ্যাস ছিল না। বাধ্য হয়ে বাসার পাশে খোলা জায়গায় ইট দিয়ে চুলা বানিয়ে রান্না করেছি। অথচ আমাদের কোনো নোটিশও করা হয়নি।’

ব্যাংকার ইফফাতুল চৌধুরী বলেন, ‘গ্যাস না থাকায় সকালে হোটেল থেকে পরোটা-সবজি এনে সবাই খেয়েছি। দুপুরে বাসায় ফিরতে পারিনি। সন্ধ্যার মধ্যে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে মাটির চুলায় রান্না করতে হবে। দুপুরে হোটেলে দীর্ঘ লাইন থাকায় খাবার কিনে আনাও সম্ভব হয়নি।’

গ্যাস সংকটের কারণে নগরীর খাবার হোটেলগুলোতেও বেড়েছে চাপ। ফৌজদারি এলাকার খাবার হোটেলের মালিক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় আজ গ্রাহক বেড়েছে। বিশেষ করে ভাত ও রান্না করা তরকারি বেশি বিক্রি হয়েছে।’

এদিকে গ্যাস সংকটের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিডিসিএল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে এলএনজি টার্মিনাল (FSRU) থেকে এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় পর্যায়ে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ অস্বাভাবিকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ফলে দেশের অন্যান্য এলাকার মতো বিজিডিসিএলের বিতরণ এলাকাতেও গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।

বিজিডিসিএলের আওতাধীন কুমিল্লা, নোয়াখালী, চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় এ সংকটের প্রভাব পড়েছে। গ্যাসের সাময়িক স্বল্পতার জন্য গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় গ্রাহকদের সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ।

গ্যাস সরবরাহ ও অভিযোগের বিষয়ে বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের হটলাইন ১৬৫১৩ নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয় গ্রাহকদের অভিযোগ, হঠাৎ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন পরিবারে রান্নার দায়িত্বে থাকা মানুষ। অনেকেই বিকল্প জ্বালানি দিয়ে রান্না করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচ ও বিড়ম্বনায় পড়ছেন। দীর্ঘস্থায়ী এ সংকট দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।


লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে রেললাইনে ঘুম, ট্রেনে কাটা পড়ে ২ যুবকের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলায় ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে রেললাইনে গিয়ে ঘুমানোর সময় ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে দুই যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার মহেশপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন রেললাইনে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকেরা হলেন— কাশিয়ানী উপজেলার মহেশপুর ইউনিয়নের বায়ৈখোলা গ্রামের শাহ আলম গাজীর ছেলে হাসিব গাজী (২০) এবং নোয়াপাড়া গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে মেহেদী শেখ (২৫)।

রাজবাড়ি রেলওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুর্ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, ওই রাতে এলাকায় তীব্র তাপদাহের মধ্যে বারবার লোডশেডিংয়ের কারণে অতিষ্ঠ হয়ে ওই দুই যুবক ঘর থেকে বের হয়ে মহেশপুর রেলস্টেশনের কাছে নির্জন রেললাইনের উপর ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।

তিনি জানান, ক্লান্তিতে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকায় তাঁরা ট্রেনের আসার শব্দ বুঝতে পারেননি। হঠাৎ খুলনাগামী আন্তঃনগর ট্রেন জাহানাবাদ এক্সপ্রেস ওই এলাকায় পৌঁছালে ঘুমন্ত দুই যুবকের উপর দিয়ে চলে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তাদের দুজনের মৃত্যু হয়।

খবর পেয়ে ভাঙ্গা রেলওয়ে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে ওসি জানান।


লোডশেডিংয়ে জনমনে ক্ষোভ, নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং প্রেক্ষিতে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা ও ভাঙচুরের তথ্য তুলে ধরে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশকে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন।

বুধবার (১২ আগস্ট) সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক মাহবুবুর রহমান স্বাক্ষরিত চিঠিটি পুলিশের মহাপরিদর্শক-আইজিপির কাছে পাঠানো হয়। পল্লী বিদ্যুতের একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে চিঠিটি পাঠানোর কথা বলেছেন।

পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশনের চিঠিতে বলা হয়, জ্বালানি সংকট ও তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে না। ফলে সরবরাহ কমেছে। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত লোডশেডিং হচ্ছে। এতে এসব এলাকায় ‘জনরোষ বৃদ্ধি পাচ্ছে’।

কিছু এলাকায় বিদ্যুতের উপকেন্দ্র ও কার্যালয় হামলার শিকার হচ্ছে বলেও চিঠিতে বলা হয়েছে।

গত কয়েক দিনে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সম্মিলিত গড় চাহিদা ছিল প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজার মেগাওয়াট। এর বিপরীতে গড়ে ৫ থেকে ৬ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে বলে চিঠিতে তুলে ধরা হয়েছে।

এর ফলে কোনো কোনো এলাকায় দিনে ৮ ঘণ্টা, ১০ ঘণ্টা এমনকি ১২ ঘণ্টাও লোডশেডিং হচ্ছে। এতে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের কারণে বিভিন্ন এলাকায় সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুর করছে।

এতে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কে রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন গ্রিড, উপকেন্দ্র ও কার্যালয়ে নিরাপত্তা জোরদার করতে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে আইজিপিকে।

চলমান বিদ্যুৎ সংকটের জন্য গ্যাসের ঘাটতিকে অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এদিন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়া গেলে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো প্রয়োজন অনুযায়ী উৎপাদন করতে পারে না।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বঙ্গোপসাগরের বৈরী পরিস্থিতির কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে নতুন এলএনজি খালাস করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে দুর্ঘটনার পর এক্সেলারেট এনার্জির এলএনজি টার্মিনালও এখনও পুরো সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন, এক্সেলারেট টার্মিনাল থেকে আমরা এখনো ফুল ক্যাপাসিটিতে কাজ করতে পারছি না। দেশি উৎপাদন রাতারাতি বাড়ানো সম্ভব না। এটা আপনারা জানেন। একটা দীর্ঘমেয়াদি একটা ব্যাপার।


‘সমকামিতার’ অভিযোগে ঢাবির দুই শিক্ষার্থীর সিট বাতিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুইজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে ‘সমকামিতার’অভিযোগ ওঠার পর তাদের আবাসিক হলের সিট বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে তারা ওই দুই শিক্ষার্থীর সিট বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে আরও কী পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেটি এখন পর্যালোচনা করছে বলেও জানা গেছে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় বিধিমালায় এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কিছু নেই বলে কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়েছিল।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিককালে আরও দুটি হলে দুজন অতিথির বিরুদ্ধে সমকামিতার অভিযোগ ব্যাপকভাবে আলোচনায় এসেছিল।

এর মধ্যে একটি হলে একজন শিক্ষার্থী সমকামিতার জন্য বহিরাগত এনেছেন- এমন অভিযোগ ওঠে। আর অন্য ঘটনায় হল ছাত্র সংসদের একজন নেতা ও একজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে সমকামিতায় জড়ানোর অভিযোগ ওঠেছিল। পরে হল প্রশাসন হল সংসদের নেতার সিট সাময়িক বাতিল করেছিল। যদিও তিনি এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।


শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে হাইকোর্ট বিভাগের ৫ কর্মচারী বরখাস্ত

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের পাঁচ কর্মচারীকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার দায়ে এক বেঞ্চ অফিসারের বেতন স্থগিত করা হয়েছে।

সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন পৃথক পৃথক অফিস আদেশ জারির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়ন করে।

অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ৯ নভেম্বর থেকে টানা অনুপস্থিত থাকার দায়ে প্রথম আপিল শাখায় কর্মরত অফিস সহকারী মো. আকরাম হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

গত রোববার ৯ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকীর স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

এদিকে, বিভাগীয় মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চার এমএলএসএস মো. আসাদুজ্জামান, মো. মেহেদী হাসান, মো. ফিরোজ মিয়া ও মোছা. রুক্ষুন নিশাকে চাকরি থেকে স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করে সংশ্লিষ্ট মামলা নিষ্পত্তি করা হয়েছে। গত ৪ আগস্ট এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করা হয়।

এ ছাড়া যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমিত ব্যতিরেখে কর্মস্থলের অনুপস্থিত থাকার কারণে হাইকোর্ট বিভাগে কর্মরত বেঞ্চ অফিসার মো. জামাল হোসেন প্রধানের বেতন বন্ধের অফিস আদেশ জারি করা হয়। গত ২৬ জুলাই এ আদেশ জারি করা হয়।


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রূপান্তরের যুগে তরুণরাই সভ্যতার মূল শক্তি: তথ্যমন্ত্রী

রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির যুগে তরুণ সমাজই নতুন সভ্যতার মূল চালিকাশক্তি। এ কথা বলেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

তিনি বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) আবির্ভাবসহ চলমান নতুন ইকোসিস্টেমে প্রতিদিন যে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে, পুরোনো দিনের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় তা মোকাবিলা করা কঠিন। তাই তরুণদের হাতে সঠিক জ্ঞান ও দক্ষতা তুলে দেওয়া প্রতিটি রাষ্ট্রের কর্তব্য।’

বুধবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ‘আন্তর্জাতিক যুব দিবস ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

‘২০২৬- ডিফরেন্ট কনটেক্সটস, কমন অ্যাসপিরেশনস’প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে দিবসটি উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নয়ন মানব সভ্যতার জন্য যেমন এক বড় আশীর্বাদ, তেমনি এটি নিয়ে এসেছে সম্পূর্ণ নতুন কিছু চ্যালেঞ্জ। প্রযুক্তি ও জ্ঞানের বিবর্তন এত দ্রুত ঘটছে যে আগামীকালের পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে তা আগে থেকে ধারণা করা মুশকিল।’

তিনি বলেন, ‘জ্ঞান এখন আর নির্দিষ্ট বা স্থির কোনো বিষয় নয়, তা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল। পুরনো প্রজন্মকে অনুধাবন করতে হবে— এই নতুন ইকোসিস্টেমে মানিয়ে নেওয়ার জৈবিক ও সহজাত সক্ষমতা তরুণ প্রজন্মের মধ্যেই সবচেয়ে বেশি।’

তরুণদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘কর্মসংস্থান, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো পুরোনো সমস্যার সাথে প্রযুক্তিভিত্তিক নানা নতুন সংকট যুক্ত হচ্ছে। তবে তরুণদের এই নতুন প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান দেওয়ার উপযুক্ত প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা এখনো বৈশ্বিকভাবে পূর্ণাঙ্গ রূপ পায়নি। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে তরুণদের কেন্দ্র করে এই নতুন জ্ঞানের রূপান্তর ও দক্ষতা অর্জনের প্রক্রিয়ায় মূল নজর দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপে প্রমাণ করেছেন যে তিনি তরুণ সমাজের সক্ষমতার ওপর পূর্ণ আস্থা রাখেন। ক্রীড়ার প্রসার, সৃজনশীলতার বিকাশ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনের আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের সম্পৃক্ত করতে সরকার ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।’

অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বিদেশি অতিথিবৃন্দ এবং ফরেন সার্ভিস একাডেমির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দসহ তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার যুব প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে আলোকসজ্জা ও ৮টায় শপিংমল বন্ধে সরকারের নির্দেশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে শপিংমল, মার্কেট ও দোকানপাট রাত ৮টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে সব ধরনের আলোকিত বিলবোর্ড বন্ধ এবং আলোকসজ্জা পুরোপুরি বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে।

বুধবার (১২ আগস্ট) বিদ্যুৎ বিভাগের সমন্বয়-২ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়।

এতে বলা হয়, ১২ আগস্ট থেকে দেশের বিভিন্ন শপিংমল, মার্কেট ও দোকান সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। এর আগে গত ১১ জুন থেকে এসব প্রতিষ্ঠান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্ত ছিল।

বিদ্যুৎ বিভাগের উপসচিব মো. মামুন ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান ও অনুষ্ঠেয় মেলা, বাণিজ্য মেলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও একই সময়সীমা প্রযোজ্য হবে। এসব অনুষ্ঠান রাত ৮টার মধ্যে শেষ করতে হবে।

তবে খাবারের দোকান, হাসপাতাল ও ওষুধের দোকান এ নির্দেশনার আওতামুক্ত থাকবে।

নির্দেশনায় দেশের সব সিটি করপোরেশনের মেয়র বা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

এ ছাড়া বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ডিপিডিসি, ডেসকো, ওজোপাডিকো ও নেসকোসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের আগের নির্দেশনায় শপিংমল, মার্কেট ও দোকান রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা রাখার সুযোগ ছিল। নতুন সিদ্ধান্তে সেই সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে রাত ৮টা করা হলো। পাশাপাশি বিলবোর্ড ও আলোকসজ্জা বন্ধের সময়সীমাও নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।


banner close