শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬
২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরেই দেশের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হবে: মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি । সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবার আগে বাংলাদেশকে বুকে ধারণ করে কাজ করছেন। আমরা চাই এই দেশটি উন্নত হোক, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হোক। দেশের উন্নয়ন হলে সবার উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত ধরেই আমরা দেশের উন্নয়ন করব, মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটাব।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার চরজানাজাত ইলিয়াস আহমেদ চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ উপলক্ষে সচেতনতা সভা ও জেলে পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিবচর উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মৎস্য অফিস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ আমাদের জাতীয় সম্পদ ও জিআই পণ্য। ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। যেকোনো মূল্যেই হোক নিষেধাজ্ঞার সময়ে ইলিশ ধরা বন্ধ করতে হবে। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) থেকে আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও বিক্রি নিষিদ্ধ রয়েছে। এ সময়ে কেউ যাতে নদীতে ইলিশ ধরতে না পারে, সেজন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘মাদারীপুর ইলিশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এই পদ্মা নদীতে সুস্বাদু রূপালি ইলিশ পাওয়া যায়। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে এর সুফল সবচেয়ে বেশি পাবেন জেলেরাই। তাই মাত্র ২২ দিনের এই কষ্টকে ভবিষ্যতের সম্পদ হিসেবে দেখতে হবে। ২২ দিন ইলিশ ধরা বন্ধ রাখলে ইলিশের উৎপাদন বাড়বে এবং এর মাধ্যমে জেলেদের আয় ও সম্পদের পরিমাণও বাড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জলাশয় উন্মুক্ত থাকবে, ‘জাল যার, জলা তার’। আমরা জেলেদের পাশে আছি এবং তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকার কাজ করছে। নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলে পরিবারগুলোর খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করতে সরকার ভিজিএফের চাল বিতরণ করছে।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইলিশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব। সম্মিলিতভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করতে পারলে ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে এবং জেলেরা দীর্ঘমেয়াদে এর সুফল ভোগ করবেন।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মিস মর্জিনা আক্তার। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ উদ্দিন আহমাদ হানজালা।

বিশেষ অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. ফজলে এলাহী, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো. আহসান হাবীব খান এবং জেলা মৎস্য কর্মকর্তা প্রশান্ত কুমার সরকার। এ সময় শিবচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ. এম. ইবনে মিজান, বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ জেলে ও ভিজিএফের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ১৫১ জেলে পরিবারের প্রত্যেককে ২৫ কেজি করে সরকারি সহায়তার ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়।


নির্বাচিত

দুই দিনের মাথায় ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানার উৎপাদন

ছবি: জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে যমুনা সার কারখানা।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জামালপুর প্রতিনিধি

গ্যাস সংকটে আট মাস বন্ধ থাকার পর উৎপাদনে ফেরার দুই দিনের মাথায় যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে জামালপুরের সরিষাবাড়ীর যমুনা সার কারখানায় ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। বয়লারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল থেকে কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন।

কারখানা সূত্রে জানা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে কারখানাটিতে উৎপাদন বন্ধ ছিল। ২০ সেপ্টেম্বর গ্যাস সরবরাহ শুরু হলেও চাপ কম থাকায় উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে গ্যাসের চাপ বাড়লে গত সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে ইউরিয়া উৎপাদন শুরু হয়। এর দুই দিনের মাথায় বুধবার (৭ অক্টোবর) বয়লারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

যমুনা সার কারখানার উপমহাব্যাবস্থাপক (প্রশাসন) দেলোয়ার হোসেন জানান, বয়লার প্ল্যান্টের ত্রুটি মেরামতে কাজ চলছে। ত্রুটি সারিয়ে দুই দিনের মধ্যে উৎপাদন শুরু হতে পারে।

কারখানার উৎপাদন শাখার বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক রতন বলেন, ‘দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর কারখানা চালু হওয়ায় শুরুতে কিছু যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। বয়লারের ত্রুটি মেরামতের কাজ চলছে। শুক্রবারের মধ্যে মেরামত করে উৎপাদন শুরুর চেষ্টা চলছে।’

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত যমুনা সার কারখানায় ১৯৯১ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। গ্যাসসংকট ও বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত দীর্ঘ ২৩ মাস বন্ধ থাকে যমুনা সার কারখানা। পরে গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন শুরু হয়। তবে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে আবারও যমুনা সার কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। দৈনিক ১৭০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন যমুনা সার কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ২০ সেপ্টেম্বর দুপুরে গ্যাসসংযোগ দেওয়া হয় সার কারখানায়। সকল প্রস্তুতি শেষে গত সোমবার ভোররাতে আবারও সার উৎপাদন শুরু করেছিল কারখানা কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

আতঙ্কের অভয়ারণ্য থেকে বদলাচ্ছে জঙ্গল সলিমপুর

* ৩০০ একরে সারদার আদলে পুলিশ একাডেমি * ৭২ একরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার * স্থায়ী ঘাঁটি হবে পুলিশ-বিজিবি-এপিবিএন ও এসআরবির * রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে হচ্ছে দুই সেনাক্যাম্প
ছবি: জঙ্গল সলিমপুর।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একসময় সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরের চেহারা বদলে দিতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। দুর্গম পাহাড়ি এ এলাকায় এবার রাজশাহীর সারদার আদলে আধুনিক পুলিশ একাডেমি গড়ে তোলা হবে। প্রায় ৩০০ একর জায়গায় একাডেমি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ৭২ একর জমিতে স্থানান্তর করা হবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার। একই সঙ্গে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) ও স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের জন্যও জায়গা নেওয়া হয়েছে।

সরকারের লক্ষ্য, একসময়ের ‘সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য’ হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুরকে আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসন ও পরিকল্পিত উন্নয়নের স্থায়ী কাঠামোর আওতায় আনা। সরকারি খাসজমি উদ্ধার, অবৈধ বসতি পুনর্বাসন, সড়ক যোগাযোগ উন্নয়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি—সবকিছুকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে জঙ্গল সলিমপুরের অবকাঠামো উন্নয়নসংক্রান্ত সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

৩০০ একরে পুলিশ একাডেমি: সরকারের অন্যতম বড় পরিকল্পনা প্রায় ৩০০ একর জায়গায় সারদার আদলে একটি আধুনিক পুলিশ একাডেমি প্রতিষ্ঠা। সেখানে পুলিশের প্রশিক্ষণ ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

এর পাশাপাশি জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি, এপিবিএন ও এসআরবির জন্য জায়গা নেওয়া হয়েছে। এসব জায়গায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীর স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এসব উদ্যোগের মাধ্যমে জঙ্গল সলিমপুরে স্থায়ীভাবে সুশাসন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।’

৭২ একরে যাবে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার: জঙ্গল সলিমপুরে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার স্থানান্তরের জন্য ইতোমধ্যে ৭২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমান কারাগারের পরিবর্তে নতুন স্থানে আধুনিক কারা অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

পুলিশ একাডেমি, কারাগার এবং একাধিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনা একই এলাকায় গড়ে উঠলে জঙ্গল সলিমপুরের প্রশাসনিক ও কৌশলগত গুরুত্বও বাড়বে।

সরকারি জমি উদ্ধারে জোর: জঙ্গল সলিমপুরের বিভিন্ন মৌজায় থাকা সরকারি পাহাড় ও খাসজমি সুশাসনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

দীর্ঘদিন ধরে সেখানে যারা অবৈধভাবে বসতি স্থাপন করেছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে। মন্ত্রী বলেন, ‘কীভাবে এসব মানুষকে নিয়মতান্ত্রিকভাবে পুনর্বাসন করা যায়, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এলাকায় থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।’

দুর্গমতা কাটাতে সড়ক নির্মাণ: জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম ভূপ্রকৃতি প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা কার্যক্রমের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন বড় বাধা ছিল। সেই বাধা কাটাতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়নের (ইসিবি) নেতৃত্বে সড়ক নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ চলছে।

নির্মাণাধীন সড়কগুলো বায়েজিদ লিংক রোড, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এবং চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করবে। ফলে ওই এলাকায় মানুষের চলাচলের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত প্রবেশের সুযোগ তৈরি হবে।

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে দুই সেনাক্যাম্প: এদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পসংলগ্ন পাহাড়ি এলাকায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঠেকাতেও নিরাপত্তা জোরদারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রঙ্গিখালী ও নোয়াখালীপাড়ায় দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপন করা হবে। রামুর ১০ ইনফ্যান্ট্রি ডিভিশনের নেতৃত্বে ক্যাম্প দুটি পরিচালিত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘পাহাড়ি এলাকায় নিয়মিত অপহরণের ঘটনা ঘটছে। এসব অপরাধ বন্ধে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ অনুযায়ী দুটি সেনাক্যাম্প স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ক্যাম্পে বাড়বে নজরদারি: রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তা ও অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ক্যাম্পের বাইরের ক্ষতিগ্রস্ত কাঁটাতারের বেড়া পুনর্নির্মাণের পাশাপাশি সোলার লাইট স্থাপন, সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো এবং ওয়াচ টাওয়ার ও কন্ট্রোল টাওয়ার নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব অবকাঠামোর মাধ্যমে ক্যাম্পের প্রবেশপথ, আশপাশের পাহাড়ি এলাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নজরদারি বাড়ানো হবে।

অপরাধ দমনে যৌথ অভিযান: ক্যাম্পের ভেতরে মাদক কারবার, অনলাইন জুয়া, মানবপাচার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা বন্ধে এপিবিএনের নেতৃত্বে সমন্বিত যৌথ অভিযান জোরদার করা হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

অপরাধের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মামলার তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এপিবিএনে কর্মরত প্রায় ৪০০ উপপরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার কর্মকর্তাকে মামলার তদন্তভার দেওয়ার আইনি এখতিয়ার প্রদান করা হয়েছে। সরকারের মতে, এর ফলে ক্যাম্পের অপরাধ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে গতি আসবে।

তবে জরুরি পরিস্থিতিতে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তায় নিরাপত্তা জোরদারের বিদ্যমান ব্যবস্থা বহাল থাকবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের নেতৃত্বে নির্ধারিত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) অনুযায়ী প্রয়োজন হলে নিরাপত্তা জোরদার করা হবে।

নিরাপত্তার পাশাপাশি পরিবেশ ও পর্যটন: জঙ্গল সলিমপুরকে ঘিরে সরকারের পরিকল্পনা শুধু নিরাপত্তা অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়। পরিবেশ সংরক্ষণ ও পর্যটনের বিষয়টিও পরিকল্পনায় রাখা হয়েছে। প্রায় ৪০ একর জায়গায় নাইট সাফারি পার্ক ও পাখির অভয়াশ্রম গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে সরকারি জমি উদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকাটিকে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়নের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যে জায়গা একসময় সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য ছিল, সেটিকে সুশাসন ও শৃঙ্খলার মধ্যে নিয়ে আসা হবে। আর সেই লক্ষ্যেই জঙ্গল সলিমপুরে একদিকে তৈরি হচ্ছে পুলিশ একাডেমি, কারাগার ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর স্থায়ী অবকাঠামো, অন্যদিকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘিরে জোরদার করা হচ্ছে সেনা ও পুলিশের নিরাপত্তা কাঠামো।’


নির্বাচিত

রূপগঞ্জের বিলে কচুরিপানা, ভরাটে ধ্বংস দেশি মাছের ‘আঁতুড়ঘর’

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

কচুরিপানায় ঢাকা রূপগঞ্জের খাল বিল। পুকুরগুলোতে সারা বছর পানি থাকত, সেই পানিতে ঘুরে বেড়াত বোয়াল, আইড়, চিতল, রুই, কাতলাসহ দেশি নানা প্রজাতির মাছ। আবাসন কোম্পানি বালি ফেলে মাছের প্রজনন ক্ষেত্র খাল বিল পুকুরগুলো ভরাট করে ফেলেছে। রূপগঞ্জের মাছের সুখ্যাতি ছিল মেরাদিয়া, বনশ্রী, রামপুরা, মাদারটেক, বাসাবো, নন্দীপাড়া, ডেমড়া, স্টাফ কোয়ার্টারসহ রাজধানীর আশপাশের এলাকাগুলোতে।

সরেজমিনে উপজেলার নগরপাড়া বিলে গিয়ে দেখা যায়, গোটা বিল কচুরিপানায় ঢাকা। একসময় বিলটি ছিল দেশি মাছের গুরুত্বপূর্ণ প্রজননস্থল। রূপগঞ্জের মাছ ছড়িয়ে পড়ত বিস্তীর্ণ এলাকায়। একই সঙ্গে এটি ছিল জেলেদের জীবিকার অন্যতম উৎস। দখল ও ভরাটে সেই জলাধার হারিয়ে গেছে। নদী শুকালেও এসব বিলে পানি থাকত।

আগরপাড়ার বাসিন্দা ছমিরুন খাতুনের (৬৫) স্মৃতিতেও ভেসে আছে সেসব দিন। তিনি বলেন, ‘আশপাশের মানুষ বিলের পানি ব্যবহার করতেন।’ ছোটবেলায় তিনি দেখেছেন, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পানিতে এসে পূজা করতেন।

স্থানীয় আবুল হোসেন (৬৫) ও সঞ্জিবন সরকার (৬৬) বলেন, ‘খাল-বিলগুলোতে এখন বালু আর কচুরিপানার বিস্তার। পানির সেই গভীরতা নেই, নেই মাছের ঝাঁক ও জেলেদের ব্যস্ততা।’

বিলের ওপর বাঁধ দিয়ে চলাচলের পথ তৈরি করা হয়েছে। ফুরিয়েছে মাছ, ফুরিয়েছে আয়। একসময় জেলেরা মাছ ধরে জীবন-জীবিকা চালাতেন জানিয়ে ব্যবসায়ী জাহিদুর রহমান (৫৭) বলেন, ‘ভরাট আর দখলে দেশি প্রজাতির মাছও আর আগের মতো দেখা যায় না।’

মশুরী এলাকায় বসবাস করে কয়েকটি জেলে পরিবার। তাদের একজন মানিক সরকার (৫০)। একসময় মাছ ছিল তাদের আয়-রোজগারের বড় উৎস। তিনি বলেন, ‘নদীর পশ্চিম পাশে বালু ফেলে সব ভরাট করে ফেলেছে। এখন পানিও নেই, মাছও নেই, জেলেদের সেই আয়ও নেই।’

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, একটি বিল হারিয়ে যাওয়ার অর্থ শুধু একটি জলাধার হারিয়ে যাওয়া নয়, এর সঙ্গে হারিয়েছে দেশি মাছের প্রজনন ও আবাসস্থল, জেলেদের জীবিকার একটি উৎস এবং এলাকার পুরোনো সামাজিক ও ধর্মীয় ঐতিহ্যের একটি অংশ। বিল ও জলাভূমি রক্ষা করা গেলে জীববৈচিত্র্যও ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে কথা হয় উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা ফিরোজ আহমেদ মৃধার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘খাল-বিল ভরাট করে ফেললে তো মাছের প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হবেই। মাছের উৎপাদন কমে যাবে। জেলেদের আয় রোজগার কমে যাবে। মৎসজীবীরা বেকার হবে। জলাশয় রক্ষা করতে হবে। তা না হলে একসময় রূপগঞ্জ থেকে দেশি জাতের মাছ হারিয়েই যাবে।’


নির্বাচিত

চুরি যাওয়া ল্যাপটপ-ক্যামেরা উদ্ধারে রেলওয়ে পুলিশ-র‍্যাবের অভিযান

ছবি: জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

‘কাজটি কঠিন, তবে আমার মনে হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।’ নাটোর রেলস্টেশন থেকে চুরি যাওয়া নিজের ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরার খোঁজে রাজশাহীতে এসে বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তবে বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত তার চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ।

ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ‘গত বুধবার (৭ অক্টোবর) নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য এটিএম বুথে টাকা তুলতে যাচ্ছিলেন তিনি। তখন নিজের জিনিসপত্র একজনের কাছে রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে ট্রেনের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন। পরে জানতে পারেন, তিনি রেলওয়ের কর্মকর্তা নন। টাকা তুলে ফিরে এসে দেখেন, ওই ব্যক্তি ও তার জিনিসপত্র—দুটিই নেই। ব্যাগে তার ম্যাকবুক ও ক্যামেরা ছিল।’

ঘটনার পর নাটোরে থানায় গিয়ে বিষয়টি জানান তিনি। ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন। ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, ‘সর্বশেষ পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। গত কয়েক ঘণ্টা ধরে আমরা নিশ্চিত কোনো অবস্থান শনাক্ত করতে পারিনি। তবে আশা করছি, আমরা আমার জিনিসপত্রের অবস্থান খুঁজে পাব।’

ল্যাপটপে কোনো পাসপোর্ট ছিল না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তার পাসপোর্ট ও মুঠোফোন তার কাছেই আছে। তবে ল্যাপটপে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ডেটা রয়েছে। বাংলাদেশে এটাই তার প্রথম সফর।’ পুলিশ তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছে বলেও জানান তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল আড়াইটা পর্যন্ত রাজশাহী রেলওয়ে থানায় ছিলেন ক্রিল ল্যান্ডার। গত বুধবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের একটি হোটেলে তার থাকার ব্যবস্থা করে পুলিশ। তাকে খাবারও সরবরাহ করছে পুলিশ।

রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ‘গত বুধবার নাটোর রেলস্টেশনে ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় জিডি করেন ওই পর্যটক। বিষয়টি নিয়ে নাটোর জেলা পুলিশ ও সান্তাহার জিআরপি কাজ শুরু করে। পরে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।’

ওসি বলেন, ‘প্রথমে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় দেখা যায়। পরে রাত ১১টার দিকে পর্যটক রাজশাহীতে আসেন। তখন ল্যাপটপটির অবস্থান মহিলা কলেজের আশপাশে দেখা যায়। এরপর রেলওয়ে পুলিশ, আরএমপির বোয়ালিয়া থানা, ডিবি ও র‍্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান।’

তিনি জানান, তবে ল্যাপটপটিতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তিনি জানান, গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হয়। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরা উদ্ধার হয়নি।

গত বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেলে নাটোর রেলস্টেশনের প্রথম শ্রেণির বিশ্রামকক্ষ থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের ব্যাগ চুরি হয়। বগুড়া ঘুরে সান্তাহার থেকে ট্রেনে দর্শনার উদ্দেশে যাওয়ার পথে ভুল করে নাটোরে নেমেছিলেন তিনি।


নির্বাচিত

রাউজানে বিদ্যালয়ের দেওয়ালে ফাটল, ঝুঁকিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

দেওয়ালে ফাটল, ভাঙা পিলার, খসে পড়ছে পলেস্তারা। বাইরে থেকে দেখলে মনে হতে পারে পরিত্যক্ত কোনো ভবন। অথচ এই ভবনেই প্রতিদিন চলছে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান। চট্টগ্রামের রাউজানের ৪১নং সুলতানপুর প্রসন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র এটি। ১৮৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টির বর্তমান ভবন নির্মাণ করা হয় ১৯৯২ সালে। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় ৩৬ বছর। কিন্তু নতুন ভবন নির্মাণ হয়নি। দীর্ঘদিনের পুরোনো ভবনটি এখন বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে।

ভবনের দেওয়াল ও পিলারের এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আটজন নারী শিক্ষকসহ দুই শতাধিক শিক্ষার্থী প্রতিদিন এই ভবনেই পাঠদান করছে। বিদ্যালয়ে নেই মানসম্মত ওয়াশব্লক। পুরোনো ওয়াশব্লক ব্যবহার করেই শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন প্রয়োজন সারতে হচ্ছে। পাশাপাশি রয়েছে বিশুদ্ধ পানির সংকট। বিদ্যালয়ের পরিবেশগত সমস্যাও রয়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই প্রাঙ্গণের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায়। এতে শিক্ষার্থীদের চলাচলে দুর্ভোগের পাশাপাশি ব্যাহত হয় স্বাভাবিক পাঠদান।

শিক্ষার্থী জয়ন্তী বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের বিদ্যালয়ের ভবন অনেক পুরোনো। দেওয়ালে ফাটল ও পিলারের ক্ষতি দেখে মাঝেমধ্যে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে যায়। আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর ভবনে ক্লাস করতে চাই। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানাই।’ প্রধান শিক্ষিকা শামীম আরা বেগম জানান, দীর্ঘদিনের পুরোনো হওয়ায় বিদ্যালয়ের ভবনটি বর্তমানে বেশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কয়েকটি পিলার। ফলে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে।

সামান্য বৃষ্টি হলেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যায়। এসব সমস্যা দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। সচেতন মহলের দাবি, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান চালিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যালয়ে মানসম্মত ওয়াশব্লক, বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে রাউজান উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নুরুন্নবী বলেন, ‘বিদ্যালয়ের সমস্যাগুলো আমাদের নজরে রয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

বদরখালীতে তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র মামলা, তদন্তের দাবিতে বিক্ষোভ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালীতে আক্তার মাঝি, তানভীর ও রুকন উদ্দিন নামে তিন নিরীহ মানুষকে রাতের আঁধারে ধরে নিয়ে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে কোস্ট গার্ডের বিরুদ্ধে। এ অভিযোগ তুলে গত বুধবার (৭ অক্টোবর) চকরিয়া আদালত চত্বর ও উপজেলা পরিষদ চত্বরে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন তাদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, রাতের আঁধারে বাড়ি ও আশপাশের এলাকা থেকে ওই তিনজনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, তিনজনের মধ্যে রুকন উদ্দিন একজন ভ্যানচালক ও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী, আক্তার আহমদও প্রতিবন্ধী এবং তানভীর বদরখালী ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী।

মানববন্ধনে রুকন উদ্দিনের তিন শিশুকন্যাও উপস্থিত ছিল। তারা তাদের বাবাকে নির্দোষ দাবি করে তার মুক্তির দাবি জানায়।

বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির পরিচালক অধ্যাপক বিএম কায়সার বলেন, ‘এ ধরনের লোকজনকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হলে পুরো বদরখালীবাসী লজ্জিত হয়।’ তিনি ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান।

বদরখালী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও সমিতির পরিচালক জিয়া উদ্দিন এবং এমইউপি এছাম উদ্দিন বলেন, ‘একজন বুদ্ধি প্রতিবন্ধী রুকন উদ্দিন, প্রতিবন্ধী আক্তার আহমদ ও কলেজছাত্র তানভীরকে জড়িয়ে দেওয়া মামলা প্রত্যাহার করে তাদের মুক্তি দিতে হবে।’

এদিকে বদরখালী কৃষি উপনিবেশ সমিতির ২৪ শেয়ারভুক্ত সাতডালিয়া লটারি ঘোনা পরিচালনা কমিটির সভাপতি নাজেম উদ্দিন ও সম্পাদক মনজুর আলম তাদের সদস্যদের মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তারা ভূমিদস্যু হিসেবে উল্লেখ করা ‘কালু বাহিনীর’ বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন ব্যক্তি প্রতিবাদ ও নিন্দা জানাচ্ছেন। সাবেক ছাত্রদল নেতা বুলবুল সিকদার এক ফেসবুক পোস্টে ঘটনাটিকে ‘মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত’ দাবি করে এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, মহেশখালী কোস্ট গার্ডের একটি ইউনিট বদরখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওই তিনজনকে আটক করে এবং পরে তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্রসংক্রান্ত মামলা দেওয়া হয়।

বিক্ষোভকারীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, আটক তিনজনের বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে তাদের মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।


নির্বাচিত

ঐতিহ্য হারানোর বেদনায় কুমোরপাড়ায় নীরব কান্না

অষ্টগ্রামের হাওরপারের লোকালয়ে মাটির তৈজসপত্র তৈরির কাজ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ)

অষ্টগ্রামের হাওরপারের লোকালয়ে একসময় ভোরের সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হতো মাটির টুংটাং শব্দ। থালা-বাসন, কলসি, হাঁড়ি-পাতিল, সানকি আর মটকার নিখুঁত কারুকাজে মুখরিত থাকত কুমোরপাড়ার প্রতিটি আঙিনা। সে এক সোনালি সময়, যখন দিনভর হাড়ভাঙা খাটুনি শেষে প্রদীপ জ্বেলে গভীর রাত পর্যন্ত চলত মাটির তৈজসপত্র তৈরির কাজ। কিন্তু আধুনিকতার তীব্র হাওয়া, প্রযুক্তির বিস্তার এবং প্লাস্টিক-অ্যালুমিনিয়ামের সস্তা পণ্যে বাজার সয়লাব হয়ে যাওয়ায় আজ চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে শত বছরের পুরোনো এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার পথে হাওরাঞ্চলের মৃৎশিল্প।

​জানা যায়, একসময় রান্নাঘর থেকে শুরু করে গৃহস্থালির প্রায় সব কাজেই মাটির তৈরি পাত্রের কোনো বিকল্প ছিল না। কিন্তু সময়ের পালাবদলে মানুষ এখন টেকসই ও কম দামি প্লাস্টিক, মেলামাইন এবং স্টেইনলেস স্টিলের পণ্যের দিকে ঝুঁকছে। ফলে স্থানীয় বাজারে মাটির তৈরি তৈজসপত্রের চাহিদা আজ প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

​চাহিদা কমার পাশাপাশি আকাশছোঁয়া হয়েছে কাঁচামালের দাম ও উৎপাদন খরচ। মৃৎশিল্পের প্রধান প্রাণ হলো এঁটেল মাটি। সেই মাটি সংগ্রহ করতেই এখন কারিগরদের গুনতে হচ্ছে বাড়তি অর্থ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মাটি পোড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় খড়ি ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি। সবমিলিয়ে যে পরিমাণ খরচ করে পণ্য তৈরি করতে হয়, বাজারে তা বিক্রি করে সেই উৎপাদন খরচই ওঠে না। মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দিনরাত পরিশ্রম করলেও দিন শেষে অর্থাভাব আর অনিশ্চয়তাই কেবল সঙ্গী হয়।

​পেটের টানে বাপ-দাদার পৈতৃক পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হচ্ছেন বহু কারিগর। অনেকে জীবিকার তাগিদে দিনমজুরি, রিকশা চালানো কিংবা সম্পূর্ণ ভিন্ন পেশায় জড়িয়ে পড়ছেন। হবিগঞ্জের মাধবপুর বাজারে সাউন্ড সিস্টেমের ব্যবসা শুরু করা অষ্টগ্রামের প্রদীপ রুদ্রপাল বুকভরা আক্ষেপ নিয়ে বলেন, ‘পূর্বপুরুষের এই পেশায় আর ভবিষ্যৎ দেখতে পাচ্ছিলাম না; লোকসান গুনে বেঁচে থাকাই দায় হয়ে পড়েছিল। তাই বাধ্য হয়ে পৈতৃক কাজ ছেড়ে সংসারের চাকা ঘোরাতে ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছি।’ প্রবীণ শিল্পীদের শঙ্কা, জীবিকার এই নির্মম বাস্তবতায় নতুন প্রজন্মও আর কোনোদিন এই অনিশ্চিত ও কষ্টের পেশায় পা বাড়াবে না।

​স্থানীয় মৃৎশিল্পীদের মতে, সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ, আর্থিক অনুদান কিংবা সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে হয়তো আর মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে অষ্টগ্রাম থেকে মাটির এই শিল্পচর্চার শেষ নিশানাটুকুও চিরতরে মুছে যাবে।

​ঐতিহ্যবাহী এই লোকশিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপের তাগিদ দিলেন সংশ্লিষ্টরা। ‘হাওরাঞ্চলবাসী’ (পরিবেশ ও সামাজিক সংগঠন)-এর সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান বাবু বলেন, ‘সময়ের পরিবর্তনে মানুষের চাহিদায় বৈচিত্র্য এসেছে, আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে মৃৎশিল্পেও। তবে গ্রাম ও মফস্বলে মৃৎশিল্পের আধুনিকায়ন ঘটেনি এবং স্থানীয় বাজারেও এর চাহিদা কমে গেছে। মৃৎশিল্পীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ, আধুনিক যন্ত্রপাতি এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় পুঁজি সরবরাহের ব্যবস্থা করা গেলে স্থানীয়ভাবে এই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব।’

​হাওরের বুক চিরে বয়ে চলা বাতাসের সঙ্গে মিশে আছে শত বছরের মৃৎশিল্পের ঘ্রাণ। সেই ঘ্রাণ হারিয়ে যাওয়ার আগেই নীতিনির্ধারক ও সমাজের সচেতন মহলের আন্তরিক উদ্যোগই পারে অষ্টগ্রামের এই ঐতিহ্যকে পুনরুজ্জীবিত করতে।


নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ঘটানোর সুযোগ নেই: রাশেদ খাঁন

ঝিনাইদহে প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনের প্রস্তুতি সব সময়ই থাকে। স্থানীয় হোক কিংবা জাতীয়—বিএনপির মতো বড় দলে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থী থাকেন। সামনের স্থানীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতোমধ্যে প্রার্থীরা নিজ নিজ জায়গা থেকে ঘোষণা দিয়েছেন এবং প্রচারণা চালাচ্ছেন।

তবে দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, একাধিক প্রার্থী হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ দলের নির্দেশনা অমান্য করে নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাঁর বিরুদ্ধে দল যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। এই নির্বাচন নিয়ে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে ঝিনাইদহ ওয়াজির আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, ‘শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফিরবেন না। তার ফেরারও কোনো সুযোগ নেই। কারণ আওয়ামী লীগ যে গণহত্যা চালিয়েছে, তার নির্দেশ দিয়েছেন শেখ হাসিনা। একটা মানুষ এত বোকা হতে পারেন না যে, তার জন্য ফাঁসির দড়ি প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে, আর তিনি দেশে ফিরে সেই দড়িতে ঝুলবেন।’

তিনি বলেন, ‘আবরার ফাহাদের খুনিদের আইনজীবী ছিলেন শিশির মনির, যিনি জামায়াতের একজন বিখ্যাত আইনজীবী। তিনি যখন ফাহাদের আইনজীবী হন, তখন শিবির কোন লজ্জায় রাজপথে কর্মসূচি করে? জুলাইয়ের সময় শিশির মনিররা রাজপথে নামেননি। আমার প্রশ্ন, শিশির মনির ফাহাদের হত্যার আসামিদের আইনজীবী হলেন— এ ব্যাপারে জামায়াত কী ব্যবস্থা নিয়েছিল?’

তিনি আরও বলেন, ‘দ্বিচারী রাজনীতি জামায়াত-শিবিরের স্বভাব। জামায়াতকে বলব, যদি আবরার ফাহাদকে ধারণ করেন, তাহলে শিশির মনিরকে ধারণ করতে পারেন না। তাকে জামায়াত থেকে বহিষ্কারের দাবি করছি।’

এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এম এ মজিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী মিলেমিশে বসবাস করছে: সংস্কৃতিমন্ত্রী

সচিবালয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দপ্তরে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) অন বাংলাদেশ’-এর তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে ৫০টিরও বেশি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী মিলেমিশে বসবাস করছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) দুপুরে সচিবালয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রীর দপ্তরে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ‘অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এপিপিজি) অন বাংলাদেশ’-এর তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশে আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি, বহুমাত্রিক সংস্কৃতি, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য এবং দুই দেশের পার্লামেন্টারি সহযোগিতা জোরদারের নানা দিক নিয়ে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করে ব্রিটেনের পার্লামেন্টের ওই বিশেষ প্রতিনিধিদল।

ব্রিটেন পার্লামেন্টের সদস্য আপসানা বেগমের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন মিস্টার শকাত আদম ও লর্ড কুরবান হোসেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ব্রিটেনের মধ্যে পার্লামেন্ট-টু-পার্লামেন্ট সম্পর্ক উন্নয়ন, ব্রিটেনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের কল্যাণ, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশের হাজার বছরের সমৃদ্ধ ও বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশে পাহাড় ও সমতলের ৫০টিরও বেশি নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী নিজস্ব ভাষা ও স্বকীয়তা বজায় রেখে মিলেমিশে বসবাস করছে। আমাদের রাষ্ট্রে সংখ্যাগরিষ্ঠ ও সংখ্যালঘু বলে কোনো বিভাজন নেই; আইনের চোখে সকল নাগরিক সমান সুযোগ ও অধিকার ভোগ করেন।’

গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক ধারায় এক নতুন যাত্রার সূচনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিবাদের পতনের পর যেকোনো অস্থিতিশীলতা রোধে এবং বিশেষ করে দুর্গাপূজাসহ সকল ধর্মীয় উৎসবে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সরকারি পদক্ষেপের পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সরাসরি মাঠে থেকে সহায়তা করেছে।’

বাংলাদেশে অসাম্প্রদায়িক চেতনার নিদর্শন হিসেবে দুর্গাপূজার ব্যাপ্তি তুলে ধরে নিতাই রায় চৌধুরী জানান, গত বছর সারা দেশে প্রায় ৩৩ হাজার মণ্ডপে পূজা উদযাপিত হলেও চলতি বছর মণ্ডপের সংখ্যা আরও প্রায় ৫ হাজার বাড়তে পারে।

বৈঠকে উপস্থিত সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন যে, আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের নির্ধারিত ৪ কোটি টাকা চাহিদার বিপরীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছেন। পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সুবিধার্থে দুর্গাপূজায় সরকারি ছুটি একদিন বাড়ানো হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উচ্চপর্যায়ের এ দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম ও যুগ্ম সচিব ইলিয়াস সুমনা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বীর মুক্তিযোদ্ধা সনৎ কুমার বিশ্বাসের মৃত্যু

বীর মুক্তিযোদ্ধা সনৎ কুমার বিশ্বাস। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের (ডিএফপি) সাবেক মহাপরিচালক এবং বিসিএস তথ্য ক্যাডারের ১৯৭৯ ব্যাচের কর্মকর্তা বীর মুক্তিযোদ্ধা সনৎ কুমার বিশ্বাস গত সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকাস্থ সেগুনবাগিচায় তার নিজ বাসভবনে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার মৃত্যুতে ডিএফপির মহাপরিচালক খালেদা বেগম গভীর শোক প্রকাশ করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান। তার মৃত্যুতে ডিএফপি পরিবার গভীরভাবে শোকাহত।

উল্লেখ্য, সনৎ কুমার বিশ্বাস ১৯৫১ সালে নড়াইলের চারিখাদা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।


নির্বাচিত

সড়কে কম্পিউটার-ফটোকপির ভ্রাম্যমাণ দোকান

ভ্রাম্যমাণ কম্পিউটার ও ফটোকপির মেশিনের দোকান। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভ্রাম্যমাণ দোকান বলতেই সাধারণত চোখে ভেসে ওঠে চা, জুস, ফাস্টফুড কিংবা কাপড়ের পসরা। কিন্তু কখনো শুনেছেন ভ্রাম্যমাণ ফটোকপি-কম্পিউটারের দোকান? হয়তো না। তবে এটা হয়। আগারগাঁওয়ের বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সামনের চিত্রটা একটু এই রকমই। এখানে ভ্রাম্যমাণ কয়েকটি দোকান বসে কম্পিউটার ও ফটোকপির মেশিন নিয়ে।

সকাল ৯টায় দোকান বসে। সঙ্গে আসে কম্পিউটার, ফটোকপির মেশিন ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম। সরকারি অফিসের কর্মঘণ্টা শেষ হলে আবার সব গুটিয়ে নিয়ে চলে যান দোকানিরা। পরদিন সকালে ফিরে আসেন একই জায়গায়।

আশপাশে ঘুরে এখানে দেখা মিলল ৬-৭টি ভ্রাম্যমাণ দোকানের। ছয়টি পাশাপাশি, আরেকটি কিছুটা দূরে। ঠিক কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের সামনে। আশপাশে রয়েছে বাংলাদেশের বিভাগীয় পাসপোর্ট ও ভিসা অফিস, সমাজসেবা অধিদপ্তরসহ বেশ কয়েকটি সরকারি কার্যালয়। এসব প্রতিষ্ঠানে আসা শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, পাসপোর্টপ্রত্যাশীসহ নানা মানুষের প্রয়োজন মেটাতেই গড়ে উঠেছে এসব দোকান।

মো. সাব্বির। যদিও ব্যবসাটি তার বাবার। তবে তার অনুপস্থিতিতে বুধবার কথা বলেন সাব্বির। তাদের শুরুটা অবশ্য কম্পিউটার বা ফটোকপি দিয়ে নয়। প্রথমে এখানে ফলের জুস বিক্রি করতেন। প্রায় পাঁচ-ছয় মাস জুসের দোকান চালানোর পর শুরু করেন চায়ের ব্যবসা। পরে সেই দোকানের সঙ্গে যোগ করেন ফটোকপির কাজ। এখন একই দোকানে চা ও ফটোকপি—এই দুই সেবাই দিচ্ছেন সাব্বির ও তার বাবা।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন কাজে আসা মানুষের প্রয়োজনের কথা ভেবেই এই জায়গায় দোকান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তিনি। আশপাশে সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় ফটোকপি ও অন্যান্য সেবার চাহিদাও রয়েছে। ব্যবসা ভালোই চলছে বলে জানান তিনি।

সব মিলিয়ে প্রায় তিন বছর ধরে এই এলাকায় ব্যবসা করেন সাব্বির। তিনি বলেন, ‘এই ঠেলাগাড়িতে করে প্রতিদিন কাজের শুরুতে ফটোকপির মেশিনটা নিয়ে আসি এবং নিয়ে যাই। তবে চায়ের দোকানের টেবিলটা এখানেই থেকে যায়।’

একটু দূরেই বসেছেন আরেক দোকানি নিজামউদ্দিন। তার ব্যবসার বয়স এক বছরের বেশি। তার দোকানে কম্পিউটারের কাজ ও ফটোকপি করা হয়। পাসপোর্ট করতে আসা মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ তার সেবা নেন।

নিজামউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন সকালে কম্পিউটার ও ফটোকপির মেশিন নিয়ে আসেন তিনি। অফিসের সময় শেষ হলে আবার সেগুলো নিয়ে চলে যান। পরদিন ফের মেশিন নিয়ে হাজির হন। এভাবেই চলছে তার ব্যবসা।

নিজামউদ্দিনের পাশের দোকানির সঙ্গে কথা হয়। তবে তিনি নাম বলেননি। আবার প্রথম দিকে সাংবাদিক পরিচয় শুনেও ভয় পান। বলেন, ‘পুলিশ এখন ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদ করছে। যদি কিছু হয়, তাহলে এই ব্যবসা চলে যাবে।’

পরে আশ্বস্ত করলে তিনি বলেন, ‘পড়াশোনা শেষ করে আপাতত এই ব্যবসায় যুক্ত হয়েছেন। স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ না হওয়া পর্যন্ত এই কাজকেই জীবিকার পথ হিসেবে বেছে নিয়েছি। মোটামুটি ভালোই চলছে সবকিছু।’

প্রতিদিন মেশিন কোথায় রাখেন এবং কীভাবে নিয়ে আসেন এই প্রশ্নের জবাবে দোকানি মো. সাব্বির বলেন, ‘ফটোকপির মেশিনটি যে ঠেলাগাড়ির ওপর আছে ওটাতেই নিয়ে আসি এবং নিয়ে যাই। শুধু চায়ের দোকানের টেবিলটা এখানে থাকে।’

নাজিমুদ্দিন বলেন, ‘টেবিলটা রেখে যাই। তবে, কম্পিউটার, প্রিন্টারসহ যে যন্ত্রগুলো আছে সেগুলো রিকশায় নিয়ে যেতে হয়। আবার নিয়ে আসি।’

দোকানি শরিফুল, নাজিমুদ্দিন ও সাব্বির বলেন, ‘পাশের দোকানের মিটার থেকে লাইন নিয়েছি। এ জন্য প্রতি মাসে টাকা দেওয়া লাগে। অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করি না।’

দোকানে দৈনিক গড়ে কতজন গ্রাহক আসে এবং আয় কত? এটা নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারেননি। তবে, প্রতিদিন গড়ে ৫০০-৮০০ টাকা ইনকাম করেন বলে জানিয়েছেন তারা।

এখানে দোকান বসানোর কোনো অনুমতি আছে কি না আর কখনো উচ্ছেদ করা হয়েছে বা উচ্ছেদের নোটিশ এসেছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে দোকানি শরিফুল বলেন, ‘দোকান বসানোর কোনো অনুমতি নেই। হঠাৎ হঠাৎ পুলিশ এসে সরিয়ে দেয়। আবার এসে বসি। আমরা তো অফিস শেষ হলে চলে যাই। অন্য দোকানের মতো রাত পর্যন্ত থাকি না। পরিবেশও নষ্ট করি না।’

এই এলাকায় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে কথা হয় নাসিফ আহমেদ নামের এক গ্রাহকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘আমি খিলক্ষেত থেকে এসেছি। ব্যাংকে একটা চালান দিতে হবে। জরুরি কিছু কাগজ ফটোকপি করার প্রয়োজন ছিল। এখানে ফটোকপির দোকান পেয়ে ভালোই হয়েছে। তবে, অন্য জায়গার থেকে খরচ একটু বেশি।’

শাহাদাত হোসেন নামের আরেক গ্রাহক বলেন, ‘একটা অফিসে এসেছি কাজের জন্য। সেই অফিস থেকে কিছু কাগজ জমা দিতে বলল। যেগুলোর কপি আমার কাছে ছিল না। তাই এখান থেকে কাজটা করিয়ে নিলাম।’

তবে ব্যস্ততম এই অফিস এলাকায় এমন দোকান প্রয়োজনীয় হলেও এসব দোকানের অনুমোদন আছে কি না সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


নির্বাচিত

পেশিশক্তি নয়, জ্ঞান দিয়ে আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে হবে: হুইপ বকুল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি ও বিভিন্ন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকা উচিত উল্লেখ করে জাতীয় সংসদের হুইপ আলহাজ রকিবুল ইসলাম বকুল বলেছেন, ‘রাজনীতি থাকবে, মতপ্রকাশের স্বাধীনতাও থাকবে। তবে একে অপরের প্রতি শ্রদ্ধা না দেখিয়ে বিভেদ সৃষ্টি করে উদ্ভট পরিস্থিতি তৈরি করা যাবে না।

পেশিশক্তি নয়, জ্ঞান দিয়ে নিজেদের নীতি ও আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার খুলনা নগরীর সরকারি ব্রজলাল কলেজ প্রাঙ্গণে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর খুলনা বিভাগীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-৬ আসনের এমপি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং খুলনা-২ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল।


অনুষ্ঠানে উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও সরকারি ব্রজলাল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সাইফুল ইসলামসহ কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close