শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


নির্বাচিত

আসন্ন দুর্গাপূজায় সীমিত আলোকসজ্জার আহ্বান বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর

যশোর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত সভার প্রধান অতিথি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবার আলোকসজ্জা সীমিত পরিসরে রাখার আহ্বান জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘‘সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে ও উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গোৎসব পালন করতে পারেন, সে জন্য সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে। অতীতে প্রতিটি মণ্ডপে ৫০০ কেজি করে চাল বরাদ্দ দেওয়া হতো, এবার তা বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে যশোর জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘‘বিশেষ করে রাতের শেষভাগে বিচ্ছিন্ন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা যেন না ঘটে, সে জন্য মণ্ডপ কমিটি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিশেষ নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।’

সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পারাপার, মাদক, অস্ত্র কিংবা পটকাবাজির অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

দুর্গোৎসবের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী ১ অক্টোবর থেকে মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যানবাহন বিশেষ তল্লাশির নির্দেশের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।

জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংঙ্কর দাস রতন, সাধারণ সম্পাদক তপন ঘোষসহ জেলা ও উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও রাজনৈতিক, সামাজিক এবং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

দেবীগঞ্জে বিশ্ব নদী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দেবীগঞ্জ (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

‘দখল-দূষণমুক্ত, প্রবহমান ও জীবন্ত নদী চাই’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্ব নদী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার আয়োজনে এবং বাপা পঞ্চগড় জেলা শাখার সহযোগিতায় সভাটি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা বাপার সাধারণ সম্পাদক নাজমুস শাকিব মুনের সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিৎ সাহা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মুসা মিঞা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) পঞ্চগড় জেলা আঞ্চলিক শাখার সভাপতি এ. কে. এম. আনোয়ারুল ইসলাম খায়ের এবং সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার সভাপতি হরিশ চন্দ্র রায়, দেবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন কবির রাজু, সিনিয়র সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শহীদসহ বাপার সদস্য ও স্থানীয় নেতারা।

দেবীগঞ্জ উপজেলা শাখার বাপার সভাপতি বলেন, ‘পঞ্চগড় জেলায় প্রায় ৫০-৫৩ টি নদী ছিল বর্তমানে ৩০ -৩২ নদী থাকলেও নদীতে তেমন পানি নাই।’

আয়োজকরা জানান, নদী দখল ও দূষণ রোধ, নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে আনা এবং নদী ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় জনসচেতনতা বাড়ানোই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।

আলোচনা সভায় স্থানীয় নদীগুলোর বর্তমান অবস্থা, দখল-দূষণের কারণ, নদী রক্ষায় প্রশাসন ও জনগণের ভূমিকা এবং ভবিষ্যৎকরণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।


নির্বাচিত

শ্রীমঙ্গলে মাসিক স্বাস্থ্য সচেতনতায় ১১ নারী প্রশিক্ষককে সম্মাননা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা-বাগান এলাকার নারী ও কিশোরীদের মাসিক স্বাস্থ্য, পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য অধিকার বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখায় ১১ জন স্থানীয় নারী প্রশিক্ষককে (ট্রেইনার) সনদ ও সম্মাননা দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) শহরের ভানুগাছ সড়কের মহসিন অডিটোরিয়ামের চতুর্থ তলার হলরুমে গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাদের হাতে সনদ ও সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়।

গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের ‘উঠান পেরিয়ে দুই পা ২.০’ কর্মসূচির আওতায় শ্রীমঙ্গলের চা-বাগান এলাকায় ১০৫টি উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ১ হাজার ৫৮০ জন নারী ও কিশোরীর কাছে মাসিক স্বাস্থ্য, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা এবং এ-সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার ও ভুল ধারণা নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। কর্মসূচির আওতায় ১৭ জন পুরুষ কমিউনিটি সদস্য এবং কালিঘাট চা-বাগান উচ্চবিদ্যালয়ের ৫৮ জন ছাত্রীও অংশ নেয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সিনথিয়া তাসনিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর নাহার পারভিন, আলোর দিশারীর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি পরিতোষ তাঁতি এবং গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের সভাপতি আহমেদ ফাউমি। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শারিফা সাম্মি ঐশি।

আয়োজকরা জানান, কর্মসূচির শুরুতে পরিচালিত জরিপে অংশ নেওয়া নারী চা-শ্রমিকদের ৯৩ শতাংশ মাসিকের সময় অস্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি অনুসরণ করতেন। মাসিকজনিত বিভিন্ন সমস্যার কারণে তাদের কর্মদিবস হারানোর পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতিরও মুখোমুখি হতে হতো।

গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম ম্যানেজার বর্ষা আহমেদ বলেন, ‘কালিঘাট চা-বাগানের নারীদের নিয়ে আমাদের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের প্রান্তিক নারীদের মাসিক স্বাস্থ্য ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান কার্যক্রমের একটি অংশ।’

প্রধান অতিথি সিনথিয়া তাসনিম বলেন, ‘তারুণ্যনির্ভর গিভ বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের কাজটি সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে পারলে একটি সুস্থ ও সচেতন নারী জনগোষ্ঠী গড়ে উঠবে।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্যোগে স্থানীয় পর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মীদের মাধ্যমে সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুর নাহার পারভিন বলেন, ‘মাসিকসংক্রান্ত সমস্যার কারণে নারী চা-শ্রমিকরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। একই কারণে অনেক নারী শিক্ষার্থী বিদ্যালয় থেকে ঝরে পড়ে। তাই এ ধরনের উদ্যোগ দেশের সব বিদ্যালয় ও চা-বাগানে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন।’

অনুষ্ঠানে রিজিক রেস্টুরেন্টের স্বত্বাধিকারী মাইনুল ইসলাম সানি, সরকারি কর্মকর্তা ও চা-বাগানের স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। কর্মসূচিটির আর্থিক অংশীদার ছিল শ্রীমঙ্গলের রিজিক রেস্টুরেন্ট।


নির্বাচিত

বামন্দী-কাজীপুর সড়কে গর্ত আর খানাখন্দ, ভোগান্তিতে মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

কৃষিনির্ভর মেহেরপুরের বাণিজ‍্যিক এলাকা খ্রেত গাংনী উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। কিছু স্থানের গর্তের গভিরতা এক থেকে দেড় ফিট পর্যন্ত হবে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এসব গর্তে পানি জমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। এতে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে সড়কটির এমন বেহাল দশা হলেও সংস্কারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সড়ক বিভাগকে। ফলে সময় গড়িয়ে যাওয়ার সাথে সাথে সড়কটি যেন এখন মরণফাঁদে পরিণত হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তর বলছে, বরাদ্দ না থাকায় সংস্কারকাজ করতে বিলম্ব হচ্ছে তাদের।

স্থানীয়রা জানান, বামন্দী-কাজীপুর সড়কটি গাংনী উপজেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়ক। এই সড়কটি দুটি জেলার মানুষের সংযোগ সড়ক হিসেবেও পরিচিত। এ পথে বাস, ট্রাক, নসিমন, অটোরিকশা, পাখিভ্যান ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কের অধিকাংশ জায়গায় বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। বৃষ্টির সময় গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কোথায় গর্ত আর কোথায় সমতল, তা বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। ফলে এসড়কটি একটি দুর্ঘটনার ফাঁদে রূপ নিয়েছে।

পথচারী গৃহবধূ শারমিন আক্তার বলেন, ‘এ সড়কটি দিয়ে আমাদের জেলা ও উপজেলা শহরে যাওয়া লাগে। এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কটি, অথচ এই সড়কে চলাচল করা যায় না। কেন কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিচ্ছে না, সেটাও বুঝতে পারছি না। এই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী যানবাহনের চালকরা সব সময় আতঙ্কে থাকেন কখন গাড়ি গর্তে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আমার এক চাচাতো বোনের বাচ্চা নিয়ে যাওয়ার সময় গাড়ি উল্টে তার হাত ভেঙে গেছে। একটু বৃষ্টি হলে সড়কটিতে পানিতে ডুবে যায়।’

পাখিভ্যানচালক টিটু হোসেন বলেন, ‘আমি ভ‍্যানে করে ইটসহ আড়তের মালামাল নিয়ে ভাড়ায় যায়। বর্তমানে এই রাস্তায় ভাড়া ধরতেও মন চায় না। পরিবারের মুখে একমুঠো ভাত তুলে দেওয়ার জন্য বাধ্য হয়ে এ রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। অনেক সময় যা আয় হয়, গাড়ি নষ্ট হলে তার চেয়ে বেশি খরচ হয়। সড়কটি দ্রুত সংস্কার করা দরকার। আর কোনোমতে আটকে গেলে পাঁচজন মিলে ধাক্কা দেওয়া লাগে।’

নসিমনচালক আক্কাস আলী বলেন, ‘আমি প্রতিদিন চাউল লোড করে গাংনী যায়। গাংনী উপজেলায় এর চেয়ে খারাপ রাস্তা চোখে পড়ে না। আমাদের গাড়ি প্রায়ই নষ্ট হয়। মেরামত করতে বাড়তি খরচ গুণতে হয়। অনেক দুর্ঘটনাও দেখেছি। বড় কোনো দুর্ঘটনার আগেই সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

স্কুলশিক্ষক ফারুক আহমদ বলেন, ‘আমাদের বাচ্চাদের স্কুল-কলেজ যাওয়ার প্রধান সড়ক এটি। অথচ বতর্মান সময়ে এই সড়কটি দিয়ে চলাচল করা একদম অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমাদের অনেক শিক্ষার্থী এই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় কাদা-পানি লেগে পোশাক নষ্টের পাশাপাশি শারীরিকভাবেও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তাই এটি দ্রুত সংস্কারের জন‍্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।’

বামন্দী পশুহাট ইজারাদার আব্দুল আওয়াল বিশ্বাস বলেন, ‘জেলার সবচেয়ে বড় পশুহাট বামন্দী। যেখান থেকে জেলার সবচেয়ে বেশি অর্থ সরকারি কোষাগারে যায়। অথচ সেই বাজারের সড়কটির এমন বেহাল দশা। ভাবতেই খারাপ লাগে। আমাদের দাবি সড়কটি যেন দ্রুত সংস্কার করা হয়।’

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের গাংনী উপজেলা প্রকৌশলী রোকনুজ্জামান বলেন, ‘বামন্দী-কাজীপুর সড়ক মেরামতের জন্য ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলেই দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

মেহেরপুর-৭৪/২ (গাংনী) আসনের সংসদ সদস্য মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘সড়কটি অত্যন্ত বেহাল অবস্থায় রয়েছে। এই সড়কসহ উপজেলার অন্যান্য সড়কের বিষয়ে ঊর্ধ্বতনদের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে।’


নির্বাচিত

সুন্দরবনে রয়েছে পর্যটনের সূমহ সম্ভাবনা, উদ্বেগ পর্যটক কমায়

* সুন্দরবনে পর্যটক টানতে ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মোঃ সোহাগ, খুলনা

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ উপলক্ষ্যে রয়েছে নানা আয়োজন। বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষে সুন্দরবনকে ঘিরে খুলনায় নতুন করে জেগে উঠেছে পর্যটনের সম্ভাবনা। পর্যটকদের জন্য তৈরী হচ্ছে সুন্দরবনমুখী নৌযান, বাড়ছে ট্যুর অপারেটরদের ব্যস্ততা। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সুন্দরবনে পর্যটকের সংখ্যা আশংকাজনকহারে কমে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন পর্যটন ব্যবসায়িরা।

বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মূলত অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শীত মৌসুমে সুন্দরবনে পর্যটকরা আসে। সেইসময়ের সুন্দরবনের নদী এবং খালগুলো যথেষ্ট ঠান্ডা থাকে এবং আবহাওয়া অনুকূল থাকে। গত ৫ অর্থ বছরের সুন্দরবনে দেশি-বিদেশি পর্যটক বাড়লেও গত অর্থবছরে আশংকাজনক হারে কমে যায়।

এদিকে বিশ্ব পর্যটন দিবস উপলক্ষ্যে রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টায় ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) খুলনার উদ্যোগে বিআইডব্লিউটিএ লঞ্চঘাট থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, শহীদ হাদিস পার্ক হয়ে শিববাড়ী মোড় পর্যন্ত বিশেষ রোড শোর আয়োজন করেছে।

সূত্র জানায়, ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে সুন্দরবনে দেশি-বিদেশী পর্যটক এসেছিল ১ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭০জন। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৮৭ হাজার ৩০৯ জন এবং বিদেশি পর্যটক ২ হাজার ২৬১ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় এক কোটি ৫১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৯০ টাকা।

২০১৯-২০২০ অর্থ বছরে সুন্দরবনে এসেছে ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৭৯ জন পর্যটক। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৭০ হাজার ৬৩ জন এবং বিদেশি পর্যটক ২ হাজার ৩১৭ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় এক কোটি ৮৭ লাখ ৬৫ হাজার ৮ টাকা।

২০২০-২০২১ অর্থ বছরে সুন্দরবনে এসেছে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২১১ জন পর্যটক। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৪৫ হাজার ৮৯১ জন এবং বিদেশি পর্যটক ৩২০ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় এক কোটি ৫৭ লাখ ৫৪ হাজার ১৬৬ টাকা।

২০২১-২০২২ অর্থ বছরে সুন্দরবনে এসেছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৭ জন পর্যটক। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৭৪ জন এবং বিদেশি পর্যটক ১ হাজার ১০৩ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় ২ কোটি ২৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮০ টাকা।

২০২১-২০২২ অর্থ বছরে সুন্দরবনে এসেছে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪৭৭ জন পর্যটক। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ১ লাখ ৫৪ হাজার ৩৭৪ জন এবং বিদেশি পর্যটক ১ হাজার ১০৩ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় ২ কোটি ২৪ লাখ ৮৩ হাজার ৫৮০ টাকা।

এছাড়া ২০২২-২০২৩ অর্থ বছরে সুন্দরবনে এসেছে ২ লাখ ১৬ হাজার ১৪৩ জন পর্যটক। যারমধ্যে দেশি পর্যটক ছিল ২ লাখ ১৪ হাজার এবং বিদেশি পর্যটক ২ হাজার ১৪৩ জন। এতে রাজস্ব আয় হয় ৩ কোটি ৯৪ লাখ ৩২ হাজার ৪৮০ টাকা।

তবে গত বছর (২০০২৪-২৫) পর্যটক এসেছে প্রায় ১ লাখ। তবে পর্যটক জাহাজে বনে গিয়েছেন মাত্র ৪০ হাজার পর্যটক।

ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব সুন্দরবন (টোয়াস) খুলনার সিনিয়র সহ-সভাপতি মাজহারুল ইসলাম কচি বলেন, সুন্দরবন কেন্দ্রীক পর্যটনের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। গত বছর ট্যুরিষ্ট জাহাজে করে মাত্র ৪০ হাজার পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমনে গেছেন। আর ছোট ছোট জালি বোর্ডে করমজল স্পটে যাওয়া দর্শনার্থীদের সংখ্যাও কম। সব মিলিয়ে প্রায় ১ লাখের বেশী হবেনা।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অক্টোবর মাসে পর্যটন মৌসুম শুরু হয়। কিন্তু এখনও আমরা কোন বুকিং পাইনি। এবছরও আশানুরুপ পর্যটক পাওয়া নিয়ে ব্যবসায়িরা দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন।

মাজহারুল ইসলাম কচির মতে পর্যটক কমে যাওয়ার পেছনে দুটি কারণ রয়েছে।

প্রথমত, সুন্দরবন কোল ঘেসে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা রিসোর্ট। দ্বিতীয়ত, কক্সবাজারে নেশাজাত দ্রব্য অবাধে পাওয়া যায়, কাজেই যুবসমাজের বড় একটি অংশ সুন্দরবন বাদ দিয়ে কক্সবাজার ভ্রমণ করে।

সুন্দরবনে পর্যটক টানতে ২০ বছরের মহাপরিকল্পনা :

বিশ্বের একক বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা এবং দেশি ও বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে একটি ২০ বছর মেয়াদী সুন্দরবন ইকোট্যুরিজম মাস্টারপ্ল্যান (মহাপরিকল্পনা)। এটি গতানুগতিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে মনোযোগ না দিয়ে, বরং বনের প্রাকৃতিক পরিবেশকে অক্ষুন্ন রেখে কীভাবে টেকসই পর্যটন বাস্তবায়ন ও উন্নয়ন করা যায় তার একটি সুস্পষ্ট রোডম্যাপ করা হয়েছে।

এই পুরো প্রক্রিয়াটির ডেপুটি চিফ অব পার্টি হিসেবে নেতৃত্ব দিয়েছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরেস্ট্রি অ্যান্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. মো. ওয়াসিউল ইসলাম।

প্রফেসর ওয়াসিউল ইসলাম জানান, এই মহাপরিকল্পনা তৈরিতে প্রায় দুই বছর সময় লেগেছে। এই মহাপরিকল্পনাটি মূলত সুন্দরবনের পরিবেশ ও অর্থনীতির সমন্বয়ে একটি টেকনিক্যাল রোডম্যাপ। এটি বাস্তবায়ন হলে দেশীয় পর্যটন শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটবে ও স্থানীয়দের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত হবে এবং এর মাধ্যমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করবে।

বিদেশি পর্যটকদের কীভাবে আরও সুন্দরবনে আগ্রহী করে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা দেশে আনা যায়, এ বিষয়েও এ প্রকল্পটি কাজ করেছে। দেশের মানুষ ট্যুর করলে টাকা দেশেই থাকে, কিন্তু বিদেশি পর্যটক দেশে এলে নতুন বৈদেশিক মুদ্রা অর্থনীতিতে যুক্ত হয়, যা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


নির্বাচিত

ফরিদপুরে ‘বেতাল সুরে মাটির গান লোক উৎসব-২০২৬’অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

লোকজ সংস্কৃতি ও বাংলার মাটি, মানুষের গানকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ফরিদপুরে ‘বেতাল সুরে মাটির গান লোক উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ফরিদপুরের অম্বিকাপুর পল্লীকবি জসীমউদ্দীনের বাড়ি সংলগ্ন কুমার নদীর তীরে-জসীম উদ্যানে এই লোক উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

বেতাল ও মাটির গানের আয়োজনে এবং অ্যাব্লুম ক্যাফেটেরিয়ার সার্বিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত উৎসবে লোকসংগীতপ্রেমী দর্শকদের উপস্থিতিতে মেলার মাঠ হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত।

এ অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ।

অ্যাব্লুম ক্যাফেটেরিয়ারের সত্বাধিকারী ও বেতাল ও মাটির গানের সভাপতি মেহেদী হাসন সোহেলের সভাপতিত্বে এ সময় ফরিদপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সুস্মিতা সাহা, ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, সিনিয়র সাংবাদিক পান্না বালা সহ গণ্যমান্য।ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের স্বাগত জানিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করা হয়। পরে অনুষ্ঠানের ভাবনা ও বাংলার লোকসংস্কৃতির ঐতিহ্য নিয়ে আলোচনা করা হয়। এরপর শুরু হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। পল্লীগীতি, বেতাল গানের দল ও মাটির গানের বিভিন্ন পর্বে শিল্পীরা লোকজ সুরে গান পরিবেশন করেন। এতে বাংলার গ্রামীণ জীবন, মাটি ও মানুষের আবেগ-অনুভূতির নানা দিক ফুটে ওঠে।

উৎসবে গান পরিবেশন করেন প্রখ্যাত বাউল তোফাজ্জেল সরকার. বাউল মো:সাইফুজ্জামান রুপক, শারমিন বাউল, সুমনা বাউল, আর.এম. রনি, সোহেল রানা সবুজ শিকদার ও ফরিদপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পীরা। তাদের পরিবেশনায় দর্শকরা মুগ্ধ হয়ে লোকগানের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন।

অনুষ্ঠানে শিল্পী ও দর্শকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার পাশাপাশি লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণ ও চর্চার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। পরে সভাপতির বক্তব্য ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মধ্য দিয়ে ‘বেতাল সুরে মাটির গান লোক উৎসব-২০২৬’-এর সমাপ্তি ঘটে।


নির্বাচিত

জামালপুর রেড ক্রিসেন্টের নতুন কমিটি, জিলানী-লিয়ন নেতৃত্বে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জামালপুর ইউনিটের বিশেষ সাধারণ সভা ও কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে মাহবুবুর রহমান জিলানী সহ-সভাপতি এবং খায়রুল ইসলাম লিয়ন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত বিশেষ সাধারণ সভায় বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জামালপুর ইউনিটের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো: সিরাজুল হকের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন আজীবন সদস্য ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শামীম আহমেদ, জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফিরোজ মিয়া, মাহবুবুর রহমান জিলানী, খায়রুর ইসলাম লিয়ন, রেড ক্রিসেন্টের ইউনিট অফিসার জীবন কুমার বিশ্বাস প্রমুখ।

দ্বিতীয় অধিবেশনে বিনা প্রতিদন্দ্বিতায় মাহবুবুর রহমান জিলানী ও খায়রুল ইসলাম লিয়ন সাধারণ সম্পাদকসহ ৭ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে নিলুফার চৌধুরী মনি এমপি, সাবেক যুব প্রধান জিয়াউল হক জিয়া, মোঃ সাইদ- বিন- আনোয়ার সজীব, সাবেক যুব প্রধান মোঃ ইকরামুল হক লিটন, ও সাবেক যুব প্রধান সাইফুল আলম খান লিপন সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জামালপুর ইউনিটের নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট ফজলুল হক এই কমিটি ঘোষণা করেন। আগামী দুই বছর এই কমিটি দায়িত্ব পালন করবে। এ সময় রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জামালপুর ইউনিটের আজীবন সদস্য, সিনিয়র আরসিওআইসহ গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পিরোজপুরে ৩ মাসের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

ডেঙ্গু প্রতিরোধ, মশা নিধন ও একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিন মাসের বিশেষ কর্মপরিকল্পনা (অ্যাকশন প্ল্যান) ঘোষণা করেছে পিরোজপুর জেলা প্রশাসন। এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে পিরোজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে পিরোজপুর পৌরসভা, গণপূর্ত বিভাগ (পিডব্লিউডি) কার্যালয় সড়ক হয়ে সিও অফিস মোড় পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশের অবৈধ দখল, পাকা বা সেমিপাকা ভবন ও অবৈধ পার্কিং অপসারণের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ‎

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) পিরোজপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে কর্মসূচির অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন পিরোজপুর জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ।

‎​জেলা প্রশাসক বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্ন পিরোজপুর বিনির্মাণে জেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছে। হাসপাতালসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান জোরদার করা হয়েছে। আগামী তিন মাসের জন্য একটি বিশেষ অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে সমাজের সব শ্রেণী-পেশার মানুষকে যুক্ত করে দায়িত্ব বণ্টন করা হবে।

‎‎​পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক সদর হাসপাতাল প্রাঙ্গণ থেকে শুরু করে পিরোজপুর পৌরসভা ও গণপূর্ত বিভাগের চারপাশ হয়ে সিও অফিস মোড় পর্যন্ত পথ স্বশরীরে ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ড্রেন ও জমে থাকা নোংরা পানি নিষ্কাশনের নির্দেশনা দেন এবং ফুটপাত ও রাস্তার পাশে দোকানগুলোর যত্রতত্র সাইনবোর্ড বসিয়ে পথচারীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানো দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ‎

‎​অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের বিষয়ে জেলা প্রশাসক কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সরকারি জায়গায় যদি বিল্ডিং বা সেমিপাকা ভবন এক ইঞ্চিও থাকে, তবে কাউকেই কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকারের এক ইঞ্চি জায়গাও কারও অবৈধ দখলে রাখতে দেওয়া হবে না। অতিদ্রুত পরিমাপ করে ফুটপাত ও রাস্তার পাশের এসব পাকা ও সেমিপাকা ভবন, অবৈধ দোকানপাট, সাইনবোর্ড উচ্ছেদ এবং যানবাহন সরিয়ে নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

‎​শহরের পরিবেশ রক্ষা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সাধারণ নাগরিকদের সহযোগিতা চেয়ে তিনি আরও বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন শহর গড়তে জনগণের সচেতনতা জরুরি। সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা নিজ নিজ বাড়ি ও আঙিনা পরিষ্কার রাখুন। আর সরকারি জায়গায় বা রাস্তার পাশে কারও কোনো বিল্ডিং, সেমিপাকা দোকান বা অবৈধ স্থাপনা থাকলে তা নিজ দায়িত্বে সরিয়ে নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।

‎‎​পরিদর্শন ও তদারকিকালে পিরোজপুর স্থানীয় সরকার শাখার উপপরিচালক (ডিডিএলজি) ও পিরোজপুর পৌরসভার প্রশাসক মাহমুদুর রহমান মামুন, পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম, ও জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং স্থানীয় সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নাশকতার আসামিকে ছাড়াতে থানায় তদবির, জামায়াত নেতাসহ আটক ৮

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার মিরপুরে নাশকতা মামলায় আটক এক আসামিকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নিতে তদবির করতে গিয়ে জামায়াতের এক নেতা ও বিএনপির দুই কর্মীসহ আটজনকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত ২ টার দিকে মিরপুর থানা পুলিশ তাদের আটক করে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন চিথলিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলাম (৪৫), জামায়াত সমর্থক মারুফ (২১), বাশার (৩৫), মফিজুল প্রামাণিক (৪০), জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০), বাদল প্রামাণিক (৫০), বিএনপি নেতা মেহেরুল ইসলাম (৪৫) এবং বিএনপি সমর্থক শহীদুল ইসলাম (৫৩)।

পুলিশ জানায় , শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে চিথলিয়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওয়ার্ড কৃষক লীগের সভাপতি হাফিজুর রহমান হাফিজকে নাশকতা মামলায় আটক করা হয়। পরে তাকে মিরপুর থানায় নেওয়া হয়।

হাফিজুর রহমানকে আটকের খবর পেয়ে রাত দুইটার দিকে চিথলিয়া ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের আমির সিরাজুল ইসলামের নেতৃত্বে কয়েকজন থানায় আসেন। তারা হাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের কাছে তদবির ও চাপ দিতে থাকেন।

এসময় তাদের নিষেধ করা হলেও তারা বারবার নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য তদবির করতে থাকেন। একপর্যায়ে সিরাজুল ইসলামসহ আটজনকে আটক করা হয়।

মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, নিষেধ করার পরও তারা নাশকতা মামলার আসামিকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য বারবার তদবির করছিলেন। একপর্যায়ে তাদের আটক করা হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। এরপর উভয় দলের নেতাদের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

অষ্টগ্রামে বইপাঠ প্রতিযোগিতা, পুরস্কার পেল ৯ বিজয়ী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অষ্টগ্রাম-মিঠামইন (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামের নান্নু মিয়া ইসলামী গণগ্রন্থাগারের উদ্যোগে বইপাঠ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গ্রন্থাগারের সভাপতি আবু সাঈদ সালেহীর সভাপতিত্বে এবং সদস্য খাইরুল ইসলামের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি নজরুল ইসলাম সাগর। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পেশাদার সাংবাদিক ফোরাম কিশোরগঞ্জ জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক আমিনুল হক নজরুল।

​এ ছাড়া অনুষ্ঠানে গ্রন্থাগারের পরিচালনা পরিষদ, উপদেষ্টা পরিষদ ও পাঠক ফোরামের সদস্যরা এবং স্থানীয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

​ওই প্রতিযোগিতায় মোট ২১ জন প্রতিযোগী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে বিজয়ী ৯ জনকে পুরস্কার ও সনদপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিরা বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন এবং বই পড়ার প্রতি শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করেন।


নির্বাচিত

ফেনীতে ডেঙ্গুর ঊর্ধ্বগতি, ৯ মাসে আক্রান্ত সাড়ে ৬ শতাধিক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আবু তাহের ভূঁইয়া, ফেনী

ফেনীতে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে ডেঙ্গুর সংক্রমণ। চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসেই জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৬শ’ ছাড়িয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসে ৪০৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অপরদিকে গত বছরের তুলনায় এবার ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন জেলাবাসী।

স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য মতে, জেলায় গত ৯ মাসে মোট ৬৫২ জনের শরীরে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। গত বছর ২০২৫ সালে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ২০১ জন।

ফেনী সিভিল সার্জন কার্যালয় জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৬২ ডেঙ্গু পরীক্ষা হলে ২৪ জনের ডেঙ্গু পজিটিভ এসেছে।

জেলায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু আক্রান্তের ঘটনা ঘটেছে ফেনী সদর উপজেলায়। মোট ৬৫২ জন আক্রান্তের মধ্যে ৪৭৭ জনই এই উপজেলার । বাকি সব অন্যান্য উপজেলায়।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৪৭১জন ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা ছাড়পত্র প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা ৪৩০ জন। বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে ৪১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, এখন পর্যন্ত জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছেন, জেলায় ডেঙ্গুর কিট মজুদ আছে ৬৬৯২ টি। এর মধ্যে ফেনী সদর উপজেলায়- ৫৩৭৭, দাগনভূঞা- ৩৮, সোনাগাজী- ৬৪, ছাগলনাইয়া-৮৩২, পরশুরাম- ৩৪১ ও ফুলগাজী উপজেলায়-৪০টি।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: মোবারক হোসেন দুলাল বলেন, এখনতো ডেঙ্গুর বিগ সিজন। ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে যারা ভর্তি হয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রায় ভালো হয়ে গেছেন। আমাদের হাসপাতালে ডেঙ্গুতে কোন মৃত্যু নেই। আতংক হওয়ার কিছুই নেই। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে, বাড়ির আশপাশের আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখতে হবে। খাল-বিল পরিষ্কার রাখতে হবে এবং মশারি ব্যবহার করতে হবে। মানুষ সতর্ক না হলে এ রোগ প্রতিরোধ করা যাবে না। দিন দিন আরও বাড়বে। তাই সতর্ক হওয়ার কোন বিকল্প নেই।

ফেনীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ফেনী জেলায় বর্তমানে ৪১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন। ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৬৫২ জন ডেঙ্গু রোগীর চিকিৎসা আমরা দিয়েছি।

আমাদের ফেনী জেলায় পর্যাপ্ত পরিমাণ ডেঙ্গুর কিট মজুদ আছে। আমাদের চিকিৎসকগণ এবং আমাদের টিমসমূহ জেনারেল হসপিটাল এবং উপজেলা হসপিটালগুলোতে সার্বক্ষণিকভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। ইনশাআল্লাহ, আমরা আশা করি যে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারব।


নির্বাচিত

পার্বত্যাঞ্চলে শিক্ষার মান উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন: দীপেন দেওয়ান এমপি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত জোর দিয়েছেন। শিক্ষার ক্ষেত্রে পার্বত্য অঞ্চল অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে অনেক পিছিয়ে। তাই পার্বত্যাঞ্চলের শিক্ষার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বরাদ্দ দিয়েছেন। আমরা সেই বরাদ্দকে কাজে লাগাতে চাই বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক পার্বত্য মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান এমপি। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

দীপেন দেওয়ান এমপি আরো বলেন, অতীতের সরকার শিক্ষার বরাদ্দের নামে লুটপাট করেছে। শিক্ষার উন্নয়নের ক্ষেত্রে যাতে দুর্নীতি না হয় সে ব্যাপারে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করবো। এক্ষেত্রে কোন আপস করবো না। শিক্ষার ক্ষেত্রে সার্বিক সহযোগিতা থাকবে। সৃজনশীল শিক্ষার প্রসারে শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ যে উদ্যোগ নিয়েছে তার ভুয়ষী প্রশংসা করেন।

শহিদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলা আয়োজিত আলোচনা সভা, সনদ ও পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলার উপদেষ্টা মাওলানা আনোয়ারুল মোস্তফা হেজাজী। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সাবেক পৌর মেয়র সাইফুল ইসলাম চৌধুরী, শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদের সাবেক কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোঃ আখতার হোসেন চৌধুরী, বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইয়াছিন রানা সোহেল, সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট জামাল হোসেন ও রাঙামাটি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কবির আলম প্রমুখ। শহিদ হালিম-লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলা সমন্বয়ক হাফেজ তানজিলুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় পরিচালক নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ খোবাইব। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শিক্ষক মোঃ হাসান ও ইসমাঈল হোসেন মুন্না। এছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শহিদ আবদুল আলী একাডেমির সহকারী শিক্ষক মোঃ আলমগীর, তৈয়বিয়া আইডিয়াল স্কুলের উপাধ্যক্ষ মোঃ মনসুর আলী , শহিদ হালিম লিয়াকত স্মৃতি সংসদ রাঙামাটি জেলার উপদেষ্টা মোঃ আলী খান ও মোঃ শহিদুল ইসলাম।

আলোচনা সভা শেষে শতাধিক শিক্ষার্থীর হাতে বৃত্তির অর্থ, সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেয়া হয়।


নির্বাচিত

সুন্দরবন রক্ষায় ক্ষতিকর সবকিছু অপসারণ করা হবে: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

সুন্দরবনকে বাঁচিয়ে রাখতে ক্ষতিকর সবকিছু অপসারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, আগামীতে সুন্দরবন এলাকায় গড়ে ওঠা শিল্পকারখানাগুলোও তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে খুলনা নগরীর সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কে খুলনা সিটি করপোরেশন (কেসিসি) ও বিকাশের যৌথ বনায়ন কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু সুন্দরবন নয়, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সারা পৃথিবীর জন্যই বৃক্ষায়ন প্রয়োজন। বাংলাদেশ পৃথিবীর একটি অংশ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার মানুষের জন্য কাজ করছে। এ কাজে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফান্ড ও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে। এসব অর্থ ও উদ্যোগ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের মানুষের কল্যাণ নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। বিশেষ করে প্রতিটি স্কুল-কলেজকে পলিথিন ও প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করার উদ্যোগ নিতে হবে। এ বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকসহ সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। বক্তব্য দেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান মনি, কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. রাজিব আহমেদ, বিকাশের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও রেগুলেটরি এবং করপোরেট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের প্রধান হুমায়ুন কবির এবং খুলনার বন সংরক্ষক মো. ইমরান আহমেদ।

অনুষ্ঠান শেষে সোনাডাঙ্গা সোলার পার্কে বৃক্ষরোপণ করা হয়। বিকাশ কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় এ বনায়ন কর্মসূচির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close