রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
৩ কার্তিক ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


নির্বাচিত

কুমিল্লায় যুবদল নেতা হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্তসহ গ্রেপ্তার ২

* চলতি সপ্তাহেই অপ্রতীম হত্যা মামলার চার্জশিট: পুলিশ সুপার
ছবি: শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যুবদল নেতা আবু কাউছার হত্যা মামলার বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কুমিল্লায় সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী অপ্রতীম হত্যা মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) চলতি সপ্তাহেই আদালতে দাখিল করা হবে। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় যুবদল নেতা আবু কাউছার হত্যা মামলার বিষয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কুমিল্লা মহানগরীর ছত্রখিল এলাকায় যুবদল নেতা আবু কাউছারকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত তৌহিদুল ইসলাম ওরফে তৌহিদ ও তার আপন ভাই তানজীরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও এসআরবি। নগরীর নুরপুর থেকে তৌহিদ ও তানজীরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি ।

গ্রেপ্তার তৌহিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ সাতটি মামলা রয়েছে। তানজীরের বিরুদ্ধে রয়েছে একটি মামলা।

পুলিশ সুপার বলেন, কুমিল্লা সদর উপজেলার ছত্রখিল মডেল মসজিদের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা নিয়ে কাউছার ও শামীমের সাথে বিরোধের জেরে যুবদল নেতা কাউছারকে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় অটো রিকশা গুরুতর আহত হন। তবে তিনি এখন আশংকামুক্ত।

এদিকে, অপ্রতীম হত্যা মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে রয়েছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, চলতি সপ্তাহেই আদালতে এ মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

সংবাদ সম্মেলনে এসআরবি কুমিল্লা কোম্পানি কমান্ডার মেজর সাদমান ইবনে আলম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান ও পঙ্কজ বড়ুয়া উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দেশের ৮ জেলা থেকে উদ্যোক্তা হতে চান সাড়ে ১৮ হাজার তরুণ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের তরুণ সমাজকে স্বাবলম্বী ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠনে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে। যুবসমাজকে জামানতবিহীন আর্থিক সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে শুরু হওয়া ‘উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি’ (উদ্যোগ)-র আওতায় কেবল ৮টি জেলা থেকেই সাড়ে ১৮ হাজার তরুণ আবেদন করেছেন। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পরীক্ষামূলকভাবে এই আবেদনের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

পরীক্ষামূলক এই কার্যক্রমে আবেদনকারীদের মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে নেত্রকোনা জেলা, যেখান থেকে সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৩৫১টি আবেদন জমা পড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রংপুর থেকে এসেছে ২ হাজার ৭৪৫টি আবেদন। এ ছাড়া নওগাঁ থেকে ২ হাজার ৪৫৬ জন, ঝিনাইদহ থেকে ২ হাজার ১৯১ জন, হবিগঞ্জ থেকে ১ হাজার ৫৫২ জন, ভোলা থেকে ১ হাজার ৫৪৫ জন, মানিকগঞ্জ থেকে ১ হাজার ৩৪৩ জন এবং ফেনী থেকে ১ হাজার ২৬১ জন তরুণ ঋণের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।

প্রথম ধাপে ৮টি জেলা থেকে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যাওয়ায় এবার কেন্দ্রীয় ব্যাংক পুরো দেশজুড়ে এই কর্মসূচি বিস্তৃত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ১ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের বাকি জেলাগুলোর আগ্রহী তরুণেরাও আবেদন করার সুযোগ পাবেন। পুরো প্রকল্পটির অধীনে দেশের ৫০৩টি উপজেলার ৫ হাজার ৩০ জন উদীয়মান তরুণ উদ্যোক্তাকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। আগ্রহীরা তাঁদের নিজ নিজ উপজেলার যেকোনো ব্যাংকের শাখায় গিয়ে সহজেই এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন।

বিশেষ এই তহবিলের মোট ৫০০ কোটি টাকার মধ্যে ২৫০ কোটি টাকা বাংলাদেশ ব্যাংক সরবরাহ করবে এবং অবশিষ্ট ২৫০ কোটি টাকা দেবে সহযোগী বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো। প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত একেকজন উদ্যোক্তা ১০ থেকে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা পাবেন। প্রাপ্ত অর্থের একটি নির্দিষ্ট অংশ অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে এবং বাকি অংশ ৪ থেকে ৭ শতাংশের স্বল্প সুদে ঋণ হিসেবে পরিশোধযোগ্য হবে।

এই সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক কিছু সুস্পষ্ট শর্তাবলী নির্ধারণ করে দিয়েছে। আবেদনকারীর বয়স আবেদনের শেষ দিনে সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে এবং এর আগে ব্যাংক বা অন্য কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়েছেন এমন কেউ এখানে আবেদন করতে পারবেন না। পাশাপাশি কোনো ঋণখেলাপি ব্যক্তি কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মচারীরা এই কর্মসূচির আওতায় আসবেন না।

প্রকল্পটিতে প্রধানত কৃষিভিত্তিক শিল্প, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, হস্তশিল্প, মৎস্য, পশুপালন, পর্যটন, হালকা প্রকৌশল ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের উদ্যোগগুলোকে প্রাধান্য দেওয়া হবে। এর পাশাপাশি ই-কমার্স, ফিনটেক, এডটেক, অ্যাগ্রিটেক ও হেলথটেকের মতো প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপসহ যেকোনো বৈধ ও আয়বর্ধক উদ্যোগের জন্য এই অর্থায়ন সহজলভ্য করা হবে।


নির্বাচিত

পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন: প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি

পার্বত্যাঞ্চলের উন্নয়নে আড়াই হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিগগিরই এ প্রকল্পের কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপি। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মিলনায়তনে বিভিন্ন মন্দিরের অনুকূলে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, জেলা পরিষদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এমন প্রকল্প গ্রহণ করা হবে, যাতে ধর্ম, বর্ণ ও গোত্র নির্বিশেষে পার্বত্যাঞ্চলের সব মানুষ বৈষম্যহীনভাবে উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারেন। বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থা, ই-লার্নিংয়ের মাধ্যমে শিক্ষার প্রসার, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন এবং কৃষির উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পার্বত্যাঞ্চলের সব সম্প্রদায়ের মানুষ পারস্পরিক সম্প্রীতি বজায় রেখে শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করলে সবার জন্য উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সহজ হবে। বাংলাদেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় প্রধানমন্ত্রী পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার দীপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিষদের সদস্যরা এবং মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিমসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে রাঙামাটি জেলার ৪৭টি মন্দিরের অনুকূলে মোট ২৪ লাখ ৯১ হাজার টাকার অনুদানের চেক বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে প্রতিমন্ত্রী জেলা শহরের প্রাচীন কালীবাড়ি মন্দির পরিদর্শন করেন।

এর আগে প্রতিমন্ত্রী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত সভায় অংশ নেন। সভায় রাঙামাটি ২৯৯ নম্বর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও এর উন্নয়নে করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।


নির্বাচিত

দুর্গোৎসবের মধ্যে নওগাঁয় গণেশ প্রতিমা ভাঙচুর, যুবক আটক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

ঢাকের বোল, শঙ্খধ্বনি আর পূজার মন্ত্রোচ্চারণে যখন মুখর শারদীয় দুর্গোৎসবের পরিবেশ, ঠিক তখনই নওগাঁর একটি পূজামণ্ডপে ঘটল অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। কুড়ালের আঘাতে ভাঙচুর করা হয়েছে গণেশ প্রতিমা। ঘটনাটিকে ঘিরে দিনভর চলে নানা আলোচনা। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে সদর উপজেলার হাসাইগাড়ি ইউনিয়নের হাতাশ খাড়াপাড়া সার্বজনীন পূজামণ্ডপে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গোলাম রাব্বানি নামের এক যুবককে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন মণ্ডপে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্য ও স্থানীয় লোকজন।

আটক গোলাম রাব্বানি একই ইউনিয়নের মধ্য হাতাশপাড়া গ্রামের মোহাম্মদ মুসার ছেলে।

উৎসবের মধ্যে এমন ঘটনায় হতবিহ্বল হয়ে পড়েছেন মণ্ডপের আয়োজক ও স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। আনন্দঘন পরিবেশে নেমে আসে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। তবে ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। একই সঙ্গে পূজার কার্যক্রম নির্বিঘ্নে চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে প্রশাসন।

জানা যায়, শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে একটি কুড়াল নিয়ে পূজামণ্ডপে প্রবেশ করেন গোলাম রাব্বানি। এরপর আকস্মিকভাবে গণেশ প্রতিমায় পরপর দুই-তিনটি কোপ দেন তিনি। মুহূর্তের মধ্যেই প্রতিমাটি ভাঙচুর করে সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে মণ্ডপে দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাকে কুড়ালসহ আটক করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হেফাজতে নেয়।

নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।


নির্বাচিত

নন্দীগ্রামে এবারও আমনের বাম্পার ফলনের আশা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নন্দীগ্রাম (বগুড়া) প্রতিনিধি

ঋতুর পরিবর্তনে প্রকৃতিজুড়ে বইছে হেমন্তের আবহ। ভোরের শিশিরভেজা ঘাস, গাছের পাতায় জমে থাকা জলকণা আর বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে সবুজ আমন ধানক্ষেত জানান দিচ্ছে নতুন ঋতুর আগমনের কথা। বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলার মাঠজুড়ে এখন সবুজের সমারোহ। দিগন্তজোড়া আমন ধানক্ষেতের এমন মনোরম দৃশ্য মুগ্ধ করছে প্রকৃতিপ্রেমীদের। মাঠে মাঠে ধানের সবুজ সমারোহ দেখে এবারও বাম্পার ফলনের আশায় বুক বাঁধছেন কৃষকরা। ঋতুর এই পরিবর্তন প্রকৃতির চিরন্তন নিয়ম। সময়ের সঙ্গে বদলে যায় প্রকৃতি, বদলে যায় মানুষের জীবনযাত্রাও।

হেমন্তের ভোরে শিশিরভেজা সবুজ ধানক্ষেত যেনো নতুন ঋতুকে বরণ করে নিচ্ছে। ভোরের স্নিগ্ধ পরিবেশ আর হিমেল হাওয়ায় গ্রামবাংলার চিরচেনা প্রকৃতি ফিরে পেয়েছে এক অনন্য রূপ। ইতোমধ্যে ধানগাছে থোড় বের হয়েছে। এখন ধানের দুধ ও দানা গঠনের প্রক্রিয়া শেষে ধানের শীষ পরিপক্ব হবে। কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময় থেকেই পুরোদমে ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ শুরু হবে।

নন্দীগ্রাম উপজেলার রণবাঘা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিনহাজুর রহমান হাবিব বলেন, ভোরের হিমেল হাওয়ায় শীতের আগমনী বার্তা পাওয়া যাচ্ছে। শিশিরভেজা ঘাস, গাছের পাতা ও সবুজ ধানক্ষেত যেনো প্রকৃতির অপূর্ব এক চিত্রপট। গ্রামবাংলার এই স্নিগ্ধ সৌন্দর্য মনকে প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয়। আমি এই স্নিগ্ধ সৌন্দর্য দেখেই বড় হয়েছি। এখনো গ্রামবাংলার চিরচেনা প্রকৃতি ও পরিবেশ দেখে আসছি। আমাদের এলাকায় এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলনের আশা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গাজীউল হক বলেন, চলতি খরিপ-২ মৌসুমে নন্দীগ্রাম উপজেলায় ১৯ হাজার ৫৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষাবাদ হয়েছে। যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য কম (লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১৯ হাজার ৫৪৫ হেক্টর জমি)। উপজেলার প্রতিটি মাঠেই আমন ধানের ক্ষেত বেশ ভালো দেখা যাচ্ছে। ফসলের উৎপাদন বাড়াতে কৃষকদের বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা এখন মাঠে বেশি সময় দিচ্ছেন, যাতে কৃষকরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা পান।

তিনি আরও বলেন, ফসলের উৎপাদন বাড়লে কৃষকরাই সবচেয়ে বেশি লাভবান হন। পাশাপাশি দেশের খাদ্যচাহিদা পূরণেও তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলন পাওয়ার আশা করছি।


নির্বাচিত

বিচ কার্নিভাল ঘিরে উৎসবের আমেজ জমজমাট হতে যাচ্ছে কুয়াকাটা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি

আগামী ২৩ ও ২৪ অক্টোবর বিচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে সুর্যোদয় ও সূর্যাস্তের বেলাভূমি সাগরকন্যা কুয়াকাটায় লক্ষাধিক পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমনের সম্ভাবনা রয়েছে। ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্টগুলো বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের বরণে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির আবাসিক হোটেল, মোটেল, রিসোর্টগুলোর ৭০-৮০ ভাগ রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কুয়াকাটা আবাসিক হোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন কর্তৃপক্ষ।

বিচ কার্নিভাল উৎসবে পর্যটক সমাগম বৃদ্ধির লক্ষ্যে হোটেল মালিক সমিতি রুম ভাড়ার ওপর ৫০ ভাগ ছাড়ের ঘোষণা দিয়েছেন। বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশ পৃথকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিচ কার্নিভাল উৎসবে স্থানীয় শিল্পীদের পাশাপাশি দেশের খ্যাতনামা শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বীচ ম্যারাথন, বীচ ফুটবলসহ নানা আয়োজন থাকবে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড, জেলা প্রশাসন তথা বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির যৌথ আয়োজনে এ বিচ কার্নিভাল উৎসব অনুষ্ঠিত হবে এমনটাই জানা গেছে বীচ ম্যানেজমেন্ট সূত্রে।

ইতোমধ্যে সৈকত এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন উপজেলা প্রশাসন। সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনে ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হয়েছে। ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে।

আবাসিক হোটেল-মোটেল মালিক সমিতি থেকে জানানো হয়েছে বিচ কার্নিভাল উৎসবকে ঘিরে পর্যটকদের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। ইতোমধ্যে তাদের হোটেলের ৮০ ভাগ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।

কুয়াকাটা সিকদার রিসোর্ট অ্যান্ড ভিলাসের সহকারী ব্যবস্থাপক আল আমিন খান উজ্জ্বল জানান, তাদের কটেজ এবং ভিলার ৭০ ভাগ কক্ষ অগ্রিম বুকিং হয়ে গেছে। দুয়েক দিনের মধ্যে শতভাগ বুকিং হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘এরই মধ্যে পূজার ছুটি বাড়তি সুবিধা দিয়েছে।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফ জানিয়েছেন, বিচ কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির হোটেল, মোটেল, রিসোর্টগুলোর ৬০-৭০ ভাগ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। তবে তৃতীয় শ্রেণির হোটেলগুলোর এখনো অধিকাংশ কক্ষ ফাঁকা রয়েছে। তিনি আরও জানান, কার্নিভাল উৎসবকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটায় লক্ষাধিকের ওপরে পর্যটক দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে বলে আশা করছেন।

কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশ জোনের ইনচার্জ মো. হাবিবুর রহমান জানান, বিচ কার্নিভাল উৎসবে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগতরা যাতে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারেন এ জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশ, জেলা পুলিশ, এসআরবির পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হবে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসিন সাদেক বলেন, ‘৫ দিনের সরকারি ছুটি ও বিচ-কার্নিভালকে কেন্দ্র করে কুয়াকাটা নতুন রূপে সাজতেছে। থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় পর্যটকদের নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে।’


নির্বাচিত

পলিটেকনিকে ছাত্রাবাস-অডিটোরিয়াম, নতুন বাসের আশ্বাস ভূমিমন্ত্রীর

রাজশাহী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী প্রতিনিধি

শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে নতুন ছাত্রাবাস নির্মাণ, অডিটোরিয়াম প্রতিষ্ঠা ও যাতায়াতের জন্য নতুন বাস চালুর আশ্বাস দিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। রাজশাহী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এসব আশ্বাস দেন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় প্রতিষ্ঠানটির ডিপ্লোমা-ইন-ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষাক্রমের ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের প্রথম পর্বের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

ভূমিমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট দেশের অন্যতম সেরা কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে প্রতিষ্ঠানটির অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নবীন শিক্ষার্থীদের মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা ও কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে।

ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের নিজেদের দায়িত্ব ও পরিচয়কে গুরুত্ব দিতে হবে। ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে হবে এবং কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা যাবে না।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, মহানগর বিএনপির সভাপতি মামুন অর রশীদ এবং মহানগর ছাত্রদলের সদস্যসচিব এমদাদুল হক লিমন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ এ. জে. এম. মাসুদুর রহমান। এ সময় প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

গুজব ও বিশৃঙ্খলা রোধে জরুরী ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ: আনসার-ভিডিপি মহাপরিচালক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রান্তিক পর্যায়ের পূজামণ্ডপে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, দায়িত্বপ্রাপ্ত আনসার-ভিডিপি সদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন এবং পূজারীদের মধ্যে নিরাপত্তা ও আস্থার পরিবেশ সুদৃঢ় করতে পূর্ব চান্দরা শ্রী শ্রী কালী ও দুর্গা মন্দির পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। এ সময় তিনি পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে দায়িত্বশীলতা, সতর্কতা ও সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পরিদর্শনকালে মহাপরিচালক বলেন, শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে ২ লাখ ১২ হাজারেরও বেশি আনসার-ভিডিপি সদস্য-সদস্যা মোতায়েন রয়েছেন। পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি দ্রুত মোকাবিলায় ১০৪টি স্ট্রাইকিং টিম সারাদেশে কাজ করছে। প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার আওতায় তথ্য প্রদানকারী, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী এবং তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সমন্বিতভাবে সংযুক্ত রয়েছেন ‘শারদীয় সুরক্ষা অ্যাপসে’। এর ফলে মাঠপর্যায়ের তথ্য দ্রুত আদান-প্রদান, পরিস্থিতি মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ সহজ হচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, তৃণমূল থেকে শুরু করে শহরাঞ্চল পর্যন্ত আনসার- ভিডিপির প্রতিটি সদস্য নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। যেকোনো সংকট ও প্রয়োজনে সাধারণ মানুষ সর্বদা আনসার-ভিডিপিকে পাশে পাবে। একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পূজা উদ্‌যাপন কমিটি এবং সাধারণ জনগণের সমন্বিত প্রয়াস অপরিহার্য।

মহাপরিচালক বলেন, কোনো গোষ্ঠী যাতে গুজব, উসকানি কিংবা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অপচেষ্টার মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ধৈর্য, সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে। প্রশাসনিক সমন্বয় জোরদার করে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে সব ধরনের বাধাবিপত্তি অতিক্রম করে উৎসবের স্বাভাবিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বিশ্বাস করে, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক সচেতনতা এবং সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের প্রতিটি পূজামণ্ডপে শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব। জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং জনগণের পাশে থাকার অঙ্গীকার নিয়ে শারদীয় দুর্গাপূজায় বাহিনীর সদস্য-সদস্যারা দায়িত্ব পালন অব্যাহত রেখেছেন।


নির্বাচিত

লাগেজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে শাহজালালে ৩২ সিসি ক্যামেরা-১৮ মনিটর স্থাপন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, লাগেজের নিরাপত্তা জোরদার এবং লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ উদ্যোগের আওতায় বিমানবন্দরের ৮টি লাগেজ বেল্ট এলাকায় ৩২টি সিসিটিভি ক্যামেরা এবং ৬৫ ইঞ্চি আকারের ১৮টি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)।

নতুন এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্মানিত যাত্রীরা লাগেজ হ্যান্ডলিং কার্যক্রমের বিভিন্ন ধাপ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন। উড়োজাহাজ থেকে লাগেজ নামানো, নির্ধারিত স্থানে পরিবহন, বাছাই এবং লাগেজ বেল্টে পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ার দৃশ্য স্থাপিত মনিটরে সরাসরি (লাইভ) দেখার সুযোগ পাবেন। ফলে, যাত্রীরা তাদের লাগেজ পরিবহনের কার্যক্রম সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা লাভ করবেন এবং লাগেজ সংগ্রহের প্রতিটি পর্যায়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সম্পর্কে অবগত থাকতে পারবেন। এ উদ্যোগের মাধ্যমে লাগেজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও জবাবদিহি আরও বাড়বে।

বেবিচক যাত্রীদের স্বার্থ সুরক্ষা, নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় ভ্রমণ নিশ্চিতকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানের বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে প্রবাসীসহ দেশি-বিদেশি সব যাত্রী যেন ভ্রমণ শেষে নির্বিঘ্নে ও নিশ্চিন্তে তাদের লাগেজ সংগ্রহ করতে পারেন, সে লক্ষ্যে প্রযুক্তিনির্ভর ও যাত্রীবান্ধব সেবার সম্প্রসারণে বেবিচকের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ উদ্যোগ দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রীসেবার মান আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।


নির্বাচিত

অনুমোদন ছাড়াই চলছিল রিসোর্ট, ঝুঁকিপূর্ণ বলে নোটিশ করেছিল ফায়ার সার্ভিস

ছবি: ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেছেন, কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানীর পাটুয়ারটেক সৈকতে কাঠের তৈরি টুপটুপ রিসোর্টটি অনুমোদন ছাড়াই চলছিল। রিসোর্টটির ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্সও ছিল না।

তিনি বলেন, গত জুনে পরিদর্শনের পর রিসোর্টটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে সতর্ক করে নোটিশ করেছিল ফায়ার সার্ভিস। এরপরও রিসোর্টটির অবৈধভাবে কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল। আজ রিসোর্টটিতে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে ৬ জন নিহত ও ১০ জনের বেশি আহত হন।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিস সদর দফতরে আয়োজিত ‘শারদীয় দুর্গাপূজায় অগ্নিনিরাপত্তা বিষয়ক’ প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

ফায়ার সার্ভিস মহাপরিচালক বলেন, তিনতলা কাঠের তৈরি রিসোর্টটির নিচতলায় ছিল রেস্তোরাঁ। সেখানে খাবার তৈরি করা হতো। দোতলা ও তিনতলায় পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা ছিল। রিসোর্টটি ফায়ার সার্ভিসের তদারকির আওতায় প্রয়োজনীয় সনদ ছিল না।

তিনি জানান, সকালে সাড়ে ৭টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ঘটনাস্থল থেকে নিকটতম ফায়ার স্টেশনের দূরত্ব ছিল ২২ কিলোমিটার। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা সেখানে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। পরে আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়। এরইমধ্যে ঘটনাস্থল থেকে ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

রিসোর্টটির লাইসেন্স নবায়ন না করা এবং সতর্ক করার পরও কার্যক্রম চালু রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে রিসোর্টটি চালাচ্ছিল না।

কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় কাঠ ও অন্যান্য দাহ্য উপকরণ দিয়ে তৈরি রিসোর্টগুলোর নিরাপত্তা এবং অনুমোদনের বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, অনেক ক্ষেত্রেই প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তাদের নোটিশের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনের মাধ্যমে নিরাপত্তাবিষয়ক বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন তিনি।

সামনে শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, এমন প্রশ্নে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক বলেন, অনুমানের ভিত্তিতে আগুনের কারণ নির্ধারণ করা সঠিক হবে না। পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই এ বিষয়ে জানা যাবে।

নোটিশ দেওয়ার পরও ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান চালু থাকা এবং সারাদেশে এ ধরনের রিসোর্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে ফায়ার সার্ভিসের করণীয় পর্যালোচনা করা হবে। বিদ্যমান আইন ও নজরদারির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

তুলির আঁচড়ে সাজছে রাজশাহী নগরী, প্রধানমন্ত্রীকে বরণে চলছে সাজসজ্জা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক

শহরের পথে পথে রঙের ছোঁয়া, সড়ক বিভাজকে নতুন প্রলেপ আর পরিচ্ছন্নতার কাজে ব্যস্ত কর্মীরা। কোথাও পুরোনো স্থাপনায় লাগছে নতুন রঙ, কোথাও চলছে সড়ক সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর ঘিরে এভাবেই নতুন সাজে সেজে উঠছে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নগরী। নগরীর সৌন্দর্য বাড়ানোর এই কর্মযজ্ঞে মিশে আছে রাজশাহীবাসীর আবেগ, ভালোবাসা ও প্রত্যাশা। আগামী ২০ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহী সফর উপলক্ষে নগরীজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে নগরীর বিমান চত্বর এলাকায় দেখা যায়, রঙমিস্ত্রিরা তুলির আঁচড়ে বিভিন্ন স্থাপনা রাঙিয়ে তুলছেন। হাতে রঙের পাত্র, চোখেমুখে কাজ শেষ করার তাগিদ। তাদের সঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও ব্যস্ত সময় পার করছেন নগরীকে আরও পরিচ্ছন্ন ও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে।

রঙমিস্ত্রি আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজশাহীতে আসবেন। তাকে স্বাগত জানানোর জন্য নগরীকে মনের মাধুরী মিশিয়ে তুলির আঁচড়ে রাঙিয়ে তুলছি। কাজটি করতে পেরে ভালো লাগছে। আমরা চাই, প্রধানমন্ত্রী এসে আমাদের সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন নগরী দেখুন।’

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের (রাসিক) পক্ষ থেকে নগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সড়ক বিভাজকের আইল্যান্ডে রঙ করা, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার, বিভিন্ন স্থাপনার সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।

ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, ‘তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটিই রাজশাহীতে প্রথম সফর। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ, আবেগ ও গৌরবের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে রাজশাহীবাসীর মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করছি, তার এই সফর রাজশাহীর ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে রাজশাহীতে ইতিহাসের সর্ববৃহৎ সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সমাবেশ সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ জোরদার করা হয়েছে। বিপুল জনসমাগম ও উষ্ণ অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে রাজশাহীবাসীর ভালোবাসা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে চাই।’

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজশাহীতে আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আবেগ ও অনুভূতির বিষয়। তাকে এক নজর দেখার জন্য রাজশালীবাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফর সফল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সড়ক বিভাজকের আইল্যান্ডে রঙ করা, প্রয়োজনীয় সড়ক সংস্কার এবং পরিবেশ উন্নয়নের কাজ চলছে।


নির্বাচিত

গাজীপুরে ওষুধ কারখানায় আগুন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা সফিপুরে অবস্থিত ইবনে সিনা ফার্মাসিউটিক্যালসের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন লাগার প্রায় এক ঘণ্টা পর তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয় ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কারখানাটির হারবাল সেকশনে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা ইফতেখার হোসেন রায়হান চৌধুরী জানান, আগুনের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ শুরু করে। পরে আরো তিনটি ইউনিট যোগ দেয়।

ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, আগুণ লাগার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ী ফায়ার স্টেশনের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।

পরিস্থিতি বিবেচনায় আগুন দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে গাজীপুর চৌরাস্তা ফায়ার স্টেশন থেকে আরও ২টি ইউনিট যুক্ত হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর অর্থাৎ সাড়ে ৫টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি।


নির্বাচিত

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রস্তুত থাকবে ‘মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পিরোজপুর প্রতিনিধি

দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্জিত গণতন্ত্র রক্ষায় ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’ দেশের প্রতিটি প্রান্তে প্রহরীর মতো প্রস্তুত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম’ পিরোজপুর জেলা শাখার সাংগঠনিক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‎‎বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযুদ্ধের প্রজন্ম পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান শুভ্রর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) ইঞ্জিনিয়ার মো. জুয়েল খান।

‎‎প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার মো. জুয়েল খান বলেন, ‘জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরে সংগঠনকে সুদৃঢ় ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে দেশব্যাপী এই সাংগঠনিক সফর পরিচালনা করা হচ্ছে। দেশের যেকোনো সংকটে মুক্তিযুদ্ধের সন্তানেরা রাজপথে অতন্দ্র প্রহরীর ভূমিকা পালন করবে।’ তিনি আরও বলেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ দিকনির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধের সন্তানদের পাশাপাশি দেশপ্রেমিক তরুণ সমাজকে একত্রিত করে আগামী দিনে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হবে।

বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আহম্মেদ শহীদুল হক চান, পিরোজপুর জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ. সালাম বাতেন এবং ‎পিরোজপুর জেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সিদ্দিকুল আলম (পাশা)। ‎এছাড়াও সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য গোলাম মুক্তাদির মুরাদ, খুলনা জেলা সাধারণ সম্পাদক এইচ এম খলিলুর রহমান, বরিশাল মহানগরের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আমানুজ্জামান খান এবং বরিশাল জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নজরুল ইসলাম ভুট্টো।

‎সভায় বক্তারা জানান, আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে বরিশালে অনুষ্ঠিতব্য বিভাগীয় সমাবেশ সফল করতে পিরোজপুরের প্রতিটি উপজেলায় শিগগিরই কর্মী সভা সম্পন্ন করে নতুন নেতৃত্ব ও প্রস্তাবিত কমিটি গঠন করা হবে। অনুষ্ঠানটিতে স্থানীয় নেতাকর্মী ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী পরিবারের সদস্যরা বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।


নির্বাচিত

banner close