বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
১৬ বৈশাখ ১৪৩৩

বিভিন্ন জেলায় হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ

ছাত্র-জনতার বুলডোজার অভিযান: ভাঙা হয়েছে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদের বাড়িতে ভাঙচুর। ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৫:৫৩

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।

বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা


ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।

বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।

পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।

এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।


অতিবৃষ্টিতে ডুবছে জমি, কাঁদছে কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জে টানা অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় শত শত একর জমির পাকা ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কোথাও ভাসমান ধান কেটে নিচ্ছেন কৃষকরা, আবার অনেক জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। যে ধান কয়েক দিনের মধ্যেই ঘরে তোলার কথা ছিল, তা এখন পানির নিচে ডুবে রয়েছে।
নদী ভরাট ও উজানের ঢলের কারণে সৃষ্ট এ জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। হাঁটু থেকে কোমর পানিতে নেমে কষ্ট করে ধান কাটলেও অনেকেই আশা ছেড়ে দিয়েছেন। পানির কারণে বাড়তি শ্রমিক লাগায় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে কয়েকগুণ। ফলে লাভ তো দূরের কথা, মূলধন নিয়েই শঙ্কায় রয়েছেন তারা।
অষ্টগ্রাম উপজেলার খয়েরপুর-আবদুল্লাপুর ইউনিয়নের কলিমপুর গ্রামের কৃষক ইকবাল হোসেন জানান, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও উজানের পানিতে কলিমপুর হাওরের বেশিরভাগ জমির ফসল তলিয়ে গেছে। জমিতে পানি জমে থাকায় হার্ভেস্টার ব্যবহার করা যাচ্ছে না, ফলে বাড়তি খরচে শ্রমিক দিয়ে ধান কাটতে হচ্ছে।
একই এলাকার কৃষক হযরত আলী বলেন, উজানের পানি নামলেই হাওরে পানি ঢুকে পড়ে। শিবপুর এলাকার খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রতিবছরই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে শ্রমিকের চাহিদা ও মজুরি দুটোই বেড়ে যায়।
কৃষক কামরুল ইসলাম বলেন, ফসল ভালো হয়েছিল, কিন্তু সব পানিতে তলিয়ে গেছে। এখন ঋণ কীভাবে শোধ করবো, সেই চিন্তায় আছি। সার ও কীটনাশকের উচ্চমূল্যের সঙ্গে এখন বাড়তি কাটার ও পরিবহন খরচ যোগ হওয়ায় ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। বাজারে ভেজা ধানের চাহিদাও কম।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল ভূইয়ার অভিযোগ, খোয়াই নদী ভরাট হয়ে যাওয়ার কারণেই এ ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। আগেই প্রশাসনকে বিষয়টি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
কৃষক রতন মিয়া বলেন, ঋণ নিয়ে ১০ একর জমিতে চাষ করেছি, কিন্তু ফসল কাটতেই পারলাম না। এখন পরিবার নিয়ে কীভাবে চলবো বুঝতে পারছি না।
আরেক কৃষক এংরাজ মিয়া বলেন, পুরো ফসল পানির নিচে। পচে যাওয়া ধানও কেটে নিতে হচ্ছে, না হলে একেবারেই কিছু থাকত না।
ইটনা উপজেলার এলংজুরী ইউনিয়নের ছিলনী গ্রামের কৃষক হারুন অর রশিদ জানান, তাদের পাশ্ববর্তী এলাকার কাকটেংগুর হাওরেও নদীর পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক জমির ধান এখনো কাটা হয়নি, ফলে এসব ফসল নিয়ে কৃষকদের আশা প্রায় শেষ।
কাকটেংগুর গ্রামের কৃষক ফেরদৌস মিয়া বলেন, সারাবছরের খোরাকের জন্য এক একর জমিতে চাষ করেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ পানি বাড়ায় সব তলিয়ে গেছে। এখন ঋণের বোঝা আর সংসারের চিন্তায় দিশেহারা তারা।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. সাদিকুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ বলা যাচ্ছে না। খুব শিগগিরই ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, চলতি মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৬৮ হাজার ২৬২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে, যার মধ্যে হাওরাঞ্চলে ১ লাখ ৪ হাজার ৫৮১ হেক্টর। এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ধান কর্তনে ধীরগতি নেমে এসেছে।
কিশোরগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাজ্জাদ হোসেন জানান, এখনো হাওরের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি, তবে টানা বৃষ্টিতে নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আগাম বন্যার ঝুঁকি এড়াতে ৮০ শতাংশ পাকলেই ধান কেটে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, ৫ জনই ঢাকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

হাম ও হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) দেশে আরও ৯ শিশু মারা গেছে। এর মধ্যে তিন শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছিল। হামের উপসর্গ ছিল ছয় শিশুর। এ সময়ে সারা দেশে আরও ১ হাজার ২৭৬টি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। হাম শনাক্ত হয়ে তিন শিশুই ঢাকায় মারা গেছে।

আর হাম উপসর্গে বরিশালে দুটি, ঢাকায় দুটি, রাজশাহীতে একটি ও সিলেটে একটি শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ২২৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৪৭ শিশু।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৩৪ হাজার ৬৬২ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২৩ হাজার ৩৪৮ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ১৯ হাজার ৯৯১ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে দেশে ৪ হাজার ৮৫৬ শিশুর শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে বলেও উল্লেখ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।


চট্টগ্রামে মাইক্রোবাস খাদে পড়ে নিহত ৩

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়ায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুইজন বৌদ্ধ সন্যাসী রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) উপজেলার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি এক্স নোয়াহ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের গভীর খাদে পড়ে গেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার পরপরই গাড়ির যাত্রীরা গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উদ্যোগে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটস্থ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি নাইক্ষ্যংছড়ি থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে যাচ্ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে অতিরিক্ত গতি বা চালকের নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই দুর্ঘটনাটি ঘটতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।

লোহাগাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল জলিল বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার সময় মাইক্রোবাসটি অতিরিক্ত গতির কারণে একটি গাড়ি খাদে গিয়ে পড়ে। এতে তিনজন নিহত হয়েছে ও চারজন আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতদের লাশ থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।


পাবনায় ৩ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি 

পাবনায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) পাবনা সদর থানা এলাকায় এক সফল অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পাবনা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদের দিকনির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রেজিনুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এই অভিযান পরিচালিত হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে সদর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়।

ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, তিন বছরের ওই নাবালিকা শিশুকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগে সদর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুলিশ অভিযোগটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সংশোধনী ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় একটি মামলা রুজু করে (মামলা নং-৫৪, তারিখ: ২৮/০৪/২০২৬)। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আদালতে প্রেরণের কাজ চলমান রয়েছে।

পাবনার পুলিশ সুপার গণমাধ্যমকে জানান, নারীদের নিরাপত্তা ও শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। পাবনা জেলা পুলিশ অপরাধ দমন ও জননিরাপত্তা রক্ষায় সর্বদা বদ্ধপরিকর।

ভিকটিম শিশুর পরিবার এই দ্রুত পদক্ষেপের জন্য পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।


সড়ক দুর্ঘটনায় পরীক্ষা দিতে পারেনি তিন পরীক্ষার্থী, আহত ৫ 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি

গাজীপুরের শ্রীপুরে এসএসসি পরিক্ষার্থী বহনকারী সিএনজির সঙ্গে ডাম্প ট্রাকের সংঘর্ষে পাঁচজন এসএসসি পরিক্ষার্থী আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল পৌঁনে ৯টার দিকে ঢাকা ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপজেলার এমসি বাজার এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন, জাহিদ হাসান(১৬), আবির(১৬), সজীব(১৬), আহাদ(১৬) ও পাপ্পু(১৬)। তারা সবাই উপজেলার তেলিহাটি ইউনিয়নের এমসি বাজার এলাকার হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলমান এসএসসি পরিক্ষার্থী।

হাজী ছোট কলিম স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নান সজল বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আমার স্কুলের দুজন শিক্ষককে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তিনজনকে গুরুতর অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকি দুজন পরিক্ষায় বসেছে।

ধনাই বেপারী মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এসএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব আবুল কালাম আজাদ বলেন, দুপুর ১২ টার একটু আগে দুজন আহত পরিক্ষার্থী কেন্দ্রে প্রবেশ করছেন।

শ্রীপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, খুবই মর্মান্তিক একটি দুর্ঘটনার খবর পেয়েছি। তিনজন চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং দুজন পরীক্ষাতে বসেছে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূঁইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় কবলিত হয়ে পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। তাদের সার্বিক চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে।


ত্রিশালে বোরো ধানের বাম্পার ফলন, শ্রমিকের মজুরি মেটাতে বিপাকে কৃষক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ময়মনসিংহের ত্রিশালে বোরো ধানের সোনালি শীষে মাঠ ভরে উঠলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। প্রতিকূল আবহাওয়া আর শ্রমিক সংকটের কারণে ধান কাটা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। বাজারে ধানের দামের তুলনায় শ্রমিকের মজুরি আকাশচুম্বী হওয়ায় লাভ তো দূরের কথা, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে ত্রিশাল উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে, বর্তমানে এক জন ধান কাটা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি গুনতে হচ্ছে ১১০০ টাকা। অথচ স্থানীয় বাজারে নতুন ধান বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে। অর্থাৎ, এক জন শ্রমিকের মজুরি মেটাতে কৃষককে প্রায় দেড় মণ ধান বিক্রি করতে হচ্ছে।

পৌর এলাকার কৃষক জুলহাস উদ্দিন জানান, সার, বীজ, সেচ এবং কীটনাশকের দাম বৃদ্ধির কারণে এবার ধান চাষে খরচ গত কয়েক বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। বিঘা প্রতি ধান কাটতে যে পরিমাণ খরচ হচ্ছে, তাতে ধান বিক্রি করে শ্রমিকের মজুরি দেওয়াই দায় হয়ে পড়েছে।

কৃষক আলালউদ্দিন আক্ষেপ করে বলছেন, ‘ঘাম ঝরিয়ে ধান ফলালাম, কিন্তু এখন শ্রমিকের মজুরি দিতে গিয়ে পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে। এক মণ ধান বেচে এক জন কামলার দামও হচ্ছে না।’ স্থানীয় শ্রমিকের অভাব থাকায় বাইরের জেলা থেকে আসা শ্রমিকদের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু এবার শ্রমিকের টান পড়ায় মজুরি ১ হাজার টাকার নিচে নামছে না। অনেক জায়গায় পাকা ধান মাঠে পড়ে থাকলেও শ্রমিকের অভাবে কাটতে দেরি হচ্ছে, যা শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।


খুলনায় হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা মহানগরীতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সাথে এক মতবিনিময় সভা মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে নগরীর শেরে বাংলা রোডস্থ নগর স্বাস্থ্য ভবনে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। কেসিসির স্বাস্থ্য বিভাগ অয়োজিত সভায় ইমাম পরিষদ-খুলনার নেতৃবৃন্দসহ নগরীর বিভিন্ন মন্দিরের পুরোহিত ও গির্জার প্রতিনিধিগণ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় কেসিসি প্রশাসক বলেন, দেশব্যাপী হাম-রুবেলায়, বিশেষ করে হামে অনেক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে যা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়। সরকারও এ বিষয়টি যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিবেচনায় নিয়ে দেশের সকল শিশুকে একযোগে টিকার আওতায় আনার জন্য কার্যক্রম শুরু করছে। সমাজে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের ব্যাপক ভূমিকা রয়েছে। সে কারণে মসজিদ-মাদরাসায়, মন্দির ও গির্জায় হামের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে নিজ নিজ ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মানুষদের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের প্রতি আহবান জানান।

উল্লেখ্য, আগামী ২০ মে পর্যন্ত খুলনা মহানগরীতে হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইন চলমান থাকবে। খুলনায় হামের সংক্রমণ হার দেশের অন্যান্য জেলাগুলির চেয়ে কম হলেও মহানগরীতে হাম-রুবেলা টিকাদানের অগ্রগতি সন্তোষজনক। বাকি দিনগুলিতে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে সভায় জানানো হয়। হামের সংক্রমণ যেন বৃদ্ধি না পায় এবং আমাদের শিশু সন্তানদের সুস্থ রাখতে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দসহ সকলের সহযোগিতা কামনা করা হয়।

কেসিসি’র প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সহকারী পরিচালক মো: আশরাফ আলী, ইমাম পরিষদ-খুলনার সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, খুলনা মহানগর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার কুন্ডু, বাংলাদেশ প্যাপ্টিস্ট চার্চ সংঘ-খালিশপুরের সাধারণ সম্পাদক পল প্রশান্ত বিশ^াস, খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি সুজনা জলি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসআইএম নাজমুর রহমান সজিব সহ মহানগরীর বিভিন্ন মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত ও গীর্জার প্রতিনিধি সভায় বক্তৃতা করেন ও উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন কেসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. শরীফ শাম্মীউল ইসলাম।

এর আগে কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগরীর ৩১নং ওয়ার্ড অফিসে মনোনীত গর্ভকালীন ভাতাভোগীদের মাঝে ফরম বিতরণ করেন। মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সমাজসেবা কার্যালয় এ গর্ভকালীন ভাতা প্রদান করবে। কেসিসির ৩১নং ওয়ার্ডের ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শেখ শফিকুল হাসান দিদার, সমাজসেবা কার্যালয়ের প্রতিনিধি চুমকি স্যান্নালসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।


ট্রাক চাপায় প্রাণ গেল নবম শ্রেণির ছাত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডিমলা (নীলফামারী) প্রতিনিধি

নীলফামারীর ডিমলায় ট্রাক চাপায় আরোবি আক্তার (১৫) নামের এক নবম শ্রেণির স্কুল ছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল বেলা ১১টার সময় সদর ইউনিয়নের সরদারহাট চৌপতি নামক স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ছাত্রী একই ইউনিয়নের কুটির ডাঙ্গা (বগুড়া পাড়া) গ্রামের আমিনুর রহমানের মেয়ে ও ডিমলা আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার সময় ছাত্রীটি প্রাইভেট পড়া শেষে বাই-সাইকেল করে বাড়ি ফেরার সময় নাউতারা থেকে ডিমলা সদরগামী ঢাকা মেট্রো ট-১২-৬৮২৯ নম্বরের একটি দ্রুতগতির ট্রাক ছাত্রীটিকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

স্থানীয়রা ছাত্রীটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ডিমলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ডিমলা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সামসুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাইভেট পড়া শেষে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাক চাপায় নিহত হন ছাত্রীটি। তার মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ডিমলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শওকত আলী বলেন, ‘ঘটনার সময় ট্রাকটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ায় তা আটক করা সম্ভব হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দিলে আমরা মামলা নিতে প্রস্তুত।’

এদিকে গোপন সূত্রে জানা জানা গেছে, ঘাতক ট্রাকটির মালিক ঘটনা স্থলের পাশের বাড়ির একজন বিজিবি সদস্যের। আর ঘাতক ট্রাকটির চালকের বাড়ি পার্শ্ববর্তী ডোমার উপজেলায়।


চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগের পর ছয় বছরের শিশুর মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ায় একটি বেসরকারি ক্লিনিকে হাতের অস্ত্রোপচারের আগে চেতনানাশক ওষুধ প্রয়োগের পর তাসনিয়া (৬) নামের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। স্বজনদের দাবি, চিকিৎসকের ভুলের কারণেই শিশুটির মৃত্যু হয়েছে।

নিহত তাসনিয়া কুমারখালী উপজেলার শানপুকুরিয়া গ্রামের তরিকুল ইসলামের ছোট মেয়ে। তিন বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট।

নিহত শিশুর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, সপ্তাহখানেক আগে পড়ে গিয়ে তাসনিয়ার ডান হাত ভেঙে যায়। চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুর ১টার দিকে তাকে কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়া এলকায় অবস্থিত একতা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে তাকে অস্ত্রোপাচার কক্ষে (ওটি) নেওয়া হয়। স্বজনদের অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের আগে অতিমাত্রায় অ্যানেস্থেশিয়া বা চেতনানাশক ওষুধ দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই তাসনিয়ার মৃত্যু হয়।

অস্ত্রোপচার করার কথা ছিল কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের হাড়জোড় বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. আব্দুল হাদীর। আর অ্যানেস্থেশিয়া প্রদান করেন ডা. তাহেরুল আল আমিন (রেজি নং: এ৯১৯৪৩)। এ কাজের জন্য ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ ২০ হাজার টাকা চুক্তি করেছিল বলে পরিবার জানায়।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. তাহেরুল আল আমিন ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার (রিঅ্যাকশন) কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, অ্যানেস্থেশিয়া দেওয়ার পর রিঅ্যাকশন হওয়ায় শিশুটির অবস্থার অবনতি হয় এবং একপর্যায়ে সে মারা যায়।

রাতেই পুলিশ শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায় এবং পরদিন মঙ্গলবার দুপুর ৩টার দিকে শিশু তাসনিয়ার ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়।

ঘটনার পর থেকে ক্লিনিক মালিক সাইদুল ইসলামকে পাওয়া যায়নি। এদিকে শিশুর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্বজন ও এলাকাবাসী ক্লিনিকে ভিড় করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। উত্তেজিত জনতাকে নিয়ন্ত্রণ করতে গত সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত সেখানে সেনাবাহিনী ও র‌্যাব-১২-এর একটি দল ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়।

নিহত তাসনিয়ার বাবা তরিকুল ইসলাম আহজারি করে বলেন, ‘সামান্য হাত ভাঙার অপারেশন করাতে এসে আমার বুক খালি হলো। ডাক্তারদের ভুলের কারণেই আমার মেয়েটা মারা গেছে। আমি এর বিচার চাই।’

এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কবির হোসেন মাতুব্বর জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


চবি ক্যাম্পাসে স্বস্তির মৌসুমি বৃষ্টি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চবি প্রতিনিধি 

দীর্ঘদিনের তীব্র গরম ও ভ্যাপসা আবহাওয়ার পর অবশেষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) ক্যাম্পাসে শুরু হয়েছে মৌসুমি বৃষ্টি।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) হঠাৎ কালো মেঘে আকাশ ঢেকে গেলে কিছুক্ষণের মধ্যেই নেমে আসে স্বস্তির বৃষ্টি।

বৃষ্টি শুরু হতেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক, খেলার মাঠ ও খোলা প্রাঙ্গণে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস। অনেক শিক্ষার্থী বৃষ্টিতে ভিজে আনন্দ উপভোগ করেন। বিশেষ করে জিরো পয়েন্ট, শহীদ মিনার এলাকা ও প্রশাসনিক ভবনের সামনের সড়কে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

শিক্ষার্থীরা জানান, কয়েকদিন ধরে প্রচণ্ড গরমে ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক চলাচল কঠিন হয়ে উঠেছিল। হঠাৎ এই বৃষ্টি পরিবেশকে শীতল করে দিয়েছে এবং ক্যাম্পাসে এনে দিয়েছে প্রাণচাঞ্চল্য।

বৃষ্টির কারণে ক্যাম্পাসের সবুজ প্রকৃতি নতুন রূপ ধারণ করে। গাছপালা ধুয়ে গিয়ে চারদিকে সৃষ্টি হয় মনোরম পরিবেশ। চারপাশে জারুল গাছগুলোও ফুলে ফুলে ভরপুর হয়ে ওঠেছে।

অনেক শিক্ষার্থী এই মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিন চট্টগ্রাম অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

হঠাৎ নামা এই বৃষ্টি শুধু আবহাওয়াই নয়, শিক্ষার্থীদের মনেও এনে দিয়েছে প্রশান্তি।


গজারিয়ায় গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে প্রাণ গেল কৃষকের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় বৃষ্টির মধ্যে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে বজ্রপাতে শাহাদাত হোসেন (৪০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বেলা পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কলসেরকান্দি গ্রাম-সংলগ্ন মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শাহাদাত হোসেন ওই গ্রামের লোকমান মিয়ার ছেলে।

​নিহতের পরিবার ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকায় শাহাদাত তার পালিত গরুটি বাড়ির পাশের মাঠে চড়াতে দিয়ে আসেন। সকাল ১০টার পর হঠাৎ আকাশ মেঘলা হয়ে বজ্রসহ বৃষ্টি শুরু হয়। বৃষ্টির তীব্রতা না কমায় শাহাদাত মাঠ থেকে তার গরুটি আনতে যান। গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বেলা পৌনে ১১টার দিকে আকস্মিক বজ্রপাতের শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন তিনি। ​পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গজারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জসিম উদ্দিন বলেন, ‘বজ্রপাতে তার মৃত্যু হয়েছে। তাকে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল; সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।’

​এ বিষয়ে গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাসান আলী জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।


কুমিল্লায় ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিতে, নগরজুড়ে ভোগান্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লায় কালবৈশাখী ঝড় ও ভারী বৃষ্টিপাতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। পাশাপাশি টানা বর্ষণে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নগরবাসী।

স্কুল-কলেজ থেকে বাড়ি ফিরতে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। অনেক স্থানে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

ঝাউতলা এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ আসফা বেগম বলেন, ‘মৌসুমের শুরুতেই হাঁটুসমান পানি ভেঙে স্কুল থেকে মেয়েকে নিয়ে আসতে হয়েছে। রিকশা ভাড়াও দ্বিগুণ হয়েছে।’

নগরীর রেসকোর্স এলাকার বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘ভারী বৃষ্টিপাতে বিভিন্ন বাসাবাড়িতে পানি ঢোকে পড়েছে।’

কান্দিরপাড় এলাকার বাসিন্দা ওবায়দুল হক বলেন, ‘খাল ও ড্রেনে বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক বোতল ও বর্জ্য জমে থাকায় পানি নামতে পারছে না, ফলে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।’

বুড়িচংয়ের মিথিলমা এলাকার বাসিন্দা জাকির হোসেন জানান, সকালের কালবৈশাখী ঝড়ে বেশ কিছু গাছ উপড়ে পড়ে ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

নাঙ্গলকোট উপজেলার সাইফুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হয়েছে।

এদিকে ভারী বৃষ্টিপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ে ধানসহ অন্যান্য শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছে কৃষি বিভাগ।

কুমিল্লা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মিজানুর রহমান জানান, কালবৈশাখী ঝড়ে ধানের ব্যাপক ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে কাজ করছেন কৃষি কর্মকর্তারা।

জেলার বিভিন্ন উপজেলার সড়কে গাছ উপড়ে পড়ে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে এখনো ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ।

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ চলমান রয়েছে। খাল ও ড্রেনে বর্জ্য জমে থাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। এ কারণে তিনি নগরবাসীকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

কুমিল্লা আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফুর রহমান জানান, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


পদ্মায় ধরা পড়ল ২৫ কেজির পাঙ্গাশ, বিক্রি হলো ৭০ হাজার টাকায়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া সংলগ্ন পদ্মা নদীতে এক জেলের জালে ধরা পড়েছে বিশাল আকৃতির একটি পাঙ্গাশ মাছ। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) ভোরে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটের পদ্মা নদীর মোহনায় মাছটি ধরা পড়ে। ২৫ কেজি ওজনের এই বিশাল মাছটি শেষ পর্যন্ত ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে বলে স্থানীয় মৎস্য আড়ত সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

স্থানীয় জেলে এরশাদ হালদার জানান, সোমবার রাতে তিনি ও তাঁর সহযোগীরা নৌকা নিয়ে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে পদ্মা নদীতে জাল ফেলেন। সারারাত অপেক্ষার পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৬টার দিকে জালে জোরালো টান অনুভূত হয়। জাল টেনে নৌকায় তুলতেই তাঁরা দেখতে পান রূপালি রঙের বিশাল এক পাঙ্গাশ। দীর্ঘদিন পর নদীতে এমন বড় মাছ ধরা পড়ায় জেলেরা অত্যন্ত উচ্ছ্বসিত হয়ে পড়েন এবং দ্রুত মাছটি বিক্রির জন্য আড়তে নিয়ে যান।

মাছটি বিক্রির উদ্দেশ্যে সকাল ৭টার দিকে দৌলতদিয়া ঘাটের রেজাউলের আড়তে নেওয়া হলে সেখানে উৎসুক জনতা ভিড় জমান। মাছটি উন্মুক্ত ডাকের মাধ্যমে বিক্রির প্রক্রিয়া শুরু হলে স্থানীয় ৫ নম্বর ফেরিঘাটের মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা প্রতি কেজি ২ হাজার ৮০০ টাকা দরে মাছটি কিনে নেন। ২৫ কেজি ওজনের এই পাঙ্গাশটির মোট বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় ৭০ হাজার টাকা।

মাছ ব্যবসায়ী চান্দু মোল্লা জানান, বর্তমান সময়ে পদ্মা নদীতে এত বড় সাইজের দেশি পাঙ্গাশ মাছ পাওয়া বেশ দুষ্কর। আড়ত থেকে কেনার পরপরই তিনি ঢাকার গুলিস্তানের এক মৎস্য ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সামান্য মুনাফা রেখে মাছটি সেখানে পাঠিয়ে দেন। পদ্মার সুস্বাদু ও বড় পাঙ্গাশের চাহিদা বাজারে ব্যাপক থাকায় এটি চড়া দামে বিক্রি হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

এর আগে দৌলতদিয়া এলাকায় মাঝেমধ্যে বড় কাতল বা বাঘাইড় মাছ ধরা পড়লেও ২৫ কেজির পাঙ্গাশ পাওয়ার ঘটনা এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মতে, নদীর নাব্য সংকটের মাঝেও বড় মাছ পাওয়াটা জেলেদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, অভয়াশ্রম ও প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ রাখার সুফল হিসেবে জেলেরা এখন বড় মাছের দেখা পাচ্ছেন।


banner close