ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
আমির হোসেন-রোকেয়া বেগম দম্পতির তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে শিশুসন্তানদের স্ত্রীর কাছে রেখে আমির হোসেন পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। প্রথম তিন বছর যোগাযোগ থাকলেও পরে ২৭ বছর ধরে ছিলেন নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা কোনো খবর পাচ্ছিলেন না। ছয় মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও দেখে রোকেয়া শনাক্ত করেন, এটি তার স্বামীর ছবি। এরপর ভিডিও পোস্ট করা ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে আমির হোসেনের পরিবার। দীর্ঘ ছয় মাসের প্রচেষ্টার পর গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) গভীর রাতে আমির হোসেন পা রাখেন বাংলাদেশের মাটিতে। ৩০ বছর পর আমির হোসেনকে কাছে পেয়ে তার স্ত্রী ও সন্তানরা আপ্লুত হয়ে পড়েছেন।
আমির হোসেনের বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার চামটা ইউনিয়নের দিনারা গ্রামে। পরিবারের সদস্যরা জানান, স্ত্রী ও ছয় সন্তান নিয়ে আমির হোসেনের সংসার। অভাব–অনটন লেগেই থাকত। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে পারিবারিকভাবে পাওয়া কৃষিজমি বিক্রি করে ১৯৯৬ সালে দালালের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান আমির হোসেন। সেখানে গিয়ে রংমিস্ত্রির কাজ শুরু করেন। মালয়েশিয়া যাওয়ার পর তিন বছর পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ ছিল। সংসার খরচের টাকাও পাঠাতেন প্রতি মাসে। তিন বছর পর হঠাৎ করেই পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরিবারের সদস্যরাও তার কোনো সন্ধান পাচ্ছিল না। আমির হোসেন কোথায়, কীভাবে আছেন, আদৌ বেঁচে আছেন কি না; তাও জানতেন না পরিবারের সদস্যরা।
ছয় মাস আগে মালয়েশিয়ার পেনাংয়ের একটি জঙ্গলে গিয়ে একটা ছোট্ট টিনের ঘরে মানসিক ভারসাম্যহীন অবস্থায় আমির হোসেনকে দেখতে পান দীপু নামের এক প্রবাসী এবং প্রবাসী সংবাদকর্মী বাপ্পি কুমার দাস। সেখান থেকে তারা তাকে উদ্ধার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রকাশ করেন। ওই ভিডিও দেখে আমির হোসেনকে তার পরিবারের সদস্যরা শনাক্ত করেন। এরপর তারা ভিডিও পোস্টকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তাদের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যরা ভিডিও কলে আমির হোসেনের সঙ্গে কয়েক দফা কথা বলেন। এরপর তাকে দেশে ফেরানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তারা আমির হোসেনের ছবি ও তার দেওয়া তথ্য পাঠায় নড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে। তার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করা হয়। এরপর উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় চামটা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে আমির হোসেনের জন্মনিবন্ধন করা হয়। ওই জন্মনিবন্ধন ও পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ডকুমেন্ট পাঠানো হয় মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসে। এরপর তাকে সেখান থেকে ট্রাভেল পাস প্রদান করে দেশে ফেরার ব্যবস্থা করে। গত মঙ্গলবার রাত ১২টা ২০ মিনিটে মালয়েশিয়া থেকে ঢাকায় পৌঁছান তিনি।
বিমানবন্দরে সিভিল অ্যাভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) ও প্রবাসীকল্যাণ ডেস্কের সহায়তায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ও পরিবারের সদস্যরা আমির হোসেনকে গ্রহণ করেন। বিমানবন্দরের কার্যক্রম শেষ করে পরিবারের সদস্যরা আমির হোসেনকে নিয়ে যান ঢাকার কেরানীগঞ্জে তার ছোট ছেলে শহীদুল ইসলামের বাসায়। সেখানে তিনি বর্তমানে বিশ্রামে রয়েছেন।
দীর্ঘ ৩০ বছর পর স্বামী ফিরছেন, এমন খবর পেয়ে ঢাকায় ছেলেদের কাছে ছুটে যান রোকেয়া বেগম। বিমানবন্দরে স্বামীকে কাছে পেয়ে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
রোকেয়া বেগম বলেন, ‘ছয় শিশুসন্তান রেখে তিনি (আমির হোসেন) মালয়েশিয়ায় যান। তিন বছর পর্যন্ত প্রতি মাসে কমবেশি টাকা পাঠিয়েছেন সংসার খরচের জন্য। হঠাৎ করে তিনি যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। ২৭ বছর ধরে তাকে বিভিন্নভাবে খোঁজার চেষ্টা করেছি। কোনো সন্ধান পাচ্ছিলাম না। মানুষটা বেঁচে আছেন, নাকি মারা গেছেন, তাও বুঝতে পারছিলাম না। ছোট ছোট ছেলে–মেয়েদের নিয়ে বিপাকে পড়ে যাই। আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার মানুষের সহায়তায় খেয়ে না–খেয়ে ছেলে–মেয়েদের নিয়ে বেঁচে ছিলাম। ছয় মাস আগে আমার এক ভাই মোবাইলে একটি ভিডিও দেখান, ওই ভিডিও দেখে আমরা তাকে চিনতে পারি। এরপর তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য আমাদের আকুতি বেড়ে যায়। আমার সন্তানরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করে। এভাবে ফেসবুকে একটি ভিডিও দেখে তাকে ফিরে পাব, তা কখনো ভাবতে পারিনি। স্বামীকে এত বছর পর ফিরে পাওয়া আমার জীবনের একটি অবিস্মরণীয় ঘটনা।
আমির হোসেনের তিন ছেলে ও তিন মেয়ের মধ্যে বড় ছেলে তিন বছর আগে মারা গেছেন। তিন মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে, তারা শ্বশুরবাড়িতে থাকেন। আর বেঁচে থাকা দুই ছেলে ঢাকায় শ্রমিকের কাজ করেন। তারা ঢাকার কেরানীগঞ্জ এলাকায় ভাড়া করা একটি বাসায় থাকেন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, ৩০ বছর ধরে একজন প্রবাসে, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ২৭ বছর ধরে যোগাযোগ না থাকার ঘটনা ভীষণ বেদনাদায়ক। এমন একজনকে পরিবার খুঁজে পেতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেন। এই ফিরে আসা শুধু একজন ব্যক্তির নয়, একটি পরিবারের দীর্ঘ অপেক্ষার সমাপ্তি।
শরিফুল হাসান বলেন, ‘এই ঘটনা প্রবাসজীবনের অনিশ্চয়তার এক জ্বলন্ত উদাহরণ। একজন মানসিক ভারসাম্যহী; কিন্তু কেউ তার খোঁজ জানেন না। অতীতেও আমরা এমন ঘটনা দেখেছি। এমন সংকটে আরও কতজন আছেন, তাও আমরা জানি না। অথচ প্রত্যেক প্রবাসীর খোঁজ রাখা জরুরি। এই প্রযুক্তির যুগে প্রত্যেক প্রবাসীর ডেটাবেজ করা অসম্ভব নয়, বরং জরুরি। কারণ, তারা এই দেশের মানুষ এবং আমাদের অর্থনীতি সচল রাখেন।’
নড়িয়ার ইউএনও আবদুল কাইয়ুম বলেন, ‘আমরা ওই ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্যগুলো যাচাই শেষে আবার মালয়েশিয়া দূতাবাসে পাঠিয়েছি। এখান থেকে তার কিছু ডকুমেন্ট পাঠানোর পরে দূতাবাস থেকে তাকে দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। তিনি দেশে ফিরে এসেছেন, পরিবারের কাছে আছেন। ওই ব্যক্তির যেকোনো সমস্যায় উপজেলা প্রশাসন পাশে থাকবে।’
সম্পত্তির লোভেই নওগাঁর নিয়ামতপুরে একই পরিবারের চারজনকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহত হাবিবুরের আপন দুই ভাগনে ও দুলাভাইকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুর ২টা ৩০মিনিটের দিকে পুলিশ সুপার কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নিহত হাবিবুর রহমানের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম (৩০), তার ছেলে শাহিন হোসেন ও ভাগনে সবুজ রানা (২০)। তিনজনেরই বাড়ি উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামে।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, ‘নিয়ামতপুর উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের নমির উদ্দিনের এক ছেলে ও পাঁচ মেয়ে। হাবিবুরের বাবা তার ছেলে-মেয়েদের মধ্যে তার সম্পত্তি লেখে দেন। তিনি তার ১৭ বিঘা সম্পত্তির মধ্যে বসতবাড়িসহ ১৩ বিঘা সম্পত্তি ছেলে হাবিবুর রহমানকে লেখে দেন। বাকি সম্পত্তি তার মেয়েদের লেখে দেন। হাবিবুরকে বেশি সম্পত্তি লেখে দেওয়ায় বোন, ভগনীপতি ও ভাগনেদের সাথে হাবিবুরের ঝামেলা শুরু হয়। কয়েক দিন ধরে তাদের মধ্যে বিরোধ চলছিল।’
পুলিশ সুপার আরও বলেন, ‘জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হাবিবুরের বোন শিরিন আক্তারের স্বামী শহিদুল ইসলাম, তার ছেলে শাহিন ও হাবিবুরের আরেক বোন হালিমা খাতুনের ছেলে সবুজ রানা হাবিবুরকে হত্যা করার পরিকল্পনা করে। গত সোমবার বিকেলে হাবিবুর তার ভাগনে সবুজ রানাকে নিয়ে উপজেলার ছাতড়া বাজারে গরু কিনতে যান। হাবিবুর ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা নিয়ে গরু কিনতে গিয়েছিলেন। পরে গরু না কিনেই বাড়িতে ফিরে আসেন। বাজার থেকে ফিরে আসার পর গ্রামের একটি মাঠে গিয়ে সবুজ রানা, শহিদুল, শাহিনসহ এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছয়জন পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত সোমবার রাত ৮টার দিকে হাবিবুরের বাড়িতে যায়। তিনি তার মামা-মামি ও মামাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে একসাথে খাবার খায়। ওই সময় সবার অগোচরে হাবিবুরের আরেক ভাগনে বাড়িতে প্রবেশ করে বাড়ির একটি ঘরে লুকিয়ে থাকে। সবুজ খাবার খেয়ে বের হয়ে যায়। বাড়ির সবাই ঘুমিয়ে পড়লে শাহিন বাড়ির মূল দরজা খুলে দিলে সবুজ, শহিদুলসহ আরও পাঁচজন বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে হাবিবুরের বাবা নমির উদ্দিনের ঘরে বাইরে থেকে শিকল তুলে দেয়। এরপর হাবিবুরের ঘরে ঢোকে ঘুমন্ত অবস্থায় ছুরি দিয়ে গলা কেটে তাকে হত্যা করে। হাবিবুরের স্ত্রী পপি সুলতানা দুই সন্তানকে নিয়ে পাশের ঘরে ছিল। হাবিবুরকে হত্যা করার সময় পপি বাথরুমে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হয়। বাড়ির আঙিনায় বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পপির মাথায় হাসুয়া দিয়ে আঘাত করলে তিনি মাটিতে পড়ে যান। পরে তাকেও গলা কেটে হত্যা করে। পরে হাবিবুরের পুরো পরিবারকে শেষ করার উদ্দেশে তার দুই সন্তান পারভেজ রহমান ও সাদিয়াকে গলা কেটে হত্যা করে।’
এসপি তারিকুল ইসলাম আরও বলেন, ‘ঘটনার তদন্তে নেমে গত মঙ্গলবার নিহত হাবিবুরের ভাগনে সবুজ, তার বাবা নমির উদ্দিন, দুই বোন ডালিমা বেগম ও হালিমাসহ ছয়-সাতজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সবুজ পুলিশের কাছে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী গত মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে গ্রামের একটি খড়ের পালায় লুকানো অবস্থায় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত হাসুয়া উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া গ্রামের একটি পুকুর থেকে গতকাল বুধবার আরও একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়।
পরিবারের সবাইকে হত্যার কারণ হিসেবে শহিদুল ও সবুজ পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, তাদের সবাইকে হত্যা করলে হাবিবুরের নামে থাকা সম্পত্তির ভাগিদার তারা হবে। এই ভাবনা থেকেই তারা পরিবারের সবাইকে হত্যা করেছে।’
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ও জয়ব্রত পাল, সহকারী পুলিশ সুপার আব্দুল আল মামুন শাওন, পুলিশের জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসিবুল্লাহ হাবিব, নিয়ামতপুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের রাউজানে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছেন মোহাম্মদ আজগর (৫৫) নামের এক পথচারী। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাউজান পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাফেজ বজলুর রহমান সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আজগর ওই এলাকার হাজীপাড়া গ্রামের বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, আজগর বড় মৌলানা শাহ (রাহ.) মাজারের সামনে দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছিলেন। এ সময় একটি দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাকে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে দ্রুত রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহীও আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। রাউজান থানা পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কুমিল্লার দেবিদ্বারে পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে জহিরুল ইসলাম সরকার নামের এক জমি ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে দেবিদ্বার পৌর এলাকার বালিবাড়ী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। নিহত জহিরুল ইসলাম (৫০) মুরাদনগর উপজেলার ধামঘর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেবিদ্বার পৌর এলাকার মোহনা আবাসিক এলাকায় জমি কেনা-বেচা করতেন।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জমি কেনা-বেচার পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে বালিবাড়ী গ্রামের মোবারক ও শাহীনসহ কয়েকজন যুবক জহিরুল ইসলামকে তার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। প্রথমে তাকে ভিরাল্লা বাস স্টেশন এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে বিষয়টি সমাধান না হওয়ায় সন্ধ্যায় মোবারকের বাড়ি নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে তিনি অচেতন হয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে একটি অটোরিকশাযোগে তাকে দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক জহিরুলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মরদেহ নিয়ে আসা তিন লোক পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে।
নিহতের স্ত্রী মাহফুজা আক্তার বিলাপ করতে করতে বলেন, বিকেলে মোবাইল ফোনে কল পেয়ে তার স্বামী বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। রাতে হাসপাতাল থেকে ফোন পেয়ে তিনি সেখানে গিয়ে স্বামীর মরদেহ দেখতে পান। পাওনা টাকার জন্য তাকে পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে দাবি করে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কামনা করেন।
এদিকে স্থানীয়রা জানান, নিহত জহিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে এলাকায় জাল দলিল ও জমি কেনা-বেচায় প্রতারণার একাধিক অভিযোগ ছিল। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ আয়োজিত একটি নাগরিক সমাবেশেও তার বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছিলেন। সে সময় সংসদ সদস্য অভিযুক্ত জহিরুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দেবিদ্বার থানার ওসিকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে গতকাল বুধবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (কুমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। এটি হত্যাকাণ্ড নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এলে নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিন জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে।
নীলফামারী জেলায় যানবাহনে জ্বালানি সরবরাহে শৃঙ্খলা আনতে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলো থেকে যানবাহন মালিকদের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ফুয়েল কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুবাশ্বিরা আমাতুল্লাহ।
এ সময় উপ-প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইউসুফ আলীসহ অন্যান্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী দিনে ২০ জন যানবাহন মালিকের হাতে ফুয়েল কার্ড তুলে দেওয়া হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, গত ১৫ এপ্রিল থেকে কার্ডের জন্য আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৫২৬ জন আবেদনকারীর মধ্যে পর্যায়ক্রমে কার্ড বিতরণ করা হবে।
তিনি আরও জানান, মোটরসাইকেলের জন্য মাসে ২০ লিটার এবং কার ও মাইক্রোবাসের জন্য মাসে ৫০ লিটার জ্বালানি বরাদ্দ নির্ধারণ করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ফিলিং স্টেশনগুলোতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং জ্বালানি মজুত রোধে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলার ৩৮টি পেট্রল পাম্পে ফুয়েল কার্ড ছাড়া জ্বালানি সরবরাহ করা হবে না বলেও তিনি জানান।
এ ছাড়া, ফিলিং স্টেশনগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর রাজবাড়ীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে ভিড় কিছুটা কমতে শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেও যেখানে বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে গিয়ে ভোগান্তির চিত্র ছিল চরমে-সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে চালকদের। আগের দিনের তুলনায় অপেক্ষার সময় কমেছে এবং তুলনামূলক দ্রুত তেল পাচ্ছেন গ্রাহকরা।
এই পরিস্থিতির মধ্যেই গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে সরকার সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়। দাম বৃদ্ধির পরপরই কিছুটা স্বস্তির খবর মিলছে রাজবাড়ীর বিভিন্ন পাম্পে।
সরজমিনে বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১২ টার দিকে রাজবাড়ী শ্রীপুর সংলগ্ন পলাশ ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, আগের তুলনায় তেলের লাইনে ভিড় কমেছে এবং অপেক্ষার সময়ও কিছুটা কমে এসেছে। আগে যেখানে হাফ কিলোমিটার জুড়ে মোটরসাইকেলের লাইন তৈরি হতো সেখানে এখন ৩০-৪০ টি মোটরসাইকেল তেল নিতে দাঁড়িয়ে আছে।
কল্যাণপুর থেকে পলাশ ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক সুমন শেখ জানান, আগে তেল পেতে প্রায় ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো, এখন দেড়-দুই ঘণ্টার মধ্যেই পাওয়া যাচ্ছে। দাম বাড়ানোর পর ভিড় কিছুটা কমেছে।
প্রাইভেটকার চালক বাচ্চু বলেন, আগের তুলনায় এখন অনেক কম সময় লাগছে। এখন অল্প সময়ের মধ্যেই লাইনে থেকে তেল পাচ্ছি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাম বৃদ্ধির ফলে চাহিদা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসায় লাইনের চাপ কমেছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে ডিজেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অকটেনের একটু ঘাটতি রয়েছে। তবে মোটরসাইকেল চালকদের দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করতে হচ্ছেনা।
সমন্বিত সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ও অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত অভিবাসীদের জন্য সামাজিক সুরক্ষা বেষ্টনী শক্তিশালীকরণ, চ্যালেঞ্জ ও করণীয় শীর্ষক মিডিয়া অ্যাডভোকেসি সভা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) খুলনা প্রেসক্লাবের শহিদ হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে কারিতাস বাংলাদেশ খুলনা আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনা প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক এনামুল হক।
সভায় অতিথিরা বলেন, জলবায়ু পরির্বতনের কারণে ভিটামাটি হারিয়ে শুধু একটি পরিবার নয় একটি সমাজ ধ্বংস হয়ে যায়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানুষের জীবন-জীবিকাকে ক্রমাগতভাবে হুমকির মুখে ফেলছে। ফলে উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকা থেকে মানুষ বাধ্য হয়ে শহরমুখী হচ্ছে বিশেষ করে খুলনার মতো শহরে।
বক্তারা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণের সুবিধা থাকলে তারা শহরে আসবে কম। যেহেতু গণমাধ্যম জনমত গঠন ও নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে তাই গণমাধ্যম জলবায়ু অভিবাসীদের বাস্তবতা তুলে ধরে অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পক্ষে জোরালো সমর্থন গড়ে তুলবে বক্তারা এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের (কুয়েট) সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্প সমন্বয়কারী পবিত্র কুমার মন্ডল।
সভায় সাংবাদিক শেখ দিদারুল আলম, গণমাধ্যমকর্মী ও খুলনা সিটি করপোরেশনের চারটি ওয়ার্ডের কমিউনিটি লিডাররা অংশ নেন।
সভার উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানানো হয়, জলবায়ু অভিবাসীদের সমস্যা ও অধিকার সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করা, বিদ্যমান সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতি তুলে ধরা, তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল প্রতিবেদন তৈরিতে গণমাধ্যমকে উৎসাহিত করা এবং গণমাধ্যম, সরকার ও সুশীল সমাজের মধ্যে সংলাপের সুযোগ সৃষ্টি করা।
অবহেলিত ঝিনাইদহ জেলাকে উন্নয়নের শেখরে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন নবাগত জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন। যোগদানের পর জেলার সুশিল সমাজ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এ প্রতিশ্রুতি দেন।
এরমধ্যে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি পালন করতে জেলার আইনশৃঙ্খলাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে নির্দেশ দেন। মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, মাদকের সাথে জড়িতরা যত শক্তিশালী হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যায়ক্রমে পায়রা চত্তর, আরাপপুর, হামদহ, মর্ডান মোড়, ট্রাক টার্মিনাল, বাস টার্মিনাল, শহীদ মিনার এলাকা, চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড, ‘ট’ বাজারসহ শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও অলিগলি দখলমুক্ত করা হবে। এ ছাড়াও শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নারী ও পুরুষদের জন্য অবিলম্বে গণসৌচাগার নির্মাণ করে দুর্ভোগ লাঘব করা হবে।
এ ছাড়াও আদালত চত্বর, সদর হাসপাতাল, পাসপোর্ট অফিস, বিআরটিএ, ভূমি অফিস, সাব-রেজিস্টার কার্যালয় সহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে দালালচক্র দমন ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি হুশিয়ারি দেন।
তিনি আরও বলেন, অবৈধভাবে আবাদি জমির মাটি কেটে শ্রেণি পরিবর্তন রোধ, ইটভাটায় মাটি বিক্রি বন্ধ, সরকারি গাছ কর্তন প্রতিরোধ, সরকারি অফিসে দুর্নীতি কমানো এবং ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম গতিশীল করাসহ নানা পদক্ষেপ নেওয়া হবে। জেলাকে ঢেলে সাজাতে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন।
স্থানীয়দের মতে,এসব উদ্যোগে গ্রহণ করা হলে ঝিনাইদহ শহর ধীরে ধীরে একটি পরিকল্পিত ও মডেল শহরের রূপ নেবে।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে অবৈধভাবে পুরাতন ব্যাটারি গলিয়ে সিসা তৈরির একটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কারখানাটি। একই সাথে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে কারখানার ম্যানেজারকে। জব্দ করা হয়েছে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) বিকেলে জীবননগর উপজেলার খয়েরহুদা গ্রামের বয়ারগাড়ি মাঠ এলাকায় ওই অভিযান চালান জেলা প্রশাসনের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাগর দে।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘন করে ওই এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সিসা উৎপাদন করা হচ্ছিল। এ প্রক্রিয়ায় সৃষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ বর্জ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি তৈরি করছিল। ওই অপরাধে কারখানার ম্যানেজার আব্দুর রহমানকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া, কারখানায় ব্যবহৃত পুরাতন ব্যাটারি ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি জব্দ করে স্থানীয় ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে।
অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন পরিবেশ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস, পরিদর্শক নাইম হোসেন ও জীবননগর থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল।
পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নরেশ চন্দ্র বিশ্বাস জানান, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ওই অভিযান চালানো হয়েছে। অবৈধভাবে ব্যাটারি গলিয়ে সীসা উৎপাদন পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পরিবেশ রক্ষায় এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চলন্ত অটোরিকশায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে সেই আগুন নেভাতে গিয়েই বেরিয়ে এলো থলের বিড়াল। অটোরিকশাটির ভেতরে পাওয়া গেল ১০টি পোটলায় মোট ১৯ কেজি গাঁজা। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে ভৈরব পৌর শহরের চন্ডিবের উত্তরপাড়া প্রাইমারি স্কুলের সামনে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাদকসহ অটোরিকশাটি জব্দ করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে একটি অটোরিকশা চন্ডিবের এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ সেটিতে আগুন ধরে যায়। চালক তড়িঘড়ি করে গাড়িটি রাস্তার পাশের একটি পতিত জমিতে নামিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। এ সময় স্থানীয়রা সহযোগিতার জন্য এগিয়ে গেলে চালক আতঙ্কিত হয়ে গাড়ি ফেলে দ্রুত পালিয়ে যান।
চালকের এমন রহস্যজনক পলায়নে স্থানীয়রা সিএনজিটির কাছে গেলে ইঞ্জিনের পাশে একটি ছেঁড়া প্যাকেটসহ মোট ১০টি প্যাকেটে বিপুল পরিমাণ গাঁজা দেখতে পান তারা। পরে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ‘৯৯৯’-এ কল করে বিষয়টি পুলিশকে জানায়। খবর পেয়ে ভৈরব থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাঁজাসহ নম্বরবিহীন অটোরিকশাটি থানায় নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লিমন বোস বলেন, আমরা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠাই। সেখান থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় ১০টি প্যাকেটে ১৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। অটোরিকশাটিতে কোনো নম্বর প্লেট ছিল না। তিনি আরও জানান, চালক পলাতক থাকলেও গাড়ির চেসিস নম্বর ব্যবহার করে মালিক ও চালককে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলার প্রস্তুতি চলছে।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে তিন রাবার শ্রমীককে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। গত মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে উপজেলার বাইশারী ইউপির আলিক্ষ্যং এলাকার আব্দুল করিম বান্টুর রাবার বাগানে এ ঘটনা ঘটে। অপহৃত এনামুল হক(২৪), মোহাম্মদ হাসান (২৬) ও নুরুল ইসলাম (২৮) কক্সবাজারের টেকনাফ এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অপহৃত এনামুল হক, মোহাম্মদ হাসান ও নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে রাবার বাগানের কাজ করতেন। মঙ্গলবার রাত ৩ টার দিকে বাগানটির স্টাফ কোয়ার্টার থেকে তাদের অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে যায় কয়েকজন।
নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ওসি মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গত রাতের অপহরণের ঘটনায় তাদের উদ্ধারে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
পঞ্চগড় দেবীগঞ্জ উপজেলার ৬নং মল্লিকাদহ সোনাহার ইউনিয়নের, সোনাহার জগন্নাথ হাট তোহা বাজারের ১৯টি দোকান অবৈধভাবে ভোগ দখলে আছেন| সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অবৈধ দখলীয় জমির তফশীল, মৌজা ও জে.এল- সোনহার/৯৯, খতিয়ান নম্বর এস.এ - ০১, দাগ নম্বর -২৭২১, জমির পরিমাণ ০.২২ একর।
গত ১১ই নভেম্বর ২০২৫ইং তারিখে দেবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসের কার্যালয়ে এর ৩১.৫৫.৭৭৩৪.০০০.৯৯.০২১.২৫.১১৪৩ নং স্মারক অনুযায়ী ৬নং মল্লিকাদহ সোনাহার ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা মোঃ মিজানু রহমান ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ দখলীয় স্থাপনা অপসারণ করার জন্য নোটিশ প্রদান করেন|
নোটিশ পাওয়ার পরেও অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করেননি মর্মে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদন দাখিল করেন|
বিষয়টি গত ২৩/১১/২০২৫ইং তারিখে অনুষ্ঠিত ভূ-সম্পত্তি জবর দখলের বিষয়ে অভিযোগ গ্রহণ এবং তদন্ত কার্যক্রম সংক্রান্ত জেলা মনিটরিং কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হলে সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়| এমতাবস্থায় নোটিশ প্রাপ্তির ০৭ (সাত) দিনের মধ্যে সরকারি সম্পত্তি হতে অবৈধ দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলা হলো| অন্যথায় সরকার ও কর্ত...পক্ষের জমি ও ভবন (দখল পুনরুদ্ধার) অধ্যাদেশ, ১৯৭০ এর ৫(২) ধারা মোতাবেক উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে|
গত ২৯ শে জানুয়ারী সাবেক জেলা প্রশাসক কাজী মোঃ সায়েমুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে উল্লেখ করা হয় ১৯ জন ব্যক্তি উক্ত জমিতে ¯অস্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণ করে অবৈধ ভাবে দখল করে রেখেছেন|
উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার জন্য জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সারোয়ার আলমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়| তবে নিয়োগের তিন মাস পেরিয়ে গেলেও অভিযান শুরু হয়নি বলা জানা গেছে|
এ বিষয়ে দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সবুজ কুমার বসাক তিনি জানান আপনার মাধ্যমে জানতে পারলাম এ বিষয়টি, আমি নতুন এসেছি, পর্যবেক্ষণ করে দেখবো বিষয়টি|
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক মোসাঃ শুকরিয়া পারভীন জানান আমার কাছে দেবীগঞ্জ সোনাহার জগন্নাথ হাটের তোহা বাজারে ১৯টি দোকান অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে ভোগ দখলে আছে, এ বিষয়টি আমি জানতে পেরেছি। কয়েকদিনের মধ্যে ব্যবস্থা নেব|
বান্দরবানের আলীকদম-থানচি সীমান্তবর্তী দুর্গম চৈক্ষ্যং এলাকায় প্রায় দুইশত একর জুড়ে চলছে বন উজাড়ের মহোৎসব। এতে চরম হুমকির শিকার হচ্ছে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র।
স্থানীয়রা জানায়, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার চৈক্ষ্যং ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পামিয়া ম্রো পাড়া, তন্তুই পাড়া, নামচাক পাড়া,কাকই পাড়া ,আদুই পাড়াসহ আশপাশের বন এলাকার গর্জন, চাম্পা ফুল, কড়ই,বৈলাম, গুটগুটিয়া, লালি,চাপালিশসহ বিলুপ্ত প্রায় নানা প্রজাতির মাতৃ গাছসহ অন্তত দুইশ একর জুড়ে বন উজাড় করে চলেছে আলীকদম পান বাজার এলাকার ইসমাইল ওরোপে লাল ইসমাইল ও লংলেইন ম্রোসহ একাধীক বন খেকো চক্র।
এই কাটা গাছ গুলো পরিবহন করতে পাহাড় কেটে রাস্থা নির্মাণ ও ভরাট করা হয়েছে একাধিক ঝিরিও।আর এইসব গাছ গুলো লামা বনবিভিাগ কর্তৃক অনুমতিপত্র বা জোত পারমিটের কাগজ দেখিয়ে বৈধতার আড়ালে আইনশৃংখলাবাহিনীর চেকপোস্টকে পাশ কাটিয়ে কলার ঝিড়ি নামক বাইপাস রাস্তা ব্যবহার করে নিয়মিত পাচার করা হচ্ছে আলীকদমসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এবং কাঠের অবশিষ্ট অংশ আলীকদমের বিভিন্ন অবৈধ ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে। এই বন উজাড়ের ফলে, প্রতিনিয়ত চোখে পড়া হরিণ,শুকর, ভাল্লুক,বনমোরকসহ সকল বন্য প্রানী আজ বিলুপ্তির পথে।
এমনকি, ব্যাঙ ঝিরিটি শুকিয়ে যাওয়ার ফলে ঝিরিটির ওপর নির্ভরশীল ওই এলাকার পামিয়া, তন্তুই, নামচাক, কাকই ও আদুই পাড়াসহ অন্তত ৫টি ম্রো পড়ার মানুষ তীব্র পানি সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পোলা ব্যাঙ ঝিরির স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বন্ধ করে পাহাড় কেটে ট্রাক চলাচলের উপযোগী রাস্তা তৈরি করা হয়েছে। রাস্তার দুই পাশে স্তূপ করে রাখা হয়েছে বিভিন্ন আকারের গাছের গুঁড়ি। এলাকা থেকে দুই বছর ধরে পাড়া প্রাকৃতিক বন থেকে ৩০জন শ্রমিক দিয়ে মাতৃগাছ কেটে নিয়ে যাচ্ছেন। গাছের মধ্যে গর্জন, চাম্পা ফুল গাছ, কড়ই,বৈলাম, গুটগুটিয়া, লালি গাছ,চাপালিশসহ নানা প্রজাতির গাছ। বেঙঝিড়ি শুকিয়ে গেছে, পাঁচটি পাড়ার ম্রো জনগোষ্ঠীর মানুষ তীব্র পানি সংকটে। দুবছর আগে বড় বড় গাছ ছিল, বন ছিল, বনের মধ্যে ভালুক, হরিণ,বন্যশুকরসহ নানা প্রজাতির বন্যপশুপাখি বরপুর ছিল এখন বনও নেই পশুপাখিও নেই বলে জানান স্থানীয়রা। এবং অনেক গাছ অর্ধেক কেটে ফেলে রাখা হয়েছে, যেগুলোর আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৬০ থেকে ১০০ ফুট এবং প্রস্থ ১০ থেকে ১৫ ফুট পর্যন্ত।বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে বনের এই ধ্বংসযজ্ঞ চলছে বলেও দাবি করেন এলাকাবাসী।
গাছ কাটায় নিয়োজিত শ্রমিক শামসুল আলম জানান, তিনি ১৯ দিন ধরে এই কাজে যুক্ত রয়েছেন। চকরিয়া থেকে আসা আরেক দল শ্রমিক দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরিতে কয়েক মাস ধরে কাজ করছেন। শ্রমিকদের টিম লিডার মাঝি মোঃ ইসমাইল জানান, তারা আবুহান মোঃ ইসমাইল সওদাগরের অধীনে কাজ করছেন এবং প্রতিদিন একটি ট্রাক দিয়ে দুইবার কাঠ পরিবহন করা হয়।
আদুই পাড়ার কার্বারী কামপ্লাত ম্রো বলেন, এই ঝিরির পানির ওপর ৭-৮টি পাড়া নির্ভরশীল। এখন আমরা পানির জন্য হাহাকার করছি। অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাইনি।
নামচাক পাড়ার মেন রাও ম্রো বলেন, দুই বছর আগেও এখানে হরিণ, ভালুক, বন্য শূকর ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাস ছিল। এখন বনও নেই, প্রাণীও নেই।
পামিয়া পাড়ার মেন চং ম্রো বলেন, আগে ব্যাঙ ঝিরিতে প্রচুর পানি ও মাছ -কাকড়া ছিল। এখন পানি শুকিয়ে গেছে, আমরা এখন নিরাপদ পানির চরম সংকটে আছি।
লুংলেই ম্রো দাবি করেন, তার বাবা চাহ্লা ম্রো ৫০ একর বন ৪০ হাজার টাকায় ৫ বছরের জন্য ইসমাইল সওদাগরের প্রাকৃতিক বন বিক্রি করে দিয়েছেন । তবে মোঃ ইসমাইল সাংবাদিক,বনবিভাগ প্রশাসন সবকিছু মেনেজ করার প্রতিশ্রুতি দেন এবং মামলা মোকদ্দমার অভয় দিয়ে প্রায় ২০০ একর এলাকা থেকে গাছ কাটছেন বলে জানান তিনি।
অভিযুক্ত আবুহান মো. ইসমাইল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি মুলত দোকান করেন,গাছ ব্যবসার সাথে জড়িতও নন তিনি।তবে ওই এলাকা থেকে কিছু লাকড়ি কিনেছেন যা তামাক চুল্লিতে সরবরাহ করেন।
লামা বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান জানান, এই বিষয়ে তার কাছে কোন তথ্য নেই,তবে ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।