ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে উদ্যাপিত হলো ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী
দুই দেশের জনগণের মধ্যে সুসম্পর্কের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে হাইকমিশনার বলেছেন, ‘ভাগাভাগি করা আকাঙ্ক্ষা ও পারস্পরিক সদিচ্ছার ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা মানুষের সঙ্গে মানুষের এই আত্মিক যোগাযোগই দুটি দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের আসল শক্তি। ভারত ও বাংলাদেশের মানুষের মধ্যকার সুসম্পর্ক এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যই দুটি বন্ধুপ্রতিম দেশের সম্পর্কের ‘প্রকৃত প্রাণভোমরা’।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাইকমিশন প্রাঙ্গণে এই উদ্যাপনের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বসবাসরত ভারতীয় নাগরিক এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের আমন্ত্রিত অতিথিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। পরে জাতীয় সংগীত এবং জাতীয় গান ‘বন্দে মাতরম’ পরিবেশন করা হয়। উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় হাইকমিশনার বলেন, ‘আজ আমরা কেবল আমাদের স্বাধীনতার শুভলক্ষণকেই স্মরণ করছি না, বরং আমাদের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্যের দীর্ঘস্থায়ী শক্তি এবং আধুনিক ভারতের অভাবনীয় প্রবৃদ্ধির গল্পকেও উদ্যাপন করছি।’
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, দুই দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল শেকড় অত্যন্ত নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত। যৌথ ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই এই সম্পর্ক অব্যাহতভাবে সমৃদ্ধ হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাণিজ্য, আঞ্চলিক যোগাযোগ, নিরাপত্তা এবং স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতে দুই দেশ যৌথ অংশীদারত্ব জোরদার করে এগিয়ে যাচ্ছে।
ভারতে উদীয়মান উদ্ভাবন ও অর্থনৈতিক প্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় প্রবাসী সম্প্রদায়কে ভারতের এই অগ্রযাত্রায় অংশীদার হয়ে থাকার আহ্বান জানান।
স্বাধীনতা দিবসের ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী হাইকমিশনার অনুষ্ঠানে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর জাতির উদ্দেশে দেওয়া বার্ষিক ভাষণের অংশবিশেষ পাঠ করে শোনান। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য উদ্ধৃত করে দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্টের গুরুত্ব কেবল ঔপনিবেশিক শাসন থেকে স্বাধীন হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; এর মূল উদ্দেশ্য ছিল স্বাধীন ভারতের ভাগ্য নির্ধারণে দেশের প্রতিটি নাগরিককে ক্ষমতায়িত করা।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ হলো প্রতিটি নাগরিক যেন নিজেদের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের সুযোগ পান এবং ভারতকে বিশ্বের শীর্ষস্থানে উন্নীত করার লক্ষ্যে অবদান রাখতে পারেন।
শিক্ষক সংকট মোকাবিলায় বিষয়ভিত্তিক খণ্ডকালীন শিক্ষক পুল গঠন করবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। অবসরপ্রাপ্ত যোগ্য ও অভিজ্ঞ শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে এ শিক্ষক পুল গঠন করা হবে। শনিবার (১৫ আগস্ট) গাজীপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের ১০৩তম সভায় এ সংক্রান্ত নীতিমালা অনুমোদন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ এস এম আমানুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশন ও ভিশন অনুমোদনসহ শিক্ষার্থীদের শিক্ষা ও কর্মজীবনকে আরও কার্যকর ও সময়োপযোগী করতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। প্রতিষ্ঠার ৩৪ বছর পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নির্ধারণ করা হলো।
এতে আরও বলা হয়, সভায় স্নাতক (সম্মান) কোর্সের ২০১৩-১৪ থেকে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ পর্যন্ত এক বা একাধিক বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় আরও একবার পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ ছাড়া স্কিল-বেইজড পিজিডি প্রোগ্রামে ফ্রিল্যান্সিংয়ের আওতায় গ্রাফিকস ডিজাইন, ভিডিও এডিটিং ও ওয়েব ডিজাইন, কালিনারি সায়েন্স (শেফ) এবং হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিষয় অন্তর্ভুক্তির অনুমোদন দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে স্নাতক (পাস) ও স্নাতক (সম্মান) প্রোগ্রামের দ্বিতীয় বর্ষে চার ক্রেডিটের অ্যাপ্লাইড আইসিটি এবং প্রথম বর্ষে ফাংশনাল ইংরেজি কোর্স চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এসব কোর্সের সিলেবাস ও রেগুলেশনও অনুমোদন করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, সভায় ৩ বছর মেয়াদি ডিগ্রি (পাস) ও ১ বছর মেয়াদি মাস্টার্স (প্রিলিমিনারি) সম্পন্নকারীদের সনদকে চার বছর মেয়াদি ডিগ্রির সমতুল্য করার বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বিসিএসসহ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষায় এসব শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরিতে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।
এ ছাড়া সিজিপিএ ২ দশমিক ২৫-এর কম পাওয়া শিক্ষার্থীদের বিশেষ বিবেচনায় মানোন্নয়ন পরীক্ষায় অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়ার প্রস্তাবও সভায় বিবেচনা করা হয়েছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজগুলোতে চার বছর মেয়াদি এলএলবি (সম্মান) কোর্সের অধিভুক্তি রেগুলেশনও অনুমোদন করা হয়েছে।
সভায় ভাইস-চ্যান্সেলর ড. আমানুল্লাহ বলেন, আমাদের প্রতিটি একাডেমিক সিদ্ধান্তের মূল লক্ষ্য শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ। একজন শিক্ষার্থী যেন নিজের পড়াশোনা শেষ করে দক্ষতা নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করতে পারেন—আমরা সেই জায়গাটিকেই গুরুত্ব দিচ্ছি। অবসর নেয়া অভিজ্ঞ শিক্ষকদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয়ে দক্ষ বিশেষজ্ঞদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষার্থীদের শেখানোর সুযোগ তৈরি করতে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক পুল গঠন করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শুধু প্রচলিত ডিগ্রি যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের কর্মক্ষেত্রে সরাসরি ব্যবহারযোগ্য দক্ষতা অর্জন করতে হবে। একাডেমিক শিক্ষার সঙ্গে দক্ষতা ও বাস্তবমুখী শিক্ষার সমন্বয়ের মাধ্যমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সভায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর মো. লুৎফর রহমান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. নাজমুল হোসাইনসহ একাডেমিক কাউন্সিলের ৪৩ জন সদস্য, সরকারি-বেসরকারি কলেজের অধ্যক্ষ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বিভাগীয় প্রধান ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভায় বিভিন্ন বর্ষের পরীক্ষার ফলাফল, শৃঙ্খলা কমিটির সুপারিশ ও সিদ্ধান্ত এবং নতুন কারিকুলাম অনুমোদন করা হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিনিয়ত চেষ্টা করছি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার, যাতে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্য সেবা পৌঁছে যায় এবং সেই অঙ্গীকার থেকেই বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বাস্থ্য খাতে সর্বোচ্চ পরিমাণ বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বাজেটটাকে যেন যথাযথভাবে ব্যবহার করা হয়- যাতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রত্যেকটি উপজেলার প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে ৫০ শয্যার সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং উদ্বোধনের পর বন্ধ থাকা হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
এ সময় তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার অংশ হিসেবে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন ৫০ শয্যা বা ৩০ শয্যাবিশিষ্ট উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার। কিন্তু গতকাল একটি বৈঠক হয়েছে, সে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষণা দিয়েছেন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে প্রত্যেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অর্থাৎ সাভার উপজেলা কমপ্লেক্সসহ প্রত্যেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ১৫১ শয্যাবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে পরিণত হবে।
তিনি আরও বলেন, ১৫১ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালগুলোতে মেডিসিন, গাইনি, শিশু রোগ- এগুলোর পাশাপাশি ধাপে ধাপে বিশেষায়িত সেবাগুলোও উপজেলা পর্যায়ে নিয়ে যেতে চাই। যাতে মানুষ তা নিজের উপজেলাতেই অধিকাংশ রোগব্যাধির চিকিৎসা পায়।
তিনি বলেন, বিগত সময়গুলোতে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে, বিপুল পরিমাণ রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করা হয়েছে এবং ব্যবহার সঠিকভাবে হয়নি। ফলশ্রুতিতে আমরা সে অবস্থা থেকে বের করে আনতে গেলে হয়ত একটু সময় লাগবে, আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরে সহযোগিতা করতে হবে এবং সরকার, চিকিৎসক জনপ্রতিনিধিরা আমরা সবাই মিলে স্বাস্থ্যব্যবস্থা উন্নয়নে কাজ করছে। আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী তাদের নিজের এলাকায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সার্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতির ব্যাপক পরিবর্তন এবং অগ্রগতি দেখবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।
উদ্বোধনের পর চালু না হওয়া হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, ২০২২ সালে এই বিল্ডিংগুলো তৈরি হয়েছে, আজকে ২০২৬ সাল ৪টি বছর, এত সুন্দর করে রাষ্ট্রের অর্থে জনগনের অর্থে তৈরি করা হয়েছে কিন্তু এই বিল্ডিংটাকে কোনো কাজে লাগানো হচ্ছে না। আজকে আমি সরেজমিনে সেখানে দেখেছি সেখানে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। এই হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট শুধু সাভারের জন্য নয়, সারা বাংলাদেশের সমস্ত উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্স, সদর হাসপাতাল, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা যারা পরিচালনা করেন, ৬৪ জেলায় আমাদের সিভিল সার্জন, বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং উপজেলায় দায়িত্বরত কর্মকর্তা ডাক্তারদেরকে ধাপে ধাপে ম্যানেজমেন্টের ওপরে এখানে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে- যাতে তারা প্রতিটি উপজেলায় সঠিকভাবে তাদের কাজ পরিচালনা করতে পারেন।
ডেঙ্গুর বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা এক দেড় মাস আগে ডেঙ্গুর বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন স্টেক হোল্ডারদের সাথে বৈঠক করার পাশাপাশি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সিটি করপোরেশন, পৌরসভাগুলোর সাথে কথা বলেছি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ করতে হলে সবার আগে জনগণ ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা দরকার। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুধু ওষুধ দিয়ে সম্ভব না, এর জন্য ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, মশা যেখানে গড়ে ওঠে সেটি বন্ধে কাজ করা শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যাদের ডেঙ্গু হবে তারা যেন সঠিক সময়ে, সঠিক চিকিৎসা পায় সেজন্য একমাস আগেই হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু ম্যানেজমেন্টের বিষয়ে ট্রেনিং দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সবার আগে নাগরিকদের সচেতন হতে হবে।
এ সময় ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা ডা. ফজলে বারীসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস স্টিল শিপব্রেকিং ইয়ার্ডের যে জাহাজে শুক্রবার (১৪ আগস্ট) গ্যাস লিক হয়ে ৯ জন শ্রমিক মারা গেছেন, ওই জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। জাহাজ ও তার চারপাশের এলাকা বিষমুক্ত করতে যৌথভাবে কাজ শুরু করছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ইয়ার্ড পরিদর্শনকালে বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, দুর্ঘটনার প্রায় চার ঘণ্টা পর জাহাজের ভেতরে ১০.৮ পিপিএম (পার্টস পার মিলিয়ন) হাইড্রোজেন সালফাইডের উপস্থিতি মিলেছে।
কর্মকর্তাদের ধারণা, দুর্ঘটনার মুহূর্তে জাহাজটিতে অত্যন্ত বিষাক্ত এই গ্যাসের পরিমাণ ১০০ পিপিএমেরও বেশি ছিল। এ কারণেই সম্ভবত সংস্পর্শে আসার পর মাত্র এক থেকে তিন মিনিটের মধ্যেই আক্রান্ত শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান ও মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সকালে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের আব্দুন নাসের খান বলেন, ‘জাহাজভাঙা খাত একটি সম্ভাবনাময় শিল্প। এ শিল্পকে সরকার সব ধরনের সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এইচকেসি গাইডলাইন পুরোপুরি মেনে চলার পরও ফেরদৌস স্টিলে এই ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত। কর্তৃপক্ষ ও সরকার নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে সর্বোচ্চ সহায়তা করার জন্য যা যা প্রয়োজন, তা-ই করবে।’
এইচকেসি হলো হংকং ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন ফর দ্য সেফ অ্যান্ড এনভায়রন্মেন্টালি সাউন্ড রিসাইক্লিং অভ শিপস। এ আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে টেকসই জাহাজভাঙা নিয়ন্ত্রণ করা হয়।
দুর্ঘটনার পর থেকেই ইয়ার্ডটি সেনাবাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য সরকারি সংস্থার নজরদারিতে রয়েছে।
বিস্ফোরক পরিদপ্তরের বিস্ফোরক পরিদর্শক শাখাওয়াত হোসেন জানান, জাহাজ ও এর আশপাশের এলাকা থেকে বিষাক্ত গ্যাস দূর করতে একটি যৌথ দল দ্রুত কাজ শুরু করবে।
এদিকে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে আরও দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে ১১ সদস্যের একটি কমিটি ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৯ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করেছে। এর আগে বাংলাদেশ শিপ ব্রেকারস অ্যান্ড রিসাইক্লারস অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে।
এই কমিটিগুলো দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে। কর্মকর্তারা জানান, তদন্তে শিপইয়ার্ড কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিএসবিআরএর সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী জানান, বাংলাদেশে জাহাজ ভাঙার জন্য আমদানিকৃত যেকোনো জাহাজকে ইয়ার্ডে প্রবেশের আগে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত কোনো সংস্থা থেকে গ্যাস-মুক্তকরণ সনদ নেওয়া বাধ্যতামূলক। গত শুক্রবার যে জাহাজে দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেটিরও এ সনদ ছিল বলে জানান তিনি।
মহসিন আরও বলেন, এ সনদ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে জাহাজের ভেতরে বিষাক্ত গ্যাস রয়ে গেল, তদন্তে সেই বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি এই কাজে কোনো অবহেলা প্রমাণ হলে যে আন্তর্জাতিক সংস্থা সনদ প্রদান করেছিল, তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, নিহত শ্রমিকদের পরিবারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো মামলা দায়ের করা হয়নি। মামলা করার পরেই প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিহত নয়জন শ্রমিকের মধ্যে আটজনেরই ময়নাতদন্ত হয়নি।
গাজীপুরের কালিয়াকৈরে গরুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে শ্যামলী পরিবহনের যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে দুইজন নিহত হয়েছেন এবং গুরুতর আহত হয়েছেন আরও তিনজন। এ ছাড়া এ ঘটনায় পাঁচটি গরু ঘটনাস্থলেই মারা যায় ও মুমূর্ষু অবস্থায় চারটি গরু জবাই করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জেলার ঢাকার টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর উপজেলার গোয়ালবাথান এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলার গোয়াল বাথান এলাকায় ঢাকামুখী লেনে গরুবাহী ট্রাকের সঙ্গে একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ট্রাকের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। পরে স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া খবরে কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ গিয়ে ট্রাকের ভেতর থেকে দুজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। এ ছাড়া বাকি তিনজনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনায় ভ্যানে থাকা পাঁচটি গরু ঘটনাস্থলে মারা যায়। এ সময় স্থানীয় লোকজন আরও চারটি গরুকে মুমূর্ষু অবস্থায় জবাই করেন।
এ ঘটনায় মহাসড়কে কিছুক্ষণ যান চলাচলেও ব্যাঘাত ঘটে। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানদুটি উদ্ধার করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানের সময় পুলিশের সঙ্গে অস্ত্রধারী মাদক ব্যবসায়ীদের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন এবং পুলিশের পাল্টা গুলিতে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। পরে ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ফতুল্লা থানার ইসদাইর এলাকায় আরবান স্কুলের সামনে এই ঘটনা ঘটে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন এসআই (নিঃ) মো. রফিক, এসআই (নিঃ) নন্দন চন্দ্র সরকার এবং কনস্টেবল রাশিদুল। অপরদিকে পুলিশের ছোড়া গুলিতে জসিম (২৪) নামে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তিনি ওই এলাকার রেজ্জাক বেপারীর ছেলে। গ্রেপ্তার হওয়া অপর ব্যক্তি হলেন একই এলাকার আব্দুস সালামের ছেলে মোহন (২৩)।
পুলিশ জানায়, নিয়মিত সন্ত্রাস ও মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ফতুল্লার ইসদাইর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। এ সময় জসিম ও মোহনসহ ৭ থেকে ৮ জন মাদক ব্যবসায়ী পুলিশের আভিযানিক দলকে লক্ষ্য করে পিস্তল থেকে গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও আত্মরক্ষার্থে এসআই মো. রফিক ও এসআই নন্দন চন্দ্র সরকার তাদের সরকারি পিস্তল থেকে মোট আট রাউন্ড পাল্টা গুলি ছোড়েন। এতে জসিম উরুতে গুলিবিদ্ধ হন। মাদক ব্যবসায়ীদের হামলায় তিন পুলিশ সদস্যও আহত হন। ঘটনার পর পুলিশ একটি বিদেশি পিস্তল ও একটি ম্যাগাজিন উদ্ধার করে এবং দুই অস্ত্রধারীকে আটক করে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
ফতুল্লা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুব আলম বলেন, সন্ত্রাস বিরোধী অভিযানের সময় অস্ত্রধারীরা পুলিশের ওপর গুলি চালায়। তবে গুলি পুলিশের গায়ে লাগেনি। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি ছুড়লে এক মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিন উদ্ধার এবং দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাজধানীর উত্তরা এলাকায় ব্যাংকে জমা দিতে যাওয়ার পথে ডিএল পেট্রোল পাম্পের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি আটজন জড়িত থাকার তথ্য দিয়েছে ডিএমপির গোয়েন্দা শাখা। তাদের মধ্যে তিনজনসহ ৫ জনকে গ্রেপ্তারের পর ডিবি পুলিশ বলছে, লুট হওয়া টাকার মধ্যে ১২ লাখ টাকা উদ্ধার সম্ভব হয়েছে। জড়িত বাকিদের গ্রেপ্তার ও টাকা উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) নারায়ণগঞ্জ ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকা থেকে এ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)।
গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে কাছ থেকে ৪টি ৭.৬৫ মি.মি. পিস্তল, ৬টি ম্যাগাজিন, ২১ রাউন্ড গুলি, লুণ্ঠিত নগদ ১২ লাখ টাকা, র্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, ওয়াকিটকি, হাতকড়া, বিভিন্ন নম্বর প্লেট ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করেছে ডিবি।
গত রোববার সকালে বিমানবন্দর সড়কের ক্রাউন প্লাজার সামনে ডিএল পেট্রোল পাম্পের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। পাম্পটির মালিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাত ভাই তাসীন আক্তার হক। তার মা প্রয়াত খুরশীদ জাহান হক সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার আব্দুল করিম অজ্ঞাত ছয়-সাতজনের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছিলেন।
ঘটনার এক সপ্তাহের মাথায় শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এসে ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তের ধারাবাহিকতায় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে ইলিয়াস ও জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাতুয়াইল থেকে রুবেল ও যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় এলাকা থেকে মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়। রুবেলের ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় লুট হওয়া ৩ লাখ টাকা। পরে পোস্তগোলা এলাকা থেকে লুট হওয়া ৯ লাখ টাকাসহ গ্রেপ্তার করা হয় সাগরকে।
ঢাকার ডিবি প্রধান বলেন, ‘সাগরের নামে মোট ১৩টি মামলা রয়েছে, সে পেশাদার অপরাধী। সে ঢাকায় আগেও একই কায়দায় বাইকে এবং মাইক্রোবাসে করে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় ছিনতাই করেছে।’
এছাড়া রুবেলের বিরুদ্ধে ৪টি মামলা, মিন্টুর বিরুদ্ধে ৩টি, জাফরের বিরুদ্ধে ২টি এবং ইলিয়াসের বিরুদ্ধে একটি মামলার তথ্য দিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা এই ঘটনার সম্পূর্ণ তথ্য উদ্ঘাটন করেছি, ঘটনার সঙ্গে আরও প্রায় ৬-৭ জন আছে এবং আরও টাকা উদ্ধার করতে বাকি। সিসি ক্যামেরায় আমরা আটজনকে দেখেছি, তারা বলেছে আরও দুইজন ছিল।’
লুটের পর টাকাটা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যারা প্রধান তারা বেশি অংশ নিয়ে গেছে, অন্যরা যারা বিভিন্ন সাপোর্ট দিয়েছে আনুপাতিক হারে ভাগ হয়েছে। আমরা যাদের নাম পেয়েছি তাদের আমরা অন্যান্য কিছু এনালাইসিস করে দেখলাম যে, ঢাকা শহরে একাধিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত আছে। অন্যান্য যে আসামি আছে তাদের বিরুদ্ধেও একাধিক মামলা রয়েছে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল বলেন, ‘মূল হোতা যে এটা অর্গানাইজ করেছে, সে এখনো পলাতক রয়েছে। গ্রেপ্তারদের মধ্যে তিনজন একবারে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছিল। আমরা এখনো প্রতিষ্ঠানের কারও জড়িত থাকার বিষয় পাইনি। যে মূলহোতা তাকে ধরা হলে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।’
তার ভাষ্য, ‘এই গ্রুপটাকে যদি ডিসমেন্টাল করা যায় বা এই গ্রুপটাকে যদি ধরা যায়, আমি মনে করি এই ধরনের অপরাধের একটা মেজর অংশ কমে যাবে। সাগের নামে ১৩টা মামলা আছে এবং যে এটার অর্গানাইজার তার নামে আমার ধারণা যে ২০ এর বেশি হবে।’ তবে ‘তদন্ত ও গ্রেপ্তারের সুবিধার্থে’ মূলহোতা এবং জড়িত অন্যদের বিস্তারিত নাম-পরিচয় জানাননি তিনি।
খরা ও দাবদাহে দাবানলের তীব্র ঝুঁকিতে ব্রিটেন। এ পরিস্থিতিতে ডিসপোজেবল বা এককালীন ব্যবহারযোগ্য বারবিকিউ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। যুক্তরাজ্যের ব্যবসা, উদ্ভাবন, বিজ্ঞান ও বাণিজ্য দপ্তর (ডিবিআইএসটি) জানিয়েছে, গ্রীষ্মের মাসগুলোতে দেশজুড়ে বেশ কয়েকটি ভয়াবহ দাবানলের কারণ হয়েছে এসব বারবিকিউ।
চলতি সপ্তাহে রেকর্ড তাপমাত্রার প্রেক্ষাপটে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সভাপতিত্বে এক জরুরি বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে জনসাধারণকে খোলা জায়গায় আগুন না জ্বালানোর এবং সিগারেট সতর্কতার সঙ্গে ফেলে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দেশ এখন ‘বারুদের স্তূপের মতো’ অবস্থায় রয়েছে আর ওয়েস্ট মিডল্যান্ডসে দমকল বাহিনীর কর্মীরা একের পর এক অগ্নিকাণ্ড মোকাবিলা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুক্রবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে একাধিক দাবানল মোকাবিলা করেছে অগ্নিনির্বাপণ দল। একই দিন লাখো মানুষের মোবাইল ফোনে জরুরি সতর্কবার্তাও পাঠানো হয়।
প্রয়োজন হলে দেশের অন্য এলাকাতেও আরও সামরিক সদস্য মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। দাবানল মোকাবিলায় জরুরি দলগুলোকে সহায়তা করতে এখন পর্যন্ত ২০০ জন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্রতিষ্ঠান এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন বলতে এখন এখানে ঠিক এমনটাই বোঝায়।’ তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাজ্যকে একাধিক দাবানলের সঙ্গে লড়াই করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এটিকে অনিবার্য বলে মেনে নেওয়া উচিত নয়, আর আমি তা মেনে নিচ্ছিও না।’এ ছাড়া বিবিসিকে দেওয়া আলাদা এক সাক্ষাৎকারে বার্নহাম বলেন, বর্তমানে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে সক্রিয় দাবানলের সংখ্যা ৩৭টি, যার মধ্যে চারটিই বেশ বড়।
ন্যাশনাল ফায়ার চিফস কাউন্সিলের (এনএফসিসি) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে মোট ১ হাজার ১৭টি দাবানল নথিভুক্ত হয়েছে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ইংল্যান্ড ও ওয়েলসজুড়ে ‘দাবানলের ঝুঁকি খুব বেশি’—এমন সতর্কতা জানিয়ে মোবাইল ফোনে জরুরি বার্তা পাঠানো হয়। বার্তায় বাসিন্দা, জমির মালিক ও দর্শনার্থীদের এমন কোনো কর্মকাণ্ড না করার অনুরোধ জানানো হয়, যাতে আগুন লাগতে পারে। এর মধ্যে ডিসপোজেবল বারবিকিউ, ফায়ারপিট, বাগানের বর্জ্য পোড়ানোর চুল্লি ও আতশবাজিও রয়েছে।
ডিবিআইএসটি প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ডিসপোজেবল বারবিকিউকে ‘নিরাপদ পণ্য হিসেবে বিবেচনা করা যায় না’। তাই এ মুহূর্তে গ্রেট ব্রিটেনে দোকানে কিংবা অনলাইনে—কোথাও এসব পণ্য বিক্রির জন্য রাখা উচিত নয়।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এই নিষেধাজ্ঞা ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসে কার্যকর হবে। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ড এর আওতাভুক্ত নয়।
২০২৩ সালে অগ্নিনির্বাপণ বিভাগের প্রধানদের সঙ্গে ব্রিটিশ রিটেইল কনসোর্টিয়ামের সমঝোতার ভিত্তিতে এরই মধ্যে স্বেচ্ছায় এসব পণ্যের বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিল অনেক বড় খুচরা বিক্রেতা ও সুপারমার্কেট।
একবার ব্যবহারযোগ্য গ্রিল নিষিদ্ধ করার দাবিতে প্রচার চালানো ইয়র্ক ও নর্থ ইয়র্কশায়ারের নির্বাচিত লেবার মেয়র ডেভিড স্কেইথ প্রধানমন্ত্রীকে এই নিষেধাজ্ঞা স্থায়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, ডিসপোজেবল বারবিকিউ কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। এগুলো নিষিদ্ধ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং দীর্ঘদিনের দাবি। আমি আশা করি, এটি দীর্ঘমেয়াদি নিষেধাজ্ঞায় পরিণত হবে।’
দাবানল ছড়িয়ে পড়া মোকাবিলায় ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে ব্যবহৃত অগ্নিনির্বাপণ বিমানের মতো বিমান ব্যবহারের পরিকল্পনা কমিশন করার কথাও জানিয়েছেন বার্নহাম। দাবানল ছড়িয়ে পড়ার বিরুদ্ধে লড়াই করা অগ্নিনির্বাপণ বাহিনীগুলোর জন্য জরুরি আর্থিক সহায়তার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।
বার্নহাম বলেন, ‘দেশজুড়ে আমাদের যে ফায়ার অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস রয়েছে, এসব পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য সেটি যথাযথভাবে প্রস্তুত নয়। এসব আগুন নেভানোর জন্য আমাদের যে সক্ষমতা থাকা উচিত, তা নেই।’
২০২৫ সালে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে প্রায় ১ হাজার দাবানলের ঘটনা সামলাতে হয়েছে দমকলকর্মীদের। সে সময় সতর্কবার্তায় বলা হয়েছিল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবানলের ঝুঁকি ও তীব্রতা বাড়ছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট)ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন। ১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট দিনাজপুরে জন্ম নেওয়া এই নেত্রীর জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে দলীয় কার্যালয় ও মসজিদে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এদিকে, খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে দুই দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কর্মসূচি জানানো হয়।
ছাত্রদলের ঘোষণা অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়, জেলা ও মহানগরে খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনায় মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন অর্থাৎ আজ রোববার সারাদেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই কর্মসূচি পালন করবে ছাত্রদল।
খালেদা জিয়ার পারিবারিক নাম ছিল খালেদা খানম এবং ডাকনাম পুতুল। তার বাবা ইস্কান্দার মজুমদারের বাড়ি ফেনীতে হলেও শৈশবের একটি সময় তিনি জলপাইগুড়িতে আত্মীয়ের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন। পরে পরিবারসহ দিনাজপুরে বসবাস শুরু করেন। সেখানে মিশনারি স্কুল ও দিনাজপুর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন তিনি।
১৯৬০ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। ১৯৮১ সালে চট্টগ্রামে এক ব্যর্থ সামরিক অভ্যুত্থানে জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর বিএনপির নেতৃত্বে আসেন খালেদা জিয়া। এরপর ধীরে ধীরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
তার নেতৃত্বে ১৯৮৩ সালে বিএনপি কয়েকটি রাজনৈতিক দলকে নিয়ে জোট গঠন করে তৎকালীন এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে তিনি ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পান।
এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন খালেদা জিয়া। পরবর্তী সময়ে আরও দুই দফায় সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
রাজনৈতিক জীবনের শেষ পর্যায়ে মামলা, কারাবাস ও শারীরিক অসুস্থতার কারণে দীর্ঘ সময় নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যেতে হয় তাকে। ওয়ান-ইলেভেনের পর সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ও তিনি কারাবন্দি ছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এরপর দীর্ঘদিন বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। দেশে ও বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসনের দায়িত্বে ছিলেন।
নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে স্মরণ এবং তার রাজনৈতিক ভূমিকা তুলে ধরার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তার জন্মদিন উদযাপনের সংবাদ পাঠিয়েছে দৈনিক বাংলার ব্যুরো, জেলা ও উপজেলা প্রতিনিধি। পাঠকের জন্য তুলে ধরা হলো;
এইচ এম মোজাহিদুল ইসলাম নান্নু, পটুয়াখালী থেকে জানান : নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে পটুয়াখালীতে বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আপসহীন দেশনেত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালন করা হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে শনিবার (১৫ আগস্ট)সকালে জেলা বিএনপির উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে পবিত্র কোরআন খতম ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এতে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদ প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্টি, জেলা বিএনপির অন্যতম নেতা ও সাবেক পৌর মেয়র মোশতাক আহমেদ পিনু, পৌর বিএনপির সভাপতি মো. কামাল হোসেন, জেলা বিএনপির সাবেক প্রচার সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মশিউর রহমান মিলনসহ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
এ সময় নেতৃবৃন্দ প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা ও দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন।
এছাড়াও বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জেলার বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। দিনব্যাপী এসব কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা প্রয়াত নেত্রীর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তার রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
মাগুরা প্রতিনিধি জানান : বিএনপির সাবেক চেয়ারম্যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মাগুরা জেলা বিএনপির উদ্যোগ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)বাদ আছর মাগুরা ভায়না মোড়স্ত জেলা বিএনপি অফিসে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। জেলা বিএনপির আহবায়ক আলী আহমেদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন মাগুরা-১ আসনের সংসদ সদস্য মোঃ মনোয়ার হোসেন খান। এ সময় জেলা বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের একসাথে নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সবার শেষে দোয়া মাহফিলে অনুষ্ঠিত হয়।
ফেনী প্রতিনিধি জানান: সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে ফেনীতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল সহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে ফেনী কেন্দ্রীয় বড় জামে মসজিদে জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে মরহুম বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনে তাঁর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়।
এ সময় ফেনী জেলা বিএনপির আহবায়ক শেখ ফরিদ বাহার, সদস্য সচিব আলাল উদ্দিন আলালসহ বিএনপি ও তার অঙ্গ সহযোগী সংগঠনে অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় মুসল্লীগণ উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে, ফেনীর সোনাগাজীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকীতে আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে সোনাগাজী পৌরসভা মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ক্রীড়াবিদ ও বাফুফের মাঠ পরিচালক তাজওয়ার আউয়াল।
সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব খুরশিদ আলম ভূঞার সঞ্চালনায় উক্ত অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, সোনাগাজী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ আলম ভূঞা, সোনাগাজী পৌর বিএনপির আহবায়ক মঞ্জুর হোসেন বাবর, সদস্য সচিব নিজাম উদ্দিন, বিএনপি নেতা আলগমীর হোসেন চৌধূরী, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মঙ্গলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান দাউদুল ইসলাম মিনার, সোনাগাজী পৌর যুবদলের আহবায়ক ইকবাল হোসেন ও সদস্য সচিব মাকসুদুর রহমান রাসেল হামিদি প্রমূখ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান এবং তাদের কনিষ্ঠ সন্তান আরাফাত রহমান কোকোর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত পরিচালনা করেন সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার সহকারি অধ্যাপক মাও. আবুল কাসেম। পরে উপজেলার শতাধিক ক্লাবের মাঝে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ইবি প্রতিনিধি জানান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাখা ছাত্রদলের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব আশরাফ উদ্দীন খান।
দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান, উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. ইদ্রিস আলী, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. শাহীনুজ্জামান, ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ওবায়দুল ইসলাম, জিয়া পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. ফারুকুজ্জামান খান, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম এবং ইউট্যাবের সেক্রেটারি অধ্যাপক ড. মো. রশিদুজ্জামান।
এছাড়া ছাত্রদল ইবি শাখার আহ্বায়ক মাসুদ রুমি মিথুন, সদস্য সচিব রাফিজ আহমেদ ও সাবেক আহ্বায়ক শাহেদ আহমেদসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা দোয়া মাহফিলে অংশ নেন।
দোয়া মাহফিলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আজ ৮২তম জন্মদিন। তার পুরো জীবনটাই বাংলাদেশের মানুষ এবং গণতন্ত্রের জন্য তিনি উৎসর্গ করেছেন। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে তিনি বিগত সরকারের দ্বারা নিপীড়িত, নির্যাতিত ও নিষ্পেষিত হয়েছেন। আমরা মন খুলে এই মহান ব্যক্তির জন্য মহান সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করব। আল্লাহ যেন তাকে জান্নাত নসিব করেন।’
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি জানান : ময়মনসিংহ জেলায় শনিবার (১৫ আগস্ট)সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে তার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ময়মনসিংহ মহানগর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনসমূহের উদ্যোগে এই দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুর ২ টায় ময়মনসিংহ নগরীর হরিকিশোর রায় রোডস্থ দলীয় কার্যালয়ে যথাযোগ্য মর্যাদায় এ কর্মসূচি পালিত হয়।
এ সময় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় মোনাজাতে দলীয় নেতাকর্মীরা অংশগ্রহন করেন।
এ কর্মসূচিতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বিভাগীয়) ও ময়মনসিংহ সদর আসনের সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের (মসিক) প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন, মহানগর বিএনপির আহবায়ক অধ্যপক একেএম শফিকুল ইসলাম, যুগ্ম-আহবায়ক অধ্যাপক শেখ আমজাদ আলী, কাজী রানা, এডভোকেট এম.এ হান্নান খান, মহানগর যুবদলের সভাপতি মোজাম্মেল হক টুটু ও সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের হোসেন শাকিল, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আমিনুল ইসলাম ফয়সাল, জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব একেএম মাহাবুবুল আলম, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আজিজুল হাকিম আজিজ, মহানগর ছাত্রদলের সভাপতি গোবিন্দ রায়, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক রাকিব হোসেন প্রমুখ সহ অঙ্গ ও সহযোগি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
দোয়া মাহফিল শেষে মহানগরী এবং সদর উপজেলার প্রতিটি মসজিদে দিবসটি উপলক্ষে দোয়া মাহফিল আয়োজন করতে দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেন মসিক প্রশাসক রুকুনোজ্জামান রোকন।
এ সময় আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ এমপি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে সুখী ও সমৃদ্ধশালী হিসাবে গড়ে তুলে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি জানান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে টাঙ্গাইল শহরের পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদে এ মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি হাসানুজ্জামিল শাহীনের সভাপতিত্বে দোয়া মাহফিলে জেলা বিএনপি’র সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আজগর আলী, জেলা যুবদলের আহবায়ক খন্দকার রাশেদুল আলম রাশেদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক তরিকুল ইসলাম ঝলক সহ বিএনপি এবং সহযোগী ও অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মিলাদ মাহফিল শেষে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়।
মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি জানান : মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুরে উপজেলা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন ট্রাফিক চত্বরে এ উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য এবং উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মৈমুর আলী মৃধার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট খাঁন রোকন উজ্জামান।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির অন্যতম সদস্য, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের আহ্বায়ক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মতিউর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক অ্যাড. মনিরুল ইসলাম মুকুল, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক কাজী সালিমা হক মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এস এম ইউনুচ আলী, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম টুকু, সাবেক যুগ্ম-আহ্বায়ক মহিদুল ইসলাম, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক তরিকুল ইসলাম তারা, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম মিল্টনসহ বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. এম এম রইস উদ্দিনের সঞ্চালনায় আলোচনা সভা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি জানান : প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন ১৫ আগস্ট। এ উপলক্ষে পটুয়াখালীর বাউফলে দোয়া-মিলাদ, র্যালি ও খাবার বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
খালেদা জিয়া প্রয়াত রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের স্ত্রী। তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মা। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুর ১২টার দিকে বাউফল হাইস্কুল এলাকায় অবস্থিত বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের কার্যালয়ে দোয়া-মিলাদের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সূচনা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামুয়েল আহমেদ লেনিন, পটুয়াখালী জেলা আমরা জুলাই যোদ্ধা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আজগর সুজন, উপজেলা বিএনপির সদস্য তরিকুল ইসলাম মোস্তফা, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মিরাজুল ইসলাম, সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদ, বাউফল সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রিয়াজসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
দোয়া-মিলাদে খালেদা জিয়ার সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পরে নেতাকর্মীরা র্যালিতে অংশ নেন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে খাবার বিতরণ করেন।
কর্মসূচির আয়োজক ও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সামুয়েল আহমেদ লেনিন বলেছেন আজ মরহুম দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী। জন্মদিন বলতে সাধারণত আনন্দ, উল্লাস ও উৎসবের কথা বোঝায়। কিন্তু দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আজ আমাদের মাঝে নেই এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত দুঃখ ও কষ্টের। তিনি তার কর্ম ও অবদানের মাধ্যমে সবসময় বাংলাদেশের জনগণের মণিকোঠায় স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ভবিষ্যতেও তার স্মরণে এ ধরনের কর্মসূচি পালন করা হবে।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপি গঠন করেন জিয়াউর রহমান। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর বিএনপির হাল ধরেন খালেদা জিয়া।
১৯৮৩ সালে তার নেতৃত্বে বিএনপি সাতদলীয় জোট গঠন করে এরশাদবিরোধী আন্দোলন শুরু করে। ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। পরে আরও দুই দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন তিনি।
নানা শারীরিক জটিলতা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর খালেদা জিয়া মারা যান। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন ছিলেন।
নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর) প্রতিনিধি জানান :
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে বেগম খালেদা জিয়া'র ৮২ তম জন্মদিন যথাযথভাবে উদযাপন করেছেন নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠন। এ উপলক্ষে মিলাদ, দোয়া মাহফিল,আলোচনা সভা ও এতিমদের মাঝে খাবার বিতরণ করেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)দুপুর ২ টার দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি সমাজ কল্যাণ এবং মহিলা শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেনের প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ সহ সভাপতি আলহাজ্ব মো. আতিকুর রহমান রাজা।
এ সময় উপজেলা বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. তরিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. ইকবাল হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন-উপজেলা বিএনপি নেতা ইউনুস আলী, নজরুল ইসলাম ফতে চেয়ারম্যান সহ অঙ্গ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি জানান : সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকায় দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৫ আগস্ট)ভালুকা বাসস্ট্যান্ডে বিএনপির নিজস্ব কার্যালয়ে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বলেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একজন আপসহীন নেত্রী। তিনি জীবনের দীর্ঘ সময় দেশের মানুষের অধিকার আদায় এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক আদর্শ ও গণতন্ত্রের প্রতি অবিচল অবস্থান বিএনপির নেতাকর্মীদের অনুপ্রেরণা জোগাবে।
সভায় ভালুকা পৌর বিএনপির সভাপতি আলহাজ হাতেম খান ও রুবেল খান, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মজিবুর রহমান মজু, অ্যাডভোকেট উসমান গনি মল্লিক মাখন এবং শাখাওয়াত হোসেন পাঠান বক্তব্য দেন।
এছাড়া বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা সভায় বক্তব্য দেন। বক্তারা খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় তার ভূমিকা এবং দেশের মানুষের জন্য তার অবদানের কথা স্মরণ করেন।
আলোচনা সভা শেষে খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে বিএনপি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে তার স্মরণে দোয়া ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। কর্মসূচিতে তার রাজনৈতিক জীবন ও গণতন্ত্রের জন্য তার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ দলের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে উপস্থিতির সুনির্দিষ্ট সংখ্যা সম্পর্কে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।
খালেদা জিয়া বিএনপির চেয়ারপারসন ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের সংগঠন প্রতিবছর নানা কর্মসূচি পালন করে থাকে। এর অংশ হিসেবে ভালুকায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা ব্যুরো জানান : দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মদিন উপলক্ষে মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন (এমইউজে) খুলনার আয়োজনে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল ১৫ আগস্ট বেলা সাড়ে ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের হুমায়ুন কবির বালু মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়ন খুলনার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আতিয়ার পারভেজ। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক হাসান আহমেদ মোল্লা।
অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আবু তৈয়ব, খুলনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মোতাহার রহমান বাবু, খুলনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. তরিকুল ইসলাম, সহসভাপতি মো. সোহরাব হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক বেল্লাল হোসেন সজল, এমইউজের কোষাধ্যক্ষ এ এইচ এম শামীমুজ্জামান, সাবেক বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবির বাবুল, দৈনিক জন্মভূমির নির্বাহী সম্পাদক সরদার আবু তাহের, খুলনা প্রতিদিনের সম্পাদক সোহাগ দেওয়ান, এমইউজে সদস্য ফকির শহিদুল ইসলাম, রাজু আহমেদ, খাইরুল আলম, নুরুল আমিন নুর, রামিম চৌধুরী, শেখ বদর উদ্দিন, মাসুদ আল হাসান, মো. বি রহমান মাসুদ, উম্মে উমামা রাত্রি, আহসানুল আমীন, সাইফুল ইসলাম, রাজু খা, মো. বজলুর রহমান, সালাউদ্দিন আহমেদ শাওন, জাহিদুল ইসলাম, ফরহাদ হোসেন সজীব ও মো. আশিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন নাদিরা আক্তার, মো. জিল্লুর রহমান, শামীম হোসেন, তৌহিদুল ইসলাম রিংকু, মো. শামীম হোসেন খান, আব্দুল্লাহ আল মুহাইমিন, মোহাম্মদ আল মাহমুদ শাওন, আব্দুল হালিম, আহমেদ হোসাইন, ফরহাদ হোসেন, শাহরিয়ার শাফিন, এইচ এম সাগর, মো. আরিফ হোসেন, এম রোমানিয়া, আরিফ হোসেন, আসিফ আমিন, মোহাম্মদ এম এ সাদী প্রমুখ।
আলোচনা শেষে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন খুলনা প্রেসক্লাবের ইমাম মাওলানা ইউসুফ হাবিব।
কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধি জানান : বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেছে পৌর যুবদল।
শনিবার (১৫ আগস্ট)সকাল থেকে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও পৌর এলাকার মসজিদে খালেদা জিয়ার মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
একই সঙ্গে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্যোগে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়নে জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকাল ১০টার দিকে কালিয়াকৈর উপজেলা চত্বরে পৌর যুবদলের উদ্যোগে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়। পৌর যুবদলের নেতৃত্বে নেতাকর্মীরা ঝাড়ু, কোদালসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম নিয়ে উপজেলা চত্বর, আশপাশের সড়ক ও ড্রেন পরিষ্কার করেন। এ সময় আগাছা ও ময়লা-আবর্জনা অপসারণ করা হয়।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজি রিয়াজ উদ্দিন, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ, পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আমজাদ হোসেন, ৬ নম্বর ওয়ার্ড পৌর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়াসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পৌর যুবদলের সদস্য সচিব আমজাদ হোসেন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে আমরা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির আয়োজন করেছি। এর মূল উদ্দেশ্য ডেঙ্গু প্রতিরোধ একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা। আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখলে ডেঙ্গুর প্রজননস্থল কমবে মানুষ সুস্থভাবে জীবনযাপন করতে পারবে। ভবিষ্যতেও মানুষের কল্যাণে এ ধরনের জনসচেতনতামূলক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাজি রিয়াজ উদ্দিন বলেন, “পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি নেওয়ায় বিএনপির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের সাধুবাদ জানাই। বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আমরা চাই, এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে কালিয়াকৈরকে আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন করে গড়ে তোলা হোক।”
পৌর বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, ‘খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে কালিয়াকৈরের বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে দলীয়ভাবে মিলাদ ও দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে। পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করা হচ্ছে।’
কর্মসূচিতে পৌর যুবদল,সহ বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে গণঅধিকার পরিষদ ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে মাগরিবের আজানের সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নূর ও সাধারণ সম্পাদক রাশেদকে নিয়ে সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ শুরু করেন গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা। সমাবেশ থেকে আমির হামজাকে বক্তব্যের জন্য ক্ষমা চাওয়ার ১২ ঘণ্টার সময়সীমা দেওয়া হয়।
সমাবেশ শেষ হওয়ার সময় পুলিশি প্রটোকলে নিজ বাসায় ফিরছিলেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজা। তাঁর গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছালে সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা মুফতি আমির হামজা সমর্থকরা ও গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের শরিফুল ইসলাম বলেন, গাড়িবহরটি সমাবেশস্থলের কাছাকাছি পৌঁছালে একটি গাড়ি থেকে কয়েকজন লাঠি হাতে নেমে আসেন। এরপর দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতি শুরু হয়। পরে তা ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপে রূপ নেয়। একপর্যায়ে ছয় রাস্তার মোড়ের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে পড়ে।
প্রায় এক ঘণ্টা ধরে কয়েক দফায় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলে। এ সময় সংসদ সদস্যের গাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।
পরে মাগরিবের আজানের সময় আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, লাঠিসোঁটা নিয়ে একদল জামায়াতের নেতাকর্মী গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের দিকে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালান। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
গণঅধিকার পরিষদের কুষ্টিয়া জেলা সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক অভিযোগ করে বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ সমাবেশ করছিলাম। আমাদের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল হক নূরকে নিয়ে মুফতি আমির হামজার বক্তব্যের প্রতিবাদেই এই কর্মসূচি ছিল। সমাপনী বক্তব্যের সময় এমপির গাড়িবহর সেখানে আসে। এ সময় কয়েকজন জামায়াত কর্মী তাঁদের সামনে এসে উসকানিমূলক কথাবার্তা বলেন এবং তাঁরাই প্রথম হামলা চালান বলে দাবি করেন তিনি।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সংসদ সদস্য মুফতি আমির হামজার মুখপাত্র নাজমুল হোসাইন। তিনি বলেন, গণঅধিকার পরিষদের নেতাকর্মীরা এমপির গাড়িতে অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। এতে গাড়ি ভাঙচুরের পাশাপাশি ১০ থেকে ১২ জন আহত হয়েছেন।
ঘটনাস্থলে থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, প্রথমে সমাবেশস্থলের সামনে উত্তেজনা তৈরি হয়। কয়েকজন লাঠি হাতে এগিয়ে আসার পর দুই পক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
আরেক প্রত্যক্ষদর্শী রাকিব হাসান বলেন, এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পরই উত্তেজনা বাড়তে থাকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাসেল বলেন, প্রথম দফার সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হলেও পরে আবার লোকজন জড়ো হয়। মাগরিবের আজানের সময় লাঠিসোঁটা হাতে কয়েকজন গণঅধিকার পরিষদের কার্যালয়ের দিকে গিয়ে হামলা চালায়।
ঘটনার পর ছয় রাস্তার মোড় ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, বিকেল থেকেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এমপির গাড়িবহর ছয় রাস্তার মোড়ে পৌঁছানোর পর দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
দেশ ও দেশের বাইরে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষের সেবায় কাজ করে যাওয়ায় মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রশংসা করেছেন ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু। তিনি সংগঠনটির বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। শনিবার (১৫ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর হজের মোড়ে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে টিউবওয়েল বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ভূমিমন্ত্রী বলেন, মাস্তুল ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম শুধু টিউবওয়েল বা সেলাই মেশিন বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে সংগঠনটি বিভিন্ন সেবা নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়ায়। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা রয়েছে। গাজা ও ফিলিস্তিনে নির্যাতিত মুসলিমদের জন্য সংগঠনটি খাদ্য, ওষুধ ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহীতে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী উল্লেখ করে মন্ত্রী স্থানীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবকদের স্বচ্ছতার সঙ্গে ত্রাণসামগ্রী বিতরণের নির্দেশ দেন।
নিজের কারাবন্দি জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, কারাগারে থাকাকালে তিনি পানির কষ্ট অনুভব করেছেন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই সবসময় মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সচেষ্ট থাকেন। তিনি আরও বলেন, সৎ, দক্ষ ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের পরিচালনায় মাস্তুল ফাউন্ডেশন সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। রাজশাহীর শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভূমিমন্ত্রী এলাকার উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে দলমত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ আকমল হোসেন আজাদ, রাজশাহী লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি মো. ইফতিয়ার মাহমুদ বাবুসহ সংগঠনটির কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।অনুষ্ঠান শেষে প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করতে মাস্তুল ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে ২২টি টিউবওয়েল ও একটি সেলাই মেশিন উপকারভোগীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
কুমিল্লা জজকোর্ট রোডের ফৌজদারী মোড়ের উত্তর পাশে শিল্পী আসিফ আকবরের বাড়ি সংলগ্ন এলাকায় সিটি করপোরেশনের ড্রেন ও সড়কের জায়গা দখল করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য লেন ও মিনি ওভারপাস তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি সংকুচিত হয়ে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোরে হাঁটতে বের হয়ে বিষয়টি দেখতে পান সাংবাদিক তরিকুল ইসলাম তরুন। পরে তিনি ঘটনাটির ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করলে মুহূর্তের মধ্যে বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে। নগরবাসীর মধ্যেও এ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, একটি বাড়ির গেট দিয়ে সরাসরি বড় সড়কে গাড়ি ওঠানামার সুবিধার্থে গোপনে সিটি করপোরেশনের ড্রেন ও সড়কের অংশ দখল করে প্রায় ১২ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থের জায়গাজুড়ে একটি লেন/মিনি ওভারপাস তৈরি করা হয়। এতে সড়কের চলাচলযোগ্য অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ে।
বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর কুমিল্লা সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নেয়। পরে সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপুর নির্দেশে ঘটনাস্থলে লোক পাঠানো হয় এবং বেকু দিয়ে নির্মিত স্থাপনাটি ভেঙে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, “সিটি করপোরেশনের রাস্তা দখল করে কেউ রাখতে পারবে না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিটি করপোরেশনের আওতাভুক্ত ড্রেনের জায়গা ব্যবহার করে ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত স্থাপনার পরিধি বাড়ানো হচ্ছিল। একপর্যায়ে সেই অংশ সড়কের দিকে চলে আসায় যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলের জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ে।
জজকোর্ট এলাকার সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন আদালতের বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী, শিক্ষার্থী, পথচারীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। ফলে সড়কের জায়গা সংকুচিত হলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, সরকারি সড়ক ও ড্রেনের জায়গা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত সুবিধার জন্য এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ কীভাবে তৈরি হলো। তারা ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের দখল না হয়, সেজন্য নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে নির্মাণ করা অংশটি দ্রুত ভেঙে দেওয়ায় নগরবাসীর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে সিটি করপোরেশনের তাৎক্ষণিক পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন।
চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম গ্রামের আলোকিত সংঘের উদ্যোগে পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী কর্মসূচির প্রথম দিবসে প্রায় ২০০ জন কসমেটিক খতনা, নাক, কর্ণছেদন ও, কৃতি শিক্ষার্থীদে সংবর্ধনা এবং ২টি পরিবারে অটোরিকশা প্রদান করা হয়।
শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে স্থানীয় দরবারে কামালিয়া মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি আবু জাহেদ মুনছুর। সংগঠনের সাবেক সাধারাণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বাপ্পার সঞ্চালনায় এতে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. রেজাউল করিম। প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, রাউজানের সাধারণ সম্পাদক কাজী শফিউল আজম আল কাদেরী।
এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন, আলাউদ্দিন, মুবিনুল হক, সি. সদস্য মো. এরশাদ, রাসেল। উপস্থিত ছিলেন ইনডিপেনডেন্ট টিভি চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান আলমগির সবুজ ও স্টাফ রিপোর্টার মোহাম্মদ এহসানুল কবির।
আরও উপস্থিত ছিলেন রেজিস্ট্রার, শিশু স্বাস্থ্য বিভাগ বিজিসি ট্রাস্ট মেডিকেল কলেজ ডা. জাহেদ কামাল, উরকিরচর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আরমান হোসাইন, জাহেদুল ইসলাম, রবিউল হোসেন খোকন সেকান্দর সুমন, আলি আজম, আলিম উদ্দিন আশিক, সাংবাদিক মোহাম্মদ জাহেদুল আলম, এম রমজান আলী, তৈয়ব চৌধুরী, সাংবাদিক আনিসুর রহমান।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন, সিনিয়র সহসভাপতি নুরউদ্দিন রকি, সহসভাপতি সাকিবুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর মারুফ, ও সদস্যদের মধ্যে মো. মহসিন হাসান হৃদয়, রবিন, ইরফান, মো. আবু সাঈদ, ওসমান, তনিম, ফাহিম, ইফতি, রাফি, নেছার, তারেক, মুহিব, সাঈম, আরাফ, মাহিম, জিসান প্রমুখ।