ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের সাবেক বিভিন্ন এমপি ও রাজনীতিবীদদের বাড়ি ঘরে ভাঙ্চুর চালিয়েছে বিক্ষব্ধ জনতা।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শুক্রবার পর্যন্ত এসব সম্পত্তিতে হামলা, ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এরমধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের বাসভবনের সামনের অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১ টার দিকে রাজশাহীর উপশহর এলাকার তিনতলা বাড়িটি এক্সক্যাভেটর দিয়ে ভাঙা হয়।
ওই সময় উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতাকে সাবেক মেয়র লিটনের বিরুদ্ধে নানা শ্লোগান দিতে থাকেন। ছাড়া এক্সক্যাভেটর দিয়ে বাড়ি ভাঙার দৃশ্য অনেকেই ঘটনাস্থল থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরাসরি প্রচার করেন।
তবে এ বিষয়ে দ্বায়িত্বশীল কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে জানতে চাইলেও এ ব্যাপারে কেউ কথা ভলতে চাননি।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর পরিবার নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন। ওই দিনই এই বাড়িতে হামলা করে সবকিছুই লুট হয়। এরপর বাড়িটি পরিত্যাক্ত অবস্থায় খালি পড়ে ছিল। বৃহস্পতিবার রাতে আবারও হামলা করে সীমানা প্রাচিরসহ ভবনটির সামনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়।
এর আগে রাজশাহী উপশহরের নিউমার্কেট এলাকায় আওয়ামী লীগের আঞ্চলিক কার্যালয় ও শামীম নামের আওয়ামী লীগের এক নেতার চেম্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও নেতার চেস্বার ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেওয়ায় এক্সাভেটর ব্যবহার করা হয়।
এছাড়া রাজশাহীর-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের বাড়িতে ভাংচুর করে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বাঘার আড়ানী পৌরসভার চকসিঙ্গা এলাকার এই বাড়িটিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে আগুন দেয় ক্ষুব্দ জনতা।
এদিকে, ঝিনাইদহের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাতে কালীগঞ্জ উপজেলার কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়নের শমশেরনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আওয়ামী লীগ আমলে কাষ্টভাঙ্গা ইউনিয়ন শমশেরনগর এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদ শমসের দেশের সব চেয়ে বড় এই ১২৩ ফুট উঁচু শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরালটি স্থাপন করেছিলেন।
নাম প্রকাশ না করে স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা শমশেরনগরের শেখ মুজিব টাওয়ারের ম্যুরাল ভাঙচুর করার পর ম্যুরালের ভাঙ্গা অংশগুলো বারবাজার শহরে এনে সড়কের ওপরে রেখে আগুন দিয়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলা কমিটির সমন্বয় হোসাইন আহমেদ বলেন, বাংলার মাটিতে শেখ হাসিনা পরিবারের কোনো ম্যুরাল থাকবে না, থাকবে না ফ্যাসিবাদের কোনো চিহ্নও। এজন্য শেখ মুজিবের এই ম্যুরাল ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পিরোজপুরের নাজিরপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়েছে ও আগুন দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ জনতা। এসময় আগুন দেওয়া হয় সাবেক মন্ত্রী শ.ম রেজাউল করিমের বাসভবনসহ কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে। বৃহস্পতিবার রাত ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত এই ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করার সময় ও পরে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাউকে দেখা যায়নি।
স্থানীয়রা জানায়, রাত সাড়ে ৮টার দিকে একদল বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা উপজেলা সদরে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ণি করে। পরে মিছিলকারীরা উপজেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ও আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর চালায় ও আগুন ধরিয়ে দেয়।
এছাড়া সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মোশারফ খান, মন্ত্রী রেজাউল করিমের ভাই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান নূরে আলম শাহীন, নাজিরপুর উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কান্তি বিশ্বাস ও উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগও করা হয়। অন্যদিকে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার মঠবাড়িয়ার পৌর এলাকায় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগের (দক্ষিণ) সাবেক সভাপতি ও মঠবাড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট বায়জীদ আহমেদ খানের বাইপাস সড়কের বাড়িতে ভাঙচুর ও আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। ।
এসব বিষয়ে নাজিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ আল ভূঁইয়ার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের দেয়া বীর নিবাসে স্থাপন করা শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা ফলক ভাঙ্গে ফেরা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের জিরবাড়ী গ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর জব্বারের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের কর্মী পরিচয়ে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা এই ফলক ভেঙ্গে ফেলে।
নেছারাবাদ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতান নামে এক ব্যক্তি বলেন, যেখানেই আওয়ামী লীগের ও শেখ মুজিবের চিহ্ন আছে তা নিশ্চিহ্ন করা হবে। তারই অংশ হিসেবে বলদিয়া ইউনিয়নের বীর নিবাসে বসানো শেখ মুজিবুরের রহমানের নামে খোদাই করা পাথর টাইলস ভাঙা হয়েছে। শুক্রবার থেকে বীর নিবাসে লাগানো শেখ মুজিবের সব চিহ্ন ভাঙা হবে বলেও তিনি জানান।
তিনি আরও জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্র ঘোষিত বুলডোজার অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রামে বুলডোজার আনা সম্ভব নয় তাই তারা হাতুড়ি শাবল দিয়ে অভিযান শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে বীরনিবাসের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল জব্বারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হননি।
অপরদিকে ভোলা জেলা আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় এক্সকেভেটর দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পৌরসভা ভবন, জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের তিনটি ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা।
বৃহস্পতিবার রাতে জেলা শহরের বাংলাস্কুল মোড়ের জেলা আওয়ামী লীগের দোতলা কার্যালয়ে এক্সকাভেটর দিয়ে এই ভাঙচুর চালানো হয়। এ সময় ভবনটির বেশিভাগ অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কয়েকশ বিক্ষুব্ধ জনতা এক্সকাভেটর দিয়ে শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল এবং ভোলা জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিচ্ছে। এ সময় তাদেরকে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ৯টা থেকে ভোলা জেলা শহরের নতুন বাজার-সংলগ্ন প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হয় ছাত্র-জনতা। রাত সাড়ে ৯টার দিকে একটি এক্সকেভেটর আনেন তারা। প্রথমে এক্সকেভেটর দিয়ে ভোলা পৌরসভা প্রাঙ্গণে স্থাপন করা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এরপর জেলা পরিষদের সামনের বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া রাত ১০টার দিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। গত ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর এসব ম্যুরালের কিছু অংশ ভাংচুর করা হলেও বৃহস্পতিবার পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। ছবি: দৈনিক বাংলা
ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বলছেন, শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্যের কারণে তার ধানমন্ডির বাড়ি গুঁড়িয়ে দিয়েছে ছাত্র-জনতা। এরই ধারাবাহিকতায় ভোলাতেও শক মুজিবের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়েছে।
তারা বলছেন, ফ্যাসিবাদের আঁতুড় ঘর ছিল ভোলার আওয়ামী লীগের কার্যালয়। এ কার্যালয় থেকে হামলার নির্দেশ দেওয়া হতো। এ কারণে মুজিববাদ এবং ফ্যাসিবাদকে নির্মূল করতে আওয়ামী লীগের কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে।
এর আগে গত বুধবার রাতে ভোলা শহরের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বিক্ষুব্ধ ছাত্র জনতা।
অপরদিকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফেনী-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী নাসিম ও ফেনী-৩ আসনের সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) মাসুদ চৌধুরীর বাড়িসহ ফেনী জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ভাংচুর করেছে বিক্ষুব্ধ জনতা। ফেনীর পৌরসভার বারাহীপুরে ও শহরের স্টেশন রোড এলাকায় এসব হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
স্থানীয়রা জানান, বৈষম্যবিরোধী ছাত্ররা গত বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক গ্রুপ ও ব্যক্তিগত আইডি থেকে হামলার ঘোষণা দেয়। এই ঘোষণার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টায় বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা ফেনীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমবেত হয়ে এমপি নাসিমের বাড়িতে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। পরে ফেনী রেলস্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ও ভাঙচুর চালায়। এছাড়া এমপি মাসুদ চৌধুরীর সোনাগাজী গ্রামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে তারা। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিল না। তবে বাড়ির সব জিনিসপত্র পুড়ে গেছে।
এসব ঘটনায় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ছাত্র প্রতিনিধি সোহরাব হোসেন শাকিল বলেন, বুলডোজার কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রথম ধানমন্ডি-৩২ নম্বর গুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সন্ধ্যায় প্রোগ্রাম দেওয়া হয়েছে। তাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বিপ্লবী ছাত্র সমাজ ও আহত ভাইরা মিলে এই কর্মসূচি পালন করি।
এ বিষয়ে ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মর্ম সিংহ ত্রিপুরা বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেছে।
এর আগে, গত ৫ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা নাসিমের ফেনীর বাসভবন ও স্টেশন রোডের জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছিল।
এছাড়া নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা। বৃহস্পতিবার রাত ২টার দিকে হাতিয়া পৌরসভার চর কৈলাশ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ওসি আজমল হুদা। তিনি জানান, বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করে। এছাড়া ঘাটে থাকা ছয়টি স্পিডবোট ও চারটি ট্রলারে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন আহত হয়েছে। আহত একজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি দুইজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রাত ১১টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিসহ বিক্ষুদ্ধ ছাত্র-জনতা হাতিয়া উপজেলা সদর ওছখালীতে জড়ো হয়। পরে মিছিল নিয়ে তারা মোহাম্মদ আলীর বাড়ির দিকে গেলে বাড়ির সামনে মোহাম্মদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলিবর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার মিছিলে মোহাম্মদ আলীর বাড়ি থেকে তার লোকজন গুলিবর্ষণ করেছে।
অপরদিকে মোহাম্মদ আলীর অনুসারীরা অভিযোগ করেন, ওছখালীর দক্ষিণ ও উত্তর দিকে মোহাম্মদ আলীর দুটি বাড়িতে দফায় দফায় হামলা-অগ্নিসংযোগ করার চেষ্টা করে একদল লোক। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার এক পর্যায়ে রাত ২টার দিকে বাড়ি দু’টিতে হামলা করে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে তারা। পরে আফাজিয়া ঘাটে নোঙগর করা মোহাম্মদ আলীর ৪টি স্পিডবোট ও ৬টি ট্রলারও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়।
ছাত্র জনতাকে লক্ষ্য করে গুলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি আজমল হুদা জানান, বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত ১০ আগস্ট রাত ৩টার দিকে হাতিয়ার ওছখালীর ওই বাড়ি থেকে মোহাম্মদ আলী, তার স্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য আয়েশা ফেরদাউস ও তাদের বড় ছেলে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশিক আলী অমিকে হেফাজতে নেয় নৌবাহিনী। এরপর থেকে তারা তিনজন কারাগারে আছেন।
এদিকে রাতে হাতিয়ায় মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্র-জনতার মিছিলে গুলি করার অভিযোগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্দেশ্যে ক্ষোভ দেখান বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মুখ্য সংগঠক আব্দুল হান্নান মাসুদ। তার গ্রামের বাড়ি হাতিয়ায়। তিনি সেখান থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
পরে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মাসুদ তার ভেরিফায়েড ফেইসবুক প্রোফইলে একটি পোস্টে লেখন, আমার জন্মভূমি হাতিয়ায় সাবেক এমপি জলদস্যু মোহাম্মদ আলীর বাসা থেকে ছাত্রদের উপর গুলিবর্ষণ করা হয়েছে। প্রশাসন আছে, কিন্তু সন্ত্রাসীদের হাতে অস্ত্রও আছে। আমার ভাইদের উপর সন্ত্রাসীরা গুলি চালিয়েছে, আমি যাচ্ছি। হয় জন্মভূমি, নয় মৃত্যু।”
পরে রাতেই মিছিল নিয়ে রাজধানীর মিন্টো রোডে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বাসভবন ঘেরাও করতে যান তিনি। রাত ৩টার দিকে ঘটনাস্থলে লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে আসেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।
তিনি বলেন, আমি খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আমাদের আইজিপি ও আইন-শৃঙ্খলার দায়িত্বে যারা আছেন তাদের বিষটি জানিয়েছি। হামলা করার মতো ঘটনা যারা ঘটিয়েছে তাদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে শুক্রবার মধ্যেই তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে এই নিশ্চয়তা আমি আপনাদের দিতে চাই। এরপর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজধানীর ধানমণ্ডিতে মোহাম্মদ আলীর বাসভবনে অভিযান চালায় পুলিশ।
এদিকে জাতীয় সংসদের সাবেক হুইপ ইকবালুর রহিম ও তার বড় ভাই সাবেক বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের দিনাজপুরের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে ছাত্র-জনতা। এছাড়া দিনাজপুর আওয়ামী লীগের জেলা ও সদর উপজেলা কার্যালয়েও ভাঙচুর করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বুলডোজার কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে কয়েকশ ছাত্র ও স্থানীয় লোকজন এসব ভাঙচুর চালায়।
স্থানীয়রা জানায়, বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বুলডোজার নিয়ে প্রথমে দিনাজপুর সদর হাসপাতাল এলাকার ইকবাল ও তার ভাই ইনায়েতের নতুন বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। যদিও ৫ আগস্ট ওই বাড়িটি ভেঙ্গে ফেলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। এরপর পুনঃনির্মাণ করা হয়।
ওই রাতেই দিনাজপুর শহরের বাসুনিয়াপট্টির আওয়ামী লীগের জেলা কার্যালয় এবং দিনাজপুর সদর উপজেলা কার্যালয়ে বুলডোজার দিয়ে সামনের অংশ ভেঙ্গে ফেলা হয়।
এছাড়া একই রাতে দিনাজপুর জেলার খানসামা ও চিরিরবন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগ অফিসও বুলডোজার দিয়ে ভেঙ্গে দিয়েছে ছাত্র-জনতা।
এছাড়া, সিরাজগঞ্জে বঙ্গবন্ধু সেতু পশ্চিমপাড় সয়দাবাদ পুনর্বাসন এলাকায় সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের প্রয়াত এমপি আওয়ামী লীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের দুটি বাড়িতে হামলা করে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে এঘটনার সময় বিক্ষুব্ধ জনতা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করে এ বিষয়টি প্রচার করে।
এক ভিডিওতে দেখা যায়, একটি মিছিল নিয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুনর্বাসন এলাকায় বাড়ি দু’টিতে এ ভোংচর চালানো হচ্ছে। এ সময় আওয়ামী লীগের আস্তানা, সয়দাবাদে হবে না—মর্মে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়। ভাঙচুর শেষে তারা মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বপনের এক স্বজন জানান, পুনর্বাসন এলাকায় তিনটি প্লটে প্রয়াত এমপি স্বপনের তিনটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি একতলা ও একটি দোতলা মিলে দুটি পাকা বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে।
২০২১ সালের ২১ সেপ্টেম্বর করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্বপন। মৃত্যুর আগে এসব বাড়ি তিনি মেয়েদের নামে লিখে দেন। বর্তমানে বাড়িগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, নরসিংদীতে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শ্রীনগর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়ী-ঘরে হামলা-ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এসময় প্রতিপক্ষের গুলিতে শান্তা ইসলাম (২৪) নামে এক গৃহবধু নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয় আরো বেশ কয়েকজন। নিহত শান্তা ইসলাম একই এলাকার শাকিল খানের স্ত্রী। গতকাল শুক্রবার জুমার নামাজ চলাকালে উপজেলার শ্রীনগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহতের স্বজনরা জানান, আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে শুক্রবার দুপুরে জুম্মার নামাজ চলার সময় প্রতিপক্ষ সোহেল ও তার লোকজন শস্ত্র নিয়ে ইউপি ভবন ও ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেলের বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসময় ৮/১০ টি বাড়ি ঘরে ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়। এতে বাধা দিলে ইউপি চেয়ারম্যানের চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলামকে গুলি করে তারা। শান্তা ইসলামকে উদ্ধার করে আশংকাজনক অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ইসমাইল হোসেন রাজিব তাকে মৃত ঘোষনা করেন। এ ঘটনায় আরো ৫ থেকে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে বলে জানান স্বজনরা।
রায়পুরা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ ইসমাইল হোসেন রাজিব বলেন, দুপুর আড়াইটার দিকে শান্তাকে নিয়ে আাসেন তার স্বজনরা। মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তিনি গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় শ্রীনগর ইউপি চেয়ারম্যান রিয়াজ মোর্শেদ খান রাসেল জানান, সোহেল এলাকায় মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত এবং একাধিক মামলার আসামী। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে দ্বন্ধ চলে আসছিল। এরই জেরে সে জুমার নামাজ চলাকালে ফাকা বাড়ি পেয়ে তারা ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এসময় তাদের গুলিতে আমার চাচাত ভাইয়ের স্ত্রী শান্তা ইসলাম মারা যায়।
এ বিষয়ে রায়পুরা থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদ নিহতের ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের পর বিস্তারিত জানানো হবে।
এদিকে, সিলেটের মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এবং রাতে এসব ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভাঙেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
জানা গেছে, নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়াল অধিবেশনের পর এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয় জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স। তারই অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার বিকেলে কুলাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এবং রাতে উপজেলা পরিষদ এলাকায় থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়।
এ সময় উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মুক্তার আহমেদ, কাদিপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহমান, উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক তানজীল হাসান খাঁন, পৌর ছাত্রদলের আহবায়ক আতিকুল ইসলাম আতিক, উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আতিকুর রহমান তারেক, সেক্রেটারি আবু বকর শিপন, জেলা ছাত্রদলের সদস্য সালমান হোসাইন, কলেজ ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক শামীম আহমদ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাইদুল ইসলাম, রায়হান আহমদ, ইব্রাহিম আলী, শেখ রানা, আরিয়ান রিয়াদ, সাকেল আহমদ, আরিফুল ইসলাম, ফয়েজ আহমদ, নুর উদ্দিন, শামীম আহমদ, শাহরিয়ার জামিল, মাহিনুর রহমান, শাহ সিয়াম, ফাহাদ ও জিসান, পৌর জাসাসের আহবায়ক ফারাজ ফারদিন, যুগ্ম আহবায়ক তানফিজুর রহমান সাইফসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে ঈশ্বরগঞ্জে ছাত্র-জনতার অভিযানে শেখ মুজিবের ম্যুরাল
ও বিজয় একাত্তরচত্বর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০ টার দিকে এস্কেভেটর দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযান শুরু করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতা।
বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা প্রথমে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের ঈশ্বরগঞ্জ পৌর এলাকার মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কমপ্লেক্স মোড়ের বিজয়-৭১ চত্বরটি ভাংচুর শুরু করে।
গত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের মাঝে সড়ক দ্বীপ আকারে একটি ফোঁয়াড়া নির্মাণ করে পৌরসভা। শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বীর শ্রেষ্ঠ মুক্তিযোদ্ধাদের ভাস্কর্য লাগানো হয় ফোঁয়াড়াটির চার পাশে। মুক্তিযোদ্ধ ভিত্তিক ভাস্কর্যের মাঝে দুটি মানুষ আকৃতি হাত তোলে লাল সবুজের জাতীয় পতাকা বহন করছে। ঈশ্বরগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃক নির্মিত চত্বরটির নাম দেওয়া হয়েছে বিজয় ৭১ চত্বর। এ কারণে যানবাহন চলাচলে সমস্যা হওয়ায় ও যানজটের কারণে এটি অপসারণের দাবি ছিলো দীর্ঘ দিনে। বিজয়-৭১ চত্বরটি ৫ আগস্টের পর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ শাহরিয়ার বিন মতিনের নামে নাম করণ করা হয়েছিল। এই চত্বরটি ভাঙার পর পাশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতিসৌধ চত্বরে থাকা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাংচুর করা হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার সংগঠক হাসানুর রহমান জানান, মোহাইমিনুল ইসলামসহ স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের সার্বিক তত্ত্বাবধানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
এছাড়া, ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়িটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার পর সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য প্রয়াত আওয়ামীলীগ নেতা হাসিবুর রহমান স্বপনের ২টি বাড়িতে হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারী) রাতে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পুর্ণবাসন এলাকার বাড়ি দু’টিতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, ২০১৩ সালে সদর উপজেলার সয়দাবাদ ইউনিয়নের পূর্ণবাসন এলাকায় হাসিবুর রহমান স্বপন দুটি বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। বাড়ি দুটি ভাড়া দেওয়া ছিলো। হাসিবুর রহমান স্বপন ৮০-র দশকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব দেন। পরে ১৯৯৬ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে বিএনপি তাকেবিহিস্কার করলে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ঐক্যমতের সরকার গঠনের ডাক দিলে তিনি তাতে যোগ দিয়ে শিল্প উপ-মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। এরপর ২০১৪ সালের দশম ও ২০১৮ সালের একদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সিরাজগঞ্জ-৬ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি ২০২১ সালে করোনা ভাইসাসে আক্রান্ত হয়ে তুরস্কের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় (২ সেপ্টেম্বর) ভোররাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত শাহজাদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির বলেন, সয়দাবাদের পুর্ণবাসন এলাকায় দুটি বাড়িতে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পেয়েছি। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা চত্বর ও বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে নির্মিত শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা। তবে সেখানে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর শেখ মুজিবের দুটি ম্যুরালের বেশ কিছু অংশ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। বৃহস্পতিবার সেই মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার সময় পাঁচবিবি পৌর শহরের পাঁচ মাথা এলাকায় একটি এক্সকেভেটর আনেন। পাঁচ মাথা চত্বরের পশ্চিম পাশে একটি শাপলা ফুল, জাতীয় চার নেতা, শেখ মুজিবুর রহমান ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল রয়েছে। এসব ম্যুরালের মধ্যে গত ৫ আগস্টের পর শেখ মুজিবের ম্যুরালটির কিছু অংশ ভেঙে বিকৃত করে দেওয়া হয়েছিল। এক্সকেভেটর নিয়ে শুধু শেখ মুজিবের ম্যুরালের মূল অবকাঠামো ভেঙে ফেলে দেওয়া হয়। তবে জাতীয় চার নেতা ও সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের ম্যুরাল অক্ষত রয়েছে।
এ সময় ছাত্র-জনতাকে ‘মুজিব বাদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘অ্যাকশন টু অ্যাকশন, ডাইরেক্ট অ্যাকশন’, ‘হই হই রই রই, শেখ হাসিনা গেল কই’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে শোনা যায়।
পাঁচ মাথা চত্বরের শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে দেওয়া পর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের সামনে এক্সকেভেটর নিয়ে শেখ মুজিবের ম্যুরালটিও ভেঙে ফেলা হয়।
এদিকে, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে সাবেক সেনাপ্রধান মঈন ইউ আহমেদের গ্রামের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। একই সময় তারা চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেন ফয়সলের বাড়িতেও ভাঙচুর-লুটপাট চালায়।
গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে হামলার এ ঘটনা গুলো ঘটে। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের পৃথক দুইটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছ।
স্থানীয়রা জানায়, রাত আটটার দিকে শতাধিক ছাত্র-জনতা লাঠি সোঠা নিয়ে সাবেক সেনা প্রধান মঈন ইউ আহমেদের বেগমগঞ্জের চৌমুহনী পৌরসভার আলীপুর গ্রামের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সাবেক সেনা প্রধানের ছোট ভাই জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি জাবেদ ইউ আহমেদের দ্বিতল বাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় এবং ড্রইংরুমের সোপায় আগুন ধরিয়ে দেয়।
প্রায় একই সময় তারা পাশ্ববর্তী চৌমুহনী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আক্তার হোসেনের বাড়িতেও হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, হামলাকারীদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের মাথায় হেলমেট ও মুখে মাস্ক পরা ছিল। তবে হামলা-ভাঙচুরকালে উভয় বাড়ির বাসিন্দাদের কেউ না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। আর বাড়িতে পাহারাদার যিনি ছিলেন, তিনি ভয়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেছেন।
বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিটন দেওয়ান বলেন, সাবেক সেনা প্রধান মঈন উ আহমেদের বাড়িতে তার ছোট ভাই জাবেদ উ আহমেদের বাড়িতে একদল লোক সন্ধ্যার পর হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে। এ সময় বাড়িতে কেউ ছিলনা। হামলাকারীরা ওই সময় নিচ তলার সোফার আগুন ধরিয়ে দেয়। কিছুক্ষণ পর সাবেক পৌর মেয়র ফয়সলের বাড়িতেও কিছুটা হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উদ্যোগে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের শারাফাত চৌধুরী মাল্টি-পারপাস হলে গতকাল অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘জুলাইয়ের কণ্ঠস্বর: তারুণ্য, প্রত্যয় ও প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা সভা। উক্ত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং উপাচার্য (মনোনীত) আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের আমন্ত্রণ জানান।
অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য উপস্থাপন করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ট্রাস্টি বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কিংবদন্তী ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত। এছাড়াও উল্লেখিত বিষয়ের ওপর বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ সানজাদ শেখ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের ভাইস চ্যান্সেলর (মনোনীত) অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক। বক্তারা তাদের গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরেন এবং তরুণ সমাজকে প্রগতি ও দেশ গঠনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং শিক্ষার্থীরা এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
জনাব ববি হাজ্জাজ বলেন, ১৮ জুলাই কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটির সামনে আমি আন্দোলনে ছিলাম। ৫ আগস্টের মাত্র তিন দিন পরেই এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ক্লাস শুরু করে। আমি অবাক হয়েছি আপনাদের এই তৎপরতা দেখে। আমি নিজে দেখেছি ৪০ জন সশস্ত্র পুলিশ সদস্যরা ক্যাম্পাস দখলে নিয়েছিল। ভবন ভাঙচুর করে ছিল। এই ভগ্নদশা থেকে এত জলদি শিক্ষার্থীদের ক্লাসে ফেরানো বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল। যেটা কানাডিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় করে দেখিয়েছে।
প্রতিষ্ঠার মাত্র এক দশকেই বিশ্ববিদ্যালয় তার শিক্ষার মানের কারণে অনেক দূর এগিয়েছে বলে প্রশংসা করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী।
এ ছাড়াও ডিপার্টমেন্ট অব শিপিং অ্যান্ড মেরিটাইন সায়েন্স চালু করে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও কিংবদন্তি ধারাভাষ্যকার চৌধুরী জাফরউল্লাহ শারাফাত বলেন, শিক্ষার্থীদের উন্নয়নে যা যা করণীয় বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ড তাই করবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একটি রূপরেখা আহ্বান করেছেন তিনি।
এ সময় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে অধ্যাপক ড. এইচ এম জহিরুল হক বলেন, সমাজ পরিবর্তন করতে হলে নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে। এজন্য নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ার গড়তে হবে। সবশেষে উপস্থিত অতিথি ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) একমাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কমপক্ষে পাঁচটি সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পাঁচ সংঘাতের মধ্যে একটিরও দৃশ্যমান বিচার করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিচারকার্যে প্রশাসনের এই ব্যর্থতার কারনেই শিক্ষার্থীরা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একে অপরের সাথে সংঘর্ষে জড়াচ্ছে বারবার। একমাসে পৃথক চারটি ঘটনায় আটটি বিভাগের শিক্ষার্থীরা একে অপরের সাথে সংঘাতে জড়িয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র ও সংঘর্ষের সাথে জড়িত বিভাগগুলোর শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানাগেছে, গত ৩০ দিনে ইংরেজি-অর্থনীতি, সমাজবিজ্ঞান-আইন, গণিত-গণযোগাযোগ ও বাংলা-ইতিহাস এই আটটি বিভাগের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আরেকটি সংঘর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটি ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্য সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাগুলোতে তিনটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও অদৃশ্য কারণে তদন্ত কার্যক্রম আগায়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে তদন্ত রিপোর্ট জমা হওয়ার পরে ব্যবস্থা নেয়া হবে কিন্তু রিপোর্টই দিতে গড়িমসি করছেন তদন্ত কমিটি। একটি সূত্র জানিয়েছে গঠিত কমিটি নানা বাহানায় সময় বৃদ্ধি করে প্রতিবেদন জমা দিতে দেরি করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মুস্তাফিজুর রহমান সৌরভ বলেন, অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিতে এসকল সংঘর্ষের ঘটনা এড়ানো যেত। শাস্তি নিশ্চিতে হলে সবার কাছে একটি মেসেজ যেত, যাতে করে এ সকল সংঘর্ষ আর ঘটত না। ঘটলেও সংঘর্ষের তীব্রতা বাড়ত না। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়ানোর জন্য প্রশাসনের উচিত সুস্থ তদন্তে অপরাধীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের আইনে নিয়ে এসে শাস্তি নিশ্চিত করা।
গত ১৫ আগস্ট রাতে ছাত্রীকে প্রেমের প্রস্তাব ও উত্ত্যক্তের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ইংরেজি ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটে। রাত ৯টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত সংঘর্ষে দুই বিভাগের অন্তত ১০ শিক্ষার্থী আহত হন বলে জানা যায়। এ সময় আহত শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামিয়ে মারধর এবং চালককেও মারধরের অভিযোগ উঠেছে এই সংঘর্ষে থেকে।
গত ৫ আগস্ট ‘অদম্য জুলাই’ মিছিলে বহিরাগত অভিযোগে শিবির-ছাত্রদলের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলামের পায়ে রক্তক্ষরণ হয়েছে। ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীও ঘটনাস্থলে আহত হন। এসংঘর্ষের উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। সংঘর্ষের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শিবির ও ছাত্রদলের সাথে বসলেও দৃশ্যমান কোনো বিচার বা পদক্ষেপ নেয়নি।
এর আগে ১৫ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয় ‘বিজয়-২৪’ হলে ডেকে নিয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. ইনামুল হকের ওপর ইতিহাস বিভাগের কিছু শিক্ষার্থী হামলা করে। হলের দ্বিতীয় তলার করিডোরে এই ঘটনা ঘটে। ঐ ঘটনায় ইনামুল হক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অংকন এবং ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবসহ ২০-২৫ জনকে অভিযুক্ত করেন।
এঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সাকিবও ইনামুল হকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দেয় প্রক্টর অফিসে। ঘটনা তদন্তের জন্য চার সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও কমিটি এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি।
এরও আগে ২০ জুলাই ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার দিন পূর্ববিরোধের জেরে আইন ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে বিভাগ দুটির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায়ও কোনো বিচার করতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
একদিন ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঐ সংঘর্ষের সংবাদ সংগ্রহে জন্য সাংবাদিকদের উপস্থিত হলে তারাও হামলার স্বীকার হন। সংঘর্ষটির তদন্ত কমিটি গঠিত হলেও এখনো তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি কমিটিটি।
বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন শান্ত, ইতিহাসের সাথে বাংলা বিভাগের জুনিয়র দ্বারা সিনিয়র সংঘর্ষ হলো তখন ঐটার বিচারহীনতায় পরবর্তীতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাথে আইন বিভাগ, গণিত সাথে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ ও অর্থনীতির সাথে ইংরেজী বিভাগের সংঘর্ষ এভাবে ধারাবাহিক ভাবে ডিপার্টমেন্ট বাই ডিপার্টমেন্ট চলতেই আছে। যদি অতীতের ঘটনার সুস্থ ভাবে বিচার হতো তাহলে এতো দূর পর্যন্ত গড়াতো না, যেটা আমি মনে করি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক মো.মেহেদী হাসান বলেন, যেসব বিভাগের শিক্ষার্থীরা সংঘর্ষে জড়িয়েছে আমরা তাদের বিভাগের চেয়ারম্যানদের সাথে বসেছি। এই সংঘর্ষের পিছনে আমাদের মনে হয়েছে তাদের অস্বাভাবিক আচরণের পিছনে মাদকাসক্তি থাকতে পারে। আমরা পুলিশের সাথে কথা বলেছি। তারা আমাদের হেল্প করতে চেয়েছে। আমি দায়িত্ব গ্রহণের পরে যতগুলো ঘটনা ঘটেছে সবগুলো তদন্ত কমিটি আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে করে ফেলেছি। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট শৃঙ্খলা কমিটিতে জমা দিবে। তদন্ত কমিটি ও শৃঙ্খলা কমিটির সিন্ধান্ত হবে সিন্ডিকেটে। সিন্ডিকেট চূড়ান্ত সিন্ধান্ত গ্রহণ করবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. মামুন অর রশিদ বলেন, ইতোমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দিলে, বিচার নিশ্চিত কারার আশ্বস্ত করেছেন উপাচার্য।
প্রশাসনকে ঢেলে সাজাতে শিগগিরই ‘জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষিবিষয়ক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, সংস্কার কমিশনে যাতে ভূত-টুত না থাকে সে বিষয়টি আগে নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য একটু সময় লাগছে। তবে, দ্রুতই কমিশন গঠন হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র শাপলায় এই মতবিনিময় সভা হয়।
সভায় প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহ বলেন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন করার জন্য নির্বাচনী ইশতেহারে যে কথা বলা আছে সরকার সেই পয়েন্ট থেকে সরে আসেনি। বরং সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সংস্কার করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রিপোর্ট দেওয়া হয়েছিল। সেটাও আমরা লক্ষ্য করেছি। খুব শিগগিরই জনপ্রশাসন সংস্কারে আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন করতে যাচ্ছি।
সভায় গণমাধ্যম কমিশন গঠনের কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠক করার উদ্যোগ নিয়েছি এবং অংশীদারদের সঙ্গে বৈঠকের কাজও প্রায় শেষ করেছি। এখন আমরা ওয়ার্কিং গ্রুপ করব। তারা একটা ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের ড্রাফট তৈরি করবেন। তারপর আমরা এটা মন্ত্রিসভার কাছে উপস্থাপন করব।
এসএসসি পরীক্ষার খাতা পুনঃমূল্যায়নে ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়ার পর এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। কোন ধরনের খাতা পুনঃমূল্যায়নের আওতায় আসবে এবং কোনগুলো পুনঃমূল্যায়ন করা হবে না—নীতিমালায় তা নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, খাতা পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ দেওয়ার পর বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। ফলে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর প্রতিটি খাতা পুনরায় পরীক্ষা করা বাস্তবসম্মত নয়। তিনি বলেন, ২০ লাখ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের খাতা পুনরায় দেখা সরকারের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণে পুনঃমূল্যায়নের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ১২ লাখের বেশি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনের নিষ্পত্তি করে শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তি কার্যক্রমও এগিয়ে নিতে হবে। বিপুলসংখ্যক খাতা পুনঃমূল্যায়ন করতে গেলে ভর্তি প্রক্রিয়ায়ও বিলম্ব হতে পারে বলে তিনি জানান।
আবেদনগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে মিলন বলেন, বর্তমানে যারা আবেদন করেছে, তাদের ক্ষেত্রে টেবুলেশন শিট ও নিরীক্ষার বিষয়গুলো যাচাই করা হবে। যেসব খাতায় গুরুতর সমস্যা বা অসঙ্গতি পাওয়া যাবে, সেগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ১৯৮০’ সংশোধনের মাধ্যমে খাতা পুনঃমূল্যায়নের সুযোগ চালু করা হয়েছিল। তবে এবারের অভিজ্ঞতায় বিপুলসংখ্যক আবেদন আসায় এর প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে।
খাতা পুনঃমূল্যায়নের মাধ্যমে পরীক্ষকদের মূল্যায়ন পদ্ধতিও যাচাই করা হবে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। কোনো পরীক্ষক খাতা যথাযথভাবে মূল্যায়ন করেছেন কি না, নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে অস্বাভাবিকতা রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও পর্যালোচনা করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনার কথাও জানান তিনি।
সরকারের নতুন নীতিমালায় কোন ধরনের খাতা পুনঃমূল্যায়নযোগ্য হবে এবং কোন ক্ষেত্রে আবেদন গ্রহণ করা হবে না—তা স্পষ্ট করা হবে। এর মাধ্যমে একদিকে শিক্ষার্থীদের ন্যায্যতা নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে, অন্যদিকে বিপুলসংখ্যক খাতা পুনঃমূল্যায়নের কারণে কলেজে ভর্তি কার্যক্রমে সম্ভাব্য দীর্ঘসূত্রতা এড়ানোর লক্ষ্য থাকবে।
বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন, কারখানায় তালা ঝুলছে দীর্ঘদিন ধরে—অথচ কাগজপত্রে সেই ভূতুড়ে মিলের পেতেই চালান হয়ে গেল বিপুল পরিমাণ সরকারি গম! নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে বন্ধ একটি ফ্লাওয়ার মিলের নামে ১০০ মেট্রিক টন গম বরাদ্দ দিয়ে তা হরিলুটের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অচল মিলে সরকারি সম্পদ বরাদ্দের খবর চাউর হতেই নরসিংদী খাদ্য দপ্তরে শুরু হয়েছে তীব্র তোলপাড়। অনিয়ম ঢাকতে তড়িঘড়ি করে গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি, চলছে একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপানোর মহোৎসব।
সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী, নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয় তালিকাভুক্ত চারটি ফ্লাওয়ার মিলের মাধ্যমে গম ভাঙিয়ে সমপরিমাণ ফলিত আটা সরকারি গুদামে জমা নিয়ে থাকে। এই তালিকার অন্যতম প্রতিষ্ঠান কারারচরের ‘মেসার্স মেরাজ ফ্লাওয়ার মিল’। বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ বিল বকেয়া থাকায় চলতি বছরের ৭ জুন থেকেই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি মিলটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এর আগে ঈদুল আজহার সময় থেকেই কারখানাটির সমস্ত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ ছিল।
অথচ এই সম্পূর্ণ অচল ও বিদ্যুৎহীন মিলটির অনুকূলে গত ১৩ জুলাই প্রায় ১৯ লাখ টাকা বাজারমূল্যের ১০০ মেট্রিক টন ওএমএস-এর গম বরাদ্দ দেওয়া হয় (বিলি আদেশ বা ডিও নং-০১০৪৫৩, সিডিভি নং-২৬২৭-০০০৩২৮৫৬৮৪)। বরাদ্দপত্রে স্বাক্ষর করেন নরসিংদী সদর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান্নাতি ময়না এবং ডিও গ্রহণ করেন মিল মালিক মো. মিরাজ আলম ভূঁইয়া। সচল অন্য তিনটি মিল থাকা সত্ত্বেও কোনো স্বার্থে একটি বিদ্যুৎহীন বন্ধ কারখানায় এত বড় চালান পাঠানো হলো, তা নিয়ে জনমনে বিস্তর প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা খোঁজখবর নেওয়া শুরু করলে বিপাকে পড়ে জেলা খাদ্য দপ্তর। অনিয়ম ও থলের বিড়াল আড়াল করতে ২৬ জুলাই তড়িঘড়ি করে একটি আদেশ জারি করা হয় (স্মারক নং-১৩.০১.৬৮০০.০০০.০০০.৫৭.০০০৯.২৫.৬২৮)। উক্ত আদেশে মেরাজ ফ্লাওয়ার মিলের নামে থাকা অবশিষ্ট ৭৬.৬০০ মেট্রিক টন গমের উপবরাদ্দ বাতিল করে বাকি তিনটি সচল মিলের মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হয়। একই সাথে প্রশাসনিক দায় এড়াতে গঠন করা হয় একটি তদন্ত কমিটি।
সরেজমিনে কারারচরস্থ মেসার্স মেরাজ ফ্লাওয়ার মিলে গিয়ে দেখা যায়, কারখানাটি দীর্ঘদিন ধরে ভুতুড়ে অবস্থায় বন্ধ পড়ে আছে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন। মিল মালিক মো. মিরাজ আলম ভূঁইয়া দাবি করেন, ‘আমার মিলে বিদ্যুৎ না থাকায় আমি অন্য মিল থেকে গম পেষন করে সরকারি গুদামে জমা দিয়েছি।’ তবে সরকারি নিয়ম লঙ্ঘন করে নিজস্ব মিলের বাইরে অন্য কোথায় গম ভাঙানো হলো এবং আদৌ পুরো ১০০ টন গম পেষন হয়েছে নাকি কালোবাজারে বিক্রি করে হিসাব মেলানো হয়েছে—তার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, পুরো কেলেঙ্কারির বিষয়ে জানতে চাইলে দায় এড়িয়ে যান নরসিংদী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছালেহ উদ্দিন। তিনি বলেন, আমি বিস্তারিত কিছুই জানি না। কাগজপত্র আমার কাছে আসলে আমি শুধু স্বাক্ষর করি, বাকি সব কাজ উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা করেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক জান্নাতি ময়না অবশ্য জানান, মিল বন্ধের বিষয়ে মালিক আমাদের আগে অবহিত করেননি। তদন্তে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার সত্যতা মিলেছে, তবে বরাদ্দকৃত ১০০ মেট্রিক টন গমের আটা তারা গুদামে জমা দিয়েছেন।
অভিজ্ঞ মহলের মতে, বন্ধ মিলের নামে বরাদ্দ দেখিয়ে সরকারি খাদ্যশস্য তুলে নেওয়ার ঘটনাটি কোনো সাধারণ ভুল নয়; এটি কর্মকর্তা ও মিল মালিকের সুপরিকল্পিত আর্থিক দুর্নীতি। সরকারি গম নিজস্ব মিলে না ভাঙিয়ে বাইরে নিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় ধরনের গম চোরাচালানের সিন্ডিকেট সক্রিয় রয়েছে। স্থানীয়রা অনতিবিলম্বে এ ঘটনায় জড়িত অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য খাদ্য মন্ত্রণালয় ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে তিন যাত্রীর ব্যাগ থেকে ৭৮২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করা হয়েছে। একই সময় লাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট। জব্দ সিগারেটের বাজারমূল্য ৩৬ লাখ ৪ হাজার টাকা এবং আইফোনের মূল্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তল্লাশি চালিয়ে এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়। তিন যাত্রী—ফেনীর ছাগলনাইয়ার মঈনুল আবেদীন, আব্দুল মান্নান ও ফেনী সদরের নুরুল আলম রিয়াদ—এর ব্যাগেজ থেকে ৭৮২ কার্টন সিগারেট ও ১৩টি আইফোন পাওয়া যায়। পাশাপাশি মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার হয় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আটক পণ্য কাস্টমসের হেফাজতে গেলেও তিন যাত্রীকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একদিনের এই ঘটনা তাই শুধু ‘৩৬ লাখ টাকার সিগারেট জব্দ’-এর খবর নয়। গত প্রায় এক দশকের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মেলালে এটি শাহ আমানত বিমানবন্দরকে ঘিরে বিদেশি সিগারেট চোরাচালানের একটি দীর্ঘস্থায়ী প্যাটার্নেরই নতুন উদাহরণ।
প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন ঘেঁটে দেখা যায়, ২০১৭ সাল থেকেই শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিদেশি সিগারেটের বড় চালান আটকের খবর নিয়মিত এসেছে।
২০১৭: ডিসেম্বরে দুবাই থেকে আসা এক যাত্রীর লাগেজ থেকে ২৫৮ কার্টন (মূল্য ১৫ লাখ টাকা) এবং সেপ্টেম্বরে আরেক যাত্রীর কাছ থেকে ২৬০ কার্টনে ৫২ হাজার শলাকা সিগারেট (মূল্য ২০ লাখ টাকা) জব্দ করা হয়।
২০১৯: আগস্টে দুবাই থেকে আসা তিন যাত্রীর কাছ থেকে ৮১৪ কার্টন এবং শারজাহ থেকে আসা বিভিন্ন যাত্রীর নামে আনা ১৫ লাখ ৬০ হাজার টাকার সিগারেট আটক হয়। নভেম্বরে দুবাই থেকে আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটের ২৯ জন যাত্রীর কাছ থেকে ৭ হাজার ১৮৩ মিনি কার্টন (মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা) উদ্ধার করা হয়। অর্থাৎ, একাধিক যাত্রীকে ব্যবহার করে বড় চালান ভাগ করে আনার প্রবণতা দেখা যায়।
২০২০: জানুয়ারিতে ৫১২ কার্টন, ফেব্রুয়ারিতে ২৪০ কার্টন ও ৯টি সোনার বার, এবং সেপ্টেম্বরে ৯৫ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
২০২১: আগস্টে দুবাই থেকে আসা ফ্লাইটে এক যাত্রীর ব্যাগেজ থেকেই ২৫২ কার্টন মন্ড, ডানহিল ও ৩০৩ ব্র্যান্ডের সিগারেট পাওয়া যায়।
২০২২: জুলাইয়ে ১৪ লাখ ৫২ হাজার ৪০০ শলাকা সিগারেট জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য ছিল প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। এ ছাড়া এপ্রিলে ১৩৭ কার্টন এবং নভেম্বরে ফ্ল্যাই দুবাইয়ের ফ্লাইটে ১১০ কার্টন ও অন্য চালানে ৮ লাখ ৮০ হাজার শলাকা সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
২০২৩: স্বর্ণের বার, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপের পাশাপাশি দুবাইয়ের এক যাত্রীর কাছে ২ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়—যা মূলত ‘ব্যাগেজ পার্টি’ নেটওয়ার্কের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
২০২৪: ফেব্রুয়ারিতে এয়ার আরাবিয়ার ফ্লাইটে ৭৩৫ কার্টন সিগারেট পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২৪৫ কার্টন ছিল পরিত্যক্ত।
২০২৫: জুলাইয়ে দুবাই থেকে আসা ৩ যাত্রীর কাছ থেকে ৫৭০ কার্টন সিগারেট ও ৩০টি মোবাইল (মূল্য ৬০ লাখ টাকা) জব্দ করা হয়।
২০২৬: বছরের শুরু থেকেই একের পর এক চালান ধরা পড়ছে—জানুয়ারিতে ৪৪০ কার্টন, ফেব্রুয়ারিতে ২৭০ কার্টন ও ১৫টি মোবাইল, মার্চে ৪২৯ কার্টন, এপ্রিলে ৬৩০ কার্টন ও ৫টি স্মার্টফোন, মে মাসে মোট ৩,০৪৩ কার্টন (দুটি চালানে), জুনে ১,৭০০ কার্টন (৬৯৬টি পরিত্যক্ত), জুলাইয়ে ২৩৫ কার্টন এবং ১৭ আগস্টে মোট ১,৮০২ কার্টন (১,০২০টি পরিত্যক্ত) সিগারেট উদ্ধার করা হয়।
দুবাই-চট্টগ্রাম, শারজাহ-চট্টগ্রাম, এবং সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আবুধাবি-চট্টগ্রাম ও মাসকাট-চট্টগ্রাম রুট চোরাচালানের প্রধান উৎস হিসেবে বারবার উঠে এসেছে।
বড় বাণিজ্যিক কার্গো হিসেবে না এনে প্রবাসীদের লাগেজে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে আনা হয়, যাতে ধরা পড়ার ঝুঁকি কমে।
বিমানবন্দরে স্ক্যানিংয়ে ধরা পড়ার আশঙ্কায় বা কাস্টমস এড়িয়ে যেতে লাগেজ ফেলে রেখে কেটে পড়ে বাহকরা। এর ফলে পণ্যের সঙ্গে বাহকের সরাসরি যোগসূত্র অস্বীকার করার সুযোগ তৈরি হয়। সিগারেটের সঙ্গে দামি স্মার্টফোন, প্রসাধনী ও স্বর্ণ একত্রে পাচার করা হয়।
কোটি টাকার পণ্য আটক হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বাহকদের (যাত্রীদের) কেবল মৌখিক সতর্কতা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে।
যারা শুধু বাহক বা প্রবাসে সামান্য টাকার বিনিময়ে ব্যাগ বহন করেন, তারা ধরা পড়লেও পেছনে থাকা মূল অর্থদাতা, সিন্ডিকেট বা দেশীয় আমদানিকারকরা সব সময় আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।
সিসিটিভি ফুটেজ, লাগেজ ট্যাগ, প্যাসেঞ্জার ম্যানিফেস্ট এবং ফ্লাইট ডাটা বিশ্লেষণ করে পরিত্যক্ত লাগেজের প্রকৃত মালিক বা মূল নেটওয়ার্ক পর্যন্ত পৌঁছানোর মতো গভীর তদন্তের অভাব দৃশ্যমান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শাহ আমানত বিমানবন্দরে কাস্টমস ও গোয়েন্দা সংস্থার অভিযান কার্যকর—বারবার চালান আটক হওয়া তারই প্রমাণ। তবে এক দশক ধরে একই ঘটনা ঘটার কারণ হলো তদন্ত কেবল পণ্য জব্দ ও যাত্রী শনাক্ত/সতর্ক করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে। এই চোরাচালান বন্ধ করতে হলে বাহকের বদলে মূল হোতা এবং পণ্যের চালানের বদলে অর্থের লেনদেন ধরে তদন্ত চালানো জরুরি।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মোহাম্মদ রাজন (৩৫) নামের এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারাগার সূত্র জানায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেলে কেন্দ্রীয় কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন রাজন। পরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কারা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
কারারক্ষী মোহাম্মদ রাজীব জানান, রাজন কেন্দ্রীয় কারাগারে কয়েদি হিসেবে বন্দি ছিলেন। তার কয়েদি নম্বর ৯২৩০/এ। তার বাবার নাম মৃত নুরুল ইসলাম। তবে কোন মামলায় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাতে পারেননি।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফারুক মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হবে। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
সংসদে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে লাগাতার প্রতিবাদ, বিক্ষোভ এবং সরব ভূমিকার পর এবার আন্দোলনকে রাজপথে নামানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে কংগ্রেস। সংসদের ভিতরের প্রতিবাদ কতটা জনমানসে প্রভাব ফেলেছে, সাধারণ মানুষের মধ্যে তা কতটা সাড়া জাগাতে পেরেছে, এবার সেই হিসাবই কষতে চাইছে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।
এ লক্ষ্যে বুধবার (১৯ আগস্ট) কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। সংসদ অধিবেশন চলাকালে বিভিন্ন ইস্যুতে সরকারকে চাপে রাখার চেষ্টা করেছে কংগ্রেস। বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচিও হয়েছে। কিন্তু সংসদের বাইরে সেই আন্দোলনের প্রতিফলন কতটা দেখা গেছে, তা নিয়ে দলের অন্দরেই আলোচনা শুরু হয়েছে।
কংগ্রেস নেতৃত্ব মনে করছে, শুধু সংসদে সরব থাকলেই হবে না। সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক বার্তা সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হলে রাজপথেও ধারাবাহিক আন্দোলন প্রয়োজন।
এই লক্ষ্যেই ছাত্রসমাজকে আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। আগামী ২২ আগস্ট রাহুল গান্ধী মহারাষ্ট্রের পুনেতে কংগ্রেসের ছাত্রদের কর্মসূচিতে যোগ দেবেন। এর আগে উত্তরাখণ্ড, বিহার এবং প্রয়াগরাজে একই ধরনের কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন তিনি। দলীয় সূত্রের মতে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে আগামী দিনেও এই কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
কংগ্রেসের হিসাব, ছাত্র ও তরুণদের মধ্যে বিভিন্ন সরকারি নীতি নিয়ে যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে, তাকে রাজনৈতিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত করা গেলে তার প্রভাব রাজপথে পড়তে পারে। বিশেষ করে শিক্ষা, চাকরি, পরীক্ষাব্যবস্থা এবং সরকারি নিয়োগের মতো বিষয়কে সামনে রেখে ছাত্রসমাজকে সংগঠিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি উত্তর ভারতের হিন্দি বলয়ে আরও একটি রাজনৈতিক ইস্যুকে সামনে আনতে চাইছে কংগ্রেস। অযোধ্যার রামমন্দিরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামির অর্থ নিয়ে চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে আন্দোলন গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে দলের। উত্তরপ্রদেশে আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন। ফলে অযোধ্যাকে ঘিরে যে কোনো রাজনৈতিক ইস্যু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি।
রামমন্দিরের প্রণামির অর্থ নিয়ে অভিযোগকে হাতছাড়া করতে নারাজ সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদবও। উত্তরপ্রদেশে বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস ও সমাজবাদী পার্টির রাজনৈতিক সমঝোতা বজায় রাখার সম্ভাবনাই এখন প্রবল। ফলে অযোধ্যার এই অভিযোগকে সামনে রেখে দুই দলই নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি আরও জোরদার করতে চাইছে। কংগ্রেসের পরিকল্পনা শুধু উত্তরপ্রদেশে সীমাবদ্ধ থাকবে না। হরিয়ানা, উত্তরাখণ্ডসহ হিন্দি বলয়ের বিভিন্ন রাজ্যে বিষয়টি নিয়ে কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
দলের লক্ষ্য, স্থানীয় অভিযোগ ও জনস্বার্থের বিষয়গুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর রাজনৈতিক আন্দোলনকে যুক্ত করা। তবে সামনে রয়েছে উৎসবের মরশুম। ফলে কখন, কোথায় এবং কীভাবে কর্মসূচিগুলো করা হবে, তা নিয়েই এখন কংগ্রেসের অন্দরে আলোচনা চলছে। আগামীকাল বুধবারের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে আন্দোলনের রূপরেখা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, কংগ্রেসের সামনে এখন মূল চ্যালেঞ্জ হলো সংসদের ভিতরের প্রতিবাদকে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা। শুধু সরকারের সমালোচনা নয়, সেই সমালোচনাকে জনআন্দোলনে পরিণত করতে পারলেই তার রাজনৈতিক সুফল মিলবে। তাই সংসদের লড়াইয়ের পর এবার রাজপথে নিজেদের শক্তি কতটা বাড়াতে পারে কংগ্রেস, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।
বিশ বছর আগে রাজধানীর কামরাঙ্গীচরে যৌতুক না পেয়ে গরম পানি ঢেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামী মো. সানাউল্লাহের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
সোমবার (১৭ আগস্ট) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন। পাশাপাশি তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ৯ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এরশাদ আলম জর্জ এ তথ্য জানান। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- আলী হোসেন, মিন্টু মিয়া, নুর ইসলাম, শহিদুল্লাহ, মো. কালু, শহিদুল, বেগম, রেনু বেগম ও আ. খালেক।
এদিন কারাগারে আটক সানাউল্লাহকে আদালতে হাজির করা হয়। তার উপস্থিতিতে বিচারক রায় ঘোষণা করেন। রায় শেষে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ২০০৫ সালের ২৮ নভেম্বর সানাউল্লাহর সঙ্গে রুবিনা আক্তার পিংকির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই আসামি সানাউল্লাহ যৌতুক চেয়ে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন। এক পর্যায়ে যৌতুক না পেয়ে ২০০৬ সালের ২ মে গরম পানি দিয়ে তাকে পুড়িয়ে দেন। পিংকির ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় পিংকির বাবা কামরাঙ্গীরচর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে ২০০৬ সালের ২০ অক্টোবর কামরাঙ্গীরচর থানার উপ-পরিদর্শক মো. গোলাম মোস্তফা সানাউল্লাহকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন। অপর আসামিদের অব্যাহতির সুপারিশ করেন। মামলার বাদী এতে নারাজি দাখিল করেন। পরে সব আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ৯ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন।
ভোলায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী বিতরণ করেছে কোস্ট গার্ড। সোমবার (১৭ আগস্ট) কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নিয়মিত মেডিকেল ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করে আসছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার (১৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কোস্ট গার্ড বেইস ভোলার ব্যবস্থাপনায় ভোলার সদর থানাধীন ১১নং ভেদুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ওই মেডিকেল ক্যাম্পেইনে ২৯৬ জন মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসামগ্রী প্রদান করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।’
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, ‘বিশ্বে এখন খাদ্যের অভাবের চেয়ে নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্যের চাহিদাই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশেও নিরাপদ ও গুণগত মানসম্পন্ন মাছ উৎপাদন নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য মৎস্য উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ ও নির্ধারিত মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করে রপ্তানি বাড়াতে হবে।’
সোমবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) কর্তৃক আয়োজিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে ‘স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মাণে মৎস্যসম্পদ: বর্তমান প্রেক্ষাপট ও ভবিষ্যৎকরণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘মাছ বর্তমানে কী সমস্যায় আছে, আগামী দিনে কী সম্ভাবনা রয়েছে, মানুষের চাহিদা ও আন্তর্জাতিক বাজারে মানসম্মত মাছের চাহিদা-এসব বিষয়কে সামনে রেখে আমাদের করণীয় নির্ধারণ করতে হবে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধান করতে পারলে দ্রুত এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ও উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের জন্য পর্যাপ্ত অভয়াশ্রম নিশ্চিত করতে হবে। সরকার ইতোমধ্যে এ বিষয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে এবং মাছ সংরক্ষণে কাজ শুরু করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও সার ব্যবহারসহ বিভিন্ন পরিবেশগত চাপ মাছের প্রাকৃতিক উৎপাদন ও প্রজননকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসতে পরিবেশসম্মত ও আধুনিক উৎপাদন পদ্ধতির দিকে যেতে হবে। সীমিত জায়গায় আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অধিক মাছ উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে।’
আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের মৎস্যপণ্যের সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের মিঠাপানির মাছের বড় বাজার রয়েছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করছেন। তাদের চাহিদাকে কাজে লাগিয়ে রপ্তানি বাড়ানো সম্ভব। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে হলে শুধু বাংলাদেশিরা যে মাছ খায় তা নয়, যে দেশে মাছ রপ্তানি করা হবে সে দেশের মানুষের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী মাছ উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে।’
চিংড়ি, কাঁকড়া, কুচিয়াসহ অন্যান্য জলজ প্রাণীর রপ্তানি সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে উৎপাদনের পাশাপাশি পোনা ও প্রজনন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে পোনা উৎপাদন ও লালন-পালন করা গেলে এ খাতে উৎপাদন ও রপ্তানি বহুগুণ বাড়ানো সম্ভব।’
মৎস্য উৎপাদনে গুণগত মান, নিরাপদ খাদ্য, পরিবেশ সুরক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার মধ্যে সমন্বয় ঘটানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী, গবেষক ও পেশাজীবীদের কার্যকর পরামর্শ সরকারকে সহযোগিতা করবে।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেন, ‘মাছের উৎপাদন বাড়াতে হলে মাছের বেড়ে ওঠা ও প্রজননের উপযোগী পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ তিনি বলেন, নদী-নালা দখল, নাব্যতা সংকট ও শিল্পকারখানার বর্জ্যে পানিদূষণের কারণে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননক্ষেত্র বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মাছের আবাসস্থল ফিরিয়ে আনতে নদী ও খালের নাব্যতা বজায় রাখা এবং নদীর সঙ্গে খালের সংযোগ পুনঃস্থাপন জরুরি। শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা ও খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আবার খাল ও নদী পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন এলাকায় খননকাজ হয়েছে। প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল ও নদী পুনঃখননের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মাছের প্রজনন ও বিচরণের উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে।’
মাছ চাষে অ্যান্টিবায়োটিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারে একদিকে খামারিরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে খাদ্যনিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়ছে। এ বিষয়ে খামারিদের সচেতন করতে জেলাভিত্তিক সেমিনার ও কর্মশালা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
বিএফআরআইর মহাপরিচালক ড. মো. লতিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে মৎস্য ও প্রাণিসস্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান, মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বিএফআরআইর বিজ্ঞানীরা ও অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএফআরআইর ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মশিউর রহমান।
মৌলভীবাজারে সীমান্তে চোরাচালান, মাদক ও অস্ত্র পাচার ঠেকানোর পাশাপাশি অবৈধভাবে বালু-পাথর উত্তোলন বন্ধ এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়াতে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ আগস্ট পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব রিজিয়নের আওতাধীন ৪৬ বিজিবির শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়ন সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮৩০ কোটি ৪৮ লাখ ৮৯ হাজার ৪৭৭ টাকা মূল্যের মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দ করেছে বিজিবি।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ।
ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘সরাইল রিজিয়নের দায়িত্বপূর্ণ ১ হাজার ২০৪ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকায় চারটি সেক্টরের অধীনে ১৩টি ইউনিটের ২১১টি বিওপির মাধ্যমে সীমান্ত সুরক্ষা ও চোরাচালান প্রতিরোধে কাজ করছে বিজিবি। মাদক, অস্ত্র, মানবপাচারসহ বিভিন্ন অবৈধ পণ্য পাচার রোধে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অন্যান্য চোরাচালান পণ্য জব্দের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অস্ত্র ও বিস্ফোরকও উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে চারটি পিস্তল, ছয়টি এয়ারগান, পাঁচটি পাইপগান ও একটি ওয়ান শুটার গান। এ ছাড়া ৪০ রাউন্ড কার্তুজ, ১৮ দশমিক ৩৩ কেজি উচ্চবিস্ফোরক, ১১৭টি ডেটোনেটর এবং ৩০ মিটার ডেটোনেটর তার উদ্ধার করা হয়েছে।
সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ব্রিফিংয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্তে শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, চোরাচালান ও অস্ত্র-গোলাবারুদ পাচার প্রতিরোধ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে বিজিবি সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত লিয়াকত (৫৩) নগরীর গগনবাবু রোডের নিবাসী। এ নিয়ে খুলনা বিভাগে মৃত্যু ১৩-তে উন্নীত হলো। নতুন করে আরও ১৫৩ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। আর হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৪৪৮ জনে উন্নীত হয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর খুলনা বিভাগের পরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনের তথ্যানুযায়ী, বিভাগে নতুন ভর্তি ১৫৩ জন রোগীর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ১২০ জন এবং বেসরকারি হাসপাতালে ৩৩ জন ভর্তি হয়েছেন।
জেলাভিত্তিক নতুন ভর্তির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, খুলনার সরকারি হাসপাতালে ৩১ জন ও বেসরকারি হাসপাতালে ৩৩ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৬ জন, বাগেরহাটে ১৫ জন, সাতক্ষীরায় ১ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ০ জন, যশোরে ২০ জন, ঝিনাইদহে ০ জন, মাগুরায় ০ জন, নড়াইলে ৪ জন, কুষ্টিয়ায় ৮ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ১ জন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
চুয়াডাঙ্গায় এ মৌসুমে গত ১৩ আগস্ট প্রথম ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হয়। সোমবার আরও ৪ জন ভর্তি হলো।
এদিকে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত খুলনা বিভাগে ৩ হাজার ৫৫৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৫৬ জন। বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৪৮ জন ডেঙ্গুরোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ ছাড়া এ পর্যন্ত অন্য হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে ৩৮ জনকে। চলতি বছর এ বিভাগে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গুতে। এর মধ্যে ১০ জন খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও খুলনা জেলায় ২ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া বাগেরহাটে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর ১০ জনের মধ্যে ৪ জন রয়েছে খুলনার।
বিভাগের হাসপাতালগুলোতে বর্তমানে ভর্তির মধ্যে রয়েছে খুলনায় ১৭২ জন, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৭ জন, বাগেরহাটে ৬৮ জন, সাতক্ষীরায় ৫ জন, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন, যশোরে ৩৫ জন, ঝিনাইদহে ৫ জন, মাগুরায় ৭ জন, নড়াইলে ৮ জন, কুষ্টিয়ায় ১৩ জন, চুয়াডাঙ্গায় ৪ জন ও মেহেরপুরে ২ জন।
জানতে চাইলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘মৃত লিয়াকত ১৬ আগস্ট ভর্তি হয়েছিলেন। তার ডেঙ্গুসহ কিডনি জটিলতা ও নানা উপসর্গ ছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোগী বেশি হলেও চিকিৎসায় কোনো ঘাটতি হচ্ছে না। ওষুধ, কিট পর্যাপ্ত। রোগীর চাপ আরও বাড়লে পৃথক ইউনিট খোলার পরিকল্পনা নেওয়া হতে পারে।’