অপারেশন ডেভিল হান্টে চট্টগ্রামে ৩৫ জন, সুনামগঞ্জে ৭, মানিকগঞ্জে ১১, বাগেরহাটের মোংলায় ৬, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৩, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৩, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৪ ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার রাতে চাক্তাইয়ের চাউলপট্টি এলাকার বাসা থেকে চট্টগ্রাম মহানগরের ৩৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন নুরু আটক হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ভূমিদখল ও চাঁদাবাজির খেলায় মেতে ওঠে কিশোর গ্যাং পরিচালিত নুরু গ্রুপ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড) মেজর রিজোয়ান বলেন, সোমবার রাতে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। চাঁদাবাজির কারণে নুর হোসেন নুরুকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাতিয়া থানাধীন ৬নং চরকিং ইউনিয়নে কাওসার মিয়ার ব্রিকফিল্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. নবির উদ্দিন, মো. ইমাম হোসেন ও মো. ফখরুল ইসলাম টিপুকে আটক করা হয়। অপরদিকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে হুমায়ুন কবির ওরফে বাবুল নামক এক সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দীপন ধর (৪০), মো. ফারুখ (৪৫), মো. ইমরান হোসেন (৩২), মো. মনির আলম (৩৩), পেয়ার আহমেদ (৪৫), মো. আব্দুর রহমি (৩৭), মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী (৫২), মামুনুর রশদি পাভেল (২১), শুক্কুর আহমেদ ওরফে মো. ফয়সাল (২২), আলী মর্তুজা (৩৫), শাহাজাহান ইসলাম সাজু (২৮), মো. নাহিদুল আলম এলিন (৪৩), মো. সফর আলী (৩৯), মো: ইকবাল হোসেন (৩৫), মো. নুরুল আলম (৬২), মো. রুবেল মিয়া (২৬), আব্দুর রউফ বাদশা (১৯), ওসমান গণি ওরফে ইমন (২৪), এ এন মেহেদী ইসলাম বাপ্পী (৪৪), মো. রফিক (৪০), মো. রাকিব(২৪), জুলফিকার আলী মাসুদ(৫০), সাইফুল ইসলাম (৪৭), মোহাম্মদ আরশাদুল নুর (২০), আবুল কাসেম (৪৫) ও মো. আকবর হোসেন (২৫), ইমাম হোসেন ওরফে ইব্রাহীম (২৫), মো. বেলাল (৩৩), মো. রুবেল (২৭) ও মো. আলমগীর হোসেন (৩৬)।
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জে অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযান পরিচলনা করে অস্থিতিশীলতা পরিকল্পনার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ও দিনে সাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করেন জেলা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আব্দুল কাদের (৭২), আমজাদ হোসেন (৪৫) ও আব্দুস সামাদ (৫০), হাবিবুর রহমান শিবলী (৪৬), রিয়াদ হোসেন (৩৭), নজরুল ইসলাম শাহজাহান (৪৯), সাইফুল ইসলাম (৪০), মজনু মিয়া (৫৩), কুদ্দুস মিয়া (৪৪), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৪) এবং আশরাফুল ইসলাম (৫২)।
মোংলা (বাগেরহাট)
মোংলায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশের পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৬ আওয়ামী লীগ নেতা আটক হয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোর রাতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মালগাজী এবং বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের দিগরাজ এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৩), মোঃ ডালিম (৫২), মোঃ শফিকুর রহমান (৭২), বিধান চন্দ্র রায় (৬৬) কে ১টি দুইনালা বিদেশি বন্দুক ও ১৫ রাউন্ড তাজা গুলিসহ আটক করা হয়।
অপরদিকে মঙ্গলবার রাতে মোংলার কুমারখালী ও গোয়ালেরমেঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম এবং মোঃ সাইফুল শেখকে আটক করেছেন পুলিশ।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বগলাকাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহান উদ্দিন (৩৩), সুনামগঞ্জ সদর থানার মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী (৬০)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। মো. খোকন মিয়া (৪০), মধ্যনগর থানার রৌয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. খোকন মিয়া (৪০)। তিনি বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি। জগন্নাথপুর থানার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. কামরুল হাসান তেরা মিয়া (৪০)। তিনি জগন্নাথপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক। তাহিরপুর থানার সোলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আকরামিন হোসেন (২১)। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সহ-সভাপতি। ছাতক থানার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জানে আলম (২৮)। তিনি ইসলামপুর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। সুনামগঞ্জ সদর থানার ঘাসিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ (৪০)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক।
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডেভিল হান্ট অপারেশনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে তাদের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ সোহান হাসান, সোনারগাঁ পৌরসভার ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রনি বিল্লাহ ও জামপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মেসা. শফিকুল ইসলাম।
মেহেরপুর
মেহেরপুর সদর উপজেলার ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সকলেই সন্ত্রাসী বিরোধী আইনের মামলার আসামি।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- মেহেরপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মঞ্জুরুল কবির রিপন (৪৫), মেহেরপুর শহরের শিশু বাগান পাড়ার নুরূল ইসলামের ছেলে এনামুল হক বাবলু (৪৫) এবং নতুনপাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে হৃদয় হোসেন (২৭)।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
কলাপাড়ায় মহিপুর থানা যুবলীগের সদস্য ও মহিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. মামুন হাওলাদার(৪৫) কে আটক করেছে পুলিশ।
মহিপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ডেভিল হান্ট অপারেশনে তাকে আটক করে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন সেচ্চাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি আলীম সরকার, তারাবো পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রনি হোসেন ও ভুলতা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী বাছেদ মিয়া।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৪ জন আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দিনভর অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি ও সাবেক কমিশনার আফজাল হোসেন ভূইয়া (৬৭)। অন্য আসামিরা হলেন, শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার হাজী আব্দুর রহমান মিয়ার ছেলে ও আওয়ামী লীগ সক্রিয় কর্মী নান্নু মিয়া (৬২), গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকার কালা মিয়ার ছেলে ও আওয়ামী লীগ সক্রিয় কর্মী বাদল মিয়া (৩৮) ও শিবপুর ইউনিয়নের মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মুর্শিদ মিয়া (৫০)।
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার পৌর এলাকার বাহাদীপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভূঞাপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন ও একই ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানাধীন নিজ বাসা থেকে মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান (৫৫) নামে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে থানার উত্তর আগ্রাবাদ রমনা আবাসিক এলাকার নিজ বাড়ি থেকে ওই ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশের ধারণা, তিনি ‘আত্মহত্যা’ করে থাকতে পারেন।
ছায়েদুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের যুগ্ম পরিচালক পদে চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। তিনি তিন কন্যাসন্তানের জনক। তাদের মধ্যে দুজন ডাক্তার ও একজন প্রকৌশলী। গত বুধবার রাতে মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান বাসায় একা ছিলেন। ঘটনার সময় তার স্ত্রী নাতিকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন।
হালিশহর থানার ওসি জয়নাল আবেদিন মণ্ডল জানান, বাসায় উনি একা ছিলেন। ভবনটির দ্বিতীয় তলায় একটি কক্ষ থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় উনার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এখন পর্যন্ত যতটুকু বুঝা যাচ্ছে, উনি আত্মহত্যা করেছেন। কী কারণে, সেটা এখনো আমরা জানতে পারিনি। জানার চেষ্টা করছি।
নিহতের এক সহকর্মী বলেন, ‘মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান বেশ হাসিখুশি মানুষ ছিলেন। উনার সাথে সবার সম্পর্ক ভালো। গতকালও সন্ধ্যা পর্যন্ত উনি ব্যাংকে সবার সাথে একটা মিটিংয়ে ছিলেন।’
পুলিশ জানায়, মৃত ছায়েদুর রহমানের দুই মেয়ে ডাক্তার, আরেক মেয়ে ইঞ্জিনিয়ার। তাদের দুজন ঢাকায় থাকেন। একজন চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে প্র্যাকটিস করেন। এ নিয়ে উনি বেশ প্রাউড ফিল করতেন। যতটুকু জেনেছি, রাতে উনি স্ত্রীকে ফোন করে তাড়াতাড়ি বাসায় ফিরতে বলেছিলেন। এরপর উনার স্ত্রী বাসায় ফিরে উনাকে এ অবস্থায় দেখতে পান।
রমনা আবাসিক এলাকার যে বাড়িটি থেকে মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করা হয়, সেই বাড়িটি তার নিজের
নেত্রকোনা সদর উপজেলার দক্ষিণ বিশিউড়া ইউনিয়নের শ্রীপুর বালী গ্রামে এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে প্রলোভন, তথ্য গোপন ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করে বিয়েতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের পর যৌতুকের দাবিতে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগও করেছে তার পরিবার। এতে মেডিকেলে ভর্তি হয়ে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন অনিশ্চয়তায় পড়েছে বলে দাবি স্বজনদের।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের সুন্দর মিয়া ও আবু তাহেরের যোগসাজশে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে বিয়েতে রাজি করানো হয়। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের ২০ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় কাজী আ. আউয়ালের মাধ্যমে বিয়ে সম্পন্ন হয়। সুন্দর মিয়া ও আবু তাহের এতে সাক্ষী ছিলেন বলেও পরিবারের দাবি। কাবিননামায় দেনমোহর ১০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়।
পরিবারের আরও অভিযোগ, বিয়ের সময় পরিচয় ও ঠিকানাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করা হয় এবং তাদের অজ্ঞাতসারে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়। বিয়ের পর যৌতুকের জন্য চাপ এবং মারধরসহ নির্যাতনের শিকার হন ওই শিক্ষার্থী।
স্বজনদের দাবি, তিনি মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিন্তু বিয়ের ঘটনা ও মানসিক চাপের কারণে শেষ পর্যন্ত পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি।
এ ঘটনায় মামলা চলমান রয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে। মেয়ের নিরাপত্তা, পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ এবং অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন তার বাবা। অভিযুক্ত সুন্দর মিয়া ও আবু তাহেরের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার বন্ধ এবং দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে সরকারের দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি।
তিনি বলেন, ‘শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান পরিচালনা করে পাহাড়ের সশস্ত্র তৎপরতা ও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। এর পাশাপাশি শিক্ষা, সামাজিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, কৃষি, পর্যটন ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে।’
গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে রাঙামাটি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দুর্নীতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণ, সুশাসন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিসংক্রান্ত বিশেষ সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে রাত সাড়ে ৮টা থেকে রাজনৈতিক নেতারা, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্যরা, জেলা প্রশাসন, গোয়েন্দা সংস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী।
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ ও প্রকৃতি সংরক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়ে মীর হেলাল বলেন, ‘পাহাড়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশ ধ্বংস করে কোনো উন্নয়ন করা হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অক্ষুণ্ণ রেখে প্রকৃতির সঙ্গে সমন্বয় করে উন্নয়ন করতে হবে। অবকাঠামো উন্নয়ন হোক কিংবা পর্যটন বিকাশ, সবকিছুই পরিবেশ অক্ষত রেখে করতে হবে।’
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় রাঙামাটির সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, পুলিশ সুপার মো. আব্দুর রকিবসহ জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে মনোয়ার হোসেন নামের এক ইউপি সদস্যকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ উঠেছে শরিফুল ইসলাম সুমন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পৌর এলাকার বটতলী বাজারে এ ঘটনা ঘটে। আহত মনোয়ার হোসেন উপজেলার তুলসীগঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের দুই নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি জয়পুরহাট থেকে বেগুন বিক্রি করে ক্ষেতলালের দিকে ফিরছিলেন। বটতলী বাজারে পৌঁছালে তাকে পথরোধ করে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে তার অভিযোগ। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এ হামলায় তার ডান পাশের কাঁধ, গলা ও হাতে জখম হয়েছে। এর মধ্যে কাঁধের ক্ষতস্থানে কয়েকটি সেলাই দিতে হয়েছে।
মনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে বলেন, ‘জমিসংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়েছে।’
এ ঘটনায় তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। তার দাবি, এর আগেও তাকে দুটি মামলায় আসামি করা হয়েছিল এবং তিনি বর্তমানে সেসব মামলায় জামিনে রয়েছেন। তিনি এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা চান।
অভিযোগের বিষয়ে শরিফুল ইসলাম সুমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
ক্ষেতলাল থানার ওসি মুক্তারুল আলম বলেন, ‘ইউপি সদস্যকে ছুরিকাঘাতের বিষয়ে প্রাথমিকভাবে খবর পাওয়া গেছে। আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় জুয়ার আসরে অভিযান চালিয়ে নগদ টাকাসহ ১৩ জুয়াড়িকে আটক করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সুত্রে জানাগেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের মাহার বাজারসংলগ্ন এলাকার একটি পরিত্যক্ত ঘরে অভিযান চালিয়ে জুয়া খেলারত অবস্থায় তাস ও নগদ অর্থসহ তাদেরকে আটক করে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন, উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের শিবরাপুর গ্রামের ইমান আলী মণ্ডলের ছেলে মো. শহীদুল্লাহ (৬০), বিষ্ণরামপুর গ্রামের হযরত আলীর ছেলে সুলতান আলী, একই গ্রামের মো. বাবুল হোসেন (৪৫) মো. সিরাজুল ইসলাম (৪৮) মো. জাকির হোসেন (২৮) মো. রুহুল আমীন (৩৭) মো. ইউনুছ আলী (৬৫ তোতা মিয়া (৪৫) মো. তালেব আলী (৪৮) হাবিবুর রহমান (৪০) মজনু (৫৫) শহীদুল্লাহ (৪৬) ও সুরুজ আলী (৫৬)।
অপরদিকে পৃথক অভিযানে এস আই লিটন এদিন পৌর এলাকার ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অভিযান চালিয়ে জনৈক এনামুলের মুদি দোকানের সামনে থেকে কুখ্যাত মাদক সম্রাট ও একাধিক মাদক মামলার আসামি মনিরুজ্জামান ওরফে চশমা মনিরকে ১৫ পিস ইয়াবাসহ আটক করেন।
এছাড়াও থানা পুলিশ মেহেদী হাসান নামে আরেক তরুণকে মাদক সেবনরত অবস্থায় আটক করে তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের আওতায় এনে এক মাসের সাজাপূর্বক তাকে কারাগারে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান বলেন, বিশেষ অভিযানে নগদ অর্থসহ ১৩ জুয়াড়ি ও ৬টি মাদক মামলার আসামীকে ইয়াবাসহ আরেকজনকে মাদকসেবনরত অবস্থায় এবং পরোয়ানাভুক্ত ৩ জনসহ মোট ১৮জনকে আটক করা হয়। আটককৃতদেরকে আদালতে সোর্পদ করা হয়েছে। অপরাধ দমনে আমাদের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পাবনার সাঁথিয়ায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে সাঁথিয়া উপজেলা ও পৌর যুবদলের আয়োজনে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আলোচনা সভা, কেককাটা, মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক ইলিয়াস আহম্মেদ বিপ্লবের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব মিজানুর রহমান বাবুলের সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হক মাসুদ।
এ সময় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আখতারুজ্জামান খোকন, উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি মাহবুব এ হাসান টিটো, জাসাস কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য কণ্ঠশিল্পী মুহিন খান, পৌর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিআরডিবির চেয়ারম্যান জাহিদুজ্জামান রিপন, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মামুন হোসেন রাসেল, উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব আবু সাঈদ, ধোপাদহ ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি আশিফ আল আলীম রাজিব, নন্দনপুর ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি রাতুল ইসলাম রানা, পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আতিকুজ্জামান সজল, আতাইকুলা থানা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব লোকমান হোসেন, ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম রানা মৃধা, গৌরীগ্রাম ইউনিয়ন যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, ছাত্রদল নেতা রাফুল ও লিমন প্রমুখ। এ সময় বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুরের পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে নিখোঁজের ২৭ দিন পর সৌরভ আহমেদ (২০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় কিলিং মিশনে সরাসরি জড়িত দুইজনকে গ্রেপ্তার এবং তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাদারীপুরের রাজৈর থেকে নিহতের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মোঃ রবিউল ইসলাম ও মোঃ শাহিন।
পুলিশের জানায়, গ্রেফতারকৃতরা আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ৩ আগস্ট পশ্চিম জয়দেবপুর থেকে সৌরভ নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় তার মা মোছাঃ কাকলী বেগম সদর থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করেন। ডায়েরির তদন্ত কর্মকর্তা এসআই দীপঙ্কর দত্ত তদন্তে কিছু রহস্যজনক তথ্য পান। পরে ওসি আমিনুল ইসলামের নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একাধিক টিম তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও পারিবারিক বিরোধের বিভিন্ন তথ্য যাচাই করে সৌরভের সর্বশেষ অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে তার মা বাদী হয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে অপহরণের মামলা করেন।
মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি ও বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের মাধ্যমে মাদারীপুরের টেকেরহাট ও সাতক্ষীরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া শাহিনকে রাজৈরের টেকেরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, নিহত সৌরভ ছিলেন রবিউল ইসলামের শ্যালক। প্রায় চার বছর আগে সৌরভের ছোট বোন নুপুরের সঙ্গে রবিউলের বিয়ে হয়। তাদের একটি দুই বছর বয়সী সন্তানও রয়েছে। পরবর্তীতে নুপুরের সঙ্গে সৌরভের বন্ধু জাহাঙ্গীরের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে নুপুর রবিউলের সংসার ছেড়ে জাহাঙ্গীরের সঙ্গে চলে গেলে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হন রবিউল। এর জের ধরে তিনি শাহিনের সঙ্গে পরামর্শ করে সৌরভকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানায়, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৩ আগস্ট সৌরভকে কৌশলে গাজীপুর থেকে মাদারীপুরের টেকেরহাটে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শাহিনকে ৮ হাজার টাকার বিনিময়ে হত্যার চুক্তি দেওয়া হয় বলে পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য ও জবানবন্দিতে উঠে এসেছে। ওইদিন রাত আনুমানিক ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে সৌরভকে রাজৈর থানাধীন হোসেনপুর ইউনিয়নের উত্তর বিদ্যানন্দি এলাকার একটি ডোবার কাছে নিয়ে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে টুকরো করে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে গ্রেপ্তার রবিউল ইসলাম ও শাহিনের দেখানো মতে ওই ডোবা থেকে সৌরভের কঙ্কালের অংশবিশেষ ও পরিধেয় বস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বৃক্ষরোপণ এবং দেশীয় প্রোটিন ও আমিষের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে লালমনিরহাটের বিভিন্ন জলাশয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় জেলা সদর উপজেলার গোকুণ্ডা ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহী সুকানদিঘি ও রাজপুর ইউনিয়নের হীরা মানিক ৬নং ওয়ার্ড বানিয়ার ঘাট সতী নদীসহ স্থানীয় বিভিন্ন জলাশয়ে এ পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মৎস্য পোনা অবমুক্ত করেন লালমনিরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মমিনুল হক।
কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিদুল ইসলাম সাজু পাটোয়ারী, লালমনিরহাট সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনোনীত দাস, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. সারোয়ার জামান, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি বুলু, গোকুণ্ডা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলতাবুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক রিপন মাস্টার প্রমুখ।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক, এ কে এম মমিনুল হক বলেন, ‘বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনের তিন দিনের কর্মসূচি হিসেবে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও দেশের আমিষের চাহিদা মেটাতে মৎস্যপূর্ণ অবমুক্তকরণ, বৃক্ষরোপণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রাকৃতিক জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর আমিষের ঘাটতি কিছুটা হলেও দূর হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নীলফামারীতে জেলা পুলিশের সাইবার সেলের প্রযুক্তিনির্ভর অনুসন্ধানে হারিয়ে যাওয়া ৩০টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা এসব মোবাইল ফোন প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেছে জেলা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নীলফামারী পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা মোবাইল ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোহসিন এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এ বি এম ফয়জুল ইসলাম।
জেলা পুলিশ সূত্র জানায়, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারের লক্ষ্যে গত ১৩ জুন পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেন খাঁনের দিকনির্দেশনায় নীলফামারী জেলা পুলিশে সাইবার সেল প্রতিষ্ঠা করা হয়। এরপর থেকে সাইবার সেলের দক্ষ সদস্যরা বিভিন্ন থানায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) তথ্যের ভিত্তিতে হারানো মোবাইল ফোন উদ্ধারে কাজ করছেন। পাশাপাশি ডিজিটাল প্রতারণা ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধেও কার্যক্রম পরিচালনা করছে সেলটি।
পুলিশের দাবি, তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার ও প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনের অবস্থান শনাক্ত করে সেগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ৩০টি ফোনের মধ্যে বিভিন্ন নামীদামি ব্র্যান্ডের হ্যান্ডসেট রয়েছে।
মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মালিকরা। তারা জানান, হারানো ফোন ফিরে পাওয়ার আশা অনেকটাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। জেলা পুলিশের সাইবার সেলের তৎপরতায় ফোনগুলো ফিরে পেয়ে তারা সন্তোষ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
জেলা পুলিশ জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধারের পাশাপাশি সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং আরও জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে সাইবার সেলের কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
আগামীকাল ৫ সেপ্টেম্বর ১১ দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চের অংশ হিসেবে ওইদিন দুপুর ১২টায় কুমিল্লার পদুয়া বাজার বিশ্বরোড এলাকায় নূরজাহান হোটেলসংলগ্ন মাঠে বড় ধরনের পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমীর কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সকাল ৭টায় ঢাকার শাপলা চত্বর থেকে লংমার্চ শুরু হয়ে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে গিয়ে শেষ হবে। পথে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। লংমার্চে এক হাজারের বেশি যানবাহন অংশ নেবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা। ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত মহাসড়কের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও মহানগর এলাকার নেতা-কর্মী এবং সাধারণ মানুষ এতে অংশ নেবেন।’
তিনি জানান, কুমিল্লার পদুয়া বাজারের পথসভায় ১১ দলীয় ঐক্যের জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখবেন। জাতীয় নেতাদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম, এনসিপির চেয়ারম্যান ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম অগ্রনায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি, খেলাফত মজলিসের আমীর আল্লামা মামুনুল হক এবং এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, ‘লংমার্চ ও পথসভার মূল ভিত্তি ছয়টি দাবি। দাবিগুলো হলো অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।’
পথসভাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে নূরজাহান হোটেলের পূর্ব পাশে বিস্তৃত এলাকায় পথসভার আয়োজন করা হয়েছে। সাংবাদিকদের জন্য পৃথক বসার ব্যবস্থা এবং ভিডিও ও ক্যামেরাম্যানদের জন্য আলাদা স্টেজ রাখা হবে।
আয়োজকরা জানান, লংমার্চ ও পথসভা শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও নির্বিঘ্ন করতে ইতোমধ্যে পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট রুট, পথসভা ও কর্মসূচির বিভিন্ন স্থান সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। সড়কে যাতে যানজট সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও ট্রাফিক পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক আব্দুল মতিন, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি ড. সৈয়দ সরোয়ার উদ্দিন সিদ্দিকী, কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মু. মাহবুবর রহমান, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি মাওলানা সোলাইমান, এবি পার্টি কুমিল্লা জেলা সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ তোফিক, ছাত্রশিবির কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি নাজমুল হাসান পঞ্চায়েত, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল, কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইন, এনসিপি কুমিল্লা মহানগরী সদস্য সচিব মাসুমুল বারী কায়সার, এবি পার্টি কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি জিএস সামদানি, জাগপা কুমিল্লা মহানগরী সভাপতি নজরুল ইসলাম সেলিম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ কুমিল্লা মহানগরী সহসভাপতি মাওলানা আমিনুল ইসলাম, কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মোহাম্মদ হোসাইন ও মিজানুর রহমান এবং শ্রমিক নেতা মু. খাইরুল ইসলাম।
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ থানার এসআই নুর উদ্দিনের নেতৃত্বে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে একটি দল দামোধরদপী পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে উপজেলার দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা মামলার আসামি আসির মিয়া (৩৫)-কে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারের পর তার হাতে হ্যান্ডকাফ পরানো হয়। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার সময় সুযোগ বুঝে হ্যান্ডকাফসহ আসামি দৌড়ে পালিয়ে যায়। আসামি পালিয়ে যাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তারে বিভিন্ন স্থানে অভিযান ও তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমঝোতার মাধ্যমে পলাতক আসামির কাছ থেকে হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করা হয়। কিন্তু আসামির অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় দামোধরদপী গ্রামের বাসিন্দা আজির উদ্দিন বলেন, ‘আসির মিয়াকে আটকের সময় ঘটনাস্থলে হইচই শুরু হয়। এর মধ্যেই তিনি পুলিশের হ্যান্ডকাফ পরা অবস্থায় দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের কথা জানতে পারেন তিনি।’
শান্তিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. অলিউল্লাহ বলেন, ‘পুলিশের হেফাজত থেকে একজন আসামি পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। পরে হ্যান্ডকাফটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) রাকিবুল হাসান রাসেল বলেন, ‘তারা ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। হ্যান্ডকাফ উদ্ধারের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং পলাতক আসামিকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
দিনাজপুরের ঐতিহাসিক শ্রী শ্রী কান্তজীর মন্দির থেকে রাজবাড়ীর উদ্দেশে বের হওয়া ঐতিহ্যবাহী নৌপথে নৌকাডুবির ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে নৌবিহার চলাকালে পানিতে পড়ে ওই ব্যক্তি মারা যান।
এ ঘটনায় মৃত ব্যক্তির পরিবার ও এলাকাবাসী মন্দির কমিটির অবহেলা ও অসাবধানতার অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। পরে রাত ১১টার দিকে মরদেহ নিয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার সামনে সড়ক অবরোধ করে ন্যায্যবিচার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা।
এ সময় দিনাজপুর জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বখতিয়ার আহমেদ কচি প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘কান্তজিউ মন্দির কমিটিতে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি ও অসাবধানতা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন এবং তাদের অসাবধানতার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আইনের ঊর্ধ্বে নই।’
বখতিয়ার আহমেদ কচি আরও আশ্বাস দেন, তিনি প্রশাসন এবং দিনাজপুর-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের উদ্যোগ নেবেন। পাশাপাশি মন্দির কমিটিতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের বিষয়েও কথা বলবেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তির পরিবারকে মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। তার এসব আশ্বাসের পর প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখার কথা জানানো হয়।’
পরে মৃত ব্যক্তির পরিবার ও এলাকাবাসী সড়ক অবরোধ তুলে নেন।
উল্লেখ্য, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে শ্রী শ্রী কান্তজীর মন্দির থেকে দিনাজপুর রাজবাড়ীর উদ্দেশে শ্রী শ্রী কান্তজিউ যুগল বিগ্রহের ঐতিহ্যবাহী নৌবিহার শুরু হয়। নৌবিহারের সময়ই নৌকাডুবির এ দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম মহানগরের হালিশহর থানাধীন দবিরখাল এলাকায় মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে ট্রাক থেকে ফিশিং বোটে স্থানান্তরকালে ২২০ বস্তা সার জব্দ করা করেছে কোস্ট গার্ড। এ সময় ১টি ট্রাকসহ ৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, ‘হালিশহর থানাধীন দবিরখাল এলাকায় গত বুধবার ভোরে কোস্ট গার্ড বেইস চট্টগ্রাম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ওই এলাকায় অবৈধভাবে মিয়ানমারে পাচারের উদ্দেশে ট্রাক থেকে ফিশিং বোটে স্থানান্তরকালে প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকার ২২০ বস্তা (১১ হাজার কেজি) সার ও পাচারকাজে ব্যবহৃত ১টি ট্রাক জব্দসহ ৩ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।’
জব্দ করা সার, পাচারকাজে ব্যবহৃত ট্রাক ও আটক পাচারকারীদের বিষয়ে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য হালিশহর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে বলে জানান তিনি।