শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬
১৪ ভাদ্র ১৪৩৩

ডেভিল হান্ট: ৮ জেলায় গ্রেপ্তার ৬৫ 

মোংলায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশের পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৬ আওয়ামী লীগ নেতা আটক হয়েছেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ২১:০৭

অপারেশন ডেভিল হান্টে চট্টগ্রামে ৩৫ জন, সুনামগঞ্জে ৭, মানিকগঞ্জে ১১, বাগেরহাটের মোংলায় ৬, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৩, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৩, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৪ ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

চট্টগ্রাম

চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার রাতে চাক্তাইয়ের চাউলপট্টি এলাকার বাসা থেকে চট্টগ্রাম মহানগরের ৩৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন নুরু আটক হয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ভূমিদখল ও চাঁদাবাজির খেলায় মেতে ওঠে কিশোর গ্যাং পরিচালিত নুরু গ্রুপ।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড) মেজর রিজোয়ান বলেন, সোমবার রাতে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। চাঁদাবাজির কারণে নুর হোসেন নুরুকে আটক করা হয়েছে।

সোমবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাতিয়া থানাধীন ৬নং চরকিং ইউনিয়নে কাওসার মিয়ার ব্রিকফিল্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. নবির উদ্দিন, মো. ইমাম হোসেন ও মো. ফখরুল ইসলাম টিপুকে আটক করা হয়। অপরদিকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে হুমায়ুন কবির ওরফে বাবুল নামক এক সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

দীপন ধর (৪০), মো. ফারুখ (৪৫), মো. ইমরান হোসেন (৩২), মো. মনির আলম (৩৩), পেয়ার আহমেদ (৪৫), মো. আব্দুর রহমি (৩৭), মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী (৫২), মামুনুর রশদি পাভেল (২১), শুক্কুর আহমেদ ওরফে মো. ফয়সাল (২২), আলী মর্তুজা (৩৫), শাহাজাহান ইসলাম সাজু (২৮), মো. নাহিদুল আলম এলিন (৪৩), মো. সফর আলী (৩৯), মো: ইকবাল হোসেন (৩৫), মো. নুরুল আলম (৬২), মো. রুবেল মিয়া (২৬), আব্দুর রউফ বাদশা (১৯), ওসমান গণি ওরফে ইমন (২৪), এ এন মেহেদী ইসলাম বাপ্পী (৪৪), মো. রফিক (৪০), মো. রাকিব(২৪), জুলফিকার আলী মাসুদ(৫০), সাইফুল ইসলাম (৪৭), মোহাম্মদ আরশাদুল নুর (২০), আবুল কাসেম (৪৫) ও মো. আকবর হোসেন (২৫), ইমাম হোসেন ওরফে ইব্রাহীম (২৫), মো. বেলাল (৩৩), মো. রুবেল (২৭) ও মো. আলমগীর হোসেন (৩৬)।

মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযান পরিচলনা করে অস্থিতিশীলতা পরিকল্পনার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ও দিনে সাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করেন জেলা পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আব্দুল কাদের (৭২), আমজাদ হোসেন (৪৫) ও আব্দুস সামাদ (৫০), হাবিবুর রহমান শিবলী (৪৬), রিয়াদ হোসেন (৩৭), নজরুল ইসলাম শাহজাহান (৪৯), সাইফুল ইসলাম (৪০), মজনু মিয়া (৫৩), কুদ্দুস মিয়া (৪৪), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৪) এবং আশরাফুল ইসলাম (৫২)।

মোংলা (বাগেরহাট)

মোংলায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশের পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৬ আওয়ামী লীগ নেতা আটক হয়েছেন।

মঙ্গলবার ভোর রাতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মালগাজী এবং বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের দিগরাজ এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৩), মোঃ ডালিম (৫২), মোঃ শফিকুর রহমান (৭২), বিধান চন্দ্র রায় (৬৬) কে ১টি দুইনালা বিদেশি বন্দুক ও ১৫ রাউন্ড তাজা গুলিসহ আটক করা হয়।

অপরদিকে মঙ্গলবার রাতে মোংলার কুমারখালী ও গোয়ালেরমেঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম এবং মোঃ সাইফুল শেখকে আটক করেছেন পুলিশ।

সুনামগঞ্জ

সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বগলাকাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহান উদ্দিন (৩৩), সুনামগঞ্জ সদর থানার মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী (৬০)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। মো. খোকন মিয়া (৪০), মধ্যনগর থানার রৌয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. খোকন মিয়া (৪০)। তিনি বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি। জগন্নাথপুর থানার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. কামরুল হাসান তেরা মিয়া (৪০)। তিনি জগন্নাথপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক। তাহিরপুর থানার সোলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আকরামিন হোসেন (২১)। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সহ-সভাপতি। ছাতক থানার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জানে আলম (২৮)। তিনি ইসলামপুর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। সুনামগঞ্জ সদর থানার ঘাসিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ (৪০)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক।

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডেভিল হান্ট অপারেশনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে তাদের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ সোহান হাসান, সোনারগাঁ পৌরসভার ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রনি বিল্লাহ ও জামপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মেসা. শফিকুল ইসলাম।

মেহেরপুর

মেহেরপুর সদর উপজেলার ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সকলেই সন্ত্রাসী বিরোধী আইনের মামলার আসামি।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- মেহেরপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মঞ্জুরুল কবির রিপন (৪৫), মেহেরপুর শহরের শিশু বাগান পাড়ার নুরূল ইসলামের ছেলে এনামুল হক বাবলু (৪৫) এবং নতুনপাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে হৃদয় হোসেন (২৭)।

কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

কলাপাড়ায় মহিপুর থানা যুবলীগের সদস্য ও মহিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. মামুন হাওলাদার(৪৫) কে আটক করেছে পুলিশ।

মহিপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ডেভিল হান্ট অপারেশনে তাকে আটক করে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।

রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন সেচ্চাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি আলীম সরকার, তারাবো পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রনি হোসেন ও ভুলতা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী বাছেদ মিয়া।

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৪ জন আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দিনভর অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি ও সাবেক কমিশনার আফজাল হোসেন ভূইয়া (৬৭)। অন্য আসামিরা হলেন, শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার হাজী আব্দুর রহমান মিয়ার ছেলে ও আওয়ামী লীগ সক্রিয় কর্মী নান্নু মিয়া (৬২), গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকার কালা মিয়ার ছেলে ও আওয়ামী লীগ সক্রিয় কর্মী বাদল মিয়া (৩৮) ও শিবপুর ইউনিয়নের মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মুর্শিদ মিয়া (৫০)।

ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার পৌর এলাকার বাহাদীপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভূঞাপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন ও একই ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম।


নির্বাচিত

খাদ্য গুদামে অনিয়ম পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে: খাদ্যমন্ত্রী

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের প্রত্যেক জেলার খাদ্য গুদাম পর্যায়ক্রমে পরিদর্শন করব। যেখানেই অনিয়ম সেখানেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন, খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা।

তিনি বলেন, ইতোমধ্যে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলায় গুদাম ঘরে অনিয়ম পাওয়া গেছে, সঙ্গে সঙ্গে তা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ায় ধানকোড়া গিরিশ চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপি ও এর অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে গণসংবর্ধণা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই আমার মন্ত্রাণালয়ের প্রথম কাজ জানিয়ে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, খাদ্য নিরাপদ না হলে আমাদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি হবে।

তিনি বলেন, খাদ্য মজুত যাতে যথেষ্ট থাকে এবং যে কোন দুর্যোগ মোকাবেলায় আমরা যেন সামাল দিতে পারি সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখছি।

সার সংকটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে কোনো সার সংকট নেই। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রীসহ আমারা মিটিং করেছি। সেখানে বলা হয়েছে দেশে পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। হয়ত কোথায় বিতরণ ঠিকমত হচ্ছে না। এ কারণে চলতি রোপা আমন মৌসুমে ধান উৎপাদন ব্যাহত হবে না।

আর আপনারা জানেন, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া-রাজবাড়ির দৌলতদিয়া এবং পাবনার কাজিরহাট নৌরুটে ওয়াই প্যাটার্নে দ্বিতীয় পদ্মা সেতুর কাজ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ইতোমধ্যে সমীক্ষাসহ প্রাথমিক কাজ চলছে।

ধানকোড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম জুয়েলের সভাপতিত্বে সাটুরিয়া উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মুহাম্মদ আমির হামজা ও যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বকুলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুল কুদ্দুছ খান মজলিশ মখান, সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার সরকার, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট আওয়াল খান, সাটুরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন আযাদ বিপ্লব, সাটুরিয়া কৃষক দলের সভাপতি বরকত মল্লিকসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতারা।


নির্বাচিত

কেশবপুর হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা সংকটে, অচল এক্স-রে-অ্যাম্বুলেন্স

* ৫০ শয্যার হাসপাতালে রোগীর চাপ, সংকটে প্রয়োজনীয় সেবা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

যশোরের কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই বছর ধরে এক্স-রে যন্ত্র অচল। হাসপাতালের একটি অ্যাম্বুলেন্স সচল থাকলেও চার বছর ধরে নেই চালক। এর সঙ্গে রয়েছে চিকিৎসক, কর্মচারী ও ওষুধের সংকট। ফলে সরকারি এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে রোগীদের একদিকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করাতে হচ্ছে বাইরে, অন্যদিকে জরুরি রোগী পরিবহনে ভরসা করতে হচ্ছে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর।

৫০ শয্যার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শুধু কেশবপুরের মানুষই নয়, পার্শ্ববর্তী যশোরের মনিরামপুর, খুলনার ডুমুরিয়া এবং সাতক্ষীরার তালা ও কলারোয়া উপজেলার রোগীরাও চিকিৎসা নিতে আসেন। ফলে হাসপাতালটির ওপর রয়েছে আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষেরও নির্ভরতা।

জানা গেছে, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ ৪৩টি। বর্তমানে কর্মরত আছেন ২৪ জন। শূন্য রয়েছে ১৯টি পদ। এর মধ্যে অর্থোপেডিক, হৃদ্রোগ, চক্ষু, চর্ম ও সার্জারি বিভাগের পাঁচজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পদ এবং ১৪ জন সাধারণ চিকিৎসকের পদ শূন্য।

চিকিৎসকের পাশাপাশি অন্যান্য জনবলেও রয়েছে ঘাটতি। তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীর ১১৮টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন ৭৭ জন। চতুর্থ শ্রেণির ২৩টি পদের মধ্যে কর্মরত ১৪ জন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচটি পদের বিপরীতে আছেন মাত্র একজন।

হাসপাতাল সূত্র বলছে, প্রতিদিন গড়ে বহির্বিভাগে প্রায় ৪৫০ জন রোগী চিকিৎসা নেন। অন্তর্বিভাগে রোগী ভর্তি থাকেন প্রায় ১০০ জন। শয্যার তুলনায় রোগী বেশি হওয়ায় অনেক সময় মেঝেতেও রোগীদের থাকতে হয়।

হাসপাতালের গুরুত্বপূর্ণ রোগনির্ণয় ব্যবস্থা এক্স-রে যন্ত্রটি দুই বছর ধরে অচল পড়ে আছে। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক্স-রে করাতে রোগীদের বাইরে যেতে হচ্ছে।

গত ২৪ আগস্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা ৭০ বছর বয়সি ভানু বিবিকে বুকের এক্স-রে, রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করতে বলা হয়। রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষা হাসপাতালে করা গেলেও এক্স-রে করতে তাকে বাইরে যেতে হয়। এজন্য খরচ হয় ৪৫০ টাকা।

ভানু বিবির স্বজন আব্দুল খালেক বলেন, হাসপাতালে এক্স-রে করা গেলে খরচ হতো ২২০ টাকা। যন্ত্র অচল থাকায় বাইরে বেশি টাকা দিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।।

গত ২১ আগস্ট কেশবপুর শহরের বাসিন্দা খালিদুর রহমানের ভাগনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে জরুরি ভিত্তিতে খুলনায় নেওয়ার প্রয়োজন হয়। হাসপাতালের সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হয়। এতে খরচ হয় ২ হাজার ২০০ টাকা।

খালিদুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, কেশবপুর থেকে খুলনায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের নির্ধারিত ভাড়া ১ হাজার ২০ টাকা। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের সেবা না পাওয়ায় তাদের প্রায় দ্বিগুণ টাকা ব্যয় করতে হয়েছে।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কয়েকজন ওষুধ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন। কেশবপুর উপজেলার সাবদিয়া গ্রামের রোজিনা খাতুন গত ২৪ আগস্ট তার ৪১ দিনের শিশুকে ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে আনেন। চিকিৎসক শিশুটিকে দেখে ব্যবস্থাপত্র দিলেও ওষুধ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি। এর ১৫ দিন আগেও একই হাসপাতালে এসে ওষুধ পাননি বলে তার অভিযোগ।

গত ৩০ আগস্ট হাসপাতালটিতে সরেজমিনে রোগীদের ভিড় দেখা যায়। চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে ছিল দীর্ঘ সারি। ওই দিন অন্তর্বিভাগে ভর্তি ছিলেন ৮২ জন রোগী। বহির্বিভাগে চিকিৎসা নেন ৬৪৩ জন।

অর্থাৎ ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে নির্ধারিত শয্যার তুলনায় বেশি রোগীর চাপ নিয়মিতই রয়েছে। এর মধ্যেই চিকিৎসক, রোগনির্ণয় যন্ত্র, অ্যাম্বুলেন্স ও জনবলের ঘাটতি সামাল দিতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা রেহেনেওয়াজ বলেন, চালক না থাকায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা ঠিকভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। তার সরকারি গাড়ির চালক দিয়ে মাঝেমধ্যে রোগীদের অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। দুই বছর ধরে এক্স-রে যন্ত্রটি নষ্ট থাকার বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে বলেও জানান তিনি। অর্থবছর শেষ হওয়ায় অনেক ওষুধ শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে ওষুধ কেনা হলে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

যশোরের সিভিল সার্জন মো. মাসুদ রানা বলেন, অনেক জায়গাতেই সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালকের সংকট রয়েছে। চালক নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত সমস্যার সমাধান করা কঠিন। ওষুধের দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া শেষ হলে সংকট কমবে। নতুন এক্স-রে মেশিন কেনার বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

এলাকাবাসীরা বলেন, কেশবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বৃদ্ধি, অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসক পদের অনুমোদন থাকলেও প্রয়োজনীয় সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে। এক্স-রে যন্ত্র দীর্ঘদিন অচল, অ্যাম্বুলেন্স চালানোর জন্য চালক নেই, চিকিৎসকের ১৯টি পদ শূন্য এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীর পাঁচটি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র একজন। ফলে হাসপাতালের ওপর নির্ভরশীল বিপুলসংখ্যক মানুষকে চিকিৎসা নিতে এসে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সেবা পেতে বাড়তি ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে।


নির্বাচিত

ইজিবাইকের দাপটে ৮ মাস ধরে বন্ধ জয়পুরহাট-আক্কেলপুর বাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাব্বিউল হাসান রমি, জয়পুরহাট

ইজিবাইকের দাপটে যাত্রী কমে যাওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সময় বেশি লাগা, পথে যত্রতত্র থামা ও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার কারণে যাত্রীরা বাসের পরিবর্তে ইজিবাইক ও ট্রেনমুখী হয়েছেন। এতে যাত্রীসংকটে লোকসান হওয়ায় বাসমালিকেরা এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।

‎তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াই বাসের যাত্রী কমার একমাত্র কারণ নয়। বাসের সময়সূচি, পথে যত্রতত্র থামানো এবং যাত্রীসেবার মানও এর সঙ্গে জড়িত। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বাস চালানো, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং সেবার মান উন্নত করা গেলে এ রুটে আবার যাত্রী ফিরতে পারে।

‎জয়পুরহাট বাস টার্মিনাল থেকে আক্কেলপুর উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।

স্থানীয় বাসমালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮০-এর দশকের পর এ রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। তখন বাসভাড়া ছিল ৩ টাকা। কয়েক ধাপে ভাড়া বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকায়। একসময় প্রতিদিন গড়ে ৩০টি বাস এ রুটে চলাচল করত। সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বাস চলত। ১৫ মিনিট পরপর জয়পুরহাট বাস টার্মিনাল ও আক্কেলপুর থেকে বাস ছেড়ে যেত।

‎গত কয়েক বছরে এ রুটে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়েছে। যাত্রীরা সুবিধামতো বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতে ও নামতে পারেন এবং তুলনামূলক দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। এ কারণে অনেক যাত্রী বাসের পরিবর্তে ইজিবাইক বেছে নিচ্ছেন। পাশাপাশি জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে ট্রেন চলাচল করায় কম খরচে যাতায়াতের সুযোগও রয়েছে। ফলে বাসের যাত্রীসংখ্যা আরও কমেছে।

‎নিয়মিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসে জয়পুরহাট থেকে আক্কেলপুর যেতে সময় বেশি লাগে। বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ার পর পথে বিভিন্ন জায়গায় যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য বাস থামানো হয়। এতে ২০ কিলোমিটারের পথ যেতে বেশি সময় লাগে। অন্যদিকে ইজিবাইকে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতে ও নামতে পারেন। আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী না নেওয়ায় ইজিবাইকে ভিড়ও তুলনামূলক কম থাকে বলে যাত্রীরা জানান।

‎আক্কেলপুরের যাত্রী রিফাত হোসেন বলেন, বাসে সময় বেশি লাগে, তাই ইজিবাইকেই যাই। ইজিবাইকে আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়া হয় না। তাই ভিড় কম থাকে, স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে যাওয়া যায়।

‎আরেক যাত্রী জুয়েল রানা বলেন, এটি ছোট যানবাহনের কাছে বড় যানবাহনের পরাজয়ের মতো মনে হচ্ছে। বাস বন্ধ থাকায় ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে বাস থাকলে যাতায়াতে সুবিধা হতো।

‎বাসচালক রাজু হোসেন বলেন, আগে যাত্রী ভালো ছিল। এখন অনেক সময় অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে বাস চলত। এতে জ্বালানি ও শ্রমিকের খরচও উঠত না।

‎বাসমালিক সফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে শত শত ইজিবাইক ও সিএনজি চলছে। বাসমালিকেরা অনেক চেষ্টা করেও এ রুটে ইজিবাইক ও সিএনজি চলাচল বন্ধ করতে পারেননি। এসব ছোট যানবাহনের কারণে বাসে যাত্রী হয় না। বাসের আয় দিয়ে জ্বালানি, চালক-সহকারীর বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটানো যাচ্ছিল না। লোকসান হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাস বন্ধ করতে হয়েছে। এ রুটের বাসমালিকেরা তাদের বাস বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রায় আট মাস ধরে এ রুটে আর বাস চলছে না।

‎ইজিবাইকচালক আরিফ হোসেন বলেন, ইজিবাইকে যাত্রীরা সুবিধামতো জায়গা থেকে উঠতে ও নামতে পারেন। এ কারণে যাত্রীরা ইজিবাইকমুখী হয়েছেন। এ রুটে এখন বাস চলাচল করে না।

‎জয়পুরহাট জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান লিটন বলেন, ইজিবাইক ও সিএনজির কারণে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে বাসে যাত্রী হয় না। এ রুটে বাস চালিয়ে মালিকেরা দীর্ঘদিন লোকসান করেছেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনা করে জয়পুরহাট হয়ে আক্কেলপুর দিয়ে সরাসরি বগুড়ায় বাস চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত তা চালু করা হবে।

‎আক্কেলপুর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আতিউর রাব্বি তিয়াস বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় জয়পুরহাট ও আক্কেলপুরের মধ্যে যাতায়াতে ট্রেন ও ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ রুটে নিয়মিত বাসসেবা থাকা দরকার।’


নির্বাচিত

নীলফামারীতে কৃতি শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারী সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ করেছে নীলফামারী জেলা পরিষদ।

শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টায় নীলফামারী সার্কিট হাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষার্থীদের হাতে শিক্ষাবৃত্তির চেক তুলে দেন ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন।

জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রকৌশলী শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিনের সহধর্মিণী মোছা. তামান্না ইয়াসমিন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত ও তাদের শিক্ষাজীবনে সহযোগিতা করতে শিক্ষাসহায়তা কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনে অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে শিক্ষাজীবন শেষে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

শিক্ষাবৃত্তির চেক বিতরণ শেষে সদর উপজেলা পরিষদের ইউপিডিএফ প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষার্থীদের মাঝে ৪০টি ফ্যান, ১৫টি সেলাই মেশিন, ১৫টি সাইকেল ও বিভিন্ন ধরনের ফার্নিচার বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সোহেল পারভেজ,সদর উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল ইসলামসহ জেলা পরিষদ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

খুলনা সিটি কর্পোরেশনে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে কম্পিউটার ও সেলাই মেশিন বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের (কেসিসি) তত্ত্বাবধানে পরিচালিত ‘লাইভলিহুড সাপোর্ট ফর আরবান পুওর কমিউনিটিজ ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় উপকারভোগীদের মাঝে গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) কম্পিউটার সেট, সেলাই মেশিন ও ফুড কার্ট বিতরণ করা হয়েছে।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. নজরুল ইসলাম মঞ্জু নগর ভবনের নিচে চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পভুক্ত উপকারভোগীদের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করেন। দরিদ্র পরিবারের আয়বৃদ্ধি, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) কারিগরি সহায়তায়, গ্লোবাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (জিডব্লিউএফ) এবং চায়না ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন এজেন্সির (সিডোকা) আর্থিক সহায়তায় এসব সামগ্রী প্রদান করা হয়।

খুলনা মহানগরীর দরিদ্র পরিবারের জন্য জনহিতকর এ উদ্যোগ গ্রহণ করায় প্রশাসক দাতা সংস্থাসমূহের কর্মকর্তাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, "সমাজ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী ও দারিদ্র্য বিমোচনে এ প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।" নিজ নিজ সন্তানদের সুন্দর পরিবেশে বড় করা এবং পরিবারের বন্ধন ঠিক রাখতে বিতরণকৃত সামগ্রী সঠিকভাগে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে প্রশাসক বলেন, এর সঠিক ব্যবহার আপনাদের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

অনুষ্ঠানে প্রশাসক মহানগরীর ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯টি কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট কমিটির (সিডিসি) ৩৪ জনকে কম্পিউটার সেট, ৪৩ জনকে সেলাই মেশিন এবং ৬৪ জনকে ফুড কার্ট বিতরণ করেন।

কেসিসির চিফ প্লানিং অফিসার আবীর উল জব্বারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কেসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজীব আহমেদ, সচিব মো. রেজা রশিদ, প্রধান প্রকৌশলী মশিউজ্জামান খান , ঢাকার ইউএনডিপির সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট তানভীর মাহমুদ, ইন্টারন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার ইয়গস প্রাধানাং এবং প্রজেক্ট অ্যানালিস্ট এস এম আব্দুল্লাহ আল মাসুম বক্তব্য রাখেন। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে সিডিসি ক্লাস্টার লিডার রোকাইয়া খলিফা ও উপকারভোগীদের মধ্যে সালহা বেগম বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে কেসিসির ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও প্রকল্পের উপকারভোগীগণ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

মক্কা চুক্তিতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিবেশী দেশের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে সরকারের সুষ্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শনিবার (২৯ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঝিনাইদহ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মক্কা চুক্তিতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি সরকার সকল দিক বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে। ভারতের সাথে সম্পর্কের বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন, “ভারত তাদের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী কাজ করবে, আমরা আমাদের নীতি অনুযায়ী কাজ করব। ভারত চলবে ভারতের মতো, বাংলাদেশ চলবে বাংলাদেশের মতো।”

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন নিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, সরকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এটি বজায় রাখা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিচার বিভাগের আধুনিকায়ন নিয়ে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ই-জুডিশিয়ারি বা বিচার বিভাগের ডিজিটালাইজেশন প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার ও আইন মন্ত্রণালয় নিবিড়ভাবে কাজ করছে। আগামী এক বছরের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইনমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। এছাড়া অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে মন্ত্রী দেশের বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

ইজিবাইকের দাপটে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে বাস বন্ধ আট মাস

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
‎ রাব্বিউল হাসান রমি, জয়পুরহাট প্রতিনিধি 

ইজিবাইকের দাপটে যাত্রী কমে যাওয়ায় প্রায় আট মাস ধরে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। সময় বেশি লাগা, পথে যত্রতত্র থামা ও তুলনামূলক বেশি ভাড়ার কারণে যাত্রীরা বাসের পরিবর্তে ইজিবাইক ও ট্রেনমুখী হয়েছেন। এতে যাত্রীসংকটে লোকসান হওয়ায় বাসমালিকেরা এ রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন।

‎তবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়াই বাসের যাত্রী কমার একমাত্র কারণ নয়। বাসের সময়সূচি, পথে যত্রতত্র থামানো এবং যাত্রীসেবার মানও এর সঙ্গে জড়িত। নির্দিষ্ট সময়সূচি মেনে বাস চালানো, নির্ধারিত স্থানে যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং সেবার মান উন্নত করা গেলে এ রুটে আবার যাত্রী ফিরতে পারে।

‎জয়পুরহাট বাস টার্মিনাল থেকে আক্কেলপুর উপজেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।

স্থানীয় বাসমালিক ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ১৯৮০-এর দশকের পর এ রুটে বাস চলাচল শুরু হয়। তখন বাসভাড়া ছিল ৩ টাকা। কয়েক ধাপে ভাড়া বেড়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ৪০ টাকায়। একসময় প্রতিদিন গড়ে ৩০টি বাস এ রুটে চলাচল করত। সকাল থেকে রাত আটটা পর্যন্ত বাস চলত। ১৫ মিনিট পরপর জয়পুরহাট বাস টার্মিনাল ও আক্কেলপুর থেকে বাস ছেড়ে যেত।

‎গত কয়েক বছরে এ রুটে ইজিবাইকের সংখ্যা বেড়েছে। যাত্রীরা সুবিধামতো বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতে ও নামতে পারেন এবং তুলনামূলক দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন। এ কারণে অনেক যাত্রী বাসের পরিবর্তে ইজিবাইক বেছে নিচ্ছেন। পাশাপাশি জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে ট্রেন চলাচল করায় কম খরচে যাতায়াতের সুযোগও রয়েছে। ফলে বাসের যাত্রীসংখ্যা আরও কমেছে।

নিয়মিত যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাসে জয়পুরহাট থেকে আক্কেলপুর যেতে সময় বেশি লাগে। বাসস্ট্যান্ড থেকে ছাড়ার পর পথে বিভিন্ন জায়গায় যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য বাস থামানো হয়। এতে ২০ কিলোমিটারের পথ যেতে বেশি সময় লাগে। অন্যদিকে ইজিবাইকে যাত্রীরা নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন স্থান থেকে উঠতে ও নামতে পারেন। আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী না নেওয়ায় ইজিবাইকে ভিড়ও তুলনামূলক কম থাকে বলে যাত্রীরা জানান।

‎আক্কেলপুরের যাত্রী রিফাত হোসেন বলেন, বাসে সময় বেশি লাগে, তাই ইজিবাইকেই যাই। ইজিবাইকে আসনের চেয়ে বেশি যাত্রী নেওয়া হয় না। তাই ভিড় কম থাকে, স্বাচ্ছন্দ্যে গন্তব্যে যাওয়া যায়।

‎আরেক যাত্রী জুয়েল রানা বলেন, এটি ছোট যানবাহনের কাছে বড় যানবাহনের পরাজয়ের মতো মনে হচ্ছে। বাস বন্ধ থাকায় ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। তবে বাস থাকলে যাতায়াতে সুবিধা হতো।

‎বাসচালক রাজু হোসেন বলেন, আগে যাত্রী ভালো ছিল। এখন অনেক সময় অর্ধেকেরও কম যাত্রী নিয়ে বাস চলত। এতে জ্বালানি ও শ্রমিকের খরচও উঠত না।

বাসমালিক সফিকুল হুদা চৌধুরী বলেন, জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে শত শত ইজিবাইক ও সিএনজি চলছে। বাসমালিকেরা অনেক চেষ্টা করেও এ রুটে ইজিবাইক ও সিএনজি চলাচল বন্ধ করতে পারেননি। এসব ছোট যানবাহনের কারণে বাসে যাত্রী হয় না। বাসের আয় দিয়ে জ্বালানি, চালক-সহকারীর বেতনসহ অন্যান্য খরচ মেটানো যাচ্ছিল না। লোকসান হওয়ায় বাধ্য হয়ে বাস বন্ধ করতে হয়েছে। এ রুটের বাসমালিকেরা তাদের বাস বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রায় আট মাস ধরে এ রুটে আর বাস চলছে না।

‎ইজিবাইকচালক আরিফ হোসেন বলেন, ইজিবাইকে যাত্রীরা সুবিধামতো জায়গা থেকে উঠতে ও নামতে পারেন। এ কারণে যাত্রীরা ইজিবাইকমুখী হয়েছেন। এ রুটে এখন বাস চলাচল করে না।

‎জয়পুরহাট জেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান লিটন বলেন, ইজিবাইক ও সিএনজির কারণে জয়পুরহাট-আক্কেলপুর রুটে বাসে যাত্রী হয় না। এ রুটে বাস চালিয়ে মালিকেরা দীর্ঘদিন লোকসান করেছেন। যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনা করে জয়পুরহাট হয়ে আক্কেলপুর দিয়ে সরাসরি বগুড়ায় বাস চলাচল পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুত তা চালু করা হবে।

‎আক্কেলপুর নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আতিউর রাব্বি তিয়াস বলেন, বাস চলাচল বন্ধ থাকায় জয়পুরহাট ও আক্কেলপুরের মধ্যে যাতায়াতে ট্রেন ও ইজিবাইকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এ রুটে নিয়মিত বাসসেবা থাকা দরকার।’


নির্বাচিত

র‍্যাবের অভিযানে  ১৮৫ বোতল মাদক সিরাপসহ দুইজন গ্রেপ্তার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মোঃ সোহাগ, খুলনা ব্যুরো 

যশোরের শংকরপুর জমাদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০৫ বোতল Wincerex ও ৮০ বোতল Eskuf সিরাপসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৬। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গ্রেপ্তাররা হলেন—শংকরপুর জমাদারপাড়া এলাকার মৃত তফসিল উদ্দিনের ছেলে মো. মশিউল আলম (৫৫) এবং আজিবর রহমানের মেয়ে মোছা. আকলিমা খাতুন (৪৩)।

র‌্যাব-৬ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার র‌্যাব-৬, সিপিসি-৩, যশোর ক্যাম্পের একটি আভিযানিক দল কোতোয়ালী মডেল থানাধীন শংকরপুর জমাদারপাড়া এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় তাদের কাছ থেকে অবৈধ মাদকদ্রব্য হিসেবে ১০৫ বোতল Wincerex ও ৮০ বোতল Eskuf সিরাপ উদ্ধার করা হয়।

পরে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ করে গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে যশোর কোতোয়ালী মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকৃত আলামত ও গ্রেপ্তারদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-৬, সিপিসি-৩ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর মো. ফজলে রাব্বি প্রিন্স জানান, মাদকবিরোধী অভিযানসহ নিয়মিত মামলার আসামি, সাজাপ্রাপ্ত ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে র‌্যাবের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি হত্যা ও ধর্ষণের মতো চাঞ্চল্যকর অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধেও অভিযান অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৫০ কিলোমিটার যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা

যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের আষারিয়ার চর ব্রিজ থেকে কুমিল্লার ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র যানজট। শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয়ে শনিবার সকাল পর্যন্ত মহাসড়কের এই দীর্ঘ অংশে যানবাহনের চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানবাহনের মাইলের পর মাইল দীর্ঘ সারি যাত্রীদের জন্য চরম দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে, যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সড়কে আটকে থাকতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে।

মহাসড়ক পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নারায়ণগঞ্জের আষারিয়ার চর সেতুর সংস্কারকাজকে কেন্দ্র করেই মূলত এই নজিরবিহীন যানজটের সূত্রপাত। সেতুর ঢাকামুখী লেনের একটি অংশে বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে শুক্রবার বেলা ১১টা থেকে জরুরি সংস্কারকাজ শুরু করে সড়ক বিভাগ। কাজ চলাকালে মহাসড়কের দুই লেনের একটি বন্ধ রেখে অন্য লেন দিয়ে যানবাহন চলাচলের ব্যবস্থা করায় যানবাহনের চাপ ক্রমে বাড়তে থাকে, যা একপর্যায়ে কুমিল্লার চান্দিনা ও ইলিয়টগঞ্জ পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। শনিবার অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে এক লেনে গাড়ি পার হতে গিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।

দীর্ঘ এই যানজটে আটকা পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন পণ্যবাহী যানবাহনের চালক ও দূরপাল্লার সাধারণ যাত্রীরা, যার মধ্যে অনেক বিদেশগামী যাত্রীও রয়েছেন। সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়া বাসযাত্রী শিহাব জানান, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পার হলেও তারা একই জায়গায় আটকে আছেন। চালকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিজ এলাকায় গিয়ে যানবাহনের গতি একেবারে কমে যাওয়ায় পুরো মহাসড়ক স্থবির হয়ে পড়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দাউদকান্দি মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রেম দাস রায় বলেন, “দাউদকান্দি থেকে মেঘনা টোলপ্লাজা পর্যন্ত যানজটের মূল কারণ আষাড়িয়ারচর সেতু এলাকায় সড়ক সংস্কার। মহাসড়কের একটি লেন বন্ধ থাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যানজট নিরসনে মহাসড়ক পুলিশ কাজ করছে।” একই সুরে কাঁচপুর মহাসড়ক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সফিউল ইসলাম জানান, “আষাড়িয়ারচর এলাকায় মহাসড়কের দুই লেনের একটি লেনে সড়ক বিভাগ জরুরি সংস্কারকাজ করছে। ফলে এক লেন দিয়ে পর্যায়ক্রমে যানবাহন চলাচল করায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।” যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক করতে মহাসড়ক পুলিশের একাধিক দল বর্তমানে মাঠে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী

ছবি: পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই সংকট সৃষ্টি করেনি। বিগত সরকারের ভুলনীতি, দুর্নীতি ও অতিমাত্রায় আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতির কারণে এ সংকট তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের বিকল্প প্রস্তাবিত সড়কের ধারণাপত্র উপস্থাপন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালীতে জ্বালানি সরবরাহে বাধাগ্রস্ততার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি সংগ্রহ কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানির মূল্যও বেড়েছে। ফলে সরকারকে প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার বা ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি। এতে সরকারের ওপর বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে প্রয়োজন অনুযায়ী গ্যাসও পাওয়া যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে এলএনজি অবকাঠামো ও টার্মিনাল নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে। তবে এ পরিস্থিতি যাতে আরও খারাপের দিকে না যায় এবং উৎপাদনশীল খাত ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

এর আগে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে আয়োজিত সেমিনারে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ সাকি। সেমিনারে ঢাকা-কুমিল্লা মহাসড়কের বিকল্প প্রস্তাবিত সড়কের ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কুমিল্লা সদর আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাতুল বারী আবু।

সেমিনারে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন।


নির্বাচিত

পদ্মা সেতুতে চার বছরে ৫৪৮ দুর্ঘটনা, নিহত ১৪৭

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পদ্মা সেতু চালুর পর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। কমেছে যাত্রার সময়, বেড়েছে যানবাহনের চলাচল। তবে যোগাযোগের এই গতি একই সঙ্গে বাড়িয়েছে সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকিও। পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর গত চার বছরের বেশি সময়ে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মাওয়া টোল প্লাজা থেকে ধলেশ্বরী টোল প্লাজা পর্যন্ত অংশে ঘটেছে ৫৪৮টি সড়ক দুর্ঘটনা। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ১৪৭ জন এবং আহত হয়েছেন ৮৭৪ জন।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধনের দিন থেকে ২০২৬ সালের ২৭ আগস্ট পর্যন্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের উল্লিখিত অংশে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ চার বছর দুই মাসের কিছু বেশি সময়ে গড়ে প্রতি তিন দিনে প্রায় একটি দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে। প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা বিবেচনায় নিলে এই এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে ভাবার প্রয়োজনীয়তাও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

পদ্মা সেতু চালুর পর দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ অনেক সহজ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা দূরপাল্লার বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, ব্যক্তিগত গাড়ি ও অন্যান্য যানবাহনের চাপ বেড়েছে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে। দ্রুতগতিতে চলাচলের সুযোগ থাকায় অনেক চালক নির্ধারিত গতিসীমার তোয়াক্কা না করে গাড়ি চালান। এর সঙ্গে যুক্ত হয় ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, অসতর্কতা এবং ট্রাফিক আইন না মানার প্রবণতা।

সড়কটি তুলনামূলক প্রশস্ত ও আধুনিক হওয়ায় অনেক সময় চালকদের মধ্যে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসও কাজ করে। ফলে নির্ধারিত গতিসীমা অতিক্রম করে গাড়ি চালানো কিংবা সামনে থাকা গাড়িকে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অতিক্রম করার প্রবণতা দেখা যায়। উচ্চগতির যানবাহনের ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সামনে থাকা গাড়ির সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব বজায় না রাখলে আকস্মিক ব্রেকের সময় নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৫৪৮টি দুর্ঘটনায় ১৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ৮৭৪ জন। অর্থাৎ প্রতিটি দুর্ঘটনায় গড়ে একাধিক মানুষ হতাহত হয়েছেন। নিহতদের পাশাপাশি আহতদের একটি অংশ দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক ক্ষতির শিকার হন। দুর্ঘটনার আর্থিক ক্ষতির হিসাবও কম নয়। একটি দুর্ঘটনায় শুধু একটি বা একাধিক প্রাণহানিই ঘটে না; ক্ষতিগ্রস্ত হয় যানবাহন, নষ্ট হয় পণ্য, তৈরি হয় চিকিৎসা ব্যয় এবং পরিবারগুলোকে বহন করতে হয় দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক ও সামাজিক চাপ।

এই পরিসংখ্যান শুধু দুর্ঘটনার সংখ্যা নয়, এক্সপ্রেসওয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। যানবাহনের চাপ আরও বাড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণে এখন থেকেই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর একটি হলো দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা। ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। অনেক ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুমড়েমুচড়ে যায় কিংবা ভেতরে আটকে পড়েন যাত্রী ও চালক। তখন ফায়ার ফাইটারদের নিজেদের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রেখে উদ্ধারকাজ চালাতে হয়।

মুন্সিগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করেন। দ্রুত আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

দুর্ঘটনার পর প্রথম কয়েক মিনিটকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়। দ্রুত উদ্ধার ও চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে অনেক আহত ব্যক্তির জীবন রক্ষা করা সম্ভব। তাই এক্সপ্রেসওয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জরুরি উদ্ধারব্যবস্থা আরও শক্তিশালী রাখা প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন যথেষ্ট নয়; চালকের আচরণেও পরিবর্তন প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা চালকদের ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। পাশাপাশি সড়কের নির্দেশনা, ট্রাফিক সিগন্যাল ও নির্ধারিত গতিসীমা মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

বিশেষ করে দ্রুতগতির এক্সপ্রেসওয়েতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামনে থাকা গাড়ি হঠাৎ থেমে গেলে বা গতি কমালে পেছনের গাড়ির চালকের হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকতে হবে। কিন্তু খুব কাছাকাছি থেকে গাড়ি চালালে সেই সময় পাওয়া যায় না। ফলে ছোট একটি ভুল মুহূর্তের মধ্যে বড় দুর্ঘটনায় রূপ নিতে পারে।

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ। পদ্মা সেতু চালুর পর এই সড়কের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। ভবিষ্যতে যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে—এটাই স্বাভাবিক। তাই এখনই দুর্ঘটনার কারণগুলো বিশ্লেষণ করে কার্যকর প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

চালকদের পাশাপাশি যাত্রী ও সাধারণ পথচারীদেরও দায়িত্বশীল হতে হবে। বেপরোয়া গাড়ি চালানো, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক, অতিরিক্ত গতি এবং ট্রাফিক আইন অমান্য করার প্রবণতা বন্ধ করতে নিয়মিত নজরদারি জরুরি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা, পর্যাপ্ত সাইনেজ ও কার্যকর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা দরকার।

পদ্মা সেতু দেশের যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দিগন্ত খুলেছে। সেই সেতুর সঙ্গে যুক্ত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে যেন মানুষের জন্য দ্রুত যোগাযোগের পথ হওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুফাঁদে পরিণত না হয়, সে জন্য প্রয়োজন চালক, যাত্রী, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত উদ্যোগ। ৫৪৮ দুর্ঘটনায় ১৪৭ প্রাণহানির পরিসংখ্যান তাই কেবল একটি সংখ্যা নয়; এটি নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করার জন্য একটি বড় সতর্কসংকেত।


নির্বাচিত

সবজিতে কিছুটা স্বস্তি, ভোগাচ্ছে নিত্যপণ্য 

* সরবরাহ বাড়ায় কমেছে সবজির দাম, তবে ডিম-তেল-চিনি-আটার চড়া দামে চাপে ক্রেতা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে যেন দুই বিপরীত চিত্র ফুটে উঠেছে। একদিকে বাজারে সবজির জোগান বাড়ায় কিছুটা দাম কমে ক্রেতাদের মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফিরছে। অন্যদিকে ডিম, ভোজ্যতেল, চিনি ও আটার মতো জরুরি পণ্যের উর্ধ্বমুখী ও চড়া দাম সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কেনাকাটায় চরম অস্বস্তি তৈরি করছে।

প্রতিদিনের সংসারের হিসাব মেলাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মধ্যবিত্ত ও নিম্নআয়ের ক্রেতারা। ফলে সবজি বাজারের সামান্য স্বস্তিটুকু তাদের মনে বড় কোনো স্বস্তি এনে দিতে পারছে না।

রাজধানীর বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি বাজার ঘুরে জানা যায়, প্যাকেটজাত ময়দা প্রতি কেজি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ১৫ থেকে ২০ দিন আগেও এই ময়দা বিক্রি হয়েছে ৭০ টাকায়। অর্থাৎ কেজিতে দাম বেড়েছে ১০ টাকা। বাজারে দুই কেজি ময়দার প্যাকেটের গায়ে লেখা দাম এখন ১৬০ টাকা, যা ১৪০ টাকা ছিল।

এদিকে, তেল ও চিনির বাজারেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে দাম বেড়েছে প্রায় ১০ টাকা। প্যাকেটজাত চিনিরও গায়ে লেখা সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২০ টাকা করা হয়েছে।

মালিবাগ বাজারের বিক্রেতা চিশতি বলেন, কয়েক দিনের ব্যবধানে ৫০ কেজির এক বস্তা চিনির দাম ৯০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়েছেন ডিলাররা। প্যাকেটজাত চিনির দামও কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়েছে।

তারপরও বাজারে অনেক দোকানে চিনি মিলছে না, সরবরাহ বেশ কমে গেছে। ক্রেতারা কয়েক দোকান ঘুরে তারপর প্যাকেটজাত চিনি কিনতে পারছেন।

বিক্রেতারা জানিয়েছেন, মূলত কোম্পানি (মিলগেট) ও পাইকারি পর্যায়ে চিনির মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় খুচরা পর্যায়ে পণ্যটির দাম বেড়েছে। মিলগেট থেকে আগের চেয়ে চিনির সরবরাহও কমেছে।

এদিকে, বাজারে ভোজ্যতেলের সরবরাহও কমেছে। যদিও খোলা সয়াবিন তেলের দাম বাড়লেও এখনো বোতলজাত তেলের দাম বাড়েনি। খুচরা বিক্রেতাদের অভিযোগ, কোম্পানিগুলো দাম বাড়ানোর প্রস্তুতি হিসেবে সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। ফলে অনেক দোকানেই চাহিদা অনুযায়ী বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খোলা পাম তেলের দাম প্রতি লিটার ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা। আর সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম প্রতি লিটার ২০০ টাকা।

সম্প্রতি সবজির দাম কিছুটা কমেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে সরবরাহের ঘাটতির কারণে অনেক সবজির দাম কেজিতে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। পরে সরবরাহ বাড়ায় কিছু সবজির দাম কমেছে। বর্তমানে বেশির ভাগ সবজি ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পটোল, পেঁপে ও ঢ্যাঁড়সের দাম তুলনামূলক কম।

কাঁচামরিচের দাম স্বাভাবিক হয়েছে। রাজধানীর খুচরা বাজারে কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। আর কারওয়ান বাজারে পাইকারিতে বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি।

খন্দকার আজিজুল নামের এক ব্যবসায়ী বলেন, মূলত ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়ার পর সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে দামও অনেকটা কমেছে।

অন্যদিকে, কয়েক সপ্তাহ ধরে পেঁয়াজের দামে অবশ্য বড় কোনো পরিবর্তন নেই। মানভেদে প্রতি কেজি ৫৫ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আলুর দামও দীর্ঘদিন ধরে প্রায় একই রয়েছে। প্রতি কেজি আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় ভ্যানে পাঁচ কেজি আলু একসঙ্গে ১০০ টাকায় বিক্রি করতেও দেখা যাচ্ছে।

ডিমের দামও এখনো আগের উচ্চমূল্যেই রয়েছে। বাজারে প্রতি ডজন ডিম ১৫০ টাকা এবং চারটি ডিম ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকানে এক ডজন ডিম ১৬০ টাকাও বিক্রি হতে দেখা গেছে।

এছাড়া বর্তমানে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮০ থেকে ২০০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

খুচরা বাজারে কেনাকাটা করতে আসা একাধিক ক্রেতা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে জানান, সবজি দু-একটা কম দামে পাওয়া গেলেও মূল সদাই করতেই সিংহভাগ টাকা শেষ হয়ে যাচ্ছে। তেল, আটা ও ডিম না কিনে তো সংসার চালানো সম্ভব নয়, আর এগুলোতেই প্রতিদিন পকেট খালি হয়ে যাচ্ছে।

বাজারের এই ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ীদের দাবি, তারা বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে পণ্য বিক্রি করছেন। কারণ পাইকারি বাজার থেকেই তাদের বেশি দামে মালামাল কিনতে হচ্ছে। পাইকারিতে দাম না কমলে খুচরা বাজারে দাম কমানো সম্ভব নয় বলে তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন। তবে সাধারণ ক্রেতাদের মতে, শুধু পাইকারি আর খুচড়ার অজুহাত দিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই; মূলত নিয়মিত মনিটরিং এবং শক্ত তদারকির অভাবেই একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিচ্ছেন।

বাজারের এমন অসম ও অস্থির পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে অবিলম্বে সরকারি সংস্থাগুলোর নিয়মিত তদারকি, অভিযান ও শক্তিশালী ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করার জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।


নির্বাচিত

সম্পত্তি সন্তানকে দিলেও আজীবন ভোগদখলে থাকবেন মা-বাবা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি লিখে দেওয়ার পরও মা-বাবা ও প্রবীণ স্বজনদের জীবদ্দশায় ওই সম্পত্তি ভোগ ও ব্যবহারের অধিকার নিশ্চিত করতে নতুন আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে জাতীয় সংসদে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত আইনে সম্পত্তির মালিকানা হস্তান্তর হলেও দাতার আজীবন ভোগদখলের অধিকার সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান ১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইন সংশোধনের জন্য বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়। এতে ‘জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষণপূর্বক দান’ নামে সম্পত্তি হস্তান্তরের নতুন একটি পদ্ধতি যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রস্তাবিত সংশোধনীতে নতুন ১২২এ ও ১২২বি ধারা যুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। এর আওতায় মা-বাবা সন্তান বা নাতি-নাতনিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। একইভাবে দাদা-দাদি, নানা-নানি নাতি-নাতনিকে এবং সন্তান বা নাতি-নাতনিরাও বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নানা-নানিকে সম্পত্তি দিতে পারবেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যেও এই পদ্ধতিতে সম্পত্তি হস্তান্তর করা যাবে। স্থাবর সম্পত্তির ক্ষেত্রে নিবন্ধিত দলিল করতে হবে।

আইনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মালিকানা ও ভোগদখলের অধিকার পৃথক থাকবে। যেমন, কোনো বাবা বাড়ি সন্তানের নামে নিবন্ধন করে দিলে বাড়িটির মালিকানা সন্তানের কাছে চলে যাবে। তবে দলিলে জীবনকালীন ভোগাধিকার সংরক্ষিত থাকলে বাবা জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই বাড়ি ব্যবহার ও ভোগ করতে পারবেন। তার মৃত্যুর পর সেই অধিকার শেষ হবে।

দাতার আগে গ্রহীতা মারা গেলেও দান বাতিল হবে না। সে ক্ষেত্রে সম্পত্তি আইন অনুযায়ী গ্রহীতার উত্তরাধিকারীদের কাছে যাবে। তবে মূল দাতা জীবিত থাকা পর্যন্ত তার ভোগদখলের অধিকার বহাল থাকবে।

নিবন্ধনের পর এ ধরনের দান সাধারণভাবে একতরফাভাবে বাতিল করা যাবে না। দাতা ও গ্রহীতা উভয়ের সম্মতি থাকলে নতুন নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে তা পরিবর্তন বা বাতিল করা যাবে। আর্থিক, চিকিৎসা, শিক্ষা, পারিবারিক বা অন্য কোনো প্রকৃত প্রয়োজনেও এ সুযোগ রাখা হয়েছে। কোনো পক্ষ অপ্রাপ্তবয়স্ক, নিখোঁজ, মানসিকভাবে সিদ্ধান্ত দিতে অক্ষম বা অন্য কোনো আইনি কারণে সম্মতি দিতে না পারলে জেলা জজের কাছে আবেদন করা যাবে। তবে আদালত আদেশ দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্টদের নোটিশ দিয়ে প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করবে।

সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন বিধানটি প্রচলিত সাধারণ দান, মুসলিম আইনের হেবা বা সম্পত্তি হস্তান্তরের অন্যান্য স্বীকৃত পদ্ধতির ওপর প্রভাব ফেলবে না। বরং আজীবন ভোগের অধিকার সংরক্ষণকারী দানকে আলাদা একটি আইনি কাঠামো দেওয়া হবে এবং এটি সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমভাবে প্রযোজ্য হবে।

প্রস্তাবিত আইনকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ ও আইনজীবীরা। তাদের মতে, অনেক বাবা-মা সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে জীবনের শেষ সম্বল বাড়ি বা জমি সন্তানের নামে লিখে দেন। পরবর্তী সময়ে কোনো কোনো ক্ষেত্রে সেই সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে মা-বাবার সঙ্গে সন্তানের বিরোধ সৃষ্টি হয়। এমনকি তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ বা অবহেলার ঘটনাও ঘটে। নতুন আইন কার্যকর হলে সম্পত্তি দেওয়ার পরও মা-বাবার নিরাপত্তা ও ভোগদখলের অধিকার আইনি সুরক্ষা পাবে।

তবে আইনটি কার্যকর করার ক্ষেত্রে সচেতনতা ও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন অনেকে। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে অনেক মানুষ আইন সম্পর্কে সচেতন না হওয়ায় শুধু আইন প্রণয়ন যথেষ্ট নয় বলে মত এসেছে। আইনটি সহজভাবে প্রচার, প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার কথাও বলা হয়েছে।

আইনজীবীদের মতে, নতুন বিধানের ফলে সম্পত্তির মালিকানা, দখল ও পারিবারিক বণ্টন নিয়ে সৃষ্ট কিছু বিরোধের আইনি অবস্থান স্পষ্ট হতে পারে। এতে পারিবারিক কলহ ও দেওয়ানি মামলার সংখ্যা কমার সম্ভাবনাও রয়েছে। একই সঙ্গে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইনের বাস্তব প্রয়োগ নির্ভর করবে পরিবার, সমাজ এবং সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থার ভূমিকার ওপর।

সব মিলিয়ে, সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার পাশাপাশি শেষ বয়সে মা-বাবার বসতভিটা ও সম্পত্তির ওপর ভোগদখলের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত সংশোধনীটি আনা হয়েছে। এখন বিলটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পরীক্ষার পর চূড়ান্তভাবে পাস ও বাস্তবায়নের অপেক্ষায় রয়েছে।


নির্বাচিত

banner close