অপারেশন ডেভিল হান্টে চট্টগ্রামে ৩৫ জন, সুনামগঞ্জে ৭, মানিকগঞ্জে ১১, বাগেরহাটের মোংলায় ৬, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৩, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৩, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৪ ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার রাতে চাক্তাইয়ের চাউলপট্টি এলাকার বাসা থেকে চট্টগ্রাম মহানগরের ৩৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন নুরু আটক হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ভূমিদখল ও চাঁদাবাজির খেলায় মেতে ওঠে কিশোর গ্যাং পরিচালিত নুরু গ্রুপ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড) মেজর রিজোয়ান বলেন, সোমবার রাতে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। চাঁদাবাজির কারণে নুর হোসেন নুরুকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাতিয়া থানাধীন ৬নং চরকিং ইউনিয়নে কাওসার মিয়ার ব্রিকফিল্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. নবির উদ্দিন, মো. ইমাম হোসেন ও মো. ফখরুল ইসলাম টিপুকে আটক করা হয়। অপরদিকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে হুমায়ুন কবির ওরফে বাবুল নামক এক সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দীপন ধর (৪০), মো. ফারুখ (৪৫), মো. ইমরান হোসেন (৩২), মো. মনির আলম (৩৩), পেয়ার আহমেদ (৪৫), মো. আব্দুর রহমি (৩৭), মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী (৫২), মামুনুর রশদি পাভেল (২১), শুক্কুর আহমেদ ওরফে মো. ফয়সাল (২২), আলী মর্তুজা (৩৫), শাহাজাহান ইসলাম সাজু (২৮), মো. নাহিদুল আলম এলিন (৪৩), মো. সফর আলী (৩৯), মো: ইকবাল হোসেন (৩৫), মো. নুরুল আলম (৬২), মো. রুবেল মিয়া (২৬), আব্দুর রউফ বাদশা (১৯), ওসমান গণি ওরফে ইমন (২৪), এ এন মেহেদী ইসলাম বাপ্পী (৪৪), মো. রফিক (৪০), মো. রাকিব(২৪), জুলফিকার আলী মাসুদ(৫০), সাইফুল ইসলাম (৪৭), মোহাম্মদ আরশাদুল নুর (২০), আবুল কাসেম (৪৫) ও মো. আকবর হোসেন (২৫), ইমাম হোসেন ওরফে ইব্রাহীম (২৫), মো. বেলাল (৩৩), মো. রুবেল (২৭) ও মো. আলমগীর হোসেন (৩৬)।
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জে অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযান পরিচলনা করে অস্থিতিশীলতা পরিকল্পনার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ও দিনে সাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করেন জেলা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আব্দুল কাদের (৭২), আমজাদ হোসেন (৪৫) ও আব্দুস সামাদ (৫০), হাবিবুর রহমান শিবলী (৪৬), রিয়াদ হোসেন (৩৭), নজরুল ইসলাম শাহজাহান (৪৯), সাইফুল ইসলাম (৪০), মজনু মিয়া (৫৩), কুদ্দুস মিয়া (৪৪), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৪) এবং আশরাফুল ইসলাম (৫২)।
মোংলা (বাগেরহাট)
মোংলায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশের পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৬ আওয়ামী লীগ নেতা আটক হয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোর রাতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মালগাজী এবং বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের দিগরাজ এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৩), মোঃ ডালিম (৫২), মোঃ শফিকুর রহমান (৭২), বিধান চন্দ্র রায় (৬৬) কে ১টি দুইনালা বিদেশি বন্দুক ও ১৫ রাউন্ড তাজা গুলিসহ আটক করা হয়।
অপরদিকে মঙ্গলবার রাতে মোংলার কুমারখালী ও গোয়ালেরমেঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম এবং মোঃ সাইফুল শেখকে আটক করেছেন পুলিশ।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বগলাকাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহান উদ্দিন (৩৩), সুনামগঞ্জ সদর থানার মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী (৬০)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। মো. খোকন মিয়া (৪০), মধ্যনগর থানার রৌয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. খোকন মিয়া (৪০)। তিনি বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি। জগন্নাথপুর থানার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. কামরুল হাসান তেরা মিয়া (৪০)। তিনি জগন্নাথপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক। তাহিরপুর থানার সোলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আকরামিন হোসেন (২১)। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সহ-সভাপতি। ছাতক থানার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জানে আলম (২৮)। তিনি ইসলামপুর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। সুনামগঞ্জ সদর থানার ঘাসিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ (৪০)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক।
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডেভিল হান্ট অপারেশনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে তাদের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ সোহান হাসান, সোনারগাঁ পৌরসভার ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রনি বিল্লাহ ও জামপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মেসা. শফিকুল ইসলাম।
মেহেরপুর
মেহেরপুর সদর উপজেলার ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সকলেই সন্ত্রাসী বিরোধী আইনের মামলার আসামি।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- মেহেরপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মঞ্জুরুল কবির রিপন (৪৫), মেহেরপুর শহরের শিশু বাগান পাড়ার নুরূল ইসলামের ছেলে এনামুল হক বাবলু (৪৫) এবং নতুনপাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে হৃদয় হোসেন (২৭)।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
কলাপাড়ায় মহিপুর থানা যুবলীগের সদস্য ও মহিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. মামুন হাওলাদার(৪৫) কে আটক করেছে পুলিশ।
মহিপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ডেভিল হান্ট অপারেশনে তাকে আটক করে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন সেচ্চাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি আলীম সরকার, তারাবো পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রনি হোসেন ও ভুলতা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী বাছেদ মিয়া।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৪ জন আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দিনভর অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি ও সাবেক কমিশনার আফজাল হোসেন ভূইয়া (৬৭)। অন্য আসামিরা হলেন, শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার হাজী আব্দুর রহমান মিয়ার ছেলে ও আওয়ামী লীগ সক্রিয় কর্মী নান্নু মিয়া (৬২), গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকার কালা মিয়ার ছেলে ও আওয়ামী লীগ সক্রিয় কর্মী বাদল মিয়া (৩৮) ও শিবপুর ইউনিয়নের মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মুর্শিদ মিয়া (৫০)।
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার পৌর এলাকার বাহাদীপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভূঞাপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন ও একই ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মাধবখালী সীমান্তে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, দুই রাউন্ড গুলি এবং ২২ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিবাগত রাত ১টা ৪০ মিনিটে মহেশপুর-৫৮ বিজিবির সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মাধবখালী বিওপির হাবিলদার সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে একটি টহল দল জীবননগর উপজেলার সীমান্ত পিলার ৭০/৬-এস থেকে প্রায় ৩০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মাধবখালী গ্রামের জসিম উদ্দিনের বাঁশবাগান এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় সন্দেহভাজন এক চোরাকারবারীকে ধাওয়া করলে সে একটি প্লাস্টিকের নেটের বস্তা ফেলে ভারতের দিকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতিতে বস্তাটি তল্লাশি করে ২২ বোতল এসকাফ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। একই বস্তার ভেতরে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি ৭.৬৫ মিলিমিটার বিদেশি পিস্তল (মেড ইন ইউএসএ), একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড গুলি পাওয়া যায়।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের কারণে গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) সকল ক্লাস ও নির্ধারিত পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিরূপ আবহাওয়া, বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের যাতায়াতে সৃষ্ট পরিবহন সংকট বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, জলাবদ্ধতা এবং পরিবহন সংকটের প্রেক্ষাপটে গতকাল বুধবারের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ক্লাস ও অনুষ্ঠিতব্য পরীক্ষা আদেশক্রমে স্থগিত করা হয়েছে।
স্থগিত হওয়া ক্লাস ও পরীক্ষার পরবর্তী সময়সূচি পরে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনের মাধ্যমে জানানো হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
সাতক্ষীরার শ্যামনগরে দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরাকে ঘিরে থাকা ১৫ নং পোল্ডারের আওতাধীন উপকুল রক্ষা বাঁধ থেকে ১২টি নাইনটি অপসারণ করেছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে গত মঙ্গলবার ও বুধবার (৮ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের চকবারা, ডুমুরিয়া, চাদনীমুখা ও ৯ নং সোরা এলাকার বাঁধ হতে থেকে এসব নাইনটি অপসারণ করা হয়।
চিংড়ি ঘেরে নদীর লবন পানি সরবরাহের জন্য স্থানীয় প্রভাবশালীরা সম্প্রতি উপরিভাগের ব্লক সরিয়ে বাঁধ কেটে ও ছিদ্র করে পাইপের সাহায্যে সেখানে এসব নাইনটি স্থাপন করেছিল। এসময় অন্যান্যের মধ্যে সহকারী কমিশনার(ভুমি) রাশেদ হোসাইন, অফিসার ইনচার্জ সাফিউল ইসলাম পাটোয়ারী, পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদারসহ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদারের ভাষ্য এখনো পর্যন্ত গাবুরার চারপাশে টেকসই বাঁধ নির্মান কাজ শেষ হয়নি। অনেকে নৌকা আটকানোর জন্য খুঁটি স্থাপনের পাশাপাশি কয়েকজন রীতিমত নির্মানাধীন বাঁধ কেটে পাইপের সাহায্যে নাইনটি স্থাপন করেছে। বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নেতৃত্বে বাঁধের জন্য ক্ষতিকর নাইনটি গুলো অপসারণ করা হয়েছে।
জামালপুরে বিজিবির অভিযানে ৬৪ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে জামালপুর ৩৫ বিজিবির আওতাধীন বালিয়ামারী বিওপির বিজিবি সদস্যরা সীমান্তবর্তী এলাকার পাগলা নদীর ঘাট থেকে এসব ইয়াবা জব্দ করেন।
এ সময় মানিক মিয়া (৩২) ও সাইফুল ইসলাম (৩৬) নামে দুই জনকে আটক করা হয়। তাদের বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলায়।
বিজিবি জানায়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকালে বালিয়ামারী বিওপির বিজিবির সদস্যরা সীমান্তবর্তী এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে পাগলা নদীর ঘাট থেকে ৬৪ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। পরে ওই দুই জনকে আটক করে বিজিবি। এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জামালপুর ৩৫ বিজিবির অধিনায়ক লে.কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, সীমান্তে নিয়মিত টহলের পাশাপাশি মাদক বিরোধী অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন প্রকল্পের ২৬টি চেকে টাকার অঙ্ক ও বানান পরিবর্তন করে প্রায় ৫১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে উপজেলা পরিষদের বর্তমান ও সাবেক তিন কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) তাদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন- ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক সাঁট মুদ্রাক্ষরিক-কাম-কম্পিউটার অপারেটর পার্থ সারথী পাল (বর্তমানে ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদে কর্মরত), অফিস সহায়ক মো. ফিরোজ এবং নূর ইসলাম।
জানা গেছে, সম্প্রতি বদলিজনিত কারণে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রস্তুতির সময় ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ফাহরিয়া ইসলাম উন্নয়ন প্রকল্পের আর্থিক হিসাব পর্যালোচনা করেন। এ সময় চেক বইয়ের কাউন্টারফয়েলে উল্লেখ থাকা অঙ্কের সঙ্গে ব্যাংক থেকে উত্তোলিত অর্থের হিসাবের অসঙ্গতি ধরা পড়ে।
পরে যাচাই-বাছাই করে দেখা যায়, ২৬টি চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার পর টাকার অঙ্ক ও কথায় লেখা পরিমাণ পরিবর্তন করে ব্যাংক থেকে প্রায় ৫১ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে কাউন্টারফয়েলে মূল অঙ্কই সংরক্ষণ করা হয়েছিল।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, প্রায় এক বছর ধরে একই কৌশলে এ জালিয়াতি চলছিল। অভিযোগ অনুযায়ী, ইউএনওর স্বাক্ষর নেওয়ার পর চেকে অতিরিক্ত সংখ্যা যোগ করে টাকার পরিমাণ বাড়ানো হতো। একই সঙ্গে কথায় লেখা অঙ্কও পরিবর্তন করা হতো। সর্বশেষ চলতি বছরের ১ মার্চ এভাবে অর্থ উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। পরে মূল অভিযুক্ত পার্থ সারথী পাল বদলি হয়ে অন্য উপজেলায় যোগ দিলে এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ হয়।
পরে সোমবার ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহরিয়া ইসলাম অভিযুক্ত তিন কর্মচারীকে কার্যালয়ে ডেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। পরে তাদের ফুলগাজী থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে এসআর দায়ের করা হয়েছে। বদলেজনিত কারণে আমাদের ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজগুলো রিকনসিলেশন করার সময় এটা ওনার চোখে পড়েছে। ঘটনাটা আসলে দুর্ভাগ্যজনক, এটা হয়ে গেছে। আমি মনে করি এটা উচিত হয়নি।
মাদারীপুরে শিবচর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নে 'পদ্মা পাড়ের জীবনযুদ্ধ' শীর্ষক মহড়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৮ জুলাই) সকালে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বেসরকারী সংস্থা 'শরীয়তপুর ডেপলপমেন্ট সোসাইটি' (এসডিএস) নামের একটি এনজিও। উক্ত সংস্থার পৃষ্ঠপোষকতায় মহড়া অনুষ্ঠানটি বাস্তবায়ন করে কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।
পদ্মা পাড়ের মানুষের জীবনযাপন, সংগ্রাম, বন্যা পূর্বাভাস, দুর্যোগ মোকাবেলা ও সচেতনতা বাড়াতে এই আয়োজন বলে জানিয়েছে আয়োজক কমিটি।
প্রাকৃতিক দুর্যোগ, সামাজিক সুরক্ষা, জলবায়ুর পরিবর্তনশীল ঝুঁকি মোকাবেলা ও নাগরিক সচেতনতা বাড়াতে মহড়াটি সহায়ক হবে বলে জানিয়েছেন এসডিএস এর পরচালক ও শিবচর উপজেলায় কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী সহ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা।
কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের বৃদ্ধ- যুবক-তরুণ-কিশোরসহ সর্বস্তরের নারী-পুরুষ ও স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ মহড়াটি উপভোগ করেন। মহড়া থেকে অভিনয় করে দেখানো হয়- বন্যাসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় কিভাবে খাদ্য- পানীয় সহ জীবন ধারণে অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী সংরক্ষণ ও রক্ষাণাবেক্ষণ করতে হয়।
এছাড়াও জরুরী চিকিৎসা, উদ্ধারকাজ, যোগাযোগ, ত্রাণ তৎপরতা, জরুরী সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন সহ অন্যান্য বিষয়াদিও মহড়াটিতে তুলে ধরা হয়।
টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে রাঙামাটির বাঘাইছড়ির পর্যটন কেন্দ্র সাজেকে প্রায় ৫শ পর্যটক আটকা পড়েছেন। খাগড়াছড়ি-সাজেক সড়কের একাধিক স্থানে পানি ওঠায় বুধবার (৮ জুলাই) থেকে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
সাজেক কটেজ অ্যান্ড রিসোর্ট মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, সাজেকের মাচালং এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় প্রায় ৫০০ পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েছেন। তবে রিসোর্টগুলোতে অবস্থানরত পর্যটকদের প্রয়োজনীয় খাবার ও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
অপরদিকে, সাজেক সড়কের মাহিন্দ্রচালক মো. জসিম উদ্দিন জানান, দিঘীনালার কবাখালী, সাজেকের মাচালংসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কের ওপর পানি উঠে যাওয়ায় সাজেকের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সচিব বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী বলেন, সাজেকের মাচালং, সীমানাছড়া ও দিঘীনালার কবাখালী এলাকায় সড়কের ওপর পানি ওঠায় বর্তমানে প্রায় সাড়ে চারশ থেকে ৫০০ পর্যটক সাজেকে আটকা পড়েছেন। সড়ক থেকে পানি নেমে গেলে পর্যটকরা নিরাপদে গন্তব্যে ফিরতে পারবেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। পানি নেমে সড়ক চলাচল স্বাভাবিক হলে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী জনগণ ও পর্যটকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় রাঙামাটি জেলা প্রশাসন মঙ্গলবার রাতে এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সাজেক পর্যটন কেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সাজেকে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শুষ্ক মৌসুমের অবসান ঘটিয়ে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় পদ্মায় প্রবেশ করতে শুরু করেছে বর্ষার নতুন পানি। আর এই নতুন পানির আগমনেই প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে নদীকেন্দ্রিক জনপদে। উপজেলার আবেদের ঘাট এলাকাসহ বিভিন্ন ঘাটে এখন চলছে উৎসবমুখর ব্যস্ততা। বর্ষা মৌসুমে নদীপাড়ের বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চল রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নসহ আশেপাশের এলাকার মানুষের যাতায়াত ও জীবিকার প্রধান মাধ্যম নৌকা। তাই নদীতে পানি পুরোপুরি বাড়ার আগেই পুরোনো নৌকা সংস্কার, আলকাতরা লাগানো ও রং করার কাজে দিনরাত ব্যস্ত সময় পার করছেন মাঝি, জেলে ও কারিগরেরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুষ্ক মৌসুমে নাব্যতা হারানো পদ্মার বুকে জেগে ওঠা বিস্তীর্ণ চরে প্রায় আট মাস ধরে অলস পড়ে ছিল এসব নৌকা। কোথাও বালুচরে আটকে, আবার কোথাও কাত হয়ে পড়ে থাকা জীবিকার এই প্রধান বাহনগুলো এতদিনে ছিল অবহেলিত। তবে বর্ষার নতুন পানির ছোঁয়ায় আবারও জেগে উঠছে নদীকেন্দ্রিক জীবন-জীবিকা।
আবেদের ঘাটে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নদীর তীরে সারিবদ্ধভাবে রাখা নৌকাগুলোতে চলছে জোরেশোরে মেরামতের কাজ। কোথাও পচে যাওয়া কাঠ বদলে বসানো হচ্ছে নতুন পাটাতন, কোথাও আবার নৌকার তলা মজবুত করতে লাগানো হচ্ছে আলকাতরা ও নতুন রঙের প্রলেপ। হাতুড়ি, করাত আর পেরেকের ঠুকঠাক শব্দে মুখর হয়ে উঠেছে পুরো ঘাট এলাকা। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হবে যাত্রী পারাপার ও মাছ ধরার ধুম।
রাজশাহী থেকে আসা নৌকা মেরামতের কারিগর মাহাবুল বলেন, "প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের আগে আমরা দৌলতপুরে এসে নৌকা মেরামতের কাজ করি। এ মৌসুমে ইতোমধ্যে ১০টি নৌকা মেরামত করেছি, আরও প্রায় ১০টির কাজ বাকি রয়েছে। দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে আমরা কাজ করি।"
আরেক কারিগর ফজলু জানান, দীর্ঘদিন চরে পড়ে থাকায় অনেক নৌকার কাঠ নষ্ট হয়ে গেছে, সেগুলো পুনর্নির্মাণ করেই তাদের সংসার চলে।
নৌকার মালিক রাজন বলেন, "নদীতে পর্যাপ্ত পানি হলে যাত্রী পারাপারের পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন শুরু হবে। আমরা বছরে মাত্র ৪ মাস নৌকা চালাতে পারি। বাকি সময় নাব্যতা সংকটের কারণে চর জেগে থাকে। এই ৪ মাসের আয় দিয়েই আমাদের সারা বছর চলতে হয়।"
একই কথা জানালেন অপর নৌকার মালিক হোসেন মেম্বার। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, "বর্ষায় এই নৌকাই আমাদের একমাত্র ভরসা। তবে বছর শেষে যা আয় হয়, তার বড় অংশই আবার নৌকা মেরামতে চলে যায়। সরকারের কাছে আমাদের আবেদন, নদী খনন করে যেন স্থায়ী নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হয়।"
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দৌলতপুর উপজেলার মূল ভূখণ্ড থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের বর্ষাকালের একমাত্র ভরসা এই নৌপথ। থানা সদর, জেলা শহর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল কিংবা বাজারে যেতে এবং কৃষিপণ্য পরিবহনে এই নৌকা ছাড়া তাদের কোনো বিকল্প নেই।
পদ্মায় পর্যাপ্ত পানি আসার এই মুহূর্তে মাঝিদের চোখে-মুখে এখন নতুন আশার আলো। নৌ চলাচল স্বাভাবিক হলে একদিকে যেমন চরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে, অন্যদিকে সচল হবে মাঝি, জেলে ও খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের জীবিকার চাকা।
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বামন্দী-নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে নকল করার অভিযোগে এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
একই সঙ্গে পরীক্ষার দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে দুই শিক্ষককে দায়িত্ব থেকে দেওেয়া হয়েছে অব্যাহতি।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে অনুষ্ঠিত ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষার সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে এ ব্যবস্থা নেন।
জানা যায়, পরীক্ষা চলাকালে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে নকলের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পার গোয়াল গ্রাম কলেজের এক পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
এ সময় কেন্দ্রে দায়িত্বে থাকা বামন্দী-নিশিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের রসায়ন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান এবং ইংরেজি বিভাগের সিনিয়র শিক্ষক জেমিন আহমেদকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
কেন্দ্র সচিব ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাজ্জাদুল আলম স্বপন বলেন,পরিক্ষার হলে মোবাইল ফোন ব্যাবহারের অভিযোগ প্রমানিত হওয়াই এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও দুই শিক্ষককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, এইচএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় চলতি মৌসুমে সুস্বাদু ফল আঁশফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া, রোগবালাইয়ের কম প্রকোপ এবং স্থানীয় কৃষি বিভাগের সঠিক ও নিয়মিত পরামর্শে এবার উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে গাছে গাছে ফল ধরেছে রেকর্ড পরিমাণে। বাজারে এই ফলের ব্যাপক চাহিদা এবং ভালো দাম পাওয়ায় চাষি ও ব্যবসায়ী উভয়ের মুখেই ফুটেছে স্বস্তির হাসি।
স্থানীয়ভাবে ‘কাঠলিচু’ বা ‘লংগান’ নামে পরিচিত এই ফলটি দেখতে অনেকটা লিচুর মতো এবং স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় ক্রেতাদের কাছে এর জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী।
জানা গেছে, ডুমুরিয়ার ১৪টি ইউনিয়নের মধ্যে ধামালিয়া, রঘুনাথপুর, রুদাঘরা, খর্নিয়া, আটলিয়া, মাগুরা ঘোনা, শোভনা, সাহস, গুটুদিয়া এবং রংপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা গাছগুলোতে এবার অভাবনীয় ফলন হয়েছে। উৎপাদন খরচ কম এবং পরিচর্যা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় ডুমুরিয়ায় প্রতি বছরই বাণিজ্যিকভাবে আঁশফল চাষের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে। বিশেষ করে এলাকার শিক্ষিত তরুণ উদ্যোক্তারা এখন এই ফলের বাগান গড়তে দারুণভাবে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।
বর্তমানে উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগর এবং ডুমুরিয়া সদর বাজারে প্রতিদিন ভোরে বসছে আঁশফলের জমজমাট পাইকারি হাট। খুলনা জেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত এবং রাজধানী ঢাকার পাইকারি ব্যবসায়ীরা ভোরেই ছুটে আসছেন এই হাটে।
বাজারে ১টি আঁশফল খুচরা ৩ থেকে ৪ টাকা। ফলভর্তি একটি গাছের পাইকারি দাম ১২০০ থেকে ৩২০০ টাকা (আকার ও ফলন ভেদে)।ব্যবসায়ীরা এখান থেকে সরাসরি ফল কিনে ট্রাক ও অন্যান্য পরিবহনে করে পাঠিয়ে দিচ্ছেন দেশের বিভিন্ন বড় বড় আড়তে।
উপজেলার রুদাঘরা গ্রামের আঁশফল ব্যবসায়ী মোসলেম উদ্দিন বলেন,‘ফল পাকার পর দ্রুত সংগ্রহ না করলে তা এমনিতেই ঝরে পড়ে। তার ওপর বাদুড় একবার গাছে বসলে এক রাতেই প্রায় সব ফল নষ্ট করে দিয়ে যায়। তাই খরচ একটু বেশি হলেও এখন বাধ্য হয়ে অধিকাংশ চাষিই পুরো গাছ নেট (জাল) দিয়ে ঢেকে ফল রক্ষার ব্যবস্থা করছেন।’
ডুমুরিয়ার মাটি ও জলবায়ু আঁশফল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘চলতি মৌসুমে ডুমুরিয়ায় আঁশফলের ফলন অত্যন্ত সন্তোষজনক হয়েছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চাষিদের নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ ও মাঠপর্যায়ে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। অল্প খরচে অধিক লাভজনক হওয়ায় ভবিষ্যতে এই অঞ্চলে আঁশফলের চাষ আরও ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।’
স্থানীয় বাজারগুলোতে এখন সাধারণ ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে যে, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এই দেশি ফলের কদর দিন দিন বাড়ছে। ভালো ফলন ও উপযুক্ত বাজারদরের কারণে চলতি মৌসুমটিকে ডুমুরিয়ার আঁশফল চাষিদের জন্য একটি অত্যন্ত সফল ও লাভজনক বছর হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
কিশোরগঞ্জের হাওরে মিঠামইন উপজেলার একটি লাশবাহী ট্রলারে ডাকাতির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। করিমগঞ্জ উপজেলার বালিখলা থেকে মিঠামইন আসার পথে নয়াগাঁও সুইচগেট এলাকায় মঙ্গলবার (০৭ জুলাই) আনুমানিক রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। মুখোশধারী ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে মাইশা পরিবহন নামে ট্রলারে থাকা শোকসন্তপ্ত লোকজনকে জিম্মি করে সোলার প্যানেল, ব্যাটারী, নগদ টাকা ও মোবাইল ফোনসহ মূল্যবান মালামাল লুটে নেয়। নৌকায় থাকা মৃত শিশুটি মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের চমকপুর গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়ার সন্তান।
ভুক্তভোগী নৌকার মাঝি রতন মিয়া জানান, আমি ঘটনার রাতে বালিখলা এলাকা থেকে একটি শিশুর মরদেহ নিয়ে স্বজনদের সাথে নৌকায় করে মিঠামইনের উদ্দেশ্যে রওনা দেই। নৌকাটি নয়াগাঁও সুইচ গেটের কাছাকাছি পৌঁছালে ৬/৭ জনের মুখোশধারী একটি সশস্ত্র ডাকাত দল আমাদের গতিরোধ করে। এরপর ডাকাতরা নৌকায় থাকা লোকজনকে অস্ত্রের মুখে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের কাছে থাকা সোলার প্যানেল, ব্যাটারী, মোবাইল ফোন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
এ বিষয়ে মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, আক্রান্ত নৌকাটি মিঠামইন উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের হলেও ঘটনাটি ঘটেছে করিমগঞ্জ থানা এলাকার সীমানায়।
অন্যদিকে, করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেব খান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশবাহী নৌকায় একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি শুনেছেন। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনো লিখিত বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়নি। তিনি আরও জানান, অভিযোগ প্রাপ্তি সাপেক্ষে তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় দেশের সমুদ্র বন্দরগুলোকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের (বিএমডি) বিশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, পূর্ব মধ্যপ্রদেশ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থানরত সুষ্পষ্ট লঘুচাপটি উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে বর্তমানে উত্তর-পশ্চিম মধ্যপ্রদেশ ও সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, “এটি আরও পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যেতে পারে।” এই লঘুচাপের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের পার্থক্যের আধিক্য বিরাজ করছে।
বিরূপ আবহাওয়ার আশঙ্কায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত (পুনঃ ৩ নম্বর) বহাল রাখতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় অঞ্চলে বায়ুচাপের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগরীর শহীদ ওয়াসিম ফ্লাইওভারে একটি বিকল ট্রাকের পেছনে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ফাইয়াজ তাজরিয়ান (২৫) নামের এক এনসিপি নেতা নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত ফাইয়াজ জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চট্টগ্রাম মহানগর শাখার একজন সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং হাটহাজারী উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাকিম উদ্দিনের পুত্র।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র হতে জানা যায়, আখতারুজ্জামান (শহীদ ওয়াসিম) ফ্লাইওভারের ওপর একটি মালবাহী ট্রাক যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দাঁড়িয়ে ছিল। রাতে ফাইয়াজ মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় স্থির থাকা ওই ট্রাকটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দিলে তিনি গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ও দলীয় কর্মীরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। উল্লেখ্য যে, ওই দিন সকালেও তিনি একটি দলীয় কর্মসূচিতে সামনের সারিতে থেকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন।
দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপির দপ্তর সম্পাদক রিদুয়ান হৃদয় জানান যে, বৃষ্টির কারণে সড়কটি পিচ্ছিল হয়ে ছিল এবং ফ্লাইওভারে বিদ্যুৎ সংযোগ থাকলেও বাতিগুলো তখন নেভানো ছিল। ফলে ঘুটঘুটে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি দেখতে না পাওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। অন্যদিকে, পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ কামাল জানান, ধারণা করা হচ্ছে বিকল ট্রাকটি মেরামতের কাজ চলছিল এবং দ্রুতগতিতে আসা মোটরসাইকেলটি ট্রাকের পেছনের অংশে ঢুকে পড়ায় এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।