অপারেশন ডেভিল হান্টে চট্টগ্রামে ৩৫ জন, সুনামগঞ্জে ৭, মানিকগঞ্জে ১১, বাগেরহাটের মোংলায় ৬, নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ৩, পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ১, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ৩, কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৪ ও টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে ২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৩৫ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে সোমবার রাতে চাক্তাইয়ের চাউলপট্টি এলাকার বাসা থেকে চট্টগ্রাম মহানগরের ৩৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নুর হোসেন নুরু আটক হয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পটভূমি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় ভূমিদখল ও চাঁদাবাজির খেলায় মেতে ওঠে কিশোর গ্যাং পরিচালিত নুরু গ্রুপ।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর (৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড) মেজর রিজোয়ান বলেন, সোমবার রাতে অভিযান চালায় যৌথবাহিনী। চাঁদাবাজির কারণে নুর হোসেন নুরুকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার রাতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হাতিয়া থানাধীন ৬নং চরকিং ইউনিয়নে কাওসার মিয়ার ব্রিকফিল্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মো. নবির উদ্দিন, মো. ইমাম হোসেন ও মো. ফখরুল ইসলাম টিপুকে আটক করা হয়। অপরদিকে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলায় অভিযান চালিয়ে হুমায়ুন কবির ওরফে বাবুল নামক এক সন্ত্রাসীকে আটক করা হয়।
মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
দীপন ধর (৪০), মো. ফারুখ (৪৫), মো. ইমরান হোসেন (৩২), মো. মনির আলম (৩৩), পেয়ার আহমেদ (৪৫), মো. আব্দুর রহমি (৩৭), মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন চৌধুরী (৫২), মামুনুর রশদি পাভেল (২১), শুক্কুর আহমেদ ওরফে মো. ফয়সাল (২২), আলী মর্তুজা (৩৫), শাহাজাহান ইসলাম সাজু (২৮), মো. নাহিদুল আলম এলিন (৪৩), মো. সফর আলী (৩৯), মো: ইকবাল হোসেন (৩৫), মো. নুরুল আলম (৬২), মো. রুবেল মিয়া (২৬), আব্দুর রউফ বাদশা (১৯), ওসমান গণি ওরফে ইমন (২৪), এ এন মেহেদী ইসলাম বাপ্পী (৪৪), মো. রফিক (৪০), মো. রাকিব(২৪), জুলফিকার আলী মাসুদ(৫০), সাইফুল ইসলাম (৪৭), মোহাম্মদ আরশাদুল নুর (২০), আবুল কাসেম (৪৫) ও মো. আকবর হোসেন (২৫), ইমাম হোসেন ওরফে ইব্রাহীম (২৫), মো. বেলাল (৩৩), মো. রুবেল (২৭) ও মো. আলমগীর হোসেন (৩৬)।
মানিকগঞ্জ
মানিকগঞ্জে অপারেশন ডেভিল হান্ট অভিযান পরিচলনা করে অস্থিতিশীলতা পরিকল্পনার অভিযোগে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ১১জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত ও দিনে সাতটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করেন জেলা পুলিশ।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আব্দুল কাদের (৭২), আমজাদ হোসেন (৪৫) ও আব্দুস সামাদ (৫০), হাবিবুর রহমান শিবলী (৪৬), রিয়াদ হোসেন (৩৭), নজরুল ইসলাম শাহজাহান (৪৯), সাইফুল ইসলাম (৪০), মজনু মিয়া (৫৩), কুদ্দুস মিয়া (৪৪), আব্দুল্লাহ আল মামুন (৩৪) এবং আশরাফুল ইসলাম (৫২)।
মোংলা (বাগেরহাট)
মোংলায় কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশের পৃথক অভিযানে অস্ত্র-গুলিসহ ৬ আওয়ামী লীগ নেতা আটক হয়েছেন।
মঙ্গলবার ভোর রাতে কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও পুলিশ মোংলার চাঁদপাই ইউনিয়নের মালগাজী এবং বুড়িরডাঙ্গা ইউনিয়নের দিগরাজ এলাকায় অভিযান চালান। এ সময় আওয়ামী লীগ নেতা মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৩), মোঃ ডালিম (৫২), মোঃ শফিকুর রহমান (৭২), বিধান চন্দ্র রায় (৬৬) কে ১টি দুইনালা বিদেশি বন্দুক ও ১৫ রাউন্ড তাজা গুলিসহ আটক করা হয়।
অপরদিকে মঙ্গলবার রাতে মোংলার কুমারখালী ও গোয়ালেরমেঠ এলাকায় অভিযান চালিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা রফিকুল ইসলাম এবং মোঃ সাইফুল শেখকে আটক করেছেন পুলিশ।
সুনামগঞ্জ
সুনামগঞ্জে গত ২৪ ঘণ্টায় সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, শান্তিগঞ্জ উপজেলার নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক ও বগলাকাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহান উদ্দিন (৩৩), সুনামগঞ্জ সদর থানার মঙ্গলকাটা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী (৬০)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। মো. খোকন মিয়া (৪০), মধ্যনগর থানার রৌয়া গ্রামের বাসিন্দা মো. খোকন মিয়া (৪০)। তিনি বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সভাপতি। জগন্নাথপুর থানার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. কামরুল হাসান তেরা মিয়া (৪০)। তিনি জগন্নাথপুর পৌরসভা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক। তাহিরপুর থানার সোলেমানপুর গ্রামের বাসিন্দা মো. আকরামিন হোসেন (২১)। তিনি নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের সহ-সভাপতি। ছাতক থানার নোয়াগাঁও গ্রামের বাসিন্দা জানে আলম (২৮)। তিনি ইসলামপুর ইউনিয়নের আট নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি। সুনামগঞ্জ সদর থানার ঘাসিগাঁও গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালাম আজাদ (৪০)। তিনি জাহাঙ্গীরনগর ইউনিয়নের যুবলীগের সাবেক আহ্বায়ক।
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ডেভিল হান্ট অপারেশনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে তাদের উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক হাফেজ সোহান হাসান, সোনারগাঁ পৌরসভার ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রনি বিল্লাহ ও জামপুর ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি মেসা. শফিকুল ইসলাম।
মেহেরপুর
মেহেরপুর সদর উপজেলার ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত সকলেই সন্ত্রাসী বিরোধী আইনের মামলার আসামি।
গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- মেহেরপুর পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর মঞ্জুরুল কবির রিপন (৪৫), মেহেরপুর শহরের শিশু বাগান পাড়ার নুরূল ইসলামের ছেলে এনামুল হক বাবলু (৪৫) এবং নতুনপাড়ার আব্দুল কাদেরের ছেলে হৃদয় হোসেন (২৭)।
কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
কলাপাড়ায় মহিপুর থানা যুবলীগের সদস্য ও মহিপুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য মো. মামুন হাওলাদার(৪৫) কে আটক করেছে পুলিশ।
মহিপুর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, ডেভিল হান্ট অপারেশনে তাকে আটক করে নিয়মিত মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে।
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ থেকে সেচ্ছাসেবকলীগ নেতাসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সোমবার রাত থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলো, রূপগঞ্জ সদর ইউনিয়ন সেচ্চাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি আলীম সরকার, তারাবো পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক রনি হোসেন ও ভুলতা ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবকলীগ কর্মী বাছেদ মিয়া।
ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৪ জন আটক করেছে পুলিশ। সোমবার দিনভর অভিযান পরিচালনা করে তাদের আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সাবেক সভাপতি ও সাবেক কমিশনার আফজাল হোসেন ভূইয়া (৬৭)। অন্য আসামিরা হলেন, শহরের ভৈরবপুর উত্তরপাড়া এলাকার হাজী আব্দুর রহমান মিয়ার ছেলে ও আওয়ামী লীগ সক্রিয় কর্মী নান্নু মিয়া (৬২), গজারিয়া ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি এলাকার কালা মিয়ার ছেলে ও আওয়ামী লীগ সক্রিয় কর্মী বাদল মিয়া (৩৮) ও শিবপুর ইউনিয়নের মৃত ইদ্রিস মিয়ার ছেলে ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মুর্শিদ মিয়া (৫০)।
ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে আওয়ামী লীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে ভূঞাপুর থানা পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার পৌর এলাকার বাহাদীপুর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- ভূঞাপুর পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বেলাল হোসেন ও একই ওয়ার্ডের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক কাউন্সিলর রফিকুল ইসলাম।
ময়মনসিংহ জেলার জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুর রহমান জেলার ফুলবাড়িয়া উপজেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেছেন।
সোমবার (২০ জুলাই) তিনি ফুলবাড়িয়ায় পৌঁছলে তাঁকে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ফুলেল শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়।
এদিন জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান উপজেলা ভূমি সংলগ্ন পুকুর খনন,ঘাটলা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন ও মাছের পোনা অবমুক্তরন করেন। পরে পুকুর পাড়ে নারিকেল গাছের চারা রোপণ করেন তিনি।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে জেলা প্রশাসক ভূমি সংক্রান্ত সেবার মান উন্নতকরন, নামজারি, মিসকেইছ ও উপজেলার খাস জমির সঠিক তথ্য পরিমাপ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে রিপোর্ট করতে কঠোর নির্দেশ প্রদান করেন।
জানাগেছে, জেলা প্রশাসক দিনব্যাপী এ ভ্রমনে উপজেলা পরিষদ,উপজেলা ভূমি অফিস,কালাদহ ইউনিয়ন পরিষদসহ ইউনিয়নটির ডিজিটাল সেন্টার, ইউনিয়ন ভূমি অফিস,ফুলবাড়িয়া থানা পরিদর্শন ও বিভিন্ন উন্নয়ন কাজ পরিদর্শন করেন।
পরে বিকেলে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মাঝে সেলাই মেশিন এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ছাত্রছাত্রীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, সাইকেল বিতরণ, প্রাথমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ
ও ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ করেন তিনি।
এর আগে পরিষদ মিলনায়তনে মাদক, জুয়া,বাল্যবিবাহ ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় রোধে সচেতনতামূলক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) শহিদুল ইসলাম সোহাগ,সহকারী কমিশনার (ভূমি) শেখ তাকী তাজওয়ার, ফুলবাড়িয়া থানার ওসি রাশেদুল হাসান প্রমূখ ।
মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার চেক ডিজঅনারের মামলায় রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাহেদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। করোনার নমুনা পরীক্ষা নিয়ে জালিয়াতির অভিযোগে এর আগে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনায় এসেছিলেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত-৫ এর বিচারক সাদিক আহম্মেদ এই আদেশ দিয়েছেন।
সাহেদের পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী মোহাম্মদ দবির উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ‘মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের মামলাটি যখন হয় তখন তিনি সাড়ে চার বছর জেলে ছিলেন। তখন মামলাটিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। ২০২৫ সালের ৪ মে আদালত তাকে এই মামলায় এক বছরের সাজা দেয় এবং সমপরিমাণ টাকা (২ কোটি ১৬ লাখ) অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। এখন যেহেতু উনি কারাগারে গেছেন, আমরা আপিল করব।’
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ব্যবসার উদ্দেশ্যে মার্কেন্টাইল কো-অপারেটিভ ব্যাংকের কাছ থেকে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকা ঋণ নেন সাহেদ। ওই ব্যাংকে ঋণের বিপরীতে জামানত হিসেবে ২ কোটি ১৬ লাখ টাকার সমপরিমাণ মূল্যের একটি চেক জমা দেন তিনি। পরবর্তীতে সেই ঋণের টাকা পরিশোধ না করায় ব্যাংক কর্তৃপক্ষ চেকটি ডিজঅনার করে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংকের পক্ষ থেকে ১৮৮১ সালের নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্ট আইনের ১৩৮ ধারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। এরপর মামলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ৪ মে আদালত তাকে এই মামলায় এক বছরের কারাদণ্ড এবং সমপরিমাণ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত করেন। ওই সময় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
এর আগে, রাজধানীর ইসিবি চত্বর থেকে সাহেদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পল্লবী থানা পুলিশের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে পল্লবী থানায় সোপর্দ করা হয়।
পুলিশের ইউনিফর্ম পরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার অভিযোগে ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসর দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ আদেশ জারি করা হয়। সোমবার (২০ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৯ এপ্রিল ঝিনাইদহ-১ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী তার ছোট ভাই মো. ওয়াহিদুজ্জামান ঢাকার ধানমন্ডিতে দলটির রাজনৈতিক কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে গেলে মো. মনিরুজ্জামান পুলিশের ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এবং সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
পরদিন ৩০ এপ্রিল জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে ওই অনুষ্ঠানে তার ইউনিফর্ম পরিহিত উপস্থিতির ছবি ও সংবাদ প্রকাশিত হয়। এ ঘটনায় পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হিসেবে শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ, উপনির্বাচনে বেআইনিভাবে প্রভাব বিস্তারের কৌশল অবলম্বন এবং জনসম্মুখে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
তিনি লিখিত জবাব দিলেও ব্যক্তিগত শুনানিতে অংশ নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন। পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় তিন সদস্যের তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। তদন্ত শেষে বোর্ড অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে বলে মত দেয়।
নওগাঁয় বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিল) ধ্বংস করেছে প্রশাসন। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে নওগাঁ জেলা প্রশাসকের কার্যলায় চত্বরে রোলার দিয়ে এসব মাদক ধ্বংস করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট (মালখানা) আরেফিন রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ( প্রশাসন ও অর্থ) মনিরুল ইসলামসহ পুলিশের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, গত ৬ বছরে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে মাদককারবারিদের কাছে থেকে এসব মাদকদ্রব্য (ফেনসিডিল) মাদক জব্দ করা হয়েছিল। মামলার পর এসব মাদক মালখানায় রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে এসব ধ্বংস করা হয়। এ সময় জেলা ফায়ার সার্ভিসের টিম সহযোগিতা করে।
নওগাঁ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও ভারপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেট (মালখানা) আরেফিন রহমান বলেন, ‘২০১৫ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত (৬ বছর) ১৫১টি মামলায় এসব মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছিল। যার পরিমাণ ১৬ হাজার ৬১ পিস। পরে সকলের উপস্থিতিতে এসব ধ্বংস করা হয়।’
জাতীয় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন শেষ হলেও কুমিল্লায় হামের প্রকোপ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়ার পাশাপাশি বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে কুমিল্লায় হাম সন্দেহে ও পরীক্ষায় নিশ্চিত মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে।
মারা যাওয়া শিশুটির নাম রায়হান (১৮ মাস)। তার বাবার নাম ইমাম হোসেন। তাদের বাড়ি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায়। হামের উপসর্গ নিয়ে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তথ্যানুযায়ী, নতুন করে ১৫ জন সন্দেহজনক হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ১২ জনের শরীরে পরীক্ষার মাধ্যমে হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে ১৫ জন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং চিকিৎসা শেষে ১৮ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চলতি বছরের ১৯ জুলাই পর্যন্ত জেলায় মোট ৩ হাজার ১৯ জন সন্দেহজনক হামরোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় ৪৮২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। এ সময়ে হাম সন্দেহে ১৩ জন এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে। একই সময়ে মোট ২ হাজার ৫৬৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ২ হাজার ৫০২ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন।
কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘হামের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’ পাশাপাশি শিশুদের নির্ধারিত সময়ে টিকা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে টিকাদান ক্যাম্পেইনের পরও কেন হাম ও হাম-সম্পর্কিত মৃত্যু পুরোপুরি কমছে না—এ বিষয়ে কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশীর আহমেদ বলেন, ‘যেসব শিশু মারা গেছে, তারা টিকা পেয়েছিল কি না, সেটি খতিয়ে দেখতে হবে। তবে আগের তুলনায় জেলায় হামে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে।’
যশোরের শার্শায় পৃথক দুইটি অভিযান চালিয়ে ২৬৯ বোতল উইনকেরেক্স এবং ৭৪৪ বোতল স্কাফসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬।
গতকাল রবিবার (১৯ জুলাই) যশোর জেলার শার্শা থানাধীন গোবিনাথপুর বটতলা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ মাদকদ্রব্য ২৬৯ বোতল উইনকেরেক্স এবং ৩০ বোতল স্কাফসহ দুইজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন যশোরের শার্শা থানাধীন বটতলা গ্রামের বাসিন্দা মোঃ কামাল হোসেনের ছেলে মোঃ বশির (২২) এবং মোঃ সানাউল্লাহ এর ছেলে মিনহাজ।এবং বিকালে যশোরের শার্শা থানাধীন টেংরালী বাউন্ডারিপাড়া এলাকায় অপর এক অভিযান পরিচালনা করে ৭৪৪ বোতল স্কাফসহ একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতারকৃত আসামি হলেন যশোরের শার্শা থানাধীন টেংরালিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মোঃ হোসেন আলীর ছেলে আবু বক্কর (৩৬)। উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের নিমিত্তে যশোর জেলার শার্শা থানায় গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু পূর্বক উদ্ধারকৃত আলামত ও আসামিদেরকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
চার দিনের টানা ভারী বৃষ্টিপাতে খুলনা অঞ্চলের মৎস্য ও কৃষি খাতে আনুমানিক ১৩০ কোটি ৫০ লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী এ তথ্য পাওয়া গেছে।
খুলনা বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ভারী বৃষ্টিপাতে বিভাগের ১০টি জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে।
তিনি জানান, বিভাগে মোট ৪,৭৬৪টি পুকুর এবং ২,৮০৮টি দিঘি ও মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে; এর মধ্যে শুধুমাত্র মৎস্য খাতেই প্রায় ১২৬ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং মোট ক্ষতির প্রায় ৭০ শতাংশই হয়েছে চিংড়ি চাষিদের।
তবে তিনি জানান, মোট ক্ষতির মধ্যে সাদা মাছ চাষিরা ৭৩ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এ ছাড়া চিংড়ি খাতে ১৫ কোটি, মাছের পোনা খাতে ৯ কোটি এবং কাঁকড়া ও কুচিয়া খাতে ২৯ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
দেশের অন্যতম প্রধান চিংড়ি চাষের কেন্দ্রস্থল ডুমুরিয়া এলাকাটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে প্রায় ৬৫০টি মৎস্য ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ৮ কোটি ৬০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
সূত্র জানায়, বাঁধ ও মাছ চাষের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থাপনার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবিরাম বৃষ্টিপাত এবং নদীর পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়াকে এই ক্ষতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন খুলনা বিভাগের মৎস্য অধিদপ্তরের পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম।
পুরস্কারপ্রাপ্ত চিংড়ি চাষি মাহতাব হোসেন বলেন, ‘চিংড়ি চাষ মৌসুমের শুরুতেই এমন প্রবল বৃষ্টিপাতের কথা চাষিরা আগে ধারণা করতে পারেননি। আমরা সবেমাত্র চিংড়ির পোনা ছাড়তে শুরু করেছি এবং এই উৎপাদন প্রক্রিয়া আরও ৬ মাস চলবে। এই ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে সময় লাগবে।’ তিনি বলেন, ‘পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেন যে, আরও বৃষ্টিপাত হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।’
এদিকে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খুলনা জেলায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খুলনা অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) অতিরিক্ত পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম জানান, এতে ৭,৭৩৬ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং প্রায় ১৮০.৩ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তরমুজ চাষিরা। তাদের ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৬.৫ কোটি টাকা। অন্যদিকে, ধান ও সবজি চাষে ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা।
তিনি বলেন, ‘জমি থেকে দ্রুত পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকরা খুব শীঘ্রই এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারবেন; পাশাপাশি কৃষকরা আমন ধানের বিশাল আকারের বীজতলা প্রস্তুত রেখেছিলেন এবং বিএডিসি-র ১০০ টন বীজও মজুত ছিল।’
তিনি বলেন, ‘আরও বৃষ্টিপাত হলে কৃষকদের হয়তো কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হবে না; পাশাপাশি সরকারি সহায়তা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতেও সহায়তা করবে।’
তেলিগাটি মৌজার অন্তর্গত বিল ডাকাতিয়ার মৎস্য ঘেরের মালিক মমরোজ আলী জানান, বৃষ্টির পানি উপচে পড়ার কারণে বিল ডাকাতিয়ার মৎস্য চাষিরা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি জানান, ৬৫ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত তার তিনটি মৎস্য খামারের মধ্যে দুটিই তলিয়ে গেছে। অতিরিক্ত পানির তোড়ে ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকার মাছ ভেসে গেছে। সরকার যদি আমাদের প্রণোদনা দেয়, তবে আমরা এই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে পারব।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে অনুমোদনহীন জ্যামের ফিলিংস ব্যবহার, বিএসটিআই (BSTI) লাইসেন্স জালিয়াতি এবং পণ্যের মোড়কে বাংলা ভাষার পরিবর্তে চাইনিজ ভাষা ব্যবহারের দায়ে ‘আইশিন ফুডস কোম্পানি লিমিটেড’ নামের একটি খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের নাগরভেলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন কালীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জাকিয়া সরোয়ার লিমা।
আদালত ও তদন্ত সূত্রে জানা গেছে, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে পরিচালিত এই অভিযানে প্রতিষ্ঠানটিতে চরম অব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ খাদ্য আইনের একাধিক গুরুতর লঙ্ঘন ধরা পড়ে।
প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদিত পাউরুটি বা ব্রেডের মেয়াদ দেওয়া হচ্ছিল ২০ দিন থেকে এক মাস পর্যন্ত। তবে এত দীর্ঘ সময় পাউরুটি কীভাবে ভালো থাকবে, সে বিষয়ে কোনো বৈধ ল্যাব রিপোর্ট তারা দেখাতে পারেনি। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি যে ধরনের ব্রেড উৎপাদনের জন্য লাইসেন্স নিয়েছিল, বাস্তবে তার মিল না রেখে সম্পূর্ণ ভিন্নভাবে পাউরুটি উৎপাদন করছিল। বিশেষ করে ব্রেডের ভেতরে একটি ‘জ্যাম ফিলিংস’ ব্যবহার করা হচ্ছিল, যার উপকরণের কোনো সঠিক ব্যাখ্যা বা বৈজ্ঞানিক তথ্যসংশ্লিষ্ট কেউ দিতে পারেননি। এই জ্যাম ব্যবহারের কোনো বিএসটিআই অনুমোদনও ছিল না।
কারখানায় ব্যবহৃত উপকরণের মোড়ক এবং সকল নির্দেশনা চাইনিজ ভাষায় লেখা ছিল, যা ‘নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩’-এর স্পষ্ট পরিপন্থি। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী পণ্যের মোড়কে বাংলা ভাষার ব্যবহার বাধ্যতামূলক। এ ছাড়া অভিযানের সময় কারখানাটির হালনাগাদ কোনো ট্রেড লাইসেন্সও পাওয়া যায়নি।
এসব অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ৩ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে উপস্থিত ইন্টারপ্রিটেশনাল মো. রিফাত (২৪) জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন।
অভিযানে প্রসিকিউটর হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের গাজীপুর জেলা কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য অফিসার ফারজানা ইয়াসমিন সোনিয়া। আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলাম।
ফরিদপুরে নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সার্ভিক্যাল ও ব্রেস্ট ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এক কর্মশালা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) শহরের একটি রেস্টুরেন্টে এ কর্মশালার আয়োজন করে ফাউন্ডেশন ফর উইমেন পসিবিলিটিজের সহযোগিতায় ফরিদপুরের নন্দিতা সুরক্ষা ।
এতে নারী, কিশোরী, কমিউনিটি সদস্য, স্বেচ্ছাসেবী এবং নারী অধিকারকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালায় সার্ভিক্যাল ও ব্রেস্ট ক্যানসার সম্পর্কে মৌলিক ধারণা, ঝুঁকির কারণ, সতর্কতামূলক লক্ষণ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ, HPV টিকা, VIA স্ক্রিনিং এবং ব্রেস্ট পরীক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সেশনটি পরিচালনা করেন ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা অধ্যাপক সুলতানা বেগম লিপি। তিনি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন, সার্ভিক্যাল ক্যানসার অনেকাংশে প্রতিরোধযোগ্য এবং সময়মতো পরীক্ষা ও চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমে ব্রেস্ট ক্যানসারের ঝুঁকি ও জটিলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। তিনি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সচেতন জীবনযাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর উপ-পরিচালক মাসউদা হোসেন নারীদের স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধিতে এ ধরনের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
নন্দিতা সুরক্ষার নির্বাহী পরিচালক তাহিয়াতুল জান্নাত রেমি বলেন, নারীদের স্বাস্থ্য, অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে লেবু, আম, সুপারিসহ বিভিন্ন জাতের প্রায় সাড়ে ৫ হাজার গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের মাঝে চারা বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মু. সালাহউদ্দিন আইউবী।
গাছের চারা ও সার সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক। কৃষকদের উদ্দেশ্য স্বাগত বক্তব্য দেন উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আউলিয়া খাতুন।
কৃষি অফিস সূত্র জানায়, বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় কাপাসিয়া উপজেলার ৫৮২ জন কৃষকের মাঝে কৃষকপ্রতি ৫টি গাছের চারা, ২৫ কেজি জৈব সার এবং ৫টি করে বাঁশের খুঁটি বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া ৯৭টি প্রতিষ্ঠানের মাঝে বিনামূল্যে প্রত্যেকটিতে ২০টি গাছের চারা, ১০০ কেজি জৈব সার এবং ২০টি বাঁশের খুঁটি দেওয়া হয়।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনসংলগ্ন পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান। পরে পর্যায়ক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন জলাশয়েও দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি দেশীয় ক্ষুদ্র মাছের জিনগত বৈচিত্র্য সংরক্ষণ, টেকসই প্রজনন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং গবেষণাভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনায় এ ধরনের প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম, উপউপাচার্য প্রফেসর ড. হারুনর রশীদ খান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. নূরুন্নবী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. এস এম মাহবুবুর রহমান, এফএমআরটি ডিসিপ্লিনের প্রধান প্রফেসর ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের মুখ্য গবেষক প্রফেসর ড. গোলাম সরোয়ার, খানজাহান আলী হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. খসরুল আলম, খান বাহাদুর আহছানউল্লা হলের প্রভোস্ট প্রফেসর শরীফ মোহাম্মদ খানসহ ডিসিপ্লিনের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) আবু সালেহ পারভেজ ও এস্টেট শাখা প্রধান এস এম মোহাম্মদ আলী এবং বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
নড়াইল জেলার গ্রামীণ ও শহরঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে। গত বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু হওয়া দুর্ভোগ বর্তমানে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জেলার বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা খানাখন্দে ভরে গিয়ে যান চলাচলের একেবারেই অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী রাস্তায় ধানগাছের চারা রোপণ ও মানববন্ধন করে প্রতিবাদ জানালেও মিলছে না কোনো স্থায়ী সমাধান। পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় কাজ শুরু করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয় নানা শ্রেণিপেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে সড়কগুলোর করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। বৃষ্টি হলেই রাস্তার গর্তগুলোতে পানি জমে কাদা-পানিতে একাকার হয়ে যায়। দিনদিন গর্তগুলো আরও বড় হয়ে ছোট-বড় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। নড়াইল পৌর এলাকার প্রায় সবকটি ওয়ার্ডের ভেতরের রাস্তার পিচ ও ইটের খোয়া উঠে বড় বড় খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে হেঁটে চলাও এখন দায়। সন্ধ্যার পর নড়াইলের গ্রামীণ রাস্তায় গাড়ি চালানো যায় না। গর্তে পানি জমে থাকলে বোঝার উপায় থাকে না। দিনের বেলাতেও বড় ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।
ভ্যানচালক আলী মিয়ার কণ্ঠেও ঝরে পড়ে জীবন-জীবিকার উৎকণ্ঠা। তিনি বলেন, লোড ভ্যান নিয়ে গ্রামের রাস্তায় যাওয়ার সাহস পাই না। গরিব মানুষ, ভ্যান নষ্ট হলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরতে হবে।
গোবরা বাজার থেকে অভয়নগর নোয়াপাড়া-শংকরপাশা সড়কে বড় বড় গর্তের কারণে বেশ আগেই এ রুটে পরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া খাশিয়াল-জয়নগর থেকে নড়াগাতি থানা বা জরুরি চিকিৎসা সেবার জন্য পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ ও খুলনা জেলায় যাতায়াতের প্রধান পথটি এখন চলাচলের অনুপযোগী।
মুলিয়া বাজার থেকে বরেন্দা যাওয়ার রাস্তাও কাদা-পানিতে দুর্গম রূপ নিয়েছে। আর মাছিমদিয়া চৌরাস্তা থেকে ঢাকা-বেনাপোল মহাসড়কের উপরিভাগ সম্পূর্ণ উঠে গেছে। রতডাঙ্গা পালবাড়ি মোড় থেকে হবখালী ইউনিয়ন বাজার এবং চুনখোলা থেকে খড়ড়িয়া বাজার সর্বত্রই বড় বড় খানাখন্দ।
জোড়াতালির সংস্কার ও স্থানীয় ক্ষোভ: ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে এলাকাবাসী রাস্তায় ধানগাছের চারা লাগিয়ে এবং বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
নড়াগাতি থানার খাশিয়াল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. বরকত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, বিক্ষুব্ধ মানুষের প্রদিবাদের পর কর্তৃপক্ষ নামকাওয়াস্তে ইটের খোয়া ফেলে রোলার দিয়ে ডলন দিয়েছিল। কিন্তু যানবাহনের চাপে কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তা আবার আগের মতো ভাঙ্গাচোরা হয়ে গেছে।
সড়কের এই বেহাল দশা স্বীকার করে নিয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের (এলজিইডি) নড়াইল অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার ইকরামুল কবির জানান, কয়েকটি রাস্তা সড়ক ও জনপথ বিভাগের এবং কিছু তাদের অধীন।
তিনি বলেন, জরুরি ভিত্তিতে আপৎকালীন কিছু রাস্তা সংস্কারের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বড় আকারের স্থায়ী কাজের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। বরাদ্দ না পেলে পুরোদমে মেরামতের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১৭টি জেলার ওপর দিয়ে আজ দুপুরের মধ্যে ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সাথে এসব এলাকায় বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের প্রবল সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে বিশেষ সতর্কবার্তা প্রদান করেছে সংস্থাটি। সোমবার ভোর ৫টা হতে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরসমূহের জন্য দেওয়া এক আবহাওয়া বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক হতে ঘণ্টায় ৪৫ হতে ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই বিরূপ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এসব এলাকার নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত প্রদর্শন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।