শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
৫ আষাঢ় ১৪৩৩

নাফ নদীতে ৮ বছর পর জালে ১৯৪ কেজির বোল মাছ

কেজির ধরে বিক্রি করতে মাইকিং * প্রথমে দফায় বিক্রি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা
শাহপরীর দ্বীপ কোনা পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা কালু ফকিরের মালিকানাধীন টানা জালে ধরা পড়া বোল মাছটি। ছবি: দৈনিক বাংলা
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ১৮:৫৩

কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ নাফ নদীতে টানা জালে ধরা পড়েছে ১৯৪ কেজি ওজনের একটি বোল মাছ।

আজ রোববার সকালে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর এলাকার নাফ নদে মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি শাহপরীর দ্বীপ কোনা পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা কালু ফকিরের মালিকানাধীন টানা জালে ধরা পড়ে।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে শাহপরীর দ্বীপ ট্রলার মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘সকালে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর এলাকার নাফ নদের মোহনায় জেলেরা টানা জাল ফেলে। ঘণ্টাখানেক পর জাল টানার চেষ্টা করে জেলেরা। এ সময় ছোট ছোট মাছের সঙ্গে এই বড় বোল মাছটি জালে আটকে যায়। পরে জেলেরা নাফ নদী থেকে বড় মাছটি রশি বেঁধে টেনে টেনে চরের ওপরে তুলে নিয়ে আসে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাছটি শাহ পরীর দ্বীপ জেটিঘাটে নেওয়া হয়। ওই সময় মাছটি দেখতে ভিড় জমান লোকজন।

শাহ পরীর দ্বীপ কোনা পাড়ার নৌকার মাঝি নুর মোহাম্মদ জানান, জালে প্রথমবার ১৯৪ কেজি ওজনের বড় বোল মাছ আটকা পড়েছে। মাছটি শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাটে এনে মাছটির দাম হাঁকানো হয়েছিল তিন লাখ টাকা। পরে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী নুরুল আলমের কাছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করেছি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শাহপরীর দ্বীপের এক জেলের জালে একটি বিশাল মাছ ধরার খবর শুনেছি। তবে শীত মৌসুমে ৫ থেকে ১৫ কেজি ওজন পর্যন্ত বোল মাছ জেলেদের জালে আটকা পড়ে।’

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সাগরের মাছ ধরার ওপর বিভিন্ন ধরনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে পালন হওয়ায় মাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আবার বড় মাছ জেলেদের জালে আটকা পড়লে সবাই দেখে আনন্দ পান, তেমনি জেলেরা ভালো দাম পাচ্ছেন।’

এদিকে মাছটি বিক্রি করতে মাইকিং করছেন মাছ ব্যবসায়ী আবদুর শুক্কুর। তিনি বলেন, ‘নাফ নদে জেলেদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কেজি ওজনের বোল মাছ আড়াই লাখের বেশি দামে কেনা হয়েছে। সেটি বিক্রি করতে মাইকিং করা হচ্ছে। কমপক্ষে কেজি দেড় হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হবে।’


নির্বাচিত

ভোলায় জন্মসনদ-এনআইডি জালিয়াতি, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে নতুন শঙ্কা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা

ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ভূয়া ঠিকানা ব্যবহার করে রোহিঙ্গাদের জন্মনিবন্ধন সনদ ও জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংগ্রহের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ দালালচক্র অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গা ও ভিন্ন জেলার লোকজনকে স্থানীয় বাসিন্দা পরিচয়ে জন্মসনদ ও ভোটার করার কাজে জড়িত। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর উপজেলাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

‎‎জানা যায়, উপজেলার কুতুবা ইউনিয়নের ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সম্প্রতি দুই ব্যক্তির নামে জন্মনিবন্ধন সনদ ইস্যু হওয়ার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তাদের পরিচয় ও স্থায়ী ঠিকানা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রকৃত বাসিন্দা না হয়েও কিছু ব্যক্তি স্থানীয় ঠিকানা ব্যবহার করে সরকারি নথিপত্র সংগ্রহ করছেন।‎

‎স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে যোগাযোগ ব্যবহার করে এসব অনিয়ম পরিচালনা করছে। ফলে প্রকৃত তথ্য যাচাই ছাড়া কিছু ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক সনদপত্র পেয়ে যাচ্ছেন।

‎‎অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঢাকার কয়েকটি ট্রাভেল এজেন্সি ও দালালচক্রের মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের দেশের বিভিন্ন এলাকায় পাঠানো হচ্ছে। পরে স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাবশালী ব্যক্তি ও অসাধু কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় জন্মনিবন্ধন এবং ভোটার নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কাজে জনপ্রতি প্রায় দুই লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন হয় বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। যদিও এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাই হয়নি।

‎‎এদিকে তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কুতুবা ইউনিয়ন পরিষদের এক কর্মকর্তা সংবাদ প্রকাশ ঠেকাতে এক সাংবাদিককে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব দেন। তবে ওই সাংবাদিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।‎

‎স্থানীয়দের ভাষ্য, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে অন্য জেলা থেকে আসা এক নারী বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ভোটার হওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি তার বাবাসহ উপজেলা নির্বাচন কার্যালয়ে উপস্থিত হন। নির্বাচন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে তারা স্থানীয় একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থান করেন। পরে স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে তারা অন্য এলাকার বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে ভোটার হওয়ার চেষ্টা করছেন বলে স্বীকার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাদের সঙ্গে একজন দালালও ছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেন। ঘটনার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

‎‎সচেতন নাগরিকরা বলছেন, জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র কেবল নাগরিক পরিচয়ের দলিল নয়; এটি রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম ভিত্তি। প্রকৃত পরিচয় গোপন করে কেউ যদি এসব নথি সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়, তাহলে তা জাতীয় নিরাপত্তা, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং প্রশাসনিক কাঠামোর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।‎

‎বোরহানউদ্দিন মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ও উপজেলা সুজন সভাপতি মনিরুজ্জামান বলেন, ভুয়া পরিচয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র সংগ্রহ করা হলে পরবর্তীতে পাসপোর্ট গ্রহণ, ব্যাংক হিসাব খোলা, মোবাইল সিম নিবন্ধন, ভূমি ক্রয়-বিক্রয় এবং বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সেবা গ্রহণ করা সম্ভব হয়। এর ফলে জালিয়াতি, মানবপাচার ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের ঝুঁকি বাড়তে পারে। একই সঙ্গে ভোটার তালিকায় অনিয়ম প্রবেশ করলে নির্বাচনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতাও প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে।

‎‎স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে বহুবার আলোচনা হলেও কার্যকর তদন্ত হয়নি। তাদের দাবি, উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে না।

‎‎বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।‎

‎‎সুশাসন ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করেন, জন্মনিবন্ধন ও ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় আরও কঠোর যাচাই-বাছাই, বায়োমেট্রিক তথ্যের সমন্বিত ব্যবহার এবং মাঠপর্যায়ে তদারকি বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। পাশাপাশি দালালচক্র ও অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।‎

‎ভোলার বোরহানউদ্দিনে ওঠা এই অভিযোগ এখন শুধু একটি উপজেলার আলোচনার বিষয় নয়; বরং জাতীয় পরিচয়ব্যবস্থা, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং জননিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, সত্যতা যাচাই এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন মহল।


নির্বাচিত

তালায় সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

জাতীয় দৈনিক বাংলা’র তালা উপজেলা প্রতিনিধি ফারুক সাগরের বসতবাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার (১৭ জুন) উপজেলার মাগুরা ইউনিয়নের বালিয়াদহ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ফারুক সাগর মৃত খোরশেদ আলমের ১ম পক্ষের সন্তান।

ফারুক সাগর বলেন, ‘আমার পিতা মৃত খোরশেদ আলমের ২য় পক্ষের একমাত্র ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন ওরফে সৌমিক সম্পত্তির অবৈধ দখল বজায় রাখতে এই হামলা করে। সেই সময় আমি বাড়িতে ছিলাম না।’

ফারুক সাগরের মা আবিদা সুলতানা বলেন, ‘আমার ছেলে পেশাগত কাজে তালা উপজেলা পরিষদে সংবাদ সংগ্রহে যায়। তার অনুপস্থিতিতে বাড়িতে এসে সৌমিক দা দিয়ে দরজায় এবং বাড়ির দেয়ালে কোপ দেয়।’

তার মায়ের অভিযোগ, আমি দীর্ঘদিন ধরে উচ্চ রক্তচাপজনিত রোগে আক্রান্ত। আমার বয়স ৬০ এর বেশি। আমাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে সৌমিক।

প্রত্যক্ষদর্শী নবা গাজী বলেন, ‘পাশের বাড়ির উঠানে আমি কাজ করছিলাম। সৌমিক দা হাতে চিৎকার করতে করতে আসে এবং দরজায় ও বসতবাড়ির দেয়ালে দা দিয়ে কোপ দেয়।’

ফারুক সাগরের চাচাতো ভাই শাহনেওয়াজ বিশ্বাস বলেন, ‘সব জমি সৌমিক আগেই বিক্রি করেছে। এমনকি তার নিজের বসতবাড়ি তার ১ম পক্ষের ভাইবোনদের জমির উপর।’

স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল শেখ বলেন, ‘পূর্বে আমরা এ বিষয়ে সালিশ করেছিলাম, তখন উভয় পক্ষ মেনে নেয়। পরে সৌমিক সালিশ না মেনে অবৈধভাবে ২০ শতাংশের একটি পুকুর দখল নেয়। পরেও আবার সালিশে বিষয়টি বিবেচনা করার কথা থাকলেও নানা অজুহাত দেখিয়ে আসছে সৌমিক।’

অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন (সৌমিক) বলেন, ‘আমি সালিশ মানি না। আমার যা ইচ্ছে তাই করব।’

তালা থানার ওসি (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


নির্বাচিত

বাকৃবিতে হাতি নিয়ে ফিস্টের শোভাযাত্রা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাকৃবি প্রতিনিধি

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) আশরাফুল হক হলে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ফিস্ট ‘টেল অব রিডাম্পশন’। প্রথমবারের মতো হাতি নিয়ে ফিস্ট উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়, যা ক্যাম্পাসে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তিন দিনব্যাপী এই হল ফিস্ট চলবে আজ শনিবার পর্যন্ত।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকালে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোকসজ্জা, আতশবাজি ও গ্র্যান্ড ডিনারের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

হলের ৬৪ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এ ফিস্ট উপলক্ষে বিকালে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে পুনরায় আশরাফুল হক হলে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রায় হাতির উপস্থিতি শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ সৃষ্টি করে।

পরে হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হলের হাউস টিউটর জিকেস বর্মন, ইফতেখার জাহান ভূঁইয়া ও ড. মো. শাহিনুর আলম। তাদের উপস্থিতিতে কেক কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে ফিস্টের উদ্বোধন করা হয়। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন হলের শিক্ষার্থীরা।

আয়োজক শিক্ষার্থী রাফিউল হক জানান, আশরাফুল হক হলের শিক্ষার্থীদের পারস্পরিক বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করা এবং সবাইকে এক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে আসাই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। তা ছাড়া শোভাযাত্রায় হাতির অন্তর্ভুক্তি ছিল আয়োজনের একটি আকর্ষণীয় দিক। আমরা চেয়েছি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে, যা শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি করবে এবং দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

হলের সিনিয়র শিক্ষার্থী মো. শামীম রেজা বলেন, ‘টেল অব রিডাম্পশন’ শুধু একটি ফিস্ট নয়, এটি সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ঐক্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের প্রতিফলন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও ব্যতিক্রমী শোভাযাত্রাসহ নানা আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ততা ও উৎসাহকে নতুন মাত্রা দেওয়া হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এই আয়োজন নিয়মিত পড়াশোনার একঘেয়েমি ও ক্লান্তি কাটিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা ছড়িয়ে দেবে বলে আমার বিশ্বাস।’

হলের হাউস টিউটর ড. মো. শাহিনুর আলম বলেন, ‘আজকের এই ফিস্ট দেখে আমার ১০-১১ বছর আগের স্মৃতির কথা মনে পড়ে যাচ্ছে। ফিস্ট শিক্ষার্থীদের মাঝে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় করে। আয়োজনটি সফলভাবে সমাপ্ত হোক এই কামনাই করি।’


নির্বাচিত

জনগণের হক তছরুপকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

জনগণের হক আদায় না করে যদি কেউ দুর্নীতি বা তছরুপ করেন তবে তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন এমপি।

​শুক্রবার (১৯ জুন) মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কার্যক্রম বাস্তবায়নবিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

​বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সীমাহীন দুর্নীতির সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে কাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে সরকার ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মধ্যবর্তী স্থানে যে সকল সরকারি কর্মকর্তা বা কর্মচারী রয়েছেন তারা যদি জনগণের হক আদায় না করেন কিংবা কেউ যদি দুর্নীতি করেন বা জনগণের অধিকার তছরুপ করেন তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

​সম্প্রতি বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সরকার দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদানসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। অচিরেই আপনারা এর সুফল দেখতে পাবেন।’

​মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম এবং গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফছা নাদিয়া।


নির্বাচিত

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের ১৭ শয্যার হাম ওয়ার্ডে ভর্তি ৮৭ শিশু

* নানা সংকটে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে * একদিনে হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ২৫ শিশু ভর্তি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুবুর রহমান, নোয়াখালী

নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ১৭ শয্যার হাম ওয়ার্ডে ৮৭ শিশু ভর্তি রয়েছে। এতে নানা সংকটে রোগীদের দুর্ভোগ চরমে ওঠেছে। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি, সংকটের মধ্যেও সেবা নিশ্চিতের চেষ্টা চলছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে ঘুরে দেখা যায়, হাম ওয়ার্ডের ভেতরে-বাহিরে বিছানা ও মেঝেতে অসংখ্য রোগী ও তাদের স্বজনরা। বাথরুমের দুর্গন্ধ ও অতিরিক্ত লোকজনের চাপে চিকিৎসা নিতে আসা স্বজনরাও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫ শিশুসহ হামের আইসোলেশন ওয়ার্ডে মোট ৮৭ শিশু ভর্তি রয়েছে। এ সময়ে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৫ জন। এখানে এ পর্যন্ত তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

জানা গেছে, জনবল সংকটের কারণে এ হাসপাতালের পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা বিঘ্ন ঘটছে। এখানে পরিচ্ছনতা কর্মীর ৩০ পদের বিপরীতে খালি রয়েছে আটটি। এছাড়া সিনিয়র কনসালটেন্ট ১০ পদের ছয়টিই খালি রয়েছে। পাশাপাশি সিনিয়র স্টাফ নার্স ২১, স্টাফ নার্স ছয় ও মিডওয়াইফ নার্স তিনটি পদও খালি রয়েছে।

রোগীর স্বজনরা জানান, রোগী ভর্তি আছে ৮৭ জন। তাদের সঙ্গে আরও দুই শতাধিক স্বজনসহ এ ওয়ার্ডে তিন শতাধিক লোকজন ভিড় করছেন। যেহেতু ব্যাপকহারে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে তাই এ ওয়ার্ডের শয্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থা আরও বাড়ানো জরুরি।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. রাজিব আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, ১৭ রোগীর শয্যায় ৮৭ জন ভর্তি থাকলে যা হওয়ার তাই হচ্ছে। এ ওয়ার্ডে গত আড়াই মাস ডা. রাশেদ ও ডা. ইউসুফসহ দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স দিয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে নতুন তত্ত্বাবধায়ক আরও দুজন সিনিয়র স্টাফ নার্স যুক্ত করেছেন। তবে রোগীর চাপ অনুযায়ী এখানে জনবল আরও বাড়ানো উচিত।
এর আগে গত মঙ্গলবার দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আকষ্মিক পরিদর্শনে আসেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

এসময় নানা অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের দায়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. ফরিদ উদ্দিন চৌধুরীকে তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন। পরে নোয়াখালী সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ার হোসেনকে এ হাসপাতালের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেন।


নির্বাচিত

তিস্তা মহাপরিকল্পনার জন্য বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার প্রয়োজন নেই: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৯ জুন, ২০২৬ ২১:১৯
নীলফামারী প্রতিনিধি

ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবীব দুলু বলেছেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ১২ থেকে ১৩ হাজার কোটি টাকা লাগবে। এটার জন্য আমি মনে করি বিদেশের মুখাপেক্ষী হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। আমাদের জিওবি ফান্ড থেকে এটা করতে পারব। এটার মেয়াদ আছে দশ বছর। দুই স্তরে কাজ হবে। সুতরাং প্রতি বছর ২ থেকে ৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করলেও আমরা করতে পারব। তবে প্রযুক্তির ব্যাপারে আমাদের দেশীয় যারা আছেন তাদের সঙ্গে হয়তো বহির্বিশ্বের আরও উচ্চতর যারা জ্ঞান রাখেন এই ব্যাপারে তাদের সঙ্গে শেয়ার করতে পারেন।

শুক্রবার (১৯ জুন) নীলফামারীর তিস্তা ব্যারাজ পরিদর্শন শেষে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এসময় পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘এখন সমস্যাটা দেখা দিয়েছে যে আমরা দিয়ে উজান থেকে পানি কতটুকু পাবো সেটা কিন্তু এখনো আমাদের কাছে যথেষ্ট সন্দেহের কারণ। পানি চুক্তি ছাড়া আমাদের কাঙিক্ষত পানি পাওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই। বর্ষাকালে প্রচুর পানি হয়। শুকনা মৌসুমে যদি পানি আমরা না পাই তাহলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলে এটা কোন কার্যকর কার্যকরী ভূমিকা রাখবে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সেই জায়গাটি অ্যাড্রেস করছেন। উনি বলছেন যে, যাতে পানির রিজার্ভার তৈরি করা যায় ডিজাইনের মধ্যে সেটাকে গুরুত্ব দিতে বলছেন উনি। যাতে বর্ষাকালে আমরা পানি ধরে রাখতে পারি।’

এক মাসের মধ্যে টেকনিক্যাল কমিটির রিপোর্ট পাওয়ার পর মহাপরিকল্পনার মূল কার্যক্রম শুরু হবে জানিয়ে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ‘কিছু লোক দেখতেছি, তারা আবার আন্দোলনের কর্মসূচি দিচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘদিন যে আমরা আন্দোলন করলাম, তাদের চেহারা তো আমি একদিনও পাইনি। এখন এরা দেখছে যে কাজ রেডি হয়ে যাচ্ছে। তাই ওরা আন্দোলন করে ক্রেডিট নিতে চায়। তারা কই ছিল এতদিন।
এর আগে মন্ত্রীরা তিস্তা প্রধান সেচ খাল, জলঢাকার ধাইজান নদী, চারালকাটা নদী ও দিনাজপুর সেচ খাল পরিদর্শন করেন। এসময় পানি সম্পদ সচিব ড. এ.কে.এম শাহাবুদ্দিন সহ তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে গঠিত ৯ দস্যের কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিংয়ে অভিন্ন শুল্ককর চান ব্যবসায়ীরা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের রেস্তোরাঁ শিল্পকে সংকট থেকে উত্তরণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সার্ভিসের ক্ষেত্রে একই শুল্ককর এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত উৎসে কর সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার চায় বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি।

শুক্রবার (১৯ জুন) পুরানা পল্টনের বিজয়নগরে সমিতির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব প্রস্তাব ও দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় এ দুই ক্ষেত্রে শুল্ককর কমানোসহ সাতটি প্রস্তাব দিয়েছে মালিক সমিতি।

সমিতির পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের মহাসচিব ইমরান হাসান। তিনি দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং ব্যাংক খাতের সংকটের মধ্যেও ব্যবসাবান্ধব বাজেট প্রণয়নের চেষ্টা করার জন্য বিএনপি সরকার এবং অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, এলপিজি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে রেস্তোরাঁ খাতের পরিচালন ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে, যা এই খাতকে গভীর সংকটে ফেলেছে। এ সংকট থেকে উত্তরণে এ খাতকে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।

এ সময় তিনি বাজেটে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা, আগের মতো প্রতি মাসে ভ্যাট আদায়, রেস্তোরাঁ ব্যবসা পরিচালনায় ওয়ান স্টপ সার্ভিসের দ্রুত বাস্তবায়ন, রেস্তোরাঁ খাতে জন্য সুনিদ্দিষ্ট শিল্প নীতি ঘোষণা এবং সমিতির সনদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবসহ রেস্তোরাঁ সেক্টরে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা এবং রেস্তোরাঁ শিল্পকে আর্ন্তজাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করার প্রস্তাব দেন।

ইমরান হাসান বলেন, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং খাতের জন্য ভ্যাট ও করের হার সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সমানভাবে ৫ শতাংশ নির্ধারণের প্রস্তাব করছি। বর্তমানে রেস্তোরাঁ খাতে ভ্যাট ৫ শতাংশ এবং ক্যাটারিং সার্ভিসে ১৫ শতাংশ দিতে হয়। সব ক্ষেত্রে সেটা সমান করে বিদ্যমান বৈষম্য দূর করতে হবে। বিভিন্ন শ্রেণির রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং সেবার ওপর ভিন্ন ভিন্ন হারে ভ্যাট ও কর আরোপের ফলে ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতায় বৈষম্য সৃষ্টি হয় এবং কর প্রশাসনও জটিল হয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, এর পাশাপাশি স্ট্রিট ফুডসহ সব প্রকার রেস্তোরাঁকে ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এতে চলমান অসম প্রতিযোগিতা বন্ধ হবে এবং সরকারের রাজস্ব আয় অনেকটা বৃদ্ধি পাবে।

এ ব্যবসায়ী বলেন, এছাড়া বাজেটে জীবন যাত্রার ব্যয় কমাতে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর এবং ১০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক সম্পূর্ণ হ্রাস করার প্রস্তাব করছি। বর্তমান সময়ে মূল্যস্ফীতির চাপ, ক্রমবর্ধমান জীবনযাত্রার ব্যয় এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের কর আরোপ বা বহাল রাখা জনসাধারণের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা সৃষ্টি করবে।

ইমরান হাসান বলেন, সরকার ঢাকার বাইরে রেঁস্তোরা ও পর্যটন খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নতুন রেস্তোরাঁর স্থাপনা ও যন্ত্রপাতির ওপর প্রথম বছরে ৬০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় বছরে ৪০ শতাংশ অবচয় সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করায় আমরা সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। এতে নতুন উদ্যোক্তারা কর রেয়াত পাবেন। তবে আমরা চাই, রেস্তোরাঁ শিল্পের জন্য স্বল্পসুদে ঋণ নিশ্চিতে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেবে অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য কর কাঠামোকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করা, ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কমানো, কর প্রশাসনে হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা এবং নীতিগত স্থিতিশীলতা বজায় রাখা জরুরি। আমরা আশা করি, চূড়ান্ত বাজেটে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে দেশের বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে।

এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট পরিশোধের সময় বাড়িয়ে তিন মাস করা প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখতে পূর্বের ন্যায় মাসিক ভিত্তিতে ভ্যাট পরিশোধ ও রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা বহাল রাখার প্রস্তাব করছি আমরা।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি সরকারের নীতি ও নির্দেশনার প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বর্তমানে একটি রেস্তোরাঁ পরিচালনার জন্য একাধিক দপ্তর থেকে ১০-১২টি অনুমোদন নিতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল। ফলে ব্যবসা পরিচালনা এবং কার্যকর তদারকি উভয়ই বাধাগ্রস্ত হয়। তাই রেস্তোরাঁ খাতকে একটি সমন্বিত কমপ্লায়েন্স ব্যবস্থার আওতায় এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি একটি ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ চালুর প্রস্তাব করছি। এর মাধ্যমে লাইসেন্স প্রাপ্তি সহজ হবে, সময় ও ব্যয় কমবে এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণে কার্যকর মনিটরিং সম্ভব হবে।

এছাড়া প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটের আলোকে আমরা রেস্তোরাঁ সেক্টরের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট শিল্পনীতি ঘোষণার জোর দাবি জানাচ্ছি। একটি পৃথক শিল্পনীতি প্রণয়ন করা হলে লাইসেন্সিং, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থাপনা, বিনিয়োগ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং উদ্যোক্তা সহায়তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনা সম্ভব হবে। বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার পৃথক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে উদ্যোক্তারা জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যয়ের সম্মুখীন হচ্ছেন। যে কোনো রেস্তোরাঁ ব্যবসা শুরুর ক্ষেত্রে বাণিজ্য সংগঠন আইন অনুযায়ী রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সদস্য পদ গ্রহণ বাধ্যতামূলক আছে, তবে এর বাস্তবায়ন চাই আমরা।

তিনি আরও বলেন, বাজেটে রন্ধনশিল্পকে বিশ্বমানের পর্যায়ে উন্নীত করতে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং পর্যটন ও হসপিটালিটি খাতের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড নির্ধারণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। একই সঙ্গে আমরা প্রস্তাব করছি, গ্রামীণ ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করতে সরকারি-বেসরকারি কারিগরি প্রতিষ্ঠানে ভর্তুকিসহ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং প্রয়োজনে পৃথক তহবিল গঠন করা হোক। পাশাপাশি রেস্তোরাঁ খাতের শ্রমিক ও কর্মীদের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালুর দাবি জানাচ্ছি।

সংবাদ সম্মেলনে সমিতির সহসভাপতি শাহ সুলতান খোকন, যুগ্ম মহাসচিব ফিরোজ আলম সুমন, সাংগঠনিক সম্পাদক তৌফিকুর ইসলামসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাজধানীতে মধ্যরাতে চায়ের দোকানে ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যা

ফাইল ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পূর্ব জুরাইন এলাকায় টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে পুর্বশত্রুতার জেরে আব্দুল কুদ্দুস (৫০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের ছোট ভাই আব্দুল হাশেম জানান, তাদের বাড়ি মাদারীপুর শিবচর উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে। বাবার নাম আব্দুল মালেক। থাকেন পূর্ব জুরাইন দারোগাবাড়ী রোডে ভাড়া বাসায়। পেশায় বাসচালক ছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাত আনুমানিক পৌনে ১২টার জুরাইন পপি স্কুলের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন কুদ্দুস। তখন বিদ্যুৎ ছিল না। এসময় ৮-১০ জন দুর্বৃত্ত চায়ের দোকানের ভেতর ঢুকে প্রথমে ফাঁকা গুলি ছোড়ে। এরপর তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকার লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে চিকিৎসক মৃত বলে জানান।

তিনি বলেন, আব্দুল কুদ্দুসের শরীরে ধারালো অস্ত্রের অন্তত ১২০টি জখম রয়েছে। তাকে নৃশংসভাবে মেরে ফেলা হয়েছে। তবে কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে তা আমরা বলতে পারছি না।

কদমতলী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল রানা জানান, টাকা পয়সার লেনদেনকে কেন্দ্র করে পুর্বশত্রুতার জেরে বৃহস্পতিবার রাতে চায়ের দোকানে ঢুকে কুদ্দুস নামে ওই ব্যক্তিকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের শরীরে অসংখ্য আঘাত রয়েছে। এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা প্রক্রিয়াধীন। ঘাতকদের চিহ্নিত করে আটকের চেষ্টা চলছে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে রাখা হয়েছে।


নির্বাচিত

নারায়ণগঞ্জের কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে আহত ৭

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় একটি রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে অন্তত ৭ শ্রমিক আহতের খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা সড়কে বিক্ষোভ করেছেন কারখানাটির শ্রমিকরা। বিক্ষোভ চলাকালে কারখানাটির অন্তত ১০ স্টাফকে মারধরের ঘটনা ঘটে। শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে বিস্ফোরণের ৭ শ্রমিক আহতের পর এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯টার দিকে পাগলা তালতলা এলাকায় অবস্থিত ‘নির্ঝর নিটওয়্যার গার্মেন্টসে’ বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে নারীসহ অন্তত ৭ শ্রমিক আহত হন। বিস্ফোরণে শ্রমিক আহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-পোস্তগোলা সড়কে অবস্থান নেন শ্রমিকরা। এতে চারপাশে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

বিস্ফোরণে আহত শ্রমিকরা হলেন, শাহীন (২৫), জাকির হোসেন (২৫), ক্লিনার সাবিনা বেগম (৩৪), মঞ্জু মিয়া (২৮), আরিফিন (২২), হৃদয় (২৭) ও খাদিজা (২০)।

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের দাবি, কারখানার বয়লারটি অনেক পুরনো ছিল। এজন্য মালিককে শ্রমিকদের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল বয়লারটি পরিবর্তন করতে। কিন্তু মালিকপক্ষের কেউ শ্রমিকদের অনুরোধ রাখেনি। সেই বয়লার শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়ে আগুন ধরে যায়। এতে একজন অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ সাতজন শ্রমিক আহত হন। তাদের দ্রুত ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে ভর্তি করা হয়েছে।

ফতুল্লা মডেল থানার ওসি মাহবুব আলম জানান, শ্রমিকদের অনুরোধ শুনলে কারখানায় এমন দুর্ঘটনা ঘটত না। মালিকপক্ষও আমাদের জানিয়েছে তারা দ্রুতই বয়লারটি পাল্টানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অর্থনৈতিক কারণে বয়লারটি তাৎক্ষণিক পাল্টানো সম্ভব হয়নি। কারখানাটিতে প্রায় ৪০০ শ্রমিক ও ৫০ জন স্টাফ রয়েছে। কারখানার মালিক মালিক নুরুল আমিন সুমনের সঙ্গে শ্রমিকদের নিয়ে আলোচনা করে সমাধান করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে, শ্রমিকরা কাজে ফিরেছে।


নির্বাচিত

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পিরোজপুরে অসহায়দের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​পিরোজপুর প্রতিনিধি

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব ও দি পিরোজপুর চেম্বার অফ কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু'র পক্ষ থেকে পিরোজপুরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ৯:৩০ মিনিটে আয়োজিত এই মানবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পিরোজপুর জেলা বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।

‎পিরোজপুর জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব এবং দি পিরোজপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু খাদ্য সহায়তা প্রদানের সময় বলেন, “শহীদ জিয়ার স্মরণে আমরা আজ প্রায় ১,৫০০ থেকে ২,০০০ অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। এটি কেবল আজকের আয়োজন নয়, মানুষের কল্যাণে আমাদের এই মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।” তিনি দেশের স্বাধীনতা ও স্বাধিকার আন্দোলনে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাদের সবার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

‎​খাদ্য বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক মাসুদ,জেলা শ্রমিক দলের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালাম বাতেন,সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন টিপু, সদর উপজেলা বিএনপি নেতা গাজী কামরুজ্জামান শুভ্র প্রমুখ।

জেলা যুবদলের সদস্য সচিব এমদাদুল হক মাসুদ তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “গাজী ওয়াহিদুজ্জামান লাভলু একজন সাবেক ছাত্রনেতা হিসেবে রাজনীতির শুরু থেকেই আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। পিরোজপুর জেলা বিএনপির নেতৃত্বে এবং স্থানীয় অভিভাবক হিসেবে তিনি সব সময় দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। তার এই ধারাবাহিক মানবিক উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই এবং তার সর্বাঙ্গীন মঙ্গল কামনা করি।”

‎​অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থানীয় পর্যায়ের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। বক্তারা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে আর্তমানবতার সেবায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

খাদ্য সামগ্রী বিতরনের পূর্বে শহীদ রাষ্টপতি জিয়াউর রহমানের আত্মার মাগফিরাত কামনায় এবং দেশ ও জাতির সমৃদ্ধির জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।


নির্বাচিত

সুন্দরবনে দস্যুতা-মাদক দমনে জিরো টলারেন্স: কোস্ট গার্ড মহাপরিচালক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সৈকত মো. সোহাগ, খুলনা ব্যুরো 

সুন্দরবনে বনদস্যুতা নির্মূল, মাদক ও মানবপাচার রোধ এবং উপকূলীয় জনপদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক।

গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে সুন্দরবনের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

মহাপরিচালক বলেন, ‘দেশের সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা, চোরাচালান ও অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধ এবং দুর্যোগকালীন উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতায় কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বর্তমান সরকারের দিকনির্দেশনায় সুন্দরবনে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’’ এবং ‘‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’’ নামে বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।’

তিনি আরও জানান, কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক অভিযান ও গোয়েন্দা তৎপরতার ফলে বনদস্যু চক্রগুলো এখন কোণঠাসা। এর অংশ হিসেবে সম্প্রতি কুখ্যাত ডাকাত ছোট সুমন ও তার সহযোগীরা কোস্ট গার্ডের নিকট আত্মসমর্পণ করেছে। এ ছাড়া মোংলার জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ড স্টেশন হারবারিয়া স্থাপন করায় দস্যুদের রসদ ও অস্ত্র সরবরাহের পথ রুদ্ধ হয়েছে, যা সুন্দরবনের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ব্যাপক উন্নতি ঘটিয়েছে।

সম্প্রতি জয়মনির ঘোল এলাকায় কোস্ট গার্ডের স্টেশন হারবারিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রিয়ার এডমিরাল মো. জিয়াউল হক বলেন, ‘এটি অত্যন্ত দুঃখজনক ও উদ্বেগজনক। রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্থাপনায় হামলা কেবল সরকারি সম্পদের ক্ষতিই নয়, বরং সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও অপরাধ দমন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করার একটি অপচেষ্টা।’

তিনি জানান, হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সময় সুন্দরবন ও উপকূলীয় অঞ্চলের জনগণের উদ্দেশে মহাপরিচালক বলেন, ‘আপনারা কোনো ধরনের গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান দেবেন না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থা রাখুন এবং দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করুন।’

সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় যেকোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর **১৬১১১**-এ জানানোর জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। কোস্ট গার্ড দেশের উপকূলীয় ও সামুদ্রিক সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

লন্ডনে ইংরেজি ভাষা প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন রাজশাহীর ত্বাকি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আমিনুল ইসলাম বনি, রাজশাহী

লন্ডনে আন্তর্জাতিক ইংরেজি ভাষায় ডিবেট প্রতিযোগিতায় (International English Language Competition -AI) অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে ১১ জন মেধাবী শিক্ষার্থী যাচ্ছেন। রাজশাহী বিভাগের একমাত্র প্রতিনিধি ‘সায়ইদ ইবনে ত্বাকি। আগামী ২১ জুন থেকে ২৮ জুন পর্যন্ত লন্ডনে এই মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

এবারের আসরে বিশ্বের মোট ৭১টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নিচ্ছেন। পুরো বাংলাদেশ থেকে ১১ জন নির্বাচিত হলেও, রাজশাহী বিভাগ থেকে এবার মাত্র একজন লন্ডনে যাওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। তিনি হলেন ত্বাকি। সে রাজশাহীর স্বনামধন্য ‘ইকরা ইন্টারন্যাশনাল একাডেমিয়া ইংলিশ লার্নিং সেন্টার’-এর একজন কৃতি ছাত্র। প্রায় দুই বছর ধরে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন সেই প্রতিষ্ঠানে। এখানে ইংরেজিতে ডিবেট, স্পোকেন ইংলিশের ওপর দুই বছরের সাধনার ফল পেলেন মেধাবি ত্বাকি।

বিশ্বমঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করতে যাওয়া এই ১১ জন শিক্ষার্থীর যাবতীয় দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারি উদ্যোগে প্রতি শিক্ষার্থীর পেছনে ৩ লাখ টাকা করে ব্যয় করা হচ্ছে।

ত্বাকির এই অনন্য সাফল্যের পেছনে এবং তার লন্ডন যাওয়ার সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অবদান রেখেছেন তার কোচিং সেন্টারের ইংরেজি প্রশিক্ষক বাদশা আলম। প্রশিক্ষকের দিকনির্দেশনা ও কঠোর পরিশ্রমের ফলেই ত্বাকি আজ বিশ্বমঞ্চে লাল-সবুজের পতাকা তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছেন।

লন্ডন যাত্রার আগে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে ত্বাকি জানান, আন্তর্জাতিক এই মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে তিনি অত্যন্ত গর্বিত। তার প্রধান লক্ষ্য হলো দেশের মুখ উজ্জ্বল করা। একই সাথে ভবিষ্যতেও নিজের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশের জন্য বড় এবং ভালো কিছু করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন এই তরুণ মেধাবী।

এ উপলক্ষে গত বুধবার নগর ভবনে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সাঈদ ইবনে ত্বাকি।

এ সময় রাসিক প্রশাসক তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সাফল্য এবং দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

ত্বাকি রাজশাহী মহানগরীর হেতেমখা শাহাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা আবু সাঈদ ও ফরিদা ইয়াসমিনের ছেলে।

সৌজন্য সাক্ষাৎকালে রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন ত্বাকির এ অর্জনকে রাজশাহীর জন্য গৌরবের বলে উল্লেখ করেন।

তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ত্বাকির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন এবং দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান।


নির্বাচিত

সুনামগঞ্জে পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক রাখতে ড্রেন ও খাল পরিষ্কার অভিযান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি

সুনামগঞ্জ পৌর শহরের বিভিন্ন ড্রেন ও খালের ময়লা-আবর্জনার ব্লকেজ অপসারণ করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে সুনামগঞ্জ পৌরসভা। গত বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পৌর প্রশাসক অসীম চন্দ্র বনিকের নির্দেশনায় পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা এস্কেভেটর মেশিনসহ শহরের বিভিন্ন এলাকায় এই কার্যক্রম পরিচালনা করেন।

অভিযানের অংশ হিসেবে বিহারী পয়েন্ট, ষোলঘর পয়েন্ট, হুসেন বখতসংলগ্ন দুর্গাবাড়ি মন্দিরের বিপরীত পাশের ড্রেন, কামারখালসহ বিভিন্ন ড্রেন ও খালের ময়লা অপসারণ করা হয়। এসব স্থানে দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে ড্রেনের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছিল।

দুর্গাবাড়ির পাশের মুদির দোকানদার মোহাম্মদ নূরে আলম বলেন, ‘পৌরসভা থেকে ড্রেনের মুখ পরিষ্কার করে দেওয়া হচ্ছে। এখানে ময়লা জমে থাকায় পানি যাওয়ার কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অল্প বৃষ্টি হলেই পানি জমে যেত। পাশে পৌরসভার একটি ডাস্টবিন রয়েছে, সেখানে যদি সবাই দায়িত্বশীলভাবে ময়লা ফেলেন তাহলে আর এ ধরনের সমস্যা হবে না।’

স্থানীয় জায়গার মালিক রাজীব বণিক বলেন, ‘ড্রেনের পাশে অনেকে ময়লা ফেলার কারণে বারবার এটি বন্ধ হয়ে যায়। পৌরসভা কিছুদিন পরপর পরিষ্কার করলেও আবার ময়লা জমে যায়। সবাই যদি নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা ফেলেন তাহলে পরিবেশ সুন্দর থাকবে এবং পানি নিষ্কাশন স্বাভাবিক থাকবে।’

পৌরসভার যান্ত্রিক সুপারভাইজার সাঈদ আনোয়ার বাপ্পি জানান, পৌর প্রশাসকের নির্দেশনায় সকাল থেকে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন ও খাল পরিষ্কারের কাজ চলছে। বিহারী পয়েন্ট থেকে শুরু করে বক পয়েন্টসংলগ্ন এলাকা, মুসলিম হোস্টেল, বাঁধনপাড়া, কামারখাল, রায়পাড়া, সোমপাড়া, আরপিনগর খাল, কোর্ট প্রাঙ্গণ ও তেঘরিয়াসহ পর্যায়ক্রমে শহরের অন্যান্য এলাকার ড্রেনও পরিষ্কার করা হবে।


নির্বাচিত

banner close