কক্সবাজারের টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ নাফ নদীতে টানা জালে ধরা পড়েছে ১৯৪ কেজি ওজনের একটি বোল মাছ।
আজ রোববার সকালে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর এলাকার নাফ নদে মাছটি ধরা পড়ে। মাছটি শাহপরীর দ্বীপ কোনা পাড়ার স্থানীয় বাসিন্দা কালু ফকিরের মালিকানাধীন টানা জালে ধরা পড়ে।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে শাহপরীর দ্বীপ ট্রলার মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ হাসান বলেন, ‘সকালে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর এলাকার নাফ নদের মোহনায় জেলেরা টানা জাল ফেলে। ঘণ্টাখানেক পর জাল টানার চেষ্টা করে জেলেরা। এ সময় ছোট ছোট মাছের সঙ্গে এই বড় বোল মাছটি জালে আটকে যায়। পরে জেলেরা নাফ নদী থেকে বড় মাছটি রশি বেঁধে টেনে টেনে চরের ওপরে তুলে নিয়ে আসে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় মাছটি শাহ পরীর দ্বীপ জেটিঘাটে নেওয়া হয়। ওই সময় মাছটি দেখতে ভিড় জমান লোকজন।
শাহ পরীর দ্বীপ কোনা পাড়ার নৌকার মাঝি নুর মোহাম্মদ জানান, জালে প্রথমবার ১৯৪ কেজি ওজনের বড় বোল মাছ আটকা পড়েছে। মাছটি শাহপরীর দ্বীপ জেটি ঘাটে এনে মাছটির দাম হাঁকানো হয়েছিল তিন লাখ টাকা। পরে স্থানীয় মাছ ব্যবসায়ী নুরুল আলমের কাছে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে বিক্রি করেছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে টেকনাফ উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘শাহপরীর দ্বীপের এক জেলের জালে একটি বিশাল মাছ ধরার খবর শুনেছি। তবে শীত মৌসুমে ৫ থেকে ১৫ কেজি ওজন পর্যন্ত বোল মাছ জেলেদের জালে আটকা পড়ে।’
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘সাগরের মাছ ধরার ওপর বিভিন্ন ধরনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে পালন হওয়ায় মাছগুলো বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। আবার বড় মাছ জেলেদের জালে আটকা পড়লে সবাই দেখে আনন্দ পান, তেমনি জেলেরা ভালো দাম পাচ্ছেন।’
এদিকে মাছটি বিক্রি করতে মাইকিং করছেন মাছ ব্যবসায়ী আবদুর শুক্কুর। তিনি বলেন, ‘নাফ নদে জেলেদের কাছ থেকে প্রায় ২০০ কেজি ওজনের বোল মাছ আড়াই লাখের বেশি দামে কেনা হয়েছে। সেটি বিক্রি করতে মাইকিং করা হচ্ছে। কমপক্ষে কেজি দেড় হাজার টাকা দরে বিক্রি করা হবে।’
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় (বাউবি) ক্যাম্পাসে দীর্ঘমেয়াদি ‘বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি ২০২৬-২০৩০’ সালের আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন গাজীপুর-২ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি।
এ সময় একটি নিম গাছের চারা রোপণ করে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান একটি বারোমাসি আমড়া গাছের চারা রোপণ করেন। এ ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোউপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান এবং প্রোউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলামও একটি করে গাছের চারা রোপণ করেন।
উদ্বোধন শেষে দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় কনফারেন্স হলে ‘প্রতিটি চারা হোক গ্রিন ক্যাম্পাসের নতুন স্বপ্নের সূচনা’ স্লোগানকে সামনে রেখে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সবাইকে নিয়ে কাজ করা হচ্ছে।’
সেই লক্ষ্যেই বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে এবং একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২টি আঞ্চলিক কেন্দ্র ও ৬৩ টি উপআঞ্চলিক কেন্দ্রে একযোগে এ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘পরিবেশ সুরক্ষা ও প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত ‘গ্রিন ক্যাম্পাস’ গড়ার আহ্বান বাস্তবায়নে এ উদ্যোগ আগামী পাঁচ বছর অব্যাহত থাকবে।’ এ সময় তিনি কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে একটি চলমান সামাজিক আন্দোলনে পরিণত করার আহ্বান জানান।
আলোচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোউপাচার্য অধ্যাপক ড. আনিসুর রহমান এবং প্রোউপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে উপাচার্যের সহধর্মিণী ড. আলো আরজুমান বানু পরিবেশ দিবসের ওপর সময়োপযোগী একটি কবিতা আবৃত্তি করে উপস্থিত দর্শক ও শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বৃক্ষরোপণ কমিটির আহ্বায়ক এবং কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন স্কুলের ডিন। আলোচনা অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাউবির রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) টি.এম আহমেদ হুসেইন।
প্রেমের কোনো সীমানা নেই, নেই ভাষা, সংস্কৃতি কিংবা ভৌগোলিক দূরত্বের বাধা। ভালোবাসার এমনই এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে। প্রেমিকার টানে সুদূর চীন থেকে নবীনগরে ছুটে এসেছেন এক চীনা যুবক।
জানা গেছে, নবীনগর উপজেলার জিনদপুর ইউনিয়নের কাঠালিয়া গ্রামের মরহুম রিয়াজ উদ্দিনের মেয়ে স্বপ্না আক্তারের(২০)সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয় হয় চীনের সিচুয়ান প্রদেশের লুজোউ শহরের লুজিয়ান এলাকার বাসিন্দা জিয়াঐলির। মাত্র তিন মাসের পরিচয়ে তাদের মধ্যে গভীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভাষা ও সংস্কৃতির ভিন্নতা থাকলেও ভালোবাসার টানে একে অপরের কাছাকাছি চলে আসেন তারা।
গত সোমবার (১৫ জুন) রাতে প্রেমিকা স্বপ্নার টানে বাংলাদেশে আসেন জিয়াঐলি। বর্তমানে স্বপ্না নবীনগরের নীলনগর এলাকায় তার মামার বাড়িতে অবস্থান করছেন। সেখানে পৌঁছান চীনা যুবকও। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি হয়। শত শত মানুষ ওই বাড়িতে ভিড় জমিয়ে চীনা যুবককে একনজর দেখতে আসছেন। ইতোমধ্যে তাদের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্বপ্না আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, জিয়াঐলি স্বপ্নাকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যেই বাংলাদেশে এসেছেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে যাবেন। ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ে সম্পন্ন হবে বলেও জানান তারা।
স্বপ্না আক্তার বলেন, “প্রায় তিন মাস ধরে আমাদের যোগাযোগ চলছে। গত ২ জুন তিনি বাংলাদেশে এসে ঢাকার উত্তরায় অবস্থান করেন। পরে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে নবীনগরে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সোমবার আমি তাকে আলীয়াবাদ গোলচত্বর থেকে নিয়ে আসি। আমার পরিবারের আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি সম্পর্কে জানালে তিনি তাতে কোনো আপত্তি করেননি। পরে পরিবারের সদস্যদের সম্মতিতে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
স্থানীয়দের মধ্যে প্রথমদিকে জিয়াঐলির পরিচয় নিয়ে কিছু সংশয় দেখা দিলেও তিনি তার চীনা পাসপোর্ট ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রদর্শন করেন। এরপর বিষয়টি নিয়ে মানুষের আগ্রহ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রেমের টানে বিদেশ থেকে এভাবে কোনো যুবকের নবীনগরে আসার ঘটনা এই প্রথম। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ভৌগোলিক সীমারেখা অতিক্রম করে দুই দেশের দুই তরুণ-তরুণীর এই ভালোবাসার গল্প এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সব ধরনের আইনি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে মুসলিম রীতি অনুযায়ী তাদের বিয়ের কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা রয়েছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
ময়মনসিংহের ত্রিশালে এক ভয়াবহ বজ্রপাতের ঘটনায় একটি বসতবাড়ির বৈদ্যুতিক সামগ্রী পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে অলৌকিকভাবে প্রাণে বেঁচে গেছেন ঘরে থাকা একই পরিবারের ছয় সদস্য।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে ত্রিশাল পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ত্রিশাল ভাটিপাড়া এলাকার আলতু সরদার বাড়িতে এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে বৃষ্টির সাথে হঠাৎ বিকট শব্দে আতাউর রহমান সুরুজ মিয়ার একতলা ফাউন্ডেশন ঘরের ছাদের ওপর একটি বজ্রপাত পতিত হয়। বজ্রপাতের তীব্র আঘাতে মুহূর্তের মধ্যে ঘরের ভেতরের বৈদ্যুতিক মিটার, একটি ফ্রিজ এবং চারটি সিলিং ফ্যান পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়।
এছাড়া দেয়ালের ভেতরে থাকা ওয়্যারিংয়ের যাবতীয় তার পুড়ে ছিটকে পড়ে এবং ছাদের ওপর থাকা কাপড়-চোপড় পুড়ে ভস্মীভূত হয়। ভুক্তভোগী আতাউর রহমান সুরুজ বর্তমানে ৫ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সুরুজ মিয়া আতঙ্কের মুহূর্ত বর্ণনা করে বলেন, “সকালে হঠাৎ বৃষ্টি আর বজ্রপাত শুরু হলে আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়ে যাই। চোখের পলকেই বিকট শব্দে আমাদের ঘরের বৈদ্যুতিক লাইট ও তারগুলো পুড়ে ওপর থেকে ছিটকে পড়তে থাকে। এতে আমাদের ঘরে থাকা ফ্রিজ, বিদ্যুতিক মিটার, ফ্যান ও আসবাবপত্র পুড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে ছাদের কোনো ক্ষতি হয়নি এবং ঘরে আমরা ছয়জন সদস্য থাকা সত্ত্বেও কেউ হতাহত হইনি।”
তিনি আরও জানান, এই আকস্মিক দুর্ঘটনায় তাদের প্রায় দুই লক্ষ টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।এদিকে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বজ্রপাতের বিকট শব্দে পুরো বাড়ির আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বাখরনগর এলাকা থেকে শায়েস্তাগঞ্জের অলিপুর গেইট পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে প্রায় ৫ কিলোমিটার করে মোট ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ যানজট সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো যাত্রী।
হাইওয়ে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অলিপুরে অবস্থিত শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকবাহী যানবাহনের প্রবেশ ও বের হওয়া এবং চলমান ছয় লেন সড়ক নির্মাণকাজের কারণে মহাসড়কে ধীরগতির সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়ে শত শত বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকা পড়ে।
যানজটে আটকে থাকা যাত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, “সকাল থেকে রাস্তায় আছি। ছোট শিশু নিয়ে বাসে বসে থাকতে খুব কষ্ট হচ্ছে। যানজটের কারণে নির্ধারিত সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছি না।”
বিদেশগামী যাত্রী মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম বলেন, "আমার আজ রাতের ফ্লাইট। সময়মতো বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পারব কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি। মহাসড়কের এই যানজট আমাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
ঢাকাগামী বাসচালক আব্দুল মালেক বলেন, "সকাল থেকে কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে কয়েক ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে। সড়ক নির্মাণকাজ ও শিল্পাঞ্চলের গাড়ির চাপ একসঙ্গে পড়ায় যানবাহন চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।"
এ বিষয়ে শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, "অলিপুর শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক পরিবহনকারী যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ এবং চলমান ছয় লেন সড়ক নির্মাণকাজের কারণে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। হাইওয়ে পুলিশের একাধিক টিম ঘটনাস্থলে কাজ করছে। যানবাহন স্বাভাবিক করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে।"
এদিকে দীর্ঘ যানজটের কারণে মহাসড়কে আটকে থাকা যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে অসুস্থ, নারী, শিশু ও জরুরি কাজে যাতায়াতকারী যাত্রীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
কৃষি নির্ভর মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার সড়কের পাশে, বাড়ির আঙিনায়, ফসলি জমির আইল কিংবা পুকুর পাড়,কিংবা পতিত জমিতে সারি সারি দেশি খেজুর গাছের দেখা মেলে।
এসব গাছে থোকায় থোকায় খেজুর ধরলেও বর্তমানে মানুষের আগ্রহ কমে যাওয়ায় অধিকাংশ খেজুর গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে। এক সময় এই দেশিই খেজুর হাটে বাজারে বিক্রি হতো। তবে বতর্মানে সময়ে দেশিই খেজুরে ক্রেতাদের আগ্রহ না থাকাই থোকায় থোকায় গাছেই পেকে নষ্ট হচ্ছে দেশিই খেজুর।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় এক দশক আগেও দেশি খেজুরের আলাদা কদর ছিল। বাজারে এসব খেজুর বিক্রি হতো এবং অনেকেই লবণ মিশিয়ে কয়েক দিন রেখে পাকিয়ে খেতেন। সুস্বাদু এই ফলটি তখন গ্রামাঞ্চলের মানুষের কাছে বেশ জনপ্রিয় ছিল। তবে সময়ের পরিবর্তনে সেই চিত্র এখন অনেকটাই অতীত। তবে এখন এসব খেজুর বতর্মানে পাখির খাদ্য হিসেবেই বিবেচিত।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, খেজুর গাছে থোকায় থোকায় ফল ঝুলতে দেখতে খুবই সুন্দর লাগে। অথচ বর্তমানে অধিকাংশ খেজুর গাছেই নষ্ট হচ্ছে। একসময় মানুষ আগ্রহ নিয়ে এসব খেজুর সংগ্রহ করে তারা খেতেন। এ ছাড়া এসব গাছে কোনো কীটনাশক প্রয়োগের প্রয়োজন হয় না এবং বিশেষ যত্ন ছাড়াই ভালো ফলন পাওয়া যায়।
মালশাদহ গ্রামের কৃষক মিন্টু বলেন,বর্তমানে দেশি খেজুর মূলত পশুপাখির খাবারে পরিণত হয়েছে। মানুষ এখন খুব একটা খায় না। অথচ এই খেজুর এক সময় আমি বাজার থেকে কিনে এনে খেয়েছি। তবে সময়ের ব্যাবধানে আজ তা হারাতে বসেছে। সৃষ্টিকর্তার সৃষ্টির প্রতিটি ফলের কোন না,কোন গুন রয়েছে।
তাই এ ফল খাওয়ার অভ্যাস বাড়ানো উচিত।
অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আঃ হান্নান বলেন,আমরা বাল্যকালে যে সকল ফল দেখেছি,খেয়েছি তার মধ্যে অনেক ফলই এখন আর দেখা মেলেনা। ছোটবেলায় গাছ থেকে পেড়ে অনেক খেজুর খেয়েছি। তখন লবণ মিশ্রিত পানিতে দুই-তিন দিন রেখে খেজুর পাকিয়ে খাওয়ার প্রচলন ছিল। কিন্তু এখনকার প্রজন্মের মধ্যে সেই আগ্রহ আর দেখা যায় না। আমরা আমাদের অনেক দেশিই ফল খাওয়া ভুলে গিয়েছি। যার ফলে আমরা শারীরিক ভাবেই অনেক দুর্বল হয়ে পড়ছি।
প্রবাসী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি দেখেছি আগে ছোট-বড় সবাই দেশি খেজুর খেত। এখন আর তেমন কাউকে খেতে দেখা যায় না। কারন এখন হাতের নাগালেই বিভিন্ন ধরনের বিদেশি খেজুর পাওয়া যায়। আবার সেগুলো দেশি খেজুরের চেয়ে স্বাদও বেশি। আর দেশি খেজুরের আঁটি বড় হওয়ায় শাঁস তুলনামূলক কম। তবে এর স্বাদ ও পুষ্টিগুণের কারণে একসময় এর বেশ কদর ছিল।
খেজুরের গুড় বিক্রেতা আব্দুল খালেক বলেন, আমি প্রায় তিন শতাধিক গাছ থেকে শীতের মৌসুমে রস সংগ্রহ করে গুড় বানাই। আর বতর্মান সময়ে প্রতিটি গাছেই থোকায় থোকায় কাচা পাকা খেজুর ঝুলছে। অথচ আমি এই খেজুর একটাও পাড়ি না। সব আমি পাখির খাদ্য হিসেবে রেখে দিয়েছি। প্রতিদিন শতশত পাখি এই খেজুর খেতে আসে। বিশেষ করে শালিক,বুলবুলিসহ অনেক পাখি। তাদের কিচিরমিচির শুনতে খুব ভালো লাগে।
মো: মতিয়র রহমান বলেন, খেজুরসহ দেশি মৌসুমি ফলগুলো খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। এসব ফলে প্রচুর পুষ্টিগুণ রয়েছে এবং ক্ষতিকর কোনো দিক নেই। তাই দেশি ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। আমি মনে করি প্রতিটি মৌসুমী ফলই এক একটি ভিটামিনের ভান্ডার।
কক্সবাজারের নবগঠিত উপজেলা মাতামুহুরীতে নিখোঁজের প্রায় ৪৫ ঘণ্টা পর ওয়াহিদুল ইসলাম (৭) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা জানা গেছে। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে উপজেলার পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের মাইজপাড়া এলাকার একটি পরিত্যক্ত জলাশয় থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত ওয়াহিদুল ইসলাম পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মাইজপাড়া গ্রামের মো. তৌহিদুল ইসলাম লিটনের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৪ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে ওয়াহিদ নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন একটি পরিত্যক্ত জলাশয়ে মরদেহ দেখতে পেয়ে পরিবার ও পুলিশকে খবর দেয়।
পূর্ব বড়ভেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ বলেন, 'সকালে ফজুমিয়াজিরচর এলাকার একটি ছোট খালে শিশুটির মরদেহ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।' তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মাতামুহুরী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, 'প্রাথমিক তদন্তে শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আটক তিন ব্যক্তি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।'
পুলিশ জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ আমের বাজার রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর আম হাট পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
আজ মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকাল ৯টার দিকে তিনি হাটে এসে বিভিন্ন আমের আড়ত ও দোকান ঘুরে দেখেন। এ সময় তার সঙ্গে পলিটিক্যাল কাউন্সেলর এরিক গিলান ও পলিটিক্যাল অফিসার চার্লস বেসনার্ড সহ দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে রাষ্ট্রদূত হাটে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন জাতের আম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। তিনি ব্যবসায়ী ও চাষিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন জাতের আমের স্বাদ গ্রহণ করেন।
হাটে উপস্থিত ব্যবসায়ীরা জানান, মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এমন সফরে তারা আনন্দিত। এতে রাজশাহীর আম আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও পরিচিতি পাবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কৃষকরা বলেন, রাজশাহীর আমের গুণগত মান ও স্বাদ বিশ্বব্যাপী পরিচিত। বিদেশি কূটনীতিকদের এ ধরনের পরিদর্শন দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানির সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সাংবাদিকদের বলেন, রাজশাহীতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে এটি আমার প্রথম সফর। ২০২০ সালে একবার এসেছিলাম, তবে এবার বিশেষভাবে আমের মৌসুমে এসেছি কারণ আমি রাজশাহীর আমের স্বাদ নিতে চেয়েছিলাম। আমি এখানে আসতে পেরে সত্যিই আনন্দিত। আমি যুক্তরাষ্ট্রের একটি কৃষিপ্রধান অঙ্গরাজ্য থেকে এসেছি। পণ্য যেখানে উৎপাদিত হয় সেখানে যাওয়ার মতো সেরা অভিজ্ঞতা আর নেই—সবচেয়ে তাজা, সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় এবং সেরা জিনিসটি দেখার সুযোগ সেখানে পাওয়া যায়। সেই অভিজ্ঞতার কোনো তুলনা হয় না।
তিনি আরও বলেন, আমেরিকানরা আম খুব পছন্দ করে। যদিও আমরা সাধারণত সেগুলো হিমায়িত অবস্থায় পাই এবং শেক তৈরিতে ব্যবহার করি। যুক্তরাষ্ট্রে আম পাওয়া যায়, তবে আমি মনে করি না সেখানে এখানকার মতো এত তাজা আম পাওয়া সম্ভব।
বাংলাদেশের আম রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়াতে পরামর্শ দিয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের আরও কোল্ড চেইন (হিমাগার ব্যবস্থা) প্রয়োজন। কারণ সারা বছর আমের সহজলভ্যতার জন্য হিমায়িত আম রপ্তানির জন্য সবচেয়ে উপযোগী। তাই সারা বছর আমের উন্নত উৎপাদন ও রপ্তানির জন্য বাংলাদেশের কোল্ড চেইন ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রয়োজন।
মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় অবৈধ দখল ও যানজট নিরসনে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে প্রশাসন। অভিযানে অবৈধভাবে স্থাপিত ১২টি দোকান উচ্ছেদ করা হয়। একই সঙ্গে অবৈধ পার্কিংয়ের দায়ে ৩টি মামলায় ২ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে কুলাউড়া থানাপুলিশ ও পৌরসভার সহযোগিতায় এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনিসুল ইসলাম।
অভিযানকালে রেলস্টেশন রোডের বিভিন্ন স্থানে সড়ক ও সরকারি জায়গা দখল করে গড়ে তোলা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। পাশাপাশি সড়কে অবৈধভাবে যানবাহন পার্কিং করে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করার অভিযোগে ৩টি মামলা দায়ের করে মোট ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
কুলাউড়া পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার বলেন, অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে কয়েকদিন থেকেই মাইকিংয়ের মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছিলো। নির্দেশনা না মানায় জনস্বার্থে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। সড়ক ও সরকারি জায়গা দখলমুক্ত রাখতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
গাজীপুরের টঙ্গীতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ টাকাসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে টঙ্গী পশ্চিম থানা পুলিশ।
সোমবার(১৫ জুন) দিবাগত রাত ৯টার দিকে টঙ্গী আউচপাড়া আক্কেল আলী সড়কের বাবর গাজীর বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- নরসিংদী জেলার বাধবদী থানার চর দিঘলদী গ্রামের মৃত আব্দুল মতিনের ছেলে আনোয়ার হোসেন (৩৬) ও নরসিংদী জেলার রায়পুরা থানার মৃত আমির হোসেনের ছেলে শাওন (২৬)। এসময় তাদের হেফাজত থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৫৮ লাখ টাকা, ও মোবাইল উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, ওই এলাকার বাবর গাজীর বাড়িতে বিপুল পরিমান ইয়াবা ট্যাবলেট ক্রয়-বিক্রয় হচ্ছে। এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিত্বে রাত ৯টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানার এসআই এসএম মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ওই বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আনোয়ার ও শাওনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের হেফাজত থেকে ১০হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, নগদ ৫৮ লাখ টাকা, তিনটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। পরে উদ্ধারকৃত আলামতসহ দুই মাদক কারবারিকে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
এব্যাপারে টঙ্গী পশ্চিম থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান বলেন, এঘটনায় থানায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে চেক ও চাল বিতরণ করা হয়েছে। সোমবার (১৫ জুন) সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ চেক ও চালের ডিও বিতরণ করা হয়।
এই সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.রাহাত উজ্জামান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পরিতোষ কুমার বিশ্বাস।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তার দপ্তর থেকে প্রেরিত উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত ৩ জন ব্যক্তির জন্য ৩০ কেজি করে ৯০ কেজি চাল ও ৪৭ হাজার ৫০০ টাকার চেক ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.রাহাত উজ্জামান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে চেকের মাধ্যমে টাকা ও চালের ডিও বিতরণ করা হয়েছে।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনন্য উদ্যোগ— ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পিরোজপুর জেলা পরিষদ। টেকসই পরিবেশ গঠন এবং বৃক্ষসম্পদ বৃদ্ধির অঙ্গীকার নিয়ে জেলাজুড়ে চলছে এই বৃক্ষরোপণ অভিযান।
পিরোজপুর জেলা পরিষদ কার্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন ও এর গুরুত্ব তুলে ধরেন পিরোজপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন।
অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন আক্ষেপ করে বলেন, "একসময় আমাদের রাস্তার পাশজুড়ে প্রচুর আমলকী গাছ ছিল, যা পশুপাখি ও স্থানীয় জনসাধারণের জন্য প্রাকৃতিক ছায়া ও খাদ্যের উৎস হিসেবে কাজ করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে সেসব গাছ হারিয়ে গেছে। আমরা সেই বিলুপ্ত আমলকী গাছগুলোকে পুনরায় রাস্তার পাশে রোপণ করার উদ্যোগ নিয়েছি"।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিম এবং অর্জুন গাছের চারা রোপণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসক নিম গাছের বহুমুখী গুণাগুণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন -নিমের আবহাওয়া জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর ঔষধি বৃক্ষ, যার ব্যবহার বহু প্রাচীন। নিমের ডাল থেকে তারা স্থানীয় পর্যায়ে মাজন তৈরি করে থাকেন, যা দাঁতের যত্নে অত্যন্ত কার্যকর। তিনি জানান, আরাফাত ময়দানে ‘জিয়া ট্রি’ নামে পরিচিত এই গাছের চারাও রোপণ করা হচ্ছে, যা স্থানীয় পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।
জেলা প্রশাসক অধ্যক্ষ আলমগীর হোসেন দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে সারা জেলায় নিমের ফলন ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ প্রকল্পের আওতায় পিরোজপুর জেলা পরিষদ এ বছর অন্তত ১,৫০০টি গাছ রোপণ করবে এবং শুধু রোপণই নয়, বরং গাছগুলোর যথাযথ সংরক্ষণও নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে এবং বাংলাদেশে বৃক্ষ নিধন রোধে এই কর্মসূচি একটি ব্যাপক ভূমিকা রাখবে। জেলা পরিষদের এই উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহলে সাধুবাদ জানানো হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ নূরুল আলমসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক সৌহার্দ্য এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কিশোরগঞ্জের হাওর উপজেলা অষ্টগ্রামে স্বেচ্ছায় দেশীয় অস্ত্র জমাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠনের প্রত্যয়ে প্রশাসনের কাছে দেশীয় অস্ত্র জমা দেন।
রবিবার (১৪ জুন) সকালে অষ্টগ্রাম থানায় এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার আব্দুল্লাহপুর ইউনিয়নের গয়েশপুর গ্রামের বাসিন্দারা স্বেচ্ছায় তাদের কাছে থাকা দেশীয় অস্ত্র থানায় জমা দেন।
অষ্টগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে উক্ত অনুষ্ঠানে টেলিকনফারেন্সে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও উপস্থিত ছিলেন, অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি সৈয়দ সাইদ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম নিজামুল হক নজরুল, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শাহিন প্রমুখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, "সামাজিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকলকে আইন মেনে চলতে হবে। অস্ত্র নয়, সচেতনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি সুন্দর সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।" তিনি আরও বলেন, যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়েছেন, তারা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার।
সভাপতির বক্তব্যে ওসি মোহাম্মদ রোকনুজ্জামান বলেন, অষ্টগ্রামে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ সর্বদা জনগণের পাশে রয়েছে। অপরাধ ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গঠনে পুলিশ তৎপর ভূমিকা পালন করছে। যারা স্বেচ্ছায় অস্ত্র জমা দিয়েছেন তিনি তাদের ধন্যবাদ জানান।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে সাড়ে ১৫ কেজি গাঁজাসহ তিনজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ সময় তাদের ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে গুলি ছুঁড়েছে তাদের সহযোগী মাদক ব্যবসায়ীরা। এতে পুলিশ কর্মকর্তা সহ ৫ জন আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাতে ফতুল্লার মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফতুলা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন।
গ্রেফতাররা হলেন— মনির ওরফে ফাইটার মনির (৩৮), নাঈম (২৮) ও মাসুম (২৪)। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদকের মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন— এসআই নন্দন সরকার, এসআই মনির, এএসআই কামরুল হাসান, এএসআই মনির হোসাইন এবং কনস্টেবল আশিক। তাদের শহরের খানপুর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে এসআই নন্দন সরকারের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকায় ফাইটার মনিরের মাদক স্পটে অভিযান চালায়। এ সময় সাড়ে ১৫ কেজি গাঁজাসহ ফাইটার মনির এবং তার দুই সহযোগী মাসুম ও নাঈমকে আটক করা হয়।
আটকের খবর ছড়িয়ে পড়লে মনিরের সহযোগী মাদক কারবারিরা তাদের ছাড়িয়ে নিতে পুলিশের ওপর সংঘবদ্ধ হামলা চালায়। হামলাকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ১০ থেকে ১২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও দুই রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। একপর্যায়ে হামলাকারীদের ছোড়া গুলিতে ফাইটার মনিরের পায়ে গুলি লাগে। হামলায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হন। পরে পুলিশের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ফতুলা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, রাতে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী ফাইটার মনির ও তার দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়। এ খবর পেয়ে তাদের ছাড়িয়ে নিতে মাদক কারবারিরা দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। আত্মরক্ষার্থে পুলিশ শটগান থেকে দুই রাউন্ড গুলি ছুড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এতে পাঁচজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছে। তবে তারা কেউ গুলিবিদ্ধ হয়নি। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”