কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের এক নারীকে অতর্কিত আক্রমণ করে শ্লীলতাহানির দায়ে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীন।
তিনি জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের শহীদ সরণীস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় ওই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার তথ্য জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে বিকালে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত যুবকের নাম তারেকুর রহমান ওরফে সোইল্যা তারেক (৩০)। তিনি কক্সবাজার শহরের মোহাজের পাড়া মোহাম্মদ ফরিদের ছেলে।
তিনি জানান, ভুক্তভোগী নারী মার্কিন নাগরিক। তিনি স্বামীর সঙ্গে কক্সবাজার থাকেন। তার স্বামী আন্তর্জাতিক সংস্থা- ইউএন উইমেন এর কর্মকর্তা হিসেবে কক্সবাজারে কর্মরত। পুলিশ সুপার সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন, মার্কিন ওই নারী তার এক সহকর্মীসহ গতকাল সোমবার সকাল দশটার দিকে কক্সবাজার শহরের ফুটপাত দিয়ে হাঁছিলেন। এ সময় অতর্কিতে ওই যুবক তাদের পথ আটকে নারীকে জাপটে ধরেন ও তার শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী ওই নারী বিষয়টি জানিয়ে কক্সবাজার থানায় অভিযোগ করেন।
পুলিশ সুপার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। পরে বিকেল চারটার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকা থেকে অভিযুক্ত তারেককে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা জানতে পুলিশ গ্রেপ্তার যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে বলে জানান, জেলা পুলিশ সুপার।
সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তাকে মামলা দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার তারেক একজন বিকৃত মস্তিষ্কের ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর কক্সবাজার শহরের মোহাজের পাড়ায় পাঁচ বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। সে সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও পরে ওই মামলায় জামিনে বের হয় তারেক।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) প্রদত্ত কৃষিসেবা যেমন মানসম্পন্ন বীজ, সুষম নন-ইউরিয়া সার এবং সেচ সুবিধাদি কৃষকের দোরগোড়ায় আরো নির্বিঘ্নে ও যথাসময়ে সরবরাহ করার লক্ষ্যে গত ১১ ও ১২ জুলাই পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ এবং ফরিদপুর জেলার বিভিন্ন কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম।
পরিদর্শকালে চেয়ারম্যান বিএডিসি বলেন, কৃষকদের নিকট মানসম্পন্ন বীজ সরবরাহ করার বিষয়ে সমুদয় পদক্ষেপ পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করতে হবে এবং এক্ষেত্রে কোনরূপ ছাড় দেওয়া হবে না। বিএডিসির মাধ্যমে প্রথমবারের মতো দেশের অভ্যন্তরে গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের বিষয়টি বিএডিসির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী আরও দায়িত্বশীলতা এবং জবাবদিহিতার পরিচয় দিয়ে স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি আরো বলেন যে, ডিলারদের নিকট সার সরবরাহের পর ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের নিকট সার বিক্রির কার্যক্রমটি তদারকি করতে হবে।
কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে তিনি এক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করে বলেন যে, কৃষদের উন্নতি হলেই দেশের উন্নয়ন ঘটবে। সরকারের আধুনিক ও স্মার্ট কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সকলকে একনিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করার ক্ষেত্রে চেয়ারম্যান, বিএডিসি গুরুত্বারোপ করেন।
বিএডিসির চুয়াডাঙ্গাস্থ বীজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্রে ধানবীজের গুণগতমান পরিদর্শন করছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম।
গতকাল সোমববার সন্ধ্যায় বার্ধক্য জনিত কারণে ৮ নম্বর সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবু বকর ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯২ বছর।
তিনি ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা (পিআরএল রত) জনাব এ এম মোস্তফা তারেক এর পিতা। তাঁর আরেক সন্তান বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এর অতিরিক্ত সচিব, ড. রোকসানা তারান্নুৃম।
এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ষাটের দশকে মাগুরা কলেজ, কুষ্টিয়া কলেজ, ঝিনাইদহ কলেজের ইংরেজির অধ্যাপক ছিলেন।
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডার এর একজন কর্মকর্তা হিসেবে তিনি অবসরে যান।
একুশে বই মেলাতে তাঁর অনেক বই প্রকাশিত হয়েছে।
পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের পারিবারিক কবর স্থানে আজ মঙ্গলবার যথাযথ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাকে দাফন করা হয়।
ঢাকা ওয়াসা পরিবার মরহুম এই বীর মুক্তিযোদ্ধার আত্মার মাগফেরাত কামনা করে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
গত কয়েকদিনের টানা ও রেকর্ড ভাঙা অতিভারী বর্ষণে চট্টগ্রাম জেলার অধিকাংশ নিচু এলাকা ও জনপদ প্লাবিত হওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বন্যাকবলিত এই সমস্ত সাধারণ মানুষের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ লাঘবের লক্ষ্যে এবং মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ।
এরই অংশ হিসেবে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বিআরইবি) ও স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বন্যাদুর্গত ও পানিবন্দি পরিবারের মাঝে প্রয়োজনীয় শুকনো ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা জানান, আকস্মিক বন্যায় বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ জনপদের মানুষ তীব্র খাদ্য ও পানীয় সংকটে পড়েছেন। এই মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়াতে তাঁরা দ্রুত এই সমন্বিত ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেন।
আক্রান্ত এলাকার বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্র ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে গিয়ে দুর্গত মানুষের হাতে এই সমস্ত জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয় এবং বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে এই ধরনের মানবিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বস্ত করা হয়েছে।
নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি. নং রাজ-২২০) সৈয়দপুরভিত্তিক নেতাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, চাঁদাবাজি এবং শ্রমিক নির্যাতনের অভিযোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে এ কর্মসূচির আয়োজন করে নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের (রেজি. নং রাজ-৩৪৪৬) শ্রমিকরা।
এ সময় বক্তব্য দেন জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি নূর আলম, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা মানিক, জেলা শ্রমিকদলের সাধারণ সম্পাদক জামিয়ার রহমান এবং সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের অর্থ সম্পাদক আবু তাহের প্রমুখ।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘সৈয়দপুরভিত্তিক নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়ন দীর্ঘ ৪৮ বছর ধরে জেলার পরিবহন খাতে প্রভাব বিস্তার করে আসছে।’ এ সময় বিভিন্নভাবে জেলার বাস-মিনিবাস ও কোচ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের হয়রানি ও নির্যাতন করা হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
তাদের ভাষ্য, ‘মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার উদ্দেশ্যে জেলাকেন্দ্রিক নীলফামারী জেলা বাস মিনিবাস ও কোচ পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করা হয়েছে। নতুন এই সংগঠনকে নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।’
বক্তারা আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতে কেউ যদি সংগঠনটির নেতা বা শ্রমিকদের সম্পর্কে মিথ্যা, বানোয়াট ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন, তাহলে শ্রমিকরা প্রচলিত আইনের আওতায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
মৌলভীবাজারের রাজনগরে বন্যাদুর্গত অসহায় মানুষের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ এবং বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করেছে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের একামধু বেড়িবাঁধ এলাকায় এই মানবিক কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়।
সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. জিল্লুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই ত্রাণসামগ্রী বিতরণ ও মেডিকেল ক্যাম্পের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন।
আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে রেঞ্জ পুলিশের পক্ষ থেকে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, লবণ, আলু, চিড়া, মুড়ি ও বিস্কুটসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
একই সাথে চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত বানভাসি মানুষের জন্য মৌলভীবাজার পুলিশ লাইন্স হাসপাতালের চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে একটি বিশেষ মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হয়। ক্যাম্পে বন্যার্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদানের পাশাপাশি বিনামূল্যে জরুরি ওষুধ, ওরস্যালাইন এবং বিশুদ্ধ পানির জন্য পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি আনোয়ারুল হক, পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আসিফ মহিউদ্দীন, অতিরিক্ত সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নভেল চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবুল খয়েরসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বন্যা পরিস্থিতি, টানা বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষা আয়োজন এবং শিক্ষামন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যের প্রতিবাদে কুমিল্লায় বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) নগরীর কান্দিরপাড় পূবালী চত্বরে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামনে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
পরে তারা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের দিকে অগ্রসর হলে আদর্শ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমাতুজ জোহরা এবং কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর শিক্ষার্থীরা শিক্ষা বোর্ডের প্রধান ফটকের বাইরে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, দুর্যোগ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত রাখা, ১৩ জুলাই বৈরী আবহাওয়ার কারণে যারা পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি তাদের জন্য পুনঃপরীক্ষার ব্যবস্থা করা এবং আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলনের প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়া।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, টানা বৃষ্টি, বন্যা ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে বাধ্য হয়েছেন। অনেক এলাকায় সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এবং যানবাহন সংকটের কারণে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছানো অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি অবিচার।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের এক এইচএসসি পরীক্ষার্থী বলেন, বৈরী আবহাওয়ার কারণে গতকালের পরীক্ষা অনেকেরই খারাপ হয়েছে। এই পরীক্ষার ফল বিশ্ববিদ্যালয় ও মেডিকেলে ভর্তি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই দুর্যোগকালীন সময়ে পরীক্ষা স্থগিত রাখতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষামন্ত্রীকে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে।
সমাবেশে শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন, শিক্ষামন্ত্রী শিক্ষার্থীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। ওই মন্তব্যের জন্যও তারা প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি কিছু শিক্ষার্থী শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতেও স্লোগান দেন।
উল্লেখ্য, সোমবার টানা ভারি বৃষ্টিতে কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রসহ কয়েকটি কেন্দ্রে কোমরসমান পানি পাড়ি দিয়ে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয়। এ ঘটনায় অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা এ পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির ব্যর্থতার অভিযোগ তোলেন।
নাতনিকে নিয়ে শিশু চিকিৎসকের খোঁজে হাসপাতালের একতলা থেকে আরেকতলায় ঘুরছিলেন শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা মাহতাব উদ্দিন। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও কাঙ্খিত চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে হতাশ তিনি। মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘শিশু ডাক্তারকে খুঁজছি, কিন্তু কোথায় পাব বুঝতে পারছি না।’
মাহতাব উদ্দিনের মতো প্রতিদিনই অনেক রোগী ও স্বজনকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে। চিকিৎসক ও অন্যান্য জনবল সংকটে ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালের স্বাভাবিক চিকিৎসাসেবা। বিশেষ করে মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ঘাটতির কারণে জটিল রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।
হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসকদের অনুমোদিত ৮৫টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ৩৮ জন। শূন্য রয়েছে ৪৭টি পদ। এর মধ্যে সিনিয়র কনসালট্যান্টের ১০টি পদের বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন। জুনিয়র কনসালট্যান্টের ১৪টি পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন সাতজন।
এ ছাড়া ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসারের আটটি পদের মধ্যে কর্মরত আছেন দুজন। সহকারী সার্জনের ২৮টি পদের বিপরীতে রয়েছেন ১০ জন। প্যাথলজিস্ট ও রেডিওলজিস্টের চারটি পদের মধ্যে দুটি এবং সহকারী রেজিস্ট্রারের নয়টি পদের মধ্যে চারটি পদ শূন্য রয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, গত এক মাসে সাতজন চিকিৎসক বদলি হয়েছেন। এর বিপরীতে নতুন যোগ দিয়েছেন মাত্র একজন। এতে চিকিৎসক সংকট আরও বেড়েছে। বিশেষ করে সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে এর প্রভাব পড়েছে।
চর অনুপনগরের বাসিন্দা আজিজুর রহমান গতকাল মঙ্গলবার বলেন, সোমবার দুপুরে তার মা ফাতেমাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করেছিলেন। পরে মঙ্গলবার তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। আজিজুর রহমান বলেন, এখানে ভর্তি করে লাভ কী, যদি চিকিৎসা না পাওয়া যায়?
অন্যদিকে শাহাবাজপুর ইউনিয়নের মাহতাব উদ্দিন বলেন, নাতনীতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে এসেছিলেন। কিন্ত শিশু ডাক্তারকে পেলেন না, এখন কি করবেন বুঝতে পারছেন না। র্দীঘক্ষণ বসেছিলেন দোতালায় শিশু ডাক্তারের আশায়, কিন্ত কাউকে পায়নি। শুধু মাহাতাব উদ্দিন নয়, তার মতো আরও অনেক রোগী ও স্বজনকে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য বিভিন্ন ওয়ার্ডে ঘুরতে দেখা গেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট এ হাসপাতালে প্রতিদিনই শয্যা সংখ্যা বেশি রোগী ভর্তি থাকেন, অন্যদিকে বহিবিভাগে দুই হাজারের বেশি রোগী দেখতে হয় চিকিৎসকদের।
হাসপাতালের দ্বিতলায় লিফটের পাশেই থাকা কক্ষে এক চিকিৎসক দুপুর ১টার দিকে জানালেন, তিনি এখন পযন্ত ২০০ বেশি রোগী দেখেছেন। তখনও সেই কক্ষের সামনে অন্তত আরো ৩০-৪০ জন অপেক্ষমাণ ছিলেন। এ চিকিৎসক জানান সকাল ৮টা থেকে দুপুর ২টা পযন্ত সময়ে তাদের প্রতিদিনই প্রায় ২০০ কাছাকাছি রোগীকে দেখতে হয়।
পরিচ্ছন্নতা নিয়েও অভিযোগ : চিকিৎসকের পাশাপাশি সংকট রয়েছে হাসপাতালের অন্যান্য জনবলও। হাসপাতালের পরিক্ষার পরিচ্ছন্নতা নিয়েও বিস্তর অভিযোগ রোগী ও তাদের স্বজনদের। যেন হাসাপাতালে স্বজনের চিকিৎসার জন্য এসে নিজেই অসুস্থ হয়ে যাওয়ার উপক্রম বলে অভিযোগ রোগীর স্বজনদের।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের আসিয়া খাতুন, অভিযোগ করেন স্বামী তরিকুল ইসলামকে নিয়ে তিন দিন ধরে হাসপাতালে আছেন, হাসপাতালের পরিবেশে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার অভিযোগ, হাসপাতালের টয়লেটসহ বিভিন্ন স্থানে দুর্গন্ধে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। আসিয়া খাতুন বলেন, ‘গত তিন দিন ধরে টয়লেট পরিষ্কার করতে কাউকে আসতে দেখিনি।’
এদিকে, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মাহবুব হাসান বলেন, ২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ রোগী ভর্তি থাকেন। বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত জনবল দিয়ে বিপুলসংখ্যক রোগীর সেবা দিতে চিকিৎসকদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘২৫০ শয্যার বিপরীতে প্রয়োজনীয় জনবল আমরা এখনো পাইনি। জনবল সংকট আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ। কয়েকজন চিকিৎসক পদোন্নতিজনিত কারণে বদলি হয়েছেন, বিশেষ করে সার্জারি ও মেডিসিন বিভাগে বিশেষজ্ঞ কেউ নেই, এর প্রভাব পড়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে, তিনি বলেন এখানে সরকারি রাজস্ব খাতে তিনজন পরিচ্ছন্নতা কর্মী আছেন, এর বাইওে মাস্টাররোলে আছেন ৮ জন, অন্তত ৩০ জন কর্মীর প্রয়োজন, আমরা চেষ্টা করছি বর্তমান কর্মীদের দিয়ে হাসপাতালকে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে।
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, বর্তমানে সার্জারি, মেডিসিন ও শিশু বিভাগে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সংকট রয়েছে। রোগীর চাপের তুলনায় চিকিৎসক কম থাকায় সেবা দিতে সমস্যা হচ্ছে।
তিনি বলেন, শূন্য পদে চিকিৎসক নিয়োগের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। নতুন চিকিৎসক যোগ দিলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
দাপ্তরিক কাজের বাইরেও যে মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ব আর আবেগের এক অদ্ভুত মেলবন্ধন তৈরি হতে পারে তারই এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী।
জানা যায়, গত সোমবার (১৩ জুলাই) ত্রিশাল উপজেলার বালিপাড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা হেনা রানী আচার্য্য এসেছিলেন ইউএনও কার্যালয়ে। কথা বলতে বলতে একপর্যায়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন এই বৃদ্ধা। জীবনের গল্পটা আর দশটা সাধারণ মানুষের মতো সহজ ছিল না তার। অনেক আগে স্বামী হারিয়েছেন। দুই কন্যাসন্তানকে বিয়ে দিলেও তারাও চরম দারিদ্র্যের শিকার। ভাঙা ঘরে এখন সম্পূর্ণ একাকী জীবন কাটছে তার।
জানা গেছে, ১৯৭৫ সালে এসএসসি পাস করা হেনা রানী আত্মসম্মানের কারণে কখনোই অন্যের কাছে হাত পাতেননি। সেলাইয়ের কাজ করে কোনোমতে দিন চলে। সম্প্রতি তিনি হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, দ্রুত তার হার্টে রিং পরাতে হবে। কিন্তু এই বিপুল অঙ্কের চিকিৎসার খরচ জোগানোর সামর্থ্য তার নেই। নিরুপায় হয়ে অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে শেষ ভরসা নিয়ে এসেছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে। আর্তমানবতার এই ডাকে সাড়া না দিয়ে পারেননি ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হেনা রানীর চিকিৎসার জন্য ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
সহায়তা পেয়ে আবেগাপ্লুত হেনা রানী নিজের আসন থেকে উঠে পরম মমতায় ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকীর মাথায় আশীর্বাদের হাত রাখেন। এ সময় পুরো কক্ষে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয় এবং উপস্থিত সবার মাঝে নীরবতা নেমে আসে। এই ঘটনায় আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়েন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাও।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত সিদ্দিকী জানান, পেশাগত দায়িত্বের বাইরেও সমাজের অসহায় মানুষের প্রতি আমাদের এক ধরনের সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকে। হেনা রানীর এই আশীর্বাদ আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি। একই সাথে তিনি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, যে যার অবস্থান থেকে যেন এই অসহায় মানুষটির পাশে এসে দাঁড়ান।
ডাবের পানিতে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে অটোরিকশা চালককে অজ্ঞান করে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়া আন্তঃজেলা প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে নওগাঁ জেলা পুলিশ। এ সময় ছিনতাই হওয়া অটোরিকশা উদ্ধার, একটি মোটরসাইকেল, আটটি মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ এবং চেতনানাশক ওষুধ জব্দ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানায়, গত ১০ জুলাই এক ব্যক্তি নওগাঁ শহরের একজন অটোরিকশা চালকের গাড়ি রিজার্ভ ভাড়া করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে রোগী দেখানোর কথা বলে। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর আরও দুই ব্যক্তি নিজেদের পরিবারে নবজাতকের জন্ম হয়েছে বলে পরিচয় দিয়ে চালকের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং মিষ্টি খাওয়ায়। পরে তারা চালককে একটি ডাব পান করতে দেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই ডাবের পানিতে পূর্ব থেকেই চেতনানাশক ওষুধ মেশানো ছিল। ডাবের পানি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই চালক অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এ সুযোগে প্রতারকরা অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে নওগাঁ সদর মডেল থানাকে মামলা গ্রহণ এবং জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, অপরাধীদের তথ্যভান্ডার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়। পরে নওগাঁ সদর মডেল থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখার যৌথ দল বগুড়া ও গাইবান্ধা জেলায় টানা ১৮ ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালিয়ে ১২ জুলাই চারজনকে গ্রেপ্তার করে। পরদিন তাদের নওগাঁ নিয়ে আসা হয়। একই অভিযানে গাইবান্ধা জেলা থেকে ছিনতাই হওয়া অটোরিকশাটিও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার লোহাইমুড়ি গ্রামের ইব্রাহীম ওরফে ইমন (৩৪), বরগুনা সদর উপজেলার খেজুরতলা গ্রামের হুমায়ুন কবির (৫০), বগুড়ার শাহজাহানপুর উপজেলার ফুলদিঘি পূর্বপাড়া গ্রামের খাজা মিয়া (৫৬) এবং গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার জিরাই গ্রামের আব্দুল গফুর (৪১)।
অভিযানে ইব্রাহীমের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১ হাজার ৪৩০ টাকা, চারটি মোবাইল ফোন এবং ১০টি রিভোট্রিল ট্যাবলেট জব্দ করা হয়। হুমায়ুনের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ১০ হাজার টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি পালসার মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। আব্দুল গফুরের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয় এবং খাজা মিয়ার কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে । এছাড়া ইব্রাহীম ও হুমায়ুনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চক্রটি ডাবের পানিতে ঘুমের ওষুধ বা চেতনানাশক মিশিয়ে সাধারণ মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে তাদের অজ্ঞান করে নগদ অর্থ, যানবাহন ও অন্যান্য মূল্যবান সম্পদ হাতিয়ে আসছিল। অন্যদিকে খাজা মিয়া ও আব্দুল গফুর প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নেওয়া সম্পদ কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি চক্রটির অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ফেনীতে জুলাই শহীদ পরিবার ও গণঅভ্যুত্থানে আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনাসহ নানা আয়োজনে ‘জুলাই শহীদ দিবস’ ও ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালনের ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রস্তুতি সভায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে ফেনী জেলা প্রশাসক মনিরা হক বলেন, আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে এই দিবসটি পালন করতে চাই। এ উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির প্রস্তাবনার পাশাপাশি আমরা স্থানীয়ভাবে নতুন ও বৈচিত্র্যময় কর্মসূচি গ্রহণ করছি।’ দিবসটি উদযাপনে ইতোমধ্যে আবৃত্তি, রচনা ও চিত্রাংকনসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
প্রস্তুতি সভায় জানানো হয়, আগামী ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধনা দেওয়া হবে। এছাড়া ফেনী-নোয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের তেমুহনী এলাকায় জুলাই আন্দোলনের শহীদ ওয়াকিল আহমেদ সিহাবের স্মরণে ‘শিহাব গোল চত্বর’ নামকরণের ঘোষণা দেওয়া হবে। পাশাপাশি সোনাগাজীতে মুছে যাওয়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতিবিজড়িত গ্র্যাফিতিগুলো পুনরায় লিখনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহাম্মদ আল আমিন সরকারের পরিচালনায় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. দিদারুল আলম, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাহফুজা মতিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুলতানা নাসরীন কান্তা।
এছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ইমাম উদ্দিন ইমু, হেফাজতে ইসলামের জেলা সেক্রেটারি মাওলানা ওমর ফারুক, দৈনিক ফেনীর সময় সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন, এবি পার্টির জেলা আহ্বায়ক মাস্টার আহসান উল্লাহ, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফজলুর রহমান বকুল ও সদস্য সচিব আমান উদ্দিন কায়সার সাব্বির, জেলা যুবদলের সদস্য সচিব নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সালাউদ্দিন মামুন এবং খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সম্পাদক আজিজ উল্লাহ আহমদী সভায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শহীদ ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণের পিতা নেছার আহমেদ, শহীদ সাইদুল ইসলাম শাহীর বড় ভাই শহীদুল ইসলাম, এবং জুলাই আন্দোলনের আহত যোদ্ধা আবু জাফর ও গাজী আমান উদ্দিন প্রমুখ।
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন সম্প্রসারণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ও খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি)-এর যৌথ উদ্যোগে ‘বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ-২০২৬’ উপলক্ষে মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অনুষ্ঠানে কুয়েটের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ, মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান, বিপিএম (সেবা), পুলিশ কমিশনার, খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ (কেএমপি) এবং এ.কে.এম. মোশাররফ হোসেন মিয়াজী, কমান্ড্যান্ট (ডিআইজি), পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি), খুলনা-এর উপস্থিতিতে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
এ সময় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ বলেন, ‘একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্যই রক্ষা করে না, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ পৃথিবী গড়ে তোলার অন্যতম ভিত্তি। পরিবেশ রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে। কুয়েট একটি সবুজ, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব ক্যাম্পাস গড়ে তুলতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে।
বৃক্ষরোপণ সপ্তাহ-২০২৬ উপলক্ষে এ মহৎ উদ্যোগে অংশগ্রহণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য আমি খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সুদর্শন কুমার রায়, উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর বিভাগ); জাকিয়া সুলতানা, অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (উত্তর); শিহাব করিম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (দৌলতপুর জোন); মো. গোলাম মোর্শেদ, সহকারী পুলিশ কমিশনার (স্টাফ অফিসার) সহ খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
কুয়েটের পক্ষে অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিনবৃন্দ, ইনস্টিটিউটের পরিচালকবৃন্দ, রেজিস্ট্রার, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানগণ, দপ্তর ও শাখা প্রধানগণ, শিক্ষক, কর্মকর্তা এবং কর্মচারীগণ অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে দেশীয়, ফলজ, বনজ ও ঔষধি প্রজাতির বৃক্ষরোপণ করা হয়।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এ ধরনের যৌথ উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দেবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পরিবেশ সচেতন করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিবৃন্দ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে বৃক্ষরোপণ করেন এবং সবুজ ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে সকলকে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার আহ্বান জানান।
সংস্কারের প্রতিশ্রুতি মিলেছে বারবার। সর্বশেষ টেন্ডারও সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কিন্তু বাস্তবে সাত বছর ধরে ভাঙাচোরা অবস্থায় পড়ে আছে কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার পান্নারপুল থেকে মুরাদনগর উপজেলার নহল চৌমুহনী পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার সড়ক। ফলে এ এলাকার অন্তত তিন লাখ মানুষ সীমাহীন দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন দিনের পর দিন বছরের পর বছর।
গুরুত্বপূর্ণ এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো পথচারী, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করলেও বর্তমানে এটি কার্যত চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পৌর এলাকার পান্নারপুল থেকে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ইট-পাথর বেরিয়ে এসেছে। সৃস্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, কোথাও ছোট-বড় খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তগুলো পানিতে তলিয়ে থাকায় কোনটি রাস্তা আর কোনটি গর্ত, তা বোঝার উপায় থাকে না। ফলে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে এবং প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছে রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স। জরুরি রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে অনেক সময় বিলম্ব হচ্ছে, যা রোগীর জন্যও ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। সড়কের মুরাদনগর উপজেলাধীন বাকী অংশেরও একই অবস্থা।
জানা গেছে, পান্নারপুল-নহল চৌমুহনী-বাখরাবাদ সড়কটি একসময় পেট্রোল বাংলার অধীনে ছিল। পরে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় আনা হয়। পরবর্তীতে ইলিয়টগঞ্জ থেকে নহল চৌমুহনী হয়ে মুরাদনগর পর্যন্ত অংশ সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের অধীনে স্থানান্তর করা হয়। এই সড়ক ব্যবহার করে দুই উপজেলার লাখো মানুষ অল্প সময়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করেন।
স্থানীয় বাসিন্দা কাজী নাছির উদ্দিন বলেন, সড়কের পাশে কয়েকটি উচ্চ বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। প্রায়ই যাত্রী বহনকারী অটোরিকশা উল্টে দুর্ঘটনা ঘটছে। খানাখন্দে পড়ে দীর্ঘ সময় আটকে থাকে মালামাল পরিবহনের পিকআপ ভ্যান। কয়েক বছর ধরে সংস্কারের আশ্বাস শুনে আসছি, কিন্তু বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। দেবিদ্বার ও মুরাদনগর উপজেলার মধ্যে সড়কটির দায়িত্ব নিয়ে টানাপড়েন চলছে। এর খেসারত দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
দেবিদ্বার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. আব্দুল কাদের বলেন, মরিচাকান্দা জিয়া স্মৃতি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনের অংশে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। পান্নারপুল থেকে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত পুরো সড়কের একই অবস্থা। মানুষ প্রতিনিয়ত অভিযোগ করছে, কিন্তু তাদের সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারছি না। দুই উপজেলার মধ্যে সমন্বয়ের অভাব এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব নিয়ে টানাপোড়েনের কারণেই সংস্কারকাজ দীর্ঘদিন ঝুলে আছে। একাধিকবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি।
দেবিদ্বার উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, সড়কের একটি অংশ দেবিদ্বারের হলেও সংস্কার প্রকল্পটি মুরাদনগর উপজেলার আওতায় হয়েছে। আমাদের জানা মতে, কাজের টেন্ডার ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
মুরাদনগর উপজেলা প্রকৌশলী কাজী ফয়সাল বারী বলেন, পান্নারপুল থেকে নহল চৌমুহনী পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের টেন্ডার সম্পন্ন হয়েছে। ঠিকাদারও কাজের প্রস্তুতি নিয়েছেন। বর্ষা মৌসুমের কারণে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। বর্ষার পরপরই কাজ ধরবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
টানা বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতায় নাকাল নড়াইল পৌর এলাকার মানুষ। নাগরিক অসচেতনতা, অপরিকল্পিতভাবে বেড়ে ওঠা দালানকোঠা, বাড়ি-ঘর ও রাস্তা নির্মাণে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া, অতিবৃষ্টিতে নদীগুলোর নাব্যতা সংকট, খালের মাঝখানে আড়াআড়ি বাঁধ দেওয়া কিংবা খালগুলো ভরাট করে এক্সক্যাভেটর যাওয়ার জন্য সড়ক নির্মাণ, সার্ভিস ড্রেনগুলো আবর্জনায় ভরে থাকা, নিয়মিত খালগুলো পরিষ্কার না রাখা ইত্যাদি কারণে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে সচেতন মহলের অভিমত।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর পৌরসভার নির্বাচিত মেয়রের পদ শূন্য হয়ে পড়ে। বর্তমানে পৌর প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বে আছেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের ডিডিএলজি মো. নাজমুল হুদা।
আধুনিকীকরণ কালিদাস ট্যাঙ্ক (পুকুর) পাড়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা সম্পন্ন নড়াইল পৌর ভবন। জেলা হেড কোয়ার্টারে পৌরসভার অবস্থান হলেও এখানকার নাগরিকদের শুধু অফিসিয়াল সুযোগ-সুবিধা ছাড়া জীবনমানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। এখানে নেই কোনো উন্নতমানের আবাসিকসহ খাবার হোটেল, নেই ভালো মার্কেটসহ বিপণিবিতান, খেলাধুলার উপযুক্ত মাঠ, বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নাগরিকদের চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিন যাপন করতে হয়। ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং সময়োপযোগী পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই নাকাল অবস্থা। প্রতি বছর এই অচলাবস্থার মধ্যে জীবন কাটাতে হয় নাগরিকদের।
সরেজমিন দেখা গেছে, পৌর এলাকার ১২টি ছোট-বড় খাল চিত্রা এবং কাজলা নদীর সঙ্গে সংযোগ ছিল। সেগুলো কালেভদ্রে ভরাট করে দখল হয়ে যাওয়ায় পৌর বাসিন্দাদের বাড়ি-ঘরে হাঁটু পানি উঠছে। জমে থাকা পানি থেকে দুগর্ন্ধ ছড়াচ্ছে। পোকামাকড় কিলবিল করছে। ড্রেন এবং বাথরুমের ময়লা-আবর্জনা বৃষ্টির পানির সঙ্গে ভেসে ঘরে ঢুকছে। অনেকে বাড়ি-ঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। যাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই তারা ওই পরিবেশের মধ্যে রাত কাটাতে বাধ্য হচ্ছে।
পৌর ভবন থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে নড়াইল কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান। ঈদগাহের পাশে বসবাসকারী সিটি কলেজের সহকারী অধ্যাপক আশীষ হাজরা, সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিখিল দাস, সরকারি চাকরিজীবী এসআই শংকর কুমার, অরুন শীলসহ অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলে এ পাড়া তলিয়ে যায়। এই পাড়ায় প্রায় ৪০টি পরিবার বসবাস করে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে পৌরসভায় আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি পৌর কর্তৃপক্ষ।’
নড়াইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাক মাহাবুবুর রশিদ লাবলু ও সাংবাদিক আব্দুস সাত্তার বলেন, ‘এক দিনের বৃষ্টিতে ঘরের মধ্যে পানিতে সয়লাব। পরিবারের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র খাটের উপরে তুলে রেখে তার ওপরই রান্নাবান্না-খাওয়া দাওয়া ও রাত যাপন করতে হচ্ছে। পাশের পুকুর থেকে মাছ ভেসে ঘরে প্রবেশ করছে। মাছের সঙ্গে ভেসে আসছে বাথরুমের ময়লা-আবর্জনাও। নিদারুণ কষ্টের মধ্যে দিনযাপন করতে হচ্ছে।’ তারা বলেন, ‘নড়াইল পৌরসভা প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্তেও নাগরিদের তেমন কোনো সুযোগ-সুবিধা নেই। পৌরসভা নামেই তাল পুকুর, ঘটি ডোবে না।’
মাছিমদিয়া গ্রামের বাসিন্দা নড়াইল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি এনামুল করিব টুকু বলেন, ‘টানাবৃষ্টিতে আমার এলাকার চারপাশের প্রায় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি। পোকামাকড়ের সঙ্গে রাত কাটাতে হচ্ছে। সর্দি-কাশিসহ বাচ্চাদের নানা ধরনের অসুখ দেখা দিয়েছে।’
বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এস এ মতিন বলেন, ‘নড়াইল পৌর এলাকায় ছোট বড় ১২টি খাল ছিল। ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এসব খালের সিংহভাগই দখল ও ভরাট করে মার্কেটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে তোলা হয়েছে। এতে বর্ষার পানি নিষ্কাশন না হওয়ায় এলাকাবাসী জলাবদ্ধতার শিকার হচ্ছেন।
শহরের প্রবীণ ব্যক্তি ছামি মোল্যা বলেন, ‘নাগরিকদের ভোটে নির্বাচিত পৌরসভার মেয়ররা তাদের দায়িত্ব-কর্তব্য পালনে হীনমন্যতার পরিচয় দিয়েছে। নগর উন্নয়নে বিদেশি সংস্থা থেকে অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলেও সেগুলো কারচুপির অভিযোগ রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘পৌরসভা বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবী দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। তারা-তো দায়িত্ব পালনে গড়িমসি দেখাবেই। তবে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকাকালিন সময়েও তারা ব্যর্থ।’ ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘কবে মুত্তি পাব আমরা জলাবদ্ধতার হাত থেকে?’
নবনিযুক্ত অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের (ডিডিএলজি) পরিচালক মো. নাজমুল হুদা বলেন, ‘নতুন কর্মস্থলে যোগ দিয়েছি এক সপ্তাহও হয়নি। পৌরসভার দায়িত্ব নেওয়ার পর জলাবদ্ধতার চিত্র ঘুরে ঘুরে দেখেছি। সামান্য বৃষ্টিতে প্রথম শ্রেণির পৌরসভার নাগরিক এভাবে পানিতে নিমজ্জিত হয় তা খুব একটা দেখা যায় না।’ তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘পৌর এলাকার পানি নিষ্কাশনের পথগুলো বেশিরভাগ ভরাট করা হয়েছে। যতটুকু আছে তা ময়লা-আর্বজনায় ভরা। পানি বের হতে পারে না। চেষ্টা করব পৌর নাগরিকদের ভালো লাখার।’ তবে সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।