কক্সবাজারে একটি আন্তর্জাতিক সংস্থায় কর্মরত যুক্তরাষ্ট্রের এক নারীকে অতর্কিত আক্রমণ করে শ্লীলতাহানির দায়ে অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার মো. সাইফউদ্দীন শাহীন।
তিনি জানান, সোমবার সকাল ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের শহীদ সরণীস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন এলাকায় ওই ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার তথ্য জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে বিকালে তাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত যুবকের নাম তারেকুর রহমান ওরফে সোইল্যা তারেক (৩০)। তিনি কক্সবাজার শহরের মোহাজের পাড়া মোহাম্মদ ফরিদের ছেলে।
তিনি জানান, ভুক্তভোগী নারী মার্কিন নাগরিক। তিনি স্বামীর সঙ্গে কক্সবাজার থাকেন। তার স্বামী আন্তর্জাতিক সংস্থা- ইউএন উইমেন এর কর্মকর্তা হিসেবে কক্সবাজারে কর্মরত। পুলিশ সুপার সাইফউদ্দীন শাহীন বলেন, মার্কিন ওই নারী তার এক সহকর্মীসহ গতকাল সোমবার সকাল দশটার দিকে কক্সবাজার শহরের ফুটপাত দিয়ে হাঁছিলেন। এ সময় অতর্কিতে ওই যুবক তাদের পথ আটকে নারীকে জাপটে ধরেন ও তার শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে যান। ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী ওই নারী বিষয়টি জানিয়ে কক্সবাজার থানায় অভিযোগ করেন।
পুলিশ সুপার জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত যুবককে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে। পরে বিকেল চারটার দিকে শহরের ঝাউতলা এলাকা থেকে অভিযুক্ত তারেককে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হয়। ঘটনায় আর কেউ জড়িত আছে কিনা, তা জানতে পুলিশ গ্রেপ্তার যুবককে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছে বলে জানান, জেলা পুলিশ সুপার।
সাইফউদ্দীন শাহীন জানান, অভিযুক্ত যুবকের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলার প্রস্তুতি চলছে। তাকে মামলা দায়েরের সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার তারেক একজন বিকৃত মস্তিষ্কের ব্যক্তি। তার বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১৩ নভেম্বর কক্সবাজার শহরের মোহাজের পাড়ায় পাঁচ বছরের এক শিশু কন্যাকে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। সে সময় পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করলেও পরে ওই মামলায় জামিনে বের হয় তারেক।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে তরমুজ বোঝাই একটি ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ড ১৪-৪৯০৩)। বুধবার (২৫ মার্চ) বেলা ১১ টার দিকে দৌলতদিয়া ৭ নং ফেরিঘাটের পন্টুনে এ ঘটনাটি ঘটে।
ট্রাকটির চালক মোখলেস হাওলাদার জানান, পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে তিনি এবং তরমুজের ২ জন মালিক গাজিপুরের বাইপাইলের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন। দৌলতদিয়া ৭ নং ফেরিঘাটের ঢালু বাইপাস সড়ক দিয়ে ফেরিতে উঠতে গিয়ে ট্রাকটির হাইড্রোলিক ব্রেকের পাইপ ফেটে যায়। এতে তিনি ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে ট্রাকটি পন্টুনের বাহিরের দিকের উঁচু অংশের সাথে গিয়ে ধাক্কা লেগে এক্সেল ভেঙে আটকে যায়। এতে করে প্রাণে রক্ষা পান তারা ৩ জন মানুষ।
তরমুজের মালিক ফয়সাল জানান, নিজেদের খেতের ১৭শ’ পিস তরমুজ ৩৫ হাজার টাকা ট্রাক ভাড়া করে ভাতিজা আরিফকে সঙ্গে নিয়ে গাজিপুর যাচ্ছিলেন। কিন্তু পথের মধ্যে এ দুর্ঘটনার শিকার হলাম। তবে সৃষ্টিকর্তার প্রতি শুকরিয়া যে তারা ৩ জন মানুষ প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন এবং তরমুজগুলোরও কোন ক্ষতি হয়নি। তবে ট্রাকটি উদ্ধারের রেকার ভাড়া ৪৮ শ’, আলাদা ট্রাক ভাড়া করতে আরও ১০ হাজার ৫ শ’ এবং লেবার খরচ ৪ হাজার সহ ১৯ হাজার ৩০০ টাকা অতিরিক্ত ব্যায় হচ্ছে। দুর্ঘটনার জন্য ট্রাকটির ইঞ্জিন দুর্বল ছিল বলে তার মনে হয়েছে।
৭ নং ফেরিঘাটে কর্তব্যরত বিআইডব্লিউটিসির টার্মিনাল সহকারী (টিএ) কাজী নবীন জানান, ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। এতে ফেরিতে যানবাহন ওঠা-নামায় কোন সমস্যা হচ্ছে না। ক্ষতিগ্রস্ত ট্রাকটি তাদের নিজস্ব রেকার দিয়ে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।
বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মো. সালাহ উদ্দিন জানান, নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ট্রাকটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ট্রাকটি হতে তরমুজ আনলোড করার পর তাদের রেকার দিয়ে পন্টুনের ওপর হতে সরানো হবে। এক্ষেত্রে তাদের রেকার ভাড়া প্রতিঘণ্টার জন্য ৪ হাজার ৮শ’ টাকা হারে দিতে হবে।
চলতি মৌসুমে শরণখোলার ধানসাগর, খোন্তাকাটা, রায়েন্দা ও সাউথখালী ইউনিয়নে খড়ার কারণে আমের মুকুল ঝড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় কৃষকরা জানাচ্ছেন, খড়ার তাপে গাছের পাতা ও মুকুল শুকিয়ে পড়ায় ফলনের পরিমাণ শূন্যের কোঠায়।
রায়েন্দা গ্রামের কৃষক হারুন হাওলাদার বলেন, এ মৌসুমে খড়ার কারণে আমাদের অনেক আম গাছের মুকুল ঝরে গেছে। ফলে এবার ফলনের পরিমাণ অনেক কম হবে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবব্রত সরকার জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে চলমান খড়া কৃষি প্রভাবিত করছে। বিশেষ করে আমের মুকুল ঝড়ে যাওয়ার ঘটনা বাড়ছে।
কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে আমের উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে।
ভোলা জেলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
বোরহানউদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বর্মনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা গোবিন্দ মন্ডল, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনোজ কুমার সাহা, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
সভা শুরুতে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞে শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে বক্তব্য প্রদান করেন উপস্থিত অতিথিরা।
বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ইতিহাসের নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ চালায়। সেই কালরাতে ঢাকাসহ সারা দেশে হাজার হাজার নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়। এই গণহত্যা ছিল বাঙালি জাতিকে নিশ্চিহ্ন করার এক ভয়াবহ ষড়যন্ত্র। কিন্তু বাঙালি জাতি সেই ষড়যন্ত্রকে পরাজিত করে দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করে।
বক্তারা আরও বলেন, নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে হবে। ২৫ মার্চের গণহত্যা বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি আদায়ের জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারণ করে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তারা।
আলোচনা সভায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণ করে। তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও গণহত্যার স্মৃতি সম্পর্কে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করে। এ সময় বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাংবাদিক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন। সভার শেষে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণহত্যা দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরতে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে সচেতন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সার্বিকভাবে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে।
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় রেললাইনের ব্রিজের নিচ থেকে জুবায়ের আহমেদ (২০) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে উপজেলার ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন মাগুরছড়া এলাকার ১৬৮ নম্বর ব্রিজের নিচ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। জুবায়ের কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সরইবাড়ি গ্রামের চেরাগ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে শ্রীমঙ্গল ও ভানুগাছ রেলওয়ে স্টেশনের মধ্যবর্তী মাগুরছড়া এলাকায় রেল ব্রিজের নিচে এক যুবকের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন পথচারীরা। পরে বিষয়টি কমলগঞ্জ থানা পুলিশকে জানানো হলে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নিহতের মরদেহের পাশে এক জোড়া জুতা ও কিছু খুচরা টাকা পড়ে ছিল এবং তার মুখের ডান দিকে থেঁতলে যাওয়ার চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে পুলিশের ধারণা, চলন্ত ট্রেন থেকে কোনোভাবে ছিটকে পড়ে ওই যুবকের মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাস্থল রেলওয়ে পুলিশের (জিআরপি) আওতাধীন হওয়ায় কমলগঞ্জ থানা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে শ্রীমঙ্গল রেলওয়ে থানাকে বিষয়টি অবহিত করে।
কমলগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল আউয়াল বলেন, খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়েছি। প্রাথমিকভাবে পরিচয় শনাক্ত না হলেও পরবর্তীতে নিহতের নাম-পরিচয় জানা গেছে। বিষয়টি রেলওয়ে থানাকে জানানো হয়েছে এবং তারা পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী কুস্তির মঞ্চ। যেখানে ছিল উল্লাস, হাততালি আর বিজয়ের প্রত্যাশা। কিন্তু সেই আনন্দঘন মুহূর্তই মুহূর্তে রূপ নিল শোকে। কুমিল্লার লালমাইয়ে কুস্তি খেলতে নেমেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন এক অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। হৃদয়বিদারক এ ঘটনার ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, স্তব্ধ হয়ে গেছেন সবাই। গত মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার বাকই উত্তর ইউনিয়নের মোহনপুর আলিম মাদরাসা সংলগ্ন মাঠে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
কুস্তিগীর হেলাল উদ্দিন মজুমদার স্থানীয়ভাবে ‘বলি হেলাল’ নামেই পরিচিত ছিলেন। লাকসাম উপজেলার কোঁয়ার গ্রামের এই মানুষটি পেশায় ছিলেন এক সাধারণ মুদি দোকানদার- কিন্তু কুস্তির ময়দানে ছিলেন এক পরিচিত মুখ, এক সাহসী যোদ্ধা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য ও ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়- রেফারির উপস্থিতিতে প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে লড়াই শুরু করেন হেলাল। খেলার একপর্যায়ে প্রতিপক্ষ তাকে মাটিতে ফেলে দেন এবং এক পায়ে ধরে কিছুটা টেনে নিয়ে যান। ঠিক তখনই ঘটে অপ্রত্যাশিত সেই মুহূর্ত হঠাৎ নিথর হয়ে যান হেলাল। নড়াচড়া বন্ধ হয়ে যায়, থেমে যায় লড়াই।
প্রথমে অনেকে ভেবেছিলেন, তিনি হয়তো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, ততই স্পষ্ট হয়েছে মাঠেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। আনন্দের মঞ্চে নেমে আসে নীরবতা, দর্শকদের চোখে ভেসে ওঠে আতঙ্ক আর অশ্রু।
স্থানীয়দের মতে, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মোহনপুর গ্রামের যুব সমাজ ও প্রবাসীদের উদ্যোগে এই কুস্তি প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছিল।
দ্বিতীয় দিনের খেলাতেই এমন হৃদয়বিদারক ঘটনা পুরো এলাকাকে শোকে ডুবিয়ে দেয়। কয়েক শ’ দর্শকের সামনে ঘটে যাওয়া এই মৃত্যুর দৃশ্য কেউই সহজে ভুলতে পারছেন না।
লালমাই থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং ভিডিও পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে- খেলারত অবস্থায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মৃত্যু হয়েছে।
যশোরের বেনাপোল চেকপোস্টে সুশান্ত কুমার মজুমদার নামে এক যাত্রীর কাছ থেকে পাসপোর্ট ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আস্তানায় অভিযান চালিয়ে পুলিশ মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে প্রতারকদের গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, বেনাপোল পৌরসভার বড়আঁচড়া গ্রামের সলেমানের ছেলে হামিদ, ভবারবেড় গ্রামের মতরেবের ছেলে আতিকুর রহমান ও শাহাজানের ছেলে রুবেল হোসেন।
ভুক্তভোগী পাসপোর্টধারী যাত্রী জানান, তিনি চিকিৎসার জন্য ভারতে যাওয়ার উদ্দেশে গতকাল মঙ্গলবার ভোরে বাস থেকে বেনাপোল চেকপোস্টে নামেন।
এ সময় পাসপোর্টে দ্রুত কাজ করে দেওয়ার নাম করে চার থেকে পাঁচজন তাকে ঘিরে ধরেন।
এক প্রকার তাদের সাথে আস্তানায় যেতে বাধ্য করেন। পরে তাকে জিম্মি করে ৩০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ করলে পুলিশ প্রতারকদের মধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, প্রতারক চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল ইমিগ্রেশন ও চেকপোস্ট এলাকায় যাত্রীদের টার্গেট করে নানা কৌশলে অর্থ হাতিয়ে আসছিল। সর্বশেষ এক পাসপোর্টধারী যাত্রীর কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের আটক করে।
স্থানীয়দের দাবি, অসহায় পাসপোর্টধারীদের জিম্মি করে প্রতিনিয়ত লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। অনেকে এ চক্রের হাতে জীবনও হারিয়েছেন।
এমনকি ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে নিয়মিত ভাগ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে পোর্ট থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহল বহুবার এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানালেও কার্যকর উদ্যোগের অভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের মতে, সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চক্রটি দল বদল করে একইভাবে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রতারকরা প্রতিদিন পাসপোর্টধারীদের আটকে টাকা ও সাথে থাকা মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নিচ্ছে। অপরাধ দমনে সীমান্তে সরকারের বিভিন্ন সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদারকি থাকলেও তাদের দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা কোনো কাজে আসছে না।
বেনাপোল বন্দর পরিচালক শামিম হোসেন জানান, প্রাইয় প্রতারক চক্রকে ধরে পুলিশে দেওয়া হচ্ছে। তারা আবার ফিরে ছিনতাই, প্রতারণায় জড়িয়ে পড়ছে।
বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ওসি সাখাওয়াত হোসেন জানান, পাসপোর্টধারীদের কাছ থেকে প্রতিদিনই অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটছে। বিভিন্ন সভায় এসব তুলে ধরা হয়। কিন্তু কোনোভাবে অপরাধ থামছে না।
দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিনি ৫ থেকে ৭ হাজার দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাত্রী যাতায়াত করেন। ওইসব যাত্রীদেরকে প্রতারকরা ‘লাইনের আগে অনলাইন ট্যাক্স, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করতে হবে না’ ইত্যাদি কথা বলে নির্দিষ্ট ঘরে নিয়ে যায়।
তারপর ‘অনলাইনে ফরম পূরণ’ এবং ‘টাকার নাম্বার লিখতে হবে, না লিখলে কাস্টমস আটক করবে সহ নানা প্রতারণামূলক কথা বলে পাসপোর্ট যাত্রীর কাছ থেকে টাকাসহ মূল্যবান মালামাল ছিনিয়ে নেয়।
বেনাপোল পোর্ট থানার ওসি আশরাফ হোসেন জানান, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণে পর্যায়ক্রমে প্রতারক চক্রের সব সদস্যকে ধরা হবে।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান খাল কেটে কৃষি উন্নয়ন ব্যবস্থাকে ত্বরান্বিত করেছিলেন এবং সে ব্যবস্থা এখনো কৃষকদের মনে গেঁথে আছে। সেই খালকাটার সুফলটা এ দেশের কৃষকরা পেয়েছে। দীর্ঘ কয়েক বছর আমাদের এখানে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয় বিভিন্ন ধরনের মানুষ দখল ও পলি পরে তা অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে। এ জন্য সরকার ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে নদী-নালা, খাল-বিল, পুকুর-জলাশয় পুনঃখননের। কয়েকদিন আগেই বিভিন্ন স্থানে খাল খনন উদ্বোধন করা হয়েছে। আমাদের এলাকায় যেসব খাল বেদখল রয়েছে তা উদ্ধার করে পুনঃখননের ব্যবস্থা করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বাংলাদেশের কৃষকরা যাতে করে কোনো ভোগান্তি ছাড়াই কৃষিকাজ ভালোভাবে পরিচালনা করতে পারে এবং সরকারের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে সব ধরনের সহযোগিতা পায় এ জন্য কৃষি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য দেশে পাইলটিং প্রোগ্রামে আপাতত দেশের ১০টি জেলায় কৃষি কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়ন একটি। এ ইউনিয়নে আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ কৃষি কার্ড বিতরণ শুভ উদ্বোধন করে কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হবে।’
জেলা কৃষি সম্প্রসারণের উপপরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘বাংলাদেশের সরকার নির্বাচনী ইশতেহার হিসেবে দেশের ১০টি জেলার ১০টি উপজেলার, ১০টি ইউনিয়নে, ১০টি কৃষি ব্লকে প্রি-পাইলটিং হিসেবে কৃষক কার্ড প্রবর্তনের কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এই কর্মসূচি হিসেবে রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের তেনাপচা কৃষি ব্লকে এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গত ১১ তারিখে কার্যক্রম শুরু হয়েছে এর মধ্যে আমরা ১,০৩৫ জন কৃষকের জরিপ কাজ সম্পন্ন করেছি। অনলাইনের মাধ্যমে তাদের তথ্য ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি। আগামী ১৪ এপ্রিল এই কার্ড উদ্বোধন করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখানে বড়, মাঝারি, প্রান্তিক, দুর্যোগ ও ভূমিহীন ৫ ধরনের কৃষক রয়েছে। এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা তাদের সমস্ত প্রণোদনা সহায়তা পাবে।’
এ সময় গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মো. মমিনুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সুলতান নুর ইসলাম মুন্নু মোল্লাসহ বিভিন্ন ইউনিটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ট্রেনে কাটা পড়ে দুই যুবকের মৃত্যু হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের অদূরে ২৯ নম্বর রেলসেতু এলাকায় কালনী এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে পরিচয় না জানা এক যুবকের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে সোমবার রাত ৯টার দিকে স্টেশন-সংলগ্ন পশ্চিম আউটারে এগারসিন্দুর এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে আইনুল হক নামের আরেক যুবকের মৃত্যু হয়।
রেলওয়ে পুলিশ সুত্রে জানা যায়, পরিচয় না জানা যুবকের পরনে ছিল জিনস প্যান্ট ও লাল রঙের শার্ট। তার পরিচয় শনাক্তে পিবিআইকে খবর দেওয়া হয়েছে। অপরদিকে এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে নিহত আইনুল হক কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার বানাইল ইউনিয়নের দাউদপুর গ্রামের তোরাব আলীর ছেলে। আইনুল হক মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ওসি মোহাম্মদ সাঈদ আহমেদ জানান, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ও সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে ট্রেনে কাটা দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্য একজনের মরদেহ পরিচয় সনাক্ত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর মরদেহটি পরিচয় সনাক্তকরণের জন্য জেলা থেকে পিবিআই পুলিশের টিম এসে কাজ করবেন বলে তিনি জানান।
বগুড়ার ৭৮টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সিংহভাগই তেল শূন্য হয়ে বন্ধ রয়েছে। পাওয়া যাচ্ছে না পেট্রোল ও অকটেন। এ অবস্থায় বিপাকে পড়েছেন মোটরসাইকেল, ট্রাক, বাস, কারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকেরা। এদিকে ডিজেলসংকটে ব্যাহত হচ্ছে বোরো খেতের সেচ কার্যক্রম। পাম্পে পাম্পে ধরনা দিয়ে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে সরেজমিন দেখা যায়, বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে মিতালী ফিলিং স্টেশন এবং দত্তবাড়ি এলাকায় শতাব্দী ফিলিং স্টেশন বন্ধ। শহরের চারমাথা থেকে মোকামতলা পর্যন্ত ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত ৩০টি ফিলিং স্টেশন আছে। এর প্রায় সবই বন্ধ; সেখানে পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেল নেই। বেলা ১১টার দিকে টিএমএসএস ফিলিং স্টেশন খোলা পাওয়া। সেখানে তেলের জন্য কয়েকশ যানবাহনের দীর্ঘ সারি। মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার এবং ভারী যানবাহনে ২০ লিটারের বেশি তেল বিক্রি করা হচ্ছে না।
মাটিডালি এলাকার নর্দান ফিলিং স্টেশনের মালিক ও বগুড়া জেলা পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি এমদাদ আহমেদ বলেন, মজুত শেষ হওয়ায় তার পাম্প সোমবার রাত থেকে বন্ধ। তেল এলে বুধবার সকাল থেকে তেল বিক্রি শুরু হবে।
এমদাদ আহমেদের সঙ্গেই ছিলেন রংপুরের পেট্রোলপাম্পের মালিক রেজাউল হক। তিনি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রংপুর জেলা কমিটির অন্যতম সদস্য। রেজাউল হক জানান, তার মালিকানায় হক ব্রাদার্স ফিলিং স্টেশন, বিপ্লব ফিলিং স্টেশন, আরজাহান ফিলিং স্টেশন, নাহার ফিলিং স্টেশন এবং সম্ভাবনা ফিলিং স্টেশন নামে পাঁচটি পেট্রোলপাম্প আছে। তেলের সংকটে সব কটি পাম্প বর্তমানে বন্ধ।
উত্তরের এই জ্বালানি তেল ব্যবসায়ী আরও বলেন, তিনি ব্যবসার কাজে প্রাইভেট কার চালিয়ে রংপুর থেকে বগুড়ায় এসেছেন। রংপুর-ঢাকা মহাসড়কের দুই পাশে অন্তত অর্ধশত পেট্রোলপাম্পের সব কটিই বন্ধ দেখেছেন। শুধু বগুড়ার টিএমএসএস ফিলিং স্টেশন খোলা ছিল।
বগুড়ার ধুনট উপজেলার দুটি পেট্রোলপাম্প কয়েক দিন ধরে তেলশূন্য। ডিজেলসংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন কৃষকেরা, বন্ধ হয়ে গেছে বোরো ক্ষেতে সেচ কার্যক্রম। পাম্পে পাম্পে ধরনা দিয়েও তেল কিনতে পারছেন না সেচপাম্পের মালিক এবং যানবাহনের চালকেরা।
গতকাল সকালে গিয়ে দেখা যায়, ধুনট উপজেলা সদরে মেসার্স সুলতান ফিলিং স্টেশন ও মেসার্স ধুনট ফিলিং স্টেশনে তেল নেই। পাম্পের তেল সরবরাহ মেশিনের সামনে দড়ি দিয়ে যানবাহন প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাম্পে তেলের জন্য ধরনা দিচ্ছেন যানবাহনের চালকেরা।
চালকদের অভিযোগ, কয়েক দিন ধরে পাম্প বন্ধ। খোলা খোলাবাজারেও তেল মিলছে না। পেট্রলের অভাবে রাস্তায় মোটরসাইকেল বের করা যাচ্ছে না। একই অভিযোগ কৃষক ও সেচপাম্পের মালিকদের। তারা বলছেন, বোরো চাষের ভরা মৌসুম চলছে। বোরো খেতে সেচ দিতে দিনরাত সেচপাম্প চালু রাখতে হচ্ছে। অথচ সেচের জন্য ধুনটে কোথাও ডিজেল মিলছে না। ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে শেরপুর উপজেলার বিভিন্ন পাম্পে গিয়েও ১০ থেকে ২০ লিটারের বেশি তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
ধুনট উপজেলার বেলকুচি গ্রামের মোটরসাইকেলচালক ফরিদ আহম্মেদ বলেন, মোটরসাইকেলে এক ফোটাও তেল নেই। পাম্পেও তেল নেই, খোলাবাজারেও তেল পাওয়া যাচ্ছে না।
উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের কৃষক আল আমিন বলেন, ডিজেলের অভাবে সেচপাম্প বন্ধ। বোরো ক্ষেতে পানি নেই। ডিজেল না পেলে ক্ষেতে ফেটে চৌচির হবে।
মেসার্স ধুনট ফিলিং স্টেশনের মালিক জুয়েল রানা বলেন, ‘ঈদের দিন থেকে পাম্পে তেলের মজুত শেষ হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে যোগাযোগ করেও তেল পাচ্ছি না।’
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নন্দীগ্রাম, কাহালু, দুপচাঁচিয়া ও আদমদীঘি উপজেলার পাম্পগুলোতেও পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন মিলছে না। এতে সেচপাম্প বন্ধ হওয়ায় বোরো খেত নিয়ে দিশাহারা কৃষকেরা। ভোগান্তির মুখে পড়েছেন যানবাহনের চালকেরা।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটরস, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহী বিভাগীয় কমিটির সভাপতি মিজানুর রহমানের (রতন) তথ্যানুযায়ী বগুড়ায় ৭৮টি পেট্রোলপাম্পের মধ্যে সরবরাহ ঘাটতির কারণে প্রায় অর্ধেক পাম্পই বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি থেকে পাম্প পর্যন্ত তেল পরিবহনে ট্যাংকলরির ভাড়া ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা। ১ লরিতে ৯ হাজার লিটার তেল পরিবহন করা যায়। কিন্তু বাঘাবাড়িতে বিপিসির ডিপো থেকে পাম্পমালিকদের সরবরাহ করা হচ্ছে গড়ে পাঁচ হাজার লিটার জ্বালানি তেল। ধারণক্ষমতার অর্ধেক তেল বরাদ্দ পাওয়ায় পরিবহন খরচ প্রায় দ্বিগুণ গুণতে হচ্ছে। কিন্তু পাম্প থেকে বাড়তি দামে তেল বিক্রি করার সুযোগ নেই।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে রবি নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোর ৬টার দিকে উপজেলার দৌলতদিয়া এলাকার নতুনপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। রবি দৌলতদিয়া পূর্ব পাড়া এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতের যেকোনো সময় শফি সরদারের ধানক্ষেতে ব্যবহৃত মোটর বা তার চুরি করতে যায় রবি। এ সময় মোটরের সাথে সংযুক্ত বৈদ্যুতিক তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত থাকায় তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন এবং ঘটনাস্থলেই মারা যান।
এ বিষয়ে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সেচকৃত বৈদ্যুতিক তার বা মোটর চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ধানক্ষেতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। তার হাতে বিদ্যুতের ক্যাবল জড়ানো ছিলো এবং গায়ের মধ্যে কিছু অংশ পুড়ে পুড়ে গেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া, নড়াইলের লোহাগড়া এবং বরিশালের গৌরনদীতে তিন গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এদের একজনের মরদেহ ঝুলছিল জানালার গ্রিলে, অন্যজনের গলায় ওড়না পেচানো এবং দুই পা শিকলে বাধা ছিল আরেকজনের মরদেহ ঝুলছিল গাছের সঙ্গে। বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রতিনিধিরা।
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ): গজারিয়ায় ভাড়াবাড়ি থেকে জানালার গ্রিলের সঙ্গে ফাঁস লাগানো অবস্থায় মীম আক্তার (২৫) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকালে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের বালুয়াকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন একটি পাঁচ তলা ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত মীম আক্তার গজারিয়া উপজেলার টেঙ্গারচর ইউনিয়নের বড়ইকান্দি ভাটেরচর গ্রামের মুক্তার হোসেনের মেয়ে। তার স্বামী কিবরিয়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১১ মাস ধরে স্বামী কিবরিয়ার সঙ্গে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকতেন মীম। সোমবার রাতে কিবরিয়া কর্মস্থলে চলে গেলে মীম একাই ছিলেন। মঙ্গলবার ভোরে মীমের মা মেয়ের বাসায় এসে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ পান। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তার সন্দেহ হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ঘরের ভেতরে প্রবেশ করে জানালার গ্রিলের সঙ্গে মীমকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তারা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের স্বামী কিবরিয়া জানান, তিনি জাহাজ শ্রমিক। ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচয়ের পর তাদের প্রেম হয় এবং পরবর্তীতে দুই পরিবারের অমতে তারা বিয়ে করেন। বিয়ের পর কয়েক মাস বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনের বাসায় থাকলেও ১১ মাস ধরে তারা এই বাড়িতে বাস করছিলেন।
তিনি বলেন, 'আমার স্ত্রী একা থাকতে ভয় পেত। কয়েক মাস ধরে সে প্রচণ্ড মাথাব্যথায় ভুগছিল। অনেক চিকিৎসক দেখালেও অবস্থার উন্নতি হয়নি। রাতে কাজে যাওয়ার সময় আমি আমার শাশুড়িকে বাসায় আসতে বলেছিলাম। কিন্তু সকালে কর্মস্থলে থাকা অবস্থায় স্ত্রীর মৃত্যুর খবর পাই।
নিহতের মা জানান, রাত বেশি হয়ে যাওয়ায় সোমবার তিনি আর মেয়ের বাসায় যাননি। মঙ্গলবার ভোরে এসে ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় ভেতরে ঢুকে মীমকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান।
গজারিয়া থানার ওসি মো. হাসান আলী জানান, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
গৌরনদীতে গাছে ঝুলন্ত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার, মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা
বরিশাল প্রতিনিধি
বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় বিলকিস বেগম (৩২) নামে তিন সন্তানের জননীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ভোরে উপজেলার উত্তর চাঁদশী গ্রামের একটি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত বিলকিস বেগম ওই গ্রামের বাসিন্দা মাইনুল গাজীর স্ত্রী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (২৩ মার্চ) রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক বিরোধ নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর রাতের কোনো এক সময়ে এ ঘটনা ঘটে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অভিমান করে গলায় ফাঁস দিয়েছেন তিনি। তবে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে ভিন্ন অভিযোগ করা হয়েছে। বিলকিসের স্বজনদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তাকে নির্যাতন করা হচ্ছিল। তাদের অভিযোগ, হত্যার পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী মাইনুল গাজীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অন্যদিকে, নিহতের শ্বশুর আলতাফ গাজী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সামান্য মনোমালিন্যের জের ধরেই বিলকিস আত্মহত্যা করেছেন।
বরিশাল গৌরনদী মডেল থানার ওসি তারিক হাসান রাসেল জানান, খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে।
শিকলে বাধা দুই পা, নড়াইলে ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার
নড়াইল প্রতিনিধি
ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় রীতা বেগম নামে(৪০) এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে লোহাগড়া থানা পুলিশ। উদ্ধারের সময় তার গলায় ওড়না পেচানো এবং দুই পায়ে শিকলী দিয়ে বাধা ছিল। রহস্যজনক এই মৃতের মরদেহ সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে নড়াইলের লোহাগড়া থানার কাশিপুর ইউনিয়নের এড়েন্দা গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়। মৃত রীতা বেগম গ্রামের রবিউল ইসলামের স্ত্রী।
পরিবারের দাবি রীতা বেগম মানষিক ভারসাম্য হারানো এক মহিলা। বাড়ীর কাউকে কিছু না বলে প্রায়ই বাড়ী থেকে বের হয়ে যেত। যে কারণে বেশ কিছুদিন যাবত তাকে আলাদা ঘরে রাখা হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রতিবেশিরা জানান,রীতা বেগম ভালো মনের মানুষ। মানসিক ভারসাম্য হারানো মিথ্যা অভিযোগ এনে তাকে দুই পায়ে শিকলী দিয়ে বেধে আলাদা ঘরে রাখা হয়। সোমবার (২৩ মার্চ) ভোর রাতে পরিবারের লোকজন ঘরের আড়ার সঙ্গে গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় দেখতে পেয়ে চিৎকার করে জানান দেয়। পরে পুলিশকে খবর দিলে লাশ উদ্ধা করে থানায় নিয়ে যায়।
লোহাগড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো,আব্দুর রহমান বলেন,বাড়ীর একটি ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। তিনি বলেন, দুই পা শিকলে বাধা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে হয়। ময়না তদন্তের জন্য সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে নরসিংদীর বেলাব উপজেলায় এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সামাজিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘চলো গড়ি বেলাব’। ক্রাউডফান্ডিং বা গণতহবিলের মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ দিয়ে উপজেলার ৭৬৪টি দুস্থ ও অসহায় পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করছে সংগঠনটি।
সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে গত ২৬ দিনের নিরলস প্রচেষ্টায় প্রায় ৫ লাখ ৪৪ হাজার টাকা তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। দেশে ও বিদেশে অবস্থানরত অসংখ্য শুভাকাঙ্ক্ষী ও দানশীল ব্যক্তিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই মহৎ কাজে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছেন।
এ বছর বেলাব উপজেলার ৭২টি ওয়ার্ডের মোট ৭৬৪টি পরিবারের কাছে এই ঈদ উপহার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি উপহার প্যাকেজে রয়েছে পোলাওয়ের চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, পেঁয়াজ, লবণ, সেমাই, চিনি, গুঁড়া দুধ, মাংসের মসলা এবং গোসলের সাবান। প্রতিটি প্যাকেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৫০৮ টাকা। উল্লেখ্য, গত বছর ৫০৪টি পরিবারকে এই সহায়তা দেওয়া হলেও এবার সেবার পরিধি বাড়িয়ে ৭৬৪টি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
২০২০ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ‘চলো গড়ি বেলাব’ প্রতি বছর রমজান ও ঈদে খাদ্য সহায়তা দিয়ে আসছে। এর বাইরেও সংগঠনটি বৃক্ষরোপণ, করোনাকালীন জনসচেতনতা, চিকিৎসা সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ, মেধাবী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা এবং সিজিবি (CGB) ফাউন্ডেশন বৃত্তি পরীক্ষার মতো সামাজিক ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। এমনকি ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশেও দাঁড়িয়েছিল এই সংগঠনের একঝাঁক তরুণ।
সংগঠনের এক স্বেচ্ছাসেবক বলেন, "সমাজের প্রতিটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা বজায় রাখাই আমাদের লক্ষ্য। যারা অর্থ, শ্রম ও সময় দিয়ে আমাদের এই পথচলায় পাশে রয়েছেন, তাদের প্রতি আমরা চিরকৃতজ্ঞ।" মানবিক এই কার্যক্রমগুলো ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে অব্যাহত রাখতে বেলাব উপজেলার সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে সংগঠনটি।
উপকূলীয় অঞ্চলে প্রকৃতির বুকে নতুন করে সৌন্দর্যের বার্তা ছড়াচ্ছে গোল গাছের ফুল। শরণরখোলার সুন্দরবন সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় এখন গোল গাছ ফুলে ফুলে সেজেছে, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি কাড়ছে।
স্থানীয়রা জানান, বছরের এই সময়ে গোল গাছে ফুল ফোটে এবং তা উপকূলের পরিবেশকে করে তোলে আরও মনোরম। বিশেষ করে সুন্দরবনের পাশে নদীর পাড়, খাল-বিল আর বনাঞ্চলের পাশে এই ফুলের উপস্থিতি এক ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। সকালে সূর্যের আলো আর বিকেলের নরম হাওয়ায় ফুলগুলো যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. দুলাল ফরাজি বলেন, গোল গাছের ফুল ফুটলে মনে হয় প্রকৃতি নতুন করে হাসছে। এই দৃশ্য আমাদের মন ভালো করে দেয়।
পরিবেশবিদদের মতে, গোল গাছ শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না, এটি উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এই গাছ মাটি ধরে রাখে এবং ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের ক্ষতি কিছুটা কমাতে সহায়তা করে।
তারা আরও বলেন, উপকূলের এই প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষা করতে হলে বন উজাড় বন্ধ এবং পরিবেশের প্রতি সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।