বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও বরগুনা-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম মনি বলেছেন, দেশকে অস্থিতিশীল করতে কুচক্রী মহল নানাবিধ কার্যক্রম করতে পারে। দেশকে একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করার চেষ্টা হতে পারে, সেদিকে সবার বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।
আজ সোমবার সকালে বরগুনায় ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাড়ি পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন তিনি।
নুরুল ইসলাম মনি বলেন, নির্যাতিত কিশোরী এবং নিহত মন্টু দাসের পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা করার জন্য বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নির্দেশ দিয়েছেন। মন্টু দাসের পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়া হবে, ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়াসহ ফ্রি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। সর্বোপরি বিএনপি এই পরিবারের সঙ্গে আছে এবং থাকবে।
এ সময় তারেক রহমানের পক্ষে নিহত মন্টু দাসের পরিবারকে নগদ এক লাখ টাকা অনুদান প্রদান করেন তিনি। এর আগে তারেক রহমান নিজে লন্ডন থেকে ফোনে মন্টু দাসের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে তার সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা, বরগুনা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাড. নুরুল আমিন, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ফয়জুল মালেক সজিব, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম রনিসহ দলের অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ধর্মীয় উপাসনালয়, পূজামণ্ডপ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও উপকূলীয় এলাকার মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। এ উপলক্ষে কোস্ট গার্ডের আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় সাড়ে ৩ হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে মোংলা উপজেলা কেন্দ্রীয় মন্দিরে দুর্গাপূজার নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শনকালে এ তথ্য জানান বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।
তিনি বলেন, ‘উপকূলীয় ও নদী তীরবর্তী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জনসাধারণের জানমাল নিরাপদ রাখতে কোস্ট গার্ড নিয়মিত কাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।’
মহাপরিচালক জানান, কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোনের আওতাধীন খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলার উপকূলীয় এলাকায় ১৪৪টি মন্দির ও পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে।
পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্ন করতে বিসর্জনস্থলগুলোতে বিশেষ ডুবুরি দল প্রস্তুত থাকবে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগেরও আহ্বান জানান তিনি।
মহাপরিচালক আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে শারদীয় দুর্গাপূজা সম্পন্ন হবে।
সরকারের জনকল্যাণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা ও রূপকল্প সফলভাবে বাস্তবায়নে প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ভেদাভেদ ভুলে সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম।
তিনি বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের সুফল জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে মাঠ প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় পর্যায়ের সংশ্লিষ্ট সবাই সমন্বিতভাবে কাজ করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন আরও দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত এলসিএস (LCS) শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
২০২৫-২৬ অর্থবছরে কিশোরগঞ্জ জেলার পরিচালন বাজেটের আওতায় গ্রামীণ সড়কের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ (Off Pavement) প্রকল্পে নিয়োজিত শ্রমিকদের মাঝে এসব চেক বিতরণ করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাফফাত আরা সাঈদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন এলজিইডি কিশোরগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রফিকুল ইসলাম।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, সরকারের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও নীতি বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হলো মাঠ প্রশাসন। সরকারের অর্জন ও সফলতা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হলে প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে বর্তমান সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জনকল্যাণে বিভিন্ন যুগান্তকারী পদক্ষেপ ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এসব পরিকল্পনা মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্ব, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তারা যার যার অবস্থান থেকে জনবান্ধব মনোভাব নিয়ে দায়িত্ব পালন করলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে, বলেন তিনি।
এর আগে সকাল থেকে কুলিয়ারচরের বিভিন্ন এলাকায় দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। সকাল ১০টায় ফরিদপুর বাংলাবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি। এরপর বেলা ১১টায় ছয়সূতীতে জনতা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন তিনি।
এরপর কুলিয়ারচর কালী নদীতে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করার কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রতিমন্ত্রী। পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এলসিএস শ্রমিকদের মাঝে চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
অনুষ্ঠানে কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার চেকপ্রাপ্ত এলসিএস শ্রমিক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে শ্রমিকদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে চেকের অর্থ তুলে দেওয়া হয়।
প্রতিমন্ত্রীর সফরসূচি অনুযায়ী, বিকেল ৪টায় সালুয়া এমাদ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত ডুমরাকান্দা ফ্রিজ কাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এরপর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত কুলিয়ারচর উপজেলার বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময়ের কর্মসূচিও রয়েছে তাঁর।
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে সড়কে গাছ ফেলে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের কাভার্ডভ্যানসহ চারটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আন্তজেলা ডাকাত দলের ৮ সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
এ সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র, ল্যাপটপ, বিভিন্ন ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোনসহ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ১২ লাখ টাকা। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে দিনাজপুর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) আনোয়ার হোসেন। এ সময় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ওসি মোহাম্মদ আলমগীর উপস্থিত ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মো. শাকিল সরকার (২৬), মো. রুহুল আমিন (৩৫), মো. রাশেদ মিয়া (৩০), মো. রবিউল প্রধান (৩৫), মো. সাজ্জু মিয়া (৫৩), মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে চেয়ারম্যান (৪২), মো. শাহিন মিয়া (৩০) ও মো. মিরাজ মিয়া (২৬)। তাদের বাড়ি গাইবান্ধা ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকায়।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সোয়া ১টা থেকে পৌনে ৩টা পর্যন্ত নবাবগঞ্জ উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের জামালপুর এলাকায় একদল ডাকাত সড়কে চলাচলরত যানবাহনে ডাকাতি করে। এ সময় চালক, সহকারী ও যাত্রীদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মারধর করে মালামাল লুট করা হয়।
ঘটনার পর সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ করা হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত শুরু করে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর অভিযানে ডাকাত দলের আট সদস্যকে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়।
উদ্ধার করা মালামালের মধ্যে রয়েছে- দুটি এইচপি ল্যাপটপ, ইনফিনিক্স, অপো, ভিভো, অনার ও স্যামসাং ব্র্যান্ডের মোবাইল ফোন, একটি ম্যাক্সটেল বাটন ফোন, একটি চাপাতি ও একটি ছুরি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, এই ডাকাতির ঘটনায় যদি আরও কোনো ডাকাত জড়িত থাকে তাকেও আইনের আওতায় আনা হবে।
শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। এ দেশের হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান- সব ধর্মের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি আরও সুদৃঢ় করতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। দেশকে সুন্দর ও শান্তির দেশে পরিণত করতে সবাইকে সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করার আহ্বান জানান তিনি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ত্রিনয়নী শিববাড়ী মন্দিরের দুর্গাপূজা পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দুর্গাপূজা সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে উদ্যাপনে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিচ্ছে। সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা ও নির্বাচনী এলাকায় পূজার আয়োজন সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে কাজ করছেন।’
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘গতকাল (সোমবার) সিলেটের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছি এবং আজ (মঙ্গলবার) মৌলভীবাজারে এসেছি। এবারের দুর্গাপূজা আগের বছরের তুলনায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী এবার পূজা উদ্যাপনে আরও বেশি সহযোগিতা করেছেন, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন।’ বাংলাদেশি হিসেবে সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক সম্প্রীতি আরও সমৃদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
মন্দির পরিদর্শনকালে মৌলভীবাজার জেলা পরিষদের প্রশাসক মিজানুর রহমান, জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্যসচিব আবদুর রহমান রিপন ও সিনিয়র সদস্য এম এ মুকিত এবং ত্রিনয়নী শিববাড়ী মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি স্বাগত কিশোর দাস চৌধুরীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, মন্দির পরিচালনা কমিটির সদস্য, দর্শনার্থী ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী মৌলভীবাজার সদরের শ্রী শ্রী নতুন কালীবাড়ি মন্দির ও মহেশ্বরী পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
প্রকল্পের শুরুতে ৫০টি বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের করার কথা ছিল। পরবর্তী সময়ে ৩৩০টি বাড়ি বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮০টিতে। তবে প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ বাড়েনি। ফলে পুরো কাজ বাস্তবায়নে ঠিকাদার গড়িমসি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলেও নিরাপদ পানি পাচ্ছেন না উপকারভোগীরা। প্রকল্পের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করে সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা। এই ঘটনা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরআমখাওয়া ইউনিয়নের চরমাদার গ্রামের।
জানা গেছে, চরমাদার গ্রামের ৫০টি বাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহের জন্য ‘সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প’ নেয় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। ব্যয় ধরা হয় ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। প্রকল্পের কাজ শুরু হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের ২৮ এপ্রিল। দেড় বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা ২০২৪ সালে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় প্রকল্পটির কাজ শুরু করতে পাঁচ মাস দেরি করে বিএম ট্রেড নামে ঢাকার একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে উপজেলা সদর থেকে ২০ কিলোমিটার উত্তরে চরআমখাওয়ার চরমাদার গ্রামে। চরমাদার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘেঁষে বসানো হয়েছে ওভারহেড ট্যাংক বা উচ্চ জলাধার। দেখা যায়, উচ্চ জলাধার থেকে চারপাশের ৩৮০টি বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য পাইপ সংযোগ ও প্লাটফর্ম স্থাপন সম্পন্ন হয়েছে। অসমাপ্ত রয়েছে মটর বা পাম্প বসানোসহ কারিগরি কাজ। ভুক্তভোগীরা জানায়, প্রকল্পটি চালু হলে আয়রণমুক্ত নিরাপদ পানি পাবে তারা । প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে উপকারভোগীদের নিয়ে স্থানীয়ভাবে কমিটি করা হবে। এই কমিটির অধীনে পরিচালিত হবে প্রকল্পটি।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পটির চুক্তি মোতাবেক ওই এলাকার ৫০টি বাড়িতে নিরাপদ পানি সরবরাহের ব্যবস্থা করার কথা। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী ৩৩০টি বাড়ি বৃদ্ধি করে ৩৮০টি বাড়িতে পানি সরবরাহের জন্য সংযোগ দেওয়া হয়। এতে ব্যয় বেড়ে গেলেও বাড়তি ৩৩০ বাড়িতে সংযোগ স্থাপন বাবদ প্রকল্পের ব্যয় বরাদ্দ সমন্বয় করা হয়নি। সে কারণে প্রকল্পের ৭০ শতাংশ কাজ বাস্তবায়ন করে ৩০ শতাংশ কাজ ফেলে রেখেছেন ঠিকাদার।
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পটির বাকি ৩০ শতাংশের কাজ সমাপ্ত করার জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে তাগাদা দিয়ে ইতোমধ্যে চার থেকে পাঁচটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। সর্বশেষ দেওয়া হয়েছে চলতি বছরের ৬ অক্টোবর। কিন্তু ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান তা আমলে নিচ্ছে না। প্রকল্পের অতিরিক্ত কাজের ব্যয় বরাদ্দ সমন্বয় না করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অসমাপ্ত কাজ করবে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
চরমাদার গ্রামের উপকারভোগী আক্কাস আলী বলেন, ‘পানির লাইনের কাজ মেলা দিন থেকে বন্ধ হইছে। কাজ বাকি আছে কিন্তু করছে না। চালু হলে আমরা নিরাপদ পানি পাইতাম। রোগবালাই হইতো না। আমাগোর দাবি, পানির লাইনডা যেন তাড়াতাড়ি হয়।’
উপকারভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজি মো. শাসছুল হক জানান, এলাকায় একটা পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অদ্যাবধি তা চালু হচ্ছে না। পানির লাইন চালু হলে গ্রামবাসী আয়রণমুক্ত নিরাপদ পানি পেত। বাকি কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানান তিনি।
উপকারভোগী নুর নাহারের ভাষ্য, গিরামে (গ্রামে) পানির লাইন হইল কিন্তু আমরা সুবিধা পাইলাম না। আমাগো কলের পানিতে আয়রণ আছে। পানির লাইন চালু হইলে আমরা আয়রণমুক্ত পানি পাইতাম। আমরা ফ্রেশ পানির জন্য লাইন নিছি। কিন্তু তিন বছর পার হইলেও আমরা আয়রণমুক্ত পানি পাইলাম না।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিএম ট্রেডের প্রকৌশলী শহিদ মিয়া জানান, তাদের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান অন্য একটি প্রকল্পের কাজে ব্যস্ত ছিল। এখন সে কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। ওই প্রকল্পটির অসমাপ্ত কাজ চলতি মাসেই শুরু করা হবে।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী বাবলু মিয়া বলেন, ‘তারা ওই প্রকল্পে অতিরিক্ত কাজ করেছেন। ৫০টির পরিবর্তে চাহিদা অনুযায়ী ৩৮০টি পরিবারে পানি সরবরাহের সংযোগ দিয়েছেন। এ জন্য রিভাইজ বাজেট করা হয়েছে। বাজেটটি নির্বাহী প্রকৌশলীর অফিস থেকে পাস হয়েছে। এখন সেটি প্রকল্প পরিচালকের অফিসে রয়েছে। সেখান থেকে বাজেটটি অনুমোদিত হবে। তবে তারা বলেছে, কাজ শেষ করতে বাড়তি কাজের ব্যয় সমন্বয় করবেন। আশা করা যাচ্ছে, দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজ শুরু করা হবে।’
উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মাজেদুর রহমানের ভাষ্য, অতিরিক্ত কাজের জন্য রিভাইজ বাজেট করা হয়েছে। তাতে ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ১৮ লাখ টাকা। বাজেটটি অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ খুব শিগগির শুরু করবে বলে জানা গেছে।
টাঙ্গাইলের সখিপুরে অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে সবুজ (১৪) নামে এক কিশোর চালককে অপহরণের পর হত্যার ঘটনায় মূলহোতাসহ দুই পলাতক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে এসআরবি-১৪। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সকালে সখিপুরের বহেরাতৈল ইউনিয়নের আন্দিগ্রাম এলাকার গভীর জঙ্গল থেকে ওই কিশোরের মাথার খুলি, চুল ও হাড়সহ মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার পরিহিত শার্ট ও স্যান্ডেলও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন, মামলার মূলহোতা শাহীন (৩০) ও হাবিব (৩৫)। তাদের মধ্যে হাবিবকে ১৯ অক্টোবর বিকেলে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শাহীনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী ভিকটিমের মরদেহের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে এসআরবি-১৪-এর সিপিসি-৩ টাঙ্গাইল ক্যাম্পের পক্ষ থেকে এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে এসব তথ্য জানায় অতিরিক্ত ডিআইজি, এসআরবি ১৪ এর অধিনায়ক মো: মাসুদ রানা।
তিনি জানান, সখিপুর উপজেলার মিলপুর এলাকার সিরাজ মিয়ার ছেলে সবুজ জীবিকার তাগিদে ভাড়ায় অটোভ্যান চালাত। গত ২৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রতিদিনের মতো অটোভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সে আর ফিরে আসেনি। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে ২৭ সেপ্টেম্বর সখিপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
তারপরই গত ২৭ সেপ্টেম্বর গোপালপুর থানার সুতী পলাশ এলাকায় চোরাই অটোভ্যানসহ সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরির সময় স্থানীয় লোকজন আব্দুল করিম ও রফিকুল ইসলাম নামে দুজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। এ সময় ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আরও দুই সহযোগী হাবিব ও শাহীন পালিয়ে যান বলে জানায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পরে সবুজের বাবা বাদী হয়ে সখিপুর থানায় গত ১৫অক্টোবর একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলাটিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৭/৩০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
তিনি আরও বলেন, কিশোর সবুজ নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই এসআরবি-১৪-এর টাঙ্গাইল ক্যাম্প ছায়াতদন্ত শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ১৯ অক্টোবর বিকেল ৩টার দিকে বাসাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মামলার এজাহারভুক্ত ৩ নম্বর আসামি হাবিবকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে হাবিবকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে মূলহোতা শাহীনের অবস্থান শনাক্ত ও ভিকটিমের মরদেহ উদ্ধারে সখিপুরের বহেরাতৈল এলাকার আন্দিগ্রামের গভীর জঙ্গলে অভিযান চালানো হয়। তবে রাতের অন্ধকার ও ঘন জঙ্গলের কারণে প্রথম দফায় অভিযান সফল হয়নি।
সেই অভিযানের ধারাবাহিকতায় গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে মূলহোতা শাহীনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান অনুযায়ী একই এলাকার গভীর জঙ্গলে তল্লাশি চালিয়ে সবুজের মরদেহের অবশিষ্টাংশ, মাথার খুলি, চুল, হাড়, পরিহিত শার্ট ও স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ভিকটিমের অটোভ্যান ছিনতাই করতেই তাকে অপহরণ ও হত্যার ঘটনা ঘটানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়াও তিনি জানান, গ্রেপ্তারকৃত হাবিবকে সখিপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মূলহোতা শাহীনকে গ্রেপ্তার এবং মামলার আলামত উদ্ধারের পর তাকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চলের ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা ও উদযাপনের শান্তিময় পরিবেশ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছে জেলা প্রশাসনের গঠিত বিশেষ ভিজিল্যান্স টিম (টিম নং-০৫)।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দিনব্যাপী হাওরাঞ্চলের দুর্গোৎসবের বিভিন্ন মণ্ডপ ঘুরে সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন তদারকি দলটির সদস্যরা। পরিদর্শনের সময় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধিরা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে উৎসব উদযাপনের বিষয়ে মণ্ডপ কর্তৃপক্ষের সাথে মতবিনিময় করেন। একই সাথে মণ্ডপে আগত পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক সমন্বয় রেখে কাজ করার জন্য পূজা পরিচালনা কমিটিকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা হয়।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ এরশাদুল আহমেদের আহ্বায়কে গঠিত এই বিশেষ ভিজিল্যান্স টিমে সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জ জেলা আনসার ও ভিডিপির কমান্ড্যান্ট মোঃ আব্দুল আলীম, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক খন্দকার মাহবুবার রহমান, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোঃ বদরুদ্দোজা, আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক অলিউল ইসলাম এবং জেলা হিন্দু কল্যাণ ট্রাস্টের সহকারী পরিচালক।
পরিদর্শনকালে ভিজিল্যান্স টিমের সাথে সার্বিকভাবে যুক্ত ছিলেন অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মোহাম্মদ মজনু মিয়া, আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা তৌহিদ মিয়া, সহকারী প্রোগ্রামার আনোয়ার হোসেন, সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মাহমুদুল হাসান প্রমুখ।
এসময় স্থানীয় বিএনপি ও এর অংগ সংগঠনের নেতা-কর্মী, সাংবাদিক, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সংশ্লিষ্ট পূজামণ্ডপ পরিচালনা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও পুণ্যার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, ফেনী জেলা আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে। ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলামকে আহবায়ক, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ সেলিমকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করে ১১ সদস্য বিশিষ্ট আহবায়ক কমিটি গঠিত হয়েছে।
উক্ত কমিটিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা নয়ন কান্তি রক্ষিত, সদর উপজেলা ভূমি অফিসের প্রধান সহকারী সেন্টু মজুমদার, জেলা জজ আদালতের অফিস সহকারী মো. শাফায়াত হোসাইনকে যুগ্ম আহবায়ক এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয় এর উপ প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নূর হোসেন, বাংলাদেশ রেলওয়ে, ফেনীর সহকারী স্টেশন মাস্টার শাহিদ হাসান, পুলিশ সুপার কার্যালয়ের রিডার সহকারী রবিন চন্দ্র সাহা, পুলিশ হাসপাতালের কম্পাউন্ডার বেলায়েত হোসেন, স্বাস্থ্য বিভাগ, ফেনীর সিএইচসিপি মো. আব্দুস সাত্তার, গণপূর্ত বিভাগ, ফেনীর অফিস সহকারী আরশাদ হোসেনকে সদস্য মনোনীত করা হয়।
সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহবায়ক কমিটি ফেনী জেলা আহবান কমিটির অনুমোদন প্রদান করে।
নবগঠিত আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব বলেন, আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন এবং সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সুখে দুখে পাশে থাকবো। এ জন্য ফেনী জেলার সকল সম্মানিত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য।
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিভাগীয় নগরী রংপুরে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে বিশেষ একটি ফ্লাইটে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।
বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দির পূজামণ্ডপের উদ্দেশে যাত্রাকালে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের সামনে যাত্রাবিরতি করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তিনি শুভেচ্ছা বিনিময় ও সেলফি তোলেন এবং তাদের হাতে ফুটবল ও ক্রিকেট ব্যাটসহ বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রী উপহার হিসেবে তুলে দেন। সরকারপ্রধানকে হঠাৎ কাছে পেয়ে শিক্ষার্থীরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে।
এ বিষয়ে সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, রংপুরে যাওয়ার পথে কলেজের সামনে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের দেখে প্রধানমন্ত্রী নিজ থেকেই বাস থামান এবং শিক্ষার্থীদের সময় দেন। পরে তাদের খেলাধুলার সামগ্রী প্রদান করেন তিনি। অধ্যক্ষ আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত প্রসারে দুটি নতুন ছাত্রাবাস ও একটি মিলনায়তন নির্মাণের দাবি লিখিত আকারে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পেশ করা হয়েছে।
দিনের সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে বিমানে সৈয়দপুর এসে সড়কপথে রংপুরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে পুনরায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে আকাশপথে রাজশাহী পৌঁছাবেন তিনি। রাজশাহীর নির্ধারিত কর্মসূচি শেষে বিমানযোগে চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম শেষে রাতেই আকাশপথে ঢাকায় ফিরে আসার কথা রয়েছে তাঁর।
শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপন উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম সফরে বেরিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে আকাশপথে নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি। বিমানবন্দরে অবতরণের পর স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল অভ্যর্থনা জানানো হয়। পরবর্তীতে সড়কপথে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার সময় পথের দুই ধারে অপেক্ষমাণ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের শুভেচ্ছার জবাবে তিনি হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঘোষিত সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী রংপুরের স্থানীয় ধর্মসভা তথা রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিদর্শন করবেন। সেখানে আনুষ্ঠানিকতা ও শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে পুনরায় সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফিরে আকাশপথে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হবেন তিনি।
দুপুর দেড়টার দিকে রাজশাহীর হযরত শাহ মখদুম (রহ.) বিমানবন্দরে অবতরণ শেষে সেখানকার ধর্মসভা মন্দির পরিদর্শনে যাওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর রাজশাহী সার্কিট হাউসে সংক্ষিপ্ত বিশ্রাম শেষে বেলা ৩টায় নগরীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠের জনসভায় ভাষণ দেবেন তিনি।
রাজশাহীর কার্যক্রম সম্পন্ন করে তিনি বিমানে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। সন্ধ্যায় বন্দরনগরীর রহমতগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সাময়িক বিরতি শেষে রাতেই আকাশপথে রাজধানী ঢাকায় ফিরে আসার কথা রয়েছে তাঁর।
নাটোরের বড়াইগ্রামে যাত্রীবাহী বাস ও বালুবোঝাই একটি ট্রাকের ভয়াবহ সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন।। এ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ৩০ জন যাত্রী।
মঙ্গলবার ভোর আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার সরকারপাড়া এলাকায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বরগুনা থেকে রাজশাহীগামী ‘আরপি পরিবহন’-এর একটি বাসের সঙ্গে পাবনাগামী বালুভর্তি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই ৯ জন প্রাণ হারান। পরবর্তী সময়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও পাঁচজন। ঘটনার পর উদ্ধারকর্মীরা আহত ও নিহতদের নাটোর সদর হাসপাতাল এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে পাঠান। এর মধ্যে গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন আটজনকে রামেক হাসপাতালে ভর্তি রাখা হয়েছে।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম হতাহতের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত ও প্রক্রিয়ার জন্য নাটোর সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে আহতদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের নাম-পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব না হলেও পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা পরিচয় শনাক্তে কাজ করছেন।
দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস জানান, ভোরবেলা হওয়ায় চালক হয়তো তন্দ্রাচ্ছন্ন বা ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আহতদের অনেকের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে এবং ভুক্তভোগীদের পরিচয় নিশ্চিত করতে প্রশাসন সক্রিয় রয়েছে।
ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারামারি ও হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধে কিশোরদের জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত দেড় মাসে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দেড় হাজারের বেশি কিশোর গ্রেপ্তারের তথ্য এসেছে বিভিন্ন সূত্রে। এরপরও পাড়া-মহল্লায় তাদের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। এ পরিস্থিতিতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে দেশের সব উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সদস্য-সচিব করে এসব কমিটি গঠন করা হবে। তবে কমিটির সদস্যসংখ্যা, কার্যপরিধি ও কাজ শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
অভিযানের পরও উদ্বেগ: সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। কুমিল্লায় কয়েক দফার অভিযানে দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নন; বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তাই গ্রেপ্তারের সামগ্রিক সংখ্যাকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
অভিযানের পরও অপরাধের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ শিশু উন্নয়নকেন্দ্রগুলোর ওপর বাড়তি চাপ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের টঙ্গীতে ছেলেদের শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৬৯৩ জন এবং যশোরের পুলেরহাট কেন্দ্রে ১৫০ আসনের বিপরীতে ৩০৩ জন অবস্থান করছে। এসব কেন্দ্রে কিশোরদের পরিচর্যা, কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা তাই গুরুত্বপূর্ণ।
মূল পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জরুরি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে শুধু কিশোরদের গ্রেপ্তার করলে সমস্যার শিকড় দূর হবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকায় রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গ্যাং গড়ে ওঠে। এসব দলের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য, শিক্ষার ঘাটতি, বেকারত্ব, মাদকের বিস্তার এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব কিশোরদের অপরাধী চক্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দলবদ্ধ পরিচিতি, প্রভাব দেখানোর আকাঙ্ক্ষা এবং তথাকথিত ‘বড় ভাইদের’ আশ্রয়ও তাদের আকৃষ্ট করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রবণতা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই অপরাধে জড়িত কিশোরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের অপরাধে ব্যবহার করা প্রাপ্তবয়স্কদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে কিশোরদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা, পরিবারভিত্তিক তদারকি, কাউন্সেলিং ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে।
পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মুহাম্মদ নুরুল হুদার মতে, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, কমিটিতে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি সমাজসেবা বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ প্রয়োজন।
সব মিলিয়ে, সরকারের নতুন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে কমিটি গঠনই চূড়ান্ত সমাধান নয়। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করা গেলে এ উদ্যোগের সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।
শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার ও আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দয়াগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব উপহার তুলে দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।
অনুষ্ঠানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের ৬৮০টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার এবং একই সাথে দুটি সম্প্রদায়ের পূজা উদযাপন কমিটিকে বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘ওসমানী উদ্যানে ‘‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানকালে দুর্গাপূজার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসককে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা তড়িৎ দয়াগঞ্জের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাসে উপস্থিত হয়েছি।’
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান পরিচয় তারা বাংলাদেশি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে তাদের অন্য কোনো পরিচয়ে সামাজিকভাবে বা সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা যাবে না। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী কোনো জাতিগত বা সামাজিক বিভেদে বিশ্বাস করেন না; শহীদ প্রেসিডেন্টের ‘‘সকল নাগরিকের সমান অধিকার’’ আদর্শেই বর্তমান সরকার বিশ্বাসী। অতীতে কোনো মন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে এসে সরাসরি কথা বলেননি, যা বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে।’
বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের যোগ্যতা সম্পন্ন ও সক্ষম বেকারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োগের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ডিএসসিসি কর্তৃক প্রস্তাবিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১৭টি আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। সরকার ও সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সামাজিক সুবিধা ও উৎসবের সুযোগ সুনিশ্চিত করে তাদের সাথে একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তিনি ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি স্থানে ২টি এবং অপর স্থানে ১৭টি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান আবাসনটির জরাজীর্ণ অবস্থা দূর করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য বিমা এবং কর্মকালীন সময়ে দুর্ঘটনাবশত কোনো কর্মী নিহত হলে তার পরিবারকে এককালীন ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধান এবং একটি মন্দির নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, সাবেক কাউন্সিলর হাজী মকবুল ইসলাম খান টিপুসহ তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের নেতারা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।