বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

নরসিংদীতে আ.লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে নিহত ২, আহত ১০

ছবি: সংগৃহীত
ইউএনবি
প্রকাশিত
ইউএনবি
প্রকাশিত : ২১ মার্চ, ২০২৫ ১৭:২৫

নরসিংদীর রায়পুরায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ১০ জন।

শুক্রবার (২১ মার্চ) ভোরে নরসিংদীর রায়পুরায় দুর্গম চরাঞ্চল চাঁনপুর ইউনিয়নে মোহিনীপুর গ্রামে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— রায়পুরা উপজেলা চাঁনপুর ইউনিয়নে মোহিনীপুর গ্রামের খোরশেদ মিয়ার ছেলে আমিন (২৩) ও একই গ্রামের বারেক হাজীর ছেলে বাশার (৩৫)।

স্থানীয়রা জানান, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে চাঁনপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুর সালাম মিয়া ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক সোহাগের সঙ্গে চাঁনপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সামসু মেম্বারের দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি নেতা সামসু মেম্বর ও তার সমর্থকরা এলাকাছাড়া ছিলেন। ৫ আগস্টের পর এলাকায় ফিরে আসেন তারা।

এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। এমনকি দুপক্ষই মারামারি ও গোলাগুলি করে। একপর্যায়ে আওয়ামী লীগ নেতা সালাম মিয়া ও তার সমর্থকদের এলাকাছাড়া করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। সবশেষ শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে সালাম মিয়া ও তার সমর্থকরা এলাকায় ফিরতে চান। এতে বাধা দেয় বিএনপি নেতা সামসু মেম্বার ও তার লোক জন।

পরে দেশীয় অস্ত্র, টেঁটা-বল্লম, দা, ছুরি, ককটেল ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়ে। এতে প্রতিপক্ষের ছোড়া গুলিতে একজন ও টেঁটা ও ছুরিকাঘাতের আরও একজনসহ দুইজন ঘটনাস্থলেই নিহত হয়। এ সময় সংঘর্ষে আহত হয় অন্তত ১০ জন।

নরসিংদী পুলিশ সুপার মো. আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সংঘর্ষের ঘটনায় দুইজন নিহত হয়েছে বলে শুনেছি। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।’


নির্বাচিত

প্রকল্প বাস্তবায়নে সংস্কার ও জবাবদিহিতা জোরদার করবে সরকার: জোনায়েদ সাকি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি বলেছেন, প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব কমানো, জবাবদিহিতা জোরদার করা, প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন, নির্মাণ খরচের রেট শিডিউল সংশোধন এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তদারকি বাড়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

বুধবার (২২ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে একনেক চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠক শেষে তথ্য অধিদপ্তরে (পিআইডি) সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় রোধ এবং সরকারি বিনিয়োগকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যে এসব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এমন একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে, যেখানে দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল সমন্বয়, দায়িত্বের ওভারল্যাপ এবং জবাবদিহির অভাবের কারণে প্রকল্পের ব্যয় বেড়েছে এবং বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়েছে।’

তিনি জানান, আজকের একনেক সভায় মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে রক্ষার একটি প্রকল্প পর্যবেক্ষণসহ ফেরত দেওয়া হয়েছে। একনেকের সুপারিশ অনুযায়ী সংশোধন করে প্রকল্পটি পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে।

সাকি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী প্রতিটি প্রকল্প বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করেছেন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো, আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করা এবং জনগণের করের অর্থের সর্বোচ্চ সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পভিত্তিক দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘এখন থেকে অনুমোদিত প্রতিটি প্রকল্প এই নির্দেশনা অনুসারেই বাস্তবায়ন করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারকরা প্রকল্প প্রস্তুতি, অর্থায়ন ও বাস্তবায়নের প্রতিটি ধাপ পর্যালোচনা করছেন। কোথায় অপ্রয়োজনীয় ব্যয় হচ্ছে তা চিহ্নিত করা হচ্ছে এবং জনগণের প্রতিটি টাকা যেন আরও দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় হয়, তা নিশ্চিত করা হচ্ছে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে অস্বাভাবিক দীর্ঘ সময় লাগা সরকারের অন্যতম প্রধান উদ্বেগের বিষয়। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত নিয়মে একনেকের অনুমোদনের পরও কেবল আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে কার্যাদেশ (ওয়ার্ক অর্ডার) পেতেই দেড় থেকে দুই বছর সময় লেগে যায়। অনেক ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ের কাজ দেরিতে শুরু হওয়ায় উন্নয়ন কাজের গতি কমে যায় এবং প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়।

তিনি বলেন, ‘এই দীর্ঘসূত্রতা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং সরকারি বিনিয়োগের প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুফল পেতে বিলম্ব ঘটায়। উন্নয়ন প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়ন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

সাকি জানান, সরকার তাই প্রকল্প অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করতে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমাতে এবং দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত বাস্তবায়ন কাঠামো তৈরি করছে। তিনি জানান, চলমান প্রকল্প এবং এডিপির ‘গ্রিন পেজ’-এ অন্তর্ভুক্ত প্রকল্পগুলো ‘রি-স্কোপিং’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রয়োজন ও অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে প্রকল্পের বিভিন্ন উপাদান সংযোজন, বিয়োজন, সম্প্রসারণ বা সংকোচন করা হবে।


নির্বাচিত

জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে বাংলাদেশের জন্ম হতো না: জবি ভিসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রইছ উদ্দীন বলেছেন, জিয়াউর রহমানের জন্ম না হলে এই বাংলাদেশের জন্ম হতো না। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ছিলেন বলেই আমরা একটি দেশ, একটি মানচিত্র, স্বাধীনতা ও ভূখণ্ড পেয়েছি। দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দর্শন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বুধবার (২২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সেমিনারটির আয়োজন করে ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)-এর জবি শাখা।

জবি উপাচার্য বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর নির্যাতনে যখন জাতি দিশেহারা, তখন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে জাতিকে পথ দেখিয়েছিলেন। শুধু ঘোষণা দিয়েই তিনি থেমে থাকেননি, জেড ফোর্স গঠন করে মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, জাতি যখনই ক্রান্তিলগ্নে উপনীত হয়েছে, তখনই পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি আজ সশরীরে না থাকলেও জাতিকে সংকট থেকে উত্তরণের জন্য যে দর্শন দিয়ে গেছেন, তার নাম বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে রাষ্ট্রীয় অস্তিত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার দর্শন উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, এই দেশকে যদি ফ্যাসিবাদমুক্ত রাখতে হয়, তবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদী দর্শনকে আত্মস্থ করতেই হবে। আমরা এ দর্শন প্রতিষ্ঠা ও মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করে যাব। তবে আমার আদর্শের কোনো শিক্ষক, কর্মকর্তা বা শিক্ষার্থী যাতে কারও ওপর কোনো ধরনের চাপ প্রয়োগ না করেন—সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ এবং শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে খাটো করার উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের অপপ্রচার বা বট আইডির মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা এই ক্যাম্পাসে চলতে দেওয়া হবে না।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, এমপি বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের মূল কথা হলো—এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী প্রত্যেক নাগরিকের অভিন্ন পরিচয় বাংলাদেশি। ধর্ম, ভাষা, বর্ণ ও জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে এই দর্শন জাতীয় ঐক্যের ভিত্তি গড়ে তোলে।

ইউট্যাব জবি শাখার সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ। স্বাগত বক্তব্য দেন শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ডিসি ফরিদা খানমের উদ্যোগ ঢাকার ৬১ ইউনিয়ন পরিষদে স্বচ্ছ বদলি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বদলি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে পদায়নের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের উদ্যোগে বুধবার (২২ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ লটারির আয়োজন করা হয়।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা জেলার ৫টি উপজেলার ৬১টি ইউনিয়ন পরিষদে মোট ৬২টি সচিবের পদ রয়েছে। বর্তমানে ৫৭ জন কর্মরত থাকলেও ৫টি পদ শূন্য রয়েছে।

কর্মরতদের মধ্যে ৫২ জন বদলি কার্যক্রমে অংশ নেন।

এর মধ্যে ৪৫ জন নিজ নিজ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদে পদায়নের জন্য লটারিতে অংশগ্রহণ করেন।

অন্যদিকে আবেদন ও যৌক্তিক কারণ বিবেচনায় ৭ জনকে অন্য উপজেলায় পদায়নের সুযোগ দেওয়া হয় এবং তারাও লটারিতে অংশ নেন।

প্রশাসন সূত্রে আরো জানা যায়, কর্মরত বাকি ৫ জনের মধ্যে ৪ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ থাকায় তাদের বদলি কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। একজনকে প্রশাসনিক কারণে এ প্রক্রিয়ার বাইরে রাখা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বদলি কার্যক্রমে কোনো ধরনের পক্ষপাত বা প্রভাবের সুযোগ বন্ধ করতে নির্ধারিত নীতিমালা অনুসরণ করে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে লটারির আয়োজন করা হয়। বদলিকৃত কর্মকর্তাদের আগামী ২৩ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও সুশাসন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতিটি কার্যক্রম নিয়ম ও নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।

ইউনিয়ন পরিষদ সচিবদের বদলি কার্যক্রমেও কোনো ধরনের ব্যক্তিগত প্রভাব বা সুপারিশের সুযোগ রাখা হয়নি। লটারির মাধ্যমে পদায়নের ফলে সবাই সমান সুযোগ পাচ্ছেন এবং জনগণের আস্থা আরো বাড়বে।

তিনি আরো বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দিতে দক্ষ, জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল প্রশাসন গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। স্বচ্ছতা ও ন্যায়সংগত প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।


নির্বাচিত

প্রতিযোগিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান বাড়াতে কাজ করছে সরকার: ডিএসসিসি প্রশাসক

ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজস্ব আদায় কার্যক্রম আরও গতিশীল করা, ট্রেড লাইসেন্স ফি জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং নাগরিকদের দোরগোড়ায় ব্যাংকিং সুবিধা নিশ্চিত করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অঞ্চল–২ (খিলগাঁও) কার্যালয়ে ঢাকা ব্যাংকের একটি নতুন কালেকশন বুথ উদ্বোধন করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর খিলগাঁওয়ে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে বুথটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।

​উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুস সালাম বলেন, ‘প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থার মাধ্যমে সেবার মান বাড়াতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ঢাকা ব্যাংকের এই নতুন কালেকশন বুথ চালুর ফলে এ অঞ্চলের অধিবাসীরা অত্যন্ত সহজে সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন ফি ও সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।’

​সাবেক সরকারের সমালোচনা ও বর্তমান নীতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আগের সরকার একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে কালেকশন কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব একটি নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের হাতে কুক্ষিগত করে রেখেছিল। তবে বর্তমান সরকার উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় বিশ্বাস করে। যারা ভালো ও দ্রুত সেবা দেবে, তারাই এগিয়ে যাবে। সেই বিবেচনাতেই ঢাকা ব্যাংককে এই সুযোগ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, তারা প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে নিজেদের সক্ষমতা প্রমাণ করবে এবং জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত সেবা পৌঁছে দেবে।’

​নাগরিক সেবা সহজীকরণে সরকারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘বর্তমান সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ কল্যাণে বিশ্বাস করে। সিটি করপোরেশন জনগণের করের অর্থে পরিচালিত একটি প্রতিষ্ঠান, তাই একে আরও গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে কাজ চলছে। প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে নাগরিকরা এখনও কিছু ক্ষেত্রে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন—যা সত্যি। তবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দ্রুত সেবা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শিথিলতা সহ্য করা হবে না।’

​আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোর দায়িত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি জানান, এখন থেকে আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোকে জন্ম নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, সড়কবাতি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মশক নিয়ন্ত্রণের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মুখ্য সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করতে হবে।

​তিনি আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই রাজধানী ঢাকাতে নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। এখনও সব লক্ষ্য অর্জিত না হলেও সরকার ধারাবাহিকভাবে তা বাস্তবায়নে কাজ করছে।’

​বর্ষাকালে ড্রেনেজ ব্যবস্থার সুরক্ষায় নাগরিক সচেতনতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আবদুস সালাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসনে পলিথিনের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমাতে হবে এবং ব্যবহৃত পলিথিন ড্রেনে ফেলা বন্ধ করতে হবে। নাগরিকরা সচেতন হলে শহরের সেবার মান দ্রুত উন্নত করা সম্ভব।’

পরিশেষে, তিনি স্থানীয় এলাকাবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও সেবা কার্যক্রমের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সবাইকে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সেবামূলক কাজে এগিয়ে আসতে হবে।’

​অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, ঢাকা ব্যাংকের প্রতিনিধি এবং স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

নীলফামারী কারাগারে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা পেলেন ২০০ কারাবন্দি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

নীলফামারী জেলা কারাগারের কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ এবং চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মরিয়ম চক্ষু হাসপাতাল, সৈয়দপুর-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত ২০ জুলাই নীলফামারী জেলা কারাগার চত্বরে আয়োজিত এ ক্যাম্পে সভাপতিত্ব করেন জেলা কারাগারের জেল সুপার জাবেদ মেহেদী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলার জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারারক্ষীবৃন্দ এবং কারাবন্দীরা।

সভাপতির বক্তব্যে জেল সুপার জাবেদ মেহেদী বলেন, ‘কারাবন্দিদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সুস্থ শরীর তাদের মানসিক উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথকে সহজ করে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে আমরা কাজ করে যাব।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, ‘সরকার কারাবন্দিদের মানবিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। জেলা কারাগারে এমন বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রশাসন এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সবসময় সহযোগিতা করবে।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, ‘মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো স্বাস্থ্যসেবা। কারাবন্দিদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা একটি মহৎ উদ্যোগ। সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।’

দিনব্যাপী এ ক্যাম্পে প্রায় ২০০ জন কারাবন্দীর চক্ষু পরীক্ষা করা হয়। তাদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিনামূল্যে চশমা ও ওষুধ প্রদান করা হয়। এছাড়া যেসব কারাবন্দির ছানি অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের বিনামূল্যে অপারেশনের জন্য নির্বাচন করা হয়।

আয়োজকরা জানান, এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম কারাবন্দীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মানবিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।


নির্বাচিত

মানিকগঞ্জ শহরের বেসরকারি ৩ হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক বন্ধ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আজিজুল হাকিম, মানিকগঞ্জ

মানিকগঞ্জে বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মানহীন চিকিৎসা সেবাসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র না থাকায় তিনটি প্রতিষ্ঠানের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস মানিকগঞ্জ শহরের বাসস্ট্যান্ড ও জয়রা এলাকায় অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে তিনটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেন।

প্রতিষ্ঠাগুলো হলো, শহরের জয়রা এলাকার আল-রাফী জেনারেল হাসপাতাল এবং বাসস্ট্যান্ড এলাকার যমুনা জেনারেল হাসপাতাল ও মর্ডান ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এছাড়া বেসরকারি মানিকগঞ্জ শিশু ও জেনারেল হাসপাতালকে মুচলেকার মাধ্যমে সর্তক করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন অফিস জানান, মানহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে চিকিৎসা সেবাসহ অনিয়মের অভিযোগে বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসময় বেসরকারি হাসপাতাল আল-রাফী, যমুনা জেনারেল হাসপাতালের নবায়নকৃত লাইসেন্স না পাওয়ায় এবং মর্ডার ডায়াগনস্টিকের প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও লেবার রুম না পাওয়া সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। এছাড়া মানিকগঞ্জ শিশু ও জেনারেল হাসপাতালকে মুচলেকা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. আইভী ফেরদৌস জানান, মানসম্মত স্বাস্থ্য নিশ্চিতের ক্রাইটেরিয়াগুলো পূরণ করতে পারলে, তাদের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিকের কার্যক্রম চালাতে পারবে। ক্রাইটেরিয়া পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কেউ কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা দিতে পারবে না। রোগীদের শতভাগ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে কোনো অনিয়ম ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

জলাবদ্ধতায় রূপগঞ্জে জনজীবন অচল, খাল উদ্ধারের দাবি

* বিশুদ্ধ পানির সংকট ও নানা রোগের শঙ্কা * দুর্ভোগে মানুষ-শিল্পকারখানা, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক মানুষ
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো-কাঞ্চন পৌরসভা, ভুলতা, গোলাকান্দাইলসহ আশপাশের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। হান্ডি মার্কেট-ডেওরি বিল খাল, চিপা খাল, কালাদি-ভুলতা খাল, বাড়ৈপাড়-ডুলুরদিয়া-নলপাথর খাল, ইকবালেরটেক-নরাবো-নলপাথর খাল বেদখলসহ পানি নিষ্কাশনের খাল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

গত কয়েকদিনের অতিবর্ষণে কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও কোমরসমান পানি জমেছে। বিশুদ্ধ পানির সংকট, রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়া, গবাদিপশু সরিয়ে নেওয়া এবং বাঁশের মাচায় বসবাসের মতো চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা। বেদখল হয়ে যাওয়া খাল উদ্ধার ও সংস্কার করা দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তারাবো, বরপা, ভুলতা, গোলাকান্দাইল, মধ্যপাড়া, দক্ষিণপাড়া, নাগেরবাগ, বৌবাজার, বাঘমোর্চা, খালপাড়, ইসলামবাগ, নতুন বাজার, কান্দাপাড়া, বলাইখা, বিজয়নগর, মদিনানগর, তারাবো পৌরসভার তেঁতলাবো, পশ্চিম কান্দাপাড়া, উত্তর মাসাবো, যাত্রামুড়া, রূপসী, কাঞ্চন পৌরসভার হাটাবো টেকপাড়া, কালাদি, নলপাথর, নরাবো, কুশাবো, আইতলা, ডুলুরদিয়া ও ভুলতা ইউনিয়নের মাঝিপাড়া, সোনাবো, পাঁচাইখা, ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকায় এখন সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। কারও বাড়ির উঠানে পানি। অনেকের ঘরেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি। রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। জমির ফসল হলদে হয়ে মরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। গবাদিপশু অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ঘরবাড়িতে পানি ওঠায় কেউ কেউ আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। আবার কেউ কেউ বাঁশের মাচার ওপর বসবাস করছে। কয়েকটি শিল্পকারখানায়ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। কোনো কোনো স্থানে টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে গেছে। সেই সব এলাকায় দেখা দিয়েছে বিশুদ্ধ পানির অভাব। দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। তা ছাড়া শিল্পকারখানার নির্গত কেমিক্যাল ও দুর্গন্ধযুক্ত কালো পানিতে দূষণ হয়ে রোগাক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। বিশেষ করে মহিলা ও শিশুদের দুর্ভোগ অবর্ণনীয়।

শিশুরা ঠাণ্ডাজনিত ও পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত। জলাবদ্ধতায় শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় আসা-যাওয়া করতে পারছে না। তাতে তাদের লেখাপড়া চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। খামারের মাছ ভেসে গেছে। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখিন হয়েছেন মাছ চাষিরা। আবাসন প্রকল্প ইস্টউড সিটি বালু ফেলে পানি নিষ্কাশনের খাল ভরাট করে ফেলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া ময়লা, দুর্গন্ধ, আবর্জনাযুক্ত কুচকুচে কালো, দূষিত পানিতে অনেকেই পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।

নড়াবো গ্রামের গৃহবধূ আকলিমা আক্তার বলেন, ‘তার বসতঘরের ভেতরে পানি ঢুকে গেছে। জলাবদ্ধতায় রান্না বন্ধ হয়ে গেছে।’

বরপা শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা রওশন আলী বলেন, ‘১০-১২ বছর ধরে এখানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়। পানির সঙ্গে যুদ্ধ করে বাঁচতে হচ্ছে।’

মাসাবো গ্রামের গৃহবধূ জিন্নাত আরা বলেন, ‘ঘরে হাঁটুপানি। চুলায় আগুন জ্বালাতে পারি না। ঘরে খাবার নেই। বিশুদ্ধ পানি নেই। শুকনো খাবার খেয়ে বাঁচতে হচ্ছে। অনেকে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে। সরকারি সহযোগিতা প্রয়োজন।’

নাগেরবাগ গ্রামের বাসিন্দা সোহরাব হোসেন সাজিদ বলেন, ‘সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় অতিকষ্টে চলছে নিম্ন আয়ের মানুষের সংসার। দেখা দিয়েছে খাবারের সংকট। শিল্পকারখানার নির্গত বর্জ্যে পানি নিষ্কাশন খালগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। শিল্পকারখানার নির্গত পানি কুচকুচে কালো রং ধারণ করেছে। এই পানিতে হাঁটাচলা করতে গিয়ে মানুষ চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছে। পানির কীট-পতঙ্গসহ মাছ মরে যাচ্ছে। আশপাশের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’

গোলাকান্দাইল এলাকার হাজী আব্দুল মতিন বলেন, ‘রূপগঞ্জ শিল্পাঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। সে কারণে জমির দাম বেশি। তুলনামূলকভাবে নিচু জমির দাম কম। তাই অনেকেই নিচু অঞ্চলে কম দামে জমি কিনে ঘরবাড়ি নির্মাণ করছেন। আর সে কারণেই নির্মিত ঘরবাড়িতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।’

আবাসন প্রকল্প ইস্টউড সিটির ল্যান্ড অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন, ‘খালের জায়গা রেখেই বালু ভরাট করা হয়েছে। সরকারি জমি কিংবা খাল আমাদের দখলে নেই।’

‎রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাদল কুমার সাহা বলেন, ‘চর্ম ও পানিবাহিত রোগীর সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে। তাদের চিকিৎসাপত্র ও ওষুধ দেওয়া হচ্ছে।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপপরিচালক রাকিবুল আলম রাজিব বলেন, ‘জলাবদ্ধতার মূল কারণ হলো দখলকৃত পানি নিষ্কাশন খাল। বিশেষ করে তারাবো পৌরসভার খালগুলো শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দখলে চলে যাওয়ায় পানি বের হতে পারছে না। খাল উদ্ধার করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।’

রূপগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কাঞ্চন পৌর প্রশাসক মুহাম্মদ মারজানুর রহমান বলেন, ‘কাঞ্চন পৌরসভা এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করছি। অপরিকল্পিতভাবে সেচ খাল নির্মাণ ও নিয়মিত সংস্কার না করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। সকল সমস্যা নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ইতোমধ্যে বেদখল হয়ে যাওয়া ৮টি খাল উদ্ধার করা হয়েছে। বেদখল হয়ে যাওয়া খাল পুনরুদ্ধার ও পানি নিষ্কাশনের পথ সচল করার কাজ চলমান রয়েছে। শিগগিরই সকল জলাবদ্ধতা নিরসন করা যাবে। জলাবদ্ধতা এখন স্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানি নিষ্কাশনের খালগুলো সংস্কার করা হলে জলাবদ্ধতার সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।’


নির্বাচিত

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কমলগঞ্জে চা-শ্রমিকদের বিক্ষোভ সমাবেশ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

জাতীয় সংসদে উত্থাপিত চা-শ্রমিকদের দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি অবিলম্বে কার্যকর, কুরমা চা-বাগানের বকেয়া মজুরিসহ সকল পাওনা পরিশোধ এবং শ্রম অধিদপ্তরের অবৈধ হস্তক্ষেপমুক্ত চা-শ্রমিক ইউনিয়নের অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে রাজপথে নেমেছেন সাধারণ চা-শ্রমিকরা। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার কুরমা চা-বাগানে ‘সাধারণ চা-শ্রমিক ও ছাত্র যুবরা’-এর ব্যানারে এক বিশাল ও উত্তাল বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বিক্ষুব্ধ বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘জাতীয় সংসদে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা করার প্রস্তাব উত্থাপন করেও পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তে ক্ষোভ ও চরম হতাশায় চা শ্রমিকরা।’ দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির এই বাজারে বর্তমান স্বল্প মজুরিতে পরিবার চালানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে। শিক্ষা, চিকিৎসা ও নিত্যপণ্যের খরচ মেটাতে গিয়ে অধিকাংশ শ্রমিক পরিবার ঋণের জালে জর্জরিত। চা-শিল্প দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলেও এর পেছনে জড়িয়ে থাকা মূল কারিগররা আজও ন্যায্য মজুরি ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত।

সমাবেশে উঠে আসে কুরমা চা-বাগানের মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র। বক্তারা জানান, টানা চার সপ্তাহ ধরে কুরমা চা-বাগানের শ্রমিকদের মজুরি বন্ধ রয়েছে। ফলে শত শত শ্রমিক পরিবার চরম অনাহার ও মানবেতর জীবনযাপন করছে। সমাবেশ থেকে অবিলম্বে এই চার সপ্তাহের বকেয়া মজুরিসহ শ্রমিকদের সকল পাওনা পরিশোধের জোর দাবি জানানো হয়।

একই সাথে শ্রম অধিদপ্তরের কোনো প্রকার অবৈধ হস্তক্ষেপ ছাড়া চা-শ্রমিক ইউনিয়নের একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের জোর দাবি তোলেন শ্রমিক নেতারা, যাতে তারা স্বাধীনভাবে নিজেদের প্রতিনিধি নির্বাচন করার গণতান্ত্রিক অধিকার ফিরে পান।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন; চা-শ্রমিক নারী নেত্রী গীতা রানী কানু, ইউপি সদস্য নুরুল হক, শমশেরনগর চা-বাগানের শ্রমিক নেত্রী লছমি রানী রাজভর ও সুজিত পাশাসহ স্থানীয় ছাত্র-যুব নেতারা।

বক্তারা অনতিবিলম্বে সংসদে উত্থাপিত দৈনিক ৫০০ টাকা মজুরি কার্যকর, বকেয়া মজুরি পরিশোধ এবং শ্রমিকদের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু ও জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


নির্বাচিত

বরেন্দ্রে আমন চাষে সেচের চাপ, বাড়তি খরচে দুশ্চিন্তায় কৃষক

* কম বৃষ্টিতে গভীর নলকূপেই ভরসা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
আব্দুর রব নাহিদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ

বরেন্দ্র অঞ্চলের মাঠজুড়ে এখন আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। কেউ জমি প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ ব্যস্ত চারা রোপণে। আষাঢ় শেষ হয়ে শ্রাবণ শুরু হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জে যে বৃষ্টিপাত হয়েছে তা আমন আবাদের জন্য পর্যান্ত নয় বলছেন কৃষকরা। ফলে আমন আবাদে কৃষকদের নির্ভরতা গভীর নলকূপের পানির ওপর। এতে বাড়ছে উৎপাদন খরচ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহাডাঙ্গা এলাকা ও নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, আমন আবাদ নিয়ে ব্যস্ত কৃষকরা। কোথাও জমি চাষের কাজ চলছে, কোথাও গভীর নলকূপের পানি দিয়ে জমিতে কাদা তৈরি করা হচ্ছে, আবার কোথাও শ্রমিকেরা সারিবদ্ধভাবে আমনের চারা রোপণ করছেন। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার কয়েকদিন কিছুটা বৃষ্টি হয়েও তা আবাদের জন্য পর্যাপ্ত নয়, তাই আমন আবাদে শুরু থেকেই সেচের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এতে জমি প্রস্তুত ও চারা রোপণের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, একসময় বরেন্দ্র অঞ্চলে আমন ধানের আবাদ পুরোপুরি বৃষ্টি নির্ভর ছিল। বর্ষার পানিতেই জমি প্রস্তুত হয়ে যেত এবং চারা রোপণের কাজ সম্পন্ন হতো। কিন্তু গত কয়েক বছর ধরে বৃষ্টিপাত কমে যাওয়ায় এখন গভীর নলকূপের পানি ছাড়া আমন চাষ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় বছরে জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসে গড় বৃষ্টিপাত ধারাবাহিকভাবে কমেছে। এর প্রভাব পড়ছে বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিতে। বিশেষ করে আমনের মতো বৃষ্টিনির্ভর ফসল এখন ক্রমেই সেচনির্ভর হয়ে উঠছে।

নাচোল উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের কৃষক মনিরুল ইসলাম এবার ১০ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করছেন। তিনি জানান, এর মধ্যে ছয় বিঘা জমিতে পুরোপুরি সেচের পানি ব্যবহার করতে হয়েছে। বাকি চার বিঘা জমিতে কিছুটা বৃষ্টির পানি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, প্রতি বিঘা জমিতে সেচ বাবদ প্রায় ৬২৫ টাকা, শ্রমিক খরচ প্রায় ৪ হাজার টাকা এবং চারা রোপণসহ অন্যান্য কাজে আরও প্রায় ১ হাজার ৬০০ টাকা ব্যয় হচ্ছে। এতে আগের তুলনায় উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।

কৃষকরা বলছেন, সেচের খরচের পাশাপাশি শ্রমিকের মজুরি, সার, বীজ ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দামও বেড়েছে। কিন্তু ধানের দাম সেই অনুপাতে না বাড়ায় ধান চাষে লাভ কমে যাচ্ছে।

শাহিন আলী নামে আরেক কৃষক বলেন, ধান করতে যে খরচ তাতে খুব বেশি লাভ হয়না, সামান সমান, বা একটু বেশি থাকে। ওই বেশিটায় হ্যামার দিন মুজুরী বলতে পারেন। সারাবছর জমিতে কাজ করতে পারছি, লাভ বলতে এটায়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, এবার জেলায় ৫৩ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত আবাদ হয়েছে ২ হাজার ৪৯০ হেক্টর জমিতে।


নির্বাচিত

সড়কের পাশে পড়েছিল এস এ পরিবহনের চালকের মরদেহ

* পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৭
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে থেকে মানিক মিয়া (৩৮) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি, এটি কোনো সড়ক দুর্ঘটনা নয়; পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। বুধবার (২২ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার বিন্নাটি ইউনিয়নের বিসিআইসি গোডাউনের সামনে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত মানিক মিয়া ইটনা উপজেলার রায়টুটী ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হেকিমের ছেলে। তিনি ঢাকায় এসএ পরিবহনের গাড়িচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকলেও নিয়মিত বাড়িতে যাতায়াত করতেন।

নিহতের বড় ভাই এমদাদুল হক শাহিন বলেন, ‘আমার ছোট ভাইয়ের আজ অফিসের কাজে রাজশাহী যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু কীভাবে বা কী কারণে সে কিশোরগঞ্জে এলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। কিশোরগঞ্জে এলে আমাদের জানানোর কথা ছিল। সন্ধ্যায় তার অন্যান্য সহকর্মীরা অফিস থেকে গাড়ি নিয়ে বের হন। পরে সে কেন মোটরসাইকেলে করে কিশোরগঞ্জে এলো, বিষয়টি আমাদের কাছে রহস্যজনক মনে হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এটিকে সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে দেখছি না। আমাদের ধারণা, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।’

কটিয়াদী হাইওয়ে থানার ওসি এবিএম মেহেদী মাসুদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ধারণা করা হচ্ছে, রাতের কোনো একসময় অজ্ঞাত একটি গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে চলে যায়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে মানিকের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটিও উদ্ধার করা হয়েছে। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

রায়টুটী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মনোয়ার হোসেন খান মিল্কী জানান, পুলিশের মাধ্যমে খবর পেয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে যায়।


নির্বাচিত

ভাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির বেড়া ভাঙার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়ির বেড়া ভেঙে জায়গা দখলের চেষ্টা এবং পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লোকমান হোসেন (৭৫) ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ভাঙ্গা পৌরসভার রায়পাড়া সদরদী গ্রামের লোকমান হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগে সরকারি আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করা হলেও তা সঠিক হয়নি দাবি করে তিনি পুনরায় পরিমাপের দাবি জানান। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর, জায়গা দখলের চেষ্টা এবং গাছপালা কাটার উদ্যোগ নেয় বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৬ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা বাড়ির সামনে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় এবং ভবিষ্যতে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল ও বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

লোকমান হোসেন বলেন, “দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ নিজ বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মমিন কাজী বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি একাধিকবার সালিশ ও সরকারি আমিন দিয়ে পরিমাপ করা হয়েছে। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য জমির মধ্যে থাকা বেড়া সরানো না হওয়ায় তারা বেড়া ভেঙেছেন। কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ভাঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


নির্বাচিত

৫ ও ১৫ আগষ্ট ঘিরে নজরদারী বাড়িয়েছে কেএমপি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

আগামী ৫ ও ১৫ আগষ্টে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সমাবেশ রুখতে সর্তকতা অবলম্বন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ইতোমধ্যেই ফেসবুকে উসকানি, মিছিল মিটিং, সমাবেশ কিংবা অর্থ জোগান দিয়েছেন-এমন ৬০জন প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি চাঞ্চল্যকর তালিকা তৈরী করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। তবে ওই দুই দিবসে ঝটিকা মিছিল হওয়ার আশংকা থাকলেই নগরীতে নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, সদ্য তৈরী করা তালিকা মহানগরীর ৮ থানাসহ সকল ফাঁড়ির কাছে দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ি তাদের গ্রেপ্তারেরও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সূত্রটি আরো জানায়, বিভাগীয় শহর চট্রগ্রাম ও খুলনা থেকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নামে ও বেনামে ভুয়া একাউন্টের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থানের রয়েছে বলে কেএমপি’র একটি সূত্র জানায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও কর্মকান্ড নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। ফলে ওইদিন এই দলটি খুলনাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি দিতে পারে। এছাড়া ১৫ আগষ্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী। ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের জন্য দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ।

কেএমপি’র অপরাধ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, জুলাই ও আগষ্ট মাস জুড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন নগরীতে যেন কোনো ধরনের তৎপরতা চালাতে না পারে সে জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ নামের তালিকাগুলো মহানগরীর আটটি থানা ও থানার অধিনে সকল ফাঁড়িতে দেওয়া হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, দেশের দুইটি বিভাগীয় শহর থেকে ভুয়া আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চলাচ্ছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। তাদেরকে শনাক্ত করা গেছে। তারা উভয় খুলনার প্রোগ্রামগুলো চট্রগ্রাম থেকে এবং চট্রগ্রামেরগুলো খুলনা থেকে প্রচার করছেন। অতিদ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

কেএমপি পুলিশ কামিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, আগস্টের দুইটি দিবসে পুলিশ সতর্ক এবং ব্যাপক পস্তুতি নিয়েছে। এ দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে নগরীতে চেকপোষ্টের সংখ্যা ও পুলিশের ডিউটি বাড়ানো হয়েছে।


নির্বাচিত

হাওরে ঘুরতে এসে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওরে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে হাওরে ঘুরতে এসে নিখোঁজের একদিন পর এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর হাওরের বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে নিখোঁজ হন তিনি।

নিহত কাউসার ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বড়িপাশা গ্রামের আবদুর রব শিকদারের ছেলে। তিনি বে কোম্পানির উত্তরা শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে কাউসারসহ ৫৬ জনের একটি দল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের হাওরে ঘুরতে আসেন। তারা গাড়িযোগে ইটনা উপজেলার চৌগাংগা এলাকায় পৌঁছানোর পর নৌকাযোগে বগাডুবি সেতু এলাকায় যান। দুপুর আড়াইটার দিকে সেতু-সংলগ্ন ডুবে যাওয়া সড়কে কয়েকজন গোসল করতে নামেন। এ সময় একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে কাউসার পানিতে তলিয়ে যান। পরে আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। কাউসার ইসলাম সাঁতার জানতেন না বলেও জানান তিনি।

কাউসারের সহকর্মী মিজানুর রহমান জানান, গোসলের সময় তাদের আরেক সহকর্মী সাগর ইসলাম স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে উদ্ধারের জন্য কাউসারসহ কয়েকজন এগিয়ে যান। একপর্যায়ে উদ্ধারকারীরাও স্রোতে পড়ে যান। পরে সাগর ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলেও কাউসারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নঈমুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ওইদিন অভিযান স্থগিত করা হয়। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হলে বেলা ১২টার দিকে বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে কাউসার ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


নির্বাচিত

banner close