বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬
১১ আষাঢ় ১৪৩৩

আদ্-দ্বীনের উদ্যোগে মুক্তেশ্বরী নদীতে সংস্কার-পরিচ্ছন্নতা

দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২২ মার্চ, ২০২৫ ১৮:৫২

যশোর শহরতলীর মন্ডলগাতী-পুলেরহাট-ভাতুড়িয়া এলাকা দিয়ে বহমান মুক্তেশ্বরী নদী সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতায় অনন্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

প্রতিষ্ঠানটির পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর বছরের বেশির ভাই সময় পানি প্রবাহ থেমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। নদী সংকীর্ণ এবং তলদেশে পলি জমে উঁচু হয়ে যাবার ফলে এই অবস্থার সৃষ্টি হয় এবং আশ-পাশে বসবাসরত মানুষ নদে যত্রতত্র ময়লা আবর্জনা ফেলার ফলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়। মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় জমে থাকা আবদ্ধ পানিতে দুর্গন্ধ বের হয়। এতে সাধারণ মানুষ এবং রোগীদের স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি হয়। স্বাস্থ্য ঝুঁকি রোধে প্রতিষ্ঠানটি নিজ উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করে ময়লা আবর্জনা পরিস্কার রাখার ব্যবস্থা করে থাকে। নদীর পঁচা কাদা তুলে নদের দু-পাড় সংস্কার করা হয়। এতে নদের গভীরতা বৃদ্ধি পায় এবং পানি প্রবাহ ঠিক থাকে।

বর্ষা মৌসুমে আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ নিজ খরচে এই অংশে মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করে। আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল অংশে এসময় নদ পরিস্কার থাকায় পানি প্রবাহ মসৃণ থাকে।

নিয়মিত নিজস্ব লোকবল দিয়ে নদী পরিস্কার রাখায় হাসপাতাল অংশে শেওলা বা কচুড়িপনা জমতে পারে না। তাই মাছের অভয়ারণ্য থাকে এই অংশ। পাশাপাশি স্থানীয় সাধারণ মানুষ মাছ ধরে খেতে পারে।

অপরদিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের পুলেরহাট বাজার সংলগ্ন ব্রিজের উত্তরে নদীর ভেতর সারা বছর ময়লা আবর্জনায় ভরে থাকে। এছাড়া শেওলা ও কচুরিপানায় আবদ্ধ থাকে এই নদের এই অংশ। শুকনো মৌসুমে এই অংশে পানি দেখা যায় না। কিছু জায়গায় নদের তলদেশ শুকিয়ে গেছে তা সহজে বোঝা যায়। পরিস্কার না থাকায় ঐ অংশের নদীর তীব্র দুর্গন্ধ ও ময়লা আবর্জনার স্তুপের সৃষ্টি হয়েছে।

পথচারী এবং নদ পাড়ের মানুষ যেনো নদের যত্রতত্র ময়লা ফেলতে না পারে সেজন্য আদ্-দ্বীন কর্তৃপক্ষ স্ব-উদ্যোগে তারের বেড়া স্থাপন করেছে। এতে কিছুটা সুফল মিলছে।

মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. সন্জয় সাহা বলেন, নদের প্রবাহ ঠিক রাখতে এবং স্বাস্থ্য ঝুঁকি কমাতে মূলত এই ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এটা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব কিন্তু দীর্ঘসূত্রিতা এবং ঝামেলা এড়াতে আমরা নিজ উদ্যোগে জনস্বার্থে এই কাজটি করে থাকি।

৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো: ইমদাদুল হক বলেন, শুধুমাত্র বর্ষা মৌসুমে এই নদে পানির স্রোত থাকে। স্রোতের ফলে ঐসময় নদের ময়লা আবর্জনা ও শেওলা পরিস্কার হয়ে যায়। কিন্তু শুকনো মৌসুমে স্রোত না থাকায় জমে থাকা অল্প পানিতে ময়লা ও দুর্গন্ধ সৃষ্টি হয়। এতে পরিবেশ নষ্ট হয়। সাধারণ রোগীদের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে আমরা নিজ উদ্যোগে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখি। এতে সাধারণ মানুষও সন্তুষ্ট।

তিনি আরও বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়ে থাকে। আমরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পরিস্কার রাখি। বাহিরের অংশও একই ভাবে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করছি। যাতে জীবনুমুক্ত সুন্দর পরিবেশে রোগীরা সেবা নিতে পারেন।


টায়ার পুড়ানো কারখানার বয়লার বিস্ফোরণ, অগ্নিদগ্ধ দুই শ্রমিক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বিশ্বনাথ পাড়া এলাকায় অবস্থিত টায়ার কারখানার বয়লার বিস্ফোরণে দুইজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

আহত শ্রমিক দুজন হলেন, মৌলভীবাজার জেলার জুরি থানার বিনন্দাপুর গ্রামের ছুনু মন্ডর ছেলে শাওন মুন্ডা (১৬) ও গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ থানার মোল্লাপাড়া এলাকার সামসুদ্দিনের ছেলে মো. সোহেল রানা (২৪)।

জানা যায়, প্রতিদিনের মতো কারখানার শ্রমিকরা বয়লারের মধ্যে টায়ার পুড়ানোর কাজ করার সময় হঠাৎ কারখানার বয়লার বিস্ফোরিত হয়ে দুজন শ্রমিক অগ্নিদগ্ধ হয়। পরে তাদের দুজনকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে তাদের দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।

একজন শ্রমিক বলেন, ‘আমি বয়লারে টায়ার লোড দেওয়ার কাজ করি। সকালে বয়লারে টায়ার লোড দিয়ে পাশেই অন্য কাজ করেছিলাম। হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দ শোনতে পাই। কাছে এসে দেখি শাওন ও সোহেল দগ্ধ অবস্থায় পরে আছে। তারপর সবাই মিলে ধরাধরি করে ওদের গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের ভালো চিকিৎসার জন্য ঢাকা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।’

কারখানার দায়িত্বে থাকা আ. রাজ্জাক বলেন, ‘আহত দুইজনকে আমরা ঢাকায় বার্ন ইউনিটে ভর্তি করিয়েছি, তারা এখন ভালো আছেন।’

এ বিষয়ে রাজবাড়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালককে ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

পরে রাজবাড়ী পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মো. ইমরান হোসেন মুঠোফোনে জানান, যে কারখানাটি গড়ে উঠেছে সেই কারখানার ছাড়পত্র রয়েছে। ফরিদপুর অফিস থেকে তারা কারখানাটির কাগজপত্র করিয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাথী দাস বলেন, ‘শুনেছি কারখানাটি পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে অনুমোদন নিয়ে গড়ে উঠেছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে অবৈধভাবে তারা প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা করছে এ জন্য তাদের বেশ কয়েকবার অনুমোদনের কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলা হয়েছে। কিন্তু তারা তাতে কর্ণপাত করেনি। আজকের বিস্ফোরণের ঘটনায় পরিবেশ অধিদপ্তর কর্মকর্তাকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হয়েছে। কিন্তু তিনিও আমার ফোন রিসিভ করেননি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি নিজে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি তদারকি করে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’


নেত্রকোনায় কংস নদীভাঙন, আতঙ্কে ২০ গ্রামের মানুষ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নেত্রকোনা প্রতিনিধি

নেত্রকোনার সদর উপজেলার কালিয়ারা-গাবরাগাতী ইউনিয়ন ও বারহাট্টা উপজেলার বাউশি ইউনিয়নসংলগ্ন কংস নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী জনপদে উদ্বেগ বাড়ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা ভাঙনে ইতোমধ্যে বিলীন হয়েছে কয়েক শতাধিক বসতবাড়ি, ফসলি জমি, গাছপালা ও বনাঞ্চল। এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে মুক্তিরবাজার, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ-মন্দির এবং কয়েকটি গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ সড়ক।

স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত কয়েক বছরে বাহিরকান্দা, নেওবদ, হরিদাসপুর, কাকিয়াকুড়ি, মহিষাশুড়া, চকারকান্দা, সেহড়াউদ ও কর্নখলাসহ অন্তত ২০টি গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল ও উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপে ভাঙন আরও তীব্র হয়। ফলে নতুন নতুন এলাকা নদীগর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে উপজেলা সদরের সাটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুক্তিরবাজার, স্থানীয় মসজিদ ও মন্দির, ইউনিয়ন পরিষদসংলগ্ন এলাকা এবং বিভিন্ন গ্রামের মানুষের চলাচলের প্রধান সড়ক। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে এসব স্থাপনা ও যোগাযোগব্যবস্থা নদীগর্ভে বিলীন হতে পারে।

মুক্তিরবাজার এলাকার বাসিন্দারা জানান, প্রায় এক দশক ধরে সড়কটির উল্লেখযোগ্য সংস্কার হয়নি। একসময় এটি কয়েকটি গ্রামের মানুষের প্রধান যাতায়াত পথ ছিল। কিন্তু নদী ভাঙনের কারণে সড়কের একাংশ ধসে পড়ছে। বর্তমানে ভ্যান, রিকশা ও অটোরিকশা চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৃষ্টির সময় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, পাহাড়ি ঢল নামলেই নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। নদীর তীব্র স্রোত ও ঘূর্ণিপাকের কারণে প্রতিনিয়ত মাটি ভেঙে নদীতে চলে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয় ও মাদ্রাসায় পাঠানো নিয়ে উদ্বিগ্ন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙন রোধ ও সড়ক রক্ষায় স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। বিভিন্ন সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করা হলেও দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।

বাউসী এলাকার বাসিন্দা তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘নদী ভাঙনে বাউসী বাজার থেকে মৌয়াটি সড়কটি ভেঙে গেছে। স্থানীয়দের ঘরবাড়ি ভাঙতে শুরু করেছে। গাছপালা নদীতে চলে যাচ্ছে। পশ্চিত মৌয়াটি, সালিপুরাসহ অন্তত চারটি গ্রামের ২০ হাজার মানুষ চলাচলের পাকা সড়কটি গত শনিবার কংস নদের ভাঙনে ক্ষতি হয়েছে। এখন চলাচল প্রায় বন্ধ আছে। জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি রক্ষায় ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’

নেত্রকোনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাটি রক্ষায় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কংস নদীর ভাঙনে মুক্তিরবাজার ও বাউসী বাজার এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দুটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সড়কটি রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে প্রতিরক্ষামূলক কাজ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে এবং শিগগিরই মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষামূলক কাজ শেষ হলে ওই এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে এবং সড়কটি সুরক্ষিত থাকবে। ভবিষ্যতে স্থায়ী সমাধানের বিষয়েও পরিকল্পনা রয়েছে।’

নেত্রকোনা-২ আসনের (সদর-বারহাট্টা) সংসদ সদস্য বাউসি এলাকার নদী ভাঙনের কবলে থাকা সড়কটি পরিদর্শন করে জানান, সদর উপজেলার মুক্তিরবাজার ও বাউসী বাজার এলাকার পশ্চিম মৌয়াটি গ্রামের সড়ক দুটি নদী ভাঙনে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে। মানুষের ঘরবাড়ি ভাঙনের মুখে পড়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জরুরি পদক্ষেপ নিতে। আপাতত জিও ব্যাগ ফেলে সড়কসহ ঘরবাড়ি রক্ষা করতে বলা হয়েছে। পরে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ায় নদীতীরবর্তী মানুষের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কাজ শুরু না হলে ভাঙনের মুখে পড়বে মুক্তিরবাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগব্যবস্থা। পাশাপাশি আরও বিস্তীর্ণ জনপদ নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


বাল্যবিবাহ রোধে ডাটাবেইজ তৈরি করে কাজ করতে হবে: বিভাগীয় কমিশনার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

বাল্যবিবাহ রোধে বিভাগীয় কমিটির ত্রৈমাসিক সভা বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন সভাপতিত্ব করেন।

সভায় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, ‘বাল্যবিবাহ রোধে সরকারি-বেসরকারি উভয় দপ্তরকে সমন্বিতভাবে ডাটাবেইজ তৈরি করে কাজ করতে হবে এবং এসডিজিকে আমলে নিয়ে যতটা সম্ভব কাজের আওতা বৃদ্ধি করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রতিটি জেলায় বিবাহ রেজিস্ট্রি এবং নোটারি পাবলিকের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সাথে সভা করে তাদের এ বিষয়ে সতর্ক করতে হবে। পাশাপাশি বাল্যবিবাহের এবং ডিজিটাল আসক্তির কুফল সম্পর্কে কিশোর-কিশোরী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে হবে।’

সভায় জানানো হয়, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে টোল ফি হটলাইন ১০৯, ৯৯৯ ও ১০৯৮ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে।

সভায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার আবু সায়েদ মো. মনজুর আলম, বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়, মহিলাবিষয়ক দপ্তরের উপপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) সুরাইয়া সিদ্দীকা, ইউনিসেফ খুলনার চিফ মো. কাওসার হোসাইন প্রমুখ।


মাদকের করাল গ্রাসে নড়াইলে বিপন্ন সামাজিক নিরাপত্তা

* সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলছে জনতা * মাদক বেচাকেনা হয় ১৮টি স্পটে * ৫ মাসে মাদক মামলা হয়েছে ৮৮টি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কার্ত্তিক দাস, নড়াইল

এক সময়ের মেধাবী ছাত্র ও জেলা দলের ফুটবল খেলোয়াড় ভোম দাস (২৮)। এখন প্রায় সারাক্ষণই নেশার ঘোরে আচ্ছন্ন থাকেন। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান, আর পরিচিত কাউকে দেখলেই হাত পেতে দশটি টাকা চান। টাকা দিয়ে কি হবে-জানতে চাইলে নিরুত্তর থাকেন ভোম দাস। মাদক সেবন নিয়ে তার পরিবার পরিজন অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। নেশাগ্রস্ত ও পাগলপ্রায় এই ছেলের বাবা-মা নেই। বাড়ি নড়াইল পৌরসভার আলাদাতপুর গ্রামে। ভাইকে নিয়ে বড় দাদা আশীষ দাস ওরফে ঠাকুরের দুশ্চিন্তার অন্ত নেই।

নড়াইলে শুধু ভোম দাসই নন, নেশায় বুদ হয়ে আছেন জেলা শহর ও উপজেলার তৃণমূল পর্যায়ের উঠতি বয়সি কিশোর, তরুণ, মধ্য বয়সিরা।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা থাকা সত্ত্বেও মাদকে সয়লাব নড়াইল জেলা। হাত বাড়ালেই তৃণমূলের সর্বত্রই পাওয়া যাচ্ছে মাদক। প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ী আটকসহ জব্দ করা হচ্ছে মাদক। বেশি ধরা পড়ছে বিদেশি মদ, গাজা, ইয়াবাসহ অন্যান্য দ্রব্য।

জানা গেছে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বেশ নাজুক হয়ে পড়ে। তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মতৎপরতাও বেশ কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে। এই সুযোগে সমাজে মাদক ব্যবসা জেকে বসে। আর্থিকভাবে লাভবান হতে নারীরাও মাদক ব্যবসায় সক্রিয় হয়ে পড়েন। এখন আর আগের মতো রাতে পুলিশি টহল এবং মাদকপাচারের রুটগুলোতে চৌকি বসানো হচ্ছে না। যে কারণে সর্বত্র মাদক ছড়িয়ে পড়েছে। অতিষ্ঠ হয়ে এলাকার বিক্ষুব্ধ মানুষ পাড়া-মহল্লায় মাদক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করে সভা-সমাবেশসহ এলাকায় বিক্ষোভ করছেন। এ ছাড়া জনসমাগম স্থানে মাদকবিরোধী ব্যানার টানিয়ে দিচ্ছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের গণধোলাই শেষে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক সময় বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের বাড়ি-ঘর ভাঙচুরসহ আগুনে পুড়িয়ে দিচ্ছে।

নড়াইল সিটি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. মনিরুজ্জামান মল্লিক বলেন, ‘মাদক একটি বহুমাত্রিক সামাজিক সমস্যা যা ব্যক্তি, পরিবার এবং রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক হুমকি। মাদকাসক্তি রোধে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, বরং সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারেন।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত একজন ব্যবসায়ী বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি নজরে রাখতে ঢাকা-বেনাপোল ভায়া নড়াইল মহাসড়কের নড়াইল অংশের গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগম স্থানে বেশ কিছু যুবকদের মাসোহার দিয়ে পাহারায় বসিয়েছে। তাদের হাতে দেওয়া হয়েছে দামি মুঠোফোন।’ তিনি আরও বলেন, ‘সোর্সরাই এখন মাদক সাম্রাজ্যের সম্রাট।’

জানা গেছে, নড়াইলের ১৮টি স্পটে মাদক কেনাবেচ হচ্ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এমন কিছু নামধারী ছাত্র ও যুবনেতা অর্থের জোগান দিয়ে নিজেরাই এ ব্যবসা করছেন। এ ছাড়া জনপ্রতিনিধি এমনকি মহিলা চা বিক্রেতারাও এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। আবার অনেকে এদের ছত্রছায়ায় থেকে ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, ‘যশোর থেকে মাদকের চালান নড়াইল হয়ে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, ফরিদপুরসহ রাজধানী ঢাকায় চলে যায়।’

খোজ নিয়ে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইল অফিসে মাদকসেবী কিংবা মাদক ব্যবসায়ীদের নামের তালিকা সংরক্ষণ নেই। কতগুলো স্পটে মাদক বিক্রি হচ্ছে এমন তালিকাও নেই অফিসে। জনবল এবং পরিবহন সংকটে ভুগছে অফিসটি।

মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নড়াইল অফিসের উপপরিচালক গোলক মজুমদার বলেন, ‘নড়াইল অফিসে জনবল এবং পরিবহন সংকট থাকায় অভিযান পরিচালনা করতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। তারপরও বসে নেই অফিসের সদস্যরা। পরিবহন সমস্যা দূর হলে কর্মতৎপরতা বেড়ে যাবে।’ এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘দিনে দিনে মাদকসেবী এবং ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি ইউনিটের জনবল দিয়ে পুরো জেলার মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।’ তিনি উপজেলা পর্যায়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিস চালু করার দাবি করেন। তৃণমূল পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহে দুর্বৃত্তদের হাতে আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা জন্য ঝুঁকি ভাতা চালুরও দাবি করেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘চলতি বছরে (জানুয়ারি থেকে জুন) পাঁচ মাসে ৮৮টি মাদক মামলা হয়েছে। আসামি করা হয়েছে প্রায় শতাধিক। জব্দ করা হয়েছে গাঁজা-’৪৫ কেজি ৫০৯ গ্রাম, গাঁজার গাছ ২টি, ইয়াবা-৫ হাজার ৯৩৮ পিস। এ ছাড়া মাদক বিক্রির নগদ ৭ লাখ ৭৭ হাজার টাকা।’

নড়াইলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. রকিবুল হাসান বলেন, ‘গত ১ মে থেকে ২০ জুন পর্যন্ত পুলিশের কাছে মাদকসংক্রান্ত প্রায় ২৫টি মামলা রয়েছে। আটক করা হয়েছে ৫১ জন ব্যবসায়ী ও সেবনকারীকে। তাদের কাছ থেকে ৩৯ কেজি ৫৫৫ গ্রাম গাঁজা, এক হাজার ৫২৯ পিস ইয়াবা, কফ সিরাফ ৩৯ বোতল এবং উইনসায়েক্স ৩৫ বোতল জব্দ করা হয়েছে।’

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘নড়াইলে ৮ লাখ জনঅধ্যুষিত জনবলের বিপরীতে পুলিশ সদস্য রয়েছে মাত্র ৮৯৯ জন। ৪টি থানা, ১টি ফাঁড়ি, ৫টি পুলিশ ক্যাম্প, ২টি তদন্ত কেন্দ্রে মোট ৪১৮ জন পুলিশ সদস্য কর্মরত আছে।


ফরিদা বিদ্যায়তনে এইস-এর উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
তরিকুল ইসলাম তরুণ, কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি

পরিবেশ সংরক্ষণ, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং সবুজায়নের লক্ষ্যে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে বিদ্যালয়ের খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকায় বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।

অ্যালায়েন্স ফর কেয়ার অ্যান্ড ইক্যুইটি (এইস)-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচির সমন্বয় করেন সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুমাইয়া বিনতে হোসাইনী।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি মাসুক আলতাফ চৌধুরী, ফরিদা বিদ্যায়তনের গভর্নিং কমিটির সভাপতি নাজমা আক্তার, প্রধান শিক্ষক আবু হানিফ মজুমদার, ফেস দ্য পিপল-এর উপদেষ্টা মো. শাহ আলম, এখন টিভির কুমিল্লা ব্যুরো প্রধান খালেদ সাইফুল্লাহ, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মোশাররফ হোসাইন, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মো. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ আর্মি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষক শামীম আহমেদ, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা কুমিল্লা জেলা শাখার সভাপতি তরিকুল ইসলাম তরুণ, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)-এর বিশেষ প্রতিনিধি কামরুল হাসান, দৈনিক আমার দেশের কুমিল্লা প্রতিনিধি এম. হাসান, কুমিল্লা ডিবেট ফেডারেশনের সভাপতি ইশতিয়াক আহমেদ এবং এইস-এর রিসার্চ কোঅর্ডিনেটর হাসান মাহমুদ তারেক।

বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অর্জুন, নিম, কৃষ্ণচূড়া, জলপাই, বরই, আম, পেয়ারাসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করা হয়।

আয়োজকরা জানান, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে বৃক্ষপ্রেম ও পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তারা ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক ও সবুজায়ন কর্মসূচি অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বক্তারা বলেন, পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। একটি সবুজ, সুন্দর ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষ সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।


লামা পৌরসভার ১১ কোটি ২৩ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি

বান্দরবান জেলার লামা পৌরসভার ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের ১১ কোটি ২৩ লাখ ৩ হাজার ৬১৩ টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এ বাজেট ঘোষণা করেন, পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মঈন উদ্দিন। এতে পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. আমির হোসেন, থানা পুলিশের অফিসার ভারপ্রাপ্ত কায়সার হামিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আব্দুর রব, প্রেসক্লাবের সভাপতি প্রিয়দর্শী বড়ুয়া, উপজেলা প্রকৌশলী আবু হানিফ, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও চিকিৎসক মো. ফরহাদ উদ্দিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেবাশীষ বিশ্বাস, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা আমীর কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহিম ও পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা রুইপ্রু অং মারমা অতিথি ছিলেন।

বাজেটে মোট রাজস্ব আয়ের পরিমাণ ২ কোটি ৩৩ লাখ ৬৩ হাজার ৭২২ টাকা। মোট রাজস্ব ব্যয় ২ কোটি ১৯ লাখ ৩০ হাজার টাকা। সমাপনী স্থিতি ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ৭২২ টাকা। এ খাতে উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের মধ্যে সাধারণ সংস্থাপন শাখার জন্য ১ কোটি ৬৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা, স্বাস্থ্য ও পয়ঃপ্রণালি খাতে ২৫ লাখ ২০ হাজার, শিক্ষা খাতে ২ লাখ টাকা। এ ছাড়া পানি সরবরাহ ব্যয়সহ প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

উন্নয়ন খাতে মোট আয় ও ব্যয় ধরা হয়েছে ৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা। আয় বিবরণে সরকার প্রদত্ত উন্নয়ন সহায়তা মঞ্জুরি ১ কোটি টাকা, কোভিড-১৯ রিকভারি প্রজেক্ট বাবদ ৩ কোটি টাকা, জলবাযু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড থেকে ৫০ লাখ টাকা, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে প্রদত্ত মঞ্জুরি ৫০ লাখ টাকা, লামা পৌরসভা অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (সরকার কর্তৃক বিশেষ বরাদ্দ) হতে ২০ লাখ টাকা, পৌর ভবন সম্প্রসারণ ৫০ লাখ টাকা এবং গুরুত্বপূর্ণ নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ৩ কোটি টাকা ধরা হয়েছে। ব্যয় বিবরণে অবকাঠামো উন্নয়ন ৫ কোটি ৪০ লাখ, পৌর ভবন সম্প্রসারণ ও সংস্কার, স্টাফ ডরমেটরি নির্মাণ, পৌর ভবনের বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ, মার্কেট নির্মাণ বাবদ ১ কোটি ৩০ লাখ, অন্যান্য উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১ কোটি ৫৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

বাজেট ঘোষণা অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, পৌরসভা প্রশাসকের কর্মসম্পাদনে সহায়তা প্রদান কমিটির সদস্য, পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা, লামা পৌর এলাকার বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিরা ও সাংবাদিক প্রমুখ।


নকল নয়, এখন লক্ষ্য শিক্ষার মানোন্নয়ন: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বরিশাল ব্যুরো

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন বলেছেন, ‘দেশে নকলের প্রবণতা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। তাই সরকারের বর্তমান লক্ষ্য শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা। বিভিন্ন সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা চিহ্নিত করে সেগুলোর সমাধানে কাজ করছে সরকার।’

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা উপলক্ষে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বরিশাল; বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এবং বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন বরিশাল অঞ্চলের কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এ সভার আয়োজন করা হয়।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘নকল এখন আর হচ্ছে না। আমরা এখন শিক্ষার মান উন্নয়নের জন্য কাজ করছি। শিক্ষকদের কী কী অসুবিধা রয়েছে, কোন কোন কারণে শিক্ষার মানোন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের চেষ্টা করছি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সংস্কার নির্ধারণ করা হচ্ছে।’

আসন্ন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে বলেন, ‘প্রশ্নফাঁস হতে দেওয়া যাবে না। যদি প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে এমন শাস্তি দেওয়া হবে, যা সারাজীবন বাংলাদেশ মনে রাখবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। শিক্ষায় কোনো ধরনের চালাকি চলবে না। পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে কেন্দ্র সচিব, শিক্ষক, প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি অনুষ্ঠিত প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। শিক্ষাব্যবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, বিভাগীয় কমিশনার খলিলুল আহমেদ, জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান, বরিশাল রেঞ্জের ডিআইজি, উজিরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এস এম সরফুদ্দিন সন্টু, বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদার, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান খান ফারুক, বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মো. ইউনুসসহ শিক্ষা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা।


ভোলাকে জ্বালানি ও ব্লু-ইকোনমির কেন্দ্র গড়তে একগুচ্ছ প্রস্তাব হাফিজ ইব্রাহিমের

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউসুফ হোসেন অনিক, ভোলা

ভোলা-২ (বোরহানউদ্দিন-দৌলতখান) আসনের সংসদ সদস্য মো. হাফিজ ইব্রাহিম জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে উপকূলীয় ও চরাঞ্চলের উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, নদীভাঙন রোধ, স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে একাধিক প্রস্তাব তুলে ধরেন।

‎‎বাজেট বক্তৃতার শুরুতে তিনি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

‎‎সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘দেশের উপকূলীয় অঞ্চল জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত। নদীভাঙন, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ততার কারণে প্রতি বছর বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হচ্ছে। বিশেষ করে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর ভাঙনে অনেক পরিবার বসতভিটা ও জীবিকার উৎস হারাচ্ছে।’‎

‎তিনি জানান, তার নির্বাচনী এলাকার অন্তত ১০টি ইউনিয়ন নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে নদীভাঙন প্রতিরোধ, টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং চরাঞ্চলের অবকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি।‎

‎বক্তৃতায় তিনি দেশের চরাঞ্চলগুলোতে কৃষি উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎপাদনের সমন্বয়ে একটি জাতীয় ‘এগ্রি-সোলার’ নীতি প্রণয়নের প্রস্তাব দেন। তার মতে, একই জমিতে কৃষি উৎপাদন ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

‎‎এ ছাড়া উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম জোরদারে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট কোস্টাল গভর্ন্যান্স ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

‎‎হাফিজ ইব্রাহিম সংসদে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নদী অববাহিকা ও বদ্বীপ অঞ্চলের জন্য পৃথক তহবিল গঠনের উদাহরণ তুলে ধরে বাংলাদেশের সব চরাঞ্চলের উন্নয়নের জন্য একটি পৃথক ‘চরাঞ্চল উন্নয়ন তহবিল’ গঠনের জোর দাবি জানান।

‎‎জলবায়ু পরিবর্তন ও ব্লু-ইকোনমিকে ভবিষ্যতের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ খাত উল্লেখ করে তিনি ভোলায় একটি ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও ব্লু-ইকোনমি বিশ্ববিদ্যালয়’ প্রতিষ্ঠার প্রস্তাবও দেন।

‎‎জ্বালানি খাতে ভোলার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে সংসদ সদস্য বলেন, ‘নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও গ্যাসভিত্তিক শিল্পায়নের মাধ্যমে ভোলাকে জাতীয় জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।’ এ লক্ষ্যে বোরহানউদ্দিনে একটি এনার্জি টার্মিনাল ও দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের দাবি জানান তিনি।‎

‎স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নের জন্য তিনি বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখানের ১০০ শয্যা হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বৃদ্ধির আহ্বান জানান। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ভোলা মেডিকেল কলেজ বোরহানউদ্দিন ও লালমোহনের মধ্যবর্তী স্থানে স্থাপনের দাবি জানান।

‎‎তরুণ সমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখতে ভোলা-২ আসনে একটি আধুনিক মাল্টিপারপাস স্টেডিয়াম নির্মাণ এবং কৃষি উন্নয়নের জন্য আধুনিক হর্টিকালচার সেন্টার স্থাপনের প্রস্তাবও দেন তিনি।

‎‎বক্তৃতার সমাপনী অংশে হাফিজ ইব্রাহিম বলেন, ‘দেশের টেকসই উন্নয়নের জন্য উপকূলীয় ও চরাঞ্চলকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে হবে।’ তিনি প্রস্তাবিত বাজেটে উপকূলীয় উন্নয়ন, জলবায়ু অভিযোজন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান খাতে অধিক গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান এবং জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে বাজেট প্রণয়নের জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

‎‎ভোলা-২ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে হাফিজ ইব্রাহিম বর্তমানে জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছেন।


নীলফামারীর আলোচিত মা হত্যা মামলার প্রধান আসামি আশুলিয়া থেকে গ্রেফতার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী

নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার বহুল আলোচিত মা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. মাজহারুল আনোয়ার রুবেলকে (ছদ্মনাম নয়) ঢাকা জেলার আশুলিয়া থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নীলফামারীর পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ হোসেনের সার্বিক নির্দেশনা এবং কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. লুৎফর রহমানের নেতৃত্বে পরিচালিত বিশেষ অভিযানে গত ২৪ জুন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত রুবেল নীলফামারী জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর বড়ভিটা ময়দানপাড়া গ্রামের মৃত আশরাফ উদ্দিনের ছেলে। তিনি কিশোরগঞ্জ থানায় দায়ের করা বহুল আলোচিত হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

পুলিশ জানায়, চলতি বছরের ৪ জুন মাকে হত্যার পর মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখার অভিযোগে কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা নং-০২, পেনাল কোডের ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামি আত্মগোপনে ছিলেন। গোয়েন্দা তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর আশুলিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

গ্রেফতারের পর আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

কিশোরগঞ্জ থানা পুলিশ জানিয়েছে, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে তাদের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা হবে।


নদীভাঙনে কৃষিজমি হারানোর শঙ্কা, দ্রুত সংস্কারের দাবি কৃষকদের

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার ভারত সীমান্তঘেঁষা গোমড়া গ্রাম ইতোমধ্যেই ‘সবজি গ্রাম’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। গ্রামের প্রায় শতভাগ মানুষ কৃষির সঙ্গে জড়িত এবং কৃষিনির্ভর অর্থনীতির মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করেন।

এ গ্রামের প্রধান ফসলের মধ্যে রয়েছে শিম, কাঁকরোল, চালকুমড়া, মিষ্টিকুমড়া, ধুন্দল, করলাসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজি। স্থানীয় কৃষকদের উৎপাদিত এসব সবজি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়।

তবে কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে গ্রামটি নানা অবকাঠামোগত সমস্যায় ভুগছে। শুকনো মৌসুমে পানির সংকট এবং বর্ষাকালে পাহাড়ি ঢলে ফসলি জমি ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া নদীভাঙনের কারণে কৃষিজমি হারানোর আশঙ্কাও বাড়ছে। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ‘কৃষিকে আরও আধুনিক ও লাভজনক করতে হলে গোমড়া গ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, ভাঙনরোধ এবং প্রয়োজনীয় সেতু-কালভার্ট নির্মাণ জরুরি।’

গোমড়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমাদের গ্রামের বসতভিটার আঙিনা ছাড়া প্রায় সব জমিই চাষাবাদের আওতায়। তাই ভাঙনরোধ ও রাস্তা-ঘাটের উন্নয়ন এখন সময়ের দাবি।’

কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকার কৃষিবান্ধব হলেও আমাদের এলাকার কৃষিজমি ও অবকাঠামোর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত তাই সামগ্রিক উন্নয়নের উদ্যোগ প্রয়োজন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘গোমড়া গ্রামের সর্বত্র কৃষির বিস্তার রয়েছে। রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, ভাঙনরোধ এবং প্রয়োজনীয় সেতু-কালভার্ট নির্মাণ করা গেলে এ এলাকার কৃষকরা জাতীয় কৃষি উৎপাদনে আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন।’


কুমিল্লা নগরীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ আহত ৫

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

কুমিল্লা নগরীর কাটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ইথান আহমেদ প্রেম নামে ষষ্ঠ শ্রেণির এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (২৪ জুন) রাত থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা দেখা দেয়।

রাতের ঘটনার জের ধরে বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালেও দুই গ্রুপ আবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এ সময় গুলিবর্ষণের ঘটনায় পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলাকালে গুলিবিদ্ধ হন ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ প্রেম।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার জানান, মাদক ব্যবসা ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


মেহেরপুরে পুকুরে বিষ প্রয়োগে মরেছে ৩ বিঘা পুকুরের মাছ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাংনী (মেহেরপুর) প্রতিনিধি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার জুগিন্দা গ্রামের একটি মাছ চাষের পুকুরের ২০ লক্ষাধিক টাকার মাছ মারা গেছে। পুর্বশত্রুতার জের ধরে অজ্ঞাত কেউ বিষ ঢেলে মাছ নিধন করেছে বলে অভিযোগ মাছ চাষী কামরুজ্জামানের।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ভোরে মাছ মরে ভেসে উঠলে বিষয়টি তার নজরে আসে।

জানা গেছে, কামরুজ্জামান ৩ বিঘা পুকুরে মাছ চাষ করেছেন। দুই বছর ধরে পাঙ্গাস জাতীয় মাছ চাষ করছেন । একেকটি মাছ ৭-১২ কেজি পর্যন্ত ওজন হয়েছে। কয়েকদিন পরেই মাছ বিক্রি করতেন তিনি।

অথচ আজ সকালে স্থানীয়রা পুকুরে মাছ মরে ভেসে উঠতে দেখেন। পুকুর মালিক লোকজন নিয়ে মাছ তুলে বিক্রির চেষ্টা করেছেন। তবে বিষে আক্রান্ত নেই বেশিরভাগ মাছে পচন ধরেছে। এতে তার ২০ লক্ষাধিক টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানান মাছ চাষী কামরুজক্জামান।

দ্রুততম সময়ে বিষয়টির তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


ভাঙ্গুড়ায় “ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন” বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরিকল্পনা সভা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভাঙ্গুড়া (পাবনা) প্রতিনিধি

পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গত বুধবার (২৪ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সম্মেলন কক্ষে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের সার্বিক প্রস্তুতি, শিশুদের মাঝে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণের কার্যক্রম, মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক উদ্যোগ এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পরিবার পরিকল্পনা টিএইচ এ ডা হালিমা খানম লিমা, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি মিজানুর রহমান এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজ সেবা কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম, শিশু বিশেষজ্ঞ ডা.সাব্বির রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।


banner close