মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রে রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাডুবিতে নারীসহ চার রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্যসহ আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
নিখোঁজ বিজিবি সদস্য শাহপরীর দ্বীপ বিওপির অধীনে কর্মরত বিল্লাল হোসেন (সিপাহি)।
শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম উপকূল এলাকা থেকে ভেসে আসা রোহিঙ্গাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটায় টেকনাফে নৌকাডুবির ঘটনায় নারী, পুরুষ, শিশুসহ ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে বিজিবি।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাডুবির ঘটনায় চার রোহিঙ্গার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিজিবির সদস্যসহ আরও বেশকিছু রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’
টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, 'সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম পাড়ায় রোহিঙ্গাদের একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকার তলা ফেটে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।'
স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাবোঝাই একটি নৌকা টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া এলাকায় সাগরে ভাসতে দেখে বিজিবির সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের মালিকানাধীন মাছ ধরার নৌকায় শাকের মাঝির নেতৃত্বে মাঝিমাল্লারা রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাটি থামানোর সংকেত দেন সমুদ্রে। পরে ওই নৌকাতে ওঠেন বিজিবি সদস্য। এ সময় উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তাদের চিৎকারে নারী-শিশুসহ ২৫ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও বিজিবি।
গাজীপুরের কাশিমপুরের শৈলডুবি এলাকায় অবস্থিত ‘সুপ্রিম গার্মেন্টস’ নামের একটি পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ৮ ইউনিট।
শনিবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানা ভবনে হঠাৎ এই আগুনের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কাশিমপুর ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা খায়রুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর তৎপরতা শুরু করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুনের কারণ, সার্বিক ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কিংবা কোনো ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না, তা জানা সম্ভব হয়নি।
গাজীপুরের টঙ্গীর আউচপাড়া এলাকার একটি আবাসিক মাদরাসায় ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়ন এবং পরবর্তী সময়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধরের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের আনা পাল্টা অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং মেয়ের ওপর হওয়া নির্যাতনের সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
মাদরাসায় বিশৃঙ্খলা বা দলবল নিয়ে চড়াও হওয়ার অভিযোগ খণ্ডন করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার সন্তানের বিচার চাইতে মাদরাসায় গিয়েছিলাম, মব সৃষ্টি করতে নয়। প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, আমি নাকি মব সৃষ্টি করেছি এবং ফ্ল্যাট দখল করতে গিয়েছি। আমি কেন মব সৃষ্টি করব? যদি আমি মব সৃষ্টি করতাম, তাহলে সেখানে ২০০ লোক ছিল, তারা সবাই আমাকে মারল না কেন? আমি তো একজন বাবা হিসেবে আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাইতে গিয়েছিলাম।’
প্রতিষ্ঠানটিতে ভাঙচুরের অভিযোগ প্রসঙ্গে প্রকৃত অবস্থা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি স্বীকার করছি, সেখানে ছোট একটি কাচের গ্লাস ভেঙেছে। আমি বলেছি, এর ক্ষতিপূরণ দিয়ে দেব। তবে শিক্ষক আসার আগেই গ্লাসটি ভেঙেছিল। ওই সময়ের ভিডিও রেকর্ডও রয়েছে। আমি ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু ভাঙতে চাইনি।’
মাদরাসা থেকে ১৭ লাখ টাকা চুরির যে অভিযোগ উঠেছে, তা সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে নিরপেক্ষ প্রমাণের দাবি জানিয়ে রুমি বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে। আমি কোথায় ১৭ লাখ টাকা নিয়ে গেছি, সেটি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে যাচাই করা হোক। মাদরাসায় এত টাকা কিভাবে রাখা হয়, সেই বিষয়টিও পরিষ্কার হওয়া দরকার। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে, সেগুলোরও সুষ্ঠু তদন্ত হোক।’
ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতি নিজের মনোভাব স্পষ্ট করে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমি মাদরাসার বিরুদ্ধে নই, শিক্ষকদের বিরুদ্ধেও নই। আমি দ্বিনি শিক্ষার জন্য আমার মেয়েকে সেখানে পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু যেখানে আমার সন্তান নিরাপদ থাকবে না, সেখানে এমন ঘটনা ঘটলে একজন বাবা হিসেবে আমি কী করব? আমি ইসলাম বা প্রকৃত আলেমদের বিরুদ্ধে কথা বলছি না। যারা ধর্মীয় পরিচয়কে ব্যবহার করে অপরাধ করে এবং সত্য আড়াল করার চেষ্টা করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলছি।’
অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনার পর পরিবারের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মানসিক যন্ত্রণার বিবরণ দিয়ে রুমি বলেন, ‘এই ঘটনার পর আমি এক রাতও ঠিকমতো ঘুমাতে পারিনি। আমার দিন কিভাবে কাটছে, তা আল্লাহই ভালো জানেন। আমার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারত। আমি একজন বাবা। আমার সন্তানের সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটার কথা শোনার পর নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।’
প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষ কর্তাব্যক্তির অবহেলার অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমি তিন দিন আগেই অধ্যক্ষকে অভিযোগ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি বারবার বলেছেন, তিনি কিছু জানেন না। আমি তার কক্ষের বাইরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেছি। পরে তার সঙ্গে কথা বলতে গেলে এমন আচরণ করেছেন, যেন তিনি আমার সঙ্গে দেখা করতেই চান না। আমি জানতে চেয়েছি, অভিযোগ জানানোর পরও কেন কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?’
দক্ষিণ-পূর্ব ও সংলগ্ন পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে। এটি ক্রমাগত শক্তি সঞ্চয় করে আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে বেসরকারি আবহাওয়া গবেষণা সংস্থা বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি)।
শনিবার সংস্থাটির দেওয়া পূর্বাভাসে জানানো হয়, সিস্টেমটি আগামী তিন থেকে চার দিন ধারাবাহিকভাবে শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে। এর ধারাবাহিকতায় আগামী ৬ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে এটি নিম্নচাপ এবং পরবর্তী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার ব্যবধানে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। এরপরের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নেওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বর্তমানে সুস্পষ্ট লঘুচাপের কেন্দ্রের ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে বাতাসের গড় সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৩৫ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৪৫ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকাগুলোতে সাগর ক্রমেই উত্তাল হতে শুরু করেছে।
পরিস্থিতি পর্যালোচনায় বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশের সমুদ্রবন্দরগুলোতে এখনো আনুষ্ঠানিক সতর্কতা জারি না হলেও অচিরেই সংকেত আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাগুলোকে উপকূল থেকে ১৫০ কিলোমিটারের বেশি দূরে অর্থাৎ গভীর সাগরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জেলেদের উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে নৌযান পরিচালনা করতে বলা হয়েছে।
বিডব্লিউওটির তথ্যমতে, সিস্টেমটি আগামী ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে শক্তি সঞ্চয় করবে এবং পরবর্তীতে পশ্চিম দিকে বাঁক নেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পশ্চিম-মধ্য ও সংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে পৌঁছে এটি নিজের সর্বোচ্চ শক্তিমত্তা প্রদর্শন করতে পারে। তবে বর্তমান গতিপথ পর্যালোচনায় বাংলাদেশের উপকূলে সরাসরি কোনো আঘাত বা বড় ধরনের তাণ্ডবের ঝুঁকি দেখা যাচ্ছে না। ঘূর্ণিঝড়টি আগামী ২৮ অক্টোবরের দিকে ভারতের উত্তর অন্ধ্রপ্রদেশ কিংবা দক্ষিণ উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
সরাসরি আঘাত না হানলেও দূরবর্তী পরোক্ষ প্রভাবে ভারতের উপকূলে ভারী বৃষ্টিপাতের পাশাপাশি বাংলাদেশেও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী ২৭ বা ২৮ অক্টোবর থেকে দেশের ওপর একটি বিস্তৃত ‘বৃষ্টি বলয়’ সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। এই বলয়ের কারণে ১ নভেম্বর পর্যন্ত দেশের সিংহভাগ এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে, যার মধ্যে বরিশাল, খুলনা, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বেশি হতে পারে এবং চট্টগ্রাম ও সিলেটে তা তুলনামূলক কম থাকার আভাস রয়েছে।
চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসা নাস্তার পরিমাণ কম হওয়াকে কেন্দ্র করে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মারধরে আহত সিফাতুন নুর (২২) নামের তিন মাসের এক অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। টানা নয় দিন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে হার মানেন তিনি।
শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ওই গৃহবধূ। এ ঘটনায় সিফাতুনের শাশুড়িসহ তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন নিহতের পরিবারের সদস্যরা।
পারিবারিক সূত্র জানায়, চন্দনাইশ পৌরসভার বাসিন্দা মো. নুরের কন্যা সিফাতুনের সঙ্গে প্রায় পাঁচ মাস আগে পটিয়ার পূর্ব কুসুমপুরা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী মো. তারেকের পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। স্বামী প্রবাসে থাকায় সিফাতুন শ্বশুরবাড়িতেই বসবাস করছিলেন। তবে বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন কারণে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি।
স্বজনদের অভিযোগ, গত ১৪ অক্টোবর সন্ধ্যায় সিফাতুনের মা জুহিনুর আক্তার মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে হাতে তৈরি খাবার নিয়ে যান। নাস্তার পরিমাণ আশানুরূপ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে কটূক্তি শুরু করেন শ্বশুরবাড়ির লোকজন। একপর্যায়ে কথা-কাটাকাটির জেরে সিফাতুনের শাশুড়ি রিজিয়া বেগম তাঁর মাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ সময় সিফাতুন মাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রাশেদা বেগম ও সুমি আক্তার নামের অপর দুই নারী তাঁর চুলের মুঠি ধরে মাটিতে ফেলে উপর্যুপরি মারধর করেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসে তাঁদের উদ্ধার করেন।
ওই রাতেই সিফাতুনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক রূপ নিলে তাঁকে দ্রুত চমেক হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে দীর্ঘ নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার তাঁর মৃত্যু ঘটে। নিহতের বাবার দাবি, মারধরের ঘটনা গোপন করে দায় এড়াতে তাঁর মেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে প্রচার চালিয়ে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল অভিযুক্ত পক্ষ।
এ বিষয়ে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক জানান, মারধরের ঘটনায় আগেই একটি লিখিত অভিযোগ নথিভুক্ত হয়েছিল এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটির প্রকৃত সত্যতা উদঘাটনে তদন্ত চলছে এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের মুন্সীগঞ্জ অংশে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস সড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে অন্তত তিনজনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় বাসে থাকা আরও ১৬ জন যাত্রী আহত হয়েছেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টা ১৮ মিনিটের দিকে এক্সপ্রেসওয়ের ঢাকামুখী লেনে মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার হাঁসাড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তিনি চুয়াডাঙ্গা জেলার বাসিন্দা রুকুনুজ্জামান রঞ্জু (৫৫)। বাকি দুজনের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনাস্থল থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করে পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য হাইওয়ে পুলিশের হেফাজতে হস্তান্তর করা হয়েছে।
দুর্ঘটনায় আহত ১৬ জনের মধ্যে রয়েছেন হৃদয়, শাহিন আক্তার, নূর ইসলাম, ইমরান, গিলবাড সরকার, তরিকুল ইসলাম, সাইফুল ইসলাম, মিরাজুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, অনিফিন, সন্দীপন বসু, ইকরাম, রায়হান, হাসিব, তিশা ও বোরহান উদ্দিন। আহতরা প্রধানত চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, ঝিনাইদহ, ঢাকা ও মাগুরা জেলার বাসিন্দা।
মুন্সীগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক মুহাম্মদ সফিকুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসা দর্শনা পরিবহনের একটি নৈশকোচ বেপরোয়া গতিতে একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার চেষ্টা করছিল। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি এক্সপ্রেসওয়ের রেলিং ভেঙে সার্ভিস লেন অতিক্রম করে পাশের পানিভর্তি খাদে আছড়ে পড়ে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযান শুরু করে। উদ্ধারকারীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১১ জনকে উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের অ্যাম্বুলেন্সে স্থানীয় শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠান এবং অপর পাঁচজনকে প্রাথমিক সেবা দেওয়া হয়।
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে নারী-পুরুষের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য পার্থক্য দেখা যাচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের বড় অংশ পুরুষ হলেও মৃত্যুর হিসাবে নারীর সংখ্যা বেশি বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লিঙ্গভিত্তিক তথ্য। বিশেষজ্ঞদের মতে, নারীদের অসুস্থতাকে গুরুত্ব না দেওয়া, চিকিৎসা নিতে বিলম্ব, আর্থিক সংকট এবং স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সামাজিক বাধা এ পরিস্থিতির পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে। গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে মা ও অনাগত শিশুর জন্যও বাড়তি জটিলতার আশঙ্কা থাকে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে পুরুষের হার ৬২ দশমিক ১ শতাংশ এবং নারীর হার ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ। অন্যদিকে, মৃতদের মধ্যে নারীর সংখ্যা পুরুষের তুলনায় বেশি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। আর নতুন করে ১ হাজার ২৯৯ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৭১। আক্রান্ত ও মৃত্যুর এই চিত্র ডেঙ্গু প্রতিরোধের পাশাপাশি দ্রুত রোগ শনাক্ত এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরছে।
বয়সভেদে আক্রান্ত ও মৃত্যুর চিত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বয়সভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে ২৬ থেকে ৫০ বছর বয়সিদের মধ্যে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য। এ বয়সসীমার বিভিন্ন শ্রেণির তথ্য যোগ করে আক্রান্তের সংখ্যা পাওয়া যায় ৫২ হাজার ৫৩১। তাদের মধ্যে পুরুষ ৩১ হাজার ৮২৭ জন এবং নারী ২০ হাজার ৭০৪ জন। একই বয়সসীমায় মৃত্যুর হিসাবেও নারীর সংখ্যা বেশি। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বয়সি মৃতদের মধ্যে পুরুষ ৭৫ জন এবং নারী ৯৮ জন। অর্থাৎ, এই বয়সসীমায় নথিভুক্ত মৃত্যুর প্রায় ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
চিকিৎসা নিতে দেরি বাড়াতে পারে জটিলতা: বিশিষ্ট রোগতত্ত্ববিদ অধ্যাপক ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, ডেঙ্গুতে নারীদের মৃত্যুর পেছনে সামাজিক বৈষম্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পরিবারের পুরুষ সদস্যদের তুলনায় অনেক নারী নিজেদের অসুস্থতাকে কম গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও তারা সব সময় প্রয়োজনীয় যত্ন ও চিকিৎসার বিষয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব পান না।
বিশেষ করে আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের নারীদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার খরচ, সংসারের দায়িত্ব এবং শিশুদের দেখাশোনার বিষয়টি চিকিৎসা নেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে জ্বর বা অসুস্থতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার পরও তারা চিকিৎসকের কাছে যেতে দেরি করতে পারেন।
ডেঙ্গুতে রোগীর অবস্থা কখনো কখনো দ্রুত জটিল হয়ে উঠতে পারে। তাই জ্বর হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং রোগের সতর্কসংকেত দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যাওয়া জরুরি। চিকিৎসা নিতে দেরি হলে রোগীর প্রয়োজনীয় পর্যবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা শুরু করতেও বিলম্ব হতে পারে।
তবে নারীদের বেশি মৃত্যুর পেছনে চিকিৎসা নিতে দেরিই একমাত্র কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য সিদ্ধান্তের জন্য লিঙ্গভিত্তিক মৃত্যুহার, রোগীর শারীরিক অবস্থা, হাসপাতালে পৌঁছানোর সময় এবং চিকিৎসার তথ্য বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
রাজধানীর মাতুয়াইলের মা ও শিশু ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. তাহমিনা ডেইজি বলেন, গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু হলে মা ও শিশু উভয়েরই গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি থাকতে পারে। এ সময় রোগীর শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গুতে রক্তের অণুচক্রিকা কমে যাওয়া, রক্তক্ষরণ ও যকৃতের জটিলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ হলে মায়ের অবস্থার পাশাপাশি গর্ভের শিশুর সুস্থতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হয়। কিছু ক্ষেত্রে গর্ভপাত, সময়ের আগে সন্তান জন্ম নেওয়া কিংবা নবজাতকের কম ওজনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে ডেঙ্গু আক্রান্ত সব গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে এসব জটিলতা দেখা দেয় না। রোগের তীব্রতা, মায়ের সামগ্রিক স্বাস্থ্য এবং সময়মতো উপযুক্ত চিকিৎসা পাওয়ার ওপর পরিস্থিতি নির্ভর করে।
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ সেবন না করে জ্বর দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা নেওয়া প্রয়োজন। গর্ভবতী নারীর ডেঙ্গু শনাক্ত হলে চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী মা ও শিশুর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হবে।
নারীদের পুষ্টির ঘাটতি ও রক্তস্বল্পতার বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. তাহমিনা ডেইজি। তার মতে, নারীরা অনেক সময় সংসারের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজেদের অসুস্থতাকে উপেক্ষা করেন। পরিবার থেকেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা না পেলে চিকিৎসা নেওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
তবে পুষ্টির ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতাকে ডেঙ্গুতে নারীদের বেশি মৃত্যুর সরাসরি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করার আগে নির্দিষ্ট গবেষণা ও রোগীর তথ্য প্রয়োজন। রোগীর বয়স, পূর্ববর্তী শারীরিক অবস্থা, ডেঙ্গুর তীব্রতা এবং চিকিৎসা পাওয়ার সময়সহ একাধিক বিষয় মৃত্যুঝুঁকিকে প্রভাবিত করতে পারে। এ কারণে ডেঙ্গু মোকাবিলায় নারীস্বাস্থ্যের বিশেষ প্রয়োজনগুলো বিবেচনায় রাখার পাশাপাশি সবার জন্য সমানভাবে মানসম্মত চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, ডেঙ্গুতে মৃত্যু কমাতে দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়াতে হবে। ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে দ্রুত রোগ শনাক্ত, পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসার ব্যয়ের পাশাপাশি পরিবারের শিশুদের দেখাশোনা ও দৈনন্দিন জীবনের দায়িত্ব অনেক সময় রোগীকে হাসপাতালে যেতে নিরুৎসাহিত করতে পারে। তাই স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় কমানো, দরিদ্র পরিবারের জন্য সহায়তা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।
ডা. তাহমিনা ডেইজি মনে করেন, নারীদের ডেঙ্গু বিষয়ে সচেতন করতে পরিবারের পুরুষ সদস্যদেরও যুক্ত করা জরুরি। জ্বরকে অবহেলা না করা, প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও যত্ন নিশ্চিত করা এবং সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বিষয়ে পরিবারকে সচেতন হতে হবে।
পাড়া-মহল্লায় প্রচার, স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পরামর্শ এবং সহজবোধ্য তথ্যের মাধ্যমে ডেঙ্গুর লক্ষণ ও সতর্কসংকেত সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো যেতে পারে। পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার কার্যক্রমও নিয়মিত চালাতে হবে।
ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হওয়া এবং মৃত্যুর সংখ্যা বেশি হওয়ার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই শুধু আক্রান্তের হিসাব নয়, কারা বেশি জটিলতায় পড়ছেন, কারা দেরিতে চিকিৎসা পাচ্ছেন এবং কোন বাধাগুলো তাদের স্বাস্থ্যসেবার বাইরে রাখছে, সেসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিশ্লেষণ করতে হবে।
নারীদের অসুস্থতাকে গুরুত্ব দেওয়া, আর্থিক ও সামাজিক বাধা কমানো এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা মোকাবিলায় ইতিবাচক অগ্রগতি সম্ভব। একই সঙ্গে নির্ভুল ও হালনাগাদ পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে কার্যকর স্বাস্থ্যনীতি গ্রহণ করতে হবে, যাতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পান।
রাজধানীর বাজারে আসতে শুরু করেছে আগাম শীতকালীন সবজি। পাড়া-মহল্লার কাঁচাবাজার থেকে শুরু করে সড়কের পাশের ভ্যানেও মিলছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিমসহ নানা ধরনের সবজি। তবে সরবরাহ বাড়তে শুরু করলেও অধিকাংশ সবজির দাম এখনো সাধারণ ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। এর সঙ্গে মাছ ও ডিমের চড়া দাম এবং আদা-রসুনের মূল্যবৃদ্ধি সংসারের ব্যয় আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। বিপরীতে টানা ছুটিতে ঢাকার বাইরে মানুষের যাতায়াত বাড়ায় চাহিদা কমেছে মুরগির, ফলে কিছুটা কমেছে এর দাম। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর রামপুরা, মালিবাগ, কারওয়ান বাজার ও মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১১০ টাকায়। করলা, কাঁকরোল, বরবটি ও শসার দাম কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং শিম ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। পটোল ও ঢেঁড়সের কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৬০ থেকে ৭০, ঝিঙা ৭০ থেকে ৮০ এবং মুলা ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতি কেজি মিষ্টিকুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং কাঁচামরিচ মান ও বাজারভেদে ১০০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতিটি লাউয়ের দাম ৬০ থেকে ৭০ টাকা।
এদিকে বাজারে উঠতে শুরু করেছে আগাম জাতের ফুলকপি ও বাঁধাকপি। আকারে ছোট এসব সবজির প্রতিটি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৫০ টাকায়। আলুর দাম কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৩০ টাকায় স্থিতিশীল রয়েছে। তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যাচ্ছে কাঁচা পেঁপে, যার কেজি ৩০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. শাহজাহান বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আগাম জাতের বিভিন্ন সবজি বাজারে আসছে। মৌসুমের শুরুতে এসব সবজির দাম কিছুটা বেশি থাকে। এ সময় কৃষকেরাও তুলনামূলক ভালো দাম পান। শীতকালীন সবজির পূর্ণ মৌসুম শুরু হলে সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সবজির বাজারে স্বস্তি না ফিরলেও মুরগির দামে সামান্য কমতি দেখা গেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল দাম ছিল ১৮০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি ৩৩০ থেকে ৩৪০ টাকা, যা আগের সপ্তাহে ছিল ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা।
কারওয়ান বাজারের মুরগি বিক্রেতা মানিক জানান, সরবরাহ ও চাহিদার ওপর মুরগির দাম নির্ভর করে। টানা ছুটিতে অনেক মানুষ ঢাকা ছেড়ে যাওয়ায় এ সপ্তাহে বিক্রি কিছুটা কমেছে। চাহিদা কমার প্রভাব পড়েছে বাজারদরেও।
মুরগির দামে সামান্য স্বস্তি এলেও মাছের বাজারে তার প্রতিফলন নেই। বরং আগের সপ্তাহের তুলনায় বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।
বাজারে এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৩৩০ থেকে ৩৬০ টাকায়। পাবদা মাছের দাম ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকা, ছোট কাঁচকি ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকা এবং টেংরা ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। চাষের কৈ বিক্রি হচ্ছে ২৫০ থেকে ২৮০ টাকায়। এ ছাড়া তেলাপিয়া মাছের কেজি ২২০ থেকে ২৪০ টাকা, চাষের পাঙাশ ২০০ থেকে ২৩০ টাকা এবং সরপুঁটি ২২০ থেকে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের এমন দামে সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর খাদ্যব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
ডিমের বাজারেও ক্রেতাদের স্বস্তি নেই। প্রতি হালি ফার্মের মুরগির ডিম কিনতে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা গুনতে হচ্ছে। সে হিসাবে এক ডজন ডিমের দাম পড়ছে প্রায় ১৫০ টাকা।
অন্যদিকে রাজধানীর বাজারে বেড়েছে আদা ও রসুনের দাম। দেশি ও আমদানি করা—দুই ধরনের রসুনের দামই কেজিতে ১০ টাকা বেড়েছে। একই পরিমাণ বেড়েছে আমদানি করা আদার দামও। ফলে রান্নার প্রয়োজনীয় এসব পণ্য কিনতেও ক্রেতাদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন ক্রেতারা। কারওয়ান বাজারে কেনাকাটা করতে আসা সুমন হোসেন বলেন, শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। বাজারে বিভিন্ন ধরনের শাকসবজিও পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু দাম এখনো তুলনামূলক বেশি। প্রায় সব পণ্যের দাম চড়া থাকায় সংসারের খরচ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, সবজির দাম কমলে সাধারণ ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেতেন।
বাজারের সামগ্রিক চিত্র বলছে, আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও তার সুফল এখনো পুরোপুরি পাচ্ছেন না ক্রেতারা। মুরগির দামে সামান্য কমতি থাকলেও মাছ, ডিম ও রান্নার প্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্য বাজারের ব্যয়বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছে। শীতকালীন সবজির সরবরাহ আরও বাড়লে দাম কমতে পারে—এমন প্রত্যাশা থাকলেও আপাতত নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তির অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
ঢাকা খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের কানাইপুর তেঁতুলতলা এলাকায় বালু বোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অটোরিকশা ও প্রাইভেট কারের উপরে উল্টা পড়ে। এই ঘটনায় অটোরিকশা চালক ও অটোরিশার যাত্রী মা এবং ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া মধুখালীর আড়কান্দা নামক স্থানে বাস- অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৩ অ্যাম্বুলেন্স যাত্রী নিহত হয়েছে। উভয় সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ যাত্রী আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর তিনটার দিকে আধা ঘণ্টার ব্যবধানে পৃথক স্থানে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন, অটো রিকশা যাত্রী চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার পলাশ মিয়ার ছেলে শাওন (৭) ও তার স্ত্রী সুমি বেগম (৩২)। চালক অজ্ঞাত।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, একটি অটোরিকশা কানাইপুর থেকে ফরিদপুর শহরে যাওয়ার পথে কানাইপুরের তেতুলতলা পৌছালে বিপরিত দিক থেকে আসা বালু বোঝা ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের উপর উল্টে পড়ে। এসময় একটি প্রাইভেটকারও ট্রাকের নিচে চাপা পরে। এই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত দুই যানবাহনের হতাহত যাত্রীদেরকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক অটো রিকশা যাত্রী মা ও ছেলেকে মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে প্রাইভেট কারের এক যাত্রী ও অটোরিকশার চালক বালুর ট্রাকের নিচে আটকা পড়লে ফায়ার সার্ভিসের ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টায় তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনায় প্রাইভেট কারের চার যাত্রী আহত হয়। ও অটোরিকশায় থাকা পাঁচজনের মধ্যে দুইজন নিহত হয়।
এসময় মহাসড়কের দুই পাশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শ্রীবাস বাড়ৈ, ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছি। দুর্ঘটনায় প্রাইভেট কারের পাশাপাশি একটি অটোরিকসহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনায় হাসপাতালে নেয়ার পরে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়। এছাড়া আরো তিনজন আহত আছে তাদের হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এদিকে ফরিদপুরের মধুখালীতে যাত্রীবাহী বাস ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৪ জন। তাদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের উপজেলার আরকান্দী এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, সাতক্ষীরা থেকে ঢাকা গামী কিং ফিসার নামের যাত্রীবাহি বাসটি আড়কান্দি নামক স্থানে পৌঁছালে ফরিদপুর থেকে মাগুরাগামী অ্যাম্বুলেন্সটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই অ্যাম্বুলেন্সে থাকা তিন জন নিহত হয়। আহত হয় আরো ৪ জন।
আহতদের উদ্ধার করে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শামিম রেজা জানান, মাগুরা জেলা থেকে সকালে ফরিদপুরে একটি কর্মশালায় যোগ দিতে আসে ৭ শিক্ষার্থী। কর্মশালা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে বাড়ি ফেরার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ওই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সাথে জড়িত ছিল।
‘দলীয় বা ব্যক্তিগত স্বার্থে কোনোভাবেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সরকার ব্যবহার করবে না বলে জানিয়ে পানিসম্পদমন্ত্রী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, দেশের ও জনগণের স্বার্থে এ বাহিনীকে কাজে লাগাতে হবে। নির্বাচিত সরকারের জন্য এটি একটি বড় দায়িত্ব। কারণ জনগণের কাছে সরকারের জবাবদিহিতা রয়েছে।’
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর টাউন হল মিলনায়তনে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শহীদউদ্দীন এ্যানি বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর পুলিশ বিভাগ যেভাবে পরিচালিত হয়েছে, সেভাবেই চলেছে। এখন নির্বাচিত সরকার জনগণের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিচালনা করবে। কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে এ বাহিনীকে ব্যবহার করা যাবে না। জনগণের প্রতি সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘সেই সরকারের কোনও জবাবদিহিতা ছিল না। যখন যা ইচ্ছা, যেটা প্রয়োজন মনে হয়েছে, সেটাই করেছে। এতে স্বর্ণ ও অন্য ব্যবসায়ী কিংবা সাধারণ মানুষ কেউই প্রকৃতভাবে উপকৃত হয়নি। এ কারণে ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠায় আন্দোলন করতে হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি যত শক্তিশালী হবে, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ব্যবসায়ীদের অবস্থান তত বেশি সুদৃঢ় হবে। শুধু সরকার দেশপ্রেমিক হলে চলবে না, দেশের সবাইকে দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল হতে হবে। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।’
ব্যবসা-বাণিজ্যের উন্নয়নে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘দেশের প্রতিটি ব্যবসা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর নির্ভরশীল। তাই ব্যবসার পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার বিষয়ে সবাইকে সতর্ক ও দায়িত্বশীল হতে হবে।’
বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডেন্ট এনামুল হক খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সঞ্চালনা করেন- বাজুস লক্ষ্মীপুর জেলা কমিটির চেয়ারম্যান সমীর কর্মকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- বাজুসের স্ট্যান্ডিং কমিটি অন ডিস্ট্রিক্ট মনিটরিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট আজাদ আহমেদ, বাজুস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, বাজুসের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন এবং বাজুস নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মানিক।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথ, সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহাসহ বাজুসের নেতারা।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুল ইসলাম (৪৮) নামের এক বিএনপি নেতা ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও এক এসআই ও গাড়িচালক কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়িটি পালিয়ে যায়। গাড়িটি শনাক্ত বা এর চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে শ্রমিক কলেজসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রফিক মোল্লা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তুমলিয়ার মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে। আহতরা হলেন এসআই জাবেদ ওমর ও পুলিশের গাড়িচালক কনস্টেবল মো. রাব্বি।
জানা যায়, তুমলিয়া এলাকার ওহিদ মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। তাকে আটক করে থানায় ফেরার পথে শ্রমিক কলেজসংলগ্ন সড়কে পৌঁছায় দলটি। সেখানে অবস্থানরত স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার সঙ্গে এসআই মিজানুর রহমানসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা কথা বলছিলেন।
এ সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন পুলিশের তিন সদস্যের মধ্যে দুজন এসআই মিজানুর রহমান ও এসআই জাবেদ ওমর এবং গাড়িচালক কনস্টেবল রাব্বি। তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমান মারা যান।
এদিকে, পুলিশের হাতে আটক হওয়া ওহিদ মোল্লা দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। আহত অপর দুইজনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করা বা এর সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
সমাজে ফাঁকি দেওয়া ও দুর্নীতির যে প্রবণতা তৈরি হয়েছে, তা থেকে জাতিকে মুক্ত করতে শিক্ষকদেরই প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। আগামী প্রজন্মকে সঠিকভাবে শিক্ষিত করার দায়িত্ব শিক্ষকদের নিতে হবে বলে জানিয়েছেন এমপি মিলন। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে মোহনপুরের লালইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শতবার্ষিকী উদযাপন-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পবা-মোহনপুরের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন এসব কথা বলেন।
বর্তমান সরকারের শিক্ষা কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে এমপি মিলন বলেন, সরকার একটি চাহিদা ও জ্ঞানভিত্তিক কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করেছে। শিক্ষার্থীদের বহুমুখী শিক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি নিজস্ব ধর্মের চর্চাও জরুরি। ধর্মীয় অনুশাসন ছাড়া কোনো শিশু ভালোভাবে বেড়ে উঠতে পারে না, তাই মুসলমানদের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মের শিশুরাও যেন নিজ নিজ ধর্ম পালন করতে পারে সেই ব্যবস্থা থাকতে হবে। এছাড়া শিশুদের মেধা বিকাশে খেলাধুলা, গান-বাজনা ও কবিতা আবৃত্তির সুযোগ সৃষ্টির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে এমপি বলেন, আমাদের দেশ ভৌগলিকভাবে সমৃদ্ধ এবং এর মাটিকে 'সোনা' বলা হলেও ঔপনিবেশিক শক্তিগুলো এই সম্পদকে লুট করে নিজেদের কাজে ব্যবহার করেছে। এই অবস্থা থেকে দেশকে সত্যিকারের ‘সোনার বাংলা’য় রূপান্তর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও আগত অতিথিদের হাতে ক্রেস তুলে দিয়ে সম্মানিত করা হয়। অনুষ্ঠানের জুম্মার নামাজ শেষে মধ্যাহ্নভোজ পর অনুষ্ঠিত হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
লালইচ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ আয়োজিত এবং শতবর্ষিকী উদযাপন কার্যনির্বাহী কমিটির আহ্বায়ক খলিলুর রহমান শেখের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য অধ্যাপক আব্দুস সামাদ, কেশরহাট পৌর বিএনপির সভাপতি আলাউদ্দিন আলো, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান, মোহনপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কাজিম উদ্দিন সরকার ও আব্দুল কাদের মোল্লা, মোহনপুর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি গোলাম মোস্তফা বাবলু, মোহনপুর থানা অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান।
জুলাই-আগস্টের শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিরোধী দলের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা উপস্থিত না হয়ে খোড়া যুক্তি দাঁড় করিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, যারা জুলাই-আগস্ট নিয়ে সারাদিন রাজনীতি করেন ও চিৎকার করেন, তারা দাওয়াত পাওয়া সত্ত্বেও উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত না হয়ে ধোঁকাবাজির পরিচয় দিয়েছেন।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকালে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৯ অক্টোবর ওসমানী উদ্যানে সরকারের পক্ষ থেকে নির্মিত জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে ওই অনুষ্ঠানে সকল সমমনা, সহযোগী ও জোটের রাজনৈতিক দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে দাওয়াত দেওয়া হয়েছিল। শুধু দাওয়াত কার্ড পাঠানোই নয়, সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মোহাঃ আবদুস সালাম টেলিফোনেও সবাইকে আমন্ত্রণ নিশ্চিত করেছিলেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি আরও বলেন, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শহীদ মীর মুগ্ধ, আবু সাঈদ ও আনাসের বাবা এবং এক শহীদের মাকে সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভ ও দীর্ঘ ১০ বছর পর আধুনিকায়িত ওসমানী উদ্যান উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। অথচ জুলাই নিয়ে যারা সারাদিন কথা বলেন, সেই সমস্ত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্তরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হননি। বাংলাদেশের এই একমাত্র শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে গ্যাজেটভুক্ত ৮৩৪ জন শহীদের নাম লেখা রয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের বক্তব্য প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, দাওয়াত কার্ডে বিরোধী দলীয় নেতার নাম না থাকায় তারা যাননি বলে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানে প্রবীণ রাজনীতিবিদ মাহমুদুর রহমান মান্না, জাতীয় নেতা সাইফুল হক এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদের নাম দাওয়াত কার্ডে না থাকলেও প্রধানমন্ত্রী তাদের মঞ্চে ডেকে নেন। দাওয়াত গ্রহণ করে বিরোধী দল উপস্থিত হলে প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতিনিধিকেও মঞ্চে ডেকে নিতেন বলে মন্তব্য করেন প্রতিমন্ত্রী। বিশেষ কোনো ধর্ম বা গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের সময় মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখিয়ে ভোট নিয়ে জামায়াতে ইসলামী সস্তা রাজনীতি করছে। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেলের একটি বক্তব্যের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের ইতিহাসে এই প্রথম বিরোধী দল চকলেট পাচ্ছে। অথচ আমরা অতীতে বসার জায়গাও পাইনি। আপনারা বর্তমানে সব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন। ভোটের আগে আপনারা মানুষকে বেহেশতের লোভ দেখান, আবার পূজায় ঢাকের তালে নাচেন; অথচ ভোটের পর এবার কোনো পূজায় আপনাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলোর বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তারা এখন এক দফার নামে দেশজুড়ে নানা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। বিশেষ কোনো ধর্ম বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে পুঁজি করে যারা রাজনীতি করে, তাদের পরিণতি ও ফলাফল দেশের মানুষ অতীতেও দেখেছে। বিএনপির রাজনৈতিক আদর্শের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি কোনো বিশেষ ধর্মীয় বা নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে পুঁজি করে রাজনীতি করে না। এখানে সবাই বাংলাদেশী এবং দেশের সব মানুষের হৃদয় জয় করেই বিএনপি আবারও জনগণের দ্বারে ফিরে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিরোধী দলকে একতরফা আন্দোলন বা লং মার্চ বাদ দিয়ে সংসদে আসার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারের ভুল ধরিয়ে দেওয়া বা বারবার ওয়াকআউট করাও গণতন্ত্রের সৌন্দর্য, বিরোধী দলের সে অধিকার রয়েছে এবং ওয়াকআউট শেষে তারা আবার ফিরে আসেন। প্রতিমন্ত্রী বাকস্বাধীনতার নামে অশালীন ভাষা প্রয়োগ না করার অনুরোধ জানিয়ে সতর্ক করে বলেন, এরপরেও যদি অশালীন ভাষা ব্যবহার করা হয়, তবে জাতীয়তাবাদী শক্তি তা মেনে নেবে না। একই সঙ্গে দলের ভেতরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, গুপ্ত বিএনপির মধ্যেও রয়েছে। আমাদের দলে কারা এসব করছে, তাদের চিহ্নিত করতে কাজ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের জন্য সংবিধান সংশোধন কমিটিতে বিরোধী দলের জন্য ৫টি সদস্য পদ শূন্য রাখা হয়েছে। সংঘাতের পথ ছেড়ে কমিটিতে সম্পৃক্ত হয়ে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অংশ নিতে এবং দ্রুত পাঁচজন প্রতিনিধির নাম দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে তিনি বিরোধী দলের প্রতি আহ্বান জানান। প্রেস ব্রিফিং শেষে প্রতিমন্ত্রী সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত কিচক হরিপুর গ্রামের ফিরোজার পরিবারকে ৫ লাখ টাকা প্রদান করেন।
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনুকে দেখতে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে গেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস।
শুক্রবার (২২ অক্টোবর) বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূমিমন্ত্রীর পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন মির্জা আব্বাস এবং চিকিৎসকের কাছ থেকে তাঁর শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানান।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বুধবার হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন।
পরে বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে রামেক হাসপাতাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে বিমানে ঢাকায় আনা হয়।