মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
৪ কার্তিক ১৪৩৩

রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি: ৪ মরদেহ উদ্ধার

বিজিবি সদস্যসহ নিখোঁজ অনেকে
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২ মার্চ, ২০২৫ ২০:৫৪

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রে রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাডুবিতে নারীসহ চার রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্যসহ আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ বিজিবি সদস্য শাহপরীর দ্বীপ বিওপির অধীনে কর্মরত বিল্লাল হোসেন (সিপাহি)।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম উপকূল এলাকা থেকে ভেসে আসা রোহিঙ্গাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটায় টেকনাফে নৌকাডুবির ঘটনায় নারী, পুরুষ, শিশুসহ ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে বিজিবি।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাডুবির ঘটনায় চার রোহিঙ্গার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিজিবির সদস্যসহ আরও বেশকিছু রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, 'সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম পাড়ায় রোহিঙ্গাদের একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকার তলা ফেটে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।'

স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাবোঝাই একটি নৌকা টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া এলাকায় সাগরে ভাসতে দেখে বিজিবির সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের মালিকানাধীন মাছ ধরার নৌকায় শাকের মাঝির নেতৃত্বে মাঝিমাল্লারা রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাটি থামানোর সংকেত দেন সমুদ্রে। পরে ওই নৌকাতে ওঠেন বিজিবি সদস্য। এ সময় উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তাদের চিৎকারে নারী-শিশুসহ ২৫ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও বিজিবি।


নির্বাচিত

কমছে না কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য, অপরাধ ঠেকাতে সারাদেশে হচ্ছে কমিটি

* নেতৃত্বে থাকছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসি
প্রতীকী ছবি। কিশোর গ্যাং
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মারামারি ও হত্যাকাণ্ডসহ নানা অপরাধে কিশোরদের জড়িয়ে পড়া ঠেকাতে দেশজুড়ে অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত দেড় মাসে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে দেড় হাজারের বেশি কিশোর গ্রেপ্তারের তথ্য এসেছে বিভিন্ন সূত্রে। এরপরও পাড়া-মহল্লায় তাদের দৌরাত্ম্য নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি। এ পরিস্থিতিতে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা প্রতিরোধে দেশের সব উপজেলায় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) সভাপতি এবং সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সদস্য-সচিব করে এসব কমিটি গঠন করা হবে। তবে কমিটির সদস্যসংখ্যা, কার্যপরিধি ও কাজ শুরুর সময়সীমা সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

অভিযানের পরও উদ্বেগ: সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কুমিল্লা, চাঁদপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান চালানো হয়েছে। কুমিল্লায় কয়েক দফার অভিযানে দুই হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব অভিযানে আটক ব্যক্তিদের সবাই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য নন; বিভিন্ন অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিরাও রয়েছেন। তাই গ্রেপ্তারের সামগ্রিক সংখ্যাকে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যসংখ্যা হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।

অভিযানের পরও অপরাধের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি কারণ শিশু উন্নয়নকেন্দ্রগুলোর ওপর বাড়তি চাপ। সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গাজীপুরের টঙ্গীতে ছেলেদের শিশু উন্নয়নকেন্দ্রে ৩০০ আসনের বিপরীতে ৬৯৩ জন এবং যশোরের পুলেরহাট কেন্দ্রে ১৫০ আসনের বিপরীতে ৩০৩ জন অবস্থান করছে। এসব কেন্দ্রে কিশোরদের পরিচর্যা, কাউন্সেলিং, শিক্ষা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা তাই গুরুত্বপূর্ণ।

মূল পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা জরুরি: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক মনে করেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে শুধু কিশোরদের গ্রেপ্তার করলে সমস্যার শিকড় দূর হবে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, কোনো কোনো এলাকায় রাজনৈতিকভাবে পরিচিত ব্যক্তিদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে গ্যাং গড়ে ওঠে। এসব দলের পেছনে থাকা প্রভাবশালী ব্যক্তি ও পৃষ্ঠপোষকদের আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দারিদ্র্য, শিক্ষার ঘাটতি, বেকারত্ব, মাদকের বিস্তার এবং সামাজিক নিরাপত্তার অভাব কিশোরদের অপরাধী চক্রের দিকে ঠেলে দিতে পারে। দলবদ্ধ পরিচিতি, প্রভাব দেখানোর আকাঙ্ক্ষা এবং তথাকথিত ‘বড় ভাইদের’ আশ্রয়ও তাদের আকৃষ্ট করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষমতা প্রদর্শনের প্রবণতা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই অপরাধে জড়িত কিশোরদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তাদের অপরাধে ব্যবহার করা প্রাপ্তবয়স্কদের শনাক্ত করা জরুরি। একই সঙ্গে কিশোরদের শিক্ষায় ফিরিয়ে আনা, পরিবারভিত্তিক তদারকি, কাউন্সেলিং ও দক্ষতা উন্নয়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক মুহাম্মদ নুরুল হুদার মতে, কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে শুধু পুলিশের ওপর নির্ভর করলে চলবে না; প্রয়োজন সমন্বিত সামাজিক উদ্যোগ। এই দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী, কমিটিতে প্রশাসন ও পুলিশের পাশাপাশি সমাজসেবা বিভাগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, অভিভাবক এবং স্থানীয় সামাজিক সংগঠনগুলোর কার্যকর অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সব মিলিয়ে, সরকারের নতুন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে। তবে কমিটি গঠনই চূড়ান্ত সমাধান নয়। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা, পৃষ্ঠপোষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং কিশোরদের স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি করা গেলে এ উদ্যোগের সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়বে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর পূজার উপহার নিয়ে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পাশে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​নিজস্ব প্রতিবেদক

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা উপহার ও আর্থিক অনুদান পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দয়াগঞ্জে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এসব উপহার তুলে দেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম।

​অনুষ্ঠানে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের ৬৮০টি পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার এবং একই সাথে দুটি সম্প্রদায়ের পূজা উদযাপন কমিটিকে বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

​প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘ওসমানী উদ্যানে ‘‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানকালে দুর্গাপূজার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী ও ডিএসসিসি প্রশাসককে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পূজার আনন্দ ভাগাভাগি করার নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা তড়িৎ দয়াগঞ্জের পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিবাসে উপস্থিত হয়েছি।’

​প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের মানুষের প্রধান পরিচয় তারা বাংলাদেশি। পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে তাদের অন্য কোনো পরিচয়ে সামাজিকভাবে বা সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বঞ্চিত করা যাবে না। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী কোনো জাতিগত বা সামাজিক বিভেদে বিশ্বাস করেন না; শহীদ প্রেসিডেন্টের ‘‘সকল নাগরিকের সমান অধিকার’’ আদর্শেই বর্তমান সরকার বিশ্বাসী। অতীতে কোনো মন্ত্রী পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিবাসে এসে সরাসরি কথা বলেননি, যা বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করছে।’

​বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের যোগ্যতা সম্পন্ন ও সক্ষম বেকারদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিয়োগের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ডিএসসিসি কর্তৃক প্রস্তাবিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য ১৭টি আবাসিক ভবন নির্মাণের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এনে দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন। সরকার ও সিটি করপোরেশন পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সামাজিক সুবিধা ও উৎসবের সুযোগ সুনিশ্চিত করে তাদের সাথে একটি আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে তিনি ঢাকাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে কর্মীদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

​সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আবাসন সমস্যা সমাধানে স্থায়ী ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একটি স্থানে ২টি এবং অপর স্থানে ১৭টি ভবন নির্মাণের প্রস্তাবনা রয়েছে, যা বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। বর্তমান আবাসনটির জরাজীর্ণ অবস্থা দূর করতে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।’

​ডিএসসিসি প্রশাসক আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য বিমা এবং কর্মকালীন সময়ে দুর্ঘটনাবশত কোনো কর্মী নিহত হলে তার পরিবারকে এককালীন ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের দীর্ঘদিনের পানির সমস্যা সমাধান এবং একটি মন্দির নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

​অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা, সাবেক কাউন্সিলর হাজী মকবুল ইসলাম খান টিপুসহ তেলেগু ও কানপুরী সম্প্রদায়ের নেতারা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কক্সবাজারে ঝুঁকিপূর্ণ ৮০ রিসোর্ট, ২০টি সংকটাপন্ন এলাকায়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজার শহর থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের হিমছড়ি এলাকা। সড়ক ঘেঁষে বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি হচ্ছে ‘সি ফুড ক্যাফে অ্যান্ড রিসোর্ট’। এক মাস আগে দোতলা ক্যাফের নির্মাণ শেষ হয়। এখন রিসোর্ট তৈরির কাজ চলছে।

সি ফুড ক্যাফের পাশে নির্মাণ করা হয়েছে ‘বিচ আনাইয়া ফুড জাংশন অ্যান্ড রিসোর্ট’। এ রিসোর্টের কাঠামোর কিছু অংশে ইটের দেওয়াল। বাকি পুরো অংশ বাঁশ-কাঠ দিয়ে তৈরি।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ২টা থেকে বেলা সাড়ে ৩টা পর্যন্ত কলাতলী থেকে টেকনাফের জিরো পয়েন্ট পর্যন্ত মেরিন ড্রাইভ সড়কের দুই পাশে সি ফুড ক্যাফে ও বিচ আনাইয়ার মতো ৮০টি রিসোর্ট চোখে পড়েছে।

গত শনিবার ইনানীর পাটুয়ারটেকের টুপটুপ নামে এমনই এক রিসোর্টে ভয়াবহ আগুনে ১০ পর্যটকের মৃত্যু হয়। অনুমতি না থাকায় এই রিসোর্টকে পরিবেশ অধিদপ্তর গত ১৩ মে জরিমানা করেছিল। তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

পুলিশ জানায়, পুরো কক্সবাজার জেলার ৫ শতাধিক হোটেল-মোটেল, কটেজ, রিসোর্ট ও রেস্তোরাঁ আছে। এর মধ্যে ১২০টির মতো সব ধরনের নিয়ম মেনে চলছে। বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সব সংস্থার ছাড়পত্র নেই।

স্থানীভাবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেরিন ড্রাইভের ৮০ রিসোর্টের বেশির ভাগই গড়ে উঠেছে ১ থেকে ৩ বছরের মধ্যে। এখনো কোনো কোনোটির নির্মাণকাজ চলছে। এসব রিসোর্টের বেশির ভাগেরই কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কউক), পরিবেশ অধিদপ্তর এবং ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র নেই। এগুলোতে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম চোখে পড়েনি। এ ছাড়া অন্তত ২০টি রিসোর্ট নির্মাণ করা হয়েছে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকায় (ইসিএ)।

হিমছড়ির সি ফুড ক্যাফের বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, কোনো রকম সরকারি অনুমতি ছাড়াই বাবুল নামে এক ব্যক্তি রিসোর্টটি নির্মাণ করছেন। যোগাযোগ করলে বাবুল বলেন, ‘শিগগিরই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুমতির জন্য আবেদন করব।’

স্থানীয়দের অভিযোগ, মেরিন ড্রাইভে প্রশাসনের নাকের ডগায় একের পর এক অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। কেউ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে রিসোর্ট করেছে। কেউ টাকা লেনদেন বা সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে হাত করে এসব স্থাপনা গড়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, বিচ আনাইয়াসহ কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে অবৈধভাবে গড়ে তোলা ৩৬ রিসোর্টকে গত ৯ মাসে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২২ রিসোর্টের প্রতিটিকে বিভিন্ন সময়ে সাড়ে সাত লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা করা হয়েছে। পেভেল স্টোন সি রিসোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

জরিমানা করা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো– সি সল্ট ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সানসেট বিচ ক্যাফে, টুপটুপ রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড ক্যাফে, সি স্টোন ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সি ফিশ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, কোরাল স্টেশন ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, বিচ আনাইয়া ফুড জংশন অ্যান্ড রিসোর্ট, রিয়ান ফুড রেস্তোরাঁ, সাওয়ারূ ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, ক্যাপ্টেন কক্স বিচ ক্যাফে, বিচ সালসা রেস্টুরেন্ট, সাম্পান বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, নিসর্গ হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট, জাহাজপুরা ক্যাসেল, বিচ ভিউ রেস্টুরেন্ট, সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা, জিডি সমুদ্র বিলাস, মায়াবী বিচ রিসোর্ট, টাইটান হোটেল, হোটেল জানা ডাডা, হোটেল সুইট সাদাফ।

নোটিশ পাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো হলো বে হিল গোল্ড স্যান্ডস গ্রুপ, বে ফ্রুট রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, সাম্পান রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট, মারমেইড ক্যাফে, আরনিক রিসোর্ট, ছুটি রিসোর্ট, হোটেল ইনানী লং বে, ওশান পাল হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এবং ফিরোজ আহমদ, মোজাম্মেল হক, কাশেম আলী ও শহীদুল হকের মালিকানাধীন নামবিহীন চারটি নির্মাণাধীন ভবন।

পরিবেশ অধিদপ্তর কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক খন্দকার মাহমুদ পাশা বলেন, ‘কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে শুধু টুপটুপ রিসোর্টই নয়; পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া নির্মিত কিংবা নির্মাণাধীন সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছি।’ তিনি বলেন, ‘অবৈধভাবে গড়ে তোলা ৩৬ রিসোর্টকে নোটিশ দেওয়া হয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে। ২২টিকে জরিমানা করা হয়েছে। পেভেল স্টোন সি রিসোর্ট নামে একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উখিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজারে রিসোর্ট নির্মাণে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ১৭টি লাইসেন্স নিতে হয়। এর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা বা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, ভূমি অফিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা প্রশাসন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, সিভিল এভিয়েশনের ছাড়পত্র। কিন্তু কক্সবাজার মেরিন ড্রাইভ সড়কে নির্মিত অধিকাংশ হোটেল-রিসোর্টের সরকারি দপ্তরের অনুমতি কিংবা ছাড়পত্র নেই।

কক্সবাজার কলাতলী মেরিন ড্রাইভ হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে বর্তমানে শতাধিক হোটেল-রিসোর্ট আছে। কিন্তু আমাদের সংগঠনের সদস্যভুক্ত হোটেল রয়েছে ৪০ থেকে ৪৫টি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি, সংগঠনের সদস্যভুক্ত হোটেলগুলো যেন সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমতি নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে। তবে শনিবার ইনানীর পাটুয়ারটেক এলাকায় টুপটুপ নামে যে রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে, সেটি আমাদের সংগঠনের সদস্যভুক্ত নয়।’

কক্সবাজারের ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কক্সবাজারে চল্লিশটির মতো প্রতিষ্ঠানে ফায়ার সার্ভিসের সব ধরনের নিয়ম মেনে কার্যক্রম চলছে। বাকি হোটেল-মোটেল সব ঝুঁকিপূর্ণ, অতি ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় আছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ফায়ার সার্ভিস কোনো প্রতিষ্ঠানকে শুধু নোটিশ দিয়ে সতর্ক করতে পারে। অভিযান বা জরিমানা করার এখতিয়ার নেই। গত জুলাই মাসে টুপটুপ রিসোর্টকে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।’

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, ‘মেরিন ড্রাইভ সড়কে তারকা মানের কয়েকটি আবাসিক হোটেলের ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র রয়েছে। তবে নামে-বেনামে গড়ে ওঠা অধিকাংশ রিসোর্টের ছাড়পত্র নেই। তবে কয়টি রিসোর্টের ছাড়পত্র নেই– এ মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে বলা যাচ্ছে না।’


নির্বাচিত

সৌদিতে নজরুলের মৃত্যুদণ্ড, শোকে স্তব্ধ পরিবার; খবর শুনে ফুফুর মৃত্যু

সৌদি আরবের মক্কায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

সৌদি আরবের মক্কায় প্রবাসী বাংলাদেশি যুবক নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরামপুর গ্রামের একটি বাড়িতে চলছে মাতম। পরিবারের অভিযোগ, তাদের না জানিয়েই গত বুধবার নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। তিন বছর তিন মাস কারাগারে থাকলেও কী কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা নেই পরিবারের সদস্যদের। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর শুনে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন নজরুলের ফুফু আবেদা বেগম।

নজরুল ইসলাম (২৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিরামপুর গ্রামের আব্দুল বাছিরের বড় ছেলে। চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় নজরুলকে হারিয়ে দিশেহারা পরিবারটি। একদিকে ছেলেকে হারানোর শোক, অন্যদিকে ঋণের বোঝা—সব মিলিয়ে অসহায় হয়ে পড়েছেন তার মা-বাবা।

পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে ২০২২ সালের ১০ নভেম্বর সৌদি আরবে পাড়ি জমান নজরুল। সেখানে যাওয়ার প্রায় ছয় মাস পর মক্কা নগরীর একটি মসজিদে সুইটি আক্তার নামে এক তরুণীর সঙ্গে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করে সৌদি পুলিশ। এরপর থেকে কারাগারে ছিলেন নজরুল।

নজরুলের পরিবারের দাবি, কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রতি রোববার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলতেন তিনি। তবে তার বিরুদ্ধে মামলার বিস্তারিত তথ্য কিংবা বিচারপ্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিবারকে জানানো হয়নি। গত বুধবার গণমাধ্যমের খবর থেকে তারা নজরুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি জানতে পারেন। পরিবারের অভিযোগ, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগও পাননি নজরুল।

নজরুলের মা রহিমা বেগম ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, নজরুলের মৃত্যুর খবরে শোকে ভেঙে পড়েন তার ফুফু আবেদা বেগম। গত বুধবার রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তার মৃত্যু হয়।

নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির বলেন, ‘আমার ছেলে কী কারণে জেলে ছিল, তা এখনো জানি না। হঠাৎ ফেসবুকে তার মৃত্যুর খবর দেখতে পাই। ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে সাত লাখ টাকা ঋণ করেছিলাম। যাওয়ার ছয় মাস পর থেকেই সে জেলে ছিল। এর মধ্যে দেড় লাখ টাকা পাঠিয়েছিল। এখন ঋণদাতারাও চাপ দিচ্ছেন।’

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘আমি আমার ছেলের মরদেহ দেশের মাটিতে ফিরে পেতে চাই। আমার ছেলে যদি বিনা কারণে মৃত্যুদণ্ড পেয়ে থাকে, তাহলে এর বিচার চাই।’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, ‘প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরিবারের পক্ষ থেকেও কোনো আবেদন করা হয়নি। মরদেহ দেশে এলে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাসিন্দা হওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী সহায়তা করা হবে।’


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত রাজশাহী: ভূমিমন্ত্রী মিনু

রাজশাহীতে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজশাহী ব্যুরো

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজশাহী আসছেন। তার আগমন ঘিরে রাজশাহীতে চলছে শেষ সময়ের প্রস্তুতি। রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভায় যোগ দেওয়ার পাশাপাশি শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন তিনি। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সর্বশেষ প্রস্তুতি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, এমপি।

মন্ত্রী বলেন, ‘অল্প সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি নিতে হলেও রাজশাহীর মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও আবেগ কাজ করছে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এটিই প্রথম রাজশাহী সফর। তার আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এ সফরে উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আখচাষিদের জন্য প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বার্তা দেবেন।’

প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকে তাৎপর্যপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সন্তান হিসেবে তারেক রহমানের এ আগমন রাজশাহীর মানুষের কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।’ দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের মধ্যদিয়ে তারেক রহমান দেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। এ সফরে রাজশাহীর দীর্ঘদিনের বিভিন্ন দাবি ও প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরা হবে।

রাজশাহীবাসির দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বীজ সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, রাজশাহী বিমানবন্দরকে পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উন্নীত করা, কৃষিভিত্তিক রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) স্থাপন, রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করা এবং পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা। পাশাপাশি রাজশাহী নগরীকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘শিক্ষা নগরী’ ঘোষণা করা। শিল্পমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাদের উপস্থিতিতে রাজশাহীর উন্নয়নসংক্রান্ত এসব দাবি উত্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে নেতাদের পক্ষ থেকে।


নির্বাচিত

পাবনায় ১১ থানায় যানবাহনের স্তূপ, নষ্ট হচ্ছে কোটি টাকার সম্পদ

* ২০ হাজারের বেশি যানবাহন পড়ে আছে বছরের পর বছর * মামলা নিষ্পত্তি ও নিলামে ধীরগতি
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ১১টি থানার চত্বরে বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে ২০ হাজারের বেশি জব্দ করা যানবাহন। রোদ-বৃষ্টি ও ধুলাবালুর মধ্যে অযত্নে পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও অটোরিকশার মতো মূল্যবান সম্পদ। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় এসব যানবাহনের মূল্যও কমছে। অন্যদিকে, মামলা নিষ্পত্তি ও নিলাম প্রক্রিয়ায় ধীরগতির কারণে একদিকে থানার জায়গা আটকে থাকছে, অন্যদিকে সরকারও হারাচ্ছে সম্ভাব্য রাজস্ব।

সরেজমিনে পাবনা সদর থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানা চত্বরে সারি সারি যানবাহন পড়ে রয়েছে। দেখে মনে হয়, এটি যেন পরিত্যক্ত যানবাহনের ভাগাড়। একই চিত্র জেলার ঈশ্বরদী, সুজানগর, বেড়া, আমিনপুর, সাঁথিয়া, আতাইকুলা, আটঘরিয়া, চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর থানায়ও। বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা এসব যানবাহনের অনেকগুলো দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে রয়েছে।

পাবনা কোর্ট পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার ১১টি থানায় মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা ২০ হাজারের বেশি যানবাহন রয়েছে। মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধের মামলায় জব্দ করা যানবাহনের পাশাপাশি এসবের মধ্যে রয়েছে চোরাই ও কাগজপত্রবিহীন যানবাহন।

পাবনা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক সেলিম রেজা বলেন, মামলা নিষ্পত্তিতে দীর্ঘ সময় লাগায় জব্দ করা যানবাহনগুলো নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি এসব যানবাহন রাখার জন্য পর্যাপ্ত সুরক্ষিত জায়গাও নেই। ফলে থানাগুলোকে খোলা আকাশের নিচে যানবাহন রাখতে হচ্ছে।

আইনি জটিলতার কারণে অনেক যানবাহনের মালিকও সেগুলো ফেরত নিতে পারছেন না। আবার মামলা নিষ্পত্তির পরও প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করতে দেরি হলে যানবাহনগুলো পড়ে থাকছে। এতে যানবাহনের বাজারমূল্য কমার পাশাপাশি থানার গুরুত্বপূর্ণ জায়গাও দখল হয়ে থাকছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় জায়গার সংকট তৈরি হচ্ছে।

দ্রুত নিলামের পরামর্শ আইনজীবীদের: পাবনা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বাবু বলেন, মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি করে আদালতের অনুমোদন সাপেক্ষে যেসব যানবাহন নিলামে বিক্রির উপযোগী, সেগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। এতে সম্পদের অপচয় কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব বাড়বে।

পাবনা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট গোলাম সরওয়ার খান জুয়েল বলেন, জব্দ করা যানবাহন নিয়ে থানা প্রশাসন ও বিচার বিভাগকে জটিল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। মামলা-সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তি না হওয়ায় যানবাহনগুলো পড়ে থাকছে। এর মধ্যে অনেক মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। নিষ্পত্তি হওয়া মামলার যানবাহন আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিলামে বিক্রি করা গেলে ধীরে ধীরে এ জট কমানো সম্ভব। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করলে দ্রুত সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে।

সব থানাকে নির্দেশ পুলিশের: পাবনার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ বলেন, জেলার ১১টি থানাই তিনি পরিদর্শন করেছেন। প্রতিটি থানায় বিভিন্ন মামলার আলামত হিসেবে জব্দ করা মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহন রয়েছে। এসব যানবাহন থানা চত্বরে বিশৃঙ্খলভাবে পড়ে থাকায় জায়গার অপচয় হচ্ছে, পাশাপাশি যানবাহনগুলোও নষ্ট হচ্ছে।

তিনি বলেন, যেসব মামলার আলামত আইনগতভাবে নিষ্পত্তি হয়েছে, সেগুলো আদালতের নির্দেশনা ও প্রযোজ্য বিধি অনুসরণ করে নিলামে বিক্রি করা গেলে সরকার রাজস্ব পাবে। একই সঙ্গে থানার জায়গাও অন্য কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে। জব্দ করা যানবাহন নিষ্পত্তির বিষয়ে জেলার সব থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, জব্দ করা যানবাহনের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি, মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নিলাম প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা গেলে সরকারি সম্পদের অপচয় কমবে। একই সঙ্গে থানাগুলোর জায়গার সংকট নিরসন এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা যানবাহনের জট কমানো সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

জীবনসঙ্গী খুঁজতে ২৩ অক্টোবর বসছে দিনাজপুরের ঐতিহ্যবাহী বউমেলা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
এম আর মিজান, দিনাজপুর

জীবনসঙ্গী খোঁজার প্রত্যাশা, ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান আর উৎসবের আমেজে আগামী ২৩ অক্টোবর দিনাজপুরের বীরগঞ্জে বসছে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী বউমেলা। শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এ মেলায় সাঁওতাল সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পছন্দ করার সুযোগ পান। পরে দুই পরিবারের সম্মতিতে নিজস্ব সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিনীতি অনুসরণ করে সম্পন্ন হয় বিয়ে।

স্থানীয়ভাবে বাসিয়া হাটি নামেও পরিচিত এ মেলা সাধারণত শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীর দ্বিতীয় দিন অনুষ্ঠিত হয়। তবে গোলাপগঞ্জ হাটের কারণে এবার একদিন পিছিয়ে ২৩ অক্টোবর মেলার আয়োজন করা হয়েছে। বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত বীরগঞ্জের একটি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে চলবে এ মিলনমেলা। এতে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজারো মানুষের সমাগম হবে বলে আশা করছেন আয়োজকেরা।

জীবনসঙ্গী খোঁজার আয়োজন: বীরগঞ্জ আদিবাসী সমাজ উন্নয়ন সমিতির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ মেলার প্রধান আকর্ষণ সাঁওতাল তরুণ-তরুণীদের জীবনসঙ্গী খোঁজা। তরুণীরা রঙিন পোশাক ও ফুলের সাজে এবং তরুণেরা বাহারি সাজে অভিভাবক ও স্বজনদের সঙ্গে মেলায় আসেন। পরিচিত হওয়া, পারস্পরিক পছন্দ এবং পরিবারের সম্মতির মধ্য দিয়ে নতুন সম্পর্কের সূচনা হয়।

বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মেলায় বাড়তে থাকে মানুষের ভিড়। বিকেল থেকে শুরু হয় মূল আয়োজন। মেলায় অংশ নেওয়া তরুণ-তরুণীদের অনেকের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে। পছন্দের মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আশায় অনেকে সারা বছর এ দিনটির অপেক্ষায় থাকেন। সন্ধ্যার আগে একে অপরকে পছন্দ হলে তারা বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান।

স্থানীয় আদিবাসী হাবিব লাকড়া বলেন, সময়ের সঙ্গে এ মেলার বিয়ের প্রথায় পরিবর্তন এসেছে। আগে সামাজিক বিধিবিধান ছিল কঠোর। এখন তরুণ-তরুণীরা একে অপরকে পছন্দ করলে অভিভাবকদের জানান। দুই পরিবার সম্মত হলে সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করে বিয়ের আয়োজন করা হয়। অর্থাৎ মেলায় পছন্দ হলেই তাৎক্ষণিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয় না; পারিবারিক সম্মতিই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

নাচ-গান, কেনাকাটা ও মিলনমেলা: বউমেলা শুধু জীবনসঙ্গী খোঁজার আয়োজন নয়, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরারও উপলক্ষ। মেলায় চলে ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান। পাশাপাশি বসে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। কাচের চুড়ি, রঙিন ফিতা, লিপস্টিক, কানের দুল, ঝিনুকের মালা, মাটির খেলনা, গৃহস্থালির সরঞ্জাম ও খাবারের দোকান নিয়ে ব্যস্ত থাকেন দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা।

সাঁওতাল সম্প্রদায়ের পাশাপাশি হিন্দু, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের উপস্থিতিতে মেলাটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে দেখা করা, পরিচিতজনদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং নিজস্ব সংস্কৃতির চর্চার সুযোগ পান অনেকে।

আয়োজক সমিতির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্বপুরুষদের হাত ধরে এ মেলার প্রচলন হয়েছে। তবে ঠিক কবে এর সূচনা, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায় না। যুগ যুগ ধরে চলে আসা এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতেই প্রতিবছর মেলার আয়োজন করা হচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজনেরা বছরে অন্তত একবার একত্র হওয়ার সুযোগ পান।

মেলাকে ঘিরে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আয়োজকদের আশা, ঐতিহ্য ও উৎসবের আবহে এবারও সফলভাবে সম্পন্ন হবে বীরগঞ্জের শত বছরের বেশি সময়ের এই বউমেলা।


নির্বাচিত

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে ডাকাত আতঙ্ক, রাতে নিরাপত্তা জোরদারের দাবি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সারোয়ার জাহান জুয়েল, ময়মনসিংহ

ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের মাস্টারবাড়ী থেকে রাজেন্দ্রপুর পর্যন্ত অংশে রাতের বেলায় ডাকাত আতঙ্কে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মহাসড়কের ওই অংশে রাতে চলাচলকারী যাত্রী ও পরিবহন চালকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের টহল বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ততম মহাসড়ক। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে হাজারো যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক ও ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল করে। বিশেষ করে রাতে দূরপাল্লার যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। সম্প্রতি রাতে ওই এলাকায় ডাকাত চক্রের তৎপরতার খবরে যাত্রী ও চালকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করে রাতে নিয়মিত টহল জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন এবং আলোকসজ্জা বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল রাখার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে পরিবহন চালকরা বলেন, রাতে চলাচলের সময় তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। পুলিশের টহল বাড়লে অপরাধ কমবে এবং যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে। নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন যাতায়াত নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে প্রশাসন, এমনটাই প্রত্যাশা সাধারণ মানুষের।


নির্বাচিত

কুষ্টিয়া যুবদলে তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্ব, ঐক্য ও শৃঙ্খলায় জোর

* নবগঠিত কমিটি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনার আহ্বান
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নেতৃবৃন্দ। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের নতুন কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে সংগঠনে তারুণ্যনির্ভর নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা যুবদলের সভাপতি ফুয়াদ রেজা ফাহিম। নতুন কমিটিকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্যের বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি সংগঠনের ঐক্য, শৃঙ্খলা ও ইতিবাচক রাজনৈতিক চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টায় কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন।

ফুয়াদ রেজা ফাহিম বলেন, দীর্ঘদিন পর কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের একটি তারুণ্যনির্ভর ও শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হয়েছে। নতুন নেতৃত্বকে ঘিরে সংগঠনের নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা পূরণ এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।

কমিটি গঠন নিয়ে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম কামরুজ্জামানকে জড়িয়ে বিভিন্ন বক্তব্য প্রচার করা হচ্ছে, যা তার মতে, তথ্যের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়।

ব্যাংককে কেন্দ্রীয় যুবদলের সভাপতি আব্দুল মোনায়েম মুন্নার সঙ্গে তাঁর একটি ছবি নিয়ে আলোচনার বিষয়ে ফাহিম বলেন, চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রয়োজনে তিনি ব্যাংককে গিয়েছিলেন। সেখানে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় সভাপতির সঙ্গে দেখা হলে তাদের ছবি তোলা হয়। চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্রও তার কাছে রয়েছে বলে জানান তিনি। তার দাবি, ওই সাক্ষাতের সঙ্গে অর্থ লেনদেনের কোনো সম্পর্ক নেই।

অভিযোগের বিষয়ে তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে আলোচনা করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক সংগঠনে মতভিন্নতা থাকতেই পারে। তবে সংগঠনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে দায়িত্বশীল বক্তব্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও গঠনমূলক আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন।

নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে ফাহিম বলেন, গত ১৭ বছরে দলের বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে তিনি সক্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও নানা বাধার মধ্যেও দলের সঙ্গে যুক্ত থেকে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ-সংক্রান্ত ছবি ও অন্যান্য প্রমাণ তার কাছে সংরক্ষিত রয়েছে বলেও জানান তিনি।

ছাত্রদলে দায়িত্ব পালন এবং পরবর্তী সময়ে যুবদলে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে ফাহিম বলেন, সাত বছর জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালনের পর পরবর্তী কমিটিতে সিনিয়র সভাপতি নির্বাচিত হন। পরে ওই কমিটি থেকে পদত্যাগ করে জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়ার বিষয়ে প্রচারিত বক্তব্যও তিনি নাকচ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সভাপতি বলেন, নতুন কমিটির মাধ্যমে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করা, তরুণদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে নেতা-কর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ব্যক্তি ও সংগঠন সম্পর্কে বক্তব্য দেওয়ার সময় তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা উচিত। গঠনমূলক সমালোচনা ও দায়িত্বশীল আলোচনার মাধ্যমে সাংগঠনিক পরিবেশ আরও ইতিবাচক করা সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান জনি, সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহসভাপতি জাকারিয়া, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, যুগ্ম সম্পাদক জব্বার মিলন, সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাক্কির রহমান রাব্বি ও দপ্তর সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম অনিক উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কুষ্টিয়ায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সাংবাদিকেরাও উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ইবি চার প্রশাসনিক পদে রদবদল ও নতুন নিয়োগ

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসনের চার পদে নতুন পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত পৃথক চার অফিস আদেশে এই নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইসিটি সেলের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলাম, শিক্ষক ছাত্র সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের (টিএসসিসি) পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর রহমান, প্রেস প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী মোহাম্মদ মাহবুব মুর্শিদ এবং সেন্ট্রাল ল্যাবের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. রুহুল আমিন ভূঁইয়া।

অফিস আদেশে বলা হয়, আইসিটি সেলের পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান আলীর মেয়াদ ২১ অক্টোবরে শেষ হওয়ায় তদ্বস্থলে আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামকে, টিএসসিসির পরিচালক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাকির হোসেনের মেয়াদ ১৮ অক্টোবর শেষ হওয়ায় তদস্থলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. মনজুর রহমানকে, প্রেস প্রশাসক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. এ.কে.এম. মফিজুল ইসলামের মেয়াদ ২০ অক্টোবরে শেষ হবে; তদস্থলে বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. গাজী মো. মাহবুব মোর্শেদকে উপাচার্য নিয়োগদান করেছেন।


নির্বাচিত

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে সাগরের মৃত্যু, ছেলের মরদেহ চান বাবা-মা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা

সংসারের অভাব-অনটন দূর করার স্বপ্ন নিয়ে রাশিয়ায় গিয়েছিলেন কুমিল্লার চান্দিনার তরুণ মো. সাগর আবদুল্লাহ। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। কিন্তু আরও বেশি অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে এক বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে জড়িয়ে পড়েন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে। সেই যুদ্ধেই প্রাণ হারান সাগর। তবে মৃত্যুর চার-পাঁচ মাস পর গত শনিবার সহযোদ্ধার ফোনে ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়েছে তার পরিবার। এখন ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা কামনা করছেন অসুস্থ বাবা-মা।

সাগরের বাড়ি কুমিল্লার চান্দিনা পৌরসভার ছায়কোট এলাকায়। তিন বোন ও দুই ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন তিনি। ছেলেকে ঘিরে পরিবারের স্বপ্ন ছিল, বিদেশে আয় করে সংসারের হাল ধরবেন, অসুস্থ বাবার চিকিৎসা করাবেন এবং মায়ের কষ্টের দিন শেষ করবেন। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন কান্নায় রূপ নিয়েছে।

সরেজমিনে ছায়কোট গ্রামের সাগরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, পুকুরপাড়ে বসে আছেন সন্তান হারানো কবীর হোসেন। কে গেল কে আসল বাড়িতে তার কোনো খেয়াল নেই।

গণমাধ্যমকর্মীর পরিচয় পেয়ে কান্না শুরু করেন। কবীর হোসেন বিড়বিড় করে বলতে থাকেন একসময় রিকশা চালিয়ে সংসার চালাতেন। সড়ক দুর্ঘটনায় অসুস্থ হওয়ার পর আর রিকশা চালাতে পারেন না তিনি। এর মধ্যে তার শরীরে ধরা পড়েছে ক্যান্সার। স্বামীর চিকিৎসা ও সংসারের খরচ জোগাতে তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম স্থানীয় একটি কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন।

পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তন আনতে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ধারদেনা করে প্রায় ৯ লাখ টাকা খরচ করে সাগরকে রাশিয়ায় পাঠান তিনি। সেখানে একটি বেকারিতে কাজ করে মাসে প্রায় ৭০ হাজার টাকা আয় করতেন তিনি। এতে পরিবারের অভাব দূর হওয়ার আশা দেখছিলেন স্বজনরা।

কিন্তু বেকারিতে কাজ করার সময় এক বাংলাদেশি দালালের সঙ্গে পরিচয় হয় সাগরের। ওই দালাল তাকে রুশ সেনাবাহিনীতে চাকরির প্রলোভন দেখান। পরিবারের নিষেধ উপেক্ষা করে চলতি বছরের মে মাসে যুদ্ধে অংশ নিতে যান সাগর। এরপর থেকে পরিবারের সঙ্গে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘ চার-পাঁচ মাস ছেলের কোনো খোঁজ না পেয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় দিন কাটছিল বাবা-মায়ের। অবশেষে গত শনিবার এক সহযোদ্ধা বন্ধুর ফোনে সাগরের মৃত্যুর খবর পান তারা। আকস্মিক এ খবরে ভেঙে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।

সাগরের বোন বলেন, পরিবারের অভাব দূর করতে বিদেশে গিয়েছিলেন তার ভাই। তাকে ঘিরে পরিবারের অনেক স্বপ্ন ছিল। কিন্তু সেই ভাই আর বেঁচে নেই এ কথা মেনে নিতে পারছেন না তারা। শেষবারের মতো ভাইয়ের মরদেহটি দেশে আনতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানান।

সাগরের প্রতিবেশীরাও তার মৃত্যুর খবরে শোক প্রকাশ করেছেন। তাদের দাবি, বিদেশে ভালো কাজের আশায় গিয়ে যেন আর কোনো তরুণ এভাবে প্রতারণার শিকার না হন, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন।

সাগরের বাবা কবীর হোসেন বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশে পাঠাতে অনেক টাকা ধারদেনা করতে হয়েছে।’ তার আশা ছিল, ছেলে আয় করে সংসারের হাল ধরবেন এবং তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। কিন্তু এখন ছেলেকে হারিয়ে তিনি নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। সরকারের কাছে ছেলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

ছেলের মৃত্যুর খবরে কান্না থামছে না মা দেলোয়ারা বেগমের। দিনরাত ছেলের ছবি হাতে নিয়ে অনবরত কেঁদে চলছেন। বারবার মোবাইল ফোনের পর্দায় তাকিয়ে থাকেন যদি ছেলের ফোনকল আসে। যদি ছেলে একবার মা বলে ডাক দেয়।

ছেলে মরে গেছে। ছেলের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।

ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে শোকে ভেঙে পড়েছেন তিনি। যে ছেলেকে ঘিরে সংসারের দুঃখ-কষ্ট দূর হওয়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই ছেলেকে হারিয়ে এখন দিশেহারা তিনি।

এদিকে কীভাবে সাগর রুশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন, কোন বাংলাদেশি দালালের মাধ্যমে যুদ্ধে গিয়েছিলেন এবং তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ রয়েছে কি না এসব বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পায়নি পরিবার।

চান্দিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আশরাফুল হক বলেন, সংবাদমাধ্যমে বিষয়টি জানার পর তিনি এ বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন। মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশ পেলে সব বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে প্রশাসনিকভাবে যতটুকু সহযোগিতা করা যায় সবই করবেন।


নির্বাচিত

চঞ্চল ছিলেন নেতা-কর্মীদের জন্য অনুকরণীয় ছাত্রনেতা: মনি

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৩১
খুলনা ব্যুরো

শহীদ ওয়াহিদুজ্জামান চঞ্চল ’৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের এক অকুতোভয় সিপাহসালার। তিনি ছিলেন মেধাবী এবং দক্ষ সংগঠক। খুলনার ৯ উপজেলা এবং মহানগরীর এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্ত পর্যন্ত ছাত্রদলকে সংগঠিত করতে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য।
গত রোববার খুলনার সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাবেক নেতাদের উদ্যোগে সংগঠনের সাবেক জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি শহীদ ওহিদুজ্জামান চঞ্চলের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান মনি।

তিনি বলেন, ‘শহীদ চঞ্চলের হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত হওয়া প্রয়োজন।’ বর্তমান ছাত্রদল নেতাদের শহীদ ওয়াহিদুজ্জামান চঞ্চলের আদর্শ, সাহসিকতা, রাজনৈতিক কমিটমেন্ট থেকে শিক্ষাগ্রহণ করে আগামী দিনের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি। শেষে দোয়া মাহফিল হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মাওলানা আব্দুল গফ্ফার।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি, সাবেক এমপি ও খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। সাবেক ছাত্রনেতা অধ্যাপক আরিফুজ্জামান অপুর সভাপতিত্বে এবং কামরান হাসানের পরিচালনায় আলোচনা সভা ও দোয়া বক্তব্য দেন অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম, নজরুল ইসলাম বাবু, আসাদুজ্জামান মুরাদ, ইকবাল হোসেন খোকন, মেহেদী হাসান দীপু, আনোয়ার হোসেন, মাহবুব হাসান পিয়ারু, একরামুল হক হেলাল, গিয়াস উদ্দিন বনি প্রমুখ।


নির্বাচিত

ফুলবাড়িয়ায় জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার আসামিদের ২ দিনের রিমান্ড

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাওগাঁও ইউনিয়নের শিবপুর গ্রামে জাল টাকাসহ গ্রেপ্তার ৪ জনকে দুই দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১০ নং আমলী আদালতের বিচারক সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাহমিনা আক্তার তমা রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

গত বৃহস্পতিবার বিকালে ফুলবাড়িয়া থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৬ লাখ ১০ হাজার জাল টাকাসহ বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার আ. রশিদ ফকিরের ছেলে মোস্তফা ফকির (৪৮) রাজা বিশ্বাসের ইসমাইল বিশ্বাস (৪৯) ফুলবাড়িয়া উপজেলার শিবপুর গ্রামের মৃত মেহের আলীর ছেলে গোলাম মোস্তফা (২৮) ও আইয়ুব আলীর ছেলে আবু সাঈদ (২৫)কে গ্রেপ্তার করেন। পরের দিন শুক্রবার গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠিয়ে পাঁচ দিনের রিমান্ড চায় পুলিশ। রোববার রিমান্ড শুনানি শেষে প্রত্যেকের দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

ফুলবাড়িয়া থানার পরিদর্শক তদন্ত ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মশিউর রহমান ৪ আসামির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।


নির্বাচিত

banner close