বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

রোহিঙ্গাবাহী নৌকাডুবি: ৪ মরদেহ উদ্ধার

বিজিবি সদস্যসহ নিখোঁজ অনেকে
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২ মার্চ, ২০২৫ ২০:৫৪

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের সময় কক্সবাজারের টেকনাফে সমুদ্রে রোহিঙ্গাদের বহনকারী নৌকাডুবিতে নারীসহ চার রোহিঙ্গার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় বিজিবির এক সদস্যসহ আরও কয়েকজন রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।

নিখোঁজ বিজিবি সদস্য শাহপরীর দ্বীপ বিওপির অধীনে কর্মরত বিল্লাল হোসেন (সিপাহি)।

শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম উপকূল এলাকা থেকে ভেসে আসা রোহিঙ্গাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে, শুক্রবার দিবাগত রাত আড়াইটায় টেকনাফে নৌকাডুবির ঘটনায় নারী, পুরুষ, শিশুসহ ২৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে বিজিবি।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শেখ এহসান উদ্দিন বলেন, ‘রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাডুবির ঘটনায় চার রোহিঙ্গার মরদেহ ভাসমান অবস্থায় পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় বিজিবির সদস্যসহ আরও বেশকিছু রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের বিষয়ে আমাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।’

টেকনাফ-২ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আশিকুর রহমান বলেন, 'সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টাকালে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপের পশ্চিম পাড়ায় রোহিঙ্গাদের একটি নৌকা ডুবে যায়। নৌকার তলা ফেটে গিয়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।'

স্থানীয়রা জানান, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাবোঝাই একটি নৌকা টেকনাফে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া এলাকায় সাগরে ভাসতে দেখে বিজিবির সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের মালিকানাধীন মাছ ধরার নৌকায় শাকের মাঝির নেতৃত্বে মাঝিমাল্লারা রোহিঙ্গা বহনকারী নৌকাটি থামানোর সংকেত দেন সমুদ্রে। পরে ওই নৌকাতে ওঠেন বিজিবি সদস্য। এ সময় উত্তাল সাগরের ঢেউয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। তাদের চিৎকারে নারী-শিশুসহ ২৫ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেলে ও বিজিবি।


ভাঙ্গায় বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়ির বেড়া ভাঙার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় পরিবার

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বসতবাড়ির বেড়া ভেঙে জায়গা দখলের চেষ্টা এবং পরিবারসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লোকমান হোসেন (৭৫) ভাঙ্গা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, ভাঙ্গা পৌরসভার রায়পাড়া সদরদী গ্রামের লোকমান হোসেনের সঙ্গে একই এলাকার কয়েকজনের জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর আগে সরকারি আমিন দিয়ে জমি পরিমাপ করা হলেও তা সঠিক হয়নি দাবি করে তিনি পুনরায় পরিমাপের দাবি জানান। এরপর থেকেই অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে তার বসতবাড়ির টিনের বেড়া ভাঙচুর, জায়গা দখলের চেষ্টা এবং গাছপালা কাটার উদ্যোগ নেয় বলে অভিযোগ।

ভুক্তভোগীর দাবি, গত ১৬ জুলাই সকালে অভিযুক্তরা বাড়ির সামনে এসে প্রকাশ্যে হুমকি দেয় এবং ভবিষ্যতে জোরপূর্বক সম্পত্তি দখল ও বাধা দিলে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। এতে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

লোকমান হোসেন বলেন, “দেশের জন্য যুদ্ধ করেছি। আজ নিজ বাড়িতেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু বিচার ও পরিবারের নিরাপত্তা চাই।”

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত মমিন কাজী বলেন, বিরোধপূর্ণ জমি একাধিকবার সালিশ ও সরকারি আমিন দিয়ে পরিমাপ করা হয়েছে। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের প্রাপ্য জমির মধ্যে থাকা বেড়া সরানো না হওয়ায় তারা বেড়া ভেঙেছেন। কাউকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন তিনি।

ভাঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


৫ ও ১৫ আগষ্ট ঘিরে নজরদারী বাড়িয়েছে কেএমপি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

আগামী ৫ ও ১৫ আগষ্টে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল সমাবেশ রুখতে সর্তকতা অবলম্বন করেছে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশ। ইতোমধ্যেই ফেসবুকে উসকানি, মিছিল মিটিং, সমাবেশ কিংবা অর্থ জোগান দিয়েছেন-এমন ৬০জন প্রভাবশালী আওয়ামীলীগ ও তার অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি চাঞ্চল্যকর তালিকা তৈরী করেছে গোয়েন্দা সংস্থা। তবে ওই দুই দিবসে ঝটিকা মিছিল হওয়ার আশংকা থাকলেই নগরীতে নাশকতার কোনো আশঙ্কা নেই।

পুলিশের একাধিক সূত্র জানায়, সদ্য তৈরী করা তালিকা মহানগরীর ৮ থানাসহ সকল ফাঁড়ির কাছে দেওয়া হয়েছে। তালিকা অনুযায়ি তাদের গ্রেপ্তারেরও নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সূত্রটি আরো জানায়, বিভাগীয় শহর চট্রগ্রাম ও খুলনা থেকে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নামে ও বেনামে ভুয়া একাউন্টের মাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এতে পুলিশ আরও কঠোর অবস্থানের রয়েছে বলে কেএমপি’র একটি সূত্র জানায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও কর্মকান্ড নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ভারতে চলে যান। ফলে ওইদিন এই দলটি খুলনাসহ সারাদেশে প্রতিবাদ কর্মসূচি দিতে পারে। এছাড়া ১৫ আগষ্ট সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের শাহাদত বার্ষিকী। ফলে নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের জন্য দিবসটি গুরুত্বপূর্ণ।

কেএমপি’র অপরাধ বিভাগের একটি সূত্র জানায়, জুলাই ও আগষ্ট মাস জুড়ে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নিষিদ্ধ সংগঠন নগরীতে যেন কোনো ধরনের তৎপরতা চালাতে না পারে সে জন্য কঠোর অবস্থানে রয়েছে পুলিশ। ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতাদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে।

এ নামের তালিকাগুলো মহানগরীর আটটি থানা ও থানার অধিনে সকল ফাঁড়িতে দেওয়া হয়েছে।

সূত্রটি আরও জানায়, দেশের দুইটি বিভাগীয় শহর থেকে ভুয়া আইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার চলাচ্ছে সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা। তাদেরকে শনাক্ত করা গেছে। তারা উভয় খুলনার প্রোগ্রামগুলো চট্রগ্রাম থেকে এবং চট্রগ্রামেরগুলো খুলনা থেকে প্রচার করছেন। অতিদ্রুত তাদের গ্রেপ্তারের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করবে পুলিশ।

কেএমপি পুলিশ কামিশনার মোহাম্মদ জাহিদুল হাসান বলেন, আগস্টের দুইটি দিবসে পুলিশ সতর্ক এবং ব্যাপক পস্তুতি নিয়েছে। এ দিবসগুলোকে কেন্দ্র করে নগরীতে চেকপোষ্টের সংখ্যা ও পুলিশের ডিউটি বাড়ানো হয়েছে।


হাওরে ঘুরতে এসে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের হাওরে বন্ধু ও সহকর্মীদের সঙ্গে হাওরে ঘুরতে এসে নিখোঁজের একদিন পর এক পর্যটকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল।

বুধবার (২২ জুলাই) বেলা ১২টার দিকে ইটনা উপজেলার বাদলা ইউনিয়নের বর্শিকুড়া-শেরপুর হাওরের বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) বেলা আড়াইটার দিকে নিখোঁজ হন তিনি।

নিহত কাউসার ইসলাম পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার বড়িপাশা গ্রামের আবদুর রব শিকদারের ছেলে। তিনি বে কোম্পানির উত্তরা শোরুমে ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

নিহতের বড় ভাই নজরুল ইসলাম জানান, গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে কাউসারসহ ৫৬ জনের একটি দল ঢাকা থেকে কিশোরগঞ্জের হাওরে ঘুরতে আসেন। তারা গাড়িযোগে ইটনা উপজেলার চৌগাংগা এলাকায় পৌঁছানোর পর নৌকাযোগে বগাডুবি সেতু এলাকায় যান। দুপুর আড়াইটার দিকে সেতু-সংলগ্ন ডুবে যাওয়া সড়কে কয়েকজন গোসল করতে নামেন। এ সময় একজনকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে গিয়ে কাউসার পানিতে তলিয়ে যান। পরে আশপাশে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি। কাউসার ইসলাম সাঁতার জানতেন না বলেও জানান তিনি।

কাউসারের সহকর্মী মিজানুর রহমান জানান, গোসলের সময় তাদের আরেক সহকর্মী সাগর ইসলাম স্রোতে তলিয়ে যাচ্ছিলেন। তাকে উদ্ধারের জন্য কাউসারসহ কয়েকজন এগিয়ে যান। একপর্যায়ে উদ্ধারকারীরাও স্রোতে পড়ে যান। পরে সাগর ইসলামকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলেও কাউসারকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বাদলা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) নঈমুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় ওইদিন অভিযান স্থগিত করা হয়। বুধবার (২২ জুলাই) সকালে আবারও উদ্ধার অভিযান শুরু হলে বেলা ১২টার দিকে বগাডুবি সেতুর নিচ থেকে কাউসার ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি আরও জানান, নিহতের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসেছেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


রাঙামাটিতে উদ্ধার হওয়া ৪৭টি মোবাইল ফোন মালিকদের হস্তান্তর

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিজয় ধর, রাঙামাটি 

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের সফল প্রচেষ্টায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে হারিয়ে যাওয়া ৪৭টি মোবাইল ফোন।

উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রকৃত মালিকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। তিনি বলেন, ‘জনসেবার মান উন্নয়নে এবং অপরাধ দমনে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংকে আরও কার্যকর করতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

পুলিশ সূত্র জানা গেছে, রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হারিয়ে যাওয়া মোবাইল ফোনগুলো তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শনাক্ত ও উদ্ধার করে জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেল।

অনুষ্ঠানে মোবাইল ফোন ফিরে পেয়ে ভুক্তভোগীরা সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং পুলিশ সুপারসহ রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ইকবাল হোছাইন, সাইবার ক্রাইম মনিটরিং সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং সেলের অন্যান্য সদস্যরা।

রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পুলিশ জানিয়েছে, জনসেবায় সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থেকে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


বন্যায় ভেসে গেছে কৃষকের স্বপ্ন, আমন ধানে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

কয়েকদিন আগেও মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে ছিল ফসল ও সবজি ক্ষেতের সবুজ সমারোহ। আউশ ধান, আমনের বীজতলা আর মৌসুমি সবজির ফলন দেখে কৃষকের মুখে ছিল স্বস্তির হাসি। ব্যাংক ঋণ ও ধারদেনা করে ফলানো সেই ফসল ঘরে তুলে ঋণ শোধের পাশাপাশি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন ছিল তাদের। তবে আকস্মিক বন্যা মুহূর্তেই সব স্বপ্ন তছনছ করে দিয়েছে।

বন্যার পানি নেমে গেলেও রেখে গেছে শুধুই কাদামাটিতে চাপা পড়ে থাকা কৃষকের ঘাম, শ্রম ও নিঃশ্বাসের নির্মম চিহ্ন। বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে এখন ক্ষতবিক্ষত জমি আর হতাশ কৃষকের দীর্ঘশ্বাস। তবুও বুকভরা কষ্ট চেপে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সংগ্রামে মাঠে নেমেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।

সাম্প্রতিক এ বন্যায় উপজেলার আউশ ধান, আমনের বীজতলা ও মৌসুমি সবজি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক জমিতে বানের সঙ্গে ভেসে আসা পলি ও বালু জমে থাকায় নতুন করে আবাদ শুরু করতে অতিরিক্ত খরচ গুণতে হচ্ছে। তবুও ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কেউ বীজতলা প্রস্তুত করছেন, কেউ জমি পরিষ্কার করছেন, আবার কেউবা রোপা আমনের জন্য জমি তৈরি করছেন। তাদের একটাই লক্ষ্য—আমন মৌসুমের মাধ্যমে অন্তত আউশের ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়া।
জানা গেছে, সাম্প্রতিক বন্যায় উপজেলায় প্রায় ৭০ হেক্টর আউশ ধানের জমি, ৩০ হেক্টর আমনের বীজতলা এবং ২৬ হেক্টর সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উপজেলার মখাবিল এলাকার টমেটো চাষি আব্দুর রহিম আকুতি জানিয়ে বলেন, ‘ঋণ করে দুই কিয়ার জমিতে টমেটো চাষ করেছিলাম। বানের পানিতে সব শেষ হয়ে গেছে। ঋণের টাকা কীভাবে পরিশোধ করব, সেই চিন্তায় রাতে ঘুম আসে না।’
পতনউষার ইউনিয়ন এলাকার কৃষক শাহাজাহান মিয়া বলেন, ‘আমাদের এলাকা সরাসরি নদীভাঙনের শিকার না হলেও নিচু হওয়ায় ধানের জমি তলিয়ে ছিল। এখন ফসল আদৌ হবে কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

বীজতলা হারানো কৃষক রাজ্জাক মিয়া আক্ষেপ করে বলেন, ‘বানের পানিতে আমার আমনের বীজতলা পুরো নষ্ট হয়ে গেছে। এখন কীভাবে রোপা আমনের আবাদ করব বুঝতে পারছি না।’

কৃষক জাহাঙ্গীর মিয়া ক্ষোভ ও কষ্টে বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে টমেটো চাষ করেছিলাম। এখন সংসার চালানো আর ঋণ শোধ করা নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছি।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার রায় জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ও ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে যত দ্রুত সম্ভব ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মাঝে বীজ ও সারসহ প্রয়োজনীয় কৃষি উপকরণ বিতরণের ব্যবস্থা করা হবে।’

বন্যার আঘাতে স্বপ্ন চুরমার হলেও থেমে নেই কমলগঞ্জের কৃষকরা। ক্ষতি সামলে নতুন আশায় ও উদ্যমে আবারও মাঠে ফিরেছেন তারা।


মাদারীপুরে কেমিক্যাল মিশ্রিত চাষের শিং বিক্রি হয় ‘দেশি মাছ’ নামে

* প্রতারিত হচ্ছেন ক্রেতারা, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাদারীপুর প্রতিনিধি

মাদারীপুরের বিভিন্ন মাছের বাজারে অতি মুনাফার লোভে এখন হরহামেশা কেমিক্যাল মিশ্রিত চাষ করা শিং মাছ হলুদ রঙের বানিয়ে দেশি শিং মাছ বলে বিক্রি করছেন কিছু অসাধু মাছ ব্যবসায়ী। এতে ক্যান্সার ও কিডনি ড্যামেজ হওয়াসহ দুরারোগ্য নানা জটিল রোগের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে মাদারীপুরের প্রসিদ্ধ ইটেরপুল মাছ বাজারে সরেজমিনে দেখা যায় ওই বাজারের বেশ কয়েকজন মাছ বিক্রেতা এই ধরনের শিং মাছ বিক্রি করছেন। এ ব্যাপারে ওই বাজারে খুচরা বিক্রেতা মো. শহীদ মিয়ার কাছে জানতে চাইলে তিনি ভিডিও সাক্ষাৎকারে তা অকপটে স্বীকার করে বলেন, ‘আমরা খুচরা মাছ বিক্রেতা, মাদারীপুরের বৃহত্তর মস্তফাপুর মাছের আড়ত থেকে এই শিং মাছসহ অন্যান্য মাছ পাইকারি ক্রয় করে এখানের বাজারে এনে খুচরা বিক্রি করি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সেখানকার আড়তদাররা ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন আড়ত থেকে চাষ করা শিং মাছ প্লাস্টিকের ড্রামে করে মস্তফাপুর আড়তে এনে বিক্রি করেন, মূলত মস্তফাপুর আড়ত থেকেই মাছ হলুদ করার কেমিক্যাল ড্রামের পানির মধ্যে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং মাছগুলো ওই ড্রামের পানি খেয়েই হলুদ আকার ধারণ করে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক ক্রেতা বলেন, ‘চাষের শিং মাছের দাম কম, আর দেশি শিং মাছের দাম অনেক বেশি। তাই অসাধু মাছ বিক্রেতারা ক্রেতাদের ঠকিয়ে বেশি দামে বিক্রির জন্যই এমন অনৈতিক, বেআইনি ও কেমিক্যাল মিশ্রিত করে তা বিক্রি করছেন, যা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর হবে নিঃসন্দেহে।’ তারা এ ব্যাপারে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোক্তা অধিকার কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন।


রেলের ইঞ্জিনের সংকটে কমেছে পণ্য সরবরাহ, যাত্রী খাতে বেড়েছে আয়

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম

যাত্রী ও পণ্য পরিবহন সম্প্রসারণ, নতুন ট্রেন চালু, টিকিট বিক্রিতে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু এবং প্রশাসনিক দক্ষতা বৃদ্ধির ফলে ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয়। বিশেষ করে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকা সত্ত্বেও আগের অর্থবছরের তুলনায় রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে আয়-ব্যয়ের ব্যবধানও কমেছে, যা রেলওয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট রাজস্ব আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে রাজস্ব আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকা। যদিও ইঞ্জিন সংকটের কারণে পণ্য পরিবহন খাতে আয় কমেছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। গত রোববার বাংলাদেশ রেলওয়ের জনসংযোগ শাখার পরিচালক আনিসুর রহমান আয়-ব্যয়ের এ তথ্য প্রকাশ করেন।

সরেজমিনে অনুসন্ধানে জানা যায়, বর্তমান রেলওয়ে সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম এবং মহাপরিচালক আফজাল হোসেন দায়িত্ব গ্রহণের পর বিভিন্ন প্রশাসনিক ও আর্থিক সংস্কার কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত, নিয়মিত যাচাই-বাছাই ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানো সম্ভব হয়েছে। পাশাপাশি রাজনৈতিক তদবির, অনিয়ম, ঘুষ এবং প্রভাবমুক্ত প্রশাসনিক পরিবেশ বজায় রাখার উদ্যোগ রেলওয়ের আর্থিক ভিত্তিকে আরও শক্তিশালী করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

তথ্যসূত্র বিশ্লেষণে জানা যায়, চলতি অর্থবছরের রাজস্ব বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় অবদান এসেছে যাত্রী পরিবহন খাত থেকে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা। নতুন ট্রেন সংযোজন, যাত্রীসেবা সম্প্রসারণ, অনলাইন ও ডিজিটাল টিকিটিং ব্যবস্থা এবং যাত্রীসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এ খাতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন থেকে আয় কমেছে প্রায় ৯ কোটি টাকা। এ ছাড়া পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাত, যার মধ্যে ভেন্ডিং লাইসেন্স এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক আয় অন্তর্ভুক্ত, সেখানেও রাজস্ব কমেছে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। রেলসংশ্লিষ্টদের মতে, ইঞ্জিনের ঘাটতি দূর করা গেলে এবং মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানো সম্ভব হলে এ খাতেও রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

এদিকে অন্যান্য কয়েকটি খাতে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে। ভূসম্পত্তি ব্যবস্থাপনা থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা এবং রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে আয় বেড়েছে প্রায় ১২ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালন ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য পরিচালন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ফলে চলতি অর্থবছরে আয়-ব্যয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যেখানে আগের অর্থবছরে এ অনুপাত ছিল ২ দশমিক ৯। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে আয়-ব্যয়ের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা ব্যয় নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক শৃঙ্খলা বৃদ্ধির প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় হয়, যা প্রকৃত পরিচালন ব্যয়ের অংশ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। কারণ এটি সরাসরি ট্রেন পরিচালনার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। এ ব্যয় বাদ দিলে পরিচালন ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা এবং অপারেটিং রেশিও নেমে আসে ১ দশমিক ৪৩-এ। অর্থাৎ, পেনশন ব্যয় বাদ দিলে রেলের পরিচালন ব্যয় রাজস্ব আয়ের তুলনায় মাত্র ৪৩ শতাংশ বেশি থাকে। বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন প্রতিষ্ঠান হওয়ায় যাত্রীভাড়া দীর্ঘদিন ধরে রেয়াতি হারে নির্ধারিত রয়েছে।

২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত যাত্রীভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। অথচ এই সময়ে রেলপথ ও ট্রেন রক্ষণাবেক্ষণের ব্যয়, আমদানিনির্ভর যন্ত্রাংশের মূল্য, ডলারের বিনিময় হার, জ্বালানি তেলের দাম এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও পেনশন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত প্রায় এক দশক ধরে যাত্রীভাড়া অপরিবর্তিত থাকায় বর্তমান বাজারদর এবং অন্যান্য পরিবহন ব্যবস্থার ভাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে যৌক্তিকভাবে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরও কমে আসবে। একই সঙ্গে সেবার মান উন্নয়ন ও দক্ষ ব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ রেলওয়েকে আর লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার সুযোগ থাকবে না বলেও তারা মনে করছেন।


বিপৎসীমার ওপরে দেশের ৩ জেলায় নদীর পানি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সামগ্রিক নদ-নদীর পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও নেত্রকোণা—এই তিন জেলার তিনটি নির্দিষ্ট নদী স্টেশনে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর পাশাপাশি আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় দেশের চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে স্থানভেদে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের স্পষ্ট পূর্বাভাস দিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি)। জলবায়ু ও আবহাওয়াগত এই পরিস্থিতির কারণে দেশের কয়েকটি উপকূলীয় ও নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা সৃষ্টি হওয়া এবং নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার প্রবল আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) এফএফডব্লিউসি থেকে প্রকাশিত দেশের সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি ও আবহাওয়া সংক্রান্ত এক বিশেষ নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে এই আশঙ্কাজনক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত বুলেটিন অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট) ও মারকুলি (সুনামগঞ্জ) পয়েন্টে এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে পানি বিপজ্জনকভাবে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বিগত ২৪ ঘণ্টায় অঞ্চলটির সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী একদিন পর্যন্ত বৃদ্ধির এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জের সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন বিভিন্ন নিচু এলাকাগুলোতে সাময়িকভাবে বা স্বল্পমেয়াদে তীব্র বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

এদিকে দেশের পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর অবস্থাও কিছুটা নাজুক রূপ নিচ্ছে। রাজশাহী বিভাগের আত্রাই নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা আগামী একদিন আরও কিছুটা বেড়ে পরবর্তী দুই দিনে কমতে শুরু করতে পারে; তবে এরই মাঝে নওগাঁ জেলার নদীসংলগ্ন বেশ কয়েকটি নিচু এলাকায় পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে সাময়িক আঞ্চলিক বন্যা দেখা দেওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

অপরদিকে চট্টগ্রাম বিভাগের মুহুরী, ফেনী, সেলোনিয়া, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি সাময়িকভাবে কিছুটা কমলেও আগামী দুই দিনে তা আবার অতি দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে বান্দরবান, কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলার বেশ কয়েকটি নদীর পানি সতর্কসীমার খুব কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে এবং নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলগুলো সাময়িকভাবে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

অন্যদিকে উত্তর ও মধ্যঞ্চলের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে জানানো হয়েছে যে, তিস্তা ও দুধকুমার নদীর পানি এখন কিছুটা কমতির দিকে থাকলেও ধরলা নদীর পানি অপরিবর্তিত বা স্থিতিশীল রয়েছে।

আবহাওয়া বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে যে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রামের নদী তীরবর্তী কিছু পয়েন্টে পানি সতর্কসীমা ছুঁইছুঁই অবস্থায় প্রবাহিত হতে পারে। তবে নেত্রকোণার সোমেশ্বরী নদীর পানি ইতোমধ্যে কমতে শুরু করায় এবং আগামী তিন দিন এই ধারা অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা থাকায় জেলার সামগ্রিক বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতির আশা করা হচ্ছে।

দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর মধ্যে ব্রহ্মপুত্রের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা ও গঙ্গা-পদ্মার পানি সার্বিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রভাবে আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করে প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।


অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে শ্যামনগরে এমপি গাজী নজরুলের কুশপুত্তলিকা দাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর) আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং তাঁর পদত্যাগের দাবিতে শ্যামনগরে উত্তাল বিক্ষোভ মিছিল ও কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১২টায় শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড মোড়ে ‘শ্যামনগরের সচেতন নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে স্থানীয় সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে এই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শ্যামনগর বাসস্ট্যান্ড থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদী বিক্ষোভ মিছিল বের করে। মিছিলটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবের সামনে এসে এক প্রতিবাদ সমাবেশে রূপ নেয়। এই বিক্ষোভ কর্মসূচিতে এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ জনগণের পাশাপাশি বিপুল সংখ্যক ক্ষুব্ধ নারী সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।

মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা এই জনপ্রতিনিধির এমন অনৈতিক ও বিতর্কিত আচরণে তীব্র ক্ষোভ ও ধিক্কার প্রকাশ করেন। তাঁরা সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের অবিলম্বে সংসদ পদ থেকে পদত্যাগ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোরালো দাবি জানান। সমাবেশ চলাকালেই ক্ষুব্ধ জনতা সংসদ সদস্যের কুশপুত্তলিকা দাহ করে তাঁদের চরম প্রতিবাদ ব্যক্ত করেন।

বিক্ষোভকালে অংশগ্রহণকারীদের হাতে প্রতিবাদী ব্যানার, সুনির্দিষ্ট দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিতর্কিত ঘটনার ছবি সংবলিত নানা রকম ফেস্টুন দেখা যায়। সমাবেশে বক্তব্য রাখা সাধারণ প্রতিবাদকারীরা মন্তব্য করেন যে, একজন দায়িত্বশীল জনপ্রতিনিধির থেকে এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না এবং এটি পুরো এলাকার জন্য চরম লজ্জাজনক।

উল্লেখ্য, গত সোমবার (২০ জুলাই) রাতে এক তরুণীর সঙ্গে এমপি গাজী নজরুলের একটি আপত্তিকর ও অন্তরঙ্গ ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ার পর দেশজুড়ে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি ওই তরুণীকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করলেও, তাঁদের বিয়ের তথ্যাদি ও কাবিননামা নিয়ে নানাবিধ গুরুতর অসঙ্গতি জনসম্মুখে চলে এসেছে।


রূপপুরের রুশ নাগরিক বহনকারী বাস ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

নাটোরে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের তালবাড়িয়া এলাকায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রুশ কর্মীদের বহনকারী একটি মিনিবাস ও পণ্যবাহী ট্রাকের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ট্রাকের সহকারী ইমন (২২) প্রাণ হারান এবং আহতদের মধ্যে রূপপুর প্রকল্পের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিকিমথ-এর আটজন রুশ নাগরিক রয়েছেন। নিহত ইমন নাটোর সদর উপজেলার খোলাবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে রূপপুরগামী মিনিবাসটির সঙ্গে নাটোর থেকে ঢাকাগামী ট্রাকটির সংঘর্ষ হলে ট্রাকের সামনের অংশ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

দুর্ঘটনার পর গুরুদাসপুর ও বনপাড়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। গুরুদাসপুর ফায়ার সার্ভিসের সাব-অফিসার রুস্তম আলী বলেন, “আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে গুরুতর আহত কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।” এই দুর্ঘটনার কারণে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হলেও প্রায় দুই ঘণ্টার প্রচেষ্টায় দুর্ঘটনাকবলিত যানগুলো সরিয়ে নিলে রাত ১১টার দিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে। আহত রুশ নাগরিকদের মধ্যে চারজন নারী রয়েছেন এবং আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।


ধরা খাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে বলে চালিয়ে দেওয়া পাক্কা মিথ্যাচার: তাহেরী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত জীবনের কিছু আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা নিয়ে জনসমক্ষে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন সুপরিচিত বক্তা মাওলানা গিয়াস উদ্দিন তাহেরী। একটি ধর্মীয় মাহফিলে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি এই জনপ্রতিনিধির নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, "এমপি গাজী নজরুল ইসলাম নিয়ে সাতক্ষীরায় কী চলতাছে। সাতক্ষীরা মেয়ের বয়স ১৪, মেয়ের বাপের বয়স ৩৬ আর ওনার বয়স হলো ৭৪, না কত? কী হিসাব-নিকাশ। ধরা পড়ার আগে রোমান্টিক, ধরা পড়লে কয় বউ। এগুলো বিকৃত মানসিকতা।"

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট এমপির পক্ষ থেকে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও মাওলানা তাহেরী সেগুলোকে প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি এই ঘটনাকে সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে অভিহিত করে বলেন, "এসব ঘটনা এআই বলে চালিয়ে দেওয়া বিকৃত যৌনাচার। আবার ধরা খাওয়ার পর দ্বিতীয় বিয়ে বলে চালিয়ে দেওয়া পাক্কা মিথ্যাচার। প্রশাসনকে বলব, সঠিক তদন্ত করেন।" তিনি আরও যোগ করেন, "এই মিথ্যাবাদীদের মুখোশ উন্মোচনের সুযোগ এসেছে, এই মোনাফেকদের মুখোশ উন্মোচনের সুযোগ এসেছে। এদের মুখে ইসলাম আছে; কিন্তু অন্তরে ইসলাম নাই। এদের বট বহিনী আছে, হারামকে হালার বলতে তারা বট বাহিনী লাগিয়ে দেয়।"

নির্বাচনী প্রচারণার সময় ওই এমপির কর্মকাণ্ডের বৈপরীত্য তুলে ধরে তাহেরী সভায় উপস্থিত শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে বলেন, "এই লোকটা দেখলাম নির্বাচনের সময় সাদা পর্দা লাগাইছে। একপাশে মেয়েরা আর একপাশে উনি, দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পর্দার কাছে যায় আর বলে —আপনারা ভালো করে চলবেন, পর্দা করবেন।" ধর্মীয় আদর্শের দোহাই দিয়ে ব্যক্তিগত জীবনে এমন আচরণের কঠোর সমালোচনা করে মাওলানা তাহেরী এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের মুখোশ উন্মোচনের দাবি জানান।


নীলফামারী কারাগারে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা, সেবা পেলেন ২০০ কারাবন্দী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাসির উদ্দিন শাহ মিলন, নীলফামারী প্রতিনিধি

কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা ও চক্ষুস্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নীলফামারী জেলা কারাগারে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। সৈয়দপুরের মরিয়ম চক্ষু হাসপাতালের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে প্রায় ২০০ কারাবন্দী চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন।

সোমবার (২০ জুলাই ২০২৬) নীলফামারী জেলা কারাগার চত্বরে দিনব্যাপী এ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা কারাগারের জেল সুপার জাবেদ মেহেদী। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারীর সিভিল সার্জন ডা. মো. আব্দুর রাজ্জাক, জেলা কারাগারের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কারারক্ষী এবং কারাবন্দীরা।

ক্যাম্পে প্রায় ২০০ কারাবন্দীর চোখ পরীক্ষা করা হয়। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তাদের বিনামূল্যে চশমা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়। পাশাপাশি যেসব কারাবন্দীর ছানি অপারেশনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের বিনামূল্যে অস্ত্রোপচারের জন্য নির্বাচন করা হয়।

অনুষ্ঠানে জেল সুপার জাবেদ মেহেদী বলেন, "কারাবন্দীদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। সুস্থ শরীর তাদের মানসিক উন্নয়ন ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার পথকে সহজ করে। এ ধরনের মানবিক উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে আমরা কাজ করে যাব।"

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ নায়িরুজ্জামান বলেন, "সরকার কারাবন্দীদের মানবিক অধিকার ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। চিকিৎসাসেবা মানুষের মৌলিক অধিকার। জেলা কারাগারে এমন বিশেষায়িত চক্ষু চিকিৎসা ক্যাম্প আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। প্রশাসন এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে সবসময় সহযোগিতা করবে।"

জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান চৌধুরী শামীম বলেন, "মানবসেবার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হলো স্বাস্থ্যসেবা। কারাবন্দীদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসার ব্যবস্থা একটি মহৎ উদ্যোগ। সমাজের প্রতিটি মানুষ যেন প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা পায়, সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।"

আয়োজকরা জানান, কারাবন্দীদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মানবিক কল্যাণে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে দেশজুড়ে টানা পাঁচদিন বৃষ্টির পূর্বাভাস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে সারাদেশে বৃষ্টিপাতের ধারা আগামী পাঁচ দিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বিশেষ করে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়াবিদ খো. হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এই সময়ে দেশের অধিকাংশ অঞ্চলে অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বর্ষণের প্রভাবে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা থাকলেও পরবর্তী সময়ে তা সামান্য বাড়তে পারে।

আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ এলাকা এবং ঢাকা, রাজশাহী, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও অতি ভারী বর্ষণের সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায়ও একই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে, যার ফলে শুক্রবার সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে। এদিন খুলনা ও বরিশাল ছাড়াও রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টির সক্রিয়তা বেশি থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, সপ্তাহের শেষদিকে অর্থাৎ শনিবার ও রোববার বৃষ্টির তীব্রতা দেশের দক্ষিণাঞ্চল ও সিলেটে বেশি থাকলেও অন্যান্য অঞ্চলে তা কিছুটা কমে আসতে পারে। শনিবার থেকে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা পুনরায় সামান্য বাড়তে শুরু করতে পারে। তবে পাঁচ দিনই দেশের কোথাও না কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা বিদ্যমান থাকবে। সার্বিকভাবে আগামী সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত সারাদেশে কম-বেশি বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা বজায় থাকবে।


banner close