রোববার, ২৪ মে ২০২৬
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

অসুস্থ নবজাতককে নদীর তীরে ফেলে গেল স্বজনরা

বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশিত
বরিশাল ব্যুরো
প্রকাশিত : ২৩ মার্চ, ২০২৫ ২২:১০

অসুস্থ নবজাতক ছেলেকে কীর্তনখোলা নদীর তীরে ফেলে গেছেন স্বজনরা। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে নবজাতককে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা চিকিৎসা মহাবিদ্যালয় (শেবাচিম) হাসপাতালে ভর্তি করেছেন স্থানীয়রা।

ঘটনাটি ঘটেছে বরিশাল নগরীর চাঁদমারী এলাকাধীন কীর্তনখোলা নদীর তীরবর্তী সিঙারা পয়েন্টে। শিশুটি বর্তমানে পুলিশ এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়নে শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ ও মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মিজানুর রহমান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

মডেল থানার ওসি জানান, নবজাতককে একটি তোয়ালে দিয়ে মুড়িয়ে রাস্তার পাশে ফেলে যাওয়া হয়। এ সময় সঙ্গে একটি ঝুড়ি ও বাচ্চার দুধ খাওয়ানোর একটি ফিডার পাওয়া যায়। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে নবজাতকের অভিভাবক খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।

স্থানীয়রা জানান, গভীর রাতে ওই এলাকায় নবজাতককে দেখতে পান রুহুল আমিন নামে একজন ব্যক্তি। পরে শিশুটিকে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে যান তিনি। সেখানকার চিকিৎসক জানান পিঠ ও পায়ের গঠন দেখে ধারণা করা হচ্ছে শিশুটি প্রতিবন্ধী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণেই হয়তো নবজাতককে রাস্তায় ফেলে গেছেন স্বজনরা। উন্নত চিকিৎসার মধ্যদিয়ে শিশুটিকে সুস্থ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

অন্যদিকে বরিশাল জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ জানান, শিশুটিকে উদ্ধারের বিষয়ে গতকাল রোববার জানতে পেরেছি। শিশুটি বর্তমানে শেবাচিম হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধায়নে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। নবজাতকের পিঠে বড় আকারের একটি টিউমার রয়েছে। আগামী ২-৪ দিনের মধ্যে টিউমার অপারেশন করতে হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইলে সমাজসেবা কার্যালয় থেকে তার চিকিৎসাসহ সার্বিক সহায়তা করা হবে।


একই মাঠে ৫৮ জাতের ধান, খুলনার প্রযুক্তি গ্রামে বদলে যাচ্ছে কৃষির ভবিষ্যৎ

আপডেটেড ২৪ মে, ২০২৬ ১০:৪৬
খুলনা ব্যুরো 

সবুজ ধানের দোল, বাতাসে শীষের মৃদু শব্দ আর সেই মাঠজুড়ে যেন কৃষির এক নতুন সম্ভাবনার গল্প। একই জমিতে একসঙ্গে ৫৮ জাতের ধান। কোথাও উচ্চ ফলনশীল, কোথাও লবণসহিষ্ণু, আবার কোথাও পুষ্টিসমৃদ্ধ বা সুগন্ধি ধানের সারি। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার বয়ারভাঙ্গা গ্রামে গড়ে ওঠা এই ব্যতিক্রমধর্মী প্রযুক্তি গ্রাম এখন দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জন্য এক জীবন্ত গবেষণাগার।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) এলএসটিডি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১০০ একর জমিতে গড়ে তোলা হয়েছে এই প্রযুক্তি গ্রাম। যেখানে কৃষকরা বইয়ের পাতায় নয়, সরাসরি মাঠে দাঁড়িয়েই শিখছেন আধুনিক কৃষির নতুন প্রযুক্তি ও উন্নত ধানের জাত সম্পর্কে।

বোরো মৌসুমে চাষ উপযোগী ৬১টি ধানের জাতের মধ্যে ৫৮টি জাত এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে। কৃষকরা একই মাঠে বিভিন্ন জাতের ধানের বৃদ্ধি, ফলন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং পরিবেশ উপযোগিতা সরাসরি পর্যবেক্ষণ করতে পারছেন।

কৃষি কর্মকর্তা ড. মো. আনোয়ার হোসেন, প্রকল্প পরিচালক, এলএসটিডি প্রকল্প বলেন, এ ধরনের প্রদর্শনী কৃষকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করছে। কোন জমিতে কোন জাত ভালো ফলন দেবে—তা এখন আর অনুমানের ওপর নির্ভর করছে না, বরং মাঠ পর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই কৃষকরা সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন।

ব্রি স্যাটেলাইট স্টেশন, খুলনার বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের পরামর্শে অনেক কৃষক ব্রি হাইব্রিড ধান-৮ চাষ করে লাভবান হয়েছেন। এই জাতের ধানে রোগবালাই তুলনামূলক কম হওয়ায় কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহারও কম করতে হচ্ছে।

স্থানীয় এক কৃষক জানান, মাত্র পাঁচ কাঠা জমি থেকে তিনি পেয়েছেন ১০ মণ ৫ কেজি ধান। উৎপাদন খরচ কম হওয়ায় লাভও হয়েছে বেশি। ফলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে এই জাতের ধান চাষের পরিকল্পনা করছেন তারা।

প্রযুক্তি গ্রামের আরেকটি বড় দিক হলো পরিবেশবান্ধব চাষাবাদ। অনেক কৃষক এখন কীটনাশক ছাড়াই ধান চাষ করে আশানুরূপ ফলন পাচ্ছেন।

স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্য, যান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধান রোপণ ও কর্তনের ফলে শ্রম ও উৎপাদন খরচ অনেকটাই কমেছে। একই সঙ্গে পরিবেশের ক্ষতিও কম হচ্ছে। তিন বিঘা জমিতে কীটনাশক ছাড়াই ধান চাষ করে এক কৃষক প্রায় প্রচলিত ফলনের সমান উৎপাদন পেয়েছেন বলে জানান।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৃষিতে দীর্ঘদিনের বড় চ্যালেঞ্জ লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতা। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রযুক্তি গ্রামটিকে ঘিরে নতুন আশার আলো দেখছেন কৃষক ও কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

এখানে লবণসহিষ্ণু ও প্রতিকূল পরিবেশ উপযোগী বিভিন্ন ধানের জাত নিয়ে গবেষণা ও মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা চালানো হচ্ছে। এলএসটিডি প্রকল্পের মাধ্যমে কৃষকদের সরবরাহ করা হচ্ছে উন্নত বীজ, সার, কৃষিযন্ত্র ও আধুনিক কৃষি সহায়তা।

বৈজ্ঞানিক বিল্লাল হোসাইন বলেন, প্রযুক্তি গ্রামের মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে আধুনিক ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থার প্রতি আস্থা তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে গবেষণার ফল সরাসরি কৃষকের হাতে পৌঁছে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যবস্থায়ও আসছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

খুলনার বটিয়াঘাটার এই প্রযুক্তি গ্রাম এখন শুধু ধান উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; এটি হয়ে উঠেছে ভবিষ্যতের কৃষির এক জীবন্ত প্রদর্শনী। যেখানে একই সঙ্গে চলছে গবেষণা, শিক্ষা ও বাস্তব অভিজ্ঞতার সমন্বয়।

দক্ষিণাঞ্চলের কৃষির চিত্র বদলে দিতে পারে—এমন প্রত্যাশাই এখন স্থানীয় কৃষক ও সংশ্লিষ্টদের।


ফ্যাসিবাদী শাসনে বিনষ্ট হয় মানবতা ও সামাজিক মূল্যবোধ

* শিশু রামিসা হত্যাকারীর বিচার এক মাসের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে * আগামী বছরকে  ‘নজরুল বর্ষ’ ঘোষণা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) ব্যুরো

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনা মানুষের মানবিক মূল্যবোধের চূড়ান্ত অবক্ষয়ের প্রমাণ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসন শুধুমাত্র দেশের মানুষের অধিকার আর অর্থ সম্পদই লুট করেনি, বিচার বিভাগসহ সকল প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে দিয়েছে। বিশেষ করে মানবতা ও সামাজিক মূল্যবোধকে বিনষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। একটি নিষ্পাপ শিশুর নির্মম মৃত্যুই এ বিষয়টি প্রমাণ করে। এক মাসের মধ্যে শিশু রামিসা হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। শনিবার (২৩ মে) ময়মনসিংহের ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এসময় তিনি আগামী এক বছরকে (২৫ মে ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৭ সাল পর্যন্ত) ‘নজরুল বর্ষ’ হিসেবে ঘোষণা করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানে আমি পরিস্কারভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরতে চাই। এই ধরনের শিশু নির্যাতন বা নারী নির্যাতন বর্তমান সরকার কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বর্তমান সরকার রামিসার এই হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি ইনশাল্লাহ আগামী এক মাসের মধ্যেই নিশ্চিত করবে। সেই সর্বোচ্চ শাস্তি হচ্ছে মৃত্যুদণ্ড। যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি, মানুষ এভাবে শিশু বা নারী নির্যাতন করার সাহস না পায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি নিরাপদ ও মানবিক রাষ্ট্র এবং সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতেই হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমান কালের ধর্মীয় ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের পুনরুজ্জীবন ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন ও কর্ম প্রাসঙ্গিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কবি নজরুলের জীবন ও কর্ম বিশ্বব্যাপী আরও বেশি করে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। তার জীবনদর্শন প্রজন্মের পর প্রজন্মে পৌঁছে দিতে হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের জাতীয় কবির স্মৃতি বিজড়িত ত্রিশালকে নজরুল সিটি হিসাবে ঘোষণা করা যায় কি না এ ব্যাপারে সম্ভাবতা যাচাইয়ের জন্য আমি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও পর্যটন বিভাগের প্রতি আহ্বান জানাব। একটি নিরাপদ রাষ্ট্র নিশ্চিত করতে হলে আমাদের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন ঘটাতে হবে। একই সঙ্গে আমাদের জাতীয় জীবনে পুনরায় বাংলাদেশের আবহমানকালের ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের পুর্নজাগরণ ঘটাতে হবে। এক্ষেত্রে কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবন এবং কর্ম প্রাসঙ্গিক।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্রিশালে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নামে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এ প্রজন্মের অনেকেই হয়তো জানেন না, ১৯৭৬ সালে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জাতীয় কবির নামাজে জানাজার পর কবির লাশবাহী খাটিয়া যারা কাঁধে করে বহন করেছিলেন, তাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

নজরুলের সাহিত্য ও আদর্শ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের জাতীয় ইতিহাসে কাজী নজরুল মানেই বাংলা সাহিত্যের এক নতুন মোড়ের উদয়, বাংলা সাহিত্যের এক নতুন রুচির বিপ্লব। তিনি ছিলেন নারীর অধিকার, মেহনতী মানুষের কল্যাণ, অসম্প্রদায়িক বিশ্ব ও মানবতার উদারণ।

সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, সংস্কৃতি সচিব কানিজ মওলা, জেলা পরিষদ প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিচালক লতিফুর রহমান শিবলী, ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান কবিপৌত্রী খিলখিল কাজী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক তারিখ মনজুর, ময়মনসিংহ-৭ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান লিটন এবং জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বক্তব্য দেন।

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ময়মনসিংহ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও ত্রিশাল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক ভুইয়া।

এর আগে ত্রিশাল উপজেলার বইলরে চার কিলোমিটার দীর্ঘ ধরার খালের উদ্ধোধনী অনুষ্ঠনে অংশগ্রহণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, জনগণ ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার পর আমাদের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরিবারের সুবিধার জন্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকের সুবিধার জন্যে কৃষি কার্ড, কোমলমতি শিশুদের জন্যে স্কুল ব্যাগ, পোশাক, খাবার, মসজিদের ইমামদের জন্যে ভাতা কার্যক্রম শুরু করেছি। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এসব সুবিধার আওতায় আনা হবে। বিএনপির তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জনগনের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করবে। আপনারা লক্ষ্য করবেন এক শ্রেণি এসব কথা না বলে শুধু ষড়যন্ত্র করে আর রাস্তাঘাটে আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ করতে চায়।

তারেক রহমান আরো বলেন, বিএনপির সরকার গঠন করায় তাদের জালা ধরেছে। অন্তবর্তী সরকারের সময় যে সকল ঘটনা ঘটেছে আপনারা তাদেরকে সেই কিছু বলতে দেখেছেন প্রতিবাদ করতে দেখেছেন করেননি। কারন তারা বিএনপির সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে চায়। বিএনপির সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা নষ্ট হলে জনগনের ক্ষতি হবে, আপনাদের ক্ষতি তাই এদেরকে আপনাদেরও প্রতিহত করতে হবে। বিএনপি সরকার কর্মমুখী শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে সারাদেশে ভোকেশনাল শিক্ষাকে গুরুত্ব দিচ্ছে। যাতে আগামী প্রজন্ম কর্মমুখী হয়ে গড়ে উঠতে পারে।

পরে বিকেলে ময়মনসিংহ উত্তর দক্ষিণ জেলা বিএনপি ও ময়মনসিংহ মহানগর বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা সাংগঠনিক সভায় দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।


বিশ্বে হামে মৃত্যুতে শীর্ষে বাংলাদেশ, ৭০ দিনে ঝরল ৫১২ প্রাণ

* হাম পরিস্থিতি ভয়াবহ * ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু আরও ১৩
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হাম পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। তবে শুধু বাংলাদেশেই নয়; ২০২৬ সালে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্ক করে বলেছে, টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় বিশ্বের কিছু অঞ্চলে আবার হাম রোগের পুনরুত্থান দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব সবচেয়ে প্রাণঘাতী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই সতর্কবার্তার মধ্যেই শনিবার (২৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশে হাম ও উপসর্গে আরও ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৭০ দিনে (১৫ মার্চ থেকে ২৩ মে) ৫১২ জনের মৃত্যু ঘটল; যা চলতি বছর বিশ্বে হামে সর্বোচ্চ মৃত্যুর ঘটনা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত একদিনে (শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা) সারা দেশে আরও ১ হাজার ৯৬৭ শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। হাম শনাক্ত হয়ে বরিশালে ১টি শিশু মারা গেছে। আর হামের উপসর্গে ঢাকায় ৪, চট্টগ্রামে ২, সিলেটে ৪, বরিশালে ১ ও ময়মনসিংহে ১ শিশু মারা গেছে। এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গে দেশে ৪২৬ শিশুর মৃত্যুর তথ্য জানা গেছে। এ সময়ে হাম শনাক্তের পর মারা গেছে ৮৬ শিশু।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর। এ সময় হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪৯ হাজার ৩৮৯ শিশু। তবে এর মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৫ হাজার ১১ শিশু বাড়ি ফিরেছে।

প্রসঙ্গত, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে ভারত, পাকিস্তান, ইয়েমেন, মেক্সিকো, অ্যাঙ্গোলা, কাজাখস্তান, ইন্দোনেশিয়া, সুদান ও ক্যামেরুনসহ বহু দেশে নতুন করে হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোতেও হাম ফিরে আসার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে মৃত্যুর সংখ্যার আধিক্যের কারণে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশকে ঘিরে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতেই সংক্রমণ ছড়িয়েছে। পরীক্ষাগারে একদিকে নিশ্চিত রোগী শনাক্ত হচ্ছে, অন্যদিকে উপসর্গ নিয়ে ভুগছে অনেক শিশু। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মধ্যে আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি।

আক্রান্তের তুলনায় বাংলাদেশে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার পেছনে একাধিক কারণ কাজ করছে বলে মনে করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। দেশে হামে এখন মৃত্যুহার দশমিক ৯৮ শতাংশ। মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণের মধ্যে রয়েছে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি, দীর্ঘদিন এমআর (হাম-রুবেলা) ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকা, শিশুদের অপুষ্টি, দেরিতে হাসপাতালে আসা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবার সীমিত সুযোগ। বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সি অপুষ্ট শিশুরা হামের জটিলতায় দ্রুত নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট ও মস্তিষ্কের প্রদাহে আক্রান্ত হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে অনেক এলাকায় নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়েছিল। আবার কোথাও মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট রয়েছে। অত্যন্ত সংক্রামক হওয়ায় হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক কম হলেও জটিলতা ও মৃত্যুহার বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ এখন হাম সংক্রমণে বৈশ্বিক উদ্বেগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।


নিরাপদ বাংলাদেশ গড়া পুলিশের অঙ্গীকার: আইজিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বগুড়া প্রতিনিধি

বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা উন্নয়নের জন্য পুলিশ বাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। আমরা বগুড়াতে কমিউনিটি পুলিশের সমাবেশ করলাম। এটা সারাদেশের ছড়িয়ে দেব। এর মাধ্যমে পুলিশ এবং জনতা সবাই মিলে একটা নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ব- এটাই আমাদের অঙ্গীকার।

শনিবার (২৩ মে) বগুড়ার আদমদীঘি থানার নবনির্মিত ভবন উদ্বোধন শেষে কমিউনিটি পুলিশিং, বিট পুলিশিং ও সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।

জেলা পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের সভাপতিত্বে সুধী সমাবেশে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন, বগুড়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল মুহিত তালুকদার।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মোহাম্মদ শাহজাহান, বগুড়ার স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক রাজিয়া সুলতানাসহ আরও অনেকে।

এর আগে আইজিপি নবনির্মিত আদমদিঘী থানা ভবন উদ্বোধন করেন।


সড়কে থামছে না মৃত্যুর মিছিল, একদিনেই ঝরল ২৩ প্রাণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের সড়কগুলোতে মৃত্যুর মিছিল যেন থামছেই না। ফলে সড়কে দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর হার উদ্বেগজনক অবস্থায় রয়েছে। বেপরোয়া গতি, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অদক্ষ চালক ও ব্যবস্থাপনা-শৃঙ্খলার অভাবেই প্রতিদিন ঝরছে প্রাণ। শনিবারও (২৩ মে) দেশের ১১ জেলায় সড়কে প্রাণ গেছে ২৩ জনের। এদিন সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, যশোর, দিনাজপুর, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, ফরিদপুর, গাজীপুর, মানিকগঞ্জ, জয়পুরহাট ও খাগড়াছড়ি ও সিরাজগঞ্জে এসব দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্তারিত জানিয়েছেন দৈনিক বাংলার প্রতিনিধিরা।

কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার খোকসায় বালু বোঝাই ট্রাক ও যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ৫ জন নিহত হন এবং অনেকে আহত হন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কুষ্টিয়া থেকে পাংশাগামী একটি ড্রামট্রাকের সঙ্গে রাজবাড়ী থেকে কুষ্টিয়াগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষ হয়। এতে বাসটি উল্টে যায় এবং পুকুরে পড়ে।

স্থানীয় লোকজন হতাহতদের উদ্ধার করেন। তারা আহতদের খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। কিছু আহতকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। আহতদের মধ্যে ১০ থেকে ১৫ জনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

এছাড়াও কুষ্টিয়ায় স্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলিচাপায় আরিয়ান (৪) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আরিয়ান বাড়ির পাশে রাস্তায় খেলা করছিল। এসময় ধানবাহী একটি স্যালো ইঞ্জিনচালিত ট্রলি বেপরোয়া গতিতে এসে তাকে চাপা দেয়।

এতে আরিয়ান গুরুতর আহত হলে তাকে ২৫০ শয্যার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

যশোর: যশোরে কাভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশার সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন একজন। গতকাল দুপুরে যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়া এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন– অটোরিকশার যাত্রী ঘোড়াগাছা গ্রামের বৃষ্টি সাহা (২৪) তার ছেলে সৌভিক সাহা (৪), যশোর সদরের ঘুনি গ্রামের অটোরিকশার চালক আইয়ুব আলী (৪৩) ও চাউলিয়া গ্রামের আনোয়ার আলী (৭০)। এ ঘটনায় আহত হন অটোরিকশার যাত্রী মনিরামপুরের মোহনপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন (২৮)।

যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি মোহাম্মদ মাসুম খান স্থানীয়দের বরাত দিয়ে জানান, খুলনা থেকে আসা কাভার্ড ভ্যানটি বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চাউলিয়া পেট্রোল পাম্পের সামনে পৌঁছালে একটি অটোরিকশা ও ইজ্ঞিনচালিত ভ্যানের সঙ্গে ত্রিমুখী সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই আইয়ুব আলী ও বৃষ্টি সাহা মারা যান। অন্যদিকে যশোর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আনোয়ার আলী ও সৌভিক সাহা। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ যশোর সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

আহত সাজ্জাদ হোসেনের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

এদিকে দুর্ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ জনতা কাভার্ড ভ্যানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

দিনাজপুর: ঘোড়াঘাটে ট্রাক ও মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে ৩ জন নিহত হয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঘোড়াঘাট থানার ওসি শহিদুল ইসলাম।

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, শনিবার সকালে একটি মোটরসাইকেলে থাকা তিন জন আরহী রানীগঞ্জ বাজার থেকে মহাসড়কে উঠছিলেন। এসময় দিনাজপুরগামী একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের তিন আরোহী সড়কে ছিটকে পড়ে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন।

আহত অপর দুজনকে হাসপাতালে নেয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে পৌঁছানোর পর চিকিৎসক আরও একজনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মোট তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

ওসি আরও জানান, নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। তবে ঘাতক ট্রাক ও এর হেলপারকে আটক করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রাম :পটিয়ায় বাস চাপায় তাজলিম (১৭) ও সামি (১৬) নামে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় জয় (১৮) নামে আরেকজন আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে সাড়ে ১২টার দিকে পটিয়া আনসার ক্যাম্প এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, সকালে তিন বন্ধু মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হয়। পরে দুপুরে আনসার ক্যাম্প এলাকায় কক্সবাজারগামী একটি বাস তাদের মোটরসাইকেলকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হন। পরে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পথে আরেকজনের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর স্থানীয়রা বাসটি আটক করে হাইওয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

কুমিল্লা: চৌদ্দগ্রামে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে আলাদা সড়ক দুর্ঘটনায় নারীসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। গতকাল ভোরে উপজেলার হারিসদ্দার শিরিষ ফ্যাক্টরি এলাকায় এবং সকাল ৭টার দিকে পৌরসভার ডাকবাংলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মিয়াবাজার হাইওয়ে থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নাজিম আহমেদ। নিহতরা হলেন- উপজেলার ঘোলপাশা ইউনিয়নের ঈশানচন্দ্র গ্রামের মো. দিদারের স্ত্রী পান্না বেগম (৩৫) এবং নাম পরিচয় না জানা এক যুবক (৩৫)। যুবকের মরদেহ ফাঁড়িতে এবং পান্না বেগমের মরদেহ স্বজনরা বাড়িতে নিয়ে গেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোরে শিরিষ ফ্যাক্টরির শ্রমিক পান্না বেগম কাজে যোগ দিতে রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এসময় পেছন দিক থেকে আসা একটি অজ্ঞাত গাড়ি তাকে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

অপরদিকে সকাল ৭টার দিকে পৌরসভার ডাকবাংলা এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে অজ্ঞাতপরিচয়ের এক ভবঘুরে যুবককে একটি গাড়ি চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ফরিদপুর: ভাঙ্গায় দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় এক পথচারী (৪০) দুই ট্রাকের ড্রাইভারসহ চারজন আহত হয়েছেন। গতকাল সকাল বরিশাল-ফরিদপুর মহাসড়কে ভাঙ্গা উপজেলার চুমুরদী বাসস্ট্যান্ডে গাড়ির চাঁপায় পথচারী যুবক(৪০) নিহত ও অপর একই সড়কের পুর্বসদরদী এলাকায় ২টি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ ২ ড্রাইভার সহ ৪জন আহত হয়েছে।

খবর পেয়ে ভাঙ্গা ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ও হাইওয়ে থানা পুলিশ ট্রাক ২টি জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে।

এ বিষয় ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার এস,আই মামুন খাঁন জানায়, ভাঙ্গা উপজেলার পূর্ব সদরদী এলাকায় দুটি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই ট্রাকের চালক ও হেলপারসহ ৪ জন আহত হয়। তাদের ভাঙ্গা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অপরদিকে একই মহাসড়কের চুমুরদী বাসস্ট্যান্ডে এক পথচারীকে গাড়ি ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের নাম ঠিকানা পাওয়া যায় নাই।

গাজীপুর: কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের গোয়ালবাতান এলাকায় বাস, ট্রাক ও পিকআপের ত্রিমুখী সংঘর্ষে নাসির উদ্দিন নামের এক পিকআপ চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পিকআপের হেলপার গুরুতর আহত হয়েছেন।

মানিকগঞ্জ: শিবালয়ে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ট্রাকচাপায় পান্নু (৫০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। গতকাল দুপুরে উপজেলার বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত পান্নুর বাড়ি মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার টেপড়ী গ্রামে। তিনি মৃত শুকুর আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঢাকা থেকে ফিরতি একটি গরুবাহী ট্রাক বরঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে ফুটওভার ব্রিজের নিচে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা পান্নুকে চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা হাইওয়ে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে। ট্রাকটি জব্দ করা হলেও চালক পালিয়ে গেছে।

জয়পুরহাট: জয়পুরহাটে ট্রাকের চাপায় মাহফুজুল ইসলাম মাফু (৪৫) নামে এক এনজিওকর্মীর মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের শিল্পকলা একাডেমির পাশে নিজ বাড়ি থেকে মোটরসাইকেলযোগে কর্মস্থল দিনাজপুরের উদ্দেশে রওনা হন। এসময় প্রধান সড়কে পৌঁছালে একটি দ্রুতগামী ও নিয়ন্ত্রণহীন ট্রাক তাকে সজোরে চাপা দেয়। ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়।

জয়পুরহাট সদর থানার ওসি নূরে আলম সিদ্দিক জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। ঘাতক ট্রাকটি শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

খাগড়াছড়ি: দীঘিনালা উপজেলায় ব্যাটারিরিকশা ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে মো. সোহেল (২৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার দীঘিনালা-মেরুং সড়কের বেতছড়ি আর্মি ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এ সংঘর্ষে চারজন আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. সোহেলকে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত সোহেল উপজেলার মধ্য বেতছড়ি গোরস্থানপাড়া এলাকার বাসিন্দা।

দুর্ঘটনায় আহত বাকি তিনজন হলেন- সাদিয়া মনি, তাসলিমা খাতুন ও আব্দুল কাদির। তারা বর্তমানে দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহতদের সবার বাড়িও বেতছড়ি এলাকায় বলে জানা গেছে।

তাড়াশ(সিরাজগঞ্জ): কোরবানির পশুবাহী নসিমন উল্টে চালক আয়নাল হক (৫৭) নিহত হয়েছেন। গতকাল সকালে উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বস্তুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আয়নাল হক উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের সান্দ্রা গ্রামের বশির আহমেদের ছেলে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুল হান্নান জানান, সকালে আয়নাল গরু নিয়ে চান্দাইকোনা হাটে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। পথে বস্তুল এলাকায় পৌঁছালে সড়কের বড় গর্তে পড়ে গরুবোঝাই নসিমনটি উল্টে যায়। এতে চালক আয়নাল নসিমনের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই নিহত হন।

তাড়াশ থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে কল্যাণ বোর্ড ও ব্যাংকের ৩ কর্মচারী বরখাস্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৃত প্রবাসীর পরিবারের আর্থিক অনুদান মঞ্জুরির বিনিময়ে এবং ঋণ দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের দুই কর্মচারী ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের একজন পিয়নকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার (২৩ মে) বোর্ডের এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া কর্মচারীরা হলেন— ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের নিরাপত্তা প্রহরী মো. শফি উদ্দিন ও অফিস সহায়ক পলাশ চন্দ্র রায় এবং প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পিয়ন শামিম।

এ বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক বলেন, ‘রেমিট্যান্স যোদ্ধা প্রবাসী এবং তাদের পরিবারের সেবা প্রদানে দেশে এবং দূতাবাসে যেকোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।’

প্রবাসীদের সহযোগিতায় কোনো ধরনের গাফিলতি ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না উল্লেখ করে অন্যান্য কর্মকর্তাদেরও তিনি কঠোরভাবে সতর্ক করেন।


যৌন সহিংসতায় উদ্বিগ্ন, ১৫৬ সংগঠনের প্রতিরোধের ডাক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ধর্ষণের শিকার ১০ বছরের এক মেয়েশিশু প্রায় আড়াই মাসেও হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত মাদ্রাসা সুপারসহ তিনজন গ্রেপ্তার হলেও আসামিপক্ষ সমঝোতার জন্য চাপ দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে শিশুটির পরিবার।

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে শনিবার (২৩ মে) এক সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করেন শিশুটির বাবা। সাম্প্রতিক দেশের বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ, শিশু নির্যাতন, হত্যা ও যৌন সহিংসতা নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে ‘আমরাই পারি’, ‘পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধ জোট’, ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’সহ নারী ও শিশু অধিকার নিয়ে কাজ করা ১৫৬টি সংগঠন।

অনুষ্ঠানে ঢাকায় চিকিৎসাধীন কুষ্টিয়ার শিশুটির অবস্থা এবং মামলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তার বাবা। ভেড়ামাড়ার জামিলাতুন্নেসা মহিলা মাদ্রাসায় গত ১৫ মার্চ শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয় বলে অভিযোগ উঠে। পরে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। সেখানে বেশ কিছুদিন চিকিৎসার পর ফুসফুসের জটিলতার কারণে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে সে ঢাকার একটি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

সংবাদ সম্মেলনে মেয়েটির বাবা অভিযোগ করেন, মামলা হওয়ার পর পুলিশ মাদ্রাসার পরিচালক ও সুপার মাওলানা সাইদুর রহমান, তার স্ত্রী শামীমা খাতুন এবং নারীশিক্ষক রিশা খাতুনকে গ্রেপ্তার করে। আসামিপক্ষ এখন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানা প্রলোভন ও চাপ দিচ্ছে। সরকারদলীয় স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধির ভাই আপস প্রস্তাব দিয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন মেয়েটির বাবা।


অষ্টগ্রামে নদীভাঙন: গ্রাম ও সড়ক রক্ষায় এমপি ফজলুর রহমানের উদ্যোগে ড্রেজিং শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়ক ও নোয়াগাঁও গ্রামকে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষায় ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের উদ্যোগে মেঘনা নদীতে এ কার্যক্রম শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।

শনিবার (২৩ মে) দুপুরে উপজেলার বাঙালপাড়া ইউনিয়নের নাজিরপুর সংলগ্ন মেঘনা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে অষ্টগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহম্মেদ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতি বর্ষা মৌসুমে মেঘনা নদীর ভাঙনের কারণে নোয়াগাঁও গ্রাম ও বাঙালপাড়া-নোয়াগাঁও সড়কটি হুমকির মুখে পড়ে।

স্থানীয়দের দাবি, ভাঙনকবলিত এলাকার ঠিক বিপরীত পাশে মেঘনা নদীতে নতুন চর জেগে ওঠায় নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তিত হয়েছে। এর প্রভাবে গত এক থেকে দেড় বছরে অষ্টগ্রাম-নোয়াগাঁও সড়কের বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৩৫০ একর বোরো আবাদি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বলেও তারা জানান।

জানা যায়, প্রায় সাত বছর আগে ৪৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাঙালপাড়া থেকে নোয়াগাঁও পর্যন্ত সড়কটি নির্মাণ করা হয়। সম্প্রতি ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়কটির সংস্কারকাজ চলছিল। কিন্তু সংস্কারকাজ চলাকালে নদীভাঙনের তীব্রতায় সড়কের প্রায় এক কিলোমিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও ভাঙন রোধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় মেঘনা নদীতে ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাঈদ আহম্মেদ বলেন, “ড্রেজিং কার্যক্রম বাস্তবায়িত হলে নোয়াগাঁও গ্রাম, সড়ক ও আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা পাবে। এতে যোগাযোগব্যবস্থা সচল থাকার পাশাপাশি কৃষি ও জনজীবনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন মুকুল জানান, “বাঙালপাড়া বাজার, নোয়াগাঁও ও লাউড়া এলাকার ভাঙনের সঙ্গে হাওরাঞ্চলের তিন উপজেলার বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম জড়িত। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ফলে গ্রাম ও সড়ক রক্ষার পাশাপাশি স্বাভাবিক জনজীবন ফিরিয়ে আনা সম্ভব হচ্ছে।”

সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান বলেন, “অষ্টগ্রামের মানুষের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে। নদীভাঙন সমস্যার স্থায়ী সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে।”

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ভাঙনরোধে বালুভর্তি প্রায় ৮ হাজার বস্তা ফেলার কাজও চলমান রয়েছে। স্থানীয়দের আশা, ড্রেজিং ও প্রতিরোধমূলক অন্যান্য ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে নোয়াগাঁও গ্রাম, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীভাঙনের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাবে।


ঈদ উপহার পেলেন  ২৮ হাজার ৩৬৫ জন আনসার-ভিডিপির  সদস্য ও কর্মচারী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ঈদুল আযহা-২০২৬ উপলক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তাদের ভাতাভোগী সদস্য-সদস্যা ও কর্মচারীদের জন্য ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রমের আয়োজন করেছে। সদস্যদের কল্যাণ ও পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদার করার লক্ষ্যে গৃহীত এ উদ্যোগের সমাপনী অনুষ্ঠান শনিবার (২৩ মে) ঢাকার খিলগাঁওস্থ বাহিনীর সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

এই উদ্যোগের আওতায় দেশের ৬৪ জেলার ভাতাভোগী সদস্য-সদস্যা এবং ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীসহ মোট ২৮,৩৬৫ জনের মধ্যে ঈদ উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়। উপহারের প্যাকেটে ছিল পোলাউয়ের চাল, সেমাই, সুজি, গুঁড়া দুধ, নুডলস,চিনি, এবং বিভিন্ন ধরনের রান্নার মসলা। পবিত্র ঈদকে সামনে রেখে সদস্য ও কর্মচারীদের মাঝে আনন্দ ও সম্প্রীতির আবহ সৃষ্টি করতেই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক তাঁর বক্তব্যে বলেন, “সংস্কার পরিকল্পনা ২০৩৫ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমাদের সুসংগঠিত ও দৃঢ় প্রত্যয়ে এগিয়ে যেতে হবে। কোনো অবস্থাতেই যেন আমরা আমাদের নির্ধারিত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হই। পেছনে ফিরে তাকানোর সময় এখন নয়; বরং সামনের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন যে, আমাদের সক্ষমতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে এই অগ্রযাত্রা বহুগুণে ত্বরান্বিত হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে দায়িত্বশীল, কর্মনিষ্ঠ ও আত্মনিবেদিত হয়ে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপমহাপরিচালকবৃন্দসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ।

এ ধরনের কল্যাণমুখী উদ্যোগ বাহিনীর সদস্য ও কর্মচারীদের প্রতি প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা, সহমর্মিতা এবং মানবিক মূল্যবোধের উজ্জ্বল প্রতিফলন। সংশ্লিষ্টদের অভিমত, পবিত্র ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত এই উপহার বিতরণ কর্মসূচি সদস্যদের মাঝে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগির পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য, প্রেরণা ও কর্মউদ্দীপনা আরও সুদৃঢ় করবে, যা বাহিনীর সামগ্রিক মনোবল, ঐক্য ও কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।


চাপ নেই দৌলতদিয়া ঘাটে, সরাসরি ফেরিতে উঠছে গরুর গাড়ি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

আর মাত্র কয়দিন পরেই ঈদুল আযহা। এরই মধ্যে কোরবানির পশুবাহী ট্রাকের চাপ বাড়তে শুরু করেছে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার রাজবাড়ী জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ঘাটে। তবে পশুবাহী ট্রাকের চাপ বাড়লেও দীর্ঘ অপেক্ষা ও ভোগান্তি ছাড়াই সরাসরি ফেরির নাগাল পাচ্ছে পশুবাহী যানবাহনগুলো। এতে খুশি গরুর মালিক ও বেপারীসহ গাড়ির চালকরা। শনিবার (২৩ মে) দৌলতদিয়া ফেরি ঘাটে এমন চিত্র দেখা যায়।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট সূত্রে জানা গেছে, গত একদিনে এই ঘাট ব্যবহার করে নদী পারাপার হয়েছে ২ হাজার ৪১৩টি যানবাহন। এর মধ্যে যাত্রীবাহী বাস ৩১৩টি, পণ্যবাহী ট্রাক ৯৯৪টি, ছোট গাড়ি ৯৭৮টি ও ১২৮টি মোটরসাইকেল। এরমধ্যে গরুর গাড়ির সংখ্যা ছিল ৪৬৪টি।

কুষ্টিয়া থেকে ট্রাকে আসা গরুর ব্যবসায়ী মো. শুকুর আলি শেখ বলেন, পদ্মা সেতু হওয়ার পর থেকে ঘাটে কোনো দুর্ভোগ নেই। এ বছরও কোনো সিরিয়ালে আটকে থাকতে হয়নি, সরাসরি ঘাটে এসে ফেরিতে উঠতে পারছি। পদ্মা সেতু চালুর পর এ রুটে যানবাহনের চাপ কিছুটা কমলেও ঈদ মৌসুমে তা কয়েক গুণ বেড়ে যায়। তবে গরু নিয়ে আমাদের ঘাটে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছেনা।

ঝিনাইদহের আরেক ব্যবসায়ী বাবু সরদার বলেন, বিগত ২-৩ বছর যাবত ঘাটে দুর্ভোগ নেই। পদ্মা সেতু হওয়ার আগে দৌলতদিয়া ঘাটে দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে। ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে এই তীব্র গরমে অনেক গরু গাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এখন পদ্মা সেতু হওয়ায় ফেরিতে চাপ কম পড়ায় কোনো ধরনের দুর্ভোগ ছাড়াই ঝিনাইদহ থেকে সরাসরি দৌলতদিয়া ঘাটে আসতে পেরেছি এবং সময়মতো গরু ঢাকায় নিতে পারবো বলে আশা করছি।

বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট শাখার সহকারী মহা মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা থেকে আসা গরুবাহী ট্রাগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নদী পারাপার করা হচ্ছে। ঘাটে এসে তাদের অপেক্ষা করতে হচ্ছেনা। এছাড়াও গরুর গাড়ি সহ সকল যানবাহনেন নিয়াপত্তার জন্য প্রশাসন সহ আমরা সর্বক্ষণ নজরদারি করছি। বর্তমানে এ নৌপথে ছোট-বড় ১৫টি ফেরি দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে।

গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, পদ্মা সেতু হওয়াতে দৌলতদিয়া ঘাটে চাপ কমে গেছে। তারপরও আমরা ঘাট দিয়ে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।

তিনি বলেন, ঘাটে আসা পশুবাহী গাড়িগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যেন পার হতে পারে, ঘাটে এসে যেন অপেক্ষা করতে না হয় সে জন্য আমরা সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।

রাজবাড়ীর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদ জানান, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের গতিবিধি মনিটরিং ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। নদীপথে পশুবাহী ট্রলারের চলাচলে গোয়ালন্দ থানা পুলিশ, নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড যৌথভাবে দায়িত্ব পালন করছে। সড়কে নিরাপত্তায় হাইওয়ে পুলিশ কাজ করবে।


ডুমুরিয়ায় উত্তম কৃষি চর্চার উপরে কৃষক কৃষাণি প্রশিক্ষণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি

খুলনার ডুমুরিয়ায় পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে ‌ডি এল আর ১.২ এর আওতায় উত্তম কৃষি চর্চা GAP বাস্তবায়নের জন্য কৃষক‌ পর্যায়ে দিন ব্যাপী উত্তম কৃষি চর্চা GAP সার্টিফিকেশন বিষয়ক কৃষক প্রশিক্ষণ ডুমুরিয়া কৃষক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। ‌প্রশিক্ষনে‌ সভাপতিত্ব করেন ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মোঃ নাজমুল হুদা, প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খুলনা জেলা উপ পরিচালক মোঃ নজরুল ইসলাম।

প্রধান অতিথি বলেন, "বর্তমান বিশ্বে শুধু উৎপাদন বৃদ্ধিই শেষ কথা নয়, উৎপাদিত ফসল কতটা নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত, তা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উত্তম কৃষি চর্চা বা GAP (Good Agricultural Practices) অনুসরণের মাধ্যমে আমরা এমন ফসল উৎপাদন করতে চাই যা রাসায়নিক ও জীবাণুমুক্ত এবং মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।"

রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন: তিনি জোর দিয়ে বলেন, ডুমুরিয়ার উৎপাদিত সবজি ও ফলমূলের সুনাম দেশজুড়ে। যদি কৃষকরা GAP সার্টিফিকেশন লাভ করতে পারেন, তবে এই অঞ্চলের পণ্য খুব সহজেই ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্ববাজারে রপ্তানি করা সম্ভব হবে। এটি কৃষকদের ফসলের সঠিক মূল্য পেতে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বিপ্লব ঘটাবে।

পরিবেশ ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা: প্রধান অতিথি কৃষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, যত্রতত্র রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। GAP-এর নিয়ম মেনে সুষম সার এবং জৈব বালাইনাশক ব্যবহারের মাধ্যমে মাটির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করা সম্ভব।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) মো: তৌহিদীন ভূইয়া, বলেন

পার্টনার প্রোগ্রামের লক্ষ্য: তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের 'পার্টনার' (PARTNER) প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই হলো কৃষিকে আধুনিক, বাণিজ্যিক ও লাভজনক করা। ডিএলআর ১.২-এর মাধ্যমে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের সরাসরি প্রশিক্ষিত করে তোলার এই উদ্যোগ ডুমুরিয়ার কৃষি অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে। আপনারা শুধু ফসলের উৎপাদক নন, দেশের মানুষের স্বাস্থ্যের পাহারাদার। মাঠ থেকে ভোক্তার পাত পর্যন্ত প্রতিটি স্তরে সততা ও সঠিক পদ্ধতি বজায় রাখুন। প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান কেবল খাতায় কলমে না রেখে, আগামীকাল থেকেই নিজের জমিতে প্রয়োগ করুন এবং ডুমুরিয়াকে নিরাপদ কৃষির মডেল হিসেবে গড়ে তুলুন।" তিনি প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সকল কৃষককে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং এই কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিষ্ঠার সাথে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তাঁর বক্তব্য শেষ করেন।

খুলনা অঞ্চলের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার মোঃ মোছাদ্দেক হোসেন প্রধান আলোচক হিসাবে হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান করেন। বক্তব্যে ‌তিনি বলেন

“আপনারা মুখে শোনার চেয়ে নিজের চোখে দেখলে এবং নিজে হাতে করলে বিষয়টি সারাজীবন মনে থাকবে। উত্তম কৃষি চর্চা (GAP) কোনো কঠিন বিষয় নয়, এটি হলো নিয়ম মেনে সঠিক উপায়ে চাষাবাদ করা।

মাটিতে কখন, কতটুকু সার দেবেন, পোকা দমনে কখন বিষমুক্ত ফাঁদ ব্যবহার করবেন এবং কীটনাশক দেওয়ার কতদিন পর ফসল তুলবেন, কিভাব কিউআর কোড তৈরি করে ব্যবহার করবেন—এগুলো আপনাদের আজ আমি নিজে হাতে করে দেখালাম। আপনারা যদি এই নিয়মগুলো মাঠে সঠিকভাবে মানেন, তবেই আপনাদের ফসল 'নিরাপদ ফসল' হিসেবে স্বীকৃতি পাবে এবং আপনারা GAP সার্টিফিকেট পাবেন। এই সার্টিফিকেট থাকলে আপনাদের উৎপাদিত ফসল দেশের বড় বড় সুপারশপসহ বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।"

প্রশিক্ষক হিসেবে বক্তব্য দেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মোঃ হামিদুল ইসলাম। এক দিনের প্রশিক্ষণে ৩০জন কৃষক ও‌ কৃষাণি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন।


বোয়ালখালীতে ১৯ হাজার ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার দুই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বোয়ালখালী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পৌরসভার পূর্ব কালুরঘাটে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা থেকে প্রায় ৫৯ লাখ টাকার ইয়াবা উদ্ধার করেছে র‍্যাব-৭।

গত শুক্রবার (২২ মে) রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বসানো র‍্যাবের অস্থায়ী চেকপোস্টে অটোরিকশাটি (চট্টগ্রাম-থ-১৪-৬৪৩৬) ধরা পড়ে। এ সময় তল্লাশি চালিয়ে গাড়ির যাত্রীদের পেছনে মালামাল রাখার স্থানে একটি সাদা রঙের প্লাস্টিকের বাজারের ব্যাগে কালো রঙের স্কচটেপ মোড়ানো ১০টি নীল পলিজিপার প্যাকেটে ১৯ হাজার ৬০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় যাত্রী সিটে থাকা নগরীর চান্দগাঁও কে বি আমান আলী রোডের জালাল আহমদ সওদাগর বাড়ির মৃত কালা মিয়ার ছেলে বাদশা মিয়া (৪৭) এবং কক্সবাজার জেলার উখিয়া বালুখালী রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের বাসিন্দা মৃত আব্দুল শুক্করের মেয়ে তাহেরা বেগম শমসিদাকে (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

থানার ওসি মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তার দুইজন ও জব্দ করা ইয়াবা ট্যাবলেট থানায় সোপর্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে। তাদের গতকাল শনিবার আদালতে পাঠানো হয়েছে।’


ঈদযাত্রার শুরুতেই সড়কে প্রাণহানি: ৫ জেলায় ১২ জনের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নাড়ির টানে প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদ উদযাপনের উদ্দেশ্যে বাড়ি ফেরার শুরুতেই দেশের বিভিন্ন স্থানে বিষাদের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার রাজধানী থেকে ট্রেন, সড়ক ও নৌপথে ঘরমুখো মানুষের ব্যাপক চাপ বাড়ার পাশাপাশি দেশের পাঁচটি জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কুষ্টিয়া, দিনাজপুর, যশোর, ফরিদপুর ও গাজীপুরে এসব প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ঘরমুখো মানুষের চাপে সড়কগুলোতে যানবাহনের সংখ্যা ও গতি বেড়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কুষ্টিয়ার খোকসায় যাত্রীবাহী বাস ও ড্রাম ট্রাকের সংঘর্ষে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কুষ্টিয়া-রাজবাড়ী মহাসড়কে একটি বাস খাদে পড়ে চারজন নিহত এবং অন্তত ২০ জন আহত হন। নিহতদের মধ্যে ১৫ বছর বয়সী কিশোরী রাফিয়া এবং ২৮ বছর বয়সী যুবক নাবিল রয়েছেন; বাকি দুজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। অন্যদিকে, দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে রানীগঞ্জ বাজারে ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে তিন আরোহীর মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন কাইয়ুম মিয়া, সৈকত ও আলামিন। পুলিশ ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করার পাশাপাশি ট্রাকের হেলপারকে আটক করেছে।

যশোর সদর উপজেলার চাউলিয়া এলাকায় ইজিবাইক, ভ্যান ও কাভার্ডভ্যানের ত্রিমুখী সংঘর্ষে এক নারীসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন। খুলনা থেকে যশোরগামী একটি দ্রুতগতির কাভার্ডভ্যান নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অপর দুটি যানবাহনকে ধাক্কা দিলে ইজিবাইক চালক আইয়ুব আলী ও যাত্রী বৃষ্টি সাহা ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর আনোর আলী নামের আরও এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়। এই দুর্ঘটনায় চার বছর বয়সী এক শিশুসহ আরও দুইজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। নওয়াপাড়া হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে যানবাহনের অতিরিক্ত গতির কারণেই এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে।

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মহাসড়ক পার হতে গিয়ে বাসের চাপায় খোকন ব্যাপারী নামের ৪৮ বছর বয়সী এক পথচারী প্রাণ হারিয়েছেন। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের চুমুরদী এলাকায় দ্রুতগতির একটি বাস তাকে চাপা দিয়ে পালিয়ে যায়, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হাইওয়ে পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ঘাতক বাসটি শনাক্তের চেষ্টা চালাচ্ছে। এদিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে মালবাহী ট্রাকের পেছনে একটি পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় নাসির উদ্দিন নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এই দুর্ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং ঘাতক পিকআপ ভ্যানটি দুমড়ে-মুচড়ে গেছে বলে নাওজোর হাইওয়ে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঈদযাত্রার প্রথম দিনেই সড়ক দুর্ঘটনায় এতগুলো প্রাণ ঝরে যাওয়ায় ঘরমুখো মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রতিটি দুর্ঘটনাস্থল থেকেই হাইওয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘাতক যানবাহনগুলো জব্দের প্রক্রিয়া শুরু করেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা সত্ত্বেও দ্রুতগতিতে গাড়ি চালানো এবং অসতর্কভাবে মহাসড়ক পারাপার হওয়ার কারণে এসব প্রাণহানি ঘটছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে গিয়ে এমন অকাল মৃত্যু রোধে চালক ও পথচারী উভয়ের মধ্যে বাড়তি সতর্কতা ও ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ জরুরি হয়ে পড়েছে।


banner close