ঢাকা জেলার কেরানীগঞ্জে এক কিশোরীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে দায়ের মামলায় তিন জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।
মঙ্গলবার ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪ এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
ঢাকা জেলার কোর্ট ইন্সপেক্টর আকতার হোসেন বাসস’কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, মো. সজিব, মো. রাকিব ও শাওন ওরফে ভ্যালকা শাওন। এছাড়া লাশ গুমের ঘটনায় তাদের তিনজনকে সাত বছর করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
এদিকে আলী আকবর ও মো. রিয়াজ নামে দুজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাদের খালাস দিয়েছেন আদালত।
রায় ঘোষণার আগে কারাগারে থাকা তিন আসামি রাকিব, রিয়াজ এবং শাওনকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে দণ্ডিত রাকিব এবং শাওনকে সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। দণ্ডিত সজিব পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের ১১ জুন কেরানীগঞ্জ মডেল থানাধীন আঁটিবাজার এলাকায় পুলিশ টহল দিচ্ছিলো। ডিউটি চলাকালে সকাল পৌনে ৮টার দিকে জরুরি সেবা ৯৯৯ এর মাধ্যমে সংবাদ পায়, কেরানীগঞ্জ মডেল থানার পশ্চিম বামনসুর জামে মসজিদের সামনে পুকুরের পানিতে একজনের লাশ পানিতে ভাসছে। পুলিশ সেখানে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় পুলিশ মামলা দায়ের করে। তদন্ত শুরু করে পুলিশ। প্রথমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ভিকটিমের বান্ধবী বৃষ্টি আক্তার সাক্ষী হিসেবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে জানায়, এটা তার বান্ধবী মারিয়ার লাশ। পরে পুলিশ শাওনকে গ্রেফতার করে। শাওন আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। সেখানে জানায়, তিনিসহ মো. রাকিব, মো. সজিব, মো. আলী আকবর মিলে ভিকটিম মারিয়াকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পশ্চিম বামনসুর জামে মসজিদের পানিতে ফেলে রাখে। পরে রাকিব এবং সজিব গ্রেফতার হয়। তারাও একই কথা বলে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
২০২৩ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পাঁচ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপ-পরিদর্শক অলক কুমার দে। মামলার বিচার চলাকালে ১৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেন।
‘ভ্যাপসা গরম আর তীব্র লোডশেডিংয়ে গ্রামের নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বস্তি দিতে হাতপাখাই একমাত্র ভরসা। আধুনিক প্রযুক্তির প্রভাবে বিলুপ্তপ্রায় ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প তালপাতার পাখা। তবে বর্তমান সময়ে অসহনীয় গরমে স্বস্তিদানকারী তালপাখার দাম ও কদর দুটোই বেড়েছে।
চাঁচকৈড় বাজারে তালপাখা বিক্রেতা রায়হান আলী জানান, তালপাতা, বাঁশের কঞ্চি ও সুঁই-সুতা হলো পাখার উপকরণ। প্রথমে তালপাতা গাছ থেকে সংগ্রহ করে পাতা তিন-চার ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখতে হয়। পানি থেকে তুলে রোদে শুকাতে হয়। এরপর ধারালো দেশীয় অস্ত্রে কেটে পাতাকে পাখার মতো আকার দেওয়া হয়। পরে তা সুতার সাহায্যে বাঁধাই করা হয়। এরপর হাতল ও পাখার বাড়তি অংশ কেটে ফেলে রং করলেই তা বিক্রির উপযোগী হয়ে ওঠে।
তিনি আরও জানান, শ্রমিক মজুরি, তালপাতা সংগ্রহ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বাধাই ও রংকরণ মিলে একটি পাখা তৈরিতে খরচ হয় ১৫ থেকে ২০ টাকা। একজন কারিগর সারাদিনে ২০ থেকে ৩০টি পাখা তৈরি করতে পারেন। আকার ও মানভেদে প্রতিটি পাখা বিক্রি হয় ২০ থেকে ৫০ টাকা। পাখা বিক্রির আয়ে চলে সংসার।
গুরুদাসপুর রোজী মোজাম্মেল মহিলা কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান মাজেম আলী বলেন, ‘আজকাল প্লাস্টিক ও বৈদ্যুতিক পাখা, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি আধুনিক সামগ্রীর বাজারে তালপাখা হারিয়ে যাচ্ছিল। তবে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ মানুষ এখন নতুন করে পরিবেশবান্ধব তালপাখাকে ঠাণ্ডার পরশ হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। সুদিন ফিরেছে তালপাখার। তবে কাঁচামালের সংকট ও মুনাফা কম হওয়ায় পেশা বদলে ফেলছেন তালপাখার কারিগররা। যারা এখনো এ পেশায় আছেন তাদের অবস্থা ভালো নয়। এ কারু শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি।’
লোকসংস্কৃতি সংশ্লিষ্টদের মতে, যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কারিগরদের প্রশিক্ষণ, সহজ ঋণ সুবিধা এবং বাজারজাতকরণের উদ্যোগ নেওয়া হলে তালপাতার হাতপাখা আবারও দেশীয় হস্তশিল্প হিসেবে নতুন পরিচয় পেতে পারে। অন্যথায় বাংলার হাজার বছরের এই ঐতিহ্য অচিরেই শুধু বইয়ের পাতায় আর স্মৃতিচারণেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বেগম রোকেয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক শাহনাজ বেগম বলেন, ‘বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে এ পাখার একটা বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। এ পাখাকে ঘিরে অসংখ্য শ্লোক, কবিতা ও গান রচিত হয়েছে। গ্রামবাংলার অতি পরিচিত প্রবাদ-‘‘তালের পাখা প্রাণের সখা, শীতকালে হয় না দেখা, গরমকালে হয় যে দেখা।’’ এ ছাড়া রোমান্টিক গান- ‘‘তোমার হাতপাখার বাতাসে প্রাণ জুড়িয়ে আসে, আরও কিছু সময় তুমি থাকো আমার পাশে।’’ গ্রামীণ ঐতিহ্যের ধারক এ তালপাখাশিল্পকে বাঁচিতে রাখতে হবে আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের জন্য।
ইতিহাস বলছে, ভারতীয় উপমহাদেশে তালপাতা ও প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি হাতপাখার ব্যবহার দুই হাজার বছরেরও বেশি পুরোনো। আবহমান বাংলার ঐতিহ্যময় ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ এই তালের পাখা। তালপাতার পাখা শুধু গরম নিবারণের উপকরণ নয়, ছিল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অংশ। ঘামে ভেজা কপালে মায়ের হাতের এই পাখার বাতাস ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে দামি এবং শান্তির স্পর্শ। বাংলার লোকশিল্পের এক অনন্য নিদর্শন এই পাখা।
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং বিশিষ্ট কবি সুফী মোতাহার হোসেনের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আত্মসমালোচনা ও একক নাটক পরিবেশনা অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সন্ধ্যায় ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের পাশাপাশি কবি সুফী মোতাহার হোসেনের সাহিত্যকর্ম ও স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
ফরিদপুর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি প্রফেসর আলতাফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও সমাজসেবক অধ্যাপক এম.এ সামাদ, সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি প্রফেসর আব্দুল হামিদ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মফিজ ইমাম মিলন, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল, সিনিয়র সাংবাদিক পান্না বালা, কবি শামিম আরা বেগম, নাঠ্যকার ম.আহমেদ নিজাম, বিনোদন নাট্যদলের সভাপতি তন্ময় সরকার অনচল, কবি আলিম আল রাজি,কবি আব্দুর রাজ্জাক রাজাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিনোদন নাট্যদলের একক নাটক ‘নটনন্দন” পরিবেশনা। একজন নাট্যকর্মী জীবন নিয়ে করা এই নাটকে একক চরিত্রে অভিনয় করবেন তন্ময় সরকার অঞ্চল।
আয়োজকরা জানান, ফরিদপুরের সাহিত্য-সংস্কৃতির চর্চাকে আরও সমৃদ্ধ করা এবং নতুন প্রজন্মের মাঝে সাহিত্য ও নাট্যচর্চার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করাই এ ধরনের আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের ছত্রছায়ায় মনিরুল ইসলাম কবির মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা বিএনপি ও যুবদলের নেতারা।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) সকালে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ তুলে ধরেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বোরহানউদ্দিন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান কবির, উপজেলা যুবদলের সভাপতি মো. শিহাব উদ্দিন হাওলাদার, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মো. আব্দুর রব হাওলাদার এবং পৌর যুবদলের সভাপতি মো. হেলাল মুন্সি।
লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, ‘উপজেলার বড়মানিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আবুল হোসেনের ছেলে মনিরুল ইসলাম কবির প্রায় সাত বছর আগেও ট্রাকচালকের পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।’ একই সঙ্গে বড়মানিকা ইউনিয়নে তিনি একটি বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও দাবি করেন বিএনপি নেতারা।
তাদের প্রশ্ন, ‘মাত্র সাত বছরে একজন ট্রাকচালক কীভাবে শত শত কোটি টাকার মালিক হলেন?’ এ বিষয়ে কবিরের আয়ের উৎস অনুসন্ধানের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), গোয়েন্দা সংস্থা এবং প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তদন্তের আহ্বান জানান তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মনিরুল ইসলাম কবির। তিনি বলেন, ‘বড়মানিকা ইউনিয়নে ৩০ শতাংশ জমির ওপর আমি বাড়ি নির্মাণ করেছি। আমার বিরুদ্ধে আনা মাদক ব্যবসার অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।’
নিজের সম্পদের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এসব প্রশ্নের উত্তর আপনাকে নয়, প্রয়োজনে আমি দুদককে দেব।’
মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি গ্রামে ঝোপের পাশ থেকে সম্প্রতি মরদেহ উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত নারীর ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বিগত ১৯ আগস্ট শিবচর থানার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি খান বাড়ী দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসার পাশে বিল্লাল শিকদারর জমির ঝোপের পাশে অজ্ঞাত নারীর মরদেহ পরে থাকার খবর পেয়ে তা উদ্ধার করেছিল শিবচর থানা পুলিশ। পরে তারা মৃত ওই নারীর নাম শম্পা খাতুন (২৮) বলেও পরিচয় শনাক্ত করে পুলিশ। শনাক্তের পরে তারা তার পরিবারের লোকজনকে খবর দিলে নিহত শম্পা খাতুনের পিতা নাটোর জেলার লালপুর থানার আট্রিকা গ্রামের ছামরুল ইসলাম শিবচর থানায় উপস্থিত হন।
তিনি জানান, তার বড় মেয়ে শম্পা খাতুনের তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড়মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সাথে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক বছর বয়সি একটি ফুটফুটে পুত্রসন্তানও রয়েছে। গত ১৯ আগস্ট গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে তিনি তার মেয়ের মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শিবচর থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশকে জানান, তার এক বছরের নাতি আবিরও নিখোঁজ রয়েছে। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট নিহতের পিতা ছামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহউদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে শিবচর থানা পুলিশ ও র্যাব-৮ মাদারীপুরের একটি যৌথ দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় শিবচর ও রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সন্দেহভাজন আসামি ফারুক, পিতা রতন মোল্লা, স্থায়ী ঠিকানা জয়সোমা, থানা ও উপজেলা তেরখাদা, জেলা খুলনা বর্তমান ঠিকানা বাখরেরকান্দি, মাদবরচর, শিবচর, মাদারীপুরের বাসা তল্লাশি করে তাকে আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক ভিকটিমের শিশুপুত্র আবিরকে (১) আড়িয়ালখাঁ নদীর উপরের ব্রিজ থেকে নদীতে ফেলে দিয়ে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে। নদীতে নিখোঁজ শিশুটির লাশ উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাদারীপুর শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সালাহ উদ্দিন কাদের জানান, এটি একটি ক্লুলেস হত্যা মামলা ছিল। স্ত্রী ও নিখোঁজ শিশুকে হত্যার বিষয়টি স্বীকারোক্তি দেওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে আরও একটি হত্যা মামলা হবে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেছেন, ‘বর্তমানে বঙ্গভবনের ভেতরে তিনটি মাজার ও একটি মসজিদ রয়েছে। এই মাজার জিয়ারত এবং মসজিদে নামাজ আদায় করা ছাড়া স্বাধীনভাবে রাষ্ট্রপতির কোনো কাজ করার সাংবিধানিক সুযোগ নেই। আমরা আশা করি, আগামী দিনে সংসদ বসলে রাষ্ট্রে ক্ষমতার ভারসাম্য আসবে।’
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে অলি আহমদ বলেন, ‘মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আমাদের দীর্ঘদিনের কর্মজীবন একসাথে কেটেছে। আপনার কাছ থেকে আমরা অনেক ভালো কিছু আশা করি। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে দেশের কল্যাণে কাজ করবেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’
নিজের নির্বাচনি মূল্যায়ন তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাকে যারা সমর্থন জুগিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
টেকনাফে কোস্ট গার্ডের মাদকের বিরুদ্ধে পৃথক দুইটি অভিযানে ২৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ চারজন মাদক কারবারি আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান।
তিনি বলেন, কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন নোয়াপাড়া সংলগ্ন নাফ নদীতে গত ১৯ আগস্ট ২০২৬ বুধবার রাত ১০ টায় কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট শাহপরী কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালীন মায়ানমার হতে বাংলাদেশে প্রবেশকালে সন্দেহজনক ১ টি কাঠের বোটে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ কোটি টাকা মূল্যের ২০ হাজার পিস ইয়াবা ও পাচারকাজে ব্যবহৃত বোটসহ তিনজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
অপরদিকে, কক্সবাজারের টেকনাফ থানাধীন শীলবুনিয়া পাড়ায় একই দিন রাত ৮ টায় কোস্ট গার্ড স্টেশন টেকনাফ কর্তৃক গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আরও একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা মূল্যের ৫ হাজার পিস ইয়াবাসহ একজন মাদক কারবারিকে আটক করা হয়।
জব্দকৃত ইয়াবা, বোট এবং আটককৃত মাদক কারবারিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভয়াবহ মাদকের বিস্তার রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে।
রোহিঙ্গারা পরিবেশ ধ্বংস, মাদক পাচার, চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত এবং এর পাশাপাশি অর্থনীতির ওপরও বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে বলে মন্তব্য করেছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) মিরপুর সেনানিবাসের ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে তিন সপ্তাহব্যাপী ক্যাপস্টোন কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ৩৭ জন ফেলোর হাতে সনদপত্র তুলে দেন সেনাপ্রধান।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দেশের পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। এর পাশাপাশি মাদক পাচার, চোরাচালানসহ নানা ধরনের অপরাধের সঙ্গেও তারা জড়িত।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ফেলোদের মধ্যে ছিলেন সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, সামরিক কর্মকর্তা, চিকিৎসক, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার সিনিয়র প্রতিনিধি, কূটনীতিক, সাংবাদিক এবং করপোরেট প্রতিনিধি।
সীমান্ত সমস্যা, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিভিন্ন ইস্যু, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কোর্সে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বিনিময় করেছেন।
এর ফলে নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে তারা আরও সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি দেশের এসব সমস্যা সমাধানে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখতে পারবেন বলেও মন্তব্য করেন সেনাপ্রধান।
অনুষ্ঠানে রোহিঙ্গা সংকটকে টাইম বোমার সঙ্গে তুলনা করে মৌলভীবাজার–৩ আসনের সংসদ সদস্য এম নাসের রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে। যেকোনো সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে এই ইস্যুটি।
তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের স্পৃহা শুধু ব্যক্তিগত কর্মসংস্থান বা চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের জ্ঞান ও মেধাকে জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনার সঙ্গে যুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘শুধু বিদ্যমান চাকরির জন্য দক্ষ জনশক্তি তৈরি করাই যথেষ্ট নয়; নতুন চাকরি সৃষ্টি এবং কর্মসংস্থানের বাজার সম্প্রসারণ করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এর মূল ভিত্তি অর্থনীতি, শিল্পনীতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর নির্ভর করে। তাই তরুণদের নিজেদের দক্ষ করার পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক মূল চিত্র অনুধাবন করতে হবে।’
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ফ্রম স্কিল টু অপরচুনিটি’ শীর্ষক চাকরি মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বেসরকারি সংস্থা ইকো সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও), ‘চোরগউসান ফর চিল্ড্রেন’ ও ‘এডুকো’-এর সহায়তায় এই মেলার আয়োজন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় নীতির সুফলের উদাহরণ টেনে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে দক্ষিণ কোরিয়া থেকে প্রযুক্তি ও জ্ঞান এনে বাংলাদেশের জনশক্তিকে পোশাকশিল্পের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছিল। উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি ও ব্যাংক ঋণসহ প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তার মাধ্যমেই আজকের পোশাক খাতের বড় ভিত্তি তৈরি হয়। একজন রাষ্ট্রনায়কের সঠিক নীতিগত সহায়তার সুফল পুরো অর্থনীতিতেই ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রযুক্তি ও নতুন চাহিদার কথা উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের সীমিত ভৌগোলিক পরিসরে বিপুল জনসংখ্যার জন্য শুধু প্রথাগত চাকরির ওপর নির্ভর করলে চলবে না। জাতীয় স্বার্থে তরুণদের দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার পাশাপাশি শিল্প, প্রযুক্তি ও উৎপাদনের নতুন নতুন ক্ষেত্র প্রস্তুত করতে হবে।
তিনি তরুণদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়ে বলেন, ক্যারিয়ার গড়ার পাশাপাশি ক্যারিয়ারের লক্ষ্য যাতে জাতীয় স্বার্থমুখী হয়, সে বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে। নতুবা ব্যক্তি সাফল্য আসলেও তা রাষ্ট্রের কল্যাণে কাজে আসবে না।
এ সময় তিনি আয়োজক সংস্থা ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে কারিকুলাম তৈরির সময় তরুণদের নৈতিকতা, ফিলোসফি এবং বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে সম্যক ধারণা দেওয়ার আহ্বান জানান।
এডুকো বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর আব্দুল হামিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী এবং ইএসডিও-এর নির্বাহী পরিচালক ড. মো. শহিদ উজ জামান।
মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার হাত ধরে বিদেশে গিয়েছিলেন মোহাম্মদ ফরিদ। এরপর হারিয়ে যান জীবনের ঘূর্ণাবর্তে। মানবপাচারের শিকার হয়ে এক দেশ থেকে আরেক দেশে ঘুরেছেন। চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে হারিয়েছেন দুই পা। কেটেছে দীর্ঘ ২৫ বছর। এ সময় পরিবার ধরে নিয়েছিল, ফরিদ হয়তো আর বেঁচে নেই।
কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হয়েছে। দীর্ঘ ২৫ বছর পর দেশে ফিরেছেন ফরিদ। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) আশকোনায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষে তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এখন তার একমাত্র অপেক্ষা কক্সবাজারের উখিয়ায় বৃদ্ধ মা নূরজাহান বেগমের সঙ্গে দেখা করা।
ফরিদের ছোট ভাই সৈয়দ আলম বলেন, ‘আমরা ধরে নিয়েছিলাম, ফরিদ আর বেঁচে নেই। কিন্তু এত বছর পর তাঁকে ফিরে পেয়ে আমরা ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। কক্সবাজারে আমাদের বৃদ্ধ মা বড় ছেলের অপেক্ষায় আছেন। আমরা গরিব মানুষ। জানি না কী হবে। তবে আমরা আমাদের ভাইকে নিয়ে থাকব।’
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম জানায়, প্রায় ২৫ বছর আগে বাবার সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে যান ফরিদ। পরে তারা পৌঁছান পাকিস্তানে। সেখানে জীবিকার সন্ধানে কাজ করার সময় চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন তিনি। চিকিৎসকদের তার দুই পা কেটে ফেলতে হয়।
শারীরিক প্রতিবন্ধকতার সুযোগ নিয়ে এক মানবপাচারকারী তাকে ইউরোপে পাঠানোর প্রলোভন দেখায়। এরপর পাকিস্তান থেকে ইরান হয়ে তুরস্কে পৌঁছান ফরিদ। কিন্তু ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন আর পূরণ হয়নি।
তুরস্কের সমুদ্রতীরে পানি বিক্রি করে প্রায় ১৪ বছর কাটিয়েছেন তিনি। অনিয়মিত অভিবাসী হিসেবে সেখানে বসবাসের সময় দেশটির পুলিশ তাকে তিনবার আটক করে ক্যাম্পে রাখে। সর্বশেষ গ্রেপ্তারের পর তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
গত ১৮ আগস্ট ভোর সোয়া ৫টার দিকে টিকে-৭১২ ফ্লাইটে তুরস্ক থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান ফরিদ। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকার কারণে স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে পারছিলেন না তিনি। নিজের ও বাবা-মায়ের নাম এবং ‘উখিয়া, কক্সবাজার’—এই তথ্যটুকু ছাড়া তেমন কিছু বলতে পারছিলেন না।
বিমানবন্দরের এভসেক সিকিউরিটি তাকে পাওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে আশকোনা মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে হস্তান্তর করে। এরপর ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের কর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের সহায়তায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার মরিচ্যা পালং ইউনিয়নের নাছির পাড়ায় তার পরিবারের সন্ধান পান।
পরিবারের সন্ধান পাওয়ার পর গত বুধবার বিকেলে ভিডিও কলে ফরিদের সঙ্গে তার ছোট ভাই সৈয়দ আলমের কথা বলিয়ে দেওয়া হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর পর ভাইয়ের কণ্ঠ শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা।
কথোপকথনের একপর্যায়ে ফরিদের হাতে ছয়টি আঙুল থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সৈয়দ আলম। ছোটবেলার এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যই ফরিদের পরিচয় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হয়ে ওঠে।পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ফরিদের বাবা আয়ুব আলী এখনো পাকিস্তানে রয়েছেন।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন অ্যান্ড ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, ‘গত আট বছরে বিমানবন্দরে আমরা ৪১ হাজার প্রবাসীকে সহায়তা দিতে পেরেছি। এর মধ্যে ফরিদের মতো ১৬৪ জন প্রবাসীকে তাদের পরিবারের কাছে নিরাপদে হস্তান্তর করতে সক্ষম হয়েছি। ১৭ কোটি মানুষের দেশে কাউকে খুঁজে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া কঠিন কাজ। কিন্তু সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষ, প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও ব্র্যাকের সমন্বিত উদ্যোগে এমন অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘শুধু পরিবারের কাছে ফেরানো নয়, ফরিদের জন্য দীর্ঘমেয়াদে আরও কিছু করতে চাই, যাতে তিনি ঘুরে দাঁড়াতে পারেন।’
ওয়েজ আর্নার্স ওয়েলফেয়ার বোর্ডের রেইজ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ও সরকারের যুগ্ম সচিব এ টি এম মাহবুবুল করিম বলেন, ‘মোহাম্মদ ফরিদের ঘটনা যে কাউকে স্পর্শ করবে। আমরা তার পাশে থাকব।’
শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীরা বিভিন্ন সময়ে নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন। এ ধরনের পরিস্থিতিতে প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে। ফরিদের মতো জটিল ও মানবিক ঘটনায় ব্র্যাক পাশে থাকায় এমন একটি মানবিক পুনর্মিলনের সাক্ষী হওয়া সম্ভব হয়েছে।
সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা এ কে এম রাসেল বলেন, ‘আমি দুই বছর ধরে বিমানবন্দরে কাজ করছি। আজকের এই পুনর্মিলন দেখে এবং এই প্রক্রিয়ার অংশীদার হতে পেরে নিজেকে সৌভাগ্যবান মনে করছি।’
দীর্ঘ ২৫ বছরের অন্ধকার পেরিয়ে অবশেষে আপন ঠিকানায় ফিরেছেন ফরিদ। এখন তার সামনে একটাই পথ উখিয়ার নাছির পাড়ায় ফিরে মায়ের মুখোমুখি হওয়া। যে মা এত বছর ধরে বড় ছেলের ফেরার আশায় দিন গুনেছেন, এবার সেই অপেক্ষার শেষ হতে চলেছে।
কলকাতায় হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৯ বাংলাদেশি নিহত হওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, তাদের ব্যাপারে যা যা করার আছে, তা নিশ্চয়ই করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সচিবালয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর হাইকমিশনার সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় নিউমার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশুসহ ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এই ঘটনার বিষয়ে হাইকমিশনার বলেন, ‘খুব দুঃখের কথা। এ ব্যাপারে যা যা করার আছে, আমরা নিশ্চয়ই করব।’
সেখানে কোনো গাফিলতি ছিল কি না, ঘটনার তদন্ত করা হবে কি না—সাংবাদিকরা এসব বিষয় জানতে চাইলে দীনেশ ত্রিবেদী কোনো উত্তর দেননি।
পরে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, এটি ছিল সম্পূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাৎ। ভারতে বাংলাদেশি নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ আমি ওঠাইনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘উনারা আমাদের প্রধানমন্ত্রীকে দাওয়াত দিয়েছেন, এটা শুধু বলেছেন। তারা আশা করছেন তিনি যাবেন।’
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃতী সন্তান ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বিকেলে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন তিনি।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে নেমে আসে আনন্দের জোয়ার। জেলা বিএনপির কার্যালয়সহ বিভিন্ন এলাকায় নেতাকর্মী ও সমর্থকরা আনন্দ মিছিল, মিষ্টি বিতরণ ও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেকেই একে ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য ঐতিহাসিক ও গর্বের মুহূর্ত উল্লেখ করেন।
জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন মুঠো ফোনে বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়া ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য অত্যন্ত গর্ব ও আনন্দের। তার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ত্যাগের স্বীকৃতি হিসেবে এ অর্জনকে আমরা দেখছি।
জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. পয়গাম আলী বলেন, প্রিয় নেতা রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবরে ঠাকুরগাঁও আনন্দে ভাসছে। তার নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা ও অভিজ্ঞতায় দেশ আরও সমৃদ্ধ হবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
পৌর বিএনপির সভাপতি মো. শরিফুল ইসলাম শরীফ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শুধু বিএনপির নেতা নন। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের গর্ব। তার রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের মর্যাদা আরও উজ্জ্বল হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও প্রেস ক্লাবের সভাপতি লুৎফর রহমান মিঠু বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের একজন কৃতী সন্তান রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নির্বাচিত হয়েছেন এটি নিঃসন্দেহে জেলার মানুষের জন্য আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তার নতুন দায়িত্বে সফলতা কামনা করছি।
জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ অর্জনে পুরো ঠাকুরগাঁও আজ আনন্দিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় তিনি যে অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞা অর্জন করেছেন, তা রাষ্ট্র পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমরা আশাবাদী।
এদিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর ঠাকুরগাঁও জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলায় মিষ্টি বিতরণ, আনন্দ মিছিল এবং নেতাকর্মীদের পরস্পরকে শুভেচ্ছা জানাতে দেখা গেছে।
কলেরা প্রতিরোধে আগামী শনিবার (২২ আগস্ট) থেকে শুরু হচ্ছে ‘প্রিভেন্টিভ ওরাল কলেরা ভ্যাকসিনেশন ক্যাম্পেইন-২০২৬’। আগামী ২২ আগস্ট থেকে ২১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রথম ডোজ এবং ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ডোজ টিকা দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অডিটরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে এ ক্যাম্পেইনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
এ কর্মসূচির আওতায় সারাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ ১৪টি উপজেলা ও থানায় টিকা দেওয়া হবে। সম্পূর্ণ সুরক্ষার জন্য ১৪ দিনের ব্যবধানে দুটি ডোজ গ্রহণ করতে হবে। এক বছর বা তার বেশি বয়সি সব নাগরিককে (গর্ভবতী নারী ছাড়া) বিনামূল্যে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এই টিকা খাওয়ানো হবে। এ কর্মসূচিতে সারা দেশে মোট ৫১ লাখ ৭৫ হাজার মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিএসসিসির আওতাধীন লালবাগ, গেন্ডারিয়া, কদমতলী ও কামরাঙ্গীরচর থানার ১৭টি ওয়ার্ডের ১৯২টি কেন্দ্রে প্রায় ১১ লাখ ৭০ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়া হবে। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) শেরেবাংলা নগর, খিলক্ষেত ও তেজগাঁও এবং মুন্সীগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নির্দিষ্ট এলাকাতেও এ কর্মসূচি পরিচালিত হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্বে কলেরায় গ্রাম উজাড় হয়ে যেত। বর্তমানে রোগটি নিয়ন্ত্রণে এলেও সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের কারণে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। জাতীয় সব টিকাদান কর্মসূচির মতো এ ক্যাম্পেইন সফল করতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করছি।’
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ভূমিকারও প্রশংসা করেন।
ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘পুরান ঢাকাসহ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় সফলভাবে ইপিআই কার্যক্রম বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা রয়েছে আমাদের। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ১৭টি ওয়ার্ডে কলেরা টিকাদান ক্যাম্পেইন সফল করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
প্রসঙ্গত, ভাইবরিও কলেরা জীবাণুর সংক্রমণে হওয়া কলেরা প্রতিরোধে মুখে খাওয়ার এই টিকা ব্যবহার করা হয়। টিকাটি রোগের তীব্রতা কমাতে সহায়তা করে এবং কয়েক বছর পর্যন্ত সুরক্ষা দিতে পারে। টিকাদানের পাশাপাশি নিরাপদ পানি পান ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব শেখ মোমেনা মনি, ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান, ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ পিটার জর্জ এল মাইস, ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশীদ মোহামেদ, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির মহাসচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, আইসিডিডিআর,বির সিনিয়র সায়েন্টিস্ট ড. ফিরদৌসী কাদরী এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজীপুর মহানগরের সদর এলাকার কাউলতিয়ায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, জননিরাপত্তা জোরদার ও মাদক নির্মূলে কাউলতিয়া পুলিশ ক্যাম্প উদ্বোধন করা হয়েছে ।
ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে সদর মেট্রো থানাধীন মাস্টারবাড়ী বাস স্ট্যান্ড এলাকায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকালে নতুন ক্যাম্পটির শুভ উদ্বোধন করা হয়।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত পুলিশ কমিশনার মো. ইসরায়েল হাওলাদার। তিনি ফিতা কেটে ক্যাম্পটির উদ্বোধন করেন।
পরে তিনি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তিনি স্থানীয়দের বিভিন্ন সমস্যা ও পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে শোনেন এবং অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করার আশ্বাস প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার বলেন, এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং মাদক ও ছিনতাইয়ের মতো সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরো বলেন, গাজীপুর মহানগরীর সদর মেট্রো থানা থেকে এই এলাকা দূরবর্তী হওয়ায় অনেক সময় তাৎক্ষণিক পুলিশি সহায়তা পৌঁছাতে বিলম্ব হতো। এখন আশা করা যায় পুলিশ যে কোন ঘটনা ঘটার সাথে সাথে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘটনার ছেলে পৌঁছে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন মহানগরীর সালনা থেকে রাজেন্দ্রপুর চৌরাস্তা পর্যন্ত এলাকাগুলোতে সাম্প্রতিক সময়ে ছিনতাই ও বিভিন্ন অপরাধমূলক তৎপরতা বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল এ অঞ্চলে স্থায়ী পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থার।
স্থানীয়দের এই দাবি প্রেক্ষিতে গাজীপুর-২ আসনের সংষদ সদস্য এম. মঞ্জুরুল করিম রনি ও মহানগর পুলিশ কমিশনার ইসরায়েল হাওলাদারের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এই ক্যাম্পটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। নতুন এই পুলিশ ক্যাম্পের মাধ্যমে সালনা, পোড়াবাড়ী, কাউলতিয়া, মাস্টারবাড়ী ও এর আশেপাশের এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশ আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, জিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন জোনের উপপুলিশ কমিশনারবৃন্দ, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং সাংবাদিকবৃন্দ।