বাংলা বর্ষবিদায় ও বরণ উৎসবে মাতোয়ারা পার্বত্য চট্টগ্রাম। আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদের জলে ভাসল বিজুর ফুল।
শনিবার সকালে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে রাঙ্গামাটিতে শুরু হয়েছে বৈসাবি’র মূল আয়োজন। পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই উৎসব ১৯ এপ্রিল মারমা জনগোষ্ঠীর জলকেলি’র মাধ্যমে শেষ হবে পাহাড়ের বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা।
২৯ চৈত্র ১২ এপ্রিল শনিবার সকালে হ্রদের জলে গঙ্গা দেবীর আরাধনায় ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে পাহাড়ে শুরু হয়েছে বৈসাবি’র মূল আনুষ্ঠানিকতা। বিভিন্ন সম্প্রদায় বিভিন্নভাবে দিনটি উদযাপন করে থাকে। তবে এটি ‘ফুল বিজু’ নামে বেশি পরিচিত। রাঙামাটির শহরের গর্জনতলী মধ্যম দ্বীপে কাপ্তাই হ্রদের জলে গঙ্গা দেবীর আরাধনায় ফুল ভাসিয়ে এর উদ্বোধন করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার।
পূর্ণময় এই দিনে দেশ ও দশের মঙ্গল কামনা করছেন পাহাড়িরা। সবেমাত্র পূর্ব আকাশে উঁকি দিয়েছে সূর্য। তার লাল আভা ছড়িয়ে পড়েছে হ্রদের বুকে। সেই ভোরে নানা বয়সি মানুষ ফুল নিয়ে জড়ো হতে থাকে ঘাটে। ডালায় থাকা রক্তজবা, রঙ্গণ গাদাসহ নাম না জানা বুনো ফুল কলা পাতায় সাজাতে ব্যস্ত সবাই। উদ্দেশ্য গঙ্গা দেবীর আরাধনার হ্রদের জলে ফুল নিবেদন। এ উৎসবে নারীরা পরিধান করেছে বাহারি রঙের পিনোন হাদি আর ছেলেরা ধুতি, পাঞ্জাবি/ফতুয়া। দেখে মনে হবে হ্রদের পাড়ে বসেছে রঙের মেলা। পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বৃহত্তম এই সামাজিক উৎসবে ব্যস্ত প্রতিটি পল্লী। বাংলাবর্ষ বিদায় ও বরণ উপলক্ষে ত্রিপুরারা বৈসুক, মারমারা সাংগ্রাই, চাকমারা বিজু, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু ও অহমিয়ারা বিহু- এভাবে ভিন্ন ভিন্ন নামে উদযাপন করে। যা বৈসাবি নামে বেশি পরিচিত। পানিতে ফুল ভাসানোর মধ্যদিয়ে পুরানো বছরের সব গ্লানি, হিংসা, বিভেদ নদীর জলে ভেসে যাবে। আর নতুন বছর বয়ে আনবে সুখ শান্তি ও সমৃদ্ধি- এমন প্রত্যাশায় রাঙামাটি শহরের গর্জনতলী, রাজবিহার ঘাট, কেরানী পাহাড়ঘাট সহ, বিভিন্ন এলাকায় ভাসানো হয় বিজুর ফুল।
গর্জনতলী ঘাটে ফুল ভাসাতে আসা অমিয় ত্রিপুরা বলেন, ‘সকালে ফুল সংগ্রহ করে ঘর সাজিয়ে এখন ফুল ভাসাতে এসেছি। ফুল ভাসনোর মধ্যে দিয়ে পুোনো বছরের দুঃখ বেদনা গ্লানি পানিতে ভাসিয়ে দিলাম এবং নতুন বছর যেন সুন্দর হয়।’
রাজ বনবিহার ঘাটে ফুল ভাসিয়ে শ্রাবণী চাকমা বলেন, এটি পার্বত্য অঞ্চলের ঐহিত্যবাহী সামাজিক উৎসব। হ্রদে ফুল ভাসিয়ে গঙ্গা দেবীর কাছে প্রার্থনা করেছি, ‘আগামী বছরটা যেন আরও সুখশান্তিতে কাটাতে পারি। পার্বত্য এলাকাসহ সারা বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠা হউক’।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কৃষিবিদ কাজল তালুকদার। বলেন, ‘আজকের এই পবিত্র দিনে কাপ্তাই হ্রদে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্যে ফুল ভাসিয়ে প্রার্থনা করেছি। আমরা যাতে সম্প্রীতির মধ্যদিয়ে সকল জাতিগোষ্ঠী একসঙ্গে বসবাস করতে পারি।’
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘পার্বত্য জেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বসবাস। সবার মাঝে সম্প্রীতি অটুট থাকুক। আর আগামী দিনগুলোতে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় এগিয়ে যাক প্রিয় বাংলাদেশ, এটাই আমাদের একমাত্র প্রার্থনা। এসময় অন্যান্যর মধ্যে রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিব উল্লাহ,ত্রিপুড়ার কল্যান ফাউন্ডেশনের উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা প্রীতি কান্তি ত্রিপুড়া, ত্রিপুরা কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি শংকর ত্রিপুরা উপস্থিত ছিলেন।
রাজ বনবিহার ঘাটে কাপ্তাই হ্রদের জলে হ্রদের জলে গঙ্গা দেবীর উদ্দেশ্য ফুল বাসিয়ে এর উদ্বোধন করেন রাঙামাটির সাবেক সাংসদ উষাতন তালুকদার। তিনি বলেছেন, পাহাড়ে বসবাসরত সকল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীদের জন্য আজকের দিনটি বিশেষ একটি দিন। কারণ এদিন থেকেই নতুন বছরকে বরণ করে নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এই ফুল ভাসানোটা এখন সম্প্রীতির উৎসবে রুপ নিয়েছে। সবাই একসঙ্গে একত্রিত হয়ে ফুল নিবেদন করে প্রার্থনা করে। আজকের দিনে আমাদের চাওয়া হলো, আগামী দিনেগুলোতে যাতে সবাই মিলেমিশে সুখ-শান্তিতে বসবাস করতে পারি।
এসময় অন্যান্যর মধ্যে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, চাংক্রান-২০২৫ উদযাপন কমিটির সভাপতি সাবেক উপ সচিব প্রকৃতি রঞ্জন চাকমাসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈসাবীর আমেজ পুরো জেলা জুড়ে সাজ সাজ রব।
নওগাঁর এক বীর মুক্তিযোদ্ধাকে তাঁর শহরের বসতবাড়ী থেকে উচ্ছেদ করতে দীর্ঘ ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছেন এক স্বনামধন্য আইনজীবি। একের পর মামলা দিয়ে হাফিজুর রহমান নামের ঐ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারকে নাস্তানাবুদ করা হচ্ছে অভিযোগ করে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন। এ ছাড়াও তাঁর গ্রাম বগুড়া জেলার ছাতিয়ানগ্রামে দুটি পৃথক জমি ক্রয় করে সমুদয় মূল্য পরিশোধ করেও তাঁকে জমি রেজিষ্ট্রি করে দেয়া হয়নি। এতে তিনি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছেন।
নানা রকম হুমকি ধামকি দিয়ে জীবন অতিষ্ট করে তোলা হয়েছে বলে তিনি আতঙ্কিত জীবন অতিবাহিত করছেন। তিনি জানান নওগাঁ শহরের উকিলপাড়া স্লুইচগেইট সংলগ্ন জনৈক ডাক্তার আলমগীর হোসেনের পুত্রের নিকট থেকে একটি বাসা ক্রয় করে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। প্রতবেশী এ্যাডভোকেট আব্দুল গফুর তার এই ক্রয় দলিলের বিরুদ্ধে পেমশন মামলা করেন। এ ব্যাপারে তিনি কেন আইনী সুবিধা পাননি। প্রতিপক্ষ আইনজীবি হওয়ার কারনে নওগা এবং বগুড়া কোন আদলতেই তার পক্ষে আইনি সহযোগিতা দেয়ার জন্য আইনজীবি তার পক্ষে দাঁড়াইনি।
তিনি জানান এক পর্যায়ে জোরপূর্বক তাঁর বাসার এক অংশ ভেঙ্গে এবং দখল করে দেয়াল তোলা হয়েছে। এতে হাফিজুর রহমান ও তার পরিবার ঐ অংশে থাকা ল্যাট্টিন এবং টয়লেট ব্যাবহার করতে পারছেন না। দীর্ঘদিন স্ত্রী পুত্র কন্যাদের নিয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন।
তিনি জানান তিনি বাদী হয়ে নওগাঁ ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে ২৫/০৩ শুন্য মামলা দায়ের করেন। হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে তা খারিজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।
এর পর তার বিরুদ্ধে ৩৭৮৮/০৮ সিভিল রিভিশন মোকদ্দমায় তার পক্ষে ২ জন আইনজীবি নিযুক্ত থাকলেও তারা হাজির হননি।
তিনি তিলকপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে ডিশ অপারেটিং ব্যাবসা করতেন৷ বিগত ছাত্রলীগের নেতার ছত্রচ্ছায়ায় পুরো ব্যবসা দখল করে নেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের নিকট এ ব্যাপারে অভিযোগ করে কেন সুবিচার পাননি। বরং এ সময় তাকে মেরে রক্তাক্ত করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। এসব ডিশ সংযোগ থেক তার পাওনা ৩০ লক্ষ টাকা তাকে পরিশোধ করা হয়নি। এতে তিনি মারাত্মকভাবে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি বলেন আমি একজন শুধু মুক্তিযোদ্ধা না মুক্তিযোদ্ধা পরিচালক। যে আকাংখায় মুক্তিযুদ্ধ করে দেশকে স্বাধীন করেছি। তা হয়নি। এই আকাংখা বাসৃতবায়নের পথে অন্তরায় প্রশাসনের যারা দায়ী তাদের তিনি বিচার দাবী করেন। তিনি তাঁর উপর ঘটে যাওয়া অন্যায়ের বিচার না পওয়ায় দায়ী ডিসি,এসপি,ইউএনও বিচারকদের ফাঁসি দাবী করেছেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র ৫ দিন বাকী। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে নরসিংদী জেলার সর্বত্র টার্গেট কিলিং এবং অবৈধ আগ্নিয়াস্ত্রের ব্যবহার আশঙ্কাজনক হারে বেড়েই চলেছে। প্রতিনিয়ত জেলার কোথাও না কোথাও খুনের ঘটনা ঘটছে। এলাকার আধিপত্য বিস্তার, বালি মহল নিয়ে বিরোধ, রাজনৈকিতক এবং ব্যক্তিগত শক্রতাকে কেন্দ্র করে একের পর এক হত্যাকান্ড ঘটেই চলেছে। এতে করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে চরম উদ্বেগও আতংঙ্ক বিরাজ করছে। অপর দিকে প্রতিনিয়িত খুনের ঘটনা ঘটায় এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মধ্যে নিরাপত্তার অভাব এবং পাশা-পাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও গভীর শঙ্কা তৈরী করছে।
২০২৪ সালের ৫ আগষ্টের পর থেকে ২০২৬ সালের ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৭ মাস ১১ দিনে বিভিন্ন কারনে নরসিংদী জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ১৫৪ খুন হয়েছে। ফলে জেলার ৫টি নির্বাচনী এলাকায় প্রার্থী এবং সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে এবং পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নরসিংদীতে অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আইনশংঙ্খলা বাহিনীর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাচনে আগে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়ায় লুট হওয়া অস্ত্র উদ্বার ও অপরাধী চক্র দমনে জোর দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের আগে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই নরসিংদী জেলা কারাগার হামলা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন আনসার উল্লাহ বাংলা টিমের ৯ সদস্যসহ সর্ব মোট ৮২৬ জন কারাবন্ধি পালিয়ে যায়। এ সময় কারাগার থেকে ৮৪টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ৭ হাজারেরও বেশি গোলাবারুদ লুট হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পলাতক কারান্দিদের মধ্যে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন গ্রেফতার মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৬৪৪ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত ১৫১ জন পলাতক রয়েছে। পাশাপাশি লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে ৫৯টি অস্ত্র উদ্ধার হলেও ২৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৫ হাজারেরও বেশী গোলাবারুদ এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
গত ১০ ডিসেম্বর নরসিংদী সফরে আসেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব:) মো: জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় তিনি বলেন নরসিংদীর বিভিন্ন এলাকায় এখনো বিপুল পরিমাণ অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে। বিশেষ করে রায়পুরা এলাকায় অস্ত্রের আধিপত্য বেশী। এগুলো উদ্ধার দ্রæত কম্বিং অপারেশন চালানো হবে। কিন্তু এখনো পর্যন্ত পুলিশ একটি অস্ত্রও উদ্ধার করতে পারেনি।
নরসিংদী-৫ রায়পুরা আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুল বলেন, রায়পুরাতে বিভিন্ন এলাকায় এখনো পর্যন্ত বহু সংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র সন্ত্রাসীদের হাতে রয়েছে। নির্বাচন করা এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তার পরও আল্লাহর উপর ভরষা রেখে সাহস নিয়ে নির্বাচনী প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। তবে আমরা অত্যন্ত সর্তক রয়েছি ইনশাল্লাহ। নরসিংদী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল-ফারুক বলেন, সাম্প্রতিক হত্যাকান্ডগুলো মূলত: বালি মহল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, এলাকার আধিপত্য বিস্তার এবং মাদক নিয়ে নিজেদের মধ্যে স্বার্থের দ্বন্ধ হয়েছে। তবে নির্বাচনের আগে টার্গেট কিলিং নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশ কি ব্যবস্থা নিচ্ছে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, টার্গেট কিলিং প্রতিরোধ করা কঠিন হলেও পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। তবে বিচারহীনতা এবং দীর্ঘ শক্রতার কারনে অপরাধীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, পুলিশ ও র্যাব এর পাশাপাশি ১৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। তারা নরসিংদী জেলার ৫টি আসনে কাজ করবে। এছাড়া জেলা কারাগার থেকে পালিয়ে যাওয়া বন্দি এবং লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শীতের বিদায়ী সময়েও মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তীব্র শীতপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এক অঙ্কের তাপমাত্রা ও ঘন কুয়াশার কারণে শহর ও গ্রামাঞ্চলে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সকাল থেকে রাস্তাঘাটে মানুষের উপস্থিতি কমে গেছে, কর্মজীবী মানুষেরা পড়ছেন চরম দুর্ভোগে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টায় শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সর্বনিম্ন ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে। এর আগে গত শুক্রবার এখানে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র কর্মকর্তা আনিসুর রহমান বলেন, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৬টায় ৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘন কুয়াশা ও তীব্র ঠান্ডার কারণে সকাল থেকেই রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল কমে গেছে। আরও কয়েকদিন পর শীতের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে।
তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চা-শ্রমিকরা। বিদ্যাবিল চা-বাগানের নারী শ্রমিক কল্পনা নায়েক বলেন, ‘এই শীতের মধ্যে চা-বাগানে কাজ করতে খুব কষ্ট হয়। তবুও জীবিকার তাগিদে কাজ করতে হয়। আমাদের জন্য শীতবস্ত্র সহায়তা খুব প্রয়োজন।
এদিকে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসনিম বলেন, ‘প্রতিদিন সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া, হাঁপানি ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্করা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।’ পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহার এবং শিশু ও বয়স্কদের প্রতি বিশেষ যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় দ্রুতগামী মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা লেগে দুই কিশোরের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও এক কিশোর গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। নিহত ও আহত তিনজনই স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।
জানা যায়, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের তিন বন্ধু- রহমত উল্লাহ (১৪), সাহাবী হোসেন (১৪) ও সাইফ হোসেন (১৪), দৌলতখালী মাদ্রাসা মোড়ে প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট শেষে সকাল ৯টার দিকে মোটরসাইকেলযোগে বাড়ি ফেরার পথে দৌলতখালী হাজীপাড়া এলাকায় পৌছালে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে থাকা একটি বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে।
এতে ঘটনাস্থলেই রহমত উল্লাহ ও সাহাবী হোসেন গুরুতর আহত হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দুজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে গুরুতর আহত সাইফ হোসেনের অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।
নিহতরা হলেন- দৌলতপুর উপজেলার দৌলতখালী চৌহদ্দিপাড়া গ্রামের হেকমত উল্লাহর ছেলে রহমত উল্লাহ (১৪) এবং একই এলাকার আমিনুল ইসলামের ছেলে সাহাবী হোসেন (১৪)। আহত সাইফ হোসেন ওই এলাকার জিয়ার আলীর ছেলে।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত দুই কিশোরকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। আহত একজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আরিফুর রহমান বলেন, দ্রুতগতির মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বৈদ্যুতিক খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই কিশোর নিহত হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেনের প্রয়াণে সমগ্র জেলায় গভীর শোকের আবহাওয়া বিরাজ করছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মরহুমের রুহিয়ার বাসভবনে যান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেখানে উপস্থিত হয়ে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং কিছুক্ষণ নীরবতা পালন করে মরহুমের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানান। সশরীরে উপস্থিত থাকাকালীন সংবাদমাধ্যমের উদ্দেশ্যে সরাসরি কোনো বক্তব্য না দিলেও এর আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক শোকবার্তায় তিনি রমেশ চন্দ্র সেনের বিদেহী আত্মার শান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন।
আজ শনিবার সকালে দিনাজপুর জেলা কারাগারে বন্দি অবস্থায় রমেশ চন্দ্র সেন আকস্মিক অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। কারাগার সূত্রে জানা গেছে যে, সকালে নাস্তা সেরে গোসলের প্রস্তুতি নিতে ওয়াশরুমে যাওয়ার সময় তিনি হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যান এবং সেখানে কর্তব্যরত সদস্যরা দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৬ আগস্ট রুহিয়ার নিজ বাড়ি থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলায় ঠাকুরগাঁও ও পরবর্তীতে দিনাজপুর জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন এই প্রবীণ রাজনীতিবিদ।
১৯৪০ সালের ৩০ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রুহিয়া ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করা রমেশ চন্দ্র সেন রংপুর কারমাইকেল কলেজের ছাত্র ছিলেন। রাজনৈতিক জীবনে তিনি পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ভূমিকার কথা স্মরণ করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত হওয়ার মাধ্যমে তাঁর সর্বশেষ সংসদ সদস্য পদের অবসান ঘটেছিল। আজ তাঁর প্রয়াণে জেলার সর্বস্তরের মানুষের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বগুড়ার সারিয়াকান্দির ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের জোড়গাছা পূর্বপাড়া মরহুম পাচু প্রামাণিকের বাড়িগামী সড়কটি পাকা হওয়ায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও চলাচলের দুর্ভোগ থেকে অবশেষে মুক্তি পেয়েছে এলাকাবাসী। বর্ষা মৌসুম এলেই পানিতে তলিয়ে যেত এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, রোগী বহনকারী যানবাহন ও কৃষিপণ্য পরিবহনে চরম ভোগান্তির শিকার হতেন স্থানীয়রা।
সড়কটি জলবদ্ধ থাকায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হতো। অনেক সময় হাঁটুসমান পানির মধ্যে দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হতো এলাকাবাসীকে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে অবশেষে সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
ভেলাবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ড সদস্য মহিদুল হাসানে ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ও এডিপি-৪ এর নির্মাণকাজের আওতায় সড়কটি উঁচু করে পাকা করা হয়েছে। ফলে এখন আর সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কে পানি জমে থাকবে না।
স্থানীয় আব্দুল ওয়ারেছ, হযরত আলী, মাফুসহ অনেকে জানান, নতুন সড়ক নির্মাণের ফলে তাদের দৈনন্দিন চলাচল অনেক সহজ হয়েছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের দুর্ভোগ কমেছে উল্লেখযোগ্যভাবে। তারা দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।
স্থানীয়দের আশা, এ ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকলে গ্রামীণ জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
ইউপি সদস্য মহিদুল হাসান জানান, বর্ষাকালে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি ঢুবে যেত। স্থানীয়রা শ্যালো মেশিন বসিয়ে সড়কের পানি সেচ দিয়ে সড়ক পারাপার করতেন। সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সড়কটির প্রায় ২০০মিটার সিসি ঢালাই করা হয়েছে। বাদ বাকি সড়ক নির্মাণের জন্যে ইউপি চেয়ারম্যান ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানিয়েছেন তিনি।
সরকারের নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ। দেশের বাজারে বর্তমানে ২৮টি প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে এলপিজি বিক্রির সাথে যুক্ত থাকলেও, সাম্প্রতিক সংকটের মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫টি কোম্পানি বাজারে গ্যাস সরবরাহ করছে। এর মধ্যে ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, ইউনিগ্যাস এবং ফ্রেশ এলপিজি অন্যতম।
বাজারে খুচরা ব্যাবসায়ীরা বলেন, বাজারে এখন গ্যাস নেই বললেই চলে। যে দু-একটি কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, আমাদেরই কিনতে হচ্ছে ১৫৫০ টাকায়, আর বিক্রি করতে হচ্ছে ১৬০০ টাকায়। কিন্তু এখানেও বিপদ আছে। অনেক ক্রেতা অতিরিক্ত দামে কিনে ভোক্তা অধিকার দপ্তরে অভিযোগ করেন। তখন ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের জরিমানা করেন। অথচ এখানে আমাদের কোনো দোষ নেই, কারণ কেনাই বেশি দামে।
গ্যাস সংকটের এই সময়ে বাজারে ইলেকট্রিক বা বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত রান্নার কাজ সেরে নেওয়া যায়। বিক্রেতারাও নিশ্চিত করেছেন যে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি বহুগুণ বেড়েছে।
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত মুনাফাকারী খুচরা বিক্রেতারা রসিদ (মেমো) চাইলে সিলিন্ডার নেই বলে সরবরাহ করতে অস্বীকৃতি জানান, যা সিন্ডিকেটের কারসাজির ইঙ্গিত দেয়।
ভেড়ামারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডা. গাজী আশিক বাহার বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর দেশজুড়ে নিয়মিত তদারকি ও অভিযান পরিচালনা করছে। ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩৫৬ টাকা নির্ধারণ করা হলেও অনেক ডিলার ও খুচরা বিক্রেতা তা অমান্য করে অধিক মূল্যে বিক্রি করছে, যা রোধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অতিরিক্ত মূল্যে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রয় করলে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের নিকট অভিযোগ জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভোক্তাদের সচেতনতা এবং নিয়মিত এই তদারকি সরকার নির্ধারিত মূল্যে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
হবিগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসনের ইসলামিক ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী ব্যতিক্রমী প্রচারণার মাধ্যমে ভোটারদের মনোযোগ আকর্ষণ করছেন।
সম্প্রতি মাধবপুর উপজেলার শাহপুর বাজারে আয়োজিত একটি পথসভায় তিনি সুর করে গজল পরিবেশন করেন এবং উপস্থিত কয়েকশ মানুষ তার সাথে কণ্ঠ মিলিয়ে গেয়ে ওঠেন, “আজরাঈল আসিয়া যখন হস্তে দিবা দড়ি, তখন আমার মনা ভাই খরবা লুকালুকি আমি জানিলাম না গো, আমার মরণের কত দিন বাকি?”গজলের গাম্ভীর্য শেষ হতেই তিনি অত্যন্ত বিনীত ও শান্ত কণ্ঠে জনতার উদ্দেশ্যে আবেদন জানিয়ে বলেন, ‘ভাইজান, বাজান ভোটটা দিয়েনও।’ এতে উপস্থিত জনতার মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর তিনি আরও ঘোষণা দেন, “এমপি অইলে মাধবপুরে ফ্রি ওয়াজ।” এই ব্যতিক্রমী ভোট প্রার্থনার দৃশ্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ভাইরাল হয়েছে।
পথসভায় তাহেরী তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী এজেন্টদের হুমকির অভিযোগও তুলেন। তিনি ভোটারদের কাছে দোয়া চেয়ে আরও ১১টি পথসভা করার পরিকল্পনা জানান এবং পরে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, হবিগঞ্জ-৪ সংসদীয় আসন চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৪৫ হাজার ২৭২ জন। এই আসনে মোট ৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মূল আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এসএম ফয়সল এবং ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী মো. গিয়াস উদ্দিন তাহেরী।
অন্যান্য প্রার্থীরা হলেন খেলাফত মজলিসের আহমদ আবদুল কাদের, বাসদের মো. মুজিবুর রহমান, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. রেজাউল মোস্তফা, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন, মুসলিম লীগের শাহ মো. আল আমিন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী ও এসএ সাজন।
নাটোরের লালপুরে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পরস্পরের বিরুদ্ধে হামলার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ তুলেছেন। এতে দুই পক্ষের অন্তত ১৩জন আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। হামলার প্রতিবাদে তাৎক্ষণিক স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার সমর্থকরা বিক্ষোভ মিছিল করে।
স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপু দাবি করেন, গত শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে কচুয়া বাজারে গণসংযোগ চলাকালে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় ধানের শীষের সমর্থকরা। এ সময় তিনটি মোটরসাইকেল ভাংচুর করা হয়। এতে তার ১০ সমর্থক আহত হন, যাদের মধ্যে ৭ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অপরদিকে, নাটোর ০১ আসনের বিএনপি প্রার্থী ফারজানা শারমিন পুতুলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হারুনুর রশিদ পাপ্পু জানান, আরবাব ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের কচুয়া নির্বাচনী অফিসে তাদের কয়েকজন সমর্থক বসেছিল। এ সময় সালামপুর থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর এক থেকে দেড়শ সমর্থক কচুয়া বাজারে এসে মিছিল শুরু করে। মিছিলটি ধানের শীষের অফিস অতিক্রম করার সময় হামলা চালিয়ে অফিস তছনছ করে। এ সময় ধানের শীষের প্রার্থী ও তারেক রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়। হামলায় ধানের শীষের তিন সমর্থক আহত হয়।
নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতে খায়ের আলম বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপির প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। ঘটনা জানার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়েছে। স্থানীয় জনগণ একজনকে আটকে রেখেছিল, তাকে পুলিশ আটক করে নিয়ে এসেছে। আটককৃত ওই ব্যক্তি স্বতন্ত্র প্রার্থী তাইফুল ইসলাম টিপুর সমর্থক। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
কক্সবাজারের টেকনাফ হোয়াইক্যং সীমান্তে মিয়ানমারের গুলিতে গুলিবিদ্ধ তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী হুজাইফা সোলতানা আফনান ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে লাইফ সাপোর্টে মৃত্যু হয়েছে। ২৭ দিন চিকিৎসার পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) মারা গেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চাচা শাখাওয়াত।
এই খবরে পুরো পরিবার ও এলাকায় নেমেছে গভীর শোক, হৃদয়বিদারক কান্না ও উৎকণ্ঠার ছায়া।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে নয়টার ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে আইসিইউতে মৃত্যু হয়।
চাচা শাখাওয়াত জানান, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আর ঢাকার নিউরো সায়েন্স হাসপাতালে আইসিইউতে ২৭ দিন চিকিৎসা চালিয়ে গেল ও গুলি বের করা যায়নি এ কারণে আল্লাহর কাছে চলে গেছে। যদি সরকার গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা করতে আমার হুজাইফাকে বাঁচানো যেত। সবাই দোয়া করবেন হুজাইফার জন্য।
হুজাইফার বাড়িতে চলছে শোকের মাতম, মা-বাবা, দাদি, ফুফু ও আত্মীয় স্বজনরা অজান্তেই কান্নার আবেশে ভেসে যাচ্ছেন। মা সুমাইয়া আক্তার কয়েক মিনিট অন্তর অন্তর বিলাপ করছেন, একমাত্র মেয়ের কথা বলতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতেই বলেন, ‘ও আমার কলিজার পুতুনি, একবার মা বলে ডাক।’ চোখের জল সামলাতে না পেরে তিনি হুজাইফার বই হাতে ধরে কেঁদে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৩ জানুয়ারি কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের তেচ্ছা ব্রিজ এলাকায় মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে আহত হয় হুজাইফা আফনান। ৯ বছর বয়সী শিশুটি লম্বাবিল গ্রামের জসীম উদ্দিনের মেয়ে এবং লম্বাবিল হাজী মোহাম্মদ হোসেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী।
ঢাকায় শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার দাবিতে আন্দোলনরত নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিতের দাবিতে নওগাঁয় মানববন্ধন ও সড়ক অবোরধ করে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় শহরের মুক্তির মোড় শহীদ মিনারের সামনের সড়কে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখার ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুক্তির মোড় প্রধান সড়কের একপাশ অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে যান চলাচল বিঘ্নিত হয়ে যানজট সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা ব্যানার-ফ্যাস্টুন হাতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। প্রায় ৩০মিনিট পর অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখার আহ্বায়ক আরমান হোসেনের সভাপতিত্বে সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক মেহেদী হাসান ও সংগঠক রাফিউল বারী রাজন, সহকারী মুখপাত্র নাইম হাসানসহ অন্যরা বক্তব্য রাখেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনার পতনের পরেও দেশে আগ্রাসন বন্ধ হয়নি। ভারতীয় অপশক্তির সকল শেকড় উপড়ে ফেলা হবে ভারতীয় আগ্রাসনকে রুখে দিতে হবে। যেখানে পুলিশ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার কথা সেখানে পক্ষপাত করে কর্মসূচীতে অন্যায় ভাবে হামলা করে গুলি চালিয়ে সাধারন ছাত্রদের মারধর করা হয়েছে। হাদি হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে আন্দোলন চালিয় যাওয়ার ঘোষণা দেয় তারা।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন নওগাঁ জেলা শাখার আহ্বায়ক আরমান হোসেন বলেন, ‘শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনায় জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিচার দাবিতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার চরাঞ্চল গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নে জামালপুর গ্রামে কিশোর গ্যাংয়ের আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে যৌথ বাহিনী। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টা থেকে ভোর পর্যন্ত জামালপুর গ্রামে পরিচালিত এই অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযানটি পরিচালিত হয় স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার ও পুলিশের তালিকাভুক্ত ‘নৌডাকাত’ নয়নের ছেলে নীরবের বসত বাড়িতে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সদরদপ্তর ৯৯ কম্পোজিট ব্রিগেডের অধীনস্থ গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প এই বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
গজারিয়া আর্মি ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে দেশব্যাপী সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় গুয়াগাছিয়া এলাকার ওই আস্তানায় হানা দেয় যৌথ বাহিনী। অভিযানে ১টি শুটার গান, ২ রাউন্ড গুলি, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জামাদি এবং ৩টি দেশীয় ধারালো অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় সন্দেহভাজন কিশোর গ্যাং লিডার নীরবকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা জানান, নীরব ওই এলাকার ত্রাস হিসেবে পরিচিত। সে কুখ্যাত ‘নয়ন ও পিয়াস’ ডাকাত দলের শীর্ষ নেতা নয়নের ছেলে। এলাকায় একটি সক্রিয় কিশোর গ্যাং পরিচালনা করত সে। তার বাবা ও সহযোগীদের অনুপস্থিতিতে নীরব এলাকায় চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও আধিপত্য বিস্তারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে আসছিল।
সেনা ক্যাম্পের অপারেশন অফিসার এক বিবৃতিতে জানান, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর। সন্ত্রাস, নাশকতা এবং মাদকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। তিনি যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপের তথ্য নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে প্রদানের জন্য জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
এ বিষয়ে গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মো. হাসান আলী বলেন, ‘সেনাবাহিনী উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও সরঞ্জাম থানায় হস্তান্তর করার পর আমরা এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবো। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।’
খুলনা নগরীর রেলওয়ে হাসপাতাল রোডের মার্কেট এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের পিটুনিতে বাবুল মোল্লা (৭৫) নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাতে মাটিপট্টি বস্তি এলাকায় দুই পরিবারের মধ্যে সংঘর্ষের সময় এই ঘটনা ঘটে। নিহত বাবুল মোল্লা ওই এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মৃত লালচান মোল্লার ছেলে। এই হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের বিরুদ্ধে সময়মতো ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় শুক্রবার বিকেলে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ওই বস্তির দুটি পরিবারের শিশুদের মধ্যে পানি ছেটানো নিয়ে সামান্য কথা কাটাকাটি ও তর্কাতর্কি হয়। পরবর্তীতে শিশুদের সেই তুচ্ছ ঘটনাটি বড়দের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং দুই পরিবারের সদস্যদের মধ্যে তীব্র ঝগড়া বাঁধে। যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়েছিল বলে দাবি করা হয়, কিন্তু সেই রেষ ধরে রাতে আবারও উভয় পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, রাতে উভয় পক্ষের মধ্যে কিল-ঘুষি ও ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে বৃদ্ধ বাবুল মোল্লা গুরুতর আঘাত পান। তিনি ঘটনাস্থলেই অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসকরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মেয়ে রিমি এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর জন্য পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিকেলেই প্রতিবেশীরা তাঁর বাবাকে মারধর করার পর বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সেই সময় কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর দাবি, পুলিশ যদি তখনই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নিত, তবে রাতে পুনরায় হামলার ঘটনা ঘটত না এবং তাঁর বাবাকে প্রাণ হারাতে হতো না।
খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, প্রাথমিকভাবে বিষয়টিকে পানি ছেটানোকে কেন্দ্র করে পারিবারিক ও তুচ্ছ কলহ বলে মনে করা হচ্ছে। বিকেলে ঝগড়া মিটে যাওয়ার খবর পেলেও রাতে পুনরায় হাতাহাতির সময় বৃদ্ধ বাবুল মোল্লা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে মারা যান। তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্টভাবে জানা যাবে। পুলিশ ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের শনাক্ত করেছে এবং তাঁদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে বিশেষ অভিযান অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।