সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়াসহ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ সাতক্ষীরায় খাসজমি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে প্রশাসনকে নিয়ে জমি উদ্ধার করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা সদরের আলীপুর ইউনিয়নের জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফের কাছ থেকে কিছু খাসজমি উদ্ধার করেন এবং সাতক্ষীরার বাকালে সরকারি জায়গার উপর নির্মাণ করা ট্রাক-মালিক সমিতির ভবন গত বৃহস্পতিবার গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, সাতক্ষীরা সদরের এসিল্যান্ড, পুলিশ বিভাগসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের বাকবিতণ্ড ঘটে। উপস্থিত সবার সামনে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বাটপার বলে চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে যেটা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং সমালোচনার ঝড় ওঠে। গত ৬ এপ্রিল বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সবুরের কাছে অবৈধভাবে ভোগদখলে থাকা ১৬ বিঘা জমি উদ্ধার করেন। নিয়মিত এ জমি উদ্ধার কার্যক্রম অব্যাহত আছে, ঠিক সেই সময় মানুষ জেলা প্রশাসককে বিভিন্নভাবে কথা বলছে। ডিসি ও আব্দুর রউফ চেয়ারম্যান এবং তার ভাই আব্দুস সবুর প্রসঙ্গে কিছু না কিছু কথা হচ্ছে, যাহা হটকেক বা টক অব দ্য টাউন। কেউ কেউ আবার ফেসবুক থেকে বিভিন্ন বাক্য ভঙ্গিতে আলোচনা-সমালোচনাসহ জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে বাজে মন্তব্য করেছে। আবার কেউ কেউ জেলা প্রশাসককে সাধুবাদ জানিয়ে ধন্যবাদ দিয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাপ্তাহিক মুক্তস্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালামসহ অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন পর সাতক্ষীরার মানুষ খুশি ইত্যাদি। আবার অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন জেলা প্রশাসক আপনি যাকে বাটপার বলেছেন তিনি পাঁচবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলীপুর ইউনিয়ন থেকে এবং তিনি বিএনপি করার কারণে তার একমাত্র সন্তান সেলিম নিখোঁজ হয়েছে ইত্যাদি।
সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক সমন্বয়ক ও পৌর সাবেক কাউন্সিলর আইনুল ইসলাম নান্টা, রেজাউল ইসলামসহ বিভিন্ন ব্যক্তি জেলা প্রশাসককে ভর্ৎসনা করেন। সেসব লেখার মধ্যে কয়েকটি লেখা হুবহু দেওয়া হয়েছে; যেমন- পীরে কামেল তথাকথিত আওয়ামী মোস্তাক আহমেদের ঘুষ বাণিজ্য!।
পীরের খবর:পীরে কামেল শেখ মুজিবের কবর জিয়ারতকারী তথাকথিত আওয়ামী মোস্তাক আহমেদের ঘুষ-বাণিজ্যে হতবাক জেলাবাসী। তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও তাবলিগের আওয়ামীপন্থি সাদ গ্রুপের লোক হিসেবে বেশ পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা মিটিংসহ সব জায়গায় নিজেকে সৎ পীরে কামেল হিসেবে দাবিদার আওয়ামী মোস্তাক আহমেদ ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামের কাছে কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন। ইতোমধ্যে রেজাউল ইসলাম সেই ঘুষের টাকা ২ দফায় ৩০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপি ও জেলা জামায়াত ইসলামের নেতারাও অবগত আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
দাবিকৃত ঘুষের টাকা এলআর ফান্ডের নাম করে ১ম দফায় ২০ লাখ ও ২য় দফায় ১০ লাখসহ মোট ৩০ লাখ টাকা জেলা প্রশাসনের এডিএম রিপন বিশ্বাসের কাছে দিয়েছেন রেজাউল ইসলাম। এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়।
এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকার ২ শতাংশ পীরে কামেল তথাকথিত আওয়ামী মোস্তাক আহমেদকে তার নাজিরের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক দিতে হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।
এদিকে শহরের খড়িবিলার ৫৮০ বিঘা জমি একটি গোষ্ঠী বাৎসরিক ১৫ হাজার টাকা করে হারি নিয়ে ব্যবসা করে আসছে মোস্তাক আহমেদের যোগসাজশে। যার বিঘাপ্রতি ৬ হাজার মোস্তাক আহমেদের পকেটে চলে যায়। এ ছাড়া তিনি আওয়ামী লীগের ভাতের হোটেল মালিক ডিবি হারুন স্টাইলে ট্রাক-মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকের নাজিরের রুমে আটকে রেখে মিথ্যা জবানবন্দি নিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ জেলার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আরও দেখা যায় জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বঙ্গবন্ধুর মাজারে গিয়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে ফটোসেশন করেছেন। আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতার সঙ্গে মাজারে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন, যা নিয়ে সাতক্ষীরা বিভিন্ন প্রান্তে সমালোচনার খোরাক হয়েছে। টাকা নেওয়া-সংক্রান্ত বিষয়ে এডিএম রিপন বিশ্বাস গণমাধ্যম কর্মীকে বলেন, যিনি দিয়েছে তাকে জিজ্ঞেস করেন।
সাতক্ষীরা ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি মোবাইলে কোনো কথা বলব না, এ কথা বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন।’
এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি সাতক্ষীরায় সাত মাস আসছি আমি কোনো দিন কারও সঙ্গেই খারাপ ব্যবহার করিনি। যারা আমার বিরুদ্ধে বাজে কথা বলছে সব মিথ্যা। সাতক্ষীরার সব খাসজমি উদ্ধার করা হবে এতে করে যাদের স্বার্থে আঘাত লাগবে তাতে আমার কি?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নেইনি এবং টাকা কে কার কাছে দিয়েছে তাও আমি জানি না।’
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়মের সংবাদ প্রকাশ করায় এক সাংবাদিককে কৌশলে ডেকে নিয়ে মারপিট ও আটক করে রাখার ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে। আহত সাংবাদিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মাঝে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে কিসামত রণচন্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেন কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লুৎফর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আহত সাংবাদিক সাহেব আলী (৩৫) দৈনিক চট্টগ্রাম লাইভ পত্রিকায় কাজ করেন। তিনি গত সোমবার (৮ জুন) দৈনিক চট্টগ্রাম লাইভ পত্রিকায় “কিশোরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পর প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি” শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করে।
পরের দিন মঙ্গলবার (৯ জুন) বড়ভিটা হতে সাংবাদিক সাহেব আলী ও ডিআরবি’র সাংবাদিক লিওন (২৬) মোটরসাইকেল যোগে বড়ভিটা হতে বেড়গাড়ীর দিকে যাচ্ছিল। এসময় ওই বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তায় পৌছলে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম (৪৮) কয়েকজন লোকসহ তাদেরকে পথরোধ করে সাহেব আলীকে টেনে হেচড়ে স্কুলের ক্লাস রুমের সামনে নিয়ে গিয়ে বিদ্যালয়ের নৈশ্যপ্রহরী আলমগীর সাহেব আলীকে জড়িয়ে ধরেন ও প্রধান শিক্ষক কিল ঘুষি ও মারপিট করে। অপর সাংবাদিক লিওন ভিডিও করতে গেলে তার ফোন কেড়ে নিয়ে ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে। পরে সাংবাদিক সাহেব আলীকে অফিস রুমে আটক করে মারপিট করে । খবর পেয়ে পুলিশ ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করে । আহত সাংবাদিককে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ ৪ জনের নামে রাতেই একটি মামলা দায়ের হয়েছে। আহত সাংবাদিক সাহেব আলী জানান, আমি প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে তিনি ডেকে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারপিট করেছেন।
এর আগে গত ৮ জুন দেশের প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টায় অফিস করেন অথচ আপনি সঠিক সময়ে স্কুলে আসেন না প্রশ্ন করা হলে এ প্রধান শিক্ষক বলেন, তারেক রহমানের এ গুলো অভিনয় বলে ব্যঙ্গ করে কথা বলেন। আমি প্রধান শিক্ষকের শাস্তি দাবী করছি।
এ ঘটনায় সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকরা অবিলম্বে ওই প্রধান শিক্ষককে গ্রেফতারের দাবী জানিয়েছেন। উপজেলা শিক্ষা অফিসার ড. মাহমুদা খাতুন জানান, ওই প্রধান শিক্ষককে ইতোমধ্যে দেরিতে স্কুলে আসায় শোকজ করা হয়েছে। সাংবাদিককে মারপিটের ঘটনাটি আমরা গুরুত্ব সহকারে দেখছি।
কিশোরগঞ্জ থানার অফিসার (ওসি) লুৎফর রহমান জানান, প্রধান শিক্ষক কর্তৃক সাংবাদিককে মারপিটের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আইনগত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিককে কৌশলে ডেকে নিয়ে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সাংবাদিককে উদ্ধার করে। আহত ওই সাংবাদিক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার কিসামত রণচণ্ডী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কিশোরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লুৎফর রহমান।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আহত সাংবাদিক সাহেব আলী (৩৫) দৈনিক চট্টগ্রাম লাইভ-এ কর্মরত। গত ৮ জুন তিনি “কিশোরগঞ্জে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ের পর প্রধান শিক্ষকের উপস্থিতি” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করেন।
পরদিন মঙ্গলবার সাংবাদিক সাহেব আলী ও ডিআরবির সাংবাদিক লিওন (২৬) মোটরসাইকেলে বড়ভিটা থেকে বেড়গাড়ীর দিকে যাচ্ছিলেন। পথে বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম (৪৮) কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে তাদের গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় সাহেব আলীকে টেনে-হিঁচড়ে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের সামনে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ের নৈশপ্রহরী আলমগীর তাকে চেপে ধরেন এবং প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলাম কিল-ঘুষি ও মারধর করেন। অপর সাংবাদিক লিওন ঘটনাটি ভিডিও ধারণ করতে গেলে তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়।
পরে সাহেব আলীকে বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করে এবং কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামসহ চারজনের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার রাতেই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
আহত সাংবাদিক সাহেব আলী বলেন, “প্রধান শিক্ষক শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় আমাকে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়েছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার ও তাঁর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”
ঘটনাটি নিয়ে সাংবাদিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাংবাদিক নেতারা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ড. মাহমুদা খাতুন বলেন, “নির্ধারিত সময়ের পরে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হওয়ার অভিযোগে প্রধান শিক্ষককে ইতোমধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিককে মারধরের অভিযোগটিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।”
কিশোরগঞ্জ থানার ওসি লুৎফর রহমান বলেন, “সাংবাদিককে মারধরের ঘটনায় মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে চোখ ধাঁধানো টর্চের আলো ফেলে ও মুখে মরিচের গুঁড়ো ছুঁড়ে এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ জুন) বোয়ালখালী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের গগন সেন বাড়ির বাসিন্দা ব্যবসায়ী গৌতম চৌধুরী (৪৬)।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গৌতম চৌধুরীর উপজেলার শাকপুরা চৌমুহনী বাজারে ‘লোকনাথ ক্লথ স্টোর’ নামে একটি কাপড়ের দোকান রয়েছে। ওই দোকানে তিনি মোবাইল ব্যাংকিং এজেন্ট হিসেবেও লেনদেন করেন। প্রতিদিনের মতো সোমবার (৮ জুন) রাত সাড়ে ১২টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি।
গৌতম চৌধুরী জানান, গাড়ি থেকে নেমে হেঁটে সারোয়াতলী ইউনিয়নের দুর্গাবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে দুই যুবক তার গতিরোধ করে। এসময় তারা টর্চের আলো চোখে ফেলে বিভ্রান্ত করে এবং মুখে মরিচের গুঁড়ো ছুঁড়ে দেয়। পরে ভারী কোনো বস্তু দিয়ে আঘাত করে তার সঙ্গে থাকা নগদ ৩০ হাজার টাকা ও প্রায় ১৮ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়।
তিনি আরও জানান, ছিনতাইকারীদের বয়স আনুমানিক ২৮ থেকে ৩০ বছর হবে। তারা রাস্তার পাশের ঝোপের আড়ালে ওৎ পেতে ছিল।
বোয়ালখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।
আগামী ১৭ জুন মৌলভীবাজার সফরে আসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে জেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতি ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। সফরকালে তিনি জেলায় তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে সামনে রেখে জেলার শ্রীমঙ্গল ও রাজনগর উপজেলায় সম্ভাব্য অনুষ্ঠানস্থল (ভেন্যু) পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও বিএনপি নেতারা।
মঙ্গলবার (৯ জুন) মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেলের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সম্ভাব্য ভেন্যুগুলো ঘুরে দেখেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন— মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন, সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য আলহাজ্ব মো. আব্দুল মুকিত, রাজনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল ইসলাম শেলুন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আব্বাস আলীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল জানান, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সফর উপলক্ষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাথমিকভাবে ভেন্যুগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। মঙ্গলবার সকালে শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ ও মির্জাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থান পরিদর্শন করা হয়। পরবর্তীতে দুপুরে রাজনগর উপজেলা চত্বর এবং রাজনগর ডিগ্রি কলেজ মাঠ ঘুরে দেখেন প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১৭ জুন প্রধানমন্ত্রী মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলা ও শ্রীমঙ্গলের মির্জাপুর ইউনিয়নে তৃতীয় ধাপের ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করতে পারেন। তবে অনুষ্ঠানস্থল এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সম্ভাব্য স্থানগুলো পরিদর্শনের পর নিরাপত্তা ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রহিম রিপন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মাঝে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মৌলভীবাজারবাসীর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি রয়েছে। আমরা অত্যন্ত আশাবাদী যে, প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক সফরে জেলার দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ও গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো পূরণ হবে।
প্রশাসন ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে নিশ্ছিদ্র ও সফল করতে ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দফায় দফায় বৈঠক করছে। একই সাথে দলীয় নেতাকর্মীদের মাঝেও চলছে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক সভা। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে প্রস্তুত হচ্ছে মৌলভীবাজার।
কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার আড়াইওড়া এলাকায় একটি গ্যারেজে ঢুকে গ্যারেজ মালিকের মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে ১৬টি অটোরিকশার প্রায় ৮০টি ব্যাটারি লুট করে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
বুধবার ভোররাতে এ ঘটনা ঘটে। গ্যারেজ মালিক মো. মবিন মিয়া জানান, রাত সাড়ে ৩টার দিকে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল টিনের বেড়া টপকে গ্যারেজে প্রবেশ করে। এরপর তারা তাকে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মুখে পিস্তল ঠেকিয়ে চিৎকার না করার হুমকি দেয়। পরে গ্যারেজে থাকা ১৬টি অটোরিকশার অন্তত ৮০টি ব্যাটারি ও সিসিটিভি ক্যামেরার যন্ত্রপাতি লুট করে নিয়ে যায়।
তিনি আরও জানান, দুর্বৃত্তরা চলে যাওয়ার পর তিনি চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় অভিযোগ জানানো হলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রায় দুই মাস আগে একই এলাকার আরেকটি গ্যারেজ থেকেও ১৫-১৬টি অটোরিকশার ব্যাটারি লুটের ঘটনা ঘটেছিল। তাদের অভিযোগ, আগের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ব্যবস্থা না নেওয়ায় এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার খাড়ইল মিলঘর এলাকায় রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে মাহিন্দ্রা ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং তিনজন আহত হয়েছেন।বুধবার (১০ জুন) সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, খাড়ইল মিলঘর এলাকায় একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রার সঙ্গে একটি ট্রাকের সংঘর্ষ হলে মাহিন্দ্রাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে মাহিন্দ্রায় থাকা যাত্রীরা গুরুতর আহত হন।
এসময় দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন কেশরহাট ইসলামী ব্যাংকের কর্মরত কর্মকর্তা মো. মারুফ হোসেন (৩৭)। তিনি নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার চক শ্যামরাই গ্রামের মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
এদিকে গুরুতর আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও একজনের মৃত্যু হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং আরও তিনজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। নিহত মারুফ হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে মোহনপুর থানায় নেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনায় মোহনপুর থানার এসআই ইয়ামিন আলী জানান, দুর্ঘটনার পর এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আন্দিউড়া এলাকায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় সিএনজি চালকসহ দুইজন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে রাস্তার কাজ করা একটি ট্রাম ট্রাকের সঙ্গে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই সিএনজি চালক নিহত হন। এ সময় সিএনজিতে থাকা তিন যাত্রী গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক নারী যাত্রীর মৃত্যু হয়। আহত অপর দুইজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শায়েস্তাগঞ্জ হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করেছে। নিহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং দুর্ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেও পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। নিহত ও আহতদের পরিচয় পাওয়া গেলে বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে সন্দেহ জনক জব্দ করা একটি প্রাইভেটকারের গ্যাস সিলিন্ডারের ভেতর থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ । উদ্ধার হওয়া ইয়াবার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করছে পুলিশ । গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটায় সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের বিষয়টি নিশ্চিত করেন । তবে এ ঘটনায় জড়িত চালক সহ কাউকে আটক করা যায়নি।
মঙ্গলবার রাতে পুলিশ জানায়, সোমবার ভোররাতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে টহল ডিউটির সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাচার করা হচ্ছে।
এই প্রেক্ষিতে ঢাকামুখী একটি প্রাইভেটকারের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হলে সেটিকে থামার সংকেত দেয় পুলিশ। তবে চালক গাড়ি না থামিয়ে দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন।
একপর্যায়ে পুলিশ প্রাইভেটকারটিকে ধাওয়া করলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বড় দারোগারহাট ওজন স্কেলের সামনে গাড়িটি থামে। এরপর চালকসহ ইয়াবা পাচারকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে প্রাইভেটকারটি জব্দ করে থানা হেফাজতে নেয় পুলিশ।
থানায় নেওয়ার পর প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ভেতরে একটি গ্যাস সিলিন্ডার দেখতে পায় পুলিশ। বিষয়টি চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি) রাসেলকে জানানো হয়। মঙ্গলবার রাত আটটায় তাঁর উপস্থিতিতে সিলিন্ডারটি প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধার করা হয়। পরে সিলিন্ডারের ভেতর বায়ুনিরোধক মোড়কে মোড়ানো বিপুল পরিমাণ ইয়াবা পাওয়া যায়।
সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম বলেন, “এই ঘটনায় জড়িত কাউকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে জব্দ করা প্রাইভেটকারের ভেতরে থাকা সিলিন্ডার থেকে ১ লাখ ২৪ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে। যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা বলে ধারণা করা যাচ্ছে। এ বিষয়ে সীতাকুণ্ড থানায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে ।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার সাফা ইউনিয়নের দেবীপুর এলাকায় অতিরিক্ত আলুবোঝাই একটি ট্রাকের চাপে বেইলি সেতু ভেঙে খালে পড়ে গেছে। বুধবার (১০ জুন) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মঠবাড়িয়া পাথরঘাটা সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
সেতু ধসের ঘটনায় পাথরঘাটার সঙ্গে ঢাকা, বরিশাল ও খুলনাসহ একাধিক রুটে যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় মানুষ, পথচারী ও যানবাহন চালকেরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে আলুবোঝাই করে একটি ট্রাক মঠবাড়িয়ার উদ্দেশ্যে আসছিল। গভীর রাতে দেবীপুর এলাকার বেইলি সেতু অতিক্রম করার সময় হঠাৎ সেটি ধসে পড়ে। ঘটনার পর ট্রাকের চালক ও সহকারী পলাতক রয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আকলিমা আক্তার জানান, সেতুটির ধারণক্ষমতা ছিল ২০ মেট্রিক টন। অতিরিক্ত ওজনের ট্রাক ওঠার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি সড়ক ও জনপথ বিভাগকে জানানো হয়েছে; তারা দ্রুত সেতুটি মেরামতের উদ্যোগ নেবে।
লিবিয়ায় অপহৃত হওয়ার দীর্ঘ আড়াই মাস পর নওগাঁর মান্দা উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের প্রবাসী যুবক আলমগীর হোসেনকে হত্যা করেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী। পরিবারের দাবি, মুক্তিপণের ২৫ লাখ টাকা না দেওয়ায় একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে।
গতকাল তার মৃত্যুর সংবাদ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহত আলমগীর হোসেন (৩৫) উপজেলার নুরুল্লাবাদ গ্রামের মৃত দিদার বক্স খাঁনের ছেলে। তিনি দীর্ঘ সাত বছর ধরে লিবিয়ায় শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আলমগীর হোসেন লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলীর তাজুয়ারা ডিসি পৌরসভায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৮ মার্চ মাগরিবের নামাজের পর ডিউটিরত অবস্থায় পুলিশের পোশাক পরিহিত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী মাইক্রোবাসে করে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।
নিহত আলমগীরের ভাই লিবিয়া প্রবাসী জিল্লুর রহমান বলেন, আলমগীরকে অপহরণের পর তাকে উদ্ধারের জন্য লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কোনো ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। সন্ত্রাসীদের ওই আস্তানায় আলমগীরসহ আরও ৩১ জন বাংলাদেশিকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ওই আস্তানা থেকে কয়েকজন বাংলাদেশি মুক্তিপণ দিয়ে সম্প্রতি ছাড়া পেয়েছেন। তারা জানিয়েছেন, আলমগীরের কাছেও ২৫ লাখ টাকা দাবি করেছিল সন্ত্রাসীরা। কিন্তু সেই টাকা দিতে অস্বীকার করায় অন্তত এক মাস আগে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়।
সোমবার (৮ জুন) দূতাবাসের মাধ্যমে উদ্ধার হওয়া জিম্মিদের মোবাইলে থাকা ছবি দেখে আলমগীরের লাশ শনাক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার এবং দেশে পাঠানোর জন্য দূতাবাসের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।
নিহতের স্ত্রী শাহিনা আক্তার বলেন, আমার স্বামীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ২৮ মার্চ কাজে যাওয়ার আগে শেষবারের মতো উনার সঙ্গে মোবাইলে কথা হয়েছিল। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। কোনো সন্ত্রাসী আমাদের কাছে মুক্তিপণও চায়নি। হঠাৎ উনার মৃত্যুর খবর পাই।
স্বামীর মরদেহ দ্রুত উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্ত্রী শাহিনা আক্তার ও শোকসন্তপ্ত পরিবার।
আলমগীরের এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবরে নুরুল্লাবাদ গ্রামের বাতাস এখন ভারী হয়ে উঠেছে। স্বজন ও এলাকাবাসী এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মরদেহের দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাসের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালত বর্জন করেছেন আইনজীবীরা।
গতকাল মঙ্গলবার (৯ জুন) দুপুরে এ আদালত বর্জনের ঘটনা ঘটে। পরে আইনজীবীরা সমিতির সভা কক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রেস ব্রিফিং করেন।
এ সময় আইনজীবী সমিতির ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালামসহ মোট ১৮ জন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন।
আদালত বর্জনকারী আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চলাকালীন সময়ে আইনজীবীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন। এছাড়া বিচারিক প্রক্রিয়ায় স্বেচ্ছাচারিতা, দিন ধার্যকৃত মামলায় কোনো কারণ ছাড়াই আইনগত নোটিশ ছাড়াই মামলা খারিজ, সিনিয়র আইনজীবীদের চেম্বার থেকে ডেকে আনা এবং আদেশের সই-মোহরী প্রদানে গড়িমসির মতো একাধিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তারা।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আকলিমা আক্তার বলেন, আইনজীবীদের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আইন অনুযায়ী এক্সিকিউটিভ ও জুডিশিয়াল কার্যক্রমে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করা হয় এবং আইনজীবীদের সঠিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আদেশের সই-মোহরী নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জেলা পর্যায় থেকে সংগ্রহ করতে হয়, যা তারা অনুসরণ করতে চান না।
ইউএনও অভিযোগ করেন, সরকারি খাল খনন কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে দুই একজন আইনজীবীর ব্যক্তিগত স্বার্থে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় এলাকায় আইনজীবী ও প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মুন্সীগঞ্জের মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া অংশে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
বুধবার (১০ জুন) ভোররাত চারটা থেকে শুরু হওয়া এই যানজট বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকামুখী লেনের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে আছে পণ্যবাহী ট্রাক, দূরপাল্লার বাস ও ব্যক্তিগত যানবাহন। দীর্ঘসময় যানজটে আটকে থেকে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রী ও পরিবহন শ্রমিকরা।
হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গজারিয়া অংশে যানজট থাকলেও এর সূত্রপাত ঘটেছে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে। সেখানকার আষাঢ়িয়া চর এলাকায় একটি ট্রাক উল্টে গিয়ে ঢাকামুখী লেনে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সৃষ্ট যানজট সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গজারিয়া অংশেও ছড়িয়ে পড়ে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের ভবেরচর, ভাটেরচর ও জামালদি বাসস্ট্যান্ডসহ গজারিয়ার বিভিন্ন অংশে যানবাহনের চাকা প্রায় ঘুরছেই না। দীর্ঘক্ষণ একই জায়গায় স্থির দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে দূরপাল্লার যানবাহনগুলোকে।
ঢাকামুখী ট্রাকচালক আবুল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,"আমি ভবেরচর থেকে জামালদী বাসস্ট্যান্ডের এই সামান্য পথ পার হতেই প্রায় দেড় ঘণ্টা জ্যামে আটকে আছি। এভাবে চললে কখন গাজীপুর পৌঁছাবো তা আল্লাহই জানেন।"
বাসচালক আব্দুস সাত্তার জানান, ভোররাতে ভাটেরচর এলাকা থেকে তিনি যানজটে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও জট ছাড়ার কোনো লক্ষণ দেখছেন না।
এ বিষয়ে গজারিয়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহ কামাল আকন্দ জানান, গজারিয়া অংশে মূলত কোনো সমস্যা নেই। সোনারগাঁ অংশের আষাঢ়িয়া চর এলাকায় সড়কে একটি ট্রাক উল্টে যাওয়ার কারণে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। এর ফলে সৃষ্ট যানজট বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গজারিয়া অংশে এসে পৌঁছায়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি ইতোমধ্যে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি কিছুক্ষণের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে।
পাবনা সদর উপজেলায় এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও হত্যার জেরে আসামিদের বাড়িঘরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুইজনের মৃত্যু হয়। এর আগে গত সোমবার বিকেলে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পূর্ব রাঘবপুর এলাকার তজির উদ্দিন শেখের ছেলে সুমন শেখ, পার্শ্ববর্তী নতুনপাড়া এলাকার শকুর হোসেনের ছেলে সাইফুল ইসলাম সাব্বির এবং একই এলাকার মৃত ইউসুফের ছেলে সাপু।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ জুন বিকেলে পাবনার ভাঁড়ারায় পদ্মা নদীতে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরের দিন ৪ জুন তার মরদেহ দাফন করা হয়। দাফন শেষে উত্তজিত জনতা আসামিদের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে বাড়ির সিলিন্ডার বিস্ফোরণ হয়ে আশপাশের বেশ কয়েকজন দগ্ধ হন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অগ্নিকাণ্ডের সময় আসামিপক্ষের কেউ বাড়িতে ছিলেন না। দগ্ধরা সবাই প্রতিবেশী ও আশপাশের মানুষ এবং উৎসুক জনতা।
পাবনা সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত সেমাবার (৮ জুন) একজন এবং গতকাল দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
প্রসঙ্গত, পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়নের পিরপুরে পদ্মা নদীতে এক কিশোরীর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের কথিত প্রেমিক নাইমসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।