শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬
২৬ চৈত্র ১৪৩২

সাতক্ষীরায় ডিসির বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ

আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত
আবু সাঈদ, সাতক্ষীরা
প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ ১১:৫১

সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়াসহ মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করার অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ সাতক্ষীরায় খাসজমি ভূমিদস্যুদের হাত থেকে প্রশাসনকে নিয়ে জমি উদ্ধার করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এরই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরা সদরের আলীপুর ইউনিয়নের জনপ্রিয় ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুর রউফের কাছ থেকে কিছু খাসজমি উদ্ধার করেন এবং সাতক্ষীরার বাকালে সরকারি জায়গার উপর নির্মাণ করা ট্রাক-মালিক সমিতির ভবন গত বৃহস্পতিবার গুঁড়িয়ে দেয়। এ সময় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রউফসহ সেনাবাহিনীর কর্মকর্তা, সাতক্ষীরা সদরের এসিল‍্যান্ড, পুলিশ বিভাগসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের বাকবিতণ্ড ঘটে। উপস্থিত সবার সামনে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বাটপার বলে চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে যেটা ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এবং সমালোচনার ঝড় ওঠে। গত ৬ এপ্রিল বিশিষ্ট ব‍্যবসায়ী ও বিভিন্ন সমাজসেবামূলক ও ব‍্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি আব্দুস সবুরের কাছে অবৈধভাবে ভোগদখলে থাকা ১৬ বিঘা জমি উদ্ধার করেন। নিয়মিত এ জমি উদ্ধার কার্যক্রম অব‍্যাহত আছে, ঠিক সেই সময় মানুষ জেলা প্রশাসককে বিভিন্নভাবে কথা বলছে। ডিসি ও আব্দুর রউফ চেয়ারম্যান এবং তার ভাই আব্দুস সবুর প্রসঙ্গে কিছু না কিছু কথা হচ্ছে, যাহা হটকেক বা টক অব দ‍্য টাউন। কেউ কেউ আবার ফেসবুক থেকে বিভিন্ন বাক‍্য ভঙ্গিতে আলোচনা-সমালোচনাসহ জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেড়ে দিয়ে বাজে মন্তব্য করেছে। আবার কেউ কেউ জেলা প্রশাসককে সাধুবাদ জানিয়ে ধন্যবাদ দিয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সাপ্তাহিক মুক্তস্বাধীন পত্রিকার সম্পাদক আবুল কালামসহ অনেকেই বলেন, দীর্ঘদিন পর সাতক্ষীরার মানুষ খুশি ইত‍্যাদি। আবার অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফেসবুকে লিখেছেন জেলা প্রশাসক আপনি যাকে বাটপার বলেছেন তিনি পাঁচবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান আলীপুর ইউনিয়ন থেকে এবং তিনি বিএনপি করার কারণে তার একমাত্র সন্তান সেলিম নিখোঁজ হয়েছে ইত্যাদি।

সাতক্ষীরা জেলা যুবদলের সাবেক সমন্বয়ক ও পৌর সাবেক কাউন্সিলর আইনুল ইসলাম নান্টা, রেজাউল ইসলামসহ বিভিন্ন ব‍্যক্তি জেলা প্রশাসককে ভর্ৎসনা করেন। সেসব লেখার মধ্যে কয়েকটি লেখা হুবহু দেওয়া হয়েছে; যেমন- পীরে কামেল তথাকথিত আওয়ামী মোস্তাক আহমেদের ঘুষ বা‌ণিজ্য!।

পীরের খবর:পীরে কামেল শেখ মুজিবের কবর জিয়ারতকারী তথাকথিত আওয়ামী মোস্তাক আহমেদের ঘুষ-বাণি‌জ্যে হতবাক জেলাবাসী। তিনি সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক ও তাবলিগের আওয়ামীপন্থি সাদ গ্রুপের লোক হিসেবে বেশ পরিচিত। আইনশৃঙ্খলা মিটিংসহ সব জায়গায় নিজেকে সৎ পীরে কামেল হিসেবে দাবিদার আওয়ামী মোস্তাক আহমেদ ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামের কাছে কোটি টাকা ঘুষ দাবি করেন। ইতোমধ্যে রেজাউল ইসলাম সেই ঘুষের টাকা ২ দফায় ৩০ লাখ টাকা দিতে বাধ্য হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এ বিষয়ে জেলা বিএনপি ও জেলা জামায়াত ইসলামের নেতারাও অবগত আছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

দাবিকৃত ঘুষের টাকা এলআর ফান্ডের নাম করে ১ম দফায় ২০ লাখ ও ২য় দফায় ১০ লাখসহ মোট ৩০ লাখ টাকা জেলা প্রশাসনের এডিএম রিপন বিশ্বাসের কাছে দিয়েছেন রেজাউল ইসলাম। এ বিষয়ে ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়।

এ ছাড়া ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকার ২ শতাংশ পীরে কামেল তথাকথিত আওয়ামী মোস্তাক আহমেদকে তার নাজিরের মাধ্যমে বাধ্যতামূলক দিতে হয় বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলে এর সত্যতা পাওয়া গেছে।

এদিকে শহরের খড়িবিলার ৫৮০ বিঘা জমি একটি গোষ্ঠী বাৎসরিক ১৫ হাজার টাকা করে হারি নিয়ে ব্যবসা করে আসছে মোস্তাক আহমেদের যোগসাজশে। যার বিঘাপ্রতি ৬ হাজার মোস্তাক আহমেদের পকেটে চলে যায়। এ ছাড়া তি‌নি আওয়ামী লী‌গের ভা‌তের হো‌টেল মালিক ডি‌বি হারুন স্টাইলে ট্রাক-মা‌লিক স‌মি‌তির সাধারণ সম্পাদ‌কের না‌জি‌রের রু‌মে আট‌কে রেখে মিথ্যা জবানব‌ন্দি নি‌য়ে‌ছেন ব‌লেও অভি‌যোগ উঠে‌ছে।

সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ জেলার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে আরও দেখা যায় জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ বঙ্গবন্ধুর মাজারে গিয়ে বিভিন্ন আঙ্গিকে ফটোসেশন করেছেন। আওয়ামী লীগের উচ্চপর্যায়ের নেতার সঙ্গে মাজারে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন, যা নিয়ে সাতক্ষীরা বিভিন্ন প্রান্তে সমালোচনার খোরাক হয়েছে। টাকা নেওয়া-সংক্রান্ত বিষয়ে এডিএম রিপন বিশ্বাস গণমাধ‍্যম কর্মীকে বলেন, যিনি দিয়েছে তাকে জিজ্ঞেস করেন।

সাতক্ষীরা ভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রিজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমি মোবাইলে কোনো কথা বলব না, এ কথা বলে মোবাইল ফোনের সংযোগ কেটে দেন।’

এ প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসক মোস্তাক আহমেদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, ‘আমি সাতক্ষীরায় সাত মাস আসছি আমি কোনো দিন কারও সঙ্গেই খারাপ ব‍্যবহার করিনি। যারা আমার বিরুদ্ধে বাজে কথা বলছে সব মিথ্যা। সাতক্ষীরার সব খাসজমি উদ্ধার করা হবে এতে করে যাদের স্বার্থে আঘাত লাগবে তাতে আমার কি?’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি কোনো টাকা নেইনি এবং টাকা কে কার কাছে দিয়েছে তাও আমি জানি না।’


বস্তা খুলতেই বেরিয়ে এলো মরদেহের ছয় খণ্ডের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার প্রতিনিধি

কালভার্টের নিচে খালের মধ্যে পড়া বস্তাটি কয়েকটি কুকুর নিয়ে টানাটানি করছিল। স্থানীয় কয়েকজন বস্তায় লাশ রয়েছে, এমন সন্দেহে পুলিশে খবর দেন। পুলিশ এসে দ্রুত বস্তাটি উঠিয়ে আনে খাল থেকে। সেটি খুলতেই বেরিয়ে এল টুকরা করে কাটা মানবদেহের আটটি খণ্ডাংশ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজারের টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কচ্ছপিয়া এলাকার হোছনী খালের একটি কালভার্টের নিচ থেকে লাশের খণ্ডিত অংশ ভর্তি ওই বস্তা উদ্ধার করে পুলিশ। নৃশংস কায়দায় হত্যার পর লাশ গুমের জন্য এভাবে বস্তাভর্তি করে খালে ফেলা হয়েছে বলে পুলিশ জানায়। এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পাহাড়ঘেরা বাহারছড়া এলাকাটি মানব পাচারের রুট হয়েছে বলে পরিচিত। নানা প্রলোভনে বিভিন্ন এলাকার লোকজনকে এখানে ধরে এনে এখানকার পাহাড়ের আস্তানায় জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের একাধিক ঘটনা ঘটেছে এর আগে।

উদ্ধার করা মরদেহটি একজন পুরুষের বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তবে নিহত ব্যক্তির পরিচয় জানা যায়নি। বাহারছড়া পুলিশ ফাঁড়ি তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শক) দুর্জয় বিশ্বাস বলেন, উদ্ধার করা ছয় খণ্ড মরদেহ জোড়া লাগিয়ে লাশটি পুরুষের বলে শনাক্ত করা গেছে। তবে পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দেহটি ছয় টুকরা করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, গত বুধবার রাতে কোথাও লোকটিকে হত্যার পর টুকরা টুকরা করে কেটে তারপর চালের সাদা বস্তায় ভরে খালের পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। যেন জোয়ারের পানিতে খণ্ডিত অংশগুলো সাগরে ভেসে যায়।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়নি। ধারালো অস্ত্র দিয়ে কেটে মানুষটিকে ছয় টুকরা করা হয়েছে। খণ্ডিত অংশগুলো উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সন্ধ্যা পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।


কোটালীপাড়ায় খোলা ট্রাকে ইট-বালু পরিবহনে জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কোটালীপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধি

গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়কে খোলা ট্রাকে ইট ও বালু পরিবহনের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। উড়ন্ত বালু ও ধুলাবালির কারণে বাড়ছে দুর্ঘটনা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উপজেলার গ্রামীণ ও প্রধান সড়কগুলো দিয়ে কোনো ধরনের ঢাকনা ছাড়াই বালু ও ইটবোঝাই ট্রাক চলাচল করছে। ফলে এসব যানবাহনের পেছনে থাকা মোটরসাইকেল, অটোভ্যান ও অন্যান্য ছোট যানবাহনের চালক-যাত্রীদের পড়তে হচ্ছে চরম দুর্ভোগে। চলন্ত ট্রাক থেকে উড়ে আসা বালু চোখে-মুখে ঢুকে দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি করছে প্রতিনিয়ত। একইভাবে ঢাকনা ছাড়া ইট পরিবহনের কারণে অনেক সময় ইট পড়ে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি।

ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক সোহেল মিয়া বলেন, ট্রাকের পেছনে পড়লে আর রক্ষা নেই। চোখে বালু ঢুকে কিছুই দেখা যায় না। হঠাৎ ব্রেক করতে হয়, এতে বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

অটোভ্যান চালক আব্দুল করিম বলেন, আমরা যাত্রী নিয়ে চলাচল করি। কিন্তু বালুর ধুলায় যাত্রীরা ঠিকমতো বসতেই পারে না। সবাই বিরক্ত হয়, এতে আমাদের আয়ও কমে যাচ্ছে।

পথচারী রোজিনা বেগমের অভিযোগ, রাস্তা দিয়ে হাঁটা দায় হয়ে গেছে। বালু এসে কাপড় নোংরা করে দেয়, শ্বাস নিতেও কষ্ট হয়। ছোট বাচ্চাদের নিয়ে চলাচল করা খুবই কঠিন।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, খোলা ট্রাকে বালু ও ইট পরিবহন সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত এবং এটি সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি। দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কুমার মৃদুল দাস জানান, খোলা ট্রাকে বালু পরিবহনের ফলে বাতাসে ধুলার পরিমাণ বেড়ে যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে শ্বাসতন্ত্রের বিভিন্ন রোগের কারণ হতে পারে। তাই এসব ট্রাক বাধ্যতামূলকভাবে ঢেকে পরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাগুফতা হক বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। খুব শিগগিরই ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে খোলা ট্রাকে ইট-বালু পরিবহন বন্ধ করে যথাযথ নিয়ম মেনে পরিবহন নিশ্চিত করা হোক। অন্যথায় জনদুর্ভোগ আরও তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।


বাসাইলে পাঁচ হাজার মিটার খাল খননের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

টাঙ্গাইলের বাসাইলে প্রায় ৫ হাজার মিটার খাল খননের উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার হাবলা ইউনিয়নের ভৈরপাড়া এলাকায় বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. আকলিমা বেগম এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইপিজিজি কর্মসূচির আওতায় বংশাই নদীর শাখা থেকে আরোহা, জীবনশ্বর ছয়শত এবং সুন্দরী বাদখালী খাল ও কাশিল ইউনিয়নের বংশাই নদীর থেকে নাকাছিম, লাঙ্গুলিয়া, পিচুড়ী, স্থলবল্লা, বাথুলী বিল, করটিয়া পাড়ার খালগুলো এই প্রকল্পের আওতায় খনন করা হবে।

খালখনন কর্মসূচীর উদ্বোধনের সময় হাবলা ইউপি চেয়ারম্যান খোরশেদ আলম, বাসাইল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, পৌর বিএনপির সভাপতি আকতারুজ্জামান তুহীনসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।


রাউজানে বর্ষবরণে মহাআয়োজন, সাজছে ‘ফনীতটি মঞ্চ’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রাউজান উপজেলার প্রাচীন তম নিদর্শন ঐতিহাসিক মহামুনি বিহার প্রাঙ্গনে সজছে নতুন সাজে। দক্ষিণ রাউজানের পাহাড়তলীর এই মন্দিরে হাজার বছরের চিরায়ত বাঙালির ঐতিহ্য নতুন বছরকে পহেলা বৈশাখে বরণ করে নিতে প্রতিবারের ন্যায় এবারও রয়েছে চৈত্র সংক্রান্তিক ও বৈশাখী মেলাসহ নানা আয়োজন। মহামুনি প্রাঙ্গনে বটমূল খ্যাত ‘ফনীতটি মঞ্চে’ মহামুনি গ্রামের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রকাশনা সংস্থা বিশেষ করে মহামুনি সংস্কৃতি সংঘ, মহামুনি তরুণ সংঘ ও ত্রৈমাসিক জ্ঞানালোর উদ্যোগে বর্ষবরণ উপলক্ষে পহেলা বৈশাখ থেকে শুরু সপ্তাহব্যাপী আলোচনা সভা,গুণীজন ও কৃতি সংবর্ধনা, সংগীতানুষ্ঠান, নাটক, মুখাভিনয় সহ ব্যতিক্রমধর্মী মনোজ্ঞ নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মহা আয়োজন।

চলিত এপ্রিল মাসে চৈত্র সংক্রান্তিক মধ্য দিয়ে এই মহামুনি মেলা শুরু হবে। এই দিন আদিবাসী আবাল বৃদ্ধ বণিতা বিভিন্ন যানবাহনে করে উৎসব প্রাঙ্গণ মহামুনি মন্দিরে বুদ্ধের কৃপা নিতে আসতে থাকবে। পূজা দিয়ে ও আনন্দ উল্লাস করে পুরনো বছরকে বিদায় ও নতুন বছরকে বরণ করে নেন তারা। পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত পুণ্যার্থীদের স্বাগত জানাতে নানা আয়োজন করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। পাহাড়ি অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত আদিবাসীরা এখানে সকাল থেকে রাতভর অবস্থান করেন। সন্ধ্যায় তারা মহামুনি মন্দিরে পুজার মাধ্যমে বাংলা বর্ষকে বিদায় জানিয়ে চৈত্র সংক্রান্তিক পালন করেন। রাতে বিভিন্ন শিল্পী গোষ্ঠীর পরিবেশনায় থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সকালে স্থানীয় সংগঠন গুলোর যৌথ উদ্যোগে মন্দির অভিমুখী শোভাযাত্রার বর্ষবরণের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সকাল ১০ টায় মহামুনি বটমূল খ্যাত ফণী-তটি মঞ্চ স্থানীয় সংগঠনের শিল্পীদের পরিবেশনায় মুক্তাঙ্গণ অনুষ্ঠান। একই স্থানে পর্যায়ক্রমে চলতে থাকবে স্থানীয় সংস্থা গুলোর বৃত্তি প্রদান, গুণিজন ও কৃতি সম্বর্ধনা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ নানা কর্মসূচি।


কুষ্টিয়া-মেহেরপুর সীমান্তে জব্দ মাদকের চালান ধ্বংস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি

কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকায় গত এক বছরে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। প্রায় ৩১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার এসব মাদক গত বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেলে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি) সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়।

মাদকদ্রব্য ধ্বংস করার সময় উপস্থিত ছিলেন যশোর রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান। বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন।

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহমুদুল হাসান বলেন, মাদকমুক্ত দেশ গড়তে বিজিবি ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কাজ করছে। সীমান্তে দিন-রাত দায়িত্ব পালন করে বাহিনীর সদস্যরা মাদক চোরাচালান প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি আরও বলেন, মাদক শুধু আইনশৃঙ্খলার বিষয় নয়, এটি একটি জটিল সামাজিক সমস্যা- যা মোকাবিলায় জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ জরুরি।

পরে তিনি নিজ হাতে মাদক ধ্বংস কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন এবং বিজিবি সদস্যদের পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার প্রশংসা করেন।

বিজিবি সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ পর্যন্ত পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে কুষ্টিয়া ও মেহেরপুর সীমান্ত এলাকা থেকে ১৭৫ জন আসামিসহ প্রায় ১১৪ কোটি ৮০ লাখ টাকার মাদক ও চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়।

ধ্বংসকৃত মাদকের মধ্যে ছিল- বিদেশি মদ ৪ হাজার ৪৩২ বোতল, দেশীয় মদ ১২ লিটার, ফেন্সিডিল ৭ হাজার ৭৮৭ বোতল, গাঁজা ৫৫০ কেজি, হেরোইন ২৬ কেজির বেশি, কোকেন ৬ কেজির বেশি, ইয়াবা ৬৭ হাজার ৪৯৬ পিস, ভায়াগ্রা ১০ হাজার ১৩৭ পিস, সিলডিনাফিল ৯৭ হাজার ৬৫৬ পিস, বিড়ি ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯০৯ প্যাকেটসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য। এসব মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩১ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার ৯৯৫ টাকা।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত পরিচালনা করা হবে।

অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক, মেহেরপুরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


ফুটপাত দখলমুক্ত করতে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার অভিযান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে নাগরিকদের নির্বিঘ্নে চলাচল ও শহরের সৌন্দর্য বাড়াতে ফুটপাতে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান চালিয়েছে শ্রীমঙ্গল পৌরসভা। এতে পথচারীদের চলাচলে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উদ্যোগে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলামের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাত থেকে অবৈধ দখলদারদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

অভিযান চলাকালে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে ভ্যানগাড়িতে পণ্য বিক্রি ও অস্থায়ী দোকান বসানোয় পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল। এতে যানজট ও জনদুর্ভোগ বাড়ছিল। অভিযানে এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে ফুটপাত দখলমুক্ত করা হয়।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বলেন, 'পৌরসভার পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। জনসাধারণ যেন নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে, সে লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি।'

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং কেউ যেন পুনরায় অবৈধভাবে ফুটপাত দখল করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।'

পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, শহরের সৌন্দর্য রক্ষা ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।


মৌলভীবাজারে ৪ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেল জব্দ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের বড়লেখায় পুলিশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ মাহমুদ হাসান রাসেল (২৬) নামে এক মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) রাতে বড়লেখা উত্তর চৌমহুনা এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশিকালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত রাসেল বড়লেখা থানার বিওসি কেছরীগুল মধ্য ডিমাই গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে মৌলভীবাজার জেলা পুলিশ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

পুলিশ জানায়, গোপন সূত্রে খবর আসে যে তিন ব্যক্তি মোটরসাইকেল যোগে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা নিয়ে চান্দগ্রাম থেকে বড়লেখার দিকে আসছে। এই সংবাদের ভিত্তিতে বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খানের নেতৃত্বে উত্তর চৌমহুনা এলাকায় বিশেষ চেকপোস্ট বসানো হয়।

অভিযান চলাকালীন একটি মোটরসাইকেলকে থামার সংকেত দিলে আরোহীরা পালানোর চেষ্টা করে। এসময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোটরসাইকেলটি পড়ে গেলে পুলিশ সদস্যরা রাসেলকে দ্রুত আটক করতে সক্ষম হন। তবে তার সাথে থাকা অন্য দুই সহযোগী কৌশলে পালিয়ে যায়।

রাসেলের সাথে থাকা শপিং ব্যাগ তল্লাশি করে ২০টি প্যাকেটে মোড়ানো ৪ হাজার পিস গোলাপী রঙের ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। এছাড়া মাদক কেনাবেচায় ব্যবহৃত তার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন এবং পরিবহনে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল স্বীকার করেছে যে, সে এবং তার পলাতক সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। তারা সিলেটের গোয়াইনঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে আসছিল।

বড়লেখা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান খান জানান, "আটককৃত রাসেল ও তার পলাতক দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"


ভোলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খালে, হতাহতের ঘটনা ঘটেনি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোহাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস খালে উল্টে পড়েছে। তবে এতে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

‎বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের কেরামতগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে চরফ্যাশন উপজেলা থেকে যাত্রী নিয়ে ‘ঢাকা মেট্রো-ব ১৫৮৭৭৮’ সিরিয়ালের সোহাগ পরিবহনের বাসটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে কেরামতগঞ্জ বাজারের কাছাকাছি একটি মোড়ে পৌঁছালে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই বাসটি উল্টে সড়কের পাশের খালে পড়ে যায়।

‎দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে। তারা বাসটির সামনের ও পেছনের গ্লাস ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে যাত্রীদের বের করে আনেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর যাত্রীরা অন্য যানবাহনে করে গন্তব্যে রওনা হন।

‎অন্যদিকে বাসের ভেতরে আটকে পড়া চালককে প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টার পর উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালকের গাফিলতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কেউ গুরুতর না হলেও চালক গুরুতর আহত। অজ্ঞান থাকায় তার নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।


বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় স্কুলছাত্রী নিহত, সহপাঠীদের বিক্ষোভ

আপডেটেড ৯ এপ্রিল, ২০২৬ ১৬:৩১
বরিশাল প্রতিনিধি

বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় অষ্টম শ্রেণীর স্কুলছাত্রী চৈতি আক্তারের মৃত্যুর প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে বিএম কলেজ সড়কের শের-ই-বাংলা বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টার বেশি সময় সড়ক অবরোধ রাখেন। এতে সড়কে ব্যাপক যানজট সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (৮ এপ্রিল) স্কুল ছুটি শেষে চৈতি স্কুলের সামনের রাস্তা পার হচ্ছিলেন। তখন একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা তাকে চাপা দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে বরিশাল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে তার মৃত্যু হয়।

চৈতির মা জানিয়েছেন, আমার একমাত্র মেয়ে স্কুল থেকে ফিরছিল। স্কুলের সামনে রাস্তা পারাপারের সময় অটো তাকে চাপা দেয়। প্রথমে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। পরে শেবাচিম হাসপাতালে নিয়ে গেলেও এক ঘন্টা ধরে চিকিৎসক কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। তখনও সে বেঁচে ছিলেন। পরে এক নার্স স্যালাইন দেয়ার পর মৃত্যু হয়।

শিক্ষকরা অভিযোগ করেছেন, দূর্ঘটনার পর চৈতি কথা বলেছিল। যদি হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা দেওয়া হত, হয়ত সে বেঁচে থাকত। তবে চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে। স্কুলের সামনে স্প্রিড ব্রেকার না থাকাটাই মূল কারণ। সিটি কর্পোরেশনের কাছে ৬ মাস আগে স্প্রিড ব্রেকার স্থাপনের জন্য একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, স্কুলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, দ্রুতগতির যানবাহন এবং প্রশাসনের অবহেলার সমন্বয় এই ট্রাজেডির মূল কারণ। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে স্কুলের আশপাশে স্প্রিড ব্রেকার স্থাপন এবং নিয়মিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে হবে।

চৈতির মৃত্যুর খবর পেয়ে শিক্ষার্থীরা বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করেন। তারা স্কুলের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। প্রশাসনের আশ্বাসে শিক্ষার্থীরা পরে ক্লাসে ফিরে যান।

বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে বলেন, দোষী অটোরিকশা চালককে দ্রুত গ্রেপ্তার করে স্কুলের সামনে হাজির করা হবে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানিয়েছেন, পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই চৈতির মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।


ভোলায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যাত্রীবাহী বাস উল্টে খালে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ভোলা প্রতিনিধি

ভোলা-চরফ্যাশন আঞ্চলিক মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোহাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস খালে উল্টে পড়েছে। তবে এতে বড় ধরনের কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

‎বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকাল আনুমানিক পৌনে ৯টার দিকে বোরহানউদ্দিন উপজেলার বড় মানিকা ইউনিয়নের কেরামতগঞ্জ বাজার সংলগ্ন এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

‎পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে চরফ্যাশন উপজেলা থেকে যাত্রী নিয়ে ‘ঢাকা মেট্রো-ব ১৫৮৭৭৮’ সিরিয়ালের সোহাগ পরিবহনের বাসটি চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পথিমধ্যে কেরামতগঞ্জ বাজারের কাছাকাছি একটি মোড়ে পৌঁছালে চালক বাসটির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই বাসটি উল্টে সড়কের পাশের খালে পড়ে যায়।

‎দুর্ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিসের কর্মী ও স্থানীয় লোকজন দ্রুত উদ্ধার কাজে নেমে পড়ে। তারা বাসটির সামনের ও পেছনের গ্লাস ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে যাত্রীদের বের করে আনেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর যাত্রীরা অন্য যানবাহনে করে গন্তব্যে রওনা হন।

‎অন্যদিকে বাসের ভেতরে আটকে পড়া চালককে প্রায় আধাঘণ্টা চেষ্টার পর উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

‎এ বিষয়ে বোরহানউদ্দিন থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চালকের গাফিলতির কারণেই এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আহতদের মধ্যে কেউ গুরুতর না হলেও চালক গুরুতর আহত। অজ্ঞান থাকায় তার নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।


কুমেকে বারান্দায় চিকিৎসা: দেড় বছর তালাবদ্ধ ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

জায়গা সংকুলান ও শয্যা সংকটে কার্যত হিমশিম খাচ্ছে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (কুমেক) শিশু বিভাগ। হাম সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর থেকে কুমিল্লা ও আশপাশের জেলা থেকে আসা শিশু রোগীর চাপ বেড়েছে কয়েকগুণ। সাধারণ ওয়ার্ডের পাশাপাশি তিনটি আইসোলেশন ইউনিট চালু করেও পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না—বারান্দা ও মেঝেতেই চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে শিশুরা।

অন্যদিকে শিশুদের জন্য নির্মিত ১০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতাল ভবন দেড় বছরের বেশি সময় ধরে পড়ে আছে সম্পূর্ণ অব্যবহৃত অবস্থায়। দায়িত্ব গ্রহণ নিয়ে কুমেকের শিশু বিভাগ ও সিভিল সার্জন কার্যালয়ের টানাপোড়েনে জরুরি এই সময়েও চালু করা যায়নি হাসপাতালটি।

গত সোমবার (৬ এপ্রিল) সরেজমিনে কুমেকের শিশু বিভাগে গিয়ে দেখা যায়, নিচতলায় একটি ও দ্বিতীয় তলায় দুটি কক্ষ মিলিয়ে তিনটি আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি রয়েছে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চাঁদপুর থেকে আসা অন্তত ৩২ জন শিশু। শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকেই বারান্দায় চাটাই পেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে, কেউ কেউ মেঝেতেই বিছানা পেতে রয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী দূরত্ব বজায় রাখার সুযোগ না থাকায় গাদাগাদি অবস্থায় ঝুঁকির মধ্যেই চলছে চিকিৎসা।

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ থেকে আসা হামে আক্রান্ত ৬ মাস বয়সি শিশু আয়াতের মা ফারজানা আক্তার বলেন, ‘শিশুর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এখানে আনা হয়েছে। ভেন্টিলেশনে অক্সিজেন দেওয়া হচ্ছে; কিন্তু জায়গার খুব কষ্ট।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর থেকে আসা ৫ মাস বয়সি রাজুর বাবা সুখেন দাশ জানান, ডাক্তার কুমিল্লায় পাঠিয়েছে; কিন্তু এসে কোনো সিট পাইনি। বারান্দাতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

কুমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. মিয়া মনজুর আহমেদ বলেন, ‘৪০ শয্যার বিপরীতে সাধারণ সময়েই তিনগুণ রোগী থাকে, আর হাম সংক্রমণের পর চাপ বেড়েছে আরও দ্বিগুণ। বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চলের রোগীরা ভালো চিকিৎসার আশায় এখানে ভিড় করছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘পদুয়ার বাজার বেলতলীতে নির্মিত ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতালটি চালু করা গেলে সংক্রমিত রোগীদের জন্য আলাদা আইসোলেশনসহ বিশেষায়িত চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হতো। এতে কুমেকের ওপর চাপও অনেকটা কমে যেত।’

এদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে পদুয়ার বাজার বেলতলীতে নির্মিত তিনতলা আধুনিক হাসপাতাল ভবনটি ঘুরে দেখা গেছে—পুরো অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও নেই চিকিৎসক, নার্স, যন্ত্রপাতি বা আসবাবপত্র। প্রায় দুই বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হলেও পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে জটিলতায় হাসপাতালটি চালু করা যায়নি।

স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী সাইফুল ইসলাম জানান, ২০২০ সালে ৩৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা ব্যয়ে প্রকল্পের কাজ শুরু হয়ে ২০২৪ সালে শেষ হয়। দেড় বছর আগেই হস্তান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দায়িত্ব নির্ধারণ না হওয়ায় জনবল ও সরঞ্জাম বরাদ্দ হয়নি।

কুমিল্লার সিভিল সার্জন ডা. আলী নূর মোহাম্মদ বশির আহমেদ বলেন, ‘প্রথমে কুমেককে দায়িত্ব দেওয়া হলেও তারা নেয়নি। পরে আমাদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জনবল ও যন্ত্রপাতির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা হলে হাসপাতালটি চালু করা সম্ভব হবে।’

স্থানীয়দের প্রশ্ন—যেখানে একদিকে শিশু রোগীরা বারান্দায় চিকিৎসা নিচ্ছে, সেখানে আধুনিক একটি হাসপাতাল ভবন কেন দেড় বছর ধরে বন্ধ পড়ে থাকবে? দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে চলমান সংক্রমণ পরিস্থিতিতে ভোগান্তি আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা।


রামগতিতে রাস্তার আরসিসি ঢালাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রামগতি-কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি

লক্ষ্মীপুরের রামগতি উপজেলার একটি রাস্তায় আরসিসি ঢালাইয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তা নির্মাণ কাজে বাঁধা দেন স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী। বুধবার (৮এপ্রিল) দুপুর ১২ টার দিকে উপজেলার রামগতি বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় উন্নয়ন সহায়তা ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে রামগতি বাজারের উপর ১ হাজার ৮৩৯ স্কয়ার মিটার আরসিসি ঢালাই ও দেড় কিলোমিটার রাস্তা পাকা করার জন্য প্রায় ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজটি পান মেসার্স এম এস কনস্ট্রাকশন কোম্পানি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত ৮ দিন আগে প্রথমে রামগতি বাজারের উপর আর সিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করা হয়। এতে নানা অনিয়মের অভিযোগে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। আজ বুধবার স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীর সাথে বাকবিতন্ডায় জড়ান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন।

স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ীরা জানান, আর সিসি ঢালাইয়ে রাস্তার কাজে নিম্নমানের পাথর, ইটের খোয়া ব্যবহার এবং পরিমাণে সিমেন্ট কম দেওয়া, সিলেকসন বালুর স্থলে বাংলা বালু দেওয়া ও বরাদ্দ অনুযায়ী রড না দেওয়া সহ নানা অভিযোগ করেন তারা। এ নিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সাথে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজনের বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে।

কাজটি দেখবালের দায়িত্বে থাকা মিন্টুর কাছে এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, আপনারা সড়ক ও জনপথ বিভাগের অফিসে গিয়ে জানেন। আমি আপনাদেরকে কিছুই বলবোনা।

স্থানীয় বাজার ব্যবসায়ী গরীব হোসেন রাসেল ও সাখাওয়াত হোসেন ভুট্টু বলেন, শুরু থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করেছেন। তারা সরকার দলীয় লোক বলে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে এ অনিয়ম করছে। আমরা কাজটি সঠিকভাবে হউক, তা চাই।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এম এস কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী মোঃ আরজু বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। আপনারা সাইট ম্যানেজার মিন্টুর সাথে কথা বলেন।

লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো.মেহদী হাসান বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন তিনি।


পাবনায় তেলের বাজারে কারসাজি: জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ক্যাবের মানববন্ধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

অসাধু ব্যবসায়ীদের কারসাজিতে বাজার থেকে ভোজ্যতেল উধাও করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে পাবনার সাধারণ মানুষ। দোষী ব্যবসায়ীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে জেলা শহরে মানববন্ধন করেছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

বুধবার (৮ এপ্রিল) বেলা ১১টায় পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে আব্দুল হামিদ সড়কে ক্যাব পাবনা জেলা শাখার উদ্যোগে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত এই মানববন্ধনে অংশ নেন জেলার বিভিন্ন পেশাজীবী ও সচেতন নাগরিক।

মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে ক্যাব জেলা শাখার সভাপতি এবিএম ফজলুর রহমান বলেন, "অধিক মুনাফার লোভে একটি অসাধু ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট বাজার থেকে ভোজ্যতেল সরিয়ে ফেলেছে। সরকারের উচিত দ্রুত এই সিন্ডিকেটকে চিহ্নিত করে বাজার তদারকি জোরদার করা। তা না হলে সাধারণ ক্রেতারা ন্যায্যমূল্যে পণ্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে, যা চরম ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘনের শামিল।

ক্যাব যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শফিক আল কামালের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক উৎপল মির্জা, রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাজী মাহবুব মোর্শেদ বাবলা, এবং বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ জেলা শাখার সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুন্নাহার জলি।

বক্তারা অভিযোগ করেন, কৃত্রিম সংকটের মাধ্যমে ভোক্তাদের পকেট কাটা হচ্ছে। অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর বাজার মনিটরিং নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।

অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের অর্থ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইয়াদ আলী মৃধা পাভেল, দপ্তর সম্পাদক মনিরুজ্জামান শিপন, সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. নরেশ মধু, পাবনা কলেজের শিক্ষক ড. আলমগীর হোসেন প্রমুখ। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিক ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশ শেষে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি দ্রুত বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসে এবং মজুদদারদের আইনের আওতায় না আনা হয়, তবে সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


banner close