বুধবার, ৩ জুন ২০২৬
২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

ইলিশের বাড়ি বরিশালে ইলিশের আকাল পান্তা-ডিমভাজায় বৈশাখ উদযাপনের প্রস্তুতি

ইলিশের আকাল থাকায় বরিশাল পোর্টরোড ইলিশ মোকামে সুনসান নীরবতা ।
খান রুবেল, বরিশাল
প্রকাশিত
খান রুবেল, বরিশাল
প্রকাশিত : ১৩ এপ্রিল, ২০২৫ ১২:৪২

পহেলা বৈশাখের সকালে ‘পান্তা-ইলিশ’ ভোজন বাঙালির প্রাচীন ঐতিহ্য। তবে এখন ‘পান্তা’ভাত থাকলেও নেই ইলিশ নিয়ে মাতামাতি। গত কয়েক বছর ধরে বাঙালির বৈশাখী উৎসবে ইলিশের জায়গাটা দখল করে নিয়েছে ‘ডিম ভাজি আর আলু ভর্তা’।

‘ইলিশের বাড়ি বরিশালে’ এবারও ‘পান্তা, ডিমভাজা আর মরিচ ভর্তা’ দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের প্রস্তুতি নিয়েছে বরিশালবাসী। কেননা একদিকে জাটকা শিকারে নিষেধাজ্ঞা, তার ওপর বাজারে ইলিশের তীব্র আকাল- যা আছে তা চড়া মূল্যে কেনা দুঃসাধ্য।

বরিশাল নগরীর অন্যতম পাইকারি ব্যবসাকেন্দ্র পোর্ট রোড মৎস্য আড়ত। যেটি ইলিশের মোকাম হিসেবে পরিচিত। সরেজমিনে শনিবার সকালে ইলিশ মোকামে দেখা যায়, গত বছরের মতোই বৈশাখ উদযাপনে ইলিশ নিয়ে মাতামাতি নেই। মোকাম থেকে ইলিশ সরবরাহ হচ্ছে না অন্য কোথাও। বিগত বছরগুলোতে যেখানে দাম কোনো বিষয় ছিল না, সেখানে এ বছর আগাম কোনো অর্ডার পাননি আড়তদাররা। সকাল ১০টা বাজার আগেই ইলিশ শূন্য হয়ে যায় পাইকারি বাজার। স্বল্প পরিমাণ ইলিশ নিয়ে বসে আছেন খুচরা বিক্রেতারা। তবে দুপুরের পর পরই একেবারে ইলিশ শূন্য হয়ে পড়ে পাইকারি মোকাম।

তবে নগরীর চৌমাথা, বড় বাজার এবং আদালতপাড়া এলাকার খুচরা বাজারে দেখা মেলে ইলিশের। তাও দামে চড়া। খুচরা মৎস্য বিক্রেতারা মাঝারি সাইজের প্রতি কেজি ইলিশের দাম হাঁকিয়েছেন দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। আর এক কেজি সাইজের ইলিশের দাম তিন থেকে চার হাজারের ওপরে। ফলে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা দাম শুনে ঘুরেফিরে দেশি মাছের দিকে ঝুঁকছেন।

ক্রেতা নগরীর সদর রোডের বাসিন্দা ব্যবসায়ী শফিকুর রহমান বলেন, আগে পরিবার নিয়ে ‘পান্তা-ইলিশ’ দিয়ে পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপন করতাম। কিন্তু গত দুই বছর ধরে সেই অবস্থান থেকে সরে এসেছি। গত বছরও ইলিশের পরিবর্তে ডিম ভাজা দিয়ে আর মরিচভর্তা দিয়ে বৈশাখ উদ্‌যাপন করেছি। এবার তো ইলিশই নাই। তাই এবারও পান্তা আর ডিমভাজা দিয়েই বৈশাখ উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিয়েছি।

বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠক জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘ইলিশের বাড়ি নাকি বরিশাল। অথচ বরিশালেই ইলিশ নাই। তার ওপর এখন জাটকা শিকারে নিষেধাজ্ঞা চলছে। তাই বাজারও ইলিশ শূন্য। ইলিশের দাম এতটাই চড়া যে, এখন স্বাভাবিক দিনগুলোতেও কেনা যাচ্ছে না। তার ওপর বৈশাখ ঘিরে এর দাম দিন দিন বাড়ছে। এ কারণে সংগঠনের কর্মীদের নিয়ে এবার ‘পান্তা-ডিমভাজি এবং শুকনা মরিচপোড়া’ দিয়ে বৈশাখ উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিয়েছি।

মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার প্রথমবারের মতো বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশের জলসীমায় ৬৫ দিন মাছ ধরা নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা পুনর্বিন্যাস করেছে সরকার। এতে সময়সীমা কমিয়ে ৫৮ দিন নির্ধারণ করার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞার সময় পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রায় একই সময়ে করা হয়েছে। গত ১৭ মার্চে মৎস্য অধিদপ্তর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

সরকার যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, তাতে প্রতি বছর ১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে নিষেধাজ্ঞা থাকবে বঙ্গোপসাগরের ভারতের জলসীমায়ও। এ ক্ষেত্রে ভারতের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকার দুদিন আগে বাংলাদেশের সামুদ্রিক জলসীমায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হবে। এই হিসাবে পহেলা বৈশাখের পরদিন থেকে নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে।

এদিকে, পোর্ট রোড আড়তের পাইকাররা জানিয়েছেন, বর্তমানে এক কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের প্রতি মণ ইলিশ বিক্রি হচ্ছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা, সে হিসাবে কেজি দাঁড়ায় তিন হাজার টাকা। এক কেজি ওজনের ইলিশের মণ দেড় লাখ টাকা। যার কেজি দাঁড়ায় দুই হাজার ৬২৫ টাকা। ৬০০-৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ ৯৫ হাজার। যার কেজি দাঁড়াচ্ছে দুই হাজার ৩৭৫ টাকা। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশের মণ ৬৫ হাজার, যার কেজি দাঁড়ায় এক হাজার ৬২৫ টাকা। তবে খুচরা বাজারে প্রকারভেদে প্রতি কেজি ইলিশ ৫শ থেকে দুই হাজার টাকা পর্যন্ত বেশি দাম হাঁকানো হচ্ছে।

পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি জহির সিকদার বলেন, বিগত বছরগুলোতে পহেলা বৈশাখ উদ্‌যাপনে এপ্রিল মাস শুরুর সঙ্গে সঙ্গে মোকাম থেকে ইলিশ যেত রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। এজন্য বড় সাইজের ইলিশের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। দামের কোনো সমস্যা ছিল না। ওই সময় সাগরে নিষেধাজ্ঞা চললেও একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী জেলেদের দিয়ে ইলিশ শিকার করাত। এভাবে চলে আসছিল বছরের পর বছর। আগের বছরগুলোতে ১ এপ্রিল থেকে ১২ ও ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ৫০ মণের বেশি ইলিশ যেত দেশের বিভিন্ন স্থানে। কিন্তু গত বছর থেকে দাম বাড়ায় চাহিদা কমেছে। এবার অর্ডার নেই বললেই চলে।

পোর্ট রোডের মেসার্স আক্তার মৎস্য আড়তের স্বত্বাধিকারী মো. ইউসুফ বলেন, বর্তমানে জাটকা শিকারের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ইলিশ বাজারে নেই বললেই চলে। তাই দামে আগুন। আগের বছরগুলোতে এই সময় ৩০০-৪০০ মণ ইলিশ উঠত এই মোকামে। অথচ ঈদের পর থেকে পোর্ট রোড মোকামে ৫০ মণ ইলিশও উঠেনি। তাই এবার বৈশাখে ইলিশ নিয়ে তেমন মাতামাতিও নেই।

পোর্ট রোডের আড়তদার হেমায়েত উদ্দিন ও মো. সাজু মিয়া জানিয়েছেন, জাটকা বড় হলে ইলিশে রূপ নেয়। কিন্তু সেই জাটকা শিকার করছে একশ্রেণির অসাধু জেলে। এ কারণে প্রতি বছর ইলিশের উৎপাদন কমছে। জাটকা শিকার বন্ধ করতে পারলে নদী ও সাগরে ইলিশ বেড়ে যাবে। তখন দামও কমে যাবে। সাগরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদারকির প্রয়োজন নেই। অবৈধ জাল উৎপাদন হচ্ছে যেখানে-সেখানে অভিযান চালিয়ে জাল উৎপাদন বন্ধ করার দাবি জানান তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস বলেন, আগের বছরগুলোর চেয়ে ইলিশের উৎপাদন কমেনি বরং বেড়েছে। এখন জাটকা সংরক্ষণ সপ্তাহ চলছে। কঠোরভাবে অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলেদের সাগরে নামতে দেখলেই জেল-জরিমানা করা হচ্ছে। এ জন্য মোকামে জাটকা যাচ্ছে না।

তিনি বলেন, এবার প্রথমবারের মতো ভারতের সঙ্গে মিলিয়ে সাগরে জাটকা ধরার নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় কেউ ইলিশ শিকার করতে পারবে না। অভয়াশ্রম থেকে শুরু করে যেসব এলাকায় ইলিশের প্রজনন বেশি সেসব এলাকায় রাতদিন পাহারার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে জেলেদের সচেতন করার কাজও চলছে। আশা করছি আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার ইলিশের উৎপাদন আরও বাড়বে। আর উৎপাদন বাড়লে দামও কমবে বলে আশাবাদী এই কর্মকর্তা।


পাবনায় পদ্মা নদী থেকে কিশোরীর বস্তাবন্দি হাত বাঁধা লাশ উদ্ধার

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৬ ১২:৫৭
রাউজ আলী, পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার সদর উপজেলার ভাড়ারা ইউনিয়নের বলরামপুর এলাকায় পদ্মা নদী থেকে এক কিশোরীর (১৪-১৬) হাত-বাঁধা ও বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৩ মে) সকাল ১০টার দিকে বলরামপুর পীরপুর-সংলগ্ন নদীর তীর থেকে ভাসমান অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত ওই কিশোরীর পরিচয় এখনো নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তবে তার গলায় একটি রুপার চেইন ছিল বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ধারণা, ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে গেছে দুর্বৃত্তরা।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে পদ্মার চরে কৃষকেরা কাজ করতে যাওয়ার সময় নদীর তীরে আটকে থাকা একটি নৌকার পাশে প্লাস্টিকের মুরগির বস্তা ভাসতে দেখেন। সন্দেহ হলে এক কৃষক কাঁচি দিয়ে বস্তার মুখ কেটে ভেতরে এক কিশোরীর লাশ দেখতে পান। লাশটির হাত বাঁধা এবং গলায় বাজারের ব্যাগ জড়ানো ছিল। পরে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার (২ মে) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ওই এলাকায় চারজন মধ্যবয়সী যুবকসহ একটি অজ্ঞাত প্রাইভেটকার ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে বলরামপুরের দিকে যাওয়ার সময় গাড়িটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় গাড়িটি ধাক্কিয়ে বলরামপুর মুজিব বাঁধ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, "আমাদের ধারণা, মেয়েটিকে অন্য কোথাও ধর্ষণের পর হত্যা করে এই প্রাইভেটকারে করেই লাশটি মাঝরাতে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। বলরামপুর স্কুলের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করলেই গাড়িটি এবং এর ভেতরে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব।"

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয় এবং লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, "এখনো ওই কিশোরীর পরিচয় পাওয়া যায়নি। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। এলাকার সিসিটিভি ফুটেজসহ সব ধরনের ক্লু খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


দৌলতপুরে চিহ্নিত হেরোইন  ব্যবসায়ী সুবল মোল্লা গ্রেফতার 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জালাল উদ্দিন ভিকু, দৌলতপুর (মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি 

মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলায় যাত্রী ছাউনির ওয়ালটন শো রুমের সামনে অভিযান চালিয়ে ২২.০৫ গ্রাম (দুইশ পুইড়া) হেরোইন মূল্য ৮০ হাজার টাকা সহ চিহ্নিত হেরোইন ব্যবসায়ী মো: সুবল হোসেন মোল্লা (৪৩)কে আটক করেছে দৌলতপুর থানা পুলিশ।

আটককৃত মাদক ও হেরোইন ব্যবসায়ী মোঃ সুবল হোসেন মোল্লা দৌলতপুর রামচন্দ্রপুর গ্রামের আরশেদ আলী মোল্লার ছেলে।

মঙ্গলবার ২ জুন বিকালে দৌলতপুর উপজেলা সদরের যাত্রী ছাউনির পাশে ওয়ালটন শো রুমের সামনে থেকে দৌলতপুর থানা পুলিশ অভিযান ঐ হেরোইন ব্যবসায়ী কে গ্রেফতার করে।

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৌলতপুর উপজেলা সদরের যাত্রী ছাউনির পাশে ওয়ালটনের শোরুমের সামনে দৌলতপুর থানার এস আই (নিঃ) মোঃ নজরুল ইসলাম ও এস আই সাইফুল ইসলাম সঙ্গীয় কনস্টেবল শামীম, আকরাম হোসেন নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে হেরোইন ব্যবসায়ী মো : সুবল হোসেন মোল্লাকে গ্রেপ্তার করে। এর নিকট হইতে উদ্ধারকৃত ২০০ (দুই শত পুইড়া ) হেরোইন ২২.০৫ গ্রাম, মূল্য অনুমান ৮০.০০০/- টাকা সহ উদ্ধার করা হয়।

এক বিজ্ঞপ্তি মাধ্যমে জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খবর পান, দৌলতপুর উপজেলা যাত্রী ছাউনির পার্শ্বে ওয়ালটন শোরুমে সামনে পাকা রাস্তায় একজন মাদক ব্যবসায়ী মাদকদ্রব্য হেরোইন বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে অবস্থান করিতেছে। উক্ত স্থানে পৌঁছাইলে পুলিশের উপস্থিতি টের পাইয়া দৌঁড়াইয়া পালানোর চেষ্টা কালে সংগীয় অফিসার ফোর্সের সহায়তায় উক্ত মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা পুলিশের এস আই মোঃ সাইফুল ইসলাম জানান,উপস্থিত সাক্ষীর মোকাবেলায় ধৃত আসামীর নাম ঠিকানা জিজ্ঞাসাবাদ করিলে উপরে উল্লিখিত নাম ঠিকানা প্রকাশ করে। ধৃত আসামীর নিকট কোন মাদকদ্রব্য আছে কিনা জিজ্ঞাসাবাদ করিলে সে প্রথমে এলোমেলো কথাবার্তা বলে। অতঃপর ব্যাপকতর জিজ্ঞাসাবাদ এবং দেহ তল্লাশীকালে ধৃত আসামীর বাম পায়ে এাংলেট মধ্যে থাকা সাদা পলিথিনে মোড়ানো বিশেষভাবে রক্ষিত ২০০ (দুই শত) পুইড়া হেরোইন , যাহার ওজন-২২.০৫ গ্রাম, যাহার প্রতিটি পুইড়ার মূল্য ৪০০/-টাকা অনুমান ৮০ হাজার/- টাকা নিজ হাতে বের করে দেয়। সাক্ষী গণের উপস্থিতিতে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে। জব্দকৃত ২২.০৫গ্রাম ঘটনাস্থলেই সঙ্গে থাকা ডিজিটাল ওজন পরিমাপক নিক্তির সাহায্যে ওজন পরিমাপ করে এবং বর্ণিত আলামত হইতে ০ ৫ (পাচ পুইড়া) রাসায়ণিক পরীক্ষার জন্য খাকি খামের ভিতরে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে দৌলতপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি)স্বপন কুমার সরকার মাদক ব্যবসায়ী ও মাদক ক্রয়কারীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, দৌলতপুর থানায় আমি যতদিন আছি মাদক ব্যবসায়ী ও ক্রয়কারী যেই হোক তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক ব্যবসায়ীদের স্থান এক হয় জেলখানা আর নাইলে দৌলতপুর ছাড়তে হবে । দৌলতপুর থানা পুলিশ মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স। গ্রেফতারকৃত মাদক ব্যবসায়ী মো: সুবল হোসেন মোল্লা (৪৩) বিরুদ্ধে ২০১৮ সনের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৩৬(১)সারণির ৮(খ) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মানিকগঞ্জ কোটে পাঠানো হয়েছে।


হাসপাতালে লাশ ফেলে পালালো শ্বশুরবাড়ির লোকজন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
​গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় ঝর্না আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যুকে ঘিরে তৈরি হয়েছে রহস্য। শ্বশুরবাড়ির লোকজনের দাবি গৃহবধূ বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন। তবে হাসপাতালে লাশ রেখে তাদের পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্তরা বসতঘরে তালা দিয়ে আত্মগোপনে রয়েছে।

​মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে উপজেলার বালুয়াকান্দি ইউনিয়নের তেতৈতলা গ্রামে স্বামীর বসতঘর থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

​নিহত ঝর্না আক্তার তেতৈতলা গ্রামের সুজন দেওয়ানের স্ত্রী এবং পার্শ্ববর্তী নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার চান্দের কীর্তি গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তারের মেয়ে। দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে তাদের বিয়ে হয়।

​স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে ঝর্না নিজ কক্ষের ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরিবারের লোকজন দরজা খোলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে ঝর্নার বোনদের খবর দেয়। পরে ড্রিল মেশিন দিয়ে লোহার দরজা কেটে ঝর্নাকে উদ্ধার করা হয়। তাকে প্রথমে হামদর্দ জেনারেল হাসপাতাল ও পরবর্তীতে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

​হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আবরাহাম হোসেন ফাহিম বলেন, “রাত ১০টার দিকে তাকে হাসপাতালে আনা হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল।”

​নিহতের বোন তাসলিমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “বিয়ের পর থেকেই ঝর্নার ওপর শ্বশুরবাড়ির লোকজন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিল। তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝর্নাকে তালাক দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। এ নিয়ে পারিবারিকভাবে কয়েকদফা আলোচনাও হয়েছে। বুধবার বিকেলে চূড়ান্ত বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঝর্না সংসার টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিলেন। এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। যারা ঝর্নার মরদেহ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে গেছে তারাই এ ঘটনার জন্য দায়ী।”

​নিহতের মামা মো. রফিকুল জানান, ঝর্নার বাবা-মা নেই, মামার বাড়িতেই বড় হয়েছে সে। বিচ্ছেদ হয়ে গেলে কোথায় যাবে এই দুশ্চিন্তায় ঝর্না মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল।

​এ বিষয়ে অভিযুক্ত স্বামী সুজন দেওয়ানের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় বাসায় তালা ঝুলছে। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিষয়টি সম্পর্কে ​গজারিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাসান আলী বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশের সুরতহাল তৈরি করেছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”


নওগাঁয় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে বৃদ্ধের মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁর পত্নীতলায় ট্রাক্টরের চাকায় পিষ্ট হয়ে রমজান আলী মন্ডল (৫৫) নামের এক ব্যাক্তির মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার খড়াইল মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাক্টরসহ চালককে আটক করেছে থানা পুলিশ।

নিহত রমজান আলী মন্ডল উপজেলার ঝলকাহার (তেজাপাড়া) গ্রামের মৃত মোস্তফা মন্ডলের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত রমজান আলী তার প্রয়োজনীয় কাজ শেষে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে মধইল বাজার থেকে অটোরিকশা যোগে ঝলকাহার (তেজাপাড়া) তার বাড়িতে আসছিলেন। পথিমধ্যে খড়াইল মোড়ের পাশে ছাইদুলের বয়লারের সামনে এলে বিপরীত মুখী একটি ট্রাক্টরের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশা থেকে ছিটকে ট্রাক্টরের চাকার নিচে পড়ে সে। এ সময় ট্রাক্টরের চাকা তার মাথার উপর দিয়ে চলে যায় এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নিয়ামুল হক বলেন, খবর পাওয়ার সাথে সাথেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন কর ঘাতক ট্রাক্টরসহ চালককে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


মেহেরপুরে বিএনপি নেতার বাড়িতে কাফনের কাপড়-আগরবাতি ও চিরকুট রেখে হুমকি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোহেল রানা বাবু, মেহেরপুর প্রতিনিধি 

মেহেরপুর সদর উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের বলিয়ারপুর গ্রামে ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক লস্কর আলীর বাড়িতে কাফনের কাপড়, আগরবাতি, গোলাপজলের বোতল ও একটি চিরকুট উদ্ধার করেছে পুলিশ।

আজ বুধবার সকালে বাড়ির প্রাচীরের ওপর এসব দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বলিয়ারপুর গ্রামের মৃত এজেল শেখের ছেলে লস্কর আলী দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তিনি জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মাসুদ অরুনের সমর্থক হিসেবে পরিচিত।

অভিযোগ রয়েছে, দলীয় কোন্দলের জেরে দুর্বৃত্তরা বাড়ির সামনে ইটের দেয়ালের ওপর একটি হালকা নীল রঙের পলিথিনে মোড়ানো কাফনের কাপড়, আগরবাতির প্যাকেট, গোলাপজলের বোতল এবং একটি চিরকুট রেখে যায়।

চিরকুটে জীবননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে।


নওগাঁয় গ্রাহকের ৪ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা উদয়ের পথে সংস্থা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মো. সবুজ হোসেন, নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁয় একটি বেসরকারি সংস্থা ‘উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ তার কার্যক্রম বন্ধ করে গ্রাহকের প্রায় ৪ কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির অফিস হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন আমানতকারীরা। ঘটনার পর থেকে সংস্থার পরিচালক আসাদুজ্জামান টিটু ও সহকারি ম্যানেজার মাসুদ রানা বিদ্যুৎ গা ঢাকা দিয়েছেন। প্রতিদিন গ্রাহকরা ওই সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে কাউকে না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা সহ তাদের ঘাম ঝরানো কষ্টার্জিত টাকা ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

নওগাঁ সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ধামকুড়ি গ্রামে অবস্থিত ‘উদয়ের পথে মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড’ সংস্থার প্রধান কার্যালয়। যা সমবায় থেকে নিবন্ধিত বেসরকারি সংস্থা। প্রায় ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে সংস্থার পরিচালক আসাদুজ্জামান টিটু ও সহকারি ম্যানেজার মাসুদ রানা বিদ্যুৎ সহ ১০ জন তারা সঞ্চয়, ডিপিএস ও আমানতের টাকা সংগ্রহ করে আসছিল। তারা গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের প্রলোভন দিয়ে প্রতি লাখে দুই হাজার টাকা মুনাফা দিয়ে আমানত রাখতে উদ্বৃদ্ধ করতো। না বুঝে অনেকে লোভে পড়ে তাদের জীবনের সব সঞ্চয় রেখেছিল। কেউ মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য, কেউ তাদের সন্তানদের পড়াশুনার জন্য, আবার কেউ বাড়ি তৈরি করার জন্য লাখ লাখ টাকা আমানত রেখেছিল। তাদের ফাঁদে পা দিয়ে লাখ লাখ টাকা আমানত রেখে এখন নিঃস্ব হওয়ার পথে।

ঈদুল-আজহার দীর্ঘ ছুটির মধ্যে সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করে গা ঢাকা দিয়েছে এর সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারিরা। এ সংস্থাটি তিন শতাধিক গ্রহকের প্রায় ৪ কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে গ্রামের সহজ-সরল মানুষের কাছ থেকে সঞ্চয়, ডিপিএস ও আমানতের টাকা সংগ্রহ করে আসছিল প্রতিষ্ঠানটি। সম্প্রতি অফিস বন্ধ করে সংশ্লিষ্টরা আত্মগোপনে চলে গেলে গ্রাহকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ফুটপাতের ফল ব্যবসায়ি ধামকুড়ি গ্রামের বয়জেষ্ঠ্য আব্দুর রহমান বলেন- অসুস্থ প্রতিবন্ধী স্ত্রীকে নিয়ে টিনের ঘরে বসবাস করছি। আমিও অসুস্থ। বর্তমানে কোন কর্ম করতে পারি না। বাড়ির পাশে 'উদয়ের পথে' সংস্থ। বিশ্বাস করে কর্মজীবনের সব সঞ্চয় ৩ লাখ টাকা গত ৫ বছর আগে সেখানে রেখেছিলেন। স্বপ্ন ছিলো ওই টাকা দিয়ে বাড়ি তৈরি করবো। তারা বলেছিল লাভের টাকা দিয়ে বাড়ি করা যাবে। শুরুতে লাখে ২ হাজার টাকা লভ্যাংশ দিলেও কয়েক মাস পর থেকে শুরু হয় নানা টালবাহানা। ঈদের মধ্যে সংগঠনটি রাতারাতি পালিয়ে যাওয়ায় এখন এ পরিবারটি পথে বসার উপক্রম। অর্থের অভাবে স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে পারছি না।

একই গ্রামের গার্মেন্টস কর্মী সীমা বলেন- সংস্থার পরিচালক আসাদুজ্জামান টিটু আমার শিক্ষক ছিলেন। শিক্ষককে বিশ্বাস করে সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ২ লাখ টাকা সেখানে রেখেছিলাম। ভবিষ্যতে মেয়ের বিয়ে দিতে হবে। টাকা-পয়সা লাগবে কোথায় পাবো এই ভেবে রাখা হয়েছিল। কিন্তু এভাবে প্রতারিত হবো জানতাম না। এখন পথে বসার উপক্রম। আমার ঘাম ঝরানো কষ্টার্জিত টাকা ফেরতের দাবি জানায়।

গৃহবধু মারুফা বিবি বলেন- গরীব মানুষ। ৭ বছর আগে ৭০ হাজার টাকা ওই সংস্থায় রেখেছিলাম। ব্রেস্ট ক্যান্সারে অসুস্থ হাওয়ার পর এক বছর আগে কিছু টাকা উঠাতে গিয়েছিলাম। টাকা তো দেয়নি তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিদায় করে দেয়। পরে স্বামীর হাতে তারা ২০ হাজার টাকা দেয়। কিন্তু বাঁকী টাকা তারা না দিয়ে পালিয়ে গেছে।

একই গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন- শুরুতে সংগঠনের কার্যক্রম ভালই চলছিল। করোনা মহামারির পর থেকে সংস্থার কার্যক্রমের পরিসর ছোট হতে থাকে। মাঠ থেকে টাকা সংগ্রহ করা হলেও গ্রাহকদের কোন ঋন দেওয়া হতো না। এমনকি লাভের টাকাও দেওয়া হতো না। সংস্থার পক্ষ থেকে বিষয়টি নিয়ে গ্রামে গ্রাহকের সাথে বৈঠক হয়েছিল। সেখানে আলোচনা হয়েছিল তারা এক বছর কোন লাভ দিতে পারবে না। পর্যায়ক্রমে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিবে। গ্রাহকরাও এমন সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল। কিন্তু এখন তারা সংস্থার কার্যক্রম বন্ধ করে গ্রাহকদের টাকা নিয়ে গা ঢাকা দিয়েছে।

রোববার ধামকুড়ি গ্রামে গিয়ে সংস্থায় তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। এছাড়া সংস্থার পরিচালক আসাদুজ্জামান টিটু ও সহকারি ম্যানেজার মাসুদ রানা বিদ্যুৎ এর বাড়িতে গিয়েও কাউকে পাওয়া যায়নি।

নওগাঁ সদর উপজেলা সমবায় অফিসার মোঃ জাহাংগীর আলম বলেন- এ উপজেলার যোগদানের পর ওই সংস্থায় চলতি বছর একটি অডিট(পরিদর্শন) পেয়েছি। সেসময় তারা কোন কাগজপত্র দাখিল করেনি। ওই সংস্থাটি বাতিল করতে গত ১৫ দিন আগে একটি নোটিশ করা হয়েছে। তবে সংস্থাটি পালিয়ে গেছে কিনা আমার জানা নেই। এছাড়া এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ করেনি।


জীবননগর মেদিনীপুর সীমান্তে মাটির নিচ থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলি উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি )।

মহেশপুর-৫৮ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, মেদিনীপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার হারুন অর-রশিদের নেতৃত্বে একটি টহল দল মঙ্গলবার দিনগত রাত ৮টার দিকে নিয়মিত চোরাচালান প্রতিরোধ টহলে বের হন। টহলরত অবস্থায় রাত আনুমানিক ৮টা ৪০ মিনিটে গোপন তথ্য পান যে, মেদিনীপুর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকার মেইন পিলার-৬৩ থেকে প্রায় ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে আব্দুল গণির বাঁশবাগানের পাশে মাটির নিচে একটি বিদেশি পিস্তল পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।

এ তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে বিজিবির টহল দল ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে মাটির নিচ থেকে একটি পুরাতন বিদেশি তৈরি সচল ৭.৬৫ বোর পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং ম্যাগাজিনে লোড করা অবস্থায় তিন রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। পিস্তলটির গায়ে ইংরেজিতে “MADE IN ITALY” লেখা ছিল এবং গুলিগুলোর পেছনে “KF 7.65” খোদাই করা ছিল।

উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে রাত ৯টা ৫ মিনিটে জব্দ করা হয়। পরে আলামতগুলো বিজিবির হেফাজতে নেওয়া হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে জীবননগর থানার মালখানায় জমা দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোলাইমান শেখ জানান, গতকাল রাত ১১ টার দিকে ৫৮-বিজিবি মেদিনীপুর ক্যাম্পের নায়েব সুবেদার হারুন অর রশিদ বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করে মালিকবিহীন একটি পিস্তল থানায় জমা দেয়। এছাড়াও বিষয়টি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


বিচার শালিশে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে আহত ৫০

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি

হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার খরকি গ্রামে বিচার শালিশে ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ অন্তত ৫০ জন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই গ্রামের কালাকারীর ছেলে আহমদের মালিকানাধীন ঢাকার একটি ফার্নিচার দোকান থেকে ঈদের আগে মুর্শেদ কামালের ছেলে তোফাজ্জল (৩৫) কিছু টাকা নিয়ে যান। পরে ওই টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়।

বিরোধ মীমাংসার লক্ষ্যে মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে খরকি গ্রামে একটি নালিশি বিচার বসে। বিচার চলাকালে এক পক্ষ মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ শুরু করলে অপর পক্ষ এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও কথা কাটাকাটির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়।

সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

খবর পেয়ে মাধবপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ চেষ্টার পর রাত প্রায় ৯টার দিকে পুলিশ সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড শটগানের গুলি ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এ ঘটনায় দু'পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ২০ জন আহত হয়েছেন।

বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে। সকলকে শান্ত থাকার এবং আইন নিজের হাতে তুলে না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা বলেন, “টাকা-পয়সা সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


জয়পুরহাটে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে ১ হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৬ ১০:৩৮
​জয়পুরহাট প্রতিনিধি

জয়পুরহাট জেলা সদর ও পাঁচবিবি উপজেলার গ্রামীণ রাস্তাঘাট এবং সামগ্রিক অবকাঠামোগত চেহারা বদলে দিতে অনুমোদন পেয়েছে ১ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প।

গত সংসদ নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের অংশ হিসেবে এই মেগা প্রকল্প অনুমোদন করিয়ে জয়পুরহাটবাসীকে দেওয়া কথা রাখলেন জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মো. মাসুদ রানা প্রধান।

​প্রকল্পটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছতার সাথে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মঙ্গলবার ঢাকা থেকে আগত একটি বিশেষ তদন্ত টিমের সাথে জয়পুরহাট জেলা পরিষদের কার্যালয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভা শেষে অনুমোদিত প্রকল্পের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সরকারি কর্মকর্তা ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান ।

​এসময় উপস্থিত ছিলেন গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক ( পিডি ) ​মো. শফিকুল ইসলাম, জয়পুরহাট এলজিইডির

সহকারী সিনিয়র প্রকৌশলী মো. সুলতান মাহমুদ, এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী ​মো. মোস্তাফিজুর রহমান, এলজিইডির পাঁচবিবি উপজেলা প্রকৌশলী ​মো. মোবারক হোসেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লিটন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আনিসুর রহমান লিটন।

জয়পুরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক মাসুদ রানা প্রধান বলেন, ​বর্তমান বিএনপি সরকার গ্রামীণ জনগণের জীবনমান উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল করতে গ্রামীণ রাস্তাঘাটের উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় জয়পুরহাট ও পাঁচবিবিতে এই বিশাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। খুব দ্রুতই মাঠ পর্যায়ে এই প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে।

​তিনি আরও বলেন, গত সংসদ নির্বাচনে জয়পুরহাট-১ (সদর-পাঁচবিবি) আসনের জনগণকে এলাকার সার্বিক উন্নয়ন করার যে প্রতিশ্রুতি আমি দিয়েছিলাম, এই প্রকল্পের মাধ্যমে সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের যাত্রা শুরু হলো। জয়পুরহাটবাসীকে এই উপহার দিয়ে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করেননি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আমি জয়পুরহাটের সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

​সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ১ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে জয়পুরহাটের যোগাযোগ ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটবে, যা স্থানীয় গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ করবে।


বাগেরহাটে মাজারের দিঘিতে কুমিরের টেনে নেওয়া শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাগেরহাট প্রতিনিধি

খানজাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের নারীঘাটে গোসল করতে নামলে গত সোমবার ফাতেমা আক্তারকে মাজারে থাকা একমাত্র কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই চারদিকে চিৎকার শুরু হয়। স্থানীয়রা নৌকা নামিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

বাগেরহাটের খান জাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘিতে কুমিরের টেনে নেয়া শিশু ফাতেমা আক্তারের (৭) মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০২ জুন) ভোরে দিঘির মহিলা ঘাটের পাশ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে দুপুর ১২টায় জানাজা শেষে দিঘির পূর্ব ও দক্ষিণ পাশের কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এর আগে মঙ্গলবার (০২ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে খান জাহান আলী (রহ.) মাজারসংলগ্ন দিঘির পূর্ব পাশের নারীঘাটে গোসল করতে নামলে ফাতেমা আক্তারকে মাজারে থাকা একমাত্র কুমিরটি টেনে নিয়ে যায়। ঘটনার পরপরই চারদিকে চিৎকার শুরু হয়। স্থানীয়রা নৌকা নামিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসনের সদস্যরাও অভিযানে অংশ নেন।

মাজারসংশ্লিষ্টরা ও পুলিশ জানায়, ফাতেমা একজন মানসিক প্রতিবন্ধী নারীর মেয়ে। তারা মাজারেই বসবাস করতেন। এর বাইরে শিশুটির পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী এক নারী জানান, রাতে ঘাটে অনেক মানুষ ছিল। শিশুটি গোসলে নামার পর কুমির তাকে টেনে নেয়। তখন সে ও আশপাশের লোকজন চিৎকার করতে থাকে। একপর্যায়ে কুমিরটি শিশুটিকে পানির নিচে টেনে নিয়ে যায়।

ঘাটসংলগ্ন এক দোকানি জানান, মরদেহ উদ্ধারের পর শরীরের কয়েকটি স্থানে কুমিরের কামড়ের চিহ্ন দেখা গেছে।

মাজারের প্রধান খাদেম ফকির তারিকুল ইসলাম বলেন, মরদেহ উদ্ধারের পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে জানাজা শেষে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, সবার সঙ্গে আলোচনা ও সভা করে মাজারের দিঘির ঘাটগুলো সুরক্ষিত করতে উদ্যোগ ওনেয়া হবে যাতে ভবিষ্যতে কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।


মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভনে চকরিয়ার ৪ শিক্ষার্থীকে অপহরণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি 

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চারজন স্কুলছাত্রকে অপহরণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত রোববার (৩১ মে) উপজেলার সুরাজপুর-মানিকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরাজপুর এলাকা থেকে তাদের অপহরণ করা হয় বলে পরিবারের দাবি। মঙ্গলবার (০২ জুন) পর্যন্ত তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। অপহরণকারীরা পরিবারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে এবং টাকা না দিলে শিক্ষার্থীদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

অপহৃত শিক্ষার্থীরা হলেন শাহারিয়ার কবির সোহাগ (১৪), মোহাম্মদ শহীদ হোসেন (১৪), মোহাম্মদ মাহিম (১৩) ও ইসাদুল হোছাইন ছামিম (১৫)। তারা সবাই কাকারা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে শহীদ হোসেন দশম শ্রেণির এবং বাকি তিনজন অষ্টম শ্রেণির ছাত্র।

অপহরণের ঘটনায় চার শিক্ষার্থীর বাবা মোসলেম উদ্দিন, সাবের আহমেদ, আব্দুল হামিদ ও মোহাম্মদ আবছার চকরিয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার চৈক্ষ্যং গ্রামের মোহাম্মদ ইউসুফ ও তার স্ত্রী তানিয়া বেগম দীর্ঘদিন ধরে চার শিক্ষার্থীকে স্বল্প খরচে মালয়েশিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে আসছিলেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার (৩১ মে) সকাল ৮টার দিকে তারা শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে ডেকে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে তুলে নিয়ে যান।

পরিবারের দাবি, পরে অজ্ঞাত স্থান থেকে অপহরণকারীরা ফোন করে শিক্ষার্থীদের অপহরণের বিষয়টি জানায় এবং পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। মুক্তিপণের টাকা না দিলে শিক্ষার্থীদের হত্যা করে লাশ গুম করার হুমকিও দেওয়া হয়।

অপহৃত মোহাম্মদ মাহিমের বাবা সাবের আহমেদ বলেন, ‘প্রলোভন দেখিয়ে আমাদের সন্তানদের অপহরণ করা হয়েছে। এখন তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। চক্রের এক সদস্য একটি নম্বর থেকে ফোন করে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছে। চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ এলাকার একটি ব্যাংক হিসাব নম্বরও দেওয়া হয়েছে। আমাদের সন্তানদের ছবি পাঠিয়ে নিশ্চিত করা হয়েছে যে তারা এখনো জীবিত আছে। দ্রুত তাদের উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তারের জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চাই।


জমি হাতিয়ে নিতে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নওগাঁ প্রতিনিধি

নওগাঁ পৌর এলাকায় কম দামে জমি হাতিয়ে নিতে জমির মালিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা দেওয়ার অভিযাগ উঠেছে পিপলস সিটি নামের একটি আবাসন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে নওগাঁর শহরের একটি রেস্টুরেন্ট মিলনায়তনে পিপলস সিটি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।

সংবাদ সম্মেলনে প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ২২ জন ওয়ারিশের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন দেওয়ান মিজানুর রহমান নামের এক ব্যক্তি।

লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান দাবি করেন, তাঁর দাদা রিয়াজ উদ্দিন ১৯৭৩ সালে ফজলুর রহমান দেওয়ানের কাছ থেকে নওগাঁ পৌরসভার কোমাইগাড়ী মৌজায় আর এস ১৫৮ নম্বর খতিয়ানে ৪৫৪ দাগে ৮২ শতক সম্পত্তি ক্রয় করেন। তাঁর দাদা ওই সম্পত্তি জীবদ্দশায় কোনো প্রকার হস্তান্তর বা বিক্রি না করেই মারা যান। এ পরিস্থিতিতে বর্তমানে পৈত্রিক সূত্রে আমরা ২২ জন ওয়ারিশ ওই সম্পত্তির বৈধ মালিক। সমস্ত আইনি প্রক্রিয়া মেনে আবেদন করলে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তাঁদের নামে নামজারি সম্পন্ন হয় এবং তাঁরা নিয়মিত খাজনা-কর পরিশোধ করে সম্পত্তি ভোগদখল করে আসছেন।

লিখিত বক্তব্য অভিযোগ করা হয়, তাঁদের জমির পাশে ‘পিপলস সিটি’ নামের একটি আবসন প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী মহিউদ্দিন আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তিটি কম মূল্যে কিনে নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন। ওয়ারিশরা এতে রাজি না হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে নওগাঁ আমলী আদালতে একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। পিপলস সিটির চেয়ারম্যান ও নওগাঁ জজ কোর্টের আইনজীবী কাজী আতিকুর রহমান এই মামলার বাদী। মামলা দায়েরের পাশাপাশি কিছু অনলাইন নিউজ পোর্টালে যাচাই-বাছাই ছাড়া বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা হয়, যা তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার অপচেষ্টা।

সংবাদ সম্মেলনে দেওয়ান মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা নাকি জাল-জালিয়াতি করে ওই জমির মালিকানা দাবি করছি। এজন্য তাঁরা মামলা করেছে। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমাদের পক্ষে সকল বৈধ কাগজপত্র, দলিল, নামজারি ও সরকারি নথি রয়েছে। আমরা চাই প্রকৃত ঘটনা দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হোক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। সুষ্ঠু তদন্তের জন্য ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পিপলস সিটির চেয়ারম্যান কাজী আতিকুর রহমান বলেন, ‘যে ৪৫৪ দাগে তাঁরা জমির মালিকানা দাবি করছেন ওই দাগে আমি দেওয়ান রেজাউল করিমের কাছ থেকে ৩৩ শতক জমি কিনেছি। আর বায়নামা করা আছে ৪৮ শতক জমির জন্য। ওই দাগে যদি তাঁরা জমি পায় তাহলে আমিও সমস্যায় পড়ি। তাই তাঁরা যখন ওই জমির মালিকানা দাবি করে, তখন আমি জমির কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করতে গিয়ে জানতে পারি, ওই জমির রেজিস্ট্রেশন ও খারিজে ঝামেলা আছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে প্রয়াত রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে দেওয়ান আব্দুস সালাম, নাতি দেওয়ান মনোয়ার ও দেওয়ান শহীদ উপস্থিত ছিলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘যেই দলিল মূলে ওই ২২ জন ওয়ারিশের নামে খারিজ হয়েছে, সেই দলিলটা ১৯৭৩ সালে রেজিস্ট্রেশন করা আর দলিল সম্পাদন করা হয়েছে ১৯৭২ সালে। দলিল সম্পাদনের ৮ মাস পর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়েছে। অথচ আইনে আছে দলিল সম্পাদনের ৩ মাসের মধ্যে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। এছাড়া ওই দলিলে সাব রেজিস্ট্রারের দুটা স্বাক্ষর আছে। দুইটা স্বাক্ষর দুই রকমের। যাচাই-বাছাইয়ে মনে হয়েছে, ওই দলিল জালিয়াতি করে সম্পাদন করা হয়েছে। এজন্য আমি বাদী হয়ে মামলাটি করেছি। তদন্তকারী কর্মকর্তা এক্সপার্ট দিয়ে তদন্ত করবেন। তদন্তে আমার অভিযোগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হলে আমার মামলা মিথ্যা হবে। তার আগে মিথ্যা বা হয়রানিমূলক মামলা বলার সুযোগ নাই।’


জিয়াউর রহমানের আদর্শে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান শফিকুল আলম মনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা প্রতিনিধি

খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা বলেছেন, দেশের প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দূরদর্শী নেতৃত্বের মাধ্যমে জাতিকে সঠিক পথের দিশা দেখিয়েছেন। তাঁর আদর্শ ও দর্শন অনুসরণ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ১১টায় খুলনা প্রেসক্লাবের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল খুলনা মহানগর শাখার উদ্যোগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত দোয়া মাহফিল, রক্তদান কর্মসূচি ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অ্যাডভোকেট মনা বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর নির্মম আক্রমণে যখন সমগ্র জাতি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছিল, তখন কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধকে সুসংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত হন।

তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শন প্রতিষ্ঠা করেন এবং ধর্ম-বর্ণ-গোত্র নির্বিশেষে দেশের সব জনগোষ্ঠীকে একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেন। কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতি গঠনে তাঁর অবদান আজও স্মরণীয় হয়ে আছে।

বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতার প্রসঙ্গ টেনে মনা বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে দেশবিরোধী অপতৎপরতা, ষড়যন্ত্র ও স্বৈরাচারী প্রবণতার বিরুদ্ধে সতর্ক ও সোচ্চার থাকার আহ্বান জানান তিনি।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগামী দিনের রাষ্ট্রনায়ক ও নেতৃত্ব তৈরির অন্যতম ক্ষেত্র হলো শিক্ষাঙ্গন। সে কারণে ছাত্রদলকে আরও সুসংগঠিত, আদর্শনিষ্ঠ ও জনমুখী সংগঠন হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। মেধা, সততা ও দায়িত্ববোধসম্পন্ন নেতৃত্বই ভবিষ্যতে একটি শোষণমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখবে।

খুলনা মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক মোঃ তাজিম বিশ্বাসের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব হাবিবুর রহমান বিপ্লবের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক বদরুল আনাম খান,মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ সাদিকুল ইসলাম সাদী,মাসুদ পারভেজ বাবু এবং চৌধুরী হাসানুর রশিদ মিরাজ, মিডিয়া সেলের মিজানুর রহমান মিলটন, রকিবুল ইসলাম মতি, ২৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক,মন্জুরুল আলম, বিএনপি নেতা,সাদাত সায়েম,সাবেক ছাত্রনেতা মোমশেদুল সজীব।

মহানগর ছাত্রদলের সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক,আরিফুর রহমান আরিফ, যুগ্ন আহবায়ক সৈয়দ ইমরান, রিয়াজুল খান মুরাদ, শাকিল আহমেদ,সজল হোসেন, আব্দুল আহাদ শাহিন,এস এম ইউসুফ, আরিফুল ইসলাম, রবিউল ইসলাম, ইমরান সালেহ সিফাত,হিমি বিশ্বাস, হাসিবুর রহমান শোভন, মহানগর ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য মেরাজ হোসেন মানিক, মিজানুর রহমান মৃদুল, রাকিবুল ইসলাম সাজিদ,শেখ সামসাদ হোসেন আবিদ,নাসিম রহমান নাহিদ, এনামুল হক মল্লিক, রিফাত ইসলাম,আবু ওবায়দা মাহিম,এম এম মুন্না,এস এম আলমগীর হোসেন, রাকিব হাসান, তরিকুল ইসলাম নকিব,আদনান আব্দুল মান্নান,ফয়সাল বাপ্পি, সাজ্জাদ হোসেন রিপ্পি, ইসমাইল হোসেন, রাকিব হোসেন,রকিবুল ইসলাম, ইসরাইল হোসেন টুটুল, মিথিলা আক্তার,ইমরান মল্লিক,আল আমিন হোসেন, মনিরুজ্জামান আবিদ, মোঃ সোহেল আহমেদ,তরিকুল ইসলাম নাহিদ প্রমুখ

আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।পরে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচিতে অংশ নেন।


banner close