খুলনা অঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনায় আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরীকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।
আজ রোববার এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, তদন্ত কমিটি গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ নির্ণয়, গ্রিড বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে। কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে গ্রিড বিপর্যয় পরিহারের লক্ষ্যে সুপারিশ করবে।
কমিটির সদস্যরা হলেন- বুয়েট অধ্যাপক ড. মো. এহসান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. ফিরোজ শাহ, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য (পিঅ্যান্ডডি) মো. শহীদুল ইসলাম, ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী (পরিচালক) মো. আবদুল মজিদ, বিপিডিবির সিস্টেম প্রটেকশন ও টেস্টিং কমিশনিং সেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান, পিজিসিবি ট্রান্সমিশন-১ এর প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়জুল কবির ও বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাজহারুল ইসলাম।
আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, বাঙালির রাখাল রাজা, মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে ফরিদপুরে এক বিশাল বড় পরিসরে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফরিদপুর -৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদের আয়োজনে দোয়া অনুষ্টানে বিভিন্ন শ্রেনী পেশার প্রায় দশ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেয়।পরে তাদের মাঝে দুপুরে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হয়।
মঙ্গলবার (০২ জুন) দুপুর ১টায় ফরিদপুর শহরের কমলাপুর হালিমা গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন ফরিদপুরের ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কোর্ট জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি মো:ইমরান হুসাইন সিদ্দিকী।
দোয়া মাহফিলের ফরিদপুর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ আহমেদ। এ সময় ফরিদপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক আফজাল হোসেন খান পলাশ, ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সোহরাব হোসেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিন্টু বিশ্বাস, বিশিষ্ট শিল্পপতি ও সমাজসেবক চৌধুরী ফারিয়া ইউসুফ, ফরিদপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব একে কিবরিয়া স্বপন, ফরিদপুর মহানগর বিএনপির আহবায়ক এএফএম কাইয়ুম জঙ্গি, মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন আহবায়ক এবি সিদ্দিকী মিতুল, তানভীর চৌধুরী রুবেল, কোতয়ালী থানা বিএনপির সেক্রেটারি চৌধুরী নাজমুল হাসান রঞ্জন, মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব গোলাম মোস্তফা মিরাজ, মহানগর যুব দলের সভাপতি বেনজির আহমেদ তাবরীজ, মহানগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান বিশ্বাস তরুণ,জেলা কৃষক দলের সভাপতি রেজাউল ইসলাম,ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী,সাধারন সম্পাদক মাহবুব হোসেন পিয়াল উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, দেশনেত্রী মরহুম বেগম খালেদা জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো, ফরিদপুরের সাবেক এমপি ও মন্ত্রী মরহুম চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসুফিএর রুহের মাগফেরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় পুকুরে গোসল করার সময় ১০ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানায় মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার ভুক্তভোগী শিশুর চাচা নেপাল মনি দাস বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এ মামলাটি করেন।
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তির নাম অধীর মনি দাস (৫২)। তিনি সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে ভুক্তভোগী শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
থানা ও মামলা সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে উপজেলার দরগ্রাম এলাকায় ওই শিশুটি বাড়ির পাশে একটি পুকুরে গোসল করতে যায়। গোসলের একপর্যায়ে শিশুটি যখন মাথায় শ্যাম্পু লাগাচ্ছিল, তখন আশপাশে কেউ না থাকার সুযোগে অভিযুক্ত অধীর মনি দাস তাকে অতর্কিতে জাপটে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়।
ভুক্তভোগী বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্য মিনতি মনি দাসকে বিষয়টি জানায়। গতকাল মঙ্গলবার ভুক্তভোগীর চাচা নেপাল মনি দাস বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পুলিশ অভিযোগটি আমলে নিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধনী/২০২৫)-এর ৯(৪)(খ) ধারায় মামলা হিসেবে রেকর্ড করে।
জানা গেছে, ভুক্তভোগী শিশুটির মা মারা গেছেন এবং তার বাবা অন্যত্র বিয়ে করে বসবাস করছেন। বর্তমানে সে তার চাচা নেপাল মনি দাসের বাড়িতে থেকে লেখাপড়া করছে।
এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোশারিফ হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ভুক্তভোগী শিশুর চাচার দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।
নওগাঁয় ঢাকাগামী যাত্রীবাহি বাসের বক্সের ঢাকনার(ব্যাগডালা) আঘাতে ব্যাটারি চালিত অটোরিকশার যাত্রী নওসাদ(২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় অটোরিকশার যাত্রী দুই শিশু আহত হয়েছে। আহতদের উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে নওগাঁ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কের শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকার তুলশীগঙ্গা ব্রীজ মোড়ে এ দূর্ঘটনাটি ঘটে। দূর্ঘটনার পর অটোরিকশাটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। নিহত নওসাদ নওগাঁ সদর উপজেলার দোগাছী সিংড়াপাড়া গ্রামের মৃত জাফির আলীর ছেলে।
স্থানীয় ও থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়- মঙ্গলবার সকাল ১০ টার দিকে শহরের ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে শাহ সুলতান নামে এসি বাস ঢাকার উদ্যেশে রওয়ানা দেয়। ঢাকা বাসস্ট্যান্ড থেকে কিছুদুরে তুলশিগঙ্গা ব্রীজ মোড় বাসটি পৌঁছালে বাসের বক্সের ঢাকনা(ব্যাগডালা) অসাবধানতাবসত খুলে যায়। এসময় বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহি অটোরিকশার সামনে বাসের বক্সের ঢাকনাটি সজোরে ধাক্কা লাগে।
এতে অটোরিকশার সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে যাত্রী নওসাদ মারা যান। এসময় অটোরিকশার আরো দুই শিশুযাত্রী গুরুত্বর আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঘটনার পর ঘাতক বাসটি চলে যায়।
ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে সড়ক অবরোধ করে রাখলে যানবাহন চলাচল ব্যহৃত হয়। এতে সড়কের দুইপাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ে আসলে প্রায় দুইঘন্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।নওগাঁ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান দূর্ঘটনায় একজন মারা যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন- আইনানুগ প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার আলোচিত রিক্তা আক্তার হত্যা মামলার দুই পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৬। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন মামলার এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি জুয়েল মীর এবং ৪ নম্বর আসামি রীবা বেগম।
র্যাব-৬ প্রেস রিলিজ এর মাধ্যমে জানায়, নিয়মিত অভিযান পরিচালনার অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৬, সদর কোম্পানির (ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্প) একটি দল গতকাল সোমবার রাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার কাশিয়ানী বাজার ও ভাট্রাইধোবা এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে কাশিয়ানী বাজার এলাকা থেকে জুয়েল মীর (২৮) এবং রাত ১টা ৫০ মিনিটে ভাট্রাইধোবা এলাকা থেকে রীবা বেগমকে (৪৭) গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত জুয়েল মীর ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা জালাল মীরের ছেলে এবং রীবা বেগম জালাল মীরের স্ত্রী। তারা উভয়েই ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বাসিন্দা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, জুয়েল মীর ভিকটিম রিক্তা আক্তারের স্বামী এবং রীবা বেগম তার শাশুড়ি। বিয়ের পর থেকে যৌতুকের দাবিতে রিক্তা আক্তারের ওপর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দীর্ঘদিন নির্যাতন সহ্য করেও সংসার করে আসছিলেন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, নির্যাতনের একপর্যায়ে ২০২৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি রিক্তা আক্তার অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। এ ঘটনায় তার বোন জামাই হাফেজ আকরাম মাতব্বর বাদী হয়ে ফরিদপুরের বোয়ালমারী থানায় জুয়েল মীর, রীবা বেগমসহ একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
র্যাব জানায়, দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃত দুই আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলের বাসাইলে কিডনি রোগে আক্রান্ত অসহায় শিশু সিনহা আক্তারকে আর্থিক সহায়তা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ ইকবাল হোসেন।
মঙ্গলবার(২ জুন) বেলা ১১ টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সিনহা ও তার মায়ের হাতে চেক তুলে দেন ইউএনও।
সিনহা আক্তার(৭) উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের মলিয়ানপুর গ্রামের সুমন মিয়ার মেয়ে।
চেক বিতরণের সময় উপস্থিত ছিলেন,বাসাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানা,যুগ্ম সম্পাদক আরিফুল ইসলাম,দপ্তর সম্পাদক নাসির মিয়া।
উল্লেখ্য, ৭ বছরের এই মেয়েটির তার কিডনি,প্রস্রাবে ইনফেকশন ও রক্তে ইনফেকশন ধরা পড়েছে। পরিবারের আর্থিক অবস্থা খারাপ হওয়ায়,চিকিৎসার খরচ চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
জীবননগর থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২ জন ওয়ারেন্ট ভুক্ত ও ১ জন মাদক মামলার আসামীকে গ্রেফতার করেছে। সোমবার দিবাগত রাতে জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়িয়া ও পৌর এলাকায় পৃথক জায়গায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতার কৃত ওয়ারেন্ট ভুক্ত আসামীরা হলেন, আন্দুলবাড়িয়া গ্রামের মৃত হবি মিয়ার ছেলে জলিল (৫৯) ও একই গ্রামের মৃত শামসুল শেখের ছেলে সুজ্জাত শেখ (৩৪)। এছাড়াও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলার আসামী পৌর এলাকার হাসপাতাল পাড়ার সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী রিনা সুলতানাকে (৪৫) গ্রেফতার করা হয়।
জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ বলেন, জীবননগরে অপরাধ নির্মুল করতে নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযানের অংশ হিসেবে গতরাতে ৩ আসামী গ্রেফতার করা হয়েছে।মঙ্গলবার সকালে আসামীদেরকে চুয়াডাঙ্গা বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ঢাকার কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অবৈধ রেণু পোনা জব্দ করেছে কেরানীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য অফিস। মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধলেশ্বরী টোল প্লাজায় একটি পিকআপভ্যানে তল্লাশি চালিয়ে ৩১টি ড্রামে রাখা ৩ লাখ ১০ হাজার পিস রেণু উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা রেণুর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
উদ্ধার করা রেণুগুলো পরে ধলেশ্বরী নদীতে অবমুক্ত করা হয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা আশিক আহমেদ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে খুলনায় নেওয়ার পথে রেণুগুলো আটক করা হয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা কারিশমা আহমেদ জাকসি জানান, চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদী থেকে অবৈধভাবে সংগ্রহ করা এসব রেণু খুলনায় নেওয়া হচ্ছিল। পরিবহনকারীরা একটি হ্যাচারির স্লিপ দেখালেও এর সত্যতা প্রমাণ করতে পারেনি। হাসনাবাদ নৌ পুলিশের সহযোগিতায় অভিযানটি পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও জানান, কেরানীগঞ্জ দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারিদের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এ কারণে এ পথে নিয়মিত নজরদারি ও টহল কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। অবৈধভাবে রেণু পরিবহন ও পাচার রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পাত্রী দেখা হয়েছিল, বিয়ের স্বপ্নও ছিল; কিন্তু ভাগ্য লিখেছিল অন্য গল্প। ১০ বছর প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফিরছিলেন আরিফুল হোসেন। পরিবারে শুরু হয়েছিল নতুন স্বপ্ন, ছেলের বিয়ে হবে, নতুন জীবন শুরু করবে। পাত্রী দেখা শেষ, কথা প্রায় চূড়ান্ত। সবকিছুই এগোচ্ছিল আনন্দের দিকে।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই আনন্দ আর বাস্তবে রূপ নিল না।
আরিফুলকে বরণ করে আনতে মা, ভাই, বোন ও স্বজনরা গিয়েছিলেন ঢাকায়। ফেরার পথে ফরিদপুরের ভাঙ্গায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান একই পরিবারের সদস্যরা। যে ঘরে ছিল বিয়ের হাসি-আনন্দের প্রস্তুতি, সেই ঘরেই নেমে এলো শোকের অন্ধকার।
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার মালিগ্রাম এলাকায় ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫ জনের পরিচয় মিলেছে। নিহতরা সবাই একই পরিবারের সদস্য বলে জানা গেছে।
নিহতরা হলেন যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার উজ্জ্বলপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী আরিফুল ইসলাম, তার মা নুরজাহান বেগম, বোন আয়েশা আক্তার এবং ভাই রাকিবুল ইসলাম। এ ছাড়া প্রাইভেটকারের চালক জাহিদ হোসেন নিহতদের মধ্যে রয়েছেন।
দুর্ঘটনায় প্রাইভেটকারে থাকা দুই শিশু আশরাফুল হোসেন (৮) ও তাসফিয়া (৩) গুরুতর আহত অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরের দিকে ঢাকা থেকে যশোরগামী একটি প্রাইভেটকার (ঢাকা মেট্রো-গ-২৫-৩১৫৫) দ্রুতগতিতে মালিগ্রাম এলাকায় মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিকল ট্রাকের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। সংঘর্ষে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই দুই নারী ও দুই পুরুষ নিহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আরও একজনকে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এছাড়া আরেক শিশুও মারা যায়।
শিবচর হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে দ্রুতগতির কারণে চালক মহাসড়কে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকটি দেখতে না পেয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে ভাঙ্গা থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেন। পরে হাইওয়ে পুলিশ মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক করে এবং দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। একই পরিবারের সদস্যদের মৃত্যুতে এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমারখালী এলাকায় নিজ ছেলে-মেয়ের খাবারে বিষ মিশিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে তাদের বাবার বিরুদ্ধে। সোমবার (১ জুন) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সিরাজুল শিকদার (৪০) তার ছেলে ইয়াসিন (১৪) ও মেয়ে ছামিয়া (৭)-কে শরবতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে খাওয়ান বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। বর্তমানে তারা পিরোজপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
অভিযুক্ত সিরাজুল শিকদার পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার পাড়েরহাট ইউনিয়নের লাহুড়ী গাজীপুর এলাকার বাসিন্দা। জানা গেছে, তিনি শ্বশুরবাড়ি কুমারখালী এলাকায় অবস্থানকালে এ ঘটনা ঘটান।
ভুক্তভোগী ইয়াসিন জানায়, তার বাবা তাকে চিনি আনতে বলেন। চিনি এনে দেওয়ার পর তিনি শরবত তৈরি করে তাকে ও তার বোনকে খাওয়ান। শরবত পান করার কিছুক্ষণ পরই তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে।
অপরদিকে ছামিয়া জানায়, শরবত খাওয়ার পর তার মাথা ঘুরতে শুরু করে এবং সে পড়ে যায়। তার দাবি, শরবতের মধ্যে কিছু মিশানো ছিল।
প্রতিবেশী মো. কামরুল ইসলাম বলেন, হঠাৎ চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন বাড়ির উঠানে দুই শিশু কাতরাচ্ছে। পরে তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়।
নানা আব্দুল করিম অভিযোগ করে বলেন, তার নাতি-নাতনিকে তাদের বাবা বিষ মিশ্রিত শরবত খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে। তবে কী কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সিরাজুল শিকদার বলেন, “গত এক বছর ধরে আমি সন্তানদের দেখাশোনা করছি। আমাদের বিয়ের বয়স ২০ বছর। এক বছর আগে আমার স্ত্রী আমাকে ছেড়ে ঢাকায় চলে গেছে। আমার শ্বশুরবাড়ির লোকজন ষড়যন্ত্র করে সন্তানদের বিষ প্রয়োগের মাধ্যমে হত্যা করে আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।”
এ বিষয়ে পিরোজপুর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৯৯৭ সালের এক অন্ধকার রাত। চারদিকে বিদ্যুৎহীন নিঝুম পরিবেশ। সেই রাতে সামান্য একটি হারিকেন আর কিছু তুষ নিয়ে এক অভিনব পরীক্ষায় বসেছিলেন সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার নওগাঁ ইউনিয়নের প্রত্যন্ত মহেশরৌহালী গ্রামের শাহ আলম। লক্ষ্য ছিল—কৃত্রিম উপায়ে হাঁসের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানো। শাহ আলমের সেইদিনের সেই ছোট্ট ও সাহসী উদ্ভাবন আজ শুধু তার ভাগ্যই বদলায়নি, বরং পুরো মহেশরৌহালী গ্রামকে বদলে দিয়েছে। একসময়ের অবহেলিত ও প্রত্যন্ত এই গ্রামটি আজ পরিণত হয়েছে দেশের অন্যতম প্রধান ও সর্ববৃহৎ হাঁসের বাচ্চার আড়তে।
শুরুর গল্পটা মোটেও সহজ ছিল না। শাহ আলমের হাত ধরে গ্রামে প্রথম তুষ পদ্ধতিতে হাঁসের বাচ্চা ফোটানো শুরু হয়। এরপর প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবং গ্রামবাসীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে এই কুটির শিল্পে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসে। কালের বিবর্তনে তুষ আর হারিকেনের জায়গা দখল করেছে আধুনিক বৈদ্যুতিক ইনকিউবেটর মেশিন।
বর্তমানে মহেশরৌহালী গ্রামের ঘরে ঘরে গড়ে উঠেছে বাণিজ্যিকভাবে হাঁসের বাচ্চা ফোটানোর হ্যাচারি। গ্রামটিতে এখন প্রতিদিন আধুনিক ইনকিউবেটরের সাহায্যে ফুটছে লাখ লাখ হাঁসের বাচ্চা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যবসার ওপর ভিত্তি করে পুরো গ্রামের অর্থনীতিতে এক বিশাল জোয়ার এসেছে। হ্যাচারি ব্যবসার কারণে গ্রামে বেকারত্ব বলতে এখন আর কিছুই নেই। পুরুষদের পাশাপাশি ঘরের নারীরাও এই কাজে সমানভাবে সহযোগিতা করছেন।
ডিম সংগ্রহ, গ্রেডিং করা, ইনকিউবেটরে দেওয়া এবং বাচ্চা ফুটে বের হওয়ার পর সেগুলোর যত্ন নেওয়া—সব মিলিয়ে গ্রামজুড়ে এখন দিন-রাত চলছে উৎসবমুখর ব্যস্ততা। একসময় আমাদের গ্রামে নুন আনতে পান্তা ফুরাত। শাহ আলম ভাইয়ের দেখাদেখি আমরাও এই ব্যবসায় আসি। এখন আল্লাহ্র রহমতে আমাদের আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমাদের উৎপাদিত বাচ্চা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।
স্থানীয় এক হ্যাচারি মালিক জামাল উদ্দিন বলেন,
মহেশরৌহালী গ্রামে উৎপাদিত খাকি ক্যাম্পবেল, বেইজিং ও ইন্ডিয়ান রানারসহ বিভিন্ন জাতের হাঁসের বাচ্চার মান অত্যন্ত ভালো হওয়ায় দেশজুড়ে এর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত, যেমন—কিশোরগঞ্জের হাওর অঞ্চল, নেত্রকোনা, সুনামগঞ্জ, সিলেট, বরিশাল এবং উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা গাড়ি নিয়ে ছুটে আসছেন এই গ্রামে। প্রতিদিন লাখ লাখ হাঁসের বাচ্চা বিশেষ খাঁচায় ভরে সরবরাহ করা হচ্ছে সারা দেশে।
স্থানীয় খামারিরা জানান, ব্যবসা বড় হলেও কিছু সমস্যা এখনো রয়ে গেছে। বিশেষ করে— মাঝে মাঝে ডিমের দাম অতিরিক্ত বেড়ে গেলে লোকসানের মুখে পড়তে হয়। সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ সুবিধা সহজ হলে এই ব্যবসাকে আরও আধুনিক ও বড় পরিসরে নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
তাড়াশের মহেশরৌহালী গ্রামটি আজ গ্রামীণ অর্থনীতির এক রোল মডেল। সামান্য তুষ আর হারিকেনের আলো থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রা আজ লাখো মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা এবং সঠিক বাজারজাতকরণ সুবিধা পেলে এই গ্রাম থেকে উৎপাদিত হাঁসের বাচ্চা দেশের চাহিদা মিটিয়ে ভবিষ্যতে বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের শরণখোলার নলবুনিয়া গ্রামের মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়ে ইসমত আরা ইতি বর্তমানে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সাথে লড়াই করছেন। শরণখোলা সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের উচ্চমাধ্যমিক প্রথম বর্ষের এই শিক্ষার্থী প্রায় চার মাস ধরে ঢাকার পিজি (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। যে বয়সে তার বই-খাতা আর স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই তিনি শয্যাশায়ী হয়ে লড়ছেন মরণব্যাধির সঙ্গে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, ইতির জীবন বাঁচাতে দ্রুত লিভার ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে। এই অপারেশনের ব্যয় প্রায় ৩০ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অপারেশন না হলে তার শারীরিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন চিকিৎসকরা।
অসহায় পরিবার দীর্ঘদিন ধারদেনা করে চিকিৎসা চালালেও এখন আর সক্ষম নয়। তাই তারা সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান মানুষের সহযোগিতা চেয়েছেন।
ইতির বাবা আলমগীর তালুকদার বলেন, “আমরা সবকিছু দিয়ে চেষ্টা করেছি। এখন আর পারছি না। মেয়েটাকে বাঁচাতে সবার সাহায্য দরকার।"
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইতি আবেগঘন কণ্ঠে লিখেছেন, “আমি বাঁচতে চাইৃ আমার পরিবারকে ছেড়ে যেতে চাই না।" তার এই আকুতি এখন পুরো এলাকায় সহানুভূতির সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয়রা ও সহপাঠীরা ইতির চিকিৎসায় অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। সবাই এখন একটাই প্রার্থনা—ইতি যেন আবার সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন।
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলায় পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৮টার দিকে শাহ আমানত সেতুর প্রথম সিঁড়ি এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন আনোয়ারা উপজেলার চাতরী ইউনিয়নের সিংহরা গ্রামের বাসিন্দা দুর্গাপদ মল্লিক (৭০) এবং তাঁর ছেলে বিধান মল্লিক (৪৭)। বিধান মল্লিক কর্ণফুলী উপজেলার দৌলতপুর বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তারা চট্টগ্রাম নগরের পাথরঘাটা এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, সকালে মোটরসাইকেলে করে বাবাকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিতে যাচ্ছিলেন বিধান মল্লিক। পথে শাহ আমানত সেতুর প্রথম সিঁড়ি এলাকায় পৌঁছালে একটি পিকআপ ভ্যানের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলের পেছনে বসা দুর্গাপদ মল্লিক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। গুরুতর আহত অবস্থায় বিধান মল্লিককে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মইজ্জ্যারটেক ট্রাফিক পুলিশের ইনচার্জ আবু সাঈদ বাকের জানান, দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে কাজ চলছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রত্যক্ষদর্শী জামাল উদ্দীন বলেন, সেতু থেকে নামার সময় দ্রুতগতির একটি পিকআপ ভ্যান মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দিলে দুজনই সড়কে ছিটকে পড়ে যান। এতে দুর্গাপদ মল্লিক পিকআপের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।
নিহতের স্বজন বাবলা মল্লিক জানান, বাবাকে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে বিদ্যালয়ে যাওয়ার কথা ছিল বিধান মল্লিকের। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের জীবনাবসান ঘটে।
চমেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) আলাউদ্দীন তালুকদার বলেন, আহত অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসকরা বিধান মল্লিককে মৃত ঘোষণা করেন। নিহত দুর্গাপদ মল্লিকের মরদেহও হাসপাতালে আনা হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
একই পরিবারের দুই সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ঝিনাইদহে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বকীয়তা রক্ষা ও গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা।
মঙ্গলবার সকালে শহরের শের-ই-বাংলা সড়কে ইসলামী ব্যাংকের সামনে সচেতন গ্রাহক ব্যানারে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে নারী-পুরুষসহ পাঁচ শতাধিক গ্রাহক ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কারণে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বকীয়তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতি ও লাখো গ্রাহকের আমানত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে থাকেন। চলমান পরিস্থিতির দ্রুত সমাধান না হলে প্রবাসীরা এ ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠানো কমিয়ে দিতে পারেন, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ ও সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম, ঝিনাইদহ জেলা শাখার আহ্বায়ক সালফী আব্দুর রহমান, সদস্য সচিব আব্দুল মোমেন, জিয়াউল ইসলাম খান, মাহাবুবুর রহমান, ইঞ্জিনিয়ার হাবিবুর রহমান, আলতাফ হোসেন, নূরজাহান সাত্তার, ইয়াসমিন আরা, রিজিয়া বেগম ও ফরিদা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাহাবুবুর রহমান।
মানববন্ধন থেকে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থার স্বকীয়তা রক্ষা ও গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানানো হয়।