সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৪ ফাল্গুন ১৪৩২

গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনায় ৮ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৭ এপ্রিল, ২০২৫ ১৬:২৯

খুলনা অঞ্চলে গ্রিড বিপর্যয়ের ঘটনায় আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরীকে কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে।

আজ রোববার এক অফিস আদেশে এ কমিটি গঠনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

এতে বলা হয়, তদন্ত কমিটি গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ নির্ণয়, গ্রিড বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায় নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্যকে কো-অপ্ট করতে পারবে। কমিটি আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করবে। এ ছাড়া ভবিষ্যতে গ্রিড বিপর্যয় পরিহারের লক্ষ্যে সুপারিশ করবে।

কমিটির সদস্যরা হলেন- বুয়েট অধ্যাপক ড. মো. এহসান, খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. ফিরোজ শাহ, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের সদস্য (পিঅ্যান্ডডি) মো. শহীদুল ইসলাম, ওজোপাডিকোর প্রধান প্রকৌশলী (পরিচালক) মো. আবদুল মজিদ, বিপিডিবির সিস্টেম প্রটেকশন ও টেস্টিং কমিশনিং সেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আতিকুর রহমান, পিজিসিবি ট্রান্সমিশন-১ এর প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ফয়জুল কবির ও বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. মাজহারুল ইসলাম।


সূর্যমুখী চাষে কৃষকের নতুন সাফল্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি

সারাবিশ্বে সূর্যমুখী তেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের অনেক এলাকায় বাণিজ্যিক ভাবে চাষাবাদ হচ্ছে সূর্যমুখী ফুল। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলাতেও এ ফসলের চাষ শুরু হয়েছে। উপজেলায় এবার সূর্যমুখী চাষ যেন হয়ে উঠেছে আলোচিত সাফল্যের গল্প। চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি অফিসের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় মোট ১০৬ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী ফুলের আবাদ করে আশাতীত ফলনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় কৃষকরা।

উপজেলার মঙ্গলকোট ইউনিয়নএ পাঁচজন কৃষক প্রত্যেকে ১ কেজি করে উন্নত জাতের সূর্যমুখী বীজ নিয়ে মোট ২ বিঘা জমিতে আবাদ শুরু করেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং জমি প্রস্তুত ভালো হওয়ায় মাঠজুড়ে এখন হলুদ ফুলে ছেয়ে গেছে সূর্যমুখীর বাগান।

সরেজমিনে দেখা যায়, সূর্যের দিকে মুখ তুলে থাকা সারি সারি সূর্যমুখী ফুল যেন কেশবপুরের কৃষিজমিকে রূপ দিয়েছে এক অনন্য সৌন্দর্যের উদ্যানে। চারদিকে সবুজ গাছ আর হলুদ ফুলের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে অপরূপ দৃশ্য। আকর্ষণীয় এই ফুলের মাঠ দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে দর্শনার্থীরাও ভিড় করছেন। অনেকে আবার স্মৃতি ধরে রাখতে সূর্যমুখীর সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন।

কৃষকের মুখে আশার কথা কৃষক ইব্রাহিম স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চাকরি করার পাশাপাশি কৃষি কাজে যুক্ত আছেন। তিনি উপজেলা কৃষি অফিস থেকে প্রণোদনার আওতায় পাওয়া ১ কেজি সূর্যমুখী বীজ দিয়ে বাড়ির পাশে ১ বিঘা জমিতে চাষ করেছেন।

তিনি বলেন, মঙ্গলকোট ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কিশোর কুমার আমাকে সূর্যমুখী চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। এখন আমার জমির প্রায় সব গাছে ফুল ফুটেছে। বাজারদর ভালো থাকলে এ ফসল থেকে ভালো লাভ হবে।

আরেক কৃষক সুমন জোয়ারদার জানান, আগে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেছি কিন্তু সূর্যমুখী করিনি। এবার উপজেলা কৃষি অফিসের সহায়তায় শুরু করেছি। বর্তমানে প্রতিটি গাছে ফুল ধরেছে। এক একটি ফুলের ওজন প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ গ্রাম হবে বলে ধারণা করছি। আগামী মৌসুমে আরও বেশি জমিতে সূর্যমুখী চাষ করব।

মাঠ পর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার তদারকি মজিদপুর ইউনিয়ন এর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাজমুল আলম জানান, আমি সবসময় কৃষকদের নতুন নতুন লাভজনক ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করি। এ বছর আমার কর্মএলাকায় পাঁচজন কৃষক সূর্যমুখী চাষ করেছেন। নিয়মিত তাদের মাঠ পরিদর্শন করছি এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।

কেশবপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ফসলের নিবিড়তা বৃদ্ধিকরণ প্রকল্পের আওতায় প্রণোদনা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কৃষকদের সূর্যমুখীর বীজ দেওয়া হয়েছে। মূল উদ্দেশ্য হলো এই ফসলের বাজারে চাহিদা ও মূল্য ভালো হওয়ায় কৃষকরা যেন লাভবান হন এবং ভবিষ্যতে নিজেরাই বীজ কিনে আবাদে আগ্রহী হন।

তিনি আরও বলেন, উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে কৃষকদের রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে ফসল রক্ষায় নিয়মিত পরামর্শ ও মাঠ পর্যায়ের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। এই কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে দেশের কৃষি উন্নয়নের অন্যতম সংস্থা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, সূর্যমুখী একটি স্বল্প মেয়াদি ও তুলনামূলক কম খরচের ফসল। তেলের জন্য এই ফসলের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। ফলে বাজারে এর দামও কৃষকের অনুকূলে থাকছে। চলতি মৌসুমে কেশবপুরে ফলন প্রত্যাশা অনুযায়ী হলে আগামী মৌসুমে আরও বেশি কৃষক সূর্যমুখী চাষে যুক্ত হবেন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের হাসি আর কৃষকের চোখে নতুন স্বপ্ন সব মিলিয়ে কেশবপুরে সূর্যমুখী চাষ এখন শুধু একটি ফসল নয়, হয়ে উঠেছে লাভজনক কৃষির নতুন সম্ভাবনার নাম।


শ্যামনগরে তরমুজ খেত লণ্ডভণ্ড করেছে দুর্বৃত্তরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার কৈখালী ইউনিয়নে রাতের আঁধারে এক কৃষকের তরমুজ খেত লণ্ডভণ্ড করে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা তরমুজের চারা উপড়ে ফেলে খেত নষ্ট করে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবারটি বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের আশঙ্কায় পড়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কৈখালী ইউনিয়নের জয়াখালী গ্রামের বাসিন্দা মাওলানা আমিন আলী দীর্ঘদিন ধরে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তিনি শ্যামনগর উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নির্বাহী সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সংসারের খরচ নির্বাহ করতে তিনি দুই বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করেন। কিন্তু গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তার তরমুজ খেতে ঢোকে চারাগাছ উপড়ে ফেলে জমির বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেয়।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে দেখা যায়, তরমুজের সারিবদ্ধভাবে লাগানো চারাগাছগুলো উপড়ে ফেলা হয়েছে। খেতের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে আছে চারাগাছ। আশপাশের জমিগুলোতে তরমুজের চারা ঠিকঠাক থাকলেও কেবল মাওলানা আমিন আলীর খেতেই এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, তরমুজ চাষই ছিল এ মৌসুমে তাদের একমাত্র ভরসা। এখন চারা নষ্ট হওয়ায় বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে আমিন আলীর স্ত্রী বলেন, ‘আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম। সারা বছর আমাদের পরিবারের অবলম্বন এই তরমুজ খেত। যারা আমাদের উপার্জনের পথ নষ্ট করেছে, আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

এলাকাবাসীরা জানান, মাওলানা আমিন আলী স্থানীয় মক্তবে পড়ানোর পাশাপাশি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করেন। কৃষিকাজই তার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। স্থানীয়ভাবে তার সঙ্গে কারও শত্রুতা নেই বলেও দাবি করেন তারা। এলাকাবাসীর ধারণা, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়া এবং জামায়াত প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় সরব ভূমিকা রাখাই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।

দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


হালদা নদীতে ঝাঁপ দেওয়া সাব্বির এখনো নিখোঁজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

রাউজান উপজেলা থেকে হাটহাজারীতে ওরসে যাওয়ার পথে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় হালদা নদীতে পড়ে তলিয়ে গেছেন মো. সাব্বির নামে এক তরুণ। এই ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। এদিকে নিখোঁজের ৩৩ ঘণ্টা পার হলেও সন্ধান মেলেনি সাব্বিরের।

গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলের দুটি ইউনিট নদীতে তল্লাশি চালিয়ে তার সন্ধান না পেয়ে কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টার দিকে হাটহাজারী উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের রামদাশ মুন্সির হাটের হালদা নদীর খেয়াঘাটে এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মো. সাব্বির রাউজান উপজেলার উরকিরচর ইউনিয়নের মইশকরম গ্রামের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মানা উল্লাহ চৌধুরীর বাড়ির আব্দুল মান্নানের একমাত্র ছেলে।

জানা গেছে, গত শনিবার রাতে হাটহাজারী উপজেলার রামদাশ মুন্সির হাট এলাকায় প্রসিদ্ধ বুজুর্গ আব্দুল করিম শাহ (রহ.) প্রকাশ পোয়া ফরিকের ওরস অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই উদ্দেশে এদিন রাতে সাব্বির কয়েক বন্ধুসহ নৌকায় হালদা নদী পার হয়ে সেখানে যান। ওরস থেকে বাড়ি ফেরার উদ্দেশে নৌকায় ওঠলে অতর্কিতভাবে ২০-২৫ জনের একটি কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য তাদের ওপর হামলা চালায়। নৌকায় থাকা পাঁচ-ছয়জনকে বেধড়ক মারধর করে। এ সময় কিশোর গ্যাংয়ের হামলা থেকে বাঁচতে সাব্বিরসহ কয়েকজন নদীতে ঝাঁপ দেন। সাঁতার কেটে নদী থেকে বাকিরা তীরে আসতে পারলেও সাব্বির নদীতে তালিয়ে যায়।

রামদাশ মুন্সির হাটস্থ হালদা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এএসআই রমজান আলী বলেন, ‘কয়েকজন বন্ধু মিলে ওরসে এসেছিলেন। তাদের কয়েকজনের ওপর দুর্বৃত্তরা হামলা চালায়। এতে তারা নদীতে ঝাঁপ দেয়। ৯৯৯-এ কল পেয়ে থানা থেকে পুলিশ এলে আমরা জানতে পারি। ভোর থেকে নৌপুলিশ এবং সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অনুসন্ধান চালিয়েছে। তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।’

হাটহাজারী মডেল থানার ওসি জাহিদুর রহমান বলেন, ‘ছেলেরা তর্কের কারণে হামলার ঘটনা ঘটেছে।’ নিখোঁজের পিতা আব্দুল মান্নান বলেন, ‘এখনো আমার ছেলের সন্ধান পায়নি।’


কুষ্টিয়ায় দুর্বৃত্তদের হামলায় মসজিদের ইমাম আহত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে মসজিদের এক ইমামকে রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে পেটানোর অভিযোগ ওঠেছে দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের নিদেনবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তির নাম আসলাম উদ্দিন (২১)। তিনি যদুবয়রা ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রামের মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে এবং জোতমোড়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদের ইমাম। এ ছাড়া তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ছাত্রশিবির কর্মী হিসেবে ৬টি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন বলে জানা গেছে। বর্তমানে তিনি কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ বিষয়ে আহত ইমাম আসলাম উদ্দিন বলেন, ‘রাতে এশার নামাজ শেষে বাড়িতে ফিরছিলাম। লালনবাজার-সংলগ্ন বাবুর স্কেল (কাট পরিমাপ যন্ত্র) এলাকায় পৌঁছালে দুটি মোটরসাইকেলে চার থেকে পাঁচজন লোক এসে আমার রাস্তা আটকিয়ে রড ও কাঠের বাটাম দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে বেধড়ক মারপিট করে দ্রুত চলে যায়। হামলাকারীদের মুখ বাঁধা ও মুখে মাস্ক পড়া ছিল।’

যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া দক্ষিণপাড়া জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জানান, এশার নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা ইমাম সাহেবের ওপর হামলা চালিয়েছে। তার পিঠে, হাতে, পায়ের মাংসপেশি ও কপালে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

কুমারখালী উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি রিয়াদ আল মাহমুদ বলেন, ‘গত রাতে আমাদের কর্মী আসলাম ভাই মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে ৫-৬ জন দুর্বৃত্ত অতর্কিত হামলা চালিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেছে। আসলাম উদ্দিন ছাত্রশিবিরের কর্মী সে নির্বাচনে জামায়াতের পক্ষে কাজ করায় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। খুব শিগগিরই এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘একজন মসজিদের ইমামের ওপর হামলার খবর পেয়েছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


সোনারগাঁয়ে যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে দুর্বৃত্তরা এক যুবককে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ ওঠেছে। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত যুবকের নাম মো. নাঈম মিয়া (২২)। সে পরমেশ্বরদী গ্রামের আ. হেকিমের ছেলে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে নিহতের বড় ভাই নাসিমুল ইসলাম বাদি হয়ে সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আবুল হোসেন নামের একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জানা যায়, উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামের আ. হেকিমের ছেলে মো. নাঈম মিয়া পেশায় একজন রাজমিস্ত্রী। পাশাপাশি সুদের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। গত রোববার রাত ৮টার দিকে নাঈম ও নাসিমুল দুই ভাই পাড়ার চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিচ্ছিলেন। হঠ্যাৎ অপরিচিত এক ফোন পেয়ে বাইরে যায় নাঈম। পরে রাত ৯টার দিকে বাড়ির পাশে একটি খেতে বস্তাবন্দি অবস্থায় নাঈমের দেহ পড়ে ছিল। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সোনারগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে।

নিহতের বড় ভাই নাসিমুল ইসলাম জানান, তারা দুই ভাই এক সঙ্গে রাজমিস্ত্রীর কাজ করেন। ঘটনার আগে তারা বাড়ির পাশের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন। হঠাৎ একজনের ফোন পেয়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে সেখান থেকে বের হয়ে যায়। সে ফোনে বলতেছিল, ‘আমার কাছে টাকা নাই’। দুই-তিনবার এ কথা বলছিল। তখনো একটু দূরে দাঁড়িয়ে কথা বলতেছিল। কিছুক্ষণ পর দেখি নাঈম সেখানে নাই। একটু পর তিনিও বাড়িতে চলে যান।

তিনি আরও জানান, বাড়িতে গিয়ে ছোট ভাই নাঈমকে তার মোবাইলে কল দিয়ে বন্ধ পান। আধা ঘণ্টার পর বাইরে হৈ-চৈ শোনতে পেয়ে বেরিয়ে যান নাছিমুল। লোকজন ডাকাত ডাকাত বলে চিৎকার করছিল। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে পাশের জমিতে গিয়ে নাঈমের বস্তাবন্দি রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোনারগাঁ থানার ওসি মো মহিববুল্লাহ জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যকাণ্ডের ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ‘নাঈম পেশায় রাজমিস্ত্রী। তিনি সুদের বিনিময়ে মানুষকে টাকা ধার দিতেন। হত্যাকারীদের সঙ্গে লেনেদেনের দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ করছে।


ঝিনাইগাতী সার গুদাম ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সারের গুদামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার ট্রেডার্সের মনোনীত প্রতিনিধি মেহেদী হাসান হালিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ ওঠেছে। এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ট্রাক চালকরা। অভিযোগে জানানো হয়, সারের গুদামে প্রতিটি ট্রাক লোডের জন্য আগে ২৫০ টাকা এবং বর্তমানে ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকাদার হিসেবে নিযুক্ত হয়েছে দিনাজপুরের পার্বতীপুরের মেসার্স সরকার ট্রেডার্স, এবং ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ২ (দুই) বছর মেয়াদি চুক্তিনামায় প্রতিষ্ঠানটির প্রোপ্রাইটর আনছার আলী স্বাক্ষর করে মেহেদী হাসান হালিমকে প্রতিনিধি হিসেবে নিযুক্ত করেন। এরপর থেকেই ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রোপ্রাইটর আনছার আলীর ছত্রছায়ায় নিয়মিতভাবে চাঁদাবাজি শুরু করেন হালিম।

ট্রাকচালকরা জানান, পূর্বে এ ধরনের টাকা দিতে হতো না, তবে বর্তমান ঠিকাদারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। টাকা না দিলে গুদামে ট্রাক লোড বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন এবং দ্রুত প্রতিকার চান।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসান হালিম বলেছেন, ‘আমি কোনো টাকা নেই না। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে গুদামে গোলযোগ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। টাকা নেওয়ার কোনো প্রমাণ তারা দিতে পারবে না। আমি গুদামের কার্যক্রম নিয়ম মেনে পরিচালনা করছি।’

গুদামের ইনচার্জ আদিলুজ্জামান দৈনিক বাংলাকে জানান, এই বিষয়টি প্রশাসনের আওতায় না থাকলেও তিনি পরিস্থিতি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছেন। তিনি আরও জানান, আজ থেকে ট্রাক চালকদের কোনো টাকা নেওয়া হবে না। তবে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ শুধু ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।

এ ঘটনায় ট্রাকচালকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, এবং তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


মৌলভীবাজারে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার সোনাটিকি গ্রামে ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে প্রতিবেশী সৈয়দ নানখার আলীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ইতোমধ্যে রাজনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

অভিযোগের সূত্রে জানা যায়, রাজনগর উপজেলার ৩নং মুন্সিবাজার ইউনিয়নের সোনাটিকি এলাকায় গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ির উঠানে একা থাকা পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রতিবেশী সৈয়দ নানখার আলী শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। এ সময় মেয়েটির চিৎকারে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এলে অভিযুক্ত পালিয়ে যায়। অভিযুক্ত ব্যক্তি সোনাটিকি গ্রামের মৃত আকদছ আলীর ছেলে সৈয়দ নানখার আলী (৪০)।

ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার জানায়, ঘটনাটি ঘটে সম্প্রতি গ্রামের একটি নির্জন স্থানে। অভিযুক্ত ব্যক্তি কৌশলে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। শিশুর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সেখান থেকে পালিয়ে যায়। পরে পরিবার বিষয়টি জানতে পেরে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার পর শিশুটি শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর পরিবার ঘাটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।

এ বিষয়ে এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘একটি শিশুর সঙ্গে এমন ঘটনা খুবই নিন্দনীয়। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।’

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রাজনগর থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মোবারক হোসেন জানান, মৌলভীবাজারের রাজনগরে এক স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে অভিযুক্ত সৈয়দ নানখার আলীকে আটক করেছে পুলিশ।


রূপগঞ্জ যৌথ বাহিনীর অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
 রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে যৌথ বাহীনির অভিযানে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। রূপগঞ্জের মাছিমপুর এলাকায় রূপগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের মেজর রিয়াদ (৫১ এমএলআরএস আর্টির) যৌথ অভিযানে ২টি ওয়ান শুটার পাইপগান ও ৩টি কার্তুজ শিসা গুলিসহ উদ্ধার করা হয়েছে।

গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাছিমপুর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়।

যৌথ বাহিনী জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ আর্মি ক্যাম্পের সদস্যরা জানতে পারেন পারভেজ ও তার সহযোগী শাহীন মাছিমপুর এলাকায় অবৈধ অস্ত্রসহ অবস্থান করছিল। এমন সংবাদের ভিত্তিতে এলাকাটি ঘিরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসীরা যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত একটি নির্মাণাধীন ভবনের ভেতরে অস্ত্র ও গোলাবারুদ ফেলে পালিয়ে যায়।

পরে তাৎক্ষণিক তল্লাশি চালিয়ে ভবনটি থেকে দুটি অস্ত্র ও তিনটি কার্তুজ শিসা গুলি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে রূপগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সাবজেল হোসেন বলেন, ‘উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানায় সেনাবাহিনী।


মাগুরা আইনজীবী সমিতিতে বিএনপিপন্থি সভাপতি, সম্পাদক নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাগুরা প্রতিনিধি

মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৫ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটির সভাপতি পদে মিজানুর রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক পদে পুনরায় শাহেদ হাসান টগর নির্বাচিত হয়েছেন। নির্বাচিতরা দুজনই জেলা বিএনপির নেতা। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) মাগুরা জেলা আইনজীবী সমিতির বার ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে মোট ২৮২ জন ভোটারের মধ্যে ২২৬ জন আইনজীবী তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

প্রত্যক্ষ ভোটেসহ সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মেহেদি হাসান লিপন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (ফৌজদারি শাখা) পদে রাশেদুল ইসলাম রাশেদ এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (দেওয়ানি শাখা) পদে আমেনা খাতুন লাবনী, ক্রীড়া, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে তাসলিমা আক্তার পপি।

কার্যনির্বাহী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সঞ্জয় রায় চৌধুরী, আ.ন.ম. ওবায়দা শহীদ ওবা, অসীম কুমার শিকদার, এনামুল হক (২), জাকির হোসেন মণ্ডল ও ফারহানা বিউটি। এ ছাড়া হিসাব রক্ষক পদে অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম, গ্রন্থাগারিক পদে অ্যাডভোকেট জাকির হোসেন বিশ্বাস এবং কোষাধ্যক্ষ পদে অ্যাডভোকেট আনোয়ার জাহিদ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন।

এবারের বার্ষিক নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট শিবপ্রসাদ ভট্টাচার্য।


জীবননগরের আলমসাধু উল্টে নিহত-১, আহত-১৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার উথলীতে শিয়ালের সঙ্গে ধাক্কা লেগে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি আলমসাধু উল্টে যায়। এ ঘটনায় সন্ধ্যা রানি নামে ১ জন নিহত হয়েছেন এবং ১৫ জন নারী-পুরুষ আহত হয়েছেন। আহতরা সবাই চুয়াডাঙ্গার দর্শনা রামনগর গ্রামের বাগদী পাড়ার বাসিন্দা। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জীবননগর উপজেলার উথলী গ্রামের মালোপাড়ার নিকট এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত সন্ধ্যা রানি (৬৩) দর্শনা রামনগর বাগদিপাড়ার দুলালের স্ত্রী। আহতরা হলেন- দুলালের মেয়ে বাদোলি রা‌নি (৩০), কুমার মণ্ডলের ছেলে বিকা‌শ মণ্ডল (৪৫),‌ বিকাশ মণ্ডলের স্ত্রী রিকা রা‌নি (৪০), খোকনের স্ত্রী শেফালী (৪৫), গোপালের স্ত্রী সন্ধ্যা (৫০), ঠাকুর বিশ্বাসের স্ত্রী জোসনা (৫০), চিত্তের স্ত্রী চায়না (৩০), কোমলের ছেলে টুকুল (৩০), সু‌নিলের ছেলে অশোক (৪০), আব্দুল জ‌লিলের ছেলে আলমসাধুচালক মিলন (৩০)। আহতদের উদ্ধার করে বি‌ভিন্ন ক্লি‌নিকে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, তারা বিভিন্ন হাট-বাজারে ঝুড়ি-ঝাপি বিক্রি শেষে আলমসাধুযোগে খালিশপুর থেকে দর্শনাতে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে উথলী মালোপাড়ার নিকট পৌঁছালে দুটি শিয়াল সামনে চলে আসে। এ সময় দ্রুতগতির আলমসাধুটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে আলমসাধুতে থাকা নারী-পুরুষরা রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন এবং সন্ধ্যা রানি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দর্শনার বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করে। উথলী ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জহুরুল হক ঝন্টু জানান, উথলী মালোপাড়ায় আলমসাধু উল্টে ১ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি।

জীবননগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


নির্মাই শিববাড়িতে দুই দিনব্যাপী শিব চতুর্দশী উৎসবের সূচনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান নির্মাই শিববাড়িতে শুরু হয়েছে দুইদিনব্যাপী শিব চতুর্দশী উৎসব। গত রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল থেকে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়।

উৎসব উপলক্ষে শিববাড়ি প্রাঙ্গণ সেজেছে বর্ণিল তোরণ, ব্যানার ও নান্দনিক আলোকসজ্জায়। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা দলে দলে এসে সমবেত হচ্ছেন। পূজা-অর্চনা, আরতি, প্রার্থনা এবং বিশেষ ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে ভক্তরা পালন করছেন শিব চতুর্দশীর পবিত্র আচার।

নির্মাই শিববাড়ির সেবাইত ডা. সত্যকাম চক্রবর্তী জানান, এটি দেশের সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম বৃহৎ ও ঐতিহ্যবাহী তীর্থস্থান। প্রতি বছরের মতো এবারও শিব চতুর্দশী উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভক্তদের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আয়োজক কমিটি প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

ঐতিহাসিক এ তীর্থস্থানে শিবমন্দিরের পাশেই রয়েছে কালীমন্দির এবং প্রায় ৯ একর জায়গাজুড়ে একটি বিশাল দিঘী। দিঘীর চারপাশে বিস্তৃত সবুজ বৃক্ষরাজি স্থানটিকে দিয়েছে অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। শ্রীমঙ্গল শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এ তীর্থস্থান প্রতি বছর শিব চতুর্দশী উপলক্ষে ভক্তদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।

ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা অঞ্চলে একসময় ত্রিপুরার মহারাজা রাজত্ব করতেন। সে সময় কুকি সামন্তরাজার বিদ্রোহ দমনে তুমুল যুদ্ধ সংঘটিত হয়। যুদ্ধে কুকিরা পরাজিত হলেও মহারাজার প্রধান সেনাপতি যিনি রাজার জামাতা ছিলেন রণক্ষেত্রে নিহত হন। এতে মহারাজার কন্যা নির্মাই স্বামীহারা হন।

তৎকালীন ভারতবর্ষে সহমরণ প্রথা প্রচলিত থাকলেও রাজকন্যা নির্মাই সহমরণে সম্মত হননি। বরং স্বামীর মৃত্যুস্থলে এসে তিনি শিবের আরাধনায় নিমগ্ন হন এবং আধ্যাত্মিক সিদ্ধি লাভ করেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। পরবর্তীতে তার নামানুসারে ১৪৫৪ খ্রিষ্টাব্দে শ্রীমঙ্গলের বালিশিরা পরগণার শঙ্করসেনা গ্রামে নির্মাই শিববাড়ি প্রতিষ্ঠিত হয়।

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, ঐতিহ্য ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির আবহে আয়োজিত এ উৎসব শ্রীমঙ্গলের সংস্কৃতি, ঐক্য ও সহাবস্থানের এক উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, আয়োজক কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবীরা সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছেন। উৎসবকে ঘিরে পুরো এলাকায় বিরাজ করছে আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশ।


ঝিনাইগাতীতে সারের গুদামের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

আপডেটেড ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:১৭
ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি

শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলার সারের গুদামের ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার ট্রেডার্স এর মনোনীত প্রতিনিধি মেহেদী হাসান হালিমের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ট্রাক মালিক ও শ্রমিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মাসে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন ট্রাক চালকরা। সেখানে দাবি করা হয়, সারের গুদামে প্রতিটি ট্রাক লোডের জন্য আগে ২৫০ টাকা এবং বর্তমানে ৫০০ টাকা চাঁদা নেওয়া হচ্ছে।

ট্রাক চালকরা জানান, পূর্বে এমন কোন টাকা দিতে হতো না, কিন্তু বর্তমানে ঠিকাদারের পক্ষ থেকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। টাকা না দিলে, গুদামে ট্রাক লোড বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তারা আরও জানান, এর ফলে তাদের নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে এবং তারা এর প্রতিকার চান।

এ বিষয়ে মেহেদী হাসান হালিম বলেছেন, "আমি কোন টাকা নিই না। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে গুদামে গোলযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছে। টাকা নেওয়ার কোন প্রমাণ তারা দিতে পারবে না। আমি গুদামের কার্যক্রম নিয়ম মেনে পরিচালনা করছি।"

গুদামের ইনচার্জ আদিলুজ্জামান জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের আওতায় না থাকলেও তিনি পরিস্থিতি সমাধানের জন্য চেষ্টা করছেন। তিনি আরো জানান, "আজ থেকে ট্রাক চালকদের কোন টাকা নেওয়া হবে না। তবে সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ শুধুমাত্র উর্ধতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করা যাবে না।"

এ ঘটনায় ট্রাক চালকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে, এবং তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


ধানমন্ডি ৩২ থেকে ঢাবি শিক্ষকসহ আটক ৫

আপডেটেড ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২২:৩৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধানমন্ডি ৩২-এ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে যান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দীন। এ সময় হট্টগোলের সৃষ্টি হলে তাকে আটক করে ধানমণ্ডি থানা পুলিশ। এ সময় কুমিল্লা থেকে আসা আরো এক নারীসহ আরও ৪ জনকে আটক করা হয়। আটক চারজনের নাম জানা যায়নি।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করলে সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশের কেউ কথা বলতে চাননি। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

এর আগে আজ ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে যাওয়ার ঘোষণা দেন ঢাবির এই অধ্যাপক। নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, এ জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভগ্ন বাসভবনে গমন করে অশ্রুপাত ও শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করব আজ বিকেল ৪টায়। আপনাদের দলে দলে যোগদান করার অনুরোধ করছি।

পরে এদিন বিকেলে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শ্রদ্ধা জানাতে যান আ ক ম জামাল উদ্দীন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, জামাল উদ্দীন ওই এলাকায় গেলে সেখানে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েকজন পুলিশ সদস্য তাকে নিয়ে যান।


banner close