শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬
১ কার্তিক ১৪৩৩

অবৈধ নেট জালে রেণু পোনা নিধন হাজার কোটি টাকার ক্ষতি

নাসরিন সিপু, বরগুনা
প্রকাশিত
নাসরিন সিপু, বরগুনা
প্রকাশিত : ৮ মে, ২০২৫ ১৩:০২

বঙ্গোপসাগরের মোহনা ও ৯০ কিলোমিটার পায়রা নদীতে অবাধে অবৈধ জাল দিয়ে রেণু পোনার সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করছে জেলেরা। এতে অন্তত কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

মৎস্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ অবৈধ সুবিধা নিয়ে পোনা নিধনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এমন অভিযোগ সচেতন জেলেদের। এতে অসাধু রেণু পোনা ব্যবসায়ীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছেন।

দ্রুত রেণু পোনা নিধনের সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সাগর ও পায়রা নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জেলেরা।

জানা গেছে, বছরের মধ্য ফাল্গুন থেকে শুরু করে মধ্য জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত চিংড়ি ও বাগদা মা-মাছ সাগরের মোহনা ও নদ-নদীর মিঠা পানিতে রেণু পোনার জন্ম হয়। বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত রেণু পোনা মিঠা পানিতে থাকে। ওই সময় জেলেরা অবৈধ মশারি জাল ফেলে ওই পোনাগুলো শিকার করেন। এ রেণু পোনা শিকারের সঙ্গে আমতলী-তালতলী উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার জেলে পরিবার জড়িত। প্রতিদিন তারা অন্তত এক কোটি রেণু পোনা আহরণ করেন। ওই রেণু পোনার সঙ্গে অন্তত ১০ গুণ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধন হচ্ছে। এতে অন্তত কয়েক হাজার কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।

দাদন ব্যবসায়ীরা জেলেদের থেকে ১০০ চিংড়ি ও বাগদা রেণু পোনা ১৫০-২০০ টাকা দরে ক্রয় করেন। ওই পোনা খুলনা, বাগেরহাট ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার ঘের মালিকদের কাছে ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে গত আড়াই মাসে অন্তত কয়েকশ কোটি টাকার চিংড়ি ও বাগদার রেণু পোনা আহরণ করেছেন জেলেরা।

অভিযোগ রয়েছে দাদন ব্যবসায়ীরা উপজেলা মৎস্য অফিস, পুলিশ ও নৌপুলিশের সঙ্গে আঁতাত করে অবৈধ নেট মশারি জাল ফেলে জেলেদের দিয়ে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রেণু পোনা শিকার করাচ্ছে। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মিল রেখে জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের প্ররোচনায় পড়ে ওই রেণু পোনা শিকার করছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দাদন ব্যবসায়ী বলেন, তালতলী উপজেলা মৎস্য অফিসার ভিক্টর বাইনকে প্রতি মাসে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। ফলে তারা অবাধে জেলেদের থেকে রেণু পোনা সংগ্রহ করে গাড়িতে রপ্তানি করতে পারছেন। তারা আরও বলেন, পুলিশ ও নৌপুলিশ সবাই এ বিষয়টি জানে।

আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ ও শিশুরা নেট মশারি জালের মাধ্যমে বাগদা ও চিংড়ির রেণু পোনা শিকার করছে। লাভজনক হওয়ায় জেলে পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুরা এ পেশায় ঝুঁকে পড়েছেন।

আমতলী-তালতলী উপজেলার শতাধিক পয়েন্টে আড়তদাররা জেলেদের থেকে রেণু পোনা সংগ্রহ করে গভীর রাতে মিনি ট্রাক, মোটরসাইকেল ও বাসে করে খুলনা, বাগেরহাট, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করছে।

গতকাল দুপুরে তালতলী উপজেলার রেণু পোনার আড়তদার দুলাল মিয়ার আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, আড়ত ঘরের সামনের তালা দেওয়া, পেছনের দরজা দিয়ে জেলেরা পোনা নিয়ে আসেন। দুলালের কর্মচারী শহিদুল ইসলাম ওই পোনা গণনা করে পাত্রে রাখছেন।

জেলে মালেক ও জয়নাল বলেন, জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মিল রেখে রেণু পোনা শিকার করতে হয়। রেণু পোনা শিকার করা অন্যায় কিন্তু কেউ তো নিষেধ করছে না। তারা আরও বলেন, মহাজনদের যন্ত্রণায় বাধ্য হয়ে রেণু পোনা আহরণে আসতে হয়।

শিশু নাদিম বলেন, ‘হুনছি পোনা ধরা নিষেধ কিন্তু স্যারেরা তো মোগো মানা হরে নাই।’

তালতলীর অবৈধ বাগদা রেণু পোনা ব্যবসায়ী বশির হাওলাদার বলেন, ‘বাগদা ও চিংড়ির রেণু আহরণ নিষিদ্ধ তা জানি। কিন্তু জেলেরা নিয়ে এলে আমরা তো ফেলে দিতে পারি না। তারা আরও বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশ সবই জানেন, তারা তো কিছু বলেন না। শুধু আপনারাই (সাংবাদিক) মোদের ডিস্টার্ব করেন।’

তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১২টা অভিযান চালানো হয়েছে। বেশ কিছু জাল পুড়ে ফেলেছি।’ উপজেলা শহরের নিকটবর্তী দুলাল মিয়া ও বশির উদ্দিনের আড়তে রেণু পোনা জেলেদের থেকে সংগ্রহ করে গাড়িতে চালান করছে, এ বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।

আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাশ বলেন, অবৈধ রেণু পোনা নিধন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে শতাধিক নেট মশারি জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সামলা বলেন, রেণু পোনা আহরণ অবৈধ। রেণু পোনা নিধন বন্ধে প্রতিদিন অভিযান অব্যাহত আছে।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তারেক হাসান বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিসারকে নিয়ে প্রায়ই অভিযান চালানো হয়।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন বলেন, রেণু পোনা নিধন রোধে অভিযান অব্যাহত আছে। উপজেলার কোনো মৎস্য কর্মকর্তা রেণু পোনা নিধনের যোগসাজশের সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে রেণু পোনা মজুত করে বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এ মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেব।’


নির্বাচিত

কিশোর গ্যাংকে উল্টিয়ে ঝুলিয়ে দেবেন: ওসিকে চিফ হুইপ

পাথরঘাটায় আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় বক্তব্য রাখেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বরগুনার পাথরঘাটা থানার ওসিকে কিশোর গ্যাং নির্মূলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম মনি।

তিনি বলেন, ‌‘আগামী দুই মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং যদি নির্মূল করতে না পারেন, আপনি থাকবেন না। আগামী দুই মাস টাইম, দুই মাস। কিশোরগ্যাং উল্টিয়ে ঝুলাইবেন গাছে। কোনও কিশোর গ্যাং থাকতে পারবে না।’

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন চিফ হুইপ। সভায় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।

চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি করে যারা খাবেন, চাঁদাবাজির কোনও জায়গা পাথরঘাটায় নেই। ওসি সাহেব, আপনাকে আমি এখানে বললাম, চাঁদাবাজির প্রশ্নে যদি কোনও সমস্যা থাকে, হয় আপনি থাকবেন, না হয় চাঁদাবাজ থাকবে। সন্ত্রাসী আর দখলবাজ পাথরঘাটায় থাকতে পারবে না।’

ওসিকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি কোথায় কী করার কথা বলে চাঁদা খেয়েছে। আউয়ালসহ আরও একজন এখন পলাতক। আউয়ালকে আপনি ধরবেন এবং সেই মামলায় গ্রেফতার দেখাবেন। চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের কোনও জায়গা নেই। সন্ত্রাসীদের কোনও দল নেই।’

সভায় উপস্থিত সবার উদ্দেশে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমার নাম নিয়ে যদি কেউ দখলবাজি করে, আমি টেলিফোন ধরতে পারি না, আপনারা আমাকে মেসেজ দিয়ে রাখবেন। আমি রাতে মেসেজ দেখি। কোস্টগার্ডের সোর্স যারা আছেন, তারা সাবধান হইয়েন। প্রয়োজন হলে আমি সবাইকে গ্রেফতার করাবো। তারা থানায়ও দালালি শুরু করেছে। থানায় দালালি বন্ধ কইরেন।’


নির্বাচিত

রাজশাহী সিল্কের ঐতিহ্য ফেরাতে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে: ভূমিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১৬ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৫০
রাজশাহী ব্যুরো

ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, রাজশাহী রেশম কারখানার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে এর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো হবে। এর অংশ হিসেবে কারখানায় আরও বেশি পাওয়ার লুম চালুর পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হবে। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় তুঁতচারা রোপণ ও রাজশাহী রেশম কারখানার পাওয়ার লুম চালুকরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, ‘রাজশাহী সিল্কের সুনাম রয়েছে বিশ্বব্যাপী। অতীতে রাজশাহীর অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি ছিল এটি। ধীরে ধীরে এই কারখানাটি তার ঐতিহ্য হারিয়ে ফেলেছিল।’

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা আন্তরিকতার মাধ্যমে এই কারখানায় কাজ করুন। এই কারখানাটি যাতে আবার পূর্বের রূপে ফিরে আসে এইভাবে কাজ করুন। কারখানাকে জিম্মি করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে কোনো লাভ নেই। এ জন্য সবাইকে ভুগতে হবে।

আমি আপনাদের ভাই। সব সময় আপনাদের পাশে রয়েছি এবং থাকব। কারখানাটির ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে যত সহযোগিতা লাগে করা হবে।’ এরপর রেশম কারখানায় পাওয়ার লুম চালু ও বৃক্ষরোপণ করা হয়।

এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৬ আসনের এমপি আবু সাইদ চাঁদ, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ, পরিচালক (অর্থ ও পরিকল্পনা) ড. এম এ মান্নান, রাজশাহী মহানগর বিএনপির সহসভাপতি আসলাম সরকার প্রমুখ। এ ছাড়াও রাজশাহী রেশম কারখানার অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

মানিকগঞ্জে সাব-ডিলারকে ২ লাখ টাকা জরিমানা

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি

মানিকগঞ্জের দৌলতপুরে অন্য জেলার কৃষকের কাছে বেশি দামে সার বিক্রয়ের অপরাধে হাবিবুর রহমান নামের এক সাব-ডিলার দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে দৌলতপুর বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক প্রবীর বিশ্বাস তাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেন। একই সঙ্গে ১১ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়।

দণ্ডিত হাবিবুর রহমান দৌলতপুর বাজারের সার ব্যবসায়ী এবং তিনি মেসার্স দীপু ট্রেডার্সের সাব-ডিলার।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক প্রবীর বিশ্বাস জানান, গতকাল শুক্রবার সকালে দৌলতপুর বাজারের সার ব্যবসায়ী ও সাব-ডিলার হাবিবুর রহমানের দোকান থেকে পার্শ্ববর্তী টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার এক কৃষক বেশি দামে ১১ বস্তা সার ক্রয় করেন এবং সার নিয়ে যাওয়ার পথে দৌলতপুরের সমেতপুর এলাকার কৃষকরা বিষয়টি টের পেয়ে গাড়িসহ সার আটক করেন। এরপর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বেশি দামে অন্য জেলায় সার বিক্রয়ের কথা স্বীকার করেন সাব-ডিলার হাবিবুর রহমান।

পরবর্তীতে তাৎক্ষণিকভাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সাব-ডিলার হাবিবুর রহমানকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ১১ বস্তা সার উপজেলার স্থানীয় কৃষকদের মাঝে সরকারি দরে বিক্রি করা হয়। বেশি সার বিক্রয় বা সার কালোবাজারিদের বিরুদ্ধে প্রশাসন সোচ্চার আছে। কোনো অভিযোগ পেলে এবং তা সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


নির্বাচিত

চার বছর পর ইজিবাইকচালক হত্যা মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটন

* পিবিআইয়ের জালে অজ্ঞান পার্টির ৩ সদস্য
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুরে চালককে চেতনানাশক দিয়ে অজ্ঞান করে হত্যা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের ঘটনায় সংঘবদ্ধ পেশাদার অজ্ঞান পার্টির তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে পিবিআই পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পুলিশ সুপার জানান, ২০২২ সালের ১৬ জুলাই রাত সাড়ে ৮টার দিকে ৫ সদস্যের সংঘবদ্ধ ছিনতাইকারী চক্র শহরের গোয়ালচামট পুরাতন বাসস্ট্যান্ড থেকে ২শ টাকা ভাড়ায় তালমা যাওয়ার কথা বলে ইজিবাইকটি ভাড়া করে। ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কের বাখুন্ডা এলাকায় পৌছালে রুমালের মধ্যে চেতনানাশক দিয়ে চালক বিশ্বনাথ সরকারকে অজ্ঞান করে রাস্তার পাশে ফেলে দিয়ে ইজিবাইক নিয়ে পালিয়ে যায় ওই চক্র। স্থানীয়রা চালককে উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করলে পরদিন সকালে মারা যায় সে। এই ঘটনায় নিহতের ছেলে রবি কুমার সরকার বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় হত্যা ও ছিনতাই মামলা দায়ের করে।

তিন মাস পরে মামলাটি পিবিআইয়ের কাছে তদন্তভার আসে। একটি গ্যারেজ থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইকের হুডের সূত্র ধরে দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে একে একে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই পুলিশ।

গত বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে শহরের ফলপট্টি থেকে মুরাদ শেখকে গ্রেপ্তার করে পরদিন আদালতে পাঠালে চালককে হত্যার বর্ণনা ও ইজিবাইক ছিনতাইয়ের কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আসামি। এই চক্রের বাকিদের গ্রেপ্তারে কাজ চলছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।

গ্রেপ্তারকৃত আসামি মুরাদ শেখ জেলার ভাঙ্গা উপজেলার মানিকদাহ ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের সিরাজ শেখের ছেলে। এ ছাড়াও ইতোপূর্বে গ্যারেজ মালিক কামাল ও ছিনতাইকারী সুমন আহমেদ নামে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

অপশক্তি প্রতিহত করে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ঐক্যবদ্ধ হোন: এমপি ফাহমিদা হক

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বাংলাদেশে একটি গোষ্ঠী বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বিনষ্টের চেষ্টা করছে। তাই শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে। কোনো অপশক্তি যেন উৎসবের আনন্দ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য মন্দির কমিটি, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক দলগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে পূজাকে উৎসবমুখরভাবে সম্পন্ন করবে এই প্রত্যাশার কথা বলেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ ফাহমিদা হক।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কয়রা উপজেলা অডিটোরিয়ামে দুর্গাপূজা উপলক্ষে মন্দিরগুলোর অনুকূলে আর্থিক সহায়তা প্রদান ও খুলনা জেলা পরিষদ কর্তৃক সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়নসহ সংস্কার কাজের প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর অনুষ্ঠান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল বাকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।

কয়রা উপজেলার ৫৯টি শারদীয় দুর্গাপূজা মন্দির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের হাতে ৭ হাজার টাকা করে মোট ৪ লাখ টাকা আর্থিক সহায়তা ও ৫৪টি আর্থ-সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দের চিঠি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব, খুলনা জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পী।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন বিশেষ অতিথি খুলনা জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহবায়ক, জেলা ক্রীড়া সংস্থার যুগ্ম সম্পাদক আশরাফুল আলম নান্নু, কয়রা থানার অফিসার্স ইনচার্জ মো. রাশেদুল আলম, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নূরুল আমিন বাবুল, জেলা বিএনপির সদস্য এম এ হাসান, মনিরুজ্জামান বেল্টু, প্রেসক্লাবের সভাপতি হারুনর রশীদ।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কয়রা উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অম্বিকা চরণ সানা, সাধারণ সম্পাদক দিলীপ কুমার বৈরাগী, আবু সাঈদ বিশ্বাস, জি এম মাওলা বক্স, শরিফুল আলম, আব্দুস সামাদ, প্রফেসর আবুল কালাম, জিএম রফিকুল, শেখ সিরাজুল ইসলাম, হাবিবুর রহমান, নাজমুল হুদা, সালাউদ্দিন লিটন, সাইফুজ্জামান, আইয়ুব আলী, রওশন মোল্লা, গোলাম রসুল, জেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মোল্লা আইয়ুব হোসেন, রবিউল ইসলাম রবি, জিএম রাসেল ইসলাম, জাহিদুর রহমান শোভন, পীর আলী, মোহতাসিম বিল্লাহ প্রমুখ।


নির্বাচিত

কুমিল্লা সীমান্তে আটক দুই পুলিশ সদস্যকে ফেরত দিল বিএসএফ

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া সীমান্ত থেকে আটক দুই বাংলাদেশি পুলিশ সদস্যকে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। ফেরত পাওয়া দুই পুলিশ সদস্য হলেন ব্রাহ্মণপাড়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) দুপুর দেড়টায় ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার রামচন্দ্রপুর এলাকায় ২০৫৭ নম্বর সীমান্ত পিলারের কাছে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে পতাকা বৈঠক শুরু হয়। বৈঠক শেষে বিএসএফ দুই পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ৬০ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরীফুল ইসলাম এবং কুমিল্লা জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ী সীমান্তের ২০৫৯ নম্বর পিলারসংলগ্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালাতে গিয়ে আটক হন এএসআই ইমরান হোসেন ও কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদককারবারিকে ধাওয়া করতে গিয়ে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতের অংশে চলে যান। পরে তাকে উদ্ধার করতে গিয়ে এএসআই ইমরান হোসেনও আটক হন। একপর্যায়ে ভারতীয় নাগরিকরা তাদের বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করেন।

ঘটনার পর থেকে দুই পুলিশ সদস্যকে ফিরিয়ে আনতে বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে যোগাযোগ ও আলোচনা চলছিল।


নির্বাচিত

কটিয়াদীতে জমে উঠেছে ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাকিবুল হাসান রোকেল, কিশোরগঞ্জ

শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে জমে উঠেছে প্রায় ৫০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ঢাকের হাট। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ঢাকি ও বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে হাট প্রাঙ্গণ। ঢাক-ঢোল, কাঁশি-সানাই, করতাল ও বাঁশির সম্মিলিত সুরে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ।

বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে নিজেদের দক্ষতা তুলে ধরছেন শিল্পীরা। তাদের পরিবেশনা শুনে পছন্দের বাদকদল বেছে নিচ্ছেন পূজা আয়োজকরা। দল ও বাদ্যযন্ত্রের ধরন অনুযায়ী ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে লাখ টাকারও বেশি সম্মানিতে চলছে দরদাম ও চুক্তি।

প্রতি বছরের মতো এবারও কটিয়াদী সদরের পুরান বাজার এলাকায় বসেছে ঐতিহ্যবাহী এ হাট। গত বুধবার সকাল থেকে জমতে শুরু করা হাট চলে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ষষ্ঠীর গভীর রাত পর্যন্ত। বাজার কমিটি-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, এবার দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে দুই শতাধিক বাদকদল হাটে এসেছেন। তবে হাটের সবচেয়ে বেশি জমজমাট অবস্থা দেখা যায় শেষের দিকে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকের গর্জন আর নানা বাদ্যযন্ত্রের সুরে মুখর পুরো এলাকা। একেকটি দল নিজেদের বাদ্যযন্ত্র ও বাজানোর দক্ষতা তুলে ধরছে। পূজা আয়োজকরা বিভিন্ন দলের পরিবেশনা শুনে পছন্দের দল নির্বাচন করছেন। এরপর চলছে দরদাম ও চুক্তি। যে দলের বাজনা আয়োজকদের মন কাড়ছে, নির্দিষ্ট সম্মানির বিনিময়ে সেই দলকেই দুর্গাপূজার মণ্ডপে বাজানোর জন্য চুক্তিবদ্ধ করা হচ্ছে।

নরসিংদীর শিবপুর থেকে হাটে আসা পূজা আয়োজক সুভাশিস সূত্রধর বলেন, ‘প্রতি বছর দুর্গাপূজার জন্য বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের দল নিতে এই ঐতিহ্যবাহী হাটে আসি। সকাল থেকে অনেকের বাজনা শুনেছি। এর মধ্যে একটি দলকে পছন্দ হয়েছে। তারা ভালো বাজায়। ৯০ হাজার টাকায় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থেকে আসা তাপস বিশ্বাস বলেন, ‘এবারই প্রথম এই হাটে এসেছি। এসে মুগ্ধ হয়েছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এখানে বাদকদল এসেছে। তাদের মধ্যে বিক্রমপুরের পাঁচ সদস্যের একটি দল পছন্দ করেছি। ৮৫ হাজার টাকায় তাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে।’

বিক্রমপুর থেকে ১০ সদস্যের দল নিয়ে হাটে এসেছেন রণজিৎ মণি দাস। তার দলের সঙ্গে রয়েছে ঢাকসহ আধুনিক বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র। দলটির জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সম্মানি চাইতে দেখা গেছে।

এদিকে, ঢাকের হাট এখন আর শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজন নয়; এটি হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণে এক সর্বজনীন মিলনমেলা। বাদ্যযন্ত্রের সুর উপভোগ করতে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। ঢাক-ঢোলের সম্মিলিত বাদ্য আর শিল্পীদের পরিবেশনায় পুরো হাট পরিণত হয় এক উৎসবের প্রাঙ্গণে।

পাঁচ শতাব্দীর ঐতিহ্যের পেছনের ইতিহাস: স্থানীয় জনশ্রুতি রয়েছে, প্রায় ৫০০ বছর আগে ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে সামন্ত রাজা নবরঙ্গ রায়ের সময় কটিয়াদীর ঢাকের হাটের সূচনা হয়। রাজা কটিয়াদীর চারিপাড়ায় তার রাজপ্রাসাদে দুর্গাপূজার আয়োজন করতেন। পূজায় ঢাক, ঢোল ও বাঁশি বাজানোর জন্য সেরা শিল্পীদের খুঁজতে বিক্রমপুর পরগনায় বার্তা পাঠানো হয়। সেই আহ্বানে বহু বাদ্যযন্ত্রশিল্পী নৌপথে কটিয়াদীতে আসেন। রাজা নিজে তাদের বাজনা শুনে সেরা দল বেছে নেন। সেই থেকেই দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কটিয়াদী পুরান বাজারে এই হাট বসার প্রচলন শুরু হয় বলে জনশ্রুতি রয়েছে।

স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শ্রীমা সংঘ হাটটির তত্ত্বাবধান করে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক জীবন কুমার সাহা বলেন, ‘রাজা নবরঙ্গ রায়ের আমল থেকেই এই ঐতিহ্যের যাত্রা। হাটে আসা বাদকদের থাকা-খাওয়া, নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার চেষ্টা করে সংগঠনটি। কোনো বাদকদল ভাড়ায় যেতে না পারলে তাদের বাড়ি ফেরার ব্যবস্থাও করা হয়।’

মোবাইল ফোনে চুক্তি, কমছে ঢাকিদের আগমন: ঐতিহ্যবাহী এ হাটে আগের তুলনায় ঢাকিদের আগমন কমেছে বলে জানিয়েছেন আয়োজক, স্থানীয় বাসিন্দা ও দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা। তাদের মতে, মোবাইল ফোনে যোগাযোগের সুযোগ বাড়ায় এ পরিবর্তন এসেছে।

হাটে এসে একবার চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর পূজা আয়োজক ও বাদকদলের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগের তথ্য বিনিময় হয়। পরবর্তী সময়ে কোনো দলের পরিবেশনা ভালো লাগলে আয়োজকরা সরাসরি ফোন করে সেই দলের সঙ্গে দরদাম ও চুক্তি করেন। ফলে উভয় পক্ষেরই পরের বছর হাটে আসার প্রয়োজন কমে যায়।

নাম ঢাকের হাট, কেনাবেচা হয় না বাদ্যযন্ত্র: নাম ঢাকের হাট হলেও এখানে ঢাক-ঢোল কিংবা অন্য কোনো বাদ্যযন্ত্র কেনাবেচা হয় না। বরং বাদ্যযন্ত্রশিল্পীরা তাদের দক্ষতা ও পরিবেশনা তুলে ধরেন, আর পূজা আয়োজকরা বাজনা শুনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হন। দলের সদস্যসংখ্যা, বাদ্যযন্ত্রের ধরন ও শিল্পীদের দক্ষতার ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয় সম্মানির পরিমাণ।

কটিয়াদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শামীমা আফরোজ মারলিজ বলেন, ‘বিক্রমপুর, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর ও নরসিংদী, হবিগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে বাদকদল হাটে এসেছেন। ঢাক-ঢোলের পাশাপাশি বাঁশি, সানাই, করতাল, খঞ্জনি, মন্দিরা, ঝনঝনিসহ বিভিন্ন আধুনিক বাদ্যযন্ত্রও নিয়ে এসেছেন তারা।’

কিশোরগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে এই ঐতিহ্যবাহী হাট এখন কেবল বাদ্যযন্ত্রশিল্পীদের চুক্তির জায়গা নয়, বরং দুর্গোৎসবের অবিচ্ছেদ্য অংশ।’


নির্বাচিত

সীমান্তে মাদক কারবারিকে ধরতে গিয়ে বিএসএফের হাতে আটক দুই পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কুমিল্লা প্রতিনিধি

মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনার সময় কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের হাতে আটক হয়েছেন বাংলাদেশের দুই পুলিশ সদস্য। গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলার শশীদল ইউনিয়নের আশাবাড়ি এলাকার আন্তর্জাতিক সীমান্তসংলগ্ন স্থানে এই অপ্রত্যাশিত ঘটনা ঘটে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, দুই পুলিশ সদস্যকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সীমান্তরক্ষী বাহিনীগুলোর উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে টেলিফোনে আলোচনা চলছে এবং খুব দ্রুত এর সুরাহা হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

পুলিশ প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্রাহ্মণপাড়া থানার একজন সহকারী উপপরিদর্শক এবং একজন কনস্টেবল সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চড়ে আশাবাড়ি এলাকার নির্দিষ্ট সীমান্ত পিলারসংলগ্ন অঞ্চলে মাদক উদ্ধারের বিশেষ দায়িত্বে গিয়েছিলেন।

দায়িত্বরত অবস্থায় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে এক মাদক কারবারি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে কনস্টেবল রোহিত দেওয়ান তার পেছনে ধাওয়া করেন এবং পথ চেনার ভুলে সীমান্ত পেরিয়ে ফেললে তাকে স্থানীয়রা আটক করে বিএসএফের কাছে সোপর্দ করে। পরবর্তীতে তাকে ছাড়াতে গিয়ে অপর পুলিশ কর্মকর্তাও আটক হন এবং তাদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


নির্বাচিত

ফরিদপুর জেলা পরিষদের ছাদে উৎপাদন হওয়া সৌরবিদ্যুৎ যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মাহবুব পিয়াল, ফরিদপুর

ফরিদপুর জেলা পরিষদের দুটি স্থাপনার ছাদে ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ শুরু হয়েছে। নেট মিটারিং পদ্ধতিতে এ বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। বাংলাদেশে জেলা পরিষদের স্থাপনায় এ ধরনের উদ্যোগ একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা পরিষদ ও ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো-১) ফরিদপুর বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশনা অনুযায়ী এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

জেলা পরিষদের প্রকৌশল শাখার ভবনের ছাদে ৪০ কিলোওয়াট এবং সদর ভিআইপি ডাকবাংলোর ছাদে ২০ কিলোওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল স্থাপন করা হয়েছে। মোট ৬০ কিলোওয়াট ক্ষমতার এ প্ল্যান্ট স্থাপন করেছে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান মার্শ পাওয়ার টেকনোলজি লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি পরবর্তী ২০ বছর প্ল্যান্টগুলোর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করবে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহরিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী, জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. আফজাল হোসেন খান পলাশ, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বাকাহীদ হোসেন, স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও ফরিদপুর পৌরসভার প্রশাসক মো. ইলিয়াছুর রহমান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া, জেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা সুলতানা, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম এবং ওজোপাডিকো-১-এর নির্বাহী প্রকৌশলী প্রণব চন্দ্র দেবনাথ।জেলা পরিষদের সহকারী প্রকৌশলী শেখ শহীদুল ইসলাম, ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব হোসেন পিয়াল, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক প্রবীর কান্তি বালা সহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

নেট মিটারিং পদ্ধতিতে উৎপাদিত সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের এ উদ্যোগ সরকারি স্থাপনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। সরকারি ভবনের ছাদকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের কাজে ব্যবহার করার মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোরও সুযোগ তৈরি হয়েছে।


নির্বাচিত

লালন মেলা ঘিরে উৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় বিশেষ প্রস্তুতি প্রশাসনের

* কাল ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের স্মরণোৎসব শুরু
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নাব্বির আল নাফিজ, কুষ্টিয়া

গানে গানে মানবতার জয়গান, সাধুসঙ্গে আত্মার সন্ধান। বাউলসম্রাট ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস ঘিরে কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়িতে চলছে শেষ মুহূর্তের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন। সাজসজ্জা, মঞ্চ নির্মাণ আর দোকানিদের আনাগোনায় বাড়ছে উৎসবের আমেজ। তবে এ আয়োজন শুধু স্মরণোৎসব নয়; এর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে সাধুসঙ্গের ঐতিহ্য, আত্মসাধনা আর মানবতার দর্শন।

‘নিগূঢ় প্রেম কথাটি তাই আমি শুধাই কার কাছে, যদি তরিতে বাসনা থাকে, ধর রে মন সাধুর সঙ্গ।’

লালন সাঁইজির গানের এই আহ্বান যেন আজও মানুষকে টানে কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায়। সাধুসঙ্গের টানে এখানে ছুটে আসেন সাধু-বাউল ও ভক্তরা। আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হবে ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবসের স্মরণোৎসব।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ছেঁউড়িয়ার লালন মাঠে বসতে শুরু করেছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসতে শুরু করেছেন সাধু-বাউল ও লালনভক্তরা। দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই বাড়ছে প্রস্তুতির ব্যস্ততা।

মেলা আয়োজক কমিটির সদস্য আলমাস হোসেন বলেন, ‘মেলার প্যান্ডেল নির্মাণ ও মাঠের অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ প্রায় শেষের পথে।’ এবারই প্রথম মেলার জন্য আলাদা একটি রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। মেলাকে সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দর্শনার্থীদের একটি সুন্দর মেলা উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ফকির লালন শাহের ঘরের রেজা ফকির বলেন, ‘লালন শাহের ঘর, পাঞ্জু শাহের ঘর, দেলবার শাহের ঘর, চৌধুরীর ঘর ও সতীমার ঘর এই পাঁচ ঘরের গুরুপাঠ আলাদা হলেও তাদের মতাদর্শ ছিল প্রায় একই। সেই অভিন্ন দর্শন, বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক বন্ধনের টানে পাঁচ ঘরের অনুসারীরা একত্রিত হয়ে সাধুসঙ্গে মিলিত হতেন।

ফকির লালন শাহ জীবিত থাকাকালে দোল পূর্ণিমার উৎসবকে কেন্দ্র করে সাধুসঙ্গের যে ঐতিহ্য প্রচলিত ছিল, তা শুধু একটি উৎসব নয়; বরং গুরু-শিষ্যের সম্পর্ক, আধ্যাত্মিক সাধনা, সম্প্রীতি ও ভাববিনিময়ের এক গুরুত্বপূর্ণ ধারাবাহিকতা। আমরা সেই ঐতিহ্যকে হৃদয়ে ধারণ করে আজও সাধুসঙ্গের আয়োজন করে আসছি।’

লালন অনুসারীদের ভাষ্য, লালন সাঁইজি জীবিত থাকাকালে দোল পূর্ণিমাকে কেন্দ্র করে সাধুসঙ্গের আয়োজন করতেন। সেই ঐতিহ্যে সাধুসঙ্গ ছিল শুধু গান বা আচার-অনুষ্ঠান নয়; বরং আত্মসাধনা, দর্শনচর্চা এবং মানুষের সঙ্গে মানুষের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার ক্ষেত্র।

লালনের গানে মানুষই ছিল মুখ্য। তার দর্শনে ‘মনের মানুষ’ আর ‘অচিন পাখি’ হয়ে উঠেছে মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার রহস্য অনুসন্ধানের প্রতীক। ‘খাঁচার ভেতর অচিন পাখি’ গানে দেহ ও অন্তরের সেই রহস্য তুলে ধরেছেন সাধক লালন। জাতপাত, ধর্মীয় গোঁড়ামি ও সামাজিক বিভেদের ঊর্ধ্বে মানুষকে দেখার আহ্বান ছিল তার গানে।

মানবপ্রেম, সাম্য ও আত্মসাধনার এই দর্শন আজও আকৃষ্ট করে সাধু-বাউল, গবেষক ও ভক্তদের। তাই ছেঁউড়িয়ার লালন আখড়াবাড়ি কেবল স্মরণোৎসবের স্থান নয়; এটি মানুষকে নতুন করে চেনার, নিজের ভেতরে খোঁজার এবং মানবতার বাণী উপলব্ধির এক অনন্য মিলনক্ষেত্র।

লালন অনুসারী মামুন সাধু বলেন, ‘জয় হোক দরবেশ সিরাজ সাঁইয়ের, জয় হোক ফকির লালন সাঁইয়ের! সাঁইজির তিরোধান দিবস উপলক্ষে আগামী ১৭, ১৮ ও ১৯ অক্টোবর লালন মেলা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে মেলার প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।’

তিন দিনের স্মরণোৎসবে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সাধু, ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সমাগমের প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। উৎসব শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাভিদ সারওয়ার বলেন, ‘মেলার নিরাপত্তার জন্য কুষ্টিয়া জেলা পুলিশ এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মাধ্যমে নিয়মিত টহল কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোনো জটিলতা তৈরি হবে না বলে আশা করা হচ্ছে।’

কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, ‘মেলা শুরুর আগ পর্যন্ত পুলিশের প্রস্তুতি জোরদার রয়েছে। বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। গোয়েন্দা নজরদারির পাশাপাশি মেলার মাঠ ও মাজার এলাকায় টহল দল দায়িত্ব পালন করছে।’

লালন শাহের মাজারের প্রধান খাদেম মোহাম্মদ আলী শাহ লালন সাঁইজির জীবন ও স্মৃতিবিজড়িত নানা ঘটনা তুলে ধরেন। তার বর্ণনায়, প্রায় আড়াইশ বছর আগে তৎকালীন কালীগঙ্গা নদীতে একটি ভেলায় অসুস্থ এক শিশুকে পাওয়ার ঘটনা লালন সাঁইজির জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। ওই শিশুর বয়স নিয়ে বিভিন্ন মত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে এ ঘটনার ঐতিহাসিক বিবরণে মতভেদ থাকায় বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য যাচাই প্রয়োজন।

‘ধর রে মন সাধুর সঙ্গ’-লালনের গানের এই বাণীকে ধারণ করেই যেন গড়ে ওঠে সাধু-বাউলদের মিলনমেলা। কালীগঙ্গা নদীর তীর ঘেষে ছেঁউড়িয়ার এই আয়োজন হয়ে ওঠে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনক্ষেত্র। ধর্ম-বর্ণ ও জাতপাতের বিভেদ ভুলে মানুষ মিলিত হন একই আঙিনায়।


নির্বাচিত

ফুলদী সেতুর ভৌত কাজ শুরু হবে আগামী বছর: গজারিয়ায় সেতু মন্ত্রী

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, ‘ফুলদী সেতুর প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এই বছরই শেষ হবে। প্রকল্প মানেই এটা বোঝায় না যে আজকে বললাম আর আজকেই কাজ শুরু হয়ে গেল। প্রতিটি প্রকল্পের দুটি ধাপ থাকে। একটি হলো প্রকল্প গ্রহণ, ডিপিপি প্রণয়ন ও অনুমোদন; অন্যটি হলো ভৌত কাজ। ফুলদী সেতুর প্রকল্প প্রণয়নের কাজ এই বছর শুরু হয়েছে, হয়তো ভৌত কাজ আগামী বছর থেকে শুরু হবে।

​বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার বাসীর প্রাণের দাবি ফুলদী নদীর ওপর সেতু নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।

​ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গজারিয়া উপজেলাধীন ১৩ কিলোমিটার অংশে অপরিকল্পিত ইউ-টার্ন বন্ধে বর্তমান সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নিয়ে ভাবা শুরু করেছি। আগে তো এসব নিয়ে কথাই হতো না। আমরা অ্যানালাইসিস করে দেখছি, কী কারণে এবং কেন ইউ-টার্নগুলোতে দুর্ঘটনা ঘটছে। কিছু ইউ-টার্ন আছে যেগুলো অপরিকল্পিত আর কিছু এমন জায়গায় রয়েছে যেখানকার ইউ-টার্ন বন্ধ করলে গাড়িগুলোকে অনেক দূর ঘুরে আসতে হবে। আমরা বিষয়গুলোর বিজ্ঞানভিত্তিক সমাধানের চেষ্টা করছি।’

​নিরাপদ সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নিশ্চিতে বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দুর্ঘটনার ফলে অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু আমরা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনতে চাই। ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আমরা নিরাপদ সড়ক আইন পাশ করার ব্যাপারে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। বিশ্বব্যাংক এবং আমাদের নিজস্ব উদ্যোগে বেশ কিছু প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এগুলো যখন আমরা শেষ করতে পারব তখন সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে।’

​এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, মুন্সীগঞ্জের জেলা প্রশাসক সৈয়দা নুরমহল আশরাফী, পুলিশ সুপার মো. মেনহাজুল আলম, গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাফসা নাদিয়া এবং গজারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন।

​এছাড়াও আরও উপস্থিত ছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ইসহাক আলী ও মাসুদ ফারুক, গজারিয়া উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসলামুজ্জোহা চৌধুরী তপন, উপজেলা বিএনপির সদস্য মোতাহের হোসেন জাহাঙ্গীর, ভবেরচর ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য সচিব নুরুল আমিন সরকার এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম তারেকসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।


নির্বাচিত

ময়মনসিংহে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশনে সমন্বিত উদ্যোগের তাগিদ

* পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ও ওয়াশ খাতের ১৫ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে অবহিতি সভা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ

নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারি দপ্তরগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ময়মনসিংহে। এ লক্ষ্যে জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬ এবং ওয়াশ সেক্টর উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০২৬-২০৪০ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দায়িত্ব ও করণীয় তুলে ধরা হয়েছে এক অবহিতি সভায়।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নগরীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলনকক্ষে দিনব্যাপী এ সভা হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহের বিভাগীয় কমিশনার এস এম হুমায়ুন কবির সরকার। সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম মজুমদার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালার মূল লক্ষ্য মানুষের স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষা। এ লক্ষ্য অর্জনে অন্যের সমালোচনার পরিবর্তে নিজ নিজ দপ্তরে স্বাস্থ্যসম্মত টয়লেট ও নিরাপদ পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তুলতে প্রত্যেক দপ্তরকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে যুগ্ম সচিব সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, এ অবহিতি সভার মাধ্যমে ময়মনসিংহে জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা এবং পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) কার্যক্রমের প্রচার আরও বিস্তৃত হবে বলে তাঁরা আশা করছেন। অংশগ্রহণকারীদের আলোচনা ও মতামত সভাকে সমৃদ্ধ করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান সভা আয়োজনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ ও বিভাগীয় কমিশনারকে ধন্যবাদ জানান। এ সময় তিনি বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি ‘ক্লিন সানডে’র বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

এর আগে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব সুয়ে মেন জো ও তাঁর সহযোগীরা জাতীয় পাবলিক টয়লেট নীতিমালা ২০২৬ এবং ওয়াশ সেক্টর উন্নয়ন পরিকল্পনা ২০২৬-২০৪০ নিয়ে উপস্থাপনা করেন। এতে নীতিমালার উদ্দেশ্য, দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর ভূমিকা তুলে ধরা হয়।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. প্রদীপ কুমার সাহা, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) জন কেনেডি জাম্বিল, বিভাগীয় উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) বিপিন চন্দ্র বিশ্বাস এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) ও উপপরিচালক (স্থানীয় সরকার) উম্মে হাবিবা মীরা।

এতে ময়মনসিংহ বিভাগ ও জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল, পরিবেশ, তথ্য, মহিলা বিষয়ক, যুব উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সমাজসেবাসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধানেরা অংশ নেন।


নির্বাচিত

এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক ও নির্ধারিত মূল্য নিশ্চিতে চিফ হুইপের গুরুত্বারোপ

বৃহস্পতিবার বরগুনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। সংগৃহীত ছবি
আপডেটেড ১৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

এলপিজি সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, বাজারে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করা ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ যাচাই এবং অতিরিক্ত দামে বিক্রি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেন, এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা ও ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরী।

বৃহস্পতিবার বরগুনা সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসন আয়োজিত এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ বিষয়ক এক আলোচনা সভায় অংশ নেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ ওঠায় সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখা ও বাজারে পণ্যের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে সভায় আলোচনা করা হয়।

সভায় জানানো হয়, এলপিজি সংকট মোকাবিলায় সরকার জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সরবরাহ পরিস্থিতি তদন্ত, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগ যাচাই ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে এলপিজি ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সভায় এলপিজির মতো অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা, ভোক্তাদের অতিরিক্ত দামের চাপ থেকে সুরক্ষা দেওয়া ও বাজারে নির্ধারিত মূল্য কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

এ সময় সংকট মোকাবিলা ও সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে স্থানীয় প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরা হয়।


নির্বাচিত

banner close