বঙ্গোপসাগরের মোহনা ও ৯০ কিলোমিটার পায়রা নদীতে অবাধে অবৈধ জাল দিয়ে রেণু পোনার সঙ্গে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা নিধন করছে জেলেরা। এতে অন্তত কয়েক হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।
মৎস্য বিভাগ কর্তৃপক্ষ অবৈধ সুবিধা নিয়ে পোনা নিধনের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না, এমন অভিযোগ সচেতন জেলেদের। এতে অসাধু রেণু পোনা ব্যবসায়ীরা আরও উৎসাহিত হচ্ছেন।
দ্রুত রেণু পোনা নিধনের সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সাগর ও পায়রা নদী থেকে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জেলেরা।
জানা গেছে, বছরের মধ্য ফাল্গুন থেকে শুরু করে মধ্য জ্যৈষ্ঠ মাস পর্যন্ত চিংড়ি ও বাগদা মা-মাছ সাগরের মোহনা ও নদ-নদীর মিঠা পানিতে রেণু পোনার জন্ম হয়। বড় হওয়ার আগ পর্যন্ত রেণু পোনা মিঠা পানিতে থাকে। ওই সময় জেলেরা অবৈধ মশারি জাল ফেলে ওই পোনাগুলো শিকার করেন। এ রেণু পোনা শিকারের সঙ্গে আমতলী-তালতলী উপজেলার অন্তত ৩০ হাজার জেলে পরিবার জড়িত। প্রতিদিন তারা অন্তত এক কোটি রেণু পোনা আহরণ করেন। ওই রেণু পোনার সঙ্গে অন্তত ১০ গুণ বিভিন্ন প্রজাতির পোনা নিধন হচ্ছে। এতে অন্তত কয়েক হাজার কোটি টাকার মৎস্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে।
দাদন ব্যবসায়ীরা জেলেদের থেকে ১০০ চিংড়ি ও বাগদা রেণু পোনা ১৫০-২০০ টাকা দরে ক্রয় করেন। ওই পোনা খুলনা, বাগেরহাট ও যশোরসহ বিভিন্ন এলাকার ঘের মালিকদের কাছে ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি করছেন। এতে গত আড়াই মাসে অন্তত কয়েকশ কোটি টাকার চিংড়ি ও বাগদার রেণু পোনা আহরণ করেছেন জেলেরা।
অভিযোগ রয়েছে দাদন ব্যবসায়ীরা উপজেলা মৎস্য অফিস, পুলিশ ও নৌপুলিশের সঙ্গে আঁতাত করে অবৈধ নেট মশারি জাল ফেলে জেলেদের দিয়ে সরকারিভাবে নিষিদ্ধ রেণু পোনা শিকার করাচ্ছে। জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মিল রেখে জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে দাদন ব্যবসায়ীদের প্ররোচনায় পড়ে ওই রেণু পোনা শিকার করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দাদন ব্যবসায়ী বলেন, তালতলী উপজেলা মৎস্য অফিসার ভিক্টর বাইনকে প্রতি মাসে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়। ফলে তারা অবাধে জেলেদের থেকে রেণু পোনা সংগ্রহ করে গাড়িতে রপ্তানি করতে পারছেন। তারা আরও বলেন, পুলিশ ও নৌপুলিশ সবাই এ বিষয়টি জানে।
আমতলী-তালতলী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ ও শিশুরা নেট মশারি জালের মাধ্যমে বাগদা ও চিংড়ির রেণু পোনা শিকার করছে। লাভজনক হওয়ায় জেলে পরিবারের নারী-পুরুষ ও শিশুরা এ পেশায় ঝুঁকে পড়েছেন।
আমতলী-তালতলী উপজেলার শতাধিক পয়েন্টে আড়তদাররা জেলেদের থেকে রেণু পোনা সংগ্রহ করে গভীর রাতে মিনি ট্রাক, মোটরসাইকেল ও বাসে করে খুলনা, বাগেরহাট, যশোরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানি করছে।
গতকাল দুপুরে তালতলী উপজেলার রেণু পোনার আড়তদার দুলাল মিয়ার আড়তে গিয়ে দেখা গেছে, আড়ত ঘরের সামনের তালা দেওয়া, পেছনের দরজা দিয়ে জেলেরা পোনা নিয়ে আসেন। দুলালের কর্মচারী শহিদুল ইসলাম ওই পোনা গণনা করে পাত্রে রাখছেন।
জেলে মালেক ও জয়নাল বলেন, জোয়ার-ভাটার সঙ্গে মিল রেখে রেণু পোনা শিকার করতে হয়। রেণু পোনা শিকার করা অন্যায় কিন্তু কেউ তো নিষেধ করছে না। তারা আরও বলেন, মহাজনদের যন্ত্রণায় বাধ্য হয়ে রেণু পোনা আহরণে আসতে হয়।
শিশু নাদিম বলেন, ‘হুনছি পোনা ধরা নিষেধ কিন্তু স্যারেরা তো মোগো মানা হরে নাই।’
তালতলীর অবৈধ বাগদা রেণু পোনা ব্যবসায়ী বশির হাওলাদার বলেন, ‘বাগদা ও চিংড়ির রেণু আহরণ নিষিদ্ধ তা জানি। কিন্তু জেলেরা নিয়ে এলে আমরা তো ফেলে দিতে পারি না। তারা আরও বলেন, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা, নৌপুলিশ ও থানা পুলিশ সবই জানেন, তারা তো কিছু বলেন না। শুধু আপনারাই (সাংবাদিক) মোদের ডিস্টার্ব করেন।’
তালতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘ইতোমধ্যে ১২টা অভিযান চালানো হয়েছে। বেশ কিছু জাল পুড়ে ফেলেছি।’ উপজেলা শহরের নিকটবর্তী দুলাল মিয়া ও বশির উদ্দিনের আড়তে রেণু পোনা জেলেদের থেকে সংগ্রহ করে গাড়িতে চালান করছে, এ বিষয়ে কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? এমন প্রশ্নের তিনি সদুত্তর দিতে পারেননি।
আমতলী উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তন্ময় কুমার দাশ বলেন, অবৈধ রেণু পোনা নিধন বন্ধে অভিযান পরিচালনা করে শতাধিক নেট মশারি জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে এবং অভিযান অব্যাহত আছে।
তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে সামলা বলেন, রেণু পোনা আহরণ অবৈধ। রেণু পোনা নিধন বন্ধে প্রতিদিন অভিযান অব্যাহত আছে।
আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তারেক হাসান বলেন, উপজেলা মৎস্য অফিসারকে নিয়ে প্রায়ই অভিযান চালানো হয়।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন বলেন, রেণু পোনা নিধন রোধে অভিযান অব্যাহত আছে। উপজেলার কোনো মৎস্য কর্মকর্তা রেণু পোনা নিধনের যোগসাজশের সঙ্গে জড়িত থাকলে তদন্ত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সফিউল আলম বলেন, ‘যারা অবৈধভাবে রেণু পোনা মজুত করে বিভিন্ন এলাকায় রপ্তানি ও পরিবহনের সঙ্গে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এ মৎস্য সম্পদ রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেব।’
গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের মাঝে তুলে ধরতে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার চাঁদমিয়া মোল্লা ডিগ্রি কলেজে দিনব্যাপী শীতকালীন পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) কলেজ প্রাঙ্গণে এ উৎসবের আয়োজন করে কলেজ কর্তৃপক্ষ।
কলেজের উন্মুক্ত মাঠজুড়ে সাজানো হয় বাহারি পিঠা-পুলির স্টল। লোকসঙ্গীতের সুর আর পিঠার ঘ্রাণে মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা পিঠার স্বাদের মধ্য দিয়ে শিকড়ের সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন করে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
কলেজের সভাপতি ও যুগ্ম সচিব নুরুল হকের পক্ষে উৎসবের উদ্বোধন করেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ ও বিদ্যুৎসাহী সদস্য অ্যাডভোকেট সরকার গিয়াস উদ্দিন মাহমুদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিঠা উৎসব কমিটির আহ্বায়ক সহকারী অধ্যাপক মো. শহীদুল হক, সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান, বাখরাবাদ গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন ম্যানেজার মো. নজরুল ইসলামসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
আয়োজকরা জানান, ১৯৯৫ সাল থেকে নিয়মিতভাবে এই শীতকালীন পিঠা উৎসব আয়োজন করে আসছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্য সংরক্ষণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ বলেন, পিঠা-পুলি শুধু খাবার নয়, এটি আমাদের সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শিক্ষার্থীদের এ আয়োজনে যুক্ত করার মাধ্যমে পিঠাকে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তা পণ্য হিসেবে তুলে ধরাই মূল লক্ষ্য।
উৎসবে ১২টি স্টলে শতাধিক প্রকারের পিঠা প্রদর্শন ও বিক্রি করা হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কলেজ প্রাঙ্গণ এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
শহীদ ওসমান হাদির বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থীরা। একই সাথে ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যার বিচারের দাবিতে আগামী রবিবার (১৮ জানুয়ারি) প্রশাসন ভবন ঘেরাও কর্মসূচি ঘোষনা দেন তারা। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বাদ জুম্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে একটি মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক ও সংলগ্ন মহাসড়ক প্রদক্ষিণ শেষে প্রধান এসে ফটকে সমবেত হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে তারা।
বিক্ষোভ মিছিলে শিক্ষার্থীদের, ‘দিন দুপুরে মানুষ মরে, ইন্টেরিম কী করে? তুমি কে, আমি কে — হাদি হাদি; ইনকিলাব জিন্দাবাদ, হাদি হত্যার বিচার চাই; হাদি ভাইয়ের রক্ত বিথা যেতে দেব না; উই ওয়ান্ট জাস্টিস; দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা; আমরা সবাই হাদি হবো, যুগে যুগে লড়ে যাব’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।
শাখা ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক-সম্পাদক জাকারিয়া হোসাইন বলেন, ‘ইতিহাসে হাজারও হাদি শহীদ হয়, কিন্তু তার চেতনা হাদির উত্তরসূরীরা যুগ যুগ ধরে, ধরে রাখে। আমরা এ বাংলায় কোন আধিপত্যবাদী শক্তি মেনে নেব না, কোনো বিদেশি শক্তির তাবেদার হতে দিব না। এখানে কোনো কালচারাল বা গণমাধ্যম ফ্যাসিস্ট বিন্দুমাত্র সহ্য করব না। আমরা হাদি হত্যার বিচার চাই।’
এসময় সাবেক সহ-সমন্বয়ক তানভীর মন্ডল বলেন, ‘খুনি দেশে বা বিদেশে থাকুক, নির্বাচনের আগেই হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। নতুবা এই আন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাদের আমরা ঘুমাতে দিব না।’
সাজিদ হত্যার বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, সাজিদ হত্যার ছয় মাস অতিবাহিত হয়েগেছে কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন এখনো আলোর দিশা দেখাতে পারেনি। বর্তমান উপাচার্য থাকা অবস্থায় সাজিদ হত্যার বিচার হতে হবে, এই ভিসি যদি ঢাকা চলে যায়, পরবর্তীতে কোনো ভিসি এই হত্যার দায় নেবে না। এই প্রশাসন থাকা অবস্থায় সাজিদ হত্যার বিচার আদায় করে নিতে হবে। প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের তিনজনই আইন ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা কাছে যাবে তাও এই নির্বাচনের আগেই সাজিদ হত্যার বিচারের ফয়সালা তাদের করে আনতে হবে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) জুম্মার নামাজের পর ঢাবির কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে যাত্রা করে টিএসসি হয়ে শাহবাগ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় টিএসসির সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বিক্ষুব্ধ ছাত্রজনতা অবস্থান নেয় এবং বিভিন্ন স্লোগানে প্রাঙ্গণ মুখরিত করে তোলে।
এ সময় বিক্ষোভকারীরা “আমার হত্যার বিচার চাই”, “বইলা গেছে হাদি ভাই”, “ভারত না বাংলাদেশ? বাংলাদেশ বাংলাদেশ”, “আমরা সবাই হাদি হবো”, “যুগে যুগে লড়ে যাবো” এমন নানা স্লোগান দেন।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, সরকার তরুণ প্রজন্মকে অবহেলা করে কখনোই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটাতে পারবে না।
তিনি বলেন, তরুণদের ন্যায্য দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এই আন্দোলন চলবে এবং তারা ঘরে ফিরে যাবে না। কেউ কেউ মনে করেছিল শহীদ ওসমান হাদিকে হত্যা করে স্বাধীনতার প্রশ্ন, সীমান্ত সুরক্ষা কিংবা আন্দোলন দমিয়ে রাখা যাবে। কিন্তু বাস্তবে তরুণ প্রজন্ম এখন আগের চেয়েও বেশি ঐক্যবদ্ধ ও সচেতন।
হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ইনকিলাব মঞ্চের এই লড়াই চলবে বলে জানান তিনি।
পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি বানিয়াপাড়া নতুন বাজার এলাকা থেকে একটি বিরল প্রজাতির শকুন উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, উদ্ধারকৃত শকুনটি বাংলাদেশি নয়, বরং এটি ইন্ডিয়ান হিমালয়ান শকুন।
গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) বিকেলে স্থানীয়দের চোখে পড়লে তারা বিষয়টি বন বিভাগকে অবহিত করে। পরে বন বিভাগের সদস্যরা শকুনটি উদ্ধার করে দেবীগঞ্জ রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে আসেন।
দেবীগঞ্জ রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনজুরুল করিম জানান, ‘শকুনটির গঠন, বিশাল ডানার বিস্তার ও শারীরিক বৈশিষ্ট্য দেখে প্রাথমিকভাবে এটি হিমালয়ান শকুন বলে মনে হচ্ছে। এ প্রজাতির শকুন সাধারণত ভারতের হিমালয় অঞ্চল ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় বসবাস করে। শীত মৌসুমে খাদ্যের সন্ধানে তারা অনেক সময় সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে চলে আসে।’
তিনি আরও জানান, উদ্ধারকৃত শকুনটি বর্তমানে নিরাপদে রাখা হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে বড় কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণ শেষে আগামীকাল সিংড়া বিটে পাঠানো হবে, যেখানে বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, হিমালয়ান শকুন একটি বিরল ও সংরক্ষিত প্রজাতি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় শকুনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের বন্যপ্রাণী উদ্ধার ও সুরক্ষায় স্থানীয় জনগণের সচেতনতা এবং বন বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেছেন, সেবা প্রত্যাশীদের ব্যক্তিগত উপাত্ত উদ্যোক্তাদের কাছে আমানত। ব্যক্তিগত উপাত্ত সুসমন্বিতভাবে হস্তান্তর না হলে নাগরিকের নিরাপত্তার ঝুঁকি তৈরি হয়।
ফয়েজ আহমদ তৈয়ব শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে খুলনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে ‘নাগরিক সেবা বাংলাদেশ’ বিষয়ক ওরিয়েন্টেশন ও উদ্যোক্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব বলেন, সরকার জনগণের হয়রানি ও শ্রমঘণ্টা লাঘব করার জন্য নাগরিক সেবা চালু করেছে বাংলাদেশ। নাগরিক সেবার মাধ্যমে জনগণ যেন একই প্লাটফর্মে বিভিন্ন সেবা পেতে পারে সে লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছে সরকার। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে দক্ষ করে গড়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি নাগরিক সেবার প্রতি জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জনের মনোবৃত্তি নিয়ে কাজ করতে উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।
বিশেষ সহকারী বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরকার নিরপেক্ষ, কিন্তু গণভোটের বিষয়ে হ্যাঁ-এর পক্ষে। জনকল্যাণমূলক ও বৈষম্যহীন দেশ গড়তে আমাদেরকে গণভোটে হ্যাঁ ভোট প্রদান করতে হবে।
খুলনা জেলা প্রশাসক আ স ম জামশেদ খোন্দকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটুআইর প্রকল্প পরিচালক মোহা. আব্দুর রফিক ও অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সিফাত মেহনাজ।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) কানিজ ফাতেমা লিজা।
উদ্যোক্তা সম্পর্কে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন এটুআইর হেড অব ম্যানেজমেন্ট আব্দুল্লাহ আল ফাহিম।
সভায় অন্যদের মধ্যে চিফ টেকনোলজি অ্যাডভাইজার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান, সিনিয়র কনসালটেন্ট (উপ-সচিব) ফজলুল জাহিদ পাভেল, হেড অব কমিউনিকেশন মোহাম্মদ সফিউল আযম উপস্থিত ছিলেন।
প্রশিক্ষণে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার প্রায় পাঁচশত উদ্যোক্তা অংশ নেন।
পরিবেশ সংরক্ষণ ও জীববৈচিত্র রক্ষায় বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির বৈলাম গাছ নিয়ে ৬৪ জেলায় প্রতীকী বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা ভ্রমণ চালিয়ে যাচ্ছেন পরিবেশ সংগঠক মাহবুবুর ইসলাম পলাশ। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে মাগুরা সরকারি হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রশাসনিক ভবন চত্বরে এই ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাগুরা জেলা তার ভ্রমণের ৫৫ তম জেলা হিসেবে বৈলাম গাছ রোপণ করেন।
মাগুরা জেলায় আয়োজিত এই কর্মসূচিতে বৈলাম গাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণ, শিক্ষার্থী ও পরিবেশকর্মীদের মাঝে পরিবেশ সচেতনতার বার্তা তুলে ধরা হয়। আয়োজকরা জানান, বৈলাম গাছ আমাদের দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশীয় প্রজাতি হলেও অবহেলা ও অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণে এটি দিন দিন বিলুপ্তির পথে। এই গাছ সংরক্ষণ করা মানেই পাখি, কীট-পতঙ্গ ও অন্যান্য প্রাণীর নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন মাগুরা সরকারি হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজের প্রফেসর ডা. আলফাজ উদ্দিন, ছাত্র প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম শফিক এবং শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীরা।
মাহবুবুর ইসলাম পলাশ বলেন, দেশীয় ও বিপন্ন প্রজাতির গাছ রক্ষা না করলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি প্রাণহীন বাংলাদেশ পাবে। বৈলাম গাছ শুধু একটি বৃক্ষ নয়, এটি আমাদের প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমি মানুষকে সচেতন করতে চাই।
তিনি আরও জানান, ৬৪ জেলায় ভ্রমণ করে প্রতীকীভাবে বৈলাম বৃক্ষরোপণের মূল উদ্দেশ্য হলো দেশব্যাপী একটি পরিবেশবান্ধব আন্দোলন গড়ে তোলা এবং তরুণ প্রজন্মকে প্রকৃতি রক্ষায় সম্পৃক্ত করা।
সরকারি হোসেন শহিদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ মাগুরা এর প্রফেসর ডা. আলফাজ উদ্দিন এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, এ ধরনের কর্মসূচি পরিবেশ রক্ষায় জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সচেতনতা সৃষ্টি করে এবং দেশীয় প্রজাতির গাছ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উল্লেখ্য, ‘পরিবেশ ও প্রকৃতির পাঠশালা’ উদ্যোগের মাধ্যমে মাহবুবুর ইসলাম পলাশ দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ শিক্ষা ও দূষণবিরোধী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। মাগুরায় ৫৫তম জেলা সম্পন্ন করার মাধ্যমে তিনি ৬৪ জেলার লক্ষ্য পূরণের আরও কাছাকাছি পৌছেছেন।
সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতোমধ্যেই পরিবেশ আন্দোলনে একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
২০১৯ সালে কোভিড-১৯ মহামারির প্রাদুর্ভাবের পর থেকে স্থিতিশীল এবং দামে লাভজনক হওয়ায় রংপুর কৃষি অঞ্চলের পাঁচ জেলার কৃষকরা কলা চাষ সম্প্রসারণে উৎসাহিত হচ্ছেন।
গত ছয় বছরে কলার দাম একবারও না কমায় শত শত কৃষক কলা চাষের মাধ্যমে নিজেদের ভাগ্য বদলেছেন এবং বিপুল মুনাফা লাভ করেছেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) কর্মকর্তা থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ ও কৃষকরা পুষ্টি চাহিদা পূরণের পাশাপাশি স্বাবলম্বী হতে মূল ভূখণ্ড ও নদীবেষ্টিত চরাঞ্চলে কলা চাষকে অত্যন্ত লাভজনক উদ্যোগ হিসেবে বিবেচনা করছেন ।
ডিএই সূত্র জানায়, গত ছয় বছরে বাম্পার ফলন ও লাভজনক মূল্য পাওয়ার ধারাবাহিকতায় রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট ও নীলফামারী জেলায় প্রতি বছরই কলা চাষ বাড়ছে।
ডিএই রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, চলতি ২০২৫-২০২৬ রবি মৌসুমে গত সপ্তাহ পর্যন্ত এ অঞ্চলে ২ হাজার ৬২১ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত কলার চারা রোপণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
কৃষিবিদ সিরাজুল ইসলাম আরো বলেন, ২০২৪-২০২৫ রবি মৌসুমে এ অঞ্চলে ২ হাজার ৬৮৩ হেক্টর জমিতে কলা চাষ করা হয়েছিল।
ডিএই পরিচালিত ব্যাপক উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রমের ফলে কৃষকরা নিজেদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অধিক মুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে অর্থকরী ফসল হিসেবে কলা চাষ সম্প্রসারণ করছেন।
ডিএই কর্মকর্তারা মূল ভূখণ্ড ও চরাঞ্চলে ‘মেহের সাগর’, ‘মালভোগ’, ‘সবরি’সহ বিভিন্ন জাতের কলা চাষ সম্প্রসারণে কৃষকদের কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দিচ্ছেন।
এদিকে, আগাম জাতের কলা সংগ্রহ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। বাম্পার ফলন ও লাভজনক বাজারদর পাওয়ায় কৃষকরা বিপুল মুনাফা অর্জন করছেন।
রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কৃষক আব্দুর রহমান, মখলেসুর রহমান ও বাদল হোসেন জানান, তারা গত ১৫ বছর ধরে কলা চাষ করে আসছেন এবং প্রতি বছরই ভালো লাভ করছেন।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার দোলাপাড়া গ্রামের কৃষক মফিজুর রহমান, আবদুল হাই ও নুরুন্নবী এবং বদরগঞ্জ উপজেলার গোপালপুর গ্রামের কৃষক হাবিবুর রহমান জানান, তারা এ মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় বেশি জমিতে কলা চাষ করেছেন।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বিভিন্ন চর ও গ্রামের কৃষক ইউসুফ আলী, বাবুল আখতার, নুরুল ইসলাম ও মাহবুবুর বলেন, চরাঞ্চলে বসবাসকারীরা গত ১০ বছর ধরে সফলভাবে কলা চাষ করে আসছেন এবং ভালো লাভ করছেন।
ইউসুফ আলী বলেন, চরের এক পাশের কলা বিক্রি করছি, অন্য পাশে খালি জমিতে নতুন করে চাষ করছি। সারা বছরই নতুন মোচা ধরার প্রক্রিয়া চলতে থাকে, ফলে বাগান সব সময়ই সতেজ থাকে।
বাবুল আখতার বলেন, নাগেশ্বরী উপজেলার অন্যান্য উপজেলার মতো প্রতি বছরই আরো বেশি চরভূমি কলা চাষের আওতায় আসছে।
তিনি আরো বলেন, আমরা চরাঞ্চলে অন্যান্য ফসলের সঙ্গে আন্তঃফসল হিসেবে সারা বছর কলা চাষ করছি। কলা চাষ আমাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বড় ধরনের ভূমিকা রাখছে।
রংপুর সিটি বাজারের খুচরা ফল ব্যবসায়ী ফজলুর রহমান ও রংপুরের পীরগাছা বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুস সামাদ জানান, বর্তমানে ‘মালভোগ’ ও ‘সবরি’ কলা প্রতি হালি ৩৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ডিএই-এর রংপুরের বুড়িরহাট উদ্যানতত্ত্ব কেন্দ্রের উপপরিচালক ডা. মো. আবু সায়েম বলেন, সমতল ভূমি ও চরাঞ্চলে কলা চাষ সম্প্রসারণের ফলে কৃষকদের জীবনমান উন্নত হচ্ছে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি সচল থাকছে।
হাড় কাঁপানো শীতে দুর্ভোগে পড়েছে দক্ষিনাঞ্চলের প্রাণীকূলসহ সাধারণ মানুষ। শীতকাল অনেক প্রাণীদের জন্য খুব একটা ভালো সময় নয়। এ শীত থেকে রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ানো কুকুরদের সুরক্ষায় ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ‘অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী’ সংগঠনের সদস্যরা। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পটুয়াখালী পৌরশহরে ঘুরে ঘুরে কুকুরদের জন্য বিভিন্ন স্থানে খড়কুটো ভর্তি পাটের বস্তা বিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রায় শতাধিক কুকুরের জন্য এমন বিছানা তৈরি করেছেন অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী। এ বিষয়ে সহযোগিতা করেছেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী।
অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী সংগঠনের সদস্যরা জানান, পাটের বস্তার মধ্যে খড়কুটো দিয়ে কুকুরের জন্য এসব বিছানা তৈরি করা হয়েছে। পটুয়াখালী পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ১৫০টি বস্তার বিছানা বিতরণ করা হয়েছে। অনেক কুকুর এসব বস্তার বিছানায় আশ্রয় নিয়েছে।
অ্যানিমেল লাভারস অফ পটুয়াখালী সংগঠনের পরিচালক আবদুল কাইউম বলেন, অতিরিক্ত শীতে কুকুরগুলো অসুস্থ হয়ে যাচ্ছে। কিছু কুকুরের বাচ্চা মারাও গেছে। এতে কষ্টে থাকা কুকুরের জন্য একটু উষ্ণতা দিতে এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালী পৌর প্রশাসক মো. জুয়েল রানা বলেন, এটা একটা ভালো উদ্যোগ। কুকুরের জন্য বস্তা বিতরণ করতে পৌরসভার গাড়ি দেয়া হয়েছে। পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, বিছিয়ে দেয়া বস্তা যেন কেউ ফেলে না দেয় ৷ ভালো কাজে আমাদের সহযোগিতা পাবে সবসময়।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান হাদির ভাই ওমর বিন হাদিকে যুক্তরাজ্যের বার্মিংহামে অবস্থিত বাংলাদেশ সহকারী হাইকমিশনে দ্বিতীয় সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তাকে যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী তিন বছর মেয়াদের জন্য এই পদে নিযুক্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই নিয়োগ চলাকালীন ওমর বিন হাদি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সাথে কোনো ধরনের কর্মসম্পর্ক রাখতে পারবেন না। তার নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি নির্দিষ্ট চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থ বিবেচনায় এই আদেশ জারি করা হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
বর্তমানে বার্মিংহাম মিশনে দ্বিতীয় সচিবের কোনো নির্ধারিত পদ নেই বলে জানা গেছে। তবে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কূটনীতিকের মতে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় যখন কোনো বিশেষ নিয়োগ প্রদান করে, তখন সেখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট পদটি সৃষ্টি হয়ে যায়। এই নিয়োগের মাধ্যমে কূটনৈতিক মিশনে নতুন এক কর্মপরিবেশ তৈরির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও নীতিগত পদক্ষেপ নেবে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
সম্প্রতি বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসী ভিসা প্রক্রিয়া স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে রিজওয়ানা হাসান বলেন, অভিবাসী ভিসা স্থগিতের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র কতগুলো কারণ দিয়েছে। সেই কারণগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে এটা গতকালই মাত্র এসেছে। কাজেই আমরা নিশ্চয়ই আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আমাদের নিরাপত্তা উপদেষ্টা যারা আছেন, তারা এটা নিয়ে একটা কর্মকৌশল বের করবেন; মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে এঙ্গেজ করবেন।
কয়েকদিন আগে ছিল ভিসা বন্ডিং ইস্যু। সপ্তাহ পেরোতে আবার অভিবাসী ভিসার ক্ষেত্রে জটিলতা। ৭৫টা দেশের মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। আমাদের কি কোথাও গ্যাপ থেকে যাচ্ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা কি বাংলাদেশকে টার্গেট করে করেছে? আসলে যে সমস্ত দেশ থেকে ইমিগ্র্যান্ট (অভিবাসী) বেশি যায় বা যে সমস্ত দেশ থেকে মানুষ গিয়ে পরে পলিটিক্যাল অ্যাসাইলাম (রাজনৈতিক আশ্রয়) চায়, যে সব দেশ থেকে মানুষ গিয়ে ওদের সোশ্যাল সার্ভিসের (সামাজিক পরিষেবা) ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। তাই তাদের সরকার ঠিক করেছে যে সেই সমস্ত দেশের ব্যাপারে এই নিষেধাজ্ঞাগুলো, এই শর্তগুলো তারা আরোপ করবে।’
তিনি বলেন, ‘এটা (অভিবাসী ভিসা স্থগিত) তাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। সেখানে আমার কোথায় অসুবিধা হচ্ছে, কী করণীয়—এখন আমরা সেগুলো নিয়ে কথা বলব।’
পথপ্রাণী ব্যবস্থাপনা, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাণী কল্যাণ নিশ্চিত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ফারি ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশনের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ডিএনসিসি নগরভবনে এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। ডিএনসিসির পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরি এবং ফারি ফ্রেন্ডস ফাউন্ডেশনের পক্ষে স্বাক্ষর করেন সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারপার্সন তাসনিম সিনহা।
ডিএনসিসি আয়োজিত চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ বলেন, ২০৫০ সালের মধ্যে পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ শহরে বসবাস করবে। শহর কেবল অবকাঠামো ও মানুষের সমষ্টি নয়; শহরের একটি নিজস্ব ইকোলজি রয়েছে, যেখানে কুকুর, বিড়ালসহ সব জীবন অন্তর্ভুক্ত। মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরায়নের মাধ্যমেই একটি ন্যায্য শহর গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, গ্লোবাল নর্থের অভিজ্ঞতা দিয়ে গ্লোবাল সাউথের বাস্তবতা বিচার করা যাবে না। শহর থেকে পথপ্রাণীদের সরিয়ে দেওয়া আমাদের উদ্দেশ্য নয়; সহাবস্থানই আমাদের লক্ষ্য। প্রাণী সুরক্ষাকে আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।
অনুষ্ঠানে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, প্রাণী সুরক্ষায় ডিএনসিসি ১০ জন ভেটেরিনারি সার্জন নিয়োগের উদ্যোগ নিচ্ছে। পাশাপাশি পথপ্রাণী সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধিও অত্যন্ত জরুরি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সব রকম নিয়োগ-নির্বাচনী বোর্ড বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক ও হট্টগোল হয়েছে বলে জানা গেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ইউট্যাবের পক্ষ থেকে নিয়োগ বন্ধে উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মুহাম্মদ নসরুল্লাহ বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে।
ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় নির্দেশনা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আর কোনো নতুন নিয়োগ নির্বাচনী বোর্ড না করার জন্য উপাচার্যকে অনুরোধ জানানো হয়। যদি এটি অমান্য করা হয় তাহলে ‘ইউট্যাব’-এর সাধারণ সভা আহ্বান করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। এদিকে, এ সিদ্ধান্ত সর্বসম্মতিক্রমে হয়নি এবং একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছে ইউট্যাবের অপরপক্ষ।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ইউট্যাবের সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠিত সভায় নির্বাচনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব রকম নিয়োগ বোর্ড বন্ধের বিষয়টি উত্থাপন করা হয়। অপরপক্ষ নিয়োগ স্বাভাবিক প্রক্রিয়া দাবি করে এবং কী কারণে নিয়োগ বন্ধ হবে এমন প্রশ্ন করেন তারা। ফলে সভায় তর্ক-বিতর্ক ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এরপর একটি পক্ষ সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভা শেষ করেন। তবে এই তর্কের সমাধান না করে সভা শেষে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ইউট্যাবের সিদ্ধান্তের বিষয়ে কোনো ধরনের অভিমত দেননি অধ্যাপক ড. মোহা. নজিবুল হক, অধ্যাপক ড. মো. শাহিনুজ্জামান ও অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম। তবে চিঠিতে উল্লেখ করা শিক্ষকদের সংখ্যা নিয়ে সঠিক হয়নি বলে দাবি করেছে অন্য পক্ষ।
ইবি ইউট্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ড. তোজাম্মেল হোসেন বলেন, ‘দেশের সার্বিক বিষয় চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার স্বার্থে উপাচার্যকে ত্রয়োদশ নির্বাচনের পূর্বে নিয়োগ-নির্বাচনী বোর্ড বন্ধ রাখার অনুরোধ করেছি। তবে এটি অমান্য করলে সাধারণ সভা আহ্বান করে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব। তবে আমাদের এ সিদ্ধান্তে কারও আপত্তি থাকতেই পারে, আমরা কারও ওপর আমাদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে পারি না। কারো স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করতে পারি না।’